(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: -)
اللآلئ المصنوعة في الأحاديث الموضوعة (الجلال السيوطي)
القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: اللآلىء المصنوعة في الأحاديث الموضوعة
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
المحقق: أبو عبد الرحمن صلاح بن محمد بن عويضة
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-লাআলি আল-মাসনুআ ফিল আহাদিস আল-মাওদুআ (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)
বিভাগ: হাদিসের ইল্লাত (ত্রুটি) ও প্রশ্নাবলি
বই: আল-লাআলি আল-মাসনুআ ফিল আহাদিস আল-মাওদুআ
লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)
সম্পাদক: আবু আব্দুর রহমান সালাহ বিন মুহাম্মদ বিন উওয়াইদাহ
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم الْحَمد لله محق الْحق ومبطل الْبَاطِل، ومعلي الصدْق ومنزل الْكَذِب إِلَى أَسْفَل سافل، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد ذِي القَوْل الْفَاصِل وَالْحكم الْفَاضِل، وعَلى آله وَصَحبه النجباء الأماثل.(وَبعد) فَإِن من مهمات الدَّين التَّنْبِيه على مَا وضع من الحَدِيث واختلق على سيد الْمُرْسلين صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وصحابته أَجْمَعِينَ، وَقد جمع فِي ذَلِك الْحَافِظ أَبُو الْفرج ابْن الْجَوْزِيّ كتابا فَأكْثر فِيهِ من إِخْرَاج الضَّعِيف الَّذِي لَمْ ينحط إِلَى رُتْبَة الْوَضع بل وَمن الْحسن وَمن الصَّحِيح كَمَا نبه على ذَلِك الْأَئِمَّة الْحفاظ وَمِنْهُم ابْن الصّلاح فِي عُلُوم الحَدِيث وَأَتْبَاعه، وطالما اختلج فِي ضميري انقاءُه وانتقاده واختصاره لينْتَفع بِهِ مرتاده، إِلَى أَن استخرت الله تَعَالَى وانشرح صَدْرِي لذَلِك، وهيأ لي إِلَى أَسبَابه المسالك، فأورد الحَدِيث من الْكتاب الَّذِي أوردهُ هُوَ مِنْهُ كتاريخ الْخَطِيب وَالْحَاكِم وكامل بن عدي والضعفاء للعقيلي وَلابْن حبَان وللأزدي وأفراد الدَّارَقُطْنِيّ والحلية لأبي نعيم وَغَيرهم بأسانيدهم حاذفا إِسْنَاد أبي الْفرج إِلَيْهِم، ثمَّ أعقبهم بِكَلَامِهِ ثمَّ إِن كَانَ متعقبا نبهت عَلَيْهِ. وَأَقُول فِي أول مَا أزيده (قلت) وَفِي آخِره وَالله أعلم.ورمزت لما أوردهُ الْحَافِظ أَبُو عَبْد الله الْحُسَيْن بن إِبْرَاهِيم الجوزقاني صُورَة (ج) إعلاما بتوافق المصنفين على الحكم بِوَضْع الحَدِيث (وسميته اللآلىء المصنوعة فِي الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة) وأسأل الله الْإِعَانَة عَلَيْهِ والتوفيق لما يرضيه ويقربني إِلَيْهِ. وَأعلم إِنِّي كنت شرعت فِي هَذَا التَّأْلِيف فِي سنة سبع وَثَمَانمِائَة وفرغت مِنْهُ فِي سنة خمس وَسبعين وَكَانَت التعقبات فِيهِ قَليلَة وعَلى وَجه الِاخْتِصَار وَكتب مِنْهُ عدَّة نسخ وَمِنْهَا نُسْخَة راحت إِلَى بِلَاد التكرور، ثمَّ بدا لي فِي هَذِه السّنة وَهِي سنة خمس وَتِسْعمِائَة اسْتِئْنَاف التعقبات على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন ও মিথ্যাকে বিলুপ্ত করেন এবং সত্যকে উচ্চকিত করেন ও মিথ্যাকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে দেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি চূড়ান্ত ফয়সালাকারী বাণী ও শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞার অধিকারী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সঙ্গী-সাথীদের ওপর।(অতঃপর) নিশ্চয়ই দ্বীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাদীসের নামে যা জাল করা হয়েছে এবং রাসূলগণের নেতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমাঈন)-এর ওপর যা রটনা করা হয়েছে সে বিষয়ে সতর্ক করা। হাফিজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী এ বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করেছেন, তবে তিনি তাতে এমন অনেক যঈফ (দুর্বল) হাদীস এনেছেন যা জাল হওয়ার স্তরে পৌঁছায়নি, এমনকি তাতে হাসান এবং সহীহ হাদীসও রয়েছে; যেমনটি হাফিজ ইমামগণ সতর্ক করেছেন। তাঁদের মধ্যে উলূমুল হাদীসে ইবনুস সালাহ এবং তাঁর অনুসারীরা অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে আমার মনে এই কিতাবটি পরিমার্জন, পর্যালোচনা এবং সংক্ষেপ করার ইচ্ছা জাগছিল যাতে গবেষকরা তা থেকে উপকৃত হতে পারে। অবশেষে আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং তিনি এর জন্য আমার অন্তরকে উন্মুক্ত করে দিলেন এবং এর উপায়সমূহ সুগম করে দিলেন। ফলে আমি হাদীসগুলো সেই মূল কিতাবসমূহ থেকেই বর্ণনা করছি যেখান থেকে তিনি চয়ন করেছিলেন, যেমন খতীবের ইতিহাস, হাকিম, ইবনে আদীর কামিল, উকাইলী, ইবনে হিব্বান ও আযদি-র যুয়াফা, দারা কুতনীর আফরাদ এবং আবু নুয়াইমের হিলয়াহ ও অন্যান্যদের কিতাব থেকে তাদের নিজস্ব সনদসহ; এক্ষেত্রে তাদের প্রতি আবুল ফারাজের সনদটি বাদ দিয়েছি। এরপর আমি তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করেছি, অতঃপর যদি তাতে কোনো পর্যালোচনার অবকাশ থাকে তবে আমি তা নির্দেশ করে দিয়েছি। আমি আমার অতিরিক্ত বক্তব্যের শুরুতে 'আমি বলছি' (কুলতু) এবং শেষে 'আল্লাহই ভালো জানেন' বলব।আমি হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইবরাহীম আল-জাওযাকানী যা উল্লেখ করেছেন তার জন্য 'জ' চিহ্ন ব্যবহার করেছি, যাতে গ্রন্থকারদ্বয়ের হাদীসটি জাল হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যের বিষয়ে অবগত হওয়া যায়। আমি কিতাবটির নাম রেখেছি 'আল-লাআলিল মাসনুআ ফিল আহাদিসিল মাওজুআ'। আমি আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও তাঁর নৈকট্য দানকারী তৌফিক কামনা করছি। জেনে রাখুন, আমি এই কিতাবটি লেখা শুরু করেছিলাম ৮০৭ হিজরিতে এবং তা সমাপ্ত করেছিলাম ৮৭৫ হিজরিতে। তখন এতে পর্যালোচনা ছিল সামান্য এবং সংক্ষিপ্ত। এর কয়েকটি পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছিল, যার একটি তিকরুর অঞ্চলে গিয়েছিল। এরপর এই বছর অর্থাৎ ৯০৫ হিজরিতে আমার কাছে পর্যালোচনার কাজ পুনরায় শুরু করার বিষয়টি স্পষ্ট হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَجه مَبْسُوط وإلحاق مَوْضُوعَات كَثِيرَة فَأَتَت أَبَا الْفرج فَلم يذكرهَا فَفعلت ذَلِك فَخرج الْكتاب عَن هيأته الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا أَولا وَتعذر إِلْحَاق مَا زِدْته فِي تِلْكَ النّسخ الَّتِي كتبت إِلَّا بإعدام تِلْكَ وإنشاء نسخ مُبتَدأَة فأبقيت تِلْكَ على مَا هِيَ عَلَيْهِ، وَيُطلق عَلَيْهَا الموضوعات الصُّغْرَى وَهَذِه الْكُبْرَى وَعَلَيْهَا الِاعْتِمَاد.
বিস্তারিত রূপদান এবং অনেকগুলো জাল বিষয় সংযুক্ত করার মাধ্যমে—যা আবুল ফারাজের নিকট এসেছিল কিন্তু তিনি তা উল্লেখ করেননি—আমি তা সম্পাদন করলাম। ফলে গ্রন্থটি তার পূর্বের অবয়ব থেকে ভিন্নরূপ ধারণ করল এবং ইতিপূর্বে লিখিত কপিগুলোতে আমার এই অতিরিক্ত সংযোজনসমূহ যুক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ল, যদি না পূর্বেরগুলো বিলুপ্ত করে নতুনভাবে পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়। তাই আমি সেগুলোকে পূর্বাবস্থাতেই বহাল রাখলাম; সেগুলোকে 'আল-মাওজুআত আস-সুগরা' বলা হয়। আর এটি হলো 'আল-মাওজুআত আল-কুবরা' এবং এর ওপরই নির্ভর করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
كتاب التَّوْحِيد(الْحَاكِم) (ج) أَنْبَأنَا إِسْمَاعِيل بْن مُحَمَّد الشعراني أخْبرت عَن مُحَمَّد بْن شُجَاع الثَّلْجِي أَخْبرنِي حبَان بْن هِلَال عَن حَمَّاد بْن سَلمَة عَن أَبِي الهزم عَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّ رَبُّنَا؟ قَالَ: مِنْ مَاءٍ مَرُورٍ لَا مِنْ أَرْضٍ وَلا مِنْ سَمَاءٍ خَلَقَ خَيْلًا فَأَجْرَاهَا فَعَرِقَتْ، فَخَلَقَ نَفْسَهُ مِنْ ذَلِكَ الْعَرَقِ.مَوْضُوع: اتهمَ بِهِ مُحَمَّد بْن شُجَاع وَلَا يضعُ مثل هَذَا مُسْلِم قلتُ: وَلَا عَاقل.قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان: ابْن شُجَاع هَذَا كَانَ فَقِيه الْعرَاق فِي وقته وَكَانَ حنفيًّا صَاحب تصانيف، وَكَانَ من أَصْحَاب بشر المريسي وَكَانَ ينتقصُ الْإِمَامَيْنِ الشافعيّ وَأَحْمَد، وَكَانَ من وَصيته الَّتِي كتبهَا عِنْدَ مَوته وَلَا يعْطى من ثُلثي إِلَّا من قَالَ القرآنُ مَخْلُوق.وَقَالَ ابْن عدي: كَانَ يضعُ أَحَادِيث فِي التَّشْبِيه ينسبها إِلَى أَصْحَاب الحَدِيث فيتهم بذلك.مِنْهَا هَذَا الحَدِيث وحبان بْن هِلَال ثِقَة، قَالَ الذَّهَبِيّ هَذَا الحَدِيث مَعَ كَونه أَتَى من المكذب فَهُوَ من وضع الْجَهْمِية ليذكروه فِي معرض الِاحْتِجَاج بِهِ، عَلَى أَن نَفسه اسْم لشَيْء من مخلوقاته، فَكَذَلِك إِضَافَة كَلَامه إِلَيْهِ من هَذَا الْقَبِيل إِضَافَة ملك بل كَلَامه بِالْأولَى، قَالَ وعَلى كل حَال فَمَا يعد مُسْلِم هَذَا فِي أَحَادِيث الصِّفَات تَعَالَى الله عَن ذَلِكَ انْتهى وَالله أعلم.(الْخَطِيب) أنبانا عَلِيّ بْن أَحْمَد الْمُحْتَسب أَنْبَأنَا الْحَسَن بْن الْحُسَيْن الْهَمدَانِي أَنْبَأنَا أَبُو نصر مُحَمَّد بْن هَارُون النهرواني، حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن عُمَرَ وَعبد بْن عَامر السَّمرقَنْدِي حَدَّثَنَا قُتَيْبَة بْن سَعِيد حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن لَهِيعَة عَن أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ قَالَ رَسُول اللَّه منْ قَالَ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ فَقَدْ كَفَرَ لَا يَصح مُحَمَّد يَكْذِبُ وَيَضَعُ.(الْخَطِيب) أَنْبَأنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن زرق أَنْبَأنَا الْمسيب بْن مُحَمَّد بْن الْمسيب
তাওহীদ অধ্যায়(আল-হাকিম) (জুয) আমাদের জানিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আশ-শা'রানি, তিনি মুহাম্মদ বিন শুজা আস-সালজি থেকে সংবাদ পেয়েছেন, তিনি বলেছেন আমাকে হিব্বান বিন হিলাল জানিয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি আবুল হাযম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রব কী থেকে? তিনি বললেন: প্রবাহিত পানি থেকে, কোনো জমিন বা আসমান থেকে নয়। তিনি ঘোড়া সৃষ্টি করলেন এবং সেটিকে দৌড় করালেন, ফলে সেটি ঘামাল। অতঃপর তিনি সেই ঘাম থেকে নিজেকে সৃষ্টি করলেন।বানোয়াট: মুহাম্মদ বিন শুজা এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। কোনো মুসলিম এমন কথা জাল করতে পারে না; আমি (লেখক) বলছি: কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিও নয়।আয-যাহাবি আল-মিজানে বলেছেন: এই ইবনে শুজা তার সময়ের ইরাকের ফকিহ ছিলেন এবং তিনি হানাফি ও বহু কিতাবের রচয়িতা ছিলেন। তিনি বিশর আল-মারিসির অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি দুই ইমাম—শাফেঈ ও আহমাদকে খাটো করতেন। মৃত্যুর সময় তার লিখিত অসিয়তনামার মধ্যে ছিল যে, তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে কেবল তাকেই দেওয়া হবে যে বলবে কুরআন সৃষ্ট।ইবনে আদি বলেছেন: তিনি সাদৃশ্য প্রদানের (তাশবিহ) বিষয়ে হাদীস জাল করতেন এবং সেগুলো মুহাদ্দিসদের দিকে সম্বন্ধ করতেন, ফলে তিনি এ বিষয়ে অভিযুক্ত হতেন।এগুলোর মধ্যে এই হাদীসটিও রয়েছে। অথচ হিব্বান বিন হিলাল নির্ভরযোগ্য। আয-যাহাবি বলেছেন: এই হাদীসটি একজন মিথ্যাবাদীর সূত্রে আসা সত্ত্বেও এটি জাহমিয়াদের জাল করা, যাতে তারা এটি প্রমাণের ক্ষেত্রে উল্লেখ করতে পারে যে, আল্লাহর সত্তা তাঁর সৃষ্টির কোনো একটি জিনিসের নাম। একইভাবে তাঁর কালামকে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করাও এই প্রকারের সম্বন্ধের মতো, বরং তাঁর কালাম তো আরও বেশি। তিনি বলেছেন: যাই হোক, কোনো মুসলিমই একে আল্লাহর গুণাবলির হাদীসগুলোর মধ্যে গণ্য করে না। মহান আল্লাহ এসকল বিষয় থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। সমাপ্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।(আল-খতিব) আমাদের জানিয়েছেন আলী বিন আহমাদ আল-মুহতাসিব, আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আল-হামদানি, আমাদের জানিয়েছেন আবু নাসর মুহাম্মদ বিন হারুন আন-নাহরওয়ানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উমর এবং আবদ বিন আমির আস-সামারকান্দি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াহ, আবু যুবায়ের থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: যে ব্যক্তি বলে কুরআন সৃষ্ট, সে কুফরি করল। এটি সহীহ নয়; মুহাম্মদ মিথ্যা বলে এবং হাদীস জাল করে।(আল-খতিব) আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন যারক, আমাদের জানিয়েছেন আল-মুসাইয়িব বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأرغياني حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن يَحْيَى بْن رزين المصِّيصِي حَدَّثَنَا عُثْمَان بْن عُمَرَ بْن فَارس حَدَّثَنَا كهمس عَن الْحَسَن عَن أَنَسٍ مَرْفُوعًا: كُلُّ مَا فِي السَّمَوَات وَالأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَهُوَ مَخْلُوقٌ غَيْرَ اللَّهِ وَالْقُرْآنِ، وَذَلِكَ أَنَّهُ كَلامُهُ مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ، وَسَيَجِيءُ أَقْوَامٌ مِنْ أُمَّتِي يَقُولُونَ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ فَمَنْ قَالَهُ مِنْهُمْ فَقَدْ كَفَرَ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَطُلِّقَتِ امْرَأَتُهُ مِنْ سَاعَتِهِ لأَنَّهُ لَا يَنْبَغِي لِلْمُؤْمِنَةِ أَنْ تَكُونَ تَحْتَ كَافِرٍ إِلا أَنْ تَكُونَ سَبَقَتْهُ بِالْقَوْلِ.مَوْضُوع: آفته مُحَمَّد بْن يَحْيَى بْن رزين قَالَ ابْن حبَان: دجال يضع.الحَدِيث (ابْن عدي) حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن حَرْب حَدَّثَنَا ابْن حميد عَن جرير عَن الْأَعْمَش عَن أَبِي صالِح عَن أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا: الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ لَا خَالِقٌ وَلا مَخْلُوقٌ مَنْ قَالَ غَيْرَ ذَلِكَ فَهُوَ كَافِرٌ.مَوْضُوع: آفته ابْن حَرْب وَشَيْخه أَيْضا كَذَّاب وَهُوَ مُحَمَّد بْن حميد بْن حبَان.(الْخَطِيب) أَنْبَأنَا طَلْحَة بْن عَليّ الكتاني حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن عَبْد الله بْن إِبْرَاهِيم الشَّافِعِي حَدَّثَنَا أَبُو عمَارَة مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن الْمهْدي حَدَّثَنَا أَبُو نَافِع بْن كثير حَدَّثَنَا جَعْفَر بْن مُحَمَّد العابد حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوب الْأَعْمَى عَن إِسْمَاعِيل بْن يعمر عَن مُحَمَّد بْن عَبْد الله الدغشي سمعتُ مجَالد بْن سَعِيد يَقُولُ سمعتُ مسروقًا يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ عز وجل لَيْسَ بِخَالِقٍ وَلا مَخْلُوقٍ فَمَنْ زَعَمَ غَيْرَ ذَلِكَ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ قَالَ الْخَطِيب مُنْكرا جِدًّا فِيهِ مَجَاهِيلُ وَأَبُو عمَارَة، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ ضَعِيف جدًّا (قلتُ) قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان: هُوَ مَوْضُوع عَلَى مجَالد، انْتهى.وَلِلْحَدِيثِ طرق.قَالَ الديلمي فِي مُسْند الفردوس أَنْبَأنَا عَبْد الرَّحِيم بْن الْمَرْزُبَان الصيدلاني الرَّازِيّ إِذْنا أَنْبَأنَا أَبُو طَاهِر مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن عَلِيّ بْن حمدَان الرَّازِيّ حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيد عَبْد الله بن مُحَمَّد ابْن بدر الكرجي الْبَغْدَادِيّ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن مُحَمَّد بْن قنبرة الباراني قدم بَغْدَاد حَدَّثَنَا أَبُو هَاشم عَبْد الله بْن أَبِي سُفْيَان الشعراني حَدَّثَنَا الرّبيع بْن سُلَيْمَان قَالَ: نَاظر الشَّافِعِي حفصًا الْفَرد وَكَانَ حَفْص من غلْمَان بشر المريسي فَقَالَ فِي بعض كَلَامه الْقُرْآن مَخْلُوق فَقَالَ لَهُ الشَّافِعِي كفرت بِاللَّه الْعَظِيم.حَدَّثَنَا عَبْد الرَّزَّاق عَن معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله: الْقُرْآن كَلَام الله غير مَخْلُوق وَمن قَالَ مَخْلُوق فَاقْتُلُوهُ فَإِنَّهُ كَافِر، وَقَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن عُيَيْنَة عَن الزُّهْرِيّ عَن سَعِيد بْن الْمسيب عَن رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالُوا سَمِعْنَا رَسُولَ الله يَقُولُ الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ فَمَنْ قَالَ غَيْرَ هَذَا
আল-আরগিয়ানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন রাযীন আল-মাসসিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন উমর বিন ফারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, কাহমাস আমাদের কাছে হাসান থেকে এবং তিনি আনাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "আসমান ও জমিন এবং এই দুইয়ের মাঝে যা কিছু আছে তা সবই সৃষ্টি, কেবল আল্লাহ এবং কুরআন ব্যতীত। কারণ এটি তাঁর কালাম (বাণী), যা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। অচিরেই আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন এক কওম আসবে যারা বলবে যে কুরআন সৃষ্টি। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই কথা বলবে, সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল এবং তৎক্ষণাৎ তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। কেননা কোনো মুমিন নারীর জন্য কোনো কাফিরের অধীনে থাকা সমীচীন নয়, যদি না সে নিজেই আগে এই কথা বলে থাকে।"জাল (মাওদু): এর ত্রুটি হলো মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন রাযীন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে একজন দাজ্জাল, যে হাদিস জাল করে।হাদিস (ইবনে আদি): আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে হুমাইদ আমাদের কাছে জারীর থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম, তা স্রষ্টাও নয় আবার সৃষ্টিও নয়; যে ব্যক্তি এর বিপরীতে কিছু বলবে সে কাফির।"জাল (মাওদু): এর ত্রুটি হলো ইবনে হারব এবং তার শাইখও মিথ্যুক, আর তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন হুমাইদ বিন হিব্বান।(আল-খতিব) তালহা বিন আলী আল-কাত্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম আশ-শাফিঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু উমারা মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-মাহদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু নাফি বিন কাসীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-আবিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াকুব আল-আমা ইসমাঈল বিন ইয়ামুর থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাগশি থেকে, তিনি বলেন: আমি মুজালিদ বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মাসরুককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "কুরআন মহান আল্লাহর কালাম, তা স্রষ্টাও নয় আবার সৃষ্টিও নয়। যে ব্যক্তি এর অন্যথা দাবি করবে, সে মুহাম্মাদের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তার সাথে কুফরি করল।" আল-খতিব একে অত্যন্ত মুনকার (অস্বীকৃত) বলে অভিহিত করেছেন; এতে বহু মাজহুল (অজ্ঞাত) বর্ণনাকারী রয়েছে এবং আবু উমারাও রয়েছেন। আদ-দারা কুতনি বলেছেন: অত্যন্ত দুর্বল। (আমি বলছি) আয-যাহাবি ‘আল-মিযান’ গ্রন্থে বলেছেন: এটি মুজালিদের নামে জাল করা হয়েছে। সমাপ্ত।এবং এই হাদিসের আরও অনেক সূত্র রয়েছে।আদ-দাইলামি ‘মুসনাদুল ফিরদাউস’ গ্রন্থে বলেছেন, আব্দুর রাহিম বিন আল-মারযুবান আস-সাইদালানি আর-রাযি আমাদের অনুমতিক্রমে সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী বিন হামদান আর-রাযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ ইবনে বদর আল-কারজি আল-বাগদাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কানবারাহ আল-বারানি যিনি বাগদাদে এসেছিলেন তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু হাশিম আব্দুল্লাহ বিন আবি সুফিয়ান আশ-শআরানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আর-রাবি বিন সুলাইমান বলেছেন: আশ-শাফিঈ হাফস আল-ফারদ-এর সাথে বিতর্ক করেছিলেন (হাফস ছিল বিশর আল-মারিসির শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত)। হাফস তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলল যে, কুরআন সৃষ্টি। তখন শাফিঈ তাকে বললেন: "তুমি মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করলে।"আব্দুর রাজ্জাক আমাদের কাছে মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। যে ব্যক্তি বলবে এটি সৃষ্টি, তাকে হত্যা করো, কারণ সে কাফির।" এবং তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের কাছে যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি রাফি বিন খাদীজ, হুজাইফা বিন আল-ইয়ামান এবং ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমরা রাসুলুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। যে ব্যক্তি এর অন্যথা বলবে..."
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فَقَدْ كَفَرَ.وَقَالَ ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخ دمشق أَنْبَأنَا أَبُو الْحَسَن عَلِيّ بْن السّلم الفرضي حَدَّثَنَا عَبْد الْعَزِيز أَحْمَد الصُّوفِي أَنْبَأنَا أَبُو مُحَمَّد بْن أَبِي نصر حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن هَارُون حَدَّثَنَا أَبُو نصر مَنْصُور بْن إِبْرَاهِيم بْن عَبْد الله بْن مَالك الْقزْوِينِي حَدَّثَنَا أَبُو سُلَيْمَان دَاوُد بْن سُلَيْمَان حَدَّثَنَا الْوَلِيد بْن مُسْلِم الدِّمَشْقِي عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن يَحْيَى بْن أَبِي كثير عَن حسان بْن عَطِيَّة عَن أَبِي الدَّرْدَاء قَالَ: سألتُ رَسُول الله عَن الْقُرْآن؟ فَقَالَ: هُوَ كَلَام الله غير مَخْلُوق.قَالَ أَبُو نصر، وَكَانَ أَحْمَد بْن حَنْبَل يَقُولُ لأَصْحَاب الحَدِيث: اذْهَبُوا إِلَى أَبِي سُلَيْمَان فَاسْمَعُوا مِنْهُ حَدِيث الْوَلِيد بْن مُسلم فَإِنَّهُ لَمْ يروه غَيره.أَبُو سُلَيْمَان عندنَا ثِقَة مَأْمُون، انْتهى.قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان مَنْصُور بْن إِبْرَاهِيم الْقزْوِينِي لَا شَيْء سَمِعَ مِنْهُ أَبُو عَلِيّ بْن هَارُون بِمصر حَدِيثا بَاطِلا، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي لِسَانه هُوَ هَذَا الحَدِيث، انْتهى.وَقد وجدتُ لَهُ مُتَابعًا قَالَ الشِّيرَازِيّ فِي الألقاب أَنْبَأنَا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بْن عَليّ الْمكتب حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن الْفضل بْن عَبْد الْجِرْجَانِيّ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن الْحَارِث الْخَولَانِيّ يلقب بورد حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن إِبْرَاهِيم التغلبي حَدَّثَنَا الْوَلِيد بْن مُسْلِم بِهِ وَأخرجه الْخَطِيب فِي كتاب الْمُتَّفق من طَرِيقه.وَقَالَ حسان لَمْ يدْرك أَبَا الدَّرْدَاء وَأَحْمَد بْن إِبْرَاهِيم مَجْهُول، انْتهى.ووجدتُ لَهُ مُتَابعًا آخر، قَالَ أَبُو الْقَاسِم بْن بشر فِي أَمَالِيهِ حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَن مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن حَمَّاد بْن سُفْيَان حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن الْحُسَيْن بْن حميد بْن الرّبيع اللَّخْمِيّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر بْن مُحَمَّد بْن عِيسَى بْن سَلام الْآدَمِيّ حَدَّثَنَا عَبْد الْملك بْن عَبْد ربه الْخَواص حَدَّثَنَا الْوَلِيد بْن مُسْلِم بِهِ، قَالَ فِي الْمِيزَان عَبْد الْملك بْن عَبْد ربه الطَّائِي مُنكر الحَدِيث وَله عَن الْوَلِيد بْن مُسْلِم خبر مَوْضُوع، انْتهى.فَمَا رأيتُ لِهذا الحَدِيث من طب (وَقَالَ الْخَطِيب) أَنْبَأنَا عُبَيْد الله بْن مُحَمَّد بْن عُبَيْد الله النجار أَنْبَأنَا مُحَمَّد بْن المظفر حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن جَعْفَر الدوري النقلبي أَبُو عَليّ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل بْن إِبْرَاهِيم بْن مُوسَى بْن جَعْفَر بْن مُحَمَّد أَخْبرنِي الْحَسَن بْن مُوسَى عَن أَبِيهِ مُوسَى بْن جَعْفَر عَن أَبِيهِ جَعْفَر بْن مُحَمَّد عَن أَبِيهِ مُحَمَّد بْن عَلِيّ بْن الْحُسَيْن عَن الْحُسَيْن بْن عَليّ عَن عَلِيٍّ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ الله عَنِ الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ لي: يَا عَلِيُّ كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ.
