(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
القوافي الندية في السيرة المحمدية   (محمد جودة فياض)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: القوافي الندية في السيرة المحمدية على صاحبها أفضل الصلاة والسلام

المؤلف: محمد جودة فياض

الناشر: دار الهدف للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2019 م

عدد الصفحات: 128

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو الحجة 1442

আল-কাওয়াফি আন-নাদিয়াহ ফিস সিরাত আল-মুহাম্মাদিয়াহ   (মুহাম্মাদ জওদাহ ফাইয়াদ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: আল-কাওয়াফি আন-নাদিয়াহ ফিস সিরাত আল-মুহাম্মাদিয়াহ, যাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও সালাম

লেখক: মুহাম্মাদ জওদাহ ফাইয়াদ

প্রকাশক: দারুল হাদাফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ জিলহজ্জ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للَّه، والصَّلاة والسَّلام على سيِّدنا محمَّد، وعلى آله وصحبه ومَنْ والاه، وبعد:

فقد سعدت بالاطِّلاع على هذه الأرجوزة المباركة (القوافي النَّديَّة في السِّيرة النَّبويَّة) على صاحبها أفضل الصَّلاة والسَّلام، للأستاذ الشَّاعر الأديب محمَّد جودة فيَّاض، فألفيتها أرجوزة نافعة في نظم السِّيرة النَّبويَّة المباركة، حيث قام المؤلِّف - أكرمه اللَّه - بالغوص في أعماق السِّيرة، واستخراج دررها، و نظم عقودها، بأسلوبٍ بديعٍ سهل، وقسَّمها إلى أحداث، ووضع لكلِّ حدثٍ عنوانًا، ثم تناول الحديث عنه في أبيات من بحر الرَّجز، بقوافٍ متنوِّعة، في كل باب، ولم يفته أن يختم بالحديث عن شمائل الرَّسول صلى الله عليه وسلم، وقد رجع إلى مصادر متنوِّعة، يستقي منها مادة النَّظم، وقد أثبتها في آخر الكتاب.

وبهذا يكون المؤلِّف - أثابه اللَّه - قد جمع بين العلم والأدب في تناول السِّيرة العطرة، ومعلوم أنَّ النَّظم أيسر في الحفظ من النَّثر، ولهذا كثر نظم المتون في سائر الفنون، وأقبل طلبة العلم على هذه المنظومات، لعظم نفعها وسهولة حفظها.

أسأل اللَّه أن يبارك في المؤلِّف وأن ينفع بهذا الكتاب المبارك قرَّاء السِّيرة النَّبويَّة العطرة، وصلِّ اللَّهمَّ على سيِّدنا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلِّم.

 

ا. د / سيف رجب قزامل

أستاذ الفقه المقارن

والعميد السَّابق لكلية الشَّريعة والقانون بطنطا

جامعة الأزهر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। এরপর:

আমি কবি ও সাহিত্যিক উস্তাদ মুহাম্মদ জাওদাহ ফাইয়াদ রচিত এই বরকতময় কাব্যগ্রন্থ (আল-কাওয়াফীন নাদিয়্যাহ ফিস-সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ — যাঁর মূল সত্তার ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) পাঠ করে আনন্দিত হয়েছি। আমি একে বরকতময় সীরাতে নববীর ছন্দোবদ্ধ বর্ণনায় একটি অত্যন্ত উপকারী কাব্যগ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি। যেখানে লেখক — আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন — সীরাতের গভীরতায় ডুব দিয়েছেন, এর মুক্তোসমূহ আহরণ করেছেন এবং এক চমৎকার ও সহজ শৈলীতে তা ছন্দোবদ্ধ করেছেন। তিনি একে বিভিন্ন ঘটনায় বিভক্ত করেছেন এবং প্রতিটি ঘটনার জন্য একটি শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর প্রতিটি অধ্যায়ে বৈচিত্র্যময় অন্ত্যমিলের মাধ্যমে 'রাজায' ছন্দের পঙ্ক্তিতে সেই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারিত্রিক গুণাবলি (শামায়েল) বর্ণনার মাধ্যমে গ্রন্থটি সমাপ্ত করতে ভুলেননি। এই কাব্যের বিষয়বস্তু আহরণের জন্য তিনি বিভিন্ন উৎসের সাহায্য নিয়েছেন এবং বইয়ের শেষে তা উল্লেখ করেছেন।

এভাবে লেখক — আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করুন — এই সুগন্ধময় সীরাত বর্ণনায় জ্ঞান ও সাহিত্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। এটি সর্বজনবিদিত যে, গদ্যের চেয়ে পদ্য মুখস্থ করা সহজতর; একারণেই সকল বিদ্যায় মূল পাঠসমূহ (মুতুন) ছন্দোবদ্ধ করার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে এবং ইলম অন্বেষণকারীরা অধিক উপকার ও মুখস্থ করার সহজতার কারণে এই কাব্যগ্রন্থগুলোর প্রতি আগ্রহী হন।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন লেখকের কাজে বরকত দান করেন এবং সুগন্ধময় সীরাতে নববীর পাঠকদের এই বরকতময় কিতাবের মাধ্যমে উপকৃত করেন। হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

প্রফেসর ড. সাইফ রজব কুজামিল

তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক

ও তানতা শরীআহ ও আইন অনুষদের প্রাক্তন ডিন

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تمهيد

في تحفة فنيِّة شعرية، نَظَم الشَّاعر محمد جودة فيَّاض السِّيرة النَّبويَّة العطرة، على صاحبها أفضل الصَّلاة والسَّلام، بأحداثها الدَّسمة، موجزًا إيَّاها بطريقة سلسة فريدة، تمتع الرُّوح وتجلي النَّفس، ماخرًا بقاربه عباب بحر الرَّجز، ليصل إلى القارئ ميسِّرًا عليه حفظ وفهم السِّيرة العطرة بلا تعقيد في اللَّفظ أو تكلّف في الوزن، مستمدًّا أحداثها من أمَّهات المصادر الثِّقات. وهو إذ يخوض تجربته الشِّعريَّة مستندًا إلى موهبته ودراسته، ظلَّ عاكفًا على مؤلَّفه اثنتي عشرة سنة ما بين ناظم ومنقِّح، إلى أن وصل إلى مرحلة التَّدقيق والتَّحقيق فغيَّر الكثير من الأبيات حتَّى استطاع الوصول إلى تلكم الدُّرر من الشِّعر الفصيح، وبالتَّالي إلى هذه الصورة الَّتِي خرج عليها الكتاب.

واللَّهُ من وراء القصد …

 

عمر عبدالرَّحمن آدم
উপক্রমণিকা

একটি কাব্যিক শিল্পকর্মে কবি মুহাম্মদ জাওদাহ ফাইয়াজ সুগন্ধিময় সীরাতে নববীকে—তার অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এর সমৃদ্ধ ঘটনাবলি সহ অত্যন্ত সাবলীল ও অনন্য উপায়ে সংক্ষিপ্ত আকারে রচনা করেছেন। এটি আত্মাকে আনন্দ দেয় এবং মনকে প্রফুল্ল করে। তিনি 'রাজায' ছন্দের সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছেছেন, যাতে তাদের জন্য সুগন্ধিময় সীরাত মুখস্থ করা এবং বোঝা সহজ হয়; যেখানে নেই কোনো শব্দের জটিলতা কিংবা ছন্দের কৃত্রিমতা। তিনি এর ঘটনাবলি নির্ভরযোগ্য মূল উৎসসমূহ থেকে চয়ন করেছেন। তিনি যখন তাঁর প্রতিভা ও অধ্যয়নের ওপর ভিত্তি করে এই কাব্যিক অভিজ্ঞতায় অবতীর্ণ হন, তখন তিনি দীর্ঘ বারো বছর যাবত কবিতা রচনা ও পরিমার্জনের কাজে এই পাণ্ডুলিপিতে নিবিষ্ট ছিলেন। পরিশেষে তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই ও সম্পাদনার স্তরে উপনীত হয়ে অনেক পঙক্তি পরিবর্তন করেন, যতক্ষণ না তিনি প্রাঞ্জল কবিতার সেই মুক্তাসম মানে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং বইটি বর্তমান এই রূপে আত্মপ্রকাশ করে।

আল্লাহই মূল উদ্দেশ্যের সহায়ক …

 

উমর আবদুর রহমান আদম
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المقدمة

الحمدُ لله ربِّ العَالمين حَمْدًا يليق بجلال وجهه وعظيم سُلْطَانِهِ، والصَّلاة والسَّلام على أفضل الرُّسل وخاتم النَّبيِّين سيِّدنا مُحَمَّدٍ وعلى آله وصحبه وَمَنِ اقْتَفَى أَثَرَهُ واسْتَنَّ بِسُنَّتِهِ وَدَعَا بِدَعْوَتِهِ إِلَى يَوْمِ الدِّين.

(القَوَافِي النَّدِيَّةُ فِي السِّيرَةِ النَّبَويَّةِ) هذا هو عنوان كتابي، الَّذي اخترته بعناية ليكون مُعَبِّرًا عن المضمون والجَوْهَر، وَنَظَمْتُ الشِّعْرَ سَابحًا في بحر الرَّجز؛ ليسهل على الناس حفظ سيرة المختار وتفهُّم كامل معانيها وأحداثها، وتعرَّضْت لأدق التفاصيل للحفاظ على السِّيرة بكل ما فيها من عظاتٍ وعِبَر، فتكون منارًا للسَّالكين وهدًى للضَّالِّين وأمنًا للخائفين، يَتَغَنَّى بها الكون بِأَسْرِهِ، ويَتَرَنَّمُ بها الحجر والشَّجر والطَّير في جوِّ السَّماء والحِيتان في جوف البحار فهي غذاء الرُّوح وبهجة النُّفُوس.

عن أُبَيّ بن كَعْب قال: قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم): (إِنَّ مِنَ الشِّعر حِكْمَةً)(1) وقال عمر بن الخطاب (رضى الله عنه): (نِعْمَ مَا تَعَلَّمَتْهُ العَرَبُ الْأبْيَاتُ مِنَ الشِّعْرِ يُقَدِّمُهَا الرَّجُلُ أمَامَ حَاجَتِهِ).

وكان ابن عبَّاس يقول: إِذَا قَرَأْتُمْ شَيْئًا مِنْ كِتَابِ الله فَلَمْ تَعْرِفُوهُ فاطْلُبُوهُ فِي أَشْعَارِ العَرَبِ فإنَّ الشِّعْرَ دِيوَانُ العَرَبِ. وكَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ مِنَ القُرآنِ أَنْشَدَ فِيهِ شِعْرًا.

--------------------------------------------

(1) قال الألباني فِي «السِّلسلة الصَّحيحة» 6/ 838، أخرجه البخاري فِي «صحيحه» (7/ 107) وفي «الأدب المفرد» (124 و 125) وأبو داود (2/ 315) والدَّارمي (2/ 296 - 297) وابن ماجه (2/ 410) والطيالسي (ص 76 رقم 556) وأحمد (3/ 456 و 5/ 125).
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যা তাঁর সত্তার মহিমা এবং তাঁর রাজত্বের মহানুভবতার জন্য উপযুক্ত। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল এবং শেষ নবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, তাঁর সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকেন এবং তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান করেন, তাদের ওপর।

(আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ) এটিই আমার কিতাবের শিরোনাম, যা আমি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্বাচন করেছি যাতে এটি বিষয়বস্তু ও সারমর্মের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আমি রাজায ছন্দে কাব্যগুলো রচনা করেছি; যাতে মানুষের জন্য মনোনীত নবীর সীরাত মুখস্থ করা এবং এর পূর্ণাঙ্গ অর্থ ও ঘটনাবলি বোঝা সহজ হয়। আমি সীরাতের প্রতিটি শিক্ষা ও উপদেশকে সংরক্ষিত করার জন্য সূক্ষ্মতম বিষয়গুলো তুলে ধরেছি, যাতে এটি সীরাত অনুসারীদের জন্য আলোকবর্তিকা, পথভ্রষ্টদের জন্য পথপ্রদর্শক এবং ভীতদের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ হয়। সমগ্র মহাবিশ্ব এর জয়গান গাবে, আসমানের দিগন্তে পাথর, বৃক্ষ ও পক্ষীকুল এবং সমুদ্রের অতলে মৎস্যকুল এর গুঞ্জন তুলবে; কেননা এটি হলো আত্মার খোরাক এবং অন্তরের প্রশান্তি।

উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই কিছু কবিতায় হিকমত বা প্রজ্ঞা রয়েছে)(১) এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: (আরবরা যা শিখেছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো কবিতার পঙক্তিমালা, যা মানুষ তার প্রয়োজনের পূর্বে উপস্থাপন করে)।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলতেন: তোমরা যখন আল্লাহর কিতাবের কোনো কিছু পড়বে অথচ তার অর্থ বুঝতে পারবে না, তখন তা আরবদের কাব্যসমূহে তালাশ করো; কেননা কবিতা হলো আরবদের জীবন-ইতিহাস ও জ্ঞানের ভাণ্ডার। তাকে যখন কুরআনের কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি সে বিষয়ে কবিতা আবৃত্তি করতেন।

--------------------------------------------

(১) আলবানী একে «আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ» ৬/৮৩৮-এ উল্লেখ করেছেন। বুখারী তাঁর «সহীহ» (৭/১০৭) এবং «আল-আদাবুল মুফরাদ» (১২৪ ও ১২৫), আবু দাউদ (২/৩১৫), দারেমী (২/২৯৬ - ২৯৭), ইবনে মাজাহ (২/৪১০), তায়ালিসি (পৃষ্ঠা ৭৬ নং ৫৫৬) এবং আহমাদ (৩/৪৫৬ ও ৫/১২৫)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وكان الشِّعر في الجاهليَّة عند العرب ديوان علمهم ومُنْتَهَى حكمهم به يأخذون وإليه يصيرون(1).

ومن كل ما سبق أَخُصُّ الطَّيِّبَ مِنَ الشِّعْرِ حتَّى لا نكون من الذين قال الله فيهم: {وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ} [الشعراء: 224]، فنأخذ من الشِّعر كل ما يدعو إلى الفضائل والبعد عن الرَّذائل؛ حتَّى نحقق تقوى الله سبحانه وتعالى، ونرجو بذلك المغفرة والرِّضوان.

الشِّعر: هو الكلام البليغ، المبني على الاستعارة والأوصاف، المفصل بأجزاء مُتَّفِقَةٍ في الوزن والرَّوِيِّ، مستقل كل جزء منها في غرضه ومقصده عما قبله وبعده، الجاري على أساليب العرب المخصوصة(2).

وقد أخذ الخليل والأخفش تلميذه ما حَظِيَ بالاستحسان وغطَّى ما عداه من الأوزان. والتزمت الحفاظ على الوزن والقافية؛ لأنَّهما اللَّذان يضبطان الموسيقى الظَّاهرة في الشِّعر، وسميت القافية بهذا الاسم لأنَّها تقفو إثر كل بيت وهي حِلْيَة موسيقية تزين الكلام.

والقوافي عند الخليل ما بين آخر حرف إلى أول حرف ساكن يليه مع المتحرك الَّذِي قبل الساكن «وَقَافِيَةٌ بَيْنَ الثَّنِيَّةِ وَالضِّرْسِ».

واستخدمت الألف رِدْفًا، والرِّدْفُ هو حرف مد يأتي قبل الرَّوِيّ وحروف المد هي (الألف، الواو، الياء) ومثال على ذلك:

بَدْرُ الْهُدَى قَدْ أَشْرَقَتْ أَنْوَارُهُ … كَالْكَوْكَبِ الدُّرِّيِّ فِي الْعَلْيَاءِ

وأما الرَّوِيُّ من الرِّوَاءِ وهو الحبل الَّذِي يضم شيئًا إلى شيء، فالرَّوِيُّ يشد أجزاء البيت ويوصل بعضها ببعض أو يربط أبيات القصيدة بعضها ببعض ربطًا شكليًا متمثِّلاً

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب طبقات فُحُول الشُّعَرَاء لابن سَلَّام الْجُمَحِيّ ص 1 - 34

(2) انظر كتاب فِي علم القافية د/أمين علي السيد (ص 50 - 85)
জাহেলি যুগে আরবদের নিকট কবিতা ছিল তাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার এবং তাদের প্রজ্ঞার চূড়ান্ত সীমা; এর মাধ্যমেই তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত এবং এরই শরণাপন্ন হতো(1).

পূর্বোক্ত সবকিছুর মধ্য থেকে আমি কবিতার উত্তম অংশকেই নির্দিষ্ট করছি, যাতে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর কবিগণ, তাদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা} [আশ-শুআরা: ২২৪]; সুতরাং আমরা কবিতা থেকে কেবল তাই গ্রহণ করব যা সৎগুণের প্রতি আহ্বান জানায় এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে; যাতে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাকওয়া অর্জন করতে পারি এবং এর মাধ্যমে ক্ষমা ও সন্তুষ্টির আশা করতে পারি।

কবিতা: এটি হলো ছন্দোবদ্ধ ও সুবিন্যস্ত সেই অলঙ্কারপূর্ণ বক্তব্য, যা রূপক ও বর্ণনার ওপর প্রতিষ্ঠিত, এবং যা ছন্দ ও অন্ত্যমিলের ক্ষেত্রে সুসংগত কতগুলো অংশে বিভক্ত, যার প্রতিটি অংশ তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের দিক থেকে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অংশ থেকে স্বতন্ত্র এবং যা আরবদের বিশেষ রীতির ওপর প্রবহমান(2)।

খলিল এবং তার ছাত্র আখফাশ সেই ছন্দগুলোকেই গ্রহণ করেছেন যা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং তা অন্যান্য ছন্দগুলোকে আবৃত করে ফেলেছে। আমি ছন্দ ও অন্ত্যমিল বজায় রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি; কারণ এই দুটিই কবিতার বাহ্যিক সুরকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্ত্যমিলকে 'কাফিয়া' নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি প্রতিটি পঙক্তির শেষে আসে এবং এটি একটি সংগীতময় অলঙ্কার যা বক্তব্যকে সুশোভিত করে।

খলিলের মতে কাফিয়া হলো শেষ অক্ষর থেকে নিয়ে তার নিকটবর্তী পূর্ববর্তী প্রথম সাকিন বর্ণ এবং সেই সাকিনের পূর্ববর্তী মুতাহাররিক বর্ণ পর্যন্ত অংশ। "আর সম্মুখের দাঁত ও মাড়ির দাঁতের মধ্যবর্তী স্থান হলো কাফিয়া।"

আমি আলিফকে 'রিদফ' হিসেবে ব্যবহার করেছি। রিদফ হলো মদের হরফ যা 'রওয়ি'-এর আগে আসে। আর মদের হরফগুলো হলো (আলিফ, ওয়াও, ইয়া)। এর উদাহরণ হলো:

হেদায়েতের পূর্ণিমা চাঁদ, যার নূর উদ্ভাসিত হয়েছে … উচ্চাকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়

আর 'রওয়ি' শব্দটি 'রিওয়া' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ এমন রশি যা এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করে। সুতরাং রওয়ি পঙক্তির অংশগুলোকে মজবুত করে এবং সেগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে অথবা কাসিদার পঙক্তিগুলোকে কাঠামোগতভাবে একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বন্ধনে আবদ্ধ করে

--------------------------------------------

(1) ইবনে সাল্লাম আল-জুমাহি রচিত 'তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা' গ্রন্থটি দেখুন, পৃষ্ঠা ১-৩৪

(2) ডক্টর আমিন আলি সাইয়্যিদ রচিত 'ফি ইলমিল কাফিয়া' গ্রন্থটি দেখুন (পৃষ্ঠা ৫০-৮৫)
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
في الموسيقى الظَّاهرة، وهو الحرف الَّذِي يختاره الشَّاعر من الحروف الصَّالحة فيبني عليه قصيدته ويلتزمه في جميع أبياتها، وإليه تنسب القصيدة، فيقال قصيدة همزيّة إن كانت الهمزة هي الرَّوِيّ كهمزيّة شوقي، أو لاميَّة إن كانت اللَّام هي الرَّوِيّ كلاميَّة العرب للشَّنْفَرَى.

