(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: -)
المكاسب والورع والشبهة القسم: الفقه العام
الكتاب: المكاسب والورع والشبهة وبيان مباحها ومحظورها واختلاف الناس في طلبها والرد على الغالطين فيه
المؤلف: الحارث بن أسد المحاسبي، أبو عبد الله (ت 243هـ)
المحقق: نور سعيد
الناشر: دار الفكر اللبناني - بيروت
الطبعة: الأولى، 1992
عدد الصفحات: 109
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাকাসিব ওয়াল-ওয়ারা ওয়াশ-শুবহা বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আল-মাকাসিব ওয়াল-ওয়ারা ওয়াশ-শুবহা ওয়া বয়ানু মুবাহিহা ওয়া মাহজুরিহা ওয়া ইখতিলাফুন নাসি ফি তালাবিহা ওয়ার রাদ্দু আলাল গালিতিনা ফিহি (উপার্জন, পরহেজগারি ও সন্দেহপূর্ণ বিষয়সমূহ এবং সেগুলোর বৈধ ও নিষিদ্ধ দিকসমূহের বর্ণনা, এগুলো অনুসন্ধানে মানুষের মতপার্থক্য এবং এ বিষয়ে ভুলকারীদের খণ্ডন)
লেখক: আল-হারিস বিন আসাদ আল-মুহাসিবি, আবু আবদুল্লাহ (মৃত্যু ২৪৩ হিজরী)
সম্পাদক: নূর সাঈদ
প্রকাশক: দার আল-ফিকর আল-লুবনানি - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৯
[বইয়ের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
عونك اللَّهُمَّ قَالَ أَبُو عبد الله الْحَارِث بن أَسد بن عبد الله المحاسبي رحمه الله
الْحَمد لله القاهر بقدرته الظَّاهِر بعزته الْغَالِب بجبروته الَّذِي بَدَأَ خلق مَا خلق من غير سبق بل هُوَ الأول قبل الْأَبَد وَالْآخر إِلَى غير أمد المنشئ لما شَاءَ بمشيئته لما سبق ذَلِك من علمه واستتر فِي خَفِي غيبه فَكَانَ أمره جلّ ثَنَاؤُهُ {إِذا أَرَادَ شَيْئا أَن يَقُول لَهُ كن فَيكون} بمحكم من الصَّنْعَة وإتقان من الْحِكْمَة بتفصيل عقائد أحكمها بتدبيره وأجراها بِعِلْمِهِ وأبقاها بقدرته على مَا أَرَادَ من ذَلِك فِي اخْتِلَاف الْأَزْمِنَة وتقلب الدهور ليبدو المغيب الْمَعْلُوم عِنْد أَوَانه وَيَزُول الْكَائِن الموقوت لأَجله
فسبحان من {بِيَدِهِ ملكوت كل شَيْء وَإِلَيْهِ ترجعون}
وَله الْحَمد جلّ ثَنَاؤُهُ وتقدست أسماؤه على مَا يسْتَحق من ذَلِك على خلقه وكما هُوَ أهل لذَلِك فِي كبريائه وعظمته وجلاله
جلّ الْمخبر عَن نظر خلقه لما كَانَ عَن الْعُقُول غَائِبا وَعَن الأوهام فِي غيبه محتجبا ليدل الْخلق بذلك على نَفسه وَإِلَى إِثْبَات توحيده
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
হে আল্লাহ! আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি আবু আব্দুল্লাহ আল-হারিস ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুহাসিবি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আপন কুদরত দ্বারা পরাক্রমশালী, স্বীয় ইজ্জত দ্বারা প্রকাশিত এবং আপন প্রতাপ দ্বারা বিজয়ী; যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ব্যতিরেকেই সৃষ্টিজগত সৃজন করেছেন। বরং তিনি অনন্তকালের পূর্বেও অনাদি এবং কোনো সময়সীমা ছাড়াই তিনি অনন্ত। তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে যা ইচ্ছা করেছেন তা উদ্ভাবন করেছেন, যা তাঁর ইলমে পূর্বেই সাব্যস্ত ছিল এবং তাঁর অদৃশ্যের নিগূঢ় রহস্যে লুক্কায়িত ছিল। অতএব তাঁর নির্দেশ—যাঁর প্রশংসা অতি মহান—হলো: {তিনি যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন তাকে শুধু বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়}। এটি নিপুণ কারুকার্য ও প্রজ্ঞার পূর্ণতায় সম্পন্ন হয়। তিনি তাঁর ব্যবস্থাপনানুযায়ী বিশ্বাসমালার বিস্তারিত রূপ দিয়েছেন, যা তিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা জারি করেছেন এবং আপন কুদরত দ্বারা সময়ের আবর্তন ও কালের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেভাবেই টিকিয়ে রেখেছেন যেভাবে তিনি ইচ্ছা করেছেন; যাতে নির্ধারিত সময়ে তাঁর ইলমে বিদ্যমান অদৃশ্য বিষয়গুলো প্রকাশিত হয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিদ্যমান সত্তাগুলো বিলীন হয়ে যায়।
অতএব অত্যন্ত পবিত্র সেই সত্তা, {যাঁর হাতে সকল কিছুর সার্বভৌমত্ব এবং যাঁর নিকট তোমরা ফিরে যাবে}।
তাঁর প্রশংসা অতি সুমহান এবং তাঁর নামসমূহ অত্যন্ত পবিত্র। সৃষ্টির পক্ষ থেকে তিনি যেরূপ প্রশংসার দাবিদার এবং তিনি তাঁর বড়ত্ব, মাহাত্ম্য ও মহিমার প্রেক্ষিতে যেরূপ প্রশংসার উপযুক্ত, তাঁর জন্য সেরূপই প্রশংসা।
সেই সত্তা অতি মহান, যিনি সৃষ্টির দৃষ্টির আড়ালে থাকা এবং মানুষের জ্ঞান ও কল্পনার অতীত অদৃশ্যে আবৃত বিষয়াদি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন; যেন এর মাধ্যমে তিনি সৃষ্টিজগতকে নিজের পরিচয় দান করেন এবং তাঁর একত্ববাদ প্রমাণের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وينبههم بذلك على مَعْرفَته ليعرفوه بِالْقُدْرَةِ ويفردوه بِالْأَمر كُله وليعلموا أَنما هُوَ إِلَه وَاحِد لَا إِلَه إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ فَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ فِي مُحكم نَاطِق من التَّنْزِيل {وَلَقَد خلقنَا السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَمَا بَينهمَا فِي سِتَّة أَيَّام وَمَا مسنا من لغوب}
وَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ {قل أئنكم لتكفرون بِالَّذِي خلق الأَرْض فِي يَوْمَيْنِ وتجعلون لَهُ أندادا ذَلِك رب الْعَالمين وَجعل فِيهَا رواسي من فَوْقهَا وَبَارك فِيهَا وَقدر فِيهَا أقواتها فِي أَرْبَعَة أَيَّام سَوَاء للسائلين ثمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء وَهِي دُخان فَقَالَ لَهَا وللأرض ائتيا طَوْعًا أَو كرها قَالَتَا أَتَيْنَا طائعين فقضاهن سبع سماوات فِي يَوْمَيْنِ وَأوحى فِي كل سَمَاء أمرهَا وزينا السَّمَاء الدُّنْيَا بمصابيح وحفظا ذَلِك تَقْدِير الْعَزِيز الْعَلِيم}
وَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ {وَهُوَ الَّذِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض فِي سِتَّة أَيَّام وَكَانَ عَرْشه على المَاء ليَبْلُوكُمْ أَيّكُم أحسن عملا}
فَأخْبر جلّ ثَنَاؤُهُ عَن بَدْء خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَمَا فِيهِنَّ من بَدَائِع الصَّنْعَة وعجائب التَّرْكِيب وَاخْتِلَاف الْأَلْسِنَة والألوان المتشابهة والصور المتباينة وافتراق عَظِيم مَا أنشأ جلّ ثَنَاؤُهُ من جليل خلقه ودقيقه وكبيره وصغيره من خلق السَّمَاوَات فِي عَظِيم خلقتها وارتفاع بنائها وكثيف أطباقها وثخن سمكها وسعة بسطها من غير عمد ترَاهَا الْعُيُون وَلَا تدركها الظنون
এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে তাঁর পরিচয়ের প্রতি সজাগ করেন যাতে তারা তাঁকে তাঁর কুদরতের মাধ্যমে চিনতে পারে এবং সমস্ত বিষয়ে তাঁকে একক প্রতিপন্ন করে, আর যাতে তারা জানতে পারে যে তিনিই একমাত্র ইলাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি অতি পবিত্র। অতঃপর মহান মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ সুস্পষ্ট বাণীতে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।"
মহান মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেছেন: "বলুন, তোমরা কি সেই সত্তাকে অস্বীকার করছ যিনি পৃথিবী দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাচ্ছ? তিনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক। তিনি পৃথিবীতে ওপর থেকে অনড় পাহাড় স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন এবং চার দিনের মধ্যে এতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন—সমানভাবে যাঞ্চাকারীদের জন্য। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন যা ছিল ধূম্রকুঞ্জ। এরপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন: তোমরা উভয়ে আসো স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল: আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুই দিনে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ওহী করলেন। আর আমি দুনিয়ার আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং করেছি সুরক্ষিত। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ।"
মহান মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে আমলের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম।"
অতঃপর মহান মহিমান্বিত আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা এবং এগুলোর মধ্যে নিহিত নিপুণ কারুকার্য, বিস্ময়কর গঠনশৈলী, ভাষার ভিন্নতা, সদৃশ বর্ণসমূহ, বৈচিত্র্যময় রূপ এবং তাঁর সৃষ্ট বিশাল সৃষ্টির—তা মহান হোক কিংবা সূক্ষ্ম, বড় হোক কিংবা ছোট—বিরাট ব্যবধান সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। যেমন আকাশমণ্ডলীর বিশাল সৃষ্টি, এর সুউচ্চ কাঠামো, এর স্তরে স্তরে ঘনত্ব, এর পুরুত্ব এবং এর বিস্তৃতি, যা কোনো খুঁটি ছাড়াই বিদ্যমান যা চর্মচক্ষু দেখতে পায় না এবং মানুষের কল্পনাও তা উপলব্ধি করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَمَا فِيهَا من ساكنيها من الْمَلَائِكَة الَّذين لَا يفترون تسبيحا وتقديسا وتهليلا وتعظيما وسجودا وركوعا على مَا استعبدوا بِهِ من فنون الْعِبَادَة ودائم سرمد الْخدمَة
وَكَذَلِكَ الأرضون بِمَا فِيهَا من وحشيها وإنسيها ورواسي جبالها وعميق بحارها وبرها وطيرها وهوامها باخْتلَاف اللُّغَات المعبرة لكل صنف عَن مُرَاد مَعْقُول عِنْد جنسه مَجْهُول عِنْد ضِدّه من مُعْجم الْأَلْسِنَة ومعربها بمقادير مفوضة وأرزاق مقدرَة وأقوات مقسطة وآجال مُؤَجّلَة
أحَاط بذلك كُله جلّ ثَنَاؤُهُ علما وأحصاه عددا فَلَنْ يتَأَخَّر شَيْء مِنْهَا عَن وقته وَلم ينقص شَيْئا مِنْهَا من رزقه ثمَّ دعاهم جلّ ثَنَاؤُهُ إِلَى النّظر فِي عجائب مَا خلق فَقَالَ جلّ وَعز {أولم ينْظرُوا فِي ملكوت السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَمَا خلق الله من شَيْء وَأَن عَسى أَن يكون قد اقْترب أَجلهم}
وَقَالَ جلّ وَعز {إِن فِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَاخْتِلَاف اللَّيْل وَالنَّهَار لآيَات لأولي الْأَلْبَاب}
حسن دلَالَة مِنْهُ سُبْحَانَهُ لَهُم على النّظر فِي آيَاته والفكر فِي عجائب صنعه وَفِي ذَلِك سَبِيل لَهُم إِلَى مَعْرفَته وَإِلَى الْعلم بِأَنَّهُ الْخَالِق الرازق لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْوَاحِد سُبْحَانَهُ وَأَن من دونه لَهُ خلق وَأَن الْخلق كلهم مألهون مستعبدون
لَا يملكُونَ لأَنْفُسِهِمْ نفعا وَلَا ضرا
এবং তাতে (আকাশমণ্ডলীতে) অবস্থানকারী ফেরেশতাগণ, যারা ইবাদতের নানাবিধ পদ্ধতিতে আদিষ্ট হয়ে এবং নিরন্তর ও চিরন্তন সেবায় নিয়োজিত থেকে তাসবিহ, তাকদিস, তাহলিল, তাজিম, সিজদাহ ও রুকু পালনে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য প্রদর্শন করে না।
অনুরূপভাবে পৃথিবীসমূহ এবং এর মধ্যকার বন্য ও মানব জাতি, সুদৃঢ় পর্বতমালা, গভীর সমুদ্র ও স্থলভাগ, পক্ষিকুল এবং কীটপতঙ্গ; যাদের প্রত্যেকের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন এবং প্রতিটি শ্রেণি নিজ নিজ প্রজাতির নিকট বোধগম্য কিন্তু ভিন্ন প্রজাতির নিকট অজ্ঞাত (مجهول), চাই তা অস্পষ্ট ভাষা হোক বা স্পষ্ট, যা অর্পিত পরিমাণ, নির্ধারিত রিজিক, বণ্টিত খাদ্য এবং সুনির্দিষ্ট আয়ুষ্কালের সাথে সুসমন্বিত।
মহান আল্লাহ তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে এই সবকিছু পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং নিখুঁতভাবে তার সংখ্যা গণনা করেছেন। সুতরাং এর কোনো কিছুই তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে যাবে না এবং কারো রিজিক থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টির বিস্ময়কর বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "তারা কি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে গভীরভাবে লক্ষ্য করে না? এবং সম্ভবত তাদের নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এসেছে।"
মহান আল্লাহ আরও বলেন, "নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।"
এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিদর্শনাবলি পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর নিপুণ সৃষ্টির বিস্ময় নিয়ে চিন্তা করার জন্য এক প্রকৃষ্ট দিকনির্দেশনা। আর এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে তাঁর পরিচয় লাভ এবং এই জ্ঞান অর্জনের পথ যে, তিনিই একমাত্র স্রষ্টা ও রিজিকদাতা; তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক ও পবিত্র। তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা তাঁরই সৃষ্টি এবং সমগ্র সৃষ্টি তাঁরই উলুহিয়্যাত ও দাসত্বের অধীন।
তারা নিজেদের কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ করার ক্ষমতা রাখে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَلَا يملكُونَ موتا وَلَا حَيَاة وَلَا نشورا
ثمَّ دعاهم بعد ذَلِك إِلَى النّظر فِي أنفسهم فَقَالَ جلّ وَعز {فَلْينْظر الْإِنْسَان مِم خلق خلق من مَاء دافق يخرج من بَين الصلب والترائب إِنَّه على رجعه لقادر}
وَقَالَ سُبْحَانَهُ {الَّذِي أحسن كل شَيْء خلقه وَبَدَأَ خلق الْإِنْسَان من طين ثمَّ جعل نَسْله من سلالة من مَاء مهين ثمَّ سواهُ وَنفخ فِيهِ من روحه وَجعل لكم السّمع والأبصار والأفئدة قَلِيلا مَا تشكرون}
وَقَالَ سُبْحَانَهُ {يَا أَيهَا النَّاس إِن كُنْتُم فِي ريب من الْبَعْث فَإنَّا خَلَقْنَاكُمْ من تُرَاب ثمَّ من نُطْفَة ثمَّ من علقَة ثمَّ من مُضْغَة مخلقة وَغير مخلقة لنبين لكم ونقر فِي الْأَرْحَام مَا نشَاء إِلَى أجل مُسَمّى ثمَّ نخرجكم طفْلا ثمَّ لتبلغوا أَشدّكُم ومنكم من يتوفى ومنكم من يرد إِلَى أرذل الْعُمر}
فَبين جل جلاله بَدْء خلق الْإِنْسَان بمحكم من الْبَيَان ليعلموا بذلك كَيفَ أنشأهم وعَلى أَيَّة هَيْئَة هيأهم ليعترفوا بِالْعَجزِ ويقروا بالضعف ويفردوه جلّ ثَنَاؤُهُ بِالْأَمر حَتَّى تكون لَهُم معرفَة أنفسهم دَلِيلا على خالقهم وسببا إِلَى معرفَة صانعهم
