(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: -)
مختصر الفتاوى المصرية - ط الفقي   (بدر الدين البعلي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: مختصر الفتاوى المصرية لابن تيمية

المؤلف: بدر الدين أبو عبد الله، محمد بن علي الحنبلي البعلي (ت 777 هـ)

أشرف على تصحيحه: عبد المجيد سليم [ت 1374 هـ] مفتي الديار المصرية ورئيس لجنة الفتوى بالأزهر

شارك في تحقيقه وقام على طباعته: محمد حامد الفقي [ت 1378 هـ] بمطبعته السنة المحمدية (وصَوّرتْها دار الكتب العلمية وغيرها)

عدد الصفحات: 651

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 جُمادَى الأولى 1433

মুখতাসার আল-ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যাহ - আল-ফিকি সংস্করণ   (বদর উদ্দিন আল-বালি)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


গ্রন্থ: ইবনে তাইমিয়ার মুখতাসার আল-ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যাহ

লেখক: বদর উদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ، মুহাম্মদ বিন আলী আল-হাম্বলি আল-বালি (মৃত্যু ৭৭৭ হিজরি)

সম্পাদনা তত্ত্বাবধান: আব্দুল মাজিদ সালিম [মৃত্যু ১৩৭৪ হিজরি] মিসরের মুফতি এবং আল-আযহারের ফাতাওয়া কমিটির প্রধান

তাহকীকে অংশগ্রহণ ও মুদ্রণ সম্পন্নকারী: মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি [মৃত্যু ১৩৭৮ হিজরি] তাঁর সুন্নাহ মুহাম্মাদিয়াহ ছাপাখানায় (পরবর্তীতে দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ ও অন্যান্যরা এর ফটো কপি প্রকাশ করেছে)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ জুমাদিউল উলা ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر وَلَا تعسر يَا كريم

الْحَمد لله مبدع الْعَالمين وناصر الْحق الْمُبين إِلَى يَوْم الدّين وَصلى الله عَلَيْهِ وَسلم مُحَمَّد خَاتم النَّبِيين وعَلى آله أَجْمَعِينَ

وَبعد فَإِن الْعلم أفضل مَا صرفت إِلَيْهِ الهمة وأجمعت عَلَيْهِ عُلَمَاء الْأمة وَقد استخرت الله تَعَالَى فِي اخْتِصَار شَيْء من الدُّرَر المضية من فتاوي شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية مِمَّا أَكْثَره فقه السَّائِل وَمَا عسر علمه على الْأَوَائِل

 

‌‌بَاب النِّيَّة

مَحل النِّيَّة الْقلب بانفاق الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَغَيرهم إِلَّا بعض الْمُتَأَخِّرين أوجب التَّلَفُّظ بهَا وَهُوَ مَسْبُوق بِالْإِجْمَاع وَلَكِن تنازعوا هَل يسْتَحبّ التَّلَفُّظ بهَا مَعَ انفاقهم على أَنه لَا يشرع الْجَهْر بهَا وَلَا تكرارها

فاستحب التَّلَفُّظ بهَا طَائِفَة من أَصْحَاب أبي حنيفَة وَالشَّافِعِيّ وَأحمد وَلم يستحبه آخَرُونَ وَغَيرهمَا وَهَذَا أقوى فَإِن ذَلِك بِدعَة لم يَفْعَلهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا أحد من الصَّحَابَة

وَأما مُقَارنَة النِّيَّة للتكبير فَفِيهَا قَولَانِ مشهوران

أَحدهمَا لَا يجب كَمَا هُوَ مَذْهَب أَحْمد وَغَيره

وَالثَّانِي يجب كَمَا هُوَ مَذْهَب الشَّافِعِي وَغَيره

والمقارنة الْمَشْرُوطَة قد تفسر بِوُقُوع التَّكْبِير عقيب النِّيَّة وَهَذَا مُمكن لَا صعوبة فِيهِ بل عَامَّة النَّاس هَكَذَا يصلونَ بل هَذَا أَمر ضَرُورِيّ وَلَو كلفوا تَركه لعجزوا عَنهُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে প্রতিপালক! সহজ করুন এবং কঠিন করবেন না, হে মহীয়ান।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের স্রষ্টা এবং বিচার দিবস পর্যন্ত সুস্পষ্ট সত্যের সাহায্যকারী। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর।

অতঃপর, জ্ঞানই হলো সর্বোত্তম বিষয় যার প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিবদ্ধ করা উচিত এবং যার ওপর উম্মতের ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ফাতাওয়া থেকে সংকলিত ‘আদ-দুরারুল মুদিয়্যাহ’ এর কিছু অংশ সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি, যার অধিকাংশ বিষয়ই হলো প্রশ্নকারীর জন্য ফিকহ এবং এমন জ্ঞান যা পূর্ববর্তীদের অনেকের কাছেই কঠিন ছিল।

 

‌‌নিয়তের অধ্যায়

চার ইমাম এবং অন্যদের ঐকমত্যে নিয়তের স্থান হলো অন্তর। তবে পরবর্তীকালের কিছু আলেম নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা ওয়াজিব বলেছেন, যা পূর্ববর্তী ইজমা বা ঐকমত্যের পরিপন্থী। তবে তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব কি না? যদিও তারা এই বিষয়ে একমত যে, নিয়ত উচ্চস্বরে বলা বা বারবার বলা শরিয়তসম্মত নয়।

আবু হানিফা, শাফেয়ি এবং আহমাদ এর অনুসারী একদল আলেম নিয়ত মুখে উচ্চারণ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। অন্যদিকে অপর একদল আলেম তা মুস্তাহাব মনে করেননি, আর এই মতটিই অধিক শক্তিশালী। কেননা এটি একটি বিদআত, যা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সাহাবীগণের কেউ করেননি।

আর তাকবীরের সাথে নিয়তকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ অভিমত রয়েছে।

প্রথমটি হলো, এটি ওয়াজিব নয়, যেমনটি ইমাম আহমাদ ও অন্যদের মাজহাব।

দ্বিতীয়টি হলো, এটি ওয়াজিব, যেমনটি ইমাম শাফেয়ি ও অন্যদের মাজহাব।

যে সম্পৃক্ততা শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে, তা এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, নিয়ত করার পরপরই তাকবীর প্রদান করা। এটি সম্ভব এবং এতে কোনো কাঠিন্য নেই। বরং সাধারণ মানুষ এভাবেই সালাত আদায় করে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি অনিবার্য বিষয়, মানুষকে যদি এটি বর্জন করতে বাধ্য করা হতো, তবে তারা তা করতে অক্ষম হতো।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১০)
وَقد تفسر بانبساط أَجزَاء النِّيَّة على أَجزَاء التَّكْبِير بِحَيْثُ يكون أَولهَا مَعَ أَوله وَآخِرهَا مَعَ آخِره وَهَذَا لَا يَصح لِأَنَّهُ يَقْتَضِي عزوب النِّيَّة فِي أول الصَّلَاة وخلو أَولهَا عَن النِّيَّة الْوَاجِبَة

وَقد تفسر بِحُضُور جَمِيع النِّيَّة مَعَ جَمِيع أَجزَاء التَّكْبِير وَهَذَا قد نوزع فِي إِمْكَانه فَمنهمْ من قَالَ إِنَّه غير مُمكن وَلَا مَقْدُور للبشر فضلا عَن وُجُوبه وَلَو قيل بإمكانه فَهُوَ متعسر جدا فَيسْقط بالحرج

وَمِمَّا يبطل هَذَا وَالَّذِي قبله أَن المكبر يَنْبَغِي لَهُ أَن يتدبر التَّكْبِير ويتصوره فَيكون قلبه مَشْغُولًا بِمَعْنى التَّكْبِير لَا يشْغلهُ بِغَيْر ذَلِك من استحضار الْمَنوِي وَلِأَنَّهَا من الشُّرُوط والشروط تتقدم الْعِبَادَة وَيسْتَمر حكمهَا إِلَى آخرهَا كالطهارة وَغَيرهَا وَالله أعلم

والجهر بهَا وتكريرها منهى عَنهُ وفاعله مسيء وَإِن اعتقده دينا فقد خرج عَن إِجْمَاع الْمُسلمين يعرف ذَلِك فَإِن أصر قتل وَيجب تَعْرِيفه ذَلِك

وَلَو قَالَ كل يعْمل فِي دينه مَا يَشْتَهِي فَهِيَ كلمة عَظِيمَة يجب أَن يُسْتَتَاب مِنْهَا أَيْضا

فَإِن أصر على الْجَهْر بِالنِّيَّةِ عزّر وَإِن عزل عَن الْإِمَامَة إِذا لم ينْتَه كَانَ لعزله وَجه فقد عزل النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِمَامًا لأجل بزاقه فِي الْقبْلَة رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

فَإِن الإِمَام عَلَيْهِ أَن يُصَلِّي كَمَا كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَيْسَ لَهُ أَن يقْتَصر على مَا يقْتَصر عَلَيْهِ الْمُنْفَرد بل ينْهَى عَن التَّطْوِيل وَالتَّقْصِير فَكيف إِذا صر على مَا ينْهَى عَنهُ الإِمَام وَالْمَأْمُوم وَالْمُنْفَرد
কখনও কখনও একে তকবীরের অংশসমূহের ওপর নিয়তের অংশসমূহের সম্প্রসারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যাতে করে নিয়তের শুরু তকবীরের শুরুর সাথে এবং এর শেষ তকবীরের শেষের সাথে হয়। কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ এতে নামাযের শুরুতে নিয়ত অনুপস্থিত থাকা এবং এর প্রারম্ভিক অংশটি ওয়াজিব নিয়ত থেকে শূন্য থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

আবার কখনও একে তকবীরের সমস্ত অংশের সাথে সম্পূর্ণ নিয়তের উপস্থিত থাকা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এর সম্ভব হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি অসম্ভব এবং মানুষের সাধ্যাতীত, ওয়াজিব হওয়া তো দূরের কথা। আর যদি একে সম্ভব বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবে এটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ফলে কঠিন হওয়ার কারণে তা রহিত হয়ে যায়।

এটি এবং এর পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাটিকে যা বাতিল করে দেয় তা হলো, তকবীর প্রদানকারীর উচিত তকবীর নিয়ে চিন্তা করা এবং তার মর্ম উপলব্ধি করা, ফলে তার অন্তর তকবীরের অর্থের মধ্যে নিমগ্ন থাকবে; নিয়তকৃত বিষয়কে উপস্থিত করার মতো অন্য কোনো কাজে সে নিজেকে ব্যস্ত করবে না। তা ছাড়া, এটি একটি শর্ত, আর শর্ত ইবাদতের আগে সম্পন্ন হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর হুকুম বহাল থাকে, যেমন পবিত্রতা ও অন্যান্য বিষয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

নিয়ত উচ্চস্বরে বলা এবং তা বারবার উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ এবং এর সম্পাদনকারী পাপাচারী। যদি সে একে দ্বীনের অংশ বলে বিশ্বাস করে, তবে সে মুসলিমদের ইজমা বা সর্বসম্মত মত থেকে বিচ্যুত হলো। তাকে বিষয়টি জানানো হবে; এরপরও যদি সে একগুঁয়েমি করে তবে তাকে হত্যা করা হবে এবং তাকে এ বিষয়ে অবগত করা ওয়াজিব।

আর যদি সে বলে যে, "প্রত্যেকেই তার ধর্মে যা খুশি তাই করবে", তবে এটি একটি ভয়াবহ কথা যা থেকেও তাওবা করা ওয়াজিব।

সুতরাং সে যদি উচ্চস্বরে নিয়ত করার ওপর অটল থাকে, তবে তাকে শাস্তি (তাযীর) প্রদান করা হবে। আর যদি সে বিরত না হয় এবং তাকে ইমামতি থেকে বরখাস্ত করা হয়, তবে তাকে বরখাস্ত করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকে থুতু ফেলার কারণে একজন ইমামকে বরখাস্ত করেছিলেন; যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

কেননা ইমামের ওপর আবশ্যিক হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নামায পড়তেন সেভাবে নামায পড়া; একাকী নামায আদায়কারী যা সংক্ষেপ করতে পারে, তার জন্য তা করার সুযোগ নেই। বরং তাকে দীর্ঘ করা এবং সংক্ষেপ করা—উভয়টি থেকেই নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং সে যখন এমন বিষয়ের ওপর অটল থাকে যা ইমাম, মুক্তাদী এবং একাকী নামায আদায়কারী সকলের জন্যই নিষিদ্ধ, তখন তা কেমন হবে?
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌فصل

نِيَّة الْمُؤمن خير من عمله هَذَا قَالَه غير وَاحِد بَعضهم يرفعهُ وَبَيَانه من وُجُوه

أَحدهَا أَن النِّيَّة الْمُجَرَّدَة عَن الْعَمَل يُثَاب عَلَيْهَا وَالْعَمَل بِلَا نِيَّة لَا يُثَاب عَلَيْهِ

الثَّانِي أَن من رأى الْخَيْر وَعمل مقدوره مِنْهُ وَعجز عَن إكماله كَانَ لَهُ أجر عَامله لقَوْله عليه الصلاة والسلام إِن بِالْمَدِينَةِ رجَالًا مَا سِرْتُمْ مسيرًا وَلَا قطعْتُمْ وَاديا إِلَّا كَانُوا مَعكُمْ

الثَّالِث أَن الْقلب ملك الْبدن والأعضاء جُنُوده فَإِذا طَالب الْملك طالبت جُنُوده وَإِذا خبت خبثت وَالنِّيَّة عمل الْملك

الرَّابِع أَن تَوْبَة الْعَاجِز عَن الْمعْصِيَة تصح عِنْد أهل السّنة كتوبة الْمَجْبُوب من الزِّنَا وكتوبة الْأَخْرَس عَن الْقَذْف وأصل التَّوْبَة عزم الْقلب

الْخَامِس أَن النِّيَّة لَا يدخلهَا فَسَاد فَإِن أَصْلهَا حب الله وَرَسُوله وَإِرَادَة وَجه الله وَهَذَا بِنَفسِهِ مَحْبُوب لله وَرَسُوله مرضى لله وَرَسُوله والأعمال الظَّاهِرِيَّة يدخلهَا آفَات كَثِيرَة وَلِهَذَا كَانَت أَعمال الْقُلُوب الْمُجَرَّدَة أفضل من أَعمال الْبدن الْمُجَرَّدَة كَمَا قيل قُوَّة الْمُؤمن فِي قلبه وَضَعفه فِي جِسْمه وَالْمُنَافِق عَكسه وَالله أعلم
পরিচ্ছেদ

মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম; এ কথা একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, কেউ কেউ একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর ব্যাখ্যা কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:

প্রথমত: আমলহীন শুধু নিয়তের ওপর সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু নিয়ত ছাড়া আমলের ওপর সওয়াব পাওয়া যায় না।

দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি কল্যাণের সংকল্প করে এবং তার সাধ্যানুযায়ী আমল করে কিন্তু তা পূর্ণ করতে অক্ষম হয়, সে আমলকারীর সমান সওয়াব পাবে। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "মদিনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা যখনই কোনো পথ চলেছ বা কোনো উপত্যকা অতিক্রম করেছ, তারা তোমাদের সাথেই ছিল।"

তৃতীয়ত: অন্তর হলো দেহের রাজা আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হলো তার সেনাবাহিনী। যখন রাজা কোনো কিছু তলব করে, তার সৈন্যরাও তা তলব করে। আর রাজা যখন অপবিত্র হয়, তারাও অপবিত্র হয়। আর নিয়ত হলো রাজারই কাজ।

চতুর্থত: পাপে অক্ষম ব্যক্তির তওবা আহলুস সুন্নাহর নিকট বিশুদ্ধ; যেমন লিঙ্গছেদিত ব্যক্তির জেনা থেকে তওবা এবং বোবা ব্যক্তির অপবাদ দেওয়া থেকে তওবা। কেননা তওবার মূল ভিত্তি হলো অন্তরের দৃঢ় সংকল্প।

পঞ্চমত: নিয়তের মধ্যে কোনো কলুষতা প্রবেশ করে না, কারণ এর মূল হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা। এটি স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিকট প্রিয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির কারণ। পক্ষান্তরে বাহ্যিক আমলসমূহে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রবেশ করতে পারে। এই কারণেই কেবল অন্তরের আমলসমূহ কেবল দৈহিক আমলের চেয়ে উত্তম। যেমন বলা হয়েছে: মুমিনের শক্তি তার অন্তরে আর দুর্বলতা তার দেহে, কিন্তু মুনাফিকের ক্ষেত্রে এর উল্টো। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌كتاب الطَّهَارَة

قد صَحَّ عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه لما سُئِلَ عَن بِئْر بضَاعَة قَالَ المَاء طهُور لَا ينسجه شَيْء

وبئر بضَاعَة لَيست جرية جَارِيَة بالِاتِّفَاقِ وَمَا يذكر عَن الْوَاقِدِيّ أَنَّهَا جَارِيَة أمرباطل والواقدي لَا يحْتَج بِهِ وَلم يكن بِالْمَدِينَةِ عين جَارِيَة وَعين الزَّرْقَاء وعيون حَمْزَة محدثة بعد النبيي صلى الله عليه وسلم وبئر بَاقِيَة شَرْقي الْمَدِينَة مَعْرُوفَة إِلَى الْآن

وَأما حَدِيث الْقلَّتَيْنِ فالأكثر على أَنه حسن يحْتَج بِهِ

وَقد أُجِيب عَن كَلَام من طعن فِيهِ وصنف أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد الْمَقْدِسِي جَزَاء در فِيهِ على ابْن عبد الْبر وَغَيره وَلَفظ الْقلَّة مَعْرُوفَة عِنْدهم أَنَّهَا الجرة الْكَبِيرَة كألحب وَكَانَ يمثل بهَا كَمَا جَاءَ فِي سِدْرَة الْمُنْتَهى وَإِذا وَرقهَا مثل آذان الفيلة وَإِذا نبقها مثل قلال هجر وَهِي قلال مَعْرُوفَة الصَّنْعَة والمقدار فَإِن التَّمْثِيل لَا يكون بمختلف وَهَذَا يبطل كَون الْقلَّة قلَّة الْجَبَل فَإِنَّهَا مُخْتَلفَة فِيهَا الْمُرْتَفع كثيرا وَمَا هُوَ دونه وَلَيْسَ فِي الْوُجُود مَاء يصل إِلَى قلل الْجبَال الا مَاء الطوفان فَحمل كَلَامه صلى الله عليه وسلم على مثل ذَلِك يشبه الِاسْتِهْزَاء بِكَلَامِهِ

وَمن عَادَته صلى الله عليه وسلم أَن يقدر المقدرات بأوعيتها كَقَوْلِه لَيْسَ فِيمَا دون خَمْسَة أَو سُقْ صَدَقَة والوسق حمل الْجمل وَكَانَ يتَوَضَّأ بِالْمدِّ ويغتسل بالصاع وَذَلِكَ من أوعية المَاء فَكَذَا تَقْدِير المَاء بالقلال مُنَاسِب لِأَنَّهَا وعَاء المَاء
পবিত্রতা অধ্যায়

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত যে, যখন তাঁকে বুদাআহ কূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।"

সর্বসম্মত মতে বুদাআহ কূপটি কোনো প্রবহমান ঝর্ণা ছিল না। আল-ওয়াকিদী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে এটি প্রবহমান ছিল, তা একটি ভিত্তিহীন কথা; আর আল-ওয়াকিদীর বর্ণনা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। মদিনায় তখন কোনো প্রবহমান ঝর্ণা ছিল না। আইনুয যারকা এবং হামযাহর ঝর্ণাসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের পরে তৈরি করা হয়েছে। আর এই কূপটি মদিনার পূর্ব দিকে অবস্থিত, যা এখনো সুপরিচিত।

আর দুই মটকা (কুল্লাতাইন) সংক্রান্ত হাদীসটি অধিকাংশের মতে হাসান এবং এটি দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

যারা এই হাদীসের সমালোচনা করেছেন, তাদের বক্তব্যের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যদের প্রতিবাদে এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন। তাঁদের নিকট 'কুল্লা' শব্দটি একটি বড় কলস বা মটকার মতো পাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সিদরাতুল মুনতাহা সম্পর্কে বর্ণনায় যেমন এর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যে, "তার পাতাগুলো ছিল হাতির কানের মতো এবং তার ফলগুলো ছিল হাজার অঞ্চলের মটকার (কুল্লা) মতো।" এই মটকাগুলোর গঠন এবং পরিমাণ সুপরিচিত ছিল; কারণ কোনো কিছুর উদাহরণ এমন জিনিস দিয়ে দেওয়া হয় না যা পরিমাণে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এটি এই মতকে বাতিল করে দেয় যে 'কুল্লা' অর্থ পাহাড়ের চূড়া; কারণ পাহাড়ের চূড়াগুলো বিভিন্ন উচ্চতার হয়ে থাকে—কোনোটি অনেক উঁচু আবার কোনোটি তার চেয়ে কম। আর পৃথিবীতে নূহের মহাপ্লাবনের পানি ব্যতীত এমন কোনো পানি নেই যা পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত পৌঁছায়। অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে এমন পাহাড়ের চূড়ার অর্থে গ্রহণ করা তাঁর বাণীর সাথে উপহাস করার শামিল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল যে, তিনি পরিমাপযোগ্য বস্তুগুলোকে সেগুলোর পাত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করতেন। যেমন তাঁর বাণী: "পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণে যাকাত নেই।" আর এক ওয়াসাক হলো একটি উটের বোঝার সমপরিমাণ। তিনি এক মুদ্দ পানি দিয়ে ওযু করতেন এবং এক সা‘ পানি দিয়ে গোসল করতেন, আর এগুলো হলো পানির পাত্র। একইভাবে পানির পরিমাণকে মটকা (কুল্লা) দ্বারা নির্ধারণ করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি পানিরই একটি পাত্র।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌فصل

المَاء الْمُتَغَيّر بالطاهر الَّذِي يُمكن صونه عَنهُ فِيهِ قَولَانِ لِأَحْمَد وَغَيره

قَالَ شيخ الْإِسْلَام وَالصَّحِيح عِنْدِي نُصُوص أَحْمد أَنه لَا يسلبه الطّهُورِيَّة لِأَن الْمُتَغَيّر بالطاهرات إِمَّا أَن يتَنَاوَلهُ اسْم المَاء عِنْد الْإِطْلَاق أَولا فَإِن تنَاوله فَلَا فرق بَين مَا يُمكن صونه ومالا يُمكن صونه وَبَين مَا تغير بِأَصْل الْخلقَة وَغَيره وَإِذا تنَاوله فَلَا فرق بَين هذَيْن النَّوْعَيْنِ وَبَين غَيرهمَا إِذْ الْفرق بَين مَا كَانَ دَائِما وحادثا وَمَا كَانَ يُمكن الِاحْتِرَاز عَنهُ ومالا يُمكن إِنَّمَا هِيَ فروق فقهية أما كَونهَا فروقا من جِهَة اللُّغَة وَتَنَاول اللَّفْظ لَهَا فَلَا

