(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: -)
اختلاف العلماء للطحاوي - اختصار الجصاص   (الطحاوي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مختصر اختلاف العلماء

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سلمة الأزدي الحجري المصري المعروف بالطحاوي (ت 321 هـ)

اختصار: أبي بكر أحمد بن علي الجصاص (ت 370 هـ)

المحقق: د. عبد الله نذير أحمد

الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت

الطبعة: الثانية، 1417

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ত্বহাবী কর্তৃক উলামায়ে কেরামের মতপার্থক্য - জাসসাসকৃত সংক্ষিপ্তসার   (ত্বহাবী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: মুখতাসার ইখতিলাফ আল-উলামা

লেখক: আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালামাহ বিন আব্দুল মালিক বিন সালামাহ আল-আজদী আল-হাজারী আল-মিসরী, যিনি ত্বহাবী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩২১ হিজরি)

সংক্ষিপ্তকরণ: আবু বকর আহমাদ বিন আলী আল-জাসসাস (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আব্দুল্লাহ নাযীর আহমাদ

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৭ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজজ্জাহ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১১৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم اللَّهُمَّ صل على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَسلم

 

[1]‌‌ فِي المَاء الَّذِي خالطته نَجَاسَة

 

قَالَ أَصْحَابنَا يُفْسِدهُ والآبار والأواني سَوَاء وَكَذَلِكَ الْجنب والمحدث إِذا اغتسلا فِيهِ أفسداه وَكره الثَّوْريّ ولوغ الْكَلْب إِلَّا أَن يكون كثيرا وَلم يجد للكثير شَيْئا

وَقَالَ مَالك فِي بِئْر مُعينَة اغْتسل فِيهَا جنب إِن ذَلِك لَا يُفْسِدهَا وَذكر ابْن الْقَاسِم عَنهُ أَن الْجنب لَا يغْتَسل فِي المَاء الدَّائِم وَلَو اغْتسل فِيهِ لم يُنجسهُ إِذا كَانَ معينا

وَقَالَ فِي الْحِيَاض الَّتِي يستسقى مِنْهَا للدواب لَو اغْتسل فِيهَا جنب أفْسدهُ إِلَّا أَن يكون قد غسل قبل ذَلِك فرجه وَمَوْضِع الْأَذَى مِنْهُ فَلَا يكون بِهِ بَأْسا

قَالَ أَبُو جَعْفَر قد دلّ على أَن مذْهبه فِي مياه الْآبَار أَن النَّجَاسَة لَا تلحقها فَإِنَّهَا فِي حكم مياه الْبحار إِلَّا أَنه كره الإغتسال فِيهَا لنهي النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْجنب عَن الإغتسال فِي المَاء الدَّائِم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

[১]‌‌ যে পানিতে নাপাকি মিশ্রিত হয়েছে

 

আমাদের সাথীগণ বলেন, এটি পানিকে নষ্ট করে দেয়; এক্ষেত্রে কূপ এবং পাত্রসমূহ সমান। অনুরূপভাবে জানাবত (অপবিত্র) অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং অপবিত্র (অজুহীন) ব্যক্তি যখন তাতে গোসল করে, তখন তারা তা নষ্ট করে দেয়। সাওরি কুকুরের চাটানোকে অপছন্দ করেছেন, তবে যদি পানি প্রচুর হয় (তবে ভিন্ন কথা); আর তিনি প্রচুর পানির কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি।

ইমাম মালিক এমন এক নির্দিষ্ট কূপ সম্পর্কে বলেছেন যাতে জানাবত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি গোসল করেছে যে, নিশ্চয়ই তা পানিকে নষ্ট করে না। ইবনুল কাসিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জানাবত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি যেন আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে; তবে সে যদি তাতে গোসল করে ফেলে এবং সেটি যদি প্রবহমান হয়, তবে তা পানিকে অপবিত্র করবে না।

তিনি সেই সব হাউজ (জলাধার) সম্পর্কে বলেছেন যেখান থেকে গবাদি পশুদের পানি পান করানো হয় যে, যদি তাতে জানাবত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি গোসল করে, তবে সে তা নষ্ট করে দেবে; তবে যদি সে তার পূর্বে নিজের লজ্জাস্থান এবং অপবিত্রতার স্থান ধুয়ে নেয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

আবু জাফর বলেন: এটি নির্দেশ করে যে, কূপের পানির ব্যাপারে তাঁর মাযহাব হলো নাপাকি একে স্পর্শ করে না (নাপাক করে না); কারণ এগুলো সমুদ্রের পানির বিধানভুক্ত। তবে তিনি এতে গোসল করাকে অপছন্দ করেছেন, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাবত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে আবদ্ধ পানিতে গোসল করতে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ لَا يفْسد المَاء بِالنَّجَاسَةِ إِلَّا أَن يكون تغير طعمه أَو رِيحه وَكره اللَّيْث للْجنب فِي أَن يغْتَسل فِي الْبِئْر

وَقَالَ ابْن صَالح لَا بَأْس بِأَن يغْتَسل الْجنب فِي المَاء الراكد الْكثير الْقَائِم فِي النَّهر والسبخة وَكره الْوضُوء بِالْمَاءِ للصَّلَاة إِذا كَانَ أقل من قدر الْكر

وَقَالَ الشَّافِعِي إِذا كَانَ المَاء قُلَّتَيْنِ لم ينجس إِلَّا بِمَا غير طعمه أَو رِيحه أَو لَونه وَإِن كَانَ أقل من قُلَّتَيْنِ نجس بمخالطة النَّجَاسَة

وروى مَنْصُور بن زَاذَان عَن عَطاء فِي قصَّة الحبشي الَّذِي مَاتَ فِي زَمْزَم فَأمر ابْن الزبير بنزحه فَلم يَنْقَطِع وَذَلِكَ بِحَضْرَة بقايا الصَّحَابَة فَلم يخالفوه

وروى عَطاء بن السَّائِب عَن ميسرَة عَن عَليّ عَلَيْهِ الْكَرَامَة عَن بِئْر وَقعت فِيهَا فَأْرَة فَمَاتَتْ قَالَ ينْزح مَاؤُهَا حَتَّى يَغْلِبهُمْ وَالله أعلم

[2]‌‌ فِيمَا يَمُوت فِي الْبِئْر

 

قَالَ إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ فِي الْبِئْر يَمُوت فِيهَا الجرذ ينْزح مِنْهَا أَرْبَعُونَ دلوا
ইমাম আওযাঈ বলেছেন যে, নাপাকি মিশ্রিত হওয়ার কারণে পানি অপবিত্র হয় না, যতক্ষণ না তার স্বাদ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়। আর লাইস জুনুবি ব্যক্তির কূপে গোসল করাকে অপছন্দ করেছেন।

ইবনে সালেহ বলেছেন যে, জুনুবি ব্যক্তির নদী বা লোনা ভূমিতে জমে থাকা অধিক পরিমাণ স্থির পানিতে গোসল করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সালাতের জন্য অজুর ক্ষেত্রে পানি যদি এক কুর পরিমাণের চেয়ে কম হয় তবে তিনি তা অপছন্দ করেছেন।

ইমাম শাফিঈ বলেছেন, পানি যদি দুই কুল্লা পরিমাণ হয় তবে স্বাদ, ঘ্রাণ অথবা বর্ণ পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা অপবিত্র হয় না। আর যদি দুই কুল্লার চেয়ে কম হয় তবে নাপাকি মিশ্রিত হওয়ার সাথে সাথেই তা অপবিত্র হয়ে যায়।

মানসুর ইবনে যাদান আতা হতে সেই হাবশী ব্যক্তির ঘটনার ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন যে যমযম কূপে মারা গিয়েছিল। তখন ইবনে যুবায়ের তা সেঁচে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু পানি শেষ হয়নি। এটি অবশিষ্ট সাহাবীদের উপস্থিতিতে ঘটেছিল এবং তারা এর বিরোধিতা করেননি।

আতা ইবনুল সায়েব মায়সারা হতে এবং তিনি আলী (তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হোক) হতে একটি কূপ সম্পর্কে বর্ণনা করেন যাতে একটি ইঁদুর পড়ে মারা গিয়েছিল; তিনি বলেন: তার পানি সেঁচে ফেলতে হবে যতক্ষণ না তা তাদের সাধ্যের অতীত হয়ে যায়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

[২]‌‌ কূপে যা কিছু মারা যায় তার বিবরণ

 

ইবরাহিম নাখঈ বলেছেন, কূপে যদি বড় ইঁদুর মারা যায় তবে তা থেকে চল্লিশ বালতি পানি সেঁচে ফেলতে হবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১১৭)
وَقَالَ الشّعبِيّ فِي الطير أَرْبَعُونَ دلوا

وَقَالَ أَبُو حنيفَة رضي الله عنه وَأَبُو يُوسُف وَمُحَمّد فِي الدَّجَاجَة أَرْبَعُونَ أَو خَمْسُونَ وَفِي الْفَأْرَة عشرُون أَو ثَلَاثُونَ وَقَالَ زفر فِي الْفَأْرَة وَالطير أَرْبَعُونَ

وَقَالَ مَالك فِي الدَّجَاجَة تَمُوت فِي الْبِئْر تنزف الى أَن تغلبهم وَيُصلي كل صَلَاة صلاهَا من تَوَضَّأ بِهِ مَا كَانَ فِي الْوَقْت

وَقَالَ ابْن الْقَاسِم عَن مَالك فِي الْفَأْرَة والوزغة يَسْتَقِي مِنْهَا حَتَّى تطيب

وَقَالَ الثَّوْريّ فِي الوزعة يستقى مِنْهَا دلاء

وَحميد الرواسِي قَالَ لَا أعرف من قَول الْحسن بن صَالح فِيمَا يَقع فِي الْبِئْر مِمَّا ينجس أَن يستقى مِنْهَا أقل من أَرْبَعِينَ

قَالَ أَبُو جَعْفَر اتِّفَاق هَؤُلَاءِ الْفُقَهَاء أَنه يطهرها نزح بعض مَائِهَا يَمُوت فِيهَا مَا يَمُوت فِيهَا مِمَّا ذكرنَا قد حصل مِنْهُم [1 ب]

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ وَعبد الله بن وهب لَا ينجس المَاء بِمَوْت شَيْء من ذَلِك فِيهِ إِلَّا أَن يُغير طعمه أَو لَونه أَو رِيحه

وَقَالَ اللَّيْث ينجس الْبِئْر بِمَوْت الفأر فِيهِ وَلم يقدر فِي نزحه شَيْئا وَاعْتبر الشَّافِعِي رضي الله عنه الْقلَّتَيْنِ

[3]‌‌ فِي سُؤْر الْكَلْب

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَالثَّوْري وَاللَّيْث سُؤْر الْكَلْب نجس وليبتدوا بِغسْل الْإِنَاء مِنْهُ
এবং শাবি পাখির ক্ষেত্রে (কূপ থেকে) চল্লিশ বালতি পানি তোলার কথা বলেছেন।

ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ মুরগির ক্ষেত্রে চল্লিশ বা পঞ্চাশ বালতি এবং ইঁদুরের ক্ষেত্রে বিশ বা ত্রিশ বালতি পানি তোলার কথা বলেছেন। ইমাম জুফার ইঁদুর ও পাখির ক্ষেত্রে চল্লিশ বালতি পানি তোলার কথা বলেছেন।

ইমাম মালিক কূপে মুরগি মারা যাওয়ার বিষয়ে বলেছেন যে, পানি নিঃশেষ হওয়া পর্যন্ত তা সেচে ফেলতে হবে। আর যে ব্যক্তি এই পানি দিয়ে অজু করে নামাজ পড়েছে, সে ওয়াক্তের মধ্যে থাকলে ওই প্রতিটি নামাজ পুনরায় পড়ে নেবে।

ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে ইঁদুর ও টিকটিকির ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যে, কূপ পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তা থেকে পানি তোলা হবে।

সুফিয়ান সাওরি টিকটিকির ক্ষেত্রে বলেছেন যে, তা থেকে কয়েক বালতি পানি তোলা হবে।

হুমায়দ আর-রুওয়াসি বলেন, কূপে অপবিত্রতা সৃষ্টিকারী কিছু পড়ার বিষয়ে হাসান বিন সালিহ-এর এমন কোনো মত আমার জানা নেই যেখানে চল্লিশ বালতির কম পানি তোলার কথা বলা হয়েছে।

আবু জাফর বলেন, এই ফকিহগণের ঐকমত্য যে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা কূপে মারা গেলে এর কিছু পানি সেচে ফেলাই একে পবিত্র করে দেয়—এ বিষয়টি তাদের থেকে সাব্যস্ত হয়েছে। [১ খ]

আওযায়ি এবং আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব বলেছেন যে, এ জাতীয় কোনো কিছু মারা যাওয়ার কারণে পানি অপবিত্র হয় না যতক্ষণ না তার স্বাদ, বর্ণ অথবা গন্ধ পরিবর্তিত হয়।

লাইস ইবনে সাদ বলেছেন যে, কূপে ইঁদুর মারা গেলে তা অপবিত্র হয়ে যায়, তবে তিনি পানি সেচে ফেলার কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। আর ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ‘কুল্লাতাইন’ (দুই মটকা)-এর পরিমাপ বিবেচনা করেছেন।