তবে সে অবশ্যই কুফরি করেছে।এবং ইবনে আসাকির ‘তারিখে দামেশক’-এ বলেছেন যে, আবুল হাসান আলী বিন আল-সুল্লাম আল-ফারদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ আহমদ আল-সুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নাসর মনসুর বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আল-কাজউইনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সুলাইমান দাউদ বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওজাই থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি হাসসান বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তখন তিনি বললেন: তা আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়।আবু নাসর বলেন, আহমাদ বিন হাম্বল হাদীস অন্বেষণকারীদের বলতেন: তোমরা আবু সুলাইমানের নিকট যাও এবং তার নিকট থেকে আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিমের হাদীসটি শোনো, কেননা তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি।আবু সুলাইমান আমাদের নিকট নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত, (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।আল-জাহাবি ‘আল-মিজান’-এ বলেছেন, মনসুর বিন ইব্রাহিম আল-কাজউইনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন; আবু আলী বিন হারুন মিশরে তার থেকে একটি বাতিল হাদীস শুনেছিলেন। হাফেজ ইবনে হাজার তার ‘লিসান’-এ বলেছেন, এটিই সেই হাদীস, (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।আমি এর জন্য একজন সমর্থনকারী বর্ণনাকারী পেয়েছি। শিরাজি ‘আল-আলকাব’-এ বলেছেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলী আল-মুকাত্তিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ফজল বিন আব্দুল জুরজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন হারিস আল-খাওলানি—যাকে ওয়ার্ড বলা হয়—তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ইব্রাহিম আল-তাগলিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং আল-খতিব ‘আল-মুত্তাফিক’ কিতাবে তার সূত্র ধরে এটি সংকলন করেছেন।এবং তিনি বলেছেন, হাসসান আবু দারদাকে পাননি এবং আহমাদ বিন ইব্রাহিম অজ্ঞাত, (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।এবং আমি এর জন্য আরও একজন সমর্থনকারী বর্ণনাকারী পেয়েছি। আবুল কাসেম বিন বিশর তার ‘আমালি’-তে বলেছেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাম্মাদ বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন হুমাইদ বিন রাবি আল-লাখমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সালাম আল-আদামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক বিন আব্দু রাব্বিহি আল-খাওয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। ‘আল-মিজান’-এ বলা হয়েছে, আব্দুল মালিক বিন আব্দু রাব্বিহি আল-তায়ি মুনকারুল হাদীস এবং আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সূত্রে তার একটি জাল বর্ণনা রয়েছে, (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।সুতরাং এই হাদীসটির কোনো প্রতিকার আমি দেখছি না। (এবং আল-খতিব বলেছেন), উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-নাজ্জার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন জাফর আদ-দুরি আল-নাকালবি আবু আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন মুসা বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান বিন মুসা তার পিতা মুসা বিন জাফর থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তার পিতা জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তার পিতা মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি আল-হুসাইন বিন আলী থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আলী, আল্লাহর কালাম সৃষ্টি নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَقَالَ ابْن النجار فِي تَارِيخه عَبْد الْوَهَّاب بْن عَبْد الْوَاحِد أَبُو الْقَاسِم بْن أَبِي الْفرج الْأنْصَارِيّ الْوَاعِظ شيخ الْحَنَابِلَة بِدِمَشْق حَدَّث عَن وَالِده بِحديث مُنكر ثمَّ قَالَ أَنبأَنَا يُوسُف ابْن الْمُبَارك بْن كَامِل بْن أَبِي غَالب الحفاف عَن أَبِيهِ أَنْبَأنَا عَبْد الْوَهَّاب بْن عَبْد الْوَاحِد الْحَنْبَلِيّ سمعتُ وَالِدي يَقُولُ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاس أَحْمَد بْن قيس الْمَالِكِي أَنْبَأنَا عَلِيّ بْن أَبِي الْحَسَن الصُّوفِي حدَّثَنِي أَبُو أَحْمَد عَبْد الله بْن عَبْد الْحَافِظ حدَّثَنِي هبيل بْن مُحَمَّد السليحي حدَّثَنِي أَبُو بَكْر رؤبة بْن عَيَّاش حدَّثَنِي أَبِي عَن ضَمْضَم بْن زرْعَة عَن شُرَيْح بْن عُبَيْد عَن أَبِي حَكِيم الشَّامي مَرْفُوعا: خَيركُمْ من حفظ كتاب الله فَعمل بِهِ وَعلمه النَّاس وَهُوَ كلامُ الله مُنزل غير مَخْلُوق مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يعود فَمن قَالَ مَخْلُوق فَهُوَ كَافِر وَقَالَ الشِّيرَازِيّ فِي الألقاب أَنْبَأنَا أَبُو أَحْمَد مُحَمَّد بْن مُحَمَّد الْحَافِظ أَنْبَأنَا مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن سَعِيد أَنْبَأنَا الْحَسَن بْن عَليّ التمار أَنْبَأنَا أَبُو عَليّ الْحُسَيْن بْن إِسْمَاعِيل القَاضِي أَنْبَأنَا إِسْحَاق بن مُحَمَّد المقزي أَنْبَأنَا الْحَسَن بْن عَليّ الطَّحَّان الْمَعْرُوف بلولو حدَّثَنِي مُحَمَّد بْن أبي السودا حَدَّثَنَا وَكِيع عَن الْأَعْمَش عَن زيد بْن وهب عَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَحُذَيْفَةَ قَالا كُنَّا عِنْد رَسُول فَقَالَ: كَيْفَ أَنْتُمَا إِذَا اسْتَخَفَّ النَّاسُ بِالْقُرْآنِ أَمَا إِنَّكُمَا لَنْ تُدْرِكَا ذَلِكَ إِذَا اسْتَخَفَّ النَّاسُ بِالْقُرْآنِ وَقَالُوا الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ بَرِئَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْهُمْ وَجِبْرِيلُ وَكَفَرُوا بِمَا أُنْزِلَ عَلَيَّ.وَقَالَ ابْن عدي حَدَّثَنَا الْعَبَّاس بْن الْوَلِيد النَّرْسِي حَدَّثَنَا يَحْيَى بْن سليم حَدَّثَنَا الْأَزْوَر بْن غَالب عَن سُلَيْمَان التَّيْمِيّ عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ وَلَيْسَ بِمَخْلُوقٍ.قَالَ ابْن عدي: هَذَا مُنْكَرٌ وَإِن كَانَ مَوْقُوفا، لِأَنَّهُ لَا يُحفظ للصحابة الْخَوْض فِي الْقُرْآن.وَقَالَ الذَّهَبِيّ الْأَزْوَر مُنكر الحَدِيث أَتَى بِما لَا يحْتَمل فكذب وَهُوَ هَذَا الْأَثر.وَقَالَ أَبُو نصر عُبَيْد الله بْن سَعِيد بْن حاتِم السجْزِي فِي الْإِبَانَة أَنْبَأَنا إِبْرَاهِيم بْن عَلِيّ بْن عبد الله الْقرشِي وَكَانَ صَدُوقًا حَدَّثَنَا عُثْمَان بْن مُحَمَّد بْن إِبْرَاهِيم المادراي حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْد الْكَرِيم بن مُوسَى الْهَيْثَم الدَّيْر عاقولي حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن صالِح الأنْْْمَاطي حَدَّثَنَا يُوسُف بْن عدي مَحْبُوب بْن مُحرز عَن الْأَعْمَش عَن إِبْرَاهِيم بْن يزِيد عَن الْحَارِث بْن سُوَيْد قَالَ عَليّ رضي الله عنه: يذهب النَّاس حَتَّى لَا يبْقى أحد يَقُولُ لَا إِلَه إِلَّا الله فَإِذا فعلوا ذَلِكَ ضرب يعسوب الدَّين ذَنبه فيجتمعون إِلَيْهِ من أَطْرَاف الأَرْض كَمَا تَجتمع قزع الخريف ثُمَّ قَالَ عَليّ إِنِّي أعرف اسْم أَمِيرهمْ ومناخ رِكَابهمْ يَقُولُونَ الْقُرْآن مَخْلُوق وَلَيْسَ هُوَ بِخالق وَلَا مَخْلُوق وَلكنه كلامُ الرب عز وجل مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يعود هَذَا الْإِسْنَاد رِجَاله ثِقَات
ইবনে নাজ্জার তাঁর ইতিহাসে বলেছেন, দামেস্কের হাম্বলিদের শাইখ আবু আল-কাসিম আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আবি আল-ফারাজ আল-আনসারী আল-ওয়াইজ তাঁর পিতার সূত্রে একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ ইবনুল মুবারক ইবনে কামিল ইবনে আবি গালিব আল-হাফফাফ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাম্বলি থেকে। আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে কায়স আল-মালিকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আবি আল-হাসান আস-সুফি, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাফিজ, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হাবিল ইবনে মুহাম্মদ আস-সুলাইহি, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর রুবাহ ইবনে আইয়াস, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি দামদাম ইবনে জুরআহ থেকে, তিনি শুরাইহ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি আবু হাকিম আশ-শামি থেকে মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহর বরাতে) বর্ণনা করেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে আল্লাহর কিতাব হিফজ করে, সে অনুযায়ী আমল করে এবং তা মানুষকে শিক্ষা দেয়। আর তা হলো আল্লাহর কালাম (বাণী), যা অবতীর্ণ এবং মাখলুক (সৃষ্ট) নয়। তা থেকেই এর শুরু এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে এটি মাখলুক, সে কাফের।" আশ-শিরাজি 'আল-আলকাব' গ্রন্থে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী আত-তাম্মার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-কাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লুলু নামে পরিচিত আল-হাসান ইবনে আলী আত-তাহহান, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি আস-সাওদা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ওয়াকি, তিনি আমাশ থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও হুজাইফা থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহর নিকট ছিলাম। তিনি বললেন: "তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন মানুষ কুরআনকে তুচ্ছজ্ঞান করবে? জেনে রেখো, তোমরা অবশ্যই সেই সময়ের দেখা পাবে না যখন মানুষ কুরআনকে তুচ্ছজ্ঞান করবে এবং বলবে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট)। আল্লাহ তাআলা এবং জিবরাঈল তাদের থেকে দায়মুক্ত এবং তারা আমার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল।"ইবনে আদি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-আব্বাস ইবনে আল-ওয়ালিদ আন-নারসি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-আযওয়ার ইবনে গালিব, তিনি সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (আনাস) বলেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়।"ইবনে আদি বলেন: "এটি মুনকার (অস্বীকৃত), যদিও এটি মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য)। কারণ সাহাবীদের পক্ষ থেকে কুরআনের (সৃষ্টি হওয়া সংক্রান্ত তর্কে) লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি সংরক্ষিত বা প্রমাণিত নয়।"আয-জাহাবি বলেন, আল-আযওয়ার হলো মুনকারুল হাদিস (হাদিস বর্ণনায় অত্যন্ত দুর্বল); সে এমন কিছু বর্ণনা করেছে যা অগ্রহণযোগ্য, ফলে সে মিথ্যাচার করেছে; আর সেটি হলো এই বর্ণনাটিই।আবু নাসর উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে হাতিম আস-সিজজি 'আল-ইবানা' গ্রন্থে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মাদরাই, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল কারিম ইবনে মুসা আল-হাইসাম আদ-দাইর আকুলি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনে সালিহ আল-আনমাতি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইউসুফ ইবনে আদি, তিনি মাহবুব ইবনে মুহরিয থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-হারিস ইবনে সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "মানুষ এমনভাবে চলে যাবে যে শেষ পর্যন্ত 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। যখন তারা এরূপ করবে, তখন দ্বীনের নেতা তার শক্তি প্রদর্শন করবে এবং পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে মানুষ তার কাছে সমবেত হবে যেমনভাবে শরতের মেঘমালা একত্রিত হয়। অতঃপর আলী (রা.) বলেন, আমি তাদের নেতার নাম এবং তাদের বাহন থামানোর জায়গা সম্পর্কে জানি। তারা বলে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), অথচ তা স্রষ্টাও নয় এবং মাখলুকও নয়; বরং তা মহান প্রতিপালকের কালাম। তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে। এই সনদের বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য।"
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَبِه أَتَى عَلِيّ بْن صَالح حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن عَاصِم عَن عمرَان بْن جدير عَن عِكْرِمَة قَالَ شهد ابْن عَبَّاس جَنَازَة فلمّا صير فِي لَحده قَامَ رجلٌ فَقَالَ اللَّهُمَّ رب الْقُرْآن اغْفِر لَهُ، فَقَالَ ابْن عَبَّاس مَه مَه القرآنُ مِنْهُ وَهَذَا أَيْضا رِجَاله ثِقَات وَقَالَ أَبُو نصر أَنْبَأنَا عَبْد الله بْن عَلِيّ بْن أَحْمَد الجيلي وَكَانَ صالِحًا حَدَّثَنَا عَبْد الله مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن الْوراق حَدَّثَنَا أَبُو عَبْد الله مُحَمَّد بْن عَبْد الله بْن أَحْمَد بْن أسيد حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن حَمْزَة بْن هَارُون الْمَصْرِيّ حَدَّثَنَا إِسْحَاق بْن إِبْرَاهِيم الطرطوسي حَدَّثَنَا عَبْد الرَّحْمَن بْن مُسَافر حدَّثَنِي مُحَمَّد بْن عَبْد الصَّمد الخزاني حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُد عَن سُفْيَان الثَّوْريّ أَنْبَأنِي معمر عَن هِلَال الْوزان بن يزِيد بْن حسان عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ يَا مُعَاذُ الْعَرْشُ وَالْكُرْسِيُّ وَحَمَلَتُهُمَا وَالسَّمَوَات السَّبع وسكانها إِلَى الدَّرك الْأسود إِلَى الرِّيحِ الْهَفَّافَةِ بِمَا تَنَافَتْ بِهِ الْحُدُودُ الْمُتَنَاهِيَةُ كُلُّ ذَلِكَ مَخْلُوقٌ مَا خَلا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ كَلامُ اللَّهِ عز وجل أَبُو دَاوُدَ هُوَ النَّخَعِيُّ أَجمعُوا على أَنه كَذَّابٌ يَضَعُ الْحَدِيثَ وَأخرجه الديلمي فِي مُسْند الفردوس أَنْبَأنَا مُحَمَّد بْن الْحَسَن الرفا حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن بشر بْن يُوسُف الْأمَوِي حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن خُزَيْمَة بْن مَالك التَّيْمِيّ حدَّثَنِي عِيسَى بْن دَاوُد الْبَغْدَادِيّ حَدَّثَنَا سُفْيَان الثَّوْريّ بِهِ قَالَ أَبُو نصر وروى عَن مُحَمَّد بْن الْمُنْكَدر عَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تساند رَسُول الله: فَغَطَّيْنَاهُ بِثَوْبٍ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ كُلُّ شَيْءٍ مِنْ دُونِ اللَّهِ عز وجل مَخْلُوقٌ مَا عَدَا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ كَلامُ اللَّهِ وَلَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي نَاسٌ يَقُولُونَ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ خَالِدِينَ فِي النَّارِ مُخَلَّدِينَ وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ وَاللَّهُ مِنْهُمْ بَرِيءٌ فَإِذَا أَدْرَكْتُمُوهُمْ فَلا تَقْرَبُوهُمْ وَقَالَ اللالكائي فِي السّنة أَنْبَأنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن سهل أَنْبَأنَا أَحْمَد بْن سُلَيْمَان أَنْبَأنَا عُمَرَ بْن مُحَمَّد الْجَوْهَرِي حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن أَحْمَد حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن عَرَفَة حَدَّثَنَا هشيم بْن بشير حَدَّثَنَا خَالِد الْحذاء قَالَ سمعتُ أَبَا العربان يَقُولُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، أَبُو العربان مَرْوَان بْن أَبِي مَرْوَان، قَالَ فِي الْمِيزَان قَالَ السُّلَيْمَانِي فِيهِ نظر وَقَالَ فِي اللِّسَان مَجْهُول وَقَالَ اللالكائي أَنْبَأنَا الشَّيْخ أَبُو حَامِد أَحْمَد بْن أَبِي طَاهِر الْفَقِيه أَنْبَأنَا عُمَرَ بْن أَحْمَد الْوَاعِظ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن هَارُون الْحَضْرَمِيّ، حَدَّثَنَا الْقَاسِم بْن الْعَبَّاس الشَّيْبَانِيّ حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن عُيَيْنَة عَن عَمْرو بْن دِينَار قَالَ أدركتُ تِسْعَة من أَصْحَاب رَسُول الله يَقُولُونَ من قَالَ الْقُرْآن مَخْلُوق فَهُوَ كَافِر.وَقَالَ عُثْمَان بْن سعيد الدَّارمِيّ فِي كتاب الرَّد عَلَى الْجَهْمِية سمعتُ إِسْحَاق بْن إِبْرَاهِيم الْحَنْظَلِي يَقُولُ قَالَ سُفْيَان بْن عُيَيْنَة قَالَ عَمْرو بْن دِينَار أدركتُ أَصْحَاب النَّبِي فَمن دونهم مُنْذُ سبعين سنة يَقُولُون: الله الْخَالِق وَمَا سواهُ مَخْلُوق وَالْقُرْآن كَلَام الله مِنْهُ خرج وَإِلَيْهِ يعود، هَذَا وَالَّذِي قبله صَحِيحَانِ.وَقَالَ الْبُخَاريّ فِي خلق أَفعَال الْعباد حدَّثَنِي الْحَاكِم بْن مُحَمَّد الطَّبَرِيّ كتبت عَنْهُ بِمكة.قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن عُيَيْنَة قَالَ أدركتُ مشيختنا مُنْذُ سبعين سنة مِنْهُم عَمْرو بْن دِينَار قَالَ أدركتُ أَصْحَاب النَّبِيّ فَمن دونهم مُنْذُ سبعين سنة يَقُولُون: الله الْخَالِق وَمَا سواهُ
এবং এর মাধ্যমেই আলী ইবনে সলিহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, আমাদের নিকট আলী ইবনে আসিম বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে জুদাইর থেকে, তিনি ইকরামা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস এক জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। যখন তাকে লাহদে (কবরের পাশে খননকৃত গর্তে) রাখা হলো, তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, "হে আল্লাহ, হে কুরআনের রব, তাকে ক্ষমা করে দিন।" তখন ইবনে আব্বাস বললেন, "থামো, থামো! কুরআন তাঁর থেকেই (অর্থাৎ আল্লাহর গুণ)।" আর এই বর্ণনার বর্ণনাকারীগণও নির্ভরযোগ্য। আবু নাসর বলেন, আমাদেরকে আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-জিলি সংবাদ দিয়েছেন—এবং তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন—আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল ওয়াররাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে উসাইদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমদ ইবনে হামজাহ ইবনে হারুন আল-মিসরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আত-তারতুসি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে মুসাফির বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সামাদ আল-খাজানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাকে মা'মার হিলাল আল-ওয়াজ্জান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে হাসসান থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "হে মুয়াজ, আরশ, কুরসি, এই দুটির বহনকারী ফেরেশতাগণ, সপ্ত আকাশ ও এর অধিবাসীগণ, একদম নিচতলার অন্ধকার স্তর পর্যন্ত, শোঁ শোঁ বয়ে চলা বাতাস পর্যন্ত, যা কিছু সসীম সীমানার অন্তর্ভুক্ত—এই সবই সৃষ্টি, কেবল কুরআন ব্যতীত। কেননা নিশ্চয়ই তা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর কালাম।" এই আবু দাউদ হলেন আন-নাখয়ী; মুহাদ্দিসগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং হাদিস জাল করেন। আদ-দাইলামি এটি 'মুসনাদুল ফিরদাউস' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আর-রাফ্ফা আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বিশর ইবনে ইউসুফ আল-উমাবী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মালিক আত-তাইমি বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট ঈসা ইবনে দাউদ আল-বাগদাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান আস-সাওরি এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আবু নাসর বলেন, এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দিয়ে ছিলেন, তখন আমরা তাঁকে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম। এরপর তিনি সচেতন হলেন এবং বললেন, "মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই সৃষ্টি, কুরআন ব্যতীত। কেননা নিশ্চয়ই তা আল্লাহর কালাম। আর অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা বলবে কুরআন সৃষ্টি। তাদের ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। তারা জাহান্নামের আগুনে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তাঁর রাসূলও; আর আল্লাহ তাদের থেকে বিমুখ। সুতরাং তোমরা যখন তাদের দেখা পাবে, তখন তাদের কাছে যেও না।" আল-লালকাঈ 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেন, আমাদেরকে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাহল সংবাদ দিয়েছেন, আমাদেরকে আহমদ ইবনে সুলাইমান সংবাদ দিয়েছেন, আমাদেরকে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আলী ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে আরাফাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুশাইম ইবনে বাশির বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট খালিদ আল-হাজ্জা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আল-আরুবানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়।" আবু আল-আরুবান হলেন মারওয়ান ইবনে আবি মারওয়ান। 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে আস-সুলায়মানি বলেছেন তাঁর ব্যাপারে আপত্তি আছে। আর 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলা হয়েছে তিনি অপরিচিত। আল-লালকাঈ বলেন, আমাদেরকে শাইখ আবু হামিদ আহমদ ইবনে আবি তাহির আল-ফকিহ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদেরকে উমর ইবনে আহমদ আল-ওয়ায়িজ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-কাসিম ইবনুল আব্বাস আশ-শায়বানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নয়জন সাহাবীকে পেয়েছি যারা বলতেন, যে ব্যক্তি বলবে কুরআন সৃষ্টি, সে কাফির।"এবং উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমি 'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেন, আমি ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হানজালিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বলেছেন যে আমর ইবনে দিনার বলেন: "আমি সত্তর বছর যাবত নবীর সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের লোকদের পেয়েছি, তারা বলতেন: আল্লাহ হলেন স্রষ্টা এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু সৃষ্টি, আর কুরআন আল্লাহর কালাম, যা তাঁর থেকেই নির্গত হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।" এটি এবং এর পূর্ববর্তী বর্ণনাটি সহীহ।ইমাম বুখারি 'খালকু আফআলিল ইবাদ' গ্রন্থে বলেন, আমার নিকট হাকীম ইবনে মুহাম্মদ আত-তবারি বর্ণনা করেছেন—আমি মক্কায় তাঁর নিকট থেকে লিখে নিয়েছি।তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি সত্তর বছর ধরে আমাদের শাইখদের পেয়েছি, যাঁদের মধ্যে আমর ইবনে দিনারও ছিলেন; তিনি বলেন: আমি সত্তর বছর যাবত নবীর সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের লোকদের পেয়েছি, তারা বলতেন: আল্লাহ হলেন স্রষ্টা এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু সৃষ্টি..."
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مَخْلُوق وَالْقُرْآن كَلَام الله مِنْهُ خرج وَإِلَيْهِ يعود هَذَا وَالَّذِي قبله صَحِيحَانِ وَقَالَ الْحَاكِم فِي التَّارِيخ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْن جَعْفَر حَدَّثَنَا لَيْث بْن مُحَمَّد بْن لَيْث الْمَرْوَزِيّ أَبُو نصر الْمكَاتب حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن الْعَبَّاس بْن سهل بْن عُبَيْدَة حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيل بْن عَبْد الله حَدَّثَنَا أَبُو غانِم يُونُس بْن نَافِع حَدَّثَنَا هِلَال الْوزان عَن يزِيد بْن حسان عَن ربيعَة الْحَرَشِي عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُول الله: الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ وَسَائِرُ الأَشْيَاءِ خلقه إِسْمَاعِيلُ مَتْرُوكٌ وَقَالَ الديلمي أَنْبَأنَا عَبْد الرَّحِيم الصيدلاني الرَّازِيّ إِذْنا أَنْبَأنَا أَبُو طَاهِر مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن حمدَان حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاس الْبَصِير حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر عَبْد الرَّحْمَن بْن مُحَمَّد بْن علوِيَّة القَاضِي الْأَبْهَرِيّ بخاري حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن عقيل الْبَلْخِي بِهَا حَدَّثَنَا الْعَبَّاس الدوري عَن يزِيد بْن هَارُون عَن حميد عَن أنس رَفعه قُرْآنًا عَرَبيا غير ذِي عوج قَالَ غير مَخْلُوق.وَقَالَ الْخَطِيب أَخْبرنِي القينقي أَنْبَأنَا مُحَمَّد بْن الْعَبَّاس أَنْبَأنَا أَبُو أَيُّوب سُلَيْمَان بْن إِسْحَاق الحلاب قَالَ سُئِلَ إِبْرَاهِيم الْحَرْبِيّ عَن حَدِيث مُوسَى بْن إِبْرَاهِيم عَن ابْن لَهِيعَة عَن أَبِي الزبير عَن جَابِرٍ عَن النَّبِي: مَنْ قَالَ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ فَقَدْ كفر، فَقَالَ مُوسَى هَذَا كَانَ صَاحب شرطة قنطرة السماكين ثُمَّ ترك الشّرطِيَّة فجَاء إِلَى مَسْجِد الْجَامِع فَقعدَ مَعَ قوم يدعونَ ثُمَّ جَاءَ بِكِتَاب مَعَه يقْرَأ فِيهِ فِي مَسْجِد الْجَامِع فجَاء أَصْحَاب الحَدِيث فَقَالُوا لَهُ أمل علينا فأملى عَلَيْهِم عَن ابْن لَهِيعَة وَغَيره شَيْئا لَم يسمعهُ قطّ ولَمْ يسمع قطّ هُوَ حَدِيثا لَا أَدْرِي أَي شَيْء قصَّة ذَلِكَ الْكتاب اشْتَرَاهُ أَو استعاره أَو وجده وَقَالَ الديلمي أَنْبَأنَا أَبِي أَنْبَأنَا أَبُو طَالب الْحُسَيْنِي حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر أَحْمَد بْن عَبْد الله الْأَيْلِي حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن عَبْد الْوَهَّاب الحديثي حَدَّثَنَا عُبَيْد اللَّه بْن إِسْحَاق حَدَّثَنَا الْحُسَيْن بْن أَبِي زَائِدَة حَدَّثَنَا صالِح بْن قطن الْبُخَاريّ عَن أَبِي عَبْد الله بْن عقبَة عَن دراج بْن السَّمْح عَن أَبِي الْهَيْثَم عَن أَبِي الدَّرْدَاءِ رَفَعَهُ، مَنْ قَالَ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ فَهُوَ كَافِرٌ يَلْقَانِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ لَا يَعْرِفُنِي وَالله أعلم.(الْخَطِيب) أَخْبرنِي الْحَسَن بْن أَبِي طَالب حَدَّثَنَا يُوسُف بْن عُمَرَ القواس قَالَ قرئَ عَلَى صَدَقَة بْن هُبَيْرَة وَأَنا أسمع قِيلَ لَهُ حَدثَك يُوسُف بْن يَعْقُوب الْمعدل حَدَّثَنَا حَفْص بْن إِبْرَاهِيم حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن الْعَلَاء الإسْكَنْدراني عَن بَقِيَّة بْن الْوَلِيد عَن ثَوْر بْن يزِيد عَن أم الدَّرْدَاء عَن أَبِي الدَّرْدَاء مَرْفُوعًا: مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَقُولُ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ لَقِيَ اللَّهَ عز وجل يَوْم الْقِيَامَة وَوَجْهُهُ إِلَى قَفَاهُ.قَالَ الْخَطِيب يُوسُفُ وَحَفْصٌ
