(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: -)
مجمع الزوائد ومنبع الفوائد القسم: كتب السنة
الكتاب: مجمع الزوائد ومنبع الفوائد
المؤلف: أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي (ت 807 هـ)
المحقق: حسام الدين القدسي
الناشر: مكتبة القدسي، القاهرة
عام النشر: 1414 هـ، 1994 م
عدد الأجزاء: 10
[تنبيه]: ترقيم الأحاديث ليس من المطبوع
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
লেখক: আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী ইবনে আবী বকর ইবনে সুলাইমান আল-হাইসামী (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি)
সম্পাদক: হুসামুদ্দীন আল-কুদসী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুদসী, কায়রো
প্রকাশের বছর: ১৪১৪ হিজরি, ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১০
[সতর্কবার্তা]: হাদিস নম্বরগুলো মুদ্রিত কপির নয়
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: -)
مجمع الزوائد ومنبع الفوائد
أبو الحسن نور الدين علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي
مكتبة القدسي، القاهرة
--------------------------------------------
মাজমাউজ যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ
আবুল হাসান নূরুদ্দীন আলী বিন আবী বকর বিন সুলায়মান আল-হাইসামি
মাকতাবাতুল কুদসি, কায়রো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[خُطْبَةُ الْكِتَابِ]
[مَوْضُوعُ الْكِتَابِ]بسم الله الرحمن الرحيم
[مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفُ]
الْحَمْدُ لِلَّهِ جَامِعِ الشَّتَاتِ وَمُحْيِي الْأَمْوَاتِ. وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ شَهَادَةً تَكْتُبُ الْحَسَنَاتِ، وَتَمْحُو السَّيِّئَاتِ، وَتُنَجِّي مِنَ الْمُهْلِكَاتِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الْمَبْعُوثُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمَاتِ، الْآمِرُ بِالْخَيْرَاتِ، النَّاهِي عَنِ الْمُنْكَرَاتِ. صَلَّى اللَّهُ - تَعَالَى - عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ صَلَاةً دَائِمَةً بِدَوَامِ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتِ.
وَبَعْدُ، فَقَدْ كُنْتُ جَمَعْتُ زَوَائِدَ مُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ، وَأَبِي يَعْلَى الْمَوْصِلِيِّ، وَأَبِي بَكْرٍ الْبَزَّارِ، وَمَعَاجِيمِ الطَّبَرَانِيِّ الثَّلَاثَةِ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْ مُؤَلِّفِيهِمْ، وَأَرْضَاهُمْ، وَجَعَلَ الْجَنَّةَ مَثْوَاهُمْ - كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهَا فِي تَصْنِيفٍ مُسْتَقِلٍّ - مَا خَلَا الْمُعْجَمَ الْأَوْسَطَ وَالصَّغِيرَ ; فَإِنَّهُمَا فِي تَصْنِيفٍ وَاحِدٍ -. فَقَالَ لِي سَيِّدِي وَشَيْخِي، الْعَلَّامَةُ شَيْخُ الْحُفَّاظِ بِالْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، وَمُفِيدُ الْكِبَارِ وَمَنْ دُونَهُمْ، الشَّيْخُ زَيْنُ الدِّينِ أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ الْعِرَاقِيِّ رضي الله عنه وَأَرْضَاهُ، وَجَعَلَ الْجَنَّةَ مَثْوَانَا وَمَثْوَاهُ -:
اجْمَعْ هَذِهِ التَّصَانِيفَ، وَاحْذِفْ أَسَانِيدَهَا ; لِكَيْ تَجْتَمِعَ أَحَادِيثُ كُلِّ بَابٍ مِنْهَا فِي بَابٍ وَاحِدٍ مِنْ هَذَا.
فَلَمَّا رَأَيْتُ إِشَارَتَهُ إِلَيَّ بِذَلِكَ صَرَفْتُ هِمَّتِي إِلَيْهِ، وَسَأَلْتُ اللَّهَ - تَعَالَى - تَسْهِيلَهُ وَالْإِعَانَةَ عَلَيْهِ، وَأَسْأَلُ اللَّهَ - تَعَالَى - النَّفْعَ بِهِ، إِنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ.
[গ্রন্থের ভূমিকা]
[গ্রন্থের বিষয়বস্তু]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[গ্রন্থকারের ভূমিকা]
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল বিচ্ছিন্নকে একত্রিতকারী এবং মৃতদের জীবনদানকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা পুণ্যসমূহ লিপিবদ্ধ করে, পাপসমূহ মিটিয়ে দেয় এবং ধ্বংসাত্মক বিষয়াদি থেকে মুক্তি প্রদান করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য (জাওয়ামিউল কালিম) সহ প্রেরণ করা হয়েছে, যিনি কল্যাণকর কাজের আদেশদাতা এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর এমন দরুদ বর্ষণ করুন যা পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলী বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
অতঃপর, আমি ইমাম আহমাদ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আবু বকর আল-বাজার এবং তাবারানির তিনটি মুজাম-এর ‘যাওয়ায়েদ’ (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) সংগ্রহ করেছিলাম—আল্লাহ তাআলা তাঁদের গ্রন্থকারদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁদেরকে সন্তুষ্ট রাখুন এবং জান্নাতকে তাঁদের আবাসস্থল করুন—যার প্রত্যেকটি ছিল পৃথক পৃথক সংকলনে (তবে ‘আল-মুজামুল আওসাত’ ও ‘আল-মুজামুস সাগির’ ব্যতীত, কেননা এ দুটি ছিল এক সংকলনে)। অতঃপর আমার সাইয়্যিদ ও শাইখ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের হাফেজগণের (হাডিস বিশারদ) শ্রেষ্ঠ আলেম এবং বড়-ছোট সকলের জন্য পরম উপকারী ব্যক্তিত্ব শাইখ জাইনুদ্দিন আবুল ফজল আব্দুর রহিম ইবনুল ইরাকি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন এবং জান্নাতকে আমাদের ও তাঁর আবাসস্থল করুন) আমাকে বললেন:
“তুমি এই সংকলনগুলোকে একত্রিত করো এবং এগুলোর সনদসমূহ বাদ দাও; যাতে এগুলোর প্রতিটি অধ্যায়ের হাদিসসমূহ এই কিতাবের একেকটি অধ্যায়ে একত্রিত হয়ে যায়।”
যখন আমি এ বিষয়ে তাঁর ইঙ্গিত পেলাম, তখন আমি এতে মনোনিবেশ করলাম এবং আল্লাহ তাআলার কাছে এটি সহজ করার ও এতে সাহায্যের প্রার্থনা করলাম। আর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী এবং দোয়া কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَقَدْ رَتَّبْتُهُ عَلَى كُتُبٍ أَذْكُرُهَا لِكَيْ يَسْهُلَ الْكَشْفُ عَنْهُ: كِتَابُ الْإِيمَانِ. كِتَابُ الْعِلْمِ. كِتَابُ الطَّهَارَةِ. كِتَابُ الصَّلَاةِ. كِتَابُ الْجَنَائِزِ - وَفِيهِ مَا يَتَعَلَّقُ بِالْمَرَضِ وَثَوَابِهِ وَعِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَنَحْوِ ذَلِكَ -. كِتَابُ الزَّكَاةِ - وَفِيهِ صَدَقَةُ التَّطَوُّعِ -. كِتَابُ الصِّيَامِ. كِتَابُ الْحَجِّ. كِتَابُ الْأَضَاحِيِّ وَالصَّيْدِ وَالذَّبَائِحِ وَالْوَلِيمَةِ وَالْعَقِيقَةِ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِالْمَوْلُودِ. كِتَابُ الْبُيُوعِ. كِتَابُ الْأَيْمَانِ وَالنُّذُورِ. كِتَابُ الْأَحْكَامِ. كِتَابُ الْوَصَايَا. كِتَابُ الْفَرَائِضِ. كِتَابُ الْعِتْقِ. كِتَابُ النِّكَاحِ. كِتَابُ الطَّلَاقِ. كِتَابُ الْأَطْعِمَةِ. كِتَابُ الْأَشْرِبَةِ. كِتَابُ الطِّبِّ. كِتَابُ اللِّبَاسِ وَالزِّينَةِ. كِتَابُ الْخِلَافَةِ. كِتَابُ الْجِهَادِ. كِتَابُ الْمَغَازِي وَالسِّيَرِ. كِتَابُ قِتَالِ أَهْلِ الْبَغْيِ وَأَهْلِ الرِّدَّةِ. كِتَابُ الْحُدُودِ وَالدِّيَاتِ. كِتَابُ التَّفْسِيرِ - وَفِيهِ مَا يَتَعَلَّقُ بِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَثَوَابِهِ وَعَلَى كَمْ أُنْزِلَ الْقُرْآنُ مِنْ حَرْفٍ -. كِتَابُ التَّعْبِيرِ. كِتَابُ الْقَدَرِ. كِتَابُ الْفِتَنِ. كِتَابُ الْأَدَبِ. كِتَابُ الْبِرِّ وَالصِّلَةِ. كِتَابٌ فِيهِ ذِكْرُ الْأَنْبِيَاءِ عليهم السلام. كِتَابُ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ. كِتَابُ الْمَنَاقِبِ. كِتَابُ التَّوْبَةِ وَالِاسْتِغْفَارِ. كِتَابُ الْأَذْكَارِ. كِتَابُ الْأَدْعِيَةِ. كِتَابُ الزُّهْدِ - وَفِيهِ الْمَوَاعِظُ -. كِتَابُ الْبَعْثِ. كِتَابُ صِفَةِ النَّارِ. كِتَابُ صِفَةِ الْجَنَّةِ.
[تَسْمِيَةُ الْكِتَابِ]وَقَدْ سَمَّيْتُهُ بِتَسْمِيَةِ سَيِّدِي وَشَيْخِي لَهُ (مَجْمَعَ الزَّوَائِدِ، وَمَنْبَعَ الْفَوَائِدِ).
وَمَا تَكَلَّمْتُ عَلَيْهِ مِنَ الْحَدِيثِ (مِنْ تَصْحِيحٍ أَوْ تَضْعِيفٍ وَكَانَ مِنْ حَدِيثِ صَحَابِيٍّ وَاحِدٍ، ثُمَّ ذَكَرْتُ لَهُ مَتْنًا بِنَحْوِهِ)، فَإِنِّي أَكْتَفِي بِالْكَلَامِ عَقِبَ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْمَتْنُ الثَّانِي أَصَحَّ مِنَ الْأَوَّلِ، وَإِذَا رَوَى الْحَدِيثَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ وَغَيْرُهُ فَالْكَلَامُ عَلَى رِجَالِهِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ إِسْنَادُ غَيْرِهِ أَصَحَّ. وَإِذَا كَانَ لِلْحَدِيثِ سَنَدٌ وَاحِدٌ صَحِيحٌ اكْتَفَيْتُ بِهِ مِنْ غَيْرِ نَظَرٍ إِلَى بَقِيَّةِ الْأَسَانِيدِ، وَإِنْ كَانَتْ ضَعِيفَةً. وَمَنْ كَانَ مِنْ مَشَايِخِ الطَّبَرَانِيِّ فِي الْمِيزَانِ نَبَّهْتُ عَلَى ضَعْفِهِ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ فِي الْمِيزَانِ أَلْحَقْتُهُ بِالثِّقَاتِ الَّذِينَ بَعْدَهُ، وَالصَّحَابَةُ لَا يُشْتَرَطُ فِيهِمْ أَنْ يُخَرِّجَ لَهُمْ أَهْلُ الصَّحِيحِ ; فَإِنَّهُمْ عُدُولٌ، وَكَذَلِكَ شُيُوخُ الطَّبَرَانِيِّ الَّذِينَ لَيْسُوا فِي الْمِيزَانِ.
এবং আমি এটি বিভিন্ন অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি যা আমি নিচে উল্লেখ করছি, যাতে তা থেকে তথ্য অনুসন্ধান করা সহজ হয়: ঈমান অধ্যায়। ইলম অধ্যায়। পবিত্রতা অধ্যায়। নামাজ অধ্যায়। জানাজা অধ্যায়—এবং এতে অসুস্থতা, এর সওয়াব, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি রয়েছে—। জাকাত অধ্যায়—এবং এতে নফল দান-সদকাও রয়েছে—। রোজা অধ্যায়। হজ অধ্যায়। কুরবানি, শিকার, জবেহকৃত পশু, ওয়ালিমা, আকিকা এবং নবজাতক সংক্রান্ত অধ্যায়। ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়। শপথ ও মানত অধ্যায়। বিচার বিভাগীয় বিধিবিধান অধ্যায়। অসিয়ত অধ্যায়। মিরাস অধ্যায়। দাসমুক্তি অধ্যায়। বিবাহ অধ্যায়। তালাক অধ্যায়। খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়। পানীয় অধ্যায়। চিকিৎসা অধ্যায়। পোশাক ও অলঙ্কার অধ্যায়। খিলাফত অধ্যায়। জিহাদ অধ্যায়। যুদ্ধাভিযান ও সীরাত অধ্যায়। বিদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে লড়াই অধ্যায়। দণ্ডবিধি ও রক্তপণ অধ্যায়। তাফসির অধ্যায়—এবং এতে কুরআন তেলাওয়াত ও এর সওয়াব এবং কুরআন কতগুলো হরফে অবতীর্ণ হয়েছে সেই সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে—। স্বপ্নযোগ অধ্যায়। তাকদির অধ্যায়। ফিতনা অধ্যায়। আদব বা শিষ্টাচার অধ্যায়। সদাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন অধ্যায়। আম্বিয়া (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বা নবিগণের আলোচনা সম্বলিত অধ্যায়। নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ অধ্যায়। মর্যাদা ও গুণাবলি অধ্যায়। তওবা ও ইস্তিগফার অধ্যায়। জিকির অধ্যায়। দোয়া অধ্যায়। যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা অধ্যায়—এবং এতে নসিহতসমূহ রয়েছে—। পুনরুত্থান অধ্যায়। জাহান্নামের বর্ণনা অধ্যায়। জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়।
[গ্রন্থের নামকরণ]আমি আমার সাইয়্যেদ ও শাইখের দেওয়া নাম অনুযায়ী এর নামকরণ করেছি ‘মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ’। আর হাদিসের বিষয়ে আমি যা কিছু আলোচনা করেছি (সহিহ কিংবা জয়িফ হওয়া সম্পর্কে, আর হাদিসটি যদি একজন সাহাবির বর্ণনা থেকে হয় এবং পরবর্তীতে আমি এর সমার্থক অন্য একটি মতন উল্লেখ করি), তবে আমি প্রথম হাদিসটির পরেই মন্তব্য করতে সীমাবদ্ধ থাকব, যদি না দ্বিতীয় মতনটি প্রথমটির তুলনায় অধিকতর সহিহ হয়। যখন ইমাম আহমাদ এবং অন্য কেউ হাদিসটি বর্ণনা করবেন, তখন তাঁর (ইমাম আহমাদের) বর্ণনাকারীদের ওপরই মন্তব্য করা হবে, যদি না অন্যের সনদটি অধিকতর সহিহ হয়। যখন কোনো হাদিসের একটি মাত্র সহিহ সনদ পাওয়া যাবে, তখন অন্য সনদগুলোর দিকে লক্ষ না করেই আমি সেটির ওপর নির্ভর করেছি, যদিও সেগুলো জয়িফ হয়। ইমাম তাবারানির শাইখদের মধ্যে যারা ‘মিজান’ গ্রন্থে রয়েছেন, আমি তাঁদের দুর্বলতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। আর যারা ‘মিজান’ গ্রন্থে নেই, আমি তাঁদেরকে পরবর্তী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। সাহাবিদের ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয় যে, ‘আহলুস সহিহ’ (বুখারি ও মুসলিমের সংকলকগণ) তাঁদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন কি না; কেননা তাঁরা সকলেই ন্যায়পরায়ণ। তদ্রূপ ইমাম তাবারানির সেই সকল শাইখও (নির্ভরযোগ্য), যারা ‘মিজান’ গ্রন্থে উল্লিখিত হননি।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[رِوْايَةُ الْمُؤَلِّفِ لِمُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ وَمُسْنَدِ أَبِي يَعْلَى]وَقَدْ أَخْبَرَنِي بِمُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ رضي الله عنه الشَّيْخَانِ الْمُسْنَدِانِ - رَحِمَهُمَا اللَّهُ -: أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْأَنْصَارِيُّ الْخَزْرَجِيُّ الْعَبَّادِيُّ، وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْعُرْضِيُّ، سَمَاعًا عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا.
قَالَ الْأَوَّلُ: أَنْبَأَنَا الْمُسْلِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ. وَقَالَ الثَّانِي: أَخْبَرَتْنَا زَيْنَبُ بِنْتُ مَكِّيٍّ. قَالَا: أَنْبَأَنَا حَنْبَلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّصَافِيُّ الْمُكَبِّرُ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْحُصَيْنِ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ بْنِ الْمُذْهِبِ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ بْنِ حَمْدَانَ الْقُطَيْعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي وَغَيْرُهُ، فَذَكَرَ الْمُسْنَدَ وَمَا فِيهِ مِنْ زِيَادَاتِ عَبْدِ اللَّهِ وَزِيَادَاتِ الْقُطَيْعِيِّ.
وَأَمَّا مُسْنَدُ أَبِي يَعْلَى فَأَخْبَرَنِي بِهِ الشَّيْخُ زَيْنُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبِلْبِيسِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ بِجَمِيعِ الْكِتَابِ، خَلَا الْجُزْءَ الثَّانِيَ وَالثَّالِثَ مِنْ تَجْزِئَةِ شَيْخِهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْجَيَّانِيِّ وَأَوَّلُهُمَا: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، «عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ» " وَآخِرَ الثَّالِثِ إِلَى آخِرِ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: " «شَهِدْتُ عَلِيًّا فِي الرَّحْبَةِ يُنَاشِدُ النَّاسَ: أَنْشُدُ اللَّهَ، مَنْ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي يَوْمِ غَدِيرِ خُمَّ» ..... وَآخِرُهُ: " «وَعَادِ مَنْ عَادَاهُ» ". فَأَخْبَرَنِي بِهَذَا الْقَدْرِ قَاضِي الْقُضَاةِ بَدْرُ الدِّينِ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى بْنِ الْخَشَّابِ سَمَاعًا عَلَيْهِ، قَالَا: أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ ظَافِرٍ الْبَصْرِيُّ. قَالَ الْبِلْبِيسِيُّ: خَلَا مِنْ أَوَّلِ الْكِتَابِ إِلَى مُسْنَدِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، وَخَلَا مِنْ أَوَّلِ مُسْنَدِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ إِلَى حَدِيثِ «مَاشِطَةِ بِنْتِ فِرْعَوْنَ»، وَخَلَا مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرْدَفَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ - إِلَى أَوَّلِ حَدِيثِ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " «سَأَلْتُ رَبِّي اللَّاهِينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ الْبَشَرِ» "، وَخَلَا مِنْ حَدِيثِ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَهْلَ الْيَمَنِ يَتَّخِذُونَ شَرَابَ
[ইমাম আহমাদ ও ইমাম আবু ইয়া'লার মুসনাদ সম্পর্কে লেখকের বর্ণনা]দুই শায়খ ও হাদিস বর্ণনাকারী—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-আনসারি আল-খাজরাজি আল-আববাদি এবং আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-উর্দি, তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে আমাকে ইমাম আহমাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।
প্রথমজন বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনে মুহাম্মাদ। আর দ্বিতীয়জন বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জয়নাব বিনতে মাক্কি। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হানবাল ইবনে আবদুল্লাহ আল-রুসাফি আল-মু কাব্বির; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল হুসাইন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবনে আলী ইবনুল মুযহিব; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আল-কুতাঈ; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল; আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং অন্যেরা। এরপর তিনি মুসনাদ এবং এতে আবদুল্লাহ ও কুতাঈর সংযোজনসমূহ উল্লেখ করেছেন।
আর মুসনাদে আবু ইয়া'লা সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ যাইনুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বিলবিসি। তাঁর কাছে পুরো কিতাবটি শ্রবণের মাধ্যমে পাঠ করা হয়েছে, কেবল তাঁর শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-জায়্যানির বিভাজন অনুযায়ী দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড ব্যতীত। ওই দুই খণ্ডের প্রথম হাদিসটি হলো: আবু খাইসামা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, নাফে' আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।" আর তৃতীয় খণ্ডের শেষ হলো আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লার হাদিসের শেষ পর্যন্ত, তিনি বলেছেন: "আমি রাহবায় আলীকে লোকদের শপথ দিয়ে বলতে দেখেছি: আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গাদিরে খুমের দিনে বলতে শুনেছেন..." এবং এর শেষ হলো: "আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আপনিও তার সাথে শত্রুতা পোষণ করুন।" অতঃপর এই অংশটুকু আমাকে কাযীউল কুযাত বদরুদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে ঈসা ইবনুল খাশ্শাব তাঁর কাছে শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনে জাফির আল-বসরি। আল-বিলবিসি বলেছেন: কিতাবের শুরু থেকে তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর মুসনাদ পর্যন্ত বাদ পড়েছে; আরও বাদ পড়েছে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মুসনাদের শুরু থেকে 'ফেরাউনের কন্যার কেশবিন্যাসকারিণী'র হাদিস পর্যন্ত; আরও বাদ পড়েছে আব্দুল আজিজ ইবনে সুহাইব থেকে বর্ণিত আনাসের হাদিস—যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়ায ইবনে জাবালকে তাঁর পিছনে বসিয়েছিলেন—তা থেকে ইয়াযিদ আল-রাকাশি বর্ণিত আনাসের হাদিসের শুরু পর্যন্ত, যাতে তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার রবের কাছে মানবজাতির কৌতুকপ্রিয়দের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি"; আর সাইয়ার আবু আল-হাকাম থেকে বর্ণিত আবু বুরদাহ ও আবু মুসার হাদিসটি বাদ পড়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, ইয়ামেনবাসীরা এক প্রকার পানীয় তৈরি করে...
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الْبِتْعِ
… الْحَدِيثَ، إِلَى حَدِيثِ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. وَفِيهِ: " «أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ» ".
فَإِجَازَةٌ لِهَذِهِ الْمَوَاضِعِ الْأَرْبَعَةِ مِنَ ابْنِ ظَافِرٍ - إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا - قَالَ ابْنُ ظَافِرٍ: أَنْبَأَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْهُدْبَانِيُّ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مَنْصُورُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الطَّبَرِيُّ " ح " وَأَخْبَرَنِي بِهِ عَالِيًا قَاضِي الْقُضَاةِ عِزُّ الدِّينِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ قَاضِي الْقُضَاةِ بَدْرِ الدِّينِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدِ اللَّهِ بْنِ جَمَاعَةَ - إِجَازَةً مُعَيَّنَةً. قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَسَاكِرَ إِجَازَةً، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمُعِزِّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَرَوِيُّ إِجَازَةً، قَالَ هُوَ وَمَنْصُورٌ الطَّبَرِيُّ: أَنْبَأَنَا زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّحَّامِيُّ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَنْزَرُودِيُّ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ الْحِيرِيُّ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى الْمَوْصِلِيُّ.
