(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: -)
أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب (الحوت)
القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب
المؤلف: محمد بن محمد درويش، أبو عبد الرحمن الحوت الشافعي (ت 1277هـ)
المحقق: مصطفى عبد القادر عطا
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1418 هـ -1997م
عدد الصفحات: 357
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভিন্ন স্তরের হাদিসসমূহের বর্ণনায় আসনা আল-মাতালিব (আল-হূত)
বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: বিভিন্ন স্তরের হাদিসসমূহের বর্ণনায় আসনা আল-মাতালিব
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ দরবেশ، আবু আব্দুর রহমান আল-হূত আশ-শাফেয়ী (মৃ. ১২৭৭ হি.)
সম্পাদক: মোস্তফা আব্দুল কাদির আতা
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হি. - ১৯৯৭ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৭
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(حرف الْهمزَة) 1 - حَدِيث: " آتى بَاب الْجنَّة فأستفتح فَيَقُول الخازن: من أَنْت فَأَقُول: مُحَمَّد فَيَقُول: بك أمرت أَن لَا أفتح لأحد قبلك ". رَوَاهُ مُسلمآخر أربعاء فِي الشَّهْر يَوْم نحس مُسْتَمر مَوْضُوع، كَمَا قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ وَغَيره.آخر قَرْيَة من قرى الْإِسْلَام خرابا الْمَدِينَة رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَهُوَ ضَعِيف.آخر مَا تكلم بِهِ إِبْرَاهِيم حِين ألقِي فِي النَّار حسبي الله وَنعم الْوَكِيل من كَلَام ابْن عَبَّاس حبر الْأمة فَهُوَ مَوْقُوف.آخر من يخرج من النَّار رجل من جُهَيْنَة يُقَال لَهُ جُهَيْنَة فَيَقُول أهل الْجنَّة سلوه أَو عِنْد جُهَيْنَة الْخَبَر الْيَقِين قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ وَغَيره: مَوْضُوع.
(বর্ণ হামজাহ) ১ - হাদিস: "আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খোলার আবেদন জানাব। তখন দ্বাররক্ষী বলবে: আপনি কে? আমি বলব: মুহাম্মদ। সে বলবে: আপনার ব্যাপারেই আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আপনার পূর্বে আমি অন্য কারো জন্য দরজা না খুলি।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মাসের শেষ বুধবার একটি অবিরাম অশুভ দিন—এটি জাল (মওজু), যেমনটি ইবনুল জাওযি ও অন্যরা বলেছেন।ইসলামের জনপদগুলোর মধ্যে মদিনা সবার শেষে ধ্বংস হবে। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং এটি দুর্বল (যয়িফ)।ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তাঁর শেষ কথা ছিল 'আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক'। এটি উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত ইবনে আব্বাসের উক্তি, সুতরাং এটি মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য)।জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ যে ব্যক্তি বের হবে সে জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি যাকে জুহায়না বলা হবে। তখন জান্নাতবাসীরা বলবে, তাকে জিজ্ঞাসা করো অথবা জুহায়নার কাছেই নিশ্চিত সংবাদ রয়েছে। ইবনুল জাওযি ও অন্যরা বলেছেন: এটি জাল (মওজু)।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২০)
آدم عليه السلام وَأَنه لما حج وَقتل قابيل هابيل ملح الْبَحْر وتغيرت طعوم الثِّمَار وَأَنه لما حضر وَعلم مَا جرى من وَلَده قابيل أنْشد قَوْله: تَغَيَّرت الْبِلَاد وَمن عَلَيْهَا فَوجه الأَرْض مغبر قَبِيح وقابيل لقد أردى أَخَاهُ فيا أسفي مضى الْوَجْه الْمليح خبر بَاطِل لَا يدل عَلَيْهِ دَلِيل وَلم يرد فِي نَص صَحِيح وَلَا ضَعِيفآفَة الْعلم النسْيَان أوردهُ جمع وَفِيه ضعف وَانْقِطَاعآل مُحَمَّد كل تَقِيّ أوردهُ تَمام والديلمي بأسانيد ضَعِيفَة.آمن شعر أُميَّة ابْن أبي الصَّلْت وَكفر قلبه رَوَاهُ الْخَطِيب وَهُوَ ضَعِيف.آمين خَاتم رب الْعَالمين على لِسَان عباده الْمُؤمنِينَ فِيهِ ضعيفان: مُؤَمل الثَّقَفِيّ، وَأَبُو أُميَّة بن يعلى الثَّقَفِيّ. وَالثَّانِي، قَالَ الْمَنَاوِيّ: لَا شَيْءآيَة الْكُرْسِيّ ربع الْقُرْآن رَوَاهُ ابو الشَّيْخ وَهُوَ ضَعِيف.
আদম (আলাইহিস সালাম) এবং এ সম্পর্কিত বর্ণনা যে, তিনি যখন হজ করেন এবং কাবিল হাবিলকে হত্যা করে, তখন সমুদ্র লোনা হয়ে যায় এবং ফলের স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়; আর তিনি যখন উপস্থিত হলেন এবং তার পুত্র কাবিলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করেন: "দেশসমূহ ও তার অধিবাসীরা পরিবর্তিত হয়ে গেছে, পৃথিবীর চেহারা ধূলিধূসর ও কুৎসিত হয়ে গেছে। কাবিল নিশ্চয়ই তার ভাইকে ধ্বংস করেছে, হায় আক্ষেপ! সুন্দর চেহারাটি চলে গেছে।" এটি একটি বাতিল বা মিথ্যা সংবাদ, যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই এবং কোনো সহিহ কিংবা জয়িফ (দুর্বল) পাঠেও এটি বর্ণিত হয়নি।ইলমের আপদ বা ব্যাধি হলো ভুলে যাওয়া। একদল এটি উল্লেখ করেছেন এবং এতে দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার হলো প্রত্যেক মুত্তাকী বা পরহেজগার ব্যক্তি। তাম্মাম ও দাইলামি দুর্বল সনদে এটি উল্লেখ করেছেন।উমাইয়া ইবনে আবিস সালত-এর কবিতা ঈমান এনেছে কিন্তু তার অন্তর কুফরি করেছে। খতিব এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি দুর্বল।'আমিন' হলো মুমিন বান্দাদের জিহ্বায় রাব্বুল আলামীনের মোহর। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুইজন দুর্বল ব্যক্তি রয়েছেন: মুয়াম্মাল আস-সাকাফি এবং আবু উমাইয়া বিন ইয়ালা আস-সাকাফি। দ্বিতীয় ব্যক্তির ব্যাপারে আল-মানাবি বলেছেন: তিনি কিছুই নন।আয়াতুল কুরসি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ। আবুশ শাইখ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২১)
12 - حَدِيث: " آيَة الْمُنَافِق ثَلَاث ". مُتَّفق عَلَيْهِ.آيَة من كتاب الله خير من مُحَمَّد وَآلهحرف من كتاب الله لم يثبت ذَلِك.أئتدموا وَلَو بِالْمَاءِ رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: حَدِيث لَا يَصح، فِيهِ مَجْهُول وَضَعِيفائتزروا كَمَا رَأَيْت الْمَلَائِكَة تأتزر إِلَى أَنْصَاف سوقها رَوَاهُ الديلمي بِسَنَد ضَعِيف.أَبى الله أَن يرْزق عَبده الْمُؤمن إِلَّا من حَيْثُ لَا يعلم من حَدِيث عمر بن رَاشد. رَوَاهُ الديلمي وَهُوَ ضَعِيف جدا. وَأوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الْمَوْضُوعابتدروا الآذان وَلَا تبتدروا الْإِمَامَة حَدِيث مُرْسل
১২ - হাদিস: "মুনাফিকের আলামত তিনটি।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার অপেক্ষা উত্তম।আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর; এটি প্রমাণিত নয়।তোমরা সালুন হিসেবে গ্রহণ করো, এমনকি পানি দিয়ে হলেও; এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওজি বলেছেন: এটি সহিহ হাদিস নয়, এতে অজ্ঞাত ও দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে।তোমরা সেভাবে লুঙ্গি পরিধান করো যেভাবে আমি ফেরেশতাদের তাদের নলার অর্ধাংশ পর্যন্ত লুঙ্গি পরিধান করতে দেখেছি; এটি দায়লামি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাকে এমন উৎস থেকে রিজিক প্রদান করা ব্যতীত অন্যভাবে দিতে অস্বীকার করেছেন যা সে জানে না; এটি উমর ইবনে রাশিদের হাদিস থেকে বর্ণিত। দায়লামি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি অত্যন্ত দুর্বল। ইবনুল জাওজি একে জাল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।তোমরা আজানের ক্ষেত্রে অগ্রণী হও, কিন্তু ইমামতির ক্ষেত্রে অগ্রণী হয়ো না; এটি একটি মুরসাল হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২২)
18 - حَدِيث: " أبخل النَّاس من يبخل بِالسَّلَامِ ". رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَقَالَ: رِجَاله رجال الصَّحِيح.19 - حَدِيث: " ابدأ بِنَفْسِك ".أبردوا بِالطَّعَامِ رَوَاهُ الديلمي وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو نعيم عَن عدَّة من الصَّحَابَة، وَذَلِكَ يدل على حَسَنَة، وَرجع جمع إرْسَاله.21 - خبر: " أبردوا بِالظّهْرِ فَإِن شدَّة الْحر من فيح جَهَنَّم ".أبْغض الْحَلَال إِلَى الله الطَّلَاق صَحِيح الْبَيْهَقِيّ وَجَمَاعَة إرْسَاله.
১৮ - হাদিস: "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় কৃপণ সেই ব্যক্তি, যে সালাম প্রদানের ক্ষেত্রে কৃপণতা করে।" এটি তাবারানি ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (বায়হাকি) বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।১৯ - হাদিস: "তুমি নিজের সত্তা থেকে শুরু করো।"তোমরা খাবার ঠান্ডা করো। এটি দাইলামি, তাবারানি এবং আবু নুআইম একাধিক সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, যা এর হাসান হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে। তবে একদল বিশেষজ্ঞ এর মুরসাল হওয়াকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।২১ - বর্ণনা: "তোমরা জোহরের নামাজ ঠান্ডা করে আদায় করো, কেননা প্রচণ্ড উত্তাপ জাহান্নামের নিশ্বাসের অংশ।"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় হালাল বিষয় হলো বিবাহবিচ্ছেদ। বায়হাকি একে সহিহ বলেছেন এবং একদল বিশেষজ্ঞ এর মুরসাল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
23 - حَدِيث: " أبعض الرِّجَال إِلَى الله الألدُّ الْخصم ". رَوَاهُ مُسلم وَعند البُخَارِيّ: " إِن أبعض الرِّجَال … " إِلَخ.أبْغض الْعباد إِلَى الله من كَانَ ثوباه خيرا من عمله أَن تكون ثِيَابه ثِيَاب الْأَنْبِيَاء وَعَمله عمل الجبارين رَوَاهُ الْعقيلِيّ وَقَالَ: مُنكر، وَذكره ابْن الْجَوْزِيّ فِي الْمَوْضُوع، وَكَذَا ابْن عَرَبِيّ.25 - حَدِيث: " ابْن أُخْت الْقَوْم من " مُتَّفق عَلَيْهِ.26 - حَدِيث: " ابْن الذبيحين ". يرْوى عَن مُعَاوِيَة أَن أَعْرَابِيًا قَالَ لَهُ صلى الله عليه وسلم: يَا ابْن الذبيحين، وَلم يُنكر عَلَيْهِ. وَفِي الْكَشَّاف أَنا ابْن الذبيحين "، وَلم يثبت من قَوْله صلى الله عليه وسلم. وَأما قَول الْأَعرَابِي رَوَاهُ الْحَاكِم وَابْن مردوية والثعلبي.27 - خبر: " أَبُو بكر صَاحِبي ومؤنسي فِي الْغَار، سدوا كل خوخة فيالمسجد إِلَّا خوخة أبي بكر ". رَوَاهُ عبد الله بن أَحْمد فِي زَوَائِد الْمسند وَهُوَ حسن.
23 - হাদিস: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি হলো চরম ঝগড়াটে ও বিতণ্ডাপ্রবণ লোক।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং বুখারিতে রয়েছে: "নিশ্চয়ই সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি … " ইত্যাদি।আল্লাহর নিকট বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় সেই ব্যক্তি, যার পোশাক তার কর্মের চেয়ে উত্তম; অর্থাৎ তার পোশাক হবে নবীদের পোশাকের মতো আর তার কর্ম হবে স্বৈরাচারীদের কর্মের মতো। এটি উকায়লি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি 'মুনকার' (অস্বীকৃত)। ইবনুল জাওযি একে 'মাওদু' (জাল) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং ইবনে আরবিও অনুরূপ বলেছেন।25 - হাদিস: "কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন)।26 - হাদিস: "দুই জবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান।" মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সা.)-কে বলেছিলেন: "হে দুই জবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান!" আর তিনি তাতে কোনো আপত্তি করেননি। 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থে রয়েছে: "আমি দুই জবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান", তবে এটি নবী (সা.)-এর নিজস্ব উক্তি হিসেবে প্রমাণিত নয়। তবে গ্রাম্য ব্যক্তির উক্তিটি হাকেম, ইবনে মারদুওয়াইহি এবং সালাবি বর্ণনা করেছেন।27 - বর্ণনা: "আবু বকর গুহায় আমার সাথী ও বন্ধু। মসজিদের দিকে থাকা সমস্ত ছোট দরজা বন্ধ করে দাও, কেবল আবু বকরের দরজাটি বাদে।" এটি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ 'যাওয়ায়িদুল মুসনাদ'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এটি হাসান (উত্তম)।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
28 - خبر: " أَبُو بكر فِي الْجنَّة وَعمر فِي الْجنَّة وَعُثْمَان فِي الْجنَّة وَعلي فيا لجنة إِلَى عدَّة الْعشْرَة ". حَدِيث حسنأَبُو بكر مني وَأَنا مِنْهُ فِيهِ راو كَذَّاب30 - خبر: أَبُو بكر وَعمر سيدا كهول أهل الْجنَّة من الْأَوَّلين والآخرين إِلَّا النبين وَالْمُرْسلِينَ ". رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَغَيرهمَا عَن عَليّ وَغَيره.أَبُو حنيفَة سراج أهل الْجنَّةعَالم قُرَيْش يمْلَأ طباق الأَرْض علمايكَاد النَّاس يضْربُونَ أكباد الْإِبِل فَلَا يَجدونَ أعلم من عَالم الْمَدِينَةلَو كَانَ الْعلم مُعَلّقا بِالثُّرَيَّا لتنَاوله قوم من أَبنَاء فَارس مَوْضُوع بَاطِل وَلَا يُنكر فَضله رضي الله عنه وَعَن كل الْأَئِمَّة لَكِن هَذَا كذب وَلم يرد فِي أحد من الْأَئِمَّة بِعَيْنِه نَص لَا صَحِيح وَلَا ضَعِيف، وَأما بطرِيق الْعُمُوم فورد لَكِن لم يَصح كَخَبَر " عَالم قُرَيْش يمْلَأ الأَرْض علما " فَهُوَ ضَعِيف. وَحمل على الشَّافِعِي رضى الله عَنهُ وَذكره الصَّنْعَانِيّ مَعَ الْمَوْضُوع ونوزع فِيهِ كَذَا: " يكَاد النا يضْربُونَ أكباد الْإِبِل فَلَا يَجدونَ أعلم من عَالم الْمَدِينَة " سمعته من الْمَالِكِيَّة، وَلم أره وَحمل على مَالك وَيظْهر عَلَيْهِ التَّكَلُّف وَلَا شكّ عندنَا أَن سيدنَا مَالك بن أنس أستاذنا وأستاذ إمامنا الشَّافِعِي نفعنا الله بهما وكخبر " لَو كَانَ الْعلم مُعَلّقا بِالثُّرَيَّا قوم من أَبنَاء فَارس " وَحمل على أبي حنيفَة رَضِي اللهعنه لِأَنَّهُ من فَارس لَكِن سَنَده لم يَصح وَإِنَّمَا روى الشَّيْخَانِ: " لَو كَانَ الْإِيمَان عِنْد الثريا لتنَاوله أنَاس من هَؤُلَاءِ " وَأَشَارَ إِلَى فَارس.
২৮ - সংবাদ: "আবু বকর জান্নাতে, উমর জান্নাতে, উসমান জান্নাতে এবং আলী জান্নাতে — এভাবে দশজন পর্যন্ত।" এটি হাসান হাদিস।"আবু বকর আমার থেকে এবং আমি তার থেকে" — এই বর্ণনায় একজন মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী রয়েছে।৩০ - সংবাদ: "আবু বকর ও উমর জান্নাতের প্রৌঢ়দের সর্দার, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার মধ্য থেকে, নবী ও রাসুলগণ ব্যতীত।" এটি শাইখাইন এবং অন্যান্যরা আলী ও অন্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।আবু হানিফা জান্নাতবাসীদের প্রদীপ।কুরাইশদের একজন আলেম পৃথিবীর স্তরসমূহ ইলম দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন।এমন সময় ঘনিয়ে আসছে যখন মানুষ উটের কলিজায় আঘাত করবে (অর্থাৎ সফর করবে), কিন্তু মদিনার আলেমের চেয়ে বড় কোনো আলেম খুঁজে পাবে না।যদি ইলম সুরাইয়া নক্ষত্রে ঝুলন্ত থাকত, তবে পারস্যের সন্তানদের মধ্য থেকে একদল লোক তা গ্রহণ করত — এটি বানোয়াট ও বাতিল। তার (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) এবং সকল ইমামের মর্যাদা অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু এটি মিথ্যা। কোনো ইমামের ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে সহিহ বা জয়িফ কোনো বর্ণনা আসেনি। আর সাধারণ অর্থে যা বর্ণিত হয়েছে তাও সহিহ নয়, যেমন এই সংবাদটি: "কুরাইশদের একজন আলেম পৃথিবীকে ইলম দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন" — এটি জয়িফ। এটি ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর ওপর প্রয়োগ করা হয়। সানআনী একে বানোয়াট বর্ণনার সাথে উল্লেখ করেছেন এবং এ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে। তেমনিভাবে: "এমন সময় ঘনিয়ে আসছে যখন মানুষ উটের কলিজায় আঘাত করবে, কিন্তু মদিনার আলেমের চেয়ে বড় কোনো আলেম খুঁজে পাবে না" — আমি এটি মালিকি মাজহাবের অনুসারীদের নিকট থেকে শুনেছি, কিন্তু (লিখিতভাবে) দেখিনি। এটি ইমাম মালিকের ওপর প্রয়োগ করা হয় এবং এর ওপর কৃত্রিমতা স্পষ্ট। আমাদের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের নেতা মালিক ইবনে আনাস আমাদের উস্তাদ এবং আমাদের ইমাম শাফেয়ির উস্তাদ, আল্লাহ তাদের উভয়ের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। আর এই সংবাদের মতো: "যদি ইলম সুরাইয়া নক্ষত্রে ঝুলন্ত থাকত, তবে পারস্যের সন্তানদের মধ্য থেকে একদল লোক..." — এটি আবু হানিফা (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর ওপর প্রয়োগ করা হয়, কারণ তিনি পারস্যের ছিলেন। কিন্তু এর সনদ সহিহ নয়। মূলত শাইখাইন বর্ণনা করেছেন: "যদি ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্রের কাছে থাকত, তবে এদের মধ্য থেকে কিছু লোক তা অর্জন করত" এবং তিনি পারস্যের দিকে ইশারা করেন।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
32 - حَدِيث: " أَتَاكُم أهل الْيمن هم أَضْعَف قلوباً وأرق أَفْئِدَة الْفِقْه يمَان وَالْحكمَة يَمَانِية ". رَوَاهُ الشَّيْخَانِ، وَالْمرَاد بِالْيمن: الْحجاز فَكل من القطرين يُسمى يمناً وحجازاً وجزيرة الْعَرَب.33 - حَدِيث: " أَتَانِي جِبْرِيل فَقَالَ لي: إِن رَبِّي وَرَبك يَقُول لَك: تَدْرِي كَيفَ رفعت ذكرك فَقلت: الله أعلم قَالَ: لَا أذكر إِلَّا ذكرت معي ". رَوَاهُ ابْن حبَان وَغَيره قَالَ الهيثمي: إِسْنَاده حسن.اتبعُوا وَلَا تبتدعوا فقد كفيتم هُوَ من كَلَام ابْن مَسْعُوداتَّجرُوا فِي أَمْوَال الْيَتَامَى لَا تأكلها الزَّكَاة رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَصَححهُ الْعِرَاقِيّ وَحسنه ابْن حجر وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مَوْقُوفا على ابْن عمر وَقَالَ: سَنَده صَحِيح، أَي الْمَوْقُوف.اتخذ الله إِبْرَاهِيم خَلِيلًا ومُوسَى نجيا واتخذني حبيبا ثمَّ قَالَ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَأُوثِرَنَّ حَبِيبِي على خليلي ونجيي روه الْبَيْهَقِيّ وَضَعفه وَحكم ابْن الْجَوْزِيّ بِوَضْعِهِ، ونوزع فِيهِ.
32 - হাদিস: "তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসী এসেছে, তারা হৃদয়ে অত্যন্ত কোমল এবং অন্তরে অত্যন্ত দয়ালু। ফিকহ ইয়ামেনি এবং হিকমাহ ইয়ামেনি।" এটি শাইখান (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। আর ইয়ামেন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হিজাজ; কেননা এই উভয় অঞ্চলের প্রত্যেকটিকেই ইয়ামেন, হিজাজ এবং জাজিরাতুল আরব বলা হয়।33 - হাদিস: "জিবরাঈল আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে বললেন: নিশ্চয়ই আমার রব ও আপনার রব আপনাকে বলছেন: আপনি কি জানেন আমি কীভাবে আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি? আমি বললাম: আল্লাহ অধিক অবগত। তিনি বললেন: যখনই আমাকে স্মরণ করা হয়, তখনই আমার সাথে আপনাকেও স্মরণ করা হয়।" এটি ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: এর সনদ হাসান।তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) করো না, কেননা তোমাদের জন্য যা দেওয়া হয়েছে তা-ই যথেষ্ট। এটি ইবনে মাসউদের উক্তি।তোমরা এতিমদের ধন-সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করো যেন জাকাত তা খেয়ে না ফেলে (নিঃশেষ না করে দেয়)। এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং ইরাকি একে সহিহ বলেছেন ও ইবনে হাজার একে হাসান বলেছেন। বায়হাকি এটি ইবনে উমরের ওপর মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদ সহিহ, অর্থাৎ মাওকুফ রেওয়ায়াতটি।আল্লাহ ইবরাহিমকে খলিল হিসেবে, মুসাকে নাজি হিসেবে এবং আমাকে হাবিব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এরপর তিনি বললেন: আমার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমি অবশ্যই আমার হাবিবকে আমার খলিল ও নাজির ওপর প্রাধান্য দেব। এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলেছেন। ইবনে জাওজি একে জাল হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন, তবে এ বিষয়ে দ্বিমত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
37 - حَدِيث: " اتخذ خَاتمًا من ذهب ثمَّ أَلْقَاهُ ثمَّ اتَّخذهُ من ورق ونقشه مُحَمَّد رَسُول الله وكا إِذا لبسه جعل فصه فِي بَاطِن كَفه " رَوَاهُ مُسلم.اتَّخذُوا الديك الْأَبْيَض فَإِن دَارا فِيهَا ديك أَبيض لَا يقربهَا شَيْطَان وَلَا سَاحر وَلَا الدويرات حولهَا رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَفِيه كَذَّاب. وَمَا ورد فيالديك الْأَبْيَض واه لم يَصح مِنْهُ شَيْءاتَّخذُوا السراري فَإِنَّهُنَّ مباركات الْأَرْحَام قَالَ الْعقيلِيّ: لَا يَصح فِي السراري شَيْء عَنهُ صلى الله عليه وسلماتَّخذُوا السراويلات فَإِنَّهَا من أستر ثيابكم وحصنوا بهَا نساءكم إِذا خرجن حكم ابْن الْجَوْزِيّ بِوَضْعِهِ، ونوزع فِيهِ.اتَّخذُوا عِنْد الْفُقَرَاء أيادي قبل أَن تَأتي دولتهم فَأن لَهُم دولة يَوْم الْقِيَامَةنَادَى مُنَاد سِيرُوا إِلَى الْفُقَرَاء فيعتذر إِلَيْهِم كَمَا يعْتَذر أحدكُم لِأَخِيهِ فِي الدُّنْيَا قَالَ ابْن حجر: لَا أصل لَهُ. وَقَالَ السخاوي: كل هَذَا بَاطِل. وَسَبقه ابْن تَيْمِية والهبي وَغَيرهمَا.اتَّخذُوا هَذَا الْحمام المقاصيص فِي بُيُوتكُمْ فَإِنَّهَا تلهي الْجِنّ عَن صِبْيَانكُمْ
৩৭ - হাদীস: "তিনি স্বর্ণের একটি আংটি গ্রহণ করেছিলেন, তারপর তা বর্জন করলেন। এরপর তিনি রূপার একটি আংটি গ্রহণ করেন এবং তাতে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' খোদাই করেন। তিনি যখন এটি পরিধান করতেন, এর পাথরটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।"তোমরা সাদা মোরগ পালন করো; কারণ যে ঘরে সাদা মোরগ থাকে, সেই ঘরে এবং তার চারপাশের ঘরগুলোতে শয়তান বা জাদুকর প্রবেশ করতে পারে না।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী রয়েছে। সাদা মোরগ সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল; এর কোনো কিছুই বিশুদ্ধ নয়।"তোমরা দাসী গ্রহণ করো, কেননা তাদের গর্ভ বরকতময়।" উকায়লী বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দাসীদের মর্যাদা সংক্রান্ত বর্ণিত কোনো কিছুই বিশুদ্ধ নয়।"তোমরা পায়জামা গ্রহণ করো, কেননা এটি তোমাদের পোশাকসমূহের মধ্যে অধিক আবরক এবং এর মাধ্যমে তোমাদের নারীরা যখন বাইরে বের হয় তখন তাদের সুরক্ষিত করো।" ইবনুল জাওযী একে বানোয়াট হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, তবে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে।"দরিদ্রদের নিকট নিজেদের জন্য অনুগ্রহ জমা রাখো তাদের কর্তৃত্ব আসার পূর্বেই; কারণ কিয়ামতের দিন তাদের একটি বিশেষ রাজত্ব থাকবে।""একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন: তোমরা দরিদ্রদের দিকে চলো। এরপর তাদের কাছে এমনভাবে ওজর পেশ করা হবে যেমন তোমাদের কেউ দুনিয়াতে তার ভাইয়ের কাছে ওজর পেশ করে।" ইবনে হাজার বলেন: এর কোনো ভিত্তি নেই। সাখাভী বলেন: এর পুরোটাই বাতিল। তাঁর পূর্বে ইবনে তাইমিয়্যাহ, যাহাবী এবং অন্যান্যরা অনুরূপ বলেছেন।"তোমরা তোমাদের ঘরে এই ডানা ছাটা কবুতরগুলো রাখো, কারণ এগুলো জিনদের তোমাদের শিশুদের থেকে বিমুখ করে রাখে।"
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رَوَاهُ الْخَطِيب، وَفِيه مُحَمَّد بِمن زِيَاد، وَعَن أَحْمد وَيحيى بن معيم أَنه كَذَّاب، وَحكم ابْن حبَان وَابْن الْجَوْزِيّ بِوَضْعِهِ.اتْرُكُوا الْحَبَشَة مَا تركوكم رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَسَنَده ضَعِيف.اتَّقوا الْبرد فَإِنَّهُ قتل أَخَاكُم أَبَا الدَّرْدَاء مَوْضُوع. أَبُو الدَّرْدَاء توفّي بعده صلى الله عليه وسلماتَّقوا دَعْوَة الْمَظْلُوم فَإِنَّهَا تحمل على الْغَمَام وَيَقُول الله وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لأنصرنك وَلَو بعد حِين رَوَاهُ الْقُضَاعِي، وروى أَحْمد:اتَّقوا دَعْوَة الْمَظْلُوم وَإِن كَانَت من كَافِر فَإِنَّهُ لَيْسَ دونهَا حجاب وروى الشَّيْخَانِ: " اتَّقوا دَعْوَة الْمَظْلُوم فَإِنَّهُ لَيْسَ دونه حجاب ".اتَّقوا ذَوي العاهات قَالَ السخاوي لم أَقف عَلَيْهِاتَّقوا زلَّة الْعَالم رَوَاهُ العسكري وَزَاد الديلمي: " وَانْتَظرُوا مِنْهُ " وَفِيه كثير بن عبد الله بن عَمْرو ابْن عَوْف، قَالَ فيالميزان عَن أبي دَاوُد وَالشَّافِعِيّ: هُوَ ركن من أَرْكَان الْكَذِب، وَضرب أَحْمد على حَدِيثه.
আল-খাতিব এটি বর্ণনা করেছেন, এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ রয়েছেন। ইমাম আহমদ ও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী। ইবনে হিব্বান ও ইবনুল জাওজি এটি জাল হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন।আবিসিনীয়দের (হাবশিদের) ছেড়ে দাও যতক্ষণ তারা তোমাদের ছেড়ে দেয়। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল।শীত থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এটি তোমাদের ভাই আবু দারদাকে হত্যা করেছে—এটি একটি বানোয়াট কথা। আবু দারদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পরে মৃত্যুবরণ করেছেন।মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, কারণ একে মেঘমালার ওপর বহন করা হয় এবং আল্লাহ বলেন: আমার সম্মান ও প্রতাপের কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়। এটি আল-কুদায়ী বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন:মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, যদিও সে কাফের হয়। কেননা এর মাঝে কোনো অন্তরায় নেই। আর শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন: "মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, কেননা এর মাঝে কোনো অন্তরায় নেই।"শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিদের থেকে বেঁচে থাকো। সাখাভী বলেন: আমি এর কোনো ভিত্তি পাইনি।আলেমের পদস্খলন থেকে বেঁচে থাকো। আল-আসকারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং আদ-দাইলামি বাড়িয়েছেন: "এবং তাঁর থেকে ফিরে আসার অপেক্ষা করো।" এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কাসির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আওফ রয়েছেন। 'আল-মিজান' গ্রন্থে আবু দাউদ ও শাফেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: সে মিথ্যার স্তম্ভসমূহের অন্যতম একটি স্তম্ভ। ইমাম আহমদ তাঁর হাদিস বর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
اتَّقوا فراسة الْمُؤمن فَإِنَّهُ ينظر بِنور الله قَالَ التِّرْمِذِيّ: غَرِيب، وَقيل إِنَّه ضَعِيف، وَذكره ابْن الْجَوْزِيّ فِي الْمَوْضُوع، وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَادِهِ حسن.49 - خبر: " اتَّقوا المجذوم كَمَا يتقى الْأسد ". رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي تَارِيخه عَن أبي هُرَيْرَة وسكتوا عَلَيْهِ. وَلَفظ: " فر من المجذوم فرارك من الْأسد ". هُوَ قِطْعَة من حَدِيث: " لَا عدوى " الْمَرْوِيّ فِي صَحِيح البُخَارِيّ فَلَيْسَ هُوَ حَدِيث مُسْتَقل. وَخبر: " كلم المجذوم وَبَيْنك وَبَينه قيد رمح أَو رُمْحَيْنِ ". رَوَاهُ أَبُو نعيم وَابْن السّني، وَقَالَ ابْن حجر: واه، وروى أَصْحَاب السّنَن وَابْن حبَان وَالْحَاكِم عَن جَابر بن عبد الله الْأنْصَارِيّ قَالَ: واه، وروى أَصْحَاب السّنَن وَابْن حبَان وَالْحَاكِم عَن جَابر بن عبد الله الْأنْصَارِيّ قَالَ: " أَخذ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بيد مجذوم فوضعها مَعَه فِي قَصْعَة، وَقَالَ: كل بِسم الله ثِقَة بِهِ وتوكلاً على الله ". قَالَ ابْن حجر: حسن وَصَححهُ ابْن حبَان وَالْحَاكِم وَفِيه نظر، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: تفرد بِهِ الْمفضل بن فضَالة وَلَيْسَ بِذَاكَ، وَلَا يُتَابع عَلَيْهِ إِلَّا من طَرِيق لين، إِي: فَلَا يُوصف بِصِحَّة وَسَيَأْتِي: " لَا عدوى وطيرة ". وَالْجمع بَين الْأَحَادِيث الْمَذْكُورَة: أَن الْأَشْخَاص لَهَا حالتان، فَمنهمْ هُوَ سليم الْقلب طيب الْجنان طَاهِر الْبَاطِن مُسْتَغْرق فِي شُهُود الْحق، وَإنَّهُ الْمُتَصَرف وَلَا يتَغَيَّر للبلاء والمحن، وكل حالاته عِنْده سَوَاء، فَهَذَا لَهُ أَن يخالط أهل الْبلَاء والعاهات كالمجذوم وَنفي الْعَدْوى فِي الحَدِيث الصَّحِيح. وَمِنْهُم مُؤمن ضَعِيف الْقلب يدْخلهُ الوسواس كثيرا، فَهَذَا سَلَامَته فِي الْبعد عَن الْأَسْبَاب الْمضرَّة كَمَا نهى عَن المذوم. وَورد أَنه جَاءَ مجذوم فِي وَفد فَبَايعهُ عَن بعد وَقَالَ: " قد بايعناك فَارْجِع ". وَلم أَقف على نَص فِيهِ من حسن وَضعف. فَمن كَانَ من أهل صفاء السِّرّ والصدر قوي الْإِيمَان فَلهُ أَن يخالط أهل الْبلَاء مُعْتَمدًا على خالقه
মুমিনের দূরদর্শিতাকে ভয় করো, কারণ সে আল্লাহর নূর দিয়ে দেখে। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি গরিব (একক সূত্রে বর্ণিত), কেউ কেউ একে যয়ীফ (দুর্বল) বলেছেন, আর ইবনুল জাওযী একে মাওজু (জাল) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে ইমাম তাবারানি এটি তাঁর সনদে হাসান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।৪৯ - সংবাদ: "কুষ্ঠরোগীকে সেভাবে ভয় করো যেভাবে সিংহকে ভয় করা হয়।" ইমাম বুখারি তাঁর ইতিহাসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। আর শব্দগুলো হলো: "কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে পলায়ন করো যেভাবে তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো।" এটি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত "কোনো সংক্রমণ নেই" হাদিসের একটি অংশ মাত্র; এটি কোনো স্বতন্ত্র হাদিস নয়। আর একটি বর্ণনা হলো: "কুষ্ঠরোগীর সাথে কথা বলো এমতাবস্থায় যে তোমার ও তাঁর মাঝে এক বা দুই বর্শা পরিমাণ দূরত্ব থাকে।" এটি আবু নুআইম ও ইবনুস সুন্নি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার একে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। আর সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ, ইবনে হিব্বান ও হাকেম জাবির বিন আব্দুল্লাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কুষ্ঠরোগীর হাত ধরলেন এবং তা তাঁর সাথে বড় একটি পাত্রে রাখলেন। অতঃপর বললেন: আল্লাহর ওপর আস্থা ও তাওয়াক্কুল করে বিসমিল্লাহ বলে খাও।" ইবনে হাজার একে হাসান বলেছেন। ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে সহিহ বলেছেন, তবে এ ব্যাপারে আপত্তি আছে। ইবনুল জাওযী বলেছেন: মুফাযযাল বিন ফাযালা এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তেমন শক্তিশালী নন। দুর্বল পথ ব্যতীত এ বর্ণনার কোনো অনুসরণকারী নেই; অর্থাৎ এটিকে সহিহ হিসেবে অভিহিত করা যায় না। সামনে আসবে: "কোনো ছোঁয়াচে রোগ নেই এবং কোনো কুলক্ষণ নেই।" আর উল্লিখিত হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় হলো: ব্যক্তিদের দুটি অবস্থা রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ এমন সুস্থ হৃদয়ের, পবিত্র অন্তঃকরণের এবং বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী যারা সত্যের (আল্লাহর) অবলোকনে নিমগ্ন। তিনি বিশ্বাস করেন যে মহান আল্লাহই একমাত্র পরিচালক এবং বিপদ-আপদে তিনি বিচলিত হন না। তাঁর নিকট সকল অবস্থা সমান। এমন ব্যক্তির জন্য কুষ্ঠরোগীর মতো বিপদগ্রস্ত ও ব্যাধিগ্রস্তদের সাথে মেলামেশা করার অবকাশ রয়েছে এবং সহিহ হাদিসে সংক্রমণের অস্বীকৃতি এদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর তাদের মধ্যে কেউ এমন দুর্বল হৃদয়ের মুমিন যার মনে প্রচুর কুসংস্কার ও খটকা প্রবেশ করে। তাঁর নিরাপত্তা হলো ক্ষতিকর মাধ্যমগুলো থেকে দূরে থাকার মধ্যে, যেমনটি কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, এক প্রতিনিধি দলের সাথে একজন কুষ্ঠরোগী এসেছিল, তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) দূর থেকেই তাঁর বায়আত গ্রহণ করেন এবং বলেন: "আমরা তোমার বায়আত গ্রহণ করেছি, এখন তুমি ফিরে যাও।" তবে এর মান হাসান না যয়ীফ—এ সংক্রান্ত কোনো পাঠ আমি খুঁজে পাইনি। সুতরাং যার গোপন ও প্রকাশ্য অবস্থা স্বচ্ছ এবং ঈমান শক্তিশালী, তাঁর জন্য তাঁর স্রষ্টার ওপর ভরসা করে বিপদগ্রস্তদের সাথে মেলামেশা করার অনুমতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومولاه فِي كل أُمُوره، وَمن كَانَ من الضُّعَفَاء فاجتنابه أولى دفعا لباب الْفِتْنَة عَنهُ، وَالله أعلم.50 - خبر: " اتَّقوا النَّار وَلَو بشق تَمْرَة ": " اتَّقوا النَّار وَلَو بشق تمر فَإِن لم تَجدوا فبكلمة طيبَة ". مُتَّفق عَلَيْهِ.أثردوا وَلَو بِالْمَاءِ ضَعِيف جدااجْتِمَاع الْخضر وإلياس فِي كل عَام فِي الْمَوْسِم مُنكر كَمَا قَالَه ابْن حجر والسخاوي.اجرؤكم على الْفتيا اجرؤكم على النَّار حَدِيث مُرْسل.اجرؤكم على قسم الْجد اجرؤكم على النَّار حَدِيث مُرْسل عَن ابْن الْمسيب.أَحَادِيث أدعية الْوضُوء لم تثبتأَحَادِيث فضل سور الْقُرْآن مائَة وَأَرْبَعَة عشر حَدِيثا ذكرهَا الزَّمَخْشَرِيّ والبيضاوي تبعا لِلْوَاحِدِيِّ كلهَا كذب على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، واتهم المحدثون بوضعها نوح بن ابي مَرْيَم، وَقيل غَيره، وَالله أعلم.
এবং তাঁর সকল বিষয়ে তাঁর অভিভাবক। আর যারা দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের পরিহার করাই অধিকতর শ্রেয় যাতে তাদের ফিতনার দরজা থেকে দূরে রাখা যায়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।৫০ - সংবাদ: "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা খেজুরের এক টুকরোর বিনিময়ে হয়": "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা খেজুরের এক টুকরোর বিনিময়ে হয়; আর যদি তা না পাও তবে একটি উত্তম কথার মাধ্যমে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।তোমরা সরিদ (ঝোলযুক্ত রুটি) তৈরি করো যদিও তা কেবল পানির সাহায্যে হয়—এটি অত্যন্ত দুর্বল।প্রতি বছর হজের মৌসুমে খিজির ও ইলিয়াসের একত্রিত হওয়া একটি মুনকার (অস্বীকৃত) বিষয়, যেমনটি ইবনে হাজার ও সাখাভী বলেছেন।তোমাদের মধ্যে ফতোয়া প্রদানে যে যত বেশি সাহসী, সে জাহান্নামের আগুনের ব্যাপারেও তত বেশি সাহসী—এটি একটি মুরসাল হাদিস।দাদার মিরাস বণ্টনের ক্ষেত্রে তোমাদের মধ্যে যে যত বেশি সাহসী, সে জাহান্নামের আগুনের ব্যাপারেও তত বেশি সাহসী—এটি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত একটি মুরসাল হাদিস।অজুর দোয়াসমূহ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ প্রমাণিত নয়।কুরআনের ১১৪টি সূরার ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসসমূহ যা ওহেদীর অনুসরণে যামাখশারী এবং বায়যাভী উল্লেখ করেছেন, তার সবই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যাচার। মুহাদ্দিসগণ এগুলো জাল করার জন্য নূহ বিন আবি মারয়ামকে অভিযুক্ত করেছেন, আবার অন্য কারো কথাও বলা হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
57 - حَدِيث: " أحب الْأَسْمَاء إِلَى الله: عبد الله وَعبد الرَّحْمَن ". رَوَاهُ مُسلم.58 - حَدِيث: " أحب الْبِقَاع إِلَى الله مساجدها، وَأبْغض الْبِلَاد إِلَى الله أسواقها ". رَوَاهُ مُسلم بِلَفْظ الْبِلَاد بدل الْبِقَاع.أحب بُيُوتكُمْ إِلَى الله بَيت فِيهِ يَتِيم مكرم رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَقَالَ: تفرد بِهِ إِبْرَاهِيم الضَّبِّيّ، وَهُوَ مَتْرُوك، وَقَالَ الْعقيلِيّ: لَا أصل لَهُ.أحبب حَبِيبك هونا مَا عَسى أَن يكون بَغِيضك يَوْمًا مَا وَأبْغض بَغِيضك هونا مَا عَسى أَن يكون حَبِيبك يَوْمًا مَا ضَعِيف جدا، وَفِيه مقَال، قالابن حبَان: رَفعه خطأ، وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ: لَا يَصح رَفعه وَله طرق فِي كل مِنْهَا واه مَتْرُوك.أحب الطَّعَام إِلَى الله مَا كثرت عَلَيْهِ الْأَيْدِي فِيهِ ابْن رواد، وَهُوَ مَتْرُوك.
৫৭ - হাদিস: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো: আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।৫৮ - হাদিস: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো তার মসজিদসমূহ, এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত জনপদ হলো তার বাজারসমূহ।" মুসলিম এটি 'বিাকা' (স্থান) শব্দের পরিবর্তে 'বিলাদ' (জনপদ) শব্দে বর্ণনা করেছেন।তোমাদের ঘরগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ঘর হলো সেই ঘর যাতে কোনো এতিম সম্মানিত অবস্থায় থাকে। এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইবরাহিম আদ-দব্বি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি পরিত্যক্ত; আর উকায়লি বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।তোমার প্রিয়জনকে পরিমিতভাবে ভালোবাসো, হতে পারে কোনো একদিন সে তোমার শত্রু হবে; আর তোমার শত্রুকে পরিমিতভাবে ঘৃণা করো, হতে পারে কোনো একদিন সে তোমার প্রিয়জন হবে। এটি অত্যন্ত দুর্বল এবং এ বিষয়ে সমালোচনা রয়েছে। ইবনে হিব্বান বলেছেন: এটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করা ভুল, এবং দারা কুতনি বলেছেন: এর মারফু হওয়া বিশুদ্ধ নয় এবং এর এমন কিছু সূত্র রয়েছে যার প্রতিটিতেই অত্যন্ত দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী রয়েছে।আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য হলো তা, যাতে হাতের সংখ্যা অধিক হয়। এতে ইবনে রুয়াদ রয়েছেন এবং তিনি পরিত্যক্ত।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أَحبُّوا الْعَرَب لثلاث لِأَنِّي عَرَبِيّ وَالْقُرْآن عَرَبِيّ وَكَلَام أهل الْجنَّة عَرَبِيّ مُتَكَلم فِيهِ، قَالَ الذَّهَبِيّ فِيهِ محمج بن الْفضل مُتَّهم، وَقَالَ: أَظن الحَدِيث مَوْضُوعا، وَعَن ابْن حبَان: أَنه مَوْضُوع، وَعَن أبي حَاتِم فِيهِ كَذَّاب.أَحبُّوا الله لما يغذوكم بِهِ من نعمه الْجَامِع وأحبوني لحب الله وأحبوا أهل بَيْتِي لحبي صَححهُ التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم، وَقَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: لَا يَصح لَكِن خُولِفَ وَلَا يَخْلُو عَن ضعف.احترسوا من النَّاس بِسوء الظَّن رَوَاهُ أَحْمد وَغَيره وطرقه ضَعِيفَة.65 - حَدِيث: " احثوا فِي وُجُوه المداحين التُّرَاب ". رَوَاهُ مُسلم.احْذَرُوا صفر الْوُجُوه فَإِنَّهُ إِن لم يكن من عِلّة أَو سهر فَإِنَّهُ
তিনটি কারণে আরবদের ভালোবাসো; যেহেতু আমি আরব, কুরআন আরবি এবং জান্নাতবাসীদের কথা বলার ভাষা হলো আরবি। এই বর্ণনাটি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; ইমাম যাহাবী বলেছেন, এতে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল নামক বর্ণনাকারী অভিযুক্ত এবং তিনি আরও বলেছেন: আমি মনে করি হাদিসটি জাল। ইবনে হিব্বান থেকে বর্ণিত যে, এটি জাল। আর আবু হাতিম বলেছেন, এতে একজন চরম মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী রয়েছে।আল্লাহ তোমাদের যে সকল নিয়ামত দান করেন তার জন্য তাঁকে ভালোবাসো, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে আমাকে ভালোবাসো এবং আমার প্রতি ভালোবাসার কারণে আমার পরিবারবর্গকে ভালোবাসো। ইমাম তিরমিযী ও হাকেম একে সহীহ বলেছেন। ইবনুল জাওযী বলেছেন: এটি সহীহ নয়; তবে তার এই মতের বিরোধিতা করা হয়েছে এবং বর্ণনাটি দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়।মানুষের প্রতি কুধারণা পোষণের মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করো বা সতর্ক থাকো। এটি আহমাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এর সূত্রগুলো দুর্বল।৬৫ - হাদিস: "তোমরা অতিশয় প্রশংসাকারীদের মুখে মাটি নিক্ষেপ করো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।বিবর্ণ বা ফ্যাকাশে চেহারার ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকো; কেননা তা যদি কোনো রোগ বা রাত জাগার কারণে না হয়ে থাকে, তবে তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
من غل فِي قلبه للْمُسلمين رَوَاهُ الديلمي، قَالَ ابْن حجر: لم أق لَهُ على أصل، وَذكره ابْن الْقيم بِلَا سَنَد.أحضروا موائدكم البقل فَإِنَّهُ مطردَة للشَّيْطَان مَوْضُوع.68 - خبر: " أَحَق مَا أَخَذْتُم عَلَيْهِ أجرا كتاب الله ". رَوَاهُ البُخَارِيّ من حَدِيث ابي سعيد الْخُدْرِيّ حِين راقوا سيد الْحَيّ بِفَاتِحَة الْكتاب وَدفع لَهُم جعلهم غنما.أحلّت لنا ميتَتَانِ وَدَمَانِ السّمك وَالْجَرَاد والكبد وَالطحَال يرْوى مَرْفُوعا وموقوفاً من كَلَام ابْن عمر، وَهُوَ أصح، وَمَعَ ذَلِك فَلهُ حكم الْمَرْفُوع.إحْيَاء أَبَوي النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْن كثير: حَدِيث مُنْكرا جدا، وَالله قَادر على هَذَا وَأعظم مِنْهُ.أخبر تقله هُوَ من كَلَام أبي دَاوُد وَرَفعه ضَعِيف وَمَعْنَاهُ: اختبر بَاطِن الْإِنْسَان فَيظْهر لَك سره فتبغضه.
যার অন্তরে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ থাকে - এটি দায়লামি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার বলেছেন: আমি এর কোনো মূল ভিত্তি পাইনি। ইবনুল কাইয়্যিম এটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন।তোমাদের দস্তরখানে শাকসবজি উপস্থিত করো, কেননা তা শয়তানকে বিতাড়িত করে - এটি একটি জাল (মাউজু) বর্ণনা।৬৮ - সংবাদ: "তোমরা যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করো তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হকদার হলো আল্লাহর কিতাব।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন আবু সাইদ আল-খুদরি (রা.)-এর হাদিস থেকে, যখন তারা গোত্রের প্রধানকে সূরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন এবং তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে এক পাল ছাগল দেওয়া হয়েছিল।আমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত প্রাণী ও দুই প্রকার রক্ত হালাল করা হয়েছে; (মৃত প্রাণী হলো) মাছ ও পঙ্গপাল এবং (রক্ত হলো) কলিজা ও প্লীহা। এটি ইবনে ওমরের উক্তি হিসেবে মারফু এবং মাওকুফ উভয় সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই অধিক বিশুদ্ধ, তবে তা মারফু হাদিসের হুকুমে গণ্য।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিতা-মাতাকে জীবিত করা সংক্রান্ত বর্ণনা - ইবনে কাসির বলেছেন: এটি অত্যন্ত মুনকার হাদিস, তবে আল্লাহ এটি করতে এবং এর চেয়েও বড় কিছু করতে সক্ষম।পরীক্ষা করো তবেই তুমি তাকে ঘৃণা করবে - এটি আবু দাউদের উক্তি এবং একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করা দুর্বল। এর অর্থ হলো: মানুষের অভ্যন্তরীণ অবস্থা পরীক্ষা করো, তবেই তোমার কাছে তার গোপন রহস্য প্রকাশ পাবে এবং তুমি তাকে ঘৃণা করবে।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أَخْبرنِي جِبْرِيل أَن حُسَيْنًا يقتل بِجَانِب الْفُرَات ، ويروى بِأَرْض الطف ويروى بكربلا وَهِي أَرض وَاحِدَة بالعراق نَحْو الْكُوفَة وَهَذَا الحَدِيث رَوَاهُ أَحْمد وَابْن سعد الطَّبَرَانِيّ، وَفِيه ضعف وَله طرق.اختتن إِبْرَاهِيم ابْن ثَمَانِينَ سنة بالقدوم رَوَاهُ الشَّيْخَانِ74 - خبر: " اختضبوا بِالْحِنَّاءِ، فَإِنَّهُ يزِيد فِي شبابكم وجمالكم ونكاحكم ". رَوَاهُ أَبُو نعيم، وَفِيه ضَعِيف وَكَذَّاب.اخْتِلَاف أمتِي رَحْمَة زعم كثير من الْعلمَاء أَنه لَا أصل لَهُ، وَذكره كثير من أهل الْفِقْه بِدُونِ سَنَد كإمام الْحَرَمَيْنِ والحليمي وأسنده.أَخذنَا فألك من فِيك رَوَاهُ أَبُو دَاوُد، وَفِيه كثير بن عبد اله بن عَمْرو بن عَوْف، وَهُوَ ضَعِيف.77 - خبر: " أَخذ الْأَمِير الْهَدِيَّة سحت وقوبل القَاضِي الرِّشْوَة كفر ". رَوَاهُ أَحْمد فِي الزّهْد، ورمز السُّيُوطِيّ لحسنة.أخر الْكَلَام فِي الْقدر لشرار أمتِي فِي آخر الزَّمَان فِيهِ عَنْبَسَة بن مهْرَان، مُنكر.
জিবরাঈল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হুসাইন ফোরাত নদীর তীরে নিহত হবেন। বর্ণিত হয়েছে যে, এটি তুফ নামক ভূমি, আবার বর্ণিত হয়েছে যে এটি কারবালা; যা ইরাকের কুফার নিকটবর্তী একই ভূমি। এই হাদিসটি আহমদ, ইবনে সাদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন; এতে দুর্বলতা রয়েছে এবং এর একাধিক সূত্র রয়েছে।ইবরাহিম আশি বছর বয়সে কাদুম নামক স্থানে খতনা করেছিলেন। এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।৭৪ - সংবাদ: "তোমরা মেহেদি ব্যবহার করো, কেননা এটি তোমাদের যৌবন, সৌন্দর্য ও বৈবাহিক সামর্থ্য বৃদ্ধি করে।" এটি আবু নুয়াইম বর্ণনা করেছেন, আর এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুর্বল ও চরম মিথ্যাবাদী রয়েছে।"আমার উম্মতের মতপার্থক্য রহমত"—অনেক আলেম দাবি করেছেন যে এর কোনো ভিত্তি নেই। ইমামুল হারামাইনের মতো অনেক ফকিহ এটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন, তবে হালিমী এর সনদ বর্ণনা করেছেন।"আমরা তোমার মুখ থেকেই তোমার শুভলক্ষণ গ্রহণ করলাম।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, আর এর সূত্রে কাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আউফ রয়েছেন, যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী।৭৭ - সংবাদ: "শাসকের হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ করা অবৈধ উপার্জন এবং বিচারকের ঘুষ গ্রহণ করা কুফরি।" এটি আহমদ 'আজ-জুহদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ূতী একে 'হাসান' হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।"শেষ জামানায় আমার উম্মতের নিকৃষ্ট লোকদের জন্য তাকদির সংক্রান্ত আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।" এর বর্ণনাসূত্রে আনবাসাহ বিন মেহরান রয়েছে, যা মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أخرجُوا منديل الْغمر من بُيُوتكُمْ. فِيهِ مُحَمَّد بن الْقَاسِم الْأَزْدِيّ. كذبه أَحْمد وَالدَّارَقُطْنِيّ، وَفِي رِوَايَة: " فَإِنَّهُ مبيت الْخَبيث ومجلسه " فِيهِ رجل مُنكر الحَدِيث وَآخر مَتْرُوك.أخروهن من حَيْثُ أخرهن الله ، يَعْنِي النِّسَاء لم يبين فِي الأَصْل حَاله، وَفِي الْبَدْر الْمُنِير أَنه من كَلَام ابْن مَسْعُود.أخْشَى مَا خشيت على أمتِي كبر الْبَطن ومداومة النّوم والكسل وَضعف الْيَقِين فِيهِ مُحَمَّد بن الْقَاسِم الْأَزْدِيّ. قَالَ الذَّهَبِيّ: كذبه أَحْمد الدَّارَقُطْنِيّ.أخفوا الْخِتَان وأعلنوا النِّكَاح قَالَ ابْن حجر: لَا أصل للْأولِ.أخْلص دينك يَكْفِيك الْقَلِيل من الْعَمَل رَوَاهُ الديلمي بِإِسْنَاد مُنْقَطع كَمَا قَالَ الْعِرَاقِيّ.اخلعوا نعالكم عِنْد الطَّعَام فَإِنَّهُ سنة جميلَة قَالَ الذَّهَبِيّ: فِيهِ مَتْرُوكَانِ وَإِسْنَاده مظلم.أَخُوك الْبكْرِيّ وَلَا تأمنه
তোমাদের ঘরসমূহ থেকে মাংসের চর্বিযুক্ত রুমাল বের করে দাও। এর বর্ণনাকারী সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে কাসেম আল-আযদি রয়েছে। ইমাম আহমাদ ও দারা কুতনী তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। এক বর্ণনায় রয়েছে: "কেননা তা হলো খবিসের (শয়তানের) রাত্রিযাপনের স্থান ও বসার মজলিস।" এর সূত্রে একজন মুনকারুল হাদিস এবং অন্য একজন মাতরুক (পরিত্যাজ্য) বর্ণনাকারী রয়েছে।তোমরা তাদের (নারীদের) পেছনে রাখো যেমনটি আল্লাহ তাদের পেছনে রেখেছেন। অর্থাৎ নারীদের। মূল গ্রন্থে এর অবস্থা বর্ণনা করা হয়নি, তবে 'আল-বদরুল মুনীর' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে এটি ইবনে মাসউদের উক্তি।আমার উম্মতের ওপর আমি যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো— পেটের বিশালতা (ভুঁড়ি), সর্বদা ঘুমিয়ে থাকা, অলসতা এবং ইয়াকিনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) দুর্বলতা। এর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে কাসেম আল-আযদি রয়েছে। ইমাম যাহাবী বলেন: ইমাম আহমাদ ও দারা কুতনী তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।খাতনা গোপন রাখো এবং বিবাহ প্রকাশ করো। ইবনে হাজার বলেন: প্রথম অংশটির কোনো ভিত্তি নেই।তোমার দ্বীনকে একনিষ্ঠ করো, অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। এটি দায়লামী একটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতে) সনদে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইমাম ইরাকী বলেছেন।খাবার গ্রহণের সময় তোমাদের জুতো খুলে রাখো, কেননা এটি একটি সুন্দর সুন্নত। ইমাম যাহাবী বলেন: এর সূত্রে দুজন মাতরুক (পরিত্যাজ্য) বর্ণনাকারী রয়েছে এবং এর সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন (অত্যন্ত দুর্বল)।তোমার বকরী (বকর গোত্রের) ভাই, তবুও তাকে বিশ্বাস করো না।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
رَوَاهُ أَحْمد بِسَنَد ضَعِيف، وَمَعْنَاهُ أَن يتحرر الشَّخْص حَتَّى من أَخِيه الْكَبِير.أدبني رَبِّي فَأحْسن تأديبي سَنَده ضَعِيف وَمَعْنَاهُ صَحِيح.إدرأوا الْحُدُود بِالشُّبُهَاتِ فِيهِ يزِيد بن زِيَاد، قَالَ البُخَارِيّ: مُنكر الحَدِيث.ادريس عليه السلام وَأَنه كَانَ صاحبا لملك الشَّمْس واشتهى أَن يصعد السَّمَاء وَأَنه صعدها بالاذن وَقبض فِيهَا وأحيي وَهُوَ يخيط ثِيَاب أهل الْجنَّة لَا أصل لهَذَا، ويذكره أهل التَّفْسِير من غير بَصِيرَة بِلَا سَنَد وَلَا أصل يعْتَمد عَلَيْهِ، وَأما رفْعَة فَهُوَ من بَاب ذكر مزية وَإِن لم يخْتَص بهَا فَكل الْأَنْبِيَاء فِي رفْعَة قبل الْمَوْت وَبعده، وكل مِنْهُم لَهُ تصرف الرّوح بعد الْمَوْت فِي البرزخ وَالسَّمَاء، وَقد سمى سبحانه وتعالى آدم وَدَاوُد خَليفَة، وكل رَسُول خليفه، وَاتخذ إِبْرَاهِيم خَلِيلًا وكل مِنْهُم خَلِيل الرَّحْمَن، وسمى مُوسَى كليماً وَقد كلم غَيره بِلَا وَاسِطَة، وسمى عِيسَى روحا وكل نبيمن روح الله تَعَالَى بِمَعْنى أمره وسره، فالمزايا لَا تتزاحم، وَالله أعلم.ادعوا الله وَأَنْتُم موقنون بالاجابة وَاعْمَلُوا أَن الله لَا يقبل دُعَاء من قلب غافل لاه فِيهِ صَالح الْمزي، مُنكر الحَدِيث، قَالَه البُخَارِيّ، وَقَالَ أَحْمد: صَاحب قصَص.
এটি আহমাদ দুর্বল সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর অর্থ হলো একজন ব্যক্তি যেন তার বড় ভাইয়ের (কর্তৃত্ব) থেকেও মুক্ত হয়।‘আমার প্রতিপালক আমাকে আদব শিখিয়েছেন এবং তিনি আমাকে উত্তম আদব শিখিয়েছেন’—এর সূত্র দুর্বল কিন্তু এর অর্থ সঠিক।‘সন্দেহের মাধ্যমে হদ (শাস্তি) রহিত করো’—এতে ইয়াজিদ বিন জিয়াদ নামক রাবী রয়েছেন। ইমাম বুখারি বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদিস।ইদ্রিস আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বর্ণিত যে, তিনি সূর্য ফেরেশতার সাথী ছিলেন এবং আকাশে ওঠার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, আর তিনি অনুমতিক্রমে সেখানে উঠেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ও পরে তাঁকে জীবিত করা হয় এবং তিনি জান্নাতবাসীদের পোশাক সেলাই করেন—এসবের কোনো ভিত্তি নেই। মুফাসসিরগণ কোনো অন্তর্দৃষ্টি ছাড়াই কোনো সূত্র ও নির্ভরযোগ্য ভিত্তিহীনভাবে এটি উল্লেখ করেন। আর তাঁর উচ্চ মর্যাদার বিষয়টি একটি বিশেষ ফযিলত বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, যদিও এটি তাঁর একার বৈশিষ্ট্য নয়; বরং সমস্ত নবীই মৃত্যুর পূর্বে ও পরে উচ্চ মর্যাদায় রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই মৃত্যুর পর বারজাখ ও আকাশে রূহের বিচরণ রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আদম ও দাউদকে ‘খলিফা’ হিসেবে নাম দিয়েছেন, অথচ প্রত্যেক রাসূলই খলিফা। তিনি ইব্রাহিমকে ‘খলিল’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আর তাঁদের প্রত্যেকেই রহমানের খলিল। তিনি মুসাকে ‘কালিম’ নামে অভিহিত করেছেন, অথচ তিনি অন্যদের সাথেও কোনো মাধ্যম ছাড়াই কথা বলেছেন। তিনি ঈসাকে ‘রূহ’ হিসেবে নামকরণ করেছেন, অথচ প্রত্যেক নবীই মহান আল্লাহর রূহ থেকে সৃষ্ট, যা তাঁর আদেশ ও রহস্যের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং ফযিলতসমূহ একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।‘তোমরা কবুল হওয়ার সুনিশ্চিত বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো এবং জেনে রাখো যে, আল্লাহ কোনো উদাসীন ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না’—এতে সালিহ আল-মুররি নামক রাবী রয়েছেন, যিনি মুনকারুল হাদিস; ইমাম বুখারি এটি বলেছেন। আর ইমাম আহমাদ বলেছেন: তিনি একজন কিচ্ছাকার।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ادفنوا أمواتكم وسط قوم صالحين أخرجه أَبُو نعيم من حَدِيث سُلَيْمَان بن عِيسَى، واتهم بِالْوَضْعِ، وَذكره ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات.أدن الْعظم من فِيك فَإِنَّهُ أهنأ وامرأ قَالَ الْعِرَاقِيّ: سَنَده مُنْقَطع.أدنى أهل الْجنَّة منزلَة الَّذِي لَهُ ثَمَانُون ألف خَادِم وَاثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ زَوْجَة ، وتنصب لَهُ قبَّة من لُؤْلُؤ وَزَبَرْجَد وَيَاقُوت كَمَا بَين الْجَابِيَة وَصَنْعَاء فِيهِ مقَال وَاسْتَغْرَبَهُ التِّرْمِذِيّ.أَدّوا العزائم واقبلوا الرُّخص ودعوا النَّاس سَنَده ضَعِيف.أد الْأَمَانَة إِلَى من ائتمنك وَلَا تخن من خانك قَالَ أَحْمد: بَاطِل، وَقَالَ ابْن مَاجَه: لَهُ طرق سته كلهَا ضَعِيفَة، وَقَالَ أَبُو حَاتِم: إِنَّه مُنكر، وَقَالَ الشَّافِعِي: لَيْسَ بِثَابِت وَصَححهُ الْحَاكِم وَحسنه التِّرْمِذِيّ
তোমাদের মৃতদের পুণ্যবান লোকদের মাঝে দাফন করো। আবু নুআইম এটি সুলায়মান ইবনে ঈসার বর্ণনা থেকে সংকলন করেছেন, এবং তিনি হাদিস জালকরণের অভিযোগে অভিযুক্ত। ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওযুয়াত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।হাড় তোমার মুখের কাছাকাছি করো, কেননা এটি অধিক সুস্বাদু ও উত্তম। ইরাকী বলেছেন: এর সনদ বিচ্ছিন্ন।জান্নাতিদের মধ্যে নিম্নতম স্তরের সেই ব্যক্তি, যার জন্য আশি হাজার খাদেম এবং বাহাত্তরজন স্ত্রী থাকবে। তার জন্য মুক্তা, পান্না ও ইয়াকুতের একটি গম্বুজ স্থাপন করা হবে, যার বিস্তৃতি জাবিয়া ও সানআর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। এ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে এবং তিরমিযী একে বিরল বলে গণ্য করেছেন।তোমরা আবশ্যিক বিধানসমূহ পালন করো, সহজ সুযোগগুলো গ্রহণ করো এবং মানুষকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দাও। এর সনদ দুর্বল।যে তোমার কাছে আমানত রেখেছে তার আমানত ফিরিয়ে দাও এবং যে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। ইমাম আহমদ বলেছেন: এটি বাতিল। ইবনে মাজাহ বলেছেন: এর ছয়টি সূত্র রয়েছে এবং সবকয়টিই দুর্বল। আবু হাতিম বলেছেন: এটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। শাফেঈ বলেছেন: এটি সাব্যস্ত নয়। তবে হাকিম একে সহীহ এবং তিরমিযী একে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
إِذا آخى الرجل الرجل فليسأله عَن اسْمه وَاسم أَبِيه وَمِمَّنْ هُوَ فَإِنَّهُ أوصل للمودة أخرجه التِّرْمِذِيّ عَن يزِيد بن نعَامَة، وَجزم ابْن أبي حَاتِم بِأَنَّهُ لَا صُحْبَة لَهُ، وَغلط البُخَارِيّ فِي إِثْبَاتهَا لَهُ.إِذا أَتَاكُم كريم قوم فأكرموه لَهُ طرق كلهَا ضَعِيفَة، وَحكم ضَعِيفَة، وَحكم عَلَيْهِ ابْن الْحجر والعراقي بِالْوَضْعِ.إِذا أتيت يَا معَاذ أَو جِئْت يَا معَاذ أَرض الْحصيب فهرول فَإِن فِيهَا الْحور الْعين قَالَ ابْن حجر: لَا أعرفهُ.إِذا اجْتمع الْعَالم وَالْعَابِد على الصِّرَاط قيل للعابد ادخل الْجنَّة وتنعم بعبادتك وَقيل للْعَالم قف هُنَا فاشفع فِيهِ عُثْمَان بن مُوسَى، قَالَ الذَّهَبِيّ: لَهُ حَدِيث مُنكر.إِذا أحب أحدكُم أَن يحدث ربه فليقرأ الْقُرْآن
যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে, তখন সে যেন তাকে তার নাম, তার পিতার নাম এবং সে কোন বংশের তা জিজ্ঞাসা করে; কেননা এটি হৃদ্যতা ও ভালোবাসার জন্য অধিকতর ফলপ্রসূ। এটি তিরমিজি ইয়াজিদ ইবনে নুয়ামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবি হাতিম নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, তিনি (ইয়াজিদ) সাহাবী নন এবং এটি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি ভুল করেছেন।যখন তোমাদের নিকট কোনো সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আসে, তখন তোমরা তাকে সম্মান করো। এর সকল সূত্রই দুর্বল এবং ইবনে হাজার ও ইরাকি একে জাল হওয়ার রায় দিয়েছেন।হে মুয়াজ! যখন তুমি হুসাইব ভূমিতে পৌঁছাবে অথবা আসবে, তখন দ্রুত চলো; কেননা সেখানে ডাগর চোখের হুরেরা রয়েছে। ইবনে হাজার বলেছেন: আমি এটি চিনি না।যখন আলেম এবং আবেদ পুলসিরাতের উপর একত্রিত হবে, তখন আবেদকে বলা হবে: জান্নাতে প্রবেশ করো এবং তোমার ইবাদতের মাধ্যমে নেয়ামত ভোগ করো। আর আলেমকে বলা হবে: এখানে দাঁড়াও এবং সুপারিশ করো। এর বর্ণনাসূত্রে উসমান ইবনে মুসা রয়েছেন; জাহাবি বলেছেন: তাঁর বর্ণিত হাদিস মুনকার।তোমাদের কেউ যখন তার রবের সাথে কথোপকথন করতে পছন্দ করে, সে যেন কুরআন পাঠ করে।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَالَ الذَّهَبِيّ: ضَعِيف.100 - خبر: " إِذا أحب الرجل أَخَاهُ فليخبره أَنه يُحِبهُ ". رَوَاهُ أَحْمد وَغَيره، وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: حسن صَحِيح غَرِيب.إِذا أحب الله قوما ابْتَلَاهُم فِيهِ الْيَمَان بن عدي، وَأوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الْمَوْضُوع.إِذا أَخذ الْمُؤَذّن فِي آذانه وضع الرب يَده فَوق رَأسه ضعفه الذَّهَبِيّ وَغَيره.إِذا أَدخل الله الْمُوَحِّدين النَّار أماتهم فِيهَا إماتة فَإِذا أَرَادَ أَن يخرجهم مِنْهَا أمسهم ألم الْعَذَاب تِلْكَ السَّاعَة فِيهِ الْحسن بن عَليّ بن رَاشد، ذكره الذَّهَبِيّ فِي الضُّعَفَاء.إِذا أَرَادَ الله إِنْفَاذ قَضَائِهِ وَقدره سلب ذَوي الْعُقُول عُقُولهمْ حَتَّى ينفذ قَضَاؤُهُ وَقدره رَوَاهُ الديلمي، وَفِيه سعد بن سُلَيْمَان بن حَرْب، مَتْرُوك.إِذا أَرَادَ الله بِعَبْد خيرا صير حوائج النَّاس إِلَيْهِ
আয-যাহাবী বলেছেন: দুর্বল।১০০ - সংবাদ: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে সে তাকে ভালোবাসে।" এটি আহমাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: হাসান সহীহ গারীব।যখন আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তিনি তাদের পরীক্ষায় ফেলেন; এতে আল-ইয়ামান বিন আদী রয়েছেন এবং ইবনুল জাওযী একে মাওযূ (জাল) হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।যখন মুয়াযযিন আযান দিতে শুরু করে, তখন রব তাঁর হাত তার মাথার ওপর রাখেন; আয-যাহাবী ও অন্যান্যরা একে দুর্বল বলেছেন।যখন আল্লাহ তাওহীদপন্থীদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তখন তিনি তাদেরকে সেখানে মৃত্যু দান করবেন। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে সেখান থেকে বের করতে চাইবেন, তখন সেই মুহূর্তে তিনি তাদেরকে আযাবের যন্ত্রণার স্পর্শ দেবেন; এতে আল-হাসান বিন আলী বিন রাশিদ রয়েছেন, আয-যাহাবী তাকে ‘আয-যুয়াফা’ (দুর্বল বর্ণনাকারী) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।যখন আল্লাহ তাঁর ফয়সালা ও তাকদীর কার্যকর করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি কেড়ে নেন যতক্ষণ না তাঁর ফয়সালা ও তাকদীর কার্যকর হয়; এটি আদ-দাইলামী বর্ণনা করেছেন এবং এতে সা’দ বিন সুলাইমান বিন হারব রয়েছেন, যিনি মাতরূক (পরিত্যক্ত)।যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন মানুষের প্রয়োজনসমূহ তার মুখাপেক্ষী করে দেন।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قَالَ الذَّهَبِيّ: فِيهِ من لَا يحْتَج بِهِ.إِذا أَرَادَ الله بِعَبْد خيرا عاتبه فِي مَنَامه رَوَاهُ الديلمي، وَفِيه ثَلَاثَة من المتروكين.إِذا أَرَادَ الله بِقوم قحطا نَادَى مُنَاد من السَّمَاء يَا أمعاء اتسعي وَيَا عين لَا تشبعي وَيَا بركَة ارتفعي بيض لَهُ الديلمي لعدم وُقُوفه على سَنَد لَهُ.إِذا أعطي أحدكُم الريحان فَلَا يردهُ فَإِنَّهُ خرج من الْجنَّة حَيْثُ مُرْسل غَرِيبإِذا أكلْتُم فأفضلوا يردهُ: شربه صلى الله عليه وسلم الفضلة من اللَّبن فِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة، وَكَذَا سلت الْقَصعَة، رَوَاهُ الْأَرْبَعَة وَغَيرهم بِأَلْفَاظ مُخْتَلفَة وَفِيه مقَال.إِذا انتصف شعْبَان فَلَا صَوْم حَتَّى رَمَضَان رَوَاهُ الْأَرْبَعَة وَغَيرهم بِأَلْفَاظ مُخْتَلفَة وَفِيه مقَال.إِذا انفلتت دَابَّة أحدكُم بِأَرْض فلاة فليناد يَا عباد الله احْبِسُوا عَليّ دَابَّتي فَإِن لله حَاضرا فِي الأَرْض سيحبسه عَلَيْكُم فِيهِ مَعْرُوف بن حسان، مُنكر الحَدِيث
আয-যাহাবি বলেন: এতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা যায় না।আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে স্বপ্নে তিরস্কার করেন। এটি আদ-দাইলামি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে তিনজন 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত) রাবি রয়েছেন।আল্লাহ যখন কোনো জাতির জন্য দুর্ভিক্ষ চান, তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন: হে উদরসমূহ তোমরা প্রশস্ত হও, হে চোখ তুমি তৃপ্ত হয়ো না এবং হে বরকত তুমি উঠে যাও। আদ-দাইলামি এর জন্য জায়গা খালি রেখেছেন যেহেতু তিনি এর কোনো সনদ খুঁজে পাননি।তোমাদের কাউকে যখন রায়হান (সুগন্ধি উদ্ভিদ) দেওয়া হয়, তখন সে যেন তা প্রত্যাখ্যান না করে; কেননা তা জান্নাত থেকে এসেছে। এটি একটি মুরসাল গারিব হাদিস।তোমরা যখন খাবে তখন কিছু অবশিষ্ট রেখো। এটি খণ্ডন করে: আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবশিষ্ট দুধ পান করা, এবং একইভাবে পাত্র চেটে পরিষ্কার করা। এটি চারজন (ইমাম) ও অন্যান্যরা বিভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে।যখন শাবান মাস অর্ধেক হয়ে যায়, তখন রমজান পর্যন্ত আর কোনো রোজা নেই। এটি চারজন (ইমাম) ও অন্যান্যরা বিভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে।জনমানবহীন প্রান্তরে তোমাদের কারো পশু যদি পালিয়ে যায়, তবে সে যেন ডাক দিয়ে বলে: হে আল্লাহর বান্দারা! আমার জন্য আমার পশুটিকে আটকে দাও। নিশ্চয়ই জমিনে আল্লাহর এমন কিছু উপস্থিত সৃষ্টি রয়েছে যারা তা তোমাদের জন্য আটকে দেবে। এর সনদে মারুফ ইবনে হাসসান রয়েছে, যিনি মুনকারুল হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪০)
إِذا حج الرجل بِمَال من غير حلّه فَقَالَ لبيْك اللَّهُمَّ لبيْك قَالَ الله عز وجل لَا لبيْك وَلَا سعديك هَذَا مَرْدُود عَلَيْك ضَعِيف.إِذا حدثتم عني بِحَدِيث يُوَافق الْحق فصدقوه وخذوا بِهِ حدثت بِهِ أَو لم أحدث بِهِ حَدِيث مُنكر، قَالَ الْعقيلِيّ: لَيْسَ لَهُ إِسْنَاد صَحِيح.114 - خبر: " إِذا حدث الرجل بِالْحَدِيثِ ثمَّ الْتفت فَهِيَ أَمَانَة ". رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه.إِذا حضر الْعشَاء وَالْعشَاء قَالَ الْعِرَاقِيّ: لَا أصل لَهُ فِي كتب الحَدِيث واما لفظ: " إِذا وضع الْعشَاء وأقيمت الصَّلَاة فابدءوا بالعشاء ".إِذا خَافَ الله العَبْد أَخَاف الله مِنْهُ كل شَيْء وَإِذا لم يخف العَبْد الله أخافه الله من كل شَيْء قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: حديثلا يَصح. فِيهِ عمر بن زِيَاد قَالَ أَبُو زرْعَة: كَذَّاب.إِذا دخل الضَّيْف على قوم دخل برزقه وَإِذا خرج خرج
যখন কোনো ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে হজ করে এবং বলে 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত', তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন, 'তোমার উপস্থিতি কবুল নয় এবং তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই; এটি তোমার নিকট প্রত্যাখ্যাত।' এটি যঈফ (দুর্বল)।যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এমন কোনো হাদীস বর্ণিত হয় যা সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে তা বিশ্বাস করো এবং গ্রহণ করো; আমি তা বলে থাকি বা না থাকি। এটি মুনকার হাদীস; উকায়লী বলেন: এর কোনো সহীহ সনদ নেই।১১৪ - সংবাদ: "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এরপর এদিক-ওদিক তাকায়, তবে তা একটি আমানত।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন।যখন রাতের খাবার এবং ইশার সালাত উভয়ই উপস্থিত হয়—ইরাকী বলেন: হাদীসের কিতাবসমূহে এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয় এবং সালাতের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা রাতের খাবার দিয়ে শুরু করো।"যখন কোনো বান্দা আল্লাহকে ভয় করে, তখন আল্লাহ প্রতিটি বস্তুকে তার থেকে ভীত করে দেন। আর যখন বান্দা আল্লাহকে ভয় করে না, তখন আল্লাহ তাকে প্রতিটি বস্তু থেকে ভীত করে দেন। ইবনুল জাওযী বলেন: হাদীসটি সহীহ নয়। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে উমর বিন যিয়াদ রয়েছে; আবু যুরআহ তাকে 'মিথ্যুক' বলেছেন।যখন কোনো মেহমান কোনো সম্প্রদায়ের নিকট প্রবেশ করে, তখন সে তার রিযিক নিয়ে প্রবেশ করে এবং যখন সে বের হয়ে যায়, তখন সে বের হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪১)
بمغفرة ذنوبهم رَوَاهُ الديلمي وَسَنَده ضَعِيف.إِذا رَأَيْتُمْ الْحَرِيق فكبروا فَإِنَّهُ يطفئه رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ، وَهُوَ ضَعِيف، لِأَن بن لَهِيعَة، وبلفظ: " اسْتَعِينُوا على إطفاء الْحَرِيق بِالتَّكْبِيرِ ".إِذا رَأَيْتُمْ الرجل يتَعَاهَد الْمَسْجِد فَاشْهَدُوا لَهُ بِالْإِيمَان قَالَ تَعَالَى: {إِنَّمَا يعمر مَسَاجِد الله} الْآيَة قَالَ التِّرْمِذِيّ: حسن غَرِيب.إِذا زلزلت تعدل نصف الْقُرْآن أنكرهُ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان.إِذا سلم الإِمَام فَردُّوا عَلَيْهِ فِي سَنَده ضعيفان إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش، وَأَبُو بكر الْهُذلِيّ.إِذا سلمت الْجُمُعَة سلمت الْأَيَّام وَإِذا سلم رَمَضَان سلمت
তাদের পাপসমূহ ক্ষমার মাধ্যমে। এটি আদ-দাইলামি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল।“যখন তোমরা অগ্নিকাণ্ড দেখবে তখন তাকবির বলো, কেননা তা আগুন নিভিয়ে দেয়।” এটি তাবারানি আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি দুর্বল, কারণ এর সনদে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন। আর হাদিসটি এই শব্দেও বর্ণিত হয়েছে: “অগ্নি নির্বাপণে তাকবিরের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।”“যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে মসজিদের প্রতি যত্নবান হতে দেখবে, তখন তার ঈমানের সাক্ষ্য দাও।” মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করে...} (পুরো আয়াত)। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান গরিব হাদিস।“সুরা ইজা জুলজিলাত কুরআনের অর্ধেকের সমান।” ইমাম আয-যাহাবি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে একে অস্বীকার করেছেন।“ইমাম যখন সালাম ফেরাবেন, তখন তোমরা তার জবাব দাও।” এর সনদে দুইজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন: ইসমাইল ইবনে আইয়াশ এবং আবু বকর আল-হুযালি।“যখন জুমুয়াহ নিরাপদ থাকে তখন অন্যান্য দিনগুলোও নিরাপদ থাকে এবং যখন রমজান নিরাপদ থাকে তখন পুরো বছর নিরাপদ থাকে।”
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪২)
السّنة قَالَ الْجَوْزِيّ: مَوْضُوع.إِذا سميتم فعبدوا رَوَاهُ الْحَاكِم وَالطَّبَرَانِيّ بِسَنَد معضل، فَهُوَ شَدِيد الضعْف، وللطبراني بِسَنَد ضَعِيف:" أحب الْأَسْمَاء إِلَى الله مَا تعبد لَهُ " وَأما:خير الْأَسْمَاء مَا عبد وَحمد " فَلَيْسَ بِحَدِيث125 - حَدِيث: إِذا صليتم خلف أئمتكم فاحسنوا طهوركم فَإِنَّمَا يرتج على الْقَارئ قِرَاءَته بِسوء طهر الْمُصَلِّي خَلفه قَالَ فِي الْمِيزَان: خبر كذب. وَفِيه أَنه صلى الله عليه وسلم قَرَأَ سُورَة الرّوم فارتج عَلَيْهِ، فَلَمَّا فرغ من صلَاته قَالَه، وَرَوَاهُ الديلمي عَن حُذَيْفَة.إِذا صليتم عَليّ فعموا قَالَ فِي الأَصْل: لم أَقف عَلَيْهِ بِهَذَا اللَّفْظ.127 - حَدِيث: " إِذا طبخت مرقة فَأكْثر ماءها وتعاهد جيرانك ".
সুন্নাহ। আল-জাওযী বলেছেন: বানোয়াট।"যখন তোমরা নাম রাখবে, তখন যেন তাতে দাসত্ব (আবদ) থাকে।" এটি আল-হাকিম এবং আত-তাবারানী একটি মু'দাল (বিচ্ছিন্ন) সনদে বর্ণনা করেছেন, তাই এটি অত্যন্ত দুর্বল। আর আত-তাবারানীর একটি দুর্বল সনদে রয়েছে:"আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো যা তাঁর জন্য দাসত্ব প্রকাশক।" আর:"সেরা নাম হলো যাতে দাসত্ব ও প্রশংসা (আবদ ও হামদ) আছে" - এটি কোনো হাদিস নয়।125 - হাদিস: "যখন তোমরা তোমাদের ইমামদের পেছনে নামাজ পড়বে, তখন তোমাদের পবিত্রতা সুন্দরভাবে অর্জন করো। কেননা পেছনের মুসল্লির ত্রুটিপূর্ণ পবিত্রতার কারণেই কেবল কারীর তিলাওয়াতে বিভ্রান্তি বা জড়তা সৃষ্টি হয়।" 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি একটি মিথ্যা বর্ণনা। এতে আরও উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আর-রূম তিলাওয়াত করছিলেন এবং তাঁর তিলাওয়াতে জড়তা তৈরি হয়, অতঃপর নামাজ শেষ করে তিনি এটি বলেন। এটি আদ-দাইলামী হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।"যখন তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে, তখন তা ব্যাপকভাবে করো।" মূল গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমি এই শব্দে এটি খুঁজে পাইনি।127 - হাদিস: "যখন তুমি ঝোল (তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিও এবং তোমার প্রতিবেশীদের খবর নিও।"
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
128 - حَدِيث: " إِذا ضرب أحدكُم فليجتنب الْوَجْه ". رَوَاهُ البُخَارِيّإِذا طلع النَّجْم صباحا رفعت العاهة من كل بلد سَنَده ضَعِيف رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَغَيره، والنجم: الثريا.إِذا طَنَّتْ أذن أحدكُم فَلْيذكرْنِي وَليصل عَليّ وَليقل ذكر الله بِخَير من ذَكرنِي رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِسَنَد ضَعِيف، قَالَ الْعقيلِيّ: لَيْسَ لَهُ أصل، وَكَذَا مَا يذكرهُ الْفُقَهَاء عَن عَائِشَة أَن من وضع أصبعيه فِي أُذُنَيْهِ سمع خرير الْكَوْثَر، قَالَ ابْن حجر: لَا يثبت، وَمَعَ كَونه من كَلَام عَائِشَة مُنْقَطع لَا يثبت أَيْضا، وَذكر بَعضهم مَرْفُوعا وَلم يَصح.إِذا عطس الرجل عِنْد الحَدِيث فَهُوَ صدق فِيهِ خلاف لأهل الْعلم.
১২৮ - হাদিস: "তোমাদের কেউ যখন প্রহার করবে, সে যেন চেহারা পরিহার করে।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।"যখন ভোরে নক্ষত্র উদিত হয়, তখন প্রতিটি জনপদ থেকে রোগব্যাধি উঠিয়ে নেওয়া হয়।" এর সনদ দুর্বল। এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আর নক্ষত্র বলতে সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জকে বোঝানো হয়েছে।"তোমাদের কারো কান যদি বেজে ওঠে, তবে সে যেন আমাকে স্মরণ করে, আমার ওপর দরুদ পাঠ করে এবং বলে: আল্লাহ তাকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করুন যে আমাকে স্মরণ করেছে।" এটি তাবারানি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। উকাইলি বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই। তদ্রূপ ফকিহগণ আয়েশা (রা.) থেকে যা উল্লেখ করেন যে, "যে ব্যক্তি তার দুই কানে দুই আঙুল রাখবে, সে কাউসারের কলতান শুনতে পাবে।" ইবনে হাজার বলেছেন: এটি প্রমাণিত নয়। আয়েশা (রা.)-এর উক্তি হিসেবেও এটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে প্রমাণিত নয়। কেউ কেউ এটি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তা বিশুদ্ধ নয়।"কথা বলার সময় যদি কোনো ব্যক্তি হাঁচি দেয়, তবে তা সত্য।" এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
132 - حَدِيث: " إِذا قَاتل أحدكُم فليجتنب الْوَجْه ". مُتَّفق عَلَيْهِ.إِذا قدم أحدكُم على أَهله من سَفَره فليهد لأَهله وَلَو كَانَت حِجَارَة قَالَ ابْن حجر: لَا يَصح، رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ ابْن عَسَاكِر بِلَفْظ: " وَلَو كَانَ يلقِي مخلاته حجرا ".134 - خبر: " إِذا قضى الله لعبد أَن يَمُوت بِأَرْض جعل لَهُ إِلَيْهَا حَاجَة ". رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه، وَصَححهُ الْحَاكِم وَابْن حبَان.135 - خبر: " إِذا قلت لصاحبك يَوْم الْجُمُعَة: أنصت وَالْإِمَام يخْطب فقد لغوت ". مُتَّفق عَلَيْهِ، لَكِن لَفظه فِيهِ تَقْدِيم وَتَأْخِير.إِذا كَانَ أحدكُم فِي الشَّمْس فقلص عَنهُ الظل وَصَارَ بعضه فِي الظل وَبَعضه فِي الشَّمْس فَليقمْ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وتابعيه مَجْهُول.إِذا كَانَ آخر الزَّمَان وَاخْتلفت الْأَهْوَاء فَعَلَيْكُم بدين أهل الْبَادِيَة وَالنِّسَاء
১৩২ - হাদীস: "যখন তোমাদের কেউ যুদ্ধ করে, তখন সে যেন চেহারা পরিহার করে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।যখন তোমাদের কেউ সফর থেকে তার পরিবারের নিকট ফিরে আসে, সে যেন তার পরিবারের জন্য কিছু উপহার নিয়ে আসে, যদিও তা পাথর হয়। ইবনে হাজার বলেন: এটি সহীহ নয়। বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আসাকির এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যদিও সে তার থলেতে পাথর ভরে নিয়ে আসে।"১৩৪ - সংবাদ: "আল্লাহ যখন কোনো বান্দার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভূমিতে মৃত্যু নির্ধারণ করেন, তখন তিনি সেখানে তার জন্য কোনো প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন।" তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন, আর হাকিম ও ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।১৩৫ - সংবাদ: "জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন তখন তুমি যদি তোমার সাথীকে বলো: 'চুপ থাকো', তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, তবে এর শব্দ বিন্যাসে অগ্র-পশ্চাৎ রয়েছে।যখন তোমাদের কেউ রোদে থাকে এবং তার থেকে ছায়া সরে যায়, ফলে তার শরীরের একাংশ ছায়ায় এবং একাংশ রোদে থাকে, তবে সে যেন সেখান থেকে উঠে যায়। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর তাবেয়ী বর্ণনাকারী অজ্ঞাত।যখন শেষ জামানা আসবে এবং প্রবৃত্তির ভিন্নতা দেখা দেবে, তখন তোমাদের জন্য পল্লীবাসী ও নারীদের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فِيهِ مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن الْبَيْلَمَانِي، مُنكر الحَدِيث، وَقَالَ الصغاني: حَدِيث مَوْضُوع.إِذا كَانَ آخر الزَّمَان فَلَا بُد للنَّاس فِيهَا من الدَّرَاهِم وَالدَّنَانِير يُقيم الرجل بهَا دينه ودنياه رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ ومداره على ابْن مَرْيَم وَهُوَ ضَعِيف جدا.إِذا كَانَ يَوْم الْقِيَامَة نَادَى مُنَاد من وَرَاء الْحجب يَا أهل الْجمع غضوا أبصاركم عَن فَاطِمَة بنت مُحَمَّد حَتَّى تمر فِيهِ الْعَبَّاس بن الْوَلِيد، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ: كَذَّاب وَذكره ابْن الْجَوْزِيّ، كَذَا الذَّهَبِيّ فِي الْمَوْضُوع.إِذا كبر ولدك فآخه لم يرد بِهَذَا اللَّفْظ وَورد عِنْد أبي نعيم الطَّبَرَانِيّ وَغَيرهمَا: " الْوَلَد سبع سِنِين سيد وأمير وَسبع سِنِين أَخ ووزير " وَسَنَده ضَعِيف، بل لَيْسَ عَلَيْهِ نور النُّبُوَّة.إِذا كتب أحدكُم إِلَى أحد كتابا فليبدأ بِنَفسِهِ رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَفِيه مَجْهُول وَضَعِيف.إِذا كتب أحدكُم بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم فليمد الرَّحْمَن قَالَ الذَّهَبِيّ: فِيهِ كَذَّاب
এতে মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-বাইলামানি রয়েছে, সে মুনকারুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী), এবং সাগানি বলেছেন: এটি একটি বানোয়াট হাদিস।"যখন শেষ জামানা আসবে, তখন মানুষের জন্য দিরহাম ও দিনার (মুদ্রা) অপরিহার্য হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার দ্বীন ও দুনিয়া রক্ষা করবে।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি হলো ইবনে মারিয়াম, আর সে অত্যন্ত দুর্বল।"যখন কিয়ামত দিবস হবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে: হে সমবেত জনতা! তোমরা মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমার দিক থেকে তোমাদের দৃষ্টি অবনত করো, যতক্ষণ না তিনি পার হয়ে যান।" এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ রয়েছে; দারা কুতনি বলেছেন: সে চরম মিথ্যাবাদী। ইবনুল জাওজি এটি উল্লেখ করেছেন এবং যাহাবিও এটিকে বানোয়াট হাদিসের কিতাবে উল্লেখ করেছেন।"যখন তোমার সন্তান বড় হবে, তখন তার সাথে ভ্রাতৃত্বসুলভ আচরণ করো" - এই শব্দে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। তবে আবু নুআইম, তাবারানি এবং অন্যদের নিকট বর্ণিত হয়েছে: "সন্তান সাত বছর পর্যন্ত সরদার ও আমীর এবং পরবর্তী সাত বছর ভাই ও উজির।" এর সনদ দুর্বল, বরং এতে নবুওয়াতের কোনো নূর নেই।"তোমাদের কেউ যখন কারো কাছে কোনো পত্র লেখে, তখন সে যেন নিজের নাম দিয়ে শুরু করে।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাসূত্রে অজ্ঞাত ও দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে।"তোমাদের কেউ যখন 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লেখে, তখন সে যেন 'আর-রহমান' শব্দটিকে দীর্ঘ করে লেখে।" ইমাম যাহাবি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে একজন চরম মিথ্যাবাদী রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
إِذا كتب أحدكُم كتابا فليتربه فَإِنَّهُ أنجح للْحَاجة قَالَ التِّرْمِذِيّ: إِنَّه مُنكرإِذا كتبتم الحَدِيث فاكتبوه بِإِسْنَادِهِ قَالَ فِي الْمِيزَان: مَوْضُوع.إِذا كثرت ذنوبك فَاسق المَاء على المَاء قَالَ فِي الْمِيزَان: فِيهِ من لَا يعرف.إِذا كذب العَبْد كذبة تبَاعد عَنهُ الْملك ميلًا من نَتن مَا جَاءَ بِهِ فِيهِ عبد الرَّحِيم بن هَارُون، قَالَ الدراقطني: يكذب مَتْرُوك، وَذكر لَهُ ابْن عدي مَنَاكِير.147 - خبر: " إِذا كفن أحدكُم أَخَاهُ فليحسن كَفنه ". رَوَاهُ مُسلم.إِذا كنت على المَاء فَلَا تبخل بِالْمَاءِ قَالَ فِي الأَصْل: لم أَقف عَلَيْهِ.
তোমাদের কেউ যখন কোনো লিপি বা পত্র লেখে, সে যেন তাতে মাটি বা ধুলো ছিটিয়ে দেয়, কেননা তা প্রয়োজন সফল হওয়ার জন্য অধিকতর সহায়ক। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি মুনকার।যখন তোমরা হাদিস লিখবে, তখন তা এর সনদসহ লিখবে। 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি বানোয়াট।যখন তোমার পাপরাশি বৃদ্ধি পাবে, তখন পানির ওপর পানি পান করাও। 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে অপরিচিত।যখন কোনো বান্দা একটি মিথ্যা কথা বলে, তখন সে যা নিয়ে এসেছে তার দুর্গন্ধের কারণে ফেরেশতা তার থেকে এক মাইল দূরে সরে যায়। এর বর্ণনাসূত্রে আব্দুর রহিম বিন হারুন রয়েছে; দারা কুতনি বলেন: সে মিথ্যা বলে এবং সে বর্জনীয়; ইবনে আদি তার সূত্রে বর্ণিত কিছু মুনকার হাদিসের কথা উল্লেখ করেছেন।১৪৭ - সংবাদ: "তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের কাফন দেয়, সে যেন তার কাফনটি উত্তমরূপে দেয়।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।যখন তুমি পানির ওপর (ঘাটে) অবস্থান করো, তখন পানি নিয়ে কার্পণ্য করো না। মূল গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমি এর কোনো হদিস পাইনি।
(খণ্ড: ১)
আসনীল মাতালিব ফী আহাদীছি মুখতালিফাতিল মারাতীব
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
149 - خبر: " إِذا كُنْتُم ثَلَاثَة فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَان دون الثَّالِث، فَإِن ذَلِك يحزنهُ ". مُتَّفق عَلَيْهِ.150 - حَدِيث: " إِذا لعب الشَّيْطَان بأحدكم فِي مَنَامه فَلَا يحدث بِهِ النَّاس ". رَوَاهُ مُسلم وَابْن ماجة.151 - حَدِيث " إِذا لم تستح فَاصْنَعْ مَا شِئْت ". رَوَاهُ البُخَارِيّ.152 - حَدِيث: " إِذا مَاتَ ابْن آدم انْقَطع عمله إِلَّا من ثَلَاث: صَدَقَة جَارِيَة أَو علم ينْتَفع بِهِ أَو ولد صَالح يَدْعُو لَهُ ". رَوَاهُ مُسلم وَغَيره.إِذا مَاتَ صَاحب بِدعَة فقد فتح فِي الْإِسْلَام فتح رَوَاهُ الْخَطِيب وَقَالَ: إِنَّه مُنكر مَتنه والإسناد صَحِيح.
149 - খবর: "যখন তোমরা তিনজন একত্রে থাকো, তখন তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে যেন অন্য দুইজন গোপনে কানে কানে কথা না বলে; কারণ এটি তাকে ব্যথিত করে।" এটি সর্বসম্মত।150 - হাদীস: "তোমাদের কেউ যখন ঘুমের মধ্যে শয়তানের ক্রীড়ার শিকার হয়, তখন সে যেন মানুষের কাছে তা বর্ণনা না করে।" এটি মুসলিম ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।151 - হাদীস: "যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা তা-ই করো।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।152 - হাদীস: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" এটি মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।যখন কোনো বিদআতী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন ইসলামে যেন এক বিজয় সাধিত হয়। এটি খতীব বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর মূল পাঠ (মতন) মুনকার, তবে এর সনদ (সূত্র) সহীহ।