(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: -)
عقود الجوهر الثمين نظم قواعد الترجيح عند المفسرين   (عبد الله بن عبده العواضي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عقود الجوهر الثمين نظم قواعد الترجيح عند المفسرين

نظمها: عبد الله بن عبده العواضي

عدد الصفحات: 13

[الكتاب إلكتروني]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الآخرة 1443

উকুুদুল জাওহারিস সামীন: মুফাসসিরগণের নিকট প্রাধান্যদানের (الترجيح) নীতিমালা (قواعد) সংক্রান্ত কাব্যগ্রন্থ   (আবদুল্লাহ বিন আবদু আল-আওয়াদী)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও তাফসীরের মূলনীতি (أصول)


বই: উকুুদুল জাওহারিস সামীন: মুফাসসিরগণের নিকট প্রাধান্যদানের (الترجيح) নীতিমালা (قواعد) সংক্রান্ত কাব্যগ্রন্থ

কাব্যরূপ দিয়েছেন: আবদুল্লাহ বিন আবদু আল-আওয়াদী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩

[ই-বুক]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১)
عقود الجوهر الثمين

نظم قواعد الترجيح عند المفسرين

نظمها

عبد الله بن عبده العواضي
উকুদুল জাওহারিস সামিন

মুফাসসিরগণের (المفسرين) নিকট প্রাধান্য প্রদানের (الترجيح) নিয়মাবলির (قواعد) পদ্যরূপ (نظم)

পদ্যে রচনা করেছেন

আব্দুল্লাহ বিন আবদাহ আল-আওয়াজি
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌تقديم

أ. د. عبد الوهاب بن لطف الديلمي

تقديم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه وسلم، أما بعد:

فقد اطلعت على الأبيات التي نظمها الأخ الأستاذ عبد الله عبده العواضي، والتي اشتملت على قواعد التفسير. ولاشك أن نظم العلوم مما يسهّل الحفظ على طلاب العلم. وقد لمست في هذه الأبيات إبداعاً في النظم، وشمولاً للقواعد المذكورة، مما دلّ على أن الأخ عبد الله يتمتع بقدرة على نظم الشعر.

وأنا أرجو الله عز وجل له المزيد من التفوق في هذا الجانب وغيره من جوانب الخير. كما أرجو أن ينفع الله سبحانه بجهده هذا، مع وصيتي لطلاب العلم أن يستفيدوا من هذه المنظومة حفظاً وفهماً وتطبيقاً،

والله ولي التوفيق.

 

أ. د. عبد الوهاب بن لطف الديلمي
‌উপস্থাপনা

প্রফেসর ড. আব্দুল ওয়াহাব বিন লুৎফ আল-দাইলামি

উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবৃন্দের ওপর। অতঃপর:

আমি ভ্রাতৃপ্রতিম উস্তাদ আব্দুল্লাহ আবদু আল-আওয়াজি কর্তৃক সংকলিত পংক্তিমালাটি পাঠ করেছি, যা তাফসীরের মূলনীতিসমূহ (قواعد التفسير) অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিভিন্ন শাস্ত্রকে কাব্যছন্দে রূপান্তর করা ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য মুখস্থকরণকে সহজতর করে। আমি এই পংক্তিগুলোতে কাব্যিক সৃজনশীলতা এবং উল্লিখিত নিয়মাবলির ব্যাপকতা লক্ষ্য করেছি, যা প্রমাণ করে যে ভাই আব্দুল্লাহ কাব্য রচনায় বিশেষ পারদর্শিতা রাখেন।

আমি মহান আল্লাহর কাছে এই ক্ষেত্রে এবং কল্যাণের অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁর আরও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আমি আরও আশা করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কল্যাণ দান করবেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার অসিয়ত রইল তারা যেন এই কাব্যগাথাটি (منظومة) মুখস্থকরণ, অনুধাবন ও প্রয়োগের মাধ্যমে এর থেকে উপকৃত হয়।

আর আল্লাহই তাওফীক (توفيق) দাতা।

 

প্রফেসর ড. আব্দুল ওয়াহাব বিন লুৎফ আল-দাইলামি
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الفَقِيرُ طَالِبُ المَرَاضِي … مِنْ رَبِّهِ ابنُ عَبْدِهِ العَوَاضِي

الحَمْدُ للهِ الَّذِي قَدْ أَنْزَلا … كِتَابَهُ مُبَارَكَاً مُفَصَّلا

عَلَى النَّبِيِّ أَحْمَدٍ خَيْرِ الوَرَى … المُصْطَفَى بِالذِّكْرِ مِنْ أُمِّ القُرَى

