(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام القرآن لإسماعيل القاضي (القاضي إسماعيل المالكي)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: أحكام القرآن
المؤلف: القاضي أبو إسحاق إسماعيل بن إسحاق بن إسماعيل بن حماد بن زيد الأزدي البصري ثم البغدادي المالكي الجهضمي (ت 282هـ)
المحقق: عامر حسن صبري
دار النشر: دار ابن حزم - بيروت
الطبعة: الأولى، 1426هـ، 2005م
عدد الصفحات: 245
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসমাইল আল-কাজীর আহকামুল কুরআন (কাজী ইসমাইল আল-মালিকী)
বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলে তাফসীর
কিতাব: আহকামুল কুরআন
লেখক: কাজী আবু ইসহাক ইসমাইল ইবনে ইসহাক ইবনে ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে যাইদ আল-আযদি আল-বাসরি অতঃপর আল-বাগদাদি আল-মালিকী আল-জাহদামি (ওফাত ২৮২ হিজরি)
মুহাক্কিক: আমির হাসান সাবরি
প্রকাশনী: দার ইবনে হাযম - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি, ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৫
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
قال الله تبارك وتعالى فاذا احصن فان اتين بفاحشة فعليهن نصف ما على المحصنات من العذاب 1 - عن زيد بن اسلم عن ابيه قالكنت اجلد عند عمر بن الخطاب ولائد زنين ولم يحصن حد المملوكة خمسين سوطا 2 - حدثنا ابو ثابت قال حدثني ابن وهب قال حدثني يونسعن ابن شهاب قال في مملوك زني عليه حد خمسين احصن او لم يحصن وحد الامة التي احصنت في كتاب الله نصف ما على المحصنة التي لم تتزوج وهي خمسون جلدة وحد الامة
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: "অতঃপর তারা যখন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ (احصن) হয়, এরপর যদি তারা অশ্লীলতায় (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়, তবে তাদের শাস্তি হবে স্বাধীন নারীদের (المحصنات) জন্য নির্ধারিত আজাবের অর্ধেক।" ১ - যায়িদ ইবনে আসলাম হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন:আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের উপস্থিতিতে সেই দাসীদের দোররা মারতাম যারা ব্যভিচার করেছিল কিন্তু তারা বিবাহিত (لم يحصن) ছিল না। ক্রীতদাসীর (المملوكة) জন্য নির্ধারিত শাস্তি (حد) ছিল পঞ্চাশ দোররা। ২ - আবু সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে ওয়াহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউনুস আমার নিকট বর্ণনা করেছেনইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি ক্রীতদাস (مملوك) সম্পর্কে বলেছেন যে ব্যভিচার করেছে, তার উপর নির্ধারিত শাস্তি (حد) হলো পঞ্চাশ, সে বিবাহিত (احصن) হোক বা না হোক। আর আল্লাহর কিতাবে বিবাহিতা (احصنت) দাসীর (الامة) জন্য নির্ধারিত শাস্তি (حد) হলো সেই স্বাধীন নারীর (المحصنة) অর্ধেক যে বিবাহিত নয়; আর তা হলো পঞ্চাশ দোররা। এবং দাসীর নির্ধারিত শাস্তি (حد)...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
التي لم تحصن مثل ذلك سنة واحدة وحد العبد مثل ذلك سنة واحدةقال الله تبارك وتعالى ياايها الذين ءامنوا اموالكم بينكم بالباطل الا ان تكون تجارة عن تراض منكم 3 - حدثنا عمي قال حدثنا حجاج بن المنهال قال حدثنا حماد بن سلمة عن داود بن هند عن عكرمةان ابن عباس كان يكره ان يبيع الرجل الثوب ويقول لصاحبه ان كرهته فرد معه درهما فقال هذا مما قال الله لا تاكلوا اموالكم بينكم بالباطل 4 - حدثنا يحيى بن خلف قال حدثنا ابو عاصم عن عيسى قال حدثنا ابن ابي نجيحعن مجاهد في قول الله عن تراض منكم في تجارة او بيع او عطاء احد احدا
যে (নারী) সধবা নয় তার জন্য অনুরূপ এক বছর (নির্বাসন); আর দাসের নির্ধারিত দণ্ড (حد) অনুরূপ এক বছর।আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন, "হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।" 3 - আমার চাচা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ দাউদ ইবনে হিন্দ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।ইবনে আব্বাস (রা.) অপছন্দ করতেন যে, কোনো ব্যক্তি কাপড় বিক্রি করবে এবং ক্রেতাকে বলবে, "যদি তোমার এটি অপছন্দ হয় তবে তা ফেরত দিও এবং সাথে এক দিরহাম দিও।" তিনি বলতেন, এটি আল্লাহর সেই বাণীর অন্তর্ভুক্ত যাতে বলা হয়েছে, "তোমরা তোমাদের সম্পদ নিজেদের মধ্যে অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" 4 - ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আসিম ঈসা থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে আবি নাজিহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী "তোমাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে" প্রসঙ্গে বর্ণিত যে, এটি ব্যবসা, ক্রয়-বিক্রয় অথবা একে অপরকে কোনো কিছু প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
قال القاضي كل شئ حرمه الله جل وعز القمار ومن البيوع الفاسدة فهو من اكل المال بالباطل لان المقامر يقول لصاحبه ان كان كذا فهو كذا وان لم يكن كذا فهو كذا وكذا وكذلك البيع الفاسد من الغرر لانه يبتع صاحبه البيع الذي فيه غرر فان سلم عليه المشتري وان لم يسلم عليه البائعواما الربا فان فساده ليس من وجه القمار والغرر ولكنه اخذ من صاحبه عوضا للتاخير الذي لم يجعل الله له ثمنا او العوض الذي نحو منفعة او ماشابه ذلكقال الله تبارك وتعالى ولا تقتلوا انفسكم ان الله كان بكم رحيما 5 - حدثنا سليمان بن حرب قال حدثنا حماد بن زيد عن عاصم بن بهدلةان مسروقا اتي صفين فوقف بين الصفين ثم قال ايها الناس انصتوا ثم قال ايها الناس انصتوا ثم قال ارايتم لو كان مناديا نادي من السماء وسمعتم كلامه ورايتموه فقال ان الله ينهاكم عما انتم عليه اكنتم مطيعيه قال فلا ادري ماردوا عليه فقد والله نزل بذلك
কাযী বলেন, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা যা কিছু হারাম করেছেন—যেমন জুয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ (الفاسدة) ক্রয়-বিক্রয়—তা অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণের অন্তর্ভুক্ত। কারণ জুয়াড়ি তার সঙ্গীকে বলে, ‘যদি এমন হয় তবে তা এমন হবে, আর যদি তা না হয় তবে তা এমন এমন হবে।’ অনুরূপভাবে অনিশ্চয়তামূলক (الغرر) ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ; কারণ সে তার সঙ্গীর সাথে এমন বিক্রয় চুক্তিতে লিপ্ত হয় যাতে অনিশ্চয়তা (غرر) থাকে। ফলে যদি পণ্যটি ক্রেতার নিকট হস্তগত হয় তবে তা ক্রেতার, আর যদি হস্তগত না হয় তবে তা বিক্রেতার।আর সুদের ক্ষেত্রে এর অবৈধতা জুয়া বা অনিশ্চয়তার (الغرر) দিক থেকে নয়, বরং এটি হলো বিলম্বে পরিশোধের বিনিময়ে কারো নিকট থেকে এমন প্রতিদান গ্রহণ করা যা আল্লাহ নির্ধারণ করেননি, অথবা এমন কোনো প্রতিদান যা উপকার বা অনুরূপ কোনো কিছুর বিনিময়ে নেওয়া হয়।আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: "আর তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।" 5 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুলায়মান ইবন হারব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ ইবন যায়েদ, তিনি আসিম ইবন বাহদালা থেকে (عن) বর্ণনা করেন—নিশ্চয়ই মাসরুক সিফফীনে আসলেন এবং দুই দলের মাঝখানে দাঁড়ালেন। অতঃপর বললেন, ‘হে লোকসকল! চুপ করুন।’ তিনি আবারও বললেন, ‘হে লোকসকল! চুপ করুন।’ এরপর বললেন, ‘আপনারা কি মনে করেন, যদি আসমান থেকে কোনো ঘোষক ঘোষণা দিতেন এবং আপনারা তাঁর কথা শুনতে পেতেন ও তাঁকে দেখতে পেতেন, আর তিনি বলতেন যে—নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমরা যে অবস্থায় আছো (যুদ্ধাবস্থা) তা থেকে নিষেধ করছেন, তবে কি আপনারা তাঁর আনুগত্য করতেন?’ বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাঁকে কী উত্তর দিয়েছিল তা আমি জানি না, তবে আল্লাহর কসম! এ সংক্রান্ত নির্দেশ (কুরআনে) নাযিল হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭০)
جبريل على محمد فناداه الو كان بابين عندي بين هذا ثم تلا ياايها الذين ءامنوا لا تاكلوا اموالكم بينكم بالباطل الا ان تكون تجارة عن تراض منكم ولا تقتلوا انفسكم ان الله كان بكم رحيما ومن يفعل ذلك عدوانا وظلما فسوف نصليه نارا وكان ذلك على الله يسيرا ثم انساب في الناس فذهب 6 - حدثنا يعقوب بن ابراهيم قال حدثنا ابن ادريس عن مطرف عن الشعبي قالقال لي مسروق ارايت لو ان صفين صفا ليقتتلا ففرج السماء ملك فقال ياايها الذين ءامنوا لاتاكلوا اموالكم بينكم بالباطل الا ان تكون تجارة عن تراض منكم ولا تقتلوا انفسكم ان الله كان بكم رحيما ومن يفعل ذلك عدوانا وظلما فسوف نصليه نارا وكان ذلك على الله يسيرا اتراهم كانوا متحاجزين قال قلت نعم الا ان يكونوا حجارة صما قال فقد نزل صفيه من الملائكة على صفيه من اهل الارض ولان يامنوا به غيبا افضل من ان يؤمنوا اذا عاينوهقال القاضي وقوله ولا تقتلوا انفسكم أي لا يقتل بعضكم بعضا قال الله جل وعز ثم انتم هؤلاء تقاتلون انفسكم
