(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: -)
اللؤلؤ المرصوع القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: اللؤلؤ المرصوع فيما لا أصل له أو بأصله موضوع
المؤلف: محمد بن خليل بن إبراهيم، أبو المحاسن القاوقجي الطرابلسي الحنفي (ت 1305هـ)
المحقق: فواز أحمد زمرلي
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1415 هـ
عدد الصفحات: 240
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-লু'লুউল মারসু বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও প্রশ্নাবলী
গ্রন্থ: আল-লু'লুউল মারসু' ফী-মা লা আসলা লাহু আও বি-আসলিহি মাওদু' (ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বর্ণনা বিষয়ক সুসজ্জিত মুক্তা)
লেখক: মুহাম্মদ বিন খলীল বিন ইব্রাহীম, আবু আল-মাহাসিন আল-কাউকজি আত-তরাবুলুসি আল-হানাফি (মৃত্যু ১৩০৫ হিজরী)
গবেষক ও সম্পাদক: ফাওয়াজ আহমদ জুমারলী
প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(مُقَدّمَة الْمُؤلف)
الْحَمد لله الَّذِي أشرق أنوار نبراس النُّبُوَّة المحمدية فِي سَمَاء قُلُوب العارفين وأبدر، وَحفظ بروق سطوع سنائها من الأفول، فَلَا يَضرهَا طرُو الحلك إِذا أعكر.
أَحْمَده سبحانه وتعالى على نعمه الَّتِي شملت فبهرت وعمت، فَلَا تحصى وَلَا تحصر.
وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة صادرة عَن صَحِيح الْيَقِين يدخرها هَذَا العَبْد الضَّعِيف ليَوْم الْمَحْشَر.
وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، الَّذِي حذر عَن الشاذ وَالْمُنكر.
اللَّهُمَّ صل وَسلم وَبَارك عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه، وَمن اقتفى آثَارهم فضبط مسالك الشَّرِيعَة وحرر، مَا اتَّصل الْمَقْطُوع وارتفع الْمَوْضُوع وَحسن الْأَمر وتيسر، وانفصل وتلاشى كل مَا تعسر، أما بعد.
فَيَقُول راجي عَفْو مَوْلَاهُ الْغفار، مُحَمَّد بن خَلِيل القاوقجي غفر الله لَهُ الذُّنُوب والأوزار، وأهطل عَلَيْهِ وعَلى أحبابه سحب جوده المدرار: هَذِه نبذة مِمَّا لهجت بِهِ الْعَامَّة فِي كثير من الأقطار، واشتهرت أَنَّهَا أَحَادِيث رَسُول الله الصَّادِق الْمُخْتَار، وَهِي من وضع الزَّنَادِقَة ودسائس الْفجار، وَقد صَحَّ
(লেখকের ভূমিকা)
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আরিফদের অন্তরের আকাশে মুহাম্মাদী নবুওয়াতের প্রদীপের নূরসমূহকে উদ্ভাসিত ও বিকশিত করেছেন এবং এর দীপ্তির চমককে অস্ত যাওয়া থেকে রক্ষা করেছেন, ফলে অন্ধকার ঘনীভূত হলেও তা এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
আমি তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) প্রশংসা করছি তাঁর এমন সব নেয়ামতের জন্য যা পরিব্যাপ্ত, বিস্ময়কর ও সাধারণ, যা গণনা করে শেষ করা যায় না এবং সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা সঠিক দৃঢ় বিশ্বাস থেকে উৎসারিত, যা এই দুর্বল বান্দা হাশরের দিনের জন্য সঞ্চয় করে রাখছে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি শায ও মুনকার বিষয়াদি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
হে আল্লাহ! আপনি দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর, আর যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শরীয়তের পথসমূহকে সুসংহত ও লিপিবদ্ধ করেছেন; যতক্ষণ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন বর্ণনা সংযুক্ত হবে, জাল বর্ণনা অপসারিত হবে, বিষয়াদি সুন্দর ও সহজতর হবে এবং সকল জটিলতা নিরসন ও বিলুপ্ত হবে। অতঃপর:
স্বীয় সুমহান ক্ষমাশীল প্রভুর ক্ষমার প্রত্যাশী মুহাম্মাদ বিন খলিল আল-কাওয়াকজি—আল্লাহ তাঁর গুনাহ ও পাপাচার ক্ষমা করুন এবং তাঁর ওপর ও তাঁর প্রিয়জনদের ওপর স্বীয় অঝোর দানশীলতার মেঘমালা বর্ষণ করুন—বলছেন: এটি এমন কিছু বিষয়ের সংক্ষিপ্তসার যা অনেক ভূখণ্ডের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত এবং যা সত্যবাদী মনোনীত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; অথচ সেগুলো যিনদিকদের জাল করা এবং পাপাচারীদের চক্রান্তের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি সুনিশ্চিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: " من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار ". وَهَذَا الحَدِيث رَوَاهُ أَكثر من مائَة من الصَّحَابَة الأخيار، وَجمعه بعض الْعلمَاء بِأَلْفَاظ مُتَقَارِبَة وطرق رفيعة الْمنَار، وَأَجْمعُوا على أَن الْكَذِب على
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।" এই হাদিসটি একশরও বেশি বরেণ্য সাহাবী বর্ণনা করেছেন এবং কোনো কোনো আলেম একে কাছাকাছি শব্দে ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সূত্রে সংকলন করেছেন। তাঁরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, মিথ্যা আরোপ করা...
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
رَسُول الله من أكبر الذُّنُوب وَأَشد الأوزار، بل صرح الْجُوَيْنِيّ من الشَّافِعِيَّة وَابْن الْمُنِير من الْمَالِكِيَّة وَغَيرهمَا من الْعلمَاء الْكِبَار، أَن الْكَاذِب على رَسُول الله يخرج عَن الْملَّة وَيكون من الْكفَّار. وَقواهُ عَليّ قاري من الْحَنَفِيَّة بِحَدِيث: " إِن كذبا عَليّ لَيْسَ ككذب على أحد، من كذب عَليّ فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار "، وبأمره صلى الله عليه وسلم بقتل من كذب عَلَيْهِ وإحراقه بعد مَوته
আল্লাহর রাসূলের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা অন্যতম মহাপাপ ও অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। বরং শাফিঈ মাযহাবের আল-জুওয়াইনি, মালিকী মাযহাবের ইবনুল মুনাইর এবং অন্যান্য বরেণ্য আলেমগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, আল্লাহর রাসূলের প্রতি মিথ্যা আরোপকারী ব্যক্তি ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যায় এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়। হানাফী মাযহাবের মোল্লা আলী কারী এই মতটিকে এই হাদীস দ্বারা শক্তিশালী করেছেন: "নিশ্চয়ই আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।" এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই নির্দেশ দ্বারাও এটি প্রমাণিত, যেখানে তিনি তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপকারীকে হত্যা করার এবং মৃত্যুর পর তাকে পুড়িয়ে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فِي النَّار.
وصرحوا بِحرْمَة رِوَايَة الْمَوْضُوع على من عرف كَونه مَوْضُوعا أَو غلب على ظَنّه وَضعه، وَلَو فِي التَّرْغِيب والإنذار، إِلَّا فِي مقَام التَّبْيِين والإظهار. وَلَا يُقَال: قَالَ رَسُول الله بِصفة الْجَزْم إِلَّا أَن يكون الحَدِيث صَحِيحا ظَاهرا كَالشَّمْسِ فِي رَابِعَة النَّهَار.
قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ: توعد عليه السلام بالنَّار من كذب عَلَيْهِ، بعد أمره التَّبْلِيغ عَنهُ، فَفِي ذَلِك دَلِيل على أَنه إِنَّمَا أمره أَن يبلغ عَنهُ الصَّحِيح دون السقيم، وَالْحق دون الْبَاطِل، لَا أَن يبلغ عَنهُ جَمِيع مَا روى، لِأَنَّهُ عليه السلام قَالَ: " كفى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَن يحدث بِكُل مَا سمع " فَمن روى حَدِيثا وَهُوَ شَاك فِيهِ أصحيح أَو غير صَحِيح، يكون كَأحد الْكَاذِبين، لحَدِيث عَليّ عِنْد ابْن ماجة مَرْفُوعا " من روى عني حَدِيثا وَهُوَ يرى أَنه كذب فَهُوَ أحد الْكَاذِبين ".
জাহান্নামে।
তাঁরা (বিদ্বানগণ) সেই ব্যক্তির জন্য জাল হাদিস বর্ণনা করা হারাম হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন, যে ব্যক্তি জানে এটি জাল কিংবা যার প্রবল ধারণা রয়েছে যে এটি বানোয়াট; এমনকি তা যদি নেক আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান ও পাপাচারের ব্যাপারে সতর্ক করার ক্ষেত্রেও হয়, তবে তার স্বরূপ উন্মোচন ও স্পষ্ট করার ক্ষেত্র ছাড়া এটি বৈধ নয়। আর নিশ্চিত ভঙ্গিতে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন' বলা যাবে না, যতক্ষণ না হাদিসটি মধ্যাহ্নের সূর্যের মতো সুস্পষ্টভাবে সহিহ প্রমাণিত হয়।
ইমাম দারাকুতনী বলেন: নবী (আলাইহিস সালাম) তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন প্রচার করার নির্দেশ দেওয়ার পর, তাঁর নামে মিথ্যা রচনাকারীর জন্য জাহান্নামের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কেবল সহিহ (সঠিক) বিষয়গুলোই প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন, দুর্বল বা ত্রুটিপূর্ণ বিষয় নয়; এবং কেবল সত্য বিষয় প্রচার করতে বলেছেন, মিথ্যা নয়। তিনি যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবকিছুই প্রচার করার নির্দেশ দেননি। কেননা তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির পাপিষ্ঠ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা-ই শোনে তা-ই বর্ণনা করে।" অতএব, যে ব্যক্তি কোনো হাদিস বর্ণনা করল অথচ সেটির বিশুদ্ধতা বা অ-বিশুদ্ধতা নিয়ে সে সন্দিহান, তবে সেও মিথ্যুকদেরই একজন হিসেবে গণ্য হবে। এর ভিত্তি হলো ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত আলী (রা.)-এর মারফু হাদিস: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করল যা সে মিথ্যা বলে জানে, তবে সেও মিথ্যুকদের একজন।"
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يرْوى بِصِيغَة الْجمع والتثنية وَلم يقل: وَهُوَ يتَيَقَّن أَنه كذب.
وَقَالَ الْحَافِظ زين الدّين الْعِرَاقِيّ: الْقصاص ينقلون حَدِيثه عليه السلام من غير معرفَة بِالصَّحِيحِ والسقيم.
قَالَ: وَإِن اتّفق أَنه نقل حَدِيثا صَحِيحا، كَانَ آثِما فِي ذَلِك لِأَنَّهُ ينْقل مَا لَا علم لَهُ بِهِ، وَإِن صَادف الْوَاقِع كَانَ آثِما بإقدامه على مَا لَا يعلم.
قَالَ: وَأَيْضًا فَلَا يحل لأحد مِمَّن هُوَ بِهَذَا الْوَصْف أَن ينْقل حَدِيثا من الْكتب وَلَو من الصَّحِيحَيْنِ، مَا لم يقرأه على من يعلم ذَلِك من أهل الحَدِيث.
وَكَانَ بعض المحتاطين من أولي التَّحْقِيق والعرفان إِذا روى حَدِيثا قَالَ: شبه هَذَا وقريبا مِنْهُ، أَو مَعْنَاهُ، وَنَحْو ذَلِك خوفًا من السَّهْو وَالنِّسْيَان، فِي الزِّيَادَة وَالنُّقْصَان.
এটি বহুবচন ও দ্বিবচন উভয় রূপেই বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একথা বলেননি যে: "আর সে নিশ্চিত জানে যে এটি মিথ্যা।"
হাফেজ জয়নুদ্দীন আল-ইরাকী বলেছেন: কিচ্ছাকারগণ আল্লাহর রাসুল আলাইহিস সালামের হাদিস সহিহ ও সাকিম সম্পর্কে জ্ঞান না রেখেই বর্ণনা করে থাকেন।
তিনি বলেন: আর যদি এমন হয় যে তিনি একটি সহিহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে সেক্ষেত্রেও তিনি গুনাহগার হবেন; কারণ তিনি এমন বিষয় বর্ণনা করছেন যা সম্পর্কে তাঁর কোনো জ্ঞান নেই। আর তা বাস্তবসম্মত হলেও না জেনে কোনো কাজে অগ্রসর হওয়ার কারণে তিনি গুনাহগার হবেন।
তিনি আরও বলেন: অনুরূপভাবে, এ জাতীয় গুণের অধিকারী কোনো ব্যক্তির জন্য কিতাবসমূহ থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয়, এমনকি তা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) থেকে হলেও, যতক্ষণ না তিনি হাদিস বিশারদদের মধ্য হতে কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট তা পাঠ করেছেন।
আর তাহকিক ও মারেফাতের অধিকারী সতর্কতা অবলম্বনকারীগণের মধ্যে কেউ কেউ যখন কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: "অনুরূপ কিছু" বা "এর কাছাকাছি কিছু" অথবা "এর অর্থ" কিংবা এ জাতীয় কিছু; ভুল ও বিস্মৃতিবশত কোনো কিছু সংযোজন বা বিয়োজনের ভয়ে।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَلما رَأَيْت هَذَا الْأَمر الْعَظِيم الشَّديد، وَاسْتِحْقَاق هَذَا الْوَعيد، ووقفت على كتب جمَاعَة من الْحفاظ، جمعُوا فِيهَا مَا دَار على الْأَلْسِنَة من الْأَحَادِيث والألفاظ، وبينوا الصَّحِيح وَالْحسن وَالْمَرْفُوع، وميزوا بالمقاصد الْحَسَنَة الضَّعِيف وَالْمَوْقُوف والشاذ والموضوع، وضعت هَذَا اللُّؤْلُؤ المرصوع، مُخْتَصرا فِيهِ على مَا قيل: لَا أصل لَهُ أَو بِأَصْلِهِ مَوْضُوع، ورتبته على حُرُوف المعجم تسهيلا وسببا للضبط على أحسن مَصْنُوع.
وَالله أسأَل أَن ينفع بِهِ الْعباد، ويجعله سَببا للفوز يَوْم التناد، ويرزقنا الْإِخْلَاص والتوفيق، على دلَالَة التَّحْقِيق، وَهُوَ الْهَادِي وَبِه الْمُسْتَعَان، وَعَلِيهِ التكلان.
যখন আমি এই মহান ও কঠিন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করলাম এবং এই হুমকির উপযুক্ততা উপলব্ধি করলাম, আর হাফেজদের (হাদিস বিশারদ) একটি দলের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করলাম, যাঁরা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদিস ও শব্দাবলি একত্র করেছেন এবং সহিহ, হাসান ও মারফু হাদিসসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং মহৎ উদ্দেশ্যে যঈফ, মাওকুফ, শায ও মাওদু হাদিসসমূহকে পৃথক করেছেন; তখন আমি এই 'আল-লু’লু আল-মারসু’' নামক গ্রন্থটি সংকলন করেছি। এতে আমি কেবল সেই সব বর্ণনার ওপর সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোকপাত করেছি যেগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে: "এর কোনো ভিত্তি নেই" অথবা "এটি মূলত বানোয়াট"। আর আমি এটিকে বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছি, যাতে তা সহজবোধ্য হয় এবং সর্বোত্তম পন্থায় আয়ত্ত করার কারণ হয়।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে বান্দাদের উপকৃত করেন এবং কিয়ামতের দিন একে সফলতার মাধ্যম বানান। তিনি যেন আমাদের ইখলাস ও সত্যানুসন্ধানের তাওফিক দান করেন। তিনিই হেদায়েত দানকারী এবং তাঁরই সাহায্য চাওয়া হয় এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(حرف الْهمزَة) 1 - حَدِيث: آخر الطِّبّ الكي، لَيْسَ بِحَدِيث، كَمَا فِي مُخْتَصر الْمَقَاصِد.
2 - حَدِيث: أخروهن من حَيْثُ أخرهن الله. يَعْنِي النِّسَاء، قَالَ ابْن الْهمام: لَا يثبت رَفعه.
3 - حَدِيث: آيَة من كتاب الله خير من مُحَمَّد وَآله. قَالَ الزّرْقَانِيّ: لم يرد.
(হামযাহ বর্ণ) ১ - হাদিস: চিকিৎসার সর্বশেষ মাধ্যম হলো দাগ দেওয়া (গরম লোহার ছ্যাঁকা)। এটি হাদিস নয়, যেমনটি ‘মুখতাসারুল মাকাসিদ’-এ উল্লিখিত হয়েছে।
২ - হাদিস: তোমরা নারীদের পেছনে রাখো যেখান আল্লাহ তাদের পেছনে রেখেছেন। অর্থাৎ নারীদের ক্ষেত্রে এটি বলা হয়েছে। ইবনুল হুমাম বলেছেন: এটি মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হিসেবে) সাব্যস্ত নয়।
৩ - হাদিস: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের চেয়েও উত্তম। যারকানি বলেছেন: এটি বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4 - حَدِيث: الْأَنْبِيَاء قادة وَالْفُقَهَاء سادة ومجالستهم زِيَادَة. مَوْضُوع.
5 - حَدِيث: أَبى الله أَن يَصح إِلَّا كِتَابه. قَالَ السخاوي: لَا أعرفهُ.
6 - حَدِيث: أَبى الله أَن يرْزق عيد الْمُؤمن إِلَّا نم حَيْثُ لَا يعلم. أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات لكنه منتقد، وَالْحق: أَنه ضَعِيف.
৪ - হাদীস: নবীগণ হলেন নেতা, ফকীহগণ হলেন সর্দার এবং তাঁদের মজলিসে বসা হলো অতিরিক্ত পাওনা। এটি জাল।
৫ - হাদীস: আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কিছু নির্ভুল হতে অস্বীকার করেছেন। আস-সাখাভী বলেন: আমি এটি চিনি না।
৬ - হাদীস: আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাকে এমন উৎস থেকে রিযিক প্রদান করতে অস্বীকার করেছেন যা সে জানে না। ইবনুল জাওযী এটি ‘আল-মাওজুআত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে এটি সমালোচিত; আর প্রকৃত সত্য হলো: এটি যয়ীফ।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
7 - حَدِيث: أَبُو حنفية سراج أمتِي. مَوْضُوع بِاتِّفَاق الْمُحدثين.
8 - حَدِيث: اتَّخذُوا السراري، فَإِنَّهُنَّ مباركات الْأَرْحَام. قَالَ الْعقيلِيّ: لَا يَصح فِي السراري عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم شَيْء.
৭ - হাদিস: আবু হানিফা আমার উম্মতের প্রদীপ। মুহাদ্দিসগণের সর্বসম্মতিক্রমে এটি বানোয়াট।
৮ - হাদিস: তোমরা উপপত্নী গ্রহণ করো, কারণ তাদের গর্ভ বরকতময়। উকায়লী বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপপত্নীদের ব্যাপারে কোনো কিছুই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
9 - حَدِيث: اتَّخذُوا عِنْد الْفُقَرَاء أيادي؛ فَإِن لَهُم دولة يَوْم الْقِيَامَة، فَإِذا كَانَ يَوْم الْقِيَامَة نَادَى مُنَاد: سِيرُوا إِلَى الْفُقَرَاء فيعتذر إِلَيْهِم كَمَا يعْتَذر أحدكُم إِلَى أَخِيه فِي الدُّنْيَا. قَالَ ابْن حجر: لَا أصل لَهُ. قَالَ السخاوي بعد إِيرَاد أَحَادِيث بِمَعْنَاهُ: وكل هَذَا بَاطِل.
10 - حَدِيث: اتَّقوا الْبرد، فَإِنَّهُ قتل أحدكُم أَبَا الدَّرْدَاء. قَالَ السخاوي: لَا أصل لَهُ.
৯ - হাদিস: তোমরা অভাবীদের নিকট অনুগ্রহ সঞ্চয় করো; কেননা কিয়ামত দিবসে তাদের জন্য একটি বিশেষ রাজত্ব থাকবে। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: তোমরা অভাবীদের দিকে চলো। অতঃপর তিনি তাদের নিকট এমনভাবে ওজর পেশ করবেন, যেভাবে তোমাদের কেউ দুনিয়াতে তার ভাইয়ের নিকট ওজর পেশ করে। ইবনে হাজার বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই। সাখাওয়ী এই অর্থের হাদিসসমূহ উল্লেখ করার পর বলেছেন: এই সবই বাতিল।
১০ - হাদিস: তোমরা শীত থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা তোমাদের ভাই আবু দারদাকে হত্যা করেছে। সাখাওয়ী বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
11 - حَدِيث: اتَّقوا ذُو العاهات. قَالَ السخاوي: لم أَقف عَلَيْهِ بِهَذَا اللَّفْظ.
12 - حَدِيث: اتَّقِ شَرّ من أَحْسَنت إِلَيْهِ. هَذَا من الْأَمْثَال.
13 - حَدِيث: اجْتِمَاع الْخضر وإلياس فِي كل عَام فِي الْمَوْسِم. قَالَ ابْن حجر: لَا يثبت فِيهِ شَيْء.
14 - وَكَذَا: اجْتِمَاع الْخضر بنبينا عليهم السلام.
15 - حَدِيث: اجْتَمعُوا وَارْفَعُوا أَيْدِيكُم، فَاجْتَمَعْنَا ورفعنا أَيْدِينَا، ثمَّ
১১ - হাদিস: তোমরা শারীরিক ত্রুটিসম্পন্ন ব্যক্তিদের থেকে বেঁচে থাকো। সাখাবি বলেন: আমি এই শব্দে এটি খুঁজে পাইনি।
১২ - হাদিস: যার প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ, তার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকো। এটি প্রবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
১৩ - হাদিস: প্রতি বছর হজের মৌসুমে খিজির এবং ইলিয়াসের একত্রিত হওয়া। ইবনে হাজার বলেন: এ বিষয়ে কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়।
১৪ - অনুরূপভাবে: আমাদের নবি (আলাইহিমুস সালাম)-এর সাথে খিজিরের একত্রিত হওয়া।
১৫ - হাদিস: তোমরা একত্রিত হও এবং তোমাদের হাত তোলো, অতঃপর আমরা একত্রিত হলাম এবং আমাদের হাত তুললাম, তারপর...
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِر للمعلمين - ثَلَاثًا - كي لَا يذهب الْقُرْآن، وأعز الْعلمَاء كي لَا يذهب الدّين. مَوْضُوع.
16 - وَكَذَا: اللَّهُمَّ اغْفِر للمعلمين وأطل أعمارهم وَبَارك لَهُم فِي كسبهم. مَوْضُوع، كَذَا فِي الآلئ.
17 - حَدِيث: احْذَرُوا صفر الْوُجُوه؛ فَإِنَّهُ إِن لم يكن عَن عِلّة أَو سهر، فَإِنَّهُ عَن غل فِي قُلُوبهم. قَالَ ابْن حجر: لم أَقف لَهُ على أصل.
18 - حَدِيث: أحضروا موائدكم البقل، فَإِنَّهُ مطردَة للشَّيْطَان كذب.
19 - حَدِيث: إحْيَاء أَبَوي النَّبِي صلى الله عليه وسلم. مَوْضُوع كَمَا قَالَ ابْن دحْيَة،
তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি শিক্ষকদের ক্ষমা করুন - তিনবার - যাতে কুরআন হারিয়ে না যায়, এবং আলেমদের সম্মানিত করুন যাতে দ্বীন হারিয়ে না যায়। এটি বানোয়াট।
১৬ - অনুরূপভাবে: হে আল্লাহ! আপনি শিক্ষকদের ক্ষমা করুন, তাদের দীর্ঘ জীবন দান করুন এবং তাদের উপার্জনে বরকত দিন। এটি বানোয়াট, আল-লাআলি গ্রন্থে এমনটিই উল্লেখ রয়েছে।
১৭ - হাদীস: তোমরা বিবর্ণ চেহারার অধিকারী ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকো; কেননা যদি তা কোনো অসুস্থতা বা রাত্রি জাগরণের কারণে না হয়, তবে তা তাদের অন্তরের বিদ্বেষের কারণে। ইবনে হাজার বলেছেন: আমি এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাইনি।
১৮ - হাদীস: তোমরা তোমাদের দস্তরখানে শাক-সবজি উপস্থিত করো, কেননা তা শয়তানকে বিতাড়িত করে। এটি মিথ্যা।
১৯ - হাদীস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতামাতার পুনর্জীবিত হওয়া। এটি বানোয়াট যেমনটি ইবনে দাহইয়া বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقوّاه عَليّ قاري، وَالْحق: أَنه ضَعِيف، كَمَا قَالَ ابْن شاهين، وَابْن عَسَاكِر، وَقد صَحَّ عِنْد عُلَمَاء الْحَقِيقَة، قَالَ قَائِلهمْ:
(أيقنت أَن أَبَا النَّبِي وَأمه
… أحياهما الرب الْقَدِير الْبَارِي)
(حَتَّى لَهُ شَهدا بِصدق رِسَالَة
… صدق فَتلك كَرَامَة الْمُخْتَار)
(هَذَا الحَدِيث وَمن يَقُول بضعفه
… فَهُوَ الضَّعِيف عَن الْحَقِيقَة عاري)
20 - حَدِيث: أخفوا الْخِتَان. لَا اصل لَهُ.
21 - حَدِيث: ادفنوا مَوْتَاكُم وسط قوم صالحين فَإِن الْمَيِّت يتَأَذَّى بجار السوء كَمَا يتَأَذَّى الْحَيّ بجار السوء: فِي سَنَده مُتَّهم بِالْكَذِبِ والوضع.
22 - حَدِيث: إِذا أَتَت على أمتِي ثلثمِائة وَسِتُّونَ سنة، فقد حلمت لَهُم الْعزبَة وَالتَّرَهُّب على رُؤُوس الْجبَال. مَوْضُوع، بل قَالَ ابْن قيم الجوزية: أَحَادِيث مدح الْعُزُوبَة، كلهَا بَاطِلَة.
23 - حَدِيث: إِذا أردْت أَن أخرب الدُّنْيَا بدأت ببيتي فخربته ثمَّ أخرب الدُّنْيَا. قَالَ الْعِرَاقِيّ فِي تَخْرِيج الْإِحْيَاء: لَا أصل لَهُ.
মোল্লা আলী কারী একে শক্তিশালী বলেছেন, আর সত্য হলো: এটি দুর্বল, যেমনটি ইবনে শাহীন এবং ইবনে আসাকির বলেছেন। তবে হাকীকতপন্থী আলেমগণের নিকট এটি সহীহ প্রমাণিত হয়েছে; তাদের একজন বলেছেন:
(আমি নিশ্চিত হয়েছি যে নবীর পিতা ও মাতা
… তাঁদেরকে পুনর্জীবিত করেছেন সর্বশক্তিমান পালনকর্তা স্রষ্টা)
(যাতে তাঁরা তাঁর রিসালাতের সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করেন
… এটি সত্য, আর তা হলো মনোনীত রাসূলের প্রতি এক অলৌকিক সম্মান)
(এই হাদীসটি সম্পর্কে যে ব্যক্তি দুর্বল হওয়ার কথা বলে
… সে নিজেই দুর্বল এবং প্রকৃত সত্য থেকে বঞ্চিত)
২০ - হাদীস: তোমরা খতনা গোপন করো। এর কোনো ভিত্তি নেই।
২১ - হাদীস: তোমাদের মৃতদেরকে সৎ লোকদের মাঝে দাফন করো, কারণ জীবিত ব্যক্তি যেমন খারাপ প্রতিবেশীর দ্বারা কষ্ট পায়, মৃত ব্যক্তিও তেমনি খারাপ প্রতিবেশীর দ্বারা কষ্ট পায়: এর সনদে মিথ্যাচার ও জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি রয়েছে।
২২ - হাদীস: যখন আমার উম্মতের ওপর তিনশ ষাট বছর অতিক্রান্ত হবে, তখন তাদের জন্য অবিবাহিত থাকা এবং পাহাড়ের চূড়ায় বৈরাগ্য অবলম্বন করা বৈধ হবে। এটি জাল, বরং ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেছেন: অবিবাহিত থাকার প্রশংসায় বর্ণিত সকল হাদীসই বাতিল।
২৩ - হাদীস: আমি যখন দুনিয়া ধ্বংস করার ইচ্ছা করব, তখন আমার ঘর থেকে শুরু করব এবং তা ধ্বংস করব, এরপর দুনিয়া ধ্বংস করব। আল-ইরাকী 'তাখরীজুল ইহয়া'-তে বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
24 - حَدِيث: إِذا أَرَادَ الله أَن ينزل إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا نزل عَن عَرْشه بِذَاتِهِ. قَالَ عَليّ قاري: محدثه دجال.
25 - حَدِيث: إِذا جِئْت يَا معَاذ أَرض الْحصيب - يَعْنِي: من الْيمن - فهرول - أَي حَيَاء - فَإِن فِيهَا الْحور الْعين. قَالَ المنوفي: الحكم عَلَيْهِ بِالْوَضْعِ ظَاهر.
26 - حَدِيث: إِذا جلس المتعلم بَين يَدي الْعَالم فتح الله عَلَيْهِ سبعين بَابا من الرَّحْمَة، وَلَا يقوم من عِنْده إِلَّا كَيَوْم وَلدته أمه، وَأَعْطَاهُ الله بِكُل حرف ثَوَاب سِتِّينَ شَهِيدا. مَوْضُوع.
27 - حَدِيث: إِذا دعت أحدكُم أمه وَهُوَ فِي الصَّلَاة فليجب، وَإِذا دَعَاهُ أَبوهُ فَلَا يجب. رَوَاهُ عبد الْعَزِيز بن أبان الْأمَوِي، قَالَ ابْن معِين وَغَيره: كَذَّاب، روى أَحَادِيث مَوْضُوعَة.
28 - حَدِيث: إِذا رَأَيْت الرجل لجوجا معجبا بِرَأْيهِ فقد تمت خسارته.
২৪ - হাদিস: যখন আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নামার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি স্বয়ং তাঁর আরশ থেকে নেমে আসেন। আলী ক্বারী বলেন: এর উদ্ভাবক একজন দাজ্জাল (চরম মিথ্যাবাদী)।
২৫ - হাদিস: হে মুআয, যখন তুমি আল-হুসাইব ভূমিতে পৌঁছাবে—অর্থাৎ ইয়ামেনে—তখন দ্রুত পদক্ষেপে চলবে—অর্থাৎ লজ্জাবশত—কেননা সেখানে ডাগর চোখের হুররা রয়েছে। আল-মানুফী বলেন: এটি জাল হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট।
২৬ - হাদিস: যখন কোনো শিক্ষার্থী একজন আলেমের সামনে বসে, তখন আল্লাহ তার জন্য রহমতের সত্তরটি দরজা খুলে দেন এবং সে তার নিকট থেকে এমনভাবে ওঠে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন; আর আল্লাহ তাকে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে ষাটজন শহীদের সওয়াব দান করেন। এটি জাল।
২৭ - হাদিস: তোমাদের কাউকে যদি তার মা সালাতরত অবস্থায় ডাকে তবে সে যেন সাড়া দেয়, আর যদি তার পিতা ডাকে তবে যেন সাড়া না দেয়। এটি আবদুল আজিজ বিন আবান আল-উমাভী বর্ণনা করেছেন; ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা বলেছেন: সে চরম মিথ্যাবাদী, সে জাল হাদিস বর্ণনা করত।
২৮ - হাদিস: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে হঠকারী এবং নিজের মতের ওপর বিমোহিত (অহংকারী) দেখবে, তখন তার ক্ষতি পূর্ণতা লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
مَرْوِيّ عَن الْخضر، عَن نَبينَا صلى الله عليه وسلم، وَقد صرح الذَّهَبِيّ بِوَضْعِهِ، وَأقر الذَّهَبِيّ ابْن حجر.
29 - حَدِيث: إِذا صدقت الْمحبَّة ارْتَفَعت شُرُوط الْأَدَب. لَيْسَ بِحَدِيث.
30 - حَدِيث: إِذا صليتم عَليّ فعمموا. قَالَ السخاوي: لم أَقف عَلَيْهِ بِهَذَا اللَّفْظ.
31 - حَدِيث: إِذا عطس الرجل عِنْد الحَدِيث فَهُوَ صدق. قَالَ ابْن قيم الْجَوْزِيّ: الْحس يشْهد بِوَضْعِهِ، لأننا نشاهد العطاس وَالْكذب يعْمل عمله، وَلَو عطس ألف رجل عِنْد حَدِيث لم يحكم بِصِحَّتِهِ بالعطاس.
এটি খিজির থেকে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণিত। আয-যাহাবী এটি জাল হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইবনে হাজার আয-যাহাবীর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
২৯ - হাদীস: যখন ভালোবাসা সত্য হয়, তখন শিষ্টাচারের শর্তাবলী উঠে যায়। এটি কোনো হাদীস নয়।
৩০ - হাদীস: তোমরা যখন আমার ওপর দরূদ পাঠ করো, তখন তা ব্যাপক করো। আস-সাখাভী বলেন: আমি এই শব্দে এটি খুঁজে পাইনি।
৩১ - হাদীস: কোনো ব্যক্তি কথা বলার সময় হাঁচি দিলে তা সত্য। ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেন: বাস্তবতা এর জাল হওয়ার সাক্ষ্য দেয়, কেননা আমরা হাঁচি প্রত্যক্ষ করি অথচ মিথ্যা তার কাজ চালিয়ে যায়। যদি কোনো কথার সময় এক হাজার মানুষও হাঁচি দেয়, তবে কেবল হাঁচির কারণে সেটিকে সত্য বলে বিচার করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
32 - حَدِيث: إِذا غضب الرب أنزل الْوَحْي بِالْفَارِسِيَّةِ، وَإِذا رَضِي أنزلهُ بِالْعَرَبِيَّةِ. بَاطِل.
33 - حَدِيث: إِذا كَانَت سنة خمس وَثَلَاثِينَ وَمِائَة خرجت شياطين حَبسهم سُلَيْمَان بن دَاوُد فِي جزائر الْبَحْر، فَذهب مِنْهُم تِسْعَة أعشارهم إِلَى الْعرَاق يجادلونهم بِالْقُرْآنِ وَعشر بِالشَّام. مَوْضُوع.
34 - حَدِيث: إِذا كَانَت سنة خمسين وَمِائَة فَخير أَوْلَادكُم الْبَنَات.
35 - حَدِيث: إِذا كَانَت سنة سِتِّينَ كَانَ كَذَا وَكَذَا. وَكلهَا بَاطِلَة. قَالَ ابْن الْقيم: لَا يَصح فِي هَذَا الْبَاب شَيْء.
36 - حَدِيث: إِذا كَانَ الْفَيْء ذِرَاعا وَنصفا إِلَى ذراعين فصلوا. قَالَ عَليّ قاري: بَاطِل.
37 - حَدِيث: إِذا كبر ولدت فآخه. لم يرد بِهَذَا اللَّفْظ.
32 - হাদিস: যখন প্রতিপালক রাগান্বিত হন তখন তিনি ফারসি ভাষায় ওহি অবতীর্ণ করেন, আর যখন তিনি সন্তুষ্ট হন তখন আরবি ভাষায় তা অবতীর্ণ করেন। এটি বাতিল।
33 - হাদিস: যখন একশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সন আসবে, তখন সেই শয়তানগুলো বের হবে যাদেরকে সুলাইমান ইবনে দাউদ সমুদ্রের দ্বীপসমূহে বন্দি করে রেখেছিলেন। তাদের দশ ভাগের নয় ভাগ ইরাকে যাবে এবং কুরআনের মাধ্যমে তাদের সাথে বিতর্ক করবে, আর দশ ভাগের এক ভাগ যাবে শামে। এটি বানোয়াট।
34 - হাদিস: যখন একশত পঞ্চাশ হিজরি সন আসবে, তখন তোমাদের সন্তানদের মধ্যে কন্যারা হবে উত্তম।
35 - হাদিস: যখন ষাট হিজরি সন আসবে তখন এমন এমন ঘটবে। এর সবগুলোই বাতিল। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এই বিষয়ে কোনো কিছুই বিশুদ্ধ নয়।
36 - হাদিস: যখন ছায়া দেড় হাত থেকে দুই হাত হবে তখন সালাত আদায় করো। আলী ক্বারী বলেন: এটি বাতিল।
37 - হাদিস: যখন তোমার সন্তান বড় হবে, তখন তার সাথে ভ্রাতৃত্বের আচরণ করো। এই শব্দে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
38 - حَدِيث: إِذا كتب أحدكُم [كتابا] فَلَا يكْتب عَلَيْهِ: بلغ، فَإِنَّهُ اسْم شَيْطَان، وَلَكِن يكْتب عَلَيْهِ: الله. قَالَ عَليّ قاري: مَوْضُوع.
39 - حَدِيث: إِذا وَقع الذُّبَاب فِي إِنَاء أحدكُم فاملقوه ثمَّ انقلوه. مَوْضُوع. وَأما فاملقوه: فَصَحِيح.
40 - حَدِيث: أَربع لَا يشبعن من أَربع: أَرض من مطر، وَأُنْثَى من ذكر، وَعين من نظر، وَأذن من خبر. قَالَ ابْن قيم الجوزية: مَوْضُوع. لَكِن
৩৮ - হাদিস: তোমাদের কেউ যখন কোনো [পত্র] লেখে, তখন সে যেন তাতে ‘বালাগ’ না লেখে; কেননা এটি একটি শয়তানের নাম। বরং সে যেন তাতে ‘আল্লাহ’ লেখে। আলি ক্বারী বলেছেন: এটি বানোয়াট।
৩৯ - হাদিস: তোমাদের কারো পাত্রে যদি মাছি পড়ে, তবে তোমরা তা ডুবিয়ে দাও, অতঃপর তা সরিয়ে ফেলো। এটি বানোয়াট। তবে ‘ডুবিয়ে দাও’ অংশটি সহিহ।
৪০ - হাদিস: চারটি বস্তু চারটি থেকে তৃপ্ত হয় না: বৃষ্টি থেকে জমিন, পুরুষ থেকে নারী, দর্শন থেকে চোখ এবং সংবাদ থেকে কান। ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেছেন: এটি বানোয়াট। তবে
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فِي الْجَامِع الصَّغِير: (وعالم من علم) بدل (أذن من خبر) وَالْتزم السُّيُوطِيّ أَنه لَا يضع مَوْضُوعا فِي جَامعه، وغلطوه. قَالَ المنوفي: الْأَشْبَه أَنه من كَلَام الْحُكَمَاء.
41 - حَدِيث: ارحموا من النَّاس ثَلَاثَة: عَزِيز قوم ذل، وغني قوم افْتقر، وعامل بَين جهال. مَوْضُوع.
42 - حَدِيث: اسْتَعِينُوا على كل صَنْعَة بِصَالح أَهلهَا. لم يرد بِهَذَا اللَّفْظ.
43 - حَدِيث: اشتكيت عَيْني فَقَالَ جِبْرِيل: انْظُر فِي الْمُصحف فَإِنِّي اشتكيت عَيْني فشكوت إِلَى رَبِّي، فَقَالَ: انْظُر فِي الْمُصحف. قَالَ السخاوي: بَاطِل.
44 - حَدِيث: اشربوا على الطَّعَام تشبعوا. بَاطِل، فَإِن الشّرْب على الطَّعَام يُفْسِدهُ، وَيمْنَع استقراره فِي الْمعدة، وَمن كَمَال نضجه.
45 - حَدِيث: أَصْحَابِي أهل إِيمَان وَعمل أَرْبَعِينَ، وَأهل بر وتقوى
আল-জামিউস সাগির গ্রন্থে: ‘খবরের কান’-এর স্থলে ‘জ্ঞানের আলেম’ শব্দ রয়েছে। আস-সুয়ূতী অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি তাঁর জামে গ্রন্থে কোনো জাল হাদিস অন্তর্ভুক্ত করবেন না, কিন্তু মুহাদ্দিসগণ তাকে এ বিষয়ে ভুল সাব্যস্ত করেছেন। আল-মানুফী বলেন: এটি প্রজ্ঞাবানদের উক্তি হওয়াই অধিক সমীচীন।
৪১ - হাদিস: তোমরা তিন শ্রেণীর মানুষের প্রতি দয়া করো: কোনো জাতির এমন সম্মানিত ব্যক্তি যে লাঞ্ছিত হয়েছে, কোনো জাতির এমন ধনী ব্যক্তি যে অভাবী হয়ে পড়েছে এবং অজ্ঞদের মাঝে অবস্থানকারী কোনো আলেম। এটি জাল (মওজু)।
৪২ - হাদিস: প্রতিটি শিল্পের ক্ষেত্রে তার যোগ্য ব্যক্তিদের সাহায্য গ্রহণ করো। এই শব্দে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি।
৪৩ - হাদিস: আমি আমার চোখের ব্যথার কথা জানালাম, তখন জিবরাঈল বললেন: আপনি মুসহাফের (কুরআন) দিকে তাকান; কারণ আমি আমার চোখের ব্যথার কথা আমার রবের কাছে অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: মুসহাফের দিকে তাকাও। আস-সাখাবী বলেন: এটি বাতিল।
৪৪ - হাদিস: খাবারের ওপর পানি পান করো, তবেই তৃপ্ত হবে। এটি বাতিল; কারণ খাবারের সাথে পানি পান করা খাবারকে নষ্ট করে দেয় এবং পাকস্থলীতে তা স্থির হতে ও সঠিকভাবে পরিপাক হতে বাধা দেয়।
৪৫ - হাদিস: আমার সাহাবীগণ হলেন ঈমান ও আমলওয়ালা চল্লিশ বছর পর্যন্ত, এবং পুণ্য ও তাকওয়াওয়ালা...
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
إِلَى الثَّمَانِينَ، وَأهل تواصل وتراحم إِلَى الْعشْرين وَمِائَة وَأهل التدابر وتقاطع إِلَى السِّتين وَمِائَة، ثمَّ الْهَرج الْهَرج. مَوْضُوع.
46 - حَدِيث: اصف النِّيَّة وعش فِي الْبَريَّة. لَيْسَ بِحَدِيث.
47 - حَدِيث: أصل كل دَاء الرِّضَا عَن النَّفس. لَيْسَ بِحَدِيث.
48 - حَدِيث: الْإِعَادَة سَعَادَة. لم يرد بِهَذَا اللَّفْظ.
49 - حَدِيث: اطْلُبُوا الْعلم وَلَو فِي الصين، فَإِن الْعلم فَرِيضَة على كل مُسلم. ذكره ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات، وَلَيْسَ كَمَا قَالَ؛ بل هُوَ ضَعِيف.
...আশি বছর পর্যন্ত; এবং হৃদ্যতা ও দয়ার অধিকারীগণ একশ বিশ বছর পর্যন্ত; এবং পারস্পরিক বিমুখতা ও সম্পর্কচ্ছেদের অধিকারীগণ একশ ষাট বছর পর্যন্ত; অতঃপর কেবল বিশৃঙ্খলা আর বিশৃঙ্খলা। এটি বানোয়াট।
৪৬ - হাদিস: নিয়তকে স্বচ্ছ করো এবং সৃষ্টিজগতের মাঝে বসবাস করো। এটি হাদিস নয়।
৪৭ - হাদিস: সকল ব্যাধির মূল হলো নিজের নফসের প্রতি সন্তুষ্টি। এটি হাদিস নয়।
৪৮ - হাদিস: পুনরাবৃত্তিই সৌভাগ্য। এই শব্দে কোনো বর্ণনা আসেনি।
৪৯ - হাদিস: জ্ঞান অন্বেষণ করো যদিও তা চীনে গিয়ে হয়, কেননা জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। ইবনুল জাওযি এটি 'আল-মাওদুআত' (বানোয়াট হাদিসসমূহ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে বিষয়টি তিনি যেমনটি বলেছেন তেমন নয়; বরং এটি দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
50 - حَدِيث: أعينوا الشاري. لَا أصل لَهُ بِهَذَا اللَّفْظ.
51 - وَكَذَا قَوْلهم: المُشْتَرِي [معَان] .
52 - حَدِيث: أعوذ بِاللَّه من عِمَامَة صماء. لَا أصل لَهُ.
53 - حَدِيث: افتضحوا واصطلحوا. لَيْسَ بِحَدِيث.
54 - حَدِيث: أفضل النَّاس أَعقل النَّاس. مَوْضُوع.
55 - حَدِيث: الأقربون أولى بِالْمَعْرُوفِ. قَالَ السخاوي: مَا عَلمته بِهَذَا اللَّفْظ.
৫০ - হাদীস: ক্রেতাকে সাহায্য করো। এই শব্দচয়নে এর কোনো ভিত্তি নেই।
৫১ - অনুরূপভাবে তাদের উক্তি: ক্রেতা [সাহায্যপ্রাপ্ত]।
৫২ - হাদীস: আমি শিমলাবিহীন (ঝুলন্ত অংশহীন) পাগড়ি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এর কোনো ভিত্তি নেই।
৫৩ - হাদীস: লজ্জিত হও এবং আপস করো। এটি হাদীস নয়।
৫৪ - হাদীস: মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান। এটি জাল।
৫৫ - হাদীস: নিকটাত্মীয়রাই সদাচরণের অধিক হকদার। সাখাভী বলেন: এই শব্দে এটি আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
56 - حَدِيث: أقضاكم عَليّ. لَيْسَ فِي الْمَرْفُوع.
57 - حَدِيث: أقل الْحيض ثَلَاثَة أَيَّام، وَأَكْثَره عشرَة. قَالُوا: بَاطِل. وَفِيه نظر: إِذْ فِيهِ طرق مُتعَدِّدَة، رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ وَابْن عدي فِي الْكَامِل والعقيلي، ونصوا: أَن تعدد الطّرق، وَلَو ضعفت، ترقي الحَدِيث إِلَى الْحسن، فَالْحكم عَلَيْهِ بِالْوَضْعِ لَا يستحسن.
৫৬ - হাদীস: তোমাদের মধ্যে আলী শ্রেষ্ঠ বিচারক। এটি মারফু হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫৭ - হাদীস: ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন এবং সর্বোচ্চ দশ দিন। তাঁরা বলেছেন: এটি বাতিল। তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে: কেননা এর একাধিক সূত্র বর্ণিত হয়েছে; ইমাম দারাকুতনী, ইবনুল আদী 'আল-কামিল' গ্রন্থে এবং উকায়লী এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে: সূত্রের আধিক্য—যদি সেগুলো দুর্বলও হয়—হাদীসটিকে 'হাসান' (গ্রহণযোগ্য) পর্যায়ে উন্নীত করে। অতএব, একে জাল হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
58 - حَدِيث: أكذب النَّاس الصباغون والصواغون. قَالَ ابْن قيم الجوزية: الْحس يرد هَذَا الحَدِيث، فَإِن الْكَذِب فِي غَيرهم أضعافه فيهم كالرافضة فَإِنَّهُم أكذب خلق الله والكهان والطرقية، وَقد تَأَوَّلَه بَعضهم على أَن المُرَاد بالصباغ: الَّذِي يزِيد فِي الحَدِيث ألفاظا تزينه والصواغ: الَّذِي يصوغ الحَدِيث لَيْسَ لَهُ أصل، وَهَذَا تكلّف بَارِد، بِحَدِيث بَاطِل. انْتهى. وَلَكِن الحَدِيث فِي الْجَامِع الصَّغِير.
59 - حَدِيث: أكْرم الْمجَالِس مَا اسْتقْبل بِهِ الْقبْلَة. قَالَ ابْن حبَان: مَوْضُوع.
৫৮ - হাদীস: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী হলো রঙমিস্ত্রি এবং স্বর্ণকারগণ। ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেছেন: চাক্ষুষ বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতা এই হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে, কেননা অন্যদের মধ্যে মিথ্যার হার এদের তুলনায় বহুগুণ বেশি, যেমন রাফেযী সম্প্রদায়; কারণ তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী, তদ্রূপ গণক এবং ভণ্ড জাদুকররা। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এখানে 'রঙমিস্ত্রি' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তি যে হাদীসকে সুশোভিত করার জন্য তাতে অতিরিক্ত শব্দ যোগ করে, আর 'স্বর্ণকার' হলো সেই ব্যক্তি যে ভিত্তিহীন হাদীস তৈরি করে। তবে এটি একটি বাতিল হাদীসের স্বপক্ষে অত্যন্ত দুর্বল ও কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা। সমাপ্ত। তবে হাদীসটি জামিউস সাগীরে রয়েছে।
৫৯ - হাদীস: সর্বোত্তম মজলিস (বসার স্থান) হলো যা কিবলামুখী। ইবনে হিব্বান বলেছেন: বানোয়াট।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
60 - حَدِيث: إكرام الْمَيِّت دَفنه. قَالَ السخاوي: لم أَقف عَلَيْهِ مَرْفُوعا.
61 - حَدِيث: أكْرمُوا ظهوركم. مَوْضُوع.
62 - حَدِيث: أكْرمُوا الشُّهُود، فَإِن الله يسْتَخْرج بهم الْحُقُوق وَيدْفَع بهم الظُّلم. قَالَ الصغاني: مَوْضُوع.
60 - হাদিস: মৃত ব্যক্তির সম্মান হলো তাকে দাফন করা। সাখাভি বলেন: আমি এটি মারফু হিসেবে পাইনি।
61 - হাদিস: তোমরা তোমাদের পিঠসমূহকে সম্মান করো। এটি জাল।
62 - হাদিস: তোমরা সাক্ষীদের সম্মান করো, কেননা আল্লাহ তাদের মাধ্যমে অধিকারসমূহ উদ্ধার করেন এবং তাদের মাধ্যমে জুলুম প্রতিহত করেন। সাগানি বলেন: এটি জাল।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
63 - حَدِيث: أكل السّمك يذهب الْجَسَد.
64 - حَدِيث: أكل الهريسة يُقَوي الظّهْر.
65 - وَالَّذِي شكا إِلَى النَّبِي قلَّة الْوَلَد فَأمره بِأَكْل الْبيض والبصل.
৬৩ - হাদিস: মাছ খাওয়া শরীরকে ক্ষয় করে।
৬৪ - হাদিস: হারিসাহ খাওয়া পিঠকে শক্তিশালী করে।
৬৫ - আর যে ব্যক্তি নবীর কাছে সন্তান স্বল্পতার অভিযোগ করল, তাকে তিনি ডিম ও পেঁয়াজ খাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
66 - حَدِيث: شَكَوْت إِلَى جِبْرِيل ضعْفي من الوقاع فَأمرنِي بِأَكْل الهريسة. وَفِي رِوَايَة: فدلني على الهريسة.
67 - وَكَذَلِكَ: إِن جِبْرِيل أَطْعمنِي الهريسة يشد بهَا ظَهْري لقِيَام اللَّيْل. كلهَا مَوْضُوعَة.
68 - حَدِيث: أكل الطين حرَام على كل مُسلم. قَالَ الْبَيْهَقِيّ: رُوِيَ فِي تَحْرِيمه أَحَادِيث لَا يَصح مِنْهَا شَيْء، وأقروه.
69 - حَدِيث: أَلْسِنَة الْخلق أَقْلَام الْحق. لَا أصل لَهُ.
70 - حَدِيث: الكمأة والكرفس طَعَام إلْيَاس وَالْيَسع. لم يثبت.
71 - حَدِيث: الْمُؤمن حلوي وَالْكَافِر خمري. مَوْضُوع.
66 - হাদিস: আমি জিবরাঈলের নিকট সহবাসে আমার দুর্বলতার অভিযোগ জানালাম, তখন তিনি আমাকে হারিসা খাওয়ার নির্দেশ দিলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তিনি আমাকে হারিসার সন্ধান দিলেন।
67 - অনুরূপভাবে: জিবরাঈল আমাকে হারিসা খাইয়েছিলেন যাতে রাত্রিকালীন ইবাদতের জন্য আমার পিঠ শক্তিশালী হয়। এগুলোর সবই বানোয়াট।
68 - হাদিস: মাটি খাওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য হারাম। ইমাম বায়হাকী বলেছেন: এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যার কোনোটিই সহীহ নয়; এবং অন্যান্য ইমামগণও এটি সমর্থন করেছেন।
69 - হাদিস: সৃষ্টির রসনা হলো সত্যের লেখনী। এর কোনো ভিত্তি নেই।
70 - হাদিস: কামআহ (ছত্রাকজাতীয় উদ্ভিদ) ও সেলারি শাক হলো ইলিয়াস ও আল-ইয়াসা-এর খাদ্য। এটি প্রমাণিত নয়।
71 - হাদিস: মুমিন মিষ্টান্নপ্রিয় এবং কাফির মদ্যপ্রিয়। এটি বানোয়াট।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
72 - حَدِيث: اللَّهُمَّ أيد الْإِسْلَام بِأحد العمرين. قَالَ الزّرْقَانِيّ: لَا أصل لَهُ.
73 - حَدِيث: اللَّهُمَّ صل على نَبِي قبلك. تَقول الْعَامَّة عِنْد تَقْبِيل الْحجر الْأسود، فَلَا أصل لَهُ بِهَذَا الْمَعْنى، بل هُوَ كفر بِحَسب الْمَعْنى.
74 - حَدِيث: اللَّهُمَّ إِنَّك أخرجتني من أحب الْبِقَاع إِلَيّ، فأسكني أحب الْبِلَاد إِلَيْك، فأسكنه الله الْمَدِينَة. مُنكر، بل قيل: مَوْضُوع.
৭২ - হাদিস: হে আল্লাহ, আপনি দুই ওমরের যেকোনো একজনের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন। আজ-জারকানি বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।
৭৩ - হাদিস: হে আল্লাহ, আপনার পূর্ববর্তী নবীর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন। সাধারণ মানুষ হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের সময় এটি বলে থাকে, তবে এই অর্থে এর কোনো ভিত্তি নেই; বরং অর্থের দিক থেকে এটি কুফরি।
৭৪ - হাদিস: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড থেকে বের করেছেন, সুতরাং আমাকে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় শহরে বসবাস করার সুযোগ দিন। অতঃপর আল্লাহ তাকে মদিনায় বসবাস করার সুযোগ দিলেন। এটি মুনকার (অস্বীকৃত), বরং একে মাওদু (জাল) বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
75 - حَدِيث: آلَيْت على نَفسِي أَن لَا أَدخل النَّار من كَانَ اسْمه أَحْمد أَو مُحَمَّدًا. لَا أصل لَهُ.
76 - حَدِيث: أَمَان العَبْد أَمَان: قَالَ ابْن همام: لَا يعرف لَهُ أصل.
77 - حَدِيث: أمتِي فِي سَائِر الْأُمَم كَالْقَمَرِ فِي النُّجُوم. هَذَا أول كتاب يدعى بِمُسْنَد أنس الْبَصْرِيّ مِقْدَار ثَلَاثمِائَة حَدِيث يَرْوِيهَا سمْعَان بن مهْدي، عَن انس، كلهَا مكذوبة، قطع الله من وَضعهَا.
78 - حَدِيث: أمرت أَن أحكم بِالظَّاهِرِ، وَالله يتَوَلَّى السرائر. أنكرهُ ابْن الملقن فِي تَخْرِيج الْبَيْضَاوِيّ، وَجزم الْعِرَاقِيّ بِأَنَّهُ لَا أصل لَهُ.
৭৫ - হাদিস: আমি নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছি যে, যার নাম আহমদ বা মুহাম্মদ তাকে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করাব না। এর কোনো ভিত্তি নেই।
৭৬ - হাদিস: দাসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদান (সবার জন্য) নিরাপত্তা স্বরূপ। ইবনুল হুমাম বলেন: এর কোনো ভিত্তি জানা নেই।
৭৭ - হাদিস: অন্যান্য উম্মতদের মাঝে আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত নক্ষত্ররাজির মাঝে চাঁদের মতো। এটি ‘মুসনাদে আনাস আল-বাসরি’ নামে অভিহিত একটি কিতাবের শুরুতে রয়েছে যাতে প্রায় তিনশ হাদিস আছে, যা সামআন ইবনে মাহদি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সবকটিই বানোয়াট; আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন যে এগুলো তৈরি করেছে।
৭৮ - হাদিস: আমাকে বাহ্যিক বিষয়ের ভিত্তিতে ফয়সালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ গোপন বিষয়ের দায়িত্ব নেবেন। ইবনুল মুলাক্কিন ‘তাখরিজুল বায়জাবি’-তে একে অস্বীকার করেছেন এবং ইরাকি নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে এর কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
79 - حَدِيث: أمرنَا بتصغير اللُّقْمَة فِي الْأكل وتدقيق المضغ. قَالَ النَّوَوِيّ: لَا يَصح.
80 - حَدِيث: أَمِير النَّحْل عَليّ. لم يرد بِهَذَا اللَّفْظ.
81 - حَدِيث: أَنا ابْن الذبيحين. لم يرد بِهَذَا اللَّفْظ.
82 - حَدِيث: أَنا أفْصح من نطق بالضاد. لَا أصل لَهُ، وَالْعجب من الْجلَال الْمحلي ذكره فِي شرح جمع الْجَوَامِع من غير تَنْبِيه، وَكَذَا زَكَرِيَّا الْأنْصَارِيّ فِي شرح الْمُقدمَة الجزرية.
83 - حَدِيث: أَنا عِنْد المنكسرة قُلُوبهم من أَجلي. قَالَ عَليّ قاري: تَمَامه: وَأَنا عِنْد المندرسة قُبُورهم لأجلي: وَلَا أصل لَهما فِي الْمَرْفُوع.
84 - حَدِيث: أَنا مَدِينَة الْعلم وَعلي بَابهَا. أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي
79 - হাদিস: আমাদের আদিষ্ট করা হয়েছে খাওয়ার সময় লোকমা ছোট করতে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে। আন-নববী বলেছেন: এটি সহিহ নয়।
80 - হাদিস: মৌমাছির আমির হলেন আলী। এই শব্দে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি।
81 - হাদিস: আমি দুই জবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান। এই শব্দে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি।
82 - হাদিস: আমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাকপটু যারা 'দাদ' উচ্চারণ করে। এর কোনো ভিত্তি নেই। বিস্ময়ের বিষয় এই যে, জালাল আল-মাহাল্লি এটি কোনো সতর্কতা ছাড়াই 'শারহু জামউল জাওয়ামি'-তে উল্লেখ করেছেন এবং অনুরূপভাবে জাকারিয়া আল-আনসারি 'শারহুল মুকাদ্দিমাতিল জাজারিয়্যাহ'-তে এটি উল্লেখ করেছেন।
83 - হাদিস: আমি তাদের নিকট থাকি যাদের অন্তর আমার জন্য ভগ্ন। আলী কারী বলেছেন: এর পূর্ণরূপ হলো: 'এবং আমি তাদের নিকট থাকি যাদের কবর আমার জন্য বিলীন হয়ে গেছে'; মারফু হিসেবে এই দুটির কোনো ভিত্তি নেই।
84 - হাদিস: আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তার দরজা। ইবনুল জাওজি এটি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লুলুউল মারসূ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الموضوعات، وَوَافَقَهُ الذَّهَبِيّ وَغَيره، لَكِن قَالَ الْحَافِظ أَو سعيد العلائي: الصَّوَاب أَنه حسن بِاعْتِبَار طرقه، لَا صَحِيح وَلَا ضَعِيف، فضلا أَن يكون مَوْضُوعا. ذكره عَليّ قاري.
85 - حَدِيث: أَنا من الله والمؤمنون مني. هُوَ عِنْد الديلمي بِلَا إِسْنَاد.
আল-মাওদুআত (জাল হাদিসের সংকলন), আর ইমাম যাহাবি ও অন্যগণ তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। তবে হাফেজ আবু সাঈদ আল-আলাই বলেছেন: সঠিক কথা হলো, এটি এর সূত্রসমূহের বিবেচনায় হাসান (উত্তম), এটি সহিহও নয় আবার যয়িফও (দুর্বল) নয়; আর জাল হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। মোল্লা আলি কারি এটি উল্লেখ করেছেন।
৮৫ - হাদিস: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মুমিনগণ আমার পক্ষ থেকে। এটি দায়লামির নিকট সনদ ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।