(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: -)
ذخيرة الحفاظ   (ابن القيسراني محمد بن طاهر المقدسي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: ذخيرة الحفاظ (من الكامل لابن عدي)

المؤلف: أبو الفضل محمد بن طاهر بن علي بن أحمد المقدسي الشيباني، المعروف بابن القيسراني (ت 507هـ)

المحقق: د. عبد الرحمن الفريوائي

الناشر: دار السلف - الرياض

الطبعة: الأولى، 1416 هـ -1996م

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যাখীরাতুল হুফফাজ   (ইবনুল কায়সারানি মুহাম্মদ বিন তাহের আল-মাকদিসী)

বিভাগ: হাদীসের ত্রুটি-বিচ্যুতি (ইল্লাল) এবং প্রশ্নসমূহ


গ্রন্থ: যাখীরাতুল হুফফাজ (ইবনে আদীর আল-কামিল হতে সংগৃহীত)

লেখক: আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন তাহের বিন আলী বিন আহমদ আল-মাকদিসী আশ-শায়বানী, যিনি ইবনুল কায়সারানি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫০৭ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আব্দুর রহমান আল-ফারিওয়ায়ী

প্রকাশক: দারুস সালাফ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله رب الْعَالمين، وصلواته على سيد الْمُرْسلين مُحَمَّد، وَآله، وَصَحبه أَجْمَعِينَ.

قَالَ مُحَمَّد بن طَاهِر الْمَقْدِسِي:

هَذِه أَحَادِيث أوردهَا أَبُو أَحْمد عبد الله بن عدي الْحَافِظ الْجِرْجَانِيّ رحمه الله فِي كتاب الْكَامِل، اسْتدلَّ بهَا على ضعف الرجل المسطور، أَقَامَهَا وَذكر عللها، وتقرر ذواتها بهَا على مَا يُوجِبهُ حَال الْمَذْكُور لَهَا أوردتها على مُعْجم الْأَلْفَاظ ليَكُون أسهل على من أَرَادَ معرفَة حَدِيث مِنْهَا، فَإِن من الْأَحَادِيث مَا أوردهُ فِي عدَّة مَوَاضِع من كِتَابه، فأوردناه على مُعْجم الْأَسْمَاء، لم يظفر الطَّالِب إِلَّا بطرِيق وَاحِد، وَيحْتَاج أَن يتصفح جَمِيع الْكتاب حَتَّى يقف على حَدِيث بِطرقِهِ. مِثَاله حَدِيث: لَا نِكَاح إِلَّا بولِي، أوردهُ ابْن عدي فِي أَرْبَعِينَ تَرْجَمَة، فنوردها فِي مَوضِع وَاحِد على لفظ المُصَنّف. وَفِي هَذَا الْكتاب أَحَادِيث صَحِيحَة الْمُتُون، غَرِيبَة الْإِسْنَاد، فيورده وينكره، فَيُقَال: أما إِسْنَاده من طَرِيق أستاذه لِأَن مَتنه غير صَحِيح، وَفِيه مَا يكون صَحِيح الْإِسْنَاد، مُنكر الْمَتْن، فَأوردهُ جَمِيع ذَلِك على حُرُوف المعجم، وَالله الْمُوفق والمعين.
শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রহমত বর্ষিত হোক রাসূলগণের সর্দার মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

মুহাম্মাদ বিন তাহির আল-মাকদিসি বলেন:

এগুলো এমন কিছু হাদিস যা হাফেজ আবু আহমদ আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-জুরজানি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে (কিতাবে) বর্ণিত ব্যক্তির দুর্বলতার দলিল দিয়েছেন, সেগুলো উপস্থাপন করেছেন এবং সেগুলোর ত্রুটিসমূহ (ইলল) উল্লেখ করেছেন। হাদিসগুলোর প্রকৃত অবস্থা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা যা দাবি করে সেই অনুযায়ী তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি এগুলোকে শব্দের অভিধান অনুযায়ী (বর্ণানুক্রমিকভাবে) সাজিয়েছি যাতে যে কেউ এগুলোর কোনো হাদিস জানতে চাইলে তা তার জন্য সহজ হয়। কেননা কিতাবটিতে এমন কিছু হাদিস আছে যা তিনি একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন; আমি যদি সেগুলো নামের বর্ণানুক্রমে (রাবীদের নাম অনুযায়ী) সাজাতাম, তবে একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি সূত্রই খুঁজে পেত এবং হাদিসটির সমস্ত সূত্র জানার জন্য তাকে পুরো কিতাবটি অনুসন্ধান করতে হতো। এর উদাহরণ হলো: 'অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই' হাদিসটি; ইবনে আদি এটি চল্লিশটি জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, তাই আমি তা লেখকের মূল শব্দ অনুযায়ী এক স্থানেই উল্লেখ করেছি। আর এই কিতাবে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যার মূল পাঠ (মতন) সহিহ কিন্তু সূত্র (সনদ) বিরল; ফলে তিনি তা উল্লেখ করেছেন এবং নাকচ করেছেন। এমতাবস্থায় বলা হয়: তার উস্তাদের সূত্রের কারণে এর সনদটি এমন, কারণ এর মূল পাঠটি সহিহ নয়। আবার এমন কিছু হাদিসও আছে যার সূত্র সহিহ কিন্তু মূল পাঠটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)। আমি এই সব কিছুই বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করেছি। আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯০)
‌‌بَاب الْألف

1 - حَدِيث: آخى رَسُول الله بَين أَصْحَابه، آخى بَين الْغَنِيّ، وَالْفَقِير ليرد الْغَنِيّ على الْفَقِير. رَوَاهُ مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ: عَن أبي صَالح، عَن ابْن عَبَّاس. قَالَ أَحْمد: والكلبي مَتْرُوك الحَدِيث.

2 - حَدِيث: آخى رَسُول الله بَين أَصْحَابه حَتَّى بَقِي عليّ فَقَالَ: أَنْت أخي فِي الدُّنْيَا والأخرة. رَوَاهُ جَمِيع بن عُمَيْر: عَن ابْن عمر. قَالَ البُخَارِيّ: جَمِيع فِيهِ نظر.

3 - حَدِيث: آخى رَسُول الله بَين عبد الرَّحْمَن بن عَوْف، وَسعد بن الرّبيع. رَوَاهُ النَّضر بن سَلمَة - شَاذان -: عَن سعيد بن عفير: عَن سُلَيْمَان بن بِلَال، عَن يحيي بن سعيد، عَن حميد، عَن أنس. وَهَذَا قد رَوَاهُ عَن ابْن عفير (وَعَن غير ابْن عفير) غير شَاذان. وشاذان هَذَا ضَعِيف جدا.
আলিফ অধ্যায়

১ - হাদিস: আল্লাহর রাসুল তাঁর সাহাবীগণের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন; তিনি ধনী ও দরিদ্রের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন যাতে ধনীরা দরিদ্রদের অভাব মোচন করে। এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল সায়েব আল-কালবি: আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। আহমদ বলেন: কালবি হলো হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

২ - হাদিস: আল্লাহর রাসুল তাঁর সাহাবীগণের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন যতক্ষণ না আলি অবশিষ্ট রইলেন। তখন তিনি বললেন: "তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার ভাই।" এটি বর্ণনা করেছেন জামি ইবনে উমাইর: ইবনে উমর থেকে। বুখারি বলেন: জামি-এর বর্ণনার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।

৩ - হাদিস: আল্লাহর রাসুল আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং সাদ ইবনে রাবি’র মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন। এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাদর ইবনে সালামাহ —শাজান—: সাঈদ ইবনে উফাইর থেকে: সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস থেকে। এটি ইবনে উফাইর থেকে (এবং ইবনে উফাইর ব্যতীত অন্য সূত্র থেকেও) শাজান ছাড়া অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। আর এই শাজান অত্যন্ত দুর্বল।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯১)
4 - حَدِيث: آخر جَنَازَة صلى عَلَيْهَا رَسُول الله كبر عَلَيْهَا أَرْبعا. رَوَاهُ النَّضر بن عبد الرَّحْمَن، أَبُو عمر الخزاز: عَن عِكْرِمَة، عَن ابْن عَبَّاس. وَالنضْر مَتْرُوك الحَدِيث، لَيْسَ بِشَيْء، وَلم يروه عَنهُ غير يُونُس بن بكير، وَالْحكم ثَابت من غير هَذَا الْوَجْه. وَرَوَاهُ مُحَمَّد بن مُعَاوِيَة النَّيْسَابُورِي، عَن أبي الْمليح، عَن مَيْمُون بن مهْرَان، عَن ابْن عَبَّاس. وَمُحَمّد هَذَا أنكر عَلَيْهِ هَذَا الحَدِيث.

