(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: -)
الكسب - بشرح السرخسي - ت زكار   (شمس الأئمة السرخسي - محمد بن الحسن الشيباني)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: الكسب (بشرح شمس الأئمة السرخسي)

مؤلف الأصل: محمد بن الحسن الشيباني

مؤلف الشرح: شمس الأئمة السرخسي

حققه قدم له: د. سهيل زكار

الناشر: عبد الهادي حرصوني - دمشق

الطبعة: الأولى، 1400 هـ - 1980 م

عدد الصفحات: 123

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কাসব (উপার্জন) - আস-সারখাসীর ব্যাখ্যাসহ - যাক্কারের তাহকীক   (শামসুল আইম্মা আস-সারখাসী - মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


কিতাব: আল-কাসব (উপার্জন) (শামসুল আইম্মা আস-সারখাসীর ব্যাখ্যাসহ)

মূল লেখক: মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী

ব্যাখ্যাকার: শামসুল আইম্মা আস-সারখাসী

সম্পাদনা ও ভূমিকা: ড. সুহাইল যাক্কার

প্রকাশক: আব্দুল হাদী হারসূনী - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০০ হিজরী - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين، وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ. قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْأَجَل الزَّاهِد، شمس الْأَئِمَّة، وفخر الْإِسْلَام أَبُو بكر مُحَمَّد بن أبي سهل السَّرخسِيّ - إملاء رحمه الله: وَإِذ قد أجبتكم إِلَى مَا سَأَلْتُمُونِي من إملاء شرح الْمُخْتَصر على حسب الطَّاقَة وَقدر الفاقه، بالآثار الْمَشْهُورَة والاشارات الْمَذْكُورَة فِي تصنيفات مُحَمَّد بن الْحسن رحمه الله، لإِظْهَار وَجه التَّأْثِير وَبَيَان طَرِيق التَّصْوِير، رَأَيْت أَن الْحق بِهِ إملاء شرح " كتاب الْكسْب " الَّذِي يرويهِ مُحَمَّد بن سَمَاعه عَن مُحَمَّد بن الْحسن رحمه الله، وَهُوَ من جملَة تصنيفاته، إِلَّا أَنه لم يشْتَهر لِأَنَّهُ لم يسمع رحمه الله، وَهُوَ من جملَة تصنيفاته، إِلَّا أَنه لم يشْتَهر لِأَنَّهُ لم يسمع [1 - و] مِنْهُ ذَلِك أَبُو حَفْص وَلَا أَبُو سُلَيْمَان رحمهمَا الله، وَلِهَذَا لم يذكرهُ الْحَاكِم رحمه الله فِي الْمُخْتَصر، وَفِيه من الْعُلُوم مَا لَا يسع جهلها،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সহচরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। মহান ইমাম, মর্যাদাবান ও দুনিয়াবিমুখ শাইখ, আইম্মাহদের সূর্য এবং ইসলামের গৌরব আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবি সাহল আস-সারাহসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মুখে বলে লিখিয়েছেন: যেহেতু আপনারা আমার কাছে যা চেয়েছিলেন—সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী সেই 'মুখতাসার'-এর ব্যাখ্যা মুখে বলে লিখিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে—আমি আপনাদের ডাকে সাড়া দিয়েছি; যা মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর সংকলনসমূহে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা এবং ইঙ্গিতসমূহের মাধ্যমে করা হয়েছে, যাতে প্রভাবের দিকসমূহ প্রকাশিত হয় এবং রূপায়ণের পদ্ধতি বর্ণিত হয়; তাই আমি এর সাথে 'কিতাবুল কাসব' (উপার্জন সংক্রান্ত গ্রন্থ)-এর ব্যাখ্যাও মুখে বলে লিখিয়ে সংযুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি, যা মুহাম্মদ ইবনে সামা'আ, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর সংকলনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে তা তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করেনি কারণ আবু হাফস এবং আবু সুলাইমান (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) তাঁর থেকে তা শ্রবণ করেননি। আর এ কারণেই হাকিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একে 'মুখতাসার'-এ উল্লেখ করেননি, অথচ এতে এমন জ্ঞান রয়েছে যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কারো জন্য সংগত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَلَا تخلف عَن علمهَا، وَلَو لم يكن فِيهِ إِلَّا حث المقتبسين على مُشَاركَة المكتسبين فِي الْكسْب لأَنْفُسِهِمْ، والتناول من كد يديهم لَكَانَ يحِق على كل أحد إِظْهَار هَذَا النَّوْع من الْعلم.

وَقد كَانَ شَيخنَا الإِمَام رحمه الله بَين بعض ذَلِك على طَرِيق الْآثَار فَنَذْكُر مَا ذَكرْنَاهُ تبركا بالمسموع مِنْهُ، ونلحق بِهِ مَا تكلم فِيهِ أهل الْأُصُول رحمهم الله، وَمَا يجود بِهِ الخاطر من الْمعَانِي والإشارات.
এবং তা জানা থেকে বিমুখ হওয়া উচিত নয়। যদি এতে জ্ঞানান্বেষণকারীদেরকে নিজেদের জন্য উপার্জনে উপার্জনকারীদের সাথে অংশ নিতে এবং নিজ হাতের শ্রম থেকে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবুও এই প্রকারের জ্ঞান প্রকাশ করা প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হতো।

আমাদের শায়খ ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আছার বা বর্ণিত ঐতিহ্যের পদ্ধতিতে এর কিছুটা স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং তাঁর নিকট থেকে যা শ্রুত হয়েছে তা থেকে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তা উল্লেখ করছি। এর সাথে আমরা উসূলবিদগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা আলোচনা করেছেন এবং মনে যে সকল অর্থ ও ইঙ্গিত উদিত হয়, তা যুক্ত করব।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ১)
الْكسْب مُحَمَّد بن الْحسن الشَّيْبَانِيّ
আল-কাসব (উপার্জন): মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩২)
بَاب

 

الِاكْتِسَاب فِي عرف أهل اللِّسَان تَحْصِيل المَال بِمَا يحل من الْأَسْبَاب وَاللَّفْظ فِي الْحَقِيقَة يسْتَعْمل فِي كل بَاب وَقد قَالَ الله تَعَالَى {أَنْفقُوا من طَيّبَات مَا كسبتم} وَقَالَ عز وجل {وَمَا أَصَابَكُم من مُصِيبَة فبمَا كسبت أَيْدِيكُم} أَي بجنايتكم على أَنفسكُم فقد سمى جِنَايَة الْمَرْء على نَفسه كسبا وَقَالَ جلّ وَعلا فِي آيَة السّرقَة {جَزَاء بِمَا كسبا} أَي باشرا من ارْتِكَاب الْمَحْظُور فَعرفنَا أَن اللَّفْظ مُسْتَعْمل فِي كل بَاب وَلَكِن عِنْد الاطلاق يفهم مِنْهُ اكْتِسَاب المَال

ثمَّ بَدَأَ مُحَمَّد رحمه الله الْكتاب بقوله طلب الْكسْب فَرِيضَة على كل مُسلم كَمَا أَن طلب الْعلم فَرِيضَة وَبِهَذَا اللَّفْظ يرويهِ ابْن مَسْعُود رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم = أَنه قَالَ طلب الْكسْب فَرِيضَة على
পরিচ্ছেদ

 

ভাষাবিদদের পরিভাষায় উপার্জন (আল-ইক্তিসাব) হলো বৈধ উপায়ে সম্পদ লাভ করা। মূলত শব্দটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, {তোমরা যা উপার্জন করেছ তার উৎকৃষ্ট অংশ থেকে ব্যয় করো}। এবং মহাপরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহ বলেছেন, {তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ আপতিত হয়, তা তোমাদের হাত যা উপার্জন করেছে তারই ফল}। অর্থাৎ, তোমাদের নিজেদের প্রতি করা অপরাধের কারণে। এখানে তিনি মানুষের নিজের ওপর করা অপরাধকেও ‘উপার্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এবং মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ চুরির আয়াতে বলেছেন, {তারা যা উপার্জন করেছে তার বিনিময় স্বরূপ}। অর্থাৎ, তারা যে নিষিদ্ধ কাজ করেছে তার জন্য। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, শব্দটি প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে সাধারণ ব্যবহারের সময় তা দ্বারা সম্পদ উপার্জনই বোঝা যায়।

অতঃপর মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই কথা দিয়ে গ্রন্থটি শুরু করেছেন যে, "উপার্জন অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ, যেমন জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ।" এই শব্দেই ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "উপার্জন অন্বেষণ করা ফরজ..."
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لى كل مُسلم وَفِي رِوَايَة قَالَ طلب الْكسْب بعد الصَّلَاة الْمَكْتُوبَة الْفَرِيضَة بعد الْفَرِيضَة وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم طلب الْحَلَال كمقارعة الْأَبْطَال وَمن بَات نَاوِيا من طلب الْحَلَال بَات مغفورا لَهُ وَقد كَانَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه يقدم دَرَجَة الْكسْب على دَرَجَة الْجِهَاد فَيَقُول لِأَن أَمُوت بَين شُعْبَتَيْ رحلي أضْرب فِي الأَرْض أَبْتَغِي من فضل الله أحب إِلَيّ من أَن أقتل مُجَاهدًا فِي سَبِيل الله لِأَن الله تَعَالَى قدم الَّذين يضْربُونَ فِي الأَرْض يَبْتَغُونَ من فَضله على الْمُجَاهدين بقوله تَعَالَى {وَآخَرُونَ يضْربُونَ فِي الأَرْض} وَفِي الحَدِيث أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صَافح سعد بن معَاذ رضي الله عنه يَوْمًا فَإِذا يَدَاهُ أكنبتا فَسَأَلَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن ذَلِك فَقَالَ أضْرب بالمر والمسحاة فِي نخيلي لأنفق على عيالي فَقبل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَده وَقَالَ كنان يحبهما الله تَعَالَى وَفِي هَذَا بَيَان أَن الْمَرْء باكتساب مَالا بُد لَهُ ينَال من الدرجَة

প্রত্যেক মুসলমানের ওপর। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: নির্ধারিত ফরয সালাতের পর উপার্জনের অন্বেষণ করা ফরযের পর আরেকটি ফরয। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হালাল অন্বেষণ করা বীরদের সাথে লড়াই করার সমতুল্য। যে ব্যক্তি হালাল অন্বেষণের নিয়ত নিয়ে রাত কাটায়, সে ক্ষমা প্রাপ্ত অবস্থায় রাত কাটায়। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উপার্জনের মর্যাদাকে জিহাদের মর্যাদার ওপর স্থান দিতেন এবং বলতেন: আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণে জমিনে বিচরণরত অবস্থায় আমার সওয়ারির দুই পার্শ্বদেশের মাঝখানে আমার মৃত্যু হওয়া, আল্লাহর পথে মুজাহিদ হিসেবে শহীদ হওয়ার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে যারা আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণে জমিনে বিচরণ করে তাদেরকে মুজাহিদদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন: “এবং অন্যরা আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণে জমিনে বিচরণ করে।” হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সাদ ইবনে মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে করমর্দন করলেন এবং দেখলেন যে তার হাত দুটি কড়া পড়ে খসখসে হয়ে গেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি আমার খেজুর বাগানে কোদাল ও বেলচা দিয়ে কাজ করি যাতে আমার পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাতে চুমু খেলেন এবং বললেন: এই দুটি হাত আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, মানুষ তার প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ উপার্জনের মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে।

(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أَعْلَاهَا وَإِنَّمَا ينَال ذَلِك بِإِقَامَة الْفَرِيضَة وَلِأَنَّهُ لايتوصل إِلَى إِقَامَة الْفَرْض إِلَّا بِهِ فَيكون فرضا بِمَنْزِلَة الطَّهَارَة لأَدَاء الصَّلَاة

‌‌وَبَيَانه من وُجُوه

 

أَحدهَا أَن يُمكنهُ من أَدَاء الْفَرَائِض بِقُوَّة بدنه وَإِنَّمَا يحصل لَهُ ذَلِك بالقوت عَادَة ولتحصيل الْقُوت طرق الِاكْتِسَاب أَو التغالب أَو الانتهاب وبالانتهاب يسْتَوْجب الْعقَاب وَفِي التغالب فَسَاد وَالله لَا يحب الْفساد فَتعين جِهَة الِاكْتِسَاب لتَحْصِيل الْقُوت وَقد قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نفس الْمُؤمن مطيته فاليحسن إِلَيْهَا يَعْنِي الاحسان بِأَن لايمنعها قدر الْكِفَايَة وَإِنَّمَا يتَوَصَّل إِلَى ذَلِك بِالْكَسْبِ وَلِأَنَّهُ لايتوصل إِلَى أَدَاء الصَّلَاة أَلا بِالطَّهَارَةِ ولابد لَك من كوز تستقي بِهِ المَاء أَو دلو ورشاء ينْزح بِهِ المَاء من الْبِئْر وَكَذَا لايتوصل إِلَى أَدَاء الصَّلَاة إِلَّا بستر الْعَوْرَة وَإِنَّمَا يكون ذَلِك بِثَوْب وَلَا يحصل لَهُ إِلَّا بالإكتساب عَادَة وَمَا لَا يَتَأَتَّى إِقَامَة الْفَرْض إِلَّا بِهِ يكون فرضا فِي نَفسه

الْكسْب طَرِيق الْمُرْسلين صلوَات الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ وَقد أمرنَا بالتمسك بهم والاقتداء بهديهم قَالَ الله تَعَالَى {فبهداهم اقتده} وَبَيَان أَن أول من اكْتسب أَبونَا آدم صلى الله عليه وسلم قَالَ الله تَعَالَى {فَلَا يخرجنكما من الْجنَّة فتشقى} أَي تتعب فِي طلب الرزق

وَقَالَ مُجَاهِد رحمه الله فِي تَفْسِيره لَا تَأْكُل خبْزًا بِزَيْت حَتَّى تعْمل
এটি (সর্বোচ্চ মর্যাদা) কেবলমাত্র ফরয কাজসমূহ আদায়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর যেহেতু এটি ব্যতীত ফরয আদায় করা সম্ভব নয়, তাই সালাত আদায়ের জন্য পবিত্রতা অর্জন যেমন আবশ্যক, এটিও তেমনি ফরযে পরিণত হয়।

‌‌এবং এর বর্ণনা বিভিন্ন দিক থেকে

 

প্রথমত, এটি তাকে তার দৈহিক শক্তির মাধ্যমে ফরযসমূহ আদায় করতে সক্ষম করে তোলে। আর সাধারণত খাদ্যের মাধ্যমেই এই শক্তি অর্জিত হয়। খাদ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পথ রয়েছে: উপার্জন, আধিপত্য বিস্তার অথবা লুণ্ঠন। লুণ্ঠনের ফলে শাস্তির যোগ্য হতে হয়, আর আধিপত্য বিস্তারের মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে, অথচ আল্লাহ বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। সুতরাং খাদ্য সংগ্রহের জন্য উপার্জনের পথই সুনির্ধারিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুমিনের নফস হলো তার বাহন, সুতরাং সে যেন এর প্রতি ইহসান করে।" অর্থাৎ, ইহসান হলো তাকে তার পর্যাপ্ত পরিমাণ রিযিক থেকে বঞ্চিত না করা। আর এটি কেবলমাত্র উপার্জনের মাধ্যমেই সম্ভব। তদুপরি, যেমন পবিত্রতা ব্যতীত সালাত আদায় সম্ভব নয় এবং পবিত্রতার জন্য আপনার প্রয়োজন একটি পাত্র যার সাহায্যে আপনি পানি সংগ্রহ করবেন অথবা একটি বালতি ও রশি যা দিয়ে কূপ থেকে পানি তুলবেন; তদ্রূপ সতর ঢাকা ব্যতীত সালাত আদায় সম্ভব নয় এবং এটি কেবলমাত্র কাপড়ের মাধ্যমেই সম্ভব, যা সাধারণত উপার্জনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর যে মাধ্যম ব্যতীত ফরয আদায় সম্ভব হয় না, সেটি নিজেও ফরয হিসেবে গণ্য হয়।

