(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
فتح المنان بسيرة أمير المؤمنين معاوية بن أبي سفيان القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: فتح المنان بسيرة أمير المؤمنين معاوية بن أبي سفيان
المؤلف: أحمد الجابري
عدد الصفحات: 314
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1442
আমীরুল মুমিনীন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের জীবনী সম্বলিত ফাতহুল মান্নান বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
কিতাব: আমীরুল মুমিনীন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের জীবনী সম্বলিত ফাতহুল মান্নান
লেখক: আহমাদ আল-জাবিরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৪
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ যুল কা'দাহ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله المنتصر لأوليائه، المنتقم من أعدائه، المتفرِّد بعظمته وكبريائه، المقدَّس بصفاته وأسمائه، لا يعزبُ عنه مثقال ذرَّةٍ في أرضه ولا سمائه، أحمده على ما أسبغ من نعمائه، وأَسْبل من عطائه.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة أدَّخرها ليوم لقائه، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله خاتَمُ أنبيائه، وصفوة رسله وأُمنائه، رفع الله ذكره فلا يُذكر إلا ذُكِر معه، وجعل شريعته ناسخةً للشرائع فلو كان موسى حيًّا لاتبعه، بُعث للعالمين وكان النبي يُبعث لقومه، صاحب الشفاعة العظمى حين يذهل كل أحد عن ولده ووالده وأمِّه.
أما بعد؛
فمن المعلوم بجلاء، أن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم نجوم الغبراء،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বন্ধুদের সাহায্যকারী, তাঁর শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী, যিনি তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বে একক, তাঁর গুণাবলী ও নামসমূহে পবিত্র। তাঁর যমীন বা আকাশে একটি অণু পরিমাণ বস্তুও তাঁর অগোচরে থাকে না। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর অঢেল নেয়ামতের জন্য এবং তাঁর অফুরন্ত দানের জন্য।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনের জন্য সঞ্চয় করে রাখছি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর নবীগণের সমাপ্তি এবং তাঁর রাসূল ও আমানতদারদের মধ্যে মনোনীত। আল্লাহ তাঁর আলোচনাকে সমুন্নত করেছেন, ফলে আল্লাহর আলোচনার সাথে সাথেই তাঁর আলোচনা করা হয়। তিনি তাঁর শরীয়তকে পূর্ববর্তী সকল শরীয়তের রহিতকারী করেছেন; ফলে মূসা আলাইহিস সালাম জীবিত থাকলেও তাঁকেই অনুসরণ করতেন। তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরিত হয়েছেন, অথচ ইতিপূর্বে নবীগণ কেবল তাঁদের নিজ কওমের কাছে প্রেরিত হতেন। তিনি সেই সুমহান সুপারিশের অধিকারী, যখন প্রত্যেকে তার সন্তান, পিতা ও মাতা থেকে উদাসীন হয়ে পড়বে।
অতঃপর;
নিশ্চয়ই এটি স্পষ্টভাবে বিদিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ হলেন এই ধরণীর নক্ষত্ররাজী,
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢)
كما أن الكواكب نجوم السماء، رَسَمَ معالمَ مكانتهم ودافع عنهم كتابُ الله، وشهد على عدالتهم الصادقُ رسولُ الله؛ {والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان رضي الله عنهم}
(1)، ما انقطع الوحي حتى تاب الله عليهم وأكرمهم، وشاع في الخافقين ذكرُهم والثناءُ عليهم، فليس لأحد أن يغمزهم بعد قول الله: {ثم تاب عليهم}
(2)، وليس لأحد أن يتقصدَّهم بسوء بعد أن أكَّد رسول الله صلى الله عليه وسلم فضلهم: «خير أُمَّتي - وفي لفظ: خير الناس -: قَرْني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم»
(3)، ونهى عن سبِّهم وأذيتهم: «لا تسبُّوا أصحابي، فوالذي نفسي بيده لو أنفق أحدكم مثل أحد ذهباً؛ ما بلغ مُدَّ أحدهم»
(4).
ومع ذا: فلا يخلو زمان من هؤلاء، الذين يجيدون الطعن والتشويه والافتراء، يبتلي الله عز وجل بهم العباد ليخرج ما في صدورهم، فيثبِّت طائعهم، ويزيغ مفتونهم، كما قال تعالى: {مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيزَ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ}
(5).
--------------------------------------------
যেমন নক্ষত্ররাজী আকাশের তারকা, তেমনি আল্লাহর কিতাব তাঁদের মর্যাদার বৈশিষ্ট্যসমূহ অঙ্কিত করেছে এবং তাঁদের পক্ষাবলম্বন করেছে, আর সত্যবাদী আল্লাহর রাসূল তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য দিয়েছেন; {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন}
(১), ওহী আসা বন্ধ হয়নি যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তাঁদের সম্মানিত করেছেন, আর দিগন্ত বিস্তৃত তথা পূর্ব ও পশ্চিমে তাঁদের আলোচনা ও প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। সুতরাং আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি তাদের তাওবা কবুল করলেন}
(২)-এর পর কারো জন্য বৈধ নয় তাঁদের প্রতি কটাক্ষ করা। আর আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করার পর কারো জন্য তাঁদের প্রতি মন্দ কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করা সমীচীন নয়: «আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম — অন্য শব্দে: মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম — হলো আমার যুগের মানুষেরা, তারপর যারা তাঁদের পরবর্তী, তারপর যারা তাঁদের পরবর্তী»
(৩), এবং তিনি তাঁদের গালি দিতে ও কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন: «তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম করে বলছি, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করো, তবুও তাঁদের কারো এক মুদ পরিমাণ সওয়াবে পৌঁছাতে পারবে না»
(৪).
তা সত্ত্বেও: কোনো যুগই এমন লোকদের থেকে শূন্য থাকে না, যারা নিন্দা, বিকৃতি ও অপবাদ রচনায় পটু। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁদের মাধ্যমে বান্দাদের পরীক্ষা করেন যেন তাঁদের অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করে দেন; ফলে তিনি তাঁর অনুগতদের সুদৃঢ় করেন এবং বিভ্রান্তদের বিপথগামী করেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ মুমিনদের এমন অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না যাতে তোমরা রয়েছ, যতক্ষণ না তিনি পবিত্র থেকে অপবিত্রকে পৃথক করেন}
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣)
يقول أبو المعالي الجويني: «قد كثرت المطاعن على أئمَّة الصحابة، وعظم افتراء الرافضة وتخرُّصهم، والذي يجب على المعتقد أن يلتزمه: أن يعلم أن جلَّة الصحابة كانوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمحلِّ المغبوط، والمكان المحوط، وما منهم إلا وهو منه ملحوظ محظوظ، وقد شهدت نصوص الكتاب على عدالتهم، والرضا عن جملتهم، بالبيعة بيعة الرضوان، ونصِّ القرائن على حسن الثناء على المهاجرين والأنصار»
(1).
ولعلَّ هذا السبَّ والافتراء من إرادة الله عز وجل الخير لهم، حتى يجرى عليهم الأجر، وإن كان انقضى العمر!
يقول الشافعيُّ: «ما أرى أن الله تعالى لا يمنع الناس عن شتم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا ليزيدهم ثواباً عند انقطاع أعمالهم»
(2).
وقد اختلفت أنصبة الصحابة رضي الله عنه من هذه التهم والافتراءات، والشتائم والترَّهات، فالقليل منهم من ألسنة هؤلاء الكذابين: ناجٍ مُسلَّم، وكثيرٌ منهم ناجٍ مخدوش، وثلَّةٌ -ليست هيِّنة- مَكْدُوسةٌ في نار الكذب والتدليس والافتراء!
ومن هذه الثلة الأخيرة، بل لا يكاد يُعرف أحدٌ من الصحابه ناله هذا القسط الكبير من التشويه، والافتراء، والبغي كما ناله هو؛ أمير المؤمنين معاوية بن أبي سفيان! فقد تتابعت عليه سهام المغرضين تَتْرى، حاملةً من الافتراءات والسموم ما لا يكاد يُعدُّ ولا يُحصى، وأَجْمعَتْ فرق أهل البدع على الحطِّ منه وذمِّه، مع تواصٍ غريب فيما بينهم، وإن تباعدت أزمانهم وأماكنهم!
--------------------------------------------
আবু আল-মা'আলি আল-জুওয়াইনি বলেন: «সাহাবায়ে কেরামের ইমামগণের বিরুদ্ধে আক্রমণ ও কুৎসা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাফেজিদের অপবাদ ও মিথ্যাচার চরম আকার ধারণ করেছে। একজন বিশ্বাসীর জন্য যা আঁকড়ে ধরা আবশ্যক তা হলো: এটি জানা যে, সাহাবায়ে কেরামের মহান ব্যক্তিবর্গ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ঈর্ষণীয় ও সুরক্ষিত মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ দৃষ্টি ও সৌভাগ্য লাভ করেননি। মহান আল্লাহর কিতাবের বর্ণনা তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা এবং তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্টির সাক্ষ্য দিয়েছে—বিশেষ করে বায়আতে রিদওয়ানের মাধ্যমে—এবং মুহাজির ও আনসারদের উত্তম প্রশংসার ক্ষেত্রে দলীলাদি অত্যন্ত স্পষ্ট»
(১)।
সম্ভবত এই গালিগালাজ ও অপবাদ তাঁদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণস্বরূপ, যাতে তাঁদের জীবনকাল শেষ হয়ে গেলেও তাঁদের আমলনামায় সওয়াব জারি থাকে!
ইমাম শাফেয়ী বলেন: «আমি মনে করি আল্লাহ তাআলা মানুষকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের গালি দেওয়া থেকে কেবল একারণেই বিরত রাখেন না, যেন তাঁদের আমল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তাঁদের সওয়াব বৃদ্ধি করে দেন»
(২)।
এই মিথ্যা অপবাদ, গালিগালাজ ও অসার কথাবার্তার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবী রাযিয়াল্লাহু আনহুমদের অংশ বিভিন্ন প্রকারের হয়েছে। এই মিথ্যাবাদীদের জিহ্বা থেকে তাঁদের খুব অল্প সংখ্যকই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মুক্ত থাকতে পেরেছেন; তাঁদের অনেকে নিরাপদ থাকলেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন; আর একটি দল—যারা সংখ্যায় কম নয়—মিথ্যা, প্রতারণা ও অপবাদের আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন!
আর এই শেষোক্ত দলের মধ্য থেকে, বরং সাহাবীদের মধ্যে এমন কাউকে প্রায় জানাই যায় না যিনি চরিত্রহনন, অপবাদ ও অন্যায়ের এমন বিশাল হিস্যার শিকার হয়েছেন যতটা তিনি হয়েছেন; তিনি হলেন আমীরুল মুমিনীন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান! তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিদের বিষাক্ত তীরের ধারা একের পর এক চলতেই থাকে, যা অসংখ্য ও অগণিত অপবাদ বহন করে আনে। আর বিদআতি দলগুলো তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করতে ও তাঁর নিন্দা করতে একমত হয়েছে, এমনকি তাদের কাল ও স্থান ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত যোগসাজশ পরিলক্ষিত হয়!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٤)
فهذا أحد رؤوس المعتزلة وشيوخهم، وأبرز متكلميهم وحاملي لواءهم؛ أبو عمرو الجاحظ (ت: 255 ه) يصل به الطعن إلى تكفير معاوية رضي الله عنه، فيقول عنه: «ثُمّ ما زالت معاصيه من جنس ما حكينا، وعلى منازل ما رتَّبنا، حتى ردَّ قضية رسول الله صلى الله عليه وسلم ردَّاً مكشوفاً، وجحد حكمه حجداً ظاهراً في ولد الفراش وما يجب للعاهر، مع اجتماع الأمة أنَّ سمية لم تكن لأبي سفيان فراشاً، وأنه إنما كان بها عاهراً
(1)، فخرج بذلك من حكم الفجَّار إلى حكم الكفَّار»
(2)!
إلى أن قال: «على أنَّ كثيراً من أهل ذلك العصر قد كفروا بترك إكفاره، وقد أربتْ عليهم نابتةُ عصرنا، ومبتدعةُ دهرنا؛ فقالت: لا تسبُّوه، فإن له صحبة، وسب معاوية بدعة، ومن يبغضه فقد خالف السنة، فزعمت أنَّ من السنة ترك البراءة ممن جحد السنة»
(3).
ونقل أبو الحسن الأشعري (ت: 324 ه) عن الخوارج أيضاً أنهم: «يكفِّرون معاوية»
(4).
--------------------------------------------
তিনি মুতাজিলাদের অন্যতম প্রধান ও তাদের শায়খদের একজন, এবং তাদের সবচেয়ে বিশিষ্ট কালামতত্ত্ববিদ ও পতাকাবাহী; আবু আমর আল-জাহিজ (মৃত্যু: ২৫৫ হিজরী)। তার কটাক্ষ মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে কাফির সাব্যস্ত করার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি তার সম্পর্কে বলেন: «এরপর তার পাপাচার আমাদের বর্ণিত বিষয়ের মতোই চলতে থাকে এবং আমাদের বিন্যস্ত পর্যায়ক্রম অনুযায়ীই প্রকাশ পায়; এমনকি তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিচারকে প্রকাশ্যভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং শয্যাশায়ী সন্তানের বিধান ও ব্যভিচারীর প্রাপ্য সম্পর্কে তাঁর ফয়সালাকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। অথচ উম্মত এ বিষয়ে একমত যে, সুমাইয়া আবু সুফিয়ানের শয্যাসঙ্গিনী ছিলেন না এবং আবু সুফিয়ান তার সাথে ব্যভিচারী হিসেবে লিপ্ত হয়েছিলেন
(১)। ফলে এর মাধ্যমে তিনি পাপিষ্ঠদের বিধান থেকে বেরিয়ে কাফিরদের বিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন»
(২)!
তিনি আরও বলেন: «এমনকি সেই যুগের অনেক লোক তাকে কাফির না বলার কারণে কাফির হয়ে গেছে। আমাদের এই যুগের নবজাতক দল এবং এই সময়ের বিদআতিরা তাদের চেয়েও বেড়ে গেছে। তারা বলে: তোমরা তাকে গালি দিও না, কারণ তার সাহচর্য রয়েছে, আর মুয়াবিয়াকে গালি দেওয়া বিদআত, এবং যে তাকে ঘৃণা করে সে সুন্নাহর বিরোধিতা করল। তারা দাবি করে যে, যে ব্যক্তি সুন্নাহকে অস্বীকার করে, তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন না করাই হলো সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত»
(৩)।
আবুল হাসান আল-আশআরী (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরী) খারিজিদের থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তারা: «মুয়াবিয়াকে কাফির মনে করে»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٥)
وشيخ الرافضة في زمانه جمال الدين الحسين بن يوسف بن المطهّر الحلّي
(1) (ت: 726 ه) يقول عنه في كتابه (منهاج الكرامة): «إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لعن معاوية الطليق ابن الطليق، اللعين ابن اللعين، وقال: إذا رأيتم معاوية على منبري فاقتلوه»
(2). إلى آخر ما قاله هناك
(3).
وأما في زماننا: فلا تسل عن كمِّ المؤلَّفات والمقالات، والحوارات والحلقات، التي تَلُوك عرض معاوية رضي الله عنه، في جهل من البعض وعدم دراية بصحيح الأخبار من سقيمها، ولا بعدالة وخُلُق من يتحدَّثون عنه
(4)، أو عن عمدٍ وقصدٍ من آخرين، من خلال خطة ممنهجة لإسقاط عدالة الصحابة
(5)؛ مبتدئين بمعاوية.
ومع انتشار ذلك كله: بدأ يغشى رمدُ الحيرة الثقافية الإسلامية تجاه الصحابة عيونَ بعض أبناء هذه الأمة!
لأجل هذا: شمَّر علماء أهل السنة عن ساعد الجدِّ، للدفاع عن عرض معاوية رضي الله عنه، وسلُّوا سيوفهم لردِّ ذلك العدوان، ودفع تلك الغارات، التي تحاول النَيْل من هذا الصحابي الكريم، وهيهات!
--------------------------------------------
এবং তাঁর সময়ের রাফেজীদের শায়খ জামালুদ্দিন আল-হুসাইন বিন ইউসুফ বিন আল-মুতাহহার আল-হিল্লি
(১) (মৃত্যু: ৭২৬ হি.) তাঁর 'মিনহাজুল কারামাহ' গ্রন্থে তাঁর (মুয়াবিয়া) সম্পর্কে বলেন: «নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াবিয়াকে অভিশাপ দিয়েছেন, যে ছিল মুক্তদাসের পুত্র মুক্তদাস, অভিশপ্তের পুত্র অভিশপ্ত; এবং তিনি বলেছেন: তোমরা যখন মুয়াবিয়াকে আমার মিম্বারের ওপর দেখবে, তখন তাকে হত্যা করো»
(২)। সেখানে তিনি যা বলেছেন তার শেষ পর্যন্ত এভাবেই বর্ণিত
(৩)।
আর আমাদের যুগে: সেই অসংখ্য গ্রন্থ, প্রবন্ধ, আলোচনা ও অনুষ্ঠানের কথা আর জিজ্ঞেস করবেন না, যা মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর সম্মান নিয়ে টানাটানি করে। কারো ক্ষেত্রে এটি অজ্ঞতা এবং সঠিক সংবাদের সাথে দুর্বল সংবাদের পার্থক্য করতে না পারার কারণে ঘটে থাকে, আবার তারা যাঁর সম্পর্কে কথা বলছেন তাঁর ন্যায়পরায়ণতা ও চরিত্র সম্পর্কেও তাদের কোনো জ্ঞান নেই
(৪); অথবা অন্যদের ক্ষেত্রে এটি একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়, যার লক্ষ্য হলো সাহাবায়ে কেরামের ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করা
(৫); আর তারা এর সূচনা করেছে মুয়াবিয়াকে দিয়ে।
আর এই সবকিছুর প্রসারের ফলে: সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে ইসলামী সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তির এক অস্পষ্টতা এই উম্মতের কিছু সন্তানের চোখে ছায়া ফেলতে শুরু করেছে!
এ কারণেই: আহলুস সুন্নাহর উলামায়ে কেরাম মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর সম্মান রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কোমর বেঁধে নেমেছেন এবং এই আক্রমণ প্রতিহত করতে ও সেইসব অপতৎপরতা রুখতে নিজেদের তলোয়ার উন্মুক্ত করেছেন, যা এই মহান সাহাবীর মর্যাদাহানি করার চেষ্টা করে; কিন্তু তা অসম্ভব!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٦)
وكان من إبداع العلماء في رد تلك الافتراءات: أن نوَّعوا أساليب المواجهة، وعدَّدوا جبهات الدفاع، فلم يتركوا ثغراً من ثغور هذا الميدان إلا ووقفوا عليه، بل وتقدموا -أحياناً- بالهجوم، فدخلوا معاقل أفكار المعتدين، ودكُّوا حصونها، وأتوا على بنيانها من القواعد؛ فخرَّ السقف على رؤوس أصحابها.
ففريق من هؤلاء الأفذاذ: يتولَّى الكلام عن فضائل الصحابة عامَّةً، مُذكِّراً القارئ بأنَّ معاويةَ داخلٌ في حد الصحبة، فله نصيبه من تلك الفضائل العامَّة.
وآخرون: يُذكِّرون بفضائل معاوية الخاصَّة، عبر كتبٍ وأجزاءَ مُفردَة؛ كما فعل أبو بكر ابن أبي عاصم في كتابه: (فضائل معاوية)
(1)، وابنُ أبي الدنيا في كتابه: (حلم معاوية)
(2)، وغيرهما.
وفريقٌ ثالث: يصنِّف في ردِّ الشُّبهات، وتزييف التُّهم الباطلات، كما فعل ابنُ العربي المالكي في كتابه: (العواصم من القواصم)، وشيخ الإسلام ابن تيْميَّة في كتابه: (منهاج السنة النبوية)، وغيرهما.
ولا يتوقَّف الأمر عند هذا الحد؛ بل نجد من هؤلاء العلماء من ضمَّن تصنيفه في العقائد بيان عقيدة أهل السنة في هذا الجيل الرباني الفريد، بوجهٍ عام، كما فعل الطحاويُّ في كتابه: (العقيدة الطحاويَّة)، وابن تيْميَّة في كتابه: (العقيدة الواسطيَّة)، ومن هؤلاء المصنِّفين في العقيدة من ضمَّن تصنيفه شيئا من فضائل معاوية بوجهٍ خاص؛ كما فعل الخلَّال في كتابه: (السُّنَّة)، والآجري في كتابه (الشريعة)، وغيرهما
(3).
--------------------------------------------
এই অপবাদসমূহ খণ্ডনে আলেমদের সৃজনশীলতার একটি দিক ছিল এই যে, তারা মোকাবিলা করার পদ্ধতিসমূহে বৈচিত্র্য এনেছিলেন এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রসমূহকে বহুমুখী করেছিলেন। ফলে তারা এই ময়দানের এমন কোনো ছিদ্রপথ বাকি রাখেননি যেখানে তারা পাহারায় দাঁড়াননি; বরং কখনো কখনো তারা আক্রমণাত্মক ভূমিকাও গ্রহণ করেছেন। তারা আক্রমণকারীদের চিন্তাধারার দুর্গে প্রবেশ করে তাদের কেল্লাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাদের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছেন, ফলে তাদের ছাদ তাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে।
এই অসামান্য ব্যক্তিত্বদের একদল সাধারণভাবে সাহাবীদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেখানে তারা পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুয়াবিয়া সাহচর্যের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, তাই এই সাধারণ মর্যাদাগুলোতে তাঁরও অংশ রয়েছে।
অন্যরা স্বতন্ত্র গ্রন্থ ও রচনার মাধ্যমে মুয়াবিয়ার বিশেষ মর্যাদা ও গুণাবলি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন; যেমনটি আবু বকর ইবনে আবি আসিম তাঁর 'ফাযায়িলে মুয়াবিয়া'
(১) গ্রন্থে এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া তাঁর 'হিলমু মুয়াবিয়া'
(২) গ্রন্থে করেছেন, এছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।
তৃতীয় একদল সংশয় নিরসনে এবং মিথ্যা অপবাদগুলো অসাড় প্রমাণ করার জন্য গ্রন্থ রচনা করেন; যেমনটি ইবনুল আরাবি আল-মালিকি তাঁর 'আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম' গ্রন্থে এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থে করেছেন, এছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।
বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমরা এসব আলেমদের মধ্যে এমন অনেককে পাই যারা তাদের আকীদা বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে সাধারণভাবে এই অনন্য রব্বানী প্রজন্ম সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের আকীদা বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যেমনটি ইমাম তহাবী তাঁর 'আল-আকীদা আত-তহাবিয়্যাহ' গ্রন্থে এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে করেছেন। আবার এই আকীদা বিষয়ক লেখকদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা তাদের রচনায় বিশেষ করে মুয়াবিয়ার কিছু মর্যাদা অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যেমনটি আল-খাল্লাল তাঁর 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে এবং আল-আজুররি তাঁর 'আশ-শরীয়াহ' গ্রন্থে করেছেন, এছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٧)
وهم في فعلهم هذا كله: مؤتمُّون بنصوص الكتاب والسنة، وأقوال المشهود لهم بالعلم والفضل من أكابر هذه الأمَّة، غير متعصبِّين ولا مُتشدِّدين، ولا بالعصمة للصحابة مُدَّعين، ولا لبعض النصوص -كما فعل خصماؤهم- تاركين، فرضي الله عنهم ورحمهم أجمعين.
واستمراراً لمسيرة هذا الركب المبارك، الذي يبعثه الله بين فترةٍ وأخرى على مدار الأيام، ليظهر بهم ما اندثر من تراث الأئمَّة السابقين، ويعيد نشر الفضائل للسابقين بين الحين والحين، ورغبةً مني في أن أُنظَم في سلك هؤلاء المدافعين عن خير هذه الأمة بعد المرسلين؛ جاء هذا الكتاب:
«فتحُ المنَّان بسيرة معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه».
جمعتُ فيه شتات ما تفرَّق من سيرته، وبيَّنتُ فيه شيئاً من فضله ومكانته، مع ردِّ أشهر الأباطيل والافتراءات التي تُكلِّم بها في عرضه، وغُضَّ بها من قدره، علَّ هذا أن يكفَّ بأس المبتدعة الذين لا يزالون يتناسلون، ويهدي بعض الحيارى الذين وقعوا في شِباك الشبهات المنتشرة فهم تائهون يتساءلون، وأن يكون مُعيناً لكل باحث عن الحقِّ، في سيرة رجل من أصحاب خير الخلق صلى الله عليه وسلم.
وإذا كان معاويةُ رضي الله عنه قد وقع بينه وبين بعض إخوانه من الصحابة كعليِّ بن أبي طالب رضي الله عنه بعض نزاعٍ وشقاقٍ، ومال بعض الناس إلى طرف على حساب طرفٍ آخر، فمن فضل الله علينا أن أَوْجدنا في بيئةٍ وزمانٍ وضح فيه الحقُّ، وتبينت مآخذ كلِّ طرف من الطرفين، فلم نُربَّ أو نُنشَّأ على بغض طرف منهما، أو المغالاة في محبة أحدهما، وهذا مُعينٌ بإذن الله -بعد عون الله- على تحرِّي الإنصاف والحق.
يقول الذهبيُّ: «وخَلَفَ معاويةَ خلقٌ كثيرٌ يحبُّونه ويتغالون فيه، ويفضِّلونه، إمَّا قد ملكهم بالكرم والحلم والعطاء، وإمَّا قد وُلدوا في الشام على حبِّه، وتربَّى أولادهم على ذلك.
আর তারা তাদের এই সকল কাজের ক্ষেত্রে: কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ এবং এই উম্মতের বড় বড় মনিষীগণ যাদের জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে তাদের বক্তব্য অনুসরণকারী; তারা গোঁড়া বা কঠোরপন্থী নন, আর না তারা সাহাবীগণের জন্য নিষ্পাপ হওয়ার দাবিদার এবং তাদের বিরোধীরা যেমনটি করেছে তেমন তারা কোনো কোনো ভাষ্য ত্যাগকারীও নন। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের সকলের ওপর রহম করুন।
আর এই বরকতময় কাফেলার যাত্রার ধারাবাহিকতায়, যাদেরকে আল্লাহ সময়ের আবর্তনে বিভিন্ন সময়ে প্রেরণ করেন, যেন তাদের মাধ্যমে পূর্বসূরি ইমামগণের বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যকে প্রকাশ করেন এবং ক্ষণে ক্ষণে পূর্বসূরিদের মর্যাদা ও গুণাবলি পুনরায় প্রচার করেন; আর রাসূলগণের পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের পক্ষ অবলম্বনকারী সেই প্রতিরক্ষা ব্যুহ্যের সাথে শামিল হওয়ার বাসনায় আমার এই কিতাবটি এসেছে:
«ফাতহুল মান্নান বি সীরাতি মুআবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান রাযিয়াল্লাহু আনহু»।
এতে আমি তাঁর জীবনীর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করেছি এবং তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কিছু দিক স্পষ্ট করেছি। সেই সাথে তাঁর সম্মানহানি করে এবং তাঁর মর্যাদাকে খাটো করে যেসব প্রসিদ্ধ বাতিল ও অপবাদমূলক কথা বলা হয়েছে সেগুলোর খণ্ডন করেছি; যেন এর মাধ্যমে সেই বিদআতিদের তেজ দমন হয় যারা বংশানুক্রমিকভাবে এখনও রয়ে গেছে এবং সেইসব বিভ্রান্তদের পথপ্রদর্শন করে যারা ছড়িয়ে পড়া সংশয়ের জালে আটকা পড়ে দিশেহারা হয়ে প্রশ্ন করে বেড়াচ্ছে। আর সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবীর জীবনীর ক্ষেত্রে এটি যেন প্রত্যেক সত্য সন্ধানীর জন্য সহায়ক হয়।
মুআবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর কিছু সাহাবী ভাই যেমন আলী ইবনু আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর মাঝে যদি কিছু বিরোধ ও বিভেদ তৈরি হয়েও থাকে এবং কিছু লোক যদি এক পক্ষকে বাদ দিয়ে অন্য পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়েও থাকে, তবে আমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ এই যে, তিনি আমাদের এমন এক পরিবেশে ও সময়ে সৃষ্টি করেছেন যেখানে সত্য স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ও দলিল-প্রমাণ প্রকাশ পেয়েছে। ফলে আমরা তাদের কারো প্রতি ঘৃণা পোষণ করে অথবা কারো প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করে বেড়ে উঠিনি। আর এটি আল্লাহর সাহায্যের পর -আল্লাহর ইচ্ছায়- ইনসাফ ও সত্য অনুসন্ধানে সহায়ক।
ইমাম যাহাবি বলেন: «মুআবিয়ার পরবর্তী প্রজন্মে এমন বহু মানুষের সৃষ্টি হয়েছিল যারা তাঁকে ভালোবাসত, তাঁকে নিয়ে অতিরঞ্জন করত এবং তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করত; হয় তিনি তাঁর উদারতা, সহনশীলতা ও দানের মাধ্যমে তাদের মন জয় করে নিয়েছিলেন, অথবা তারা শামে তাঁর ভালোবাসার ওপরই জন্ম নিয়েছিল এবং তাদের সন্তানরাও সেভাবেই লালিত-পালিত হয়েছিল।»
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٨)
وفيهم جماعةٌ يسيرةٌ من الصحابة، وعددٌ كثيرٌ من التابعين والفضلاء، وحاربوا معه أهل العراق، ونشؤوا على النَّصب -نعوذ بالله من الهوى-.
كما قد نشأ جيش عليٍّ رضي الله عنه ورعيته -إلا الخوارج منهم- على حبِّه، والقيام معه، وبغض من بغى عليه، والتبرِّي منهم، وغلا خلقٌ منهم في ذلك.
فبالله كيف يكون حال من نشأ في إقليم، لا يكاد يشاهد فيه إلا غالياً في الحب، مُفْرطاً في البغض، ومن أين يقع له الإنصاف والاعتدال؟
فنحمد الله على العافية الذي أوجدنا في زمان قد انمحص فيه الحق، واتَّضح من الطرفين، وعرفنا مآخذ كل واحد من الطائفتين، وتبصَّرنا، فعذرنا، واستغفرنا، وأحببنا باقتصاد، وترحَّمنا على البغاة بتأويلٍ سائغٍ في الجملة، أو بخطأٍ -إن شاء الله- مغفور، وقُلنا كما علَّمنا الله: {ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان، ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين آمنوا}
(1)»
(2).
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে সাহাবীদের একটি ক্ষুদ্র দল এবং অনেক সংখ্যক তাবেয়ী ও পুণ্যবান ব্যক্তি ছিলেন। তারা তাঁর সাথে ইরাকবাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং তারা নাসব (আলী রা.-এর প্রতি বিদ্বেষ)-এর ওপর বেড়ে উঠেছেন—আমরা কুপ্রবৃত্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
যেমন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেনাবাহিনী ও তাঁর প্রজারা—তাদের মধ্যকার খারেজীরা ব্যতিরেকে—তাঁর ভালোবাসা, তাঁর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং যারা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে তাদের প্রতি ঘৃণা ও তাদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ওপর বেড়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে এক বিরাট জনগোষ্ঠী এ বিষয়ে অতিশয়োক্তি করেছে।
আল্লাহর শপথ, সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে এমন এক অঞ্চলে বেড়ে উঠেছে, যেখানে সে ভালোবাসায় অতিশয়োক্তি এবং ঘৃণায় চরমপন্থা ছাড়া আর কিছুই প্রায় প্রত্যক্ষ করে না? তার পক্ষে ইনসাফ ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করা কীভাবে সম্ভব?
সুতরাং আমরা সেই নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি আমাদের এমন এক সময়ে সৃষ্টি করেছেন যখন সত্য যাচাই হয়ে প্রকাশিত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আমরা উভয় দলের প্রত্যেকের কর্মের ভিত্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, আমাদের অন্তর্দৃষ্টি অর্জিত হয়েছে, তাই আমরা ওজর কবুল করেছি, ক্ষমা প্রার্থনা করেছি এবং পরিমিতভাবে ভালোবেসেছি। আর বিদ্রোহীদের জন্য আমরা তাদের সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা অথবা ক্ষমার যোগ্য ভুলের কারণে—ইনশাআল্লাহ—রহমতের দুআ করি। আর আমরা তা-ই বলি যা আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন: {হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেইসব ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।}
(১)»
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
منهج العمل في الأبحاثلا ريب أنَّ نزول ميدانٍ كميدان السِّيَرِ والأخبار والمغازي يعجُّ بمئات المرويات، والتي لم تلتئم على بعضها، أو تَأْرِز إلى مكانٍ واحدٍ يجمعها، بل آثرت الفرقة، وعزَّت معظم الروايات المقبولة بنفسها، فضنَّت بما فيها على كل باحثٍ عجول، أو قارئٍ يكتفي بالمشهور، وإنما اختارت أن تبقى بمنأى يُحوج طالبها إلى صبر لاستخراجها، وسعيٍ حثيثٍ للوصول إليها، أضف إلى ذلك كثرة المؤلَّفات في هذا الباب؛ كل هذا لا يجعل المهمة سهلةً ميسورة، إلا بتأنٍّ وتتبُّعٍ، بعد عون الله عز وجل.
وقد حاولنا -قدر الاستطاعة- أن نتخيَّر خُطة عمل تُحكم الأبحاث، وتُخرجها أقرب ما تكون إلى الدِّقة التي يرجوها كلُّ منصفٍ وباحثٍ عن الحق؛ فاهتدينا إلى ما يلي:
أولاً: جعلنا كتاب: (تاريخ الطبري) أصلاً لمادة هذا البحث، يُضاف إليه ويُجمع عليه ما يُحتاج إليه من تتمَّات وزيادات لإكمال مشهد، أو تفصيل مُجمَل، أو إزالة شُبهة وإشكال.
وسبب اختيارنا له: ما تمتَّع به صاحبه من سيرةٍ حسنةٍ، وعدالةٍ مشتهرةٍ، إضافةً إلى شموليته في كثيرٍ من الأحداث، فقد استوعب كثيراً مما كُتب قبله، فصار عمدةً لكل من جاء بعده
(1)، حتى أنَّ أبا الحسن ابن الأثير (ت: 630 ه) حينما أراد أن يُصنِّف كتابه في التاريخ؛ جعل كتاب الطبري أصلاً لكتابه، بل في بعض الأحداث -كالفتنة التي وقعت بين الصحابة رضي الله عنهم اكتفى بكلام الطبري، ولم يُضف عليه شيئا!
يقول رحمه الله: «وقد جمعتُ في كتابي هذا ما لم يجتمع في كتابٍ واحد، ومن تأمَّله علم صحة ذلك.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গবেষণার কর্মপদ্ধতিনিঃসন্দেহে সীরাত (জীবনচরিত), আখবার (ইতিহাস) এবং মাগাযী-র (যুদ্ধাভিযান) মতো ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া শত শত বর্ণনায় পরিপূর্ণ যা সুসংবদ্ধ নয় অথবা যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হয়ে নেই। বরং এগুলোর অধিকাংশ বিচ্ছিন্নতাকে বেছে নিয়েছে এবং অধিকাংশ গ্রহণযোগ্য বর্ণনা নিজেই দুর্লভ হয়ে আছে। ফলে তা যে কোনো তড়িঘড়ি করা গবেষক কিংবা প্রসিদ্ধ বর্ণনার ওপর তুষ্ট হওয়া পাঠকের কাছে নিজের বিষয়বস্তুকে লুকিয়ে রাখে। বরং এগুলো এমন নিভৃতে থাকাকে পছন্দ করেছে যেগুলোর অনুসন্ধানে এর অন্বেষণকারীর ধৈর্য এবং সেখানে পৌঁছানোর জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থের আধিক্য। এসব বিষয় এ কাজটিকে সহজসাধ্য হতে দেয় না, যদি না আল্লাহর সাহায্যের পর ধীরস্থিরতা ও গভীর অনুসন্ধান বজায় রাখা হয়।
আমরা সাধ্যমতো এমন একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি যা গবেষণাকে সুসংহত করবে এবং সত্যের অন্বেষণকারী ও ইনসাফপছন্দ প্রত্যেক ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত সূক্ষ্মতার সবচেয়ে কাছাকাছি বিষয়বস্তু উপস্থাপন করবে। আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দিকে পথনির্দেশ লাভ করেছি:
প্রথমত: আমরা ‘তারিখুত তাবারি’ গ্রন্থটিকে এই গবেষণার মূল উৎস হিসেবে নির্ধারণ করেছি; এর সাথে এমন সব পরিশিষ্ট ও সংযুক্তি একত্র করা হয়েছে যা কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে, সংক্ষিপ্ত বর্ণনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে অথবা কোনো সংশয় ও জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন হয়।
এটি নির্বাচনের কারণ হলো: এর লেখকের উত্তম জীবনচরিত এবং সুপ্রসিদ্ধ ন্যায়পরায়ণতা; এছাড়া বহু ঘটনার ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা। এটি এর পূর্ববর্তী রচিত কিতাবসমূহের অধিকাংশ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, ফলে তা পরবর্তীকালের লেখকদের জন্য প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে
(১)। এমনকি আবুল হাসান ইবনুল আসীর (মৃত্যু: ৬৩০ হিজরি) যখন ইতিহাসের ওপর তাঁর কিতাব সংকলন করতে চাইলেন, তখন তিনি তাবারির কিতাবকেই তাঁর কিতাবের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করলেন। বরং কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে—যেমন সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে সংঘটিত ফিতনা—তিনি তাবারির বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করেছেন এবং সেখানে নতুন কিছু যোগ করেননি।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “আমি আমার এই কিতাবে এমন সব বিষয় একত্র করেছি যা অন্য কোনো কিতাবে একসাথে পাওয়া যাবে না। যে ব্যক্তি এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি এর সত্যতা অনুধাবন করতে পারবেন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
فابتدأتُ بالتاريخ الكبير الذي صنَّفه الإمام أبو جعفر الطبري، إذ هو الكتاب المعوَّل عند الكافَّة عليه، والمرجوع عند الاختلاف إليه، فأخذتُ ما فيه من جميع تراجمه، لم أخلَّ بترجمةٍ واحدةٍ منها، وقد ذكر هو في أكثر الحوادث رواياتٍ ذواتِ عدد، كل رواية منها مثل التي قبلها، أو أقلّ منها، وربما زاد الشيء اليسير أو نقصه، فقصدتُ أتمَّ الروايات فنقلتها، وأضفتُ إليها من غيرها ما ليس فيها، وأودعتُ كلَّ شيءٍ مكانه، فجاء جميع ما في تلك الحادثة -على اختلاف طرقها- سياقاً واحداً على ما تراه.
فلما فرغتُ منه: أخذتُ غيره من التواريخ المشهورة فطالعتُها، وأضفتُ منها إلى ما نقلته من تاريخ الطبري ما ليس فيه، ووضعت كلَّ شيء منها موضعه، إلا ما يتعلَّق بما جرى بين أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فإني لم أُضفْ إلى ما نقله أبو جعفر شيئاً؛ إلَّا ما فيه زيادة بيانٍ، أو اسم إنسانٍ، أو ما لا يُطعن على أحد منهم في نقله، وإنما اعتمدتُ عليه من بين المؤرِّخين إذ هو الإمام المُتقنُ حقَّاً، الجامعُ علماً وصحةَ اعتقادٍ وصدقاً.
على أنِّي لم أنقل إلا من التواريخ المذكورة، والكتب المشهورة، ممن يعلم بصدقهم فيما نقلوه، وصحَّة ما دوَّنوه، ولم أكن كالخابط في ظلماء الليالي، ولا كمن يجمع الحصباء واللآلي»
(1).
قُلنا: وقريبٌ من منهج ابن الأثير، اخترنا لهذه الأبحاث أن تسير، فجعلنا كتاب الطبري أصلاً، لكن مع تعديل وتغيير.
فالطبريُّ يورد الأحداث مرتَّبة على السنين، وهذا لم نلتزم به، وإنما وضعنا كُل حادثة في مكانها الذي نراه لائقاً، وفق ترتيب كل بحث.
فبعض الأحداث تُنقل من نسقها عند الطبري لتُوضع في فصل خاص بالفضائل، أو الشبهات، أو غير ذلك، بحسب ما نرى الحدث ملائماً لمكانه في ترتيب البحث الذي يختاره الباحث.
--------------------------------------------
আমি ইমাম আবু জাফর আত-তাবারী সংকলিত সেই মহান ইতিহাস গ্রন্থ দিয়ে শুরু করেছি, কারণ এটিই সকলের নিকট নির্ভরযোগ্য কিতাব এবং মতপার্থক্যের সময় যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়। অতঃপর আমি এতে থাকা তাঁর সমস্ত জীবনীসমূহ গ্রহণ করেছি, এর একটি জীবনীও আমি বাদ দেইনি। তিনি অধিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যার প্রতিটি বর্ণনা পূর্বেরটির মতো অথবা তার চেয়ে সংক্ষিপ্ত, আবার কখনও সামান্য কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করেছেন। তাই আমি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনাগুলোর সংকলন করার সংকল্প করেছি এবং সেগুলো উদ্ধৃত করেছি। আর অন্যান্য উৎস থেকে এমন বিষয়াদি এতে যুক্ত করেছি যা সেখানে ছিল না এবং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করেছি। ফলে উক্ত ঘটনার সমস্ত বিবরণ—এর বিভিন্ন সূত্র থাকা সত্ত্বেও—আপনার সামনে একটি সুসংগত ধারা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
যখন আমি এটি সম্পন্ন করলাম, তখন আমি অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইতিহাস গ্রন্থসমূহ গ্রহণ করলাম এবং সেগুলো অধ্যয়ন করলাম। অতঃপর তারিখুত তাবারী থেকে আমি যা উদ্ধৃত করেছিলাম, তাতে অন্যান্য কিতাব থেকে এমন সব তথ্য যুক্ত করলাম যা তাবারীতে ছিল না এবং সেগুলোর প্রতিটি বিষয়কে তার স্বস্থানে বিন্যস্ত করলাম। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে আমি আবু জাফরের বর্ণিত তথ্যের সাথে তেমন কিছু যোগ করিনি; কেবল অতিরিক্ত ব্যাখ্যা, কোনো ব্যক্তির নাম অথবা এমন কোনো তথ্য ছাড়া যা বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের কাউকেও অভিযুক্ত করে না। ইতিহাসবিদদের মধ্যে আমি কেবল তাঁর ওপরই নির্ভর করেছি, কারণ তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন দক্ষ ইমাম, যিনি জ্ঞান, সঠিক আকিদাহ এবং সত্যবাদিতার এক অনন্য সমন্বয়কারী।
অধিকন্তু, আমি কেবল উল্লেখিত ইতিহাস গ্রন্থসমূহ এবং প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ থেকেই উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি, যাঁদের বর্ণিত বিষয়ের সত্যতা এবং লিপিবদ্ধ তথ্যের নির্ভুলতা সম্পর্কে জানা যায়। আমি অন্ধকার রাতে লক্ষ্যহীনভাবে বিচরণকারীর মতো ছিলাম না, আর না ছিলাম তাদের মতো যারা নুড়ি পাথর ও মুক্তা একত্রে সংগ্রহ করে।»
(১)।
আমরা বলছি: ইবনুল আসীরের পদ্ধতির কাছাকাছি একটি পথ আমরা এই গবেষণার জন্য বেছে নিয়েছি। তাই আমরা তাবারীর কিতাবকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, তবে কিছুটা পরিমার্জন ও পরিবর্তনের সাথে।
তাবারী ঘটনাবলীকে বছর অনুযায়ী ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমরা সেই পদ্ধতি অনুসরণ করিনি। বরং প্রতিটি গবেষণার বিন্যাস অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনাকে আমরা তার উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করেছি।
সুতরাং কিছু কিছু ঘটনা তাবারীর বর্ণনাপদ্ধতি থেকে সরিয়ে ফযীলত, সংশয় নিরসন বা অন্য কোনো বিশেষ অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, গবেষকের নির্ধারিত গবেষণার বিন্যাসে ঘটনাটি যেখানে উপযুক্ত বলে আমরা মনে করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١١)
أيضاً: اختار الطبريُّ لنفسه أن يُورد الرواياتِ التي يختارها في الحدث بسندها إلى قائلها وناقلها، تاركاً مسألة الحكم على الإسناد للقارئ والباحث من بعده، مُحذِّراً أن يُحمِّله أحدٌ نكارة رواية، أو بشاعة نقل؛ فقال: «فما يكن في كتابي هذا من خبر ذكرناه عن بعض الماضين مما يستنكره قارئه، أو يستشنعه سامعه، من أجل أنه لم يعرف له وجهاً في الصحة، ولا معنى في الحقيقة؛ فليعلم أنه لم يُؤتَ في ذلك من قِبَلِنا، وإنما أُتي من قبل بعض ناقليه إلينا، وإنَّا إنَّما أدَّينا ذلك على نحو ما أُدِّي إلينا»
(1).
وعلى هذا فروايات الطبري جامعة بين الغثِّ والسَّمين، والصَّحيح والسَّقيم، وهنا يتحتَّم علينا أن نبيِّن الفرق بين هذه المرويَّات، وما يصلح للاحتجاج وما لا يصلح إلا أن يكون في الموضوعات، ولكن لما كان التبيين لصحة كلِّ ما ذُكر، وإظهار علَّة كلِّ خبر، مما يطول به حجم الكتب والأبحاث، ولربما بعث الملل في نفس القارئ والباحث لشبهته عن جواب؛ فقد آثرنا أن نقنِّن الأمر كما يلي في:
ثانياً: قمنا باستخراج جميع المرويات التي ورد فيها ذكر الشخصية صاحبة البحث (أبوبكر، عمر، عثمان، علي، معاوية) في الكتاب، سواءٌ في خلافته أم قبلها، وما صحَّ منها أدرجناه في البحث في موطنه اللائق به وفق ترتيب الأحداث -الذي يذكره كل باحث في مُقدِّمة بحثه-، وأمَّا ما لم يصح من هذه المرويات فهو على قسمين:
--------------------------------------------
আরও একটি বিষয় হলো: তাবারী কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে তাঁর নির্বাচিত বর্ণনাগুলো বর্ণনাকারী ও মূল প্রবক্তা পর্যন্ত সনদসহ উল্লেখ করার নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি সনদের ওপর বিচার-বিশ্লেষণের বিষয়টি পরবর্তী পাঠক ও গবেষকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। সেই সাথে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কেউ যেন কোনো বর্ণনার অগ্রহণযোগ্যতা বা কুৎসিত বিষয়ের দায়ভার তাঁর ওপর না চাপায়। তিনি বলেছেন: «পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে আমার এই কিতাবে আমি এমন কোনো সংবাদের উল্লেখ করে থাকি যা পাঠক অপছন্দ করে বা শ্রবণকারী শ্রবণে ইতস্তত বোধ করে—এই কারণে যে, সে এর কোনো বিশুদ্ধ ভিত্তি বা বাস্তব অর্থ খুঁজে পাচ্ছে না; তবে সে যেন জেনে রাখে যে, এটি আমাদের পক্ষ থেকে আসেনি, বরং এটি আমাদের কাছে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের পক্ষ থেকে এসেছে। আমরা কেবল সেভাবেই তা পেশ করেছি যেভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে»
(১).
এই হিসেবে তাবারীর বর্ণনাগুলো অন্তঃসারশূন্য ও সারগর্ভ এবং বিশুদ্ধ ও দুর্বল সবকিছুরই সমাহার। এখানে আমাদের জন্য এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে; অর্থাৎ কোনটি দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য আর কোনটি কেবল জাল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু যেহেতু বর্ণিত প্রতিটি বিষয়ের বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করা এবং প্রতিটি খবরের ত্রুটি উন্মোচন করা কিতাব ও গবেষণার কলেবরকে দীর্ঘায়িত করবে এবং উত্তর সম্পর্কে সন্দেহের কারণে পাঠক ও গবেষকদের মনে একঘেয়েমি সৃষ্টি করতে পারে; তাই আমরা বিষয়টিকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করতে পছন্দ করেছি:
দ্বিতীয়ত: এই কিতাবে গবেষণার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট যে সকল ব্যক্তির (আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, মুয়াবিয়া) উল্লেখ রয়েছে, আমরা তাদের সম্পর্কিত সকল বর্ণনা সংগ্রহ করেছি—তা তাঁদের খিলাফত আমলের হোক বা তার আগের। এগুলোর মধ্যে যা বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোকে আমরা গবেষণার যথাস্থানে ঘটনার ক্রমানুসারে সন্নিবেশিত করেছি—যেমনটি প্রত্যেক গবেষক তাঁর গবেষণার ভূমিকায় উল্লেখ করে থাকেন। আর এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে যা বিশুদ্ধ নয়, তা দুই প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
- القسم الأول: احتِيج إليه لاستكمال صورة الأحداث، ووصل الحلقات ببعضها البعض، فمثل هذا لا مفرَّ من إيراده، وهو عين ما فعله الطبريُّ حينما أورد الأخبار الضعيفة في ثنايا كلامه عن بعض الأحداث، وإن كان الطبريُّ أحال القارئ على السَّند؛ فإننا لن نوقعه في ذلك العَنَت، بل سنبيِّن -إن شاء الله- عند كل روايةٍ ضعيفةٍ أوردناها ضعفها، وسبب وهائها، فثقافة النظر في الأسانيد قبل قبول المتن؛ لم تعد منتشرةً بين أبناء هذا الزمان، كما كانت منتشرةً في زمان الطبري، الذي تعامل معهم من هذا المنطلق، فأحالهم على الإسناد.
وهذا القسم يتميز عن لاحقه بأنَّ ضعفه ليس شديداً، ونكارته ليست ظاهرة.
- القسم الثاني: لم نجد ثمَّ احتياجٌ لإيراده، خاصة مع نكارة متنه، بل في بعضها ما يكون ذكره مُحدثاً فتنةً لعقول وقلوب بعض القارئين، فمثل هذه الروايات ضربنا صفحاً عن ذكرها، رغبةً في إماتتها، وإخمال نشرها، وهذا الفعل مِنِّا قد سبق إليه الطبريُّ، فمع ما أورد في كتابه من ضعيفٍ وموضوعٍ، ومع أنه أسند كلَّ قولٍ إلى قائله؛ إلَّا أنَّه أعرض عن ذكر بعض الأخبار، رغم استحضاره لها، وتمكُّنه من عزوها لقائلها وإسنادها؛ وذلك لأنَّه رأى أن فيما ذكر كفاية، وأيضاً: حفاظاً على عقول وقلوب العامة.
قال الطبريُّ: «وذكر هشام، عن أبي مخنف، قال: وحدثني يزيد بن ظبيان الهمداني، أن محمد بن أبي بكر كتب إلى معاوية بن أبي سفيان لما ولي، فذكر مكاتبات جرت بينهما كرهتُ ذكرها لما فيه مما لا يحتمل سماعها العامة»
(1).
فانظر كيف أَعْرضَ الطبريُّ عن ذكر بعض الروايات، لما رأى أنها لا تضيف جديداً، وأنَّها قد تتسبَّب في فتنة بعض العامة في زمانه، فكيف لو ذُكرت لأهل زماننا؟!
--------------------------------------------
- প্রথম অংশ: ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে এবং এর যোগসূত্রগুলো একে অপরের সাথে জুড়ে দিতে এর প্রয়োজন রয়েছে। তাই এ ধরনের বর্ণনা উল্লেখ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর ইমাম তাবারীও ঠিক এটিই করেছিলেন যখন তিনি কিছু ঘটনার আলোচনার মাঝে দুর্বল বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছিলেন। যদিও তাবারী পাঠককে সনদের (সূত্র) দিকে ন্যস্ত করেছিলেন; কিন্তু আমরা পাঠককে সেই কষ্টের মধ্যে ফেলব না। বরং ইনশাআল্লাহ, আমাদের উল্লিখিত প্রতিটি দুর্বল বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা এর দুর্বলতা এবং এর অসারতার কারণ স্পষ্ট করে দেব। কেননা মূল বক্তব্য (মতন) গ্রহণের পূর্বে সনদের প্রতি দৃষ্টিপাত করার সংস্কৃতি বর্তমান সময়ের মানুষের মাঝে তেমন বিস্তৃত নয়, যেমনটি তাবারীর যুগে ছিল। তিনি সেই প্রেক্ষাপট থেকেই তাদের সাথে আচরণ করেছিলেন এবং তাদের সনদের দিকে ন্যস্ত করেছিলেন।
এই অংশটি পরবর্তী অংশের চেয়ে স্বতন্ত্র এই দিক থেকে যে, এর দুর্বলতা ততটা গুরুতর নয় এবং এর আপত্তিকর দিকটিও প্রকাশ্য নয়।
- দ্বিতীয় অংশ: এটি উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করিনি, বিশেষ করে এর মূল বক্তব্যের আপত্তিকর স্বভাবের কারণে। বরং এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা উল্লেখ করলে কোনো কোনো পাঠকের বুদ্ধি ও হৃদয়ে ফিতনার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ জাতীয় বর্ণনাগুলো আমরা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, যাতে সেগুলোকে বিলুপ্ত করা যায় এবং সেগুলোর প্রচার বন্ধ করা যায়। আমাদের এই কাজের ক্ষেত্রে ইমাম তাবারী আমাদের অগ্রগামী। কেননা তিনি তাঁর কিতাবে দুর্বল ও জাল বর্ণনা উল্লেখ করা সত্ত্বেও এবং প্রতিটি বক্তব্যকে এর প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা সত্ত্বেও, অনেক সংবাদ উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন—যদিও সেগুলো তাঁর স্মৃতিতে ছিল এবং সেগুলো এর প্রবক্তার প্রতি সম্বন্ধ করতে ও সনদ বর্ণনা করতে তিনি সক্ষম ছিলেন। এর কারণ হলো, তিনি মনে করেছিলেন যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই যথেষ্ট, আর সাধারণ মানুষের বুদ্ধি ও হৃদয়ের সুরক্ষার জন্যও তিনি এমনটি করেছিলেন।
তাবারী বলেন: «হিশাম আবু মিখনাফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে জাবইয়ান আল-হামদানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের নিকট চিঠি লিখেছিলেন। এরপর তিনি তাদের মাঝে হওয়া কিছু পত্রালাপের কথা উল্লেখ করেন, যা আমি উল্লেখ করা অপছন্দ করেছি; কারণ তাতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সাধারণ মানুষের শ্রবণসীমার পক্ষে সহনীয় নয়»
(১)।
সুতরাং দেখুন, ইমাম তাবারী কীভাবে কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা থেকে বিমুখ থেকেছেন যখন তিনি দেখেছেন যে সেগুলো নতুন কিছু যোগ করছে না এবং সেগুলো তাঁর সময়ের কিছু সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে; তাহলে বর্তমান সময়ের মানুষের জন্য সেগুলো উল্লেখ করা হলে কী অবস্থা হতো?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ومن هنا: أعرضنا عن ذكر بعض هذه الروايات لاجتماع الشَّرَّيْن فيها: ضعف الإسناد من جهة، ونكارة المتن التي لا تُتحمَّل من جهة أخرى، وإن كان الطبريُّ رأى تحمُّلها في زمانه.
والذي ينبغي أن يطمئنَ إليه القارئ، وهو ما التزمناه -بحمد الله- أثناء هذه الأبحاث؛ أنَّا لا ندع روايةً صحيحةً من كتاب الطبريِّ، وفيها ذكرٌ لصاحب البحث تندُّ عن هذا الكتاب، ونحسب تلك كافيةً للمُنْصِف -إن شاء الله-.
ثالثاً: لم نكتفِ بما ورد في تاريخ الطبري فقط، إذ كان هناك بعض الأحداث تستلزم توسُّعاً للتوضيح والتكميل، فهنا نُضيف ما نراه نافعاً من التواريخ الأخرى وكتب التراجم والطبقات، كتاريخ ابن عساكر، وتاريخ خليفة بن خياط، وتاريخ أبي زرعة الدمشقي، وطبقات ابن سعد، وغير ذلك.
رابعاً: لم نتوسَّع في تخريج الأحاديث والآثار الواردة في الأبحاث، لأن هذا مما يطول به حجم الكتاب، فاقتصرنا على ذكر أهمِّ المصادر، إلا إذا قام داعٍ لغير ذلك.
خامساً: حكمنا على كل إسناد بما نُراه له مستحقَّاً، صحةً أو ضعفاً، وإن نزل الحديث أو الأثر عن الصحة؛ بيَّنَّا سبب ذلك، وِفق قواعد أهل الحديث المبثوثة في كتبهم، والمعلومة من خلال تطبيقاتهم وعملهم.
ولعله من المفيد هنا أن نذكِّر بشيءٍ من منهجهم في التعامل مع هؤلاء الرواة الأخباريين، ونقلة السير والمغازي المشهورين، حتى لا يظنَّ أحدٌ أننا ابتعدنا عن منهجهم، أو تساهلنا في تطبيق قواعدهم.
فنقول: إنَّ الرواة هم عمود الإسناد، وأصله وسلسلته الفقرية التي لا قَوَام له إلا بها، فكلَّما قوي أمرهم؛ قوي الإسنادُ وصار صلباً في ميدان الاحتجاج والاستشهاد، والعكس أيضا.
এখান থেকেই আমরা এই ধরনের কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি, কারণ সেগুলোতে দু’টি মন্দ বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে: একদিকে সনদের দুর্বলতা এবং অন্যদিকে মূল পাঠের এমন অগ্রহণযোগ্যতা যা সহ্য করার মতো নয়, যদিও তাবারী তাঁর সমসাময়িককালে এগুলো গ্রহণ করা সমীচীন মনে করেছিলেন।
পাঠকের যে বিষয়ে আশ্বস্ত হওয়া উচিত এবং যা আমরা—আল্লাহর প্রশংসায়—এই গবেষণা চলাকালীন মেনে চলেছি তা হলো: আমরা তাবারীর কিতাব থেকে এমন কোনো সহিহ বর্ণনা বাদ দিইনি যা এই গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা এই কিতাব থেকে বিচ্যুত হতে পারে; আমরা মনে করি ইনসাফপ্রয়াসী ব্যক্তির জন্য এটুকুই যথেষ্ট—ইনশাআল্লাহ।
তৃতীয়ত: আমরা কেবল তারিখুত তাবারীতে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপরই ক্ষান্ত হইনি; যেহেতু কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা এবং পূর্ণতা প্রদানের জন্য বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন ছিল, তাই এখানে আমরা অন্যান্য ইতিহাসগ্রন্থ, জীবনী এবং তাবাকাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে যা উপকারী মনে করেছি তা যোগ করেছি। যেমন—তারিখে ইবনে আসাকির, তারিখে খলিফা ইবনে খইয়্যাত, তারিখে আবু যুরআ আদ-দিমাশকি, তাবাকাতু ইবনে সাদ এবং অন্যান্য।
চতুর্থত: গবেষণায় উল্লিখিত হাদিস এবং আসারসমূহের তাখরিজ বা উৎস নির্ণয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনায় যাইনি, কারণ এতে কিতাবের কলেবর দীর্ঘ হবে। তাই বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া আমরা কেবল গুরুত্বপূর্ণ উৎসসমূহ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
পঞ্চমত: প্রতিটি সনদের ক্ষেত্রে তা সহিহ নাকি জয়িফ, যা আমাদের নিকট যথাযোগ্য মনে হয়েছে আমরা সেই হুকুম প্রদান করেছি। যদি কোনো হাদিস বা আসার সহিহ হওয়ার স্তর থেকে নিচে নেমে যায়, তবে আমরা মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহে বিদ্যমান এবং তাঁদের প্রয়োগ ও কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে পরিচিত উসুল বা নীতিমালার আলোকে তার কারণ বর্ণনা করেছি।
এই সকল ইতিহাস বর্ণনাকারী রাবি এবং সিরাত ও মাগাযির প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের সাথে মুহাদ্দিসগণের আচরণের পদ্ধতি সম্পর্কে এখানে কিছু স্মরণ করিয়ে দেওয়া সম্ভবত উপকারী হবে, যাতে কেউ মনে না করেন যে আমরা তাঁদের পদ্ধতি থেকে দূরে সরে গেছি অথবা তাঁদের নীতিমালা প্রয়োগে শিথিলতা প্রদর্শন করেছি।
আমরা বলছি: বর্ণনাকারীগণই হলেন সনদের স্তম্ভ, এর মূল ভিত্তি এবং মেরুদণ্ড যা ছাড়া সনদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই বর্ণনাকারীগণ যখনই শক্তিশালী হয়েছেন, সনদও শক্তিশালী হয়েছে এবং দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তা সুদৃঢ় হয়েছে; আর বিষয়টি এর বিপরীত ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
لكنْ: ثمَّ رواة عُرف عنهم التخصص في باب من الأبواب، مع ضعفهم في غيره، فمثلا: حفص بن سليمان الكوفي المقرئ، يقول عنه الحافظ ابن حجر: «متروك الحديث، مع إمامته في القراءة»
(1) ، فقد انتشرت روايته للقرآن في الآفاق، ولم يقبل منه العلماء حديثاً واحداً، ولم يشفع له إتقانه للقرآن في قبول الحديث، ولم يردَّ ضعفه في الحديث إتقانه للقراءات، وهذا من الإنصاف.
ومن هذا الباب أيضاً: رواة المغازي والأخبار، فكثيرٌ منهم يُحتاج إليه في هذا الفن، مع كونه غيرَ مقبولٍ عند العلماء في نقل الأحاديث، ولا يعتبرون بأحاديثه!
ويمكننا أن نلحظ بوضوح هذا التفريق والتساهل في تصرُّف أحد المشتغلين بعلوم السنة، وعلامة من علاماتها في زمانه؛ وهو: الحافظ ابن حجر، وذلك من خلال جمعه بين الروايات في كتابه: فتح الباري.
فإنه في الوقت الذي يقرر فيه ردَّ رواية محمد بن إسحاق إذا عنعن ولم يُصرِّح بالتحديث، وردِّ أحاديث الواقدي لأنه متروكٌ عند علماء الجرح والتعديل، فضلاً عن غيرهما من الأخباريين الذين ليس لهم رواية في كتب السنة، كأبي الحسن المدائني وعوانة؛ فإنه يستشهد برواياتهم، ويستدلُّ بها على بعض التفصيلات، ويحاول الجمع بينها وبين الروايات الأخرى التي هي أوثق إسناداً! وهذا دليلٌ على قبوله أخبارهم فيما تخصَّصوا فيه من العناية بالأخبار والسير، وهذا هو المنهج الذي نسير عليه هنا.
وفيما يلي بعض النماذج لرواة تُكلِّم في روايتهم للحديث، ومع ذلك لم تُهدر أقوالهم في باب الأخبار والسير، لعنايتهم وتخصصهم في هذا الباب، ثم نُتبع ذلك ببعض النماذج العملية من تصرفات العلماء مع مروياتهم في أبواب المغازي والسير.
--------------------------------------------
কিন্তু, এমন কিছু বর্ণনাকারী রয়েছেন যারা কোনো একটি বিশেষ শাখায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যদিও অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা দুর্বল ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ: হাফস ইবনে সুলাইমান আল-কুফি আল-মুকরি; হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি কিরাআতের ক্ষেত্রে ইমাম হওয়া সত্ত্বেও হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত»
(১)। দিগন্তজুড়ে কুরআনের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনা ছড়িয়ে পড়লেও আলেমগণ তাঁর থেকে একটি হাদিসও গ্রহণ করেননি। কুরআনের ক্ষেত্রে তাঁর পারদর্শিতা হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ হিসেবে কাজ করেনি এবং হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর দুর্বলতা কিরাআতের ক্ষেত্রে তাঁর পারদর্শিতাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। এটিই হলো ইনসাফ বা ন্যায়বিচার।
এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলেন মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) ও আখবার (ইতিহাস) বর্ণনাকারীরাও। তাঁদের অনেকেরই এই বিদ্যায় প্রয়োজন পড়ে, যদিও হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আলেমদের নিকট তাঁরা গ্রহণযোগ্য নন এবং তাঁরা তাঁদের হাদিসসমূহকে ধর্তব্যের মধ্যে আনেন না!
আমরা সুন্নাহ শাস্ত্রের অন্যতম সাধক এবং তাঁর যুগের এক মহান নিদর্শন হাফিজ ইবনে হাজারের কার্যপদ্ধতির মধ্যে এই পার্থক্যকরণ এবং শিথিলতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করতে পারি; আর তা হলো তাঁর 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার মাধ্যমে।
কেননা, তিনি একদিকে যেমন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত দেন যখন তিনি 'আন' (عن) শব্দে বর্ণনা করেন এবং স্পষ্টভাবে শোনার কথা (তাহদিস) ব্যক্ত করেন না, এবং ওয়াকিদির হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করেন যেহেতু তিনি জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের আলেমদের নিকট পরিত্যক্ত; সেই সাথে অন্যান্য ইতিহাসবিদ যাদের সুন্নাহর কিতাবসমূহে কোনো বর্ণনা নেই—যেমন আবুল হাসান আল-মাদায়িনি এবং আওয়ানাহ—তাদের বর্ণনাকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন; তা সত্ত্বেও তিনি তাঁদের বর্ণনা থেকে উদ্ধৃতি দেন এবং বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে সেগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেন। এমনকি তিনি সেই বর্ণনাগুলো এবং অধিকতর নির্ভরযোগ্য সনদসম্বলিত অন্যান্য বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন! এটি ইতিহাস ও সিরাত চর্চায় তাঁদের বিশেষায়িত ক্ষেত্রে তাঁদের সংবাদ গ্রহণের স্বপক্ষে একটি প্রমাণ। আর এটিই সেই মানহাজ বা পদ্ধতি যা আমরা এখানে অনুসরণ করছি।
নিম্নে এমন কিছু বর্ণনাকারীর উদাহরণ তুলে ধরা হলো যাদের হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও ইতিহাস ও সিরাতের অধ্যায়ে তাঁদের বক্তব্যগুলোকে বাতিল করে দেওয়া হয়নি, কারণ এই বিভাগে তাঁদের বিশেষ মনোনিবেশ ও বিশেষজ্ঞতা ছিল। এরপর আমরা মাগাজি ও সিরাতের অধ্যায়গুলোতে তাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে আলেমদের আচরণের কিছু প্রায়োগিক নমুনা পেশ করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
من نماذج الرواة:-
محمد بن عمر الواقدي:اتَّفق علماء الجرح والتعديل على ضعفه، كما نقل ذلك النوويُّ
(1)، وقال الذهبيُّ: «استقر الإجماع على وهن الواقدي»
(2)، ومع ذا: نجد ثناء من البعض على علمه بالمغازي والسير خاصة، قال عنه تلميذه محمد بن سعد: «كان عالماً بالمغازي، والسيرة، والفتوح»، وقال عنه الخطيبُ البغداديُّ: «سارتْ الركبان بكتبه في فنون العلم من المغازي، والسير، والطبقات، وأخبار النبي صلى الله عليه وسلم والأحداث التي كانت في وقته، وبعد وفاته صلى الله عليه وسلم»
(3).
وقال عنه الذهبيُّ: «كان إلى حفظه المنتهى في الأخبار، والسير، والمغازي، والحوادث، وأيام الناس، والفقه، وغير ذلك»
(4).
وقال في موطن آخر: «وقد تقرَّر أنَّ الواقديَّ ضعيفٌ، يُحتاج إليه في الغزوات والتاريخ، ونُورد آثاره من غير احتجاج، أما في الفرائض، فلا ينبغي أن يُذكر»
(5).
وقال عنه الحافظ ابن كثير: «الواقدي عنده زياداتٌ حسنةٌ، وتاريخٌ محرَّرٌ غالباً; فإنه من أئمة هذا الشأن الكبار، وهو صدوقٌ في نفسه مكثار»
(6).
وقد استوعب الكلام على عدالة الواقدي ابنُ سيد الناس، ثم قال في معرض الدفاع عنه: «سعة العلم مظنَّةٌ لكثرة الأغراب، وكثرة الأغراب مظنَّةٌ للتهمة، والواقدي غير مدفوعٍ عن سعة العلم، فكثرت بذلك غرائبه»
(7).
وقال أيضاً: «وقد رُوِّينا عنه من تتبعه آثار مواضع الوقائع، وسؤاله من أبناء الصحابة والشهداء ومواليهم عن أحوال سلفهم؛ ما يقتضي انفراداً برواياتٍ وأخبار لا تدخل تحت الحصر»
(8).
--------------------------------------------
বর্ণনাকারীদের কিছু উদাহরণ:-
মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী:জারহ ও তা’দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ তাঁর দুর্বলতার বিষয়ে একমত হয়েছেন, যেমনটি ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন
(১)। আয-যাহাবী বলেন: «ওয়াকিদীর দুর্বলতার বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে»
(২)। তা সত্ত্বেও, বিশেষ করে মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ) এবং সীরাত (জীবনী) শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্যের কারণে কারও কারও পক্ষ থেকে প্রশংসা পাওয়া যায়। তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ বিন সাদ তাঁর সম্পর্কে বলেন: «তিনি মাগাযী, সীরাত এবং ফুতুহ (বিজয়সমূহ) বিষয়ে বিজ্ঞ আলেম ছিলেন।» খতীব আল-বাগদাদী তাঁর সম্পর্কে বলেন: «মাগাযী, সীরাত, তাবাকাত (বর্ণনাকারীদের জীবনী), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ এবং তাঁর জীবদ্দশার ও ইন্তেকাল পরবর্তী ঘটনাবলি সংক্রান্ত জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর লিখিত কিতাবসমূহ নিয়ে কাফেলাসমূহ দেশ-দেশান্তরে সফর করেছে»
(৩)।
আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: «সংবাদ, সীরাত, মাগাযী, ঘটনাবলি, মানুষের ইতিহাস, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের»
(৪)।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: «এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে ওয়াকিদী দুর্বল; যুদ্ধবিগ্রহ ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োজন রয়েছে, এবং আমরা তাঁর বর্ণনাগুলো দলিল হিসেবে গ্রহণ করা ব্যতিরেকে উল্লেখ করি। তবে ফারায়িযের (উত্তরাধিকার আইন) ক্ষেত্রে তাঁকে উল্লেখ করা মোটেও সমীচীন নয়»
(৫)।
হাফিয ইবনে কাসীর তাঁর সম্পর্কে বলেন: «ওয়াকিদীর নিকট অনেক উত্তম অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে এবং তাঁর বর্ণিত ইতিহাস অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুবিন্যস্ত; কারণ তিনি এই শাস্ত্রের বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী ছিলেন কিন্তু প্রচুর বর্ণনা করতেন»
(৬)।
ইবনে সাইয়্যিদ আন-নাস ওয়াকিদীর নির্ভরযোগ্যতা সংক্রান্ত আলোচনা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন, অতঃপর তাঁর পক্ষ সমর্থন করে বলেন: «জ্ঞানের ব্যাপকতা অনেক ক্ষেত্রে বিরল বর্ণনার আধিক্যের কারণ হয়ে থাকে, আর বিরল বর্ণনার আধিক্য সন্দেহের উদ্রেক করে। ওয়াকিদীর জ্ঞানের ব্যাপকতা অনস্বীকার্য, ফলে তাঁর বিরল বর্ণনার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে»
(৭)।
তিনি আরও বলেন: «আমাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ঐতিহাসিক ঘটনাবলির স্থানসমূহ সরেজমিনে অনুসন্ধান করতেন এবং সাহাবী ও শহীদদের সন্তানদের ও তাঁদের মুক্তদাসদের কাছে তাঁদের পূর্বসূরিদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন; যা এমন সব অনন্য বর্ণনা ও সংবাদের দাবি রাখে যা গণনা করা সম্ভব নয়»
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
والذي يظهر من مجموع كلام النقَّاد في الواقدي قبول رواياته في الأخبار والسير، ولكن لا يُعارض بها الروايات الصحيحة، والله أعلم
(1).
-
سيف بن عمر التميمي:نقل الحافظ ابن حجر في ترجمته تضعيفَ العلماء له، وتشبيه بعضهم له -كأبي حاتم الرازي- بالواقدي
(2)، ولما أراد الحافظ أن يُصدر عليه حكماً كلِّياً قال: «ضعيف الحديث، عمدةٌ في التاريخ»
(3).
وقد اعتمده الطبريُّ في أخبار الفتوح، وذكر رواياته في الفتنة، وقد أكثر عنه بهذا الإسناد: «كتب إليَّ السري، عن شعيب، عن سيف بن عمر»، أو: «حدثني السري، عن شعيب، عن سيف بن عمر»، ومجموع مروياته في تاريخ الطبري: مئتين وستٍّ وستِّين رواية
(4).
-
أبو الحسن علي بن محمد المدائني:تُرجم له في كُتب الضعفاء
(5)، وقال عنه ابن عدي: «ليس بالقوي في الحديث، وأقلَّ ما له من الروايات المسنَدة»
(6)، ومع ذلك: نجد الطبريَّ يقول عنه: «كان عالماً بأيام الناس، صدوقاً في ذلك»
(7). وكذلك أكثر عنه في تاريخه، وغالب رواياته من طريق عمر بن شبة، وبعضها أخذه من كتبه مباشرة.
وقال عنه الخطيب البغدادي: «وكان عالماً بأيام الناس، وأخبار العرب وأنسابهم، عالماً بالفتوح والمغازي ورواية الشعر، صدوقاً فِي ذلك»
(8).
وقال أبو العباس أَحمد بن يحيى النحوي: «من أراد أخبار الجاهلية فعليه بكتب أَبِي عبيدة، ومن أراد أخبار الإسلام فعليه بكتب المدائني»
(9).
--------------------------------------------
আল-ওয়াকিদি সম্পর্কে সমালোচকদের সামগ্রিক বক্তব্য থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো সংবাদ এবং জীবনীর (সিয়ার) ক্ষেত্রে তার বর্ণনাগুলো গ্রহণযোগ্য, তবে এর মাধ্যমে সহিহ বর্ণনাগুলোর বিরোধিতা করা যাবে না। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন
(১).
-
সাইফ বিন উমর আত-তামিমি:হাফিজ ইবনে হাজার তার জীবনীতে তাকে আলেমদের দুর্বল সাব্যস্ত করার কথা এবং তাদের কারো কারো পক্ষ থেকে—যেমন আবু হাতিম আর-রাজি—তাকে ওয়াকিদির সাথে তুলনা করার কথা উল্লেখ করেছেন
(২)। যখন হাফিজ তার সম্পর্কে একটি সামগ্রিক সিদ্ধান্ত দিতে চাইলেন, তখন তিনি বলেন: «হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল, ইতিহাসের ক্ষেত্রে নির্ভরস্থল»
(৩).
ইমাম তাবারি বিজয়ের সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভর করেছেন এবং ফিতনা সম্পর্কিত বিষয়ে তার বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি এই সনদে তার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন: «আস-সাররি আমার কাছে লিখেছেন, তিনি শুয়াইব থেকে, তিনি সাইফ বিন উমর থেকে», অথবা: «আস-সাররি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি শুয়াইব থেকে, তিনি সাইফ বিন উমর থেকে»। তারিখুত তাবারিতে তার মোট বর্ণিত বর্ণনার সংখ্যা দুইশত ছেষট্টিটি
(৪).
-
আবু হাসান আলি বিন মুহাম্মদ আল-মাদায়িনি:দুর্বল রাবিদের কিতাবসমূহে তার জীবনী বর্ণিত হয়েছে
(৫)। ইবনে আদি তার সম্পর্কে বলেছেন: «হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি শক্তিশালী নন, এবং তার বর্ণিত মুসনাদ বর্ণনার সংখ্যা খুব কম»
(৬)। তা সত্ত্বেও, আমরা দেখি তাবারি তার সম্পর্কে বলছেন: «তিনি লোকগাথা বা ইতিহাসের দিনগুলো সম্পর্কে জ্ঞানী ছিলেন এবং সে ক্ষেত্রে সত্যবাদী ছিলেন»
(৭)। তদ্রূপ তিনি তার ইতিহাস গ্রন্থে তার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, যার অধিকাংশ বর্ণনা উমর বিন শাব্বাহ-এর সূত্রে, এবং কিছু বর্ণনা তিনি সরাসরি তার কিতাবসমূহ থেকে নিয়েছেন।
খতিব আল-বাগদাদি তার সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি লোকগাথা বা ইতিহাসের দিনগুলো, আরবদের সংবাদ ও তাদের বংশলতিকা সম্পর্কে জ্ঞানী ছিলেন। তিনি বিজয়, যুদ্ধাভিযান এবং কবিতা বর্ণনার ক্ষেত্রেও জ্ঞানী ও সত্যবাদী ছিলেন»
(৮).
আবু আব্বাস আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাহবি বলেছেন: «যে জাহেলিয়াতের সংবাদ জানতে চায় সে যেন আবু উবাইদাহর কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করে, আর যে ইসলামের সংবাদ জানতে চায় সে যেন মাদায়িনির কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করে»
(৯).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
-
أبو مِخنف لوط بن يحيى:ضعَّفه عامة أهل الجرح والتعديل
(1)، وقال عنه الذهبيُّ: «أخباريٌّ تالفٌ، لا يُوثقُ به»
(2)، ثم قال عنه في موطن آخر: «صاحب تصانيف وتواريخ، .... ، وهو من بابة سيف بن عمر التميمي صاحب «الردَّة»، وعبد الله بن عياش المنتوف، وعوانة بن الحكم»
(3).
-
محمد بن إسحاق بن يسار المدني:قال عنه الدارقطني: «لا يُحتجُّ به، وإنما يُعتبر به»
(4).
وقال عنه الذهبي: «كان في العلم بحراً عجَّاجاً، لكنه ليس بالمجوِّد كما ينبغي»
(5)، وقال: «قد أمسك عن الاحتجاج بروايات ابن إسحاق غير واحدٍ من العلماء»
(6).
ومع هذا فهو يثني عليه في علم المغازي والسير؛ فيقول: «قد كان في المغازي علَّامةً»
(7).
وقال أيضاً عنه: «له ارتفاعٌ بحسبه، ولا سيَّما في السير، وأما في أحاديث الأحكام: فينحطُّ حديثه فيها عن رتبة الصحة إلى رتبة الحسن، إلا فيما شذَّ فيه، فإنه يُعدُّ مُنكَراً، هذا الذي عندي في حاله، والله أعلم»
(8).
وقد سبقه إلى ذلك: الإمام أحمد، حيث قال -وذكر محمد بن إسحاق-: «أما في المغازي وأشباهه: فيكتب، وأما في الحلال والحرام: فيحتاج إلى مثل هذا، ومدَّ يده وضم أصابعه»
(9).
وقال العباس بن محمد: سمعتُ أحمد بن حنبل، وقيل، له: ما تقول في موسى بن عبيدة؟ وفي محمد بن إسحاق؟ فقال: «أما محمد بن إسحاق: فهو رجل يكتب هذه الأحاديث، كأنه يعني المغازي وما أشبهها، أما موسى بن عُبيدة: فلم يكن به بأس»
(10).
--------------------------------------------
-
আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়া:জারহ ও তা'দীল (তথা বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাই) শাস্ত্রের সাধারণ ইমামগণ তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন
(১)। ইমাম যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি একজন অকেজো ঐতিহাসিক, যাঁর ওপর আস্থা রাখা যায় না»
(২)। অতঃপর তিনি অন্য এক স্থানে তাঁর সম্পর্কে বলেন: «তিনি বহু গ্রন্থ ও ইতিহাসের রচয়িতা... তিনি সাইফ বিন উমর তামিমি (যিনি 'আর-রিদ্দাহ' গ্রন্থের লেখক), আব্দুল্লাহ বিন আইয়াশ আল-মানতুফ এবং আওয়ানা বিন হাকামের সমপর্যায়ের লোক»
(৩)।
-
মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মাদানি:ইমাম দারাকুতনী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, তবে তাঁর বর্ণনা (সহযোগী হিসেবে) বিবেচনায় রাখা যায়»
(৪)।
ইমাম যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক উত্তাল সমুদ্র, কিন্তু তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে নির্ভুল ছিলেন না»
(৫)। তিনি আরও বলেন: «একাধিক আলেম ইবনে ইসহাকের বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা থেকে বিরত থেকেছেন»
(৬)।
তা সত্ত্বেও তিনি মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস) এবং সীরাত শাস্ত্রে তাঁর প্রশংসা করেছেন; তিনি বলেন: «মাগাযী শাস্ত্রে তিনি এক বড় পণ্ডিত ছিলেন»
(৭)।
তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: «তাঁর বিশেষ উচ্চমর্যাদা রয়েছে, বিশেষত সীরাত শাস্ত্রের ক্ষেত্রে। কিন্তু বিধিবিধান (আহকাম) সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনার মান সহীহ পর্যায় থেকে হাসান পর্যায়ে নেমে যায়; তবে যে বর্ণনায় তিনি একক হয়ে পড়েন, তা মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হিসেবে গণ্য হয়। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট এটিই প্রতীয়মান হয়, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ»
(৮)।
ইমাম আহমাদও তাঁর আগে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি যখন মুহাম্মদ বিন ইসহাকের প্রসঙ্গ আলোচনা করেন, তখন বলেন: «মাগাযী এবং এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনা লেখা যাবে; কিন্তু হালাল ও হারামের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি এমন—এই বলে তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং আঙুলগুলো গুটিয়ে সংকুচিত করলেন»
(৯)।
আব্বাস বিন মুহাম্মদ বলেন: আমি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে মুসা বিন উবাইদাহ এবং মুহাম্মদ বিন ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো; তখন তিনি বললেন: «মুহাম্মদ বিন ইসহাকের ব্যাপারে কথা হলো—তিনি এমন এক ব্যক্তি যাঁর থেকে এই হাদিসগুলো লেখা যায়, সম্ভবত তিনি মাগাযী ও অনুরূপ বিষয়গুলো বুঝিয়েছেন। কিন্তু মুসা বিন উবাইদাহর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই»
(১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وقال الشافعيُّ: «من أراد أن يتبحَّر في المغازي؛ فهو عيال على محمد بن إسحاق»
(1).
إذن بعد هذا: كيف يُتعامل مع هذا الصنف من الرواة؟
لا شكَّ أن انفرادهم برواية حديث، أو واقعة يُستفاد منها تشريعٌ، أو حُكمٌ عقديٌّ، أو تحمل طعناً في أحدٍ ممن ثبتت عدالتهم بيقين؛ لا يقبله من لديه مسحةٌ من علم بأصول القبول والرد، هذا لا يُنازَعُ فيه.
أمَّا ما نقلوه من أخبارٍ، تحمل بعض التفاصيل التي لا تتعرَّضُ لشيءٍ مما ذُكر، وإنما يكون فيها زيادةٌ لا تضر، وتفاصيل قد تساعد على تصوُّرٍ أقرب لما كانت عليه الأحداث؛ فهذا لا بأس بإيراده، وعلى هذا يُحمل قول من قَبِل كلامهم من العلماء في أبواب المغازي والسير.
ولذا فإذا ما مرَّ بك عزيزي القارئ أثرٌ، ووجدت الحكم بضعف الإسناد مُصدَّراً عليه، وسبب ذلك وجود أحد هؤلاء؛ فتذكَّرْ تلك القاعدة التي تقدَّمت، وهي: أنَّ حالهم في نقل هذه الأخبار، مما لا يترتب عليه شيء من أحكام العقائد والتشريعات؛ مما يُتساهل فيه.
وهذه قاعدةٌ وضعها أحدُ أئمَّة الحديث في زمانه، عبدُ الرحمن بن مهدي، حينما قال: «إذا رُويِّنا عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحلال والحرام، والأحكام؛ شدَّدنا في الأسانيد، وانتقدنا الرجال، وإذا رُوِّينا في فضائل الأعمال، والثواب والعقاب، والمباحات والدعوات؛ تساهلنا في الأسانيد»
(2).
فاجعل هذا الأمر منك على ذكر.
وفيما يلي بعض النماذج العمليَّة من تصرفات العلماء مع مرويَّاتهم في هذا الباب:
--------------------------------------------
এবং ইমাম শাফিঈ বলেছেন: «যে ব্যক্তি মাগাযি (যুদ্ধাভিযান) শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের মুখাপেক্ষী»
(১)।
তাহলে এর পরে প্রশ্ন আসে: এই শ্রেণির বর্ণনাকারীদের সাথে কেমন আচরণ করা হবে?
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো হাদিস বর্ণনায় তাদের একক হয়ে যাওয়া, অথবা এমন কোনো ঘটনা বর্ণনা করা যা থেকে কোনো শরয়ি বিধান বা আকিদাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, অথবা যা এমন কোনো ব্যক্তির চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করে যার নির্ভরযোগ্যতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত; তবে এমন বর্ণনাকে সেই ব্যক্তি গ্রহণ করবে না যার হাদিস গ্রহণ ও বর্জনের মূলনীতি সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই।
তবে তারা যদি এমন সংবাদ বর্ণনা করেন, যাতে এমন কিছু বিবরণ রয়েছে যা পূর্বোক্ত কোনো বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং তাতে কেবল এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্য থাকে যা ক্ষতিকারক নয় এবং এমন কিছু বিস্তারিত বিবরণ থাকে যা ঘটনাবলি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা লাভে সহায়ক হতে পারে; তবে তা উল্লেখ করতে কোনো অসুবিধা নেই। আলেমদের মধ্যে যারা মাগাযি ও সিরাত অধ্যায়ে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন, তাদের কথাকে এই অর্থেই গ্রহণ করা হবে।
অতএব হে প্রিয় পাঠক, আপনার সামনে যদি কখনো কোনো বর্ণনা আসে এবং আপনি দেখতে পান যে এর সনদের ওপর দুর্বলতার হুকুমারোপ করা হয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে এই বর্ণনাকারীদের কারো উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে; তবে আপনি পূর্বে বর্ণিত সেই নীতিটি স্মরণ করুন, আর তা হলো: এই সংবাদসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা এমন, যা থেকে আকিদা বা শরয়ি বিধানের কোনো কিছু সাব্যস্ত হয় না; তাই এসব ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়।
আর এটি এমন একটি মূলনীতি যা তাঁর সময়ের অন্যতম হাদিস বিশারদ ইমাম আবদুর রহমান ইবনে মাহদী নির্ধারণ করেছেন, যখন তিনি বলেছেন: «আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হালাল-হারাম এবং বিধিবিধান সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করি এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করি। আর যখন আমরা আমলের ফজিলত, সওয়াব ও আজাব, মুবাহ বিষয়াদি এবং দোয়া সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদের ব্যাপারে শিথিলতা অবলম্বন করি»
(২)।
সুতরাং এই বিষয়টি আপনার স্মরণে রাখুন।
নিম্নে এই অধ্যায়ে তাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে আলেমদের কর্মপদ্ধতির কিছু ব্যবহারিক উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
- صنيع البخاريِّ في صحيحه مع راوٍ كمحمد بن إسحاق، حيث لم يعتمده كرجلٍ من رجاله في الأحاديث، لكنه علَّق عنه في أبواب المغازي كثيراً، من ذلك قوله: «قال ابن إسحاق: أول ما غزا النبي صلى الله عليه وسلم: الأبواء، ثم بُواط، ثم العُشيرة»
(1).
وقوله: «قال ابن إسحاق: سمعت وهب بن كيسان، سمعت جابراً، خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى ذات الرقاع من نخل، فلقي جمعاً من غطفان، فلم يكن قتالٌ، وأخاف الناس بعضهم بعضاً، فصلى النبي صلى الله عليه وسلم ركعتي الخوف»
(2).
وقوله: «باب غزوة بني المصطلق، من خزاعة، وهي غزوة المريسيع، قال ابن إسحاق: وذلك سنة ست»
(3).
- ونجد الطبريَّ في كتابه التاريخ أكثر عن مثل هؤلاء الأخباريين المذكورين، بينما في كتابٍ له كتهذيب الآثار، عُني فيه بالأحاديث والاحتجاج بها؛ لا نجدُ ذكراً لهم!
- كذلك الحافظ ابن حجر اعتبر بروايات هؤلاء الأخباريين في شرحه لصحيح البخاري، ومن ذلك:
أنَّه في أول كتاب المغازي
(4) ذكر عدد غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم، وعدد بعوثه وسراياه، وعدد الغزوات التي وقع فيها قتال، فاستشهد بأقوال أهل السير؛ مثل: محمد بن إسحاق، والواقدي، ومحمد بن سعد، وذَكَر خلافهم، وجمع بين أقوالهم وأقوال من هم أوثق منهم من رواة الصحيح، وفعل مثل هذا عند حديثه عن عدد أهل بدر
(5).
وفي قصة مقتل أبي جهل يوم بدر، جعل الحافظ رواية ابن إسحاق جامعة بين الروايات، رغم مخالفتها لما في الصحيح
(6)!
--------------------------------------------
- মুহাম্মদ বিন ইসহাকের মতো একজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর তাঁর সহীহ্ গ্রন্থে যে কর্মপদ্ধতি, যেখানে তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁকে তাঁর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (রিজাল) অন্তর্ভুক্ত করেননি, কিন্তু মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়গুলোতে তাঁর থেকে অনেক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। যেমন তাঁর উক্তি: «ইবনে ইসহাক বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম যে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন তা হলো আবওয়া, এরপর বুওয়াত, তারপর উশায়রা»
(১).
এবং তাঁর উক্তি: «ইবনে ইসহাক বলেন: আমি ওয়াহাব বিন কায়সানকে বলতে শুনেছি, আমি জাবেরকে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাখল থেকে যাতুর রিকা-এর দিকে বের হলেন, সেখানে তিনি গাতাফান গোত্রের এক দলের মুখোমুখি হলেন, তবে কোনো যুদ্ধ হয়নি, এবং লোকেরা একে অপরকে ভয় পাচ্ছিল, ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাত ভীতিভীতির নামায (সালাতুল খাউফ) আদায় করলেন»
(২).
এবং তাঁর উক্তি: «খুযাআ গোত্রের বনু মুস্তালিক যুদ্ধাভিযান অধ্যায়, আর এটি হলো মুরাইসী যুদ্ধ। ইবনে ইসহাক বলেন: এটি ষষ্ঠ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল»
(৩).
- এবং আমরা ইমাম তাবারীকে তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে উল্লিখিত এই ধরণের ইতিহাসবিদদের থেকে অধিক বর্ণনা করতে দেখি; অথচ তাঁর 'তাহযীবুল আসার' এর মতো কিতাবে, যেখানে তিনি হাদীস এবং সেগুলোর মাধ্যমে দলীল পেশ করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন, সেখানে আমরা তাদের কোনো উল্লেখ পাই না!
- একইভাবে হাফেজ ইবনে হাজার সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই ইতিহাসবিদদের বর্ণনাগুলোকে গ্রহণ করেছেন, এর মধ্যে রয়েছে:
মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়ের শুরুতে
(৪) তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযানের সংখ্যা, তাঁর প্রেরিত বাহিনী ও ঝটিকা অভিযানের সংখ্যা এবং যে সকল যুদ্ধে সরাসরি লড়াই হয়েছিল তার সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি সীরাত বিশেষজ্ঞদের উক্তি থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন; যেমন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক, ওয়াকিদী এবং মুহাম্মদ বিন সাদ। তিনি তাঁদের মধ্যকার মতভেদগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের উক্তি ও সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যারা অধিকতর নির্ভরযোগ্য তাঁদের উক্তির মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে আলোচনার সময়ও তিনি অনুরূপ করেছেন
(৫).
এবং বদরের যুদ্ধে আবু জাহেলের নিহত হওয়ার ঘটনায়, হাফেজ ইবনে ইসহাকের বর্ণনাকে বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যদিও তা সহীহ গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিপন্থী ছিল
(৬)!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
كذلك في قصة بني النضير ومتى كان حصارُهم، ذكر ابنُ إسحاق أنها كانت بعد أحدٍ، وبعد استشهاد القرَّاء في بئر معونة، بينما نجد البخاري ينقل في الصحيح عن عروة أنها كانت على رأس ستة أشهر من وقعة بدر، أي: قبل أحد، وقد مال الحافظ ابن حجر إلى ترجيح رواية ابن إسحاق رغم إيراده سبباً للغزوة غير ما ذكر ابن إسحاق
(1)!
وكل هذا الصنيع منهم، ومن غيرهم، يؤكِّد لنا على صحَّة ما قدَّمناه، من التفريق بين روايتهم للأحاديث المرفوعة، وكذلك ما يُستفادُ منه حكمٌ شرعيٌ، أو تأصيلٌ عقديٌّ، أو طعنٌ فيمن ثبتت عدالتهم، وبين الأخبار العامة، وتفاصيل السير المجملة، التي لا تمسُّ شيئاً مما سبق. والله أعلم.
--------------------------------------------
একইভাবে বনু নাজিরের কাহিনী এবং তাদের অবরোধ কখন সংঘটিত হয়েছিল সে সম্পর্কে; ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, তা ছিল উহুদের যুদ্ধের পর এবং বির মাউনায় ক্বারীদের শাহাদাতের পর। অপরদিকে আমরা দেখি যে, বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তা বদর যুদ্ধের ঠিক ছয় মাস পর সংঘটিত হয়েছিল; অর্থাৎ উহুদের যুদ্ধের আগে। আর হাফেজ ইবনে হাজার ইবনে ইসহাকের বর্ণনাটিকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন, যদিও তিনি এই যুদ্ধের এমন একটি কারণ উল্লেখ করেছেন যা ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেননি
(১)!
তাঁদের এবং অন্যদের এই সকল কর্মপদ্ধতি আমাদের নিকট সেই প্রসঙ্গের যথার্থতাকে নিশ্চিত করে যা আমরা পূর্বে উপস্থাপন করেছি; আর তা হলো—মারফু হাদীসের বর্ণনা এবং যেসকল বর্ণনা থেকে কোনো শরয়ী বিধান, আকিদাগত ভিত্তি কিংবা যাদের ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত তাদের প্রতি কোনো অভিযোগ সাব্যস্ত হয়, সেসব বর্ণনা এবং সাধারণ সংবাদ ও সীরাতের এমন বিস্তারিত বিবরণের মধ্যে পার্থক্য করা, যা পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর কোনোটিকে স্পর্শ করে না। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
إدارة الثقافة الإسلامية
وزراة الأوقاف والشؤون الإسلامية
دولة الكويت
فتحُ المنَّان
بسيرة أمير المؤمنين مُعاوية بن أبي سُفْيان رضي الله عنه
(سِيرتُه- فضائلُه- الشُّبهات المُثَارة حَوْله)
جَمَعه وحقَّقه وعلَّق عليه
أحمد بن إبراهيم الجابري
ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ
আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
কুয়েত রাষ্ট্র
ফাতহুল মান্নান
আমীরুল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর জীবনী প্রসঙ্গে
(তাঁর জীবনী- তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব- তাঁকে নিয়ে উত্থাপিত সংশয়সমূহ)
সংগ্রহ, তাহকীক ও টীকা প্রদান করেছেন
আহমদ বিন ইবরাহীম আল-জাবিরী
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
منهج العمل في الكتاب:أمَّا المنهج العام للعمل فقد تقدَّمت الإشارة إليه
(3)، وأمَّا عن تقسيم الكتاب هنا: فقد قسمتُه إلى أربعةِ فصولٍ كما يلي:
الفصل الأول: معاوية رضي الله عنه قبل الخلافة:
تناولتُ فيه الحديث عن سيرته، ابتداءً من اسمه ونسبه ومولده، وحتى انتهاء حروبه مع علي بن أبي طالب رضي الله عنه، ومقتل الأخير، وتولِّي ابنه الحسن الخلافة بعده، لأنَّ هذه المرحلة الأخيرة قبل توليه الخلافة.
الفصل الثاني: معاوية رضي الله عنه والخلافة:
تحدثتُ فيه عن كيفية تولِّيه للخلافة، وأهمِّ الأحداث التي وقعت منذ هذا العهد حتى وفاته، خاتماً الفصل بذكر أهمِّ صفاته وأخلاقه.
الفصل الثالث: مناقبُه وثناءُ العلماء عليه:
গ্রন্থে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি:সাধারণ কর্মপদ্ধতির কথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে
(৩)। আর এখানকার গ্রন্থ বিভাজনের বিষয়ে: আমি একে নিম্নোক্ত চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: খিলাফতের পূর্বে মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু:
এতে আমি তাঁর জীবনচরিত নিয়ে আলোচনা করেছি; তাঁর নাম, বংশ ও জন্ম থেকে শুরু করে আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে তাঁর যুদ্ধের সমাপ্তি, শেষোক্ত জনের শাহাদাত এবং তাঁর পর তাঁর পুত্র হাসানের খিলাফত লাভ পর্যন্ত। কেননা এটি খিলাফত লাভের পূর্বে তাঁর জীবনের সর্বশেষ পর্যায় ছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং খিলাফত:
এতে আমি তাঁর খিলাফত লাভের পদ্ধতি এবং এই যুগ থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সংঘটিত প্রধান ঘটনাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। পরিচ্ছেদটি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি ও চরিত্রের বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা:
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
جمعتُ فيه ما صحَّ في فضله من الأحاديث المرفوعات، والآثار الموقوفات، والأقوال المقطوعات، والتي تبيِّن منزلته رضي الله عنه عند سلف الأمة الصالحين، الذين أُمرنا بالاقتداء بهم، والتأسِّي بهديهم.
الفصل الرابع: شبهاتٌ وردود:
أفردتُه لإيراد أبرز وأشهر الشبهات والافتراءات التي قِيلت في حقِّ هذا الصحابيِّ الكريم، مُتَّبِعاً في الإجابة عن هذه الشبهات منهجاً علمياً دقيقاً، أبرزته وأفصحتُ عنه في صدر الفصل المذكور هناك، ليكون بهذا تتمة وخاتمة، نسأل الله حسن الخاتمة.
ثم ذيَّلتُ هذا كله بقائمة المصادر والمراجع، مُتْبِعا إيَّاها بفهرسٍ شاملٍ مُفصَّلٍ لمواضيع الكتاب وما حواه، حتى يعين القارئ على الاهتداء إلى موضعِ ما يريد من البحث.
وأخيراً: فلا أدَّعِي بعد هذا الجهد عصمةَ عملي من خللٍ وتقصير، أو سهوٍ ونقص في حسن العرض والتقدير، لكنِّي بحسب وسعي وطاقتي اجتهدت، فإن وُفقتُ وأصبت: فالفضل كله لمن بيده الفضل ومقاليد السماوات والأرض، فله الحمد ملء السماوات وملء الأرض وملء ما شاء من شيء بعد، وإن أخطأتُ وشططت، أو زللتُ وخُذلت: فمن قِبَلِ نفسي وشيطاني أُتيت، فأستدرك فلا أكابر في خطأ، وأستغفر فلا أصرُّ على ذنب.
ولأنَّ شكر أصحاب الفضل من شكر الله عز وجل، فأشكر والديَّ اللذين أعاناني على المضيِّ قُدُماً في طريق العلم والدعوة، ولم يقفا أمامي عقبة، أو حَجَر عَثْرة، فضلاً عن رعايتيهما لي صغيراً وكبيراً، فجزاهما الله عني خير الجزاء.
এতে আমি তাঁর মর্যাদার বিষয়ে বর্ণিত সহীহ মারফু হাদীসসমূহ, মাওকুফ আসারসমূহ এবং মাকতু উক্তিগুলো সংকলন করেছি, যা উম্মতের সালফে সালেহীনের নিকট তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মর্যাদা স্পষ্ট করে; যাদেরকে অনুসরণ করার এবং যাদের হেদায়েতের ওপর চলার জন্য আমরা আদিষ্ট হয়েছি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সংশয় ও খণ্ডন:
এই পরিচ্ছেদটি আমি এই মহান সাহাবীর ব্যাপারে উত্থাপিত প্রধান ও সুপ্রসিদ্ধ সংশয় ও অপবাদসমূহ বর্ণনার জন্য নির্ধারিত করেছি। এই সংশয়গুলোর জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি একটি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যা আমি সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদের শুরুতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি, যাতে এটি একটি পরিশিষ্ট ও উপসংহার হিসেবে গণ্য হয়; আমরা আল্লাহর কাছে উত্তম পরিসমাপ্তি প্রার্থনা করি।
এরপর আমি এই সবকিছুর শেষে উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের একটি তালিকা যুক্ত করেছি এবং এর পরে বইয়ের বিষয়বস্তু ও এতে যা রয়েছে তার একটি বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র প্রদান করেছি, যাতে পাঠক তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।
সবশেষে: এই প্রচেষ্টার পর আমি আমার কাজকে ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা, ভুল বা উপস্থাপনা ও মূল্যায়নের অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত বলে দাবি করি না। তবে আমি আমার সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী পরিশ্রম করেছি। যদি আমি সফল ও সঠিক হয়ে থাকি, তবে এর যাবতীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই, যাঁর হাতে সকল অনুগ্রহ এবং আসমান ও যমীনের চাবিকাঠি; সুতরাং আসমান পূর্ণ, যমীন পূর্ণ এবং এর পরে তিনি যা চান তা পূর্ণ করে তাঁরই প্রশংসা। আর যদি আমি ভুল করি বা বাড়াবাড়ি করি, কিংবা পদস্খলন ঘটে ও ব্যর্থ হই, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনায়। আমি তা সংশোধন করে নেব এবং ভুলের ওপর অহংকার করব না, আর ক্ষমা প্রার্থনা করছি যাতে কোনো পাপের ওপর অবিচল না থাকি।
যেহেতু গুণীজনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়েরই অংশ, তাই আমি আমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা আমাকে ইলম ও দাওয়াহর পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন এবং আমার সামনে কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াননি; শৈশব ও কৈশোরে তাদের লালন-পালনের কথা তো বলাই বাহুল্য। আল্লাহ তাদের আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وكذلك الشكر موصول لشيخي المفضال: أبي عبد الله مصطفى بن العدوي -حفظه الله- الذي فتح الله عينيَّ على رؤياه أول ما رأيتُ من أهل العلم، وتعلمتُ على يديه أول ما تعلَّمت، فزرع في نفسي من جميل الخصال، وحسن الفعال، وتعظيم الكتاب والسنة وتقديمهما على جميع الأقوال، ما أترك مكافأته به للكبير المتعال
(1).
ولا أنسى شكر إخواني الأفاضل الأكابر الذين سبقوني إلى هذا الطريق، فمهَّدوا لي ولغيري ما كان وَعْراً عليهم، ولم يبخلوا بنصحهم أو وقتهم، وأخصُّ بالذكر منهم: الشيخ الفاضل: أبا عمر أحمد بن سالم، والشيخ الكريم: أبا محمد حازم الشربيني.
وكذا الشكر لشقيقي وصاحبي أبي البراء وليد الجابري، على صادق نُصحه، وكريم إعانته.
والشكر لزوجي أم سميَّة، على صبرها على قطعي الساعات بعيداً عنها بين الكتب والمطالعة، أو التحرك للدعوة، وجَوْرِي على وقتها الخاص بها منِّي، لأوسِّع به ضيق وقتي.
والشكر الجزيل موصولٌ للقائمين على إدارة وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية بدولة الكويت، والعاملين بها، على سعيهم الحثيث في نفع المسلمين، وتبنِّيهم للأبحاث والمشروعات العلمية الجادَّة، التي تهدف لنشر نور العلم بين أبناء هذه الأمَّة، وتقليص مساحة ظلام الجهل، خاطِين بذلك خُطى ثابتةً رشيدةً نحو تحقيق رؤيتهم الغالية العالية: (الريادة عالميَّاً في العمل الإسلامي).
اللهمَّ لولا أنتَ ما اهتدينا، ولا عَلِمنا ولا تعلَّمنا، ولا كَتبْنا ولا بيَّنا، فأنزلنْ سكينةً علينا، وأحسنن خاتمتنا إذا عليك قدمنا، واجعل ما وفَّقتنا إليه شاهداً لنا لا علينا.
--------------------------------------------
একইভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ: আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা ইবনুল আদাওয়ীর প্রতি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—যাঁকে আল্লাহ আমার চোখের সামনে ইলমের অধিকারী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম ব্যক্তি হিসেবে দেখার তাওফিক দিয়েছেন এবং যাঁর নিকট আমি আমার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছি। তিনি আমার অন্তরে উত্তম গুণাবলি ও সুন্দর কার্যাবলির বীজ বপন করেছেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সমস্ত মতামতের ঊর্ধ্বে এই দুইটিকে অগ্রাধিকার প্রদানের শিক্ষা দিয়েছেন; তাঁর এই অনুগ্রহের প্রতিদান আমি মহান সুউচ্চ আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করছি
(১)।
আমি আমার সেই সব ফযিলতসম্পন্ন ও অগ্রজ ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না যাঁরা এই পথে আমার আগে পদার্পণ করেছেন। তাঁরা তাঁদের জন্য যা কঠিন ছিল, তা আমার ও অন্যদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের নসিহত বা সময়ের ক্ষেত্রে কোনো কৃপণতা করেননি। তাঁদের মধ্য থেকে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি: ফযিলতুশ শাইখ আবু উমর আহমাদ বিন সালিম এবং শাইখুল কারিম আবু মুহাম্মদ হাযিম আশ-শারবিনী।
সেই সঙ্গে আমার সহোদর ও বন্ধু আবুল বারা ওয়ালিদ আল-জাবিরীর প্রতি তাঁর অকৃত্রিম নসিহত ও মহানুভব সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার স্ত্রী উম্মু সুমাইয়্যার প্রতি, বইপত্র ও অধ্যয়নের মাঝে অথবা দাওয়াতের কাজে তাঁর থেকে দূরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্যের জন্য; এবং তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত আমার সময়ের ওপর আমার হস্তক্ষেপ করা সত্ত্বেও তা মেনে নেওয়ার জন্য, যার মাধ্যমে আমি আমার সময়ের সংকীর্ণতাকে লাঘব করেছি।
কুয়েত রাষ্ট্রের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ এবং এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি; মুসলমানদের উপকারে তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সেসব গুরুত্বপুর্ণ গবেষণা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য যা এই উম্মাহর সন্তানদের মাঝে ইলমের নূর ছড়িয়ে দিতে এবং অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে লক্ষ্য স্থির করেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের মহৎ ও সুউচ্চ লক্ষ্য অর্জনে অবিচল ও সঠিক পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছেন, আর তা হলো: (ইসলামি কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব প্রদান)।
হে আল্লাহ! আপনি না থাকলে আমরা হেদায়াত পেতাম না, আমরা কিছু জানতে পারতাম না এবং শিখতেও পারতাম না, আর না আমরা কিছু লিখতে পারতাম কিংবা কোনো কিছু স্পষ্ট করতে পারতাম। অতএব আমাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল করুন এবং আমরা যখন আপনার কাছে উপস্থিত হব, তখন আমাদের শেষ পরিণাম সুন্দর করুন। আর আপনি আমাদের যা করার তাওফিক দিয়েছেন, তা যেন আমাদের পক্ষে সাক্ষী হয়, বিপক্ষে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
اللهم إني أسألك بأسمائك الحسنى وصفاتك العلى، أن تنفعَ بهذا الكتاب صاحبَه، وناشرَه، وقارئه، وأن تجعله باب خير وبركة عليَّ -في الحياة والممات- وعلى سائر المسلمين، وأن ترزقنا الصدق والإخلاص في القول والعمل، والسر والعلن. اللهم آمين.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلِّ اللهم على نبيِّنا محمدٍ وعلى آله وأصحابه وأزواجه، وسلِّم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين.
وكتبه:
أحمد بن إبراهيم الجابريّ
E-Mail:
Islamtime@Hotmail.Com.
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনা করছি, যেন আপনি এই কিতাবের দ্বারা এর লেখক, প্রকাশক ও পাঠককে উপকৃত করেন এবং এটিকে আমার জন্য -জীবনে ও মরণে- এবং সকল মুসলিমের জন্য কল্যাণ ও বরকতের দ্বার বানিয়ে দেন, আর যেন আপনি আমাদেরকে কথা ও কাজে এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে সততা ও নিষ্ঠা দান করেন। হে আল্লাহ, কবুল করুন।
এবং আমাদের শেষ আহ্বান হলো যে, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, আর হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও সহধর্মিণীদের ওপর সালাত ও প্রচুর পরিমাণে সালাম বর্ষণ করুন শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত।
এটি লিখেছেন:
আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-জাবেরী
ই-মেইল:
Islamtime@Hotmail.Com.
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الفصل الأول مُعاويةُ رضي الله عنه قبل الخِلافة
اسمُهُ ونسبُهُ وكنيتُهُ ولقبُهُ:هو أمير المؤمنين معاوية
(1) بن أبي سفيان
(2) بن حرب بن أميَّة بن عبد شمس بن عبد مناف بن قُصيّ بن كلاب، أبو عبد الرحمن القُرشي الأموي.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: খিলাফতের পূর্বে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, কুনিয়াত ও উপাধি:তিনি হলেন আমিরুল মুমিনিন মুয়াবিয়া
(১) ইবনে আবি সুফিয়ান
(২) ইবনে হারব ইবনে উমাইয়্যা ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব, আবু আবদুর রহমান আল-কুরাশি আল-উমাবি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وأُمُّه: هند بنت عتبة بن ربيعة بن عبد شمس بن عبد مناف بن قصي، وبهذا يجتمع أبوه وأمه في عبد شمس، وأم هند: صعبة بنت أمية بن حارثة بن الأوقص، من بني سليم
(1).
قال يوسف بن تَغْري بردي: «ولقبُهُ: الناصر لدين الله، وقِيل: الناصر لحق الله، والأول أشهر»
(2).
--------------------------------------------
এবং তাঁর মাতা: হিন্দ বিনতে উতবা ইবনে রাবীআ ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই। এর মাধ্যমে তাঁর পিতা ও মাতা আবদে শামস-এ গিয়ে মিলিত হন। আর হিন্দের মাতা হলেন: সাবা বিনতে উমাইয়া ইবনে হারিসা ইবনে আওকাস, বনু সুলাইম গোত্রের
(১)।
ইউসুফ ইবনে তাগরি বারদি বলেন: «এবং তাঁর উপাধি ছিল: আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ (আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী), আবার বলা হয়েছে: আন-নাসির লি-হাক্কিল্লাহ (আল্লাহর হকের সাহায্যকারী); তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
مولده:قال خليفة بن خيَّاط: «وُلد معاوية رضي الله عنه بمكَّة في دار أبي سفيان بن حرب، ويُقال: في دار عتبة بن ربيعة»
(1).
وقال الحافظ ابن حجر: «وُلد قبل البعثة بخمس سنين، وقِيل بسبع، وقِيل بثلاث عشرة. والأول أشهر»
(2).
اهتمام أمِّه به، وتنبُّؤها بنبوغه:عن أبان بن عثمان بن عفَّان قال: «كان معاوية يمشي وهو غلام مع أمِّه هند، فعثر، فقالت: قُمْ، لا رفعك الله، وأعرابي ينظر إليه، فقال: لم تقولين له؟! فوالله إني لأظنه سيسود قومه، فقالت: لا رفعه الله إن لم يَسُدْ إلا قومه»
(3).
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম:খলীফা বিন খইয়্যাত বলেন: «মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কায় আবু সুফিয়ান বিন হারবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। আবার বলা হয়: উতবা বিন রাবিয়ার ঘরে»
(১)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «তিনি নবুওয়াতের পাঁচ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। কেউ কেউ বলেন সাত বছর আগে, আবার কেউ কেউ বলেন তেরো বছর আগে। প্রথম মতটিই অধিক প্রসিদ্ধ»
(২)।
তাঁর প্রতি তাঁর মায়ের যত্ন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী:আবান বিন উসমান বিন আফফান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «মুয়াবিয়া যখন বালক ছিলেন, তখন তিনি তাঁর মা হিন্দের সাথে হাঁটছিলেন। এক সময় তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। তখন তাঁর মা বললেন: "দাঁড়াও, আল্লাহ তোমাকে উচ্চ মর্যাদা না দিন।" তখন এক বেদুইন তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। সে বলল: "আপনি তাকে এমন কথা কেন বলছেন? আল্লাহর কসম! আমার তো মনে হয় সে অবশ্যই তার কওমের নেতৃত্ব দেবে।" তখন তিনি বললেন: "আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা না দিন, যদি সে কেবল তার কওমেরই নেতৃত্ব দেয়"»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মান্নান বিসীরাতি আমীরিল মুমিনীন মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وعن أبي الحسن المدائني: «أن أبا سفيان نظر يوماً إلى معاوية وهو غلام، فقال لهند: إنَّ ابني هذا لعظيم الرأس، وإنَّه لخليقٌ أن يسود قومه. فقالت هند: قومه فقط؟! ثَكلْتُه إن لم يَسُدْ العرب قاطبة»
(1).
وكانت هند تداعبه وهو صغيرٌ بتلك الكلمات:
إن بُنيَّ مُعْرِقٌ كريمْ
… مُحبَّبٌ في أهله حليمْ
ليس بفحَّاشٍ ولا لئيمْ
… ولا بطُخرورٍ ولا سؤومْ
صخرُ بني فهرٍ به زعيمْ
… لا يُخلفُ الظنَّ ولا يَخيمْ
(2)
صِفَتُه الخَلْقية:كان معاوية رضي الله عنه أبيضَ جميلاً، طويلاً، مَهيباً، إذا ضحك انقلبت شفته العليَّاً، أبيض الرأس واللحية، وكان يخضب بالصفرة، كأن لحيته الذهب
(3).
وقد أصابته لَقْوةٌ
(4) في آخر عمره، فكان يستر وجهه، ويقول: «رحم الله عبداً دعا لي بالعافية، فقد رُميت في أحسني وما يبدو مني»
(5).
--------------------------------------------
আবু আল-হাসান আল-মাদায়িনি থেকে বর্ণিত: «একদিন আবু সুফিয়ান মুয়াবিয়ার দিকে তাকালেন যখন তিনি কিশোর ছিলেন, তখন তিনি হিন্দের উদ্দেশ্যে বললেন: আমার এই পুত্রটি বিশাল মস্তকের অধিকারী, সে তার কওমের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। তখন হিন্দ বললেন: কেবল তার কওম?! আমি তাকে হারাই যদি সে সমগ্র আরবের নেতৃত্ব না দেয়।»
(১).
হিন্দ তাকে শৈশবে এই কথাগুলো বলে আদর করতেন:
নিশ্চয়ই আমার এই পুত্র আভিজাত্যপূর্ণ ও সম্মানিত
… নিজ পরিবারে সে প্রিয় ও ধৈর্যশীল
সে অশ্লীলভাষী নয় এবং নীচও নয়
… সে অযোগ্য নয় এবং বিরক্তিকরও নয়
বনু ফিহর-এর সখর তার মাধ্যমে নেতৃত্ব লাভ করবে
… সে প্রত্যাশা ভঙ্গ করবে না এবং বিমুখ হবে না
(২)
তার শারীরিক গঠন:মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন ফর্সা, সুন্দর, দীর্ঘকায় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী; যখন তিনি হাসতেন, তখন তার ওপরের ঠোঁট উল্টে যেত। তার মাথা ও দাড়ির চুল ছিল সাদা, তিনি হলুদ রঙের খিযাব ব্যবহার করতেন, যার ফলে তার দাড়ি স্বর্ণের মতো মনে হতো
(৩).
জীবনের শেষ দিকে তিনি মুখের পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন, তখন তিনি তার মুখ ঢেকে রাখতেন এবং বলতেন: «আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি রহম করুন যে আমার সুস্থতার জন্য দোয়া করে, কারণ আমি আমার শরীরের সবচেয়ে সুন্দর এবং প্রকাশ্য অংশে আক্রান্ত হয়েছি»
(৫).
--------------------------------------------