5 - حَدِيث: آخر صَلَاة صلاهَا رَسُول الله، وَهُوَ جَالس، متوشح بِبُرْدَةٍ حبرَة يسلم عَن يَمِينه، وَعَن شِمَاله. رَوَاهُ عَليّ بن الْحسن بن يعمر: عَن الثَّوْريّ، عَن عَاصِم الْأَحول، عَن أنس. عَليّ تَركه ابْن معِين.

6 - حَدِيث: آل مُحَمَّد أمته. رَوَاهُ الْحسن بن صَالح: عَن عبد الله بن مُحَمَّد بن عقيل، عَن جَابر، قَوْله، مَوْقُوف.
4 - হাদিস: আল্লাহর রাসূল সর্বশেষ যে জানাযার সালাত আদায় করেছেন, তাতে তিনি চারবার তাকবির পাঠ করেছেন। এটি নযর ইবন আবদুর রহমান আবু উমর আল-খাযযায বর্ণনা করেছেন ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস থেকে। নযর হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত, তিনি ধর্তব্য কেউ নন এবং ইউনুস ইবন বুকায়র ছাড়া অন্য কেউ এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। তবে এই বিধানটি অন্য সূত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত। এটি মুহাম্মদ ইবন মুয়াবিয়া আন-নাইসাবুরি আবু আল-মালিহ থেকে, তিনি মাইমুন ইবন মিহরান থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ নামক এই বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে এই হাদিসটি অস্বীকার করা হয়েছে।

5 - হাদিস: আল্লাহর রাসূল সর্বশেষ যে সালাত আদায় করেছেন, তখন তিনি বসে ছিলেন এবং একটি কারুকার্যমণ্ডিত ইয়ামানি চাদর পরিহিত ছিলেন; তিনি তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়েছিলেন। এটি আলী ইবন হাসান ইবন ইয়ামুর বর্ণনা করেছেন সাওরি থেকে, তিনি আসিম আল-আহওয়াল থেকে এবং তিনি আনাস থেকে। ইবন মায়িন আলীকে পরিত্যাগ করেছেন।

6 - হাদিস: মুহাম্মদের পরিবার হলো তাঁর উম্মত। এটি হাসান ইবন সালিহ বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকিল থেকে, তিনি জাবির থেকে; এটি তাঁর (জাবিরের) নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯২)
وَالْحسن ضَعِيف.

7 - حَدِيث: آمين قُوَّة للدُّعَاء. رَوَاهُ الْحسن بن عمَارَة: عَن الزُّهْرِيّ، عَن أبي سَلمَة، عَن أبي هُرَيْرَة. وَهَذَا اللَّفْظ فِي هَذَا الحَدِيث غير مَحْفُوظ، وَالْحسن مَتْرُوك الحَدِيث.

8 - حَدِيث: آيَة الْمُنَافِق ثَلَاث. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ: عَن شُعْبَة، عَن مَنْصُور، عَن أبي وَائِل، عَن عبد الله، عَن النَّبِي. قَالَ عَمْرو بن عَليّ: وَلَا أعلم أحدا تَابع أَبَا دَاوُد على رِوَايَته مَرْفُوعا. وَأَبُو دَاوُد ثِقَة. قَالَ ابْن عدي: وَهَذَا الَّذِي قَالَ عَمْرو، أَرَادَ بِهِ من حَدِيث شُعْبَة، عَن مَنْصُور، عَن أبي وَائِل. وَأما عَن الْأَعْمَش، عَن أبي وَائِل، عَن عبد الله فقد رَفعه عَنهُ غير وَاحِد عَن الْأَعْمَش، مِنْهُم: مَالك بن مسعر، وَمُحَمّد بن عبيد، وَغَيرهمَا، وَقد أوقفهُ جمَاعَة عَن الْأَعْمَش.

9 - حَدِيث: أَيَّة الْمُنَافِق ثَلَاث: وَإِن صَامَ، وَصلى، وَزعم أَنه
এবং আল-হাসান দুর্বল।

৭ - হাদিস: আমীন হলো দোয়ার জন্য শক্তি স্বরূপ। এটি বর্ণনা করেছেন হাসান বিন উমারা: যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। আর এই হাদিসের এই শব্দচয়ন সংরক্ষিত নয়, এবং হাসান হলেন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদিস)।

৮ - হাদিস: মুনাফিকের আলামত তিনটি। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি: শু'বা থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে। আমর বিন আলী বলেন: আমি এমন কাউকে জানি না যিনি আবু দাউদকে তাঁর এই মারফু বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন। অথচ আবু দাউদ হলেন বিশ্বস্ত (সিকাহ)। ইবনে আদি বলেন: আমর যা বলেছেন, তা দ্বারা তিনি শু'বার হাদিসটি বুঝিয়েছেন, যা তিনি মানসুর থেকে এবং তিনি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে যে বর্ণনা—তা আমাশের নিকট থেকে একাধিক ব্যক্তি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: মালিক বিন মিস'আর, মুহাম্মদ বিন উবাইদ এবং আরও অনেকে। তবে একদল বর্ণনাকারী আমাশের সূত্রে একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

৯ - হাদিস: মুনাফিকের আলামত তিনটি: যদিও সে রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং দাবি করে যে সে...
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
مُسلم: إِذا حدث؟ كذب، إِذا أُوتُمِنَ؟ خَان، وَإِذا عَاهَدَ، غدر. رَوَاهُ يحيي بن مُحَمَّد بن قيس أبوزكير: عَن الْعَلَاء، عَن أَبِيه، عَن أبي هُرَيْرَة. وَهَذَا يرويهِ أبوزكير، وَله أَحَادِيث ينْفَرد بهَا عَن الثِّقَات.

10 - حَدِيث: ائْتمن الله على وحيه ثَلَاثَة: جِبْرِيل فِي السَّمَاء وَمُحَمّد فِي الأَرْض، وَمُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان. رَوَاهُ مُحَمَّد بن أَحْمد بن يزِيد الْبَلْخِي: عَن عبد الأعلي بن حَمَّاد، عَن حَمَّاد بن سَلمَة، عَن ثَابت، عَن أنس. وَهَذَا بَاطِل بِهَذَا الْإِسْنَاد، والآفة من شَيخنَا هَذَا، حدّثنَاهُ بِدِمَشْق وَكَانَ من أهل سامراء يلقب رُزيق.