সৃষ্টি নয়, বরং কুরআন আল্লাহর বাণী; তাঁর থেকেই এটি নির্গত হয়েছে এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। এটি এবং এর পূর্ববর্তী বর্ণনাটি সহীহ। আল-হাকিম তার ইতিহাসে বলেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট লাইস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে লাইস আল-মারওয়াযী আবু নাসর আল-মুকাতিব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে সাহল ইবনে উবায়দাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু গানিম ইউনুস ইবনে নাফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিলাল আল-ওয়াযযান বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হাসান থেকে, তিনি রবিআ আল-হারাশী থেকে, তিনি মুয়ায ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "কুরআন আল্লাহর বাণী এবং অবশিষ্ট সকল বস্তু তাঁর সৃষ্টি।" ইসমাইল পরিত্যক্ত। আদ-দায়লামি বলেছেন, আমাদের অনুমতি ক্রমে আব্দুর রহিম আস-সাইদালানি আর-রাজি সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে হামদান সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আবু আব্বাস আল-বাসির বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলুবিয়াহ আল-কাদি আল-আভহারী বুখারী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আকিল আল-বালখী সেখানে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্বাস আদ-দাওরি বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "আরবি কুরআন, যাতে কোনো বক্রতা নেই" - তিনি বলেন, এর অর্থ হলো এটি সৃষ্টি নয়।আল-খাতিব বলেছেন, আমাকে কায়নাকি সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবনে ইসহাক আল-হাল্লাব সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম আল-হারবিকে মুসা ইবনে ইব্রাহিম কর্তৃক ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে নবিজির সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "যে ব্যক্তি বলে কুরআন সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কুফরি করল।" তখন ইব্রাহিম বললেন, এই মুসা তো ছিল কান্তারাতুস সামমাকীন-এর পুলিশ কর্মকর্তা, এরপর সে পুলিশি পেশা ছেড়ে দিয়ে জামে মসজিদে এসে একদল লোকের সাথে বসত যারা দোয়া করত। এরপর সে নিজের সাথে একটি কিতাব নিয়ে আসত যা সে জামে মসজিদে পাঠ করত। তখন হাদিস অন্বেষণকারীরা এসে তাকে বলল: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করুন। তখন সে তাদের নিকট ইবনে লাহিয়াহ ও অন্যদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা করল যা সে কখনো শোনেনি এবং সে নিজেও কখনো কোনো হাদিস শোনেনি। আমি জানি না সেই কিতাবটির রহস্য কী, সে কি তা কিনেছিল, নাকি ধার নিয়েছিল, নাকি কোথাও কুড়িয়ে পেয়েছিল। আদ-দায়লামি বলেন, আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের আবু তালিব আল-হুসাইনি সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আবু বকর আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আইলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-হাদিসী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হুসাইন ইবনে আবি যায়িদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সালিহ ইবনে কুতন আল-বুখারী বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি দাররাজ ইবনে সামহ থেকে, তিনি আবু হাইসাম থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে কুরআন সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাফির; কিয়ামতের দিন সে আমার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে সে আমাকে চিনবে না।" আল্লাহই ভালো জানেন।(আল-খাতিব বলেন) আমাকে হাসান ইবনে আবি তালিব সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট ইউসুফ ইবনে উমর আল-কাওয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাদাকাহ ইবনে হুবাইরাহ’র সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি শুনছিলাম, তাকে বলা হলো যে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-মুয়াদ্দিল কি আপনার নিকট বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন আমাদের নিকট হাফস ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে আলা আল-ইস্কান্দারানি বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ থেকে, তিনি সাওর ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মারা যাবে যে সে বলে কুরআন সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার মুখমণ্ডল তার ঘাড়ের দিকে ফিরে থাকবে।"আল-খাতিব বলেন: ইউসুফ এবং হাফস...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَإِبْرَاهِيمُ لَا يُعْرَفُونَ، وَثَوْرٌ لَمْ يُدْرِكْ أُمَّ الدَّرْدَاءِ.(ابْن عدي) حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن ذكْوَان عَن مولى الحرقة عَن أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا: أِنَّ اللَّهَ عز وجل قَرَأَ طه وَيس قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ آدَمَ بِأَلْفِ عَامٍ، فَلَمَّا سَمِعَتِ الْمَلائِكَةُ الْقُرْآنَ قَالُوا طُوبَى لأُمَّةٍ نَزَلَ هَذَا عَلَيْهِمْ وَطُوبَى لأَجْوَافٍ تَحْمِلُ هَذَا وَطُوبَى لأَنْفُسٍ تَتَكَلَّمُ بِهَذَا.مَوْضُوع: كَمَا قَالَ ابْن حبَان وَإِبْرَاهِيم بْن المُهَاجر مُنكر الحَدِيث مَتْرُوك (قلتُ) وَقد وَثَّقَهُ ابْن معِين والْحَدِيث أَخْرَجَهُ الدَّارمِيّ فِي مُسْنده وَابْن أَبِي عَاصِم فِي السّنة وَابْن خُزَيْمَة فِي التَّوْحِيد وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإيِمَان واللالكائي فِي السّنة وَأَبُو نصر السجْزِي فِي الْإِبَانَة وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي أَطْرَاف الْعشْرَة: زعم ابْن حبَان وَتَبعهُ ابْن الْجَوْزِيّ أَن هَذَا الْمَتْن مَوْضُوع وَلَيْسَ كَمَا قَالَا فَإِن مولى الحرقة هُوَ عَبْد الرَّحْمَن بْن يَعْقُوب من رجال مُسْلِم والراوي عَنْهُ وَإِن كَانَ متروكًا عِنْدَ الْأَكْثَر ضَعِيفا عِنْدَ الْبَعْض فَلم ينْسب للوضع والراوي عَنْهُ لَا بَأْس بِهِ وَإِبْرَاهِيم بْن الْمُنْذر من شُيُوخ الْبُخَاريّ وَقد أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَقَالَ لَا يروي عَن النَّبِي إِلَّا بِهذا الْإِسْنَاد تفرد بِهِ إِبْرَاهِيم بْن الْمُنْذر، انْتهى.وَله طَرِيق آخر عَن أنس أَخْرَجَهُ الديلمي وَالله أعلم (ابْن عدي) حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن عَليّ الْعمريّ حَدَّثَنَا عَبْد الْغفار بْن عَبْد الله بْن الزبير حَدَّثَنَا الْعَبَّاس بْن الْفضل حَدَّثَنَا جَعْفَر بْن الزبير عَن الْقَاسِم عَن أَبِي أُمَامَةَ مَرْفُوعًا: أِنَّ كَلامَ الَّذِينَ حَوْلَ الْعَرْشِ بِالْفَارِسِيَّةِ وَأِنَّ اللَّهَ إِذَا أَوْحَى أَمْرًا فِيهِ يُسْرٌ أَوْحَاهُ بِالْفَارِسِيَّةِ وإِذَا أَوْحَى أَمْرًا فِيهِ شِدَّةٌ أَوْحَاهُ بِالْعَرَبِيَّةِ.مَوْضُوع: جَعْفَر بْن الزبير مَتْرُوك كذبه شُعْبَة وَقَالَ إِنَّه وضع أَرْبَعمِائَة حَدِيث كذب (ابْن عدي) حَدَّثَنَا عمر لَهُ أَن بن مُوسَى حَدَّثَنَا مُوسَى بن السندي حَدَّثَنَا عُثْمَان بْن عَبْد الرَّحْمَن الطرايفي حَدَّثَنَا عُمَرَ بن مُوسَى بْن دحْيَة عَن الْقَاسِم عَن أَبِي أُمَامَةَ مَرْفُوعًا: إِنَّ اللَّهَ إِذَا غَضِبَ أَنْزَلَ الْوَحْيَ بِالْعَرَبِيَّةِ وَإِذا رَضِي أنزل الْوَحْي
এবং ইব্রাহিম পরিচিত নন, এবং সাওরি উম্মুদ দারদাকে পাননি।(ইবনে আদি) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে জাকওয়ান, তিনি মাওলা আল-হুরকাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল আদমকে সৃষ্টির এক হাজার বছর আগে ত্ব-হা এবং ইয়া-সীন পাঠ করেছেন। যখন ফেরেশতারা কুরআন শুনতে পেলেন, তারা বললেন, ধন্য সেই উম্মত যাদের ওপর এটি নাযিল হবে, ধন্য সেই অন্তরসমূহ যা এটি ধারণ করবে এবং ধন্য সেই ব্যক্তিবর্গ যারা এটি পাঠ করবে।জাল: যেমনটি ইবনে হিব্বান বলেছেন এবং ইব্রাহিম ইবনুল মুহাজির মুনকারুল হাদিস ও পরিত্যক্ত। (আমি বলছি) ইবনে মঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। হাদিসটি দারেমি তার মুসনাদে, ইবনে আবি আসিম আস-সুন্নাহ গ্রন্থে, ইবনে খুযাইমা আত-তাওহীদ গ্রন্থে, বায়হাকি শুয়াবুল ইমানে, লালকায়ী আস-সুন্নাহ গ্রন্থে এবং আবু নাসর আস-সিজজি আল-ইবানাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার 'আতরাফুল আশারা' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে হিব্বান দাবি করেছেন এবং ইবনুল জাওজি তার অনুসরণ করেছেন যে এই মতনটি জাল। কিন্তু বিষয়টি তাদের বর্ণনার মতো নয়। কারণ মাওলা আল-হুরকাহ হলেন আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াকুব, যিনি ইমাম মুসলিমের রাবিদের অন্তর্ভুক্ত। আর তার থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তি যদিও অধিকাংশের নিকট পরিত্যক্ত এবং কারো কারো নিকট দুর্বল, তবুও তিনি জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত নন। আর তার থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তির বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই। ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির ইমাম বুখারির শিক্ষকদের একজন। তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে এবং ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির এটি বর্ণনায় একক হয়েছেন। সমাপ্ত।আনাস থেকে এর আরেকটি সূত্র রয়েছে যা দাইলামি বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (ইবনে আদি) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-উমরি, তিনি আব্দুল গাফফার ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর থেকে, তিনি আব্বাস ইবনুল ফজল থেকে, তিনি জাফর ইবনুল জুবাইর থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে মারফু সূত্রে: নিশ্চয়ই আরশের চারপাশের অধিবাসীদের কথা পারস্য ভাষায় এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন সহজ কোনো বিষয়ে ওহী পাঠান তখন তা পারস্য ভাষায় পাঠান, আর যখন কঠিন কোনো বিষয়ে ওহী পাঠান তখন তা আরবি ভাষায় পাঠান।জাল: জাফর ইবনুল জুবাইর পরিত্যক্ত, শু'বাহ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং বলেছেন যে সে চারশ জাল হাদিস তৈরি করেছে। (ইবনে আদি) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে মুসা, তিনি মুসা ইবনুস সিন্দি থেকে, তিনি ওসমান ইবনে আব্দুর রহমান আত-তারাইফি থেকে, তিনি উমর ইবনে মুসা ইবনে দাহইয়াহ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে মারফু সূত্রে: নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন রাগান্বিত হন তখন আরবিতে ওহী নাযিল করেন এবং যখন সন্তুষ্ট হন তখন ওহী নাযিল করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بِالْفَارِسِيَّةِ قَالَ ابْن حبَان: هَذَا الحَدِيث بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ عُمَرَ بن مُوسَى بْن دحْيَة وَضاع (أَخْبرنِي) عَن مُحَمَّد بْن الْحُسَيْن بْن فَنْجَوَيْهِ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِبْرَاهِيم حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أَحْمَد التَّمِيمِي حَدَّثَنَا أَبُو عصمَة عَاصِم بْن عُبَيْد الله الْبَلْخِي حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيل بْن زِيَاد عَن غَالب الْقطَّان عَن المَقْبُري عَن أَبِي هُرَيْرَةَ رَفَعَهُ أَبْغَضُ الْكَلامِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى بِالْفَارِسِيَّةِ وَكَلامُ الشَّيْطَانِ الْخُوزِيَّةُ وَكَلامُ أَهْلِ النَّارِ الْبُخَارِيَّةُ وَكَلامُ أَهْلِ الْجَنَّةِ الْعَرَبِيَّةُ قَالَ ابْن حبَان وَضَعَهُ إِسْمَاعِيلُ شَيْخٌ دَجَّالٌ لَا يحل ذكره فِي الْكتب إِلَّا عَلَى سَبِيل الْقدح فِيهِ رَوَاهُ عَن عَاصِم بْن عَبْد الله الْبَلْخِي وَهُوَ مَوْضُوع لَا أصلَ لَهُ من كَلَام رَسُول الله وَلَا حَدَّث بِهِ أَبُو هُرَيْرَةَ وَلَا المَقْبُري وَلَا غَالب.(ابْن عدي) حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن الزبير حَدَّثَنَا الْعَبَّاس بْن الْفضل الْأنْصَارِيّ عَن سُلَيْمَان بْن الأرقم عَن الزُّهْرِيّ عَن سَعِيد بْن الْمسيب عَن أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ من وَحي قَطُّ عَلَى نَبِيٍّ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ إِلا بِالْعَرَبِيَّةِ ثُمَّ يَكُونُ هُوَ يُبَلِّغُهُ قَوْمَهُ بِلِسَانِهِمْ لَا يَصِحُّ، وَسليمَان بْن الأرقم مَتْرُوك لَيْسَ بِشَيْء (قلت) قَالَ الشَّيْخ بدر الدَّين الزَّرْكَشِيّ فِي نكته عَلَى ابْن الصّلاح بَين قَوْلنَا لَم يَصح وَقَوْلنَا مَوْضُوع بَوْن كَبِير فَإِن الْوَضع إِثْبَات الْكَذِب والاختلاق، وَقَوْلنَا لَم يَصح لَا يلْزم مِنْهُ إِثْبَات الْعَدَم وإنّما هُوَ إِخْبَار عَن عدم الثُّبُوت وَفرق بَين الْأَمريْنِ؛ انْتهى.وَسليمَان بْن أَرقم أخرج لَهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَهُوَ وَإِن كَانَ متروكًا فَلم يُتهم بكذب وَلَا وضع والْحَدِيث أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَله شَاهد قَال ابْن مرْدَوَيْه فِي التَّفْسِير حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن الْحَسَن الثَّقَفِيّ حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى عَبْد الرَّحْمَن بْن مُحَمَّد بْن سلب حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر بْن عَيَّاش عَن الْكَلْبِيّ عَن أَبِي صالِح عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ جِبْرِيلُ عليه السلام يُوحَى إِلَيْهِ بِالْعَرَبِيَّةِ وَيَنْزِلُ هُوَ إِلَى كُلِّ نَبِيٍّ بِلِسَانِ قَوْمِهِ.وَقَالَ ابْن أَبِي حَاتِم فِي التَّفْسِير أَنْبَأنَا عَن سُفْيَان الثَّوْريّ قَالَ: لَم ينزل وَحي إِلَّا بِالْعَرَبِيَّةِ ثُمَّ يترجم كل نَبِي لِقَوْمِهِ بلسانِهم وَالله سُبْحَانَهُ أعلم (ابْن شاهين) حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن مُحَمَّد الْبَصْرِيّ أَنْبَأنَا مَالك بْن يَحْيَى أَبُو غَسَّان حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن عَاصِم عَن الْفضل بْن عِيسَى الرقاشِي عَن مُحَمَّد بْن الْمُنْكَدر عَن جَابِر بْن عَبْد الله قَالَ: قَالَ
ফারসি ভাষা প্রসঙ্গে ইবন হিব্বান বলেছেন: এই হাদিসটি ভিত্তিহীন ও বাতিল। উমর ইবন মুসা ইবন দিহইয়াহ একজন হাদিস জালিয়াত। (আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে) মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবন ফাঞ্জাওয়াইহ থেকে, তিনি বলেন—আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—মুহাম্মদ ইবন আহমাদ আত-তামিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আবু ইসমাহ আসিম ইবন উবায়দুল্লাহ আল-বালখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—ইসমাইল ইবন জিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন গালিব আল-কাত্তান থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত কথা হলো ফারসি ভাষা, আর শয়তানের ভাষা হলো খুজিয়া, জাহান্নামীদের ভাষা হলো বুখারিয়া এবং জান্নাতীদের ভাষা হলো আরবি।" ইবন হিব্বান বলেছেন: এটি ইসমাইল নামক এক দাজ্জাল শায়খ জাল করেছে। তার নিন্দা করা ছাড়া কিতাবসমূহে তার উল্লেখ করা বৈধ নয়। তিনি এটি আসিম ইবন আব্দুল্লাহ আল-বালখি থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি জাল (মাওজু) হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর সাথে এর কোনো ভিত্তি নেই। আবু হুরায়রা, মাকবুরি বা গালিব—কেউই এটি বর্ণনা করেননি।(ইবন আদি) ইব্রাহিম ইবনুল জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আব্বাস ইবনুল ফাদল আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন আরকাম থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "যাঁর হাতে (আল্লাহর হাতে) আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আল্লাহ তাআলা কোনো নবীর ওপর কোনো ওহিই আরবি ব্যতীত নাজিল করেননি; অতঃপর নবী নিজেই তা স্বজাতির নিকট তাঁদের ভাষায় পৌঁছে দিতেন।" এটি সহিহ নয়; আর সুলাইমান ইবন আরকাম পরিত্যক্ত (মাতরুক), তিনি নির্ভরযোগ্য কিছু নন। (আমি বলছি) শায়খ বদরুদ্দিন আয-যারকাশি ইবনুস সালাহ-এর ওপর তাঁর 'নুকাআত' (টীকা) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের 'এটি সহিহ নয়' বলা এবং 'এটি জাল' বলার মধ্যে অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে। কারণ 'জাল' বলা হলো মিথ্যা ও কারসাজি সাব্যস্ত করা। আর আমাদের 'এটি সহিহ নয়' বলা থেকে এটি সাব্যস্ত হওয়া জরুরি নয় যে তার কোনো অস্তিত্বই নেই; বরং এটি কেবল সাব্যস্ত না হওয়ার সংবাদ দেয়। এই দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; (যারকাশির বক্তব্য সমাপ্ত)।সুলাইমান ইবন আরকাম থেকে আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিজি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক) হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যারোপ বা হাদিস জালের অভিযোগ ওঠেনি। হাদিসটি তাবারানি তাঁর 'আল-অওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর একটি সমর্থক (শাহেদ) বর্ণনা রয়েছে। ইবন মারদুওয়াইহ তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবনুল হাসান আস-সাকাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আবু ইয়াহইয়া আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আবু বকর ইবন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কালবি থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি আরবি ভাষায় ওহি অবতীর্ণ হতো, অতঃপর তিনি প্রত্যেক নবীর নিকট তাঁদের স্বজাতির ভাষায় তা নিয়ে অবতরণ করতেন।"ইবন আবি হাতিম তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন: সুফিয়ান সাওরি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, তিনি বলেন: "আরবি ভাষা ব্যতীত কোনো ওহি অবতীর্ণ হয়নি, অতঃপর প্রত্যেক নবী তাঁর স্বজাতির নিকট তাঁদের ভাষায় তা অনুবাদ করে দিতেন।" আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সর্বাধিক অবগত। (ইবন শাহিন) আলী ইবন মুহাম্মদ আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—মালিক ইবন ইয়াহইয়া আবু গাসসান আমাদের নিকট জানিয়েছেন, তিনি বলেন—আলী ইবন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাদল ইবন ঈসা আর-রাকাশি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⏎
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رَسُول الله لَمّا كلم الله مُوسَى يَوْم الطّور كَلمه بِغَيْر الْكَلَام الَّذِي كَلمه يَوْم ناداهُ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى يَا رب مَا هَذَا كلامك الَّذِي كَلَّمتنِي بِهِ، قَالَ يَا مُوسَى إنّما كلمتك بِقُوَّة عشر آلَاف لِسَان ولي قُوَّة الألسن كلهَا وَأَنا أقوى من ذَلِكَ فلمّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى بني إِسْرَائِيل قَالُوا يَا مُوسَى صف لنا كَلَام الرَّحْمَن قَالَ سُبْحَانَ الله الْآن لَا أستطيعه قَالُوا فَشبه لنا قَالَ ألم تروا إِلَى صَوت الصَّوَاعِق الَّتِي تقتل فَإِنَّهُ قريب مِنْهُ وَلَيْسَ بِهِ لبس بِصَحِيح وَالْفضل مَتْرُوك (قلتُ) فِي الحكم بِوَضْعِهِ نظر، فَإِن الْفضل لَمْ يتهم بكذب وَأكْثر مَا عيب عَلَيْهِ الندرة وَهُوَ من رجال ابْن مَاجَه وَهَذَا الحَدِيث أَخْرَجَهُ الْبَزَّار فِي مُسْنده حَدَّثَنَا سُلَيْمَان بْن مُوسَى حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن عَاصِم بِهِ وَأخرجه فِي كتاب الْأَسْمَاء وَالصِّفَات، وَهُوَ قد الْتزم أَن لَا يخرج فِي كِتَابه حَدِيثا يعلمُ أَنَّهُ مَوْضُوع، وَأخرجه ابْن أَبِي حاتِم فِي تَفْسِيره، وَقد الْتزم أَن يخرج فِيهِ أصح مَا ورد ولَمْ يخرج حَدِيثا مَوْضُوعا الْبَتَّةَ - وَأخرجه أَبُو نُعَيْم فِي الْحِلْية وَله شَاهد عَن كَعْب مَوْقُوفا أَخْرَجَهُ عَبْد الرَّزَّاق وَابْن جرير وَابْن الْمُنْذر وَابْن أَبِي حاتِم فِي تفاسيرهم والحكيم التِّرْمِذِيّ فِي نَوَادِر الْأُصُول وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ولبعضه شَاهد عَن مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ مَوْقُوفا أخرجه ابْن جرير وَابْن الْمُنْذر وَأخرجه عَن أبي الْحُوَيْرِث عبد الرَّحْمَن بن مُعَاوِيَة مَوْقُوفا وَأخرجه بن الْمُنْذر وَابْن أَبِي حاتِم وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك وَصَححهُ وَالله أعلم.(ابْن حبَان) حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن إِبْرَاهِيم، حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن سُلَيْمَان بْن عميرَة، حَدَّثَنَا بَكْر بْن زِيَاد الْبَاهِلِيّ حَدَّثَنَا ابْن الْمُبَارك عَن سَعِيد بْن أَبِي عرُوبَة عَن قَتَادَة عَن زُرَارَة بْن أوفى عَن أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا: لَمَّا أُسْرِيَ بِي إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ مَرَّ بِي جِبْرِيلُ بِقَبْرِ أَبِي إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ انْزِلْ فَصَلِّ هُنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ مَرَّ بِي بِبَيْتِ لَحْمٍ فَقَالَ انْزِلْ فَصَلِّ هُنَا رَكْعَتَيْنِ فَإِن هَهُنَا وُلِدَ أَخُوكَ عِيسَى، ثُمَّ أَتَى بِي إِلَى الصَّخْرَةِ فَقَالَ يَا مُحَمَّد من هَهُنَا عُرِجَ ربِكَ إِلَى السَّمَاءِ فَأَلْهَمَنِي اللَّهُ أَنْ قُلْتُ نَحْنُ بِمَوْضِعٍ عُرِجَ مِنْهُ ربِي فَصَلَّيْتُ ثُمَّ عُرِجَ بِي إِلَى السَّمَاءِ وَذكر كلَاما طَويلا، قَالَ ابْن حبَان: بَكْرُ دَجَّالٌ يَضَعُ الْحَدِيثَ وَهَذَا شَيْء لَا يشك عوام أَصْحَاب الحَدِيث أَنَّهُ مَوْضُوع فَكيف البزل فِي هَذَا الشَّأْن: (قلتُ) قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان صدق ابْن حبَان وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي اللِّسَان الْمَوْضُوع مِنْهُ من قَوْله ثُمَّ أَتَى بِي إِلَى الصَّخْرَة وَأما بَاقِيه فقد أَتَى من طرق أخر مِنْهَا الصَّلَاة فِي بَيت لَحم وَردت فِي حَدِيث شَدَّاد
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ যখন তূর পর্বতের দিন মূসার সাথে কথা বললেন, তিনি তাঁর সাথে সেই কথার মাধ্যমে কথা বলেননি যার মাধ্যমে সেদিন কথা বলেছিলেন যেদিন তাঁকে ডেকেছিলেন। মূসা (আ.) তাঁকে বললেন, হে রব! আপনার এই কথা কেমন যার মাধ্যমে আপনি আমার সাথে কথা বললেন? তিনি বললেন, হে মূসা! আমি তোমার সাথে দশ হাজার জিহ্বার শক্তিতে কথা বলেছি, আর সমস্ত জিহ্বার শক্তি আমারই আছে এবং আমি তার চেয়েও শক্তিশালী। অতঃপর মূসা যখন বনী ইসরাঈলের কাছে ফিরে আসলেন, তারা বলল, হে মূসা! আমাদের কাছে রহমানের কথার বর্ণনা দাও। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! এখন আমি তা বর্ণনা করতে সক্ষম নই। তারা বলল, তবে আমাদের জন্য একটি তুলনা দাও। তিনি বললেন, তোমরা কি সেই বজ্রধ্বনি দেখনি যা (মানুষকে) মেরে ফেলে? তাঁর কথা তার কাছাকাছি ছিল। এটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই, তবে ফযল (বর্ণনাকারী) পরিত্যক্ত। (আমি বলছি) একে জাল বলার হুকুমের ব্যাপারে আপত্তির অবকাশ আছে। কারণ ফযল মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হননি। তার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি যে সমালোচনা করা হয়েছে তা হলো তিনি বিরল বর্ণনা করতেন। তিনি ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদীসটি বাযযার তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন; সুলায়মান ইবনে মূসা আমাদের কাছে আলী ইবনে আসেমের সূত্রে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি কিতাবুল আসমা ওয়াস সিফাত-এও বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি তাঁর কিতাবে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করবেন না যা তিনি জাল হিসেবে জানেন। ইবনে আবী হাতিম তাঁর তাফসীরে এটি বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি এতে সর্বাধিক সহীহ বর্ণনাগুলো আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং একেবারেই কোনো জাল হাদীস এতে আনেননি। আবু নুআঈম হিলইইয়া গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। কাব (রা.) থেকে মাউকুফ হিসেবে এর একটি শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে যা আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম তাদের তাফসীর গ্রন্থে এবং হাকীম তিরমিযী নাওয়াদীরুল উসূল-এ ও বায়হাকী আসমা ওয়াস সিফাত-এ বর্ণনা করেছেন। এর কিছু অংশের একটি শাহেদ মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী থেকে মাউকুফ হিসেবে রয়েছে যা ইবনে জারীর এবং ইবনে মুনযির বর্ণনা করেছেন। আর এটি আবুল হুয়াইরিস আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া থেকে মাউকুফ হিসেবে ইবনে মুনযির, ইবনে আবী হাতিম এবং হাকীম মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ও একে সহীহ বলেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।(ইবনে হিব্বান) মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহীম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান ইবনে উমায়রা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন বকর ইবনে যিয়াদ আল-বাহিলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবী আরুবা থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি যুরারা ইবনে আওফা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: যখন আমাকে বায়তুল মাকদিসে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন জিবরাঈল আমাকে পিতা ইবরাহীমের কবরের পাশ দিয়ে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! নামুন এবং এখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করুন। অতঃপর তিনি আমাকে বাইতে লাহম (বেথলেহেম) দিয়ে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, নামুন এবং এখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করুন, কারণ এখানেই আপনার ভাই ঈসা জন্মগ্রহণ করেছেন। এরপর তিনি আমাকে একটি পাথরের (সাখরা) কাছে নিয়ে আসলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! এখান থেকেই আপনার রব আসমানে উঠেছেন। তখন আল্লাহ আমাকে ইলহাম করলেন এবং আমি বললাম, আমরা এমন এক স্থানে আছি যেখান থেকে আমার রব উঠেছেন, অতঃপর আমি সালাত আদায় করলাম। এরপর আমাকে আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো... এবং তিনি দীর্ঘ কথা উল্লেখ করলেন। ইবনে হিব্বান বলেন: বকর হলো একজন দাজ্জাল, সে হাদীস জাল করে। হাদীস শাস্ত্রের সাধারণ ছাত্ররাও সন্দেহ করবে না যে এটি জাল, তাহলে এই বিষয়ে পারদর্শীদের অবস্থা কী হবে! (আমি বলছি) যাহাবী মীযান গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে হিব্বান সত্যই বলেছেন। আর হাফেজ ইবনে হাজার লিসান গ্রন্থে বলেছেন: এর মধ্য থেকে 'অতঃপর আমাকে পাথরের কাছে নিয়ে আসলেন'—এই অংশটি জাল। কিন্তু অবশিষ্টাংশ অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে বাইতে লাহমে সালাত আদায়ের বিষয়টি শাদ্দাদের হাদীসে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ابْن أَوْس وَالله أعلم.(ابْن عدي) حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن عَبْد الله الْحَرَّانِي حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن بشر الْكُوفيّ حَدَّثَنَا بشر بن عمَارَة للمكتب عَن أَبِي روق عَن عَطِيَّة عَن أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِي فِي قَوْلِهِ لَا تُدْرِكُهُ قَالَ لَوْ أَنَّ الْجِنَّ وَالإِنْسَ وَالشَّيَاطِينَ وَالْمَلائِكَةَ مُنْذُ خُلِقُوا إِلَى يَوْمِ فَنَائِهِمْ صُفُّوا صَفًّا وَاحِدًا مَا أَحَاطُوا بِاللَّهِ أَبَدًا.لَا يَصِحُّ وَبشر لَا يُتَابع عَلَى مثل هَذَا الحَدِيث وعطية ضَعَّفُوهُ وَكَانَ سَمِعَ من الْخُدْرِيّ ثُمَّ جَالس الْكَلْبِيّ فَصَارَ يكنيه أَبَا سَعِيد فيظن الْخُدْرِيّ.قَالَ الْمُؤلف: وأظن هَذَا الحَدِيث من عمل الْكَلْبِيّ وَكَذَا أَخْرَجَهُ ابْن أَبِي حاتِم وَأَبُو الشَّيْخ وَابْن مرْدَوَيْه فِي تفاسيرهم.وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي تَارِيخه هَذَا حَدِيث مُنْكَر لَا يُعرف إِلَّا ببشر وَهُوَ ضَعِيف.وَقَالَ فِي الْمِيزَان بشر بْن عمَارَة ضعفه النَّسَائِيّ وَمَشاهُ غَيره، وَقَالَ الْبُخَاريّ تعرف وتنكر.وَقَالَ ابْن عدي حَدِيث بشر عِنْدِي إِلَى الاسْتقَامَة أقرب، انْتهى.وَأوردهُ الْعقيلِيّ فِي تَرْجَمته وَقَالَ لَا يُتَابع عَلَيْهِ وَلَا يعرف إِلَّا بِهِ وَالله أعلم.(الْخَطِيب) أَنْبَأنَا القَاضِي أَبُو الْعلَا حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِم عَبْد الله بْن مُحَمَّد بْن اليسع حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن فيل حَدَّثَنَا لوين حَدَّثَنَا سُوَيْد بْن عَبْد الْعَزِيز عَن حميد عَن أَنَسٍ مَرْفُوعًا: لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي إِلَى السَّمَاءِ أُسْرِيتُ فَرَأَيْتُ رَبِّي بَيْنِي وَبَيْنَهُ حِجَابٌ بَارِزٌ مِنْ نَارٍ فَرَأَيْتُ كُلَّ شَيْءٍ مِنْهُ حَتَّى رَأَيْتُ تَاجًا مُخَوَّصًا مِنَ اللُّؤْلُؤِ مَوْضُوعٌ قَالَ أَبُو الْعلَا حَدَّثَنَا ابْن اليسع بِهِ فِي جملَة أَحَادِيث بِهذا الْإِسْنَاد ثُمَّ رَجَعَ عَن جَمِيع النُّسْخَة وَقَالَ وهمتُ إِذْ رويتها عَن ابْن فيل إنّما حدَّثَنِي بِهَا قَاسم بْن إِبْرَاهِيم الْمَلْطِي عَن لوين وقاسم كَذَّاب وَابْن اليسع لَيْسَ بِثِقَة (قلتُ) قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان قَاسم الْمَلْطِي كَذَّاب أَتَى بطامة لَا تُطاق فَقَالَ حَدَّثَنَا لوين فَذكر هَذَا الحَدِيث.وَقَالَ فِي تَرْجَمَة ابْن اليسع قَالَ الْأزْدِيّ لَيْسَ بِحجة وَمِنْهُم من يتهمه وَالله أعلم.(الدَّارَقُطْنِيّ) حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أَبِي بَكْر الْعَطَّار حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن يُوسُف بْن أبي معمر