উপার্জন হলো রাসূলগণের (তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) পথ। আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের পথ আঁকড়ে ধরতে এবং তাঁদের হেদায়েতের অনুসরণ করতে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {অতএব তাদের পথ অনুসরণ করো}। আর এর প্রমাণ এই যে, সর্বপ্রথম যিনি উপার্জন করেছেন তিনি হলেন আমাদের পিতা আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মহান আল্লাহ বলেছেন, {সে যেন তোমাদের উভয়কে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, তাহলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে} অর্থাৎ রিযিক অন্বেষণে ক্লান্ত হবে।

এবং মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাফসীরে বলেছেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত কাজ না করবে, ততক্ষণ তুমি যয়তুনের তেল দিয়ে রুটিও খেতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عملا إِلَى الْمَوْت

وَفِي الْآثَار أَن آدم عليه السلام لما هَبَط إِلَى الأَرْض أَتَاهُ جِبْرَائِيل عليه السلام بِالْحِنْطَةِ وَأمره بِأَن يَزْرَعهَا فزرعها وسقاها وحصدها وداسها وطحنها وخبزها فَلَمَّا فرغ من هَذِه الْأَعْمَال حَان وَقت الْعَصْر أَتَاهُ جِبْرَائِيل عليه السلام وَقَالَ إِن رَبك يُقْرِئك السَّلَام وَيَقُول إِن صمت الْيَوْم غفرت لَك خطيئتك وشفعتك فِي أولادك فصَام وَكَانَ حَرِيصًا على تنَاول ذَلِك الطَّعَام لينْظر أَنه هَل يجد من الطّعْم مَا كَانَ يجد لَهُ لطعام الْجنَّة فَمن ثمَّة حرص الصائمون بعد الْعَصْر على تنَاول الطَّعَام

وَكَذَا نوح عليه السلام كَانَ نجارا يَأْكُل من كَسبه وَإِدْرِيس عليه السلام كَانَ خياطا وابراهيم عليه السلام كَانَ بزازا على مَا رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ عَلَيْكُم بالبز فَإِن أَبَاكُم كَانَ بزازا يَعْنِي الْخَلِيل عليه السلام وَدَاوُد عليه السلام كَانَ يَأْكُل من كَسبه على مَا رُوِيَ أَنه كَانَ يخرج متنكرا فَيسْأَل عَن سيرته أهل مَمْلَكَته حَتَّى استقبله جِبْرَائِيل عليه السلام يَوْمًا على صُورَة شَاب فَقَالَ لَهُ دَاوُد عليه السلام كَيفَ تعرف دَاوُد أَيهَا الْفَتى فَقَالَ نعم العَبْد دَاوُد إِلَّا أَن فِيهِ خصْلَة فَقَالَ وَمَا هِيَ قَالَ إِنَّه يَأْكُل من بَيت المَال وَإِن خير النَّاس من يَأْكُل من كَسبه فَرجع دَاوُد عليه السلام إِلَى محرابه باكيا متضرعا يسْأَل الله تَعَالَى وَيَقُول اللَّهُمَّ عَلمنِي كسبا تغنيني بِهِ عَن بَيت المَال فَعلمه الله تَعَالَى
মৃত্যু পর্যন্ত আমল।

বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, আদম (আলাইহিস সালাম) যখন পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট গম নিয়ে আসলেন এবং তাঁকে তা রোপণ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তা রোপণ করলেন, তাতে পানি দিলেন, ফসল কাটলেন, মাড়াই করলেন, পেষণ করলেন এবং রুটি তৈরি করলেন। যখন তিনি এই কাজগুলো থেকে অবসর হলেন তখন আসরের সময় হয়ে গেল। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই আপনার রব আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং বলছেন: যদি আপনি আজ রোজা রাখেন, তবে আমি আপনার ত্রুটি ক্ষমা করে দেব এবং আপনার সন্তানদের ব্যাপারে আপনার সুপারিশ কবুল করব। তখন তিনি রোজা রাখলেন। তিনি সেই খাদ্য গ্রহণের জন্য খুবই উদগ্রীব ছিলেন এটি দেখার জন্য যে, তিনি জান্নাতের খাদ্যে যে স্বাদ পেতেন তা এতে পান কি না। সেই থেকেই রোজাদারগণ আসরের পর খাদ্য গ্রহণের জন্য উদগ্রীব থাকেন।

অনুরূপভাবে নূহ (আলাইহিস সালাম) কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং নিজের উপার্জন থেকে আহার করতেন। ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম) দর্জি ছিলেন। আর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: “তোমরা কাপড়ের ব্যবসা অবলম্বন করো, কারণ তোমাদের পিতা কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন”, অর্থাৎ খলিল (আলাইহিস সালাম)। দাউদ (আলাইহিস সালাম) নিজের উপার্জন থেকে আহার করতেন। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ছদ্মবেশে বের হতেন এবং তাঁর রাজ্যের প্রজাদের নিকট তাঁর শাসন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। একদিন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এক যুবকের বেশে তাঁর সম্মুখীন হলেন। দাউদ (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: হে যুবক, তুমি দাউদকে কেমন চেনো? তিনি বললেন: দাউদ কতই না চমৎকার বান্দা, তবে তাঁর মধ্যে একটি স্বভাব আছে। তিনি বললেন: সেটি কী? যুবকটি বলল: তিনি বায়তুল মাল থেকে আহার করেন, অথচ সর্বোত্তম মানুষ সেই যে নিজের উপার্জন থেকে আহার করে। তখন দাউদ (আলাইহিস সালাম) ক্রন্দনরত ও বিনীত অবস্থায় নিজের ইবাদতখানায় ফিরে গেলেন এবং আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করে বলতে লাগলেন: হে আল্লাহ, আমাকে এমন কোনো পেশা শিক্ষা দিন যার মাধ্যমে আপনি আমাকে বায়তুল মাল থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তা শিক্ষা দিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
صفة الدرْع ولين لَهُ الْحَدِيد حَتَّى كَانَ الْحَدِيد فِي يَده كالعجين فِي يَد غَيره قَالَ الله تَعَالَى {وعلمناه صَنْعَة لبوس لكم} فَكَانَ يصنع الدرْع وَيبِيع الدرْع بإثني عشر ألفا فَكَانَ يَأْكُل من ذَلِك وَيتَصَدَّق وَسليمَان صلوَات الله عَلَيْهِ كَانَ يصنع المكاتل من الخوص فيأكل من ذَلِك وزَكَرِيا عليه السلام كَانَ نجارا وَعِيسَى عليه السلام كَانَ يَأْكُل من غزل أمه وَرُبمَا كَانَ يلتقط السنبلة فيأكل من ذَلِك وَهُوَ نوع اكْتِسَاب وَنَبِينَا صلى الله عليه وسلم كَانَ يرْعَى فِي بعض الْأَوْقَات على مَا رُوِيَ أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَصْحَابه رضي الله عنهم يَوْمًا كنت رَاعيا لعقبة بن أبي معيط وَمَا بعث الله نَبيا إِلَّا استرعاه وَفِي حَدِيث السَّائِب بن شريك عَن أَبِيه رضي الله عنه قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم شَرِيكي وَكَانَ خير شريك لايداري وَلَا يُمَارِي أَي لايلاج وَلَا يُخَاصم قيل فِي مَاذَا كَانَت الشّركَة بَيْنكُمَا فَقَالَ فِي الْأدم

وازدرع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بالجرف على مَا ذكره مُحَمَّد رحمه الله فِي كتاب الْمُزَارعَة ليعلم أَن الْكسْب عَن طَرِيق الْمُرْسلين عَلَيْهِم السَّلَام
বর্ম তৈরির বিবরণ এবং তাঁর জন্য লোহাকে নমনীয় করা হয়েছিল, এমনকি লোহা তাঁর হাতে অন্যদের হাতে আটার খামিরের মতো হয়ে যেত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আর আমি তাকে তোমাদের জন্য বর্ম তৈরির শিল্প শিক্ষা দিয়েছি।" তিনি বর্ম তৈরি করতেন এবং একটি বর্ম বারো হাজারে বিক্রি করতেন। এরপর তিনি তা থেকে আহার করতেন এবং সদকা করতেন। আর সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) খেজুর পাতা দিয়ে ঝুড়ি তৈরি করতেন এবং তা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আহার করতেন। আর জাকারিয়া (আলাইহিস সালাম) ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। আর ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর মায়ের সুতা কাটার উপার্জন থেকে আহার করতেন, আবার কখনো তিনি পড়ে থাকা শস্যের শীষ কুড়িয়ে নিতেন এবং তা থেকে আহার করতেন; যা উপার্জনেরই একটি প্রকার। আর আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সময়ে পশু চরাতেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একদিন তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "আমি উকবা ইবনে আবি মুয়াইতের পশু চরাতাম।" আর আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি পশু চরাননি। আর সায়েব ইবনে শারিকের হাদিসে তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম অংশীদার; তিনি কোনো প্রতারণা করতেন না এবং তর্কা-তর্কিও করতেন না," অর্থাৎ তিনি হঠকারিতা বা ঝগড়া করতেন না। জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনাদের দুজনের মাঝে কিসের অংশীদারিত্ব ছিল?" তিনি বললেন, "চামড়ার ব্যবসায়।"

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুরফ নামক স্থানে চাষাবাদ করেছেন, যেমনটি ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) কিতাবুল মুজারাআ-তে উল্লেখ করেছেন; যাতে এটি জানা যায় যে, জীবিকা অন্বেষণ করা রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাম) অনুসৃত পথ।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ثمَّ الْكسْب نَوْعَانِ كسب من الْمَرْء لنَفسِهِ وَكسب مِنْهُ على نَفسه فالكاسب لنَفسِهِ هُوَ الطَّالِب لما لابد لَهُ من الْمُبَاح والكاسب على نَفسه هُوَ الْبَاغِي لما عَلَيْهِ فِيهِ جنَاح نَحْو مَا يكون من السَّارِق وَالنَّوْع الثَّانِي حرَام بالإتفاق قَالَ الله تَعَالَى {وَمن يكْسب إِثْمًا فَإِنَّمَا يكسبه على نَفسه} وَقَالَ عز وجل {وَمن يكْسب خَطِيئَة أَو إِثْمًا} الْآيَة وَالْمذهب عِنْد الْفُقَهَاء من السّلف وَالْخلف رحمهم الله أَن النَّوْع الأول من الْكسْب مُبَاح على الاطلاق بل هُوَ فرض عِنْد الْحَاجة

وَقَالَ قوم من جهال أهل التقشف وحماقى أهل التصوف إِن الْكسْب حرَام لَا يحل إِلَّا عِنْد الضَّرُورَة بِمَنْزِلَة تنَاول الْميتَة وَقَالُوا إِن الْكسْب يَنْفِي التَّوَكُّل على الله أَو ينقص مِنْهُ وَقد أمرنَا بالتوكل قَالَ الله تَعَالَى {فتوكلوا إِن كُنْتُم مُؤمنين} فَمَا يتَضَمَّن نفي مَا أمرنَا بِهِ من التَّوَكُّل يكون حَرَامًا وَالدَّلِيل على أَنه يَنْفِي التَّوَكُّل قَوْله صلى الله عليه وسلم لَو توكلتم على الله حق التَّوَكُّل لرزقكم كَمَا يرْزق الطير تَغْدُو خماصا وَتَروح بطانا وَقَالَ تَعَالَى {وَفِي السَّمَاء رزقكم وَمَا توعدون} وَفِي هَذَا حث على ترك الِاشْتِغَال بِالْكَسْبِ وَبَيَان أَن مَا قدر لَهُ من الْمَوْعُود يَأْتِيهِ لَا محَالة وَقَالَ عز وَجل
অতঃপর উপার্জন দুই প্রকার: ব্যক্তির নিজের জন্য উপার্জন এবং নিজের বিরুদ্ধে উপার্জন। নিজের জন্য উপার্জনকারী হলো সে, যে তার জন্য অত্যাবশ্যকীয় বৈধ বস্তু অন্বেষণ করে। আর নিজের বিরুদ্ধে উপার্জনকারী হলো সে, যে এমন কিছু অন্বেষণ করে যাতে তার গুনাহ রয়েছে, যেমন চোর করে থাকে। আর দ্বিতীয় প্রকারটি সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আর যে ব্যক্তি কোনো পাপ উপার্জন করে, সে তা নিজের বিরুদ্ধেই উপার্জন করে।" এবং তিনি প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আরও বলেছেন, "আর যে ব্যক্তি কোনো ভুল বা পাপ উপার্জন করে..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। সালাফ ও খালাফ ফকীহগণের—আল্লাহ তাদের রহম করুন—মতামত হলো এই যে, প্রথম প্রকারের উপার্জন সামগ্রিকভাবে বৈধ, বরং প্রয়োজনের সময় তা ফরজ।

আর কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনকারীদের মধ্য থেকে একদল মূর্খ এবং সুফিদের মধ্য থেকে একদল নির্বোধ বলেছে যে, উপার্জন করা হারাম; অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এটি বৈধ নয়, যেমন মৃত জীব ভক্ষণ করার বিষয়টি। তারা বলেছে যে, উপার্জন করা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলকে নাকচ করে দেয় অথবা তাতে ঘাটতি সৃষ্টি করে। অথচ আমাদের তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "সুতরাং তোমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করো যদি তোমরা মুমিন হও।" সুতরাং যা আমাদের নির্দেশিত তাওয়াক্কুলকে নাকচ করে দেয়, তা হারাম হবে। এটি যে তাওয়াক্কুলকে নাকচ করে তার দলীল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যদি তোমরা আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের তেমনিভাবে রিযিক দান করতেন যেভাবে তিনি পাখিকে রিযিক দেন; যারা ভোরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট পূর্ণ করে ফিরে আসে।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও যা তোমাদের প্রতিশ্রুত হয়েছে।" এর মধ্যে উপার্জনে লিপ্ত হওয়া বর্জন করার উৎসাহ রয়েছে এবং এই বর্ণনা রয়েছে যে, তার জন্য যা প্রতিশ্রুত ও নির্ধারিত হয়েছে তা অবশ্যই তার কাছে আসবে। আর প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
{وَأمر أهلك بِالصَّلَاةِ} الْآيَة وَالْخطاب وَإِن كَانَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَالْمُرَاد مِنْهُ أمته فقد أمروا بِالصبرِ وَالصَّلَاة وَترك الِاشْتِغَال بِالْكَسْبِ بِطَلَب الرزق وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا خلقت الْجِنّ وَالْإِنْس إِلَّا ليعبدون} وَفِي الِاشْتِغَال بِالْكَسْبِ ترك مَا يَأْمر الْمَرْء لأَهله وَأمر بِهِ من عبَادَة ربه وَإِلَيْهِ أشاز النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله مَا أُوحِي إِلَيّ أَن أجمع المَال وأكون من التاجرين وَإِنَّمَا أُوحِي إِلَيّ {فسبح بِحَمْد رَبك وَكن من الساجدين} الْآيَة وَمَا فِي الْقُرْآن من ذكر البيع وَالشِّرَاء فِي بعض الْآيَات لَيْسَ المُرَاد التَّصَرُّف فِي المَال والمكسب بل المُرَاد تِجَارَة العَبْد مَعَ ربه عز وجل ببذل النَّفس فِي طَاعَته والاشتغال بِعِبَادَتِهِ فَذَلِك يُسمى تِجَارَة وَقَالَ الله تَعَالَى {هَل أدلكم على تِجَارَة} الْآيَة وَقَالَ عز وجل {إِن الله اشْترى من الْمُؤمنِينَ} الْآيَة وَالْمرَاد هَذَا النَّوْع وَهُوَ بذل النَّفس لنيل الثَّوَاب بِالْجِهَادِ وأنواع الطَّاعَة وَكَذَا قد سمن الله تَعَالَى أَخذ المَال لإرتكاب مَا لايحل لَهُ فِي الدّين بايعا نَفسه قَالَ الله تَعَالَى {ولبئس مَا شروا بِهِ أنفسهم} وَقَالَ عز وجل {اشْتَروا بآيَات الله ثمنا قَلِيلا}