صَلَى عَلَيْهِ رَبُّنَا وَسَلَّمَا … وَصَانَهُ وَزَانَهُ وَكَرَّمَا

أًعْطَاهُ رَبِّي آيَةَ القُرْآنِ … مُعْجِزَةً عَلَى مَدَى الأَزْمَانِ

مُنَزَّلاً بِأَفْصَحِ اللِّسَانِ … وَأَوْضَحِ البَيَانِ وَالبُرْهَانِ

فَبَهَرَ العُقُولَ فِي أُسْلُوبِهِ … وَحُسْنِ مَا يَشِعُّ مِنْ مَحْجُوبِهِ

وَهَدْيِهِ وَنَظْمِهِ البَدِيعِ … وَفَصْلِهِ وَلَفْظِهِ الرَّفِيعِ

وَالنَّاسُ لَيْسُوا مَسْتَوِي الأَفْهَامِ … في فهمِ قول الواحد العلام

فَاخْتَلَفَتْ فِي فَسْرِهِ الآرَاءُ … مِنْهَا هُدى وَبَعْضُهَا أَهْوَاءُ

وَاحْتَمَلَتْ أَلْفَاظُهُ مَعَانِي … مُخْتًلِفَاتٍ حَسَبَ المَبَانِي

فَاشْتَبَهَ الصَّحِيحُ بِالسَّقِيمِ … وَاخْتَلَطَ الكَرِيمُ بِالعَقِيمِ

وقُبِلَتْ بَعْضُ الأُمُورِ وَقْتَا … وَهْيَ تُخَالِفُ الصّوابَ حَتَّى

أَلْفَيْتُ مِنْ بَدَائِعِ التَّحْرِيرِ … قَوَاعِدَ التَّرْجِيحِ في التَّفْسِيرِ

مُؤَلَّفَ الَّشيْخِ حُسَينِ الحَرْبِي … جَزَاهُ رَبِّي بِمَزِيدِ القُرْبِ

قَدْ لَخَّصَ الصَّوَابَ فِي قَوَاعِدِ … مَنْثُورَةٍ مَصْحُوبَةِ الشَّوَاهِدِ

فَاسْتُحْسِنَتْ عِنْدِي وَبِاسْتِخَارَهْ … نَظَمْتُهَا لِتُحْفَظَ العِبَارَه

وَاللهَ أَرْجُو العَوْنَ وَالرَّشَادَا … وَالحَقَّ وَالإِخْلاصَ وَالسَّدَادَا

فَهَاكَهَا مَجْلُوَّةَ المَعَالِمِ … بَهِيَّةً مُضِيئَةَ المَبَاسِمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

অভাবী ও স্বীয় রবের সন্তুষ্টির প্রত্যাশী … ইবনে আবদিহিল আওয়াযী বলেন

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অবতীর্ণ করেছেন … তাঁর বরকতময় ও বিস্তারিত কিতাব

নবী আহমাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সৃষ্টির সেরা … উম্মুল কুরা (মক্কা) থেকে যাঁর ওপর যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে

আমাদের রব তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন … এবং তাঁকে সুরক্ষিত রাখুন, সুশোভিত করুন ও সম্মানিত করুন

আমার রব তাঁকে কুরআনের নিদর্শন দান করেছেন … যা সর্বকালের জন্য এক অলৌকিক নিদর্শন

যা সর্বাধিক প্রাঞ্জল ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে … এবং স্পষ্ট বর্ণনা ও প্রমাণের সাথে

এটি স্বীয় রচনাশৈলী দ্বারা বুদ্ধিকে অভিভূত করেছে … এবং এর রহস্য হতে বিচ্ছুরিত সৌন্দর্যের দ্বারা

এর হিদায়াত ও অপূর্ব বিন্যাসের মাধ্যমে … এবং এর অকাট্য ফায়সালা ও উচ্চাঙ্গের শব্দশৈলীর দ্বারা

এক ও সর্বজ্ঞাত রবের বাণী বোঝার ক্ষেত্রে … মানুষের প্রজ্ঞা সমান নয়

তাই এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতের সৃষ্টি হয়েছে … যার কোনটি হিদায়াত এবং কোনটি প্রবৃত্তিপ্রসূত

এর শব্দাবলি বিভিন্ন অর্থের সম্ভাবনা রাখে … যা এর ভাষাগত কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল

ফলে সঠিক (صحيح) এর সাথে ত্রুটিযুক্ত (السقيم) সংশয় সৃষ্টি করেছে … এবং মূল্যবানটি অসারটির সাথে মিশে গেছে

এমনকি কিছু বিষয় সাময়িকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে … অথচ সেগুলো সত্যের পরিপন্থী ছিল

আমি এক চমৎকার রচনা পেয়েছি … যা হলো তাফসীরের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের মূলনীতিসমূহ

শেখ হুসাইন আল-হারবীর এই কৃতি … আমার রব তাঁকে নৈকট্যের উচ্চ মর্যাদা দান করুন

তিনি সঠিক বিষয়গুলোকে কিছু মূলনীতিতে সংক্ষেপিত করেছেন … যা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা প্রমাণসহ উপস্থাপিত

এটি আমার নিকট পছন্দনীয় হয়েছে এবং ইস্তিখারার পর … আমি তা কাব্যাকারে সাজিয়েছি যেন এর বাক্যগুলো মুখস্থ থাকে

আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য ও সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করছি … এবং সত্য, ইখলাস ও অটলতা কামনা করছি

অতএব, এই সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত গ্রন্থটি গ্রহণ করুন … যা অত্যন্ত সুন্দর ও জ্যোতির্ময়।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالنص القرآني

وَالنَّسَخُ فِي القُرْآنِ لَيْسَ يُقبَلُ … إِلاَّ بِتَصْرِيحٍ صَحِيحٍ يُنقَلُ

أَوِ انتِفَاْ لِحُكْمِهَا الأَصِيلِ … وَامْتَنَعَ الجَمْعُ مَعَ المُزِيلِ(1)

وَتَحْتَهَا خَمْسٌ مِنَ القَوَاعِدِ … فِي تَاليَيْنِ عَدُّهَا وَأَنشِدِ

النَّقْلُ والَّتخْصِيصُ وَالإِضْمَارُ … وَالاشْتِرَاكُ وَالمجَازُ سَارُوا

مُغَلِّبِينَهَا عَلَى النَّسْخِ لَدَى … تَعَارُضٍ مَعْ فَرْدِهَا يَوْماً بَدَا

--------------------------------------------

(1) أي: الناسخ.
কুরআনের পাঠ সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) মূলনীতিসমূহ

কুরআনের ক্ষেত্রে রহিতকরণ (نسخ) ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নয় … যতক্ষণ না তা বর্ণিত কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) ও সুস্পষ্ট ভাষ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।