[৩]‌‌ কুকুরের উচ্ছিষ্ট প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীবর্গ (হানাফি ফকিহগণ), সাওরি এবং লাইস বলেছেন যে, কুকুরের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র, তাই তারা যেন এটি থেকে পাত্র ধৌত করার মাধ্যমে কাজ শুরু করে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১১৮)
وَقَالَ مَالك هُوَ طَاهِر وَيسْتَحب غسل الْإِنَاء إِذا ولغَ فِي المَاء وَإِن ولغَ فِي لبن أَو سمن فَلَا بَأْس بِأَكْلِهِ وَقَالَ فِي الحَدِيث الْمَرْوِيّ فِي الْكَلْب لَا أَدْرِي مَا حَقِيقَته وَضَعفه مرَارًا فِيمَا ذكره عَنهُ ابْن الْقَاسِم

قَالَ وَكَانَ يرى الْكَلْب من أهل الْبَيْت

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ سُؤْر الْكَلْب فِي الْإِنَاء نجس وَفِي المستنقع لَيْسَ بِنَجس وَقَالَ يغسل الثَّوْب من لعاب الْكَلْب وَيغسل لحم الصَّيْد من لعابه

وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه سُؤْر الْكَلْب نجس وَيغسل الْإِنَاء مِنْهُ سبعا أولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ

وروى أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ قَالَ حَدثنَا أَبُو [حرَّة] عَن الْحسن إِذا ولغَ الْكَلْب فِي الْإِنَاء غسل سبع مَرَّات وَالثَّامِنَة بِالتُّرَابِ وَذهب فِيهِ الى مَا روى شُعْبَة عَن أبي التياح عَن مطرف بن عبد الله عَن عبد الله بن الْمُغَفَّل أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا ولغَ الْكَلْب فِي إِنَاء أحدكُم فليغسله سبع مَرَّات الثَّامِنَة بِالتُّرَابِ

وروى هِشَام بن حسان وقرة بن خَالِد عَن مُحَمَّد بن سِيرِين عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ طهُور إِنَاء أحدكُم إِذا ولغَ فِيهِ الْكَلْب أَن يغسل سبع مَرَّات
ইমাম মালিক বলেন, এটি (কুকুর) পবিত্র এবং কুকুর যদি পানির পাত্রে মুখ দেয় তবে পাত্রটি ধৌত করা মুস্তাহাব। আর যদি দুধ বা ঘিতে মুখ দেয় তবে তা খেতে কোনো অসুবিধা নেই। কুকুরের বিষয়ে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "এর হাকিকত বা বাস্তবতা আমার জানা নেই" এবং ইবনে আল-কাসিম তাঁর থেকে যা উল্লেখ করেছেন তাতে তিনি একে বারবার দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তিনি কুকুরকে গৃহপালিত বা ঘরের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন।

ইমাম আওযায়ী বলেন, পাত্রের মধ্যে কুকুরের উচ্ছিষ্ট নাপাক, তবে জলাশয়ের বদ্ধ পানির ক্ষেত্রে তা নাপাক নয়। তিনি আরও বলেন, কুকুরের লালা লাগলে কাপড় ধৌত করতে হবে এবং শিকারকৃত পশুর গোশত থেকেও তার লালা ধৌত করতে হবে।

ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, কুকুরের উচ্ছিষ্ট নাপাক এবং এর কারণে পাত্র সাতবার ধৌত করতে হবে, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে।

আবু দাউদ তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হুররাহ হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন কুকুর পাত্রে মুখ দেয়, তখন তা সাতবার ধৌত করতে হবে এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে। এ ক্ষেত্রে তিনি শু’বাহ কর্তৃক আবু আত-তায়্যাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণিত হাদিসের মত গ্রহণ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয়, তখন সে যেন তা সাতবার ধৌত করে এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে।"

হিশাম ইবনে হাসসান এবং কুররাহ ইবনে খালিদ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয়, তখন তার পবিত্রতা অর্জনের উপায় হলো তা সাতবার ধৌত করা।"
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১১৯)
وروى أَبُو نعيم عَن عبد السَّلَام بن حَرْب عَن عبد الْملك عَن عَطاء عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ فِي الْإِنَاء يلغ فِيهِ الْكَلْب أَو الهر قَالَ يغسل ثَلَاث مَرَّات

[4]‌‌ فِي سُؤْر الهر

 

كرهه أَبُو حنيفَة وَمُحَمّد وَابْن أبي ليلى وَرُوِيَ نَحوه عَن ابْن عمر وَأبي هُرَيْرَة

وَلم ير مَالك وَالْأَوْزَاعِيّ وَأَبُو يُوسُف وَالْحسن بن صَالح بِهِ بَأْسا

وَحَدِيث أبي قَتَادَة إبي قَتَادَة إِنَّمَا فِيهِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا لَيست بنجسة إِنَّهَا من الطوافين عَلَيْكُم والطوافات وَلم يذكر حكم سؤرها فِي كَرَاهَة وَلَا إِبَاحَة [و] الْإِبَاحَة الْمَذْكُورَة فِيهِ من قَول أبي قَتَادَة

وروى أَبُو عَاصِم عَن قُرَّة بن خَالِد عَن مُحَمَّد بن سِيرِين عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ طهُور الْإِنَاء إِذا ولغَ فِيهِ الهر أَن يغسل مرّة أَو مرَّتَيْنِ شكّ قُرَّة
আবু নুয়াইম আবদুস সালাম ইবনে হারব থেকে, তিনি আবদুল মালিক থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবু হুরায়রা) সেই পাত্র সম্পর্কে বলেছেন যাতে কুকুর বা বিড়াল মুখ দেয়: তিনি বলেছেন, তা তিনবার ধুতে হবে।

[৪]‌‌ বিড়ালের উচ্ছিষ্ট বা ঝুটা প্রসঙ্গে

 

আবু হানিফা, মুহাম্মদ এবং ইবনে আবি লায়লা এটিকে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) মনে করতেন; এবং ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

মালিক, আওযায়ি, আবু ইউসুফ এবং হাসান ইবনে সালিহ এতে কোনো সমস্যা দেখেননি।

আবু কাতাদার হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কেবল এটাই বর্ণিত হয়েছে যে, "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র নয়; এটি তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত।" সেখানে বিড়ালের ঝুটার বিধান সম্পর্কে মাকরুহ হওয়া বা বৈধ হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। আর তাতে উল্লিখিত বৈধতার বিষয়টি আবু কাতাদার নিজস্ব উক্তি।

আবু আসিম কুররাহ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "বিড়াল কোনো পাত্রে মুখ দিলে তার পবিত্রতা অর্জনের উপায় হলো তা একবার বা দুইবার ধৌত করা।" এই একবার না কি দুইবার—সে বিষয়ে কুররাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২০)
وَقد روى هِشَام بن حسان عَن مُحَمَّد من قَول أبي هُرَيْرَة وَلَيْسَ قُرَّة بِدُونِ هِشَام بن حسان على أَنه قد كَانَ ابْن سِيرِين يُوقف أَحَادِيث أبي هُرَيْرَة فَإِذا سُئِلَ أَهِي عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ كل حَدِيث أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم حدّثنَاهُ إِبْرَاهِيم بن أبي دَاوُد

[2 أ] قَالَ حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن عبد الله الْهَرَوِيّ قَالَ حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم عَن يحيى بن عَتيق عَن مُحَمَّد بن سِيرِين أَنه كَانَ إِذا حدث عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه فَقيل عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ كل حَدِيث أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم

وَأما مَا حَدثنَا الرّبيع بن سُلَيْمَان الْأَزْدِيّ قَالَ حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس قَالَ حَدثنِي عبد الرَّحْمَن بن زيد بن أسلم عَن أَبِيه عَن عَطاء بن يسَار عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رضي الله عنه أَن رَسُول صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَن الْحِيَاض الَّتِي بَين مَكَّة وَالْمَدينَة فَقَالُوا يَا رَسُول الله تردها السبَاع وَالْكلاب وَالْحمير فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَهَا مَا فِي بطونها وَمَا بَقِي فَهُوَ لنا طهُور فَإِنَّهُ حَدِيث لم يرد إِلَّا من هَذَا الْوَجْه وَهُوَ ضَعِيف من جِهَة عبد الرَّحْمَن بن زيد بن أسلم
হিশাম ইবনে হাসসান মুহাম্মদ থেকে আবু হুরায়রাহ-এর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর কুররাহ হিশাম ইবনে হাসসানের চেয়ে কম মর্যাদার নন। তবে ইবনে সীরীন আবু হুরায়রাহ-এর হাদীসগুলোকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করতেন; যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হতো যে সেগুলো কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত? তিনি বলতেন: আবু হুরায়রাহ-এর সকল হাদীসই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত। আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আবি দাউদ।

[২ ক] তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আতিক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন আবু হুরায়রাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হতো—এটি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত? তখন তিনি বলতেন: আবু হুরায়রাহ-এর সকল হাদীসই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত।

আর আমাদের কাছে রাবি ইবনে সুলায়মান আল-আযদি যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার কাছে আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী জলাশয়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলোতে হিংস্র প্রাণী, কুকুর ও গাধা পানি পান করতে আসে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সেগুলো যা পান করেছে তা তাদের জন্য, আর যা অবশিষ্ট থাকে তা আমাদের জন্য পবিত্র।" নিশ্চয়ই এই হাদীসটি কেবল এই সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে এবং এটি আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলামের কারণে দুর্বল।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২১)
[5]‌‌ فِي سُؤْر الْحمار والبغل

 

[قَالَ أَصْحَابنَا] لَا يجوز الْوضُوء بِهِ وَهُوَ قَول الثَّوْريّ

وَقَالَ مَالك وَالْأَوْزَاعِيّ وَالشَّافِعِيّ يجزىء

6 -‌‌ فِي سُؤْر الطير

 

قَالَ أَصْحَابنَا مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه مِنْهُ كره الْوضُوء بسؤرة ويجزىء وَمَا أكل لَحْمه فَلَا بَأْس بسؤره وَكره سُؤْر الدَّجَاجَة المخلاة

وَقَول مَالك مثله إِلَّا أَنه قَالَ فِي سُؤْر الطير الَّذِي يَأْكُل الْجِيَف إِذا تَوَضَّأ وَصلى يُعِيد فِي الْوَقْت فَإِن مضى الْوَقْت فَلَا إِعَادَة عَلَيْهِ

7 -‌‌ فِي سُؤْر الْجنب وَالْحَائِض والمشرك

 

لَا بَأْس بِهِ عِنْد أَصْحَابنَا وَالثَّوْري وَقَالَ الثَّوْريّ إِن تَوَضَّأ بِفضل وضوء إِنْسَان من حدث لم يجزه

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ لَا يغْتَسل الرجل بِفضل غسل الْمَرْأَة إِلَّا أَن يتنازعا جَمِيعًا وَقَالَ يتَوَضَّأ بِفضل وضوء الْمَرْأَة إِذا لم يغنه عَنهُ

وَقَالَ مَالك لَا بَأْس بسؤر الْحَائِض وَالْجنب بِفضل وضوئهما إِذا لم يكن فِي أَيْدِيهِمَا نَجَاسَة وَلَا يتَوَضَّأ بسؤر النَّصْرَانِي وَلَا بِمَا أَدخل يَده فِيهِ
[5]‌‌ গাধা এবং খচ্চরের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে

 

[আমাদের সঙ্গীরা বলেছেন] তা দিয়ে অজু করা জায়েজ নেই এবং এটি সাওরির অভিমত।

মালিক, আওজায়ি এবং শাফিঈ বলেছেন তা জায়েজ হবে।

6 -‌‌ পাখির উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে

 

আমাদের সঙ্গীরা বলেছেন, যে পাখির গোশত খাওয়া হারাম তার উচ্ছিষ্ট দিয়ে অজু করা মাকরুহ কিন্তু তা জায়েজ হবে। আর যে পাখির গোশত খাওয়া হালাল তার উচ্ছিষ্ট ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। তবে বিচরণকারী (মুক্ত) মুরগির উচ্ছিষ্টকে মাকরুহ গণ্য করা হয়েছে।

মালিকের অভিমতও অনুরূপ, তবে তিনি বলেছেন: যে পাখি মৃতদেহ ভক্ষণ করে তার উচ্ছিষ্ট দিয়ে যদি কেউ অজু করে নামাজ পড়ে, তবে ওয়াক্তের ভেতর তাকে তা পুনরায় আদায় করতে হবে; কিন্তু ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তাকে আর পুনরায় পড়তে হবে না।

7 -‌‌ জুনুবি, ঋতুমতী এবং মুশরিকের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে

 

আমাদের সঙ্গীদের নিকট এবং সাওরির মতে এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সাওরি বলেছেন, যদি কেউ অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য ব্যবহৃত অন্য কোনো ব্যক্তির অজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে অজু করে, তবে তা জায়েজ হবে না।

আওজায়ি বলেছেন, কোনো পুরুষ কোনো নারীর গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করবে না, যদি না তারা উভয়ে একসাথে তা ব্যবহার করে। তিনি আরও বলেছেন, নারীর অজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে অজু করা যাবে যদি এছাড়া অন্য কোনো বিকল্প না থাকে।

মালিক বলেছেন, ঋতুমতী নারী ও জুনুবি ব্যক্তির উচ্ছিষ্ট এবং তাদের অজুর অবশিষ্ট পানিতে কোনো সমস্যা নেই যদি তাদের হাতে কোনো নাপাকি লেগে না থাকে। তবে খ্রিস্টানের উচ্ছিষ্ট দিয়ে অজু করা যাবে না এবং এমন পানি দিয়েও নয় যাতে সে হাত ঢুকিয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২২)
وَقَالَ الْحسن بن صَالح لَا بَأْس بسؤر الْجنب وَالْحَائِض سُؤْر شرابهما وَيكرهُ سُؤْر وضوئهما

8 -‌‌ فِيمَا لَا دم لَهُ أَو يعِيش فِي المَاء فَيَمُوت فِيهِ

 

قَالَ أَصْحَابنَا لَا يفْسد المَاء

وَقَالَ مَالك مثله فِي الزنبور وَالْعَقْرَب والضفدع والسرطان

قَالَ الْأَوْزَاعِيّ الضفدع لَا يفْسد المَاء يَمُوت فِيهِ

وَقَالَ الْحسن بن صَالح مَا لَا دم لَهُ لَا يفْسد المَاء يَمُوت فِيهِ وَكَذَلِكَ قَالَ فِي الحكم وأصحابنا يفسدونه بالحكم

وَقَالَ الثَّوْريّ أكره مَا يَمُوت فِيهِ الضفدع

وَقَالَ الشَّافِعِي موت الذُّبَاب فِي المَاء يُفْسِدهُ

حَدِيث أبي سعيد وَأبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي مقل الذُّبَاب فِي المَاء يُوجب أَن لَا يُنجسهُ
হাসান বিন সালেহ বলেছেন, জুনুবি ব্যক্তি এবং ঋতুবতী নারীর পান করার পর অবশিষ্ট পানিতে কোনো সমস্যা নেই, তবে তাদের ওযুর জন্য রাখা পানির অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়।

৮ -‌‌ যার প্রবাহিত রক্ত নেই অথবা যা পানিতে বাস করে এবং তাতেই মারা যায় সে প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীবর্গ (ফকীহগণ) বলেছেন, এটি পানিকে নষ্ট বা অপবিত্র করে না।

ইমাম মালেক ভীমরুল, বিচ্ছু, ব্যাঙ এবং কাঁকড়া সম্পর্কেও অনুরূপ কথা বলেছেন।

আওযাঈ বলেছেন, ব্যাঙ পানিতে মারা গেলে তা পানিকে নষ্ট করে না।

হাসান বিন সালেহ বলেছেন, যে প্রাণীর প্রবাহিত রক্ত নেই তা পানিতে মারা গেলে পানি নষ্ট হয় না। হাকামও অনুরূপ বলেছেন, তবে আমাদের সাথীবর্গ হাকাম থেকে (এর বিপরীতে পানি) নষ্ট হওয়ার হুকুম বর্ণনা করেন।

সাওরী বলেছেন, যে পানিতে ব্যাঙ মারা যায় আমি তা অপছন্দ করি।

ইমাম শাফেঈ বলেছেন, পানিতে মাছি মারা যাওয়া পানিকে নষ্ট করে দেয়।

পানিতে মাছি নিমজ্জিত হওয়া সম্পর্কে আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসটি এটিই সাব্যস্ত করে যে, এটি পানিকে নাপাক করে না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২৩)
9 -‌‌ فِي الْخمر يَقع فِي المَاء

 

قَالَ أَصْحَابنَا يُفْسِدهُ وَهُوَ قَول الثَّوْريّ

وَقَالَ مَالك فِي الْخمر يُصِيب ثوب الرجل فَيصَلي فِيهِ وَهُوَ لَا يعلم أَنه يُعِيد مَا دَامَ فِي الْوَقْت وَهُوَ قَول الْأَوْزَاعِيّ

وَقَالَ اللَّيْث فِي أحد قوليه يُعِيد وَفِي الآخر لَا يُعِيد

وَذكر اللَّيْث عَن ربيعَة أَن الْخمر لَيست بنجسة

وَقَالَ الشَّافِعِي هُوَ نجس

احْتج أَبُو جَعْفَر بنجاستها بِأَن تَحْرِيمهَا مُطلق كتحريم الْخِنْزِير فَكَانَت كَهُوَ فِي النَّجَاسَة

10 -‌‌ فِي طَهَارَة البصاق

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَالثَّوْري وَمَالك وَالْأَوْزَاعِيّ وَالشَّافِعِيّ هُوَ طَاهِر

وَرُوِيَ عَن الْأَوْزَاعِيّ أَنه كره أَن يدْخل سواكه فِي وضوئِهِ وَكره الْحسن بن حَيّ أَن يبصق الرجل فِي ثَوْبه

وروى شُعْبَة عَن حَمَّاد عَن عَمْرو بن عَطِيَّة عَن سلمَان إِذا حك أحدكُم جلده فَلَا يمسحه ببصاق فَإِنَّهُ غير طَاهِر

قَالَ شُعْبَة ثمَّ حَدَّثَنِيهِ بعد ذَلِك فَقَالَ عَن ربعي بن حِرَاش عَن سلمَان قَالَ فَذكرت ذَلِك لإِبْرَاهِيم فَقَالَ يمسحه بِالْمَاءِ
9 -‌‌ পানিতে মদ্য পড়ার বিধান

 

আমাদের সাথীগণ বলেছেন, এটি পানিকে অপবিত্র করে দেয় এবং এটিই আস-সাওরীর অভিমত।

ইমাম মালিক মদ্য সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি তা কোনো ব্যক্তির কাপড়ে লাগে এবং সে তাতে নামাজ আদায় করে এমতাবস্থায় যে সে জানত না, তবে সময় থাকাকালীন সে নামাজ পুনরায় আদায় করবে। ইমাম আওযায়ীও একই মত পোষণ করেছেন।

লায়স তাঁর দুই মতের একটিতে বলেছেন, নামাজ পুনরায় পড়বে এবং অন্যটিতে বলেছেন, পড়বে না।

আর লায়স রবীআ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মদ্য অপবিত্র নয়।

আর ইমাম শাফিঈ বলেছেন, তা অপবিত্র।

আবু জাফর এর অপবিত্রতার স্বপক্ষে এই দলিল পেশ করেছেন যে, এর হারাম হওয়া শুকরের হারামের ন্যায় নিঃশর্ত, তাই এটি অপবিত্রতার ক্ষেত্রেও শুকরের ন্যায়।

10 -‌‌ লালা বা থুতুর পবিত্রতা সম্পর্কে

 

আমাদের সাথীগণ, আস-সাওরী, মালিক, আল-আওযায়ী এবং আশ-শাফিঈ বলেছেন, তা পবিত্র।

ইমাম আওযায়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ওযুর পানির মধ্যে মিসওয়াক প্রবেশ করানো অপছন্দ করতেন। হাসান ইবনে হাই কোনো ব্যক্তির নিজ কাপড়ে থুতু ফেলা অপছন্দ করতেন।

শুবা, হাম্মাদ থেকে, তিনি আমর ইবনে আতিয়্যাহ থেকে এবং তিনি সালমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: যখন তোমাদের কেউ তার চামড়া চুলকায়, সে যেন সেখানে লালা না লাগায়, কেননা তা পবিত্র নয়।

শুবা বলেন: এরপর তিনি (হাম্মাদ) আমার কাছে এটি পুনরায় বর্ণনা করেন এবং বলেন—রিবয়ী ইবনে হিরাশ থেকে, তিনি সালমান (রা.) থেকে। তিনি (শুবা) বলেন: আমি ইবরাহীমের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, সে যেন তা পানি দিয়ে মুছে নেয়।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২৪)
وروى سُفْيَان عَن حَمَّاد عَن عَمْرو بن عَطِيَّة التَّيْمِيّ عَن سلمَان قَالَ إِذا حككت يدك فَلَا تبل يدك بالبصاق فَإِنَّهُ لَيْسَ بِطهُور

وروى دَاوُد الطَّائِي عَن جَعْفَر الْأَحْمَر عَن حميد الطَّوِيل عَن أنس بن مَالك رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بَصق فِي ثَوْبه ورد بعضه على بعض

وروى إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر عَن حميد الطَّوِيل عَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم رأى نخامة فِي الْقبْلَة فشق ذَلِك عَلَيْهِ حَتَّى رُؤِيَ ذَلِك فِي وَجهه فَقَامَ فحكه بِيَدِهِ ثمَّ قَالَ

إِن أحدكُم إِذا قَامَ فِي صلَاته فَإِنَّمَا يُنَاجِي ربه فَلَا يبصق أحدكُم فِي قبلته وَلَكِن عَن يسَاره أَو تَحت قدمه ثمَّ أَخذ طرف رِدَائه فبصق فِيهِ ثمَّ رد بعضه على بعض فَقَالَ أَو يفعل هَكَذَا

قَوْله تَحت قدمه يدل على طَهَارَته لِأَنَّهُ لَا يجوز للْمُصَلِّي أَن يقوم على نَجَاسَة

وَقَوله أَو فِي رِدَائه يدل أَيْضا عَلَيْهِ لِأَنَّهُ لَا يُصَلِّي فِي رِدَاء نجس

وروى أَبُو سعيد وَأَبُو هُرَيْرَة رضي الله عنهما عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحوه فِي البصاق فِي الثَّوْب ودلك بعضه بِبَعْض
সুফিয়ান হাম্মাদ থেকে, তিনি আমর ইবনে আতিয়্যাহ আত-তায়মি থেকে, তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন তুমি তোমার হাত চুলকাবে, তখন তোমার হাতে থুতু মিশাবে না, কেননা তা পবিত্রকারী নয়।

দাউদ আত-তাঈ জাফর আল-আহমার থেকে, তিনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক) তাঁর কাপড়ে থুতু ফেলেছেন এবং তার একাংশ অন্য অংশের সাথে ঘষে দিয়েছেন।

ইসমাইল ইবনে জাফর হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক) কিবলার দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন, যা তাঁর নিকট কষ্টদায়ক মনে হলো এবং তা তাঁর চেহারায় ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তা নিজ হাতে ঘষে তুলে ফেললেন, তারপর বললেন:

“তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, সে মূলত তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে। অতএব তোমাদের কেউ যেন তার কিবলার দিকে থুতু না ফেলে; বরং তার বাম দিকে অথবা তার পায়ের নিচে (থুতু ফেলবে)।” অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরলেন এবং তাতে থুতু ফেলে তার একাংশ অন্য অংশের সাথে ঘষে দিলেন এবং বললেন: “অথবা সে এমনটি করবে।”

তাঁর উক্তি “পায়ের নিচে” এটি তার (থুতুর) পবিত্রতা প্রমাণ করে, কারণ একজন মুসল্লির জন্য নাপাকির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বৈধ নয়।

এবং তাঁর উক্তি “অথবা তার চাদরে” এটিও তার পবিত্রতা নির্দেশ করে, কারণ কেউ নাপাক চাদর পরে সালাত আদায় করে না।

আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর উপর বর্ষিত হোক) থেকে কাপড়ে থুতু ফেলা এবং তার একাংশ অন্য অংশের সাথে ঘষার ব্যাপারে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২৫)
وروى شُعْبَة عَن مَنْصُور عَن ربعي عَن طَارق بن عبد الله الْمحَاربي عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا كنت فِي الصَّلَاة فَلَا تبزق تجاه وَجهك وَلَكِن ابزق عَن يسارك وَإِلَّا فتحت قدمك وَالله أعلم

11 -‌‌ فِي لعاب مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه

 

كره أَصْحَابنَا لعاب مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه من الدَّوَابّ وَالسِّبَاع وَلم يجيزوا الْوضُوء بِهِ

قَالَ ربيعَة وَمَالك لَا بَأْس بلعاب الْحمار

وَقَالَ الثَّوْريّ وَالْأَوْزَاعِيّ لَا بَأْس بلعاب الْحمار

وَقَالَ الشَّافِعِي لعاب الدَّوَابّ وعرقها طَاهِر قِيَاسا على بني آدم وَالله تَعَالَى أعلم

12 -‌‌ فِي بَوْل مَا يُؤْكَل لَحْمه

 

قَالَ أَبُو حنيفَة وَأَبُو يُوسُف وَالشَّافِعِيّ هُوَ نجس

وَقَالَ مَالك وَمُحَمّد بن الْحسن وَالثَّوْري وَاللَّيْث هُوَ طَاهِر
শুবা মানসুর থেকে, তিনি রিবঈ থেকে, তিনি তরিক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুহারিবি থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন তুমি সালাতে থাকো তখন তোমার সামনের দিকে থুতু ফেলো না, বরং তোমার বাম দিকে অথবা তোমার পায়ের নিচে ফেলো। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

১১ -‌‌ যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া যায় না তাদের লালা প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীগণ চতুষ্পদ জন্তু ও হিংস্র পশুর মধ্যে যাদের গোশত খাওয়া যায় না তাদের লালাকে অপছন্দ করেছেন এবং তা দিয়ে ওজু করা বৈধ মনে করেননি।

রাবিআ এবং মালিক বলেছেন: গাধার লালায় কোনো সমস্যা নেই।

সাওরি এবং আওজায়ি বলেছেন: গাধার লালায় কোনো সমস্যা নেই।

শাফিঈ বলেছেন: চতুষ্পদ জন্তুর লালা ও ঘাম পবিত্র, মানুষের ওপর কিয়াস করে। আর মহান আল্লাহই ভালো জানেন।

১২ -‌‌ যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া যায় তাদের প্রস্রাব প্রসঙ্গে

 

আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং শাফিঈ বলেছেন: তা নাপাক।

মালিক, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, সাওরি এবং লাইস বলেছেন: তা পবিত্র।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
وَمَا رُوِيَ من إِبَاحَة شربه للعرنيين فللضرورة كَمَا أَبَاحَ للزبير وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف لِبَاس الْحَرِير للضَّرُورَة

13 -‌‌ فِي بَوْل الصَّبِي والصبية

 

قَالَ أَصْحَابنَا هُوَ كبول الرجل وَهُوَ قَول مَالك وَالثَّوْري وَالْحسن بن حَيّ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ لَا بَأْس ببول الصَّبِي مَا دَامَ يشرب اللَّبن وَلَا يَأْكُل الطَّعَام

وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه بَوْل الصَّبِي لَيْسَ بِنَجس حَتَّى يَأْكُل الطَّعَام وَلَا يبين لي فرق بَينه وَبَين الصبية وَلَو غسل كَانَ أحب إِلَيّ

وَرُوِيَ الزُّهْرِيّ عَن عبيد الله بن عبد الله عَن أم قيس بنت مُحصن أَنَّهَا أَتَت بِابْن لَهَا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم يَأْكُل الطَّعَام فأجلسه فِي حجره فَبَال على ثَوْبه فَدَعَا بِمَاء فنضحه وَلم يغسلهُ
উরাইনিদের জন্য তা পান করার যে বৈধতা বর্ণিত হয়েছে, তা ছিল প্রয়োজনের খাতিরে; যেমনটি প্রয়োজনের কারণে জুবায়ের ও আব্দুর রহমান ইবনে আউফের জন্য রেশমি কাপড় পরিধান করা বৈধ করা হয়েছিল।

১৩ -‌‌ ছেলে শিশু ও মেয়ে শিশুর প্রস্রাব সম্পর্কে

 

আমাদের সাথীগণ বলেছেন, এটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রস্রাবের মতো। এটি মালিক, সাওরি এবং হাসান ইবনে হাইয়েরও অভিমত।

আওজায়ি বলেছেন, ছেলে শিশু যতক্ষণ দুধ পান করে এবং খাবার না খায়, ততক্ষণ তার প্রস্রাবে কোনো অসুবিধা নেই।

শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, খাবার খাওয়া শুরু না করা পর্যন্ত ছেলে শিশুর প্রস্রাব অপবিত্র নয়। ছেলে এবং মেয়ে শিশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তবে যদি তা ধৌত করা হয়, তবে তা আমার কাছে অধিক প্রিয়।

যুহরি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি উম্মে কায়স বিনতে মিহসান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর এক ছোট ছেলেকে আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কাছে নিয়ে আসলেন যে তখনও খাবার খাওয়া শুরু করেনি। তিনি তাকে তাঁর কোলে বসালেন, তখন সে তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। অতঃপর তিনি পানি আনালেন এবং তা ছিটিয়ে দিলেন, কিন্তু ধৌত করলেন না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২৭)
قَالَ وَقد يُسمى الْغسْل نضحا وَقد يكون النَّضْح بملاقاة المَاء لَهُ من غير غسل

كَمَا رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِنِّي لأعْلم أَرضًا يُقَال لَهَا عمان ينضح بناحيتها الْبَحْر بهَا حَيّ من الْعَرَب لَو أَتَاهُم رَسُولي مَا رَمَوْهُ بِسَهْم وَلَا حجر

وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم التَّفْرِيق بَين بَوْل الْغُلَام وَالْجَارِيَة

رَوَاهُ أَبُو قَتَادَة عَن أبي حَرْب بن أبي الْأسود عَن أَبِيه عَن عَليّ رضي الله عنهما أَنه قَالَ فِي الرَّضِيع يغسل بَوْل الْجَارِيَة وينضح بَوْل الْغُلَام

وَقد رُوِيَ سماك بن حَرْب عَن قَابُوس بن الْمخَارِق عَن لبانة بنت الْحَارِث أَن الْحُسَيْن بن عَليّ بَال على النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقلت اعطني ثَوْبك أغسله فَقَالَ إِنَّمَا يغسل من الْأُنْثَى وينضح من بَوْل الذّكر

وروى أَبُو مُعَاوِيَة عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُؤْتى بالصبيان فيدعو لَهُم فَأتي بصبي مرّة فَبَال عَلَيْهِ فَقَالَ صبوا عَلَيْهِ المَاء صبا
তিনি বলেন, কখনো কখনো ধৌত করাকেও 'নাদহ্' (ছিটানো) বলা হয়, আবার কখনো ধৌত করা ছাড়াই কোনো স্থানে পানির সংস্পর্শ লাগাকে 'নাদহ্' বলা হয়।

যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমি এমন একটি ভূখণ্ডের কথা জানি যাকে ওমান বলা হয়, যার এক প্রান্ত সমুদ্রের পানি দ্বারা সিক্ত হয়। সেখানে আরবের এমন এক গোত্র বাস করে, যাদের কাছে যদি আমার দূত যেত, তবে তারা তাকে তীর বা পাথর ছুড়ে মারত না।"

আবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ছেলে শিশু ও মেয়ে শিশুর প্রস্রাবের মধ্যে পার্থক্যের বিধান বর্ণিত হয়েছে।

আবু কাতাদাহ এটি আবু হারব ইবনে আবিল আসওয়াদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রস্রাব সম্পর্কে বলেছেন, "মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধৌত করতে হয় এবং ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে হয়।"

সিমাক ইবনে হারব এটি কাবুস ইবনুল মুখারিক থেকে এবং তিনি লুবানা বিনতুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হুসাইন ইবনে আলী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর প্রস্রাব করে দিলে আমি বললাম, "আপনার কাপড়টি আমাকে দিন যাতে আমি তা ধুয়ে দিতে পারি।" তখন তিনি বললেন, "মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধৌত করা হয় এবং ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটানো হয়।"

আবু মুয়াবিয়া এটি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে শিশুদের নিয়ে আসা হতো এবং তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন। একদা এক শিশুকে আনা হলে সে তাঁর ওপর প্রস্রাব করে দিল। তখন তিনি বললেন, "এর ওপর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ঢেলে দাও।"
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২৮)
وَرَوَاهُ مَالك عَن هِشَام بِإِسْنَاد مثله وروى قَتَادَة عَن سعيد بن الْمسيب أَنه قَالَ الرش بالرش والصب بالصب من الأبوال كلهَا

وَحميد عَن الْحسن أَنه قَالَ فِي بَوْل الْجَارِيَة يغسل غسلا وَبَوْل الْغُلَام يتبع المَاء

14 -‌‌ فِي الْوضُوء بِمَاء خالطه غَيره

 

قَالَ أَصْحَابنَا يجوز مَا لم يغلب عَلَيْهِ

قَالَ مَالك لَا يتَوَضَّأ بِالْمَاءِ الَّذِي يبل فِيهِ الْخبز

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ إِذا تَوَضَّأ بزردج أَو بسناخ أَو بخل أَجزَأَهُ وَكَذَلِكَ كل شَيْء غير لَونه

وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه إِذا بل فِيهِ خبْزًا أَو غَيره مِمَّا لَا يَقع عَلَيْهِ اسْم مَاء مُطلق حَتَّى يُضَاف إِلَى مَا خالطه وَخرج مِنْهُ فَلَا يجوز التَّطْهِير بِهِ

قَالَ أَبُو جَعْفَر اتَّفقُوا على جَوَاز الْوضُوء بِمَاء خالطه الطين وَكَذَلِكَ كل مَاء خالطه مَا لم يغلب عَلَيْهِ
ইমাম মালিক এটি হিশাম থেকে অনুরূপ সনদে বর্ণনা করেছেন। কাতাদাহ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, সমস্ত প্রস্রাবের ক্ষেত্রে (পরিষ্কার করার পদ্ধতি হলো) ছিটার বদলে ছিটা এবং ঢেলে দেওয়ার বদলে ঢেলে ধৌত করা।

হুমায়দ হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কন্যা শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে বলেছেন তা ধৌত করতে হবে এবং পুত্র শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পানির ছিটা দিতে হবে।

১৪ -‌‌ অন্য কিছু মিশ্রিত পানি দ্বারা ওজু করার বিধান

 

আমাদের সাথীরা (হানাফীগণ) বলেছেন, এটি জায়েজ যতক্ষণ না তা (মিশ্রিত বস্তুটি) পানির ওপর প্রবল হয়ে যায়।

ইমাম মালিক বলেছেন, যে পানিতে রুটি ভেজানো হয়েছে তা দিয়ে ওজু করা যাবে না।

হাসান ইবনে হাই বলেছেন, যদি কেউ কুসুম রঞ্জক, জং ধরা পানি অথবা ভিনেগার মিশ্রিত পানি দিয়ে ওজু করে তবে তা যথেষ্ট হবে; তেমনিভাবে এমন প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রে যা পানির রঙ পরিবর্তন করে দেয়।

ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, যদি পানিতে রুটি বা অন্য কিছু ভেজানো হয় যার ফলে সেটির ওপর আর 'সাধারণ পানি' নাম প্রযোজ্য হয় না—বরং তাকে মিশ্রিত বস্তুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে ডাকা হয় এবং তা (পানির স্বাভাবিক অবস্থা থেকে) বেরিয়ে যায়—তবে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ নয়।

আবু জাফর বলেছেন, তারা কাদা মিশ্রিত পানি দিয়ে ওজু করার বৈধতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তেমনিভাবে প্রতিটি পানি যাতে অন্য কিছু মিশেছে কিন্তু তা পানির ওপর প্রবল হয়নি।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১২৯)
15 -‌‌ فِي نَبِيذ التَّمْر

 

وَالْوُضُوء بِهِ أجَازه أَبُو حنيفَة عِنْد عدم المَاء

وَقَالَ حميد بن عبد الرَّحْمَن الرواسِي يتَوَضَّأ بِهِ وَيتَيَمَّم عِنْد عدم المَاء وَعند وجوده

وَقَالَ مُحَمَّد يتَوَضَّأ بِهِ وَيتَيَمَّم عِنْد عدم المَاء

وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَمَالك وَالثَّوْري وَالشَّافِعِيّ يتَيَمَّم وَلَا يتَوَضَّأ بِهِ

16 -‌‌ فِي المَاء الْمُسْتَعْمل

 

قَالَ أَصْحَابنَا لَا يتَوَضَّأ بِهِ وَهُوَ قَول الشَّافِعِي رضي الله عنه

وَقَالَ مَالك رضي الله عنه لَا يتَوَضَّأ بِهِ إِذا وجد مَاء غَيره فَإِن لم يجد تَوَضَّأ بِهِ وَلم يتَيَمَّم

وَقَالَ الثَّوْريّ يجوز الْوضُوء بِالْمَاءِ الْمُسْتَعْمل وَالله أعلم

17 -‌‌ فِي دم السّمك وَغَيره

 

قَالَ أَصْحَابنَا دم السّمك طَاهِر وَكَذَلِكَ دم مَا لَيْسَ لَهُ دم يسيل نَحْو دم البق والذباب

وَقَالَ مَالك فِي دم البراغيث إِذا تفاحش غسله وَإِلَّا لم أر بِهِ بَأْسا
১৫ -‌‌ খেজুরের নাবিদ প্রসঙ্গে

 

পানির অনুপস্থিতিতে এটি দিয়ে অজু করাকে ইমাম আবু হানিফা বৈধ বলেছেন।

হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান আর-রুওয়াসি বলেছেন, পানির উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতি উভয় অবস্থাতেই এটি দিয়ে অজু করবে এবং তায়াম্মুম করবে।

ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন, পানির অনুপস্থিতিতে এটি দিয়ে অজু করবে এবং তায়াম্মুম করবে।

ইমাম আবু ইউসুফ, মালিক, সাওরি এবং শাফিঈ বলেছেন, তায়াম্মুম করবে এবং এটি দিয়ে অজু করবে না।

১৬ -‌‌ ব্যবহৃত পানি প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীবর্গ বলেছেন, এটি দিয়ে অজু করা যাবে না; আর এটিই ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অভিমত।

ইমাম মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, অন্য পানি পাওয়া গেলে এটি দিয়ে অজু করা যাবে না। তবে যদি অন্য পানি না পাওয়া যায়, তবে এটি দিয়েই অজু করবে এবং তায়াম্মুম করবে না।

ইমাম সাওরি বলেছেন, ব্যবহৃত পানি দিয়ে অজু করা বৈধ। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

১৭ -‌‌ মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর রক্ত প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীবর্গ বলেছেন, মাছের রক্ত পবিত্র। একইভাবে যার প্রবাহিত রক্ত নেই তার রক্তও পবিত্র, যেমন ছারপোকা ও মাছির রক্ত।

ইমাম মালিক মাছির রক্ত সম্পর্কে বলেছেন, যদি তা পরিমাণে অত্যধিক হয় তবে তা ধুয়ে ফেলবে, অন্যথায় আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩০)
وَقَالَ يغسل دم الذُّبَاب وَدم السّمك وَقَالَ فِي دم الْحيض قَلِيله لَا تُعَاد مِنْهُ الصَّلَاة فِي الْوَقْت وَلَا غَيره وَكَثِيره تُعَاد مِنْهُ الصَّلَاة مَا دَامَت فِي الْوَقْت

وَقَالَ الشَّافِعِي لَا يفْسد الْوضُوء إِلَّا أَن يَقع فِيهِ نَجَاسَة من دم أَو بَوْل أَو غير ذَلِك فَعم الدِّمَاء كلهَا

قَالَ أَبُو جَعْفَر قَالَ الله تَعَالَى {قل لَا أجد فِيمَا أُوحِي إِلَيّ محرما} الْأَنْعَام 145 إِلَى قَوْله {أَو دَمًا مسفوحا} فَأخْبر أَن مَا بعد المسفوح فَهُوَ غير محرم

18 -‌‌ فِي الأرواث

قَالَ أَبُو حنيفَة وَمُحَمّد الأرواث كلهَا نَجِسَة وَهُوَ قَول أبي يُوسُف وَقَول الشَّافِعِي

وَقَالَ مَالك وَزفر وَالْحسن بن حَيّ وَالثَّوْري مَا أكل لَحْمه فروثه طَاهِر كبوله

قَالَ الثَّوْريّ فِي خرء الدَّجَاج لَيْسَ فِيهِ إِعَادَة وغسله أحسن وَالله أعلم

19 -‌‌ إِذا مسح الروث من الْخُف وَصلى فِيهِ

 

قَالَ أَبُو حنيفَة إِذا جف الروث فمسحه وَصلى فِيهِ أَجزَأَهُ وَالرّطب لَا يجْزِيه إِلَّا الْغسْل وَهُوَ قَول أبي يُوسُف
তিনি বলেছেন, মাছির রক্ত ও মাছের রক্ত ধৌত করতে হবে। হায়েযের রক্তের ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে, সামান্য পরিমাণ রক্তের কারণে ওয়াক্তের ভেতরে বা বাইরে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না; তবে বেশি পরিমাণ রক্ত লাগলে ওয়াক্ত থাকাকালীন সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।

ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, রক্ত, প্রস্রাব বা অন্য কোনো নাপাকি না পড়লে (পানি) অপবিত্র হয় না; এর মাধ্যমে তিনি সকল প্রকার রক্তকেই অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আবু জাফর (আত-তহাবী) বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আপনি বলুন, আমার কাছে যে ওহি পাঠানো হয়েছে তাতে আমি কোনো হারাম বস্তু পাই না...} [সূরা আল-আনআম: ১৪৫] থেকে তাঁর বাণী {...অথবা প্রবাহিত রক্ত} পর্যন্ত। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রবাহিত রক্ত ব্যতীত যা আছে তা হারাম নয়।

১৮ -‌‌ বিষ্ঠা প্রসঙ্গে

ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন, সকল প্রকার বিষ্ঠাই নাপাক। এটিই ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম শাফেয়ীর অভিমত।

ইমাম মালিক, যুফার, হাসান ইবনে হাই এবং সাওরী বলেছেন, যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার বিষ্ঠা তার প্রস্রাবের মতোই পবিত্র।

ইমাম সাওরী মুরগির বিষ্ঠা সম্পর্কে বলেছেন, এর কারণে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না, তবে তা ধুয়ে ফেলা অধিক উত্তম। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

১৯ -‌‌ মোজা থেকে বিষ্ঠা মুছে তাতে সালাত আদায় করলে

 

ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, বিষ্ঠা যদি শুকিয়ে যায় এবং কেউ তা মুছে ফেলে তাতে সালাত আদায় করে, তবে তা যথেষ্ট হবে। কিন্তু তা সিক্ত থাকলে ধৌত করা ছাড়া সালাত হবে না। এটিই ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩১)
وَقَالَ مُحَمَّد لَا يجزىء فِي الْيَابِس إِلَّا الْغسْل عِنْدهم جَمِيعًا

وَقَالَ مَالك فِي الْعذرَة إِذا وطىء عَلَيْهَا لَا يُصَلِّي حَتَّى يغسلهُ وَفِي الروث يُصَلِّي إِذا مَسحه وَإِن كَانَ رطبا

20 -‌‌ فِي النَّجَاسَة فِي الثَّوْب وَالْبدن

 

قَالَ أَبُو حنيفَة وَأَبُو يُوسُف وَمُحَمّد فِي الدَّم والغدرة وَالْبَوْل إِن صلى وَفِيه مِقْدَار الدِّرْهَم جَازَت صلَاته

وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو حنيفَة فِي الروث

وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَهُوَ قَول الشَّافِعِي

وَقَالَ مَالك وَزفر وَالْحسن بن حَيّ وَالثَّوْري مَا أكل لَحْمه فروثه طَاهِر كبوله

وَقَالَ أَبُو حنيفَة وَأَبُو يُوسُف فِي بَوْل مَا يُؤْكَل لَحْمه حَتَّى يكون كثيرا فَاحِشا وَقَالَ زفر فِي الْبَوْل قَلِيله وَكَثِيره يفْسد وَفِي الدَّم حَتَّى يكون أَكثر من قدر الدِّرْهَم

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ فِي الدَّم فِي الثَّوْب يُعِيد إِذا كَانَ مِقْدَار الدِّرْهَم فَإِن كَانَ أقل من ذَلِك لم يعد

وَكَانَ يرى الْإِعَادَة فِي الْجَسَد وَإِن كَانَ أقل من قدر دِرْهَم
এবং মুহাম্মদ (রাহ.) বলেছেন, তাদের সকলের মতে শুকিয়ে যাওয়া অপবিত্রতার ক্ষেত্রে ধোয়া ব্যতীত যথেষ্ট হবে না।

ইমাম মালিক (রাহ.) মানুষের মলের বিষয়ে বলেছেন, যখন কেউ তার ওপর পা রাখে, সে সালাত আদায় করবে না যতক্ষণ না তা ধুয়ে ফেলে; আর পশুর বিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, তা মুছে ফেললে সালাত হয়ে যাবে, এমনকি তা আর্দ্র হলেও।

২০ -‌‌ কাপড় ও শরীরের অপবিত্রতা প্রসঙ্গে

 

ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রাহ.) রক্ত, মল ও প্রস্রাবের বিষয়ে বলেছেন, যদি কেউ সালাত আদায় করে এবং তাতে দিরহাম পরিমাণ (নাজাসাত) থাকে, তবে তার সালাত বৈধ হবে।

তদ্রূপ ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) পশুর বিষ্ঠার বিষয়েও বলেছেন।

আবু ইউসুফ (রাহ.) বলেছেন—আর এটিই ইমাম শাফিঈ (রাহ.)-এর অভিমত।

ইমাম মালিক, যুফার, হাসান বিন হাই ও সাওরি (রাহ.) বলেছেন, যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার বিষ্ঠা তার প্রস্রাবের ন্যায় পবিত্র।

ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ (রাহ.) ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর প্রস্রাবের বিষয়ে বলেছেন, (তা ক্ষমাযোগ্য) যতক্ষণ না তা অত্যধিক ও মাত্রাতিরিক্ত হয়। ইমাম যুফার (রাহ.) প্রস্রাবের বিষয়ে বলেছেন যে, এর অল্প ও অধিক উভয়ই সালাত নষ্ট করে দেয়; আর রক্তের বিষয়ে বলেছেন, যতক্ষণ না তা দিরহাম পরিমাণের বেশি হয়।

হাসান বিন হাই (রাহ.) কাপড়ে লেগে থাকা রক্তের বিষয়ে বলেছেন, যদি তা দিরহাম পরিমাণ হয় তবে পুনরায় সালাত আদায় করবে, আর যদি তার চেয়ে কম হয় তবে পুনরায় আদায় করতে হবে না।

আর তিনি শরীরের ক্ষেত্রে পুনরায় সালাত আদায় করা আবশ্যক মনে করতেন, যদিও তা দিরহাম পরিমাণের চেয়ে কম হয়।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩২)
وَقَالَ فِي الْبَوْل وَالْغَائِط والقيء يُعِيد فِي الْقَلِيل وَالْكثير وَإِن كَانَ فِي الثَّوْب

وَقَالَ مَالك فِي الدَّم الْيَسِير إِذا رَآهُ فِي ثَوْبه وَهُوَ فِي الصَّلَاة مضى فِيهَا وَفِي الْكثير يَنْزعهُ ويستأنف الصَّلَاة

وَإِن رأى بَعْدَمَا فرغ أعَاد مَا دَامَ فِي الْوَقْت

وَقَالَ فِي الْبَوْل والرجيع والمني وخرء الطير الَّذِي يَأْكُل الْجِيَف إِن ذكره وَهُوَ فِي الصَّلَاة أَنه فِي ثَوْبه قطعهَا واستقبلها

وَإِن صلى أعَاد مَا دَامَ فِي الْوَقْت فَإِذا ذهب الْوَقْت لم يعد

قَالَ ابْن الْقَاسِم والقيء عِنْد مَالك لَيْسَ بِنَجس إِلَّا أَن يكون الْقَيْء قد تغير فِي جَوْفه فَإِن كَانَ كَذَلِك فَهُوَ نجس

وَقَالَ الثَّوْريّ يغسل الدَّم والروث وَلم يعرف قدر الدِّرْهَم

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ فِي الْبَوْل فِي الثَّوْب إِذا لم يجد المَاء يُصَلِّي بِتَيَمُّم وَلَا يُعِيد إِذا وجد المَاء فَإِن وجد المَاء فِي الْوَقْت أعَاد

وَقَالَ فِي الْقَيْء يُصِيب الثَّوْب وَلَا يعلم بِهِ حَتَّى صلى قَالَ إِنَّمَا جَازَت الْإِعَادَة فِي الرجيع وَمَضَت صلَاته وَكَذَلِكَ فِي دم الْحيض لَا يُعِيد

وَقَالَ فِي الثَّوْب يُعِيد مَا دَامَ فِي الْوَقْت فَإِذا مضى الْوَقْت فَلَا إِعَادَة عَلَيْهِ

وَقَالَ اللَّيْث فِي الروث وَالدَّم وَبَوْل الدَّابَّة وَدم الْحيض والمني أعَاد فَاتَ الْوَقْت أَو لم يفت

وَقَالَ فِي الدَّم فِي الثَّوْب لَا يُعِيد فِي الْوَقْت وَلَا بعده

وَقَالَ سَمِعت النَّاس لَا يرَوْنَ فِي يسير الدَّم يُصَلِّي وَهُوَ فِي ثَوْبه بَأْسا ويرون أَن تُعَاد الصَّلَاة فِي الْوَقْت من الدَّم الْكثير والقيح مثل الدَّم

তিনি প্রস্রাব, মল এবং বমি সম্পর্কে বলেছেন যে, এর পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক, তা কাপড়ে থাকলে সালাত পুনরায় আদায় করবে।

ইমাম মালিক সামান্য রক্ত সম্পর্কে বলেছেন, যদি সালাতরত অবস্থায় তা কাপড়ে দেখে তবে সালাত চালিয়ে যাবে; আর যদি তা বেশি হয় তবে কাপড়টি সরিয়ে ফেলবে এবং নতুন করে সালাত শুরু করবে।

আর যদি সালাত শেষ করার পর তা দেখতে পায়, তবে যতক্ষণ ওয়াক্ত বাকি আছে ততক্ষণ সালাত পুনরায় আদায় করবে।

তিনি প্রস্রাব, বিষ্ঠা, বীর্য এবং মৃতভোজী পাখির বিষ্ঠা সম্পর্কে বলেছেন, যদি সালাতরত অবস্থায় কারো মনে পড়ে যে তা তার কাপড়ে লেগে আছে, তবে সালাত বন্ধ করে দিবে এবং নতুন করে শুরু করবে।

আর যদি সেভাবে সালাত আদায় করে ফেলে, তবে ওয়াক্ত থাকা পর্যন্ত পুনরায় আদায় করবে; ওয়াক্ত চলে গেলে আর পুনরায় আদায় করতে হবে না।

ইবনুল কাসিম বলেন, ইমাম মালিকের নিকট বমি অপবিত্র নয়, যতক্ষণ না বমি পেটের ভেতর পরিবর্তিত হয়ে যায়; যদি তা পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে তা অপবিত্র।

সাওরী বলেছেন, রক্ত ও বিষ্ঠা ধুয়ে ফেলতে হবে; তিনি দিরহাম পরিমাণ (পর্যন্ত ছাড়ের বিষয়টি) জানতেন না।

আওযাঈ কাপড়ে প্রস্রাব লাগার ব্যাপারে বলেছেন, যদি পানি না পাওয়া যায় তবে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে এবং পানি পাওয়ার পর পুনরায় আদায় করবে না; তবে যদি ওয়াক্ত থাকাকালীন পানি পায়, তবে পুনরায় আদায় করবে।

তিনি কাপড়ে বমি লাগা এবং তা না জেনে সালাত আদায় করে ফেলা সম্পর্কে বলেছেন, পুনরায় আদায়ের বিধান কেবল বিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, (বমির ক্ষেত্রে) তার সালাত হয়ে গেছে; অনুরূপভাবে হায়যের রক্তের ক্ষেত্রেও পুনরায় আদায় করতে হবে না।

তিনি কাপড়ের (নাজাসাত) ব্যাপারে বলেছেন, ওয়াক্ত থাকা পর্যন্ত পুনরায় আদায় করবে; ওয়াক্ত অতিবাহিত হয়ে গেলে আর পুনরায় আদায়ের প্রয়োজন নেই।

লাইস পশুর মল, রক্ত, চতুষ্পদ জন্তুর প্রস্রাব, হায়যের রক্ত এবং বীর্য সম্পর্কে বলেছেন, ওয়াক্ত অতিবাহিত হোক বা না হোক, সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।

তিনি কাপড়ে রক্ত সম্পর্কে বলেছেন, ওয়াক্তের মধ্যে বা পরে কখনোই পুনরায় আদায় করবে না।

তিনি বলেন, আমি লোকদের বলতে শুনেছি যে, কাপড়ে সামান্য রক্ত থাকা অবস্থায় সালাত আদায়ে তারা কোনো সমস্যা মনে করতেন না; তবে তারা মনে করতেন যে, অধিক রক্ত এবং রক্তের ন্যায় পুঁজের কারণে ওয়াক্তের মধ্যে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।

(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه فِي الدَّم والقيح إِذا كَانَ قَلِيلا كَدم البراغيث وَمَا يتعافاه النَّاس لم يعد وَيُعِيد فِي الْكثير

وَفِي الْبَوْل والعذرة وَالْخمر يُعِيد فِي الْقَلِيل وَالْكثير

21 -‌‌ فِي نَجَاسَة الْمَنِيّ وطهارته

 

عِنْد أَصْحَابنَا جَمِيعًا وَهُوَ نجس ويجزىء فِيهِ الفرك

وَقَالَ مَالك هُوَ نجس وَلَا يجزىء فِيهِ الفرك

وَقَالَ الثَّوْريّ يفركه فَإِن لم يفركه أَجْزَأته صلَاته

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ لَا يُعِيد الصَّلَاة من الْمَنِيّ فِي الثَّوْب وَإِن كثر وَيُعِيدهَا من الْمَنِيّ فِي الْجَسَد وَإِن قل

وَكَانَ يُفْتِي مَعَ ذَلِك بفركه من الثَّوْب إِذا كَانَ يَابسا وبغسله إِذا كَانَ رطبا

وَقَالَ اللَّيْث هُوَ نجس وَيُعِيد فِي الْوَقْت وَلَا يُعِيد بعده ويفرك من الثَّوْب بِالتُّرَابِ قبل أَن يُصَلِّي

وَقَالَ الشَّافِعِي هُوَ طَاهِر ويفركه فَإِن لم يفركه فَلَا بَأْس

22 -‌‌ فِي الأَرْض تصيبها النَّجَاسَة

 

قَالَ أَبُو حنيفَة إِذا يَبِسَتْ وَذهب أَثَرهَا صلى فِيهَا وَكَذَلِكَ قَول أبي يُوسُف وَمُحَمّد وَلَا يتَيَمَّم مِنْهَا
ইমাম শাফিঈ (রা.) রক্ত ও পুঁজ সম্পর্কে বলেছেন যে, যদি তা সামান্য হয়—যেমন মাছির রক্ত অথবা যা মানুষ মার্জনাযোগ্য মনে করে—তবে পুনরায় সালাত পড়তে হবে না; তবে অধিক হলে পুনরায় পড়তে হবে।

আর প্রস্রাব, বিষ্ঠা ও মদের ক্ষেত্রে অল্প হোক বা বেশি, পুনরায় সালাত পড়তে হবে।

21 -‌‌ বীর্যের অপবিত্রতা ও পবিত্রতা প্রসঙ্গে

 

আমাদের (হানাফী) সকল ফকীহগণের মতে তা নাপাক এবং ঘষে পরিষ্কার করা যথেষ্ট।

ইমাম মালিক বলেন, তা নাপাক এবং ঘষে পরিষ্কার করা যথেষ্ট নয়।

ইমাম সাওরী বলেন, সে তা ঘষে ফেলবে, তবে যদি না-ও ঘষে তবে তার সালাত হয়ে যাবে।

ইমাম হাসান ইবনে হাই বলেন, কাপড়ে বীর্য থাকলে সালাত পুনরায় পড়তে হবে না যদিও তা পরিমাণে বেশি হয়, তবে শরীরে থাকলে সালাত পুনরায় পড়তে হবে যদিও তা পরিমাণে সামান্য হয়।

তিনি এর সাথে এই ফতোয়াও দিতেন যে, শুকনা হলে কাপড় থেকে তা ঘষে ফেলতে হবে এবং ভেজা হলে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ইমাম লাইস বলেন, তা নাপাক; ওয়াক্তের মধ্যে সালাত পুনরায় পড়বে কিন্তু ওয়াক্ত চলে গেলে পুনরায় পড়বে না, আর সালাত আদায়ের আগে কাপড় থেকে মাটি দিয়ে ঘষে তা পরিষ্কার করবে।

ইমাম শাফিঈ বলেন, তা পবিত্র এবং তা ঘষে ফেলবে; তবে যদি না-ও ঘষে তবে কোনো অসুবিধা নেই।

22 -‌‌ ভূমিতে নাপাকি লাগলে তার বিধান প্রসঙ্গে

 

ইমাম আবু হানিফা বলেন, ভূমি যখন শুকিয়ে যায় এবং নাপাকির চিহ্ন দূরীভূত হয়, তখন তাতে সালাত পড়া যাবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের অভিমতও তদ্রূপ। তবে তা দিয়ে তায়াম্মুম করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
وَقَالَ زفر وَمَالك لَا يُجزئهُ أَن يُصَلِّي عَلَيْهِ إِلَّا أَن مَالِكًا يَقُول لَا يُعِيد بعد الْوَقْت وَكَذَلِكَ قَالَ إِذا تيَمّم بِهِ

وَقَالَ الثَّوْريّ إِذا جف فَلَا بَأْس بِالصَّلَاةِ عَلَيْهِ

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ لَا يُصَلِّي عَلَيْهِ حَتَّى يغسلهُ وَإِن صلى قبل ذَلِك لم يُجزئهُ

وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه يصب عَلَيْهِ ذنُوب من مَاء وَإِن بَال اثْنَان لم يطهره إِلَّا ذنوبان فَإِن لم يذهب رِيحه وَلم ينشف الأَرْض لَا يطهر بِالْمَاءِ

23 -‌‌ فِي مِقْدَار الطّهُور

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَالثَّوْري صَاع فِي الْغسْل وَمد فِي الْوضُوء

وَلم يقدر مَالك وَالشَّافِعِيّ

24 -‌‌ فِي نِيَّة الطَّهَارَة

 

قَالَ أَصْحَابنَا يجزىء كل طَهَارَة بِمَاء بِغَيْر نِيَّة وَلَا يجزىء التَّيَمُّم إِلَّا بِالنِّيَّةِ وَهُوَ قَول الثَّوْريّ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ يجزىء الْوضُوء بِغَيْر نِيَّة وَلم يحفظ عَنهُ فِي التَّيَمُّم شَيْء

وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ وَاللَّيْث لَا يجزىء الْوضُوء وَلَا الْغسْل وَلَا التَّيَمُّم إِلَّا بنية
আর জুফার ও মালিক বলেছেন, এর ওপর সালাত আদায় করা তার জন্য যথেষ্ট হবে না; তবে মালিক বলেন, ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পর সে তা পুনরায় আদায় করবে না। অনুরূপভাবে তিনি বলেছেন যখন সে এর দ্বারা তায়াম্মুম করবে।

আর সাওরি বলেছেন, যখন তা শুকিয়ে যায় তখন তার ওপর সালাত আদায়ে কোনো অসুবিধা নেই।

আর হাসান ইবনে হাই বলেছেন, সে তা ধৌত না করা পর্যন্ত তার ওপর সালাত আদায় করবে না, আর যদি সে এর পূর্বে সালাত আদায় করে তবে তা যথেষ্ট হবে না।

আর শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, তার ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দিতে হবে। আর যদি দুইজন পেশাব করে, তবে দুই বালতি পানি ছাড়া তা পবিত্র হবে না। অতঃপর যদি তার গন্ধ দূর না হয় এবং মাটি তা শুষে না নেয়, তবে পানির দ্বারা তা পবিত্র হবে না।

২৩ -‌‌ পবিত্রতার পরিমাপ প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীবর্গ ও সাওরি বলেছেন, গোসলের জন্য এক সা' এবং ওযুর জন্য এক মুদ।

আর মালিক ও শাফিঈ কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করেননি।

২৪ -‌‌ পবিত্রতার নিয়ত প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীবর্গ বলেছেন, পানির দ্বারা প্রতিটি পবিত্রতাই নিয়ত ছাড়া যথেষ্ট হবে, কিন্তু নিয়ত ছাড়া তায়াম্মুম যথেষ্ট হবে না; আর এটিই সাওরির অভিমত।

আর আওযায়ি বলেছেন, নিয়ত ছাড়াই ওযু যথেষ্ট হবে, তবে তায়াম্মুমের ব্যাপারে তাঁর থেকে কোনো কিছু সংরক্ষিত নেই।

আর মালিক, শাফিঈ ও লাইস বলেছেন, নিয়ত ছাড়া ওযু, গোসল কিংবা তায়াম্মুম—কোনোটাই যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
وَقَالَ الْحسن بن حَيّ يجزىء الْوضُوء وَالتَّيَمُّم جَمِيعًا بِغَيْر نِيَّة

قَالَ أَبُو جَعْفَر وَلم نجد هَذَا القَوْل فِي التَّيَمُّم عَن غَيره

25 -‌‌ فِي الْمَضْمَضَة والإستنشاق

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَالثَّوْري وَاللَّيْث هما فرض فِي الْجَنَابَة وَغير فرض فِي الْوضُوء

وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ لَيست بِفَرْض فِي الْجَنَابَة وَلَا فِي الْوضُوء

26 -‌‌ فِي تَخْلِيل اللِّحْيَة

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَمَالك وَالثَّوْري وَالْأَوْزَاعِيّ تَخْلِيل اللِّحْيَة لَيْسَ بِوَاجِب فِي الْوضُوء

وَكَذَلِكَ قَول الشَّافِعِي رضي الله عنه

وَرُوِيَ عَن سعيد بن جُبَير أَنه قَالَ مَا بَال الْأَمْرَد يغسل ذقنه وَلَا يغسلهُ ذُو اللِّحْيَة

وَهَذَا يدل على أَنه كَانَ يرى تخليلها وَاجِبا كَهُوَ قبل نَبَات اللِّحْيَة

قَالَ أَبُو جَعْفَر التَّيَمُّم وَاجِب فِيهِ مسح الْبشرَة قبل نَبَات اللِّحْيَة ثمَّ يسْقط بعْدهَا كَذَلِك الْوضُوء
হাসান ইবনে হাই বলেছেন, নিয়ত ব্যতীত অজু এবং তায়াম্মুম উভয়ই যথেষ্ট হবে।

আবু জাফর বলেন, তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে এই মতটি আমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে পাইনি।

২৫ -‌‌ কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীগণ, সাওরী এবং লাইস বলেছেন, জানাবাত (গোসল)-এর ক্ষেত্রে এই উভয়টি ফরজ, তবে অজুর ক্ষেত্রে ফরজ নয়।

মালেক এবং শাফিঈ বলেছেন, জানাবাত কিংবা অজু কোনোটির ক্ষেত্রেই এগুলো ফরজ নয়।

২৬ -‌‌ দাড়ি খিলাল করা প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীগণ, মালেক, সাওরী এবং আওযাঈ বলেছেন, অজুর মধ্যে দাড়ি খিলাল করা ওয়াজিব নয়।

ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতও তদ্রূপ।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "দাড়িহীন ব্যক্তির কী হলো যে সে তার চিবুক ধৌত করে, অথচ দাড়িওয়ালা ব্যক্তি তা (চিবুক) ধৌত করে না?"

এটি প্রমাণ করে যে, তিনি দাড়ির খিলাল করাকে ওয়াজিব মনে করতেন, যেমনটি দাড়ি গাজার পূর্বে চিবুক ধোয়া ওয়াজিব ছিল।

আবু জাফর বলেন, তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে দাড়ি গাজার আগে চামড়া মাসেহ করা ওয়াজিব, এরপর (দাড়ি গাজালে চামড়া মাসেহ করার বিধান) রহিত হয়ে যায়; অজুর বিধানও তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
27 -‌‌ فِي عدد مسح الرَّأْس وَصفته

 

قَالَ أَصْحَابنَا الْمسْح مرّة وَاحِدَة وَكَذَلِكَ قَالَ مَالك وَالثَّوْري وَالْحسن بن حَيّ وَالْأَوْزَاعِيّ

وَقَالَ الشَّافِعِي يمسح ثَلَاثًا

وَقَالَ أَصْحَابنَا إِن مسح ربع رَأسه أَجزَأَهُ وَيبدأ بِمقدم رَأسه الى مؤخره

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ يبْدَأ بمؤخر رَأسه

وَقَالَ مَالك الْفَرْض مسح جَمِيع رَأسه وَإِن ترك شَيْئا مِنْهُ كَانَ كمن ترك غسل شَيْء من وَجهه

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ وَاللَّيْث يمسح مقدم الرَّأْس

وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه الْفَرْض مسح بعض الرَّأْس وَلم يحده

قَالَ أَبُو جَعْفَر قد اتّفق الْجَمِيع على الْمسْح على الْخُفَّيْنِ أَنه مُخَالف لغسل الرجلَيْن فِي اعْتِبَار عمومهما بِالْمَسْحِ وَالله أعلم

28 -‌‌ فِي الْأُذُنَيْنِ

 

قَالَ أَصْحَابنَا هما من الرَّأْس يمسح مقدمهما ومؤخرهما مَعَ الرَّأْس وَهُوَ قَول الثَّوْريّ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ هما من الرَّأْس يمسح ظهورهما وبطونهما
27 -‌‌ মাথা মাসেহ করার সংখ্যা এবং এর পদ্ধতি সম্পর্কে

 

আমাদের ইমামগণ বলেছেন, মাসেহ একবার করতে হবে। অনুরূপ কথা বলেছেন মালিক, সাওরি, হাসান ইবনে হাই এবং আওজায়ি।

আর শাফেয়ি বলেছেন, তিনি তিনবার মাসেহ করবেন।

আমাদের ইমামগণ বলেছেন, যদি তিনি তার মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করেন তবে তা যথেষ্ট হবে এবং তিনি মাথার সামনের দিক থেকে শুরু করে পেছনের দিক পর্যন্ত করবেন।

হাসান ইবনে হাই বলেছেন, তিনি মাথার পেছনের দিক থেকে শুরু করবেন।

মালিক বলেছেন, পুরো মাথা মাসেহ করা ফরজ। যদি তিনি এর কোনো অংশ ছেড়ে দেন তবে তা চেহারার কোনো অংশ ধৌত করা ছেড়ে দেওয়ার মতো হবে।

আওজায়ি এবং লাইস বলেছেন, মাথার সামনের অংশ মাসেহ করবেন।

শাফেয়ি (রা.) বলেছেন, ফরজ হলো মাথার কিছু অংশ মাসেহ করা এবং তিনি এর কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি।

আবু জাফর বলেন, মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়ে সকলে একমত হয়েছেন যে, মাসেহ করার ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতার বিবেচনায় এটি পা ধৌত করার বিপরীত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

28 -‌‌ কান প্রসঙ্গে

 

আমাদের ইমামগণ বলেছেন, কান মাথারই অংশ। মাথার সাথে কানের সামনের দিক এবং পেছনের দিক মাসেহ করতে হবে। আর এটি সাওরির অভিমত।

আওজায়ি বলেছেন, কান মাথার অংশ, কানের বহির্ভাগ ও অভ্যন্তরীণ ভাগ উভয়টি মাসেহ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
وروى أَشهب عَن مَالك الأذنان من الرَّأْس وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْن الْقَاسِم

وَزَاد فِيهِ ويمسحهما بِمَا سوى المَاء الَّذِي يمسح بِهِ الرَّأْس

قَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه بِمَاء جَدِيد وهما سنة على حيالهما لَا من الْوَجْه وَلَا من الرَّأْس

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ يغسل بَاطِن أُذُنَيْهِ مَعَ وَجهه وَيمْسَح ظاهرهما مَعَ رَأسه

29 -‌‌ فِي مسح الْوضُوء بالمنديل

 

لم ير أَصْحَابنَا بِهِ بَأْسا وَكَذَلِكَ مَالك وَالثَّوْري والآوزاعي

وَكَانَ الْحسن بن حَيّ لَا يُعجبهُ ذَلِك

30 -‌‌ فِي الْمسْح على الْخُفَّيْنِ

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَالثَّوْري وَالْأَوْزَاعِيّ وَالْحسن بن حَيّ وَالشَّافِعِيّ للمقيم يَوْمًا وَلَيْلَة وللمسافر ثَلَاثَة أَيَّام ولياليها

وَرُوِيَ عَن مَالك وَاللَّيْث أَنه لَا وَقت للمسح على الْخُفَّيْنِ إِذا لبس خفيه وَهُوَ طَاهِر يمسح مَا بدا لَهُ

قَالَ مَالك والمقيم وَالْمُسَافر فِي ذَلِك سَوَاء

وروى ابْن الْقَاسِم عَن مَالك أَنه ضعف الْمسْح على الْخُفَّيْنِ
আশহাব ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কান দুটি মাথার অন্তর্ভুক্ত; ইবনুল কাসিমও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর তিনি এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, মাথা মাসাহ করার পানি ব্যতীত ভিন্ন পানি দিয়ে কান দুটি মাসাহ করতে হবে।

ইমাম শাফেঈ (রা.) বলেন, নতুন পানি দ্বারা (কান মাসাহ করতে হবে), আর কান দুটি স্বতন্ত্র সুন্নাত; তা চেহারার অংশ নয় এবং মাথার অংশও নয়।

হাসান ইবনে হাই বলেন, কানের ভেতরের অংশ চেহারার সাথে ধৌত করবে এবং কানের বাইরের অংশ মাথার সাথে মাসাহ করবে।

২৯ -‌‌ রুমাল দিয়ে ওযুর পানি মুছে ফেলা প্রসঙ্গে

 

আমাদের আসহাবগণ এতে কোনো দোষ মনে করেন না; ইমাম মালিক, সাওরী এবং আওযাঈ-ও অনুরূপ মত পোষণ করেছেন।

তবে হাসান ইবনে হাই এটি পছন্দ করতেন না।

৩০ -‌‌ চামড়ার মোজার (খুফফাইন) ওপর মাসাহ করা প্রসঙ্গে

 

আমাদের আসহাবগণ, সাওরী, আওযাঈ, হাসান ইবনে হাই এবং শাফেঈ বলেছেন, মুকীমের (নিবাসী) জন্য একদিন একরাত এবং মুসাফিরের (সফরকারী) জন্য তিন দিন তিন রাত।

ইমাম মালিক ও লাইস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মোজার ওপর মাসাহ করার কোনো নির্ধারিত সময় নেই; যদি পবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করা হয়, তবে ব্যক্তি যতদিন ইচ্ছা মাসাহ করতে পারবে।

ইমাম মালিক বলেন, এ ক্ষেত্রে মুকীম ও মুসাফির সমান।

ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মোজার ওপর মাসাহ করার বিষয়টিকে দুর্বল গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
31 -‌‌ كَيْفيَّة الْمسْح

قَالَ أَصْحَابنَا وَالثَّوْري يمسح ظَاهر الْخُف دون بَاطِنه

وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ يمسح الظَّاهِر وَالْبَاطِن فَإِن مسح الظَّاهِر دون الْبَاطِن أَجزَأَهُ وَإِن مسح بَاطِنه دون ظَاهره لم يجزه

قَالَ أَبُو جَعْفَر وروى الْوَلِيد بن مُسلم عَن ثَوْر بن يزِيد عَن رَجَاء بن حَيْوَة عَن كَاتب الْمُغيرَة ابْن شُعْبَة عَن الْمُغيرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مسح على الْخُفَّيْنِ أَعْلَاهُ وأسفله

وَذكر الْأَثْرَم أَنه سَأَلَ أَحْمد بن حَنْبَل رضي الله عنه عَن هَذَا الحَدِيث فَقَالَ أَحْمد ذكرته لعبد الرَّحْمَن بن مهْدي فَذكر عَن ابْن الْمُبَارك عَن ثَوْر قَالَ حدثت عَن رَجَاء بن حَيْوَة عَن كَاتب الْمُغيرَة وَلَيْسَ فِيهِ الْمُغيرَة فَبَطل هَذَا الحَدِيث

وروى عبد خير عَن عَليّ رضي الله عنه قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يمسح على ظَاهر الْقَدَمَيْنِ

وروى ابْن أبي الزِّنَاد عَن أَبِيه عُرْوَة عَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يمسح ظُهُور الْخُفَّيْنِ
৩১ -‌‌ মাসাহ করার পদ্ধতি

আমাদের সাথীবর্গ (হানাফীগণ) এবং সাওরী বলেন: চামড়ার মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতে হবে, এর অভ্যন্তরীণ বা নিচের অংশে নয়।

মালিক এবং শাফিঈ বলেন: উপরিভাগ এবং নিম্নভাগ উভয় অংশেই মাসাহ করতে হবে। যদি কেউ নিম্নভাগ বাদ দিয়ে শুধু উপরিভাগ মাসাহ করে তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে, কিন্তু যদি কেউ উপরিভাগ বাদ দিয়ে শুধু মোজার নিচের অংশে মাসাহ করে তবে তা যথেষ্ট হবে না।

আবু জাফর বলেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, সাওর ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বাহর লেখক থেকে এবং তিনি মুগীরা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার মোজার উপরিভাগ এবং নিম্নভাগ উভয় অংশে মাসাহ করেছেন।

আসরাম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আহমদ ইবনে হাম্বল রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আহমদ বলেন: আমি এটি আবদুর রহমান ইবনে মাহদীর কাছে উল্লেখ করেছি। তিনি ইবনুল মুবারক থেকে এবং তিনি সাওর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাওর) বলেছেন: ‘আমাকে রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে এবং তিনি মুগীরাহ-এর লেখকের থেকে বর্ণনা করেছেন’, কিন্তু এতে মুগীরাহ-এর উল্লেখ নেই। ফলে এই হাদীসটি বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে।

আবদ খাইর, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুই পায়ের উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি।

ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি মুগীরা ইবনে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চামড়ার মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
32 -‌‌ فِي خرق الْخُفَّيْنِ

 

قَالَ أَصْحَابنَا إِن كَانَ مَا ظهر من الرجل أقل من ثَلَاث أَصَابِع مسح وَلَا يمسح إِذا ظهر ثَلَاث

وَقَالَ مَالك رضي الله عنه يمسح إِذا لم يظْهر مِنْهُ الْقدَم وَإِن ظهر لم يمسح وَكَذَلِكَ قَول الثَّوْريّ وَاللَّيْث وَالشَّافِعِيّ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ يمسح على الْخُف وعَلى مَا ظهر من الْقدَم

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ يمسح على الْخُف إِذا كَانَ مَا ظهر مِنْهُ يغطيه الجورب وَإِن ظهر شَيْء من الْقدَم لم يمسح وَالله أعلم

33 -‌‌ فِي الْمسْح على الجوربين

 

لَا يُجِيزهُ أَبُو حنيفَة وَالشَّافِعِيّ إِلَّا أَن يَكُونَا مجلدين

وَقَالَ مَالك رضي الله عنه لَا يجزىء وَإِن كَانَا مجلدين

وَقَالَ الثَّوْريّ وَأَبُو يُوسُف وَمُحَمّد وَالْحسن بن حَيّ إِذا كَانَا ثخينين

وروى الْمُغيرَة وَأَبُو مُوسَى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مسح على جوربيه ونعليه وَالله أعلم
৩২ -‌‌ চামড়ার মোজা ছিঁড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে

 

আমাদের ফকীহগণ বলেছেন, পা থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে তা যদি তিন আঙ্গুলের কম হয়, তবে মাসাহ করবে। আর যদি তিন আঙ্গুল পরিমাণ প্রকাশিত হয়ে যায়, তবে মাসাহ করবে না।

ইমাম মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যদি পা প্রকাশ না পায় তবে মাসাহ করবে, আর যদি প্রকাশ পেয়ে যায় তবে মাসাহ করবে না। ইমাম সাওরী, লাইস এবং শাফেয়ীর অভিমতও অনুরূপ।

ইমাম আওযায়ী বলেছেন, চামড়ার মোজার ওপর এবং পায়ের যে অংশ প্রকাশিত হয়েছে তার ওপর মাসাহ করবে।

হাসান বিন হাই বলেছেন, চামড়ার মোজার যে অংশ ছিঁড়ে গেছে তা যদি কাপড়ের মোজা (জাওরাব) দ্বারা আবৃত থাকে তবে মাসাহ করবে, আর যদি পায়ের কোনো অংশ প্রকাশিত হয়ে যায় তবে মাসাহ করবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

৩৩ -‌‌ কাপড়ের মোজার (জাওরাব) ওপর মাসাহ করার প্রসঙ্গে

 

ইমাম আবু হানিফা এবং শাফেয়ী এটি বৈধ মনে করেন না, যদি না মোজা দুটি চামড়া দিয়ে মোড়ানো বা তলাবিশিষ্ট হয়।

ইমাম মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, এটি যথেষ্ট হবে না যদিও তা চামড়া দিয়ে মোড়ানো হয়।

ইমাম সাওরী, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং হাসান বিন হাই বলেছেন, যদি মোজা দুটি পুরু বা ঘন হয় তবে মাসাহ করা যাবে।

মুগীরা এবং আবু মুসা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই মোজা এবং দুই জুতার ওপর মাসাহ করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
34 -‌‌ فِيمَن يَنْقَضِي وَقت مَسحه أَو ينْزع الْخُف

 

عِنْد أَصْحَابنَا وَالشَّافِعِيّ ينْزع خفيه وَيغسل قَدَمَيْهِ وَرُوِيَ عَن إِبْرَاهِيم

وَقَالَ ابْن أبي ليلى إِذا نزع خفيه بعد الْمسْح صلى كَمَا هُوَ وَرُوِيَ نَحوه أَيْضا عَن إِبْرَاهِيم وَالْحسن الْبَصْرِيّ

وَرُوِيَ عَن إِبْرَاهِيم أَيْضا أَنه يُعِيد وضوءه

وَقَالَ مَالك رضي الله عنه وَاللَّيْث إِذا خلع خفيه بعد الْمسْح أَنه إِن غسل رجلَيْهِ مكانهما أَجزَأَهُ وَإِن أخر غسلهمَا بعد نزع الْخُفَّيْنِ أعَاد الْوضُوء كُله

