(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: -)
مسألة الطائفين   (الآجري)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مسألة الطائفين

المؤلف: أبو بكر محمد بن الحسين بن عبد الله الآجُرِّيُّ البغدادي (ت 360هـ)

المحقق: عمرو علي عمر

الناشر: دار الكتبي - مصر

الطبعة: الأولى، 1412

عدد الصفحات: 37

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাওয়াফকারীদের মাসআলা   (আল-আজুর্‌রী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: তাওয়াফকারীদের মাসআলা

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ আল-আজুর্‌রী আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি)

সম্পাদক: আমর আলি উমর

প্রকাশক: দার আল-কুতুবি - মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১২

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

صَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّد وَآله وأجمعين

أَخْبَرَنِي الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَليّ بن عبد الْبَاقِي ابْن عَلِيٍّ الْبَغْدَادِيُّ بِجَمِيعِ هَذَا الْجُزْءِ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْحَاجِبُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بن مُحَمَّد ابْن الْعَلافِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ

أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ

أَنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الآجُرِّيُّ بِمَكَّةَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ سنة ثَلَاث وَخمسين وثلثمائة فِي شَوَّالٍ فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আল্লাহ মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-মুবারক বিন আলী বিন আব্দুল বাকি ইবনে আলী আল-বাগদাদী এই সম্পূর্ণ জুয বা অংশ (الجزء) সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني) যখন আমি তাঁর নিকট তা পাঠ (قراءتي عليه) করেছিলাম। তিনি বলেন, শায়খ আল-হাজিব আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ ইবনুল আল্লাফ আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) যখন তাঁর নিকট তা পাঠ করা (قراءة عليه) হয়; তিনি বলেন—

আবু কাসেম আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান আমাদের অবহিত করেছেন (أنا) যখন তাঁর নিকট তা পাঠ করা (قراءة عليه) হয়; তিনি বলেন—

আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আজিউরি মক্কায় তিনশ তিপ্পান্ন হিজরির শাওয়াল মাসে আমাদের অবহিত করেছেন (أنا) যখন তাঁর নিকট তা পাঠ করা (قراءة عليه) হয়েছিল এবং তিনি তা স্বীকৃতি দিয়েছেন (فأقر به); তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ وَآلِهِ وَسَلَّمَ

أَمَّا بَعْدُ

فَإِنَّكَ سَأَلت عَن قوم يطوفون ويقرؤن الْقُرْآنَ فِي طَوَافِهِمْ وَيَجْهَرُونَ بِقِرَاءَتِهِمْ حَتَّى يُغَلِّطُوا مَنْ يَلِيهِمْ فِي الطَّوَافِ مِمَّنْ يَدْرُسُ الْقُرْآنَ أَوْ مِمَّنْ يَذْكُرُ اللَّهِ عز وجل بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّحْمِيدِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّهْلِيلِ فَيَتَأَذَّى بِهِمْ كَثِيرٌ مِنَ الطائفين بِمَا يجرونَ بقراءتهم فَإِذا قيل لَهُم لَا تجهرون بِقِرَاءَتِكِمْ فَإِنَّكُمْ تُغَلِّطُونَ مَنْ يُخَافِتُ بِقِرَاءَتِهِ وَبِالذِّكْرِ لِلَّهِ عز وجل فَجَوَابُهُمْ لِمَنْ يُنْكِرُ عَلَيْهِمُ الْجَهْرَ أَنْ يَقُولُوا لَهُ نَتْلُوا كِتَابَ اللَّهِ عز وجل فَلِمَ تُنْكِرُ عَلَيْنَا فَأَحْبَبْتُ رَحِمَكَ اللَّهُ الْجَوَابَ عَنْ ذَلِكَ هَلْ يُنْكَرُ عَلَيْهِمْ أم لَا
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে নেক আমলসমূহ পূর্ণতা লাভ করে এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহরই প্রশংসা। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।

অতঃপর,

আপনি এমন একদল লোক সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন যারা তাওয়াফ করে এবং তাওয়াফকালীন অবস্থায় সশব্দে কুরআন তিলাওয়াত করে। তাদের এই উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াতের ফলে পার্শ্ববর্তী তাওয়াফকারীরা বিভ্রান্তির শিকার হন, যারা কি-না তখন কুরআন অধ্যয়ন বা তাসবিহ, তাহমিদ, তাকবির ও তাহলিলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর যিকিরে নিমগ্ন থাকেন। তাদের এমন আচরণের কারণে অনেক তাওয়াফকারী কষ্ট অনুভব করেন। এমতাবস্থায় যখন তাদের বলা হয়, "আপনারা উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করবেন না, কারণ আপনাদের কারণে যারা অনুচ্চ স্বরে তিলাওয়াত বা আল্লাহর যিকির করছেন তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন", তখন তারা প্রতিবাদকারীদের উত্তরে বলে, "আমরা মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করছি, আমাদের কেন বাধা দিচ্ছেন?" সুতরাং আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, আপনি জানতে চেয়েছেন যে এ ক্ষেত্রে তাদের কি নিষেধ বা প্রতিবাদ করা যাবে কি না?
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২০)
الْجَوَابُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ يَجِبُ عَلَى مَنْ سَمِعَهُمْ يَجْهَرُونَ بِالْقِرَاءَةِ فِي الطَّوَافِ أَنْ يُنْكِرَ عَلَيْهِمْ ويعظهم وَيَأْمُرهُمْ بِأَن يقرؤوا قِرَاءَة يسمعُونَ أنفسهم ويتدبروا مَا يَتْلُونَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل

فَإِنْ قَالُوا وَمَا الْحُجَّةُ لَكَ فِي نَهْيِكَ إِيَّانَا عَنِ الْجَهْرِ بِالْقُرْآنِ فِي طَوَافِنَا

قِيلَ لَهُ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ فِي رَمَضَانَ وَيَجْهَرُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ فَقَالَ لَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فَإِنَّ ذَلِكَ يُؤْذِي الْمُصَلِّيَ

وَرَوَى عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَرْفَعَ الرَّجُلُ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ قَبْلَ الْعِشَاءِ أَوْ بَعْدَهَا يُغَلِّطُ أَصْحَابَهُ فِي الصَّلاةِ وَالْقَوْمُ يُصَلُّونَ