অথবা যদি এর মৌলিক বিধানটি রহিত হয়ে যায় … এবং রহিতকারীর (ناسخ) সাথে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।(১)

এর অধীনে পাঁচটি মূলনীতি রয়েছে … পরবর্তী দুটি চরণে সেগুলো গণনা করো এবং পাঠ করো।

অর্থান্তর (نقل), সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص), উহ্যকরণ (إضمار) … এবং অনেকার্থবোধকতা (اشتراك) ও রূপক (مجاز) হচ্ছে সেসব বিষয়।

কখনো যদি এগুলোর কোনো একটির সাথে বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয় … তবে তারা এগুলোকেই রহিতকরণ (نسخ)-এর ওপর প্রধান্য দিয়ে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: রহিতকারী (ناسخ)।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالقراءات ورسم المصحف

وَلَا يَجُوزُ الرَّدُّ لِلْقِرَاءَةِ … مَعَ الثُّبُوتِ عِنْدَهُمْ كَالآيَةِ

وَالاتّحِادُ غَالِبُ الخِلَافِ فِي … مَعْنَى القَرَائَتَيْنِ فَافْهَمْ وَاعْرِفِ

وَقَدِّمَنْ مَعَانِيَ التَّوَاتُرِ … عَلَى الَّتِي شَذَّتْ لَدَى التَّنَافُرِ

هَذَا إِذَا لمَ يُمْكِنِ الحَمْلُ عَلَى … تَوَاتُرٍ مُؤَلِّفٍ مَا انْفَصَلَا

وَاخْتَرْ مِنَ الإِعْرَابِ وَالتَّفْسِيرِ … فِي لُجَّةِ التَّبَايُنِ الكَثِيرِ

مَا وَافَقَ الرَّسْمَ الَّذِي أَقَامَا … عُثْمَانُ عِنْدَمَا غَدَا إِمَامَا
‌ক্বিরাআত এবং মুসহাফের লিপিরীতি (رسم) সংক্রান্ত প্রাধান্যদানের (ترجيح) নীতিমালা

বিশারদগণের নিকট ক্বিরাআত যদি আয়াতের ন্যায় প্রমাণিত (ثبوت) হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয় …

দুই ক্বিরাআতের অধিকাংশ মতভেদের ক্ষেত্রে অর্থ মূলত একই থাকে; সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন এবং জেনে রাখুন …

যখন বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) সূত্রের অর্থসমূহকে … শায বা বিরল (شاذ) সূত্রের ওপর প্রাধান্য দিন

এটি তখন প্রযোজ্য, যখন বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে সমন্বয়কারী কোনো নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) … সূত্রের মাধ্যমে সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব না হয়

মতভেদের গভীর সমুদ্রে ব্যাকরণ ও তাফসীরের মধ্য থেকে সেই বিষয়টিই বেছে নিন …

যা সেই লিপিরীতির (رسم) অনুকূলে থাকে, যা উসমান (রা.) … ইমাম হিসেবে থাকাকালে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالسياق القرآني

وَرَجَّحُوا أَن يُدْخَلَ الكَلَامُ … فِي سَابِقٍ أَوْ لَاحِقٍ وَلَامُوا

إِخْرَاجَهُ إِلاَّ بِبُرْهَانٍ أَتَى … إِلى العُدُولِ عَنْهُمَا إِنْ ثَبَتَا

لَاتَعْدِلَنْ عَنْ ظَاهِرِ القُرْآنِ … إِلَى سِوَاهُ دُونَمَا بُرْهَانِ

وَحَمْلُ قَوْلِ رَبِّنَا تَعَالَى … عَلَى الطَرِيقِ الغَالِبِ اسْتِعْمَالَا

فِي الذِّكْرِ أَوْلَى أَوْجُهِ التَّفْسِيرِ … عِنْدَ النِّزَاعِ فِي اصْطِفَا الخَطِيرِ(1)

--------------------------------------------

(1) الخطير: الرفيع
কুরআনিক প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) মূলনীতিসমূহ

বিদ্বানগণ কোনো বক্তব্যকে তার পূর্ববর্তী অথবা পরবর্তী প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন—

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ব্যতীত বক্তব্যকে প্রসঙ্গ হতে বিচ্যুত করাকে; যদি উভয় (পূর্বাপর) অংশ সুসাব্যস্ত থাকে, তবে তা থেকে বিমুখ হওয়া অনুচিত।

অকাট্য প্রমাণ ব্যতিরেকে কুরআনের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কোনো অর্থের দিকে ধাবিত হয়ো না।

আমাদের মহান রবের বাণীকে ব্যবহারের দিক থেকে সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ ধারায় গ্রহণ করাই—

কুরআনের বর্ণনায় তাফসিরের পদ্ধতিসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর; বিশেষ করে যখন কোনো মহৎ অর্থ চয়নের ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়।(১)

--------------------------------------------

(১) আল-খাতির (الخطير): সুউচ্চ বা সুমহান।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالسنة والآثار والقرائن

‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالسنة:

مَتَى وَجَدْنَا خَبَرَ الصِّحَاحِ … قَدْ نَصَّ فِي التَّفْسِيرِ وَالإِيضَاحِ

لآيَةٍ فَلَا نَحِيدُ عَنْهُ … إِلَى سِوَاهُ وَالبَيَانُ مِنْهُ

وَإِنْ يُوَافِقِ الحَدِيثُ قَوَلاْ … مِنْ بَيْنِ الاقْوَالِ يُعَدُّ الأَوْلَى

وَرُدَّ فِي التَّفْسِيرِ مَا قَدْ خاَلَفَا … قَوْلَ الكِتَابِ وَالحَدِيثِ المُقْتَفَى

كَذَا الَّذِي قَدْ بَايَنَ الإِجْمَاعَا … فَارْدُدْهُ مُطْلًقًاً تَرَ انْتِفَاعَا