[رِوَايَةُ الْمُؤَلِّفِ لِمُسْنَدِ الْبَزَّارِ]وَأَخْبَرَنِي بِمُسْنَدِ الْبَزَّارِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ قَاضِي الْمُسْلِمِينَ أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ قَاضِي الْمُسْلِمِينَ بِدْرِ الدِّينِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَمَاعَةَ - إِجَازَةً مُعَيَّنَةً. أَنْبَأَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الزُّبَيْرِ مُكَاتَبَةً مِنَ الْمَغْرِبِ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْغَافِقِيُّ إِجَازَةً مُعَيَّنَةً، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ بَالْحَجْرِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ بِجَمِيعِ الْمُسْنَدِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ ابْنُ إِحْدَى عَشْرَةَ (إِجَازَةً)، أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّدَفِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ فُورْنَشَ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّلَمَنْكِيُّ إِجَازَةً، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْمُفَرِّجِ (ابْنُ بَدَلٌ)، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ الصَّمُوتِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ الْخَالِقِ الْبَزَّارُ " ح ".
وَأَخْبَرَنِي بِهِ أَعْلَى مِنْ هَذَا بِدَرَجَتَيْنِ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَيْدُومِيُّ إِجَازَةً مُشَافَهَةً، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْقَسْطَلَانِيُّ إِجَازَةً، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ الْفِهْرِيُّ الشَّاطِبِيُّ فِي كِتَابِهِ إِلَيْنَا مِنَ الْمَغْرِبِ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَتَّابٍ إِجَازَةً، حَدَّثَنِي أَبِي سَمَاعًا عَلَيْهِ، أَنْبَأَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ خَلَفِ بْنِ عَمْرُونَ (إِجَازَةُ سَنَةِ 446)، أَنْبَأَنَا ابْنُ مُفَرِّجٍ - فَذَكَرَهُ بِإِسْنَادِهِ.
আল-বিত্
… হাদিসটি, আবু উসমান থেকে বর্ণিত আবু মুসার হাদিস পর্যন্ত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। এতে আছে: "আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের মধ্য থেকে একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব না?"
সুতরাং এই চারটি স্থানের জন্য ইবনে জাফিরের পক্ষ থেকে অনুমতি (ইজাজাহ) রয়েছে — যদি তা সরাসরি শ্রবণ (সামা) না হয়ে থাকে — ইবনে জাফির বলেন: ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-হুদবানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মানসুর বিন আলী বিন ইসমাইল আত-তাবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন 'হ' (রুপান্তর) এবং আমাকে উচ্চ সনদে এটি সংবাদ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ইযযুদ দীন আব্দুল আযীয বিন প্রধান বিচারপতি বদরুদ দীন বিন ইব্রাহিম বিন সা’দুল্লাহ বিন জামা’আহ — নির্দিষ্ট অনুমতি (ইজাজাহ) সহকারে। তিনি বলেন: আবুল ফজল আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আসাকির অনুমতির মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মুয়িয বিন মুহাম্মদ আল-হারাওয়ী অনুমতির মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি এবং মানসুর আত-তাবারী বলেন: জাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মদ আশ-শাহামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-জানজারুদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামদান আল-হিরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়ালা আহমদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আল-মাওসিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
[মুসনাদে বায্যারের ক্ষেত্রে লেখকের বর্ণনা]এবং আমাকে মুসনাদে বায্যার সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম মুসলিমদের বিচারপতি আবু উমর আব্দুল আযীয বিন মুসলিমদের বিচারপতি বদরুদ দীন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন জামা’আহ — নির্দিষ্ট অনুমতি (ইজাজাহ) সহকারে। আবু জাফর আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন আয-যুবাইর মরক্কো থেকে পত্রের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-গাফেকি নির্দিষ্ট অনুমতি সহকারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাজরী তাঁর নিকট সম্পূর্ণ মুসনাদ শ্রবণের (সামা) মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন আহমদ ইবনে ইহদা আশারাহ (অনুমতি সহকারে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আস-সাদাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ফুরনাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর আহমদ বিন মুহাম্মদ আত-তালামাঙ্কি অনুমতি সহকারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন আল-মুফাররিজ (ইবনে বাদাল) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন হাবিব বিন আস-সামুত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আব্দুল খালিক আল-বায্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন 'হ' (রুপান্তর)।
এবং এর চেয়ে দুই স্তর উচ্চ সনদে আবু ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মাইদুমি মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আলী বিন আহমদ আল-কাসতালানি অনুমতির মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-ফিহরি আশ-শাতিবি মরক্কো থেকে আমাদের নিকট প্রেরিত তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আত্তাব অনুমতির মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমার নিকট তাঁর থেকে শ্রবণের (সামা) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন খালাফ বিন আমরুন (৪৪৬ হিজরীর অনুমতি) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে মুফাররিজ — অতঃপর তিনি তাঁর সনদে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
[رِوَايَةُ الْمُؤَلِّفِ لِمَعَاجِمِ الطَّبَرَانِيِّ الثَّلَاثَةِ]وَقَدْ أَخْبَرَنِي بِالْمُعْجَمِ الصَّغِيرِ لِأَبِي الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيِّ الشَّيْخَانِ الْمُسْنَدِانِ: أَبُو الْحَرَمِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقَلَانِسِيُّ، وَالْمُحَدِّثُ نَاصِرُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْفَارِقِيُّ - قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا وَأَنَا أَسْمَعُ، وَقِرَاءَةً مِنِّي بَعْدَ ذَلِكَ عَلَى الْفَارِقِيِّ فَقَطْ - قَالَا: أَخْبَرَتْنَا الشَّيْخَةُ الصَّالِحَةُ دَارُ إِقْبَالٍ مُونِسَةُ خَاتُونِ ابْنَةُ الْمَلِكِ الْعَادِلِ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَيُّوبَ - قَالَ الْأَوَّلُ: بِجَمِيعِ الْكِتَابِ، وَقَالَ الثَّانِي: مِنْ بَابِ الْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ إِلَى آخِرِ الْكِتَابِ -. قَالَتْ: أَنَا الْمَشَايِخُ الْأَرْبَعَةُ: أَبُو الْفَخْرِ أَسْعَدُ بْنُ سَعِيدِ [بْنِ سَعِيدِ] بْنِ رَوْحٍ، وَأَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ، وَأُمُّ هَانِئٍ عَفِيفَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ الْفَارِقَانِيَّةُ، وَأُمُّ حَبِيبَةَ عَائِشَةُ بِنْتُ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْفَاخِرِ - إِجَازَةً - قَالُوا: أَخْبَرَتْنَا أُمُّ إِبْرَاهِيمَ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ الْجُوزْدَانِيَّةُ. قَالَتْ عَائِشَةُ: حُضُورًا، وَقَالَ الْبَاقُونَ: سَمَاعًا " ح ".
وَقَالَ الْفَارِقِيُّ: أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ خَلَفٍ الدِّمْيَاطِيُّ - سَمَاعًا عَلَيْهِ لِجَمِيعِ الْكِتَابِ، قَالَ: أَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ صَقْرُ بْنُ يَحْيَى بْنُ صَقْرٍ الْحَلَبِيُّ - وَاللَّفْظُ لَهُ - وَأَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَلِيلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيُّ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ، قَالُوا: أَنَا أَبُو الْفَرَجِ يَحْيَى بْنُ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ، أَنَا أَبُو عَدْنَانَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نِزَارٍ، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوزْدَانِيَّةُ قَالَا: أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَيْدَةَ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ.
وَأَخْبَرَنِي بِالْمُعْجَمِ الْأَوْسَطِ أَبُو طَلْحَةَ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يُوسُفَ الْحَرَاوِيُّ - قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ مِنْ أَوَّلِ بَابِ النُّونِ إِلَى آخِرِ الْكِتَابِ، وَإِجَازَةً لِبَاقِيهِ. قَالَ: أَنَا الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ خَلَفٍ الدِّمْيَاطِيُّ إِجَازَةً، أَنَا الْحَافِظُ أَبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ خَلِيلٍ الدِّمَشْقِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو سَعِيدٍ خَلِيلُ بْنُ أَبِي الرَّجَاءِ بْنِ أَبِي الْفَتْحِ الرَّارَانِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْحَدَّادُ إِجَازَةً، أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ.
وَأَخْبَرَنِي بِالْمُعْجَمِ الْكَبِيرِ الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْأَيُّوبِيُّ - قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ مِنْ أَوَّلِ الْجُزْءِ السَّابِعِ وَالثَّلَاثِينَ: وَأَوَّلُهُ حَدِيثُ سَلَمَةَ وَالِدِ عَمْرِو بْنِ سَلَمَةَ الْجَرْمِيِّ إِلَى آخِرِ الْخَامِسِ وَالْأَرْبَعِينَ.
وَيَنْتَهِي إِلَى رِوَايَةِ شَدَّادٍ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ - وَإِجَازَةً لِبَاقِيهِ.
[তাবারানির তিন মুজাম গ্রন্থের বিষয়ে লেখকের বর্ণনা]এবং আমাকে আবুল কাসিম আত-তাবারানির 'আল-মুজামুস সাগির' গ্রন্থটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন দুজন মুসনিদ শাইখ: আবু আল-হারাম মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-কালানিসি এবং মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসিম আল-ফারিকি—তাঁদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি শুনছিলাম, আর পরবর্তীতে কেবল আল-ফারিকির নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শাইখা দারু ইকবাল মুনিসা খাতুন বিনতে আল-মালিকুল আদিল আবু বকর ইবনে আইয়ুব—প্রথমজন বলেছেন: সম্পূর্ণ গ্রন্থটি, এবং দ্বিতীয়জন বলেছেন: 'হা' (ح) অধ্যায় থেকে গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত—। তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন চারজন শাইখ: আবুল ফখর আসআদ ইবনে সাঈদ ইবনে সাঈদ ইবনে রাউহ, আবু সাদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি নাসর, উম্মু হানি আফিফা বিনতে আহমাদ আল-ফারিকানিয়্যাহ এবং উম্মু হাবিবা আয়েশা বিনতে মামার ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আল-ফাখির—ইজাজাত বা অনুমতির মাধ্যমে—তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মু ইবরাহিম ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-জুযদানিয়্যাহ। আয়েশা বলেন: উপস্থিতির মাধ্যমে, এবং বাকিরা বলেন: শ্রবণের মাধ্যমে "হা"।
আর আল-ফারিকি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ শারাফুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ আদ-দিময়াতি—সম্পূর্ণ গ্রন্থটি তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুজাফফর সাকর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাকর আল-হালাবি—এবং শব্দগুলি তাঁরই—এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে খলিল ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি ও আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আহমাদ আল-মাকদিসি, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফরাজ ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদনান মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে নিযার এবং ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জুযদানিয়্যাহ। তাঁরা দুজন বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাইদাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমাদ ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানি।
এবং আমাকে 'আল-মুজামুল আওসাত' সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন আবু তালহা মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আল-হারাউয়ি—তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি শুনছিলাম 'নুন' (ن) অধ্যায়ের শুরু থেকে গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত, এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজাতের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ আদ-দিময়াতি ইজাজাতের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল আদ-দিমাশকি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু সাঈদ খলিল ইবনে আবির রাজা ইবনে আবিল ফাতহ আর-রাবানি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান আল-হাদ্দাদ ইজাজাতের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আত-তাবারানি।
এবং আমাকে 'আল-মুজামুল কাবির' সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আব্দুল আজিজ আল-আইয়ুবি—তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমরা শুনছিলাম সাঁইত্রিশতম খণ্ডের শুরু থেকে: যার শুরু হচ্ছে আমর ইবনে সালামা আল-জারমির পিতা সালামার হাদিস দিয়ে, পঁয়তাল্লিশতম খণ্ডের শেষ পর্যন্ত।
এবং যা আবু উমামা থেকে শাদ্দাদ আবু আম্মারের বর্ণিত রেওয়ায়াতে গিয়ে শেষ হয়েছে—এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজাতের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قَالَ: أَنَا أَبُو الْعِزِّ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ عَلِيٍّ الْحَرَّانَيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ أَوَّلِ الْجُزْءِ السَّابِعِ وَالثَّلَاثِينَ إِلَى آخِرِ الْجُزْءِ السَّادِسِ وَالسِّتِّينَ - وَآخِرُهُ حَدِيثُ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:
" الْأَنْبِيَاءُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَّا عَشَرَةً: نُوحٌ، وَهُودٌ، وَلُوطٌ، وَصَالِحٌ، وَشُعَيْبٌ، وَإِبْرَاهِيمُ، وَإِسْمَاعِيلُ، وَإِسْحَاقُ، وَعِيسَى، وَمُحَمَّدٌ، وَلَيْسَ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا وَلَهُ اسْمَانِ، إِلَّا عِيسَى وَيَعْقُوبَ عليهما السلام " وَإِجَازَةً لِبَاقِيهِ، قَالَ: أَخْبَرَتْنَا عَفِيفَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ الْفَارِقَانِيَّةُ إِجَازَةً، قَالَتْ: أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوزْدَانِيَّةُ " ح " وَأَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَيْدُومِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ لِبَعْضِهِ، وَإِجَازَةً لِبَاقِيهِ، قَالَ: أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْعِزِّ الْأَنْصَارِيُّ إِجَازَةً، أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ سَعْدِ الْخَيْرِ - سَمَاعًا لِلنِّصْفِ الْأَوَّلِ مِنَ الْكِتَابِ، وَإِجَازَةً لِلنِّصْفِ الثَّانِي - قَالَتْ: أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ الْجُوزْدَانِيَّةُ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَيْدَةَ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ.
وَأَخْبَرَنِي بِالْمُجَلَّدِ الْأَوَّلِ - وَيَنْتَهِي إِلَى رِوَايَةِ الزُّهْرِيِّ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ - الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ الْحَذْفِيُّ - تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ - بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، قَالَ: أَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ شِبْلٍ الصِّنْهَاجِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَنَا أَبُو الطَّاهِرِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَوِيِّ بْنِ أَبِي الْعِزِّ بْنِ عِزُّونَ الْأَنْصَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، وَأَخْبَرَنَا الْمَيْدُومِيُّ عَنِ ابْنِ عِزُّونَ، قَالَ: أَخْبَرَتْنَا فَخْرُ النِّسَاءِ فَاطِمَةُ بِنْتُ سَعْدِ الْخَيْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ الْأَنْصَارِيَّةُ سَمَاعًا عَلَيْهَا، قَالَتْ: أَخْبَرَتْنَا أُمُّ إِبْرَاهِيمَ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ الْجُوزْدَانِيَّةُ قِرَاءَةً عَلَيْهَا وَأَنَا حَاضِرَةٌ، قَالَتْ: أَنَا ابْنُ رَيْدَةَ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ.
وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الْقَادِرِ أَيْضًا بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ مِنْ أَوَّلِ الْجُزْءِ الثَّانِي وَالثَّمَانِينَ.
وَأَوَّلُهُ: حَدَّثَنَا أَبُو يَزِيدَ الْقَرَاطِيسِيُّ، فَذَكَرَ حَدِيثَ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّ أَبَاهُ أَتَى بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلَامًا» - الْحَدِيثَ، وَيَنْتَهِي إِلَى تَفْسِيرِ حَدِيثِ هِنْدِ بْنِ أَبِي هَالَةَ.
وَأَخْبَرَنِي مِنْ هُنَا إِلَى بَابِ اللَّامِ أَلِفٍ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَادِلٍ الْحَنْبَلِيُّ بِقِرَاءَتِي أَيْضًا.
وَأَخْبَرَنِي مِنْ هُنَا إِلَى آخِرِ الْجُزْءِ التِّسْعِينَ - وَيَنْتَهِي إِلَى آخِرِ طُرُقِ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ: " «الْمُتَشَبِّعُ بِمَا لَمْ يُعْطِ كَلَابِسِ ثَوْبَيْ زُورٍ» " - عَبْدُ الْقَادِرِ أَيْضًا.
وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ
তিনি বললেন: আমি আবু আল-ইজ্জ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মুনইম বিন আলী আল-হাররানি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে—সপ্তত্রিশতম খণ্ডের শুরু থেকে ছেষট্টিতম খণ্ডের শেষ পর্যন্ত। আর এর শেষ হলো সিমাক বিন হারব-এর হাদিস যা তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
"বনী ইসরাঈল থেকে দশজন ব্যতীত আর কোনো নবী ছিলেন না: নূহ, হূদ, লূত, সলিহ, শুআইব, ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ঈসা এবং মুহাম্মাদ। আর ঈসা ও ইয়াকুব (আলাইহিমাস সালাম) ব্যতীত এমন কোনো নবী নেই যাঁর দুটি নাম নেই।" এবং অবশিষ্ট অংশের জন্য ইজাজাত (অনুমতি) প্রাপ্ত হয়েছি। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আফিফাহ বিনতে আহমদ আল-ফারিকানিয়াহ ইজাজাত হিসেবে। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জুজদানিয়াহ। (সূত্র পরিবর্তন) এবং আমাদের তা সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-মাইদুমি তাঁর নিকট কিছু অংশ শ্রবণের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজাত হিসেবে। তিনি বললেন: আমাকে ইসমাইল বিন আবু আল-ইজ্জ আল-আনসারি ইজাজাত দিয়েছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খাইর—গ্রন্থের প্রথমার্ধ শ্রবণের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ার্ধ ইজাজাত হিসেবে—তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা আল-জুজদানিয়াহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রাইদাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি।
এবং আমাকে প্রথম খণ্ড সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন—যা শেষ হয়েছে যুহরি কর্তৃক খারিজাহ বিন যাইদ বিন সাবিত থেকে, তিনি যাইদ বিন সাবিত থেকে বর্ণিত বর্ণনার মাধ্যমে—শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাশি আল-হাফযি—আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে ঢেকে দিন—তাঁর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বললেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন উমর বিন শিবল আস-সিনহাজি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির ইসমাইল বিন আব্দুল কায়্যূম বিন আবু আল-ইজ্জ বিন ইজ্জুন আল-আনসারি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম। এবং আমাদের আল-মাইদুমি ইবনে ইজ্জুন থেকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফখরুন নিসা ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খাইর বিন মুহাম্মাদ বিন সাহল আল-আনসারিয়াহ তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মু ইবরাহিম ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-জুজদানিয়াহ তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে রাইদাহ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি।
এবং আব্দুল কাদিরও আমাকে সংবাদ দিয়েছেন বিরাশিতম খণ্ডের শুরু থেকে তাঁর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে।
আর এর শুরু হলো: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াযিদ আল-কারাতিসি, অতঃপর তিনি নুমান বিন বশিরের হাদিসটি উল্লেখ করেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: «আমি আমার এই পুত্রকে একটি গোলাম দান করেছি» — হাদিসটি শেষ পর্যন্ত, এবং এটি হিন্দ বিন আবু হালাহ-এর হাদিসের ব্যাখ্যা পর্যন্ত শেষ হয়েছে।
এবং এখান থেকে 'লাম আলিফ' অধ্যায় পর্যন্ত আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আদিল আল-হাম্বলি, এটিও তাঁর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে।
এবং এখান থেকে নব্বইতম খণ্ডের শেষ পর্যন্ত আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—যা হিশাম বিন উরওয়াহ কর্তৃক ফাতিমা বিনতে আল-মুনযির থেকে, তিনি আসমা বিনতে আবু বকর থেকে বর্ণিত হাদিসের সর্বশেষ সূত্র পর্যন্ত শেষ হয়েছে: «যে ব্যক্তি এমন কিছু পাওয়ার ভান করে যা তাকে দেওয়া হয়নি, সে যেন মিথ্যার দুটি চাদর পরিধানকারী» — এটিও আব্দুল কাদির সংবাদ দিয়েছেন।
এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَاجِيُّ مِنْ هُنَا إِلَى حَدِيثِ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ.
وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الْقَادِرِ الْمَذْكُورُ مِنْ هُنَا إِلَى حَدِيثِ حَلِيمَةَ بِنْتِ أَبِي ذُؤَيْبٍ السَّعْدِيَّةِ.
وَأَخْبَرَنِي ابْنُ الْبَاجِيِّ الْمَذْكُورُ مِنْ هُنَا إِلَى آخِرِ الْكِتَابِ، قَالُوا ثَلَاثَتُهُمْ - عَبْدُ الْقَادِرِ، وَعُمَرُ بْنُ عَادِلٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْبَاجِيِّ -: أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَاعِدٍ الْحَلَبِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ، قَالَ ابْنُ الْبَاجِيِّ: خَلَا مِنْ أَوَّلِ الْحَادِي وَالتِّسْعِينَ إِلَى حَدِيثِ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ، وَخَلَا مِنْ قَوْلِهِ: مَا أَسْنَدَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ، إِلَى قَوْلِهِ: مَا أَسْنَدَتْ أُمُّ كُرْزٍ الْخُزَاعِيَّةِ، فَإِجَازَةٌ مِنْهُ، قَالَ: أَنَا يُوسُفُ بْنُ خَلِيلٍ الْحَافِظُ، قَالَ: أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الطَّرَسُوسِيُّ، أَنْبَأَ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّيْرَفِيُّ، وَأَبُو نَهْشَلٍ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنِ أَحْمَدَ الْعَنْبَرِيُّ " ح " قَالَ ابْنُ خَلِيلٍ: وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي زَيْدِ بْنِ حَمَدٍ الْكَرَّانِيُّ، أَنْبَأَ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّيْرَفِيُّ، خَلَا الْجُزْءَ الْأَخِيرَ، فَإِجَازَةً مِنْهُ وَسَمَاعًا عَلَى فَاطِمَةَ الْجُوزْدَانِيَّةِ لِلْجُزْءِ الْمَذْكُورِ. قَالَ مَحْمُودٌ الصَّيْرَفِيُّ: أَنْبَأَ أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ فَادْشَاهْ، وَقَالَ أَبُو نَهْشَلٍ وَفَاطِمَةُ الْجُوزْدَانِيَّةُ: أَنْبَأَ ابْنُ رَيْدَةَ، أَنْبَأَ أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ.
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ.
...ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-বাজি এখান থেকে বুসরা বিনতে সাফওয়ানের হাদিস পর্যন্ত।
উল্লিখিত আব্দুল কাদির আমাকে এখান থেকে হালিমা বিনতে আবি জুয়াইব আস-সাদিয়ার হাদিস পর্যন্ত সংবাদ দিয়েছেন।
এবং উল্লিখিত ইবনুল বাজি আমাকে এখান থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত সংবাদ দিয়েছেন। তারা তিনজনই—আব্দুল কাদির, উমর ইবনে আদিল এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল বাজি—বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে সাইদ আল-হালাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (তার নিকট শ্রবণ করা হয়েছে)। ইবনুল বাজি বলেছেন: একানব্বইতম অংশের শুরু থেকে বুসরা বিনতে সাফওয়ানের হাদিস পর্যন্ত এবং 'উম্মে সুলাইম যা বর্ণনা করেছেন' এই কথা থেকে 'উম্মে কুরয আল-খুজাইয়া যা বর্ণনা করেছেন' এই কথা পর্যন্ত অংশটুকু ছাড়া বাকিটুকু সরাসরি শোনা, আর ওই অংশটুকু তার পক্ষ থেকে ইজাজত (অনুমতি) প্রাপ্ত। তিনি বলেন: হাফেজ ইউসুফ ইবনে খলিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আত-তারসুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাহমুদ ইবনে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইরাফি এবং আবু নাহশাল আব্দুল সামাদ ইবনে আহমদ আল-আনবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। "হা" (সনদ পরিবর্তনের চিহ্ন); ইবনে খলিল বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি যায়েদ ইবনে হামাদ আল-কাররানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাহমুদ ইবনে ইসমাইল আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—শেষ অংশটুকু ছাড়া যা তার পক্ষ থেকে ইজাজত এবং উল্লিখিত অংশটি ফাতিমা আল-জুজদানিয়ার নিকট সরাসরি শ্রবণ করা হয়েছে। মাহমুদ আস-সাইরাফি বলেছেন: আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে ফাদশাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু নাহশাল এবং ফাতিমা আল-জুজদানিয়া বলেছেন: ইবনে রিদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম আত-তাবারানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[كِتَابُ الْإِيمَانِ]
[بَابٌ فِيمَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَبِهِ أَسْتَعِينُ. رَبِّ يَسِّرْ يَا كَرِيمُ. رَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ، وَتَمِّمْ يَا كَرِيمُ.
