(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المسائل الجلية في أحكام الأضحية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المسائل الجلية في أحكام الأضحية
المؤلف: عبد المنان التالبي
عدد الصفحات: 50
[البحث غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
কুরবানির বিধান বিষয়ক সুস্পষ্ট মাসআলাসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: কুরবানির বিধান বিষয়ক সুস্পষ্ট মাসআলাসমূহ
লেখক: আব্দুল মান্নান আত-তালিবী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০
[গবেষণাটি অপ্রকাশিত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
توطئة
شكر وعرفانمن باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: (من لا يشكر الناس لا يشكر الله) أتقدم بالشكر والتقدير لكل من ساهم في إخراج هذا الجهد المتواضع أو راجعه أو بذل من وقته في سبيل أن يرى النور.
نسأل الله أن يكتب للجميع المثوبة والأجر وأن يجعل العمل خالصاً لوجهه الكريم إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وبالله التوفيق.
الفقير إلى الله /
عبد المنان التالبي.
ভূমিকা
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: (যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না) আমি সেই সকল ব্যক্তিবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সমাদর জ্ঞাপন করছি, যারা এই বিনম্র প্রচেষ্টাটি সম্পন্ন করতে অবদান রেখেছেন অথবা এটি পর্যালোচনা করেছেন কিংবা এটি আলোর মুখ দেখার জন্য নিজেদের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন এবং এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়।
আল্লাহর মুখাপেক্ষী /
আবদ আল-মান্নান আত-তালিবী।
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم فضيلة القاضي العلامة/محمد بن إسماعيل العمراني حفظه الله تعالى.
المدرس في المعهد العالي للقضاء وجامعة الإيمان، وعضو هيئة الإفتاء
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين وعلى آله الطيبين الطاهرين وعلى أصحابه الغر الميامين وعلى التابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين وبعد
…فهذا البحث الذي بيدك أيها القارئ الكريم الذي دبجه قلم ولدي الشاب النشيط العالم / عبدالمنان التالبي بعنوان (النشر في فضائل عشر ذي الحجة) ويليها المسائل الجلية في أحكام الأضحية لمن أحسن الأبحاث القيمة التي أخرجت للناس في موضوع / فضائل الأيام العشر من ذي الحجة وأحكام الأضحية ولعمري أن كل من قرأها وتأمل ما احتوته ستكفيه عن الرجوع إلى أي كتاب فقهي حول الموضوعين فجزى الله الباحث خيراً وزاد في الشباب الأتقياء من أمثاله وزاده علماً فوق علمه ونشاطاً فوق نشاطه وورعاً وتقوى على ما يتمتع به من ورع وتقوى والله ولي الهداية والتوفيق وسبحان الله وبحمده وسبحان الله العظيم وحرر بتاريخه 18/ رجب 1423 هـ الموافق 24/سبتمبر 2002 م.
محمد بن إسماعيل العمراني
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্মানিত বিচারক আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানী (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন)-এর উপস্থাপনা।উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট এবং জামেআতুল ঈমানের শিক্ষক এবং ইফতা বোর্ডের সদস্য।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সর্দার, তাঁর পবিত্র ও উত্তম পরিবারবর্গ, তাঁর মর্যাদাবান ও বরকতময় সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। অতঃপর
…হে সম্মানিত পাঠক, আপনার হাতে থাকা এই গবেষণাটি, যা আমার অত্যন্ত চটপটে তরুণ আলেম সন্তান আব্দুল মান্নান আত-তালিবী রচনা করেছেন, যার শিরোনাম ‘আন-নাশরু ফী ফাদায়িলি আশরি জিলহাজ্জ’ এবং এর পরবর্তী বিষয় ‘আল-মাসায়িলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ’। এটি জিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ফযিলত এবং কুরবানির বিধানাবলী বিষয়ে জনসমক্ষে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ ও মূল্যবান গবেষণাগুলোর অন্যতম। আমার জীবনের কসম, যে ব্যক্তিই এটি পাঠ করবে এবং এর বিষয়বস্তু নিয়ে গভীর চিন্তা করবে, তা তাকে এই দুটি বিষয়ে অন্য কোনো ফিকহি কিতাব পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে। আল্লাহ তাআলা গবেষককে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর মতো ধর্মভীরু যুবকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর ইলম ও কর্মস্পৃহা এবং তাকওয়া ও পরহেজগারি আরও বাড়িয়ে দিন। আল্লাহই একমাত্র পথপ্রদর্শক ও তাওফিকদাতা। মহিমাময় আল্লাহ এবং তাঁরই সকল প্রশংসা, মহান আল্লাহ অতি পবিত্র। এটি ১৮ই রজব ১৪২৩ হিজরি মোতাবেক ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০০২ খ্রিস্টাব্দে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানী
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم الدكتور / أمين علي مقبلعميد كلية الشريعة بجامعة الإيمان
الحمد لله رب العالمين وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد: .
فقد قرأت ما جمعه الشيخ/ عبد المنان علي محمد التالبي في فضائل عشر ذي الحجة والجمل الواضحات في أحكام الأضحيات فوجدت ذلك ملخصاً مفيداً جامعاً لفضائل العشر وأهم أحكام الأضاحي مع تحري الصحة في الأحاديث وتوضيح معانيها مع اختيار الرأي الراجح في مسائل الخلاف فجزاه الله خيراً على بحثه النافع ورزقنا وإياه الفقه في الدين والعلم النافع والعمل الصالح بفضله وكرمه آمين والحمد لله رب العالمين.
كتبه
د/ أمين علي مقبل
9/ 11/1422 هـ
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
ড. আমিন আলি মুকবিল-এর ভূমিকাডিন, শরিয়াহ অনুষদ, ইমান বিশ্ববিদ্যালয়
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
শায়খ আব্দুল মান্নান আলি মুহাম্মদ আত-তালিবী সংকলিত 'জিলহজ মাসের দশ দিনের ফজিলত এবং কুরবানির বিধান সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বর্ণনা' নামক কিতাবটি আমি পাঠ করেছি। আমি একে জিলহজের দশ দিনের ফজিলত এবং কুরবানির গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধানের একটি উপকারী ও সংক্ষিপ্ত সংকলন হিসেবে পেয়েছি। এতে হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা (الصحة) যাচাই করার এবং সেগুলোর অর্থ স্পষ্ট করার প্রয়াস চালানো হয়েছে, পাশাপাশি মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী (الراجح) মতটি গ্রহণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর এই ফলপ্রসূ গবেষণার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং স্বীয় অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের ও তাঁকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা, উপকারী জ্ঞান এবং সৎকর্মের তাওফিক দান করুন। আমিন। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
ড. আমিন আলি মুকবিল
৯/ ১১/ ১৪২২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم الشيخ العلامة / محمد المختار الشنقيطيأحد مشائخ جامعة الإيمان ــ سابقاً
لقد أطلعت على هذا البحث فوجدته صحيح
الأحكام صحيح العزو فهو فريد في بابه مع إيجاز.
الشيخ / محمد المختار
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ আল-মুখতার আশ-শানকিতীর উপস্থাপনাজামিয়া আল-ঈমানের অন্যতম প্রাক্তন উস্তাদ
আমি এই গবেষণাটি পর্যালোচনা করেছি এবং একে সঠিক (صحيح) হিসেবে পেয়েছি
এর হুকুম বা সিদ্ধান্তসমূহ ও উদ্ধৃতিগুলো সঠিক (صحيح); সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি স্বীয় বিষয়ে এক অনন্য রচনা।
শাইখ মুহাম্মদ আল-মুখতার
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور
أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له،
وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وبعد:
فهاتان رسالتان موجزتان. الأولى بعنوان (النشر في فضائل عشر
ذي الحجة وما يستحب فيها)، والثانية بعنوان (المسائل الجلية في أحكام
الأضحية). أردتُ من خلال الرسالة الأولى التعريف بفضل عشر ذي الحجة،
هذه الأيام العظيمة التي هي أفضل أيام الدنيا وأعظم الأيام عند الله، والعمل
الصالح فيها أحب إلى لله مما سواها، فقد جهل الكثير من المسلمين فضل هذه
الأيام، وما علموا أنها تعدل العشر الأواخر من رمضان؛ ففي ليالي عشر
رمضان، ليلة القدر، وفي أيام عشر ذي الحجة يوم التروية، ويوم عرفة، ويوم النحر.
وأردتُ من خلال الرسالة الثانية التعريف بالأضحية وأحكامها
وما يتعلق بها، مبسطةً، مصحوبةً بالدليل الشرعي الصحيح ليسهل على المطلع
عليها فهمها والعمل بها بعيداً عن الخلاف.
وقد رأيتُ إتماماً للفائدة عمل ملحق لهذا الكتيب، ضمنتُ فيه
مجموعةً من الفتاوى الشرعية لشيخنا العلامة القاضي محمد بن إسماعيل العمراني
مما يتعلق بأحكام العشر والأضاحي.
والله اسأله أن يجعل هذا الجهد المتواضع خالصاً لوجهه الكريم
وأن يكتب الأجر والمثوبة لكل من ساهم في إخراجه ودعمه وبالله تعالى التوفيق
كتبه أبو محمد عبد المنان التالبي
عفا الله عنه
23 ذي القعدة 1422 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর:
এই হলো দুটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। প্রথমটির শিরোনাম: (জিলহজ মাসের দশ দিনের ফজিলত ও তাতে করণীয় আমলসমূহ প্রচার), এবং দ্বিতীয়টির শিরোনাম: (কুরবানির আহকাম সংক্রান্ত সুস্পষ্ট মাসয়ালাসমূহ)। আমি প্রথম পুস্তিকাটির মাধ্যমে জিলহজের দশ দিনের ফজিলত সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি; এই মহান দিনগুলো হলো দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মহান দিন। এই দিনগুলোতে নেক আমল অন্য সময়ের তুলনায় আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। অনেক মুসলিম এই দিনগুলোর ফজিলত সম্পর্কে জানেন না এবং তারা অবগত নন যে, এই দিনগুলো রমজানের শেষ দশ দিনের সমতুল্য। রমজানের শেষ দশ রাতে রয়েছে লাইলাতুল কদর, আর জিলহজের দশ দিনে রয়েছে ইয়াওমুত তারবিয়াহ, ইয়াওমে আরাফাহ এবং ইয়াওমুন নহর (কুরবানির দিন)।
আর দ্বিতীয় পুস্তিকাটির মাধ্যমে আমি কুরবানি, এর আহকাম এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপনের ইচ্ছা পোষণ করেছি, যা সঠিক (صحيح) শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে রচিত, যাতে পাঠকের পক্ষে বিষয়টি অনুধাবন করা এবং মতভেদ এড়িয়ে সে অনুযায়ী আমল করা সহজ হয়।
আমি উপযোগিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটির সাথে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি, যেখানে আমাদের শায়খ আল্লামা কাজি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানির জিলহজের দশ দিন ও কুরবানির বিধান সংশ্লিষ্ট একগুচ্ছ শরয়ি ফতোয়া অন্তর্ভুক্ত করেছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই বিনম্র প্রচেষ্টাকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর প্রকাশনা ও সহায়তায় যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন। আর আল্লাহর তাওফিকই একমাত্র কাম্য।
লিখেছেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান আত-তালবি
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন
২৩ জিলকদ ১৪২২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه ومن اهتدى بهداه
وبعد: -
فإن من أعظم ما يتقرب به العبد إلى ربه سبحانه وتعالى الفقه في الدين والاشتغال به تعلماً وتعليماً لقوله صلى الله عليه وسلم: (من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين). متفق عليه.
ولما كان من العسير على العامّي استخراج الأحكام الشرعية من بطون أمهات الكتب الفقهية، إضافة إلى زُهد الكثيرين في قراءة المطولات كان هذا الجهد المتواضع تبصيراً للمبتدئ وتذكيراً للمنتهي.
وقد حرصتُ على أن تكون مسائل هذا الكتاب مصحوبة بالدليل الشرعي الصحيح مؤيدةً بأقوال أهل العلم فهو خلاصة جامعة في بابه مع ما فيه من السهولة واليسر.
هذا وقد لاقت طبعته الأولى قبولاً بفضل الله تعالى في أوساط طلاب العلم واستفاد منه الكثيرون ودرس في أيام العشر في بعض المساجد فلله الحمد والمنة.
وإني إذ أقدم للطبعة الثانية من هذا الكتاب لأسأل الله الكريم أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم وأن يكتب الأجر والمثوبة لكل من ساهم في مراجعته ودعمه إنه حميدٌ مجيد.
كتبه الفقير إلى الله /
عبد المنان التالبي
29 شوال 1427 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সহচরগণ এবং যারা তাঁর অনুসারী ও তাঁর প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয় তাদের ওপর।
অতঃপর: -
বান্দার জন্য তার রব সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো দীনের সঠিক জ্ঞান বা ফিকহ অর্জন করা এবং তা শিখা ও শিখানোর কাজে আত্মনিয়োগ করা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” সর্বসম্মত (متفق عليه)।
যেহেতু সাধারণ মানুষের জন্য ফিকহ শাস্ত্রের মূল আকর গ্রন্থসমূহ থেকে শরয়ি হুকুম-আহকাম বের করা বেশ কঠিন, তদুপরি বিশাল গ্রন্থাবলি পাঠে অনেকের অনাগ্রহ রয়েছে, তাই এই বিনম্র প্রচেষ্টাটি নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনা এবং অভিজ্ঞদের জন্য স্মারক হিসেবে কাজ করবে।
আমি এই বইটির মাসআলাগুলোকে সহিহ (صحيح) শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে সাজাতে এবং বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে তা শক্তিশালী করতে সচেষ্ট হয়েছি। ফলে এটি নিজ বিষয়ে একটি ব্যাপক সারসংক্ষেপ হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সহজবোধ্য ও সাবলীল হয়েছে।
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে বইটির প্রথম সংস্করণ তালিবে ইলম বা জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে সমাদৃত হয়েছে এবং অনেকেই এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। এমনকি কিছু মসজিদে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে এটি পাঠদান করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।
এই বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ পেশ করার সময় আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং যারা এর পর্যালোচনা ও সহযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক লিখিত /
আব্দুল মান্নান আল-তালিবী
২৯ শাওয়াল ১৪২৭ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم
المبحث الأول: النشر في فضائل عشر ذي الحجة وبيان ما يستحب فيهاوعشر ذي الحجة، من الأوقات الفاضلة، التي اهتم الإسلام بها، وركز عليها، وتكلم عنها أئمة الحديث والفقه، في كتبهم العلمية، ولأجل ذلك فسأتكلم عنها في ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: مشروعية العشر.
