(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: -)
ملتقى الأبحر   (إبراهيم الحلبي)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: مجمع الأنهر في شرح ملتقى الأبحر

المؤلف: إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الحَلَبي الحنفي (ت 956هـ)

المحقق: خرح آياته وأحاديثه خليل عمران المنصور

الناشر: دار الكتب العلمية - لبنان/ بيروت

الطبعة: الأولى، 1419هـ - 1998م

عدد الصفحات: 549

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুলতাকাল আবহুর   (ইব্রাহিম আল-হালাবি)

বিভাগ: হানাফি ফিকহ


বই: মাজমাউল আনহুর ফি শারহি মুলতাকাল আবহুর

লেখক: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হালাবি আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৫৬ হিজরি)

গবেষক: এর আয়াত ও হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন খলিল ইমরান আল-মনসুর

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া - লেবানন/ বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৫৪৯

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌(خطْبَة الْكتاب)

 

الْحَمد لله الَّذِي وفقنا للتفقه فِي الدّين الَّذِي هُوَ حبله المتين وفضله الْمُبين وميراث
(গ্রন্থের ভূমিকা)

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের দ্বীনের গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জনের তাওফীক দান করেছেন, যা হলো তাঁর সুদৃঢ় রশি, তাঁর সুস্পষ্ট অনুগ্রহ এবং উত্তরাধিকার
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১১)
الْأَنْبِيَاء وَالْمُرْسلِينَ وحجته الدامغة عَن الْخلق أَجْمَعِينَ ومحجته السالكة إِلَى أَعلَى عليين
নবী ও রাসূলগণ, এবং সমগ্র সৃষ্টির বিপরীতে তাঁর অখণ্ডনীয় দলিল এবং সর্বোচ্চ ইল্লিয়্যিনের দিকে ধাবমান তাঁর সুস্পষ্ট পথ।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১২)
وَالسَّلَام على خير خلقه مُحَمَّد الْمَبْعُوث رَحْمَة للْعَالمين وعَلى آله وَصَحبه وَالتَّابِعِينَ
এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ-এর ওপর, যিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও তাবিঈগণের ওপর।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَالْعُلَمَاء العاملين قد سَأَلَني بعض طالبي الاستفادة أَن أجمع لَهُ كتابا يشْتَمل على مسَائِل الْقَدُورِيّ وَالْمُخْتَار والكنز والوقاية بِعِبَارَة سهلة غير مغلقة فأجبته إِلَى ذَلِك وأضفت إِلَيْهِ بعض مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من مسَائِل الْمجمع ونبذة من الْهِدَايَة وصرحت بِذكر الْخلاف بَين أَئِمَّتنَا وقدمت من أقاويلهم مَا هُوَ الْأَرْجَح وأخرت غَيره إِلَّا أَن قيدته بِمَا يُفِيد التَّرْجِيح
এবং আমলকারী আলেমগণ; জ্ঞান অন্বেষণকারীদের কেউ কেউ আমার নিকট আবেদন জানিয়েছিলেন যেন আমি তাঁর জন্য এমন একটি কিতাব সংকলন করি যা কুদুরী, মুখতার, কানয এবং বিকায়াহ-এর মাসআলাসমূহকে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় অন্তর্ভুক্ত করবে। অতঃপর আমি তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছি এবং এতে ‘মাজমা’ এর প্রয়োজনীয় কিছু মাসআলা ও ‘হিদায়া’ এর কিছু অংশ যুক্ত করেছি। আমি আমাদের ইমামগণের মধ্যকার মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি এবং তাঁদের অভিমতসমূহের মধ্যে যেটি সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য সেটিকে আমি প্রথমে উল্লেখ করেছি এবং অন্যগুলোকে পরে রেখেছি; তবে সেগুলোকে এমন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করেছি যা অগ্রাধিকারের বিষয়টি নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأما الْخلاف الْوَاقِع بَين الْمُتَأَخِّرين أَو بَين الْكتب الْمَذْكُورَة فَكل مَا صدرته بلفط قيل أَو قَالُوا إِن كَانَ مَقْرُونا بالأصح وَنَحْوه فَإِنَّهُ مَرْجُوح بِالنِّسْبَةِ إِلَى مَا لَيْسَ كَذَلِك وَمَتى ذكرت لفظ التَّثْنِيَة من غير قرينَة تدل على مرجعها فَهُوَ لأبي يُوسُف وَمُحَمّد وَلم آل جهداً فِي التَّنْبِيه على الْأَصَح والأقوى، وَمَا هُوَ الْمُخْتَار للْفَتْوَى وَحَيْثُ اجْتمع فِيهِ سميته بملتقى

আর পরবর্তী যুগের আলিমগণের মধ্যে অথবা উল্লিখিত কিতাবসমূহের মধ্যে যে মতভেদ বিদ্যমান, সে ক্ষেত্রে আমি যা কিছু 'বলা হয়েছে' অথবা 'তাঁরা বলেছেন' শব্দ দ্বারা শুরু করেছি, তা যদি 'অধিকতর বিশুদ্ধ' বা এই জাতীয় শব্দের সাথে যুক্ত থাকে, তবে তা সেই মতের তুলনায় দুর্বল যা এই শব্দের সাথে যুক্ত নয়। আর যখনই আমি কোনো নির্দিষ্ট ইঙ্গিত ছাড়াই দ্বিবচনের শব্দ ব্যবহার করেছি, তখন তা ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমি অধিকতর বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী মত এবং ফতওয়ার জন্য যা মনোনীত, তা চিহ্নিত করার ব্যাপারে কোনো প্রকার প্রচেষ্টার ত্রুটি করিনি। যেহেতু এই কিতাবে এগুলোর সমন্বয় ঘটেছে, তাই আমি এর নামকরণ করেছি 'মুলতাকা' (সঙ্গমস্থল)।

(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأبحر ليُوَافق الِاسْم الْمُسَمّى وَالله سُبْحَانَهُ أسَال أَن يَجعله خَالِصا لوجهه وَأَن يَنْفَعنِي بِهِ يَوْم لَا ينفع مَال وَلَا بنُون إِلَّا من أَتَى الله بقلب سليم.
সমুদ্রসমূহ, যাতে নামটি নামধারী (বিষয়বস্তু)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর আমি মহাপবিত্র আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে একমাত্র তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং এর মাধ্যমে আমাকে সেই দিনে উপকৃত করেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌(كتاب الطَّهَارَة)

 

قَالَ الله تَعَالَى: 16 ( {يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءامَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلواة
(পবিত্রতা অধ্যায়)

 

আল্লাহ তাআলা বলেন: ১৬ ( {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ১৯)
فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ} ) (الْمَائِدَة: 6) فَفرض الْوضُوء غسل الْأَعْضَاء الثَّلَاثَة وَمَسّ
তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল এবং তোমাদের হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)।} ) (আল-মায়িদাহ: ৬) সুতরাং ওযুর ফরয হলো তিনটি অঙ্গ ধৌত করা এবং মাসেহ করা।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ২০)
الرَّأْس وَالْوَجْه مَا بَين قصاص الشّعْر وأسفل الذقن وشحمتي الْأُذُنَيْنِ فيفرض غسل مَا بَين العذار وَالْأُذن خلافًا لأبي يُوسُف والمرفقان والكعبان يدخلَانِ فِي الْغسْل والمفروض فِي مسح الرَّأْس قدر الرّبع وَقيل يجزىء وضع ثَلَاث أَصَابِع وَلَو مد بأصبع أَو أصبعين لَا
মাথা ও মুখমণ্ডল হলো চুলের রেখা থেকে থুতনির নিচ এবং দুই কানের লতি পর্যন্ত। সুতরাং গালের পার্শ্বস্থ চুল (ইযার) ও কানের মধ্যবর্তী স্থান ধৌত করা ফরজ, যা ইমাম আবু ইউসুফের মতের পরিপন্থী। আর দুই কনুই এবং দুই টাখনু ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। মাথা মাসেহের ক্ষেত্রে এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ ফরজ। কেউ কেউ বলেছেন, তিনটি আঙুল রাখাই যথেষ্ট। আর যদি এক বা দুই আঙুল টেনে মাসেহ করা হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ২৩)
يجوز ويفرض مسح ربع اللِّحْيَة وسننه غسل الْيَدَيْنِ إِلَى الرسغين ابْتِدَاء وَالتَّسْمِيَة وَقيل

দাড়ির এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা জায়েজ ও ফরজ। এর সুন্নতসমূহ হলো শুরুতে কবজি পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা এবং তাসমিয়া পাঠ করা। আর বলা হয়েছে—

(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ২৪)
مُسْتَحبَّة والسواك وَغسل الْفَم بمياه وَالْأنف بمياه وتخليل اللِّحْيَة والأصابع هُوَ الْمُخْتَار
মুস্তাহাব এবং মিসওয়াক করা, পানি দ্বারা মুখ ধৌত করা ও পানি দ্বারা নাক ধৌত করা এবং দাড়ি ও আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা; এটিই নির্বাচিত অভিমত।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقيل هُوَ فِي اللِّحْيَة فَضِيلَة عِنْد الإِمَام وَمُحَمّد وتثليث الْغسْل وَالنِّيَّة وَالتَّرْتِيب الْمَنْصُوص واستيعاب الرَّأْس بِالْمَسْحِ وَقيل هَذِه الثَّلَاثَة مُسْتَحبَّة وَمسح الْأُذُنَيْنِ بِمَاء الرَّأْس ومستحبة

এবং বলা হয়েছে যে, দাড়ির ক্ষেত্রে এটি ইমাম এবং মুহাম্মাদের নিকট ফযীলত। আর তিনবার ধৌত করা, নিয়ত করা, বর্ণিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করা; এবং বলা হয়েছে যে, এই তিনটি বিষয় মুস্তাহাব। আর মাথার পানি দিয়ে দুই কান মাসাহ করা এবং মুস্তাহাব কার্যাবলি।

(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ২৯)
التَّيَامُن وَمسح الرَّقَبَة والمعاني الناقضة لَهُ خُرُوج شَيْء من أحد السَّبِيلَيْنِ سوى ريح الْفرج
ডান দিক থেকে শুরু করা, ঘাড় মাসেহ করা এবং ওযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ হলো: সামনের রাস্তা দিয়ে নির্গত বায়ু ব্যতীত দুই পথের যেকোনো একটি দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَالذكر وَخُرُوج نجس من الْبدن إِن سَالَ بِنَفسِهِ والقيء مَلأ الْفَم وَلَو طَعَاما أَو مَاء أَو مرّة
এবং পুরুষাঙ্গ এবং শরীর হতে অপবিত্রতা নির্গত হওয়া যদি তা নিজ থেকে প্রবাহিত হয়, এবং মুখভর্তি বমি যদিও তা খাদ্য, পানি অথবা পিত্ত হয়।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩২)
أَو علقاً لَا بلغماً مُطلقًا خلافًا لأبي يُوسُف فِي الصاعد من الْجوف وَيشْتَرط فِي الدَّم
অথবা জমাট রক্ত, কোনোভাবেই শ্লেষ্মা নয়; পাকস্থলী থেকে যা উপরে উঠে আসে তার ক্ষেত্রে এটি ইমাম আবু ইউসুফের মতের পরিপন্থী। আর রক্তের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হয়
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْمَائِع مُسَاوَاة البزاق لَا الْمَلأ خلافًا لمُحَمد وَهُوَ يعْتَبر اتِّحَاد السَّبَب لجمع مَا قاء قَلِيلا قَلِيلا وَأَبُو يُوسُف اتِّحَاد الْمجْلس وَمَا لَيْسَ حَدثا لَيْسَ نجسا وَالْجُنُون وَالسكر وَالْإِغْمَاء
তরল পদার্থের ক্ষেত্রে থুতুর সমপরিমাণ হওয়া ধর্তব্য, মুখভর্তি হওয়া নয়—এটি ইমাম মুহাম্মাদের মতের পরিপন্থী। তিনি অল্প অল্প করে হওয়া বমিকে একত্রিত করার জন্য কারণের অভিন্নতাকে গণ্য করেন, আর ইমাম আবু ইউসুফ মজলিসের অভিন্নতাকে। আর যা হদস (অজু ভঙ্গকারী) নয় তা নাপাকও নয়। এবং উন্মাদনা, মাতালতা ও মূর্ছা যাওয়া।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقهقهة بَالغ فِي صَلَاة ذَات رُكُوع وَسُجُود ومباشرة فَاحِشَة خلافًا لمُحَمد ونوم مُضْطَجع
রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট সালাতে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির অট্টহাসি, এবং চরম মাত্রার শারীরিক স্পর্শ—ইমাম মুহাম্মদের ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও—এবং কাত হয়ে শায়িত অবস্থায় ঘুমানো।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أَو متكيء أَو مُسْتَند إِلَى مَا لَو أزيل لسقط لَا نوم قَائِم أَو قَاعد أَو رَاكِع أَو ساجد وَلَا خُرُوج دودة من جرح وَلحم سقط مِنْهُ وَمَسّ ذكر وَامْرَأَة وَفرض الْغسْل غسل الْفَم وَالْأنف
অথবা হেলান দিয়ে কিংবা এমন কিছুর ওপর ঠেস দিয়ে যে, সেটি সরিয়ে নিলে সে পড়ে যাবে। দাঁড়িয়ে, বসে, রুকু অবস্থায় কিংবা সিজদাহ অবস্থায় ঘুমানো (অজু ভঙ্গকারী) নয়; এবং ক্ষতস্থান থেকে পোকা বের হওয়া কিংবা তা থেকে মাংস খসে পড়াও (অজু ভঙ্গকারী) নয়; এবং লিঙ্গ স্পর্শ করা ও নারী স্পর্শ করাও (অজু ভঙ্গকারী) নয়। আর গোসলের ফরয হলো মুখ ও নাক ধৌত করা।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَسَائِر الْبدن لَا دلكه قيل وَلَا إِدْخَال المَاء جلدَة الأقلف وسنته غسل يَدَيْهِ وفرجه ونجاسة إِن كَانَت وَالْوُضُوء إِلَّا رجلَيْهِ وتثليث الْغسْل الْمُسْتَوْعب ثمَّ غسل الرجلَيْن لَا فِي
এবং শরীরের অবশিষ্ট অংশ; তা মর্দন করা আবশ্যক নয়। বলা হয়েছে, খৎনা না করা ব্যক্তির লিঙ্গাগ্রের ত্বকের অভ্যন্তরে পানি পৌঁছানোও আবশ্যক নয়। আর এর সুন্নত হলো তাঁর দুই হাত, লজ্জাস্থান এবং অপবিত্রতা থাকলে তা ধৌত করা; এবং ওযু করা—তবে তাঁর দুই পা ব্যতীত; এবং পুরো শরীর পরিব্যাপ্তকারী প্রক্ষালন তিনবার সম্পন্ন করা; অতঃপর দুই পা ধৌত করা, তবে তা...
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
مَكَانَهُ إِن كَانَ فِي مستنقع المَاء وَلَيْسَ على الْمَرْأَة نقض ضفيرتها وَلَا بلها إِن بل أَصْلهَا
যদি বদ্ধ পানির মধ্যে থাকে তবে তার স্থান (ধৌত করবে), আর নারীর জন্য তার চুলের বেণী খোলা বা তা সিক্ত করা আবশ্যক নয়, যদি চুলের গোড়া ভিজে যায়।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَفرض لإنزال مني ذِي دفق وشهوة وَلَو فِي نوم عِنْد انْفِصَاله لَا خُرُوجه خلافًا لأبي
এবং সবেগ ও কামোত্তেজনার সাথে বীর্যপাতের কারণে (গোসল) ফরজ হয়, যদিও তা ঘুমের মধ্যে হয়; এটি (বীর্য) নিজ স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়ের বিবেচনায়, নির্গমনের সময়ের বিবেচনায় নয়, যা আবু-এর মতের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৩৯)
يُوسُف ولرؤية مستيقظ لم يتَذَكَّر الِاحْتِلَام بللاً وَلَو مذياً خلافًا لَهُ ولإيلاج حَشَفَة فِي قبل أَو دبر من آدَمِيّ حَيّ وَإِن لم ينزل على الْفَاعِل وَالْمَفْعُول بِهِ ولإنقطاع حيض ونفاس لَا لمذي وودي واحتلام بِلَا بَلل وإيلاج فِي بَهِيمَة أَو ميتَة بِلَا إِنْزَال وَسن للْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ

ইউসুফ-এর মতের বিপরীতে, ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি যদি স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ করতে না পারা সত্ত্বেও আর্দ্রতা দেখতে পায়, তবে গোসল আবশ্যক হবে, যদিও তা মাযী (কামরস) হয়। এছাড়া জীবিত মানুষের সম্মুখ বা পশ্চাৎপথে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশের কারণে বীর্যপাত না ঘটলেও কর্তা এবং যার সাথে করা হয়েছে উভয়ের উপর গোসল ওয়াজিব। অনুরূপভাবে ঋতুস্রাব এবং প্রসবোত্তর রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার কারণেও গোসল করা আবশ্যক। তবে মাযী, ওয়াদী এবং আর্দ্রতাহীন স্বপ্নদোষের কারণে গোসল আবশ্যক নয়। তেমনি বীর্যপাত ছাড়া পশু বা মৃতদেহের সাথে সংগম করলেও গোসল আবশ্যক হয় না। আর জুমুআ ও দুই ঈদের জন্য গোসল করা সুন্নাত।

(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৪০)
والأحرام وَفِي عَرَفَة وَوَجَب للْمَيت كِفَايَة وعَلى من أسلم جنبا وَإِلَّا ندب وَلَا يجوز
এবং ইহরামের জন্য এবং আরাফাতে; আর মৃত ব্যক্তির জন্য (গোসল দেওয়া) ফরজে কিফায়া হিসেবে ওয়াজিব এবং সেই ব্যক্তির ওপর যে জানাবাত অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছে; অন্যথায় তা মুস্তাহাব এবং তা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৪২)
لمحدث مس مصحف إِلَّا بغلافه الْمُنْفَصِل لَا الْمُتَّصِل فِي الصَّحِيح وَكره بالكم وَلَا مس
অযুহীন ব্যক্তির জন্য মুসহাফ স্পর্শ করা নিষিদ্ধ, তবে মুসহাফ থেকে পৃথক জিলদ বা কভারের মাধ্যমে তা বৈধ, মুসহাফের সাথে সংযুক্ত জিলদ দ্বারা নয়—এটিই বিশুদ্ধতম মত। আর জামার আস্তিন দিয়ে স্পর্শ করা মাকরূহ এবং সরাসরি স্পর্শ করা জায়েয নয়।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৪৩)
دِرْهَم فِيهِ سُورَة وَلَا لجنب دُخُول الْمَسْجِد إِلَّا لضَرُورَة وَلَا قِرَاءَة الْقُرْآن وَلَو دون آيَة إِلَّا على وَجه الدُّعَاء أَو الثَّنَاء وَيجوز لَهُ الذّكر وَالتَّسْبِيح وَالدُّعَاء وَالْحَائِض وَالنُّفَسَاء كالجنب.

 

‌‌(فصل)
সূরা সম্বলিত দিরহাম (স্পর্শ করা) এবং জুনুবী ব্যক্তির জন্য জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদে প্রবেশ করা বৈধ নয়। আর কুরআন তিলাওয়াত করাও বৈধ নয়, যদিও তা এক আয়াতের কম হয়; তবে দুআ বা প্রশংসার উদ্দেশ্যে হলে জায়েজ। আর তার জন্য জিকির, তাসবীহ ও দুআ করা জায়েজ। ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত নারী জুনুবী ব্যক্তির ন্যায়।

 

(পরিচ্ছেদ)
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَتجوز الطَّهَارَة بِالْمَاءِ الْمُطلق كَمَاء السَّمَاء وَالْعين والبئر والأودية والبحار وَإِن غير طَاهِر بعض أَوْصَافه كالتراب والزعفران والصابون أَو أنتن بالمكث لَا بِمَاء خرج عَن طبعه
আকাশ, ঝরনা, কূপ, নদী ও সমুদ্রের পানির মতো সাধারণ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ। যদিও মাটি, জাফরান ও সাবানের মতো কোনো পবিত্র বস্তু এর কোনো গুণাগুণ পরিবর্তন করে ফেলে, অথবা দীর্ঘ সময় আবদ্ধ থাকার কারণে তা দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়; তবে এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েজ নয় যা তার স্বাভাবিক প্রকৃতি হারিয়ে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৪৫)
بِكَثْرَة الأوراق أَو بِغَلَبَة غَيره أَو بالطبخ كالأشربة والخل وَمَاء الْورْد، وَمَاء الباقلاء
পাতার আধিক্যের কারণে, অথবা অন্য কোন কিছুর প্রাবল্যের দ্বারা, কিংবা সিদ্ধ করার মাধ্যমে; যেমন পানীয়সমূহ, সিরকা, গোলাপ জল এবং শিমের পানি।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৪৬)
والمرق وَلَا بِمَاء قَلِيل وَقع فِيهِ نجس مَا لم يكن غديراً لَا يَتَحَرَّك طرفه الْمُتَنَجس بتحريك
এবং ঝোল দ্বারা নয়, এবং এমন অল্প পানি দ্বারাও নয় যাতে অপবিত্রতা পতিত হয়েছে, যতক্ষণ না তা এমন বড় জলাশয় হয় যার অপবিত্র প্রান্তটি (অন্য প্রান্ত) নাড়াচাড়া করার কারণে নড়ে না।
(খণ্ড: ১) মুলতাকাল আবহুর (পৃষ্ঠা: ৪৭)
طرفه الآخر أَو لم يكن عشرا فِي عشر وعمقه مَا لَا تنحسر الأَرْض بالغرف فَإِنَّهُ كالجاري
তার অন্য প্রান্ত অথবা তা যদি দশ গুণ দশ না হয় এবং তার গভীরতা এমন হয় যে অঞ্জলি ভরে পানি তোলার সময় মাটি অনাবৃত হয় না, তবে তা প্রবহমান পানির ন্যায়।