(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: -)
طبقات المفسرين للسيوطي (الجلال السيوطي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: طبقات المفسرين العشرين
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
المحقق: علي محمد عمر
الناشر: مكتبة وهبة - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1396
عدد الصفحات: 125
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুয়ূতীর তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (জালালুদ্দীন সুয়ূতী)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
গ্রন্থ: বিশ স্তরবিশিষ্ট মুফাসসিরগণের জীবনী (তাবাকাতুল মুফাসসিরীন)
লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদক: আলী মুহাম্মদ উমর
প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৬
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيموصلى الله على سيدنا محمد وسلمالحمد لله الذي أسبغ علينا جزيل النعم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، بارئ النسم، وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله، سيد العرب والعجم، صلى الله وسلم عليه وعلى آله وصحبه أولي الفضل والكرم.وبعد فهذا المجموع فيه طبقات المفسرين، إذ لم أجد من اعتنى بإفرادهم كما اعتنى بإفراد المحدثين والفقهاء والنحاة وغيرهم.واعلم أنهم أنواع، الأول: المفسرون من السلف والصحابةوالتابعين وأتباع التابعين.الثاني: المفسرون من المحدثين، وهم الذين صنفوا التفاسير مسندةً مورداً فيها أقوال الصحابة والتابعين بالإسناد، وهذان النوعان تراجمهم مذكورة في طبقات الفقهاء.الثالث: بقية المفسرين من علماء أهل السنة، الذين ضموا إلى التفسير التأويل والكلام على معاني القرآن، وأحكامه، وإعرابه وغير ذلك، وهو الذي الاعتناء به في هذا الزمان أكثر.الرابع: من صنف تفسيراً من المبتدعة، كالمعتزلة والشيعة وأضرابهم.والذي يستحق أن يسمى من هؤلاء، القسم الأول، ثم الثاني، على أن الأكثر في هذا القسم نقلة، وأما الثالث فمؤولة، ولهذا يسمون كتبهم غالباً بالتأويل.ولم أستوف أهل القسم الرابع، وإنما ذكرت منهم المشاهير كالزمخشري، والرماني، والجبائيوأشباههم.وبالله أستعين، إنه خير معين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ওপর অঢেল নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি প্রাণের স্রষ্টা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি আরব ও অনারবদের সরদার। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও ফজিলত ও মহানুভবতার অধিকারী সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।অতঃপর, এটি মুফাসসিরদের (কুরআনের ব্যাখ্যাকারীদের) স্তর ও জীবনীবিষয়ক একটি সংকলন; কারণ আমি কাউকে দেখিনি যিনি মুহাদ্দিস, ফকিহ, ব্যাকরণবিদ এবং অন্যদের মতো তাঁদের জন্য স্বতন্ত্রভাবে কাজ করেছেন।জেনে রাখুন যে তাঁরা কয়েক প্রকারের। প্রথম প্রকার: সালাফ, সাহাবী,তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণের মধ্য থেকে মুফাসসিরগণ।দ্বিতীয় প্রকার: মুহাদ্দিসগণের মধ্য থেকে মুফাসসিরগণ; তাঁরা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যাঁরা সনদসহ তাফসির গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেখানে সাহাবী ও তাবিঈদের বাণীগুলো সনদসহ উল্লেখ করেছেন। এই দুই প্রকারের জীবনী ফকিহদের স্তরবিষয়ক গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে।তৃতীয় প্রকার: আহলুস সুন্নাহর আলেমদের মধ্য থেকে অবশিষ্ট মুফাসসিরগণ, যাঁরা তাফসিরের সাথে ব্যাখ্যা এবং কুরআনের অর্থ, বিধান, ব্যাকরণ বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা যুক্ত করেছেন। বর্তমান যুগে এ ধরণের কাজের প্রতিই মনোযোগ ও গুরুত্ব অধিক দেওয়া হয়।চতুর্থ প্রকার: বিদআতিদের মধ্য থেকে যাঁরা তাফসির রচনা করেছেন, যেমন মুতাজিলা, শিয়া এবং তাদের সমগোত্রীয়রা।এদের মধ্যে যাঁরা প্রকৃতপক্ষে মুফাসসির নামের যোগ্য, তাঁরা হলেন প্রথম প্রকার এবং তারপর দ্বিতীয় প্রকার; যদিও দ্বিতীয় প্রকারের অধিকাংশরাই নিছক বর্ণনাকারী। আর তৃতীয় প্রকারের মুফাসসিরগণ হলেন ব্যাখ্যাকারী, একারণেই তাঁরা সাধারণত তাঁদের গ্রন্থগুলোর নাম 'তাবিল' বা ব্যাখ্যা রাখেন।আমি চতুর্থ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিইনি, বরং কেবল তাঁদের মধ্যে বিখ্যাত ব্যক্তিদের উল্লেখ করেছি, যেমন যামাখশারী, রুম্মানী, জুব্বাঈ এবং তাঁদের সমগোত্রীয়রা।আর আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২২)
إبراهيم بن أحمد بن محمد بن أحمد أبو طاهر السلماني الواعظ كان علامة في علم الأدب، والتفسير، والحديث، ومعرفة الأسانيد والمتون، وأوحد عصره في علم الوعظ والتذكير.أدرك جماعة من الأئمة، وكان من الورع والصدق بمكان.روى عن أبي القاسم بن عليك النيسابوري، وعنه هبة الله بن السقطي ولد سنة ثلاث وثلاثين وأربعمائة، ومات بخوى في جمادى الآخرة سنة ست وتسعين وأربعمائة. إبراهيم بن علي بن الحسين الإمام أبو إسحاق الشيباني الطبري إمام في المذهب، والفرائض، والتفسير.له تصانيفمفيدة، ولي قضاء مكة، وحدث عن أبي علي الحداد.روى عنه الصائن بن عساكر.
ইবরাহীম ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আবু তাহির আস-সালমানী আল-ওয়ায়িজ তিনি সাহিত্য, তাফসীর, হাদীস এবং সনদ ও মতনের জ্ঞানে একজন প্রাজ্ঞ আলিম ছিলেন এবং ওয়াজ ও নসিহতের জ্ঞানে তিনি তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।তিনি একদল ইমামের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং পরহেজগারী ও সত্যবাদিতার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ মাকাম ছিল।তিনি আবুল কাসিম ইবন আলেক আন-নিশাপুরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে হিবাতুল্লাহ ইবন আস-সাকাতী বর্ণনা করেছেন। তিনি চারশ তেত্রিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশ ছিয়ানব্বই হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে খুয়ায় ইন্তেকাল করেন। ইবরাহীম ইবন আলী ইবন আল-হুসাইন ইমাম আবু ইসহাক আশ-শাইবানী আত-তাবারী তিনি মাযহাব, ফরায়েয এবং তাফসীর শাস্ত্রের একজন ইমাম ছিলেন।তাঁর বেশ কিছু উপকারী রচনা রয়েছে। তিনি মক্কার কাযী (বিচারপতি) নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং আবু আলী আল-হাদ্দাদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।আস-সাইয়িন ইবন আসাকির তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مات في رجب سنة ثلاث وعشرين وخمسمائة وله إحدى وأربعون سنة. أحمد بن إسماعيل بن يوسف أبو الخير الطالقاني القزويني الشافعي رضي الدينأحد الأعلام، قال ابن النجار: كان رئيس أصحاب الشافعي، وكان إماماً في المذهب، والخلاف، والأصول، والتفسير، والوعظ، كثير المحفوظ.أملى الحديث، ووعظ، وسمع الكثير من أبي عبد الله الفراوى وزاهر الشحامي وهبة الله السيدي، وأبي الفتح بن البطي.وتفقه على ملكداد،
তিনি পাঁচশত তেইশ হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স হয়েছিল একচল্লিশ বছর। আহমাদ বিন ইসমাঈল বিন ইউসুফ আবুল খাইর আত-তালিকানী আল-কাযভিনী আশ-শাফিঈ রাযিউদ্দীনতিনি অন্যতম এক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইবনুন নাজ্জার বলেন: তিনি শাফিঈ অনুসারীদের প্রধান ছিলেন। তিনি মাযহাব, ইখতিলাফ (মতভেদ), উসূলে ফিকহ, তাফসীর ও ওয়ায-নসীহতের ইমাম ছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ বিষয়ের হাফেজ ছিলেন।তিনি হাদীস ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) করতেন, ওয়ায করতেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাভী, যাহির আশ-শাহহামী, হিবাতুল্লাহ আস-সাইয়িদী ও আবুল ফাতহ ইবনুল বাত্তীর নিকট থেকে প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছেন।তিনি মালিকদাদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন,
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومحمد بن يحيي.ودرس ببلده وببغداد، وحدث بالكتب الكبار، وولي تدريس النظامية،ختمة.وقال ابن الدبيثي: كان له يد باسطة في النظر واطلاع على العلوم ومعرفة بالحديث، وكان جماعة للفنون.وقال الموفق عبد اللطيف: كان يعمل في اليوم والليبة ما يعجز المجتهد عن عمله في شهر.ولد سنة اثنتي عشرة وخمسمائة ومات في المحرم سنة تسعين. أحمد بن علي بن أحمد بن يحيى بن أفلح بن رزقون بن سحنون المرسي الفقيه المالكي المقريء.
এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া।তিনি নিজ শহরে ও বাগদাদে অধ্যয়ন করেন, প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ বর্ণনা করেন এবং নিজামিয়ার শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন,সমাপ্তি।ইবনুদ দুবাইসি বলেন: তাত্ত্বিক আলোচনায় তার বিশেষ দক্ষতা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য ও হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শিতা ছিল, আর তিনি ছিলেন বহু শাস্ত্রের সংকলক।মুওয়াফফাক আব্দুল লতিফ বলেন: তিনি এক দিন ও রাতে যে পরিমাণ কাজ সম্পাদন করতেন, একজন কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তি এক মাসেও তা করতে অক্ষম হতো।তিনি পাঁচশ বারো হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচশ নব্বই হিজরির মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ বিন আলী বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন আফলাহ বিন রিজকুন বিন সাহনুন আল-মুরসি, মালিকি ফকিহ ও ক্বারি।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الذهبي: كان فقيها مشاوراً، حافظاً، محدثاً مفسراً، نحوياً.سمع من أبي عبد الله بن الفرج الطلاعي، وأبي علي الغساني.وأخذ القراءات عن أبي الحسن بن الجزار الضرير صاحب مكي، وابن أخي الدوش.وتصدر للإقراء بالجزيرة الخضراء، وأخذ الناس عنه.روى عنه أبو حفص بن عذرة، وابن خير وجماعة آخرهم أحمد بن جعفر ابن فطيس الغافقي.مات في ذي الحجة سنة اثنتين وأربعين وخمسمائة. أحمد بن علي بن أبي جعفر بن أبي صالح الإمام أبو جعفر البيهقي.
আয-যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন একজন পরামর্শদাতা ফকিহ, হাফিজ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং ভাষাবিদ।তিনি আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-ফারাজ আত-তাল্লায়ি এবং আবু আলী আল-গাসসানী থেকে শ্রবণ করেছেন।তিনি আবু আল-হাসান বিন আল-জাজ্জার আদ-দারীর—যিনি মাক্কীর সঙ্গী ছিলেন—এবং ইবন আখি আদ-দাওশ থেকে কিরাত শিক্ষা গ্রহণ করেন।তিনি আল-জাযীরা আল-খাদরায় কিরাত পাঠদানের আসনে আসীন হন এবং লোকেরা তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন আবু হাফস বিন উযরাহ, ইবন খাইর এবং একদল ব্যক্তি যাদের মধ্যে সর্বশেষ হলেন আহমদ বিন জাফর ইবন ফুতাইস আল-গাফেকি।তিনি ৫৪২ হিজরীর যিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ বিন আলী বিন আবু জাফর বিন আবু সালিহ আল-ইমাম আবু জাফর আল-বাইহাকী.
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
النحوي المفسر المعروف ببو جعفرك، نزيل نيسابور وعالمها.قال ابن السمعاني، كان إماماً في القراءة، والتفسير، والنحو، واللغة.له المصنفات المشهورة، منها كتاب تاج المصادر.سمع أحمد بن صاعد، وعلي بن الحسن بن العباس الصندلي، وله تلامذة بحباء، وكان لايخرج من بيته إلا في أوقات الصلاة، وكان يزار ويتبرك به.ولد في حدود السبعين وأربعمائة، ومات في آخر رمضان سنة أربع وأربعين وخمسمائة. أحمد بن فارس بن زكريا اللغوي.صاحب المجمل: قال ياقوت في معجمه: ذكره السلفي في شرح مقدمة معالم السنن
ব্যাকরণবিদ ও মুফাসসির, যিনি আবু জাফরক নামে পরিচিত, নিশাপুরের অধিবাসী এবং সেখানকার আলিম।ইবনুল সামআনী বলেন, তিনি কিরাত, তাফসীর, নাহু (ব্যাকরণ) এবং ভাষাতত্ত্বে একজন ইমাম ছিলেন।তাঁর প্রসিদ্ধ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে 'তাজুল মাসাদির' কিতাবটি অন্যতম।তিনি আহমদ বিন সাঈদ এবং আলী বিন হাসান বিন আব্বাস আস-সানদালীর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর অনেক ছাত্র ছিল। তিনি নামাযের সময় ছাড়া ঘর থেকে বের হতেন না। মানুষ তাঁকে দেখতে আসত এবং তাঁর মাধ্যমে বরকত অন্বেষণ করত।তিনি ৪৭০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৪৪ হিজরির রমজানের শেষে ইন্তেকাল করেন। আহমদ বিন ফারিস বিন জাকারিয়া আল-লুগাভী'আল-মুজমাল' গ্রন্থের রচয়িতা: ইয়াকুত তাঁর 'মুজাম' গ্রন্থে বলেছেন: আস-সালাফি 'শরহু মুকাদ্দিমাতি মাআলিমিস সুনান'-এ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
للخطابي فقال: أصله من قزوين.وقال غيره إنه أخذ عن أبي بكر أحمد بن الحسن الخطيب رواية ثعلب، وأبي الحسن علي بن إبراهيم القطان، وعلي بن عبد العزيز المكي صاحب أبي عبيد، وأبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني.وكان فقيها شافعيا فصار مالكيا، قال: دخلتني الحمية لهذا البلد يعني الري، كيف لا يكون فيه رجل على مذهب هذا الرجل المقبول القول على جميع الألسنة.وله من التصانيف: جامع التأويل في تفسير القرآن أربع مجلدات، كتاب سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، كتاب أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم، كتاب المجمل في اللغة، كتاب فقه اللغات كتاب غريب إعراب القرآن، كتاب دارات العرب، كتاب الليل والنهار، كتاب الغم والحال كتاب خلق الإنسان، كتاب الشيات والحلى، كتاب مقاييس اللغة،
আল-খাত্তাবি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তাঁর আদি নিবাস ছিল কাজউইন।অন্যরা বলেছেন যে, তিনি আবু বকর আহমাদ বিন আল-হাসান আল-খতিব (সা’লাবের বর্ণনাসূত্রে), আবুল হাসান আলী বিন ইব্রাহিম আল-কাত্তান, আবু উবাইদের সহযোগী আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-মাক্কি এবং আবুল কাসিম সুলায়মান বিন আহমাদ আত-তাবারানি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।তিনি শাফেয়ী ফকিহ ছিলেন, অতঃপর মালিকি হয়ে যান। তিনি বলেছেন: এই শহর অর্থাৎ রায়-এর প্রতি আমার অনুরাগ জন্মেছে; সেখানে কেন এমন কোনো ব্যক্তি থাকবে না যিনি এমন এক ব্যক্তির মাযহাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত যার কথা সকল রসনায় সমাদৃত।তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: চার খণ্ডের কুরআনের তাফসির ‘জামেউত তাবিল’, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিরাত বিষয়ক গ্রন্থ, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আখলাক বিষয়ক গ্রন্থ, ভাষা বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-মুজমাল’, ‘ফিকহুল লুগাত’ গ্রন্থ, ‘গারিবুল ই’রাবিল কুরআন’ গ্রন্থ, ‘দারাতুল আরব’ গ্রন্থ, ‘আল-লাইল ওয়ান নাহার’ গ্রন্থ, ‘আল-গাম্ম ওয়াল হাল’ গ্রন্থ, ‘খালকুল ইনসান’ গ্রন্থ, ‘আশ-শিয়াতি ওয়াল হুলা’ গ্রন্থ এবং ‘মাকায়িসুল লুগাহ’ গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ياقوت: وهو كتاب جليل لم يصنف مثله، كتاب كفاية المتعلمين في اختلاف النحويين، كتاب الحماسة المحدثة وغير ذلك.قال الذهبي: مات سنة خمس وتسعين وثلاثمائة.قال ياقوت: وقال قبل وفاته بيومين:يا رب إن ذنوبي قد أحطت بها … علما وبي وبإعلاني وإسراريأنا الموحد لكني المقر بها … فهب ذنوبي لتوحيدي وإقراري أحمد بن محمد بن إبراهيم أبو إسحاق النيسابوري الثعلبي صاحب التفسير المشهور، والعرائس في قصص الأنبياء.كان أوحد زمانه في علم القرآن، عالماً بارعا في العربية، حافظاً موثقا.روي عن أبي طاهر محمد بن الفضل بن خزيمة، وأبي محمد المخلدي وجماعة.أخذ عنه الواحدي.مات في المحرم سنة سبع وعشرين وأربعمائة وله كتاب ربيع المذكرين.
