(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تحريم كتابة القرآن الكريم بحروف غير عربية أعجمية أو لاتينية القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: تحريم كتابة القرآن الكريم بحروف غير عربية
المؤلف: أبو سهل صالح علي العَوْد
تقديم: محمد بن عبد الوهاب أبياط
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1416هـ
عدد الصفحات: 144
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অনারব, বিদেশি কিংবা ল্যাটিন অক্ষরে কুরআন মাজীদ লেখার নিষিদ্ধতা বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
বই: অনারব অক্ষরে কুরআন মাজীদ লেখার নিষিদ্ধতা
লেখক: আবু সাহল সালিহ আলী আল-আওদ
উপস্থাপনা: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আবইয়াত
প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[مقدمة الناشر]تحريم
كتابة القرآن الكريم
بحروف غير عربية
أعجمية أو لاتينية
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشر إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادى له وأشهد أن لا آله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله أما بعد:
فإن الجهل بكتاب الله في كثير من بلاد المسلمين قد أوقع بعضاً منهم بأمور خطيرة ومصيبة عظيمة إما عن حسن نية وجهل، وإما عن معرفة وعلم وقصد سيئ وأعداء الإسلام كثيرون من بلاد الإسلام وخارجها وصدق الله القائل {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} [يوسف: 103] والقائل {قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ} [آل عمران: 118] ولا شك أن من أعظم ما تغزى به الأمم هو غزوها في أعظم مقوماتها، والأمة المسلمة أعظم ما تمنى به هو محاولة
[প্রকাশকের ভূমিকা]নিষিদ্ধকরণ
পবিত্র কুরআন লিখন
অনারব বর্ণমালায়
আজমি বা ল্যাটিন
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের ভূমিকা: নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অতঃপর:
নিশ্চয়ই অনেক মুসলিম ভূখণ্ডে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অজ্ঞতা তাদের অনেককে অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয় ও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে; তা হয় সদিচ্ছা ও অজ্ঞতা থেকে, অথবা সঠিক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্য থেকে। ইসলামের শত্রুরা মুসলিম ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ও এর বাইরে অগণিত। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {আর আপনি যতই আগ্রহী হোন না কেন, অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়} [ইউসুফ: ১০৩] এবং আরও বলেছেন: {তাদের মুখ থেকে তো ঘৃণা প্রকাশ পেয়ে গিয়েছে, আর তাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও গুরুতর} [আল ইমরান: ১১৮]। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো জাতিকে পর্যুদস্ত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো তার মৌলিক ভিত্তিগুলোর ওপর আঘাত হানা। আর মুসলিম উম্মাহ যে ভয়াবহ পরীক্ষার সম্মুখীন হয় তা হলো...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
العبث بكتاب الله الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد، وإن أعداء الإسلام منذ القدم وهم يحاولون زعزعة المسلمين عن كتابهم العظيم الذي فيه عزتهم ورشدهم وصوابهم، والذى إن تمسكوا به لن يضلوا أبداً فهم دائماً وأبداً يحاولون تحريفه بالزيادة فيه أو النقص منه أو بتغيير بعض الكلمات والعبارات؛ لتحقيق ما يهدفون إليه من نزع الثقة منه ويأبى الله إلا أن يتم نوره ولو كره الكافرون، والأخطر من كل ذلك والأدهى والأمرُّ أن يحاولوا في هذه المرة انتزاع القرآن من عربيته فيكتب بحروف أعجمية أو لاتينية بحجة تقريبه وفهمه لأبناء المسلمين قاطبة عربهم وعجمهم وهذا بلا شك من أعظم الوسائل لطمس القرآن وتمزيقه وهو بهذا يكون عرضة للتغيير والتبديل والتحريف حيث إن اللغات الأعجمية متعددة وحروفها كذلك فيترتب على ذلك الفعل
আল্লাহর কিতাব নিয়ে অনর্থক হস্তক্ষেপ করা—যার নিকটবর্তী হতে পারে না কোনো বাতিল (باطل) তার সম্মুখ হতে কিংবা তার পশ্চাৎ হতে, এটি প্রজ্ঞাময় ও চির-প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। নিশ্চয়ই ইসলামের শত্রুরা প্রাচীনকাল থেকেই মুসলমানদেরকে তাদের সেই মহান কিতাব থেকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যার মধ্যে নিহিত রয়েছে তাদের মর্যাদা, সঠিক পথ ও হেদায়েত। তারা যদি তা আঁকড়ে ধরে থাকে তবে তারা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। তাই তারা সর্বদা এবং চিরকাল এতে কোনো কিছু বৃদ্ধির মাধ্যমে অথবা এর থেকে কোনো কিছু হ্রাসের মাধ্যমে কিংবা কিছু শব্দ ও বাক্যাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে এর বিকৃতি (تحريف) ঘটানোর চেষ্টা করে; যাতে এর থেকে নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) হরণ করার যে লক্ষ্য তাদের রয়েছে তা হাসিল হয়। কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। আর এই সবকিছুর চেয়েও ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক বিষয় হলো যে, তারা এবার কুরআনকে তার আরবি রূপ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে, যাতে একে অনারবি বা ল্যাটিন বর্ণমালায় লেখা হয়। তাদের অজুহাত হলো—আরব-অনারব নির্বিশেষে সকল মুসলিম সন্তানের নিকট একে সহজবোধ্য ও নিকটবর্তী করা। নিঃসন্দেহে এটি কুরআনকে বিলুপ্ত ও ছিন্নভিন্ন করার অন্যতম বড় মাধ্যম। এর ফলে কুরআন পরিবর্তন, রদবদল এবং বিকৃতির (تحريف) সম্মুখীন হবে; যেহেতু অনারবি ভাষা ও তার বর্ণমালা বহুবিধ, যার ফলে এই কর্মতৎপরতার কারণে...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الذميم أن كل شعب من شعوب الأرض له قرآنه الذي كتب بحروف ذلك الشعب وهكذا حتى تتعدد المصاحف بتعدد لغات الشعوب وبهذا يضيع كتاب الله وتتلاشى فائدته وعموميته وإعجازه، ولا غرو أن يصدر هذا العمل من عدو للقرآن وكاره للغة العربية حريص على زوالها واستبدالها بغيرها من اللغات اللاتينية والأعجمية. .
والقرآن عربي بإجماع المسلمين قال تعالى: {وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ} [فصلت: 44] إن هذا العمل حقيقته تجريد القرآن عن معجزته الخالدة التي تكمن في فصاحته وبلاغته وجودة أساليبه وعباراته؛ لأن ذلك لن يكون إلا باللغة التي نزل بها والقرآن نزل بلسان عربي مبين. .
إن كتابة القرآن بغير الحروف العربية ضلال وانحراف وتعطيل، وصدٌ عن سبيل الله وإهدار
এই নিন্দনীয় বিষয়টি হলো যে, পৃথিবীর প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব কুরআন থাকবে যা সেই জনগোষ্ঠীর বর্ণমালায় লিখিত হবে; আর এভাবে জাতিসমূহের ভাষার আধিক্যের সাথে সাথে কুরআনের কপির সংখ্যাও বহুবিধ হয়ে যাবে। এর ফলে আল্লাহর কিতাব হারিয়ে যাবে এবং এর উপযোগিতা, সার্বজনীনতা ও অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিলুপ্ত হবে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এই কর্মটি কুরআনের কোনো শত্রু এবং আরবি ভাষার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এমন একজনের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাবে, যে এই ভাষার বিলুপ্তি এবং একে ল্যাটিন ও অনারব ভাষার স্থলাভিষিক্ত করতে উন্মুখ।
মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ; মহান আল্লাহ বলেন: "আমি যদি একে অনারব ভাষার কুরআন করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত—এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়নি কেন? ভাষা অনারব অথচ রাসুল আরবীয়?" [সূরা ফুসসিলাত: ৪৪]। মূলত এই কাজের হাকিকত হলো কুরআনকে তার সেই চিরন্তন অলৌকিকত্ব (معجزة) থেকে নিঃস্ব করা, যা এর প্রাঞ্জলতা (فصاحة), অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) এবং এর উৎকৃষ্ট রচনাশৈলী ও শব্দশৈলীর মাঝে বিদ্যমান; কেননা এটি কেবল সেই ভাষার মাধ্যমেই সম্ভব যে ভাষায় তা অবতীর্ণ হয়েছে, আর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
আরবি বর্ণমালা ব্যতিরেকে কুরআন লিপিবদ্ধ করা হলো পথভ্রষ্টতা (ضلال), বিচ্যুতি (انحراف) ও অকেজো করা (تعطيل), এবং এটি আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান ও কুরআনের মর্যাদা বিনাশের নামান্তর।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
لكرامة القرآن، وتضييع لأوامره ونواهيه وأحكامه، ولا يصدر ذلك إلا من جاهل أو مارق محاد لله ورسوله. .