11 - حَدِيث: ائْتُوا الْمَسَاجِد حسرا، ومعصبين؟ فان العمائم تيجان الْمُسلمين. رَوَاهُ مُبشر بن عبيد: عَن الحكم بن عتيبة، عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى، عَن عَليّ بن أبي طَالب. وَرَوَاهُ مُبشر مرّة أخري: عَن الحكم، عَن يحيي بن الجزار، عَن عَليّ.
মুসলিম: যখন সে কথা বলে? মিথ্যা বলে; যখন তাকে আমানত প্রদান করা হয়? খেয়ানত করে; এবং যখন সে অঙ্গীকার করে? ভঙ্গ করে। এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন কাইস আবু জুকাইর: আল-আলা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে। এটি আবু জুকাইর বর্ণনা করেছেন, এবং তার এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

১০ - হাদিস: আল্লাহ তাঁর ওহীর বিষয়ে তিনজনকে আমানতদার সাব্যস্ত করেছেন: আসমানে জিবরীল, জমিনে মুহাম্মাদ এবং মুআবিয়া বিন আবি সুফিয়ান। এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়াজিদ আল-বালখি: আব্দুল আ’লা বিন হাম্মাদ থেকে, তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে। এই সনদে এটি বাতিল, এবং এর ত্রুটি হলো আমাদের এই শাইখ; তিনি দামেস্কে আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি সামাররার অধিবাসী ছিলেন এবং তাকে রুজাইক উপাধি দেওয়া হতো।

১১ - হাদিস: তোমরা মসজিদে এসো উন্মুক্ত মস্তকে অথবা পাগড়ি পরিহিত অবস্থায়; কেননা নিশ্চয়ই পাগড়ি হলো মুসলিমদের মুকুট। এটি বর্ণনা করেছেন মুবাশির বিন উবাইদ: আল-হাকাম বিন উতাইবাহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে। মুবাশির এটি পুনরায় বর্ণনা করেছেন: আল-হাকাম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আল-জাযযার থেকে, তিনি আলী থেকে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
وَقَالَ: وَفِي ذَلِك سيماء الْمُسلمين. ومبشر لَيْسَ بِشَيْء.

12 - حَدِيث: ائْتُونِي بكتف، ودواة، أَو صحيفَة، أكتب لأبي بكر كتابا لَا يخْتَلف، أَو لَا يشك فِيهِ اثْنَان، ثمَّ قَالَ رَسُول الله: وَمن يشك فِي أبي بكر؟ ! رَوَاهُ الْحسن بن عمَارَة: عَن ابْن أبي مليكَة، عَن عَائِشَة قَالَت: قَالَ رَسُول الله. وَهَذَا الحَدِيث قد رَوَاهُ عَن ابْن أبي مليكَة غير الْحسن. وَقَوله. " من يشك فِي أبي بكر " لَا يرويهِ غير الْحسن، وَهُوَ مَتْرُوك الحَدِيث.

13 - حَدِيث: أُبَايِعكُم على أَن لَا تُشْرِكُوا بِاللَّه شَيْئا، وَلَا النَّفس الَّتِي حرم الله إِلَّا بِالْحَقِّ، ولاتزنوا، وَلَا تَسْرِقُوا، فَمن أَتَى شَيْئا من ذَلِك، فاقيم عَلَيْهِ الْحَد - أَو قَالَ. فحُدّ - فَهُوَ كَفَّارَته، وَمن ستر عَلَيْهِ فحسابه على الله، وَمن لم يفعل من ذَلِك شَيْئا ضمنت لَهُ الْجنَّة. رَوَاهُ مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن الطفَاوِي: عَن أَيُّوب، عَن عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده. وَهَذَا من حَدِيث أَيُّوب غَرِيب، لم يحدث بِهِ إِلَّا أَبُو خَيْثَمَة زُهَيْر بن حَرْب، عَن الطفَاوِي.
তিনি বললেন: এতে মুসলিমদের নিদর্শন রয়েছে। আর মুবাশশির উল্লেখযোগ্য কেউ নন।

১২ - হাদিস: তোমরা আমার নিকট পশুর কাঁধের হাড় ও দোয়াত অথবা একটি লিপি নিয়ে এসো, আমি আবু বকরের জন্য এমন একটি লিপি লিখে দেব যা নিয়ে কেউ মতবিরোধ করবে না অথবা যাতে দুইজন ব্যক্তিও সন্দেহ করবে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ বললেন: আবু বকরের ব্যাপারে কে সন্দেহ পোষণ করবে?! এটি হাসান ইবনে আম্মারা বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন। এই হাদিসটি হাসান ব্যতীত অন্যরাও ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে "আবু বকরের ব্যাপারে কে সন্দেহ করবে" উক্তিটি হাসান ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেনি, আর সে হাদিস বর্জনীয় (মাতরুক)।

১৩ - হাদিস: আমি তোমাদের নিকট এই মর্মে বায়আত নিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তা সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করবে না, ব্যভিচার করবে না এবং চুরি করবে না। অতঃপর যে ব্যক্তি এর কোনোটি করবে এবং তার ওপর দণ্ডবিধি (হদ) কার্যকর করা হবে—বা তিনি বলেছেন: তাকে দণ্ড দেওয়া হবে—তবে তা তার জন্য কাফফারা স্বরূপ হবে। আর যার বিষয়টি গোপন রাখা হবে, তার হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিই করবে না, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হব। এটি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আত-তুফাউয়ি বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে। আইয়ুবের হাদিস হিসেবে এটি গরিব (একক), আবু খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব ব্যতীত আর কেউ এটি তুফাউয়ি থেকে বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
قَالَ ابْن عدي: سَمِعت أَبَا يعلى الْموصِلِي يَقُول: عِنْدِي عَن أبي خَيْثَمَة الْمسند، وَالْمَوْقُوف (وَالتَّفْسِير) حَدِيثه كُله، وَهَذَا الحَدِيث لم أَجِدهُ عِنْده، وَوَجَدته عِنْد حَامِد بن شُعَيْب. وَقَالَ ابْن عدي: وَلم أكتبه بعلو عَن أبي خَيْثَمَة إلاّ عَنهُ.

14 - حَدِيث: ابْتَاعَ رَسُول الله من أَعْرَابِي قَلَائِص إِلَى أجل؟ فَقَالَ: يَا رَسُول الله! أَرَأَيْت إِن أَتَى عَلَيْك أَمر الله، فَمن يقضيني؟ فَقَالَ: " أَبُو بكر يقْضِي عني، ينجز عداتي "، قَالَ: فَإِن قبض أَبَا بكر فَمن يقضيني؟ قَالَ: " عمر يحذو حذوه، وَيقوم مقَامه، لَا تَأْخُذهُ فِي الله لومة لائم "، قَالَ: فَإِن أَتَى على عمر أَجله؟ قَالَ: " فان اسْتَطَعْت أَن تَمُوت، فمت ". رَوَاهُ خَالِد بن عَمْرو الْقرشِي السعيدي الْكُوفِي: عَن اللَّيْث بن سعد، عَن يزِيد بن أبي حبيب، عَن أبي قبيل الْمعَافِرِي، (عَن أبي هُرَيْرَة، وَعبد الله بن عمر.) . وخَالِد هَذَا مَتْرُوك الحَدِيث.