وَأَنَا أَذْكُرُ الْحَدِيثَ لِيَتَفَقَّهَ بِهِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عز وجل فِي طَوَافِهِ وَفِي صَلاتِهِ

1 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاجِيَةَ قَالَ ثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ الْوَاسِطِيُّ قَالَ أَنا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَرْفَعَ الرَّجُلُ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَبَعْدَهَا يُغَلِّطُ أَصْحَابَهُ فِي الصَّلاةِ وَالْقَوْمُ يُصَلُّونَ
উত্তর, আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করছি। যারা তওয়াফের সময় লোকদের উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করতে শোনে, তাদের জন্য এটি আবশ্যক যে তারা তাদের প্রতিহত করবে, তাদের উপদেশ দেবে এবং তাদের নির্দেশ দেবে যেন তারা এমনভাবে পাঠ করে যা কেবল তারা নিজেরাই শুনতে পায় এবং তারা যেন মহান আল্লাহর কিতাব থেকে যা তিলাওয়াত করছে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে।

তারা যদি বলে, "আমাদের তওয়াফে কুরআন উচ্চস্বরে পাঠ করতে নিষেধ করার ব্যাপারে আপনার দলিল কী?"

তাকে বলা হবে, নবী (সা.) মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে রমজান মাসে মানুষ সালাত আদায় করছিল এবং তারা একে অপরের ওপর কিরাতের আওয়াজ উঁচু করছিল। তখন তিনি বললেন, "তোমরা একে অপরের ওপর উচ্চস্বরে কিরাত পড়ো না, কারণ তা মুসল্লিদের কষ্টের কারণ হয়।"

আর আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইশার আগে বা পরে কোনো ব্যক্তির উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন যা সালাতরত অবস্থায় তার সাথীদের কিরাতে বিভ্রান্ত করে যখন তারা সালাত আদায় করছে।

আর আমি এই হাদিসটি উল্লেখ করছি যাতে যারা তওয়াফ ও সালাতে মহান আল্লাহর ইবাদত করেন তারা এ বিষয়ে সঠিক প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারেন।

1 - আবু বকর আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাজিয়াহ আমাদের অবহিত করেছেন (أنا), তিনি বলেন, ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যাহ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন, খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতি আমাদের অবহিত করেছেন (أنا), তিনি মুতাররিফ ইবনে তারিফ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিস থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইশার আগে ও পরে কোনো ব্যক্তির উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন যা সালাতরত অবস্থায় তার সাথীদের বিভ্রান্ত করে যখন তারা সালাত আদায় করছে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২১)
2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ وثنا أَبُو بكر مُحَمَّد ابْن اللَّيْثِ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ قَالَ ثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ اللَّيْثِ الأَسَدِيُّ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ

نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَرْفَعَ الرَّجُلُ صَوْتَهُ فِي صَلاتِهِ بِالْقِرَاءَةِ قَبْلَ الْعَتَمَةِ أَوْ بَعْدَهَا وَالْقَوْمُ يُصَلُّونَ يُغَلِّطُ عَلَى أَصْحَابِهِ
২ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল লাইস আল-জাওহারী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-মুহারিবী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: কাবিদাহ ইবনুল লাইস আল-আসাদী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), মুতাররিফ ইবনে তারিফ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিস থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশা সালাতের পূর্বে বা পরে কোনো ব্যক্তির জন্য সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করতে নিষেধ করেছেন যখন অন্যান্য লোকেরা সালাত আদায় করছে; কারণ এটি তার সাথীদের (কিরাতে) বিভ্রান্তি বা ভুল সৃষ্টির কারণ হয়।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২২)
3 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ وَأَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمد بن الْحسن ابْن عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قَالَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ قَالَ ثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْقُرَشِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ

خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قي رَمَضَانَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ فَقَالَ لَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فَإِنَّ ذَلِكَ يُؤْذِي الْمُصَلِّيَ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ هَذَا فِي الصَّلاةِ لَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ وَنَحْنُ فِي الطَّوَافِ

قِيلَ لَهُ يَا غَافِلُ اعْلَمْ أَنَّ الصَّلاةَ عِبَادَةٌ وَالطَّوَافَ عِبَادَةٌ وَلا تَحْسُنُ الْعِبَادَةُ إِلا بِعِلْمٍ وَعَقْلٍ

وَقِيلَ لَهُ كَانَ النَّاسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلُّونَ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ فُرَادَى وَيُصَلِّي الرَّجُلُ بِالرَّجُلِ وَالرَّجُلَيْنِ فَكَانَ بَعْضُهُمْ يَجْهَرُ عَلَى مَنْ يَلِيهِ فَيُغَلِّطُهُ فَنُهُوا عَنْ ذَلِكَ وَكَانُوا فِي سَائِرِ السَّنَةِ يُصَلُّونَ لأَنْفُسِهِمْ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ التَّطَوُّعَ فَيَجْهَرُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ فَنُهُوا عَنْ ذَلِكَ لأَنَّهُ يُغَلِّطُ غَيْرَهُ وَقيل
3 - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: এবং আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আনবাসাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি আবু আন-নাদর থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে বের হলেন যখন মানুষ সালাত আদায় করছিল। তখন তিনি বললেন, "তোমরা একে অপরের ওপর উচ্চস্বরে কিরাত পড়বে না; কারণ এটি সালাত আদায়কারীকে কষ্ট দেয়।"

মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন বলেন, যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে যে, "এই যে একে অপরের ওপর উচ্চস্বরে না পড়ার নির্দেশ, এটি তো সালাতের ক্ষেত্রে; অথচ আমরা তো তাওয়াফে রত।"

তাকে বলা হবে, "হে অসতর্ক ব্যক্তি, জেনে রেখো যে, সালাত একটি ইবাদত এবং তাওয়াফও একটি ইবাদত। আর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ব্যতীত ইবাদত যথাযথ হয় না।"