المطلب الثاني: فضلها.
المطلب الثالث: ما يستحب فيها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: জিলহজের দশ দিনের ফজিলত প্রচার এবং এতে যা মুস্তাহাব (مستحب) তার বর্ণনাজিলহজ মাসের দশ দিন সেই সকল ফজিলতপূর্ণ সময়ের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতি ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং যার ওপর আলোকপাত করেছে। হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের ইমামগণ তাঁদের ইলমি কিতাবসমূহে এ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সেই লক্ষ্যেই আমি এ সম্পর্কে তিনটি অনুচ্ছেদে আলোচনা করব:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এই দশ দিনের বিধিবদ্ধতা (مشروعية)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর ফজিলত।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এতে যা মুস্তাহাব (مستحب)।
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الأول: مشروعية العشرثبتت مشروعية عشر ذي الحجة بالكتاب والسنة،
وإليك أخي الحبيب ما ورد في ذلك:
أولاً: مشروعيتها من الكتاب:(أ) - قال تعالى:
{ليشهدوا منافع لهم ويذكروا اسم الله في أيام معلومات على ما رزقهم من بهيمة الأنعام فكلوا منها واطعموا البائس الفقير}.
[28: الحج].
والأيام المعلومات المذكورة في الآية الكريمة فسرها أبوموسى الأشعري وابن عمر وابن عباس رضي الله عنهم ومجاهد وعكرمة وقتادة وسعيد بن جبير والحسن والضحاك وعطاء الخراساني وإبراهيم النخعي أنها عشر ذي الحجة، وهو مذهب أبي حنيفة والشافعي، والمشهور من مذهب الإمام أحمد بن حنبل!
(1).
قال الإمام البخاري في صحيحه: وقال ابن عباس {ويذكروا اسم الله في أيام معلومات .. } [28 - الحج]- أيام العشر.
والأيام المعدودات: أيام التشريق
(2).
وأخرج عبدالرزاق بسنده الصحيح عن قتادة: {في أيام معلومات} قال: أيام العشر، والمعدودات أيام التشريق
(3).
(ب) - قال تعالى: {والفجر وليالٍ عشر} [1، 2: الفجر].
قال ابن عباس وابن الزبير ومجاهد وقتادة وغير واحد من السلف: (الليالي العشر: المراد بها: عشر ذي الحجة)
(4).
ثانياً: مشروعيتها من السنة:عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال» ما العمل في أيام العشر أفضل من العمل في هذه قالوا ولا الجهاد؟ قال
ولا الجهاد إلا رجل خرج يخاطر بنفسه وماله فلم يرجع بشيء «
رواه البخاري
(5).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: দশ দিনের (ইবাদতের) বৈধতাজিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের (ইবাদতের) বৈধতা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।
হে প্রিয় ভাই, এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রথমত: কুরআন থেকে এর বৈধতা:(ক) - আল্লাহ তাআলা বলেন:
{যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং সুনির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে সেইসব চতুষ্পদ জন্তুর ওপর যা তিনি তাদের রিযিক হিসেবে দিয়েছেন। অতএব তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুঃস্থ অভাবীকে আহার করাও।}
[আল-হাজ্জ: ২৮]।
উক্ত আয়াতে উল্লিখিত 'সুনির্ধারিত দিনসমূহ' (আইয়ামুম মালুমাত)-এর ব্যাখ্যায় আবু মুসা আল-আশআরি, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), মুজাহিদ, ইকরিমা, কাতাদাহ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, হাসান, দাহহাক, আতা আল-খুরাসানি এবং ইবরাহিম আন-নাখায়ি বলেছেন যে, এগুলো হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন। এটিই ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ির মাজহাব এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত!
(১)।
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেন: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: {এবং তারা যেন সুনির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে...} [আল-হাজ্জ: ২৮] - এগুলো হলো দশ দিন।
আর 'গণনাযোগ্য দিনসমূহ' (আইয়ামুম মাদুদাত) হলো তাশরিকের দিনসমূহ।
(২)।
আব্দুর রাজ্জাক তাঁর সহিহ (صحيح) সনদে কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: {সুনির্ধারিত দিনগুলোতে} - তিনি বলেন: এগুলো দশ দিন, আর গণনাযোগ্য দিনগুলো হলো তাশরিকের দিনসমূহ।
(৩)।
(খ) - আল্লাহ তাআলা বলেন: {শপথ ফজরের এবং শপথ দশ রাতের} [আল-ফজর: ১, ২]।
ইবনে আব্বাস, ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, কাতাদাহ এবং আরও অনেক পূর্বসূরি (সালাফ) বলেছেন: (দশ রাত বলতে জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে)
(৪)।
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে এর বৈধতা:ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই দশ দিনের নেক আমল অপেক্ষা অন্য কোনো দিনের নেক আমল অধিক উত্তম নয়।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: "জিহাদও কি নয়?" তিনি বললেন:
"জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) বের হয়েছে এবং এর কোনোটি নিয়েই আর ফিরে আসেনি।"
বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب الثاني: فضل عشر ذي الحجةجاء في فضل عشر ذي الحجة عدد من نصوص الكتاب والسنة، نذكر منها ما يلي:
أولاً: ما جاء في فضلها على الإجمال:(أ) أقسم الله بها في كتابه الكريم فقال {والفجر وليالٍ عشر} [الفجر: 1، 2] قال ابن عباس وابن الزبير ومجاهد وقتادة وغير واحد من السلف (الليالي العشر المراد بها عشر ذي الحجة)
(1). وأخرج الطبري بسنده الصحيح عن مجاهد {وليالٍ عشر} قال: عشر ذي الحجة
(2). وفي مسند أحمد من حديث جابر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: » إن العشر عشر ذي الحجة والوتر يوم عرفة والشفع يوم النحر «
(3).
(ب) أنها تتمة الليالي الأربعين التي واعد الله فيها موسى عليه السلام، قال تعالى: {وواعدنا موسى ثلاثين ليلةً وأتممناها بعشر فتمّ ميقات ربه
أربعين ليلة
… } [الأعراف/142]. قال مجاهد: (ذو القعدة وعشر ذي الحجة)، وقال مسروق {وأتممناها بعشر}: (عشر الأضحى)
(4).
(ج) أنها خاتمة الأشهر المعلومات التي قال الله فيها {الحج أشهرٌ معلومات
… } [البقرة/197]. وهي شوال وذو القعدة وعشر من ذي الحجة، ذُكر ذلك عن عمر وابنه عبد الله وعلي وابن مسعود وابن عباس وابن الزبير وغيرهم، وهو قول أكثر التابعين، ومذهب الشافعي وأحمد وأبي حنيفة وأبي يوسف وأبي ثور وغيرهم، وممن قال به من المفسرين مجاهد والسُّدي والضحاك
(5).
(د) ومن فضائلها أنها الأيام المعلومات التي شرع الله ذكره فيها على ما رزق من بهيمة الأنعام قال تعالى: {وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ (27) لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ
… } [الحج/27، 28]. والأيام المعلومات عند جمهور العلماء هي عشر ذي الحجة كما تقدم.
(هـ) أنها من أعظم الأيام عند الله تبارك وتعالى. لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى عليه وآله وسلم: » ما من أيام أعظم عند الله ولا أحب إليه العمل فيهن من هذه العشر
… «رواه الترمذي وأبو داود
(6).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জিলহজ মাসের দশ দিনের ফজিলতজিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর বেশ কিছু বর্ণনা এসেছে, যার মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে উল্লেখ করা হলো:
প্রথমত: সামগ্রিকভাবে এর ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:(ক) মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে এর শপথ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন: {শপথ ফজরের, এবং দশ রাতের} [ফজর: ১, ২]। ইবনে আব্বাস, ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, কাতাদাহ এবং সালাফদের আরও অনেকে বলেন, "(দশ রাত দ্বারা জিলহজের দশ দিনই উদ্দেশ্য)"
(১)। তাবারী তাঁর সহিহ (صحيح) সনদে মুজাহিদ থেকে {وليالٍ عشر} এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি হলো জিলহজের দশ দিন
(২)। মুসনাদ আহমদ-এ জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: » নিশ্চয়ই সেই দশ দিন হলো জিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিন, 'বেজোড়' হলো আরাফার দিন এবং 'জোড়' হলো কোরবানির দিন «
(৩)।
(খ) এটি সেই চল্লিশ রাতের পরিশিষ্ট যা মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি মুসার সাথে ত্রিশ রাতের অঙ্গীকার করেছি এবং আরও দশ দ্বারা তা পূর্ণ করেছি; এভাবে তার রবের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাতে পূর্ণ হয় … } [আরাফ/১৪২]। মুজাহিদ বলেন: (এটি হলো জিলকদ মাস এবং জিলহজের দশ দিন), আর মাসরুক {وأتممناها بعشر} এর ব্যাখ্যায় বলেন: (কোরবানির মাসের দশ দিন)
(৪)।
(গ) এটি সেই সুনির্ধারিত মাসগুলোর সমাপ্তি যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {হজের মাসগুলো সুনির্ধারিত … } [বাকারা/১৯৭]। আর সেগুলো হলো শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজের দশ দিন। এটি ওমর (রা.), তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ (রা.), আলী (রা.), ইবনে মাসউদ (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), ইবনে জুবায়ের (রা.) এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। এটি অধিকাংশ তাবেয়ীর অভিমত এবং শাফেয়ী, আহমদ, আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, আবু সওর প্রমুখের মাজহাব। মুফাসসিরদের মধ্যে মুজাহিদ, সুদ্দী ও যাহহাকও এই কথা বলেছেন
(৫)।
(ঘ) এর অন্যতম ফজিলত হলো এটি সেই নির্ধারিত দিনসমূহ (আইয়ামে মালুমাত), যাতে মহান আল্লাহ পশু জবেহ করার সময় তাঁর নাম স্মরণ করার বিধান দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে, যারা দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে আসবে। (২৭) যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে … } [হজ/২৭, ২৮]। জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মতে এই 'নির্ধারিত দিনগুলো' হলো জিলহজের প্রথম দশ দিন, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(ঙ) এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: » আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের চেয়ে মহান এবং তাঁর কাছে এই দিনগুলোতে আমল করার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিন নেই … « তিরমিজি ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(و) أنها من أفضل الأيام عند الله والعمل الصالح فيها أحب إلى الله من الجهاد في سبيله.
- جاء في صحيح الإمام البخاري من حديث ابن عباس رضي
الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: » ما العمل
في أيام أفضل من العمل في هذه قالوا ولا الجهاد؟ قال ولا الجهاد إلا رجل خرج يخاطر بنفسه وماله فلم يرجع بشيء «
(1).
- وفي سنن الإمام أبي داود من حديث ابن عباس رضي الله
عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: » ما من
أيام العمل الصالح فيها أحبُ إلى الله من هذه الأيام - يعني
أيام العشر - قالوا يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال
ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع
من ذلك بشيء «.
(2)- وفي صحيح ابن حبان من حديث جابر بن عبد الله رضي الله
عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: » ما من أيام أفضل عند الله من
أيام عشر ذي الحجة قال فقال رجل يا رسول الله هن أفضل
أم عدتهن جهاداً في سبيل الله قال هُنَّ أفضل من عدتهن جهاداً
في سبيل الله
(3) … «.
- وعن جابر بن عبدالله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: » أفضل أيام الدنيا أيام العشر [أي: عشر ذي الحجة] قيل ولا مثلهن في سبيل الله قال ولا مثلهن في سبيل الله إلا رجل عفّر وجهه بالتراب «
رواه البزار
(4).
ثانياً: ما جاء في فضل بعض أيام العشر:
(أ) ما جاء في فضل يوم عرفة:--------------------------------------------
(এবং) এই দিনগুলো আল্লাহর নিকট দিনসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং এই দিনগুলোতে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়েও অধিক প্রিয়।
- ইমাম বুখারীর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: » এই দিনগুলোর নেক আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই অধিক উত্তম নয়। তাঁরা বললেন, জিহাদও কি নয়? তিনি বললেন, জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে (জিহাদে) বের হয়েছে এবং এর কোনো কিছু নিয়েই আর ফিরে আসেনি «
(1)।
- এবং ইমাম আবু দাউদের সুনান গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: » এই দিনগুলো—অর্থাৎ যিলহজের দশ দিন—অপেক্ষা এমন কোনো দিন নেই যাতে নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হয়েছে এবং এর কোনো কিছু নিয়েই আর ফিরে আসেনি «।
(2)- এবং সহীহ ইবনে হিব্বান গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: » আল্লাহর নিকট যিলহজের দশ দিন অপেক্ষা উত্তম আর কোনো দিন নেই। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, এই দিনগুলো কি আল্লাহর পথে সমসংখ্যক দিন জিহাদ করার চেয়েও উত্তম? তিনি বললেন, এগুলো আল্লাহর পথে সমসংখ্যক দিন জিহাদ করার চেয়েও উত্তম
(3) … «।
- এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: » দুনিয়ার দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো এই দশ দিন [অর্থাৎ: যিলহজের দশ দিন]। জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর পথেও কি এদের সমতুল্য কিছু নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর পথেও এদের সমতুল্য কিছু নেই; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) নিজের চেহারা ধূলিধূসরিত করেছে «
বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন
(4)।
দ্বিতীয়ত: এই দশ দিনের বিশেষ কিছু দিনের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:
(ক) আরাফাহর দিনের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(1) أنه اليوم المشهود الذي أقسم الله به في كتابه الكريم فقال: {وشاهدٍ ومشهود} [البروج: 3]. وفي حديث أبي هريرة رضي الله تعالى عنه أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: » اليوم الموعود: يوم القيامة، واليوم المشهود: يوم عرفة، والشاهد: يوم الجمعة، وما طلعت الشمس ولا غربت على يومٍ أفضل منه فيه ساعةٌ لا يوافقها عبدٌ مسلم يدعو الله بخير إلا استجاب الله له ولا يستعيذ من شر إلا أعاذه الله منه «.