وَفِي أُمُورِ الغَيْبِ إِن دَلَّ الخَبَرْ … مِنَ الكِتَابِ وَالحَدِيثِ المُعْتَبَرْ

فَفَسِّرنْ بِمَا يَجِيءُ فِيهِمَا … وَلَا تَمِلْ عِنْدَ البَيَانِ عَنْهُمَا
‌‌সুন্নাহ, আছার এবং আনুষঙ্গিক প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাধান্য নির্ণয়ের (ترجيح) মূলনীতিসমূহ

‌‌সুন্নাহর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাধান্য নির্ণয়ের (ترجيح) মূলনীতিসমূহ:

যখনই আমরা সহিহ (صحيح) কিতাবসমূহের এমন কোনো বর্ণনা পাব … যা কোনো আয়াতের তাফসির ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছে,

তবে আমরা তা থেকে বিচ্যুত হব না … অন্য কিছুর দিকে, কারণ প্রকৃত ব্যাখ্যা তা হতেই আগত।

আর যদি বিভিন্ন মতের মধ্য থেকে কোনো হাদিস একটি মতের অনুকূলে হয় … তবে সেটিই অন্যান্য মতের মাঝে অধিকতর অগ্রগণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

আর তাফসিরের ক্ষেত্রে সেই মতকে প্রত্যাখ্যান করো যা বিরোধিতা করে … আল্লাহর কিতাব এবং অনুসরণযোগ্য হাদিসের বাণীর।

অনুরূপভাবে যা ইজমার (إجماع) পরিপন্থী … তাকে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করো, এতেই তুমি কল্যাণ দেখতে পাবে।

আর অদৃশ্যের বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে যদি আল্লাহর কিতাব এবং নির্ভরযোগ্য (معتبر) হাদিস হতে … কোনো বর্ণনা দলিল হিসেবে পাওয়া যায়,

তবে সেই উভয় উৎসে যা বর্ণিত হয়েছে তা দিয়েই তাফসির করো … এবং ব্যাখ্যার সময় সেই উভয় উৎস থেকে বিচ্যুত হয়ো না।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالآثار

وَقَدِمنْ مِنْ أًوْجُهِ التَّفْسِيرِ … كُلَّ اخْتِيَارِ عَالِمٍ بَصِيرِ

مَتَى يُوَافِقْ سَبَبٌ صَرِيحُ … مَقَالَهُ وَذَلِكَ الصَّحِيحُ

ثُبُوتُ تَارِيخِ النُّزُولِ لِلسُّوَرْ … أَو آيَةٍ مِنْهَا يُعَدُّ مُعْتَبَر

مُرَجِّحاً لِكُلِ وَجْهٍ وَافَقَهْ … مِن أَوْجُهِ التَّفْسِيرِ لَا مَا فَارَقَهْ

وَالفَهْمُ وَالتَّفْسِيرُ عَمَّنْ قَدْ سَلَفْ … مُقَدَّمٌ عَلَى تَفَاسِيرِ الخَلَفْ

كَذَلِكَ التَّفْسِيرُ عَنْ جُمُهُورِهِمْ … عَلَى الَّذِي يَشُذُّ مِنْ مَأْثُورِهِم
আছার (الآثار) সংশ্লিষ্ট প্রাধান্য প্রদানের (الترجيح) নিয়মাবলি

তাফসিরের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য থেকে অগ্রগণ্য করো … প্রত্যেক দূরদর্শী আলেমের চয়নকে।

যখন কোনো স্পষ্ট কারণ তার বক্তব্যের সাথে মিলে যায় … তবে সেটিই বিশুদ্ধ (صحيح)।

সুরাসমূহের অবতরণের সময়কাল সাব্যস্ত হওয়া … অথবা আয়াতের অবতরণকাল, গ্রহণযোগ্য (معتبر) বলে গণ্য হয়।

তাফসিরের সেই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য এটি প্রাধান্যদানকারী (مرجح) হিসেবে কাজ করে যা এর অনুকূলে থাকে … তার জন্য নয় যা এর প্রতিকূলে থাকে।

পূর্বসূরিদের (سلف) পক্ষ থেকে আগত অনুধাবন ও তাফসির … উত্তরসূরিদের (خلف) তাফসিরের ওপর অগ্রগণ্য।

অনুরূপভাবে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) তাফসিরকে অগ্রাধিকার দাও … তাদের বর্ণিত বর্ণনার মধ্য থেকে যা বিচ্ছিন্ন (شاذ) তার ওপর।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالقرائن

وَالقَوْلُ إِنْ قَرَائِنُ السِّيَاقِ … حَفَّتْ بَهِ رُجِّحَ بِاتِفَاقِ

وَقَدِمنْهُ إِنْ أَتَتْ آيَاتُ … تَعْضُدُهُ فَهُنَّ مُوضِحَاتُ

وَكُلُّ قَوْلٍ عَظَّمَ النُّبُوَّهْ … وَلمَ يَهِضْ مِنْ مُرْسَلٍ عُلُوَّهْ

فَهْوَ الحَرِيُّ فِي بَيَانِ الآيَةِ … مِنْ كُلِّ قَوْلٍ لمَ يَلِقْ بِالقُدْوَةِ

وَأَيُّ قَوْلٍ طَاعِنٍ فِي العِصْمةِ … يُرَدُّ قَطْعاً بِاتِّفَاقِ الأُمَّةِ
‌‌প্রাসঙ্গিক আলামত সংক্রান্ত অগ্রাধিকারের মূলনীতিসমূহ

কোনো বক্তব্য যদি প্রেক্ষাপট বা প্রাসঙ্গিক আলামত (قرائن السياق) দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, তবে ঐকমত্যের (اتفاق) ভিত্তিতে তা-ই অগ্রগণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