তাকে আরও বলা হবে, "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মানুষ রমজানের রাতে একাকী সালাত আদায় করত এবং কোনো ব্যক্তি অন্য একজন বা দুজনকে নিয়ে সালাত আদায় করত। তখন তাদের কেউ তার নিকটবর্তী ব্যক্তির ওপর উচ্চস্বরে কিরাত পড়ত, ফলে তাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিত (ভুল করিয়ে দিত)। তাই তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। তারা বছরের অন্যান্য সময়েও মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নফল (تطوع) সালাত আদায় করত এবং একে অপরের ওপর উচ্চস্বরে কিরাত পড়ত। ফলে তাদের তা করতে নিষেধ করা হয়, কারণ এটি অন্যদের সালাতে বিভ্রান্তি বা ভুলের উদ্রেক করত। আর বলা হয়েছে..."
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
لَهُمْ أَسْمِعُوا أَنْفُسَكُمْ وَكَذَلِكَ الطَّوَافُ عِبَادَةٌ وَهُوَ صَلاةٌ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الطَّوَافُ صَلاةٌ إِلا أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَبَاحَكُمْ فِيهِ الْكَلامَ فَمَنْ نَطَقَ فَلا يَنْطِقْ إِلَّا بِخَير
তাদের জন্য (নির্দেশ হলো): তোমরা নিজেদের শ্রবণ করাও। একইভাবে তাওয়াফ একটি ইবাদত এবং তা সালাতস্বরূপ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তাওয়াফ হলো সালাতস্বরূপ, তবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এতে তোমাদের জন্য কথা বলা বৈধ করেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি কথা বলবে, সে যেন কেবল ভালো কথাই বলে।"
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثُمَّ اعْلَمْ رَحِمَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكَ أَنَّ النَّاسَ فِي الطَّوَافِ عَلَى وُجُوهٍ مِنْهُمْ مَنْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ يُسْمِعُ نَفْسَهُ وَيَتَدَبَّرُ مَا يَقْرَأُ

وَمِنْهُمْ مَنْ يَذْكُرُ اللَّهَ عز وجل بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّحْمِيدِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ يُعَظِّمُ اللَّهَ عز وجل بِقَلْبِهِ وَبِلِسَانِهِ

وَمِنْهُمْ مَنْ يَتَفَكَّرُ فِي نِعَمِ اللَّهِ الْكَرِيمِ عَلَيْهِ فَيَشْكُرُهُ عَلَيْهَا

وَمِنْهُمْ مَنْ يَتَفَكَّرُ فِي ذُنُوبٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ عز وجل فَيْسَتْغَفِرُ اللَّهَ عز وجل الْعَظِيمَ مِنْهَا

فَإِذَا سَمِعُوا مَنْ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ أَذَاهُمْ وَيُغَلِّطُ عَلَيْهِمْ مَا هُمْ فِيهِ فَنُهُوا عَنْ ذَلِكَ

فَيَنْبَغِي لِمَنْ عَبَدَ اللَّهَ عز وجل فِي صَلاةٍ أَوْ طَوَافٍ أَوْ أَيِّ عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ أَنْ يَتَعَلَّمَ كَيْفَ يَعْبُدُ اللَّهَ عز وجل حَتَّى يَحْسُنَ عَمَلُهُ وَيُحِبَّهُ اللَّهُ عز وجل وَيُحِبَّهُ الْمُؤْمِنُونَ

ثُمَّ أَقُولُ يَنْبَغِي لِمَنْ كَانَ فِي مَسْجِد الْحَرَامِ بِقُرْبِ الطَّوَافِ وَهُوَ يَدْرُسُ أَنْ لَا يَجْهَرَ بِقِرَاءَتِهِ إِذَا كَانُوا يَسْمَعُونَهُ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَشُقَّ عَلَيْهِمْ أَوْ يُغَلِّطَهُمْ بَلْ يُخْفِي قِرَاءَتَهُ وَيُسْمِعُ نَفْسَهُ فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ فَقَدْ أَخْطَأَ بِجَهْرِهِ

فَإِنْ تَبَاعَدَ عَنِ الطَّوَافِ إِلَى مَوْضِعٍ إِذا جهر بقرَاءَته لم يتَأَذَّى بِهِ أَهْلُ الطَّوَافِ فَلا بَأْسَ فَإِنْ كَانَ يَعْلَمُ أَنَّ بِقُرْبِهِ قَوْمٌ يُصَلُّونَ النَّوَافِلَ لَمْ يَجْهَرْ بِقِرَاءَتِهِ خَشْيَةَ أَنْ يُغَلِّطَهُمْ كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عله وَسَلَّمَ لَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ

هَذَا جَوَابُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ
অতঃপর জেনে রাখুন, আল্লাহ আমাদের ও আপনার প্রতি রহম করুন যে, তাওয়াফ অবস্থায় মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতিতে লিপ্ত থাকে; তাদের মধ্যে কেউ কুরআন তিলাওয়াত করে, সে তা কেবল নিজেকে শোনায় এবং যা পাঠ করে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে।

তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর জিকির করে তাসবিহ, তাহমিদ, তাহলিল ও তাকবিরের মাধ্যমে; সে তার অন্তরে ও জিহ্বার দ্বারা মহান আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে।

তাদের মধ্যে কেউ তার প্রতি মহান আল্লাহর নিআমতসমূহ নিয়ে চিন্তা-ফিকির করে এবং সেজন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করে।

আবার তাদের মধ্যে কেউ নিজের এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর মাঝে বিদ্যমান গুনাহসমূহ নিয়ে চিন্তা করে এবং সেই পাপাচার থেকে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে।

এমতাবস্থায় তারা যখন এমন কাউকে শুনতে পায় যে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করছে, তখন তা তাদের কষ্ট দেয় এবং তারা যে ইবাদতে মশগুল আছে তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। একারণেই তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ, তাওয়াফ কিংবা কোনো নেক আমলে মহান আল্লাহর ইবাদত করে, তার উচিত আল্লাহ কীভাবে ইবাদত করতে হয় তা শিখে নেওয়া, যাতে তার আমল সুন্দর হয় এবং আল্লাহ ও মুমিনরা তাকে ভালোবাসেন।

এরপর আমি বলি, মসজিদে হারামে তাওয়াফের স্থানের নিকটে থাকা অবস্থায় কেউ যদি অধ্যয়নরত থাকে, তবে সে যেন উচ্চস্বরে পাঠ না করে যদি অন্যরা তা শুনতে পায়। তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হওয়া কিংবা তাদের বিভ্রান্তিতে ফেলার আশঙ্কায় এমনটি করা অপছন্দনীয়। বরং সে নিচুস্বরে পড়বে এবং কেবল নিজেকে শোনাবে। যদি সে এমনটি না করে, তবে সে উচ্চস্বরে পড়ার কারণে ভুল করবে।