1 - كِتَابُ الْإِيمَانِ.
1 - 1 - (بَابٌ فِيمَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ).
1 - وَبِسَنَدِ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَنْبَأَ شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ أَنَّهُ «سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ - يُحَدِّثُ أَنَّ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَزِنُوا عَلَيْهِ حَتَّى كَادَ بَعْضُهُمْ يُوَسْوَسُ، قَالَ عُثْمَانُ: وَكُنْتُ مِنْهُمْ، فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ فِي ظِلِّ أُطُمٍ مَنَ الْآطَامِ مَرَّ عَلَيَّ عُمَرُ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ - فَسَلَّمَ عَلَيَّ فَلَمْ أَشْعُرْ أَنَّهُ مَرَّ وَلَا سَلَّمَ، فَانْطَلَقَ عُمَرُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ رحمه الله فَقَالَ لَهُ: مَا يُعْجِبُكَ أَنِّي مَرَرْتُ عَلَى عُثْمَانَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ السَّلَامَ! وَأَقْبَلَ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ - فِي وِلَايَةِ أَبِي بَكْرٍ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ - حَتَّى سَلَّمَا جَمِيعًا، ثُمَّ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: جَاءَنِي أَخُوكَ عُمَرُ، فَذَكَرَ أَنَّهُ مَرَّ فَسَلَّمَ عَلَيْكَ فَلَمْ تَرُدَّ عليه السلام، فَمَا الَّذِي حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: مَا فَعَلْتُ، فَقَالَ عُمَرُ: بَلَى، وَاللَّهِ قَدْ فَعَلْتَ، وَلَكِنَّهَا عُبِّيَّتُكُمْ يَا بَنِي أُمَيَّةَ. قَالَ: قُلْتُ وَاللَّهِ مَا شَعَرْتُ أَنَّكَ مَرَرْتَ وَلَا سَلَّمْتَ. قَالَ أَبُو بَكْرٍ: صَدَقَ عُثْمَانُ. وَقَدْ شَغَلَكَ عَنْ ذَلِكَ أَمْرٌ. فَقُلْتُ: أَجَلْ. قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ عُثْمَانُ رحمه الله: تَوَفَّى اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ أَسْأَلَهُ عَنْ نَجَاةِ هَذَا الْأَمْرِ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قَدْ سَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ. قَالَ: فَقُمْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ لَهُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، أَنْتَ أَحَقُّ بِهَا. قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَجَاةُ هَذَا الْأَمْرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَبِلَ مِنِّي الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُ عَلَى عَمِّي فَرَدَّهَا عَلَيَّ فَهِيَ لَهُ نَجَاةٌ» ".
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ بِاخْتِصَارٍ، وَأَبُو يَعْلَى بِتَمَامِهِ، وَالْبَزَّارُ بِنَحْوِهِ، وَفِيهِ رَجُلٌ لَمْ يُسَمَّ
[ঈমান অধ্যায়]
[অধ্যায়: যারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। হে মহানুভব প্রতিপালক! সহজ করে দিন। হে প্রতিপালক! সহজ করে দিন ও সাহায্য করুন এবং হে মহানুভব! পূর্ণতা দান করুন।
১ - ঈমান অধ্যায়।
১ - ১ - (অধ্যায়: যারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই)।
১ - ইমাম আহমাদের সনদে বর্ণিত, আবু আল-ইয়ামান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুআইব যুহরি থেকে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আনসারদের মধ্যে ফিকহশাস্ত্রে অভিজ্ঞ এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি উসমান ইবন আফফান (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বর্ণনা করতে শুনেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কিছু লোক তাঁর শোকে এতই বিহ্বল হয়ে পড়লেন যে, তাদের কারো কারো মধ্যে বিভ্রান্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। উসমান রাযি. বলেন: আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। একদিন আমি একটি দুর্গের ছায়ায় বসে ছিলাম, এমন সময় উমর (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন; কিন্তু আমি টেরই পেলাম না যে তিনি অতিক্রম করেছেন বা সালাম দিয়েছেন। ফলে উমর রাযি. চলে গেলেন এবং আবু বকর রাযি.-এর কাছে প্রবেশ করে তাঁকে বললেন: আপনার কি আশ্চর্য লাগছে না যে, আমি উসমানের পাশ দিয়ে গেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না! এরপর তিনি ও আবু বকর—আবু বকরের খিলাফতকালে (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)—একত্রে এগিয়ে আসলেন এবং উভয়েই সালাম দিলেন। তারপর আবু বকর রাযি. বললেন: আপনার ভাই উমর আমার কাছে এসে উল্লেখ করলেন যে তিনি আপনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সালাম দিয়েছিলেন কিন্তু আপনি তাঁর উত্তর দেননি; আপনাকে এমনটা করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? উসমান রাযি. বলেন: আমি বললাম: আমি তো এমনটা করিনি। তখন উমর রাযি. বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আপনি অবশ্যই তা করেছেন। তবে হে বনু উমাইয়া! এটা কি তোমাদের বংশীয় আভিজাত্যের অহংকার? উসমান রাযি. বলেন: আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আপনি কখন অতিক্রম করলেন আর কখন সালাম দিলেন—তা আমি টেরই পাইনি। আবু বকর রাযি. বললেন: উসমান সত্য বলেছে। কোনো বিশেষ চিন্তা আপনাকে হয়তো এ কাজ থেকে বিমুখ করে রেখেছিল। আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তা কী? উসমান রাযি. বললেন: এই দ্বীনের নাজাতের (মুক্তির) বিষয়টি সম্পর্কে আমি তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) জিজ্ঞাসা করার আগেই আল্লাহ তাঁর নবীকে ওফাত দান করেছেন। আবু বকর রাযি. বললেন: আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উসমান রাযি. বলেন: আমি তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে বললাম: আপনার প্রতি আমার বাবা ও মা উৎসর্গিত হোক, আপনিই এর জন্য অধিক যোগ্য। আবু বকর রাযি. বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়ের (দ্বীনের) নাজাত কীসে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি আমার চাচার (আবু তালিবের) কাছে যে কালিমাটি পেশ করেছিলাম এবং তিনি যা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে সেটি গ্রহণ করবে, সেটিই তার জন্য নাজাতের মাধ্যম।"
হাদিসটি ইমাম আহমাদ এবং তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা পূর্ণাঙ্গভাবে এবং বাজ্জারও এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে এর সনদে একজন অনুল্লিখিত ব্যক্তি রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَلَكِنَّ الزُّهْرِيَّ وَثَّقَهُ وَأَبْهَمَهُ، وَقَدْ ذَكَرْتُهُ بِسَنَدِهِ حَتَّى لَا أَبْتَدِئَ الْكِتَابَ بِسَنَدٍ مُنْقَطِعٍ.
2 - «وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَجَاةُ هَذَا الْأَمْرِ الَّذِي نَحْنُ فِيهِ؟ قَالَ: " مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَهُوَ لَهُ نَجَاةٌ».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى، وَفِي إِسْنَادِهِ: كَوْثَرٌ، وَهُوَ مَتْرُوكٌ.
3 - وَعَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: «حُدِّثْتُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ لَقِيَ طَلْحَةَ، فَقَالَ: مَا لِي أَرَاكَ وَاجِمًا؟ قَالَ: كَلِمَةٌ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزْعُمُ أَنَّهَا مُوجِبَةٌ، فَلَمْ أَسْأَلْهُ عَنْهَا، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا أَعْلَمُ مَا هِيَ، قَالَ: مَا هِيَ؟ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ، إِلَّا أَنَّ أَبَا وَائِلٍ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ أَبِي بَكْرٍ.
4 - «وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اخْرُجْ فَنَادِ فِي النَّاسِ: مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ". قَالَ: فَخَرَجْتُ فَلَقِيَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: مَا لَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ؟ فَقُلْتُ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اخْرُجْ فَنَادِ فِي النَّاسِ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " فَقَالَ عُمَرُ: ارْجِعْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ; فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَّكِلُوا عَلَيْهَا، فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " مَا رَدَّكَ؟ " فَأَخْبَرْتُهُ بِقَوْلِ عُمَرَ، فَقَالَ: " صَدَقَ».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى، وَفِي إِسْنَادِهِ سُوَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَهُوَ مَتْرُوكٌ.
5 - «وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا عَبْدٌ حَقًّا مِنْ قَلْبِهِ إِلَّا حُرِّمَ عَلَى النَّارِ ". قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَلَا أُحَدِّثُكَ مَا هِيَ؟ هِيَ كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ الَّتِي أَلْزَمَهَا اللَّهُ تبارك وتعالى مُحَمَّدًا - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ سَلَّمَ - وَأَصْحَابَهُ، وَهِيَ كَلِمَةُ التَّقْوَى الَّتِي أَلَاصَ عَلَيْهَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمَّهُ أَبَا طَالِبٍ عِنْدَ الْمَوْتِ: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ».
قُلْتُ: لِعُمَرَ حَدِيثٌ رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ بِغَيْرِ هَذَا السِّيَاقِ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ، رَوَاهُ أَحْمَدُ.
6 - «وَعَنْ سُهَيْلِ بْنِ الْبَيْضَاءِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ فِي سَفَرٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا رَدِيفُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَا سُهَيْلُ بْنَ الْبَيْضَاءِ "، وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، كُلُّ ذَلِكَ يُجِيبُهُ سُهَيْلٌ، فَسَمِعَ النَّاسُ صَوْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَظَنُّوا أَنَّهُ يُرِيدُهُمْ، فَحُبِسَ مَنْ كَانَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَحِقَهُ مَنْ كَانَ خَلْفَهُ، حَتَّى إِذَا اجْتَمَعُوا قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ، وَأَوْجَبَ لَهُ الْجَنَّةَ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ،
কিন্তু যুহরি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তাকে অস্পষ্ট রেখেছেন। আমি এটি তার সনদের সাথে উল্লেখ করেছি যাতে আমি বিচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে কিতাবটি শুরু না করি।
২ - «আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যে বিষয়ের (দীনের) মধ্যে রয়েছি, তা থেকে মুক্তির উপায় কী? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সেটিই তার জন্য মুক্তি (নাজাত)।"»
এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে কাওসার নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)।
৩ - আবু ওয়াইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমাকে জানানো হয়েছে যে, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আমি আপনাকে কেন বিষণ্ণ দেখছি? তিনি বললেন: একটি কালেমার কারণে যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি; তিনি ধারণা দিচ্ছিলেন যে এটি (জান্নাত) ওয়াজিবকারী, কিন্তু আমি তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারিনি। আবু বকর বললেন: আমি জানি সেটি কী। তিনি বললেন: সেটি কী? আবু বকর বললেন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই)।’
এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে আবু ওয়াইল এটি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সরাসরি শোনেননি।
৪ - «আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বের হও এবং মানুষের মাঝে ঘোষণা দাও: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তার জন্য জান্নাত অবধারিত।" তিনি বলেন: আমি বের হলাম এবং ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আমার দেখা হলো। তিনি বললেন: হে আবু বকর, আপনার কী হয়েছে? আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: "বের হও এবং মানুষের মাঝে ঘোষণা দাও যে, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তার জন্য জান্নাত অবধারিত।" তখন ওমর বললেন: আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে যান; কারণ আমি ভয় করছি যে মানুষ এর ওপর ভরসা করে (আমল ছেড়ে দিয়ে) বসে থাকবে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি বললেন: "কিসে তোমাকে ফিরিয়ে আনল?" আমি তাঁকে ওমরের কথা জানালাম। তখন তিনি বললেন: "সে সত্য বলেছে।"»
এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে সুওয়াইদ ইবনে আব্দুল আজিজ রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত।
৫ - «উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমি এমন একটি কালেমা জানি, কোনো বান্দা যদি অন্তরের সত্যতা সহকারে সেটি বলে, তবে তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যাবে।" ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি কি আপনাকে বলব না সেটি কী? সেটি হলো ইখলাসের কালেমা যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের ওপর অপরিহার্য করেছেন। আর তা হলো তাকওয়ার কালেমা, যেটির ওপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালিবকে মৃত্যুর সময় আহ্বান করেছিলেন: অর্থাৎ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"»
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিস ইবনে মাজাহ এই প্রেক্ষাপট ভিন্ন অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য; এটি ইমাম আহমদও বর্ণনা করেছেন।
৬ - «সুহাইল ইবনুল বায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে ছিলাম এবং আমি তাঁর সওয়ারির পেছনে বসা ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে দুইবার বা তিনবার বললেন: "হে সুহাইল ইবনুল বায়দা!" প্রতিবারই সুহাইল সাড়া দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আওয়াজ শুনে মানুষ মনে করল যে তিনি তাদের ডাকছেন। ফলে যারা সামনে ছিল তারা থেমে গেল এবং যারা পেছনে ছিল তারা এসে মিলিত হলো। যখন তারা সকলে একত্রিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করবেন এবং জান্নাত অবধারিত করবেন।"»
এটি আহমদ এবং তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَمَدَارُهُ عَلَى سَعِيدِ بْنِ الصَّلْتِ، قَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: قَدْ رُوِيَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ بَيْضَاءَ مُرْسَلًا، وَابْنِ عَبَّاسٍ مُتَّصِلًا.
7 - «وَعَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَعِي نَفَرٌ مِنْ قَوْمِي، فَقَالَ: " أَبْشِرُوا وَبَشِّرُوا مَنْ وَرَاءَكُمْ أَنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ صَادِقًا بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ "، فَخَرَجْنَا مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نُبَشِّرُ النَّاسَ، فَاسْتَقْبَلَنَا عُمَرُ رضي الله عنه فَرَجَعَ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذًا يَتَّكِلُ النَّاسُ، فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ.
8 - «وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ " قَالَ: قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: " وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ "، قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ "، قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ، عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي الدَّرْدَاءِ ". قَالَ: فَخَرَجْتُ لِأُنَادِيَ بِهَا فِي النَّاسِ فَلَقِيَنِي عُمَرُ، فَقَالَ: ارْجِعْ فَإِنَّ النَّاسَ إِنْ عَلِمُوا بِهَذِهِ اتَّكَلُوا عَلَيْهَا. قَالَ: فَرَجَعْتُ، فَأَخْبَرْتُهُ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " صَدَقَ عُمَرُ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَزَّارُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ، وَإِسْنَادُ أَحْمَدَ أَصَحُّ، وَفِيهِ ابْنُ لَهِيعَةَ، وَقَدِ احْتَجَّ بِهِ غَيْرُ وَاحِدٍ.
9 - وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه إِذْ حَضَرَ، قَالَ: «أَدْخِلُوا عَلَيَّ النَّاسَ، فَأُدْخِلُوا عَلَيْهِ فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَنْ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا جَعَلَهُ اللَّهُ فِي الْجَنَّةِ "، وَمَا كُنْتُ أُحَدِّثُكُمُوهُ إِلَّا عِنْدَ الْمَوْتِ، وَالشَّهِيدُ عَلَى ذَلِكَ عُوَيْمِرٌ أَبُو الدَّرْدَاءِ. فَانْطَلَقُوا إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ فَقَالَ: صَدَقَ أَخِي، وَمَا كَانَ يُحَدِّثُكُمْ بِهِ إِلَّا عِنْدَ مَوْتِهِ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ، إِلَّا أَنَّ أَبَا صَالِحٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ.
10 - «وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَفَاتِيحُ الْجَنَّةِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ "».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَزَّارُ، وَفِيهِ انْقِطَاعٌ بَيْنَ شَهْرٍ وَمُعَاذٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ رِوَايَتُهُ عَنْ أَهْلِ الْحِجَازِ ضَعِيفَةٌ، وَهَذَا مِنْهَا.
11 - «وَعَنْ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يُؤَذِّنَ فِي النَّاسِ أَنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ مُخْلِصًا - دَخَلَ الْجَنَّةَ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذًا يَتَّكِلُوا، فَقَالَ: " دَعْهُمْ».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَالْبَزَّارُ، إِلَّا أَنَّ عُمَرَ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا
এর বর্ণনাধারা সাঈদ বিন আস-সালত এর ওপর আবর্তিত। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: এটি সুহাইল বিন বাইযা থেকে মুরসাল হিসেবে এবং ইবনে আব্বাস থেকে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
৭ - «আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম এবং আমার সাথে আমার গোত্রের একদল লোক ছিল। তিনি বললেন: "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা আছে তাদের সুসংবাদ দাও যে, যে ব্যক্তি সত্য অন্তরে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" অতঃপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে বের হয়ে মানুষকে সুসংবাদ দিতে লাগলাম। আমাদের সাথে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাক্ষাৎ হলো, তিনি আমাদের নিয়ে পুনরায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ফিরে গেলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো মানুষ এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে (আমল ছেড়ে দেবে)। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকলেন।»
এটি ইমাম আহমাদ এবং তাবরানি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৮ - «আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তিনি (আবু দারদা) বলেন: আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে, আবু দারদার নাক ধূলিধূসরিত করে (তার অপছন্দ সত্ত্বেও)।" তিনি বলেন: অতঃপর আমি মানুষের মাঝে এটি ঘোষণা করতে বের হলাম। পথিমধ্যে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আমার দেখা হলো। তিনি বললেন: ফিরে যাও, কেননা মানুষ যদি এটি জেনে যায় তবে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। তিনি বলেন: অতঃপর আমি ফিরে গেলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন: "উমর সত্য বলেছে।"»
এটি ইমাম আহমাদ, বাজার এবং তাবরানি 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন। আহমাদের বর্ণনাধারাটি অধিকতর সহীহ, এবং এতে ইবনে লাহীআহ রয়েছেন, তবে একাধিক মুহাদ্দিস তাঁর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
৯ - মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি বললেন: «মানুষকে আমার কাছে প্রবেশ করাও। তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে সে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করেনি, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" আর আমি এটি তোমাদের নিকট কেবল মৃত্যুর সময়ই বর্ণনা করছি। আর এ বিষয়ে সাক্ষী হলেন উওয়াইমির আবু দারদা। অতঃপর তারা আবু দারদার নিকট গেল। তিনি বললেন: আমার ভাই সত্য বলেছেন, আর তিনি এটি তাঁর মৃত্যুর সময়ই কেবল তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।»
এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে আবু সালিহ মুয়াজ বিন জাবাল থেকে সরাসরি শোনেননি।
১০ - «মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এই সাক্ষ্য দেওয়া।"»
এটি ইমাম আহমাদ এবং বাজার বর্ণনা করেছেন। এর সনদে শাহর এবং মুয়াজের মাঝে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। আর ইসমাইল বিন আইয়াশ যখন হিজাজবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন তখন তা দুর্বল হয়, আর এটি সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
১১ - «উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে মানুষের মাঝে ঘোষণা করতে নির্দেশ দিলেন যে, যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। তিনি বললেন: "তাদের ছেড়ে দাও।"»
এটি আবু ইয়ালা এবং বাজার বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে আছে যে উমর বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো...
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يَتَّكِلُوا، قَالَ: " دَعْهُمْ يَتَّكِلُوا ". وَفِي إِسْنَادِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، وَهُوَ ضَعِيفٌ لِسُوءِ حِفْظِهِ.
12 - وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " نَادِ يَا عُمَرُ فِي النَّاسِ أَنَّهُ مَنْ مَاتَ يَعْبُدُ اللَّهَ مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَحُرِّمَ عَلَى النَّارِ ". قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلَا أُبَشِّرُ النَّاسَ؟ قَالَ: " لَا، لَا يَتَّكِلُوا».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى.
13 - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ - نَفَعَتْهُ يَوْمًا مِنْ دَهْرِهِ، يُصِيبُهُ قَبْلَ ذَلِكَ مَا أَصَابَهُ».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ وَالصَّغِيرِ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ.
14 - وَعَنْ عُمَرَ رضي الله عنه قَالَ: «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّهُ لَا يَقُولُهَا أَحَدٌ مِنْ حَقِيقَةِ قَلْبِهِ إِلَّا وَقَاهُ اللَّهُ حَرَّ النَّارِ» ".
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَفِي إِسْنَادِهِ عَاصِمُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، وَهُوَ ضَعِيفٌ.
15 - وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه «عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ يَوْمًا مِنَ الْأَيَّامِ: " مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ - وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ". فَاسْتَأْذَنَهُ مُعَاذٌ لِيَخْرُجَ بِهَا إِلَى النَّاسِ فَيُبَشِّرَهُمْ، فَأَذِنَ لَهُ، فَخَرَجَ فَرِحًا مُسْتَعْجِلًا فَلَقِيَهُ عُمَرُ، فَقَالَ: مَا شَأْنُكَ؟ فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ عُمَرُ: كَمَا أَنْتَ، لَا تَعْجَلْ. ثُمَّ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَنْتَ أَفْضَلُ رَأْيًا، إِنَّ النَّاسَ إِذَا سَمِعُوا بِهَذَا اتَّكَلُوا عَلَيْهَا فَلَمْ يَعْمَلُوا، قَالَ: " فَرُدَّهُ، فَرَدَّهُ».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَفِي إِسْنَادِهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي لَيْلَى، وَقَدْ ضُعِّفَ.
16 - وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَيْضًا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا - دَخَلَ الْجَنَّةَ».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ، إِلَّا أَنَّ مَنْ رَوَى عَنْهُمَا الْبَزَّارُ لَمْ أَقِفْ لَهُمَا عَلَى تَرْجَمَةٍ.
