(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: -)
الجد الحثيث في بيان ما ليس بحديث   (أحمد العامري)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: الجد الحثيث في بيان ما ليس بحديث

المؤلف: أحمد بن عبد الكريم بن سعودي الغزي العامري (ت 1143هـ)

المحقق: بكر عبد الله أبو زيد

الناشر: دار الراية - الرياض

الطبعة: الأولى، 1412 هـ

عدد الصفحات: 269

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যা হাদিস নয় তা বর্ণনায় সনিষ্ঠ প্রচেষ্টা   (আহমদ আল-আমিরি)

বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী


বই: যা হাদিস নয় তা বর্ণনায় সনিষ্ঠ প্রচেষ্টা

লেখক: আহমদ বিন আব্দুল কারিম বিন সাউদি আল-গাজ্জি আল-আমিরি (মৃত্যু ১১৪৩ হিজরি)

সম্পাদক: বকর আব্দুল্লাহ আবু যাইদ

প্রকাশক: দারুর রায়াহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৯

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَزَّلَ الذِّكْرَ وَحَفِظَهُ عَلَى ممر الأَزْمَانِ فَقَيَّضَ لَهُ عُدُولا يَحْمِلُونَ الْعِلْمَ فِي كُلِّ عَصْرٍ وَأَوَانٍ لِيَنْفُوا عَنْهُ تَحْرِيفَ الْجَاهِلِينَ وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ وَغُلُوَّ الْغَالِينَ مِنْ أَهْلِ الْكَذِبِ وَالْهَوَانِ أَحْمَدُهُ عَلَى تَمَامِ الإِحْسَانِ وَأَشْكُرُهُ عَلَى كَمَالِ الامْتِنَانِ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ الْمَلِكُ الدَّيَّانُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَى الْخَلائِقِ أَمْلاكِهَا وَإِنْسِهَا وَالْجَانِّ صَلَّى اللَّهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَهْلِ الْجِدِّ وَالْعِرْفَانِ وَعَلَى التَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ مِنْ كُلِّ مَنْ حَفِظَ الشَّرِيعَةَ وَلَهَا صَانَ صَلاةً وَسَلامًا دَائِمَيْنِ مَا تَعَاقَبَ الْمَلَوَانِ وَتَتَابَعَ الْجَدِيدَانِ أَمَّا بَعْدُ فَلَمَّا كَانَ الْكِتَابُ الْمُسَمَّى بِ " إِتْقَانِ مَا يَحْسُنُ مِنَ الأَخْبَارِ الدَّائِرَةِ عَلَى الأَلْسُنِ " / لِجَدِّنَا شَيْخِ الإِسْلامِ نَجْمِ الدِّينِ الْغَزِّيِّ الْعَامِرِيِّ - سَقَى اللَّهُ ثَرَاهَ صَبِيبَ الرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ - كِتَابًا كَمُلَ فِي بَابِهِ وَفَاقَ عَلَى
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন এবং মহাকালের পরিক্রমায় তা সংরক্ষণ করেছেন। অতঃপর তিনি এর জন্য এমন একদল ন্যায়পরায়ণ উত্তরসূরি নির্ধারণ করেছেন যারা প্রতিটি যুগে ও কালে এই জ্ঞান বহন করেন, যাতে তারা তা থেকে মূর্খদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং মিথ্যা ও লাঞ্ছনার অনুসারী সীমালঙ্ঘনকারীদের অতিরঞ্জন দূর করতে পারেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর পূর্ণ অনুগ্রহের জন্য এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাঁর নিখুঁত মেহেরবানির জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি রাজাধিরাজ ও কর্মফলদাতা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং সকল সৃষ্টি—ফেরেশতা, মানুষ ও জিনের প্রতি প্রেরিত তাঁর রাসূল। আল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যারা ছিলেন নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। আরও সালাম বর্ষিত হোক নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর—যারা শরীয়তকে স্মরণ রেখেছেন এবং একে রক্ষা করেছেন। এমন দরুদ ও সালাম যা দিন ও রাতের আবর্তনে এবং দিবা-রাত্রির পরিক্রমায় চিরকাল অব্যাহত থাকে। অতঃপর, যেহেতু ‘ইতকান মা ইয়াহসুনু মিনাল আখবারিদ দায়িরাতি আলাল আলসুন’ নামক গ্রন্থটি—যা আমাদের পিতামহ শাইখুল ইসলাম নাজমুদ্দিন আল-গাজ্জি আল-আমেরি (আল্লাহ তাঁর কবরকে রহমত ও সন্তুষ্টির বারিধারায় সিক্ত করুন) কর্তৃক রচিত—এটি এমন এক কিতাব যা নিজ বিষয়ে পূর্ণতা পেয়েছে এবং শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أترابه يحتوي على بَيَان مَا دَار من الْأَحَادِيث عَلَى الأَلْسُنِ وَمَا يَصِحُّ فِيهَا وَمَا يَحْسُنُ وعَلى بَيَان مَا لم يرد عَن سَيِّدِ الْبَشَرِ لَكِنَّهُ وَرَدَ فِي الأَثَرِ وَمَا هُوَ كَذِبٌ وَمَوْضُوعٌ وَمُخْتَلَقٌ وَمَصْنُوعٌ أَحْبَبْتُ أَنْ أَنْتَقِيَ مِنْهُ الْقِسْمَيْنِ الأَخِيرَيْنِ أَعْنِي مَا وَرَدَ فِي الْأَثر وَمَا هُوَ كذب عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم ومَيْنٌ لِيُعْلَمَ أَنَّ مَا عَدَاهُمَا قَدْ وَرَدَ فِي السُّنَنِ غَيْرَ أَنَّهُ مُنْقَسِمٌ إِلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ وَحَسَنٍ فَهُوَ وَإِنْ لَمْ يَصِحُّ جُلُّهُ لَكِنَّهُ وَرَدَ فِي السُّنَّةِ كُلَّهُ فَوَضَعْتُ هَذَا الْجُزْءَ اللَّطِيفَ لِذَلِكَ وَإِنْ كُنْتُ لَسْتُ هُنَالِكَ وَلكنه من قبيل بذل الوسع والهمم والاقتداء بِالآبَاءِ فِي الْعِلْمِ وَالْحِكَمِ جَعَلَهُ اللَّهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسَبَبًا لِلْفَوْزِ بِالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ وَقَدْ وَسَمْتُهُ بِ " الْجِدُّ الْحَثِيثُ فِي بَيَانِ مَا لَيْسَ بِحَدِيث " ورتبته كالأصل عَلَى حُرُوفِ الْمُعْجَمِ لِتَسْهُلَ مُطَالَعَتُهُ وَتَقْرُبَ مُرَاجَعَتُهُ وَقَدْ وَافَقْتُ الأَصْلَ فِي مُصْطَلَحِهِ مِنْ أَنَّهُ إِذَا أَوْرَدَ حَدِيثًا مُرْسَلا أَوْ مَوْقُوفًا صَرَّحَ بإرساله أَو وَقفه أَوْ مُتَّصِلا مَرْفُوعًا اكْتَفَى بِذِكْرِ صَحَابِيِّهِ وَقَدِ ابْتَدَأْتُ فِي الْمَقْصُودِ / مُسْتَعِينًا بِالْمَلِكِ الْمَعْبُودِ سُبْحَانَهُ فَقلت

এর সমগোত্রীয় গ্রন্থগুলোতে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদিসসমূহ এবং তার মধ্য থেকে কোনটি সহীহ ও কোনটি হাসান, তার বিবরণ রয়েছে। পাশাপাশি এতে এমন সব বাণীরও বর্ণনা রয়েছে যা মানবজাতির সর্দার (রাসূলুল্লাহ ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়নি, বরং আছার হিসেবে বর্ণিত হয়েছে; এবং যা কিছু মিথ্যা, জাল, বানোয়াট ও কৃত্রিম। আমি সেখান থেকে শেষোক্ত দুই প্রকারকে নির্বাচন করতে পছন্দ করেছি; অর্থাৎ আছার হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামে যা মিথ্যা ও অপবাদ। যেন এটি জানা যায় যে, এই দুই প্রকার ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে, যদিও তা সহীহ, যঈফ এবং হাসান—এই তিন ভাগে বিভক্ত। সুতরাং যদিও এর অধিকাংশ সহীহ নয়, তবে এর পুরোটাই সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তাই আমি এই বিশেষ উদ্দেশ্যে এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি সংকলন করেছি, যদিও আমি সেই স্তরের কেউ নই। তবে এটি সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ যেন একে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং চিরস্থায়ী নেয়ামত লাভের কারণ বানান। আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-জিদ্দু আল-হাছিছ ফি বায়ানি মা লাইসা বি-হাদিস' এবং মূল গ্রন্থের ন্যায় একেও অভিধানের বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি যাতে এটি পাঠ করা সহজ হয় এবং তথ্য তালাশ করা সহজতর হয়। পরিভাষার ক্ষেত্রে আমি মূল গ্রন্থের অনুসরণ করেছি; যেমন—যখন কোনো মুরসাল বা মাওকুফ হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে, তখন তার মুরসাল বা মাওকুফ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আর যদি তা মুত্তাসিল মারফু হয়, তবে কেবল সাহাবীর নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। মহান মাবুদ ও অধিপতি সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করে আমি মূল উদ্দেশ্য শুরু করছি এবং বলছি:

(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
2 -‌‌ بَابُ الْهَمْزَةِ

 

1 - آخِرُ الطِّبِّ الْكَيُّ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ

2 - آيَةٌ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ

وُجِدَ بِخَطِّ بَعْضِهِمْ زَادَ فِيهِ " لأَنَّ الْقُرْآنَ كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ " وَلَمْ يَعْزُهُ إِلَى صَحَابِيٍّ وَمِثْلُهُ لَا يُعْتَمَدُ عَلَيْهِ
২ -‌‌ হামযাহ অধ্যায়

 

১ - চিকিৎসার সর্বশেষ পর্যায় হলো দাগ দেওয়া (বা সেঁক দেওয়া)

এটি কোনো হাদীস নয়

২ - আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ অপেক্ষা উত্তম

কারো কারো হস্তলিপিতে পাওয়া গিয়েছে যে, তিনি এতে বর্ধিত করেছেন: "কেননা কুরআন আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়।" তিনি একে কোনো সাহাবীর দিকে সম্বন্ধ করেননি এবং এই ধরনের বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যায় না।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
لَكِنْ أَخْرَجَ الدَّيْلَمِيُّ عَنْ عَلِيٍّ " الْقُرْآنُ أَفْضَلُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ دُونِ اللَّهِ " وَعَنْ أَنَسٍ " لَقِرَاءَةُ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِمَّا تَحْتَ الْعَرْشِ " وَالطَّبَرَانِيُّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ مَوْقُوفًا " كُلُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ خَيْرٌ مِمَّا فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ "

3 - الأَبُ أَحَقُّ بِالطَّاعَةِ وَالأُمُّ أَحَقُّ بِالْبِرِّ

هُوَ مِنْ كَلامِ ابْنِ الْمُبَارَكِ

4 - أَبَى اللَّهُ أَنْ يَصِحَّ إِلا كِتَابُهُ

لَا يُعْرَفُ لَكِنْ جَاءَ عَنِ الشَّافِعِيِّ لَقَدْ ألفت هَذِه الْكتب وَلم آل فِيهَا ولابد أَنْ يُوجَدَ فِيهَا الْخَطَأُ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النِّسَاء: 82]

5 - أَبْقِ لِلصُّلْحِ مَوْضِعًا

مِنْ كَلامِ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ فَعَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ كَانَ ابْنُ عَيَّاشٍ يَقَعُ فِي عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ فَلَقِيَهُ عُمَرُ فَقَالَ يَا هَذَا لَا تُفَرِّطْ فِي شَتْمِنَا وَأَبْقِ لِلصُّلْحِ مَوْضِعًا فَإِنَّا لَا نُكَافِئُ مَنْ عَصَى اللَّهَ فِينَا بِأَكْثَرَ مِنْ أَنْ نُطِيعَ اللَّهَ فِيهِ

6 - اتَّقِ شَرَّ مَنْ أَحْسَنْتَ إِلَيْهِ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ / لَكِنْ جَاءَ عَنْ
তবে দাইলামী আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, "আল্লাহ ব্যতীত প্রতিটি বস্তু অপেক্ষা কুরআন শ্রেষ্ঠ।" এবং আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, "আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত তিলাওয়াত করা আরশের নিচে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম।" এবং তাবারানী ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, "আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি আয়াত আসমান ও যমিনে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম।"

৩ - পিতা আনুগত্যের অধিক হকদার এবং মাতা সদাচরণের অধিক হকদার।

এটি ইবনুল মুবারকের উক্তি।

৪ - আল্লাহ স্বীয় কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব নির্ভুল হওয়াকে অস্বীকার করেছেন।

এটি (হাদীস হিসেবে) পরিচিত নয়, তবে শাফিঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "আমি এই কিতাবগুলো রচনা করেছি এবং এতে কোনো ত্রুটি করিনি, তবুও এতে অবশ্যই ভুল পাওয়া যাবে; কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত।} [আন-নিসা: ৮২]"

৫ - আপস-মীমাংসার জন্য অবকাশ রাখো।

এটি উমর ইবনে যর-এর উক্তি। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আইয়াশ উমর ইবনে যরকে গালি দিতেন। উমর তার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, "হে ব্যক্তি! আমাদের গালমন্দ করার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করো না এবং আপস-মীমাংসার জন্য অবকাশ রাখো। কেননা আমাদের ব্যাপারে যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্য হয়, আমরা তার সাথে আল্লাহর আনুগত্য করার চেয়ে বেশি কোনো প্রতিদান দিতে পারি না।"

৬ - তুমি যার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, তার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকো।

এটি কোনো হাদীস নয় / তবে বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ الْمُظَفَّرِيِّ اتَّقِ شَرَّ مَنْ يَصْحَبُكَ لِنَائِلَةٍ فَإِنَّهَا إِذَا انْقَطَعَتْ عَنْهُ لَمْ يَعْذُرْ وَلَمْ يُبَالِ مَا قَالَ وَمَا قِيلَ فِيهِ

7 - اتَّقُوا الْبَرْدَ فَإِنَّهُ قَتَلَ أَخَاكُمْ أَبَا الدَّرْدَاءِ

لَا يُعْرَفُ وَأَبُو الدَّرْدَاءِ عَاشَ بعد النَّبِي صلى الله عليه وسلم دَهْرًا

8 - اتَّقُوا ذَوِي الْعَاهَاتِ

لَمْ يُعْرَفْ هَكَذَا لَكِنْ فِي الْحَدِيثِ " اتَّقُوا الْمَجْذُومَ كَمَا يُتَّقَى الأَسَدُ " وَهَذَا وَنَحْوُهُ لِئَلا يَقَعَ الْمَرَضُ فَيُحَالَ عَلَى الْعَدْوَى لَا إِثْبَاتًا لَهَا فَلا يُنَافِي قَوْله صلى الله عليه وسلم " لاعدوى "
মুহাম্মদ ইবনে হাতিম আল-মুজাফফারি: তুমি সেই ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকো যে কোনো সুবিধা লাভের আশায় তোমার সঙ্গ দেয়; কারণ যখন সেই প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে যায়, তখন সে আর ছাড় দেয় না এবং সে নিজে কী বলছে বা তার সম্পর্কে কী বলা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো পরোয়া করে না।

৭ - তোমরা ঠাণ্ডা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা তোমাদের ভাই আবু দারদাকে হত্যা করেছে।

এটি (হাদিস হিসেবে) পরিচিত নয় এবং আবু দারদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন।

৮ - তোমরা শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিদের থেকে বেঁচে থাকো।

এটি এভাবে পরিচিত নয়, তবে হাদিসে এসেছে: "তোমরা কুষ্ঠরোগী থেকে সেভাবে বেঁচে থাকো যেভাবে সিংহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।" এটি এবং এই জাতীয় বক্তব্য এজন্য যাতে রোগাক্রান্ত হওয়ার পর তা সংক্রমণের (ছোঁয়াচে হওয়ার) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা না হয়, সংক্রমণের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য নয়; সুতরাং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী "সংক্রমণ বলতে কিছু নেই"-এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪০)
9 - اتَّقُوا مَوَاضِعَ التُّهَمِ

أَوْرَدَهُ فِي الإِحْيَاءِ حَدِيثًا وَقَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَجِدْ لَهُ أَصْلا انْتَهَى لَكِنْ جَاءَ فِي كَلامِ عُمَرَ رضي الله عنه مَنْ عَرَّضَ نَفْسَهُ لِلتُّهْمَةِ فَلا يَلُومَنَّ مَنْ أَسَاءَ بِهِ الظَّنَّ

10 - أَخِّرُوهِنَّ مِنْ حَيْثُ أَخَّرَهُنَّ اللَّهُ

أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ مَوْقُوفًا

11 - اخْشَوْشِنُوا وَتَمَعْدَدُوا وَاجْعَلُوا الرَّأْسَ رَأْسَيْنِ

جَاءَ عَنْ عُمَرَ مَوْقُوفًا
৯ - তোমরা অপবাদের ক্ষেত্রসমূহ থেকে বেঁচে থাকো।

তিনি একে 'ইহইয়া' গ্রন্থে হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আল-ইরাকি বলেছেন: আমি এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাইনি। সমাপ্ত। তবে উমর (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর বাণীতে এসেছে: "যে ব্যক্তি নিজেকে অপবাদের সম্মুখীন করে, সে যেন তাকে তিরস্কার না করে যে তার প্রতি কুধারণা পোষণ করে।"

১০ - তোমরা তাদের পেছনে রাখো যেখান থেকে আল্লাহ তাদের পেছনে রেখেছেন।

তাবারানি এটি ইবনে মাসউদ থেকে 'মাওকুফ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১১ - তোমরা কঠোর জীবনযাপন করো, মা'আদ গোত্রের মতো শক্তপোক্ত হও এবং মাথাকে দুই গুণ করো।

এটি উমর (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে 'মাওকুফ' সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَفِيهِ " وَإِيَّاكُمْ وَزِيَّ الأَعَاجِمِ " لَكِنْ رُوِيَ نَحْوُهُ مَرْفُوعًا

12 - أَخِفُّوا الْخِتَانَ وَأَعْلِنُوا النِّكَاحِ

لَا أَصْلَ لِلأَوَّلِ وَبَوَّبَ الْبُخَارِيُّ فِي الأَدَبِ الْمُفْرَدِ لِلدَّعْوَةِ فِي الْخِتَانِ وَلِلَّهْوِ فِيهِ وَذَكَرَ حَدِيثًا يَشْهَدُ لِلإِعْلانِ بِهِ وَنَقَلَ ابْنُ الْحَاجِّ أَنَّ الإِخْفَاءَ يَخْتَصُّ بِالنِّسَاءِ وَالْعُرْفُ عَلَيْهِ / وَلَكِنْ وَرَدَ عَنْ عَائِشَةَ إِظْهَارُهُ فِيهِنَّ - أَيْضًا -
এবং এতে রয়েছে "তোমরা অনারবদের বেশভূষা থেকে বেঁচে থাকো", তবে এর সদৃশ বর্ণনা মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

১২ - তোমরা খাতনা গোপন করো এবং বিবাহ ঘোষণা করো।

প্রথম অংশটির কোনো ভিত্তি নেই। ইমাম বুখারী 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ খাতনায় দাওয়াত প্রদান এবং তাতে আমোদ-প্রমোদের বিষয়ে অধ্যায় রচনা করেছেন এবং এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যা এটি ঘোষণা করার সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। ইবনুল হাজ্জ উল্লেখ করেছেন যে, গোপন রাখার বিষয়টি নারীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং প্রচলিত প্রথাও এর ওপর ভিত্তি করে। / তবে আয়েশা (রা.) থেকে তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রকাশ করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪২)
13 - ادْفَعِ الشَّكَّ بِالْيَقِينِ

جَاءَ فِي كَلامِ سُفْيَانَ الثَّوْرَيِّ وَيَجْرِي عَلَى أَلْسِنَةِ الْفُقَهَاءِ مِنْ قَوَاعِدِهِمْ وَلَيْسَ بِحَدِيثٍ لَكِنْ يَشْهَدُ لَهُ حَدِيثُ " دَعْ مَا يُرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يُرِيبُكَ "

14 - إِذَا أَكَلْتُمْ فَأَفْضِلُوا

قَالَ صَاحِبُ الأَصْلِ لَمْ أَجِدْهُ حَدِيثًا بَلْ فِي الْحَدِيثِ مَا يُعَارِضُهُ كَحَدِيثِ مُسلم عَن جَابر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِلَعْقِ الأَصَابِعِ وَالصَّحْفَةِ وَقَالَ " إِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ فِي أَيِّ طَعَامِكُمُ الْبَرَكَةُ "

15 - إِذَا جَاءَ الْقَضَاءُ ذَهَبَ الْبَصَرُ

هُوَ مِنْ كَلامِ ابْنِ عَبَّاس
১৩ - নিশ্চয়তা দ্বারা সন্দেহকে দূর করো।

এটি সুফিয়ান আস-সাওরীর বক্তব্যে এসেছে এবং ফকীহগণের মুখে তাঁদের আইনি মূলনীতি হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। এটি কোনো হাদিস নয়, তবে "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা ছেড়ে দিয়ে তাতে মনোনিবেশ করো যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না" হাদিসটি এর সাক্ষ্য দেয়।

১৪ - যখন তোমরা আহার করো, তখন কিছু অবশিষ্ট রাখো।

মূল গ্রন্থের লেখক বলেছেন, আমি এটিকে হাদিস হিসেবে পাইনি; বরং হাদিসে এর বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায়। যেমন জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত মুসলিমের হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আঙুল ও পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, "তোমরা জানো না তোমাদের খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে।"

১৫ - যখন তাকদির বা ফয়সালা আসে, তখন দৃষ্টিশক্তি চলে যায়।

এটি ইবনে আব্বাসের উক্তি।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
16 - إِذَا جُزْتَ يَا مُعَاذُ أَرْضَ الْحَصِيبَ - يَعْنِي مِنَ الْيَمَنِ - فَهَرْوِلْ فَإِنَّ بِهَا الْحُورَ الْعِينَ

لَا يُعْرَفُ

17 - إِذَا حَضَرَتِ الْمَلائِكَةُ هَرَبَتِ الشَّيَاطِينُ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ لَكِنْ
১৬ - হে মুয়াজ! যখন তুমি হাসিবের ভূমি অতিক্রম করবে—অর্থাৎ ইয়েমেনের—তখন দ্রুতবেগে চলবে, কেননা সেখানে ডাগরচোখা হুরগণ রয়েছে।

এটি পরিচিত নয়

১৭ - যখন ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন, তখন শয়তানরা পালিয়ে যায়।

এটি কোনো হাদিস নয়, তবে
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
فِي الْحَدِيثِ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَجْتَمِعُ مَعَ الْمَلَكِ وَهُوَ مَا صَحَّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رجلا سبّ أَبَا بكر - ر ضي الله عَنهُ - وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ لَا يَقُولُ شَيْئًا فَلَمَّا سَكَتَ ذَهَبَ أَبُو بكر يتَكَلَّم فَقَامَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَاتَّبَعَهُ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَانَ يَسُبُّنِي وَأَنْتَ جَالِسٌ فَلَمَّا ذَهَبْتُ / أَتَكَلَّمُ قُمْتَ قَالَ " إِنَّ الْمَلَكَ كَانَ يَرُدُّ عَنْكَ فَلَمَّا تَكَلَّمْتَ ذَهَبَ الْمَلَكُ وَوَقَعَ الشَّيْطَانُ فَكَرِهْتُ أَنْ أَجْلِسَ " وَفِي رِوَايَةٍ " فَلَمَّا انْتَصَرْتَ وَقَعَ الشَّيْطَانُ "

18 - إِذَا صَدَقَتِ الْمَحَبَّةُ سَقَطَتْ شُرُوطُ الأَدَبِ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ وَإِنَّمَا قَالَ الْجُنَيْدُ إِذَا صَحَّتِ الْمَحَبَّةُ سَقَطَ شَرْطُ الأَدَبِ وَفِي كَلامِ الْمُبَرِّدِ إِذَا صَحَّتِ الْمَوَدَّةُ سَقَطَ التَّكْلِيفُ وَالْعَمَلُ

19 - إِذَا صَلَّيْتُمْ فَعَمِّمُوا

لَا يُعْرَفُ لَكِنْ جَاءَ " صَلُّوا عَلَى النَّبِيِّينَ إِذَا ذَكَرْتُمُونِي فَإِنَّهُمْ بُعِثُوا كَمَا بعثت "
হাদীসে এমন বিষয়ের প্রমাণ রয়েছে যে, শয়তান ফেরেশতার সাথে একত্রিত হয় না। এটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে গালি দিচ্ছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসা ছিলেন ও কোনো কিছু বলছিলেন না। অতঃপর যখন সে ব্যক্তি চুপ হলো এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর অনুসরণ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমাকে গালি দিচ্ছিল আর আপনি বসে ছিলেন, কিন্তু যখন আমি কথা বলতে শুরু করলাম, তখন আপনি উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতা তোমার পক্ষ থেকে উত্তর দিচ্ছিল, কিন্তু যখন তুমি কথা বললে, তখন ফেরেশতা চলে গেল এবং শয়তান এসে পড়ল। তাই আমি বসা অপছন্দ করলাম।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, "যখন তুমি প্রতিশোধ নিলে, তখন শয়তান এসে পড়ল।"

১৮ - যখন ভালোবাসা সত্য হয়, তখন আদব বা শিষ্টাচারের শর্তসমূহ বিলুপ্ত হয়।

এটি হাদীস নয়, বরং জুনাইদ বলেছেন: যখন ভালোবাসা বিশুদ্ধ হয়, তখন আদবের শর্ত বিলুপ্ত হয়। আল-মুবাররিদের বক্তব্যে রয়েছে: যখন বন্ধুত্ব বিশুদ্ধ হয়, তখন লৌকিকতা ও কষ্টসাধ্য কাজ বিলুপ্ত হয়।

১৯ - যখন তোমরা দরূদ পাঠ করো, তখন তা সবার জন্য করো (অন্যান্য নবীদের অন্তর্ভুক্ত করো)।

এটি (হাদীস হিসেবে) পরিচিত নয়, তবে এমন বর্ণনা এসেছে: "যখন তোমরা আমাকে স্মরণ করো, তখন নবীদের ওপর দরূদ পাঠ করো, কেননা তাঁরাও প্রেরিত হয়েছিলেন যেভাবে আমি প্রেরিত হয়েছি।"
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
20 - إِذَا كَانَتِ الدُّنْيَا فِي بَلاءٍ وَقَحْطٍ كَانَتِ الشَّامُ فِي رَخَاءٍ وَعَافِيَةٍ

أَخْرَجَهُ ابْنُ عَسَاكِرَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الْمَلِكِ الْجَزَرِيِّ مِنْ قَوْلِهِ وَزَادَ وَإِذَا كَانَتِ الشَّامُ فِي بَلاءٍ وَقَحْطٍ كَانَتْ فِلَسْطِينُ فِي رَخَاءٍ وَعَافِيَةٍ وَإِذَا كَانَتْ فلسطين فِي بلَاء وقحط كَانَت بَيت الْمَقْدِسُ فِي رَخَاءٍ وَعَافِيَةٍ وَقَالَ الشَّامُ مُبَارَكَةٌ وَفِلَسْطِينُ مُقَدَّسَةٌ وَبَيْتُ الْمَقْدِسِ قُدِّسَ أَلْفَ مَرَّةٍ وَلا أَصْلَ لَهُ فِي الْمَرْفُوعِ

21 - إِذَا كَبِرَ ابْنُكَ وَاخِيهِ

هُوَ مِنْ كَلامِ الْعَامَّةِ
২০ - যখন পৃথিবী বিপদ ও দুর্ভিক্ষের কবলে থাকে, তখন শাম থাকে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার মধ্যে।

ইবনু আসাকির এটি আবু আব্দুল মালিক আল-জাজারির উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আরও বর্ধিত করেছেন যে: যখন শাম বিপদ ও দুর্ভিক্ষের কবলে থাকে, তখন ফিলিস্তিন থাকে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার মধ্যে। আর যখন ফিলিস্তিন বিপদ ও দুর্ভিক্ষের কবলে থাকে, তখন বায়তুল মাকদিস থাকে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার মধ্যে। তিনি আরও বলেন: শাম বরকতময়, ফিলিস্তিন পবিত্র এবং বায়তুল মাকদিসকে হাজার বার পবিত্র করা হয়েছে। তবে মারফু (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী) হিসেবে এর কোনো ভিত্তি নেই।

২১ - যখন তোমার পুত্র বড় হয়, তখন তাকে ভ্রাতৃসম জ্ঞান করো (তার সাথে ভাইয়ের মতো আচরণ করো)।

এটি সাধারণ মানুষের প্রচলিত লোকজ কথা।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَقَوْلُهُمْ وَاخِيهِ لَحْنٌ وَصَوَابُهُ آخِهِ لَكِنْ فِي مَعْنَاهُ حَدِيثُ أَبِي جُبَيْرَةَ بْنِ الضَّحَّاكِ عِنْدَ الطَّبَرَانِيِّ - وَسَنَدُهُ ضَعِيفٌ - " الْوَلَدُ سَبْعَ سِنِينَ سَيِّدٌ وَأَمِيرٌ وَتِسْعَ سِنِينَ أَخٌ / وَوَزِيرٌ فَإِنْ رَضِيتَ فَكَافِئْهُ وَإِلا فَاضْرِبْ عَلَى جَنْبِهِ فَقَدْ أَعْذَرْتَ فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ "

22 - إِذَا كُنْتَ عَلَى الْمَاءِ فَلا تَبْخَلْ بِالْمَاءِ

لَا يُعْرَفُ لَكِنْ فِي
তাদের ‘ওয়াখিহি’ বলাটি ব্যাকরণগত অশুদ্ধি এবং এর শুদ্ধ রূপ হলো ‘আখিহি’। তবে এর মর্মার্থের সপক্ষে তাবারানিতে আবু জুবাইরা বিন যাহহাক-এর একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে—যার বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল—‘সন্তান প্রথম সাত বছর সর্দার ও আমির এবং পরবর্তী নয় বছর ভাই / ও উজির। সুতরাং যদি তুমি (তার আচরণে) সন্তুষ্ট হও তবে তাকে পুরস্কৃত করো, অন্যথায় তার পাঁজরে আঘাত করো; এর মাধ্যমে তুমি তোমার ও তার মধ্যকার বিষয়ে দায়িত্ব পালন করলে (অর্থাৎ দায়মুক্ত হলে)।’

২২ - যখন তুমি পানির উৎসের নিকট থাকবে, তখন পানি নিয়ে কার্পণ্য করো না।

এটি (হাদিস হিসেবে) পরিচিত নয়, তবে...
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْحَدِيثِ " مَنْ سَقَى مُسْلِمًا مَاءً حَيْثُ يُوجَدُ الْمَاءُ فَكَأَنَّمَا أَعْتَقَ رَقَبَةً أَوْ فِي مَوْضِعٍ لَا يُوجَدُ فِيهِ الْمَاءُ فَكَأَنَّمَا أَحْيَاهُ " وَفِيهِ - أَيْضًا - " إِذَا كَثُرَتْ ذُنُوبُكَ فَاسْقِ الْمَاءَ عَلَى الْمَاءِ تَتَنَاثَرْ كَمَا يَتَنَاثَرُ الْوَرَقُ مِنَ الشَّجَرِ فِي الرِّيحِ الْعَاصِفِ "

23 - الأُرْزُ فِي الطَّعَامِ كَالسَّيِّدِ فِي الْقَوْمِ وَالْكُرَّاثُ فِي الْبُقُولِ بِمَنْزِلَةِ الْخُبْزِ وَعَائِشَةُ رضي الله عنها كَالثَّرِيدِ وَأَنَا كَالْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ

رَوَاهُ الدَّيْلَمِيُّ عَنْ عَلِيٍّ وَهُوَ بَاطِلٌ مَكْذُوبٌ

24 - الأَرَضُونُ سَبْعٌ فِي كُلِّ أَرْضٍ نَبِيٌّ كَنَبِيِّكُمْ وَآدَمُ كَآدَمَ
হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে এমন স্থানে পানি পান করাল যেখানে পানি সহজলভ্য, সে যেন একজন দাস মুক্ত করল। আর যে ব্যক্তি এমন স্থানে পানি পান করাল যেখানে পানি পাওয়া যায় না, সে যেন তাকে জীবন দান করল।" এতে আরও রয়েছে— "যখন তোমার গুনাহ অধিক হয়ে যাবে, তখন বেশি বেশি পানি পান করাও (পানি বিলাও), এতে গুনাহসমূহ এমনভাবে ঝরে পড়বে যেমন প্রবল বাতাসে গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।"

২৩ - খাবারের মধ্যে চাল হলো কওমের নেতার ন্যায়, শাকসবজির মধ্যে কুরাত (পেঁয়াজ জাতীয় উদ্ভিদ) হলো রুটির সমতুল্য, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সারীদের (গোশত ও রুটির বিশেষ খাদ্য) ন্যায় এবং আমি খাবারের লবণের ন্যায়।

দায়লামি এটি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি বাতিল ও মিথ্যা।

২৪ - পৃথিবী সাতটি; প্রতিটি পৃথিবীতে তোমাদের নবীর মতো একজন নবী এবং আদমের মতো একজন আদম রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَنُوحٌ كَنُوحٍ وَإِبْرَاهِيمُ كَإِبْرَاهِيمَ وَعِيسَى كَعِيسَى

هُوَ مِنْ كَلامِ ابْنِ عَبَّاسٍ

25 - الأَرْضُ الْمُقَدَّسَةُ لَا تُقَدِّسُ أَحَدًا إِنَّمَا يُقَدِّسُ الإِنْسَانَ عَمَلُهُ

هُوَ مِنْ كَلامِ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ

26 - اسْتَاكُوا عَرْضًا وَادَّهِنُوا غِبًّا وَاكْتَحِلُوا وِتْرًا

قَالَ ابْنُ
এবং নূহ (আ.)-এর মতো নূহ, ইবরাহীম (আ.)-এর মতো ইবরাহীম এবং ঈসা (আ.)-এর মতো ঈসা।

এটি ইবনে আব্বাসের উক্তি।

২৫ - পবিত্র ভূমি কাউকে পবিত্র করে না, বরং মানুষকে তার আমলই পবিত্র করে।

এটি সালমান আল-ফারসির উক্তি।

২৬ - তোমরা আড়াআড়িভাবে মেসওয়াক করো, একদিন অন্তর তেল ব্যবহার করো এবং বেজোড় সংখ্যায় সুরমা লাগাও।

ইবনে বলেছেন
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الصَّلاحِ بَحَثْتُ عَنْهُ فَلَمْ أَجِدْ لَهُ أَصْلا وَلا ذِكْرًا فِي كُتُبِ الْحَدِيثِ انْتَهَى لَكِنْ جَاءَ مَعْنَاهُ فِي الأَحَادِيثِ

27 - اسْتِفْقَادُ اللَّهِ لِعَبْدِهِ طَيِّبٌ

هَذَا كَلامٌ يَجْرِي عَلَى أَلْسِنَةِ النَّاسِ فِي الْمَرَضِ وَمَعْنَاهُ / إِنَّ اللَّهَ يَذْكُرُ عَبْدَهُ بِالْمَرَضِ لِيُثِيبَهُ مِنَ الذِّكْرِ وَقَدْ جَاءَ هَذَا الْمَعْنَى فِيمَا رَوَاهُ مُعَاذُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن خبيب عَن أَبِيه أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَصْحَابِهِ " أَتُحِبُّونَ أَنْ لَا تَمْرَضُوا " قَالُوا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنُحِبُّ الْعَافِيَةَ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم " وَمَا خَيْرُ أَحَدِكُمْ أَلا يُذَكِّرَهُ اللَّهُ "
আস-সালাহ, আমি এটি অনুসন্ধান করেছি কিন্তু হাদিসের গ্রন্থসমূহে এর কোনো ভিত্তি বা উল্লেখ পাইনি। সমাপ্ত। তবে হাদিসসমূহে এর মর্মার্থ বর্ণিত হয়েছে।

২৭ - আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার খোঁজ নেওয়া কল্যাণকর।

এটি এমন একটি কথা যা অসুস্থতার বিষয়ে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাঁর বান্দাকে অসুস্থতার মাধ্যমে স্মরণ করেন যাতে তিনি তাকে এই স্মরণের কারণে প্রতিদান দান করেন। আর এই মর্মার্থটি মুআয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে বলেছিলেন, "তোমরা কি এটি পছন্দ করো যে তোমরা অসুস্থ হবে না?" তাঁরা বললেন, "আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা অবশ্যই সুস্থতা পছন্দ করি।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তির কী কল্যাণ আছে যাকে আল্লাহ স্মরণ করেন না?"
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫০)
وُجِدَ مَضْبُوطًا بِضَمِّ التَّحْتِيَّةِ وَكَسْرِ الْكَافِ مُشَدَّدَةً مِنَ التَّذْكِيرِ

28 - اسْمَعْ مِنْ مُبْكِيَاتِكَ وَلا تَسْمَعْ مِنْ مُضْحِكَاتِكَ

يَجْرِي عَلَى الأَلْسِنَةِ وَأَصْلُهُ مِنْ كَلامِ الْحَسَنِ أَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ فِي الزُّهْدِ بِمَعْنَاهُ

29 - اسْمَعِي يَا جَارَةُ

هُوَ بَعْضُ مَثَلٍ قَالَهُ الْحَجَّاجُ لأَنَسٍ حِينَ شَكَا مِنْهُ إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُكَ كَقَوْلِ الَّذِي قَالَ إِيَّاكَ أَعْنِي وَاسْمَعِي يَا جَارَةُ

30 - أَصْفِ النِّيَّةَ وَنَمْ فِي الْبَريَّة

لَيْسَ بِحَدِيث

31 - أصل كل دَاء الرضى عَنِ النَّفْسِ

أَشَارَ السَّخَاوِيُّ إِلَى أَنَّهُ لَيْسَ بِحَدِيثٍ وَلَكِنْ وَقَعَ فِي حُكْمِ ابْنِ عَطَاءِ الله أصل كل مَعْصِيّة وغفلة وشهوة الرضى عَنِ النَّفْسِ

32 - الإِعَادَةُ سَعَادَةٌ

قَالَ السَّخَاوِيُّ مَا عَلمته فِي الْمَرْفُوع
এটি নিচের বর্ণের (ইয়া) পেশ এবং কাফ-এর নিচে জেরসহ তাশদীদযুক্ত অবস্থায় লিপিবদ্ধ পাওয়া গেছে, যা 'তাযকীর' (স্মরণ করানো) শব্দ থেকে উদ্ভূত।

২৮ - তোমার ক্রন্দন উদ্রেককারী বিষয়গুলো শ্রবণ করো এবং তোমার হাস্য উদ্রেককারী বিষয়গুলো শ্রবণ করো না।

এটি মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত এবং এর মূল হলো হাসান (বসরী)-এর উক্তি। ইমাম আহমাদ তাঁর 'যুহদ' গ্রন্থে এর মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন।

২৯ - হে প্রতিবেশী, শোনো।

এটি একটি প্রবাদের অংশ যা হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আনাস (রা.)-কে বলেছিলেন যখন তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। (তিনি বলেছিলেন:) আমার ও তোমার উদাহরণ সেই ব্যক্তির কথার মতো যে বলেছিল— "উদ্দেশ্য আমার তুমিই, তবে হে প্রতিবেশী তুমি শোনো"।

৩০ - নিয়তকে নির্ভেজাল করো এবং নির্জনে ঘুমাও।

এটি কোনো হাদীস নয়।

৩১ - সকল রোগের মূল হলো নিজের নফসের (প্রবৃত্তির) প্রতি সন্তুষ্টি।

সাখাভী ইঙ্গিত করেছেন যে এটি হাদীস নয়, তবে ইবনে আতাউল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তির মধ্যে এসেছে যে— "সকল নাফরমানি, উদাসীনতা এবং কুপ্রবৃত্তির মূল হলো নিজের নফসের প্রতি সন্তুষ্টি।"

৩২ - পুনরাবৃত্তি সৌভাগ্যের কারণ।

সাখাভী বলেছেন, মারফূ হাদীস হিসেবে এটি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَصَحَّ أَنه صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أَعَادَهَا ثَلاثًا لِتُفْهَمَ عَنْهُ قَالَ الْجَدُّ وَالَّذِي سَمِعْنَاهُ دَائِرًا عَلَى الأَلْسِنَةِ

33 - فِي الإِعَادَةِ / إِفَادَةٌ

وَهُوَ أَقْرَبُ لِمَعْنَى الْحَدِيثِ الْمَذْكُورِ

34 - أَعْمَالُكُمْ عُمَّالُكُمْ

قَالَ الْجَدُّ لَمْ أَرَهُ حَدِيثًا لَكِنْ سَتَأْتِي الإِشَارَةُ إِلَيْهِ فِي كَلامِ الْحَسَنِ

35 - أَعِينُوا الشَّارِيَ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ نَعَمْ أَخْرَجَ الدَّيْلَمِيُّ حَدِيثَ " أَلا أَبْلِغُوا الْبَاعَةَ وَالسُّوقَةَ أَنَّ كَثْرَةَ السَّوْمِ فِي بَضَائِعِهِمْ مِنْ قِلَّةِ الرَّحْمَةِ وَقَسَاوَةِ الْقَلْبِ ارْحَمْ مَنْ تَبِيعَهُ وَارْحَمْ مَنْ تَشْتَرِي مِنْهُ فَإِنَّمَا الْمُسْلِمُونَ إِخْوَةٌ ارْحَمِ النَّاسَ يَرْحَمْكَ اللَّهُ مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يرحم "
এটি সহীহ যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো কথা বলতেন, তখন তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যেন তাঁর কথাটি অনুধাবন করা যায়। আল-জাদ্দ বলেন: আর যা আমরা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত শুনতে পাই (তা হলো):

৩৩ - পুনরাবৃত্তিতে উপকারিতা রয়েছে।

আর এটি উল্লিখিত হাদিসের অর্থের অধিক নিকটবর্তী।

৩৪ - তোমাদের আমলই তোমাদের শাসক।

আল-জাদ্দ বলেন: আমি এটিকে হাদিস হিসেবে দেখিনি, তবে হাসান (বসরী)-এর বক্তব্যে এর প্রতি ইঙ্গিত সামনে আসবে।

৩৫ - ক্রেতাকে সাহায্য করো।

এটি হাদিস নয়। তবে দাইলামি এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: "জেনে রেখো, বিক্রেতা ও বাজার সংশ্লিষ্টদের অবগত করো যে, তাদের পণ্যের দরদাম নিয়ে অধিক কড়াকড়ি করা দয়ার স্বল্পতা ও অন্তরের কঠোরতার অন্তর্ভুক্ত। যার কাছে তুমি বিক্রি করছ তার প্রতি দয়া করো এবং যার কাছ থেকে তুমি ক্রয় করছ তার প্রতিও দয়া করো, কেননা মুসলিমরা তো ভাই ভাই। মানুষের প্রতি দয়া করো, আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।"
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫২)
36 - افْتَضِحُوا فَاصْطَلِحُوا

لَيْسَ بِحَدِيثٍ بَلْ مَثَلٌ سَائِرٌ

37 - أَكْرِمُوا الشُّهُودَ فَإِنَّ اللَّهَ يَسْتَخْرِجُ بِهِمُ الْحُقُوقَ وَيَدْفَعُ بِهِمُ الظُّلْمَ

أَوْرَدَهُ الْعُقَيْلِيُّ وَالدَّيْلَمِيُّ وَابْنُ عَسَاكِرَ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَقَالَ السَّخَاوِيُّ غَيْرُ مَرْفُوعٍ وَالصَّاغَانِيُّ مَوْضُوعٌ

38 - أَكْرِمُوا الْهِرَّ فَإِنَّهُ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ

لَا يُعْرَفُ
৩৬ - কলঙ্কিত হও, অতঃপর আপস করো।

এটি কোনো হাদিস নয়, বরং একটি প্রচলিত প্রবাদ।

৩৭ - তোমরা সাক্ষীদের সম্মান করো; কেননা আল্লাহ তাদের মাধ্যমে পাওনা অধিকার পুনরুদ্ধার করেন এবং তাদের মাধ্যমে জুলুম প্রতিহত করেন।

এটি আল-উকালি, আদ-দাইলামি এবং ইবনে আসাকির ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন। আস-সাখাবি বলেছেন এটি মারফু নয় এবং আস-সাগানি একে বানোয়াট বলেছেন।

৩৮ - তোমরা বিড়ালকে সম্মান করো, কেননা তা তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

এটি পরিচিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بِهَذَا اللَّفْظِ نَعَمْ جَاءَ فِي الْحَدِيثِ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ فَإِنَّهَا مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ " وَفِي لَفْظٍ " أَوِ الطَّوَّافَاتِ "

39 - أَلْسِنَةُ الْخَلْقِ أَقْلامُ الْحَقِّ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ وَإِنَّمَا هُوَ مِنْ كَلامِ بَعْضِ الصُّوفِيَّةِ نَعَمْ أَخْرَجَ الطَّبَرَانِيُّ عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ ذُكِرَ الدَّجَّالُ عِنْدَ ابْنِ مَسْعُودٍ / فَقَالَ لَا تُكْثِرُوا ذِكْرَهُ فَإِنَّ الأَمْرَ إِذَا قُضِيَ فِي السَّمَاءِ كَانَ أَسْرَعَ مِنْ نُزُولِهِ إِلَى الأَرْضِ أَنْ يَطِيرَ عَلَى أَلْسِنَةِ النَّاسِ

40 - اللَّهُ وَلِيُّ مَنْ سَكَتَ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ وَكَذَلِكَ

41 - فَمٌ سَاكِتٌ رَبٌّ كَافٍ

42 - اللَّهُمَّ أَصْلِحِ الرَّاعِيَ وَالرَّعِيَّةَ

قَالَ الْجَدُّ لَمْ أَرَهُ فِي الْمَرْفُوعِ ثُمَّ أَوْرَدَ عَنِ الْمَسْرُوقِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ غُلامَ حَمُّوَيْهِ يَقُولُ اللَّهُمَّ أَصْلِحِ الرَّاعِيَ وَالرَّعِيَّةَ
হ্যাঁ, এই শব্দেই হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র নয়, কারণ এটি তোমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী ও বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত।" এবং অন্য শব্দে এসেছে "অথবা বিচরণকারিণীদের।"

৩৯ - সৃষ্টির জিহ্বা সত্যের কলম।

এটি হাদিস নয়, বরং এটি কিছু সূফিবাদীর উক্তি। তবে তাবারানি আশআস ইবনে আবিশ শা'সা থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মাসউদের নিকট দাজ্জালের কথা উল্লেখ করা হলো। তখন তিনি বললেন: তোমরা তাকে বেশি স্মরণ করো না; কারণ আসমানে যখন কোনো ফয়সালা হয়, তা জমিনে অবতীর্ণ হওয়ার চেয়েও দ্রুত মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

৪০ - যে চুপ থাকে আল্লাহ তার অভিভাবক।

এটি হাদিস নয় এবং অনুরূপভাবে:

৪১ - নীরব মুখ এবং যথেষ্ট পালনকর্তা।

৪২ - হে আল্লাহ, আপনি রাখাল ও পালের (শাসক ও শাসিতদের) সংশোধন করুন।

আল-জাদ্দ বলেন: আমি একে মারফূ হিসেবে দেখিনি। এরপর তিনি মাসরুকি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ গুলাম হামমুওয়াইহকে বলতে শুনেছি: হে আল্লাহ, আপনি রাখাল ও পালের সংশোধন করুন।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
يَعْنِي الْقَلْبَ وَالْجَوَارِحَ

43 - اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلامَ بِأَحَبِّ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ بِأَبِي جَهْلٍ أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ

حَدِيثٌ جَاءَ بِأَلْفَاظٍ هَذَا أَحَدُهَا قَالَ السُّيُوطِيُّ وَقَدِ اشْتَهَرَ هَذَا الْحَدِيثُ الآنَ بِلَفْظِ بِأَحَبِّ الْعُمَرَيْنِ وَلا أَصْلَ لَهُ مِنْ طُرُقِ الْحَدِيثِ بَعْدَ الْفَحْصِ الْبَالِغِ

44 - اللَّهُمَّ إِنَّكَ أَخْرَجْتَنِي مِنْ أَحَبِّ الْبِقَاعِ إِلَيَّ فَأَسْكِنِّي فِي أَحَبِّ الْبِلادِ إِلَيْكَ - فَأَسْكَنَهُ اللَّهُ الْمَدِينَةَ -

أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ وَغَيْرُهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
অর্থাৎ অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

৪৩ - হে আল্লাহ! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে আপনার নিকট যে অধিক প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন; আবু জাহল অথবা উমর ইবনুল খাত্তাব।

এটি একটি হাদিস যা বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে, এটি তার অন্যতম। সুয়ূতী বলেন: বর্তমানে এই হাদিসটি ‘দুই উমরের মধ্যে অধিক প্রিয়জনের মাধ্যমে’ শব্দে প্রসিদ্ধ হয়েছে, তবে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর হাদিসের বর্ণনা সূত্রগুলোতে এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

৪৪ - হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড থেকে বের করেছেন, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় জনপদে বসবাসের সুযোগ করে দিন—অতঃপর আল্লাহ তাকে মদিনায় বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন।

এটি হাকেম এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَقَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ إِنَّهُ مُنْكَرٌ مَوْضُوعٌ

45 - أُمِرْتُ أَنْ أَحْكُمَ بِالظَّاهِرِ وَاللَّهُ يَتَوَلَّى السَّرَائِرَ

هُوَ دَائِرٌ عَلَى أَلْسِنَةِ الْفُقَهَاءِ وَالأُصُولِيِّينَ وَقَالَ الْمِزِّيُّ وَالْعِرَاقِيُّ لَا أَصْلَ لَهُ لَكِنْ فِي الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ " إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ فَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ يَكُونُ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ / فَأَقْضِي لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِشَيْءٍ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ فَلا يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنْ نَارٍ " قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه فِي الأُمِّ بَعْدَ أَنْ أَوْرَدَهُ فَأَخْبَرَهُمْ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ إِنَّمَا يَقْضِي بِالظَّاهِرِ وَأَنَّ أَمْرَ السَّرَائِرِ إِلَى الله
এবং ইবনে আবদিল বার বলেছেন যে, এটি মুনকার (পরিত্যক্ত) ও মাউজু (জাল)।

45 - আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিচার করি, আর আল্লাহ গোপন বিষয়গুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এটি ফকিহ এবং উসুলবিদগণের মুখে মুখে প্রচলিত। এবং মিযযি ও ইরাকি বলেন যে, এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো, সম্ভবত তোমাদের কেউ তার দলিল উপস্থাপনে অন্যের তুলনায় অধিক বাগপটু হতে পারো, ফলে আমি যা শুনি তার ভিত্তিতেই তার পক্ষে ফয়সালা করি। সুতরাং আমি যদি তার ভাইয়ের হকের কোনো কিছু তার জন্য ফয়সালা করে দেই, তবে সে যেন তা থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। কারণ আমি তাকে আগুনের একটি টুকরোই প্রদান করছি।" ইমাম শাফেঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি উল্লেখ করার পর 'আল-উম্ম' গ্রন্থে বলেছেন যে, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ভিত্তিতেই ফয়সালা করেন এবং গোপন বিষয়গুলোর দায়িত্ব আল্লাহর ওপর।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
46 - الأَمْرُ بِتَصْغِيرِ اللُّقْمَةِ فِي الأَكْلِ وَتَدْقِيقِ الْمَضْغِ

قَالَ النَّوَوِيُّ لَا يَصِحُّ لَكِنْ نَقَلَ الْعَبَّادِيُّ عَنِ الرَّبِيعِ عَنِ الشَّافِعِيِّ أَنَّهُ قَالَ فِي الأَكْلِ أَرْبَعُ سُنَنٍ فَذَكَرَ الْجُلُوسَ عَلَى الْيُسْرَى وَتَصْغِيرَ اللُّقْمَةِ وَالْمَضْغَ الشَّدِيدَ وَلَعْقَ الأَصَابِعِ قَالَ ابْنُ الْعِمَادِ وَهَذَا مُخَالِفٌ لِمَا ذَكَرَ النَّوَوِيُّ انْتهى وَاسْتدلَّ الْجد بقوله صلى الله عليه وسلم " حَسْبُ ابْنِ آدَمَ لُقَيْمَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ " قَالَ فَإِنَّ تَصْغِيرَ لُقَيْمَاتٍ دَلِيلٌ وَاضِحٌ عَلَى اسْتِحْبَابِ تَصْغِيرِ اللُّقَمِ قَالَ ثُمَّ رَأَيْتُ أَبَا طَالِبٍ الْمَكِّيَّ اسْتَدَلَّ بِهَا فَحَمِدْتُ اللَّهَ عَلَى مُوَافَقَتِهِ

47 - أَمِيرُ النَّحْلِ عَلِيٌّ

بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ وَإِنَّمَا وَقَعَ فِي الْمُحْكَمِ الْيَعْسُوبُ أَمِيرُ النَّحْلِ
46 - আহারের সময় লোকমা ছোট করা এবং ভালোভাবে চিবানোর নির্দেশ।

ইমাম নববী বলেছেন, এটি সহীহ নয়। তবে আল-আব্বাদি রাবি’র সূত্রে ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আহারের ক্ষেত্রে চারটি সুন্নাত রয়েছে। অতঃপর তিনি বাম পাশের ওপর ভর দিয়ে বসা, লোকমা ছোট করা, ভালোভাবে চিবানো এবং আঙুল চেটে খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনুল ইমাদ বলেছেন, এটি ইমাম নববী যা উল্লেখ করেছেন তার পরিপন্থী। সমাপ্ত। আর দাদা (গ্রন্থকার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন— "আদম সন্তানের জন্য সামান্য কয়েকটি লোকমাই যথেষ্ট যা তার মেরুদণ্ড সোজা রাখবে।" তিনি বলেন, এখানে 'লুকাইমাত' (লোকমার ক্ষুদ্রার্থ রূপ) শব্দটি লোকমা ছোট করে খাওয়ার মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে একটি স্পষ্ট দলিল। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আমি দেখেছি যে আবু তালিব আল-মাক্কীও এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তাই তাঁর সাথে এই ঐকমত্যের জন্য আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি।

47 - মৌমাছিদের আমির হলেন আলী।

এটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই। মূলত 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে এসেছে যে, 'ইয়াসুব' অর্থ হলো মৌমাছিদের আমির।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
ثُمَّ كَثُرَ حَتَّى سَمَّوْا كُلَّ رَئِيسٍ يَعْسُوبًا وَمِنْهُ حَدِيثُ

48 - عَلِيٌّ يَعْسُوبُ قُرَيْشٍ

وَحَدِيثُ

49 - يَا عَلِيُّ إِنَّكَ سَيِّدُ الْمُسْلِمِينَ وَيَعْسُوبُ الْمُؤْمِنِينَ

50 - أَنَا أَفْصَحُ مَنْ نَطَقَ بِالضَّادِ

قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ لَا أَصْلَ لَهُ وَمَعْنَاهُ صَحِيحٌ

51 - أَنَا مِنَ اللَّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ مِنِّي

أَخْرَجَهُ الدَّيْلَمِيُّ بِلا سَنَدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَرَادٍ فِي حَدِيثٍ وَأَنْكَرَهُ ابْنُ حَجَرٍ

52 - أَنْصِفْ مَنْ بِالْحَقِّ اعْتَرَفَ

لَمْ يُعْرَفْ بِهَذَا اللَّفْظِ لَكِنْ
পরবর্তীতে এর ব্যবহার এতো বৃদ্ধি পায় যে, তারা প্রত্যেক প্রধানকেই 'ইয়া'সুব' (নেতা) হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করে। আর এরই অংশ হলো হাদীস:

৪৮ - আলী হলেন কুরাইশদের ইয়া'সুব (নেতা)।

এবং হাদীস:

৪৯ - হে আলী, নিশ্চয়ই তুমি মুসলিমদের নেতা এবং মুমিনদের ইয়া'সুব (নেতা)।

৫০ - যারা 'দাদ' বর্ণ উচ্চারণ করে আমি তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী।

ইবনে কাসীর বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি নেই কিন্তু এর অর্থ সঠিক।

৫১ - আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মুমিনগণ আমার পক্ষ থেকে।

হাদীসটি দায়লামী কোনো সনদ ছাড়াই আবদুল্লাহ ইবনে জারাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার একে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

৫২ - যে ব্যক্তি সত্য স্বীকার করেছে তার প্রতি সুবিচার করো।

এটি এই শব্দসমষ্টির মাধ্যমে পরিচিত নয়, তবে...
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
أَخْرَجَ الإِمَامُ أَحْمَدُ وَالْحَاكِمُ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ سريع أُتي النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِأَعْرَابِيٍّ أَسِيرٍ فَقَالَ أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ وَلا أَتُوب إِلَى مُحَمَّد فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم " عَرَفَ الْحَقَّ لأَهْلِهِ "

53 - أَنْفُ الْمَرْءِ مِنْهُ وَإِنْ كَانَ أَجْدَعَ

لَيْسَ لَهُ أَصْلٌ بِهَذَا اللَّفْظِ وَفِي مَعْنَاهُ مَا جَاءَ أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ لِخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ - وَقَدْ صَارَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ شَيْءٌ - " يَا خَالِدُ ذَرُوا لِي أَصْحَابِي مَنْ يُنْكِرْ أَنْفَ الْمَرْءِ يُنْكِرِ الْمَرْءَ لَوْ كَانَ أُحد ذَهَبًا تُنْفِقُهُ قِيرَاطًا قِيرَاطًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَمْ تُدْرُكْ غَدْوَةً أَوْ رَوْحَةً مِنْ غَدَوَاتِ أَوْ رَوَحَاتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ "

54 - أَنْفِقْ مَا فِي الْجَيْبِ يَأْتِيكَ مَا فِي الْغَيْبِ

لَيْسَ بِحَدِيثٍ وَيُؤَيِّدُ مَعْنَاهُ قَوْلُهُ {وَمَا أَنفَقْتُم مِنْ شَيءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ} [سبأ: 39]

55 - أَنْفَقَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه مَا مَعَهُ حَتَّى تَخَلَّلَ بِالْعَبَاءَةِ
ইমাম আহমাদ এবং হাকেম আসওয়াদ বিন সারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একজন মরুবাসী যুদ্ধবন্দীকে আনা হলো। সে বলল, "আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং মুহাম্মাদের কাছে তওবা করছি না।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে প্রকৃত হকদারকে চিনতে পেরেছে।"

৫৩ - মানুষের নাক তার শরীরেরই অংশ, যদিও তা কর্তিত হয়।

এই শব্দে এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে এর মর্মার্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ বিন ওয়ালিদকে বলেছিলেন—যখন তাঁর এবং আব্দুর রহমান বিন আউফের মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল— "হে খালিদ! আমার জন্য আমার সাহাবীদের ছেড়ে দাও। যে ব্যক্তি মানুষের নাককে অস্বীকার করে, সে মূলত সেই মানুষকেই অস্বীকার করে। যদি তোমার কাছে উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তুমি তা কিরাত কিরাত (সামান্য সামান্য) করে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো, তবে তুমি আব্দুর রহমানের কোনো এক সকাল বা সন্ধ্যার বের হওয়ার সমতুল্য হতে পারবে না।"

৫৪ - পকেটে যা আছে তা ব্যয় করো, অদৃশ্যে যা আছে তা তোমার কাছে আসবে।

এটি হাদীস নয়, তবে এর মর্মার্থ আল্লাহর এই বাণী দ্বারা সমর্থিত: "তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেন।" [সাবা: ৩৯]

৫৫ - আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার নিকট যা ছিল সব ব্যয় করে ফেললেন, এমনকি তিনি কাঁটা দিয়ে তালি দেওয়া একটি চাদর পরিধান করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
لَيْسَ واردا هَكَذَا وَمَعْنَاهُ ثَابت لقَوْله صلى الله عليه وسلم " وَاسَانِي بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ " وَقَوْلُهُ " مَا أَبْقَيْتَ لأَهْلِكَ " قَالَ أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَأَسْلَمَ وَلَهُ أَرْبَعُونَ أَلْفًا فَأَنْفَقَهَا فِي سَبِيلِ / اللَّهِ وَقَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها مَا تَرَكَ دِينَارًا وَلا دِرْهَمًا وَجَاءَ أَنَّهُ رَافَقَ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ فِي سفر فَكَانَ ينيم عمروا على فرَاشه ويكسبه كِسَاهُ وَكَانَ عِنْدَهُ عَبَاءَةٌ إِذَا نَزَلَ بَسَطَهَا وَإِذَا رَكِبَ لَبِسَهَا ثُمَّ شَكَّهَا عَلَيْهِ بِخِلالٍ لَهُ

56 - إِنَّ اللَّهُ يَدْعُو النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَاءِ أُمَّهَاتِهِمْ سَتْرًا مِنْهُ عَلَى عِبَادِهِ
এটি হুবহু এভাবে বর্ণিত হয়নি, তবে এর মর্মার্থ প্রমাণিত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সে তার জীবন ও সম্পদ দ্বারা আমাকে সহযোগিতা করেছে।” এবং তাঁর বাণী: “তুমি তোমার পরিজনের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?” তিনি উত্তর দিলেন: “আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি।” তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর নিকট চল্লিশ হাজার দিরহাম ছিল, যা তিনি আল্লাহর পথে ব্যয় করেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: “তিনি কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি।” আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক সফরে আমর ইবনুল আসের সহযাত্রী ছিলেন; তখন তিনি আমরকে নিজের বিছানায় শয়ন করাতেন এবং তাঁকে নিজের চাদর দ্বারা আবৃত করতেন। তাঁর নিকট একটি চাদর ছিল, যখন তিনি যাত্রাবিরতি করতেন তখন তা বিছিয়ে দিতেন এবং যখন সওয়ার হতেন তখন তা পরিধান করতেন, অতঃপর একটি কাঁটা দিয়ে সেটি নিজের গায়ে এঁটে নিতেন।

৫৬ - নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন মানুষকে তাদের মায়েদের নামে আহ্বান করবেন, এটি বান্দাদের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৬০)
أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ ضَعِيفٌ وَقَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ مَوْضُوعٌ وَيُعَارِضُهُ حَدِيثُ أَبِي الدَّرْدَاءِ " إِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ فَحَسِّنُوا أَسْمَاءَكُمْ "

57 - إِنَّ اللَّهُ يَزَعُ بِالسُّلْطَانِ مَا لَا يَزَعُ بِالْقُرْآنِ

جَاءَ عَنْ عُثْمَانَ مَوْقُوفًا وَنَحْوُهُ عَنْ عُمَرَ مَوْقُوفٌ

58 - إِنَّ اللَّهَ يَسْأَلُ عَنْ صُحْبَةِ سَاعَةٍ

دَائِرٌ عَلَى الأَلْسِنَةِ وَفِي مَعْنَاهُ مَا أَخْرَجَهُ ابْنُ جَرِيرٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى {وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ} [النِّسَاء: 36] عَنْ رجل من الصَّحَابَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم دخل
তাবারানি এটি ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি দুর্বল। ইবনুল জাওযি একে জাল বলেছেন। আর আবু দারদার হাদিস এর বিরোধিতা করে: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নিজেদের নাম এবং তোমাদের পিতাদের নামে ডাকা হবে, সুতরাং তোমরা তোমাদের নামগুলো সুন্দর করো।"

৫৭ - নিশ্চয়ই আল্লাহ সুলতানের (রাষ্ট্রীয় শক্তির) মাধ্যমে তা দমন করেন যা তিনি কুরআনের মাধ্যমে করেন না।

এটি উসমান থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত এবং অনুরূপ উমর থেকেও মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

৫৮ - নিশ্চয়ই আল্লাহ এক মুহূর্তের সাহচর্য সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করবেন।

এটি লোকমুখে প্রচলিত। আর এর মর্মার্থের সপক্ষে ইবনে জারির মহান আল্লাহর বাণী {এবং পার্শ্বস্থ সাথী} [আন-নিসা: ৩৬] এর ব্যাখ্যায় একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৬১)
غَيْضَةً مَعَ بَعْضِ أَصْحَابِهِ فَاجْتَنَى مِنْهَا سِوَاكَيْنِ أَحَدُهُمَا مُعَوَّجٌ وَالآخَرُ مُسْتَقِيمٌ فَدَفَعَ الْمُسْتَقِيمَ إِلَى صَاحِبِهِ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنْتُ أَحَقَّ بِالْمُسْتَقِيمِ فَقَالَ " مَا مِنْ صَاحِبٍ يَصْحَبُ صَاحِبًا وَلَوْ سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ إِلا سُئِلَ عَنْ صُحْبَتِهِ هَلْ أَقَامَ مِنْهَا حَقَّ اللَّهِ أَمْ أَضَاعَهُ /

59 - إِنَّ اللَّهَ نَقَلَ لَذَّةَ الأَغْنِيَاءِ إِلَى طَعَامِ الْفُقَرَاءِ

قَالَ ابْنُ حَجَرٍ مَوْضُوعٌ

60 - إِنَّ اللَّهَ لَا يُعَذِّبُ بِقَطْعِ الرِّزْقِ

لَمْ يرد بِهَذَا
একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ স্থানে তাঁর কিছু সাহাবীর সাথে থাকাকালীন তিনি সেখান থেকে দুটি মিসওয়াক সংগ্রহ করলেন, যার একটি ছিল বাঁকা এবং অন্যটি সোজা। অতঃপর তিনি সোজাটি তাঁর সঙ্গীকে প্রদান করলেন। তখন সেই সঙ্গী তাঁকে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! সোজাটির অধিক হকদার তো আপনিই ছিলেন।" তিনি বললেন: "এমন কোনো সঙ্গী নেই যে অপর কোনো ব্যক্তির সঙ্গ দেয়, হোক না তা দিনের সামান্য সময়ের জন্য, তাকে তার সেই সাহচর্য সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে কি তাতে আল্লাহর হক আদায় করেছে নাকি তা নষ্ট করেছে?" /

৫৯ - নিশ্চয়ই আল্লাহ ধনীদের খাবারের স্বাদ ও তৃপ্তি দরিদ্রদের খাদ্যের মাঝে স্থানান্তরিত করেছেন।

ইবনে হাজার বলেন, এটি বানোয়াট।

৬০ - নিশ্চয়ই আল্লাহ রিযিক বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেন না।

এই শব্দে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَفِي مَعْنَاهُ الْحَدِيثُ عِنْدَ الطَّبَرَانِيِّ " إِنَّ الرِّزْقَ لَا تُنْقِصُهُ الْمَعْصِيَةُ وَلا تَزِيدُهُ الْحَسَنَةُ وَتَرْكُ الدُّعَاءِ مَعْصِيَةٌ " وَقَدْ يُعَارِضُهُ الْحَدِيثُ الآخَرُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ " إِنَّ الدُّعَاءَ يَرُدُّ الْقَضَاءَ وَإِنَّ الْبِرَّ يَزِيدُ فِي الْعُمْرِ وَإِنَّ الْعَبْدَ يُحْرَمُ الرِّزْقَ بِذَنْبٍ يُصِيبُهُ " ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {إِنَّا بَلَوْنَاهُمْ كَمَا بَلَوْنَا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ إِذْ أَقْسَمُوا لَيَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِينَ وَلا يَسْتَثْنُونَ} [الْقَلَم: 17، 18] فِي أَخْبَارٍ أُخَرَ وَقَدْ يُجَابُ بِأَنَّ مَا يُقْضَى لِلْعَبْدِ مِنْ أَجَلٍ وَرِزْقٍ وَبَلاءٍ إِنْ كَانَ مُبْرَمًا لَا يُؤْثَرُ فِيهِ الدُّعَاءُ وَالطَّاعَةُ وَالْمَعْصِيَةُ وَإِنْ كَانَ مُعَلَّقًا عَلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ وَسُبِقَ فِي الْقَضَاءِ وُجُودُ مَا عُلِّقَ عَلَيْهِ أُثِرَ

61 - إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْتِكُ عَبْدَهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ

لَا يُعْرَفُ بِهَذَا لَكِنْ فِي مَعْنَاهُ مَا
তাবারানিতে বর্ণিত এই মর্মে একটি হাদিস রয়েছে যে, "নিশ্চয়ই পাপের কারণে রিজিক কমে না এবং পুণ্যকর্মের মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পায় না; আর দুআ বর্জন করা একটি পাপ।" ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিস সম্ভবত এর বিপরীত হতে পারে যে, "নিশ্চয়ই দুআ তাকদিরকে ফিরিয়ে দেয় এবং নেক আমল হায়াত বৃদ্ধি করে, আর নিশ্চয়ই বান্দা তার কৃত কোনো পাপের দরুন রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) পাঠ করলেন: {আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি যেমনিভাবে পরীক্ষা করেছিলাম সেই বাগানের মালিকদেরকে, যখন তারা কসম খেয়েছিল যে অবশ্যই তারা প্রভাতে ফল আহরণ করবে এবং তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি (ব্যতিক্রম করেনি)}। [সূরা আল-ক্বলম: ১৭, ১৮], অন্যান্য বর্ণনায় এরূপ এসেছে। এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, বান্দার জন্য নির্ধারিত হায়াত, রিজিক এবং বিপদ-আপদ যদি ‘মুবরাম’ (অপরিবর্তনীয়) হয়, তবে তাতে দুআ, আনুগত্য বা পাপাচার কোনো প্রভাব ফেলে না। আর যদি তা এসবের কোনোটির ওপর ‘মুআল্লাক’ (শর্তযুক্ত) থাকে এবং তাকদিরে সেই শর্তের বিদ্যমান থাকা পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকে, তবেই তা কার্যকর হয়।

৬১ - নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রথমবারেই তাঁর বান্দার গোপনীয়তা উন্মোচন করেন না।

এটি এই শব্দে সুপরিচিত নয়, তবে এর মর্মে যা রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-জাদ্দুল হাদীছ ফী বায়ানি মা লাইসা বি হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
جَاءَ عَنْ أَبِي رَافِعٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ كَمْ لِلْمُؤْمِنِ مِنْ سَتْرٍ قَالَ " هِيَ أَكْثَرُ مِنْ أَنْ تُحْصَى وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا عَمِلَ خَطِيئَةً هَتَكَ سَتْرًا مِنْهَا فَإِذَا تَابَ رَجَعَ إِلَيْهِ ذَلِكَ السَّتْرُ وَتِسْعَةٌ مَعَهُ وَإِذَا لَمْ يَتُبْ هَتَكَ مِنْهُ سَتْرًا وَاحِدًا / حَتَّى لَا يَبْقَى مِنْهَا شَيْءٌ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمَنْ شَاءَ مِنْ مَلائِكَتِهِ " إِنَّ بَنِي آدَمَ يُعَيِّرُونَ وَلا يُغَيِّرُونَ فَحُفُّوهُ بِأَجْنِحَتِكُمْ " فَيَفْعَلُونَ بِهِ ذَلِكَ فَإِنْ تَابَ رَجَعَتْ إِلَيْهِ تِلْكَ الأَسْتَارُ كُلُّهَا وَإِذَا لَمْ يَتُبْ عَجَبَتْ مِنْهُ الْمَلائِكَةُ فَيَقُولُ اللَّهِ تَعَالَى " أَسْلِمُوهُ " فَيُسْلِمُونَ حَتَّى لَا تُسْتَرَ مِنْهُ عَوْرَةٌ

62 - إِنَّ اللَّهَ يَكْرَهُ الرَّجُلَ الْبَطَّالَ

لَمْ يُوجَدْ وَفِي مَعْنَاهُ مَا فِي حَدِيثٍ ضَعِيفٍ

63 - إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُؤْمِنَ الْمُحْتَرِفَ

وَفِي الحَدِيث
আবু রাফি থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, একজন মুমিনের জন্য কতটি পর্দা রয়েছে? তিনি বললেন, "তা গণনা করার চেয়েও অধিক। কিন্তু মুমিন যখন কোনো গুনাহ করে, তখন সে তা থেকে একটি পর্দা ছিঁড়ে ফেলে। অতঃপর সে যদি তাওবা করে, তবে সেই পর্দাটি এবং তার সাথে আরও নয়টি পর্দা তার নিকট ফিরে আসে। আর যদি সে তাওবা না করে, তবে সে তা থেকে একটি পর্দা ছিঁড়ে ফেলে / যতক্ষণ না তার কিছুই অবশিষ্ট থাকে। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বলেন, 'নিশ্চয়ই আদম সন্তানরা নিন্দা করে কিন্তু পরিবর্তন হয় না, অতএব তোমরা তাকে তোমাদের ডানা দ্বারা পরিবেষ্টন করে রাখো।' তারা তার সাথে তাই করে। অতঃপর সে যদি তাওবা করে, তবে সেই সমস্ত পর্দা তার নিকট ফিরে আসে। আর যদি সে তাওবা না করে, তবে ফেরেশতারা তার প্রতি আশ্চর্যান্বিত হয়। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তাকে সোপর্দ করো।' তখন তারা তাকে সোপর্দ করে দেয়, এমনকি তার কোনো গোপন বিষয়ই আর আবৃত থাকে না।"

৬২ - নিশ্চয়ই আল্লাহ অলস ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন।

এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে এর অর্থ একটি দুর্বল হাদিসে রয়েছে।

৬৩ - নিশ্চয়ই আল্লাহ পেশাজীবী মুমিনকে ভালোবাসেন।

এবং হাদিসে রয়েছে