وجزى الله مؤلف هذا الكتاب أخانا في الله (صالح على العود) خيراً فقد تضمن كتابه هذا مع صغر حجمه الذود عن كتاب الله بما أثبته من إجابات وفتاوى متعددة عن عدد كبير من العلماء الموثوقين المعاصرين ومن علماء الأمة السابقين والتي تفيد أن كتابة القرآن بحروف غير عربية ضلال وإلحاد ومحادة لله ورسوله. .
وقد عزمت وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد على طباعة هذا الكتاب ونشره بين المسلمين على نفقتها تعميماً للفائدة ودفاعاً عن كتاب الله رجاء لما عند الله من المثوبة والأجر، وتوضيحاً للحكم الشرعي في هذا الموضوع المهم. .
والله نسأل أن يصلح أحوال المسلمين ويوحد
এটি কুরআনের মর্যাদাহানি এবং এর আদেশ, নিষেধ ও বিধি-বিধানের অপচয়; এটি কেবল কোনো অজ্ঞ (جاهل) অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতাকারী ধর্মত্যাগী (مارق) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে প্রকাশ পেতে পারে না। .
আল্লাহ এই গ্রন্থের লেখক, আল্লাহর পথে আমাদের ভাই (সালেহ আলী আল-আউদ)-কে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তার এই গ্রন্থটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর কিতাবকে রক্ষার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে; কারণ এতে তিনি সমসাময়িক বহু নির্ভরযোগ্য (موثوقين) আলেম এবং উম্মাহর পূর্ববর্তী আলেমদের বিভিন্ন উত্তর ও ফতোয়া (فتاوى) সংকলিত করেছেন। যা প্রমাণ করে যে, কুরআনকে অনারব অক্ষরে লেখা পথভ্রষ্টতা (ضلال), ধর্মদ্রোহিতা (إلحاد) এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে শত্রুতা করার শামিল। .
ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় এই গ্রন্থটি নিজস্ব খরচে মুদ্রণ ও মুসলমানদের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং আল্লাহর কিতাবের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হয়। একইসাথে আল্লাহর নিকট থেকে সওয়াব ও প্রতিদানের আশা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শরয়ী বিধান (حكم شرعي) স্পষ্ট করাও এর উদ্দেশ্য। .
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি মুসলিমদের অবস্থার সংশোধন করেন এবং ঐক্যবদ্ধ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
صفوفهم وكلمتهم على الحق والهدى، وأن يجعل كيد الأعداء في نحورهم إنه ولى ذلك والقادر عليه وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
د عبد الله بن أحمد الزيد
وكيل وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد
المساعد لشؤون المطبوعات والنشر
তাদের কাতারসমূহ এবং তাদের কথাকে সত্য ও হেদায়েতের ওপর ঐক্যবদ্ধ করুন এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র যেন তাদের নিজেদের ধ্বংসের কারণ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
ড. আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আল-জাইদ
ইসলামিক বিষয়াবলি, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি
প্রকাশনা ও মুদ্রণ বিষয়ক সহকারী সচিব
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
[تقريظ الأستاذ محمد أبياط]بسم الله الرحمن الرحيم
تقريظ الأستاذ محمد أبياط فضيلة الشيخ أبي سهل: صالح علي العَوْد السلام عليكم ورحمة الله وبركاته وبعد أهنئكم على اليقظة التي حباكم الله بها في تتبع وملاحقة ما تفرزه أقلام الأعداء، وتبديه أفئدتهم الماكرة، مما يخفى عن البعيد، وقد يخفى عن الحاضر اللاهي الساهي.
إن كتابة " القرآن الكريم " بحرف غير عربي وعلى هيئة مبتدعة مخالفة للرسم العثماني، تعد مؤامرة لا يقل خبثها عن خبث التمريض والتجهيل والتجويع والتقتيل، لأن سهامها موجهة أصلاً إلى قطع الحبل الذي يصل البشرية بربها، لتبقى مضطربة بين أمواج الجهل والظلم والاستبداد! .
ولا أشكركم - سيدي - على الجهود التي تبذلونها في مواجهة الحملة الخطيرة، لكن أرجو الله أن يتقبل منكم، ويعينكم بصالح المؤمنين، ويجعلكم
[অধ্যাপক মুহাম্মদ আবিয়াতের প্রশংসা বাণী]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ আবিয়াতের প্রশংসা বাণী। সম্মানিত শাইখ আবু সাহল: সালেহ আলী আল-আওদ, আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর, আল্লাহ আপনাকে যে সজাগ সচেতনতা দান করেছেন তার জন্য আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাই, যা আপনাকে শত্রুদের কলম থেকে যা নিঃসৃত হয় এবং তাদের চক্রান্তকারী অন্তর যা প্রকাশ করে, তা অনুসরণ ও মোকাবিলা করার সামর্থ্য দিয়েছে; যা দূরবর্তী কারো কাছে তো বটেই, এমনকি অমনোযোগী ও অসতর্ক উপস্থিত ব্যক্তির কাছেও অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে।
অনারব অক্ষরে এবং উসমানী লিপির (الرسم العثماني) পরিপন্থী কোনো উদ্ভাবিত (مبتدعة) পদ্ধতিতে "পবিত্র কুরআন" লেখা এমন এক চক্রান্ত, যার অনিষ্টতা অসুস্থ করা, অজ্ঞ রাখা, অনাহারে রাখা কিংবা গণহত্যার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কারণ এর লক্ষ্য হলো মূলত সেই রশিকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যা মানবতাকে তার রবের সাথে সংযুক্ত রাখে, যাতে তারা মূর্খতা, জুলুম ও স্বৈরশাসনের ঢেউয়ের মধ্যে দিশেহারা হয়ে থাকে!
হে মহোদয়, এই বিপজ্জনক অভিযানের মোকাবিলায় আপনি যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য আমি কেবল আপনাকে ধন্যবাদই দেব না, বরং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন, সৎকর্মশীল মুমিনদের মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করেন এবং আপনাকে...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أشواكاً في حلوق الكائدين. .
لقد قرأت كتابكم العدد (11) من سلسلة التربية الإسلامية، الذي سلمه إلي أخونا وصديقنا الحميم الأستاذ أبو بكر صابر الغيور. . .
قرأته بشوق ولهفة، وتتبعت حجج الشيوخ والعلماء، التي اعتمدوها في إصدار حكمهم بمنع وتحريم تغيير هيئة الرسم العثماني، فوجدتها تؤول - في مجموعها - إلى أمرين خطيرين تنتج عنهما آثار ناسفة لمقومات الأُمة الإسلامية كلها، وهما:
1 - محاربة اللغة العربية. .
2 - تغيير الرسم الاصطلاحي للمصحف العثماني. .
ومحاربة اللغة العربية هي محاربة لجميع علومها، واحتقار وازدراء لأهلها، وأفكارهم واجتهاداتهم. .
وقد أجمع العلماء - قديماً وحديثَاَ - على وجوب تعلم العربية، لأن ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب. ولم يكن الرب - سبحانه - عاجزاً عن إنزال
...ষড়যন্ত্রকারীদের কণ্ঠে কণ্টকস্বরূপ।
আমি আপনাদের ‘ইসলামি শিক্ষা’ সিরিজের ১১তম সংখ্যাটি পাঠ করেছি, যা আমাদের ভাই ও অন্তরঙ্গ বন্ধু শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আবু বকর সাবের আল-গাইয়ুর আমার নিকট হস্তান্তর করেছেন।
আমি এটি অত্যন্ত আগ্রহ ও ব্যাকুলতার সাথে পড়েছি এবং শায়খ ও উলামায়ে কেরামের সেইসব দলিল-প্রমাণগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, যার ওপর ভিত্তি করে তাঁরা উসমানি লিপির কাঠামো পরিবর্তন নিষিদ্ধ ও হারাম করার ফয়সালা প্রদান করেছেন। আমি সেগুলোকে সামগ্রিকভাবে এমন দুটি বিপজ্জনক বিষয়ের দিকে ধাবিত হতে দেখেছি, যা থেকে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মৌলিক কাঠামোর জন্য বিধ্বংসী ফলাফল তৈরি হয়। বিষয় দুটি হলো:
১ - আরবি ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
২ - উসমানি মুসহাফের পারিভাষিক লিপির (الرسم الاصطلاحي) পরিবর্তন।
আর আরবি ভাষার বিরোধিতা করা মানে এর সকল শাস্ত্রের বিরোধিতা করা এবং এর পণ্ডিতবর্গ, তাঁদের চিন্তাধারা ও ইজতিহাদসমূহের (اجتهادات) প্রতি অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান প্রদর্শন করা।
প্রাচীন ও আধুনিক কালের সকল আলেম এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, আরবি ভাষা শিক্ষা করা ওয়াজিব; কেননা যে মাধ্যম ব্যতীত কোনো ওয়াজিব কাজ সম্পন্ন হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব। আর মহান প্রতিপালক—যিনি পবিত্র—অক্ষম ছিলেন না অবতীর্ণ করতে...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
القرآن بلغة غير العربية، ومن هنا ينبعث الحسد والحقد في صدور الأعداء! ومن هنا - أيضاً - نعتقد أنَّ كلَّ من حارب اللغة العربية فإنما يحارب اللغة التي اختارها الله، ومن ثمَّ فهو يتهم الله في اختياره! وبالتالي فهو كافر، لأنَّه لا يقدِّس الله ولا ينزِّهُه عن النقص، تعالى الله عن ذلك عُلوّاً كبيراً. .
لكنَّ الكفَّار يدركون: أنه ما سادت لغة في أمة إلَاّ ساد فكرها، ومتى خضعت أمة لغزو لغة وفكرها إلَاّ كانت تابعة مأمورة، وذلك ما يخيفهم!
أمَّا محاولتهم لتغيير الرسم العثماني فيكفي لرده أنه سيفتح باب الذرائع للأفكار المغرضة. بالإضافة إلى عجز اللغة اللاتينية عن تحمل مضامين الحروف العربية وخصائصها. .
ولا عجب أن يقوم بنشر هذه الدعوة البغيضة: الأعداء والمنافقون. . . لكن العجب أن يحملها وينافح عنها مدعو الإسلام، والمسلمون، ويكلفون أنفسهم إيجاد البراهين المسوغة لها. .
আরবি ব্যতীত অন্য ভাষায় কুরআন; আর এখান থেকেই শত্রুদের অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষের উদ্ভব ঘটে! এখান থেকেই আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, যে ব্যক্তি আরবি ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, সে মূলত মহান আল্লাহর মনোনীত ভাষার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করে। ফলশ্রুতিতে সে আল্লাহর নির্বাচনের ওপর অপবাদ আরোপ করে! পরিণামে সে একজন কাফির (كافر), কারণ সে আল্লাহকে পবিত্র জ্ঞান করে না এবং তাঁকে সকল অপূর্ণতা থেকে মুক্ত মনে করে না; আল্লাহ তাদের এসব অপবাদ থেকে সুউচ্চ ও মহান। .
তবে কাফিররা (كفار) এটি অনুধাবন করে যে, কোনো জাতির ওপর যখন কোনো ভাষার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের চিন্তাধারারও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যখন কোনো জাতি কোনো ভিন্ন ভাষা ও চিন্তাধারার আগ্রাসনের পদানত হয়, তখন তারা আজ্ঞাবহ অনুসারীতে পরিণত হয়; আর এটিই তাদের ভীত করে তোলে!
আর উসমানি লিপি (الرسم العثماني) পরিবর্তনের চেষ্টার বিপক্ষে এটুকু খণ্ডনই যথেষ্ট যে, এটি অশুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মতাদর্শের দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে। তদুপরি, আরবি বর্ণের ভাবার্থ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করতে ল্যাটিন ভাষা সম্পূর্ণ অক্ষম। .
শত্রু এবং মুনাফিকরা (منافقون) এই ঘৃণ্য আহ্বান প্রচার করবে—তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইসলামের দাবিদার এবং কিছু মুসলিমই একে বহন করছে ও এর স্বপক্ষে লড়াই করছে; এমনকি তারা এর অনুকূলে বিভিন্ন প্রমাণাদি (براهين) উপস্থাপনের বৃথা চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করছে। .
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وليسمح لي مؤيدو هذه الدعوة من المسلمين أن أقول لهم: إن كنتم مخلصين في نشر الإسلام وتيسيره على من أسلم أو نسي لغته، فاجتهدوا في تعليم اللغة العربية ونشرها بكل ما تطيقون، كما نشر الغرب فينا لغته وغزانا بفكره. . . فإنكم بذلك ستجذرون لعقيدة الإسلام. .
وأتوجه بتنبيه لكلِّ من أسلم صادقاً - ولا يعرف العربية - أن يكون حذراً من قراءة ترجمة القرآن، وعليه أن يعرض ما فهمه منها على شيوخ الإسلام، الذين يتقنون فَهْمَ أسلوب القرآن، ليصححوا له المفاهيم، وينبِّهوه إلى المحاذير. .
وعلى أيِّ حال: فجزاكم الله عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء، والسلام. .
فاس / الاثنين (7) جمادى الأولى (1411) هـ (26) نوفمبر (1990) م.
محمد بن عبد الوهاب أبياط
أستاذ مساعد بكلية الشريعة بفاس (المغرب)
এই দাওয়াতের মুসলিম সমর্থকদের কাছে আমার নিবেদন: আপনারা যদি ইসলাম প্রচার এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন বা যারা তাদের ভাষা ভুলে গিয়েছেন তাদের জন্য দ্বীনকে সহজ করার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ হন, তবে সাধ্যমতো আরবি ভাষা শিক্ষা ও তা প্রসারে সচেষ্ট হোন; যেভাবে পাশ্চাত্য আমাদের মাঝে তাদের ভাষা বিস্তার করেছে এবং তাদের চিন্তা-ভাবনা দিয়ে আমাদের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছে... কারণ, এর মাধ্যমেই আপনারা ইসলামের আকিদাকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবেন।
আর যারা সত্যনিষ্ঠভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন অথচ আরবি জানেন না, তাদের প্রতি আমার বিশেষ সতর্কবার্তা হলো—আপনারা কুরআনের অনুবাদের ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অনুবাদ পড়ে যা বুঝেছেন তা ইসলামের এমন বিজ্ঞ আলিমদের নিকট উপস্থাপন করা উচিত, যারা কুরআনের বর্ণনাশৈলী অনুধাবনে পারদর্শী; যাতে তারা আপনাদের ভুল ধারণাগুলো সংশোধন করতে পারেন এবং সম্ভাব্য ভুল পথ সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন।
পরিশেষে, ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে আল্লাহ আপনাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আসসালাম।
ফাস / সোমবার (৭) জুমাদাল উলা (১৪১১) হিজরি (২৬) নভেম্বর (১৯৯০) ঈসায়ী।
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আবইয়াত
সহকারী অধ্যাপক, শরিয়াহ অনুষদ, ফাস (মরক্কো)
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلف الحمد لله الذي شرَّفَ أمّة الإسلام بالقرآن العظيم، ورفع مقامها بالآيات والذكر الحكيم، واصطفاها على العالمين بمزيد العزَّة والفضل والتكريم. .
وأشهد أن لا إله إلا الله مُنَزِّلِ الكتاب بلسان عربي مبين، وأشهد أن نبينا محمداً عبده ورسوله، الداعي إلى هذا الدين المكين، صلوات الله عليه وسلامه، وعلى إخوانه النبيين. .
ورضي الله عن إله وأصحابه والتابعين: جمعوا لنا هذا القرآن في الصدور والسطور جميعاً (1) {أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى} [البقرة: 282] (2) وها
--------------------------------------------
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উম্মতে ইসলামকে মহান কুরআনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, আয়াতসমূহ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ স্মরণের মাধ্যমে এর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন এবং একে অত্যধিক মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের দ্বারা বিশ্ববাসীর ওপর মনোনীত করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, যিনি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় কিতাব অবতীর্ণ করেছেন; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী। তাঁর ওপর এবং তাঁর ভ্রাতৃবৃন্দ নবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর পরিবার, তাঁর সাহাবীগণ এবং অনুগামীগণের (التابعين) প্রতি: তাঁরা আমাদের জন্য অন্তরসমূহ ও পাণ্ডুলিপি উভয় মাধ্যমেই এই কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন (১) {যাতে তাদের একজন ভুল করলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়} [আল-বাকারা: ২৮২] (২) এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هو اليوم لدينا حفيظ أمين، متلو بالألسن، مدوَّن بالأقلام، فجزاهم الله عمَّا بذلوا من جهد في خدمة الإسلام والمسلمين. .
أمَّا بعد؛ فالقرآن الكريم، هو ذلك الكتاب الخالد الذي: {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 42] (1) نزل به جبريل الأمين باللسان العربيِّ، على قلب الرسول صلى الله عليه وسلم ليكون من المنذرين. .
وإنَّ ربَّ العزة - جلَّ في علاه - أرشد نبيَّه إلى كيفية التلقي فقال له: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ - إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ - فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} [القيامة: 16 - 18] (2) .
وكان جبريل المعلم عليه السلام يدارسه القرآن، وفي رمضان كان يلقاه في كل ليلة، فلما كان العام الذي توفي فيه صلى الله عليه وسلم عارضه به مرتين. .
--------------------------------------------
আজ এটি আমাদের নিকট সুরক্ষিত ও বিশ্বস্ত হিসেবে বিদ্যমান, যা মুখে মুখে পঠিত হয় এবং কলমে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় তাঁরা যে শ্রম ব্যয় করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সেই প্রচেষ্টার উত্তম প্রতিদান দান করুন। .
অতঃপর; আল-কুরআনুল কারীম হলো সেই চিরন্তন কিতাব যাতে: {মিথ্যা কোনো দিক থেকেই এতে প্রবেশ করতে পারে না, এটি প্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} [ফুসসিলাত: ৪২] (১) বিশ্বস্ত জিবরাঈল এটি আরবি ভাষায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন যেন তিনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। .
আর পরাক্রমশালী মহান প্রতিপালক তাঁর নবীকে ওহী গ্রহণের পদ্ধতি নির্দেশ করে বলেছেন: {তা দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন} [আল-কিয়ামাহ: ১৬ - ১৮] (২) .
শিক্ষক জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে কুরআনের পাঠ পর্যালোচনা করতেন। রমজান মাসে তিনি প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। অতঃপর যে বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি দুই বার তাঁর সাথে কুরআন তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন। .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أما الصحابة رضي الله عنهم فقد سارعوا إلى تلقيه عن رسولهم صلى الله عليه وسلم: كتابة وقراءة وحفظا، ثم تعليمه أزواجهم وأولادهم في البيوت، وكان يسمع لهم دوي كدوي النحل، حتى أنه صلى الله عليه وسلم كان يمر على بعض دُور الأنصار فيقف عندها يستمع القرآن في غسق الدُّجَى. .
فعن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إني لأعرف أصوات رفقة الأشعريين بالقرآن، حين يدخلون بالليل، وأعرف منازلهم من أصواتهم بالقرآن بالليل، وإن كنت لم أر منازلهم حين نزلوا بالنهار» (1) .
ثم جد تعليم القرآن: حملا وتدوينا وتبليغا في أجيال التابعين، ومن بعدهم، حتى أن من يدخل في الإسلام كانوا يعلمونه القرآن وأحكام الدين قولا وعملا باللغة العربية، ولم يؤثر عنهم تعليم أو
--------------------------------------------
সাহাবী (الصحابة) (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কথা যদি বলা হয়, তবে তাঁরা তাঁদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে এটি (কুরআন) গ্রহণের ক্ষেত্রে ত্বরান্বিত হয়েছিলেন: লিখে রাখার মাধ্যমে, পাঠের মাধ্যমে এবং মুখস্থ করার মাধ্যমে; এরপর তা তাঁদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের ঘরে ঘরে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে। তাঁদের থেকে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো তিলাওয়াতের ধ্বনি শোনা যেত, এমনকি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের কিছু ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রাতের নিবিড় অন্ধকারে সেখানে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুনতেন। .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি আশআরি কাফেলার লোকদের রাতের বেলা প্রবেশের সময় তাঁদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ চিনে ফেলি। রাতে তাঁদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনেই আমি তাঁদের আবাসস্থলগুলো চিনতে পারি, যদিও দিনের বেলা যখন তাঁরা অবতরণ করেছিলেন তখন আমি তাঁদের আবাসস্থলগুলো দেখিনি» (১) .
এরপর তাবিঈ (التابعين)-দের প্রজন্মে এবং তাঁদের পরবর্তীগণের মাঝে কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়: এটি ধারণ, সংকলন ও প্রচারের ক্ষেত্রে। এমনকি যারা ইসলামে প্রবেশ করতেন, তাঁরা তাঁদেরকে আরবি ভাষায় কথা ও কাজের মাধ্যমে কুরআন এবং দ্বীনের বিধানাবলী শিক্ষা দিতেন। তাঁদের থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে তাঁরা শিক্ষা দিতেন বা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تبليغ أو تثقيف بغيرها، حتى صارت أوطان أعجمية إلى النطق بالعربية. .
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (كان المسلمون المتقدمون لما سكنوا أرض الشام ومصر ولغة أهلهما: رومية، وأرض العراق وخراسان ولغة أهلهما: فارسية، وأهل المغرب ولغة أهلها: بربرية، عوَّدوا أهل هذه البلاد: العربية، حتى غلب على أهل هذه الأمصار: مسلمهم وكافرهم) . .
فإذا كان هذا هو المنهج الحق، وهو منهج الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة والسلف الصالح رضي الله عنهم في تعلُّم وتعليم القرآن الكريم، فكيف نذهب إلى وجهة غدرا تتمثل في كتابته بحروف أعجمية ولاتينية؟ ومسخه من لغته العربية - أعظم خصائص القرآن على الإطلاق - بحجة تيسير القراءة لمن لا يعرف الحروف العربية؟ ! أو لمن يدخل
দাওয়াত প্রচার বা শিক্ষা প্রদানের জন্য অন্য কোনো মাধ্যম গ্রহণ করা হয়নি, এমনকি অনারব ভূখণ্ডগুলোও শেষ পর্যন্ত আরবি ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছিল।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (প্রাচীন মুসলিমগণ যখন শাম ও মিশর ভূখণ্ডে বসবাস শুরু করেছিলেন—যেখানকার অধিবাসীদের ভাষা ছিল রোমান—এবং ইরাক ও খুরাসান ভূখণ্ডে—যেখানকার ভাষা ছিল ফারসি—এবং মাগরিব অঞ্চলে—যেখানকার ভাষা ছিল বারবার—তখন তারা এই অঞ্চলের অধিবাসীদের আরবি ভাষায় অভ্যস্ত করে তুলেছিলেন। এমনকি পরিশেষে এই জনপদগুলোর মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের ওপর আরবি ভাষা বিজয়ী হয়েছিল)।
সুতরাং এটিই যদি সত্য পদ্ধতি (منهج) হয় এবং কুরআনুল কারিম শিক্ষা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে এটিই যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম এবং সালাফে সালেহীনদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অনুসৃত পথ হয়, তবে কীভাবে আমরা এমন এক প্রতারণামূলক গন্তব্যের দিকে ধাবিত হতে পারি যা কুরআনকে অনারব ও লাতিন বর্ণমালায় লিখে এর রূপ বিকৃত করার নামান্তর? কেবল তাদের জন্য পাঠ সহজ করার অজুহাতে যারা আরবি বর্ণ চেনে না? অথচ কুরআনের আরবি ভাষা হচ্ছে এর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য। অথবা যারা ইসলামে প্রবেশ করছে...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في الإسلام جديدا من غير العرب، فيكتبون له آيات أو بعض سور بحروف لغته: (فرنسية إذا كان فرنسيا، وإنجليزية إذا كان إنجليزيا، وصينية إذا كان صينيا، ويابانية إذا كان يابانيا، وتركية إذا كان تركيا، وإيطالية إذا كان إيطاليا إلى آخر قائمة لغات أهل الأرض قاطبة) .
والغريب أن المباشرين لهذا النوع من التحريف للقرآن الكريم بكتابته بالحروف اللاتينية أو بغيرها من الحروف الأعجمية: فرحون بما أَتوا، ويحسبون أنهم يحسنون صنعا! متمثلين قول الشاعر:
وإني وإن كنت الأخير زمانه
… لآت بما لم تستطعه الأوائل
إن عمل هؤلاء: ظاهره رحمة، وباطنه عذاب؛ بل نشهد أنهم يحُادُّون (1) الله ورسوله صلى الله عليه وسلم
والله تعالى يقول: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا} [التوبة: 63]
--------------------------------------------
ইসলামে নবাগত কোনো অনারব ব্যক্তির জন্য তারা কোরআনের আয়াত বা কিছু সূরা তার নিজ ভাষার অক্ষরে লিখে দেয়: (যদি সে ফরাসি হয় তবে ফরাসি অক্ষরে, ইংরেজি হলে ইংরেজিতে, চীনা হলে চীনাতে, জাপানি হলে জাপানিতে, তুর্কি হলে তুর্কিতে, ইতালীয় হলে ইতালীয় ভাষায়—এভাবে বিশ্বের তাবৎ ভাষার তালিকা অনুযায়ী)।
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, পবিত্র কোরআনকে লাতিন বা অন্য কোনো অনারব অক্ষরে লিখে বিকৃতির (تحريف) এই প্রক্রিয়ায় যারা সরাসরি জড়িত, তারা তাদের এই কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারা মনে করে যে তারা অতি উত্তম কাজ করছে! তাদের অবস্থা কবির এই বাণীর মতো:
যদিও আমি সময়ের বিচারে সবশেষে এসেছি
… তবুও আমি এমন কিছু নিয়ে আসব যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হননি।
প্রকৃতপক্ষে তাদের এই কাজ: উপরে রহমত হলেও এর ভেতরে রয়েছে আযাব; বরং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ (يحادون) (১) করছে।
অথচ মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে?} [আত-তাওবাহ: ৬৩]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(1) .
كتب القرآن الكريم بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم بأمر منه وبرسم خاص ثم جاء الخليفة أبو بكر فعثمان رضي الله عنهما فاستنسخا ما كان على عهد الرسول صلى الله عليه وسلم في المصاحف وأقرهما على الكتابة على تلك الصورة أكثر من (اثني عشر ألف صحابي) يومها وانتهى بعد ذلك إلى التابعين وتابعي التابعين فلم يخالف أحد منهم هذا الرسم القويم الجليل ولم ينقل عن أحد منهم أنه فكر في استبداله برسم آخر من الرسوم ولو بنفس الحروف التي كتب بها وهي " العربية " كطريقة الإملاء الحديثة اليوم (2) .
وكان من بين صحابة النبي صلى الله عليه وسلم عجم من
--------------------------------------------
(১) .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে এবং একটি বিশেষ লিখনরীতির (رسم) মাধ্যমে তাঁর সম্মুখে কুরআন কারীম লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। অতঃপর খলিফা আবু বকর এবং উসমান (রা.) আগমন করেন এবং তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের সেই পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে মাসহাফসমূহে অনুলিপি তৈরি করেন। সেই সময়ে ১২,০০০-এরও বেশি সাহাবী (صحابي) এই লিখন পদ্ধতির ওপর তাঁদের স্বীকৃতি প্রদান করেন। অতঃপর এই ধারাটি তাবেয়ী (تابعين) ও তাবে-তাবেয়ীগণের (تابعي التابعين) নিকট পর্যন্ত পৌঁছে। তাঁদের কেউই এই সুদৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ লিখনরীতির (رسم) বিরোধিতা করেননি। এমনকি তাঁদের কারোর পক্ষ থেকে এমন কোনো বর্ণনা (نقل) পাওয়া যায়নি যে, তাঁরা এই পদ্ধতির পরিবর্তে অন্য কোনো লিখনরীতি ব্যবহারের চিন্তা করেছিলেন—যদিও তা বর্তমান আধুনিক বানানরীতির (إملاء) মতো একই আরবি অক্ষরে লেখা হতো (২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের (صحابة) মধ্যে অনারবগণও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الفرس والروم والحبشة وغيرهم من مختلف الألسن فهل فكروا في كتابة القرآن بألسنتهم ليسهل على أقوامهم قراءة القرآن؟ ! لا. . وألف لا! إنما كان التزامهم بما التزم به الرسول صلى الله عليه وسلم من النهج الرباني في حفظ القرآن وتعليمه وتبليغه باللسان العربي المبين الذي رضيه الله أزلا، وأنزل به كتابه إلينا في دار الدنيا لنحافظ عليه ونعمل به، لا لنبدله أو نعارضه بحرف آخر غير الحرف العربي المقدس، ونشتري به ثمنا قليلا!
أما كتابة القرآن بحروف لاتينية أو بغيرها من الحروف الأعجمية، فإنه عمل بئيس، وكاتبه تعيس في الدنيا والآخرة (1) ؛ إذ هو عمل يمارسه كل من يحمل الكراهية والضغينة للقرآن والعربية وأهلها والإسلام والمسلمين جميعا (2) .
--------------------------------------------
পারস্য, রোম, আবিসিনিয়া এবং বিভিন্ন ভাষার অন্যান্য জাতিসমূহ; তারা কি তাদের নিজ নিজ ভাষায় কুরআন লিপিবদ্ধ করার কথা চিন্তা করেছিলেন যাতে তাদের সম্প্রদায়ের জন্য কুরআন পাঠ করা সহজ হয়? না... কখনোই না! বরং তাঁদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা ছিল সেই ঐশী পদ্ধতির প্রতি যার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন—কুরআন সংরক্ষণ, শিক্ষা প্রদান এবং তা সুস্পষ্ট আরবি ভাষা (اللسان العربي المبين)-র মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে, যা আল্লাহ অনাদিকাল থেকেই পছন্দ করেছেন এবং এই ইহজগতে আমাদের নিকট তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে আমরা এটি সংরক্ষণ করি এবং তদনুযায়ী আমল করি; এই পবিত্র আরবি হরফ ব্যতীত অন্য কোনো হরফ দ্বারা এটিকে পরিবর্তন বা এর বিরোধিতা করার জন্য নয়, এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণের জন্য নয়!
আর লাতিন বা অন্য কোনো অনারব (أعجمية) হরফে কুরআন লেখা অত্যন্ত জঘন্য কাজ এবং এর লেখক দুনিয়া ও আখেরাতে হতভাগা (১); কারণ এটি এমন এক কাজ যা সেই ব্যক্তিই করে যে কুরআন, আরবি ভাষা ও এর অনুসারী এবং ইসলাম ও সকল মুসলিমের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষণ করে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أما النتائج فمعروفة: إبعاد الناس عن الرسم العربي، لتنقطع بعد ذلك صلتهم بالقرآن الكريم؛ فيصبح - لا قدر الله - أثرا بعد عين! وهذا ما حدث تماما للكتب السابقة.
صحيح أن الله تعالى أخبرنا بقوله {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] (1) .
هذا الضمان الرباني والأمان الإلهي لا يعفي مسلمي اليوم شرقا وغربا الذب عنه، ورد عادية الطاعنين فيه، والمعتدين عليه، وتحريف المبطلين، وتأويل الجاهلين؛ ولولا ضعف الوارع الديني في نفوس مسلمي اليوم، وذهاب سلطان الدين من بين أيديهم، لما برزت إلى دنيانا محاولات ومحاولات لتحريف القرآن الكريم! ولما جعل كتاب الله حقلا لتجارب العابثين، يعبثون بآياته وسوره، يكتبونها
--------------------------------------------
এর ফলাফল সুপরিচিত: মানুষকে আরবি লিখনপদ্ধতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যাতে পরবর্তীতে পবিত্র কুরআনের সাথে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; ফলে এটি—আল্লাহ না করুন—অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে! আর পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে ঠিক এমনটিই ঘটেছিল।
এটি সত্য যে, মহান আল্লাহ তাঁর বাণীর মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন: {নিশ্চয় আমিই এই উপদেশবাণী অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষণকারী} [হিজর: ৯] (১)।
এই রব্বানী নিশ্চয়তা এবং ঐশী সুরক্ষা বর্তমান বিশ্বের পূর্ব ও পশ্চিমের মুসলিমদের এর পক্ষাবলম্বন করা, এর সমালোচকদের আক্রমণ প্রতিহত করা, সীমালঙ্ঘনকারীদের আক্রমণ রোধ করা, বাতিলপন্থীদের বিকৃতি (تحريف) এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা (تأويل) রুখে দেওয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় না; আর যদি বর্তমানের মুসলিমদের হৃদয়ে ধর্মীয় অনুভূতির দুর্বলতা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ থেকে দ্বীনের প্রভাব চলে না যেত, তবে পবিত্র কুরআন বিকৃত (تحريف) করার একের পর এক অপচেষ্টা আমাদের পৃথিবীতে প্রকাশ পেত না! আর আল্লাহর কিতাবকে তামাশাকারীদের পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত করা হতো না, যারা এর আয়াত ও সূরাগুলো নিয়ে তামাশা করে এবং সেগুলো লিখে থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
بلغات وحروف غير التي ارتضاها الله وأنزل بها كتابه!
هذا النوع من التحريف، أشد ما يكون اليوم من ضراوة في التآمر على القرآن، والحيلولة دون أصله، المشرب الصافي لكل أجناس البشرية جمعاء بمختلف لغاتها.
هذا النوع من التحريف ألبسوه ثوبا لماعا أسموه: " تيسير قراءة القرآن لغير العرب " أو ما شاء لهم من أسماء ومسميات لم يأذن الله بها، وهو خدعة انطلت على البسطاء وبعض من قاصري الفكر والنظر من علماء اليوم (علماء آخر الزمان) !
فرفقا يا علماء آخر الزمان بالإسلام والمسلمين، فهم كالشاة في الليلة المطيرة، لا سلطان لهم ولا راعي، كفاهم ضياعا، وفرقة وتشرذما!
رفقا يا علماء آخر الزمان بكتاب الله، ولا تأذنوا للطامعين والذين في قلوبهم مرض أن يجعلوه حقلا
এমন ভাষা ও বর্ণমালায়, যা আল্লাহ পছন্দ করেননি এবং যাতে তিনি তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেননি!
এই প্রকারের বিকৃতি (تحريف) বর্তমানে কুরআনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং মানবজাতির সমস্ত বর্ণের জন্য তাদের বিভিন্ন ভাষা থাকা সত্ত্বেও এর মূল উৎস—যা একটি স্বচ্ছ পানপাত্র স্বরূপ—তার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টির ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
এই প্রকারের বিকৃতিকে (تحريف) তারা একটি চাকচিক্যময় পোশাকে আবৃত করেছে এবং একে "অনারবদের জন্য কুরআন পাঠ সহজীকরণ" অথবা আল্লাহ অনুমতি দেননি এমন বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছে। এটি একটি প্রতারণা যা সাধারণ মানুষ এবং বর্তমান যুগের (শেষ জামানার আলেম) কতিপয় স্থূলবুদ্ধি ও সংকীর্ণমনা আলেমদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে!
হে শেষ জামানার আলেম সমাজ! ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি সদয় হোন; কারণ তারা বর্ষণমুখর রাতে মেষশাবকের ন্যায়, যাদের কোনো অভিভাবক নেই, নেই কোনো রাখাল। তাদের জন্য এই বিভ্রান্তি, অনৈক্য ও বিচ্ছিন্নতাই যথেষ্ট!
হে শেষ জামানার আলেম সমাজ! আল্লাহর কিতাবের প্রতি সদয় হোন এবং লোভী ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তাদের একে (নিজেদের স্বার্থের) চারণভূমিতে পরিণত করার সুযোগ দেবেন না।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
للتجارب، كلما عنَّت لأحدهم فكرة أو مشروع، وتذكروا ما قرأتموه في كتب " أصول الفقه " ولا زلتم تقرئونه للناس في الحلقات وعلى المنابر أن: " درء المفاسد مقدم على جلب المصالح ".
ففي فرنسة صدر الجزء الأخير من القرآن " جزء عم " بأكمله بالحروف الفرنسية! وهناك طبعات أخرى في المكتبات تتفاوت كما وكيفا، وهناك من يفكر في إخراج " المصحف " كله بالفرنسية!
وفي أندونيسية - البلد المسلم - ظهرت فيه هو كذلك طبعة للقرآن الكريم كله بالحروف الأندونيسية! يتداولها الناس هناك في رضا! رفع تقريرا عنها مبعوث رئاسة إدارة البحوث العلمية إليها.
وبالإنجليزية صدر " قرآن " من هذا القبيل - أيضا - أطلعني عليه الدكتور عبد الحليم خلدون الكناني - شفاه الله وعافاه - مدير مكتب رابطة
পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টার খাতিরে, যখনই কারও মনে কোনো চিন্তা বা পরিকল্পনা উদিত হয়, আপনারা 'উসুলুল ফিকহ'-এর কিতাবসমূহে যা পড়েছেন এবং এখনো বিভিন্ন মজলিসে ও মিম্বরে মানুষকে যা পাঠ করে শোনাচ্ছেন তা স্মরণ করুন: "ক্ষতি নিরসন করা কল্যাণ অর্জনের ওপর প্রাধান্য পাবে।"
ফ্রান্সে পবিত্র কুরআনের শেষ পারা "আম্মাহ পারা" সম্পূর্ণভাবে ফরাসি বর্ণমালায় প্রকাশিত হয়েছে! লাইব্রেরিগুলোতে আরও এমন কিছু সংস্করণ রয়েছে যা পরিমাণ ও গুণগত মানে ভিন্ন ভিন্ন, এবং কেউ কেউ পুরো "মুসহাফ" ফরাসি বর্ণমালায় প্রকাশের চিন্তা করছেন!
মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়াতেও পবিত্র কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ একইভাবে ইন্দোনেশীয় বর্ণমালায় প্রকাশিত হয়েছে! সেখানকার মানুষ সন্তুষ্টির সাথেই এটি বিনিময় করছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রেসিডেন্সি থেকে সেখানে প্রেরিত একজন প্রতিনিধি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পেশ করেছেন।
অনুরূপভাবে ইংরেজিতেও এই ধরনের একটি "কুরআন" প্রকাশিত হয়েছে—যা আমাকে দেখিয়েছেন ডক্টর আবদুল হালিম খালদুন আল-কিনানি—আল্লাহ তাঁকে আরোগ্য ও সুস্থতা দান করুন—যিনি রাবিতার কার্যালয়ের পরিচালক।
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
العالم الإسلامي السابق في باريس.
وفي غينيا رجل مسلم له نشاط غريب في هذا الميدان، كان يقوم ولا يزال بكتابة القرآن بالحروف اللاتينية! بعد أن وجد هناك في إفريقية سوقا رائجة لما يكتب، ويقوم اليوم في باريس ناشر مسلم بطبع كتبه تلك وعرضها في الأسواق في رداءة طبع، وإخراج فني ممجوج!
وفي السبعينات قام رجل في مصر يدعى " لبيب الجمال " يهفو ويدعو إلى كتابة القرآن بحروف غير عربية! وتسمع " هيأة التمويل الدولية " بالمشروع فتتحمس له ولصاحب الفكرة وترصد له مليون دولار! (1) .
ومنذ شهور - وفي مصر أيضا - قام ناس لم تعرف مكانتهم، يسعون إلى بعث مشروع من هذا
--------------------------------------------
প্যারিসের প্রাক্তন মুসলিম বিশ্ব।
আর গিনিতে এমন একজন মুসলিম ব্যক্তি রয়েছেন যার এই ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়; তিনি ল্যাটিন বর্ণমালায় কুরআন লিখে আসছিলেন এবং তা এখনো অব্যাহত রেখেছেন! আফ্রিকায় তার এই লেখাগুলোর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ার পর, বর্তমানে প্যারিসের একজন মুসলিম প্রকাশক তার সেই বইগুলো ছাপিয়ে বাজারে সরবরাহ করছেন, যা অত্যন্ত নিম্নমানের মুদ্রণ এবং কুরুচিপূর্ণ শৈল্পিক উপস্থাপনায় পূর্ণ!
সত্তর দশকে মিশরে "লাবিব আল-জামাল" নামক এক ব্যক্তি আবির্ভূত হন, যিনি অনারব বর্ণমালায় কুরআন লেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন এবং এর প্রতি আহ্বান জানান! "আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা" এই প্রকল্পের কথা জানতে পেরে এর প্রতি এবং এই ভাবনার প্রবর্তকের প্রতি অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে ওঠে এবং এর জন্য দশ লক্ষ ডলার বরাদ্দ করে! (১)।
কয়েকমাস আগে—পুনরায় মিশরেই—অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু লোক এই ধরণের একটি প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস চালিয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
النوع باسم الأزهر! ثم عدل عنه (1) .
والأتراك الذين ألفوا الحروف اللاتينية، وهجروا الحروف العربية هجرا لم يبق من سابق صلتهم بها عينا ولا أثرا، عمدوا كذلك إلى استبدال القرآن بقرآن طبع بالحروف اللاتينية واللفظ العربي!
وأخيرا أقول ما قاله الدكتور محمد أحمد فراخ:
(إن الفئات التي حرفت المصحف العربي، تأتيها الفرصة المناسبة في هذا النص اللاتيني، الذي لا يستطيع كشف التحريف فيه إلا القلة، بخلاف " المصحف " العربي الذي يستطيع كشف التحريف فيه كل من يعرف العربية هنا أو هناك) .
هذا ما وسعه جهدي، قمت به وكتبت فيه (2) أنافح وأدافع بذلك عن كتاب ربي " الوثيقة الخالدة "
--------------------------------------------
আল-আযহারের নামে সেই প্রস্তাবটি! অতঃপর তা থেকে সরে আসা হয়েছে (১)।
আর সেই তুর্কিরা যারা ল্যাটিন বর্ণমালার সাথে অভ্যস্ত হয়েছে এবং আরবি বর্ণমালাকে এমনভাবে বর্জন করেছে যে তাদের পূর্বের সম্পর্কের কোনো চিহ্ন বা অস্তিত্ব অবশিষ্ট নেই; তারাও একইভাবে ল্যাটিন বর্ণমালায় এবং আরবি উচ্চারণে মুদ্রিত একটি কুরআনের মাধ্যমে কুরআনকে প্রতিস্থাপন করার সংকল্প করেছিল!
পরিশেষে আমি তা-ই বলছি যা ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ ফাররাখ বলেছেন:
(নিশ্চয়ই যে গোষ্ঠীগুলো আরবি মুসহাফ বিকৃত (تحريف) করেছে, তারা এই ল্যাটিন পাঠের মধ্যে উপযুক্ত সুযোগ খুঁজে পাবে, যার বিকৃতি (تحريف) খুব অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত কেউ শনাক্ত করতে সক্ষম হবে না; পক্ষান্তরে আরবি "মুসহাফ" এর বিষয়টি ভিন্ন, যেখানে এখানে বা সেখানে অবস্থানরত আরবি জানা যে কেউ এর বিকৃতি (تحريف) শনাক্ত করতে পারে)।
এটিই আমার সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা, যা আমি সম্পাদন করেছি এবং এ বিষয়ে লিখেছি (২); এর মাধ্যমে আমি আমার প্রতিপালকের কিতাব—সেই "শাশ্বত দলিল"-এর স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করছি এবং প্রতিরক্ষা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والأثر النفيس الباقي في القارات الخمس؛ وهذا الذي جاء في كتابي (1) وما نثرته كذلك في هذه " المقدمة " المتواضعة التي جاءت على عجل لتزاحم الأعمال، وتراكم الأشغال، هو الذي أومن به وأدافع عنه، وألقى الله عليه، إن شاء الله.
وحتى لا أكون قاسيا في الحكم على:
أ - خطة كتابة القرآن بحروف غير عربية: أعجمية كانت أو لاتينية.
ب - أولئك الذين يكتبون الكتاب بأيديهم ثم يقولون: هذا من عند الله، والله يعلم إنهم لكاذبون.
قمت - بعد طبع كتابي ذاك - بإرسال أكثر من مائة وعشرين رسالة، وجهتها إلى العلماء والدعاة والمراجع العلمية، والمجامع الفقهية، ودور
--------------------------------------------
পাঁচটি মহাদেশে বিদ্যমান এই অমূল্য নিদর্শন; আমার কিতাবে (১) যা এসেছে এবং এই বিনম্র 'ভূমিকা'য় আমি যা বিধৃত করেছি—যা কাজের ব্যস্ততা ও ঝামেলার ভিড়ে তাড়াহুড়ো করে লেখা হয়েছে—এসবেরই ওপর আমি ঈমান রাখি, এরই প্রতিরক্ষা করি এবং ইনশাআল্লাহ এর ওপরই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করব।
এবং যাতে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর না হই:
ক - অনারব বর্ণমালায় কুরআন লেখার পরিকল্পনা: চাই তা আজমি হোক কিংবা লাতিন।
খ - ঐ সকল ব্যক্তি যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং তারপর বলে: 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে', অথচ আল্লাহ জানেন যে তারা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী (كاذبون)।
আমি—আমার সেই কিতাবটি মুদ্রণের পর—একশ বিশটিরও বেশি পত্র প্রেরণ করেছি, যা আমি আলেম, দাঈ, ইলমি মারজা (গবেষণা কেন্দ্র), ফিকহ একাডেমি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট পাঠিয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الإفتاء، ووزارات الأوقاف، والجامعات الإسلامية، ومراكز الدعوة في الأقطار التالية: (السعودية مصر سورية لبنان الأردن الكويت قطر الإمارات العربية المتحدة باكستان الهند تركية يوغسلافية بريطانية بلجيكة تونس الجزائر المغرب موريتانية جزر القمر تشاد سيراليون) .
وأرفقت بكل رسالة نسخة من كتابي وسؤالين:
1 - ما قول أصحاب الفضيلة العلماء أئمة الدين: في موضوع " كتابة النص القرآني بالحرف اللاتيني "، تيسيرا لغير العرب، أو المسلمين الجدد، لقراءة القرآن الكريم بلغتهم؟ !
2 - ما قولكم دام فضلكم في الكتاب الذي بين أيديكم، وما فيه من بحوث؟
لكن إجاباتهم كانت قليلة للأسف، فعاودت الكتابة إليهم مرة ثانية وثالثة، حتى استطعنا
ইফতা বিভাগ, ওয়াকফ মন্ত্রণালয়সমূহ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং দাওয়াত কেন্দ্রসমূহ নিম্নোক্ত দেশগুলোতে: (সৌদি আরব, মিশর, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক, যুগোস্লাভিয়া, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, কমোরোস দ্বীপপুঞ্জ, চাদ, সিয়েরা লিওন)।
এবং প্রতিটি চিঠির সাথে আমার বইয়ের একটি কপি এবং দুটি প্রশ্ন সংযুক্ত করেছি:
১ - দ্বীনের ইমাম ও বিজ্ঞ আলেমগণের অভিমত কী: অনারব বা নও-মুসলিমদের জন্য তাদের নিজ ভাষায় পবিত্র কুরআন পাঠ সহজ করার লক্ষ্যে "ল্যাটিন অক্ষরে কুরআনের পাঠ লিখন" প্রসঙ্গে? !
২ - আপনাদের সমীপে থাকা এই বইটি এবং এতে বিদ্যমান গবেষণাসমূহ সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী?
কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের উত্তর ছিল অতি সামান্য, তাই আমি দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার তাদের কাছে পুনরায় পত্র লিখলাম, যতক্ষণ না আমরা সক্ষম হলাম
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
- بفضل الله وعونه - أن نحصل على هذا النزر القليل من فتاواهم وأقوالهم وآرائهم، وهي: بضع وعشرون إجابة، يشكرون عليها.
وقد جاءت والحمد لله قولا واحدا: تجمع على أن " كتابة القرآن بحروف غير عربية " حرام قطعا وممنوعة منعا باتا.
وقد أثبتُّ في هذا الكتاب فقرات ومقتطفات من كل رسالة، وليس كلها، إذ أن ذلك يستدعي مجلدا ضخما - والطباعة هنا مرتفعة الأثمان جدا - (1) .
ثم ضممت إلى أقوالهم وردودهم نقولا وأدلة أخرى، كانت مبعثرة في بطون الكتب والمراجع، لتكون الحجة بالتحريم أكثر صلابة، ولنعتصم بذلك في وجه كل أفاك يحاول انتزاع الأدلة من غير
--------------------------------------------
আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যে — আমরা তাঁদের ফতোয়া, উক্তি ও মতামতের এই সামান্য অংশটুকু লাভে সক্ষম হয়েছি, যা বিশটিরও কিছু বেশি উত্তর; যার জন্য তাঁরা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
এবং আলহামদুলিল্লাহ্ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), এ সকল উত্তর এক অভিন্ন বক্তব্যে উপনীত হয়েছে: যা এই মর্মে ঐক্যমত পোষণ করে যে, "অ-আরবি হরফে কুরআন লেখা" অকাট্যভাবে হারাম (حرام) এবং চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ।
আমি এই বইটিতে প্রতিটি পত্র থেকে কিছু অনুচ্ছেদ ও উদ্ধৃতি সাব্যস্ত করেছি, সম্পূর্ণ অংশ নয়; কারণ এতে একটি বিশাল খণ্ডের প্রয়োজন হতো — আর এখানে মুদ্রণ খরচ অত্যন্ত বেশি — (১)।
অতঃপর আমি তাঁদের বক্তব্য ও উত্তরসমূহের সাথে অন্যান্য উদ্ধৃতি ও দলিলসমূহ (أدلة) যুক্ত করেছি, যা বিভিন্ন কিতাব ও মূলগ্রন্থের অভ্যন্তরে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল; যেন নিষিদ্ধকরণের (تحريم) স্বপক্ষে প্রমাণটি (حجة) আরও সুদৃঢ় হয় এবং আমরা এর মাধ্যমে প্রত্যেক সেই মহামিথ্যাবাদীর (أفاك) বিরুদ্ধে অটল থাকতে পারি, যে অপ্রাসঙ্গিকভাবে দলিলসমূহ (أدلة) সংগ্রহের চেষ্টা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
دروبها، ليظهرها بمظهر التأييد لإفكه ونزوعه! لكنها عند أهل الحق ظاهرة على غير وجهها؛ بل من قبيل: " كلمة حق أريد بها باطل "!
فجاء الكتاب والحمد لله حافَلا بأكثر من " خمسين " شهادة رفيعة من العلماء المعاصرين، من حراس العقيدة وحفاظ الشريعة يمنعون ويحملون بشدة على خطة: " تحريف القرآن بكتابته بحروف غير عربية ".
وهكذا يلتقي علماء اليوم بعلماء الأمس، على " حكم واحد " في أخطر دسيسة عفنة، تقرع كتاب الله الذي حفظته وحافظت عليه الأجيال، ثم نشقى به اليوم، إذ لو كان خيرا لسبقونا إليه وكانت الدوافع إلى إصدار هذه العينات من " الفتاوى " التي وصلتنا، وطبعها في كتاب مستقل لتوزع على الحاضرين في " الندوة العالمية الأولى، لمقاومة تحريف القرآن بكتابته بالحروف اللاتينية، أو
এর পথসমূহ, যাতে একে তার মিথ্যাচার ও বিচ্যুতির সমর্থনে সহায়ক হিসেবে প্রকাশ করা যায়! কিন্তু সত্যপন্থীদের নিকট এটি তার প্রকৃত রূপের বিপরীত হিসেবেই প্রতীয়মান; বরং এটি অনেকটা এমন: "একটি সত্য কথা যার মাধ্যমে অসত্য উদ্দেশ্য করা হয়েছে"!
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, বইটি সমসাময়িক আলেমদের—যারা আকীদার প্রহরী এবং শরীয়তের সংরক্ষক—তাদের পঞ্চাশটিরও বেশি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সাক্ষ্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে। তারা "অনারব হরফে কুরআন লিখে কুরআনের বিকৃতি (تحريف)" করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং তা প্রতিহত করেছেন।
এভাবেই বর্তমানের আলেমগণ অতীতের আলেমদের সাথে একমত হয়েছেন একটি "একক বিধান (حكم)"-এর ব্যাপারে, যা এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জঘন্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, যা আল্লাহর কিতাবকে আঘাত করে—যাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর পরম যত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অতঃপর আজ আমরা এর দ্বারা কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছি, অথচ যদি এটি কল্যাণকর হতো তবে তারা (সালাফ) অবশ্যই আমাদের অগ্রবর্তী হতেন। আমাদের কাছে পৌঁছানো এই ধরণের "ফতোয়া" সমূহের নমুনাগুলো প্রকাশ করার এবং তা একটি স্বতন্ত্র বই হিসেবে মুদ্রণ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেগুলোকে "ল্যাটিন হরফে কুরআন লিখে কুরআনের বিকৃতি (تحريف) প্রতিরোধের প্রথম আন্তর্জাতিক সেমিনার"-এ উপস্থিতদের মাঝে বিতরণ করা, অথবা
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بغيرها من الحروف الأعجمية " وهي خطوة أخرى عظيمة في الانتصار لكتاب " الله " ومقاومة من يمسه بسوء!
وعسى أن أكون بهذا وذاك قد أرضيت ربي أولا، ونفسي ثانيا، ولكني على يقين الراشد: أن الأمر يتطلب أكثر من جهد، وأكثر من حملة، لأن المفسدين في الأرض عتاة، وأهل الحق يغطون في سبات عميق!
ونأمل - وهي صرخة تخرج من أوربة بلد الحرية! - من المراجع العلمية العليا: كالرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، ورابطة العالم الإسلامي، والأمانة العامة لمسابقة القرآن الكريم الدولية، والندوة العالمية للشباب الإسلامي في المملكة العربية السعودية؟ والأزهر الشريف، ومجمع البحوث الإسلامية، والمؤتمر الدولي للسيرة النبوية في
অন্যান্য অনারব অক্ষরের মাধ্যমে; আর আল্লাহর কিতাবের পক্ষে সাহায্য করার এবং যারা এর অনিষ্ট করতে চায় তাদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এটি আরেকটি মহান পদক্ষেপ!
আশা করি এর মাধ্যমে আমি প্রথমত আমার প্রতিপালককে এবং দ্বিতীয়ত নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছি। তবে আমি একজন সুপথপ্রাপ্ত ব্যক্তির ন্যায় নিশ্চিত যে, বিষয়টি নিছক প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি এবং সাধারণ কোনো অভিযানের চেয়েও বেশি কিছু দাবি করে; কারণ পৃথিবীতে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরা অত্যন্ত উদ্ধত এবং সত্যের অনুসারীরা গভীর ঘুমে মগ্ন!
আমরা আশা করি—আর এটি স্বাধীনতার দেশ ইউরোপ থেকে উৎসারিত একটি আর্তনাদ—উচ্চতর ইলমি মারজা বা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিকট: যেমন জেনারেল প্রেসিডেন্সি অব স্কলারলি রিসার্চ, ইফতা, দাওয়াহ অ্যান্ড গাইডেন্স; রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী; আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার জেনারেল সেক্রেটারিয়েট; সৌদি আরবের ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অফ মুসলিম ইয়ুথ; আল-আযহার আল-শরীফ; ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি এবং আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী কনফারেন্সের নিকট...
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
جهورية مصر العربية، ووزارات الأوقاف في العالم الإسلامي؛ ومنظمة المؤتمر الإسلامي في جدة؛ والجامعات الإسلامية في الدول العربية والإسلامية؛ ومراكز الدعوة الإسلامية في أنحاء العالم: أن تضطلع بمسؤولياتها، وتنهض بدورها إلى عقد ندوات عالمية: ثانية، وثالثة، ورابعة، وخامسة، ليقدم كل المزيد من الضمانات والجهود التي من شأنها؛ أن تقف في وجه الباطل، ويضعوا الحواجز والعواقب لنسف هذا التحريف الزاحف على كتاب الله.
اللهم إني قد بلغت بما استطعت. . . اللهم فاشهد! .
قال الله تعالى:
{وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَنْ قَالَ سَأُنْزِلُ مِثْلَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ} [الأنعام: 93] (1)
--------------------------------------------
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর, মুসলিম বিশ্বের ধর্মবিষয়ক (ওয়াকফ) মন্ত্রণালয়সমূহ; জেদ্দায় অবস্থিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা; আরব ও মুসলিম দেশগুলোর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ইসলামি দাওয়াহ কেন্দ্রসমূহের প্রতি উদাত্ত আহ্বান: তারা যেন তাদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় এবং দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে তাদের যথাযথ ভূমিকা পালনে সচেষ্ট হয়; যাতে প্রত্যেকে এমন আরও নিশ্চয়তা ও প্রচেষ্টা প্রদান করতে পারে, যা বাতিলের মোকাবিলা করবে এবং আল্লাহর কিতাবের ওপর এই ক্রমবর্ধমান বিকৃতি (تحريف) সমূলে বিনাশ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা ও ব্যবস্থা স্থাপন করবে।
হে আল্লাহ! আমি সাধ্যমতো পৌঁছে দিয়েছি... হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন!
আল্লাহ তাআলা বলেন:
{আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করে অথবা বলে, ‘আমার কাছে ওহি পাঠানো হয়েছে’, অথচ তার কাছে কোনো কিছুই ওহি পাঠানো হয়নি; এবং যে বলে, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, অচিরেই আমি তার মতো অবতীর্ণ করব’? আর আপনি যদি সেই জালেমদের মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগরত অবস্থায় দেখতে পেতেন! ফেরেশতারা তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, ‘তোমাদের প্রাণ বের করো! তোমরা আল্লাহর ওপর যে অসত্য (غير الحق) বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ নিয়ে যে অহংকার করতে, আজ তার বিনিময়ে তোমাদের লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া হবে।’} [আল-আন’আম: ৯৩] (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والحمد لله أولا وآخرا، ظاهرا وباطنا.
باريس، ضحى يوم الثلاثاء 25 / شعبان (1458) هـ - 12 / 4 / 1988 م. كتبه:
أبو سهل صالح علي العَوْد
[الفصل الأول القرآن العظيم والسنة الشريفة والصحابة والتابعون وإجماع] الأمة
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।
প্যারিস, মঙ্গলবার পূর্বাহ্ণ, ২৫ শাবান ১৪৫৮ হিজরি - ১২/৪/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ। এটি লিখেছেন:
আবু সাহল সালেহ আলি আল-আওদ
[প্রথম অধ্যায়: মহান কুরআন, সম্মানিত সুন্নাহ, সাহাবী (الصحابة), তাবেয়ী (التابعون) এবং ঐক্যমত (إجماع)] উম্মতের
(খণ্ড: ১)
তাহরীমু কিতাবাতিল কুরআনিল কারীম বি-হুরূফিন গইরি আরাবিয়্যাহ আজামিয়্যাহ আও লাতীনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[القرآن العظيم شاهد على أنه عربي]الفصل الأول القرآن العظيم
السنة الشريفة
الصحابة والتابعون
إجماع الأمة
[মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এটি আরবি হওয়ার স্বপক্ষে এক মহান সাক্ষী]প্রথম পরিচ্ছেদ: মহাগ্রন্থ আল-কুরআন
সুন্নাহ শরীফ
সাহাবী ও তাবিঈগণ
উম্মতের ঐক্যমত (إجماع)