আর সেটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করুন যদি এমন আয়াতসমূহ বিদ্যমান থাকে যা সেটিকে শক্তিশালী করে, কারণ সেগুলো হচ্ছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী।

এবং প্রতিটি সেই বক্তব্য যা নবুয়তকে মহিমান্বিত করে এবং প্রেরিত রসূলের (مرسل) সুউচ্চ মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না—

আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে সেটিই অন্য সকল বক্তব্যের চেয়ে অধিক উপযুক্ত, যা আদর্শ পুরুষের (রাসূলের) মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

আর নিষ্পাপতা বা ইসমতের (عصمة) বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারী যে কোনো বক্তব্য উম্মাহর ঐকমত্যের (اتفاق) ভিত্তিতে সুনিশ্চিতভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بلغة العرب

قواعد الترجيح المتعلقة باستعمال العرب للألفاظ والمباني

وَاحْكُمْ بِرَدِّ كُلِّ قَوْلٍ قَدْ أَتْى … مِنَ التَّفَاسِيرِ لَدَيْهُمُ مَتَى

لَمْ يَأْخُذِ الفَسْرَ مِنَ الدّلاِلَةِ … أَوِ السِّيَاقِ مِن مَبَاني الآيَةِ

وَلَيْسَ كُلُّ مَا أَتَى فِي اللُّغَةِ … يَصِحُّ تَفْسِيراً لِكُلِّ جُمْلَةِ

وَحَمْلُ قَوْلِ اللهِ فِيهِ يَجِبُ … عَلَى الَّذِي تَعْرِفُ مِنْهُ العَرَبُ

دُونَ الضَّعِيفِ أَوْ شُذُوذٍ وُجِدَا … أَوْ مُنكَرٍ عَنِ الثِّقَاتِ وَرَدَا(1)

وَأرْبَعٌ تُحَيْتَ هَذِي القَاعِدَهْ … لكل ما قَدْ جَاءَ فِيهَا عَاضِدَهْ

فَالقَوْلُ إِنْ دَلَّ عَلَى الإِضْمَارِ … أَوِ زَائِدٍ فَأَوَّلٌ وَجَارِ

بَيْنَ اشتِرَاكٍ أوْ مَجَازٍ قُدِّمَا … - عِندَ اخْتِلافِهِمْ- مَجَازٌ مِنْهُمَا

وَالحُكْمُ أَيْضاً لِلمَجَازِ عِندَمَا … يُرَى مَعَ الإِضْمَارِ فَاعْلَمَنْهُمَا

أَوِ اخْتِلافٌ مَعَهُ تَقْدِيرُ … رُجِّحَ مِن بَيْنِهِمَا الأَخِيرُ

وَفَرَضُوا حَمْلَ نُصُوصِ الشَّرْعِ … عَلَى الحَقِيقَة لأَصْلِ الوَضْعِ

وَتَحْتَهَا التَّخْصِيصُ سَابِقٌ عَلَى … قَصْدِ المَجَازِ هَكَذَا تَحصَّلَا

وَاللُّغَوِيَّةُ مِنَ الحَقَائِقِ … تَغْلِبُهَا حَقِيقَةُ الشَّرْعِ النَّقِي

عِندَ الِخلَافِ دُونَمَا دَلِيلِ … لِوَاحِدٍ يَكُونُ فِي التَّأوِيلِ

وَقَدِّمَنْ عَلَى التِّي قَدْ أُخِّرَتْ … قَبْلُ الَّتِي لِلعُرْفِ عَنْهُمْ نُسِبتْ

وَذَاكَ حِينَ يَنْتَفِي البُرْهَانُ … مُعَيِّناً إِحْدَاهُمَا وَالشَاْنُ

إِن لَمْ يَصِحْ حَمْلٌ عَلَى الشَّرعِيَّهْ … لِصَارِفٍ أَوْ كَوْنِهَا مَنفِيَّهْ

وَرَجِّحَنَّ القَوْلَ بِاسْتِقْلَالِ … عَلَى ذَوِي التَّقْدِيرِ لاكْتِمَالِ

إِلاَّ إِذَا دَلَّ دَلِيلٌ بَيِّنُ … فَالحَذْفُ لَكِن يُعْرَفُ المُعَيَّنُ

بِعِلْمِ جُمْلَةٍ مِنَ القَوَاعِدِ … مُوْصِلَةٍ إِلى المَقَالِ الرَّاشِدِ

فَكُلُّ حَذْفٍ فِي الكِتَابِ يَظْهَرُ … أَوْلَى بِهِ مِن كُلِّ مَا يُقَدَّرُ

وَإِنْ خَفِيْ فَغَرَضُ الآيَاتِ … وَسُبُل الشَّرْعِ تُرَى الجِهَاتِ

وَالحَمْلُ لِلقَلِيلِ مِن مُقَدَّرِ … أَوْلَى مِن المُقَدَّرِ المُسْتَكْثَرِ

وَالقَوْلُ بِالتَّرْتَيِبِ وَالتَّقْوِيمِ … أَوْلَى مِن التَّأخِيرِ وَالتَّقْدِيمِ

لَا تَحْمِلِ الآي عَلَى القَلْبِ إِذَا … صَحَّتْ بِدُونِ القَلْبِ يَوْماً مَأْخَذَا

وَالقَوْلُ بِالتَّأْسِيسِ صاحِ أَوْلَى … مِمّنْ رَأَى التَّوْكِيدَ حَقّاً قولا

وَحَمْلُهَا عَلَى تَبَايُنٍ يَفِي … أَرْجَحُ عِندَهُمْ مِنَ التَّرَادُفِ

وَالقَوْلُ بِالتَّأْصِيلِ غَالِبٌ عَلَى … قَوْلِ الزِّيَادَةِ لأَصْلٍ اعْتَلَى

وَقَدِّمِ الحَمْلَ عَلَى الإِفْرَادِ … مَعَ اشْتِرَاكٍ كَانَ بِاطِّرَادِ

وَتَحْتَ هَذِي أَرْبَعٌ يُؤَخَّرُ … فِيهَا اشْتِرَاكٌ فَي زَمَانٍ يُذْكَرُ

تَوَاطُؤٌ وَالنَّقْلُ تَخْصِيصٌ كَذَا … إِضْمَارُهُمْ عِندَ انفِرَادٍ كَانَ ذَا

وَالقَوْلُ إِنْ أَيَّدَهُ اشْتِقَاقُ … أَوْ التَّصَارِيفُ لَهُ اسْتِحْقَاقُ

وَأَوْجَبُوا حَمْلَ نُصُوصِ الشَّرْعِ … عَلَى عُمُومٍ وَاحْكُمَنْ بِالمَنْعِ

إِنْ جَاءَهُ التَّخْصِيصُ يَنْفِي حُكْمَهُ … فَعِنْدَ ذَاكَ أَبْطِلَنْ مَا عمَّهُ

وَالاعْتِبَارُ بِعُمُومِ اللَّفْظِ … لَا بِخُصُوصِ سَبَبٍ بِهِ اقْضِ

وَاحْمِلْ عَلَى الإِطْلَاقِ لَفْظَ المُنْزَلِ … إِلَى وُرُودِ قَيْدِ ذَا المُسْتَرْسِلِ

وَالأَصُلُ فِي الأَمْرِ الوُجُوبُ ثُمَّ فِي … نَهْيٍ حَرَامٌ إِنْ خَلَا مِنْ صَارِفِ

--------------------------------------------

(1) أي: ورد إنكاره عنهم.
আরবি ভাষা সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের নীতিসমূহ

আরবি শব্দ ও গঠনরীতির ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের নীতিসমূহ

আর তুমি প্রতিটি ব্যাখ্যার বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যানের ফয়সালা করো যখন … তাদের নিকট সেই ব্যাখ্যাসমূহ

আয়াতের গঠনরীতি থেকে শাব্দিক নির্দেশ … অথবা প্রেক্ষাপট (সিয়াক) গ্রহণ না করে

আর ভাষায় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবকিছুই … প্রতিটি বাক্যের ব্যাখ্যা হিসেবে সঠিক হওয়া সঙ্গত নয়

আল্লাহর কালামকে সেই অর্থের ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব … যা আরবরা তার থেকে বুঝে থাকে

দুর্বল (ضعيف) কিংবা বিচ্ছিন্ন (شذوذ) কোনো কিছু অথবা … নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) বিপরীতে বর্ণিত কোনো প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয় ব্যতীত(১)

আর এই মূলনীতির অধীনে চারটি বিষয় রয়েছে … যা এতে বর্ণিত সবকিছুর জন্য সহায়ক

সুতরাং কোনো বক্তব্য যদি ঊহ্যতা (إضمار) … অথবা আধিক্যের (زائد) ওপর প্রমাণ পেশ করে, তবে প্রথমটিই অগ্রগণ্য ও কার্যকর

যখন তাদের মাঝে মতবিরোধ হয়, তখন দ্ব্যর্থকতা (اشتراك) ও রূপক (مجاز)-এর মাঝে … রূপককে (مجاز) প্রাধান্য দেওয়া হবে

আর রূপক (مجاز)-এর বিধান তখনও প্রযোজ্য হবে যখন … তা ঊহ্যতা (إضمار)-এর সাথে দেখা যাবে, উভয়টি জেনে রাখো

অথবা যদি তার সাথে কোনো অনুমিত অর্থের (تقدير) মতভেদ থাকে … তবে তাদের মাঝে শেষেরটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে

তারা শরয়ি নসসমূহকে তার মূল আভিধানিক অবস্থানের কারণে … প্রকৃত (حقيقة) অর্থের ওপর প্রয়োগ করাকে আবশ্যক করেছেন

এর অধীনে বিশেষায়ন (تخصيص), রূপক (مجاز) অর্থের … উদ্দেশ্যের চেয়ে অগ্রগণ্য, এভাবেই তা সাব্যস্ত হয়েছে

আর ভাষাগত প্রকৃত (حقيقة) অর্থের ওপর … বিশুদ্ধ শরয়ি প্রকৃত (حقيقة) অর্থ প্রবল হবে

যখন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো একটির স্বপক্ষে … দলিল ব্যতীত মতভেদ দেখা দেয়

আর যা পরে এসেছে তার ওপর সেটিকে প্রাধান্য দাও … যা তাদের নিকট প্রথা বা পরিভাষার (عرف) দিকে সম্বন্ধযুক্ত

আর তা তখনই যখন কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার জন্য … কোনো প্রমাণ অনুপস্থিত থাকে, আর বিষয়টি এমনই

যদি কোনো প্রভাবক (সারিফ) অথবা অস্বীকৃতির কারণে … শরয়ি অর্থের ওপর প্রয়োগ করা সঠিক না হয়

এবং তুমি পূর্ণতার কারণে অনুমিত অর্থের (تقدير) বক্তব্যের চেয়ে … স্বয়ংসম্পূর্ণ (استقلال) বক্তব্যকে প্রাধান্য দাও

তবে যদি স্পষ্ট দলিল পাওয়া যায় … তবে উহ্যকরণ (حذف) হবে কিন্তু তার নির্দিষ্টকারী জানা থাকতে হবে

একগুচ্ছ মূলনীতি জানার মাধ্যমে … যা সঠিক বক্তব্যের দিকে পৌঁছে দেয়

কিতাবুল্লাহ-তে যে সকল উহ্যকরণ (حذف) প্রকাশ পায় … তা সকল অনুমিত (مقادر) বিষয়ের চেয়ে অগ্রগণ্য

আর যদি তা অস্পষ্ট হয়, তবে আয়াতের উদ্দেশ্য … এবং শরয়ি পথসমূহ তার দিকনির্দেশনা দেখাবে

অল্প অনুমিত (مقادر) বিষয়কে গ্রহণ করা … অধিক অনুমিত বিষয়ের চেয়ে উত্তম

ক্রমধারা ও যথাস্থানে রাখার বক্তব্যটি … শব্দকে আগে-পাছে (তাকদিম ও তা’খির) করার চেয়ে উত্তম

আয়াতকে ওলটপালট (ক্বলব) অর্থের ওপর প্রয়োগ করো না যদি … তা ওলটপালট ছাড়াই সঠিক অর্থের দিকনির্দেশনা দেয়

হে বন্ধু! নতুন অর্থ প্রদানকারী (تأسيس) বক্তব্যটি … তাকিদ (توكيد) প্রদানকারী প্রবক্তার চেয়ে উত্তম

ভিন্নার্থকতার (تباين) ওপর প্রয়োগ করা তাদের নিকট … সমার্থকতার (ترادف) চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য

মূল অর্থায়ন (تأصيل) সংক্রান্ত বক্তব্যটি … অতিরিক্ত (زيادة) হওয়ার বক্তব্যের ওপর প্রবল হবে

এবং দ্ব্যর্থকতার (اشتراك) পাশাপাশি একার্থবোধক (إفراد) … হওয়াকে ধারাবাহিকভাবে প্রাধান্য দাও

এর অধীনে চারটি বিষয় রয়েছে যা উল্লিখিত সময়ে … দ্ব্যর্থকতার (اشتراك) চেয়ে বিলম্বে বিবেচিত হয়

তা হলো: সাধারণ অর্থবোধকতা (تواطؤ), অর্থান্তর (نقل), বিশেষায়ন (تخصيص) … এবং একার্থবোধক হওয়ার সময় তাদের ঊহ্যতা (إضمار)

আর যে বক্তব্যকে শব্দমূল (اشتقاق) অথবা … রূপান্তর (تصاريف) সমর্থন করে, তাই গ্রহণযোগ্যতার যোগ্য

তারা শরয়ি নসসমূহকে ব্যাপকতার (عموم) ওপর প্রয়োগ করাকে … আবশ্যক করেছেন এবং এর বিপরীতে বিধান দেওয়াকে নিষিদ্ধ করেছেন

যদি এমন বিশেষায়ন (تخصيص) আসে যা তার বিধানকে নাকচ করে … তবে তখন তার ব্যাপকতাকে বাতিল গণ্য করো

আর ফয়সালা প্রদানের ক্ষেত্রে শব্দের ব্যাপকতার (عموم) ওপর … নির্ভর করতে হবে, কারণের বিশেষত্বের (خصوص) ওপর নয়

অবতীর্ণ শব্দের ওপর নিঃশর্ত (إطلاق) অর্থ প্রয়োগ করো … যতক্ষণ না সেই মুক্ত অর্থের ওপর কোনো শর্ত (قيد) আরোপিত হয়

আর আদেশের ক্ষেত্রে মূল হলো ওয়াজিব (وجوب) হওয়া এবং … নিষেদের ক্ষেত্রে হারাম (حرام) হওয়া, যদি কোনো পরিবর্তনকারী না থাকে

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তাদের পক্ষ থেকে এর অস্বীকৃতি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بمرجع الضمير

مَتَى يَجُزْ حَمْلُ الضَّمِيرِ المُسْتَتِرْ … عَلَى سِوَى الشَّأْنِ بِذَاكَ فَاعْتَبِرْ

وَلَا نَصِيرُ مُعْمِلِينَ الشَّاْنَا … إلاَّ لِعَجْزٍ عَنْ سِوَاهُ كَانَا

إِعَادَةُ الضَّمِيرِ للَّذِي ذُكِرْ … أوْلَى مِنَ العَوْدِ لِمَقْدُورٍ شُعِرْ

وَمِثْلُهُ لِمَا الحَدِيثُ عَنْهُ … أَوْلَى مِنَ البَعِيدِ فَاحْفَظَنْهُ

وَفِي اتَّحَادِ مَرْجِعِ الضَّمَائِرِ … رَجِّحْ عَلَى اعْتِمَادِ قَوْلٍ نَاشِرِ

عِنْدَ الخِلَافِ لَكِنِ الإِلْزَامُ … بِهَا لَدَى الوِفَاقِ لَا يُقَامُ

وَرَدُّهُ لأَقْرَبٍ مِمَّا ذُكِرْ … أَصلٌ عَدَا إنْ جَاءَ أَصْلٌ لمَ يُقِر

هَذَا إذَا لَمْ تأْتِهَا مُنَازِعهْ(1) … فَإِنْ أَتَتْ فُصِلَتِ المُنَازَعَه

بِعِلْمِ عِدَّةٍ مِنَ الفَوَائِدِ … ضَابِطةٍ تَنَازُعَ القَوَاعِدِ

ذَكَرَهَا مُصَنِّفُ الكِتَابِ … مُمَهِّداً قَبْلَ وُلُوجِ البَابِ

--------------------------------------------

(1) أي: قاعدة تنازعها.
সর্বনামের নির্দেশক সংক্রান্ত প্রাধিকারের নীতিসমূহ

যখনই উহ্য সর্বনামকে (الضمير المستتر) … ‘শান’ (الشأن) ব্যতীত অন্য বিষয়ের দিকে ফেরানো সম্ভব হয়, তবে সেভাবেই বিবেচনা করো।