ইবনে আওস এবং আল্লাহই ভালো জানেন।(ইবনে আদি) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাররানি, তিনি সুফিয়ান ইবনে বিশর আল-কুফি থেকে, তিনি মুকাত্তিব বিশর ইবনে উমারা থেকে, তিনি আবু রওক থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আল্লাহর এই বাণী—'দৃষ্টিসমূহ তাঁকে অর্জন করতে পারে না'—প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, "যদি জিন, মানুষ, শয়তান এবং ফেরেশতারা তাদের সৃষ্টির শুরু থেকে তাদের ধ্বংসের দিন পর্যন্ত এক কাতারে সারিবদ্ধ হয়, তবে তারা কখনোই আল্লাহকে পরিবেষ্টন করতে পারবে না।"এটি সহিহ নয়। বিশরের এই ধরনের হাদিস অনুসরণযোগ্য নয় এবং আতিয়্যাহকে তারা দুর্বল বলেছেন। তিনি খুদরি থেকে শুনেছিলেন, তারপর কালবির সাথে বসেন এবং তাকে 'আবু সাঈদ' উপনামে ডাকতে শুরু করেন, যার ফলে তাকে খুদরি বলে ভ্রম হয়।লেখক বলেন: আমার ধারণা এই হাদিসটি কালবির কাজ। একইভাবে ইবনে আবি হাতিম, আবুশ শায়খ এবং ইবনে মারদুওয়াই তাদের তাফসির গ্রন্থে এটি বের করেছেন।আল-জাহাবি তার 'তারিখ' গ্রন্থে বলেন: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস, যা কেবল বিশরের মাধ্যমেই পরিচিত এবং তিনি দুর্বল।তিনি 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন: বিশর ইবনে উমারাকে নাসায়ি দুর্বল বলেছেন এবং অন্যরা তাকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। বুখারি বলেছেন: তার বর্ণনা কখনো পরিচিত আবার কখনো অপরিচিত।ইবনে আদি বলেন: বিশরের হাদিস আমার কাছে সঠিক হওয়ার কাছাকাছি। (সমাপ্ত)।আল-উকায়লি তার জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এর ওপর অনুসরণ করা হয় না এবং এটি কেবল তার মাধ্যমেই পরিচিত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।(আল-খতিব) আমাদের খবর দিয়েছেন কাজি আবু আল-আলা, তিনি আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ইয়াসা থেকে, তিনি হাসান ইবনে ফীল থেকে, তিনি লুওয়াইন থেকে, তিনি সুয়াইদ ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন: "যে রাতে আমাকে আকাশে পরিভ্রমণ করানো হয়েছিল, তখন আমি আমার রবকে দেখেছি; আমার ও তাঁর মাঝে আগুনের একটি স্পষ্ট পর্দা ছিল। আমি তাঁর সবকিছু দেখেছি, এমনকি মুক্তাখচিত একটি মুকুটও দেখেছি যা রাখা ছিল।" আবু আল-আলা বলেন: ইবনুল ইয়াসা এই সনদে অনেকগুলো হাদিসের মধ্যে এটিও বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি পুরো পাণ্ডুলিপি থেকে ফিরে আসেন এবং বলেন: "আমি যখন এটি ইবনে ফীল থেকে বর্ণনা করেছি তখন ভুল করেছি, বরং কাসিম ইবনে ইব্রাহিম আল-মালতি এটি আমার কাছে লুওয়াইন থেকে বর্ণনা করেছিলেন।" আর কাসিম একজন মিথ্যাবাদী এবং ইবনুল ইয়াসা নির্ভরযোগ্য নন। (আমি বলছি) জাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন: কাসিম আল-মালতি একজন মিথ্যাবাদী, তিনি এক অসহনীয় বিপত্তি নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন, 'লুওয়াইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন', এরপর তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেন।তিনি ইবনুল ইয়াসার জীবনীতে বলেছেন: আল-আজদি বলেছেন যে তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে অভিযুক্ত করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।(আদ-দারাকুতনি) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-আত্তার, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আবু মুয়াম্মার থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
حَدَّثَنَا حبيب بْن أَبِي حبيب حَدَّثَنَا هِشَام بْن سعد وَعبد الْعَزِيز بْن أَبِي حَازِم عَن أَبِي حَازِم عَن سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ مَرْفُوعًا: إِنَّ بَيْنَ اللَّهِ وَبَيْنَ الْخَلْقِ سَبْعِينَ أَلْفَ حِجَابٍ وَأَقْرَبَ الْحُجُبِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى جِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ وَإِسْرَافِيلُ وَإِنَّ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ أَرْبَعَةَ حُجُبٍ حِجَابٌ مِنْ نَارٍ وحجاب من ظلمَة وَحِجَابٌ مِنْ غَمَامِ وَحِجَابٌ مِنَ الْمَاءِ.لَا أَصْلَ لَهُ تفرد بِهِ حبيب وَكَانَ يضع.(الْعقيلِيّ) حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل حَدَّثَنَا مكي بْن إِبْرَاهِيم حَدَّثَنَا مُوسَى بْن عُبَيْدَة عَن عَامر بْن الحكم بْن ثَوْبَان عَن عَبْد الله بْن عَمْرو بْن الْعَاصِ عَن أَبِي حَازِم عَن سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ مَرْفُوعًا: دُونَ اللَّهِ تَعَالَى سَبْعُونَ أَلْفَ حِجَابٍ مِنْ نُورٍ وَمَا تَسْمَعُ نَفْسٌ شَيْئًا مِنْ حُسْنِ تِلْكَ الْحُجُبِ إِلا زَهَقَتْ نَفْسُهَا.لَا أَصْلَ لَهُ مُوسَى لَيْسَ بِشَيْء وعامر ذَاهِب الحَدِيث (قلتُ) أما قَوْله فِي الحَدِيث الأول تفرد بِهِ حبيب بْن أَبِي حبيب وَكَانَ يضعُ فَوَهم مِنْهُ، فَإِن الحَدِيث أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيّ فِي الْأَفْرَاد كَمَا أوردهُ المُصَنّف من طَرِيقه قَوْله وَقد تفرد بِهِ حبيب بْن أَبِي حبيب هَذَا غير حبيب بْن أَبِي حبيب ذَاك بِصِيغَة التَّكْبِير وَأَبوهُ بِصِيغَة الكنية وَهُوَ الخرططي الْمَرْوَزِيّ كَانَ يضعُ الحَدِيث وَالَّذِي فِي هَذَا الْإِسْنَاد حبيب بِالتَّصْغِيرِ ابْن حبيب بِالتَّكْبِيرِ وَهُوَ أَخُو حَمْزَة الزيات.قَالَ فِي الْمِيزَان وهاهُ أَبُو زرْعَة وَتَركه ابْن الْمُبَارك ولَم يتهم بِوَضْع وَأما عَامر بن الحكم ابْن ثَوْبَان فَإِنَّهُ تَابِعِيّ من رجال مُسْلِم، قَالَ الذَّهَبِيّ روى عَن أُسَامَة بْن زيد والكبار صَدُوق لَمْ يخرج لَهُ الْبُخَاريّ، قَالَ وَذكر ابْن الْجَوْزِيّ أَن الْبُخَاريّ قَالَ ذَاهِب الحَدِيث وَكَذَا رَوَاهُ الْعقيلِيّ عَن آدم بْن مُوسَى عَن الْبُخَاريّ، ثُمَّ سَاق لَهُ الْعقيلِيّ حَدِيث دون الله تَعَالَى سَبْعُونَ ألف حجاب والعهدة فِيهِ على مُوسَى بن عُبَيْدَة الربذي فَإِنَّهُ واه، انْتهى.وأمّا مُوسَى بْن عُبَيْدَة فَإِنَّهُ وَإِن كَانَ ضَعِيفا فَلم يتهم بكذب وَلَا وصل حَاله إِلَى أَن يحكم على حَدِيثه بِالْوَضْعِ بل قَالَ فِيهِ ابْن سعد: ثِقَة ينسى وَقَالَ يَعْقُوب بْن شيبَة: صَدُوق ضَعِيف الحَدِيث، وَقد أخرج لَهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَقَالَ زيد بْن الْحباب: أَتَيْنَا قبر مُوسَى بْن عُبَيْدَة فَجعل ريح الْمسك يفوحُ من قَبره وَلَيْسَ بالربذة يَوْمئِذٍ مسك وَلَا عنبر ثُمَّ إِن الحَدِيث أَخْرَجَهُ أَبُو يَعْلَى وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات وَله شَوَاهِد كَثِيرَة تَقْتَضِي أَن لَهُ أصلا.قَالَ أَبُو الشَّيْخ فِي العظمة ذكر حجب رَبنَا تبارك وتعالى فَبَدَأَ بِهذا الحَدِيث ثُمَّ قَالَ بعده حَدثنَا مُحَمَّد بن
আমাদের নিকট হাবীব ইবনে আবি হাবীব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম ইবনে সাদ ও আব্দুল আজিজ ইবনে আবি হাযিম বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং সৃষ্টির মাঝে সত্তর হাজার পর্দা রয়েছে। মহান আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী পর্দাসমূহ হলো জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীল। আর তাদের এবং তাঁর মাঝে চারটি পর্দা রয়েছে: আগুনের পর্দা, অন্ধকারের পর্দা, মেঘের পর্দা এবং পানির পর্দা।এর কোনো ভিত্তি নেই। হাবীব এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদিস জাল করতেন।(আল-উকাইলি) আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মাক্কি ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসা ইবনে উবাইদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আমির ইবনুল হাকাম ইবনে সাওবান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: মহান আল্লাহর সামনে নূরের সত্তর হাজার পর্দা রয়েছে। কোনো আত্মা যদি সেই পর্দার সৌন্দর্যের সামান্য কিছুও শোনে, তবে তার প্রাণ বেরিয়ে যাবে।এর কোনো ভিত্তি নেই। মুসা নির্ভরযোগ্য নন এবং আমির হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য। (আমি বলছি) প্রথম হাদিস সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি—"হাবীব ইবনে আবি হাবীব এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদিস জাল করতেন"—এটি তাঁর ভুল। কারণ হাদিসটি আদ-দারাকুতনি 'আল-আফরাদ'-এ সংকলন করেছেন, যেমনটি গ্রন্থকার তাঁর সূত্র থেকে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথা যে "হাবীব ইবনে আবি হাবীব এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন"—এই হাবীব ইবনে আবি হাবীব সেই ব্যক্তি নন। সেই ব্যক্তির নাম ছিল হাবীব ইবনে আবি হাবীব পূর্ণাক্ষরে (তাকবীর) এবং তাঁর পিতার উপনাম ছিল আবু হাবীব; তিনি ছিলেন আল-খরতিতি আল-মারওয়াযি, যিনি হাদিস জাল করতেন। আর এই সনদে যিনি আছেন তিনি হলেন হাবীব (ক্ষুদ্রার্থবোধক বা তাসগির রূপে) ইবনে হাবীব (পূর্ণাক্ষরে), এবং তিনি হামজা আল-যাইয়াতের ভাই।আল-মিযান গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, আবু যুরআ তাকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনুল মুবারক তাকে পরিত্যাগ করেছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে হাদিস জালের অভিযোগ আনা হয়নি। আর আমির ইবনুল হাকাম ইবনে সাওবান হলেন একজন তাবিঈ এবং মুসলিম-এর রাবীদের অন্তর্ভুক্ত। আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি উসামা ইবনে যায়েদ ও বড় বড় তাবিঈদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সত্যবাদী, তবে আল-বুখারি তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেননি। তিনি আরও বলেন, ইবনুল জাওযি উল্লেখ করেছেন যে আল-বুখারি তাঁকে 'যাহিবুল হাদিস' (পরিত্যক্ত) বলেছেন; একইভাবে আল-উকাইলি আদম ইবনে মুসা থেকে, তিনি বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর আল-উকাইলি সেই হাদিসটি এনেছেন—'আল্লাহর সামনে সত্তর হাজার পর্দা রয়েছে'। এর দায়ভার মুসা ইবনে উবাইদাহ আর-রাবাযির ওপর, কারণ তিনি অত্যন্ত দুর্বল। সমাপ্ত।আর মুসা ইবনে উবাইদাহর বিষয়ে কথা হলো—তিনি দুর্বল হলেও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ নেই এবং তাঁর অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি যে তাঁর হাদিসকে জাল বলা হবে। বরং ইবনে সাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য তবে ভুলে যেতেন। ইয়াকুব ইবনে শাইবা বলেছেন: তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। যায়েদ ইবনুল হুবাব বলেছেন: আমরা মুসা ইবনে উবাইদাহর কবরে আসলাম, তখন তাঁর কবর থেকে মিসকের সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল, অথচ সে সময় রাবাযা অঞ্চলে কোনো মিসক বা আম্বর ছিল না। তদুপরি হাদিসটি আবু ইয়ালা, তাবারানি এবং বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত'-এ বর্ণনা করেছেন। এর অনেকগুলো সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এর ভিত্তি আছে।আবুশ শাইখ 'আল-আজামাহ' গ্রন্থে আমাদের প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তাআলার পর্দাসমূহ উল্লেখ করতে গিয়ে এই হাদিসটি দিয়েই শুরু করেছেন। এরপর তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن دَاوُد بسنديلة حَدَّثَنَا الْحُسَيْن هُوَ ابْن حَفْص عَن أَبِي مُسْلِم (ح) وَحَدَّثَنَا الْوَلِيد حَدَّثَنَا الْحُسَيْن الحناط حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن أَيُّوب عَن أَبِي مُسْلِم عَن الْأَعْمَش عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله لِجِبْرِيلَ: هَلْ تَرَى رَبَّكَ عز وجل؟ قَالَ: إِنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهُ لَسَبْعِينَ حِجَابًا مِنْ نَارٍ أَوْ نُورٍ لَوْ رَأَيْتُ أَدْنَاهَا لاحْتَرَقْتُ أَخْرَجَهُ سمويه فِي فَوَائده وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَقَالَ لَمْ يروه عَن الْأَعْمَش إِلَّا أَبُو مُسْلِم وَهُوَ قَائِدُ الأَعْمَشِ قَالَ أَبُو دَاوُد عِنْدَهُ أَحَادِيثُ مَوْضُوعَةٌ وَذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات وَقَالَ بِهم.حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن مُحَمَّد بْن الْحَسَن حَدَّثَنَا أَبُو حَفْص عُمَرَو بْن عَليّ حَدَّثَنَا الْفضل بْن سُلَيْمَان حَدَّثَنَا أَبُو حَازِم عَن عَمْرو بْن الحكم عَن عبد الله بن عَمْرو وَقَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ دُونَ اللَّهَ عز وجل يَوْم الْقِيَامَة سَبْعِينَ أَلْفَ حِجَابٍ مِنْهَا حِجَابٌ مِنْ مَاءٍ وَحِجَابٌ مِنْ نُورٍ وَحِجَابٌ مِنْ ظُلْمَةٍ.حَدَّثَنَا الْوَلِيد حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيل بْن عَبْد الله حَدَّثَنَا سَعِيد بْن أَبِي مَرْيَم حَدَّثَنَا ابْن أَبِي حَازِم حَدَّثَنَا أَبُو حَازِم عَن عَمْرو بْن الحكم بْن ثَوْبَان عَن عَبْد الله بْن عَمْرو بْن الْعَاصِ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ دُونَ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ سَبْعِينَ أَلْفَ حِجَابٍ إِنَّ مِنْهَا لَحُجُبًا مِنْ ظُلْمَةٍ مَا يَنْفُذُهَا شَيْءٌ وَإِنَّ مِنْهَا لَحُجُبًا مِنْ نُورٍ مَا يَسْتَطِيعُهَا شَيْءٌ وَإِنَّ مِنْهَا لَحُجُبًا مِنْ مَاءٍ لَا يَسْمَعُ حِسَّ ذَلِكَ الْمَاءِ أَحَدٌ إِلا يَرْبِطُ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ هَذِه مُتَابعَة لِموسى بْن عُبَيْدَة فِي حَدِيث ابْن عَمْرو ثُمَّ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيد حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِدْرِيس حَدَّثَنَا أَبُو صالِح حدَّثَنِي يَحْيَى بْن أَيُّوب عَن الْمثنى بْن الصَّباح وَعَن عُمَرَ بْن شُعَيْب عَن أَبِيهِ عَن جدِّه عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ احْتَجَبَ رَبُّنَا تبارك وتعالى عَن جَمِيعِ خَلْقِهِ بِأَرْبَعٍ نَارٍ وَظُلْمَةٍ ثُمَّ بِنُورٍ فَظُلْمَةٍ مِنْ فَوق السَّمَوَات السَّبْعِ وَالْبَحْرُ الأَعْلَى فَوْقَ ذَلِكَ كُلِّهِ تَحْتَ الْعَرْشِ فَهَذِهِ مُتَابعَة ابْن الحكم فِي حَدِيث ابْن عَمْرو.والْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ أَخْرَجَ لَهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَقَالَ فِيهِ أَبُو حاتِم لَيِّنٌ الحَدِيث ثُمَّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن الْعَبَّاس بْن أَيُّوب حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن الْحُسَيْن الدرهمي حَدَّثَنَا مُعْتَمر بْن سُلَيْمَان عَن عَبْد الْجَلِيل عَن أَبِي حَازِم عَن عَبْد الله بْن عَمْرو فِي قَول الله عز وجل {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ وَالْمَلَائِكَة} قَالَ يهبطُ حِين يهْبط وَبَينه وَبَين خلقه سَبْعُونَ ألف حجاب مِنْهَا النُّور وَالْمَاء والظلمة فيصوت ذَلِكَ المَاء والنور والظلمة صَوتا تنخلعُ مِنْهُ الْقُلُوب.عَبْد الْجَلِيل بْن عَطِيَّة الْقَيْسِي وَثَّقَهُ ابْن معِين وَغَيره، وروى لَهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَقَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن يَحْيَى حَدَّثَنَا بنْدَار حَدَّثَنَا عَبْد الرَّحْمَن بْن مهْدي حَدَّثَنَا سُفْيَان عَن عُبَيْد يَعْنِي الْمكتب عَن مُجَاهِد عَن ابْن عُمَرَ قَالَ احتجبَ الله عَن خلقه بِنَار وظلمة وَنور وظلمة، فَهَذِهِ مُتَابعَة من ابْن عُمَرَ لِابْنِ عَمْرو.وَهَذَا الْإِسْنَاد صَحِيح رِجَاله أخرج لَهم الشَّيْخَانِ سوى عُبَيْد فَأخْرج لَهُ مُسْلِم وَالنَّسَائِيّ فَقَط وَقَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَد الْوَلِيد حَدَّثَنَا أَبُو حَازِم حَدَّثَنَا مُوسَى بْن إِسْمَاعِيل حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن أَبِي سارة عَن ثَابت عَن أَنَسٍ أَن رَسُول الله سَأَلَ جِبْرِيل أَي بقاع
ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন দাউদ বি-সানদিলাহ থেকে, তিনি আল-হুসাইন (যিনি ইবনে হাফস) থেকে, তিনি আবু মুসলিম থেকে (হ)। ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হুসাইন আল-হান্নাত থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন আইয়ুব থেকে, তিনি আবু মুসলিম থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরীলকে বললেন: "তুমি কি তোমার মহান ও পরাক্রমশালী রবকে দেখেছ?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার ও তাঁর মাঝে আগুন অথবা নূরের সত্তরটি পর্দা রয়েছে; আমি যদি তার নিকটতমটিও দেখতাম তবে নিশ্চিতভাবে পুড়ে যেতাম।" এটি সামুওয়াইহ তাঁর 'ফাওয়াইদ'-এ এবং তাবারানী তাঁর 'আল-আওসাত'-এ উদ্ধৃত করেছেন। তিনি (তাবারানী) বলেছেন, আবু মুসলিম ব্যতীত আর কেউ এটি আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেননি, এবং তিনি ছিলেন আ'মাশের পথপ্রদর্শক। আবু দাউদ বলেছেন যে তাঁর কাছে কিছু জাল হাদীস রয়েছে, তবে ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বর্ণিত হাদীস গ্রহণ করেছেন।ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাফস উমর বিন আলী থেকে, তিনি আল-ফদল বিন সুলাইমান থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি আমর বিন আল-হাকাম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে সত্তর হাজার পর্দা থাকবে; তার মধ্যে পানির পর্দা, নূরের পর্দা এবং অন্ধকারের পর্দা থাকবে।"ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবু মারয়াম থেকে, তিনি ইবনে আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি আমর বিন আল-হাকাম বিন সাওবান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে সত্তর হাজার পর্দা থাকবে। তার মধ্যে অন্ধকারের এমন কিছু পর্দা আছে যা কোনো কিছুই ভেদ করতে পারে না; নূরের এমন কিছু পর্দা আছে যার মোকাবিলা করার সামর্থ্য কোনো কিছুর নেই; এবং পানির এমন কিছু পর্দা আছে যে, সেই পানির শব্দ কেউ শুনলে তার অন্তর ফেটে যেত যদি না আল্লাহ তার অন্তরকে সুদৃঢ় রাখতেন।" এটি ইবনে আমরের হাদীসে মুসা বিন উবাইদাহর জন্য একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (মুতাবায়াহ)। অতঃপর তিনি বলেন, ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি আল-মুসান্না বিন আস-সাব্বাহ এবং উমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমাদের বরকতময় ও মহান রব তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে চারটি পর্দা দ্বারা নিজেকে আবৃত রেখেছেন: আগুন ও অন্ধকার, তারপর নূর ও অন্ধকার; যা সাত আসমানের উপরে। আর সুউচ্চ সমুদ্র সেই সবকিছুর উপরে আরশের নিচে অবস্থিত।" এটি ইবনে আমরের হাদীসে ইবনুল হাকামের বর্ণনার একটি সমর্থনকারী বর্ণনা।আল-মুসান্না বিন আস-সাব্বাহ-এর হাদীস আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে তিনি হাদীস বর্ণনায় শিথিল। অতঃপর তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন আইয়ুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী বিন আল-হুসাইন আদ-দিরহামি থেকে, তিনি মুতামির বিন সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুল জলীল থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে আল্লাহর মহান ও পরাক্রমশালী এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন— {তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, আল্লাহ মেঘমালার ছায়ায় ফেরেশতাদের সাথে তাদের কাছে আগমন করবেন?}। তিনি (ইবনে আমর) বলেন: "তিনি যখন অবতরণ করেন তখন অবতরণ করেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে সত্তর হাজার পর্দা থাকে, যার মধ্যে নূর, পানি ও অন্ধকার রয়েছে। সেই পানি, নূর ও অন্ধকারের শব্দে এমন আওয়াজ হয় যাতে অন্তরসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যায়।"আবদুল জলীল বিন আতিয়্যাহ আল-কায়সীকে ইবনে মাঈন ও অন্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু দাউদ ও নাসাঈ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বুন্দার থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি উবাইদ (অর্থাৎ আল-মুকাত্তিব) থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ আগুন, অন্ধকার, নূর এবং অন্ধকার দ্বারা তাঁর সৃষ্টি থেকে নিজেকে আবৃত রেখেছেন।" এটি ইবনে উমরের পক্ষ থেকে ইবনে আমরের বর্ণনার একটি সমর্থনকারী বর্ণনা।এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সহীহ)। শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) উবাইদ ব্যতীত তাঁদের সকলের হাদীস গ্রহণ করেছেন। উবাইদ-এর হাদীস কেবল মুসলিম ও নাসাঈ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ আল-ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি মুসা বিন ইসমাইল থেকে, তিনি আলী বিন আবু সারাহ থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরীলকে জিজ্ঞাসা করলেন কোন স্থান...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأَرْضِ شَرٌّ قَالَ اللَّهُ أَعْلَمُ.قَالَ أَلا تَسْأَلُ رَبَّكَ ثُمَّ عَادَ فَقَالَ دَنَوْتُ مِنْ رَبِّي عز وجل حَتَّى كُنْتُ مِنْهُ بِمَكَانٍ لَمْ أَكُنْ قَطْ أَقْرَبَ مِنْهُ كُنْتُ بِمكانٍ بَيْنِي وَبِيْنَهُ سَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ نُورٍ فَأَوْحَى إِلَيَّ تبارك وتعالى أَنَّ شَرَّ بِقَاعِ الأَرْضِ الأَسْوَاقُ.عَلِيّ بْن أَبِي سارة روى لَهُ النَّسَائِيّ، وَقَالَ أَبُو دَاوُد تركُوا حَدِيثه وَقَالَ الْبُخَاريّ فِي حَدِيثه نظر، وَقَالَ أَبُو حاتِم ضَعِيف ومُوسَى هُوَ التَّبُوذَكِي الْحَافِظ الثِّقَة من رجال الشَّيْخَيْنِ.وَقَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيد إِبْرَاهِيم بْن أَحْمَد بْن المنخل حَدَّثَنَا عُثْمَان بْن عَبْد الله حَدَّثَنَا مُبشر بْن إِسْمَاعِيل الْحلَبِي حَدَّثَنَا جَعْفَر بْن برْقَان عَن مَيْمُون بْن مهْرَان عَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله قَالَ لِجبريل سل رَبك أَي الْبِقَاع خير وَأي الْبِقَاع شَرّ فَغَاب عَنهُ جِبْرِيل ثُمَّ أتاهُ فَقَالَ لَهُ لقد وقفتُ الْيَوْم موقفا لَم يقفه ملك قبلي كَانَ بيني وَبَين الْجَبَّار تبارك وتعالى سَبْعُونَ ألف حجاب من نور الْحجاب يعدل الْعَرْش والكرسي وَالسَّمَوَات وَالْأَرْض بِكَذَا وَكَذَا ألف عَام فَقَالَ أخبر مُحَمَّدًا أَن خير الْبِقَاع الْمَسَاجِد وَشر الْبِقَاع الْأَسْوَاق.مُبشر من رجال الشَّيْخَيْنِ وجعفر وَمَيْمُون من رجال مُسْلِم وَعُثْمَان بن عبد الله إِن كَانَ هُوَ الْأمَوِي الشَّامي فَمنهمْ مِمَّن يروي الموضوعات عَن الثِّقَات.وَقَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيد حَدَّثَنَا أَبُو حاتِم حَدَّثَنَا أَبُو سَلمَة مُوسَى بْن إِسْمَاعِيل حَدَّثَنَا حَمَّاد بْن سَلمَة حَدَّثَنَا أَبُو عمرَان الْجونِي عَن زُرارة بْن أَبِي أوفى أَن النَّبِي سَأَلَ جِبْرِيل هَلْ رَأَيْت رَبك فانتفض جِبْرِيل وَقَالَ يَا مُحَمَّد إِن بيني وَبَينه سبعين حِجَابا من نور لَو دنوتُ من أدناها لاحترقت.هَذَا مُسْند صَحِيح الْإِسْنَاد.ورواهُ أَبُو زَكَرِيَّا الْبُخَاريّ فِي فَوَائده من طَرِيق عَبْد الرَّحْمَن بْن مهْدي عَن حَمَّاد بِهِ، وَقَالَ حدَّثَنِي أَبُو سَعِيد الثَّقَفِيّ عَن سَعِيد بْن يَحْيَى بْن سَعِيد الْأمَوِي عَن أَبِيهِ عَن الأخوص بْن حَكِيم عَن أَبِيهِ عَن عَبْد الرَّحْمَن بْن عَابِد عَن جَابِر بْن عَبْد الله قَالَ قَالَ النَّبِي إِن أقرب الْخلق من الله تبارك وتعالى جِبْرِيل وَمِيكَائِيل وإسرافيل وإنّهم من الله تَعَالَى لَمسيرة خَمْسَة آلَاف سنة.عَبْد الرَّحْمَن بْن عَابِد روى لَهُ الْأَرْبَعَة وَوَثَّقَهُ النَّسَائِيّ وَحَكِيم بْن عُمَيْر وَالِد الأخوص صَدُوق، روى لَهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَابْنه الأخوص، روى لَهُ ابْن مَاجَه وَضعف وَيحيى بْن سَعِيد الْأمَوِي حَافظ من رجال الشَّيْخَيْنِ وَابْنه سَعِيد ثِقَة روى عَنْهُ الْأَئِمَّة الْخَمْسَة وَأَبُو سَعِيد الثَّقَفِيّ كَأَنَّهُ عَبْد الْغَنِيّ بْن سَعِيد ضعفه ابْن يُونُس، وَذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات وَقَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيد بْن أبان حَدَّثَنَا أَبُو حاتِم حَدَّثَنَا أَبُو صالِح حَدَّثَنَا اللَّيْث حَدَّثَنَا خَالِد عَن سَعِيد عَن عَبْد الله بْن زِيَاد أَن الْقرظِيّ كَانَ يَقُولُ بلغنَا أَن بَين الْجَبَّار تبارك وتعالى وَبَين أدنى خلقه أَرْبَعَة حجب مَا بَين كل حجابين كَمَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض حجاب من ظلمَة وَحِجَابٌ مِنْ نُورٍ وَحِجَابٌ مِنْ مَاء وحجاب من نَار بَيْضَاء مُقَدَّسَة وكل حجاب رَبنَا تبارك وتعالى مقدس.وَقَالَ حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن مُحَمَّد بْن زَكَرِيَّا حَدَّثَنَا سَعِيد بْن يَحْيَى حَدَّثَنَا مُسْلِم بْن خَالِد الزنْجِي عَن أَبِي بَكْر الْهُذلِيّ قَالَ لَيْسَ شَيْء من الْخلق أقرب إِلَى الله عز وجل من إسْرَافيل وَبَينه وَبَين الله تَعَالَى سَبْعَة حجب حجابٌ من نور وحجاب من غمام حَتَّى عد سَبْعَة لَا أحفظها.وَقَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيد حَدثنَا
জমিনের নিকৃষ্ট স্থান সম্পর্কে আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।তিনি বললেন, আপনি কি আপনার রবকে জিজ্ঞাসা করবেন না? অতঃপর তিনি ফিরে এসে বললেন, আমি আমার মহাপরাক্রমশালী রবের এত নিকটে গিয়েছিলাম যে, আমি ইতিপূর্বে কখনও তাঁর এত নিকটবর্তী হইনি। আমি এমন এক স্থানে ছিলাম যেখানে আমার ও তাঁর মাঝে নূরের সত্তরটি পর্দা ছিল। অতঃপর বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ আমার প্রতি ওহী পাঠালেন যে, জমিনের নিকৃষ্টতম স্থান হলো বাজারসমূহ।আলী ইবনে আবু সারা; নাসায়ী তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ বলেছেন যে, মুহাদ্দিসগণ তার হাদিস পরিত্যাগ করেছেন। ইমাম বুখারি বলেছেন তার হাদিসে আপত্তি রয়েছে। আবু হাতিম বলেছেন তিনি দুর্বল। আর মুসা হলেন আত-তাবুজাকি, তিনি হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য এবং শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।এবং তিনি বলেছেন, ওয়ালিদ ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ ইবনুল মুখাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুবাশশির ইবনে ইসমাইল আল-হালাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে বুরকান মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ জিবরাঈলকে বললেন, তোমার রবকে জিজ্ঞাসা করো কোন স্থান সবচেয়ে উত্তম এবং কোন স্থান সবচেয়ে নিকৃষ্ট। অতঃপর জিবরাঈল তাঁর নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন, তারপর ফিরে এসে তাঁকে বললেন, আজ আমি এমন এক স্থানে দাঁড়িয়েছিলাম যেখানে আমার পূর্বে কোনো ফেরেশতা দাঁড়ায়নি। আমার এবং বরকতময় ও সুউচ্চ মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর মাঝে নূরের সত্তর হাজার পর্দা ছিল, প্রতিটি পর্দা আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিনের সমান এত এত হাজার বছরের দূরত্বের। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) বললেন, মুহাম্মদকে সংবাদ দাও যে, সর্বোত্তম স্থান হলো মসজিদসমূহ এবং নিকৃষ্টতম স্থান হলো বাজারসমূহ।মুবাশশির শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারী, জাফর ও মায়মুন মুসলিমের বর্ণনাকারী। আর উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ যদি উমায়্যি শামি হয়ে থাকেন, তবে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে জাল হাদিস বর্ণনা করে।এবং তিনি বলেছেন, ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামা মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইমরান আল-জাওনি যুরারা ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তোমার রবকে দেখেছ? তখন জিবরাঈল কেঁপে উঠলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আমার ও তাঁর মাঝে নূরের সত্তরটি পর্দা রয়েছে, যদি আমি তার নিকটতম পর্দার কাছেও যেতাম তবে নিশ্চিত পুড়ে যেতাম।এই মুসনাদটির সনদ সহিহ।এবং আবু জাকারিয়া আল-বুখারি তার 'ফাওয়াইদ'-এ আব্দুর রহমান ইবনে মাহদির সূত্রে হাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, আবু সাঈদ আস-সাকাফি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাইদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আল-উমায়্যি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আল-আখওয়াস ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবিদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী বলেছেন, সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হলেন জিবরাঈল, মিকাইল ও ইসরাফিল। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের দূরত্ব হলো পাঁচ হাজার বছরের পথ।আব্দুর রহমান ইবনে আবিদ থেকে চার ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং নাসায়ী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আখওয়াসের পিতা হাকিম ইবনে উমাইর সত্যবাদী, তার থেকে আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আর তার পুত্র আখওয়াস, তার থেকে ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং তাকে দুর্বল বলা হয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আল-উমায়্যি শায়খাইনের বর্ণনাকারী হাফেজ। তাঁর পুত্র সাইদ নির্ভরযোগ্য, তাঁর থেকে পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ আস-সাকাফি সম্ভবত আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ যাকে ইবনে ইউনুস দুর্বল বলেছেন, তবে ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ওয়ালিদ ইবনে আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ সাঈদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল-কুরাজি বলতেন, আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, বরকতময় ও সুউচ্চ মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ এবং তাঁর নিকটতম সৃষ্টির মাঝে চারটি পর্দা রয়েছে। প্রতি দুই পর্দার মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান। একটি অন্ধকারের পর্দা, একটি নূরের পর্দা, একটি পানির পর্দা এবং একটি পবিত্র শ্বেত আগুনের পর্দা। আর আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ রবের প্রতিটি পর্দাই পবিত্র।