জিবরীল (আলাইহিস সালাম) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে আহ্বান করলেন। আমার নিকট যেন দুটি দরজা ছিল, এগুলোর মাঝে তিনি তিলাওয়াত করলেন: হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের মাধ্যমে তা করবে, তাকে আমি শীঘ্রই অগ্নিতে প্রবেশ করাবো। আর এটি আল্লাহর জন্য সহজ। এরপর তিনি মানুষের মাঝে মিশে গেলেন এবং প্রস্থান করলেন। ৬ - ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবন ইদরীস মুতাররিফ হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শা'বী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:মাসরূক আমাকে বললেন, তোমার কি অভিমত যদি যুদ্ধের জন্য দুই পক্ষ সারিবদ্ধ হয়, অতঃপর আসমান থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়ে বলেন: হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের মাধ্যমে তা করবে, তাকে আমি শীঘ্রই অগ্নিতে প্রবেশ করাবো। আর এটি আল্লাহর জন্য সহজ। তুমি কি মনে করো তারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতো? আমি বললাম, হ্যাঁ, যদি না তারা নিরেট পাথর হয়ে থাকে। তিনি বললেন, ফেরেশতাদের মধ্য হতে আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তি জমিনের অধিবাসীদের মধ্য হতে তাঁর মনোনীত ব্যক্তির নিকট অবতীর্ণ হয়েছেন। আর তারা অদৃশ্যে যে ঈমান এনেছে তা চাক্ষুষ দেখার পর ঈমান আনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।কাযী বলেন, আল্লাহর বাণী— "আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না"—এর অর্থ হলো তোমরা একে অপরকে হত্যা করো না। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তোমরাই তারা, যারা নিজেদের হত্যা করছো।"
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وتخرجون فريقا منكم من ديارها وقد زكرنا هذا النحو قبل هذا الموضوعوقد قال النبي صلي الله عليه وسلم في حجة الوداع فان دمائكم واموالكم واراضكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا أي دماء بعضكم على بعضقال الله تبارك وتعالى ان تجتنبوا كبائر ماتنهون عنه نكفر عنكم سيئاتكم وندخلكم مدخلا كريما 7 - حدثنا عمي قال حدثنا سليمان بن حرب قال حدثنا شعبة عن الوليد بن العيزار قال سمعت ابا عمرو الشيباني قال حدثنا صاحب هذا الدار واما الى الدار عبد الله بن مسعود قالقلت يارسول الله أي العمل اسر الى الله قال الصلاة لوقتها قال ثم أي قال بر الوالدين قال ثم أي قال الجهاد في سبيل اللهقال فحدثني بهن ولو استزدته لزادني
এবং তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে একদলকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দাও। আর আমরা ইতিপূর্বে এই বিষয়টি অনুরূপভাবে আলোচনা করেছি।এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন: নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের ভূমি একে অপরের ওপর হারাম (حرام), যেমন পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় তোমাদের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর। অর্থাৎ তোমাদের একে অপরের রক্ত ঝরানো নিষিদ্ধ।আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা বলেছেন: যদি তোমরা সেসব বড় গুনাহ (كبائر) থেকে বেঁচে থাকো যা তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমরা তোমাদের ছোট গুনাহগুলো (سيئات) মোচন করে দেব এবং তোমাদের এক সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব। ৭ - আমার চাচা আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন, শু’বাহ আমাদের নিকট ওয়ালীদ ইবনুল আয়যার থেকে বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু আমর আশ-শাইবানীকে বলতে শুনেছি যে, এই ঘরের অধিপতি—আর তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের ঘরের দিকে ইঙ্গিত করলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন:আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন: সময়মতো নামাজ আদায় করা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ (الجهاد) করা।তিনি বললেন: তিনি আমার নিকট এই বিষয়গুলো বর্ণনা (حدثني) করেছেন। আমি যদি তাঁর কাছে আরও অধিক জানতে চাইতাম, তবে তিনি আমাকে আরও বেশি বর্ণনা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭২)
8 - وحدثنا عمي قال حدثنا على بن عبد اللهقال حدثنا سفيان قال حدثني ابو معاوية النخعي سمع ابا عمرو الشيباني يقول قال عبد اللهسالت النبي صلي الله عليه وسلم أي العمل احب او أي العمل ابغض الى الله فقال ان تجعل لله ندا وهو خلقك او تقتل ولدك اجل ان ياكل معك او تزاني بحيلة جارك ثم قرا علي رسول الله صلي الله والذين لا يدعون مع الله الاها ءاخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق ولا يزنون ومن يفعل ذلك يلق اثاماوسالته أي العمل افضل قال الصلاة لوقتها وبر الوالدين والجهاد في سبيل اللهقال ابو معاوية النخعي هو ابو ابي داود النخعي واسم ابي داود سليمان بن عمرو بن عبد الله بن وهب 9 - حدثنا مسدد قال حدثنا ابو معاوية عن الاعمش عن ابي وائل عن عبد الله قال
৮ - এবং আমাদের নিকট আমার চাচা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আলী বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আবু মুয়াবিয়া আল-নাখায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আমর আল-শায়বানিকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বলেছেন:আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি প্রিয় অথবা কোন আমলটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত? তিনি বললেন, "তা হলো আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন; অথবা তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করা যে সে তোমার সাথে আহার করবে; অথবা তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: "আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না এবং আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি তা করবে, সে শাস্তির সম্মুখীন হবে।"এবং আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "সময়মতো সালাত আদায় করা, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।"আবু মুয়াবিয়া আল-নাখায়ি বললেন, তিনি হলেন আবু আবু দাউদ আল-নাখায়ি এবং আবু দাউদের নাম হলো সুলাইমান বিন আমর বিন আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব। ৯ - আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
سئل رسول الله صلي الله عليه وسلم أي الذنوب اكبر قال ان تجعل لله ندا وهو خلقك قلت ثم أي قال ان تقتل ولدك خشية ان يطعم معك قلت ثم أي قال ان تزاني بحليلة جاركقال فانزل الله تصديق ذلك في كتابه والذين لايدعون مع الله الاها ءاخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الى اخر الاية 10 - حدثنا محمد بن كثير قال اخبرنا سفيان عن منصور عن ابي وائل عن عمرو بن شرحبيل عن عبد الله قالقلت يارسةول الله أي الذنب اعظم قال ان تجعل لله ندا وهو خلقك ثم قال أي قال ان تزاني بحليلة جاركقال واذا تصديق قول رسول الله صلي الله عليه وسلم والذين لا يدعون مع الله الها ءاخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق ولا يزنون
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন, "আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, "তোমার সন্তানকে হত্যা করা এই ভয়ে যে সে তোমার সাথে আহার করবে।" আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, "তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।"বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এর সমর্থনে অবতীর্ণ করেন: "এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না এবং আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে হত্যা করে না..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত। ১০ - মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মানসুর হতে (عن), তিনি আবু ওয়ায়েল হতে (عن), তিনি আমর ইবনে শুরাহবিল হতে (عن) এবং তিনি আব্দুল্লাহ হতে (عن) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন গুনাহটি সবচেয়ে গুরুতর? তিনি বললেন, "আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" এরপর জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, "তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।"তিনি বলেন, আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ: "এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না এবং আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং তারা ব্যভিচার করে না।"
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
11 - حدثنا به مسدد قال حدثنا يحيى عن سفيان قال حدثني منصور وسليمان عن ابي وائل عن ابي ميسرة عن عبد الله قال وحدثني واصل عن ابي وائل عن عبد الله قالسالت او سئل رسول الله صلي الله عليه وسلم أي الذنب عند الله اكبر قالان تجعل لله ندا وهو خلقك قلت ثم أي قال ان تقتل ولدك خشية ان يطعم معك قلت ثم أي قال ان تزاني حليلة جاركقال ونزلت هذه الاية تصديقا لقول رسول الله صلي الله عليه وسلم والذين يدعون مع الله الاها ءاخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق 12 - وحدثنا منجاب قال حدثنا ابن مسهر عن الاعمش عن مسلم عن مسروقعن عبد الله قال الكبائر مابين اول سورة النساء الى ان تجتنبوا كبائر ماتنتهون عنه نكفر عنكم سيئاتكم وندخلكم مدخلا كريما
১১ - মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মানসুর ও সুলায়মান আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবু মায়সারা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং ওয়াসিল আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আমি জিজ্ঞাসা করলাম অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, আল্লাহর নিকট কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন—"তুমি আল্লাহর জন্য সমকক্ষ (ند) সাব্যস্ত করবে, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, "তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করা যে সে তোমার সাথে আহার করবে।" আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, "তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।"তিনি বলেন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর সত্যয়নস্বরূপ এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: "এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না এবং আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করে না..." ১২ - মিনজাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবন মুশহির আমাশ থেকে, তিনি মুসলিম থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এবংতিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বড় গুনাহ (الكبائر) হলো সূরা আন-নিসার প্রথম থেকে এই আয়াত পর্যন্ত— "যদি তোমরা নিষিদ্ধ বড় গুনাহগুলো (الكبائر) পরিহার করো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক প্রবেশস্থলে প্রবেশ করাব।"
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
13 - وحدثنا ابن نمير قال حدثني ابي قال حدثني الاعمش عن ابي الضحى عن مسروق قالقال عبد الله الكبائر من فاتحة النساء الى راس الثلاثين 14 - حدثنا ابن نمير قال حدثنا ابو معاوية قال حدثنا الاعمش عن ابراهيم عن علقمةعن عبد الله قال سئل عن الكبائر فقال مابين فاتحة سورة النساء الى راس الثلاثين 15 - وحدثنا حجاج بن المنهال قال حدثنا حماد بن سلمه عن حماد عن ابراهيمان ابن مسعود قال الكبائر مابين سورة النساء الى هذه الايةان تجتنبوا كبائر ماتنهون عنه نكفر عنكم سيئاتكم 16 - حدثنا مسلم بن ابراهيم قال حدثنا هشام بن ابي عبد الله قال حدثنا حماد عن ابراهيم عن عبد الله
13 - আমাদের নিকট ইবনে নুমায়র বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-আ'মাশ আবু আদ-দুহা থেকে এবং তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আবদুল্লাহ (রা.) বলেছেন, সূরা আন-নিসার প্রারম্ভ থেকে ত্রিশতম আয়াতের শেষ পর্যন্ত কবিরা গুনাহ (الكبائر) বর্ণিত হয়েছে। 14 - ইবনে নুমায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-আ'মাশ ইব্রাহিম থেকে এবং তিনি আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন,আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সূরা আন-নিসার প্রারম্ভ থেকে ত্রিশতম আয়াতের শেষ পর্যন্ত। 15 - হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ হাম্মাদ থেকে এবং তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে,ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, সূরা আন-নিসা থেকে এই আয়াত পর্যন্ত কবিরা গুনাহ (الكبائر) বর্ণিত হয়েছে:“তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবিরা গুনাহ (كبائر), তা যদি তোমরা পরিহার করো, তবে আমি তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেব।” 16 - মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিশাম ইবনে আবি আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইব্রাহিম থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
عن النبي صلي الله عليه وسلم في هذه الاية حرمت عليكم امهاتكم وبناتكم واخواتكم الى اخر الاية ثم قال ان تجتنبوا كبائر ماتنهون عنه قال هو من الكبائر 17 - حدثنا مسدد قال يزيد بن زريع قال حدثنا ابن عونعن ابراهيم قال كانوا يرون ان الكبائر فيما بين اول هذه السورة الى هذا المكان ان تجتنبوا كبائر ما تنهون عنه 18 - حدثنا حجاج بن المنهال قال حدثنا حماد بن سلمة قال اخبرنا سعد بن ابراهيم عن حميد بن عبد الرحمن عن عبد الله بن عمروان رسول الله صلي الله عليه وسلم قال ان اكبر الكبائر عقوق الوالدين الرجل يسب ابا الرجل فيسب اباه ويسب امه فيسب امه 19 - وحدثنا ابراهيم بن حمزة قال حدثنا عبد العزيز بن محمد وعبد العزيز بن ابي حازم وحدثاني عن يزيد بن الهاد عن سعد بن ابراهيم عن حميد بن عبد الرحمن عن عبد الله بن عمرو بن العاص
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণিত: "তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মায়েদের, তোমাদের মেয়েদের এবং তোমাদের বোনদের..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা যদি নিষিদ্ধ কবিরা গুনাহসমূহ (كبائر) পরিহার করো..." তিনি বললেন: এটি কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। 17 - মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন ইবনে আউন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইব্রাহিম থেকে। তিনি বলেন: তারা মনে করতেন যে, এই সূরার শুরু থেকে এই স্থান পর্যন্ত—"যদি তোমরা নিষিদ্ধ কবিরা গুনাহসমূহ (كبائر) পরিহার করো"—যা কিছু আছে তা কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। 18 - হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন হাম্মাদ ইবনে সালামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন সাদ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কবিরা গুনাহসমূহের (الكبائر) মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া; কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, ফলে সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে তার মাকে গালি দেয়, ফলে সে তার মাকে গালি দেয়।" 19 - এবং ইব্রাহিম ইবনে হামজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ এবং আবদুল আজিজ ইবনে আবি হাজিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) এবং তারা উভয়েই ইয়াজিদ ইবনুল হাদ থেকে, তিনি সাদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
انه سمع رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول من الكبائر شتم الرجل والديه قالوا يا رسول الله هل يشتم الرجل والديه قال يسب ابا الرجل فيسب اباه ويسب امه فيسب امه 20 - حدثنا علي قال حدثنا يحيى بن سعيد قال حدثنا سفيان قال حدثني سعد بن ابراهيم عن حميد بن عبد الرحمن عن عبد الله بن عمروعن النبي صلي الله عليه وسلم قال من الكبائر او من اكبر الكبائر ان يشتم الرجل والديه قالوا وكيف يشتم والديه قال يساب الرجل فيسب اباه ويسب امه فيسب امه 21 - حدثنا على قال حدثنا عبد الله بن سعيد بن عبد الملك ابو صفوان قال اخبرني ابن جريح قال سمعت محمد بن الحارث بن سفيان بن عبد الاسد ان عروة بن عياض اخبرهانه سمع عبد الله بن عمرو بن العاص يقول من الكبائر عند الله ان يستسب الرجل بوالديهقال علي لم يرفعه
তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, "কবীরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো ব্যক্তির তার পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! কোনো ব্যক্তি কি তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়?" তিনি বললেন, "সে অন্যের পিতাকে গালি দেয়, ফলে সে ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দেয়; এবং সে অন্যের মাতাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাতাকে গালি দেয়।" 20 - আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট সাদ ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন হুমায়িদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন—নবী (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, "কবীরা গুনাহ (الكبائر) অথবা বড় কবীরা গুনাহসমূহের (أكبر الكبائر) অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো ব্যক্তির তার পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া।" তারা বললেন, "সে কীভাবে তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়?" তিনি বললেন, "সে অন্য ব্যক্তিকে গালি দেয়, ফলে সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাতাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাতাকে গালি দেয়।" 21 - আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুল মালিক আবু সাফওয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে জুরাইজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনুল হারিস ইবনে সুফিয়ান ইবনে আব্দুল আসাদ থেকে শুনেছি যে, উরওয়াহ ইবনে ইয়াদ তাকে সংবাদ দিয়েছেন—যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, "আল্লাহর নিকট কবীরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে গালি খাওয়ার পরিস্থিতিতে ফেলা।"আলী বলেন, তিনি এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
22 - وحدثنا علي قال حدثنا سفيان عن يحيى بن سعيد قال اخبرنا النعمان بن ابي عياش قالارسلنا الى عبد الله بن عمرو نساله في أي الكبائر اكبر فقالالخمر قال فاعدنا عليه فقال من شربها لم تقبل له صلاة سبعا فان سكر لم تقبل له صلاة اربعين ليلة فان مات ميتة جاهلية 23 - وحدثنا يحيى الحماني قال حدثنا عبد العزيز بن محمد عن مسلم بن الوليد عن المطلب بن عبد الله بن حنطب عن عبد الله بن عمرو قالصعد النبي صلي الله عليه وسلم المنبر فقال الا اقسم ثم نزل فقال ابشرو ابشرو من صلى الصلوات الخمس واجتنب الكبائر السبع نودي من ابواب الجنة ادخلقال عبد العزيز فلا اعلمه قال الا بسلامفقال المطلب سمعت رجلا يسال عبد الله بن عمرو سمعت النبي صلي الله عليه وسلم يذكرهن قال نعم عقوق الوالدين واشراك بالله وقتل النفس وقذف المحصنات واكل مال اليتيم والفرار من الزحف واكل الربا
22 - আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বলেন আমাদের নিকট নুমান ইবনে আবি আইয়াশ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর নিকট লোক প্রেরণ করলাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করার জন্য যে, কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে কোনটি সর্বাপেক্ষা বড়? তিনি বললেন:মদ। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তা পান করবে, সাত দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল করা হবে না। আর যদি সে মাতাল হয়, তবে চল্লিশ রাত পর্যন্ত তার সালাত কবুল করা হবে না। এমতাবস্থায় সে যদি মারা যায়, তবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে। 23 - আমাদের নিকট ইয়াহিয়া আল-হিমানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে আল-ওয়ালিদ থেকে, তিনি আল-মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হানতাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেন, "আমি কি শপথ করব?" অতঃপর তিনি নেমে আসলেন এবং বললেন, "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, সুসংবাদ গ্রহণ করো! যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে এবং সাতটি কবিরা গুনাহ বর্জন করবে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে আহ্বান করা হবে: প্রবেশ করো।"আবদুল আজিজ বলেন, আমি নিশ্চিত নই যে তিনি এটি বলেছিলেন কি না: "সালামের সাথে"।আল-মুত্তালিব বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর-কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি যে, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সেগুলো উল্লেখ করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, "হ্যাঁ: পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা, প্রাণ হত্যা করা, সতী-সাধ্বী রমণীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং সুদ ভক্ষণ করা।"
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
24 - حدثنا ابراهيم بن حمزة قال حدثنا عبد العزيز بن محمد عن داود بن صالح عن سالم بن عبد الله عن ابيهان ابا بكر الصديق وعرو واناسا من اصحاب رسول الله صلي الله عليه وسلم جلسوا بعد رسول الله فذكروا اعظم الكبائر ولم يكن عندهم فيها علم ينتهون اليه فارسلوني الى عبد الله بن عمرو بن العاص اساله عن ذلك فاخبرني ان اعظم الكبائر شرب الخمر فاتيتهم واخبرتهم فانكروا ذلك وتوثبوا اليه جميعا حتي اتوه في داره فاخبرهم انهم تحدثوا عن رسول الله صلي الله عليه وسلم ان ملكا من بني اسرائيل اخذ رجلا فخيره بين ان يشرب الخمر او يقتل نفسا او يزني او ياكل لحم الخنزير او يقتلوه ان ابي فاختار ان يشرب الخمر وانه شربها لم يمتنع من شئ اراد منهوان رسول الله صلي الله عليه وسلم قال لنا مجيبا مامن احد يشربها فتقبل له صلاة اربعين ليلة لايموت وهي في مثانته فيه شئ منها الا حرمت عليه الجنة وان مات في اربعين ليلة مات ميتة جاهلية
২৪ - ইব্রাহিম বিন হামজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট দাউদ বিন সালিহ থেকে, তিনি সালিম বিন আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।নিশ্চয়ই আবু বকর আল-সিদ্দিক, উমর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর একত্রে বসলেন। তাঁরা সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (الكبائر) সম্পর্কে আলোচনা করলেন, কিন্তু সে বিষয়ে তাঁদের নিকট এমন কোনো চূড়ান্ত জ্ঞান ছিল না যার ওপর তাঁরা স্থির হতে পারেন। তাই তাঁরা আমাকে আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন। তিনি আমাকে জানালেন যে, সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (الكبائر) হলো মদ্যপান। আমি তাঁদের নিকট ফিরে এসে বিষয়টি জানালে তাঁরা তা অস্বীকার করলেন এবং সকলে মিলে তাঁর বাড়ির দিকে ছুটে গেলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের জানালেন যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন—বনী ইসরাঈলের এক রাজা এক ব্যক্তিকে বন্দি করে তাকে মদ্যপান করা, কোনো প্রাণ হত্যা করা, ব্যভিচার করা, শুকরের মাংস খাওয়া অথবা তাকে হত্যা করার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। সে ব্যক্তি মদ্যপান করা বেছে নিল; কিন্তু যখনই সে তা পান করল, তখন সে অন্য সব নিষিদ্ধ কাজ করতেও আর বিরত থাকল না।আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উত্তর দিয়ে বলেছিলেন: এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে মদ্যপান করে আর চল্লিশ রাত তার সালাত কবুল হয়; সে এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে না যে তার মূত্রাশয়ে এর কোনো অবশিষ্টাংশ বিদ্যমান থাকে, অথচ তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যায়। আর যদি সে চল্লিশ রাতের মধ্যে মারা যায়, তবে সে জাহিলিয়াত (جاهلية) এর মৃত্যু বরণ করল।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮০)
25 - حدثنا سليمان بن حرب قال حدثنا حماد قال حدثنا يحيى عن النعمان بن ابي عياش قالبعثنا الى عبد الله بن عمرو نساله عن الكبائر قال شرب الخمر قال فظننا انه لم يحفظ فردنا اليه فقال شرب الخمر حتى ذكر ترداده مرارا كل ذلك يقول شرب الخمر ثم قال عبد الله من شرب الخمر لم تقبل له صلاة اربعين ليلة فان مات فيها مات ميتة جاهلية 26 - قال يحيى وقال محمد من مات وهو مدمن خمر مات كعابد وثن 27 - حدثنا ابن ابي اويس قال حدثنا اخي عن سليمان بن بلال عن ثور عن ابي الغيث عن ابي هريرةان النبي صلي الله عليه وسلم قال اجتنبوا السبع الموبقات قال يارسول الله وما هن قال الشرك بالله والسحر وقتل النفس التي حرم الله الا بالحق واكل الربا واكل مال اليتيم والتولي يوم الزحف وقذف المحصنات المؤمنات الغافلات
25 - সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট নুমান ইবনে আবি আয়্যাশ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.)-এর নিকট বড় গুনাহ (الكبائر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পাঠালাম। তিনি বললেন, ‘মদ্যপান’। আমরা মনে করলাম যে তিনি হয়তো বিষয়টি মুখস্থ (حفظ) রাখতে পারেননি, তাই আমরা পুনরায় তাঁর কাছে লোক পাঠালাম। তিনি পুনরায় বললেন, ‘মদ্যপান’। এভাবে তিনি বারবার এটিই উল্লেখ করতে থাকলেন—‘মদ্যপান’। এরপর আব্দুল্লাহ (রাযি.) বললেন, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না। আর যদি সে এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু (ميتة جاهلية) বরণ করল।’ 26 - ইয়াহইয়া বলেন এবং মুহাম্মদ বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদ্যপানে আসক্ত (مدمن خمر) অবস্থায় মারা যাবে, সে মূর্তিপূজারীর (عابد وثن) ন্যায় মৃত্যুবরণ করল।’ 27 - ইবনে আবি উওয়াইস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার ভাই সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাওর থেকে, তিনি আবুল গাইস থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ (الموبقات) থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবীগণ আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী?’ তিনি বললেন: ‘আল্লাহর সাথে শিরক করা (الشرك بالله), যাদু (السحر), যথাযথ কারণ ছাড়া আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো প্রাণ হত্যা করা (قتل النفس التي حرم الله الا بالحق), সুদ ভক্ষণ (اكل الربا), এতিমের সম্পদ ভক্ষণ (اكل مال اليتيم), যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা (التولي يوم الزحف) এবং সরলমনা মুমিন সচ্চরিত্রা নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া (قذف المحصنات المؤمنات الغافلات)।’
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮১)
28 - حدثنا يحيى بن حبيب بن عربي قال حدثنا خالد بن الحارث قال حدثنا شعبة عن عبيد الله بن ابي بكر بن انس عن انسعن النبي صلي الله عليه وسلم في الكبائر قال الشرك بالله وعقوق الوالدين وقتل النفس وقول الزور 29 - حدثنا على بن عبد الله قال حدثنا اسماعيل بن ابراهيم قال حدثنا زياد بن مخراق عن معاوية بن قرة قالاتينا انس ابن مالك فكان فيما حدثنا قال لم ار مثل الذي بلغنا عن ربنا لم نخرج له من كل اهل ومال ثم سكت هنيهة ثم قال كلفنا ربنا اهون من ذلك لقد تجوز لنا عما دون الكبائر فما لنا ولها ثم تلا ان تجتنبوا كبائر ما تنهون عنه نكفر عنكم سيئاتكم وندخلكم مدخلا كريما 30 - حدثنا على قال حدثنا يونس بن محمد قال حدثنا الليث بن سعد عن هشام بن سعد عن محمد بن زيد بن مهاجر بن قنفذ التيمي عن ابي امامة الانصاري عن عبد الله بن انيس الجهني
28 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবী, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনুল হারিস, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে আনাস থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর সাথে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কোনো প্রাণ সংহার করা এবং মিথ্যা কথা বলা।" 29 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে মিখরাক, মুয়াবিয়া ইবনে কুররা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:আমরা আনাস ইবনে মালিকের নিকট আসলাম। তিনি আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছিলেন তাতে তিনি বলেন: "আমাদের রবের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে, আমি তার অনুরূপ (ভারী বা মহান) আর কিছু দেখিনি; (তা এমন ছিল যে) আমরা যেন তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবকিছু ত্যাগ করে বেরিয়ে পড়ি। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন এবং বললেন: আমাদের রব আমাদের এর চেয়েও সহজ বিষয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি আমাদের জন্য কবিরা গুনাহ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, সুতরাং কবিরা গুনাহর সাথে আমাদের কী সম্পর্ক? অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: 'তোমরা যদি নিষিদ্ধ বড় গুনাহগুলো পরিহার করো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক প্রবেশস্থলে প্রবেশ করাব।'" (সূরা আন-নিসা: ৩১) 30 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ, হিশাম ইবনে সাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যায়িদ ইবনে মুহাজির ইবনে কুনফুয আত-তাইমী থেকে, তিনি আবু উমামাহ আল-আনসারী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস আল-জুহানি থেকে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮২)
عن رسول الله صلي الله عليه وسلم انه قال من اكبر الكبائر الشرك بالله وعقوق الوالدين واليمين والغموس وما حلف حالف بالله يمين صبر فادخل فيها مثل جناح البعوضة الا كانت نكتة في قلبه الى يوم القيامة 31 - حدثنا ابراهيم بن حمزة قال حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابيه عن جده قالسمعت عثمان يقول ان الخمر مجمع الخبائث ثم انشا يحدث عن بني اسرائيل انه كان رجل خير بين ان يقتل صبيا او يمحوا كتابا او يشرب الخمر فاختار ان يشرب الخمر وراي انها اهونهن فشربها فما برح حتي صنعهن جميعا 32 - حدثنا محمد بن المنهال قال حدثنا عبد الاعلى قال حدثنا معمر عن الزهري عن ابي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام عن ابيه قال
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহসমূহের (الكبائر) মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া এবং ধ্বংসাত্মক মিথ্যা শপথ (اليمين الغموس)। আর যে কোনো শপথকারী আল্লাহর নামে কোনো বাধ্যতামূলক শপথ (يمين صبر) করে এবং তাতে মশার ডানার সমপরিমাণ অন্যায় কিছু প্রবিষ্ট করায়, তবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তা তার অন্তরে একটি কালো দাগ হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে।" ৩১ - ইব্রাহিম ইবনে হামযাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে সাদ তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আমি উসমানকে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই মদ হলো সকল পাপাচারের সমষ্টি। এরপর তিনি বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুরু করলেন যে, এক ব্যক্তিকে একটি শিশু হত্যা করা, একটি কিতাব মুছে ফেলা অথবা মদ পান করার মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখন সে মদ পান করাকেই বেছে নিল এবং মনে করল যে এটিই তাদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ। ফলে সে মদ পান করল এবং সেখান থেকে সরার আগেই সে সবগুলো কাজই করে ফেলল। ৩২ - মুহাম্মদ ইবনে মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল আ'লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
سمعت عثمان بن عفان في خطبته اياكم والخمر فانها ام الخبائث ان رجلا ممن خلا قبلكم كان يعبد الله ويتعزل الناس فعلقته امراة غاوية فارسلت اليه فاتتاها فقالت انها تدعوك للشهادة فدخل معها فطفقت كلما دخل من باب اغلقته دونه حتي افضى الى امراة وضيئة وعندها غلام وباطية فيها خمر فقالت اني والله ما دعوتك للشهادة ولكن اختر اما ان تقع علي واما ان تقتل هذا الغلام واما ان تشرب كاسا من هذا الخمر فلما راي انه لابد له من بعض ذلك قال ناوليني فناولته كاسا من خمر فقال زيديني فما برح ان وقع عليها وقتل النفس فاجتنبوه الخمر فانه والله لايجتمع ادمان الخمر والايمان في صدر رجل يوشك احدهما ان يخرج صاحبه 33 - حدثنا عمي قال حدثنا مسدود قال حدثنا يحيى عن سفيان عن الاعمش عن مسلم عن مسروقعن عائشة قالت من الكبائر ما اخذ على النساء
আমি উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি: তোমরা মদ পরিহার করো, কারণ এটি সকল মন্দের জননী। তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেন। এক পথভ্রষ্ট নারী তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং তাঁর কাছে এক দূত পাঠিয়ে জানাল যে, তাকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য আহ্বান করা হচ্ছে। তিনি সেই মহিলার সাথে ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং তিনি যতবার একটি দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেন, মহিলাটি সেটি তাঁর পেছনে বন্ধ করে দিত। শেষ পর্যন্ত তিনি এক রূপবতী নারীর কাছে পৌঁছালেন, যার কাছে একটি কিশোর বালক এবং মদের একটি বড় পাত্র ছিল। মহিলাটি বলল: 'আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকিনি, বরং আমি চাচ্ছি যে হয় আপনি আমার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবেন, নতুবা এই কিশোরটিকে হত্যা করবেন, নতুবা এই এক পেয়ালা মদ পান করবেন।' যখন তিনি দেখলেন যে এর কোনো একটি করা ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় নেই, তখন তিনি বললেন: 'আমাকে এক পেয়ালা মদ দাও।' সে তাঁকে মদ দিল। তিনি বললেন: 'আমাকে আরও দাও।' এরপর তিনি মাতাল হয়ে সেই মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলেন এবং কিশোরটিকে হত্যা করলেন। সুতরাং তোমরা মদ থেকে দূরে থাকো। কারণ আল্লাহর শপথ! কোনো ব্যক্তির অন্তরে মদ্যপানের আসক্তি এবং ঈমান একত্রে থাকতে পারে না; অচিরেই তাদের একটি অপরটিকে বের করে দেবে। ৩৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আমার চাচা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুসাদ্দাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াহইয়া, সুফিয়ান থেকে (عن), তিনি আমাশ থেকে (عن), তিনি মুসলিম থেকে (عن), তিনি মাসরুক থেকে (عن)আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বিষয়গুলো, যা নারীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
34 - حدثنا عمرو بن مرزوق قال اخبرنا ابو بكر النهشلي عن عطية العوفيعن ابن عمر انه سئل عن الكبائر فقال اكبر الكبائر الشرك بالله وقتل المؤمن واكل مال اليتيم واكل الربا والفرار من الزحف قال وحدثنا قال والسحر قال ثم قال السابعة ما السابعة 35 - حدثنا علي بن عبد الله قال حدثنا اسماعيل بن ابراهيم قال اخبرنا زياد بن مخراق قال اخبرنا زياد بن مخراق قال اخبرني طيسلة بن مياس قال كنت مع النجدات فاصبت ذنوبا لا اراها الا من الكبائر فلقيت ابن عمر فلقيت ابن عمر فقلت ابن عمر فقلت اني اصبت ذنوبا لا اراها الا من الكبائر قال ماهي قلت كذا وكذا قال ليس من الكبائر قلت واصبت كذا وكذا قال ليس من الكبائرقال زياد شئ لم يسمعه طيسلة قالهن تسع وساعدهن عليك الاشراك بالله وقتل النسمة بغير حقها والفرار من الزحف وقذف المحصنة واكل الربا واكل
34 - আমর ইবনে মারজুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আল-নাহশালি আতিয়্যাহ আল-আওফি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেনতিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ হলো—আল্লাহর সাথে শিরক করা, মুমিনকে হত্যা করা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, সুদ ভক্ষণ করা এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা। তিনি বললেন, আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করা হয়েছে এবং যাদু। অতঃপর তিনি বললেন, সপ্তমটি; সপ্তমটি কী? 35 - আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যিয়াদ ইবনে মিখরাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, যিয়াদ ইবনে মিখরাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, তয়সালাহ ইবনে মাইয়াস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি নাজদাতদের সাথে ছিলাম, তখন আমি এমন কিছু গুনাহ করে ফেলি যেগুলোকে আমি কবিরা গুনাহ ছাড়া অন্য কিছু মনে করতাম না। অতঃপর আমি ইবনে উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি ইবনে উমরের সাক্ষাৎ পেয়ে বললাম, আমি এমন কিছু পাপে লিপ্ত হয়েছি যেগুলোকে আমি কবিরা গুনাহ ছাড়া আর কিছু মনে করছি না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সেগুলো কী? আমি বললাম, অমুক অমুক কাজ। তিনি বললেন, এগুলো কবিরা গুনাহ নয়। আমি বললাম, আমি আরও অমুক অমুক কাজ করেছি। তিনি বললেন, এগুলোও কবিরা গুনাহ নয়।যিয়াদ এমন কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন যা তয়সালাহ (সরাসরি) শোনেননি, তিনি বলেন:সেগুলো হলো নয়টি এবং তোমার জন্য সেগুলো অত্যন্ত গুরুতর হবে: আল্লাহর সাথে শিরক করা, অন্যায়ভাবে কোনো প্রাণ সংহার করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা, সতী নারীকে অপবাদ দেওয়া, সুদ ভক্ষণ করা এবং...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
مال اليتيم ظلما والحاد في المسجد الحرام والذي يستحر وبكاء الوالدين من العقوققال زياد قال لي طيسلة لما راي ابن عمر فرقي قال اتفرق من النار ان تدخلها قلت أي والله قال وتحب ان تدخل الجنة قلت أي والله قال احي والداك قلت عندي امي قال فوالله لئن النت لها الكلام واطعمتها الطعام لتدخلن الجنة ما اجتنبت الموجبات 36 - حدثنا سليمان بن حرب قال حدثنا حماد بن زيد عن ايوب ويحيى بن عتيق عن محمدان ابن عباس قال كل ما نهى الله عنه كبير وقد ذكرت الطرفة
অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, মসজিদে হারামে অবমাননাকর কাজ করা, জাদুটোনায় লিপ্ত হওয়া এবং অবাধ্যতার কারণে পিতা-মাতার ক্রন্দন।জিয়াদ বর্ণনা করেন, তয়সালা আমাকে বলেছেন, যখন তিনি ইবনে উমর (রা.)-কে দেখলেন তখন আমি ভীত হলাম। তিনি বললেন, "তুমি কি জাহান্নামে প্রবেশ করতে ভয় পাও?" আমি বললাম, "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!" তিনি বললেন, "তুমি কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করো?" আমি বললাম, "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!" তিনি বললেন, "তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন?" আমি বললাম, "আমার মা জীবিত আছেন।" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! যদি তুমি তাঁর সাথে কোমল ভাষায় কথা বলো এবং তাঁকে অন্নদান করো, তবে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি ধ্বংসাত্মক মহাপাপসমূহ (الموجبات) থেকে বেঁচে থাকবে।" ৩৬ - সুলাইমান ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ আমাদের নিকট আইয়ুব ও ইয়াহইয়া ইবন আতিক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে,ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: আল্লাহ যা কিছু নিষেধ করেছেন তার সবই কবিরা গুনাহ (كبير)। আর তুর্ফা (الطرفة) বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
37 - حدثنا سليمان بن حرب قال حدثنا يزيد بن ابراهيم قال حدثنا محمدان ابن عباس سئل عن الكبائر فقال الكبيرة كبيرة وكل ما نهي الله عنه كبير وقد ذكرت الطرفة 38 - وحدثنا مسدد قال حدثنا حماد بن يزيد عن سعيد بن ابي صدقة عن قيس بن سعد قالقال ابن عباس لا كبيرة بكبيرة مع استغفار ولا صغيرة بصغيرة مع اصرار 39 - حدثنا مسدد قال حدثنا عبد الواحد بن زياد قال حدثنا ليث عن طاوس قالقال رجل لابن عباس اخبرنا بالكبائر السبع التي في القران فقال ابن عباس هي السبعين اقرب منها السبع 40 - حدثنا مسدد قال حدثنا يحيى عن التميمي عن طاوس قال
৩৭ - সুলাইমান বিন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াযীদ বিন ইব্রাহীম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাসকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, কবিরা গুনাহ (الكبيرة) বড়ই এবং আল্লাহ যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন তার সবই বড়। আর সামান্য গুনাহর (الطرفة) কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৮ - মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন ইয়াযীদ আমাদের কাছে সাঈদ বিন আবি সাদাকা থেকে, তিনি কায়েস বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস বলেছেন: ক্ষমা প্রার্থনার (استغفار) মাধ্যমে কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) আর বড় থাকে না, এবং হঠকারিতা বা অবিচলতার (اصرار) সাথে কোনো সগিরা গুনাহ (صغيرة) আর ছোট থাকে না। ৩৯ - মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, লাইস আমাদের কাছে তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে বললেন: আমাদের কুরআনে বর্ণিত সাতটি কবিরা গুনাহ (الكبائر) সম্পর্কে অবহিত করুন। ইবনে আব্বাস বললেন: সেগুলো সত্তরটির কাছাকাছি, সাতটির চেয়ে। ৪০ - মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদের কাছে তামীমী থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
ذكر عند ابن عباس الكبائر سبع فقال هن اكثر من سبع وسبع 41 - وحدثنا علي بن عبد الله قال حدثنا عبد الاعلى قال حدثنا داود عن عكرمةعن ابن عباس قال الضرار والحيف والجنف في الوصية من الكبائر ثم تلا وصية من الله والله عليم حليم تلك حدود الله ومن يطع الله ورسوله يدخله جنات تجري من تحتها الانهار خالدين فيها وذلك الفوز العظيم ومن يعص الله ورسوله ويتعد حدوده يدخله نارا فيها خالدا فيها وله عذاب مهين 42 - حدثنا على قال حدثنا سليمان بن حيان الاحمر قال سمعت داود يذكر عن عكرمةعن ابن عباس قال الاضرار في الوصية من الكبائر قال ثم قرا ومن يعص الله ورسوله فان له نار جهنم
ইবনে আব্বাসের নিকট যখন বড় গুনাহসমূহ (الكبائر) সাতটি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি বললেন, সেগুলো সাত এবং সাতের (অর্থাৎ সত্তর) চাইতেও বেশি। ৪১ - এবং আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, দাউদ আমাদের নিকট ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেনতিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: অসিয়তের ক্ষেত্রে ক্ষতিসাধন, পক্ষপাতিত্ব এবং অবিচার করা বড় গুনাহসমূহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। এগুলি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা; আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে এবং এটিই মহা সাফল্য। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।" ৪২ - আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনে হাইয়্যান আল-আহমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি দাউদকে ইকরিমা থেকে উল্লেখ করতে শুনেছিতিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: অসিয়তের মধ্যে ক্ষতিসাধন করা বড় গুনাহসমূহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, এরপর তিনি পাঠ করলেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন।"
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
43 - وحدثنا نصر بن علي قال حدثنا زياد بن الربيع قال حدثنا اشعث الحدانيعن الحسن في قوله ومن يطع الله ورسوله يدخله جنات تجري حتي بلغ عذاب مهين قال فحلف بالله ان الله جل وعز انزل هذه الوصية 44 - حدثنا مسدد قال حدثنا يحيى قال حدثنا ابو خلدة عن واصل بن عبد الرحمن قالسمعت ابن عباس يقول السكر من الكبائر 45 - حدثنا محمود بن خداش قال حدثنا مروان بن معاوية قال اخبرنا علي بن ابي الوليد عن واصل قال 46 - سمعت ابن عباس يقول السكر من الكبائروحدثنا ابراهيم بن حمزة قال حدثنا عبد العزيز بن محمد عن ابن ابي ذئب عن شعبة قال
43 - আমাদের নিকট নাসর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট যিয়াদ ইবনুর রাবী' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আশ'আস আল-হুদ্দানি বর্ণনা করেছেনহাসান (বসরী) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত..." - যতক্ষণ না তিনি 'লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি' পর্যন্ত পৌঁছালেন। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এই অসিয়ত (নির্দেশনা) নাযিল করেছেন। 44 - আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু খালদাহ বর্ণনা করেছেন ওয়াসিল ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি বলেন:আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, নেশাগ্রস্ত হওয়া কবিরা গুনাহ (الكبائر) সমূহের অন্তর্ভুক্ত। 45 - আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনে খিদাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আবিল ওয়ালিদ, ওয়াসিল থেকে, তিনি বলেন: 46 - আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, নেশাগ্রস্ত হওয়া কবিরা গুনাহ (الكبائر) সমূহের অন্তর্ভুক্ত।এবং আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে হামযাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল আজীজ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
جلست الى حسن بن محمد بن علي فسئل عن الخمر امن الكبائر قال لا فذكرت قوله لاين عباس فقال اقاله فقلت نعم فقال ابن عباس هي اكبر الكبائر او ليس يترك صاحبها الصلاة ويفطر في رمضان ويزني ويقذف المحصنات ويقتل النفس 47 - حدثنا حجاج بن المنهال قال حدثنا محمد بن سلمة عن عاصم بن بهدلة عن ابي الاحوصعن عبد الله بن مسعود قال اكبر الكبائر الاشراك والاياس من روح الله والقنوط من رحمة الله والامن من مكر الله 48 - وحدثنا سليمان بن حرب قال حدثنا حماد بن زيد عن عاصم بن بهدلة قال حماد لا اعلمه الا عن ابي وائلعن عبد الله انه قال ان اكبر الكبائر الاشراك بالله والاياس من روح الله والقنوط من رحمة الله والامن لمكر الله جل وعز 49 - حدثنا به محمد بن ابي بكر قال حدثنا يحيى عن مسعر عن عاصم عن زر
আমি হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আলীর নিকট বসেছিলাম। তাকে মদ্যপান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, তা কি কবিরা গুনাহ (الكبائر)-এর অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, না। এরপর আমি তার কাছে ইবনে আব্বাসের উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তিনি কি তা বলেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস বলেছেন যে এটি সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (أكبر الكبائر)। কেননা এর লিপ্ত ব্যক্তি কি সালাত ত্যাগ করে না, রমজানে রোজা ভঙ্গ করে না, ব্যভিচার করে না, সতী-সাধ্বী নারীদের অপবাদ দেয় না এবং মানুষ হত্যা করে না? 47 - হাজ্জাজ বিন মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসিম বিন বাহদালাহ থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (أكبر الكبائر) হলো আল্লাহর সাথে শিরক (الاشراك) করা, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হওয়া, আল্লাহর রহমত থেকে আশাহত হওয়া এবং আল্লাহর কৌশল বা পাকড়াও (مكر الله) থেকে নির্ভয় হওয়া। 48 - সুলাইমান বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসিম বিন বাহদালাহ থেকে। হাম্মাদ বলেন, আমি এটি আবু ওয়াইল ব্যতীত অন্য কারো সূত্র থেকে জানি না, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (أكبر الكبائر) হলো আল্লাহর সাথে শিরক (الاشراك) করা, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হওয়া, আল্লাহর রহমত থেকে আশাহত হওয়া এবং মহাপরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর কৌশল বা পাকড়াও (مكر الله) থেকে নির্ভয় হওয়া। 49 - মুহাম্মদ বিন আবু বকর আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মিসআর থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি যির থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৯০)
عن عبد الله قال الكبائر من اول سورة النساء الى راس الثلاثين ان يجتنبوا كبائر 50 - حدثنا محمود بن خداش قال حدثنا هشيم قال قال اخبرنا مطرف عن وبرة بن عبد الرحمن عن ابي الطفيل قالقال عبد الله بن مسعود اكبر الكبائر الاشراك بالله والاياس من روح الله والقنوط من رحمة الله والقنوط من رحمة الله والامن لمكر الله 51 - حدثنا به يعقوب بن ابراهيم عن ابن ادريس عن مطرف باسناده ونحوه 52 - وحدثنا محمد بن ابي بكر قال حدثنا وكيع عن الاعمش عن ابي الضحي عن مسروق قالقال عبد الله الكبائر من اول سورة النساء الى ان تجتنبوا كبائر ما تنهون عنهقال الاعمش فذكرت ذلك لابراهيم فقال ابراهيم قد سمعنا
আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: সূরা আন-নিসার শুরু থেকে ত্রিশ নম্বর আয়াতের শেষ পর্যন্ত—অর্থাৎ (যেখানে বলা হয়েছে) "যদি তোমরা কবীরা গুনাহসমূহ বর্জন কর"—পর্যন্ত বিষয়গুলোই কবীরা গুনাহ। 50 - মাহমুদ ইবনে খাদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতাররিফ ওয়াবরা ইবনে আবদুর রহমান হতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু তুফাইল হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহসমূহ হলো—আল্লাহর সাথে শিরক করা, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া, আল্লাহর করুণা হতে আশাহত হওয়া, আল্লাহর করুণা হতে আশাহত হওয়া এবং আল্লাহর পাকড়াও (কৌশল) হতে নিজেকে নিরাপদ মনে করা। 51 - ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট এটি ইবনে ইদ্রিস হতে, তিনি মুতাররিফ হতে তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে এবং এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। 52 - মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি আল-আ’মাশ হতে, তিনি আবু দুহা হতে, তিনি মাসরুক হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: সূরা আন-নিসার শুরু থেকে "যদি তোমরা বড় গুনাহগুলো বর্জন কর যা তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে" আয়াত পর্যন্ত বিষয়গুলোই কবীরা গুনাহ। আল-আ’মাশ বলেন: আমি এটি ইব্রাহিমের নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আমরা এটি শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৯১)
بذلك فرجعت الى ابي الضحى فاخبرته بقول ابراهيم فقال اراه سمعه مني قال الاعمش فرجعت الى ابراهيم فاخبرته بقوله سمعه مني فقال حدثنيه علقمة عن عبد الله 53 - وحدثنا علي بن عبد الله قال حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيمعن عبد الله قال الكبائر من فاتحة سورة النساء الى قوله تجنبوا كبائر ماتهون عنه 54 - حدثنا محمود قال حدثنا هشيم قال اخبرنا مغيرة عن ابراهيمعن عبد الله بن مسعود انه قال الكبائر من اول سورة النساء الى الثلاثين منها ان تجتنبوا كبائر ما تنهون عنه 55 - وحدثنا محمد قال حدثنا محمد بن ثور عن معمر عن رجلعن ابن مسعود قال في خمس ايات من سورة النساء لهن احب الي من الدنيا جميعا ان تجتنبوا كبائر ماتنهون عنه وقوله وان تلك حسنة يضاعفها وقوله جل وعز ان الله لا يغفر ان يشرك به ويغفر مادون ذلك لمن يشاء وقوله ومن يعمل سواءا او
এ বিষয়ে আমি আবু আদ-দুহার নিকট ফিরে গেলাম এবং তাকে ইব্রাহিমের বক্তব্য জানালাম। তিনি বললেন, "আমার মনে হয় তিনি এটি আমার নিকট থেকেই শুনেছেন।" আমাশ বলেন, এরপর আমি ইব্রাহিমের নিকট ফিরে গেলাম এবং তাকে আবু আদ-দুহার কথা জানালাম যে, তিনি এটি তাঁর নিকট থেকেই শুনেছেন। তখন ইব্রাহিম বললেন, "আলকামা আবদুল্লাহর সূত্রে এটি আমাকে বর্ণনা করেছেন।" 53 - আলী ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জারীর মানসুরের সূত্রে ইব্রাহিম থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: সুরা আন-নিসার শুরু থেকে তাঁর এই বাণী "যদি তোমরা নিষিদ্ধ বড় গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকো" পর্যন্ত বিষয়গুলোই হলো কবিরা গুনাহ। 54 - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুগীরা ইব্রাহিমের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: কবিরা গুনাহ হলো সুরা আন-নিসার শুরু থেকে এর ত্রিশতম আয়াত "যদি তোমরা নিষিদ্ধ বড় গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকো" পর্যন্ত। 55 - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে সাওর মামারের সূত্রে এক ব্যক্তির (رجل) থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: সুরা আন-নিসার মধ্যে পাঁচটি আয়াত রয়েছে যা আমার নিকট সমগ্র দুনিয়া ও এর সবকিছুর চেয়েও অধিক প্রিয়; (সেগুলো হলো) "যদি তোমরা নিষিদ্ধ বড় গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকো", এবং তাঁর বাণী "আর যদি তা কোনো নেক আমল হয় তবে আল্লাহ তা দ্বিগুণ করে দেন", এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এছাড়া যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন", এবং তাঁর বাণী "যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা..."
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৯২)
يظلم نفسه وقوله والذين ءامنوا بالله ورسله ولم يفرقوا بين احد منهم 56 - وحدثنا سليمان بن حرب قال حدثنا حماد بن يزيد عن ابن عون عن الحسنان عمر تلا ان تجتنبوا كبائر ما تنهون عنه نكفر عنكم سيئاتكم قال فقد علم الله انه ستكون لنا سيئات 57 - حدثنا سليمان قال حدثنا السري بن يحيى قال حدثنا الحسن قالقال رسول الله صلي الله عليه وسلم ما تقولون في الزنا والسرقة وشرب الخمر قالوا الله ورسوله اعلم قال هن فواحش وفيهن عقوبة الا اخبركم باكبر الكبائر الاشراك بالله وعقوق الوالدين قال ثم استوى قاعدا وقال الا وقول الزور ورفع بها صوته 58 - وحدثنا محمود قال حدثنا هشيم قال اخبرني اسماعيل بن ابي خالد قال حدثنا الشعبي قال
সে নিজের প্রতি অবিচার করে এবং তাঁর বাণী: "আর যারা আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করেনি।" ৫৬ - এবং আমাদের নিকট সুলাইমান বিন হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, ইবনে আউন থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে,উমর (রা.) তিলাওয়াত করলেন: "যদি তোমরা বর্জন করো সেই সব বড় গুনাহ যা তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব।" তিনি বললেন: "আল্লাহ তো জানতেনই যে আমাদের দ্বারা ছোট পাপ সংঘটিত হবে।" ৫৭ - আমাদের নিকট সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সাররি বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসান বর্ণনা করেছেন যে,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ব্যভিচার, চুরি এবং মদ্যপান সম্পর্কে তোমরা কী বলো?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "এগুলো অশ্লীল কাজ এবং এগুলোতে শাস্তির বিধান রয়েছে। আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় গুনাহসমূহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: "সাবধান! এবং মিথ্যা কথা," এবং তিনি এর দ্বারা তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু করলেন। ৫৮ - এবং আমাদের নিকট মাহমুদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে ইসমাইল বিন আবি খালিদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট শাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
اخبرت ان رسول الله صلي الله عليه وسلم قال ان اكبر الكبائر الاشراك بالله وعقوق الوالدين واليمين الغموس 59 - وحدثنا على بن عبد الله قال حدثنا سفيان قال قال ابن ابي خالدعن الشعبي اليمين الغموس وعقوق الوالدين من الكبائر 60 - حدثنا محمود قال حدثنا هشيم قال اخبرنا يونس بن عبيد قال حدثتنا الحسن قالقال رسول الله صلي الله عليه وسلم الا اخبركم باكبر الكبائر الاشراك بالله وعقوق الوالدين قال وكان متكئا فجلس قال فقال الا وقول الزور مرتين او ثلاثا يرفع بها صوته 61 - حدثنا سليمان بن حرب، قال حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن محمد، قال:سالت عبيدة عن الكبائر فقال الاشراك بالله وقتل النفس التي حرم الله بغير حقها والبهتان واكل مال اليتيم بغير حق
আমি সংবাদ প্রাপ্ত হয়েছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কবিরা গুনাহসমূহের (الكبائر) মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সাথে শরিক করা (الاشراك بالله), পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া (عقوق الوالدين) এবং মিথ্যা শপথ (اليمين الغموس)।" ৫৯ - আলী ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে আবি খালিদ শাবী থেকে বর্ণনা করেছেন:মিথ্যা শপথ (اليمিন الغموس) এবং পিতা-মাতার অবাধ্যতা (عقوق الوالدين) কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। ৬০ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহসমূহ (الكبائر) সম্পর্কে অবহিত করব না? (সেগুলো হলো) আল্লাহর সাথে শরিক করা (الاشراك بالله) এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া (عقوق الوالدين)।" বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, "সাবধান! আর মিথ্যা কথা (قول الزور) বলা।" তিনি কথাটি দুই বা তিনবার বললেন এবং এর মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বর উঁচু করলেন। ৬১ - সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আমি উবাইদাহকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, "আল্লাহর সাথে শরিক করা (الاشراك بالله), আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, অপবাদ (البهتان) এবং অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা।"
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
والزنا والفرار من الزحف او قال يوم الزحف ويقولون عن الله بعد هجرة 62 - حدثنا مسدد قال حدثنا يحيى عن ابن حرملة قال سمعت ابن المسيب يقول الكبائر عشر الاشراك بالله وقتل النفس ورمي المحصنات واكل مال اليتيم والفرار يوم الزحف واكل الربا والسحر وعقوق الوالدين وشرب الخمر واليمين الغموس 63 - حدثنا اسماعيل بن ابي اويس قال حدثنا عبد الرحمن بن ابي الموالعن محمد بن كعب القرظي انه قال الكبائر ثلاث ان تامن من مكر الله وان تياس من روح الله جل وعز وان تقنط من رحمة الله ثم قرا فقال قال الله جل وعز لقوم افامنوا مكر الله فلا يامن مكر الله الا القوم الخاسرون وقال يعقوب لبنيه لا يائس من روح الله الا القوم الكافرون وقال ابراهيم ومن يقنط من رحمة ربه الا الضالون قال بم قال الخسران والكفر والضلال
...এবং ব্যভিচার, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন—অথবা তিনি বলেছেন যুদ্ধের দিন—আর তারা হিজরতের পর আল্লাহর ব্যাপারে (ভিত্তিহীন) কথা বলে। ৬২ - মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদের কাছে ইবনে হারমালা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুসাইয়িবকে বলতে শুনেছি: কবিরা গুনাহ দশটি—আল্লাহর সাথে শিরক করা, অন্যায়ভাবে প্রাণ হত্যা করা, সচ্চরিত্রা নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের দিন রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা, সুদ খাওয়া, জাদু করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, মদ পান করা এবং ‘আল-ইয়ামিন আল-গামুস’ (নিমজ্জিতকারী মিথ্যা শপথ)। ৬৩ - ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে আবিল মুওয়াল আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: কবিরা গুনাহ তিনটি—আল্লাহর কৌশল থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহর করুণা থেকে হতাশ হওয়া। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন: মহান আল্লাহ এক সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন, “তবে কি তারা আল্লাহর কৌশল থেকে নির্ভয় হয়ে গিয়েছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর কৌশল থেকে নির্ভয় হয় না।” এবং ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।” এবং ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন, “পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তার প্রতিপালকের রহমত থেকে হতাশ হয়?” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কেন? তিনি বললেন: (এগুলো যথাক্রমে) ক্ষতিগ্রস্ততা, কুফর এবং পথভ্রষ্টতা।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-ইসমাঈল আল-কাদী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
64 - حدثنا ابو ثابت قال حدثنا عبد الله بن وهب قال اخبرني عبد الله بن عياشعن زيد بن اسلم في قول الله الذين يجتنبون كبائر الاثم والفواحش الا اللمم قال الكبائر الشرك والفواحش الزنا تركوا ذلك حين دخلوا في الاسلام فغفر الله لهم ماكانوا الموا به واصابوا من ذلك قبل الاسلام 65 - حدثنا محمد بن ابي بكر قال حدثنا ابن مهدي عن سفيان عن ابي اسحاق قالسمعت عبيد بن عمير يقول الكبائر سبع وقرا من يشرك بالله فقد حرم عليه الجنة ومن يقتل مؤمنا متعمدا فجزاؤه جهنم الذين ياكلون اموال اليتامى ظلما وقذف المحصنات والفرار من الزحف والتعرب بعد هجرة ثم قرا ارتدوا على ادبارهم من بعد ما تبين لهم
64 - আমাদের নিকট আবু সাবিত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে আবদুল্লাহ বিন আইয়াশ অবহিত করেছেনজাইদ বিন আসলাম থেকে আল্লাহর এই বাণী—"যারা মহাপাপ (الكبائر) ও অশ্লীলতা (الفواحش) থেকে বেঁচে থাকে, সামান্য স্খলন (اللمম) ব্যতীত"—প্রসঙ্গে বর্ণিত; তিনি বলেন: মহাপাপ (الكبائر) হলো শিরক (الشرك) এবং অশ্লীলতা (الفواحش) হলো ব্যভিচার (الزنا)। তারা যখন ইসলামে প্রবেশ করেন তখন তা বর্জন করেছিলেন, ফলে ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা যা করেছিলেন বা তাতে লিপ্ত হয়েছিলেন, আল্লাহ তা তাদের জন্য ক্ষমা করে দিয়েছেন। 65 - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবু বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনে মাহদি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:আমি উবায়দ বিন উমাইরকে বলতে শুনেছি, মহাপাপ (الكبائر) সাতটি। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক (الشرك) করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন", "এবং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হবে জাহান্নাম", "যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের ধন-সম্পদ গ্রাস করে", "সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদের অপবাদ (قذف) দেওয়া", "যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা" এবং "হিজরতের পর পুনরায় মরুবাসী হওয়া (বেদুইন জীবনে ফিরে যাওয়া)"। এরপর তিনি পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই যারা তাদের নিকট পথ স্পষ্ট হওয়ার পর তাদের পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে সত্য বিচ্যুত হয়েছে।"