15 - حَدِيث: ابْتَاعَ طَلْحَة بن عبيد الله بِئْرا بناحبة الْجَبَل، فَنحر جزورا، فاطعم النَّاس؟ فَقَالَ رَسُول الله: أَنْت طَلْحَة الْفَيَّاض. رَوَاهُ مُوسَى بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ: عَن أَبِيه، عَن أبي سَلمَة، عَن سَلمَة بن الْأَكْوَع.
ইবনে আদি বলেন: আমি আবু ইয়ালা আল-মাওসিলিকে বলতে শুনেছি: আমার কাছে আবু খাইসামার সূত্রে মুসনাদ, মাওকুফ এবং (তাফসির) সংক্রান্ত তাঁর সকল হাদিস রয়েছে। তবে এই হাদিসটি আমি তাঁর কাছে পাইনি, বরং আমি এটি হামিদ বিন শুয়াইবের কাছে পেয়েছি। ইবনে আদি আরও বলেন: আমি আবু খাইসামার সূত্রে উচ্চ সনদে এটি কেবল তাঁর মাধ্যমেই লিখেছি।

১৪ - হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক বেদুইনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্তে কয়েকটি মাদি উট ক্রয় করলেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে যদি আল্লাহর নির্দেশ (মৃত্যু) চলে আসে, তবে কে আমার পাওনা পরিশোধ করবে? তিনি বললেন: "আবু বকর আমার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করবে এবং আমার প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করবে।" সে বলল: যদি আবু বকরের ইন্তেকাল হয়, তবে কে আমার পাওনা মেটাবে? তিনি বললেন: "উমর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাকে বিচলিত করবে না।" সে বলল: যদি উমরের সময় ঘনিয়ে আসে? তিনি বললেন: "তখন যদি তোমার পক্ষে মৃত্যুবরণ করা সম্ভব হয়, তবে মৃত্যুবরণ করো।" এটি বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন আমর আল-কুরাশি আস-সাঈদি আল-কুফি: লাইস বিন সাদ থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি আবু কাবিল আল-মাআফিরি থেকে, (আবু হুরায়রা এবং আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে)। আর এই খালিদ মাতরুক (পরিত্যক্ত) হাদিস বর্ণনাকারী।

১৫ - হাদিস: তালহা বিন উবাইদুল্লাহ পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি কূপ ক্রয় করলেন, অতঃপর তিনি একটি উট জবাই করে মানুষকে খাওয়ালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি হলে দানশীল তালহা।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তাইমি: তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি সালামা বিন আল-আকওয়া থেকে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
ومُوسَى مُنكر الحَدِيث، لَيْسَ بِشَيْء.

16 - حَدِيث: ابْتَنَوْا الرّفْعَة عِنْد الله قيل: وَمَا هِيَ يَا رَسُول الله؟ قَالَ: تحلم عَمَّن جهل عَلَيْك، وَتُعْطِي من حَرمك، وَتصل من قَطعك. رَوَاهُ الْوَازِع بن نَافِع: عَن سَالم، عَن ابْن عمر. والوازع مَتْرُوك الحَدِيث.

17 - حَدِيث: أبردوا بِصَلَاة الظّهْر فِي شدَّة الْحر، فَإِن شدَّة الْحر من فيح جَهَنَّم. رَوَاهُ الْحسن بن عمَارَة: عَن أبي الزبير، عَن جَابر. وَهَذَا حَدِيث أبي الزبير: عَن جَابر أعرفهُ من حَدِيث الْحسن هَذَا، وَقد تَركه عبد الرَّحْمَن بن مهْدي، وَضَعفه سُفْيَان بن عُيَيْنَة. وَذكر " الظّهْر " فِي الْأَخْبَار عَزِيز لَا يذكر إلاّ فِي هَذَا الحَدِيث، وَحَدِيث الْمُغيرَة بن شُعْبَة.
এবং মূসা মুনকারুল হাদিস, তিনি নির্ভরযোগ্য নন।

১৬ - হাদিস: আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদা অন্বেষণ করো। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তা কী? তিনি বললেন: যে তোমার প্রতি মূর্খতা প্রদর্শন করে তার প্রতি সহনশীল হওয়া, যে তোমাকে বঞ্চিত করে তাকে দান করা এবং যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। এটি ওয়াজে ইবনে নাফি, সালেম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ওয়াজে হলো মাতরুকুল হাদিস (পরিত্যক্ত)।

১৭ - হাদিস: তীব্র গরমে যোহরের সালাত ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে) আদায় করো, কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। এটি হাসান ইবনে উমারা, আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু যুবায়ের থেকে জাবিরের এই হাদিসটি আমি হাসানের এই বর্ণনা থেকেই চিনি। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি তাকে বর্জন করেছেন এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা তাকে দুর্বল বলেছেন। বর্ণনাগুলোতে "যোহর" শব্দের উল্লেখ বিরল; এটি এই হাদিস এবং মুগিরা ইবনে শুবার হাদিস ছাড়া অন্য কোথাও উল্লিখিত হয় না।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
وَرَوَاهُ بِهَذَا اللَّفْظ مُحَمَّد بن سُلَيْمَان بن هِشَام ابْن بنت مطر الْوراق: عَن إِسْحَاق الْأَزْرَق، عَن شريك، عَن بَيَان، عَن قيس، عَن الْمُغيرَة، وَهُوَ ضَعِيف. رَوَاهُ إِسْحَاق: عَن شريك، وَلَيْسَ لمُحَمد هَذَا فِي الْمِقْدَار مَا يسمع هَذَا من إِسْحَاق الْأَزْرَق، وَإِنَّمَا رَوَاهُ عَن إِسْحَاق: أَحْمد بن حَنْبَل، ويحيي بن معِين، وَتَمِيم بن منتصر، (وَالْحسن بن مخلد الوَاسِطِيّ.) . وَقد رُوِيَ عَن يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم بن سعد عَن شريك كَمَا رَوَاهُ إِسْحَاق الْأَزْرَق. وَرَوَاهُ عَن يَعْقُوب: الْقَاسِم بن أبي شيبَة، (وَهُوَ ضَعِيف) وَرُوِيَ عَن عبد الرَّحْمَن بن شريك، عَن أَبِيه. وَرَوَاهُ بِهَذَا اللَّفْظ أَيْضا مُحَمَّد بن الْوَلِيد بن أبَان: عَن عبد الله بن دَاوُد الْخُرَيْبِي، عَن هِشَام بن عُرْوَة، عَن أَبِيه، عَن عَائِشَة. وَهَذَا الحَدِيث يعرف بِعَبْد الْأَعْلَى بن حَمَّاد النَّرْسِي، عَن الْخُرَيْبِي، وَلَعَلَّ ابْن أبان هَذَا سَرقه مِنْهُ، فانه بِذَاكَ مَعْرُوف. وَرَوَاهُ بِهَذَا اللَّفْظ مُحَمَّد بن الْحسن بن زبالة المَخْزُومِي: عَن أُسَامَة بن زيد، عَن أَبِيه، عَن جده، عَن عمر (أَن أَبَا مَحْذُورَة أذن بِالظّهْرِ، وَعمر بِمَكَّة، فَرفع صَوته حِين مَالَتْ الشَّمْس، فَقَالَ عمر: يَا أَبَا مَحْذُورَة! إِمَّا خفت أَن تَنْشَق مريطاؤك؟ قَالَ: أَحْبَبْت أَن أسمعك، فَقَالَ عمر: إِنِّي سَمِعت رَسُول