وَرُوِيَ عَن الْأَوْزَاعِيّ أَنه يُعِيد الْوضُوء وَرُوِيَ عَنهُ أَنه يغسل رجلَيْهِ خَاصَّة وَقَالَ فِيمَن مسح على الْعِمَامَة ثمَّ نَزعهَا أَنه يمسح على رَأسه

وَقَالَ الْحسن بن حَيّ إِنَّه يُعِيد الْوضُوء إِذا خلع خفيه بعد الْمسْح وَلم يفرق بَين أَن يتراخى الْغسْل أَو لم يتراخ وَالله أعلم

35 -‌‌ فِيمَن نزع أحد خفيه

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَمَالك وَاللَّيْث وَالْأَوْزَاعِيّ وَالشَّافِعِيّ يغسل رجلَيْهِ جَمِيعًا وَهِي رِوَايَة الْأَشْجَعِيّ وَأبي نعيم عَن الثَّوْريّ
34 -‌‌ যার মাসেহর সময় শেষ হয়ে যায় অথবা যে মোজা খুলে ফেলে

 

আমাদের সাথীবৃন্দ (হানাফীগণ) এবং শাফিঈর মতে, সে তার মোজা খুলে ফেলবে এবং তার দুই পা ধৌত করবে; ইব্রাহীম থেকেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে আবি লায়লা বলেছেন, যদি সে মাসেহ করার পর মোজা খুলে ফেলে, তবে সে ঐ অবস্থাতেই সালাত আদায় করবে; ইব্রাহীম এবং হাসান বসরী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইব্রাহীম থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, সে তার ওযু পুনরায় করবে।

মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) এবং লায়স বলেছেন, যদি সে মাসেহ করার পর তার মোজা খুলে ফেলে, তবে যদি সে তৎক্ষণাৎ তার দুই পা ধৌত করে নেয় তবে তা যথেষ্ট হবে; আর যদি সে মোজা খোলার পর পা ধৌত করতে বিলম্ব করে, তবে সে পুরো ওযু পুনরায় করবে।

আওযাঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সে ওযু পুনরায় করবে; আবার তাঁর থেকে এমনটিও বর্ণিত হয়েছে যে, সে কেবল তার দুই পা ধৌত করবে। আর পাগড়ির ওপর মাসেহ করার পর তা খুলে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেছেন যে, সে তার মাথায় মাসেহ করবে।

হাসান বিন হাই বলেছেন, মাসেহ করার পর মোজা খুলে ফেললে সে ওযু পুনরায় করবে; এক্ষেত্রে তিনি পা ধৌত করতে বিলম্ব হওয়া বা না হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

35 -‌‌ যে ব্যক্তি তার দুই মোজার একটি খুলে ফেলে

 

আমাদের সাথীবৃন্দ, মালিক, লায়স, আওযাঈ এবং শাফিঈ বলেছেন, সে তার উভয় পা ধৌত করবে; আর এটিই সাওরী থেকে আশজায়ী এবং আবু নুআইমের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
وروى الْفرْيَابِيّ عَنهُ أَنه كَانَ بَعضهم يَقُول يغسل إِحْدَى رجلَيْهِ وَأي ذَلِك مَا فعل أَجزَأَهُ وروى الْمعَافى عَنهُ مثل ذَلِك

36 -‌‌ فِيمَن نزع الْقدَم من الْخُف

 

روى مُحَمَّد عَن أبي حنيفَة أَنه إِذا أخرج الْقدَم من الْخُف الى السَّاق فَعَلَيهِ الْوضُوء وروى بشر بن الْوَلِيد عَن أبي يُوسُف عَن أبي حنيفَة مثله قَالَ وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَكَذَلِكَ إِذا أخرج من نصف الْقدَم الى السَّاق

وَقَالَ مَالك وَالْأَوْزَاعِيّ وَالْحسن بن حَيّ مثل قَول أبي حنيفَة

قَالَ مَالك وَإِن كَانَ عقبه يخرج الى السَّاق والقدم كَمَا هِيَ فِي الْخُف فَلَا أرى عَلَيْهِ شَيْئا

وَرُوِيَ عَن الثَّوْريّ كَقَوْل أبي حنيفَة وروى الْفرْيَابِيّ عَنهُ أَنه إِذا أخرج صدر الْقدَم من مَوضِع الْخُف غسل قَدَمَيْهِ وَإِن بَقِي شَيْء فَلَيْسَ عَلَيْهِ وضوء

وَقَالَ الشَّافِعِي إِذا ظهر من رجله بعض مَا عَلَيْهِ الْوضُوء انْتقض الْمسْح وَإِن لم يظْهر مِنْهَا شَيْء لم ينْتَقض الْمسْح

37 -‌‌ فِي الْمسْح على الجرموقين

 

قَالَ أَصْحَابنَا وَأحد قولي مَالك وَالْأَوْزَاعِيّ وَالْحسن بن حَيّ يمسح
ফিরইয়াবী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁদের কেউ কেউ বলতেন, সে তার দুই পায়ের একটি ধৌত করবে এবং এগুলোর মধ্যে যেটিই সে করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। মু'আফা তাঁর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৬ -‌‌ মোজা থেকে পা বের করা প্রসঙ্গে

 

মুহাম্মাদ ইমাম আবু হানীফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি সে মোজা থেকে পা বের করে নলার দিকে নিয়ে আসে, তবে তার ওপর ওযু করা ওয়াজিব। বিশর ইবনুল ওয়ালীদ ইমাম আবু ইউসুফের সূত্রে ইমাম আবু হানীফা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু ইউসুফ বলেছেন, অনুরূপভাবে যদি সে পায়ের অর্ধেক থেকে নলার দিকে বের করে আনে (তবেও তাই)।

ইমাম মালিক, আওযাঈ এবং হাসান ইবনে হাই ইমাম আবু হানীফার মতের অনুরূপ বলেছেন।

ইমাম মালিক বলেন, যদি তার গোড়ালি নলার দিকে বেরিয়ে আসে কিন্তু পা মোজার ভেতরেই থাকে, তবে আমি তার ওপর কোনো কিছু (ওয়াজিব) দেখি না।

সাওরী থেকেও ইমাম আবু হানীফার মতের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ফিরইয়াবী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন সে মোজার স্থান থেকে পায়ের উপরিভাগ বের করে ফেলবে, তখন সে তার দুই পা ধৌত করবে; আর যদি কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে তবে তার ওপর ওযু নেই।

ইমাম শাফিঈ বলেন, যদি তার পায়ের এমন কোনো অংশ প্রকাশ পায় যা ওযুতে ধৌত করা ওয়াজিব, তবে মাসেহ বাতিল হয়ে যাবে; আর যদি তার কোনো কিছু প্রকাশ না পায় তবে মাসেহ বাতিল হবে না।

৩৭ -‌‌ জারমুকাইনের (চামড়ার মোজার ওপর পরিহিত মোজা) ওপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীগণ (হানাফীগণ) এবং ইমাম মালিকের দুই মতের একটি, আওযাঈ ও হাসান ইবনে হাই বলেছেন, সে মাসেহ করবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৪২)
على الجرموقين إِذا لبسهما فَوق الْخُفَّيْنِ قبل أَن يحدث

وَقَالَ مَالك فِي أحد قوليه وَالشَّافِعِيّ لَا يمسح

وروى الْمُغيرَة بن شُعْبَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه مسح على الْعِمَامَة والجرموقين

وروى الْعَلَاء بن الْحَارِث عَن مَكْحُول عَن الْحَارِث بن مُعَاوِيَة عَن بِلَال أَن النَّبِي صلى لله عَلَيْهِ وَسلم كَانَ يمسح على الجوموقين والخمار

وروى ابْن وهب عَن مَكْحُول عَن الْحَارِث بن مُعَاوِيَة عَن أبي جندل عَن بِلَال مثله

38 -‌‌ فِيمَن نزع أحد جرموقيه

 

قَالَ أَبُو حنيفَة وَأَبُو يُوسُف وَمُحَمّد يمسح على الْخُف وعَلى الجرموق الآخر

وَقَالَ زفر يمسح على الْخُف وَلَا يُعِيد على الجرموق الآخر
জুরমুকাঈনের ওপর (মাসেহ করা যাবে) যদি কেউ তা অপবিত্র হওয়ার (ওজু ভঙ্গ হওয়ার) পূর্বে মোজার ওপর পরিধান করে থাকে।

ইমাম মালেক তাঁর একটি মতানুসারে এবং ইমাম শাফেয়ী বলেছেন যে, (জুরমুকাঈনের ওপর) মাসেহ করা যাবে না।

মুগীরা ইবনে শু'বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি পাগড়ি এবং জুরমুকাঈনের ওপর মাসেহ করেছেন।

আল-আলা ইবনুল হারিস, মাকহুল থেকে, তিনি হারিস ইবনে মুয়াবিয়া থেকে এবং তিনি বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুরমুকাঈন এবং খিমারের (মাথার কাপড়) ওপর মাসেহ করতেন।

ইবনে ওয়াহাব, মাকহুল থেকে, তিনি হারিস ইবনে মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আবু জানদাল থেকে এবং তিনি বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৮ -‌‌ যে ব্যক্তি তার জুরমুকাঈনদ্বয়ের একটি খুলে ফেলেছে তার বিধান প্রসঙ্গে

 

ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ বলেছেন যে, সে মোজার ওপর এবং অন্য জুরমুকাঈনটির ওপর মাসেহ করবে।

ইমাম যুফার বলেছেন যে, সে মোজার ওপর মাসেহ করবে এবং অন্য জুরমুকাঈনটির ওপর পুনরায় মাসেহ করবে না।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফুল উলামা লিত-তাহাবী - ইখতিসারুল জাসসাছ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
39 -‌‌ فِيمَن مسح بإصبع

 

قَالَ أَصْحَابنَا فِيمَن مسح رَأسه أَو خفه بإصبع أَو إِصْبَعَيْنِ أَنه لَا يُجزئهُ حَتَّى يمسح بِثَلَاث أَصَابِع

وَقَالَ زفر وَالثَّوْري إِذا مسح بإصبع يُجزئهُ إِلَّا أَن زفرا قَالَ الرّبع

وَقَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه الْمسْح بِبَعْض الْيَد جَائِز

40 -‌‌ فِيمَن غسل رجلَيْهِ وَلبس

 

قَالَ أَصْحَابنَا يُجزئهُ إِذا أكمل وضوءه بعد اللّبْس قبل الْحَدث وَكَذَلِكَ إِذا غسل إِحْدَى رجلَيْهِ وَلبس وَهُوَ قَول الثَّوْريّ

وَقَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ لَا يُجزئهُ إِلَّا أَن يكون لبس خفيه بعد إِكْمَال الْوضُوء

وَفِي حَدِيث الشّعبِيّ عَن عُرْوَة بن الْمُغيرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأ فَأَهْوَيْت إِلَى خفيه لأنزعهما فَقَالَ مَه أقرا الْخُفَّيْنِ فَإِنِّي أدخلت الْقَدَمَيْنِ الْخُفَّيْنِ وهما طاهرتان

وَعَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه إِذا أدخلت قَدَمَيْك الْخُفَّيْنِ وهما طاهرتان فامسح عَلَيْهِمَا
৩৯ -‌‌ এক আঙুল দিয়ে মাসেহ করা প্রসঙ্গে

 

আমাদের সাথীগণ (হানাফীগণ) ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার মাথা অথবা মোজা এক বা দুই আঙুল দিয়ে মাসেহ করে যে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না সে তিন আঙুল দিয়ে মাসেহ করে।

যুফার এবং সাওরী বলেন, যখন এক আঙুল দিয়ে মাসেহ করা হয় তা যথেষ্ট হবে, তবে যুফার এক-চতুর্থাংশ (মাসেহ করা) আবশ্যক বলেছেন।

ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন, হাতের কিছু অংশ দিয়ে মাসেহ করা বৈধ।

৪০ -‌‌ যে ব্যক্তি তার দুই পা ধৌত করে (মোজা) পরিধান করে

 

আমাদের সাথীগণ (হানাফীগণ) বলেছেন, যদি অজু ভঙ্গের পূর্বে মোজা পরার পর অজু সম্পন্ন করা হয় তবে তা যথেষ্ট হবে। অনুরূপভাবে যদি কেউ তার এক পা ধুয়ে মোজা পরে ফেলে (তারপর অন্যটি ধৌত করে), তবে তাও যথেষ্ট হবে; আর এটিই সুফিয়ান সাওরীর অভিমত।

ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈ বলেন, পূর্ণ অজু করার পর মোজা পরিধান না করা পর্যন্ত তা যথেষ্ট হবে না।

আশ-শা'বীর বর্ণনায় উরওয়াহ ইবনুল মুগীরাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অজু করলেন, তখন আমি তাঁর মোজা দুটি খোলার জন্য নিচু হলাম। তিনি বললেন, "থামো, মোজা দুটি থাকতে দাও, কেননা আমি পা দুটি পবিত্র থাকা অবস্থায় মোজার ভেতর প্রবেশ করিয়েছি।"

উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, যখন তুমি তোমার পা দুটি পবিত্র থাকা অবস্থায় মোজার ভেতর প্রবেশ করাও, তখন সে দুটির ওপর মাসেহ করো।