ইয়াকুত বলেছেন: এটি একটি মহান গ্রন্থ যার সমতুল্য কিছু রচিত হয়নি, (গ্রন্থটি হলো) কিফায়াতুল মুতাআল্লিমিন ফি ইখতিলাফিন নাহবিয়্যিন, কিতাবুল হামাসাতুল মুহাদ্দাসাহ এবং এ ছাড়াও অন্যান্য।যাহাবি বলেছেন: তিনি তিনশত পঁচানব্বই হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।ইয়াকুত বলেছেন: তিনি তাঁর মৃত্যুর দুই দিন আগে বলেছিলেন:হে আমার রব, নিশ্চয়ই আপনি আমার গুনাহসমূহ পরিবেষ্টন করে আছেন … আপনার জ্ঞান দ্বারা এবং আমাকে, আমার প্রকাশ্য ও গোপনীয়তাকেআমি একত্ববাদী কিন্তু আমি গুনাহের স্বীকারোক্তি দানকারী … অতএব আমার একত্ববাদ ও স্বীকারোক্তির বিনিময়ে আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আবু ইসহাক আন-নিশাপুরি আস-সা'লাবি বিখ্যাত তাফসির এবং 'আল-আরাইস ফি কিসাসিল আম্বিয়া' গ্রন্থের রচয়িতা।তিনি কুরআন বিজ্ঞানে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন, আরবি ভাষায় দক্ষ পণ্ডিত এবং নির্ভরযোগ্য হাফেজ ছিলেন।তিনি আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল বিন খুজায়মাহ, আবু মুহাম্মাদ আল-মুখাল্লাদি এবং একদল (উলামা) থেকে বর্ণনা করেছেন।আল-ওয়াহিদি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।তিনি চারশত সাতাশ হিজরি সনের মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর 'রবিউল মুজাক্কিরিন' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أحمد بن محمد بن عبد الله بن أبي عيسى لب بن يحيي أبو عمر المعافري الأندلسي الطلمنكي.نزيل قرطبة.كان حبرا في علوم القرآن قراءاته وإعرابه، وناسخه ومنسوخه، وأحكامه ومعانيه، ذا عناية تامة بالأثر ومعرفة الرجال، حافظاً للسنن عارفاً بأصول الديانات، عالي الإسناد، شديداً في ذات الله تعالى، قامعاً لأهل الأهواء والبدع.أخذ القراءة عن ابن غلبون وأخذ بمصر عن أبي بكر الأدفوري، وأبي القاسم الجوهري، وبإفريقية عن ابن أبي زيد.روى عنه ابن عبد البر، وابن حزم، وطائفة.وانتفع به الناس.
আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ঈসা লুব বিন ইয়াহইয়া আবু উমর আল-মুআফিরি আল-আন্দালুসি আত-তালামানকি.কুরতুবায় বসবাসকারী।তিনি কুরআন বিজ্ঞান—এর কিরাত ও ব্যাকরণ, রহিতকারী ও রহিতকৃত বিষয়াবলী এবং এর বিধান ও অর্থসমূহে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। আছার (বর্ণনা) এবং বর্ণনাকারীদের পরিচিতি বিষয়ে তিনি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। তিনি সুন্নাহর হাফেজ, ধর্মীয় মূলনীতি সম্পর্কে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ এবং উচ্চ পর্যায়ের সনদধারী ছিলেন। তিনি মহান আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর এবং প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতিদের দমনকারী ছিলেন।তিনি ইবন গালবুন থেকে কিরাত শিক্ষা করেছেন; মিশরে আবু বকর আল-আদফুরি ও আবুল কাসেম আল-জাওহরি থেকে এবং ইফরীকিয়্যাহতে ইবন আবি যায়েদ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।তাঁর থেকে ইবন আব্দুল বারর, ইবন হাজম এবং একদল আলেম বর্ণনা করেছেন।মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولد سنة أربعين وثلاثمائة، ومات في ذي الحجة سنة تسع وعشرين وأربعمائة. أحمد بن عمار أبو العباس المهدوي صاحب التفسير كان مقدما في القراءات والعربية، ألف كتباً مفيدة.روى عن أبي الحسن القابسي.وأخذ عنه أبو محمد غانم بن وليد المالقي.مات في حدود سنة ثلاثين وأربعمائة.. أحمد بن فرح بن جبريل أبو جعفر البغدادي العسكري.الضرير المقرىء المفسر.قرأ على أبي عمر الدوري وأقرأ الناس مدة، وحدث
তিনি ৩৪০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪২৯ হিজরির জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ বিন আম্মার আবুল আব্বাস আল-মাহদাবী তাফসির গ্রন্থপ্রণেতা, তিনি কিরাআত ও আরবি সাহিত্যে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন।তিনি আবুল হাসান আল-কাবেসি থেকে বর্ণনা করেছেন।আর আবু মুহাম্মদ গানিম বিন ওয়ালিদ আল-মালিকি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।তিনি ৪৩০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ বিন ফারাহ বিন জিবরীল আবু জাফর আল-বাগদাদী আল-আসকারী।দৃষ্টিহীন কারী ও মুফাসসির।তিনি আবু উমর আদ-দুরী'র নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘকাল মানুষকে পাঠদান করেন, এবং হাদীস বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عن علي بن المديني، وأبي بكر وعثمان إبنأبي شيبة، وأبي الربيع الزهراني.وعنه أحمد بن جعفر الختلي، وابن سمعان الرزاز.وكان ثقة عالماً بالقرآن، واللغة، بصيراً بالتفسير.قرأ عليه أبو بكر النقاش وغيره.مات بالكوفة في ذي الحجة سنة ثلاث وثلاثمائة. أحمد بن محمد بن أيوب أبو بكر الفارسي الواعظ، المفسر، نزيل نيسابور.كان يحضر مجلسه نحو عشرة آلاف.أخذ عنه أبو عبد الله الحاكم.مات سنة أربع وستين وثلاثمائة. أحمد بن محمد بن شارك أبو حامد الهروي الشافعي.
আলী ইবনে আল-মাদিনী, আবু বকর ও উসমান ইবনে আবি শাইবাহ এবং আবু আল-রবি আল-জাহরানি থেকে বর্ণনা করেছেন।এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে জাফর আল-খুতালি এবং ইবনে সামআন আর-রাজজায।তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য এবং কুরআন ও ভাষাশাস্ত্রে পণ্ডিত ও তাফসির বিষয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ।তাঁর নিকট আবু বকর আন-নাককাশ ও অন্যান্যরা পাঠ গ্রহণ করেছেন।তিনি তিনশত তিন হিজরি সনের জিলহজ মাসে কুফায় ইন্তেকাল করেন। আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব আবু বকর আল-ফারিসি, তিনি ছিলেন একজন ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা), মুফাসসির এবং নিশাপুরের বাসিন্দা।তাঁর মজলিসে প্রায় দশ হাজার মানুষ উপস্থিত হতো।আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।তিনি তিনশত চৌষট্টি হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শারিক আবু হামিদ আল-হারাউয়ি আশ-শাফেয়ি।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مفتي هراة، وأديبها.وعالمها، ومفسرها، ومحدثها في زمانه.سمع الحسن ابن سفيان، وأبا يعلى الموصلي وعنه أبو عبد الله الحاكم.مات بهراة سنة خمس - وقيل ثمان - وخمسين وثلاثمائة. أحمد بن محمد أحمد بن برد الأندلسي أبو حفص الكاتب قال الحميدي: مليح الشعر، بليغ الكتابة، من أهل بيت أدب ورياسة، له كتب في علم القرآن، منها: كتاب التحصيل في تفسير القرآن وكتاب التفصيل في تفسيره أيضا وله رسالة في المفاخرة بين السيف والقلم وهو أول من سبق إلى القول في ذلك بالأندلس، رأيته بالمرية بعد الأربعين وأربعمائة. أحمد بن محمد بن عمر العلامة الزاهد زين الدين أبو القاسم البخاري العتابي كان من كبار الحنفية.صنف الجامع الكبير والزيادات وتفسير القرآن.