এবং এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন হিশাম ইবন বিনতে মাতার আল-ওয়াররাক: ইসহাক আল-আজরাক থেকে, তিনি শারিক থেকে, তিনি বায়ান থেকে, তিনি কায়স থেকে, তিনি মুগিরা থেকে, আর তিনি দুর্বল। ইসহাক এটি শারিক থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এই মুহাম্মাদের সেই সক্ষমতা নেই যে তিনি ইসহাক আল-আজরাক থেকে এটি শ্রবণ করবেন, বরং ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: আহমাদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাইন, তামীম বিন মুনতাসির এবং (আল-হাসান বিন মাখলাদ আল-ওয়াসিতি)। আর ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন সাদ থেকেও শারিক থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে যেভাবে ইসহাক আল-আজরাক বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াকুব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: আল-কাসিম বিন আবু শায়বাহ (যিনি দুর্বল)। আর এটি আব্দুর রহমান বিন শারিক থেকেও তার পিতা থেকে বর্ণিত হয়েছে। এবং এই শব্দে আরও বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন আবান: আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবি থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে। এবং এই হাদিসটি আব্দুল আলা বিন হাম্মাদ আন-নারসি থেকে আল-খুরাইবির সূত্রে পরিচিত; সম্ভবত এই ইবন আবান তার থেকে এটি চুরি করেছেন, কারণ তিনি সেই বিষয়ের জন্য পরিচিত। আর এই শব্দে মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন জুবাল্লাহ আল-মাখজুমি বর্ণনা করেছেন: উসামা বিন যায়েদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি ওমর থেকে (যে, আবু মাহজুরা জোহরের আজান দিলেন যখন ওমর মক্কায় ছিলেন, সূর্য ঢলে পড়ার সময় তিনি তার কণ্ঠস্বর উচ্চ করলেন। তখন ওমর বললেন: হে আবু মাহজুরা! তুমি কি ভয় পাও না যে তোমার নাভির নিচের পেশি ছিঁড়ে যাবে? তিনি বললেন: আমি আপনাকে শোনাতে চেয়েছি। তখন ওমর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি...

(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
الله يَقُول: أبردوا بِالصَّلَاةِ، إِذا اشْتَدَّ الْحر، فَإِن شدَّة الْحر من فيح جَهَنَّم، وَإِن جَهَنَّم تحاكت حَتَّى أكل بَعْضهَا بَعْضًا، فاستأذنت الله عَن تَنْفِيس، فَأذن لَهَا شدَّة الْحر من فيح جَهَنَّم، وَشدَّة الْبرد من زمهريرها) . وَمُحَمّد هَذَا مَتْرُوك الحَدِيث. وَرَوَاهُ عَن أُسَامَة غير مُحَمَّد، فَلم يذكر " الظّهْر "، وَأُسَامَة فِي الأَصْل ضَعِيف. وَرَوَاهُ بِلَفْظ الصَّحِيح سَالم بن عبد الله الْخياط، عَن الْحسن، وَابْن سِيرِين، عَن أبي هُرَيْرَة. وَسَالم ضَعِيف. قَالَ الْمَقْدِسِي: وَقد صَحَّ قَوْله: " أبردوا بِالصَّلَاةِ: من غير ذكر " الظّهْر ". وَأخرج فِي " الصَّحِيح " من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَغَيره. وَالله أعلم.

18 - حَدِيث: أبشر يَا عَليّ! حياتك وموتك معي. رَوَاهُ عباد بن زِيَاد الْأَسدي: عَن قيس (بن الرّبيع) ، عَن أبي إِسْحَاق السبيعِي، عَن أبي البخْترِي، عَن حجر بن عدي، عَن شرَاحِيل بن مرّة.
আল্লাহ বলেন: তোমরা সালাতকে শীতল করো (সালাত আদায়ে বিলম্ব করো), যখন গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিশ্বাস থেকে। আর জাহান্নাম (নিজেদের মধ্যে) এমনভাবে ঘষাঘষি করছিল যে এর এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছিল। তখন সে আল্লাহর কাছে নিশ্বাস ছাড়ার অনুমতি প্রার্থনা করল। ফলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন; গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিশ্বাস থেকে এবং শীতের তীব্রতা এর জামহারীর (চরম শীতলতা) থেকে। আর এই মুহাম্মদ পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী। মুহাম্মদ ছাড়া অন্য বর্ণনাকারীরাও উসামা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তারা "জোহর" শব্দের উল্লেখ করেননি। আর উসামা মূলত দুর্বল। সালেম বিন আব্দুল্লাহ আল-খাইয়াত এটি সহিহ শব্দের সাথে হাসান ও ইবনে সিরিন থেকে, তারা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সালেম দুর্বল। মাকদিসি বলেন: "তোমরা সালাতকে শীতল করো" কথাটি "জোহর" উল্লেখ ছাড়াই সহিহ সাব্যস্ত হয়েছে। আর এটি "সহিহ" গ্রন্থে আবু হুরায়রা ও অন্যদের হাদিস থেকে সংকলিত হয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

১৮ - হাদিস: হে আলী, সুসংবাদ গ্রহণ করো! তোমার জীবন ও তোমার মৃত্যু আমার সাথেই। এটি আব্বাদ বিন যিয়াদ আল-আসাদি বর্ণনা করেছেন: কাইস (বিন আল-রাবি) থেকে, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি আবুল বাখতারি থেকে, তিনি হুজর বিন আদি থেকে, তিনি শারাহিল বিন মুররাহ থেকে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
وَعباد هَذَا مَتْرُوك الحَدِيث.

19 - حَدِيث: أبْصر رجل رَسُول الله حَامِل حسنا نقال: نعم الْمركب ركبت يَا غُلَام! فَقَالَ رَسُول الله: " وَنعم الرَّاكِب هُوَ ". رَوَاهُ زَمعَة بن صَالح. عَن سَلمَة بن وهرام، عَن عِكْرِمَة، عَن ابْن عَبَّاس. وَهَذَا يرويهِ زَمعَة، عَن سَلمَة.

20 - حَدِيث: أبْصر النَّبِي رجلَيْنِ فِي مَسْجِد الْخيف فِي أخريات النَّاس؛ فَأمر بهما فجيء بهما ترْعد فرائصهما قَالَ: مَا منعكما من الصَّلَاة مَعنا؟ فَقَالَا: صلينَا فِي رحالنا، قَالَ: " أَلا صليتم مَعنا؛ فَيكون تَطَوّعا، وصلاتكم الأولى هِيَ الْفَرِيضَة ". رَوَاهُ حجاج بن أَرْطَاة: عَن يعلى بن عَطاء، عَن أَبِيه، عَن عبد الله بن عَمْرو. هَكَذَا رَوَاهُ الْحجَّاج، وَأَخْطَأ، وَإِنَّمَا رَوَاهُ الثِّقَات عَن يعلى بن عَطاء، عَن جَابر بن يزِيد بن الْأسود، عَن أَبِيه قَالَ: أبْصر … وَكَانَ ذَاك الطَّرِيق أسهل عَلَيْهِ.
এবং এই আব্বাদ মাতরুকুল হাদিস (হাদিস বর্ণনায় বর্জনীয়)।

১৯ - হাদিস: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলকে দেখলেন যে তিনি হাসানকে বহন করছেন, তখন সে বলল: হে বৎস! কতই না উত্তম সওয়ারির ওপর তুমি সওয়ার হয়েছ! তখন আল্লাহর রাসূল বললেন: "এবং সেও কতই না উত্তম সওয়ার।" এটি জামআ ইবনে সালেহ বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে ওহরাম থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। আর এটি জামআ সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

২০ - হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদুল খাইফে লোকজনের পেছনে দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন; তিনি তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলে তাদের নিয়ে আসা হলো, তখন তাদের শরীর কাঁপছিল। তিনি বললেন: আমাদের সাথে সালাত আদায়ে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল: আমরা আমাদের ডেরায় সালাত আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন: "তোমরা কেন আমাদের সাথে সালাত আদায় করলে না? এটি তোমাদের জন্য নফল হতো, আর তোমাদের প্রথম সালাতটিই ফরজ হিসেবে গণ্য হতো।" এটি হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ বর্ণনা করেছেন ইয়ালা ইবনে আতা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে। হাজ্জাজ এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ভুল করেছেন। বরং নির্ভরযোগ্য রাবিগণ এটি ইয়ালা ইবনে আতা থেকে, তিনি জাবির ইবনে ইয়াজিদ ইবনুল আসওয়াদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তিনি দেখতে পেলেন... এবং সেই পথটিই তাঁর জন্য সহজ ছিল।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০০)
21 - حَدِيث: أَبْصرت رَسُول الله، وَأبي مردفي وَرَاءه على جمل وَأَنا صّبي؛ صَغِير؟ فَرَأَيْت رَسُول الله يخْطب النَّاس على نَاقَته العضباء بمنى. رَوَاهُ عِكْرِمَة بن عمار: عَن الهرماس بن زِيَاد الْبَاهِلِيّ قَالَ … أوردهُ فِي تَرْجَمَة عِكْرِمَة، وعدّه فِي أَفْرَاده.