وَبِهَذَا يظْهر الْجَواب عَن جَمِيع شَوَاهِد أدلتهم مثل اشْتِرَاء المَاء فِي بَاب الْوكَالَة وَالنّذر وَالْوَقْف أَو الْيَمين أَو غير ذَلِك فَإِن خطاب النَّاس فِي هَذِه الْأَحْكَام لَا فرق فِيهِ بَين مقبل وحادث فحقيقة قَوْله تَعَالَى {فَلم تَجدوا مَاء} إِن كَانَ شَامِلًا للمتغير بِأَصْل الْخلقَة أَو لما تغير بِمَا يشق الِاحْتِرَاز عَنهُ فَهُوَ شَامِل لما تغير بِمَا لَا يشق صونه عَنهُ وَإِذا كَانَت دلَالَة الْقُرْآن عَليّ الْكل سَوَاء كَانَ التَّمَسُّك بِدلَالَة الْقُرْآن حجَّة لمن جعله طهُورا لَا عَلَيْهِ

وَلَيْسَ فِي المسئلة دَلِيل من السّنة وَلَا من الْإِجْمَاع وَلَا من الْقيَاس بل الْأَحَادِيث كَمَا فِي الْمحرم الَّذِي وقصته نَاقَته اغسلوه بِمَاء وَسدر وَفِي غسل ابْنَته قَالَ اغسلها بِمَاء سدر

وتوضؤ أم سَلمَة من قَصْعَة فِيهَا أثر الْعَجِين وَقَوله {تَمْرَة طيبَة وَمَاء طهُور} كل ذَلِك وَنَحْوه نَص دَال على جَوَاز اسْتِعْمَال المَاء الْمُتَغَيّر بالطاهرات أدل مِنْهَا على نقيض ذَلِك

وَأَيْضًا الأَصْل بَقَاء مَا كَانَ وَلَيْسَ هَذَا استصحابا للاجماع فِي مورد النزاع حَتَّى يُقَال فِيهِ خلاف فَإِن ذَلِك هُوَ دَعْوَى بَقَاء الْإِجْمَاع بل
পরিচ্ছেদ

পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি, যা থেকে পানিকে রক্ষা করা সম্ভব ছিল, সে বিষয়ে ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যদের থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

শাইখুল ইসলাম বলেন, আমার নিকট ইমাম আহমাদের বর্ণনাগুলোর মধ্যে সঠিক হলো যে, এটি পানির পবিত্রতা বা বিশুদ্ধতা হরণ করে না। কারণ পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানির ক্ষেত্রে প্রথমত দেখা হবে যে, সাধারণভাবে একে ‘পানি’ বলা যায় কি না। যদি একে ‘পানি’ বলা যায়, তবে যা থেকে রক্ষা করা সম্ভব এবং যা থেকে সম্ভব নয়—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। তেমনিভাবে যা প্রাকৃতিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং যা অন্য কিছুর মাধ্যমে হয়েছে—তার মধ্যেও কোনো ব্যবধান থাকবে না। আর যখন একে ‘পানি’ বলা যাচ্ছে, তখন এই দুই প্রকার এবং অন্য প্রকারগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা কোনো পরিবর্তন স্থায়ী হওয়া বা আকস্মিক হওয়া এবং যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হওয়া বা অসম্ভব হওয়া—এগুলো কেবল ফিকহী সূক্ষ্ম পার্থক্য মাত্র। তবে ভাষাগত দিক থেকে এবং শব্দের প্রয়োগগত দিক থেকে এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

এর মাধ্যমেই তাদের উপস্থাপিত সকল দলীলের উত্তর স্পষ্ট হয়ে যায়, যেমন ওকালাহ (প্রতিনিধিত্ব), মানত, ওয়াকফ, কসম বা অন্যান্য ক্ষেত্রে পানি ক্রয় করার মাসআলা। কারণ এসব বিধানের ক্ষেত্রে মানুষের প্রচলিত সম্বোধনে প্রাকৃতিকভাবে পরিবর্তিত পানি এবং পরবর্তীতে পরিবর্তিত পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী—"অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও"—এর প্রকৃত অর্থ যদি প্রাকৃতিক কারণে পরিবর্তিত পানি কিংবা যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন এমন কিছু দ্বারা পরিবর্তিত পানিকে শামিল করে, তবে তা অবশ্যই এমন পানিকেও শামিল করবে যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন নয়। আর যদি সকল পানির ক্ষেত্রেই কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি সমান হয়, তবে কুরআনের দলীল গ্রহণ করা তাদের পক্ষেই প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে যারা একে পবিত্রকারী পানি বলেন, তাদের বিপক্ষে নয়।

এই মাসআলায় সুন্নাহ, ইজমা কিংবা কিয়াস থেকে কোনো দলীল নেই। বরং হাদীসগুলোতে যেমনটি সেই মুহরিম ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসেছে যাকে তার উট পিষ্ট করেছিল, সেখানে বলা হয়েছে— "তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধৌত করো।" আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কন্যার গোসলের ক্ষেত্রে বলেছিলেন— "তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও।"

তদ্রূপ উম্মে সালামা (রা.)-এর আটার চিহ্ন লেগে থাকা পাত্র থেকে উযু করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী— "উত্তম খেজুর এবং পবিত্র পানি"—এসবই এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি ব্যবহারের বৈধতার ওপর এমন অকাট্য প্রমাণ, যা এর বিপরীত মতের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী।

তাছাড়া, মূল বিধান হলো কোনো বস্তু যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় বহাল থাকা। আর এটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ইজমার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা নয় যে বলা হবে এতে মতভেদ রয়েছে, কারণ সেটি হলো ইজমা অবশিষ্ট থাকার দাবি করা; বরং এটি হলো...
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
يُقَال هُوَ قبل التَّغْيِير طَاهِر بِالنَّصِّ وَالْإِجْمَاع وَالْأَصْل بَقَاء الحكم على مَا كَانَ وَإِن لم يكن الدَّلِيل شَامِلًا لَهُ إِذا مَعَ شُمُول الدَّلِيل إِنَّمَا يكون اسْتِدْلَالا بِنَصّ أوإجماع لَا بالاستصحاب وَهَذَا الِاسْتِدْلَال إِنَّمَا هُوَ بالاستصحاب

وَقَول بعض الحنيفة إِن المَاء لَا ينسقم رلا إِلَى طَاهِر ونجس فَلَيْسَ بشئ لِأَنَّهُ إِن أَرَادَ كل مَا يُسمى مَاء مُطلقًا ومقيدا فَهُوَ خطأ لِأَن الْمِيَاه المعتصرة طَاهِرَة وَلَا يجوز بهَا رفع الْحَدث

وَإِن أَرَادَ المَاء الْمُطلق لم يَصح فَإِن النَّجس لَا يدْخل فِي الْمُطلق

وَقَوْلهمْ طهُور المَاء الْمُطلق يمعنى طَاهِر غلط لِأَن الطّهُور اسْم لما يتَطَهَّر بِهِ كالفطور والسحور والوجود لما يفْطر عَلَيْهِ ويتسحر بِهِ ويوجر بِهِ وَلِهَذَا قَالَ تَعَالَى {وَينزل عَلَيْكُم من السَّمَاء مَاء ليطهركم بِهِ} والطاهر لَا يدل على مَا يتَطَهَّر بِهِ من ظن أَن الطّهُور معدول عَن طَاهِر فَيكون يمنزلته فِي التَّعْدِيَة واللزوم عِنْد النَّحْوِيين فَهُوَ قَول من لم يحكم قَوْله من جِهَة الْعَرَبيَّة

وَبِهَذَا تظهر دلَالَة النُّصُوص على مَا قُلْنَا لقَوْله عليه الصلاة والسلام فِي الْبَحْر هُوَ لاطهور مَاؤُهُ وَقَوله {جعلت لي الأَرْض مَسْجِدا وتربتها طهُورا} مِمَّا يبين أَن المُرَاد مَا يتَطَهَّر بِهِ وَلَا يجوز أَن يُرَاد طَاهِر لفساد الْمَعْنى وَلَا يجوز أَن يُرَاد طهُور تَعديَة طَاهِر لفساد الِاسْتِعْمَال

 

‌‌فصل

ويعفى عَن يسير بعر الفأر فِي أظهر الْقَوْلَيْنِ

وهما رِوَايَتَانِ عَن أَحْمد وَأبي حنيفَة وَغَيرهمَا

وَالِاحْتِيَاط بِمُجَرَّد الشَّك فِي أُمُور الْمِيَاه لَيْسَ مُسْتَحبا وَلَا مَشْرُوعا بل الْمُسْتَحبّ بِنَاء الْأَمر على الستصحاب

وَأما الْحمام إِذا كَانَ الْحَوْض فاءضا فَإِنَّهُ جَار فِي أصح قولي الْعلمَاء نَص
এটি বলা হয় যে, পরিবর্তনের পূর্বে এটি নাস (সুস্পষ্ট পাঠ) ও ইজমা (ঐক্যমত্য) অনুযায়ী পবিত্র। আর মূলনীতি হলো বিধানটি যেভাবে ছিল সেভাবেই বহাল থাকা, যদিও দলিলটি একে পূর্ণভাবে শামিল না করে। কারণ দলিল শামিল থাকলে সেটা নাস বা ইজমা দ্বারা দলিল পেশ করা হতো, ইস্তিসহাব (পূর্বাবস্থা বহাল রাখা) দ্বারা নয়। আর এই দলিল পেশ করা হচ্ছে ইস্তিসহাবের মাধ্যমে।

কিছু হানাফী আলিমের এই বক্তব্য যে, পানি কেবল পবিত্র ও অপবিত্র—এই দুই ভাগে বিভক্ত, তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তিনি যদি এমন সব কিছু বুঝাতে চান যা সাধারণভাবে ‘পানি’ হিসেবে নামকৃত, হোক তা নিঃশর্ত (মুতলাক) বা শর্তযুক্ত (মুকায়্যাদ), তবে তা ভুল। কারণ নিংড়ানো পানি পবিত্র হলেও তা দ্বারা হাদাস দূর করা (পবিত্রতা অর্জন) বৈধ নয়।

আর যদি তিনি কেবল ‘মুতলাক পানি’ বুঝিয়ে থাকেন, তবে তাও সঠিক নয়; কারণ অপবিত্র পানি মুতলাক পানির অন্তর্ভুক্ত হয় না।

আর তাঁদের এই কথা যে, মুতলাক পানির ক্ষেত্রে ‘তাহুর’ অর্থ হলো ‘পবিত্র’ (তাহির), তা ভুল। কারণ ‘তাহুর’ হলো সেই বস্তুর নাম যা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয়, যেমন—‘ফুতুর’, ‘সাহুর’ এবং ‘ওয়াজুর’ সেই বস্তুকে বলা হয় যা দিয়ে ইফতার করা হয়, সাহরি খাওয়া হয় বা ঔষধ সেবন করা হয়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে তা দিয়ে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন।” আর ‘তাহির’ (পবিত্র) শব্দটি এমন কিছু নির্দেশ করে না যা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। যারা মনে করেন যে ‘তাহুর’ শব্দটি ‘তাহির’ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং ব্যাকরণবিদদের মতে সকর্মকতা ও অকর্মকতার ক্ষেত্রে এটি একই পর্যায়ের, তবে তা এমন ব্যক্তির কথা যার কথা আরবি ভাষার দিক থেকে সুদৃঢ় নয়।

এর মাধ্যমেই আমরা যা বলেছি তার সপক্ষে দলিলের নির্দেশনা স্পষ্ট হয়। যেমন সমুদ্র সম্পর্কে তাঁর (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: “এর পানি পবিত্র (তাহুর)।” এবং তাঁর বাণী: “আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান এবং এর মাটিকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (তাহুর) করা হয়েছে।” যা স্পষ্ট করে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। অর্থের অসারতার কারণে এখানে কেবল ‘পবিত্র (তাহির)’ অর্থ নেওয়া বৈধ নয়, আবার ব্যবহারের অসারতার কারণে ‘তাহির’-এর সকর্মক রূপ হিসেবে ‘তাহুর’ গ্রহণ করাও বৈধ নয়।

 

পরিচ্ছেদ

অধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে ইঁদুরের সামান্য বিষ্ঠা ক্ষমাযোগ্য।

এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ ও ইমাম আবু হানিফা এবং অন্যদের থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

পানির বিষয়ে নিছক সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা মুস্তাহাব বা শরয়িভাবে নির্দেশিত নয়; বরং মুস্তাহাব হলো বিষয়টিকে ইস্তিসহাবের (পূর্বাবস্থা বহাল রাখা) ওপর ভিত্তি করা।

আর গোসলখানার কথা যদি বলা হয়, যখন হাউজটি উপচে পড়া অবস্থায় থাকে, তবে আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক মতানুসারে সেটি প্রবহমান পানির হুকুমে পড়বে।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
عَلَيْهِ أَحْمد وَهُوَ يمنزلة الحفيرة تكون فِي النَّهر فَإِنَّهُ جَار وَإِن كَانَ الجريان على وجهة فرنه يستخلفه شَيْئا فَشَيْئًا وَيذْهب وَيَأْتِي مَا بعده لَكِن يبطئ ذَهَابه بِخِلَاف الَّذِي يجرى جمعية

وَإِذا شكّ فِي روية هَل هِيَ نَجِسَة أم طَاهِرَة فَفِيهَا قَولَانِ

هما وَجْهَان فِي مَذْهَب أَحْمد يناء على أَن الأَصْل فِي الروث النَّجَاسَة أم الأَصْل فِي الْأَعْيَان ااطهارة وَهَذَا الْأَخير أصح

فصل

مَذْهَب الزُّهْرِيّ وَالْبُخَارِيّ أَن حكم الْمَائِع حكم الماد وروى عَن مَالك وَهُوَ مَذْهَب أبي حنيفَة وَإِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَن أَحْمد وَهُوَ قَول طاذفة من السّلف وَالْخلف كَابْن مَسْعُود وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهم وَأبي ثَوْر وَغَيرهم وَلَا دَلِيل على نَجَاسَته من كتاب وَلَا سنة

وَمَا رَوَاهُ زبو دَاوُد عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه سذل عَن فَأْرَة وَقعت فِي سمن فَقَالَ إِن كَانَ جَامِدا فألقوها وَمَا حولهَا وكلوه وَإِن كَانَ مَائِعا فَلَا تقربوه فَهُوَ حَدِيث ضَعِيف غلط فِيهِ عمر عَن الزُّهْرِيّ كَمَا ذكره الثِّقَات كالبخاري وَغَيره مثل التِّرْمِذِيّ وزبي حَاتِم وَالدَّارَقُطْنِيّ وَإِن اعْتقد بعض الْفُقَهَاء أَنه على شَرط الصَّحِيح فلعدم علمه بعلته وَقد تبين البُخَارِيّ فِي صَحِيحه فَسَاد هَذِه الرِّوَايَة قَالَ: بَاب رذا وَقعت الْفَأْرَة فِي السّمن الجامد أَو الذائب حَدثنَا عَبْدَانِ حَدثنَا عبد الله يعْنى ابْن الْمُبَارك عَن يُونُس عَن الزُّهْرِيّ أَنه سُئِلَ عَن الدَّابَّة تَمُوت فِي السّمن وَالزَّيْت وَهُوَ جامد أَو غير جامد الْفَأْرَة وَغَيرهَا فَقَالَ بلغنَا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَمر بفأرة مَاتَت فيسمن فَأمر بِمَا قرب مِنْهَا فَطرح ثمَّ أكل
ইমাম আহমাদ এ সম্পর্কে অভিমত দিয়েছেন যে, এটি নদীর গর্তের ন্যায়, কেননা তা প্রবহমান। আর যদি প্রবাহ একমুখী হয়, তবে তা ধীরে ধীরে একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়; একটি অংশ চলে যায় এবং পরবর্তী অংশটি আসে। তবে এর চলে যাওয়ার গতি ধীর হয়, সেই প্রবাহের তুলনায় যা একত্রে প্রবাহিত হয়।

আর যখন বিষ্ঠা অপবিত্র নাকি পবিত্র তা নিয়ে সন্দেহ হয়, তখন এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

এ দুটি ইমাম আহমাদের মাযহাবের দুটি অভিমত। এর ভিত্তি হলো—বিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল কি অপবিত্রতা, নাকি বস্তুনিচয়ের ক্ষেত্রে মূল হলো পবিত্রতা? আর এই শেষোক্ত মতটিই অধিকতর সঠিক।

পরিচ্ছেদ

ইমাম যুহরী ও ইমাম বুখারীর মাযহাব হলো—তরল পদার্থের বিধান কঠিন পদার্থের বিধানের মতোই। এটি ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। এটি ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন), আবু সাওর এবং অন্যান্য সালাফ ও খালাফদের একটি দলেরও অভিমত। আর কিতাব বা সুন্নাহ থেকে এর অপবিত্রতার পক্ষে কোনো দলিল নেই।

আর আবু দাউদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে ঘিয়ে পড়া ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "যদি ঘি জমে থাকে, তবে ইঁদুরটি ও তার চারপাশের অংশ ফেলে দাও এবং বাকিটা খাও। আর যদি তা তরল হয়, তবে তার কাছে যেও না"—এই হাদিসটি দুর্বল। উমর নামক রাবী এটি যুহরী থেকে বর্ণনায় ভুল করেছেন, যেমনটি বুখারী এবং তিরমিযী, আবু হাতেম ও দারা কুতনী সহ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ইমামগণ উল্লেখ করেছেন। যদিও কিছু ফকিহ মনে করেন যে এটি সহিহ হাদিসের শর্ত পূরণ করে, তবে তা মূলত এর ভেতরের ত্রুটি সম্পর্কে তাঁদের অজ্ঞতার কারণে। ইমাম বুখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই বর্ণনার অসারতা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন: পরিচ্ছেদ—যখন জমে যাওয়া বা গলে যাওয়া ঘিয়ে ইঁদুর পড়ে। আবদান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল মুবারক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস থেকে, তিনি যুহরী থেকে; যুহরীকে ঘি বা তেলের মধ্যে মারা যাওয়া প্রাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—চাই তা জমাট বাঁধা হোক বা না হোক, ইঁদুর হোক বা অন্য কিছু। তখন তিনি বললেন: আমাদের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘিয়ে মারা যাওয়া ইঁদুর সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি এর চারপাশের অংশ ফেলে দেওয়ার আদেশ দেন এবং এরপর তা খাওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَفِي حَدِيث عبيد الله بن عبد الله بن عتبَة عَن عبد الله بن عَبَّاس عَن مَيْمُونَة رضي الله عنها قَالَت سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن فَأْرَة وَقعت فِي سمن فَقَالَ زلقوها وَمَا حولهَا وكلوه

وَذكر البُخَارِيّ عَن ابْن شهَاب الزُّهْرِيّ الَّذِي هُوَ أعلم النَّاس بِالسنةِ فِي زَمَانه أَنه أفتى فِي الزَّيْت وَالسمن الجامد وَغَيره إِذا مَاتَت فِيهِ الْفَأْرَة أَنَّهَا تطرح وَمَا قرب مِنْهَا وَاسْتدلَّ بِالْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ عَن عبيد الله بن عبد الله عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما وَذكر الحَدِيث وَلم يقل فِيهِ إِن كَانَ مَائِعا فَلَا تقربوه وَلَا ذكر الْفرق

فَذكر البُخَارِيّ ذَلِك ليبين أَن من ذكر عَن الزُّهْرِيّ التَّفْصِيل فقد غلط عَلَيْهِ لجوابه بِالْعُمُومِ مستدلا بِهَذَا الحَدِيث بِعَيْنِه إِذْ إِطْلَاق الْجَواب من النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَترك الاستفصال فِي حِكَايَة الْحَال مَعَ قيام الِاحْتِمَال ينزل منزلَة الْعُمُوم فِي الْمقَال فبذلك أجب الزُّهْرِيّ فَإِن مذْهبه فِي الماد أَنه لَا ينجس رلا بالتغير وَقد سوي البُخَارِيّ فِي أول الصَّحِيح بَين المَاء والمائع وَقد ذكرنَا أَدِلَّة هَذِه الْمَسْأَلَة مستوفاة

وَفِي تنجيس ذَلِك من فَسَاد الْأَطْعِمَة الْعَظِيمَة وَإِتْلَاف الْأَمْوَال الْعَظِيمَة مَالا تَأتي الشَّرِيعَة بِمثلِهِ وَالله تَعَالَى إِنَّمَا حرم علينا الْخَبَائِث تنزيهالنا عَن المضار وَأحل لنا الطَّيِّبَات كلهَا وَالله أعلم

وفأرة الْمسك طَاهِرَة عِنْد جَمَاهِير الْعلمَاء وَلَيْسَ ذَلِك فِيمَا يبان من الْبَهِيمَة وَهِي حَيَّة بل هُوَ بِمَنْزِلَة الْبيض وَالْولد وَاللَّبن وَالصُّوف وَالله أعلم

 

‌‌فصل

الْأَظْهر طَهَارَة النَّجَاسَة بالاستحالة وَهُوَ مَذْهَب أبي حنيفَة وَأحد الْقَوْلَيْنِ فِي مَذْهَب أَحْمد وَمَالك
উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ-এর বর্ণিত হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি মায়মুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ঘিয়ের মধ্যে পড়ে যাওয়া একটি ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "তাকে এবং তার চারপাশের অংশকে ফেলে দাও এবং তা (অবশিষ্টাংশ) খাও।"

ইমাম বুখারি ইবনে শিহাব আয-যুহরি থেকে উল্লেখ করেছেন—যিনি তাঁর সময়ে সুন্নাহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন—যে তিনি তেল, জমাটবদ্ধ ঘি এবং অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রে ফতোয়া দিয়েছেন যে, যদি তাতে ইঁদুর মারা যায় তবে তা এবং তার নিকটবর্তী অংশ ফেলে দিতে হবে। তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; কিন্তু তাতে তিনি বলেননি যে, "যদি তা তরল হয় তবে তার কাছে যেও না", আর তিনি কোনো পার্থক্যও উল্লেখ করেননি।

ইমাম বুখারি এটি উল্লেখ করেছেন এটা স্পষ্ট করার জন্য যে, যারা যুহরির পক্ষ থেকে বিস্তারিত পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন তারা ভুল করেছেন; কারণ তিনি এই নির্দিষ্ট হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে সাধারণভাবে উত্তর দিয়েছেন। যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উত্তরের ব্যাপকতা এবং অবস্থার বর্ণনায় কোনো বিশেষ ব্যাখ্যা না চাওয়া—অথচ ভিন্ন অবস্থার সম্ভাবনা বিদ্যমান ছিল—তা সাধারণ বক্তব্যের মর্যাদা রাখে। যুহরি এভাবেই উত্তর দিয়েছেন। আর তরল পদার্থের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব হলো, তা পরিবর্তন (রঙ, স্বাদ বা গন্ধ) না হওয়া পর্যন্ত নাপাক হয় না। বুখারি তাঁর সহীহ-এর শুরুতে পানি এবং অন্যান্য তরল পদার্থের মধ্যে সমতা বিধান করেছেন। আমরা এই মাসআলার দলিলসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি।