তবে সে যদি তাওয়াফের স্থান থেকে এমন দূরত্বে চলে যায় যেখানে উচ্চস্বরে পাঠ করলে তাওয়াফকারীদের কোনো কষ্ট হবে না, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সে যদি জানতে পারে যে তার নিকটে কোনো কওম নফল নামাজ পড়ছে, তবে তাদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় সে উচ্চস্বরে পড়বে না। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা একে অপরের ওপর উচ্চস্বরে পাঠ করো না।"

এটিই হলো এই মাসআলার উত্তর।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
مَسْأَلَةٌ فِيمَنْ يَتَحَدَّثُونَ فِي الطَّوَافِ

وَسَأَلَنَا سَائِلٌ آخَرُ فَقَالَ هَؤُلاءِ الَّذِينَ يَتَحَدَّثُونَ فِي الطَّوَافِ وَيُقْبِلُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ الإِقْبَالَ الشَّافِيَ حَتَّى يشغلون قُلُوب الطائفين وفهيم قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْقُرْآنِ وَفِيهِمْ مَنْ يُشَارُ إِلَيْهِ أَنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَفِيهِمْ مَنْ يُشَارُ إِلَيْهِ أَنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَفِيهِمْ مَنْ يُشَارُ إِلَيْهِ أَنَّهُ مِنَ الْمُتَعَبِّدِينَ

فَقَالَ لَنَا السَّائِلُ هَلْ مُبَاحٌ لَهُمْ ذَلِكَ
তওয়াফের সময় কথোপকথনকারীদের বিষয়ে একটি মাসআলা।

আমাদের নিকট অন্য এক প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করলেন, "ঐ সকল ব্যক্তি যারা তওয়াফের সময় কথাবার্তা বলে এবং একে অপরের দিকে পূর্ণরূপে এমনভাবে মনোনিবেশ করে যা অন্যান্য তওয়াফকারীদের মনোযোগ ব্যাহত করে; অথচ তাদের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যারা কুরআনের পারদর্শী (أهل القرآن), আবার কেউ কেউ এমন যাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় যে তারা হাদিস বিশারদ (أهل الحديث), আর কারো প্রতি ইঙ্গিত করা হয় যে তারা ইলম অন্বেষী (أهل العلم), আবার কারো কারো ব্যাপারে বলা হয় যে তারা ইবাদতগুজার (المتعبدين)।"

অতঃপর প্রশ্নকারী আমাদের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, "তাদের জন্য কি এরূপ করা বৈধ (مباح)?"
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْجَوَابُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ اعْلَمْ أَنَّ الَّذِي ذَكَرْتُهُ كَمَا ذَكَرْتَ وَهَذَا كُلُّهُ خَطَأٌ مِنْهُمْ وَغَفْلَةٌ عَظِيمَةٌ وَقَدْ صَارُوا هَؤُلاءِ الَّذِينَ هَذَا نَعْتُهُمْ فِتْنَةً عَلَى غَيْرِهِمْ فَإِذَا أُنْكِرَ عَلَى مَنْ هُوَ دونهم فَقيل لَهُم لَا تتحدثون فِي الطَّوَافِ فَإِنَّهُ قَبِيحٌ بِالطَّائِفِ أَنْ يُقْبِلَ فِي طَوَافِهِ عَلَى غَيْرِ مَوْلاهُ قَالُوا فُلانٌ المقريء وَفُلانٌ الْعَالِمُ وَفُلانٌ وَفُلانٌ يَتَحَدَّثُونَ فِي الطَّوَافِ فَلِمَ تُنْكِرُ عَلَيْنَا نَحْنُ فَصَارُوا فِتْنَةً لِكُلِّ مَفْتُونٍ

4 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَلْخِيُّ قَالَ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ

كَانَ يُقَالُ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْعَابِدِ الْجَاهِلِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْعَالِمِ
উত্তর, আর আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়। জেনে রাখুন, আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি বর্ণনা করেছেন। আর এই পুরো বিষয়টিই তাদের পক্ষ থেকে একটি ভুল এবং এক মহা উদাসীনতা। যাদের বৈশিষ্ট্য এমন, তারা অন্যদের জন্য ফিতনা বা পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। সুতরাং যখন তাদের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কাউকে কোনো বিষয়ে নিষেধ করা হয় এবং তাদের বলা হয়, 'তাওয়াফের সময় কথা বলবেন না, কেননা তাওয়াফকারীর জন্য তাওয়াফেরত অবস্থায় তার মাবুদ ছাড়া অন্য কারো দিকে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত কদর্য কাজ,' তখন তারা উত্তর দেয়, 'অমুক ক্বারি (مقرئ), অমুক আলেম (عالم), এবং অমুক অমুক ব্যক্তি তো তাওয়াফের সময় কথা বলেন; তাহলে কেন আপনি আমাদের নিষেধ করছেন?' ফলে তারা প্রত্যেক ফিতনাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

4 - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু বকর জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-বালখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি:

বলা হতো: তোমরা জাহিল ইবাদতকারী এবং আলেমের (عالم) ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
الْفَاجِرِ فَإِنَّ فِتْنَتَهُمَا فِتْنَةٌ لِكُلِّ مَفْتُونٍ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ فَإِنْ قَالَ مِنْهُمْ قَائِلٌ فَقَدْ أُبِيحَ لَنَا الْكَلامُ فِي الطَّوَافِ

قِيلَ لَهُ قَالَ النَّبِي صلى الله عيه وَسَلَّمَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ صَلاةٌ إِلا أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَبَاحَكُمْ فِيهِ الْكَلامَ فَمَنْ نَطَقَ فَلا يَنْطِقْ إِلا بِخَيْرٍ