22 - حَدِيث: أَبْطَا جِبْرِيل عليه السلام عَن النَّبِي فَقَالَت الْيَهُود: قد وُدِّع محّمد؛ فَأنْزل الله عز وجل: وَالضُّحَى وَاللَّيْل اذا سجى، إِلَى فترضى قَالَ: من الْجنَّة حَتَّى ترْضى. رَوَاهُ وَاصل بن السَّائِب الرقاشِي: عَن أبي سُورَة الْأنْصَارِيّ، عَن عَمه أَبى أَيُّوب الْأنْصَارِيّ. وواصل مُنكر الحَدِيث، مَتْرُوك.

23 - حَدِيث: أبْغض الْحَلَال إِلَى الله الطَّلَاق. رَوَاهُ معرّف بن وَاصل: عَن محَارب بن دثار، عَن ابْن عمر. قَالَ أَبُو بكر بن أبي دَاوُد: وَهَذِه سنة تفرد بهَا أهل الْكُوفَة، يَعْنِي: أَن معرفّاً كُوفِي.
21 - হাদিস: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি, যখন আমি ছোট বালক ছিলাম তখন আমার পিতা আমাকে তাঁর পিছনে একটি উটের পিঠে বসিয়েছিলেন; অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিনায় তাঁর ‘আল-আদবা’ নামক উটনীর ওপর চড়ে মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখেছি। এটি ইকরিমাহ বিন আম্মার বর্ণনা করেছেন: হিরমাস বিন যিয়াদ আল-বাহিলি থেকে, তিনি বলেন ... এটি ইকরিমার জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটিকে তাঁর একক বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

22 - হাদিস: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবীর কাছে আসতে বিলম্ব করলেন, তখন ইহুদিরা বলল: মুহাম্মাদকে পরিত্যাগ করা হয়েছে; তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: শপথ পূর্বাহ্ণের এবং শপথ রাত্রির যখন তা নিঝুম হয়, ‘যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন’ পর্যন্ত। তিনি বললেন: জান্নাত থেকে (দান করা হবে) যতক্ষণ না আপনি সন্তুষ্ট হন। এটি ওয়াসিল বিন আস-সাইব আর-রাকাশি বর্ণনা করেছেন: আবু সূরাহ আল-আনসারী থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে। আর ওয়াসিল হলেন মুনকারুল হাদিস এবং পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

23 - হাদিস: আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপ্রিয় হালাল কাজ হলো বিবাহবিচ্ছেদ। এটি মুআররিফ বিন ওয়াসিল বর্ণনা করেছেন: মুহারিব বিন দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। আবু বকর বিন আবু দাউদ বলেন: এটি এমন একটি সুন্নাহ যা কেবল কুফাবাসীরাই এককভাবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ: মুআররিফ একজন কুফী।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০১)
وَلَا أعلم رَوَاهُ عَنهُ غير محمّد بن خَالِد، وَهُوَ الْوَهْبِي.

24 - حَدِيث: ابْن آدم {عنْدك مَا يَكْفِيك، وَأَنت تطلب مَا يُطْغِيك، ابْن أَدَم} لَا بِقَلِيل تقنع، وَلَا بِكَثِير تشبع، ابْن آدم! إِذا أَصبَحت معافى فِي جسدك، آمنا فِي سربك، عنْدك قوت يَوْمك فعلى الدُّنْيَا العفاء. رَوَاهُ أَبُو بكر عبد الله بن حَكِيم الداهري: عَن ثَوْر بن يزِيد، عَن خَالِد بن مهَاجر، عَن ابْن عمر. والداهري هَذَا كَذَّاب، مَتْرُوك الحَدِيث.

25 - حَدِيث: ابْن صياد ولد مسررواً مختوناً أَعور. رَوَاهُ سيف بن مُحَمَّد ابْن أُخْت الثَّوْريّ: عَن هِشَام بن عُرْوَة، عَن أَبِيه، عَن عَائِشَة. وَسيف كَذَّاب.

26 - حَدِيث: أَبُو بكر خير النَّاس إِلَّا أَن يكون نَبِي. رَوَاهُ عِكْرِمَة بن عمار: عَن إِيَاس بن سَلمَة بن الْأَكْوَع، عَن أَبِيه.
আমি জানি না যে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর নিকট থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন আল-ওয়াহবি।

24 - হাদিস: হে আদম সন্তান! তোমার নিকট যা যথেষ্ট তা থাকা সত্ত্বেও তুমি এমন কিছু অন্বেষণ করছ যা তোমাকে উদ্ধত করবে। হে আদম সন্তান! তুমি অল্পতে সন্তুষ্ট নও এবং অধিক প্রাপ্তিতেও তৃপ্ত নও। হে আদম সন্তান! যখন তুমি সুস্থ শরীরে ভোরে উপনীত হও, তোমার বাসস্থানে নিরাপদ থাকো এবং তোমার নিকট তোমার এক দিনের আহার থাকে, তবে পার্থিব জগতের মোহের ওপর ধুলো পড়ুক (অর্থাৎ তা তুচ্ছ)। এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে হাকিম আদ-দাহিরি: সাওর ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মুহাজির থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। আর এই দাহিরি একজন চরম মিথ্যাবাদী, তার হাদিস বর্জনীয়।

25 - হাদিস: ইবনে সায়ইয়াদ নাভি কাটা, খতনা করা এবং এক চোখ কানা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিল। এটি বর্ণনা করেছেন আস-সাওরির ভাগ্নে সাইফ ইবনে মুহাম্মদ: হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে। আর সাইফ একজন চরম মিথ্যাবাদী।

26 - হাদিস: নবীগণ ব্যতীত আবু বকর মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এটি বর্ণনা করেছেন ইকরিমাহ ইবনে আম্মার: ইয়াস ইবনে সালামাহ ইবনে আল-আকওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০২)
وَهَذَا رَوَاهُ فِي ذكر مَا أنكر على عِكْرِمَة، وَقد وَثَّقَهُ قوم، وَضَعفه آخَرُونَ.

27 - حَدِيث: أَبُو بكر وزيري، والقائم فِي أمتِي من بعدِي، وَعمر حَبِيبِي ينْطق على لساني، وَعُثْمَان مني، وَعلي أخي، وَصَاحب لِوَائِي. رَوَاهُ كَادِح بن رَحْمَة: عَن الْحسن بن أبي جَعْفَر، عَن أبي الزبير، عَن جَابر. وَهَذَا يعرف بكادح، وَلَا يُتَابع عَلَيْهِ، وَهُوَ يرْوى الموضوعات عَن الثِّقَات، وَأما هَذَا فَإِن الْحسن هُوَ الجفرى مَتْرُوك الحَدِيث.

