(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: -)
تحفة الملوك   (زين الدين الرازي)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: تحفة الملوك (في فقه مذهب الإمام أبي حنيفة النعمان)

المؤلف: زين الدين أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن عبد القادر الرازي (صاحب مختار الصحاح) (ت بعد 666 هـ)

اعتنى بإخراجه وعلق على مسائله: د. عبد الله نذير أحمد

الأستاذ المساعد بقسم الدراسات الإسلامية، كلية الآداب - جامعة الملك عبد العزيز

الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 285

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তুহফাতুল মুলুক   (যাইন উদ্দীন আর-রাযী)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


কিতাব: তুহফাতুল মুলুক (ইমাম আবু হানীফা আন-নুমান-এর মাযহাবের ফিকহ বিষয়ক)

লেখক: যািন উদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর ইবনে আব্দুল কাদির আর-রাযী (মুখতারুস সিহাহ-এর রচয়িতা) (মৃত্যু ৬৬৬ হিজরীর পর)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: ড. আব্দুল্লাহ নাযীর আহমাদ

সহকারী অধ্যাপক, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ، কলা অনুষদ - কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৫

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২০)
= كتاب الطَّهَارَة =

1 - أَقسَام الْمِيَاه المَاء ثَلَاثَة أَقسَام طَاهِر طهُور وَهُوَ الْبَاقِي على أَوْصَاف خلقته وَمِنْه مَا يقطر من الْكَرم والمتغير بطاهر لم يغلبه بالأجزاء وَلم يجدد لَهُ اسْما آخر وطاهر فَقَط وَهُوَ كل مَاء أزيل بِهِ حدث أَو أُقِيمَت بِهِ قربَة ونجس وَهُوَ مَاء قَلِيل وَقعت فِيهِ نَجَاسَة وَإِن لم تغيره وَكثير وَقعت فِيهِ نَجَاسَة غيرت أحد أَوْصَافه جَارِيا كَانَ أَو وَاقِفًا
= পবিত্রতা অধ্যায় =

১ - পানির প্রকারভেদ: পানি তিন প্রকার। (প্রথম প্রকার) পবিত্র ও পবিত্রকারী, আর তা হলো যা তার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের ওপর অবশিষ্ট থাকে। এর অন্তর্ভুক্ত সেই পানি যা আঙ্গুর লতা থেকে চুইয়ে পড়ে এবং এমন পানি যা কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু সেই বস্তুর অংশগুলো পানির ওপর প্রবল হয়ে ওঠেনি এবং তার জন্য নতুন কোনো নাম তৈরি করেনি। (দ্বিতীয় প্রকার) কেবল পবিত্র, আর তা হলো এমন প্রতিটি পানি যার দ্বারা অপবিত্রতা দূর করা হয়েছে কিংবা যার দ্বারা কোনো ইবাদত সম্পন্ন করা হয়েছে। (তৃতীয় প্রকার) অপবিত্র, আর তা হলো সামান্য পরিমাণ পানি যাতে কোনো অপবিত্র বস্তু পতিত হয়েছে যদিও তা পানির কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি, এবং অধিক পরিমাণ পানি যাতে অপবিত্র বস্তু পড়ার কারণে তার কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয়ে গেছে, তা প্রবহমান হোক বা স্থির।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২১)
2 - ضَابِط الْكثير وَالْكثير عشر فِي عشر بِذِرَاع الكرباس فِي عمق لَا تظهر الأَرْض بالغرف والقليل مَا دونه والجاري مَا يذهب بتبنة
২ - বেশি বা ‘কাসীর’ পানির পরিমাপ: আর ‘বেশি’ পানি হলো কার্পাস কাপড়ের মাপের হাতের হিসেবে দশ গুণন দশ হাত, এমন গভীরতায় যেখান থেকে অঞ্জলি ভরে পানি তুললে নিচের মাটি দৃশ্যমান হয় না। আর যা এর চেয়ে কম তা হলো ‘অল্প’ বা ‘কালীল’ পানি। আর প্রবাহিত পানি হলো তা যা খড়কুটোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২২)
والواقف مَا دونه

3 - أَنْوَاع النَّجَاسَات والنجاسة كل خَارج من السَّبِيلَيْنِ من الْإِنْسَان وَغَيره إِلَّا خرء الْحمام والعصفور وَالدَّم والقيح والصديد إِذا سَالَ إِلَى مَحل الطَّهَارَة فِي الْجُمْلَة يَعْنِي فِي الِاغْتِسَال وَالْوُضُوء وَالْخمر والقيء ملْء الْفَم وخرء مَا لَا يُؤْكَل لَحْمه من الطير ينجس المَاء إِلَّا الثَّوْب حَتَّى يفحش

4 - الْعَفو فِي النَّجَاسَات وخرء الْفَأْرَة وبوله مَعْفُو عَنهُ فِي الطَّعَام وَالثَّوْب لَا فِي المَاء وَدم البق
এবং যা তার নিচে অবস্থানরত

৩ - নাপাকির প্রকারভেদ: মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দুই পথ দিয়ে নির্গত প্রতিটি বস্তু নাপাকি, তবে কবুতর ও চড়ুই পাখির বিষ্ঠা ব্যতীত। এবং রক্ত, পুঁজ ও লসিকা (ক্ষত-নিঃসৃত পানি) যখন সাধারণভাবে পবিত্রতার স্থানে—অর্থাৎ ওযু ও গোসলের অঙ্গে—প্রবাহিত হয়। এবং মদ ও মুখভর্তি বমি; আর যেসব পাখির গোশত খাওয়া হয় না তাদের বিষ্ঠা পানিকে নাপাক করে দেয়, তবে কাপড়ের ক্ষেত্রে তা অত্যধিক না হওয়া পর্যন্ত (নাপাক গণ্য হবে না)।

