(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الإخلاص والنية لابن أبي الدنيا (ابن أبي الدنيا)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الإخلاص والنية
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
حققه وعلق عليه: إياد خالد الطباع
الناشر: دار البشائر
الطبعة: الأولى، 1413 هـ
عدد الصفحات: 71
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইখলাস ও নিয়ত - ইবনু আবিদ দুনিয়া (ইবনু আবিদ দুনিয়া)
বিভাগ: হাদিসের কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: ইখলাস ও নিয়ত
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কায়েস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাইশী, যিনি ইবনু আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
তাহকীক ও টীকা: ইয়াদ খালিদ আত-তাব্বা
প্রকাশনী: দারুল বাশাইর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الْهَرَوِيُّ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْجَبَّارِ أَبُو مُعَاوِيَةَ السِّنْجَارِيُّ ابْنُ أُخْتِ عُبَيْدَةَ بْنِ حَسَّانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدَةُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا مَجْلِسًا فَقَالَ: «طُوبَى لِلْمُخْلِصِينَ، أُولَئِكَ مَصَابِيحُ الدُّجَى، تَتَجَلَّى عَنْهُمْ كُلُّ فِتْنَةٍ ظَلْمَاءَ» ⦗ص: 34⦘ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ لِعِيسَى عليه السلام: مَا الْإِخْلَاصُ لِلَّهِ؟ قَالَ: الَّذِي يَعْمَلُ الْعَمَلَ لَا يُحِبُّ أَنْ يَحْمَدَهُ عَلَيْهِ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ قَالُوا: فَمَنِ الْمُنَاصِحُ لِلَّهِ؟ قَالَ: الَّذِي يَبْدَأُ بِحَقِّ اللَّهِ قَبْلَ حَقِّ النَّاسِ إِذَا عُرِضَ عَلَيْهِ أَمْرَانِ أَحَدُهُمَا لِلدُّنْيَا وَالْآخَرُ لِلْآخِرَةِ بَدَأَ بِأَمْرِ اللَّهِ قَبْلَ أَمْرِ الدُّنْيَا "
১ - আবু মুসা আল-হারাউই ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনুল জাব্বার আবু মুয়াবিয়া আস-সিনজারি—যিনি উবাইদাহ ইবনে হাসসানের ভাগ্নে—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদাহ ইবনে হাসসান আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «নিষ্ঠাবানদের জন্য সুসংবাদ, তাঁরা হলেন অন্ধকারের প্রদীপ; তাঁদের উসিলায় প্রতিটি অন্ধকার ফিতনা দূরীভূত হয়»" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ হাওয়ারিগণ ঈসা আলাইহিস সালামকে বললেন: আল্লাহর প্রতি ইখলাস বা নিষ্ঠা কী? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি এমন কাজ করে যার বিনিময়ে সে মানুষের নিকট প্রশংসিত হতে পছন্দ করে না।" তাঁরা বললেন: তাহলে আল্লাহর প্রতি প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী কে? তিনি বললেন: "সেই ব্যক্তি, যে মানুষের হকের আগে আল্লাহর হকের মাধ্যমে শুরু করে। যখন তার সামনে দুটি বিষয় উপস্থিত হয়—যার একটি দুনিয়ার জন্য এবং অন্যটি আখিরাতের জন্য—সে দুনিয়ার বিষয়ের আগে আল্লাহর নির্দেশের মাধ্যমে কাজ শুরু করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
5 - حَدَّثَنِي سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: الْعَمَلُ الصَّالِحُ الَّذِي لَا تُرِيدُ أَنْ يَحْمَدَكَ عَلَيْهِ أَحَدٌ إِلَّا لِلَّهِ
৫ - সুফিয়ান ইবনে ওয়াকী' আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আলী ইবনে আবী তালিব বলেছেন: সৎকাজ হলো সেটি যার জন্য তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নিকট প্রশংসা পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করো না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
6 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ تَمِيمٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الرَّحَّالِ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بنُ السَّائِبِ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ: لَا يَقِلُّ عَمَلٌ مَعَ تَقْوَى، وَكَيْفَ يَقِلُّ مَا يُتَقَبَّلُ؟
৬ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনে তামীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আর-রাহহাল আল-হানাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আলা ইবনে আস-সাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদ খাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবী তালিব বলেছেন: তাকওয়ার সাথে কোনো আমলই নগণ্য নয়; আর যা কবুল করা হয়, তা কীভাবে নগণ্য হতে পারে?