28 - حَدِيث: أَبُو بكر وَعمر خير الْأَوَّلين، وَخير الآخرين، وَخير أهل السَّمَاوَات، وَخير أهل الْأَرْضين، الا النَّبِيين، وَالْمُرْسلِينَ. رَوَاهُ جبرون بن وَاقد أَبُو عباد الإفْرِيقِي: عَن مخلد بن الْحُسَيْن، عَن هِشَام بن حسان، عَن مُحَمَّد بن سِيرِين، عَن أبي هُرَيْرَة. وَهَذَا مُنكر، وَالْحمل فِيهِ على جبرون هَذَا.

29 - حَدِيث: أَبُو الْيَقظَان على الْفطْرَة. قَالَهَا ثَلَاثًا.
এটি তিনি ইকরিমা সম্পর্কে যা অস্বীকার করা হয়েছে তার আলোচনায় বর্ণনা করেছেন; একদল তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং অন্যেরা তাঁকে দুর্বল বলেছেন।

২৭ - হাদিস: আবু বকর আমার উজির এবং আমার পরে আমার উম্মতের মধ্যে অবস্থানকারী, উমর আমার প্রিয় যে আমার ভাষায় কথা বলে, উসমান আমার থেকে এবং আলী আমার ভাই ও আমার পতাকাবাহী। এটি কাদিহ ইবনে রহমাহ বর্ণনা করেছেন: হাসান ইবনে আবি জাফর থেকে, তিনি আবু জুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে। এটি কাদিহ-এর মাধ্যমে পরিচিত এবং এই বর্ণনায় তাঁকে কেউ অনুসরণ করেনি। তিনি নির্ভরযোগ্যদের সূত্রে জাল হাদিস বর্ণনা করতেন। আর এই হাসান হলেন জাফরি, যিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদিস)।

২৮ - হাদিস: আবু বকর ও উমর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সেরা এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের মধ্যে সেরা, তবে নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত। এটি জাবরুন ইবনে ওয়াকিদ আবু আব্বাদ আল-ইফ্রিকি বর্ণনা করেছেন: মাখলাদ ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস এবং এর দায়ভার এই জাবরুন-এর ওপর।

২৯ - হাদিস: আবুল ইয়াকজান ফিতরাতের (সহজাত স্বভাবের) ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি এটি তিনবার বলেছেন।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০৩)
رَوَاهُ عَليّ بن غراب: عَن سعد بن أَوْس، عَن بِلَال الْعَبْسِي، عَن حُذَيْفَة. وَعلي هَذَا لَيْسَ بِالْقَوِيّ فِي الحَدِيث. وَأَبُو الْيَقظَان لَعَلَّه عمار بن يَاسر.

30 - حَدِيث: أَتَى أسيد بن حضير النَّقِيب الأشْهَلِي إِلَى رَسُول الله، فَكَلمهُ فِي أهل بَيت من بني ظفر، عامتهم نسَاء فقسم رَسُول الله شَيْء قسمه بَين النَّاس فَقَالَ رَسُول الله: " تركتنا يَا أسيد {حَتَّى ذهب مَا فِي أَيْدِينَا؛ فَإِذا سَمِعت بِطَعَام قد أَتَانِي فائتني، فاذكر لي أهل ذَلِك الْبَيْت - أَو اذكر لي ذَاك - فَمَكثَ مَا شَاءَ الله، ثمَّ أَتَى رَسُول الله طَعَام من خَيْبَر، وشعير وتمر؛ فقسم النَّبِي فِي النَّاس، ثمَّ قسم فِي الانصار؛ فأجزل، ثمَّ قسم فِي أهل ذَلِك الْبَيْت؛ فاجزل؛ فَقَالَ لَهُ أسيد شاكراً لَهُ: جَزَاك الله، أَي رَسُول الله أطيب الْجَزَاء - أَو خيرا، شكّ عَاصِم - فَقَالَ لَهُ النَّبِي: " وَأَنْتُم معشر الانصار} فجزاكم الله خيرا أَو أطيب الْجَزَاء - فكلكم - مَا علمت - أعفة صَبر، وسترون بعدِي أَثَرَة فِي الْقسم وَالْأَمر؛ فَاصْبِرُوا، حَتَّى تَلْقَوْنِي على الْحَوْض ". رَوَاهُ عَاصِم بن سُوَيْد الْأنْصَارِيّ: عَن يحيى بن سعد، عَن أنس. وَعَاصِم هَذَا، سُئِلَ عَنهُ ابْن معِين، فَلم يعرفهُ.

31 - حدث: أَتَى أَعْرَابِي النَّبِي فَقَالَ: يَا رَسُول الله! أَتَيْنَاك وَمَا لنا بعير يئط، وَلَا صبي يصطبح، وأنشده:
আলী ইবনে গুরাব এটি বর্ণনা করেছেন: সা’দ ইবনে আওস থেকে, তিনি বিলাল আল-আবসি থেকে, তিনি হুযায়ফা থেকে। আর এই আলী হাদীসশাস্ত্রে শক্তিশালী নন। আর আবু ইয়াকযান সম্ভবত আম্মার ইবনে ইয়াসির।

৩০ - হাদীস: নকীবে আশহালী উসাইদ ইবনে হুযাইর আল্লাহর রাসূলের কাছে আসলেন এবং বনী যাফারের একটি পরিবারের ব্যাপারে তাঁর সাথে কথা বললেন, যাদের অধিকাংশ সদস্যই ছিল নারী। তখন আল্লাহর রাসূল মানুষের মাঝে কিছু সম্পদ বণ্টন করছিলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন: "হে উসাইদ, তুমি আমাদের এমন সময় পর্যন্ত ছেড়ে গিয়েছিলে যতক্ষণ না আমাদের হাতে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেল। এরপর যখন তুমি শুনবে যে আমার কাছে খাবার এসেছে, তখন আমার কাছে এসো এবং আমাকে সেই পরিবারের কথা স্মরণ করিয়ে দিও - অথবা আমাকে সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিও।" আল্লাহ যতদিন চাইলেন সেভাবেই থাকল। এরপর রাসূলুল্লাহর কাছে খায়বার থেকে কিছু খাবার এল, যার মধ্যে ছিল যব এবং খেজুর। নবী তা মানুষের মাঝে বণ্টন করলেন, তারপর আনসারদের মাঝে বণ্টন করলেন এবং তাদের প্রাচুর্য দিলেন। এরপর তিনি সেই পরিবারের মাঝে বণ্টন করলেন এবং তাদেরও প্রাচুর্য দিলেন। তখন উসাইদ তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন - অথবা কল্যাণের প্রতিদান দিন, আসিম এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন। তখন নবী তাঁকে বললেন: "আর তোমরা হে আনসার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদেরও উত্তম বা সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। আমার জানামতে তোমরা সবাই অত্যন্ত পবিত্র এবং ধৈর্যশীল। অচিরেই আমার পরে তোমরা বণ্টন ও শাসনের ক্ষেত্রে অন্যদের প্রাধান্য দেখতে পাবে; সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, যতক্ষণ না হাউজের পাড়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ কর।" আসিম ইবনে সুওয়াইদ আল-আনসারী এটি বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সা’দ থেকে, তিনি আনাস থেকে। আর এই আসিম সম্পর্কে ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাঁকে চিনতেন না বলে জানান।