وَقِيلَ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ أَنْ يُسَلِّمَ الرَّجُلُ عَلَى الرَّجُلِ وَيَسْأَلَهُ عَنْ حَالِهِ وَأَهْلِهِ أَوْ يَأْمُرَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ بِمَعْرُوفٍ أَوْ يَنْهَاهُ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ أَشْبَاهُ ذَلِكَ مِمَّا يَعْلَمُهُ مَا قَدْ جَهِلَهُ فِي طَوَافِهِ ثُمَّ هُوَ بَعْدَ ذَلِكَ مُقْبِلٌ عَلَى الله عز وجل فِي طَوَافه يَطْلُبُ فَضْلَ مَوْلاهُ وَيَعْتَذِرُ إِلَيْهِ فَمَنْ كَانَ بِهَذَا الْوَصْفِ رَجَوْتُ أَنْ يَكُونَ مِمَّنْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يُبَاهِي بِالطَّائِفِينَ وَمِمَّنْ قَالَ صلى الله عليه وسلم مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ لَمْ يَرْفَعْ قَدَمًا وَلَمْ يَضَعْ
পাপাচারী (فاجر) ব্যক্তি; কেননা তাদের উভয়ের ফিতনা প্রতিটি ফিতনাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্যই একটি বড় পরীক্ষা।

মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বলেন, যদি তাদের মধ্য থেকে কেউ বলে যে, আমাদের জন্য তাওয়াফের সময় কথা বলা বৈধ করা হয়েছে।

তাকে বলা হবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বায়তুল্লাহর তাওয়াফ হলো নামাজের মতো, তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এতে কথা বলা তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন। সুতরাং যে কথা বলবে, সে যেন কল্যাণকর কথা ছাড়া অন্য কিছু না বলে।"

তাকে আরও বলা হবে, কল্যাণকর বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো—এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে সালাম দেবে, তার এবং তার পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে অথবা কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে সৎকাজের আদেশ দেবে কিংবা অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে অথবা এই জাতীয় বিষয়াদি যা সে জানে অথচ তাওয়াফকারী ব্যক্তি সে সম্পর্কে অজ্ঞ। এরপরও সে তার তাওয়াফে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি নিবিষ্ট থাকবে, তার মওলার অনুগ্রহ প্রার্থনা করবে এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে, আমি আশা করি সে ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাওয়াফকারীদের নিয়ে গর্ব করেন" এবং ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের সম্পর্কে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করল, সে একটি কদমও উঠাল না এবং রাখল না..."
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
أُخْرَى إِلا كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ بِهَا حَسَنَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً هَذَا رَوَاهُ ابْنُ عُمَرَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ أَحْصَى أسبوعا كَانَ كعتق رَقَبَة وَمِمَّنْ قَالَ صلى الله عليه وسلم مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ أُسْبُوعًا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ أَوْ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ كَانَ لَهُ كَعِدْلِ عِتْقِ رَقَبَةٍ

قَالَ مُحَمَّد بن الْحسن فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ مِنْ هَؤُلاءِ خَشَعَ لِلَّهِ عز وجل الْكَرِيمِ فِي طَوَافِهِ وَكَانَ شُغْلُهُ بِقَلْبِهِ وَبِلِسَانِهِ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مُتَّصِلٌ وَعَنْ غَيْرِهِ مِنَ الْمَخْلُوقِينَ مُنْفَصِلٌ يَمْشِي بِالسَّكِينَةِ وَالْوَقَارِ دَائِمَ الذِّكْرِ طَوِيلَ الْفِكْرِ تَارَةً يَحْذَرُ وَتَارَةً يَرْجُو إِنْ قَالَ فِيمَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ {رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وقنا عَذَاب النَّار} قَالَهُ بِحُضُورِ فَهْمٍ وَتَذَلُّلٍ وَافْتِقَارٍ فَمَنْ كَانَ فِي طَوَافِهِ بِهَذَا الْوَصْفِ رَجَوْتُ أَنْ يُجِيبَ الله الْكَرِيم دَعْوَتَهُ وَيَرْحَمَ عَبْرَتَهُ وَيُبَاهِيَ بِهِ مَلائِكَتَهُ وَتُؤَمِّنَ الْمَلائِكَةُ عَلَى دُعَائِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
...অন্য কোনো (পদক্ষেপ) নয় বরং মহান আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য একটি নেকি লিপিবদ্ধ করেন, তার থেকে একটি পাপ মোচন করেন এবং তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। এটি ইবনে ওমর বর্ণনা করেছেন। ইবনে ওমর বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি (তাওয়াফের) সাত চক্কর পূর্ণ করল, তা একটি দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে।' আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত যে, 'যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহর সাত চক্কর তাওয়াফ করল, অতঃপর দুই বা চার রাকাত সালাত আদায় করল, তা তার জন্য একজন দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে।'

মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেন, যে ব্যক্তি এদের অন্তর্ভুক্ত হতে পছন্দ করে, সে যেন তার তাওয়াফে মহান ও সম্মানিত আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হয় এবং তার অন্তর ও জিহ্বার একাগ্রতা যেন মহান আল্লাহর সাথে সংযুক্ত (متصل) থাকে এবং অন্যান্য সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন (منفصل) থাকে। সে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে পদচারণা করবে, সর্বদা জিকিররত থাকবে এবং দীর্ঘক্ষণ চিন্তামগ্ন থাকবে। কখনো সে (আল্লাহর ভয়ে) ভীত হবে, আবার কখনো সে (তাঁর রহমতের) আশা পোষণ করবে। যদি সে দুই রোকনের মধ্যবর্তী স্থানে বলে, {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন}, তবে সে যেন তা সঠিক উপলব্ধি, বিনয় এবং মুখাপেক্ষিতার সাথে বলে। সুতরাং যার তাওয়াফ এই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হবে, আমি আশা করি মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করবেন, তার অশ্রুবিন্দুর প্রতি দয়া করবেন, ফেরেশতাদের সামনে তাকে নিয়ে গর্ব করবেন এবং ফেরেশতাগণ তার দোয়ায় ইনশাআল্লাহ আমীন বলবেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
5 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ ثَنَا أَبُو سعيد الْمفضل ابْن مُحَمَّد الجندي فِي مَسْجِد الْحَرَامِ قَالَ ثَنَا صَامِتُ بْنُ مُعَاذٍ قَالَ ثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ يَعْنِي ابْنَ أَبِي رَوَّادٍ

قَالَ كَانُوا يَطُوفُونَ بِالْبَيْتِ خَاشِعِينَ ذَاكِرِينَ كَأَنَّ على رؤوسهم الطَّيْرَ وَقَعَ يَسْتَبِينُ لِمَنْ رَآهُمْ أَنَّهُمْ فِي نُسُكٍ وَعِبَادَةٍ