হেরাতের মুফতি ও সাহিত্যিক।এবং তাঁর সময়ের আলেম, মুফাসসির ও মুহাদ্দিস।তিনি হাসান ইবনে সুফিয়ান ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন।তিনি তিনশত পঞ্চান্ন—মতান্তরে আটান্ন—হিজরি সনে হেরাতে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ বিন মুহাম্মদ আহমদ বিন বুরদ আল-আন্দালুসি আবু হাফস আল-কাতিব হুমাইদি বলেন: সুন্দর কবিতা ও সাবলীল গদ্য রচয়িতা, তিনি এক সাহিত্যিক ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য ছিলেন। কুরআন বিজ্ঞানে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ‘কিতাবুত তাহসিল ফি তাফসিরিল কুরআন’ এবং একইভাবে ‘কিতাবুত তাফসিল ফি তাফসিরিহি’। তলোয়ার ও কলমের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তাঁর একটি পুস্তিকা রয়েছে এবং আন্দালুসে তিনিই প্রথম এই বিষয়ে লিখেছেন। চারশত চল্লিশ হিজরির পর আমি তাঁকে আল-মারিয়াতে দেখেছি। আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-আল্লামা আয-যাহিদ যাইনুদ্দিন আবু আল-কাসিম আল-বুখারি আল-ইতাবি তিনি হানাফিদের প্রবীণ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।তিনি ‘আল-জামি আল-কাবির’, ‘আয-যিয়াদাত’ এবং কুরআনের তাফসির রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لازمه شمس الأئمة محمد بن عبد الستار الكردري.مات سنة ست وثمانين وخمسمائة. أحمد بن محمد بن محمد بن سعيد أبو العباس الأنصاري الأندلسي.روى عن أبي بكر غالب بن عطية، وأبي علي الصدفي، وأبي الحسن ابن الباذش، وأبي الوليد بن رشد، وأبي محمد بن عتاب وغيرهم.وكان متقنا للقراءات، والتفسير، والكلام، يغلب عليه علم اللغة.حدث عنه أبو ذر الخشني، وأبو الخطاب بن واجب، وأبو عبد الله الأندرشي.مات سنة اثنتين وستين وخمسمائة. أحمد بن موسى بن أبي عطاء أبو بكر القرشي مولاهم الدمشقي المفسر
শামসুল আইম্মাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল সাত্তার আল-কারদারি তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।তিনি পাঁচশত ছিয়াশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আবুল আব্বাস আল-আনসারী আল-আন্দালুসী।তিনি আবু বকর গালিব বিন আতিয়্যাহ, আবু আলী আস-সাদাফী, আবু হাসান ইবনুল বাযিশ, আবু ওয়ালিদ বিন রুশদ, আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাব এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।তিনি কিরাআত, তাফসির এবং ইলমুল কালামে পারদর্শী ছিলেন, তবে তাঁর ওপর ভাষাবিজ্ঞানের প্রভাব ছিল প্রবল।তাঁর থেকে আবু যার আল-খুশানী, আবুল খাত্তাব বিন ওয়াজিব এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-আন্দারাশী বর্ণনা করেছেন।তিনি পাঁচশত বাষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ বিন মুসা বিন আবি আতা আবু বকর আল-কুরাশী তাদের মুক্তদাস আদ-দিমাশকী আল-মুফাসসির
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
روى عن بكار بن قتيبة، وعبد الله بن الحسين المصيصي.وعنه أبو هاشم المؤدب.وعبد الوهاب الكلابي وغيرهما.مات سنة خمس وعشرين وثلاثمائة. أحمد بن مغيث بن أحمد بن مغيث أبو جعفر الصدفي الطليطلي.كان من أهل البراعة والفهم والرياسة في العلم، متفنناً عالما بالحديث وعلله، وبالفرائض والحساب واللغة والنحو، وله يد طولى في التفسير، وله كتاب المقنع في عقد الشروط.مات في صفر سنة تسع وخمسين وأربعمائة، وله ثلاث وخمسون سنة. احمد بن يوسف بن أصبغ أبو عمر الطليطلي.كان ماهرا في الحديث، والتفسير، والفرائض، رحل إلى المشرق وحج، وولي قضاء طليطلة.مات في شعبان سنة تسع وسبعين وأربعمائة. أحمد بن إسماعيل بن عيسى أبو بكر الغزنوي الجوهري المفسر
তিনি বাক্কার ইবনে কুতাইবাহ এবং আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-মাসসিসি থেকে বর্ণনা করেছেন।তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম আল-মুআদ্দিব।এবং আবদুল ওয়াহহাব আল-কিলাবি ও অন্যান্যরা।তিনি তিনশত পঁচিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ ইবনে মুগীস ইবনে আহমদ ইবনে মুগীস আবু জাফর আস-সাদাফি আত-তুলাইতুলি।তিনি ইলমের ক্ষেত্রে পারদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি হাদিস ও এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইলাল), ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী পণ্ডিত ছিলেন। তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল এবং 'আকদ আশ-শুরুত' (চুক্তিনামা ও শর্তাবলি সম্পাদন) বিষয়ে তাঁর 'আল-মুকনি' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।তিনি চারশত ঊনষাট হিজরি সালের সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন, এবং তাঁর বয়স হয়েছিল তিপ্পান্ন বছর। আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আসবাগ আবু উমর আত-তুলাইতুলি।তিনি হাদিস, তাফসীর এবং ফারায়েজ শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন। তিনি প্রাচ্য দেশসমূহ সফর করেছেন, হজ পালন করেছেন এবং তুলাইতুলার (তোলেদো) বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনি চারশত ঊনআশি হিজরি সালের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আহমদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ঈসা আবু বকর আল-গজনবি আল-জাওহারি আল-মুফাসসির
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أحد أئمة غزنة وفضلائهم، سافر إلى خراسان، والحجاز، والعراق ولقي أبا القاسم القشيري وسمع منه، وعاش بعد العشرين وخمسمائة. أحمد بن ناصر بن ظاهر العلامة برهان الدين الشريف الحسيني الحنفي كان مفنناً عالماً زاهداً عابداً، صنف تفسيراً في سبع مجلدات، وكتاباً في أصول الدين مات في شوال سنة ست وثمانين وستمائة. إسماعيل بن أحمد بن عبد الله أبو عبد الرحمن الحيري النيسابوري.الضرير المفسر المقرئ، أحد أئمة المسلمين والعلماء العاملين، له التصانيف المشهورة في القرآن، والقراءات، والحديث، والوعظ، رحل في طلب الحديث كثيرا، وسمع من زاهرالسرخسي، وأبي الحسين الخفاف، ومحمد بن مكي الكشميهني.
গজনার অন্যতম ইমাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের একজন। তিনি খোরাসান, হিজাজ ও ইরাক সফর করেন এবং আবুল কাসেম আল-কুশাইরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন ও তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি পাঁচশ বিশ হিজরির পরবর্তী সময় পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। আহমাদ ইবনে নাসির ইবনে জাহির আল-আল্লামা বুরহানউদ্দীন আশ-শরীফ আল-হুসাইনী আল-হানাফী তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী, আলিম, দুনিয়াত্যাগী ও ইবাদতগুজার ছিলেন। তিনি সাত খণ্ডে একটি তাফসীর এবং উসুলুদ দ্বীন বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ছয়শ ছিয়াশি হিজরির শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। ইসমাঈল ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আবু আব্দুর রহমান আল-হীরী আন-নিশাপুরী।দৃষ্টিহীন এই মুফাসসির ও ক্বারী ছিলেন মুসলিমদের অন্যতম ইমাম এবং ইলম অনুযায়ী আমলকারী আলেমগণের একজন। কুরআন, কিরাত, হাদিস ও ওয়ায বিষয়ে তাঁর প্রসিদ্ধ রচনাবলি রয়েছে। তিনি হাদিস অন্বেষণে প্রচুর সফর করেন এবং যাহির আস-সারাকসী, আবুল হুসাইন আল-খাফফাফ ও মুহাম্মাদ ইবনে মক্কী আল-কুশমিহানী থেকে শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
روى عنه الخطيب أبو بكر، وكان مفيداً نفاعاً للخلق، مباركا في علمه، له تفسير مشهور.ولد سنة إحدى وستين وثلاثمائة ومات سنة ثلاثين وأربعمائة. إسماعيل بن عبد الرحمن بن أحمد بن إسماعيل أبو عثمان الصابوني النيسابوري.الواعظ، المفسر، المحدث، الأستاذ شيخ الإسلام إمام المسلمين، أوحد وقته شهدت له أعيان الرجال بالكمال في الحفظ، والتفسير، وغيرهما، حدث عن زاهر السرخسي، وأبي طاهر بنخزيمة، وعبد الرحمن بن أبي شريح.وعنه أبو بكر البيهقي، وعبد العزيز الكتاني، وطائفة.وكان كثير السماع والتصنيف وممن رزق العز، والجاه، في الدين، والدنيا، عديم النظير، وسيف السنة، ودافع أهل البدعة، يضرب به المثل في كثرة العبادة والعلم والذكاء والزهد والحفظ، أقام شهرا في تفسير آية.ولد سنة ثلاث وسبعين وثلاثمائة، ومات يوم الجمعة رابع محرم سنة تسع وأربعين وأربعمائة.ورثاه أبو الحسن الداودي
তাঁর থেকে খতিব আবু বকর বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উপকারী ও সৃষ্টির জন্য কল্যাণকর এবং নিজ বিজ্ঞানে বরকতময়। তাঁর একটি প্রসিদ্ধ তাফসির রয়েছে।তিনি ৩৬১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইসমাইল ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে ইসমাইল আবু উসমান আস-সাবুনী আন-নাইসাবুরী।তিনি ছিলেন একজন ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা), মুফাসসির, মুহাদ্দিস, উস্তাদ, শাইখুল ইসলাম এবং মুসলিমদের ইমাম। তিনি তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। প্রথিতযশা মণীষীগণ তাঁর হিফজ (স্মৃতিশক্তি), তাফসির এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর পূর্ণাঙ্গতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি জাহির আস-সারখাসি, আবু তাহির বিন খুজাইমাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-বাইহাকী, আব্দুল আজিজ আল-কাত্তানী এবং একদল আলেম।তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন দ্বীন ও দুনিয়াতে সম্মান ও প্রতিপত্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ছিলেন অতুলনীয়, সুন্নাহর তলোয়ার এবং বিদআতিদের প্রতিহতকারী। ইবাদত, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দুনিয়াবিমুখতা ও হিফজের আধিক্যের ক্ষেত্রে তিনি প্রবাদে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি একটি আয়াতের তাফসিরে এক মাস অতিবাহিত করেছিলেন।তিনি ৩৭৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৪৯ হিজরির ৪ঠা মুহাররম জুমআর দিনে মৃত্যুবরণ করেন।আবু হাসান আদ-দাউদী তাঁর শোকগাঁথা পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
بقوله:أودى الإمام الحبر إسماعيل … لهفي عليه فليس منه بديل …... بكت السما والأرض يوم وفاته … وبكى عليه الوحي والتنزيلفي أبيات أخرى. إسماعيل بن محمد بن الفضل بن علي بن أحمد بن طاهر الحافظ الكبير أبو القاسم التيمي الطلحي الأصبهاني.الملقب قوام السنة، قال ابن السمعاني: هو أستاذي في الحديث، وهو إمام في التفسير والحديث واللغة والأدب، عارف بالمتون والأسانيد، عديم النظير لا مثيل له في وقته.وقال السلفي: كان فاضلا في العربية ومعرفة الرجال، حافظاً للحديث، عارفاً بكل علم، متفنناً ولد سنة سبع وخمسين وأربعمائة، وسمع من أبي عمرو بن منده وعائشة الوركانية، وطراد الزينبي، ومالك البانياسي، وخلائق.ورحل وطوف وأملى وصنف، وتكلم في الجرح والتعديل.
তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে:মহান পণ্ডিত ইমাম ইসমাইল ইন্তেকাল করেছেন … তাঁর জন্য আমার গভীর শোক, কেননা তাঁর কোনো বিকল্প নেই …... তাঁর মৃত্যুর দিনে আসমান ও জমিন কেঁদেছে … এবং ওহী ও অবতীর্ণ কিতাব তাঁর জন্য ক্রন্দন করেছেআরও কিছু পঙক্তিতে। ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে তাহির, মহান হাফেজ, আবু কাসিম আত-তাইমি আত-তালহি আল-আসফাহানি.যাঁর উপাধি ‘কাওয়ামুস সুন্নাহ’। ইবনুস সামআনি বলেন: তিনি হাদিসশাস্ত্রে আমার উস্তাদ, এবং তিনি তাফসির, হাদিস, ভাষা ও সাহিত্যে একজন ইমাম। তিনি হাদিসের মূল পাঠ ও সনদ সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ছিলেন অতুলনীয়, তাঁর সময়ে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না।আস-সিলাফি বলেন: তিনি আরবি ভাষা ও রিজালশাস্ত্রে (বর্ণনাকারীদের পরিচয়) পারদর্শী ছিলেন, হাদিসের হাফেজ ছিলেন, প্রতিটি বিদ্যায় পারদর্শী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ৪৫৭ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবু আমর ইবনে মানদাহ, আয়েশা আল-ওয়ারকানিয়্যাহ, তিরাদ আজ-জায়নাবি, মালিক আল-বানিয়াসি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেছেন, হাদিস বর্ণনা করেছেন ও গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ‘জারহ ও তাদিল’ (বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
روى عنه أبو القاسم بن عساكر، وأبو سعد السمعاني، وأبوموسى المديني وآخرون.قال أبو موسى في معجمه: هو إمام أئمة وقته، وأستاذ علماء عصره، وقدوة أهل السنة في زمانه.مات يوم الأضحى سنة خمس وثلاثين وخمسمائة بالفالج.وكان يحضر مجلس إملائه الأئمة والحفاظ والمسندون، وبلغ عدد أماليه نحواً من ثلاثة آلاف وخمسمائة مجلس.قال أبو موسى: وهو المبعوث على رأس المائة الخامسة الذي أحيا الله به الدين لا أعلم أحداً في ديار الإسلام يصلح لذلك غيره.قال الذهبي: وهذا تكلف زائد من أبي موسى، فإنه لم يشتهر إلا من بعد العشرين وخمسمائة.هذا إن سلم أنه أجل أهل زمانه في العلم.ثم قال أبو موسى: ومن تصانيفه التفسير الكبير ثلاثون مجلداً سماه الجامع، وله كتاب الإيضاح في التفسير، أربعمجلدات، والموضح في التفسير، ثلاث مجلدات والمعتمد في التفسير عشر مجلدات وكتاب التفسير باللسان الأصبهاني عدة مجلدات.وله كتاب الترغيب والترهيب وكتاب السنة وكتاب دلائل النبوة وشرخ البخاري وشرح مسلم وإعراب القرآن وغير ذلك، وله فتاوي كثيرة.
তাঁর থেকে আবুল কাসিম বিন আসাকির, আবু সা'দ আস-সামআনি, আবু মুসা আল-মাদিনি এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।আবু মুসা তাঁর 'মু'জাম'-এ বলেন: তিনি তাঁর সময়ের ইমামদের ইমাম, তাঁর যুগের আলেমদের শিক্ষক এবং তাঁর সমসাময়িক আহলুস সুন্নাহর অনুকরণীয় আদর্শ।তিনি ৫৩৫ হিজরি সনের ঈদুল আযহার দিনে আল-ফালিজে মৃত্যুবরণ করেন।তাঁর পাঠদান মজলিসে বড় বড় ইমাম, হাফেজ এবং মুসনিদগণ উপস্থিত হতেন। তাঁর শ্রুতিলিপি বা পাঠদান মজলিসের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার পাঁচশটিতে পৌঁছেছিল।আবু মুসা বলেন: তিনি পঞ্চম শতাব্দীর শিরোভাগে প্রেরিত সেই ব্যক্তি, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। ইসলামের ভূখণ্ডে তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে আমি এর উপযুক্ত বলে মনে করি না।ইমাম যাহাবি বলেন: এটি আবু মুসার পক্ষ থেকে এক প্রকার অতিরঞ্জন, কেননা তিনি ৫২০ হিজরির পরেই কেবল প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।এটি তখনই বলা যায় যদি মেনে নেওয়া হয় যে, তিনি ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।অতঃপর আবু মুসা বলেন: তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ত্রিশ খণ্ডের 'আত-তাফসির আল-কাবির' যা তিনি 'আল-জামি' নামে নামকরণ করেছেন। এছাড়া রয়েছে চার খণ্ডে 'আল-ইজাহ ফিত তাফসির', তিন খণ্ডে 'আল-মুওয়াল্লিহ ফিত তাফসির', দশ খণ্ডে 'আল-মু'তামাদ ফিত তাফসির' এবং আসবাহানি ভাষায় কয়েক খণ্ডের একটি তাফসির গ্রন্থ।তাঁর আরও রয়েছে 'কিতাবুত তারগিব ওয়াত তারহিব', 'কিতাবুস সুন্নাহ', 'দালাইলুন নুবুওয়াহ', 'শরহে বুখারি', 'শরহে মুসলিম', 'ই'রাবুল কুরআন' সহ আরও অনেক কিতাব। এছাড়া তাঁর প্রচুর ফতোয়া রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وكان أهل بغداد يقولون: ما دخل بغداد بعد أحمد بن حنبل أفضل ولا أحفظ منه. بشير بن حامد بن سليمان بن يوسف بن سليمان بن عبد الله.الإمام نجم الدين أبو النعمان الهاشمي الطالبي الجعفري الزينبى التبريزي الصوفي الفقيه.ولد بأردبيل سنة سبعين وخمسمائة، وتفقه ببغداد على ابن فضلان وغيره، وحفظ المذهب والأصول والخلاف، وناظر وأفتى، وأعاد بالنظامية، وكان إماما مشهوراً بالعلم والفضل.وله تفسير مليح في عدة مجلدات.سمع من ابن طبرزد، وعبد المنعم بن كليب، وابن سكينة.