আর আমরা সর্বনামকে ‘শান’ (الشأن) হিসেবে গ্রহণ করি না … যতক্ষণ না তা অন্য কোনো প্রসঙ্গের দিকে ফেরানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সর্বনামকে উল্লিখিত বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে আনা … অনুমিত বা উহ্য (مقدور) বিষয়ের দিকে ফেরানোর চেয়ে অগ্রগণ্য।

অনুরূপভাবে, যার সম্পর্কে আলোচনা চলছে তার দিকে সর্বনাম ফেরানো … দূরবর্তী বিষয়ের দিকে ফেরানোর চেয়ে উত্তম; সুতরাং এটি স্মরণে রেখো।

সর্বনামসমূহের নির্দেশক অভিন্ন রাখার বিষয়টিকে … বিচ্ছিন্ন বা ভিন্ন ভিন্ন করার মতের ওপর প্রাধান্য দাও।

মতভেদের সময় এটিই নিয়ম, তবে ঐকমত্যের (الوفاق) ক্ষেত্রে … এই বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয় না।

আর সর্বনামকে উল্লিখিত প্রসঙ্গের নিকটতম বিষয়ের দিকে ফেরানোই … মূল নীতি (أصل), যদি না এমন কোনো ভিন্ন মূল নীতি আসে যা একে সমর্থন করে না।

এটি ততক্ষণ পর্যন্ত যখন কোনো বিরোধী বিষয় (منازعة) না থাকে … যদি তা চলে আসে, তবে সেই বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে—

কতিপয় উপকারী বিষয়ের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে … যা নীতিসমূহের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনে (تنازع) সহায়ক।

গ্রন্থের লেখক এগুলো উল্লেখ করেছেন … মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে ভূমিকা হিসেবে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: এমন কোনো মূলনীতি যা এর সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত।
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌قواعد الترجيح المتعلقة بالإعراب

وَاخْتَرْ مِنَ الإِعْرَابِ كُلَّ لَائِقِ … مِنَ الوُجُوهِ بِالكِتَابِ السَّامِقِ

مُوَافِقاً أَدِلَّةَ الشَّرْعِ الجَلِي … منْ كُلِّ وَجْهٍ جَانَبَ العُرْفَ العَلِي

وَأَوْجَبُوا الحَمْلَ عَلَى القَوِيِّ … وَوَاضِحٍ مِنْ أَوْجِهِ النَّحْوِيِّ

دُونَ الضَّعِيفِ وَالغَرِيبِ النَّادِرِ … وَالشَّاذِ عِنْدَ مُعْظَمِ المشَاهِرِ
ইরাব বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ সংশ্লিষ্ট প্রাধান্য প্রদানের নীতিমালা

ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের মধ্য হতে প্রতিটি উপযুক্ত দিক বেছে নিন … যা সুউচ্চ কিতাবের (কুরআনের) জন্য মানানসই

সুস্পষ্ট শরয়ি দলিলের অনুকূল হয়ে … এমন প্রতিটি দিক হতে যা উচ্চাঙ্গের ভাষাগত রীতিকে পরিহার করে না

আর তাঁরা শক্তিশালী (القوي) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করা আবশ্যক করেছেন … এবং যা ব্যাকরণবিদদের অভিমতসমূহের মধ্যে সুস্পষ্ট

দুর্বল (الضعيف) এবং বিরল (الغريب) ও দুর্লভ বিষয় ব্যতিরেকে … যা অধিকাংশ প্রসিদ্ধ আলেমদের নিকট ব্যতিক্রমধর্মী (الشاذ)
(খণ্ড: ১) উকূদুল জাওহারিছ ছামীন নাযমু কাওয়াইদিত তারজীহি ইনদাল মুফাসসিরীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الخاتمة

وَالحَمْدُ للهِ الَّذِي تَفَضَّلا … بِعَوْنِهِ فِي البَدْءِ ثُمَّ أَجْزَلا

عَطَاءَهُ حَتَّى وَصَلْتُ الخَاتِمَهْ … فَسَائِلاً بِالنَّظْمِ(1) حُسْنَ الخِاتِمَهْ

ثُمَّ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ دَائِمَا … عَلَى الَّذِي لِلرُسْلِ جَاءَ خَاتِمَا

مُحَمَّدٍ وَالآلِ وَالصَّحْبِ الأُلَى … قَدْ شُرِّفُوا بَيْنَ الوَرَى وَمَنْ تَلَا

 

ذو الحجة 1429 هـ.

--------------------------------------------

(1) النظم عمل صالح؛ فيجوز التوسل به.
‌‌উপসংহার

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি অনুগ্রহ করেছেন … শুরুতে তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে, অতঃপর তিনি প্রচুর দান করেছেন

তাঁর দান (অব্যাহত ছিল) যতক্ষণ না আমি সমাপ্তিতে পৌঁছেছি … অতঃপর এই কাব্যের (نظم)(১) মাধ্যমে আমি উত্তম পরিণতির প্রার্থনা করছি

অতঃপর দরুদ ও সালাম সর্বদা বর্ষিত হোক … তাঁর ওপর যিনি রাসূলগণের সমাপ্তি হিসেবে আগমন করেছেন

মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সেই অগ্রবর্তী সাহাবীগণের ওপর … যারা সৃষ্টির মাঝে সম্মানিত হয়েছেন এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন

 

জিলহজ ১৪২৯ হিজরি।

--------------------------------------------

(১) কাব্য (نظم) রচনা একটি নেক আমল; সুতরাং এর মাধ্যমে উসিলা (توسل) গ্রহণ করা বৈধ।