একে নাপাক সাব্যস্ত করার মধ্যে রয়েছে খাদ্যের ব্যাপক অপচয় এবং প্রচুর সম্পদের বিনাশ, শরীয়ত যার অনুরূপ কোনো বিধান নিয়ে আসে না। আল্লাহ তাআলা কেবল আমাদের ক্ষতির হাত থেকে পবিত্র রাখার জন্যই অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেছেন এবং সমস্ত পবিত্র বস্তুকে আমাদের জন্য হালাল করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

কস্তুরীর নাভি (ফায়রাতুল মিসক) অধিকাংশ আলেমের মতে পবিত্র। এটি জীবিত পশু থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো অঙ্গের মতো নয়, বরং এটি ডিম, সন্তান, দুধ এবং পশমের সমতুল্য। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

অধিকতর স্পষ্ট মতটি হলো 'ইস্তিহালা' বা রূপান্তরের মাধ্যমে নাপাক বস্তু পবিত্র হওয়া। এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং ইমাম আহমদ ও মালিকের মাযহাবের দুটি মতের একটি।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَالصَّحِيح أَن النَّجَاسَة تزَال بِغَيْر الماد لَكِن لَا يجوز اسْتِعْمَال الْأَطْعِمَة والأشربة فِي إِزَالَتهَا بِغَيْر حَاجَة لما فِي ذَلِك من فَسَاد الْأَمْوَال كَمَا لَا يجوز الاستجاء بهَا

وَالْفرق بَين طَهَارَة الْحَدث والخبث أَن طَهَارَة الْحَدث من بَاب الْأَفْعَال المزمور بهَا فَلَا تسْقط بِالنِّسْيَانِ وَالْجهل وَيشْتَرط فِيهَا النِّيَّة وطهارة الْخبث من بَاب التروك اجْتِنَاب الْخبث فَلَا يشْتَرط فِيهَا فعل العَبْد وَلَا قَصده

وَإِذا صلى بِالنَّجَاسَةِ جَاهِلا أَو نَاسِيا فَلَا إِعَادَة عَلَيْهِ فِي زصح قولي الْعلمَاء وَذَلِكَ لِأَن مَا كَانَ مَقْصُوده اجْتِنَاب الْمَحْظُور إِذا فعله العَبْد نَاسِيا أَو مخطئا فَلَا إِثْم عَلَيْهِ لقَوْله تَعَالَى {وَلَيْسَ عَلَيْكُم جنَاح فِيمَا أخطأتم} وَقَوله {رَبنَا لَا تُؤَاخِذنَا إِن نَسِينَا أَو أَخْطَأنَا}

وَلِهَذَا كَانَ أقوى الْأَقْوَال أَن مَا فعله العَبْد نَاسِيا أَو مخطئا من مَحْظُورَات الصَّلَاة أَو الْحَج أَو الصّيام لَا يبطل الْعِبَادَة لَكِن إِذا أَتَى بهَا بِفِعْلِهِ وَنِيَّته أثيب على ذَلِك

وَيجب على الْمُضْطَر الْأكل وَالشرب بِقدر مَا يسد رمقه

وَفِي نَجَاسَة شعر الْكَلْب قَولَانِ هما رِوَايَتَانِ فَلَو تمعط فِي بذر فَهَل يجب نزحه يجب نزحه عِنْد من يُنجسهُ وَهُوَ قَول فقهاد الْكُوفَة كزبي حنيفَة

وَقيل لَا ينجس رلا بالتغير وَهُوَ مَذْهَب الْجُمْهُور فَيجوز اسْتِعْمَال الماد وَإِن خرج فِيهِ شعر عِنْد من يطهره

وَعند المنجس يَقُول رذا خرج فِي الدَّلْو وَهُوَ قَلِيل نجس وَهُوَ الْمَشْهُور عَن أَحْمد

وَالْأَظْهَر أَن شعر الْكَلْب طَاهِر لِأَنَّهُ لم يثبت فِيهِ دَلِيل شَرْعِي
সঠিক মত হলো, পানি ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারাও অপবিত্রতা দূর করা যায়। তবে প্রয়োজন ব্যতীত অপবিত্রতা দূর করার কাজে খাদ্য ও পানীয় ব্যবহার করা জায়েজ নয়, কারণ এতে সম্পদের অপচয় ঘটে। অনুরূপভাবে এগুলো দ্বারা ইস্তিনজা করাও জায়েজ নয়।

হদস (অজু-গোসল সংক্রান্ত অপবিত্রতা) এবং খাবাস (বস্তুগত অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়ার মধ্যে পার্থক্য হলো—হদস থেকে পবিত্র হওয়া আদিষ্ট কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং তা বিস্মৃতি বা অজ্ঞতার কারণে রহিত হয় না এবং এতে নিয়ত শর্ত। অন্যদিকে খাবাস থেকে পবিত্র হওয়া বর্জনীয় কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত (অপবিত্রতা এড়িয়ে চলা); সুতরাং এতে বান্দার বিশেষ কর্ম বা নিয়ত শর্ত নয়।

যদি কেউ নাপাকি থাকা অবস্থায় অজ্ঞতাবশত বা ভুলে সালাত আদায় করে, তবে আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক মতানুসারে তাকে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না। কারণ, যেখানে উদ্দেশ্য হলো নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা, সেখানে বান্দা যদি ভুলবশত বা অগোচরে তা করে ফেলে, তবে সে গুনাহগার হবে না। মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যে বিষয়ে ভুল করো তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।" এবং আল্লাহর বাণী: "হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই বা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।"

এ কারণেই সবচাইতে শক্তিশালী অভিমত হলো, বান্দা ভুলে বা ত্রুটিবশত সালাত, হজ বা সিয়ামের যেসব নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তাতে ইবাদত বাতিল হবে না। তবে যদি সে তা যথাযথ কর্ম ও নিয়তের মাধ্যমে সম্পন্ন করে তবে তাতে সে সওয়াব পাবে।

জীবন রক্ষার্থে নিরুপায় ব্যক্তির জন্য প্রাণ বাঁচে এমন পরিমাণ পানাহার করা ওয়াজিব।

কুকুরের পশম নাপাক হওয়া প্রসঙ্গে দুটি মত রয়েছে, যা দুটি বর্ণনা হিসেবে স্বীকৃত। যদি কুয়ায় পশম পড়ে যায়, তবে কি পানি সেচে ফেলা ওয়াজিব হবে? যারা একে নাপাক গণ্য করেন তাদের মতে পানি সেচে ফেলা ওয়াজিব; এটি ইমাম আবু হানিফার ন্যায় কুফার ফকিহগণের অভিমত।

অন্য একটি মতে, (পানির গুণাগুণ) পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত তা নাপাক হবে না; এটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামাদের মাযহাব। সুতরাং যারা পশমকে পবিত্র মনে করেন, তাদের নিকট পানি ব্যবহার করা জায়েজ, যদিও তাতে পশম উঠে আসে।

আর যারা নাপাক বলেন, তাদের মতে বালতিতে পশম উঠে এলে এবং তা অল্প হলেও নাপাক হবে। এটিই ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ মত।

অধিকতর সুস্পষ্ট মত হলো, কুকুরের পশম পবিত্র; কারণ এটি নাপাক হওয়ার বিষয়ে কোনো শরয়ি দলিল সাব্যস্ত হয়নি।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌فصل

إِذا وَقع فِي المَاء نَجَاسَة فغيرته تنجس اتِّفَاقًا وَإِن لم يتَغَيَّر فَقيل لَا ينجس وَهُوَ قَول أهل الْمَدِينَة وَكثير من أهل الحَدِيث وَرِوَايَة عَن أَحْمد اخْتَارَهَا طَائِفَة من أَصْحَابه ونصرها ابْن عقيل وَابْن المنى وَغَيرهمَا

الثناي ينجس قَلِيل الماد بِقَلِيل النَّجَاسَة وَهِي رِوَايَة الْبَصرِيين عَن مَالك

الثَّالِث مَذْهَب الشَّافِعِي وَرِوَايَة عَن أَحْمد ينجس وَالْكثير

وَالرَّابِع الْفرق بَين الْبَوْل والعذرة المائعة وَغَيرهمَا فَالْأول ينجس مِنْهُ مَا أمكن نزحه دون مَالا يُمكن نزحه وَهِي الْمَشْهُورَة عِنْد أَحْمد وَاخْتِيَار أَكثر أَصْحَابه

الْخَامِس أَن المَاء ينجس بملاقاة النَّجَاسَة سَواد كَانَ قَلِيلا أَو كثيرا لَكِن مالم تصل النَّجَاسَة إِلَيْهِ مِنْهُ لَا ينجس

ثمَّ حدوا مَالا تصل رليه بِمَا لَا يَتَحَرَّك أحد طَرفَيْهِ بتحرك الطّرف الآخر

ثمَّ تنازعوا هَل هُوَ بحركة الْمُتَوَضِّئ أَو المغتسل وقدرء مُحَمَّد بن الْحسن يمسجده فَوَجَدَهُ عشرَة أَذْرع فِي عشرَة زذرع

وانازعوا فِي الْآبَار رذا وَقعت فِيهَا النَّجَاسَة فَزعم بشر المريسى أَنه لَا يُمكن تطهيرها وَقَالَ زبو حنيفَة يُمكن بالنزح وَلَهُم فِي تَقْدِير الدَّلْو زقوال مَعْرُوفَة

السَّادِس قَول أهل الظَّاهِر الَّذين ينجسون مَا بَال فِيهِ البائل دون مَا ألْقى فِيهِ الْبَوْل

وأصل ذَلِك أَن اخْتِلَاط الْخبث بِالْمَاءِ هَل يُوجب تَحْرِيم الْجَمِيع أم يُقَال بل اسحال فَلم يبْق لَهُ حكم فَهَل الأَصْل الْإِبَاحَة حَتَّى يقوم الدَّلِيل على التَّحْرِيم أم الأَصْل الْمَنْع رلا مَا قَامَ الدَّلِيل على إِبَاحَته

وَالصَّحِيح الأول وَهُوَ أَن النَّجَاسَة مَتى استحالت فالماء طَاهِر قَلِيلا كَانَ أول كثيرا فَإِنَّهُ دَاخل فِي حد الطّيب خَارج عَن الْخبث وَقد صَحَّ قَوْله
পরিচ্ছেদ

যদি পানিতে অপবিত্রতা পতিত হয় এবং তা পানির গুণাগুণ পরিবর্তন করে দেয়, তবে সর্বসম্মতভাবে তা অপবিত্র হয়ে যাবে। আর যদি তা পরিবর্তিত না হয়, তবে বলা হয়েছে যে তা অপবিত্র হবে না। এটি মদিনাবাসী এবং অনেক হাদিসবিশারদদের অভিমত এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা, যা তাঁর একদল অনুসারী গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে আকিল ও ইবনে আল-মুন্না প্রমুখ একে সমর্থন করেছেন।

দ্বিতীয়ত: অল্প পরিমাণ পানি সামান্য অপবিত্রতার সংস্পর্শেই অপবিত্র হয়ে যায়। এটি ইমাম মালিক থেকে বসরার বর্ণনা প্রদানকারীদের বর্ণনা।

তৃতীয়ত: ইমাম শাফিঈর মাযহাব এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা অনুযায়ী পানি অপবিত্র হয়ে যায়, এমনকি তা অধিক হলেও।

চতুর্থত: প্রস্রাব ও তরল মল এবং অন্যান্য অপবিত্রতার মধ্যে পার্থক্য করা। প্রথমটির ক্ষেত্রে যে পরিমাণ পানি সেচে ফেলা সম্ভব তা অপবিত্র হবে, আর যা সেচে ফেলা অসম্ভব তা অপবিত্র হবে না। এটি ইমাম আহমাদের নিকট প্রসিদ্ধ মত এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীর পছন্দকৃত অভিমত।

পঞ্চমত: পানি অপবিত্রতার সংস্পর্শে আসা মাত্রই অপবিত্র হয়ে যায়, তা অল্প হোক বা বেশি। তবে অপবিত্রতা পানির যে অংশ পর্যন্ত পৌঁছায়নি, তা অপবিত্র হবে না।

অতঃপর তারা 'যা পৌঁছায়নি' তার সীমানা নির্ধারণ করেছেন এভাবে যে, পানির এক প্রান্ত নড়ালে অপর প্রান্ত নড়ে না।

তারপর তারা মতবিরোধ করেছেন যে, এই নড়াচড়া কি অজুকারীর মাধ্যমে হবে নাকি গোসলকারীর মাধ্যমে? মুহাম্মদ ইবনুল হাসান তাঁর মসজিদ মেপে দেখেছিলেন এবং তা দশ হাত দৈর্ঘ্য ও দশ হাত প্রস্থ পেয়েছিলেন।

কূপের মধ্যে অপবিত্রতা পড়লে তা নিয়ে তাঁরা মতবিরোধ করেছেন। বিশর আল-মারিসি দাবি করেছেন যে তা পবিত্র করা সম্ভব নয়। আর আবু হানিফা বলেছেন যে, পানি সেচে ফেলার মাধ্যমে তা পবিত্র করা সম্ভব। বালতির পরিমাণের ব্যাপারে তাঁদের সুপরিচিত অভিমত রয়েছে।

ষষ্ঠত: জাহেরি সম্প্রদায়ের অভিমত, যারা কেবল সেই পানিকেই অপবিত্র মনে করে যাতে সরাসরি প্রস্রাব করা হয়েছে, কিন্তু যাতে প্রস্রাব এনে ঢেলে দেওয়া হয়েছে তাকে অপবিত্র মনে করে না।

এর মূল ভিত্তি হলো, পানির সাথে নাপাকির মিশ্রণ কি সম্পূর্ণ পানিকে নিষিদ্ধ করা আবশ্যক করে, নাকি বলা হবে যে তা রূপান্তরিত হয়ে গেছে এবং তার হুকুম অবশিষ্ট নেই? সুতরাং মূলনীতি কি বৈধতা, যতক্ষণ না নিষিদ্ধতার দলিল পাওয়া যায়; নাকি মূলনীতি হলো নিষিদ্ধতা, যতক্ষণ না বৈধতার দলিল পাওয়া যায়?

সঠিক হলো প্রথমটি, আর তা হলো: অপবিত্রতা যখনই রূপান্তরিত হয়ে যায়, তখন পানি পবিত্র হয়ে যায়—তা অল্প হোক বা বেশি। কেননা তা তখন পবিত্র ও উত্তম জিনিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং অপবিত্রতা থেকে বেরিয়ে যায়। আর তাঁর কথাটি সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৯)
صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الماد طهُور لَا يُنجسهُ شئ وَهُوَ عَام فِي قَلِيل وَالْكثير وَفِي جَمِيع النَّجَاسَات

وَأما رذا تغير فَإِنَّمَا حرم لظُهُور جرم النَّجَاسَة فِيهِ بِخِلَاف مَا رذا اسْتهْلك وَيبين ذَلِك أَن الْخمر وَاللَّبن لَو وَقع فِي مَاء فاستهلك فشربه شَارِب لم يحد وَلم ينشر الْحُرْمَة

وَنَهْيه صلى الله عليه وسلم عَن الْبَوْل فِي الماد الداذم لِأَنَّهُ ذَرِيعَة إِلَى تنجيسه فسد الذريعة وَلِهَذَا يعم النَّهْي فِي كل ماد راكد فَلَا يجوز فِيمَا فَوق الْقلَّتَيْنِ وَلَا فِيمَا لَا يُمكن نزحه وَلَا فِيمَا لَا يَتَحَرَّك أحد بتحرك الآخر وَمن قَالَ يجوز فِي ذَلِك فقد خَالف إِذْ هُوَ عَام

وَأما قَوْله صلى الله عليه وسلم الماد طهُور لَا يُنجسهُ شئ فَلَا يُقَال وصف المَاء بِكَوْنِهِ طهُورا يدل على تنجيس غَيره لِأَنَّهُ يجوز تَعْلِيل الحكم بعلتين وَكَون الماد طهُورا يُوجب دفع النَّجَاسَة عَن نَفسه وَأَنه أولى من غَيره وَلَا يمْنَع أَن يكون فِي غَيره مَا يمْنَع عَنهُ النَّجَاسَة

وَأَيْضًا فَإِنَّهُم سَأَلُوهُ صلى الله عليه وسلم عَن الماد فخصه بذلك لحَاجَة السَّائِل رليه مَعَ أَنه مَفْهُوم لقب وَهُوَ ضَعِيف

وَأما حَدِيث الْقلَّتَيْنِ رذا صَحَّ فمنطوقه مُوَافق لغيره وَهُوَ أَنه رذا بلغ المَاء قُلَّتَيْنِ لم يُنجسهُ شئ

وَأما مَفْهُومه إِذا قُلْنَا بِدلَالَة مَفْهُوم الْعدَد فانه إِنَّمَا يدل على أَن الحكم فِي
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: পানি পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না। এই বিধানটি অল্প ও অধিক পানি এবং সকল প্রকার অপবিত্রতার ক্ষেত্রে সাধারণ ও ব্যাপক।

আর যদি পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা অপবিত্র বা নিষিদ্ধ হবে কেবল তাতে নাপাকির মূল বস্তুটি প্রকাশ পাওয়ার কারণে। পক্ষান্তরে যদি নাপাকি পানির মধ্যে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়, তবে হুকুম ভিন্ন হবে। এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো, যদি মদ বা দুধ পানির মধ্যে পড়ে এবং তা বিলীন হয়ে যায়, তবে কোনো পানকারী তা পান করলে তার ওপর শরয়ি শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না এবং এটি হারামের বিধানকেও প্রসারিত করবে না।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্থির বা বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন কারণ তা পানিকে অপবিত্র করার একটি মাধ্যম। তাই এই মাধ্যমটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই এই নিষেধাজ্ঞাটি সকল প্রকার স্থির পানির ক্ষেত্রে ব্যাপক। সুতরাং দুই কুল্লার (মটকা) অধিক পানি, কিংবা এমন পানি যা সেচে শেষ করা যায় না, অথবা যে পানির এক প্রান্ত নড়া দিলে অন্য প্রান্ত নড়ে না—এসবেও প্রস্রাব করা জায়েজ হবে না। আর যে ব্যক্তি এসব ক্ষেত্রে তা জায়েজ বলেছে, সে মূল দলিলের বিরোধিতা করেছে, কারণ এই নিষেধাজ্ঞাটি সবার জন্য সাধারণ।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "পানি পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না" প্রসঙ্গে এ কথা বলা যাবে না যে, পানিকে 'তহুর' (পবিত্রকারী) হিসেবে গুণান্বিত করা অন্য বস্তুর নাপাক হওয়াকে নির্দেশ করে। কারণ একটি বিধানের পেছনে দুটি কারণ থাকা সম্ভব। আর পানির 'তহুর' হওয়া স্বয়ং নিজের থেকে অপবিত্রতাকে প্রতিহত করাকে আবশ্যক করে এবং এটি অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য। তবে এটি অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে নাপাকি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকাকে বাধা দেয় না।

তাছাড়া তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাই প্রশ্নকারীর প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে তিনি পানিকে নির্দিষ্ট করে উত্তর দিয়েছিলেন। এছাড়া এটি 'মাফহুমুল লাকাব' (নামবাচক সংজ্ঞার পরোক্ষ অর্থ), যা একটি দুর্বল দলিল।

আর 'কুল্লাতাইন' (দুই মটকা) সংক্রান্ত হাদীসটি যদি সহীহ হয়, তবে এর শাব্দিক অর্থ অন্য দলিলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ; আর তা হলো পানি যখন দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না।

আর এর পরোক্ষ অর্থ সম্পর্কে যদি আমরা 'মাফহুমুল আদাদ' (সংখ্যার পরোক্ষ অর্থ) এর নীতি গ্রহণ করি, তবে তা কেবল এটাই নির্দেশ করে যে এই বিধানটি...
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২০)
الْمَسْكُوت عَنهُ مُخَالف للْحكم فِي الْمَنْطُوق لَو بِوَجْه من الْوُجُوه وَلَا يشْتَرط أَن يكون الحكم مُخَالفا للمنطوق من كل وَجه وَهَذَا معنى قَوْلهم الْمَفْهُوم لَا عُمُوم لَهُ فَلَا يلْزم أَن كل مَا لم يبلغ الْقلَّتَيْنِ ينجس بل رذا قيل بالمخالفة فِي صُورَة حصل الْمَقْصُود فمنطوقه زنه لَا يحمل الْخبث عِنْد بُلُوغ الْقلَّتَيْنِ مَفْهُومه والقليل قد يحمل لمظنة الْقلَّة فَيَكْفِي الْمُخَالفَة لجَوَاز احْتِمَال الْخبث فِي الْقَلِيل دون الْكثير فقد خَالف الْمَفْهُوم الْمَنْطُوق بذلك وَهُوَ كَاف إِذْ لَا يلْزم أَن الْمَفْهُوم يُخَالف الْمَنْطُوق فيكل صُورَة من صوره بل يَكْفِي وَلَو فِي صُورَة فَلَا عُمُوم للمفهوم كَمَا قُلْنَا وَهَذَا ظَاهر

وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم لم يذكر ذَلِك حكما عَاما إِنَّمَا ذكره فِي جَوَاب من سزله عَن مَاء بِعَيْنِه فيتقيد بِهِ فَإِن التَّخْصِيص إِذا كَانَ لَهُ سَبَب غير اخْتِصَاص الحكم لم يبْق حجَّة بالتفاق كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا تقتلُوا أَوْلَادكُم خشيَة إملاق}

فَلَمَّا كَانَ حَال المَاء الْمَسْئُول عَنهُ أَنه كثير قد بلغ الْقلَّتَيْنِ وَمن شزن الْكثير أَنه لَا يحمل الْخبث بل يَسْتَحِيل فِيهِ دلّ ذَلِك على أَن منَاط الحكم كَون الْخبث مَحْمُولا فَحَيْثُ كَانَ مَحْمُولا أَي مَوْجُودا كَانَ نجسا وَحَيْثُ اسْتهْلك فَهُوَ غير مَحْمُول فَصَارَ حَدِيث الْقلَّتَيْنِ مُوَافقا لقَوْله المَاء طهُور لَا يُنجسهُ شئ

ونكت الْجَواب عَن كَونه يحمل الْخبث أَولا يحملهُ أَنه أَمر حسى مَعْرُوف والحس دَلِيل وَالدَّلِيل على هَذَا اتِّفَاقهم على أَن المَاء إِذا تغير حمل الْخبث ونجسه فَصَارَ قَوْله رذا بلغ المَاء قُلَّتَيْنِ لم يحمل الْخبث وَلم يُنجسهُ شئ مثل قَوْله الماد لَا يُنجسهُ شئ وَهُوَ إِنَّمَا أَرَادَ إِذا لم يتَغَيَّر فِي الْمَوْضِعَيْنِ وَأما إِذا كَانَ قَلِيلا فقد يحمل الْخبث لضَعْفه