৪ - নাপাকির ক্ষেত্রে ক্ষমা: ইঁদুরের বিষ্ঠা ও প্রস্রাব খাবার ও কাপড়ের ক্ষেত্রে মার্জনীয়, কিন্তু পানির ক্ষেত্রে নয়; এবং ছারপোকার রক্ত।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২৩)
والبراغيث والسمك عَفْو وَشعر الْميتَة وكل جُزْء مِنْهَا لَا حَيَاة فِيهِ طَاهِر وَشعر الْخِنْزِير وَسَائِر أَجْزَائِهِ نجس وَرخّص الخرز بِشعرِهِ وَعظم الْفِيل طَاهِر

5 - الإهاب المدبوغ وكل إهَاب دبغ طهر إِلَّا جلد الْخِنْزِير والآدمي

6 - أَحْكَام السؤر وسؤر الْآدَمِيّ طَاهِر إِلَّا حَال شربه الْخمر وسؤر الْفرس وَمَا يُؤْكَل لَحْمه طَاهِر وسؤر الْخِنْزِير وَالْكَلب وسباع الْبَهَائِم نجس وسؤر الْهِرَّة والدجاجة المخلاة وَالْإِبِل وَالْبَقر
মাছি ও মাছের রক্ত মার্জনীয়। মৃত প্রাণীর পশম এবং তার এমন প্রতিটি অংশ যাতে জীবন নেই, তা পবিত্র। তবে শূকরের পশম এবং তার অন্যান্য সমস্ত অংশ অপবিত্র; অবশ্য এর পশম দ্বারা সেলাই করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হাতির হাড় পবিত্র।

৫ - প্রক্রিয়াজাত চামড়া: প্রতিটি চামড়াই যখন প্রক্রিয়াজাত করা হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়, কেবল শূকর ও মানুষের চামড়া ব্যতীত।

৬ - উচ্ছিষ্টের বিধানাবলি: মানুষের উচ্ছিষ্ট পবিত্র, তবে মদ পান করার সময়কার অবস্থা এর ব্যতিক্রম। ঘোড়া এবং যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তাদের উচ্ছিষ্ট পবিত্র। শূকর, কুকুর এবং হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট অপবিত্র। আর বিড়াল, মুক্তভাবে বিচরণকারী মুরগি, উট এবং গরুর উচ্ছিষ্ট...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২৪)
الْجَلالَة والحية وَالْعَقْرَب والفأرة وسباع الطير مَكْرُوه وسؤر الْبَغْل وَالْحمار طَاهِر مَشْكُوك فِي طهوريته فَإِن لم يجد مَاء غَيره تَوَضَّأ بِهِ وَتيَمّم

জল্লালাহ (নাজাসাত ভক্ষণকারী প্রাণী), সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর এবং শিকারি পাখির উচ্ছিষ্ট মকরূহ। খচ্চর ও গাধার উচ্ছিষ্ট পবিত্র, তবে এর পবিত্রকারী গুণের বিষয়ে সংশয় রয়েছে। সুতরাং যদি তা ব্যতীত অন্য কোনো পানি পাওয়া না যায়, তবে তা দিয়ে অযু করবে এবং তায়াম্মুম করবে।

(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌فصل فِي الْوضُوء وَالْغسْل

 

7 - فروض الْوضُوء فروض الْوضُوء أَرْبَعَة الأول غسل الْوَجْه وَهُوَ من منبت الناصية إِلَى أَسْفَل الذقن طولا وَمن شحمة الْأذن إِلَى شحمة الْأذن عرضا وَيجب غسل الشّعْر السَّاتِر للخدين والذقن وَلَا يجب غسل مَا تَحْتَهُ وَتَحْت الشَّارِب والحاجب وَمَا نزل من اللِّحْيَة أما الْبيَاض الَّذِي
উযু ও গোসল বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

৭ - উযুর ফরযসমূহ। উযুর ফরযসমূহ চারটি। প্রথমটি হলো মুখমণ্ডল ধৌত করা। এর সীমা দৈর্ঘ্যের দিক থেকে কপালের উপরিভাগের চুলের উৎপত্তিস্থল হতে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং প্রস্থে এক কানের লতি হতে অন্য কানের লতি পর্যন্ত। গাল ও থুতনি আবৃতকারী চুল ধৌত করা ওয়াজিব, তবে তার নিচের চামড়া ধৌত করা ওয়াজিব নয়। তদ্রূপ গোঁফ ও ভ্রুর নিচের চামড়া এবং দাড়ির প্রলম্বিত অংশ ধৌত করাও ওয়াজিব নয়। আর যে শুভ্র অংশটি...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২৬)
بَين العذار وَالْأُذن فَيجب غسله الثَّانِي غسل الْيَدَيْنِ مَعَ الْمرْفقين الثَّالِث مسح ربع الرَّأْس الرَّابِع غسل الرجلَيْن مَعَ الْكَعْبَيْنِ والدواء فِي شقوقهما يَصح مَعَه الْوضُوء

8 - سنَن الْوضُوء وسننه عشرُون النِّيَّة وَالتَّسْمِيَة وَغسل الْيَدَيْنِ إِلَى الرسغين ثَلَاثًا للقائم من نَومه وَالتَّرْتِيب والموالاة والسواك والمضمضة وَالِاسْتِنْشَاق
কান এবং গাল সংলগ্ন চুলের মধ্যবর্তী স্থান, অতএব তা ধৌত করা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত: কনুইসহ দুই হাত ধৌত করা। তৃতীয়ত: মাথার এক চতুর্থাংশ মাসেহ করা। চতুর্থত: টাখনুসহ দুই পা ধৌত করা; এবং পায়ের ফাটা স্থানে ঔষধ লাগানো থাকলেও তার সাথে ওযু সহীহ হবে।

৮ - ওযুর সুন্নাতসমূহ; ওযুর সুন্নাত বিশটি: নিয়ত করা, বিসমিল্লাহ পাঠ করা, ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির জন্য কবজি পর্যন্ত তিনবার দুই হাত ধৌত করা, তারতীব (ধারাবাহিকতা), মুয়ালাত (বিরতিহীনতা), মেসওয়াক করা, কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়া।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالْمُبَالغَة فيهمَا للمفطر والبداءة بالميامن والبداءة فِي غسل الْيَدَيْنِ وَالرّجلَيْنِ من رُؤُوس الْأَصَابِع وتخليل اللِّحْيَة والأصابع وتحريك الْخَاتم الضّيق وَمسح كل الرَّأْس والبداءة فِيهِ من مقدمه وَمسح الْأُذُنَيْنِ والرقبة وتثليث كل غسل

9 - فروض الْغسْل وفروض الْغسْل خَمْسَة الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق وَغسل سَائِر الْبدن وإيصال المَاء إِلَى بَاطِن
এবং রোযা না রাখা ব্যক্তির জন্য এই দুইটিতে (কুলি ও নাকে পানি দেওয়া) অতিরঞ্জন করা, ডান দিক থেকে শুরু করা, দুই হাত ও দুই পা ধোয়ার ক্ষেত্রে আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে শুরু করা, দাড়ি ও আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা, সংকীর্ণ আংটি নাড়াচাড়া করা, সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করা এবং তা মাথার সামনের দিক থেকে শুরু করা, কানদ্বয় ও ঘাড় মাসাহ করা এবং প্রতিটি ধৌতকরণ তিনবার করা।

৯ - গোসলের ফরযসমূহ; আর গোসলের ফরয পাঁচটি: কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, সমস্ত শরীর ধৌত করা এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ভাগে পানি পৌঁছানো।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২৮)
السُّرَّة وَإِلَى أثْنَاء شعر الرجل وَإِن كَانَ مضفوراً بِخِلَاف ضفائر الْمَرْأَة وسننه سِتّ

10 - سنَن الْغسْل أَن يبْدَأ بِغسْل يَدَيْهِ وفرجه وَإِزَالَة نَجَاسَة بدنه ثمَّ يتَوَضَّأ وضوء الصَّلَاة إِلَّا رجلَيْهِ إِن كَانَ فِي مجمع الغسالة ثمَّ يغسل رَأسه وَجَسَده ثَلَاثًا ثمَّ يخرج من مجمع الغسالة فَيغسل رجلَيْهِ

11 - مَتى يسن الْغسْل وَغسل يَوْم الْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ وعرفة وَعند الْإِحْرَام سنة وَشرط السّنة أَن يُصَلِّي بِهِ الْجُمُعَة قبل أَن يحدث وَغسل من أسلم أَو أَفَاق أَو بلغ بِالسِّنِّ مُسْتَحبّ
নাভি এবং পুরুষের চুলের অভ্যন্তরীণ অংশ পর্যন্ত, যদিও তা বিনুনি করা থাকে, যা নারীর বিনুনির ব্যতিক্রম; আর এর সুন্নত ছয়টি।

10 - গোসলের সুন্নতসমূহ হলো: শুরুতে তার উভয় হাত ও লজ্জাস্থান ধৌত করা এবং শরীরের অপবিত্রতা দূর করা, অতঃপর নামাজের অজুর ন্যায় অজু করা, তবে যদি সে পানি জমা হওয়ার স্থানে থাকে তবে পা দুটি ধৌত করবে না, তারপর মাথা ও শরীর তিনবার ধৌত করবে, অতঃপর পানি জমার স্থান থেকে সরে গিয়ে তার পা দুটি ধৌত করবে।

11 - কখন গোসল করা সুন্নত? জুমার দিন, দুই ঈদের দিন, আরাফার দিন এবং ইহরাম বাঁধার সময়ের গোসল সুন্নত। আর সুন্নতের শর্ত হলো অজু ভঙ্গ করার পূর্বেই তা দিয়ে জুমার নামাজ আদায় করা। আর যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে অথবা সুস্থ হয়েছে কিংবা বয়সের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, তার গোসল করা মুস্তাহাব।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ২৯)
12 - مَتى يجب الْغسْل وَإِن بلغ بالإنزال فَوَاجِب وَغسل الْجَنَابَة وَالْحيض وَالنّفاس لَا يسْقط بِالْإِسْلَامِ
১২ - কখন গোসল ওয়াজিব হয়? যদি বীর্যপাতের মাধ্যমে সাবালগ হয় তবে তা ওয়াজিব। আর জানাবাত, হায়েজ ও নিফাসের গোসল ইসলাম গ্রহণের কারণে রহিত হয় না।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌نواقض الْوضُوء

 

13 - مَا ينْقض من السَّائِل كل خَارج من السَّبِيلَيْنِ وَالدَّم والقيح والصديد السَّائِل بِغَيْر عصر إِلَى مَحل الطَّهَارَة فِي الْجُمْلَة والقيء ملْء الْفَم

14 - النّوم الناقض وَالنَّوْم مُضْطَجعا أَو مُتكئا أَو مُسْتَندا غير مُسْتَقر على الأَرْض وَغَلَبَة بإغماء أَو جُنُون أَو سكر والقهقهة فِي كل صَلَاة ذَات رُكُوع وَسُجُود

15 - خُرُوج الدَّم وَلَو خرج من فَمه دم إِن غَلبه الرِّيق لوناً لم ينْقض وَإِن غلب الدَّم الرِّيق أَو تَسَاويا نقض
ওযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ

 

১৩ - ওযু ভঙ্গকারী প্রবাহী বস্তুসমূহ হলো: দুই রাস্তা দিয়ে নির্গত প্রতিটি বস্তু; এবং রক্ত, পুঁজ ও লসিকা যা নিংড়ানো ছাড়াই শরীরের পবিত্রকরণীয় অংশে গড়িয়ে পড়ে; এবং মুখভর্তি বমি।

১৪ - ওযু ভঙ্গকারী ঘুম হলো: কাত হয়ে শুয়ে ঘুমানো, অথবা কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে বা ভর দিয়ে এমনভাবে ঘুমানো যাতে শরীর জমিনের ওপর স্থির না থাকে; এবং মূর্ছা যাওয়া, পাগল হওয়া বা মাতাল হওয়ার কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারানো; এবং রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট প্রত্যেক সালাতে অট্টহাসি দেওয়া।

১৫ - রক্ত নির্গত হওয়া: যদি মুখ থেকে রক্ত বের হয় এবং রঙের দিক থেকে থুথু রক্তের ওপর প্রবল থাকে, তবে ওযু ভাঙবে না। আর যদি রক্ত থুথুর ওপর প্রবল হয় অথবা উভয়ই সমান হয়, তবে ওযু ভেঙে যাবে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩১)
16 - الْمس الناقض وَمَسّ الذّكر لَا ينْقض وَلَا لمس الْمَرْأَة إِلَّا فِي الْمُبَاشرَة الْفَاحِشَة

17 - مُوجبَات الْغسْل وَيُوجب الْغسْل دفق الْمَنِيّ بِشَهْوَة نَائِما كَانَ أَو يقظانا نَائِما كَانَ أَو يقظاناً وتغييب الْحَشَفَة فِي أحد السَّبِيلَيْنِ من إِنْسَان وَالْحيض وَالنّفاس وَلَا يُوجِبهُ خُرُوج الْمَنِيّ بِغَيْر شَهْوَة وَلَو احْتَلَمَ وَلم ير بللاً فَلَا غسل عَلَيْهِ وَلَو رأى بللاً مذياً أَو منياً وَلم يذكر احتلاما لزمَه الْغسْل
16 - অযু ভঙ্গকারী স্পর্শ: পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু ভঙ্গ হয় না এবং নারীকে স্পর্শ করলেও অযু ভঙ্গ হয় না, তবে সরাসরি অশালীন শারীরিক স্পর্শ ব্যতীত।

17 - গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ: কামোদ্দীপনার সাথে বীর্য সজোরে নির্গত হওয়া, চাই তা ঘুমন্ত অবস্থায় হোক বা জাগ্রত অবস্থায়; এবং মানুষের সম্মুখ বা পশ্চাৎপথের যে কোনো একটিতে লিঙ্গাগ্রের প্রবেশ; এবং মাসিক ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব। কামোদ্দীপনা ব্যতিরেকে বীর্য নির্গত হলে গোসল ওয়াজিব হয় না। আর যদি কারও স্বপ্নদোষ হয় কিন্তু সে কোনো সিক্ততা না দেখে, তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব নয়। কিন্তু যদি সিক্ততা দেখা যায়—তা মযী হোক বা বীর্য—এবং স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ না থাকে, তবে তার ওপর গোসল করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌فصل فِي مسح الْخُف

 

18 - مسح الْمُقِيم وَالْمُسَافر يمسح الْمُقِيم من الْحَدث خَاصَّة يَوْمًا وَلَيْلَة وَالْمُسَافر ثَلَاثَة أَيَّام ولياليها من وَقت الْحَدث بِشَرْط لبسه على طَهَارَة كَامِلَة عِنْد الْحَدث

19 - الْمسْح على غير الْخُف وَيجوز الْمسْح على خف فَوق خف وعَلى جرموق فَوق خف إِن لبسه قبل الْحَدث
চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসেহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

১৮ - মুকিম ও মুসাফিরের মাসেহ: মুকিম বিশেষত অপবিত্রতা (হাদাস) প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে এক দিন ও এক রাত মাসেহ করবে, এবং মুসাফির অপবিত্রতা প্রকাশ পাওয়ার সময় থেকে তিন দিন ও তিন রাত মাসেহ করবে; শর্ত হলো, অপবিত্রতা অর্জনের সময় মোজাটি পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় পরিহিত থাকতে হবে।

১৯ - মোজা ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর মাসেহ: মোজার ওপর মোজা কিংবা মোজার ওপর জুরমুক (মোজা সদৃশ বহিরাবরণ) পরিধান করলে তার ওপর মাসেহ করা বৈধ, যদি তা অপবিত্র হওয়ার পূর্বেই পরিধান করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وعَلى جورب لَا يشف وَيقف على السَّاق بِلَا ربط وَلَو لم يكن مجلداً

20 - إِذا سَافر الْمُقِيم وَالْعَكْس وَلَو سَافر مُقيم فِي مدَّته أتم ثَلَاثَة وَلَو أَقَامَ مُسَافر فِي مدَّته لم يزدْ على يَوْم وَلَيْلَة من حِين مسح

21 - صفة الْمسْح وَيمْسَح ظَاهر الْخُف وَأقله قدر ثَلَاثَة أَصَابِع من أَصَابِع الْيَد

22 - الْمَانِع من الْمسْح والخرق الْكَبِير مَانع وَهُوَ قدر ثَلَاثَة من أَصْغَر أَصَابِع الرجل

23 - نواقض الْمسْح وينقض الْمسْح كل مَا ينْقض الْوضُوء وينقضه أَيْضا مُضِيّ الْمدَّة وَنزع إِحْدَى الْقَدَمَيْنِ إِلَى سَاق الْخُف وَمَتى بَطل الْمسْح بِمُضِيِّ الْمدَّة أَو بالنزع كفى غسل الْقَدَمَيْنِ
এবং এমন মোজার ওপর (মাসেহ করা বৈধ) যা স্বচ্ছ নয় এবং যা ফিতা দিয়ে বাঁধা ছাড়াই নলার ওপর স্থির থাকে, যদিও তা চামড়া দিয়ে মোড়ানো না হয়।

২০ - যখন মুকিম (নিবাসী) সফরে বের হয় এবং এর বিপরীত (অর্থাৎ মুসাফির মুকিম হয়): যদি কোনো মুকিম তার মেয়াদের মধ্যে সফরে বের হয়, তবে সে তিন দিন (তিন দিন তিন রাত) পূর্ণ করবে। আর যদি কোনো মুসাফির তার মেয়াদের মধ্যে মুকিম হয়ে যায়, তবে সে মাসেহ করার সময় থেকে একদিন এক রাতের বেশি বৃদ্ধি করবে না।

২১ - মাসেহ করার পদ্ধতি: চামড়ার মোজার উপরিভাগে মাসেহ করতে হবে এবং এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো হাতের তিন আঙুলের সমান।

২২ - মাসেহ করার অন্তরায়: বড় ধরনের ছিদ্র মাসেহ করার অন্তরায়, আর তা হলো পায়ের ক্ষুদ্রতম তিন আঙুলের সমান।

২৩ - মাসেহ ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: যা কিছু ওজু ভঙ্গ করে, তার সবই মাসেহ ভঙ্গ করে। এছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চামড়ার মোজার নলা পর্যন্ত যেকোনো একটি পা বের করাও মাসেহ ভঙ্গ করে। আর যখন মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বা মোজা খুলে ফেলার কারণে মাসেহ বাতিল হয়ে যাবে, তখন শুধু দুই পা ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
24 - الْمسْح على الْجَبِيرَة وَيمْسَح الْجَبِيرَة وَإِن شدها مُحدثا وَلَا يتوقت فَإِن سَقَطت عَن غير برْء بَقِي الْمسْح وَإِن كَانَ عَن برْء بَطل وَإِن كَانَ فِي الصَّلَاة اسْتَقْبلهَا وعصابة الفصد وَنَحْوه إِن ضره حلهَا مسحها مَعَ فرجتيها
24 - জাবীরা (ক্ষতস্থানের পট্টি)-র ওপর মাসেহ: জাবীরার ওপর মাসেহ করবে, যদিও তা অপবিত্র অবস্থায় বাঁধা হয়ে থাকে। এর জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। যদি আরোগ্য লাভের পূর্বেই তা পড়ে যায়, তবে মাসেহ বহাল থাকবে। কিন্তু যদি আরোগ্য লাভের কারণে তা পড়ে যায়, তবে মাসেহ বাতিল হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় যদি সে সালাতরত থাকে, তবে নতুন করে সালাত শুরু করবে। রক্তমোক্ষণ বা অনুরূপ বিষয়ের পট্টিও যদি খোলা ক্ষতিকর হয়, তবে তার ওপর এবং এর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানসমূহে মাসেহ করবে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌فصل فِي التَّيَمُّم

 

25 - حالات جَوَاز التَّيَمُّم وَمن لم يجد المَاء خَارج الْمصر وَبَينه وَبَين الْمصر ميل أَو وجده وَهُوَ يخَاف الْعَطش أَو كَانَ مَرِيضا يخَاف شدَّة مَرضه بحركته
তায়াম্মুম সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ

 

২৫ - তায়াম্মুম বৈধ হওয়ার অবস্থাসমূহ: যে ব্যক্তি জনপদের বাইরে পানি পায় না এবং তার ও জনপদের মাঝে এক মাইলের দূরত্ব থাকে, অথবা পানি পায় কিন্তু সে তৃষ্ণার আশঙ্কা করে, অথবা সে অসুস্থ এবং নড়াচড়া করলে তার রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أَو باستعمالة أَو كَانَ جنبا فِي الْمصر يخَاف شدَّة الْبرد أَو كَانَ خَائفًا على نَفسه أَو مَاله من عَدو أَو سبع أَو وجده يُبَاع بِغَبن فَاحش أَو بِثمن الْمثل وَهُوَ لَا يملكهُ تيَمّم

26 - التَّيَمُّم مَعَ وجود المَاء وَيتَيَمَّم مَعَ وجود المَاء بالخوف فَوت صَلَاة الْعِيد أَو الْجِنَازَة والولى غَيره

27 - طلب المَاء للْوُضُوء لَا لخوف فَوت الْجُمُعَة وَالْوَقْت فَإِن كَانَ مَعَ رَفِيقه
অথবা এটি ব্যবহারে, কিংবা যদি কোনো ব্যক্তি শহরে থাকা অবস্থায় অপবিত্র (জুনুব) হয় এবং তীব্র শীতের ভয় করে, অথবা শত্রু বা হিংস্র প্রাণীর পক্ষ থেকে নিজের জীবন বা সম্পদের ব্যাপারে ভীত থাকে, অথবা যদি সে পানিকে অত্যধিক চড়া মূল্যে অথবা বাজার মূল্যে বিক্রয় হতে দেখে কিন্তু তার নিকট তা ক্রয় করার মতো অর্থ না থাকে, তবে সে তায়াম্মুম করবে।

২৬ - পানির উপস্থিতিতে তায়াম্মুম; আর পানির উপস্থিতিতে তায়াম্মুম করা যাবে যদি ঈদের সালাত বা জানাজার সালাত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে এবং (জানাজার ক্ষেত্রে) অভিভাবক সে নিজে ব্যতীত অন্য কেউ হয়।

২৭ - ওযুর জন্য পানি অনুসন্ধান করা; জুমুআহ এবং ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তায়াম্মুম করা যাবে না। আর যদি পানি তার সঙ্গীর নিকট থাকে...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩৭)
مَاء طلبه قبل التَّيَمُّم اسْتِحْبَابا وَلَا يجب طلب المَاء إِلَّا إِذا غلب على ظَنّه أَنه بِقُرْبِهِ

28 - صفة التَّيَمُّم وَالتَّيَمُّم ضربتان ضَرْبَة للْوَجْه وضربة لِلْيَدَيْنِ مَعَ مرفقيه ويخلل أَصَابِعه وَينْزع خَاتمه وَالنِّيَّة فِيهِ فرض

29 - مَادَّة التَّيَمُّم وَيجوز بالصعيد الطَّاهِر وَهُوَ كل مَا كَانَ من جنس الأَرْض كالتراب والرمل وَالْحجر والنورة والكحل والزرنيخ وَالتَّيَمُّم للْحَدَث والجنابة سَوَاء
তায়াম্মুমের পূর্বে পানি অন্বেষণ করা মুস্তাহাব। পানি অন্বেষণ করা ততক্ষণ পর্যন্ত ওয়াজিব নয়, যতক্ষণ না ব্যক্তির প্রবল ধারণা হয় যে পানি তার নিকটেই আছে।

28 - তায়াম্মুমের পদ্ধতি: তায়াম্মুম হলো দুইবার আঘাত করা; একবার আঘাত চেহারার জন্য এবং একবার আঘাত উভয় হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ করার জন্য। সে যেন তার আঙুলসমূহ খিলাল করে এবং নিজের আংটি খুলে ফেলে; আর তায়াম্মুমের নিয়ত করা ফরজ।

29 - তায়াম্মুমের উপকরণ: পবিত্র ভূ-পৃষ্ঠ দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েজ; আর তা হলো যা কিছু মাটির শ্রেণিভুক্ত, যেমন: মাটি, বালু, পাথর, চুন, সুরমা এবং হারতাল। হাদাস (অজু ভঙ্গ হওয়া) এবং জানাবাত (গোসল ফরজ হওয়া) উভয় ক্ষেত্রে তায়াম্মুমের বিধান সমান।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩৮)
30 - نواقض التَّيَمُّم وينقضه مَا ينْقض الْوضُوء ورؤية المَاء أَيْضا إِذا قدر على اسْتِعْمَاله وَمن يَرْجُو المَاء فِي آخر الْوَقْت فَالْأَفْضَل لَهُ تَأْخِير الصَّلَاة وَيُصلي بتيممه مَا شَاءَ فرضا ونفلاً

31 - التَّيَمُّم بنسيان المَاء وَلَو نسي المَاء فِي رَحْله أَو كَانَ بِقُرْبِهِ مَاء لَا يعلم فَتَيَمم وَصلى أَجزَأَهُ

32 - التَّيَمُّم مَعَ مَاء السَّبِيل وَمَا أعد فِي الطّرق للشُّرْب لَا يمْنَع التَّيَمُّم إِلَّا أَن يعلم بكثرته أَنه وضع للْوُضُوء وَالشرب
৩০ - তায়াম্মুম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: তায়াম্মুম ভঙ্গ হয় সে সমস্ত বিষয়ের দ্বারা যা অজু ভঙ্গ করে এবং পানি দেখার দ্বারাও, যদি তা ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। আর যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শেষ দিকে পানি পাওয়ার আশা রাখে, তার জন্য সালাত বিলম্বিত করা উত্তম। সে তার তায়াম্মুমের মাধ্যমে ফরজ ও নফল যা ইচ্ছা সালাত আদায় করতে পারবে।

৩১ - পানি ভুলে যাওয়ার কারণে তায়াম্মুম: যদি কেউ তার আসবাবপত্রের মধ্যে পানি থাকার কথা ভুলে যায় অথবা তার নিকটেই পানি ছিল যা সে জানত না, এমতাবস্থায় সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করলে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

৩২ - সর্বসাধারণের জন্য রাখা পানির উপস্থিতিতে তায়াম্মুম: পান করার উদ্দেশ্যে রাস্তার ধারে যা (সাবিল হিসেবে) রাখা হয়েছে, তা তায়াম্মুমের জন্য বাধা হবে না; যদি না এর প্রাচুর্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি অজু এবং পান করা—উভয় কার্যের জন্যই রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌فصل فِي إِزَالَة النَّجَاسَة

 

33 - مواد إِزَالَة النَّجَاسَة النَّجَاسَة المرئية تطهر بِزَوَال عينهَا بِكُل مَائِع طَاهِر مزيل كالخل وَمَاء الْورْد وَالْمَاء الْمُسْتَعْمل

34 - الْعَفو فِي الْإِزَالَة والأثر الَّذِي يشق إِزَالَته عَفْو

35 - إِزَالَة غير المرئي وَغير المرئية تطهر بِالْغسْلِ الَّذِي يغلب على
নাজাসাত বা অপবিত্রতা দূরীকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

৩৩ - অপবিত্রতা দূর করার উপকরণসমূহ: দৃশ্যমান অপবিত্রতা তার মূল উপাদান অপসারিত হওয়ার মাধ্যমে পবিত্র হয়—এমন প্রতিটি পবিত্র তরল দ্বারা যা তা দূর করতে সক্ষম; যেমন সিরকা, গোলাপজল এবং ব্যবহৃত পানি।

৩৪ - অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে মার্জনীয় বিষয়: যে চিহ্ন বা দাগ দূর করা কষ্টসাধ্য তা মার্জনীয়।

৩৫ - অদৃশ্য অপবিত্রতা দূরীকরণ: অদৃশ্য অপবিত্রতা এমন ধৌতকরণের মাধ্যমে পবিত্র হয় যা প্রবল ধারণার সৃষ্টি করে যে...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪০)
الظَّن الزَّوَال بِهِ

36 - طَهَارَة الصَّقِيل وكل شَيْء صقيل كالمرآة وَالسيف والسكين وَنَحْوهَا يطهر بِالْمَسْحِ

37 - غسل الْمَنِيّ والمني نجس يجب غسله رطبا وَيَكْفِي فركه يَابسا

38 - أثر الشَّمْس فِي الطَّهَارَة وَلَو ذهب أثر النَّجَاسَة عَن الأَرْض بالشمس جَازَت الصَّلَاة على مَكَانهَا دون التَّيَمُّم مِنْهُ

39 - النَّجَاسَة الَّتِي تطهر بالدلك وَإِذا أَصَابَت الْخُف أَو النَّعْل نَجَاسَة لَهَا جرم فجفت فدلكه
তা দূরীভূত হওয়ার প্রবল ধারণা।

৩৬ - মসৃণ বস্তুর পবিত্রতা: দর্পণ, তরবারি, ছুরি এবং এজাতীয় প্রতিটি মসৃণ বস্তু মুছে ফেলার মাধ্যমেই পবিত্র হয়।

৩৭ - বীর্য ধৌত করা: বীর্য অপবিত্র; তা সিক্ত অবস্থায় ধৌত করা ওয়াজিব এবং শুষ্ক অবস্থায় ঘষে ফেলাই যথেষ্ট।

৩৮ - পবিত্রতার ক্ষেত্রে সূর্যের প্রভাব: সূর্যের তাপে যদি মাটি থেকে নাপাকির চিহ্ন দূরীভূত হয়, তবে সেই স্থানে সালাত আদায় করা বৈধ, তবে সেখান থেকে তায়াম্মুম করা যাবে না।

৩৯ - যে নাপাকি ঘষার মাধ্যমে পবিত্র হয়: যদি মোজা বা জুতায় এমন কোনো নাপাকি লাগে যার দৃশ্যমান অস্তিত্ব আছে, অতঃপর তা শুকিয়ে যায় এবং ব্যক্তি তা ঘষে ফেলে (তবে তা পবিত্র হবে)।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪১)
بِالْأَرْضِ يطهر بِخِلَاف المائعة وَالثَّوْب
মাটির দ্বারা পবিত্র হয়, যা তরল পদার্থ এবং কাপড়ের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌فصل فِي الْبِئْر

 

40 - مَاذَا تنجس الْبِئْر النَّجَاسَة المائعة تنجسها والجامدة كالبعر والروث والخثى قليلها عَفْو لَا كثيرها

41 - ضَابِط الْمُتَنَجس وَهُوَ مَا يعده النَّاظر كثيرا وَالرّطب واليابس وَالصَّحِيح والمنكسر
কূপ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

 

৪০ - কোন বস্তু কূপকে অপবিত্র করে? তরল অপবিত্রতা একে অপবিত্র করে ফেলে। আর কঠিন অপবিত্রতা যেমন উটের নাদি, ঘোড়া বা গাধার বিষ্ঠা এবং গরু-মহিষের গোবর—এর স্বল্প পরিমাণ মার্জনীয়, অধিক পরিমাণ নয়।

৪১ - অপবিত্র গণ্য হওয়ার মানদণ্ড: দর্শক যা অধিক বলে মনে করে। আর তা আর্দ্র হোক বা শুষ্ক, আস্ত হোক বা চূর্ণ (সবই সমান)।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪৩)
سَوَاء

42 - موت فَأْرَة فِي الْبِئْر فَإِن مَاتَت فِيهَا فَأْرَة أَو عُصْفُور وَنَحْوهمَا تطهر بنزح عشْرين دلوا بدلوها بعد إِخْرَاج الْوَاقِع

43 - موت الْحَمَامَة فِي الْبِئْر وَفِي الْحَمَامَة والدجاجة والهر وَنَحْوهَا أَرْبَعُونَ

44 - موت آدَمِيّ فِيهَا وَفِي الْآدَمِيّ وَالشَّاة وَنَحْوهمَا بنزح الْكل

45 - انتفاخ الْوَاقِع فِي الْبِئْر وَإِن انتفخ الْوَاقِع أَو تفسخ نزح الْكل مُطلقًا يَعْنِي صغر أَو
একইরূপ

৪২ - কূপে ইঁদুরের মৃত্যু: যদি তাতে ইঁদুর অথবা চড়ুই বা তদনুরূপ কোনো প্রাণী মারা যায়, তবে পতিত প্রাণীটি বের করার পর ওই কূপের বালতি দ্বারা বিশ বালতি পানি সেঁচে ফেলার মাধ্যমে তা পবিত্র হবে।

৪৩ - কূপে কবুতরের মৃত্যু: কবুতর, মুরগি, বিড়াল ও তদনুরূপ প্রাণীর ক্ষেত্রে চল্লিশ বালতি (পানি সেঁচতে হবে)।

৪৪ - কূপে মানুষের মৃত্যু: মানুষ, বকরি ও তদনুরূপ প্রাণীর ক্ষেত্রে সমস্ত পানি সেঁচে ফেলতে হবে।

৪৫ - কূপে পতিত প্রাণী ফুলে যাওয়া: যদি পতিত প্রাণীটি ফুলে যায় অথবা পচে-গলে যায়, তবে নিঃশর্তভাবে সমস্ত পানি সেঁচে ফেলতে হবে; অর্থাৎ সেটি ছোট হোক বা...
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪৪)
كبر فَإِن لم يُمكن لنبع المَاء نزح حَتَّى يَغْلِبهُمْ المَاء
যদি তা বড় হয়, তবে পানির প্রস্রবণের কারণে যদি তা সেচে নিঃশেষ করা সম্ভব না হয়, যতক্ষণ না পানি তাদের ওপর প্রবল হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌فصل فِي الِاسْتِنْجَاء

 

46 - حكم الِاسْتِنْجَاء وأدواته هُوَ سنة من الْبَوْل وَالْغَائِط وَنَحْوهمَا بِكُل طَاهِر مزيل يمسح الْمحل حَتَّى ينقيه وَلَا يسن الْعدَد وَالْمَاء أفضل

47 - وجوب اسْتِعْمَال المَاء فَإِن جَاوز الْخَارِج الْمخْرج تعين المَاء

48 - مَا يكره بِهِ الِاسْتِنْجَاء وَيكرهُ بالعظم والروث والمطعوم وَالْيَمِين وَالله أعلم
ইস্তিনজা (শৌচকার্য) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

46 - ইস্তিনজার বিধান ও এর উপকরণ: প্রস্রাব, মল ও এ জাতীয় বস্তু থেকে এমন প্রতিটি পবিত্র ও পরিষ্কারক বস্তু দ্বারা ইস্তিনজা করা সুন্নাত যা স্থানটি পরিচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত মুছে দেয়। এতে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা সুন্নাত নয়, তবে পানি ব্যবহার করা উত্তম।

47 - পানি ব্যবহারের আবশ্যকতা: যদি নির্গত বস্তু নির্গমনপথ অতিক্রম করে যায়, তবে পানি ব্যবহার করা নির্ধারিত (আবশ্যক)।

48 - যা দ্বারা ইস্তিনজা করা মাকরূহ: হাড়, গোবর, খাদ্যদ্রব্য এবং ডান হাত দ্বারা ইস্তিনজা করা মাকরূহ। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪৬)
= كتاب الصَّلَاة =

49 - وَقت لُزُوم الصَّلَاة وَمن أسلم أَو أَفَاق أَو بلغ أَو طهرت وَقد بَقِي من الْوَقْت قدر تحريمة لَزِمته وَلَو ارْتَدَّ أَو جن أَو حَاضَت حِينَئِذٍ لم تجب
= সালাত অধ্যায় =

৪৯ - সালাত আবশ্যক হওয়ার সময়: যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল অথবা যার জ্ঞান ফিরে এল অথবা যে প্রাপ্তবয়স্ক হলো অথবা যে নারী পবিত্র হলো এবং ওয়াক্তের এমন পরিমাণ সময় অবশিষ্ট রইল যা তাকবীরে তাহরীমা পাঠের সমপরিমাণ, তবে তার ওপর সেই সালাত আবশ্যক হবে। কিন্তু যদি সেই মুহূর্তে কেউ মুরতাদ হয়ে যায় অথবা পাগল হয়ে যায় অথবা ঋতুবতী হয়, তবে তা ওয়াজিব হবে না।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌فصل فِي الْأَذَان

 

50 - حكم الْأَذَان وَصفته الْأَذَان سنة مُؤَكدَة للخمس وَالْجُمُعَة فَقَط بِغَيْر تَرْجِيع وَيزِيد فِي أَذَان الْفجْر بعد الْفَلاح الصَّلَاة خير من النّوم مرَّتَيْنِ

51 - صفة الْإِقَامَة وَالْإِقَامَة مثله بِزِيَادَة قد قَامَت الصَّلَاة مرَّتَيْنِ بعد الْفَلاح
আজান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

50 - আজানের বিধান ও এর পদ্ধতি: আজান কেবল পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও জুমার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা তারজি (উচ্চস্বরে বলার আগে নিচুস্বরে শাহাদাতাইন পাঠ করা) ব্যতীত প্রদান করতে হয়। ফজরের আজানে 'হাইয়া আলাল ফালাহ'-এর পর 'আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম' বাক্যটি দুইবার বৃদ্ধি করতে হবে।

51 - ইকামতের পদ্ধতি: ইকামতও আজানের অনুরূপ, তবে এতে 'হাইয়া আলাল ফালাহ'-এর পর 'কদ ক্বামাতিস সালাত' বাক্যটি দুইবার অতিরিক্ত বলতে হবে।
(খণ্ড: ১) তুহফাতুল মুলূক (পৃষ্ঠা: ৪৯)
ويترسل الْأَذَان ويدرج الْإِقَامَة وَيتَوَجَّهُ فيهمَا الْقبْلَة ويلتفت يمنة ويسرة وَيرْفَع فيهمَا صَوته

52 - أَذَان الْمُحدث وَيسْتَحب الْوضُوء فيهمَا ويكرهان للْجنب ويعاد الْأَذَان خَاصَّة وَتكره إِقَامَة الْمُحدث

53 - الْأَذَان للفائتة وَيُؤذن للفائتة الأولى وَيُقِيم وَله الِاكْتِفَاء بِالْإِقَامَةِ فِي
আযান ধীরস্থিরভাবে স্পষ্টভাবে দিবে এবং একামত দ্রুততার সাথে দিবে, আর এই উভয় ক্ষেত্রে কিবলামুখী হবে এবং ডানে ও বামে চেহারা ঘুরাবে ও উভয়টিতে উচ্চস্বরে আওয়াজ করবে।

৫২ - অজুহীন ব্যক্তির আযান; উভয়টিতে (আযান ও একামতে) অজু করা মুস্তাহাব এবং অপবিত্র (গোসল ফরজ হওয়া) ব্যক্তির জন্য উভয়টি মাকরূহ, এমতাবস্থায় কেবল আযান পুনরায় প্রদান করা হবে এবং অজুহীন ব্যক্তির একামত প্রদান মাকরূহ।

৫৩ - কাজা নামাজের আযান; প্রথম কাজা নামাজের জন্য আযান ও একামত দিবে এবং তার জন্য কেবল একামতের ওপর ক্ষান্ত হওয়ার অবকাশ রয়েছে।