বাগদাদবাসী বলতেন: আহমদ ইবনে হাম্বলের পর বাগদাদে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন আর কেউ প্রবেশ করেনি। বশীর বিন হামিদ বিন সুলাইমান বিন ইউসুফ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ.ইমাম নাজমুদ্দীন আবু নুমান আল-হাশিমী আত-তালিবী আল-জাফরী আজ-জায়নাবী আত-তাবরিযী আস-সূফী আল-ফকিহ।তিনি পাঁচশত সত্তর হিজরি সনে আরদাবিলে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে ইবনে ফাযলান ও অন্যান্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি মাযহাব, উসুল এবং খিলাফ (মতভেদ শাস্ত্র) আয়ত্ত করেন; তিনি বিতর্ক করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং নিযামিয়া মাদরাসায় পাঠদান করেছেন। তিনি জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য একজন প্রসিদ্ধ ইমাম ছিলেন।কয়েক খণ্ডে রচিত তাঁর একটি চমৎকার তাফসির গ্রন্থ রয়েছে।তিনি ইবনে তাবারযাদ, আব্দুল মুনয়িম বিন কুলাইব এবং ইবনে সাকীনাহর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
روى عنه الحافظ الظاهري، والمحب الطبري، والشرف الدمياطي وغيره.مات بمكة في صفر سنة ست وأربعين وستمائة وهو القائل:دخلت إليك يا أملي بشيراً … فلما أن خرجت خرجت بشرا …أعد يائي التي سقطت من اسمي … فيائي في الحساب تعد عشراًوكان دخل على بعض الكبار فسرقت نعله. بقي بن مخلد بن يزيد أبو عبد الرحمن الأندلسي القرطبي الحافظ أحد الأعلام، وصاحب التفسير والمسند.أخذ عن يحيى بن يحيى الليثي، ورحل إلى المشرق، ولقى الكبار
হাফেজ জাহেরি, মুহিব্ব তাবারি, শরফ দিমইয়াতি ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।তিনি ৬৪৬ হিজরি সনের সফর মাসে মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং তিনিই এই পঙ্ক্তিগুলোর রচয়িতা:হে আমার আশা! আমি আপনার নিকট 'বশির' হিসেবে প্রবেশ করেছিলাম … কিন্তু যখন বের হলাম, তখন 'বিশর' হয়ে বের হলাম …আমার নাম থেকে বিচ্যুত হওয়া 'ইয়া' বর্ণটি ফিরিয়ে দিন … কেননা হিসাব অনুযায়ী আমার 'ইয়া' দশের সমান।তিনি জনৈক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর জুতা চুরি হয়ে গিয়েছিল। বকি ইবনে মাখলাদ ইবনে ইয়াজিদ আবু আব্দুর রহমান আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আল-হাফেজ যিনি অন্যতম বরেণ্য ইমাম এবং তাফসির ও মুসনাদ গ্রন্থের প্রণেতা।তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-লাইসির নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, প্রাচ্যের দেশসমূহ সফর করেছেন এবং বড় বড় মনিষীদের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فسمع بالحجاز أبا مصعب الزهري، وإبراهيم بن المنذرالحزامي، وبمصر يحيى ابن بكير، وأبا الطاهر بن السرح، وبدمشق هشام بن عمار، وببغداد أحمد بن حنبل، وبالكوفة يحيى بن عبد الحميد الحماني، وأبا بكر بن أبي شيبة، وخلائق.وعدد شيوخه مائتان وأربعة وثمانون رجلاً، وعنى بالأثر، وكان إماماً زاهداً صواماً صادقاً، كثير النذر، مجاب الدعوة، قليل المثل، بحراً في العلم، مجتهداً، لا يقلد أحداً، بل يفتي بالأثر، وهوالذي نشر الحديث بالأندلس وكثره وليس لأحد مثل مسنده ولا تفسيره.قال ابن حزم: أقطع أنه لم يؤلف في الإسلام مثل تفسيره، ولا تفسير ابن جرير ولاغيره.قال: وقد روى في مسنده عن ألف وثلاثمائة صحابي ونيف، ورتب حديث كل صاحب على أبواب الفقه، فهو مسند ومصنف.قال: وله تواليف في فتاوى الصحابة والتابعين فمن بعدهم، أربى فيه على مصنف عبد الرزاق، وابن أبي شيبة.
হিজাজে তিনি আবু মুসআব আজ-জুহরি এবং ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির আল-হিজামি-র নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন; মিশরে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর এবং আবু আত-তাহির বিন আস-সারাহ-র নিকট; দামেস্কে হিশাম বিন আম্মার-এর নিকট; বাগদাদে আহমাদ বিন হাম্বল-এর নিকট; এবং কুফায় ইয়াহইয়া বিন আব্দুল হামিদ আল-হিমানি, আবু বকর বিন আবি শায়বাহ এবং আরও বহু সংখ্যক লোকের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা ছিল দুই শত চুরাশি জন। তিনি আসারের (হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা) প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, দুনিয়াবিমুখ, অত্যধিক সিয়াম পালনকারী ও সত্যবাদী। তিনি প্রচুর মানত করতেন, তাঁর দুআ কবুল হতো, তিনি ছিলেন অনন্যসাধারণ, ইলমের এক সমুদ্র এবং একজন মুজতাহিদ। তিনি কারো অন্ধ অনুসরণ (তাকলীদ) করতেন না, বরং আসারের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করতেন। তিনিই আন্দালুসে হাদিস চর্চাকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং একে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাঁর মুসনাদ ও তাফসীর গ্রন্থের সমতুল্য অন্য কারো কাজ নেই।ইবনে হাযম বলেন: "আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, ইসলামে তাঁর তাফসীরের মতো কোনো গ্রন্থ আর রচিত হয়নি, এমনকি ইবনে জারীরের তাফসীর বা অন্য কোনো তাফসীরও এর সমতুল্য নয়।"তিনি বলেন: তিনি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এক হাজার তিনশ’রও অধিক সাহাবীর বর্ণনা সংকলন করেছেন এবং প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসকে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সাজিয়েছেন। ফলে এটি একাধারে একটি মুসনাদ ও একটি মুসান্নাফ গ্রন্থ।তিনি বলেন: সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তীগণের ফতোয়া সংকলনে তাঁর এমন সব রচনা রয়েছে যা আব্দুর রাজ্জাক এবং ইবনে আবি শায়বাহর মুসান্নাফকেও অতিক্রম করে গেছে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
قال: فصارت تصانيف هذا الإمام قواعد الإسلام لا نظير لها، وكان لا يقلد أحداً، وكان جارياً في مضمار البخاري، ومسلم، والنسائي، انتهى.وقال غيره: كان بقي متواضعاً، ضيق العيش، كان يمضي عليه الأيام في وقت طلبه ليس له عيش الكرنب الذي يرمى.روى عنه ابنه أحمد، وأيوب بن سليمان المري، وأسلم بن عبد العزيز، وهشام بن الوليد الغافقي، وآخرون.ولد في رمضان سنة إحدى ومائتين، ومات في جمادى الآخرة سنة ست وسبعين.قال ابن عساكر: لم يقع إلي حديث مسند من حديثه. بكير بن معروف الدامغاني أبو معاذ.المفسر.قاضي نيسابور.
তিনি বলেন: এই ইমামের রচনাসমূহ ইসলামের এমন এক অনন্য মূলনীতিতে পরিণত হয়েছে যার কোনো নজির নেই। তিনি কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ (তাকলিদ) করতেন না এবং তিনি ইমাম বুখারী, মুসলিম ও নাসায়ীর পথেই চলতেন। সমাপ্ত।অন্যরা বলেন: বাকি (রহ.) অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত অভাবী। তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের সময়কালে এমন দিনও অতিবাহিত হয়েছে যখন আহারের জন্য তাঁর নিকট ফেলে দেওয়া বাঁধাকপির পাতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র আহমাদ, আইয়ুব ইবনে সুলাইমান আল-মুরি, আসলাম ইবনে আবদুল আজিজ, হিশাম ইবনে ওয়ালিদ আল-গাফেকি এবং আরও অনেকে।তিনি ২০১ হিজরীর রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৬ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে মৃত্যুবরণ করেন।ইবনে আসাকির বলেন: তাঁর বর্ণিত কোনো মুসনাদ হাদিস আমার হস্তগত হয়নি। বুকায়র ইবনে মারুফ আদ-দামাগানি আবু মুয়াজ.মুফাসসির (কুরআনের ব্যাখ্যাকারক)।নিশাপুরের বিচারক (কাজী)।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بيبش بن محمد بن علي بن بيبش أبو بكر العبدري الشاطبي قاضي شاطبة، كان مفتياً مفسراً مصنفاً، سمع أبا الحسن بن هذيل، وأبا عبد الله بن سعادة.روى عنه أبو محمد وأبو سليمان ابنا حوط الله.مات سنة اثنتين وثمانية وخمسمائة عن ثمان وخمسين سنة. جعفر بن محمد بن الحسن بن زياد أبو يحيى الرازي الزعفراني.كان إماما في التفسير، صدوقا، ثقة حدث عن سهل بن عثمان العسكري، وعلي بن محمد الطنافسي، وجماعة.روى عنه إسماعيل الصفار، وأبو سهل بن قطان، وأبو بكر الشافعي، وابن أبي حاتم.وآخرون.مات في ربيع الآخر سنة تسع وسبعين ومائتين. الحسن بن عبد الله بن سهل بن سعيد بن يحيى بن مهران اللغوي الأديب أبو هلال العسكري.