যা সম্পর্কে নীরব থাকা হয়েছে (মাসকুত আনহু) তা কোনো না কোনোভাবে ব্যক্ত (মানতুক) বিধানে যা বলা হয়েছে তার পরিপন্থী হবে। তবে প্রতিটি দিক থেকেই ব্যক্ত বিধানের বিপরীত হওয়া শর্ত নয়। আর এটিই তাদের এই বক্তব্যের অর্থ যে, ‘ইঙ্গিতার্থের (মাফহুম) কোনো ব্যাপকতা (উমুম) নেই’। সুতরাং দুই কুল্লায় না পৌঁছানো সব পানিই যে অপবিত্র হয়ে যাবে তা অনিবার্য নয়। বরং যদি একটি ক্ষেত্রেও বৈপরীত্য সাব্যস্ত হয়, তবেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়। সুতরাং তাঁর ব্যক্ত বক্তব্যের অর্থ হলো: দুই কুল্লায় পৌঁছালে পানি অপবিত্রতা বহন করে না। আর এর ইঙ্গিতার্থ হলো: অল্প পানি অল্প হওয়ার সম্ভাবনায় কখনো অপবিত্রতা বহন করতে পারে। সুতরাং অল্প পানিতে অপবিত্রতা হওয়ার সম্ভাবনা আর অধিক পানিতে তা না থাকার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, বৈপরীত্যের জন্য তা-ই যথেষ্ট। এর মাধ্যমে ইঙ্গিতার্থ ব্যক্ত বিধানের বিপরীত হলো এবং এটিই যথেষ্ট; কেননা ইঙ্গিতার্থের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্ত বিধানের বিপরীত হওয়া আবশ্যক নয়, বরং একটি ক্ষেত্রে বিপরীত হওয়াই যথেষ্ট। সুতরাং আমরা যেমনটি বলেছি, ইঙ্গিতার্থের কোনো ব্যাপকতা নেই এবং এটি স্পষ্ট।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে কোনো সাধারণ বিধান হিসেবে উল্লেখ করেননি, বরং তিনি এটি এক ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটি পানি সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন। তাই এটি সেই নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ থাকবে। কারণ কোনো বিধান নির্দিষ্ট করার পেছনে যদি বিধানটির বৈশিষ্ট্য ছাড়া অন্য কোনো কারণ থাকে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে সেটি আর দলিল হিসেবে থাকে না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।”

যেহেতু জিজ্ঞাসিত পানির অবস্থা ছিল এই যে, তা পরিমাণে অনেক এবং দুই কুল্লায় পৌঁছেছিল, আর অধিক পানির বৈশিষ্ট্য হলো যে তা সাধারণত অপবিত্রতা গ্রহণ করে না বরং তাতে নাপাকি বিলীন হয়ে যায়, তাই এটি নির্দেশ করে যে, বিধানের ভিত্তি হলো অপবিত্রতা বহন করা। সুতরাং যেখানে অপবিত্রতা বহন করে অর্থাৎ বিদ্যমান থাকে, সেখানে পানি অপবিত্র হবে। আর যেখানে তা বিলীন হয়ে যায় সেখানে তা অপবিত্রতা বহনকারী নয়। ফলে ‘দুই কুল্লা’ সংক্রান্ত হাদিসটি তাঁর এই বাণীর অনুকূলে চলে আসে যে: “পানি পবিত্র, কোনো কিছু একে অপবিত্র করে না।”

পানি অপবিত্রতা বহন করবে কি করবে না—এই উত্তরের মূল রহস্য হলো এটি একটি পরিচিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়। আর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় একটি প্রমাণ। এর প্রমাণ হলো আলেমদের এই বিষয়ে ঐক্যমত যে, পানি পরিবর্তিত হয়ে গেলে তা অপবিত্রতা বহন করে এবং তা নাপাক হয়ে যায়। ফলে তাঁর কথা: “যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছাবে তখন তা অপবিত্রতা বহন করবে না এবং কোনো কিছু একে অপবিত্র করবে না”—এটি তাঁর সেই বাণীর মতোই হলো যে: “পানিকে কোনো কিছু অপবিত্র করে না।” আর তিনি উভয় ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য করেছেন যখন পানির কোনো গুণ পরিবর্তন না ঘটে। কিন্তু পানি যদি অল্প হয়, তবে দুর্বল হওয়ার কারণে তা অপবিত্রতা বহন করতে পারে।

(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২১)
وعَلى هَذَا يحمل أمره فِي الْكَلْب لما أَمر بتطهير مَا ولغَ فِيهِ سبعا

وَكَذَلِكَ قَوْله للمستيقظ من نوم اللَّيْل لَا يدْخل يَده فِي الْإِنَاء حَتَّى يغسلهَا ثَلَاثًا المُرَاد الْإِنَاء الَّذِي للْمَاء الْمُعْتَاد للولوغ ولإدخال الْيَد وَهُوَ الصَّغِير وَالْكَلب يلغ بِلِسَانِهِ شَيْئا فَلَا بُد أَن يبْقى فِي المَاء من رقّه فَيكون ذَلِك مَحْمُولا وَالْمَاء يَسِيرا فيراق لأجل كَون الْخبث مَحْمُولا وَيغسل الْإِنَاء الَّذِي لاقاه ذَلِك الْخبث

بِخِلَاف مَا إِذا اسْتهْلك الْخبث كَالْخمرِ رذا قلب الله عينهَا فَتطهر بالدن لِأَن الاستحالة والاستهلاك حصل فِي الْخمر دن تِلْكَ وَلَو أَرَادَ الْفَصْل بَين الْمُبْتَدِئ وَالِي ينجس بِمُجَرَّد الملاقاة لقَالَ رذا لم يبلغ قُلَّتَيْنِ نجس وَمَا بلغَهَا لم ينجس إِلَّا بالتغير أَو نَحْو ذَلِك أما مُجَرّد قَوْله رذا بلغ المَاء قُلَّتَيْنِ لم يحمل الْخبث مَعَ كَونه رذا تغير حمله وينجس فَلَا يدل على هَذَا الْمَقْصُود وَأما نَهْيه الْقَائِم من نوم اللَّيْل أَن يغمس يَده فِي الْإِنَاء حَتَّى يغسلهَا فَهَذَا لَا يقتضى التَّنْجِيس بالِاتِّفَاقِ بل لِأَنَّهُ قد يُؤثر فِي المَاء معنى أَو يُفْضِي رليه مثل قَوْله لَا يبولن أحدكُم فِي المَاء الدَّائِم وقدتقدم أَنه لَا يدل على التَّنْجِيس وَأما نَهْيه عَن الِاغْتِسَال فِيهِ بعد الْبَوْل إِن صَحَّ فَهُوَ كنهيه عَن الْبَوْل فِي المستحم وَقَوله فَإِن عَامَّة الوسواس مِنْهُ وَرُبمَا بقى من أَجزَاء الْبَوْل فَعَاد عَلَيْهِ رشاشها فَكَذَلِك رذا بَال فِي مَاء ثمَّ اغْتسل فِيهِ فقد يغْتَسل قبل الاستحالة مَعَ بَقَاء أَجزَاء الْبَوْل

وَنَهْيه عَن الِاغْتِسَال فِي المَاء الدَّائِم وَإِن صَحَّ يتَعَلَّق بِمَسْأَلَة الماد الْمُسْتَعْمل وَقد يكون لما فِيهِ من تقذير المَاء على غَيره لَا لأجل النَّجَاسَة وَلَا لصيرورته مُسْتَعْملا فقد قَالَ المَاء لَا يجنب
আর এর ওপরই কুকুরের ব্যাপারে তাঁর নির্দেশটি প্রয়োগ করা হয়, যখন তিনি কুকুর যা লেহন করেছে তা সাতবার ধৌত করে পবিত্র করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অনুরূপভাবে রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে তাঁর বাণী: "সে যেন তার হাত পাত্রে প্রবেশ না করায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধৌত করে।" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পানির সেই পাত্র যা সাধারণত লেহন করার এবং হাত প্রবেশ করানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো ছোট পাত্র। আর কুকুর যখন তার জিহ্বা দিয়ে কোনো কিছু লেহন করে, তখন পানির মধ্যে তার লালা থেকে কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকা অবধারিত, ফলে পানি তা (নাপাকি) বহনকারী হয়ে যায়। এমতাবস্থায় পানি অল্প হওয়ার কারণে নাপাকি বহন করার দরুন তা ঢেলে ফেলে দেওয়া হয় এবং যে পাত্রে উক্ত নাপাকি লেগেছে তা ধৌত করা হয়।

এর বিপরীতে যখন নাপাকি নিঃশেষ হয়ে যায়, যেমন মদ যখন আল্লাহ তার সত্তাকে পরিবর্তন করে দেন, তখন তা মটকাসহ পবিত্র হয়ে যায়। কারণ সেই মদের মটকাতে রূপান্তর ও নিঃশেষ হওয়া সংঘটিত হয়েছে। আর যদি তিনি কেবল স্পর্শের মাধ্যমেই নাপাক হওয়া এবং যা কেবল স্পর্শেই নাপাক হয় তার মধ্যে পার্থক্য করতে চাইতেন, তবে তিনি বলতেন: "যখন পানি দুই কুল্লায় না পৌঁছাবে তখন তা নাপাক হবে, আর যা তাতে পৌঁছাবে তা পরিবর্তন হওয়া ব্যতীত নাপাক হবে না" অথবা এই জাতীয় কিছু। কিন্তু তাঁর কেবল এই বাণী: "যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছায় তখন তা নাপাকি বহন করে না" — এর সাথে সাথে এটিও সত্য যে, যখন তা পরিবর্তিত হয় তখন তা নাপাকি বহন করে এবং নাপাক হয়ে যায়; সুতরাং এটি উক্ত উদ্দেশ্য সাব্যস্ত করে না। আর রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির হাত ধোয়ার পূর্বে পাত্রে ডুবানোর ব্যাপারে তাঁর নিষেধের বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক হওয়ার আবশ্যকতা রাখে না। বরং এর কারণ হলো, এটি পানিতে কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে অথবা সেদিকে ধাবিত করতে পারে, যেমন তাঁর বাণী: "তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে।" আর ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, এটি নাপাক হওয়ার প্রমাণ দেয় না। আর প্রস্রাব করার পর সেখানে গোসল করা সম্পর্কে তাঁর নিষেধের বিষয়টি যদি সহীহ হয়ে থাকে, তবে তা গোসলখানায় প্রস্রাব করতে নিষেধ করার মতোই, এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই অধিকাংশ কুমন্ত্রণা তা থেকে সৃষ্টি হয়।" আর সম্ভবত প্রস্রাবের কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে এবং তার ছিটেফোঁটা তার দিকে ফিরে আসে। অনুরূপভাবে যখন কেউ পানিতে প্রস্রাব করে তারপর সেখানে গোসল করে, তবে সে হয়তো রূপান্তরের পূর্বেই গোসল করছে অথচ প্রস্রাবের অংশসমূহ তাতে অবশিষ্ট রয়েছে।

আর আবদ্ধ পানিতে গোসল করা সম্পর্কে তাঁর নিষেধের বিষয়টি যদি সহীহ হয়ে থাকে, তবে তা ব্যবহৃত পানির মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটি অন্যের জন্য পানিকে নোংরা করার কারণেও হতে পারে, নাপাক হওয়ার জন্য নয় এবং তা ব্যবহৃত পানিতে পরিণত হওয়ার জন্যও নয়; কেননা তিনি বলেছেন: "পানি জুনুব (অপবিত্র) হয় না।"
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌فصل

الحكم رذا ثَبت بعلة يَزُول لزوالها فَإِن بقى مَعَ زَوَالهَا من غير أَن يخلفها عِلّة أُخْرَى كَانَت عديمة التَّأْثِير فَلَا تكون عِلّة وَأما إِذا خلفهَا عِلّة أُخْرَى فَإِنَّهَا لَا يبطل كَونهَا عِلّة وَهَذَا هُوَ التَّحْقِيق فِي مَسْأَلَة عكس الْعِلَل وَعدم التَّأْثِير فِيهَا فَإِنَّهُ قد يظنّ أَنا إِذا جَوَّزنَا تَعْلِيل الحكم الْوَاجِب بِالشَّرْعِ بالنوع بعلتين لم تبطل الْعلَّة بِعَدَمِ التَّأْثِير فِيهَا وَهُوَ انفاء الحكم لانفاء الْوَصْف لجَوَاز أَن يخلفها عِلّة أُخْرَى بل إِذا كَانَ الحكم ثَابتا انْتَفَى الْوَصْف لثُبُوته مَعَ ثُبُوته دلّ على أَنه لَيْسَ بعلة فالنقض وجود الْوَصْف بِلَا حكم فَإِن لم يكن التَّخَلُّف لفَوَات شَرط أَو انْتِفَاء مَانع كَانَ دَلِيلا على أَنه لَيْسَ بعلة وَعدم التَّأْثِير هُوَ وجود الحكم بِلَا وصف فَإِن لم يكن لَهُ عِلّة أُخْرَى كَانَ دَلِيلا على أَن الْوَصْف لَيْسَ بعلة فَإِذا عللنا الْملك بِالْبيعِ أَو الْإِرْث أَو الاغتنام وَنَحْو ذَلِك وَقُلْنَا فِي صُورَة قد عللنا الْملك فِيهَا بِالْبيعِ هَذَا بيع بَاطِل فَلَا يحصل الْملك كَانَ كَامِلا صَحِيحا وَإِن علمنَا أَن الْملك يثبت بِإِرْث وَغَيره لَكِن التَّقْدِير أَنه لَا يثبت لَهُ هُنَا غير البيع وَإِذا قُلْنَا هَذَا يملك هَذِه السّلْعَة لِأَنَّهُ اشْتَرَاهَا شِرَاء شَرْعِيًّا أَو لِأَنَّهُ ورثهَا كَانَ كَامِلا صَحِيحا وَلَا يلْزم من ذَلِك أَن يكون الْملك منتفيا فِي كل مَوضِع انْتَفَى فِيهِ البيع أَو الْإِرْث لِأَن الْملك لَهُ أَسبَاب مُتعَدِّدَة وَكَذَلِكَ الطَّهَارَة إِذا كَانَ لَهَا سببان فعلل الشَّارِع طَهَارَة بعض الْأَعْيَان بِسَبَب كَانَ ذَلِك كَامِلا صَحِيحا وَلَا يلْزم من ذَلِك أَن يكون كل مَوضِع انْتَفَى عَنهُ هَذَا السَّبَب أَن يكون الْملك منتفيا فِي كل مَوضِع انْتَفَى فِيهِ البيع وَلَا كَانَ مِنْهُ أَن مَا انْتَفَى عَنهُ ذها السَّبَب يكون نجسا

فَقَوله فِي الهر إها من الطوفين دَلِيل على أَن الطّواف سَبَب الطَّهَارَة فَإِذا انْتَفَى فِيمَا هُوَ سَبَب فِيهِ زَالَت طَهَارَته وَقد ثبتَتْ الطَّهَارَة لغيره وَهُوَ الْحل
অনুচ্ছেদ

কোনো বিধান যখন কোনো ইল্লত বা কারণের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়, তখন সেই ইল্লতের বিলুপ্তিতে বিধানটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু যদি ইল্লত বিলুপ্ত হওয়া সত্ত্বেও বিধানটি বহাল থাকে এবং অন্য কোনো ইল্লত তার স্থলাভিষিক্ত না হয়, তবে বুঝতে হবে পূর্বোক্ত বিষয়টি প্রভাবহীন ছিল, ফলে সেটি প্রকৃত ইল্লত নয়। পক্ষান্তরে, যদি অন্য কোনো ইল্লত তার স্থলাভিষিক্ত হয়, তবে তার ইল্লত হওয়ার বিষয়টি বাতিল হবে না। ইল্লতের বিপরীতমুখিতা এবং তার প্রভাবহীনতার মাসআলায় এটিই হলো সুনিশ্চিত বিশ্লেষণ। কারণ অনেক সময় ধারণা করা হয় যে, শরয়িভাবে সাব্যস্ত কোনো বিধানকে যদি আমরা প্রকারভেদে দুটি ইল্লত দ্বারা সাব্যস্ত করা বৈধ মনে করি, তবে প্রভাবহীনতার কারণে ইল্লতটি বাতিল হবে না; আর প্রভাবহীনতা হলো গুণ বা বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতিতে বিধানের অনুপস্থিতি, কারণ অন্য কোনো ইল্লত তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বরং বিধানটি যদি বহাল থাকে অথচ বৈশিষ্ট্যটি অনুপস্থিত থাকে, তবে বিধানের অস্তিত্বের সাথে বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতি একথাই প্রমাণ করে যে তা ইল্লত নয়। সুতরাং 'খণ্ডন' (নখদ) হলো বিধান ছাড়াই বৈশিষ্ট্যের অস্তিত্ব থাকা। যদি বিধানের এই অনুপস্থিতি কোনো শর্তের অভাব কিংবা কোনো প্রতিবন্ধকের উপস্থিতির কারণে না হয়, তবে তা প্রমাণ করে যে এটি ইল্লত নয়। আর 'প্রভাবহীনতা' (আদমুত তাসির) হলো বৈশিষ্ট্য ছাড়াই বিধানের অস্তিত্ব থাকা। যদি সেখানে অন্য কোনো ইল্লত না থাকে, তবে তা প্রমাণ করে যে বৈশিষ্ট্যটি ইল্লত নয়। সুতরাং আমরা যদি মালিকানাকে ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার অথবা গণিমত লাভের ইল্লত দ্বারা সাব্যস্ত করি এবং কোনো ক্ষেত্রে বলি—যেখানে আমরা মালিকানাকে ক্রয়-বিক্রয় দ্বারা সাব্যস্ত করেছি—যে, "এই ক্রয়-বিক্রয়টি বাতিল, সুতরাং মালিকানা অর্জিত হবে না", তবে তা পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক হবে। যদিও আমরা জানি যে উত্তরাধিকার বা অন্য উপায়েও মালিকানা সাব্যস্ত হয়, কিন্তু এখানে ধরে নেওয়া হয়েছে যে ক্রয়-বিক্রয় ছাড়া অন্য কোনো কিছু একে সাব্যস্ত করেনি। আর যদি আমরা বলি, "সে এই পণ্যের মালিক কারণ সে এটি শরয়ি পদ্ধতিতে ক্রয় করেছে অথবা সে এটির উত্তরাধিকার লাভ করেছে", তবে তা পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক হবে। এ থেকে এমনটি আবশ্যক হয় না যে, যেখানেই ক্রয়-বিক্রয় বা উত্তরাধিকার অনুপস্থিত থাকবে সেখানেই মালিকানা অনুপস্থিত থাকবে; কারণ মালিকানার একাধিক কারণ রয়েছে। অনুরূপভাবে পবিত্রতার যদি দুটি কারণ থাকে এবং শারিয়াত প্রণেতা কোনো বস্তুর পবিত্রতাকে একটি কারণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করেন, তবে তা পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক হবে। এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, যেখানেই এই কারণটি অনুপস্থিত থাকবে সেখানে মালিকানা অনুপস্থিত হবে—যেমনটি প্রতিটি ক্রয়-বিক্রয়হীন স্থানে হয়ে থাকে—আর না এর দ্বারা এমনটি বোঝায় যে, যেখান থেকে এই কারণটি বিলুপ্ত হবে তা অপবিত্র হয়ে যাবে।

বিড়ালের ব্যাপারে তাঁর (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "নিশ্চয় এটি তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত", একথার দলিল যে বিচরণ করা পবিত্রতার একটি কারণ। সুতরাং এটি যাতে কারণ হিসেবে গণ্য, সেখানে যদি বিচরণ করার বৈশিষ্ট্যটি না থাকে তবে তার পবিত্রতা বিলুপ্ত হবে; অথচ অন্য কিছুর জন্য পবিত্রতা সাব্যস্ত রয়েছে, আর তা হলো হালাল হওয়া।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৩)
كطهارة الصَّيْد والأنعام فَإِنَّهَا طيبَة الَّتِي أَبَاحَهَا الله تَعَالَى فَلَا يحْتَاج إِلَى تَعْلِيل طَهَارَتهَا بِالطّوافِ فَإِن الطّواف يدل على أَن ذَلِك لدفع الْحَرج فِي نجاستها وَقَوله الماد طهُور لَا يُنجسهُ شئ قد قَالَ فِيهِ

أَولا قد يكون الْمَقْصُود وصف المَاء بِكَوْنِهِ طهُورا وبكونه لَا يُنجسهُ شئ فَيكون صفة بعد صفة لَيْسَ الْمَقْصُود جعل إِحْدَاهمَا عِلّة لِلْأُخْرَى وَوَصفه بِهَاتَيْنِ الصفتين يبين مُفَارقَته للبدن وَالثَّوْب وَنَحْوهمَا من هذَيْن الْوَجْهَيْنِ من جِهَة أَنه طهُور وَمن جِهَة أَنه لَا يُنجسهُ شئ وَإِذا لم يُعلل نفي النَّجَاسَة بِكَوْنِهِ طهُورا لم يُوجب ذَلِك حُصُول النَّجَاسَة فِيمَا لَيْسَ بِطهُور بِمُجَرَّد الملاقاة فَإِذا أمكن أَن تكون هَذِه عِلَّتَانِ لجَوَاز استقائه من الْبِئْر لم يجب أَن يُقَال إِن إِحْدَاهمَا عِلّة لِلْأُخْرَى بل كَانَ قَوْله لَا ينجس كَقَوْلِه المَاء لَا يجنب وَهُنَاكَ لم يُعلل انْتِفَاء الْجَنَابَة عَنهُ بِكَوْنِهِ طهُورا فَكَذَا هُنَا لم يُعلل انْتِفَاء النَّجَاسَة عَنهُ بِكَوْنِهِ طهُورا بل هُنَاكَ علل جَوَاز اسْتِعْمَال سُؤْر عَائِشَة بِأَن المَاء لَا يجنب وَهنا علل وضوءه من بِئْر بضَاعَة بِأَن المَاء لَا ينجس وَزَاد مَعَ ذَلِك أَن المَاء طهُور وَهَذَا بَين لمن تَأمله بل هُوَ ظَاهر الحَدِيث

وَبَيَان ذَلِك أَنه قد سمى التُّرَاب طهُورا فِي نَجَاسَة الْحَدث والخبث فَقَالَ جعلت لي الأَرْض مَسْجِدا وتربتها طهُورا وَقَالَ فِي النَّعْلَيْنِ فليدلكها بِالتُّرَابِ فَإِن التُّرَاب لَهما طهُور وَمَعَ هَذَا التُّرَاب وَغَيره من أَجزَاء الأَرْض فِي النَّجَاسَة سَوَاء لافرق بَين التُّرَاب وَغَيره إِذا ظَهرت فِيهِ النَّجَاسَة كَانَ نجسا وَإِذا زَالَت بالشمس وَنَحْوهَا فإمَّا أَن يُقَال تَزُول مُطلقًا أَو لَا تَزُول مُطلقًا لم يفرق بَين التُّرَاب والرمكل وَغَيرهمَا من أَجزَاء الأَرْض كَمَا فرق بَينهمَا من فرق فِي طَهَارَة الْحَدث بل احْتج من يَقُول تزوالها بِحَدِيث البُخَارِيّ وَكَانَت الْكلاب تقبل وتدبر وتبول فِي مَسْجِد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلم يَكُونُوا يرشون من ذَلِك شَيْئا وَالْمَسْجِد كَانَ فِيهِ التُّرَاب وَغَيره
যেমন শিকার করা পশুপাখি এবং গবাদি পশুর পবিত্রতা; নিশ্চয়ই সেগুলো পবিত্র যা মহান আল্লাহ তায়ালা বৈধ করেছেন। সুতরাং তাদের পবিত্রতাকে অবাধ বিচরণ বা মেলামেশা করার মাধ্যমে যুক্তিযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। কারণ মেলামেশা বা অবাধ বিচরণ নির্দেশ করে যে, অপবিত্রতার ক্ষেত্রে কাঠিন্য দূর করার জন্য এটি বলা হয়েছে। এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহ সা.) বাণী: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না" - এই সম্পর্কে বলা হয়েছে যে:

প্রথমত, উদ্দেশ্য হতে পারে পানিকে পবিত্র হওয়া এবং একে কোনো কিছু অপবিত্র করতে না পারা - এই দুটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বর্ণনা করা। এটি হবে একের পর এক গুণ বর্ণনা করা, একটিকে অন্যটির কারণ (ইল্লত) বানানো এখানে উদ্দেশ্য নয়। এই দুটি গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করা শরীর, পোশাক বা এই জাতীয় জিনিসের সাথে এর পার্থক্য স্পষ্ট করে দুটি দিক থেকে: এক হচ্ছে এটি পবিত্র এবং অন্যটি হচ্ছে কোনো কিছু একে অপবিত্র করে না। যখন অপবিত্রতা নাকচ করার বিষয়টিকে 'পবিত্র' হওয়ার মাধ্যমে কারণ হিসেবে দর্শানো না হবে, তখন যা পবিত্র নয় তাতে কেবল সংস্পর্শের কারণে অপবিত্রতা সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক হবে না। সুতরাং যদি এই দুটি বিষয় কূপ থেকে পানি সংগ্রহের বৈধতার জন্য দুটি স্বতন্ত্র কারণ হওয়া সম্ভব হয়, তবে একটিকে অন্যটির কারণ বলা আবশ্যক নয়। বরং তাঁর কথা "অপবিত্র হয় না" কথাটি "পানি অপবিত্র (জানাবাতগ্রস্ত) হয় না" কথার মতো। সেখানেও পানি থেকে অপবিত্রতা (জানাবাত) দূর হওয়াকে 'পবিত্র' হওয়ার মাধ্যমে কারণ হিসেবে দেখানো হয়নি। অনুরূপভাবে এখানেও পানি থেকে নাপাকি নাকচ হওয়াকে 'পবিত্র' হওয়ার মাধ্যমে কারণ দর্শানো হয়নি। বরং সেখানে আয়িশা (রা.)-এর উচ্ছিষ্ট পানি ব্যবহারের বৈধতাকে এই কারণ দ্বারা দর্শানো হয়েছে যে "পানি অপবিত্র (জানাবাতগ্রস্ত) হয় না", আর এখানে বি’রে বুদা’আ (বুদা’আ কূপ) থেকে তাঁর অযু করাকে এই কারণ দ্বারা দর্শানো হয়েছে যে "পানি নাপাক হয় না", সাথে এটিও যোগ করা হয়েছে যে "পানি পবিত্র"। যারা চিন্তা করবেন তাদের কাছে এটি স্পষ্ট, বরং এটিই হাদিসের প্রকাশ্য অর্থ।

এর ব্যাখ্যা হলো, তিনি হাদাস (অজু-গোসলের আবশ্যকতা) এবং খাবাস (প্রকৃত অপবিত্রতা) দূর করার ক্ষেত্রে মাটিকে 'পবিত্রকারী' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান এবং এর মাটিকে পবিত্রকারী করা হয়েছে।" এবং জুতার ক্ষেত্রে বলেছেন: "সে যেন তা মাটি দিয়ে ঘষে নেয়, কারণ মাটি তাদের জন্য পবিত্রকারী।" তা সত্ত্বেও অপবিত্রতার ক্ষেত্রে মাটি এবং জমিনের অন্যান্য অংশের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই; মাটি বা অন্য কিছু যাই হোক, যদি তাতে নাপাকি প্রকাশ পায় তবে তা নাপাক বলে গণ্য হবে। আর যখন সূর্য বা অন্য কিছুর মাধ্যমে তা দূর হয়ে যায়, তখন হয় বলা হবে যে এটি নিরঙ্কুশভাবে দূর হয়ে গেছে অথবা বলা হবে যে মোটেও দূর হয়নি। এখানে মাটি এবং বালু বা জমিনের অন্যান্য অংশের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হয়নি, যেমনটি পার্থক্য করেছেন তারা যারা হাদাস (অজু-গোসলের পবিত্রতা) অর্জনের ক্ষেত্রে এগুলোর মাঝে পার্থক্য করেন। বরং যারা নাপাকি দূর হওয়ার কথা বলেন তারা বুখারি শরীফের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন যে: "কুকুরগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে আসা-যাওয়া করত এবং প্রস্রাব করত, কিন্তু তারা এসবের ওপর পানি ছিটাতেন না।" অথচ মসজিদে মাটি এবং অন্যান্য উপাদানও ছিল।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৪)
فَإِذا كَانَ قَوْله فَإِن التُّرَاب لَهما طهُور صَرِيحًا فِي التَّعْلِيل وَلم يخص التُّرَاب بذلك فَقَوله فِي المَاء إِنَّه طهُور لَا يُنجسهُ شئ أولى أَن يخص بذلك لَكِن هَل يُقَال إِن غير المَاء يُشَارِكهُ فِي إِزَالَة النَّجَاسَة كَمَا شَارك التُّرَاب مَا لَيْسَ بِتُرَاب هَذَا نزاع مَشْهُور

وللعلماء فِي إِزَالَة النَّجَاسَة بِغَيْر المَاء ثَلَاثَة أَقْوَال

قيل يجوز مُطلقًا وَهُوَ قَول أبي حنيفَة وَرِوَايَة عَن أَحْمد

وَقيل لَا يجوز مُطلقًا كَقَوْل الشَّافِعِي وَالظَّاهِر عَن أَحْمد

وَقيل يجوز عِنْد الْحَاجة وَهُوَ قَول ثَالِث فِي مَذْهَب أَحْمد كَمَا قيل بذلك على أحد الْوُجُوه فِي طَهَارَة فَم الهر باللعاب وَكَذَلِكَ أَفْوَاه الصّبيان وَنَحْوهم من القئ فَإِن قيل إِن طهورية المَاء من النَّجَاسَة يُشَارِكهُ فِيهَا غَيره صَار كالتراب وَإِن قيل لَا يُشَارِكهُ كَانَ قَوْله المَاء طهُور لَا يُنجسهُ شئ عليلا لَا ستبقائه كَمَا سبق

وَبِالْجُمْلَةِ فَلم أعلم إِلَى سَاعَتِي هَذِه لمن ينجس الماءعات الْكَثِيرَة بِوُقُوع النَّجَاسَة فِيهَا رذا لم تَتَغَيَّر حجَّة يعْتَمد عَلَيْهَا الْمُفْتِي فِيمَا بَينه وَبَين الله فتحريم الْحَلَال كتحليل الْحَرَام فَمن كَانَ عِنْده علم يرجع إِلَيْهِ أَو يعْتَمد عَلَيْهِ فَليتبعْ الْعلم وَإِن لم يكن عِنْده رلا مُجَرّد التَّقْلِيد فالنزاع فِيهِ مَشْهُور وَقد قَالَ الله تَعَالَى {وَلَا تَقولُوا لما تصف أَلْسِنَتكُم الْكَذِب هَذَا حَلَال وَهَذَا حرَام}

 

‌‌بَاب الْآنِية

المُرَاد بالضبة للْحَاجة مَا يحْتَاج إِلَى تِلْكَ الصُّورَة سَوَاء كَانَ غَيرهَا يقوم مقَامهَا كالنحاس أَولا أما لَو كَانَ مُضْطَرّا إِلَيْهَا أبيحت سَوَاء كَانَت من ذهب أَو فضَّة كالأنف وَشد الْأَسْنَان بِالذَّهَب وَنَحْو ذَلِك

لَو لم يجد مَا يشرب فِيهِ رلا إِنَاء ذهب أَو فضَّة جَازَ
যদি তাঁর বাণী "মাটি সেই দুইটির জন্য পবিত্রকারী" কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে কেবল মাটিকে নির্দিষ্ট করা না হয়ে থাকে, তবে পানি সম্পর্কে তাঁর বাণী "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না" -এ বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে অধিক উপযোগী। কিন্তু কথা কি এই যে, পানি ব্যতীত অন্য কিছুও নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে অংশীদার হবে, যেমন মাটি ব্যতীত অন্য কিছুও মাটির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অংশীদার হয়েছে? এটি একটি প্রসিদ্ধ বিতর্ক।

পানি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে নাপাকি দূর করার বিষয়ে আলেমদের তিনটি মত রয়েছে।

বলা হয়েছে যে, এটি সাধারণভাবে জায়েজ; এটি ইমাম আবু হানিফার মত এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত।

এবং বলা হয়েছে যে, এটি সাধারণভাবে জায়েজ নয়; যেমনটি ইমাম শাফেয়ীর মত এবং ইমাম আহমাদ থেকে প্রাপ্ত প্রকাশ্য মত।

এবং বলা হয়েছে যে, প্রয়োজনে জায়েজ; এটি ইমাম আহমাদের মাজহাবের তৃতীয় একটি মত। যেমনটি বিড়ালের মুখের লালা দ্বারা পবিত্র হওয়ার বিষয়ে এবং একইভাবে শিশুদের মুখ ও বমির মতো অন্যান্য বিষয় থেকে পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কোনো মতে বলা হয়েছে। সুতরাং যদি বলা হয় যে, নাপাকি থেকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে পানির সাথে অন্য কিছুও অংশীদার, তবে তা মাটির মতোই হবে। আর যদি বলা হয় যে অংশীদার নয়, তবে "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না" -এই বাণীটি পূর্বের ন্যায় তার কার্যকারিতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়বে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, যারা অধিক পরিমাণ তরল পদার্থে নাপাকি পড়ার কারণে তা অপবিত্র হওয়ার কথা বলেন—যদি না তার গুণাবলী পরিবর্তিত হয়—তাদের এমন কোনো দলিল আমার জানা নেই যার ওপর একজন মুফতি নিজের ও আল্লাহর মাঝে দায়মুক্তির জন্য নির্ভর করতে পারেন। কেননা হালালকে হারাম করা ঠিক হারামকে হালাল করার মতোই। সুতরাং যার নিকট প্রত্যাবর্তনের মতো বা নির্ভর করার মতো জ্ঞান রয়েছে, সে যেন জ্ঞানের অনুসরণ করে। আর যার কাছে অন্ধ অনুকরণ ছাড়া কিছু নেই, তবে এ বিষয়ে তো বিতর্ক প্রসিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের জিহ্বা থেকে যে মিথ্যা বর্ণিত হয় তার ভিত্তিতে তোমরা বলো না যে—এটি হালাল এবং এটি হারাম।"

 

‌‌পাত্র অধ্যায়

প্রয়োজনের তাগিদে জোড়া দেওয়ার (দাব্বাহ) উদ্দেশ্য হলো সেই আকৃতিটির প্রয়োজনীয়তা, অন্য কিছু তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারুক (যেমন তামা) বা না পারুক। তবে যদি কেউ সেটির প্রতি নিরুপায় হয়, তবে তা জায়েজ হবে, চাই তা স্বর্ণের হোক বা রূপার; যেমন কৃত্রিম নাক লাগানো বা স্বর্ণ দিয়ে দাঁত বাঁধানো এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।

যদি কেউ পানি পান করার জন্য স্বর্ণ বা রূপার পাত্র ব্যতীত অন্য কোনো পাত্র খুঁজে না পায়, তবে তা জায়েজ হবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَو لم يجد ثوبا بَقِيَّة الْبرد أَو يَقِيه السِّلَاح أَو يستر عَوْرَته رلا حَرِيرًا منسوجا بِذَهَب أَو فضَّة جَازَ لبسه

فَإِن الضَّرُورَة تبيح أكل الْميتَة وَالدَّم وَلحم الْخِنْزِير بِنَصّ الْقُرْآن مَعَ أَن تَحْرِيم المطاعم أَشد من تَحْرِيم الملابس لِأَن تَأْثِير الْخَبَائِث بالمازجة للبدن أعظم من تأثيرها بالملابسة باللباس وَلِهَذَا كَانَت النَّجَاسَات الَّتِي يحرم ملابستها يحرم أكلهَا وَيحرم من السمُوم وَنَحْوهَا من المضرات مَا لَيْسَ بِنَجس وَلَا يحرم مباشرتها ثمَّ مَا حرم لخبث جنسه أَشد مِمَّا حرم لما فِيهِ من السَّرف وَالْفَخْر وَالْخُيَلَاء فَإِن هَذَا يحرم الْقدر الَّذِي يَقْتَضِي ذَلِك مِنْهُ وَيُبَاح للْحَاجة كَمَا للنِّسَاء وَلِهَذَا كَانَ الصَّحِيح من الْقَوْلَيْنِ فِي مَذْهَب أَحْمد وَغَيره جَوَاز التَّدَاوِي بِهَذَا الضَّرْب دون الأول كَمَا رخص صلى الله عليه وسلم للزبير وَطَلْحَة رضي الله عنه فِي لبس الْحَرِير من حكة وَنهى عَن التداوى بِالْخمرِ وَقَالَ إِنَّهَا دَاء وَلَيْسَت بدواء وَنهى عَن الدَّوَاء الْخَبيث وَعَن قتل الضفدع لأجل التداوى بهَا وَقَالَ نقيقها تَسْبِيح وَقَالَ إِن الله تَعَالَى لم يَجْعَل شِفَاء أمتِي فِيمَا حرم عَلَيْهِم

وَاسْتدلَّ على طَهَارَة أَبْوَال الْإِبِل بِإِذْنِهِ العرنيين بشربها فَلَيْسَتْ من الْخَبَائِث الْمُحرمَة النَّجِسَة لنَهْيه عليه الصلاة والسلام عَن التَّدَاوِي بِمثل ذَلِك وَلم يَأْمر بِغسْل أَفْوَاههم مِنْهَا وَإِن كَانَ الْقَائِلُونَ بِطَهَارَة أبوالها تنازعوا فِي جَوَاز شربهَا لغير ضَرُورَة وَفِيه رِوَايَتَانِ منصوصتان وَكَذَلِكَ لما فِيهَا من القذارة الملحقة بالبصاق والمخاط والمنى وَنَحْو ذَلِك من المتقذرات

وَلِهَذَا أَيْضا حرم الضَّرْب فِي بَاب الْآنِية والمنقولات على الرِّجَال وَالنِّسَاء بِخِلَاف التحلى باذهب وَلبس الْحَرِير الْمُبَاح للنِّسَاء وَبَاب الحبائث بِالْعَكْسِ وَخص من اسْتِعْمَال ذَلِك مَا ينْفَصل عَن بدن الْإِنْسَان مِمَّا لَا يُبَاح مصلا بِهِ كَمَا بياح إطفاء الْحَرِيق بِالْخمرِ وإطعام الْميتَة للبزاة والصقور وإلباس الدَّابَّة الثَّوْب النَّجس والاستصباح بالدهن النَّجس فِي أشهر قولي الْعلمَاء وَذَلِكَ لِأَن
যদি কোনো ব্যক্তি শীত নিবারণের জন্য অথবা অস্ত্র থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অথবা সতর ঢাকার জন্য স্বর্ণ বা রৌপ্য খচিত রেশমি কাপড় ছাড়া অন্য কোনো কাপড় না পায়, তবে তা পরিধান করা জায়েয।

কারণ কুরআনের সুস্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয়তা (জরুরত) মৃত প্রাণী, রক্ত এবং শূকরের মাংস খাওয়া বৈধ করে দেয়; যদিও খাবারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা পোশাকের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও কঠোর। কেননা দেহের সাথে মিশে যাওয়ার মাধ্যমে অপবিত্র জিনিসের (খাবারের) প্রভাব পোশাক পরিধানের মাধ্যমে স্পর্শ হওয়ার প্রভাবের চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণেই যেসব নাপাক বস্তু স্পর্শ করা হারাম, তা খাওয়াও হারাম। আর বিষ বা অনুরূপ ক্ষতিকর বস্তু যা নাপাক নয় এবং যা স্পর্শ করা হারাম নয়, তাও (খাওয়া) হারাম করা হয়েছে। অতঃপর, যা আপন সত্তাগত অপবিত্রতার কারণে হারাম করা হয়েছে, তা সেই বস্তুর চেয়ে অধিক কঠোর যা অপচয়, অহংকার বা গর্বের কারণে হারাম করা হয়েছে। কারণ অহংকারবোধক পরিমাণটুকুই কেবল হারাম হয় এবং বিশেষ প্রয়োজনে তা বৈধ হয়, যেমনটি নারীদের ক্ষেত্রে (স্বর্ণ ও রেশম) বৈধ। এ কারণেই ইমাম আহমাদ ও অন্যদের মাযহাবের দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর মত হলো, দ্বিতীয় প্রকারের (গর্ব বা প্রয়োজনে ব্যবহৃত) বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করা জায়েয, কিন্তু প্রথম প্রকারের (সত্তাগত অপবিত্র) বস্তু দ্বারা নয়। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুবায়ের ও তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে চুলকানির কারণে রেশম পরিধানের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর তিনি মদ দিয়ে চিকিৎসা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি একটি ব্যাধি, কোনো ঔষধ নয়। তিনি অপবিত্র ঔষধ এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যাঙ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে ব্যাঙের ডাক হলো তাসবিহ। তিনি আরও বলেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর উম্মতের জন্য যা হারাম করেছেন তাতে কোনো আরোগ্য রাখেননি।

উটের মূত্র পবিত্র হওয়ার সপক্ষে উরাইনা গোত্রের লোকদের এটি পান করার জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুমতির মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে। সুতরাং এটি সেই অপবিত্র ও হারাম বস্তুসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় যেগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা করতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। তদুপরি তিনি তাদের মুখ ধোয়ার নির্দেশও দেননি। যদিও যারা উটের মূত্র পবিত্র হওয়ার কথা বলেন, তারা প্রয়োজন ব্যতীত এটি পান করার বৈধতা নিয়ে মতভেদ করেছেন এবং এ বিষয়ে দুটি সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। কারণ এতে থুতু, শ্লেষ্মা, বীর্য এবং অনুরূপ ঘৃণিত বস্তুসমূহের মতো এক ধরণের নোংরামি রয়েছে।

এ কারণেই পাত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যবহার করা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য সমানভাবে হারাম করা হয়েছে, যা নারীদের অলঙ্কার ও রেশম পরিধানের বৈধতার বিপরীত। আর অপবিত্র বস্তুর বিষয়টি এর ঠিক উল্টো। আর সেসব ব্যবহারের বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা মানুষের দেহ থেকে আলাদা থাকে এবং যার সাথে সালাত আদায় করা বৈধ নয়। যেমন আলেমদের দুটি প্রসিদ্ধ মতের মধ্যে অধিকতর প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী—মদ দিয়ে আগুন নেভানো, বাজপাখি বা শিকারি পাখিকে মৃত প্রাণী খাওয়ানো, পশুকে নাপাক কাপড় পরানো এবং নাপাক তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো বৈধ। আর এর কারণ হলো এই যে...
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৬)
اسْتِعْمَال الْخَبَائِث فِيهَا يجرى مجْرى الْإِتْلَاف وَلَيْسَ فِيهِ ضَرَر وَكَذَلِكَ فِي الْأُمُور الْمُنْ‌‌فَصِلَة بِخِلَاف اسْتِعْمَال الْحَرِير وَالذَّهَب فَإِن غَايَته السَّرف وَالْفَجْر

وَبِهَذَا يظْهر غلط من رخص من أَصْحَاب أَحْمد وَغَيرهم فِي إلباس دَابَّته الْحَرِير قِيَاسا على النَّجس فَهُوَ بِمَنْزِلَة من يجوز افتراش الْحَرِير ووطأه قِيَاسا على المصورات أَو من يُبِيح تحلية دَابَّته بِالذَّهَب وَالْفِضَّة قِيَاسا على إلباسها الثَّوْب النَّجس فقد ثَبت بِالنَّصِّ تَحْرِيم افتراش الْحَرِير

وَيظْهر أَن قَول من حرم افتراشه على النِّسَاء كَمَا هُوَ قَول المراوزة من أَصْحَاب الشَّافِعِي أقرب من قَول من أَبَاحَهُ للرِّجَال كَمَا قَالَه أَبُو حنيفَة وَأَن الْجُمْهُور على أَن الافتراش كاللباس يحرم على الرِّجَال دون النِّسَاء لِأَن الافتراش لبس إِذْ لَا يلْزم من إِبَاحَة التزين على الْبدن إِبَاحَة الْمُنْفَصِل كَمَا فِي الذَّهَب وَالْفِضَّة فَإِنَّهُم اتَّفقُوا على أَن اسْتِعْمَال ذَلِك حرَام على الذّكر وَالْأُنْثَى

 

فصل

آخر الرِّوَايَتَيْنِ عَن أَحْمد أَن الدّباغ مطهر لَكِن فِي ذَلِك نزاع هَل يقوم الدّباغ مقَام الذَّكَاة أَو مقَام الْحَيَاة فِيهِ وَجْهَان أَو جهما الأول

وَهُوَ أَنه يطهر بالدباغ مَا يطهر بالذكاة وَحَدِيث عبد الله بن عكيم رضي الله عنه نهى عَن الِانْتِفَاع بالجلود بِلَا دباغ فَإِنَّهُ كَانَ قد أرخص فِيهِ وَأما بعد الدبغ فَلم ينْه عَنهُ قطّ

وَعظم الْميتَة وقرنها وظفرها وشعرها وريشها وَنَحْوه فِيهِ ثَلَاث أَقْوَال نَجَاسَة الْجَمِيع وَهُوَ رِوَايَة عَن أَحْمد

الثَّانِي أَن الْعِظَام وَنَحْوهَا نَجِسَة والشعور وَنَحْوهَا طَاهِرَة وَهُوَ الْمَشْهُور من مَذْهَب أَحْمد
অপবিত্র বস্তু ব্যবহার করা সেখানে বিনষ্ট করার শামিল এবং এতে কোনো ক্ষতি নেই। বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও অনুরূপ। তবে রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহারের বিষয়টি ভিন্ন, কেননা এর শেষ পরিণতি হলো অপব্যয় ও অহমিকা।

এর মাধ্যমে ইমাম আহমাদের অনুসারী ও অন্যদের মধ্য থেকে যারা নাপাক বস্তুর ওপর কিয়াস করে পশুকে রেশম পরিধান করানো বৈধ বলেছেন, তাদের ভুল স্পষ্ট হয়। এটি ওই ব্যক্তির মতো, যে নকশাকৃত বস্ত্রের ওপর কিয়াস করে রেশমের বিছানা ব্যবহার করা ও তার ওপর পদপিষ্ট করা বৈধ মনে করে, অথবা যে পশুকে নাপাক কাপড় পরানোর ওপর কিয়াস করে তাকে স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা অলঙ্কৃত করা বৈধ মনে করে। অথচ রেশমের বিছানা ব্যবহার হারাম হওয়া নস দ্বারা প্রমাণিত।