قَالَ أَبِي وَكَانَ طَاوُسٌ مِمَّنْ يُرَى فِي ذَلِكَ النَّعْتِ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ وَمَنْ كَانَ فِي طَوَافِهِ بِغَيْرِ هَذَا النَّعْت ساهي الْقلب مَشْغُول بِذكر الدُّنْيَا مقبل على من يحادثه مصغي إِلَيْهِ قَدْ آثَرَ مُحَادَثَةَ الْمَخْلُوقِ عَلَى ذِكْرِ الْخَالِقِ إِذَا طَافَ فَبِغَيْرِ تَمْيِيزٍ وَإِنْ ذَكَرَ اللَّهَ عز وجل فَبِغَيْرِ تَدَبُّرٍ قَدْ غَلَبَ عَلَى قَلْبِهِ وَلِسَانِهِ الْخَوْضُ فِيمَا لَا يَعْنِي ساهي غافل لاهي جِسْمُهُ حَاضِرٌ وَقَلْبُهُ غَائِبٌ وَلَعَلَّهُ يَرْضَى مُحَادَثَةً بِغِيبَةِ النَّاسِ وَالْوَقِيعَةِ فِي أَعْرَاضِهِمْ فَمِثْلُ هَذَا هُوَ إِلَى الْخُسْرَانِ أَقْرَبُ مِنْهُ إِلَى الإِرْبَاحِ لَعَلَّ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَضِجُّ مِنْهُ إِلَى اللَّهِ عز وجل وَلَعَلَّ الْمَلائِكَةَ تَتَأَذَّى بِهِ وَكَثِيرٌ مِنَ الطَّائِفِينَ يَتَبَرَّمُونَ بِهِ فَقَدِ اكْتَسَبَ مَنْ هَذَا نَعْتُهُ ذُنُوبًا وَجَبَ عَلَيْهِ التَّوْبَةُ مِنْهَا
৫ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-মুফাদদাল ইবনে মুহাম্মদ আল-জান্দি মাসজিদুল হারামে আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সামিত ইবনে মুয়াজ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল মাজীদ অর্থাৎ ইবনে আবি রাওয়াদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) —

তিনি বলেন: তারা (সালাফগণ) অত্যন্ত বিনয়-নম্রতা ও যিকিরের সাথে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতেন, যেন তাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। যে কেউ তাদের দেখত, সে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারত যে তারা ইবাদত ও উপাসনায় মগ্ন আছেন।

আমার পিতা বলেছেন: তাউস ছিলেন তাদের একজন যাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হতো।

মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন: আর যে ব্যক্তি এই বৈশিষ্ট্য ব্যতিরেকে তাওয়াফ করে—অমনোযোগী হৃদয়ে, পার্থিব চিন্তায় মগ্ন থেকে, কথোপকথনকারীর প্রতি মনোযোগী হয়ে ও তার কথা শ্রবণে নিবিষ্ট হয়ে; সে স্রষ্টার স্মরণের চেয়ে সৃষ্টির সাথে আলাপচারিতাকে প্রাধান্য দেয়। সে যখন তাওয়াফ করে তখন তা হয় বিচারবুদ্ধিহীন এবং সে যদি মহান আল্লাহর যিকিরও করে, তা হয় চিন্তা-গবেষণা ছাড়াই। তার অন্তর ও জিহ্বার ওপর অনর্থক বিষয়ে মগ্ন হওয়াই প্রবল থাকে; সে অমনোযোগী, গাফেল ও উদাসীন। তার দেহ উপস্থিত থাকলেও অন্তর অনুপস্থিত। সম্ভবত সে মানুষের গীবত ও তাদের ইজ্জত-সম্মানে আঘাত হানার মতো আলাপচারিতায় লিপ্ত হতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। এ জাতীয় ব্যক্তি লাভের চেয়ে ক্ষতিরই অধিক নিকটবর্তী। সম্ভবত বাইতুল হারাম তার ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করে এবং সম্ভবত ফেরেশতারা তার কারণে কষ্ট পায় ও অনেক তাওয়াফকারী তার প্রতি বিরক্ত হয়। যার বৈশিষ্ট্য এমন, সে এমন পাপ অর্জন করেছে যা থেকে তাওবা করা তার ওপর আবশ্যক (واجب)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَرُوِيَ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ حَجَجْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَالْتَقَيْنَا فِي الطَّوَافِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ خَطَبْتُ إِلَيْهِ ابْنَتَهُ فَمَا رَدَّ عَلَيَّ جَوَابًا فَغَمَّنِي ذَلِكَ وَقُلْتُ فِي نَفْسِي لم يرضني لابنته فَلَمَّا قدمنَا الْمَدِينَةِ جِئْتُهُ مُسَلِّمًا فَقَالَ لِي مَا فَعَلْتَ فِيمَا كُنْتَ أَلْقَيْتَهُ إِلَيَّ فَقُلْتُ لَمْ تَرُدَّ على جَوَاب فَظَنَنْتُ أَنَّكَ لَمْ تَرْضَنِي لابْنَتِكَ قَالَ تَخْطُبُ إِلَيّ فِي مثل ذَلِك الْموضع وَنحن نترآى اللَّهَ عز وجل ثُمَّ قَالَ بَلَى قَدْ رَضِيتُكَ فَزَوَّجَنِي