{আপনার পরিবারকে সালাতের নির্দেশ দিন}—এই আয়াত। এখানে সম্বোধন যদিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি করা হয়েছে, তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর উম্মত। প্রকৃতপক্ষে তাদেরকে ধৈর্য ও সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রিযিক অন্বেষণের উদ্দেশ্যে উপার্জনে মগ্ন হওয়া ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি}। আর উপার্জনে অতিমাত্রায় মগ্ন হওয়ার অর্থ হলো ঐসব বিষয় বর্জন করা, যা একজন ব্যক্তিকে তার পরিবারের ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার রবের ইবাদতের ব্যাপারে যা তাকে আদেশ করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: "আমার প্রতি এই মর্মে ওহী করা হয়নি যে আমি সম্পদ জমা করব এবং ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হব। বরং আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে: {অতএব আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন}—এই আয়াত।" কুরআনের কিছু আয়াতে ক্রয়-বিক্রয়ের যে উল্লেখ রয়েছে, তার দ্বারা পার্থিব সম্পদ পরিচালনা বা মুনাফা অর্জন উদ্দেশ্য নয়; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মহান রবের সাথে বান্দার ঐ ব্যবসা, যা তাঁর আনুগত্যে জীবন উৎসর্গ করা এবং তাঁর ইবাদতে মগ্ন থাকার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একেই মূলত 'ব্যবসা' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব}—এই আয়াত। তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে ক্রয় করে নিয়েছেন}—এই আয়াত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই প্রকারের লেনদেন, যা হলো জিহাদ ও নানাবিধ আনুগত্যের মাধ্যমে সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। তদ্রূপ, দ্বীনের নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করাকে আল্লাহ তাআলা নিজের সত্তাকে বিক্রয় করা হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না নিকৃষ্ট}। তিনি আরও বলেছেন: {তারা আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য ক্রয় করেছে}।

(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَإِلَى ذَلِك أَشَارَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله النَّاس غاديان فبائع نَفسه فموبقها ومشتر نَفسه فمعتقها وَأَن الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ كَانُوا يلزمون الْمَسْجِد فَلَا يشتغلون بِالْكَسْبِ ومدحوا على ذَلِك وَكَذَلِكَ الْخُلَفَاء الراشدون وَغَيرهم من أَعْلَام الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ لم يشتغلوا بِالْكَسْبِ وهم الْأَئِمَّة السَّادة والقدوة القادة

وَحجَّتنَا فِي ذَلِك قَوْله تَعَالَى {وَأحل الله البيع} وَقَالَ جلّ وَعلا {إِذا تداينتم بدين} وَقَالَ عز وجل {إِلَّا أَن تكون تِجَارَة عَن ترَاض} وَقَالَ جل جلاله {إِلَّا أَن تكون تِجَارَة حَاضِرَة} الْآيَة فَفِي بعض هَذِه الْآيَات تنصيص على الْحل وَفِي بَعْضهَا ندب إِلَى الِاشْتِغَال بِالتِّجَارَة فَمن يَقُول بحرمتها فَهُوَ مُخَالف لهَذِهِ النُّصُوص

وَإِنَّمَا يحمل كَلَام صَاحب الشَّرْع عِنْد الاطلاق على مَا يتفاهمه النَّاس فِي مخاطبتهم لِأَن الشَّرْع إِنَّمَا خاطبنا بِمَا نفهمه وَلَفْظَة البيع وَالشِّرَاء حَقِيقَة للتَّصَرُّف فِي المَال بطرِيق الِاكْتِسَاب وَالْكَلَام مَحْمُول على حَقِيقَة لَا يجوز تَركهَا إِلَى نوع من الْمجَاز إِلَّا عِنْد قيام الدَّلِيل كَمَا فِيمَا اسْتشْهدُوا بِهِ من قَوْله تَعَالَى {إِن الله اشْترى من الْمُؤمنِينَ} فقد قَامَ الدَّلِيل على أَن المُرَاد بِهِ الْمجَاز وَلم يُوجد مثل ذَلِك هَهُنَا فَكَانَ مَحْمُولا على حَقِيقَته وَقَالَ الله تَعَالَى {فَإِذا قضيت الصَّلَاة فَانْتَشرُوا فِي الأَرْض وابتغوا من فضل الله}
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে, মানুষ সকালে দুই অবস্থায় বের হয়; কেউ নিজের নফসকে বিক্রি করে তাকে ধ্বংস করে ফেলে, আর কেউ নিজের নফসকে ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে। আর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) মসজিদে অবস্থান করতেন বলে তাঁরা উপার্জনের কাজে লিপ্ত হতেন না এবং এর জন্য তাঁদের প্রশংসাও করা হয়েছে। তদ্রূপ খোলাফায়ে রাশেদীন এবং সাহাবীদের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) উপার্জনে লিপ্ত হননি, অথচ তাঁরাই ছিলেন মহান ইমাম এবং অনুসরণীয় নেতা।

এ বিষয়ে আমাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন}, এবং তিনি বলেছেন: {যখন তোমরা একে অপরের সাথে ঋণের লেনদেন করো}, এবং তিনি আরও বলেছেন: {তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা হলে ভিন্ন কথা}, এবং তিনি আরও বলেছেন: {যদি তা নগদ ব্যবসা হয়...} [আয়াতের শেষ পর্যন্ত]। এই আয়াতগুলোর কয়েকটিতে স্পষ্টভাবে হালাল হওয়ার বিধান বর্ণিত হয়েছে এবং কয়েকটিতে ব্যবসায় লিপ্ত হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ব্যবসাকে হারাম বলে, সে এই অকাট্য দলীলসমূহের পরিপন্থী কথা বলে।

শরীয়ত প্রদাতার বাণী যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা মানুষের প্রচলিত কথোপকথনের বোধগম্য অর্থের ওপরই প্রয়োগ করা হয়; কারণ শরীয়ত আমাদের সাথে আমাদের বোধগম্য ভাষাতেই সম্বোধন করেছে। আর ক্রয় ও বিক্রয় শব্দ দুটি উপার্জনের পন্থায় সম্পদের আদান-প্রদান বা ব্যবহারের প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়। কোনো বক্তব্যকে সর্বদা তার প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করতে হয়, উপযুক্ত দলিল ছাড়া তাকে রূপক অর্থে গ্রহণ করা বৈধ নয়; যেমনটি তারা মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে ক্রয় করে নিয়েছেন...}। সেখানে এই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে এর দ্বারা রূপক অর্থ উদ্দেশ্য, কিন্তু এখানে তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং একে তার প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করতে হবে। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো।}
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَالْمرَاد التِّجَارَة وَقَالَ عز وجل {لَيْسَ عَلَيْكُم جنَاح أَن تَبْتَغُوا فضلا من ربكُم} يَعْنِي التِّجَارَة فِي طَرِيق الْحَج وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن أطيب مَا أكلْتُم من كسب أَيْدِيكُم وَإِن أخي دَاوُد عليه السلام كَانَ يَأْكُل من كسب يَده وَالْمرَاد الاشارة إِلَى قَوْله تَعَالَى {كلوا من طَيّبَات مَا رزقناكم}

وَأقوى مَا نعتمده أَن الِاكْتِسَاب طَرِيق الْمُرْسلين صلوَات الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ وَقد قَررنَا ذَلِك وَلَا معنى لمعارضتهم إيانا فِي ذَلِك بِعِيسَى وَيحيى عليهما السلام فقد بَينا أَن عِيسَى عليه السلام كَانَ يَأْكُل من غزل أمه رضي الله عنها

ثمَّ نقُول إِن الْأَنْبِيَاء عليهم السلام فِي هَذَا لَيْسَ كغيرهم فقد بعثوا لدَعْوَة النَّاس إِلَى دين الْحق وَإِظْهَار ذَلِك وَكَانُوا مشغولين بِمَا بعثوا لأَجله وَلم يشتغلوا عَامَّة أوقاتهم بِالْكَسْبِ لهَذَا وَقد اكتسبوا فِي بعض الْأَوْقَات ليبينوا للنَّاس أَن ذَلِك مَا يَنْبَغِي أَن يشْتَغل بِهِ الْمَرْء وَلِأَنَّهُ لَا يَنْفِي التَّوَكُّل على الله كَمَا ظَنّه هَؤُلَاءِ الْجُهَّال وَقد بَين ذَلِك عمر رضي الله عنه فِي حَدِيثه حَيْثُ مر بِقوم من الْقُرَّاء فَرَآهُمْ جُلُوسًا قد نكسوا رؤوسهم فَقَالَ من هَؤُلَاءِ فَقيل هم المتوكلون فَقَالَ كلا وَلَكنهُمْ المتأكلون يَأْكُلُون أَمْوَال النَّاس
আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, {তোমাদের রবের নিকট থেকে অনুগ্রহ অন্বেষণ করাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই} অর্থাৎ হজ্জের পথে ব্যবসা করা। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই তোমরা যা আহার করো তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তোমাদের নিজ হাতের উপার্জন। আর নিশ্চয়ই আমার ভাই দাউদ আলাইহিস সালাম তাঁর নিজ হাতের উপার্জন থেকে আহার করতেন।" আর এর দ্বারা মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করাই উদ্দেশ্য যে, {আমি তোমাদেরকে যে পবিত্র রিযিক দিয়েছি তা থেকে আহার করো}।

আর আমরা যে বিষয়ের ওপর সবচেয়ে শক্তিশালী নির্ভরতা রাখি তা হলো, উপার্জন করা রাসূলগণের (তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) অনুসৃত পথ। আর আমরা ইতিপূর্বে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। এ বিষয়ে ঈসা ও ইয়াহইয়া আলাইহিমাস সালামের উদাহরণ পেশ করে আমাদের বিরোধিতা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর মায়ের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সুতা কাটার উপার্জন থেকে আহার করতেন।

অতঃপর আমরা বলি যে, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতো নন। কেননা তাঁরা মানুষকে সত্য দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিতে এবং তা বিজয়ী করতে প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁরা যে মহান উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন তাতেই নিমগ্ন থাকতেন, তাই তাঁরা তাঁদের সময়ের অধিকাংশ উপার্জনের কাজে ব্যয় করতেন না। তা সত্ত্বেও তাঁরা কিছু সময় উপার্জনের কাজ করেছেন যাতে মানুষের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, এটি এমন একটি কাজ যাতে মানুষের লিপ্ত হওয়া সমীচীন এবং কারণ এটি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসাকে নাকচ করে দেয় না, যেমনটি এই মূর্খরা ধারণা করে নিয়েছে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর এক বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন, যখন তিনি একদল ক্বারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁদেরকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এরা কারা?" বলা হলো, "এরা তাওয়াক্কুলকারী।" তিনি বললেন, "কখনোই নয়, বরং এরা হলো পরজীবী ভক্ষক, যারা মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করে।"
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪১)
أنبئكم من المتَوَكل فَقيل نعم فَقَالَ هُوَ الَّذِي يلقِي الْحبّ فِي الأوض ثمَّ يتوكل على ربه عز وجل وَفِي رِوَايَة أُخْرَى فَقَالَ يَا معشر الْقُرَّاء ارْفَعُوا رؤوسكم واكتسبوا لأنفسكم

ودعواهم أَن الْكِبَار من الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم كَانُوا لَا يكتسبون دَعْوَى بَاطِل فقد رُوِيَ أَن أَبَا بكر الصّديق رضي الله عنه كَانَ بزازا وَعمر رضي الله عنه كَانَ يعْمل الْأدم وَعُثْمَان رضي الله عنه كَانَ تَاجِرًا يجلب إِلَيْهِ الطَّعَام فيبيعه وَعلي رضي الله عنه كَانَ يكْتَسب على مَا رُوِيَ أَنه أجر نَفسه غير مرّة حَتَّى آجر نَفسه من يَهُودِيّ فِي حَدِيث فِيهِ طول

ثمَّ صَحَّ فِي الحَدِيث أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم اشْترى سَرَاوِيل بِدِرْهَمَيْنِ وَقَالَ للوزان زن وأرجح فَإنَّا معاشر الْأَنْبِيَاء هَكَذَا نزن وَبَاعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَعْبًا وحلسا يَبِيع من يزِيد وَاشْترى نَاقَة من أَعْرَابِي وأوفاه ثمنهَا ثمَّ جحد الْأَعرَابِي وَقَالَ هَلُمَّ شَاهدا قَالَ صلى الله عليه وسلم من يشْهد لي فَقَالَ خُزَيْمَة بن ثَابت رضي الله عنه أَنا أشهد لَك بأنك وفيت الْأَعرَابِي ثمن النَّاقة فَقَالَ صلى الله عليه وسلم كَيفَ تشهد لي وَلم تكن حَاضرا قَالَ يَا رَسُول الله إِنَّا نصدقك
আমি কি তোমাদের জানাব যে মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল) কে? বলা হলো, হ্যাঁ। তিনি বললেন: সে তো সেই ব্যক্তি যে জমিনে বীজ বপন করে এবং এরপর তার মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রবের ওপর ভরসা করে। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে তিনি বলেছেন: হে কুরআন পাঠকারীগণ! তোমরা তোমাদের মস্তক উন্নত করো এবং নিজেদের জন্য জীবিকা অন্বেষণ করো।

আর তাদের এই দাবি যে জ্যেষ্ঠ সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উপার্জন করতেন না, তা একটি অসার দাবি। কেননা বর্ণিত আছে যে, আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন, ওমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) চামড়ার কাজ করতেন এবং উসমান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী যিনি খাদ্যশস্য আমদানি করতেন ও তা বিক্রি করতেন। আর আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উপার্জন করতেন বলে বর্ণিত আছে; তিনি একাধিকবার নিজেকে শ্রমের বিনিময়ে নিয়োজিত করেছিলেন, এমনকি এক ইহুদির অধীনেও তিনি শ্রম দিয়েছিলেন, যা একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

অতঃপর হাদিসে এটি সঠিকভাবে প্রমাণিত যে নবী (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) দুই দিরহামের বিনিময়ে একটি পায়জামা ক্রয় করেছিলেন এবং ওজনকারীকে বলেছিলেন: "ওজন করো এবং (পাল্লা) ঝুঁকে দাও, কেননা আমরা নবী সমাজ এভাবেই ওজন করি।" রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) একটি কাঠের পেয়ালা ও একটি পশমি চট নিলামে বিক্রি করেছিলেন। তিনি এক গ্রাম্য আরবের কাছ থেকে একটি উষ্ট্রী ক্রয় করেছিলেন এবং তাকে তার মূল্য পরিশোধ করেছিলেন। এরপর সেই গ্রাম্য আরবটি তা অস্বীকার করে বলল: "সাক্ষী নিয়ে আসুন।" নবী (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "আমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?" তখন খুজাইমাহ ইবনে সাবিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বললেন: "আমি আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি সেই গ্রাম্য আরবকে উষ্ট্রীর মূল্য পরিশোধ করেছেন।" নবী (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "তুমি কীভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছ অথচ তুমি উপস্থিত ছিলে না?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করি।"
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪২)
فِيمَا تَأْتِينَا بِهِ من خبر السَّمَاء أَفلا نصدقك فِيمَا تخبر بِهِ من إِيفَاء ثمن النَّاقة فَقَالَ صلى الله عليه وسلم من شهد لَهُ خُزَيْمَة فحسبه

 

وَلَا حجَّة لَهُم فِي قَوْله تَعَالَى {وَفِي السَّمَاء رزقكم وَمَا توعدون} فَالْمُرَاد الْمَطَر الَّذِي ينزل من السَّمَاء فَيحصل بِهِ النَّبَات فَإِن ذَلِك يُسمى رزقا على مَا نقل عَن بعض السّلف رحمهم الله يَا بن آدم إِن الله يرزقك ويرزق رزقك ويرزق رزق رزقك يَعْنِي ينزل الْمَطَر من السَّمَاء رزقا للنبات ثمَّ النَّبَات رزق الْأَنْعَام والأنعام رزق لبني آدم وَلَئِن حملنَا الْآيَة على ظَاهرهَا فَنَقُول فِي السَّمَاء رزقنا كَمَا أخبر الله تَعَالَى ولكننا أمرنَا باكتساب السَّبَب ليَأْتِينَا ذَلِك الرزق عِنْد الِاكْتِسَاب بَيَانه فِي قَوْله صلى الله عليه وسلم فِيمَا يرويهِ عَن ربه عز وجل عَبدِي حرك يدك أنزل عَلَيْك الرزق وَقد أَمر الله تَعَالَى مَرْيَم عليها السلام بهز النَّخْلَة كَمَا قَالَ {وهزي إِلَيْك} الْآيَة وَهُوَ قَادر على أَن يرزقها من غير هز بعناء كَمَا كَانَ يرزقها فِي الْمِحْرَاب قَالَ عز وجل {كلما دخل عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَاب} الْآيَة وَإِنَّمَا أمرهَا بذلك ليَكُون بَيَانا للعباد أَنه يَنْبَغِي لَهُم أَن لَا يدعوا إكتساب
আসমানের খবরের ব্যাপারে আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি, তাহলে আপনি উটনীর দাম পরিশোধ করেছেন—এই সংবাদে কেন আপনাকে বিশ্বাস করব না? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: খুযাইমাহ যার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য তাই যথেষ্ট।

 

আর মহান আল্লাহর বাণী "আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও যা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে" এতে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই। কেননা এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই বৃষ্টি যা আসমান থেকে বর্ষিত হয় এবং যার মাধ্যমে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। একে রিযিক বলা হয়, যেমনটা কোনো কোনো সালাফ (রহিমাহুমুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে: হে আদম সন্তান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে রিযিক দেন, তোমার রিযিককে রিযিক দেন এবং তোমার রিযিকের রিযিককেও রিযিক দেন। অর্থাৎ, তিনি আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন যা উদ্ভিদের জন্য রিযিক, এরপর উদ্ভিদ হলো চতুষ্পদ জন্তুর রিযিক এবং চতুষ্পদ জন্তু হলো আদম সন্তানের রিযিক। আর যদি আমরা আয়াতটিকে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করি, তবে আমরা বলব যে আসমানে আমাদের রিযিক রয়েছে যেমনটা মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের উপায়-উপকরণ অন্বেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে উপার্জনের সময় সেই রিযিক আমাদের কাছে আসে। এর স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে যা তিনি তাঁর মহান প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন: "হে আমার বান্দা! তুমি তোমার হাত নাড়াও, আমি তোমার ওপর রিযিক অবতীর্ণ করব।" আর আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-কে খেজুর গাছ নাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন তিনি বলেছেন: "আর তুমি নিজের দিকে (খেজুর গাছের কাণ্ডটি) নাড়াও" (আয়াতাংশ)। অথচ তিনি কোনো প্রকার কষ্টদায়ক নাড়ানো ছাড়াই তাঁকে রিযিক দান করতে সক্ষম ছিলেন, যেমনটা তিনি তাঁকে মিহরাবে রিযিক দান করতেন। মহান আল্লাহ বলেন: "যখনই যাকারিয়া মিহরাবে তাঁর নিকট প্রবেশ করতেন..." (আয়াতাংশ)। মূলত আল্লাহ তাঁকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে বান্দাদের জন্য এটি একটি শিক্ষা হয় যে, তাদের উপার্জন অন্বেষণ ত্যাগ করা সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪৩)
السَّبَب وَإِن كَانُوا يتيقنون أَن الله هُوَ الرَّزَّاق

وَهَذَا نَظِير الْخلق فَإِن الله تَعَالَى هُوَ الْخَالِق قد يخلق لَا من سَبَب وَلَا فِي سَبَب كَمَا خلق آدم صلوَات الله عَلَيْهِ وَقد يخلق لَا من سَبَب فِي سَبَب كَمَا خلق عِيسَى عليه السلام وَقد يخلق من سَبَب فِي سَبَب كَمَا قَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا النَّاس إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ من ذكر وَأُنْثَى} الْآيَة وَقد أَمر الله تَعَالَى بِالنِّكَاحِ وَطلب الْوَلَد لَا يَنْفِي يَقِين العَبْد بِأَن الْخَالِق هُوَ الله تَعَالَى فَكَذَا أَمر الرزق ليعلم من يزْعم أَن حَقِيقَة التَّوَكُّل فِي ترك الْكسْب فَهُوَ مُخَالف للشريعة وَإِلَيْهِ أَشَارَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله للسَّائِل الَّذِي قَالَ أرسل نَاقَتي وَأَتَوَكَّل فَقَالَ صلى الله عليه وسلم لَا بل اعقلها وتوكل

وَنَظِير هَذَا الدُّعَاء فقد أمرنَا بِهِ قَالَ الله تَعَالَى {واسألوا الله من فَضله} وَمَعْلُوم أَن مَا قدر لكل أحد فَهُوَ يَأْتِيهِ لَا محَالة ثمَّ أحد لَا ينظر بِهَذَا إِلَى ترك السُّؤَال وَالدُّعَاء من الله تَعَالَى والأنبياء عليهم السلام كَانُوا يسْأَلُون الْجنَّة مَعَ علمهمْ أَن الله يدخلهم الْجنَّة وَقد وعد لَهُم ذَلِك وَهُوَ {لَا يخلف الميعاد} وَقد كَانُوا يأمنون الْعَاقِبَة ثمَّ كَانُوا يسْأَلُون الله تَعَالَى ذَلِك فِي دُعَائِهِمْ

وَكَذَا أَمر الشِّفَاء فالشافي هُوَ الله تَعَالَى وَقد أمرنَا بالمداواة قَالَ صلى الله عليه وسلم تداووا عباد الله فَإِن الله تَعَالَى مَا خلق دَاء إِلَّا خلق
মাধ্যমসমূহ, যদিও তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র রিযিকদাতা।

আর এটি সৃষ্টিরই সদৃশ; কেননা আল্লাহ তাআলাই একমাত্র স্রষ্টা। তিনি কোনো মাধ্যম ছাড়াই এবং কোনো মাধ্যমের সংশ্রব ছাড়াই সৃষ্টি করতে পারেন, যেমনটি তিনি আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করেছেন। আবার তিনি কোনো মাধ্যম ছাড়াই কোনো মাধ্যমের মধ্যে সৃষ্টি করতে পারেন, যেমনটি তিনি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করেছেন। আবার তিনি মাধ্যমের সাহায্যে মাধ্যমের ভেতরেও সৃষ্টি করেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে" (আয়াত)। আর আল্লাহ তাআলা বিবাহের ও সন্তান কামনার নির্দেশ দিয়েছেন, যা স্রষ্টা যে একমাত্র আল্লাহ তাআলা—এ বিষয়ে বান্দার দৃঢ় বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করে না। ঠিক তেমনিভাবে রিযিকের বিষয়টিও; যাতে সেই ব্যক্তি জানতে পারে যে দাবি করে যে, তাওয়াক্কুলের হাকীকত হলো উপার্জন ত্যাগ করা; অথচ এটি শরীয়ত পরিপন্থী। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন সেই প্রশ্নকারীর কথার প্রেক্ষিতে যে বলেছিল, "আমি কি আমার উটটি ছেড়ে দেব এবং তাওয়াক্কুল করব?" তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "না, বরং এটি বাঁধো এবং তারপর তাওয়াক্কুল করো।"

আর এর সদৃশ বিষয় হলো দুআ; কারণ আমাদের দুআ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো।" আর এটি সুবিদিত যে, যার জন্য যা নির্ধারিত রয়েছে তা অবশ্যই তার কাছে আসবে। এরপরও কেউ এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়া এবং দুআ করা ত্যাগ করে না। আর নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) জান্নাত প্রার্থনা করতেন, যদিও তাঁরা জানতেন যে আল্লাহ তাঁদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তিনি তাঁদের সাথে এই ওয়াদা করেছেন; আর তিনি "ওয়াদা খেলাফ করেন না।" তাঁরা শেষ পরিণাম সম্পর্কে আশ্বস্ত থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁদের দুআয় তা প্রার্থনা করতেন।

অনুরূপভাবে আরোগ্যের বিষয়টিও; কেননা আরোগ্য দানকারী হলেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা, অথচ আমাদের চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো; কারণ আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার জন্য তিনি প্রতিকার সৃষ্টি করেননি।"
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪৪)
لَهُ دَوَاء إِلَّا السام أَو قَالَ الْهَرم وَقد فعل ذَلِك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم أحد حِين داوى مَا أَصَابَهُ من الْجراحَة فِي وَجهه

ثمَّ إِن اكْتِسَاب الْكسْب بالمداواة لَا يَنْفِي التيقن بِأَن الله تَعَالَى هُوَ الشافي فَكَذَا اكْتِسَاب سَبَب الرزق بالتحرك لَا يَنْفِي التيقن بِأَن الله تَعَالَى هُوَ الرازق

وَالْعجب من الصُّوفِيَّة أَنهم لَا يمتنعون من تنَاول طَعَام من أطْعمهُم من كسب يَده وَربح تِجَارَته مَعَ علمهمْ بذلك فَلَو كَانَ الِاكْتِسَاب حَرَامًا لَكَانَ المَال الْحَاصِل بِهِ حرَام التَّنَاوُل لِأَن مَا يتَطَرَّق إِلَيْهِ بارتكاب الْحَرَام يكون حَرَامًا أَلا ترى أَن بيع الْخمر للْمُسلمِ لما كَانَ حَرَامًا كَانَ تنَاول ثمنهَا حَرَامًا وَحَيْثُ لم يمْتَنع أحد مِنْهُم من التَّنَاوُل عرفنَا أَن قَوْلهم من نتيجة الْجَهْل والكسل

ثمَّ الْمَذْهَب عِنْد جُمْهُور الْفُقَهَاء رحمهم الله من أهل السّنة وَالْجَمَاعَة أَن الْكسْب بِقدر مَالا بُد مِنْهُ فَرِيضَة

وَقَالَت الكرامية بل هُوَ مُبَاح بطرِيق الرُّخْصَة لِأَنَّهُ لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون فرضا فِي كل وَقت أَو فِي وَقت مَخْصُوص

وَالْأول بَاطِل لِأَنَّهُ يُؤَدِّي إِلَى أَن لَا يتفرغ أحد عَن أَدَاء هَذِه الْفَرِيضَة ليشتغل بغَيْرهَا من الْفَرَائِض والواجبات
তার প্রতিষেধক রয়েছে, তবে মৃত্যু বা বার্ধক্য ব্যতীত। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহুদের যুদ্ধের দিনে তাই করেছিলেন যখন তিনি তাঁর চেহারার জখমের চিকিৎসা করেছিলেন।

অতঃপর, চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য লাভের চেষ্টা করা যেমন আল্লাহ তাআলা যে একমাত্র আরোগ্যকারী সেই দৃঢ় বিশ্বাসের পরিপন্থী নয়, তেমনিভাবে প্রচেষ্টার মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণের উপায় অবলম্বন করা আল্লাহ তাআলা যে একমাত্র রিযিকদাতা সেই দৃঢ় বিশ্বাসের পরিপন্থী নয়।

সূফিদের ব্যাপারে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, যারা নিজেদের হাতের কামাই ও ব্যবসার মুনাফা থেকে তাদের আহার করায়, তারা তা গ্রহণে বিরত থাকে না—অথচ তারা বিষয়টি অবগত। যদি উপার্জন করা হারাম হতো, তবে এর মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ গ্রহণ করাও হারাম হতো; কারণ যা হারামের মাধ্যমে অর্জিত হয় তা হারামই হয়। আপনি কি দেখেন না যে, মুসলিমের জন্য মদ বিক্রি করা যখন হারাম, তখন তার মূল্য গ্রহণ করাও হারাম? যেহেতু তাদের কেউ তা গ্রহণে বিরত থাকেন না, তাই আমরা বুঝতে পারি যে তাদের এই বক্তব্য অজ্ঞতা ও অলসতারই ফল।

অতঃপর, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের জমহুর ফকীহগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) নিকট বিশুদ্ধ অভিমত হলো—অপরিহার্য পরিমাণ উপার্জন করা একটি ফরয দায়িত্ব।

আর কাররামিয়া সম্প্রদায় বলেছে যে, বরং এটি রুখসত বা বিশেষ অনুমতি হিসেবে মুবাহ বা বৈধ; কারণ বিষয়টি হয় সব সময়ের জন্য ফরয হবে অথবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।

আর প্রথমটি বাতিল, কারণ এর ফলে কেউ এই ফরয আদায় করা থেকে অবসর পাবে না যাতে সে অন্যান্য ফরয ও ওয়াজিব কার্যাবলীতে মনোনিবেশ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَثَانِي بَاطِل لِأَن مَا يكون فرضا فِي وَقت مَخْصُوص شرعا يكون مُضَافا إِلَى ذَلِك الْوَقْت كَالصَّلَاةِ وَالصَّوْم وَلم يرد الشَّرْع بِإِضَافَة الْكسْب إِلَى وَقت مَخْصُوص ثمَّ لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون فرضا لرغبة النَّاس إِلَيْهِ أَو للضَّرُورَة

وَالْأول بَاطِل فَإِن الرَّغْبَة ثَابِتَة فِي جَمِيع مَا فِي الدُّنْيَا من الْأَمْوَال وَأحد لَا يَقُول يفترض على كل أحد تَحْصِيل جَمِيع ذَلِك

وَالثَّانِي بَاطِل أَيْضا فَإِن مَا يفترض للضَّرُورَة إِنَّمَا يفترض عِنْد تحقق الضَّرُورَة وَبعد تحقق الضَّرُورَة يعجز عَن الْكسْب فَكيف يتَأَخَّر فرضيته إِلَى حَال عَجزه وَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يفترض جَمِيع أَنْوَاعه أَو نوع مَخْصُوص مِنْهُ

وَالْأول بَاطِل لِأَن لَيْسَ فِي وسع أحد من الْبشر مُبَاشرَة جَمِيع أَنْوَاعه وَلَا يعلم ذَلِك فَإِن عمره يفنى قبل أَن يتَعَلَّم ذَلِك

وَالثَّانِي بَاطِل لِأَن لَيْسَ بعض الْأَنْوَاع بتخصيصه بالفريضة بِأولى من بعض وَلَا يَخْلُو إِمَّا يفترض على جَمِيع النَّاس أَو على بَعضهم

وَالْأول بَاطِل فَإِن الْأَنْبِيَاء عليهم السلام مَا اشتغلوا بِالْكَسْبِ فِي عَامَّة أوقاتهم وَكَذَا أَعْلَام الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ وَمن بعدهمْ من الأخيار لَا يظنّ بهم أَنهم اجْتَمعُوا على ترك مَا هُوَ فرض عَلَيْهِم

وَالثَّانِي بَاطِل لِأَن لَيْسَ بعض النَّاس بتخصيصه بِهَذِهِ الْفَرِيضَة بِأولى من الْبَعْض

فَتبين أَن الْكسْب لَيْسَ بِفَرْض أصلا وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَنه لَو كَانَ أَصله فرضا لَكَانَ الاستكثار مِنْهُ مَنْدُوبًا إِلَيْهِ أَو كَانَ نفلا بِمَنْزِلَة الْعِبَادَات والاستكثار مِنْهُ مَذْمُوم كَمَا قَالَ الله تَعَالَى {إِنَّمَا الْحَيَاة الدُّنْيَا لعب وَلَهو} إِلَى قَوْله تَعَالَى {عَذَاب شَدِيد} وَبِهَذَا الْحَرْف يَقع الْفرق بَينه وَبَين طلب
আর দ্বিতীয়টি বাতিল, কারণ যা শরীয়ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ হয়, তা সেই সময়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়, যেমন সালাত ও সওম। অথচ শরীয়ত উপার্জনকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেয়নি। তদুপরি, এটি হয় মানুষের এর প্রতি আগ্রহের কারণে ফরজ হবে অথবা প্রয়োজনে।

আর প্রথমটি বাতিল, কারণ দুনিয়ার সকল প্রকার সম্পদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বিদ্যমান, অথচ কেউ বলে না যে প্রত্যেকের ওপর সেই সব কিছু অর্জন করা ফরজ।