এবং এটি স্পষ্ট হয় যে, নারীদের জন্য রেশমের বিছানা ব্যবহার হারাম হওয়ার যে মত ইমাম শাফেয়ীর অনুসারী মারওয়াযীগণ দিয়েছেন, তা ইমাম আবু হানিফার মতো পুরুষদের জন্য তা বৈধ বলার চেয়ে অধিকতর সঠিক। জুমহুর উলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেন যে, বিছানা হিসেবে রেশম ব্যবহার করা পরিধান করার মতোই, যা পুরুষদের জন্য হারাম কিন্তু নারীদের জন্য নয়। কেননা বিছিয়ে রাখাটাও পরিধানের অন্তর্ভুক্ত। শরীরের অলঙ্করণ বৈধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, শরীর থেকে বিচ্ছিন্নভাবেও তা ব্যবহার করা বৈধ হবে, যেমনটা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কেননা আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, স্বর্ণ-রৌপ্যের ব্যবহার (পাত্র হিসেবে) নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই হারাম।

 

পরিচ্ছেদ

ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে পরবর্তী বর্ণনাটি হলো—চামড়া পাকা করা একে পবিত্র করে। তবে এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে যে, চামড়া পাকা করা কি জবেহ করার স্থলাভিষিক্ত হবে নাকি জীবনের স্থলাভিষিক্ত হবে? এ ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে প্রথমটি হলো:

তা হলো—জবেহ করার মাধ্যমে যা পবিত্র হয়, চামড়া পাকা করার মাধ্যমেও তাই পবিত্র হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে পাকা করা ছাড়া চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে, কেননা ইতিপূর্বে এর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আর চামড়া পাকা করার পর তা ব্যবহার করতে কখনোই নিষেধ করা হয়নি।

মৃত পশুর হাড়, শিং, খুর, পশম, পালক এবং এই জাতীয় বস্তুর ব্যাপারে তিনটি অভিমত রয়েছে। প্রথমটি হলো—এসবই অপবিত্র, যা ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা।

দ্বিতীয়টি হলো—হাড় ও এই জাতীয় বস্তু অপবিত্র, আর পশম ও এই জাতীয় বস্তু পবিত্র। এটিই ইমাম আহমাদের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالثَّالِث أَن الْجَمِيع طَاهِر وَهُوَ الصَّوَاب وَقَول فِي مَذْهَب أَحْمد وَمَالك وملابسة النَّجَاسَة للْحَاجة جَائِز إِذا طهر بدنه وثيابه عِنْد الصَّلَاة كَمَا يجوز الِاسْتِنْجَاء بِالْمَاءِ مَعَ مُبَاشرَة النَّجَاسَة وَلَا يكره ذَلِك على أصح الرِّوَايَتَيْنِ وَقَول أَكثر الْفُقَهَاء

وَهل تطهر النَّجَاسَة بالاستحالة على قَوْلَيْنِ للعماء هما رِوَايَتَانِ الصَّوَاب الطَّهَارَة

وَقَوْلهمْ إِن الْخمر نَجِسَة بالاستالة فَتطهر بهَا كَذَلِك جَمِيع النَّجَاسَات أَي إِنَّهَا تنجست بالاستحالة كَالدَّمِ يَسْتَحِيل عَن الْغذَاء كَذَلِك الْبَوْل والعذرة حَتَّى الْحَيَوَان النَّجس مُسْتَحِيل عَن المَاء والهواء وَالتُّرَاب وَنَحْوه من الطاهرات وَلَا يَنْبَغِي أَن يعبر عَن ذَلِك بِأَن النَّجَاسَة طهرت بالاستحالة فَإِن نفس النَّجس لم يطهر لَكُنْت اسْتَحَالَ وَهَذَا الطَّاهِر هُوَ ذَلِك النَّجس وَإِن كَانَ مستحيلا مِنْهُ والمادة وَاحِدَة كَمَا أَن الزَّرْع لَيْسَ هُوَ المَاء والهواء وَالْحب وَالْإِنْسَان لَيْسَ هُوَ المنى واللهه تَعَالَى يخلق أجسام الْعَالم بَعْضهَا من بعض وَمَعَ تبدل الْحَقَائِق لَيْسَ هَذَا ذَاك فيكف يكون الرماد هُوَ الْعظم وَاللَّحم وَالدَّم بِمَعْنى أَنه يتَنَاوَلهُ اسْم الدَّم أم الْعظم

أما كَونه هُوَ بِاعْتِبَار الْمَادَّة فَلَا يضر فَإِن التَّحْرِيم تبع للاسم وللمعنى الَّذِي هُوَ الْخبث وَكِلَاهُمَا مُنْتَفٍ

وَيجوز الخرز بِشعر الْخِنْزِير فِي أظهر قولي الْعلمَاء وَمِنْهُم من يَقُول إِنَّه طَاهِر كمالك وَأحمد فِي رِوَايَة عَنهُ وعَلى القَوْل بِنَجَاسَتِهِ يُعْفَى عَن الرُّطُوبَة الَّتِي لَا يُمكن الِاحْتِرَاز عَنْهَا وَإِمَّا أَن لَا يفعل إِن أمكن

وَالصَّحِيح طَهَارَة الشُّعُور كلهَا حَتَّى شعر الْكَلْب

وكل حَيَوَان قيل بِنَجَاسَتِهِ فَفِي شعره رِوَايَتَانِ

وَالصَّحِيح طَهَارَة الْعظم والقرن والريش وَنَحْوه
তৃতীয় (মত) হলো, সবটুকুই পবিত্র। এটিই সঠিক এবং ইমাম আহমাদ ও মালিকের মাযহাবের একটি উক্তি। প্রয়োজনের খাতিরে নাপাকির সংস্পর্শে আসা জায়েজ, যদি সালাতের সময় শরীর ও কাপড় পবিত্র করে নেওয়া হয়; যেমন নাপাকির সরাসরি সংস্পর্শ সত্ত্বেও পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা জায়েজ। দুই বর্ণনার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ বর্ণনা এবং অধিকাংশ ফকিহদের মত অনুযায়ী এটি অপছন্দনীয় নয়।

রূপান্তরের (ইস্তিহালাহ) মাধ্যমে নাপাকি কি পবিত্র হয়? এ বিষয়ে আলেমদের দুটি মত বা বর্ণনা রয়েছে। সঠিক মত হলো, এতে তা পবিত্র হয়ে যায়।

তাদের কথা হলো, মদ যেমন রূপান্তরের মাধ্যমে নাপাক হয়েছিল এবং পুনরায় রূপান্তরের মাধ্যমেই তা পবিত্র হয়, তেমনি সমস্ত নাপাকিও। অর্থাৎ, এগুলো রূপান্তরের মাধ্যমেই নাপাক হয়েছে; যেমন খাদ্য থেকে রক্তে রূপান্তর ঘটে, অনুরূপভাবে প্রস্রাব ও মলও। এমনকি নাপাক প্রাণীও পানি, বাতাস, মাটি এবং এজাতীয় পবিত্র বস্তুসমূহ থেকেই রূপান্তরিত হয়। তবে এভাবে বলা ঠিক নয় যে, নাপাকিটি রূপান্তরের মাধ্যমে পবিত্র হয়েছে; কারণ নাপাক বস্তুটি নিজে পবিত্র হয়নি বরং রূপান্তরিত হয়েছে। যদিও উপাদান অভিন্ন, তবুও এই পবিত্র বস্তুটি সেই নাপাক বস্তু নয়, যদিও তা থেকে এটি রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন ফসল মানেই পানি, বাতাস বা বীজ নয়; এবং মানুষ মানেই বীর্য নয়। মহান আল্লাহ মহাবিশ্বের বস্তুসমূহ একটি থেকে অন্যটি সৃষ্টি করেন। যখন এর হাকিকত বা সত্তাগত রূপ বদলে যায়, তখন এটি আর সেটি থাকে না। সুতরাং ছাই কীভাবে হাড়, মাংস বা রক্ত হতে পারে—যাতে তাকে রক্ত বা হাড় নামে ডাকা হবে?

মূল উপাদানের বিবেচনায় এটি এক হওয়াতে কোনো ক্ষতি নেই; কারণ হারামের বিধান বা নিষেধাজ্ঞা মূলত নাম এবং বিষয়ের অনুগামী, যা অপবিত্রতা। আর এখানে সেই নাম ও বিষয় (অপবিত্রতা) উভয়ই অনুপস্থিত।

আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট মত অনুযায়ী শুকরের লোম দিয়ে সেলাই করা জায়েজ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে পবিত্র বলেছেন, যেমন ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা। আর অপবিত্র হওয়ার মত অনুযায়ী, যে সিক্ততা বা আর্দ্রতা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তা ক্ষমার যোগ্য। তবে সম্ভব হলে তা না করাই উচিত।

সঠিক মত হলো সমস্ত লোমই পবিত্র, এমনকি কুকুরের লোমও।

যে কোনো প্রাণীর নাপাক হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার লোমের ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

সঠিক মত হলো হাড়, শিং, পালক এবং এজাতীয় বস্তুসমূহ পবিত্র।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌‌‌فصل

إِذا سرح شعره فِي الْمَسْجِد وَتَركه يَقع فِيهِ كره عِنْد من لَا ينجس الشّعْر وَعند من يُنجسهُ يحرم

وَبِالْجُمْلَةِ الْمَسْجِد يصان عَن القذاة الَّتِي تقع فِي الْعين

وَلَيْسَ حلق الرَّأْس فِي غير نسك بِسنة وَلَا قربَة بِاتِّفَاق الْمُسلمين

وَتَنَازَعُوا فِي كَرَاهَته وَكَانَ عمر رضي الله عنه يُعَزّر بحلق الرَّأْس فَإِنَّهُ كَانَ عِنْد السّلف مثله

وَمَا علمت أحدا كره السِّوَاك فِي الْمَسْجِد

وقص الشَّارِب لَيْسَ بِعَيْب بل فعله رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ومدح فَاعله وَمن عَابَ شَيْئا فعله رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو أقرّ عَلَيْهِ عرف ذَلِك فَإِن أصر كفر

فصل

الْوضُوء عبَادَة لِأَنَّهُ لَا يعلم رلا من الشَّارِع وكل فعل لَا يعلم رلا من الشَّارِع فَهُوَ عبَادَة كَالصَّلَاةِ وَالصَّوْم وَلِأَنَّهُ مُسْتَلْزم للثَّواب كَمَا وعد عَلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمُتَوَضِّئ بتكفير خطاياه فَلَا بُد فِيهِ من النِّيَّة وَمن لم يُوجب النِّيَّة رأى ذَلِك من شَرَائِط الصَّلَاة فَهُوَ كالسترة

وَهل يَصح غسل الْكَافِر من الْجَنَابَة على قَوْلَيْنِ بِخِلَاف وضوئِهِ

وَكره مَالك وَأحمد لبس الْعِمَامَة الْمُقطعَة الَّتِي لَيْسَ تَحت الحنك مِنْهَا شئ وَكَانَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه يَقُول لَا ينظر الله إِلَى قوم لَا يديرون عمائمهم تَحت أذقانهم وَكَانُوا يسمونها الفاسقية لَكِن رخص فِيهَا إِسْحَق
‌‌‌পরিচ্ছেদ

যদি কেউ মসজিদে তার চুল আঁচড়ায় এবং তা সেখানে পড়ে থাকতে দেয়, তবে যারা চুলকে অপবিত্র মনে করেন না তাদের নিকট এটি মাকরূহ, আর যারা চুলকে অপবিত্র মনে করেন তাদের নিকট এটি হারাম।

সারকথা হলো, মসজিদকে এমন সকল ময়লা-আবর্জনা থেকে পবিত্র রাখতে হবে যা চোখে পড়ে।

আর হজ্জ বা উমরার ইবাদত ব্যতীত অন্য সময়ে মাথা মুণ্ডন করা মুসলমানদের সর্বসম্মত মতে সুন্নাত নয় এবং ইবাদতও নয়।

তবে এটি মাকরূহ হওয়ার বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মাথা মুণ্ডন করার কারণে শাস্তি প্রদান করতেন, কেননা সালাফদের নিকট এটি ছিল অঙ্গহানি বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সমতুল্য।

আর মসজিদে মেসওয়াক করাকে কেউ অপছন্দ করেছেন বলে আমার জানা নেই।

গোঁফ ছোট করা কোনো দোষের বিষয় নয়, বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি করেছেন এবং যে এটি করে তার প্রশংসাও করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছেন বা যার অনুমোদন দিয়েছেন, এমন কোনো কাজকে যদি কেউ দোষারোপ করে, তবে তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে; অতঃপর সে যদি এরপরও অটল থাকে তবে সে কুফরি করল।

পরিচ্ছেদ

ওযু একটি ইবাদত, কারণ শরীয়ত প্রণেতা ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে এর বিধান জানা সম্ভব নয়। আর যে সকল কাজের বিধান কেবল শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকেই জানা যায়, তা নামায ও রোযার মতোই ইবাদত। তদুপরি, ওযু সওয়াব প্রাপ্তির মাধ্যম, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযুকারীর পাপ মোচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুতরাং এতে নিয়ত করা আবশ্যক। আর যারা নিয়তকে ওয়াজিব মনে করেন না, তারা একে নামাযের শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন, যেমন সতর ঢাকা।

আর অপবিত্রতা থেকে কাফিরের গোসল সহীহ হওয়া সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে, তবে ওযুর বিষয়টি এর বিপরীত।

ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ এমন খণ্ডিত পাগড়ি পরিধান করা অপছন্দ করেছেন যার কোনো অংশ থুতনির নিচ দিয়ে পেঁচানো থাকে না। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, আল্লাহ এমন সম্প্রদায়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না যারা তাদের পাগড়িকে থুতনির নিচ দিয়ে ঘুরিয়ে বাঁধে না। তারা ইহাকে ‘ফাসেকী’ পাগড়ি হিসেবে অভিহিত করতেন। তবে ইসহাক এতে ছাড় দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَغَيره وروى أَن أَبنَاء الْمُهَاجِرين كَانُوا يتعممون كَذَلِك وَقد يجمع بَينهمَا بِأَن هَذَا حَال الْمُجَاهدين والمستعدين لَهُ وَهَذَا حَال من لَيْسَ من أهل الْجِهَاد وإمساكها بالسيور يشبه التحنيك

 

‌‌فصل

النّظر إِلَى الْأَمْرَد لشَهْوَة حرَام بِإِجْمَاع الْمُسلمين وَكَذَلِكَ إِلَى ذَوَات الْمَحَارِم ومصافحتهم والتلذذ بهم وَمن قَالَ إِنَّه عبَادَة فَهُوَ كَافِر وَهُوَ بِمَنْزِلَة من جعل إِعَانَة طَالب الْفَوَاحِش عبَادَة بل النّظر إِلَى الْأَشْجَار وَالْخَيْل والبهائم إِذا كَانَ على وَجه اسْتِحْسَان الدُّنْيَا والرياسة وَالْمَال فَهُوَ مَذْمُوم لقَوْله الله تَعَالَى {وَلَا تَمُدَّن عَيْنَيْك إِلَى مَا متعنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْهُم زهرَة الْحَيَاة الدُّنْيَا لنفتنهم فِيهِ ورزق رَبك خير وَأبقى}

وَأما إِذا كَانَ على وَجه لَا ينقص الدّين وَإِنَّمَا فِيهِ رَاحَة النَّفس فَقَط كالنظر إِلَى الأزهار فَهَذَا من الْبَاطِل الَّذِي يستعان بِهِ على الْحق

وَقد ينظر إِلَى الإسنان لما فِيهِ من الايمان وَالتَّقوى وَهنا الِاعْتِبَار بِقَلْبِه وَعَمله لَا بصورته

وَقد ينظر إِلَيْهِ لما فِيهِ من الصُّورَة الدَّالَّة على المصور فَهَذَا حسن

وَقد ينظر من جِهَة اسْتِحْسَان خلقه

فَكل قسم من هَذِه الْأَقْسَام مَتى كَانَ مَعَه شَهْوَة كَانَ حَرَامًا بِلَا ريب سَوَاء كَانَت شَهْوَة يمتع نظره لشَهْوَة الْوَطْء

وَفرق بَين مَا يجده الْإِنْسَان عِنْد نظره إِلَى الأزهار وَبَين مَا يجده عِنْد نظره إِلَى النسوان والمردان فَلهَذَا الْفرْقَان فرق فِي الحكم الشَّرْعِيّ فَصَارَ النّظر إِلَى المردان ثَلَاثَة أَقسَام

أَحدهَا مَا تقترن بِهِ الشَّهْوَة فَهُوَ حرَام بالِاتِّفَاقِ
...এবং অন্যান্য। বর্ণিত আছে যে মুহাজিরগণের সন্তানরা এভাবেই পাগড়ি পরিধান করতেন। আর এই দুইয়ের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা যেতে পারে যে, এটি হলো মুজাহিদ এবং জিহাদের জন্য প্রস্তুত ব্যক্তিদের অবস্থা, আর এটি হলো তাদের অবস্থা যারা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফিতা দিয়ে পাগড়ি বেঁধে রাখা 'তাহনিক'-এর (চিবুকের নিচ দিয়ে পাগড়ির প্যাঁচ আনা) সদৃশ।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

কামনার সাথে দাড়িহীন কিশোরের প্রতি তাকানো মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। অনুরূপভাবে মাহরাম নারীদের প্রতি তাকানো, তাদের সাথে মুসাফাহা করা এবং তাদের মাধ্যমে আনন্দ আস্বাদন করাও হারাম। আর যে ব্যক্তি বলবে যে এটি ইবাদত, সে কাফের; সে ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যে অশ্লীলতা অন্বেষণকারীকে সাহায্য করাকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। বরং গাছপালা, ঘোড়া এবং পশুপাখির প্রতি তাকানোও যদি পার্থিব সৌন্দর্য, নেতৃত্ব এবং সম্পদের মোহে হয়, তবে তা নিন্দনীয়। কারণ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য হিসেবে ভোগ-বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, তার দিকে আপনি আপনার চোখ প্রসারিত করবেন না; তাদেরকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করার জন্য। আর আপনার রবের রিযিকই উৎকৃষ্ট ও অধিকতর স্থায়ী।}

আর যদি তা এমনভাবে হয় যা দ্বীনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং তাতে কেবল নফসের প্রশান্তি রয়েছে—যেমন ফুলের দিকে তাকানো—তবে তা এমন নিরর্থক কাজ যার মাধ্যমে হকের ওপর সহায়তা লাভ করা হয়।

আর কখনো মানুষের প্রতি তার ঈমান ও তাকওয়ার কারণে তাকানো হয়; আর এখানে বিচার্য বিষয় হলো তার অন্তর ও আমল, তার চেহারা নয়।

আবার কখনো তার প্রতি এই দৃষ্টিতে তাকানো হয় যে, এটি এমন এক প্রতিকৃতি যা এর মহান কারিগরের (স্রষ্টার) পরিচয় প্রদান করে; আর এটি উত্তম।

আবার কখনো তার শারীরিক গঠনের সৌন্দর্যের কারণে তাকানো হতে পারে।

অতএব, এই বিভাগগুলোর প্রত্যেকটি যখন কামনাবাসনার সাথে যুক্ত হবে, তখন তা নিঃসন্দেহে হারাম হবে; চাই তা কেবল দৃষ্টির উপভোগের জন্য হোক অথবা সহবাসের কামনায় হোক।

আর মানুষ ফুলের দিকে তাকালে যা অনুভব করে এবং নারী ও দাড়িহীন কিশোরদের দিকে তাকালে যা অনুভব করে, তার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যের কারণেই শরয়ি বিধানেও ব্যবধান রাখা হয়েছে। ফলে দাড়িহীন কিশোরদের দিকে তাকানোর বিষয়টি তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে।

প্রথমটি হলো যার সাথে কামনা বা লালসা যুক্ত থাকে; আর এটি সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَالثَّانِي مَالا يحرم لِأَنَّهُ لَا شَهْوَة مَعَه كنظر الرجل الْوَرع إِلَى وَلَده الْحسن وَابْنَته الْحَسْنَاء فَهَذَا لَا تقترن مَعَه شَهْوَة إِلَّا أَن يكون من أفجر الْخلق وَمَتى اقترنت بِهِ الشَّهْوَة حرم

وعَلى هَذَا من لَا يمِيل قلبه رلي المردان كَمَا كَانَ الصَّحَابَة رضي الله عنهم وكالأمم الَّذين لَا يعْرفُونَ هَذِه الْفَاحِشَة فَإِن الْوَاحِد من هَؤُلَاءِ لَا يفرق بَين نظره إِلَيّ هَذَا الْوَجْه وَبَين نظره إِلَيّ ابْنه وَابْن جَاره وصبى أَجْنَبِي لَا يخْطر بِقَلْبِه شئ من الشَّهْوَة لِأَنَّهُ لم يعْتد ذَلِك وَهُوَ سليم الْقلب وَقد كَانَ الْإِمَاء على عهد الصَّحَابَة رضي الله عنه يَمْشين فِي الطرقات مكشوفات الْوُجُوه ويخدمن الرِّجَال مَعَ سَلامَة القولب فَلَو أَرَادَ الرجل أَن يتْرك الإِمَام التركيات الحسان يَمْشين بَين النَّاس فِي هَذِه الْبِلَاد والأوقات لَكَانَ من بَاب الْفساد وَكَذَلِكَ المردان الحسان لَا يَصح أَن يخرجُوا فِي الْأَمْكِنَة والأزمنة الَّتِي يخَاف فِيهَا الْفِتْنَة بهم إِلَّا بِقدر الْحَاجة فَلَا يُمكن الْأَمْرَد الْحسن وَالْوَجْه من التفرج وَلَا من الْجُلُوس فِي الْحمام بَين الْأَجَانِب وَلَا من رقصه بَين الرِّجَال وَنَحْو ذَلِك

وَإِنَّمَا وَقع النزاع بَين النَّاس فِي الْقسم الثَّالِث وَهُوَ النّظر إِلَيْهِ لغير شَهْوَة لَكِن مَعَ خوف ثورانها فَفِيهِ وَجْهَان فِي مَذْهَب أَحْمد أصَحهمَا وَهُوَ المحكي عَن نَص الشَّافِعِي وَغَيره أَنه لَا يجوز

وَالثَّانِي يجوز لِأَن الأَصْل عدم ثورانها وَالْأول هُوَ الرَّاجِح

وَمن أدمن النّظر رلى الْأَمْرَد وَقَالَ إِنَّه لَا ينظر لشَهْوَة فقد كذب فَإِنَّهُ رذا لم يكن لَهُ دَاع يحْتَاج مَعَه إِلَيّ النّظر لم يكن مِنْهُ النّظر فَإِنَّهُ مَا ينظر رلا لما يحصل فِي الْقلب من اللَّذَّة وَأما نظر الْفجأَة فَهُوَ عَفْو إِذا صرف بَصَره

وَيُقَال غض الْبَصَر عَن الصُّورَة الَّتِي يحرم النّظر إِلَيْهَا لَهُ ثَلَاث فَوَائِد