6 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ ثَنَا أَبُو بكر عبد الله ابْن مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْوَاسِطِيُّ قَالَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ مُؤَذِّنُ مَسْجِد الْحَرَام قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ قَالَ ثَنَا وُهَيْبُ بْنُ الْوَرْدِ قَالَ كُنْتُ أَطُوفُ أَنَا وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ بِالْبَيْتِ لَيْلا فَانْقَلَبَ سُفْيَانُ وَبَقِيتُ فِي الطَّوَافِ فَدَخَلْتُ الْحِجْرَ فَصَلَّيْتُ تَحْتَ الْمِيزَابِ فَبَيْنَا أَنَا سَاجِدٌ إِذْ سَمِعْتُ كَلامًا بَيْنَ أَسْتَارِ الْبَيْتِ وَالْحِجَارَةِ وَهُوَ يَقُولُ يَا جِبْرِيلُ أَشْكُو إِلَى اللَّهِ ثُمَّ إِلَيْكَ مَا يَفْعَلُ هَؤُلاءِ الطَّائِفُونَ حَوْلِي مِنْ تَفَكُّهِهِمْ فِي الْحَدِيثِ وَلَغَطِهِمْ وَسَهْوِهِمْ قَالَ وُهَيْبٌ فَأَوَّلْتُ أَنَّ الْبَيْتَ شَكَى إِلَى جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلامُ
উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরের সাথে হজ সম্পন্ন করলাম। তাওয়াফের সময় আমাদের দেখা হলে আমি তাঁকে সালাম দিলাম। অতঃপর আমি তাঁর কাছে তাঁর কন্যার পাণিপ্রার্থনা করলাম, কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। এতে আমি ব্যথিত হলাম এবং মনে মনে ভাবলাম, তিনি হয়তো তাঁর কন্যার জন্য আমাকে পছন্দ করেননি। অতঃপর যখন আমরা মদিনায় পৌঁছলাম, আমি তাঁকে সালাম দিতে তাঁর নিকট গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি আমার কাছে যে বিষয়টি পেশ করেছিলে সেটির কী হলো?’ আমি বললাম, ‘আপনি কোনো উত্তর না দেওয়ায় আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আমাকে আপনার কন্যার জন্য পছন্দ করেননি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি এমন এক স্থানে আমার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলে যেখানে আমরা মহান আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন ছিলাম!’ এরপর তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি তোমাকে পছন্দ করেছি।’ অতঃপর তিনি আমার সাথে তাঁর কন্যার বিয়ে সম্পন্ন করলেন।

6 - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল বাজ্জাহ (মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে খুনাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: উহাইব ইবনুল ওয়ারদ বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি এবং সুফিয়ান সাওরি এক রাতে কাবা গৃহের তাওয়াফ করছিলাম। অতঃপর সুফিয়ান ফিরে গেলেন কিন্তু আমি তাওয়াফে রয়ে গেলাম। এরপর আমি হিজর-এ (হাতিম) প্রবেশ করলাম এবং মিজাবের নিচে সালাত আদায় করলাম। আমি সিজদারত থাকা অবস্থায় কাবার গিলাফ ও পাথরের মধ্য থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম, যা বলছিল: ‘হে জিবরাঈল! আমি আল্লাহর নিকট এবং তোমার নিকট অভিযোগ করছি এই তাওয়াফকারীদের ব্যাপারে, যারা আমার চারপাশে হাস্যরস ও আলাপ-আলোচনায় (হাদিস), শোরগোল ও উদাসীনতায় লিপ্ত থাকে।’ উহাইব বলেন: ‘আমি এর ব্যাখ্যা করেছি (أولت) যে, কাবা গৃহ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করেছে।’
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
7 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ وَحَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ الْبَرْدَعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْمُوَفَّقِ يُخْبِرُ عَنْ نَفْسِهِ أَوْ عَنْ غَيْرِهِ أَنَّهُ رَقَدَ فِي الْحِجْرِ فَسَمِعَ الْبَيْتَ يَقُولُ لَئِن لم يَنْتَهِي الطَّائِفُونَ حَوْلِي عَنْ مَعَاصِي اللَّهِ لأَصْرُخَنَّ صَرْخَةً أَرْجِعُ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي جِئْتُ مِنْهُ
৭ - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-বারদায়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আল-মুওয়াফ্ফাককে নিজের সম্পর্কে অথবা অন্য কারো সম্পর্কে বলতে শুনেছি (سمعت) যে, তিনি হিজর (হাতিম) এলাকায় ঘুমিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি কাবাগৃহকে বলতে শুনলেন: "যদি আমার চতুর্পাশে তাওয়াফকারীরা আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই এমন এক তীব্র চিৎকার দেব যে, আমি যে স্থান থেকে এসেছি সেখানেই ফিরে যাব।"
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
-‌‌ بَابُ ذِكْرِ مَا يَقُولُهُ الطَّائِفُ بَيْنَ الرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ وَالرُّكْنِ الأَسْوَدِ

-

8 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ ثَنَا أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن يحي الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا لهيثم بْنُ خَارِجَةَ قَالَ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ أَبِي سُوَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ هِشَامٍ يَسْأَلُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ عَنِ الرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ وَهُوَ فِي الطَّوَافِ فَقَالَ عَطَاءٌ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ

وَكَّلَ اللَّهُ عز وجل بِهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ فَمَنْ قَالَ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ {رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} قَالُوا آمين
-‌‌পরিচ্ছেদ: রুকনে ইয়ামানি এবং রুকনে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তাওয়াফকারীর পঠিত দুআ সংক্রান্ত আলোচনা

-

8 - আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু জাফর আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হায়সাম ইবনে খারিযাহ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ হুমাইদ ইবনে আবি সুয়াইদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমি ইবনে হিশামকে তাওয়াফরত অবস্থায় আতা ইবনে আবি রাবাহকে রুকনে ইয়ামানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। তখন আতা বললেন, আবু হুরায়রা (রা.) আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এর জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে, "আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি; {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন}", তারা (ফেরেশতারা) বলে, ‘আমীন’।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
9 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ وثنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ سَهْلٍ الأُشْنَانِيُّ قَالَ ثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ ثَعْلَبٍ قَالَ ثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْمُؤَدِّبُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ

عِنْدَ الرُّكْنِ الْيَمَانِيّ ملك قَائِم مُنْذُ يَوْم خلق الله السَّمَاوَات وَالأَرْضَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ يَقُولُ آمِينَ آمِينَ فَقولُوا أَنْتُمْ {رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَة حَسَنَة وقنا عَذَاب النَّار}

10 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمد بن الْحسن ابْن عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قَالَ ثَنَا شُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ ثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ قَالَ هِشَامٌ ثَنَا عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل {رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَة حَسَنَة} قَالَ الْحَسَنَةُ فِي الدُّنْيَا الْعِلْمُ وَالْعِبَادَةُ وَالْجَنَّةُ فِي الْآخِرَة
9 - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে সাহল আল-উশনানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আর-রাবি ইবনে সা'লাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু ইসমাইল আল-মুয়াদ্দিব আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রুকন ইয়ামানির নিকট এমন একজন ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ‘আমীন, আমীন’ বলছেন। সুতরাং তোমরা বলো: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।}

10 - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: শুজা ইবনে মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হিশাম বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাসান থেকে আল্লাহর মহান বাণী— {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন} প্রসঙ্গে; তিনি বলেন: দুনিয়ার কল্যাণ হলো জ্ঞান ও ইবাদত, আর আখিরাতের কল্যাণ হলো জান্নাত।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
11 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ أَنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الْجَوْزِيُّ قَالَ ثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ وَالْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى الْجُرْجَانِيُّ وَهَذَا لَفْظُهُ قَالا ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَنا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ مَوْلَى السَّائِبِ أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ السَّائِبِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِيمَا بَيْنَ رُكْنِ جُمَحَ وَالرُّكْنِ الأَسْوَدِ {رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَة}
১১ - মুহাম্মদ আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, ইবরাহীম ইবনে মূসা আল-জাওযী আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেন, যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী এবং আল-হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-জুরাযানী আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন (ثنا) - এবং এটি তাঁর (হাসানের) শব্দে বর্ণিত - তাঁরা উভয়ে বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন, ইবনে জুরাইজ আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেন, আস-সাইবের আযাদকৃত দাস ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) যে, তাঁর পিতা তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে রুকন-ই-জুমাহ এবং রুকন-ই-আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে বলতে শুনেছেন: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন}।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
{وَفِي الْآخِرَة حَسَنَة وقنا عَذَاب النَّار} قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ فَأُحِبُّ لِمَنْ قَالَ هَذَا أَنْ يَقُولَهُ بِافْتِقَارٍ وَخُضُوعٍ وَسَكِينَةٍ وَتَذَلُّلٍ حَتَّى يَكُونَ مِمَّنْ يُبَاهِي اللَّهُ عز وجل بِهِ الْمَلائِكَةَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ وَلا أُحِبُّ أَنْ يَقُولَهُ عَلَى مَجَازِ الْقَوْلِ وَهُوَ سَاهِي الْقَوْلِ عَمَّا يَسْأَلُ مَوْلاهُ الْكَرِيمَ

12 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ ثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحُلْوَانِيُّ قَالَ ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْعَابِدُ قَالَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صُبَيْحِ بْنِ السَّمَّاكِ عَنْ عَائِذِ بْنِ بَشِيرٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يُبَاهِي بِالطَّائِفِينَ
{এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন}। মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন, যারা এটি পাঠ করেন তাদের জন্য আমি পছন্দ করি যে, তারা যেন তা ঐকান্তিক মুখাপেক্ষিতা, বিনয়, প্রশান্তি এবং দীনতার সাথে পাঠ করেন, যাতে ইনশাআল্লাহ তারা ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন যাদের নিয়ে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। এবং আমি পছন্দ করি না যে, কেউ এটি নিছক লৌকিকতাময় বাক্যের ন্যায় বলুক এবং সে নিজের মহান ও দয়ালু রবের কাছে যা প্রার্থনা করছে সে বিষয়ে অসচেতন থাকুক।

১২ - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবু জাফর আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-আবিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে সুবাইহ ইবনুস সাম্মাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), আইজ ইবনে বশির থেকে (عن), তিনি আতা থেকে (عن), তিনি আয়েশা (রা.) থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ তওয়াফকারীদের নিয়ে গর্ব করেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
13 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ وثنا أَبُو عَبْدِ اللَهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ قَالَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الطَّائِيُّ قَالَ ثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ السَّمَّاكِ عَنْ عَائِذٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ

14 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ اللَّيْثِ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ قَالَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ لَمْ يَرْفَعْ قَدَمًا وَلَمْ يَضَعْ أُخْرَى إِلا كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ بِهَا حَسَنَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً
13 - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আলী বিন হারব আত-তাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হুসাইন বিন আলী আল-জুফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি মুহাম্মদ বিন আস-সাম্মাক থেকে, তিনি আইয থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ (مثله) বর্ণনা করেছেন।

14 - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-লাইস আল-জাওহারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন ওয়াকী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ফুদায়ল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উবাইদ বিন উমাইর থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি— "যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরের (কাবা) তাওয়াফ করবে, সে তার একটি কদম ওঠালে বা ফেললে তার বিনিময়ে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার জন্য একটি নেকি লিখে দেন, তার একটি গুনাহ মোচন করেন এবং তার মর্যাদা এক স্তর বৃদ্ধি করে দেন।"
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তায়িফীন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ أَحْصَى سُبُوعًا كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ

آخِرُ الْمَسْأَلَةِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَصَلَوَاتُهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ

قَرَأَ عَلَيَّ جَمِيعَ الْجُزْءِ الشَّيْخ الصَّالح عبد الله بن عسي بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى الْمُرَادِيُّ نَفَعَهُ اللَّهُ بِمَا فِيهِ قِرَاءَةَ تَفَهُّمٍ وَإِتْقَانٍ فِي يَوْمِ الأَحَدِ ثَانِي عِشْرِينَ رَبِيعٍ الآخِرِ مِنْ سنة سِتّ وَخمسين وَخَمْسمِائة وَكَتَبَ الْمُبَارَكُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْبَاقِي الْبَغْدَادِيّ بِخَطِّهِ
আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি [তাওয়াফের] সাতটি চক্কর পূর্ণ করবে, তা একটি দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে।"

মাসআলার সমাপ্তি। আল্লাহর জন্য অশেষ প্রশংসা এবং মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষিত হোক।

সৎকর্মশীল (صالح) শায়খ আবদুল্লাহ বিন ঈসা বিন উবাইদুল্লাহ বিন ঈসা আল-মুরাদি আমার নিকট এই সম্পূর্ণ অংশটি গভীর উপলব্ধি ও নিখুঁতভাবে (إتقان) পাঠ করেছেন—আল্লাহ তাঁকে এর বিষয়বস্তু দ্বারা উপকৃত করুন। এটি ছিল পাঁচশত ছাপ্পান্ন হিজরি সনের বাইশে রবিউল আখির, রবিবার। মুবারক বিন আলী বিন আব্দুল বাকি আল-বাগদাদি স্বহস্তে এটি লিখেছেন।