দ্বিতীয়টিও বাতিল, কারণ যা প্রয়োজনে ফরজ হয়, তা কেবল প্রয়োজন দেখা দিলেই ফরজ হয়। আর প্রয়োজন দেখা দেওয়ার পর মানুষ উপার্জন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, সুতরাং তার অক্ষমতার অবস্থা পর্যন্ত এর ফরজ হওয়া কীভাবে বিলম্বিত হতে পারে? তদুপরি, হয় উপার্জনের সকল প্রকার ফরজ হবে অথবা এর কোনো বিশেষ প্রকার।

প্রথমটি বাতিল, কারণ কোনো মানুষের পক্ষেই এর সকল প্রকার কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব নয় এবং সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত হওয়াও সম্ভব নয়, কেননা তা শিখতে শিখতেই তার আয়ু শেষ হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়টিও বাতিল, কারণ কোনো বিশেষ প্রকারকে ফরজ করার ক্ষেত্রে অন্য প্রকারের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তদুপরি, এটি হয় সকল মানুষের ওপর ফরজ হবে অথবা তাদের মধ্য থেকে এক দলের ওপর।

প্রথমটি বাতিল, কারণ আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম তাঁদের সময়ের অধিকাংশ ভাগে উপার্জনের কাজে লিপ্ত ছিলেন না। একইভাবে বিশিষ্ট সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন এবং তাঁদের পরবর্তী নেককার ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রেও এটি ধারণা করা যায় না যে, তাঁরা তাঁদের ওপর যা ফরজ ছিল তা বর্জন করার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন।

দ্বিতীয়টি বাতিল, কারণ নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে এই ফরজ বিধানের জন্য নির্দিষ্ট করা অন্য কারো চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত নয়।

সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, উপার্জন মূলত কোনো ফরজ কাজ নয়। এর দলিল হলো এই যে, যদি এটি মূলত ফরজ হতো, তবে তা অধিক পরিমাণে করা পছন্দনীয় (মানদুব) হতো অথবা ইবাদতের ন্যায় নফল কাজ হতো। অথচ এর প্রাচুর্য অন্বেষণ করা নিন্দনীয়, যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা ও তামাশা...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {কঠিন শাস্তি}। আর এই বিষয়ের মাধ্যমেই উপার্জন এবং জ্ঞান অন্বেষণের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْعلم بِأَن أَصله لما كَانَ فرضا كَانَ الاستكثار مَنْدُوبًا إِلَيْهِ

وَحجَّتنَا فِي ذَلِك قَوْله تَعَالَى {أَنْفقُوا من طَيّبَات مَا كسبتم} وَالْأَمر حَقِيقَة للْوُجُوب وَلَا يتَصَوَّر الْإِنْفَاق من المكسوب إِلَّا بعد الْكسْب وَمَا لَا يتَوَصَّل إِلَى إِقَامَة الْعِبَادَة إِلَّا بِهِ وَلَا يتَوَصَّل إِلَى إِقَامَة الْفَرْض إِلَّا بِهِ يكون فرضا وَقَالَ تَعَالَى {فَإِذا قضيت الصَّلَاة فَانْتَشرُوا فِي الأَرْض} الْآيَة يَعْنِي الْكسْب وَالْأَمر حَقِيقَة للْوُجُوب

فَإِن قيل قد وري عَن مُجَاهِد وَمَكْحُول رحمهمَا الله أَنَّهُمَا قَالَا المُرَاد طلب الْعلم قُلْنَا مَا ذكرنَا من التَّفْسِير مَرْوِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ قَالَ طلب الْكسْب بعد الصَّلَاة الْمَكْتُوبَة هِيَ الْفَرِيضَة بعد الْفَرِيضَة وتلا قَوْله تَعَالَى {فَإِذا قضيت الصَّلَاة} فَلَا يتْرك ذَلِك بقول مَكْحُول وَمُجاهد رحمهمَا الله وَالظَّاهِر يُؤَيّد مَا ذكرنَا بِدَلِيل مَا ذكر بعده {وَإِذا رَأَوْا تِجَارَة} الْآيَة وَكَانَ قد انْفَضُّوا بذلك فِي حَال خطبَته فنهوا عَن ذَلِك وَأمرُوا بِهِ بعد الْفَرَاغ من الصَّلَاة فَإِن قيل فَالْأَمْر بعد النَّهْي يُفِيد الْإِبَاحَة قُلْنَا الْأَمر حَقِيقَة للْإِيجَاب وَلَو كَانَ المُرَاد هُوَ الْإِبَاحَة والرخصة لقَالَ فَلَا
এই জ্ঞান রাখা যে, যেহেতু এর মূল ভিত্তি (উপার্জন) ফরজ ছিল, তাই এর আধিক্য অনুসন্ধান করা মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়।

এ বিষয়ে আমাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যা উপার্জন করেছ তা থেকে উত্তম বস্তুসমূহ ব্যয় করো}। আর আদেশ মূলত ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার অর্থ প্রদান করে এবং উপার্জিত বস্তু থেকে ব্যয় করার বিষয়টি উপার্জন ব্যতীত কল্পনা করা যায় না। আর যে মাধ্যম ছাড়া ইবাদত কায়েম করা সম্ভব নয় এবং যা ছাড়া ফরজ আদায় করা সম্ভব নয়, সেটিও ফরজ হিসেবে গণ্য হয়। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো}—এই আয়াত। এর অর্থ হলো উপার্জন করা এবং আদেশ মূলত ওয়াজিব হওয়ারই অর্থ বহন করে।

যদি বলা হয়, মুজাহিদ এবং মাকহুল (রহিমাহুমাল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: এখানে উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অনুসন্ধান করা। আমরা বলব: আমরা যে তাফসির উল্লেখ করেছি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। কেননা তিনি বলেছেন: ফরজ সালাতের পর উপার্জন অনুসন্ধান করা হলো ফরজের পরে আরও একটি ফরজ। এবং তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে} তিলাওয়াত করেছেন। অতএব, মাকহুল ও মুজাহিদ (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর কথার কারণে একে পরিত্যাগ করা যাবে না। আর বাহ্যিক অর্থও আমাদের উল্লিখিত বিষয়কেই সমর্থন করে, যার প্রমাণ এর পরে বর্ণিত আয়াত: {আর যখন তারা কোনো ব্যবসা দেখতে পায়}। তারা খুতবা চলাকালীন সেদিকে ছুটে গিয়েছিল, ফলে তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং সালাত শেষ করার পর এর আদেশ দেওয়া হয়েছে। যদি বলা হয়, কোনো নিষেধের পর আদেশ আসা বৈধতা বুঝায়; আমরা বলব: আদেশ মূলত ওয়াজিব হওয়ারই অর্থ প্রদান করে, আর যদি এখানে বৈধতা বা অবকাশ উদ্দেশ্য হতো তবে বলা হতো...
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪৭)
جنَاح عَلَيْكُم أَن تَبْتَغُوا من فضل الله كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي بَاب طَرِيق الْحَج {لَيْسَ عَلَيْكُم جنَاح أَن تَبْتَغُوا فضلا من ربكُم} وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن الله تَعَالَى أَمر بِالْإِنْفَاقِ على الْعِيَال من الزَّوْجَات وَالْأَوْلَاد والمعتدات وَلَا يتَمَكَّن من الْإِنْفَاق عَلَيْهِم إِلَّا بتحصيل المَال بِالْكَسْبِ وَمَا يتَوَصَّل بِهِ إِلَى أَدَاء الْوَاجِب يكون وَاجِبا

والمعقول يشْهد لَهُ فَإِن فِي الْكسْب نظام الْعَالم وَالله تَعَالَى حكم بِبَقَاء الْعَالم إِلَى حِين فنائها وَجعل سَبَب الْبَقَاء والنظام كسب الْعباد وَفِي تَركه تخريب نظامه وَذَلِكَ مَمْنُوع مِنْهُ فَإِن قيل فبقاء هَذَا النظام يتَعَلَّق بالتسافد بَين الْحَيَوَانَات وَأحد لَا يَقُول بفرضية ذَلِك قُلْنَا نعم إِن الله تَعَالَى علق الْبَقَاء بتسافد الْحَيَوَانَات وَركب الشَّهْوَة فِي طباعهم فَتلك الشَّهْوَة تحملهم على مُبَاشرَة ذَلِك الْفِعْل فَلَا تقع الْحَاجة إِلَى أَن يَجْعَل ذَلِك فرضا عَلَيْهِم لكيلا يمتنعون عَن ذَلِك فَإِن الطَّبْع أدعى إِلَى إفضاء الشَّهَوَات

فَأَما الِاكْتِسَاب فِي الِابْتِدَاء كد وتعب وَقد تعلق بِهِ بَقَاء نظام الْعَالم فَلَو لم يَجْعَل أَصله فرضا لاجتمع النَّاس عَن آخِرهم على تَركه لِأَن لَيْسَ فِي طبعهم مَا يَدْعُو إِلَيْهِ الكد والتعب فَجعل الشَّرْع أَصله فرضا لكيلا يجتمعوا على تَركه فَيحصل مَا هُوَ الْمَقْصُود

وَجَمِيع مَا ذكرُوا من التقسيمات يبطل بِمَا أَشَارَ إِلَيْهِ مُحَمَّد رحمه الله فِي قَوْله طلب الْكسْب فَرِيضَة كَمَا أَن طلب الْعلم فَرِيضَة فَإِن هَذِه التقسيمات تَأتي فِي الْعلم وَمَعَ ذَلِك كَانَ أَصله فرضا بالِاتِّفَاقِ فَكَذَا طلب الْكسْب
আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, যেমন মহান আল্লাহ হজের বিধিবিধান প্রসঙ্গে বলেছেন: {তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই যে তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অন্বেষণ করবে}। এর দলিল হলো, মহান আল্লাহ স্ত্রী, সন্তান এবং ইদ্দত পালনকারী নারীদের ভরণপোষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর উপার্জন করে অর্থ অর্জন করা ছাড়া তাদের ভরণপোষণ করা সম্ভব নয়। আর যার মাধ্যমে ওয়াজিব কাজ সম্পন্ন হয়, সেটিও ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়।

যৌক্তিকতাও এর সাক্ষ্য দেয়। কেননা উপার্জনের মধ্যেই জগতের শৃঙ্খলা নিহিত। মহান আল্লাহ জগতকে তার বিলুপ্তির সময় পর্যন্ত টিকে থাকার ফয়সালা দিয়েছেন এবং বান্দার উপার্জনকে এই টিকে থাকা ও শৃঙ্খলার কারণ সাব্যস্ত করেছেন। আর উপার্জন বর্জন করা সেই শৃঙ্খলার বিনাশ ঘটায়, যা নিষিদ্ধ। যদি বলা হয় যে, এই শৃঙ্খলার স্থায়িত্ব তো প্রাণিকুলের প্রজননের ওপর নির্ভরশীল, অথচ কেউ তো তাকে ফরজ বলে না। আমরা উত্তরে বলব, হ্যাঁ, মহান আল্লাহ জগতের স্থায়িত্বকে প্রাণীদের প্রজননের সাথে যুক্ত করেছেন এবং তাদের প্রকৃতিতে কামভাব নিহিত করেছেন। সেই কামনাই তাদের এই কার্যে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে। তাই এটি তাদের ওপর ফরজ করার প্রয়োজন পড়েনি যেন তারা এটি থেকে বিরত না থাকে; কেননা মানবপ্রকৃতিই মানুষকে জৈবিক চাহিদা পূরণে অধিক প্ররোচিত করে।

কিন্তু উপার্জন করার বিষয়টি আদতে অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও কষ্টকর। অথচ এর সাথে জগতের শৃঙ্খলার স্থায়িত্ব জড়িত। তাই যদি উপার্জনের মূল বিধানটিকে ফরজ করা না হতো, তবে সমস্ত মানুষ এটি বর্জন করার ব্যাপারে একমত হতো। কারণ মানুষের প্রকৃতিতে এমন কিছু নেই যা তাকে শ্রম ও কষ্টের দিকে ধাবিত করে। তাই শরিয়ত এর মূল বিষয়টিকে ফরজ সাব্যস্ত করেছে যাতে সকলে এটি বর্জনের ওপর একমত না হয় এবং এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।

আর তারা উপার্জনের যে সকল প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন, ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা অসার প্রমাণিত হয় যে: "উপার্জন অন্বেষণ করা ফরজ, যেমন জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ।" কেননা এই প্রকারভেদগুলো জ্ঞানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, তবুও জ্ঞানের মূল বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে ফরজ। অনুরূপভাবে উপার্জন অন্বেষণও ফরজ।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَكَانَ معنى الْفَرْضِيَّة مَا بَينا من بَقَاء نظام الْعَالم بِهِ وَلَا يُوجد ذَلِك فِي الاستكثا مِنْهُ على قصد التكاثر والتفاخر وَإِنَّمَا ذمّ الله تَعَالَى الاستكثار إِذا كَانَ بِهَذِهِ فَقَالَ عز وجل {وتفاخر بَيْنكُم وتكاثر}

ثمَّ يَنْبَنِي على هَذِه الْمَسْأَلَة مَسْأَلَة أُخْرَى وَهِي أَنه بَعْدَمَا اكْتسب مَالا بُد لَهُ مِنْهُ هَل الِاشْتِغَال بِالْكَسْبِ أفضل أم التفرغ لِلْعِبَادَةِ قَالَ بعض الْفُقَهَاء رحمهم الله الِاشْتِغَال بِالْكَسْبِ أفضل وَأكْثر مَشَايِخنَا رحمهم الله على أَن التفريغ لِلْعِبَادَةِ أفضل

وَجه القَوْل الأول أَن مَنْفَعَة الِاكْتِسَاب أَعم فَإِن مَا اكْتَسبهُ الزَّارِع تصل منفعَته إِلَى الْجَمَاعَة عَادَة وَالَّذِي يشْتَغل بِالْعبَادَة إِنَّمَا ينفع نَفسه لِأَن بِفِعْلِهِ يتَحَصَّل النجَاة لنَفسِهِ وَيحصل الثَّوَاب لجسمه وَمَا كَانَ أَعم نفعا فَهُوَ أفضل لقَوْله صلى الله عليه وسلم خير النَّاس من ينفع النَّاس وَلِهَذَا كَانَ الِاشْتِغَال بِطَلَب الْعلم أفضل من التفرغ لِلْعِبَادَةِ لِأَن مَنْفَعَة ذَلِك أَعم وَلِهَذَا كَانَت الْإِمَارَة والسلطنة بِالْعَدْلِ أفضل من التخلي لِلْعِبَادَةِ كَمَا اخْتَارَهُ الْخُلَفَاء الراشدون رضوَان الله عَلَيْهِم لِأَن ذَلِك أَعم نفعا وَإِلَى هَذَا الْمَعْنى أَشَارَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله الْعِبَادَة عشرَة أَجزَاء وَقَالَ صلى الله عليه وسلم الْجِهَاد عشرَة أَجزَاء تِسْعَة مِنْهَا طلب الْحَلَال يَعْنِي طلب الْحَلَال للإنفاق على الْعِيَال وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَنه بِالْكَسْبِ يتَمَكَّن من أَدَاء أَنْوَاع الطَّاعَات من الْجِهَاد وَالْحج وَالصَّدَََقَة وبر الْوَالِدين وصلَة الرَّحِم وَالْإِحْسَان إِلَى الْأَقَارِب والأجانب
আর ফরয হওয়ার অর্থ হলো—আমরা যা বর্ণনা করেছি যে জগতের নিয়ম-শৃঙ্খলা এর মাধ্যমেই টিকে থাকে। আর আধিক্য অর্জনের ক্ষেত্রে গৌরব ও অহংকার প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এমনটি পাওয়া যায় না। মহান আল্লাহ কেবল তখনই সম্পদ বৃদ্ধিতে মত্ত হওয়ার নিন্দা করেছেন যখন তা এই উদ্দেশ্যে হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের পারস্পরিক অহংকার এবং অধিক অর্জনের প্রতিযোগিতা"।

অতঃপর এই মাসআলার ওপর ভিত্তি করে অন্য একটি মাসআলা উদ্ভূত হয়, আর তা হলো—অপরিহার্য পরিমাণ সম্পদ উপার্জনের পর উপার্জন কার্যে লিপ্ত থাকা উত্তম নাকি ইবাদতের জন্য একাগ্র হওয়া উত্তম? কোনো কোনো ফকিহ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বলেছেন, উপার্জন কার্যে লিপ্ত থাকা উত্তম। আর আমাদের অধিকাংশ মাশায়েখ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এই মত পোষণ করেন যে, ইবাদতের জন্য একাগ্র হওয়া অধিক উত্তম।

প্রথম মতের প্রেক্ষিত হলো এই যে, উপার্জনের উপকারিতা অধিক ব্যাপক। কেননা কৃষক যা উৎপাদন করে, তার উপকারিতা সাধারণত জনসমষ্টির কাছে পৌঁছায়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইবাদতে মশগুল থাকে, সে কেবল নিজেরই উপকার করে। কারণ তার এই কাজের মাধ্যমে সে নিজের মুক্তি অর্জন করে এবং তার নিজের শরীরের জন্য সওয়াব হাসিল করে। আর যার উপকারিতা অধিক ব্যাপক, তা-ই অধিক উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে মানুষের উপকার করে।" এই কারণেই ইলম অন্বেষণে লিপ্ত থাকা ইবাদতের জন্য অবসর হওয়ার চেয়ে উত্তম, কেননা এর উপকারিতা অধিক ব্যাপক। আর এই কারণেই ন্যায়নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা ও শাসনকার্য পরিচালনা ইবাদতের জন্য নির্জনতা অবলম্বনের চেয়ে উত্তম, যেমনটি খুলাফায়ে রাশিদিন (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) বেছে নিয়েছিলেন; কারণ তার উপকারিতা অধিক ব্যাপক। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এই বাণীতে এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে, "ইবাদত দশটি অংশ।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "জিহাদ দশটি অংশ, যার নয়টি অংশ হলো হালাল অন্বেষণ করা।" অর্থাৎ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণের জন্য হালাল রিজিক অন্বেষণ করা। এর দলিল হলো এই যে, উপার্জনের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রকারের ইবাদত সম্পাদন করা সম্ভব হয়, যেমন জিহাদ, হজ, সদকা, পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এবং আত্মীয় ও অনাত্মীয়দের প্রতি ইহসান করা।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَفِي التفريغ لِلْعِبَادَةِ لَا يتَمَكَّن إِلَّا من أَدَاء بعض الْأَنْوَاع كَالصَّوْمِ وَالصَّلَاة

وَجه القَوْل الآخر وَهُوَ الْأَصَح أَن الْأَنْبِيَاء وَالرسل عليهم السلام مَا اشتغلوا بِالْكَسْبِ فِي عَامَّة الْأَوْقَات وَلَا يخفى على أحد أَن اشتغالهم بِالْعبَادَة فِي عمرهم كَانَ أَكثر من إشتغالهم بِالْكَسْبِ وَمَعْلُوم أَنهم كَانُوا يختارون لأَنْفُسِهِمْ أَعلَى الدَّرَجَات وَلَا شكّ أَن أَعلَى مناهج الدّين طَرِيق الْمُرْسلين عليهم السلام وَكَذَا النَّاس فِي الْعَادة إِذا حزبهم أَمر يَحْتَاجُونَ إِلَى دَفعه عَن أنفسهم فيشتغلون بِالْعبَادَة لَا بِالْكَسْبِ وَالنَّاس إِنَّمَا يَتَقَرَّبُون إِلَى الْعباد دون المكتسبين وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن الِاكْتِسَاب يَصح من الْكَافِر وَالْمُسلم جَمِيعًا فَكيف يَسْتَقِيم القَوْل بتقديمه على مَا لايصح إِلَّا من الْمُؤمنِينَ خَاصَّة وَهِي الْعِبَادَة وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما سُئِلَ عَن أفضل الْأَعْمَال قَالَ أحمزها أَي أشقها على الْبدن وَإِنَّمَا أَشَارَ بِهَذَا إِلَى أَن الْمَرْء إِنَّمَا ينَال أَعلَى الدَّرَجَات بِمَنْع النَّفس عَن هَواهَا قَالَ الله تَعَالَى {وَنهى النَّفس عَن الْهوى} الْآيَة والاشتغال بِهَذِهِ الصّفة فِي الِابْتِدَاء والدوام فِي الْعِبَادَات فَأَما الْكسْب فَفِيهِ بعض التَّعَب فِي الِابْتِدَاء وَلَكِن فِيهِ قَضَاء الشَّهْوَة فِي الِانْتِهَاء وَتَحْصِيل مُرَاد النَّفس فَلَا بُد من القَوْل بِأَن مَا يكون بِخِلَاف هوى النَّفس ابْتِدَاء وانتهاء فَهُوَ أفضل

وَلَا يدْخل على شئ مِمَّا ذكرنَا النِّكَاح فَإِن الِاشْتِغَال بِالنِّكَاحِ أفضل عندنَا من التخلي لعبادة الله تَعَالَى وَهَذَا الْمَعْنى مَوْجُود فِيهِ لِأَنَّهُ إِنَّمَا كَانَ ذَلِك أفضل
ইবাদতের জন্য নিবিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে রোজা ও নামাজের ন্যায় কেবল কিছু প্রকার ইবাদত আদায় করা ছাড়া সক্ষম হওয়া যায় না।

অপর মতের ভিত্তি—যা অধিকতর বিশুদ্ধ—তা হলো এই যে, নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) অধিকাংশ সময় জীবিকা উপার্জনে নিয়োজিত ছিলেন না। আর কারো নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, তাঁদের জীবনে ইবাদতে মগ্ন থাকা জীবিকা উপার্জনে মগ্ন থাকার চেয়ে বেশি ছিল। এটি সুবিদিত যে, তাঁরা নিজেদের জন্য সর্বোচ্চ স্তর নির্বাচন করতেন এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দ্বীনের সর্বোচ্চ পথ হলো রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) পথ। অনুরূপভাবে, সাধারণ অভ্যাসের ক্ষেত্রেও যখন মানুষ কোনো সংকটে পড়ে যা থেকে তারা নিষ্কৃতি চায়, তখন তারা ইবাদতে মগ্ন হয়, উপার্জনে নয়। আর মানুষ কেবল ইবাদতকারীদের নৈকট্য লাভ করতে চায়, উপার্জনকারীদের নয়। এর দলীল হলো, উপার্জন কাফির ও মুসলিম উভয়ের পক্ষ থেকেই সঠিক হয়; সুতরাং যা কেবল মুমিনদের পক্ষ থেকেই সঠিক হয়—অর্থাৎ ইবাদত—তার ওপর উপার্জনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা কীভাবে সঠিক হতে পারে? এর আরেকটি দলীল হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখন সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "যা অধিক কষ্টসাধ্য", অর্থাৎ যা শরীরের জন্য অধিক পরিশ্রমের। এর মাধ্যমে তিনি কেবল এই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মানুষ প্রবৃত্তিকে তার লালসা থেকে বিরত রাখার মাধ্যমেই সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং প্রবৃত্তিকে তার খেয়াল-খুশি থেকে বিরত রাখে" (আয়াত)। ইবাদতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই গুণের ওপর নিরবচ্ছিন্ন থাকা আবশ্যক। পক্ষান্তরে উপার্জনের শুরুতে কিছুটা ক্লান্তি থাকলেও শেষে তাতে প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ এবং নফসের উদ্দেশ্য হাসিল হয়। সুতরাং এটি বলতেই হয় যে, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রবৃত্তির চাহিদার পরিপন্থী, তাই উত্তম।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কোনো কিছুই বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; কারণ আমাদের নিকট বিবাহের কাজে মশগুল থাকা আল্লাহর ইবাদতের জন্য একাগ্র হওয়ার চেয়ে উত্তম। আর এই তাৎপর্য এতে বিদ্যমান থাকার কারণেই তা উত্তম হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫০)
لما فِيهِ من تَكْثِير عباد الله وَأمة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَتَحْقِيق مباهاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بهم وَذَلِكَ لايوجد هُنَا

وَكَانَ التفرغ لِلْعِبَادَةِ أفضل من الِاشْتِغَال بِالْكَسْبِ بَعْدَمَا حصل مَا لَا بُد لَهُ مِنْهُ وَهَذِه الْمَسْأَلَة تنبني على مَسْأَلَة أُخْرَى اخْتلف فِيهَا الْعلمَاء رحمهم الله وَهُوَ أَن صفة الْفقر أَعلَى أم صفة الْغنى فَالْمَذْهَب عندنَا أَن صفة الْفقر أَعلَى وَقَالَ بعض الْفُقَهَاء إِن صفة الْغنى أَعلَى وَقد أَشَارَ مُحَمَّد رحمه الله فِي كتاب الْكسْب فِي موضِعين إِلَى مَا بَيناهُ من مَذْهَبنَا فَقَالَ فِي أحد الْمَوْضِعَيْنِ وَلَو أَن النَّاس قنعوا بِمَا يكفيهم وعمدوا إِلَى الفضول فوجهوها إِلَى أَمر آخرتهم كَانَ خيرا لَهُم وَقَالَ فِي الْموضع الاخر وَمَا زَاد على مَا لَا بُد مِنْهُ يُحَاسب الْمَرْء عَلَيْهِ وَلَا يُحَاسب أحد على الْفقر فَلَا شكّ أَن مَا لَا يُحَاسب الْمَرْء عَلَيْهِ يكون أفضل مِمَّا يُحَاسب الْمَرْء عَلَيْهِ

وَأما من فضل الْغنى احْتج فَقَالَ الْغنى نعْمَة والفقر بؤس ونقمة ومحنة وَلَا يخفى على عَاقل أَن النِّعْمَة أفضل من النقمَة والمحنة وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن الله تَعَالَى سمى المَال فضلا فَقَالَ عز وجل {وابتغوا من فضل الله} وَقَالَ تَعَالَى {لَيْسَ عَلَيْكُم جنَاح أَن تَبْتَغُوا فضلا من ربكُم} وَمَا هُوَ فضل الله فَهُوَ أَعلَى الدَّرَجَات وسمى المَال خيرا فَقَالَ عز وجل {إِن ترك خيرا الْوَصِيَّة للْوَالِدين} وَهَذَا اللَّفْظ يدل على أَنه خير من ضِدّه وَقَالَ الله تَعَالَى {وَلَقَد آتَيْنَا دَاوُد منا فضلا} يعْنى الْملك وَالْمَال حَتَّى رُوِيَ أَنه كَانَ لَهُ مائَة سَرِيَّة فَمن الله بذلك عَلَيْهِ وَسَماهُ فضلا مِنْهُ وَسليمَان صلوَات
যেহেতু এতে আল্লাহর বান্দাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং তাদের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গর্ব করার বিষয়টি বাস্তবায়িত হওয়া নিহিত রয়েছে, যা এখানে বিদ্যমান নেই।

প্রয়োজনীয় সম্পদ অর্জিত হওয়ার পর ইবাদতের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করা উপার্জনে লিপ্ত থাকার চেয়ে উত্তম। আর এই মাসআলাটি অন্য একটি মাসআলার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যাতে ওলামায়ে কেরাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) মতভেদ করেছেন। আর তা হলো—দারিদ্র্যের বৈশিষ্ট্য কি শ্রেষ্ঠ নাকি ধনাঢ্যতার বৈশিষ্ট্য শ্রেষ্ঠ? আমাদের নিকট মাযহাব হলো, দারিদ্র্যের বৈশিষ্ট্যই শ্রেষ্ঠ। আবার কিছু ফকীহ বলেছেন, ধনাঢ্যতার বৈশিষ্ট্য শ্রেষ্ঠ। ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর 'কিতাবুল কাসব'-এর দুটি স্থানে আমাদের বর্ণিত মাযহাবের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি এক স্থানে বলেছেন: "যদি মানুষ তাদের প্রয়োজনের ওপর তুষ্ট থাকত এবং প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদকে পরিহার করে তা তাদের আখেরাতের কাজে ব্যয় করত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো।" তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের জন্য মানুষকে হিসাব দিতে হবে, কিন্তু দারিদ্র্যের জন্য কাউকে হিসাব দিতে হবে না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে বিষয়ে মানুষকে হিসাব দিতে হবে না তা ওই বিষয়ের চেয়ে উত্তম যে বিষয়ে তাকে হিসাব দিতে হবে।"

আর যারা ধনাঢ্যতাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তারা দলিল পেশ করে বলেন যে, ধনাঢ্যতা হলো একটি নিয়ামত এবং দারিদ্র্য হলো দুর্দশা, অভিশাপ ও পরীক্ষা। কোনো বিবেকবানের কাছেই এটি অস্পষ্ট নয় যে, নিয়ামত বিপদ ও পরীক্ষার চেয়ে উত্তম। এর দলিল হলো, আল্লাহ তাআলা সম্পদকে 'ফজল' (অনুগ্রহ) নামে অভিহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান করো।" এবং তিনি আরও বলেছেন, "তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই যে, তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো।" আর যা আল্লাহর অনুগ্রহ, তা তো সর্বোচ্চ মর্যাদার বিষয়। তিনি সম্পদকে 'খাইর' (কল্যাণ) হিসেবেও অভিহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, "যদি সে কোনো কল্যাণ (সম্পদ) রেখে যায়, তবে পিতা-মাতাকে অসিয়ত করা..."। এই শব্দটি প্রমাণ করে যে, এটি তার বিপরীত অবস্থার চেয়ে কল্যাণকর। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "অবশ্যই আমি দাউদকে আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দান করেছি।" অর্থাৎ রাজত্ব ও সম্পদ। এমনকি বর্ণিত আছে যে, তাঁর একশজন উপপত্নী ছিল। আল্লাহ তাঁর প্রতি এর মাধ্যমে ইহসান করেছেন এবং একে তাঁর পক্ষ থেকে 'ফজল' (অনুগ্রহ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)...
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫১)
الله عَلَيْهِ سَأَلَ الله تَعَالَى ذَلِك فَقَالَ {رب اغْفِر لي وهب لي ملكا لَا يَنْبَغِي لأحد من بعدِي} وَلَا يظنّ بِأحد من الرُّسُل عليهم السلام أَنه سَأَلَ الله الدرجَة الْأَدْنَى دون الدرجَة الْعليا وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الْأَيْدِي ثَلَاثَة يَد الله ثمَّ الْيَد المعطية ثمَّ الْيَد المعطاة فَهِيَ السُّفْلى إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَفِي حَدِيث آخر قَالَ صلى الله عليه وسلم الْيَد الْعليا خير من الْيَد السُّفْلى وَالْيَد الْعليا هِيَ المعطية وَقَالَ صلى الله عليه وسلم لسعد بن أبي وَقاص رضي الله عنه إِنَّك إِن تدع وَرثتك أَغْنِيَاء خير لَك من أَن تَدعهُمْ عَالَة يَتَكَفَّفُونَ النَّاس وَقَالَ أَبُو بكر الصّديق رضي الله عنه لعَائِشَة رضي الله عنها فِي مَرضه إِن أحب النَّاس إِلَى غنى أَنْت وأعزهم على فقر أَنْت فَهَذَا يدل على صفة الْغنى أفضل وَأَعْلَى من صفة الْفقر قَالَ صلى الله عليه وسلم كَاد الْفقر أَن يكون كفرا وَقَالَ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ إِنِّي أعوذ بك من الْفقر إِلَّا إِلَيْك وَقَالَ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ إِنِّي أعوذ بك من الْبُؤْس وَالتَّبَاؤُس والبؤس الْفقر وَالتَّبَاؤُس التمسكن وَلَا يظنّ بِالنَّبِيِّ أَنه يتَعَوَّذ بِاللَّه تَعَالَى من أَعلَى الدَّرَجَات

وَحجَّتنَا فِي ذَلِك أَن الْفقر أسلم للعباد وَأَعْلَى الدَّرَجَات للْعَبد مَا يكون أسلم لَهُ وَبَيَان ذَلِك أَنه يسلم بالفقر من طغيان الْغنى قَالَ الله تَعَالَى {كلا إِن الْإِنْسَان ليطْغى} الْآيَة وَقَالَ عز وجل {الَّذين طغوا فِي الْبِلَاد}
আল্লাহ তাআলার নিকট তিনি এটি চেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভা পাবে না।" আর রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) কারো সম্পর্কে এমন ধারণা করা যায় না যে, তাঁরা উচ্চতর মর্যাদার পরিবর্তে আল্লাহর নিকট নিম্নতর মর্যাদা প্রার্থনা করেছিলেন। এর প্রমাণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "হাত তিন প্রকার: আল্লাহর হাত, এরপর প্রদানকারীর হাত, এরপর যা গ্রহণ করা হয় সেই হাত; আর কিয়ামত পর্যন্ত এটিই হলো নিম্নতর হাত।" অন্য এক হাদীসে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "উচ্চতর হাত নিম্নতর হাতের চেয়ে উত্তম এবং উচ্চতর হাত হলো দানকারীর হাত।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন, "তুমি তোমার ওয়ারিশদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদেরকে মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়ানো অভাবী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে তোমার জন্য উত্তম।" আর আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর অসুস্থতার সময় আয়েশাকে (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছিলেন, "লোকদের মধ্যে তোমার সচ্ছল থাকা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং তোমার দরিদ্র হওয়া আমার কাছে সবচেয়ে বেশি বেদনাদায়ক।" সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, সচ্ছলতার বৈশিষ্ট্য দারিদ্র্যের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উচ্চতর। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "দারিদ্র্য কুফরির কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন, "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় চাই, তবে আপনার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া ব্যতীত।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন, "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুর্দশা এবং দুর্দশাগ্রস্তের বেশ ধরা থেকে আশ্রয় চাই।" 'বু’স' (দুর্দশা) হলো দারিদ্র্য এবং 'তাবাউস' হলো কৃত্রিম দীনহীনতা প্রকাশ করা। আর নবীর সম্পর্কে এমন ধারণা করা যায় না যে, তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বোচ্চ মর্যাদা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন।

এ বিষয়ে আমাদের দলিল হলো এই যে, দারিদ্র্য বান্দার জন্য অধিক নিরাপদ এবং বান্দার জন্য সেই স্তরটিই সর্বোচ্চ যা তার জন্য অধিকতর নিরাপদ। এর ব্যাখ্যা হলো, মানুষ দারিদ্র্যের মাধ্যমে সচ্ছলতার ঔদ্ধত্য থেকে রক্ষা পায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "কখনই নয়, মানুষ অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে থাকে..." (আয়াত)। তিনি আরও বলেছেন, "যারা জনপদে সীমালঙ্ঘন করেছিল।"
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫২)
الْآيَة إِنَّمَا حملهمْ على ذَلِك طغيان الْغنى يَعْنِي الَّذين ادعوا مَا لَا يَنْبَغِي لَهُم وَلَا لأحد من الْبشر فَأَنَّهُ لم ينْقل أَن أحدا من الْفُقَرَاء وَقع فِي ذَلِك فَدلَّ أَن الْفقر أسلم ثمَّ صفة الْغنى مِمَّا تميل إِلَيْهِ النَّفس وَيَدْعُو إِلَيْهِ الطَّبْع ويتوصل بِهِ إِلَى إقتضاء الشَّهَوَات وَلَا يتَوَصَّل بالفقر إِلَى شَيْء من ذَلِك وَأَعْلَى الدَّرَجَات مَا يكون أبعد من اقْتِضَاء الشَّهَوَات قَالَ الله تَعَالَى {وَاتبعُوا الشَّهَوَات فَسَوف يلقون غيا} وَقَالَ عز وجل {زين للنَّاس حب الشَّهَوَات} الْآيَة وَالدَّلِيل عَلَيْهِ قَوْله صلى الله عليه وسلم حفت الْجنَّة بالمكاره وَالنَّار بالشهوات وَقَالَ صلى الله عليه وسلم الْفقر أزين على الْمُؤمن من العذار الْجيد على خد الْعَرُوس وَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِن فُقَرَاء أمتِي يدْخلُونَ الْجنَّة قبل أغنيائهم بِنصْف يَوْم وَهُوَ خَمْسمِائَة عَام وَفِي الْآثَار أَن آخر الْأَنْبِيَاء عليهم السلام دُخُولا الْجنَّة سُلَيْمَان عليه السلام لملكه وَقَالَ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا لعبد الرَّحْمَن بن عَوْف رضي الله عنه مَا بطأ بك عني يَا عبد الرَّحْمَن قَالَ وَمَا ذَاك يَا رَسُول الله فَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِنَّك آخر أَصْحَابِي لُحُوقا بِي يَوْم الْقِيَامَة فَأَقُول مَا حَبسك عني فَيَقُول المَال كنت محاسبا مَحْبُوسًا حَتَّى الْآن وَكَانَ هُوَ من الْعشْرَة الَّذين شهد لَهُم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِالْجنَّةِ وَقد قَاسم الله تَعَالَى مَاله أَربع مَرَّات فَتصدق بِالنِّصْفِ وَأمْسك النّصْف فِي الْمرة الأولى كَانَ مَاله ثَمَانِيَة

আয়াতাংশ: মূলত সম্পদের অহংকারই তাদেরকে এ কাজে প্ররোচিত করেছিল, অর্থাৎ তারা এমন কিছুর দাবি করেছিল যা তাদের জন্য কিংবা কোনো মানুষের জন্যই সমীচীন নয়। কেননা কোনো দরিদ্র ব্যক্তি এমন কাজে লিপ্ত হয়েছে বলে বর্ণিত হয়নি, যা একথাই প্রমাণ করে যে দারিদ্র্য অধিক নিরাপদ। অধিকন্তু, ধনাঢ্যতা এমন এক বৈশিষ্ট্য যার প্রতি প্রবৃত্তি আসক্ত হয়, মানুষের স্বভাব সেদিকেই ধাবিত করে এবং এর মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার পথ সুগম হয়। অথচ দারিদ্র্যের মাধ্যমে এর কোনো কিছুই অর্জিত হয় না। আর মর্তবার দিক থেকে সর্বোচ্চ স্তরে তারাই আসীন যারা কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করা থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল, সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।" আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেন: "মানুষের জন্য প্রবৃত্তির মহব্বত শোভনীয় করা হয়েছে..." (আয়াতাংশ)। এর প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জান্নাতকে বেষ্টন করা হয়েছে কষ্টকর বিষয়াদি দ্বারা এবং জাহান্নামকে বেষ্টন করা হয়েছে প্রবৃত্তির লালসা দ্বারা।" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "মুমিনের কাছে দারিদ্র্য কনের গালে সুন্দর অলংকারের চেয়েও অধিক শোভনীয়।" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের দরিদ্ররা তাদের ধনীদের পাঁচশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যা (পরকালের হিসাবে) অর্ধেক দিন।" বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) মধ্যে সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাঁর রাজত্বের কারণে সবার শেষে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: "হে আবদুর রহমান! কী তোমাকে আমার কাছে পৌঁছাতে বিলম্বিত করল?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! বিষয়টি কী?" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "কিয়ামতের দিন তুমিই আমার সাহাবীদের মধ্যে সবার শেষে আমার সাথে মিলিত হবে। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করব, কী তোমাকে আমার নিকট আসতে আটকে রেখেছিল? তখন সে বলবে, সম্পদ; আমাকে সম্পদের হিসাব দিতে হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত আমি আটকে ছিলাম।" অথচ তিনি ছিলেন সেই দশজন সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত যাদের জান্নাতের সাক্ষ্য স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন। তিনি চারবার আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্বীয় সম্পদ বণ্টন করেছিলেন; অর্ধেক অংশ সদকা করেছিলেন এবং অর্ধেক অংশ রেখে দিয়েছিলেন। প্রথমবার তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল আট...

(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫৩)
آلَاف دِرْهَم فَتصدق بأَرْبعَة آلَاف وَفِي الْمرة الثَّانِيَة كَانَ ثَمَانِيَة آلَاف دِينَار فَتصدق بأَرْبعَة آلَاف دِينَار وَفِي الْمرة الثَّالِثَة كَانَ سِتَّة عشر ألف دِينَار فَتصدق بِنِصْفِهَا وَفِي الْمرة الرَّابِعَة كَانَ اثْنَيْنِ وَثَلَاثِينَ ألف دِينَار فَتصدق بِنِصْفِهَا وَمَعَ هَذَا كُله قَالَ لَهُ صلى الله عليه وسلم فِي حَقه مَا قَالَ فَتبين بِهِ أَن صفة الْفقر أفضل وَقَالَ صلى الله عليه وسلم عرض على مَفَاتِيح خَزَائِن الأَرْض فاستقلت أخي جِبْرَائِيل عليه السلام ذَلِك فَأَشَارَ إِلَى التَّوَاضُع فَقلت أكون عبدا نَبيا أجوع يَوْمًا وَأَشْبع يَوْمًا فَإِذا جعت صبرت وَإِذا شبعت شكرت فَكَانَ صلى الله عليه وسلم يَقُول اللَّهُمَّ أحيني مِسْكينا وأمتني مِسْكينا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين وَلَا شكّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يسْأَل لنَفسِهِ أَعلَى الدَّرَجَات وَأَن الْأَفْضَل لنا مَا سَأَلَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لنَفسِهِ وَقَالَ صلى الله عليه وسلم أَنا حظكم من الْأَنْبِيَاء وَأَنْتُم حظي من الْأُمَم فَفِي هَذَا إِشَارَة إِلَى أَنه علينا التَّمَسُّك بهديه وهداه

وَتبين فِيمَا ذكرنَا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا تعوذ من الْفقر الْمُطلق وَإِنَّمَا تعوذ من الْفقر المنسي على مَا رُوِيَ فِي بعض الرِّوَايَات أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أعوذ بك من فقر منسي وَمن غنى يطغي إِلَّا أَنه قيد السُّؤَال فِي بعض الْأَحْوَال وَأطلق فِي بعض الْأَحْوَال وَمرَاده ذَلِك أَيْضا وَلَكِن من
...হাজার দিরহাম ছিল, অতঃপর তিনি চার হাজার দিরহাম দান করে দেন। দ্বিতীয়বার আট হাজার দিনার ছিল, তখন তিনি চার হাজার দিনার দান করেন। তৃতীয়বার ষোল হাজার দিনার ছিল, তিনি তার অর্ধেক দান করে দেন। চতুর্থবার বত্রিশ হাজার দিনার ছিল, তিনি তার অর্ধেক দান করে দেন। এই সবকিছুর সাথেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে যা বলার তা বলেছিলেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, দারিদ্র্যের বৈশিষ্ট্যটিই শ্রেষ্ঠ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার নিকট পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি পেশ করা হয়েছিল, তখন আমি আমার ভাই জিবরাঈল আলাইহিস সালামের কাছে পরামর্শ চাইলাম। তিনি বিনয় অবলম্বনের ইঙ্গিত করলেন। তখন আমি বললাম, আমি বরং একজন বান্দা-নবী হব; একদিন ক্ষুধার্ত থাকব আর একদিন তৃপ্ত থাকব। যখন ক্ষুধার্ত হব, তখন ধৈর্য ধারণ করব, আর যখন তৃপ্ত হব, তখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন অবস্থায় জীবিত রাখুন, মিসকিন অবস্থায় মৃত্যু দান করুন এবং মিসকিনদের দলের সাথেই আমাকে হাশরের ময়দানে পুনরুত্থিত করুন।" এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করতেন। আর আমাদের জন্য সেটাই সর্বোত্তম, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য প্রার্থনা করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "নবীদের মধ্যে আমি তোমাদের অংশ, আর উম্মতদের মধ্যে তোমরা আমার অংশ।" এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, আমাদের ওপর তাঁর আদর্শ ও পথনির্দেশকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরঙ্কুশ দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেননি; বরং তিনি এমন দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় চেয়েছিলেন যা মানুষকে (আল্লাহর স্মরণ থেকে) ভুলিয়ে দেয়। যেমনটি কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এমন দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় চাই যা ভুলিয়ে দেয় এবং এমন সচ্ছলতা থেকে যা অবাধ্য করে তোলে।" তবে তিনি কোনো কোনো অবস্থায় এই প্রার্থনাকে নির্দিষ্ট গুণের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন এবং কোনো কোনো অবস্থায় সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, আর তাঁর উদ্দেশ্যও ছিল সেটিই। কিন্তু যে...

(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫৪)
سمع اللَّفْظ مُطلقًا نَقله كَمَا سَمعه

وَهَذِه الْمَسْأَلَة تنبني على مَسْأَلَة أُخْرَى اخْتلف فِيهَا الْعلمَاء رحمهم الله وَهُوَ إِن الشُّكْر على الْغنى أفضل أم الصَّبْر على الْفقر اخْتلف الْعلمَاء رَحِمهم الله تَعَالَى فِي هَذِه الْمَسْأَلَة على أَرْبَعَة أقاويل

فَمنهمْ من توقف فِي جوابها لتعارض الْآثَار وَقَالُوا إِن أَبَا حنيفَة رحمه الله توقف فِي أَطْفَال الْمُشْركين لتعارض الْآثَار فيقتدى بِهِ ويتوقف فِي هَذَا الْفَصْل لتعارض الْآثَار أَيْضا

وَمِنْهُم من قَالَ هما سَوَاء وَاسْتَدَلُّوا بقوله صلى الله عليه وسلم الطاعم الشاكر كالجائع الصابر وَلِأَن الله تَعَالَى أثنى بقوله فِي كِتَابه على عَبْدَيْنِ وسمى كل وَاحِد مِنْهُمَا نعم العَبْد أَحدهمَا أنعم عَلَيْهِ فَشكر وَهُوَ سُلَيْمَان عليه السلام قَالَ الله تَعَالَى {وَوَهَبْنَا لداود} الْآيَة وَالْآخر ابْتُلِيَ فَصَبر وَهُوَ أَيُّوب عليه السلام قَالَ الله تَعَالَى {إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا نعم العَبْد} الْآيَة فَعرفنَا أَنَّهَا سَوَاء

وَمِنْهُم من قَالَ الشُّكْر على الْغنى أفضل لقَوْله صلى الله عليه وسلم الْحَمد لله ثمن كل نعْمَة وَقَالَ صلى الله عليه وسلم لَو أَن جَمِيع الدُّنْيَا صَارَت لقْمَة فَتَنَاولهَا عبد وَقَالَ الْحَمد لله رب الْعَالمين كَانَ مَا أَتَى بِهِ خيرا مِمَّا أُوتِيَ يَعْنِي لما فِي هَذِه الْكَلِمَة من الثَّنَاء على الله تَعَالَى
তিনি শব্দটি সাধারণভাবে শুনেছেন এবং যেভাবে শুনেছেন সেভাবেই তা বর্ণনা করেছেন।

আর এই বিষয়টি অন্য একটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যে বিষয়ে আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) মতভেদ করেছেন। আর তা হলো—প্রাচুর্যের ওপর শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করা উত্তম নাকি দারিদ্র্যের ওপর সবর (ধৈর্য) করা উত্তম? আলেমগণ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন) এই বিষয়ে চারটি মত ব্যক্ত করেছেন।

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন বর্ণনার বৈপরীত্যের কারণে এর উত্তর প্রদানে বিরত থেকেছেন। তাঁরা বলেছেন, ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) মুশরিকদের শিশুদের পরিণাম বিষয়ে বর্ণনার বৈপরীত্যের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন, অতএব এক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করা হবে এবং এই পরিচ্ছেদেও বর্ণনার বৈপরীত্য থাকার কারণে সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থাকা হবে।

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, উভয়টি সমান। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল দিয়েছেন যে, "আহারকারী কৃতজ্ঞ ব্যক্তি ধৈর্যশীল ক্ষুধার্ত ব্যক্তির সমতুল্য।" আর একারণেও যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে দুজন বান্দার প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে 'কতই না চমৎকার বান্দা' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের একজন হলেন সুলায়মান (আলাইহিস সালাম), যাঁকে নেয়ামত দান করা হয়েছিল এবং তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, "আর আমি দাউদকে (সুলায়মানকে) দান করলাম..." (আয়াতের অংশ)। আর অপরজন হলেন আইয়ুব (আলাইহিস সালাম), যাকে পরীক্ষায় নিপতিত করা হয়েছিল এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, "নিশ্চয়ই আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি, কতই না চমৎকার বান্দা তিনি..." (আয়াতের অংশ)। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, উভয়টি সমান।

আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, সচ্ছলতার ওপর শুকরিয়া আদায় করা উত্তম; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এই বাক্যটি হলো সকল নেয়ামতের বিনিময়।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, "যদি সমগ্র পৃথিবী একটি গ্রাসে পরিণত হয় এবং কোনো বান্দা তা গ্রহণ করে বলে 'সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য', তবে সে যা পেশ করল (শুকরিয়া) তা তাকে যা দান করা হয়েছে (দুনিয়া) তার চেয়েও উত্তম হবে।" অর্থাৎ এই বাণীর মধ্যে আল্লাহ তাআলার যে প্রশংসা নিহিত রয়েছে, সেই কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَتبين بِالْحَدِيثِ الأول أَن الشُّكْر يكون بالثناء على الله فَكَانَ أفضل من الصَّبْر وَالدَّلِيل عَلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {اعْمَلُوا آل دَاوُد شكرا} وَهَذَا يعم جَمِيع الطَّاعَات وَلَا شكّ أَن مَا يعم جَمِيع الطَّاعَات والامتناع من أَنْوَاع الْمعاصِي مَعَ التَّمَكُّن من مباشرتها صُورَة وَذَلِكَ لَا يُوجد فِي الصَّبْر على الْفقر

وَالْمذهب عندنَا أَن الصَّبْر على الْفقر أفضل قَالَ صلى الله عليه وسلم الصَّبْر نصف الْإِيمَان وَقَالَ صلى الله عليه وسلم الصَّبْر من الْإِيمَان بِمَنْزِلَة الرَّأْس من الْجَسَد وَلِأَن فِي الْفقر معنى الِابْتِلَاء وَالصَّبْر وَالصَّبْر على الِابْتِلَاء يكون أفضل من الشُّكْر على النِّعْمَة وَيعْتَبر هَذَا بِسَائِر أَنْوَاع الِابْتِلَاء فَإِن الصَّبْر على ألم الْمَرَض أعظم فِي الثَّوَاب من الشُّكْر على صِحَة الْبدن وَكَذَلِكَ الصَّبْر على الْعَمى أفضل من الشُّكْر على الْبَصَر قَالَ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يأثر عَن ربه عز وجل من أخذت كريمتيه فَصَبر على ذَلِك فَلَا أجر لَهُ عِنْدِي إِلَّا الْجنَّة أَو قَالَ الْجنَّة والرؤية وَهَذِه لفقرة وَهُوَ أَن لِلْمُؤمنِ ثَوابًا فِي نفس الْمُصِيبَة قَالَ صلى الله عليه وسلم يُؤجر الْمُؤمن فِي كل شئ حَتَّى الشَّوْكَة يشاكها فِي رجله وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَن ماعزا رضي الله عنه حِين أَصَابَهُ حر الْحِجَارَة هرب وَكَانَ ذَلِك مِنْهُ نوع اضْطِرَاب ثمَّ مَعَ ذَلِك قَالَ فِيهِ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
প্রথম হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, শুকরিয়া আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমেই হয়ে থাকে, তাই তা সবর অপেক্ষা উত্তম। এর সপক্ষে দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে দাউদ পরিবার, তোমরা শুকরিয়া স্বরূপ আমল করো}। এটি সমস্ত আনুগত্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যা সমস্ত আনুগত্যকে এবং গুনাহর কাজে লিপ্ত হওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা দারিদ্র্যের ওপর সবর করার মধ্যে পাওয়া যায় না।

আমাদের নিকট মাযহাব হলো দারিদ্র্যের ওপর সবর করাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সবর হলো ঈমানের অর্ধেক।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "দেহে মস্তকের যে স্থান, ঈমানে সবরের স্থানও তদ্রূপ।" কারণ দারিদ্র্যের মধ্যে পরীক্ষা ও সবরের অর্থ নিহিত রয়েছে, আর পরীক্ষার ওপর সবর করা নিআমতের ওপর শুকরিয়া আদায় করার চেয়ে উত্তম। অন্যান্য সমস্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এটি বিবেচ্য। কেননা অসুস্থতার যন্ত্রণার ওপর সবর করা শারীরিক সুস্থতার শুকরিয়া অপেক্ষা সওয়াবের দিক থেকে মহান। অনুরূপভাবে দৃষ্টিহীনতার ওপর সবর করা দৃষ্টিশক্তির শুকরিয়া আদায় অপেক্ষা উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি যার দু’টি প্রিয় বস্তু কেড়ে নিই এবং সে তাতে সবর করে, আমার কাছে জান্নাত ভিন্ন তার আর কোনো প্রতিদান নেই।" অথবা তিনি বলেছেন: "জান্নাত ও আল্লাহর দর্শন।" আর এটি একটি বিষয় যে, মুমিন ব্যক্তি মুসিবতের কারণেও সওয়াব লাভ করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনকে প্রতিটি বিষয়ের জন্য প্রতিদান দেওয়া হয়, এমনকি তার পায়ে যে কাঁটা বিঁধে তার জন্যও।" এর প্রমাণ হলো, মায়েজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন পাথরের উত্তাপ অনুভব করলেন তখন তিনি পলায়ন করেছিলেন এবং তা ছিল তাঁর পক্ষ থেকে এক প্রকার অস্থিরতা, তা সত্ত্বেও তাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫৬)
لقد تَابَ تَوْبَة لَو قسمت تَوْبَته على جَمِيع أهل الأَرْض لوسعتهم فَعرفنَا أَن فِي نفس الْمُصِيبَة لِلْمُؤمنِ ثَوَاب وَفِي الصَّبْر عَلَيْهَا ثَوَاب أَيْضا

فَأَما نفس الْغنى لَا ثَوَاب بِهِ وَإِنَّمَا الثَّوَاب فِي الشُّكْر على الْغنى وَمَا ينَال بِهِ بِهِ الثَّوَاب من وَجْهَيْن يكون أَعلَى مَا ينَال فِيهِ الثَّوَاب من وَجه وَاحِد وكما أَن فِي الشُّكْر على الْغنى ثَنَاء على الله تَعَالَى وَفِي الصَّبْر على الْمُصِيبَة كَذَا لقَوْله تَعَالَى {الَّذين إِذا أَصَابَتْهُم مُصِيبَة} الْآيَة وَحكي أَن غَنِيا وَفَقِيرًا تناظرا فِي هَذِه الْمَسْأَلَة فَقَالَ الْغَنِيّ الْغَنِيّ الشاكر أفضل فَإِن الله تَعَالَى اسْتقْرض من الْأَغْنِيَاء فَقَالَ عز وجل {من ذَا الَّذِي يقْرض الله} الْآيَة وَقَالَ الْفَقِير إِن الله تَعَالَى إِنَّمَا اسْتقْرض من الْأَغْنِيَاء للْفُقَرَاء وَقد يستقرض من الحبيب وَغير الحبيب وَلَا يستقرض إِلَّا لأجل الحبيب

تَرْجِيحه إِن الْغَنِيّ يحْتَاج إِلَى الْفَقِير وَالْفَقِير لَا يحْتَاج إِلَى الْغَنِيّ لِأَن الْغَنِيّ يلْزمه أَدَاء حق المَال فَلَو اجْتمع الْفُقَرَاء عَن آخِرهم على أَن لَا يَأْخُذُوا شَيْئا من ذَلِك لم يجبروا على الْأَخْذ ويحمدون شرعا على الِامْتِنَاع عَن الْأَخْذ وَلَا يتَمَكَّن الْأَغْنِيَاء من إِسْقَاط الْوَاجِب عَن أنفسهم وَالله تَعَالَى يُوصل إِلَى الْفُقَرَاء كفايتهم على حسب مَا ضمن لَهُم فَبِهَذَا تبين أَن الْأَغْنِيَاء هم الَّذين يَحْتَاجُونَ إِلَى الْفُقَرَاء والفقراء لَا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِم بِخِلَاف مَا ظَنّه من يعْتَبر الظَّاهِر وَلَا يتَأَمَّل فِي الْمَعْنى فاتضح بِمَا قَررنَا أَن الْفَقِير الصابر أفضل من الْغَنِيّ الشاكر وَفِي كل خير
নিশ্চয়ই তিনি এমন তওবা করেছেন যে, যদি তাঁর তওবাকে পৃথিবীর সকল অধিবাসীর মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হতো তবে তা তাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হতো। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, মুমিনের জন্য খোদ বিপদের মধ্যেও সওয়াব রয়েছে এবং তার ওপর ধৈর্য ধারণের মধ্যেও সওয়াব রয়েছে।

পক্ষান্তরে সচ্ছলতা বা ধনাঢ্যতার সত্তায় কোনো সওয়াব নেই; বরং সওয়াব হলো সচ্ছলতার ওপর শুকরিয়া জ্ঞাপনের মধ্যে। আর যে বিষয় দুটি দিক থেকে সওয়াব অর্জনের কারণ হয়, তা একটি দিক থেকে সওয়াব অর্জনকারী বিষয়ের চেয়ে উচ্চতর। আর যেমন ধনাঢ্যতার ওপর শুকরিয়া জ্ঞাপনের মধ্যে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা রয়েছে, বিপদের ওপর ধৈর্য ধারণের মধ্যেও তেমনই রয়েছে; কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে...} (আয়াত)। বর্ণিত আছে যে, জনৈক ধনী ও জনৈক দরিদ্র ব্যক্তি এই মাসআলায় তর্কে লিপ্ত হলেন। ধনী ব্যক্তিটি বললেন: "শুকরিয়া আদায়কারী ধনী ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ। কেননা আল্লাহ তাআলা ধনীদের নিকট ঋণ চেয়েছেন এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {কে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে...} (আয়াত)।" দরিদ্র ব্যক্তিটি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ধনীদের নিকট ঋণ চেয়েছেন মূলত দরিদ্রদের জন্য। আর কখনো বন্ধুর নিকট থেকে ঋণ চাওয়া হয় আবার কখনো অন্য কারো নিকট থেকে, তবে ঋণ চাওয়া হয় মূলত বন্ধুর খাতিরেই।"

এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হলো: ধনী ব্যক্তিই দরিদ্রের মুখাপেক্ষী, আর দরিদ্র ব্যক্তি ধনীর মুখাপেক্ষী নয়। কারণ ধনীর ওপর সম্পদের হক আদায় করা আবশ্যক। সুতরাং সকল দরিদ্র লোক যদি এই মর্মে একমত হয় যে তারা এর কিছুই গ্রহণ করবে না, তবে তাদের তা গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না এবং গ্রহণ থেকে বিরত থাকার কারণে শরীয়তের দৃষ্টিতে তারা প্রশংসিত হবে। পক্ষান্তরে ধনীরা নিজেদের ওপর থেকে সেই আবশ্যকীয় দায়িত্বটি বাতিল করতে সক্ষম হবে না। আর আল্লাহ তাআলা দরিদ্রদের জন্য যে জীবনোপকরণের জিম্মাদারি নিয়েছেন, তা তিনি তাদের নিকট পৌঁছে দেবেন। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হলো যে, ধনীরাই মূলত দরিদ্রদের মুখাপেক্ষী এবং দরিদ্ররা তাদের মুখাপেক্ষী নয়; যদিও যারা কেবল বাহ্যিক দিক বিবেচনা করে এবং নিহিত অর্থ নিয়ে গভীর চিন্তা করে না, তাদের ধারণা এর বিপরীত। সুতরাং আমাদের উপস্থাপিত আলোচনার দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, ধৈর্যশীল দরিদ্র ব্যক্তি শুকরিয়া আদায়কারী ধনী ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যদিও প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাসব - বি শারহিস সারাখসী - ত যাক্কার (পৃষ্ঠা: ৫৭)
ثمَّ الْكسْب على مَرَاتِب فمقدار مَا لَا بُد لكل أحد مِنْهُ يَعْنِي مَا يُقيم بِهِ صلبه يفترض على كل أحد إكتسابه عينا لِأَنَّهُ لَا يتَوَصَّل إِلَى إِقَامَة الْفَرَائِض إِلَّا بِهِ وَمَا يتَوَصَّل بِهِ إِلَى إِقَامَة الْفَرَائِض يكون فرضا فَإِن لم يكْتَسب زِيَادَة على ذَلِك فَهُوَ فِي سَعَة من ذَلِك لقَوْله صلى الله عليه وسلم من أصبح آمنا فِي سربه معافى فِي بدنه عِنْده قوت يَوْمه فَكَأَنَّمَا حيزت لَهُ الدُّنْيَا بحذافيرها وَقَالَ صلى الله عليه وسلم لِابْنِ حُبَيْش فِيمَا يعظه بلغَة تسد بهَا جوعتك وخرقة تواري بهَا سوءتك فَإِن كَانَ لَك كن يكنك فَحسن وَإِن كَانَ لَك دَابَّة تركبها فبخ بخ وَهَذَا إِذا لم يكن عَلَيْهِ دين فَإِن كَانَ عَلَيْهِ دين فالاكتساب بِقدر مَا يقْضِي بِهِ دينه فرض عَلَيْهِ لِأَن قَضَاء الدّين مُسْتَحقّ عَلَيْهِ عينا قَالَ صلى الله عليه وسلم الدّين مقضي وبالاكتساب يتَوَصَّل إِلَيْهِ وَكَذَا إِن كَانَ لَهُ عِيَال من زَوْجَة وَأَوْلَاد فَإِنَّهُ يفترض عَلَيْهِ الْكسْب بِقدر كفايتهم عينا لِأَن الانفاق على زَوجته مُسْتَحقّ عَلَيْهِ قَالَ الله تَعَالَى {أسكنوهن من حَيْثُ سكنتم من وجدكم} الْآيَة مَعْنَاهُ وأنفقوا عَلَيْهِم من وجدكم وَهَكَذَا فِي قِرَاءَة ابْن مَسْعُود

এরপর উপার্জন কয়েক স্তরে বিভক্ত। সুতরাং প্রত্যেকের জন্য যতটুকু অপরিহার্য অর্থাৎ যার মাধ্যমে সে তার জীবন ধারণ করতে পারে, তা উপার্জন করা প্রত্যেকের জন্য ফরযে আইন। কেননা এর সাহায্য ব্যতীত ফরযসমূহ পালন করা সম্ভব নয়। আর যার মাধ্যমে ফরযসমূহ পালন করা সম্ভব হয়, তাও ফরয হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি কেউ এর অতিরিক্ত উপার্জন না করে, তবে সে ব্যাপারে তার অবকাশ রয়েছে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালে নিজ আবাসে নিরাপদ অবস্থায় উপনীত হলো, যার শরীর সুস্থ এবং যার নিকট সেদিনের খাবার মজুত আছে, তবে যেন তার জন্য গোটা দুনিয়াটাই একত্রিত করা হলো।" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে হুবাইশকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন: "তোমার জন্য সে পরিমাণ আহারই যথেষ্ট যা তোমার ক্ষুধা নিবারণ করবে, আর এক টুকরো কাপড় যা তোমার লজ্জাস্থান আবৃত করবে। যদি তোমার থাকার জন্য একটি ঘর থাকে তবে তা উত্তম, আর যদি তোমার আরোহণের জন্য একটি পশু থাকে তবে তো চমৎকার।" আর এটি তখনই যখন তার ওপর কোনো ঋণ না থাকে। কিন্তু যদি তার ওপর ঋণ থাকে, তবে সেই ঋণ পরিশোধ করার পরিমাণ উপার্জন করা তার ওপর ফরয। কারণ ঋণ পরিশোধ করা তার ওপর সুনির্দিষ্টভাবে পাওনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ঋণ অবশ্যই পরিশোধযোগ্য।" আর উপার্জনের মাধ্যমেই তা আদায় করা সম্ভব হয়। তদ্রূপ যদি তার স্ত্রী-সন্তানাদি তথা পরিবার থাকে, তবে তাদের ভরণপোষণ যতটুকু পর্যাপ্ত সেই পরিমাণ উপার্জন করা তার ওপর ফরযে আইন। কেননা তার স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদান করা তার ওপর অর্পিত হক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে বসবাস করো, তাদেরকেও সেখানে বসবাসের জায়গা দাও।" অর্থাৎ তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য ব্যয় করো। ইবনে মাসউদের কিরাআতে বিষয়টি এভাবেই এসেছে।