(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: -)
المصنوع في معرفة الحديث الموضوع القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: المصنوع في معرفة الحديث الموضوع (الموضوعات الصغرى)
المؤلف: علي بن (سلطان) محمد، أبو الحسن نور الدين الملا الهروي القاري (ت 1014هـ)
المحقق: عبد الفتاح أبو غدة
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1398 هـ
عدد الصفحات: 272
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাসনু' ফি মা'রিফাতিল হাদিসিল মাওদু' (জাল হাদিস চেনার ক্ষেত্রে সঙ্কলিত গ্রন্থ) বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি (ইলাল) ও হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী
গ্রন্থ: আল-মাসনু' ফি মা'রিফাতিল হাদিসিল মাওদু' (আল-মাওদু'আত আস-সুগরা)
লেখক: আলী বিন (সুলতান) মুহাম্মদ, আবুল হাসান নূরুদ্দিন মোল্লা হারাবী কারী (মৃত্যু ১০১৪ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
كتاب الْمَصْنُوع فِي معرفَة الحَدِيث الْمَوْضُوع
للْإِمَام الْعَلامَة الْفَقِيه الْمُحدث عَليّ الْقَارِي الْهَرَوِيّ الْمَكِّيّ توفّي بِمَكَّة المكرمة سنة 1014 هـ رَحمَه الله تَعَالَى
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَّهِ وَكَفَى وَسلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى
وَبَعْدُ فَيَقُولُ أَفْقَرُ عِبَادِ اللَّهِ الْبَارِي عَلِيُّ بْنُ سُلْطَانَ مُحَمَّد الْقَارِي لَمَّا رَأَيْتُ جَمَاعَةً مِنَ الْحُفَّاظِ جَمَعُوا الأَحَادِيثَ الْمُشْتَهِرَةَ عَلَى الأَلْسِنَةِ وَبَيَّنُوا الصَّحِيحَ وَالْحَسَنَ وَالضَّعِيفَ وَالْمَوْضُوعَ عَلَى الطَّرِيقَةِ الْحَسَنَةِ سَنَحَ بِالْبَالِ الْفَاتِرِ اخْتِصَارُ تِلْكَ الدَّفَاتِرِ بِالاقْتِصَارِ عَلَى مَا قِيلَ فِيهِ إِنَّهُ لَا أَصْلَ لَهُ أَوْ مَوْضُوعٌ لِيَكُونَ سَبَبًا لِضَبْطِهَا عَلَى أَحْسَنَ مَصْنُوعٍ فَإِنَّ الأَحَادِيثَ الثَّابِتَةَ لَيْسَ لَهَا حَدٌّ بَلْ وَلا عَدٌّ
ثُمَّ مَا اخْتَلَفُوا فِي أَنَّهُ مَوْضُوعٌ أَوْ غَيْرُهُ تَرَكْتُ ذِكْرَهُ
কিতাবুল মাসনূ' ফী মা'রিফাতিল হাদীসিল মাওদূ' (জাল হাদীস পরিচিতি বিষয়ক সুনিপুণ গ্রন্থ)
ইমাম, আল্লামা, ফকীহ ও মুহাদ্দিস আলী আল-কারী আল-হারাভী আল-মাক্কী রচিত; যিনি ১০১৪ হিজরি সনে মক্কাতুল মুকাররমায় ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক
অতঃপর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে মুখাপেক্ষী বান্দা আলী ইবনে সুলতান মুহাম্মদ আল-কারী বলছেন: যখন আমি দেখলাম যে একদল হাফিয (হাদীস বিশারদ) লোকমুখে প্রচলিত হাদীসসমূহ সংকলন করেছেন এবং উত্তম পন্থায় সেগুলোর মধ্য থেকে সহীহ, হাসান, যঈফ ও মাওদূ' (জাল) হাদীসগুলোকে আলাদা করে বর্ণনা করেছেন, তখন আমার এই দুর্বল হৃদয়ে সেই বিশাল গ্রন্থসমূহকে সংক্ষেপ করার সংকল্প জাগল। আমি কেবল সেই হাদীসগুলো উল্লেখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যেগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এর কোনো ভিত্তি নেই অথবা এটি জাল; যাতে করে এটি সর্বোত্তম উপায়ে সেগুলোকে আয়ত্ত করার মাধ্যম হয়। কেননা প্রমাণিত হাদীসসমূহের কোনো সীমা নেই বরং তা অগণিত
অতঃপর যে সকল হাদীস জাল হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন, আমি সেগুলোর বর্ণনা পরিত্যাগ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
لاحْتِمَالِ أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثَ مَوْضُوعًا مِنْ طَرِيقٍ صَحِيحًا مِنْ آخَرَ لأَنَّ هَذَا كُلَّهُ بِحَسْبِ مَا ظَهَرَ لِلْمُحَدِّثِينَ مِنْ حَيْثُ النَّظَرِ إِلَى الإِسْنَادِ وَإِلا فَلا مَطْمَعَ لِلْقَطْعِ فِي الاسْتِنَادِ لِتَجْوِيزِ الْعَقْلِ أَنْ يَكُونَ الصَّحِيحَ فِي نَفْسِ الأَمْرِ مَوْضُوعًا وَالْمَوْضُوعُ صَحِيحًا إِلَى الْحَدِيثِ الْمُتَوَاتِرِ فَإِنَّهُ فِي إِفَادَة الْعلم اليقيني يكون قطيعا صَرِيحًا
وَلِذَا قَالَ الزَّرْكَشِيُّ بَيْنَ قَوْلِنَا لَمْ يَصِحَّ وَقَوْلِنَا مَوْضُوعٌ بَوْنٌ وَاضِحٌ فَإِنَّ الْوَضْعَ إِثْبَاتُ الْكَذِبِ وَقَوْلُنَا لَمْ يَصِحَّ إِنَّمَا هُوَ إِخْبَارٌ عَنْ عَدَمِ الثُّبُوتِ وَلا يَلْزَمُ مِنْهُ إِثْبَاتُ الْعَدَمِ
وَأَسْأَلُ اللَّهَ التَّوْفِيقَ عَلَى دِلالَةِ التَّحْقِيقِ وَهُوَ الْهَادِي إِلَى سَوَاءِ الطَّرِيقِ
কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে, একটি হাদিস এক সূত্রে জাল হলেও অন্য সূত্রে সহিহ হতে পারে। কেননা এই সবকিছুই হলো বর্ণনাসূত্র পর্যালোচনার নিরিখে মুহাদ্দিসগণের নিকট যা প্রকাশ পেয়েছে সেই অনুযায়ী। নতুবা বর্ণনাসূত্রের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা লাভের কোনো অবকাশ নেই; কারণ বুদ্ধিগতভাবে এটি সম্ভব যে, যা বাস্তবে সহিহ তা প্রকৃতপক্ষে জাল হতে পারে, আবার যা জাল তা সহিহ হতে পারে। তবে মুতাওয়াতির হাদিসের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে তা অকাট্য ও সুস্পষ্ট।
এজন্যই যারকাশি বলেছেন: আমাদের কথা 'এটি সহিহ নয়' এবং আমাদের কথা 'এটি জাল'—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে। কারণ জাল হওয়ার অর্থ হলো মিথ্যা হওয়া সাব্যস্ত করা, আর আমাদের কথা 'এটি সহিহ নয়' কেবল তা প্রমাণিত না হওয়ার সংবাদ দেওয়া মাত্র, আর এটি থেকে বিষয়টি সমূলে অবাস্তব হওয়া আবশ্যক হয় না।
আমি আল্লাহর নিকট সঠিক তাহকিক বা অনুসন্ধানের তাওফিক প্রার্থনা করি, আর তিনিই সরল পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
حرف الْهمزَة 1 - اتَّقِ شَرَّ مَنْ أَحْسَنْتَ إِلَيْهِ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَا أعرفهُ
হামজা বর্ণ ১ - তুমি যার প্রতি অনুগ্রহ করেছ তার অনিষ্ট হতে বেঁচে থাকো। আস-সাখাভী বলেছেন, আমি এটি চিনি না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
2 - حَدِيثُ اتَّقُوا الْبَرْدَ فَإِنَّهُ قَتَلَ أَخَاكُمْ أَبَا الدَّرْدَاءِ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَا أَعْرِفُهُ
3 - حَدِيثُ اتَّقُوا ذَوِي الْعَاهَاتِ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ
4 - حَدِيثُ اجْتِمَاعُ الْخَضِرِ وَإِلْيَاسَ عليهما السلام فِي كُلِّ عَامٍ فِي الْمَوْسِمِ بِمِنًى قَالَ الْعَسْقَلانِيُّ لَا يَثْبُتُ فِيهِ شَيْءٌ
2 - হাদীস: "তোমরা শীত থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা তোমাদের ভাই আবুদ্ দারদাকে হত্যা করেছে।" সাখাভী বলেছেন, "এটি আমার জানা নেই।"
3 - হাদীস: "তোমরা শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিদের থেকে বেঁচে থাকো।" সাখাভী বলেছেন, "আমি এর সন্ধান পাইনি।"
4 - হাদীস: "প্রতি বছর হজের মৌসুমে মিনায় খিজির ও ইলিয়াস (তাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর একত্রিত হওয়া।" আসকালানী বলেছেন, "এ বিষয়ে কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
5 - حَدِيثُ اجْتَمِعُوا وَارْفَعُوا أَيْدِيَكُمْ فَاجْتَمَعْنَا وَرَفَعْنَا أَيْدِيَنَا ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُعَلِّمِينَ ثَلاثًا كَيْلا يَذْهَبَ الْقُرْآنُ وَأَعِزَّ الْعُلَمَاءَ كَيْلا يَذْهَبَ الدِّينُ مَوْضُوعٌ
وَكَذَا اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُعَلِّمِينَ وَأَطِلْ أَعْمَارَهُمْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِي كَسْبِهِمْ مَوْضُوعٌ كَذَا فِي اللآليء
৫ - "তোমরা একত্রিত হও এবং তোমাদের হাত উত্তোলন করো", অতঃপর আমরা একত্রিত হলাম এবং হাত উত্তোলন করলাম, এরপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! শিক্ষকদের ক্ষমা করুন" (তিনবার), "যাতে কুরআন বিলুপ্ত না হয় এবং আলেমদের শক্তিশালী ও সম্মানিত করুন যাতে দ্বীন বিলীন না হয়"—এই হাদিসটি বানোয়াট (মওযু)।
অনুরূপভাবে: "হে আল্লাহ! শিক্ষকদের ক্ষমা করুন, তাঁদের দীর্ঘায়ু দান করুন এবং তাঁদের উপার্জনে বরকত দান করুন"—এটিও বানোয়াট। 'আল-লাআলী' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
6 - حَدِيثُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُعَلِّمِينَ ثَلاثًا كَيْلا يَذْهَبَ الْقُرْآنُ وَأَعِزَّ الْعُلَمَاءَ كَيْلا يَذْهَبَ الدِّينُ مَوْضُوعٌ كَذَا فِي اللآليء
7 - حَدِيثُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُعَلِّمِينَ وَأَطِلْ أَعْمَارَهُمْ وَبَارِكْ لَهُم فِي كسبهم مَوْضُوع كَذَا فِي اللآليء
8 - حَدِيثُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَقُولَ فِي الدِّينِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَمْ يُوجَدْ
9 - حَدِيثُ اللَّهُمَّ أَيِّدِ الإِسْلامَ بِأَحَدِ الْعُمَرَيْنِ لَا أَصْلَ لَهُ بِهَذَا اللَّفْظِ
৬ - হাদিস: "হে আল্লাহ, আপনি শিক্ষকদের ক্ষমা করুন" (তিনবার), "যাতে কুরআন বিলুপ্ত না হয় এবং আলেমদের সম্মানিত করুন যাতে দ্বীন বিলুপ্ত না হয়" - এটি জাল (মাওজু)। 'আল-লাআলি' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৭ - হাদিস: "হে আল্লাহ, আপনি শিক্ষকদের ক্ষমা করুন, তাদের দীর্ঘজীবী করুন এবং তাদের উপার্জনে বরকত দান করুন" - এটি জাল (মাওজু)। 'আল-লাআলি' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৮ - হাদিস: "হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি" - এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
৯ - হাদিস: "হে আল্লাহ, আপনি দুই ওমরের যেকোনো একজনের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন" - এই শব্দে হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
10 - حَدِيثُ آخِرُ الطِّبِّ الْكَيُّ كَلامٌ لَيْسَ بِحَدِيثٍ قَالَهُ ابْنُ الدَّيْبَعِ
11 - حَدِيثُ آيَةٌ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ قَالَ الْعَسْقَلانِيُّ لَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ
12 - حَدِيثُ أَبَى اللَّهُ أَنْ يُصِحَّ إِلا كِتَابَهُ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَا أَعْرِفُهُ
১০ - 'চিকিৎসার সর্বশেষ পর্যায় হলো দাগ দেওয়া (কাই)'—এটি কোনো হাদিস নয়, বরং একটি সাধারণ কথা। ইবনু দাইবা এটি বলেছেন।
১১ - 'আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের চেয়েও উত্তম'—হাদিসটি সম্পর্কে আল-আসকালানি বলেন: আমি এর কোনো সন্ধান পাইনি।
১২ - 'আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কিছুকে নির্ভুল রাখতে অস্বীকার করেছেন'—আস-সাখাবি বলেন: আমি এটি চিনি না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
13 - حَدِيثُ أَخْفُوا الْخِتَانَ وَأَعْلِنُوا النِّكَاحَ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَا أَصْلَ لِلأَوَّلِ
14 - حَدِيثُ إِذَا أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَنْزِلَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا نَزَلَ عَنْ عَرْشِهِ بِذَاتِهِ مُحَدِّثُهُ دَجَّالٌ
15 - حَدِيثُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى إِذَا أَرَدْتُ أَنْ أُخَرِّبَ الدُّنْيَا بَدَأْتُ بِبَيْتِي فَخَرَّبْتُهُ ثُمَّ أُخَرِّبُ الدُّنْيَا قَالَ الْعِرَاقِيُّ لَا أَصْلَ لَهُ
১৩ - হাদীস: তোমরা খতনা গোপন করো এবং বিবাহ প্রকাশ করো। সাখাভী বলেছেন, প্রথম অংশের কোনো ভিত্তি নেই।
১৪ - হাদীস: যখন আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাঁর আরশ হতে স্বীয় সত্তাসহ অবতরণ করেন। এর বর্ণনাকারী একজন দাজ্জাল।
১৫ - হাদীস: আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন আমি দুনিয়া ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন আমার ঘর (কাবা) থেকে শুরু করি এবং তা ধ্বংস করি, এরপর পুরো দুনিয়া ধ্বংস করি। ইরাকী বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
16 - حَدِيثُ إِذَا جِئْتَ يَا مُعَاذُ أَرْضَ الْحُصَيْبِ فَهَرْوِلْ فَإِنَّ فِيهَا الْحُورَ الْعِينَ يَعْنِي مِنَ الْيَمَنِ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَا أَعْرِفُهُ
17 - حَدِيثُ إِذَا جَلَسَ الْمُتَعَلِّمُ بَيْنَ يَدَيِ الْعَالِمِ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَبْعِينَ بَابًا مِنَ الرَّحْمَةِ وَلا يَقُومُ مِنْ عِنْدِهِ إِلا كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ وَأَعْطَاهُ اللَّهُ بِكُلِّ حَرْفٍ ثَوَابَ سَبْعِينَ شَهِيدًا وَكَتَبَ لَهُ بِكُلِّ حَدِيثٍ عِبَادَةَ سَنَةٍ فِي الذَّيْلِ إِنَّهُ مَوْضُوعٌ
18 - حَدِيثُ إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَالْعِشَاءُ فابداوا بِالْعَشَاءِ قَالَ الْعِرَاقِيُّ لَا أَصْلَ لَهُ فِي كُتُبِ الْحَدِيثِ بِهَذَا اللَّفْظِ
16 - হাদিস: হে মুয়াজ, যখন তুমি হুসাইব নামক স্থানে পৌঁছাবে, তখন দ্রুত চলো; কারণ সেখানে ডাগর চোখের হুররা রয়েছে—অর্থাৎ ইয়েমেনের। সাখাভী বলেছেন: আমি এটি চিনি না।
17 - হাদিস: যখন কোনো শিক্ষার্থী আলেমের সামনে বসে, আল্লাহ তার জন্য রহমতের সত্তরটি দরজা খুলে দেন এবং সে তার নিকট থেকে এমন অবস্থায় ওঠে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে সত্তর জন শহীদের সওয়াব দান করেন এবং প্রতিটি হাদিসের বিনিময়ে তার জন্য এক বছরের ইবাদত লিপিবদ্ধ করেন। 'আয-যাইল' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে এটি জাল।
18 - হাদিস: যখন রাতের খাবার এবং এশার নামাজ উপস্থিত হয়, তখন রাতের খাবার দিয়ে শুরু করো। ইরাকি বলেছেন: হাদিসের গ্রন্থসমূহে এই শব্দে এর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
19 - حَدِيث إِذا رَأَيْت القارىء يلوذ بالسلطان فَاعْلَم أَنه لص إِذا رَأَيْته يلوذ بالأغبياء فَاعْلَمْ أَنَّهُ مُرَاءٍ وَإِيَّاكَ أَنْ تُخْدَعَ فَيُقَالُ لَكَ تَشْفَعُ وَتَدْرَأُ عَنْ مَظْلُومٍ أَوْ تَرُدَّ مَظْلَمَةً فَإِنَّ هَذِهِ خُدْعَةُ إِبْلِيسَ اتَّخَذَهَا فُجَّارُ الْقُرَّاءِ سُلَّمًا مِنْ قَوْلِ الثَّوْرِيِّ
وَكَذَا مِنْ قَوْلِهِ إِنِّي لأَلْقَى الرَّجُلَ أَبْغَضُهُ فَيَقُولُ لِي كَيْفَ أَصْبَحْتَ فَيَلِينُ لَهُ قَلْبِي فَكَيْفَ بِمَنْ أكل ثريدهم ووطىء بُسَاطَهُمْ وَمِنْ ثَمَّ وَرَدَ اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ لِفَاجِر عَبدِي نِعْمَةً يَرْعَاهُ قَلْبِي وَقِيلَ مَا أَقْبَحَ أَنْ يُطْلَبَ الْعَالِمُ فَيُقَالُ هُوَ بِبَابِ الأَمِيرِ
১৯ - হাদীস: যখন তুমি কোনো ক্বারী (ধর্মতত্ত্ববিদ)-কে দেখবে যে সে সুলতানের (শাসকের) সান্নিধ্য অবলম্বন করছে, তবে জেনে রেখো যে সে একজন চোর। যখন তাকে দেখবে যে সে অজ্ঞদের সাথে সংশ্রব রাখছে, তখন জেনে রেখো সে একজন লোকদেখানো প্রদর্শনকারী। আর সাবধান! তুমি যেন এই বলে প্রতারিত না হও যে, "আপনি সুপারিশ করবেন এবং কোনো মজলুমের বিপদ দূর করবেন অথবা কোনো জুলুমের প্রতিকার করবেন।" কারণ এটি ইবলিসের একটি ধোঁকা, যা পাপাচারী ক্বারীরা (নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির) সিঁড়ি হিসেবে গ্রহণ করেছে। এটি (সুফিয়ান) সাওরির উক্তি।
অনুরূপভাবে তাঁর উক্তি থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "আমি এমন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করি যাকে আমি অপছন্দ করি, অতঃপর সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, 'আপনার সকাল কেমন কাটলো?' এতেই তার প্রতি আমার অন্তর কোমল হয়ে যায়। তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে তাদের প্রস্তুতকৃত 'সারিদ' (এক প্রকার খাদ্য) ভক্ষণ করেছে এবং তাদের গালিচায় পদচারণা করেছে?" আর এ কারণেই বর্ণিত হয়েছে: "হে আল্লাহ! কোনো পাপাচারীর পক্ষ থেকে আমার ওপর এমন কোনো অনুগ্রহ অর্পণ করবেন না, যা আমার অন্তরকে তার প্রতি অনুরাগী করে তোলে।" আরও বলা হয়েছে: "একজন আলিমকে তালাশ করা হবে আর বলা হবে যে তিনি আমিরের দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন—এটি কতই না কদর্য বিষয়!"
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
20 - حَدِيثُ إِذَا صَدَقَتِ الْمَحَبَّةُ سَقَطَتْ شُرُوطُ الأَدَبِ قَالَ ابْنُ الدَّيْبَعِ لَيْسَ بِحَدِيثٍ
21 - حَدِيثُ إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَيَّ فَعَمِّمُوا قَالَ السَّخَاوِيُّ لَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ بِهَذَا اللَّفْظِ
22 - حَدِيثُ إِذَا كَانَ الْفَيْءُ ذِرَاعًا وَنِصْفًا إِلَى ذِرَاعَيْنِ فَصَلُّوا الظُّهْرَ بَاطِلٌ
23 - حَدِيثُ إِذَا كَتَبَ أَحَدُكُمْ كِتَابًا فَلا يَكْتُبْ عَلَيْهِ بَلَغ فَإِنَّهُ اسْمُ شَيْطَانٍ وَلَكِنْ يَكْتُبُ عَلَيْهِ الله مَوْضُوع كَذَا فِي اللآلىء
20 - ‘যখন ভালোবাসা সত্য হয়, তখন শিষ্টাচারের শর্তসমূহ বিলুপ্ত হয়’—এই হাদিসটি সম্পর্কে ইবনুদ দাইবা বলেন: এটি হাদিস নয়।
21 - ‘যখন তোমরা আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, তখন তা সবার জন্য ব্যাপক করো’—এই হাদিসটি সম্পর্কে সাখাবি বলেন: এই শব্দে আমি এটি খুঁজে পাইনি।
22 - ‘যখন (দুপুরের) ছায়া দেড় হাত থেকে দুই হাত পর্যন্ত হয়, তখন তোমরা জোহরের সালাত আদায় করো’—এই হাদিসটি বাতিল।
23 - ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো পত্র লেখে, সে যেন তার ওপর ‘বালাগ’ (পৌঁছেছে) না লেখে; কেননা এটি একটি শয়তানের নাম, বরং সে যেন তার ওপর ‘আল্লাহ’ লেখে’—এই হাদিসটি জাল; ‘আল-লাআলি’ গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
24 - حَدِيثُ إِذَا كُنْتَ عَلَى الْمَاءِ فَلا تَبْخَلْ بِالْمَاءِ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ
25 - حَدِيثُ إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَامْقُلُوهُ صَحِيحٌ وَأَمَّا فَامْقِلُوهُ ثُمَّ انْقُلُوهُ فَمَصْنُوعٌ وَمَوْضُوعٌ كَذَا فِي الْمغربِ
26 - حَدِيثُ أَرْبَعٌ لَا يَشْبَعْنَ مِنْ أَرْبَعٍ أَرْضٌ مِنْ مَطَرٍ وَأُنْثَى مِنْ ذَكَرٍ وَعَيْنُ مِنْ نَظَرٍ وَعَالِمٌ مِنْ عِلْمٍ ذَكَرَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ
২৪ - হাদিস: "তুমি যখন পানির পাড়ে থাকবে তখন পানি নিয়ে কার্পণ্য করো না।" সাখাভী বলেন: আমি এর কোনো সন্ধান পাইনি।
২৫ - হাদিস: "তোমাদের কারো পাত্রে যদি মাছি পড়ে তবে তাকে ডুবিয়ে দাও" এটি সহিহ। তবে "তাকে ডুবিয়ে দাও অতঃপর তা সরিয়ে ফেল" অংশটি কৃত্রিম ও বানোয়াট; 'আল-মাগরিব' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২৬ - হাদিস: "চারটি বিষয় চারটি বস্তু হতে তৃপ্ত হয় না: বৃষ্টি হতে মাটি, পুরুষ হতে নারী, দর্শন হতে চোখ এবং জ্ঞান হতে আলেম।" ইবনুল জাওজি এটি 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
27 - حَدِيثُ الأَرُزِّ لَيْسَ بِثَابِتٍ ذَكَرَهُ ابْنُ الدَّيْبَعِ
28 - حَدِيثُ الأَرْضُ فِي الْبَحْرِ كَالإِصْطَبْلِ فِي الْبَرِّ لَمْ يُوجَدْ لَهُ أَصْلٌ
29 - حَدِيثُ أَصْفِ النِّيَّةَ وَنَمْ فِي الْبَرِيَّةِ لَيْسَ بِحَدِيثٍ ذَكَرَهُ ابْنُ الدَّيْبَعِ
30 - حَدِيثُ أَصْلُ كُلِّ دَاءٍ الرِّضَا عَنِ النَّفْسِ مِنْ كَلامِ السَّلَفِ وَلَيْسَ بِحَدِيثٍ ذَكَرَهُ ابْنُ الدَّيْبَعِ
31 - حَدِيثُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عِمَامَةٍ صَمَّاءَ قَالَ السُّيُوطِيُّ لَا أَصْلَ لَهُ
২৭ - চাল সংক্রান্ত হাদিসটি প্রমাণিত নয়, ইবনুত দাইবা এটি উল্লেখ করেছেন।
২৮ - "সমুদ্রে জমিন যেন স্থলের একটি আস্তাবল"—এই হাদিসটির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
২৯ - "নিয়ত বিশুদ্ধ করো এবং প্রান্তরে ঘুমাও"—এটি কোনো হাদিস নয়, ইবনুত দাইবা এটি উল্লেখ করেছেন।
৩০ - "সকল রোগের মূল হলো নফসের প্রতি সন্তুষ্টি"—এটি সালাফদের উক্তি এবং এটি কোনো হাদিস নয়, ইবনুত দাইবা এটি উল্লেখ করেছেন।
৩১ - "আমি আল্লাহর নিকট কানঢাকা (শিমলাহীন) পাগড়ি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি"—সুয়ূতী বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
32 - حَدِيثُ أَعِينُوا الشَّارِي لَا أَصْلَ لَهُ بِهَذَا اللَّفْظِ وَكَذَا قَوْلُهُمْ الْمُشْتَرِي مُعَانٌ ذَكَرَهُ ابْنُ الدَّيْبَعِ
33 - حَدِيثُ أَفْضَلُ الْعِبَادَاتِ أَحْمَزُهَا أَيْ أَشَقُّهَا وَأَصْعَبُهَا قَالَ الزَّرْكَشِيُّ لَا يُعْرَفُ وَقَالَ ابْنُ الْقَيِّمِ فِي شَرْحِ مَنَازِلِ السَّائِرِينَ لَا أَصْلَ لَهُ
34 - حَدِيثُ أَكْثَرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ البُلْهُ رَوَاهُ الْبَزَّارُ مُضَعِّفًا وَالْقُرْطُبِيُّ مُصَحِّحًا وَرُوِيَ بِزِيَادَةٍ وَعِلِّيُّونَ لِذَوِي الأَلْبَابِ وَهِيَ لَيْسَ لَهَا أَصْلٌ
وَالْبُلْهُ جَمْعُ أَبْلَهٍ وَهُوَ الْغَافِلُ عَنِ الشَّرِّ الْمَطْبُوعُ عَلَى الْخَيْرِ وَفَسَّرَهُ سَهْلٌ التُّسْتَرِيُّ بِأَنَّهُمُ الَّذِينَ وَلِهَتْ قُلُوبُهُمْ وَشُغِلَتْ بِاللَّهِ وَقِيلَ هُوَ الأَبْلَهُ فِي دُنْيَاهُ الْفَقِيهُ فِي دِينِهِ وَفِي الْمَقَاصِدِ أَيِ الْبُلْهُ فِي أُمُورِ الدُّنْيَا
32 - "ক্রেতাকে সাহায্য করো" - এই শব্দে এই হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই। তেমনিভাবে তাদের কথা: "ক্রেতা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়"; এটি ইবনুদ দাইবা উল্লেখ করেছেন।
33 - হাদিস: "সর্বোত্তম ইবাদত হলো তা, যা সবচেয়ে কষ্টসাধ্য", অর্থাৎ যা সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমের এবং কঠিন। যারকাশি বলেছেন: এটি পরিচিত নয়। আর ইবনুল কায়্যিম 'শারহু মানাযিলিস সায়িরীন'-এ বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।
34 - হাদিস: "জান্নাতবাসীদের অধিকাংশই হলো সরলমনা লোক।" বাযযার এটি দুর্বল হিসেবে এবং কুরতুবি সহিহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি বর্ধিত অংশসহ বর্ণিত হয়েছে: "এবং ইল্লিয়্যুন হলো জ্ঞানবানদের জন্য"; যার কোনো ভিত্তি নেই।
'বুলহ' শব্দটি 'আবল্লাহ' এর বহুবচন; এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যে মন্দ কাজ থেকে গাফেল এবং কল্যাণের ওপর প্রকৃতিগতভাবে প্রতিষ্ঠিত। সাহল আত-তুস্তারি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তারা হলো এমন লোক যাদের অন্তর আল্লাহর প্রেমে মাতোয়ারা এবং আল্লাহর স্মরণে মগ্ন। আরও বলা হয়েছে: সে হলো এমন ব্যক্তি যে দুনিয়াবি বিষয়ে অনভিজ্ঞ কিন্তু দ্বীনি বিষয়ে বিজ্ঞ। আর 'আল-মাকাসিদ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: অর্থাৎ যারা পার্থিব বিষয়ে সরলমনা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
35 - حَدِيثُ أَكْرِمُوا طهُورَكُمْ قَالَ ابْنُ تَيْمِيَّةَ مَوْضُوعٌ وَفِي الذَّيْلِ هُوَ كَمَا قَالَ
36 - حَدِيثُ أَلْسِنَةُ الْخَلْقِ أَقْلامُ الْحَقِّ لَا أَصْلَ لَهُ ذَكَرَهُ ابْنُ الدَّيْبَعِ
37 - حَدِيثُ أَمَانُ الْعَبْدِ أَمَانٌ قَالَ ابْنُ الْهَمَّامِ لَا يُعْرَفُ لَهُ أَصْلٌ
38 - حَدِيثُ أُمِرْتُ أَنْ أَحْكُمَ بِالظَّاهِرِ وَاللَّهُ يَتَوَلَّى السَّرَائِرَ جَزَمَ الْعِرَاقِيُّ وَغَيْرُهُ بِأَنَّهُ لَا أَصْلَ لَهُ 00
35 - 'তোমাদের পবিত্রতাকে সম্মান করো' হাদিসটি সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, এটি বানোয়াট। 'আদ-দাইল' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, বিষয়টি তিনি যা বলেছেন তেমনই।
36 - 'সৃষ্টির জিহ্বা সত্যের কলম' হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই। ইবনে আদ-দাইবা এটি উল্লেখ করেছেন।
37 - 'দাসের নিরাপত্তা প্রদানই নিরাপত্তা' হাদিসটি সম্পর্কে ইবনে আল-হুম্মাম বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি জানা নেই।
38 - 'আমাকে বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ গোপন রহস্যসমূহের দায়িত্ব নেবেন' হাদিসটি সম্পর্কে ইরাকি এবং অন্যান্যরা নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে এর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
39 - حَدِيثُ أُمِرْنَا بِتَصْغِيرِ اللُّقْمَةِ فِي الأَكْلِ وَتَدْقِيقِ الْمَضْغِ قَالَ النَّوَوِيُّ لَا يَصِحُّ
40 - حَدِيثُ أَنَا أَفْصَحُ الْعَرَبِ بَيْدَ أَنِّي مِنْ قُرَيْشٍ قَالَ السُّيُوطِيُّ لَا يُعْلَمُ مَنْ أَخْرَجَهُ وَلا إِسْنَادُهُ
39 - হাদিস: "আমাদেরকে আহারের সময় লোকমা ছোট করতে এবং ভালোভাবে চর্বণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" ইমাম নববী বলেন, এটি বিশুদ্ধ নয়।
40 - হাদিস: "আমি আরবদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জল ভাষী, তদুপরি আমি কুরাইশ বংশীয়।" ইমাম সুয়ূতী বলেন, এটি কে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ কী, তা জানা যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
41 - حَدِيثُ أَنَا أَفْصَحُ مَنْ نَطَقَ بِالضَّادِ مَعْنَاهُ صَحِيحٌ وَلا أَصْلَ لَهُ كَمَا قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ وَابْنُ الْجَزَرِيِّ
42 - حَدِيثُ الأَنْبِيَاءُ قَادَةٌ وَالْفُقَهَاءُ سَادَةٌ وَمُجَالَسَتُهُمْ زِيَادَةٌ مَوْضُوعٌ عَلَى مَا فِي الْخُلاصَةِ
43 - حَدِيثُ أَنْصِفْ مَنْ بِالْحَقِّ اعْتَرَفَ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَمْ أَعْرِفْهُ هَكَذَا
৪১ - "আমি তাদের মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্টভাষী যারা 'দাদ' উচ্চারণ করে" - এই হাদিসটির অর্থ সঠিক, তবে এর কোনো ভিত্তি নেই; যেমনটি ইবনে কাসির এবং ইবনুল জাজারি বলেছেন।
৪২ - "নবীগণ হলেন পথপ্রদর্শক, ফকিহগণ হলেন নেতা এবং তাঁদের মজলিসে বসা হলো (জ্ঞানের) প্রবৃদ্ধি" - 'আল-খুলাসা' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী এই হাদিসটি জাল।
৪৩ - "যে সত্যকে স্বীকার করে তার প্রতি ইনসাফ করো" - সাখাভি বলেছেন: আমি এটিকে এভাবে (হাদিস হিসেবে) চিনি না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
44 - حَدِيثُ إِنْ كَانَ الْكَلامُ مِنْ فِضَّةٍ فَالصَّمْتُ مِنْ ذَهَبٍ هُوَ مِنْ قَوْلِ سُلَيْمَانَ عليه السلام أَوْ لُقْمَانَ لابْنِهِ ذَكَرَهُ ابْنُ الدَّيْبَعِ
45 - حَدِيثُ إِنْ لَمْ يَكُنِ الْعُلَمَاءُ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ وَلِيٌّ لَيْسَ بِحَدِيثٍ بَلْ مِنْ كَلامِ أَبِي حَنِيفَةَ وَالشَّافِعِيِّ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى
46 - حَدِيثُ إِنَّ اللَّهَ أَخَذَ الْمِيثَاقَ عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ أَنْ يُبْغِضَ كُلَّ مُنَافِقٍ وَعَلَى كُلِّ مُنَافِقٍ أَنْ يُبْغِضَ كُلَّ مُؤْمِنٍ لَمْ يُوجَدْ
47 - حَدِيثُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ دُعَاءً مَلْحُونًا لَا يعرف لَهُ أصل
48 - إِنَّ اللَّهَ لَمَّا خَلَقَ الْعَقْلَ قَالَ لَهُ أَقْبِلْ فَأَقْبَلَ ثُمَّ قَالَ لَهُ أَدْبِرْ فَأَدْبَرَ فَقَالَ وَعِزَّتِي وَجَلالِي مَا خَلَقْتُ خَلْقًا أَشْرَفَ مِنْكَ فَبِكَ آخُذُ وَبِكَ أُعْطِي قَالُوا إِنَّهُ كَذِبٌ مَوْضُوعٌ اتِّفَاقًا كَذَا فِي الْمَقَاصِدِ
44 - হাদিস: "যদি কথা বলা রূপা হয় তবে নীরবতা হলো সোনা।" এটি সুলাইমান আলাইহিস সালামের উক্তি অথবা লোকমান তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন। ইবনুদ দাইবা এটি উল্লেখ করেছেন।
45 - হাদিস: "যদি আলেমগণ আল্লাহর ওলি না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলি নেই।" এটি কোনো হাদিস নয়, বরং এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুমাল্লাহু তায়ালা)-এর উক্তি।
46 - হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক মুমিনের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে সে প্রত্যেক মুনাফিককে ঘৃণা করবে এবং প্রত্যেক মুনাফিকের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে সে প্রত্যেক মুমিনকে ঘৃণা করবে।" এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
47 - হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ভুল উচ্চারণের (ব্যাকরণগত অশুদ্ধ) দোয়া কবুল করেন না।" এর কোনো ভিত্তি জানা নেই।
48 - "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন বুদ্ধি সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: 'সামনে আসো', ফলে সে সামনে এল। এরপর তাকে বললেন: 'পিছনে যাও', ফলে সে পিছনে গেল। তখন আল্লাহ বললেন: 'আমার মর্যাদা ও প্রতাপের শপথ! আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো সৃষ্টি আর করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি পাকড়াও করব এবং তোমার মাধ্যমেই আমি দান করব'।" তাঁরা (মুহাদ্দিসগণ) বলেছেন: এটি সর্বসম্মতিক্রমে একটি বানোয়াট মিথ্যা। 'আল-মাকাসিদ' গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
49 - حَدِيثُ إِنَّ اللَّهَ نَقَلَ لَذَّةَ طَعَامِ الأَغْنِيَاءِ إِلَى طَعَامِ الْفُقَرَاءِ قَالَ السُّيُوطِيُّ إِنَّهُ مَوْضُوعٌ
50 - حَدِيثُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَ هَذَا الْبَيْتَ أَنْ يحجه فِي كل سنة سِتّ مئة أَلْفٍ فَإِنْ نَقَصُوا أَكْمَلَهُمُ اللَّهُ بِالْمَلائِكَةِ وَإِنَّ الْكَعْبَةَ تُحْشَرُ كَالْعَرُوسِ الْمَزْفُوفَةِ كُلُّ مَنْ حَجَّهَا يَتَعَلَّقُ بِأَسْتَارِهَا يَسْعُونَ حَوْلَهَا حَتَّى تَدْخُلَ الْجَنَّةَ فَيَدْخُلُوا مَعَهَا قَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَجِدْ لَهُ أَصْلا
51 - حَدِيثُ إِنَّ اللَّهَ يَكْرَهُ الرَّجُلَ الْبَطَّالَ قَالَ الزَّرْكَشِيُّ لَمْ أَجِدْهُ
49 - হাদিস: নিশ্চয়ই আল্লাহ ধনীদের খাবারের স্বাদ দরিদ্রদের খাবারের দিকে স্থানান্তরিত করে দিয়েছেন। সুয়ূতী বলেছেন: এটি বানোয়াট।
50 - হাদিস: নিশ্চয়ই আল্লাহ এই ঘরের (কা’বা) প্রতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, প্রতি বছর ছয় লক্ষ মানুষ এর হজ পালন করবে। যদি তাদের সংখ্যা কম হয়, তবে আল্লাহ ফেরেশতাদের মাধ্যমে তা পূর্ণ করবেন। আর কা’বাকে হাশরের ময়দানে এমনভাবে উপস্থিত করা হবে যেন এক সুসজ্জিত কনে যাকে বাদ্যসহকারে বরের ঘরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; যারা এর হজ করেছে তারা এর গিলাফ ধরে থাকবে এবং এর চারপাশে দৌড়াতে থাকবে যতক্ষণ না সেটি জান্নাতে প্রবেশ করে এবং তারাও তার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করে। ইরাকী বলেছেন: আমি এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাইনি।
51 - হাদিস: নিশ্চয়ই আল্লাহ অলস ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। যারকাশী বলেছেন: আমি এটি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
52 - حَدِيث إِن الأَرْض لتنجس من بو الأَقْلَفِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِيهِ دَاوُدُ الْوَضَّاعُ
53 - حَدِيثُ إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَحْتَاجُونَ إِلَى الْعُلَمَاءِ فِي الْجَنَّةِ وَذَلِكَ أَنَّهُمْ يَزُورُونَ اللَّهَ فِي كُلِّ جُمُعَة فَيَقُول تمنوا عَليّ ماشئتم فَيَلْتَفِتُونَ إِلَى الْعُلَمَاءِ فَيَقُولُونَ مَاذَا نَتَمَنَّى عَلَى رَبِّنَا فَيَقُولُونَ كَذَا وَكَذَا ذُكِرَ فِي الْمِيزَانِ أَنه مَوْضُوع
52 - হাদীস: নিশ্চয়ই খৎনাবিহীন ব্যক্তির প্রস্রাবের কারণে জমিন চল্লিশ দিন অপবিত্র থাকে। এতে দাউদ আল-ওয়াদ্বা (মিথ্যা হাদীস রচনাকারী) রয়েছে।
53 - হাদীস: নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা জান্নাতে আলেমদের মুখাপেক্ষী হবে। আর তা এই জন্য যে, তারা প্রতি জুমুয়াবারে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা আমার কাছে যা ইচ্ছা চাও। তখন তারা আলেমদের দিকে ফিরে তাকাবে এবং বলবে, আমরা আমাদের রবের কাছে কী চাইব? তখন তারা বলবে, এই এই জিনিস। 'আল-মিজান' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি বানোয়াট।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
54 - حَدِيثُ إِنَّ الإِيمَانَ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ وَالْإِيمَان لَا يزِيد وَلَا ينقص قَالَ الفيروز آبادي كُلُّهُ لَا يَصِحُّ
55 - حَدِيثُ إِنَّ بِلالا كَانَ يُبَدِّلُ الشِّينَ فِي الأَذَانِ سِينًا لَيْسَ لَهُ أَصْلٌ
56 - حَدِيثُ إِنَّ شَيْطَانًا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ يُقَالُ لَهُ الْوَلَهَانُ مَعَهُ ثَمَانِيَةُ أَمْثَالِ وَلَدِ آدَمَ مِنَ الْجُنُودِ وَلَهُ خَلِيفَةٌ يُقَالُ لَهُ خَنْزَبُ قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ مَوْضُوعٌ
57 - حَدِيثُ إِنَّ الْعَالِمَ وَالْمُتَعَلِّمَ إِذَا مَرَّا عَلَى قَرْيَةٍ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَرْفَعُ الْعَذَابَ عَنْ مَقْبَرَةِ تِلْكَ الْقَرْيَةِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا قَالَ الْحَافِظُ الْجلالُ لَا أَصْلَ لَهُ
58 - حَدِيثُ إِنَّ الْعَبْدَ لَيُنْشَرُ لَهُ مِنَ الثَّنَاءِ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا يَزَنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاح بَعُوضَةٍ كَذَا فِي الإِحْيَاءِ وَقَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَجِدْهُ هَكَذَا وَفِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّهُ لَيَأْتِي الرَّجُلُ الْعَظِيمُ السَّمِينُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَزِنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ
৫৪ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়’ এবং ‘ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাস পায় না’— ফিরোজাবাদী বলেছেন: এর পুরোটাই সহিহ নয়।
৫৫ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই বিলাল আযানের মধ্যে শিন (ش) অক্ষরকে সিন (س) দ্বারা পরিবর্তন করতেন’— এর কোনো ভিত্তি নেই।
৫৬ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের মাঝে একজন শয়তান আছে যাকে ওয়ালাহান বলা হয়, তার সাথে আদম সন্তানের সৈন্যবাহিনীর আট গুণ সৈন্য রয়েছে এবং তার একজন প্রতিনিধি আছে যাকে খানযাব বলা হয়’— ইবনুল জাওযী বলেছেন: এটি বানোয়াট।
৫৭ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই আলেম ও শিক্ষার্থী যখন কোনো জনপদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন আল্লাহ তাআলা সেই জনপদের কবরস্থান থেকে চল্লিশ দিনের জন্য আজাব তুলে নেন’— হাফেজ জালাল বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।
৫৮ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই বান্দার জন্য পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানব্যাপী প্রশংসা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, অথচ আল্লাহর কাছে তার ওজন একটি মশার ডানার সমানও নয়’— এটি ‘ইহইয়া’ গ্রন্থে এভাবেই আছে। ইরাকী বলেছেন: আমি এটি এই শব্দে খুঁজে পাইনি। তবে সহিহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসে এসেছে: ‘কিয়ামতের দিন একজন বিশালকায় স্থূলকায় ব্যক্তি আসবে, যার ওজন আল্লাহর কাছে একটি মশার ডানার সমানও হবে না।’
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
59 - حَدِيثُ إِنَّ الْقَصِيرَةَ قَدْ تُطِيلُ أَيْ تَلِدَ وَلَدًا طَوِيلا قَالَ صَاحِبُ الْقَامُوسِ إِنَّهُ مَثَلٌ وَلَيْسَ بِحَدِيثٍ كَمَا وَهِمَ فِيهِ الْجَوْهَرِيُّ
60 - حَدِيثُ إِنَّكُمْ فِي زَمَانٍ أُلْهَمْتُمْ فِيهِ الْعَمَلَ وَسَيَأْتِي قَوْمٌ يُلْهَمُونَ الْجَدَلَ ذِكْرُهُ فِي الإِحْيَاءِ وَقَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَجِدْهُ
61 - حَدِيثُ إِنَّ لإِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلَ وَلأَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقَ لِحْيَةً فِي الْجَنَّةِ لَمْ يَصِحَّ وَكَذَا مَا قِيلَ فِي حَقِّ مُوسَى وَهَارُونَ وَآدَمَ عَلَيْهِمُ السَّلامُ
৫৯ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই খর্বাকৃতি নারী দীর্ঘদেহী সন্তান প্রসব করতে পারে’, অর্থাৎ সে দীর্ঘদেহী সন্তান জন্ম দেয়। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থের রচয়িতা বলেছেন, এটি একটি প্রবাদ মাত্র এবং এটি কোনো হাদিস নয়, যেমনটি আল-জাওহারি এ বিষয়ে ভুল ধারণা করেছিলেন।
৬০ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক যুগে আছো যাতে তোমাদের আমল করার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে, আর অচিরেই এমন এক জাতি আসবে যাদের বিতর্কের অনুপ্রেরণা দেওয়া হবে’। এটি ‘ইহয়া’ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে এবং আল-ইরাকি বলেছেন, ‘আমি এটি খুঁজে পাইনি’।
৬১ - হাদিস: ‘নিশ্চয়ই জান্নাতে ইবরাহিম খলিল এবং আবু বকর সিদ্দিকের দাড়ি থাকবে’—এটি বিশুদ্ধ নয়। অনুরূপভাবে মুসা, হারুন এবং আদম (আলাইহিমুস সালাম)-এর ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
62 - حَدِيثُ إِنَّ لِلَّهِ مَلائِكَةً تَنْقُلُ الأَمْوَاتَ قَالَ السَّخَاوِيُّ لَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ
63 - حَدِيثُ إِنَّ لِلَّهِ مَلَكًا مَا بَيْنَ شُفْرَيْ عَيْنَيْهِ مَسِيرَةُ خَمْسِ مئة عَامٍ لَمْ يُوجَدْ لَهُ أَصْلٌ
64 - حَدِيثُ إِنَّ الْمَسْجِدَ لَيَنْزَوِي مِنَ النُّخَامَةِ لَمْ يُوجَدْ
৬২ - হাদীস: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যারা মৃতদের স্থানান্তরিত করেন।’ আস-সাখাভী বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি।’
৬৩ - হাদীস: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন একজন ফেরেশতা রয়েছেন যার দুই চোখের পাতার মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো পাঁচশ বছরের পথ।’ এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
৬৪ - হাদীস: ‘নিশ্চয়ই মসজিদে শ্লেষ্মা ফেললে মসজিদ সংকুচিত হয়ে যায়।’ এটি পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
65 - حَدِيثُ إِنَّ مِنْ أَقَلَّ مَا أُوتِيتُمُ الْيَقِينَ وعزيمة الصَّبْر وَمن أعطي حَظه مِنْهُمَا لَو يُبَالِ مَا فَاتَهُ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ وَصِيَامِ النَّهَارِ ذِكْرُهُ فِي الإِحْيَاءِ قَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَقِفْ لَهُ عَلَى أَصْلٍ وَرَوَى ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ مِنْ حَدِيثِ مُعَاذٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ شَيْئًا أَقَلَّ مِنَ الْيَقِينِ
66 - حَدِيثُ إِنَّ مِنْ تَمَامِ إِيمَانِ الْعَبْدِ أَنْ يَسْتَثْنِيَ فِي كُلِّ حَدِيثِهِ يَعْنِي أَنْ يَقُولَ فِيهِ إِنْ شَاءَ الله مُنكر
৬৫ - হাদিস: নিশ্চয়ই তোমাদের যা কিছু প্রদান করা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কম হলো ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) এবং ধৈর্য ধারণের সংকল্প। আর যাকে এ দুটির অংশ প্রদান করা হয়েছে, সে রাতের কিয়াম এবং দিনের সওম থেকে যা কিছু তার ছুটে গেল, তার পরোয়া করবে না। এটি ইহইয়া গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। ইরাকি বলেছেন, আমি এর কোনো মূল ভিত্তি খুঁজে পাইনি। ইবনে আবদিল বার মুয়াজ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ ইয়াকিনের চেয়ে কম আর কিছু নাজিল করেননি।
৬৬ - হাদিস: নিশ্চয়ই বান্দার ঈমানের পূর্ণতা হলো সে তার প্রতিটি কথায় ইস্তিসনা করবে, অর্থাৎ সে তাতে ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চান) বলবে। এটি মুনকার।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
67 - حَدِيثُ إِنَّ مِنَ الذُّنُوبِ ذُنُوبًا لَا يُكَفِّرُهَا إِلا الْوُقُوفُ بِعَرَفَةَ قَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَجِدْ لَهُ أَصْلا
68 - حَدِيثُ إِنَّ مِنَ الْعِصْمَةِ أَنْ لَا تَقْدِرَ مِنْ كَلامِ السَّادَةِ الصُّوفِيَّةِ
69 - حَدِيثُ إِنَّ الْمَيِّتَ يَرَى النَّارَ فِي بَيْتِهِ سَبْعَةَ أَيَّامٍ قَالَ أَحْمَدُ وَغَيْرُهُ بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ وَهُوَ بِدْعَةٌ
70 - حَدِيثُ إِنَّنِي لأَجِدُ نَفَسَ الرَّحْمَنِ مِنْ قِبَلِ الْيَمَنِ أَوْ مِنْ جَانِبِ الْيَمَنِ قَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَجِدْ لَهُ أَصْلا
৬৭ - হাদিস: "নিশ্চয়ই গুনাহসমূহের মধ্যে এমন কিছু গুনাহ রয়েছে যা আরাফায় অবস্থান ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা মোচন হয় না।" ইরাকি (রহ.) বলেছেন: আমি এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাইনি।
৬৮ - হাদিস: "নিশ্চয়ই (পাপের) সামর্থ্য না থাকা এক প্রকার সুরক্ষা।" এটি সুফি মাশায়েখগণের উক্তি।
৬৯ - হাদিস: "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি সাত দিন পর্যন্ত তার ঘরে আগুন দেখতে পায়।" ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা বলেছেন: এটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি একটি বিদআত।
৭০ - হাদিস: "নিশ্চয়ই আমি ইয়ামেনের দিক থেকে অথবা ইয়ামেনের পার্শ্বদেশ থেকে রহমানের নিশ্বাস অনুভব করছি।" ইরাকি (রহ.) বলেছেন: আমি এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
71 - حَدِيثُ إِنَّ الْوَرْدَ خُلِقَ مِنْ عَرَقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ مِنْ عَرَقِ الْبُرَاقِ قَالَ النَّوَوِيُّ لَا يَصِحُّ وَقَالَ الْعَسْقَلانِيُّ وَغَيْرُهُ مَوْضُوعٌ
72 - حَدِيثُ الإِيمَانُ عَقْدٌ بِالْقَلْبِ وَإِقْرَارٌ بِاللِّسَانِ وَعَمَلٌ بِالأَرْكَانِ حَكَمَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ بِوَضْعِهِ قَالَ السَّخَاوِيُّ وَهُوَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ السَّلامِ بْنِ صَالِحٍ عِنْدَ ابْنِ مَاجَهْ
৭১ - এই হাদিস যে, "গোলাপ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘাম থেকে অথবা বুরাকের ঘাম থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে"; ইমাম নববী বলেছেন এটি সহিহ নয়, এবং আসকালানি ও অন্যান্যরা বলেছেন এটি বানোয়াট।
৭২ - এই হাদিস যে, "ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল"; ইবনুল জাওজি এটি বানোয়াট হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন। সাখাভি বলেছেন এটি ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত আব্দুস সালাম ইবনে সালেহ-এর হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
73 - حَدِيث إياك والسجع يَا ابْن رَوَاحَةَ كَذَا فِي الإِحْيَاءِ قَالَ الْعِرَاقِيُّ لَمْ أَجِدْهُ هَكَذَا وَفِي كِتَابِ الرِّيَاضَةِ لابْنِ السُّنِّيِّ وَأَبِي نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ أَنَّهَا قَالَتْ لِلسَّائِبِ إِيَّاكَ وَالسَّجْعَ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ كَانُوا لَا يسجعون وَلابْن حَيَّان اجْتَنِبِ السَّجْعَ وَفِي الْبُخَارِيِّ نَحْوَهُ مِنْ قَوْلِ ابْن عَبَّاس
৭৩ - হাদিস: হে ইবনে রাওয়াহা, তুমি ছন্দবদ্ধ গদ্য (সজ') পরিহার করো। ‘ইহয়া’ কিতাবে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আল-ইরাকি বলেছেন: আমি এটি এই শব্দে খুঁজে পাইনি। ইবনে আস-সুন্নির ‘কিতাবুর রিয়াদাহ’ এবং আবু নুআইমের ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসে সহিহ সনদে এসেছে যে, তিনি আস-সাইবকে বলেছিলেন: তুমি ছন্দবদ্ধ গদ্য পরিহার করো; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ ছন্দবদ্ধ গদ্য ব্যবহার করতেন না। ইবনে হাইয়ানের বর্ণনায় এসেছে: ছন্দবদ্ধ গদ্য বর্জন করো। এবং বুখারি শরিফে ইবনে আব্বাসের উক্তি থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
74 - حَدِيثُ أَيُّ شَيْءٍ يَخْفَى قَالَ مَا لَا يَكُونُ قَالَ الْعَسْقَلانِيُّ لَا أَعْرِفُ لَهُ أَصْلا
৭৪ - হাদিস: "কোন জিনিসটি গোপন থাকে?" তিনি বললেন, "যা অস্তিত্বহীন।" আসকালানি বলেন: "এর কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই।"
(খণ্ড: ১)
আল-মাসনূউ ফী মারিফাতিল হাদিসিল মাউযূ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
حَرْفُ الْبَاءِ الْمُوَحَّدَةِ
এক নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' বর্ণ