(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
مسائل الإمام أحمد رواية ابنه عبد الله   (أحمد بن حنبل)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: مسائل أحمد بن حنبل رواية ابنه عبد الله

المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني (ت 241 هـ)

المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الأولى، 1401 هـ 1981 م

عدد الصفحات: 455

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম আহমদের মাসআলাসমূহ তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা   (আহমদ বিন হাম্বল)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মাসআলাসমূহ তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা

লেখক: আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শাইবানি (মৃত্যু ২৪১ হি.)

গবেষক ও সম্পাদক: যুহাইর আশ-শাউয়িশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হি.]

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১ হি. ১৯৮১ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৫

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
رب أعن وأتمم بِخَير يَا كريم

‌‌بَاب المَاء يتَغَيَّر بِالنَّجَاسَةِ

 

1 - سَأَلت أبي عَن رجل حفر بِئْرا فِي دَار وَبَين الْبِئْر وَبَين خَنْدَق فِي قرب السجْن مِقْدَار خَمْسَة عشر ذِرَاعا فَخرج المَاء متغير اللَّوْن مَا ترى فِيهِ

قَالَ إِن كَانَ طيب الرّيح وان لم يكن طيب الرّيح فالطعم

فَقَالَ إِن كَانَ تغير المَاء من نَجَاسَة السجْن فَلَا يقرب هَذَا المَاء يعطل الْبِئْر وان كَانَ هَذَا المَاء إِذا نزح عَاد الى مَالا يكون فِيهِ تغير فِي لون وَلَا ريح وَلَا طعم فأرجو أَن لَا يكون بِهِ بَأْس

2 - قَرَأت على أَبى قَالَ وَإِذا تغير ريح المَاء من الشَّيْء وَقع فِيهِ من الْميتَة أَو طير وَقع فِيهِ فَمَاتَ فَلَا يُعجبنِي أَن يتَوَضَّأ مِنْهُ

3 - قلت وان وَقع صَرْصَر فِي مَاء وَأخرج وَهُوَ حَيّ
হে রব! আপনি সাহায্য করুন এবং কল্যাণের সাথে সুসম্পন্ন করুন, হে দয়াবান।

‌নাজাসাতের (অপবিত্রতা) কারণে পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হওয়ার অধ্যায়

 

১ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে একটি বাড়িতে একটি কূপ খনন করেছে এবং সেই কূপ ও কারাগারের নিকটবর্তী একটি খন্দকের (নালা) মাঝে পনের হাত ব্যবধান রয়েছে। এর ফলে কূপের পানির রঙ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

তিনি বললেন: যদি তার ঘ্রাণ ভালো হয় (তবে সমস্যা নেই), আর যদি ঘ্রাণ ভালো না হয়, তবে স্বাদ দেখতে হবে।

তিনি আরও বললেন: যদি পানির এই পরিবর্তন কারাগারের নাজাসাতের (অপবিত্রতা) কারণে হয়, তবে এই পানির নিকটবর্তী হওয়া যাবে না এবং কূপটি পরিত্যক্ত রাখতে হবে। আর যদি পানি সেঁচে ফেলার পর তা এমন অবস্থায় ফিরে আসে যেখানে বর্ণ, ঘ্রাণ বা স্বাদের কোনো পরিবর্তন থাকে না, তবে আমি আশা করি এতে কোনো অসুবিধা নেই।

২ - আমি আমার পিতার সামনে পাঠ করলাম, তিনি বলেছেন: যদি পানিতে কোনো মৃত প্রাণী বা পাখি পড়ে মারা যাওয়ার কারণে পানির ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে সেই পানি দিয়ে ওজু করা আমি পছন্দ করি না।

৩ - আমি বললাম: যদি কোনো ঝিঁঝিঁ পোকা পানিতে পড়ে এবং তা জীবিত অবস্থায় তুলে ফেলা হয়?
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
قَالَ إِن كَانَ قَلِيلا فَلَا يُعجبنِي وان كَانَت مِمَّا يأوي الكنف والبلاليع فَلَا يُعجبنِي أَن يتَوَضَّأ مِنْهُ قَالَ وَأما السّمك إِذا غير المَاء فأرجو أَن لَا يكون بِهِ بَأْس

4 - قلت الضفدع والسلحفاة

قَالَ مَا اجترئ عَلَيْهِ وَلَا بَأْس بِأَكْل السلحفاة

5 - سَأَلت أبي كم أقرب مَا يكون بَين المَاء والمخرج

قَالَ مَا لم يكن لَهُ ريح وَلم يُغير طعمه

6 - سَمِعت أبي سُئِلَ عَن الْبِئْر يَقع فِيهَا الطير والعصفور وَنَحْو هَذَا أَو مَا أشبهه

فَيَقُول لَا بَأْس بِهِ مَا لم يُغير ريح أَو طعم قَالَ إِلَّا أَن يكون بَوْل أَو عذرة رطبَة فأعجب إِلَيّ أَن ينْزح مَاؤُهَا كُله

‌‌بَاب مَاء الْوضُوء يُصِيب الثَّوْب

 

7 - سَأَلت أَبى عَن مَاء الطّهُور إِذا تطهر بِهِ فَأصَاب ذَلِك المَاء خفه أَو نَعله يَنْبَغِي أَن يغسل ذَلِك أم لَا

فَقَالَ لَا يغسل وَلَا يلْتَفت الى شَيْء من ذَلِك

‌‌بَاب المَاء إِذا وَقعت فِيهِ نَجَاسَة أَو اغْتسل فِيهِ الْجنب

 

8 - سُئِلَ أَبى وَأَنا أسمع عَن المَاء الراكد يتَوَضَّأ مِنْهُ يَعْنِي إِذا كَانَ فِيهِ نَجَاسَة
তিনি বললেন, যদি তা অল্প হয় তবে তা আমার কাছে পছন্দনীয় নয়। আর যদি তা এমন জায়গা থেকে হয় যেখানে শৌচাগার বা নর্দমার পানি এসে জমা হয়, তবে তা দিয়ে অযু করা আমি পছন্দ করি না। তিনি বললেন, আর মাছের ক্ষেত্রে যদি তা পানির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ফেলে, তবে আশা করি এতে কোনো সমস্যা নেই।

৪ - আমি বললাম, ব্যাঙ এবং কচ্ছপ?

তিনি বললেন, এর ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করার সাহস করি না, তবে কচ্ছপ খাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই।

৫ - আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, পানি এবং নাপাকি নির্গমনের নর্দমার মধ্যবর্তী দূরত্ব সর্বনিম্ন কতটুকু হওয়া উচিত?

তিনি বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পানিতে দুর্গন্ধ না হয় এবং তার স্বাদ পরিবর্তন না হয়।

৬ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যখন তাকে এমন কূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে বড় পাখি, চড়ুই বা এই জাতীয় কিছু পড়ে যায়।

তখন তিনি বলতেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তা গন্ধ বা স্বাদ পরিবর্তন না করে ততক্ষণ এতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বললেন, তবে যদি তাতে প্রস্রাব বা কাঁচা বিষ্ঠা পড়ে, তবে আমার কাছে পছন্দনীয় হলো এর সমস্ত পানি সেঁচে ফেলে দেওয়া।

‌‌পরিচ্ছেদ: অযুর পানি কাপড়ে লাগা প্রসঙ্গে

 

৭ - আমি আমার পিতাকে পবিত্রকারী পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, যদি তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয় এবং সেই পানি তার মোজা বা জুতায় লাগে, তবে কি তা ধোয়া উচিত কি না?

তিনি বললেন, তা ধোয়া হবে না এবং এ জাতীয় কোনো বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।

‌‌পরিচ্ছেদ: পানিতে নাপাকি পড়লে অথবা তাতে অপবিত্র ব্যক্তি গোসল করলে

 

৮ - আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং আমি শুনছিলাম, এমন স্থির পানি থেকে অযু করা সম্পর্কে যাতে নাপাকি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
قَالَ حَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا كَانَ المَاء قُلَّتَيْنِ لم ينجس والقلتان قَالَ ابْن جريج الَّذِي يحيرني أَن الْقلَّة من قلال هجر تسع قربتين

9 - قَرَأت على أبي قلت إِذا اغْتسل الْجنب فِي بِئْر أَو غَدِير من المَاء أقل من قُلَّتَيْنِ أيجزيه ذَلِك قَالَ لَا يجْزِيه

10 - سَمِعت أبي سُئِلَ عَن بِئْر انصب فِيهِ بَوْل قَالَ ينْزح لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قد نهى أَن يبال فِي المَاء الدَّائِم قلت لأبي فَإِنَّهُم لَا يدركون كم قد توضئوا مِنْهَا أَيَّامًا وصلوا قَالَ تُعَاد الصَّلَوَات قيل فَإِنَّهُم لَا يدركون كم يَوْمًا صلوا قَالَ يتوخون أَكثر مَا يرَوْنَ حَتَّى لَا يكون فِي قُلُوبهم شَيْء قلت فالثياب قَالَ تغسل الثِّيَاب

‌‌بَاب الْفَأْرَة تقع فِي الزَّيْت

 

11 - سَأَلت أبي عَن الْفَأْرَة تقع فِي الزَّيْت وَهُوَ أَكثر من خمس قرب قَالَ الزَّيْت لَا يقوم عِنْدِي مقَام المَاء وَذَلِكَ أَن المَاء طهُور لكل
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্র হয় না।" আর দুই কুল্লা সম্পর্কে ইবনে জুরায়জ বলেন, যে বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করে তা হলো হিজরের কুল্লাসমূহের প্রতিটি কুল্লায় দুই মশক পানি ধরে।

৯ - আমি আমার পিতার কাছে পাঠ করেছি, আমি বললাম: যদি কোনো অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তি কূয়ায় অথবা দুই কুল্লার কম পানির ডোবায় গোসল করে, তবে কি তা তার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: না, তা যথেষ্ট হবে না।

১০ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে এমন এক কূয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যাতে প্রস্রাব পড়েছে, তিনি বললেন: পানি সেচে ফেলতে হবে, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থির পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। আমি আমার পিতাকে বললাম: যদি তারা না জানে যে কতদিন তারা তা দিয়ে অজু করেছে এবং নামাজ পড়েছে? তিনি বললেন: নামাজ পুনরায় পড়তে হবে। বলা হলো: যদি তারা না জানে কতদিন তারা নামাজ পড়েছে? তিনি বললেন: তারা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিমাণ সময়টি নির্ধারণ করবে, যেন তাদের মনে কোনো সংশয় না থাকে। আমি বললাম: তাহলে কাপড়ের ক্ষেত্রে কী হবে? তিনি বললেন: কাপড় ধুতে হবে।

‌‌তেলের মধ্যে ইঁদুর পড়ার অধ্যায়

 

১১ - আমি আমার পিতাকে সেই ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা তেলের মধ্যে পড়েছে এবং তেলের পরিমাণ ছিল পাঁচ মশকেরও বেশি। তিনি বললেন: তেল আমার নিকট পানির স্থলাভিষিক্ত নয়, আর তা এই কারণে যে, পানি সবকিছুর জন্য পবিত্রকারী।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
شَيْء وَالزَّيْت لَا يقوم عِنْدِي مقَامه وَلَا أجترىء أَن أبيحه لَو قَامَ الزَّيْت مقَام المَاء كَانَ إِذا أصَاب الثَّوْب بَوْل فَغسل بالزيت طهر وَلَا يكون تَطْهِير بالزيت إِنَّمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم اغسله بِمَاء وَالْمَاء طهُور هُوَ الطّهُور

12 - قلت قَالَ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ لتوه بسويق وبيعوه وَلَا تبيعوه من مُسلم قَالَ: لَا يُعجبنِي أَن تبَاع الْميتَة

13 - سَأَلت أبي عَن الْفَأْرَة تقع فِي الزَّيْت قَالَ إِن كَانَ جَامِدا يُؤْخَذ مَا حولهَا فَيلقى وَمَا كَانَ ذائبا فَلَا يُؤْكَل قلت قَلِيلا كَانَ أَو كثيرا قَالَ مَا سَمِعت فِيهِ بِأَكْثَرَ من هَذَا وَلَا يقوم عِنْدِي مقَام يَعْنِي المَاء لِأَنَّهُ لَا يشبه المَاء هُوَ طَعَام يُؤْكَل المَاء يتَطَهَّر بِهِ قَالَ أَبُو مُوسَى لتوا بِهِ سويقا بالزيت أَو بالسمن وبيعوه وَلَا تبيعوه من مُسلم وبينوا

14 - قلت لأبي تستصبح بِهِ السرج قَالَ لَا بَأْس بِهِ إِن لم يمسوه بِأَيْدِيهِم لِأَنَّهُ نجس

15 - قلت لابي يدهن بِهِ الْأدم
কোনো কিছুই এবং তেল আমার নিকট পানির স্থলাভিষিক্ত হয় না এবং আমি এটি বৈধ বলার সাহস করি না। যদি তেল পানির স্থলাভিষিক্ত হতো, তবে যখন কাপড়ে প্রস্রাব লাগত এবং তা তেল দিয়ে ধৌত করা হতো, তখন তা পবিত্র হয়ে যেত। অথচ তেল দিয়ে পবিত্রতা অর্জন হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল বলেছেন, ‘তা পানি দিয়ে ধৌত করো’, আর পানি হলো পবিত্র ও পবিত্রকারী।

১২ - আমি বললাম, আবু মুসা আল-আশআরী (রা.) বলেছেন: ‘তা দিয়ে ছাতু মাখাও এবং বিক্রি করো, তবে কোনো মুসলিমের কাছে তা বিক্রি করো না।’ তিনি (পিতা) বললেন: ‘মৃত প্রাণীর ক্রয়-বিক্রয় আমার নিকট পছন্দনীয় নয়।’

১৩ - আমি আমার পিতাকে তেলের মধ্যে ইঁদুর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: ‘যদি তেল জমাটবদ্ধ থাকে, তবে ইঁদুরটি এবং তার চারপাশের অংশটুকু ফেলে দেওয়া হবে। আর যদি তরল হয়, তবে তা খাওয়া যাবে না।’ আমি বললাম: ‘পরিমাণ কম হোক বা বেশি?’ তিনি বললেন: ‘আমি এই বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু শুনিনি। আর এটি (তেল) আমার নিকট পানির স্থলাভিষিক্ত নয়, কারণ এটি পানির সদৃশ নয়। এটি এমন খাদ্য যা খাওয়া হয়, আর পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়।’ আবু মুসা (রা.) বলেছিলেন: ‘তেল বা ঘি দিয়ে ছাতু মাখাও এবং বিক্রি করো, তবে কোনো মুসলিমের কাছে বিক্রি করো না এবং (এর অবস্থা) স্পষ্ট করে বলে দাও।’

