(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: -)
أخصر المختصرات - ت العجمي - ط 1 القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: أخصر المختصرات في الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل
المؤلف: محمّد بن بدر الدين بن عبد الحق ابن بلبان الحنبلي (ت 1083هـ)
المحقق: محمد ناصر العجمي
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1416
عدد الصفحات: 271
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আখসারুল মুখতাসারাত - তাহকীক: আল-আজমী - ১ম প্রকাশ অনুবিভাগ: হাম্বলী ফিকহ
কিতাব: ইমাম আহমদ বিন হাম্বল-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ততম সংকলন
লেখক: মুহাম্মাদ বিন বদরুদ্দীন বিন আব্দুল হক ইবনে বালবান আল-হাম্বলী (ওফাত: ১০৮৩ হিজরী)
মুহাক্কিক: মুহাম্মাদ নাসির আল-আজমী
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
أخصر المختصرات فِي الْفِقْه على مَذْهَب الامام احْمَد بن حَنْبَل
خطْبَة الْمُؤلفبسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله المفقه من شَاءَ من خلقه فِي الدّين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على نَبينَا مُحَمَّد الامين الْمُؤَيد بكتابه الْمُبين المتمسك بحبله المتين وعَلى اله وَصَحبه اجمعين
وَبعد فقد سنح بخلدي ان اختصر كتابي الْمُسَمّى ب كَافِي
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ততম সারসংক্ষেপ
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবের মাধ্যমে সমর্থিত ও তাঁর মজবুত রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর, আমার মনে এই সংকল্প উদিত হলো যে, আমি আমার ‘কাফী’ নামক কিতাবটিকে সংক্ষিপ্ত করব।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
الْمُبْتَدِي الْكَائِن فِي فقه الإِمَام احْمَد بن حَنْبَل الصابر لحكم الْملك المبدي ليقرب تنَاوله على المبتدئين ويسهل حفظه على الراغبين ويقل حجمه على الطالبين وسميته اخصر المختصرات لاني لم اقف على اخصر مِنْهُ جَامع لمسائله فِي فقهنا من المؤلفات وَالله اسْأَل ان ينفع بِهِ قارئيه وحافظيه وناظريه انه جدير باجابة الدَّعْوَات وان يَجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم مقربا اليه فِي جنَّات النَّعيم وَمَا توفيقي واعتصامي الا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت واليه انيب
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত এই প্রাথমিক গ্রন্থটি—যিনি অধিপতি ও আদি-সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বিধানের প্রতি ধৈর্যশীল—যাতে এটি নতুনদের নিকট সহজবোধ্য হয়, আগ্রহীদের জন্য মুখস্থ করা সহজ হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এর কলেবর সংক্ষিপ্ত হয়। আমি এর নামকরণ করেছি 'আখসারুল মুখতাসারাত' (সংক্ষিপ্ততম সারসংক্ষেপ); কেননা আমাদের ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির মধ্যে আমি এমন কোনো রচনার সন্ধান পাইনি যা এর চেয়ে অধিক সংক্ষিপ্ত অথচ এর বিষয়বস্তুকে এমনভাবে ধারণকারী। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এর পাঠক, মুখস্থকারী এবং এর প্রতি অভিনিবেশকারীদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুল করার যোগ্য। আর তিনি যেন একে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং জান্নাতুন নাঈমে তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানান। আমার তাওফিক ও আশ্রয় কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
= كتاب الطَّهَارَة =
الْمِيَاه ثلَاثه الاول طهُور وَهُوَ الْبَاقِي على خلقته وَمِنْه مَكْرُوه كمتغير بِغَيْر ممازج ومحرم لَا يرفع الْحَدث ويزيل الْخبث وَهُوَ الْمَغْصُوب وَغير بِئْر النَّاقة من ثَمُود
= পবিত্রতা অধ্যায় =
পানি তিন প্রকার: প্রথমটি হলো তাহুর (পবিত্র ও পবিত্রকারী), যা তার আদি প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে কিছু মাকরূহ, যেমন এমন কিছুর দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া যা পানিতে মিশে যায় না। আর কিছু হারাম যা হদস দূর করে না কিন্তু নাপাকি দূর করে; আর তা হলো জবরদখলকৃত পানি এবং সামুদ জাতির এলাকার 'উষ্ট্রীর কূপ' ব্যতীত অন্যান্য কূপের পানি।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
الثَّانِي طَاهِر لَا يرفع الْحَدث وَلَا يزِيل الْخبث وَهُوَ الْمُتَغَيّر بممازج طَاهِر وَمِنْه يسير مُسْتَعْمل فِي رفع حدث
الثَّالِث نجس يحرم اسْتِعْمَاله مُطلقًا وَهُوَ مَا تغير بِنَجَاسَة فِي غير مَحل تَطْهِير اَوْ لاقاها قي غَيره وَهُوَ يسير والجاري كالراكد وَالْكثير قلتان وهما مائَة رَطْل وَسَبْعَة ارطال وَسبع رَطْل بالدمشقي واليسير مَا دونهمَا
দ্বিতীয় প্রকার হলো পবিত্র, যা হাদাস দূর করে না এবং খাবাস অপসারিত করে না। এটি এমন পানি যা কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো হাদাস দূর করার কাজে ব্যবহৃত অল্প পরিমাণ পানি।
তৃতীয় প্রকার হলো অপবিত্র, যা ব্যবহার করা সাধারণভাবে হারাম। এটি হলো এমন পানি যা পবিত্র করার স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোথাও অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে অথবা অল্প পরিমাণ হওয়া অবস্থায় নাপাকির সংস্পর্শে এসেছে। এক্ষেত্রে প্রবহমান পানিও স্থির পানির ন্যায় গণ্য হবে। আর 'অধিক পরিমাণ' হলো দুই কুল্লা, যা দামেস্কি ওজনে একশত সাত রতল এবং এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ। আর 'অল্প পরিমাণ' হলো এর চেয়ে কম।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
فصلكل اناء طَاهِر يُبَاح اتِّخَاذه واستعماله الا ان يكون ذَهَبا اَوْ فضَّة اومضببا باحدهما لَكِن تُبَاح ضبة يسيرَة من فضَّة لحَاجَة وَمَا لم تعلم نَجَاسَته من انية كفار وثيابهم طَاهِرَة وَلَا يطهر جلد ميتَة بدباغ وكل اجزائها نَجِسَة الا شعرًا وَنَحْوه والمنفصل من حَيّ كميتته
فصل
الِاسْتِنْجَاء وَاجِب من كل خَارج الا الرّيح والطاهر وَغير الملوث
পরিচ্ছেদপ্রতিটি পবিত্র পাত্র সংগ্রহ ও ব্যবহার করা বৈধ, যদি না তা সোনা বা রুপার তৈরি হয় অথবা এই দুটির কোনো একটির দ্বারা তালি লাগানো হয়। তবে প্রয়োজনের খাতিরে রুপার তৈরি ছোট তালি ব্যবহার করা বৈধ। কাফেরদের পাত্র ও পোশাক-পরিচ্ছদ—যেগুলোর অপবিত্রতা নিশ্চিতভাবে জানা নেই—তা পবিত্র হিসেবে গণ্য হবে। মৃত পশুর চামড়া পাকা করার (ট্যানিং) মাধ্যমে পবিত্র হয় না এবং এর চুল ও সমজাতীয় বস্তু ব্যতীত অবশিষ্ট সকল অংশ অপবিত্র। আর জীবিত প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অংশ তার মৃতদেহের ন্যায় (অপবিত্র)।
পরিচ্ছেদ
প্রতিটি নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে ইস্তিনজা করা ওয়াজিব; তবে বায়ু, পবিত্র বস্তু এবং যা অপবিত্রতার রেশ সৃষ্টি করে না, তার ক্ষেত্রে ইস্তিনজা আবশ্যক নয়।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯০)
وَسن عِنْد دُخُول خلاء قَول بِسم الله اللَّهُمَّ اني اعوذ بك من الْخبث والخبائث وَبعد خُرُوج مِنْهُ غفرانك الْحَمد لله الَّذِي اذْهَبْ عني الاذى وعافاني وتغطية راس وانتعال وَتَقْدِيم رجله الْيُسْرَى دُخُولا واعتماده عَلَيْهَا جَالِسا واليمنى خُرُوجًا عكس مَسْجِد ونعل وَنَحْوهمَا وَبعد فِي فضاء وَطلب مَكَان رخو لبول وَمسح الذّكر بِالْيَدِ الْيُسْرَى اذا انْقَطع الْبَوْل من اصله الى راسه ثَلَاثًا ونتره ثَلَاثًا
وَكره دُخُول خلاء بِمَا فِيهِ ذكر الله تَعَالَى وَكَلَام فِيهِ بِلَا حَاجَة وَرفع ثوب قبل دنو من الارض وَبَوْل فِي شقّ وَنَحْوه وَمَسّ فرج
শৌচাগারে প্রবেশের সময় ‘বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ বলা এবং বের হওয়ার পর ‘আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি; সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন’ বলা সুন্নাত। এছাড়া মাথা ঢেকে রাখা, জুতা পরিধান করা, প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া ও বসা অবস্থায় বাম পায়ের ওপর ভর দেওয়া এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া সুন্নাত; যা মসজিদ ও জুতা পরিধান ইত্যাদির পদ্ধতির বিপরীত। আর উন্মুক্ত প্রান্তরে লোকচক্ষুর আড়ালে দূরে যাওয়া, পেশাবের জন্য নরম স্থান তালাশ করা এবং পেশাব বন্ধ হলে পুরুষাঙ্গের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত বাম হাত দিয়ে তিনবার মোছা ও তিনবার ঝাড়া দেওয়া সুন্নাত।
মহান আল্লাহর যিকর রয়েছে এমন কিছু সাথে নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করা, সেখানে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা, মাটির নিকটবর্তী হওয়ার আগে কাপড় তোলা, গর্ত বা অনুরূপ ছিদ্রে পেশাব করা এবং লজ্জাস্থান স্পর্শ করা মাকরূহ।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯১)
بِيَمِين بِلَا حَاجَة واستقبال النيرين وَحرم اسْتِقْبَال قبْلَة واستدبارها فِي غير بُنيان ولبث فَوق الْحَاجة وَبَوْل فِي طَرِيق مسلوك وَنَحْوه وَتَحْت شَجَرَة مثمرة ثمرا مَقْصُودا
وَسن استجمار ثمَّ استنجاء بِمَاء وَيجوز الِاقْتِصَار على احدهما لَكِن المَاء افضل حِينَئِذٍ وَلَا يَصح استجمار الا بطاهر مُبَاح يَابِس منق وَحرم بروث وَعظم وَطَعَام وَذي حُرْمَة ومتصل بحيوان وَشرط لَهُ عدم تعدِي خَارج مَوضِع الْعَادة وَثَلَاث مسحات منقية فاكثر
প্রয়োজন ব্যতীত ডান হাত ব্যবহার করা এবং সূর্য ও চন্দ্রের দিকে মুখ করা (মাকরূহ)। আর দালানকোঠা ব্যতীত উন্মুক্ত স্থানে কিবলার দিকে মুখ করা কিংবা কিবলাকে পেছনে রাখা হারাম। তদ্রূপ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা, মানুষের চলাচলের পথ ও অনুরূপ স্থানে প্রস্রাব করা এবং ফলদায়ক বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব করাও হারাম।
আর পাথর ব্যবহারের পর পানি দিয়ে ইস্তিনজা করা সুন্নাত। তবে উভয়ের যেকোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা জায়েজ, কিন্তু সেক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করাই উত্তম। পবিত্র, বৈধ, শুষ্ক এবং পরিষ্কারকারী বস্তু ব্যতীত ইস্তিঝমার (পাথর বা ঢিলা ব্যবহার) শুদ্ধ হবে না। আর গোবর, হাড়, খাদ্যদ্রব্য, সম্মানযোগ্য বস্তু এবং প্রাণীর দেহের সাথে সংযুক্ত কোনো কিছু দিয়ে ইস্তিঝমার করা হারাম। ইস্তিঝমারের জন্য শর্ত হলো নাপাকি যেন স্বাভাবিক নির্গমন স্থানের বাইরে ছড়িয়ে না যায় এবং পরিষ্কার হওয়ার জন্য অন্তত তিনটি মোছনি বা তার অধিক হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯২)
فصليسن السِّوَاك بِالْعودِ كل وَقت الا لصائم بعد الزَّوَال فَيكْرَه ويتاكد عِنْد صَلَاة وَنَحْوهَا وَتغَير فَم وَنَحْوه
وَسن بداءة بالايمن فِيهِ وَفِي طهر وشانه كُله وادهان غبا واكتحال فِي كل عين ثَلَاثًا وَنظر فِي مراة وتطيب واستحداد وحف شَارِب وتقليم ظفر ونتف ابط وَكره قزع ونتف شيب وثقب اذن صبي وَيجب ختان ذكر وانثى بعيد بُلُوغ مَعَ امن الضَّرَر وَيسن قبله وَيكرهُ سَابِع وِلَادَته وَمِنْهَا اليه
পরিচ্ছেদসব সময় কাঠের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা সুন্নাত; তবে রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে পড়ার পর তা করা মাকরূহ। সালাত ও অনুরূপ ইবাদতের সময় এবং মুখের দুর্গন্ধ বা অবস্থার পরিবর্তন হলে মেসওয়াক করার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
মেসওয়াক করার ক্ষেত্রে, পবিত্রতা অর্জনে এবং যাবতীয় উত্তম কাজে ডান দিক দিয়ে শুরু করা সুন্নাত। এছাড়া মাঝে মাঝে তেল মাখা, প্রত্যেক চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানো, আয়নায় তাকানো, সুগন্ধি ব্যবহার করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ানো সুন্নাত। মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা ও কিছু অংশ রেখে দেওয়া, পাকা চুল উপড়ানো এবং ছেলে শিশুর কান ফোঁড়ানো মাকরূহ। ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে সাবালক হওয়ার পরপরই পুরুষ ও নারীর খতনা করা ওয়াজিব, তবে এর আগে করা সুন্নাত। আর জন্মের সপ্তম দিনে এবং জন্মের দিন থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত খতনা করা মাকরূহ।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
فصل فروض الْوضُوءسِتَّة غسل الْوَجْه مَعَ مضمضة واستنشاق وَغسل الْيَدَيْنِ وَالرّجلَيْنِ وَمسح جَمِيع الراس مَعَ الاذنين وترتيب وموالاة
وَالنِّيَّة شَرط لكل طَهَارَة شَرْعِيَّة غير ازالة خبث وَغسل كِتَابِيَّة لحل وَطْء ومسلمة ممتنعة
وَالتَّسْمِيَة وَاجِبَة فِي وضوء وَغسل وَتيَمّم وَغسل يَدي قَائِم من نوم ليل نَاقض لوضوء وَتسقط سَهوا وجهلا
وَمن سنَنه اسْتِقْبَال قبْلَة وَسوَاك وبداءة بِغسْل يَدي غير قَائِم من نوم ليل وَيجب لَهُ ثَلَاثًا تعبدا وبمضمضة فاستنشاق ومبالغة فيهمَا لغير
ওযুর ফরযসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদছয়টি: কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়াসহ মুখমণ্ডল ধোয়া, উভয় হাত ও উভয় পা ধোয়া, কানসহ সম্পূর্ণ মাথা মাসহ করা, ক্রমিকতা বজায় রাখা এবং বিরতিহীনভাবে সম্পাদন করা।
নাজাসাত বা অপবিত্রতা দূর করা এবং সহবাস বৈধ করার লক্ষ্যে কিতাবী স্ত্রী বা (গোসলে) অনিচ্ছুক মুসলিম স্ত্রীর গোসল ব্যতীত প্রতিটি শরয়ী পবিত্রতার জন্য নিয়ত করা শর্ত।
ওযু, গোসল, তায়াম্মুম এবং ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাত ধোয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা ওয়াজিব; তবে ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত তা বাদ পড়লে তা ক্ষমাযোগ্য।
এর সুন্নাতসমূহের মধ্যে রয়েছে: কিবলামুখী হওয়া, মিসওয়াক করা, রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য ব্যক্তির ওযুর শুরুতে দুই হাত ধোয়ার মাধ্যমে শুরু করা—তবে জাগ্রত ব্যক্তির জন্য তিনবার হাত ধোয়া ইবাদত হিসেবে ওয়াজিব—এবং কুলি করা ও এরপর নাকে পানি দেওয়া এবং রোজা পালনকারী নয় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই দুই কাজে আধিক্য প্রদর্শন করা।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
صَائِم وتخليل شعر كثيف والأصابع وغسلة ثَانِيَة وثالثة وَكره اكثر وَسن بعد فَرَاغه رفع بَصَره إِلَى السَّمَاء وَقَول مَا ورد وَالله اعْلَم
فصليجوز الْمسْح على خف وَنَحْوه وعمامة ذكر محنكة اَوْ ذَات
রোযাদার ব্যক্তি (কর্তৃক অতিরঞ্জন বর্জন), ঘন চুল ও আঙুলসমূহ খিলাল করা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা। তিনবারের অধিক ধৌত করা মাকরূহ। ওযু সমাপ্ত করার পর আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা এবং বর্ণিত দুআ পাঠ করা সুন্নাত। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
পরিচ্ছেদচামড়ার মোজা ও তদ্রূপ বস্তুর ওপর এবং পুরুষের এমন পাগড়ির ওপর মাসাহ করা বৈধ যা থুতনির নিচ দিয়ে পেঁচানো অথবা যার ঝুলন্ত অংশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
ذؤابة وخمر نسَاء مدارة تَحت حلوقهن وعَلى جبيرَة لم تجَاوز قدر الْحَاجة الى حلهَا وان جاوزته اَوْ وَضعهَا على غير طَهَارَة لزم نَزعهَا فان خَافَ الضَّرَر تيَمّم مَعَ مسح مَوْضُوعَة على طَهَارَة
وَيمْسَح مُقيم وعاص بِسَفَرِهِ من حدث بعد لبس يَوْمًا وَلَيْلَة ومسافر سفر قصر ثَلَاثَة بلياليها فان مسح فِي سفر ثمَّ اقام اَوْ
পাগড়ির ঝুলন্ত অংশ এবং নারীদের ওড়না যা তাদের কণ্ঠনালীর নিচ দিয়ে প্যাঁচানো থাকে এবং এমন ব্যান্ডেজ যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সীমা অতিক্রম করেনি, তা খোলা পর্যন্ত তার ওপর মাসেহ করা যাবে। আর যদি তা সীমা অতিক্রম করে অথবা অপবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়, তবে তা খুলে ফেলা আবশ্যক। এমতাবস্থায় যদি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে পবিত্র অবস্থায় লাগানো ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করার সাথে সাথে তায়াম্মুম করতে হবে।
মুকীম এবং তার সফরে পাপাচারী ব্যক্তি মোজা পরিধানের পর অপবিত্র হওয়ার সময় থেকে একদিন ও একরাত মাসেহ করবে, এবং কসরের সফরের মুসাফির তিন দিন ও তিন রাত মাসেহ করবে। যদি কেউ সফর অবস্থায় মাসেহ শুরু করে অতঃপর মুকীম হয়ে যায় অথবা...
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
عكس فكمقيم وَشرط تقدم كَمَال طَهَارَة وَستر مَمْسُوح مَحل فرض وثبوته بِنَفسِهِ وامكان مشي بِهِ عرفا وطهارته واباحته
وَيجب مسح اكثر دوائر عِمَامَة واكثر ظَاهر قدم خف وَجَمِيع جبيرَة وان ظهر بعض مَحل فرض اَوْ تمت الْمدَّة استانف الطَّهَارَة
فصل نواقض الْوضُوءثَمَانِيَة خَارج من سَبِيل مُطلقًا وخارج من بَقِيَّة الْبدن من بَوْل وغائط وَكثير نجس غَيرهمَا وَزَوَال عقل الا يسير نوم من قَائِم اَوْ قَاعد وَغسل ميت واكل لحم ابل وَالرِّدَّة وكل مااوجب غسلا غير موت وَمَسّ فرج ادمي مُتَّصِل اَوْ حَلقَة دبره بيد ولمس
বিপরীত অবস্থায় মুকিমের মতো হুকুম হবে। আর (মোজার ওপর মাসেহ করার) শর্ত হলো: পূর্বে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করা, মাসেহকৃত স্থান যা ফরযের অন্তর্ভুক্ত তা আবৃত রাখা, সেটি নিজে নিজেই স্থির থাকা, প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তা পরে হাঁটা সম্ভব হওয়া, সেটি পবিত্র হওয়া এবং তা বৈধ হওয়া।
পাগড়ির অধিকাংশ প্যাঁচের ওপর, মোজার উপরিভাগের অধিকাংশ অংশে এবং সম্পূর্ণ জাবীরার (ব্যান্ডেজ) ওপর মাসেহ করা ওয়াজিব। যদি ফরয অঙ্গের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে পড়ে অথবা মাসেহের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, তবে নতুন করে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।
পরিচ্ছেদ: ওজু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহওজু ভঙ্গকারী বিষয় আটটি: সাধারণভাবে দুই রাস্তা দিয়ে যা কিছু বের হয়; শরীরের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে নির্গত প্রস্রাব ও পায়খানা এবং এগুলো ছাড়া অন্য কোনো নাপাকি অধিক পরিমাণে নির্গত হওয়া; বুদ্ধি লোপ পাওয়া, তবে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা অবস্থায় সামান্য ঘুম এর অন্তর্ভুক্ত নয়; মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া; উটের গোশত খাওয়া; ধর্মত্যাগ করা; মৃত্যু ব্যতীত যা কিছু গোসল ওয়াজিব করে এমন সব বিষয়; মানুষের শরীরের সাথে সংযুক্ত লিঙ্গ বা মলদ্বার হাত দিয়ে স্পর্শ করা এবং স্পর্শ করা।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
ذكر اَوْ انثى الاخر لشَهْوَة بِلَا حَائِل فيهمَا لَا لشعر وَسن ظفر وَلَا بهَا وَلَا من دون سبع
وَلَا ينْتَقض وضوء ملموس مُطلقًا وَمن شكّ فِي طَهَارَة اَوْ حدث بنى على يقينه
وَحرم على مُحدث مس مصحف وَصَلَاة وَطواف وعَلى جنب وَنَحْوه ذَلِك وَقِرَاءَة اية قُرْآن ولبث فِي مَسْجِد بِغَيْر وضوء
فصل مُوجبَات الْغسْلسَبْعَة خُرُوج الْمَنِيّ من مخرجه بلذة وانتقاله وتغييب حَشَفَة فِي فرج اَوْ دبر وَلَو لبهيمة اَوْ ميت بِلَا حَائِل واسلام كَافِر وَمَوْت وحيض ونفاس
وَسن لجمعة وَعِيد وكسوف واستسقاء وجنون واغماء لَا احْتِلَام فيهمَا واستحاضة لكل صَلَاة واحرام وَدخُول مَكَّة
পুরুষ অথবা নারী কর্তৃক কামনাবশত বিপরীত লিঙ্গের কাউকে কোনো অন্তরাল ব্যতিরেকে স্পর্শ করা; তবে চুল, দাঁত ও নখ স্পর্শ করলে অথবা এসকল অঙ্গের মাধ্যমে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হবে না, আর সাত বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রেও নয়।
যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার অজু কোনো অবস্থাতেই ভঙ্গ হবে না। আর যে ব্যক্তি পবিত্রতা অথবা অপবিত্রতার বিষয়ে সন্দেহে পতিত হয়, সে যেন তার সুনিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে।
অজুহীন ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা, সালাত আদায় করা এবং তওয়াফ করা হারাম। আর জুনুবি (যাদের ওপর গোসল ফরজ হয়েছে) ও অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য এসকল বিষয়সহ কুরআনের আয়াত পাঠ করা এবং অজু ব্যতীত মসজিদে অবস্থান করা হারাম।
পরিচ্ছেদ: গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহগোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাতটি: বীর্য তার নির্গমন পথ দিয়ে কামনাবশত বের হওয়া এবং বীর্যের স্থানচ্যুতি ঘটা, লিঙ্গের অগ্রভাগ সামনের অথবা পেছনের রাস্তায় প্রবিষ্ট করা—চাই তা কোনো পশুর ক্ষেত্রে হোক বা মৃতদেহের ক্ষেত্রে এবং কোনো অন্তরাল ছাড়াই—কাফিরের ইসলাম গ্রহণ, মৃত্যু, ঋতুস্রাব (হায়েজ) এবং প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (নিফাস)।
আর জুমু'আ, দুই ঈদ, সূর্যগ্রহণ, বৃষ্টির প্রার্থনা (ইসতিসকা), উন্মাদনা ও অজ্ঞান হওয়ার পর (যদি তাতে বীর্যপাত না হয়ে থাকে), প্রত্যেক সালাতের জন্য ইসতিহাজাগ্রস্ত নারীর গোসল, ইহরাম গ্রহণ এবং মক্কায় প্রবেশের জন্য গোসল করা সুন্নাত।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
وحرمها ووقوف بِعَرَفَة وَطواف زِيَارَة ووداع ومبيت بِمُزْدَلِفَة وَرمي جمار
وتنقض الْمَرْأَة شعرهَا لحيض ونفاس لَا جَنَابَة اذا رَوَت اصوله
2 - وَسن توضؤ بِمد واغتسال بِصَاع وَكره اسراف وان نوى بِالْغسْلِ رفع الحدثين اَوْ الْحَدث واطلق ارتفعا
وَسن لجنب غسل فرجه وَالْوُضُوء لاكل وَشرب ونوم ومعاودة وَطْء وَالْغسْل لَهَا افضل وَكره نوم جنب بِلَا وضوء
فصليَصح التَّيَمُّم بِتُرَاب طهُور مُبَاح لَهُ غُبَار اذا عدم المَاء لحبس اَوْ غَيره اَوْ خيف بِاسْتِعْمَالِهِ اَوْ طلبه ضَرَر ببدن اَوْ مَال
এবং তার ইহরাম, আরাফায় অবস্থান, তাওয়াফে যিয়ারত ও বিদায়ী তাওয়াফ, মুযদালিফায় রাত্রিযাপন এবং কঙ্কর নিক্ষেপ।
ঋতুস্রাব ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব হতে পবিত্র হওয়ার জন্য নারী তার চুলের বিনুনি খুলে ফেলবে, তবে জানাবাতের (সহবাসজনিত অপবিত্রতা) জন্য নয়—যদি সে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাতে পারে।
২ - এক মুদ পানি দিয়ে ওযু করা এবং এক সা' পানি দিয়ে গোসল করা সুন্নত। পানির অপচয় করা মাকরুহ। যদি কেউ গোসলের মাধ্যমে উভয় প্রকার অপবিত্রতা (বড় ও ছোট) দূর করার নিয়ত করে, অথবা কেবল অপবিত্রতা দূর করার সাধারণ নিয়ত করে, তবে উভয়টিই দূর হয়ে যাবে।
অপবিত্র ব্যক্তির জন্য পানাহার, নিদ্রা এবং পুনরায় সহবাস করার পূর্বে লজ্জাস্থান ধৌত করা ও ওযু করা সুন্নত। তবে পুনরায় সহবাসের ক্ষেত্রে গোসল করাই অধিকতর উত্তম। ওযু ব্যতীত অপবিত্র অবস্থায় ঘুমানো মাকরুহ।
পরিচ্ছেদপবিত্র, বৈধ ও ধূলিযুক্ত মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা বৈধ, যখন বন্দি থাকা বা অন্য কোনো কারণে পানি না পাওয়া যায়, অথবা পানি ব্যবহার করলে কিংবা পানি অনুসন্ধান করতে গেলে শরীর বা সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
اَوْ غَيرهمَا وَيفْعل عَن كل مَا يفعل بِالْمَاءِ سوى نَجَاسَة على غير بدن اذا دخل وَقت فرض وابيح غَيره
وان وجد مَاء لَا يَكْفِي طَهَارَته اسْتَعْملهُ ثمَّ تيَمّم
وَيتَيَمَّم للجرح عِنْد غسله ان لم يُمكن مَسحه بِالْمَاءِ وَيغسل الصَّحِيح
وَطلب المَاء شَرط فان نسي قدرته عَلَيْهِ وَتيَمّم اعاد
অথবা এ দুটি ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা। আর শরীর ব্যতীত অন্য কোনো স্থান হতে নাপাকি দূর করা ছাড়া পানির দ্বারা যা কিছু করা যায়, তার সবকিছুই তায়াম্মুমের মাধ্যমে করা যাবে; যখন ফরযের ওয়াক্ত শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ও বৈধ হবে।
আর যদি সে এমন পানি পায় যা তার পবিত্রতার জন্য পর্যাপ্ত নয়, তবে সে তা ব্যবহার করবে এবং এরপর তায়াম্মুম করবে।
ক্ষতস্থান ধোয়ার সময় যদি পানি দিয়ে মাসেহ করা সম্ভব না হয়, তবে ক্ষতের জন্য সে তায়াম্মুম করবে এবং সুস্থ অংশগুলো ধৌত করবে।
পানি অন্বেষণ করা একটি শর্ত; সুতরাং সে যদি পানির ওপর নিজ সক্ষমতার কথা ভুলে গিয়ে তায়াম্মুম করে, তবে তাকে পুনরায় তা আদায় করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وفروضه مسح وَجهه وَيَديه الى كوعيه وَفِي اصغر تَرْتِيب وموالاة ايضا
وَنِيَّة الاستباحة شَرط لما يتَيَمَّم لَهُ وَلَا يُصَلِّي بِهِ فرضا ان نوى نفلا اَوْ اطلق
وَيبْطل بِخُرُوج الْوَقْت ومبطلات الْوضُوء وبوجود مَاء ان تيَمّم لفقده وَسن لراجيه تاخير لاخر وَقت مُخْتَار
وَمن عدم المَاء وَالتُّرَاب اَوْ لم يُمكنهُ استعمالهما صلى الْفَرْض فَقَط على حسب حَاله وَلَا اعادة ويقتصر على مجزىء وَلَا يقرا فِي غير صَلَاة ان كَانَ جنبا
فصلتطهر ارْض وَنَحْوهَا بازالة عين النَّجَاسَة واثرها بِالْمَاءِ وَبَوْل غُلَام لم ياكل طَعَاما بِشَهْوَة وقيئه بغمره بِهِ وَغَيرهمَا بِسبع
তায়াম্মুমের ফরযসমূহ হলো—মুখমণ্ডল মাসাহ করা এবং কবজি পর্যন্ত দুই হাত মাসাহ করা। আর ছোট অপবিত্রতার (অজু ভঙ্গের) ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা এবং নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষা করাও ফরয।
যার উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করা হচ্ছে, তা বৈধ হওয়ার নিয়ত করা শর্ত। যদি কেউ নফল নামাজের নিয়ত করে অথবা কোনো নির্দিষ্ট নিয়ত না করে সাধারণ নিয়ত করে, তবে তা দ্বারা ফরয নামাজ আদায় করা যাবে না।
ওয়াক্ত শেষ হলে, অজুর ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ পাওয়া গেলে এবং পানির অভাবে তায়াম্মুম করে থাকলে পানি পাওয়া গেলে তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি ওয়াক্তের মধ্যে পানি পাওয়ার আশা রাখে, তার জন্য পছন্দনীয় (মুখতার) ওয়াক্তের শেষ সময় পর্যন্ত নামাজ বিলম্ব করা সুন্নাত।
যে ব্যক্তি পানি ও মাটি উভয়ই পাবে না অথবা উভয়টির কোনোটিই ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না, সে তার উপস্থিত অবস্থা অনুযায়ী কেবল ফরয নামাজ আদায় করবে এবং তা পুনরায় আদায় করতে হবে না। সে কেবল নামাজের অপরিহার্য (ন্যূনতম) কার্যাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং যদি সে বড় নাপাক (জানাবাত) অবস্থায় থাকে, তবে নামাজ ছাড়া অন্য অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করবে না।
পরিচ্ছেদজমিন বা এই জাতীয় বস্তু পবিত্র হয় পানির মাধ্যমে নাপাকির মূল বস্তু ও তার চিহ্ন দূর করার দ্বারা। আর এমন নাবালক ছেলের প্রস্রাব ও বমি—যে এখনো আগ্রহের সাথে খাবার খাওয়া শুরু করেনি—তা পবিত্র হয় তার ওপর পানি প্রবাহিত করে দেওয়ার মাধ্যমে। এছাড়া অন্য সব নাপাকি সাতবার ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্র হয়।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০১)
غسلات احدها بِتُرَاب وَنَحْوه فِي نَجَاسَة كلب وخنزير فَقَط مَعَ زَوَالهَا وَلَا يضر بَقَاء لون اَوْ ريح اَوْ هما عَجزا وتطهر خمرة انقلبت بِنَفسِهَا خلا وَكَذَا دنها لادهن ومتشرب نَجَاسَة وعفي فِي غير مَائِع ومطعوم عَن يسير دم نجس وَنَحْوه من حَيَوَان طَاهِر لَا دم سَبِيل الا من حيض وَمَا لَا نفس لَهُ سَائِلَة وقمل وبراغيث وبعوض وَنَحْوهَا طَاهِرَة مُطلقًا ومائع مُسكر وَمَا لَا 2 يُؤْكَل من طير وبهائم مِمَّا فَوق الهر خلقَة وَلبن ومني من غير ادمي وَبَوْل وروث وَنَحْوهَا من غير ماكول اللَّحْم نَجِسَة وَمِنْه طَاهِرَة كمما لَا دم لَهُ سَائل ويعفى عَن يسير طين شَارِع عرفا ان علمت نَجَاسَته والا فطاهر
ধৌতকরণসমূহ, যার একটি হবে মাটি বা তৎসদৃশ বস্তু দ্বারা, তা কেবল কুকুর ও শূকরের অপবিত্রতার ক্ষেত্রে, মূল অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়ার সাথে সাথে। আর অপারগতার কারণে বর্ণ অথবা গন্ধ অথবা উভয়টি অবশিষ্ট থাকা ক্ষতিকর নয়। এবং মদ যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিরকায় রূপান্তরিত হয় তবে তা পবিত্র হয়ে যায়; অনুরূপভাবে তার পাত্রটিও (পবিত্র হবে), তবে তৈলাক্ত দ্রব্য এবং অপবিত্রতা শোষণকারী বস্তুর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এবং তরল পদার্থ ও খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে পবিত্র প্রাণীর সামান্য পরিমাণ অপবিত্র রক্ত ও তৎসদৃশ বিষয় ক্ষমাযোগ্য; তবে নির্গমন পথ দিয়ে নির্গত রক্ত নয়, ঋতুস্রাব ব্যতীত। আর প্রবাহিত রক্তহীন প্রাণী এবং উকুন, মাছি, মশা ও অনুরূপ পতঙ্গসমূহ নিরঙ্কুশভাবে পবিত্র। আর তরল মাদকদ্রব্য, এবং বিড়ালের চেয়ে বড় আকৃতির অখাদ্য পাখি ও চতুষ্পদ জন্তু, আর মানুষ ব্যতীত অন্য প্রাণীর দুধ ও বীর্য, এবং ভক্ষণযোগ্য নয় এমন প্রাণীর প্রস্রাব, বিষ্ঠা ও অনুরূপ বস্তুসমূহ অপবিত্র। আর এর মধ্যে যা প্রবাহিত রক্তহীন তা পবিত্র। আর প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী রাস্তার সামান্য কাদা ক্ষমাযোগ্য যদি তার অপবিত্রতা নিশ্চিতভাবে জানা থাকে, অন্যথায় তা পবিত্র হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০২)
فصل فِي الْحيضلَا حيض مَعَ حمل وَلَا بعد خمسين سنة وَلَا قبل تَمام تسع سِنِين
واقله يَوْم وَلَيْلَة واكثره خَمْسَة عشر وغالبه سِتّ اَوْ سبع واقل طهر بَين حيضتين ثَلَاثَة عشر وَلَا حد لاكثره وَحرم عَلَيْهَا فعل صَلَاة وَصَوْم ويلزمها قَضَاؤُهُ
وَيجب بِوَطْئِهَا فِي الْفرج دِينَار اَوْ نصفه كَفَّارَة وتباح الْمُبَاشرَة فِيمَا دونه
ঋতুস্রাব সংক্রান্ত পরিচ্ছেদগর্ভকালীন অবস্থায় কোনো ঋতুস্রাব হয় না, পঞ্চাশ বছর বয়সের পরে হয় না এবং নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেও হয় না।
এর সর্বনিম্ন মেয়াদ একদিন ও একরাত এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ পনেরো দিন। এর সাধারণ মেয়াদ ছয় অথবা সাত দিন। দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ তেরো দিন এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ঋতুবতী মহিলার জন্য সালাত আদায় করা এবং সিয়াম পালন করা হারাম এবং তার ওপর (সিয়ামের) কাযা করা আবশ্যক।
যোনিপথে সহবাস করার কারণে কাফফারা হিসেবে এক দিনার অথবা অর্ধেক দিনার প্রদান করা ওয়াজিব এবং যোনিপথ ব্যতীত শরীরের অন্যান্য অঙ্গের সাথে মেলামেশা করা বৈধ।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
والمبتداة تجْلِس اقله ثمَّ تَغْتَسِل وَتصلي فان لم يُجَاوز دَمهَا اكثره اغْتَسَلت ايضا اذا انْقَطع فان تكَرر ثَلَاثًا فَهُوَ حيض تقضي مَا
এবং প্রথম ঋতুবতী নারী তার সর্বনিম্ন সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, অতঃপর সে গোসল করবে ও নামায পড়বে। যদি তার রক্তস্রাব এর সর্বোচ্চ সময়কে অতিক্রম না করে, তবে রক্ত বন্ধ হওয়ার পর সে পুনরায় গোসল করবে। অতঃপর যদি তা তিনবার পুনরাবৃত্ত হয়, তবে তা ঋতু; সে কাযা করবে যা...
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
وَجب فِيهِ وان ايست قبله اَوْ لم يعد فَلَا وان جاوزه فمستحاضة تجْلِس المتميز ان كَانَ وَصلح فِي الشَّهْر الثَّانِي والا اقل الْحيض حَتَّى تَتَكَرَّر استحاضتها ثمَّ غالبه
ومستحاضة مُعْتَادَة تقدم عَادَتهَا ويلزمها وَنَحْوهَا غسل الْمحل وعصبه وَالْوُضُوء لكل صَلَاة ان خرج شَيْء وَنِيَّة الاستباحة وَحرم وَطْؤُهَا الا مَعَ خوف زنا
واكثر مُدَّة النّفاس اربعون يَوْمًا والنقاء زَمَنه طهر يكره الْوَطْء فِيهِ وَهُوَ كحيض فِي احكامه غير عدَّة وبلوغ
তাতে ওয়াজিব হবে। আর যদি সে এর পূর্বে নিরাশ হয়ে যায় অথবা তা ফিরে না আসে, তবে তা নয়। আর যদি তা (সর্বোচ্চ সময়সীমা) অতিক্রম করে যায়, তবে সে মুস্তাহাযা (প্রদরগ্রস্ত)। যদি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রক্ত বিদ্যমান থাকে এবং দ্বিতীয় মাসে তা সঠিক সাব্যস্ত হয়, তবে সে সেই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অপেক্ষা করবে; অন্যথায় সে হায়যের সর্বনিম্ন সময়কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে যতক্ষণ না তার ইস্তিহাযার পুনরাবৃত্তি ঘটে, অতঃপর হায়যের সাধারণ সময়কাল অনুসরণ করবে।
আর নিয়মিত অভ্যাস থাকা মুস্তাহাযা নারী তার অভ্যাসকে প্রাধান্য দিবে। তার জন্য এবং তার অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য আক্রান্ত স্থান ধৌত করা, তা পট্টি দিয়ে বেঁধে রাখা, কোনো কিছু নির্গত হলে প্রতিটি সালাতের জন্য অযু করা এবং সালাত বৈধ হওয়ার নিয়ত করা আবশ্যক। ব্যভিচারের আশঙ্কা না থাকলে তার সাথে সহবাস করা হারাম।
নিফাসের সর্বোচ্চ সময়কাল চল্লিশ দিন। এই সময়ের মাঝে রক্ত বন্ধ থাকা পবিত্রতা হিসেবে গণ্য, তবে সেই অবস্থায় সহবাস করা মাকরূহ। বিধানাবলির ক্ষেত্রে নিফাস হায়যের মতোই, তবে ইদ্দত পালন এবং বালেগ হওয়া বা বয়ঃসন্ধি সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
= كتاب الصَّلَاة =
تجب الْخمس على كل مُسلم مُكَلّف الا حَائِضًا ونفساء وَلَا تصح من مَجْنُون وَلَا صَغِير غير مُمَيّز وعَلى وليه امْرَهْ بهَا لسبع وضربه على تَركهَا لعشر وَيحرم تَأْخِيرهَا الى وَقت الضَّرُورَة الا مِمَّن لَهُ الْجمع بنيته ومشتغل بِشَرْط لَهَا يحصل قَرِيبا وجاحدها كَافِر
فصلالآذان والاقامة فرضا كِفَايَة على الرِّجَال الاحرار المقيمين للخمس المؤداة وَالْجُمُعَة
وَلَا يَصح الا مُرَتبا متواليا منويا من ذكر مُمَيّز عدل وَلَو ظَاهرا
= সালাত অধ্যায় =
ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত নারী ব্যতীত প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে সক্ষম) মুসলিমের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। পাগল এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন শিশুর পক্ষ থেকে এটি শুদ্ধ হবে না। সাত বছর বয়স হলে শিশুকে সালাতের আদেশ দেওয়া এবং দশ বছর বয়সে তা ত্যাগ করলে তাকে প্রহার করা অভিভাবকের ওপর আবশ্যক। সালাতকে জরুরতের সময় (জরুরি সময়) পর্যন্ত বিলম্ব করা হারাম; তবে তার জন্য বৈধ যে জমার (সালাত একত্রিত করার) নিয়ত করেছে অথবা সালাতের এমন কোনো শর্ত পূরণে ব্যস্ত যা অচিরেই অর্জিত হবে। আর সালাত অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির।
পরিচ্ছেদআযান ও ইকামত হলো ফরজে কিফায়া; যা স্বাধীন, মুকীম (নিবাসী) পুরুষদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত আদায়কৃত সালাত এবং জুমুআর জন্য প্রযোজ্য।
আর এটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিরতিহীন হওয়া, নিয়ত করা এবং কোনো সমঝদার (বিবেচনাবোধ সম্পন্ন) ও আপাতদৃষ্টিতে ন্যায়পরায়ণ পুরুষের পক্ষ থেকে হওয়া ছাড়া শুদ্ধ হবে না।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
وَبعد الْوَقْت لغير فجر وَسن كَونه صيتًا امينا عَالما بِالْوَقْتِ
وَمن جمع اَوْ قضى فوائت اذن للاولى واقام لكل صَلَاة
وَسن لمؤذن وسامعه مُتَابعَة قَوْله سرا الا فِي الحيعلة فَيَقُول الحوقلة وَفِي التثويب صدقت وبررت وَالصَّلَاة على النَّبِي عليه السلام بعد فَرَاغه وَقَول مَا ورد وَالدُّعَاء
وَحرم خُرُوج من مَسْجِد بعده بِلَا عذر اَوْ نِيَّة رُجُوع
فصل شُرُوط صِحَة الصَّلَاةسِتَّة طَهَارَة الْحَدث وَتَقَدَّمت وَدخُول الْوَقْت فوقت الظّهْر من الزَّوَال
এবং ফজর ব্যতীত অন্য সালাতের ক্ষেত্রে ওয়াক্ত হওয়ার পর (আযান দেওয়া)। মুয়াজ্জিন উচ্চকণ্ঠী, বিশ্বস্ত এবং সময় সম্পর্কে অবগত হওয়া সুন্নত।
যে ব্যক্তি সালাতসমূহকে একত্রিত করবে অথবা কাজা সালাতসমূহ আদায় করবে, সে প্রথম সালাতের জন্য আযান দিবে এবং প্রতিটি সালাতের জন্য ইকামত দিবে।
মুয়াজ্জিন এবং আযান শ্রবণকারীর জন্য সুন্নত হলো মনে মনে তার (আযানের বাক্যের) অনুসরণ করা, তবে 'সালাতের দিকে এসো' ও 'কল্যাণের দিকে এসো' বলার সময় 'আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই' বলবে এবং ফজরের আযানে অতিরিক্ত বাক্যের জবাবে 'আপনি সত্য বলেছেন এবং পুণ্যময় কাজ করেছেন' বলবে। আযান শেষ করার পর নবীর (আলাইহিস সালাম) ওপর দরুদ পাঠ করা, বর্ণিত দোয়া পাঠ এবং প্রার্থনা করাও সুন্নত।
আযানের পর কোনো ওজর ছাড়া কিংবা পুনরায় ফিরে আসার নিয়ত ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হওয়া হারাম।
পরিচ্ছেদ: সালাত সহীহ হওয়ার শর্তাবলিশর্তসমূহ ছয়টি: অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন—যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং ওয়াক্ত শুরু হওয়া। সুতরাং যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার পর থেকে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
حَتَّى يتساوى منتصب وفيؤه سوى ظلّ الزَّوَال ويليه الْمُخْتَار للعصر حَتَّى يصير ظلّ كل شَيْء مثلَيْهِ سوى ظلّ الزَّوَال والضرورة الى الْغُرُوب ويليه الْمغرب حَتَّى يغيب الشَّفق الاحمر ويليه الْمُخْتَار للعشاء الى ثلث اللَّيْل الاول والضرورة الى طُلُوع فجر ثَان ويليه الْفجْر الى الشروق
وتدرك مَكْتُوبَة باحرام فِي وَقتهَا لَكِن يحرم تاخيرها الى وَقت لَا يَسعهَا وَلَا يُصَلِّي حَتَّى يتيقنه اَوْ يغلب على ظَنّه دُخُوله ان عجز عَن الْيَقِين وَيُعِيد ان أَخطَأ
যতক্ষণ না কোনো দণ্ডায়মান বস্তু এবং তার ছায়া সমান হয় যাওয়ালের ছায়া ব্যতীত; এরপর আসরের পছন্দনীয় সময় যতক্ষণ না প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয় যাওয়ালের ছায়া ব্যতীত, আর জরুরি সময় সূর্যাস্ত পর্যন্ত; এরপর মাগরিবের সময় যতক্ষণ না লাল আভা অদৃশ্য হয়; এরপর এশার পছন্দনীয় সময় রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এবং জরুরি সময় দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত; অতঃপর ফজরের সময় সূর্যোদয় পর্যন্ত।
আর নির্ধারিত ফরয সালাত তার ওয়াক্তের মধ্যে ইহরামের (তাকবীরে তাহরিমার) মাধ্যমে পাওয়া যায়; তবে তা এমন সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা হারাম যাতে সালাতটি সম্পন্ন করার অবকাশ থাকে না। আর সে সালাত আদায় করবে না যতক্ষণ না ওয়াক্ত প্রবেশের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় অথবা প্রবল ধারণা লাভ করে যদি সে নিশ্চিত হতে অক্ষম হয়; আর যদি ভুল করে তবে তা পুনরায় আদায় করবে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وَمن صَار اهلا لوُجُوبهَا قبل خُرُوج وَقتهَا بتكبيرة لَزِمته وَمَا يجمع اليها قبلهَا وَيجب فَوْرًا قَضَاء فوائت مُرَتبا مَا لم يتَضَرَّر اَوْ ينس اويخش فَوت حَاضِرَة اَوْ اخْتِيَارهَا
الثَّالِث ستر الْعَوْرَة وَيجب حَتَّى خَارِجهَا وَفِي خلْوَة وظلمة بِمَا لَا يصف الْبشرَة
وعورة رجل وحرة مراهقة وامة مَا بَين سرة وركبة وَابْن سبع الى عشر الفرجان وكل الْحرَّة عَورَة الا وَجههَا فِي الصَّلَاة
وَمن انْكَشَفَ بعض عَوْرَته وفحش اوصلى فِي نجس اَوْ غصب ثوبا اَوْ بقْعَة اعاد لَا من حبس فِي مَحل نجس اَوْ غصب لَا يُمكنهُ الْخُرُوج مِنْهُ
আর যে ব্যক্তি কোনো সালাতের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে অন্তত এক তাকবীর পরিমাণ সময় থাকতে তা আদায়ের উপযুক্ত হয়, তার ওপর সেই সালাত এবং তার আগের যে সালাতটি এর সাথে জমা করা যায়, তা আবশ্যক হয়ে যায়। আর ছুটে যাওয়া সালাতগুলোর কাজা ক্রমানুসারে অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না এতে কোনো শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে অথবা ব্যক্তি ভুলে যায় অথবা বর্তমান ওয়াক্তের সালাত বা এর পছন্দনীয় (ইখতিয়ারি) ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তৃতীয় শর্ত হলো সতর ঢাকা। এটি সালাতের বাইরেও ওয়াজিব এবং এমনকি নির্জনে ও অন্ধকারেও এমন পোশাক দ্বারা ঢাকা ওয়াজিব যা চামড়ার বর্ণ প্রকাশ করে না।
পুরুষ, বয়ঃসন্ধির নিকটবর্তী স্বাধীন নারী এবং দাসীর সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। আর সাত থেকে দশ বছর বয়সী বালকের সতর হলো কেবল দুটি গুপ্তাঙ্গ। আর সালাতের মধ্যে মুখমণ্ডল ব্যতীত স্বাধীন নারীর পুরো দেহই সতর।
যার সতরের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং তা পরিমাণে বেশি হয়, অথবা যে ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় সালাত আদায় করে, কিংবা কোনো পোশাক বা স্থান জবরদখল করে তাতে সালাত পড়ে, তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে। তবে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে পুনরায় সালাত আদায়ের প্রয়োজন নেই যাকে কোনো নাপাক স্থানে বা জবরদখলকৃত জায়গায় বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং যেখান থেকে বের হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
الرَّابِع اجْتِنَاب نَجَاسَة غير مَعْفُو عَنْهَا فِي بدن وثوب وبقعة مَعَ الْقُدْرَة
وَمن جبر عَظمَة اَوْ خاطه بِنَجس وتضرر بقلعه لم يجب وَيتَيَمَّم ان لم يغطه اللَّحْم
2 - وَلَا تصح بِلَا عذر فِي مَقْبرَة وخلاء وحمام واعطان ابل ومجزرة ومزبلة وقارعة طَرِيق وَلَا فِي اسطحتها
الْخَامِس اسْتِقْبَال الْقبْلَة وَلَا تصح بِدُونِهِ الا لعاجز ومتنفل فِي سفر مُبَاح وَفرض قريب مِنْهَا اصابة عينهَا وبعيد جِهَتهَا وَيعْمل وجوبا بِخَبَر ثِقَة بِيَقِين وبمحاريب الْمُسلمين وان اشتبهت فِي السّفر
চতুর্থটি হলো সামর্থ্য থাকা অবস্থায় শরীর, কাপড় এবং স্থানে ক্ষমা অযোগ্য অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকা।
যে ব্যক্তি নিজের হাড় কোনো অপবিত্র বস্তু দিয়ে জোড়া দিল অথবা তা অপবিত্র সুতো দিয়ে সেলাই করল এবং তা সরিয়ে ফেলা ক্ষতিকারক হয়, তবে তা সরানো আবশ্যক নয়। আর যদি তা গোশত দ্বারা আবৃত না হয়, তবে সে তায়াম্মুম করবে।
২ - আর কোনো ওজর ছাড়া কবরাস্থান, শৌচাগার, গোসলখানা, উট বসার স্থান, কসাইখানা, ময়লা ফেলার স্থান এবং রাস্তার মাঝে সালাত সহীহ হবে না, এমনকি এগুলোর ছাদের উপরেও নয়।
পঞ্চমটি হলো কিবলামুখী হওয়া। অক্ষম ব্যক্তি এবং বৈধ সফরে নফল সালাত আদায়কারী ছাড়া এটি ব্যতীত সালাত সহীহ হবে না। কিবলার নিকটবর্তী ব্যক্তির জন্য সরাসরি কিবলার দিক নিশ্চিত করা এবং দূরবর্তী ব্যক্তির জন্য কিবলার সাধারণ দিক অনুসরণ করা ফরজ। নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির নিশ্চিত সংবাদের ভিত্তিতে এবং মুসলমানদের মিহরাব অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব, যদিও সফরে কিবলার দিক নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১১০)
اجْتهد عَارِف بادلتها وقلد غَيره وان صلى بِلَا احدهما مَعَ الْقُدْرَة قضى مُطلقًا
السَّادِس النِّيَّة فَيجب تعْيين مُعينَة وَسن مقارنتها لتكبيرة احرام وَلَا يضر تَقْدِيمهَا عَلَيْهَا بِيَسِير
وَشرط نِيَّة امامة وائتمام ولمؤتم انْفِرَاد لعذر وَتبطل صلَاته بِبُطْلَان صَلَاة امامه لَا عَكسه ان نوى امام الِانْفِرَاد
যে ব্যক্তি এর (কিবলার) দলীলসমূহ সম্পর্কে অবগত সে ইজতিহাদ করবে এবং অন্যজন তাকে অনুসরণ (তাকলিদ) করবে। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ এই দুইটির কোনোটি ছাড়াই সালাত আদায় করে, তবে তাকে সর্বাবস্থায় তা পুনরায় আদায় (কাযা) করতে হবে।
ষষ্ঠ (শর্ত) হলো নিয়ত। সুতরাং সুনির্দিষ্ট সালাতের জন্য তা নির্দিষ্ট করা ওয়াজিব। তাকবিরে তাহরিমার সাথে নিয়তকে যুক্ত করা সুন্নাত এবং তাকবিরের সামান্য পূর্বে নিয়ত করলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।
ইমামতি এবং মুক্তাদি হওয়ার নিয়ত করা শর্ত। ওজর বা সংগত কারণে মুক্তাদির জন্য জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী হওয়ার অনুমতি রয়েছে। ইমামের সালাত বাতিল হয়ে গেলে মুক্তাদির সালাতও বাতিল হয়ে যাবে, তবে ইমাম যদি একাকী হওয়ার নিয়ত করেন তবে এর ব্যতিক্রম হবে।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১১১)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَاب صفة الصَّلَاة صلى الله عليه وسلم َ -
يسن خُرُوجه اليها متطهرا بسكينة ووقار مَعَ قَول مَا ورد وَقيام امام فَغير مُقيم اليها عِنْد قَول مُقيم قد قَامَت الصَّلَاة فَيَقُول الله اكبر وهوقائم فِي فرض رَافعا يَدَيْهِ الى حَذْو مَنْكِبَيْه ثمَّ يقبض بيمناه كوع يسراه ويجعلهما تَحت سرته وَينظر مَسْجده فِي كل صلَاته ثمَّ يَقُول سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِك وتبارك اسْمك وَتَعَالَى جدك وَلَا اله غَيْرك ثمَّ يستعيذ ثمَّ يبسمل سرا ثمَّ يقرا الْفَاتِحَة مرتبَة مُتَوَالِيَة وفيهَا احدى عشر تشديدة واذا فرغ قَالَ امين يجْهر بهَا امام وماموم مَعًا فِي جهرية وَغَيرهمَا فِيمَا يجْهر
- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - অধ্যায়: সালাতের পদ্ধতি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -
সালাতের উদ্দেশ্যে পবিত্র অবস্থায় প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে বের হওয়া এবং বর্ণিত দুআসমূহ পাঠ করা সুন্নাত। ইকামত দানকারী যখন ‘সালাত দাঁড়িয়ে গেছে’ বলবে, তখন ইমাম ও মুক্তাদীদের সালাতের জন্য দাঁড়ানো। অতঃপর তিনি ফরজ সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় তার উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন। এরপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরবেন এবং উভয় হাত নাভির নিচে রাখবেন। পুরো সালাত জুড়ে তিনি তার সিজদার জায়গার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবেন। অতঃপর পাঠ করবেন: ‘হে আল্লাহ! আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’। এরপর নিঃশব্দে আউযুবিল্লাহ এবং তারপর বিসমিল্লাহ পাঠ করবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন, যাতে এগারোটি তাশদীদ রয়েছে। কিরাত শেষ হলে ‘আমীন’ বলবেন; সশব্দ কিরাতের সালাতে এবং এছাড়া অন্য যেগুলোতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া হয়, সেখানে ইমাম ও মুক্তাদি একত্রে উচ্চস্বরে তা বলবেন।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১১২)
فِيهِ وَيسن جهر إِمَام بِقِرَاءَة صبح وجمعة وَعِيد وكسوف واستسقاء واواليي مغرب وعشاء وَيكرهُ لماموم وَيُخَير مُنْفَرد وَنَحْوه ثمَّ يقرا بعْدهَا سُورَة فِي الصُّبْح من طوال الْمفصل وَالْمغْرب من قصاره وَالْبَاقِي من اوساطه ثمَّ يرْكَع مكبرا رَافعا يَدَيْهِ ثمَّ يضعهما على رُكْبَتَيْهِ مفرجتي الاصابع وَيُسَوِّي ظَهره وَيَقُول سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيم ثَلَاثًا وَهُوَ ادنى الْكَمَال ثمَّ يرفع راسه وَيَديه مَعًا قائلاسمع الله لمن حمدا وَبعده رَبنَا وَلَك الْحَمد وَبعد انتصابه رَبنَا وَلَك الْحَمد ملْء السَّمَاء وملء الأَرْض وملء مَا شِئْت من شَيْء بعد وماموم رَبنَا وَلَك الْحَمد فَقَط ثمَّ يكبر وَيسْجد على الاعضاء السَّبْعَة فَيَضَع رُكْبَتَيْهِ ثمَّ يَدَيْهِ ثمَّ جَبهته وانفه
وَسن كَونه على اطراف اصابعه ومجافاة عضديه عَن جَنْبَيْهِ وبطنه عَن فَخذيهِ وتفرقة رُكْبَتَيْهِ وَيَقُول سُبْحَانَ رَبِّي الاعلى
এতে ফজর, জুমা, ঈদ, সূর্যগ্রহণ ও বৃষ্টির প্রার্থনার নামাজে এবং মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাতে ইমামের জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করা সুন্নত। আর মুক্তাদির জন্য তা মাকরূহ এবং একাকী নামাজ আদায়কারী ও তদ্রূপ ব্যক্তিদের জন্য স্বাধীনতা রয়েছে। অতঃপর কিরাতের পর ফজরের নামাজে দীর্ঘ মুফাসসাল সুরাসমূহ থেকে, মাগরিবে সংক্ষিপ্ত মুফাসসাল থেকে এবং বাকিগুলোতে মধ্যম পর্যায়ের মুফাসসাল থেকে পাঠ করবেন। এরপর তাকবির বলে ও উভয় হাত উত্তোলন করে রুকু করবেন, অতঃপর উভয় হাত আঙ্গুলসমূহ প্রসারিত রাখা অবস্থায় হাঁটুর ওপর রাখবেন এবং পিঠ সোজা করবেন এবং তিনবার ‘পবিত্র আমার মহান প্রতিপালক’ বলবেন, যা পূর্ণতার সর্বনিম্ন পর্যায়। অতঃপর ‘আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শ্রবণ করেন যে তাঁর প্রশংসা করে’ বলতে বলতে মাথা ও উভয় হাত একসাথে তুলবেন এবং এরপর ‘হে আমাদের প্রতিপালক, সকল প্রশংসা আপনারই জন্য’ বলবেন এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আকাশ পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান এমন কিছু পূর্ণ করে সকল প্রশংসা আপনারই জন্য’ বলবেন। আর মুক্তাদি কেবল ‘হে আমাদের প্রতিপালক, সকল প্রশংসা আপনারই জন্য’ বলবে। অতঃপর তাকবির দিয়ে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদাহ করবেন; প্রথমে উভয় হাঁটু রাখবেন, এরপর উভয় হাত, অতঃপর কপাল ও নাক।
আর পায়ের আঙ্গুলের ডগার ওপর ভর দিয়ে থাকা, উভয় বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখা, পেটকে ঊরুদ্বয় থেকে আলাদা রাখা এবং উভয় হাঁটু ফাঁকা রাখা সুন্নত এবং বলবেন ‘পবিত্র আমার অতি উচ্চ প্রতিপালক’।
(খণ্ড: ১)
আখছারুল মুখতাছারাত - ত: আল-আজমী - ত: ১
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
ثَلَاثًا وَهُوَ ادنى الْكَمَال ثمَّ يرفع مكبرا وَيجْلس مفترشا وَيَقُول رَبِّي اغْفِر لي ثَلَاثًا وَهُوَ اكمله وَيسْجد الثَّانِيَة كَذَلِك ثمَّ ينْهض مكبرا مُعْتَمدًا على رُكْبَتَيْهِ بيدَيْهِ فَأن شقّ فبالارض فياتي بِمِثْلِهَا غير النِّيَّة والتحريمة والاستفتاح والتعوذ ان كَانَ تعوذ ثمَّ يجلس مفترشا وَسن وضع يَدَيْهِ على فَخذيهِ وَقبض الْخِنْصر والبنصر من يمناه وتحليق ابهامها مَعَ الْوُسْطَى واشارته بسبابتها فِي تشهد وَدُعَاء عِنْد ذكر الله مُطلقًا وَبسط الْيُسْرَى ثمَّ يتَشَهَّد فَيَقُول التَّحِيَّات لله والصلوات والطيبات السَّلَام عَلَيْك ايها النَّبِي وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته السَّلَام علينا وعَلى عباد الله الصَّالِحين اشْهَدْ ان لَا اله الا الله واشهد ان مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله
তিনবার, যা পূর্ণতার সর্বনিম্ন পর্যায়। অতঃপর তাকবির পাঠরত অবস্থায় মাথা তুলবেন এবং ইফতিরাশ অবস্থায় বসবেন এবং বলবেন: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন’ তিনবার, যা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। এরপর দ্বিতীয় সিজদাও অনুরূপভাবে করবেন। অতঃপর তাকবির পাঠরত অবস্থায় দুই হাতের সাহায্যে হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াবেন। যদি কষ্টসাধ্য হয়, তবে জমিনের ওপর ভর দেবেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাকাতের মতোই দ্বিতীয় রাকাত সম্পাদন করবেন; তবে নিয়ত, তাহরিমা, ইস্তিফতাহ এবং তাআউউজ (যদি তিনি প্রথম রাকাতে তাআউউজ পড়ে থাকেন) ব্যতিরেকে। অতঃপর তিনি ইফতিরাশ অবস্থায় বসবেন। উভয় হাত দুই উরুর ওপর রাখা, ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করা, বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে বৃত্ত তৈরি করা এবং তাশাহহুদ ও দোয়ায় আল্লাহর জিকিরের সময় তর্জনী দিয়ে ইশারা করা সুন্নত। আর বাম হাতটি প্রসারিত করে রাখবেন। এরপর তাশাহহুদ পাঠ করবেন এবং বলবেন: যাবতীয় অভিবাদন, সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।