17 - وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ
তারা যেন নির্ভর করে থাকে। তিনি বললেন: "তাদেরকে নির্ভর করে থাকতে দাও।" এর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল রয়েছেন, এবং তিনি তার মুখস্থ রাখার দুর্বলতার কারণে যঈফ (দুর্বল)।
১২ - জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হে ওমর, মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও যে, যে ব্যক্তি তার অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা অবস্থায় মারা যাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন।" বর্ণনাকারী বলেন, ওমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি মানুষকে সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: "না, তারা যেন কেবল এর ওপর নির্ভর করে বসে না থাকে"»।
এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন।
১৩ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "«যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' - এটি তার জীবনের কোনো একদিন উপকারে আসবে, তার আগে তার যা হওয়ার তা হয়ে থাকলেও»।"
এটি আল-বাজার এবং তাবারানি আল-আউসাত ও আস-সাগীরে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা সহীহ্-এর বর্ণনাকারী।
১৪ - ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি অন্তরের গভীর সত্যতা থেকে এটি বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের উত্তাপ থেকে রক্ষা করবেন"»।
এটি আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আসিম ইবনে উবায়দুল্লাহ রয়েছেন, আর তিনি যঈফ (দুর্বল)।
১৫ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, «রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি কোনো এক দিন বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' - তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল।" তখন মুয়াজ (রা.) মানুষের কাছে গিয়ে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। মুয়াজ (রা.) আনন্দিত হয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন এবং ওমরের (রা.) সাথে তাঁর দেখা হলো। ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কী হয়েছে? তিনি তাকে বিষয়টি জানালেন। ওমর (রা.) বললেন: তুমি যেখানে আছো সেখানেই থাকো, তাড়াহুড়ো করো না। তারপর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে প্রবেশ করে বললেন: হে আল্লাহর নবী, আপনার সিদ্ধান্তই সর্বোত্তম, তবে মানুষ যদি এটি শোনে তবে তারা এর ওপরই নির্ভর করবে এবং আমল ছেড়ে দেবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তবে তাকে ফিরিয়ে আনো।" তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে আনলেন»।
এটি আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে মুহাম্মদ ইবনে আবি লায়লা রয়েছেন, যাকে যঈফ (দুর্বল) বলা হয়েছে।
১৬ - আবু সাঈদ (রা.) থেকেই আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' - সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»।
এটি আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে আল-বাজার যাদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁদের জীবনী সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি।
১৭ - আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»।
এটি আহমাদ ও আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা...
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الصَّحِيحِ.
18 - وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا - دَخَلَ الْجَنَّةَ ". قِيلَ: وَمَا إِخْلَاصُهَا؟ قَالَ: " أَنْ تَحْجِزَهُ عَنْ مَحَارِمِ اللَّهِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ وَالْكَبِيرِ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ فِي الْكَبِيرِ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِخْلَاصُهُ أَنْ تَحْجِزَهُ عَمَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ» ". وَفِي إِسْنَادِهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَزْوَانَ، وَهُوَ وَضَّاعٌ.
19 - وَعَنْ بِلَالٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا بِلَالُ، نَادِ فِي النَّاسِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ - دَخَلَ الْجَنَّةَ، أَوْ شَهْرٍ، أَوْ جُمُعَةٍ، أَوْ يَوْمٍ، أَوْ سَاعَةٍ، قَالَ: إِذًا يَتَّكِلُوا: قَالَ: وَإِنِ اتَّكَلُوا».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِيهِ الْمِنْهَالُ بْنُ خَلِيفَةَ، وَهُوَ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ.
20 - «وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُبَشِّرُ النَّاسَ: " أَنَّهُ مَنْ مَاتَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فَلَهُ الْجَنَّةُ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.
21 - وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُعَيْمٍ الْأَشْجَعِيِّ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ - تَعَالَى - لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ "، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ. وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِيهِ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ الْمِصِّيصِيُّ، وَهُوَ مَتْرُوكٌ لَا يُحْتَجُّ بِهِ.
22 - وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ وَالْكَبِيرِ، وَفِيهِ أَبُو مِشْرَحٍ أَوْ مِشْرَسٍ لَمْ أَقِفْ لَهُ عَلَى تَرْجَمَةٍ.
23 - وَعَنْ يَعْلَى بْنِ شَدَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي شَدَّادٍ - وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ حَاضِرٌ يُصَدِّقُهُ - قَالَ: «كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " هَلْ فِيكُمْ غَرِيبٌ؟ " - يَعْنِي أَهْلَ الْكِتَابِ -. قُلْنَا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَأَمَرَ بِغَلْقِ الْبَابِ
সহীহ।
১৮ - যাইদ ইবনে আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।» জিজ্ঞেস করা হলো: এর একনিষ্ঠতা কী? তিনি বললেন: «তা তাকে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহ থেকে বিরত রাখা।»
তাবারানি এটি আল-আওসাত এবং আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি আল-কাবিরে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এর একনিষ্ঠতা হলো তা তাকে ঐসব বিষয় থেকে বিরত রাখা যা আল্লাহ তার ওপর হারাম করেছেন।» আর এর সনদে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে গাজওয়ান রয়েছেন, যিনি একজন হাদীস জালকারী।
১৯ - বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে বিলাল, মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও—যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর এক বছর আগে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথবা এক মাস আগে, অথবা এক সপ্তাহ আগে, অথবা একদিন আগে, অথবা এক মুহূর্ত আগে।» তিনি (বিলাল) বললেন: তবে তো তারা (আমল ছেড়ে এর ওপর) ভরসা করবে। তিনি বললেন: «যদি তারা ভরসা করেও ফেলে তবুও (ঘোষণা করো)।»
তাবারানি এটি আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং এতে মিনহাল ইবনে খলিফা রয়েছেন, যিনি মুনকারুল হাদীস।
২০ - «যাইড ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে মানুষের কাছে এই সুসংবাদ দিতে পাঠালেন যে: "যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে সে সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তবে তার জন্য জান্নাত।"»
তাবারানি এটি আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
২১ - সালামাহ ইবনে নুআইম আল-আশজায়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের একজন ছিলেন—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।»
ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তাবারানি এটি আল-কাবিরেও বর্ণনা করেছেন, তাতে আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-মিসসিসী রয়েছেন, তিনি পরিত্যক্ত, তার দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না।
২২ - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
তাবারানি এটি আল-আওসাত এবং আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন, তাতে আবু মিশরাহ বা মিশরাস রয়েছেন যার জীবনী সম্পর্কে আমি অবগত হতে পারিনি।
২৩ - ইয়ালা ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা শাদ্দাদ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন—এমতাবস্থায় যে উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে সত্যায়ন করছিলেন—তিনি বলেন: «আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি কোনো আগন্তুক (অর্থাৎ আহলে কিতাব) আছে?" আমরা বললাম: না, হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন...»
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَالَ: " ارْفَعُوا أَيْدِيَكُمْ وَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ "، فَرَفَعْنَا أَيْدِيَنَا سَاعَةً ثُمَّ وَضَعَ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ، ثُمَّ قَالَ: " الْحَمْدُ لِلَّهِ، اللَّهُمَّ إِنَّكَ بَعَثْتَنِي بِهَذِهِ الْكَلِمَةِ، وَأَمَرْتَنِي بِهَا، وَوَعَدْتَنِي عَلَيْهَا الْجَنَّةَ، وَإِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ "، ثُمَّ قَالَ: " أَلَا أَبْشِرُوا ; فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكُمْ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ وَالْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.
24 - وَعَنْ رَجُلٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَلَمْ تَضُرَّهُ مَعَهُ خَطِيئَةٌ، كَمَا لَوْ لَقِيَهُ وَهُوَ يُشْرِكُ بِهِ دَخَلَ النَّارَ وَلَمْ يَنْفَعْهُ مَعَهُ حَسَنَةٌ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ مَا خَلَا التَّابِعِيَّ ; فَإِنَّهُ لَمْ يُسَمَّ، وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فَجَعَلَهُ مِنْ رِوَايَةِ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو.
25 - وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ رَبُّهُ وَأَنِّي نَبِيُّهُ صَادِقًا مِنْ قَلْبِهِ - وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى جِلْدَةِ صَدْرِهِ - حَرَّمَ اللَّهُ لَحْمَهُ عَلَى النَّارِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ صَفْوَانَ، وَهُوَ وَاهِي الْحَدِيثِ.
26 - وَعَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ مَاتَ وَهُوَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا فَقَدْ حَلَّتْ لَهُ مَغْفِرَتُهُ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَإِسْنَادُهُ لَا بَأْسَ بِهِ.
27 - وَعَنْ جَرِيرٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَمْ يَتَنَدَّ بِدَمٍ حَرَامٍ - أُدْخِلَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.
28 - وَعَنْ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: «كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزَاةٍ، فَأَصَابَ النَّاسَ مَخْمَصَةٌ، فَاسْتَأْذَنَ النَّاسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَحْرِ بَعْضِ ظَهْرِهِمْ، وَقَالُوا: يُبَلِّغُنَا اللَّهُ بِهِ. فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ هَمَّ أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ فِي نَحْرِ بَعْضِ ظَهْرِهِمْ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ بِنَا إِذَا نَحْنُ لَقِينَا الْقَوْمَ غَدًا جِيَاعًا رِجَالًا؟
এবং তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের হাত উঠাও এবং বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।" আমরা কিছুক্ষণ আমাদের হাত উঠিয়ে রাখলাম, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত নামালেন এবং বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আমাকে এই বাক্যসহ পাঠিয়েছেন, আমাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর ওপর আমাকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।" এরপর তিনি বললেন: "সাবধান, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো; কেননা আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
এটি আহমাদ, তাবারানি এবং বাজ্জার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
২৪ - জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে সে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং কোনো গুনাহই তার ক্ষতি করবে না; যেমনটি কেউ যদি তাঁর সাথে শরিক করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং কোনো নেক আমলই তার উপকারে আসবে না।"
এটি আহমাদ এবং তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ তাবিঈ ব্যতীত সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী; কেননা তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং মাসরুক থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
২৫ - ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তার অন্তরের সত্যতা দিয়ে জানবে যে আল্লাহ তার রব এবং আমি তাঁর নবী - এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর বুকের চামড়ার দিকে ইশারা করলেন - আল্লাহ তার গোশতকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন।"
এটি তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে সাফওয়ান রয়েছেন এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারী।
২৬ - নাওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তার জন্য আল্লাহর ক্ষমা অবধারিত হয়ে যাবে।"
এটি তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে কোনো অসুবিধা নেই।
২৭ - জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে এবং কোনো হারাম রক্তপাতে লিপ্ত না হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।"
এটি তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
২৮ - আবু আমরাহ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তখন মানুষের মাঝে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিল। তাই লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের সওয়ারির কিছু পশু যবাই করার অনুমতি চাইল এবং তারা বলল: এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাবেন। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন দেখলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সওয়ারির কিছু পশু যবাই করার অনুমতি দেওয়ার সংকল্প করেছেন, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আগামীকাল যদি আমরা ক্ষুধার্ত এবং পদাতিক অবস্থায় শত্রুর মোকাবিলা করি তবে আমাদের কী দশা হবে?"
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَلَكِنْ إِنْ رَأَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَدْعُوَ النَّاسَ بِبَقَايَا أَزْوَادِهِمْ فَتَجْمَعَهُ، ثُمَّ تَدْعُوَ اللَّهَ فِيهِ بِالْبَرَكَةِ ; فَإِنَّ اللَّهَ سَيُبَارِكُ لَنَا فِي دَعْوَتِكَ - أَوْ سَيُبَلِّغُنَا بِدَعْوَتِكَ - فَدَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِبَقَايَا أَزْوَادِهِمْ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَجِيئُونَ بِالْحَثْيَةِ مِنَ الطَّعَامِ وَفَوْقَ ذَلِكَ، وَكَانَ أَعْلَاهُمْ مَنْ جَاءَ بِصَاعٍ مِنْ تَمْرٍ. فَجَمَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ فَدَعَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَ، ثُمَّ دَعَا الْجَيْشَ بِأَوْعِيَتِهِمْ، وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَحْتَثُوا، فَمَا بَقِيَ فِي الْجَيْشِ وِعَاءٌ إِلَّا مَلَئُوهُ، وَبَقِيَ مَثَلُهُ. فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ، فَقَالَ: " أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، لَا يَلْقَى اللَّهَ عَبَدٌ مُؤْمِنٌ بِهَا إِلَّا حَجَبَتْهُ عَنِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ. وَزَادَ فِيهِ: «ثُمَّ دَعَا بِرَكْوَةٍ فَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَصُبَّ فِيهَا، ثُمَّ مَجَّ فِيهِ وَتَكَلَّمَ بِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَتَكَلَّمَ، ثُمَّ أَدْخَلَ خِنْصَرَهُ - فَأُقْسِمُ بِاللَّهِ: لَقَدْ رَأَيْتُ أَصَابِعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَتَفَجَّرُ يَنَابِيعَ مِنَ الْمَاءِ - ثُمَّ أَمَرَ النَّاسَ فَشَرِبُوا وَسَقَوْا وَمَلَئُوا قِرَبَهُمْ وَأَدَاوِيهِمْ. وَقَالَ: " لَا يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا أُدْخِلَ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ فِيهِ». وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ.
29 - وَعَنْ رِفَاعَةَ الْجُهَنِيِّ قَالَ: «أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْكَدِيدِ - أَوْ قَالَ بِقُدَيْدٍ - فَجَعَلَ رِجَالٌ يَسْتَأْذِنُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَهْلِيهِمْ، فَيَأْذَنُ لَهُمْ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " مَا بَالُ رِجَالٍ يَكُونُ شِقُّ الشَّجَرَةِ الَّتِي تَلِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْغَضَ إِلَيْهِمْ مِنَ الشِّقِّ الْآخَرِ؟ ". فَلَمْ يَرَ عِنْدَ ذَلِكَ مِنَ الْقَوْمِ إِلَّا بَاكِيًا، فَقَالَ رَجُلٌ: إِنَّ الَّذِي يَسْتَأْذِنُ بَعْدَ هَذَا لَسَفِيهٌ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَقَالَ خَيْرًا، وَقَالَ: " أَشْهَدُ عِنْدَ اللَّهِ، لَا يَمُوتُ عَبْدٌ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ، ثُمَّ يُسَدِّدُ - إِلَّا سُلِكَ فِي الْجَنَّةِ ". قَالَ: " وَقَدْ وَعَدَنِي رَبِّي عز وجل أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلَا عَذَابَ، وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا تَدْخُلُوهَا حَتَّى تَبَوَّءُوا أَنْتُمْ وَمَنْ صَلُحَ مِنْ آبَائِكُمْ وَأَزْوَاجِكُمْ وَذَرَارِيكُمْ مَسَاكِنَ فِي الْجَنَّةِ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ - وَعِنْدَ ابْنِ مَاجَهْ بَعْضُهُ -
কিন্তু হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি সঙ্গত মনে করেন যে, লোকজনকে তাদের অবশিষ্ট পাথেয়সহ ডাকবেন এবং তা একত্রিত করবেন, অতঃপর তাতে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করবেন; তবে আল্লাহ অবশ্যই আপনার দুয়ার উসিলায় আমাদের বরকত দান করবেন - অথবা আপনার দুয়ার উসিলায় আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসার জন্য ডাকলেন। ফলে লোকজন সামান্য পরিমাণ খাদ্য এবং তার চেয়েও বেশি নিয়ে আসতে লাগল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ খাদ্য ছিল ওই ব্যক্তির, যে এক সা' খেজুর নিয়ে এসেছিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেগুলো একত্রিত করলেন, তারপর দাঁড়িয়ে আল্লাহ যা চাইলেন সে অনুযায়ী দুয়া করলেন। এরপর তিনি পুরো বাহিনীকে তাদের পাত্রসহ ডাকলেন এবং তাদের সেগুলো ভরে নিতে নির্দেশ দিলেন। ফলে বাহিনীর মধ্যে এমন কোনো পাত্র বাকি রইল না যা তারা পূর্ণ করেনি, তদুপরি সমপরিমাণ খাদ্য অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন, এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল। এরপর তিনি বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল। যে মুমিন বান্দা এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, কিয়ামতের দিন তা তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল করে দেবে।"
এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ এবং তাবারানি তার কাবীর ও আওসাত গ্রন্থে। এবং এতে আরও বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর তিনি একটি পানির পাত্র চাইলেন এবং সেটি তাঁর সামনে রাখা হলো। এরপর তিনি পানি চাইলেন এবং তাতে ঢালা হলো। তারপর তিনি তাতে কুলি করলেন এবং আল্লাহ যা চাইলেন সে অনুযায়ী কথা বললেন। অতঃপর তিনি তাঁর কনিষ্ঠ আঙুল প্রবেশ করালেন - আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আঙুলগুলো থেকে পানির ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হতে দেখেছি - এরপর তিনি লোকজনকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তারা পান করল, গবাদি পশুদের পান করাল এবং তাদের মশকো ও পানির পাত্রগুলো পূর্ণ করল। এবং তিনি বললেন: "কিয়ামতের দিন যে কেউ এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে যে আমলের ওপরই থাকুক না কেন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
২৯ - রিফাআ আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে অগ্রসর হলাম, অবশেষে যখন আমরা কাদীদ - অথবা তিনি বলেছেন কুদাইদ - নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন কিছু লোক তাদের পরিবারের কাছে যাওয়ার জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অনুমতি চাইতে লাগল। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। এরপর বললেন: "লোকদের কী হলো যে, আল্লাহর রাসূলের নিকটবর্তী গাছের একপাশ তাদের কাছে অন্য পাশের তুলনায় অধিক অপ্রিয় মনে হচ্ছে?" তখন লোকজনের মধ্যে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া আর কিছু দেখা গেল না। এক ব্যক্তি বলল: "এরপরও যে অনুমতি চাইবে সে অবশ্যই নির্বোধ।" অতঃপর তিনি (রাসূল) আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং কল্যাণকর কথা বললেন। এবং বললেন: "আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কোনো বান্দা যদি অন্তর থেকে সত্য মনে করে এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর এরপর সঠিক পথে অটল থাকে, তবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবেই।" তিনি আরও বললেন: "আমার প্রতিপালক (মহা মহিমান্বিত) আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, আমার উম্মত থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে ও বিনা আজাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আমি আশা করি যে, তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেককার, তারা জান্নাতে নিজেদের আবাসন গ্রহণ না করা পর্যন্ত তোমরা সেখানে প্রবেশ করবে না।"
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন - এবং ইবনে মাজাহ-তে এর একাংশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.
30 - وَعَنْ عُمَارَةَ بْنِ رُوَيْبَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «هُمَا الْمُوجِبَتَانِ مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، وَهُوَ ضَعِيفٌ.
31 - وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَمَلَانِ مُنْجِيَانِ مُوجِبَانِ ; فَأَمَّا الْمُنْجِيَانِ: مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ لَقِيَهُ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ».
قُلْتُ: وَيَأْتِي بِتَمَامِهِ فِي كِتَابِ الصَّوْمِ.
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِيهِ يَحْيَى بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، وَهُوَ ضَعِيفٌ.
32 - وَعَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْأَعْمَالُ سِتَّةٌ وَالنَّاسُ أَرْبَعَةٌ: فَمُوجِبَتَانِ، وَمِثْلٌ بِمِثْلٍ، وَحَسَنَةٌ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَحَسَنَةٌ بِسَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ ; فَأَمَّا الْمُوجِبَتَانِ: فَمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ. وَأَمَّا مِثْلٌ بِمِثْلٍ: فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ حَتَّى يَشْعُرَهَا قَلْبُهُ وَيَعْلَمَهَا اللَّهُ مِنْهُ - كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةٌ، وَمَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً كُتِبَتْ عَلَيْهِ سَيِّئَةٌ، وَمَنْ عَمِلَ حَسَنَةً فَبِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَمَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَحَسَنَةٌ بِسَبْعِمِائَةٍ. وَأَمَّا النَّاسُ: فَمُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا مَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الْآخِرَةِ، وَمَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَمُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الْآخِرَةِ».
قُلْتُ: رَوَى التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ مِنْهُ ذِكْرَ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ، وَرِجَالُ أَحْمَدَ رِجَالُ الصَّحِيحِ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ رَجُلٍ عَنْ خُرَيْمٍ. وَقَالَ الطَّبَرَانِيُّ: عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ يُسَيْرِ بْنِ عَمِيلَةَ. وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ.
33 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَقْتُلُ نَفْسًا لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ خَفِيفُ الظَّهْرِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ ابْنُ لَهِيعَةَ.
34 - وَعَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - أَطَاعَ بِهَا قَلْبُهُ، وَذَلَّ بِهَا لِسَانُهُ - وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ - حَرَّمَهُ اللَّهُ عز وجل عَلَى النَّارِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِيهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، وَالْأَكْثَرُ عَلَى تَضْعِيفِهِ.
35 - وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمُسْلِمَ فِي ذِمَّةِ
এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৩০ - উমারা ইবনে রুওয়ায়বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, «দুটি বিষয় হলো অবধারিতকারী; যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।»
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে মুহাম্মদ ইবনে আবান রয়েছেন, যিনি দুর্বল।
৩১ - ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দুটি আমল নাজাত দানকারী এবং দুটি আমল অবধারিতকারী। নাজাত দানকারী দুটি আমল হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে সে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করেনি, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করা অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যাবে।»
আমি বলছি: এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সিয়াম অধ্যায়ে আসবে।
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিল রয়েছেন, যিনি দুর্বল।
৩২ - খুরাইম ইবনে ফাতিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমল হলো ছয় প্রকার এবং মানুষ হলো চার প্রকার: দুটি আমল অবধারিতকারী, একটির বিনিময়ে একটি, একটি নেকির বিনিময়ে দশগুণ এবং একটি নেকির বিনিময়ে সাতশত গুণ। অবধারিতকারী দুটি আমল হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর সমপর্যায়ের (একটির বিনিময়ে একটি) আমল হলো: যে ব্যক্তি কোনো নেক আমলের সংকল্প করল এমনকি তার অন্তরেও তা অনুভব করল এবং আল্লাহও তার থেকে তা জানলেন—তার জন্য একটি নেকি লিখে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করল তার ওপর একটি গুনাহ লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক আমল করল তাকে তার দশগুণ দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোনো কিছু ব্যয় করল তার সওয়াব সাতশত গুণ। আর মানুষ চার প্রকার: কারো জন্য দুনিয়াতে প্রশস্ততা দেওয়া হয় কিন্তু আখিরাতে সে সংকীর্ণতায় থাকবে, আবার কারো জন্য দুনিয়াতে সংকীর্ণতা দেওয়া হয় কিন্তু আখিরাতে সে প্রশস্ততায় থাকবে।»
আমি বলছি: তিরমিযী ও নাসাঈ এতে আল্লাহর পথে ব্যয়ের কথাটি বর্ণনা করেছেন।
আহমদ এবং তাবারানি 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাত' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমদের বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে তিনি বলেছেন: রুকাইন ইবনে রাবী থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, তিনি খুরাইম থেকে। আর তাবারানি বলেছেন: রুকাইন ইবনে রাবী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার চাচা ইউসাইর ইবনে আমীলা থেকে। আর এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৩৩ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এই অবস্থায় যে সে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করেনি এবং কোনো প্রাণ হত্যা করেনি, সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে হালকা পিঠ নিয়ে (পাপমুক্ত অবস্থায়)।»
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে ইবনে লাহীআহ রয়েছেন।
৩৪ - সাদ ইবনে উবাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই'—তার অন্তর এর অনুগত হবে এবং তার জিহ্বা এর সামনে বিনত হবে—'এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল'—আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন।»
তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম রয়েছেন, আর অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলেছেন।
৩৫ - আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর আশ্রয়ে...»
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
اللَّهِ مُنْذُ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ إِلَى أَنْ يَقُومَ بَيْنَ يَدَيْ رَبِّهِ تبارك وتعالى فَإِنْ وَافَى اللَّهَ بِشَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ صَادِقًا أَوْ بِاسْتِغْفَارٍ - كُتِبَ لَهُ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ، وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ.
36 - وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: «أَلَا أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا لَمْ أُحَدِّثْ بِهِ أَحَدًا مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَخَافَةَ أَنْ يَتَّكِلَ النَّاسُ عَلَيْهِ؟ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَنْ عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ رَبُّهُ وَأَنِّي نَبِيُّهُ مُوقِنًا بِقَلْبِهِ - وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى جِلْدِهِ - حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ» ".
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَفِي إِسْنَادِهِ عِمْرَانُ الْقَصِيرُ، وَهُوَ مَتْرُوكٌ. وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْقَلُوصِ.
37 - «وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنهما قَالَ: جِئْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ فِي أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، وَأَدْرَكْتُ آخِرَ الْحَدِيثِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَنْ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الْعَصْرِ لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ "، فَقُلْتُ بِيَدِي هَكَذَا - يُحَرِّكُ بِيَدِهِ أَنَّ هَذَا حَدِيثٌ جَيِّدٌ - فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: لَمَا فَاتَكَ مِنْ صَدْرِ الْحَدِيثِ أَجْوَدُ وَأَجْوَدُ. قُلْتُ: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، فَهَاتِ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِيهِ حَجَّاجُ بْنُ نَصْرٍ، وَالْأَكْثَرُونَ عَلَى تَضْعِيفِهِ.
38 - «وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ هَبَطَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ مِنْ ثَنِيَّةٍ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيرُ وَحْدَهُ، فَلَمَّا أَسْهَلَتْ بِهِ الطَّرِيقُ ضَحِكَ وَكَبَّرَ، فَكَبَّرْنَا لِتَكْبِيرِهِ، ثُمَّ سَارَ رَتْوَةً، ثُمَّ ضَحِكَ وَكَبَّرَ، فَكَبَّرْنَا لِتَكْبِيرِهِ، ثُمَّ أَدْرَكْنَاهُ، فَقَالَ الْقَوْمُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَبَّرْنَا لِتَكْبِيرِكَ، وَلَا نَدْرِي مِمَّ ضَحِكْتَ! فَقَالَ: " قَادَ النَّاقَةَ لِي جِبْرِيلُ عليه السلام، فَلَمَّا أَسَهَلَتِ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ: أَبْشِرْ، وَبَشِّرْ أُمَّتَكَ أَنَّهُ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ - دَخَلَ الْجَنَّةَ، فَضَحِكْتُ وَكَبَّرْتُ رَبِّي، ثُمَّ سَارَ رَتْوَةً، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ: أَبْشِرْ، وَبَشِّرْ أُمَّتَكَ أَنَّهُ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَقَدْ
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, তার মা তাকে জন্ম দেওয়ার সময় থেকে নিয়ে বরকতময় ও সুউচ্চ মহান রবের দুই হাতের সামনে দাঁড়ানো পর্যন্ত। যদি সে সত্যনিষ্ঠার সাথে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’—এই সাক্ষ্য দিয়ে অথবা ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা লিখে দেওয়া হয়।
এটি ইমাম বাযযার বর্ণনা করেছেন। এটি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি তাঁর পিতা থেকে শোনেননি।
৩৬ - ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদীস শোনাব না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শোনার পর থেকে আমি কাউকেও বলিনি এই ভয়ে যে, মানুষ এর ওপর আমল ছেড়ে দিয়ে কেবল নির্ভর করে বসবে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রেখে জানবে যে, আল্লাহ তার রব এবং আমি তাঁর নবী—এ কথা বলার সময় তিনি নিজের হাত দিয়ে তাঁর চামড়ার দিকে ইশারা করলেন—আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।”
এটি ইমাম বাযযার বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে ইমরান আল-কাসীর রয়েছেন, যিনি একজন পরিত্যক্ত (মাতরুক) বর্ণনাকারী। আরও রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি আল-কালূস।
৩৭ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এমন সময় আসলাম যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কয়েকজন সাহাবীর সাথে বসা ছিলেন, যাঁদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। আমি হাদীসের শেষ অংশটুকু পেলাম যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন: “যে ব্যক্তি আসরের আগে চার রাকাত সালাত আদায় করবে, আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।” তখন আমি আমার হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলাম—বর্ণনাকারী তাঁর হাত নেড়ে বোঝাচ্ছিলেন যে এটি একটি চমৎকার হাদীস—তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: “হাদীসের শুরুর যে অংশটুকু তোমার ছুটে গেছে, তা আরও চমৎকার ও অত্যুৎকৃষ্ট।” আমি বললাম: “হে খাত্তাবের পুত্র! তবে তা ব্যক্ত করুন।” তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে: “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
এটি ইমাম তাবারানী ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে হাজ্জাজ ইবনে নাসর রয়েছেন, আর অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলে গণ্য করেছেন।
৩৮ - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ভ্রমণ করছিলাম, এমন সময় তাঁর সওয়ারীটি একটি পাহাড়ি পথ দিয়ে নিচে নামল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাকী পথ চলছিলেন। যখন তাঁর পথটি সমতল ও সহজ হলো, তখন তিনি হাসলেন এবং তাকবীর পাঠ করলেন। তাঁর তাকবীর শুনে আমরাও তাকবীর পাঠ করলাম। এরপর তিনি কিছুক্ষণ পথ চললেন, পুনরায় হাসলেন এবং তাকবীর পাঠ করলেন। তাঁর তাকবীর শুনে আমরাও তাকবীর পাঠ করলাম। এরপর আমরা তাঁর নিকট পৌঁছলে উপস্থিত লোকেরা বলল: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার তাকবীর শুনে আমরাও তাকবীর পাঠ করেছি, কিন্তু কেন হাসলেন তা আমরা জানি না!” তিনি বললেন: “জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার উটনিটি টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন পথটি সমতল হলো, তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: ‘আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং আপনার উম্মতকেও সুসংবাদ দিন যে, যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ তাই আমি হাসলাম এবং আমার রবের তাকবীর পাঠ করলাম। এরপর তিনি কিছুক্ষণ পথ চললেন এবং পুনরায় আমার দিকে ফিরে বললেন: ‘আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং আপনার উম্মতকেও সুসংবাদ দিন যে, যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আর...”
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ النَّارَ، فَضَحِكْتُ وَكَبَّرْتُ رَبِّي، فَفَرِحْتُ بِذَلِكَ لِأُمَّتِي».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِيهِ سَلَامَةُ بْنُ رَوْحٍ، وَقَدْ ضَعَّفَهُ جَمَاعَةٌ وَوَثَّقُوهُ.
39 - «وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنه قَالَ: جِئْتُ فِي اثْنَيْ عَشَرَ رَاكِبًا حَتَّى حَلَلْنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَصْحَابِي: مَنْ يَرْعَى إِبِلَنَا وَنَنْطَلِقَ فَنَقْتَبِسَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا رَاحَ اقْتَبَسْنَاهُ مَا سَمِعْنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقُلْتُ: أَنَا، ثُمَّ قُلْتُ فِي نَفْسِي: لَعَلِّي مَغْبُونٌ ; يَسْمَعُ أَصْحَابِي مَا لَا أَسْمَعُ مِنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَحَضَرْتُ يَوْمًا فَسَمِعْتُ رَجُلًا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوءًا كَامِلًا، ثُمَّ قَامَ إِلَى صَلَاةٍ - كَانَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ". فَعَجِبْتُ مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: فَكَيْفَ لَوْ سَمِعْتَ الْكَلَامَ الْآخَرَ كُنْتَ أَشَدَّ عَجَبًا؟! فَقُلْتُ: ارْدُدْ عَلَيَّ - جَعَلَنِي اللَّهُ فَدَاءَكَ - فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ، وَلَهَا ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ ". فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسْتُ مُسْتَقْبِلَهُ، فَصَرَفَ وَجْهَهُ عَنِّي، فَقُمْتُ فَاسْتَقْبَلْتُهُ، فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَلَمَّا كَانَتِ الرَّابِعَةُ قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، لِمَ تَصْرِفُ وَجْهَكَ عَنِّي؟ فَأَقْبَلَ عَلَيَّ فَقَالَ: " أَوَاحِدٌ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمِ اثْنَا عَشَرَ؟ " مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا. فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ رَجَعْتُ إِلَى أَصْحَابِي».
قُلْتُ: لَهُ فِي الصَّحِيحِ حَدِيثٌ غَيْرُ هَذَا، وَقَدْ رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِي إِسْنَادِهِ الْقَاسِمُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَهُوَ مَتْرُوكٌ.
40 - وَعَنْ عُمَارَةَ بْنِ رُوَيْبَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «هُمَا الْمُوَجِبَتَانِ: مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِي إِسْنَادِهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ.
41 - «وَعَنْ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ أَنَّهُ جَاءَ بِأَمَةٍ سَوْدَاءَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ عَلَيَّ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً، فَإِنْ كُنْتَ تَرَى هَذِهِ مُؤْمِنَةً فَأُعْتِقُهَا، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَتَشْهَدِينَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟ ". قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: " أَتَشْهَدِينَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ ". قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: أَتُؤَمِنِينَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ؟ ". قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: " أَعْتِقْهَا».
رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ.
42 - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: «أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِجَارِيَةٍ سَوْدَاءَ أَعْجَمِيَّةٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ عَلَيَّ [عِتْقَ] رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَيْنَ اللَّهُ؟ " فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا إِلَى السَّمَاءِ بِأُصْبُعِهَا السَّبَّابَةِ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ أَنَا؟ "
আল্লাহ তাঁর জন্য জাহান্নাম হারাম করেছেন। তখন আমি হাসলাম এবং আমার রবের তাকবির পাঠ করলাম। আমার উম্মতের জন্য এতে আমি আনন্দিত হলাম।
তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে সালামাহ ইবনে রাওহ রয়েছেন; একদল তাঁকে দুর্বল বলেছেন এবং অন্য একদল তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
৩৯ - উকবাহ ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বারোজন আরোহীর সঙ্গে এলাম এবং আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অবতরণ করলাম। আমার সাথিরা বলল, 'কে আমাদের উটগুলো চরাবে যাতে আমরা গিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারি? তারপর যখন তিনি বিশ্রাম নেবেন, তখন আমরা যা শুনেছি তা তাকে শিখিয়ে দেব।' আমি বললাম, 'আমিই সেই ব্যক্তি (যে উট চরাবে)।' তারপর আমি মনে মনে বললাম, 'হয়তো আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি; আমার সাথিরা আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে এমন সব কথা শুনবে যা আমি শুনতে পাব না।' একদিন আমি উপস্থিত হলাম এবং একজন ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করবে, তারপর নামাজের জন্য দাঁড়াবে—সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে যেমন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলেন।" আমি এতে বিস্মিত হলাম। তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন, "তুমি যদি পরবর্তী কথাটি শুনতে তবে আরও বেশি বিস্মিত হতে!" আমি বললাম, "আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, কথাটি আমাকে পুনরায় বলুন।" ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন, "আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, তার জন্য জান্নাতের সব কটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, সে যেখান দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে। আর জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে।" এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে বেরিয়ে এলেন, আমি তাঁর সামনে বসলাম। তিনি আমার থেকে তাঁর চেহারা ফিরিয়ে নিলেন। আমি উঠে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি তিনবার এমনটি করলেন। চতুর্থবার আমি বললাম, "হে আল্লাহর নবী, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, কেন আপনি আমার থেকে আপনার চেহারা ফিরিয়ে নিচ্ছেন?" তিনি আমার দিকে ফিরলেন এবং বললেন, "তোমার কাছে কি একজন বেশি প্রিয় নাকি বারোজন?"—এ কথাটি দুই বা তিনবার বললেন। আমি যখন এটি দেখলাম, তখন আমার সাথিদের কাছে ফিরে গেলাম।
আমি বলছি: সহিহ গ্রন্থে তাঁর অন্য একটি হাদিস রয়েছে। এটি তাবারানি 'আল-আ오সাত'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে কাসেম আবু আবদুর রহমান রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)।
৪০ - উমারা ইবনে রুওয়াইবা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "দুটি বিষয় (জান্নাত বা জাহান্নামকে) অবধারিত করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"
তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে মুহাম্মদ ইবনে আবান রয়েছেন।
৪১ - আনসারদের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যে, তিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাসীকে নিয়ে এলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আমার ওপর একজন মুমিন দাস মুক্ত করা আবশ্যক। আপনি যদি মনে করেন এই দাসীটি মুমিন, তবে আমি তাকে মুক্ত করে দেব।" তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসুল?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তুমি কি মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করো?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "একে মুক্ত করে দাও।"
আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী।
৪২ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একজন অনারব কৃষ্ণাঙ্গ দাসীকে নিয়ে এল। সে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার ওপর একজন মুমিন দাস মুক্ত করা আবশ্যক।" তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহ কোথায়?" সে তার তর্জনী আঙুল দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কে?"
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فَأَشَارَتْ بِأُصْبُعِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلَى السَّمَاءِ ; أَيْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. قَالَ: " أَعْتِقْهَا».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَزَّارُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ لَهَا: «مَنْ رَبُّكِ؟ " فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَقَالَتْ: اللَّهُ».
وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.
قُلْتُ: وَتَأْتِي أَحَادِيثُ مِنَ الطَّبَرَانِيِّ فِي هَذَا الْبَابِ فِي كِتَابِ الْعِتْقِ.
43 - وَعَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ: «أَنْشَدَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَبْيَاتًا، فَقَالَ:
شَهِدْتُ بِإِذْنِ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدًا
… رَسُولُ الَّذِي فَوْقَ السَّمَاوَاتِ مِنْ عَلُ
وَأَنَّ أَبَا يَحْيَى وَيَحْيَى كِلَاهُمَا
… لَهُ عَمَلٌ فِي دِينِهِ مُتَقَبَّلُ
وَأَنَّ أَخَا الْأَحْقَافِ إِذْ قَامَ فِيهِمُ
… يَقُومُ بِذَاتِ اللَّهِ فِيهِمْ وَيَعْدِلُ
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " وَأَنَا».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَهُوَ مُرْسَلٌ.
[بَابٌ فِي مَا يُحَرِّمُ دَمَ الْمَرْءِ وَمَالَهُ]44 - عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: «جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنَّ لِي جَارًا مُنَافِقًا يَصْنَعُ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟ " قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: " أُولَئِكَ نُهِيتُ عَنْهُمْ».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَفِي إِسْنَادِهِ مَسَاتِيرُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي لَيْلَى سَيِّئُ الْحِفْظِ.
45 - وَعَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ «أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ حَدَّثَهُ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي مَجْلِسٍ فَسَارَّهُ يَسْتَأْذِنُهُ فِي قَتْلِ رَجُلٍ مِنَ الْمُنَافِقِينَ، فَجَهَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟ ". قَالَ الْأَنْصَارِيُّ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا شَهَادَةَ لَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ؟ ". قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا شَهَادَةَ لَهُ. قَالَ: " أَلَيْسَ يُصَلِّي؟ ". قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا صَلَاةَ لَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أُولَئِكَ الَّذِينَ نَهَانِي اللَّهُ عَنْهُمْ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ، وَأَعَادَهُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ الْأَنْصَارِيِّ حَدَّثَهُ، فَذَكَرَ مَعْنَاهُ.
46 - وَعَنْ جَرِيرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ، وَفِي إِسْنَادِهِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَقَدْ ضَعَّفَهُ الْأَكْثَرُونَ، وَقَالَ ابْنُ مَعِينٍ: كَانَ مُسْلِمًا
অতঃপর সে তার আঙুল দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এবং আসমানের দিকে ইশারা করল; অর্থাৎ আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "তাকে মুক্ত করে দাও।"
এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, বাযযার এবং তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ। তবে এতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তোমার রব কে?" তখন সে তার মাথা দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করল এবং বলল: "আল্লাহ।"
আর এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই অনুচ্ছেদ সংশ্লিষ্ট তাবারানির আরও কিছু হাদিস 'দাসমুক্তি' অধ্যায়ে আসবে।
43 - হাবীব ইবনে আবি সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হাসসান ইবনে সাবিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে কিছু কাব্য পংক্তি আবৃত্তি করলেন। তিনি বললেন:
আমি আল্লাহর অনুমতিতে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ হলেন … তাঁর রাসূল, যিনি সুউচ্চ আসমানসমূহের উপরে রয়েছেন।
আর আবু ইয়াহইয়া ও ইয়াহইয়া - তাঁদের উভয়েরই … তাঁর দ্বীনে কবুলকৃত আমল রয়েছে।
আর আহকাফবাসীদের ভাই (হুদ) যখন তাদের মাঝে দণ্ডায়মান হলেন … তিনি আল্লাহর সত্তার ওপর ভর করে ইনসাফের সাথে তাদের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আর আমিও।"
এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি মুরসাল হাদিস।
[অনুচ্ছেদ: যা মানুষের রক্ত ও সম্পদকে হারাম করে]44 - জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমার একজন মুনাফিক প্রতিবেশী আছে যে অমুক অমুক কাজ করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে কি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে?" সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তাদের ব্যাপারে (অর্থাৎ তাদের হত্যা করতে) আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।"
এটি বাযযার বর্ণনা করেছেন, এর সনদে এমন বর্ণনাকারী আছেন যাদের অবস্থা অজ্ঞাত, এবং মুহাম্মদ ইবনে আবি লায়লার মুখস্থ শক্তি দুর্বল ছিল।
45 - উবায়দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে খিয়ার থেকে বর্ণিত যে, জনৈক আনসারি ব্যক্তি তাকে বলেছেন যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন যখন তিনি একটি মজলিসে ছিলেন। তিনি চুপিচুপি নবীজীর কাছে একজন মুনাফিক ব্যক্তিকে হত্যা করার অনুমতি চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চকণ্ঠে বললেন: "সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই?" আনসারি ব্যক্তি বললেন: হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ, তবে তার সাক্ষ্যের কোনো মূল্য নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল?" তিনি বললেন: হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ, তবে তার সাক্ষ্যের কোনো মূল্য নেই। তিনি বললেন: "সে কি সালাত আদায় করে না?" তিনি বললেন: হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ, তবে তার সালাতের কোনো মূল্য নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এরাই তারা, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে নিষেধ করেছেন।"
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। তিনি এটি পুনরায় উবায়দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে খিয়ার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আদি আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন - তিনি তার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ অর্থ উল্লেখ করেছেন।
46 - জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, অবশ্য তার হক (ইসলামি বিধান) ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর।"
এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে ইব্রাহিম ইবনে উইয়াইনা রয়েছেন, যাকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন। তবে ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি মুসলিম ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
صَدُوقًا.
47 - وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ; عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ، وَفِي إِسْنَادِهِ مُصْعَبُ بْنُ ثَابِتٍ، وَثَّقَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَالْأَكْثَرُ عَلَى تَضْعِيفِهِ.
48 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ، إِلَّا أَنَّ فِيهِ إِسْحَاقَ بْنَ يَزِيدَ الْخَطَّابِيَّ، وَلَمْ أَعْرِفْهُ.
49 - وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا مَنَعُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَقَالَ: وَهَذَا الْحَدِيثُ لَا أَعْلَمُهُ يُرْوَى عَنْ أَنَسٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَأَحْسَبُ أَنَّ عِمْرَانَ أَخْطَأَ فِي إِسْنَادِهِ.
50 - وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا شَرَعَ أَحَدُكُمْ بِالرُّمْحِ إِلَى الرَّجُلِ، فَإِنْ كَانَ سِنَانُهُ عِنْدَ ثُغْرَةِ نَحْرِهِ، فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ; فَلْيَرْفَعْ عَنْهُ الرُّمْحَ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ، وَفِي إِسْنَادِهِ الصَّلْتُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّبَيْدِيُّ، لَا تَقُومُ بِهِ حُجَّةٌ.
51 - وَعَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.
52 - وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ، وَفِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى الْخَزَّازُ، وَهُوَ ضَعِيفٌ لَا يُحْتَجُّ بِهِ.
53 - وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِيهِ مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، وَاخْتُلِفَ فِي الِاحْتِجَاجِ بِهِ.
54 - وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا "، قِيلَ: وَمَا حَقُّهَا؟ قَالَ: " زِنًى بَعْدَ إِحْصَانٍ، أَوْ كُفْرٌ بَعْدَ
সত্যবাদী।
৪৭ - সাহল ইবনে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’। অতঃপর যখন তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়’।»
এটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাসূত্রে মুসআব ইবনে সাবিত রয়েছেন; ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলে গণ্য করেছেন।
৪৮ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’। অতঃপর যখন তারা তা বলে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব মহান আল্লাহর জিম্মায়’।»
এটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এতে ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ আল-খাত্তাবী রয়েছেন, আমি তাঁকে চিনি না।
৪৯ - আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’। অতঃপর যখন তারা তা বলে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে রক্ষা করে নেয়, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়’।»
এটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ‘আনাস থেকে আবু বকরের সূত্রে এই হাদিসটি এই সূত্র ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই, এবং আমি মনে করি ইমরান এর বর্ণনাসূত্রে ভুল করেছেন।’
৫০ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন কোনো ব্যক্তির দিকে বর্শা তাক করে এবং তার বর্শার ফলা যখন তার কণ্ঠনালীর গোড়ায় পৌঁছে যায়, এমতাবস্থায় সে যদি বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’, তবে সে যেন তার থেকে বর্শাটি সরিয়ে নেয়।’»
এটি তাবারানী ‘আল-কাবীর’ ও ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে সালত ইবনে আবদুর রহমান আয-যুবাইদী রয়েছেন, যাঁর মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না।
৫১ - আবু মালিক আল-আশজায়ি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’। অতঃপর যখন তারা তা বলে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব মহান আল্লাহর জিম্মায়।’»
এটি তাবারানী ‘আল-কাবীর’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৫২ - আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’। অতঃপর যখন তারা তা বলে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব মহান আল্লাহর জিম্মায়।’»
এটি তাবারানী ‘আল-কাবীর’ ও ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এতে আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা আল-খাযযায রয়েছেন, তিনি দুর্বল এবং তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা হয় না।
৫৩ - সামুরা ইবনে জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’। অতঃপর যখন তারা তা বলে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।’»
এটি তাবারানী ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এতে মুবারক ইবনে ফাদালাহ রয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
৫৪ - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই’। অতঃপর যখন তারা তা বলে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন।’ জিজ্ঞেস করা হলো: তার হক কী? তিনি বললেন: ‘বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার করা, অথবা ঈমানের পর কুফরী...’»
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إِسْلَامٍ، أَوْ قَتْلُ نَفْسٍ فَيُقْتَلُ بِهِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِيهِ عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ الْبَيْرُوتِيُّ، وَالْأَكْثَرُ عَلَى تَوْثِيقِهِ.
55 - وَعَنْ عِيَاضٍ الْأَنْصَارِيِّ رَفَعَهُ قَالَ: «إِنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ كَلِمَةٌ عَلَى اللَّهِ كَرِيمَةٌ، لَهَا عِنْدَ اللَّهِ مَكَانٌ، وَهِيَ كَلِمَةٌ مَنْ قَالَهَا صَادِقًا أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ، وَمَنْ قَالَهَا كَاذِبًا حَقَنَتْ دَمَهُ وَأَحْرَزَتْ مَالَهُ، وَلَقِيَ اللَّهَ غَدًا فَحَاسَبَهُ».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ إِنْ كَانَ تَابِعِيَّهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ.
56 - وَعَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ قَالَ: «غَزَا عُمَارَةُ بْنُ قَرْضٍ اللَّيْثِيُّ غَزَاةً لَهُ، فَمَكَثَ فِيهَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ رَجَعَ، حَتَّى إِذَا كَانَ قَرِيبًا مِنَ الْأَهْوَازِ سَمِعَ صَوْتَ الْأَذَانِ فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا لِي عَهْدٌ بِصَلَاةٍ بِجَمَاعَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ مُنْذُ ثَلَاثٍ، وَقَصَدَ نَحْوَ الْأَذَانِ يُرِيدُ الصَّلَاةَ فَإِذَا هُوَ بِالْأَزَارِقَةِ، فَقَالُوا لَهُ: مَا جَاءَ بِكَ يَا عَدُوَّ اللَّهِ؟ فَقَالَ: مَا أَنْتُمْ إِخْوَانِي. قَالُوا: أَنْتَ أَخُو الشَّيْطَانِ، لَنَقْتُلَنَّكَ. قَالَ: أَمَا تَرْضَوْنَ مِنِّي بِمَا رَضِيَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالُوا: أَيُّ شَيْءٍ رَضِيَ بِهِ مِنْكَ؟ قَالَ: أَتَيْتُهُ وَأَنَا كَافِرٌ، فَشَهِدْتُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ فَخَلَّى عَنِّي. فَأَخَذُوهُ فَقَتَلُوهُ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَالْأَوْسَطِ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ.
57 - وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا».
رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ.
58 - «وَعَنْ مُسْلِمٍ التَّمِيمِيِّ قَالَ: بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّةٍ، فَلَمَّا هَجَمْنَا عَلَى الْقَوْمِ تَقَدَّمْتُ أَصْحَابِي عَلَى فَرَسٍ، فَاسْتَقْبَلَنَا النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ يَضِجُّونَ، فَقُلْتُ لَهُمْ: تُرِيدُونَ أَنْ تُحْرِزُوا أَنْفُسَكُمْ؟ قَالُوا: نَعَمْ، فَقُلْتُ: قُولُوا: نَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَقَالُوهَا، فَجَاءَ أَصْحَابِي فَلَامُونِي وَقَالُوا: أَشْرَفْنَا عَلَى الْغَنِيمَةِ فَمَنَعْتَنَا، ثُمَّ انْصَرَفْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " أَتَدْرُونَ مَا صَنَعَ؟ لَقَدْ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ إِنْسَانٍ كَذَا وَكَذَا "، ثُمَّ أَدْنَانِي مِنْهُ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ الْحَارِثُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَهُوَ مَجْهُولٌ.
59 - وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ مَالِكٍ اللَّيْثِيِّ قَالَ: «بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً، فَأَغَارُوا عَلَى قَوْمٍ، فَشَدَّ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ، فَاتَّبَعَهُ رَجُلٌ مِنَ السَّرِيَّةِ وَمَعَهُ السَّيْفُ شَاهِرُهُ، فَقَالَ الشَّادُّ مِنَ الْقَوْمِ: إِنِّي مُسْلِمٌ، فَلَمْ يَنْظُرْ فِيمَا قَالَ، فَضَرَبَهُ فَقَتَلَهُ، فَنَمَى الْحَدِيثُ
ইসলাম, অথবা কোনো প্রাণ হত্যা করা যার কারণে তাকে হত্যা করা হবে।"
তাবারানী এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন, এবং এর সনদে আমর ইবন হাশিম আল-বাইরূতী রয়েছেন, আর অধিকাংশ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
৫৫ - ইয়াদ আল-আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আল্লাহর কাছে একটি সম্মানিত বাণী, আল্লাহর নিকট এর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এটি এমন একটি বাণী যে, যে ব্যক্তি সত্য অন্তরে তা পাঠ করবে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি মিথ্যাভাবে তা বলবে, তা তার রক্ত রক্ষা করবে এবং তার সম্পদ সুরক্ষিত করবে, তবে পরকালে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং আল্লাহ তার হিসাব নেবেন।"
বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, যদি এর তাবিঈ আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ হন।
৫৬ - হুমাইদ ইবন হিলাল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "উমারা ইবন কারদ আল-লাইসী এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুদিন অবস্থান করার পর ফিরে আসছিলেন। যখন তিনি আহওয়াজের নিকটবর্তী হলেন, তখন আযানের শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন: 'আল্লাহর কসম, তিন দিন যাবৎ মুসলমানদের সাথে জামাতে সালাত আদায়ের কোনো সুযোগ আমার হয়নি।' তিনি সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে আযানের শব্দের দিকে অগ্রসর হলেন। হঠাৎ তিনি আযারিাকাহদের (একটি চরমপন্থী দল) সামনে পড়লেন। তারা তাকে বলল: 'হে আল্লাহর শত্রু, তুই এখানে কেন এসেছিস?' তিনি বললেন: 'কেন, তোমরা কি আমার ভাই নও?' তারা বলল: 'তুই শয়তানের ভাই, আমরা তোকে অবশ্যই হত্যা করব।' তিনি বললেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন, তোমরা কি আমার ব্যাপারে তাতে সন্তুষ্ট হবে না?' তারা বলল: 'তিনি তোমার কোন বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন?' তিনি বললেন: 'আমি কাফির অবস্থায় তাঁর নিকট এসেছিলাম, এরপর আমি সাক্ষ্য দিয়েছিলাম যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি আল্লাহর রাসূল, তখন তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।' এরপরও তারা তাকে পাকড়াও করল এবং হত্যা করল।"
তাবারানী এটি আল-কাবীর ও আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ (গ্রন্থের) বর্ণনাকারী।
৫৭ - নুমান ইবন বশীর (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল, তবে তার হকের বিষয় ভিন্ন।"
বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ (গ্রন্থের) বর্ণনাকারী।
৫৮ - মুসলিম আল-তামীমী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি অভিযানে পাঠালেন। যখন আমরা সেই গোত্রটির ওপর আক্রমণ করলাম, আমি ঘোড়ায় চড়ে আমার সাথীদের থেকে অগ্রবর্তী হলাম। তখন নারী ও শিশুরা কান্নাকাটি করতে করতে আমাদের সামনে এল। আমি তাদের বললাম: 'তোমরা কি নিজেদের রক্ষা করতে চাও?' তারা বলল: 'হ্যাঁ'। আমি বললাম: 'তোমরা বলো: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।' তারা তা বলল। এরপর আমার সাথীরা এসে আমাকে তিরস্কার করতে লাগল এবং বলল: 'আমরা গনীমতের সম্পদের নাগালে পৌঁছে গিয়েছিলাম, অথচ আপনি আমাদের বাধা দিলেন।' এরপর আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে আসলাম, তিনি বললেন: 'তোমরা কি জানো সে কী করেছে? নিশ্চয়ই আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি মানুষের বিনিময়ে এত এত (সওয়াব) লিখে দিয়েছেন।' এরপর তিনি আমাকে তাঁর কাছে টেনে নিলেন।"
তাবারানী এটি আল-কাবীর-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আল-হারিস ইবন মুসলিম রয়েছেন, আর তিনি মজহুল (অপরিচিত)।
৫৯ - উকবা ইবন মালিক আল-লাইসী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাহিনী পাঠালেন। তারা এক গোত্রের ওপর আক্রমণ করল। সেই গোত্রের এক ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল এবং বাহিনীর একজন উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে তাকে অনুসরণ করল। পলায়নপর ব্যক্তিটি বলল: 'আমি মুসলিম', কিন্তু সেই সৈন্য তার কথায় ভ্রুক্ষেপ করল না এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। এরপর এই সংবাদটি প্রচারিত হলো..."
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ فِيهِ قَوْلًا شَدِيدًا بَلَغَ الْقَاتِلَ، فَبَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ إِذْ قَالَ الْقَاتِلُ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا قَالَ الَّذِي قَالَ إِلَّا تَعَوُّذًا مِنَ الْقَتْلِ، فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَمَّنْ قِبَلَهُ مِنَ النَّاسِ، وَأَخَذَ فِي خُطْبَتِهِ، ثُمَّ قَالَ الثَّانِيَةَ: وَاللَّهِ مَا قَالَ الَّذِي قَالَ إِلَّا تَعَوُّذًا مِنَ الْقَتْلِ، فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخَذَ فِي خُطْبَتِهِ، فَلَمْ يَصْبِرْ أَنْ قَالَ الثَّالِثَةَ: وَاللَّهِ مَا قَالَ الَّذِي قَالَ إِلَّا تَعَوُّذًا مِنَ الْقَتْلِ، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تُعْرَفُ الْمَسَاءَةُ فِي وَجْهِهِ، ثُمَّ قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ أَبَى عَلَيَّ فِيمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا [قَالَهَا] ثَلَاثًا».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَأَحْمَدُ وَأَبُو يَعْلَى، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ بَدَلَ عُقْبَةَ بْنِ مَالِكٍ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ كُلُّهُمْ.
60 - «وَعَنْ جُنْدُبِ بْنِ سُفْيَانَ - رَجُلٌ مِنْ بَجِيلَةَ - قَالَ: إِنِّي لَعِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جَاءَهُ بَشِيرٌ مِنْ سَرِيَّتِهِ فَأَخْبَرَهُ بِالنَّصْرِ الَّذِي نَصَرَ اللَّهُ سَرِيَّتَهُ، وَبِالْفَتْحِ الَّذِي فَتَحَ اللَّهُ لَهُمْ، وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بَيْنَا نَحْنُ نَطْلُبُ الْقَوْمَ وَقَدْ هَزَمَهُمُ اللَّهُ - تَعَالَى - إِذْ لَحِقْتُ رَجُلًا بِالسَّيْفِ، فَوَاقَعْتُهُ وَهُوَ يَسْعَى وَهُوَ يَقُولُ: إِنِّي مُسْلِمٌ، إِنِّي مُسْلِمٌ. قَالَ: " فَقَتَلْتَهُ؟ " فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا تَعَوَّذَ. قَالَ: " فَهَلَّا شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ فَنَظَرْتَ أَصَادِقٌ هُوَ أَمْ كَاذِبٌ " قَالَ: لَوْ شَقَقْتُ عَنْ قَلْبِهِ مَا كَانَ عِلْمِي؟ هَلْ قَلْبُهُ إِلَّا بَضْعَةٌ مِنْ لَحْمٍ؟ قَالَ: " لَا مَا فِي قَلْبِهِ تَعْلَمُ، وَلَا لِسَانَهُ صَدَّقْتَ! " قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اسْتَغْفِرْ لِي. قَالَ: " لَا أَسْتَغْفِرُ لَكَ " فَمَاتَ ذَلِكَ الرَّجُلُ فَدَفَنُوهُ، فَأَصْبَحَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، ثُمَّ دَفَنُوهُ فَأَصْبَحَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ اسْتَحْيَوْا وَخَزُوا لِمَا لَقِيَ، فَاحْتَمَلُوهُ فَأَلْقَوْهُ فِي شِعْبٍ مِنْ تِلْكَ الشِّعَابِ».
قُلْتُ: هُوَ فِي الصَّحِيحِ بِاخْتِصَارٍ.
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَأَبُو يَعْلَى، وَفِي إِسْنَادِهِ عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ وَشَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي الِاحْتِجَاجِ بِهِمَا.
61 - وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَلَى مَا أُقَاتِلُ النَّاسَ إِلَّا عَلَى الْإِسْلَامِ، وَاللَّهِ لَا أَسْتَغْفِرُ لَكَ» أَوْ كَمَا قَالَ.
قُلْتُ: ذُكِرَ هَذَا فِي حَدِيثٍ طَوِيلٍ رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي الْفِتَنِ، وَهَذَا لَفْظُهُ. وَفِي إِسْنَادِهِ رَجُلٌ مَجْهُولٌ.
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ.
62 - «وَعَنْ قُطْبَةَ بْنِ قَتَادَةَ السَّدُوسِيِّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ابْسُطْ يَدَكَ أُبَايِعْكَ عَلَى نَفْسِي وَعَلَى ابْنَتِي الْحُوَيْصَلَةِ، وَلَوْ كَذَبْتُ عَلَى اللَّهِ لَخَدَعْتُكَ، قَالَ: وَحَمَلَ عَلَيْنَا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ، [فِي خَيْلِهِ] فَقُلْنَا: إِنَّا مُسْلِمُونَ، فَتَرَكَنَا، وَغَزَوْنَا مَعَهُ الْأُبُلَّةَ، فَفَتَحَهَا، فَمَلَأْنَا أَيْدِيَنَا».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ رَجُلٌ مَجْهُولٌ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট [একটি সংবাদ পৌঁছাল], তিনি তার সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর কথা বললেন যা হত্যাকারীর কানে পৌঁছাল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন হত্যাকারী বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ, সে যা বলেছিল তা কেবল হত্যা থেকে বাঁচতে আশ্রয় হিসেবে বলেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে এবং তার সামনে থাকা লোকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং খুতবা দিতে থাকলেন। এরপর সে দ্বিতীয়বার বলল: আল্লাহর শপথ, সে যা বলেছিল তা কেবল হত্যা থেকে বাঁচতে আশ্রয় হিসেবে বলেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং খুতবা দিতে থাকলেন। এরপর সে ধৈর্য ধরতে না পেরে তৃতীয়বার বলল: আল্লাহর শপথ, সে যা বলেছিল তা কেবল হত্যা থেকে বাঁচতে আশ্রয় হিসেবে বলেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে অভিমুখ হলেন এবং তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিল। এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিন হত্যাকারীর ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন।" এটি তিনি তিনবার বললেন।
তাবারানি কাবীর গ্রন্থে, আহমাদ এবং আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি ওকবা বিন মালিকের স্থলে ওকবা বিন খালিদ বলেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য।
৬০ - «জুনদুব ইবনে সুফিয়ান—বাজিলা গোত্রের এক ব্যক্তি—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম যখন তাঁর এক ক্ষুদ্র বাহিনী থেকে একজন সুসংবাদদাতা আসলেন। তিনি তাঁকে আল্লাহ তাঁর বাহিনীকে যে সাহায্য করেছেন এবং যে বিজয় দান করেছেন সে সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন শত্রু বাহিনীকে ধাওয়া করছিলাম এবং আল্লাহ তাআলা তাদের পরাজিত করেছিলেন, তখন আমি তরবারি নিয়ে এক ব্যক্তিকে ধরে ফেললাম। আমি যখন তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হলাম, তখন সে দৌড়াচ্ছিল আর বলছিল: 'আমি মুসলিম, আমি মুসলিম'। তিনি (নবীজি) বললেন: "তুমি কি তাকে হত্যা করেছ?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কেবল মরণভয়ে আত্মরক্ষার জন্য এ কথা বলেছিল। তিনি বললেন: "তুমি কেন তার হৃদয় চিরে দেখলে না যে সে সত্যবাদী নাকি মিথ্যাবাদী?" তিনি বললেন: আমি যদি তার হৃদয় চিরতাম, তবে কি আমি কিছু জানতে পারতাম? তার হৃদয় কি এক টুকরো গোশত ছাড়া আর কিছু? তিনি বললেন: "না তুমি তার হৃদয়ের খবর জেনেছ, আর না তার মুখের কথা বিশ্বাস করেছ!" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেন: "আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব না।" এরপর সেই লোকটি মারা গেল এবং তারা তাকে দাফন করল। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা গেল সে মাটির উপরে পড়ে আছে। তারা তাকে আবার দাফন করল, পরদিনও সে মাটির উপরে পড়ে রইল—এভাবে তিনবার ঘটল। যখন তারা এটি দেখল, তখন তারা লজ্জিত হলো এবং লোকটির এই পরিণতির কারণে অপমানিত বোধ করল। অতঃপর তারা তাকে তুলে নিয়ে কোনো এক গিরিপথে নিক্ষেপ করল।»
আমি বলছি: এটি সহীহ গ্রন্থে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।
তাবারানি কাবীর গ্রন্থে এবং আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আব্দুল হামিদ বিন বাহরাম এবং শাহর বিন হাওশাব রয়েছেন, এবং তাঁদের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
৬১ - ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কেন মানুষের সাথে যুদ্ধ করব ইসলাম গ্রহণ করা ব্যতীত? আল্লাহর শপথ, আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব না" অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।
আমি বলছি: এটি ইবনে মাজাহ ফিতনা অধ্যায়ে একটি দীর্ঘ হাদিসে উল্লেখ করেছেন এবং এটিই তার শব্দ। এর সনদে একজন অপরিচিত বর্ণনাকারী রয়েছেন।
তাবারানি কাবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
৬২ - «কুতবা ইবনে কাতাদাহ আস-সাদুসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাত প্রসারিত করুন যাতে আমি নিজের পক্ষ থেকে এবং আমার কন্যা হুয়াইসালার পক্ষ থেকে আপনার নিকট বায়আত হতে পারি। আমি যদি আল্লাহর উপর মিথ্যা বলতাম তবে আপনাকেও ধোঁকা দিতাম। তিনি বলেন: খালিদ ইবনে ওয়ালিদ তাঁর অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করলেন, তখন আমরা বললাম: আমরা মুসলিম। ফলে তিনি আমাদের ছেড়ে দিলেন। এরপর আমরা তাঁর সাথে উবুল্লাহ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলাম, তিনি সেটি জয় করলেন এবং আমরা আমাদের হাত (গনিমতে) পূর্ণ করলাম।»
তাবারানি কাবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে একজন অপরিচিত বর্ণনাকারী রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَهُوَ قَتَادَةُ الَّذِي رَوَاهُ عَنْ قُطْبَةَ لَمْ أَرَ أَحَدًا ذَكَرَهُ.
63 - «وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي ذِيَابٍ قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمْتُ، وَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اجْعَلْ لِقَوْمِي مَا أَسْلَمُوا عَلَيْهِ مِنْ أَمْوَالِهِمْ، فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَعْمَلَنِي عَلَيْهِمْ، ثُمَّ اسْتَعْمَلَنِي أَبُو بَكْرٍ مِنْ بَعْدِهِ، ثُمَّ اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ مِنْ بَعْدِهِ».
رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ وَسَمَّاهُ فِي مَكَانٍ آخَرَ سَعِيدًا، وَذَكَرَ لَهُ هَذَا الْحَدِيثَ بِإِسْنَادِهِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَفِي إِسْنَادِهِ مُنِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَهُوَ مَجْهُولٌ، وَقَدْ ضَعَّفَهُ الْأَزْدِيُّ أَيْضًا.
[بَابٌ مِنْهُ]64 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: «كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُنْذِرِ بْنِ سَاوَى: " مَنْ صَلَّى صَلَاتَنَا وَأَكَلَ ذَبِيحَتَنَا فَذَاكُمُ الْمُسْلِمُ، لَهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ الْحَسَنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْحُلْوَانِيُّ، وَلَمْ أَرَ أَحَدًا ذَكَرَهُ، وَهُوَ أَيْضًا مِنْ رِوَايَةِ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ، وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ.
65 - وَعَنْ جُنْدُبٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَلَّى صَلَاتَنَا وَاسْتَقْبَلَ قِبْلَتَنَا وَأَكَلَ ذَبِيحَتَنَا، فَذَاكَ الْمُسْلِمُ، لَهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ رَسُولِهِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَعُبَيْدُ بْنُ عُبَيْدَةَ التَّمَّارُ لَمْ أَقِفْ لَهُ عَلَى تَرْجَمَةٍ.
66 - «وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَاعِزٍ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " إِنَّ مَاعِزًا أَسْلَمَ أَحْرَزَ مَالَهُ، وَإِنَّهُ لَا يَجْنِي عَلَيْهِ إِلَّا يَدُهُ "، فَبَايَعْتُ عَلَى ذَلِكَ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ هُنَيْدُ بْنُ الْقَاسِمِ، وَهُوَ مَجْهُولٌ.
[بَابٌ مِنْهُ فِيمَا كُتِبَ بِالْأَمَانِ لِمَنْ فَعَلَهُ]67 - «عَنْ مَالِكِ بْنِ أَحْمَرَ أَنَّهُ لَمَّا بَلَغَهُ قُدُومُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفَدَ إِلَيْهِ، فَقَبِلَ إِسْلَامَهُ، وَسَأَلَهُ أَنْ يَكْتُبَ لَهُ كِتَابًا يَدْعُو بِهِ إِلَى الْإِسْلَامِ، فَكَتَبَ لَهُ فِي رُقْعَةٍ مِنْ أَدَمٍ: " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، هَذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَالِكِ بْنِ أَحْمَرَ وَلِمَنِ اتَّبَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، أَمَانًا لَهُمْ مَا أَقَامُوا الصَّلَاةَ، وَآتَوُا الزَّكَاةَ، وَاتَّبَعُوا الْمُسْلِمِينَ، وَجَانَبُوا الْمُشْرِكِينَ، وَأَدَّوُا الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ، وَسَهْمَ الْغَارِمِينَ، وَسَهْمَ كَذَا،
তিনি হলেন কাতাদাহ, যিনি কুতবাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; আমি কাউকে তাঁকে উল্লেখ করতে দেখিনি।
৬৩ - «সাদ ইবনে আবি যিয়াব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং ইসলাম গ্রহণ করলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কওম যে সম্পদের উপর ইসলাম গ্রহণ করেছে, তা তাদের জন্যই বহাল রাখুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা-ই করলেন এবং আমাকে তাদের উপর কর্মকর্তা নিযুক্ত করলেন। তারপর তাঁর পরে আবু বকর আমাকে নিযুক্ত রাখলেন, তারপর তাঁর পরে ওমর আমাকে নিযুক্ত রাখলেন।»
ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং অন্য স্থানে তাঁকে সাঈদ নামে অভিহিত করেছেন, এবং তাঁর সনদে তাঁর জন্য এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এর সনদে মুনির ইবনে আব্দুল্লাহ রয়েছেন, যিনি মাজহুল (অপরিচিত), এবং আল-আযদি তাঁকে দুর্বলও বলেছেন।
[এ সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদ]৬৪ - আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনযির ইবনে সাওয়া-র নিকট লিখেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করবে এবং আমাদের জবেহকৃত পশুর গোশত খাবে, সেই হলো মুসলিম; তার জন্য আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিম্মা রয়েছে।"»
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে হাসান ইবনে ইদ্রিস আল-হুলওয়ানি রয়েছেন, আমি কাউকে তাঁকে উল্লেখ করতে দেখিনি। এটি আবু উবাইদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি।
৬৫ - জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «"যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করবে, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করবে এবং আমাদের জবেহকৃত পশুর গোশত খাবে, সেই হলো মুসলিম; তার জন্য আল্লাহর জিম্মা এবং তাঁর রাসূলের জিম্মা রয়েছে।"»
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন। উবাইদ ইবনে উবাইদাহ আত-তাম্মার সম্পর্কে আমি কোনো জীবনীমূলক তথ্য পাইনি।
৬৬ - «আবদুল্লাহ ইবনে মা'ইয থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: "নিশ্চয়ই মা'ইয ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তার সম্পদ সুরক্ষিত করেছে। আর তার হাত যা অপরাধ করবে তার দায়ভার কেবল তারই হবে।" আমি এর উপরেই বায়আত গ্রহণ করলাম।»
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে হুনাইদ ইবনুল কাসিম রয়েছেন, যিনি মাজহুল (অপরিচিত)।
[যারা তা করবে তাদের জন্য নিরাপত্তার পত্র প্রদান সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]৬৭ - «মালিক ইবনে আহমার থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁর নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর নিকট আসলেন। তিনি (রাসূল) তাঁর ইসলাম গ্রহণ কবুল করলেন এবং মালিক তাঁর নিকট একটি পত্র লিখে দেওয়ার আবেদন করলেন যার মাধ্যমে তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে পারেন। তিনি তাঁর জন্য চামড়ার এক টুকরোতে লিখে দিলেন: "বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। এটি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে মালিক ইবনে আহমার এবং তার অনুসারী মুসলিমদের জন্য একটি পত্র; তাদের জন্য নিরাপত্তা রয়েছে যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, মুসলিমদের অনুসরণ করবে, মুশরিকদের থেকে দূরে থাকবে এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস), ঋণগ্রস্তদের অংশ এবং অমুক অমুক অংশ প্রদান করবে..."»
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَسَهْمَ كَذَا - فَهُمْ آمِنُونَ بِأَمَانِ اللَّهِ وَأَمَانِ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِي إِسْنَادِهِ سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْجُذَامِيُّ، وَلَمْ أَقِفْ لَهُ عَلَى تَرْجَمَةٍ.
68 - «وَعَنْ أَبِي شَدَّادٍ - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ ذِمَارِ مِنْ قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى عُمَانَ - قَالَ: جَاءَنَا كِتَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَهْلِ عُمَانَ: " سَلَامٌ، أَمَّا بَعْدُ: فَأَقِرُّوا بِشَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَأَدُّوا الزَّكَاةَ، وَإِلَّا غَزَوْتُكُمْ ". قَالَ أَبُو شَدَّادٍ: فَلَمْ أَجِدْ أَحَدًا يَقْرَأُ عَلَيْنَا الْكِتَابَ حَتَّى وَجَدْنَا غُلَامًا أَسْوَدَ، فَقَرَأَ عَلَيْنَا الْكِتَابَ، فَقُلْتُ لِأَبِي شَدَّادٍ: مَنْ كَانَ عَلَى أَهْلِ عُمَانَ يَلِي أَمْرَهُمْ؟ قَالَ: إِسْوَارٌ مِنْ أَسَاوِرَةِ كِسْرَى يُقَالُ لَهُ: سُبَيْحِبَانُ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَإِسْنَادُهُ لَمْ أَرَ أَحَدًا ذَكَرَهُمْ إِلَّا أَنَّ الطَّبَرَانِيَّ قَالَ: تَفَرَّدَ بِهِ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ. قُلْتُ: وَلَيْسَ بِالتَّبُوذَكِيِّ ; لِأَنَّ هَذَا يَرْوِي عَنِ التَّابِعِينَ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
69 - «وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَمِقِ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ بَعَثْتَنَا وَلَيْسَ لَنَا زَادٌ وَلَا لَنَا طَعَامٌ، وَلَا عِلْمَ لَنَا بِالطَّرِيقِ. قَالَ: " إِنَّكُمْ سَتَمُرُّونَ بِرَجُلٍ صَبِيحِ الْوَجْهِ، يُطْعِمُكُمْ مِنَ الطَّعَامِ، وَيَسْقِيكُمْ مِنَ الشَّرَابِ، وَيَدُلُّكُمْ عَلَى الطَّرِيقِ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ ". فَلَمَّا نَزَلَ الْقَوْمُ عَلَيَّ جَعَلَ يُشِيرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، وَيَنْظُرُونَ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: يُشِيرُ بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ، وَتَنْظُرُونَ إِلَيَّ! فَقَالُوا: أَبْشِرْ بِبُشْرَى مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ; فَإِنَّا نَعْرِفُ فِيكَ نَعْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرُونِي بِمَا قَالَ، فَأَطْعَمْتُهُمْ، وَسَقَيْتُهُمْ، وَزَوَّدْتُهُمْ، وَخَرَجْتُ مَعَهُمْ حَتَّى دَلَلْتُهُمْ عَلَى الطَّرِيقِ، ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي فَأَوْصَيْتُهُمْ بِإِبِلِي، ثُمَّ خَرَجْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: مَا الَّذِي تَدْعُو إِلَيْهِ؟ قَالَ: " أَدْعُو إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ "، فَقُلْتُ: إِذَا أَجَبْنَاكَ إِلَى هَذَا فَنَحْنُ آمِنُونَ عَلَى أَهْلِنَا وَأَمْوَالِنَا وَدِمَائِنَا؟ قَالَ: " نَعَمْ "، فَأَسْلَمْتُ وَرَجَعْتُ إِلَى قَوْمِي فَأَعْلَمْتُهُمْ بِإِسْلَامِي، فَأَسْلَمَ عَلَى يَدَيَّ بَشَرٌ كَثِيرٌ مِنْهُمْ».
قُلْتُ: فَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَهُوَ بِتَمَامِهِ فِي الْمَنَاقِبِ.
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ، وَفِي إِسْنَادِهِ صَخْرُ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ عَمِّهِ، وَلَمْ
এবং অমুক অংশ - তারা আল্লাহর নিরাপত্তা এবং আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিরাপত্তায় নিরাপদ।
তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে সাঈদ বিন মানসুর আল-জুজামি রয়েছেন, যার সম্পর্কে কোনো জীবনীমূলক তথ্য আমার কাছে পৌঁছেনি।
৬৮ - «আবু শাদ্দাদ থেকে বর্ণিত — যিনি ওমানের গ্রামগুলোর মধ্যে জিমার নামক এলাকার একজন লোক ছিলেন — তিনি বলেন: ওমানবাসীদের কাছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র আমাদের নিকট এল: "সালাম, অতঃপর: তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। আর তোমরা জাকাত প্রদান করো, অন্যথায় আমি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।" আবু শাদ্দাদ বলেন: আমি আমাদের নিকট পত্রটি পড়ার মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, অবশেষে আমরা একজন কৃষ্ণাঙ্গ বালককে পেলাম। সে আমাদের নিকট পত্রটি পাঠ করল। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি আবু শাদ্দাদকে জিজ্ঞেস করলাম: তখন ওমানবাসীদের বিষয়াবলি কে পরিচালনা করত? তিনি বললেন: কিসরার অশ্বারোহী বাহিনীর একজন সদস্য, যাকে সুবাইহিবান বলা হতো।»
তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রের রাবিদের সম্পর্কে আমি কাউকে উল্লেখ করতে দেখিনি, তবে তাবারানি বলেছেন: মুসা বিন ইসমাইল এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি আত-তাবুজাকি নন; কারণ ইনি তাবেয়ীদের থেকে বর্ণনা করেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
৬৯ - «আমর বিন আল-হামিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট সেনাদল পাঠালেন। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের পাঠাচ্ছেন অথচ আমাদের কাছে কোনো পাথেয় নেই, কোনো খাদ্য নেই এবং পথ সম্পর্কেও আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। তিনি বললেন: "তোমরা অচিরেই একজন সুন্দর চেহারার ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে, যে তোমাদের খাবার খাওয়াবে, পানীয় পান করাবে এবং তোমাদের পথ দেখিয়ে দেবে; আর সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।" (আমর বিন আল-হামিক বলেন) যখন সেই দলটি আমার নিকট অবতরণ করল, তখন তারা একে অপরের দিকে ইশারা করতে লাগল এবং আমার দিকে তাকাতে লাগল। আমি বললাম: আপনারা কেন একে অপরের দিকে ইশারা করছেন এবং আমার দিকে তাকাচ্ছেন? তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সুসংবাদ গ্রহণ করুন; কারণ আমরা আপনার মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণিত গুণাবলি দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তারা রাসূল যা বলেছিলেন তা আমাকে জানাল। তখন আমি তাদের আহার করালাম, পান করালাম, পাথেয় দিলাম এবং তাদের সাথে বের হলাম যতক্ষণ না তাদের পথ দেখিয়ে দিলাম। তারপর আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে আমার উটগুলোর ব্যাপারে তাদের অসিয়ত করলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। আমি বললাম: আপনি কিসের দিকে আহ্বান করেন? তিনি বললেন: "আমি এই সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে আহ্বান করি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল; আর সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখার দিকে।" আমি বললাম: আমরা যদি আপনার এই আহ্বানে সাড়া দেই, তবে কি আমরা আমাদের পরিবার, সম্পদ ও প্রাণের নিরাপত্তা পাব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং আমার কওমের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানালাম। ফলে তাদের মধ্য থেকে অনেক মানুষ আমার হাতে ইসলাম গ্রহণ করল।»
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি পূর্ণাঙ্গভাবে 'আল-মানাকিব' অধ্যায়ে রয়েছে।
তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে সাখর বিন আল-হারিস তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি...
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أَرَ أَحَدًا ذَكَرَهُمَا. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
70 - «وَعَنْ عُمَيْرٍ قَالَ: جَاءَنَا كِتَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ إِلَى عُمَيْرٍ ذِي مَرَّانَ وَمَنْ أَسْلَمَ مِنْ هَمْدَانَ، سَلَامٌ عَلَيْكُمْ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكُمُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ. أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنَا إِسْلَامُكُمْ بَعْدَ مَقْدِمِنَا مِنْ أَرْضِ الرُّومِ، فَأَبْشِرُوا ; فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ هَدَاكُمْ بِهِدَايَتِهِ ; فَإِنَّكُمْ إِذَا شَهِدْتُمْ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَأَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ، وَأَعْطَيْتُمُ الزَّكَاةَ - فَإِنَّ لَكُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ رَسُولِهِ عَلَى دِمَائِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ، وَعَلَى أَرْضِ الرُّومِي الَّذِي أَسْلَمْتُمْ عَلَيْهَا: سَهْلِهَا، وَغَوْرِيهَا، وَمَرَاعِيهَا، غَيْرُ مَظْلُومِينَ وَلَا مُضَيَّقٌ عَلَيْهِمْ، وَإِنَّ الصَّدَقَةَ لَا تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلَا لِأَهْلِ بَيْتِهِ، وَإِنَّ مَالِكَ بْنَ مِرَارَةَ الرَّهَاوِيَّ قَدْ حَفِظَ الْغَيْبَ، وَأَدَّى الْأَمَانَةَ، [وَبَلَّغَ الرِّسَالَةَ]، فَآمُرُكَ يَا ذَا مَرَّانَ بِهِ خَيْرًا ; فَإِنَّهُ مَنْظُورٌ إِلَيْهِ فِي قَوْمِهِ، وَلْيُحْبِبْكُمْ رَبُّكُمْ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ مِنْ طَرِيقِ عُمَيْرِ بْنِ ذِي مَرَّانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ، وَلَمْ أَرَ أَحَدًا ذَكَرَهُمْ بِتَوْثِيقٍ وَلَا جَرْحٍ.
71 - وَعَنْ أَبِي نُعَيْمٍ قَالَ: «أَخْرَجَ إِلَيْنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَطَاءٍ الْعَامِرِيُّ كِتَابًا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: اكْتُبُوهُ، وَلَمْ يُمْلِهِ عَلَيْنَا. زَعَمَ أَنَّ ابْنَهُ الْفُجَيْعَ حَدَّثَهُ بِهِ.
" هَذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْفُجَيْعِ وَمَنْ مَعَهُ. وَمَنْ أَسْلَمَ، وَأَقَامَ الصَّلَاةَ، وَآتَى الزَّكَاةَ، وَأَطَاعَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، وَأَعْطَى مِنَ الْمَغْنَمِ خُمُسَ اللَّهِ، وَنَصَرَ نَبِيَّ اللَّهِ، وَأَشْهَدَ عَلَى إِسْلَامِهِ، وَفَارَقَ الْمُشْرِكِينَ - فَإِنَّهُ آمِنٌ بِأَمَانِ اللَّهِ وَمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَإِسْنَادُهُ مُنْقَطِعٌ.
72 - «وَعَنْ عُمَارَةَ بْنِ أَحْمَرَ الْمَازِنِيِّ قَالَ: كُنْتُ فِي إِبِلِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَرْعَاهَا، فَأَغَارَتْ عَلَيْنَا خَيْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَجَمَعْتُ إِبِلِي وَرَكِبْتُ الْفَحْلَ فَتَفَاجَّ يَبُولُ، فَنَزَلْتُ عَنْهُ، وَرَكِبْتُ نَاقَةً، فَنَجَوْتُ عَلَيْهَا، وَاسْتَاقُوا الْإِبِلَ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمْتُ فَرَدَّهَا عَلَيَّ، وَلَمْ يَكُونُوا اقْتَسَمُوهَا. قَالَ جَوَّابُ بْنُ عُمَارَةَ: فَأَدْرَكْتُ أَنَا وَأَخِي النَّاقَةَ الَّتِي رَكِبَهَا عُمَارَةُ يَوْمَئِذٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ
আমি কাউকে তাঁদের সম্পর্কে উল্লেখ করতে দেখিনি। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
৭০ - «এবং উমায়র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র আসলো: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে উমায়র যী-মাররান এবং হামদানের যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের প্রতি। তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। অতঃপর: রোম ভূমি থেকে আমাদের আগমনের পর তোমাদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছেছে। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো; কারণ আল্লাহ তাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে তোমাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তোমরা যখন সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, এবং সালাত কায়েম করবে ও জাকাত প্রদান করবে—তখন তোমাদের রক্ত ও সম্পদের ওপর এবং রোমীয় ভূমির ওপর যার ওপর তোমরা ইসলাম গ্রহণ করেছ—তার সমতল ভূমি, নিম্নভূমি এবং চারণভূমির ওপর আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি (নিরাপত্তা) থাকবে। কারো ওপর জুলুম করা হবে না এবং কাউকে সংকীর্ণতায় ফেলা হবে না। আর সদকা (জাকাত) মুহাম্মদ এবং তাঁর আহলে বায়তের জন্য হালাল নয়। আর মালিক বিন মুরারা আল-রাহাভী অগোচরে বিশ্বস্ততা রক্ষা করেছেন এবং আমানত আদায় করেছেন [এবং বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন]। হে যূ-মাররান! আমি তোমাকে তার সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিচ্ছি; কারণ সে তার কওমের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তি। আর তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের ভালোবাসুন।"»
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ উমায়র ইবনে যী-মাররান, তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি কাউকে দেখিনি যারা তাদের নির্ভরযোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ করেছেন।
৭১ - এবং আবু নুয়াইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আবদুল মালিক ইবনে আতা আল-আমিরি আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পত্র বের করে আনলেন এবং বললেন: তোমরা এটি লিখে নাও, তবে তিনি আমাদের তা মুখে মুখে বলে লিখে দেননি। তিনি দাবি করেন যে তাঁর পুত্র আল-ফুজাই' এটি তাঁকে বর্ণনা করেছেন।
"এটি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আল-ফুজাই' এবং যারা তাঁর সাথে আছে তাদের জন্য। যে ইসলাম গ্রহণ করবে, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, গনিমতের মালের আল্লাহর নির্ধারিত এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে, আল্লাহর নবীকে সাহায্য করবে, নিজ ইসলামের ওপর সাক্ষ্য দেবে এবং মুশরিকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে—সে আল্লাহ ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিরাপত্তায় নিরাপদ।"»
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ বিচ্ছিন্ন।
৭২ - «এবং উমারা ইবনে আহমার আল-মাযিনী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহেলিয়াতের যুগে আমি আমার উটগুলো চরাচ্ছিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অশ্বারোহী বাহিনী আমাদের ওপর অভিযান চালাল। আমি আমার উটগুলো একত্রিত করলাম এবং একটি মদ্দা উটের ওপর আরোহণ করলাম, কিন্তু সেটি প্রস্রাব করার জন্য পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে গেল। তখন আমি সেটি থেকে নেমে একটি মাদি উটের ওপর চড়লাম এবং তার মাধ্যমে পালিয়ে রক্ষা পেলাম। তারা উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করলাম, ফলে তিনি সেগুলো আমাকে ফেরত দিলেন; কারণ তখনো তারা সেগুলো বণ্টন করেনি। জাওয়াব ইবনে উমারা বলেন: আমি এবং আমার ভাই সেই মাদি উটটি চিনেছিলাম যেটির ওপর চড়ে উমারা সেদিন আল্লাহর রাসূলের কাছে গিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
- صلى الله عليه وسلم».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ قُتَيْلَةُ بِنْتُ جُمَيْعٍ عَنْ يَزِيدِ بْنِ صَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ. وَلَمْ أَرَ أَحَدًا تَرْجَمَهُمْ.
[بَابُ الْإِسْلَامِ يَجُبُّ مَا قَبْلَهُ]73 - عَنْ نُعَيْمِ بْنِ قَعْنَبٍ الرِّيَاحِيِّ قَالَ: أَتَيْتُ أَبَا ذَرٍّ فَلَمْ أَجِدْهُ، وَرَأَيْتُ الْمَرْأَةَ، فَسَأَلْتُهَا فَقَالَتْ: هُوَ ذَاكَ فِي ضَيْعَةٍ لَهُ، فَجَاءَ يَقُودُ - أَوْ يَسُوقُ - بَعِيرَيْنِ، قَاطِرًا أَحَدَهُمَا فِي عَجُزِ صَاحِبِهِ، فِي عُنُقِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا قِرْبَةٌ، فَوَضَعَ الْقِرْبَتَيْنِ. قُلْتُ: يَا أَبَا ذَرٍّ، مَا كَانَ فِي النَّاسِ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَلْقَاهُ مِنْكَ، وَلَا أَبْغَضَ إِلَيَّ أَنْ أَلْقَاهُ مِنْكَ، قَالَ: لِلَّهِ أَبُوكَ، وَمَا يَجْمَعُ هَذَا؟ قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي كُنْتُ وَأَدْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَكُنْتُ أَرْجُو فِي لِقَائِكَ أَنْ تُخْبِرَنِي أَنَّ لِي تَوْبَةً وَمَخْرَجًا، وَكُنْتُ أَخْشَى فِي لِقَائِكَ أَنْ تُخْبِرَنِي أَنَّهُ لَا تَوْبَةَ لِي، فَقَالَ: أَفِي الْجَاهِلِيَّةِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ.
قُلْتُ: وَيَأْتِي بِتَمَامِهِ فِي عِشْرَةِ النِّسَاءِ.
رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ.
74 - وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه قَالَ: «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَجِلُّوا اللَّهَ يَغْفِرْ لَكُمْ» ". قَالَ ابْنُ ثَوْبَانَ: يَعْنِي: أَسْلِمُوا.
رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَفِي إِسْنَادِهِ أَبُو الْعَذْرَاءِ، وَهُوَ مَجْهُولٌ.
75 - وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُفَيْلٍ قَالَ: «جَاءَ شَابٌّ فَقَعَدَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَدَعْ سَيِّئَةً إِلَّا عَمِلَهَا، وَلَا خَطِيئَةً إِلَّا رَكِبَهَا، وَلَا أَشْرَفَ لَهُ سَهْمٌ [فَمَا فَوْقَهُ] إِلَّا اقْتَطَعَهُ بِيَمِينِهِ، وَمَنْ لَوْ قُسِّمَتْ خَطَايَاهُ عَلَى أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَغَمَرَتْهُمْ! فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " أَسْلَمْتَ؟ " - أَوْ " أَنْتَ مُسْلِمٌ؟ " - قَالَ: أَمَّا أَنَا فَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ! فَقَالَ: " اذْهَبْ، فَقَدْ بُدِّلَتْ سَيِّئَاتُكَ حَسَنَاتٍ "، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَغَدَرَاتِي وَفَجَرَاتِي؟ قَالَ: " وَغَدَرَاتُكَ وَفَجَرَاتُكَ " ثَلَاثًا، فَوَلَّى الشَّابُّ، وَهُوَ يَقُولُ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، فَلَمْ أَزَلْ أَسْمَعُهُ يُكَبِّرُ حَتَّى تَوَارَى عَنِّي أَوْ خَفِيَ عَنِّي».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ يَاسِينُ الزَّيَّاتُ يَرْوِي الْمَوْضُوعَاتِ.
76 - وَعَنْ أَبِي طَوِيلٍ شَطْبٍ الْمَمْدُودِ أَنَّهُ «أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَرَأَيْتَ مَنْ عَمِلَ الذُّنُوبَ كُلَّهَا فَلَمْ يَتْرُكْ مِنْهَا شَيْئًا وَهُوَ فِي ذَلِكَ لَمْ يَتْرُكْ حَاجَةً وَلَا دَاجَةً إِلَّا أَتَاهَا فَهَلْ لِذَلِكَ مِنْ تَوْبَةٍ؟ قَالَ: " فَهَلْ أَسْلَمْتَ؟ " قَالَ: أَمَّا أَنَا فَأَشْهَدُ
(সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে কুতাইলা বিনতে জুমাই রয়েছেন, যিনি ইয়াজিদ ইবনে সাইফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি কাউকে তাঁদের জীবনী উল্লেখ করতে দেখিনি।
[পরিচ্ছেদ: ইসলাম তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়]৭৩ - নুয়াইম ইবনে কা'নাব আর-রিয়াহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু যার (রা.)-এর কাছে গেলাম কিন্তু তাঁকে পেলাম না। তবে আমি তাঁর স্ত্রীকে দেখতে পেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: তিনি সেখানে তাঁর এক জমিতে আছেন। এরপর তিনি দুটি উট হাঁকিয়ে নিয়ে আসলেন, একটির পেছনে আরেকটি বাঁধা ছিল এবং দুটিরই ঘাড়ে একটি করে পানির মশক ছিল। তিনি মশক দুটি নামিয়ে রাখলেন। আমি বললাম: হে আবু যার! লোকদের মধ্যে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করা আমার কাছে যেমন সবচেয়ে প্রিয় ছিল, তেমনি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অপ্রিয়ও ছিল। তিনি বললেন: তোমার পিতা আল্লাহর জন্য (তোমার কল্যাণ হোক), কিসে এই দুই বিষয়কে একত্র করল? তিনি বলেন, আমি বললাম: আমি জাহেলিয়াত যুগে সন্তানকে জীবন্ত দাফন করেছিলাম। আমি আপনার সাথে সাক্ষাতে আশা করছিলাম যে আপনি আমাকে বলবেন আমার জন্য তওবা ও নিষ্কৃতির পথ আছে। আবার আপনার সাথে সাক্ষাতে ভয় পাচ্ছিলাম যে পাছে আপনি আমাকে বলেন আমার জন্য কোনো তওবা নেই। তখন তিনি বললেন: তা কি জাহেলিয়াত যুগে হয়েছিল? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: অতীতে যা হয়েছে আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি পূর্ণাঙ্গভাবে 'নারীদের সাথে আচরণ' অধ্যায়ে আসবে।
ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৭৪ - আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহকে সম্মান করো, তিনি তোমাদের ক্ষমা করবেন।" ইবনে সাওবান বলেন: এর অর্থ হলো—তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো।
আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে আবুল আজরা রয়েছেন, যিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
৭৫ - সালামাহ ইবনে নুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক যুবক এসে রাসূলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে বসল এবং উচ্চস্বরে ডেকে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলবেন যে কোনো মন্দ কাজই বাদ দেয়নি বরং তা করেছে, এবং কোনো অপরাধই বাদ দেয়নি বরং তাতে জড়িয়েছে? এমনকি তার সামনে কোনো তীরের লক্ষ্যবস্তু বা তার চেয়ে বড় কিছু পড়লে তাও সে তার ডান হাত দিয়ে করায়ত্ত করেছে। আর যদি তার অপরাধসমূহ মদিনাবাসীদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের সবাইকে ডুবিয়ে দেবে! তখন নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করেছ?" - অথবা বললেন: "তুমি কি মুসলিম হয়েছ?" - সে বলল: আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: "যাও, তোমার মন্দ কাজগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার বিশ্বাসঘাতকতা এবং পাপাচারগুলোও কি? তিনি বললেন: "তোমার বিশ্বাসঘাতকতা এবং পাপাচারগুলোও।" - কথাটি তিনবার বললেন। এরপর যুবকটি 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার' বলতে বলতে প্রস্থান করল। আমি তার তাকবির ধ্বনি শুনছিলাম যতক্ষণ না সে আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল।
তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে ইয়াসিন আয-যাইয়াত রয়েছেন, যিনি জাল বর্ণনা করেন।
৭৬ - আবু তায়িল শাব আল-মামদুদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: আপনি কি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলবেন যে সমস্ত গুনাহ করেছে এবং কিছুই বাদ রাখেনি? সে ছোট-বড় কোনো গুনাহই করতে ছাড়েনি; এমতাবস্থায় তার জন্য কি কোনো তওবা আছে? তিনি বললেন: "তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করেছ?" সে বলল: আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে...
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ [وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ] وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ. قَالَ: [نَعَمْ] " تَفْعَلُ الْخَيْرَاتِ وَتَتْرُكُ السَّيِّئَاتِ فَيَجْعَلُهُنَّ اللَّهُ لَكَ خَيْرَاتٍ كُلَّهُنَّ "، قَالَ: وَغَدَرَاتِي وِفَجَرَاتِي؟ قَالَ: " نَعَمْ ". قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ. فَمَا زَالَ يُكَبِّرُ حَتَّى تَوَارَى».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ وَالْبَزَّارُ بِنَحْوِهِ، وَرِجَالُ الْبَزَّارِ رِجَالُ الصَّحِيحِ غَيْرَ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ أَبِي نَشِيطٍ، وَهُوَ ثِقَةٌ.
قُلْتُ: وَيَأْتِي حَدِيثُ أَنَسٍ فِي فَضْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي الْأَذْكَارِ.
77 - وَعَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ قَالَ: «أَقْبَلَ شَيْخٌ يَدَّعِمُ عَلَى عَصًا حَتَّى قَامَ بَيْنَ يَدَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، إِنَّ لِي غَدَرَاتٍ وَفَجَرَاتٍ، فَهَلْ يُغْفَرُ لِي؟ قَالَ: " أَلَيْسَ تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟ ". قَالَ: نَعَمْ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ. قَالَ: " فَقَدْ غُفِرَ لَكَ غَدَرَاتُكَ وَفَجَرَاتُكَ» ".
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ، إِلَّا أَنَّهُ مِنْ رِوَايَةِ مَكْحُولٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، فَلَا أَدْرِي أَسَمِعَ مِنْهُ أَمْ لَا.
78 - وَعَنِ الْجَارُودِيِّ الْعَبْدِيِّ قَالَ: «أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُبَايِعُهُ، فَقُلْتُ لَهُ: عَلَى أَنِّي إِنْ تَرَكْتُ دِينِي وَدَخَلْتُ فِي دِينِكَ لَا يُعَذِّبُنِي اللَّهُ فِي الْآخِرَةِ. قَالَ: " نَعَمْ».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ.
[بَابٌ فِيمَنْ مَاتَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ]79 - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ مَاتَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ قِيلَ لَهُ: ادْخُلْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ شِئْتَ» ".
رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَفِي إِسْنَادِهِ شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، وَقَدْ وُثِّقَ.
[بَابٌ فِي الْوَسْوَسَةِ]80 - عَنْ عُثْمَانَ - يَعْنِي ابْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه قَالَ: «تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَاذَا يُنْجِينَا مِمَّا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِي أَنْفُسِنَا، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: قَدْ سَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: " يُنْجِيكُمْ مِنْ ذَلِكَ أَنْ تَقُولُوا مَا أَمَرْتُ بِهِ عَمِّي أَنْ يَقُولَهُ فَلَمْ يَقُلْهُ» ".
رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَفِي إِسْنَادِهِ أَبُو الْحُوَيْرِثِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُعَاوِيَةَ، ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ وَالْأَكْثَرُ عَلَى تَضْعِيفِهِ.
81 - وَعَنْ خُزَيْمَةَ - يَعْنِي: ابْنَ ثَابِتٍ - «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَأْتِي الشَّيْطَانُ الْإِنْسَانَ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ، فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ، حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ» ".
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ بِإِسْنَادٍ فِيهِ ابْنُ لَهِيعَةَ.
82 - وَعَنْ عَائِشَةَ
যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই [তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই] এবং আপনি আল্লাহর রাসুল। তিনি (রাসুলুল্লাহ ﷺ) বললেন: [হ্যাঁ] "তুমি নেক আমল করবে এবং মন্দ কাজগুলো ত্যাগ করবে, তাহলে আল্লাহ সেই সবগুলোকে তোমার জন্য নেক আমলে পরিণত করে দেবেন।" সে বলল: আমার বিশ্বাসঘাতকতা এবং পাপাচারগুলোও কি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: আল্লাহু আকবার। এরপর সে তাকবির দিতে থাকল যতক্ষণ না দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল।
তাবারানি ও বাজ্জার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। বাজ্জারের বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী, তবে মুহাম্মদ ইবনে হারুন আবু নাশিত ব্যতীত, এবং তিনি নির্ভরযোগ্য।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর ফজিলত সম্পর্কিত আনাস (রা.)-এর হাদিসটি জিকির অধ্যায়ে আসবে।
৭৭ - আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক বৃদ্ধ লোক লাঠিতে ভর দিয়ে এগিয়ে এলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে দাঁড়ালেন। এরপর বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমার তো অনেক বিশ্বাসঘাতকতা ও পাপাচার রয়েছে, তবে কি আমাকে ক্ষমা করা হবে? তিনি বললেন: "তুমি কি সাক্ষ্য দাও না যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই?" সে বলল: হ্যাঁ, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন: "তাহলে তোমার বিশ্বাসঘাতকতা ও পাপাচারসমূহ ক্ষমা করা হয়েছে।"
আহমদ ও তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এটি মাকহুল থেকে আমর ইবনে আবাসা (রা.)-এর বর্ণনা, তাই আমি জানি না তিনি তাঁর থেকে শুনেছেন কি না।
৭৮ - জারুদি আল-আবদি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাঁর নিকট বায়াত হওয়ার জন্য এলাম। আমি তাঁকে বললাম: (আমি এই শর্তে বায়াত হচ্ছি) যে আমি যদি আমার ধর্ম ত্যাগ করি এবং আপনার ধর্মে প্রবেশ করি, তবে আল্লাহ আমাকে পরকালে শাস্তি দেবেন না। তিনি বললেন: "হ্যাঁ"।
আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
[পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রেখে মৃত্যুবরণ করে তার বিবরণ]৭৯ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে বলা হবে: জান্নাতের আটটি দরজার যে কোনোটি দিয়ে তুমি চাও প্রবেশ করো।"
আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে শাহর ইবনে হাওশাব রয়েছেন, যাঁকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে।
[পরিচ্ছেদ: কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) প্রসঙ্গে]৮০ - উসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম যে আমি যদি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম যে, শয়তান আমাদের মনে যা নিক্ষেপ করে তা থেকে কী আমাদের মুক্তি দেবে। তখন আবু বকর (রা.) বললেন: আমি তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বললেন: "সেটি থেকে তোমাদের মুক্তি দেবে তা বলা, যা বলার জন্য আমি আমার চাচাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু তিনি তা বলেননি।"
আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আবুল হুওয়াইরিস আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া রয়েছেন; ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাঁকে দুর্বল বলেছেন।
৮১ - খুজাইমা ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শয়তান মানুষের কাছে আসে এবং বলে: আকাশসমূহ কে সৃষ্টি করেছেন? সে বলে: আল্লাহ। এরপর সে বলে: পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? সে বলে: আল্লাহ। অবশেষে সে বলে: আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন? তোমাদের কেউ যখন এমন বিষয়ের সম্মুখীন হয়, সে যেন বলে: আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলগণের ওপর ঈমান এনেছি।"
আহমদ ও তাবারানি আল-কবির গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এমন এক সনদে যাতে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন।
৮২ - এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
- رضي الله عنها «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ أَحَدَكُمْ يَأْتِيهِ الشَّيْطَانُ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَكَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ، فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَإِنَّ ذَلِكَ يُذْهِبُ عَنْهُ» ".
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو يَعْلَى وَالْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ.
83 - وَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: «شَكَوْا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا يَجِدُونَ مِنَ الْوَسْوَسَةِ، وَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَجِدُ شَيْئًا لَوْ أَنَّ أَحَدَنَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ! فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " ذَاكَ مَحْضُ الْإِيمَانِ».
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو يَعْلَى، بِنَحْوِهِ، إِلَّا أَنَّ لَفْظَ أَبِي يَعْلَى: أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِعَائِشَةَ: «إِنَّ أَحَدَنَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ لَوْ تَكَلَّمَ بِهِ ذَهَبَتْ آخِرَتُهُ، وَلَوْ ظَهَرَ [عَلَيْهِ] لَقُتِلَ، [قَالَ] فَكَبَّرَتْ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَتْ: سُئِلَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرَ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: " إِنَّمَا يُخْتَبَرُ بِهَذَا الْمُؤْمِنُ». وَفِي إِسْنَادِهِ شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ.
84 - وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ «أَنَّ عُمَرَ مَرَّ عَلَى عُثْمَانَ وَهُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، فَدَخَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَاشْتَكَى ذَلِكَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: مَرَرْتُ عَلَى عُثْمَانَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، فَقَالَ: أَيْنَ هُوَ؟ قَالَ: هُوَ فِي الْمَسْجِدِ قَاعِدٌ، فَانْطَلَقَا إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَرُدَّ عَلَى أَخِيكَ حِينَ سَلَّمَ عَلَيْكَ؟ قَالَ: وَاللَّهِ مَا شَعَرْتُ أَنَّهُ مَرَّ بِي، وَأَنَا أُحَدِّثُ نَفْسِي فَلَمْ أَشْعُرْ أَنَّهُ سَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَمَاذَا تُحَدِّثُ نَفْسَكَ؟ قَالَ: خَلَا بِي الشَّيْطَانُ فَجَعَلَ يُلْقِي فِي نَفْسِي أَشْيَاءَ مَا أُحِبُّ أَنِّي تَكَلَّمْتُ بِهَا وَإِنَّ لِي مَا عَلَى الْأَرْضِ، قُلْتُ فِي نَفْسِي حِينَ أَلْقَى الشَّيْطَانُ ذَلِكَ فِي نَفْسِي: يَا لَيْتَنِي سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا الَّذِي يُنْجِينَا مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ الَّذِي يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِي أَنْفُسِنَا؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَإِنِّي وَاللَّهِ لَقَدِ اشْتَكَيْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَأَلْتُهُ: مَا الَّذِي يُنْجِينَا مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ الَّذِي يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِي أَنْفُسِنَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يُنْجِيكُمْ مِنْ ذَلِكَ أَنْ تَقُولُوا مِثْلَ الَّذِي أَمَرْتُ بِهِ عَمِّي عِنْدَ الْمَوْتِ فَلَمْ يَفْعَلْ» ".
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى، وَعِنْدَ أَحْمَدَ طَرَفٌ مِنْهُ، وَفِي إِسْنَادِهِ أَبُو الْحُوَيْرِثِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُعَاوِيَةَ وَثَّقَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَالْأَكْثَرُ عَلَى تَضْعِيفِهِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
85 - وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: «قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ أَحَدَنَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِالشَّيْءِ الَّذِي لَأَنْ يَخِرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَيَتَقَطَّعَ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ذَاكَ مَحْضُ الْإِيمَانِ».
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কারো নিকট শয়তান আসে এবং বলে: তোমাকে কে সৃষ্টি করেছে? সে বলে: আল্লাহ। তখন সে বলে: আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন এর সম্মুখীন হবে, সে যেন বলে: আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। নিশ্চয়ই এটি তার থেকে তা দূর করে দিবে।"
এটি আহমাদ, আবু ইয়ালা ও বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
83 - আয়েশা আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের মনে জাগ্রত কুচিন্তা (ওয়াসওয়াসা) সম্পর্কে অভিযোগ করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের মনে এমন কিছু অনুভব করি যে, আমাদের কেউ যদি আকাশ থেকে নিচে আছড়ে পড়ত, তবে সেটি তার কাছে তা নিয়ে কথা বলার চেয়ে অধিক প্রিয় হতো! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটিই হলো খাঁটি ঈমান।"
এটি আহমাদ ও আবু ইয়ালা অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে আবু ইয়ালার শব্দ হলো: এক ব্যক্তি আয়েশা আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন-কে বললেন: "আমাদের কেউ তার নিজের মনে এমন কিছু চিন্তা করে যে, যদি সে তা নিয়ে কথা বলে তবে তার আখিরাত ধ্বংস হয়ে যাবে, আর যদি তা প্রকাশ হয়ে পড়ে তবে তাকে হত্যা করা হবে।" আয়েশা তিনবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বললেন, তারপর বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনিও তিনবার তাকবীর বলেন এবং বলেন: "এর মাধ্যমেই কেবল মুমিনকে পরীক্ষা করা হয়।" এর সনদে শাহর বিন হাওশাব রয়েছেন।
84 - মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের হতে বর্ণিত যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু উসমানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি মসজিদে বসা ছিলেন। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। এরপর উমর আবু বকরের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ করে বললেন: আমি উসমানের পাশ দিয়ে গেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে সালামের উত্তর দিলেন না। আবু বকর বললেন: তিনি কোথায়? উমর বললেন: তিনি মসজিদে বসে আছেন। এরপর তারা উভয়ে তাঁর দিকে রওনা হলেন। আবু বকর তাঁকে বললেন: তোমার ভাই তোমাকে সালাম দেওয়ার সময় সালামের উত্তর দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? উসমান বললেন: আল্লাহর কসম, আমি টেরই পাইনি যে তিনি আমার পাশ দিয়ে গিয়েছেন। আমি আমার নিজের মনে মনে কিছু চিন্তা করছিলাম, ফলে তিনি যে সালাম দিয়েছেন তা অনুভব করতে পারিনি। আবু বকর বললেন: তুমি তোমার মনে কী চিন্তা করছিলে? তিনি বললেন: শয়তান আমার সাথে একাকী নির্জনে এমন সব বিষয় আমার মনে নিক্ষেপ করছিল যে, যমীনে যা কিছু আছে তার বিনিময়েও আমি সেগুলো উচ্চারণ করা পছন্দ করি না। শয়তান যখন তা আমার মনে নিক্ষেপ করছিল, তখন আমি মনে মনে বলছিলাম: হায়! আমি যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতাম যে, শয়তান আমাদের মনে যে চিন্তাগুলো নিক্ষেপ করে তা থেকে কিসে আমাদের মুক্তি দিবে? তখন আবু বকর বললেন: আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, শয়তান আমাদের মনে যে চিন্তাগুলো নিক্ষেপ করে তা থেকে কিসে আমাদের মুক্তি দিবে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের তা থেকে মুক্তি দিবে ওই কথাটি বলা, যা আমি আমার চাচাকে মৃত্যুর সময় বলার নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু তিনি তা করেননি।"
এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদের বর্ণনায় এর একাংশ রয়েছে। এর সনদে আবুল হুওয়াইরিস আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া রয়েছেন; ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বললেও অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
85 - আনাস ইবনে মালিক আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কী রায় সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে নিজের মনে এমন কিছু চিন্তা করে যে, আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত হয়ে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাওয়া তার কাছে তা নিয়ে কথা বলার চেয়ে অধিক প্রিয়? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটিই হলো খাঁটি ঈমান।"
এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ إِلَّا يَزِيدَ بْنَ أَبَانٍ الرَّقَاشِيَّ.
86 - وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: «قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَكُونُ عِنْدَكَ عَلَى حَالٍ حَتَّى إِذَا فَارَقْنَاكَ نَكُونُ عَلَى غَيْرِهِ. قَالَ: " كَيْفَ أَنْتُمْ وَنَبِيُّكُمْ؟ " قَالُوا: أَنْتَ نَبِيُّنَا فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ. قَالَ: " لَيْسَ ذَاكَ النِّفَاقَ» ".
رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَالْبَزَّارُ، إِلَّا أَنَّ الْبَزَّارَ قَالَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ وَرَبُّكُمْ؟ " قَالُوا: اللَّهُ رَبُّنَا فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ». وَرِجَالُ أَبِي يَعْلَى رِجَالُ الصَّحِيحِ.
87 - وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما قَالَ: «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ، فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ، فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ» ".
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ وَالْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ خَلَا أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ نَافِعٍ الطَّحَّانَ شَيْخَ الطَّبَرَانِيِّ.
88 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي أَجِدُ فِي نَفْسِي الشَّيْءَ لَأَنْ أَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ، فَقَالَ: " ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ» ".
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الصَّغِيرِ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ خَلَا شَيْخِ الطَّبَرَانِيِّ مُنْتَصِرٍ.
89 - وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها: أَنَّهَا «سَمِعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَسَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنِّي أُحَدِّثُ نَفْسِي بِالشَّيْءِ لَوْ تَكَلَّمْتُ بِهِ لَأَحْبَطْتُ آخِرَتِي، فَقَالَ: " لَا يَلْقَى ذَلِكَ الْكَلَامَ إِلَّا مُؤْمِنٌ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ وَالصَّغِيرِ، وَفِي إِسْنَادِهِ سَيْفُ بْنُ عُمَيْرَةَ، قَالَ الْأَزْدِيُّ: يَتَكَلَّمُونَ فِيهِ.
90 - وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ - يَعْنِي: ابْنَ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: «سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوَسْوَسَةِ. فَقَالَ: " ذَاكَ مَحْضُ الْإِيمَانِ».
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ، وَشَيْخُ الطَّبَرَانِيِّ ثِقَةٌ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
91 - «وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنَّهُ لَيَعْرِضُ فِي نَفْسِيَ الشَّيْءُ، لَأَنْ أَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " الْحَمْدُ لِلَّهِ أَنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيِسَ أَنْ يُعْبَدَ بِأَرْضِي هَذِهِ، وَلَكِنَّهُ رَضِيَ بِالْمُحَقَّرَاتِ مِنْ أَعْمَالِكُمْ» ".
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ ذَرِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُعَاذٍ، وَلَمْ يُدْرِكْهُ.
92 - وَعَنْ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ - أَوِ ابْنِ الْحَسَنِ - عَنْ عَمِّهِ: «أَنَّ النَّاسَ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوَسْوَسَةِ الَّتِي يَجِدُهَا أَحَدُهُمْ، لَأَنْ يَسْقُطَ
এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে ইয়াজিদ ইবন আবান আর-রাকাশি ব্যতীত।
৮৬ - আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «লোকেরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যখন আপনার কাছে থাকি তখন এক অবস্থায় থাকি, আবার যখন আপনার কাছ থেকে পৃথক হই তখন অন্য অবস্থায় হয়ে পড়ি। তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের নবীর সাথে কেমন (সম্পর্ক রাখো)?" তারা বলল: আপনি গোপনে এবং প্রকাশ্যে আমাদের নবী। তিনি বললেন: "ওটা নিফাক (কপটতা) নয়"»।
এটি আবু ইয়ালা এবং আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন, তবে আল-বাযযার (শব্দে) বলেছেন: «"তোমরা তোমাদের রবের সাথে কেমন?" তারা বলল: আল্লাহ গোপনে ও প্রকাশ্যে আমাদের রব»। আর আবু ইয়ালার বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।
৮৭ - আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারো নিকট এসে বলে: আসমান কে সৃষ্টি করেছেন? সে বলে: আল্লাহ। সে বলে: যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? সে বলে: আল্লাহ। তারপর সে বলে: আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন? তোমাদের কেউ যখন এটি অনুভব করে, তখন সে যেন বলে: আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম"»।
তাবারানী এটি ‘আল-আওসাত’ ও ‘আল-কাবীর’-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তাবারানীর উস্তাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন নাফি আত-তাহহান ব্যতীত।
৮৮ - ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমি আমার মনে এমন কিছু অনুভব করি যে, সেটি মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া আমার কাছে অধিক প্রিয়। তখন তিনি বললেন: "এটিই স্পষ্ট ঈমান"»।
তাবারানী এটি ‘আস-সাগীর’-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তাবারানীর উস্তাদ মুনতাসির ব্যতীত।
৮৯ - উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: তিনি «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করে বলল: আমি আমার মনে মনে এমন কিছু বলি যা মুখে উচ্চারণ করলে আমার পরকাল ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন তিনি বললেন: "মুমিন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ এরূপ কথার (আশঙ্কার) সম্মুখীন হয় না"»।
তাবারানী এটি ‘আল-আওসাত’ ও ‘আস-সাগীর’-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে সাইফ ইবন উমাইরা রয়েছেন; আল-আযদি বলেন: তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে।
৯০ - আবদুল্লাহ—অর্থাৎ ইবন মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এটি বিশুদ্ধ ঈমান"»।
তাবারানী এটি ‘আল-কাবীর’-এ বর্ণনা করেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী এবং তাবারানীর উস্তাদ নির্ভরযোগ্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
৯১ - «মুআয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যাঁর হাতে আপনার প্রাণ এবং যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আমার মনে এমন কিছু উদয় হয় যে, তা উচ্চারণ করার চেয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয়। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যে, শয়তান আমার এই ভূমিতে উপাসিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে, কিন্তু সে তোমাদের আমলসমূহের তুচ্ছ বিষয়গুলোতেই সন্তুষ্ট হয়েছে"»।
তাবারানী এটি ‘আল-কাবীর’-এ বর্ণনা করেছেন এবং এটি যর ইবন আবদুল্লাহর বর্ণনা মুআয থেকে, অথচ তিনি তাকে পাননি।
৯২ - উমারা ইবন আবিল হাসান—অথবা ইবনুল হাসান—থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন: «লোকেরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল যা তাদের কেউ অনুভব করে; (এমন কুমন্ত্রণা যে,) তা উচ্চারণ করার চেয়ে আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া...