إِحْدَاهَا حلاوة الْإِيمَان ولذته الَّتِي هِيَ أحلى وَأطيب مِمَّا تَركه لله وَالنَّفس تحب النّظر إِلَى الصُّور لَا سِيمَا نفوس أهل الرياضة والصفا فَإِنَّهُ يبْقى فِيهَا رقة
দ্বিতীয়টি হলো যা হারাম নয়; কারণ এতে কোনো কামভাব থাকে না। যেমন একজন পরহেজগার ব্যক্তির তার রূপবান পুত্র বা রূপবতী কন্যার দিকে তাকানো। এতে কামভাব যুক্ত থাকে না, তবে যদি সে সৃষ্টির সবচেয়ে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি হয় তবে ভিন্ন কথা। আর যখনই এর সাথে কামভাব যুক্ত হবে, তখন তা হারাম হয়ে যাবে।

আর এ ভিত্তিতেই, যার অন্তর দাড়িহীন কিশোরদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে না—যেমনটা ছিল সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর অবস্থা এবং এমন জাতিসমূহ যারা এই অশ্লীলতা সম্পর্কে অবগত ছিল না—তাদের কেউ এই ধরনের সুন্দর চেহারার দিকে তাকানো এবং নিজের পুত্র, প্রতিবেশীর পুত্র বা কোনো অপরিচিত বালকের দিকে তাকানোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। তার হৃদয়ে কামভাবের কোনো উদ্রেক ঘটে না, কারণ সে এতে অভ্যস্ত নয় এবং সে নিষ্কলুষ হৃদয়ের অধিকারী। সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর যুগে দাসীরা মুখ খোলা রেখে রাস্তায় চলাফেরা করত এবং পুরুষদের সেবা করত, কারণ তখন মানুষের অন্তর নিরাপদ ছিল। এখন যদি কোনো ব্যক্তি সুন্দরী তুর্কি দাসীদের এই শহরগুলোতে এবং এই সময়ে লোকজনের মাঝে চলাফেরা করতে ছেড়ে দেয়, তবে তা বিপর্যয়ের কারণ হবে। তেমনিভাবে, রূপবান দাড়িহীন কিশোরদের এমন স্থানে বা এমন সময়ে বের হওয়া সঠিক নয় যেখানে তাদের মাধ্যমে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত। সুতরাং রূপবান দাড়িহীন কিশোরকে বিনোদনের জন্য ঘুরে বেড়ানো, অপরিচিতদের মাঝে গোসলখানায় বসা বা পুরুষদের মাঝে নাচগান করা এবং এই জাতীয় কাজের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

মানুষের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে তৃতীয় প্রকারটি নিয়ে, যা হলো কামভাব ব্যতীত তাকানো কিন্তু কামভাব জাগ্রত হওয়ার আশঙ্কা থাকা। ইমাম আহমদের মাযহাবে এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে বিশুদ্ধতম মতটি—যা ইমাম শাফেয়ী ও অন্যদের বক্তব্য থেকেও বর্ণিত হয়েছে—তা হলো এটি জায়েজ নয়।

দ্বিতীয় মতটি হলো এটি জায়েজ, কারণ মূলত কামভাব জাগ্রত না হওয়াই মূল অবস্থা। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর শক্তিশালী।

আর যে ব্যক্তি দাড়িহীন কিশোরদের দিকে তাকিয়ে থাকায় অভ্যস্ত এবং দাবি করে যে সে কামভাব নিয়ে তাকাচ্ছে না, সে মিথ্যা বলছে। কারণ যদি দেখার কোনো বিশেষ প্রয়োজন না থাকে, তবে তার দ্বারা এই দৃষ্টিপাত ঘটত না। সে তো কেবল হৃদয়ে অর্জিত আনন্দের জন্যই তাকাচ্ছে। তবে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়া ক্ষমার যোগ্য, যদি সে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়।

বলা হয়ে থাকে যে, যেসব রূপের দিকে তাকানো হারাম, সেগুলো থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার তিনটি উপকারিতা রয়েছে।

প্রথমটি হলো ঈমানের মিষ্টতা ও স্বাদ লাভ, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বর্জন করা বস্তুর চেয়েও অধিক মিষ্টি ও উত্তম। নফস বা প্রবৃত্তি রূপ-সৌন্দর্যের দিকে তাকাতে পছন্দ করে, বিশেষ করে যারা আধ্যাত্মিক সাধনা ও আত্মশুদ্ধিতে রত তাদের নফস; কারণ তাদের মধ্যে এক প্রকার কোমলতা অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩১)
حَتَّى إِن الصُّور تجذب أحدهم وتصرعه وروى عَن فتح أَنه قَالَ صَحِبت ثَلَاثِينَ من الأبدال كلهم يوصيني عِنْد فِرَاقه بتركي صُحْبَة الْأَحْدَاث

الثَّانِيَة أَنه يُورث نور الْقلب والفراسة قَالَ الله تَعَالَى عَن قوم لوط {لعمرك إِنَّهُم لفي سكرتهم يعمهون}

فالتعلق بالصور يُورث فَسَاد الْعقل وَعمي الْبَصَر وسكر الْقلب بل جُنُونه كَمَا قيل

قَالُوا جننت بِمن تهوى فَقلت لَهُم … الْعِشْق أعظم مِمَّا بالجانين

الْعِشْق لَا يستفيق الدَّهْر صَاحبه … وَإِنَّمَا يصرع الْمَجْنُون فِي الْحِين

فَمن غض بَصَره عَمَّا حرمه الله عوضه الله من جنسه بِمَا هُوَ خير مِنْهُ فيطلق عين بصيرته وَيفتح عَلَيْهِ بَاب الْعلم والمعرفة والكشوف

وَالثَّالِثَة قُوَّة الْقلب وثباته وشجاعته فَيجْعَل الله لَهُ سُلْطَان النُّصْرَة مَعَ السُّلْطَان الْحجَّة وَفِي الْأَثر الَّذِي يُخَالف هَوَاهُ يفرق الشَّيْطَان من ظله وَيُوجد فِي التبع لهواه من الذل ذل النَّفس ومهانتها مَالا يُوجد فِي غَيره فَإِن الله جعل الْعِزَّة لمن أطاعه والذلة لمن عَصَاهُ {وَللَّه الْعِزَّة وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمنِينَ} وَالنَّاس يطْلبُونَ الْعِزّ فِي بَاب الْمُلُوك وَلَا يجدونه رلا فِي طَاعَة الله أبي الله إِلَّا أَن يذل من عَصَاهُ

 

‌‌فصل

وَنقض الْوضُوء المذى وَيجب غسل ذكره وأنثييه

وَيجب على الرجل وَطْء زَوجته بِالْمَعْرُوفِ وَهُوَ أوكد حَقّهَا عَلَيْهِ أعظم من طعامها وشرابها

وَالْوَطْء الْوَاجِب قيل كل أَرْبَعَة أشهر مرّة وَقيل بِقدر حَاجَتهَا وَقدرته كإطعامها وَهُوَ أصح

وَلَو يجِئ الْوضُوء فِي كَلَام النَّبِي صلى الله عليه وسلم رلا وَالْمرَاد بِهِ الْوضُوء
এমনকি রূপ-লাবণ্য তাদের কাউকে আকর্ষণ করে এবং আচ্ছন্ন করে ফেলে। ফাতহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি ত্রিশজন আবদালের সান্নিধ্য লাভ করেছি, তাদের প্রত্যেকেই বিচ্ছেদের সময় আমাকে অল্পবয়স্কদের সংশ্রব ত্যাগ করার অসিয়ত করেছেন।

দ্বিতীয়ত, এটি হৃদয়ে নূর এবং প্রজ্ঞা (ফিরাসা) সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাআলা লূত (আ.)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন: {আপনার প্রাণের শপথ! নিশ্চয়ই তারা তাদের মত্ততায় অন্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল}।

সুতরাং রূপ-লাবণ্যের প্রতি আসক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়, দৃষ্টির অন্ধত্ব এবং অন্তরের মত্ততা বরং উন্মাদনা তৈরি করে, যেমনটি বলা হয়েছে:

তারা বলল, তুমি যার প্রেমে পড়েছ তার জন্য তুমি পাগল হয়ে গেছ। আমি তাদের বললাম: উন্মাদদের যা হয়, ইশক (প্রেম) তার চেয়েও গুরুতর।

ইশক বা প্রেমের অধিকারী ব্যক্তি কক্ষনো সুস্থ বা সচেতন হয় না; অথচ পাগল তো কেবল নির্দিষ্ট সময়েই সংজ্ঞাহীন হয়।

অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে, আল্লাহ তাকে তার বিনিময়ে এমন কিছু দান করেন যা তার চেয়ে উত্তম। ফলে তিনি তার অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচিত করে দেন এবং তার জন্য ইলম, মারিফাত ও কাশফের দ্বার খুলে দেন।

তৃতীয়ত, এটি হৃদয়ের শক্তি, দৃঢ়তা এবং সাহসিকতা বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তার জন্য প্রমাণের শক্তির পাশাপাশি বিজয়ের শক্তিও দান করেন। আছারে (বর্ণনায়) এসেছে: যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে, শয়তান তার ছায়া দেখেও পলায়ন করে। পক্ষান্তরে প্রবৃত্তি অনুসরণকারীর মধ্যে নফসের এমন হীনম্মন্যতা ও লাঞ্ছনা দেখা যায় যা অন্য কারও মধ্যে পাওয়া যায় না। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর আনুগত্যকারীর জন্য মর্যাদা এবং অবাধ্যকারীর জন্য লাঞ্ছনা নির্ধারণ করেছেন: {আর মর্যাদা তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের জন্য}। মানুষ রাজাদের দ্বারে মর্যাদা খুঁজে বেড়ায়, অথচ আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া তা কোথাও পাওয়া যায় না। আল্লাহ তো তাকে লাঞ্ছিত করবেনই যে তাঁর নাফরমানি করে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

মযি নির্গত হলে ওযু ভেঙে যায় এবং পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ ধোয়া ওয়াজিব।

স্বামীর জন্য স্ত্রীর সাথে সঙ্গতভাবে সহবাস করা ওয়াজিব। এটি তার ওপর স্ত্রীর অন্যতম সুনিশ্চিত অধিকার, যা তার খাদ্য ও পানীয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়াজিব সহবাসের ক্ষেত্রে কেউ বলেছেন: প্রতি চার মাসে একবার; আবার কেউ বলেছেন: স্ত্রীর প্রয়োজন ও স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী, ঠিক যেমন খাদ্য প্রদানের ক্ষেত্রে হয়। আর এটিই অধিকতর সঠিক মত।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীতে যেখানেই ওযু শব্দটি এসেছে, তার দ্বারা শরয়ী ওযুই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الشَّرْعِيّ وَلم يرد لفظ الْوضُوء بِمَعْنى غسل الْيَد والفم رلا فِي لُغَة الْيَهُود كَمَا روى أَن سلمَان رضي الله عنه قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّا نجد فِي التوارة أَن من بركَة الطَّعَام الْوضُوء قبله وَالْوُضُوء بعده

وَمَسّ الْيَهُودِيّ أَو النَّصْرَانِي لَا ينْقض الْوضُوء بِاتِّفَاق المسملين

وَأكل النِّسَاء الْأَجَانِب مَعَ الرِّجَال لَا يفعل إِلَّا لحَاجَة من ضيق الْمَكَان أَو قلَّة وَمَعَ ذَلِك فَلَا تكشف وَجههَا للأجانب وَلَا يلقمها الْأَجْنَبِيّ وَلَا تلقمه وَلما سُئِلَ صلى الله عليه وسلم عَن الحمو الْمَوْت والحمو أَخُو الزَّوْج وَنَحْوه دون أَبِيه فَإِنَّهُ محرم

وَفِي الحَدِيث لَا يدْخل الْجنَّة ديوث وَهُوَ الَّذِي لَا غيرَة لَهُ بل إِذا رأى على أَهله شَيْئا لم يُنكره

وَلَا يجوز للْمَرْأَة أَن تظهر على أَجْنَبِي وَلَا رَقِيق غير ملكهَا وَلَو كَانَ خَصيا وَهُوَ الْخَادِم فَلَيْسَ لَهُ النّظر إِلَيْهَا لِأَنَّهُ يفعل مُقَدمَات الْجِمَاع وَيذكر بِالرِّجَالِ وَله شَهْوَة وَإِن كَانَ لَا يحبل

وَأما مملوكها فَفِيهِ قَولَانِ

أَحدهمَا أَنَّهَا مَعَه كَالْأَجْنَبِيِّ وَهُوَ قَول أبي حنيفَة وَالْمَشْهُور عَن أَحْمد

وَالثَّانِي أَنه محرم وَهُوَ قَول الشَّافِعِي وَقَول لِأَحْمَد

 

‌‌فصل

وَمن أَصَابَهُ سهم مَسْمُوم من سِهَام إِبْلِيس وَهُوَ الْعِشْق فَعَلَيهِ بالترياق والمرهم وَذَلِكَ بِأُمُور

مِنْهَا التَّزَوُّج أَو التسرى فَإِنَّهُ ينقص الشَّهْوَة ويضعف الْعِشْق

الثَّانِي أَن يداوم على الصَّلَوَات الْخمس وَالدُّعَاء والتضرع وَقت السحر وَتَكون صلَاته يحضور قلب وخشوع وَيكثر من قَول يَا مُقَلِّب الْقُلُوب ثَبت قلبِي على دينك
শরীয়তসম্মত ওযু। আর ওযু শব্দটি হাত ও মুখ ধৌত করার অর্থে কেবল ইহুদিদের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: "আমরা তাওরাতে পাই যে, খাবারের বরকত হলো আহারের পূর্বে ওযু করা এবং আহারের পরে ওযু করা।"

আর কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টানকে স্পর্শ করলে ওযু নষ্ট হয় না, এ বিষয়ে মুসলমানদের ঐক্যমত রয়েছে।

পরপুরুষের সাথে পরনারীদের খাবার গ্রহণ করার বিষয়টি স্থান সংকীর্ণতা বা লোকস্বল্পতার মতো বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত করা উচিত নয়। আর এমতাবস্থায় সে নারী পরপুরুষের সামনে তার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করবে না, কোনো পরপুরুষ তাকে লোকমা খাইয়ে দেবে না এবং সেও তাকে লোকমা খাইয়ে দেবে না। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেবর (হামু) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "দেবর হলো মৃত্যু।" আর দেবর হলো স্বামীর ভাই ও তার অনুরূপ ব্যক্তিগণ, তার পিতা ব্যতীত, কেননা তিনি মাহরাম।

হাদিসে এসেছে: "দাইউস জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" আর সে হলো এমন ব্যক্তি যার কোনো আত্মমর্যাদাবোধ নেই, বরং সে তার পরিবারে কোনো অন্যায় দেখলে তা প্রতিরোধ করে না।

কোনো নারীর জন্য পরপুরুষ কিংবা তার নিজের মালিকানাধীন নয় এমন দাসের সামনে প্রকাশ পাওয়া বৈধ নয়, যদিও সে খোজা খাদেম হয়। তার জন্য ওই নারীর দিকে তাকানো জায়েজ নয়, কারণ সে সহবাসের প্রাথমিক কাজগুলো করতে সক্ষম এবং সে পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত, আর তার যৌনকামনা রয়েছে যদিও সে গর্ভধারণ করাতে পারে না।

আর নারীর নিজস্ব দাসের ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে।

একটি হলো, দাসের সাথে তার সম্পর্ক হবে পরপুরুষের মতো। এটি আবু হানিফার অভিমত এবং আহমদের প্রসিদ্ধ মত।

দ্বিতীয়টি হলো, সে মাহরাম হিসেবে গণ্য হবে। এটি শাফেয়ীর অভিমত এবং আহমদের একটি বর্ণনা।

 

‌পরিচ্ছেদ

আর ইবলিসের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্য হতে কোনো তীরের দ্বারা যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়—আর তা হলো মোহগ্রস্ত প্রেম (ইশক)—তবে তার উচিত প্রতিষেধক ও মলম ব্যবহার করা, যা কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে সম্ভব।

তার মধ্যে একটি হলো বিবাহ করা অথবা দাসী গ্রহণ করা, কেননা এটি কামপ্রবৃত্তি কমিয়ে দেয় এবং মোহগ্রস্ত প্রেমকে দুর্বল করে দেয়।

দ্বিতীয়টি হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ওপর যত্নবান হওয়া এবং শেষ রাতে দোয়া ও রোনাজারি করা। আর তার সালাত যেন একাগ্রতা ও বিনম্রতার সাথে হয়। সে যেন অধিক পরিমাণে এই দোয়াটি পড়ে: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।"
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
يَا مصرف الْقُلُوب صرف قلبِي على طَاعَتك وَطَاعَة رَسُولك فَمَتَى أدمن الدُّعَاء والتضرع لله صرف قلبه عَن ذَلِك

الثَّالِث أَن يبعد عَن سكن هَذَا الشَّخْص والاجتماع بِمن يجْتَمع بِهِ بِحَيْثُ لَا يسمع لَهُ خَبرا

 

‌‌بَاب الاستطابة

إِذا كَانَ فِي الْمَسْجِد بركَة يغلق عَلَيْهَا بَابه وَيَمْشي حولهَا دون أَن يُصَلِّي حولهَا فَهَل يبال فِيهَا

هَذَا يشبه الْبَوْل فِي الْمَسْجِد فِي القرورة وَمن الْفُقَهَاء من نهى عَنهُ لِأَن هَوَاء الْمَسْجِد كقراره فِي الْحُرْمَة

وَمِنْهُم من يرخص للْحَاجة وَالْأَشْبَه أَن هَذَا إِذا فعل للْحَاجة فقريب وَأما إِذا اتخذ مبالا أَو مستجي فَلَا

ونتر الذّكر والتنحنح وَالْمَشْي لَيْسَ بِوَاجِب إِنَّمَا يجب الانقاء

وَلَا يجب غسل دَاخل فرج الْمَرْأَة فِي أصح الْقَوْلَيْنِ

فَإِذا دست الْمَرْأَة دَوَاء مَعَ الْجِمَاع يمْنَع نُفُوذ المنى فِي مجارى الْحَبل فصومها وصلاتها صَحِيحَة وَإِن كَانَ ذَلِك الدَّوَاء يبْقى فِي جوفها

وَأما جَوَاز ذَلِك لمنع الْحمل فَفِيهِ نزاع بَين الْعلمَاء والأحوط أَن لَا تفعل

 

‌‌بَاب الْغسْل

يجوز الِاغْتِسَال عُرْيَان بكشف عَوْرَته إِن كَانَ فِي خلْوَة وَأما دَاخل الْحمام فَعَلَيهِ ستر عَوْرَته وَلَا يخلى أحدا يَرَاهَا وَلَا يَمَسهَا قيمًا كَانَ أَو غَيره وَلَا يشْهد مُنْكرا بل يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ بحبسه وَلَيْسَ لَهُ أَن يسرف فِي صب المَاء بل الْحمام أَشد لحق صَاحبه وَيلْزم السّنة فَلَا يجفو جفوة النَّصَارَى وَلَا يغلو غلو الْيَهُود
হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার আনুগত্যে এবং আপনার রাসূলের আনুগত্যে স্থির রাখুন। যখনই কেউ আল্লাহর কাছে দুআ এবং কাকুতি-মিনতিতে অভ্যস্ত হয়, আল্লাহ তার অন্তরকে তা থেকে ফিরিয়ে দেন।

তৃতীয়টি হলো, এই ব্যক্তির আবাসস্থল থেকে দূরে থাকা এবং যারা তার সাথে একত্রিত হয় তাদের সাথে মেলামেশা বর্জন করা, যাতে তার কোনো খবর শুনতে না হয়।

 

পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

যদি মসজিদে এমন কোনো জলাধার থাকে যার দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং মানুষ তার চারপাশে হাঁটাচলা করে কিন্তু তার চারপাশে সালাত আদায় করে না, তবে কি তাতে প্রস্রাব করা যাবে?