বাইবাশ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন বাইবাশ আবু বকর আল-আবদারি আশ-শাতিবি শাতিবার বিচারক (কাযী), তিনি ছিলেন একজন মুফতি, মুফাসসির ও গ্রন্থকার। তিনি আবুল হাসান বিন হুযাইল এবং আবু আব্দুল্লাহ বিন সাআদাহ-এর নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন।তার থেকে বর্ণনা করেছেন হাওতিল্লাহর দুই পুত্র আবু মুহাম্মাদ এবং আবু সুলাইমান।তিনি পাঁচশত বিরাশি হিজরি সনে আটান্ন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন যিয়াদ আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি আজ-জাফরানি.তিনি তাফসির শাস্ত্রে একজন ইমাম, সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি সাহল বিন উসমান আল-আসকারি, আলি বিন মুহাম্মাদ আত-তানাফিসি এবং একদল বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।তার থেকে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল আস-সাফফার, আবু সাহল বিন কাত্তান, আবু বকর আশ-শাফিয়ি এবং ইবনে আবি হাতিম।এবং অন্যান্যরা।তিনি দুইশত উনআশি হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে মৃত্যুবরণ করেন। হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন সাহল বিন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন মিহরান ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক আবু হিলাল আল-আসকারি.
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
تلميذ أبي أحمد العسكري، له تفسير في خمس مجلدات، وله كتاب الأوائل وكتاب الصناعتين في النظم والنثر وكتاب الأمثال وشرح الحماسة وغير ذلك، وله ديوانشعر.وكان عالما عفيفاً يتبزز إحترازاً من الطمع والدناءة والتبذل، وكان الغالب عليه الأدب والشعر، مات بعد الأربعمائة. الحسن بن الفتح بن حمزة بن الفتح أبو القاسم الهمذاني.قال السلفي: كان من أهل الفضل والتقدم في الفرائض، والتفسير، والآداب، واللغة، والمعاني والبيان، والكلام، استوطن بغداد في آخر عمره، وله تفسير حسن، وشعر رائق، صحب أبا إسحاق الشيرازي وتفقه عليه.وقال ابن الصلاح: رأيت مجلدين من تفسيره، واسمه كتاب البديع في البيان عن غوامض القرآن فوجدته ذا عناية بالعربية والكلام، ضعيف الفقه.مات بعد الخمسمائة.
আবু আহমাদ আল-আসকারির ছাত্র, তাঁর পাঁচ খণ্ডের একটি তাফসির গ্রন্থ রয়েছে। এছাড়াও তাঁর 'কিতাবুল আওয়াইল', পদ্য ও গদ্য শিল্প বিষয়ক 'কিতাবুস সিনাআতাইনি', 'কিতাবুল আমসাল', 'শারহুল হামাসাহ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে এবং তাঁর একটি কাব্যসংগ্রহ রয়েছে।তিনি ছিলেন একজন পুণ্যবান আলেম, যিনি লোভ-লালসা, নীচতা ও অবমাননা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তাঁর ওপর সাহিত্য ও কবিতার প্রভাবই ছিল প্রবল। তিনি চারশ হিজরির পরে ইন্তেকাল করেন। আল-হাসান বিন আল-ফাতহ বিন হামজাহ বিন আল-ফাতহ আবু আল-কাসিম আল-হামাদানি.আস-সিলাফি বলেন: তিনি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), তাফসির, সাহিত্য, ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং ইলমুল কালামে শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জীবনের শেষভাগে তিনি বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাঁর একটি চমৎকার তাফসির এবং মনোমুগ্ধকর কবিতা রয়েছে। তিনি আবু ইসহাক আশ-শিরাজির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।ইবনুস সালাহ বলেন: আমি তাঁর তাফসিরের দুটি খণ্ড দেখেছি, যার নাম 'কিতাবুল বদি ফি আল-বায়ান আন গাওয়াযিল কুরআন'। আমি তাঁকে আরবি ভাষা ও ইলমুল কালামের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল কিন্তু ফিকহ শাস্ত্রে দুর্বল হিসেবে পেয়েছি।তিনি পাঁচশ হিজরির পরে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
ومن شعره:نسيم الصبا إن عجت يوماً بأرضها … فقولي لها حالي علت عن سؤالك …فهأنذا إن كنت يوما تعينني … فلم يبق لي إلا حشاشة هالك الحسن بن علي بن خلف بن جبريل الألمعي الكاشغريأبو عبد الله.له أكثر من مائة تصنيف أكثرها في التصوف، ومنها المقنع في تفسير القرآن.سمع من ابن غيلان، والصوري، وطائفة.وكان بكاءً، خائفاً.واعظاً، لا يخاف في الله لومة لائم، لكن في حديثه مناكير، بل اتهم بوضع الحديث.مات بعد سنة أربع وثمانين وأربعمائة. الحسن بن محمد بن حبيب بن أيوب أبو القاسم النيسابوري الواعظ المفسر.
তাঁর কবিতা থেকে:হে পুবালী বাতাস, যদি তুমি কোনোদিন তার জনপদে আসো … তবে তাকে বলো যে, আমার অবস্থা তোমার জিজ্ঞাসার ঊর্ধ্বে …এই তো আমি, যদি তুমি কোনোদিন আমাকে সাহায্য করতে … তবে এক মুমূর্ষু ব্যক্তির শেষ নিশ্বাসটুকু ছাড়া আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই আল-হাসান বিন আলী বিন খালাফ বিন জিবরীল আল-আলমাঈ আল-কাশঘারি আবু আব্দুল্লাহ.তাঁর শতাধিক রচনা রয়েছে, যার অধিকাংশ তাসাউফ বিষয়ক; তার মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-মুকনি' ফী তাফসীরিল কুরআন'।তিনি ইবনে গাইলান, আস-সূরী এবং একদল (উস্তাদ) থেকে শ্রবণ করেছেন।তিনি অত্যন্ত ক্রন্দনশীল ও (আল্লাহ-ভীতিতে) শংকিত ছিলেন।তিনি একজন ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা) ছিলেন, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। তবে তাঁর বর্ণিত হাদীসে 'মুনকার' (অপ্রসিদ্ধ/অস্বীকৃত বর্ণনা) রয়েছে, এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে হাদীস জাল করারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।তিনি চারশত চুরাশি হিজরী সালের পরে মৃত্যুবরণ করেন। আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হাবীব বিন আইয়ুব আবু আল-কাসিম আন-নাইসাবুরী ওয়ায়েজ ও মুফাসসির।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قال عبد الغفار: إمام عصره في معاني القرآن وعلومه، مصنف التفسير المشهور، وكان أديباً نحوياً، عارفاً، بالمغازي والقصص والسير، انتشر عنه بنيسابور العلم الكثير، وسارت تصانيفه الحسان في الآفاق، وكان أستاذ الجماعة.حدث عن الأصم، وأبي زكريا العنبري وذكره في كتاب سر السرور وقال: هو أشهر مفسري خراسان، وأقفاهم لحق الإحسان، وكان الأستاذ أبو القاسم الثعلبي من خواص تلاميذه.وقال السمعاني: كان أولا كرامي المذهب، ثم تحول شافعياً.وقال الذهبي: سمع أبا حاتم بن حبان، وجماعة.روى عنه أبوبكر محمد بن عبد الواحد الحيري الواعظ، وابو الفتح محمد بن اسماعيل الفرغاني، وآخرون.وصنف في القراءات، والتفسير، والآداب، وعقلاء المجانين.مات في ذي الحجة سنة ست واربعمائة.ومن شعره أورده ياقوت:
আব্দুল গাফফার বলেন: তিনি ছিলেন কুরআনের অর্থ ও এর জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে তাঁর যুগের ইমাম, প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ এবং যুদ্ধাভিযান, কাহিনী ও জীবনচরিত বিষয়ে পারদর্শী। নিশাপুরে তাঁর থেকে প্রচুর ইলম প্রসারিত হয়েছে এবং তাঁর চমৎকার রচনাগুলো দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে; তিনি ছিলেন শিক্ষক সমাজের উস্তাদ।তিনি আসম এবং আবু যাকারিয়া আল-আনবারী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁকে 'সিররুস সুরূর' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি খোরাসানের প্রসিদ্ধতম মুফাসসির এবং ইহসানের হক আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসারী। উস্তাদ আবুল কাসেম আস-সা'লাবী ছিলেন তাঁর বিশিষ্ট ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত।সামআনী বলেন: তিনি প্রথমে কাররামী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, অতঃপর শাফেয়ী মাযহাবে রূপান্তরিত হন।যাহাবী বলেন: তিনি আবু হাতিম ইবনে হিব্বান ও এক জামাত (শায়খ) থেকে শুনেছেন।তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হীরী আল-ওয়াইয, আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-ফারগানী এবং আরও অনেকে।তিনি কিরাত, তাফসীর, আদব এবং 'উক্বালাউল মাজানীন' বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।তিনি চারশত ছয় হিজরীর যিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন।ইয়াকুত তাঁর কিছু কবিতা উদ্ধৃত করেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
رضاً بالدهر كيف جرى وصبرا … ففي أيامه جمع وعيد …ولم يخشن عليك قضيب عود … من الأيام إلا لان عودوله:في علام الغيب عجائب … فاصبر فللصبر الجميل عواقب …ومصائب الأيام إن عاديتها … بالصبر رد عليك وهي مواهب …لم يدج ليل العسر قط بغمه … إلا بدا لليسر فيه كواكبوله:بمن يستغيث العبد إلا بربه … ومن للفتى عند الشدائد والكرب …ومن مالك الدنيا ومالك أهلها … ومن كاشف البلوى على البعد والقرب …ومن يدفع الغماء وقت نزولها … وهل ذاك إلا من فعالك ياربوقال البيهقي في شعب الإيمان: أنشدنا أبو القاسم الحسنبن محمد بن حبيب في تفسيره قال: أنشدني أبى:إن الملوك بلاءً حيثما حلوا … فلا يكن لك في أكتافهم ظل …ماذا تؤمل من قوم إذا غضبوا … جاروا عليك وان أرضيتم ملوا …
কালের পরিক্রমা যেমনই হোক তাতে সন্তুষ্টি এবং ধৈর্য ধারণ করো … কারণ এর দিনগুলোতে রয়েছে সম্মিলন ও আনন্দের উৎসব …তোমার প্রতি সময়ের কোনো ডাল কর্কশ হয়নি … দিনগুলোর মধ্য থেকে, যতক্ষণ না তার মূল কোমল হয়েছে …তাঁর আরও একটি কবিতা:অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতার নিকট রয়েছে বিস্ময়কর বিষয়াদি … অতএব ধৈর্য ধারণ করো, কারণ সুন্দর ধৈর্যের পরিণাম শুভ হয় …কালের বিপদাপদকে যদি তুমি প্রতিহত করো … ধৈর্যের মাধ্যমে, তবে সেগুলো তোমার কাছে নেয়ামত হিসেবেই ফিরে আসবে …কষ্টের রজনী তার অন্ধকার নিয়ে কখনই এমনভাবে ঘনীভূত হয়নি … যাতে স্বস্তির নক্ষত্ররাজি উদিত হয়নি …তাঁর আরও কবিতা:বান্দা তার রব ছাড়া কার কাছে ফরিয়াদ জানাবে … আর বিপদ ও সংকটের সময় যুবকের জন্য কে আছে (রব ব্যতীত) …কে এই দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীর মালিক … আর কে দূর ও নিকটবর্তী সকল বিপদ দূরকারী …দুঃখ-কষ্ট যখন অবতীর্ণ হয় তখন কে তা প্রতিহত করে … হে রব! এ কি আপনার কর্ম ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে …বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে বলেছেন: আবুল কাসিম হাসানইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব তাঁর তাফসিরে আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে শুনিয়েছেন:নিশ্চয়ই শাসকরা যেখানেই অবস্থান করে সেখানেই তারা আপদ স্বরূপ … সুতরাং তাদের ছত্রছায়ায় তোমার যেন কোনো আশ্রয় না থাকে …তুমি এমন সম্প্রদায়ের নিকট কী আশা করো যারা রাগান্বিত হলে … তোমার ওপর জুলুম করে, আর তাদের সন্তুষ্ট করলে তারা বিরক্ত হয় …
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فان مدحتهم خالوك تخدعهم … واستثقلوك كما يستثقل الكل …فاستغن بالله عن أبوابهم أبدا … إن الوقوف على أبوابهم ذل الحسين بن الفضل بن عمير البجلي الكوفي ثم النيسابوري أبو علي المفسر الأدي، إمام عصره في معاني القرآن.سمع يزيد بن هارون، وعبد الله بن بكر السهمي، وأباالنضر، وشبابه، وطائفة.روى عنهم محمد بن الأخرم، ومحمد بن صالح، وحمد بن القاسم العتكي، وآخرون.أقام بنيسابور يعلم الناس العلم ويفتي، من سنة سبع عشرة ومائتين، إلى أن مات سنة اثنتين وثمانين، عن مائة أربع سنين.
যদি আপনি তাদের প্রশংসা করেন তবে তারা আপনাকে প্রবঞ্চক মনে করবে … এবং তারা আপনাকে বোঝা মনে করবে যেমন বোঝাকে ভারী মনে করা হয় …সুতরাং আল্লাহর সাহায্যে তাদের দুয়ার থেকে চিরতরে অমুখাপেক্ষী হয়ে যান … নিশ্চয়ই তাদের দুয়ারে ধরণা দেওয়া লাঞ্ছনাদায়ক হুসাইন বিন আল-ফাদল বিন উমাইর আল-বাজালী আল-কুফি অতঃপর আন-নিশাপুরী আবু আলী আল-মুফাসসির আল-আদি, তাঁর যুগের কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যার ইমাম।তিনি ইয়াজিদ বিন হারুন, আব্দুল্লাহ বিন বকর আস-সাহমি, আবু আন-নাদর, শাবাবাহ এবং একদল আলেম থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন।তাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন আল-আখরাম, মুহাম্মদ বিন সালিহ, হামাদ বিন আল-কাসিম আল-আতাকি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।তিনি ২১৭ হিজরি থেকে ২৮২ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত নিশাপুরে অবস্থান করে মানুষকে ইলম শিক্ষা দিতেন এবং ফাতওয়া প্রদান করতেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একশত চার বছর।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুফাসসিরীন লিস সুয়ুতী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وكان من العلماء الكبار العابدين، يركع كل يوم وليلة ستمائة ركعة، وقبره هناك مشهور يزار، أطنب الحاكم في ترجمته. الحسنبن محمد بن علي أبو سعيد الأصبهاني الزعفراني.قال أبو نعيم: كثير الحديث، صاحب معرفة وإتقان.صنف المسند والتفسير والشيوخ وله من المصنفات شيء كثير.سمع أبا القاسم البغوي، وابن صاعد، وآخرين.روى عنه أبو نعيم، وأهل اصبهان.وله حديث في تفسير حسبي الله ونعم الوكيل من رواية آبي نعيم مات سنة تسع وستين وثلاثمائة. الحسين بن مسعود بن محمد العلامة أبو محمد البغوي الفقيه الشافعي.يعرف بابن الفراء، ويلقب محيي السنة، وركن الدين أيضا:
তিনি বড় মাপের ইবাদতগুজার আলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি প্রতি দিন ও রাতে ছয়শ রাকাত নামাজ পড়তেন। সেখানে তার কবর সুপরিচিত যা জিয়ারত করা হয়, হাকিম তার জীবনী বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আলি আবু সাঈদ আল-আসফাহানি আজ-জাফরানি.আবু নুয়াইম বলেন: তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী, প্রজ্ঞা ও নিপুণতার অধিকারী ছিলেন।তিনি আল-মুসনাদ, আত-তাফসির এবং আশ-শুয়ুখ সংকলন করেছেন এবং তার বহু রচনা রয়েছে।তিনি আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ি, ইবনে সায়েদ এবং অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।তার থেকে আবু নুয়াইম এবং আসফাহানবাসী বর্ণনা করেছেন।আবু নুয়াইমের বর্ণনায় ‘হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’-এর তাফসির বিষয়ে তার একটি হাদিস রয়েছে; তিনি তিনশ ঊনসত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। হুসাইন বিন মাসউদ বিন মুহাম্মদ আল-আল্লামা আবু মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি আল-ফকিহ আল-শাফিয়ি.তিনি ইবনুল ফাররা নামে পরিচিত এবং তাকে মুহিউস সুন্নাহ ও রুকনুদ্দিন উপাধিও দেওয়া হয়: