(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: -)
بداية المبتدي   (المرغيناني)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: متن بداية المبتدي في فقه الإمام أبي حنيفة

المؤلف: علي بن أبي بكر بن عبد الجليل الفرغاني المرغيناني، أبو الحسن برهان الدين (ت 593هـ)

الناشر: مكتبة ومطبعة محمد علي صبح - القاهرة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 267

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিদায়াতুল মুবতাদি   (আল-মারগিনানি)

বিভাগ: হানাফি ফিকহ


গ্রন্থ: ইমাম আবু হানিফার ফিকহ শাস্ত্রে বিদায়াতুল মুবতাদির মূল পাঠ

লেখক: আলি বিন আবি বকর বিন আব্দুল জলিল আল-ফারগানি আল-মারগিনানি, আবুল হাসান বুরহানুদ্দিন (মৃত্যু ৫৯৩ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবা ওয়া মাতবাআ মুহাম্মদ আলি সুবহ - কায়রো

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৭

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌متن بداية المبتدى فِي فقه الإِمَام أبي حنيفَة

بسم الله الرحمن الرحيم

=‌‌ كتاب الطَّهَارَة

قَالَ الله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة فَاغْسِلُوا وُجُوهكُم}
ইমাম আবু হানিফার ফিকহশাস্ত্রে বিদায়াতুল মুবতাদি-এর মূল পাঠ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

=‌‌ পবিত্রতা অধ্যায়

আল্লাহ তাআলা বলেন, {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো।}
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩)
الْآيَة فَفرض الطَّهَارَة غسل الْأَعْضَاء الثَّلَاثَة وَمسح الرَّأْس والمرفقان والكعبان يدخلَانِ فِي الْغسْل والمفروض فِي مسح الرَّأْس مِقْدَار الناصية وَهُوَ ربع الرَّأْس

وَسنَن الطَّهَارَة غسل الْيَدَيْنِ قبل إدخالهما الْإِنَاء إِذا اسْتَيْقَظَ المتوضىء من نَومه وَتَسْمِيَة الله تَعَالَى فِي ابْتِدَاء الْوضُوء والسواك والمضمضة وَالِاسْتِنْشَاق وَمسح الْأُذُنَيْنِ وتخليل اللِّحْيَة وتخليل الْأَصَابِع وتكرار الْغسْل إِلَى الثَّلَاث

وَيسْتَحب للمتوضىء أَن يَنْوِي الطَّهَارَة ويستوعب رَأسه بِالْمَسْحِ ويرتب الْوضُوء فَيبْدَأ بِمَا بَدَأَ الله تَعَالَى بِذكرِهِ وبالميامن

‌‌فصل فِي نواقض الْوضُوء

الْمعَانِي الناقضة للْوُضُوء كل مَا يخرج من السَّبِيلَيْنِ وَالدَّم والقيح إِذا خرجا من الْبدن فتجاوزا الى مَوضِع يلْحقهُ حكم التَّطْهِير والقيء ملْء الْفَم وَهَذَا إِذا قاء مرّة أَو طَعَاما أَو مَاء فان قاء بلغما فَغير نَاقض وَلَو قاء دَمًا وَهُوَ علق يعْتَبر فِيهِ ملْء الْفَم لِأَنَّهُ سَوْدَاء محترقة وَلَو نزل إِلَى مالان من الْأنف نقض بالِاتِّفَاقِ وَالنَّوْم مُضْطَجعا أَو مُتكئا أَو مُسْتَندا إِلَى شَيْء لَو أزيل لسقط وَالْغَلَبَة على الْعقل بالاغماء وَالْجُنُون والقهقهة فِي كل صَلَاة ذَات رُكُوع وَسُجُود وَالدَّابَّة تخرج من الدبر ناقضة فان خرجت من رَأس الْجرْح أَو سقط اللَّحْم لَا تنقض فان قشرت
আয়াতানুসারে পবিত্রতার (অজুর) ফরজ হলো তিনটি অঙ্গ ধৌত করা এবং মাথা মাসেহ করা। উভয় কনুই এবং উভয় টাখনু ধৌত করার অন্তর্ভুক্ত। মাথা মাসেহের ক্ষেত্রে কপালের উপরিভাগের (নাসিয়া) সমপরিমাণ মাসেহ করা ফরজ, যা মাথার এক-চতুর্থাংশ।

অজুর সুন্নতসমূহ হলো: যখন অজুকারী ঘুম থেকে জাগ্রত হয় তখন পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর পূর্বে উভয় হাত ধৌত করা, অজুর শুরুতে মহান আল্লাহর নাম নেওয়া, মেসওয়াক করা, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, উভয় কান মাসেহ করা, দাড়ি খিলাল করা, আঙুলসমূহ খিলাল করা এবং ধৌত করার কাজগুলো তিনবার করে করা।

অজুকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো পবিত্রতার নিয়ত করা, পুরো মাথা মাসেহ করা এবং অজুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সুতরাং সে তা দিয়েই শুরু করবে যা দিয়ে মহান আল্লাহ (কুরআনে) উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং ডান দিক থেকে শুরু করা।

অজু ভঙ্গের কারণসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

অজু ভঙ্গকারী বিষয়গুলো হলো: উভয় পথ (মলমূত্রের রাস্তা) দিয়ে যা কিছু নির্গত হয়; এবং রক্ত ও পুঁজ যখন শরীর থেকে বের হয়ে এমন স্থানে প্রবাহিত হয় যা পবিত্র করা আবশ্যক; এবং মুখভর্তি বমি। এটি প্রযোজ্য পিত্ত, খাদ্য বা পানি বমির ক্ষেত্রে। তবে যদি কফ বমি হয় তবে তা অজু ভঙ্গকারী নয়। আর যদি জমাট রক্ত বমি হয় তবে তাতেও মুখভর্তি হওয়া শর্ত, কেননা তা দহনকৃত কৃষ্ণ পিত্ত। আর যদি তা নাকের নরম হাড় পর্যন্ত নেমে আসে তবে সর্বসম্মতিক্রমে অজু ভঙ্গ হবে। আর কাত হয়ে শুয়ে ঘুমানো, অথবা কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে বা ঠেস দিয়ে ঘুমানো যা সরিয়ে নিলে সে পড়ে যাবে; এবং মূর্ছা যাওয়া বা উন্মাদনার কারণে জ্ঞান হারানো; এবং রুকু ও সিজদাহ বিশিষ্ট প্রত্যেক নামাজে অট্টহাসি দেওয়া। মলদ্বার থেকে কোনো পোকা নির্গত হওয়া অজু ভঙ্গকারী। তবে যদি তা ক্ষতের মুখ থেকে বের হয় অথবা শরীরের মাংস খসে পড়ে তবে অজু ভঙ্গ হবে না। যদি চামড়া ছিলে যায়...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৪)
نفطة فَسَالَ مِنْهَا مَاء أَو صديد أَو غَيره إِن سَالَ عَن رَأس الْجرْح نقض وَإِن لم يسل لَا ينْقض

‌‌فصل فِي الْغسْل

وَفرض الْغسْل الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق وَغسل سَائِر الْبدن

وسننه أَن يبْدَأ المغتسل فَيغسل يَدَيْهِ وفرجه ويزيل نَجَاسَة إِن كَانَت على بدنه ثمَّ يتَوَضَّأ وضوءه للصَّلَاة إِلَّا رجلَيْهِ ثمَّ يفِيض المَاء على رَأسه وَسَائِر جسده ثَلَاثًا ثمَّ يتَنَحَّى عَن ذَلِك الْمَكَان فَيغسل رجلَيْهِ وَلَيْسَ على الْمَرْأَة أَن تنقض ضفائرها فِي الْغسْل إِذا بلغ المَاء أصُول الشّعْر

والمعاني الْمُوجبَة للْغسْل أنزل الْمَنِيّ على وَجه الدفق والشهوة من الرجل وَالْمَرْأَة حَالَة النّوم واليقظة والتقاء الختانين من غير إِنْزَال وَالْحيض وَالنّفاس

وَسن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْغسْل للْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ وعرفة والاحرام وَلَيْسَ فِي الْمَذْي والودى غسل وَفِيهِمَا الْوضُوء

بَاب المَاء الَّذِي يجوز بِهِ الْوضُوء وَمَا لَا يجوز

الطَّهَارَة من الاحداث جَائِزَة بِمَاء السَّمَاء والأودية والعيون والآبار والبحار وَلَا يجوز بِمَا اعتصر من الشّجر وَالثَّمَر وَلَا يجوز بِمَاء غلب عَلَيْهِ غَيره فَأخْرجهُ عَن طبع المَاء كالأشربة والخل وَمَاء الباقلا والمرق وَمَاء الْورْد وَمَاء الزردج وَتجوز الطَّهَارَة بِمَاء خالطه شَيْء طَاهِر فَغير أحد أَوْصَافه كَمَاء الْمَدّ وَالْمَاء الَّذِي اخْتَلَط بِهِ اللَّبن أَو الزَّعْفَرَان أَو الصابون أَو الاشنان فان تغير بالطبخ بعد مَا خلط بِهِ غَيره لَا يجوز التوضىء بِهِ

وكل مَاء وَقعت فِيهِ النَّجَاسَة لم يجز الْوضُوء بِهِ قَلِيلا كَانَت النَّجَاسَة أَو كثيرا وَالْمَاء الْجَارِي إِذا وَقعت فِيهِ نَجَاسَة جَازَ الْوضُوء مِنْهُ إِذا لم ير لَهَا أثر لِأَنَّهَا لَا تَسْتَقِر
ফোসকা; যদি তা থেকে পানি বা পুঁজ অথবা অন্য কিছু প্রবাহিত হয়—যদি তা ক্ষতের মুখ থেকে গড়িয়ে পড়ে তবে অজু ভেঙে যাবে, আর যদি প্রবাহিত না হয় তবে তা ভাঙবে না।

‌‌গোসল অধ্যায়

গোসলের ফরজ হলো কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং পুরো শরীর ধৌত করা।

এর সুন্নতসমূহ হলো—গোসলকারী শুরুতে তার দুই হাত ও লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং শরীরে কোনো অপবিত্রতা থাকলে তা দূর করবে। এরপর নামাজের অজুর মতো অজু করবে, তবে দুই পা বাদে। এরপর তার মাথায় ও পুরো শরীরে তিনবার পানি প্রবাহিত করবে। তারপর সেই স্থান থেকে সরে গিয়ে তার দুই পা ধৌত করবে। নারীর জন্য গোসলের সময় তার চুলের বিনুনি খোলা আবশ্যক নয়, যদি পানি চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ হলো—পুরুষ বা নারীর ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় কামোত্তেজনার সাথে সজোরে বীর্যপাত হওয়া, বীর্যপাত ছাড়াই দুই খতনাস্থানের মিলন (সহবাস), ঋতুস্রাব (হায়েজ) এবং প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (নিফাস)।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহ, দুই ঈদ, আরাফাহ এবং ইহরামের জন্য গোসল করাকে সুন্নত করেছেন। মযি ও ওদি নির্গত হলে গোসল নেই, বরং এই দুই ক্ষেত্রে অজু করতে হবে।

যে পানি দ্বারা অজু করা জায়েজ এবং যা দ্বারা জায়েজ নয় তার পরিচ্ছেদ

হাদাস (অশুচিতা) থেকে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ আকাশের পানি, উপত্যকার পানি, প্রস্রবণ, কূপ এবং সমুদ্রের পানি দ্বারা। গাছ বা ফল থেকে নিংড়ানো রস দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েজ নয়। এমন পানি দ্বারাও জায়েজ নয় যার উপর অন্য কোনো বস্তু প্রবল হয়ে তাকে পানির প্রকৃতি থেকে বের করে দিয়েছে, যেমন পানীয় দ্রব্য, সিরকা, শিমের পানি, ঝোল, গোলাপ জল এবং জাফরান মিশ্রিত হলুদ পানি। তবে এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ যাতে কোনো পবিত্র বস্তু মিশে তার কোনো একটি গুণ পরিবর্তন করে দিয়েছে, যেমন প্লাবনের পানি, এবং এমন পানি যাতে দুধ, জাফরান, সাবান বা ইশনান (ক্ষারজাতীয় উদ্ভিদ) মিশেছে। কিন্তু যদি অন্য কোনো বস্তু মিশিয়ে রান্না করার কারণে পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে তা দ্বারা অজু করা জায়েজ নয়।

এমন প্রতিটি পানি যাতে নাপাকি পড়েছে, তা দ্বারা অজু করা জায়েজ নেই, নাপাকি কম হোক বা বেশি। তবে প্রবাহমান পানিতে নাপাকি পড়লে তা দ্বারা অজু করা জায়েজ যদি তাতে নাপাকির কোনো চিহ্ন দেখা না যায়, কারণ তা স্থির থাকে না।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৫)
مَعَ جَرَيَان المَاء والغدير الْعَظِيم الَّذِي لَا يَتَحَرَّك أحد طَرفَيْهِ بتحريك الطّرف الآخر إِذا وَقعت نَجَاسَة فِي أحد جانبيه جَازَ الْوضُوء من الْجَانِب الآخر لِأَن الظَّاهِر أَن النَّجَاسَة لَا تصل اليه

وَمَوْت مَا لَيْسَ لَهُ نفس سَائِلَة فِي المَاء لَا يُنجسهُ كالبق والذباب والزنابير وَالْعَقْرَب وَنَحْوهَا وَمَوْت مَا يعِيش فِي المَاء فِيهِ لَا يُفْسِدهُ كالسمك والضفدع والسرطان وَالْمَاء الْمُسْتَعْمل لَا يجوز اسْتِعْمَاله فِي طَهَارَة الاحداث وَالْمَاء الْمُسْتَعْمل هُوَ مَاء أزيل بِهِ حدث أَو اسْتعْمل فِي الْبدن على وَجه الْقرْبَة

وكل أهاب دبغ فقد طهر وَجَازَت الصَّلَاة فِيهِ وَالْوُضُوء مِنْهُ إِلَّا جلد الْخِنْزِير والآدمي وَشعر الْميتَة وعظمها طَاهِر وَشعر الانسان وعظمه طَاهِر

‌‌فصل فِي الْبِئْر

وَإِذا وَقعت فِي الْبِئْر نَجَاسَة نزحت وَكَانَ نزح مَا فِيهَا من المَاء طَهَارَة لَهَا فان وَقعت فِيهَا بَعرَة أَو بعرتان من بقر الابل أَو الْغنم لم تفْسد المَاء فان وَقع فِيهَا خرء الْحمام أَو العصفور لَا يُفْسِدهُ فان بَالَتْ فِيهَا شَاة نزح المَاء كُله عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف رحمهمَا الله وَقَالَ مُحَمَّد رحمه الله لَا ينْزح إِلَّا إِذا غلب على المَاء فَيخرج من أَن يكون طهُورا وَإِن مَاتَت فِيهَا فَأْرَة أَو عصفورة أَو صعوة أَو سودانية أَو سَام أبرص نزح مِنْهَا مَا بَين عشْرين دلوا الى ثَلَاثِينَ بِحَسب كبر الدَّلْو وصغرها فان مَاتَت فِيهَا حمامة أَو نَحْوهَا كالدجاجة والسنور نزح مِنْهَا مَا بَين أَرْبَعِينَ دلوا الى سِتِّينَ وَفِي الْجَامِع الصَّغِير أَرْبَعُونَ أَو خَمْسُونَ وان مَاتَت فِيهَا شَاة أَو آدَمِيّ أَو كلب نزح جَمِيع مَا فِيهَا من المَاء فان انتفخ الْحَيَوَان فِيهَا أَو تفسخ نزح جَمِيع مَا فِيهَا صغر الْحَيَوَان أَو كبر وَإِن كَانَت الْبِئْر معينا لَا يُمكن نزحها أخرجُوا مِقْدَار مَا كَانَ فِيهَا من المَاء وَإِن وجدوا فِي الْبِئْر فَأْرَة أَو غَيرهَا وَلَا يدْرِي مَتى وَقعت وَلم تنتفخ وَلم تتفسخ أعادوا صَلَاة يَوْم وَلَيْلَة إِذا كَانُوا توضؤا مِنْهَا
প্রবাহমান পানির সাথে সাথে এমন বড় জলাশয়, যার এক প্রান্ত নাড়া দিলে অন্য প্রান্ত নড়ে না, তার একপাশে অপবিত্রতা পড়লে অন্য পাশ থেকে অজু করা জায়েজ। কেননা বাহ্যত অপবিত্রতা সেখানে পৌঁছায় না।

যেসব প্রাণীর প্রবাহিত রক্ত নেই, যেমন- ছারপোকা, মাছি, ভীমরুল, বিচ্ছু ও অনুরূপ প্রাণী পানিতে মারা গেলে তা পানিকে অপবিত্র করে না। আর যা পানিতেই বাস করে, যেমন- মাছ, ব্যাঙ ও কাঁকড়া—পানিতে সেগুলোর মৃত্যু পানিকে নষ্ট করে না। ব্যবহৃত পানি (মা-এ মুসতামাল) অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা জায়েজ নয়। ব্যবহৃত পানি হলো সেই পানি, যা দ্বারা অপবিত্রতা দূর করা হয়েছে অথবা সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রত্যেকটি চামড়া যা দাবাগাত (পরিশোধন) করা হয়েছে, তা পবিত্র হয়ে যায় এবং তাতে সালাত আদায় করা ও তা থেকে অজু করা জায়েজ; তবে শুকর এবং মানুষের চামড়া ব্যতীত। মৃত জানোয়ারের পশম ও হাড় পবিত্র এবং মানুষের চুল ও হাড়ও পবিত্র।

‌‌কূপ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

যদি কূপে কোনো অপবিত্রতা পড়ে তবে তা সেচে ফেলতে হবে এবং তার ভেতরের পানি সেচে ফেলাই তার জন্য পবিত্রতা। যদি তাতে উট, গরু বা বকরির এক বা দুই টুকরো বিষ্ঠা পড়ে তবে তা পানিকে নষ্ট করবে না। আর যদি তাতে কবুতর বা চড়ুই পাখির বিষ্ঠা পড়ে তবে তাও পানিকে নষ্ট করবে না। যদি কূপে কোনো বকরি প্রস্রাব করে দেয়, তবে আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, পানি ততক্ষণ পর্যন্ত সেচতে হবে না যতক্ষণ না প্রস্রাব পানির ওপর প্রবল হয়ে যায় এবং তা পবিত্রকারী হওয়ার গুণ হারিয়ে ফেলে। আর যদি তাতে ইঁদুর, চড়ুই পাখি, সঅওয়া (ছোট চড়ুই সদৃশ পাখি), সুদানিয়া বা টিকটিকি মারা যায়, তবে বালতির আকার বড়-ছোট হওয়ার ওপর ভিত্তি করে বিশ থেকে ত্রিশ বালতি পানি সেচে ফেলতে হবে। আর যদি তাতে কবুতর বা এর সমজাতীয় প্রাণী যেমন- মুরগি বা বিড়াল মারা যায়, তবে চল্লিশ থেকে ষাট বালতি পানি সেচে ফেলতে হবে; আর জামেউস সগীরে চল্লিশ বা পঞ্চাশ বালতির কথা উল্লেখ রয়েছে। আর যদি তাতে বকরি, মানুষ বা কুকুর মারা যায়, তবে তার সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে। যদি প্রাণীটি সেখানে ফুলে যায় বা ফেটে যায়, তবে প্রাণীর আকার ছোট হোক বা বড় হোক, সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে। যদি কূপটি ঝর্ণার মতো হয় যা পুরোপুরি সেচে শেষ করা সম্ভব নয়, তবে তারা তাতে বিদ্যমান পানির পরিমাণ পানি বের করে ফেলবে। আর যদি কূপে ইঁদুর বা অন্য কিছু পাওয়া যায় এবং তা কখন পড়েছে তা জানা না যায়, আর তা ফুলেও যায়নি এবং ফেটেও যায়নি, তবে তারা যদি তা থেকে অজু করে থাকে তবে এক দিন ও এক রাতের সালাত পুনরায় আদায় করবে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৬)
وغسلوا كل شَيْء أَصَابَهُ مَاؤُهَا وَإِن كَانَت قد انتفخت أَو تفسخت أعادوا صَلَاة ثَلَاثَة أَيَّام ولياليها وَهَذَا عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا لَيْسَ عَلَيْهِم إِعَادَة شَيْء حَتَّى يتحققوا مَتى وَقعت

‌‌فصل فِي الأسآر وَغَيرهَا

وعرق كل شَيْء مُعْتَبر بسؤره وسؤر الْآدَمِيّ وَمَا يُؤْكَل لَحْمه طَاهِر وسؤر الْخِنْزِير نجس وسؤر سِبَاع الْبَهَائِم نجس وسؤر الْهِرَّة طَاهِر مَكْرُوه والدجاجة المخلاة وسباع الطير وَمَا يسكن الْبيُوت كالحية والفأرة مَكْرُوه وسؤر الْحمار والبغل مَشْكُوك فِيهِ فان لم يجد غَيرهمَا يتَوَضَّأ بهما وَيتَيَمَّم وَيجوز أَيهمَا قدم وسؤر الْفرس طَاهِر عِنْدهمَا وَكَذَا عِنْده فِي الصَّحِيح فان لم يجد إِلَّا نَبِيذ التَّمْر قَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله يتَوَضَّأ بِهِ وَلَا يتَيَمَّم

بَاب التَّيَمُّم

وَمن لم يجد مَاء وَهُوَ مُسَافر أَو خَارج الْمصر بَينه وَبَين الْمصر نَحْو ميل أَو أَكثر يتَيَمَّم بالصعيد وَلَو كَانَ يجد المَاء إِلَّا أَنه مَرِيض يخَاف ان اسْتعْمل المَاء اشْتَدَّ مَرضه يتَيَمَّم وَلَو خَافَ الْجنب ان اغْتسل أَن يقْتله الْبرد أَو يمرضه يتَيَمَّم بالصعيد وَالتَّيَمُّم ضربتان يمسح باحداهما وَجهه وبالأخرى يَدَيْهِ الى الْمرْفقين وَالْحَدَث والجنابة فِيهِ سَوَاء وَيجوز التَّيَمُّم عِنْد أبي حنيفَة وَمُحَمّد رحمهمَا الله تَعَالَى بِكُل مَا كَانَ من جنس الأَرْض كالتراب والرمل وَالْحجر والجص والنورة والكحل والزرنيخ وَقَالَ أَبُو يُوسُف لَا يجوز إِلَّا بِالتُّرَابِ والرمل ثمَّ لَا يشْتَرط أَن يكون عَلَيْهِ غُبَار عِنْد أبي حنيفَة رحمه الله وَكَذَا يجوز بالغبار مَعَ الْقُدْرَة على الصَّعِيد عِنْد أبي حنيفَة وَمُحَمّد رحمهمَا الله

وَالنِّيَّة فرض فِي التَّيَمُّم ثمَّ إِذا نوى الطَّهَارَة أَو اسْتِبَاحَة الصَّلَاة اجزأه وَلَا يشْتَرط نِيَّة التَّيَمُّم للْحَدَث أَو للجنابة فان تيَمّم نَصْرَانِيّ يُرِيد بِهِ الاسلام ثمَّ
এবং তারা সেই সমস্ত বস্তু ধৌত করবে যা এর পানি স্পর্শ করেছে। আর যদি সেটি ফুলে গিয়ে থাকে বা পচে গিয়ে থাকে, তবে তারা তিন দিন ও তিন রাতের সালাত পুনরায় আদায় করবে। এটি ইমাম আবু হানিফার নিকট নিয়ম। আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন, যতক্ষণ না তারা নিশ্চিত হবে যে কখন এটি ঘটেছে, ততক্ষণ তাদের ওপর কোনো সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়।

‌‌উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য প্রসঙ্গের পরিচ্ছেদ

প্রতিটি জিনিসের ঘাম তার উচ্ছিষ্টের হুকুমেরই অন্তর্ভুক্ত। মানুষের উচ্ছিষ্ট এবং যার গোশত খাওয়া হয় এমন প্রাণীর উচ্ছিষ্ট পবিত্র। শুকরের উচ্ছিষ্ট নাপাক এবং হিংস্র পশুদের উচ্ছিষ্ট নাপাক। বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পবিত্র তবে মাকরুহ। মুক্তভাবে বিচরণকারী মুরগি, শিকারি পাখি এবং ঘরে বসবাসকারী প্রাণী যেমন সাপ ও ইঁদুরের উচ্ছিষ্ট মাকরুহ। গাধা ও খচ্চরের উচ্ছিষ্ট সন্দেহযুক্ত; সুতরাং এই দুটি ছাড়া অন্য কিছু না পাওয়া গেলে তা দিয়ে ওজু করবে এবং তায়াম্মুমও করবে, আর এই দুটির মধ্যে যেটিই আগে করুক তা জায়েজ। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে ঘোড়ার উচ্ছিষ্ট পবিত্র, এবং বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আবু হানিফার নিকটও তাই। আর যদি খেজুরের নবীজ ছাড়া আর কিছু না পাওয়া যায়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, তা দিয়ে ওজু করবে এবং তায়াম্মুম করবে না।

তায়াম্মুমের অধ্যায়

যে ব্যক্তি পানি পাবে না এবং সে মুসাফির অবস্থায় থাকে অথবা জনপদের বাইরে থাকে যেখান থেকে জনপদের দূরত্ব প্রায় এক মাইল বা তার বেশি, সে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে। আর যদি সে পানি পায় কিন্তু অসুস্থ থাকে এবং পানি ব্যবহারে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তবে সে তায়াম্মুম করবে। আর যদি কোনো জানাবাতগ্রস্ত (গোসল ফরজ হওয়া) ব্যক্তি ভয় পায় যে গোসল করলে প্রচণ্ড শীত তাকে মেরে ফেলবে বা অসুস্থ করে ফেলবে, তবে সে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে। তায়াম্মুম হলো দুইবার হাত আঘাত করা; এক আঘাতে মুখমণ্ডল মাসেহ করবে এবং অন্য আঘাতে কনুই পর্যন্ত উভয় হাত মাসেহ করবে। হাদাস এবং জানাবাত উভয়ের হুকুম তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে সমান। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে জমিনের জাতীয় প্রতিটি বস্তু যেমন মাটি, বালু, পাথর, জিপসাম, চুন, সুরমা এবং আর্সেনিক দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়েজ। আর ইমাম আবু ইউসুফ বলেন, মাটি ও বালু ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে জায়েজ নয়। অতঃপর ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে তাতে ধুলা থাকা শর্ত নয়। তদ্রূপ মাটি ব্যবহারে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ধুলা দিয়ে তায়াম্মুম করা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে জায়েজ।

তায়াম্মুমে নিয়ত করা ফরজ। অতঃপর যদি সে পবিত্রতা অর্জনের অথবা সালাত বৈধ হওয়ার নিয়ত করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। হাদাস বা জানাবাতের জন্য তায়াম্মুমের আলাদা নিয়ত করা শর্ত নয়। যদি কোনো খ্রিষ্টান ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করে অতঃপর...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৭)
أسلم لم يكن متيمما عِنْد أبي حنيفَة وَمُحَمّد رحمهمَا الله وَقَالَ أَبُو يُوسُف رحمه الله هُوَ متيمم وَإِن تَوَضَّأ لَا يُرِيد بِهِ الْإِسْلَام ثمَّ أسلم فَهُوَ متوضى فان تيَمّم مُسلم ثمَّ ارْتَدَّ وَالْعِيَاذ بِاللَّه ثمَّ أسلم فَهُوَ على تيَمّمه

وينقض التَّيَمُّم كل شَيْء ينْقض الْوضُوء وينقضه أَيْضا رُؤْيَة المَاء إِذا أقدر على اسْتِعْمَاله وَلَا يتَيَمَّم إِلَّا بصعيد طَاهِر وَيسْتَحب لعادم المَاء وَهُوَ يرجوه أَن يُؤَخر الصَّلَاة إِلَى آخر الْوَقْت فَإِن وجد المَاء تَوَضَّأ وَإِلَّا تيَمّم وَصلى

وَيصلى بتيممه مَا شَاءَ من الْفَرَائِض والنوافل وَيتَيَمَّم الصَّحِيح فِي الْمصر إِذا حضرت جَنَازَة وَالْوَلِيّ غَيره فخاف أَن اشْتغل بِالطَّهَارَةِ أَن تفوته الصَّلَاة وَكَذَا من حضر الْعِيد فخاف إِن اشْتغل بِالطَّهَارَةِ أَن يفوتهُ الْعِيد يتَيَمَّم وَإِن أحدث الإِمَام أَو المقتدى فِي صَلَاة الْعِيد تيَمّم وَبنى عِنْد أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى وَقَالا لَا يتَيَمَّم

وَلَا يتَيَمَّم للْجُمُعَة وَإِن خَافَ الْفَوْت لَو تَوَضَّأ فَإِن أدْرك الْجُمُعَة صلاهَا وَإِلَّا صلى الظّهْر أَرْبعا وَكَذَا إِذا خَافَ فَوت الْوَقْت لَو تَوَضَّأ لم يتَيَمَّم وَيتَوَضَّأ وَيَقْضِي مَا فَاتَهُ وَالْمُسَافر إِذا نسي المَاء فِي رَحْله فَتَيَمم وَصلى ثمَّ ذكر المَاء لم يعدها عِنْد أبي حنيفَة وَمُحَمّد رحمهمَا الله تَعَالَى وَقَالَ أَبُو يُوسُف رَحمَه الله تَعَالَى يُعِيدهَا

وَلَيْسَ على الْمُتَيَمم طلب المَاء إِذا لم يغلب على ظَنّه أَن بِقُرْبِهِ مَاء وَإِن غلب على ظَنّه أَن هُنَاكَ مَاء لم يجز لَهُ أَن يتَيَمَّم حَتَّى يَطْلُبهُ وَإِن كَانَ مَعَ رَفِيقه مَاء طلب مِنْهُ قبل أَن يتَيَمَّم وَلَو تيَمّم قبل الطّلب أَجزَأَهُ عِنْد أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى وَلَو أَبى أَن يُعْطِيهِ إِلَّا بِثمن الْمثل وَعِنْده ثمنه لَا يُجزئهُ التَّيَمُّم

بَاب الْمسْح على الْخُفَّيْنِ

الْمسْح على الْخُفَّيْنِ جَائِز بِالسنةِ وَيجوز من كل حدث مُوجب للضوء إِذا لبسهما على طَهَارَة كَامِلَة ثمَّ أحدث وَيجوز للمقيم يَوْمًا وَلَيْلَة وللمسافر ثَلَاثَة أَيَّام
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর মতে, ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি (কাফির অবস্থায়) তায়াম্মুমকারী ছিল না। ইমাম আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সে তায়াম্মুমকারী। আর যদি কেউ ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্য ছাড়াই অজু করে, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে অজুকারী হিসেবে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে, কোনো মুসলিম যদি তায়াম্মুম করে, অতঃপর মুরতাদ হয়ে যায়—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—এবং পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে তার আগের তায়াম্মুমের ওপরই বহাল থাকবে।

অজু ভঙ্গকারী প্রতিটি বিষয় তায়াম্মুমকেও ভঙ্গ করে। এছাড়া পানি ব্যবহারে সক্ষম হওয়া অবস্থায় পানি দেখাও তায়াম্মুম ভঙ্গ করে। পবিত্র মাটি ব্যতীত তায়াম্মুম করা যাবে না। যার কাছে পানি নেই কিন্তু পানি পাওয়ার আশা রাখে, তার জন্য নামাজের ওয়াক্তের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা মুস্তাহাব। অতঃপর যদি পানি পায় তবে অজু করবে, অন্যথায় তায়াম্মুম করে নামাজ পড়বে।

এক তায়াম্মুম দিয়ে ইচ্ছামতো ফরজ ও নফল নামাজ আদায় করা যাবে। শহরে অবস্থানরত সুস্থ ব্যক্তি যদি জানাজার নামাজ উপস্থিত পায় এবং এর প্রধান অভিভাবক সে নিজে না হয়, এমতাবস্থায় সে যদি আশঙ্কা করে যে পবিত্রতা অর্জনে (অজু করতে) ব্যস্ত হলে জানাজা ছুটে যাবে, তবে সে তায়াম্মুম করবে। একইভাবে যে ব্যক্তি ঈদের নামাজে উপস্থিত হয়েছে এবং আশঙ্কা করে যে পবিত্রতা অর্জনে ব্যস্ত হলে ঈদ ছুটে যাবে, সে তায়াম্মুম করবে। যদি ঈদের নামাজ চলাকালীন ইমাম বা মুক্তাদির অজু ভেঙে যায়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে সে তায়াম্মুম করবে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই নামাজ পূর্ণ করবে; তবে সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) বলেন, সে তায়াম্মুম করবে না।

জুমার নামাজের জন্য তায়াম্মুম করা যাবে না, যদিও অজু করতে গেলে তা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি জুমা পায় তবে তা আদায় করবে, অন্যথায় জোহরের চার রাকাত পড়বে। একইভাবে যদি অজু করতে গেলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবুও তায়াম্মুম করবে না; বরং অজু করবে এবং যা ছুটে গেছে তা কাজা করবে। মুসাফির যদি তার আসবাবপত্রের মধ্যে পানি থাকার কথা ভুলে গিয়ে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে ফেলে, অতঃপর পানির কথা মনে পড়ে, তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর মতে তাকে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না। আর ইমাম আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সে পুনরায় পড়বে।

তায়াম্মুমকারীর জন্য পানি তালাশ করা আবশ্যক নয় যদি তার প্রবল ধারণা না থাকে যে নিকটে পানি আছে। কিন্তু যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে সেখানে পানি আছে, তবে তালাশ না করা পর্যন্ত তায়াম্মুম করা বৈধ হবে না। যদি তার সঙ্গীর কাছে পানি থাকে, তবে তায়াম্মুম করার আগে তার কাছে পানি চাইবে। আর যদি চাওয়ার আগেই তায়াম্মুম করে ফেলে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে তা যথেষ্ট হবে। সঙ্গী যদি বাজার মূল্যের বিনিময়ে পানি দিতে চায় এবং তার কাছে সেই মূল্য থাকে, তবে তায়াম্মুম করা যথেষ্ট হবে না।

মোজার ওপর মাসেহ করার অধ্যায়

সুন্নাহ দ্বারা মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েজ। অজু ভঙ্গকারী প্রতিটি কারণ থেকে মাসেহ করা বৈধ, যদি পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করা হয় এবং এরপর অজু ভেঙে যায়। মুকিমের জন্য এর সময়সীমা একদিন একরাত এবং মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৮)
ولياليها وابتداؤها عقب الْحَدث وَالْمسح على ظاهرهما خُطُوطًا بالأصابع يبْدَأ من قبل الْأَصَابِع إِلَى السَّاق وَفرض ذَلِك مِقْدَار ثَلَاث أَصَابِع من أَصَابِع الْيَد

وَلَا يجوز الْمسْح على خف فِيهِ خرق كَبِير يبين مِنْهُ قدر ثَلَاث أَصَابِع من أَصَابِع الرجل فَإِن كَانَ أقل من ذَلِك جَازَ وَلَا يجوز الْمسْح لمن وَجب عَلَيْهِ الْغسْل

وينقض الْمسْح كل شَيْء ينْقض الْوضُوء وينقضه أَيْضا نزع الْخُف وَكَذَا نزع أَحدهمَا وَكَذَا مُضِيّ الْمدَّة وَإِذا تمت الْمدَّة نزع خفيه وَغسل رجلَيْهِ وَصلى وَلَيْسَ عَلَيْهِ إِعَادَة بَقِيَّة الْوضُوء وَمن ابْتَدَأَ الْمسْح وَهُوَ مُقيم فسافر قبل تَمام يَوْم وَلَيْلَة مسح ثَلَاثَة أَيَّام ولياليها وَلَو أَقَامَ وَهُوَ مُسَافر إِن اسْتكْمل مُدَّة الْإِقَامَة نزع وَإِن لم يستكمل أتمهَا وَمن لبس الجرموق فَوق الْخُف مسح عَلَيْهِ وَلَا يجوز الْمسْح على الجوربين عِنْد أبي حنيفَة إِلَّا أَن يَكُونَا مجلدين أَو منعلين وَقَالا يجوز إِذا كَانَا ثخينين لَا يشفان وَلَا يجوز الْمسْح على الْعِمَامَة والقلنسوة والبرقع والقفازين وَيجوز الْمسْح على الجبائر وَإِن شدها على غير وضوء وَإِن سَقَطت الْجَبِيرَة عَن غير برْء لَا يبطل الْمسْح وَإِن سَقَطت عَن برْء بَطل

بَاب الْحيض والاستحاضة

أقل الْحيض ثَلَاثَة أَيَّام ولياليها وَمَا نقص من ذَلِك فَهُوَ اسْتِحَاضَة وَأَكْثَره عشرَة أَيَّام ولياليها وَالزَّائِد اسْتِحَاضَة وَمَا ترَاهُ الْمَرْأَة من الْحمرَة والصفرة والكدرة فِي أَيَّام الْحيض حيض وَقَالَ أَبُو يُوسُف رحمه الله لَا تكون الكدرة حيضا إِلَّا بعد الدَّم وَالْحيض يسْقط عَن الْحَائِض الصَّلَاة وَيحرم عَلَيْهَا الصَّوْم وتقضى الصَّوْم وَلَا تقضي الصَّلَاة وَلَا تدخل الْمَسْجِد وَلَا تَطوف بِالْبَيْتِ وَلَا يَأْتِيهَا زَوجهَا وَلَيْسَ للحائض وَالْجنب وَالنُّفَسَاء قِرَاءَة الْقُرْآن وَلَيْسَ لَهُم مس الْمُصحف إِلَّا بغلافه وَلَا أَخذ دِرْهَم فِيهِ سُورَة من الْقُرْآن إِلَّا بصرته وَكَذَا الْمُحدث لَا يمس الْمُصحف إِلَّا بغلافه
এবং তার রাতসমূহ। আর এর শুরুর সময় ধরা হয় অপবিত্রতা প্রকাশের পর থেকে। মাসাহ করতে হয় মোজার উপরিভাগে আঙ্গুল দিয়ে রেখা টেনে, যা পায়ের আঙ্গুলের দিক থেকে শুরু করে নলার দিকে নিয়ে যেতে হয়। আর মাসাহর ফরয পরিমাণ হলো হাতের তিন আঙ্গুলের সমান পরিমাণ।

এমন চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসাহ করা জায়েজ নেই যাতে বড় ধরনের ছিদ্র থাকে, যেখান থেকে পায়ের তিন আঙ্গুল পরিমাণ অংশ দেখা যায়। তবে যদি ছিদ্র এর চেয়ে কম হয় তবে জায়েজ। আর যার ওপর গোসল ফরয হয়েছে তার জন্য মাসাহ করা জায়েজ নেই।

যেসব বিষয় ওযু ভঙ্গ করে, সেগুলোর প্রতিটি মাসাহকেও ভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া মোজা খুলে ফেলা—এমনকি দুটির মধ্যে একটি খুলে ফেলা—এবং মেয়াদের সময়সীমা শেষ হওয়াও মাসাহ ভঙ্গ করে দেয়। যখন মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তখন সে মোজা খুলে তার দুই পা ধৌত করবে এবং সালাত আদায় করবে; তাকে ওযুর অবশিষ্ট অংশ পুনরায় করতে হবে না। যে ব্যক্তি মুকীম অবস্থায় মাসাহ শুরু করেছে, অতঃপর একদিন ও একরাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সফরে বের হয়েছে, সে তিন দিন ও তিন রাত মাসাহ করবে। আর মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকীম হয়ে যায়, তবে যদি সে মুকীমের সময়সীমা পূর্ণ করে ফেলে থাকে তবে মোজা খুলে ফেলবে, আর যদি পূর্ণ না করে থাকে তবে তা পূর্ণ করবে। যে ব্যক্তি চামড়ার মোজার ওপর উপরি-মোজা (জারমুক) পরিধান করবে, সে তার ওপর মাসাহ করতে পারবে। ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর মতে সাধারণ মোজার (জওরাব) ওপর মাসাহ করা জায়েজ নয়, যদি না সেগুলো চামড়া দ্বারা আবৃত বা চামড়ার তলাবিশিষ্ট হয়। সাহেবাইন (ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) বলেন, যদি মোজা দুটি এমন মোটা হয় যে তা স্বচ্ছ নয়, তবে মাসাহ করা জায়েজ। পাগড়ী, টুপি, নেকাব এবং হাতমোজার ওপর মাসাহ করা জায়েজ নেই। ক্ষতস্থানের পটির (জাবাইর) ওপর মাসাহ করা জায়েজ, যদিও তা ওযু ছাড়া বাঁধা হয়। যদি ক্ষত ভালো হওয়ার আগেই পটি পড়ে যায় তবে মাসাহ বাতিল হবে না, কিন্তু যদি ভালো হওয়ার পর পড়ে যায় তবে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে।

ঋতুস্রাব (হায়েজ) ও ইস্তিহাযা পরিচ্ছেদ

হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন ও তিন রাত, এর চেয়ে কম হলে তা ইস্তিহাযা। আর এর সর্বোচ্চ মেয়াদ দশ দিন ও দশ রাত, এর অতিরিক্ত হলে তা ইস্তিহাযা। হায়েজের দিনগুলোতে নারী যে লাল, হলুদ বা মেটে রং দেখে তা হায়েয হিসেবে গণ্য। ইমাম আবূ ইউসুফ (র.) বলেন, রক্ত প্রবাহিত হওয়ার পর ছাড়া মেটে রং হায়েয হবে না। ঋতুস্রাব হায়েযগ্রস্ত নারীর ওপর থেকে সালাত রহিত করে দেয় এবং তার জন্য রোযা রাখা হারাম করে দেয়; সে রোযা কাযা করবে কিন্তু সালাত কাযা করবে না। সে মসজিদে প্রবেশ করবে না, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে না এবং তার স্বামী তার সাথে সহবাস করবে না। ঋতুবতী, জুনুবী ও নিফাসগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। তারা আবরণ ছাড়া কুরআন স্পর্শ করবে না এবং যে দিরহামে কুরআনের সূরা আছে তা থলে ছাড়া ধরবে না। তেমনিভাবে ওযুহীন ব্যক্তিও আবরণ ছাড়া কুরআন স্পর্শ করবে না।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৯)
وَإِذا انْقَطع دم الْحيض لأَقل من عشرَة أَيَّام لم يحل وَطْؤُهَا حَتَّى تَغْتَسِل وَلَو لم تَغْتَسِل وَمضى عَلَيْهَا أدنى وَقت الصَّلَاة بِقدر أَن تقدر على الِاغْتِسَال والتحريمة حل وَطْؤُهَا وَلَو كَانَ انْقَطع الدَّم دون عَادَتهَا فَوق الثَّلَاث لم يقربهَا حَتَّى تمْضِي عَادَتهَا وَإِن اغْتَسَلت وَإِن انْقَطع الدَّم لعشرة أَيَّام حل وَطْؤُهَا قبل الْغسْل وَالطُّهْر إِذا تخَلّل بَين الدمين فِي مُدَّة الْحيض فَهُوَ كَالدَّمِ المتوالي وَأَقل الطُّهْر خَمْسَة عشر يَوْمًا وَلَا غَايَة لأكثره

وَدم الِاسْتِحَاضَة كالرعاف الدَّائِم لَا يمْنَع الصَّوْم وَلَا الصَّلَاة وَلَا الْوَطْء وَلَو زَاد الدَّم على عشرَة أَيَّام وَلها عَادَة مَعْرُوفَة دونهَا ردَّتْ إِلَى أَيَّام عَادَتهَا وَالَّذِي زَاد اسْتِحَاضَة

‌‌فصل والمستحاضة وَمن بِهِ سَلس الْبَوْل والرعاف الدَّائِم وَالْجرْح الَّذِي لَا يرقأ يتوضؤن لوقت كل صَلَاة فيصلون بذلك الْوضُوء فِي الْوَقْت مَا شَاءُوا من الْفَرَائِض والنوافل وَإِذا خرج الْوَقْت بَطل وضوءهم واستأنفوا الْوضُوء لصَلَاة أُخْرَى فَإِن توضؤا حِين تطلع الشَّمْس أجزأهم عَن فرض الْوَقْت حَتَّى يذهب وَقت الظّهْر

فصل فِي النّفاس

النّفاس هُوَ الدَّم الْخَارِج عقب الْولادَة وَالدَّم الَّذِي ترَاهُ الْحَامِل ابْتِدَاء أَو حَال وِلَادَتهَا قبل خُرُوج الْوَلَد اسْتِحَاضَة والسقط الَّذِي استبان بعض خلقه ولد وَأَقل النّفاس لَا حد لَهُ وَأَكْثَره أَرْبَعُونَ يَوْمًا وَالزَّائِد عَلَيْهِ اسْتِحَاضَة فَإِن جَاوز الدَّم الْأَرْبَعين وَقد كَانَت ولدت قبل ذَلِك وَلها عَادَة فِي النّفاس ردَّتْ إِلَى أَيَّام عَادَتهَا وَإِن لم تكن لَهَا عَادَة فابتداء نفَاسهَا أَرْبَعُونَ يَوْمًا فَإِن ولدت وَلدين فِي بطن وَاحِد فنفاسها من الْوَلَد الأول عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف رحمهمَا الله وَأَن كَانَ بَين الْوَلَدَيْنِ أَرْبَعُونَ يَوْمًا وَقَالَ مُحَمَّد رحمه الله من الْوَلَد الْأَخير

ঋতুস্রাব যদি দশ দিনের কম সময়ে বন্ধ হয়ে যায়, তবে গোসল না করা পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করা হালাল হবে না। আর যদি সে গোসল না করে এবং তার ওপর সালাতের সর্বনিম্ন ওয়াক্ত অতিবাহিত হয়—যে পরিমাণ সময়ে সে গোসল করতে এবং তাকবীরে তাহরীমা বলতে সক্ষম হয়—তবে তার সাথে সহবাস করা হালাল হবে। আর যদি রক্ত তার অভ্যাসের চেয়ে কম সময়ে কিন্তু তিন দিনের বেশি সময়ে বন্ধ হয়, তবে তার অভ্যাসগত সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্বামী তার নিকটবর্তী হবে না, যদিও সে গোসল করে নেয়। আর যদি দশ দিনে রক্ত বন্ধ হয়, তবে গোসলের পূর্বেই তার সাথে সহবাস করা হালাল। ঋতুস্রাবের মেয়াদের মধ্যে দুই রক্তপাতের মধ্যবর্তী পবিত্রতাও প্রবহমান রক্তের ন্যায় গণ্য হবে। পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ হলো পনেরো দিন, আর এর সর্বোচ্চ মেয়াদের কোনো সীমা নেই।

ইস্তিহাযার রক্ত হলো সর্বদা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো; এটি রোজা, সালাত ও সহবাসে বাধা সৃষ্টি করে না। যদি রক্ত দশ দিনের বেশি হয় এবং মহিলার এর চেয়ে কম মেয়াদের কোনো জানা অভ্যাস থাকে, তবে তাকে তার অভ্যাসের দিনগুলোর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত রক্তটুকু ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।

পরিচ্ছেদ: ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী এবং যার প্রস্রাব ঝরার রোগ আছে, যার নাক দিয়ে সর্বদা রক্ত পড়ে এবং যার এমন ক্ষত আছে যা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয় না—তারা প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করবে। তারা সেই অজু দিয়ে ওই ওয়াক্তের মধ্যে যত ইচ্ছা ফরজ ও নফল সালাত আদায় করতে পারবে। যখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তখন তাদের অজু বাতিল হয়ে যাবে এবং তারা অন্য সালাতের জন্য নতুন করে অজু করবে। যদি তারা সূর্যোদয়ের সময় অজু করে, তবে যোহরের ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তা ওই ওয়াক্তের ফরজের জন্য যথেষ্ট হবে।

নিফাস বা প্রসূতি অবস্থা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

নিফাস হলো সেই রক্ত যা সন্তান প্রসবের পর নির্গত হয়। আর গর্ভবতী নারী শুরুতে যা দেখে অথবা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বে প্রসবকালীন যে রক্ত দেখে তা ইস্তিহাযা। এমন গর্ভপাত যার কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হয়েছে, তা সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। নিফাসের সর্বনিম্ন মেয়াদের কোনো সীমা নেই এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো চল্লিশ দিন। এর অতিরিক্ত রক্ত ইস্তিহাযা। যদি রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করে এবং মহিলা ইতিপূর্বেও সন্তান প্রসব করে থাকে এবং নিফাসের ব্যাপারে তার কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে, তবে তাকে তার অভ্যাসের দিনগুলোর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো অভ্যাস না থাকে, তবে তার নিফাসের সূচনা চল্লিশ দিন গণ্য হবে। যদি একই গর্ভে যমজ সন্তান প্রসব করে, তবে ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে প্রথম সন্তান প্রসব থেকেই তার নিফাস গণনা করা হবে, যদিও দুই সন্তানের মাঝে চল্লিশ দিনের ব্যবধান থাকে। আর ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন: শেষ সন্তান প্রসব থেকে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১০)
بَاب الأنجاس وتطهيرها

تَطْهِير النَّجَاسَة وَاجِب من بدن الْمُصَلِّي وثوبه وَالْمَكَان الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْهِ وَيجوز تطهيرها بِالْمَاءِ وَبِكُل مَائِع طَاهِر يُمكن إِزَالَتهَا بِهِ كالخل وَمَاء الْورْد وَنَحْو ذَلِك بِمَا إِذا عصر انعصر وَإِذا أصَاب الْخُف نَجَاسَة لَهَا جرم كالروث والعذرة وَالدَّم والمني فجفت فدلكه بِالْأَرْضِ جَازَ وَقَالَ مُحَمَّد رحمه الله لَا يجوز إِلَّا فِي المنى خَاصَّة وَفِي الرطب لَا يجوز حَتَّى يغسلهُ فَإِن أَصَابَهُ بَوْل فيبس لم يجز حَتَّى يغسلهُ وَالثَّوْب لَا يجزى فِيهِ إِلَّا الْغسْل وَإِن يبس والمنى نجس يجب غسله إِن كَانَ رطبا فَإِذا جف على الثَّوْب أَجْزَأَ فِيهِ الفرك

والنجاسة إِذا أَصَابَت الْمرْآة أَو السَّيْف اكْتفى بمسحهما وَإِن أَصَابَت الأَرْض نَجَاسَة فجفت بالشمس وَذهب أَثَرهَا جَازَت الصَّلَاة على مَكَانهَا وَلَا يجوز التَّيَمُّم بِهِ وَقدر الدِّرْهَم وَمَا دونه من النَّجس المغلظ كَالدَّمِ وَالْبَوْل وَالْخمر وخرء الدَّجَاجَة وَبَوْل الْحمار جَازَت الصَّلَاة مَعَه وَإِن زَاد لم تجز وَإِن كَانَت مُخَفّفَة كبول مَا يُؤْكَل لَحْمه جَازَت الصَّلَاة مَعَه حَتَّى يبلغ ربع الثَّوْب وَإِذا أصَاب الثَّوْب من الروث أَو من أخثاء الْبَقر أَكثر من قدر الدِّرْهَم لم تجز الصَّلَاة فِيهِ عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا يُجزئهُ حَتَّى يفحش

وَإِن أَصَابَهُ بَوْل الْفرس لم يُفْسِدهُ حَتَّى يفحش عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف رحمهمَا الله وَعند مُحَمَّد رحمه الله لَا يمْنَع وَإِن فحش وَإِن أَصَابَهُ خرء مَالا يُؤْكَل لَحْمه من الطُّيُور أَكثر من قدر الدِّرْهَم جَازَت الصَّلَاة فِيهِ عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف رحمهمَا الله تَعَالَى وَقَالَ مُحَمَّد رَحمَه الله تَعَالَى لَا تجوز وَإِن أَصَابَهُ من دم السّمك أَو من لعاب الْبَغْل أَو الْحمار أَكثر من قدر الدِّرْهَم أَجْزَأت الصَّلَاة فِيهِ فَإِن انتضح عَلَيْهِ الْبَوْل مثل رُؤْس الأبر فَذَلِك لَيْسَ بِشَيْء
নাপাকিসমূহ এবং সেগুলো পবিত্র করার অধ্যায়

নামাজির শরীর, তার কাপড় এবং যে স্থানে সে নামাজ পড়ে, তা নাপাকি থেকে পবিত্র করা ওয়াজিব। পানি এবং এমন সব পবিত্র তরল পদার্থ দ্বারা তা পবিত্র করা জায়েজ যা দিয়ে নাপাকি দূর করা সম্ভব, যেমন সিরকা, গোলাপ জল এবং অনুরূপ বস্তু যা নিংড়ালে নিংড়ানো হয়। যদি চামড়ার মোজায় (খুফ) স্থূলতা বা দেহবিশিষ্ট নাপাকি লাগে, যেমন গোবর, বিষ্ঠা, রক্ত ও বীর্য, অতঃপর তা শুকিয়ে যায় এবং জমিনের সাথে ঘষে ফেলা হয়, তবে তা জায়েজ। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, বীর্য ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে এটি জায়েজ নয়। আর যদি নাপাকিটি আর্দ্র বা ভেজা হয়, তবে ধৌত করা ছাড়া জায়েজ হবে না। যদি তাতে প্রস্রাব লাগে এবং শুকিয়ে যায়, তবে ধৌত করা ছাড়া জায়েজ হবে না। আর কাপড়ের ক্ষেত্রে ধৌত করা ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না, যদিও তা শুকিয়ে যায়। বীর্য নাপাক; যদি তা ভেজা থাকে তবে ধৌত করা ওয়াজিব। আর যদি কাপড়ে শুকিয়ে যায়, তবে তা খুঁচিয়ে বা ঘষে তুলে ফেললে যথেষ্ট হবে।

যদি আয়না বা তরবারিতে নাপাকি লাগে, তবে তা মুছে ফেলাই যথেষ্ট। যদি জমিনে নাপাকি লাগে এবং তা রোদে শুকিয়ে যায় ও তার চিহ্ন চলে যায়, তবে সেই স্থানে নামাজ পড়া জায়েজ। তবে সেই মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়েজ নয়। রক্ত, প্রস্রাব, মদ, মুরগির বিষ্ঠা এবং গাধার প্রস্রাবের মতো নাজাসাতে মুগাল্লাজাহ (কঠিন নাপাকি) যদি এক দিরহাম পরিমাণ বা তার কম হয়, তবে তা থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া জায়েজ। আর যদি তার চেয়ে বেশি হয়, তবে নামাজ জায়েজ হবে না। আর যদি তা নাজাসাতে মুখাফফাফাহ (হালকা নাপাকি) হয়, যেমন হালাল পশুর প্রস্রাব, তবে কাপড়ের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত তাতে নামাজ পড়া জায়েজ। যদি কাপড়ে ঘোড়ার লিদ বা গরুর গোবর দিরহাম পরিমাণের বেশি লাগে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে তাতে নামাজ পড়া জায়েজ নয়। আর সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) বলেন, অত্যধিক না হওয়া পর্যন্ত তা যথেষ্ট।

ঘোড়ার প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে তা অত্যধিক না হওয়া পর্যন্ত নামাজ নষ্ট করবে না। আর ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে তা অত্যধিক হলেও নামাজের প্রতিবন্ধক হবে না। যদি হারাম পাখির বিষ্ঠা দিরহাম পরিমাণের বেশি লাগে, তবে ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে তাতে নামাজ পড়া জায়েজ। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, জায়েজ হবে না। যদি মাছের রক্ত অথবা খচ্চর বা গাধার লালা দিরহাম পরিমাণের বেশি লাগে, তবে তাতে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। আর যদি তার ওপর সুঁইয়ের মাথার মতো প্রস্রাবের ছিটা পড়ে, তবে সেটি ধর্তব্য নয়।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১১)
والنجاسة ضَرْبَان مرئية وَغير مرئية فَمَا كَانَ مِنْهَا مرئيا فطهارته بِزَوَال عينهَا إِلَّا أَن يبْقى من أَثَرهَا مَا يشق إِزَالَته وَمَال لَيْسَ بمرئي فطهارته أَن يغسل حَتَّى يغلب على ظن الْغَاسِل أَنه قد طهر

‌‌فصل فِي الِاسْتِنْجَاء

الِاسْتِنْجَاء سنة وَيجوز فِيهِ الْحجر وَمَا قَامَ مقَامه يمسحه حَتَّى ينقيه وَلَيْسَ فِيهِ عدد مسنون وغسله بِالْمَاءِ أفضل وَلَو جَاوَزت النَّجَاسَة مخرجها لم يجز فِيهِ إِلَّا المَاء وَلَا يستنجى بِعظم وَلَا بروث وَلَا بِطَعَام وَلَا بِيَمِينِهِ = كتاب الصَّلَاة

بَاب الْمَوَاقِيت

أول وَقت الْفجْر إِذا طلع الْفجْر الثَّانِي وَهُوَ الْبيَاض الْمُعْتَرض فِي الْأُفق وَآخر وَقتهَا مالم تطلع الشَّمْس وَأول وَقت الظّهْر إِذا زَالَت الشَّمْس وَآخر وَقتهَا عِنْد أبي حنيفَة رحمه الله إِذا صَار ظلّ كل شَيْء مثلَيْهِ سوى فَيْء الزَّوَال وَقَالا إِذا صَار الظل مثله

وَأول وَقت الْعَصْر إِذا خرج وَقت الظّهْر على الْقَوْلَيْنِ وَآخر وَقتهَا مَا لم تغرب الشَّمْس وَأول وَقت الْمغرب إِذا غربت الشَّمْس وَآخر وَقتهَا مالم يغب الشَّفق ثمَّ الشَّفق هُوَ الْبيَاض الَّذِي فِي الْأُفق بعد الْحمرَة عِنْد أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى وَعِنْدَهُمَا هُوَ الْحمرَة

وَأول وَقت الْعشَاء إِذا غَابَ الشَّفق وَآخر وَقتهَا مالم يطلع الْفجْر الثَّانِي وَأول وَقت الْوتر بعد الْعشَاء وَآخره مَا لم يطلع الْفجْر

‌‌فصل وَيسْتَحب الْأَسْفَار بِالْفَجْرِ والإبراد بِالظّهْرِ فِي الصَّيف وتقديمه فِي الشتَاء وَتَأْخِير الْعَصْر مَا لم تَتَغَيَّر الشَّمْس فِي الصَّيف والشتاء وتعجيل الْمغرب
অপবিত্রতা দুই প্রকার: দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান। যা দৃশ্যমান, তার পবিত্রতা অর্জিত হয় তার মূল অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার মাধ্যমে, তবে এমন কোনো চিহ্ন যদি অবশিষ্ট থাকে যা দূর করা দুঃসাধ্য, তবে তা ক্ষমার যোগ্য। আর যা দৃশ্যমান নয়, তার পবিত্রতা হলো তা ধৌত করা, যতক্ষণ না ধৌতকারীর মনে প্রবল ধারণা জন্মে যে তা পবিত্র হয়ে গেছে।

ইস্তিনজা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

ইস্তিনজা করা সুন্নত। এতে পাথর এবং পাথরের স্থলাভিষিক্ত বস্তু ব্যবহার করা বৈধ; তা দিয়ে মুছবে যতক্ষণ না পরিষ্কার হয়। এক্ষেত্রে সুন্নাতসম্মত কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। পানি দিয়ে ধৌত করা উত্তম। তবে যদি অপবিত্রতা তার নির্গমন পথ অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ে, তবে পানি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। হাড়, গোবর, খাদ্যদ্রব্য এবং ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা করা যাবে না। = নামাজ অধ্যায়

ওয়াক্তসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

ফজরের ওয়াক্তের শুরু হয় যখন দ্বিতীয় ফজর উদিত হয়, আর তা হলো দিগন্তে বিস্তৃত শুভ্রতা। এর শেষ সময় হলো যতক্ষণ না সূর্য উদিত হয়। জোহরের ওয়াক্তের শুরু হয় যখন সূর্য ঢলে পড়ে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এর শেষ সময় হলো যখন কোনো বস্তুর ছায়া—সূর্য ঢলার সময়ের ছায়া ব্যতীত—তার দ্বিগুণ হয়। আর সাহেবাইন বলেন, যখন ছায়া তার সমপরিমাণ হয়।

আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয় (উভয় মতানুসারে) এবং এর শেষ সময় হলো যতক্ষণ না সূর্য অস্ত যায়। মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য অস্ত যায় এবং এর শেষ সময় হলো যতক্ষণ না শাফাক অদৃশ্য হয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে শাফাক হলো লালিমার পর দিগন্তে অবশিষ্ট শুভ্রতা, আর সাহেবাইনের মতে তা হলো লালিমা।

এশার ওয়াক্ত শুরু হয় যখন শাফাক অদৃশ্য হয় এবং এর শেষ সময় হলো দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। বিতরের ওয়াক্ত শুরু হয় এশার পর এবং এর শেষ সময় হলো ফজর উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

পরিচ্ছেদ: ফজরের নামাজ ফর্সা করে পড়া, গ্রীষ্মকালে জোহরের নামাজ ঠান্ডা করে (দেরিতে) আদায় করা এবং শীতকালে তা দ্রুত পড়া মুস্তাহাব। শীত ও গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতে আসরের নামাজ সূর্যের বর্ণ পরিবর্তন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিলম্ব করা এবং মাগরিবের নামাজ দ্রুত আদায় করা মুস্তাহাব।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১২)
وَتَأْخِير الْعشَاء إِلَى مَا قبل ثلث اللَّيْل وَيسْتَحب فِي الْوتر لمن يألف صَلَاة اللَّيْل أَن يُؤَخر الْوتر إِلَى آخر اللَّيْل فَإِن لم يَثِق بالانتباه أوتر قبل النّوم فَإِذا كَانَ يَوْم غيم فالمستحب فِي الْفجْر وَالظّهْر وَالْمغْرب تَأْخِيرهَا وَفِي الْعَصْر وَالْعشَاء تَعْجِيلهَا

‌‌فصل فِي الْأَوْقَات الَّتِي تكره فِيهَا الصَّلَاة

لَا تجوز الصَّلَاة عِنْد طُلُوع الشَّمْس وَلَا عِنْد قِيَامهَا فِي الظهيرة وَلَا عِنْد غُرُوبهَا وَلَا صَلَاة جَنَازَة وَلَا سَجْدَة تِلَاوَة إِلَّا عصر يَوْمه عِنْد الْغُرُوب وَيكرهُ أَن يتَنَفَّل بعد الْفجْر حَتَّى تطلع الشَّمْس وَبعد الْعَصْر حَتَّى تغرب وَلَا بَأْس بِأَن يُصَلِّي فِي هذَيْن الْوَقْتَيْنِ الْفَوَائِت وَيسْجد للتلاوة وَيُصلي على الْجِنَازَة وَيكرهُ أَن يتَنَفَّل بعد طُلُوع الْفجْر بِأَكْثَرَ من رَكْعَتي الْفجْر وَلَا يتَنَفَّل بعد الْغُرُوب قبل الْفَرْض وَلَا إِذا خرج الإِمَام للخطبة يَوْم الْجُمُعَة إِلَى إِلَى أَن يفرغ من خطبَته

بَاب الْأَذَان

الْأَذَان سنة للصلوات الْخمس وَالْجُمُعَة دون مَا سواهَا وَصفَة الْأَذَان مَعْرُوفَة وَلَا تَرْجِيع فِيهِ وَيزِيد فِي أَذَان الْفجْر بعد الْفَلاح الصَّلَاة خير من النّوم مرَّتَيْنِ وَالْإِقَامَة مثل الْأَذَان إِلَّا أَنه يزِيد فِيهَا بعد الْفَلاح قد قَامَت الصَّلَاة مرَّتَيْنِ ويترسل فِي الْأَذَان ويحدر فِي الْإِقَامَة وَيسْتَقْبل بهما الْقبْلَة ويحول وَجهه للصَّلَاة والفلاح يمنة ويسرة وَإِن اسْتَدَارَ فِي صومعته فَحسن مَعَ ثبات قَدَمَيْهِ وَالْأَفْضَل للمؤذن أَن يَجْعَل أصبعيه فِي أُذُنَيْهِ فَإِن لم يفعل فَحسن والتثويب فِي الْفجْر حَيّ على الصَّلَاة حَيّ على الْفَلاح مرَّتَيْنِ بَين الْأَذَان وَالْإِقَامَة حسن وَكره فِي سَائِر الصَّلَوَات وَيجْلس بَين الْأَذَان وَالْإِقَامَة إِلَّا فِي الْمغرب وَهَذَا عِنْد أبي حنيفَة رحمه الله وَقَالا يجلس فِي الْمغرب أَيْضا جلْسَة خَفِيفَة قَالَ يَعْقُوب رَأَيْت أَبَا حنيفَة رحمه الله يُؤذن فِي الْمغرب وَيُقِيم وَلَا يجلس بَين الْأَذَان وَالْإِقَامَة وَيُؤذن للفائتة وَيُقِيم
এবং ইশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিলম্ব করা। আর বিতরের ক্ষেত্রে যার রাতের শেষ ভাগে নামাজ পড়ার অভ্যাস আছে, তার জন্য বিতর নামাজ রাতের শেষ ভাগ পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব। তবে যদি জাগ্রত হওয়ার ব্যাপারে ভরসা না থাকে, তবে ঘুমের পূর্বেই বিতর পড়ে নেবে। আর যদি মেঘলা দিন হয়, তবে ফজর, জোহর ও মাগরিবে বিলম্ব করা মুস্তাহাব এবং আসর ও ইশায় জলদি করা মুস্তাহাব।

‌‌যেসব সময়ে নামাজ পড়া মকরূহ সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

সূর্যোদয়ের সময়, দ্বিপ্রহরে সূর্য যখন স্থির হয় তখন এবং সূর্যাস্তের সময় কোনো নামাজ বৈধ নয়; এমনকি জানাজার নামাজ কিংবা তিলাওয়াতের সিজদাও নয়, তবে ওই দিনের আসর সূর্যাস্তের সময় পড়া যায়। ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নফল নামাজ পড়া মকরূহ। এই দুই সময়ে কাজা নামাজ পড়া, তিলাওয়াতের সিজদা করা এবং জানাজার নামাজ পড়ায় কোনো অসুবিধা নেই। সুবহে সাদিকের পর ফজরের দুই রাকাত অপেক্ষা অধিক নফল পড়া মকরূহ। মাগরিবের ফরজের পূর্বে নফল পড়া যাবে না। আর জুমার দিন ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হন, তখন থেকে খুতবা শেষ করা পর্যন্ত নফল পড়া যাবে না।

আযান অধ্যায়

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং জুমার জন্য আযান সুন্নত, এ ছাড়া অন্য কোনো নামাজের জন্য নয়। আযানের পদ্ধতি সুপরিচিত; এতে কোনো পুনরাবৃত্তি নেই। ফজরের আযানে 'কল্যাণের দিকে আসো'-এর পর 'নামাজ ঘুম থেকে উত্তম' কথাটি দুইবার বৃদ্ধি করবে। ইকামাত আযানের মতোই, তবে এতে 'কল্যাণের দিকে আসো'-এর পর 'নামাজ দাঁড়িয়ে গেছে' কথাটি দুইবার বৃদ্ধি করবে। আযানে শব্দগুলো টেনে টেনে ধীরস্থিরভাবে বলবে এবং ইকামাতে দ্রুত বলবে। উভয় ক্ষেত্রে কিবলামুখী হবে। 'নামাজের দিকে আসো' এবং 'কল্যাণের দিকে আসো' বলার সময় চেহারা ডানে ও বামে ঘুরাবে। যদি তার মিনারে চক্কর দেয় তবে তা ভালো, তবে নিজের পা স্থির রাখবে। মুয়াজ্জিনের জন্য তার দুই আঙ্গুল কানের ছিদ্রদ্বয়ে রাখা উত্তম; যদি তা না করে তবুও ভালো। ফজরের আযান ও ইকামাতের মাঝে দুইবার 'নামাজের দিকে আসো, কল্যাণের দিকে আসো' বলে পুনরায় আহ্বান করা ভালো এবং অন্য সব নামাজে তা মকরূহ। মাগরিব ব্যতীত আযান ও ইকামাতের মাঝে বসবে; এটি আবু হানিফা রহ.-এর অভিমত। সাহেবাইন বলেন, মাগরিবেও সামান্য সময় বসবে। ইয়াকুব বলেন, আমি আবু হানিফা রহ.-কে মাগরিবের আযান ও ইকামাত দিতে দেখেছি, তিনি উভয়ের মাঝে বসেননি। আর কাজা নামাজের জন্য আযান ও ইকামাত দিবে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
فَإِن فَاتَهُ صلوَات أذن للأولى وَأقَام وَكَانَ مُخَيّرا فِي الْبَاقِي إِن شَاءَ إِذن وَأقَام وَإِن شَاءَ اقْتصر على الْإِقَامَة وَيَنْبَغِي أَن يُؤذن وَيُقِيم على طهر فَإِن أذن على غير وضوء جَازَ وَيكرهُ أَن يُقيم على غير وضوء وَيكرهُ أَن يُؤذن وَهُوَ جنب وَفِي الْجَامِع الصَّغِير إِذا أذن على غير وضوء وَأقَام لَا يُعِيد وَالْجنب أحب إِلَى أَن يُعِيد وَلَو لم يعد أَجزَأَهُ وَكَذَلِكَ الْمَرْأَة تؤذن وَلَا يُؤذن لصَلَاة قبل دُخُول وَقتهَا ويعاد فِي الْوَقْت وَقَالَ أَبُو يُوسُف يجوز للفجر فِي النّصْف الْأَخير من اللَّيْل وَالْمُسَافر يُؤذن وَيُقِيم فَإِن تَركهمَا جَمِيعًا يكره فَإِن صلى فِي بَيته فِي الْمصر يُصَلِّي بِأَذَان وَإِقَامَة وَإِن تَركهمَا جَازَ

بَاب شُرُوط الصَّلَاة الَّتِي تتقدمها

يجب على الْمُصَلِّي أَن يقدم الطَّهَارَة من الْأَحْدَاث والإنجاس على مَا قدمْنَاهُ وَيسْتر عَوْرَته وعورة الرجل مَا تَحت السُّرَّة إِلَى الرّكْبَة وَالركبَة من الْعَوْرَة وبدن الْحرَّة كُله عَورَة إِلَّا وَجههَا وكفيها فَإِن صلت وَربع سَاقهَا مَكْشُوف أَو ثلثهَا تعيد الصَّلَاة وَإِن كَانَ أقل من الرّبع لَا تعيد وَقَالَ أَبُو يُوسُف رحمه الله لَا تعيد إِن كَانَ أقل من النّصْف وَفِي النّصْف عَنهُ رِوَايَتَانِ وَالشعر والبطن والفخذ كَذَلِك وَمَا كَانَ عَورَة من الرجل فَهُوَ عَورَة من الْأمة وبطنها وظهرها عَورَة وَمَا سوى ذَلِك من بدنهَا لَيْسَ بِعَوْرَة وَلَو لم يجد مَا يزِيل بِهِ النَّجَاسَة صلى مَعهَا وَلم يعد وَمن لم يجد ثوبا صلى عُريَانا قَاعِدا يومىء بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُود فَإِن صلى قَائِما اجزأه إِلَّا أَن الأول أفضل وَيَنْوِي الصَّلَاة الَّتِي يدْخل فِيهَا بنية لَا يفصل بَينهَا وَبَين التَّحْرِيمَة بِعَمَل وَإِن كَانَ مقتديا بِغَيْرِهِ يَنْوِي الصَّلَاة ومتابعته وَيسْتَقْبل الْقبْلَة وَمن كَانَ خَائفًا يُصَلِّي إِلَى أَي جِهَة قدا فَإِن اشتبهت عَلَيْهِ الْقبْلَة وَلَيْسَ بِحَضْرَتِهِ من يسْأَله عَنْهَا اجْتهد وَصلى فَإِن علم أَنه أَخطَأ بعد مَا صلى لَا يُعِيدهَا وَإِن علم ذَلِك فِي الصَّلَاة اسْتَدَارَ إِلَى الْقبْلَة وَبنى عَلَيْهِ وَمن أم قوما فِي لَيْلَة مظْلمَة فتحرى الْقبْلَة وَصلى إِلَى الْمشرق وتحرى من
যদি কারো একাধিক সালাত ছুটে যায়, তবে সে প্রথমটির জন্য আযান ও ইকামাহ দেবে। আর অবশিষ্ট সালাতগুলোর ক্ষেত্রে সে ইখতিয়ার বা পছন্দের অধিকারী হবে; চাইলে আযান ও ইকামাহ দেবে, আর চাইলে শুধু ইকামাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে। পবিত্র অবস্থায় আযান ও ইকামাহ দেওয়া সমীচীন। তবে ওযু ছাড়া আযান দিলে তা জায়েয হবে, কিন্তু ওযু ছাড়া ইকামাহ দেওয়া মাকরুহ। আর অপবিত্র (জানাবাত) অবস্থায় আযান দেওয়াও মাকরুহ। 'আল-জামি আস-সগির'-এ আছে, যদি ওযু ছাড়া আযান ও ইকামাহ দেয় তবে তা পুনরায় দিতে হবে না। তবে অপবিত্র (জুনুবি) ব্যক্তির ক্ষেত্রে আযান পুনরায় দেওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়, কিন্তু যদি পুনরায় না দেয় তবে তা যথেষ্ট হবে। অনুরূপভাবে মহিলার আযান দেওয়ার বিধান (অর্থাৎ মাকরুহ)। ওয়াক্ত হওয়ার আগে সালাতের জন্য আযান দেওয়া যাবে না, দিলে ওয়াক্তের ভেতরে তা পুনরায় দিতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ (র.) বলেন, ফজরের ক্ষেত্রে রাতের শেষ অর্ধাংশে আযান দেওয়া জায়েয। মুসাফির ব্যক্তি আযান ও ইকামাহ দেবে; যদি সে উভয়টি পরিত্যাগ করে তবে তা মাকরুহ হবে। আর যদি শহরের ভেতরে নিজ বাড়িতে সালাত আদায় করে, তবে আযান ও ইকামাহ সহকারে সালাত পড়বে, তবে এ দুটি বর্জন করলে তা জায়েয হবে।

পরিচ্ছেদ: সালাতের শর্তাবলি যা সালাতের পূর্বে পালনীয়

সালাত আদায়কারীর জন্য ওয়াজিব হলো আমাদের বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী অপবিত্রতা (হাদাস) ও নাপাকি (নাজাসাত) থেকে পবিত্রতা অর্জনকে অগ্রগণ্য করা এবং সতর ঢাকা। পুরুষের সতর হলো নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত, আর হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীন নারীর পুরো শরীরই সতর, তবে তার মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালু ব্যতীত। যদি কোনো নারী তার নলার এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ খোলা থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করে, তবে সে সালাত পুনরায় পড়বে। আর যদি এক-চতুর্থাংশের কম হয়, তবে পুনরায় পড়তে হবে না। ইমাম আবু ইউসুফ (র.) বলেন, অর্ধেকের কম হলে সালাত পুনরায় পড়তে হবে না। অর্ধেকের ব্যাপারে তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে। চুল, পেট এবং উরুর বিধানও অনুরূপ। পুরুষের যা সতর, দাসীর ক্ষেত্রেও তা-ই সতর। তবে দাসীর পেট ও পিঠ সতরের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তার শরীরের বাকি অংশ সতর নয়। যদি নাপাকি দূর করার মতো কিছু না পাওয়া যায়, তবে সেভাবেই সালাত আদায় করবে এবং তা পুনরায় পড়তে হবে না। যে ব্যক্তি কোনো কাপড় পাবে না, সে নগ্ন অবস্থায় বসে রুকু ও সিজদার ইশারায় সালাত পড়বে। যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত পড়ে তবে তা যথেষ্ট হবে, কিন্তু প্রথমোক্ত পদ্ধতিই উত্তম। যে সালাত শুরু করতে যাচ্ছে তার নিয়ত করবে এবং নিয়ত ও তাহরীমার মাঝখানে অন্য কোনো কাজ দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটাবে না। আর যদি অন্য কারো ইকতিদা করে (পিছনে পড়ে), তবে সালাতের নিয়ত এবং তার অনুসরণের নিয়ত করবে। সে কিবলামুখী হবে। তবে যে ব্যক্তি ভীত অবস্থায় থাকে, সে যে কোনো দিকে মুখ করে সালাত পড়বে। যদি কারো কাছে কিবলা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং সেখানে এমন কেউ না থাকে যাকে সে জিজ্ঞাসা করতে পারে, তবে সে চিন্তা-গবেষণা (ইজতিহাদ) করবে এবং সালাত পড়বে। সালাত শেষ করার পর যদি সে জানতে পারে যে ভুল করেছে, তবে তাকে পুনরায় সালাত পড়তে হবে না। আর যদি সালাতরত অবস্থায় তা জানতে পারে, তবে কিবলার দিকে ঘুরে যাবে এবং অবশিষ্ট সালাত পূর্ণ করবে। যে ব্যক্তি অন্ধকার রাতে কোনো কওমের ইমামতি করল এবং কিবলা নির্ধারণের চেষ্টা করে পূর্ব দিকে মুখ করে সালাত পড়ল, আর তার সাথে থাকা ব্যক্তিরাও নির্ধারণ করার চেষ্টা করল...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
خَلفه فصلى كل وَاحِد مِنْهُم إِلَى جِهَة وَكلهمْ خَلفه وَلَا يعلمُونَ مَا صنع الإِمَام أجزأهم وَمن علم مِنْهُم بِحَال إِمَامه تفْسد صلَاته وَكَذَا لَو كَانَ مُتَقَدما على الإِمَام

بَاب صفة الصَّلَاة

فَرَائض الصَّلَاة سِتَّة التَّحْرِيمَة وَالْقِيَام وَالْقِرَاءَة وَالرُّكُوع وَالسُّجُود والقعدة فِي أخر الصَّلَاة مِقْدَار التَّشَهُّد وَمَا سوى ذَلِك فَهُوَ سنة

وَإِذا شرع فِي الصَّلَاة كبر وَيرْفَع يَدَيْهِ مَعَ التَّكْبِير وَهُوَ سنة وَيرْفَع يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِي بإبهاميه شحمة أُذُنَيْهِ وَالْمَرْأَة ترفع يَديهَا حذاء منكبيها فَإِن قَالَ بدل التَّكْبِير الله أجل أَو أعظم أَو الرَّحْمَن أكبر أَو لَا إِلَه إِلَّا الله أَو غَيره من أَسمَاء الله تَعَالَى أَجزَأَهُ عِنْد أبي حنيفَة وَمُحَمّد رحمهمَا الله تَعَالَى وَقَالَ أَبُو يُوسُف إِن كَانَ يحسن التَّكْبِير لم يجزه إِلَّا قَوْله الله أكبر أَو الله الْأَكْبَر أَو الله الْكَبِير فَإِن افْتتح الصَّلَاة بِالْفَارِسِيَّةِ أَو قَرَأَ فِيهَا بِالْفَارِسِيَّةِ أَو ذبح وسمى بِالْفَارِسِيَّةِ وَهُوَ يحسن الْعَرَبيَّة أَجزَأَهُ عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا لَا يُجزئهُ فِي الذَّبِيحَة وَإِن لم يحسن الْعَرَبيَّة أجزأة وَإِن افْتتح الصَّلَاة باللهم اغْفِر لي لَا تجوز

ويعتمد بِيَدِهِ الْيُمْنَى على الْيُسْرَى تَحت السُّرَّة ثمَّ يَقُول سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِك إِلَى أَخّرهُ ويستعيذ بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم وَيقْرَأ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَيسر بهما ثمَّ يقْرَأ فَاتِحَة الْكتاب وَسورَة أَو ثَلَاث آيَات من أَي سُورَة شَاءَ وَإِذا قَالَ الإِمَام وَلَا الضَّالّين قَالَ آمين ويقولها الْمُؤْتَم ويخفونها ثمَّ يكبر ويركع ويحذف التَّكْبِير حذفا ويعتمد بيدَيْهِ على رُكْبَتَيْهِ ويفرج بَين أَصَابِعه ويبسط ظَهره وَلَا يرفع رَأسه وَلَا ينكسه وَيَقُول سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيم ثَلَاثًا وَذَلِكَ أدناه ثمَّ يرفع رَأسه وَيَقُول سمع الله لمن حَمده وَيَقُول الْمُؤْتَم رَبنَا لَك الْحَمد وَلَا يَقُولهَا الإِمَام عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا يَقُولهَا فِي نَفسه وَالْمُنْفَرد يجمع بَينهمَا فِي الْأَصَح ثمَّ إِذا اسْتَوَى قَائِما كبر وَسجد ويعتمد بيدَيْهِ على الأَرْض وَوضع وَجهه بَين كفيه وَيَديه حذاء
তার পেছনে, ফলে তাদের প্রত্যেকে এক এক দিকে মুখ করে সালাত আদায় করল এবং তারা সবাই তার পেছনে ছিল অথচ ইমাম কী করছেন তা তারা জানত না, তবে তাদের সালাত বৈধ হবে। আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ইমামের অবস্থা সম্পর্কে জানবে, তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে; অনুরূপভাবে যদি কেউ ইমামের আগে দাঁড়িয়ে থাকে (তবে তার সালাত ফাসিদ হবে)।

সালাতের নিয়ম-পদ্ধতি পরিচ্ছেদ

সালাতের ফরজসমূহ ছয়টি: তাহরিমা, কিয়াম, কিরাত, রুকু, সিজদা এবং সালাতের শেষে তাশাহহুদ পরিমাণ বসা। এ ছাড়া যা কিছু আছে তা সুন্নত।

যখন সালাত শুরু করবে তখন তাকবির বলবে এবং তাকবিরের সাথে হাত উঠাবে, আর এটি সুন্নত। সে তার হাত দু'টি এমনভাবে উঠাবে যাতে তার বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কানের লতি বরাবর হয়। আর নারী তার হাত দু'টি কাঁধ বরাবর উঠাবে। যদি কেউ তাকবিরের পরিবর্তে 'আল্লাহ অতি মহান' বা 'অতি শ্রেষ্ঠ' অথবা 'দয়াময় আল্লাহ সবচেয়ে বড়' অথবা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' অথবা আল্লাহর নামসমূহের মধ্য থেকে অন্য কোনো নাম বলে, তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)-এর মতে তা যথেষ্ট হবে। আর ইমাম আবু ইউসুফ বলেন, যদি সে তাকবির বলতে সক্ষম হয় তবে 'আল্লাহ সবচেয়ে বড়' অথবা 'আল্লাহ অতি মহান' অথবা 'আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ' ব্যতীত অন্য কিছু বলা যথেষ্ট হবে না। যদি কেউ ফারসি ভাষায় সালাত শুরু করে অথবা তাতে ফারসি ভাষায় কিরাত পড়ে অথবা জবেহ করার সময় ফারসি ভাষায় আল্লাহর নাম নেয়, অথচ সে আরবি ভাষায় পারদর্শী, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তা যথেষ্ট হবে। আর সাহেবাইন বলেন, জবেহ করার ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট হবে না; তবে যদি সে আরবিতে পারদর্শী না হয় তবে যথেষ্ট হবে। আর যদি কেউ 'হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন' বলে সালাত শুরু করে তবে তা বৈধ হবে না।

সে তার ডান হাত বাম হাতের ওপর নাভির নিচে রাখবে। অতঃপর বলবে: 'হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র এবং আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা'—এর শেষ পর্যন্ত। আর বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং 'পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে' পাঠ করবে; এই উভয়টি নিচু স্বরে বলবে। অতঃপর কিতাবের শুরু (সুরা ফাতিহা) পড়বে এবং অন্য একটি সুরা অথবা তার ইচ্ছামতো যে কোনো সুরা থেকে তিনটি আয়াত পাঠ করবে। ইমাম যখন 'পথভ্রষ্টদের পথে নয়' বলবে, তখন সে 'আমীন' বলবে। মুক্তাদিও তা বলবে এবং তারা তা অনুচ্চ স্বরে বলবে। অতঃপর তাকবির বলবে এবং রুকু করবে ও তাকবির দ্রুত শেষ করবে। সে তার হাত দু'টি দিয়ে হাঁটুর ওপর ভর দেবে, আঙ্গুলগুলো ফাঁকা রাখবে এবং পিঠ সোজা প্রসারিত রাখবে। মাথা উঁচিয়ে রাখবে না আবার নিচু করেও রাখবে না। আর বলবে 'আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি' তিনবার, আর এটি হলো সর্বনিম্ন। এরপর মাথা উঠাবে এবং বলবে 'আল্লাহ তার কথা শুনলেন যে তার প্রশংসা করল'। আর মুক্তাদি বলবে 'হে আমাদের রব, সমস্ত প্রশংসা আপনারই'। ইমাম আবু হানিফার মতে ইমাম তা বলবেন না। সাহেবাইন বলেন, ইমাম তা মনে মনে বলবেন। আর একাকী সালাত আদায়কারী বিশুদ্ধ মতানুসারে উভয়টিই বলবে। এরপর যখন সোজা হয়ে উঠবে, তখন তাকবির বলবে ও সিজদা করবে। মাটিতে হাত দু'টি দিয়ে ভর দেবে এবং দুই হাতের তালুর মাঝে চেহারা রাখবে এবং হাত দু'টি সমান করে রাখবে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
أُذُنَيْهِ وَسجد على أَنفه وجبهته فَإِن اقْتصر على أَحدهمَا جَازَ عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا لَا يجوز الِاقْتِصَار على الْأنف إِلَّا من عذر فَإِن سجد على كور عمَامَته أَو فَاضل ثَوْبه جَازَ ويبدي ضبعيه ويجافي بَطْنه عَن فَخذيهِ وَيُوجه أَصَابِع رجلَيْهِ نَحْو الْقبْلَة وَيَقُول فِي سُجُوده سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلَى ثَلَاثًا وَذَلِكَ أدناه وَالْمَرْأَة تنخفض فِي سجودها وتلزق بَطنهَا بفخذيها ثمَّ يرفع رَأسه وَيكبر فَإِذا اطْمَأَن جَالِسا كبر وَسجد فَإِذا اطْمَأَن سَاجِدا كبر واستوى قَائِما على صُدُور قَدَمَيْهِ وَلَا يقْعد وَلَا يعْتَمد بيدَيْهِ على الأَرْض وَيفْعل فِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة مثل مَا فعل فِي الرَّكْعَة الأولى إِلَّا أَنه لَا يستفتح وَلَا يتَعَوَّذ وَلَا يرفع يَدَيْهِ إِلَّا فِي التَّكْبِيرَة الأولى وَإِذا رفع رَأسه من السَّجْدَة الثَّانِيَة فِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة افترش رجله الْيُسْرَى فَجَلَسَ عَلَيْهَا وَنصب الْيُمْنَى نصبا وَوجه أَصَابِعه نَحْو الْقبْلَة وَوضع يَدَيْهِ على فَخذيهِ وَبسط أَصَابِعه وَتشهد فَإِن كَانَت امْرَأَة جَلَست على إليتها الْيُسْرَى وأخرجت رجلهَا من الْجَانِب الْأَيْمن وَالتَّشَهُّد التَّحِيَّات لله والصلوات والطيبات السَّلَام عَلَيْك أَيهَا النَّبِي إِلَى آخِره وَلَا يزِيد على هَذَا فِي الْقعدَة الأولى وَيقْرَأ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَة الْكتاب وَحدهَا وَجلسَ فِي الْأَخِيرَة كَمَا جلس فِي الأولى وَتشهد وَصلى على النَّبِي عليه السلام ودعا بِمَا شَاءَ مِمَّا يشبه أَلْفَاظ الْقُرْآن والأدعية المأثورة وَلَا يَدْعُو بِمَا يشبه كَلَام النَّاس ثمَّ يسلم عَن يَمِينه فَيَقُول السَّلَام عَلَيْكُم وَرَحْمَة الله وَعَن يسَاره مثل ذَلِك وَيَنْوِي بالتسليمة الأولى من على يَمِينه من الرِّجَال وَالنِّسَاء والحفظة وَكَذَلِكَ فِي الثَّانِيَة وَلَا بُد للمقتدي من نِيَّة إِمَامه فَإِن كَانَ الإِمَام من الْجَانِب الْأَيْمن أَو الْأَيْسَر نَوَاه فيهم وَالْمُنْفَرد يَنْوِي الْحفظَة لَا غير وَالْإِمَام يَنْوِي بالتسليمتين

‌‌فصل فِي الْقِرَاءَة

ويجهر بِالْقِرَاءَةِ فِي الْفجْر وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأَوليين من الْمغرب وَالْعشَاء إِن كَانَ إِمَامًا ويخفي فِي الْأُخْرَيَيْنِ وَإِن كَانَ مُنْفَردا فَهُوَ مُخَيّر إِن شَاءَ جهر وأسمع نَفسه وَإِن
তার কান বরাবর এবং সিজদা করবেন তাঁর নাক ও কপালের ওপর। যদি তিনি এই দুটির কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে তা ইমাম আবু হানিফার মতে বৈধ। সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) বলেন, ওজর ব্যতীত কেবল নাকের ওপর সিজদা করা বৈধ নয়। যদি কেউ তার পাগড়ির প্যাঁচের ওপর অথবা তার কাপড়ের অতিরিক্ত অংশের ওপর সিজদা করে তবে তা বৈধ। তিনি সিজদায় তাঁর দুই বাহু (পার্শ্বদেশ থেকে) পৃথক রাখবেন এবং তাঁর পেটকে উরু থেকে দূরে রাখবেন। তাঁর দুই পায়ের আঙুল কিবলার দিকে মুখ করে রাখবেন এবং সিজদায় বলবেন: "আমার সুউচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি" তিনবার, আর এটি হলো সর্বনিম্ন পরিমাণ। নারী তার সিজদায় সংকুচিত হয়ে থাকবে এবং তার পেটকে উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে। অতঃপর তিনি মাথা তুলবেন ও তাকবির বলবেন। যখন তিনি স্থিরভাবে বসবেন, তখন তাকবির বলে পুনরায় সিজদা করবেন। যখন তিনি সিজদাবনত অবস্থায় স্থির হবেন, তখন তাকবির বলে তাঁর পায়ের পাতার সম্মুখভাগের ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াবেন। তিনি (বিশ্রামের জন্য) বসবেন না এবং তাঁর দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে মাটিতে ঠেস দেবেন না। তিনি দ্বিতীয় রাকাতে তা-ই করবেন যা প্রথম রাকাতে করেছিলেন; তবে তিনি ছানা (শুরু করার দোয়া) পাঠ করবেন না, আউজুবিল্লাহ পড়বেন না এবং প্রথম তাকবির ব্যতীত অন্য কোথাও হাত উঠাবেন না। যখন তিনি দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা তুলবেন, তখন তাঁর বাম পা বিছিয়ে দেবেন এবং তার ওপর বসবেন, আর ডান পা খাড়া করে রাখবেন এবং পায়ের আঙুলগুলো কিবলার দিকে রাখবেন। তিনি তাঁর দুই হাত উরুর ওপর রাখবেন এবং আঙুলগুলো প্রসারিত করে রাখবেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করবেন। যদি নামাজি নারী হয়, তবে সে তার বাম নিতম্বের ওপর বসবে এবং তার দুই পা ডান দিক দিয়ে বের করে দেবে। তাশাহহুদ হলো: "সমস্ত সম্মানজনক অভিবাদন আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক..." শেষ পর্যন্ত। প্রথম বৈঠকে তিনি এর অতিরিক্ত কিছু পড়বেন না। পরবর্তী দুই রাকাতে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। শেষ বৈঠকে তিনি প্রথম বৈঠকের মতোই বসবেন এবং তাশাহহুদ পড়বেন। অতঃপর নবীর (আলাইহিস সালাম) ওপর দরুদ পাঠ করবেন এবং যা ইচ্ছা দোয়া করবেন যা কুরআনের শব্দাবলি অথবা মাছুর (বর্ণিত) দোয়াসমূহের সদৃশ হয়; মানুষের কথার সদৃশ কোনো দোয়া করবেন না। এরপর তিনি তাঁর ডান দিকে সালাম ফেরাবেন এবং বলবেন: "আপনাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক", আর বাম দিকেও অনুরূপ বলবেন। প্রথম সালামের মাধ্যমে তিনি তাঁর ডান দিকে থাকা পুরুষ, নারী ও সংরক্ষণকারী ফেরেশতাদের নিয়ত করবেন এবং দ্বিতীয় সালামের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করবেন। মুক্তাদির জন্য ইমামের নিয়ত করা আবশ্যক; ইমাম যদি ডান দিকে বা বাম দিকে থাকেন তবে মুক্তাদি ওই দিকের সালামে ইমামকেও নিয়তভুক্ত করবে। একাকী নামাজ আদায়কারী কেবল সংরক্ষণকারী ফেরেশতাদের নিয়ত করবেন এবং ইমাম উভয় সালামের মাধ্যমে নিয়ত করবেন।

‌‌কিরাত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

ইমাম হলে ফজর নামাজে এবং মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করবেন, আর শেষ দুই রাকাতে নিচু স্বরে পড়বেন। যদি তিনি একাকী নামাজ আদায়কারী হন, তবে তাঁর ইখতিয়ার রয়েছে; চাইলে তিনি উচ্চস্বরে পাঠ করবেন যেন নিজে শুনতে পান, আর চাইলে...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
شَاءَ خَافت ويخفيها الإِمَام فِي الظّهْر وَالْعصر وَإِن كَانَ بِعَرَفَة ويجهر فِي الْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ وَمن فَاتَتْهُ الْعشَاء فَصلاهَا بعد طُلُوع الشَّمْس إِن أم فِيهَا جهر وَإِن كَانَ وَحده خَافت حتما وَلَا يتَخَيَّر هُوَ الصَّحِيح وَمن قَرَأَ فِي الْعشَاء فِي الْأَوليين السُّورَة وَلم يقْرَأ بِفَاتِحَة الْكتاب لم يعد فِي الْأُخْرَيَيْنِ وَإِن قَرَأَ الْفَاتِحَة وَلم يزدْ عَلَيْهَا قَرَأَ فِي الآخريين الْفَاتِحَة وَالسورَة وجهر ويجهر بهما وَأدنى مَا يجزىء من الْقِرَاءَة فِي الصَّلَاة آيَة عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا ثَلَاث آيَات قصار أَو آيَة طَوِيلَة وَفِي السّفر يقْرَأ بِفَاتِحَة الْكتاب وَأي سُورَة شَاءَ وَيقْرَأ فِي الْحَضَر فِي الْفجْر فِي الرَّكْعَتَيْنِ بِأَرْبَعِينَ آيَة أَو خمسين آيَة سوى فَاتِحَة الْكتاب وَفِي الظّهْر مثل ذَلِك وَالْعصر وَالْعشَاء سَوَاء يقْرَأ فيهمَا بأوساط الْمفصل وَفِي الْمغرب دون ذَلِك يقْرَأ فِيهَا بقصار الْمفصل ويطيل الرَّكْعَة الأولى من الْفجْر على الثَّانِيَة وركعتا الظّهْر سَوَاء وَلَيْسَ فِي شَيْء من الصَّلَوَات قِرَاءَة سُورَة بِعَينهَا وَيكرهُ أَن يُوَقت بِشَيْء من الْقُرْآن لشَيْء من الصَّلَوَات وَلَا يقْرَأ الْمُؤْتَم خلف الإِمَام ويستمع وينصت وَإِن قَرَأَ الإِمَام آيَة التَّرْغِيب والترهيب وَكَذَلِكَ فِي الْخطْبَة وَكَذَلِكَ أَن صلى على النَّبِي عليه السلام

بَاب الْإِمَامَة

الْجَمَاعَة سنة مُؤَكدَة وَأولى النَّاس بِالْإِمَامَةِ أعلمهم بِالسنةِ فَإِن تساووا فأقرؤهم فَإِن تساووا فأورعهم فَإِن تساووا فأسنهم وَيكرهُ تَقْدِيم العَبْد والأعرابي وَالْفَاسِق وَالْأَعْمَى وَولد الزِّنَى وَإِن تقدمُوا جَازَ وَلَا يطول الإِمَام بهم الصَّلَاة وَيكرهُ للنِّسَاء أَن يصلين وحدهن الْجَمَاعَة وَإِن فعلن قَامَت الإِمَام وسطهن وَمن صلى مَعَ وَاحِد أَقَامَهُ عَن يَمِينه وَإِن أم اثْنَيْنِ تقدم عَلَيْهِمَا وَلَا يجوز للرِّجَال أَن يقتدوا بِامْرَأَة أَو صبي ويصف الرِّجَال ثمَّ الصّبيان ثمَّ النِّسَاء وَإِن حاذته امْرَأَة وهما مشتركان فِي صَلَاة وَاحِدَة فَسدتْ صلَاته وَإِن نوى الإِمَام أمامتها وَإِن لم ينْو إمامتها لم تضره وَلَا تجوز صلَاتهَا وَمن شَرَائِط الْمُحَاذَاة أَن تكون الصَّلَاة مُشْتَركَة وَإِن
ইচ্ছা করলে নিচু স্বরে পড়বে। ইমাম জোহর ও আসরের নামাজে কিরাত গোপন করবেন, এমনকি তা আরাফাতে হলেও। আর জুমা ও দুই ঈদে উচ্চস্বরে কিরাত পড়বেন। যার এশার নামাজ ছুটে গেছে, সে যদি সূর্যোদয়ের পর তা কাজা হিসেবে আদায় করে, এমতাবস্থায় সে যদি ইমামতি করে তবে উচ্চস্বরে কিরাত পড়বে। আর যদি একা পড়ে তবে অবশ্যই নিচু স্বরে পড়বে, এতে সে উচ্চস্বরে বা নিচু স্বরে পড়ার পছন্দের সুযোগ পাবে না—এটিই বিশুদ্ধ অভিমত। যে ব্যক্তি এশার প্রথম দুই রাকাতে অন্য সূরা পড়ল কিন্তু সূরা ফাতিহা পড়ল না, সে শেষ দুই রাকাতে তা পুনরায় পড়বে না। আর যদি ফাতিহা পড়ে কিন্তু তার সাথে অন্য কিছু না মেলায়, তবে শেষ দুই রাকাতে ফাতিহা ও সূরা পড়বে এবং উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করবে। ইমাম আবু হানিফার মতে নামাজে কিরাত আদায় হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো একটি আয়াত। আর সাহেবাইন বলেন, তিনটি ছোট আয়াত অথবা একটি দীর্ঘ আয়াত। সফরে সূরা ফাতিহা এবং যে কোনো সূরা ইচ্ছা পড়বে। মুকিম অবস্থায় ফজরের দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা ছাড়া চল্লিশ বা পঞ্চাশ আয়াত পড়বে এবং জোহরের নামাজেও অনুরূপ। আসর ও এশা সমান; এই দুই নামাজে আওসাতে মুফাসসাল (মুফাসসালের মধ্যম সূরাসমূহ) পড়বে। আর মাগরিবে এর চেয়ে কম অর্থাৎ কিসারে মুফাসসাল (মুফাসসালের ছোট সূরাসমূহ) পড়বে। ফজরের প্রথম রাকাত দ্বিতীয় রাকাতের চেয়ে দীর্ঘ করবে এবং জোহরের দুই রাকাত সমান হবে। কোনো নামাজের জন্যই নির্দিষ্ট কোনো সূরা পড়া আবশ্যক নয়। কোনো নামাজের জন্য কুরআনের কোনো অংশকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া মাকরূহ। মুক্তাদি ইমামের পেছনে কিরাত পড়বে না, বরং সে শ্রবণ করবে ও নীরব থাকবে—যদিও ইমাম কোনো উৎসাহব্যঞ্জক বা ভীতিপ্রদ আয়াত তিলাওয়াত করেন। খুতবার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। তদ্রূপ নবি আলাইহিস সালামের ওপর দরুদ পড়ার ক্ষেত্রেও।

ইমামতি পরিচ্ছেদ

জামাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। মানুষের মধ্যে ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি হলেন সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি। যদি তারা এ বিষয়ে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে তিলাওয়াতে অধিক দক্ষ। যদি সেখানেও সমান হয়, তবে যে অধিক পরহেজগার। যদি সেখানেও সমান হয়, তবে বয়সে যে বড়। দাস, বেদুইন, ফাসেক, অন্ধ এবং জারজ সন্তানকে ইমাম হিসেবে এগিয়ে দেওয়া মাকরূহ; তবে তারা ইমামতি করলে তা জায়েজ হবে। ইমাম মুক্তাদিদের নিয়ে নামাজ দীর্ঘ করবেন না। নারীদের জন্য আলাদা জামাত করা মাকরূহ; তবে তারা যদি জামাত করে তবে তাদের ইমাম তাদের মাঝখানে দাঁড়াবেন। যদি কেউ একজনের সাথে নামাজ পড়ে, তবে তাকে নিজের ডান দিকে দাঁড় করাবে। আর যদি ইমাম দুজন ব্যক্তির ইমামতি করেন, তবে তিনি তাদের সামনে দাঁড়াবেন। পুরুষদের জন্য কোনো নারী বা শিশুর পেছনে ইক্তেদা করা জায়েজ নয়। কাতার হবে প্রথমে পুরুষদের, তারপর শিশুদের, তারপর নারীদের। যদি কোনো নারী কোনো পুরুষের সমান্তরালে দাঁড়ায় এবং তারা উভয়ে একই নামাজে শরিক থাকে, তবে সেই পুরুষের নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে যদি ইমাম ঐ নারীর ইমামতির নিয়ত করে থাকেন। আর যদি ইমাম তার ইমামতির নিয়ত না করে থাকেন, তবে তা পুরুষের নামাজের কোনো ক্ষতি করবে না কিন্তু ঐ নারীর নামাজ হবে না। সমান্তরালে দাঁড়ানোর (দ্বারা নামাজ ফাসিদ হওয়ার) অন্যতম শর্ত হলো নামাজটি একই হওয়া এবং...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
تكون مُطلقَة وَأَن تكون الْمَرْأَة من أهل الشَّهْوَة وَإِلَّا يكون بَينهمَا حَائِل وَيكرهُ لَهُنَّ حُضُور الْجَمَاعَات وَلَا بَأْس للعجوز أَن تخرج فِي الْفجْر وَالْمغْرب وَالْعشَاء عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا يخْرجن فِي الصَّلَوَات كلهَا وَلَا يُصَلِّي الطَّاهِر خلف من هُوَ فِي معنى الْمُسْتَحَاضَة وَلَا الطاهرة خلف الْمُسْتَحَاضَة وَلَا القارىء خلف الْأُمِّي وَلَا المكتسى خلف العاري وَيجوز أَن يؤم الْمُتَيَمم المتوضئين ويؤم الماسح الغاسلين وَيُصلي الْقَائِم خلف الْقَاعِد ويصل المومىء خلف مثله وَلَا يُصَلِّي الَّذِي يرْكَع وَيسْجد خلف المومىء وَلَا يُصَلِّي المفترض خلف المتنفل وَلَا من يُصَلِّي فرضا خلف من يُصَلِّي فرضا آخر وَيُصلي المتنفل خلف المفترض وَمن اقْتدى بِإِمَام ثمَّ علم أَن إِمَامه مُحدث أعَاد وَإِذا صلى أُمِّي بِقوم يقرأون وبقوم أُمِّيين فصلاتهم فَاسِدَة عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا صَلَاة الإِمَام وَمن لم يقْرَأ تَامَّة وَلَو كَانَ يُصَلِّي الْأُمِّي وَحده والقارىء وَحده جَازَ فَإِن قَرَأَ الإِمَام فِي ألأوليين ثمَّ قدم فِي الْأُخْرَيَيْنِ أُمِّيا فَسدتْ صلَاتهم

بَاب الْحَدث فِي الصَّلَاة

وَمن سبقه الْحَدث فِي الصَّلَاة انْصَرف فَإِن كَانَ إِمَامًا اسْتخْلف وَتَوَضَّأ وَبنى والاستئناف أفضل وَالْمُنْفَرد إِن شَاءَ أتم فِي منزله وَإِن شَاءَ عَاد إِلَى مَكَانَهُ والمقتدى يعود إِلَى مَكَانَهُ إِلَّا أَن يكون إِمَامه قد فرغ أَولا يكون بَينهمَا حَائِل وَمن ظن أَنه أحدث فَخرج من الْمَسْجِد ثمَّ علم أَنه لم يحدث اسْتقْبل الصَّلَاة وَإِن لم يكن خرج من الْمَسْجِد يُصَلِّي مَا بَقِي وَإِن جن أَو نَام فَاحْتَلَمَ أَو أغمى عَلَيْهِ اسْتقْبل وَإِن حصر الإِمَام عَن الْقِرَاءَة فَقدم غَيره أجزأهم عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا لَا يجزئهم وَلَو قَرَأَ مِقْدَار مَا تجوز بِهِ الصَّلَاة لَا يجوز الِاسْتِخْلَاف بِالْإِجْمَاع وَإِن سبقه الْحَدث بعد التَّشَهُّد تَوَضَّأ وَسلم وَإِن تعمد الْحَدث فِي هَذِه الْحَالة أَو تكلم أَو عمل عملا يُنَافِي الصَّلَاة تمت صلَاته فَإِن رأى الْمُتَيَمم المَاء فِي صلَاته بطلت فَإِن رَآهُ بعد مَا قعد قدر التَّشَهُّد أَو كَانَ ماسحا فانقضت مُدَّة مَسحه أَو خلع خفيه بِعَمَل يسير أَو كَانَ أُمِّيا فتعلم سُورَة
মুক্ত হওয়া এবং নারী কামভাবসম্পন্না হওয়া এবং তাদের মাঝে কোনো আড়াল না থাকা। আর নারীদের জন্য জামাআতে উপস্থিত হওয়া অপছন্দনীয়। তবে বৃদ্ধা নারীর জন্য ফজর, মাগরিব ও ইশা সালাতে বের হওয়া ইমাম আবু হানিফার মতে দোষণীয় নয়। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন, তারা সকল সালাতেই বের হতে পারবে। পবিত্র ব্যক্তি এমন ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না যে ইস্তিহাজাগ্রস্ত ব্যক্তির হুকুমে রয়েছে। আর পবিত্রা নারী ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীর পিছনে সালাত আদায় করবে না। কিরাআত পাঠকারী ব্যক্তি উম্মী ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। পরিহিত বস্ত্রধারী ব্যক্তি উলঙ্গ ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করবে না। তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি ওজুকারীদের ইমামতি করতে পারবে। মাসাহকারী ব্যক্তি পা ধৌতকারীদের ইমামতি করতে পারবে। দণ্ডায়মান ব্যক্তি উপবিষ্ট ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করতে পারবে। ইশারাকারী ব্যক্তি তার অনুরূপ ইশারাকারীর পিছনে সালাত আদায় করতে পারবে। কিন্তু রুকু ও সিজদাকারী ব্যক্তি ইশারাকারীর পিছনে সালাত আদায় করবে না। ফরয আদায়কারী নফল আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করবে না। আর যে ফরয সালাত পড়ছে সে অন্য ফরয আদায়কারীর পিছনে সালাত পড়বে না। তবে নফল আদায়কারী ফরয আদায়কারীর পিছনে সালাত আদায় করতে পারবে। যে ব্যক্তি কোনো ইমামের ইক্তিদা করল এবং পরে জানতে পারল যে তার ইমাম অপবিত্র ছিল, সে সালাত পুনরায় আদায় করবে। যদি কোনো উম্মী ব্যক্তি এমন একদল লোকের ইমামতি করে যাদের মধ্যে কিরাআত পাঠকারীও রয়েছে আবার উম্মীও রয়েছে, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তাদের সালাত বাতিল হয়ে যাবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন, ইমামের সালাত এবং যে কিরাআত পড়েনি তার সালাত পূর্ণ হবে। যদি সেই উম্মী ব্যক্তি একা এবং কিরাআত পাঠকারী ব্যক্তি একা সালাত আদায় করত তবে তা জায়েয হতো। যদি ইমাম প্রথম দুই রাকাতে কিরাআত পাঠ করে এবং পরবর্তী দুই রাকাতে কোনো উম্মী ব্যক্তিকে স্থলাভিষিক্ত করে, তবে তাদের সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

সালাতের মধ্যে অপবিত্রতা (হাদাস) হওয়া বিষয়ক অধ্যায়

সালাতের মধ্যে যার অনিচ্ছাকৃতভাবে অপবিত্রতা ঘটে যাবে, সে ফিরে যাবে। যদি সে ইমাম হয় তবে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করবে এবং ওজু করে এসে অবশিষ্ট সালাত পূর্ণ করবে। তবে নতুন করে সালাত শুরু করা উত্তম। একাকী সালাত আদায়কারী চাইলে তার বাড়িতে সালাত পূর্ণ করতে পারে, আর চাইলে তার পূর্বের স্থানে ফিরে আসতে পারে। মুক্তাদি তার পূর্বের স্থানে ফিরে আসবে, যদি না তার ইমাম ইতিমধ্যে সালাত শেষ করে ফেলে অথবা তাদের মাঝে কোনো আড়াল তৈরি হয়। যে ব্যক্তি ধারণা করল যে তার অপবিত্রতা ঘটেছে এবং সে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল, অতঃপর জানতে পারল যে তার অপবিত্রতা ঘটেনি, সে নতুন করে সালাত শুরু করবে। আর যদি সে মসজিদ থেকে বের না হয়ে থাকে, তবে অবশিষ্ট সালাত আদায় করবে। যদি কেউ পাগল হয়ে যায় অথবা ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নদোষ হয় অথবা অজ্ঞান হয়ে যায়, তবে সে নতুন করে সালাত শুরু করবে। ইমাম যদি কিরাআত পড়তে অক্ষম হয়ে যান এবং অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করেন, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তা যথেষ্ট হবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেন, তা যথেষ্ট হবে না। যদি ইমাম সালাত জায়েয হওয়ার মত পরিমাণ কিরাআত পড়ে থাকেন, তবে সর্বসম্মতিক্রমে স্থলাভিষিক্ত করা জায়েয নেই। যদি তাশাহহুদের পর অনিচ্ছাকৃত অপবিত্রতা ঘটে, তবে সে ওজু করবে এবং সালাম ফিরাবে। যদি সে এই অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে অপবিত্রতা ঘটায় অথবা কথা বলে অথবা এমন কোনো কাজ করে যা সালাতের পরিপন্থী, তবে তার সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে। যদি তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি সালাতের মধ্যে পানি দেখতে পায়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি সে তাশাহহুদ পরিমাণ বসার পর পানি দেখতে পায়, অথবা সে মাসাহকারী ছিল এবং তার মাসাহর সময় শেষ হয়ে যায়, অথবা সামান্য কাজের মাধ্যমে তার মোজা খুলে ফেলে, অথবা সে উম্মী ছিল এবং একটি সূরা শিখে ফেলে—
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
أَو عُريَانا فَوجدَ ثوبا أَو مومئا فَقدر على الرُّكُوع وَالسُّجُود أَو تذكر فَائِتَة عَلَيْهِ قبل هَذِه أَو أحدث الإِمَام القارىء فاستخلف أُمِّيا أَو طلعت الشَّمْس فِي الْفجْر أَو دخل وَقت الْعَصْر وَهُوَ فِي الْجُمُعَة أَو كَانَ ماسحا على الْجَبِيرَة فَسَقَطت عَن برْء أَو كَانَ صَاحب عذر فَانْقَطع عذره كالمستحاضة وَمن بمعناها بطلت صلَاته فِي قَول أبي حنيفَة وَقَالَ تمت صلَاته وَمن اقْتدى بِإِمَام بَعْدَمَا صلى رَكْعَة فأحدث الإِمَام فقدمه أَجزَأَهُ فَلَو تقدم يبتدىء من حَيْثُ انْتهى إِلَيْهِ الإِمَام وَإِذا انْتهى إِلَى السَّلَام يقدم مدْركا يسلم بهم فَلَو أَنه حِين أتم صَلَاة الإِمَام قهقه أَو أحدث مُتَعَمدا أَو تكلم أَو خرج من الْمَسْجِد فَسدتْ صلَاته وَصَلَاة الْقَوْم تَامَّة وَالْإِمَام الأول إِن كَانَ فرغ لَا تفْسد صلَاته وَإِن لم يفرغ تفْسد فَإِن لم يحدث الإِمَام الأول وَقعد قدر التَّشَهُّد ثمَّ قهقه أَو أحدث مُتَعَمدا فَسدتْ صَلَاة الَّذِي لم يدْرك أول صلَاته عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا لَا تفْسد وَإِن تكلم أَو خرج من الْمَسْجِد لم تفْسد فِي قَوْلهم جَمِيعًا وَمن أحدث فِي رُكُوعه أَو سُجُوده توضأوبنى وَلَا يعْتد بِالَّتِي أحدث فِيهَا وَلَو تذكر وَهُوَ رَاكِع أَو ساجد أَن عَلَيْهِ سَجْدَة فَانْحَطَّ من رُكُوعه لَهَا أَو رفع رَأسه من سُجُوده فسجدها يُعِيد الرُّكُوع وَالسُّجُود وَمن أم رجلا وَاحِدًا فأحدث وَخرج من الْمَسْجِد فالمأموم إِمَام نوى أَو لم ينْو وَلَو لم يكن خَلفه إِلَّا صبي أَو امْرَأَة قيل تفْسد صلَاته وَقيل لَا تفْسد

بَاب مَا يفْسد الصَّلَاة وَمَا يكره فِيهَا

وَمن تكلم فِي صلَاته عَامِدًا أَو سَاهِيا بطلت صلَاته فَإِن أَن فِيهَا أَو تأوه أَو بَكَى فارتفع بكاؤه فَإِن كَانَ من ذكر الْجنَّة أَو النَّار لم يقطعهَا وَإِن كَانَ من وجع أَو مُصِيبَة قطعهَا وَإِن تنحنح بِغَيْر عذر وَحصل بِهِ الْحُرُوف يَنْبَغِي أَن يفْسد عِنْدهمَا وَإِن كَانَ بِعُذْر فَهُوَ عَفْو كالعطاس وَمن عطس فَقَالَ لَهُ آخر يَرْحَمك الله وَهُوَ فِي الصَّلَاة فَسدتْ صلَاته وَإِن استفتح فَفتح عَلَيْهِ فِي صلَاته تفْسد وَإِن فتح على إِمَامه لم
অথবা যদি কোনো বিবস্ত্র ব্যক্তি পোশাক পায়, অথবা ইশারায় সালাত আদায়কারী রুকু ও সিজদাহ করতে সক্ষম হয়, অথবা তার পূর্বের কোনো কাজা সালাতের কথা মনে পড়ে, অথবা কিরাত পাঠকারী ইমামের ওজু ভেঙে যাওয়ায় তিনি কোনো উম্মী (অক্ষরজ্ঞানহীন) ব্যক্তিকে খলীফা নিযুক্ত করেন, অথবা ফজরের সালাতে সূর্য উদিত হয়, অথবা জুমুআর সালাত অবস্থায় আসরের ওয়াক্ত দাখিল হয়, অথবা কেউ জাবীরার (ক্ষতের পট্টি) উপর মাসাহ করছিল এবং আরোগ্য লাভের কারণে তা পড়ে যায়, অথবা কেউ ওযরগ্রস্ত ব্যক্তি ছিল এবং তার ওযর শেষ হয়ে যায়—যেমন মুস্তাহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাবগ্রস্ত নারী) বা এই পর্যায়ের অন্য কেউ—তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর সাহেবায়ন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) বলেন, তার সালাত পূর্ণ হয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তি ইমামের এক রাকাত সালাত আদায়ের পর তার পেছনে ইকতিদা করল, অতঃপর ইমামের ওজু ভেঙে যাওয়ায় তাকে খলীফা নিযুক্ত করল, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। এমতাবস্থায় সে যদি সামনে অগ্রসর হয়, তবে ইমাম যেখান থেকে ছেড়েছেন সেখান থেকেই সালাত শুরু করবে। আর যখন সে শেষ বৈঠকে পৌঁছাবে, তখন জনৈক মুদরিক (শুরু থেকে সালাত পাওয়া ব্যক্তি) ব্যক্তিকে সামনে এগিয়ে দেবে, যে তাদের নিয়ে সালাম ফিরাবে। যদি ইমামের সালাত পূর্ণ করার সময় সে অট্টহাসি দেয়, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ওজু ভেঙে ফেলে, অথবা কথা বলে, অথবা মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়, তবে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে এবং মুক্তাদীদের সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে। আর প্রথম ইমাম যদি তার সালাত সম্পন্ন করে থাকেন, তবে তার সালাত নষ্ট হবে না; আর যদি সম্পন্ন না করে থাকেন, তবে নষ্ট হয়ে যাবে। যদি প্রথম ইমামের ওজু না ভেঙে থাকে এবং তিনি তাশাহহুদের পরিমাণ বসার পর অট্টহাসি দেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ওজু ভেঙে ফেলেন, তবে যে ব্যক্তি সালাতের প্রথম অংশ পায়নি (মাসবূক), ইমাম আবু হানিফার মতে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। আর সাহেবায়ন বলেন, নষ্ট হবে না। কিন্তু যদি তিনি কথা বলেন বা মসজিদ থেকে বের হয়ে যান, তবে তাঁদের সকলের মতেই সালাত নষ্ট হবে না। যে ব্যক্তি রুকু বা সিজদাহ অবস্থায় ওজু ভেঙে ফেলে, সে ওজু করবে এবং সেখান থেকেই সালাত পূর্ণ করবে (বিনা করবে); তবে যে রুকু বা সিজদায় ওজু ভেঙেছে, তা গণ্য হবে না। আর যদি রুকু বা সিজদারত অবস্থায় তার মনে পড়ে যে তার উপর একটি সিজদাহ বাকি রয়েছে, তবে সে সেই সিজদাহর জন্য রুকু থেকে অবনত হবে অথবা সিজদাহ থেকে মাথা উঠিয়ে তা আদায় করবে এবং এরপর পুনরায় রুকু ও সিজদাহ করবে। যে ব্যক্তি মাত্র একজন লোকের ইমামতি করল, অতঃপর তার ওজু ভেঙে গেল এবং সে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল, তবে সেই মুক্তাদীই ইমাম হয়ে যাবে—চাই সে নিয়ত করুক বা না করুক। আর যদি তার পেছনে কেবল কোনো শিশু বা নারী থাকে, তবে বলা হয়েছে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে, আবার বলা হয়েছে নষ্ট হবে না।

সালাত নষ্টকারী এবং সালাতে মাকরূহ বিষয়সমূহের অধ্যায়

যে ব্যক্তি তার সালাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত কথা বলে, তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। যদি সে সালাতে উঃ-আঃ শব্দ করে, অথবা আহাজারি করে, অথবা কান্নাকাটি করার কারণে তার কান্নার আওয়াজ উচ্চ হয়—তবে তা যদি জান্নাত বা জাহান্নামের স্মরণের কারণে হয়, তবে তা সালাত নষ্ট করবে না। আর যদি তা ব্যথা বা কোনো বিপদের কারণে হয়, তবে তা সালাত নষ্ট করে দেবে। যদি কোনো ওযর ছাড়াই গলা পরিষ্কার করার জন্য কেশে শব্দ করে এবং তাতে বর্ণ প্রকাশ পায়, তবে সাহেবায়নের মতে তা সালাত নষ্ট করে দেওয়া উচিত। আর যদি কোনো ওযরের কারণে হয়, তবে তা মার্জনীয়, যেমন হাঁচি। সালাতরত অবস্থায় কেউ যদি হাঁচি দেয় এবং অন্য কেউ তাকে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে, তবে তার (উত্তরদাতার) সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি কেউ (বাইরের লোক) কিরাত মনে করিয়ে দিতে বলে এবং সে সালাতরত অবস্থায় তাকে কিরাত বলে দেয় (লোকমা দেয়), তবে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। তবে যদি সে তার নিজ ইমামকে লোকমা দেয়, তবে নষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
يكن كلَاما مُفْسِدا وَيَنْوِي الْفَتْح على إِمَامه دون الْقِرَاءَة وَلَو كَانَ الإِمَام انْتقل إِلَى آيَة أُخْرَى تفْسد صَلَاة الفاتح وتفسد صَلَاة الإِمَام لَو أَخذ بقوله فَلَو أجَاب فِي الصَّلَاة رجلا بِلَا إِلَه إِلَّا الله فَهُوَ كَلَام مُفسد عِنْد أبي حنيفَة وَمُحَمّد وَقَالَ أَبُو يُوسُف لَا يكون مُفْسِدا وَإِن أَرَادَ بِهِ إِعْلَامه أَنه فِي الصَّلَاة لم تفْسد بِالْإِجْمَاع وَمن صلى رَكْعَة من الظّهْر ثمَّ افْتتح الْعَصْر أَو التَّطَوُّع فقد نقض الظّهْر وَلَو افْتتح الظّهْر بعد مَا صلى مِنْهَا رَكْعَة فَهِيَ هِيَ ويجتزأ بِتِلْكَ الرَّكْعَة وَإِذا قَرَأَ الإِمَام من الْمُصحف فَسدتْ صلَاته عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا هِيَ تَامَّة إِلَّا أَنه يكره وَإِن مرت امْرَأَة بَين يَدي الْمُصَلِّي لم تقطع الصَّلَاة إِلَّا أَن الْمَار آثم وَيَنْبَغِي لمن يُصَلِّي فِي الصَّحرَاء أَن يتَّخذ مامه ستْرَة ومقدارها ذِرَاع فَصَاعِدا وَقيل يَنْبَغِي أَن تكون فِي غلظ الْأصْبع وَيقرب من الستْرَة وَيجْعَل الستْرَة على حاجبة الْأَيْمن أَو على الْأَيْسَر وسترة الإِمَام ستْرَة للْقَوْم وَيعْتَبر الغرز دون الْإِلْقَاء والخط ويدرأ الْمَار إِذا لم يكن بَين يَدَيْهِ ستْرَة أَو مر بَينه وَبَين الستْرَة ويدرأ بِالْإِشَارَةِ أَو يدْفع بالتسبيح وَيكرهُ الْجمع بَينهمَا

‌‌فصل وَيكرهُ مصلي أَن يعبث بِثَوْبِهِ أَو بجسده وَلَا يقلب الْحَصَى إِلَّا أَن لَا يُمكنهُ من السُّجُود فيسويه مرّة وَاحِدَة وَلَا يفرقع أَصَابِعه وَلَا يتخصر وَلَا يلْتَفت وَلَو نظر بمؤخر عَيْنَيْهِ يمنة أَو يسرة من غير أَن يلوي عُنُقه لَا يكره وَلَا يقعى وَلَا يفترش ذِرَاعَيْهِ وَلَا يرد السَّلَام بِلِسَانِهِ وَلَا بِيَدِهِ وَلَا يتربع إِلَّا من عذر وَلَا يعقص شعره وَلَا يكف ثَوْبه وَلَا يسدل ثَوْبه وَلَا يَأْكُل وَلَا يشرب فَإِن أكل أَو شرب عَامِدًا أَو نَاسِيا فَسدتْ صلَاته وَلَا بَأْس بِأَن يكون مقَام الإِمَام فِي الْمَسْجِد وَسُجُوده فِي الطاق وَيكرهُ أَن يقوم فِي الطاق وَيكرهُ أَن يكون الإِمَام وَحده على الدّكان وَكَذَا على الْقلب فِي ظَاهر الرِّوَايَة وَلَا بَأْس بِأَن يُصَلِّي إِلَى ظهر رجل قَاعد يتحدث وَلَا بَأْس بِأَن يُصَلِّي وَبَين يَدَيْهِ مصحف مُعَلّق أَو سيف مُعَلّق وَلَا بَأْس بِأَن يُصَلِّي على بِسَاط
এটি একটি বিনষ্টকারী কথা হিসেবে গণ্য হবে এবং সে যদি তিলাওয়াত ব্যতিরেকে তার ইমামকে সংশোধন (লোকমা) দেওয়ার নিয়ত করে, এমনকি ইমাম যদি অন্য আয়াতে চলে গিয়ে থাকেন, তবে লোকমা দানকারীর নামায নষ্ট হয়ে যাবে এবং ইমাম যদি তার কথা গ্রহণ করেন তবে ইমামের নামাযও নষ্ট হয়ে যাবে। যদি নামাযে কোনো ব্যক্তির (ডাকের) উত্তরে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, তবে ইমাম আবূ হানীফা ও মুহাম্মাদের মতে তা নামায বিনষ্টকারী কথা হবে। ইমাম আবূ ইউসুফ বলেছেন, তা নামায বিনষ্টকারী হবে না। আর যদি এর মাধ্যমে সে কেবল তাকে নামাযে থাকার কথা অবহিত করার ইচ্ছা করে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে নামায নষ্ট হবে না। যে ব্যক্তি যোহরের এক রাকাত পড়ার পর আসর বা নফল শুরু করল, তার যোহরের নামায বাতিল হয়ে গেল। আর যদি এক রাকাত যোহর পড়ার পর পুনরায় যোহর শুরু করে, তবে তা আগের নামাযই থাকবে এবং সেই এক রাকাত যথেষ্ট হবে। যখন ইমাম মুসহাফ (কুরআন শরীফ) দেখে তিলাওয়াত করবেন, তখন ইমাম আবূ হানীফার মতে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে। সাহেবাইন (ইমাম আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মাদ) বলেন, নামায পূর্ণ হবে কিন্তু তা মাকরূহ। যদি নামাযীর সামনে দিয়ে কোনো মহিলা অতিক্রম করে তবে নামায ভঙ্গ হবে না, কিন্তু অতিক্রমকারী পাপী হবে। প্রান্তরে নামায আদায়কারীর জন্য সামনে একটি সুতরা রাখা উচিত, যার পরিমাণ হবে এক হাত বা তার বেশি। বলা হয়েছে যে, তা আঙ্গুলের সমপরিমাণ মোটা হওয়া উচিত। সে সুতরার নিকটবর্তী হবে এবং সুতরাকে তার ডান অথবা বাম ভ্রু বরাবর রাখবে। ইমামের সুতরা মুক্তাদীদের জন্যও সুতরা হিসেবে গণ্য হবে। (মাটিতে) গেড়ে দেওয়া ধর্তব্য হবে, কেবল ফেলে রাখা বা রেখা টানা নয়। সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে বাধা দেবে যদি তার সামনে সুতরা না থাকে অথবা সে ব্যক্তি ও সুতরার মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করে। ইশারা করে অথবা তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে বাধা দেবে, তবে উভয়টির একত্র করা মাকরূহ।

‌‌পরিচ্ছেদ: নামাযীর জন্য তার কাপড় বা শরীর নিয়ে নাড়াচাড়া করা মাকরূহ। সে কঙ্কর সরাবে না, তবে যদি সিজদা করা সম্ভব না হয় তবে একবার সমান করতে পারে। আঙ্গুল ফুটানো, কোমরে হাত রাখা এবং এদিক-ওদিক তাকানো মাকরূহ। তবে যদি ঘাড় না ফিরিয়ে কেবল চোখের কোণ দিয়ে ডানে বা বামে তাকায় তবে তা মাকরূহ হবে না। 'ইকআ' (কুকুরের মতো বসা) করবে না, দুই হাত বিছিয়ে দেবে না এবং যবান বা হাত দিয়ে সালামের উত্তর দেবে না। ওযর ব্যতীত পালথি গেঁথে বসবে না, চুল বাঁধবে না, কাপড় গুটাবে না, কাপড় ঝুলিয়ে রাখবে না (সাদল), পানাহার করবে না। যদি ইচ্ছা করে বা ভুলবশত পানাহার করে তবে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে। ইমামের দাঁড়ানোর স্থান মসজিদে এবং সিজদার স্থান মেহরাবের ভেতরে হওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে মেহরাবের ভেতরে দাঁড়ানো মাকরূহ। ইমাম একা উঁচু স্থানে (দোকান সদৃশ) দাঁড়ানো মাকরূহ, এবং 'জাহিরুর রিওয়ায়াত' অনুযায়ী নিচু স্থানে দাঁড়ানোও একই রকম। কথা বলছে এমন উপবিষ্ট ব্যক্তির পিঠের দিকে মুখ করে নামায পড়াতে কোনো অসুবিধা নেই। সামনে ঝুলানো মুসহাফ বা ঝুলানো তলোয়ার রেখে নামায পড়াতে কোনো অসুবিধা নেই। কার্পেট বা বিছানার ওপর নামায পড়াতে কোনো অসুবিধা নেই।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২০)
فِيهِ تصاوير وَلَا يسْجد على التصاوير وَيكرهُ أَن يكون فَوق رَأسه فِي السّقف أَو بَين يَدَيْهِ أَو بحذائه تصاوير أَو صُورَة معلقَة وَإِذا كَانَ التمثال مَقْطُوع الرَّأْس فَلَيْسَ بتمثال وَلَو كَانَت الصُّورَة على وسَادَة ملقاة أَو على بِسَاط مفروش لَا يكره وَلَو لبس ثوبا فِيهِ تصاوير يكره وَلَا يكره تِمْثَال غير ذِي الرّوح وَلَا بَأْس بقتل الْحَيَّة وَالْعَقْرَب فِي الصَّلَاة وَيكرهُ عد الْآي والتسبيحات بِالْيَدِ فِي الصَّلَاة

‌‌فصل

وَيكرهُ اسْتِقْبَال الْقبْلَة بالفرج فِي الْخَلَاء وَتكره المجامعة فَوق الْمَسْجِد وَالْبَوْل والتخلي وَلَا بَأْس بالبول فَوق بَيت فِيهِ مَسْجِد وَيكرهُ أَن يغلق بَاب الْمَسْجِد وَلَا بَأْس بِأَن ينقش الْمَسْجِد بالجص والساج وَمَاء الذَّهَب

بَاب صَلَاة الْوتر

الْوتر وَاجِب عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا سنة وَالْوتر ثَلَاث رَكْعَات لَا يفصل بَينهُنَّ بِسَلام ويقنت فِي الثَّالِثَة قبل الرُّكُوع وَيقْرَأ فِي كل رَكْعَة من الْوتر فَاتِحَة الْكتاب وَسورَة وَإِن أَرَادَ أَن يقنت كبر وَرفع يَدَيْهِ وقنت وَلَا يقنت فِي صَلَاة غَيرهَا فَإِن قنت الإِمَام فِي صَلَاة الْفجْر يسكت من خَلفه عِنْد أبي حنيفَة وَمُحَمّد وَقَالَ أَبُو يُوسُف يُتَابِعه

بَاب النَّوَافِل

السّنة رَكْعَتَانِ قبل الْفجْر وَأَرْبع قبل الظّهْر وَبعدهَا رَكْعَتَانِ وَأَرْبع قبل الْعَصْر وَإِن شَاءَ رَكْعَتَيْنِ وركعتان بعد الْمغرب وَأَرْبع قبل الْعشَاء وَأَرْبع بعْدهَا وَإِن شَاءَ رَكْعَتَيْنِ ونوافل النَّهَار إِن شَاءَ صلى بِتَسْلِيمَة رَكْعَتَيْنِ وَإِن شَاءَ أَرْبعا وَتكره الزِّيَادَة على ذَلِك وَأما نَافِلَة اللَّيْل قَالَ أَبُو حنيفَة إِن صلى ثَمَان رَكْعَات بِتَسْلِيمَة جَازَ وَتكره الزِّيَادَة على ذَلِك وَقَالا لَا يزِيد بِاللَّيْلِ على رَكْعَتَيْنِ بِتَسْلِيمَة
এতে ছবি রয়েছে এবং ছবির ওপর সিজদাহ করবে না। তার মাথার ওপর ছাদে কিংবা তার সামনে অথবা তার পাশে ছবি থাকা কিংবা ঝুলন্ত ছবি থাকা মাকরূহ। যদি প্রতিকৃতির মাথা বিচ্ছিন্ন থাকে তবে তা প্রতিকৃতি হিসেবে গণ্য হবে না। ছবি যদি পড়ে থাকা বালিশের ওপর কিংবা বিছানো গালিচার ওপর হয় তবে তা মাকরূহ নয়। যদি এমন পোশাক পরিধান করে যাতে ছবি রয়েছে তবে তা মাকরূহ। প্রাণহীন বস্তুর প্রতিকৃতি মাকরূহ নয়। সালাতের মধ্যে সাপ ও বিচ্ছু হত্যা করায় কোনো দোষ নেই। সালাতের মধ্যে হাত দিয়ে আয়াত ও তাসবীহ গণনা করা মাকরূহ।

‌‌পরিচ্ছেদ

শৌচাগারে লজ্জাস্থান কিবলার দিকে করে বসা মাকরূহ। মসজিদের ওপর সহবাস করা এবং প্রস্রাব-পায়খানা করা মাকরূহ। যে ঘরে মসজিদ রয়েছে তার ওপর প্রস্রাব করায় কোনো দোষ নেই। মসজিদের দরজা বন্ধ করে রাখা মাকরূহ। চুনকাম, সেগুন কাঠ এবং স্বর্ণের পানি দিয়ে মসজিদে কারুকার্য করায় কোনো দোষ নেই।

বিতর সালাত অধ্যায়

ইমাম আবু হানিফার মতে বিতর ওয়াজিব এবং সাহেবাইন বলেছেন এটি সুন্নাহ। বিতর তিন রাকাত, যার মাঝে সালামের মাধ্যমে বিচ্ছেদ করা হবে না। তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুত পড়বে। বিতরের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়বে। যখন কুনুত পড়ার ইচ্ছা করবে তখন তাকবীর বলবে এবং হাত উত্তোলন করবে, অতঃপর কুনুত পড়বে। বিতর ছাড়া অন্য কোনো সালাতে কুনুত পড়বে না। যদি ইমাম ফজরের সালাতে কুনুত পড়ে, তবে আবু হানিফা ও মুহাম্মদের মতে মুক্তাদি নীরব থাকবে, আর আবু ইউসুফ বলেছেন মুক্তাদি ইমামের অনুসরণ করবে।

নফল সালাত অধ্যায়

সুন্নাহ হলো ফজরের আগে দুই রাকাত, যোহরের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, আসরের আগে চার রাকাত—চাইলে দুই রাকাত, মাগরিবের পর দুই রাকাত, এশার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত—চাইলে দুই রাকাত। দিনের নফল সালাত চাইলে এক সালামে দুই রাকাত পড়বে অথবা চাইলে চার রাকাত পড়বে, এর অধিক করা মাকরূহ। আর রাতের নফল সালাতের ক্ষেত্রে আবু হানিফা বলেন: যদি এক সালামে আট রাকাত পড়ে তবে তা জায়েজ হবে, এর অধিক করা মাকরূহ। আর সাহেবাইন বলেছেন: রাতে এক সালামে দুই রাকাতের বেশি পড়বে না।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌فصل فِي الْقِرَاءَة

الْقِرَاءَة فِي الْفَرْض وَاجِبَة فِي الرَّكْعَتَيْنِ وَهُوَ مُخَيّر فِي الْأُخْرَيَيْنِ وَالْقِرَاءَة وَاجِبَة فِي جَمِيع رَكْعَات النَّفْل وَفِي جَمِيع الْوتر وَمن شرع فِي نَافِلَة ثمَّ أفسدها قَضَاهَا وَإِن صلى أَرْبعا وَقَرَأَ فِي الْأَوليين وَقعد ثمَّ أفسد الْأُخْرَيَيْنِ قضى رَكْعَتَيْنِ وَإِن صلى أَرْبعا وَلم يقْرَأ فِيهِنَّ شَيْئا أعَاد رَكْعَتَيْنِ وَلَو قَرَأَ فِي الْأَوليين لَا غير فَعَلَيهِ قَضَاء الْأُخْرَيَيْنِ بِالْإِجْمَاع وَلَو قَرَأَ فِي الْأُخْرَيَيْنِ لَا غير فَعَلَيهِ قَضَاء الْأَوليين بِالْإِجْمَاع وَلَو قَرَأَ فِي الْأَوليين وَإِحْدَى الْأُخْرَيَيْنِ فَعَلَيهِ قَضَاء الأحريين بِالْإِجْمَاع وَلَو قَرَأَ فِي الْأُخْرَيَيْنِ وَإِحْدَى الْأَوليين بِالْإِجْمَاع وَلَو قَرَأَ فِي إِحْدَى الْأَوليين وأحدى الْأُخْرَيَيْنِ على قَول أبي يُوسُف عَلَيْهِ قَضَاء الْأَرْبَع وَكَذَا عِنْد أبي حنيفَة وَلَو قَرَأَ فِي إِحْدَى الْأَوليين لَا غير قضى أَرْبعا عِنْدهمَا وَعند مُحَمَّد قضى رَكْعَتَيْنِ وَلَو قَرَأَ فِي إِحْدَى الْأُخْرَيَيْنِ لَا غير قضى أَرْبعا عِنْد أبي يُوسُف وَعِنْدَهُمَا رَكْعَتَيْنِ وَتَفْسِير قَوْله عليه السلام لَا يُصَلِّي بعد صَلَاة مثلهَا يَعْنِي رَكْعَتَيْنِ بِقِرَاءَة وَرَكْعَتَيْنِ بِغَيْر قِرَاءَة فَيكون بَيَان فَرضِيَّة الْقِرَاءَة فِي رَكْعَات النَّفْل كلهَا وَيُصلي النَّافِلَة قَاعِدا مَعَ الْقُدْرَة على الْقيام وَأَن افتتحها قَائِما ثمَّ قعد من غير عذر جَازَ عِنْد أبي حنيفَة وَمن كَانَ خَارج الْمصر تنفل على دَابَّته إِلَى أَي جِهَة تَوَجَّهت يومىء إِيمَاء فَإِن افْتتح التَّطَوُّع رَاكِبًا ثمَّ نزل يَبْنِي وَإِن صلى رَكْعَة نازلا ثمَّ ركب اسْتقْبل

‌‌فصل فِي قيام شهر رَمَضَان

يسْتَحبّ أَن يجْتَمع النَّاس فِي شهر رَمَضَان بعد الْعشَاء فَيصَلي بهم إمَامهمْ خمس ترويحات كل ترويحه بتسليمتين وَيجْلس بَين كل ترويحتين مِقْدَار ترويحة ثمَّ يُوتر بهم وَالسّنة فِيهَا الْجَمَاعَة وَلَا يُصَلِّي الْوتر بِجَمَاعَة فِي غير رَمَضَان

بَاب إِدْرَاك الْفَرِيضَة

وَمن صلى رَكْعَة من الظّهْر ثمَّ أُقِيمَت يُصَلِّي أُخْرَى ثمَّ يدْخل مَعَ الْقَوْم وَإِن لم
‌কিরাত অধ্যায়

ফরজ নামাজে দুই রাকাতে কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব এবং অন্য দুই রাকাতে সে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত (অর্থাৎ চাইলে পড়তে পারে, না চাইলে তাসবিহ পড়তে পারে)। নফল নামাজের সমস্ত রাকাতে এবং বিতরের সমস্ত রাকাতে কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি নফল নামাজ শুরু করে তা নষ্ট করে ফেলল, সে এর কাজা আদায় করবে। যদি সে চার রাকাত পড়ে এবং প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পাঠ করে ও বৈঠক করে, অতঃপর শেষ দুই রাকাত নষ্ট করে ফেলে, তবে সে দুই রাকাত কাজা করবে। আর যদি চার রাকাত পড়ে এবং সেগুলোতে কোনো কিছু পাঠ না করে, তবে সে দুই রাকাত পুনরায় পড়বে। আর যদি কেবল প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পাঠ করে, তবে ইজমা অনুযায়ী তার ওপর শেষ দুই রাকাতের কাজা করা আবশ্যক। আর যদি কেবল শেষ দুই রাকাতে কিরাত পাঠ করে, তবে ইজমা অনুযায়ী তার ওপর প্রথম দুই রাকাতের কাজা করা আবশ্যক। আর যদি প্রথম দুই রাকাত এবং শেষ দুই রাকাতের কোনো একটিতে কিরাত পাঠ করে, তবে ইজমা অনুযায়ী তার ওপর শেষ দুই রাকাতের কাজা করা আবশ্যক। আর যদি শেষ দুই রাকাত এবং প্রথম দুই রাকাতের কোনো একটিতে কিরাত পাঠ করে, তবে ইজমা অনুযায়ী (প্রথম দুই রাকাতের কাজা করা আবশ্যক)। আর যদি প্রথম দুই রাকাতের একটিতে এবং শেষ দুই রাকাতের একটিতে কিরাত পাঠ করে, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মত অনুযায়ী তার ওপর চার রাকাতেরই কাজা করা আবশ্যক, ইমাম আবু হানিফার নিকটও অনুরূপ। আর যদি কেবল প্রথম দুই রাকাতের একটিতে কিরাত পাঠ করে, তবে তাঁদের উভয়ের (আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ) মতে চার রাকাত কাজা করবে এবং ইমাম মুহাম্মাদের মতে দুই রাকাত কাজা করবে। আর যদি কেবল শেষ দুই রাকাতের একটিতে কিরাত পাঠ করে, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মতে চার রাকাত কাজা করবে এবং তাঁদের উভয়ের (আবু হানিফা ও মুহাম্মাদ) মতে দুই রাকাত কাজা করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "কোনো নামাজের পর তার সদৃশ নামাজ পড়া যাবে না" এর ব্যাখ্যা হলো: দুই রাকাত কিরাতসহ এবং দুই রাকাত কিরাত ছাড়া পড়া; সুতরাং এটি নফল নামাজের সমস্ত রাকাতে কিরাত ফরজ হওয়ার বর্ণনা। দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বসে নফল নামাজ পড়া জায়েজ। আর যদি দাঁড়িয়ে নফল নামাজ শুরু করার পর কোনো ওজর ছাড়াই বসে যায়, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তা জায়েজ। যে ব্যক্তি জনপদের বাইরে থাকবে, সে তার বাহনের পিঠে নফল নামাজ পড়বে যেদিকেই বাহন ফিরে থাকুক না কেন, সে ইশারার মাধ্যমে নামাজ পড়বে। যদি সে সওয়ার অবস্থায় নফল শুরু করার পর নিচে নেমে আসে তবে সে পূর্বের ওপর ভিত্তি করে নামাজ পূর্ণ করবে। আর যদি নিচে এক রাকাত পড়ার পর সওয়ার হয়, তবে সে পুনরায় নতুন করে নামাজ শুরু করবে।

‌রমজান মাসের কিয়াম (তারাবিহ) সংক্রান্ত অধ্যায়

রমজান মাসে ইশার নামাজের পর মানুষের একত্রিত হওয়া মুস্তাহাব। অতঃপর তাদের ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি তারবিহা (বিরতি) নামাজ পড়াবেন, প্রত্যেক তারবিহা হবে দুই সালামের (চার রাকাত) মাধ্যমে। প্রত্যেক দুই তারবিহার মাঝে এক তারবিহা পরিমাণ সময় বসবেন। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে বিতর নামাজ পড়াবেন; এতে জামাত হওয়া সুন্নাত। রমজান ছাড়া অন্য সময়ে বিতর জামাতে পড়া হবে না।

ফরজ নামাজ ধরা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

যে ব্যক্তি জোহরের এক রাকাত পড়ল অতঃপর ইকামাত শুরু হয়ে গেল, সে আরও এক রাকাত পড়ে নিবে, এরপর জামাতে শরীক হবে। আর যদি না...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২২)
يُقيد الأولى بِالسَّجْدَةِ يقطع ويشرع مَعَ الإِمَام هُوَ الصَّحِيح وَإِن كَانَ قد صلى ثَلَاثًا من الظّهْر يُتمهَا وَإِذا أتمهَا يدْخل مَعَ الْقَوْم وَالَّذِي يُصَلِّي مَعَهم نَافِلَة فَإِن صلى من الْفجْر رَكْعَة ثمَّ أُقِيمَت يقطع وَيدخل مَعَهم وَمن دخل مَسْجِدا قد أذن فِيهِ يكره لَهُ أَن يخرج حَتَّى يُصَلِّي إِلَّا إِذا كَانَ مِمَّن يَنْتَظِم بِهِ أَمر جمَاعَة وَإِن كَانَ قد صلى وَكَانَت الظّهْر أَو الْعشَاء فَلَا بَأْس بِأَن يخرج إِلَّا إِذا أَخذ الْمُؤَذّن فِي الْإِقَامَة وَإِن كَانَت الْعَصْر أَو الْمغرب أَو الْفجْر خرج وَإِن أخذا الْمُؤَذّن فِيهَا وَمن انْتهى إِلَى الإِمَام فِي صَلَاة الْفجْر وَهُوَ لم يصل رَكْعَتي الْفجْر إِن خشِي أَن تفوته رَكْعَة وَيدْرك الْأُخْرَى يُصَلِّي رَكْعَتي الْفجْر عِنْد بَاب الْمَسْجِد ثمَّ يدْخل وَإِن خشِي فوتهما دخل مَعَ الإِمَام وَإِذا فَاتَتْهُ رَكعَتَا الْفجْر لَا يقضيهما قبل طُلُوع الشَّمْس وَلَا بعد ارتفاعها عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف وَقَالَ مُحَمَّد أحب إِلَيّ أَن يقضيهما إِلَى وَقت الزَّوَال وَمن أدْرك من الظّهْر رَكْعَة وَلم يدْرك الثَّلَاث فَإِنَّهُ لم يصل الظّهْر بِجَمَاعَة وَقَالَ مُحَمَّد قد أدْرك فضل الْجَمَاعَة وَمن أَتَى مَسْجِدا قد صلى فِيهِ فَلَا بَأْس بِأَن يتَطَوَّع قبل الْمَكْتُوبَة مَا بداله مَا دَامَ فِي الْوَقْت وَمن انْتهى إِلَى الإِمَام فِي رُكُوعه فَكبر ووقف حَتَّى رفع الإِمَام رَأسه لَا يصير مدْركا لتِلْك الرَّكْعَة خلافًا لزفَر وَلَو ركع الْمُقْتَدِي قبل إِمَامه فأدركه الإِمَام فِيهِ جَازَ

بَاب قَضَاء الْفَوَائِت

وَمن فَاتَتْهُ صَلَاة قَضَاهَا إِذا ذكرهَا وقدمها على فرض الْوَقْت وَلَو خَافَ فَوت الْوَقْت يقدم الوقتية ثمَّ يَقْضِيهَا وَلَو فَاتَتْهُ صلوَات رتبها فِي الْقَضَاء كَمَا وَجَبت فِي الأَصْل إِلَّا أَن تزيد الْفَوَائِت على سِتّ صلوَات فَيسْقط التَّرْتِيب فِيمَا بَين الْفَوَائِت وَإِن فَاتَتْهُ اكثر من صَلَاة يَوْم وَلَيْلَة أَجْزَأته الَّتِي بَدَأَ بهَا وَلَو قضى بعض الْفَوَائِت حَتَّى قل مَا بَقِي عَاد التَّرْتِيب عِنْد الْبَعْض وَمن صلى الْعَصْر وَهُوَ ذَاكر أَنه لم يصل الظّهْر فَهِيَ فَاسِدَة إِلَّا إِذا كَانَ فِي آخر الْوَقْت وَإِذا فَسدتْ الْفَرْضِيَّة لَا يبطل أصل الصَّلَاة عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف وَعند مُحَمَّد يبطل ثمَّ الْعَصْر يفْسد
যদি কেউ প্রথম রাকাতকে সেজদার মাধ্যমে পূর্ণ করে থাকে, তবে সে নামাজ ছেড়ে দিবে এবং ইমামের সাথে শুরু করবে—এটাই বিশুদ্ধ মত। আর যদি সে জোহরের তিন রাকাত পড়ে ফেলে, তবে তা পূর্ণ করবে এবং তা শেষ করে লোকজনের সাথে জামাতে প্রবেশ করবে, আর তাদের সাথে সে যা পড়বে তা নফল হবে। যদি সে ফজরের এক রাকাত পড়ে থাকে এবং এরপর ইকামত শুরু হয়, তবে সে নামাজ ছেড়ে দিয়ে তাদের সাথে শরিক হবে। যে ব্যক্তি এমন মসজিদে প্রবেশ করল যেখানে আজান হয়ে গেছে, তার জন্য নামাজ না পড়ে বের হওয়া মাকরুহ; তবে সে যদি এমন ব্যক্তি হয় যার মাধ্যমে জামাতের শৃঙ্খলা বজায় থাকে (তবে ভিন্ন কথা)। আর যদি সে নামাজ পড়ে থাকে এবং তা জোহর বা এশার নামাজ হয়, তবে বের হতে কোনো অসুবিধা নেই, তবে মুয়াজ্জিন ইকামত শুরু করলে বের হবে না। আর যদি তা আসর, মাগরিব বা ফজরের নামাজ হয়, তবে সে বের হয়ে যাবে যদিও মুয়াজ্জিন ইকামত শুরু করে দেয়। যে ব্যক্তি ফজরের নামাজে ইমামের নিকট পৌঁছাল অথচ সে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত পড়েনি, যদি সে আশঙ্কা করে যে তার এক রাকাত ছুটে যাবে এবং অন্যটি পাবে, তবে সে মসজিদের দরজার নিকট ফজরের দুই রাকাত পড়বে এবং এরপর প্রবেশ করবে। আর যদি উভয় রাকাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ইমামের সাথে শরিক হবে। যখন তার ফজরের দুই রাকাত ছুটে যাবে, তখন ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে তা সূর্যোদয়ের আগে কিংবা সূর্য উপরে উঠার পর কাজা করবে না। ইমাম মুহাম্মদ বলেন: আমার নিকট পছন্দনীয় হলো সূর্য ঢলে পড়া (জাওয়াল) পর্যন্ত তা কাজা করা। যে ব্যক্তি জোহরের এক রাকাত পেল এবং তিন রাকাত পেল না, সে জোহর জামাতের সাথে পেল না; আর ইমাম মুহাম্মদ বলেন: সে জামাতের ফজিলত লাভ করেছে। যে ব্যক্তি এমন মসজিদে এলো যেখানে সালাত আদায় হয়ে গেছে, তবে ওয়াক্ত থাকা পর্যন্ত ফরজের আগে তার ইচ্ছামতো নফল সালাত পড়তে কোনো অসুবিধা নেই। যে ব্যক্তি ইমামকে রুকুতে থাকা অবস্থায় পেল, এরপর তাকবির দিল এবং দাঁড়িয়ে থাকল যতক্ষণ না ইমাম মাথা তুললেন, সে ওই রাকাত পেয়েছে বলে গণ্য হবে না—ইমাম জুফারের মত এর বিপরীত। যদি মুক্তাদি তার ইমামের আগে রুকুতে চলে যায় এবং ইমাম তাকে রুকুতে পায়, তবে তা জায়েজ হবে।

বিস্মৃত বা ছুটে যাওয়া সালাত কাজা করার অধ্যায়

যার কোনো সালাত ছুটে গেছে, সে যখনই তা স্মরণ করবে তখনই তা কাজা করবে এবং বর্তমান সময়ের ফরজের আগে তা আদায় করবে। তবে যদি বর্তমান সালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে ওয়াক্তিয়া সালাত আগে পড়বে এবং এরপর কাজা করবে। যদি তার একাধিক সালাত ছুটে যায়, তবে সে কাজা করার ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে যেভাবে সেগুলো মূলত ফরজ হয়েছিল। তবে যদি কাজা সালাতের সংখ্যা ছয়টির বেশি হয়ে যায়, তবে কাজাগুলোর মধ্যকার এই ধারাবাহিকতার বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়। যদি তার একদিন এক রাতের বেশি সালাত ছুটে যায়, তবে সে যে সালাত দিয়ে শুরু করবে তা-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি সে কিছু কাজা আদায় করার ফলে অবশিষ্টাংশ কমে যায়, তবে কারো কারো মতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা পুনরায় আবশ্যক হয়ে পড়বে। যে ব্যক্তি আসর সালাত পড়ল অথচ তার স্মরণ ছিল যে সে জোহর পড়েনি, তবে তার ওই আসর সালাত ফাসেদ হয়ে যাবে; তবে যদি ওয়াক্তের একেবারে শেষ সময় হয় (তবে ভিন্ন কথা)। যখন ফরজ হওয়া বাতিল হয়ে যায়, তখন ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে সালাতের মূল ভিত্তি বাতিল হয় না, কিন্তু ইমাম মুহাম্মদের মতে তা বাতিল হয়ে যায় এবং আসর ফাসেদ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَسَادًا مَوْقُوفا حَتَّى لَو صلى سِتّ صلوَات وَلم يعد الظّهْر انْقَلب الْكل جَائِزا وَهَذَا عِنْد أبي حنيفَة وَعِنْدَهُمَا يفْسد فَسَادًا باتا لَا جَوَاز لَهَا بِحَال وَلَو صلى الْفجْر وَهُوَ ذَاكر أَنه لم يُوتر فَهِيَ فَاسِدَة عِنْد أبي حنيفَة رحمه الله خلافًا لَهما

بَاب سُجُود السَّهْو

يسْجد للسَّهْو فِي الزِّيَادَة وَالنُّقْصَان سَجْدَتَيْنِ بعد السَّلَام ثمَّ يتَشَهَّد ثمَّ يسلم وَيلْزمهُ السَّهْو إِذا زَاد فِي صلَاته فعلا من جِنْسهَا لَيْسَ مِنْهَا وَيلْزمهُ إِذا ترك فعلا مسنونا أَو ترك قِرَاءَة الْفَاتِحَة أَو الْقُنُوت أَو التَّشَهُّد أَو تَكْبِيرَات الْعِيدَيْنِ وَلَو جهر الإِمَام فِيمَا يُخَافت أَو خَافت فِيمَا يجْهر تلْزمهُ سجدتا السَّهْو وسهو الإِمَام يُوجب على الْمُؤْتَم السُّجُود فَإِن لم يسْجد الإِمَام لم يسْجد الْمُؤْتَم فَإِن سَهَا الْمُؤْتَم لم يلْزم الإِمَام وَلَا الْمُؤْتَم السُّجُود وَمن سَهَا عَن الْقعدَة الأولى ثمَّ تذكر وَهُوَ إِلَى حَالَة الْقعُود أقرب عَاد وَقعد وَتشهد وَلَو كَانَ إِلَى الْقيام أقرب لم يعد وَيسْجد للسَّهْو وَإِن سَهَا عَن الْقعدَة الْأَخِيرَة حَتَّى قَامَ إِلَى الْخَامِسَة رَجَعَ إِلَى الْقعدَة مالم يسْجد وألغى الْخَامِسَة وَسجد للسَّهْو وَإِن قيد الْخَامِسَة بِسَجْدَة بَطل فَرْضه وتحولت صلَاته نفلا عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف فيضم إِلَيْهَا رَكْعَة سادسة وَلَو لم يضم لَا شَيْء عَلَيْهِ وَلَو قعد فِي الرَّابِعَة ثمَّ قَامَ وَلم يسلم عَاد إِلَى الْقعدَة مالم يسْجد للخامسة وَسلم وَإِن قيد الْخَامِسَة بِالسَّجْدَةِ ثمَّ تذكر ضم إِلَيْهَا رَكْعَة أُخْرَى وَتمّ فَرْضه وَيسْجد للسَّهْو اسْتِحْسَانًا وَمن صلى رَكْعَتَيْنِ تَطَوّعا فَسَهَا فيهمَا وَسجد للسَّهْو ثمَّ أَرَادَ أَن يُصَلِّي أُخْرَيَيْنِ لم يبن وَمن سلم وَعَلِيهِ سجدتا السَّهْو فَدخل رجل فِي صلَاته بعد التَّسْلِيم فَإِن سجد الإِمَام كَانَ دَاخِلا وَإِلَّا فَلَا وَمن سلم يُرِيد بِهِ قطع الصَّلَاة وَعَلِيهِ سَهْو فَعَلَيهِ أَن يسْجد لسَهْوه وَمن شكّ فِي صلَاته فَلم يدر أَثلَاثًا صلى أم أَرْبعا وَذَلِكَ أول مَا عرض لَهُ اسْتَأْنف وَإِن كَانَ يعرض لَهُ كثيرا بنى على أكبر رَأْيه وَإِن لم يكن لَهُ رَأْي بنى على الْيَقِين
এটি একটি স্থগিত (মাওকুফ) ফাসাদ বা ত্রুটি, এমনকি সে যদি ছয় ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ফেলে এবং জোহর পুনরায় আদায় না করে, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে সবকটি নামাজই জায়েজ হয়ে যাবে। আর তাঁদের (সাহেবাইন) মতে, এটি চূড়ান্তভাবে ফাসাদ বা বাতিল হয়ে যাবে এবং কোনোভাবেই তা জায়েজ হবে না। আর যদি কেউ ফজর পড়ে এই অবস্থায় যে তার মনে আছে সে বিতর পড়েনি, তবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে সেই নামাজ ফাসাদ হয়ে যাবে, যা সাহেবাইনের মতের পরিপন্থী।

সহো সেজদার অধ্যায়

নামাজে কোনো কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য সালামের পর দুইবার সহো সেজদা করতে হয়, এরপর পুনরায় তাশাহহুদ পড়বে এবং সালাম ফিরাবে। যদি কেউ নামাজের মধ্যে নামাজের জাতীয় এমন কোনো কাজ বৃদ্ধি করে যা নামাজের অংশ নয়, তবে তার ওপর সহো সেজদা আবশ্যক হবে। অনুরূপভাবে সহো সেজদা আবশ্যক হবে যদি কেউ কোনো সুন্নাত (ওয়াজিব) কাজ ছেড়ে দেয়, অথবা সূরা ফাতিহা পাঠ করা, কুনুত, তাশাহহুদ কিংবা দুই ঈদের তাকবীরসমূহ ছেড়ে দেয়। যদি ইমাম এমন নামাজে উচ্চস্বরে কিরাত পড়েন যাতে অনুচ্চস্বরে পড়ার কথা, কিংবা অনুচ্চস্বরে পড়েন যেখানে উচ্চস্বরে পড়ার কথা, তবে তার ওপর সহো সেজদা ওয়াজিব হবে। ইমামের সহো বা ভুল মুক্তাদীর ওপর সেজদা ওয়াজিব করে। তবে ইমাম যদি সেজদা না করেন, তবে মুক্তাদীও সেজদা করবেন না। আর যদি মুক্তাদী ভুল করেন, তবে ইমাম বা মুক্তাদী কারো ওপরই সেজদা ওয়াজিব হবে না। যে ব্যক্তি প্রথম বৈঠক ভুলে যায় এবং বসা অবস্থার কাছাকাছি থাকাকালে তা মনে পড়ে, তবে সে ফিরে আসবে, বসবে এবং তাশাহহুদ পড়বে। আর যদি দাঁড়ানোর কাছাকাছি অবস্থায় চলে যায়, তবে সে আর ফিরে আসবে না এবং সহো সেজদা করবে। আর যদি কেউ শেষ বৈঠক ভুলে পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তবে সে যতক্ষণ পর্যন্ত পঞ্চম রাকাতের সেজদা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত বৈঠকে ফিরে আসবে, পঞ্চম রাকাত বাতিল করবে এবং সহো সেজদা করবে। আর যদি সে পঞ্চম রাকাতের সেজদা করে ফেলে, তবে তার ফরজ নামাজ বাতিল হয়ে যাবে এবং তা নফল নামাজে রূপান্তরিত হবে—এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মত। এমতাবস্থায় সে এর সাথে ষষ্ঠ রাকাত যুক্ত করবে। আর যদি যুক্ত না করে, তবে তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না। আর যদি সে চতুর্থ রাকাতে বৈঠক করার পর সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, তবে পঞ্চম রাকাতের সেজদা করার আগ পর্যন্ত সে বৈঠকে ফিরে আসবে এবং সালাম ফিরাবে। কিন্তু যদি সে পঞ্চম রাকাতের সেজদা করার পর মনে পড়ে, তবে সে এর সাথে আরও একটি রাকাত যুক্ত করবে এবং তার ফরজ পূর্ণ হয়ে যাবে; আর সে ‘ইস্তিহসান’ হিসেবে সহো সেজদা করবে। যে ব্যক্তি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ল এবং তাতে সহো করল ও সহো সেজদা দিল, এরপর সে আরও দুই রাকাত পড়তে চাইল, তবে সে এর ওপর ভিত্তি (বিনা) করবে না। আর যে ব্যক্তি সালাম ফিরাল অথচ তার ওপর সহো সেজদা পাওনা ছিল, এমতাবস্থায় সালামের পর কোনো ব্যক্তি তার নামাজে শরিক হলো; এমতাবস্থায় ইমাম যদি সহো সেজদা করেন তবে ওই ব্যক্তি নামাজে শরিক বলে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়। যে ব্যক্তি নামাজ শেষ করার নিয়তে সালাম ফিরাল অথচ তার ওপর সহো সেজদা ছিল, তাকে সহো সেজদা করতে হবে। আর যে ব্যক্তি তার নামাজে সন্দেহ করল যে সে তিন রাকাত পড়েছে না কি চার রাকাত, আর এমন সন্দেহ যদি তার জীবনে প্রথম হয়, তবে সে নতুন করে নামাজ শুরু করবে। আর যদি এমন সন্দেহ প্রায়ই ঘটে থাকে, তবে সে তার প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করবে। আর যদি তার কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা না থাকে, তবে সে নিশ্চিত পরিমাণের ওপর ভিত্তি করবে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
بَاب صَلَاة الْمَرِيض

إِذا عجز الْمَرِيض عَن الْقيام صلى قَاعِدا يرْكَع وَيسْجد فَإِن لم يسْتَطع الرُّكُوع وَالسُّجُود أَوْمَأ إِيمَاء وَجعل سُجُوده أَخفض من رُكُوعه وَلَا يرفع إِلَى وَجهه شَيْئا يسْجد عَلَيْهِ فَإِن لم يسْتَطع الْقعُود اسْتلْقى على ظَهره وَجعل رجلَيْهِ إِلَى الْقبْلَة وَأَوْمَأَ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُود وَإِن اسْتلْقى على جنبه وَوَجهه إِلَى الْقبْلَة فَأَوْمأ جَازَ فَإِن لم يسْتَطع الْإِيمَاء بِرَأْسِهِ أخرت الصَّلَاة عَنهُ وَلَا يومىء بِعَيْنيهِ وَلَا بِقَلْبِه وَلَا بحاجبيه وَإِن قدر على الْقيام وَلم يقدر على الرُّكُوع وَالسُّجُود لم يلْزمه الْقيام وَيُصلي قَاعِدا يومىء إِيمَاء وَإِن صلى الصَّحِيح بعض صلَاته قَائِما ثمَّ حدث بِهِ مرض أتمهَا قَاعِدا يرْكَع وَيسْجد أَو يومىء إِن لم يقدر أَو مُسْتَلْقِيا إِن لم يقدر وَمن صلى قَاعِدا يرْكَع وَيسْجد لمَرض ثمَّ صَحَّ بنى على صلَاته قَائِما عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف وَقَالَ مُحَمَّد اسْتقْبل وَإِن صلى بعض صلَاته بإيماء ثمَّ قدر على الرُّكُوع وَالسُّجُود اسْتَأْنف عِنْدهم جَمِيعًا وَمن افْتتح التَّطَوُّع قَائِما ثمَّ أعيا لَا بَأْس بِأَن يتَوَكَّأ على عَصا أَو حَائِط أَو يقْعد وَإِن قعد بِغَيْر عذر يكره بالِاتِّفَاقِ وَمن صلى فِي السَّفِينَة قَاعِدا من غير عِلّة أَجزَأَهُ عِنْد أبي حنيفَة وَالْقِيَام أفضل وَقَالا لَا يُجزئهُ إِلَّا من عذر وَمن أُغمي عَلَيْهِ خمس صلوَات أَو دونهَا قضى وَإِن كَانَ أَكثر من ذَلِك لم يقْض

بَاب سُجُود التِّلَاوَة

سُجُود التِّلَاوَة فِي الْقُرْآن أَربع عشرَة سَجْدَة فِي آخر الْأَعْرَاف وَفِي الرَّعْد والنحل وَبني إِسْرَائِيل وَمَرْيَم وَالْأولَى من الْحَج وَالْفرْقَان والنمل وآلم تَنْزِيل وص وحم السَّجْدَة والنجم وَإِذا السَّمَاء انشقت واقرأ والسجدة وَاجِبَة فِي هَذِه الْمَوَاضِع على التَّالِي وَالسَّامِع سَوَاء قصد سَماع الْقُرْآن أَو لم يقْصد وَإِذا تَلا الإِمَام آيَة السَّجْدَة سجدها وسجدها الْمَأْمُوم مَعَه وَإِذا تَلا الْمَأْمُوم وَلم يسْجد الإِمَام وَلَا ألمأموم فِي الصَّلَاة وَلَا بعد الْفَرَاغ وَلَو سَمعهَا رجل
অসুস্থ ব্যক্তির সালাত পরিচ্ছেদ

যখন অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম হবে, তখন সে বসে রুকু ও সাজদাহর মাধ্যমে সালাত আদায় করবে। যদি সে রুকু ও সাজদাহ করতে সক্ষম না হয়, তবে ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করবে এবং সাজদাহর ইশারা রুকুর চেয়ে নিচু করবে। সাজদাহ করার জন্য সে তার মুখের সামনে কোনো কিছু উঁচু করে ধরবে না। যদি সে বসে সালাত আদায় করতে সক্ষম না হয়, তবে সে তার পিঠের ওপর ভর দিয়ে শোবে এবং তার পা দুটো কিবলার দিকে রাখবে এবং রুকু ও সাজদাহর জন্য ইশারা করবে। আর যদি সে তার পার্শ্বের ওপর ভর দিয়ে শোয় এবং তার চেহারা কিবলার দিকে থাকে এবং ইশারা করে, তবে তাও বৈধ হবে। যদি সে মাথা দিয়ে ইশারা করতে সক্ষম না হয়, তবে তার সালাত পিছিয়ে দেওয়া হবে (অর্থাৎ আপাতত সালাত আদায় করতে হবে না)। সে তার চোখ, অন্তর কিংবা ভ্রু দিয়ে ইশারা করবে না। যদি সে দাঁড়াতে সক্ষম হয় কিন্তু রুকু ও সাজদাহ করতে সক্ষম না হয়, তবে তার ওপর দাঁড়ানো আবশ্যক নয়; সে বসে ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করবে। যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তি তার সালাতের কিছু অংশ দাঁড়িয়ে আদায় করে তারপর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে সে তা বসে রুকু ও সাজদাহর মাধ্যমে পূর্ণ করবে, অথবা সক্ষম না হলে ইশারার মাধ্যমে, অথবা সক্ষম না হলে শোয়া অবস্থায়। যে ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে বসে রুকু ও সাজদাহ করে সালাত আদায় করছিল, অতঃপর সুস্থ হয়ে গেল, সে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মতে দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট সালাত পূর্ণ করবে। আর ইমাম মুহাম্মদ বলেন, সে নতুন করে সালাত শুরু করবে। আর যদি কেউ সালাতের কিছু অংশ ইশারার মাধ্যমে আদায় করার পর রুকু ও সাজদাহ করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের সকলের মতেই সে পুনরায় সালাত শুরু করবে। যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নফল সালাত শুরু করল তারপর ক্লান্ত হয়ে পড়ল, তার জন্য লাঠি বা দেয়ালের ওপর ভর দেওয়া কিংবা বসে পড়াতে কোনো দোষ নেই। আর যদি কোনো ওজর ছাড়াই বসে পড়ে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা মাকরূহ হবে। নৌকায় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই বসে সালাত আদায় করলে ইমাম আবু হানিফার মতে তা বৈধ হবে, তবে দাঁড়ানো উত্তম। আর সাহেবাইন (আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ) বলেন, ওজর ছাড়া তা যথেষ্ট হবে না। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত বা তার কম সময় বেহুঁশ থাকে, সে তার কাজা আদায় করবে, আর যদি এর চেয়ে বেশি সময় হয়, তবে সে কাজা করবে না।

তিলাওয়াতের সাজদাহ পরিচ্ছেদ

কুরআনে তিলাওয়াতের সাজদাহ মোট চৌদ্দটি: আল-আরাফ এর শেষে, আর-রাদ, আন-নাহল, বনী ইসরাঈল, মারইয়াম, আল-হাজ্জ এর প্রথম সাজদাহ, আল-ফুরকান, আন-নামল, আলিফ-লাম-মীম তানজীল (আস-সাজদাহ), সোয়াদ, হা-মীম সাজদাহ (ফুসসিলাত), আন-নাজম, ইযাস সামাউনুশাক্কাত (আল-ইনশিক্বাক) এবং ইকরা (আল-আলাক)। এই সকল স্থানে তিলাওয়াতকারী এবং শ্রবণকারী উভয়ের ওপর সাজদাহ করা ওয়াজিব, চাই সে তিলাওয়াত শোনার ইচ্ছা করুক বা না করুক। ইমাম যখন সাজদাহর আয়াত তিলাওয়াত করবেন, তখন তিনি সাজদাহ করবেন এবং মুক্তাদীও তাঁর সাথে সাজদাহ করবে। কিন্তু মুক্তাদী যদি তিলাওয়াত করে, তবে সালাতের মধ্যে বা সালাত শেষ করার পর ইমাম বা মুক্তাদী কেউই সাজদাহ করবে না। আর যদি কোনো ব্যক্তি তা শোনে...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
خَارج الصَّلَاة سجدها وَإِن سمعُوا وهم فِي الصَّلَاة سَجْدَة من رجل لَيْسَ مَعَهم فِي الصَّلَاة لم يسجدوها فِي الصَّلَاة وسجدوها بعْدهَا وَلَو سجدوها فِي الصَّلَاة لم يجزهم وأعادوها وَلم يُعِيدُوا الصَّلَاة فَإِن قَرَأَهَا الإِمَام وسمعها رجل لَيْسَ مَعَه فِي الصَّلَاة فَدخل مَعَه بَعْدَمَا سجدها الإِمَام لم يكن عَلَيْهِ أَن يسجدها وَإِن دخل مَعَه قبل أَن يسجدها سجدها مَعَه وَإِن لم يدْخل مَعَه سجدها وَحده وكل سَجْدَة وَجَبت فِي الصَّلَاة فَلم يسجدها فِيهَا لم تقض خَارج الصَّلَاة وَمن تَلا سَجْدَة فَلم يسجدها حَتَّى دخل فِي صَلَاة فَأَعَادَهَا وَسجد أَجْزَأته السَّجْدَة عَن التلاوتين وَإِن تَلَاهَا فَسجدَ ثمَّ دخل فِي الصَّلَاة فَتَلَاهَا سجد لَهَا وَمن كرر تِلَاوَة سَجْدَة وَاحِدَة فِي مجْلِس وَاحِد أَجْزَأته سَجْدَة وَاحِدَة فَإِن قَرَأَهَا فِي مَجْلِسه فسجدها ثمَّ ذهب وَرجع فقرأها سجدها ثَانِيَة وَإِن لم يكن سجد للأولى فَعَلَيهِ سَجْدَتَانِ وَلَو تبدل مجْلِس السَّامع دون التَّالِي يتَكَرَّر الْوُجُوب على السَّامع وَكَذَا إِذا تبدل مجْلِس التَّالِي دون السَّامع وَمن أَرَادَ السُّجُود كبر وَلم يرفع يَدَيْهِ وَسجد ثمَّ كبر وَرفع رَأسه وَلَا تشهد عَلَيْهِ وَلَا سَلام وَيكرهُ أَن يقرأالسورة فِي الصَّلَاة أَو غَيرهَا ويدع آيَة السَّجْدَة وَلَا بَأْس بِأَن يقْرَأ آيَة السَّجْدَة ويدع مَا سواهَا

بَاب صَلَاة الْمُسَافِر

السّفر الَّذِي يتَغَيَّر بِهِ الْأَحْكَام أَن يقْصد الْإِنْسَان مسيرَة ثَلَاثَة أَيَّام ولياليها بسير الْإِبِل ومشي الْأَقْدَام وَالسير الْمَذْكُور هُوَ الْوسط وَلَا يعْتَبر السّير فِي المَاء وَفرض الْمُسَافِر فِي الرّبَاعِيّة رَكْعَتَانِ لَا يزِيد عَلَيْهِمَا وَإِن صلى أَرْبعا وَقعد فِي الثَّانِيَة قدر التَّشَهُّد أَجْزَأته الأوليان عَن الْفَرْض والأخريان لَهُ نَافِلَة وَإِن لم يقْعد فِي الثَّانِيَة قدرهَا بطلت وَإِذا فَارق الْمُسَافِر بيُوت الْمصر صلى رَكْعَتَيْنِ وَلَا يزَال على حكم السّفر حَتَّى يَنْوِي الْإِقَامَة فِي بلد أَو قَرْيَة خَمْسَة عشر يَوْمًا أَو أَكثر وَإِن نوى أقل من ذَلِك قصر وَلَو دخل مصرا على عزم أَن يخرج غَدا أَو بعد غَد
নামাজের বাইরে তিনি সিজদাহ করবেন। যদি তারা নামাজে থাকা অবস্থায় এমন কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে সিজদাহর আয়াত শোনেন যিনি তাদের সাথে নামাজে শরিক নন, তবে তারা নামাজের ভেতর সেই সিজদাহ করবেন না, বরং নামাজের পরে করবেন। যদি তারা নামাজের মধ্যেই তা করে ফেলেন, তবে তা যথেষ্ট হবে না এবং তারা সিজদাহটি পুনরায় করবেন, তবে এর জন্য নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না। যদি ইমাম সিজদাহর আয়াত পাঠ করেন এবং এমন কোনো ব্যক্তি তা শোনেন যিনি তার সাথে নামাজে নেই, অতঃপর ইমামের সিজদাহ করার পর তিনি নামাজে শরিক হন, তবে তার ওপর সেই সিজদাহ করা আবশ্যক হবে না। আর যদি ইমামের সিজদাহ করার আগেই তিনি নামাজে শরিক হন, তবে তিনি ইমামের সাথেই সিজদাহ করবেন। আর যদি তিনি নামাজে শরিক না হন, তবে তিনি একা সিজদাহ করবেন। নামাজের মধ্যে যে সিজদাহ ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু নামাজের ভেতর তা করা হয়নি, তা নামাজের বাইরে কাজা করা যাবে না। যে ব্যক্তি সিজদাহর আয়াত তেলাওয়াত করল কিন্তু নামাজে প্রবেশ করার আগে সিজদাহ করল না, অতঃপর নামাজে প্রবেশ করে পুনরায় সেই আয়াতটি পাঠ করে সিজদাহ করল, তবে এই এক সিজদাহ তার উভয় তেলাওয়াতের জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি সে আয়াতটি তেলাওয়াত করে সিজদাহ করার পর নামাজে প্রবেশ করে পুনরায় তা তেলাওয়াত করে, তবে তাকে সেই তেলাওয়াতের জন্য পুনরায় সিজদাহ করতে হবে। যে ব্যক্তি একই মজলিসে একটি সিজদাহর আয়াত বারবার তেলাওয়াত করে, তার পক্ষ থেকে একটি সিজদাহই যথেষ্ট হবে। যদি সে তার মজলিসে আয়াতটি পাঠ করে সিজদাহ করে, অতঃপর সেখান থেকে চলে যায় এবং পুনরায় ফিরে এসে সেটি পাঠ করে, তবে তাকে দ্বিতীয়বার সিজদাহ করতে হবে। আর যদি সে প্রথম তেলাওয়াতের জন্য সিজদাহ না করে থাকে, তবে তার ওপর দুটি সিজদাহ ওয়াজিব হবে। যদি তেলাওয়াতকারীর মজলিস পরিবর্তন না হয়ে কেবল শ্রবণকারীর মজলিস পরিবর্তিত হয়, তবে শ্রবণকারীর ওপর সিজদাহর আবশ্যকতা পুনরাবৃত্ত হবে। অনুরূপভাবে, যদি শ্রবণকারীর মজলিস পরিবর্তন না হয়ে কেবল তেলাওয়াতকারীর মজলিস পরিবর্তিত হয়, তবে সেক্ষেত্রেও একই বিধান। যে ব্যক্তি সিজদাহ করতে চায়, সে তাকবীর বলবে কিন্তু হাত উঠাবে না এবং সিজদাহ করবে, অতঃপর তাকবীর বলে মাথা উঠাবে; এই সিজদাহর জন্য কোনো তাশাহহুদ বা সালাম নেই। নামাজে বা নামাজের বাইরে কোনো সূরা পাঠ করার সময় সিজদাহর আয়াতটি বাদ দেওয়া মাকরূহ। তবে কেবল সিজদাহর আয়াতটি পাঠ করা এবং সূরার অন্যান্য আয়াত ছেড়ে দেওয়াতে কোনো দোষ নেই।

মুসাফিরের নামাজের অধ্যায়

যে সফরের কারণে শরয়ি বিধান পরিবর্তিত হয়, তা হলো উটের গতিতে এবং পদব্রজে তিন দিন ও তিন রাতের পথ চলার সংকল্প করা। এখানে উল্লিখিত গতি দ্বারা মধ্যম মানের গতি উদ্দেশ্য, পানির ওপর পথ চলা এখানে ধর্তব্য নয়। চার রাকাআত বিশিষ্ট নামাজে মুসাফিরের ফরজ হলো দুই রাকাআত, এর বেশি সে বৃদ্ধি করবে না। যদি সে চার রাকাআত পড়ে এবং দ্বিতীয় রাকাআতে তাশাহহুদ পরিমাণ সময় বসে, তবে প্রথম দুই রাকাআত ফরজের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে এবং শেষ দুই রাকাআত তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি দ্বিতীয় রাকাআতে উক্ত পরিমাণ সময় না বসে, তবে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। মুসাফির যখন লোকালয়ের ঘরবাড়ি অতিক্রম করবে, তখন থেকে দুই রাকাআত পড়বে। সে সফরের হুকুমের ওপর বহাল থাকবে যতক্ষণ না কোনো শহর বা গ্রামে পনেরো দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করে। আর যদি এর চেয়ে কম সময় অবস্থানের নিয়ত করে, তবে নামাজ কসর করবে। যদি সে কোনো শহরে এই সংকল্প নিয়ে প্রবেশ করে যে, আগামীকাল বা পরশু চলে যাবে...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَلم ينْو مُدَّة الْإِقَامَة حَتَّى بَقِي على ذَلِك سِنِين قصر وَإِذا دخل الْعَسْكَر أَرض الْحَرْب فنووا الْإِقَامَة بهَا قصروا وَكَذَا إِذا حاصروا فِيهَا مَدِينَة أَو حصنا وَكَذَا إِذا حاصروا أهل الْبَغي فِي دَار الْإِسْلَام فِي غير مصر أَو حاصروهم فِي الْبَحْر وَنِيَّة الْإِقَامَة من أهل الكلآ وهم أهل الأخبية قيل لَا تتصح وَالأَصَح أَنهم مقيمون وَأَن اقْتدى الْمُسَافِر بالمقيم فِي الْوَقْت أتم أَرْبعا وَإِن دخل مَعَه فِي فَائِتَة لم تجزه وَإِن صلى الْمُسَافِر بالمقيمين رَكْعَتَيْنِ سلم وَأتم المقيمون صلَاتهم وَيسْتَحب للْإِمَام إِذا سلم أَن يَقُول أَتموا صَلَاتكُمْ فَأَنا قوم سفر وَإِذا دخل الْمُسَافِر فِي مصره أتم الصَّلَاة وَأَن لم ينْو الْمقَام فِيهِ وَمن كَانَ لَهُ وَطن فانتقل مِنْهُ واستوطن غَيره ثمَّ سَافر فَدخل وَطنه الأول قصر وَإِذا نوى الْمُسَافِر أَن يُقيم بِمَكَّة وَمنى خَمْسَة عشر يَوْمًا لم يتم الصَّلَاة وَمن فَاتَتْهُ صَلَاة فِي السّفر قَضَاهَا فِي الْحَضَر رَكْعَتَيْنِ وَمن فَاتَتْهُ فِي الْحَضَر قَضَاهَا فِي السّفر أَرْبعا والعاصي والمطيع فِي سَفَره فِي الرُّخْصَة سَوَاء

بَاب صَلَاة الْجُمُعَة

لَا تصح الْجُمُعَة إِلَّا فِي مصر جَامع أَو فِي مصلى الْمصر وَلَا تجوز فِي الْقرى وَتجوز بمنى إِن كَانَ الْأَمِير أَمِير الْحجاز أَو كَانَ الْخَلِيفَة مُسَافِرًا عِنْد أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف وَقَالَ مُحَمَّد لَا جُمُعَة بمنى وَلَا يجوز إِقَامَتهَا إِلَّا للسُّلْطَان أَو لمن أمره وَمن شرائطها الْوَقْت فَتَصِح فِي وَقت الظّهْر وَلَا تصح بعده وَلَو خرج الْوَقْت وَهُوَ فِيهَا اسْتقْبل الظّهْر وَلَا يبنيه عَلَيْهَا وَمِنْهَا الْخطْبَة وَهِي قبل الصَّلَاة بعد الزَّوَال ويخطب خطبتين يفصل بَينهمَا بقعدة ويخطب قَائِما على طَهَارَة وَلَو خطب قَاعِدا أَو على غير طَهَارَة جَازَ فَإِن اقْتصر على ذكر الله جَازَ عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا لَا بُد من ذكر طَوِيل يُسمى خطْبَة وَمن شرائطها الْجَمَاعَة وَأَقلهمْ عِنْد أبي حنيفَة ثَلَاث سوى الإِمَام وَقَالا اثْنَان سواهُ وَأَن نفر النَّاس قبل أَن يرْكَع الإِمَام وَيسْجد وَلم يبْق إِلَّا النِّسَاء وَالصبيان اسْتقْبل الظّهْر عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا
এবং যদি সে অবস্থানের মেয়াদের নিয়ত না করে, এমনকি যদি সে এই অবস্থায় কয়েক বছরও অতিবাহিত করে, তবে সে কসর করবে। যখন সৈন্যবাহিনী শত্রু ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থানের নিয়ত করে, তারা কসর করবে। অনুরূপভাবে যখন তারা সেখানে কোনো শহর বা দুর্গ অবরোধ করে। তদ্রূপ যখন তারা ইসলামি ভূখণ্ডের কোনো শহর ব্যতীত অন্য স্থানে বিদ্রোহপরায়ণদের অবরোধ করে কিংবা সমুদ্রে তাদের অবরোধ করে। চারণভূমির অধিবাসী যারা তাঁবুতে বসবাস করে, তাদের অবস্থানের নিয়তের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা সঠিক হবে না; তবে অধিকতর শুদ্ধ মত হলো তারা মুকিম। যদি মুসাফির ওয়াক্তের ভেতরে মুকিমের পেছনে ইক্তিদা করে, তবে সে চার রাকাত পূর্ণ করবে। আর যদি কাজা নামাজে তার সাথে শরিক হয়, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না। মুসাফির যদি মুকিমদের ইমামতি করে দুই রাকাত আদায় করে সালাম ফিরায়, তবে মুকিমরা তাদের নামাজ পূর্ণ করে নেবে। ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো সালাম ফিরানোর পর এ কথা বলা যে, "আপনারা আপনাদের নামাজ পূর্ণ করুন, কারণ আমরা মুসাফির সম্প্রদায়।" মুসাফির যখন তার নিজ শহরে প্রবেশ করবে, তখন সে নামাজ পূর্ণ করবে, যদিও সেখানে অবস্থানের নিয়ত না করে। যার কোনো আদি স্বদেশ ছিল এবং সে তা ত্যাগ করে অন্য কোনো স্থানে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেছে, অতঃপর সে সফর করে পুনরায় তার প্রথম স্বদেশে প্রবেশ করে, তবে সে কসর করবে। মুসাফির যদি মক্কা ও মিনায় একত্রে পনেরো দিন অবস্থানের নিয়ত করে, তবে সে নামাজ পূর্ণ করবে না। সফরে যার নামাজ কাজা হয়েছে, সে মুকিম অবস্থায় তা দুই রাকাত হিসেবে কাজা করবে। আর মুকিম অবস্থায় যার নামাজ কাজা হয়েছে, সে সফরে তা চার রাকাত হিসেবে কাজা করবে। সফরের এই বিশেষ সুযোগের ক্ষেত্রে পাপিষ্ঠ ও পুণ্যবান উভয়েই সমান।

জুমার নামাজের অধ্যায়

জুমার নামাজ কোনো প্রধান শহর বা শহরের ঈদগাহ ছাড়া সহিহ হয় না। গ্রামসমূহে জুমা জায়েজ নেই। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে মিনায় জুমা জায়েজ হবে যদি আমির হিজাজের আমির হন অথবা খলিফা সেখানে মুসাফির হিসেবে অবস্থান করেন। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, মিনায় কোনো জুমা নেই। রাষ্ট্রপ্রধান বা তার আদিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জুমা কায়েম করা জায়েজ নয়। জুমার অন্যতম শর্ত হলো সময়; তাই তা জোহরের ওয়াক্তে সহিহ হবে এবং জোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর সহিহ হবে না। নামাজের ভেতরে থাকাবস্থায় যদি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তবে নতুন করে জোহর শুরু করবে এবং জুমার ওপর এর ভিত্তি করবে না। জুমার অন্যতম শর্ত হলো খুতবা, যা নামাজের পূর্বে সূর্য ঢলার পর প্রদান করতে হয়। ইমাম দুটি খুতবা দেবেন এবং দুই খুতবার মাঝে উপবেশনের মাধ্যমে বিরতি দেবেন। তিনি পবিত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে খুতবা দেবেন। যদি বসে কিংবা অপবিত্র অবস্থায় খুতবা দেন, তবে তা জায়েজ হবে। যদি তিনি কেবল আল্লাহর জিকিরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে তা জায়েজ হবে। সাহেবাইন বলেন, অবশ্যই দীর্ঘ জিকির হতে হবে যাকে খুতবা বলা যায়। জুমার অন্যতম শর্ত হলো জামাত। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এর সর্বনিম্ন সংখ্যা ইমাম ব্যতীত তিনজন। সাহেবাইন বলেন, ইমাম ব্যতীত দুইজন। ইমাম রুকু ও সেজদা করার পূর্বে যদি মানুষ চলে যায় এবং নারী ও শিশু ব্যতীত কেউ অবশিষ্ট না থাকে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে নতুন করে জোহর শুরু করবে। আর সাহেবাইন বলেন...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
اذا نفروا عَنهُ بَعْدَمَا افْتتح الصَّلَاة صلى الْجُمُعَة فَإِن نفروا عَنهُ بعد مَا ركع رَكْعَة وَسجد سَجْدَة بنى على الْجُمُعَة وَلَا تجب الْجُمُعَة على مُسَافر وَلَا امْرَأَة وَلَا مَرِيض وَلَا عبد وَلَا أعمى فَإِن حَضَرُوا وصلوا مَعَ النَّاس أجزأهم عَن فرض الْوَقْت وَيجوز للْمُسَافِر وَالْعَبْد وَالْمَرِيض أَن يؤم فِي الْجُمُعَة وَمن صلى الظّهْر فِي منزله يَوْم الْجُمُعَة قبل صَلَاة الإِمَام وَلَا عذر لَهُ كره لَهُ ذَلِك وَجَازَت صلَاته فَإِن بدا لَهُ أَن يحضرها فَتوجه إِلَيْهَا وَالْإِمَام فِيهَا بَطل ظَهره عِنْد أبي حنيفَة بالسعي وَقَالا لَا يبطل حَتَّى يدْخل مَعَ الإِمَام وَيكرهُ أَن يُصَلِّي المعذورون الظّهْر بِجَمَاعَة يَوْم الْجُمُعَة فِي الْمصر وَكَذَا أهل السجْن وَلَو صلى قوم أجزأهم وَمن أدْرك الإِمَام يَوْم الْجُمُعَة صلى مَعَه مَا أدْركهُ وَبنى عَلَيْهَا الْجُمُعَة وَإِن كَانَ أدْركهُ فِي التَّشَهُّد أَو فِي سُجُود السَّهْو بنى عَلَيْهَا الْجُمُعَة عِنْدهمَا وَقَالَ مُحَمَّد أَن أدْرك مَعَه أَكثر الرَّكْعَة الثَّانِيَة بنى عَلَيْهَا الْجُمُعَة وَإِن أدْرك أقلهَا بنى عَلَيْهَا الظّهْر وَإِذا خرج الإِمَام يَوْم الْجُمُعَة ترك النَّاس الصَّلَاة وَالْكَلَام حَتَّى يفرغ من خطبَته وَإِذا أذن المؤذنون الْأَذَان الأول ترك النَّاس البيع وَالشِّرَاء وتوجهوا إِلَى الْجُمُعَة وَإِذا صعد الإِمَام الْمِنْبَر جلس وَأذن المؤذنون بَين يَدي الْمِنْبَر

بَاب صَلَاة الْعِيدَيْنِ

وَتجب صَلَاة الْعِيد على كل من تجب عَلَيْهِ صَلَاة الْجُمُعَة وَيسْتَحب فِي يَوْم الْفطر أَن يطعم قبل الْخُرُوج إِلَى الْمصلى ويغتسل ويستاك ويتطيب ويلبس أحسن ثِيَابه وَيُؤَدِّي صَدَقَة الْفطر وَيتَوَجَّهُ إِلَى الْمصلى وَلَا يكبر عِنْد أبي حنيفَة فِي طَرِيق الْمصلى وَعِنْدَهُمَا يكبر وَلَا يتَنَفَّل فِي الْمصلى قبل صَلَاة الْعِيد وَإِذا حلت الصَّلَاة بارتفاع الشَّمْس دخل وَقتهَا إِلَى الزَّوَال فَإِذا زَالَت الشَّمْس خرج وَقتهَا وَيُصلي الإِمَام بِالنَّاسِ رَكْعَتَيْنِ يكبر فِي الأولى للافتتاح وَثَلَاثًا بعْدهَا ثمَّ يقْرَأ الْفَاتِحَة وَسورَة وَيكبر تَكْبِيرَة يرْكَع بهَا ثمَّ يبتدىء فِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة بِالْقِرَاءَةِ ثمَّ يكبر ثَلَاثًا بعْدهَا وَيكبر رَابِعَة يرْكَع بهَا وَيرْفَع يَدَيْهِ فِي تَكْبِيرَات الْعِيدَيْنِ ثمَّ يخْطب بعد الصَّلَاة
যদি তারা সালাত শুরু করার পর তার কাছ থেকে সরে যায়, তবে সে জুমুআহ আদায় করবে। আর যদি তারা এক রাকাআত রুকু ও এক সিজদা করার পর সরে যায়, তবে সে জুমুআর ওপর ভিত্তি করবে। মুসাফির, নারী, অসুস্থ ব্যক্তি, দাস এবং অন্ধ ব্যক্তির ওপর জুমুআহ ওয়াজিব নয়। তবে তারা যদি উপস্থিত হয়ে মানুষের সাথে সালাত আদায় করে, তবে তা তাদের জন্য ওয়াক্তের ফরযের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। মুসাফির, দাস ও অসুস্থ ব্যক্তির জন্য জুমুআয় ইমামতি করা জায়েয। যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ওযর ছাড়াই ইমামের সালাতের পূর্বে নিজ বাড়িতে যোহরের সালাত আদায় করল, তার জন্য এটি মাকরূহ হবে, তবে তার সালাত হয়ে যাবে। অতঃপর যদি সে জুমুআয় উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা করে এবং সেদিকে রওয়ানা দেয় এমতাবস্থায় যে ইমাম সালাতে আছেন, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তার যোহর কেবল গমনের মাধ্যমেই বাতিল হয়ে যাবে। আর সাহেবাইন বলেন, ইমামের সাথে (জুমুআয়) শরীক না হওয়া পর্যন্ত তা বাতিল হবে না। ওযরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য জুমুআর দিন শহরে জামাআতের সাথে যোহর আদায় করা মাকরূহ, অনুরূপভাবে কারাবন্দীদের জন্যও। তবে একদল লোক যদি (এভাবে) সালাত আদায় করে নেয়, তবে তা যথেষ্ট হবে। যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ইমামকে পেল, সে যতটুকু পেল তা তার সাথে আদায় করবে এবং তার ওপর ভিত্তি করে জুমুআহ পূর্ণ করবে। এমনকি যদি সে তাকে তাশাহহুদে বা সাহু সিজদায় পায়, তবে সাহেবাইনের মতে সে জুমুআহ পূর্ণ করবে। ইমাম মুহাম্মদ বলেন, যদি সে তার সাথে দ্বিতীয় রাকাআতের অধিকাংশ পায় তবে জুমুআহ পূর্ণ করবে, আর যদি সামান্য অংশ পায় তবে যোহর পূর্ণ করবে। জুমুআর দিন ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হবেন, তখন মানুষ সালাত ও কথা বলা বর্জন করবে যতক্ষণ না তিনি খুতবা শেষ করেন। যখন মুয়াযযিনগণ প্রথম আযান দেবেন, তখন মানুষ কেনা-বেচা বর্জন করবে এবং জুমুআর দিকে মনোনিবেশ করবে। ইমাম যখন মিম্বরে আরোহণ করবেন তখন তিনি বসবেন এবং মুয়াযযিনগণ মিম্বরের সামনে আযান দেবেন।

দুই ঈদ সালাতের অধ্যায়

যার ওপর জুমুআর সালাত ওয়াজিব, তার ওপর ঈদের সালাতও ওয়াজিব। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে বের হওয়ার আগে কিছু খাওয়া, গোসল করা, মিসওয়াক করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, তার সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরিধান করা, সদকাতুল ফিতর আদায় করা এবং ঈদগাহের দিকে রওয়ানা হওয়া মুস্তাহাব। ইমাম আবু হানিফার মতে ঈদগাহের পথে তাকবীর বলবে না, তবে সাহেবাইনের মতে তাকবীর বলবে। ঈদের সালাতের আগে ঈদগাহে কোনো নফল সালাত পড়বে না। যখন সূর্য উদিত হওয়ার পর সালাত বৈধ হওয়ার সময় হবে তখন থেকে সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত এর সময় দাখিল হবে; আর যখন সূর্য ঢলে যাবে তখন এর সময় শেষ হয়ে যাবে। ইমাম মানুষকে নিয়ে দুই রাকাআত সালাত আদায় করবেন; প্রথম রাকাআতে তিনি তাহরীমার তাকবীর বলবেন এবং এরপর তিনটি অতিরিক্ত তাকবীর বলবেন, অতঃপর সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা পাঠ করবেন এবং তাকবীর বলে রুকু করবেন। এরপর দ্বিতীয় রাকাআতে কিরাআত দিয়ে শুরু করবেন, অতঃপর তিনটি অতিরিক্ত তাকবীর দেবেন এবং চতুর্থ তাকবীর দিয়ে রুকু করবেন। তিনি দুই ঈদের তাকবীরগুলোতে হাত উত্তোলন করবেন এবং সালাতের পর খুতবা দেবেন।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
خطبتين يعلم النَّاس فِيهَا صَدَقَة الْفطر وأحكامها وَمن فَاتَتْهُ صَلَاة الْعِيد مَعَ الإِمَام لم يقضها فَإِن غم الْهلَال وشهدوا عِنْد الإِمَام بِرُؤْيَة الْهلَال بعد الزَّوَال صلى الْعِيد من الْغَد فَإِن حدث عذر يمْنَع من الصَّلَاة فِي الْيَوْم الثَّانِي لم يصلها بعده وَيسْتَحب فِي يَوْم الْأَضْحَى أَن يغْتَسل ويتطيب وَيُؤَخر الْأكل حَتَّى يفرغ من الصَّلَاة وَيتَوَجَّهُ إِلَى الْمصلى وَهُوَ يكبر وَيُصلي رَكْعَتَيْنِ كالفطر ويخطب بعْدهَا خطبتين وَيعلم النَّاس فِيهَا الْأُضْحِية وتكبير التَّشْرِيق فَإِن كَانَ عذر يمْنَع من الصَّلَاة فِي يَوْم الْأَضْحَى صلاهَا من الْغَد وَبعد الْغَد وَلَا يُصليهَا بعد ذَلِك والتعريف الَّذِي يصنعه النَّاس لَيْسَ بِشَيْء

‌‌فصل فِي تَكْبِيرَات التَّشْرِيق

وَيبدأ بتكبير التَّشْرِيق بعد صَلَاة الْفجْر من يَوْم عَرَفَة وَيخْتم عقيب صَلَاة الْعَصْر من يَوْم النَّحْر وَهُوَ عقيب الصَّلَوَات المفروضات على المقيمين فِي الْأَمْصَار فِي الْجَمَاعَات المستحبة عِنْد أبي حنيفَة وَلَيْسَ على جماعات النِّسَاء إِذا لم يكن مَعَهُنَّ رجل وَلَا على جمَاعَة الْمُسَافِرين إِذا لم يكن مَعَهم مُقيم وَقَالا هُوَ على كل من صلى الْمَكْتُوبَة

بَاب صَلَاة الْكُسُوف

إِذا انكسفت الشَّمْس صلى الإِمَام بِالنَّاسِ رَكْعَتَيْنِ كَهَيئَةِ النَّافِلَة فِي كل رَكْعَة رُكُوع وَاحِد وَيطول الْقِرَاءَة فيهمَا ويخفي عِنْد أبي حنيفَة وَقَالا يجْهر وَيَدْعُو بعْدهَا حَتَّى تنجلي الشَّمْس وَيُصلي بهم الإِمَام الَّذِي يُصَلِّي بهم الْجُمُعَة فَإِن لم يحضر صلى النَّاس فُرَادَى وَلَيْسَ فِي خُسُوف الْقَمَر جمَاعَة وَلَيْسَ فِي الْكُسُوف خطْبَة

بَاب الاسْتِسْقَاء

قَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله لَيْسَ فِي الاسْتِسْقَاء صَلَاة مسنونة فِي جمَاعَة فَإِن صلى النَّاس وحدانا جَازَ وَإِنَّمَا الاسْتِسْقَاء الدُّعَاء وَالِاسْتِغْفَار وَقَالا يُصَلِّي الإِمَام
(ইমাম) দুটি খুতবা দেবেন যাতে তিনি মানুষকে সদকাতুল ফিতর এবং এর বিধানসমূহ শিক্ষা দেবেন। যার ইমামের সাথে ঈদের নামাজ ছুটে যায়, সে তা কাজা করবে না। যদি মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না যায় এবং দ্বিপ্রহরের পর ইমামের নিকট চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী দিন ঈদের নামাজ পড়বে। যদি কোনো ওজরের কারণে দ্বিতীয় দিনেও নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে এরপর আর তা পড়বে না। ঈদুল আজহার দিনে গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং নামাজ শেষ না করা পর্যন্ত আহার বিলম্বিত করা মুস্তাহাব। সে তাকবির পাঠ করতে করতে ঈদগাহের অভিমুখে রওয়ানা হবে এবং ঈদুল ফিতরের ন্যায় দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে। নামাজের পর দুটি খুতবা প্রদান করবে এবং তাতে মানুষকে কোরবানি ও তাকবিরে তাশরিকের নিয়মাবলী শিক্ষা দেবে। যদি কোনো ওজরের কারণে ঈদুল আজহার দিনে নামাজ আদায়ে সক্ষম না হয়, তবে পরবর্তী দিন এবং তার পরের দিনও নামাজ আদায় করতে পারবে; এরপর আর আদায় করবে না। আর (আরাফার দিন অন্য স্থানে) সমবেত হওয়ার যে প্রথা (তারিফ) মানুষ পালন করে, তার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।

‌‌তাকবিরে তাশরিক সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

আরাফার দিনের ফজর নামাজের পর থেকে তাকবিরে তাশরিক শুরু হবে এবং কোরবানির দিনের আসর নামাজের পর তা শেষ হবে। ইমাম আবু হানিফার মতে, এটি শহরগুলোতে জামাতে নামাজ আদায়কারী মুকিমদের ওপর ফরজ নামাজের পর আবশ্যক। নারীদের জামাতের ওপর এটি আবশ্যক নয় যদি তাদের সাথে কোনো পুরুষ না থাকে, এবং মুসাফিরদের জামাতের ওপরও নয় যদি তাদের সাথে কোনো মুকিম না থাকে। সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) বলেন, এটি প্রত্যেক ফরজ নামাজ আদায়কারীর ওপরই আবশ্যক।

সূর্যগ্রহণের নামাজ সংক্রান্ত অধ্যায়

যখন সূর্যগ্রহণ হয়, তখন ইমাম মানুষের সাথে নফল নামাজের পদ্ধতিতে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন, যার প্রতি রাকাতে একটি করে রুকু থাকবে। তিনি উভয় রাকাতে কিরাত দীর্ঘ করবেন। ইমাম আবু হানিফার মতে কিরাত নিঃশব্দে হবে, আর সাহেবাইন বলেন উচ্চৈঃস্বরে কিরাত পাঠ করতে হবে। নামাজের পর সূর্য উদ্ভাসিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দোয়ায় মগ্ন থাকবেন। জুমার নামাজ যিনি পড়ান তিনিই এই নামাজে ইমামতি করবেন। যদি তিনি উপস্থিত না থাকেন, তবে মানুষ এককভাবে নামাজ পড়বে। চন্দ্রগ্রহণের নামাজে কোনো জামাত নেই এবং সূর্যগ্রহণের নামাজে কোনো খুতবা নেই।

ইস্তিসকা (বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা) সংক্রান্ত অধ্যায়

ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইস্তিসকার জন্য জামাতের সাথে কোনো মাসনুন নামাজ নেই। তবে মানুষ যদি একাকী নামাজ পড়ে তবে তা বৈধ। ইস্তিসকা মূলত দোয়া ও ইস্তিগফার। সাহেবাইন বলেন, ইমাম (জামাতের সাথে) নামাজ পড়াবেন।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
رَكْعَتَيْنِ ويجهر فيهمَا بِالْقِرَاءَةِ ثمَّ يخْطب وَلَا خطْبَة عِنْد أبي حنيفَة وَيسْتَقْبل الْقبْلَة بِالدُّعَاءِ ويقلب رِدَاءَهُ وَلَا يقلب الْقَوْم أرديتهم وَلَا يحضر أهل الذِّمَّة الاسْتِسْقَاء

بَاب صَلَاة الْخَوْف

إِذا اشْتَدَّ الْخَوْف جعل الإِمَام النَّاس طائفتين طَائِفَة إِلَى وَجه الْعَدو وَطَائِفَة خَلفه فَيصَلي بِهَذِهِ الطَّائِفَة رَكْعَة وسجدتين فَإِذا رفع رَأسه من السَّجْدَة الثَّانِيَة مَضَت هَذِه الطَّائِفَة إِلَى وَجه الْعَدو وَجَاءَت تِلْكَ الطَّائِفَة فَيصَلي بهم الإِمَام رَكْعَة وسجدتين وَتشهد وَسلم وَلم يسلمُوا وذهبوا إِلَى وَجه الْعَدو وَجَاءَت الطَّائِفَة الأولى فصلوا رَكْعَة وسجدتين وحدانا بِغَيْر قِرَاءَة وتشهدوا وسلموا ومضوا إِلَى وَجه الْعَدو وَجَاءَت الطَّائِفَة الْأُخْرَى وصلوا رَكْعَة وسجدتين بِقِرَاءَة وتشهدوا وسلموا فَإِن كَانَ الإِمَام مُقيما صلى بالطائفة الأولى رَكْعَتَيْنِ وبالطائفة الثَّانِيَة رَكْعَتَيْنِ وَيُصلي بالطائفة الأولى من الْمغرب رَكْعَتَيْنِ وبالثانية رَكْعَة وَاحِدَة وَلَا يُقَاتلُون فِي حَال الصَّلَاة فَإِن فعلوا بطلت صلَاتهم فَإِن اشْتَدَّ الْخَوْف صلوا ركبانا فُرَادَى يومئون بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُود إِلَى أَي جِهَة شَاءُوا إِذا لم يقدروا على التَّوَجُّه إِلَى الْقبْلَة

بَاب الْجَنَائِز

إِذا احْتضرَ الرجل وَجه إِلَى الْقبْلَة على شقَّه الْأَيْمن ولقن الشَّهَادَتَيْنِ فَإِذا مَاتَ شدّ لحياه وغمض عَيناهُ

‌‌فصل فِي الْغسْل

فَإِذا أَرَادوا غسله وضعوه على سَرِير وَجعلُوا على عَوْرَته خرقَة ونزعوا ثِيَابه ووضؤه من غير مضمضة واستنشاق ثمَّ يفيضون المَاء عَلَيْهِ ويجمر سَرِيره وترا ويغلى المَاء بالسدر أَو بالحرض فَإِن لم يكن فالماء القراح وَيغسل رَأسه ولحيته بالخطمي ثمَّ يضجع على شقة الْأَيْسَر فَيغسل بِالْمَاءِ والسدر حَتَّى يرى أَن المَاء قد وصل إِلَى مَا يَلِي التخت مِنْهُ ثمَّ يضجع على شقَّه الْأَيْمن
দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন এবং তাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করবেন। এরপর তিনি খুতবা দেবেন, তবে ইমাম আবু হানিফার মতে (ইস্তিস্কার সালাতে) কোনো খুতবা নেই। তিনি কিবলামুখী হয়ে দোয়া করবেন এবং নিজের চাদর উল্টিয়ে দেবেন, কিন্তু মুক্তাদিগণ তাদের চাদর উল্টাবেন না। আর যিম্মিরা বৃষ্টির প্রার্থনার (ইস্তিস্কার) সালাতে উপস্থিত হবে না।

অধ্যায়: ভয়ের সালাত

যখন ভয় অত্যন্ত তীব্র হবে, তখন ইমাম মানুষকে দুই দলে বিভক্ত করবেন—এক দল শত্রুর মোকাবিলায় থাকবে এবং অপর দল তার পেছনে অবস্থান করবে। ইমাম এই (পেছনের) দলকে নিয়ে এক রাকাত ও দুই সাজদাহ আদায় করবেন। যখন তিনি দ্বিতীয় সাজদাহ থেকে মাথা উঠাবেন, তখন এই দলটি শত্রুর অভিমুখে চলে যাবে এবং ওই (প্রথম) দলটি আসবে। এরপর ইমাম তাদের নিয়ে এক রাকাত ও দুই সাজদাহ আদায় করবেন এবং তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাবেন, কিন্তু তারা সালাম ফিরাবে না। তারা শত্রুর অভিমুখে চলে যাবে এবং প্রথম দলটি ফিরে আসবে; তারা কিরাত ছাড়াই এককভাবে এক রাকাত ও দুই সাজদাহ আদায় করবে এবং তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাবে। অতঃপর তারা শত্রুর অভিমুখে চলে যাবে এবং অন্য দলটি আসবে। তারা কিরাতসহ এক রাকাত ও দুই সাজদাহ আদায় করবে এবং তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাবে। যদি ইমাম মুকিম (নিবাসী) হন, তবে তিনি প্রথম দলকে নিয়ে দুই রাকাত এবং দ্বিতীয় দলকে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন। আর মাগরিবের সালাতে প্রথম দলকে নিয়ে দুই রাকাত এবং দ্বিতীয় দলকে নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করবেন। তারা সালাত অবস্থায় যুদ্ধ করবে না; যদি তারা যুদ্ধ করে তবে তাদের সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভয় আরও তীব্রতর হয়, তবে তারা আরোহী অবস্থায় এককভাবে রুকু ও সাজদাহর ইশারা করে সালাত আদায় করবে—যে কোনো দিকে মুখ করে, যদি তারা কিবলামুখী হতে সক্ষম না হয়।

অধ্যায়: জানাজা

যখন কোনো ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হয়, তখন তাকে ডান কাতে কিবলামুখী করে রাখা হবে এবং কালিমায়ে শাহাদাতের তালকিন দেওয়া হবে। যখন সে মারা যাবে, তখন তার চোয়াল দুটি বেঁধে দেওয়া হবে এবং তার চোখ দুটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

‌‌গোসল সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

যখন তারা মৃত ব্যক্তিকে গোসল করাতে চাইবে, তখন তাকে একটি খাটিয়ার ওপর রাখবে এবং তার লজ্জাস্থানের ওপর একটি কাপড় দেবে। তার পোশাক খুলে ফেলবে এবং কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ছাড়াই তাকে ওযু করাবে। এরপর তার ওপর পানি ঢালবে। তার খাটিয়াকে বেজোড় সংখ্যায় ধূপায়িত করবে। পানি কুল পাতা (সিডর) বা হারয (ক্ষারজাতীয় উদ্ভিদ) দিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হবে; যদি তা না থাকে তবে বিশুদ্ধ পানিই যথেষ্ট। তার মাথা ও দাড়ি খতমি দিয়ে ধৌত করা হবে। এরপর তাকে বাম কাতে শোয়ানো হবে এবং পানি ও কুল পাতা দিয়ে ধৌত করা হবে, যতক্ষণ না মনে হয় যে পানি খাটিয়া সংলগ্ন অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর তাকে ডান কাতে শোয়ানো হবে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল মুবতাদী (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَيغسل حَتَّى يرى أَن المَاء قد وصل إِلَى مَا يَلِي التخت مِنْهُ ثمَّ يجلسه ويسنده إِلَيْهِ وَيمْسَح بَطْنه مسحا رَفِيقًا فَإِن خرج مِنْهُ شَيْء غسله وَلَا يُعِيد غسله وَلَا وضوءه ثمَّ ينشفه بِثَوْب ويجعله فِي أَكْفَانه وَيجْعَل الحنوط على راسه ولحيته والكافور على مساجده وَلَا يسرح شعر الْمَيِّت وَلَا لحيته وَلَا يقص ظفره وَلَا شعره

‌‌فصل فِي التَّكْفِين السّنة أَن يُكفن الرجل فِي ثَلَاثَة أَثوَاب أزار وقميص ولفافة فَإِن اقتصروا على ثَوْبَيْنِ جَازَ والثوبان إِزَار ولفافة وَإِذا أَرَادوا لف الْكَفَن ابتدأوا بجانبه الْأَيْسَر فلفوه عَلَيْهِ ثمَّ بالأيمن وَإِن خَافُوا أَن ينتشر الْكَفَن عَنهُ عقدوه بِخرقَة وتكفن الْمَرْأَة فِي خَمْسَة أَثوَاب درع وَإِزَار وخمار ولفافة وخرقة ترْبط فَوق ثدييها وَإِن اقتصروا على ثَلَاثَة أَثوَاب جَازَ وَيكرهُ أقل من ذَلِك وَفِي الرجل يكره الِاقْتِصَار على ثوب وَاحِد إِلَّا فِي حَالَة الضَّرُورَة وتلبس الْمَرْأَة الدرْع أَولا ثمَّ يَجْعَل شعرهَا ضفيرتين على صدرها فَوق الدرْع ثمَّ الْخمار فَوق ذَلِك ثمَّ الْإِزَار تَحت اللفافة وتجمر الأكفان قبل أَن يدرج فِيهَا الْمَيِّت وترا

فصل فِي الصَّلَاة على الْمَيِّت

وَأولى النَّاس بِالصَّلَاةِ على الْمَيِّت السُّلْطَان إِن حضر فَإِن لم يحضر فَالْقَاضِي فَإِن لم يحضر فَيُسْتَحَب تَقْدِيم إِمَام الْحَيّ ثمَّ الْوَلِيّ والأولياء على التَّرْتِيب الْمَذْكُور فِي النِّكَاح فَإِن صلى غير الْوَلِيّ أَو السُّلْطَان أعَاد الْوَلِيّ وَإِن صلى الْوَلِيّ لم يجز لأحد أَن يُصَلِّي بعده وَأَن دفن الْمَيِّت وَلم يصل عَلَيْهِ صلى على قَبره وَيصلى عَلَيْهِ قبل أَن يتفسخ وَالصَّلَاة أَن يكبر تَكْبِيرَة يحمد الله عقيبها ثمَّ يكبر تَكْبِيرَة يصلى فِيهَا على النَّبِي صلى الله عليه وسلم ثمَّ يكبر تَكْبِيرَة يَدْعُو فِيهَا لنَفسِهِ وللميت وللمسلمين ثمَّ يكبر الرَّابِعَة وَيسلم لِأَنَّهُ عليه السلام كبر أَرْبعا فِي آخر صَلَاة صلاهَا فنسخت مَا قبلهَا وَلَو كبر الإِمَام خمْسا لم يُتَابِعه الْمُؤْتَم وَلَو كبرالإمام تَكْبِيرَة أَو تكبيرتين لَا يكبر الْآتِي حَتَّى يكبر أُخْرَى بعد حُضُوره وَيقوم الَّذِي يُصَلِّي على الرجل وَالْمَرْأَة بحذاء الصَّدْر فَإِن صلوا على جَنَازَة ركبانا
অতঃপর ধৌত করবেন যতক্ষণ না তিনি মনে করেন যে, পানি তক্তার সংলগ্ন অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর তাকে বসাবেন এবং নিজের সাথে হেলান দিয়ে রাখবেন এবং তার পেট আলতোভাবে মালিশ করবেন। যদি তার শরীর থেকে কিছু বের হয় তবে তা ধুয়ে ফেলবেন, কিন্তু তার গোসল বা ওজু পুনরায় করাবেন না। অতঃপর একটি কাপড় দিয়ে তাকে মুছে শুকাবেন এবং তাকে তার কাফনের কাপড়ে রাখবেন। তার মাথায় ও দাড়িতে সুগন্ধি এবং সেজদার অঙ্গসমূহে কর্পূর লাগাবেন। মৃত ব্যক্তির চুল বা দাড়ি আঁচড়ানো যাবে না এবং তার নখ বা চুল কাটা যাবে না।

‌‌কাফন পরানো বিষয়ক পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ হলো পুরুষকে তিনটি কাপড়ে কাফন দেওয়া; ইজার (তহবন্দ), কামিস (জামা) এবং লিফাফা (চাদর)। যদি তারা দুটি কাপড়ে সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা জায়েজ হবে, আর কাপড় দুটি হবে ইজার ও লিফাফা। যখন তারা কাফন লপেটানোর ইচ্ছা করবে, তখন তার বাম দিক থেকে শুরু করবে এবং তার ওপর লপেটাবে, অতঃপর ডান দিক থেকে। আর যদি তারা কাফন খুলে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তবে তা কাপড়ের টুকরো দিয়ে বেঁধে দেবে। নারীকে পাঁচটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হবে: দির' (জামা), ইজার, খিমার (ওড়না), লিফাফা এবং একটি কাপড়ের টুকরো যা তার স্তনের ওপর বাঁধা হবে। যদি তারা তিনটি কাপড়ে সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা জায়েজ হবে, তবে এর চেয়ে কম করা মাকরূহ। পুরুষের ক্ষেত্রে এক কাপড়ে সীমাবদ্ধ করা মাকরূহ, কেবল জরুরি অবস্থা ব্যতীত। নারী প্রথমে দির' পরিধান করবে, তারপর তার চুল দুটি বেণী করে জামার ওপর বুকের দিকে রাখা হবে, অতঃপর তার ওপর খিমার, এরপর লিফাফার নিচে ইজার রাখা হবে। মৃত ব্যক্তিকে কাফনে প্রবেশ করানোর পূর্বে কাফনের কাপড়গুলোতে বিজোড় সংখ্যায় ধূপের সুগন্ধি দেওয়া হবে।

মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ বিষয়ক পরিচ্ছেদ

মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার হলো সুলতান (রাষ্ট্রপ্রধান) যদি তিনি উপস্থিত থাকেন। যদি তিনি উপস্থিত না থাকেন তবে কাজি, যদি তিনিও উপস্থিত না থাকেন তবে মহল্লার ইমামকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব। অতঃপর অভিভাবক (ওলী); আর অভিভাবকগণ সেই ক্রমানুসারে আসবেন যা বিবাহের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি অভিভাবক বা সুলতান ছাড়া অন্য কেউ নামাজ পড়ায়, তবে অভিভাবক পুনরায় নামাজ পড়াবেন। আর যদি অভিভাবক নামাজ পড়ান, তবে এরপর আর কারো জন্য নামাজ পড়া জায়েজ নয়। যদি মৃত ব্যক্তিকে জানাজা ছাড়াই দাফন করা হয়, তবে তার কবরের ওপর নামাজ পড়া হবে; আর এই নামাজ শরীর গলে যাওয়ার পূর্বেই পড়তে হবে। জানাজার নামাজ হলো: একটি তাকবির বলবে যার পর আল্লাহর প্রশংসা করবে, অতঃপর দ্বিতীয় তাকবির বলবে যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দুরুদ পাঠ করবে, অতঃপর তৃতীয় তাকবির বলবে যাতে নিজের জন্য, মৃত ব্যক্তির জন্য এবং মুসলিমদের জন্য দোয়া করবে, তারপর চতুর্থ তাকবির বলবে এবং সালাম ফেরাবে। কেননা তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর পঠিত শেষ জানাজায় চার তাকবির দিয়েছিলেন, যা পূর্ববর্তী নিয়মকে রহিত করে দিয়েছে। যদি ইমাম পাঁচ তাকবির দেন, তবে মুক্তাদি তাঁর অনুসরণ করবেন না। আর যদি ইমাম এক বা দুই তাকবির দিয়ে ফেলেন, তবে নবাগত ব্যক্তি ইমামের পরবর্তী তাকবির না দেওয়া পর্যন্ত নিজে তাকবির বলবে না। পুরুষ ও নারী উভয়ের জানাজায় নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি বুকের সমান্তরালে দাঁড়াবেন। যদি তারা আরোহী অবস্থায় জানাজার নামাজ পড়ে...