১৪ - আমি আমার পিতাকে বললাম: ‘তা দিয়ে কি প্রদীপ জ্বালানো যাবে?’ তিনি বললেন: ‘এতে কোনো অসুবিধা নেই যদি তারা হাত দিয়ে তা স্পর্শ না করে, কারণ এটি অপবিত্র।’

১৫ - আমি আমার পিতাকে বললাম: ‘তা দিয়ে কি চামড়া মর্দন করা যাবে?’
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قَالَ لَا لِأَنَّهُ يشرب فِيهِ المَاء ويلبس

سَمِعت أبي يَقُول وَلَا يدهن بِهِ الادم وَذَلِكَ أَنه يَجْعَل مِنْهُ الاسقية والقرب فَيَأْخُذ طعمه وَلَا بَأْس أَن تطلى بِهِ السفن

16 - سَأَلت أَبى عَن الْفَأْرَة تقع فِي السّمن أَو الزَّيْت

فَقَالَ حَدِيث الزُّهْرِيّ عَن سعيد عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم الَّذِي يرويهِ معمر قَالَ إِن كَانَ جَامِدا فَخُذُوهُ وَمَا حولهَا فالقوة وان كَانَ مَائِعا فَلَا تقربوه وَقَالَ بَعضهم فَلَا تطعموه

‌‌بَاب المَاء إِذا تغير بطاهر

 

17 - حَدثنِي أَبى قَالَ حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم قَالَ حَدثنَا الاوزاعي عَن يحيى بن ابي كثير عَن عِكْرِمَة قَالَ النَّبِيذ وضُوءًا وان لم يجد غَيره قَالَ الاوزاعي إِن كَانَ مُسكرا فَلَا يتوضوا مِنْهُ

سَمِعت ابي يَقُول على اثر هَذَا الحَدِيث كل شَيْء يتَحَوَّل عَن اسْم المَاء لَا يُعجبنِي ان يتَوَضَّأ بِهِ

قَالَ ابي قَالَ الله عز وجل {فَلم تَجدوا مَاء فَتَيَمَّمُوا}

قَالَ ابي يتَيَمَّم احب إِلَيّ من أَن يتَوَضَّأ بالنبيذ

‌‌بَاب الرجل يتَوَضَّأ بِفضل وضوء الْمَرْأَة

 

18 - سَمِعت ابي يَقُول لَا بَأْس ان تتوضأ يَعْنِي الْمَرْأَة وَهُوَ يَرَاهَا مَا لم تَخْلُو بِهِ على حَدِيث ابْن سرجس
তিনি বললেন, না; কারণ এতে পানি পান করা হয় এবং তা পরিধান করা হয়।

আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, চামড়াতে এটি লেপন করা যাবে না, আর তা এজন্য যে, তা থেকে পানিপাত্র ও মশক তৈরি করা হয়, ফলে এটি তার স্বাদ গ্রহণ করবে। তবে জাহাজে এটি লেপন করাতে কোনো সমস্যা নেই।

১৬ - আমি আমার পিতাকে ঘি বা তেলে ইঁদুর পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি।

তিনি বললেন, যুহরীর হাদীস যা সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, যা মা'মার বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: যদি তা জমাটবদ্ধ হয় তবে তা (ইঁদুরটি) এবং তার চারপাশের অংশটুকু ফেলে দাও। আর যদি তা তরল হয় তবে তার নিকটবর্তী হয়ো না। কেউ কেউ বলেছেন: তা খেয়ো না।

‌‌অনুচ্ছেদ: পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে পানির পরিবর্তন হলে

 

১৭ - আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আওযায়ী ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: অন্য কিছু না পাওয়া গেলে নাবীয দিয়ে ওযু করা যাবে। আওযায়ী বলেন, যদি তা নেশাজাতীয় হয় তবে তা দিয়ে ওযু করো না।

আমি আমার পিতাকে এই হাদীসের প্রেক্ষিতে বলতে শুনেছি: যে কোনো বস্তু যার নাম পানি থেকে পরিবর্তিত হয়ে যায়, তা দিয়ে ওযু করা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়।

আমার পিতা বলেন, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও তবে তায়াম্মুম করো।}

আমার পিতা বলেন, নাবীয দিয়ে ওযু করার চেয়ে তায়াম্মুম করা আমার নিকট অধিক প্রিয়।

‌‌অনুচ্ছেদ: নারীর ওযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের ওযু করা

 

১৮ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, এতে কোনো সমস্যা নেই যে সে—অর্থাৎ নারী—ওযু করবে এবং তিনি তাকে দেখছেন, যতক্ষণ না সে তা নিয়ে নির্জনে যায়; এটি ইবনে সারজিসের হাদীসের ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
19 - قَرَأت على ابي وَالْمَرْأَة إِذا خلت بِهِ يَعْنِي الْوضُوء لَا يُعجبنِي أَن يتَوَضَّأ بفضلها إِلَّا أَن يَكُونَا جَمِيعًا

‌‌بَاب الْغسْل من مَاء الْحمام

 

20 - سَمِعت ابي سُئِلَ عَن الْغسْل من مَاء الْحمام

قَالَ لَا يغسل من مَاء الْحمام

21 - سَأَلت ابي يغْتَسل من مَاء الْحمام

فَقَالَ لَا فَقلت لَهُ قَالَ فَلم نَذْهَب اذا

‌‌بَاب مَا يكره من سُؤْر الْبَهَائِم كلهَا وَمَا لَا بَأْس بِهِ مِنْهَا

 

22 - سَأَلت ابي مَا يكره من سُؤْر الْبَهَائِم كلهَا وَمَا لَا بَأْس بِهِ مِنْهَا

فَقَالَ يكره سُؤْر الْحمار وسؤر الْكَلْب يغسل مَرَّات

23 - سَمِعت ابي سُئِلَ عَن لعاب الْحمار اَوْ عرقه يُصِيب الثَّوْب فكرهه قَالَ هُوَ نجس اَوْ رِجْس

24 - قَرَأت عَليّ ابي قلت يتَوَضَّأ من سُؤْر الدَّوَابّ وَالطير مِمَّا أكل لَحْمه وَمِمَّا لم يُؤْكَل

قَالَ أما سُؤْر الْبَغْل وَالْحمار فَلَا وَأما الْفرس وَالدَّابَّة وَالشَّاة
১৯ - আমি আমার পিতার নিকট পাঠ করলাম: আর মহিলার বিষয়ে যখন সে এর (ওযুর পানির) সাথে একাকী থাকে, অর্থাৎ ওযু করার ক্ষেত্রে; তিনি (পিতা) বললেন—মহিলার অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়, যদি না তারা উভয়ই একত্রে ওযু করেন।

‌‌পরিচ্ছেদ: হাম্মামের পানি দিয়ে গোসল করা

 

২০ - আমি আমার পিতাকে হাম্মামের পানি দিয়ে গোসল করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি। তিনি বললেন: হাম্মামের পানি দিয়ে গোসল করা যাবে না।

২১ - আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, তিনি কি হাম্মামের পানি দিয়ে গোসল করেন? তিনি বললেন: না। তখন আমি তাকে বললাম: তবে আমরা তখন কেন সেখানে (হাম্মামে) যাই?

‌‌পরিচ্ছেদ: সকল চতুষ্পদ প্রাণীর উচ্ছিষ্ট পানির মধ্যে যা অপছন্দনীয় এবং যাতে কোনো অসুবিধা নেই

 

২২ - আমি আমার পিতাকে সকল চতুষ্পদ প্রাণীর উচ্ছিষ্ট পানির মধ্যে যা অপছন্দনীয় এবং যাতে কোনো অসুবিধা নেই সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: গাধার উচ্ছিষ্ট অপছন্দনীয় এবং কুকুরের উচ্ছিষ্ট (লাগা পাত্র) কয়েকবার ধৌত করতে হবে।

২৩ - আমি আমার পিতাকে গাধার লালা অথবা ঘাম কাপড়ে লাগার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি এবং তিনি একে অপছন্দ করেছেন। তিনি বললেন: এটি নাপাক বা অপবিত্র।

২৪ - আমি আমার পিতার কাছে পাঠ করলাম, আমি বললাম: চতুষ্পদ প্রাণী ও পাখির উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে কি ওযু করা যাবে—চাই তার গোশত খাওয়া হোক বা না হোক? তিনি বললেন: খচ্চর এবং গাধার উচ্ছিষ্টের ক্ষেত্রে না; তবে ঘোড়া, চতুষ্পদ জন্তু এবং ছাগলের ক্ষেত্রে (অনুমতি আছে)।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وَالْبَعِير وَالْبَقَرَة فَلَا بَأْس بِهِ قَالَ وَلَا بَأْس بالحمام قَالَ والدجاج اذا لم يكن مرعاه مرعى سوء قَالَ وَمَا كَانَ من الطير لَا يضْبط مرعاه فَلَا يُعجبنِي

25 - سَمِعت ابي يَقُول فِي الْكَلْب يلغ فِي الْإِنَاء يرْوى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من طَرِيق ابي هُرَيْرَة يغسل سبعا أولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ وَقَالَ ابْن مُغفل رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يغسل سبعا ويعفر الثَّامِنَة فِي التُّرَاب

26 - سَأَلت ابي عَن الْكَلْب السلوقي يشرب من الْإِنَاء

قَالَ يغسل سبع مَرَّات إِحْدَاهَا بِالتُّرَابِ

27 - سَأَلت ابي عَن سُؤْر الهر

فَقَالَ أبي لَا بَأْس بِهِ

‌‌بَاب طين الْمَطَر يُصِيب الثَّوْب

 

28 - سَأَلت ابي عَن الرجل يُصِيب ثَوْبه من طين الْمَطَر وَقد خالطه بَوْل البغال وَالدَّوَاب

فَقَالَ أَرْجُو أَن لَا يكون بِهِ بَأْس

‌‌بَاب السرقين اَوْ الْبَوْل يُصِيب نعل الرجل اَوْ ثَوْبه

 

29 - سَمِعت ابي يَقُول فِي السرقين الرطب اذا كَانَ من حمَار اَوْ
...এবং উট ও গরু; এতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বললেন: কবুতরে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বললেন: আর মুরগি, যদি তার চারণভূমি অপবিত্র না হয়। তিনি আরও বললেন: আর যে সমস্ত পাখি তার চারণভূমি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয়।

২৫ - আমি আমার পিতাকে কুকুরের পাত্রে মুখ দেওয়া সম্পর্কে বলতে শুনেছি; যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, সেটি সাতবার ধৌত করতে হবে, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে। আর ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত—সাতবার ধৌত করতে হবে এবং অষ্টম বার মাটিতে ঘষতে হবে।

২৬ - আমি আমার পিতাকে শিকারি কুকুর (সালুকি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যদি সেটি পাত্র থেকে পান করে।

তিনি বললেন: সাতবার ধৌত করতে হবে, যার একবার হবে মাটি দিয়ে।

২৭ - আমি আমার পিতাকে বিড়ালের ঝুটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

আমার পিতা বললেন: এতে কোনো সমস্যা নেই।

‌‌অনুচ্ছেদ: বৃষ্টির কাদা কাপড়ে লাগা সম্পর্কে

 

২৮ - আমি আমার পিতাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার কাপড়ে বৃষ্টির কাদা লাগে এবং তার সাথে খচ্চর ও চতুষ্পদ পশুর প্রস্রাব মিশ্রিত থাকে।

তিনি বললেন: আমি আশা করি এতে কোনো সমস্যা হবে না।

‌‌অনুচ্ছেদ: বিষ্ঠা অথবা প্রস্রাব কোনো ব্যক্তির জুতা বা কাপড়ে লাগা সম্পর্কে

 

২৯ - আমি আমার পিতাকে ভেজা বিষ্ঠা সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যখন তা গাধার হয় অথবা...
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
بغل يُعجبنِي أَن يغسلهُ واذا لم يكن من حمَار فَلَا بَأْس وَكَذَلِكَ فِي الْخُف اذا أصَاب الْخُف الْعذرَة اَوْ الْبَوْل فَلَا بُد من غسله وَيُعِيد الصَّلَاة اذا لم يغسل

30 - سَأَلت ابي عَن ارواث الدَّوَابّ وابوالها

قَالَ فِيهِ اخْتِلَاف مِنْهُم من يكرهها أما الارواث تصيب الثَّوْب فَفِيهِ اخْتِلَاف واذا اصاب النَّعْل فمسحه على مَوضِع طَاهِر فَلَا بَأْس يُصَلِّي بِهِ

31 - قلت لأبي الرجل يطَأ على الْعذرَة الرّطبَة وَفِي رجله خف ثمَّ يجِف يغسلهُ اَوْ يحكه

قَالَ يغسلهُ

قلت فَإِن حكه

قَالَ لَا تنقى الْعذرَة بالحك إِلَّا بِالْغسْلِ

32 - قلت لأبي اذا مر بِموضع لَا يعلم انها عذرة بِعَينهَا اَوْ بَوْل بِعَيْنِه

قَالَ يجْزِيه مَا وطىء عَلَيْهِ من الارض بعد فالارض يطهر بَعْضهَا بَعْضًا

33 - قلت لأبي الرجل يُصِيب شِرَاك نَعله الْبَوْل نقط صغَار قَالَ يغسلهُ وَكَذَلِكَ الثَّوْب يغسلهُ

34 - سَأَلت ابي مَا يستنجس من الابوال فَقَالَ الابوال كلهَا نَجِسَة إِلَّا مَا يُؤْكَل لَحْمه
খচ্চরের (পেশাব-গোবর), আমি এটি ধুয়ে ফেলা পছন্দ করি। আর যদি তা গাধার না হয় তবে কোনো সমস্যা নেই। মোজার ক্ষেত্রেও একই বিধান; যখন মোজায় মল অথবা পেশাব লাগে, তখন তা অবশ্যই ধুতে হবে। আর ধোয়া না হয়ে থাকলে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।

৩০ - আমি আমার পিতাকে পশুদের গোবর ও পেশাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।

তিনি বললেন: এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে অপছন্দ করেছেন। কাপড়ে গোবর লাগার বিষয়ে মতভেদ আছে। তবে জুতোয় লাগলে যদি তা পবিত্র স্থানে ঘষে মুছে ফেলা হয়, তবে কোনো সমস্যা নেই, তা পরে সালাত আদায় করা যাবে।

৩১ - আমি আমার পিতাকে বললাম: কোনো ব্যক্তি যদি পায়ে মোজা থাকা অবস্থায় ভেজা মলের ওপর পা রাখে এবং পরে তা শুকিয়ে যায়, তবে সে কি তা ধুয়ে ফেলবে নাকি ঘষে পরিষ্কার করবে?

তিনি বললেন: সে যেন তা ধুয়ে ফেলে।

আমি বললাম: যদি সে তা ঘষে পরিষ্কার করে?

তিনি বললেন: ধোয়া ব্যতীত কেবল ঘষে পরিষ্কার করার মাধ্যমে মল দূরীভূত হয় না।

৩২ - আমি আমার পিতাকে বললাম: যদি কেউ এমন কোনো স্থান দিয়ে অতিক্রম করে যেখানে সে নিশ্চিতভাবে জানে না যে এটি নির্দিষ্টভাবে মল নাকি পেশাব?

তিনি বললেন: পরবর্তীতে সে মাটির যে অংশের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে তা-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে। কেননা মাটির এক অংশ অন্য অংশকে পবিত্র করে।

৩৩ - আমি আমার পিতাকে বললাম: কোনো ব্যক্তির জুতোর ফিতায় যদি পেশাবের ছোট ছোট ফোঁটা লাগে? তিনি বললেন: সে যেন তা ধুয়ে ফেলে। কাপড়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে সে যেন তা ধুয়ে ফেলে।

৩৪ - আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: কোন কোন পেশাব অপবিত্র হিসেবে গণ্য হবে? তিনি বললেন: সকল প্রকার পেশাবই অপবিত্র, তবে ওই সব পশুর পেশাব ব্যতীত যেগুলোর গোশত খাওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
35 - قَرَأت على ابي الرجل يطَأ الْعذرَة وَفِي رجله خف ثمَّ يغسلهُ أَو يحكه

قَالَ مَا كَانَ عذرة بِعَينهَا أَو بَوْل بِعَيْنِه يغسلهُ فَإِذا مر على مَوضِع وَهُوَ يقدره لَا يعلم انها عذرة بِعَينهَا اَوْ بَوْل بِعَيْنِه

قَالَ مَا بعد يطهره

36 - سَأَلت ابي عَن الثَّوْب يُصِيبهُ الْبَوْل يُجزئهُ أَن يغمسه فِي المَاء اَوْ لَا بُد من الدَّلْك يدلكه

فَقَالَ يغسلهُ سبعا ويعصره

سَمِعت ابي يَقُول وَمن النَّاس من يسهل فِيهِ اظنه يَعْنِي نَفسه ويحتج أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أذن لَهُم أَن يشْربُوا من أَبْوَال الابل

37 - قلت لأبي فالفرس

قَالَ يُؤْكَل لَحْمه على حَدِيث أَسمَاء بنت أبي بكر ذبحنا فرسا على عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم فأكلنا

قلت لأبي بَوْله نجس

قَالَ قلت لَك الأبوال كلهَا نَجِسَة إِلَّا مَا يُؤْكَل لَحْمه
৩৫ - আমি আমার পিতার নিকট পাঠ করলাম সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে বিষ্ঠার ওপর পা রাখে এবং তার পায়ে চামড়ার মোজা (খুফ) থাকে, অতঃপর সে তা ধুয়ে ফেলে অথবা ঘষে পরিষ্কার করে।

তিনি বললেন: যদি তা নির্দিষ্টভাবে বিষ্ঠা হয় অথবা নির্দিষ্টভাবে প্রস্রাব হয় তবে সে তা ধুয়ে ফেলবে। কিন্তু সে যদি এমন কোনো স্থানের ওপর দিয়ে যায় যা সে অপবিত্র বলে ধারণা করে অথচ সে নিশ্চিতভাবে জানে না যে তা নির্দিষ্ট কোনো বিষ্ঠা বা নির্দিষ্ট কোনো প্রস্রাব কি না—

তিনি বললেন: পরবর্তী (পবিত্র স্থান বা মাটি) তাকে পবিত্র করে দেয়।

৩৬ - আমি আমার পিতাকে সেই কাপড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যাতে প্রস্রাব লেগেছে, তা কি কেবল পানিতে ডুবানোই যথেষ্ট হবে নাকি হাত দিয়ে রগড়ানো আবশ্যক?

তিনি বললেন: সে যেন তা সাতবার ধৌত করে এবং চিপে নেয়।

আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করে—আমার ধারণা তিনি (পিতা) প্রস্রাবের বিষয়টিই উদ্দেশ্য করেছেন—এবং তারা যুক্তি দেয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে উটের প্রস্রাব পান করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

৩৭ - আমি আমার পিতাকে বললাম: তবে ঘোড়ার হুকুম কী?

তিনি বললেন: আসমা বিনতে আবু বকর-এর বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী এর গোশত খাওয়া বৈধ; তিনি বলেছেন, "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে একটি ঘোড়া জবাই করেছিলাম এবং তা ভক্ষণ করেছিলাম।"

আমি আমার পিতাকে বললাম: এর প্রস্রাব কি অপবিত্র (নাজিস)?

তিনি বললেন: আমি তোমাকে বলেছি যে সকল প্রকার প্রস্রাবই অপবিত্র, কেবল সেই সব প্রাণী ব্যতীত যাদের গোশত খাওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌بَاب غسل الْيَدَيْنِ عِنْد الْقيام من نوم اللَّيْل

 

38 - سَأَلت ابي عَن الرجل يدْخل يَده فِي الْإِنَاء وَهُوَ جنب وَلم يَمَسهَا اذى وَلم ينَام

قَالَ إِن كَانَ لم ينم فأرجو أَن لَا يكون بِهِ بَأْس وَإِن نَام يغسلهَا

‌‌بَاب فِي جُلُود الْميتَة إِذا دبغت

 

39 - سَمِعت أبي يَقُول اذْهَبْ الى حَدِيث ابْن عكيم جَاءَنَا كتاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قبل مَوته بِشَهْر أَن لَا تنتفعوا من الْميتَة بإهاب وَلَا عصب وَحَدِيث ابْن عَبَّاس قد اخْتلف فِيهِ قَالَ الزُّهْرِيّ عَن عبيد الله عَن ابْن عَبَّاس عَن مَيْمُونَة وَلم يذكر فِيهِ الدّباغ وَذكر ابْن عُيَيْنَة الدّباغ وَلم يذكرهُ معمر وَلَا مَالك وَأرَاهُ وهم قَالَ معمر وَقَالَ الزُّهْرِيّ ينْتَفع بِالْجلدِ وَإِن لم يدبغ لقَوْله أَلا انتفعتم بإهابها

قَالَ أبي حدّثنَاهُ عبد الرَّزَّاق عَن معمر

40 - قَالَ أبي وَحَدِيث زيد بن أسلم عَن ابْن وَعلة عَن ابْن عَبَّاس سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول ايما إهَاب دبغ فقد طهر قَالَ أبي وَقَالَ إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن الشّعبِيّ عَن عِكْرِمَة قَالَ أبي وَأَنا أذهب الى حَدِيث ابْن عكيم

41 - سَأَلت ابي عَن الْقد يخرز بِهِ
রাতের ঘুম থেকে ওঠার পর দুই হাত ধোয়ার পরিচ্ছেদ

 

৩৮ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় পাত্রের ভেতর হাত প্রবেশ করিয়েছে অথচ তার হাতে কোনো দৃশ্যমান নাপাকি লেগে ছিল না এবং সে ঘুমায়নি।

তিনি বললেন: যদি সে না ঘুমিয়ে থাকে তবে আমি আশা করি এতে কোনো অসুবিধা নেই, আর যদি সে ঘুমিয়ে থাকে তবে সে যেন হাত ধুয়ে নেয়।

‌মৃত পশুর চামড়া যখন পাকা করা হয় সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

 

৩৯ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে উকাইমের হাদিসের দিকে যাই (তা অনুসরণ করি)। আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের এক মাস আগে তাঁর পত্র এসেছিল যে, তোমরা মৃত পশুর কাঁচা চামড়া এবং স্নায়ু (শিরা) থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না। আর ইবনে আব্বাসের হাদিসটিতে মতভেদ রয়েছে। যুহরি বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি মাইমুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে—সেখানে তিনি চামড়া পাকা করার কথা উল্লেখ করেননি। ইবনে উইয়াইনা পাকা করার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু মা’মার ও মালিক তা উল্লেখ করেননি; আর আমি এটিকে একটি ভ্রম বলে মনে করি। মা’মার বলেন, যুহরি বলেছেন: চামড়া পাকা না করলেও তা দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে, তাঁর (নবীর) এই বাণীর কারণে: "তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না?"

আমার পিতা বলেন: আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, মা’মার থেকে।

৪০ - আমার পিতা বলেন: আর যায়েদ বিন আসলাম বর্ণিত হাদিস ইবনে ওয়া’লা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যেকোনো কাঁচা চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" আমার পিতা বলেন: আর ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ বর্ণনা করেছেন শাবি থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে। আমার পিতা বলেন: আর আমি ইবনে উকাইমের হাদিসটিই গ্রহণ করি।

৪১ - আমি আমার পিতাকে কাঁচা চামড়ার ফিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা দিয়ে সেলাই করা হয়।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ إِن كَانَ لم يدبغ فَلَا يجْزِيه وَلَا ينْتَفع بِهِ وان كَانَ قد ذكي وَذبح فَلَا بَأْس بِهِ

سَمِعت أبي يَقُول الْقد الَّذِي يكون من الْحمير لَا يحل يَعْنِي لَا يخرز بِهِ اَوْ يسْتَعْمل فِي شَيْء وان ذكي الْحمار لَا يُؤْكَل لَحْمه وَالْميتَة لَا ينْتَفع بهَا

قَالَ أبي فِي الْجمل الْقد مِنْهُ لَا بَأْس بِهِ إِذا ذكي فَإِن كَانَ ميتَة أكرهه

42 - حَدثنَا قَالَ سَأَلت أبي عَن حَدِيث سَلمَة بن المحبق فِي دباغ الْميتَة

فَقَالَ لَا أجريه حَدِيث ابْن عكيم أَتَانَا كتاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قبل وَفَاته بِشَهْر أَو شَهْرَيْن لَا تنتفعوا من الْميتَة بإهاب وَلَا عصب

‌‌بَاب الخرز بِشعر الْخِنْزِير

 

43 - سَأَلت ابي عَن شعر الْخِنْزِير

قَالَ لَا يُعجبنِي أَن يخرز بِهِ فَإِن خرز بِهِ فَلَا بَأْس بِالصَّلَاةِ فِي الْخُفَّيْنِ الَّذِي يخرز بِهِ لِأَنَّهُ لَا يعلق

‌‌بَاب فِي قُرُون الْميتَة وريشها

 

44 - سَأَلت أبي عَن جُلُود الْميتَة وقرونها يتَّخذ نصبا للسكاكين
তিনি বললেন, যদি তা ট্যান করা বা পাককরণ করা না হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না এবং তা থেকে কোনো উপকার লাভ করা যাবে না। আর যদি তা জবেহ করা হয় এবং (শরিয়াহ সম্মতভাবে) জবাইকৃত হয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, গাধার চামড়া থেকে তৈরি ফিতা বা পটি হালাল নয়। অর্থাৎ, তা দ্বারা সেলাই করা যাবে না বা অন্য কোনো কিছুতে ব্যবহার করা যাবে না। যদিও গাধাকে জবেহ করা হয় তবুও তার গোশত খাওয়া যাবে না, আর মৃত প্রাণী থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করা যাবে না।

আমার পিতা উটের ব্যাপারে বলেছেন যে, যদি তা জবেহ করা হয় তবে তা থেকে তৈরি ফিতা বা পটি ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তা মৃত প্রাণী হয়, তবে আমি একে অপছন্দ করি।

৪২ - তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন, আমি আমার পিতাকে মৃত প্রাণীর চামড়া ট্যান করা সংক্রান্ত সালামাহ ইবনে আল-মুহাব্বাকের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

অতঃপর তিনি বললেন, আমি এটিকে প্রয়োগ করি না। ইবনে উকাইমের হাদিস হলো: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের এক বা দুই মাস আগে আমাদের কাছে তাঁর একটি পত্র এসেছিল যে, "তোমরা মৃত প্রাণীর চামড়া এবং তন্তু (বা শিরা) থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না।"

‌‌পরিচ্ছেদ: শূকরের পশম দিয়ে সেলাই করা

 

৪৩ - আমি আমার পিতাকে শূকরের পশম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, এটি দিয়ে সেলাই করা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়। তবে যদি তা দিয়ে সেলাই করা হয়, তবে সেই মোজা (খুফ) পরিধান করে নামাজ পড়লে কোনো সমস্যা নেই যা এটি দিয়ে সেলাই করা হয়েছে, কারণ এটি লেগে থাকে না।

‌‌পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণীর শিং এবং পালক সম্পর্কে

 

৪৪ - আমি আমার পিতাকে মৃত প্রাণীর চামড়া এবং তার শিং সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা ছুরির হাতল হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فَقَالَ لَا ينْتَفع من الْميتَة بإهاب وَلَا عصب

قلت وريشها

قَالَ لَا بَأْس بِهِ إِذا غسل

‌‌بَاب ثِيَاب الْكفَّار

 

45 - حَدثنَا قَالَ سَمِعت أبي يَقُول كل ثوب يلمسه يَهُودِيّ أَو نَصْرَانِيّ أَو مَجُوسِيّ إِذا كَانَ مثل الْإِزَار والسراويل فَلَا يُعجبنِي أَن يصلى فِيهِ وَذَلِكَ أَنهم لَا يتنزهون من الْبَوْل

‌‌بَاب الْجَنَابَة تصيب الثَّوْب

 

سَأَلت أبي عَن الرجل يجنب فِي الثَّوْب فَيصَلي مَكَانَهُ

قَالَ إِن شَاءَ غسل الثَّوْب كُله وَإِن شَاءَ فركه كُله

قيل ويجزيه الفرك

قَالَ نعم

47 - سَأَلت ابي عَن الثَّوْب تصيبه الْجَنَابَة

قَالَ اذْهَبْ فِيهِ الى الْخَبَرَيْنِ جَمِيعًا

حَدِيث سُلَيْمَان بن يسَار عَن عَائِشَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يغسلهُ وَحَدِيث الْأَعْمَش عَن ابراهيم عَن همام عَن عَائِشَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فركه وَصلى
তিনি বললেন: মৃত প্রাণীর চামড়া এবং স্নায়ু থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করা যাবে না।

আমি বললাম: এবং তার পালক?

তিনি বললেন: যদি তা ধৌত করা হয় তবে এতে কোনো সমস্যা নেই।

‌‌কাফিরদের পোশাকের অধ্যায়

 

৪৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিউপাসক যে কোনো পোশাকে স্পর্শ করে, যদি তা লুঙ্গি বা পায়জামার মতো হয়, তবে তাতে সালাত আদায় করা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়। এর কারণ হলো তারা প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করে না।

‌পোশাকে অপবিত্রতা (বীর্য) লেগে যাওয়ার অধ্যায়

 

আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে পোশাকে অপবিত্র হয় এবং সেই পোশাকেই সালাত আদায় করে।

তিনি বললেন: সে চাইলে পুরো পোশাকটি ধৌত করবে অথবা চাইলে পুরোটি ঘষে পরিষ্কার করবে।

জিজ্ঞাসা করা হলো: ঘষে পরিষ্কার করা কি যথেষ্ট হবে?

তিনি বললেন: হ্যাঁ।

৪৭ - আমি আমার পিতাকে পোশাকে বীর্য লেগে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন: উভয় বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে আমল করো।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত সুলাইমান ইবনে ইয়াসারের হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি ধুয়ে ফেলতেন; এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আমাশ, ইবরাহিম ও হাম্মামের সূত্রে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি ঘষে পরিষ্কার করতেন এবং সালাত আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَرَوَاهُ أَبُو معشر عَن ابراهيم عَن الْأسود عَن عَائِشَة فركه

قَالَ أبي اذْهَبْ الى الْخَبَرَيْنِ جَمِيعًا وَلَا أرد احدهما بِالْآخرِ

وَلِهَذَا مِثَال مِنْهُ قَوْله الرَّسُول صلى الله عليه وسلم لحكيم بن حزَام لَا تبع مَا لَيْسَ عنْدك

ثمَّ أجَاز السّلم وَالسّلم بيع مَا لَيْسَ فِي ملكه وَإِنَّمَا هُوَ على صفة وَهَذَا عِنْدِي مثل الأول وَمِنْه أَيْضا الشَّاة الْمُصراة إِذْ اشْتَرَاهَا الرجل فحلبها فَإِن شَاءَ ردهَا ورد صَاع تمر وَقَوله صلى الله عليه وسلم الْخراج بِالضَّمَانِ فَكَانَ يَنْبَغِي أَن يكون اللَّبن للْمُشْتَرِي لِأَنَّهُ ضَامِن بِمَنْزِلَة العَبْد إِذا اسْتَعْملهُ فَأصَاب بِهِ عَيْبا رده وَكَانَ لَهُ عَلَيْهِ بضمانه وَقَوله صلى الله عليه وسلم لَا يصلى بعد الْعَصْر ثمَّ قَالَ من نَام عَن صَلَاة فنسيها فليصلها إِذا ذكرهَا فَلَا يرد أَحدهمَا بِالْآخرِ اذا نَسِيَهَا صلاهَا اذا ذكرهَا وَلَا يتَطَوَّع بعد الْعَصْر فنستعمل الْخَبَرَيْنِ جَمِيعًا

وَمثل مَا يرْوى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي سَجْدَتي السَّهْو أَنه يسجدهما قبل وَبعد فنستعمل الْأَخْبَار فِيهَا كَمَا جَاءَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وكما وصف ذَلِك عَنهُ فيسجدها الرجل كَمَا سجد النَّبِي صلى الله عليه وسلم قبل وَبعد فِي الْمَوَاضِع الَّتِي سجد فِيهَا قبل وَسجد فِيهَا بعد وَلَا يرد بَعْضهَا بِبَعْض هَذَا وَشبهه اسْتعْمل الْأَخْبَار حَتَّى تَأتي الدّلَالَة بِأَن الْخَبَر قبل الْخَبَر فَيكون الْأَخير أولى أَن يُؤْخَذ بِهِ مِثْلَمَا قَالَ ابْن شهَاب الزُّهْرِيّ يُؤْخَذ بالأحدث فالأحدث من أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ أَنه صَامَ فِي سَفَره حَتَّى بلغ الكديد ثمَّ أفطر

48 - سَأَلت أبي عَن المنى يُصِيب الثَّوْب

قَالَ إِذا جف ففركه فَلَا بَأْس وَإِن غسله فَلَا بَأْس وَإِن مَسحه وَهُوَ رطب فَلَا بَأْس
এটি আবু মাশার ইবরাহিম থেকে, তিনি আল-আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তা ঘষে পরিষ্কার করতেন।

আমার পিতা বলেন: আমি উভয় বর্ণনার ওপরই আমল করি এবং একটির মাধ্যমে অন্যটিকে প্রত্যাখ্যান করি না।

এর একটি উদাহরণ হলো হাকিম ইবনে হিযামকে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না।"

অতঃপর তিনি 'সালাম' বা অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ করেছেন, অথচ সালাম হলো এমন বস্তুর বিক্রয় যা বিক্রেতার মালিকানায় নেই বরং তা কেবল বর্ণনার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। আমার নিকট এটিও প্রথমটির মতোই। এর আরেকটি উদাহরণ হলো সেই পশুর ক্ষেত্রে যার ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা হয়েছে (মুসাররাহ)। কোনো ব্যক্তি যদি তা ক্রয় করে এবং দোহন করে, তবে সে চাইলে তা ফেরত দিতে পারবে এবং বিনিময়ে এক 'সা' (পরিমাপক) খেজুর প্রদান করবে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হলো: "মুনাফা দায়বদ্ধতার সাথে সংশ্লিষ্ট।" সুতরাং নিয়ম অনুযায়ী দুধ ক্রেতারই হওয়ার কথা ছিল, কারণ সে এর জন্য দায়ী; ঠিক যেমন কোনো দাসের ক্ষেত্রে হয়—যাকে ব্যবহারের পর কোনো ত্রুটি প্রকাশ পেলে ক্রেতা তাকে ফেরত দেয়, আর ব্যবহারের সুফল ক্রেতারই থাকে তার দায়বদ্ধতার কারণে। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আসরের পর কোনো সালাত নেই।" আবার তিনি বলেছেন: "কেউ যদি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে অথবা ভুলে যায়, তবে সে যখনই তা স্মরণ করবে তখনই যেন তা আদায় করে নেয়।" সুতরাং একটির দ্বারা অন্যটিকে বাতিল করা যাবে না; যখন সে ভুলে যাবে তখন স্মরণ হওয়ামাত্রই তা আদায় করবে, তবে আসরের পর সে নফল সালাত আদায় করবে না। এভাবে আমরা উভয় বর্ণনার ওপরই আমল করব।

একইভাবে সাহু সিজদার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে—যে তিনি তা সালামের আগে ও পরে উভয় ক্ষেত্রেই করেছেন—আমরা এই সংবাদগুলোর ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং যেভাবে তা বর্ণনা করা হয়েছে সেভাবেই আমল করি। সুতরাং একজন ব্যক্তি সেভাবেই সিজদা করবে যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের আগে ও পরে সিজদা করেছেন—অর্থাৎ যে স্থানগুলোতে তিনি আগে করেছেন সেখানে আগে এবং যেগুলোতে পরে করেছেন সেখানে পরে করবেন; এর একটির দ্বারা অন্যটিকে প্রত্যাখ্যান করা হবে না। এই প্রকার এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোতে সব বর্ণনার ওপর আমল করতে হবে, যতক্ষণ না এই প্রমাণ পাওয়া যায় যে একটি বর্ণনা অপরটির পূর্ববর্তী—সেক্ষেত্রে পরবর্তী বর্ণনার ওপর আমল করাই অধিক সমীচীন হবে। যেমনটি ইবনে শিহাব আল-যুহরী বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলীর মধ্যে যেটি অধিকতর পরবর্তী সময়ের, সেটিকেই গ্রহণ করা হবে।" যেমন তিনি সফরে রোজা রেখেছিলেন যতক্ষণ না 'কাদীদ' নামক স্থানে পৌঁছান, এরপর তিনি রোজা ভেঙে ফেলেন।

৪৮ - আমি আমার পিতাকে কাপড়ে বীর্য লাগা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন: যদি তা শুকিয়ে যায় তবে ঘষে ফেললে কোনো অসুবিধা নেই। যদি তা ধৌত করে তবে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। আর যদি তা ভেজা থাকা অবস্থায় মুছে ফেলে তবে তাতেও কোনো দোষ নেই।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
49 - سَأَلت أبي عَن الرجل يُجَامع فِي الثَّوْب

فَقَالَ لَا بَأْس بِالصَّلَاةِ فِيهِ إِلَّا أَن يُصِيبهُ أَذَى فَإِن كَانَ أَصَابَهُ أَذَى غسله وفركه فَلَا بَأْس أَن يُصَلِّي فِيهِ بعد ذَلِك إِذا غسله أَو فركه

50 - سَأَلت أبي عَن الرجل يُصَلِّي فِي الثَّوْب الَّذِي يجنب فِيهِ هَل تجوز صلَاته

فَقَالَ إِن كَانَ صلي فِيهِ وَفِيه أثر جَنَابَة فَإِن كَانَ فَاحِشا عِنْده أَو يفحش عِنْده فَأَعَادَ الصَّلَاة الَّتِي صلاهَا وَفِيه الْجَنَابَة الْفَاحِشَة

قلت فَإِن كَانَت الْجَنَابَة فَاحِشَة ففرك الثَّوْب

قَالَ أَجْزَأت صلَاته

‌‌بَاب نواقض الْوضُوء

 

51 - سَأَلت أبي عَن الْوضُوء من مس الذّكر

قَالَ يُعجبنِي أَن يتَوَضَّأ مِنْهُ

52 - سَمِعت أبي يَقُول فِي الرجل إِذا مس فرجه بباطن كَفه أَو بِظَاهِرِهِ

قَالَ عَطاء بأيه مَسّه وَجب عَلَيْهِ الْوضُوء

53 - سَأَلت أبي عَن رجل مس ذكره
49 - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে পোশাক পরিহিত অবস্থায় সহবাস করে।

তিনি বললেন: "তাতে সালাত আদায়ে কোনো অসুবিধা নেই, যদি না তাতে কোনো অপবিত্রতা লেগে থাকে। যদি তাতে অপবিত্রতা লাগে তবে সে যেন তা ধুয়ে ফেলে এবং ঘষে নেয়; এরপর তা ধুয়ে ফেলার বা ঘষে নেওয়ার পর তাতে সালাত আদায়ে কোনো অসুবিধা নেই।"

50 - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে এমন পোশাকে সালাত আদায় করে যাতে সে অপবিত্র (জুনুব) হয়েছিল, তার সালাত কি বৈধ হবে?

তিনি বললেন: "যদি সে এমন অবস্থায় সালাত আদায় করে যে তাতে নাপাকির চিহ্ন রয়েছে, আর তা যদি তার নিকট অত্যধিক মনে হয় বা তা অত্যধিক হয়ে থাকে, তবে সে যেন সেই সালাতটি পুনরায় আদায় করে যা সে অত্যধিক নাপাকি থাকা অবস্থায় আদায় করেছিল।"

আমি বললাম: "যদি নাপাকি অত্যধিক হয় কিন্তু সে কাপড়টি ঘষে পরিষ্কার করে নেয়?"

তিনি বললেন: "তার সালাত যথেষ্ট (বৈধ) হবে।"

‌‌অধ্যায়: ওজু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ

 

51 - আমি আমার পিতাকে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার কারণে ওজু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন: "আমি পছন্দ করি যে সে যেন এর জন্য ওজু করে নেয়।"

52 - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, কোনো ব্যক্তি যদি তার হাতের তালু দিয়ে অথবা হাতের পিঠ দিয়ে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে (তবে তার বিধান কী)।

আতা বলেছেন: "যে অংশ দিয়েই স্পর্শ করুক না কেন, তার ওপর ওজু ওয়াজিব হবে।"

53 - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করেছে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَقَالَ إِذا أفْضى بِيَدِهِ الى فرجه تَوَضَّأ للصَّلَاة اخْتَارَهُ لنَفْسي لِأَنَّهُ عِنْدِي أَكثر وَإِذا مَسّه من فَوق الثَّوْب فَلَا يتَوَضَّأ

54 - سَأَلت أبي عَن الرجل يمس ذكر الصَّبِي الصَّغِير

قَالَ أعجب إِلَيّ أَن يتَوَضَّأ

55 - قَرَأت على أبي قَالَ إِذا مَا الرجل مس فرجه بباطن كَفه أَو بظاهرها فَعَلَيهِ الْوضُوء وَإِذا أفْضى بِيَدِهِ

56 - حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا مُعْتَمر مرّة أُخْرَى عَن برد عَن نَافِع عَن ابْن عمر أَنه أعَاد صَلَاة الْفجْر بَعْدَمَا طلعت الشَّمْس لِأَنَّهُ كَانَ مس ذكره

حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا مُعْتَمر عَن عبيد الله عَن نَافِع عَن ابْن عمر انه كَانَ يتَوَضَّأ اذا مس فرجه 57 سَأَلت أبي عَن رجل مس ذكره

فَقَالَ يُعِيد الْوضُوء ثمَّ قَالَ إِذا كَانَ اعْتقد هَذَا القَوْل أرى لَهُ أَن يُعِيد الصَّلَاة أَيْضا عَامِدًا اَوْ نَاسِيا

قَالَ من يُنكر هَذَا يرى اذا ضحك ان يُعِيد الْوضُوء كَمَا يُعِيد الْوضُوء اذا أحدث

قَالَ أبي وَيتَوَضَّأ من لُحُوم الْإِبِل مثل مس الذّكر وان صلى أعَاد إِلَّا أَنه يفحش عِنْدِي أَن يكون الرجل يُعِيد صَلَاة عشر سِنِين
তিনি বললেন: যখন কেউ তার হাত দিয়ে সরাসরি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে, সে যেন সালাতের জন্য ওজু করে। আমি নিজের জন্য এটিই গ্রহণ করেছি, কারণ এটি আমার নিকট অধিক নির্ভরযোগ্য। আর যখন সে কাপড়ের ওপর দিয়ে তা স্পর্শ করে, তখন তাকে ওজু করতে হবে না।

৫৪ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে কোনো ছোট শিশুর লিঙ্গ স্পর্শ করে।

তিনি বললেন: আমার নিকট এটিই অধিক পছন্দনীয় যে সে ওজু করবে।

৫৫ - আমি আমার পিতার নিকট পাঠ করলাম, তিনি বললেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার হাতের তালুর অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক অংশ দিয়ে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে, তবে তার ওপর ওজু করা আবশ্যক। আর (একই বিধান প্রযোজ্য) যখন সে হাত দিয়ে সরাসরি স্পর্শ করে।

৫৬ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতামির আমাদের নিকট পুনরায় বর্ণনা করেছেন বুর্দ-এর সূত্রে, তিনি নাফে-এর সূত্রে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সূর্যোদয়ের পর ফজরের সালাত পুনরায় আদায় করেছিলেন, কারণ তিনি তার লিঙ্গ স্পর্শ করেছিলেন।

আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতামির আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে-এর সূত্রে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখনই তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করতেন, ওজু করতেন। ৫৭. আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে তার লিঙ্গ স্পর্শ করেছে।

তিনি বললেন: সে ওজু পুনরায় করবে। এরপর তিনি বললেন: যদি সে এই মতটিই পোষণ করে থাকে, তবে আমি মনে করি তার জন্য সালাতও পুনরায় আদায় করা আবশ্যক, চাই সে ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকুক কিংবা ভুলে।

তিনি বললেন: যারা এটি অস্বীকার করে, তারা মনে করে যে হাসলে ওজু পুনরায় করতে হবে, ঠিক যেমন বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ওজু পুনরায় করতে হয়।

আমার পিতা বললেন: উটের গোশত খেলেও ওজু করতে হবে, ঠিক যেমন লিঙ্গ স্পর্শ করলে করতে হয়। আর যদি সে (ওজু ছাড়া) সালাত আদায় করে থাকে, তবে তা পুনরায় আদায় করবে; তবে আমার নিকট এটি অত্যন্ত গুরুভার মনে হয় যে, কোনো ব্যক্তি দশ বছরের সালাত পুনরায় আদায় করবে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَقَالَ اذا مس ذكره يُعِيد الْوضُوء وَالصَّلَاة وَإِذا أكل لُحُوم الْإِبِل يُعِيد الْوضُوء وَالصَّلَاة

58 - سَمِعت أبي سُئِلَ عَن الْوضُوء من لُحُوم الْإِبِل

قَالَ يتَوَضَّأ مِنْهَا

قيل فالوضوء من أَلْبَانهَا

قَالَ لَا يتَوَضَّأ من أَلْبَانهَا

قيل فَتَشرب أبواها للدواء

قَالَ لَا بَأْس بِهِ

59 - سُئِلَ أبي عَن الْوضُوء من لُحُوم الْإِبِل

قَالَ نعم يتَوَضَّأ مِنْهُ

حَدثنَا قَالَ سَأَلت أبي عَن الْوضُوء للصَّلَاة من لُحُوم الابل

فَقَالَ حَدِيث الْبَراء وَحَدِيث جَابر بن سَمُرَة جَمِيعًا صَحِيح ان شَاءَ الله تَعَالَى

حَدثنَا قَالَ حَدثنِي ابي حَدثنَا وَكِيع عَن سُفْيَان عَن حبيب ابْن أبي ثَابت عَمَّن سمع جَابر بن سَمُرَة قَالَ كُنَّا نَتَوَضَّأ من لُحُوم الْإِبِل وَلَا نصلي فِي مبارك الْإِبِل

60 - سَمِعت أبي يَقُول فِي القلس والرعاف اذا فحش عِنْده يُعِيد الْوضُوء
এবং তিনি বললেন, যখন কেউ তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে তখন সে অজু ও সালাত পুনরায় করবে, এবং যখন কেউ উটের গোশত খাবে তখন সে অজু ও সালাত পুনরায় করবে।

৫৮ - আমি আমার পিতাকে উটের গোশত খাওয়ার কারণে অজু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি।

তিনি বললেন, তা থেকে অজু করতে হবে।

জিজ্ঞাসা করা হলো, উটের দুধ পান করলে কি অজু করতে হবে?

তিনি বললেন, উটের দুধ পানের কারণে অজু করতে হবে না।

জিজ্ঞাসা করা হলো, তবে কি ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র পান করা যাবে?

তিনি বললেন, এতে কোনো অসুবিধা নেই।

৫৯ - আমার পিতাকে উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।

তিনি বললেন, হ্যাঁ, তা থেকে অজু করতে হবে।

তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে উটের গোশত খাওয়ার কারণে সালাতের জন্য অজু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তখন তিনি বললেন, বারা-এর বর্ণিত হাদিস এবং জাবির ইবনে সামুরা-এর বর্ণিত হাদিস উভয়ই সহিহ, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ওকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি জাবির ইবনে সামুরাকে বলতে শুনেছেন যে, আমরা উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করতাম এবং উট বেঁধে রাখার স্থানে সালাত আদায় করতাম না।

৬০ - আমি আমার পিতাকে মুখভর্তি বমি এবং নাক দিয়ে রক্ত পড়া সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, যখন তা তার নিকট অত্যধিক হবে তখন সে পুনরায় অজু করবে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
سَأَلت ابي عَن القلس فِي مِقْدَار كم تجب فِيهِ الْوضُوء

قَالَ اذا كَانَ فَاحِشا أعَاد الْوضُوء

61 - قَرَأت على أبي رجل قاء أَو تقيأ ينْتَقض الْوضُوء

قَالَ نعم واذا تعمد الْقَيْء قضى يَوْمًا مَكَانَهُ وفإذا غَلبه وفحش أعَاد الْوضُوء وَلَا يُعِيد الصَّوْم

62 - سَأَلت أبي قلت لَهُ إِن ذهب رجل الى الْوضُوء مِمَّا مست النَّار تعنفه قَالَ أما أَنا فَلَا أتوضأ

63 - سَمِعت أبي يَقُول وَقد سُئِلَ عَن الْوضُوء مِمَّا مست النَّار

قَالَ لَا يتَوَضَّأ

64 - سَأَلت أبي عَن الرجل اذا أفْضى بِيَدِهِ أَو مس امْرَأَته من تَحت الثِّيَاب فَوجدَ شَهْوَة

قَالَ يتَوَضَّأ

قَالَ أبي إِذا لمس لشَهْوَة فَعَلَيهِ الْوضُوء وَهُوَ قَول ابْن مَسْعُود وَابْن عمر

قلت لأبي فالمرأة إِذا مست فرجهَا

قَالَ مَا سَمِعت فِيهِ شَيْء وَلَكِن هِيَ شَقِيقَة الرجل يُعجبنِي ان تتوضأ إِذا لمسها لشَهْوَة
আমি আমার পিতাকে মুখভর্তি বমি (কাল্স) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কতটুকু পরিমাণ হলে ওযু ওয়াজিব হবে?

তিনি বললেন: যদি তা অত্যধিক হয়, তবে সে ওযু পুনরায় করবে।

৬১ - আমি আমার পিতার সামনে পাঠ করলাম: এক ব্যক্তি বমি করল অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করার চেষ্টা করল, এতে কি ওযু ভেঙে যাবে?

তিনি বললেন: হ্যাঁ। আর যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তবে সে তার পরিবর্তে একদিন কাযা করবে। আর যদি বমি আপনা-আপনি চলে আসে এবং তা অত্যধিক হয়, তবে সে ওযু পুনরায় করবে, কিন্তু রোজা পুনরায় করতে হবে না।

৬২ - আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি তাকে বললাম: যদি কোনো ব্যক্তি আগুন স্পর্শ করেছে এমন কিছু থেকে ওযু করতে যায়, তবে আপনি কি তাকে ভর্ৎসনা করবেন? তিনি বললেন: আমার ক্ষেত্রে বললে, আমি ওযু করি না।

৬৩ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যখন তাকে আগুন স্পর্শ করা বস্তু থেকে ওযু করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

তিনি বললেন: সে ওযু করবে না।

৬৪ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ করেছে অথবা কাপড়ের নিচ দিয়ে তার স্ত্রীকে স্পর্শ করেছে এবং কামভাব অনুভব করেছে।

তিনি বললেন: সে ওযু করবে।

আমার পিতা বললেন: যখন কামভাবের সাথে স্পর্শ করবে, তখন তার ওপর ওযু করা আবশ্যক। আর এটাই ইবনে মাসউদ ও ইবনে উমরের অভিমত।

আমি আমার পিতাকে বললাম: তবে মহিলার ক্ষেত্রে কী হবে যখন সে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে?

তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমি কিছু শুনিনি, তবে সে পুরুষেরই সমরূপ; সে যদি কামভাবের সাথে তা স্পর্শ করে তবে ওযু করাটাই আমার নিকট পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
65 - سَمِعت أبي يَقُول الْمَسِيس واللمس بِالْيَدِ وَقَوله {لامستم النِّسَاء} فالملامسة الْجِمَاع

سَمِعت أبي يَقُول وَقد روى عَن ابْن مَسْعُود أَنه قَرَأَهَا {أَو لامستم النِّسَاء} وَهُوَ قَول أهل الْكُوفَة الْقَدِيم مِنْهُم عَلْقَمَة وابراهيم وَالشعْبِيّ كَانُوا يرَوْنَ اللَّمْس مَا دون الْجِمَاع

قَالَ أبي وَهُوَ قَول أهل الْمَدِينَة مَا أعلمهم يَخْتَلِفُونَ فِيهِ إِلَّا ابْن عَبَّاس وَأَصْحَابه فَإِنَّهُم يَقُولُونَ لَا وضوء من الْقبْلَة وَلَا من اللَّمْس

66 - سَأَلت أبي عَن الْقبْلَة

قَالَ إِذا قبل لشَهْوَة أعَاد الْوضُوء وَإِن كَانَ قد صلى وَقبل لشَهْوَة أعَاد الْوضُوء وَأعَاد الصَّلَاة يرْوى عَن ابْن مَسْعُود وَابْن عمر أَنَّهُمَا كَانَا يريان الْوضُوء من الْقبْلَة وَهُوَ قَول ابراهيم وَالشعْبِيّ وعلقمة وَعبيدَة ويروا فِي اللَّمْس مَا دون الْجِمَاع

67 - سَأَلت أبي عَن الدُّود يخرج من الْجَسَد

قَالَ اذا فحش أعَاد مِنْهُ الْوضُوء وكل شَيْء يخرج من السَّبِيلَيْنِ يُعِيد الْوضُوء قل أَو كثر

68 - سَأَلت أبي عَمَّن خرج من ذكره بَلل بَعْدَمَا اغْتسل

قَالَ يتَوَضَّأ وَهُوَ قَول ابْن عَبَّاس

قَالَ وَرُوِيَ عَن عَليّ أَنه قَالَ إِن كَانَ بَال وَإِلَّا أعَاد الْغسْل فَكل شَيْء خرج من السَّبِيلَيْنِ فَفِيهِ الْوضُوء من بَوْل أَو ريح
৬৫ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, ‘মাসিস’ এবং ‘লামস’ হলো হাত দিয়ে স্পর্শ করা। আর মহান আল্লাহর বাণী— {তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছ}; এখানে স্পর্শ করা (মুলামাসাহ) অর্থ হলো সহবাস।

আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আয়াতটি {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছ} এভাবে পাঠ করতেন। এটি কুফাবাসীদের পূর্বসূরিদের অভিমত, যাদের মধ্যে রয়েছেন আলক্বামাহ, ইবরাহিম এবং আশ-শা’বি। তাঁরা মনে করতেন ‘লামস’ (স্পর্শ) বলতে সহবাস ব্যতীত অন্য কিছু (সাধারণ স্পর্শ) বোঝায়।

আমার পিতা বলেন, এটি মদিনাবাসীদেরও অভিমত। তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে আমি জানি না, কেবল ইবনে আব্বাস (রা.) ও তাঁর অনুসারীরা ব্যতীত। কেননা তাঁরা বলেন— চুম্বন বা স্পর্শের কারণে ওজু ভঙ্গ হয় না।

৬৬ - আমি আমার পিতাকে চুম্বন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি।

তিনি বললেন, যদি কামভাবের সাথে চুম্বন করে, তবে সে ওজু পুনরায় করবে। আর যদি সে নামাজ পড়ে থাকে এবং কামভাবের সাথে চুম্বন করে থাকে, তবে সে ওজু পুনরায় করবে এবং নামাজও পুনরায় পড়বে। ইবনে মাসউদ ও ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা উভয়ে চুম্বনের কারণে ওজু করা আবশ্যক মনে করতেন। এটি ইবরাহিম, আশ-শা’বি, আলক্বামাহ এবং উবাইদাহ-এর অভিমত; তাঁরা মনে করেন ‘লামস’ (স্পর্শ) সহবাস ব্যতীত অন্য কিছুকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

৬৭ - আমি আমার পিতাকে শরীর থেকে কৃমি বা পোকা বের হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি।

তিনি বললেন, যদি তা অধিক পরিমাণে হয়, তবে সে কারণে ওজু পুনরায় করবে। আর মল-মূত্র ত্যাগের রাস্তা (সাবিললাইন) দিয়ে যা কিছু বের হয়, তার ফলেই ওজু পুনরায় করতে হবে, তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি।

৬৮ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, যার লিঙ্গ থেকে গোসলের পর আর্দ্রতা বা তরল নির্গত হয়েছে।

তিনি বললেন, সে ওজু করবে। এটি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অভিমত।

তিনি বলেন, আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন— যদি সে (গোসলের আগে) প্রস্রাব করে থাকে (তবে ওজুই যথেষ্ট), অন্যথায় সে পুনরায় গোসল করবে। আর মল-মূত্র ত্যাগের রাস্তা দিয়ে যা কিছুই বের হোক না কেন, তাতে ওজু করতে হবে; হোক তা প্রস্রাব কিংবা বায়ু।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
69 - قلت الدُّود يخرج من الْجَسَد

قَالَ بِمَنْزِلَة الدَّم اذا فحش

قلت فَمن الدبر

قَالَ عَلَيْهِ الْوضُوء

70 - قَرَأت عَن أبي كل مَا خرج من السَّبِيلَيْنِ فَفِي قَلِيله وَكَثِيره الْوضُوء واذا كَانَ من الْجَسَد فَإِذا كَانَ فَاحِشا اعاد وان لم يكن فَاحِشا لم يعد

قلت مَا الْفَاحِش عنْدك

قَالَ مَا يفحش عِنْد الرجل مَا احده بِأَكْثَرَ من هَذَا

71 - سَأَلت ابي عَن كل مَا خرج من السَّبِيلَيْنِ

قَالَ فِيهِ الْوضُوء وان كَانَ من الْجَسَد

قَالَ إِذا فحش تَوَضَّأ

وَقَالَ الْفَاحِش لَا أحده إِذا فحش عِنْده تَوَضَّأ

72 - سَمِعت أبي يَقُول فِي الدَّم إِذا فحش أعَاد الْوضُوء وَإِذا لم يستفحشه لَا بَأْس بِهِ

73 - سَأَلت أبي عَن الرجل إِذا نَام حَتَّى يسْتَحق نوما

قَالَ إِذا نَام نوما يحلم وَكَانَ نوما طَويلا أعجب إِلَيّ أَن يتَوَضَّأ
৬৯ - আমি বললাম, শরীর থেকে পোকা নির্গত হওয়া প্রসঙ্গে?

তিনি বললেন, এটি রক্তের সমপর্যায়ভুক্ত যখন তা অধিক মাত্রায় হয়।

আমি বললাম, যদি তা পায়ুপথ থেকে নির্গত হয়?

তিনি বললেন, তার ওপর ওযু করা আবশ্যক।

৭০ - আমি আমার পিতার সূত্রে পাঠ করেছি: দুই পথ (মূত্র ও পায়ুপথ) দিয়ে যা কিছু নির্গত হয়, তার অল্প ও অধিক উভয় ক্ষেত্রেই ওযু করতে হবে। আর যদি তা শরীরের অন্য স্থান থেকে হয়, তবে তা অধিক হলে ওযু পুনরায় করবে, আর অধিক না হলে পুনরায় করবে না।

আমি বললাম, আপনার নিকট ‘অধিক’ (ফাহিশ) এর মানদণ্ড কী?

তিনি বললেন, যা একজন মানুষের নিকট অধিক বলে মনে হয়; আমি একে এর চেয়ে বেশি কিছু দিয়ে সীমাবদ্ধ করি না।

৭১ - আমি আমার পিতাকে দুই পথ দিয়ে নির্গত হওয়া সকল কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন, এতে ওযু রয়েছে। আর যদি তা শরীরের অন্য অংশ থেকে হয়—

তিনি বললেন, যদি তা অধিক হয় তবে ওযু করবে।

তিনি আরও বললেন, ‘অধিক’ হওয়ার বিষয়টি আমি নির্দিষ্ট করি না; যখন তার নিকট তা অধিক মনে হবে, সে ওযু করবে।

৭২ - আমি আমার পিতাকে রক্ত সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যখন তা অধিক হয় তখন ওযু পুনরায় করবে, আর যখন সে এটাকে অধিক মনে করবে না তখন তাতে কোনো সমস্যা নেই।

৭৩ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে এমনভাবে ঘুমাল যে তার গভীর ঘুম হয়ে গেল।

তিনি বললেন, যখন সে এমনভাবে ঘুমায় যে স্বপ্ন দেখে এবং তা দীর্ঘ সময়ব্যাপী হয়, তবে সে ওযু করবে—এটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
74 - سَأَلت أبي عَمَّن نَام قَائِما أَو جَالِسا أَو رَاكِبًا فَنَامَ حَتَّى سقط أيعيد الْوضُوء

قَالَ الرجل يخْفق بِرَأْسِهِ خفقة أَو خفقتين ينْقض وضوءه قَالَ لَا بَأْس بِهِ ان شَاءَ الله اذا طَال النّوم أَو حَتَّى يحلم أعجب إِلَيّ أَن يُعِيد الْوضُوء

75 - سُئِلَ أبي عَن حَدِيث أبي هُرَيْرَة من غسل الْمَيِّت الْغسْل

قَالَ لَيْسَ فِيهِ حَدِيث يثبت

قَالَ أبي وَالْوُضُوء يتَوَضَّأ رُوِيَ ذَلِك عَن غير وَاحِد من أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم

وَقَالَ أبي يخلع نَعْلَيْه فِي الْمَقَابِر

قَالَ أبي وَلَا بَأْس بالبول قَائِما إِذا كَانَ لَا يُصِيبهُ

76 - سُئِلَ أبي وَأَنا اسْمَع عَن الرجل يحشي ذكره الْقطن بعد الْوضُوء فَإِذا صلى أخرجه فيجد فِي الْقطن بَلل

قَالَ لَا بَأْس بِهِ مَا لم يظْهر يَعْنِي خَارِجا

77 - سَأَلت أبي عَن الرجل يَأْخُذ من شعره هَل عَلَيْهِ وضوء

قَالَ أَرْجُو ان لَا يجب عَلَيْهِ
৭৪ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা সওয়ার অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে, এমনকি সে পড়ে যায়; সে কি পুনরায় ওজু করবে?

তিনি বললেন, কোনো ব্যক্তির মাথা যদি এক বা দুইবার ঝিমুনিতে হেলে পড়ে, তবে কি তার ওজু নষ্ট হবে? তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে যখন ঘুম দীর্ঘ হয় অথবা সে স্বপ্ন দেখে, তখন ওজু পুনরায় করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।

৭৫ - আমার পিতাকে আবু হুরায়রা বর্ণিত সেই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করায় তাকে গোসল করতে হবে।

তিনি বললেন, এই বিষয়ে কোনো হাদিস প্রমাণিত নয়।

আমার পিতা বললেন, ওজুর ক্ষেত্রে সে ওজু করবে; এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আর আমার পিতা বললেন, কবরস্থানে সে যেন তার জুতা খুলে ফেলে।

আমার পিতা আরও বললেন, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করায় কোনো সমস্যা নেই যদি তা (শরীরে) না লাগে।

৭৬ - আমি শুনছিলাম যে আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে ওজুর পর তার লিঙ্গমুখে তুলা দিয়ে রাখে, অতঃপর সালাত আদায়ের পর সেটি বের করলে তাতে আর্দ্রতা দেখতে পায়।

তিনি বললেন, এতে কোনো সমস্যা নেই যতক্ষণ না তা বাইরে প্রকাশ পায়।

৭৭ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে তার চুল কাটে, তার ওপর কি ওজু করা আবশ্যক?

তিনি বললেন, আমি আশা করি যে তার ওপর এটি ওয়াজিব হবে না।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَقلت يمسح عَلَيْهِ بِالْمَاءِ

قَالَ لَا بَأْس أَن يمسح عَلَيْهِ وان لم تمسح عَلَيْهِ لَا بَأْس بِهِ

قلت لأبي فالرجل يغْتَسل من الْحجامَة

قَالَ يتَوَضَّأ للصَّلَاة

78 - سَمِعت أبي يَقُول رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْغسْل من غسل الْمَيِّت وَلَيْسَ يثبت وَلَا يتَوَضَّأ من حمل الْجِنَازَة لَيْسَ يثبت وَلَا يغْتَسل من الْحجامَة لَيْسَ يثتب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم

‌‌بَاب الشَّك فِي الْحَدث

 

79 - سَأَلت أبي عَن الرجل يشك فِي أَنه قد أحدث

قَالَ لَا يُعِيد حَتَّى يسمع صَوتا أَو يجد ريحًا

80 - سَأَلت أبي عَن الرجل إِذا شكّ فِي الْوضُوء وَهُوَ على وضوء قَالَ اذا أَيقَن بِالطَّهَارَةِ فَهُوَ على طَهَارَته حَتَّى يستيقن أَنه أحدث

81 - سَأَلت أبي عَن رجل بِهِ ابردة إِذا تَوَضَّأ كَيفَ يصنع فِي وضوئِهِ فَإِنَّهُ يجد بللا بعد الْوضُوء وَهل ترى الحشو وَغير ذَلِك وَكَيف ترى إِذا خيل لَهُ أَنه قطر مِنْهُ

فَقَالَ إِذا كَانَت تعاهده الأبردة فَإِنَّهُ يسبغ الْوضُوء ثمَّ يتنضح وَلَا يلْتَفت الى شَيْء يظنّ أَنه خرج مِنْهُ فَإِنَّهُ يذهب عَنهُ إِن شَاءَ الله
আমি বললাম, এর উপর কি পানি দিয়ে মাসাহ করতে হবে?

তিনি বললেন, এর উপর মাসাহ করলে কোনো সমস্যা নেই, আর যদি মাসাহ না করেন তবে তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।

আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হিজামা (শিঙা লাগানো) করলে কি গোসল করতে হবে?

তিনি বললেন, সালাতের জন্য ওযু করবে।

৭৮ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর কারণে গোসল করার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে তা প্রমাণিত নয়। জানাজা বহনের কারণে ওযু করার বিষয়টিও প্রমাণিত নয়। আর হিজামা করার কারণে গোসল করার বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়।

‌‌অধ্যায়: অপবিত্রতা (হাদাস) হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ

 

৭৯ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার ওযু নষ্ট হওয়া বা অপবিত্র হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ করে।

তিনি বললেন, সে পুনরায় ওযু করবে না যতক্ষণ না কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো ঘ্রাণ পায়।

৮০ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে ওযু অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ওযুর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে। তিনি বললেন, যখন সে পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবে, তখন সে পবিত্র হিসেবেই গণ্য হবে যতক্ষণ না সে অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়।

৮১ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার 'আবরাদা' (প্রস্রাবের ফোঁটা পড়ার ব্যাধি) আছে; সে ওযুর সময় কী করবে? কারণ সে ওযুর পর আর্দ্রতা অনুভব করে। আপনি কি তুলা ব্যবহার বা অন্য কিছু করা সমীচীন মনে করেন? আর যদি তার মনে হয় যে তার থেকে ফোঁটা বের হয়েছে, তবে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

তিনি বললেন, যদি এই ব্যাধি তাকে নিয়মিত কষ্ট দেয়, তবে সে ওযু পূর্ণভাবে করবে, এরপর (লজ্জা স্থানে বা কাপড়ে) পানি ছিটিয়ে দেবে এবং তার থেকে কোনো কিছু বের হয়েছে বলে যা মনে হয়, সেদিকে সে ভ্রুক্ষেপ করবে না। ইনশাআল্লাহ এটি তার থেকে দূর হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌بَاب الرجل يسلس بَوْله

 

82 - سَأَلت أبي عَن الرجل يسلس بَوْله أَو يسلس مِنْهُ الْغَائِط وَهُوَ يسيل فِي الصَّلَاة فَيفْسد ثَوْبه

قَالَ يحصنه مَا اسْتَطَاعَ وَيُصلي عمر صلى وجرحه تثغب دَمًا وَزيد ابْن ثَابت يسلس بَوْله مَعْنَاهُ ذَا مُحصنَة وَصلى وَهُوَ بِمَنْزِلَة الْمُسْتَحَاضَة تتوضأ لكل صَلَاة

قَرَأت على أبي إِن كَانَ يسلس الْبَوْل أَو الْغَائِط وَهُوَ يسيل فِي الصَّلَاة فَيفْسد ثَوْبه

قَالَ يحصنه وَقَالَ قد صلى عمر وجرحه تثغب دَمًا وَكَانَ زيد بن ثَابت سَلس الْبَوْل فحصنه وَصلى

‌‌بَاب الْوضُوء

 

83 - سَأَلت أبي عَمَّن ترك الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق نَاسِيا حَتَّى صلى ثمَّ ذكر بعد مَا صلى أَو ذكر وَهُوَ فِي الصَّلَاة

قَالَ يتمضمض ويستنشق وَيُعِيد الصَّلَاة وَإِن كَانَ فِي صَلَاة انْصَرف فَتَوَضَّأ وتمضمض واستنشق

قَالَ وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يرْوى عَنهُ أَنه تمضمض واستنشق وروى أَبُو هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِذا تَوَضَّأ أحدكُم فليجعل فِي أَنفه ثمَّ لينثر

وَقَالَ أبي وَرُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم استنثروا ثِنْتَيْنِ بالغتين اوثلاثا
প্রস্রাব ঝরা (সিলসিলুল বাওল) সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পর্কিত অধ্যায়

 

৮২ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার প্রস্রাব ঝরে অথবা যার মল নির্গত হতে থাকে এবং সালাত আদায় করা অবস্থায় তা গড়িয়ে পড়ে ও তার কাপড় নষ্ট করে ফেলে।

তিনি বললেন, সে সাধ্যমতো তা আটকে রাখার ব্যবস্থা করবে এবং সালাত আদায় করবে। ওমর (রা.) সালাত আদায় করেছেন এমতাবস্থায় যে তার ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছিল। আর যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর প্রস্রাব ঝরার রোগ ছিল; এর অর্থ হলো তিনি তা আটকে রাখার ব্যবস্থা করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। এমন ব্যক্তি মুস্তাহাযা (প্রদর রোগে আক্রান্ত নারী) এর সমপর্যায়ের, যে প্রতিটি সালাতের জন্য ওযু করে।

আমি আমার পিতার নিকট পাঠ করেছি: যদি প্রস্রাব বা মল নির্গত হতে থাকে এবং সালাত অবস্থায় তা গড়িয়ে পড়ে ও কাপড় নষ্ট করে ফেলে (তবে কী করণীয়?)।

তিনি বললেন, সে তা আটকে রাখার ব্যবস্থা করবে। তিনি আরও বললেন, ওমর (রা.) সালাত আদায় করেছেন এমতাবস্থায় যে তার ক্ষত থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। আর যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) প্রস্রাব ঝরা রোগে আক্রান্ত ছিলেন, তাই তিনি তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতেন এবং সালাত আদায় করতেন।

ওযু সম্পর্কিত অধ্যায়

 

৮৩ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে ভুলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ছেড়ে দিয়েছে এবং এভাবেই সালাত আদায় করে ফেলেছে, এরপর সালাত শেষে তার মনে পড়েছে অথবা সালাতরত অবস্থায় মনে পড়েছে।

তিনি বললেন, সে কুলি করবে ও নাকে পানি দেবে এবং সালাত পুনরায় আদায় করবে। আর যদি সে সালাতের মধ্যে থাকে, তবে সালাত ছেড়ে ফিরে আসবে এবং ওযু করে কুলি করবে ও নাকে পানি দেবে।

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কুলি করেছেন এবং নাকে পানি দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন ওযু করে, সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং এরপর তা ঝেড়ে ফেলে।

আমার পিতা বলেন, ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: তোমরা দুইবার বা তিনবার পূর্ণভাবে নাক ঝাড়বে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقَالَ أبي وانا اذْهَبْ الى هَذَا وَأَقُول بِهِ لأمر النَّبِي صلى الله عليه وسلم

84 - سَمِعت أبي سُئِلَ عَن رجل نسي الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق وَصلى

قَالَ يُعِيد الصَّلَاة

قيل وَيُعِيد الْوضُوء

قَالَ لَا وَلكنه يتمضمض ويستنشق

85 - سَأَلت أبي عَن حَدِيث ابي سعيد الْخُدْرِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا وضوء لمن لم يذكر اسْم الله عَلَيْهِ

قَالَ أبي لم يثبت عِنْدِي هَذَا وَلَكِن يُعجبنِي أَن يَقُوله

86 - قلت لأبي الرجل يتَوَضَّأ فينسى التَّسْمِيَة

قَالَ يتَعَاهَد ذَلِك فَإِن نسي رَجَوْت أَن يجْزِيه

87 - سَمِعت أبي يَقُول أَكثر الْوضُوء ثَلَاث ثَلَاثًا ثِنْتَيْنِ تُجزئ وَوَاحِدَة تُجزئ إِذا أنقى بِالْغسْلِ

وَسمعت أبي يَقُول أَكثر الْوضُوء ثَلَاثًا ثَلَاثًا

88 - سَأَلت أبي عَن حَدِيث أَوْس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأ فِي نَعْلَيْه واستوكف ثَلَاثًا

قَالَ أَي تَوَضَّأ ثَلَاثًا
এবং আমার পিতা বলেছেন: আমি এই মতটিই গ্রহণ করি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের কারণে এটিই বলি।

৮৪ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ভুলে গিয়ে সালাত আদায় করেছে।

তিনি বললেন: সে সালাত পুনরায় আদায় করবে।

জিজ্ঞাসা করা হলো: সে কি ওযুও পুনরায় করবে?

তিনি বললেন: না, তবে সে কুলি করবে এবং নাকে পানি দেবে।

৮৫ - আমি আমার পিতাকে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওযু হয়নি।"

আমার পিতা বললেন: এটি আমার নিকট সাব্যস্ত নয়, তবে সে এটি বলুক—তা আমার পছন্দনীয়।

৮৬ - আমি আমার পিতাকে বললাম: এক ব্যক্তি ওযু করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়।

তিনি বললেন: সে এ বিষয়ে যত্নবান হবে, তবে যদি ভুলে যায়, তবে আশা করি তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

৮৭ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ওযুর সর্বোচ্চ সীমা তিনবার করে। দুইবার করাও যথেষ্ট এবং একবার করাও যথেষ্ট যদি ধোয়ার মাধ্যমে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

এবং আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ওযুর সর্বোচ্চ সীমা তিনবার করে।

৮৮ - আমি আমার পিতাকে আওস (রা.) বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জুতা পরিহিত অবস্থায় ওযু করেছেন এবং তিনবার পানি ঢেলে হাত ধুয়েছেন।

তিনি বললেন: অর্থাৎ তিনবার করে ওযু করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
89 - سُئِلَ أبي وَأَنا شَاهد عَن الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق فَقَالَ ثَلَاث تعجبني

90 - سُئِلَ أبي وَأَنا شَاهد عَن تَخْلِيل الْأَصَابِع فِي الْوضُوء

فَقَالَ يُعجبنِي التَّخْلِيل وَإِن وصل المَاء إِلَيْهِ أَجزَأَهُ

وَرَأَيْت أبي يخلل أَصَابِع رجلَيْهِ فِي الْوضُوء ورأيته إِذا مسح بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ مسح قَفاهُ

91 - سَمِعت أبي يَقُول لَا يُعجبنِي إِذا جف وضوء الرجل يَعْنِي أَن يسْتَقْبل وضُوءًا آخر

92 - سَأَلت أبي عَن رجل تَوَضَّأ وَنسي مسح رَأسه

قَالَ إِن كَانَ جف وضوؤه يُعِيد الْوضُوء كُله وان كَانَ لم يجِف كُله فيمسح على رَأسه وَيغسل رجلَيْهِ لِأَن الله يَقُول {وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم}

93 - سَمِعت أبي يَقُول مسح الرَّأْس يقبل بيدَيْهِ وَيُدبر وان أَتَى بِيَدِهِ يقبل وَيُدبر

94 - سَمِعت أبي يَقُول اذا نسي الرجل مسح الرَّأْس إِن كَانَ وضوؤه قد جف يُعِيد الْوضُوء وَالصَّلَاة وَإِن كَانَ صلى لِأَن الله يَقُول {وامسحوا برؤوسكم} وَإِن كَانَ لم يجِف وضوؤه يمسح بِرَأْسِهِ وَيُعِيد غسل رجلَيْهِ حَتَّى يكون على مخرج الْكتاب
৮৯ - আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় আমার পিতাকে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তিনবার (করাই) আমার কাছে পছন্দনীয়।

৯০ - আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় আমার পিতাকে ওযুর সময় আঙুল খিলাল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।

তিনি বললেন: খিলাল করা আমার পছন্দনীয়, তবে যদি পানি (আঙুলের ফাঁকে) পৌঁছে যায় তবে তা যথেষ্ট হবে।

আমি আমার পিতাকে ওযুর সময় তাঁর পায়ের আঙুল খিলাল করতে দেখেছি। আর আমি তাঁকে দেখেছি যে, যখন তিনি মাথা ও কান মাসাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর ঘাড়ও মাসাহ করতেন।

৯১ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: কোনো ব্যক্তির ওযুর অঙ্গ শুকিয়ে গেলে তা আমার পছন্দ নয়, অর্থাৎ সে যেন পুনরায় নতুন করে ওযু শুরু করে।

৯২ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে ওযু করেছে কিন্তু মাথা মাসাহ করতে ভুলে গেছে।

তিনি বললেন: যদি তার ওযু (এর অঙ্গগুলো) শুকিয়ে গিয়ে থাকে তবে সে পুরো ওযু পুনরায় করবে। আর যদি সব শুকিয়ে না যায়, তবে সে মাথা মাসাহ করবে এবং তার দুই পা ধৌত করবে; কারণ আল্লাহ বলেন, {তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো এবং তোমাদের পা (ধৌত করো)}।

৯৩ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: মাথা মাসাহ করার সময় উভয় হাত সামনে নিয়ে আসবে এবং পেছনে নিয়ে যাবে। আর যদি এক হাত দিয়েও হয়, তবে তা সামনে আনবে এবং পেছনে নেবে।

৯৪ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো ব্যক্তি মাথা মাসাহ করতে ভুলে যায়, যদি তার ওযু শুকিয়ে গিয়ে থাকে এবং সে সালাত আদায় করে থাকে, তবে সে ওযু এবং সালাত পুনরায় আদায় করবে। কারণ আল্লাহ বলেন, {তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো}। আর যদি তার ওযু শুকিয়ে না গিয়ে থাকে, তবে সে মাথা মাসাহ করবে এবং পুনরায় তার দুই পা ধৌত করবে, যাতে তা কিতাবের (কুরআনের) বর্ণনা অনুযায়ী সঠিক ক্রমে সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
95 - سَأَلت أبي عَن من ترك مسح الْأُذُنَيْنِ نَاسِيا حَتَّى يفرغ من صلَاته

قَالَ أَرْجُو أَن يجْزِيه قَالَ ابْن عمر الأذنان من الرَّأْس

وَرَأَيْت أبي يَأْخُذ لرأسه مَاء جَدِيدا ولأذنيه مَاء جَدِيدا

96 - سَمِعت أبي يَقُول إِذا تَوَضَّأ الرجل بَدَأَ بِالْيَمِينِ يصب على الشمَال

97 - سَأَلت أبي عَن رجل أَرَادَ الْوضُوء فاغتمس بِالْمَاءِ يجْزِيه

قَالَ أما من الْوضُوء فَلَا يجْزِيه حَتَّى يكون على مخرج الْكتاب وكما تَوَضَّأ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَيكون أول مَا يبْدَأ بِهِ أَن يغسل كفيه ويمضمض ويستنشق وَيغسل وَجهه ثمَّ يَدَيْهِ الى الْمرْفقين ثمَّ يمسح بِرَأْسِهِ وَيغسل رجلَيْهِ فَإِذا اغتمس ثمَّ خرج من المَاء فقد غسل وَجهه وَيغسل يَدَيْهِ وَعَلِيهِ أَن يمسح بِرَأْسِهِ ثمَّ يغسل رجلَيْهِ إِذا كَانَ جنبا فَلَا يُبَالِي بأيه بَدَأَ لِأَنَّهُ قَالَ {وَإِن كُنْتُم جنبا فاطهروا} وَلم يحدوا تَجْدِيد الْوضُوء لِأَن الْوضُوء بَدَأَ فشيء قبل شَيْء

98 - سَأَلت أبي عَمَّن تَوَضَّأ للصَّلَاة فَغسل رجلَيْهِ ثمَّ يَدَيْهِ ثمَّ وَجهه

قَالَ يكون قد أَجزَأَهُ غسل وَجهه وَيُعِيد غسل ذِرَاعَيْهِ الى الْمرْفقين ثمَّ يمسح بِرَأْسِهِ ثمَّ رجلَيْهِ

99 - قَالَ أبي وَالَّذِي رُوِيَ عَن عَليّ وَابْن مَسْعُود مَا أُبَالِي بِأَيّ أعضائي بدأت قَالَ إِنَّمَا يَعْنِي الْيُسْرَى قبل الْيُمْنَى وَلَا بَأْس أَن يبْدَأ بيسار قبل يَمِين لِأَن مخرجها من الْكتاب وَاحِد قَالَ تَعَالَى {فَاغْسِلُوا وُجُوهكُم وَأَيْدِيكُمْ إِلَى الْمرَافِق وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم إِلَى الْكَعْبَيْنِ}
95 - আমি আমার পিতাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে ভুলে দু’কান মাসেহ করা ছেড়ে দিয়েছে, এমনকি তার সালাত শেষ করা পর্যন্ত।

তিনি বললেন, আমি আশা করি এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে। ইবনে ওমর বলেছেন, দু’কান মাথারই অংশ।

আর আমি আমার পিতাকে দেখেছি তিনি তার মাথার জন্য নতুন পানি নিতেন এবং তার দু’কানের জন্য নতুন পানি নিতেন।

96 - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, যখন কোনো ব্যক্তি ওযু করে, সে ডান দিক দিয়ে শুরু করে বাম দিকের ওপর পানি ঢালে।

97 - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে ওযু করার ইচ্ছা করে পানিতে ডুব দিয়েছে, এটা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে?

তিনি বললেন, ওযুর ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না তা কিতাবের (কুরআনের) বর্ণনা অনুযায়ী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে ওযু করেছেন সেভাবে হয়। সুতরাং প্রথম যা দিয়ে শুরু করবে তা হলো তার দু’হাতের কব্জি ধোয়া, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং মুখমণ্ডল ধোয়া, তারপর দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়া, তারপর মাথা মাসেহ করা এবং দু’পা ধোয়া। সুতরাং সে যদি ডুব দেয় এবং তারপর পানি থেকে বের হয়, তবে তার মুখমণ্ডল ধোয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে, এখন সে তার দু’হাত ধোবে এবং তার জন্য আবশ্যক হলো মাথা মাসেহ করা ও তারপর দু’পা ধোয়া। তবে যদি সে নাপাক (জুনুবী) অবস্থায় থাকে, তবে সে যে কোনো অঙ্গ দিয়ে শুরু করুক না কেন তাতে কোনো পরোয়া নেই, কারণ আল্লাহ বলেছেন: "আর যদি তোমরা নাপাক অবস্থায় থাক তবে পবিত্রতা অর্জন করো"। আর ওযুর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা পরিবর্তন করা যাবে না কারণ ওযু (কুরআনে) একটির পর একটি ধারাক্রমে শুরু করা হয়েছে।

98 - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে সালাতের জন্য ওযু করার সময় প্রথমে তার দু’পা ধুয়ে ফেলেছে, তারপর তার দু’হাত এবং তারপর তার মুখমণ্ডল।

তিনি বললেন, তার কেবল মুখমণ্ডল ধোয়া যথেষ্ট হয়েছে, তাকে পুনরায় তার দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধুতে হবে, তারপর মাথা মাসেহ করতে হবে এবং তারপর দু’পা ধুতে হবে।

99 - আমার পিতা বললেন, আলী এবং ইবনে মাসউদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে— "আমার কোন অঙ্গ দিয়ে শুরু করলাম তাতে আমি পরোয়া করি না"—এর অর্থ হলো ডান দিকের আগে বাম দিক ধোয়া। আর ডানের আগে বাম দিয়ে শুরু করাতে কোনো অসুবিধা নেই, কারণ কিতাবে (কুরআনে) এগুলোর বর্ণনা একই সাথে এসেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো এবং তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত, আর তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَلَا باس أَن يبْدَأ باليسار قبل الْيَمين

100 - سَأَلت أبي عَن رجل لم يكن جنبا فاغتسل

قَالَ حَتَّى يتَوَضَّأ على مخرج الْكتاب قَالَ الله تبارك وتعالى {إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة فَاغْسِلُوا وُجُوهكُم وَأَيْدِيكُمْ إِلَى الْمرَافِق وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم}

101 - قَرَأت على أبي رجل ترك الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق نَاسِيا حَتَّى صلى ثمَّ ذكر بعد مَا قد صلى أَو ذكر وَهُوَ فِي الصَّلَاة قَالَ يُعِيد الصَّلَاة وَإِن كَانَ فِي الصَّلَاة قطع الصَّلَاة وتمضمض واستنشق

وَلَو أَن رجلا أَرَادَ الْوضُوء فاغتمس فِي المَاء ثمَّ اطلع رَأسه وَخرج من المَاء فَعَلَيهِ أَن يمسح بِرَأْسِهِ وَيغسل رجلَيْهِ إِذا خرج فقد غسل وَجهه باغتماسه فِي المَاء وَيَديه وَبَقِي رَأسه وَرجلَيْهِ فَلَمَّا خرج من المَاء كَانَ عَلَيْهِ أَن يمسح بِرَأْسِهِ وَيغسل رجلَيْهِ لقَوْل الله تَعَالَى {وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم} وَإِنَّمَا الَّذِي رُوِيَ عَن عَليّ وَابْن مَسْعُود أَنَّهُمَا قَالَا لَا نبالي بِأَيّ أعضائنا بدأنا إِنَّمَا ذَلِك فِي الْيَدَيْنِ وَالرّجلَيْنِ لَا نبالي أباليمين بَدَأَ أم باليسرى

102 - سَأَلت أبي عَن رجل غسل قَدَمَيْهِ وَلبس خفيه

قَالَ لَا يجوز وَأنْكرهُ وَقَالَ هَذَا خلاف كتاب الله وَسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الله تَعَالَى {إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة فَاغْسِلُوا وُجُوهكُم وَأَيْدِيكُمْ إِلَى الْمرَافِق}
ডানের আগে বাম দিয়ে শুরু করাতে কোনো সমস্যা নেই

১০০ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় ছিল না, তবুও গোসল করেছে

তিনি বললেন, সে যেন কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী অজু করে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: "যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো ও তোমাদের পাগুলো ধৌত করো।"

১০১ - আমি আমার পিতার সামনে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে পাঠ করলাম যে ভুলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ছেড়ে দিয়েছে এবং সালাত আদায় করে ফেলেছে। এরপর সালাতের পর তার মনে পড়ল অথবা সালাতরত অবস্থায় মনে পড়ল। তিনি বললেন: সে সালাত পুনরায় আদায় করবে। আর যদি সে সালাতের মধ্যে থাকে, তবে সালাত ছেড়ে দিবে এবং কুলি করবে ও নাকে পানি দিবে

আর যদি কোনো ব্যক্তি অজু করার ইচ্ছা করে এবং পানিতে ডুব দেয়, অতঃপর মাথা বের করে পানি থেকে উঠে আসে, তবে তার ওপর কর্তব্য হলো মাথা মাসাহ করা এবং তার পা দুটি ধৌত করা যখন সে বের হবে। কারণ পানিতে ডুব দেওয়ার মাধ্যমে তার মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত হয়ে গেছে, কিন্তু মাথা ও পা বাকি রয়ে গেছে। তাই যখন সে পানি থেকে বের হলো, তখন তার ওপর মাথা মাসাহ করা এবং পা ধৌত করা আবশ্যক, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: "এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো ও তোমাদের পাগুলো ধৌত করো।" আর আলী ও ইবনে মাসউদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন: "আমরা পরোয়া করি না আমাদের কোন অঙ্গ দিয়ে শুরু করলাম", তা কেবল দুই হাত ও দুই পায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অর্থাৎ ডান দিয়ে শুরু করল নাকি বাম দিয়ে, সে বিষয়ে আমরা পরোয়া করি না

১০২ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার পা দুটি ধৌত করেছে এবং তার মোজা জোড়া পরিধান করেছে

তিনি বললেন: এটি বৈধ নয়। তিনি একে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: এটি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো।"
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَدخل رجلَيْهِ فِي الْخُف وهما طاهرتان بِتمَام الْوضُوء

103 - سَأَلت أبي عَن رجل جنب اغتمس فِي المَاء

قَالَ إِذا كَانَ قد مضمض واستنشق أَجزَأَهُ وَإِن لم يكن مضمض وَلَا استنشق لَا يجْزِيه

104 - قلت لأبي كم يمضمض ويستنشق

قَالَ ثَلَاث اَوْ اثْنَتَيْنِ

105 - سَمِعت أبي سُئِلَ عَن مسح الْوَجْه بالمنديل بعد الْوضُوء

قَالَ أَرْجُو أَن لَا يكون بِهِ بَأْس

106 - قيل لأبي حَدِيث كريب عَن ابْن عَبَّاس عَن مَيْمُونَة

قَالَ لَيْسَ ذَلِك بَين إِنَّمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم هَكَذَا وَوَصفه يَعْنِي رده أَشَارَ بِيَدِهِ

رَأَيْت أبي غير مرّة ينشف بمنديل بعد الْوضُوء ثمَّ رَأَيْته بعد ذَلِك ينشف بِخرقَة

107 - سَأَلت أبي عَمَّن قطعت يَده من الْمرْفق

فَقَالَ يغسل الْموضع الَّذِي قطع يُدِير عَلَيْهِ المَاء يمسح

قلت لأبي فَإِن قطعت رجله

قَالَ يغسل الى الْموضع الَّذِي كَانَ يغسلهُ

قَرَأت على ابي من قطعت يَده من الْمرْفق قَالَ يغسل الْموضع الَّذِي قطع يُدِير عَلَيْهِ المَاء بِيَدِهِ الْأُخْرَى
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তিনি তাঁর পা দু’টি মোজার ভেতর প্রবেশ করিয়েছেন যখন ওজু পূর্ণ করার কারণে সে দু’টি পবিত্র ছিল।

১০৩ - আমি আমার পিতাকে এমন এক জুনুব (অপবিত্র) ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে পানির মধ্যে ডুব দিয়েছে।

তিনি বললেন, যদি সে কুলি করে থাকে এবং নাকে পানি দিয়ে থাকে তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে, আর যদি সে কুলি না করে এবং নাকে পানি না দেয় তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না।

১০৪ - আমি আমার পিতাকে বললাম, সে কতবার কুলি করবে এবং নাকে পানি দেবে?

তিনি বললেন, তিনবার অথবা দুইবার।

১০৫ - আমি আমার পিতাকে ওজুর পর রুমাল দিয়ে মুখ মোছা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি।

তিনি বললেন, আমি আশা করি এতে কোনো সমস্যা নেই।

১০৬ - আমার পিতাকে ইবনে আব্বাস থেকে কুরায়বের বর্ণিত মায়মুনাহর হাদিস সম্পর্কে বলা হলো।

তিনি বললেন, সেটি স্পষ্ট নয়; বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবে বলেছেন এবং তিনি তা বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।

আমি আমার পিতাকে একাধিকবার ওজুর পর রুমাল দিয়ে মুছতে দেখেছি, এরপর আমি তাঁকে কাপড়ের টুকরো দিয়ে মুছতে দেখেছি।

১০৭ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার হাত কনুই থেকে কাটা হয়েছে।

তিনি বললেন, যে স্থানটি কাটা হয়েছে সে স্থানটি সে ধৌত করবে, তার ওপর পানি প্রবাহিত করবে এবং মাসাহ করবে।

আমি আমার পিতাকে বললাম, যদি তার পা কাটা থাকে?

তিনি বললেন, যে পর্যন্ত সে ধৌত করত সে স্থান পর্যন্ত ধৌত করবে।

আমি আমার পিতার নিকট পাঠ করলাম এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যার হাত কনুই থেকে কাটা হয়েছে; তিনি বললেন, যে স্থানটি কাটা হয়েছে সে স্থানটি সে ধৌত করবে এবং তার অন্য হাত দিয়ে তার ওপর পানি প্রবাহিত করবে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَإِن قطعت رجلَيْهِ قَالَ يتَوَضَّأ الى الْموضع الَّذِي كَانَ يتَوَضَّأ قبل أَن تقطع رجله

108 - سَأَلت أبي عَن الرجل يتَوَضَّأ لكل صَلَاة

فَقَالَ إِن صلى الصَّلَاة بِوضُوء وَاحِد فَلَا بَأْس صلى النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَوْم الْفَتْح الصَّلَوَات بِوضُوء

109 - قَرَأت على أبي من ترك بعض رَأسه نَاسِيا قَالَ أَرْجُو أَن لَا يكون عَلَيْهِ بَأْس وَلَكِن يقبل بيدَيْهِ وَيُدبر بهما يمسح رَأسه

110 - رَأَيْت أبي إِذا كَانَ على غير وضوء فَقَرَأَ فِي آخر اسباع أَدخل يَده فِي ثِيَابه وَأمْسك الْجُزْء بِيَدِهِ وَيَده فِي ثِيَابه وَيقْرَأ فَإِذا أَرَادَ أَن يقلب الورقة قَلبهَا بِشَيْء يكون فِي يَده لطيف وَلم يمس الْجُزْء بِيَدِهِ

111 - سَأَلت أبي عَن الدَّرَاهِم

قَالَ لَا بَأْس أَن يَمَسهَا على غير وضوء

112 - قلت لأبي إِنِّي اكثر الْوضُوء فنهاني عَن ذَلِك وَقَالَ يَا بني يُقَال إِن للْوُضُوء شَيْطَان يُقَال لَهُ الولهان وَقَالَ فِي ذَلِك غير مرّة نهاني عَن كَثْرَة صب المَاء وَقَالَ لي أقلل من هَذَا يَا بني
যদি তার দুই পা কাটা হয়ে থাকে, তবে তিনি বলেন: পা কাটার আগে সে যতটুকু স্থান পর্যন্ত অজু করত, সে ততটুকু স্থান পর্যন্ত অজু করবে।

১০৮ - আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করে।

তিনি বললেন: যদি সে এক অজু দিয়ে নামাজগুলো পড়ে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন এক অজু দিয়ে সকল নামাজ পড়েছিলেন।

১০৯ - আমি আমার পিতার নিকট এমন ব্যক্তি সম্পর্কে পাঠ করলাম যে ভুলবশত মাথার কিছু অংশ (মাসেহ করা) ছেড়ে দিয়েছে। তিনি বললেন: আমি আশা করি এতে তার কোনো অসুবিধা হবে না, তবে সে তার দুই হাত সামনে আনবে এবং পেছনে নেবে এবং এর মাধ্যমে তার মাথা মাসেহ করবে।

১১০ - আমি আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি যখন অজু অবস্থায় থাকতেন না এবং কুরআনের শেষ সাত ভাগের কোনো এক ভাগ তিলাওয়াত করতেন, তখন তিনি তার হাত কাপড়ের ভেতরে প্রবেশ করাতেন এবং তার হাত কাপড়ের ভেতরে থাকা অবস্থায় কুরআনের খণ্ডটি ধরতেন ও তিলাওয়াত করতেন। যখন তিনি পৃষ্ঠা উল্টাতে চাইতেন, তখন তিনি তার হাতে থাকা সূক্ষ্ম কিছু দিয়ে তা উল্টাতেন এবং সরাসরি হাত দিয়ে কুরআনের খণ্ডটি স্পর্শ করতেন না।

১১১ - আমি আমার পিতাকে দিরহাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন: অজু ছাড়া তা স্পর্শ করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

১১২ - আমি আমার পিতাকে বললাম যে, আমি অত্যধিক অজু করি। তিনি আমাকে তা থেকে নিষেধ করলেন এবং বললেন: হে বৎস! বলা হয়ে থাকে যে, অজুর জন্য একজন শয়তান রয়েছে যাকে 'ওলহান' বলা হয়। তিনি আমাকে এ কথা একাধিকবার বলেছেন এবং অধিক পানি ঢালতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাকে বললেন: হে বৎস! এর পরিমাণ কমিয়ে দাও।
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بَاب الِاسْتِنْجَاء

 

113 - حَدثنِي أبي قَالَ حَدثنَا يحيى بن يمَان عَن سُفْيَان عَن يُونُس عَن الْحسن قَالَ لَيْسَ فِي الرّيح استنجاء

وَسمعت أبي يَقُول وَكَذَلِكَ أَقُول أَنا

رَأَيْت أبي إِذا بَال اسْتَبْرَأَ اسْتِبْرَاء شَدِيدا وَكَانَ إِذا دخل الْخَلَاء لَهُ أَحْجَار يتمسح بهَا ثمَّ يتبعهَا المَاء بعد ذَلِك وَيتبع الِاسْتِبْرَاء بِالْمَاءِ أَيْضا رَأَيْت أبي إِذا بَال لَهُ مَوَاضِع يمسح فِيهَا ذكره وينثره مرَارًا كَثِيرَة وَكَانَت لَهُ أَحْجَار ثمَّ يتبع الْأَحْجَار بِالْمَاءِ

سَمِعت أبي سُئِلَ عَن الرجل يتمسح بالأحجار فَقَالَ لَا بَأْس بهَا إِذا نقى ذَلِك الْموضع

114 - سَأَلت أبي عَن رجل دخل الْغَائِط فاستنجى بِثَلَاثَة أَحْجَار أَو تَوَضَّأ بِالْمَاءِ ثمَّ قَامَ فصلى قَالَ فَهَل تُجزئه صلَاته وَهُوَ فِي مَوضِع كثير المَاء

قَالَ إِذا كَانَ أنقى بالأحجار يجْزِيه أَو غسل بِالْمَاءِ كل ذَلِك

115 - سَأَلت أبي عَن رجل مر على رجل وَهُوَ يَبُول فَسلم عَلَيْهِ فَقَالَ يسلم إِذا فرغ وَلَا يسلم وَهُوَ يَبُول حَتَّى يفرغ

‌‌بَاب الْغسْل وموجباته

 

116 - سَأَلت أبي عَن المَاء من المَاء

فَقَالَ إِذا التقى الختانان وَجب الْغسْل

177 - سَمِعت أبي يَقُول ثَلَاثَة أَشْيَاء تجب على الرجل فِي اثْنَيْنِ مِنْهَا
‌ইস্তিঞ্জা (পবিত্রতা অর্জন) অধ্যায়

 

১১৩ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ইস্তিঞ্জা করতে হয় না।

আর আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি এবং আমিও অনুরূপ কথা বলি।

আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, তিনি যখন প্রস্রাব করতেন তখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ইস্তিবরা (প্রস্রাব থেকে পুরোপুরি পবিত্র হওয়া) করতেন। তিনি যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর কাছে পাথর থাকত যা দিয়ে তিনি মুছতেন, এরপর তিনি পানির ব্যবহার করতেন এবং ইস্তিবরার ক্ষেত্রেও পানির অনুসরণ করতেন। আমি আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি প্রস্রাব করতেন, তখন তিনি তাঁর পুরুষাঙ্গ মোছার বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতেন এবং অনেকবার সেটিকে ঝাড়তেন, আর তাঁর কাছে পাথর থাকত, অতঃপর পাথরের ব্যবহারের পর তিনি পানি ব্যবহার করতেন।

আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে পাথর দিয়ে মোছে, তিনি তখন বলেছিলেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই যদি তা ওই স্থানটিকে পরিষ্কার করে দেয়।

১১৪ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে মলত্যাগের স্থানে প্রবেশ করল, অতঃপর তিনটি পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করল অথবা পানি দিয়ে ওজু করল, তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল। আমি বললাম: তার সালাত কি যথেষ্ট হবে অথচ সে এমন স্থানে আছে যেখানে প্রচুর পানি রয়েছে?

তিনি বললেন: যদি পাথরের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যায় তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে, অথবা পানি দিয়ে ধৌত করা—এই সবই গ্রহণযোগ্য।

১১৫ - আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে প্রস্রাব করা অবস্থায় থাকা কোনো ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে সালাম দিল। তিনি বললেন: সে অবসর হলে সালাম দেবে, আর প্রস্রাব করা অবস্থায় সালাম দেবে না যতক্ষণ না সে অবসর হয়।

‌‌গোসল এবং এর ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহের অধ্যায়

 

১১৬ - আমি আমার পিতাকে 'পানি থেকে পানি' (অর্থাৎ বীর্যপাতের কারণে গোসল ওয়াজিব হওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি।

তিনি বললেন: যখন দুই খতনাকৃত অঙ্গ একত্রিত হয়, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়।

১৭৭ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: তিনটি বিষয় যা একজন পুরুষের ওপর ওয়াজিব হয়, যার মধ্যে দুটির ক্ষেত্রে...