رواه الترمذي
(1).
(2) أنه اليوم الذي أخذ الله فيه الميثاق على ذرية آدم بتوحيده. في حديث ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: » إن الله أخذ الميثاق من ظهر آدم بـ"نُعمان" يوم عرفة وأخرج من صُلبه كل ذرية ذرأها فنثرهم بين يديه كالذر ثم كلمهم قُبُلا قال ألست بربكم قالوا بلى «رواه أحمد والنسائي
(2).
(3) أنه اليوم الذي أتم الله فيه هذا الدين بنزول معظم الفرائض والتحليل والتحريم فيه، في الصحيحين من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن رجلاً من اليهود قال له: يا أمير المؤمنين آية في كتابكم لو علينا معشر اليهود نزلت لاتخذنا ذلك اليوم عيداً، فقال أي آية، قال: {اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام ديناً} المائدة/3. فقال عمر: (إني لأعلم اليوم الذي نزلت فيه والمكان الذي نزلت فيه، نزلت ورسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قائم بعرفة يوم جمعة).
(4) أنه يوم مغفرة للذنوب، ففي حديث عمر الطويل عند ابن حبان قال صلى الله عليه وآله وسلم: »
… فإذا وقفتَ بعرفة فإن الله عز وجل ينزل إلى سماء الدنيا فيقول: انظروا إلى عبادي شُعثاً عُبراً اشهدوا أني قد غفرت لهم ذنوبهم وإن كانت عدد قطر السماء ورمل عالج
… «
(3).
وروى ابن المبارك عن سفيان الثوري عن الزبير بن عدي عن أنس ابن مالك رضي الله عنه قال: (وقف النبي صلى الله عليه وآله وسلم بعرفات وقد كادت الشمس أن تؤوب فقال: يا بلال أنصت لي الناس فقام بلال فقال أنصتوا لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فأنصت الناس، فقال: » معاشر الناس أتاني جبرائيل آنفاً فأقرأني من ربي السلام وقال إن الله عز وجل غفر لأهل عرفات وأهل المشعر وضمن عنهم التبعات فقام عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال يا رسول الله هذا لنا خاصة؟ قال: هذا لكم ولمن أتى من بعدكم إلى يوم القيامة، فقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه كثر خير الله وطاب «
(4).
--------------------------------------------
(১) এটি সেই প্রত্যক্ষত (মশহুদ) দিন যার শপথ আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে করেছেন। তিনি বলেছেন: {শপথ সাক্ষ্যদাতার এবং যার সাক্ষ্য দেওয়া হয় (মশহুদ)} [বুরুজ: ৩]। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "প্রতিশ্রুত দিন হলো কিয়ামতের দিন, প্রত্যক্ষত (মশহুদ) দিন হলো আরাফার দিন এবং সাক্ষ্যদাতা হলো জুমার দিন। সূর্য এমন কোনো উত্তম দিনে উদিত বা অস্তমিত হয়নি যা এই দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; এতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যা কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনায় রত অবস্থায় পেলে আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন এবং কোনো অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইলে আল্লাহ তাকে তা থেকে আশ্রয় দান করেন।"
তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন
(১)।
(২) এটি সেই দিন যেদিন আল্লাহ আদমের বংশধরদের নিকট থেকে তাঁর একত্ববাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আরাফার দিনে 'না'মান' নামক স্থানে আদমের পিঠ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর পিঠ থেকে সকল বংশধরকে বের করে তাঁর সামনে ধূলিকণার ন্যায় ছড়িয়ে দিলেন, অতঃপর সরাসরি তাদের সাথে কথা বললেন এবং বললেন: 'আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?' তারা বলল: 'অবশ্যই'।" আহমদ ও নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন
(২)।
(৩) এটি সেই দিন যেদিন আল্লাহ অধিকাংশ ফরজ বিধান এবং হালাল-হারাম অবতীর্ণ করার মাধ্যমে এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন। সহিহাইন-এ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, ইহুদিদের এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত আছে যা যদি আমাদের ইহুদি জাতির ওপর অবতীর্ণ হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোন আয়াত? সে বলল: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম} (মায়েদাহ: ৩)। তখন উমর (রা.) বললেন: (আমি অবশ্যই জানি সেই দিনটি এবং সেই স্থানটি যেখানে এটি অবতীর্ণ হয়েছিল; এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর আরাফায় অবস্থানরত অবস্থায় জুমার দিনে অবতীর্ণ হয়েছিল)।
(৪) এটি পাপ মোচনের দিন। ইবনে হিব্বানের কিতাবে বর্ণিত উমরের দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "…যখন তুমি আরাফায় অবস্থান করো, তখন মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন: তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা আলুথালু চুলে ধূলিমলিন অবস্থায় এসেছে। তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমি তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছি, যদিও তা আকাশের বৃষ্টির ফোঁটা বা আলিজের বালুকণার সমপরিমাণ হয় …।"
(৩)।
ইবনুল মুবারক সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি জুবায়ের বিন আদি থেকে এবং তিনি আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলেন যখন সূর্য প্রায় অস্তগামী। তখন তিনি বললেন: "হে বিলাল, লোকদেরকে আমার কথা শোনার জন্য চুপ করাও।" বিলাল দাঁড়িয়ে বললেন, "আপনারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথা শোনার জন্য নীরবতা অবলম্বন করুন।" তখন লোকেরা চুপ হলো। তিনি বললেন: "হে লোকসকল, এইমাত্র জিবরাঈল আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিয়ে বললেন যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আরাফাবাসী ও মাশআরবাসীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাদের দায়-দায়িত্ব নিজ জিম্মায় গ্রহণ করেছেন।" তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, এটি কি শুধু আমাদের জন্য?" তিনি বললেন: "এটি তোমাদের জন্য এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তোমাদের পরে আসবে তাদের সকলের জন্য।" তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন, "আল্লাহর কল্যাণ অনেক বেশি এবং পবিত্র।"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(5) أنه يوم يُعتق الله فيه الرقاب من النار، فعن أم المؤمنين عائشة - رضي الله تعالى عنها - أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال» ما من يوم أكثر من أن يعتق الله فيه الرقاب من النار من يوم عرفة وإنه ليدنو ثم يباهي بهم الملائكة «رواه مسلم، قال الهيثمي: وزاد رزين في جامعه: » اشهدوا ملائكتي أني قد غفرت لهم «
(1).
(6) وهو كذلك يوم يباهي الله بعباده الواقفين بعرفة ملائكتَه، ففي صحيح ابن حبان من حديث جابر بن عبدالله رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم» ما من يوم أفضل عند الله من يوم عرفة ينزل الله تعالى إلى السماء الدنيا فيباهي بأهل الأرض أهل السماء فيقول انظروا إلى عبادي شُعثاً غُبراً ضاحين جاءوا من كل فج عميق يرجون رحمتي ولم يرو عذابي فلم يُرَ يوماً أكثر عتقاً من النار من يوم عرفة
(2) «. وفي مسند الإمام أحمد من حديث عبد الله بن
عمرو بن العاص أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول: » إن الله عز وجل يُباهي ملائكته عشية عرفة بأهل عرفة فيقول انظروا إلى عبادي أتوني شعثاً غبراً «
(3).
(ب) ما جاء في فضل يوم النحر:(1) أنه أعظمُ الأيام عند الله:
- عن عبدالله بن قُرط رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: » أعظمُ الأيام عند الله يوم النحر ثم يوم القَرِّ- وقُرِب لرسولِ الله صلى الله عليه وآله وسلم بدنات خمس أو ست فطفقن يزدلفن إليه بأيتهِنَ يبدأ
… «رواه أبو داود
(4).
- قال ابن الأثير - يوم القَرِّ: هو الغد من يوم النحر وهو حادي عشر ذي الحجة لأن الناس يقرون فيه بمنى أي: يسكنون ويقيمون
(5).
- يزدلفنَ: يقربن منه
(6).
(2) أنه يوم الحج الأكبر:
- عن ابن عمر رضي الله عنهما: (أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وقف يوم النحر بين الجمرات في الحجة
التي حج فقال أي يوم هذا - قالوا يوم النحر - قال
هذا يوم الحج الأكبر) رواه أبو داود
(7).
--------------------------------------------
(৫) এটি এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে গর্দানসমূহ (মানুষদের) মুক্তি দেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা -রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা- থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আরাফার দিনের চেয়ে বেশি আর কোনো দিনে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। তিনি অতি নিকটে আসেন এবং ফেরেশতাদের নিকট তাদের নিয়ে গর্ব করেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেন: রাজিন তার জামি’ গ্রন্থে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "হে আমার ফেরেশতাগণ, তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয়ই আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।"
(১).
(৬) অনুরূপভাবে এটি এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহ তাআলা আরাফায় অবস্থানরত তাঁর বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। সহিহ ইবনে হিব্বান-এ জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কাছে আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিন নেই। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং পৃথিবীবাসীদের নিয়ে আসমানবাসীদের কাছে গর্ব করে বলেন: দেখ আমার বান্দাদের দিকে, তারা উস্কোখুস্কো চুলে, ধুলাবালিময় অবস্থায় এবং রোদ সহ্য করে দূর-দূরান্তের গিরিপথ থেকে এসেছে। তারা আমার রহমতের আশা করে কিন্তু আমার আজাব দেখেনি। ফলে আরাফার দিনের চেয়ে আর কোনো দিনে এত অধিক পরিমাণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিতে দেখা যায় না।"
(২). আর মুসনাদে ইমাম আহমদ-এ আব্দুল্লাহ বিন
আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আরাফার সন্ধ্যায় ফেরেশতাদের কাছে আরাফাবাসীদের নিয়ে গর্ব করেন এবং বলেন: দেখ আমার বান্দাদের দিকে, তারা উস্কোখুস্কো চুলে ও ধুলাবালিময় অবস্থায় আমার কাছে এসেছে।"
(৩).
(খ) নহরের দিনের (কুরবানির দিন) ফজিলত সংক্রান্ত আলোচনা:(১) এটি আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন:
- আব্দুল্লাহ বিন কুরত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কাছে দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো নহরের দিন (কুরবানির দিন), এরপর হলো কার-এর দিন (কুরবানির পরবর্তী দিন)।" - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঁচটি বা ছয়টি কুরবানির উট আনা হলো, সেগুলো কোনটি দিয়ে তিনি শুরু করবেন তার জন্য তাঁর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো... এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন
(৪).
- ইবনুল আসির বলেছেন: "ইয়াওমুল কার" হলো নহরের দিনের পরের দিন, যা জিলহজ মাসের এগারো তারিখ; কারণ মানুষ সেদিন মিনায় অবস্থান করে বা স্থির থাকে
(৫).
- "ইয়াজদালিফনা": তাঁর নিকটবর্তী হওয়া বা এগিয়ে আসা
(৬).
(২) এটি হজ্জে আকবরের দিন:
- ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে নহরের দিন জামরাতসমূহের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: এটি কোন দিন? তারা বললেন: নহরের দিন। তিনি বললেন: এটি হজ্জে আকবরের দিন) এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন
(৭).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- وقد سئل شيخ الإسلام ابن تيمية أيهما أفضل يوم عرفة أو الجمعة أو الفطر أو النحر؟ فأجاب: (الحمد لله أفضل أيام الأسبوع يوم الجمعة باتفاق العلماء وأفضل أيام العام هو يوم النحر)
(1).
- وقد سُئل رحمه الله أيهما أفضل عشر ذي الحجة أم العشر الأواخر من رمضان؟ فأجاب: (أيام عشر ذي الحجة أفضل من أيام العشر من رمضان وليالي العشر الأواخر من رمضان أفضل من ليالي عشر ذي الحجة، قال ابن القيم: وإذا تأمل الفاضل اللبيب هذا الجواب وجده شافياً كافياً فإنه ليس من أيامٍ العمل فيها أحب إلى الله من أيام عشر ذي الحجة وفيها يوم عرفة ويوم النحر ويوم التروية، وأما ليالي عشر رمضان فهي ليالي الإحياء التي كان الرسول صلى الله عليه وآله وسلم يحييها كلها، وفيها ليلة خير من ألف شهر فمن أجاب بغير هذا التفصيل لم يمكنه أن يدلي بحجة صحيحة)
(2).
- قال الحافظ ابن حجر: (والذي يظهر أن السبب في
امتياز عشر ذي الحجة لمكان اجتماع أمهات العبادة فيها
وهي الصلاة والصيام والصدقة والحج ولا يتأتى ذلك
في غيرها)
(3).
--------------------------------------------
- শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আরাফাহর দিন, জুমুআর দিন, ঈদুল ফিতর নাকি নহরের (কুরবানির) দিন—কোনটি শ্রেষ্ঠ? তিনি উত্তর দিলেন: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আলেমদের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুআর দিন এবং বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হলো নহরের দিন)
(1).
- তাঁকে (রাহিমাহুল্লাহ) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন শ্রেষ্ঠ নাকি রমজানের শেষ দশ দিন? তিনি উত্তর দিলেন: (জিলহজের দশ দিনের দিনগুলো রমজানের দশ দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং রমজানের শেষ দশকের রাতগুলো জিলহজের দশ রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: কোনো বিদ্বান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি যদি এই উত্তরটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তিনি একে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক হিসেবে পাবেন। কারণ এমন কোনো দিন নেই যাতে আমল করা আল্লাহর কাছে জিলহজের দশ দিনের চেয়ে বেশি প্রিয়; আর এর মধ্যেই রয়েছে আরাফাহর দিন, নহরের দিন এবং তারবিয়াহর দিন। আর রমজানের শেষ দশকের রাতগুলো হলো ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকার রাত, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সম্পূর্ণ জাগ্রত থেকে অতিবাহিত করতেন। এর মধ্যে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিশদ বিবরণ ব্যতীত উত্তর দেবে, তার পক্ষে কোনো সঠিক (صحيحة) দলিল পেশ করা সম্ভব হবে না)
(2).
- হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: (যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, জিলহজের দশ দিনের বৈশিষ্ট্যের কারণ হলো এতে ইবাদতের মূল স্তম্ভগুলোর সমাবেশ ঘটে; আর সেগুলো হলো সালাত, সিয়াম, সদকা ও হজ। যা অন্য কোনো সময়ে একত্রে পাওয়া সম্ভব হয় না)
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثالث: ما يستحب في العشر(1) الإكثار من الأعمال الصالحة مطلقاً، لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: » ما من أيامٍ العمل الصالح فيها أحب إلى الله من هذه الأيام - يعني أيام العشر - قالوا يا رسول الله، ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء «رواه أبو داود
(1).
- قال الإمام الحافظ ابن رجب الحنبلي رحمه الله: (وقد دل حديث ابن عباس على مضاعفة جميع الأعمال الصالحة في العشر من غير استثناء شيء منه
… قال وكان سعيد بن جبير وهو الذي روى هذا الحديث عن ابن عباس رضي الله عنهما إذا دخل العشر اجتهد اجتهاداً حتى ما يكاد يقدر عليه، وروي عنه أنه قال لا تطفئوا سُرجَكم ليالي العشر تعجبه العبادة)
(2).
- وفي سنن البيهقي والدارمي قال صلى الله عليه وآله وسلم: » ما من عمل أزكى عند الله ولا أعظم أجراً من خيرٍ يعمله في عشر الأضحى قيل ولا الجهاد في سبيل الله قال ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجلٌ خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء «
(3).
(2) الإكثار من الذكر: وقد دل عليه قوله تعالى: {
… ويذكروا اسم الله في أيام معلومات
… } والأيام المعلومات كما تقدم هي أيام العشر عند جمهور العلماء ولحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: » ما من أيام أعظم عند الله ولا أحب إليه العمل فيهن من هذه العشر فأكثروا فيهن من التهليل والتكبير والتحميد «رواه الترمذي وأبو داود
(4).
- قال الإمام البخاري في صحيحه: (وكان ابن عمر وأبو هريرة يخرجان إلى السوق في أيام العشر يكبِّران ويكبر الناس بتكبيرهما)
(5). والمشروع "هو التكبير المطلق في جميع الوقت من ليلٍ أو نهار في أيام العشر.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জিলহজের দশ দিনে যা মুস্তাহাব(১) সাধারণভাবে সকল প্রকার নেক আমল অধিক পরিমাণে করা। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো দিন নেই যার নেক আমল আল্লাহর নিকট এই দিনগুলোর—অর্থাৎ জিলহজের দশ দিনের—আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি (এর চেয়ে প্রিয়) নয়?" তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে নিজের জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) বের হয়েছে এবং এর কোনো কিছু নিয়েই আর ফিরে আসেনি।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(১)- ইমাম হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইবনে আব্বাসের হাদিসটি জিলহজের এই দশকে কোনো কিছু ব্যতিক্রম ছাড়াই সকল প্রকার নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ার দলিল... তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহিমাহুল্লাহ)—যিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন—যখন জিলহজের দশ দিন প্রবেশ করত, তখন তিনি ইবাদতে এতটাই কঠোর পরিশ্রম করতেন যে তা প্রায় তাঁর সাধ্যাতীত হয়ে যেত। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: 'তোমরা জিলহজের এই দশ দিনের রাতগুলোতে প্রদীপ নিভিয়ে দিও না'—ইবাদতের প্রতি তাঁর অতিশয় অনুরাগের কারণে তিনি এমনটি বলতেন।"
(২)- সুনান আল-বায়হাকী এবং সুনান আদ-দারিমি-তে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট কুরবানির এই দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক পবিত্র (أزكى) এবং অধিক সওয়াবের আর কোনো আমল নেই।" জিজ্ঞেস করা হলো: "আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?" তিনি বললেন: "জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হয়েছে এবং এর কোনো কিছু নিয়েই আর ফিরে আসেনি।"
(৩)(২) অধিক পরিমাণে জিকির করা: মহান আল্লাহর এই বাণী এর স্বপক্ষে দলিল: { ...এবং তারা যেন নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করে... }। জুমহুর (جمهور) আলেমদের মতে, 'নির্দিষ্ট দিনসমূহ' বলতে—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—জিলহজের দশ দিনকেই বোঝায়। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট জিলহজের এই দশ দিনের চেয়ে মহান এবং এই দিনগুলোতে আমল করার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিন নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলীল, তাকবীর এবং তাহমীদ পাঠ করো।" এটি তিরমিজি ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(৪)- ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনে উমর এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) জিলহজের এই দশ দিনে বাজারে বের হতেন এবং তাকবীর দিতেন, আর তাঁদের তাকবীর শুনে অন্য লোকেরাও তাকবীর দিত।"
(৫) আর শরিয়তসম্মত বিধান হলো—জিলহজের এই দশ দিনের দিবা-রাত্রির যেকোনো সময় সাধারণভাবে তাকবীর (তাকবীর মুতলাক) পাঠ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(3) صيام تسع ذي الحجة أو ما تيسر منها: لحديث هُنيدة بن خالد الخزاعي عن امرأته عن بعض أزواج النبي صلى الله عليه وآله وسلم قالت: » كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يصوم تسعاً من ذي الحجة ويوم عاشوراء وثلاثة أيام من كل شهر أول اثنين من الشهر والخميس «رواه أبو داود والنسائي
(1).
(4) ويستحب استحباباً مؤكداً صوم يوم عرفة:
لحديث أبي قتادة الأنصاري رضي الله عنه وفيه أن النبي
صلى الله عليه وآله وسلم سُئل عن صوم يوم عرفة فقال» أحتسب على الله أن يكفر السنة الماضية والباقية «رواه مسلم
(2).
(5) على المسلم في يوم العيد أن يذهب إلى مصلى العيد مُبكراً ليُدرك صلاة العيد جماعةً مع المسلمين رافعاً صوته بالتكبير والتهليل معظماً لشعائر الله تعالى في ذلك اليوم قال تعالى: {ذلك ومن يعظم شعائر الله فإنها من تقوى القلوب} [الحج: 32]
وقد كان من هدي النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن
يخرج في العيدين رافعاً صوته بالتهليل والتكبير
(3). وكان يكبر يوم الفطر من حين يخرج من بيته حتى يأتي المصلى
(4).
- وقد روى الدارقطني أن ابن عمر كان إذا غدا يوم الفطر ويوم الأضحى يجهر بالتكبير حتى يأتي المصُلى ثم يكبر حتى يأتي الإمام
(5).
- وروى ابن أبي شيبة بسند صحيح عن الزُهري قال: (كان الناس يُكبرون في العيد حين يخرجون من منازلهم حتى يأتوا المصلى وحتى يخرج الإمام فإذا خرج الإمام سكتوا فإذا كبر كبروا)
(6).
--------------------------------------------
(3) জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন অথবা এর মধ্য থেকে যতটুকু সম্ভব রোজা রাখা: হুনায়দাহ ইবনে খালিদ আল-খুজায়ি কর্তৃক তাঁর স্ত্রীর সূত্রে বর্ণিত হাদিস, যা তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন, আশুরার দিন, প্রতি মাসের তিন দিন এবং মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।" এটি আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন
(1)।
(4) আরাফাতের দিন রোজা রাখা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা বিশেষভাবে মুস্তাহাব:
আবু কাতাদা আল-আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে উল্লেখ আছে যে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে আরাফাতের দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, এটি বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(2)।
(5) ঈদের দিনে একজন মুসলমানের উচিত খুব ভোরে ঈদগাহে যাওয়া, যাতে সে মুসলমানদের সাথে জামাতের সহিত ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে। সে উচ্চস্বরে তাকবির ও তাহলিল পাঠ করবে এবং সেই দিনের আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটাই আল্লাহর বিধান; আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়া থেকেই উদ্ভূত} [হজ: ৩২]
দুই ঈদেই উচ্চস্বরে তাহলিল ও তাকবির পাঠ করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল
(3)। তিনি ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন
(4)।
- দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উমর যখন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সকালে ঈদগাহের দিকে যেতেন, তখন ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করতেন এবং ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবির চালিয়ে যেতেন
(5)।
- ইবনে আবি শায়বা একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রের (سند) মাধ্যমে জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (লোকেরা ঈদের দিন যখন তাদের ঘর থেকে বের হতো, তখন থেকে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত এবং ইমামের বের হওয়া পর্যন্ত তাকবির পাঠ করত। যখন ইমাম বের হতেন, তখন তারা চুপ হয়ে যেত, আর যখন ইমাম তাকবির দিতেন, তখন তারাও তাকবির দিত)
(6)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثاني المسائل الجلية في أحكام الأضحيةللأضحية أهمية كبيرة، في الشريعة الإسلامية، وقد تكلمت عنها في نصوص كثيرة من الكتاب والسنة، في مشروعيتها وأحكامها، وشروطها، وغير ذلك، وأفرد لها الأئمة في كتبهم مباحث خاصة، ذكروا فيها كل ما يتعلق بها من أحكام شرعية، ومسائل فقهية وإليك أخي الكريم، خلاصة ما ذكروه، وزبدة ما سطروه، وسنتكلم عليها في ثلاثة مطالب:
المطلب الأول
الأضحية
المطلب الثاني
• حكمتها
• التشديد في تركها للقادر عليها
• أفضل أنواعها
المطلب الثالث
شروطها
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কোরবানির বিধানাবলি সংক্রান্ত সুস্পষ্ট মাসআলাসমূহইসলামী শরিয়তে কোরবানির (الأضحية) গুরুত্ব অপরিসীম। আল-কুরআন এবং সুন্নাহর বহু দলিলে এর বৈধতা (مشروعية), বিধানাবলি (أحكام), শর্তাবলি (شروط) এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ইমামগণ (أئمة) তাঁদের গ্রন্থসমূহে এর জন্য বিশেষ অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন, যেখানে তাঁরা কোরবানি সংশ্লিষ্ট সকল শরয়ি বিধান (أحكام شرعية) ও ফিকহি মাসআলা (مسائل فقهية) উল্লেখ করেছেন। হে সম্মানিত ভাই! আপনার সামনে তাঁদের বর্ণিত আলোচনার সারসংক্ষেপ ও নির্যাস পেশ করা হলো। আমরা এ সম্পর্কে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদে (مطالب) আলোচনা করব:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الأول)
কোরবানি (الأضحية)
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني)
• এর তাৎপর্য (حكمة)
• সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি বর্জনকারীর ব্যাপারে কঠোরতা (تشديد)
• এর সর্বোত্তম প্রকারসমূহ (أفضل الأنواع)
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثالث)
এর শর্তাবলি (شروط)
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الأول: الأضحيةذكر أهل العلم في الحدود والتعاريف أن فهم الشيء فرع عن تصوره، وسيرا على ما قرره العلماء، فسأتكلم في هذا المطلب على التالي:
أولاً: تعريف الأضحية:الأُضحية بضم الهمزة ويجوز كسرها وجمعها أضاحٍ،
كالضحية جمعها ضحايا
(1).
وهي اسمٌ لما يذبح من الإبل والبقر والغنم يوم النحر وأيام التشريق تقرباً إلى الله تعالى
(2).
ثانياً: سبب تسميتها بالأضحية:سُميت أضحية لأنها تُذبح في الضُحى
(3) فكأنها اشتقت من اسم الوقت الذي تشرع فيه
(4).
ثالثاً: ما جاء في مشروعيتها:شُرعت الأضحية في العام الثاني للهجرة النبوية
(5) وقد توارد على إثباتها نصوص الكتاب العزيز والسنة المطهرة وإجماع سلف الأمة.
(أ) فمن الكتاب قوله تعالى: {والبُدنَ جعلناها لكم من شعائر الله لكم فيها خير
… } [الحج: 36] وقوله تعالى {فصلِ لربك وانَحرْ} [الكوثر: 2]
(ب) ومن السنة حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: » ضحى النبي صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين ذبحهما بيده وسمى وكبر ووضع رجله على صفاحهما «رواه البخاري ومسلم
(6) وغيرهما.
(ج) وأما الإجماع فقد أجمع المسلمون على مشروعيتها
(7).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরবানি (الأضحية)জ্ঞানপিপাসু আলেমগণ সংজ্ঞা ও সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো বিষয়ের উপলব্ধি নির্ভর করে তার কল্পনার ওপর। আলেমদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আমি এই পরিচ্ছেদে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব:
প্রথমত: কুরবানির (الأضحية) সংজ্ঞা:আল-উদ্বহিয়া (الأُضحية) শব্দটি হামজায় পেশ দিয়ে পড়তে হয়, তবে জের দিয়ে পড়াও বৈধ। এর বহুবচন হলো আদ্বাহি (أضاحٍ),
যেমন দ্বহিয়া (الضحية) শব্দের বহুবচন হলো দ্বাহায়া
(১)।
শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নহরের দিন (কুরবানির দিন) এবং আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে উট, গরু ও ছাগল জাতীয় পশুর মধ্য থেকে যা জবেহ করা হয়, তাকেই কুরবানি (الأضحية) বলা হয়
(২)।
দ্বিতীয়ত: কুরবানিকে 'অদ্বহিয়া' নামকরণের কারণ:একে 'অদ্বহিয়া' (الأضحية) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি চাশতের (الضُحى) সময়ে জবেহ করা হয়। যেন শব্দটি সেই সময়ের নাম থেকে চয়ন করা হয়েছে যে সময়ে এটি পালনের বিধান রয়েছে
(৪)।
তৃতীয়ত: এর বিধানগত বৈধতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:কুরবানির (الأضحية) বিধান হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে প্রবর্তিত হয়েছে
(৫)। এটি সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, পবিত্র সুন্নাহ (السنة) এবং উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরিদের) ঐকমত্য (إجماع) সমভাবে গুরুত্ব প্রদান করেছে।
(ক) কুরআন থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {আর কুরবানির উটগুলোকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি, তোমাদের জন্য তাতে কল্যাণ রয়েছে … } [হজ: ৩৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী {অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কুরবানি করো।} [কাওসার: ২]
(খ) সুন্নাহ (السنة) থেকে আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: » নবী করীম (সা.) দুটি সাদা-কালো বর্ণের শিং বিশিষ্ট মেষ কুরবানি করেছেন। তিনি নিজ হাতে সেগুলো জবেহ করেছেন, বিসমিল্লাহ পড়েছেন ও তাকবির বলেছেন এবং পশুর ঘাড়ের ওপর নিজের পা রেখেছেন। « এটি বুখারি ও মুসলিম
(৬) এবং অন্যান্য গ্রন্থ বর্ণনা করেছে।
(গ) আর ঐকমত্যের (إجماع) বিষয়টি হলো, মুসলিমগণ কুরবানির বিধানের ওপর ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
رابعاً: حُكم الأضحية:
(1)للعلماء أنظار جلية، في استنباط الأحكام الشرعية، من نصوص الكتاب والسنة النبوية وفي هذا المسألة اختلف العلماء في حكم الأضحية على قولين:
- فذهب الجمهور من العلماء إلى أنها سُنة مؤكدة. ومن أدلتهم ما جاء في صحيح مسلم من حديث أم المؤمنين أم سلمة رضي الله عنها
أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: » إذا دخلت العشر وأراد أحدكم أن يضحي فلا يمس من شَعره وبَشَره شيئاً «
(2).
وجه الشاهد: أنه علّقه على الإرادة والواجب لا يُعلق على الإرادة
(3).
- وذهب أبو حنيفة رحمه الله إلى أنها واجبة على الموسر ومن أدلته قوله تعالي {فصل لربك وانحر} [الكوثر: 2]. والأمر عند أئمة الأصول يقتضي الوجوب، ولقوله صلى الله عليه وآله وسلم: » من وجد سعة فلم يضحِ، فلا يقربن مصلانا «
(4)، وغير ذلك من الأدلة، لم نذكرها خشية الإطالة، ورجح هذا القول شيخ الإسلام ابن تيمية
(5) وكذا العلامة الشوكاني
(6) وهو مذهب شيخنا القاضي العلامة/
محمد بن إسماعيل العمراني حفظه الله.
-
--------------------------------------------
চতুর্থত: কোরবানির বিধান:
(1)কুরআন এবং সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ থেকে শরয়ি বিধান আহরণের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের সুস্পষ্ট অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে। এই মাসআলায় কোরবানির বিধান সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম দুইটি মতের ওপর মতভেদ করেছেন:
- উলামায়ে কেরামের জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু অংশ এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة)। তাঁদের দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদিস
যেখানে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন (জিলহজ মাসের) দশ দিন শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও চামড়ার কোনো কিছু স্পর্শ না করে (অর্থাৎ না কাটে)।”
(2).
দলিল উপস্থাপনের প্রেক্ষিত (وجه الشاهد): তিনি এখানে বিষয়টি ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে রেখেছেন, আর ওয়াজিব (واجب) বিষয় সাধারণত ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে রাখা হয় না
(3).
- আর আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি সচ্ছল ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব (واجب)। তাঁর অন্যতম দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} [আল-কাওসার: ২]। আর উসুলের ইমামগণের নিকট আদেশসূচক বাক্য ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে। এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।”
(4) এবং এর বাইরেও আরও দলিল রয়েছে যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা উল্লেখ করিনি। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ
(5) এই মতটিকে প্রধান্য দিয়েছেন এবং আল্লামা শাওকানীও
(6) অনুরুপ মত দিয়েছেন। এটিই আমাদের শাইখ কাজি আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানি হাফিজাহুল্লাহ-এর মাযহাব:
محمد بن إسماعيل العمراني حفظه الله.
-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المطلب الثاني حكمتها - التشديد في تركها للقادر عليها - أفضل أنواعهاوالأضحية من الأحكام الشرعية، التي بين الشرع حكمتها،
وشدد في تركها، وبين أفضل أنواعها، وسأجملها لك بصورة موجزة فيما يلي:
أولاً: حكمتها:1 - التقرب إلى الله تعالى بها قال تعالى: {فصلِ لربك وانحر .. } [الكوثر: 2].
2 - إحياءً لسُنة إمام الموحدين إبراهيم عليه السلام واقتداء به.
قال تعالى {وفديناه بذبح عظيم} [الصافات: 107].
3 - التوسعة على العيال وإظهار الفرحة والسرور بينهم.
4 - إشاعة الرحمة بين الفقراء والمساكين قال تعالى {فكلوا منها وأطعموا البائس الفقير} [الحج: 28].
5 - شكر الله على ما سخر لنا من بهيمة الأنعام قال تعالى: {كذلك سخرناها لكم لعلكم تشكرون} [الحج: 36].
(1)
ثانياً: التشديد في تركها للقادر عليها:عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم» من وجد سعة فلم يُضح فلا يقربن مصلانا «رواه ابن ماجة
(2).
ثالثاً: أفضل أنواع الأضحية:وأفضل أنواع الأضحية الغنم، وقد ثبت ذلك عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قولا وفعلا، أما القول فعن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم» خير الأُضحية الكبش «رواه الترمذي
(3).
وأما الفعل فما ثبت عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: » ضحى النبي صلى الله عليه وآله وسلم بكبشين أملحين ذبحهما بيده وسمى وكبر ووضع رجله على صفاحهما «رواه البخاري ومسلم
(4) وغيرهما.
- قال الشوكاني في السيل الجرار .. (وملازمته صلى الله عليه وآله وسلم للتضحية بالكبش أو الكبشين مع وجود الإبل في عصره وكثرتها يُدلُ على أفضليتها في الأُضحية). إ. هـ
(5).
ولأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم ضحى بكبشين ولا يفعل إلا الأفضل
(6).
قلتُ: وهو مذهب الإمام مالك رحمه الله. وذهب الجمهور من العلماء إلى أن أفضل الأنواع البدنة ثم البقرة ثم الضأن ثم المعز، حجتهم أن البدنة تجزئ عن سبعة وكذا البقرة وأما الشاة فلا تجزئ إلا عن واحد بالاتفاق فدل على تفضيل البدنة والبقرة
(7).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর হিকমত - সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য তা বর্জন করার ক্ষেত্রে কঠোরতা - কুরবানির সর্বোত্তম প্রকারকুরবানি হলো শরয়ি বিধানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার হিকমত বা তাৎপর্য শরিয়ত বর্ণনা করেছে,
এটি বর্জন করার ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করেছে এবং এর সর্বোত্তম প্রকারসমূহ বর্ণনা করেছে। নিম্নে আমি আপনার জন্য তা সংক্ষেপে উপস্থাপন করছি:
প্রথমত: এর হিকমত (তাৎপর্য):১ - এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন...} [কাওসার: ২]।
২ - একত্ববাদীদের ইমাম ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তাঁর অনুসরণ করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি এক মহান জবেহ করার বস্তুর বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম} [সাফফাত: ১০৭]।
৩ - পরিবার-পরিজনের জন্য সচ্ছলতা তৈরি করা এবং তাদের মাঝে আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করা।
৪ - দরিদ্র ও মিসকিনদের মাঝে দয়া ও করুণা ছড়িয়ে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তোমরা তা হতে আহার করো এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে আহার করাও} [হজ্জ: ২৮]।
৫ - আমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুকে অনুগত করে দেওয়ার কারণে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এভাবেই আমি সেগুলোকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} [হজ্জ: ৩৬]।
(১)
দ্বিতীয়ত: সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য তা বর্জন করার ক্ষেত্রে কঠোরতা:আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।" ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন
(২)।
তৃতীয়ত: কুরবানির সর্বোত্তম প্রকার:কুরবানির সর্বোত্তম প্রকার হলো ভেড়া বা দুম্বা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে কথা ও কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। কথার মাধ্যমে প্রমাণ হলো—আবু উমামাহ আল-বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সর্বোত্তম কুরবানি হলো দুম্বা।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন
(৩)।
আর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ হলো যা আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম দুটি সাদা-কালো রঙের (শিংবিশিষ্ট) দুম্বা কুরবানি করেছেন; তিনি স্বহস্তে সেগুলো জবেহ করেছেন, বিসমিল্লাহ বলেছেন ও তাকবির দিয়েছেন এবং নিজের পা দুম্বা দুটির ঘাড়ের এক পাশে রেখেছিলেন।" বুখারি ও মুসলিম
(৪) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
- ইমাম শাওকানি ‘আস-সাইলুল জাররার’ গ্রন্থে বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যুগে উটের অস্তিত্ব ও প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিয়মিত একটি বা দুটি দুম্বা কুরবানি করা প্রমাণ করে যে, কুরবানির ক্ষেত্রে এটিই অধিক উত্তম)। সমাপ্ত
(৫)।
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম দুটি দুম্বা কুরবানি করেছেন, আর তিনি সর্বোত্তম কাজ ব্যতীত অন্য কিছু করতেন না
(৬)।
আমি (লেখক) বলছি: এটিই ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহর মাযহাব। তবে আলেমদের অধিকাংশ বা জমহুর (جمهور) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, সর্বোত্তম প্রকার হলো উট, এরপর গরু, এরপর ভেড়া/দুম্বা, এরপর ছাগল। তাদের দলিল হলো, উট সাতজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয় এবং গরুও তেমনি, কিন্তু ভেড়া/ছাগল সর্বসম্মতিক্রমে একজনের পক্ষ থেকেই কেবল যথেষ্ট হয়; সুতরাং এটি উট ও গরুর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المطلب الثالث: شروطهاوللعلماء في الأضحية، شروط معتبرة، إن لم تتوفر
لا تصح، وقد لخصتها من كلامهم على ما يلي:
(1) أن تكون من بهيمة الأنعام (الإبل والبقر والغنم).
لقوله تعالى: {ليشهدوا منافع لهم ويذكروا اسم الله في أيام معلومات على ما رزقهم من بهيمة الأنعام .. } [الحج: 28].
(2) أن تبلغ السن المعتبرة شرعاً:
- لحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال، قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: » لا تذبحوا إلا مُسنة فإن تعسر عليكم فاذبحوا جذعةً من الضأن «رواه مسلم
(1).
- وقال الإمام النووي: (وأجمعت الأمة أنه لا يجزي من الإبل والبقر والمعز إلا الثني ولا من الضأن إلا الجذع
(2). وقال أيضاً: وقد أجمعت الأمة أنه [أي: حديث جابر] ليس على ظاهره من أنه لا يعدل إلى الجذع إلا بعد تعذر المسنة لأن الجمهور يُجوزون الجذع من الضأن مع وجود غيره وعدمه وحملوا حديث جابر على الاستحباب والأفضل)
(3).
(3) أن تكون سليمة من العيوب المانعة من الإجزاء المذكورة في حديث البراء بن عازب رضي الله عنه قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فقال: » أربع لا تجوز في الضحايا العوراء البين عورها والمريضة البين مرضها والعرجاء البين ضلعها والكسيرة التي
لا تنُقي «هذه رواية النسائي وابن ماجه، في رواية أبي داود
بلفظ [والكسير] وفي رواية الترمذي والنسائي أيضاً ومالك في الموطأ بلفظ [والعجفاء] التي لا تنقي «الحديث رواه أصحاب السنن
الأربعة والإمام أحمد في مسنده
(4).
معاني الألفاظ: - الكسيرة /هي المنكسرة الرجل التي لا تقدر على المشي.
- العجفاء/ هي المهزولة من الغنم وغيرها.
- التي لا تُنقي/أي التي لا مخ لها لضعفها وهزالها
(5).
قال النووي: (وأجمعوا على أن العيوب المذكورة في حديث البراء لا تُجزي التضحية بها وكذا ما في معناها أو أقبح منها كالعمى وقطع الرجل وشبهه). إ. هـ
(6).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কোরবানির শর্তাবলিকোরবানির পশুর ক্ষেত্রে আলেমদের কিছু নির্ভরযোগ্য শর্ত রয়েছে, যা পূরণ না হলে
কোরবানি শুদ্ধ হবে না। আমি তাদের বক্তব্য থেকে তা সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করছি:
(১) পশুটি গবাদি পশুর (উট, গরু ও ছাগল-ভেড়া-দুম্বা) অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে ঐসব গবাদি পশুর ওপর যা তিনি তাদেরকে রিজক হিসেবে দিয়েছেন...} [হজ: ২৮]।
(২) শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানো:
- জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা 'মুসিননাহ' (পূর্ণ বয়স্ক পশু) ছাড়া জবেহ করো না। তবে তোমাদের জন্য যদি তা কষ্টসাধ্য হয়, তবে জাযআহ (ছয় মাস বয়সী ভেড়া) জবেহ করো।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(১)।
- ইমাম নববী বলেছেন: (উম্মত ঐক্যমত পোষণ করেছে যে, উট, গরু ও ছাগলের ক্ষেত্রে সানি (الثني) এবং ভেড়ার ক্ষেত্রে জাযআহ (الجذع) ব্যতীত কোরবানি জায়েজ নয়
(২)। তিনি আরও বলেছেন: উম্মত ঐক্যমত পোষণ করেছে যে, [অর্থাৎ জাবিরের হাদিসটি] বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রযোজ্য নয় যে, মুসিননাহ পাওয়া না গেলেই কেবল জাযআহ-র দিকে ফিরে আসা যাবে। কেননা জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেম মুসিননাহ থাকা বা না থাকা উভয় অবস্থাতেই ভেড়ার ক্ষেত্রে জাযআহ জায়েজ মনে করেন এবং তারা জাবিরের হাদিসটিকে মুস্তাহাব (مستحب) বা উত্তম হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন)
(৩)।
(৩) কোরবানি বৈধ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক এমন ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত থাকা, যা বারা বিন আযিব (রাযি.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: "কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে চারটি ত্রুটি জায়েজ নয়: যার এক চোখের অন্ধত্ব স্পষ্ট, যে পশুটি স্পষ্টভাবে অসুস্থ, যার খোঁড়া হওয়া স্পষ্ট এবং এমন জীর্ণ পশু যার হাড়ের মজ্জা
শুকিয়ে গেছে।" এটি নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ-র বর্ণনা। আবু দাউদের বর্ণনায়
[ভগ্ন পা বিশিষ্ট] শব্দে এবং তিরমিজি, নাসায়ি ও মুয়াত্তা ইমাম মালেক-এ [অতিশয় দুর্বল] শব্দে এসেছে "যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে"। হাদিসটি চার সুনান গ্রন্থপ্রণেতাগণ এবং ইমাম আহমদ তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন
(৪)।
শব্দার্থ: - আল-কাসিরাহ / এটি এমন ভগ্ন পা বিশিষ্ট পশু যা হাঁটতে সক্ষম নয়।
- আল-আজফা / এটি ছাগল বা অন্যান্য পশুর মধ্যে অতিশয় জীর্ণ ও কৃশ।
- লা তুনকি / অর্থাৎ দুর্বলতা ও জীর্ণতার কারণে যার হাড়ের মজ্জা অবশিষ্ট নেই
(৫)।
ইমাম নববী বলেছেন: (বিদ্বানগণ একমত হয়েছেন যে, বারা-র হাদিসে উল্লেখিত ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। অনুরূপভাবে যেগুলো এগুলোর সমপর্যায়ভুক্ত বা এর চেয়েও গুরুতর ত্রুটি, যেমন- অন্ধত্ব, পা বিচ্ছিন্ন হওয়া বা এই জাতীয় ত্রুটি)। সমাপ্ত
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(4) أن يكون الذبح في الوقت المخصوص، أوله بعد صلاة
العيد والأفضل أن يؤخر الذبح حتى تنتهي الخطبتان لحديث جُندب بن سفيان البجلي رضي الله عنه قال شهدت النبي صلى الله عليه وآله وسلم يوم النحر قال: » من ذبح قبل أن يصلي فليذبح مكانها أخرى ومن لم يذبح فليذبح «. رواه البخاري ومسلم
(1).
- ولحديث البراء رضي الله عنه قال: خطبنا النبي صلى الله عليه وآله وسلم
يوم النحر قال: » إنّ أول ما نبدأ به في يومنا هذا أن نصلي
ثم نرجع فننحر فمن فعل ذلك فقد اصاب سنتنا ومن ذبح قبل
أن يصلي فإنما هو لحمٌ عجّله لأهله ليس من النسك في شيء «
رواه البخاري
(2).
- وينتهي الذبح بغروب شمس آخر يوم من أيام التشريق وهو اليوم الثالث عشر من ذي الحجة - لقوله صلى الله عليه وآله وسلم» .. وكل أيام التشريق ذبح «رواه أحمد
(3).
--------------------------------------------
(৪) যবেহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হতে হবে; এর শুরু হলো ঈদের সালাতের
পর। আর উত্তম হলো খুতবা দুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যবেহ বিলম্বিত করা; জুনদুব ইবনে সুফিয়ান আল-বাজালি (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি কুরবানির দিন নবি (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি সালাত আদায়ের পূর্বে যবেহ করেছে, সে যেন তার পরিবর্তে অন্য একটি যবেহ করে। আর যে ব্যক্তি এখনো যবেহ করেনি, সে যেন (এখন) যবেহ করে।" ইমাম বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
(১)।
- এবং আল-বারা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবি (সা.) কুরবানির দিন আমাদের সামনে
খুতবা দিলেন এবং বললেন: "আমাদের আজকের এই দিনে আমরা সর্বপ্রথম যে কাজ দিয়ে শুরু করব তা হলো সালাত আদায় করা,
অতঃপর আমরা ফিরে গিয়ে কুরবানি করব। সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে আমাদের সুন্নত (سنة) অনুসরণ করল। আর যে ব্যক্তি সালাতের আগে
যবেহ করল, তা কেবল সাধারণ গোশত যা সে তার পরিবারের জন্য অগ্রিম প্রস্তুত করেছে, এর সাথে ইবাদত বা কুরবানির (النسك) কোনো সম্পর্ক নেই।"
ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন
(২)।
- আর যবেহের সময় শেষ হয় আইয়ামে তাশরিকের শেষ দিনের সূর্যাস্তের মাধ্যমে, যা হলো জিলহজ মাসের তেরো তারিখ—কারণ নবি (সা.)-এর বাণী: "...এবং আইয়ামে তাশরিকের প্রতিটি দিনই যবেহ করার সময়।" ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثالث: أحكام الأضحيةللأضحية أحكام مقرره، في الكتب الفقهية والحديثية، منها ما يتعلق بالمضحي، ومنها ما يتعلق بالأضحية، ومنها ما يتعلق بالذبح، وغير ذلك كما سنبينه إن شاء الله تعالى، والكلام عليها سيكون من خلال أربعة مطالب:
المطلب الأول: أحكام تتعلق بالمضحي.
المطلب الثاني: أحكام تتعلق بالأضحية.
المطلب الثالث: أحكام تتعلق بالذبح.
المطلب الرابع: أحكام تتعلق بلحوم الأضاحي.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث): কোরবানির বিধানসমূহ (أحكام)কোরবানির নির্ধারিত বিধানসমূহ (أحكام) ফিকহ ও হাদিসের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে; যার কিছু কোরবানিদাতার সাথে সংশ্লিষ্ট, কিছু কোরবানির পশুর সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং কিছু জবেহ করার সাথে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়াও অন্যান্য বিষয়সমূহ রয়েছে যা আমরা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব। এ সংক্রান্ত আলোচনা চারটি উপ-অনুচ্ছেদের (مطالب) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ (المطلب): কোরবানিদাতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ (أحكام)।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ (المطلب): কোরবানির পশুর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ (أحكام)।
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ (المطلب): জবেহ করার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ (أحكام)।
চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ (المطلب): কোরবানির গোশতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ (أحكام)।
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المطلب الأول: أحكام تتعلق بالمضحيلقد بين الشرع الحكيم لمن أراد أن يضحي جملة من الأحكام نوجزها فيما يلي: -
1 - أن لا يأخذ من شعره ولا من أظافره شيئاً إذا دخل شهر ذي
الحجة لحديث أم المؤمنين أم سلمة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: » إذا دخلت العشر وأراد أحدكم أن يضحي فلا يمس من شعره وبشره شيئاً «، وفي رواية "وأظفاره" رواه مسلم
(1).
2 - من عجز عن الأضحية لفقره وحاجته نال أجر المضحين:
لحديث جابر بن عبدالله رضي الله عنهما وفيه أن النبي
صلى الله عليه وآله وسلم قال عند الذبح: »
… اللهم إن هذا عني وعن من لم يضحِ من أمتي «رواه أبو داود والترمذي.
(2)3 - ينبغي لمن أراد شراء الأضحية أن يتأمل سلامتها وخلوها من أي مانع شرعي: لحديث أمير المؤمنين على بن أبي طالب رضي الله عنه قال: » أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نستشرف العين والأذن «
رواه أصحاب السنن الأربعة وصححه الترمذي،
(3). والمعنى كما قال بن الأثير: (أي نتأمل سلامتها من آفة تكون بها).
(4)4 - يستحب للمضحي في عيد الأضحى أن لا يطعم شيئاً حتى يأكل من الذبيحة: لحديث: عبد الله بن بريدة عن أبيه قال: » كان النبي صلى الله عليه وسلم لايخرج يوم الفطر حتى يطعم ولا يطعم يوم الأضحى حتى يصلي «رواه الترمذي
(5) وزاد الإمام أحمد في رواية أخرى، » فيأكل من أضحيته «
(6).
-» وكان عليه الصلاة والسلام لا يخرج يوم الفطر حتى يطعم ولا يطعم يوم النحر حتى يذبح «
(7).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: কোরবানিদাতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলিপ্রজ্ঞাবান শরিয়ত কোরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য একগুচ্ছ বিধান বর্ণনা করেছেন, যা আমরা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরছি: -
১ - জিলহজ মাস শুরু হলে নিজের চুল বা নখ থেকে কিছুই না কাটা; উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, নবী (সা.) বলেছেন: "যখন (জিলহজ মাসের) দশ দিন শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন তার চুল ও চামড়ার কিছুই স্পর্শ না করে।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে "এবং তার নখসমূহ।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(১)২ - দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে যারা কোরবানি দিতে অক্ষম, তারা কোরবানিদাতাদের সওয়াব লাভ করবেন:
জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, নবী
(সা.) জবাই করার সময় বলেছিলেন: "… হে আল্লাহ! এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মাঝে যারা কোরবানি দেয়নি তাদের পক্ষ থেকে।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।
(২)৩ - কোরবানি করার পশু ক্রয়ের সময় তা ত্রুটিমুক্ত কি না এবং কোনো শরিয়তসম্মত প্রতিবন্ধকতা আছে কি না তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত: আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের আদেশ দিয়েছেন আমরা যেন (কোরবানির পশুর) চোখ ও কান ভালোভাবে পরীক্ষা করি।"
এটি চার সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(৩) এর অর্থ সম্পর্কে ইবনুল আসির বলেন: (অর্থাৎ আমরা যেন পশুটি সকল প্রকার খুঁত থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করি)।
(৪)৪ - ঈদুল আজহার দিন কোরবানিদাতার জন্য মুস্তাহাব (مستحب) হলো কোরবানি করার পূর্বে কিছু না খাওয়া: আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন: "নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং ঈদুল আজহার দিন সালাত আদায় না করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।
(৫) ইমাম আহমদ অন্য এক বর্ণনায় বর্ধিত অংশ উল্লেখ করেছেন, "অতঃপর তিনি তার কোরবানির গোশত থেকে খেতেন।"
(৬)- "এবং তিনি ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং নহরের (কোরবানির) দিন পশু জবাই না করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না।"
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المطلب الثاني: أحكام تتعلق بالأضحيةوهدي النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الأضحية أكمل الهدي، فقد أرشدنا فيما يتعلق بها إلى ما يلي: -
1 - يستحب الأضحية بالكبش الأقرن لفعله صلى الله عليه وآله وسلم كما في حديث أنس بن مالك - رضي الله عنه قال: » ضحى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بكبشين أقرنين أملحين «رواه البخاري ومسلم.
- قال ابن الأثير» أملحين «كبش أملح إذا كان بياضه أكثر من سواده وقيل هو النقي البياض
(1).
- واتفق العلماء على جواز التضحية بالأجم وهو الذي لا قرن له
(2).
2 - يجوز التضحية بالخصي: لحديث أبي رافع رضي الله عنه قال: » ضحى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بكبشين أملحين موجوءين خصيَّين «رواه أحمد
(3).
قال ابن الأثير موجوءين أي خصيّين
(4).
3 - يجوز التضحية بالفحل: لحديث أبي سعيد الخدري - رضي الله عنه قال: » ضحى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بكبش أقرن فحيل يأكل في سواد ويمشي في سواد وينظر في سواد «أخرجه الترمذي وأبو داود والنسائي
(5).
- ومعنى فحيل: أي كامل الخلقة لم يقطع منه شيء.
- ومعنى يأكل في سواد: أي أن فمه أسود وقوائمه وحول عينيه.
4 - تُجزي الشاه عن أهل البيت الواحد مهما كثروا لحديث عُمارة ابن عبد الله قال سمعت عطاء بن يسار يقول سألت أبا أيوب الأنصاري رضي الله عنه كيف كانت الضحايا فيكم على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال» كان الرجل في عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم يُضحي بالشاة عنه وعن أهل بيته فيأكلون ويطعمون حتى تباهي الناس فصارت كما ترى «رواه الترمذي وصححه ورواه ابن ماجه
(6).
- قال الشوكاني في نيل الأوطار -: (والحق أنها تُجزي
عن أهل البيت وإن كانوا مائة نفس أو أكثر)
(7). إ. هـ،
- وقال ابن القيم في زاد المعاد -: (وكان من هديه صلى الله عليه وآله وسلم أن الشاة تجزئ عن الرجل وعن أهل بيته ولو كَثُرَ عددهُمْ) إ.
(8) هـ.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরবানি সংক্রান্ত বিধিবিধানকুরবানির ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শই হলো সর্বোত্তম আদর্শ; তিনি কুরবানি সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের নিম্নোক্ত নির্দেশনা দিয়েছেন:
১ - শিংযুক্ত মেষ দ্বারা কুরবানি করা মুস্তাহাব; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং তা করেছেন। যেমন আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) দুটি শিংযুক্ত এবং সাদা ও কালো রঙের মিশ্রণযুক্ত মেষ কুরবানি করেছেন।" (বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
- ইবনুল আসির বলেন, 'আমলাহ' বলা হয় এমন মেষকে যার গায়ের রঙের ক্ষেত্রে সাদার পরিমাণ কালোর চেয়ে বেশি থাকে; আবার কেউ বলেছেন, যা নিছক সাদা রঙের।
(১)- আর ওলামায়ে কেরাম শিংহীন পশুকে কুরবানি করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(২)২ - খাসি করা পশুর কুরবানি বৈধ। আবু রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) দুটি সাদা-কালো রঙের এবং খাসিকৃত মেষ কুরবানি করেছেন।" (আহমদ বর্ণনা করেছেন)।
(৩)ইবনুল আসির বলেন, 'মাওজুআইন' অর্থ খাসিকৃত।
(৪)৩ - প্রজননক্ষম পুং পশুর কুরবানি বৈধ। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) একটি শিংযুক্ত ও শক্তিশালী পুং মেষ কুরবানি করেছেন, যা কালোতে মুখ দেয় (মুখ কালো), কালোতে হাঁটে (পা কালো) এবং কালোতে দেখে (চোখের চারপাশ কালো)।" (তিরমিজি, আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন)।
(৫)- 'ফাহিল' শব্দের অর্থ হলো: যার শারীরিক গঠন পূর্ণাঙ্গ এবং শরীরের কোনো অংশ কর্তন করা হয়নি।
- 'কালোতে মুখ দেয়' এর অর্থ হলো: তার মুখমণ্ডল, পা এবং চোখের চারপাশ কালো রঙের।
৪ - পরিবারের সদস্য সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন, তাদের সকলের পক্ষ থেকে একটি ছাগল বা মেষ কুরবানি করাই যথেষ্ট। উমারা ইবনে আবদুল্লাহর হাদিসে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা ইবনে ইয়াসারকে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে আপনাদের মাঝে কুরবানি প্রথা কেমন ছিল? তিনি বললেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এক ব্যক্তি নিজের ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানি করত। তারা তা নিজেরা খেত এবং অন্যদের খাওয়াত। পরবর্তীতে যখন মানুষ একে অপরকে নিয়ে গর্ব ও প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো, তখন এটি বর্তমানে তুমি যেমন দেখছ তেমন রূপ ধারণ করেছে।" (তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, আর ইবনে মাজাহ-ও এটি বর্ণনা করেছেন)।
(৬)- শাওকানি 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে বলেছেন: "সত্য কথা হলো, এটি একটি পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট, যদিও তারা সংখ্যায় একশ জন বা তার চেয়েও বেশি হয়।" (সমাপ্ত)।
(৭)- ইবনুল কায়্যিম 'যাদুল মাআদ' গ্রন্থে বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ ছিল যে, একটি ছাগল একজন ব্যক্তি এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে, যদিও তাদের সদস্য সংখ্যা অনেক হয়।" (সমাপ্ত)।
(৮)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
5 - يجوز الاشتراك في الأضاحي البعير عن عشرة والبقرة عن سبعة: لحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: » كنا مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم في سفر فحضر الأضحى فذبحنا البقرة عن سبعة والبعير عن عشرة «. رواه الترمذي وحسنه ورواه النسائي وابن ماجه
(1).
6 - يستحب تسمين الأضاحي واستحسانها: لقوله تعالى: {ذلك ومن يعظم شعائر الله فإنها من تقوى القلوب .. } [الحج: 32]. أخرج آدم أبن أبي إياس بسنده الصحيح عن مجاهد في قوله: {ومن يعظم شعائر الله .... } قال استعظام البدن واستسمانها واستحسانها
(2).
- قال أبو أمامة بن سهل رضي الله عنه: » كُنَّا نُسَمِنْ الأُضحية بالمدينة وكان المسلمون يسمنون «. رواه البخاري
(3).
- ولحديث أم المؤمنين عائشة وأبي هريرة رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم» كان إذا أراد أن يضحي اشترى كبشين سمينين أقرنين أملحين موجوءين
فذبح أحدهما عن أمته لمن شهد لله بالتوحيد وشهد له بالبلاغ وذبح الآخر عن محمد وعن آل محمد صلى الله عليه وآله وسلم «. رواه ابن ماجه
(4)7 - يستحب أن يكون الذبح بمُصلى العيد إلا لعذرٍ من مطرٍ أو غيره لحديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم» كان ينحر - أو يذبح - بالمُصلى «. رواه البخاري
(5). والحكمة من ذلك أن يكون بمرأى من الفقراء فيصيبون من لحم
الأُضيحة
(6). وفيه أيضاً إظهار لشعائر الدين
(7).
8 - الأُضحية عبادة وقربة لله تعالى فلابُدَّ أن تكون خالصة لله
موافقة لهدي رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم طيبة بها النفس قال الله تعالى: {قل إن صلاتي ونُسكي ومحياي
ومماتي لله رب العالمين} [الأنعام: 162]. وقال تعالى: {لن ينال الله لحومها ولا دماؤها ولكن يناله التقوى منكم .. } [الحج: 37].
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (والأجر في الأُضحية على قدر القيمة مُطلقاً)
(8). إ. هـ.
9 - ويستوي في الأضحية الذكر والأنثى سواءً كانت من الغنم أو من البقر أو من الإبل لقوله تعالى: {ليذكروا اسم الله على ما رزقهم من بهيمة الأنعام
… } [الحج: 34]. ولقوله تعالى: {والبدن جعلناها لكم من شعائر الله
… } [الحج: 34]. ولم يقل ذكراً أو أنثى
(9).
--------------------------------------------
5 - কোরবানিতে অংশীদারিত্ব জায়েজ; একটি উট দশ জনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরু সাত জনের পক্ষ থেকে: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম, এমতাবস্থায় ঈদুল আযহা উপস্থিত হলো। তখন আমরা একটি গরুর বিনিময়ে সাত জন এবং একটি উটের বিনিময়ে দশ জন শরিক হলাম।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং এটি নাসাঈ ও ইবনে মাজাহও বর্ণনা করেছেন
(1).
6 - কোরবানির পশুকে হৃষ্টপুষ্ট করা এবং সুন্দর পশু নির্বাচন করা মুস্তাহাব: মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এমনই হওয়া উচিত; আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়া প্রসূত...} [হজ: ৩২]। আদম ইবনে আবি ইয়াস তার সহিহ (صحيح) সনদে (سند) মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে...} তিনি বলেন: তা হলো উটকে বড় করা, হৃষ্টপুষ্ট করা এবং সুন্দর পশু নির্বাচন করা
(2).
- আবু উমামা ইবনে সাহল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমরা মদীনায় কোরবানির পশুকে হৃষ্টপুষ্ট করতাম এবং মুসলমানরাও হৃষ্টপুষ্ট করত।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন
(3).
- এবং উম্মুল মুমিনিন আয়েশা ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) "যখন কোরবানি করার ইচ্ছা করতেন, তখন দুটি বড়, হৃষ্টপুষ্ট, শিংবিশিষ্ট, সাদা-কালো বর্ণের এবং খাসি করা দুম্বা ক্রয় করতেন।
অতঃপর তাদের একটি তাঁর উম্মতের ঐসব লোকের পক্ষ থেকে জবাই করতেন যারা আল্লাহর তাওহিদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং তাঁর (রাসুলের) পৌঁছে দেওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছে। আর অন্যটি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের পক্ষ থেকে জবাই করতেন।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন
(4)7 - বৃষ্টির ওজর বা অন্য কোনো কারণ না থাকলে ঈদের নামাজের স্থানে (ঈদগাহে) জবাই করা মুস্তাহাব। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) "ঈদগাহে (উট) নহর করতেন অথবা (অন্য পশু) জবাই করতেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন
(5)। এর হিকমত হলো যাতে এটি দরিদ্রদের চোখের সামনে হয় এবং তারা কোরবানির গোশত লাভ করতে পারে
(6)। এর মধ্যে দ্বীনের নিদর্শনসমূহের বহিঃপ্রকাশও রয়েছে
(7).
8 - কোরবানি একটি ইবাদত এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, তাই এটি অবশ্যই আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হতে হবে এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শের অনুকূল ও প্রফুল্ল চিত্তে হতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {বলো, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।} [আনআম: ১৬২]। তিনি আরও বলেন: {আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া...} [হজ: ৩৭]।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (কোরবানির সওয়াব নিরঙ্কুশভাবে পশুর মূল্যের পরিমাণ অনুযায়ী হয়)
(8)। সমাপ্ত।
9 - কোরবানির ক্ষেত্রে নর ও মাদি উভয়ই সমান, চাই তা ভেড়া-ছাগল হোক বা গরু হোক কিংবা উট হোক। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে সে সমস্ত গবাদি পশুর ওপর যা তিনি তাদের রিযিক হিসেবে দিয়েছেন...} [হজ: ৩৪]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর উটগুলোকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত করেছি...} [হজ: ৩৪]। এখানে নর বা মাদি আলাদা করে বলা হয়নি
(9).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الثالث: أحكام تتعلق بالذبحالذبح نوع من أنواع العبادة، ولذا أرشدنا ديننا الإسلامي الحنيف، إلى جملة من الأحكام فيما يتعلق بالذبح، نوجزها فيما يلي:
يُستحب عند الذبح الآتي: -
(1) شحذ السكين ومواراتها عن الذبيحة وإراحتها والإحسان إليها والرحمة بها: لحديث شداد بن أوس رضي الله عنه قال ثنتان حفظتهما من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال -» إن الله كتب الإحسان على كل شيء فإذا قتلتم فأحسنوا القِتلة وإذا ذبحتم فأحسنوا الذبِح وليُحد أحدكم شفرته وليرح ذبيحته «. رواه مسلم
(1).
- ولحديث معاوية بن قُرة عن أبيه أن رجلاً قال يا رسول الله إني لأذبح الشاة وأنا أرحمها أو قال إني لأرحم الشاة أن أذبحها فقال» والشاة إن رحمتها رحمك الله «رواه أحمد في مسنده
(2).
- وفي حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال» أمر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بحد الشفار وأن توارى عن البهائم وقال: إذا ذبح أحدكم فليُجهز «
(3).
- ومر النبي صلى الله عليه وآله وسلم على رجُل واضع رجله على صفحة الشاة وهو يحد شفرته وهي تلحظ إليه ببصرها، قال: » أفلا قبل هذا أوتريد أن تميتها موتات «. رواه الطبراني في الكبير والأوسط
(4).
(2) إضجاع البقر والغنم على جانبها الأيسر: وهذه من المسائل التي أجمع عليها العلماء.
- قال الحافظ ابن حجر في الفتح -: (واتفقوا على أن إضجاعها يكون على الجانب الأيسر فيضع رجله على الجانب الأيمن ليكون أسهل على الذابح في أخذ السكين باليمين وإمساك رأسها بيده اليسار). إ. هـ
(5).
(3) نحر الإبل قائمة معقولة الرجل اليُسرى: لقوله تعالى:
{ .. فاذكروا اسم الله عليها صوافَّ فإذا وجبت جنوبها فكلوا منها
وأطعموا القانع والمعتر
… } [الحج: 36]. قال الإمام البخاري في صحيحه وقال ابن عباس رضي الله عنهما: (صواف): قياماً
(6)،
--------------------------------------------
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জবেহ সংক্রান্ত বিধিবিধানজবেহ করা ইবাদতের একটি প্রকার, তাই আমাদের পবিত্র দ্বীন ইসলাম জবেহ সংক্রান্ত কিছু বিধিবিধানের দিকে আমাদের নির্দেশনা প্রদান করেছে, যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:
জবেহ করার সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মুস্তাহাব: -
(১) ছুরি ধারালো করা এবং জবেহকৃত পশুর সামনে থেকে তা আড়াল করে রাখা, পশুকে আরাম দেওয়া, তার প্রতি সদয় হওয়া এবং দয়া প্রদর্শন করা: শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে দুটি বিষয় মুখস্থ করেছি, তিনি বলেছেন— "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সবকিছুর উপর ইহসান (উত্তম আচরণ) অবধারিত করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা হত্যা করবে তখন উত্তম পন্থায় হত্যা করবে এবং যখন জবেহ করবে তখন উত্তম পন্থায় জবেহ করবে। তোমাদের প্রত্যেকের উচিত তার ছুরিটি ধারালো করে নেওয়া এবং তার জবেহকৃত পশুকে আরাম দেওয়া।" ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন
(১)।
- মুয়াবিয়া বিন কুররাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি যখন বকরি জবেহ করি তখন তার প্রতি দয়া অনুভব করি' অথবা সে বলেছিল, 'আমি বকরি জবেহ করার সময় তার প্রতি দয়া করি।' তখন তিনি (সা.) বললেন: "বকরির প্রতিও যদি তুমি দয়া করো, তবে আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন।" ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন
(২)।
- ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন: "নবী (সা.) ছুরি ধারালো করার এবং তা চতুষ্পদ জন্তুদের থেকে আড়াল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন জবেহ করবে, সে যেন দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে"
(৩)।
- নবী (সা.) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে একটি বকরির ঘাড়ের পাশে পা রেখে ছুরি ধার দিচ্ছিল, আর বকরিটি তার দিকে তাকাচ্ছিল। তিনি বললেন: "এটি কি এর আগেই করতে পারলে না? নাকি তুমি একে একাধিকবার মৃত্যু দিতে চাও?" ইমাম তাবারানি এটি আল-কাবীর এবং আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন
(৪)।
(২) গরু ও ছাগলকে তাদের বাম কাতে শায়িত করা: এটি সেই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যে ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
- হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেন: (তারা একমত হয়েছেন যে, পশুটিকে বাম কাতে শোয়াতে হবে, অতঃপর জবেহকারী তার পা ডান পাজরের ওপর রাখবে যাতে ডান হাতে ছুরি ধরা এবং বাম হাতে তার মাথা ধরে রাখা জবেহকারীর জন্য সহজ হয়)। সমাপ্ত
(৫)।
(৩) উটকে বাম পা বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় নহর করা: আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে:
{ .. সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় তাদের উপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো; অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে আহার করো এবং যে অল্পে তুষ্ট ও যে সাহায্যপ্রার্থী তাদেরকে আহার করাও ... } [সূরা আল-হজ্জ: ৩৬]। ইমাম বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থে বলেন এবং ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: (সওয়াফ) অর্থ: দণ্ডায়মান অবস্থায়
(৬)،
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
- وأخرج الطبري بسنده الصحيح عن مجاهد: (صواف) قال: قيام صواف على ثلاث قوائم.
- وأخرج آدم بن أبي قياس بسنده الصحيح عن مجاهد: (فإذا وجبت جنوبها): سقطت على الأرض.
- وأخرج الطبري بسنده عن علي بن طلحة عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله: {فكلوا منها وأطعموا القانع والمعتر} يقول: القانع: المتعفف، والمعتر: السائل
(1).
- ولحديث عبد الرحمن بن سابط رضي الله عنه» أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم وأصحابه كانوا ينحرون البدنة معقولة اليُسرى قائمة على ما بقي من قوائمها «رواه أبو داود
(2).
- وفي حديث ابن عمر رضي الله عنهما أنه أتى على رجل وهو ينحر بدنته باركةً فقال: » ابعثها قياماً مقيدة سنة محمد «صلى الله عليه وسلم. رواه البخاري ومسلم.
(3)(4) أن يُوجهها إلى القبلة ويُسمي ويُكبر ويدعو عند ذبحها بالقبول، ويستحب عند الذبح استقبال القبلة، قال الإمام النووي: واستقبال القبلة في الأضحية أشد استحباباً لأن الاستقبال مستحب في القُرُبات وفي بعضها واجب
(4)، ويُشرع عند الذبح التسمية والتكبير لقوله تعالى: { .. فاذكروا اسم الله عليها .. } أي على نحرها [الحج: 36]. ولقوله تعالى { .. ولتكبروا الله على ما هداكم .. } [الحج: 37]. قال الشوكاني في تفسير هذه الآية: (هو قول الناحر الله أكبر عند النحر فذكر في الآية الأولى الأمر بذكر اسم الله عليها وذكر هنا التكبير للدلالة على مشروعية الجمع بين التسمية والتكبير). إ. هـ
(5).
- ولما ثبت عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: » ضحى النبي صلى الله عليه وآله وسلم بكبشين أملحين ذبحهما بيده وسمى وكبّر ووضع رجله على صفاحهما «رواه البخاري ومسلم
(6) وغيرهما.
- ويُشرع أيضاً الدعاء بالقبول عند النحر، لحديث أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: عند الذبح بعد أن أضجع الكبش» بسم الله اللهم تقبل من محمد وآل محمد ومن أمة محمد - ثم ضحى به «رواه مسلم
(7).
--------------------------------------------
- আত-তবারি তাঁর সহিহ (صحيح) সনদে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: (সাওয়াফ) তিনি বলেন: তিনটি পায়ের ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা।
- আদম বিন আবি ইয়াস তাঁর সহিহ (صحيহ) সনদে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: (অতঃপর যখন তারা পার্শ্বদেশে পড়ে যায়): অর্থাৎ যখন তারা মাটিতে পড়ে যায়।
- আত-তবারি তাঁর সনদে আলি বিন তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তা থেকে তোমরা আহার করো এবং তৃপ্ত ও যাচ্ঞাকারীকে আহার করাও} সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'আল-কানি' হলো অল্পে তুষ্ট ব্যক্তি, আর 'আল-মু'তার' হলো সাহায্যপ্রার্থী
(১)।
- এবং আবদুর রহমান বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ বাম পা বাঁধা অবস্থায় উট নহর (যবাই) করতেন, যা অন্য পাগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকত। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন
(২)।
- এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে তার উটকে বসা অবস্থায় নহর করছিল। তখন তিনি বললেন: "এটিকে দাঁড়ানো এবং পা বাঁধা অবস্থায় যবাই করো, যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(৩)(৪) যবাই করার সময় পশুকে কিবলামুখী করা, বিসমিল্লাহ বলা, আল্লাহু আকবার বলা এবং যবাইয়ের সময় তা কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করা; আর যবাইয়ের সময় কিবলামুখী হওয়া মুস্তাহাব (مستحب)। ইমাম নববী বলেছেন: কোরবানির পশুকে কিবলামুখী করা অধিক গুরুত্বের সাথে মুস্তাহাব (مستحب), কারণ ইবাদতগুলোতে কিবলামুখী হওয়া মুস্তাহাব (مستحب), আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ওয়াজিব (واجب)
(৪)। এবং যবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম নেওয়া ও তাকবির বলা বিধিবদ্ধ (مشروع), কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {.. সুতরাং সেগুলোর ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো ..} অর্থাৎ সেগুলোকে নহর করার সময় [আল-হজ্জ: ৩৬]। এবং আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {.. এবং তোমাদেরকে যে পথ প্রদর্শন করেছেন সেজন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো ..} [আল-হজ্জ: ৩৭]। আশ-শাওকানি এই আয়াতের তাফসির গ্রন্থে বলেছেন: (এর অর্থ হলো নহরকারীর নহরের সময় 'আল্লাহু আকবার' বলা। সুতরাং প্রথম আয়াতে আল্লাহর নাম স্মরণ করার নির্দেশ এসেছে এবং এখানে তাকবিরের কথা বলা হয়েছে, যা বিসমিল্লাহ ও তাকবিরকে একত্রে পাঠ করার বিধান (مشروعية) নির্দেশ করে)। সমাপ্ত।
(৫)।
- এবং আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) দুটি সাদা-কালো ভেড়া কোরবানি করেছেন। তিনি নিজ হাতে সেগুলো যবাই করেছেন, বিসমিল্লাহ ও তাকবির বলেছেন এবং তাঁর পা পশু দুটির কাঁধের ওপর রেখেছিলেন।" এটি বুখারি, মুসলিম
(৬) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
- নহরের সময় কবুল হওয়ার দোয়া করাও বিধিবদ্ধ (مشروع), মুমিন জননী আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসের কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ভেড়াটি কাত করে শোয়ানোর পর যবাই করার সময় বলেছিলেন: "বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদের পরিবারবর্গ এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন।" অতঃপর তিনি তা কোরবানি করলেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(5) يستحب للمُضحي ذبح أُضحيته بنفسه لأن الذبح عبادة وقربة
لله تعالى: لحديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: » ضحى النبي صلى الله عليه وآله وسلم بكبشين أملحين ذبحهُما بيده .. «رواه البخاري ومسلم
(1).
- قال الإمام النووي: (فيه أنه يستحب أن يتولى الإنسان ذبح أضحيته بنفسه ولا يوُكل في ذبحها إلا لعذر وحينئذٍ يستحب أن يشهد ذبحها وإن استناب فيها مسلماً جاز بلا خلاف)
(2).
- وفي حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما في صفة حج النبي صلى الله عليه وآله وسلم»
… ثم انصرف إلى المنحر فنحر ثلاثاً وستين بيده ثم أعطى علياً فنحر ما غَبَر وأشركه في هديه .. «. رواه مسلم
(3).
ومعنى ما غَبَر (ما تبقى)
(4).
(6) أن يُسمي عند الذبح من هي له: لحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم الأضحى بالمصلى فلما قضى خطبته نزل من منبره وأتى بكبش فذبحه صلى الله عليه وآله وسلم بيده وقال: » بسم الله والله أكبر اللهم إن هذا عني وعن من لم يُضح من أُمتي «رواه أبو داود والترمذي
(5). وإن ذبحها ونوى من هي له بدون تسمية أجزأت لقوله صلى الله عليه وآله وسلم» إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى .. «متفق عليه
(6).
--------------------------------------------
(৫) কুরবানীদাতার জন্য নিজের কুরবানী নিজে জবেহ করা মুস্তাহাব, কারণ জবেহ করা একটি ইবাদত এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম
আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে: আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) দুটি সাদা-কালো ভেড়া কুরবানী দিয়েছেন এবং তিনি তা নিজ হাতে জবেহ করেছেন..."। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(১)।
- ইমাম নববী বলেন: (এতে প্রমাণিত হয় যে, মানুষের জন্য নিজের কুরবানী নিজে জবেহ করা মুস্তাহাব এবং কোনো ওজর ছাড়া জবেহ করার ক্ষেত্রে কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত না করা উত্তম। এমতাবস্থায় (ওজর থাকলে) জবেহ করার সময় উপস্থিত থাকা মুস্তাহাব। আর যদি কোনো মুসলমানকে জবেহ করার প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়, তবে তা সর্বসম্মতভাবে বৈধ)
(২)।
- জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হজ পালনের বিবরণ সম্বলিত হাদিসে রয়েছে: "
… অতঃপর তিনি কুরবানী করার স্থানে ফিরে গেলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু নহর (জবেহ) করলেন। তারপর তিনি আলীকে প্রদান করলেন এবং তিনি অবশিষ্ট পশুগুলো নহর করলেন। তিনি তাকেও তার হাদি বা কুরবানীর পশুতে অংশীদার করেছিলেন..."। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(৩)।
আর 'মা গাবার' (ما غَبَر) এর অর্থ হলো 'যা অবশিষ্ট ছিল' (ما تبقى)
(৪)।
(৬) জবেহ করার সময় যার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে তার নাম উল্লেখ করা: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ঈদগাহে ঈদুল আযহার সালাতে উপস্থিত ছিলাম। যখন তিনি খুতবা শেষ করলেন, মিম্বর থেকে নামলেন এবং একটি ভেড়া আনা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাতে তা জবেহ করলেন এবং বললেন: "বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার। হে আল্লাহ! এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন
(৫)। যদি কেউ নাম উল্লেখ না করে যার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে তার নিয়ত করে জবেহ করে, তবে তা যথেষ্ট হবে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে..."। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাসাইলুল জালিয়্যাহ ফী আহকামিল উদহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المطلب الرابع: أحكام تتعلق بلحوم الأضاحيلحوم الأضاحي قربة لله تعالى، وسنة أبينا إبراهيم، ولذا ينبغي فيها مراعاة ما يلي:
(1) يستحب للمُضحي أن يتصدق من أُضحيته وأن يأكل منها:
لقوله تعالى: {فكلوا منها وأطعموا البائس الفقير} [الحج: 28].
قال الشوكاني في فتح القدير: البائس: ذو البؤس وهو شدة الفقر
(1).
- ولحديث سلمة بن الأكوع قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم» كلوا وأطعموا وادخروا «رواه البخاري.
(2)- واستحب كثير من العلماء أن يقسمها أثلاثاً - ثلثاً للادخار وثلثاً للصدقة وثُلثاً للأكل لهذا الحديث
(3).
(2) ألا يُعطي الجازر أجرة عمله من الأُضحية: لحديث أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: » أمرني رسول الله - صلى الله عليه
وآله وسلم - أن أقوم على بُدُنه وأن أتصدق بلحومها وجلودها وأجِلَّتها وألا أُعطي الجازر منها شيئاً قال نحنُ نعطيه من عندنا «رواه البخاري ومسلم
(4) وفي رواية النسائي» ولا يُعطي في جزارتها منها شيئاً «
(5)معاني الألفاظ قال ابن الأثير:
- بُدُنه / جَمعْ بَدَنة والبدنةُ أصلها من الإبل وأُلحقت بها البقر شرعاً
- وأجلتها / - الجلال هو ما يُطرح على ظهر البعير من كساء ونحوه.
- الجزارة / ما يأخذه الجزار من الذبيحة عن أجرته
(6).
- قال العلامة الأمير: (والحديث يدل على أنه لا يجوز إعطاء الجازر من لحم الأُضحية لأجل الجزارة)
(7) وجوز بعض أهل العلم إعطاء الجزار من الأضحية على سبيل الصدقة والهبة فقط
(8). خاصة إذا كان فقيراً.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কোরবানির গোশত সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহকোরবানির গোশত মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম এবং আমাদের পিতা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। অতএব, এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত:
(১) কোরবানিদাতার জন্য তার কোরবানির পশুর গোশত থেকে সদকা করা এবং নিজে আহার করা মুস্তাহাব (مستحب):
আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: "অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে আহার করাও।" [হজ: ২৮]।
শাওকানি 'ফাতহুল কাদির'-এ বলেছেন: 'আল-বাইস' (البائس) অর্থ দুর্দশাগ্রস্ত, আর 'বুস' (البؤس) অর্থ চরম দারিদ্র্য।
(১)- সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং জমিয়ে রাখো।" ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
(২)- এই হাদিসের ভিত্তিতে অনেক আলেম কোরবানির গোশতকে তিন ভাগে ভাগ করাকে মুস্তাহাব (مستحب) মনে করেন—এক-তৃতীয়াংশ জমানোর জন্য, এক-তৃতীয়াংশ সদকার জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ খাওয়ার জন্য।
(৩)(২) কসাইকে তার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির পশুর কোনো অংশ দেওয়া যাবে না: আমিরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব (রা.)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে তাঁর কোরবানির উটগুলোর তদারকি করার এবং সেগুলোর গোশত, চামড়া ও ঝাল (পিঠের আবরণী) সদকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর কসাইকে তা থেকে কোনো কিছু দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমরা তাকে আমাদের পক্ষ থেকে (আলাদাভাবে) পারিশ্রমিক দেব।" ইমাম বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(৪) আর নাসায়ির বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "এবং কসাইগিরির পারিশ্রমিক হিসেবে তা থেকে কোনো কিছু দেওয়া যাবে না।"
(৫)শব্দার্থ সম্পর্কে ইবনুল আসির বলেছেন:
- বুদুনাহ (بُدُنه): এটি বদনাহ (بَدَنة)-এর বহুবচন। মূলত এটি উটের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে শরিয়তের বিধানে গরুও এর অন্তর্ভুক্ত।
- আজিলাতিহা (أجلتها): জিলাল (الجلال) হলো ওই কাপড় বা এই জাতীয় বস্তু যা উটের পিঠে (আবরণ হিসেবে) দেওয়া হয়।
- জাযারাহ (الجزارة): কসাই তার পারিশ্রমিক হিসেবে জবাইকৃত পশু থেকে যা গ্রহণ করে।
(৬)- আল্লামা আল-আমির বলেছেন: "হাদিসটি প্রমাণ করে যে, কসাইগিরির পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে কোরবানির গোশত দেওয়া জায়েজ (جائز) নয়।"
(৭) তবে কিছু আলেম কেবল সদকা বা উপহার হিসেবে কসাইকে কোরবানির পশু থেকে কিছু দেওয়া জায়েজ (جائز) বলেছেন,
(৮) বিশেষ করে সে যদি দরিদ্র হয়।
--------------------------------------------