أمَّا الْوَصْلُ فهو (الحرف الَّذِي يلي الرَّوِيّ مباشرة، وقد يكون ناتجًا من حركة إشباع الرَّوِيّ كالواو من الضمة والياء من الكسرة والألف من الفتحة أو الهاء). والوصل عندي هو حرف الياء الناتج من إشباع حرف الرَّوِيّ المكسور دائمًا.

والسِّيرة النَّبويَّة لها وضع خاص بما فيها من وقائع وأحداث وشخصيات لا بد من ذكرها في مكانها كما هي دون تغيير؛ حتَّى تكون حُجَّةً لنا لا علينا إرضاءً للّه ورسوله.

وللسُّنَّة النَّبويَّة أهمية عظيمة في قلوب المسلمين، فإذا كان القرآن الكريم هو أصل الشَّريعة ومصدرها الأول فإن السُّنَّة النَّبويَّة الكريمة هي المصدر الثاني من مصادر التَّشريع، وكلام النَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم) هو وحيٌ من الله، حيث يقول سبحانه: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى (1) مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى (2) وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم: 1 - 4].

والله سبحانه قد أَنْزَلَ القرآن تبيانًا لكل شيء يحتاج إليه النَّاس من أمر الشَّريعة وهدًى من الضَّلالة ورحمةً وبشرى بالجنَّة للمسلمين الموحِّدين، فقد قال الله سبحانه: {وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِمْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَى هَؤُلَاءِ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ (89)} [النحل: 89]. والسُّنَّة النَّبويَّة جاءت مُبَيِّنَةً ومُفَسِّرَةً للقرآن الكريم.

وطاعة النَّبيِّ (صلى الله عليه وسلم) من طاعة الله، حيث قال الله عز وجل: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا (80)} [النساء: 80].

أسأل اللَّهَ سُبْحَانَهُ أنْ يُحْيِيَنَا على السُّنَّةِ وأنْ يُمِيتَنَا عليها وأنْ يَحْمِيَنَا مِنَ البِدَعِ إنَّه سَمِيعٌ عَلِيمٌ، وأسْألُ اللهَ أنْ يَجْمَعَنَا مع نَبِيِّنَا (صلى الله عليه وسلم) في مُسْتَقَرِّ رحمته في جَنَّةٍ عَرْضُهَا
বাহ্যিক ছন্দের ক্ষেত্রে, এটি হলো সেই অক্ষর যা কবি উপযুক্ত বর্ণমালা থেকে নির্বাচন করেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে তার কবিতা রচনা করেন এবং কবিতার প্রতিটি চরণে এটি বজায় রাখেন। কবিতার নামকরণও এর ভিত্তিতেই করা হয়; যেমন কোনো কবিতার 'রাবী' (পদ্যের অন্ত্যবর্ণ) যদি 'হামযাহ' হয় তবে তাকে বলা হয় 'হামযিয়্যাহ', যেমন শাওকির 'হামযিয়্যাহ', অথবা যদি 'লাম' বর্ণটি 'রাবী' হয় তবে তাকে বলা হয় 'লামিয়্যাহ', যেমন শানফারার 'লামিয়াতুল আরব'।

আর 'ওয়াসল' হলো (সেই অক্ষর যা সরাসরি 'রাবী'-র পরে আসে। এটি কখনো 'রাবী'-র হরকতের পূর্ণতা বা ইশবায়ু থেকে তৈরি হয়, যেমন পেশ থেকে 'ওয়াও', যের থেকে 'ইয়া' এবং যবর থেকে 'আলিফ', অথবা এটি 'হা' অক্ষরও হতে পারে)। আমার মতে, 'ওয়াসল' হলো সেই 'ইয়া' অক্ষর যা সর্বদা যেরযুক্ত 'রাবী' বর্ণের পূর্ণতা থেকে উৎপন্ন হয়।

সীরাতে নববীর একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, এতে বর্ণিত ঘটনাবলি, তথ্যাদি এবং ব্যক্তিবর্গের উল্লেখ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তাদের স্ব-স্ব স্থানে করা অপরিহার্য; যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এটি আমাদের পক্ষে প্রমাণ হয়, বিপক্ষে নয়।

মুসলমানদের হৃদয়ে সুন্নাতে নববীর গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআন যদি শরীয়তের মূল ভিত্তি এবং প্রথম উৎস হয়, তবে সুন্নাতে নববী হলো শরীয়তের বিধানাবলির দ্বিতীয় উৎস। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন: {নক্ষত্রের কসম যখন তা অস্তমিত হয় (১) তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি (২) আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না (৩) এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয় (৪)} [আন-নাজম: ১-৪]।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা শরীয়তের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ের বর্ণনা হিসেবে এবং পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াত, রহমত এবং একত্ববাদী মুসলিমদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদস্বরূপ কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন: {আর যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব এবং আপনাকে এদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে নিয়ে আসব। আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, পথনির্দেশ, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ (৮৯)} [আন-নাহল: ৮৯]। আর সুন্নাতে নববী পবিত্র কুরআনের বিশদ বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যা প্রদানকারী হিসেবে এসেছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করা মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করা। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি (৮০)} [আন-নিসা: ৮০]।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সুন্নাহর ওপর জীবিত রাখেন এবং সুন্নাহর ওপরই মৃত্যু দান করেন এবং আমাদের বিদআত থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর রহমতের আশ্রয়ে জান্নাতে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আমাদের একত্রিত করেন, যার প্রশস্ততা...
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
السَّماوات والأرض أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقين وتحقيق ذلك بطاعة الله ورسوله، قال الله سُبْحَانَه: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} [النساء: 69].

ولن نَضِلَّ أَبَدًا مَا دُمْنَا نُحْيِي سُنَّةَ نَبِيِّنَا (صلى الله عليه وسلم) عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (صلى الله عليه وسلم): «تَرَكْتُ فِيكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّتِى وَلَنْ يَتَفَرَّقَا حَتَّى يَرِدَا عَلَيَّ الْحَوْضَ».أخرجه الحاكم (1/ 172، رقم 319). وأخرجه أيضًا: الدَّارقطني (4/ 245).

 

اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ هَذَا الْعَمَلَ واجْعَلْهُ خَالِصًا لِوَجْهِكَ الكَرِيمِ

وَصَلِّ اللَّهُمَّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلِّمْ

 

محمد جودة فيَّاض
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়িত হয়। আল্লাহ সুবহানাহু বলেন: {আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা ঐ সকল ব্যক্তিদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী} [আন-নিসা: ৬৯]।

আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কখনোই পথভ্রষ্ট হব না যতক্ষণ আমরা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতকে জীবিত রাখব। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, এ দুটি আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত। আর হাউজে আমার নিকট আসা পর্যন্ত এ দুটি কখনোই একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।" এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন (১/১৭2, নং ৩১৯)। দারাকুতনিও এটি বর্ণনা করেছেন (৪/২৪৫)।

 

হে আল্লাহ, আপনি এই আমলটি কবুল করুন এবং একে একমাত্র আপনার সম্মানিত চেহারার জন্য নিবেদিত করে দিন।

হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর দুরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

মুহাম্মাদ জুদাহ ফাইয়াদ
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أحوال العرب قبل الإسلام

أَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِأَنْوَارِ الْهُدَى … فَالْمُصْطَفَى قَدْ هَلَّ بِالْخَيْرَاتِ

الْحَمْدُ لِلّهِ عَلَى آلَائِهِ … يُنْعِمُ بِالْأَرْزَاقِ وَالْأَقْوَاتِ

يُنَزِّلُ الْغَيْثَ بِفَيْضِ رَحْمَةٍ … وَيُنْبِتُ الزُّرُوعَ وَالْجَنَّاتِ

وَمُبْدِئُ الْخَلْقِ لَهُ تَمْجِيدُنَا … سُبْحَانَهُ المُحْيِي مِنَ الْمَمَاتِ

قَدْ بَعَثَ اللهُ نَبِيًّا هَادِيًا … يَدْعُو إِلَى مَكَارِمِ الصِّفَاتِ

يُغَرِّدُ الطَّيْرُ بِحُسْنِ وَصْفِهِ … شَمْسِ الْأَصِيلِ فِي سَمَا الرَّبْوَاتِ

وَالْكَوْنُ يَشْدُو بِجَمَالِ حُسْنِهِ … تَرَنُّمًا بِأَجْمَلِ الْأَصْوَاتِ

بِهِ هَدَى اللهُ ضَلَالَ فِرْقَةٍ … تَخَبَّطُوا فِي اللَّهْوِ وَاللَّذَّاتِ

قَدْ أَكَلُوا الرِّبَا بِكُلِّ جُرْأَةٍ … طَغَوْا بِوَأْدِ أَنْضَرِ الْبَنَاتِ

فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ رِجْسٌ آثِمٌ … وَلَذَّةُ النُّفُوسِ فِي الطَّاعَاتِ

الْحَرْبُ خَاضُوهَا بِلَا هَوَادَةٍ … هُمْ دَفَعُوا لَهَا بِعَادِيَاتِ

وَالْمَرْءُ يُفْنِي مَالَهُ تَكَرُّمًا … مُفْتَخِرًا بِذَاكَ فِي السَّادَاتِ

قَدْ يَذْبَحُ النَّاقَةَ فِي بَشَاشَةٍ … لِعَابِرِ السَّبِيلِ فِي الضَّيْعَاتِ

ظَلَّ الْوَفَاءُ عِنْدَهُمْ مُقَدَّسًا … وَإِنْ بَدَا فِيهِ هَلَاكُ الذَّاتِ

فَإِنَّمَا حَاجِبُ(1) وَابْنُ عَادِيَا(2) … رَمْزَا وَفَاءٍ بَلْ وَتَضْحِيَات

--------------------------------------------

(1) قصة حَاجِب بن زُرَارَةَ التَّمِيمِي هي أنَّه استأذن كِسْرَى فِي إنزال قَوْمِهِ على حدود كِسْرَى لجَدْبٍ أصَابَهُم، فخاف كِسْرَى منهم الغَارَةَ والفَسَادَ، فَأَبَى إِلَّا بِالضَّمان، فرهنه حاجبُ قَوْسَه، وَوَفَّى بوعده حَتَّى تُوفِّيَ، وانتهى الجَدْبُ ورجع القَوْمُ إلى ديارهم، وذهب عطاردُ بن حاجب إلى كِسْرَى يسترد قوسَ أبيه فَرَدَّها عليه لوفاء أبيه.

(2) أما السَّمَوْأَلُ بن عَادِيَا؛ فيقال كان امرؤ القيس أودعَ عنده دُروعًا وأراد الحارثُ بن أبي شِمْرٍ الغَسَّانِيّ أنْ يأخذها منه فَأَبَى وتَحَصَّنَ بقصره فِي تيماء وكان أحدُ أبناء السَّموأل خارج القصر فأخذه الحارثُ وهدَّدَه بِقَتْلِهِ إِنْ لَمْ يُسَلِّمْ الدُّروعَ، فَأَبَى فَقَتَل الحَارِثُ ابْنَهُ أَمَامَ عَيْنَيْهِ.
ইসলামের আগে আরবদের অবস্থা

হেদায়েতের আলোয় পৃথিবী আলোকিত হয়েছে … মুস্তফা (সা.) সকল কল্যাণ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন

আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সকল নেয়ামতের জন্য … যিনি জীবিকা ও আহার্য প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন

তিনি দয়ার প্রাচুর্য নিয়ে বৃষ্টি বর্ষণ করেন … এবং শস্য ও বাগানসমূহ উৎপন্ন করেন

সৃষ্টির সূচনাকারী, তাঁরই জন্য আমাদের সকল মহিমা … তিনি পবিত্র, যিনি মৃত্যুর পর জীবনদানকারী

আল্লাহ একজন পথপ্রদর্শক নবী প্রেরণ করেছেন … যিনি সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে আহ্বান জানান

পাখিরা তাঁর গুণের সৌন্দর্যে গান গায় … যা যেন টিলার আকাশে বিকেলের সূর্য

মহাবিশ্ব তাঁর সৌন্দর্যের মাধুর্যে গান গায় … সবচেয়ে সুন্দর সুরে গুঞ্জরিত হয়ে

তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ এক পথভ্রষ্ট দলকে পথ দেখিয়েছেন … যারা আমোদ-প্রমোদ ও ভোগ-বিলাসে নিমজ্জিত ছিল

তারা অত্যন্ত ধৃষ্টতার সাথে সুদ গ্রহণ করত … তারা ফুটফুটে কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দিয়ে সীমালঙ্ঘন করত

মদ ও জুয়া হলো পাপাচারী অপবিত্রতা … আর আত্মার প্রকৃত আনন্দ হলো আনুগত্যের মধ্যে

তারা আপোষহীনভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হতো … তারা এতে দ্রুতগামী ঘোড়াগুলোকে ঠেলে দিত

আর ব্যক্তি উদারতাবশত তার সম্পদ নিঃশেষ করে দিত … নেতাদের সামনে এ নিয়ে গর্ব প্রকাশ করত

সে সানন্দে উষ্ট্রী জবাই করত … জনমানবহীন জনপদে মুসাফিরদের আপ্যায়নের জন্য

তাদের কাছে প্রতিশ্রুতি রক্ষা পবিত্র হিসেবে গণ্য ছিল … এমনকি যদি তাতে নিজের ধ্বংসও স্পষ্ট হতো

কেননা হাজিব(১) ও ইবনে আদিয়া(২) … হলো প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং আত্মত্যাগের প্রতীক

--------------------------------------------

(১) হাজিব বিন যুরারা আত-তামিমির কাহিনী হলো এই যে, তিনি পারস্য সম্রাট কিসরার কাছে তাঁর গোত্রকে কিসরার সীমান্তের কাছে বসবাসের অনুমতি চেয়েছিলেন এক দুর্ভিক্ষের কারণে যা তাদের আক্রান্ত করেছিল। কিসরা তাদের পক্ষ থেকে আক্রমণ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করলেন, তাই তিনি গ্যারান্টি (বন্ধক) ছাড়া অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন। হাজিব তার ধনুকটি বন্ধক হিসেবে রাখলেন এবং তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করলেন এমনকি তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। পরে আকাল শেষ হলে এবং কাফেলা নিজ দেশে ফিরে গেলে, হাজিবের পুত্র উতারিদ কিসরার কাছে তার পিতার ধনুক ফেরত নিতে যান, তখন কিসরা তার পিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষার সম্মানে তা ফেরত দেন।

(২) পক্ষান্তরে সামাওয়াল বিন আদিয়া; বলা হয় যে, ইমরুল কায়েস তাঁর কাছে কিছু বর্ম আমানত রেখেছিলেন এবং গাসসানি শাসক হারিস বিন আবি শিমর তা তাঁর কাছ থেকে নিতে চেয়েছিলেন। তিনি অস্বীকার করেন এবং তাইমার নিজ দুর্গে আশ্রয় নেন। সামাওয়ালের এক পুত্র দুর্গের বাইরে ছিল, হারিস তাকে বন্দি করে এবং হুমকি দেয় যে বর্মগুলো সমর্পণ না করলে তাকে হত্যা করবে। তিনি অস্বীকার করেন, ফলে হারিস তাঁর চোখের সামনে তাঁর পুত্রকে হত্যা করে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌صور من المجتمع الجاهلي

الْمَرْأَةُ الْحُرَّةُ ذَاتُ عِزَّةٍ … بَيْنَ الرِّجَالِ تَجْمَعُ السَّادَاتِ

إِنَّ النِّكَاحَ عِنْدَهُمْ مُقَنَّعٌ … أَخُصُّ مِنْهُ طَيِّبَ الزِّيجَاتِ

وَعِنْدَهُمْ سِفَاحُ بَغْيٍ فَاحِشٍ(1) … قَدْ أَبْدَلُوا النِّسَاءَ وَالزَّوْجَاتِ

فَلَيْسَ لِلزَّوْجَاتِ حَدٌّ مُطْلَقٌ … انْغَمَسُوا فِي شَهْوَةِ اللَّذَّاتِ

وَزَوْجَةُ الْأَبِ كَإِرْثٍ خَالِصٍ … فَبِئْسَ قَوْمُ الْعَارِ فِي الضَّيْعَاتِ

وَلِلْبَغَايَا عَلَمٌ وَرَايَةٌ … فَإِنَّمَا عُرِفْنَ بِالرَّايَاتِ

لَمْ يَكُنِ الْعِنَبُ كَرْمًا أَبَدًا … وَلَيْسَتِ الْخَمْرُ مِنَ الْبَنَاتِ

وَيُجْمَعُ الْأُخْتَانِ فِي تَفَحُّشٍ … قَدِ ارْتَضَوْا هُمْ بِالْمُحَرَّمَاتِ

أَمَّا التِّجَارَةُ فَكَانَتْ مَطْمَعًا … وَمَا رَضُوا بِقِسْمَةِ الْأَقْوَاتِ

فَحَسْبُهُمْ قَدْ عَرَفُوا صِنَاعَةً(2) … كَصُنْعِ أَثْوَابٍ مُرَصَّعَاتِ

وَالْجَهْلُ ضَارِبٌ لِكُلِّ فِطْنَةٍ … فَإِنَّهُمْ عُدُّوا مِنَ الْأَمْوَاتِ

أَيَبْعَثُ اللهُ رَسُولَ رَحْمَةٍ؟ … لِيُرْشِدَ النَّاسَ إِلَى الْخَيْرَاتِ

فَإِنَّمَا اللهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ … يُجِيرُنَا وَيَقْبَلُ الطَّاعَات

--------------------------------------------

(1) انظر سنن أبي داوود، كتاب النِّكاح باب وجوه النِّكاح الَّتِي كان يَتَنَاكَحُ بِهَا أَهْلُ الْجَاهِلِيَّة، وأضَافَ إلى مَا ذكر نكاح الاسْتِبْضَاعِ، فكان يقول الرَّجُلُ لامْرَأَتِهِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ طَمْثِهَا: أرسلي إلى فلان فَاسْتَبْضِعِي مِنْهُ، ولَا يَمَسُّهَا حَتَّى يَتَبَيَّنَ حَمْلَهَا مِنَ الَّذي تَسْتَبِضِعُ مِنْهُ.

(2) معظم الصِّنَاعَات الَّتِي كانت مَوْجُودَة لَدَى الْعَرَبِ هِيَ الحِيَاكَةُ والدِّبَاغَةُ وبخاصة فِي أهل اليمن والحِيرة ومشارف الشَّامِ، وكان فِي داخل الجزيرة شيءٌ مِنَ الزِّرَاعَةِ والحَرْث، وَيُحِبُّونَ اقْتِنَاءَ الأنْعَامِ، وكَانَتْ نِسَاءُ الْعَرَبِ كَافَّةً يَشْتَغِلْنَ بِالغَزْلِ، لكن كَانَتِ الأمْتِعَةُ عُرْضَةً للحُرُوبِ، وكَانَ الفَقْرُ والجُوعُ عَامًّا فِي المُجْتَمَع.
জাহেলী সমাজের কতিপয় চিত্র

স্বাধীন নারী মর্যাদার অধিকারী... পুরুষদের মাঝে তিনি সরদারদের একত্রিত করেন।

নিশ্চয়ই তাদের নিকট বিবাহ ছিল বিচিত্র প্রকারের... আমি তন্মধ্যে কেবল উত্তম বিবাহগুলো উল্লেখ করছি।

তাদের নিকট ছিল জঘন্য ব্যভিচারী পাপাচার... তারা নারী ও স্ত্রীদের অদলবদল করত।

স্ত্রীদের সংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছিল না... তারা নফসের লালসায় মগ্ন ছিল।

পিতার স্ত্রী ছিল নিছক উত্তরাধিকারের মাল... জনপদগুলোতে এই কলঙ্কিত জাতি কতই না নিকৃষ্ট!