وأعلمهم جلّ ثَنَاؤُهُ أَنه بَدَأَ خلق الْإِنْسَان من طين وَمن سلالة من مَاء مهين خلقا ضَعِيفا فِي أَصله ثمَّ قَلِيلا فِي عينه حَقِيرًا فِي رُؤْيَته
ثمَّ نَقله جل جلاله وثناؤه بعد هَذِه المهانة إِلَى أَن صيره علقَة
এবং তারা না মৃত্যুর উপর কোনো ক্ষমতা রাখে, না জীবনের উপর এবং না পুনরুত্থানের উপর।
অতঃপর তিনি তাদের নিজেদের সত্তার প্রতি অনুধাবনের আহ্বান জানিয়ে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ইরশাদ করেন: {অতএব মানুষের লক্ষ্য করা উচিত তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে নির্গত পানি হতে, যা মেরুদণ্ড ও পঞ্জরাস্থির মধ্য থেকে নির্গত হয়। নিশ্চয়ই তিনি তাকে পুনরায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।}
পবিত্র ও মহান সত্তা বলেন: {যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে অতি উত্তম করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধারা তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে তৈরি করেছেন। এরপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তার মধ্যে তাঁর রুহ ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণেন্দ্রিয়, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।}
পবিত্র ও মহান সত্তা বলেন: {হে মানবমণ্ডলী! যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে কোনো সন্দেহে থাকো, তবে (জেনে রাখো) আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর পূর্ণাকৃতি কিংবা অপূর্ণাকৃতি মাংসপিণ্ড থেকে—যাতে আমি তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করি। আর আমি জরায়ুতে যা ইচ্ছা করি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত স্থির রাখি, এরপর আমি তোমাদের শিশু হিসেবে বের করে আনি। অতঃপর যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করো। তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে আর কাউকে নিকৃষ্টতম বয়সের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।}
অতঃপর মহামহিম আল্লাহ মানব সৃষ্টির সূচনাকে সুদৃঢ় (محكم) বিবৃতির মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন, যাতে তারা জানতে পারে কীভাবে তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং কোন অবয়বে তাদের প্রস্তুত করেছেন; যেন তারা নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে ও দুর্বলতাকে মেনে নেয় এবং সমস্ত কর্তৃত্ব কেবল সেই মহান সত্তার জন্য নির্দিষ্ট করে। ফলে নিজেদের নফসের পরিচয় যেন তাদের নিকট তাদের স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ এবং তাদের নির্মাতার পরিচয় লাভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সেই প্রশংসিত ও মহান সত্তা তাদের অবহিত করেছেন যে, তিনি কাদা মাটি ও তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। মূলত এটি শুরুতে ছিল একটি দুর্বল (ضعيف) সৃষ্টি, যা দৃষ্টিতে অতি সামান্য এবং দর্শনে অতি ক্ষুদ্র।
অতঃপর সেই মহামহিম সত্তা এই হীন অবস্থার পর তাকে পরিবর্তন করে জমাট রক্তে পরিণত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يعاف عَن رؤيتها ويتنزه عَن لمسها
ثمَّ صيره مُضْغَة منقولة عَن بَدْء خلقهَا ثمَّ نقلهَا عَن هَيْئَة المضغة فصيرها بِحكم تَدْبيره وخفي تَقْدِيره عظما ثمَّ كَسَاه تَعَالَى لَحْمًا
ثمَّ صوره بِأَحْسَن صُورَة فشق سَمعه وبصره وَجعله بإنفاذه لما خلق مِنْهُ مُتَّصِلا مَوْصُولا ذَا لِسَان وشفتين ويدين وَرجلَيْنِ
ثمَّ نفخ فِيهِ من روحه ثمَّ جعل الْأَرْحَام لَهُ مسكنا والبطن لَهُ منزلا حَيْثُ لَا تُدْرِكهُ الْعُيُون فتصف كيفيته فِيهَا فِي ظلم الْأَرْحَام ومكنون الأحشاء وَمَا اضطمت عَلَيْهِ جوانح الْبَطن
وسَاق إِلَيْهِ فِي خَفِي مَكَانَهُ الرزق وَأدّى إِلَيْهِ على غامض مَوْضِعه الْغذَاء وَحفظه من الْآفَات وَدفع عَنهُ المكروهات حَيْثُ لَا يملك ذَلِك الْآبَاء والأمهات ليبلغ سَابق الْعلم فِيهِ وَيجْرِي قديم الحكم عَلَيْهِ
ثمَّ نَقله جلّ وَعز من هَذَا الْحَال إِلَى دَار الزَّوَال بعد أَن كتب لَهُ عمله وَضرب لَهُ أَجله وَقسم لَهُ رزقه
فسبحان من تقدم علمه بِمَا الْخلق عاملون وَإِلَى مَا هم إِلَيْهِ صائرون سُبْحَانَهُ من حَكِيم عليم لَا شريك لَهُ فِي ملكه وَلَا مقاوم لَهُ فِي عزه وَلَا مَانع لَهُ فِي أمره الْفَرد المتفرد بِالْأَمر كُله جلّ ثَنَاؤُهُ الْملك الْخَبِير الْعَالم الْقَدِير الَّذِي بفضله دلّ الْخلق على نَفسه وبكرمه دعاهم إِلَى عِبَادَته وبرأفته خوفهم من عُقُوبَته الْغَنِيّ عَن عبَادَة الْعَالمين وَعَن طَاعَة المطيعين الَّذِي عطف برأفته على الْخلق ودعاهم إِلَى عِبَادَته ليثيبهم على ذَلِك بعطيته ويكرمهم بالموافقة لجنته
سُبْحَانَهُ وَبِحَمْدِهِ فقد علم جلّ ثَنَاؤُهُ أَن جَوَامِع عقول الْخلق من
যা দর্শনে অনিচ্ছা জাগে এবং যা স্পর্শ করা থেকে মানুষ পবিত্র থাকতে চায়
অতঃপর তিনি সেটিকে তার সৃষ্টির প্রারম্ভিক অবস্থা থেকে রূপান্তরিত একটি মাংসপিণ্ডে পরিণত করেন; এরপর সেটিকে মাংসপিণ্ডের অবস্থা থেকে পরিবর্তন করে তাঁর সুনিপুণ ব্যবস্থাপনা ও সূক্ষ্ম ফয়সালার মাধ্যমে হাড়ে রূপান্তরিত করেন, অতঃপর মহান আল্লাহ তাতে গোশতের আবরণ পরিয়ে দেন
এরপর তিনি তাকে সর্বোত্তম অবয়বে গঠন করেন, তার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি প্রদান করেন এবং তাঁর কুদরতের নিপুণ প্রয়োগে তাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গবিশিষ্ট এক সত্তায় পরিণত করেন, যার রয়েছে জিহ্বা, ওষ্ঠদ্বয় এবং দুই হাত ও দুই পা
অতঃপর তিনি তার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে রুহ সঞ্চার করেন; এরপর জরায়ুকে তার আবাস এবং উদরকে তার বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করেন, যেখানে কোনো চক্ষু তাকে প্রত্যক্ষ করে তার অবস্থা বর্ণনা করতে পারে না—জরায়ুর অন্ধকার, নাড়িভুঁড়ির অন্তরালে এবং উদরের পার্শ্বদেশ যা কিছু ধারণ করে আছে তার ভেতরে
তিনি তার এই নিভৃত স্থানে রিজিক পৌঁছে দেন এবং তার এই গোপন অবস্থানে পুষ্টির ব্যবস্থা করেন। তিনি তাকে যাবতীয় আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করেন এবং অনিষ্টকর বিষয়সমূহ থেকে দূরে রাখেন, যেখানে পিতা-মাতার কোনো সামর্থ্য নেই; যাতে করে তার ব্যাপারে আল্লাহর পূর্বজ্ঞান পূর্ণতা পায় এবং তার ওপর অনাদি ফয়সালা কার্যকর হয়
এরপর প্রতাপশালী ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাকে এই অবস্থা থেকে নশ্বর জগতে স্থানান্তরিত করেন—তার আমল লিপিবদ্ধ করার পর, তার আয়ু নির্ধারণ করার পর এবং তার রিজিক বণ্টন করার পর
সুতরাং সেই সত্তা পবিত্র, যাঁর জ্ঞান সৃষ্টির কর্মকাণ্ড এবং তাদের পরিণাম সম্পর্কে পূর্বেই পরিব্যাপ্ত। তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ; তাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই, তাঁর প্রতাপে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এবং তাঁর নির্দেশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা প্রদানকারী নেই। তিনি একক, সকল বিষয়ের একচ্ছত্র অধিপতি; তাঁর প্রশংসা অতি মহান। তিনি রাজাধিরাজ, সম্যক অবগত, মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান। তিনি তাঁর অনুগ্রহে সৃষ্টিজগতকে নিজের পরিচয় দিয়েছেন, স্বীয় বদান্যতায় তাদের ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং অনুকম্পাবশত তাদের শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন। তিনি বিশ্বজগতের ইবাদত এবং আনুগত্যকারীদের আনুগত্য থেকে অমুখাপেক্ষী। তিনি দয়াপরবশ হয়ে সৃষ্টির প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তাদের তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন, যাতে তিনি স্বীয় দানে তাদের পুরস্কৃত করেন এবং জান্নাতের সৌভাগ্য দিয়ে তাদের সম্মানিত করেন
তিনি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই; মহান আল্লাহ জানেন যে সৃষ্টির সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أصل سماواته وأرضه وَمَنَافع نهايات صِفَات ألسنتهم وغايات عقائد مُحكم معرفتهم لَو جعلت فِي عبد وَاحِد من عبيده ثمَّ مثل عَطاء ذَلِك العَبْد فِي سَائِر خلقه ثمَّ أضعفوا وأضعف لَهُم الْعَطِيَّة وَقسم ذَلِك بَينهم بِالسَّوِيَّةِ ثمَّ أَدِيم ذَلِك لَهُم عَطاء وعددا كأسرع مَا أَدْرَكته الصّفة فِي دَائِم أَبَد الْأَبَد على بَقَاء الْخلد الَّذِي لَيْسَ لَهُ أمد ثمَّ أوقفوا ليبلغوا بذلك مَا يجب لَهُ لعجزوا عَن الْقيام بذلك ولرجعوا إِلَيْهِ بالصغر مقرين وبالعجز معترفين
فسبحان من هَذِه صفته على قدر إِدْرَاك مَا بلغت الْعُقُول وأومت إِلَيْهِ الْمعرفَة فَكيف بِمَا غَابَ عَن الْخلق من الْعلم بصفاته سُبْحَانَهُ
وَإِنَّمَا بلغت لَهُم عَظمته وَأدْركت أَيدي الظفر مِنْهُم بهيبته على قدر الْخلق وَمَا تحْتَمل من ذَلِك عُقُولهمْ وَتقوم لَهُ أَرْوَاحهم وتنهض بِهِ أبدانهم
وَلَو كشف سُبْحَانَهُ عَن بعض مَا ستره عَنْهُم لساخت بذلك أرضه ولتمزقت سماواته ولتلف سَائِر خلقه فسبحان الْحَكِيم الْخَبِير الَّذِي لطف بخلقه بِمَا ستر عَنْهُم من أمره ورحمهم بِمَا غيب عَنْهُم من قدرته ليتم أمره فِي خلقه وتنفذ مَشِيئَته عَلَيْهِم ويمضي قديم علمه فيهم
فَكَانَ مِمَّا دبرهم بِهِ الْحَكِيم سُبْحَانَهُ أَن جعلهم أجسادا لَا تقوم إِلَّا بالأغذية وَلَا يَدُوم بَقَاؤُهَا إِلَّا بالأطعمة فَضرب الْآجَال وَقسم الأرزاق وَختم أَمر الدُّنْيَا بالفناء
فَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ {نَحن قسمنا بَينهم معيشتهم فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا ورفعنا بَعضهم فَوق بعض دَرَجَات}
তাঁর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর উৎস এবং তাঁদের জিহ্বার গুণাবলির প্রান্তসীমার কল্যাণসমূহ ও তাঁদের সুদৃঢ় জ্ঞানের বিশ্বাসের চরম লক্ষ্যসমূহ যদি তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে কোনো এক বান্দার মধ্যে ন্যস্ত করা হতো, অতঃপর সেই বান্দার দানকৃত বিষয়ের অনুরূপ তাঁর অবশিষ্ট সৃষ্টির মাঝে প্রদান করা হতো, এরপর যদি সেই দানকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হতো এবং তাঁদের জন্য তা সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হতো, এরপর তা যদি তাঁদের জন্য দান ও সংখ্যায় চিরন্তনকাল ধরে অব্যাহত রাখা হতো—যা কোনো বর্ণনার দ্রুততম গতির ন্যায় এবং যার কোনো অন্ত নেই—অতঃপর তাঁদের যদি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিয়োজিত করা হতো যা তাঁর প্রাপ্য, তবে তাঁরা তা পালনে অক্ষম হতো এবং হীনতা স্বীকার করে ও নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করে তাঁর নিকট ফিরে আসত।
সুতরাং মহাপবিত্র সেই সত্তা, যাঁর বৈশিষ্ট্য বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা যতটুকু অনুধাবন করতে পারে এবং জ্ঞান যতটুকু ইঙ্গিত করতে পারে সে অনুযায়ী; তবে তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে যে জ্ঞান সৃষ্টির নিকট অগোচর রয়েছে তা কতই না মহিমান্বিত! তিনি পবিত্র।
তাঁর মহিমা কেবল সৃষ্টির সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের নিকট পৌঁছেছে এবং তাঁর গাম্ভীর্যের যে প্রভাব তাঁরা লাভ করতে পেরেছে, তা কেবল তাঁদের বুদ্ধি যতটুকু ধারণ করতে পারে, তাঁদের আত্মা যেটুকু সহ্য করতে পারে এবং তাঁদের শরীর যেটুকু ভার বহন করতে সক্ষম হয় সে অনুযায়ীই নির্ধারিত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি যা তিনি তাঁদের নিকট থেকে গোপন রেখেছেন তার কিঞ্চিৎ অংশও উন্মোচিত করে দিতেন, তবে তাঁর এই পৃথিবী ধসে পড়ত, আকাশমন্ডলী চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত এবং তাঁর সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যেত। সুতরাং মহাপবিত্র সেই প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞাত সত্তা, যিনি স্বীয় আদেশের কিছু বিষয় গোপন রেখে স্বীয় সৃষ্টির প্রতি করুণা করেছেন এবং তাঁর কুদরতের যা কিছু তাঁদের নিকট অদৃশ্য রেখেছেন তার মাধ্যমে তাঁদের প্রতি দয়া করেছেন, যাতে তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর নির্দেশ পূর্ণ হয়, তাঁদের ওপর তাঁর ইচ্ছা কার্যকর হয় এবং তাঁদের বিষয়ে তাঁর অনাদি জ্ঞান বাস্তবায়িত হয়।
সেই প্রজ্ঞাবান সত্তার সুনিপুণ ব্যবস্থাপনার অংশ এই যে, তিনি তাঁদের এমন এক শরীররূপে সৃষ্টি করেছেন যা পুষ্টি ছাড়া টিকে থাকতে পারে না এবং খাদ্য ব্যতীত যার স্থায়িত্ব সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি তাঁদের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করেছেন, জীবিকা বণ্টন করেছেন এবং পার্থিব জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন নশ্বরতার মাধ্যমে।
মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নত করি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَقَالَ تَعَالَى {الله الَّذِي خَلقكُم ثمَّ رزقكم ثمَّ يميتكم ثمَّ يُحْيِيكُمْ}
وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا من دَابَّة فِي الأَرْض إِلَّا على الله رزقها وَيعلم مستقرها ومستودعها كل فِي كتاب مُبين}
وَقَالَ سُبْحَانَهُ {وكأين من دَابَّة لَا تحمل رزقها الله يرزقها وَإِيَّاكُم}
وَقَالَ عز وجل {وَفِي السَّمَاء رزقكم وَمَا توعدون فَوَرَبِّ السَّمَاء وَالْأَرْض إِنَّه لحق مثل مَا أَنكُمْ تنطقون}
فَأخْبر جلّ ثَنَاؤُهُ بقسمة الرزق بَين خلقه وتولية ذَلِك فِي مَوَاضِع من كِتَابه جلّ وَعز كَثِيرَة ثمَّ دَعَا الْخلق سُبْحَانَهُ إِلَى التَّوَكُّل عَلَيْهِ بعد أَن أعلمكُم بكفالته لَهُم وتقسيمه بَينهم فَقَالَ سُبْحَانَهُ {وعَلى الله فَليَتَوَكَّل الْمُؤْمِنُونَ}
وَقَالَ {وعَلى الله فَليَتَوَكَّل المتوكلون}
فَأوجب جلّ وَعز التَّوَكُّل وفرضه على الْخلق لِئَلَّا يتشاغلوا عَن الْعِبَادَة بِمَا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ من ذَلِك فكفاهم بذلك الْمُؤْنَة وَأثبت بِهِ عَلَيْهِم الْحجَّة وَفرض عَلَيْهِم فَرَائض أحكمها وَبَين لَهُم مَا
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আল্লাহ তিনিই, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের রিজিক দিয়েছেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, অতঃপর তোমাদের পুনর্জীবিত করবেন।"
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "আর পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই; তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থান সম্পর্কে অবগত। সবকিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।"
মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর এমন কত জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের রিজিক সঞ্চয় করে রাখে না; আল্লাহই তাদের রিজিক দান করেন এবং তোমাদেরও।"
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, "আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিজিক এবং যা তোমাদের প্রতিশ্রুত হয়েছে। সুতরাং আসমান ও জমিনের রবের শপথ, নিশ্চয়ই এটি সত্য, যেমন তোমরা কথা বলে থাকো।"
অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের বহু স্থানে সৃষ্টির মাঝে রিজিক বণ্টন এবং এর দায়িত্ব গ্রহণের সংবাদ দিয়েছেন। এরপর তিনি তাদের জন্য তাঁর জিম্মাদারি ও রিজিক বণ্টনের কথা জানানোর পর সৃষ্টিজগতকে তাঁর ওপর নির্ভরশীলতা (التوكل)-এর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই নির্ভর করা (التوكل)।"
এবং তিনি বলেছেন, "আর নির্ভরশীলদের (المتوكلون) উচিত আল্লাহর ওপরই নির্ভর করা (التوكل)।"
অতঃপর মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ নির্ভরশীলতা (التوكل) আবশ্যক ও ফরজ করেছেন সৃষ্টির ওপর, যাতে তারা তাদের প্রয়োজনীয় রিজিকে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ইবাদত থেকে বিমুখ না হয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে তিনি তাদের জীবিকার ভার লাঘব করেছেন এবং তাদের ওপর অকাট্য প্রমাণ (الحجة) প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর তিনি তাদের ওপর কিছু বিধান ফরজ করেছেন যা তিনি সুসংহত করেছেন এবং তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন যা...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
استعبدهم فِيهَا من عَددهَا وأوقاتها وأحكامها من الصَّلَاة وَالصَّوْم وَالزَّكَاة وَالْحج وَالْجهَاد وحدود مَا أحل وَحرم
فَفرض ذَلِك وَبَينه بمحكم من كِتَابه وَبَيَان من سنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم كثيرا
তিনি তাদের ইবাদতে নিযুক্ত করেছেন সেগুলোর সংখ্যা, সময় এবং বিধানের মাধ্যমে—যা সালাত, সাওম, জাকাত, হজ, জিহাদ এবং যা তিনি হালাল ও হারাম করেছেন তার সীমানা সংশ্লিষ্ট।
অতঃপর তিনি তা ফরজ করেছেন এবং তাঁর কিতাবের সুস্পষ্ট (محكم) বার্তার মাধ্যমে এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর বহু বিশদ বর্ণনার মাধ্যমে তা সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
-
بَاب بَيَان فرض التَّوَكُّل الَّذِي يجمع فِيهِ خَواص الْخلق وعوامهم مَعَ الحركات فِي احتباس الرزق وَتَركه-
فَالَّذِي يجب على النَّاس فِي جُمْلَتهمْ من التَّوَكُّل المفترض عَلَيْهِم التَّصْدِيق لله عز وجل فِيمَا أخبر من قسم وَضَمان الْكِفَايَة وكفالتها من سِيَاقه الأرزاق إِلَيْهِم واتصال الأقوات الَّتِي قسمهَا فِي الْأَوْقَات الَّتِي وَقتهَا بِتَصْدِيق تقوم الثِّقَة بِهِ فِي قُلُوبهم وتنتفي بِهِ الشكوك عَنْهُم والشبهات ويصفو بِهِ الْيَقِين وَتثبت بِهِ حقائق الْعلم أَنه الْخَالِق الرازق المحيي المميت الْمُعْطِي الْمَانِع المتفرد بِالْأَمر كُله
فَإِذا صَحَّ هَذَا الْعلم فِي الْقُلُوب وَكَانَ ثَابتا فِي عُقُود الْإِيمَان تنطق بِهِ الْأَلْسِنَة إِقْرَارا مِنْهَا بذلك لسَيِّدهَا وَترجع إِلَى ذَلِك بِالْعلمِ عِنْد تذكرها وَقع الِاسْم عَلَيْهَا بالتوكل
فَإِن فَارَقت الْقُلُوب اعْتِقَاد هَذِه الصِّفَات وفارقتها الْأَلْسِنَة بِالْإِقْرَارِ وَوَقع بهَا فِي شَيْء من ذَلِك شكّ وارتياب فَارَقت الِاسْم الْمَحْمُود وَقع بهَا مَا يحل عَنْهَا عقدتها وَحل بهَا مَا أوجب لَهَا الِاسْم المذموم
وَذَلِكَ أَن الَّذِي أوجب لَهَا الِاسْم الْمَحْمُود إِقْرَار الْأَلْسِنَة وَالْعلم الْقَائِم الَّذِي يزِيل الشكوك والشبهة وَإِنَّمَا كَانَ مَعهَا من ذَلِك الْإِقْرَار وَالْعلم مَا إِذا زَالَ الْيَسِير مِنْهُ عَن الْقُلُوب خرجت إِلَى ضد الشَّيْء الَّذِي كَانَت بِهِ مقرة وَله معتقدة
-
পরিচ্ছেদ: তাওয়াক্কুল (التوكل) এর আবশ্যকতা বর্ণনা প্রসঙ্গে, যা জীবিকা সংস্থান বা তা ত্যাগের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল সৃষ্টিকে শামিল করে।-
সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিকভাবে তাওয়াক্কুলের (التوكل) যে বিষয়টি ফরয করা হয়েছে, তা হলো মহান আল্লাহ রিযিক বণ্টন, পর্যাপ্ততার জিম্মাদারি এবং তাদের প্রতি রিযিক প্রবাহ ও নির্ধারিত সময়ে বরাদ্দকৃত খাদ্যের সংস্থানের যে সংবাদ দিয়েছেন—তা মনেপ্রাণে সত্য বলে বিশ্বাস করা। এটি এমন এক বিশ্বাসের মাধ্যমে হতে হবে যার দ্বারা তাদের অন্তরে নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) প্রতিষ্ঠিত হয়, তাদের থেকে সন্দেহ ও সংশয় দূরীভূত হয়, সুনিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) স্বচ্ছ হয় এবং এই জ্ঞানের (العلم) হাকিকত সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যে, তিনিই একমাত্র স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা, মৃত্যুদানকারী, দানকারী, হরণকারী এবং সকল বিষয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক।
সুতরাং যখন এই জ্ঞান (العلم) অন্তরে সহীহ (صحيح) বা শুদ্ধ হবে এবং ঈমানের অঙ্গীকারে অটল থাকবে, আর জিহ্বা তাদের রবের প্রতি স্বীকৃতিস্বরূপ তা উচ্চারণ করবে এবং স্মরণের সময় জ্ঞানের (العلم) মাধ্যমে সেই বিশ্বাসের দিকে ফিরে আসবে, তখনই একে তাওয়াক্কুল (التوكل) নামে অভিহিত করা হবে।
কিন্তু যদি অন্তরসমূহ এই গুণাবলির বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয় এবং জিহ্বা তা স্বীকার করা ছেড়ে দেয়, আর এর কোনো বিষয়ে সন্দেহ ও সংশয় দেখা দেয়, তবে তা প্রশংসনীয় নাম থেকে বিচ্যুত হবে এবং তাতে এমন কিছু ঘটবে যা তার বিশ্বাসের বন্ধন শিথিল করে দেবে এবং তাকে নিন্দনীয় নামের অন্তর্ভুক্ত করবে।
এর কারণ হলো, যা তাকে প্রশংসনীয় নামের উপযোগী করেছিল তা ছিল জিহ্বার স্বীকৃতি এবং এমন প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান (العلم) যা সন্দেহ ও সংশয় দূর করে। মূলত সেই স্বীকৃতি ও জ্ঞানের (العلم) সামান্যতম অংশও যদি অন্তর থেকে অপসারিত হয়, তবে সে যে বিষয়টির স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং বিশ্বাস পোষণ করেছিল, তার ঠিক বিপরীত বিষয়ের দিকে ধাবিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
والضد من ذَلِك أَن تكون مكذبة بِمَا صدقت أَو شاكة فِيمَا أيقنت أَو مبطلة لما حققت فَإِذا وَقع بهَا شَيْء من هَذِه الأضداد الَّتِي تخرج بهَا من الْأَسْمَاء المحمودة خرجت إِلَى مَذْمُوم الْأَسْمَاء وَفَارَقت الْإِيمَان بِاللَّه عز وجل والتوكل عَلَيْهِ
وَالَّذِي سلبها التَّوَكُّل على الله مَا وصفناه والاعتقاد لَهُ بالقلوب
فَمن صِفَات عوام النَّاس فِي فرض التَّوَكُّل وبدئه وَمَا استحقوا بِهِ الِاسْم من ذَلِك أَن تكون مَعَهم العجلة فِي الْقلب وَالِاضْطِرَاب عِنْد الْمَنْع والارتياب فِيهِ بِشَيْء من مصابه عِنْدهم وَالْوُقُوف مَعَ الْأَسْبَاب وَالنَّظَر إِلَيْهَا والمحبة للكثرة والادخار بالرغبة والشره والاغتمام على الْفَوْت وَالسُّرُور بالظفر
وَذَلِكَ كُله والعقود كَمَا وَصفنَا فِي الْإِيمَان قَائِمَة وَالْإِقْرَار بِهِ ثَابت وَالدَّلِيل على ذَلِك أَنهم إِذا خَرجُوا بِالذكر فِي وَقت الطّلب من الله أذعنوا بالقلوب والألسنة أَنهم لَا يصلونَ إِلَى شَيْء من ذَلِك بالحيلة وَأَن الْحَرَكَة غير زَائِدَة لَهُم فِي أنفسهم وَلَا موصلة لَهُم إِلَى الزِّيَادَة وَإِنَّمَا كَانَت هَذِه الحركات الْمَوْجُودَة مِنْهُم بحركات الطَّبْع الَّذِي عَلَيْهِ الْبَيِّنَة
وَذَلِكَ ان الله سُبْحَانَهُ وصف الْخلق فِي جُمْلَتهمْ فَقَالَ {زين للنَّاس حب الشَّهَوَات من النِّسَاء والبنين والقناطير المقنطرة من الذَّهَب وَالْفِضَّة وَالْخَيْل المسومة والأنعام والحرث}
وَقَالَ سُبْحَانَهُ {كلا بل تحبون العاجلة وتذرون الْآخِرَة}
এর বিপরীত হলো সেই অবস্থা, যেখানে অন্তর যা বিশ্বাস করেছিল তা অস্বীকার করে, অথবা যাতে নিশ্চিত ছিল তাতে সন্দেহ পোষণ করে, কিংবা যা সে সাব্যস্ত করেছিল তা বাতিল করে দেয়। যখন অন্তরে এই সকল বিপরীত বিষয়ের কোনোটি ঘটে—যার ফলে সেটি প্রশংসিত নামসমূহ থেকে বিচ্যুত হয়—তখন সেটি নিন্দনীয় নামসমূহের দিকে ধাবিত হয় এবং মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
যা কিছু তাকে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বঞ্চিত করে, তা হলো সেই বিষয় যা আমরা বর্ণনা করেছি এবং অন্তরের মাধ্যমে তাঁর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের সংকল্প।
নির্ভরশীলতার আবশ্যকতা ও এর সূচনাপর্বে সাধারণ মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য—যার কারণে তারা এই নামের উপযুক্ত হয়—তাহলো: তাদের অন্তরে তাড়াহুড়া বিদ্যমান থাকা, কাঙ্ক্ষিত বস্তু না পেলে বিচলিত হওয়া, কোনো বিপদে পতিত হলে তা নিয়ে সংশয়ে ভোগা, জাগতিক কার্যকারণের ওপর নির্ভর করা ও সেগুলোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা, প্রাচুর্যের প্রতি আসক্তি, এবং লালসা ও লোভের বশবর্তী হয়ে সঞ্চয় করার প্রবণতা, কোনো কিছু হারিয়ে গেলে দুঃখিত হওয়া এবং কোনো কিছু লাভে আনন্দিত হওয়া।
এ সমস্ত বিষয় ঘটা সত্ত্বেও বিশ্বাসের মূল ভিত্তিগুলো, যা আমরা ঈমানের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি, তা অটুট থাকে এবং এর স্বীকৃতিও দৃঢ় থাকে। এর প্রমাণ হলো—তারা যখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনার উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন তারা অন্তর ও জিহ্বা দ্বারা এই স্বীকৃতি প্রদান করে যে, তারা কোনো কৌশলের মাধ্যমে এর কিছুই অর্জন করতে পারবে না। তারা আরও বিশ্বাস করে যে, তাদের এই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা তাদের জন্য অতিরিক্ত কিছু নয় এবং তা তাদের রিজিকে কোনো প্রবৃদ্ধি ঘটায় না। বরং তাদের এই তৎপরতাগুলো কেবল মানবীয় স্বভাবজাত প্রবৃত্তির কারণে হয়ে থাকে, যার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত।
আর তা এই জন্য যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সামগ্রিকভাবে সৃষ্টিজগতের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন: {মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির প্রতি ভালোবাসা—নারী, সন্তানাদি, রাশিকৃত সোনা-রুপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু এবং খেতখামার।}
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেছেন: {কখনোই নয়; বরং তোমরা তো পার্থিব জীবনকেই ভালোবাস এবং পরকালকে উপেক্ষা করো।}
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقَالَ تَعَالَى {وَكَانَ الْإِنْسَان عجولا}
فَأخْبر سُبْحَانَهُ وَجل ثَنَاؤُهُ بِمَا فِي طبع الْإِنْسَان وَالْخَلَائِق من ذَلِك وَأَن هَذِه الصِّفَات قَائِمَة فِي البشرية فالمؤمنون فِي جُمْلَتهمْ موصوفون بالتوكل على الله تَعَالَى بِمَا اعتقدوا مِمَّا وَصفنَا وَإِن كَانَت هَذِه الحركات من الطَّبْع مَعَهم
وَالدَّلِيل على مَا قُلْنَا أَن الْمُؤمنِينَ فِي جُمْلَتهمْ يسلم لَهُم عقد الْإِيمَان بِاللَّه تَعَالَى والتوكل عَلَيْهِ كَمَا وَصفنَا من اعتقادات الْقُلُوب وَإِقْرَار الْأَلْسِنَة بِأَن الله تَعَالَى قَالَ {وَفِي السَّمَاء رزقكم وَمَا توعدون فَوَرَبِّ السَّمَاء وَالْأَرْض إِنَّه لحق مثل مَا أَنكُمْ تنطقون}
فأقسم جلّ ثَنَاؤُهُ بِنَفسِهِ أَنه قسم الأرزاق بَين الْخلق وأمضى الضَّمَان بالكفاية لَهُم فَكَانَ على الْخلق تَصْدِيقه فِيمَا أخبر وَأقسم
فَمن صدق فِي ذَلِك كَانَ بتصديقه وإيمانه مُؤمنا متوكلا
وَمن كذب أَو شكّ كَانَ بذلك معاندا كَافِرًا بِمَا قصّ علينا جلّ ثَنَاؤُهُ فِي كِتَابه
وَإِن لم تزل حركات الطباع وَمَا فِي الخليقة من محبَّة الْكَثْرَة وتعجيل الْوَقْت والتسبب إِلَيْهِ بالأسباب فَلم يزل الله سُبْحَانَهُ عَنْهُم اسْم التَّوَكُّل إِذْ كَانَت الْعُقُود على مَا وَصفنَا ثَابِتَة فِي الْقُلُوب وَكَانَت الْمُوَافقَة لَهُم فِي حركات الطباع متبعة لِأَن مَا فِي الطباع من الْحَرَكَة لَا يخرجهم مِمَّا أَوجَبْنَا من التَّصْدِيق لَهُم لِأَن الله تَعَالَى لم يستعبدهم بإزالتها وَإِنَّمَا استعبدهم بِإِقَامَة الطَّاعَة وَأخذ الشَّيْء من حَيْثُ أَبَاحَ أَخذه
فَإِذا أَقَامُوا ذَلِك وَكَانُوا للموافقة لله عز وجل فِي الحركات
আল্লাহ তায়ালা বলেন, {আর মানুষ অতিশয় ত্বরান্বিতকারী।}
অতঃপর আল্লাহ—যাঁর মহিমা সুউচ্চ ও প্রশংসা সুমহান—মানুষের প্রকৃতি ও সৃষ্টির মাঝে ত্বরান্বিত করার যে প্রবণতা রয়েছে এবং এই বৈশিষ্ট্যসমূহ যে মানবজাতির মধ্যে বিদ্যমান, সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। মুমিনগণ সামগ্রিকভাবে আল্লাহ তায়ালার ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসার গুণে গুণান্বিত, যা আমরা তাদের বিশ্বাসের আলোকে বর্ণনা করেছি; যদিও মানুষের স্বভাবজাত এই প্রবৃত্তিগুলো তাদের মাঝে বিদ্যমান থাকে।
আর আমরা যা বলেছি তার প্রমাণ হলো যে, মুমিনদের সামগ্রিকভাবে আল্লাহ তায়ালার প্রতি ঈমানের অঙ্গীকার এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা অক্ষুণ্ণ থাকে—যেমনটি আমরা অন্তরের বিশ্বাস এবং মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে বর্ণনা করেছি। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, {আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং তোমাদেরকে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা। সুতরাং আসমান ও জমিনের রবের শপথ! নিশ্চয়ই তা সত্য, ঠিক যেমন তোমরা কথা বলে থাকো।}
অতঃপর আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা সুমহান—নিজ সত্তার শপথ করে বলেছেন যে, তিনিই সৃষ্টির মাঝে রিযিক বণ্টন করেছেন এবং তাদের পর্যাপ্ততার জন্য জিম্মাদারি কার্যকর করেছেন। সুতরাং আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন এবং যার ওপর শপথ করেছেন, তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা সৃষ্টির কর্তব্য।
কাজেই যে ব্যক্তি এ বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করল, সে তার এই সত্যয়ন ও ঈমানের কারণে একজন মুমিন ও মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরকারী) হিসেবে গণ্য হবে।
আর যে ব্যক্তি একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল কিংবা সন্দেহ পোষণ করল, সে এর মাধ্যমে একজন বিরুদ্ধাচরণকারী এবং আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা সুমহান—তাঁর কিতাবে আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন তার অবিশ্বাসী হিসেবে বিবেচিত হবে।
যদিও মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান প্রাচুর্যের মোহ, সময়ের দ্রুততা কামনা এবং জাগতিক উপকরণের মাধ্যমে তা অর্জনের প্রবণতা দূর না হয়, তবুও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের থেকে 'তাওয়াক্কুল' বা ভরসার অভিধাটি রহিত করেননি। যেহেতু সেই বিশ্বাসের অঙ্গীকারসমূহ আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী তাদের অন্তরে দৃঢ় রয়েছে। আর স্বভাবজাত প্রবৃত্তির এই ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে তাদের যে সংশ্লিষ্টতা, তা ছিল অনুগামী মাত্র; কারণ স্বভাবজাত এই প্রবৃত্তিগুলো তাদেরকে আমাদের বর্ণিত সেই সত্যয়ন (তাসদিক) থেকে বিচ্যুত করে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা এই প্রবৃত্তিগুলোকে সমূলে উৎপাটন করার মাধ্যমে তাদের ইবাদত করার নির্দেশ দেননি, বরং তিনি তাদের ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন আনুগত্য প্রতিষ্ঠা এবং যা তিনি বৈধ করেছেন সেই সঠিক উৎস থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করার মাধ্যমে।
অতঃপর তারা যখন তা প্রতিষ্ঠা করল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে তাদের কার্যাবলিতে সঙ্গতিশীল হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
متعبين فَلَا تَضُرهُمْ صِفَات الْخلقَة وَمَا فِي تركيب الطباع إِلَّا أَن يجاوزوا فِي ذَلِك حُدُود الله عز وجل فيأخذوا الشَّيْء من حَيْثُ حظره الله عَلَيْهِم فَيَكُونُوا عصاة لله عز وجل بذلك الْعلم وَلَا يخرجُوا من الِاسْم الْمَحْمُود إِلَّا بِحل الْعُقُود الَّتِي وَصفنَا أَو جَحدهَا بالألسنة
فَإِذا كَانَ الِاعْتِرَاف لله تَعَالَى ثَابتا والألسنة بِهِ مقرة فَلَمَّا جاوزوا الْحُدُود نقص اسْم التَّوَكُّل فَيكون توكلهم لذَلِك نَاقِصا وفرائضه غير تَامَّة لِأَن الله جلّ ثَنَاؤُهُ أَبَاحَ لِلْخلقِ الْحَرَكَة فِي الطّلب وَلم يكلفهم إِزَالَة مَا فِي الطَّبْع
وَالدَّلِيل على ذَلِك أَن الله جلّ وَعز قَالَ {يَا أَيهَا النَّاس كلوا مِمَّا فِي الأَرْض حَلَالا طيبا}
وَقَالَ عز وجل {رجال لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَة وَلَا بيع عَن ذكر الله}
فأباح لَهُم الْحَرَكَة ومنعهم التَّعَدِّي لحدوده جلّ ثَنَاؤُهُ
وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (أطيب مَا أكل الْمُؤمن من كَسبه)
فَكَانَ دَلِيلا على مَا وَصفنَا من إِبَاحَة الْحَرَكَة فِي طلب الرزق وَأَن المتحرك فِي طلبه لَا يخرج من فرض التَّوَكُّل فِي كتاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَمَا كَانَ عَلَيْهِ أكَابِر أَصْحَابه رضي الله عنهم
وَقد زعم قوم أَن التَّوَكُّل لَا يثبت لأَهله إِلَّا بترك الْحَرَكَة فِي طلب الرزق وَالْقعُود عَن الِاضْطِرَاب فمنعوا أَن يكون فِي ذَلِك إِبَاحَة من كتاب الله تَعَالَى وَسنة رَسُوله عليه السلام
فجهلوا مَا أخبرنَا من
তারা সাধনায় নিমগ্ন, তাই সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য এবং স্বভাবজাত গঠন তাদের কোনো ক্ষতি করবে না, যতক্ষণ না তারা মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করে এবং এমন কিছু গ্রহণ করে যা আল্লাহ তাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন। এর ফলে তারা সেই কাজের কারণে মহান আল্লাহর অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবে। তারা প্রশংসিত অভিধা থেকে বিচ্যুত হবে না, যতক্ষণ না তারা আমাদের বর্ণিত অঙ্গীকারসমূহ ভঙ্গ করে অথবা মুখে তা অস্বীকার করে।
সুতরাং আল্লাহর প্রতি স্বীকৃতি যখন অটল থাকে এবং জিহ্বা তা স্বীকার করে, তখন তারা সীমালঙ্ঘন করলে তাওয়াক্কুলের মর্যাদা হ্রাস পায়। ফলে তাদের তাওয়াক্কুল ত্রুটিপূর্ণ (ناقص) হয়ে পড়ে এবং এর আবশ্যিক বিধানসমূহ (فرائض) পূর্ণ থাকে না। কারণ মহান আল্লাহ সৃষ্টির জন্য জীবিকা অন্বেষণে প্রচেষ্টা চালানো বৈধ করেছেন এবং স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দূর করার দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পণ করেননি।
এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ! জমিনে যা কিছু আছে তা থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো}।
তিনি আরও বলেছেন: {এমন সব ব্যক্তি, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে না}।
সুতরাং তিনি তাদের জন্য কর্মতৎপরতা বৈধ করেছেন এবং তাঁর মহান সীমানা অতিক্রম করতে নিষেধ করেছেন।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিন যা আহার করে তার মধ্যে তার নিজস্ব উপার্জনই সর্বোত্তম।"
এটি রিযিক অন্বেষণে প্রচেষ্টার বৈধতা সম্পর্কে আমাদের বর্ণনার প্রমাণ। আর রিযিক অন্বেষণে সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং তাঁর মহান সাহাবীগণের অনুসৃত পথ অনুযায়ী তাওয়াক্কুলের আবশ্যকতা থেকে বিচ্যুত হয় না।
একদল লোক দাবি করেছেন যে, রিযিক অন্বেষণে প্রচেষ্টা বর্জন এবং কর্মহীন বসে থাকা ছাড়া তাওয়াক্কুল সাব্যস্ত হয় না। তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল আলাইহিস সালাম-এর সুন্নাহতে এর বৈধতাকে অস্বীকার করেছেন।
ফলে তারা আমরা যা বর্ণনা করেছি সে বিষয়ে অজ্ঞ রয়ে গেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم عَن الْأَعْمَش عَن إِبْرَاهِيم عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (أفضل مَا أكل الرجل من كَسبه)
وَهَذَا خبر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يَدْفَعهُ أهل الْعلم وَالنَّقْل وَلَا أعلمهم يَخْتَلِفُونَ فِيهِ
وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ (مَا بعث الله نَبيا إِلَّا رعى الْغنم) قيل وَلَا أَنْت يَا رَسُول الله قَالَ (كنت أرعاها لأهل مَكَّة بالقراريط)
وَخرج النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي بَدْء أمره يُرِيد الشَّام للتِّجَارَة
وَقَالَ الله جلّ ثَنَاؤُهُ فِي قصَّة مُوسَى عليه السلام {وَمَا تِلْكَ بيمينك يَا مُوسَى قَالَ هِيَ عصاي أتوكأ عَلَيْهَا وأهش بهَا على غنمي ولي فِيهَا مآرب أُخْرَى}
وَقَالَ فِي قصَّة شُعَيْب ومُوسَى عليهما السلام {إِنِّي أُرِيد أَن أنكحك إِحْدَى ابْنَتي هَاتين على أَن تَأْجُرنِي ثَمَانِي حجج فَإِن أتممت عشرا فَمن عنْدك وَمَا أُرِيد أَن أشق عَلَيْك}
وَقَالَ فِي قصَّة دَاوُد عليه السلام {وألنا لَهُ الْحَدِيد أَن اعْمَلْ سابغات وَقدر فِي السرد وَاعْمَلُوا صَالحا}
فَهَذَا فِي قصَص الْأَنْبِيَاء عليهم السلام مَوْجُود وهم صفوة الله من
ইসমাইল বিন ইব্রাহিম, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "একজন ব্যক্তি যা আহার করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার নিজ উপার্জিত অংশ।"
আর এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি সংবাদ (خبر), যা ইলম ও বর্ণনা (النقل) বিশারদগণ প্রত্যাখ্যান করেন না এবং আমার জানামতে তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেন না।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যিনি বকরি চরাননি।" জিজ্ঞেস করা হলো, আপনিও কি হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, "আমি মক্কাবাসীদের বকরিগুলো কতিপয় কিরাতের বিনিময়ে চরাতাম।"
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবনের শুরুর দিকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া গমনের ইচ্ছা করেছিলেন।
আল্লাহ জাল্লা সানাউহু মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে বলেন: {হে মুসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী? সে বলল, এটি আমার লাঠি; আমি এতে ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার বকরির পালের জন্য গাছের পাতা ঝরিয়ে দেই আর এতে আমার আরও অন্যান্য প্রয়োজন রয়েছে।}
এবং তিনি শুআইব ও মুসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনীতে বলেন: {আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে। আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তবে সেটা তোমার পক্ষ থেকে (অতিরিক্ত)। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না।}
এবং তিনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে বলেন: {আমি তার জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম। (নির্দেশ দিয়েছিলাম) যে, তুমি পূর্ণাঙ্গ বর্ম তৈরি করো এবং এর গাঁথুনিতে পরিমিতিবোধ বজায় রাখো এবং তোমরা সৎকাজ করো।}
সুতরাং এটি নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) কাহিনীসমূহে বিদ্যমান, অথচ তাঁরা হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত (صفوة) সৃষ্টি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
خلقه مِمَّا قد كفينا بِهِ مِمَّا كَانَ عَلَيْهِ نَبينَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه رضي الله عنهم
وَأَنا واصف لَك بعض مَا كَانُوا عَلَيْهِ من ذَلِك إِن شَاءَ الله تَعَالَى
তাঁর সেই আদর্শ যা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা থেকে আমাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে।
আর আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি আপনার নিকট তাঁরা যে বিষয়ের ওপর অটল ছিলেন, তার কিঞ্চিৎ বিবরণ প্রদান করব।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
-
بَاب الْحَرَكَة فِي الْكسْب لطلب الرزق وَاخْتِلَاف ذَلِك من محموده ومذمومه-
فَأَما المذموم من الْحَرَكَة بعد اعْتِقَاد مَا وَصفنَا من الْعُقُود الَّتِي توجب لأَهْلهَا إِذا ثبتَتْ الْعُقُود بهَا اسْم التَّوَكُّل ويدخلون بهَا فِي جملَة فَرْضه فَهُوَ التَّعَدِّي لما أَمر الله والتجاوز لحدوده فِي الحركات وَالْأَخْذ والإعطاء
وَذَلِكَ أَن الله سُبْحَانَهُ لما فرض التَّوَكُّل على خلقه وأباح لَهُم الْحَرَكَة فِي ذَلِك وَلما غيب عَنْهُم التفرس من محبَّة تَعْجِيله حد لِلْخلقِ حدودا فِي الْحَرَكَة وَفرض عَلَيْهِم فروضا أحكمها وَبَينهَا فِي كِتَابه وعَلى لِسَان نبيه عليه السلام فَقَالَ تَعَالَى {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالكُم بَيْنكُم بِالْبَاطِلِ وتدلوا بهَا إِلَى الْحُكَّام لتأكلوا فريقا من أَمْوَال النَّاس بالإثم}
وَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أَنْفقُوا من طَيّبَات مَا كسبتم}
وَقَالَ سُبْحَانَهُ {وَلَا تيمموا الْخَبيث مِنْهُ تنفقون}
-
পরিচ্ছেদ: জীবিকা অন্বেষণে উপার্জনের জন্য প্রচেষ্টা এবং এর প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় প্রকারের পার্থক্য-
আমরা ইতিপূর্বে যে সকল সংকল্পের (عقود) কথা বর্ণনা করেছি, যা সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তাওয়াক্কুল (توكل) অভিধাটি অবধারিত করে এবং যার মাধ্যমে তারা এর আবশ্যিক বিধানের (فرض) অন্তর্ভুক্ত হয়; সেই বিশ্বাসের (اعتقاد) পর প্রচেষ্টার নিন্দনীয় দিকটি হলো আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা লঙ্ঘন করা এবং কর্মতৎপরতা ও আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা।
আর তা এই কারণে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন তাঁর সৃষ্টির ওপর তাওয়াক্কুল (توكل) ফরজ (فرض) করেছেন এবং তাদের জন্য তাতে প্রচেষ্টার অনুমতি দিয়েছেন, আর যেহেতু তাদের নিকট থেকে (ফলাফল) দ্রুত লাভের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে, তাই তিনি সৃষ্টির জন্য প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কিছু সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং তাদের ওপর কিছু বিধান ফরজ (فرض) করেছেন যা তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবী আলাইহিস সালামের জবানিতে সুদৃঢ় ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, {তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে (باطل) ভক্ষণ করো না এবং মানুষের সম্পদের একাংশ পাপের মাধ্যমে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের নিকট পেশ করো না।}
মহান আল্লাহ আরও বলেন, {হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ, তার পবিত্র বস্তুসমূহ (طيبات) থেকে ব্যয় করো।}
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন, {আর তোমরা তা থেকে ব্যয় করার জন্য নিকৃষ্ট (خبيث) বস্তুর সংকল্প করো না।}
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (إِن الله حرم عَلَيْكُم دماءكم وَأَمْوَالكُمْ وَأَعْرَاضكُمْ)
فَبين الله تَعَالَى الْفَرْض فِي ذَلِك على الْخلق فِي كِتَابه وَفِي سنة نبيه عليه السلام وَفِيمَا اجْتمع عَلَيْهِ أهل الْعلم وَهُوَ أَن يوافقوه فِي الْحَرَكَة فَإِن خالفوا ذَلِك ثبتَتْ عَلَيْهِم بخلافة الْحجَّة
فَمن كَانَت حركاته فِي طلب الرزق على مَا وَصفنَا من إِقَامَة الْحق الْوُقُوف على تجَاوز الْحُدُود وَتَصْحِيح الْوَرع فِي المتجر وَفِي الصناعات وَفِي كل المضطرب فِيهِ كَانَ لله جلّ وَعز بذلك مُطيعًا مَحْمُودًا عِنْد أهل الْعلم
وَمن خَالف شَيْئا مِمَّا وَصفنَا فتعدى فِي الْحَرَكَة وتخلف عَمَّا يجب عَلَيْهِ من الصدْق كَانَ بذلك مذموما قد نقص بذلك توكله وَلم يؤد فَرْضه وَلم يَقع عَلَيْهِ الِاسْم الَّذِي يَقع بِإِقَامَة الْحق على غَيره
وَذَلِكَ أَن المذموم بتعدي الْحَد خَالف مَا أَمر بِهِ من إِقَامَة الْحق وَمَعَهُ الِاعْتِرَاف بخطأ فعله والتوبيخ لنَفسِهِ عِنْد الرُّجُوع إِلَى الفكرة فِي أمره مقرّ بِأَن ذَلِك الْفِعْل مَعْصِيّة لرَبه والعقود قَائِمَة بِمَا وَصفنَا بِمَا أثبت لَهُ الِاسْم وَلنْ يَزُول عَنهُ مَا أوجب لَهُ عقد الْقُلُوب وَالِاعْتِرَاف بالألسنة إِلَّا بالإنكار لذَلِك وَالْخُرُوج مِنْهُ بالجحد لَهُ وَالشَّكّ فِيهِ وَقد بَينا هَذَا فِي أول الْكتاب
فَهَذِهِ صِفَات المذموم فِي حركته
وَأما الْمَحْمُود من الْحَرَكَة فأولها مَا وَصفنَا من إِقَامَة الطَّاعَة لله
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মানকে হারাম করেছেন।"
আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে সৃষ্টির ওপর যা ফরজ (فرض) তা তাঁর কিতাবে, তাঁর নবীর সুন্নাতে এবং আহলে ইলমগণ যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো তারা যেন তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে আল্লাহর অনুগত থাকে। যদি তারা এর বিরোধিতা করে, তবে দলিলের (حجة) মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে তা সাব্যস্ত হবে।
সুতরাং রিযিক অন্বেষণে যার কর্মকাণ্ড আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি—অর্থাৎ হক (حق) প্রতিষ্ঠা করা, সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও সকল কর্মক্ষেত্রে তাকওয়া (ورع) বজায় রাখা—সে অনুযায়ী পরিচালিত হয়; তবে সে আল্লাহর অনুগত এবং আহলে ইলমদের নিকট প্রশংসিত (محمود) বলে গণ্য হবে।
আর যে ব্যক্তি আমাদের বর্ণিত বিষয়ের কোনো একটির বিরোধিতা করবে, ফলে কর্মকাণ্ডে সীমালঙ্ঘন করবে এবং সত্যবাদিতার (صدق) যে আবশ্যকতা তার ওপর ছিল তা থেকে বিচ্যুত হবে; তবে সে কারণে সে নিন্দিত (مذموم) হবে। এর ফলে তার তাওয়াক্কুল (توكل) হ্রাস পাবে, সে তার ফরজ (فرض) আদায় করেনি এবং হকের (حق) ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের জন্য যে বিশেষ পরিচয় প্রযোজ্য হয় তা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এর কারণ হলো, সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে নিন্দিত হওয়া ব্যক্তিটি হকের (حق) ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার যে নির্দেশ তাকে দেওয়া হয়েছিল তার বিরোধিতা করেছে। তবে এর সাথে সাথে সে তার কাজের ভুল স্বীকার করে এবং নিজের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করার সময় নিজেকে ধিক্কার দেয়। সে স্বীকার করে যে, এই কাজটি তার রবের প্রতি একটি অবাধ্যতা (معصية)। অন্তরের বিশ্বাস এবং জিহ্বার স্বীকৃতির মাধ্যমে তার যে ঈমানি পরিচয় সাব্যস্ত হয়েছে, আমরা যা বর্ণনা করেছি সে অনুযায়ী তা তার থেকে অপসারিত হবে না যতক্ষণ না সে তা অস্বীকার করবে এবং প্রত্যাখ্যান কিংবা সন্দেহের মাধ্যমে তা থেকে বেরিয়ে যাবে। আমরা কিতাবের শুরুতেই এটি স্পষ্ট করেছি।
এগুলো হলো কর্মকাণ্ডে নিন্দিত (مذموم) ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ।
আর প্রশংসিত (محمود) কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বলতে গেলে, তার প্রথমটি হলো আল্লাহর আনুগত্য (طاعة) প্রতিষ্ঠা করা, যা আমরা বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سُبْحَانَهُ فِي الْحَرَكَة وتحري الْمُوَافقَة لله سُبْحَانَهُ بِمَا فِيهَا وَالْوُقُوف عِنْد تجَاوز الْحُدُود حَتَّى يكون مَوْصُوفا فِي ذَلِك بإحكام الْوَرع وَشدَّة الحذر وَإِقَامَة التَّقْوَى فَإِذا قَامَ بذلك على شَرَائِطه كَانَت هَذِه أول الحركات المحمودة الَّتِي أَبَاحَهَا الله عز وجل لَهُ
وَمن الحركات المحمودة مِمَّا هِيَ أرفع فِي الدرجَة وَأَعْلَى فِي الرُّتْبَة مَا وصف الله سُبْحَانَهُ بِهِ أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم ووصفهم من المقامات فِيهِ وَجلة التَّابِعين من بعدهمْ وخواص الْمُؤمنِينَ فِي سَائِر الْأَزْمِنَة والدهور الَّذين بانوا بِفضل الْخُصُوص فِي التَّوَكُّل وَفِي سَائِر الْمنَازل على عوام الْخلق فَكَانَ فَضلهمْ بذلك على غَيرهم مَعْرُوفا ومقامهم عِنْد الله رفيعا وَهُوَ حَقِيقَة التَّوَكُّل ومحكمه والتعالي فِي ذرْوَة مَا أقيم فِيهِ الْأَنْبِيَاء وَالصِّدِّيقُونَ وخواص الْمُؤمنِينَ
وَبعد إحكامهم لفرض التَّوَكُّل فِي أَصله بانوا بِفضل الْمعرفَة على غَيرهم وَالزِّيَادَة فِي الْعَمَل بهَا لله جلّ ثَنَاؤُهُ من طَهَارَة الْقُلُوب وإدامة الذّكر وَكَثْرَة التَّقَرُّب إِلَى الله سُبْحَانَهُ بالنوافل وبذل الطَّاقَة والجهد نصيحة لأَنْفُسِهِمْ وطلبا للحظوة عِنْد سيدهم
فَكَانَت هَذِه الْأَخْلَاق الْغَالِبَة عَلَيْهِم مَانِعَة من الْحَرَكَة الَّتِي أبيحت لَهُم وَقد حظرت عَنْهُم لقلَّة مَا فِيهَا من الذّكر للسَّيِّد الْكَرِيم وإيثارا مِنْهُم لما يقرب إِلَيْهِ من ذَلِك لما بَان لَهُم من فضل الْعَمَل لله جلّ وَعز بِطَاعَتِهِ وإيثارا مِنْهُم لما ندب إِلَيْهِ من ترك الشَّهَوَات والتجافي عَن دَار الْآفَات
فَكَانُوا بذلك عَن حركات الطَّبْع متجافين متشاغلين وَبِكُل دَاع يَدعُوهُم إِلَى غَيره مستثقلين وَعَن كل فَتْرَة تميل بهم إِلَى الرَّاحَة نافرين
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতিটি কর্মতৎপরতায় তাঁর সন্তুষ্টি অনুসন্ধান এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা (الحدود) লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিবৃত্ত থাকা; যাতে তিনি এই ক্ষেত্রে সুদৃঢ় পরহেযগারী (ورع), তীব্র সতর্কতা এবং তাকওয়া (تقوى) পালনের গুণে গুণান্বিত হতে পারেন। যখন তিনি এই শর্তানুসারে তা সম্পাদন করেন, তখন এটিই হয় প্রথম প্রশংসিত কর্ম (الحركات المحمودة), যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর জন্য বৈধ করেছেন।
প্রশংসিত কর্মসমূহের মধ্যে এমন কিছু স্তর রয়েছে যা অধিকতর মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চতর। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের এবং তাঁদের পরবর্তী মহান তাবেয়ী (التابعين) ও সকল যুগের সেই বিশিষ্ট মুমিনগণের আধ্যাত্মিক মাকাম (المقامات) সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন—তাঁরা সাধারণ সৃষ্টি থেকে তাওয়াক্কুল (توكل) এবং অন্যান্য আধ্যাত্মিক মঞ্জিলের ক্ষেত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র ছিলেন। ফলে অন্যদের ওপর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সুপরিচিত এবং আল্লাহর নিকট তাঁদের মর্যাদা অতি উচ্চ। আর এটিই হলো তাওয়াক্কুলের হাকিকত ও তার সুদৃঢ় রূপ এবং সেই উচ্চ শিখর যেখানে নবীগণ, সিদ্দিকীন (الصديقون) ও বিশিষ্ট মুমিনগণ অধিষ্ঠিত ছিলেন।
তাওয়াক্কুলের মৌলিক আবশ্যকতা সুদৃঢ় করার পর, তাঁরা মারিফাত (معرفة) বা আল্লাহ-জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্যদের থেকে বিশিষ্টতা লাভ করেন। এই আমলসমূহ হলো অন্তরের পবিত্রতা, নিরন্তর জিকির এবং নফল (نوافل) ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জনের প্রচেষ্টা, যা তাঁরা নিজেদের আত্মার কল্যাণ কামনায় এবং তাঁদের মাবুদের নিকট সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে সম্পাদন করেন।
তাঁদের ওপর প্রবল থাকা এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ তাঁদেরকে এমন সব বৈধ কাজ থেকেও বিরত রাখে, যা মহান প্রতিপালকের জিকির বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের জন্য বর্জিত ছিল। মহান আল্লাহর আনুগত্যের ফযীলত স্পষ্ট হওয়ার কারণে তাঁরা সর্বদা তাঁর নৈকট্য দানকারী বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতেন। এছাড়া প্রবৃত্তি বর্জন এবং আপদসংকুল এই পৃথিবী থেকে বিমুখ হওয়ার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তাকেই তাঁরা প্রাধান্য প্রদান করেন।
এর ফলে তাঁরা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তাড়িত কর্ম থেকে বিমুখ ও আত্মনিয়ন্ত্রিত থাকেন। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর দিকে আহ্বানকারী প্রতিটি আহ্বানের প্রতি তাঁরা অনীহা বোধ করেন এবং আরাম-আয়েশের দিকে ধাবিত করে এমন প্রতিটি শিথিলতা থেকে বিমুখ থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَإِلَى كل حاد يحدوهم إِلَى الزِّيَادَة ساكنين وعَلى الْعَمَل المقرب لَهُم إِلَى الله عاكفين
قد جمعت لَهُم الطَّاعَة مرادتهم فِيهَا على قدر الإقبال عَلَيْهَا وأوضحت لَهُم سبل الرشاد فِيهَا فَلم يُرِيدُوا بِمَا أدْركْت أَيدي الظفر مِنْهُم بَدَلا وَلم يبغوا عَن شَيْء من ذَلِك حولا
وَأَصْبحُوا فِي ذَلِك تَوْفِيقًا من سيدهم ومعونة قَائِمَة بالكفاية لَهُم وخفي لطف غير مقطع عَنْهُم فدام لَهُم الْحَال وزكت الْأَعْمَال ووجدوا الظفر بالآمال وَلم يَجدوا عِنْد ذَلِك هوى غَالِبا وَلَا عدوا مطالبا وَلَا أملا فِي النُّفُوس كَاذِبًا
أمات الْعلم بِاللَّه لَهُم أهواءهم وَغلب لَهُم أعداءهم وَجمع لَهُم شملهم وأحكمهم لَهُم أَمرهم وَكَانَ التَّوْفِيق لَهُم صباحا وخفي اللطف من الله دَائِما والتأييد لَهُم من سيدهم مرشدا
فَكَانَت هَذِه صفاتهم وَهِي فِي التعالي فِي ذَلِك على قدر أقدارهم وَمَا أداهم فضل الْعلم بِاللَّه تَعَالَى إِلَى سَبِيل الْعَمَل لَهُ بالاشتغال بدوام الْأَعْمَال على قدر الرّفْعَة فِي الْحَال
وَكَانَت هَذِه الحركات هِيَ الْغَالِبَة عَلَيْهِم دون غَيرهَا من الْحَرَكَة وَكَانَ الْغَالِب على قُلُوبهم محبتهم للموافقة وتحريهم للموصل إِلَى الله سُبْحَانَهُ من الْأَعْمَال دون ذكر مَا كفاهم وَضمن لَهُم من الأرزاق وَغَيرهَا
فَلم يَكُونُوا للأوقات مضيعين وَلَا باستجلاب مَا كفوا متشاغلين وَلَا لما أحب الْخلق من الاستثكار محبين
إِلَّا أَن يكون لسيدهم فِي ذَلِك أَمر جعل لَهُم الْفضل فِيهِ وندبهم إِلَى الْقيام بِهِ مثل قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم (كفى بِالْمَرْءِ شرا أَن يضيع من
আর (তারা ধাবিত হয়) প্রত্যেক এমন আহ্বানকারীর প্রতি, যিনি তাদের পুণ্য বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করেন, এমতাবস্থায় যে তারা প্রশান্ত; এবং তারা আল্লাহর নৈকট্যদানকারী আমলের ওপর একনিষ্ঠভাবে মগ্ন।
তাদের জন্য আনুগত্যকে তাদের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু করে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের একাগ্রতার মাত্রানুযায়ী নির্ধারিত হয়। তিনি তাদের জন্য হিদায়াতের পথসমূহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ফলে সাফল্যের মাধ্যমে তারা যা অর্জন করেছে, তার বিনিময়ে তারা অন্য কিছু কামনা করেনি এবং তা থেকে বিচ্যুত হতে চায়নি।
এমতাবস্থায় তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে তাওফিক এবং পর্যাপ্ত ও অবিরাম সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে। তাদের প্রতি আল্লাহর সূক্ষ্ম অনুগ্রহ সর্বদা বর্ষিত হয়েছে। ফলে তাদের এই অবস্থা স্থায়ী হয়েছে, তাদের কর্মসমূহ শুদ্ধ ও পবিত্র হয়েছে এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। সে সময় তারা কোনো প্রবল প্রবৃত্তি, কোনো দাবিদার শত্রু কিংবা অন্তরে কোনো মিথ্যা (كاذبا) আশার উপস্থিতি পায়নি।
আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান (ইলম) তাদের কুপ্রবৃত্তিকে মিটিয়ে দিয়েছে, তাদের শত্রুদের পরাজিত করেছে, তাদের সকল বিষয়কে সুসংহত করেছে এবং তাদের বিষয়াদি মজবুত করেছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক ছিল তাদের প্রাতঃকাল, তাঁর সূক্ষ্ম অনুগ্রহ ছিল চিরস্থায়ী এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে সাহায্য ছিল তাদের পথপ্রদর্শক।
এগুলোই ছিল তাদের গুণাবলি, যা তাদের মর্যাদা অনুযায়ী উচ্চ শিখরে আসীন। মহান আল্লাহ সম্পর্কে অর্জিত ইলমের ফযিলত তাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে আমল করার দিকে পরিচালিত করেছে; যেখানে তারা তাদের আধ্যাত্মিক অবস্থার উচ্চতা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন আমলে নিমগ্ন থাকেন।
অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে এই আমলগুলোই তাদের ওপর প্রবল ছিল। আল্লাহর ইচ্ছার অনুগামী হওয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্যদানকারী আমল অন্বেষণ করাই ছিল তাদের অন্তরের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা সেসব জীবিকা ও অন্যান্য বিষয়ের চিন্তায় মগ্ন হয়নি, যেগুলোর দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন এবং তাদের জন্য যথেষ্ট করেছেন।
তারা সময়ের অপচয়কারী ছিলেন না, কিংবা যে বিষয়গুলো তাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে তা অর্জনের চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত ছিলেন না। সাধারণ মানুষ যা অধিক হারে পুঞ্জীভূত করতে ভালোবাসে, তারা তার প্রতি অনুরাগী ছিলেন না।
তবে যদি তাদের রবের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশ থাকে যাতে তাদের জন্য ফযিলত নিহিত রয়েছে এবং তিনি তাদেরকে তা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীতে এসেছে: “কোনো ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার ওপর নির্ভরশীলদের (যাদের ভরণপোষণ তার দায়িত্বে) অবহেলা করে...”
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
يعول) وَقَوله عليه السلام (كلكُمْ رَاع وكلكم مسؤول عَن رَعيته)
فالرجل رَاع لما استرعى يجب عَلَيْهِ الْقيام بأمرهم من أَمر الدّين وَالدُّنْيَا وَكَذَلِكَ من أوجب الله تَعَالَى عَلَيْهِ عيلته وَفرض عَلَيْهِ الْقيام بأَمْره من الْآبَاء والأمهات والأزواج وصغار الْأَوْلَاد الَّذين لم يخْتَلف الْمُسلمُونَ فِي أَن أُمُورهم وَاجِبَة وَأَن تَركهم مَعْصِيّة إِذا كَانُوا فِي حَال الْحَاجة
وَكَذَلِكَ قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم (كفى بِالْمَرْءِ شرا أَن يضيع من يعول)
وَلَا يكون قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم كفى بِالْمَرْءِ شرا) وَهُوَ لَا يجب عَلَيْهِ عيلتهم وَلَا حينما تكون عيلتهم تَطَوّعا مِنْهُ يتَطَوَّع بِهِ لِأَن الشَّرّ بلَاء وَاقع وعقوبة نازلة وَالله جلّ ثَنَاؤُهُ لَا يُعَاقب على ترك مَا لَا يجب وَإِنَّمَا أخبرنَا أَن وعيده وعقوبته وَاقعَة على من عَصَاهُ وَخَالف أمره
فسعيهم فِي الْأُمُور تحر مِنْهُم للموافقة ورغبة مِنْهُم فِي الطَّاعَة وَلَيْسَ سَعْيهمْ فِي ذَلِك كسعي من أَرَادَ الْكَثْرَة لما بانوا بِهِ من الِاشْتِغَال بِمَا هُوَ أولى بهم وآثر فِي نُفُوسهم فَإِن وَجب شَيْء من ذَلِك وَسعوا فِيهِ كَانَ سَعْيهمْ والقلوب إِلَى الله جلّ وَعز فِي ذَلِك ناظرة وَإِلَيْهِ فِيهِ سَاكِنة بدوام ذكر مبَاشر لقُلُوبِهِمْ ودوام معرفَة مغشية لَهُم واستجابة لله مُتَّصِلَة بهم
قد نفرت الْقُلُوب لذَلِك من أَسبَاب الخليقة وانقطعت من مطامع الرِّيبَة وأعتقت من ربقة الْأَسْبَاب ورق أهل الدُّنْيَا وتفردت فِي كل
ভরণপোষণ করেন) এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী: "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।"
সুতরাং ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের রক্ষক; তার ওপর তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াদি আঞ্জাম দেওয়া আবশ্যক। অনুরূপভাবে, আল্লাহ তাআলা যাদের ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক করেছেন এবং যাদের বিষয়াদি দেখাশোনা করা তার ওপর ফরজ করেছেন—যেমন পিতা-মাতা, স্ত্রী এবং ছোট সন্তানসন্ততি—যাদের বিষয়াদি দেখাশোনা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে এবং অভাবের সময় তাদের পরিত্যাগ করা গুনাহ হওয়ার ব্যাপারে মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
অনুরূপভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "একজন ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যাদের ভরণপোষণ করে তাদের অবহেলা করে।"
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট" প্রযোজ্য হতো না যদি তাদের ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক না হতো, অথবা যখন তাদের ভরণপোষণ তার পক্ষ থেকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় হতো। কারণ মন্দ বা পাপ হলো একটি বাস্তব বিপর্যয় এবং অবতীর্ণ শাস্তি; আর আল্লাহ মহান যা আবশ্যক নয় তা বর্জন করার জন্য শাস্তি প্রদান করেন না। বরং তিনি আমাদের অবহিত করেছেন যে, তাঁর ধমক ও শাস্তি সেই ব্যক্তির ওপর আপতিত হয় যে তাঁর অবাধ্য হয় এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে।
সুতরাং কার্যাবলীতে তাদের এই প্রচেষ্টা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ এবং আনুগত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ। তাদের এই সচেষ্টতা দুনিয়াদারদের মতো প্রাচুর্য লাভের জন্য নয়; কারণ তারা এমন কাজে নিমগ্ন থাকেন যা তাদের জন্য অধিকতর অগ্রগণ্য এবং তাদের আত্মার নিকট অধিক পছন্দনীয়। যদি এসকল বিষয়ের কোনো কিছু তাদের ওপর আবশ্যক হয় এবং তারা সে লক্ষ্যে সচেষ্ট হয়, তবে তাদের সেই প্রচেষ্টা এমন অবস্থায় হয় যে তাদের অন্তর আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ থাকে এবং তাঁরই স্মরণে প্রশান্ত থাকে। তাদের হৃদয়ে সর্বদা আল্লাহর জিকির জাগ্রত থাকে, এক অবিরাম মারিফাত বা পরিচয় তাদের আচ্ছন্ন করে রাখে এবং আল্লাহর প্রতি এক নিরবচ্ছিন্ন সাড়া তাদের সাথে যুক্ত থাকে।
এই কারণে তাদের অন্তরসমূহ সৃষ্টির জাগতিক কারণাদি থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে, সংশয়পূর্ণ লালসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, বাহ্যিক কারণের শৃঙ্খল ও দুনিয়াদারদের দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে অনন্য হয়ে উঠেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حَال بوليها والقائم عَلَيْهَا بِمَا كسبت والعالم بهَا فِي مَكْنُون ضميرها
لَا يفترون فِي سَعْيهمْ عَن مواصلته وَلَا يقصرون عَن شَيْء أَمر بِهِ من حَيْثُ بلغته الْعُقُول المذكاة بفطن الْفَهم عَنهُ وأوصل إِلَيْهِ غليان الْعلم والمعرفة بِهِ
وَكَانَ سَعْيهمْ فِي الْكسْب على وَصفنَا من أفضل الْقرب إِلَى سيدهم وأخص الْأَعْمَال فِي حَال مَنَازِلهمْ
فَكَانَت إِقَامَة الشّغل بِهِ عَلَيْهِم آثر عِنْدهم من التشاغل بِغَيْرِهِ لما بَان من فضل مُوَافَقَته فِيمَا دَعَا إِلَيْهِ وَأمر بِهِ
فَهَذِهِ صفة سَعْيهمْ وَلم يكن السَّعْي فِي ذَلِك قادحا فِي صفاء الذّكر الْقَائِم لَهُم وَلَا منقصا مَا خصوا بِهِ من حَال قرب الْقُلُوب ومراتبها وَحَال الْمنَازل المرجوة لَهُم من السَّيِّد الْكَرِيم فَهَذِهِ صِفَات حركات الصديقين والأولياء فِي المكسب
وَالدَّلِيل على ذَلِك فعل أبي بكر الصّديق وَعمر الْفَارُوق وَعُثْمَان ذِي النورين وَعلي بن أبي طَالب وَأكْثر أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم من المختارين لصحبته المنتخبين لمعونته سرج الأَرْض ومصابيحها وزهرة الدُّنْيَا وَزينتهَا المقدمين بِالْفَضْلِ على خَواص الْأُمَم السالفة والسابقين غَدا بِالطَّاعَةِ فِي الْآخِرَة خلف الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وأئمة الْحق وَحَملَة الْعلم ومعادن الْحِكْمَة ومناهل التَّقْوَى والقوام بنوائب الدّين وشرائعه الَّذين بَين الله عز وجل فَضلهمْ بباطن الْحِكْمَة على لِسَان نبيه صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عز وجل {مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه أشداء على الْكفَّار رحماء بَينهم تراهم ركعا سجدا يَبْتَغُونَ فضلا من الله ورضوانا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوههم من أثر السُّجُود}
(এ হলো) তার অভিভাবক এবং তার উপর অধিষ্ঠিত ব্যক্তির অবস্থা, যা কিছু সে অর্জন করেছে এবং যা তার অন্তরের অন্তঃস্থলে সুপ্ত রয়েছে সে সম্পর্কে অবগত ব্যক্তির অবস্থা।
তারা তাদের প্রচেষ্টায় তাঁর (আল্লাহর) সাথে নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ক বজায় রাখতে শিথিলতা প্রদর্শন করেন না এবং তিনি যা আদেশ করেছেন তার কোনো কিছুতেই ত্রুটি করেন না; প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষদ সম্পন্ন বোধশক্তি যে পর্যন্ত উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে এবং ইলম ও মারিফাতের প্রাবল্য যেখানে পৌঁছে দিয়েছে।
আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী জীবিকা উপার্জনের ক্ষেত্রে তাদের এই প্রচেষ্টা ছিল তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং তাদের মর্যাদার স্তর অনুযায়ী বিশেষ আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ফলে এই কাজে লিপ্ত থাকা তাদের নিকট অন্য যেকোনো কাজে ব্যপ্ত হওয়ার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ছিল; কেননা তিনি যেদিকে আহ্বান করেছেন এবং যা আদেশ করেছেন, তার আনুগত্য করার মাহাত্ম্য তাদের নিকট সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
এই হলো তাদের প্রচেষ্টার বৈশিষ্ট্য। এই প্রচেষ্টা তাদের সার্বক্ষণিক যিকিরের নির্মলতাকে ব্যাহত করেনি এবং অন্তরের নৈকট্য ও এর স্তরসমূহ এবং মহান প্রতিপালকের নিকট থেকে তাদের জন্য প্রত্যাশিত উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ মাকামসমূহে কোনো ঘাটতি সৃষ্টি করেনি। এই হলো উপার্জনের ক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠ (صديقين) এবং ওলিদের (أولياء) কর্মতৎপরতার গুণাবলি।
এর প্রমাণ হলো আবু বকর সিদ্দিক, উমর আল-ফারুক, উসমান যুন-নুরাইন এবং আলী ইবনে আবি তালিব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ সাহাবী (صحابة), যারা তাঁর সাহচর্যের জন্য মনোনীত এবং তাঁর সাহায্যের জন্য নির্বাচিত ছিলেন। তাঁরা পৃথিবীর প্রদীপ ও আলোকবর্তিকা, ইহজাগতিক সৌন্দর্য ও অলঙ্কার। তাঁরা পূর্ববর্তী উম্মতগণের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন এবং পরকালে আনুগত্যের মাধ্যমে নবীগণের (أنبياء) আলাইহিস সালাম এবং সত্যের ইমামদের (أئمة الحق), ইলমের বাহকদের (حملة العلم), প্রজ্ঞার আধার, তাকওয়ার উৎস এবং দ্বীনের আপদকালীন ও শরীয়তের বিধানসমূহ রক্ষাকারীদের পশ্চাতে অগ্রগামী থাকবেন। তাঁরা এমন ব্যক্তিবর্গ যাদের শ্রেষ্ঠত্ব মহান আল্লাহ তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যবানে বাতেনি হিকমতের মাধ্যমে সুস্পষ্ট করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সেজদারত অবস্থায় দেখবেন, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের চিহ্ন তাদের চেহারায় সেজদার প্রভাবে বিদ্যমান।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
)
وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا من يرْتَد مِنْكُم عَن دينه فَسَوف يَأْتِي الله بِقوم يُحِبهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّة على الْمُؤمنِينَ أعزة على الْكَافرين}
وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا النَّبِي حَسبك الله وَمن اتبعك من الْمُؤمنِينَ}
وَقَالَ عز وجل {لقد رَضِي الله عَن الْمُؤمنِينَ إِذْ يُبَايعُونَك تَحت الشَّجَرَة}
فمدح أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي مَوَاضِع كَثِيرَة من كِتَابه وهم أفضل أهل الأَرْض بعد الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وأعمالهم أفضل الْأَعْمَال وَأَشْرَفهَا ومقاماتهم أرفع المقامات وأعلاها وَلذَلِك قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (لَو أنْفق أحدكُم مثل أحد ذَهَبا مَا بلغ مد أحدهم وَلَا نصيفه)
وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (خير أمتِي أَولهَا)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (خير النَّاس قَرْني ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (إِن الله اخْتَار أَصْحَابِي على جَمِيع الْأُمَم)
)
এবং মহান আল্লাহ বলেন, {হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, তবে শীঘ্রই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি বিনম্র এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে}।
এবং মহান আল্লাহ বলেন, {হে নবী, আপনার জন্য এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট}।
এবং মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেন, {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার নিকট আনুগত্যের শপথ (بيعة) করছিল}।
অতঃপর তিনি তাঁর কিতাবের বহু স্থানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী (صحابي)-গণের প্রশংসা করেছেন। নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) পর তারাই পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষ এবং তাদের আমলসমূহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ; আর তাদের অবস্থানসমূহ সর্বোচ্চ ও সমুন্নত। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবে তাদের কারো এক মুদ্দ কিংবা তার অর্ধেকের সমপরিমাণ মর্যাদাতেও পৌঁছাতে পারবে না)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, (আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ অংশ হলো এর প্রথমভাগ)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, (মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের (قرن) লোকরা, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, (নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত উম্মতের ওপর আমার সাহাবী (صحابي)-দের মনোনীত করেছেন)
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (خير النَّاس الْقرن الَّذين بعثت فيهم)
وَهَذَا يكثر فِي السّنة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
وَأول مَا نبدأ بِذكرِهِ ونحتج بِفِعْلِهِ الصّديق رضوَان الله عَلَيْهِ صدق رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين كذب وَأنْفق عَلَيْهِ مَاله حِين منع وأنيسه فِي الْغَار حِين أوذي وجليسه فِي الْعَريش يَوْم بدر حِين حورب وَأول من اتبعهُ وَصدقه وَمن فعائله تكْثر على لِسَان مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَمن أجمع لَهُ الْمُسلمُونَ بِالْفَضْلِ بعد نَبِيّهم صلى الله عليه وسلم وَرَضوا بِهِ خَليفَة بعد رسولهم لما رَأَوْا من تَقْدِيمه صلى الله عليه وسلم لَهُ فِي صلَاتهم وَفِي عَظِيم أَمر دينهم
فاحتذى فِي الْأَمر سَبِيل الْمُصْطَفى وسلك فِيهِ منهاج المرتضى وَقَامَ بِأَمْر الله قيام الْأَنْبِيَاء فَجمع من الْإِسْلَام شَمله حِين تفرق وَقَامَ بأوده حِين وهى وَمنع حريمه حِين اخترم ورتق بِالْحَقِّ خلله حِين انفتق جتى عَاد بعد الِافْتِرَاق مثقفا وَبعد الوهن قَوِيا وَبعد الْخلَل متسقا
وَأجْمع لَهُ الْمُسلمُونَ بِالصَّوَابِ فِي فعله وبالعدل فِي جَمِيع حكمه أَشد الْخلق بعد نبيه فِي دينه وأقومه بأَمْره رضوَان الله عَلَيْهِ وَرَحمته وَلم يزل على سَبيله المتين وقصده الْوَاضِح حَتَّى توفاه الله عز وجل حميدا
وَكَانَ من فعله لما اسْتخْلف وَأجْمع الْمُسلمُونَ على أمره أَن رأى الْكسْب على عِيَاله أفضل الْأَعْمَال وأوصل الْقرْبَة وَأَعْلَى الطَّاعَة فَمضى إِلَى السُّوق متكسبا عَلَيْهِم فأدركه أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي السُّوق فَقَالُوا لَهُ يَا خَليفَة رَسُول الله أَمر الْمُسلمين
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই প্রজন্ম যাদের মাঝে আমাকে পাঠানো হয়েছে।"
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সুন্নাহর (السنة) মধ্যে এ বিষয়টি অধিক হারে পরিলক্ষিত হয়।
আমরা যাঁর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি এবং যাঁর কর্মকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (نحتج) করছি, তিনি হলেন আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তখন সত্য বলে স্বীকার করেছিলেন যখন অন্যরা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল; তিনি তাঁর জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করেছিলেন যখন অন্যরা তা থেকে বিরত ছিল; তিনি গুহায় তাঁর একনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন যখন তিনি নির্যাতিত হচ্ছিলেন; এবং তিনি বদরের দিন যুদ্ধের ময়দানে তাঁবুতে তাঁর সহচর ছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছেন। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখে তাঁর গুণাবলির বর্ণনা প্রচুর। মুসলিমগণ তাঁদের নবীর পরে যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বা মর্যাদার (بالفضل) বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তাঁদের রাসূলের পরে যাঁর খিলাফত (خليفة) নিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন; কারণ তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সালাত এবং দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাঁকে অগ্রবর্তী করেছিলেন।
অতঃপর তিনি শাসনকার্যে নবী মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথ অনুসরণ করেন এবং সন্তোষজনক আদর্শ বা পন্থায় (منهاج) পরিচালিত হন। তিনি নবীদের ন্যায় আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ইসলামের ঐক্য যখন ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল তখন তিনি একে সংহত করেন; এর দুর্বলতা দূর করে তাকে সুদৃঢ় করেন; এর পবিত্রতা রক্ষা করেন যখন তা বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং সত্যের দ্বারা এর ফাটলগুলোকে সুসংহত করেন। ফলে অনৈক্যের পর তা সুশৃঙ্খল হয়, দুর্বলতার পর শক্তিশালী হয় এবং বিশৃঙ্খলার পর সুবিন্যস্ত রূপ লাভ করে।
মুসলিমগণ তাঁর কার্যাবলীর সঠিকতা এবং তাঁর সকল ফয়সালার ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তিনি নবীর পর দ্বীনের ব্যাপারে সৃষ্টির মধ্যে কঠোরতম এবং আল্লাহর হুকুম পালনে সর্বাধিক সুদৃঢ় ছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি তাঁর এই মজবুত পথ ও স্পষ্ট লক্ষ্যের ওপর অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রশংসিত অবস্থায় মৃত্যু দান করেন।
যখন তিনি খলিফা (خليفة) মনোনীত হলেন এবং মুসলিমগণ তাঁর নেতৃত্বের ওপর ঐকমত্য পোষণ করলেন, তখন তাঁর অন্যতম কর্ম ছিল এই যে, তিনি নিজ পরিবারের জন্য উপার্জন করাকে সর্বোত্তম আমল, নৈকট্য লাভের উপায় এবং উচ্চতর ইবাদত বলে মনে করলেন। তাই তিনি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাজারের দিকে বের হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (أصحاب) তাঁকে বাজারের মধ্যে পেলেন এবং বললেন: হে রাসূলুল্লাহর খলিফা (خليفة), মুসলিমদের শাসনকার্য (আপনার ওপর ন্যস্ত, এমতাবস্থায় আপনি বাজারে কেন?)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَقَالَ لَهُم (لَا يقر ذَنبي على عيالي افرضوا لي فرضا) وَكَانَ الْمُخَاطب لَهُ فِي ذَلِك عمر بن الْخطاب وَعلي بن أبي طَالب رضي الله عنهما ففرضوا لَهُ فرضا رَضِي بِهِ وَرجع إِلَى أُمُورهم بعد أَن أحكم أَمر عِيَاله رضي الله عنه
وَكَذَلِكَ كَانَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه فِي الْفضل وَفِي شدَّة الْإِسْلَام وَالْقِيَام بأوده فَكَانَ يَأْخُذ قوته وقوت عِيَاله وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنهُ رضي الله عنه أَنه قَالَ (أَتَدْرُونَ مَا اسْتحلَّ من هَذَا المَال ثَوْبَيْنِ للشتاء والقيظ وظهرا أحج عَلَيْهِ وقوت رجل من قُرَيْش لَيْسَ بأوضعهم وَلَا بأرفعهم)
ثمَّ رَجَعَ إِلَى الإشفاق على الْمُسلمين فَقَالَ (وَالله مَا أَدْرِي أَيحلُّ لي أم لَا)
وَكَذَلِكَ كَانَ عُثْمَان بن عَفَّان رضي الله عنه بعدهمَا فِي الْفضل وَالْقِيَام بِالْأَمر والمجتمع عَلَيْهِ فِي الْعدْل
وَكَذَلِكَ عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه بعدهمْ فِي الْفضل وَالدّين وَالْعلم والحلم كَانَ يَسْتَسْقِي دلوا بتمرة بعدهمْ وَكَانَ لَهُ ناضحان ينْقل عَلَيْهَا الْإِذْخر يَسْتَعِين بِهِ على تَزْوِيج فَاطِمَة رضي الله عنها
وآخى النَّبِي صلى الله عليه وسلم بَين قيس بن الرّبيع وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف فَقَالَ قيس لعبد الرَّحْمَن هَذَا شطر مَالِي ولي امْرَأَتَانِ أنزل لَك عَن وَاحِدَة وَكَانَ مَال قيس المَال الصَّامِت الَّذِي يرغب فِي مثله
অতঃপর তিনি তাঁদের বললেন, "আমার সন্তানদের ওপর আমার গুনাহ চাপিয়ে দিও না; তোমরা আমার জন্য একটি ভাতা নির্ধারণ করে দাও।" এক্ষেত্রে তাঁর সম্বোধিত ব্যক্তিরা ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। অতঃপর তাঁরা তাঁর জন্য এমন একটি ভাতা নির্ধারণ করলেন যাতে তিনি সন্তুষ্ট হলেন এবং নিজের পরিবারের ব্যয়ভারের বিষয়টি সুসংহত করার পর তিনি পুনরায় জনগণের কার্যসম্পাদনে ফিরে গেলেন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।
তেমনিভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মর্যাদা, ইসলামের প্রতি কঠোরতা এবং এর ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রগামী ছিলেন। তিনি নিজের এবং তাঁর পরিবারের প্রয়োজনীয় আহার্য গ্রহণ করতেন। একইভাবে তাঁর থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন, "তোমরা কি জানো এই সম্পদ থেকে আমার জন্য কী পরিমাণ গ্রহণ বৈধ করা হয়েছে? শীত ও গ্রীষ্মের জন্য দুই জোড়া পোশাক, একটি বাহন যার ওপর আরোহণ করে আমি হজ পালন করতে পারি এবং কুরাইশ বংশের এক সাধারণ ব্যক্তির খাদ্যের ন্যায় আহার্য—যিনি অতি দরিদ্র নন আবার অতি উচ্চবিত্তও নন।"
অতঃপর তিনি মুসলিমদের প্রতি অনুকম্পা ও আশঙ্কার দিকে ফিরে গিয়ে বললেন, "আল্লাহর শপথ! আমি জানি না এটা আমার জন্য হালাল কি না।"
অনুরূপভাবে উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের পরবর্তী সময়ে মর্যাদা, শাসন পরিচালনা এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
অনুরূপভাবে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের পরবর্তী সময়ে মর্যাদা, দ্বীনদারিতা, ইলম এবং সহনশীলতায় অনন্য ছিলেন। তিনি তাঁদের পরেও একটি খেজুরের বিনিময়ে এক বালতি পানি উত্তোলন করে দিতেন। তাঁর দুটি উট ছিল যার ওপর তিনি ইযখির (এক প্রকার সুগন্ধি ঘাস) বহন করতেন এবং এর মাধ্যমে তিনি ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র বিবাহ সম্পন্ন করতে সহায়তা নিতেন।
আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাইস বিন আল-রাবি এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন। তখন কাইস আবদুর রহমানকে বলেছিলেন, "এটি আমার সম্পদের অর্ধাংশ এবং আমার দুইজন স্ত্রী রয়েছে, আমি আপনার জন্য একজনকে ছেড়ে দেব।" কাইসের সম্পদ ছিল নগদ বা স্থাবর সম্পদ (المال الصامت), যার প্রতি মানুষ সাধারণত আগ্রহী হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
فَقَالَ عبد الرَّحْمَن لَا حَاجَة لي بذلك دلَّنِي على السُّوق فَمضى إِلَى السُّوق متكسبا على نَفسه فَعَاد وَقد أصَاب شَيْئا من سمن وإقط وَذَلِكَ لما عِنْد عبد الرَّحْمَن من فضل الْكسْب وَفضل الْحَرَكَة لطلب الثَّوَاب
وَكَذَلِكَ يرْوى للنَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ (أطيب مَا أكل الرجل من كَسبه)
فآثر عبد الرَّحْمَن الْكسْب على مَال طيب هُوَ مَال رجل من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا شكّ فِي أمره وَلَا فِي النَّفس مِنْهُ شُبْهَة عرض عَلَيْهِ من غير مَسْأَلَة وَلَا إشراف من نفس
فَهَذِهِ حجتنا فِي الْحَرَكَة من الْكتاب وَالسّنة وَفعل أكَابِر أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
وَكَذَلِكَ كَانَ التابعون من بعدهمْ مِمَّن يجب علينا تقليدهم وَالْأَخْذ عَنْهُم وهم الَّذين ألزم عز وجل الْخلق طاعتهم والاقتداء بهم فَقَالَ جلّ وَعز {أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم}
وهم أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَمن بعدهمْ من صالحي الْعلمَاء والأخيار فِي هَذَا والاحتجاج بهَا يكثر
وَفِيمَا أوردنا وَذكرنَا من ذَلِك كِفَايَة إِن شَاءَ الله
ونسأل الله جلّ وَعز خير التَّوْفِيق لإصابة الْحق
অতঃপর আবদুর রহমান (রা.) বললেন, "আমার এতে কোনো প্রয়োজন নেই, আপনি আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন।" তারপর তিনি উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাজারে গেলেন এবং ঘি ও পনিরের মতো কিছু জিনিস অর্জন করে ফিরে আসলেন। এটি ছিল আবদুর রহমানের (রা.) উপার্জনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে কর্মতৎপরতার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে।
একইভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (يروى) আছে যে, তিনি বলেছেন, "মানুষ যা আহার করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার নিজ উপার্জিত বস্তু।"
সুতরাং আবদুর রহমান (রা.) উপার্জনকে এমন পবিত্র সম্পদের ওপর অগ্রাধিকার দিলেন যা ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন সাহাবীর সম্পদ। যার বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না এবং যার ব্যাপারে মনে কোনো সংশয় ছিল না; যা তাঁকে কোনো যাচনা বা অন্তরের লিপ্সা ছাড়াই প্রদান করা হয়েছিল।
সুতরাং কুরআন, সুন্নাহ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বরেণ্য সাহাবীদের কর্মের আলোকে জীবনোপকরণের অন্বেষণে আমাদের দলিল (حجة) এটিই।
একইভাবে তাঁদের পরবর্তী তাবিঈগণও (التابعون) তদ্রূপ ছিলেন, যাঁদের অনুসরণ (تقليد) করা এবং যাঁদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক। আর মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে তাঁদের আনুগত্য ও অনুকরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, "তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (আদেশদাতা) দের।"
তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী সৎকর্মশীল আলেম ও বরেণ্য ব্যক্তিগণ। এ বিষয়ে প্রমাণ (احتجاج) উপস্থাপনের অবকাশ অনেক।
আর আমরা যা অবতারণা ও উল্লেখ করেছি, ইনশাআল্লাহ তার মধ্যেই পর্যাপ্ততা রয়েছে।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট সত্য লাভের সর্বোত্তম তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
-
بَاب ترك الْحَرَكَة فِي الْكسْب وَمَا فِي ذَلِك من محموده ومذمومه-
وَقد ترك الْحَرَكَة فِي الْكسْب أَقوام على أُمُور مُخْتَلفَة وَأَنا واصف بَعْضهَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى
فَمن ذَلِك مَا زعم شَقِيق وَاتبعهُ على ذَلِك أَقوام زعم شَقِيق فِيمَا يرْوى عَنهُ أَنه كَانَ يَقُول إِن الْحَرَكَة فِي الْكسْب مَعْصِيّة
وَذَلِكَ أَنه قَالَ لما ضمن الله تَعَالَى الرزق والكفاية كَانَت الْحَرَكَة شكا فِيمَا ضمن فَحمل الْأَمر فِي ذَلِك على رَأْيه وَقَالَ فِيهِ بزلله فَخَالف الْكتاب وَالسّنة وَمَا عَلَيْهِ أكَابِر أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَجلة التَّابِعين من بعدهمْ
وَجلسَ أَقوام تعرضوا للكسب قبل جلوسهم فَلم يُمكنهُم إِقَامَة الْحق فِي كسبهم وَضَاقَتْ عَلَيْهِم المطالب فِي ذَلِك فجلسوا فطعنوا فِي المتكسبين وَجعلُوا ضعفهم عَن الْقيام بِالْحَقِّ فِيمَا جعل الْفضل فِيهِ لأَهله إِذا قَامُوا بأحكامه
وَأخذُوا من كسب المخلطين والمقدمين على الشُّبْهَة وَجعلُوا الْأَخْذ من أهل هَذِه الصّفة أفضل عِنْدهم من التَّحَرِّي فِي المكسب وَأخذ الْأَمر حَتَّى يبلغهم الإجهاد
-
জীবিকা অর্জনের প্রচেষ্টা বর্জন করা এবং এর মধ্যকার প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় দিকসমূহ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ-
একদল লোক বিভিন্ন কারণে জীবিকা অর্জনের প্রচেষ্টা বর্জন করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি তাদের কারো কারো অবস্থা বর্ণনা করছি।
তন্মধ্যে একটি হলো শাকীক যা দাবি করেছেন এবং একদল লোক তার অনুসারী হয়েছেন। শাকীক থেকে যা বর্ণিত (يروى) হয়েছে, তাতে তিনি দাবি করতেন যে, জীবিকা অর্জনের নিমিত্তে প্রচেষ্টা চালানো একটি অবাধ্যতা (معصية)।
আর তা এজন্য যে, তিনি বলতেন: যেহেতু মহান আল্লাহ রিজিক এবং পর্যাপ্ততার নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তাই উপার্জনের চেষ্টা করা সেই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সংশয় পোষণ করার শামিল। তিনি বিষয়টি নিজের ব্যক্তিগত অভিমত (رأي)-এর ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং নিজের ভুলের বশবর্তী হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। ফলে তিনি কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান সাহাবীগণ ও তাঁদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীগণ (التابعين) যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তার বিরোধিতা করেছেন।
এবং একদল লোক (অলস হয়ে) বসে রইলেন যারা ইতিপূর্বে উপার্জনের সাথে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু তাদের উপার্জনে হকের ওপর অটল থাকা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে তাদের চাহিদাগুলো সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা কর্মবিমুখ হয়ে বসে রইলেন এবং যারা উপার্জনকারী তাদের নিন্দা করতে লাগলেন। তারা হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার ক্ষেত্রে নিজেদের এই দুর্বলতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করালেন, অথচ যারা উপার্জনের বিধানাবলি যথাযথভাবে পালন করেন, আল্লাহ তাদের জন্যই এতে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করেছেন।
তারা মিশ্রিত উপার্জনকারী এবং যারা সন্দেহপূর্ণ (شبهة) বিষয়ে লিপ্ত হয় তাদের থেকে গ্রহণ করতে শুরু করলেন। তাদের নিকট উপার্জনের ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের (التحري) চেয়ে এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণ করাই অধিক উত্তম বলে গণ্য হলো, এমনকি তা তাদের চরম ক্লান্তিতে নিপতিত করা পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فَكَانَ مقامهم فِي ذَلِك مقَام من تنزه عَن شَيْء من كَسبه وَأخذ من كسب غَيره مَا هُوَ أشر مِنْهُ وأخبث فِي الطعمة فغلطوا فِيمَا أقاموه دينا
أما الْحجَّة على شَقِيق وَأَصْحَابه فَمن كتاب الله تَعَالَى وَسنة رَسُوله عليه السلام والنبيين من قبله وَخيَار أَصْحَابه من بعده رضي الله عنهم
فَأَما الْحجَّة من كتاب الله فَإِن الله تَعَالَى قَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أَنْفقُوا من طَيّبَات مَا كسبتم}
وَقَالَ سُبْحَانَهُ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالكُم بَيْنكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تكون تِجَارَة عَن ترَاض مِنْكُم}
وَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ {رجال لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَة وَلَا بيع عَن ذكر الله} فمدح إقامتهم لذكر الله فِي وَقت التِّجَارَة
وَقَالَ عز وجل {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا إِذا نُودي للصَّلَاة من يَوْم الْجُمُعَة فَاسْعَوْا إِلَى ذكر الله وذروا البيع}
فَأَمرهمْ بترك البيع فِي وَقت مَحْدُود يَوْم الْجُمُعَة
وَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا إِذا تداينتم بدين إِلَى أجل مُسَمّى فاكتبوه}
فعلمهم كَيفَ يصنعون فِي متاجرهم وبصرهم فِي مكاسبهم
وَأما الْحجَّة من سنَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَوْل النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
এই বিষয়ে তাদের অবস্থান ছিল এমন ব্যক্তির মতো, যে নিজের উপার্জনের কোনো কিছু থেকে নিজেকে পবিত্র রাখল (বিরত থাকল), অথচ অন্যের উপার্জন থেকে এমন কিছু গ্রহণ করল যা আহার্য হিসেবে তার চেয়েও অধিক মন্দ ও অপবিত্র। ফলে তারা যা কিছুকে দ্বীন হিসেবে সাব্যস্ত করেছিল, তাতে তারা ভুল করেছে।
আর শাকিক এবং তাঁর সঙ্গীদের বিপক্ষে দলিল হলো মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর সুন্নাহ (سنة), তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ এবং তাঁর পরবর্তী শ্রেষ্ঠ সাহাবীবর্গের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আদর্শ।
আল্লাহর কিতাব থেকে প্রাপ্ত দলিল হলো—মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, {হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ, তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ ব্যয় করো।}
সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন, {হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।}
জাল্লা সানাউহু আরও বলেন, {সেই সব পুরুষ, যাদেরকে ব্যবসা এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত করে না।} এখানে ব্যবসার সময়েও আল্লাহর জিকির কায়েম রাখায় তিনি তাঁদের প্রশংসা করেছেন।
আজ্জা ওয়া জাল্লা আরও এরশাদ করেন, {হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো।}
এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে জুমার দিনে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ আরও বলেন, {হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো।}
এভাবে তিনি তাদেরকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে করণীয় সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁদের উপার্জনের বিষয়ে জ্ঞান দান করেছেন।
আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنن) থেকে প্রাপ্ত দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী:
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
(أفضل مَا أكل الرجل من كَسبه)
وَقد ذكرنَا مَا كَانَ عَلَيْهِ أكَابِر أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَفِي هَذَا آيَات كَثِيرَة من كتاب الله وأخبار عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم متواترة وَفِي أقل مِمَّا ذكر يتَبَيَّن خطأ هَذِه الْمقَالة
وَأما الْمقَالة الثَّانِيَة فَإِن الْحجَّة عَلَيْهِم فِي ذَلِك أَخذهم الَّذِي تَرَكُوهُ من أَيدي غَيرهم فَإِن كَانَ أَخذهم لذَلِك من أَيدي الأقوياء الَّذين كسبوا الشَّيْء عِنْدهم على حكم كتاب الله عز وجل وَسنة نبيه صلى الله عليه وسلم فقد سقط عَنْهُم الْعذر فِي الْقعُود وَعَلَيْهِم طلب الشَّيْء من حَيْثُ طلبه هَؤُلَاءِ
وَإِن كَانَ الْأَمر عِنْدهم لضعف عَن الْقيام بأحكامه غَيرهم فقد أخذُوا مَا تركُوا من أَيدي أَقوام يُمكن عَلَيْهِم التَّعَدِّي فِي الطّلب والتجاوز للحد من الْكسْب
فَأَي الْحَالَتَيْنِ كَانَت حَالهم فَهُوَ خطأ وَالله أعلم
وَجلسَ قوم آخَرُونَ وَزَعَمُوا أَن الْجُلُوس عَن الطّلب أفضل عِنْدهم من الْحَرَكَة
وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِك بِأَن قَالُوا لما ضمن الله لِلْخلقِ أَرْزَاقهم وَتَوَلَّى فِي ذَلِك كفايتهم وَأخْبر بقسم الشَّيْء فِي الْأَوْقَات الَّتِي قدر إيصالها إِلَيْهِم فِيهَا كَانَ انْتِظَار الْوَقْت وَترك الْحَرَكَة أفضل وَكَانَت الْحَرَكَة إِبَاحَة لِضُعَفَاء الْخلق
وَالْحجّة عَلَيْهِم فِي ذَلِك بَيِّنَة بِمَا بَينا من فعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَمَا كَانَ أكَابِر الصَّحَابَة عَلَيْهِ وَذَلِكَ أَن الله جلّ ثَنَاؤُهُ جعل رَسُوله فِي أَعلَى الدَّرَجَات وَأَرْفَع الْمنَازل وَأتم المعارف وأكمل الْعلم وَخَصه من جزيل خصوصيته ورفيع هباته وسني عطاياه مَا بَين بِهِ فَضله على
(এক ব্যক্তি যা উপার্জন করে খায় তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তার নিজ হাতের কামাই)
আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্যেষ্ঠ সাহাবীগণ যে রীতির ওপর ছিলেন তা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর কিতাবে বহু নিদর্শন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অবিচ্ছিন্ন (متواترة) সংবাদ (أخبار) বিদ্যমান। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সামান্য অংশ দ্বারাই এই মতবাদের ভুল সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
আর দ্বিতীয় মতবাদের ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হলো, তারা যা বর্জন করেছে তা অন্যের হাত থেকে গ্রহণ করা। যদি তাদের সেই গ্রহণ করাটা এমন শক্তিশালী ব্যক্তিদের হাত থেকে হয় যারা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পদ উপার্জন করেছেন, তবে তো উপার্জনের চেষ্টা ত্যাগ করে বসে থাকার ব্যাপারে তাদের অজুহাত বাতিল হয়ে যায় এবং তাদের জন্যও ঐভাবেই সম্পদ অন্বেষণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যেভাবে ঐ ব্যক্তিরা অন্বেষণ করেছেন।
আর যদি বিষয়টি তাদের নিকট অন্যদের পক্ষ থেকে এর বিধান পালনে অক্ষমতার কারণে হয়ে থাকে, তবে তারা তাদের বর্জন করা সেই বস্তু এমন সব সম্প্রদায়ের হাত থেকে গ্রহণ করল যাদের ক্ষেত্রে উপার্জনের সন্ধানে সীমালঙ্ঘন এবং উপার্জনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুতরাং তাদের অবস্থা এই দুইটির মধ্যে যেটিই হোক না কেন, তা ভুল; আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
অন্য একদল লোক উপার্জনের চেষ্টা ছেড়ে দিয়ে বসে রইল এবং দাবি করল যে, তাদের নিকট সম্পদ অন্বেষণে সচেষ্ট হওয়ার চেয়ে বসে থাকা উত্তম।
তারা এ বিষয়ে এই যুক্তি পেশ করল যে, যেহেতু আল্লাহ সৃষ্টিজীবের রিযিকের নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং তাদের পর্যাপ্ত সংস্থানের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করেছেন, আর যে সময়গুলোতে তাদের নিকট তা পৌঁছানো নির্ধারিত হয়েছে সে অনুযায়ী বন্টনের সংবাদ দিয়েছেন, তাই সময়ের প্রতীক্ষা করা এবং চেষ্টা বর্জন করাই উত্তম; আর উপার্জনের চেষ্টা করা তো কেবল দুর্বল সৃষ্টিজীবদের জন্য অনুমোদিত।
তাদের বিরুদ্ধে দলিল অত্যন্ত স্পষ্ট যা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম এবং জ্যেষ্ঠ সাহাবীগণের কর্মধারা দ্বারা বর্ণনা করেছি। আর তা হলো, মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সর্বোচ্চ স্তরে ও উচ্চতম মর্যাদায় আসীন করেছেন, তাঁকে পূর্ণতম মারিফাত ও পরিপূর্ণ জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁকে তাঁর সুমহান বিশেষত্ব, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন দান ও শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ দ্বারা ভূষিত করেছেন যা দ্বারা তিনি সবার ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أكبر الْأَوْلِيَاء وَكَذَلِكَ حركاته وَسَائِر أَعماله جعلهَا الله على قدر الْموضع الَّذِي جعله فِيهِ
وَكَانَت أَصْحَابه رضوَان الله عَلَيْهِم على فَضلهمْ وَمَا ذكر من تقدمتهم كَانَت أَعْمَالهم على قدر مواضعهم
وَفِيمَا وَصفنَا من ذَلِك واحتججنا بِهِ مَا يتَبَيَّن مِنْهُ خطأ أَصْحَاب هَذِه الْمقَالة
وَكَانَ مَا احتجت بِهِ هَذِه الطَّائِفَة الَّتِي زعمت أَن الْقعُود عَن الْحَرَكَة أفضل عِنْدهم وَإِنَّمَا الْحَرَكَة فِي ذَلِك رخصَة لِضُعَفَاء الْخلق عَن الْقعُود حَتَّى يكون الْوَقْت عَلَيْهِم وَأَرَادَ بِمَا فِي أنفسهم فقدموا أنفسهم بخطأ التَّأْوِيل وبزلل الْهوى والرأي على أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وعَلى سيرة الْمُرْسلين وَأَقَامُوا الأكابر مثل أبي بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي رضوَان الله عَلَيْهِم مقَام الضعْف والوهن تَقْدِيمًا مِنْهُم لأَنْفُسِهِمْ وإيمانا مِنْهُم بخطأ مِنْهُم بِصِحَّة رَأْيهمْ بِلَا خبر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا آيَة من كتاب الله عز وجل
وَهَذَا قَول قد تبين خَطؤُهُ من وُجُوه شَتَّى
فَأَما أَولهَا فَمَا بَين الله عز وجل من ذَلِك فِي كِتَابه فَأمر الْمُؤمنِينَ أَن يكون مَأْكَلهمْ من طَيّبَات مَا يَكْسِبُونَ
وَأما الْمَعْنى الثَّانِي فَمَا ثَبت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن (أطيب مَا أكل الرجل من كَسبه)
وَأما الْوَجْه الثَّالِث فَمَا كَانَ عَلَيْهِ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وأكابر أَصْحَابه رَضِي الله عَنْهُم
তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠতম ওলী এবং একইভাবে তাঁর তৎপরতা ও যাবতীয় কর্মসমূহকে আল্লাহ তাআলা সেই মর্যাদার অনুরূপ করেছেন যাতে তিনি তাঁকে আসীন করেছিলেন।
এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁদের অগ্রগণ্য হওয়ার যে বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী তাঁদের আমলসমূহ ছিল তাঁদের মর্যাদার সমতুল্য।
আমরা এই বিষয়ে যা বর্ণনা করেছি এবং দলিল হিসেবে পেশ করেছি, তা থেকে এই মতাদর্শের প্রবক্তাদের ভুল সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই দলটির যুক্তি ছিল এই যে, তাদের মতে কর্মতৎপরতা বর্জন করে নিস্পৃহ থাকা অধিকতর উত্তম। আর তাদের কাছে কর্মতৎপরতা কেবল সেই সব দুর্বল সৃষ্টির জন্য একটি অনুমতি (رخصة), যারা নিস্পৃহ হয়ে বসে থাকতে অক্ষম, যতক্ষণ না সময় তাদের অনুকূলে থাকে। তারা তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভুল ব্যাখ্যা এবং প্রবৃত্তি ও ব্যক্তিগত অভিমত (رأي)-এর বিচ্যুতি দ্বারা নিজেদেরকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং রাসূলদের জীবন পদ্ধতির উপরে স্থান দিয়েছে। তারা আবূ বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মতো মহান ব্যক্তিত্বদের দুর্বলতা ও অক্ষমতার স্থানে দাঁড় করিয়েছে; যা তারা কেবল নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত কোনো বর্ণনা (خبر) কিংবা মহান আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত ছাড়াই নিজেদের ভুল অভিমতকে সঠিক মনে করার কারণে করেছে।
এটি এমন এক বক্তব্য যার ভুল বিভিন্ন দিক থেকে প্রকাশিত।
প্রথমত, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এ সম্পর্কে যা স্পষ্ট করেছেন; যেখানে তিনি মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের উপার্জিত পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার করে।
দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, "মানুষের উপার্জিত খাদ্যই তার জন্য সর্বোত্তম আহার"।
তৃতীয় দিকটি হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর মহান সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যে রীতির ওপর অটল ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিব ওয়াল ওয়ারাউ ওয়াশ শুবহা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَأما الْوَجْه الرَّابِع فَمَا دلّ عَلَيْهِ الْعلم وَثبتت عَلَيْهِ الْمعرفَة وَذَلِكَ أَن الله جلّ ثَنَاؤُهُ لما دَعَا إِلَى الثِّقَة بِهِ والتوكل عَلَيْهِ بَين الْعلم عَمَّا أَرَادَهُ من ذَلِك وَالَّذِي بَين الْعلم عَنهُ من ذَلِك من معنى الثِّقَة أَن تكون الْقُلُوب لله عز وجل مصدقة وَتَكون بوعده موقنة وَتَكون إِلَيْهِ فِي كل حَال سَاكِنة قد أغناها بضمانه عَن النّظر إِلَى شَيْء دونه
فَإِذا ملك خَاصَّة الْقُلُوب ذَلِك وأقرت بِهِ الْأَلْسِنَة وحذره الْعلم بِاللَّه تَعَالَى والمعرفة بِهِ جلّ وَعز من أَن يمِيل إِلَى شَيْء دونه فأمنت الْقُلُوب فِي التَّوَكُّل فِي حَقِيقَة من حقائقه وَفِي مقَام شرِيف من مقاماته
فَإِن أوجدها الله جلّ ثَنَاؤُهُ فضلا مِنْهُ فِي سعي جارحه أَو دلها الرَّسُول صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا وَأَنَّهَا إِلَى الله تَعَالَى مقربة وَفِي حَال السَّعْي بسعيها زَائِدَة بِمَا تعبدت بِهِ أَو ندبت إِلَيْهِ أسرعت إِلَى ذَلِك لما ملكهَا من مُوَافقَة سَيِّدهَا وَجل عِنْدهَا من قدر مَا أَشَارَ إِلَيْهِ مِمَّا يقرب مِنْهُ فَكَانَ السَّعْي عَن تمكن الرَّغْبَة فِي الطَّاعَة الجامعة للقلوب من غير سآمة مِنْهَا لما شَمل فاقتها من خَالص الموهبة وجزيل سناء الخصوصية وَكَانَ السَّعْي فِي ذَلِك لصفاء مَا فِي الْقُلُوب من تمكن السكينَة وحقائق الثِّقَة
وَكَانَت الْقُلُوب بسعي الْجَوَارِح فِي ذَلِك زَائِدَة بسعيها متمكنة فِي مرتبتها وَلَا ينقص السَّعْي عَلَيْهَا حَالهَا وَلَا يجرها ذَلِك إِلَّا إِلَى مَا يقْدَح فِي ذكرهَا فَكَانَ هَذَا السَّعْي على مَا وَصفنَا زَائِدَة لَهَا فِي مواصلتها فِي الْقرب إِلَى علو الدَّرَجَات فِي قربهَا وَكَانَ السَّعْي على مَا بَين الله وَرَسُوله من فضل السَّعْي على مَا وَصفنَا مِمَّا افْترض على الْخلق وندبوا إِلَيْهِ على مَعَاني
أَحدهَا أَن يكون السَّعْي بالجوارح بَعْدَمَا وَصفنَا من قيام الثِّقَة فِي الْقُلُوب وَتمكن السكينَة منغصا عَلَيْهَا حَال الْقلب موجدا لَهَا النُّزُول عَن مرتبتها فَيكون تَركهَا للسعي لما تَجِد من النَّقْص
فَهَذِهِ حَال دون حَال الأقوياء الَّذين سعوا فِي ذَلِك وهم يَجدونَ
আর চতুর্থ দিকটি হলো যা জ্ঞান দ্বারা নির্দেশিত এবং প্রজ্ঞা দ্বারা সাব্যস্ত। আর তা হলো, আল্লাহ জাল্লা সানাউহু যখন তাঁর প্রতি আস্থা (ثقة) এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুলের আহ্বান জানিয়েছেন, তখন তিনি সে সম্পর্কে তাঁর উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে বয়ান করেছেন। আস্থা (ثقة)-র মর্মার্থ সম্পর্কে তিনি যা বয়ান করেছেন তা হলো—হৃদয়সমূহ মহান আল্লাহর প্রতি সত্যায়নকারী হবে, তাঁর প্রতিশ্রুতির ওপর দৃঢ় বিশ্বাসী হবে এবং সর্বাবস্থায় তাঁর প্রতি প্রশান্ত থাকবে; তাঁর জিম্মাদারি তাকে তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি দৃষ্টিপাত করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।
অতঃপর যখন হৃদয়ের বিশেষত্বসমূহ এই অবস্থার অধিকারী হয় এবং জিহ্বা তা স্বীকার করে নেয়, আর মহান আল্লাহর জ্ঞান ও তাঁর পরিচয় তাকে তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে সতর্ক করে, তখন হৃদয় তাওয়াক্কুলের কোনো এক হাকীকত এবং তার একটি সুউচ্চ স্তরে নিরাপদ হয়ে যায়।
অতঃপর আল্লাহ জাল্লা সানাউহু যদি তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহস্বরূপ বান্দার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রচেষ্টায় তা দান করেন অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেদিকে পথপ্রদর্শন করেন যে, তা মহান আল্লাহর নৈকট্যদানকারী এবং কর্মতৎপরতার মাধ্যমে সে আনুগত্যের কাজে সমৃদ্ধ হয় যার ইবাদত করার নির্দেশ তাকে দেওয়া হয়েছে বা যার প্রতি তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে, তবে সে দ্রুত সেই দিকে অগ্রসর হয়। কেননা তার ওপর তার রবের অনুগত্যের প্রভাব বিদ্যমান থাকে এবং আল্লাহ তাকে যে নৈকট্যদানকারী বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তার গুরুত্ব তার নিকট মহিমান্বিত হয়। ফলে এই প্রচেষ্টা আনুগত্যের প্রতি দৃঢ় আগ্রহ থেকে উৎসারিত হয় যা হৃদয়সমূহকে কোনো ক্লান্তি ছাড়াই একত্রিত করে। কারণ তার অভাব মোচন হয়েছে খাঁটি দান এবং বিশেষত্বের সুমহান মর্যাদার মাধ্যমে। এই প্রচেষ্টা ছিল মূলত হৃদয়ে প্রশান্তি এবং আস্থার হাকীকত (حقائق الثقة) বদ্ধমূল হওয়ার বিশুদ্ধতা থেকে।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের এই প্রচেষ্টার ফলে হৃদয়সমূহ আরও সমৃদ্ধ হয় এবং নিজ মাকামে সুদৃঢ় হয়। এই প্রচেষ্টা তার অবস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে না এবং তাকে এমন কিছুর দিকে ধাবিত করে না যা তার মর্যাদাকে কলঙ্কিত করে। সুতরাং আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি, এই প্রচেষ্টা ছিল তার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের উচ্চতর স্তরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সহায়ক। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বর্ণনা অনুযায়ী এই প্রচেষ্টার মর্যাদা ঐরূপ যা সৃষ্টির ওপর ফরজ করা হয়েছে এবং যার বিভিন্ন অর্থের দিকে তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
তার মধ্যে একটি হলো—হৃদয়ে আস্থা (ثقة) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এবং প্রশান্তি বদ্ধমূল হওয়ার পর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা প্রচেষ্টা করা যা হৃদয়ের অবস্থার জন্য ক্লেশদায়ক হতে পারে অথবা তাকে নিজ মাকাম থেকে বিচ্যুত করতে পারে; এমতাবস্থায় এই ঘাটতি অনুভব করার কারণে প্রচেষ্টা বর্জন করাই শ্রেয়।
এই অবস্থাটি সেই শক্তিশালী ব্যক্তিদের অবস্থার চেয়ে নিম্নতর যারা প্রচেষ্টা করেন অথচ তারা অনুভব করেন—