এটি মসজিদের ভেতরে পাত্রে প্রস্রাব করার মতো। ফুকাহাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি নিষেধ করেছেন, কারণ মসজিদের উপরের বাতাসও এর মেঝের মতোই মর্যাদাপূর্ণ।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রয়োজনের খাতিরে অনুমতি দেন। অধিকতর সঠিক হলো, যদি এটি প্রয়োজনের কারণে করা হয় তবে তা মার্জনীয়; কিন্তু যদি একে স্থায়ী প্রস্রাবখানা বা শৌচাগার হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে তা জায়েয নয়।

পুরুষাঙ্গ ঝাড়া, গলা খাঁকারি দেওয়া এবং হাঁটাচলা করা ওয়াজিব নয়; বরং কেবল পবিত্রতা অর্জন করাই ওয়াজিব।

দুই বিশুদ্ধতম মতের মধ্যে সঠিক হলো, নারীর গোপনাঙ্গের অভ্যন্তরীণ অংশ ধোয়া ওয়াজিব নয়।

যদি কোনো নারী সহবাসের সময় গর্ভধারণের পথগুলোতে বীর্য প্রবেশ রোধ করার জন্য কোনো ঔষধ ব্যবহার করেন, তবে তার সিয়াম এবং সালাত শুদ্ধ হবে, যদিও সেই ঔষধটি তার শরীরের ভেতরে অবস্থান করে।

আর গর্ভনিরোধের জন্য এমনটা করার বৈধতার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; তবে সতর্কতা হলো তা না করা।

 

গোসলের অধ্যায়

নির্জনে সতর উন্মুক্ত করে উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করা জায়েয। তবে হাম্মামখানায় সতর ঢেকে রাখা আবশ্যক। অন্য কাউকে তা দেখতে দেওয়া বা স্পর্শ করতে দেওয়া যাবে না, চাই সে পরিচ্ছন্নতাকারী হোক বা অন্য কেউ। সেখানে কোনো অন্যায় প্রত্যক্ষ করা যাবে না, বরং সাধ্যমতো সৎকাজের আদেশ দিতে হবে। পানি ব্যবহারে অপচয় করা তার জন্য বৈধ নয়; বরং হাম্মামের ক্ষেত্রে মালিকের হকের কারণে অপচয় বর্জন আরও জরুরি। তাকে সুন্নাহ আঁকড়ে থাকতে হবে; খ্রিস্টানদের মতো শিথিলতা প্রদর্শন করা যাবে না এবং ইহুদিদের মতো বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَمن اغْتسل وَلم يتَوَضَّأ أحزأ عَنْهُمَا فِي الْمَشْهُور من مَذْهَب الْأَرْبَعَة لَكِن عَن أَحْمد وَأبي حنيفَة يجب أَن يتضمض ويستنشق

وَهل عَلَيْهِ أَن يَنْوِي رفع الحدثين فِيهِ نزاع بَين الْعلمَاء

وَهل للْمَرْأَة دُخُول الْحمام إِذا شقّ عَلَيْهَا تَركه بِأَن اعتادته عَليّ وَجْهَيْن فِي مَذْهَب أَحْمد وَغَيره

والاستمناء محرم عِنْد عَامَّة الْعلمَاء وَهُوَ أظهر الرِّوَايَتَيْنِ عَن أَحْمد وَالْأُخْرَى أَنه مَكْرُوه لَكِن إِن اضْطر إِلَيْهِ مثل أَن يخلف الزِّنَا وَالْمَرَض إِن لم يَفْعَله فَفِيهِ قَولَانِ مشهوران وَقد رخص فِيهِ هَذِه الْحَال طوائف من السّلف وَالْخلف وَيجوز الْمسْح على الْخُف رذا كَانَ فِيهِ خرق يسير عِنْد أبي حنيفَة وَمَالك وَقيل لَا يجوز وَهُوَ الْمَعْرُوف من مَذْهَب الشَّافِعِي وَأحمد وَالْأول أرجح

 

‌‌بَاب التَّيَمُّم

إِذا لم تقدر الْمَرْأَة على الِاغْتِسَال بِالْمَاءِ فعلَيْهَا أَن تصلي فِي الْوَقْت بِالتَّيَمُّمِ عِنْد جَمَاهِير الْعلمَاء لَكِن مَذْهَب الشَّافِعِي أَنَّهَا تغسل مَا يُمكن وتتيمم للْبَاقِي وَمذهب مَالك وَأبي حنيفَة إِن غسلت الْأَكْثَر لم تتيمم وَإِن لم يُمكن إِلَّا غسل الْأَقَل تيممت وَلَا غسل عَلَيْهَا

وَمن عدم المَاء وَالتُّرَاب صلى فِي الْوَقْت على الْأَصَح وَلَا إِعَادَة عَلَيْهِ فِي الْأَصَح وَمن أجنب ونام فَلم ينتبه رلا عِنْد طُلُوع الشَّمْس فَإِن استحم خَافَ الضَّرَر وَإِن رَاح إِلَى الْحمام خرج الْوَقْت فمذهب الشَّافِعِي وَأحمد وَأبي حنيفَة أَنه يغْتَسل وَيُصلي وَلَو خرج الْوَقْت ومالكمذهبه يتَيَمَّم وَيُصلي فِي الْوَقْت

وَأما من كَانَ مستيقظا من أول الْوَقْت فَإِن عَلَيْهِ أَن يُصَلِّي فِي الْوَقْت باغتسال أَو تيَمّم وَلَا يفوت الْوَقْت بِخِلَاف الأول فَإِن الْوَقْت فِي حَقه من حِين انتبه
যে ব্যক্তি গোসল করল কিন্তু ওযু করল না, চার মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতানুসারে তা উভয়টির (ওযু ও গোসল) জন্য যথেষ্ট হবে। তবে আহমদ এবং আবু হানিফা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব।

তার ওপর কি উভয় হাদাস (অশুচিতা) দূর করার নিয়ত করা আবশ্যক? এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

নারীর জন্য কি হাম্মামে (পাবলিক বাথ) প্রবেশ করা জায়েজ যদি তা বর্জন করা তার জন্য কষ্টকর হয়, যেমন তার অভ্যাস হয়ে গিয়ে থাকে? এ বিষয়ে আহমদ এবং অন্যদের মাযহাবে দুটি মত রয়েছে।

হস্তমৈথুন অধিকাংশ আলেমের নিকট হারাম। এটি আহমদ থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট। অন্য বর্ণনাটি হলো এটি মাকরুহ। তবে যদি কেউ এতে বাধ্য হয়, যেমন ব্যভিচার বা রোগের আশঙ্কা থাকে যদি সে তা না করে, তবে এ বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে। সালাফ এবং পরবর্তী আলেমদের একদল এই অবস্থায় এর অনুমতি দিয়েছেন। আর মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েজ যদি তাতে সামান্য ছিদ্র থাকে—এটি আবু হানিফা এবং মালিকের মত। বলা হয়েছে যে, তা জায়েজ নয় এবং এটিই শাফেয়ি ও আহমদের মাযহাবের পরিচিত মত। তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ।

 

‌‌তায়াম্মুম অধ্যায়

যখন কোনো নারী পানি দিয়ে গোসল করতে সক্ষম হয় না, তখন জমহুর আলেমের মতে ওয়াক্তের মধ্যেই তায়াম্মুম করে তার সালাত আদায় করা আবশ্যক। তবে শাফেয়ি মাযহাব হলো, সে শরীরের যতটুকু সম্ভব ধৌত করবে এবং অবশিষ্ট অংশের জন্য তায়াম্মুম করবে। আর মালিক ও আবু হানিফার মাযহাব হলো, যদি সে অধিকাংশ অংশ ধৌত করে তবে তায়াম্মুম করবে না, আর যদি সামান্য অংশ ব্যতীত ধৌত করা সম্ভব না হয় তবে তায়াম্মুম করবে এবং তার ওপর কোনো ধৌতকরণ অবশিষ্ট নেই।

যে ব্যক্তি পানি এবং মাটি উভয়ই পাবে না, বিশুদ্ধতর মতানুসারে সে ওয়াক্তের মধ্যেই সালাত আদায় করবে এবং বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী তাকে আর সালাত পুনরায় পড়তে হবে না। যে ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ল এবং সূর্যোদয়ের আগে জাগ্রত হলো না, এমতাবস্থায় যদি সে গোসল করলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে অথবা হাম্মামে গেলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তবে শাফেয়ি, আহমদ এবং আবু হানিফার মাযহাব হলো সে গোসল করবে এবং সালাত পড়বে যদিও ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। আর মালিকের মাযহাব হলো সে তায়াম্মুম করবে এবং ওয়াক্তের মধ্যেই সালাত আদায় করবে।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শুরু থেকেই জাগ্রত ছিল, তাকে অবশ্যই ওয়াক্তের মধ্যে গোসল বা তায়াম্মুমের মাধ্যমে সালাত আদায় করতে হবে এবং ওয়াক্ত অতিবাহিত হতে দেওয়া যাবে না। এটি প্রথম ব্যক্তির বিপরীত, কেননা প্রথম ব্যক্তির ক্ষেত্রে ওয়াক্ত হলো যখন সে জাগ্রত হয়েছে সেই মুহূর্ত থেকে।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَهل يرفع التَّيَمُّم الْحَدث رفعا مؤقتا أَو يُبِيح فعل الصالة مَعَ قيام الْمَانِع فِيهِ نزاع

وَمن كَانَ حاقنا عادما للماد فَالْأَفْضَل أَن يُصَلِّي بِالتَّيَمُّمِ غير حاقن من أَن يحفظ وضوءه وَيُصلي حاقنا

وَمن خَافَ إِن اغْتسل أَن يرْمى بِمَا هُوَ برِئ مِنْهُ ويتضرر بِهِ جَازَ لَهُ التَّيَمُّم والصالة وَالْقِرَاءَة وَمَسّ الْمُصحف

ويؤم الْمُتَيَمم المغتسل عِنْد جمهو الْعلمَاء رلا مُحَمَّد بن الْحسن

وَقد روى عَن عمر وَابْن مَسْعُود رضي الله عنهما منع الْجنب من التَّيَمُّم وَخَالَفَهُمَا غَيرهمَا من جُمْهُور الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ

وَهل الْمُبِيح للتيمم خوف الضَّرَر أَو التّلف فِيهِ نزاع للشَّافِعِيَّة

وَمن أمكنه أَن يغْتَسل وَيُصلي خَارج الْحمام فعل ذَلِك فَإِن لم يكنه مثل أَن يَسْتَيْقِظ أول الْفجْر فَإِن اشْتغل بِطَلَب المَاء خرج الْوَقْت فَإِنَّهُ يُصَلِّي بِالتَّيَمُّمِ عِنْد الْجُمْهُور رلا بعض الْمُتَأَخِّرين من أَصْحَاب الشَّافِعِي وَأحمد قَالُوا يشْتَغل بتحصيل الطَّهَارَة وَإِن فَاتَ الْوَقْت وَهَكَذَا قَالُوا فِي اشْتِغَاله بخياطة الثَّوْب وَتعلم دَلَائِل الْقبْلَة وَنَحْوه

وَهَذَا القَوْل خطأ فرن قِيَاسه أَن الْمُسَافِر يُؤَخر حَتَّى يُصَلِّي بعد الْوَقْت بِالْوضُوءِ والعريان يُؤَخر حَتَّى يُصَلِّي بعد الْوَقْت باللباس وَهُوَ خلاف إِجْمَاع الْمُسلمين بل على العَبْد أَن يُصَلِّي فِي الْوَقْت بِحَسب الْإِمْكَان وَهَذَا يُخَالف مَا إِذا اسْتَيْقَظَ آخر الْوَقْت

وَإِن اشْتغل باستقاء المَاء من الْبِئْر يخرج الْوَقْت أَو ذهب إِلَى الْحمام فَهُنَا يغْتَسل وَإِن خرج الْوَقْت عِنْد الحمهور إِلَّا مَالِكًا فَإِنَّهُ قَالَ يتَيَمَّم وَيُصلي فِي الْوَقْت كَمَا تقدم ذَلِك عَنهُ

وَأما من أمكنه الذّهاب إِلَيّ الْحمام لَكِن إِن دخل لَا يُمكنهُ الْخُرُوج حَتَّى
তায়াম্মুম কি অপবিত্রতা (হাদাস) সাময়িকভাবে দূর করে, নাকি প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সালাত আদায়ের অনুমতি দেয়—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

আর যে ব্যক্তি পানি পাচ্ছে না এবং সে মলমূত্র চেপে রাখার কষ্টে আক্রান্ত, তার জন্য মলমূত্র ত্যাগের পর তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা উত্তম; ওযু ধরে রেখে মলমূত্র চেপে সালাত আদায় করার চেয়ে।

যে ব্যক্তি এই ভয় পায় যে, গোসল করলে তার ওপর এমন অপবাদ দেওয়া হবে যা থেকে সে মুক্ত এবং এর ফলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে তার জন্য তায়াম্মুম করা, সালাত আদায় করা, তিলাওয়াত করা এবং কুরআন স্পর্শ করা বৈধ।

জমহুর (অধিকাংশ) উলামাদের মতে তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি গোসলকারীর ইমামতি করতে পারবে, কেবল মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ছাড়া।

উমর ও ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে জুনুবি (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। তবে জমহুর সাহাবী ও তাবিঈগণ তাঁদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

তায়াম্মুম বৈধ হওয়ার কারণ কি ক্ষতির আশঙ্কা নাকি ধ্বংস হওয়ার ভয়—এ বিষয়ে শাফিয়ী মাযহাবের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

যার পক্ষে গোসল করে গোসলখানার বাইরে সালাত আদায় করা সম্ভব, সে তাই করবে। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয়, যেমন ফজর ওয়াক্তের শুরুতে জাগ্রত হলো এবং যদি সে পানি তালাশে ব্যস্ত হয় তবে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, এমতাবস্থায় জমহুর উলামাদের মতে সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। তবে শাফিয়ী ও আহমাদ (রহ.)-এর অনুসারী পরবর্তী যুগের কিছু আলিম বলেছেন যে, সে পবিত্রতা অর্জনেই লিপ্ত হবে যদিও ওয়াক্ত চলে যায়। ঠিক তেমনিভাবে তারা কাপড় সেলাই করা বা কিবলার দিক নির্ণয় শেখার ক্ষেত্রেও একই কথা বলেছেন।

এই মতটি ভুল। কেননা এর কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) অনুযায়ী একজন মুসাফিরকে ওযু করে সালাত আদায়ের জন্য ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত দেরি করতে হবে এবং বিবস্ত্র ব্যক্তিকে পোশাক পরিধান করে সালাত আদায়ের জন্য ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত দেরি করতে হবে। আর এটি মুসলিমদের ইজমার পরিপন্থী। বরং বান্দার ওপর আবশ্যিক হলো যথাসম্ভব ওয়াক্তের মধ্যেই সালাত আদায় করা। এটি ওয়াক্তের শেষ দিকে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পরিস্থিতির পরিপন্থী।

আর যদি কেউ কূপ থেকে পানি তোলা বা গোসলখানায় যাওয়ার কাজে ব্যস্ত হয় এবং এর ফলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তবে জমহুর উলামাদের মতে সে গোসলই করবে যদিও ওয়াক্ত চলে যায়। তবে ইমাম মালিকের মত ভিন্ন, তিনি বলেন সে তায়াম্মুম করবে এবং ওয়াক্তের মধ্যেই সালাত আদায় করবে, যেমনটি ইতিপূর্বে তাঁর থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর যার পক্ষে গোসলখানায় যাওয়া সম্ভব, কিন্তু সেখানে প্রবেশ করলে বের হওয়া সম্ভব হবে না যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
يخرج الْوَقْت إِمَّا لكَونه مقهورا مثل العَبْد الَّذِي لَا يُمكنهُ سَيّده من الْخُرُوج وَمثل الْمَرْأَة مَعهَا أَوْلَادهَا لَا يُمكنهَا الْخُرُوج حَتَّى تغسلهم وَنَحْو ذَلِك

فَهَؤُلَاءِ لَا بُد لَهُم من أحد أُمُور إِمَّا أَن يغتسلوا ويصلوا فِي الْحمام فِي الْوَقْت وَإِمَّا أَن يصلوا خَارج الْحمام بعد الْوَقْت وَإِمَّا أَن يصلوا بِالتَّيَمُّمِ خَارج الْحمام وَبِكُل من هَذِه الْأَقْوَال أُفْتِي طَائِفَة

لَكِن الْأَظْهر أَنهم يصلونَ خَارج الْحمام بِالتَّيَمُّمِ لِأَن الصَّلَاة فِي الْحمام منهى عَنْهَا وتفويت الصَّلَاة أعظم وَلَا يُمكنهُ الْخُرُوج عَن هذَيْن النهيين إِلَّا لاتيمم فِي الْوَقْت خَارج الْحمام ثمَّ يُصَلِّي بذلك قبل دُخُول الْحمام

وَصَارَ هَذَا كَمَا لَو لم يُمكنهُ الصَّلَاة رلا فِي مَوضِع نجس فِي الْوَقْت أَو فِي مَوضِع طَاهِر بعد الْوَقْت رذا غسل الْموضع أَو يُصَلِّي بِالتَّيَمُّمِ فِي مَكَان طَاهِر فِي الْوَقْت فَهَذَا أولى لِأَن كلا من ذَلِك منهى عَنهُ

ونزاع الْفُقَهَاء فِيمَن صلى فِي مَوضِع نجس لَا يُمكنهُ الْخُرُوج مِنْهُ على قَوْلَيْنِ معروفين الْأَظْهر أَنه لَا يُعِيد بل الصَّحِيح أَن كَانَ من صلى فِي الْوَقْت بِحَسب إِمْكَانه لَا يُعِيد كالعاجز عَن الطَّهَارَة والستارة والاستقبال أَو اجْتِنَاب النَّجَاسَة أَو عَن إِكْمَال الرُّكُوع وَالسُّجُود أَو عَن قراأة الْفَاتِحَة وَنَحْوهم

مسزلة لَا يجوز لمن اشْترى جَارِيَة وَطئهَا قبل استرائها بِاتِّفَاق الْعلمَاء بل لَا يجوز فِي أحد قولي الْعلمَاء أَن يَبِيعهَا الوطئ حَتَّى يَسْتَبْرِئهَا وَهل عَلَيْهِ اسْتِبْرَاء وعَلى المُشْتَرِي اسْتِبْرَاء أَو يكفيهما اسبراء وَاحِد على قَوْلَيْنِ
ওয়াক্ত পার হয়ে যায় হয় তো নিরুপায় হওয়ার কারণে, যেমন এমন ক্রীতদাস যার মনিব তাকে বের হতে দেয় না, এবং এমন মহিলা যার সাথে তার সন্তানরা রয়েছে এবং তাদের গোসল না করানো পর্যন্ত তার পক্ষে বের হওয়া সম্ভব হয় না, এবং এই জাতীয় বিষয়।

এই ব্যক্তিদের জন্য কয়েকটি বিষয়ের কোনো একটি আবশ্যক: হয় তারা গোসল করে হাম্মামের (গোসলখানা) ভেতরেই ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করবে, অথবা হাম্মামের বাইরে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর সালাত আদায় করবে, অথবা হাম্মামের বাইরে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। এই প্রতিটি মতের পক্ষেই একদল ফকীহ ফতোয়া দিয়েছেন।

তবে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো, তারা হাম্মামের বাইরে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। কারণ হাম্মামে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ, আর সালাতের ওয়াক্ত পার করে দেওয়া এর চেয়েও বড় বিষয়। এই দুই প্রকার নিষেধ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয় হাম্মামের বাইরে ওয়াক্তের মধ্যে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা ছাড়া, অতঃপর সে হাম্মামে প্রবেশের পূর্বে তা দ্বারা সালাত আদায় করবে।

বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেমন কারো পক্ষে ওয়াক্তের মধ্যে অপবিত্র স্থান ছাড়া অন্য কোথাও সালাত আদায় করা সম্ভব নয়, অথবা ওয়াক্ত পার হওয়ার পর পবিত্র স্থানে সালাত আদায় করা যখন স্থানটি ধৌত করা হবে, অথবা ওয়াক্তের মধ্যে পবিত্র স্থানে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা; তবে এটিই উত্তম কারণ এর প্রত্যেকটিই নিষিদ্ধ।

যে ব্যক্তি এমন কোনো অপবিত্র স্থানে সালাত আদায় করেছে যেখান থেকে তার বের হওয়া সম্ভব নয়, তার ব্যাপারে ফকীহগণের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। অধিকতর স্পষ্ট মত হলো সে পুনরায় সালাত আদায় করবে না। বরং সঠিক কথা হলো, যে ব্যক্তি ওয়াক্তের মধ্যে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী সালাত আদায় করেছে সে পুনরায় সালাত আদায় করবে না; যেমন পবিত্রতা অর্জন, সতর ঢাকা, কিবলামুখী হওয়া, নাপাকি বর্জন করা, অথবা রুকু ও সিজদা পূর্ণাঙ্গ করা কিংবা সূরা ফাতিহা পাঠ করা এবং এই জাতীয় বিষয়ে অক্ষম ব্যক্তির মতো।

মাসআলা: আলেমদের ঐক্যমতে কোনো ক্রীতদাসীকে ক্রয় করার পর ইস্তিবরা (গর্ভমুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা) করার আগে তার সাথে সহবাস করা জায়েয নয়। বরং আলেমদের দুটি মতের একটি হলো, বিক্রেতার জন্যও ইস্তিবরা না করা পর্যন্ত সহবাস করা জায়েয নেই। এখন বিক্রেতার ওপর কি ইস্তিবরা করা আবশ্যক এবং ক্রেতার ওপরও কি ইস্তিবরা করা আবশ্যক, নাকি উভয়ের জন্য একটি ইস্তিবরাই যথেষ্ট? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাছারুল ফাতাওয়াল মিছরিয়্যাহ - ত: আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌بَاب الْحيض

وَطْء الْمَرْأَة فِي دبرهَا حرَام فِي قَول جَمَاهِير الْعلمَاء وَمَتى وَطئهَا فِي الدبر وطاعته عزرا فَإِن لم ينتهيا فرق بَينهمَا كَمَا يفرق بَين الْفَاجِر وَبَين من يفجر بِهِ

وَمن شربت دَوَاء فَانْقَطع دَمهَا ثمَّ طَلقهَا زَوجهَا فَإِن كَانَت تعلم أَن الدَّم لَا يَأْتِي فِيمَا بعده بِحَال فعدتها ثَلَاثَة أشهر وَإِن كَانَ أَن يعود فَإِنَّهَا تَتَرَبَّص سنة ثمَّ تتَزَوَّج كَمَا قضى عمر رضي الله عنه فِي الْمَرْأَة يرْتَفع حَيْضهَا وَلَا تَدْرِي مَا رَفعه هَذَا مَذْهَب الْجُمْهُور مَالك وَأحمد وَالشَّافِعِيّ فِي قَول

وَمن قَالَ تنْتَظر حَتَّى تدخل فِي سنّ الْإِيَاس فهر ضَعِيف جدا لما فِيهِ من الضَّرَر الَّذِي لَا تَأتي الشَّرِيعَة بِمثلِهِ

وَإِذا انْقَطع لَا تَأتي الشَّرِيعَة بِمثلِهِ

ورذا انْقَطع الدَّم فَلَا تُوطأ حَتَّى تَغْتَسِل

وَقَالَ بعض الظَّاهِرِيَّة يجوز إِذا غسلت فرجهَا لقَوْله تَعَالَى {فَإِذا تطهرن} أَي غسلن فروجهن وَلَيْسَ بشئ فَإِن التَّطْهِير هُوَ الِاغْتِسَال

وزبو حنيفَة يَقُول إِذا اغْتَسَلت أَو مضى عَلَيْهَا وَقت الصَّلَاة أوانقطع الدَّم أَي لأكثره وَأَكْثَره عِنْده أَيَّام وَقَول الْجُمْهُور أصح
ঋতুস্রাব অধ্যায়

অধিকাংশ আলিমের মতে স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করা হারাম। যখন কেউ স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে এবং স্ত্রী তাতে সম্মতি দেয়, তখন তাদের উভয়কে শাস্তিমূলক দণ্ড (তা’যীর) প্রদান করা হবে। যদি তারা এই কাজ থেকে নিবৃত না হয়, তবে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হবে, যেমনটি পাপাচারী এবং যার সাথে পাপাচার করা হয় তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।

যদি কোনো নারী ঔষধ সেবন করার কারণে তার রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর তার স্বামী তাকে তালাক দেয়; এমতাবস্থায় সে যদি নিশ্চিতভাবে জানে যে পরবর্তীতে আর কোনোভাবেই রক্ত আসবে না, তবে তার ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যদি রক্ত পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে, তবে সে এক বছর অপেক্ষা করবে এবং তারপর বিবাহ করবে। যে মহিলার হায়য বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু বন্ধ হওয়ার কারণ তার জানা নেই, তার ব্যাপারে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এমনটিই ফয়সালা দিয়েছেন। এটিই জমহুর বা অধিকাংশ আলিমের মাযহাব—মালিক, আহমাদ এবং শাফেয়ীর (একটি মত)।

আর যারা বলেন যে, সে ঋতুজরা (মেনোপজ) বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, তাদের এই বক্তব্যটি অত্যন্ত দুর্বল। কারণ এতে এমন ক্ষতি নিহিত রয়েছে যা শরীয়ত অনুমোদন করে না।

আর যখন রক্ত বন্ধ হয়, তখন শরীয়ত এমন (ক্ষতিকর) বিধান নিয়ে আসে না।

রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা যাবে না।

কতিপয় যাহেরী আলেম বলেছেন, লজ্জাস্থান ধৌত করলেই তা জায়েয হবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী— {অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে}, অর্থাৎ তাদের লজ্জাস্থান ধৌত করবে। কিন্তু এটি অসার বা গ্রহণযোগ্য নয়; কেননা এখানে পবিত্রতা অর্জন করার অর্থ হলো গোসল করা।

আবু হানিফা বলেন, যখন সে গোসল করবে অথবা তার ওপর এক ওয়াক্ত সালাতের সময় অতিবাহিত হবে অথবা রক্ত বন্ধ হবে—অর্থাৎ রক্ত যখন তার সর্বোচ্চ সময়সীমায় বন্ধ হবে (আর তার মতে সর্বোচ্চ সময় হলো দশ দিন)। তবে জমহুর বা অধিকাংশের মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ।