(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم   (عبد الغني المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم

المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600 هـ)

دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط [ت 1438 هـ]

مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط [ت 1425 هـ]

الناشر: دار الثقافة العربية، دمشق - بيروت، مؤسسة قرطبة، مدينة الأندلس

الطبعة: الثانية، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 282

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(النص في هذه النسخة الإلكترونية أَعَدَّهُ وشَرَحَ غريبَه

عادل بن حسن نصار)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম   (আবদুল গনি আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

লেখক: আবদুল গনি বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, আবু মুহাম্মদ, তাকিউদ্দীন (মৃত্যু ৬০০ হিজরি)

গবেষণা ও তাহকিক: মাহমুদ আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]

পর্যালোচনা ও ভূমিকা: আবদুল কাদির আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪২৫ হিজরি]

প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ, দামেস্ক - বৈরুত, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, মাদিনাতুল আন্দালুস

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮২

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

(এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের পাঠ প্রস্তুত এবং এর কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছেন

আদিল বিন হাসান নাসসার)

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
عُمدةُ الأَحكامِ

من كلامِ خيرِ الأَنامِ

عليه

الصلاةُ والسلامُ

تأليف

الإمام الحافظ تقي الدين، أبي محمد

عبد الغني المقْدِسِيِّ الجُماعيليِّ الحنبليِّ

ولد في سنة 541 هـ وتوفي في22 من شهر ربيع الأول سنة 600 هـ

رحمه الله وغفر له وللمؤمنين
উমদাতুল আহকাম

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের বাণীসমূহ হতে সংকলিত

তাঁর উপর

সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক

রচনায়

ইমাম আল-হাফিজ তাকিউদ্দীন, আবু মুহাম্মদ

আবদুল গনি আল-মাকদিসি আল-জুমাইলি আল-হাম্বলি

তিনি ৫৪১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬০০ হিজরি সনের ২২শে রবিউল আউয়াল মৃত্যুবরণ করেন

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد:

 

يعتبر كتاب عمدة الأحكام للإِمام الحافظ تقي الدين، أبي محمد عبد الغني المقْدِسِيِّ الجُماعيليِّ الحنبليِّ من أَجود الكتب التي صنفت في أحاديث الأحكام، حيث انتقى المؤلف أحاديثه مما اتفق عليه الإِمامانِ البخاريُّ ومسلم في صحيحيهما إلا في القليل منها ممن انفرد به أحدهما، وأَلفه استجابة لطلب بعض طلبة العلم في اختصار جملة من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد أجاد فيه وأفاد، وسهَّل على طلبة العلم حفظه ودراسته حيث إِن أَحاديثه لاتزيد على أَربعمائة حديث ونيِّفٍ، والكتاب مشروح ومتداول بين أيدي الدارسين، وعنوانه اسم مطابق لمسماه فهو عمدة لكل من يرغب في دراسة الفقه الإسلامي على طريقة أهل الحديث والأَثر، الذين يدورون مع الدليل الصحيح أينما دارَ لتطمئن بذلك قلوبهم بأَنهم يعبدون الله بما شرع على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم.

 

وإِسهاماً في خدمة الكتاب قمت بشرح غريبه بشكل مختصر ليكون بجانب المتن معيناً لمن عقد العزم على حفظه ودراسته، عسى أَن أَحظى بدعوة مستجابة بظهر الغيب من قلبٍ مخلص بمغفرةِ ذنوبى والعفو عن زلاتي تنفعني في قبري ويوم القيامة عند لقاء ربي، وأَرجو من كل من يجد خطأً أَن يخبرني به لتصحيحه وله مني الشكر والتقدير.

 

وآخر دعوانا أَنِ الحمد لله رب العالمين

عادل بن حسن نصار

دير البلح/ غزة / فلسطين

تلفاكس/ 2535022
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

 

ইমাম হাফেজ তাকিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি আল-মাকদিসি আল-জুমায়িলি আল-হানবালির 'উমদাতুল আহকাম' গ্রন্থটি আহকাম (বিধান) সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। লেখক এর হাদিসগুলো ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে যেগুলোর ওপর একমত হয়েছেন (মুত্তাফাকুন আলাইহি) সেখান থেকেই নির্বাচন করেছেন, কেবল অল্প কিছু হাদিস ব্যতীত যা তাঁদের কোনো একজন এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি রচনা করেছেন কিছু ইলম অন্বেষীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে, যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একগুচ্ছ হাদিস সংক্ষেপে সংকলিত হয়। তিনি এতে অত্যন্ত নিপুণতা দেখিয়েছেন এবং এটি অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। তিনি ইলম অন্বেষীদের জন্য এটি মুখস্থ করা ও অধ্যয়ন করা সহজ করে দিয়েছেন, কারণ এর হাদিস সংখ্যা চারশর কিছু বেশি। বইটি ব্যাখ্যা সংবলিত এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বহুল প্রচলিত। এর শিরোনামটি এর বিষয়বস্তুর সাথে যথাযথভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ; তাই এটি সেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নির্ভরযোগ্য অবলম্বন (উমদাহ), যে আহলে হাদিস ও আহলে আসারদের পদ্ধতিতে ইসলামি ফিকহ অধ্যয়ন করতে চায়, যারা সহিহ দলিলের সাথেই আবর্তিত হয় তা যেখানেই থাকুক না কেন, যাতে এর মাধ্যমে তাদের অন্তর প্রশান্ত হয় যে, তারা আল্লাহর ইবাদত সেভাবেই করছে যেভাবে তিনি তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে শরিয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

 

এই বইটির খিদমতে অবদান রাখার লক্ষে আমি এর কঠিন শব্দগুলোর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা করেছি, যাতে মূল পাঠের পাশাপাশি এটি সেই ব্যক্তির জন্য সহায়ক হয় যে এটি মুখস্থ ও অধ্যয়নের সংকল্প করেছে। আমি আশা করি কোনো একনিষ্ঠ হৃদয়ের পক্ষ থেকে তাদের অগোচরে আমার গুনাহ মাফ ও ভুলত্রুটি ক্ষমার জন্য একটি কবুলযোগ্য দোয়া পাব, যা আমার কবরে এবং কেয়ামতের দিন আমার রবের সাথে সাক্ষাতের সময় উপকারে আসবে। আর আমি প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ করছি যে, কেউ যদি কোনো ভুল খুঁজে পান তবে যেন আমাকে তা সংশোধনের জন্য অবহিত করেন, তার জন্য আমার পক্ষ থেকে রইল কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।

 

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আদিল বিন হাসান নাসসার

দাইর আল-বালাহ/ গাজা/ ফিলিস্তিন

টেলিফ্যাক্স/ ২৫৩৫০২২
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌مقدمة المؤلف

بسم الله الرحمن الرحيم

 

قال الشيخ الحافظ، تقي الدين، أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن على بن سرور المقدسي - رحمه الله تعالى -:

 

الحمد لله الملك الجبار، الواحد القهار. وأشهد أن لاإله إلاالله وحده لاشريك له، رب السموات والأرض ومابينهما العزيز الغفار، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المصطفى المختار. صلى الله عليه وعلى آله وصحبه الأخيار. أما بعد:

 

فإن بعض إخواني سألني اختصار جملة في أحاديث الأحكام، مما اتفق عليه الإمامان: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري، ومسلم بن الحجاج بن مسلم القُشَيريُّ ⦗ص: 30⦘ النيسابوري.

 

فأجبته إلى سؤاله رجاء المنفعة به.

 

وأسأل الله أن ينفعنا به، ومن كتبه أوسمعه أَوقرأَه أَو حفظه أو نظر فيه، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، موجباً للفوز لديه في جنات النعيم. فإنه حسبنا ونعم الوكيل.
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

 

শাইখ, হাফেজ, তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসি - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন - বলেন:

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অধিপতি, মহা পরাক্রমশালী, একক ও দোর্দণ্ড প্রতাপশালী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, তিনি মহা প্রতাপশালী ও পরম ক্ষমাশীল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সৎকর্মশীল সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

 

আমার কতিপয় দ্বীনি ভাই আহকামের (বিধান সংক্রান্ত) হাদিসসমূহের এমন একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন প্রস্তুত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেছেন, যা দুই ইমাম: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-বুখারি এবং মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ বিন মুসলিম আল-কুশাইরি ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আন-নিশাপুরি এককভাবে বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

 

অতঃপর এর দ্বারা উপকারের আশায় আমি তাঁর সেই অনুরোধ রক্ষা করেছি।

 

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এর দ্বারা উপকৃত করেন, এবং তাকেও (উপকৃত করেন) যে এটি লিখবে, শুনবে, পাঠ করবে, মুখস্থ করবে কিংবা এতে দৃষ্টিপাত করবে; আর তিনি যেন এটিকে একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে তাঁর নিকট সাফল্য লাভ অনিবার্য করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌كتابُ الطَّهَارَةِ
পবিত্রতা অধ্যায়
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣١)
1 - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((إنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ - وَفِي رِوَايَةٍ: بِالنِّيَّةِ - وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى ، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ، فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا ، فَهِجْرَتُهُ إلَى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ)) .

النيةُ: القصدُ والعزمُ على الشيء.
১ - উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল —এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: নিয়ত দ্বারা— আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভ করার জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে))।

নিয়ত হলো: কোনো কিছুর সংকল্প ও দৃঢ় ইচ্ছা করা।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣١)
2 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاةَ أَحَدِكُمْ إذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ))

أَحدثَ: حصل منه الحدثُ، وهو الخارجُ منْ أَحدِ السبيلينِ أَوغيرهِ منْ نواقض الوُضوءِ
২ - আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অপবিত্র হয়, যতক্ষণ না সে অজু করে, ততক্ষণ আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না।"

আহদাসা: তার থেকে অপবিত্রতা (হাদাস) প্রকাশ পাওয়া; আর তা হলো দুই পথ (মল-মূত্রের রাস্তা) দিয়ে কোনো কিছু নির্গত হওয়া অথবা অজু ভঙ্গকারী অন্যান্য বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣١)
3 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ ⦗ص: 32⦘ رضي الله عنهم قَالُوا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:

 

((وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ)) .

 

الويلُ: العذابُ والهلاكُ، وجاءَ في بعضِ الآثارِ أَنَّه وادٍ في جهنم.

 

الأَعقاب: جمعُ عَقِبٍ، وهو مُؤَخَّرُ القَدَمِ. والمرادُ أَصحابُها.
৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আবু হুরায়রা এবং আয়েশা ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

 

((আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস।)) .

 

ওয়াইল: আযাব ও ধ্বংস; এবং কিছু বর্ণনায় এসেছে যে এটি জাহান্নামের একটি উপত্যকা।

 

আ'কাব: এটি 'আকিব' শব্দের বহুবচন, যা হলো পায়ের পেছনের অংশ। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উক্ত গোড়ালি বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
4 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: ((إذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً ، ثُمَّ لِيَنْتَثِرْ ، وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُمَا فِي الإِنَاءِ ثَلاثاً، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ)) .

 

وَفِي لَفْظٍ لِمُسْلِمٍ: ((فَلْيَسْتَنْشِقْ بِمِنْخَرَيْهِ مِنَ الْمَاءِ))

 

وَفِي لَفْظٍ: ((مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْشِقْ)) .

 

لِينْثِرْ: يعني يُخرجُ الماءَ منْ أَنفِهِ، بعدَ إِدخاله فيهِ، وهو الاستنشاقُ.

 

استجمرَ: استعملَ الحجارةَ في مسحِ البولِ والغائطِ.

 

فلْيوتِرْ: أَيْ لِيُنْهِ استجمارَه على وِترٍ، ثلاثٍ أَوخمسٍ أَوأَكثرَ.

 

فَلْيَستنشقْ: الاستنشاقُ هو إِدخالُ الماء في الأَنفِ ثمَّ نثْرُهُ خارِجَهُ.
৪ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন ওযু করবে, সে যেন তার নাকে পানি দেয়, তারপর তা নাক থেকে ঝেড়ে বের করে দেয়। আর যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করে (শৌচকার্য করে), সে যেন তা বিজোড় সংখ্যায় করে। আর যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জাগবে, সে যেন পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কেননা তোমাদের কেউ জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল))।

 

মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: ((সে যেন তার নাসিকারন্ধ্র দিয়ে পানি টেনে নেয়))

 

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ((যে ওযু করে, সে যেন নাকে পানি টেনে নেয়))।

 

নাক ঝাড়া: অর্থাৎ নাকে পানি প্রবেশের পর তা নাক থেকে বের করে দেওয়া, যা মূলত ইস্তিনশাকের অন্তর্ভুক্ত।

 

ইসতিজমার: প্রস্রাব ও পায়খানা পরিষ্কার করার কাজে পাথর ব্যবহার করা।

 

সে যেন বিজোড় করে: অর্থাৎ সে যেন তার ইসতিজমার বিজোড় সংখ্যায় যেমন— তিন, পাঁচ অথবা তার অধিক সংখ্যায় শেষ করে।

 

সে যেন নাকে পানি টেনে নেয়: ইস্তিনশাক হলো নাকে পানি প্রবেশ করানো এবং এরপর তা বাইরে ঝেড়ে ফেলা।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
5 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ⦗ص: 33⦘ ((لا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لا يَجْرِي ، ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ)) وَلِمُسْلِمٍ: ((لا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ)) .

الماءُ الدائمُ: المستَقِرُّ في مكانِهِ كالغُدرانِ والبِرَكِ.

جُنُبٌ: الجُنُبُ، مَنْ أَصابته الجنابةُ، يطلقُ على المُذَكَّرِ والمُؤَنَّثِ، والفردِ والجماعةِ.
৫ - আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ "তোমাদের কেউ যেন এমন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সে তাতে গোসল করে।" এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কেউ যেন জুনুব (অপবিত্র) অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।"

স্থির পানি: যা তার নিজ স্থানে জমে থাকে, যেমন ডোবা এবং পুকুর।

জুনুব: জুনুব সেই ব্যক্তি যার ওপর জানাবাত বা অপবিত্রতা আপতিত হয়েছে। এই শব্দটি পুরুষ ও নারী এবং একবচন ও বহুবচন—সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
6 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعاً)) .

وَلِمُسْلِمٍ: ((أُولاهُنَّ بِالتُّرَابِ)) .

 

7 - وَلَهُ فِي حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الإِناءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعاً وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ بِالتُّرَابِ)) .

ولَغَ: شَرِبَ بطَرَفِ لسانِهِ

عَفِّروهُ: التعفيرُ: التمريغُ في العَفْرِ وهو الترابُ.
৬ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।"

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "তাদের প্রথমবার মাটি দিয়ে হতে হবে।"

 

৭ - এবং সহীহ মুসলিমেই আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করো এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে মেজো।"

ওয়ালাগা: জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে পান করা।

আফফিরুহু: ‘তা’ফির’ হলো ধুলো অর্থাৎ মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া বা মাখানো।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
8 - عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنهما: ((أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ دَعَا بِوَضُوءٍ ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إنَائِهِ ، فَغَسَلَهُمَا ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْوَضُوءِ ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاثاً ، وَيَدَيْهِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاثًا ، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ، ثُمَّ غَسَلَ كِلْتَا رِجْلَيْهِ ثَلاثًا ، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، وَقَالَ: ((مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، لا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ))

بِوَضوءٍ: الوَضوءُ بفتحِ الواوِ، معناه الماءُ الذي يتوضأُ بِهِ، وبضمِّها، فعلُ الوُضوءِ.
৮ - উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুক্তদাস হুমরান থেকে বর্ণিত: ((তিনি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখলেন যে, তিনি ওযুর পানি চাইলেন, অতঃপর তিনি তাঁর পাত্র থেকে নিজের দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং সে দুটিকে তিনবার ধৌত করলেন। তারপর তিনি ওযুর পানির মধ্যে তাঁর ডান হাত প্রবেশ করালেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তাঁর মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তাঁর উভয় পা তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি। আর তিনি (নবী) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনের সাথে কোনো কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।))

‘ওয়াদূ’ (ওয়াও অক্ষরে জবর সহ): এর অর্থ হলো সেই পানি যা দিয়ে ওযু করা হয়; আর পেশ (যম্মাহ) সহ ‘উদূ’ হলো ওযু করার কাজ।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
9 - عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: ((شَهِدْتُ عَمْرَو بْنَ أَبِي حَسَنٍ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ ، فَتَوَضَّأَ لَهُمْ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَكْفَأَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ التَّوْرِ ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاثاً ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاثاً بِثَلاثِ غَرْفَاتٍ ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاثاً ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ ، فَغَسَلَهُمَا مَرَّتَيْنِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ أَدْخَلَ ⦗ص: 35⦘ يَدَهُ فِي التَّوْرِ ، فَمَسَحَ رَأْسَهُ ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ)) .

وَفِي رِوَايَةٍ: ((بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ، حَتَّى ذَهَبَ بِهِمَا إلَى قَفَاهُ ، ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ)) . وَفِي رِوَايَةٍ ((أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْرَجْنَا لَهُ مَاءً فِي تَوْرٍ مِنْ صُفْرٍ)) . التَّوْرُ: شِبْهُ الطَّسْتِ. أهـ

التَّورُ: هو إِناءٌ صغيرٌ.

فأَكْفَأَ على يديْهِ: أَمالَ وصَبَّ على يديْهِ.

قَفَاهُ: مُؤَخِّرَةُ رِأْسِهِ.

منْ صُفْرٍ: هوَ نوعٌ منَ النُّحاسِ.
৯ - আমর ইবন ইয়াহইয়া আল-মাযিনী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ((আমি আমর ইবন আবি হাসানকে আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ-এর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখেছি। তখন তিনি পানির একটি পাত্র (তাওর) আনালেন এবং তাঁদের সামনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর ন্যায় উযূ করলেন। তিনি পাত্র থেকে নিজের দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং হাত দুটি তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি পাত্রে হাত প্রবেশ করালেন এবং তিন আজলা পানির সাহায্যে তিনবার কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন ও নাক ঝাড়লেন। তারপর হাত প্রবেশ করিয়ে তিনবার নিজের মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। এরপর পাত্রে হাত প্রবেশ করিয়ে কনুই পর্যন্ত উভয় হাত দুইবার ধৌত করলেন। অতঃপর ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ পাত্রে হাত প্রবেশ করিয়ে নিজের মাথা মাসেহ করলেন। তিনি উভয় হাত সামনে থেকে পেছনে নিলেন এবং পুনরায় একবার ফিরিয়ে আনলেন। এরপর তিনি তাঁর দুই পা ধৌত করলেন।))।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((তিনি মাথার সামনের অংশ থেকে শুরু করলেন, এমনকি উভয় হাত ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, অতঃপর পুনরায় যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানে ফিরিয়ে আনলেন।))। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা পিতলের একটি পাত্রে তাঁর জন্য পানি বের করে দিলাম।))। তাওর: গামলার মতো পাত্র। সমাপ্ত।

তাওর: এটি একটি ছোট পাত্র।

ফা-আকফা’আ আ’লা ইয়াদাইহি: তিনি কাত করলেন এবং তাঁর দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন।

ক্বাফাহু: তাঁর মাথার পেছনের অংশ।

মিন সুফ্‌রিন: এটি এক প্রকার তামা বা পিতল।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
10 - عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: ((كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ فِي تَنَعُّلِهِ ، وَتَرَجُّلِهِ ، وَطُهُورِهِ ، وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ)) .

يعجبُهُ التَّيَمُنُ: استعمالُ اليدِ اليمينِ، والبَدْءُ باليمينَ في كلِّ ماهو شريفٌ وطاهرٌ وطيبٌ.

تنعُّله: لبْسُ النعلِ وهو الحِذاءُ.

ترجلِهِ: تسريحُ شعرِهِ بالمِشطِ.

طُهُورِهِ: بضم الطاء: يشملُ الوُضوءَ والغسلَ.

وفي شأْنِهِ كلِهِ: في الأُمورِ الشريفةِ المُسْتَطابَةِ.
১০ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরিধান করা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন করা এবং তাঁর প্রতিটি কাজেই ডান দিক হতে শুরু করা পছন্দ করতেন))।

ডান দিক হতে শুরু করা পছন্দ করতেন: অর্থাৎ ডান হাত ব্যবহার করা এবং প্রতিটি সম্মানজনক, পবিত্র ও উত্তম কাজে ডান দিক হতে শুরু করা।

তাঁর জুতা পরিধান: জুতা পরিধান করা।

তাঁর চুল আঁচড়ানো: চিরুনি দিয়ে চুল বিন্যস্ত করা।

তাঁর পবিত্রতা অর্জন: ত্ব বর্ণে পেশ যোগে: যা ওযু এবং গোসল উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

এবং তাঁর প্রতিটি কাজে: অর্থাৎ সম্মানজনক ও উত্তম বিষয়সমূহে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
11 - عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ ⦗ص: 36⦘ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ((إنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرّاً مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ)) . فَمَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ.

 

وَفِي لَفْظٍ لِمُسْلِمٍ: ((رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَتَوَضَّأُ ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ حَتَّى كَادَ يَبْلُغُ الْمَنْكِبَيْنِ ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى رَفَعَ إلَى السَّاقَيْنِ ، ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرَّاً مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ)) فَمَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ وَتَحْجِيلَهُ فَلْيَفْعَلْ.

 

12 - وَفِي لَفْظٍ لِمُسْلِمٍ: سَمِعْتُ خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنْ الْمُؤْمِنِ حَيْثُ يَبْلُغُ الْوُضُوءُ)) . ⦗ص: 37⦘

يُدْعَوْنَ: يُنَادَوْنَ.

غُرَّاً: الغُرَّة: بياضٌ في وجهِ الفرسِ، أُطْلِقَتْ على نورِ وجوهِهِمْ المُشَبَّهَةِ بغُرَّةِ الفَرَسِ.

محَجَّلينَ: من التحجيلِ وهو بياضٌ في قوائمِ الفرسِ. والمرادُ بذلك النورُ الذي يعلو وجوهَهُمْ وأَيدِيَهُمْ وأَرْجُلَهُمْ يوم القيامة، وهذا من خصائصِ هذهِ الأُمَّةِ.

الحِلْيةُ: حليةُ النورِ التي تبلغُ مابلغَ ماءُ الوُضوءِ.
১১ - নুআইম আল-মুজমির হতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে ওযুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্ট অবস্থায় ডাকা হবে।" সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার উজ্জ্বলতাকে দীর্ঘ করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।

 

মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমি আবু হুরায়রাকে ওযু করতে দেখেছি, তিনি তার মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করলেন এমনকি প্রায় কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছালেন। এরপর তিনি তার পা দুটি ধৌত করলেন এমনকি নলা পর্যন্ত উঠালেন। এরপর তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে ওযুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্ট অবস্থায় ডাকা হবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার উজ্জ্বলতা ও হাত-পায়ের শুভ্রতাকে দীর্ঘ করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।"

 

১২ - মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আমি আমার বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "মুমিনের অলঙ্কার সেখানে পৌঁছাবে যেখানে ওযুর পানি পৌঁছাবে।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘

ডাকা হবে: আহ্বান করা হবে।

উজ্জ্বল মুখমণ্ডল: 'গুররাহ' হলো ঘোড়ার কপালে বিদ্যমান সাদা দাগ; এখানে তাদের চেহারার নূরকে ঘোড়ার কপালের শুভ্রতার সাথে তুলনা করে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট: এটি 'তাহজিল' থেকে আগত, যা ঘোড়ার পায়ে বিদ্যমান শুভ্রতাকে বোঝায়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই নূর যা কিয়ামতের দিন তাদের মুখমণ্ডল, হাত ও পায়ের ওপর প্রকাশ পাবে। আর এটি এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অলঙ্কার: নূরের অলঙ্কার যা সেখানে পৌঁছাবে যেখানে ওযুর পানি পৌঁছেছিল।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌بابُ دخولِ الخلاءِ والاستطابةِ
শৌচাগারে প্রবেশ ও পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
13 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إذَا دَخَلَ الْخَلاءَ قَالَ: ((اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ)) .

الاستطابةُ: الاستنجاءُ.

الخُبُثُ: بضمِّ الخاءِ والباءِ، جمعُ خبيثٍ، وهمْ ذُكرانُ الشياطينِ.

الخبائثُ: جمعُ خبيثةٍ، وهنَّ إِناثُ الشياطينِ.
১৩ - আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

আল-ইসতিতাবাহ: ইস্তিনজা (শৌচকার্য সম্পাদন করা)।

আল-খুবুথ: 'খা' এবং 'বা' বর্ণদ্বয়ে পেশ যোগে; এটি 'খাবিস'-এর বহুবচন, আর তারা হলো পুরুষ শয়তান।

আল-খাবাইস: 'খাবিসাহ'-এর বহুবচন, আর তারা হলো নারী শয়তান।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
14 - عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إذَا أَتَيْتُمْ الْغَائِطَ ، فَلا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلا بَوْلٍ ، وَلا تَسْتَدْبِرُوهَا ، وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا)) . ⦗ص: 38⦘ قَالَ أَبُو أَيُّوبَ: «فَقَدِمْنَا الشَّامَ ، فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ نَحْوَ الْكَعْبَةِ ، فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا ، وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ عز وجل» .

شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا: اتجهوا نحوَ المشرقِ أَوالمغربِ. وهذا بالنسبةِ لأَهلِ المدينةِ المنورةِ.
১৪ - আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমরা মলত্যাগ করতে আসবে, তখন মলত্যাগ কিংবা প্রস্রাবের সময় কিবলাকে সামনে রাখবে না এবং কিবলার দিকে পিঠও করবে না; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আবু আইয়ুব বলেন: "অতঃপর আমরা সিরিয়ায় (শাম) আসলাম এবং সেখানে এমন কিছু শৌচাগার পেলাম যা কাবার অভিমুখে নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা সেগুলো ব্যবহারের সময় কিবলা থেকে ঘুরে বসতাম এবং মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।"

পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো: অর্থাৎ পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে অভিমুখী হও। এটি মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٨)
15 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنهما قَالَ: ((رَقِيْتُ يَوْماً عَلَى بَيْتِ حَفْصَةَ ، فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْضِي حَاجَتَهُ مُسْتَقْبِلَ الشَّامَ ، مُسْتَدْبِرَ الْكَعْبَةَ)) . وَفِي رِوَايَةٍ ((مُسْتَقْبِلاً بَيْتَ الْمَقْدِسِ)) .

رَقِيتُ: صعدتُ.
১৫ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((একদিন আমি হাফসার ঘরের উপরে আরোহণ করলাম, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শাম অভিমুখে মুখ করে এবং কাবার দিকে পিঠ দিয়ে তাঁর হাজত পূরণ (শৌচকার্য) করতে দেখলাম))। এবং অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: ((বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে))।

রকীতু: আমি আরোহণ করেছি বা উপরে উঠেছি।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٨)
16 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: ((كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْخَلاءَ ، فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلامٌ نَحْوِي إدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً ، فَيَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ)) .

العَنَزَةُ: الحَرْبَةُ الصَغِيرَةُ. والإِداوةُ: إِناءٌ صغيرٌ منْ جلدٍ.

غلامٌ نَحْوي: غلامٌ مقاربٌ لي في السنِّ.
১৬ - আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন আমি এবং আমার সমবয়সী এক কিশোর পানির একটি পাত্র ও একটি ছোট বর্শা বহন করতাম। অতঃপর তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য সম্পন্ন করতেন।”

‘আনাযাহ’ হলো ছোট বর্শা। আর ‘ইদাওয়াহ’ হলো চামড়ার তৈরি ছোট পাত্র।

‘আমার ন্যায় কিশোর’ বলতে এমন কিশোরকে বোঝানো হয়েছে যে বয়সে আমার কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٨)
17 - عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْحَارِثِ بْنِ رِبْعِيٍّ الأَنْصَارِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((لا يُمْسِكَنَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَهُوَ يَبُولُ وَلا يَتَمَسَّحْ مِنْ الْخَلاءِ بِيَمِينِهِ وَلا يَتَنَفَّسْ فِي الإِنَاءِ)) .
১৭ - আবু কাতাদাহ আল-হারিস ইবনে রিবঈ আল-আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব করার সময় তার ডান হাত দিয়ে লিঙ্গ স্পর্শ না করে, ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন না করে এবং পানপাত্রের ভেতরে নিশ্বাস না ছাড়ে।"
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٩)
18 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَبْرَيْنِ ، فَقَالَ: ((إنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا: فَكَانَ لا يَسْتَتِرُ مِنْ الْبَوْلِ ، وَأَمَّا الآخَرُ: فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ فَأَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً ، فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ ، فَغَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، لِمَ فَعَلْتَ هَذَا؟ قَالَ: لَعَلَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا)) .

لايستترُ منَ البولِ: لايجعلُ سترةً تقيهِ منْ بولِهِ.

النَّميمةُ: نقلُ كلامِ الغيرِ على وجهِ الإِفسادِ والإِضرارِ.
১৮ - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই দুই কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে; আর তাদের এমন কোনো বড় বিষয়ের (যা পালন করা কঠিন ছিল) জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে আড়াল হতো না, আর অন্যজন চোগলখুরি করে বেড়াত।" তারপর তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল নিলেন এবং তা দুই ভাগে চিরলেন। এরপর প্রতিটি কবরের ওপর একটি করে অংশ পুঁতে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এটি করলেন?" তিনি বললেন: "সম্ভবত এই ডাল দুটি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের আজাব লাঘব করা হবে।"

প্রস্রাব থেকে আড়াল না হওয়া: এর অর্থ হলো, সে এমন কোনো পর্দা বা অন্তরাল রাখত না যা তাকে তার প্রস্রাবের ছিটা থেকে রক্ষা করে।

নামিমাহ (চোগলখুরি): ফাসাদ সৃষ্টি ও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে স্থানান্তর করা।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٩)
‌‌بابُ السواكِ
মিসওয়াক অধ্যায়
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٩)
19 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاةٍ)) . ⦗ص: 40⦘

السِّواكُ: اسمُ للعودِ الذي يتسوكُ به، ولفعلِ الاستياكِ نفسِهِ. وخيرُ مايُستاكُ بهِ عودُ جذورِ شجرِ الأَراكِ.
১৯ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘

মিসওয়াক: এটি সেই কাষ্ঠখণ্ডের নাম যা দিয়ে দাঁত মাজা হয় এবং দাঁত মাজার কাজটিকেও মিসওয়াক বলা হয়। আর মিসওয়াক করার জন্য সর্বোত্তম বস্তু হলো পিলু (আরাক) গাছের শিকড়ের ডাল।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٤٠)
20 - عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رضي الله عنهما قَالَ: ((كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إذَا قَامَ مِنْ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ)) .

يشوصُ فاه: يَدْلُكُ أَسنانَهُ ويُنَقِّيها.
২০ - হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রাতে (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ ঘষে পরিষ্কার করতেন।"

ইয়াশুসু ফাহু: তিনি তাঁর দাঁত মাজতেন এবং তা পরিষ্কার করতেন।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٤٠)
21 - عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: ((دَخَلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مُسْنِدَتُهُ إلَى صَدْرِي ، وَمَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سِوَاكٌ رَطْبٌ يَسْتَنُّ بِهِ فَأَبَدَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَصَرَهُ. فَأَخَذْتُ السِّوَاكَ فَقَضَمْتُهُ ، فَطَيَّبْتُهُ ، ثُمَّ دَفَعْتُهُ إلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَنَّ بِهِ فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَنَّ اسْتِنَانًا أَحْسَنَ مِنْهُ ، فَمَا عَدَا أَنْ فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: رَفَعَ يَدَهُ - أَوْ إصْبَعَهُ - ثُمَّ قَالَ: فِي الرَّفِيقِ الأَعْلَى - ثَلاثاً - ثُمَّ قَضَى. وَكَانَتْ تَقُولُ: مَاتَ بَيْنَ حَاقِنَتِي وَذَاقِنَتِي)) . ⦗ص: 41⦘

وَفِي لَفْظٍ ((فَرَأَيْتُهُ يَنْظُرُ إلَيْهِ ، وَعَرَفْتُ: أَنَّهُ يُحِبُّ السِّوَاكَ فَقُلْتُ: آخُذُهُ لَكَ؟ فَأَشَارَ بِرَأْسِهِ: أَنْ نَعَمْ)) هَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ وَلِمُسْلِمٍ نَحْوُهُ.

يستَنُّ بِهِ: يُمِرُّ السِّواكَ على أَسنانِهِ.

فَأَبَّدَهُ: مدَّ إِليهِ بصرَهُ وأَطالَهُ.

بين حاقنتي وذاقنتي: الحاقنةُ: مابين التَّرْقُوَتَيْنِ وحبلِ العاتقِ، والذاقنةُ: طرفُ الحُلْقومِ الأَعلى.

فقضمتُهُ: مضغته بأَسنانِها ليكونَ ليِّنَاً.
২১ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আব্দুর রহমান ইবনু আবি বকর আস-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় আমি তাঁকে আমার বুকের সাথে হেলান দিয়ে রেখেছিলাম। আব্দুর রহমানের নিকট একটি কাঁচা মিসওয়াক ছিল যা দিয়ে তিনি মিসওয়াক করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকাতে লাগলেন। তখন আমি মিসওয়াকটি নিয়ে তার অগ্রভাগ কামড়ালাম এবং তা নরম ও পরিপাটি করলাম। এরপর আমি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিলাম। তিনি তা দিয়ে মিসওয়াক করলেন। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর চেয়ে সুন্দরভাবে আর কখনো মিসওয়াক করতে দেখিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক শেষ করার পর তাঁর হাত—অথবা তাঁর আঙ্গুল—তুললেন, এরপর তিনবার বললেন: 'উচ্চতম বন্ধুর সাথে (জান্নাতে)'। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলেন।" তিনি (আয়েশা) বলতেন: "তিনি আমার কণ্ঠনালী ও বুকের মাঝখানে ইন্তেকাল করেছেন।" ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘

অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "আমি দেখলাম তিনি সেটির দিকে তাকাচ্ছেন এবং আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি মিসওয়াক পছন্দ করেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আমি কি সেটি আপনার জন্য নেব? তখন তিনি মাথা নেড়ে হ্যাঁ-সূচক ইশারা করলেন।" এটি বুখারীর শব্দ এবং মুসলিমের বর্ণনাও এর অনুরূপ।

মিসওয়াক করা: দাঁতের ওপর মিসওয়াক পরিচালনা করা।

একদৃষ্টিতে তাকানো: সেটির দিকে দীর্ঘক্ষণ দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা।

কণ্ঠনালী ও বুকের মাঝখানে: 'হাকিনা' হলো দুই কণ্ঠাস্থি ও ঘাড়ের রগের মধ্যবর্তী স্থান, আর 'যাকিনা' হলো কণ্ঠনালীর উপরিভাগ।

কামড় দিয়ে নরম করা: নরম করার জন্য দাঁত দিয়ে চিবানো।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٤١)
22 - عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: ((أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسْتَاكُ بِسِوَاكٍ رَطْبٍ ، قَالَ: وَطَرَفُ السِّوَاكِ عَلَى لِسَانِهِ ، وَهُوَ يَقُولُ: أُعْ ، أُعْ ، وَالسِّوَاكُ فِي فِيهِ ، كَأَنَّهُ يَتَهَوَّعُ)) .

يتهوَّعُ: يتقيأُ.
২২ - আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম যখন তিনি একটি কাঁচা মেসওয়াক দ্বারা মেসওয়াক করছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: মেসওয়াকের অগ্রভাগ ছিল তাঁর জিহ্বার ওপর, আর তিনি ‘উ’, ‘উ’ শব্দ করছিলেন। মেসওয়াকটি তাঁর মুখের ভেতর থাকা অবস্থায় মনে হচ্ছিল যেন তিনি বমি করছেন।"

‘ইয়াতাহাওওয়াউ’ অর্থ: বমি করা বা বমির ভাব করা।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٤١)
‌‌بابُ المسحِ على الخفينِ
চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٤١)
23 - عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رضي الله عنه قَالَ: ((كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ ، فَأَهْوَيْتُ لأَنْزِعَ خُفَّيْهِ ، فَقَالَ: دَعْهُمَا ، فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ ، فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا)) .

فأَهويتُ لأَنزعَ خفيهِ: مددتُ يدي لإِخراجِهما من رجليه لغسلِهما.

خُفَّيْهِ: تثنيةُ خُفٍ، وهو نعلٌ من جلدٍ يغطي القدمينِ.
২৩ - মুগিরা ইবনে শু'বা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। আমি তাঁর মোজা জোড়া খোলার জন্য হাত বাড়ালাম। তখন তিনি বললেন: "ওগুলো রেখে দাও, কেননা আমি পবিত্র অবস্থায় ওগুলো পরেছি।" এরপর তিনি মোজা দুটির ওপর মাসাহ করলেন।))।

আমি তাঁর মোজা জোড়া খোলার জন্য হাত বাড়ালাম: তাঁর পা ধোয়ার জন্য তাঁর পা থেকে মোজা দুটি খোলার উদ্দেশ্যে আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম।

তাঁর মোজা জোড়া: এটি 'খুফ' শব্দের দ্বিবচন, আর তা হলো চামড়ার তৈরি পাদুকা যা উভয় পা ঢেকে রাখে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٤١)
24 - عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رضي الله عنهما قَالَ: ((كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَالَ ، وَتَوَضَّأَ ، وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ)) .
২৪ - হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম; অতঃপর তিনি প্রস্রাব করলেন, ওযু করলেন এবং তাঁর মোজা দুটির উপর মাসাহ করলেন।"