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
7 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ غَزِيَّةَ، عَنْ حَمْزَةَ، مِنْ بَعْضِ وَلَدِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: طُوبَى لِمَنْ أَخْلَصَ عِبَادَتَهُ وَدُعَاءَهُ لِلَّهِ وَلَمْ يَشْغَلْ قَلْبَهُ مَا تَرَاهُ عَيْنَاهُ، وَلَمْ يُنْسِهِ ذِكْرُهُ مَا تَسْمَعُ أُذُنَاهُ، وَلَمْ يُحْزِنْ نَفْسَهُ مَا أُعْطِيَ غَيْرُهُ
৭ - ইয়াকুব বিন ইসমাইল আমাকে বর্ণনা করেছেন, হাব্বান বিন মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে লাহিআহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে গাজিয়্যাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন হামযাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদের জনৈক সন্তান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে আল্লাহর জন্য তার ইবাদত ও দোয়াকে একনিষ্ঠ করেছে, এবং তার দুই চোখ যা দেখে তা তার অন্তরকে ব্যতিব্যস্ত করে না, এবং তার দুই কান যা শোনে তা তাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিস্মৃত করে না, আর অন্যকে যা দান করা হয়েছে তা তাকে মর্মাহত করে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
8 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي عَمَّارُ بْنُ عُثْمَانَ الْحَلَبِيُّ، حَدَّثَنَا سِرَارٌ الْعَنَزِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الْوَاحِدِ بْنَ زَيْدٍ، يَقُولُ: الْإِجَابَةُ مَقْرُونَةٌ بِالْإِخْلَاصِ لَا فُرْقَةَ بَيْنَهُمَا
৮ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, আম্মার ইবনে উসমান আল-হালাবি আমাকে বর্ণনা করেছেন, সিরার আল-আনাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যাইদকে বলতে শুনেছি: দোয়া কবুল হওয়া ইখলাসের সাথে সম্পৃক্ত, এই দুটির মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
9 - حَدَّثَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا الْمُسَيَّبُ بْنُ وَاضِحٍ،: عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ، قَالَ: مَرَّ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بِرَجُلٍ فِي يَدِهِ حَصًى يَلْعَبُ بِهِ وَهُوَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ زَوِّجْنِي مِنَ الْحُورِ الْعَيْنِ. فَقَامَ عَلَيْهِ عُمَرُ فَقَالَ: بِئْسَ الْخَاطِبُ أَنْتَ أَلَا أَلْقَيْتَ الْحَصَى، وَأَخْلَصْتَ لِلَّهِ الدُّعَاءَ
৯ - আবু মুহাম্মদ আল-বাজ্জার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুসাইয়্যাব বিন ওয়াদিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর বিন আবদুল আজিজ এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার হাতে কিছু নুড়িপাথর ছিল এবং সে তা নিয়ে খেলা করছিল আর বলছিল: ‘হে আল্লাহ, আমাকে ডাগর চোখের হুরদের সাথে বিবাহ দিন।’ তখন উমর তার নিকট দাঁড়ালেন এবং বললেন: তুমি কতই না মন্দ প্রস্তাবকারী! তুমি কি নুড়িপাথরগুলো ফেলে দিয়ে আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠভাবে দোয়া করবে না?
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ: كُونُوا لِقُبُولِ الْعَمَلِ أَشَدَّ هَمًّا مِنْكُمْ بِالْعَمَلِ، أَلَمْ تَسْمَعُوا اللَّهَ يَقُولُ {إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ} [المائدة: 27]
১০ - আবু জাফর আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মাজিদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন: তোমরা আমল করার চেয়ে আমল কবুল হওয়ার ব্যাপারে অধিক যত্নবান হও। তোমরা কি শোনোনি আল্লাহ বলছেন, {নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন} [আল-মায়িদা: ২৭]
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪০)
11 - حَدَّثَنِي أَبُو مُسْلِمٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، قَالَ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ، يَقُولُ: إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الْعَمَلَ الْحَسَنَ فِي أَعْيُنِ النَّاسِ، أَوِ الْعَمَلَ لَا يُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ فَيَقَعُ لَهُ الْمَقْتُ وَالْعَيْبُ عِنْدَ النَّاسِ حَتَّى يَكُونَ عَيْبًا، وَإِنَّهُ لَيَعْمَلُ الْعَمَلَ أَوِ الْأَمْرَ يَكْرَهُهُ النَّاسُ يُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ فَيَقَعُ لَهُ الْمِقَةُ وَالْحُسْنُ عِنْدَ النَّاسِ
১১ - আবু মুসলিম আব্দুর রহমান ইবনে ইউনুস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবরাহীমকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি মানুষের দৃষ্টিতে ভালো কাজ করে অথবা এমন আমল করে যার দ্বারা সে আল্লাহর চেহারা কামনা করে না, ফলে মানুষের নিকট তার জন্য ঘৃণা ও নিন্দা পতিত হয় এমনকি তা ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়। আর সে এমন কাজ বা বিষয় আঞ্জাম দেয় যা মানুষ অপছন্দ করে অথচ এর দ্বারা সে আল্লাহর চেহারা কামনা করে, ফলে মানুষের নিকট তার জন্য ভালোবাসা ও সৌন্দর্য নির্ধারিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪১)
12 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ قَالَ: إِذَا أَقْبَلَ الْعَبْدُ إِلَى اللَّهِ أَقْبَلَ اللَّهُ بِقُلُوبِ الْعِبَادِ إِلَيْهِ
১২ - দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু শিহাব লাইস থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি‘ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন বান্দা আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তখন (অন্যান্য) বান্দাদের অন্তরসমূহকে তার দিকে ধাবিত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪২)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ حَزْمٍ الْقُطَعِيِّ: عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَتَّابٍ قَالَ: رَأَيْتُ عَامِرَ بْنَ عَبْدِ قَيْسٍ فِي النَّوْمِ فَقُلْتُ: أَيُّ الْأَعْمَالِ وَجَدْتَ أَفْضَلَ؟ قَالَ: مَا أُرِيدَ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন ইব্রাহীম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আমির, হাযম আল-কুতাই থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন আত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমির বিন আব্দুল কাইসকে স্বপ্নে দেখেছি এবং বললাম: আপনি কোন আমলকে সর্বোত্তম পেয়েছেন? তিনি বললেন: যার দ্বারা আল্লাহর চেহারা উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
14 - حَدَّثَنَا أًحًمًدُ بْنُ بَشِيرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جَرِيرٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَازِمٍ يَقُولُ: عِنْدَ تَصْحِيحِ الضَّمَائِرِ تُغْفَرُ الْكَبَائِرُ، وَإِذَا عَزَمَ الْعَبْدُ عَلَى تَرْكِ الْآثَامِ أَتَتْهُ الْفُتُوحُ
১৪ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে বশীর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হাযেমকে বলতে শুনেছি: অন্তরসমূহ পরিশুদ্ধ করার সময় কবীরা গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়, আর যখন বান্দা পাপ বর্জনের দৃঢ় সংকল্প করে, তখন তার নিকট আসে সাফল্যসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
15 - حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْفِلَسْطِينِيُّ، عَنْ مَوْلًى لِابْنِ مُحَيْرِيزٍ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ حَانُوتَ بَزَّازٍ لِيَشْتَرِيَ مِنْهُ مَتَاعًا، فَرَفَعَ فِي السَّوْمِ، وَلَمْ يَعْرِفْهُ، فَأَشَرْتُ إِلَيْهِ أَنَّهُ ابْنُ مُحَيْرِيزٍ فَقَالَ: اخْرُجْ إِنَّمَا نَشْتَرِي بِأَمْوَالِنَا لَا بِأَدْيَانِنَا
১৫ - হাইসাম ইবনে খারিজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদু রাব্বিহি ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফিলাস্তিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে মুহাইরিজের জনৈক মুক্ত দাসের সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে মুহাইরিজের সাথে একজন কাপড় বিক্রেতার দোকানে প্রবেশ করলাম যাতে তিনি তার থেকে কিছু পণ্য ক্রয় করেন। বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে চাইলেন এবং তিনি তাকে চিনতে পারেননি। তখন আমি তাকে ইশারা করলাম যে তিনি ইবনে মুহাইরিজ। অতঃপর তিনি বললেন: বের হয়ে এসো, আমরা তো কেবল আমাদের সম্পদ দিয়ে ক্রয় করি, আমাদের দ্বীন দিয়ে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
16 - حَدَّثَنِي أَبُو هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، حَدَّثَنَا الْمَضَاءُ بْنُ عِيسَى الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: مَرَّ سُلَيْمَانُ الْخَوَّاصُ بِإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ وَهُوَ عِنْدَ قَوْمٍ قَدْ أَضَافُوهُ وَأَكْرَمُوهُ فَقَالَ: نِعْمَ الشَّيْءُ هَذَا يَا أَبَا إِبْرَاهِيمَ إِنْ لَمْ يَكُنْ تَكْرِمَةَ دِينٍ
১৬ - আবু হাশিম আমাকে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবন আবিল হাওয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মাদা ইবন ঈসা আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান আল-খাওওয়াস ইবরাহীম ইবন আদহামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি এক সম্প্রদায়ের নিকট ছিলেন যারা তাঁর মেহমানদারি করছিল এবং তাঁকে সম্মান জানাচ্ছিল। অতঃপর তিনি বললেন: হে আবু ইবরাহীম! এটি কতই না চমৎকার বিষয়, যদি এটি দ্বীনের কারণে সম্মাননা না হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
17 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: يَصْعَدُ الْمَلَكُ بِعَمَلِ الْعَبْدِ مُبْتَهِجًا فَإِذَا انْتَهَى إِلَى رَبِّهِ قَالَ: اجْعَلُوهُ فِي سِجِّينٍ فَإِنِّي لَمْ أُرَدْ بِهَذَا
১৭ - ইয়াকুব বিন ইসমাঈল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাব্বান বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আওযায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, তিনি বলেন: ফেরেশতা বান্দার আমল নিয়ে প্রফুল্লচিত্তে উপরে আরোহণ করেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর রবের নিকট পৌঁছান, তখন আল্লাহ বলেন: একে সিজ্জীনে নিক্ষেপ করো, কারণ এর দ্বারা আমাকে উদ্দেশ্য করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
18 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، أَخْبَرَنَا حَبَّانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ الْغَسَّانَيُّ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ الْمَلَائِكَةَ يَرْفَعُونَ عَمَلَ الْعَبْدِ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ فَيُكْثِرُونَهُ وَيُزَكُّونَهُ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ مِنْ سُلْطَانِهِ فَيُوحِيَ إِلَيْهِمْ: إِنَّكُمْ حَفَظَةٌ عَلَى عَمَلِ عَبْدِي، وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ، إِنَّ عَبْدِي هَذَا لَمْ يُخْلِصْ لِي عَمَلَهُ فَاجْعَلُوهُ فِي سِجِّينٍ قَالَ: وَيَصْعَدُونَ بِعَمَلِ الْعَبْدِ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ يَسْتَقِلُّونَهُ وَيَحْتَقِرُونَهُ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ حَيْثُ ⦗ص: 47⦘ شَاءَ اللَّهُ فَيُوحِيَ اللَّهُ إِلَيْهِمْ: إِنَّكُمْ حَفَظَةٌ عَلَى عَمَلِ عَبْدِي وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ فَضَاعِفُوهُ لَهُ وَاجْعَلُوهُ فِي عِلِّيِّينَ
১৮ - আমাদের নিকট ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাব্বান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে আবি মারইয়াম আল-গাসসানি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি দামরা ইবনে হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে কোনো এক বান্দার আমল উপরে নিয়ে যান। তারা সেটিকে বৃদ্ধি করেন এবং সেটির প্রশংসা করেন, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর কর্তৃত্বের সেই স্থানে পৌঁছেন যেখানে আল্লাহ চান। তখন আল্লাহ তাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করেন: তোমরা আমার বান্দার আমলের হিফাযতকারী মাত্র, আর আমি তার অন্তরে যা আছে সেটির পর্যবেক্ষক। নিশ্চয়ই আমার এই বান্দা তার আমলকে আমার জন্য একনিষ্ঠ করেনি, অতএব তোমরা একে সিজ্জিনে নিক্ষেপ করো। তিনি বলেন: আবার তারা আল্লাহর কোনো এক বান্দার আমল নিয়ে উপরে উঠেন যা তারা অত্যন্ত সামান্য ও তুচ্ছ মনে করেন। যতক্ষণ না তারা ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ যেখানে আল্লাহ চান সেখানে পৌঁছে যান। তখন আল্লাহ তাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করেন: তোমরা আমার বান্দার আমলের হিফাযতকারী মাত্র, আর আমি তার অন্তরে যা আছে সেটির পর্যবেক্ষক। অতএব তোমরা তার আমলকে বহুগুণ বৃদ্ধি করো এবং একে ইল্লিয়্যিনে স্থান দাও।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
19 - بَلَغَنِي عَنِ ابْنِ جَمِيلٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَةَ بْنَ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ أَنَّ عَابِدًا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ عَبَدَ اللَّهَ فِي سِرْبٍ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَقَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: وَعِزَّتِكَ رَبَّنَا مَا رَفَعْنَا إِلَيْكَ خَفَاءً. قَالَ: صَدَقْتُمْ مَلَائِكَتِي وَلَكِنَّهُ يُحِبُّ أَنْ يَعْرِفَ مَكَانَهُ
১৯ - ইবনে জামিল থেকে আমার নিকট পৌঁছেছে, তিনি বলেন: আমি আবদাহ বিন সুলায়মানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আবি মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, বনী ইসরাঈলের একজন ইবাদতকারী চল্লিশ বছর ধরে একটি সুড়ঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন। তখন ফেরেশতারা বললেন: হে আমাদের রব, আপনার ইজ্জতের কসম! আমরা আপনার নিকট কোনো গোপন বিষয় উত্তোলন করিনি। তিনি (আল্লাহ) বললেন: হে আমার ফেরেশতারা, তোমরা সত্য বলেছ; কিন্তু সে পছন্দ করে যে তাঁর স্থান সম্পর্কে জানুক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
20 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ شَرَاحِيلَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ: لَأَنْ أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ تَقَبَّلَ مِنِّي مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا؛ لِأَنَّ اللَّهَ يَقُولُ {إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينِ} [المائدة: 27]
২০ - ইয়াকুব ইবনে ইসমাঈল আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাব্বান ইবনে মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রিশদীন ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শারাহীল ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি উবায়দ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ফাযালা ইবনে উবায়দকে বলতে শুনেছেন: "যদি আমি জানতে পারতাম যে, আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে একটি সরিষার দানা পরিমাণ আমল কবুল করেছেন, তবে তা আমার নিকট দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হতো; কারণ আল্লাহ বলেন, {নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন} [আল-মায়িদাহ: ২৭]
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫০)
21 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ بَحْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عِمَارَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ كَثِيرٍ السَّلِيمِيِّ، قَالَ: قِيلَ لِعَطَاءٍ السَّلِيمِيِّ: مَا الْحَذَرُ؟ قَالَ: الِاتِّقَاءُ عَلَى الْعَمَلِ أَلَّا يَكُونَ لِلَّهِ
২১ - আমাকে আব্দুর রাহিম বিন বাহর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উসমান বিন ইমারাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল বিন কাসীর আস-সালিমি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আতা আস-সালিমিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: সতর্কতা কী? তিনি বললেন: আমল সম্পর্কে এই সতর্কতা অবলম্বন করা যেন তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য না হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫০)
22 - حَدَّثَنَا مُحْمَرُّ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْأَشْعَثِ {لِيَبلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [هود: 7] قَالَ: أَخْلَصُهُ وَأَصْوَبُهُ، قَالَ: إِنَّ الْعَمَلَ إِذَا كَانَ خَالِصًا وَلَمْ يَكُنْ صَوَابًا لَمْ يُقْبَلْ، ⦗ص: 51⦘ وَإِذَا كَانَ صَوَابًا وَلَمْ يَكُنْ خَالِصًا لَمْ يُقْبَلْ حَتَّى يَكُونَ خَالِصًا صَوَابًا، وَالْخَالِصُ إِذَا كَانَ لِلَّهِ، وَالصَّوَابُ: إِذَا كَانَ عَلَى السُّنَّةِ
২২ - মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে শাকীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনুল আশআস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ} [হূদ: ৭] তিনি বলেন: (এর অর্থ হলো) যা অধিক একনিষ্ঠ এবং অধিক সঠিক। তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আমল যখন একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক হয় না, তখন তা কবুল করা হয় না; ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ এবং যখন আমল সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ হয় না, তখন তা কবুল করা হয় না যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক—উভয়ই হয়। আর একনিষ্ঠ হওয়ার অর্থ হলো তা আল্লাহর জন্য হওয়া, এবং সঠিক হওয়ার অর্থ হলো তা সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫২)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ السِّمْسَارُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ: مَنْ كَانَ ظَاهِرُهُ أَرْجَحَ مِنْ بَاطِنِهِ خَفَّ مِيزَانُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَانَ بَاطِنُهُ أَرْجَحَ مِنْ ظَاهِرِهِ ثَقُلَ مِيزَانُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
২৩ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম ইবনে হাশিম আস-সিমসার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনে কুতাইবাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলি ইবনে আবি তালিব বলেছেন: যার বাহ্যিক অবস্থা তার অভ্যন্তরীণ অবস্থার চেয়ে প্রবল হবে, কিয়ামতের দিন তার পাল্লা হালকা হয়ে যাবে; এবং যার অভ্যন্তরীণ অবস্থা তার বাহ্যিক অবস্থার চেয়ে প্রবল হবে, তার পাল্লা ভারী হবে কিয়ামতের দিন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
24 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زُبَيْدٍ، قَالَ: مَنْ كَانَتْ سَرِيرَتُهُ أَفْضَلَ مِنْ عَلَانِيَتِهِ فَذَلِكَ الْفَضْلُ، وَمَنْ كَانَتْ سَرِيرَتُهُ مِثْلَ عَلَانِيَتِهِ فَذَلِكَ النِّصْفُ، وَمَنْ كَانَتْ سَرِيرَتُهُ دُونَ عَلَانِيَتِهِ فَذَلِكَ الْجَوْرُ
২৪ - আমাকে আবদুর রহমান বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে আল-মুহারিবী বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি যুবাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যার গোপন অবস্থা তার প্রকাশ্য অবস্থার চেয়ে উত্তম, সেটিই হলো শ্রেষ্ঠত্ব; আর যার গোপন অবস্থা তার প্রকাশ্য অবস্থার সমান, সেটি হলো ভারসাম্য; আর যার গোপন অবস্থা তার প্রকাশ্য অবস্থার চেয়ে নিম্নমানের, সেটিই হলো অবিচার।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْجَزَرِيِّ قَالَ: كَانَتِ الْعُلَمَاءُ إِذَا الْتَقَوْا تَوَاصَوْا بِهَذِهِ الْكَلِمَاتِ، وَإِذَا غَابُوا كَتَبَ بِهَا بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ أَنَّهُ: مَنْ أَصْلَحَ سَرِيرَتَهُ أَصْلَحَ اللَّهُ عَلَانِيَتَهُ، وَمَنْ أَصْلَحَ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ كَفَاهُ اللَّهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ، وَمَنِ اهْتَمَّ بِأَمْرِ آخِرَتِهِ كَفَاهُ اللَّهُ أَمْرَ دُنْيَاهُ
২৫ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হুসাইন বিন আলী আল-জুফী বর্ণনা করেছেন, মাকিল বিন উবায়দুল্লাহ আল-জাজারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলেমগণ যখন পরস্পর সাক্ষাৎ করতেন তখন তারা একে অপরকে এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে উপদেশ দিতেন, আর যখন তারা একে অপরের থেকে দূরে থাকতেন তখন তারা একে অপরের নিকট এই লিখে পাঠাতেন যে: যে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সংশোধন করবে আল্লাহ তার বাহ্যিক অবস্থা সংশোধন করে দেবেন, আর যে ব্যক্তি তার ও আল্লাহর মধ্যবর্তী বিষয় সংশোধন করবে আল্লাহ তার ও মানুষের মধ্যবর্তী বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হবেন। আর যে ব্যক্তি তার আখিরাতের বিষয় নিয়ে চিন্তিত হবে আল্লাহ তার দুনিয়ার বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
26 - حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ بِلَالِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: لَا تَكُنْ وَلِيًّا لِلَّهِ فِي الْعَلَانِيَةِ وَعَدُوَّهُ فِي السَّرِيرَةِ
২৬ - সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-আওযায়ী থেকে বর্ণিত, বিলাল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: প্রকাশ্যে আল্লাহর বন্ধু আর গোপনে তাঁর শত্রু হয়ো না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
27 - حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ قُرَيْشٍ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: يَا مَعْشَرَ الْمُسْتَتِرِينَ اعْلَمُوا أَنَّ عِنْدَ اللَّهِ مَسْأَلَةً فَاضِحَةً قَالَ تَعَالَى {فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الحجر: 93]
২৭ - বিশর বিন মুআয কুরাইশ বংশের জনৈক শায়খ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আযীয বলেছেন: হে গোপনকারীরা! জেনে রেখো যে, আল্লাহর নিকট এক উন্মোচনকারী জিজ্ঞাসাবাদ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন {অতএব তোমার রবের শপথ! আমি তাদের সকলকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করব তারা যা করত সে সম্পর্কে।} [আল-হিজর: ৯৩]
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
28 - وَحَدَّثَنِي سُرَيْجٌ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ بِلَالَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: لَا تَكُنْ ذَا وَجْهَيْنِ وَذَا لِسَانَيْنِ، تُظْهِرُ لِلنَّاسِ لِيَحْمَدُوكَ، وَقَلْبُكَ فَاجِرٌ
২৮ - এবং সুরাইজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওযাঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বিলাল ইবনে সাদকে বলতে শুনেছি: তুমি দ্বি-মুখী ও দ্বি-জিহ্বা বিশিষ্ট হয়ো না; তুমি মানুষের সামনে নিজেকে এমনভাবে প্রকাশ করো যাতে তারা তোমার প্রশংসা করে, অথচ তোমার অন্তর পাপাচারী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
29 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الرَّبِيعِ، قَالَ: وَعَظَ الْحَسَنُ يَوْمًا فَانْتَحَبَ رَجُلٌ، فَقَالَ الْحَسَنُ: لَيَسْأَلَنَّكَ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَا أَرَدْتَ بِهَذَا
২৯ - মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল-ইজলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাবী’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন হাসান নসিহত করলেন, তখন এক ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে উঠল। তখন হাসান বললেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন যে, এর দ্বারা তোমার উদ্দেশ্য কী ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
30 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْأَشْعَثِ: عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ قَالَ: سَمِعْتُهُ: خَيْرُ الْعَمَلِ أَخْفَاهُ، أَمْنَعُهُ مِنَ الشَّيْطَانِ وَأَبْعَدُهُ مِنَ الرِّيَاءِ
৩০ - মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনুল আশআাস থেকে, তিনি ফুযাইল ইবনে ইয়ায থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: সর্বোত্তম আমল হলো যা সর্বাধিক গোপন, যা শয়তান থেকে সর্বাধিক সুরক্ষিত এবং যা রিয়া থেকে সর্বাধিক দূরবর্তী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
31 - حَدَّثَنِي مَهْدِيُّ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُطْعِمِ بْنِ الْمِقْدَامِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْكَلَاعِيِّ، عَنْ نُصَيْحٍ الْعَنْسِيِّ، عَنْ رَكْبٍ الْمِصْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 57⦘ «طُوبَى لِمَنْ طَابَ كَسْبُهُ، وَصَلُحَتْ سَرِيرَتُهُ، وَكَرُمَتْ عَلَانِيَتُهُ، وَعَزَلَ عَنِ النَّاسِ شَرَّهُ»
৩১ - মাহদী বিন হাফস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন আইয়াশ হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুতয়িম বিন আল-মিকদাম আস-সানআনী থেকে, তিনি আনবাসাহ বিন সাঈদ আল-কালাঈ থেকে, তিনি নুসাইহ আল-আনসী থেকে, তিনি রাকব আল-মিসরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ «সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যার উপার্জন পবিত্র হয়েছে, যার গোপন চরিত্র সংশোধন হয়েছে, যার প্রকাশ্য আচরণ সম্মানজনক হয়েছে এবং যে মানুষের নিকট থেকে নিজের মন্দকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।’»
(খণ্ড: ১)
আল-ইখলাস ওয়ান নিয়্যাহ লি-ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
32 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ قَالَ: كَانَ أَبُو وَائِلٍ إِذَا خَلَا بَكَى، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ إِذَا سَجَدَ: رَبِّ ارْحَمْنِي، رَبِّ اعْفُ عَنِّي، رَبِّ إِنْ تَعْفُ عَنِّي تَعْفُ طَوْلًا مِنْ قِبَلِكَ، وَإِنْ تُعَذِّبْنِي تُعَذِّبْنِي غَيْرَ ظَالِمٍ وَلَا مَسْبُوقٍ قَالَ: ثُمَّ يَشِيجُ كَأَشَدِّ نَشِيجِ الثَّكْلَى، وَلَوْ جُعِلَتْ لَهُ الدُّنْيَا عَلَى أَنْ يَبْكِيَ وَأَحَدٌ يَرَاهُ لَمْ يَفْعَلْ
৩২ - আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি বলেন: আবু ওয়ায়িল যখন নির্জনে থাকতেন তখন কাঁদতেন। আমি তাঁকে সিজদাবনত অবস্থায় বলতে শুনেছি: হে আমার রব, আমার প্রতি দয়া করুন; হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন; হে আমার রব, আপনি যদি আমাকে ক্ষমা করেন তবে তা আপনার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ হিসেবেই করবেন; আর যদি আপনি আমাকে শাস্তি দেন তবে আপনি কোনো অন্যায়কারী নন এবং পরাভূত নন। তিনি বলেন: এরপর তিনি সন্তানহারা শোকাতুরা নারীর মতো অতিশয় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেন। যদি তাঁকে এই শর্তে সমগ্র দুনিয়া প্রদান করা হতো যে তিনি কাঁদবেন আর কেউ তাঁকে দেখবে, তবে তিনি তা করতেন না।