এবং তিনি বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জানজি আবু বকর আল-হুজালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, সৃষ্টির মধ্যে ইসরাফিলের চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী আর কেউ নেই। তাঁর এবং আল্লাহর মাঝে সাতটি পর্দা রয়েছে; নূরের পর্দা, মেঘের পর্দা—এভাবে তিনি সাতটি গণনা করেছেন যা আমার মুখস্থ নেই।এবং তিনি বলেছেন, ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مُحَمَّد بْن عمار حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا شبْل عَن ابْن أَبِي نُجَيْح عَن مُجَاهِد قَالَ بَين السَّمَاء السَّابِعَة وَبَين الْعَرْش سَبْعُونَ ألف حجاب حجابٌ من نور وحجاب من ظلمَة وحجاب نور وحجاب ظلمَة حَدثنَا الولهد حَدَّثَنَا أَبُو حاتِم حَدَّثَنَا سَعِيد الطَّالقَانِي حَدَّثَنَا هشيم عَن أَبِي بشر عَن مُجَاهِد قَالَ بَين الْعَرْش وَبَين الْمَلَائِكَة سَبْعُونَ حِجَابا حِجَابٌ مِنْ نَارٍ وحجاب من ظلمَة وحجاب من نور وحجاب من ظلمَة قَالَ جدي أَخْبرنِي أَبُو يَعْقُوب المروري حَدَّثَنَا روح حَدَّثَنَا الْعَوام بْن حَوْشَب عَن مُجَاهِد قَالَ بَين الْمَلَائِكَة وَبَين الْعَرْش سَبْعُونَ ألف حجاب من نور.فَهَذِهِ الطّرق تقَوِّي الحَدِيث ويتعذر مَعهَا الحكم عَلَيْهِ بِالْوَضْعِ وَقَالَ أَبُو الْقَاسِم عَبْد الرَّحْمَن ابْن الْإِمَام أَبِي عَبْد الله مُحَمَّد بْن مَنْدَه فِي كتاب محك الْإيِمَان أَخْبَرَنَا ابْن عُبَيْد الله الْأنْصَارِيّ أَنْبَأنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد أَبُو بَكْر الْقطَّان أَنْبَأنَا مُوسَى بْن إِبْرَاهِيم بْن عَبْد الله بْن الْجُنَيْد حَدَّثَنَا أَبُو ظفر حَدَّثَنَا جَعْفَر بْن سُلَيْمَان عَن أبان عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله يَا جِبْرِيل هَلْ ترى رَبك قَالَ إِن بيني وَبَينه سَبْعُونَ ألف حجاب من نور لَو دَنَوْت إِلَى حجاب لاحترقت، أبان روى لَهُ أَبُو دَاوُد وَهُوَ مَتْرُوك وَإِذا انْضَمَّ هَذَا الطَّرِيق إِلَى الطّرق السَّابِقَة أَفَادَ قُوَّة وَالله أعلم.(الطَّبَرَانِيّ) حَدَّثَنَا الْمِقْدَام ابْن دَاوُد حَدَّثَنَا أَسد بْن مُوسَى حَدَّثَنَا يُوسُف بْن زِيَاد عَن عَبْد الْمُنعم بْن إِدْرِيس عَن أَبِيهِ إِدْرِيس عَن جدِّه وهب بْن مُنَبّه عَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلا مِنَ الْيَهُودِ أَتَى النَّبِي فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلِ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ بِشَيْءٍ غير السَّمَوَات قَالَ نَعَمْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَلائِكَةِ الَّذِينَ حَوْلَ الْعَرْشِ سَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ نُورٍ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ نَارٍ وَسَبْعُونَ حِجَابا من ظلمَة وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ رَفَارِفِ الإِسْتَبْرَقِ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ رَفَارِفِ السُّنْدُسِ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرٍّ أَبيضَ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرٍّ أَحمرَ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرٍّ أَصْفَرَ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرٍّ أَخْضَرَ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ ضِيَاءٍ اسْتَضَاءَ مِنْ ضَوْئِهِ النَّارُ وَالنُّورُ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ ثَلْجٍ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ مَاءٍ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ بَرَدِ غَمَامٍ وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ برد وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ عَظَمَةِ اللَّهِ الَّتِي لَا تُوصَفُ قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَن مَلَكِ اللَّهِ الَّذِي يَلِيهِ فَقَالَ النَّبِي أَصَادَقْتَ فِيمَا أَخْبَرْتُكَ يَا يَهُودِيُّ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ الْمَلَكَ الَّذِي يَلِيهِ إِسْرَافِيلُ ثُمَّ جِبْرِيلُ ثُمَّ مِيكَائِيلُ ثُمَّ مَلَكُ الْمَوْتِ.مَوْضُوع: آفته عَبْد الْمُنعم هُوَ وَأَبوهُ مَتْرُوكَانِ (قلتُ) مَا تكلم أحد فِي إِدْرِيس بل الآفة عَبْد الْمُنعم وَحده قَالَ فِي الْمِيزَان قصاص لَيْسَ يعْتَمد عَلَيْهِ تَركه غير وَاحِد وأفصح أَحْمَد بْن حَنْبَل فَقَالَ كَانَ يكذب عَلَى وهب، قَالَ الْبُخَاريّ ذَاهِب الحَدِيث، وَقَالَ ابْن حبَان يضعُ الحَدِيث عَلَى أَبِيهِ وعَلى غَيره وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي اللِّسَان نقل ابْن أَبِي حاتِم عَن إِسْمَاعِيل بْن عَبْد الْكَرِيم مَاتَ إِدْرِيس وَعبد الْمُنعم رَضِيع وَكَذَا قَالَ أَحْمَد إِذا سُئِلَ عَنْهُ لَم يسمع من أَبِيهِ شَيْئا وَابْن معِين كَذَّاب خَبِيث، وَهَذَا الحَدِيث أَخْرَجَهُ أَبُو نُعَيْم فِي الْحِلْية عَن الطَّبَرَانِيّ وَأخرجه أَبُو الشَّيْخ فِي كتاب العظمة واقتصرَ الْحَافِظ أَبُو الْفضل الْعِرَاقِيّ فِي تَخريج أَحَادِيث الْإِحْيَاء عَلَى قَوْله إِسْنَاده ضَعِيف
মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শিবল ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সপ্তম আকাশ এবং আরশের মাঝখানে সত্তর হাজার পর্দা রয়েছে; আলোর পর্দা, অন্ধকারের পর্দা, আলোর পর্দা এবং অন্ধকারের পর্দা। ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আত-তালকানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আবু বিশর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আরশ এবং ফেরেশতাদের মাঝখানে সত্তরটি পর্দা রয়েছে; আগুনের পর্দা, অন্ধকারের পর্দা, আলোর পর্দা এবং অন্ধকারের পর্দা। আমার দাদা বললেন, আবু ইয়াকুব আল-মারওয়ারি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, রাওহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওয়াম ইবনে হাওশাব মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ফেরেশতা এবং আরশের মাঝখানে সত্তর হাজার আলোর পর্দা রয়েছে।এই সূত্রগুলো হাদীসটিকে শক্তিশালী করে এবং এর ফলে এটিকে জাল হিসেবে গণ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মানদাহর পুত্র আবুল কাসিম আব্দুর রহমান তাঁর 'মাহাক্কুল ঈমান' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আবু বকর আল-কাত্তান আমাদের জানিয়েছেন, মুসা ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুনাইদ আমাদের জানিয়েছেন, আবু জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে সুলাইমান আবান থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "হে জিবরীল! তুমি কি তোমার রবকে দেখতে পাও?" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমার এবং তাঁর মাঝে সত্তর হাজার আলোর পর্দা রয়েছে। আমি যদি একটি পর্দার নিকটবর্তী হই, তবে পুড়ে যাব।" আবান থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন বর্জনীয় বর্ণনাকারী। তবে এই সূত্রটি যখন পূর্ববর্তী সূত্রগুলোর সাথে যুক্ত হয়, তখন তা শক্তিশালী হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।(তাবারানি) মিকদাম ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসাদ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে জিয়াদ আব্দুল মুনয়িম ইবনে ইদরিস থেকে, তিনি তাঁর পিতা ইদরিস থেকে, তিনি তাঁর দাদা ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ইহুদি ব্যক্তি নবীর নিকট এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ কি আকাশসমূহ ব্যতীত আর কোনো কিছুর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে নিজেকে আবৃত করেছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তাঁর এবং আরশের চারপাশে অবস্থানরত ফেরেশতাদের মাঝে সত্তরটি আলোর পর্দা, সত্তরটি আগুনের পর্দা, সত্তরটি অন্ধকারের পর্দা, সত্তরটি ইস্তাবরাক (পুরু রেশম) বস্ত্রের পর্দা, সত্তরটি সিন্দুস (মিহি রেশম) বস্ত্রের পর্দা, সত্তরটি সাদা মুক্তার পর্দা, সত্তরটি লাল মুক্তার পর্দা, সত্তরটি হলুদ মুক্তার পর্দা, সত্তরটি সবুজ মুক্তার পর্দা, সত্তরটি এমন উজ্জ্বলতার পর্দা যার আলো থেকে আগুন ও আলো উৎসরণিত হয়, সত্তরটি বরফের পর্দা, সত্তরটি পানির পর্দা, সত্তরটি মেঘের শীতলতার পর্দা, সত্তরটি ঠান্ডার পর্দা এবং আল্লাহর মহত্ত্বের সত্তরটি পর্দা রয়েছে যা বর্ণনা করা সম্ভব নয়।" সে বলল, "তবে আমাকে আল্লাহর সেই ফেরেশতা সম্পর্কে বলুন যিনি তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী।" নবী বললেন, "হে ইহুদি, আমি তোমাকে যা বলেছি তা কি তুমি সত্য বলে গ্রহণ করেছ?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তবে নিশ্চয়ই সেই ফেরেশতা যিনি তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী, তিনি হলেন ইসরাফিল, এরপর জিবরীল, এরপর মিকাইল, এরপর মালাকুল মাউত।"জাল: এর ত্রুটি হলো আব্দুল মুনয়িম, সে এবং তার পিতা দুজনেই বর্জনীয়। (আমি বলছি) ইদরিস সম্পর্কে কেউ বিরূপ মন্তব্য করেননি, বরং ত্রুটি কেবল আব্দুল মুনয়িমের মধ্যেই। 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে, সে একজন কিসসা বর্ণনাকারী, তার ওপর নির্ভর করা যায় না; একাধিক ইমাম তাকে বর্জন করেছেন। আহমদ ইবনে হাম্বল স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সে ওয়াহাবের নামে মিথ্যা বলত। বুখারি বলেছেন, সে হাদিস শাস্ত্রে পরিত্যক্ত। ইবনে হিব্বান বলেছেন, সে তার পিতা ও অন্যদের নামে হাদিস জাল করত। হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলেছেন, ইবনে আবি হাতিম ইসমাইল ইবনে আব্দুল কারিম থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, ইদরিস যখন মারা যান তখন আব্দুল মুনয়িম দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন। অনুরূপভাবে আহমদকেও যখন তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি বলতেন যে সে তার পিতার থেকে কিছুই শোনেনি। ইবনে মাঈন তাকে মিথ্যাবাদী ও খবিস বলেছেন। এই হাদীসটি আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে তাবারানি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবুশ শাইখ তাঁর 'আল-আজমাত' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আবু ফজল আল-ইরাকি 'ইহয়া'র হাদীসগুলোর তাখরিজ করতে গিয়ে কেবল এটুকুই বলেছেন যে, এর সনদ দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فَكَأَنَّهُ لَم يُوَافق عَلَى أَنَّهُ مَوْضُوع وأمّا الْحَافِظ ابْن حجر، فَإِنَّهُ قَالَ عَبْد الْمُنعم كَذَّاب وَحَدِيثه بَاطِل، قَالَ فِي لِسَان الْمِيزَان عَابَ إِسْمَاعِيل بْن مُحَمَّد بْن الْفضل التَّيْمِيّ الطَّبَرَانِيّ فِي جمع الْأَحَادِيث الْأَفْرَاد مَعَ مَا فِيهَا من النكارة الشَّدِيدَة والموضوعات، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر وَهَذَا أمرٌ لَا يخْتَص بِهِ الطَّبَرَانِيّ فِي جمعه الْأَحَادِيث الْأَفْرَاد بل أَكثر الْمُحدثين فِي الْأَعْصَار الْمَاضِيَة من سنة ثَمَانِينَ وهلمَّ جرَّا إِذا ساقوا الحَدِيث بِإِسْنَادِهِ اعتقدوا أنَّهم برئوا من عهدته وَالله أعلم.(أَبُو الْفَتْح الْأَزْدِيّ) .حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن أَحْمَد الْوراق حَدَّثَنَا سَعِيد بْن مُحَمَّد بْن ثَوَاب حَدَّثَنَا بَكْر بْن عِيسَى عَن مُحَمَّد بْن عُثْمَان الْحَرَّانِي عَن مَالك بْن دِينَار عَن الْحَسَن عَن أنس مَرْفُوعا: أَن لله لوحًا أحد وجهيه درة وَالْآخر ياقوتة قلمه النُّور فبه يخلق وَبِه يرْزق وَبِه يحيي وَبِه يُميت ويعز ويذل ويفعلُ مَا يَشَاء فِي يَوْم وَلَيْلَة.مَوْضُوع: مُحَمَّد بْن عُثْمَان مَتْرُوك الحَدِيث (قلتُ) قَالَ فِي الْمِيزَان مُحَمَّد بْن عُثْمَان الْحَرَّانِي وَقيل الْحدانِي وبالراء أصح أَتَى بِخبر بَاطِل وَهُوَ هَذَا، انْتهى.وَقد أَخْرَجَهُ أَبُو الشَّيْخ فِي العظمة.وَورد من غير هَذَا الطَّرِيق قَالَ مُحَمَّد بْن عُثْمَان بْن أَبِي شيبَة فِي كتاب الْعَرْش حَدَّثَنَا منْجَاب بْن الْحَارِث حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن يُوسُف حَدَّثَنَا زِيَاد بْن عَبْد الله عَن لَيْث عَن عَبْد الْملك بْن سَعِيد بْن جُبَيْر عَن أَبِيهِ ابْن عَبَّاس أَن نَبِي الله قَالَ إِن الله عز وجل خلق لوحًا مَحْفُوظًا من درة بَيْضَاء صفحاتها من ياقوتة حَمْرَاء قلمه نور وَكتابه نور، لله فِي كل يَوْم سِتُّونَ وثلثمائة لَحْظَة إِلَيْهِ يخلق ويرزق ويُميت ويحيي ويعز ويذل ويفعلُ مَا يَشَاء أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيّ عَنْهُ وَابْن مرْدَوَيْه فِي التَّفْسِير وَعبد الْملك صَدُوق وَبشر بْن أَبِي سليم روى لَهُ مُسْلِم وَالْأَرْبَعَة وَفِيه ضعف يسير من سوء حفظه وَمِنْهُم من يحْتَج بِهِ وَالْبَاقُونَ من رجال الصَّحِيح.وَقَالَ أَبُو الشَّيْخ حَدَّثَنَا الْوَلِيد بْن أبان حَدثنَا عبد الله بن يوسن حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن المتَوَكل حَدَّثَنَا سُفْيَان ابْن عُيَيْنَة عَن أَبِي حَمْزَة عَن الضَّحَّاك عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله: خلق الله تَعَالَى لوحًا من درة بَيْضَاء دفتاه من زبرجدة خضراء كِتَابه نور يلحظ إِلَيْهِ فِي كل يَوْم ثلثمِائة وَسِتِّينَ لَحْظَة يُحيي ويُميت ويخلق ويرزق ويعز ويذل ويفعلُ مَا يَشَاء.وَقَالَ الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك أَنْبَأنَا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْن عَبْد الله الْمُفِيد حَدثنَا جدي حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن حَرْب حَدَّثَنَا سُفْيَان عَن أَبِي حَمْزَة الثمالِي عَن سَعِيد بْن جُبَيْر عَن ابْن عَبَّاس فِي قَوْله تَعَالَى: {كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} قَالَ: إِن مِمَّا خلق الله لوحًا مَحْفُوظًا من درة بَيْضَاء دفتاهُ من ياقوتة حَمْرَاء قلمه
মনে হয় তিনি এটি জাল হওয়ার বিষয়ে একমত হননি। আর হাফিয ইবনে হাজার বলেন, আব্দুল মুনইম একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং তার বর্ণিত হাদীস বাতিল। তিনি ‘লিসানুল মীযান’ গ্রন্থে বলেছেন, ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আত-তাইমী ‘আল-আহাদীসুল আফ্রাদ’ (একক হাদীসসমূহ) সংকলন করার কারণে তাবারানীর সমালোচনা করেছেন, কারণ তাতে চরম আপত্তিকর বিষয় এবং জাল বর্ণনা রয়েছে। হাফিয ইবনে হাজার বলেন, এটি কেবল তাবারানীর একার বৈশিষ্ট্য নয় যে তিনি একক হাদীসসমূহ সংকলন করেছেন, বরং হিজরী ২৮০ সাল এবং তৎপরবর্তী যুগের অধিকাংশ মুহাদ্দিস যখন কোনো হাদীস তার সনদসহ বর্ণনা করতেন, তখন তারা মনে করতেন যে তারা এর দায়ভার থেকে মুক্ত হয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।(আবু আল-ফাতহ আল-আযদি)।মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন সাওয়াব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বকর বিন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান আল-হাররানী থেকে, তিনি মালিক বিন দীনার থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস (রা.) হতে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেন: আল্লাহর একটি লওহ (ফলক) রয়েছে যার এক পাশ মুক্তার এবং অপর পাশ ইয়াকূত পাথরের; তার কলম হলো নূর। এর মাধ্যমেই তিনি সৃষ্টি করেন, এর মাধ্যমে রিযিক দান করেন, এর মাধ্যমে জীবন দান করেন, এর মাধ্যমে মৃত্যু দান করেন, সম্মান দান করেন, লাঞ্ছিত করেন এবং প্রতি দিন ও রাতে যা ইচ্ছা তা-ই করেন।জাল: মুহাম্মদ বিন উসমান হাদীস বর্ণনায় পরিত্যক্ত (মাতরুক)। (আমি বলছি) ‘মীযান’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ বিন উসমান আল-হাররানী—মতান্তরে আল-হাদ্দানী, তবে ‘রা’ দিয়ে হাররানী বলাই অধিক শুদ্ধ—একটি বাতিল সংবাদ নিয়ে এসেছেন, আর সেটি হলো এটিই। সমাপ্ত।আবুশ শায়খ ‘আল-আযামাহ’ গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন।এটি এই সূত্র ছাড়াও অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শায়বাহ ‘কিতাবুল আরশ’ গ্রন্থে বলেন, মিনজাব বিন আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা শ্বেত মুক্তা দিয়ে লওহে মাহফূয সৃষ্টি করেছেন, যার পৃষ্ঠাসমূহ লাল ইয়াকূত পাথরের, তার কলম নূর এবং তার লিখনী নূর। আল্লাহর জন্য প্রতিদিন তিনশত ষাটটি মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে তিনি সৃষ্টি করেন, রিযিক দেন, মৃত্যু দেন, জীবন দান করেন, সম্মান দেন, লাঞ্ছিত করেন এবং যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তাবারানী এটি তার থেকে এবং ইবনে মারদুওয়াইহ তাফসীরে বর্ণনা করেছেন। আব্দুল মালিক সত্যবাদী (সাদূক) এবং লাইস বিন আবু সুলাইম হতে ইমাম মুসলিম ও চার ইমাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তার মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার কারণে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন, আর বাকিরা সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।আবুশ শায়খ বলেন, ওয়ালীদ বিন আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-মুতাওয়াক্কিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হামযা থেকে, তিনি যাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা শ্বেত মুক্তা দিয়ে একটি লওহ সৃষ্টি করেছেন, যার দুই কপাট সবুজ যমররদ পাথরের, তার লিখনী নূর। তিনি প্রতিদিন তিনশত ষাটবার সেদিকে দৃষ্টিপাত করেন; তিনি জীবন দান করেন, মৃত্যু দান করেন, সৃষ্টি করেন, রিযিক দান করেন, সম্মান দেন, লাঞ্ছিত করেন এবং যা ইচ্ছা তা-ই করেন।হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুফীদ, তিনি বলেন, আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হামযা আস-সুমালী থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) হতে আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: {তিনি প্রতিদিন কোনো না কোনো মহান কাজে রত} বলেন: আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে একটি হলো শ্বেত মুক্তা দিয়ে তৈরি লওহে মাহফূয, যার দুই কপাট লাল ইয়াকূত পাথরের, তার কলম...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
نور وَكتابه نور عرضه مَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض ينظرُ فِيهِ كل يَوْم ثلثمِائة وَسِتِّينَ نظرة يخلق فِي كل نظرة ويرزق ويحيي وَيُمِيت ويعز ويذل ويفعلُ مَا يَشَاء.قَالَ الْحَاكِم: صَحِيح الْإِسْنَاد.وَقَالَ الطَّبَرَانِيّ حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن عَبْد الْعَزِيز حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْم حَدثنَا عَبْد الله بْن الْوَلِيد الْعجلِيّ حدَّثَنِي بكير عَن ابْن شهَاب عَن سَعِيد بْن جُبَيْر عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: إِن الله خلق لوحًا مَحْفُوظًا فَذكره بِمثله سَوَاء وَالله أعلم (الْخَطِيب) .أَنْبَأنَا أَبُو طَاهِر عُمَرَ بْن إِبْرَاهِيم الْفَقِيه الزُّهْرِيّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر أَحْمَد بْن جَعْفَر بْن حمدَان حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن سَعِيد بْن حَازِم الْمَرْوَزِيّ أَنْبَأنَا إِبْرَاهِيم بْن عِيسَى الْقَنْطَرِي حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن أَبِي الْحوَاري حَدَّثَنَا الْوَلِيد بْن مُسْلِم حَدَّثَنَا اللَّيْث بْن سعد عَن الزُّهْرِيّ قَالَ قَالَ لي عَبْد الرَّحْمَن الْأَعْرَج حَدَّثَنِي أبي هُرَيْرَة أَنه سمع النَّبِي يَقُولُ: لَمَّا أُسْرِيَ بِي إِلَى السَّمَاءِ انْتَهَى بِي جِبْرِيلُ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى فَغَمَسَنِي فِي النُّورِ خَمْسَةً ثُمَّ تَنَحَّى عَنى فَقُلْتُ حَبِيبِي جِبْرِيلُ أَحْوَجُ مَا كُنْتُهُ إِلَيْكَ تَدَعُنِي وَتَتَنَحَّى، قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ فِي مَوْقِفٍ لَا يَكُونُ نَبِيٌّ مُرْسَلٌ وَلا مَلَكٌ مقرب هَهُنَا أَنْتَ مِنَ اللَّهِ أَدْنَى مِنَ الْقَابِ إِلَى الْقَوْسِ فَأَتَانِي الْمَلَكُ فَقَالَ إِنَّ الرَّحْمَنَ يُسَبِّحُ نَفْسَهُ فَسَمِعْتُ الرَّحْمَنَ يَقُولُ سُبْحَانَ اللَّهِ مَا أَعْظَمَ اللَّهَ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لِمَنْ قَالَ هَكَذَا قَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ لَا تَخْرُجُ رُوحُهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى يَرَانِي أُرِيهِ مَوْضِعَهُ مِنَ الْجَنَّةِ أَوْ يَرَى مَنْزِلَهُ فِي الْجَنَّةِ وَتُصَلِّي عَلَيْهِ الْمَلائِكَةُ صُفُوفًا مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَلا يَكُونُ شَيْءٌ إِلا يَسْتَغْفِرُ لَهُ تَمَامَ عُمُرِهِ فَإِذَا مَاتَ وَكَّلَ اللَّهُ بِقَبْرِهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُسَبِّحُونَ اللَّهَ وَيُعَظِّمُونَ اللَّهَ وَيُهَلِّلُونَ اللَّهَ وَيُكَبِّرُونَ اللَّهَ كُلَّمَا فَعَلُوا مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا كَانَ لَهُ فِي صَحِيفَتِهِ فَإِذَا أُخْرِجَ مِنْ قَبْرِهِ خَرَجَ آمِنًا مُطْمَئِنًّا لَا يَحْزُنُهُ الْفَزَعُ الأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُ الْمَلائِكَةُ سَلامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ.قَالَ الْخَطِيبُ مُنْكَرٌ رِجَاله ثِقَات إِلَّا الْقَنْطَرِي فَهُوَ مَجْهُول، قَالَ وروى بعضه عَن عَطاء أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ الْحَسَن بْن عُثْمَان الْوَاعِظ أَنْبَأنَا أَبُو الْعَبَّاس أَحْمَد السَّقطِي حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْن يَحْيَى الحفار حَدَّثَنَا سَعِيد بْن يَحْيَى الْأمَوِي حدَّثَنِي أَبِي عَن ابْن جريج عَن عَطَاءٍ قَالَ لَمَّا أُسْرِيَ بِالنَّبِيِّ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ رُوَيْدًا فَإِنَّ رَبَّكَ يُصَلِّي قَالَ وَهُوَ يُصَلِّي نَعَمْ قَالَ وَمَا يَقُولُ قَالَ يَقُولُ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلائِكَةِ وَالرُّوحِ سَبَقَتْ رَحْمَتِي غَضَبِي رِجَالُهُ ثِقَاتٍ لكنه مَوْقُوف عَلَى عَطاء فَلَعَلَّهُ سَمعه مِمّن لَا يَثِق بِهِ (قلتُ) قَالَ فِي الْمِيزَان مُحَمَّد بْن يَحْيَى الحفار لَا يدْرِي من ذَا وَأورد لَهُ هَذَا الحَدِيث وَقَالَ هَذَا مُنْكَرٌ، انْتهى.لَكِن رأيتُ لَهُ
নূর এবং তাঁর কিতাবও নূর, এর প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানের সমান। তিনি প্রতিদিন এতে তিনশত ষাটবার দৃষ্টিপাত করেন। প্রতি দৃষ্টিপাতে তিনি সৃষ্টি করেন, রিযিক দান করেন, জীবন দান করেন, মৃত্যু দান করেন, সম্মানিত করেন, লাঞ্ছিত করেন এবং যা ইচ্ছা তা-ই করেন।হাকিম বলেন: এর সনদ সহীহ।এবং তাবারানি বলেন, আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন ওয়ালিদ আল-ইজলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বুকাইর ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি লাওহে মাহফুজ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি পূর্বের ন্যায় হুবহু উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (খতিব)।আবু তাহের উমর বিন ইব্রাহিম আল-ফকিহ আজ-জুহরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন হাজিম আল-মারওয়াযি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন ঈসা আল-কান্তারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন আবি আল-হাওয়ারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, লাইস বিন সাদ জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুর রহমান আল-আরাজ আমাকে বলেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবীকে বলতে শুনেছেন: যখন আমাকে আসমানে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, জিবরাইল আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি আমাকে নূরের মধ্যে পাঁচবার ডুব দিলেন এবং আমার থেকে সরে দাঁড়ালেন। আমি বললাম, হে প্রিয় জিবরাইল! আপনার সাহায্য যখন আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আপনি আমাকে ছেড়ে দূরে সরে যাচ্ছেন? তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি এমন এক স্থানে আছেন যেখানে কোনো প্রেরিত নবী বা নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা পৌঁছাতে পারে না। এখানে আপনি আল্লাহর নিকট ধনুকের প্রান্তদ্বয়ের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। অতঃপর একজন ফেরেশতা আমার নিকট এসে বললেন, নিশ্চয়ই রহমান নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করছেন। তখন আমি রহমানকে বলতে শুনলাম, "আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ কতই না মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই"। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি এমন বলবে তার জন্য কী রয়েছে? তিনি বললেন, হে আবু হুরায়রা! তার দেহ থেকে প্রাণ বের হবে না যতক্ষণ না সে আমাকে দেখবে এবং আমি তাকে জান্নাতে তার স্থান দেখাব অথবা সে জান্নাতে তার ঠিকানা দেখবে। আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে তার জন্য দোয়া করবে। তার অবশিষ্ট জীবনে প্রতিটি সৃষ্টি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যখন সে মারা যাবে, আল্লাহ তার কবরে সত্তর হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন যারা আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করবে, আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করবে, আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করবে এবং আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করবে। তারা যা কিছুই করবে তা তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হবে। যখন সে তার কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে, সে নিরাপদ ও শান্ত অবস্থায় বের হবে, মহা আতঙ্ক তাকে ব্যথিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাকে এই বলে অভ্যর্থনা জানাবে— "তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, কারণ তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছিলে, কতই না উত্তম এ পরিণাম"।খতিব বলেন: এটি মুনকার (অস্বাভাবিক), এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য কিন্তু কান্তারি অপরিচিত। তিনি বলেন, এর কিয়দাংশ আতা থেকে বর্ণিত হয়েছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আল-হাসান বিন উসমান আল-ওয়ায়েজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আহমদ আস-সাকতি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-হাফফার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আল-উমাবী, আমার পিতা ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: যখন নবীকে সপ্তম আসমানে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, জিবরাইল তাকে বললেন, ধীরে চলুন, নিশ্চয়ই আপনার রব সালাত (রহমত) পাঠ করছেন। তিনি (রাসূল) বললেন, তিনি কি সালাত পাঠ করেন? জিবরাইল বললেন, হ্যাঁ। রাসূল জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কী বলেন? জিবরাইল বললেন, তিনি বলেন: "পরম পবিত্র, অত্যন্ত পুত-পবিত্র, ফেরেশতাকুল ও রূহের প্রতিপালক, আমার রহমত আমার রাগকে ছাপিয়ে গেছে"। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, কিন্তু এটি আতা-এর ওপর মওকুফ (তার নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণিত), সম্ভবত তিনি এমন কারও কাছ থেকে শুনেছেন যার ওপর তিনি ভরসা করেন না। (আমি বলছি) মিযান গ্রন্থে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-হাফফার কে তা জানা নেই, এবং তার সূত্রে এই হাদিসটি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন এটি মুনকার। সমাপ্ত।কিন্তু আমি তাঁর জন্য দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
طَرِيقا آخر قَالَ مُحَمَّد بْن نصر الْمَرْوَزِيّ فِي كتاب الصَّلَاة حَدَّثَنَا إِسْحَاق أَنْبَأنَا مُحَمَّد بْن بَكْر البرْسَانِي أنبانا ابْن جريج عَن عَطاء قَالَ بَلغنِي: أَن النَّبِي لَمّا أسرِي بِهِ كلما مر بسماء سلمت عَلَيْهِ الْمَلَائِكَة فَلَمَّا جَاءَ إِلَى السَّمَاء السَّابِعَة قَالَ لَهُ جِبْرِيل: إِن الله تبارك وتعالى يَقُولُ سبوح قدوس رب الْمَلَائِكَة وَالروح تسبق رَحْمَتي غَضَبي.ثُمَّ رأيتُ لَهُ طَرِيقا آخر مَوْصُولا قَالَ الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير: حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن يَحْيَى بْن خلف بْن حبَان الرقي أَبُو الْعَبَّاس بِمصر حَدَّثَنَا ابْن سُلَيْمَان الْجعْفِيّ حَدَّثَنَا عمي عَمْرو بْن عُثْمَان حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِم قَائِد الْأَعْمَش عَن الْأَعْمَش عَن عَمْرو بْن مرّة عَن عَطاء بْن أَبِي رَبَاح عَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُول الله قلتُ يَا جِبْرِيل أيصلي رَبك قَالَ نعم قلتُ مَا صلَاته قَالَ سبوح قدوس رب الْمَلَائِكَة وَالروح سبقت رَحْمَتي غَضَبي قَالَ الطَّبَرَانِيّ لَمْ يروه عَن الْأَعْمَش إِلَّا أَبُو مُسْلِم تفرد بِهِ ابْن يَحْيَى وَقَالَ الْإِمَام مجد الدَّين الشِّيرَازِيّ صَاحب الْقَامُوس فِي كِتَابه الْمُسَمّى بِالصَّلَاةِ والبشر فِي الصَّلَاة عَلَى خير الْبشر فِي الحَدِيث عَن أَبِي هُرَيْرَةَ يرفعهُ قَالَ بَنو إِسْرَائِيل لِموسى هَلْ يُصَلِّي رَبك فتكايد مُوسَى لذَلِك، فَقَالَ الله تَعَالَى مَا قَالُوا لَك يَا مُوسَى فَقَالَ الَّذِي سَمِعْتُ قَالَ فَأخْبرهُم إِنِّي أُصَلِّي وَإِن صَلَاتي تُطْفِئ غَضَبي وَإِسْنَاده جيد وَرِجَاله ثِقَات يُحتج بِهم فِي الصَّحِيحَيْنِ وَلَيْسَ فِيهِ عِلّة غير أَن الْحَسَن رَوَاهُ عَن أَبِي هُرَيْرَةَ ولَم يسمع مِنْهُ عِنْدَ الْأَكْثَرين (فَإِن قلت) فَمَا معنى صَلَاة الله تَعَالَى (قلت) مَعْنَاهَا الثَّنَاء وَالرَّحْمَة وَالْبركَة وَمَعْنَاهُ أرْحم وأغفر وأستر وَكَذَلِكَ فِي جَمِيع مَا ورد من هَذَا النمط من الْأَحَادِيث كَحَدِيث عَبْد الله بْن الزبير يرفعهُ قَالَ لَهُ جِبْرِيل لَيْلَة أسرِي بِهِ إِن رَبك يُصَلِّي قَالَ يَا جِبْرِيل كَيفَ يُصَلِّي قَالَ يَقُولُ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلائِكَةِ وَالروح سبقت رَحْمَتي غَضَبي فِيهِ سَنَد لعمر بْن قيس الْمَكِّيّ وَأخرجه أَبُو الْفرج فِي الموضوعات وَقَالَ رِجَاله ثِقَات إِلَّا أَنَّهُ مَوْقُوف عَلَى عَطاء وَالْعجب مِنْهُ كَيفَ أَخْرَجَهُ فِي هَذَا الْكتاب مَعَ هَذَا القَوْل مِنْهُ هَذَا كَلَام الشَّيْخ مجد الدَّين وَالله أعلم.(الْخَطِيب) أَخْبرنِي أَبُو الْفرج الطناجيري حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بْن الْحُسَيْن التَّمِيمِي حَدَّثَنَا أَبُو عَليّ الْحُسَيْن بْن عَليّ الطَّالقَانِي الْفَقِيه الزَّاهِد حَدَّثَنَا عمّار بْن يَاسر بْن عَبْد الْمجِيد الْهَرَويّ حَدَّثَنَا دَاوُد بْن عَفَّان بْن حبيب النَّيْسَابُورِي حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ مَرْفُوعًا: يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى كُلَّ يَوْمٍ أَنَا الْعَزِيزُ مَنْ أَرَادَ عِزَّ الدَّارَيْنِ فَلْيُطِعِ الْعَزِيزَ لَا يَصح كَانَ دَاوُد يضع الحَدِيث عَلَى أنس.(الْخَطِيب) أَنْبَأنَا هِلَال بْن عَبْد الله بْن مُحَمَّد الطَّيِّبِيّ وَعلي بْن الْحَسَن بن مُحَمَّد الْمَالِكِي وَعبيد الله بْن مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن لُؤْلُؤ الْأمين قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل الْوراق
অন্য একটি সূত্র: মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী তাঁর 'কিতাবুস সালাত'-এ বলেছেন: আমাদের নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বকর আল-বুরসানী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে জুরায়জ আতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট পৌঁছেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইসরা (নৈশভ্রমণ) করেন, তখন তিনি যে আকাশ দিয়েই অতিক্রম করছিলেন, ফেরেশতারা তাঁকে সালাম দিচ্ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি সপ্তম আকাশে পৌঁছালেন, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলছেন: 'সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ' (পবিত্র ও অতিশয় পূত, ফেরেশতাকুল ও রূহের রব), আমার রহমত আমার রাগকে ছাড়িয়ে যায়।"অতঃপর আমি এর জন্য একটি সংযুক্ত (মাওসুল) সূত্র দেখেছি। তাবারানী তাঁর 'আস-সাগীর' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ ইবনে হিব্বান আর-রাক্কী আবুল আব্বাস মিসরে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে সুলাইমান আল-জু’ফী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমার চাচা আমর ইবনে উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমাশের সারথি আবু মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি বললাম, হে জিবরাঈল! আপনার রব কি সালাত আদায় করেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তাঁর সালাত কী? তিনি বললেন: 'সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ' (পবিত্র ও অতিশয় পূত, ফেরেশতাকুল ও রূহের রব), আমার রহমত আমার রাগকে ছাড়িয়ে গেছে। তাবারানী বলেন, এটি আমাশ থেকে আবু মুসলিম ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি, ইবনে ইয়াহইয়া এটি একাই বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মাজদুদ্দীন আশ-শিরাজি, যিনি 'আল-কামূস' এর রচয়িতা, তাঁর 'আস-সালাতু ওয়াল বিশরু ফিস সালাতি আলা খাইরিল বাশার' নামক কিতাবে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি মারফূ হাদীসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈল মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিল, "আপনার রব কি সালাত আদায় করেন?" মূসা (আলাইহিস সালাম) এতে অত্যন্ত মর্মাহত হলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, "হে মূসা! তারা আপনাকে কী বলেছে?" তিনি বললেন, "আপনি যা শুনেছেন।" আল্লাহ বললেন, "তবে আপনি তাদের সংবাদ দিন যে, নিশ্চয়ই আমি সালাত আদায় করি এবং আমার সালাত আমার রাগকে নির্বাপিত করে।" এর সনদ উত্তম এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, যাঁদের মাধ্যমে সহীহায়নে দলিল পেশ করা হয়। এতে কোনো ত্রুটি নেই, কেবল হাসান এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ অধিকাংশের মতে তিনি তাঁর থেকে শোনেননি। (যদি আপনি বলেন) তাহলে আল্লাহ তা'আলার সালাতের অর্থ কী? (আমি বলব) এর অর্থ হলো প্রশংসা, রহমত ও বরকত। আর এর ভাবার্থ হলো: আমি রহম করি, ক্ষমা করি এবং গোপন রাখি। একইভাবে এই ধরণের যত হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার হুকুমও তা-ই, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত মারফূ হাদীস, যেখানে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ইসরা-এর রাতে তাঁকে বলেছিলেন, "নিশ্চয়ই আপনার রব সালাত আদায় করেন।" তিনি বললেন, "হে জিবরাঈল! তিনি কীভাবে সালাত আদায় করেন?" তিনি বললেন, তিনি বলেন: 'সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ' (পবিত্র ও অতিশয় পূত, ফেরেশতাকুল ও রূহের রব), আমার রহমত আমার রাগকে ছাড়িয়ে গেছে। এর সনদে উমর ইবনে কায়স আল-মক্কী রয়েছেন। আবুল ফারাজ এটি 'আল-মাওযুয়াত' গ্রন্থে সংকলন করেছেন এবং বলেছেন যে, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এটি আতার ওপর মাওকূফ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি নিজের এই উক্তি সত্ত্বেও কীভাবে এটিকে এই কিতাবে স্থান দিলেন! এটি শেখ মাজদুদ্দীনের কথা। আর আল্লাহই ভালো জানেন।(খাতীব) আবুল ফারাজ আত-তানাযীরী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনুল হুসাইন আত-তামীমী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ফকীহ ও যাহেদ আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আত-তালকানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আম্মার ইবনে ইয়াসির ইবনে আব্দুল মাজীদ আল-হারাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট দাউদ ইবনে আফফান ইবনে হাবিব আন-নাইসাবুরী বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ তা'আলা প্রতিদিন বলেন, "আমিই মহাপরাক্রমশালী; যে ব্যক্তি ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতের সম্মান চায়, সে যেন মহাপরাক্রমশালী সত্তার আনুগত্য করে।" এটি সহীহ নয়; দাউদ আনাসের নামে হাদীস জাল করতেন।(খাতীব) হিলাল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাইয়্যেবী, আলী ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মালিকী এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে লুলু আল-আমীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াররাক বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إملاء حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَد حَامِد بْن أَحْمَد بْن مُحَمَّد الْمَرْوِيّ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بْن نضر بْن شيبَة الْفَزارِيّ الْمَرْوَزِيّ حَدَّثَنَا سَعِيد بْن هُبَيْرَة العامري حَدَّثَنَا همام عَن قَتَادَة عَن أَنَسٍ مَرْفُوعًا: إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يَقُولُ كُلَّ يَوْمٍ أَنَا رَبُّكُمُ الْعَزِيزُ فَمَنْ أَرَادَ عِزَّ الدَّارَيْنِ فَلْيُطِعِ الْعَزِيزَ هَذَا من سَرقَة سَعِيد وَكَانَ يحدث بالموضوعات عَن الثِّقَات (قلتُ) قَالَ ابْن أَبِي حاتِم قَالَ أَبِي لَيْسَ بِالْقَوِيّ روى أَحَادِيث أنكرها أهلُ الْعلم وَقَالَ الخليلي فِي الْإِرْشَاد: لَهُ غرائب يسألُ عَنْهُا.ثُمَّ أورد لَهُ هَذَا الحَدِيث حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن عَليّ الْفَقِيه حَدَّثَنَا حَامِد بْن أَحْمَد بْن مُحَمَّد الْمَرْوَزِيّ بِهِ وَقَالَ لَا يعرف لِهذا الْمَتْن إِسْنَاد غير هَذَا وَقد أَخْرَجَهُ الْحَاكِم حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيد بْن أَبِي عُثْمَان حَدثنَا أَبُو أَحْمَد حَامِد بْن مُحَمَّد الْمَرْوَزِيّ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن نضر بْن شيبَة حَدَّثَنَا سَعِيد بْن هُبَيْرَة حَدَّثَنَا حَمَّاد بْن سَلمَة عَن ثَابت عَن أنس بِهِ.وَأخرجه أَبُو عَبْد الرَّحْمَن السّلمِيّ أَنْبَأنَا حُصَيْن بْن مُحَمَّد بْن يَحْيَى بْن عتاب النَّيْسَابُورِي حَدَّثَنَا أَبُو مَنْصُور طَلْحَة بْن سَعِيد حَدَّثَنَا عباد بْن عَبْد الحميد حَدَّثَنَا عَوْف بْن مَالك عَن أنس بِهِ وَالله أعلم.(الْخَطِيب) أَنْبَأنَا أَبُو عُمَرَ عَبْد الْوَاحِد بْن مُحَمَّد بْن مهْدي حَدَّثَنَا الْحُسَيْن الْمحَامِلِي حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن إِسْمَاعِيل الْمَدَنِيّ حَدَّثَنَا عَبْد الْعَزِيز بْن عمرَان عَن مُعَاويَة بْن عَبْد الله عَن الْجلد بْن أَيُّوب عَن مُعَاويَة بن قُرَّة عَن أَنَسٍ مَرْفُوعًا: لَمَّا تَجَلَّى اللَّهُ تَعَالَى لِلْجَبَلِ طَارَتْ لِعَظَمَتِهِ سِتَّةُ أَجْبُلٍ فَوَقَعَتْ ثَلاثَةٌ بِمَكَّةَ وَثَلاثَةٌ بِالْمَدِينَةِ فَوَقَعَ بِالْمَدِينَةِ أُحُدٌ وَوَرِقَانُ وَرَضْوَى وَوَقَعَ بِمَكَّةَ ثَبِيرٌ وحراء وتور.قَالَ ابْن حبَان مَوْضُوع: وَعبد الْعَزِيز مَتْرُوك يروي الْمَنَاكِير عَن الْمَشَاهِير.(أَبُو أُميَّة الطرطوسي) حَدَّثَنَا أَبُو مسْهر حدَّثَنِي خَالِد بْن يزِيد بْن صبع المري حَدَّثَنَا طَلْحَة بْن عَمْرو عَن عَطاء عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا: أِنَّ من الْجِبَالَ الَّتِي تَطَايَرَتْ يَوْمَ مُوسَى سَبْعَةُ أَجْبُلٍ لَحِقَتْ بِالْحِجَازِ وَبِالْيَمَنِ مِنْهَا بِالْمَدِينَةِ أُحُدٌ وَوَرِقَانُ وَبِمَكَّةَ ثَوْرٌ وَثَبِيرٌ وَحِرَاءٌ وَبِالْيَمَنِ صَبِيرٌ وَحَضُورٌ.لَيْسَ بِصَحِيح طَلْحَة مَتْرُوك لَا تحل الرِّوَايَة عَنْهُ (قلتُ) فِي الحكم بِوَضْع هذَيْن نظر والأرجح عَدمه أمّا الحَدِيث الأول فَأخْرجهُ ابْن أَبِي حاتِم وَأَبُو الشَّيْخ وَابْن مرْدَوَيْه فِي تفاسيرهم من طَرِيق عَبْد الْعَزِيز بْن عمرَان بِهِ وَعبد الْعَزِيز روى لَهُ التِّرْمِذِيّ وَلم يتهم بكذب، وأمّا الحَدِيث الثَّانِي فَأخْرجهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَقَالَ لَمْ يروه عَن عَطاء إِلَّا طَلْحَة وَطَلْحَة روى لَهُ ابْن مَاجَه وضعفوه إِلَّا أَنَّهُ لَم يتهم بكذب وَقَالَ ابْن أبي حَاتِم
শ্রুতিলিপি। আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ হামিদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মারভি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন নসর বিন শাইবা আল-ফাজারি আল-মারওয়াজি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন হুবাইরা আল-আমিরি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা প্রতিদিন বলেন, 'আমিই তোমাদের মহাপরাক্রমশালী (আল-আজিজ) রব। সুতরাং যে ব্যক্তি উভয় জাহানের সম্মান চায়, সে যেন মহাপরাক্রমশালীর আনুগত্য করে'।" এটি সাঈদের চুরিকৃত হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নির্ভরযোগ্য রাবীদের নামে জাল হাদীস বর্ণনা করতেন। (আমি বলছি), ইবনে আবি হাতিম বলেছেন, আমার পিতা বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন, তিনি এমন সব হাদীস বর্ণনা করেছেন যা আলেম সমাজ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আল-খলিলি 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে বলেছেন: তার বর্ণিত এমন সব আশ্চর্যজনক (গারায়িব) বর্ণনা রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হয়।অতপর তিনি তার জন্য এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আলী আল-ফকিহ। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হামিদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াজি ওই একই সনদে। এবং তিনি বলেছেন, এই মতন (মূল পাঠ)-এর জন্য এই সনদ ছাড়া অন্য কোনো সনদ জানা নেই। অথচ হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ বিন আবু উসমান। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ হামিদ বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াজি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন নসর বিন শাইবা। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন হুবাইরা। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে ওই একই হাদীস বর্ণনা করেছেন।এবং আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি এটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আত্তাব আন-নাইসাবুরি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মানসুর তালহা বিন সাঈদ। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্বাদ বিন আব্দুল হামিদ। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আউফ বিন মালিক, আনাস (রা.) থেকে ওই একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।(আল-খতিব বাগদাদি) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহদি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন আল-মাহামিলি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইসমাইল আল-মাদানি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন ইমরান, মুয়াবিয়া বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি জালদ বিন আইয়ুব থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন কুররাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যখন আল্লাহ তা'আলা পাহাড়ের ওপর জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তাঁর মহত্ত্বের কারণে ছয়টি পাহাড় উড়ে গেল। যার মধ্যে তিনটি মক্কায় এবং তিনটি মদিনায় গিয়ে পড়ল। মদিনায় পড়ল ওহুদ, ওয়ারিকান ও রাদওয়া। আর মক্কায় পড়ল সাবীর, হেরা ও সাওর।"ইবনে হিব্বান বলেছেন এটি বানোয়াট (মাওজু)। আর আব্দুল আজিজ হলেন পরিত্যক্ত (মাতরুক), তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের বরাতে অস্বীকৃত (মুনকার) হাদীস বর্ণনা করেন।(আবু উমাইয়া আত-তারতুসি) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুশহির। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন ইয়াজিদ বিন সুবা আল-মুররি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তালহা বিন আমর, আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "মুসা (আ.)-এর সময় পাহাড়সমূহের মধ্য থেকে যে সাতটি পাহাড় উড়ে গিয়েছিল, সেগুলো হিজাজ ও ইয়েমেনে গিয়ে পৌঁছেছে। তার মধ্যে মদিনায় ওহুদ ও ওয়ারিকান; মক্কায় সাওর, সাবীর ও হেরা; এবং ইয়েমেনে সাবীর ও হুদুর।"এটি সহীহ নয়। তালহা পরিত্যক্ত (মাতরুক), তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়। (আমি বলছি) এই দুটি হাদীসকে বানোয়াট বলার ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে এবং বানোয়াট না হওয়াই অধিকতর সঠিক। প্রথম হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম, আবুশ শাইখ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ তাদের তাফসীর গ্রন্থগুলোতে আব্দুল আজিজ বিন ইমরানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর আব্দুল আজিজের বর্ণনা তিরমিযী গ্রহণ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ নেই। আর দ্বিতীয় হাদীসটি তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, আতা থেকে তালহা ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। তালহার বর্ণনা ইবনে মাজাহ গ্রহণ করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন, তবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তোলা হয়নি। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন—
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
سألتُ أَبِي عَن طَلْحَة بْن عَمْرو فَقَالَ مكي لَيْسَ بِقَوي لين الحَدِيث عِنْدهم.وروى لَهُ ابْن عدي بِإِسْنَاد صَحِيح عَن عَبْد الرَّزَّاق قَالَ حَدَّثَنَا معمر قَالَ اجْتمعت أَنَا وَشَيْبَة وَسُفْيَان وَابْن جريج فَقدم علينا شيخ فأملى علينا أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث عَن ظهر قلب مَا أَخطَأ إِلَّا فِي موضِعين لَمْ يكن الْخَطَأ مِنْهَا وَلَا مِنْهُ إنّما الْخَطَأ من فَوق فلمّا جن علينا اللَّيْل ختمنا الْكتاب فجعلناه تَحت رؤوسنا وَكَانَ الْكَاتِب شُعْبَة ونحنُ نَنْظُر فِي الْكتاب وَكَانَ الرجلُ طَلْحَة بْن عَمْرو، وَقَالَ فِي الْمِيزَان خَالِد بْن يزِيد المري الرَّاوِي عَنْهُ صالِح الحَدِيث.انْتهى.وَقد وجدت لعبد الْعَزِيز مُتَابعًا قَالَ أَبُو نُعَيْم فِي الْحِلْية حَدَّثَنَا أَبُو عَليّ بْن أَحْمَد بْن بَالَوَيْهِ النَّيْسَابُورِي الْمعدل بِبَغْدَاد حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن صالِح الصَّيْمَرِيّ حَدَّثَنَا النصرُ بْن سَلمَة حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن الْحَسَن بْن زبالة حَدَّثَنَا مُعَاويَة بن قُرَّة عَن أَنَسٍ مَرْفُوعا وَقَالَ غَرِيب من حَدِيث مُعَاويَة بْن قُرَّة وَالْجَلد ومُعَاويَة الضال تفرد بِهِ عَنْهُ مُحَمَّد بْن الْحَسَن بْن زبالة المَخْزُومِي، انْتهى.وَابْن زبالة روى لَهُ أَبُو دَاوُد وَهُوَ مَتْرُوك.ووجدتُ للْحَدِيث شَاهدا قَالَ ابْن مرْدَوَيْه فِي التَّفْسِير: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن جَعْفَر حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن الْعَبَّاس حَدَّثَنَا أَبُو بدر عباد بْن الْوَلِيد حَدثنِي مُحَمَّد بْن مُوسَى الشَّيْبَانِيّ حَدَّثَنَا الرّبيع بن عبد الله المعدني حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن الْحَسَن عَن مُحَمَّد بْن عَلِيّ بْن حُسَيْن عَن آبَائِهِ عَن عَليّ بْن أَبِي طَالب فِي قَوْله: {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دكا} .قَالَ: ذَاك عَشِيَّة عَرَفَة وَكَانَ الْجَبَل بالموقف فانقطعَ عَلَى سبع قطع قِطْعَة سَقَطت بَين يَدَيْهِ وَهُوَ الَّذِي يقوم الْإِمَام عِنْده فِي الْموقف وبالمدينة ثَلَاثَة طيبَة وَأحد ورضوى وطور سيناء بِالشَّام وإنّما سمي الطّور لِأَنَّهُ طَار فِي الْهَوَاء إِلَى الشَّام وَالله أعلم.(ابْن عدي) حَدَّثَنَا إِسْحَاق بْن مُحَمَّد بْن إِبْرَاهِيم بْن مُحَمَّد بْن الْحُسَيْن بْن غَزوَان حَدَّثَنَا أَبِي عَن أَبِيهِ عَن جدِّه عَن الغنجار عَن أَيُّوب بْن خوط عَن قَتَادَة عَن أنس أَن رَسُول الله قَالَ: فلمّا تجلى ربه للجبل أَشَارَ بِأُصْبُعِهِ فَمن نورها جعله دكا.لَيْسَ بِصَحِيح أَيُّوب مَتْرُوك يروي الْمَنَاكِير عَن الْمَشَاهِير قَالَ ابْن عدي: عَمْرو بْن عَليّ كَانَ أُمِّيا لَا يكْتب وَهُوَ مَتْرُوك الحَدِيث ولَمْ يكن من أهل الْكَذِب وَقد تَابعه سَعِيد بْن أَبِي عرُوبَة وناهيك بِهِ وَهَمَّام قَالَ الطَّبَرَانِيّ فِي السّنة: حَدَّثَنَا الْعَبَّاس بْن الْفضل الإسقاطي حَدَّثَنَا هريم بْن عُثْمَان الرَّاسِبِي حَدَّثَنَا عُمَرَ بْن سعيد الأشح عَن سَعِيد بْن أَبِي عرُوبَة عَن قَتَادَة عَن أنس عَن النَّبِي فِي قَوْله: فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ للجبل.قَالَ: تجلى لَهُ بِخنصره أَخْرَجَهُ ابْن مرْدَوَيْه وَقَالَ
আমি আমার পিতাকে তালহা ইবনে আমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, সে মক্কী, সে শক্তিশালী নয়, তাদের নিকট সে হাদিস বর্ণনায় শিথিল।ইবনে আদি তার জন্য একটি সহীহ সনদে আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি, শায়বা, সুফিয়ান এবং ইবনে জুরাইজ একত্রিত ছিলাম। তখন আমাদের নিকট এক শায়খ আসলেন এবং মুখস্থ চার হাজার হাদিস আমাদের ইমলা করলেন (লিখে দিলেন)। তিনি মাত্র দুটি স্থান ছাড়া কোথাও ভুল করেননি, আর সেই ভুলগুলোও সেগুলোর ছিল না বা তার নিজেরও ছিল না, বরং ভুল ছিল ওপরের দিক থেকে। যখন রাত ঘনিয়ে এলো, আমরা কিতাবটি সম্পন্ন করলাম এবং তা আমাদের মাথার নিচে রাখলাম। লেখক ছিলেন শু’বা এবং আমরা কিতাবটি দেখছিলাম। সেই ব্যক্তিটি ছিলেন তালহা ইবনে আমর। 'আল-মিজান'-এ বলা হয়েছে যে, তার থেকে বর্ণনাকারী খালিদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুরি 'সালিহুল হাদিস' (হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য)।সমাপ্ত।আমি আবদুল আজিজের জন্য একটি মুতাবা (সমর্থনকারী বর্ণনা) পেয়েছি। আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: বাগদাদে আমাদের নিকট আবু আলী ইবনে আহমদ ইবনে বালাইহি আন-নায়সাবুরী আল-মুয়াদ্দিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আস-সাইমারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আন-নাসর ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে জুবাল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ, আল-জালদ এবং মুয়াবিয়া আদ-দাল-এর সূত্রে এটি একটি 'গারিব' (বিরল) হাদিস; মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে জুবাল্লাহ আল-মাখজুমি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।আর ইবনে জুবাল্লাহ—তার থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তবে সে 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত)।আমি এই হাদিসটির জন্য একটি শাহিদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) পেয়েছি। ইবনে মারদুওয়াইহ তার তাফসিরে বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বদর আব্বাদ ইবনে ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে মুসা আশ-শায়বানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আর-রাবী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাদানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি তার পিতৃপুরুষদের থেকে, তারা আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: {অতঃপর যখন তার পালনকর্তা পাহাড়ের ওপর তাজাল্লি করলেন, তখন তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন।}তিনি বলেন: এটি ছিল আরাফার সন্ধ্যাবেলা। পাহাড়টি অবস্থানস্থলে ছিল এবং তা সাতটি টুকরোয় বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। একটি টুকরো তার সামনে পড়েছিল, আর এটিই সেই জায়গা যেখানে ইমাম অবস্থানের সময় দাঁড়ান। মদীনায় তিনটি টুকরো ছিল—তাইবা, উহুদ এবং রাদওয়া; আর সিরিয়ায় তূর সিনাই। আর একে 'তূর' বলা হয় কারণ এটি বাতাসে উড়ে সিরিয়া চলে গিয়েছিল। আল্লাহই ভালো জানেন।(ইবনে আদি বলেন) আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে গাজওয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমার পিতা তার পিতার সূত্রে, তিনি তার দাদার সূত্রে, তিনি আল-গুনজার থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে খুত থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: অতঃপর যখন তাঁর রব পাহাড়ের ওপর তাজাল্লি করলেন, তখন তিনি আল্লাহর আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন, ফলে সেই নূরের কারণে পাহাড়টি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।এটি সহীহ নয়। আইয়ুব 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত), সে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের সূত্রে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস বর্ণনা করে। ইবনে আদি বলেছেন: আমর ইবনে আলী নিরক্ষর ছিলেন, তিনি লিখতেন না এবং তিনি 'মাতরুকুল হাদিস' (পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী), তবে তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না। আর সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ তাকে সমর্থন করেছেন, যা তোমার জন্য যথেষ্ট, এবং হাম্মামও তাকে সমর্থন করেছেন। তাবারানি 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট আব্বাস ইবনে ফজল আল-ইস্কাতী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হুরেইম ইবনে উসমান আল-রাসিবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট উমর ইবনে সাঈদ আল-আশাজ বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: অতঃপর যখন তার রব পাহাড়ের ওপর তাজাল্লি করলেন।তিনি বলেছেন: তিনি আল্লাহর কনিষ্ঠ আঙুল দ্বারা তাঁর ওপর তাজাল্লি করলেন। ইবনে মারদুওয়াইহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أَبُو الشَّيْخ فِي التَّفْسِير حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد الصيدلاني أَبُو بَكْر الْبَغْدَادِيّ حَدَّثَنَا إِسْحَاق بْن دَاوُد بْن المحبر حَدَّثَنَا همام عَن قَتَادَة عَن أَنَسٍ مَرْفُوعًا بِنَحْوِهِ وَالله أعلم.(ابْن عدي) حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن أَحْمَد بْن بسطَام حَدَّثَنَا هَدِيَّة حَدَّثَنَا حَمَّاد بْن سَلمَة حَدَّثَنَا ثَابت عَن أنس: أَن النَّبِي قَرَأَ {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جعله دكا} قَالَ أخرج خِنْصره عَلَى إبهامه فساخ الْجَبَل.لَا يثبت.قَالَ ابْن عدي: كَانَ ابْن أَبِي العوجاء ربيب حَمَّاد بْن سَلمَة فَكَانَ يُدلس فِي كتبه هَذِه الْأَحَادِيث (قلتُ) هَذَا الحَدِيث صَحِيح رَوَاهُ خلق عَن حَمَّاد وَأخرجه الْأَئِمَّة من طرق عَنهُ وصححوه فَأخْرجهُ أَحْمد فِي مُسْنده من طَرِيق معَاذ بن معَاذ الْعَنْبَري عَن حَمَّاد وَمن طَرِيق روح عَنْهُ وَأخرجه التِّرْمِذِيّ من طَرِيق سُلَيْمَان بْن حَرْب عَن حَمَّاد وَقَالَ حسن صَحِيح غَرِيب، وَأخرجه ابْن أَبِي عَاصِم فِي السّنة من طَرِيق أَسد بْن مُوسَى وحجاج بْن الْمنْهَال كِلَاهُمَا عَن حَمَّاد وَأخرجه ابْن مرْدَوَيْه فِي التَّفْسِير من طَرِيق مُسْلِم بْن إِبْرَاهِيم عَن حَمَّاد وَأخرجه الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك من طَرِيق عَفَّان بْن مُسْلِم وَسليمَان بْن حَرْب كِلَاهُمَا عَن حَمَّاد وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي كتاب الرُّؤْيَة من طَرِيق سُلَيْمَان بْن حَرْب وَمن طَرِيق مُحَمَّد بْن كثير عَن حَمَّاد وَأخرجه الضياء الْمَقْدِسِي فِي الْمُخْتَار وَصَححهُ وَقد ذكر الزَّرْكَشِيّ فِي تَخريج الرَّافِعِيّ أَن تَصْحِيحه أَعلَى مزية من تَصْحِيح الْحَاكِم وَإنَّهُ قريب من تَصْحِيح التِّرْمِذِيّ وَابْن حبَان، وَقَالَ ابْن طَاهِر فِي تذكرة الْحفاظ أورد ابْن عدي هَذَا الحَدِيث فِي تَرْجَمَة حَمَّاد بْن سَلمَة وَلَعَلَّه أَشَارَ إِلَى تفرده بِهِ وَحَمَّاد إِمَام ثِقَة.وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ بعد تَخْرِيجه وَقد رُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس مَوْقُوفا ثُمَّ أخرج من طَرِيق عَمْرو بْن طَلْحَة عَن أَسْبَاط عَن السّديّ عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس فِي قَوْله تَعَالَى {فَلَمَّا تَجَلَّى ربه للجبل جعله دكا} قَالَ تجلى مِنْهُ مثل طرف الْخِنْصر فَجعل الْجَبَل دكًا وَأخرجه الْحَاكِم وَصَححهُ وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ فِي السّنة من طَرِيق عُمَرَ بْن مُحَمَّد العنقري عَن أَسْبَاط ثُمَّ وجدتُ لِحماد بْن سَلمَة مُتَابعًا عَن ثَابت عَن أنس بِهِ وَأخرجه ابْن مرْدَوَيْه أَيْضا من طَرِيق شُعَيْب بْن عَبْد الحميد الطَّحَّان عَن قُرَّة بْن عِيسَى عَن الْأَعْمَش عَن رَجُل عَن أنس بِهِ وَورد أَيْضا من حَدِيث ابْن عُمَرَ أَخْرَجَهُ ابْن مرْدَوَيْه من طَرِيق الْمسيب بْن شريك عَن ابْن الْبَيْلَمَانِي عَن أَبِيهِ عَن ابْن عُمَرَ مَرْفُوعا بِهِ وَالله أعلم.
আবুশ শায়খ তাঁর তাফসীরে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাইদালানি আবু বকর আল-বাগদাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে দাউদ ইবনুল মুহাব্বার বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাম্মাম বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে, তিনি আনাস থেকে মারফু সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।(ইবনে আদি) আমাদের কাছে আলী ইবনে আহমদ ইবনে বিসতাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাদিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে সাবিত বর্ণনা করেছেন আনাস থেকে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন—{অতঃপর যখন তাঁর প্রতিপালক পাহাড়ের ওপর প্রকাশিত হলেন, তখন তিনি পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন}। তিনি বললেন, তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির ওপর কনিষ্ঠা আঙুলটি রাখলেন, আর অমনি পাহাড়টি ধসে গেল।এটি সাব্যস্ত নয়।ইবনে আদি বলেন: ইবনে আবুল আওজা ছিলেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহর সৎ ছেলে, তাই তিনি হাম্মাদের কিতাবগুলোতে এই হাদিসগুলো প্রক্ষেপণ করতেন। (আমি বলছি) এই হাদিসটি সহিহ। বহু বর্ণনাকারী এটি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমামগণ বিভিন্ন সূত্রে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন ও সহিহ বলেছেন। আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি মুয়ায ইবনে মুয়ায আল-আনবারির সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং রাউহের সূত্রেও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযি এটি সুলায়মান ইবনে হারব-এর সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে ‘হাসান সহিহ গারিব’ বলেছেন। ইবনে আবি আসিম ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে আসাদ ইবনে মুসা ও হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল—উভয়ের সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁর তাফসীরে মুসলিম ইবনে ইবরাহিমের সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকিম তাঁর মুসতাদরাকে আফফান ইবনে মুসলিম ও সুলায়মান ইবনে হারব—উভয়ের সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকি ‘কিতাবুর রুইয়া’ গ্রন্থে সুলায়মান ইবনে হারবের সূত্রে এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসিরের সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। দিয়া আল-মাকদিসি ‘আল-মুখতারাহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন। আর যারকাশি ‘তাখরিজুল রাফেয়ি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সহিহ বলা হাকিমের সহিহ বলার চেয়েও উচ্চমানের মর্যাদা রাখে এবং এটি তিরমিযি ও ইবনে হিব্বানের সহিহ বলার কাছাকাছি। ইবনে তাহির ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থে বলেন, ইবনে আদি এই হাদিসটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে ইশারা করেছেন যে হাম্মাদ এটি বর্ণনায় একাকী। আর হাম্মাদ একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম।বায়হাকি এটি উদ্ধৃত করার পর বলেন, এটি ইবনে আব্বাস থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি আমর ইবনে তালহার সূত্রে আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দি থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী {অতঃপর যখন তাঁর প্রতিপালক পাহাড়ের ওপর প্রকাশিত হলেন, তখন তিনি পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন} সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাঁর থেকে কনিষ্ঠা আঙুলের ডগার মতো প্রকাশিত হয়েছিল, ফলে পাহাড়টি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন। তাবারানি ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে ওমর ইবনে মুহাম্মদ আল-আনকারির সূত্রে আসবাত থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমি হাম্মাদ ইবনে সালামাহর একজন অনুসরণকারী বর্ণনাকারী পেয়েছি সাবিত থেকে আনাস সূত্রে। ইবনে মারদুওয়াইহও শুআইব ইবনে আব্দুল হামিদ আত-তাহহানের সূত্রে ক্বুররা ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আনাস সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া এটি ইবনে ওমরের হাদিস থেকেও বর্ণিত হয়েছে; ইবনে মারদুওয়াইহ এটি মুসাইয়িব ইবনে শারিকের সূত্রে ইবনুল বায়লামানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ওমরের সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(الجوزقاني) أَنْبَأنَا أَبُو نهشل عَبْد الصَّمد بْن أَحْمَد بْن الْفضل بْن أَحْمَد الْعَنْبَري الْأَصْبَهَانِيّ فِيمَا كتب إليّ من أَصْبَهَان أَنْبَأنَا أَبُو السعادات أَحْمَد بْن مَنْصُور بْن الْحَسَن بْن عَلِيّ بْن إِبْرَاهِيم الْكَرْخِي حَدَّثَنَا سُلَيْمَان بْن أَحْمَد أَبُو الطَّبَرَانِيّ حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن أَحْمَد بْن حَنْبَل حدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا مُؤَمل بْن عَبْد الرَّحْمَن حَدَّثَنَا أُميَّة بْن يَعْلَى عَن سَعِيد المَقْبُري عَن عِكْرِمَة عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا: أِنَّ اللَّهَ عز وجل يَنْزِلُ فِي كُلِّ لَيْلَةِ جُمُعَةٍ إِلَى دَار الدُّنْيَا فِي سِتّمائَة أَلْفِ مَلَكٍ فَيَجْلِسُ عَلَى كُرْسِيٍّ مِنْ نُورٍ وَبَيْنَ يَدَيْهِ لَوْحٌ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ فِيهِ أَسْمَاءُ مَنْ يُثْبِتُ الرُّؤْيَةَ وَالْكَيْفِيَّةَ وَالصُّورَةَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ فَيُبَاهِي بِهِمُ الْمَلائِكَةَ وَيَقُولُ تبارك وتعالى هَؤُلاءِ {عَبِيدِي الَّذِينَ لَمْ يَجْحَدُونِي وَأَقَامُوا سُنَّةَ نَبِيِّي وَلَمْ يَخَافُوا فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لائِمٍ أُشْهِدُكُمْ يَا مَلائِكَتِي وَعِزَّتِي وَجَلالِي لأُدْخِلَنَّهُمُ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ} .قَالَ الجوزقاني كَذِبٌ مَوْضُوعٌ بَاطِلٌ مركب عَلَى هَؤُلَاءِ الشُّيُوخ وَضعه أَبُو السعادات وَهُوَ كذَّاب زنديق ملحد والكرخي رجلٌ مَجْهُول لَا يُعرف بل هُوَ اسْم وَنسب اختلقه أَبُو السعادات ليحسن بِهِ كذبه وَالطَّبَرَانِيّ وَمن فَوْقه منزهونَ عَن رِوَايَة مثل هَذَا (قلت) قَالَ فِي الْمِيزَان فَهَذَا هُوَ الشَّيْخ المجسم الَّذِي لَا يستحي الله من عَذَابه إِذْ كذب وافترى وَالله أعلم.(الْخَطِيب) أَنْبَأنَا عَلِيّ بْن حسن التنوخي أَنْبَأنَا أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بْن الْحُسَيْن بْن عَلِيّ بْن أَبِي شيبَة الْعلوِي حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِم عَبْد الْعَزِيز بْن إِسْحَاق بن جَعْفَر بن النقال الزيدي حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيد الْحَسَن بْن عَلِيّ بْن عَبْد الصَّمد الْآدَمِيّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْن يَحْيَى الأزمي حَدَّثَنَا عَبْد الْكَرِيم بْن روح حَدَّثَنَا عَبْد الْعَزِيز بْن عَبْد الله بْن إِبْرَاهِيم بْن عَبْد الرَّحْمَن بْن عَوْف عَن أَبِيهِ عَن جدِّه مَرْفُوعا: إِن نزُول الله إِلَى الشَّيْء إقباله عَلَيْهِ من غير نزُول (قلتُ) قَالَ فِي الْمِيزَان: إِسْنَاد مظلم وَمتْن مختلق وَالله أعلم.(أَبُو عَليّ الْأَهْوَازِي) حَدَّثَنَا أَبُو زرْعَة أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الله بْن سَعِيد حَدَّثَنَا جدِّي لأمي سعد بْن الْحَسَن بْن جَعْفَر حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيّ بْن الْحُسَيْن بْن إِسْحَاق الدقيقي حَدَّثَنَا أَبُو زيد حَمَّاد بْن دَلِيل عَن سُفْيَان الثَّوْريّ عَن قيس بْن مُسْلِم عَن عَبْد الرَّحْمَن بْن سابط عَن
(আল-জাওযাকানি) আমাদের খবর দিয়েছেন আবু নাহশাল আব্দুস সামাদ বিন আহমদ বিন আল-ফদল বিন আহমদ আল-আনবারি আল-আসবাহানি আসবাহান থেকে আমাকে লেখা পত্রে, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আস-সাআদাত আহমদ বিন মানসুর বিন আল-হাসান বিন আলী বিন ইবরাহিম আল-কারখি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমদ আবু তাবারানি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হানবাল, তিনি বলেন আমার পিতা আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুআম্মাল বিন আব্দুর রহমান, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উমাইয়াহ বিন ইয়ালা, সাইদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহান প্রতি জুমার রাতে ছয় লক্ষ ফেরেশতাসহ দুনিয়ার আবাসে নেমে আসেন এবং একটি নূরের কুরসির ওপর বসেন। তাঁর সামনে লাল ইয়াকুত পাথরের একটি ফলক থাকে, যাতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের মধ্যে যারা (আল্লাহর) দর্শন, ধরন ও আকৃতি সাব্যস্ত করে তাদের নাম থাকে। তিনি তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন এবং আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ বলেন: {এরা হলো আমার সেই বান্দা যারা আমাকে অস্বীকার করেনি এবং আমার নবীর সুন্নাহ কায়েম করেছে এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পায়নি। হে আমার ফেরেশতারা! তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমার মর্যাদা ও মহত্ত্বের কসম! আমি অবশ্যই তাদের হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাব।}"।আল-জাওযাকানি বলেন, এটি একটি বানোয়াট মিথ্যা ও বাতিল বর্ণনা যা এই সকল শায়খদের নামে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি আবু আস-সাআদাত তৈরি করেছে, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী, জিন্দিক ও নাস্তিক। আর আল-কারখি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি যাকে চেনা যায় না, বরং এটি একটি নাম ও বংশ পরিচয় যা আবু আস-সাআদাত তার মিথ্যাকে সুন্দর করার জন্য উদ্ভাবন করেছে। তাবারানি এবং তাঁর ঊর্ধ্বতনরা এই জাতীয় বর্ণনা করা থেকে মুক্ত। (আমি বলছি) 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই ব্যক্তি হলো সেই দেহবাদী শায়খ, যাকে শাস্তি দিতে আল্লাহ লজ্জাবোধ করবেন না, যেহেতু সে মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপ করেছে। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।(আল-খতিব) আমাদের খবর দিয়েছেন আলী বিন হাসান আত-তানুখি, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবু শায়বাহ আল-আলাভি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ বিন ইসহাক বিন জাফর বিন আন-নাক্কাল আজ-জাইদি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু সাইদ আল-হাসান বিন আলী বিন আব্দুস সামাদ আল-আদমি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-আজমি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল কারিম বিন রুহ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো কিছুর দিকে অবতরণ (নুজুল) হলো তাঁর সেটির দিকে অগ্রসর হওয়া, কোনো ধরনের (স্থান পরিবর্তন জনিত) অবতরণ ছাড়া"। (আমি বলছি) 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সনদ এবং মনগড়া মূলপাঠ। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।(আবু আলী আল-আহওয়াজি) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু জুরআ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাইদ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আমার নানা সাদ বিন আল-হাসান বিন জাফর, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আলী বিন আল-হুসাইন বিন ইসহাক আদ-দাকিকি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু জাইদ হাম্মাদ বিন দালিল, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি কাইস বিন মুসলিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন সাবিত থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ مَرْفُوعًا: إِذَا كَانَتْ عَشِيَّةُ عَرَفَةَ هَبَطَ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَطَّلِعُ إِلَى أَهْلِ الْمَوْقِفِ فَيَقُولُ مَرْحَبًا بِزُوَّارِي وَالْوَافِدِينَ إِلَى بَيْتِي وَعِزَّتِي لأَنْزِلَنَّ إِلَيْكُمْ وَلأُسَاوِي مَجْلِسَكُمْ بِنَفْسِي فَيَنْزِلُ إِلَى عَرَفَةَ فَيَعُمُّهُمْ بِمَغْفِرَتِهِ وَيُعْطِيهِمْ مَا يَسْأَلُونَ إِلا الْمَظَالِمَ وَيَقُولُ يَا مَلائِكَتِي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي غَفَرْتُ لَهُمْ فَلا يَزَالُ كَذَلِكَ إِلَى أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ وَيَكُونُ أَمَامَهُمْ إِلَى الْمُزْدَلِفَةِ وَلا يَعْرُجُ إِلَى السَّمَاءِ تِلْكَ اللَّيْلَةَ، فَإِذَا أَسْفَرَ الصُّبْحُ وَوَقَفُوا عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ غُفِرَ لَهُمْ حَتَّى الْمَظَالِمُ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْصَرِفُ النَّاسُ إِلَى مِنًى.وَقَالَ أَبُو عَليّ الْأَهْوَازِي حَدَّثَنَا عُمَرَ بْن دَاوُد بْن سَلمُون حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن عَبْد الله الرِّفَاعِي وَحَدَّثَنَا عَلِيّ بْن مُحَمَّد بْن مَنْصُور النَّيْسَابُورِي حَدَّثَنَا حسان بْن غَالب عَن عبد الله بن لهيمة عَن يُونُس بْن يزِيد عَن مُحَمَّد بْن إِسْحَاق عَن يَحْيَى بْن عباد عَن أَسْمَاءَ مَرْفُوعًا: رَأَيْتُ رَبِّي يَوْمَ عَرَفَةَ بِعَرَفَاتٍ عَلَى جَمَلٍ عَلَيْهِ إِزَارَانِ وَهُوَ يَقُولُ قَدْ سَمَحْتُ قَدْ غَفَرْتُ إِلا الْمَظَالِمَ، فَإِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْمُزْدَلِفَةِ لَمْ يَصْعَدْ إِلَى السَّمَاءِ حَتَّى إِذَا وَقَفُوا عِنْدَ الْمَشْعَرِ قَالَ حَتَّى الْمَظَالِمُ، ثُمَّ يَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْصَرِفُ النَّاسُ إِلَى مِنًى.مَوْضُوعٌ كَذِبٌ بِلا شَكٍ كَمَا قَالَه يَحْيَى بْن عَبْد الْوَهَّاب بْن مَنْدَه، وَأكْثر رِجَاله مَجَاهِيل وضعفاء (قلت) أَخْرَجَهُ ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه أَنْبَأنَا أَبُو طَاهِر مُحَمَّد بْن الْحُسَيْن الحنائي فِي كِتَابه أَنْبَأنَا أَبُو عَليّ الْأَهْوَازِي بِهِ وَقَالَ كتب أَبُو بَكْر الْخَطِيب هَذَا عَن الْأَهْوَازِي مُتَعَجِّبا من نكارته وَهُوَ بَاطِل وَقَالَ ابْن عَسَاكِر فِي الأول هَذَا حَدِيث مُنكر وَفِي إِسْنَاده غير وَاحِد من المجهولين والأهوازي جمع أَمْثَاله فِي كتاب لَهُ فِي الصِّفَات سَمَّاهُ كتاب الْبَيَان فِي شرح عُقُود أهل الْإيِمَان أودعهُ أَحَادِيث مُنكرَة كَحَدِيث: أَن الله تَعَالَى لَمّا أَرَادَ أَن يخلق نَفسه خلق الْخَيل فأجراها حَتَّى عرقت ثُمَّ خلق نَفسه من ذَلِكَ الْعرق مِمَّا يجوز أَن يرْوى وَلَا يحل أَن يعْتَقد، وَكَانَ مذْهبه مَذْهَب السالمية يَقُولُ بِالظَّاهِرِ ويتمسك بالأحاديث الضعيفة الَّتِي تقَوِّي لَهُ رَأْيه وَحَدِيث إِجْرَاء الْخَيل مَوْضُوع وَضعه بعضُ الزَّنَادِقَة ليشنع بِهِ عَلَى أَصْحَاب الحَدِيث فِي روايتهم المستحيل فَقبله من لَا عقلَ لَهُ وَرَوَاهُ وَهُوَ مِمَّا يقطع بِبُطْلَانِهِ شرعا وعقلاً انْتهى.وَقَالَ فِي تَبْيِين كذب المفتري كَانَ الْأَهْوَازِي من أكذب النَّاس.وَقَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان صنف الْأَهْوَازِي كتابا عَن الصِّفَات لَو لَم يجمعه لَكَانَ خيرا لَهُ فَإِنَّهُ أَتَى بِموضوعات وفضائح وَكَانَ يحط عَلَى الْأَشْعَرِيّ وَجمع تأليف فِي ثلبه وَالله أعلم.(الْخَطِيب) أَنْبَأنَا الْحَسَن بْن أَبِي بَكْر وَعُثْمَان بْن مُحَمَّد بْن يُوسُف العلاف قَالَا أَنبأَنَا
আবু উমামাহ আল-বাহিলি হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত: যখন আরাফাতের সন্ধ্যা হয়, আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। অতঃপর তিনি আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারীদের পর্যবেক্ষণ করেন এবং বলেন, "আমার যিয়ারতকারী ও আমার ঘরের অভিমুখে আগত মেহমানদের প্রতি স্বাগতম। আমার ইজ্জতের কসম! আমি অবশ্যই তোমাদের নিকট নেমে আসব এবং আমি নিজে তোমাদের মজলিসের সমান হব।" অতঃপর তিনি আরাফাতে অবতরণ করেন এবং তাদের তাঁর ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত করেন। তারা যা প্রার্থনা করে তিনি তাদের তা দান করেন, কেবল মানুষের প্রতি কৃত জুলুমের পাওনা ব্যতীত। তিনি বলেন, "হে আমার ফেরেশতারা! আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থা এমনই থাকে এবং মুজদালিফা পর্যন্ত তিনি তাদের সামনে থাকেন। সেই রাতে তিনি আকাশে উঠে যান না। অতঃপর যখন ভোর হয় এবং তারা মাশআরুল হারামের নিকট অবস্থান করে, তখন এমনকি জুলুমের পাওনাগুলোও ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি আকাশে উঠে যান এবং মানুষ মিনার দিকে রওনা হয়।আবু আলী আল-আহওয়াজি বলেছেন, উমর ইবনে দাউদ ইবনে সালমুন আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-রিফায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন এবং আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর আল-নিসাপুরি আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, হাসান ইবনে গালিব আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া হতে, তিনি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ হতে এবং তিনি আসমা (রা.) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন: আমি আরাফাতের দিনে আরাফাতের ময়দানে আমার রবকে একটি উটের ওপর দেখেছি, তাঁর গায়ে দুটি চাদর ছিল এবং তিনি বলছিলেন, "আমি সহজ করে দিয়েছি, আমি ক্ষমা করে দিয়েছি, কেবল জুলুমের পাওনা ব্যতীত।" অতঃপর যখন মুজদালিফার রাত হলো, তিনি আকাশে উঠে গেলেন না যতক্ষণ না তারা মাশআরুল হারামের নিকট অবস্থান করল। তখন তিনি বললেন, "এমনকি জুলুমের পাওনাও (ক্ষমা করলাম)।" এরপর তিনি আকাশে উঠে যান এবং মানুষ মিনার দিকে ফিরে যায়।এটি নিঃসন্দেহে একটি বানোয়াট মিথ্যা বর্ণনা, যেমনটি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মানদাহ বলেছেন। এর বর্ণনাকারীদের অধিকাংশই অজ্ঞাত এবং দুর্বল। (আমি বলছি) ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-হিন্নায়ি তাঁর কিতাবে আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু আলী আল-আহওয়াজি এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আবু বকর আল-খতিব এই বর্ণনাটি আল-আহওয়াজির নিকট থেকে লিখেছেন এবং এর চরম আপত্তিকর হওয়ার কারণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এটি বাতিল। ইবনে আসাকির শুরুতে বলেছেন, এটি একটি মুনকার হাদিস এবং এর সনদে একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে। আল-আহওয়াজি এই ধরণের বর্ণনাগুলো সিফাত (আল্লাহর গুণাবলি) বিষয়ক তাঁর একটি কিতাবে সংগ্রহ করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'কিতাবুল বায়ান ফি শারহি উকুদ আহলিল ইমান'। সেখানে তিনি এমন সব মুনকার হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেমন: "আল্লাহ তাআলা যখন নিজের সত্তাকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি ঘোড়া সৃষ্টি করলেন। এরপর তিনি ঘোড়াগুলোকে দৌড়ালেন যতক্ষণ না সেগুলো ঘেমে গেল। তারপর তিনি সেই ঘাম থেকে নিজের সত্তাকে সৃষ্টি করলেন।" এগুলো এমন বিষয় যা বর্ণনা করা চললেও বিশ্বাস করা বৈধ নয়। তাঁর মাযহাব ছিল সালমিয়াদের মাযহাব। তিনি জাহিরি (প্রকাশ্য শব্দার্থের) অনুসারী ছিলেন এবং এমন সব দুর্বল হাদিস আঁকড়ে ধরতেন যা তাঁর মতকে শক্তিশালী করে। ঘোড়া দৌড়ানোর হাদিসটি বানোয়াট। কোনো এক জিন্দিক এটি তৈরি করেছে যাতে হাদিস বিশারদগণ অসম্ভব বিষয় বর্ণনা করেন বলে তাঁদের বদনাম করা যায়। অতঃপর বিবেকহীন লোকেরা এটি গ্রহণ করেছে এবং বর্ণনা করেছে। অথচ শরিয়ত ও যুক্তি—উভয় দিক থেকেই এর অসারতা সুনিশ্চিত। সমাপ্ত।তিনি 'তাবয়িনু কাজিবিল মুফতারি' গ্রন্থে বলেছেন, আল-আহওয়াজি মানুষের মধ্যে বড় মিথ্যাবাদীদের একজন ছিলেন। ইমাম যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন, আল-আহওয়াজি সিফাত সম্পর্কে একটি কিতাব লিখেছেন, সেটি যদি তিনি না লিখতেন তবে তাঁর জন্য ভালো হতো। কারণ তিনি তাতে বানোয়াট ও কলঙ্কজনক বিষয় নিয়ে এসেছেন। তিনি ইমাম আশআরিকে হেয় করতেন এবং তাঁর নিন্দায় একটি সংকলন তৈরি করেছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন।(আল-খতিব) আল-হাসান ইবনে আবি বকর এবং উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-আল্লাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مُحَمَّد بْن عَبْد الله بْن إِبْرَاهِيم الشَّافِعِي حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل التِّرْمِذِيّ حَدَّثَنَا نُعَيْم بْن حَمَّاد حَدَّثَنَا ابْن وهب حَدَّثَنَا عَمْرو بْن الْحَارِث عَن سَعِيد بْن أَبِي هِلَال عَن مَرْوَان بْن عُثْمَان عَن عمَارَة بْن عَامر عَن أُمِّ الطُّفَيْلِ امْرَأَةِ أُبَيٍّ مَرْفُوعًا رَأَيْتُ رَبِّي فِي الْمَنَامِ فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ شَابًّا مُوَفَّرًا رِجْلاهُ فِي خَضِرَةٍ لَهُ نَعْلانِ مِنْ ذَهَبٍ عَلَى وَجْهِهِ فِرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ؛ مَوْضُوع.نُعَيْم وَثَّقَهُ قوم وَقَالَ ابْن عدي يضع وَضَعفه ابْن معِين بِسَبَب هَذَا الحَدِيث ومروان كَذَّاب وَعمارَة مَجْهُول وَسُئِلَ أَحْمَد عَن هَذَا الحَدِيث فَقَالَ مُنكر (قلت) قَالَ فِي الْمِيزَان: عمَارَة بْن عَامر عَن أم الطُّفَيْل بِحَدِيث الرُّؤْيَة لَا يعرف ذكره الْبُخَاريّ فِي الضُّعَفَاء وَقَالَ ابْن حبَان فِي الثِّقَات عمَارَة بْن عَامر عَن أم الطُّفَيْل بِحديث الرُّؤْيَة مُنكر لَم يسمعهُ عمَارَة من أم الطُّفَيْل.قَالَ وإنّما ذكرته لِئَلَّا يغتر النَّاظر فِيهِ فيحتج بِهِ وَرِوَايَته من حَدِيث أهل مصر وَكَذَا سماهُ الطَّبَرَانِيّ فِي المعجم الْكَبِير فِي الحَدِيث الْمَذْكُور.وَقَالَ عمَارَة بْن عَامر بْن حزم الْأنْصَارِيّ ومروان بْن عُثْمَان هُوَ ابْن أَبِي سَعِيد بْن الْمُعَلَّى الذرقي وروى لَهُ النَّسَائِيّ وَضَعفه أَبُو حاتِم وَمَا وسم بكذب نعم.قَالَ أَبُو بَكْر بْن الْحداد الْفَقِيه سمعتُ النَّسَائِيّ يَقُولُ فِي هَذَا الحَدِيث وَمن مَرْوَان بْن عُثْمَان حَتَّى يصدق عَلَى الله رواهُ الْخَطِيب وَأما نُعيم بْن حَمَّاد فَهُوَ أحد الْأَئِمَّة الْأَعْلَام وروى لَهُ الْبُخَاريّ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وروى عَنْهُ يَحْيَى بْن معِين والذهلي والدارمي وَأَبُو زرْعَة وَخلق ويُقال إِنَّه أول من جمع الْمسند وَلم ينْفَرد بِهَذَا الحَدِيث فقد رواهُ جمَاعَة عَن ابْن وهب، قَالَ الطَّبَرَانِيّ حَدَّثَنَا روح بْن الْفرج حَدَّثَنَا يَحْيَى بْن بكير ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَد بْن رَشِيدين حَدَّثَنَا يَحْيَى بْن سُلَيْمَان الْجعْفِيّ وَأَحْمَد بْن صالِح قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن وهب فَذكره بِسَنَدِهِ وَمَتنه سَوَاء.وَله طَرِيق آخر قَالَ الطَّبَرَانِيّ فِي السّنة حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن أَحْمَد بْن حَنْبَل حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الْأسود بْن عَامر ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن مُحَمَّد بْن عقبَة الشَّيْبَانِيّ الْكُوفيّ حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن عَليّ الْحلْوانِي حَدَّثَنَا عَفَّان حَدَّثَنَا عَبْد الصَّمد بْن كيسَان ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن صالِح بْن الْوَلِيد النَّرْسِي حَدَّثَنَا عِيسَى بْن شَاذان حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن أَبِي سُوَيْد الدراع قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّاد بْن سَلمَة عَن قَتَادَة عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله رأيتُ رَبِّي فِي صُورَة شَاب لَهُ وفرة قَالَ الطَّبَرَانِيّ سمعتُ أَبَا بَكْر بْن صَدَقَة يَقُولُ سمعتُ أَبَا زرْعَة الرَّازِيّ يَقُولُ حَدِيث قَتَادَة عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس فِي الرُّؤْيَة صَحِيح رَوَاهُ شَاذان وَعبد الصَّمد بْن كيسَان وَإِبْرَاهِيم بْن أَبِي سُوَيْد لَا يُنكره إِلَّا معتزلي.وَقَالَ الطَّبَرَانِيّ حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن سَعِيد الرَّازِيّ حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن إِبْرَاهِيم الدَّوْرَقِي حَدثنَا
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আশ-শাফিয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তিরমিযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি মারওয়ান ইবনে উসমান থেকে, তিনি আমারা ইবনে আমির থেকে, তিনি উবাইয়ের স্ত্রী উম্মুত তোফায়েল থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আমি আমার রবকে স্বপ্নে সর্বোত্তম আকৃতিতে দেখেছি; প্রচুর কেশবিশিষ্ট এক যুবকের ন্যায়, তাঁর পা দুটি সবুজ শ্যামলিমার মধ্যে, তাঁর পায়ে রয়েছে স্বর্ণের জুতো এবং তাঁর চেহারায় রয়েছে স্বর্ণের ঝালর।" এটি বানোয়াট (মাওযু)।একদল লোক নুয়াইমকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, কিন্তু ইবনে আদি বলেছেন তিনি হাদিস জাল করেন এবং ইবনে মাইন এই হাদিসের কারণে তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আর মারওয়ান একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং আমারা অপরিচিত (মাজহুল)। আহমদকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: এটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। (আমি বলি) আল-মিযান গ্রন্থে বলা হয়েছে: উম্মুত তোফায়েল থেকে দিদার সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনাকারী আমারা ইবনে আমির পরিচিত নন; ইমাম বুখারী তাঁকে দুর্বলদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় বলেছেন, আমারা ইবনে আমিরের উম্মুত তোফায়েল থেকে বর্ণিত দিদার সংক্রান্ত হাদিসটি মুনকার, কেননা আমারা উম্মুত তোফায়েল থেকে এটি শোনেননি।তিনি বলেন: আমি এটি কেবল এজন্যই উল্লেখ করেছি যাতে পাঠকারী বিভ্রান্ত হয়ে এটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ না করে। এটি মিসরবাসীদের বর্ণিত হাদিস থেকে এসেছে। এভাবেই তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবীর' গ্রন্থে উক্ত হাদিসের নাম উল্লেখ করেছেন।এবং তিনি বলেছেন আমারা ইবনে আমির ইবনে হাযম আল-আনসারী এবং মারওয়ান ইবনে উসমান হলেন ইবনে আবি সাঈদ ইবনুল মুআল্লা আদ-দুরাকী। ইমাম নাসায়ি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাতিম তাঁকে দুর্বল বলেছেন, তবে তাঁর প্রতি মিথ্যার অভিযোগ আনা হয়নি।ফকীহ আবু বকর ইবনুল হাদ্দাদ বলেন: আমি নাসায়িকে এই হাদিস সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "মারওয়ান ইবনে উসমান কে যে আল্লাহর ব্যাপারে তার কথা সত্য বলে গণ্য হবে?" এটি আল-খতিব বর্ণনা করেছেন। আর নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ তো প্রথিতযশা ইমামগণের একজন। বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, যুহলি, দারিমি, আবু যুরআ ও আরও বহু সংখ্যক লোক বর্ণনা করেছেন। বলা হয় যে, তিনিই প্রথম মুসনাদ সংকলন করেন। এই হাদিসটি বর্ণনায় তিনি একাকী নন, বরং একদল বর্ণনাকারী এটি ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তাবারানি বলেন, রাূহ ইবনুল ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ) এবং আহমদ ইবনে রাশিদীন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান আল-জুুফী ও আহমদ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এটি একই সনদ ও মূল পাঠ সহ উল্লেখ করেছেন।এর অন্য একটি পথ রয়েছে। তাবারানি 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ) এবং মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উকবা আশ-শায়বানী আল-কূফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুস সামাদ ইবনে কায়সান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ) এবং মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনুল ওয়ালিদ আন-নারসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে শাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে আবি সুয়াইদ আদ-দাররা’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি আমার রবকে প্রচুর কেশবিশিষ্ট এক যুবকের আকৃতিতে দেখেছি।" তাবারানি বলেন: আমি আবু বকর ইবনে সাদাকাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু যুরআ আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, দিদার সংক্রান্ত ইবনে আব্বাস থেকে ইকরামার মাধ্যমে বর্ণিত কাতাদাহর হাদিসটি সহীহ। এটি শাযান, আবদুস সামাদ ইবনে কায়সান ও ইব্রাহিম ইবনে আবি সুয়াইদ বর্ণনা করেছেন; মুতাজিলা ছাড়া আর কেউ এটি অস্বীকার করে না।তাবারানি বলেন, আলী ইবনে সাঈদ আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حجاج بْن مُحَمَّد عَن ابْن جريج عَن الضَّحَّاك عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: رأى مُحَمَّد ربه عز وجل فِي صُورَة شَاب أَمْرَد وَبِه قَالَ ابْن جريج عَن صَفْوَان بْن سليم عَن عَائِشَة قَالَت: رأى النَّبِي رَبَّهُ عَلَى صُورَةِ شَابٍّ جَالِسٍ عَلَى كُرْسِيٍّ رِجْلُهُ فِي خَضِرَةٍ مِنْ نُورٍ يَتَلأْلأُ.وَقَالَ الطَّبَرَانِيّ حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن سَعِيد الرَّازِيّ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن حاتِم الْمُؤَدب حَدَّثَنَا الْقَاسِم بْن مَالك الْمُزنِيّ حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن زِيَاد عَن عَمه سليم بْن زِيَاد قَالَ لقيتُ عِكْرِمَة مولى ابْن عَبَّاس فَقَالَ لَا تَبْرَح حَتَّى أشهدك عَلَى هَذَا الرجل ابْن لِمعاذ بْن عفراء فَقَالَ أَخْبرنِي بِما أخْبرك أَبوك عَن قَول رَسُول الله فَقَالَ حدَّثَنِي أَبِي أَن رَسُول الله حدّثه أَنَّهُ رأى رب الْعَالمين عز وجل فِي حَظِيرَة من الْقُدس فِي صُورَة شَاب عَلَيْهِ تَاج يلتمع الْبَصَر قَالَ سُفْيَان ابْن زِيَاد فلقيتُ عِكْرِمَة بعد فَسَأَلته الحَدِيث فَقَالَ نعم كَذَا حدَّثَنِي إِلَّا أَنَّهُ قَالَ رَآهُ بفؤاده.وَقَالَ الْخَطِيب فِي تَارِيخه أَنْبَأنَا الْحُسَيْن بْن شُجَاع الْعَوْفِيّ أَنْبَأنَا عُمَرَ بْن جَعْفَر بْن مُحَمَّد بْن أسلم الجيلي حَدَّثَنَا أَبُو حَفْص عَمْرو بْن فَيْرُوز حَدَّثَنَا عَفَّان حَدَّثَنَا عَبْد الصَّمد يَعْنِي ابْن كيسَان عَن حَمَّاد بْن سَلمَة عَن قَتَادَة عَن عِكْرِمَة عَنِ ابْن عَبَّاس عَنِ النَّبِيِّ قَالَ رَأَيْتُ رَبِّي تَعَالَى فِي صُورَةِ شَابٍّ أَمْرَدَ عَلَيْهِ حُلَّةٌ خَضْرَاءُ قَالَ عَفَّان فسمعتُ حَمَّاد بْن سَلمَة سُئِلَ عَن هَذَا الحَدِيث فَقَالَ دَعوه حدَّثَنِي قَتَادَة وَمَا فِي الْبَيْت غَيْرِي وَغير آخر.وَقَالَ الْخَطِيب أَنْبَأنَا عَلِيّ بْن الْحُسَيْن أَنْبَأنَا عَبْد الرَّحْمَن بْن عُمَرَ الْخلال حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل الْفَارِسِي حَدَّثَنَا بَكْر بْن سهل حَدَّثَنَا عَبْد الْخَالِق بْن مَنْصُور قَالَ رأيتُ يَحْيَى بْن معِين كَأَنَّهُ سحر نُعَيْم بْن حَمَّاد فِي حَدِيث أم الطُّفَيْل حَدِيث الرُّؤْيَة وَيَقُول مَا كَانَ يَنْبَغِي لَهُ أَن يُحدِّث بِمثل هَذَا الحَدِيث، انْتهى.وَهَذَا يشْعر بِأَنَّهُ إنّما عَابَ عَلَيْهِ تحديثه بِهِ بَين عَامَّة النَّاس، لِأَن عقولهُمْ لَا تَحتمل مثل هَذَا لَا أَنَّهُ اتهمه بِوَضْعِهِ.وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ فِي الْإِفْرَاد حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر أَحْمَد بْن عِيسَى الْخَواص حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن زِيَاد بْن آدم حَدَّثَنَا أَبُو ربيعَة فَهد بْن عَوْف حَدَّثَنَا حَمَّاد بْن سَلمَة عَن ثَابت عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله: رَأَيْتُ رَبِّي عز وجل فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ.وَهَذَا الحَدِيث إِن حمل رُؤْيَة عَلَى الْمَنَام فَلَا إِشْكَال وَإِن حمل عَلَى الْيَقَظَة فقد سُئِلَ عَنْهُ أستاذنا الْعَلامَة كَمَال الدَّين بْن الْهمام فَأجَاب بِأَن هَذَا حجاب الصُّورَة.وَفِي الْمِيزَان قَالَ ابْن عدي
হাজ্জাজ বিন মুহাম্মাদ ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মহামহিম রবকে একজন দাড়ি-গোঁফহীন যুবকের সূরতে দেখেছেন। এবং এই একই সূত্রে ইবনে জুরাইজ সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবকে একজন যুবকের সূরতে দেখেছেন যিনি একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁর পা ছিল নূরের উজ্জ্বল সবুজ আভার মধ্যে।তাবারানি বলেন, আলী বিন সাঈদ আর-রাজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন হাতিম আল-মুয়াদ্দিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, কাসিম বিন মালিক আল-মুজানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন যিয়াদ তাঁর চাচা সুলাইম বিন যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমার সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি বললেন, "যতক্ষণ না আমি তোমাকে মুয়াজ বিন আফ্রার এই পুত্রের বিরুদ্ধে সাক্ষী বানাচ্ছি, ততক্ষণ তুমি এখান থেকে যেও না।" অতঃপর তিনি বললেন, "তোমার পিতা রাসূলুল্লাহর বাণী সম্পর্কে তোমাকে যা বলেছেন তা আমাকে জানাও।" তখন সে বলল, "আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ তাকে বলেছেন যে তিনি বিশ্বজগতের রবকে একটি পবিত্র বেষ্টনীর (হাজিরাতুল কুদস) মধ্যে একজন যুবকের সূরতে দেখেছেন, যাঁর মস্তকে একটি মুকুট ছিল যা দৃষ্টিকে ঝলসে দিচ্ছিল।" সুফিয়ান ইবনে যিয়াদ বলেন, এরপর আমি ইকরিমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তিনি আমার কাছে এমনই বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছিলেন যে তিনি তাঁকে তাঁর অন্তরের দ্বারা দেখেছিলেন।"খতিব তাঁর ইতিহাসে বলেন, হুসাইন বিন শুজা আল-আওফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আসলাম আল-জিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাফস আমর বিন ফাইরুজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুস সামাদ অর্থাৎ ইবনে কাইসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি আমার সুমহান রবকে একজন দাড়ি-গোঁফহীন যুবকের সূরতে দেখেছি, যাঁর পরিধানে ছিল সবুজ পোশাক।" আফফান বলেন, আমি হাম্মাদ বিন সালামাহকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তখন তিনি বললেন, "এটি বাদ দাও, কাতাদা আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন যখন ঘরে আমি এবং অন্য একজন ব্যতীত কেউ ছিল না।"খতিব বলেন, আলী বিন আল-হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন উমর আল-খাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-ফারিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বকর বিন সাহল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল খালিক বিন মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে দেখলাম, যেন তিনি উম্মে তুফাইলের দেখা সংক্রান্ত হাদিসটির কারণে নুয়াইম বিন হাম্মাদকে তিরস্কার করছেন এবং বলছেন যে, তাঁর জন্য এই ধরনের হাদিস বর্ণনা করা সমীচীন ছিল না। সমাপ্ত।এবং এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি কেবল সাধারণ মানুষের মাঝে এটি বর্ণনা করার কারণে তাঁর সমালোচনা করেছিলেন, কারণ তাদের বুদ্ধি এই ধরণের বিষয় সহ্য করতে সক্ষম নয়; এটি এজন্য নয় যে তিনি তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন।দারা কুতনি 'আল-ইফরাদ'-এ বলেন, আবু বকর আহমাদ বিন ঈসা আল-খাওয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন যিয়াদ বিন আদম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু রাবিআ ফাহদ বিন আউফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার মহামহিম রবকে সর্বোত্তম সূরতে দেখেছি।"এই হাদিসটি যদি স্বপ্নে দেখার ওপর প্রয়োগ করা হয় তবে কোনো সংশয় নেই। আর যদি এটি জাগ্রত অবস্থায় দেখার ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে আমাদের উস্তাদ আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন এবং তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, এটি হলো সূরতের পর্দা।এবং 'আল-মিজান'-এ ইবনে আদি বলেছেন-
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن عَبْد الحميد الوَاسِطِيّ حَدَّثَنَا النَّضر بْن سَلمَة شَاذان عَن حَمَّاد عَن قَتَادَة عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاسٍ أَنَّ مُحَمَّدًا رَأَى رَبَّهُ فِي صُورَة شَاب أَمْرَد وَله سِتْرٌ مِنْ لُؤْلُؤٍ قَدَمَاهُ فِي خَضِرَةٍ.وَقَالَ أَبُو بَكْر بْن أَبِي دَاوُد حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن يَحْيَى بْن كثير حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا حَمَّاد بِنَحْوِهِ ثُمَّ سَاقه من طَرِيق الْأسود بْن عَامر وَإِبْرَاهِيم بْن أَبِي سُوَيْد وَعبد الصَّمد بْن كيسَان عَن حَمَّاد.وَقَالَ فَهَذَا من أنكر مَا أَتَى بِهِ حَمَّاد بْن سَلمَة وَهَذِه الرُّؤْيَة رُؤْيَة مَنَام إِن صحت.قَالَ الْمَرْوَزِيّ قلتُ لِأَحْمَد يَقُولُونَ لَم يسمع قَتَادَة من عِكْرِمَة، فَغَضب وَأخرج كِتَابه بِسَمَاع قَتَادَة من عِكْرِمَة فِي سِتَّة أَحَادِيث وَحَمَّاد إِمَام جليل وَهُوَ مفتي أهل الْبَصْرَة، وَقد احْتج بِهِ مُسْلِم فِي أَحَادِيث عدَّة فِي الْأُصُول وتحايده الْبُخَاريّ وَقد نكت ابْن حبَان عَلَى الْبُخَاريّ حَيْثُ يَحتج بِعَبْد الرَّحْمَن بْن عَبْد الله بْن دِينَار وبابن أخي الزُّهْرِيّ وبابن عَيَّاش ويدع حمادا.انْتهى وَالله أعلم.(ابْن عدي) حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن سَعِيد حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن غَالب حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن أَيُّوب بْن أَبِي علاج الْمَوْصِليّ حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن عُيَيْنَة عَن الزُّهْرِيّ عَن سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ مَرْفُوعًا: أِنَّ اللَّهَ عز وجل لَا يَغْضَبُ فَإِذَا غَضِبَ سَبَّحَتِ الْمَلائِكَةُ لِغَضَبِهِ فَإِذَا اطَّلَعَ إِلَى الأَرْض وَنظر الْولدَان يقرؤن الْقُرْآنَ تَمَلأُ رَبُّنَا رِضًى.مُنْكَرٌ قَالَ ابْن عدي لَا أعلمُ أحدا رَوَاهُ عَن ابْن عُيَيْنَة غير ابْن أَبِي علاج وَهُوَ مُنكر الحَدِيث (قلت) رَأَيْت لَهُ طرقًا أُخْرَى عَن ابْن عُيَيْنَة.قَالَ الشِّيرَازِيّ فِي الألقاب أَنْبَأنَا أَبُو الْحُسَيْن حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن مُحَمَّد بْن مهرويه إملاء حَدَّثَنَا هَارُون بْن هزاري حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن عُيَيْنَة بِهِقَالَ الشِّيرَازِيّ وَقد رُوِيَ من حَدِيث مُحَمَّد بْن يَحْيَى عَن ابْن عُمَرَ وَمن حَدِيث زَكَرِيَّا بْن يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْد الْوَاحِد بْن عَبْد الله حَدَّثَنَا سَعِيد بْن مُحَمَّد بْن نصر حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مطر بْن الْعَلَاء بِدِمَشْق حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى زَكَرِيَّا بْن يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَان بْن عُيَيْنَة بِهِ انْتهى.وأمّا الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان فَإِنَّهُ ذكر هَذَا الحَدِيث فِي تَرْجَمَة عَبْد الله بْن أَبِي علاج وَقَالَ: إِنَّه كذب بَين وَأَن ابْن أَبِي علاج مُتَّهم بِالْوَضْعِ كَذَّاب وَأَن الْحميدِي كتب إِلَى عَلِيّ بْن حَرْب يُسْتَتَاب ابْن أَبِي علاج ويؤدب وَوَافَقَهُ الْحَافِظ ابْن حجر فِي اللِّسَان وَقَالَ: حكمه يَعْنِي الذَّهَبِيّ على الحَدِيث أَنَّهُ كذب صَحِيح ولَم يلم وَاحِد مِنْهُمَا بِما ذكره الشِّيرَازِيّ وَمَا عِنْدِي
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আন-নাদর ইবনে সালামা শাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর রবকে একজন দাড়িহীন যুবকের সুরতে দেখেছেন, যাঁর মুক্তার একটি আবরণ ছিল এবং তাঁর পা দু’টি সবুজের মধ্যে ছিল।আবু বকর ইবনে আবি দাউদ বলেছেন, হাসান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি আসওয়াদ ইবনে আমির, ইব্রাহিম ইবনে আবি সুয়াইদ এবং আব্দুল সামাদ ইবনে কায়সান-এর সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।এবং তিনি বলেছেন, এটি হাম্মাদ ইবনে সালামার বর্ণিত সবচেয়ে অপছন্দনীয় (মুনকার) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর এই দর্শন যদি সহীহ হয় তবে তা ছিল স্বপ্নে দেখা।আল-মারওয়াজি বলেন, আমি আহমদকে বললাম, তারা বলে যে কাতাদা ইকরিমা থেকে হাদিস শোনেননি। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং তাঁর কিতাব বের করলেন যেখানে কাতাদার ইকরিমা থেকে ছয়টি হাদিস শোনার প্রমাণ রয়েছে। আর হাম্মাদ একজন অত্যন্ত মর্যাদাবান ইমাম এবং তিনি বসরার ফকীহ ছিলেন। মুসলিম তাঁর বেশ কিছু হাদিস মূলনীতি বা উসূলে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু বুখারি তাঁকে এড়িয়ে গিয়েছেন। ইবনে হিব্বান বুখারির ওপর এই মর্মে সমালোচনা করেছেন যে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার, ইবনু আখি আজ-জুহরি এবং ইবনে আইয়াশকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন অথচ হাম্মাদকে বর্জন করেছেন।সমাপ্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।(ইবনে আদি) আহমদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে গালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়ুব ইবনে আবি ইলাজ আল-মাওসিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: মহান আল্লাহ রাগান্বিত হন না, তবে তিনি যখন রাগান্বিত হন তখন তাঁর ক্রোধের কারণে ফেরেশতাগণ তাসবিহ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি যখন জমিনের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং শিশুদের কুরআন পাঠ করতে দেখেন তখন আমাদের রব সন্তুষ্টিতে পরিপূর্ণ হয়ে যান।এটি মুনকার (অস্বীকৃত)। ইবনে আদি বলেন, আমি ইবনে আবি ইলাজ ব্যতীত আর কাউকে এটি ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করতে জানি না, আর তিনি মুনকারুল হাদিস (যাঁর বর্ণিত হাদিস বর্জনীয়)। (আমি বলছি) আমি ইবনে উয়াইনা থেকে এর অন্যান্য সূত্র দেখেছি।আশ-শিরাজি 'আল-আলকাব' গ্রন্থে বলেন, আবুল হুসাইন আমাদের অবহিত করেছেন, আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহরুয়াহ ইমলা হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন ইবনে হাযারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এটি বর্ণনা করেছেন।আশ-শিরাজি বলেন, এটি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে ইবনে উমরের হাদিস হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকেও বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে মাতার ইবনুল আলা দামেস্কে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।আর আয-যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইলাজ-এর জীবনীতে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা এবং ইবনে আবি ইলাজ জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত একজন মিথ্যাবাদী। আল-হুমায়দি আলী ইবনে হারবের নিকট লিখেছিলেন যেন ইবনে আবি ইলাজের নিকট থেকে তওবা করানো হয় এবং তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-লিসান' গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি সম্পর্কে তাঁর (যাহাবির) হুকুম যে এটি মিথ্যা—তা সঠিক। আর তাদের কেউই শিরাজি যা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করেননি। আর আমার কাছে...
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
إِلَّا أنّهما قلدا ابْن عدي فِي دعواهُ تفرد ابْن أَبِي علاج بِهِ وَإِلَّا فَهَؤُلَاءِ المتابعون فِي غَايَة الْقُوَّة مُحَمَّد بْن يَحْيَى بْن أَبِي عُمَرَ ثِقَة جليل صَاحب مُسْند شَيْخه التِّرْمِذِيّ وزَكَرِيا بْن يَحْيَى صَاحب ابْن عُيَيْنَة قَالَ الذَّهَبِيّ صَدُوق.وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ لَا بَأْس بِهِ وأمّا هَارُون بْن هزاري فَقَالَ الخليلي ثِقَة مَوْصُوف بالزهد وَالْأَمَانَة، سَمِعَ ابْن عُيَيْنَة وَعبد الْمجِيد الدَّرَاوَرْدِيّ سَمِعَ مِنْهُ عَلِيّ بْن مُحَمَّد بْن مهرويه فَهُوَ ثِقَة مُحدث رحالة سَمِعَ هَارُون بْن هزاري والديري وعباسًا الدوري وخلقًا وَكتب مَا لَا يعد عَالِيا ونازلاً وانتخب عَلَيْهِ ابْن عقدَة ثَلَاثَة أَجزَاء، انْتهى.فَهَذَا الْإِسْنَاد عَلَى انْفِرَاده عَلَى شَرط الصِّحَّة فَكيف إِذا انْضَمَّ إِلَيْهِ رِوَايَة ابْن أَبِي عَمْرو زَكَرِيَّا بْن يَحْيَى.للْحَدِيث طَرِيق آخر عَن ابْن عُمَرَ أَخْرَجَهُ الديلمي فِي مُسْند الفردوس قَالَ أَنْبَأنَا أَبُو عَليّ الْحداد أَنبأَنَا أَبُو نعيم إِجَارَة حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن إِسْحَاق حَدَّثَنَا الْحُسَيْن بْن إِدْرِيس العسكري حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن سهل الرَّمْلِيّ حَدَّثَنَا دَاوُد بْن المحبر عَن صَخْر بْن جوَيْرِية عَن نَافِع عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيَغْضَبُ فَتُسَلِّمُ الْمَلائِكَةُ لِغَضَبِهِ فَإِذَا نَظَرَ إِلَى حَمَلَةِ الْقُرْآنِ تَمَلأُ رِضًى وَفِي معنى الحَدِيث مَا أَخْرَجَهُ الدَّارمِيّ فِي مُسْنده عَن ثَابت ابْن عجلَان الْأنْصَارِيّ قَالَ كَانَ يُقال إِن الله ليريد الْعَذَاب بِأَهْل الأَرْض فَإِذا تعلم الصّبيان الْحِكْمَة صرف ذَلِكَ عَنْهُم، يَعْنِي بالحكمة الْقُرْآن.وَقَالَ الْإِمَام أَحْمَد بْن حَنْبَل فِي الزّهْد حَدَّثَنَا سيّار حَدَّثَنَا جَعْفَر قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُعَذِّبَ عِبَادِي فَإِذَا نَظَرْتُ إِلَى جُلَسَاءِ الْقُرْآنِ وَعُمَّارِ الْمَسَاجِدِ وَوِلْدَانِ الإِسْلامِ سَكَنَ غَضَبِي يَقُولُ صَرَفْتُ عَذَابِي وَالله أعلم.(الْعقيلِيّ) حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْن يُوسُف حَدَّثَنَا هِشَام بْن عمار حَدَّثَنَا صَدَقَة بْن خَالِد حَدَّثَنَا عُثْمَان بْن أَبِي عَاتِكَة عَن سُلَيْمَان بْن حبيب الْمحَاربي عَن أَبِي أُمَامَةَ مَرْفُوعًا: أِنَّ اللَّهَ عز وجل يَجْلِسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى الْقَنْطَرَةِ الْوُسْطَى بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ.لَا يَصِحُّ وَعُثْمَان لَيْسَ بِشَيْء (قلت) عُثْمَان روى لَهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَنسبه دُحَيْم إِلَى الصدْق وَقَالَ أَحْمَد لَا بَأْس بِهِ وَقَالَ النَّسَائِيّ ضَعِيف لَهُ شَاهد، قَالَ الطَّبَرَانِيّ حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن يَحْيَى بْن حَمْزَة حَدثنَا إِسْحَاق بْن إِبْرَاهِيم أَبُو النَّصْر حَدَّثَنَا يزِيد بْن ربيعَة حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْعَث الصَّنْعَانِيّ سَمِعْتُ ثَوْبَانَ يُحَدِّثُ عَن رَسُولِ الله قَالَ: يُقْبِلُ الْجَبَّارُ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَثْنِي رِجْلَهُ عَلَى الْجَنَّةِ وَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلالِي لَا يُجَاوِزَنِّي الْيَوْمَ ظُلْمٌ فَيَنْصِفُ الْخَلْقَ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ حَتَّى أِنَّهُ لَيَنْصِفُ الشَّاةَ الْجَلْحَاءَ مِنَ الْعَصْمَاءِ بنطحة نطحتها وَالله أعلم.
তবে তারা উভয়েই ইবন আদির এই দাবির অনুকরণ করেছেন যে, ইবন আবিল ইলাজ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। অন্যথায়, এই সমর্থক বর্ণনাকারীগণ অত্যন্ত শক্তিশালী। মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবি উমর একজন নির্ভরযোগ্য ও মহান ব্যক্তি, তিনি তাঁর উস্তাদ তিরমিযীর মুসনাদ গ্রন্থের অধিকারী। আর জাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া হলেন ইবন উইয়াইনার ছাত্র; যাহাবী তাঁকে সত্যবাদী বলেছেন।দারাকুতনী বলেছেন যে তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আর হারুন ইবন হিযারি সম্পর্কে খালীলী বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) ও আমানতদারির গুণে গুণান্বিত; তিনি ইবন উইয়াইনা ও আব্দুল মাজীদ আদ-দারাওয়ার্দী থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহরাওয়াইহ হাদিস শুনেছেন; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস ও পরিব্রাজক ছিলেন। তিনি হারুন ইবন হিযারি, দায়রি, আব্বাস আদ-দাওরি এবং আরও অগণিত মানুষের কাছ থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি উচ্চ ও নিম্ন উভয় স্তরের অগণিত হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ইবন উকদাহ তাঁর থেকে তিনটি খণ্ড নির্বাচন করেছেন। সমাপ্ত।সুতরাং এই সনদটি এককভাবেই সহিহ হওয়ার শর্ত পূরণ করে; তাহলে এর সাথে যখন ইবন আবি উমর ও জাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়ার বর্ণনা যুক্ত হয়, তখন তা আরও সুদৃঢ় হয়।হাদিসটির ইবন উমর থেকে বর্ণিত আরেকটি সূত্র রয়েছে যা দাইলামী 'মুসনাদুল ফিরদাউস' গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তিনি বলেন: আবু আলি আল-হাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নুআইম অনুমতিসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবন ইদ্রিস আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবন সাহল আর-রামলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবন আল-মুহাব্বার সাখর ইবন জুয়াইরিয়া থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হন, তখন ফেরেশতারা তাঁর রাগের কারণে অনুগত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন কুরআন বহনকারীদের (হাফিজদের) দিকে তাকান, তখন তা সন্তুষ্টিতে ভরে যায়।" এই হাদিসের মর্মার্থ অনুযায়ী ইমাম দারেমি তাঁর মুসনাদে সাবিত ইবন আজলান আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বলা হতো যে, আল্লাহ জমিনবাসীদের ওপর আজাব পাঠানোর ইচ্ছা করেন, কিন্তু যখন শিশুরা হিকমাহ শিক্ষা করে, তখন তিনি তাদের থেকে তা সরিয়ে নেন। এখানে হিকমাহ বলতে কুরআন বোঝানো হয়েছে।ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল তাঁর 'যুহদ' গ্রন্থে বলেছেন: সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবন দিনারকে বলতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আমার বান্দাদের আজাব দেওয়ার ইচ্ছা করি, কিন্তু যখন আমি কুরআনের মজলিসে বসা ব্যক্তিদের দিকে, মসজিদ আবাদকারীদের দিকে এবং ইসলামের সন্তানদের দিকে তাকাই, তখন আমার রাগ প্রশমিত হয়; অর্থাৎ আমি আমার আজাব সরিয়ে নেই।" আর আল্লাহই ভালো জানেন।(উকাইলি) ইব্রাহিম ইবন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাদাকা ইবন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবন আবি আতিকা সুলাইমান ইবন হাবিব আল-মুহারিবি থেকে এবং তিনি আবু উমামাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী কেন্দ্রীয় পুলে বসবেন।"এটি সহিহ নয় এবং উসমান নির্ভরযোগ্য কেউ নন। (আমি বলি) উসমান থেকে আবু দাউদ ও ইবন মাজাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। দুহাইম তাঁকে সত্যবাদী বলেছেন। আহমাদ বলেছেন তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। তবে নাসায়ি তাঁকে দুর্বল বলেছেন। এর একটি সমর্থক বর্ণনা রয়েছে; তাবারানি বলেছেন: আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হামজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবন ইব্রাহিম আবু আন-নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবন রবিআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল আশআস আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি সওবানকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ কিয়ামতের দিন আগমন করবেন এবং জান্নাতের ওপর আল্লাহর পা রাখবেন। এরপর তিনি বলবেন: আমার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আজ কোনো জুলুম আমাকে অতিক্রম করবে না। অতঃপর তিনি সৃষ্টিজীবের একজনের থেকে অন্যজনের পাওনা মিটিয়ে দেবেন, এমনকি তিনি শিংবিহীন ছাগলকে শিংওয়ালা ছাগলের ঢুস মারার প্রতিশোধও নিয়ে দেবেন।" আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-লাআলিল মাসনূআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
كتاب الْإيِمَان(الطَّبَرَانِيّ) حَدَّثَنَا معَاذ الْمثنى حَدَّثَنَا أَبُو الصَّلْت الْهَرَويّ حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن مُوسَى الرضى حَدَّثَنَا أَبي مُوسَى حَدَّثَنَا أَبِي جَعْفَر عَن أَبِيهِ مُحَمَّد بْن عَلِيّ عَن أَبِيهِ عَلِيّ بْن الْحُسَيْن عَن أَبِيهِ الْحُسَيْن عَن أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُول الله: الإِيمَانُ مَعْرِفَةٌ بِالْقَلْبِ وَقَوْلٌ بِاللِّسَانِ وَعَمَلٌ بِالأَرْكَانِ.مَوْضُوع: أَبُو الصَّلْت عَبْد السَّلَام بْن صالِح مُتَّهم لَا يجوز الِاحْتِجَاج بِهِ وَتَابعه عَبْد الله بْن أَحْمَد بْن عَامر بْن سُلَيْمَان الطَّائِي وَهُوَ يروي عَن أهل الْبَيْت نُسْخَة بَاطِلَة.قَالَ الْخَطِيب: أَنْبَأنَا مُحَمَّد بْن عَبْد الْملك الْقُرَشِيّ أَنْبَأنَا عُمَرَ بْن أَحْمَد الْوَاعِظ حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن أَحْمَد بْن عَامر بْن سُلَيْمَان الطَّائِي حدَّثَنِي أَبِي حدَّثَنِي عَلِيّ بْن مُوسَى الرضى بِهِ.وَعلي بن غراب وَهُوَ سَاقِط الحَدِيث يُحدِّث بالموضوعات، قَالَ الْخَطِيب أَنْبَأنَا عَلِيّ بْن مُحَمَّد بْن الْحَسَن الْحَرْبِيّ أَنْبَأنَا الْحُسَيْن بْن أَحْمَد بْن دِينَار حدَّثَنِي أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بْن إِسْحَاق الْهَرَويّ حَدَّثَنَا عَبْد الله بْن عُرْوَة حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن غراب حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن مُوسَى الرضى بِهِ.وَمُحَمَّد بْن سهل البَجلِيّ وَهُوَ مَجْهُول قَالَ الْخَطِيب أَنْبَأنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الله الْكَاتِب قَالَ قرئَ عَلَى مَنْصُور بْن مُحَمَّد الْأَصْبَهَانِيّ وَأَنا أسمعُ حَدَّثَنَا إِسْحَاق بْن أَحْمَد بْن زيرك حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن سهل بْن عَامر البَجلِيّ حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن مُوسَى الرضي بِهِ.وَدَاوُد بْن سُلَيْمَان بْن وهب الْغَازِي وَهُوَ مَجْهُول قَالَ أَبُو زَكَرِيَّا الْبُخَاريّ فِي فَوَائده أَيْضا أَنْبَأنَا أَبُو الْعَبَّاس أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن يزْدَاد الرَّازِيّ حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَن عَلِيّ بْن مهرويه الْقزْوِينِي حَدَّثَنَا دَاوُد بْن سُلَيْمَان الْغَازِي حَدَّثَنَا عَلِيّ بْن مُوسَى الرضي بِهِ.أَخْبَرَنَا عَليّ الموحد أَنبأَنَا هناد بن
ঈমান অধ্যায়(আত-তাবারানি) মুআয আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুস সালত আল-হারাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসা আর-রিদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা জাফর তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা আলী ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা (আলী রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঈমান হলো অন্তরের পরিচয় (জ্ঞান), জিহ্বার স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা।"জাল (মওজু): আবুস সালত আব্দুস সালাম ইবনে সলিহ অভিযুক্ত ব্যক্তি, তার বর্ণনা দলিল হিসেবে পেশ করা বৈধ নয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আমির ইবনে সুলাইমান আত-তাইয়ি তার অনুসরণ করেছেন, অথচ তিনি আহলে বাইতের পক্ষ থেকে একটি বাতিল পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেন।আল-খতিব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-কুরাশি আমাদের অবহিত করেছেন, উমর ইবনে আহমাদ আল-ওয়াইয আমাদের অবহিত করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আমির ইবনে সুলাইমান আত-তাইয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসা আর-রিদা আমার নিকট এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।এবং আলী ইবনে গুরাব; তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে বর্জিত (সাকিত), তিনি বানোয়াট বিষয়সমূহ বর্ণনা করেন। আল-খতিব বলেন, আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-হারবি আমাদের অবহিত করেছেন, আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে দিনার আমাদের অবহিত করেছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-হারাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে গুরাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসা আর-রিদা আমাদের নিকট এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।এবং মুহাম্মদ ইবনে সাহল আল-বাজলি; তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল)। আল-খতিব বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাতিব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, মানসুর ইবনে মুহাম্মদ আল-আসবাহানির সামনে এটি পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম, ইসহাক ইবনে আহমাদ ইবনে যিরাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনে আমির আল-বাজলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসা আর-রিদা আমাদের নিকট এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।এবং দাউদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ওয়াহাব আল-গাজি; তিনিও অজ্ঞাত। আবু যাকারিয়া আল-বুখারি তার ‘ফাওয়ায়েদ’-এ আরও বলেন, আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইযদাদ আর-রাজি আমাদের অবহিত করেছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে মাহরাওয়াইহ আল-কাযউইনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে সুলাইমান আল-গাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুসা আর-রিদা আমাদের নিকট এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।আলী আল-মুওয়াহহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হান্নাদ ইবনে...