পতিতা নারীদের জন্য ছিল বিশেষ চিহ্ন ও ঝান্ডা... তারা তো পতাকার মাধ্যমেই পরিচিত ছিল।

আঙুর কখনো ‘কারম’ (সম্মানিত বৃক্ষ) ছিল না... আর মদ তো (আঙুর) কন্যাদের নির্যাস নয়।

অশ্লীলতার সাথে দুই বোনকে একত্রে রাখা হতো... তারা হারামে লিপ্ত হতেই সন্তুষ্ট ছিল।

ব্যবসা ছিল তাদের নিকট কেবল লোভের বস্তু... তারা রিযিকের বণ্টনে সন্তুষ্ট ছিল না।

তাদের জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে তারা কিছু কারুশিল্প জানত... যেমন কারুকার্যখচিত পোশাক তৈরি করা।

মূর্খতা সকল প্রকার বুদ্ধিমত্তাকে আচ্ছন্ন করেছিল... ফলে তারা মৃতদের কাতারেই গণ্য হতো।

আল্লাহ কি কোনো দয়ার রাসূল পাঠাবেন? ... যিনি মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করবেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র ইলাহ... তিনি আমাদের আশ্রয় দান করেন এবং আনুগত্য কবুল করেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুন নিকাহ, জাহেলী যুগের প্রচলিত বিবাহের প্রকারভেদ সংক্রান্ত অধ্যায়। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে ‘নিকাহুল ইস্তিবদা’ যোগ করেছেন; যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পর বলত: ‘অমুকের কাছে সংবাদ পাঠাও এবং তার থেকে গর্ভধারণ করো।’ এরপর যতক্ষণ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির মাধ্যমে স্ত্রীর গর্ভধারণ নিশ্চিত না হতো, ততক্ষণ স্বামী তাকে স্পর্শ করত না।

(২) আরবদের মাঝে প্রচলিত অধিকাংশ শিল্প ছিল বয়নশিল্প ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষ করে ইয়েমেন, হীরা এবং সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায়। আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরে কিছু কৃষি ও চাষাবাদ ছিল, আর তারা গবাদি পশু পালন পছন্দ করত। আরব নারীরা সাধারণত সুতা কাটার কাজ করত, তবে ধন-সম্পদ সর্বদা যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে থাকত এবং সমাজে অভাব ও ক্ষুধা ছিল ব্যাপক।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌موقع العرب وأقوامهم

الْعَرْبُ الْكِرَامُ أَهْلُ رِفْعَةٍ(1) … قَدْ شُرِّفُوا بِكَعْبَةِ الْأَنْوَارِ

بَائِدَةٌ(2) عَارِبَةٌ أَقْوَامٌ(3) … مَا بَالُ مُسْتَعْرِبَةِ(4) الْقِفَارِ

الْبَائِدُونَ أُهْلِكُوا بِبَغْيِهِمْ … بَلْ وثَمُودُ عِبْرَةُ الْفُجَّارِ

عَارِبُ هُمْ مَنْبَعُ كُلِّ حِكْمَةٍ … فَهُمْ شُمُوسُ الْعَرَبِ الْجِسَارِ

طَيِّئُ وَالْأَزْدُ كِبَارُ سَادَةٍ … فَإِنَّهُمْ قَبَائِلُ الْأَطْهَارِ

أَلَا وَمُسْتَعْرِبَةٌ هُمْ فَخْرُنَا … فَدُونَهُمْ مَحَامِدُ الْأَشْعَارِ

وَقَدِمَ الْخَلِيلُ فِي بَهَائِهِ(5) … لِمِصْرَ أرْضِ الْمَجْدِ وَالْفَخَارِ

وَزَوْجُهُ سَارَةُ ذَاتُ عِفَّةٍ … قَدْ سَلِمَتْ مِنْ ذَلِكَ الْجَبَّار

--------------------------------------------

(1) انظر محاضرات تاريخ الأمم الإسلاميَّة للخضري 1/ 11 - 13. وقلب جزيرة العرب 231 - 235.

(2) العرب البَائِدة (الَّذين انقرضوا).

(3) العرب العَارِبة (المنحدرة من صلب يَشْجُب بن يَعْرُب بن قَحْطَان) «العرب القحطانيون».

(4) العرب المُسْتَعْرِبَة (المنحدرة من صلب إسماعيل عليه السلام «العرب العَدْنَانِيَّة»).

(5) ولد خليل الرَّحْمَنِ (إبراهيم عليه السلام فى مدينة (أور) بالعراق وهاجر إلى حاران أو حرَّان ثُمَّ فلسطين ثُمَّ مصر وكانت معه سَارَةُ زَوْجَتُهُ فَتَعَرَّضَ لَهَا جَبَّارُ مِصْرَ فنجَّاها اللهُ مِنْهُ فَأَخْدَمَهَا هَاجَرَ خَوْفًا مِنْ عَذَابِ الله.
আরবদের অবস্থান ও তাদের গোত্রসমূহ

সম্মানিত আরবগণ উচ্চমর্যাদার অধিকারী(১) … তারা জ্যোতির্ময় কাবার মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছেন।

বিলুপ্ত(২), বিশুদ্ধ(৩) এবং (অন্যান্য) জাতিসমূহ … মরু প্রান্তরের সেই আরবীয়করণকৃতদের(৪) অবস্থাই বা কী!

বিলুপ্ত আরবগণ তাদের অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস হয়েছে … বরং সামুদ জাতি পাপাচারীদের জন্য এক শিক্ষা।

বিশুদ্ধ আরবগণ হলো সকল প্রজ্ঞার উৎস … তারা হলো বীর আরবদের সূর্যস্বরূপ।

তাই এবং আজদ গোত্র হলো মহান সরদার … কেননা তারা পবিত্রদের গোত্রসমূহ।

জেনে রেখো, আরবীয়করণকৃতরাই আমাদের গৌরব … কবিতার সকল প্রশংসা তাদের জন্যই নিবেদিত।

আর খলিল (ইবরাহিম আ.) তাঁর মহিমা নিয়ে পদার্পণ করলেন(৫) … মহিমা ও গৌরবের ভূমি মিসরে।

তাঁর স্ত্রী সারা ছিলেন সতীত্বের অধিকারিণী … তিনি সেই স্বৈরাচারী শাসক থেকে নিরাপদ ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) খুদরি রচিত ‘মুহাদারাত তারিখ আল-উমাম আল-ইসলামিয়্যাহ’ ১/ ১১-১৩ এবং ‘কালবু জাজিরাতিল আরব’ ২৩১-২৩৫ দেখুন।

(২) বিলুপ্ত আরব (যারা বিলীন হয়ে গেছে)।

(৩) বিশুদ্ধ আরব (যারা ইয়াশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহতানের বংশধর), অর্থাৎ ‘কাহতানি আরব’।

(৪) আরবীয়করণকৃত আরব (যারা ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর), অর্থাৎ ‘আদনানি আরব’।

(৫) খলিলুর রহমান (ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) ইরাকের ‘উর’ নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং হারান, অতঃপর ফিলিস্তিন, তারপর মিসরে হিজরত করেন। তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী সারা ছিলেন। মিসরের এক স্বৈরাচারী শাসক তাঁর ক্ষতি করতে চেয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন। অতঃপর সে আল্লাহর আজাবের ভয়ে হাজেরাকে তাঁর সেবিকা হিসেবে দান করে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌إبراهيم وولده إسماعيل عليهما السلام

قَدْ وَضَعَتْ هَاجَرُ طِفْلاً مُشْرِقًا … مُبَارَكًا مِنْ خِيْرَةِ الْأَبْنَاءِ

وَضَجِرَتْ سَارَةُ مِنْهَا غِيْرَةً … مَا أَجْمَلَ الصَّبْرَ عَلَى النِّسَاءِ!

فَأَخَذَ الرَّضِيعَ بَلْ وَأُمَّهُ … إِلَى مَكَانٍ فِي نَوَى الْعَرَاءِ

وَلَيْسَ إِلَّا بَعْضُ تَمْرٍ زَادُهُمْ … رُحْمَاكَ رَبِّي سَامِعَ الدُّعَاءِ(1)

كَفَاكِ يَا هَاجَرُ مِنْ مَشَقَّةٍ … قَدْ أُرْسِلَ الْأَمِيْنُ بِالسَّرَّاءِ

هَبَطَ جِبْرِيلُ بِأَمْرِ خَالِقٍ … فَانْفَجَرَتْ زَمْزَمُ بِالصَّفَاءِ

فَيَا بَنِي جُرْهُمِ حَمْدًا طَيِّبًا … قَدْ أَذِنَتْ هَاجَرُ بِالْبَقَاءِ

أَيَذْبَحُ الْخَلِيلُ حَقًّا ابْنَهُ؟ … قَدِ اسْتَجَابَ دُونَمَا إِبْطَاءِ

رُؤَى النَّبِيِّينَ كَأَمْرٍ مُلْزِمٍ … لَا بُدَّ أَنْ يُذْبَحَ لِلْإِيفَاءِ

يَمَّمَهُ لِلْأَرْضِ فِي تَبَتُّلٍ … فَأُنْزِلَ الْفِدَاءُ مِنْ عَلْيَاء

--------------------------------------------

(1) قَدِمَ الخليلُ بهاجر وولدها الرَّضيع إلى الحِجَاز بوادٍ غير ذِي زَرْعٍ بِمَقْرُبَةٍ مِنَ البيتِ الحَرامِ ووضع عِنْدَهُمَا جِرَابَ تَمْرٍ وسقاءَ ماء.
ইবরাহীম ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল আলাইহিমাস সালাম

হাজেরা এক উজ্জ্বল সন্তান প্রসব করেছেন … সন্তানদের মধ্যে সর্বোত্তম এক বরকতময় শিশু

আর সারা ঈর্ষাবশত তাঁর প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হলেন … নারীদের বিষয়ে ধৈর্য ধারণ কতই না সুন্দর!

অতঃপর তিনি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে এবং তাঁর মাকেও নিয়ে গেলেন … দূরবর্তী এক নির্জন প্রান্তরে

সামান্য কিছু খেজুর ছাড়া তাদের আর কোনো পাথেয় ছিল না … হে আমার রব, দুআ শ্রবণকারী, আপনার রহমত কামনা করি(১)

হে হাজেরা, আপনার কষ্টের অবসান হয়েছে … নিশ্চয়ই বিশ্বস্ত (জিবরাঈল) সুসংবাদ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন

স্রষ্টার আদেশে জিবরাঈল অবতরণ করলেন … ফলে স্বচ্ছতার সাথে জমজম প্রবহমান হলো

হে বনু জুরহুম, উত্তম প্রশংসা জ্ঞাপন করো … হাজেরা (তোমাদের) সেখানে থাকার অনুমতি দিয়েছেন

খলীল কি সত্যই তাঁর পুত্রকে যবেহ করবেন? … তিনি কোনো বিলম্ব না করেই তাতে সাড়া দিলেন

নবীদের স্বপ্ন অলঙ্ঘনীয় আদেশের মতো … অঙ্গীকার পূর্ণ করার জন্য অবশ্যই যবেহ করতে হবে

তিনি একাগ্রচিত্তে তাকে ভূমিতে শায়িত করলেন … অতঃপর উচ্চদেশ থেকে মুক্তিপণ (কুরবানির পশু) অবতীর্ণ হলো

--------------------------------------------

(১) খলীল (ইবরাহীম) হাজেরা ও তাঁর দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে নিয়ে হিজাজের একটি শস্যহীন উপত্যকায় বায়তুল হারামের সন্নিকটে আসলেন এবং তাঁদের নিকট এক থলে খেজুর ও এক মশক পানি রেখে দিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌رفع القواعد من البيت

قَوَاعِدُ الْبَيْتِ بَدَتْ جَلِيَّةً … فَارْتَفَعَ الْخَلِيلُ بِالْبُنْيَانِ

قَدْ أَذِنَ اللهُ بِحَجِّ بَيْتِهِ … تَمْحُو الذُّنُوبَ دَعْوَةُ الرَّحْمَنِ

فَأَرِنَا اللَّهُمَّ كُلَّ مَنْسَكٍ … وَاقْسِمْ لَنَا مِنْ نِعْمَةِ الْغُفْرَانِ

وَاجْعَلْ كِلَيْنَا مُسْلِمًا مُوَحِّدًا … يَا خَالِقَ النُّجُومِ فِي الْأَكْوَانِ

وَابْعَثْ إِلَى الْخَلْقِ رَسُولَ رَحْمَةٍ … يَتْلُو عَلَيْهِمْ مُجْمَلَ الْقُرْآنِ

عَدْنَانُ قَدْ بَدَا ضِيَاءُ نَجْمِهِ(1) … فَإِنَّهُ أُعْجُوبَةُ الزَّمَانِ

أَمَّا كِنَانَةُ عَلَتْ مَكَانَةً … وَخُلِّدَتْ قُرَيْشُ فِي الْأَذْهَان

--------------------------------------------

(1) عَدْنَانُ هو الجدُّ العشرون فِي سلسلة النَّسَبِ النَّبَوِيِّ وينتهي نسبه إلى قيدار بن إسماعيل عليه السلام. أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، أَخْبَرَنَا الأوْزَاعِيُّ، عَنْ شَدَّادٍ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأسْقَعِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله (صلى الله عليه وسلم): إِنَّ اللهَ اصْطَفَى مِنْ وَلَدِ إِبْرَاهِيمَ إِسْمَاعِيلَ، وَاصْطَفَى مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ بَنِي كِنَانَةَ، وَاصْطَفَى مِنْ بَنِي كِنَانَةَ قُرَيْشًا، وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ، وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ. رواه مسلم فِي كتاب الفضائل باب فضل نسب النَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم) 4 - 1782 وصححه التِّرمذي وابن حِبَّان.
বাইতুল্লাহর ভিত্তি উত্তোলন

গৃহের ভিত্তিগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলো … ফলে আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম নির্মাণ কাজ নিয়ে উপরে উঠলেন

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর গৃহের হজ্জের অনুমতি দিয়েছেন … পরম করুণাময় আল্লাহর আহ্বান পাপরাশি মুছে দেয়

হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিটি ইবাদতের নিয়ম-কানুন দেখিয়ে দিন … আর আমাদের জন্য ক্ষমার নেয়ামত বরাদ্দ করুন

আমাদের উভয়কে একনিষ্ঠ তাওহীদবাদী মুসলিম বানান … হে মহাবিশ্বের নক্ষত্ররাজির স্রষ্টা

আর সৃষ্টির নিকট রহমতের এক রাসূল প্রেরণ করুন … যিনি তাদের নিকট পূর্ণাঙ্গ কুরআন তিলাওয়াত করবেন

আদনানের নক্ষত্রের জ্যোতি প্রকাশিত হয়েছে(১) … নিশ্চয়ই তিনি মহাকালের এক বিস্ময়

আর কিনানার মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছে … আর কুরাইশ মানুষের অন্তরে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে

--------------------------------------------

(১) আদনান হলেন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশপরম্পরার বিংশতম ঊর্ধ্বতন পুরুষ এবং তাঁর বংশধারা ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর পুত্র কাইদারের নিকট গিয়ে পৌঁছেছে। মুহাম্মদ বিন মুসআব আমাদের জানিয়েছেন, আওযাঈ আমাদের জানিয়েছেন শাদ্দাদ আবু আম্মার থেকে, তিনি ওয়াসিলা বিন আল-আসকা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবরাহীমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাঈলকে মনোনীত করেছেন, আর ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে বনী কিনানাকে মনোনীত করেছেন, আর বনী কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, আর কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। এটি ইমাম মুসলিম তাঁর ‘ফাদায়িল’ (মর্যাদা) গ্রন্থে, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশের শ্রেষ্ঠত্ব’ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৪ - ১৭৮২ এবং ইমাম তিরমিযী ও ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الحكم والإمارة في العرب

الْعَرَبُ الْكِرَامُ سَادَ حُكْمَهُمْ … زِعَامَةُ الْمُلُوكِ فِي الْبُلْدَانِ

وَإِنَّمَا لِسَبَإٍ حَضَارَةٌ … قَدْ عُرِفُوا بِنَهْضَةِ الْعُمْرَانِ(1)

بِمَنْهَلِ الْعِلْمِ بَنَوْا سُدُودَهُمْ … فَنَعِمُوا بِالرَّوْضِ وَالْجِنَانِ

كُلُوا مِنَ الرِّزْقِ عَظِيمَ نِعْمَةٍ … لَا شُكْرَ يُوفِي نِعْمَةَ الْمَنَّانِ

وَأَعْرَضُوا فَغَرِقَتْ جِنَانُهُمْ … وَدُمِّرَتْ شَوَامِخُ الْبُنْيَانِ

أَضْحَى نَعِيمُهُمْ شَقَاءً مُضْنِيًا … قَدْ حُرِمُوا مِنْ عِيشَةِ الْإِحْسَانِ

فَإِنَّمَا خَمْطٌ وَأَثْلٌ دَاحِضٌ … قَدْ شَرِبُوا مِنْ مَوْرِدِ الْهَوَانِ

نَعَمْ وَفِي أَسْفَارِهِمْ مَشَقَّةٌ … فَمُزِّقُوا فِي أَشْعُبِ الْوِدْيَانِ

فَهَلْ لَنَا مِنْ عِظَةٍ وَعِبْرَةٍ … بِتِلْكُمُ السُّنَنِ فِي الْأَزْمَان

--------------------------------------------

(1) عُرِفَتْ دَوْلَتُهُمْ فِي هذه الفترة بالدَّوْلَةِ المَعِينِيَّة (ظهرت فِي الجوف، وهو السَّهل الواقع بين نجران وحضرموت بَنَوْا سد مأرب الَّذي له شأنٌ كبير فِي تاريخ اليمن). انظر اليمن عبر التَّاريخ ص 77 - 83 وتاريخ العرب قبل الإسلام ص 101 - 113.
আরবে শাসন ও রাজত্ব

সম্মানিত আরবগণ, তাদের শাসনকর্তৃত্ব ছিল সুপ্রসিদ্ধ … জনপদসমূহে রাজন্যবর্গের নেতৃত্ব

সাবা জাতির ছিল এক সুমহান সভ্যতা … তারা স্থাপত্যের উৎকর্ষ ও নবজাগরণের জন্য সুপরিচিত ছিল(১)

জ্ঞানের উৎসকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের বাঁধসমূহ নির্মাণ করেছিল … ফলে তারা সুশোভিত বাগান ও উদ্যানরাজি দ্বারা ধন্য হয়েছিল

তোমরা এই মহান নিআমতের রিযিক থেকে আহার করো … কোনো কৃতজ্ঞতাই মহাদানকারীর নিআমতের পূর্ণ হক আদায় করতে পারে না

অতঃপর তারা বিমুখ হলো, ফলে তাদের উদ্যানসমূহ প্লাবিত হলো … আর সুউচ্চ অট্টালিকাগুলো বিধ্বস্ত হলো

তাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিদারুণ দুর্গতিতে পরিণত হলো … তারা এক কল্যাণময় জীবন থেকে বঞ্চিত হলো

অবশিষ্ট রইল কেবল তিক্ত ফল আর অকেজো ঝাউ গাছ … তারা লাঞ্ছনার উৎস থেকে পানীয় পান করল

হ্যাঁ, আর তাদের ভ্রমণে ছিল চরম ক্লেশ … ফলে তারা বিভিন্ন উপত্যকায় ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ল

তবে কি আমাদের জন্য কোনো শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে … মহাকালের সেই সব অমোঘ বিধানের মাঝে

--------------------------------------------

(১) এই সময়ে তাদের রাষ্ট্রটি মাঈনীয় রাষ্ট্র নামে পরিচিত ছিল (এটি জাওফ অঞ্চলে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যা নাজরান ও হাদরামাউতের মধ্যবর্তী একটি সমভূমি; তারা মা’রিব বাঁধ নির্মাণ করেছিল যা ইয়েমেনের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ)। দেখুন: 'ইতিহাসের পরিক্রমায় ইয়েমেন' পৃষ্ঠা ৭৭ - ৮৩ এবং 'ইসলামপূর্ব আরবের ইতিহাস' পৃষ্ঠা ১০১ - ১১৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌أصحاب الأخدود

قَدْ أَغْرَقَ التَّارِيخُ فِي أَبْحُرِهِ … كُلَّ الْجَبَابِرَةِ والْأَشْرَارِ

فَذُو نُوَاسٍ قَدْ طَغَى تَجَبُّرًا(1) … عَلَى النَّصَارَى وَبِلَا إِنْذَارِ

وَشَقَّ مِنْ فُجُورِهِ أُخْدُودًا … سَعَّرَهُ بِحِمَمٍ مِنْ نَارِ

قِعِي بِلَا خَوْفٍ نَعَمْ أُمَّاهُ … قَدْ نَطَقَ الرَّضِيعُ بِاقْتِدَارِ(2)

إِنَّ النَّعِيمَ فِي رِحَابِ جَنَّةٍ … بِرَوْضِهَا مَنَازِلُ الْأَبْرَارِ

أَرْيَاطُ قَدْ غَزَا بِجَيْشٍ قَاهِرٍ(3) … الْيَمَنَ الْمَصُونَ فِي الْأَخْبَارِ

يَا حَسْرَةً فَقَدْ غَدَا فَرِيسَةً … أَبْرَهَةُ الْغَدَّارُ فِي انْتِظَارِ

اغْتَالَهُ بَلِ اسْتَبَاحَ مُلْكَهُ … ثُمَّ بَنَى الْقُلَّيْسَ فِي اغْتِرَارِ

أَلَا وَقَدْ خَابَ وَكُلُّ جُنْدِهِ … هَمُّوا بِهَدْمِ كَعْبَةِ الْأَنْوَارِ

وَالطَّيْرُ فِي جَوِّ السَّمَاءِ حَلَّقَتْ … تَرْمِي بِأَحْجَارٍ عَلَى الْكُفَّارِ

قَدْ أُهْلِكُوا فَهُمْ لَنَا مَوْعِظَةٌ … فَالْمَوْتُ لِلطُّغَاةِ وَالْفُجَّارِ

فَإِنَّ فِي الْكَوْنِ عَظِيمَ سُنَّةٍ … تِلْكُمْ عِظَاتٌ يَا أُولِي الْأَبْصَار

--------------------------------------------

(1) ذُو نُوَاس (هو يُوسف بن ذِي نُوَاس، هجم على النَّصَارَى مِنْ أهْلِ نَجْرَان ودعاهم إلى اليهوديَّة فلمَّا أَبَوْا خَدَّ لهم الأخاديد وأحرقهم بالنَّار ولم يفرق بين الرِّجال والنِّساء والأطفال الصِّغار والشُّيوخ الكبار، وقع ذلك فِي أكتوبر 523 م). (انظر اليمن عبرالتَّاريخ ص 157 - 161).

(2) في صحيح مسلم من حديث صهيب فِي قصة أصحاب الأخدود جاءت امرأةٌ ومعها صَبِيٌّ لها فتقاعست أنْ تقع فيه، فقال لها الغُلَامُ: (يَا أُمَّهْ اصْبِرِي فَإِنَّكِ عَلَى الْحَقِّ).

(3) غزا أرْيَاطُ اليمنَ بتحريضٍ مِنْ أباطرة الرُّومَانِ وظَلَّ حَاكِمًا حَتَّى قَتَلَهُ أَبْرَهَةُ بن الصَبَّاحِ الأشْرَم أَحَدُ قُوَّادِ جَيْشِهِ وَنَصَّبَ نَفْسَهُ حَاكِمًا.
গর্তওয়ালা সম্প্রদায়

ইতিহাস তার অতল সাগরে নিমজ্জিত করেছে … সকল স্বৈরাচারী ও পাপাচারীদের

অতঃপর যু নুওয়াস ঔদ্ধত্যের সাথে সীমালঙ্ঘন করেছিল(১) … নাসারাদের ওপর কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই

সে তার পাপাচারের বশবর্তী হয়ে এক গর্ত খনন করেছিল … এবং আগুনের লেলিহান শিখা দিয়ে তা প্রজ্বলিত করেছিল

নির্ভয়ে পতিত হোন, হ্যাঁ হে আম্মাজান … দুগ্ধপোষ্য শিশুটি অলৌকিক শক্তিতে কথা বলে উঠেছিল(২)

নিশ্চয়ই জান্নাতের প্রশস্ততায় রয়েছে পরম সুখ … যার বাগিচায় রয়েছে পুণ্যবানদের আবাসস্থল

আরিয়াত এক পরাক্রমশালী বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করেছিল(৩) … ইতিহাসখ্যাত সেই সুরক্ষিত ইয়ামেনে

হায় আক্ষেপ! সে নিজেই শিকারে পরিণত হলো … বিশ্বাসঘাতক আবরাহা তখন প্রতীক্ষায় ছিল

সে তাকে হত্যা করল বরং তার রাজত্ব দখল করে নিল … অতঃপর দম্ভের সাথে 'আল-কুল্লাইস' গির্জা নির্মাণ করল

সাবধান! সে এবং তার সকল সৈন্য ব্যর্থ হলো … যখন তারা জ্যোতির্ময় কাবা ধ্বংসের সংকল্প করল

আর আসমানের শূন্যমার্গে পাখিগুলো ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াল … যারা কাফেরদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করছিল

তারা ধ্বংস হয়ে গেল, তারা আমাদের জন্য এক শিক্ষা … কেননা মৃত্যু অবধারিত সকল স্বৈরাচারী ও পাপাচারীদের জন্য

নিশ্চয়ই মহাবিশ্বে এক মহান নিয়ম কার্যকর রয়েছে … হে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! এগুলোতে রয়েছে তোমাদের জন্য উপদেশ

--------------------------------------------

(১) যু নুওয়াস (তিনি হলেন ইউসুফ বিন যু নুওয়াস, তিনি নাজরানের নাসারাদের ওপর আক্রমণ করেন এবং তাদের ইহুদি ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানান। যখন তারা তা অস্বীকার করল, তখন তিনি তাদের জন্য গর্ত খনন করেন এবং আগুনে পুড়িয়ে মারেন। তিনি পুরুষ, নারী, শিশু এবং বৃদ্ধদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। এই ঘটনা ৫২৩ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে ঘটেছিল)। (দ্রষ্টব্য: আল-ইয়ামান আবরাত তারিখ, পৃষ্ঠা ১৫৭ - ১৬১)।

(২) সহিহ মুসলিমের সুহাইব বর্ণিত আসহাবুল উখদুদ বা গর্তওয়ালাদের কাহিনীতে এসেছে: এক নারী আসলেন যার সাথে তার একটি শিশু ছিল। তিনি যখন সেই আগুনে পড়তে দ্বিধাবোধ করছিলেন, তখন শিশুটি তাকে বলল: (হে আম্মাজান! ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত)।

(৩) রোমান সম্রাটদের উস্কানিতে আরিয়াত ইয়ামেন আক্রমণ করেন এবং আবরাহা ইবনুল সাব্বাহ আল-আশরাম—যিনি ছিলেন তার সেনাবাহিনীর একজন সেনাপতি—তাকে হত্যা করে নিজে শাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الملك بالحِيرَة

يَا قَوْمَنَا إِسْكَنْدَرُ الْمَجْدِ أَتَى(1) … وَقَدْ غَدَا تَرْنِيمَةَ الْأَمْصَارِ

حَتَّى بَدَا فِي الْعَالَمِينَ نَجْمُهُ … فَإِنَّهُ مَنَارَةُ الْفَخَارِ

وَأَرْدَشِيرُ قَدْ تَسَامَى مُلْكُهُ(2) … فَامْتَدَّ لِلْحِيرَةِ وَالْأَنْبَارِ

أَمَّا جَذِيمَةُ فَذُو مَكَانَةٍ … عَهِدْتُهُ يَحْكُمُ فِي اقْتِدَارِ

خَلَفَهُ عَمْرٌو فَطَابَ حُكْمُهُ(3) … ثُمَّ أَتَى الْمُنْذِرُ فِي الْأَخْبَارِ(4)

وَإِنَّمَا هَانِئُ ذُو مُرُوءَةٍ(5) … فَإِنَّهُ مِنْ سَادَةِ الْأَخْيَارِ

كَانَتْ بِذِي قَارَ نَعَمْ مَلْحَمَةٌ … فَدُونَهَا مَفَاخِرُ الْأَشْعَار

--------------------------------------------

(1) كانت الفرس تحكم بلاد العراق وما جاورها منذ أنْ جمع شملهم قوروش الكبير حتى جاء الإسكندر المقدوني 326 ق. م فهزم ملكهم وبدَّدَهم.

(2) أَرْدَشير بن بَابك، مؤسس الدَّوْلَةِ السَّاسَانِيَّة 226 م جمع شمل الفُرْسِ واستولى على العرب المقيمين على تخوم ملكه ودانت له الحِيرةُ والأنبارُ، وفي عهد أردشير كانت ولاية جَذِيمَة بن مَالِك المُلَقَّب بـ (الوضَّاح) على الحِيرَة ومن بادية العراق والجزيرة مِنْ ربِيعَة ومُضَر.

(3) بعد موت جَذِيمَة وَلِيَ الْحِيرَةَ والأنبارَ عَمْرُو بن عَدِيّ بن نصر اللَّخميّ (268 - 288 م).

(4) المُنْذِرُ بن ماء السَّماء (512 - 554 م) وهو أبو النُّعْمَان بن المُنْذِرِ.

(5) هَانِئُ بن مَسْعُود سيِّد آل شَيْبَان رفض تسليم ما عنده من أمانات لإِيَاس بن قَبِيصَة والي الحِيرة، كان قد أوْدَعَهَا إيَّاه النُّعْمَانُ، بل آذن كِسْرَى بالْحَرْبِ وانتصر بَنُو شَيْبَانَ على الفُرْسِ فِي معركة "ذِي قَار" وهو أوَّلُ انتصارٍ للْعَرَبِ عَلَى الْعَجَم.
হিরার রাজত্ব

হে আমাদের সম্প্রদায়, মহিমান্বিত আলেকজান্ডার এসেছেন(১) ... এবং তিনি সকল জনপদের গুঞ্জনে পরিণত হয়েছেন

এমনকি বিশ্ববাসীর মাঝে তাঁর ভাগ্যের নক্ষত্র উদিত হয়েছে ... নিশ্চয়ই তিনি গৌরবের আলোকবর্তিকা

আর আরদাশির, তাঁর রাজত্ব সুউচ্চ হয়েছে(২) ... যা হিরা এবং আনবার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে

আর জাযিমা ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদাবান ... আমি তাঁকে পূর্ণ ক্ষমতার সাথে শাসন করতে দেখেছি

তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন আমর এবং তাঁর শাসন অত্যন্ত মনোরম হলো(৩) ... অতঃপর ইতিহাসে মুনযিরের নাম এসেছে(৪)

নিশ্চয়ই হানিউ ছিলেন সুমহান মনুষ্যত্বের অধিকারী(৫) ... কেননা তিনি ছিলেন সর্বোত্তম নেতৃবৃন্দের অন্তর্ভুক্ত

হ্যাঁ, যি-কারে এক রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধ হয়েছিল ... যার তুলনায় কবিতার সকল গৌরব ম্লান

--------------------------------------------

(১) মহা সাইরাস পারসিকদের ঐক্যবদ্ধ করার পর থেকে পারস্য সম্রাটরা ইরাক ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল শাসন করত, যতক্ষণ না ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার এসে তাদের পরাজিত ও ছিন্নভিন্ন করে দেন।

(২) আরদাশির ইবনে বাবাক, সাসানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা (২২৬ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি পারসিকদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং তাঁর সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী আরবদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। হিরা ও আনবার তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিল। আরদাশিরের যুগে জাযিমা ইবনে মালিক (আল-ওয়াদ্দাহ উপনামে পরিচিত) হিরা এবং ইরাক ও জাজিরার রাবিয়া ও মুদার গোত্রের মরুভূমি অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন।

(৩) জাযিমার মৃত্যুর পর আমর ইবনে আদি ইবনে নাসর আল-লাখমি (২৬৮ - ২৮৮ খ্রিস্টাব্দ) হিরা ও আনবারের শাসনভার গ্রহণ করেন।

(৪) মুনযির ইবনে মাউস সামা (৫১২ - ৫৫৪ খ্রিস্টাব্দ), তিনি নুমান ইবনে মুনযিরের পিতা।

(৫) বনু শায়বান গোত্রের প্রধান হানি ইবনে মাসউদ হিরার গভর্নর ইয়াস ইবনে কাবি সা-র কাছে তাঁর নিকট রক্ষিত আমানতসমূহ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানান, যা নুমান তাঁর কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। বরং তিনি পারস্য সম্রাট খসরুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন এবং বনু শায়বান 'যি-কার' যুদ্ধে পারসিকদের ওপর বিজয় লাভ করে। এটিই ছিল অনারবদের বিরুদ্ধে আরবদের প্রথম বিজয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌إمارة الحجاز

تَالله عَدْنَانُ عَلَا فِي قَوْمِهِ(1) … وَاسْتَنْفَرَ النُّجُومَ فِي الْعَلْيَاءِ

وَضَاقَتِ الْأَرْضُ بِمَا قَدْ رَحُبَتْ … جُرْهُمُ كَالْجَرَادِ فِي الْأَنْحَاءِ

وَقَدْ بَكَى عَمْرٌو بِحُزْنٍ وَأَسَى(2) … مِنَ الرَّحِيلِ دُونَمَا الْإِبْقَاءِ

وَإِنَّمَا مُضَرُ زَادَتْ شَرَفًا … بِسَبْقِهَا لِلدَّفْعِ(3) وَالْإِنْسَاءِ(4)

قُصَيُّ قَدْ أَضْحَى لَهُ مَكَانَةٌ(5) … تُنِيرُ فِي مَنَاكِبِ الْجَوْزَاءِ

هَاشِمُ(6) قَدْ آلَتْ لَهُ سِقَايَةٌ(7) … فَإِنَّهُ مَنَارَةُ الْعَطَاء

--------------------------------------------

(1) عَدْنَانُ هو جد العرب العَدْنَانِيَّة (ذكر ذلك ابن اسحاق وابن السائب الكلبي وينسب إليه النَّبِيُّ مُحَمَّدٌ (صلى الله عليه وسلم) وهو جَدُّه العشرون.

(2) عَمْرُو بن الحَارِث بن مُضَاض الجُرْهُمِي خرج بِغَزَالَيِ الْكعبةِ والحَجَرِ الأسْوَدِ وَدَفَنَهُمَا فِي بئر زمزم.

(3) الدَّفْعُ: الدَّفع بالنَّاسِ من عَرَفَةَ إلى المُزْدَلفة والإجازة بهم يوم النَّفر من مِنَى، وكان يلي ذلك بنو الغَوْث بن مُرَّة من بطون إليَاس بن مُضَر.

(4) الإنْسَاء: إنْسَاءُ الأشْهُرِ الْحُرُمِ وكان ذلك لبني فُقَيْم بن عديّ من بني كِنَانَة. وأمَّا الإفَاضَةُ: من جمع غَدَاةِ يَوْمِ النَّحْرِ إلى مِنَى كان ذلك فِي بني عَدْوَان.

(5) قُصَيُّ بن كِلَابِ بن مُرَّة وهو الجدُّ الرَّابع للنَّبِيِّ مُحَمَّدٍ (صلى الله عليه وسلم) استولى على أمر مَكَّةَ والبَيْتِ سنة 440 م وبذلك صَارَتْ لَهُ السِّيَادَةُ ومِنْ بعده لقُرَيْش.

(6) هَاشِمُ بن عبد مَنَاف وهو (الجدُّ الثَّاني لرَسُولِ الله (صلى الله عليه وسلم) وإليه ينسب الهاشميون وقد آلت لهاشم السِّقاية والرِّفَادَة).

(7) السِّقَايَةُ: سِقَايَةُ الحَاجِّ يملؤون للحُجَّاجِ حِيَاضًا مِنَ المَاءِ يُحَلُّونَهَا بِالتَّمْرِ والزَّبِيب. انظر ابن هشام 1/ 129 - 132.
হিজাযের নেতৃত্ব

আল্লাহর শপথ, আদনান তার সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চাসীন হয়েছিলেন(১) … এবং উচ্চ গগণে নক্ষত্ররাজিকে জাগ্রত করেছিলেন

পৃথিবী তার প্রশস্ততা সত্ত্বেও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল … জুরহুম গোত্র পঙ্গপালের মতো চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল

আর আমর অত্যন্ত দুঃখ ও মনস্তাপে কেঁদেছিলেন(২) … কোনো কিছু অবশিষ্ট না রেখেই প্রস্থান করার কারণে

বস্তুত মুযার বংশের সম্মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল … (লোকদের) এগিয়ে নেওয়া(৩) এবং (পবিত্র মাসগুলো) পেছানোর(৪) ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়ার কারণে

কুসাই এমন এক মর্যাদা লাভ করেছিলেন(৫) … যা আল-জাওযা (কালপুরুষ) নক্ষত্রপুঞ্জের কাঁধে আলো বিকিরণ করে

হাশিমের(৬) নিকট হাজীদের পানি পান করানোর দায়িত্ব(৭) অর্পিত হয়েছিল … কেননা তিনি ছিলেন দানশীলতার এক আলোকবর্তিকা

--------------------------------------------

(১) আদনান হলেন আদনানি আরবদের পূর্বপুরুষ (ইবনে ইসহাক এবং ইবনে আস-সাইব আল-কালবি এটি উল্লেখ করেছেন)। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বংশজাত এবং তিনি তাঁর বিংশতম পূর্বপুরুষ।

(২) আমর ইবনুল হারিস ইবনে মুদাদ আল-জুরহুমি কাবার দুটি স্বর্ণের হরিণ ও হাজরে আসওয়াদ নিয়ে বের হয়েছিলেন এবং সেগুলোকে যমযম কূপে দাফন করেছিলেন।

(৩) আদ-দাফউ: লোকদের আরাফাত থেকে মুযদালিফায় নিয়ে যাওয়া এবং মিনা থেকে প্রস্থানের দিন তাদের পরিচালনা করা। ইলিয়াস ইবনে মুযারের শাখা গোত্র বনুল গাওস ইবনে মুররাহ এর দায়িত্ব পালন করত।

(৪) আল-ইনসাউ: নিষিদ্ধ মাসগুলোকে পিছিয়ে দেওয়া। এটি ছিল বনূ কিনানার অন্তর্গত বনূ ফুকাইম ইবনে আদীর দায়িত্ব। আর আল-ইফাযাহ: নহরের (কুরবানির) দিনের ভোরে মুযদালিফা থেকে মিনায় গমনাগমন, যা বনূ আদওয়ানের দায়িত্বে ছিল।

(৫) কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ছিলেন নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চতুর্থ ঊর্ধ্বতন পিতামহ। তিনি ৪৪০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা ও বাইতুল্লাহর কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে নেতৃত্ব তাঁর হাতে এবং পরবর্তীতে কুরাইশদের হাতে চলে আসে।

(৬) হাশিম ইবনে আবদে মানাফ, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বিতীয় ঊর্ধ্বতন পিতামহ এবং হাশেমি বংশ তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। হাজীদের পানি পান করানো (সিকায়াহ) ও আতিথেয়তার (রিফাদাহ) দায়িত্ব হাশিমের নিকট চলে আসে।

(৭) আস-সিকায়াহ: হাজীদের পানি পান করানো। তাঁরা হাজীদের জন্য হাউজগুলো পানিতে পূর্ণ করতেন এবং তাতে খেজুর ও কিশমিশ মিশিয়ে মিষ্টি করতেন। দেখুন: ইবনে হিশাম ১/১২৯-১৩২।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ديانات العرب

أَهْلُ الْحِجَازِ شُرِّفُوا بِمَجْدِهِمْ … غَنَّتْ بِهِ الْحِسَانُ فِي الْبُلْدَانِ

وَهُمْ عَلَى دِينِ الْخَلِيلِ مِلَّةً … وَابْنُ لُحَيٍّ جَاءَ بِالْأَوْثَانِ(1)

تَبِعَهُ الْقَوْمُ بِلَا تَعَقُّلٍ … فَبِئْسَ مَنْ يَنْقَادُ لِلشَّيْطَانِ

هُبَلُ عَدُّوهُ إِلَهًا شَافِعًا … صُورَتُهُ كَهَيْئَةِ الْإِنْسَانِ

مِنْ ذَهَبٍ قَدْ صُنِعَتْ يَمِينُهُ … فَإِنَّهُ أُعْجُوبَةُ الْخِذْلَانِ

أَمَّا خُزَاعَةُ لَهُمْ إَلَهُهُمْ … هُوَ مَنَاةُ صَنَمُ الطُّغْيَانِ

وَخُصَّ لِلْعُزَّى مَكَانُ مَعْبَدٍ … بِبَطْنِ وَادِي نَخْلَةِ الْهَوَانِ

عَمْرٌو نَعَمْ أَرْشَدَهُ رَئِيُّهُ(2) … فَأَخْرَجَ الْأَصْنَامَ بِاطْمِئْنَانِ

عَبَدَهَا النَّاسُ بِلَا تَفَقُّهٍ … قَدْ حُرِمُوا حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ

أَمَّا بَنُو كَلْبٍ فَأَهْلُ غَفْلَةٍ … قَدِ ارْتَضَوْا بِالْبُهُتِ وَالْبُطْلَانِ

فَإِنَّ وُدًّا صَنَمٌ مِنْ حَجَرٍ … فَأَيْنَ نُورُ الْحَقِّ وَالتِّبْيَانِ

هُذَيْلُ قَدَّسَتْ سُوَاعًا بِئْسَهُمْ … لَنْ يَنْعَمُوا بِنِعْمَةِ الرِّضْوَانِ

يَغُوثُ قَدْ عَبَدَهُ أَقْوَامٌ … بَنُو غُطَيْفٍ سَادَةُ الْعِصْيَانِ

هَمْدَانُ مَاجَتْ فِي بِحَارِ ظُلْمَةٍ … أَعْلَتْ يَعُوقَ فِي سَمَا الْبُهْتَان

--------------------------------------------

(1) سَافَرَ عَمْرُو بن لُحَيٍّ إلى الشَّامِ فأتَى بِهُبَلَ وجَعَلَهُ فِي جَوْفِ الْكَعْبَةِ ودَعَا أهْلَ مَكَّةَ إِلَى الشِّرْكِ فَأَجَابُوه. انظر كتاب الأصنام لابن الكلبيّ ص 28.

(2) عَمْرُو بن لُحَيٍّ الخُزَاعِيّ كانَ لَهُ رَئِيٌّ مِنَ الجِنِّ فأخْبَرَهُ أنَّ أصْنَامَ قومِ نُوحٍ وُدًّا وسُوَاعًا ويَغُوثَ ويَعُوقَ ونَسْرَا مَدْفُونَةٌ بِجَدَّة فأتاها واسْتَثَارَها وأوْرَدَها إلى تُهَامَةَ فلما جاء الحَجُّ دَفَعَهَا إلى القَبَائِلِ فَأَخَذُوهَا إلى أَوْطَانِهِم.
আরবদের ধর্মসমূহ

হিজাযবাসীরা তাদের আভিজাত্যের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছিলেন … বিভিন্ন জনপদে সুন্দরী রমণীরা তা নিয়ে গীত গেয়েছে।

তারা ছিলেন খলিল (আঃ)-এর মিল্লাত বা ধর্মের ওপর … অতপর ইবনে লুহাই মূর্তিপূজা নিয়ে এল।(১)

লোকেরা বিচার-বুদ্ধিহীনভাবে তাকে অনুসরণ করল … শয়তানের আনুগত্যকারী কতই না নিকৃষ্ট!

তারা হুবালকে সুপারিশকারী উপাস্য মনে করত … তার আকৃতি ছিল মানুষের অবয়বের মতো।

স্বর্ণ দিয়ে তার ডান হাত তৈরি করা হয়েছিল … নিশ্চয়ই তা ছিল লাঞ্ছনার এক বিস্ময়।

আর খুযাআ গোত্রের ছিল তাদের নিজস্ব উপাস্য … তা হলো মানাত, সীমালঙ্ঘনের মূর্তি।

আর উজ্জার জন্য ইবাদতের একটি স্থান নির্দিষ্ট ছিল … লাঞ্ছনার নাখলা উপত্যকার অভ্যন্তরে।

হাঁ, আমরকে তার জিন সহচর পথ দেখিয়েছিল(২) … ফলে সে নিশ্চিন্তে মূর্তিগুলোকে বের করে এনেছিল।

মানুষ সঠিক বুঝ ছাড়াই সেগুলোর ইবাদত করত … তারা ঈমানের মিষ্টতা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।

আর বনু কালব ছিল গাফেল বা অসচেতন কওম … তারা মিথ্যা ও বাতিলের ওপর সন্তুষ্ট ছিল।

কারণ 'উদ্দ' ছিল পাথরের তৈরি এক মূর্তি … তাহলে হকের আলো ও স্পষ্ট বর্ণনা কোথায় রইল?

হুযাইল গোত্র সুওয়া'কে পবিত্র জ্ঞান করত, তাদের কতই না মন্দ দশা … তারা সন্তুষ্টির নেয়ামত কখনোই লাভ করবে না।

ইয়াগুসের ইবাদত করত অনেক জাতি … বনু গুতাইফ ছিল অবাধ্যতার সরদার।

হামদান গোত্র অন্ধকারের সমুদ্রে আন্দোলিত হচ্ছিল … তারা অপবাদের আসমানে ইয়াউকের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আমর ইবনে লুহাই সিরিয়া ভ্রমণ করেছিল এবং হুবালকে নিয়ে এসেছিল। সে এটিকে কাবার অভ্যন্তরে স্থাপন করে এবং মক্কাবাসীদের শিরকের দিকে আহ্বান করে, আর তারা তার ডাকে সাড়া দেয়। দেখুন: ইবনুল কালবীর 'কিতাবুল আসনাম' পৃষ্ঠা: ২৮।

(২) আমর ইবনে লুহাই আল-খুযাঈর জিনদের মধ্য থেকে একজন সহচর ছিল। সে তাকে সংবাদ দিয়েছিল যে, নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মূর্তিসমূহ—উদ্দ, সুওয়া‘, ইয়াগুস, ইয়াউক এবং নাসর—জিদ্দায় সমাহিত আছে। ফলে সে সেখানে গিয়ে সেগুলো খুঁড়ে বের করে এবং তিহামায় নিয়ে আসে। যখন হজের সময় এল, সে সেগুলো বিভিন্ন গোত্রের নিকট অর্পণ করল এবং তারা তা নিজ নিজ বাসভূমিতে নিয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
يَا قَوْمَ حِمْيَرٍ عَبَدْتُم نَسْرًا … فَهَلْ نَسِيتُمْ بَارِئَ الْأَكْوَانِ؟

أَتَعْكُفُونَ لِلْهَوَى تَعَبُّدًا؟ … فَقَدْ حُرِمْتُم نِعْمَةَ الْغُفْرَانِ

نَحَرْتُمُ النُّذُورَ فِي جَهَالَةٍ … فَالْجَهْلُ ضَارِبٌ بِلَا حُسْبَانِ

بَلْ وَمِنَ الْحَرْثِ جَعَلْتُمْ جُزْءًا … فَأَطْعِمُوهُ تِلْكُمُ الْأَوْثَانِ

وَلَمْ نَجِدْ سَائِبَةً نَاجِيَةً(1) … فَذَلِكُمْ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ

أَمَّا الْبَحِيرَةُ فَأَضْحَتْ نَذْرًا(2) … أَمَا سَئِمْتُم عِيشَةَ الْخُسْرَانِ

نَذَرْتُمُ الحَامِيَ فِي سَفَاهَةٍ(3) … مَعَ الْوَصِيلَةِ فِدَا الْقُرْبَانِ(4)

وَمِنْكُمُ الصَّابِئُ بَلْ وَمُشْرِكٌ … فُجُوْرُهُ كَالْمَاجِنِ السَّكْرَانِ

بَلْ وَمَجُوسِيٌّ هَوَتْهُ نَارُهُ … عَبَدَهَا بِالْقَلْبِ وَالْوِجْدَانِ(5)

أَشْرَقَ فِي الدُّجَى رَسُولُ رَحْمَةٍ … يَهْدِي إِلَى شَرِيعَةِ الْإِحْسَانِ

يُنِيرُ لِلْخَلْقِ دُرُوبَ ظُلْمَةٍ … يَدْعُو إِلَى عِبَادَةِ الرَّحْمَن

--------------------------------------------

(1) السَّائِبَةُ: كانوا يسيبونها لِأَصْنَامِهِم وهي النَّاقَةُ إذا تابعت بين عشر إنَاثٍ ليس بينهن ذَكَر.

(2) البَحِيرَةُ: النَّاقةُ الَّتِى تُشَقُّ أُذُنُهَا كانوا إذا ولدت النَّاقَةُ خَمْسَةَ أبطن بَحَرُوا أُذُنَهَا.

(3) الحَامِي: الفَحْلُ مِنَ الإبِلِ الَّذِي قد حُمِيَ ظَهْرُهُ مِنْ أنْ يُرْكَبَ بتتابع أولادٍ تكون مِنْ صُلْبِه، وكانت العَرَبُ إذا أنتجت مِنْ صلب الفحلِ عشرة أبطن قالوا حمي ظهره فلا يحمل عليه شيءٌ ولا يُمْنَعُ مِنْ مَاءٍ ولا مَرْعَى.

(4) الوَصِيْلَةُ: الأنْثَى مِنَ الْغَنَمِ إِذَا ولدت أُنْثَى مَعَ الذَّكَرِ قالوا أوصلت أخَاهَا فلم يذبحوه، وقال أهْلُ اللُّغَةِ: كانت الشَّاةُ إذا ولدت أُنْثَى فهي لهم وإذا ولدت ذَكَرًا ذبحوه لآلهتهم.

(5) كانت هذه الدِّيَانَاتُ هى دِيَانَاتُ الْعَرَبِ حين جاء الإسْلَامُ، وقد أصاب هذه الدِّيانات البَوَارُ والانْحِلالُ، فالمُشْرِكُونَ الَّذِين كَانُوا يَدَّعُونَ أنَّهم على دين إبراهيمَ عليه السلام كانوا بعيدين عن أوامر وشريعةِ نبيِّ الله إبراهيمَ وما أتت به مِنْ مَكَارِمِ الأخْلَاقِ واليَهُودِيَّةُ انقلبت رِيَاءً وتَحَكُّمًا وصار رؤساؤها أرْبَابًا مِنْ دون الله يَتَحَكَّمُونَ فِي النَّاسِ هَمُّهُمُ الْمَالُ والرِئَاسَةُ وإنْ ضَاعَ الدِّينُ.

-

والنَّصرانيَّةُ عَادَتْ وثنيَّة عَسِرَة الفَهْمِ وأَوْجَدتْ خَلْطًا بين الله والإنْسَان، وذلك خَلْطٌ عَجِيبٌ يتنافى مَعَ الفِطْرَةِ الَّتِى فَطَرَاللهُ النَّاسَ عليها.

-

وأمَّا سَائِرُ أدْيَانِ الْعَرَبِ فكانت أحوال أهلها كأحوال المشركين، فقد تشابهت قُلُوبُهُمْ وتواردتْ عَقَائِدُهُمْ وتوافقتْ تَقَالِيدُهُمْ.
হে হিময়ার জাতি! তোমরা 'নাসর' (এক মূর্তির) ইবাদত করেছ … তবে কি তোমরা নিখিল বিশ্বের স্রষ্টাকে ভুলে গিয়েছ?

তোমরা কি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে পূজায় মগ্ন থাকো? … তবে তো তোমরা ক্ষমার নিয়ামত হতে বঞ্চিত হয়েছ।

তোমরা অজ্ঞতাবশত মানত করা পশু জবাই করেছ … কেননা মূর্খতা সীমাহীনভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

এমনকি শস্যক্ষেত্র থেকেও তোমরা একটি অংশ নির্ধারণ করেছ … অতঃপর তা খাইয়েছ সেই সব মূর্তিকে।

আমরা কোনো মুক্তিপ্রাপ্ত 'সাইবাহ' পাইনি(১) … আর তা ছিল শয়তানের কর্ম।

আর 'বাহিরাহ' তো মানত হয়ে গিয়েছিল(২) … তোমরা কি এই ক্ষতিগ্রস্ত জীবন নিয়ে ক্লান্ত নও?

তোমরা নির্বুদ্ধিতার সাথে 'হামি'কে মানত করেছিলে(৩) … সাথে ছিল 'ওয়াসিলাহ' যা কোরবানির জন্য উৎসর্গিত।(৪)

তোমাদের মধ্যে কেউ সাবেয়ি, আবার কেউ মুশরিক … যার পাপাচার উম্মত্ত মাতালের মতো।

এমনকি মজুসিও (অগ্নিউপাসক) রয়েছে যার আগুন তাকে মুগ্ধ করেছে … সে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তার ইবাদত করেছে।(৫)

আঁধার রজনীতে রহমতের রাসূলের উদয় হয়েছে … যিনি ইহসানের শরীয়তের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।

তিনি সৃষ্টির জন্য অন্ধকারের পথসমূহ আলোকিত করেন … আর পরম করুণাময় রহমানের ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন।

--------------------------------------------

(১) সাইবাহ: তারা তাদের মূর্তিদের উদ্দেশ্যে একে ছেড়ে দিত। এটি সেই উষ্ট্রী, যে একের পর এক দশটি মাদি বাচ্চা প্রসব করত যাদের মধ্যে কোনো পুরুষ বাচ্চা থাকত না।

(২) বাহিরাহ: সেই উষ্ট্রী যার কান চিরে দেওয়া হতো। উষ্ট্রী যখন পাঁচটি বাচ্চা প্রসব করত, তখন তারা তার কান চিরে দিত।

(৩) হামি: উটের সেই নর বা পুরুষটি যার পিঠে আরোহণ করা নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত করে দেওয়া হতো তার ঔরসজাত সন্তানদের ধারাবাহিকতার কারণে। আরবরা যখন দেখত একটি নর উটের ঔরসে দশটি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে, তখন তারা বলত এর পিঠ সংরক্ষিত হয়ে গেছে; ফলে তার পিঠে আর কোনো বোঝা বহন করা হতো না এবং তাকে পানি পান বা চারণভূমি থেকে বাধা দেওয়া হতো না।

(৪) ওয়াসিলাহ: ভেড়া বা ছাগীর সেই মাদি বাচ্চা, যে যখন একটি পুরুষ বাচ্চার সাথে জন্ম নিত, তখন তারা বলত এটি তার ভাইয়ের সাথে মিলে গেছে, ফলে তারা সেই পুরুষ বাচ্চাটিকে আর জবাই করত না। ভাষাবিদগণ বলেন: ছাগী যদি মাদি বাচ্চা প্রসব করত তবে তা তাদের হতো, আর যদি নর বাচ্চা প্রসব করত তবে তারা তা তাদের উপাস্যদের উদ্দেশ্যে জবাই করত।

(৫) ইসলাম যখন এসেছিল তখন এই ধর্মগুলোই ছিল আরবদের ধর্ম। এই ধর্মগুলো ধ্বংস ও পতনের সম্মুখীন হয়েছিল। যে সব মুশরিকরা দাবি করত যে তারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তারা আল্লাহর নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর নির্দেশনাবলী ও শরীয়ত এবং তিনি যে উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী নিয়ে এসেছিলেন তা থেকে বহু দূরে ছিল। আর ইহুদি ধর্ম রিয়া (প্রদর্শনপ্রীতি) ও স্বেচ্ছাচারিতায় রূপান্তরিত হয়েছিল; তাদের নেতারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে রবে (প্রতিপালকের আসনে) পরিণত হয়েছিল যারা মানুষের ওপর হুকুম চালাত, যাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল অর্থ ও নেতৃত্ব, যদিও তাতে ধর্ম বিনষ্ট হতো।

-

আর খ্রিস্টধর্ম এক দুর্বোধ্য মূর্তিপূজায় পর্যবসিত হয়েছিল এবং তা আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে এক সংমিশ্রণ তৈরি করেছিল। এটি ছিল এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ যা সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির বিরোধী, যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

-

আর আরবদের অন্যান্য ধর্মসমূহের অনুসারীদের অবস্থা ছিল মুশরিকদের মতোই। তাদের অন্তরসমূহ একই রকম হয়ে গিয়েছিল, তাদের আকিদা-বিশ্বাসগুলো ছিল অভিন্ন এবং তাদের প্রথাগুলো ছিল পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌مولد النُّور

الْحَمْدُ لِلَّهِ اصْطَفَى حَبِيبَهُ … خَيْرَ الْوَرَى إشْرَاقَةَ الضِّيَاءِ

تُضِيءُ فِي سَمَا الْوُجُودِ شَمْسُهُ … لِيَزْهُوَ الْجَمَالُ فِي الْأَحْيَاءِ

سَاوَةُ قَدْ غَاضَتْ عَلَى اسْتِحْيَاءٍ … خَجِلَةً مِنْ نُورِهِ الْوَضَّاءِ

كِسْرَى أَتَى بِالْحَقِّ خَيْرُ مُرْسَلٍ … سُحْقًا لِنَارِ الشِّرْكِ وَالْبِغَاءِ

بَدْرُ الْهُدَى قَدْ أَشْرَقَتْ أَنْوَارُهُ … كَالْكَوْكَبِ الدُّرِّيِّ فِي الْعَلْيَاءِ

حَلِيمَةُ السَّعْدِ عَلَتْ مَكَانَةً … قَدْ أَرْضَعَتْ مَنَارَةَ السَّمَاءِ

وَتَحْلِبُ اللَّبَنَ فِي حَفَاوَةٍ … وَقَوْمُهَا جَوْعَى بِلَا اسْتِثْنَاءِ

جِبْرِيلُ شَقَّ صَدْرَهُ تَطَهُّرًا(1) … فِدَاكَ نَفْسِي مَوْرِدَ الصَّفَاءِ

إِنَّ الْحَبِيبَ طَاهِرٌ مُبَارَكٌ … أَكْرِمْ بِذِي السَّرِيرَةِ الْعَصْمَاءِ

الْحُسْنُ بَعْضٌ مِنْ جَمَالِ وَصْفِهِ … وَالْوَجْهُ كَالْقَمَرِ فِي الْبَهَاءِ(2)

وَيَغْمُرُ السَّائِلَ بَحْرُ جُودِهِ … فَالْخَيْرُ قَدْ فَاضَ مِنَ السَّخَاءِ

نُسْقَى عَلَى الْحَوْضِ غَدًا مِنْ يَدِهِ … زِدْنَا اشْتِيَاقًا لِلرُّبَا الشَّمَّاءِ

أَنَدْخُلُ الْجَنَّةَ فِي زُمْرَتِهِ؟ … وَنَسْبِقُ النَّاسَ إِلَى السَّعْدَاءِ

فَالْحُورُ فِي الْخِيَامِ زِدْنَ نَضْرَةً … أَجْمِلْ بِهَا نَضَارَةُ الْهَنَاءِ!

وَإِنَّ فِي الْجَنَّةِ خَيْرَ مَنْزِلٍ … قَدْ زَيَّنَتْهُ أَجْمَلُ النِّسَاءِ

اجْعَلْ وُجُوهَنَا غَدًا نَاضِرَةً … ذَاكَ وَرَبِّي مُنْتَهَى الرَّجَاء

--------------------------------------------

(1) انظر الرَّحيق المختوم ص 63 وصحيح مسلم كتاب الإيمان باب الإسراء 1/ 147 ص 261.

(2) حدَّثنا أحْمَدُ بنُ سَعِيدٍ أبُو عَبْدِ الله حدَّثنا إسْحَاقُ بنُ مَنْصُورٍ حدَّثَنا إبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ عنْ أبِيهِ عنْ أبِي إسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ البَرَاءَ يَقُولُ: (كَانَ رسُولُ الله (صلى الله عليه وسلم) أَحْسَنَ النَّاسِ وَجْهًا وأَحْسَنَهُمْ خَلْقًا لَيْسَ بالطَّوِيلِ البائِنِ وَلَا بالقَصِيرِ) أخرجه مُسلم فِي فَضَائِل النَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم) عَن أبي كريب. - عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ: قُلْتُ لِلرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، صِفِي لِي رَسُولَ الله (صلى الله عليه وسلم): «قَالَتْ: يَا بُنَيَّ لَوْ رَأَيْتَهُ رَأَيْتَ الشَّمْسَ طَالِعَةً». رواه الدَّارمي / مشكاة المصابيح 2/ 517.
নূরের জন্ম

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রিয়তমকে মনোনীত করেছেন... সৃষ্টির সেরা, আলোকময় জ্যোতি।

অস্তিত্বের আকাশে তাঁর সূর্য আলোকিত হয়... যেন প্রাণীকুলের মাঝে সৌন্দর্য প্রস্ফুটিত হয়।

সাওয়ার পানি লজ্জায় শুকিয়ে গিয়েছিল... তাঁর উজ্জ্বল আলোর সামনে লজ্জিত হয়ে।

কিসরার নিকট শ্রেষ্ঠ রাসূল সত্য নিয়ে এসেছেন... শিরক ও ব্যভিচারের আগুন ধ্বংস হোক।

হিদায়াতের পূর্ণিমা তাঁর আলোকমালা বিকিরণ করেছে... উচ্চাকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়।

হালিমা সা'দিয়া উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন... তিনি আসমানের আলোকস্তম্ভকে স্তন্যপান করিয়েছেন।

এবং তিনি পরম আদরে দুধ দোহন করতেন... অথচ তাঁর গোত্র নির্বিশেষে ক্ষুধার্ত ছিল।

জিবরাঈল পবিত্রতার নিমিত্তে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করেছিলেন... হে নির্মলতার উৎস, আপনার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক।

নিশ্চয়ই প্রিয়তম পবিত্র ও বরকতময়... কতই না সম্মানিত সেই নিষ্পাপ অন্তরের অধিকারী।

লাবণ্য তো তাঁর সৌন্দর্যের বর্ণনার কিয়দাংশ মাত্র... এবং তাঁর চেহারা ছিল উজ্জ্বলতায় চাঁদের মতো।

এবং সাহায্যপ্রার্থীকে তাঁর দানশীলতার সমুদ্র ডুবিয়ে দেয়... তাঁর উদারতা হতে কল্যাণ উপচে পড়ে।

কাল কিয়ামতে আমরা তাঁর হাত থেকে হাউজের পানি পান করব... সুউচ্চ জান্নাতের প্রতি আমাদের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিন।

আমরা কি তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করব? ... এবং সৌভাগ্যবানদের কাতারে মানুষের অগ্রগামী হব?

তাঁবুতে অবস্থানরত হুরদের সজীবতা বৃদ্ধি পেয়েছে... প্রশান্তির সেই সজীবতা কতই না সুন্দর!

নিশ্চয়ই জান্নাতে রয়েছে সর্বোত্তম আবাস... যা সুন্দরতম নারীদের দ্বারা সুশোভিত।

হে আমার রব! আগামী কাল (কিয়ামতে) আমাদের মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করে দিন... এটাই আমার প্রত্যাশার শেষ সীমা।

--------------------------------------------

(১) আর-রাহীকুল মাখতূম পৃষ্ঠা ৬৩ এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ইসরা অধ্যায়, ১/১৪৭ পৃষ্ঠা ২৬১ দেখুন।

(২) আমাদের কাছে আহমদ ইবনে সাঈদ আবু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক ইবনে মানসূর থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমি বারা (রা.)-কে বলতে শুনেছি: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচাইতে সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং শারীরিক গঠনেও ছিলেন সর্বোত্তম; তিনি অত্যধিক দীর্ঘও ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না।) এটি মুসলিম আবু কুরাইব থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। - আবু উবায়দাহ ইবনে আম্মার ইবনে ইয়াসির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রুবাইয়্যি বিনতে মুয়াব্বিয ইবনে আফরাকে বললাম, আপনি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: "হে বৎস! তুমি যদি তাঁকে দেখতে, তবে মনে হতো যেন উদিত সূর্য দেখছ।" দারেমী এটি বর্ণনা করেছেন / মিশকাতুল মাসাবীহ ২/৫১৭।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌حرب الفِجَار

الْحَرْبُ فِي طَيَّاتِهَا تَهْلُكَةٌ … وَبِئْسَهَا فِي الْأَشْهُرِ الْحَرَامِ

قَدْ قَتَلَ الْبَرَّاضُ فِي تَفَاخُرٍ(1) … ثَلَاثَةً مِنْ زُمْرَةِ الْكِرَامِ

دَعَا إِلَى الصُّلْحِ رِجَالُ حِكْمَةٍ … مَا أَقْبَحَ الْفُجْرَ مَعَ الْخِصَامِ!

فَدِيَةٌ تَفْصِلُ فِي خُصُومَةٍ … وَأُذْعِنَ الْجَمِيعُ لِلْحُكَّامِ

كَمْ أَظْهَرَ الْحَبِيبُ مِنْ شَجَاعَةٍ! … قَدْ عَجِبُوا مِنَ الْفَتَى الْهُمَامِ

أَعَدَّ لِلْأَعْمَامِ نَبْلاً فَرِحًا(2) … مَا خَافَ مِنْ مَوْتٍ وَلَا حُسَام

 

‌‌حلف الفُضُولِ

حِلْفُ الْفُضُولِ كَانَ فِي عَشِيرَةٍ … هُمْ قِبْلَةُ الْعَدْلِ مِنَ الشُّجْعَانِ

فَالْحَقُّ عِنْدِي أَنَّهُمْ قَدْ جُمِّعُوا(3) … لِنُصْرَةِ الْمَظْلُومِ فِي الْبُلْدَانِ

أَيَا زُبَيْدِيُّ وَجَدْتَ مُنْصِفًا(4) … أَتَأْخُذُ الْمَالَ بِلَا نُقْصَانِ

رَعَى النَّبِيُّ نَفْسُهُ أَغْنَامًا … أَطْلَقَهَا الْحَبِيبُ فِي الْوِدْيَان

--------------------------------------------

(1) البرَّاضُ بن قَيْسِ بن رَافِعِ الكِنَانِي اغْتَالَ ثَلاثَةً مِنْ رِجَالِ قَيْسِ عَيْلَان فوقعت الحَرْبُ بين قريش ومعهم كِنَانَة ضد قَيْسِ عَيْلَان وكَانَ البرَّاضُ مِنْ كِنَانَة وكان قائد قريش وكِنَانَة هو (حَرْبُ بن أُمَيَّة).

(2) انظر ابن هشام 1/ 184 - 187، شَارَكَ النَّبِيُّ (صلى الله عليه وسلم) فِي حَرْبِ الفِجَار وكَانَ يَعُدُّ النَّبْلَ لِلأعْمَامِ.

(3) جُمِّعُوا فِي دار عبد الله بن جُدْعَان.

(4) انظر الطَّبقات لابن سعد والتفصيل أنَّ العَاصَ بن وائل السَّهمي اشترى بضاعةً مِنْ رَجُلٍ مِنْ زُبَيْد وَحَبَسَهُ حَقَّهُ فاستعدى عليه الأحْلَافَ حَتَّى عَقَدُوا حِلْفَ الفُضُولِ فَرُدَّ لِلزُّبَيْدِيِّ حَقُّه.
‌‌ফিজারের যুদ্ধ

যুদ্ধের পরতে পরতে রয়েছে ধ্বংসলীলা … আর নিষিদ্ধ মাসগুলোতে তা কতই না নিকৃষ্ট!

আল-বাররাদ দম্ভভরে হত্যা করেছে(১) … সম্মানিত দলের তিন ব্যক্তিকে।

প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ সন্ধির আহ্বান জানিয়েছেন … বিবাদের সাথে পাপাচার কতই না কদর্য!

রক্তপণ এই বিবাদের মীমাংসা করে দেয় … এবং সকলে বিচারকদের সিদ্ধান্তে অনুগত হয়।

প্রিয়নবী কতই না বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন! … তারা এই তেজস্বী যুবককে দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়েছিল।

তিনি সানন্দে চাচাদের জন্য তীরের জোগান দিচ্ছিলেন(২) … মৃত্যু বা তলোয়ারের কোনো ভয় তিনি পাননি।

 

‌‌হিলফুল ফুদুল

হিলফুল ফুদুল এমন এক বংশে সংঘটিত হয়েছিল … যারা ছিল বীরদের মাঝে ইনসাফের কেন্দ্রবিন্দু।

আমার কাছে সত্য এই যে, তারা সমবেত হয়েছিল(৩) … জনপদে মজলুমের সহায়তার জন্য।

হে জুবাইদ গোত্রের লোক, তুমি একজন ইনসাফকারী পেয়েছ(৪) … তুমি তোমার অর্থ পূর্ণাঙ্গভাবেই বুঝে পাবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ছাগল চড়িয়েছেন … প্রিয়নবী সেগুলোকে উপত্যকাসমূহে ছেড়ে দিতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-বাররাদ ইবনে কায়স ইবনে রাফে আল-কিনানি কায়স আয়লানের তিন ব্যক্তিকে চোরাগুপ্তা হত্যা করে, যার ফলে কায়স আয়লানের বিরুদ্ধে কুরাইশ ও তাদের মিত্র কিনানার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। কিনানা গোত্রের লোক ছিল আল-বাররাদ এবং কুরাইশ ও কিনানার সেনাপতি ছিল (হারব ইবনে উমাইয়াহ)।

(২) ইবনে হিশাম ১/ ১৮৪ - ১৮৭ দ্রষ্টব্য। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিজার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর চাচাদের তীরের জোগান দিচ্ছিলেন।

(৩) তারা আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে সমবেত হয়েছিল।

(৪) ইবনে সা’দ-এর তাবাকাত দ্রষ্টব্য। বিস্তারিত বিবরণ হলো যে, আস ইবনে ওয়াইল আস-সাহমি জুবাইদ গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট থেকে কিছু পণ্য ক্রয় করে তার পাওনা আটকে রাখে। অতঃপর ভুক্তভোগী ব্যক্তি মিত্রদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে তারা ‘হিলফুল ফুদুল’ চুক্তি সম্পাদন করে এবং জুবাইদ গোত্রের লোকটিকে তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌زواج النَّبيّ (صلى الله عليه وسلم) «من خديجة»

خَدِيجَةُ الطُّهْرِ رَأَتْ مُحَمَّدًا … وَالْحُسْنُ بَعْضٌ مِنْ سَنَا نَبِينَا

اسْتَوْدَعَتْهُ مَالَهَا مَحَبَّةً … فَقَدْ رَأَتْهُ صَادِقًا أَمِينَا

وَكَانَ مَيْسَرَةُ خَيْرَ خَادِمٍ … بِأَعْذَبِ الْخِصَالِ قَدْ رُوِينَا

وَأَنْجَبَتْ لَهُ البَنِينَ سَادَةً … بِأَنْعُمِ الْكَرِيمِ قَدْ رَضِينَا

بغُصْنِهَا أَرْبَعُ زَهْرَاوَاتٍ … قَدِ اسْتَقَيْنَ عِزَّةً وَدِينَا(1)

مَاتَ الْبَنُونَ كُلُّهُمْ فِي صِغَرٍ … فَالصَّبْرُ زَادُنَا إِنِ ابْتُلِينَا(2)

--------------------------------------------

(1) ولَدَتْ القَاسِمَ وزَيْنَبَ ورُقيَّةَ وفَاطِمَةَ الزَّهْرَاءَ وعَبْدَ الله المُلَقَّب بِالطَّاهِرِ وأمَّ كُلْثُوم.

(2) أدرك البناتُ الإسْلَامَ وَمِتْنَ فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم) سِوَى فَاطِمَةَ عَاشَتْ سِتَّةَ أَشْهُرٍ بَعْدَ أَبِيهَا ثُمَّ مَاتَتْ - انظر ابن هشام 1/ 189 وفتح الباري 7/ 105 وتلقيح فهوم أهل الأثر ص 7.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিবাহ

পবিত্র খাদিজা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছিলেন … আর সৌন্দর্য হলো আমাদের নবীর নূরেরই অংশবিশেষ।

তিনি ভালোবাসাবশত তাঁর নিকট নিজ সম্পদ গচ্ছিত রেখেছিলেন … কারণ তিনি তাঁকে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হিসেবে পেয়েছিলেন।

মায়সারা ছিলেন এক উত্তম সেবক … আমরা সবচেয়ে মাধুর্যপূর্ণ গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছি।

তিনি তাঁর গর্ভে সম্ভ্রান্ত সন্তানদের জন্ম দিয়েছিলেন … মহান দয়াময়ের অনুগ্রহে আমরা সন্তুষ্ট।

তাঁর শাখায় ছিল চারটি প্রস্ফুটিত পুষ্প … যারা মর্যাদা ও দ্বীন দ্বারা সিক্ত হয়েছিল।(১)

পুত্রদের সকলেই শৈশবে ইন্তেকাল করেছিল … সুতরাং আমরা পরীক্ষিত হলে ধৈর্যই আমাদের পাথেয়।(২)

--------------------------------------------

(১) তিনি কাসিম, যায়নাব, রুকাইয়্যাহ, ফাতিমা আয-যাহরা, আব্দুল্লাহ (যাঁর উপাধি ছিল আত-তহির) এবং উম্মু কুলসুমকে জন্ম দিয়েছিলেন।

(২) কন্যারা ইসলাম পেয়েছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেন, কেবল ফাতিমা ব্যতীত; তিনি তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর ছয় মাস জীবিত ছিলেন, তারপর ইন্তেকাল করেন। - দেখুন: ইবনে হিশাম ১/১৮৯, ফাতহুল বারী ৭/১০৫ এবং তালকিহ ফুহুম আহলিল আসার, পৃষ্ঠা ৭।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌بناء الكعبة وقصة التَّحكيم

يَا أَسَفًا قَدْ جَاءَ سَيْلٌ عَرِمٌ … أَضَرَّ بِالْكَعْبَةِ فِي الْأَنْبَاءِ

يَأْتِي الْوَلِيدُ حَامِلاً بِمِعْوَلٍ(1) … وَمُسْرِعًا فِي الْهَدْمِ بِاجْتِرَاءِ

فَإِنَّمَا لِكُلِّ قَوْمٍ جُزْءٌ … بَاقُومُ قَدْ أَسْرَعَ فِي الْبِنَاءِ

وَأَبْعَدُوا مَا كَانَ مِنْ مُحَرَّمٍ(2) … حُبًّا لِتِلْكَ الْكَعْبَةِ الْغَرَّاءِ

مَنْ يَضَعُ الْحَجَرَ فِي مَكَانِهِ … تَنَازَعَ السَّادَةُ فِي الْأَنْحَاءِ

فَحَكَّمُوا مَنْ يَأْتِهِمْ مُسْتَشْرِفًا … فَكَانَ نَبْعَ الْعَدْلِ وَالصَّفَاءِ

فَهَلْ تَرَى مَاذَا الْحَبِيبُ فَاعِلٌ؟ … قَدْ مَسَكَ الْجَمِيعُ بِالرِّدَاءِ(3)

وَعَصَمَ اللهُ لَنَا نَبِيَّنَا … طَهَّرَهُ مِنْ بَطَرِ الْأَهْوَاءِ

مَا شَرِبَ الْخَمْرَ بِيَوْمٍ أَبَدًا … فَهُوَ ذُو الْبَدِيهَةِ الْعَصْمَاءِ

قَدْ حُفِظَ الْحَبِيبُ مِنْ غِوَايَةٍ … جُمِّلَ بِالْحِكْمَةِ والنَّقَاءِ

أَرَادَ أَنْ يَسْمُرَ ذَاتَ لَيْلَةٍ(4) … لَكِنَّهُ نَجَا مِنَ الْإغْوَاء

--------------------------------------------

(1) الوَلِيدُ بن المُغِيرَة.

(2) أبعدوا كُلَّ مَالِ رِبَا وكُلَّ مَهْرِ بَغِيّ فلم يُدْخِلُوا شَيْئًا مِنْ هذه الأموال فِي بِنَاءِ الْكَعْبَةِ.

(3) وَضَعَ النَّبِيُّ (صلى الله عليه وسلم) الحَجَرَ الأسْوَدَ على رِدَاءٍ وأَمْسَكَتْ كلُّ قبيلةٍ بطرف مِنْ أطراف الرِّدَاءِ ووضعوه جَمِيعًا فِي مكانه، وتَوَّلَى البِنَاءَ رَجُلٌ رُومِيٌّ اسْمُهُ (بَاقُوم) وكَانَ بَنَّاءً.

(4) أرَادَ أنْ يَسْمُرَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَضُرِبَ على أُذُنِهِ نَوْمٌ. انظر ابن هشام 1/ 128 وتاريخ الطَّبري 2/ 161.
কাবা নির্মাণ ও সালিশির কাহিনী

হায় আফসোস! এক প্রলয়ঙ্কারী বন্যা এলো … সংবাদ অনুযায়ী যা কাবার ক্ষতিসাধন করল।

ওয়ালিদ হাতে কুড়াল নিয়ে আসলেন(১) … আর সাহসের সাথে দ্রুত তা ভেঙে ফেলতে শুরু করলেন।

কেননা প্রতিটি গোত্রের জন্য একটি অংশ নির্ধারিত ছিল … বাকুম নির্মাণ কাজে দ্রুত অগ্রসর হলেন।

আর তারা সমস্ত হারাম বর্জন করেছিলেন(২) … সেই উজ্জ্বল কাবার প্রতি ভালোবাসার কারণে।

কে পাথরটিকে তার স্থানে স্থাপন করবেন? … চতুর্দিক থেকে সরদাররা বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন।

অতঃপর তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, প্রথম আগমনকারীকে তারা সালিশ মানবেন … আর তিনি ছিলেন ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার উৎস।

তুমি কি দেখছো প্রিয়তম কী করলেন? … প্রত্যেকেই চাদরের প্রান্ত ধরে থাকল।(৩)

আল্লাহ আমাদের জন্য আমাদের নবীকে রক্ষা করেছেন … কুপ্রবৃত্তির দম্ভ থেকে তাঁকে পবিত্র করেছেন।

তিনি কোনোদিন মদ পান করেননি … কারণ তিনি ছিলেন অভ্রান্ত সহজাত বুদ্ধিসম্পন্ন।

প্রিয়তমকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে … প্রজ্ঞা ও পরিচ্ছন্নতা দিয়ে তাঁকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হয়েছে।

এক রাতে তিনি গল্পগুজব করে কাটাতে চেয়েছিলেন(৪) … কিন্তু তিনি প্রলোভন থেকে বেঁচে গেলেন।

--------------------------------------------

(১) ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহ।

(২) তারা সুদের সমস্ত অর্থ এবং ব্যভিচারের সমস্ত উপার্জন বর্জন করেছিলেন, তাই কাবার নির্মাণকাজে এসব অর্থের কিছুই তারা ব্যবহার করেননি।

(৩) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজরে আসওয়াদকে একটি চাদরের ওপর রাখলেন এবং প্রতিটি গোত্র চাদরের এক একটি প্রান্ত ধরল এবং তারা সকলে মিলে সেটিকে তার স্থানে স্থাপন করল। নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন বাকুম নামক একজন রোমান ব্যক্তি, তিনি ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রী।

(৪) তিনি এক রাতে গল্পগুজব করে কাটাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর কানে ঘুমের আঘাত হানা হলো (তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলেন)। দেখুন: ইবনে হিশাম ১/১২৮ এবং তারিখুত তাবারী ২/১৬১।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌حياة النَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم) والرِّسَالة والدَّعوة

يَا جَبَلَ النُّورِ كَفَاكَ عِزَّةً … فَإِنَّ فِيكَ خُلْوَةَ الطَّاعَاتِ

الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى مِنَّتِهِ … وَمَنْ لَهُ الشُّكْرُ عَلَى النِّعْمَاتِ

نَلُوذُ بِالرَّحْمَنِ فِي ضَرَاعَةٍ … فَإِنَّهُ الْغَافِرُ لِلزَّلَّاتِ

جِبْرِيلُ قَدْ أَتَى النَّبِيَّ مُشْرِقًا … مَا أَجْملَ الْحِلْمَ مَعَ الثَّبَاتِ!

وَغَطَّهُ الْمُرْسَلُ تِلْوَ مَرَّةٍ … مَا قَرَأَ الْمَحْمُودُ فِي الصِّفَاتِ

فَغَطَّهُ مِنْ بَعْدِهَا ثَالِثَةً … أَرْسَلَهُ لِيَتْلُوَ الْآيَاتِ

وَهَدَّأَتْهُ زَوْجُهُ مِنْ فَزَعٍ … فِدَاكَ نَفْسِي نَضْرَةَ الْجَنَّاتِ

تَصِلُ كُلَّ رَحِمٍ مَحَبَّةً … كَالنَّجْمِ يَبْدُو فِي سَمَا الرَّوْضَاتِ

وَرَقَةُ الْعِلْمِ يُقِرُّ مُوقِنًا(1) … بِأَنَّهَا بشَائِرُ الْخَيْرَاتِ

مُحَمَّدٌ أَنْتَ نَبِيٌّ مُرْسَلٌ … فَاصْبِرْ عَلَى الْأَذَى مِنَ السَّادَاتِ

أَنْذِرْ نَبِيَّنَا نَعَمْ عَشِيرَةً … فَقَدْ مَضَتْ نَسَائِمُ الرَّاحَاتِ

بِدَايَةُ الْوَحْيِّ رُؤَى صَادِقَةٌ … مَا أَجْمَلَ الرُّؤَى الْمُبَشِّرَاتِ!

وَنَفْثُ جِبْرِيلَ نَعَمْ فِي رَوْعِهِ … أوْ يَتَمَثَّلُ كَرِيمُ الذَّاتِ

صَلْصَلَةُ الْجَرَسِ تَسْقِي قَلْبَهُ … بَصَائِرَ الْحِكْمَةِ والْعِظَاتِ

وَأَنْ يَرَى الْأَمِينَ فِي صُورَتِهِ … كَالْقَمَرِ السَّاطِعِ فِي الرَّبْوَاتِ(2)

بلْ كَلَّمَ الْجَلِيلَ فِي مِعْرَاجِهِ(3) … أَكْرَمَهُ مُقَسِّمُ الْأَقْوَات

--------------------------------------------

(1) وَرَقَةُ بِن نَوْفَل بن أسد بن عبد العُزَّى وهو ابنُ عمِّ السَّيدة خَدِيجَة وكان رَجُلاً نَصْرَانِيًّا، وقَالَ وَرَقَةُ للنَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم): هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللهُ عَلَى مُوسَى. وَقَالَ: لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ. فَقَالَ رَسُولُ الله (صلى الله عليه وسلم): أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ؟ قَالَ: نَعَمْ لمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا عُودِيَ، وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا.

(2) انظر أقسام الوحي ومراتبه الرَّحيق المختوم ص 78 - 79.

(3) كلام الله بلا واسطة كما كلَّم مُوسَى بن عمران، وكما ثَبَتَ هذا الأمر لموسى عليه السلام ثبت لنَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ (صلى الله عليه وسلم) (وهو فِي حديث الإسراء).
‌নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন, রিসালাত ও দাওয়াত

হে জাবালে নূর (নূরের পাহাড়)! তোমার মর্যাদাই যথেষ্ট … কেননা তোমার মধ্যেই রয়েছে ইবাদতের নির্জনতা।

আল্লাহর প্রশংসা তাঁর অনুগ্রহের জন্য … এবং নিআমতরাজির জন্য একমাত্র তাঁরই কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য।

আমরা অতি কাকুতি-মিনতির সাথে রহমানের আশ্রয় চাই … কেননা তিনি ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমাকারী।

জিবরাঈল উজ্জ্বল রূপে নবীর কাছে এসেছেন … স্থিরতার সাথে ধৈর্য ও সহনশীলতা কতই না সুন্দর!

প্রেরিত ফেরেশতা তাঁকে একে একে বারবার আলিঙ্গন করলেন … সেই প্রশংসিত গুণাবলি (নবী) পাঠ করেননি।

অতঃপর তৃতীয়বার তাঁকে আলিঙ্গন করলেন … আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করার জন্য।

তাঁর স্ত্রী তাঁকে আতঙ্ক থেকে আশ্বস্ত করলেন … আপনার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক, হে জান্নাতের সজীবতা।

আপনি ভালোবাসার সাথে সকল আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন … ঠিক যেন উদ্যানের আকাশে উদিত নক্ষত্রের মতো।

জ্ঞানের অধিকারী ওরাকা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে স্বীকার করছেন(১) … নিশ্চয়ই এগুলো কল্যাণের সুসংবাদ।

হে মুহাম্মদ! আপনি একজন প্রেরিত নবী … অতএব নেতাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধরুন।

হ্যাঁ, হে আমাদের নবী! আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন … কারণ আরামের স্নিগ্ধ বাতাস এখন বিদায় নিয়েছে।

ওহীর সূচনা ছিল সত্য স্বপ্ন দ্বারা … সুসংবাদবাহী স্বপ্নসমূহ কতই না সুন্দর!

এবং জিবরাঈল তাঁর অন্তরে ওহী ফুঁকে দিতেন … অথবা তিনি (জিবরাঈল) মানুষের বেশ ধারণ করতেন।

ঘণ্টার আওয়াজের মতো আসা ওহী তাঁর অন্তরকে সিক্ত করত … হিকমত ও নসিহতের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে।

এবং আমানতদার ফেরেশতাকে তাঁর নিজ আকৃতিতে দেখা … ঠিক পাহাড়ের ওপর উজ্জ্বল চাঁদের মতো।(২)

বরং তিনি তাঁর মিরাজে মহান মহিমান্বিত আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন(৩) … রিজিক বণ্টনকারী আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ওরাকা বিন নওফাল বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা, তিনি ছিলেন সায়্যিদা খাদিজার চাচাতো ভাই এবং তিনি খ্রিস্টান ছিলেন। ওরাকা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: এটি সেই বার্তাবাহক ফেরেশতা (নামুস) যাকে আল্লাহ মূসার ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন: হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যখন আপনার কওম আপনাকে বের করে দেবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তারা কি আমাকে বের করে দেবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার অনুরূপ কিছু নিয়ে যখনই কেউ এসেছেন তখনই তার সাথে শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আপনার সেই দিনটি আমি পাই, তবে আপনাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব।

(২) ওহীর প্রকারভেদ ও স্তরসমূহ দেখুন: আর-রাহীকুল মাখতূম, পৃষ্ঠা ৭৮ - ৭৯।

(৩) কোনো মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহর সাথে কথোপকথন, যেমনটি তিনি ইমরানের পুত্র মূসার সাথে কথা বলেছিলেন। আর এই বিষয়টি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য যেমন প্রমাণিত, তেমনি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্যও প্রমাণিত (আর এটি ইসরা ও মিরাজের হাদিসে রয়েছে)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الدَّعوة جِهَارًا

نَادَى الْحَبِيبُ فِي جِهَارٍ قَوْمَهُ … تَصْحَبُهُ مَعِيَّةُ الرَّحْمَنِ

يَا قَوْمَنَا إِنِّي لَكُمْ بِنَاصِحٍ … نَعَمْ؛ أَجِيبُونِي بَنِي الْإِنْسَانِ

مَا أَخْوَفَ الْحِسَابَ فِي يَوْمِ غَدٍ! … هَيَّا احْذَرُوا قَوْمِي مِنَ الْخُسْرَانِ

وَصَعِدَ الصَّفَا حَبِيبِي مُنْذِرًا(1) … يَصْدَحُ فِي بَسَالَةِ الشُّجْعَانِ

سُبْحَانَ مَنْ يَمْلِكُ كُلَّ أَمْرِنَا … هَيَّا انْزَعُوا وَسَاوِسَ الشَّيْطَانِ

فَإِنَّمَا اللهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ … خَالِقُنَا وَمُبْدِعُ الْأَكْوَانِ

قَالَ أَبُو لَهَبِ: تَبًّا سَاخِرًا … أَتَجْمَعُ الْقَوْمَ لِذَاكَ الشَّانِ

قَالُوا مُحَمَّدٌ بِحَقٍّ كَاهِنٌ … كَلَّا؛ فَمَا هُوَ مِنَ الْكُهَّانِ

بَلْ إِنَّهُ مُرْشِدُنَا لِخَالِقٍ … فَلَا بِمَجْنُونٍ وَلَا خَوَّانِ

وَمَا نَرَاهُ شَاعِرًا فِي قَوْلِهِ … كَفَاهُ لَا يَهِيمُ فِي الْوِدْيَانِ

يَا وَيْحَكُمْ لَيْسَ النَّبِيُّ سَاحِرًا … فَبِئْسَ كُلُّ سَاحِرٍ فَتَّانِ

مَا ضَيْرُكُمْ نَشْأَتُهُ فِي يُتْمٍ … خُلِّدَ ذِكْرُهُ بِلَا نِسْيَانِ

حَسْبُكَ يَا نَضْرُ كَفَاكَ فِرْيَةً(2) … فَلَنْ تَصُدَّنَا عَنِ الْقُرْآنِ

تَحْكِي أَسَاطِيرًا بِلَا هَوَادَةٍ … مِنْ سَالِفِ الدُّهُورِ وَالْأَزْمَان

--------------------------------------------

(1) صَعِدَ النَّبِيُّ (صلى الله عليه وسلم) يَوْمًا على الصَّفا ثمَّ هتف «يا صُبَاحَاه» وهي كلمة إنْذَار، فَأَسْرَعَ النَّاسُ إليه، فلمَّا اجْتَمَعُوا قال: «أرأيتكم لو أخبرتكم أَنَّ خَيْلاً بالوادي بسَفْحِ هذا الجبل تريد أنْ تغير عليكم، أكنتم مُصَدِّقِيّ؟» قالوا: نعم، ما جرَّبنا عليك كَذِبًا مَا جَرَّبْنَا عليْك إلَّا صِدْقًا.

قال: «فَإِنِّي نذيرٌ لكم بين يَدَيْ عذابٍ شديد وإنَّما مَثَلِي ومَثَلُكُم كَمَثَلِ رَجُلٍ رَأَى الْعَدُوَّ فانْطلقَ يرْبَأُ بِأَهْلِهِ فخشِيَ أنْ يَسْبِقُوه فجعل يُنادِي: يَا صُبَاحَاه». فلمَّا أتَمَّ الإنْذَارَ قال له عَمُّهُ أبُو لَهَبٍ (تَبًّا لك ألهذا جمعتنا؟).

(2) النَّضْرُ بن الحَارِث كَانَ يَصُدُّ النَّاسَ عَنْ سَمَاعِ القُرْآنِ ويَحْكِي أسَاطِيرَ رُسْتُمَ وإِسْفَنْدِيَار.

انظر ابن هشام 1/ 299 - 300.
প্রকাশ্যে দাওয়াত

প্রিয় নবী প্রকাশ্যে তাঁর কওমকে আহ্বান করলেন … তাঁর সাথে ছিল রহমানের সঙ্গ

হে আমার কওম! আমি তোমাদের জন্য একজন হিতাকাঙ্ক্ষী … হ্যাঁ, হে মানবসন্তান! আমাকে সাড়া দাও

আগামীকালের বিচারের দিনটি কতই না ভয়াবহ! … হে আমার কওম! এসো, তোমরা ক্ষতি থেকে সতর্ক হও

আমার প্রিয় নবী সতর্ককারী হিসেবে সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন(১) … তিনি বীরদের সাহসিকতার সাথে উচ্চস্বরে ঘোষণা করছেন

পবিত্রতা তাঁর, যিনি আমাদের সকল বিষয়ের মালিক … এসো, তোমরা শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করো

কেননা আল্লাহই একমাত্র ইলাহ … আমাদের স্রষ্টা এবং মহাবিশ্বের উদ্ভাবক

আবু লাহাব উপহাস করে বলল: তোমার ধ্বংস হোক … তুমি কি এই কাজের জন্যই লোকজনকে জড়ো করেছ?

তারা বলল: মুহাম্মদ তো নিশ্চিতভাবেই একজন গণক … কক্ষনো নয়; তিনি গণকদের অন্তর্ভুক্ত নন

বরং তিনি আমাদের স্রষ্টার দিকে পথপ্রদর্শক … তিনি পাগল নন এবং প্রতারকও নন

আমরা তাঁর কথায় তাঁকে কবি হিসেবে দেখি না … এটাই যথেষ্ট যে তিনি উপত্যকায় উপত্যকায় উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ান না

তোমাদের জন্য আফসোস! নবী কোনো জাদুকর নন … সুতরাং বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী প্রত্যেক জাদুকরই কতই না নিকৃষ্ট

তিনি এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠায় তোমাদের কী ক্ষতি? … তাঁর স্মরণ বিস্মৃতিহীনভাবে চিরস্থায়ী হয়েছে

হে নযর! তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে, মিথ্যাচার বন্ধ করো(২) … তুমি আমাদের কুরআন থেকে কক্ষনো বিচ্যুত করতে পারবে না

তুমি বিরতিহীনভাবে উপকথা বর্ণনা করছ … অতীত যুগ ও কালসমূহের

--------------------------------------------

(১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন, অতঃপর উচ্চস্বরে ডাক দিলেন "ইয়া সাবাহাহ" (বিপদ সংকেত), যা একটি সতর্কবাণী। ফলে মানুষ দ্রুত তাঁর কাছে ছুটে এল। যখন তারা সমবেত হলো, তিনি বললেন: "তোমরা কী মনে করো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, এই পাহাড়ের পাদদেশে উপত্যকায় একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল: "হ্যাঁ, আমরা আপনার ব্যাপারে কোনো মিথ্যার অভিজ্ঞতা পাইনি, আমরা আপনার মাঝে কেবল সত্যই দেখেছি।"

তিনি বললেন: "আমি তোমাদের জন্য এক কঠোর আজাবের প্রাক্কালে সতর্ককারী। আমার এবং তোমাদের দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির মতো যে শত্রুকে দেখে স্বগোত্রীয়দের রক্ষা করার জন্য ছুটে গেল এবং আশঙ্কা করল যে শত্রুরা হয়তো তাকে ছাড়িয়ে যাবে, তাই সে উচ্চস্বরে ডাকতে লাগল: ইয়া সাবাহাহ।" যখন তিনি সতর্কবাণী শেষ করলেন, তখন তাঁর চাচা আবু লাহাব তাঁকে বলল: (তোমার ধ্বংস হোক! এই জন্যই কি তুমি আমাদের একত্র করেছ?)।

(২) নযর বিন হারিস মানুষকে কুরআন শোনা থেকে বিরত রাখত এবং রুস্তম ও ইসফানদিয়ারের উপকথা শোনাত।

ইবনে হিশাম ১/ ২৯৯ - ৩০০ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مُصْعَبُ ذُو بَصِيرَةٍ وَحِكْمَةٍ … سَفِيرُنَا فِي الْعِلْمِ وَالتِّبْيَانِ

صُهَيْبُ قَدْ عُذِّبَ فِي ضَرَاوَةٍ(1) … فَآثَرَ الْحَقَّ عَلَى الْبُطْلَانِ

بِلَالُ قَدْ آذَوْهُ فِي تَجَبُّرٍ(2) … تَحَمَّلَ الصَّبْرَ عَلَى الطُّغْيَانِ

سُمَيَّةُ الطُّهْرِ لَهَا مَنْزِلَةٌ(3) … غَدًا بِدَارِ الْخُلْدِ وَالرِّضْوَان

--------------------------------------------

(1) انظر طبقات ابن سعد 3/ 248 صهيب بن سِنَانَ الرُّومِيّ.

(2) بلال بن رباح اشتراه أبو بكر بخمس أو بسبع أوَاقٍ من الفِضَّةِ وأعتقه. انظر ابن هشام 1/ 317 - 318 وتلقيح فهوم أهل الأثر ص 61.

(3) سُمَيَّةُ بنت خُيَّاط- (وقيل خُبَّاط-) أمُّ عمَّار بن يَاسِر أوَّلُ شَهِيدَةٍ فِي الإسْلَام.
মুসআব প্রজ্ঞা ও হিকমতের অধিকারী … জ্ঞান ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমাদের দূত

সুহাইবকে কঠোরভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল(১) … অতঃপর তিনি মিথ্যার উপরে সত্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন

বিলালকে তারা ঔদ্ধত্যের সাথে কষ্ট দিয়েছিল(২) … তিনি সীমালঙ্ঘনের মুখে ধৈর্য ধারণ করেছেন

পবিত্র সুমাইয়ার জন্য রয়েছে এক উচ্চ মর্যাদা(৩) … আগামী দিনে চিরস্থায়ী নিবাস ও সন্তুষ্টির ঘরে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তবাকাতু ইবনে সাদ ৩/২৪৮, সুহাইব ইবনে সিনান আর-রুমি।

(২) বিলাল ইবনে রাবাহ, আবু বকর তাঁকে পাঁচ বা সাত উকিয়া রূপার বিনিময়ে ক্রয় করেন এবং মুক্ত করে দেন। দেখুন: ইবনে হিশাম ১/৩১৭-৩১৮ এবং তালকীহু ফুহূমি আহলিল আসার, পৃষ্ঠা ৬১।

(৩) সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত- (কারো মতে খুব্বাত-) আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মাতা এবং ইসলামের প্রথম নারী শহীদ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌وفد قريش إلى أبي طالب

قَدْ أَقْبَلَتْ قُرَيْشُ ذَاتَ مَرَّةٍ … أَخُصُّهُمْ أَكَابِرَ السَّادَاتِ

مَا أَجْمَلَ الْمُخْتَارَ كَانَ صَابِرًا! … وَصَامِدًا فِي غَايَةِ الثَّبَاتِ

لَوْ وَضَعُوا الشَّمْسَ يَمِينِي صِدْقًا … ثُمَّ أَتَوْا بِقَمَرِ الرَّبْوَاتِ

لَنْ أَتْرُكَ الْأَمْرَ فَإنِّي مُرْسَلٌ … وَإِنْ بَدَا فِيهِ هَلَاكُ الذَّاتِ

وَلَنْ يَكُونَ ابْنُ زِيَادٍ مُغْنِيًا(1) … إِنَّ النَّبِيَّ مَنْبَعُ الْخَيْرَاتِ

فَإِنَّهُ صَفِيُّنَا ذُو رِفْعَةٍ … عَدُوُّهُ الْأَبْتَرُ فِي شَتَاتِ(2)

وَخَصْمُهُ اللَّدُودُ تَبَّتْ يَدُهُ(3) … يَسْقِي جُذُورَ الشَّرِّ وَالْفَاقَاتِ

أَرْوَى أَتَحْمِلِينَ شَوْكًا جَارِحًا(4) … قَدِ اكْتَسَيْتِ الذُّلَّ فِي الْآيَاتِ

فَإِنَّمَا قَدْ أُغْشِيَتْ بَصِيرَةٌ … تَعِيشُ فِي الْفُجُورِ وَالزَّلَّاتِ

أَرَاكَ فِرْعَوْنُ بِلَا رَوِيَّةٍ(5) … تَمْنَعُ نَاسِكًا مِنَ الطَّاعَاتِ

تُصْلَى غَدًا بِالنَّارِ فِي سَعِيرِهَا … سُحْقًا لِأهْلِ الشِّرْكِ وَالْفِتْنَات

--------------------------------------------

(1) عِمَارَةُ بن زِيَاد.

(2) انظر تفسير ابن كثير سورة الكوثر 4/ 595.

(3) أَبُو لَهَبِ عَمُّ النَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم).

(4) أمُّ جميل (أرْوَى بنت حرب بن أُمَيَّة).

(5) فِرْعَوْنُ الأُمَّةِ (عَمْرُو بن هِشَام) أبُو جَهْل.
আবু তালিবের নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিদল

একদা কুরাইশগণ উপস্থিত হলো … বিশেষ করে তাদের বড় বড় সরদারগণ

মনোনীত নবী কতই না সুন্দর, তিনি ধৈর্যশীল ছিলেন! … এবং পূর্ণ অটলতায় অবিচল ছিলেন

তারা যদি সত্যিই আমার ডান হাতে সূর্যকে রেখে দেয় … অতঃপর উচ্চভূমির চাঁদকেও নিয়ে আসে

আমি এ দাওয়াতের কাজ পরিত্যাগ করব না, কারণ আমি প্রেরিত রাসুল … যদিও এতে নিজের ধ্বংসের সম্ভাবনা প্রকাশ পায়

আর ইবনে যিয়াদ কোনো উপকারে আসবে না(১) … নিশ্চয়ই নবী হলেন সকল কল্যাণের উৎস

কারণ তিনি আমাদের মনোনীত ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী … তাঁর শত্রু হলো নির্বংশ এবং ছিন্নভিন্ন(২)

আর তাঁর ঘোর শত্রু, তার হাত ধ্বংস হোক(৩) … সে অনিষ্ট ও অভাবের মূলে পানি সেচন করে

হে আরওয়া! তুমি কি ক্ষত সৃষ্টিকারী কাঁটা বহন করছ?(৪) … তুমি তো কুরআনের আয়াতে লাঞ্ছনার পোশাক পরিধান করেছ

কেননা অন্তরদৃষ্টি তো আচ্ছন্ন হয়ে গেছে … যা পাপাচার ও পদস্খলনের মধ্যে নিমজ্জিত

আমি তোমাকে দেখছি হে অবিবেচক ফিরআউন(৫) … যে একজন ইবাদতকারীকে আনুগত্যের কাজে বাধা দিচ্ছ

আগামীকাল তুমি লেলিহান আগুনের শিখায় দগ্ধ হবে … ধ্বংস হোক শিরক ও ফিতনাকারীদের জন্য

--------------------------------------------

(১) উমারা ইবনে যিয়াদ।

(২) ইবনে কাসীরের তাফসীর দেখুন, সূরা আল-কাওসার ৪/ ৫৯৫।

(৩) আবু লাহাব, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাচা।

(৪) উম্মে জামিল (আরওয়া বিনতে হারব ইবনে উমাইয়া)।

(৫) এই উম্মতের ফিরআউন (আমর ইবনে হিশাম) আবু জাহল।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌دار الأرقم والهجرة إلى الحبشة

اجْتَمَعَ الْقَوْمُ بِدَارِ رِفْعَةٍ … فَأَرْقَمُ الْخَيْرِ مِنَ الشُّجْعَانِ(1)

وَهَاجَرَ الْبَعْضُ بِلَا تَرَدُّدٍ … هُمْ آثَرُوا الرَّحِيلَ لِلْأَمَانِ

وَسَجَدَتْ قُرَيْشُ ذَاتَ مَرَّةٍ(2) … قَدْ سَمِعُوا الْآيَاتِ بِاطْمِئْنَانِ

فَرَجَعَ النَّاسُ بِكُلِّ شَوْقِهِمْ … مَا وَجَدُوا مَعَالِمَ الرِّضْوَانِ

وَإِنَّمَا الْبَغْيُ بِلَا هَوَادَةٍ … فَعَوْدَةٌ لِأَصْدَقِ الْخِلَّانِ

كَفَاكَ يَا عَمْرُو دَهَاءَ حِيلَةٍ(3) … فَالْمَكْرُ مِنْ غِوَايَةِ الشَّيْطانِ

جَعْفَرُ ذُو فَصَاحَةٍ وَحِكْمَةٍ(4) … وَيُسْكِنُ الْكَلَامَ فِي الْوِجْدَانِ

يَا قَوْمُ كُنَّا فِي ضَلَالٍ مُفْرِطٍ … نَأْتِي بِقَوْلِ الزُّورِ وَالْبُهْتَانِ

وَنَأْكُلُ الْمَيْتَةَ فِي جَهَالَةٍ … نَسْجُدُ لِلْأَصْنَامِ وَالْأَوْثَانِ

مَا نُحْسِنُ الْجِوَارَ فِي عَشِيرَةٍ … نَرْضَى بِعَيْشِ الذُّلِّ وَالْهَوَانِ

بَلْ نَقْطَعُ الْأَرْحَامَ فِي تَجَاهُلٍ … نَسْبِقُ بِالْفُجُورِ وَالطُّغْيَانِ

وَمَا رَحِمْنَا ضُعَفَاءَ قَوْمِنَا … وَإِنَّمَا نَفْخَرُ بِالْعُدْوَان

--------------------------------------------

(1) الأرْقَمُ بن أبي الأرْقَمِ المَخْزُومِي.

(2) سَجَدَ الْمُشْرِكُونَ مِنْ قُرَيْشٍ لَمَّا سَمِعُوا خَوَاتِيمَ سُورَةِ النَّجْمِ وروى البخاري قصة السُّجُودِ مختصَرة عن ابن مَسْعُود وابن عبَّاس فِي بَابِ سَجْدَةِ النَّجْمِ وباب سجود المسلمين والمشركين 1/ 146.

(3) أَرْسَلَتْ قُرَيْشُ عَمْرَو بن العَاصِ وعبد الله بن رَبِيعة وأرسلوا معهما الهدايا إلى النَّجَاشي لطرد المسلمين من الحبشة.

(4) جَعْفَرُ بن أبي طالب.
দারুল আরকাম এবং হাবশায় হিজরত

এক উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ঘরে কওম সমবেত হয়েছিল … কারণ নেককার আরকাম ছিলেন সাহসীদের অন্তর্ভুক্ত(১)

আর কেউ কেউ দ্বিধাহীনভাবে হিজরত করেছিলেন … নিরাপত্তার প্রয়োজনে তারা দেশান্তর হওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন

আর কুরাইশরা একবার সিজদাবনত হয়েছিল(২) … তারা প্রশান্তির সাথে আয়াতসমূহ শ্রবণ করেছিল

অতঃপর মানুষ অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে ফিরে এসেছিল … কিন্তু তারা সন্তুষ্টির কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি

বরং ছিল কেবল বিরামহীন অবাধ্যতা … তাই পুনরায় ফিরে যাওয়া হলো সত্যনিষ্ঠ বন্ধুদের নিকট

হে আমর! তোমার চাতুর্যপূর্ণ কূটকৌশল বন্ধ করো(৩) … কেননা ষড়যন্ত্র হলো শয়তানের প্ররোচনা

জাফর ছিলেন বাগ্মিতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী(৪) … যা কথাকে অন্তরের অন্তস্তলে গেঁথে দিত

হে জাতি! আমরা চরম ভ্রষ্টতার মাঝে ছিলাম … আমরা মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপ করতাম

আর আমরা মূর্খতাবশত মৃত পশু ভক্ষণ করতাম … আমরা প্রতিমা ও মূর্তির সামনে সিজদা করতাম

আমরা গোত্রের মাঝে প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করতাম না … আমরা লাঞ্ছনা ও অবমাননাকর জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম

বরং আমরা অবজ্ঞার সাথে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতাম … আমরা পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনে অগ্রগামী ছিলাম

আমরা আমাদের কওমের দুর্বলদের প্রতি দয়া করতাম না … বরং আমরা শত্রুতা ও সীমা অতিক্রম করা নিয়ে গর্ব করতাম

--------------------------------------------

(১) আল-আরকাম বিন আবিল আরকাম আল-মাখযুমি।

(২) কুরাইশ মুশরিকরা সিজদা করেছিল যখন তারা সূরা আন-নাজমের শেষ অংশ শ্রবণ করেছিল। ইমাম বুখারি ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে সিজদার ঘটনাটি সংক্ষেপে সূরা আন-নাজমের সিজদা অধ্যায় এবং মুসলিম ও মুশরিকদের সিজদা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, ১/১৪৬।

(৩) কুরাইশরা আমর বিন আস এবং আব্দুল্লাহ বিন রাবিয়াহকে পাঠিয়েছিল এবং তাদের সাথে উপঢৌকন পাঠিয়েছিল নাজ্জাশীর কাছে, যেন হাবশা থেকে মুসলমানদের বের করে দেওয়া হয়।

(৪) জাফর বিন আবি তালিব।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فَبَعْثَ اللهُ إِلَيْنَا هَادِيًا … يَدْعُو إِلَى فَضَائِلِ الْإِيمَانِ

وَنُخْرِجُ الزَّكَاةَ فِي تَطَهُّرٍ … نَرْجُو رِضَاهُ خَالِقِ الْأَكْوَانِ

بَلِ الصَّلَاةُ عِنْدَنَا تَعَبُّدٌ … وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ مِنَ الْعِصْيَانِ

وَقَدْ لَقِينَا الْبَطْشَ مِنْ أَقْوَامِنَا … فِي كُلِّ وَقْتٍ وَبِلَا حُسْبَانِ

وَمَا وَجَدْنَا غَيْرَ ظُلْمٍ مُحْدِقٍ … فَقَدْ طَغَوْا بِأَعْظَمِ اسْتِهْجَانِ

وَإِنَّنَا جِئْنَاكَ نَبْغِي عَدْلاً … يَا قِبْلَةً لِلْعَدْلِ والْإِحْسَانِ

ثُمَّ تَلَا جَعْفَرُ مِنْ قُرْآنِنَا … وَأَظْهَرَ الْحُجَّةَ فِي امْتِنَانِ

وَقَدْ بَكَى الرُّهْبَانُ مِنْ خُشُوعِهِمْ … يَا عَجَبًا لِرَوْعَةِ الْقُرْآنِ

مَا لَكَ يَا عَمْرُو سِوَى إِذْعَانٍ … فَالحَقُ عِنْدَ الْقَوْمِ بِالتِّبْيَانِ(1)

هُمْ خِيْرَةُ النَّاسِ بِلَا مُنَازِعٍ … بَلْ إِنَّهُمْ مَفَاخِرُ الْأَزْمَان

--------------------------------------------

(1) انظر الرَّحيق المختوم (الهجرة الثَّانية إلى الحبشة) ص 100،99.
সুতরাং আল্লাহ আমাদের নিকট একজন পথপ্রদর্শক প্রেরণ করেছেন … যিনি ঈমানের শ্রেষ্ঠত্বের দিকে আহ্বান করেন।

আর আমরা পবিত্রতা অর্জনে যাকাত প্রদান করি … আমরা মহাবিশ্বের স্রষ্টার সন্তুষ্টি কামনা করি।

বরং আমাদের নিকট সালাত হলো ইবাদত … আর সিয়াম হলো পাপাচার থেকে সুরক্ষাকারী ঢাল।

এবং আমরা আমাদের স্বজাতির পক্ষ থেকে কঠোর নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছি … সব সময় এবং হিসাবহীনভাবে।

আর আমরা বেষ্টনকারী জুলুম ব্যতীত আর কিছুই পাইনি … তারা চরম ঘৃণ্যভাবে সীমালঙ্ঘন করেছে।

আর আমরা আপনার নিকট ইনসাফ কামনায় এসেছি … হে ন্যায়বিচার ও ইহসানের কেন্দ্রবিন্দু।

এরপর জাফর আমাদের কুরআন থেকে তিলাওয়াত করলেন … এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করলেন।

আর পাদ্রীবৃন্দ তাদের বিনয়বশত ক্রন্দন করলেন … হায়, কুরআনের মহিমা কতই না বিস্ময়কর!

হে আমর, আপনার জন্য আনুগত্য ব্যতীত আর কিছুই নেই … কারণ এই কওমের নিকট সত্য সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমেই উদ্ভাসিত।(১)

তারা নিঃসন্দেহে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম … বরং তারা তো সকল যুগের অহংকার।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আর-রাহীকুল মাখতূম (হাবাশায় দ্বিতীয় হিজরত), পৃষ্ঠা ৯৯, ১০০।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌عتيبة بن أبي لهب

أَيَا عُتَيْبَةُ كَفَى سُخْرِيَةً(1) … أَمَا عَرَفْتَ نِعْمَةَ الْإِحْسَانِ

آذَيْتَ خَيْرَ الْخَلْقِ فِي تَجَبُّرٍ … لَا بَلْ تَمَادَيْتَ بِلَا رُجْحَانِ

فَلَنْ تَرَى سِوَى هَلَاكٍ مُفْجِعٍ(2) … فَبِئْسَ عُقْبَى الذُّلِّ وَالْخُسْرَان

 

‌‌محاولة القضاء على رسول الله (صلى الله عليه وسلم -)

قُرَيْشُ قَدْ آذَتْ نَعَمْ مُحَمَّدًا … وَغَمَزُوا الْحَبِيبَ بِالْأَقْوَالِ

فَقَالَ جِئْتُكُمْ بِذَبْحٍ مُهْلِكٍ … قَالُوا فَمَا أَنْتَ مِنَ الْجُهَّالِ

عُقْبَةُ قَدْ هَمَّ بِسُوءٍ مُفْجِعٍ(3) … فَإِنَّهُ مِنْ مُجْرِمِي الْفِعَالِ

فَدَافَعَ الصِّدِّيقُ عَنْ حَبِيبِهِ … فَنِعْمَ عَزْمُ خِيرَةِ الْأَبْطَالِ

أَتَقْتُلُونَ المُجْتَبَى يَا وَيْحَكُمْ … وَهُوَ يَدْعُوكُمْ لِذِي الْجَلَالِ

شَجَّ الشَّقِيُّ رَأْسَ خَيْرِ شَافِعٍ … فِدَاكَ نَفْسِي سَيِّدَ الرِّجَالِ

حَمْزَةُ قَدْ أَتَى كَرِيحٍ عَاصِفٍ … فَشَجَّ رَأْسَ الشِّرْكِ وَالضَّلَال

--------------------------------------------

(1) عُتَيْبَةُ بن أبي لَهَب

(2) أَكَلَهُ أسَدٌ بالشَّام

(3) حاول عُقْبَةُ بن أبي مُعَيْطِ قتل النَّبِيِّ (صلى الله عليه وسلم) خَنْقًا. وشَجَّ أبُو جَهْلٍ رَأْسَ النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ (صلى الله عليه وسلم). انظر ابن هشام 1/ 291 - 292.
উতাইবা বিন আবি লাহাব

হে উতাইবা, বিদ্রূপ করা যথেষ্ট হয়েছে(১) … তুমি কি ইহসানের (উপকারের) নেয়ামত চিনতে পারোনি?

তুমি অহংকারবশত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তাকে কষ্ট দিয়েছ … না, বরং তুমি কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই সীমালঙ্ঘন করেছ।

তুমি মর্মান্তিক ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই দেখবে না(২) … অপদস্থতা ও ক্ষতির কী মন্দ পরিণতি!

 

‌রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হত্যার অপচেষ্টা

কুরাইশরা অবশ্যই মুহাম্মাদকে কষ্ট দিয়েছে … এবং তারা কটু কথার মাধ্যমে প্রিয় নবীকে বিদ্ধ করেছে।

তিনি বললেন, "আমি তোমাদের নিকট ধ্বংসাত্মক জবাই নিয়ে এসেছি" … তারা বলল, "আপনি তো কোনো মূর্খ লোক নন"।

উকবা এক মর্মান্তিক অপকর্মের ইচ্ছা করেছিল(৩) … কারণ সে তো মন্দ কর্মে লিপ্ত অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তখন সিদ্দিক (আবু বকর) তাঁর প্রিয় বন্ধুর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করলেন … বীরদের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির কী চমৎকার সংকল্প!

তোমাদের জন্য আক্ষেপ! তোমরা কি মনোনীত ব্যক্তিকে হত্যা করবে … অথচ তিনি তোমাদেরকে মহিমান্বিত আল্লাহর দিকে আহ্বান করছেন।

পাপিষ্ঠ ব্যক্তিটি শ্রেষ্ঠতম সুপারিশকারীর মাথা জখম করল … হে মানবকুলের সর্দার, আমার প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক।

হামজা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় আবির্ভূত হলেন … অতঃপর তিনি শিরক ও পথভ্রষ্টতার মাথা চূর্ণ করে দিলেন।

--------------------------------------------

(১) উতাইবা বিন আবি লাহাব।

(২) সিরিয়ায় তাকে একটি সিংহ খেয়ে ফেলেছিল।

(৩) উকবা বিন আবি মুআইত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেছিল। আর আবু জাহেল নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাথা জখম করেছিল। দেখুন: ইবনে হিশাম ১/২৯১-২৯২।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াফিন নাদিয়্যাহ ফিস সীরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌إسلام عمر بن الخطاب رضي الله عنه -

أَجَابَ رَبِّي لِلنَّبِيِّ دَعْوَةً … قَدِ اهْتَدَى عُمَرُ لِلصَّوَابِ

فَسَمِعَ الْقُرْآنَ ذَاتَ مَرَّةٍ … وَلَا يَزَالُ الْقَلْبُ فِي ارْتِيَابِ

بَلْ أَخَذَتْهُ عِزَّةٌ آثِمَةٌ … نَرَاهُ قَدْ أَسْرَعَ كَالْعُقَابِ

أَتَقْتُلُ النَّبِيَّ خَيْرَ مُرْسَلٍ … حَلَمْتَ يَا عُمَرُ بِالسَّرَابِ

قَصَدَ أُخْتَهُ بِكُلِّ جُرْأَةٍ(1) … لَكِنَّهُ اسْتَمَعَ لِلْخَبَّابِ(2)

فَشَرَحَ اللهُ لَهُ سَرِيرَةً(3) … ثُمَّ غَدَا مِنْ خِيْرَةِ الْأَحْبَاب

--------------------------------------------

(1) فَاطِمَةُ بنت الخَطَّاب أُخْتُ عمر.

(2) الخَبَّابُ بِن الأرَتِّ.

(3) عن ابن عبَّاس «رضي الله عنهما» أنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلَامَ بِأَبِي جَهْلٍ، أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ»، ورواه أحمد والتِّرمذي وابن سعد وغيرهم عن ابن عمر «رضي الله عنهما» عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم بلفظ: «اللَّهُمَّ أَعِزَّ الْإِسْلَامَ بِأَحَبِّ الرَّجُلَيْنِ إِلَيْكَ، بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَوْ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ»، وقد استجاب اللهُ الدُّعاء، فكان أحَبُّهُمَا إلى الله عز وجل عُمَرَ بنَ الخَطَّابِ «رضي الله عنه». رواه التِّرمذي
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণ-

আমার প্রতিপালক নবীর একটি দুআ কবুল করেছেন … নিশ্চয়ই উমর সঠিক পথের দিশা পেয়েছেন

তিনি একদা কুরআন শ্রবণ করলেন … অথচ তখনও অন্তর সংশয়ের আবর্তে ছিল

বরং এক পাপিষ্ঠ অহংকার তাকে আঁকড়ে ধরল … আমরা তাকে ইগল পাখির ন্যায় দ্রুতবেগে ছুটতে দেখলাম

আপনি কি নবীকে হত্যা করবেন, যিনি শ্রেষ্ঠ রাসূল? … হে উমর! আপনি মরীচিকার স্বপ্ন দেখেছেন

তিনি অত্যন্ত ধৃষ্টতার সাথে তার বোনের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন(১) … কিন্তু সেখানে তিনি খাব্বাবের পাঠ শুনলেন(২)

অতঃপর আল্লাহ তার অন্তরকে প্রশস্ত করে দিলেন(৩) … এরপর তিনি প্রিয়জনদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজনে পরিণত হলেন

--------------------------------------------

(১) ফাতিমা বিনতে খাত্তাব, উমরের বোন।

(২) খাব্বাব ইবনুল আরাত।

(৩) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আবু জাহল অথবা উমর ইবনুল খাত্তাবের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।" এবং আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে সাদ ও অন্যান্যরা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "হে আল্লাহ! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যিনি আপনার নিকট অধিক প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন—উমর ইবনুল খাত্তাব অথবা আবু জাহল ইবনে হিশাম।" আর আল্লাহ তাআলা এই দুআ কবুল করেছেন, ফলে তাদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় ছিলেন। তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।