৩১ - হাদীস: এক গ্রাম্য লোক নবীর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার কাছে এমন অবস্থায় এসেছি যে আমাদের এমন কোনো উট নেই যা ডাকছে, আর এমন কোনো শিশু নেই যে সকালের খাবার খাচ্ছে। এরপর সে তাঁকে কবিতা শুনিয়ে বলল:
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০৪)
أَتَيْنَاك والعذراء يدمي لبانها وَقد شغلت أم الصَّبِي عَن الطِّفْل وَألقى بكفيه الْفَتى استكانة من الْجُوع ضعفا مَا يمر وَلَا يحلي فَلَا شَيْء مِمَّا يَأْكُل النَّاس عندنَا سوى الحنظل الْعَاميّ والعلقم الفشل وَلَيْسَ لنا إِلَّا إِلَيْك فرارنا وَأَيْنَ فرار النَّاس إِلَّا إِلَى الرُّسُل فَقَامَ رَسُول الله يجر رِدَاءَهُ حَتَّى صعد الْمِنْبَر فَقَالَ: " اللَّهُمَّ اسقنا غيثا، مغيثا، مريئا، مريعا، غدقا، طبقًا، نَافِعًا، غيرضار، عَاجلا غير رائث تملأ بِهِ الضَّرع، وتنبت بِهِ الزَّرْع، وتحيي بِهِ الأَرْض بعد مَوتهَا، وَكَذَلِكَ الْخُرُوج ". قَالَ: فوَاللَّه مَا ردّ يَده إِلَى نَحره حَتَّى الْتفت السَّمَاء بأوداقها قَالَ: فجَاء أهل البطانة يضجون: يَا رَسُول الله {الْغَرق الْغَرق؛ فانجابت السَّمَاء عَن الْمَدِينَة، حَتَّى أحدق بهَا كالإكليل؟ فَضَحِك رَسُول الله حَتَّى بَدَت نَوَاجِذه، ثمَّ قَالَ: " لله أَبُو طَالب لَو كَانَ حَيا قرت عَيناهُ، من ينشدنا شعره؟ ". فَقَامَ عَليّ فَقَالَ: يَا رَسُول الله} لَعَلَّك أردْت: وأبيض يستسقى الْغَمَام بِوَجْهِهِ ثمام الْيَتَامَى، عصة للأرامل تلوذ بِهِ الْهلَال من آل هَاشم فهم عِنْده فِي نعْمَة وفواضل كَذبْتُمْ وببت الله نبزي مُحَمَّدًا

আমরা আপনার নিকট এসেছি এমন অবস্থায় যখন কুমারী কন্যার স্তন থেকে রক্ত ঝরছে (তীব্র অভাবে) এবং দুগ্ধদাত্রী মা তার সন্তানের কথা ভুলে গিয়েছে। আর যুবক ক্ষুধার যন্ত্রণায় ও দুর্বলতায় অসহায়ভাবে তার দুই হাত প্রসারিত করেছে, সে কোনো মিষ্ট বা তিক্ত কিছুর স্বাদ পায় না। আমাদের নিকট মানুষের আহারোপযোগী কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই, কেবল বছরের পুরনো শুকনো তেতো ফল এবং বিষাক্ত লতা ছাড়া। আপনার নিকট আসা ব্যতীত আমাদের আর কোনো পলায়নস্থল নেই; আর রাসূলগণ ব্যতীত মানুষের আশ্রয়ের স্থানই বা কোথায়? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাদর টানতে টানতে দাঁড়ালেন এবং মিম্বরে আরোহণ করে বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের এমন বৃষ্টি দান করুন যা উদ্ধারকারী, তৃপ্তিদায়ক, প্রাচুর্যময়, ভূমিকে উর্বরকারী, সুদূরপ্রসারী, উপকারী কিন্তু ক্ষতিকর নয় এবং যা বিলম্বিত নয় বরং দ্রুত আগত। যার মাধ্যমে আপনি পশুর ওলান দুধে পূর্ণ করবেন, শস্য উৎপন্ন করবেন এবং মৃত জমিনকে জীবিত করবেন; আর এভাবেই (কিয়ামতের দিন মৃতদের) পুনরুত্থান হবে।" বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, তিনি তাঁর হাত তাঁর বুকের দিকে নামানোর আগেই আকাশ মেঘের বারিধারায় ছেয়ে গেল। তিনি বলেন: অতঃপর মদীনার পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন আর্তনাদ করতে করতে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো ডুবে যাচ্ছি, ডুবে যাচ্ছি! তখন মদীনার আকাশ থেকে মেঘ সরে গেল এবং মদীনাকে চারপাশ থেকে মুকুটের ন্যায় ঘিরে ধরল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হলো। অতঃপর তিনি বললেন: "আবু তালিবের ওপর আল্লাহর রহমত হোক, তিনি যদি জীবিত থাকতেন তবে আজ তাঁর চক্ষু শীতল হতো। তাঁর কবিতা আমাদের কে শুনিয়ে দেবে?" তখন আলী দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সম্ভবত আপনি এই কবিতাটি বুঝিয়েছেন: 'তিনি এমন এক উজ্জ্বল কান্তিময় পুরুষ যাঁর পবিত্র চেহারার অসিলায় মেঘের নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়; তিনি ইয়াতীমদের আশ্রয়দাতা এবং বিধবাদের অভিভাবক। বনু হাশিমের নিঃস্বরা তাঁর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে, আর তারা তাঁর নিকট নিয়ামত ও অনুগ্রহের ছায়াতলে থাকে। আল্লাহর ঘরের কসম, তোমরা মিথ্যা বলছ যে আমরা মুহাম্মাদকে শত্রুর হাতে সঁপে দেব...'

(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০৫)
وَلما نُقَاتِل دونه ونناضل ونسلمه حَنى نصرع حوله ونذهل عَن أَبْنَائِنَا والحلائل فَقَالَ رَسُول الله: " أجل ". فَقَامَ رجل من بني لَيْث بن بكر فَقَالَ: لَك الْحَمد وَالْحَمْد مِمَّن شكر سقينا بِوَجْه النَّبِي الْمَطَر دَعَا الله خالقه دَعْوَة إلهي وأشخص مِنْهَا الْبَصَر فَلم يَك إِلَّا كإلقا الردا وأسرع حَتَّى أَتَانَا الْمَطَر دقاق الغزالى جم البعا وأغاث بِهِ الله عليا مُضر وَكَانَ كَمَا قَالَ عَمه أَبُو طَالب: أَبيض ذَا غرر: بِهِ الله يسْقِي صوب الْغَمَام وَهَذَا العيان لذاك الْخَبَر فَمن يشْكر الله يلقى مزيدا وَمن يكفر الله يلقى الْغَيْر فَقَالَ رَسُول الله: " إِن يَك شَاعِرًا يحسن فقد أَحْسَنت " وَاللَّفْظ لأبي هليل. رَوَاهُ سعيد بن خثيم بن هِلَال الْكُوفِي: عَن مُسلم الْملَائي، عَن أنس، وَهَذَا غير مَحْفُوظ.
এবং কেনই বা আমরা তাঁর সপক্ষে লড়াই করব না এবং সংগ্রাম করব না, আর তাঁকে রক্ষা করব না যতক্ষণ না আমরা তাঁর চারধারে ঢলে পড়ি এবং নিজেদের সন্তান ও স্ত্রীদের কথা বিস্মৃত হই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হ্যাঁ"। এরপর বনী লাইস ইবনে বকর গোত্রের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আর কৃতজ্ঞদের পক্ষ থেকেই প্রশংসা নিবেদিত; নবীর চেহারার উসিলায় আমরা বৃষ্টি প্রাপ্ত হয়েছি। তিনি তাঁর স্রষ্টা আল্লাহর নিকট এই বলে প্রার্থনা করেছিলেন—"হে আমার ইলাহ", এবং এতে চক্ষু স্থির হয়ে গিয়েছিল। এরপর চাদর ফেলার মতো সময়ের ব্যবধানেই অতি দ্রুত আমাদের নিকট বৃষ্টি চলে এল। প্রবল ধারায় বর্ষিত সেই বৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ মুদার গোত্রকে সাহায্য করলেন। আর বিষয়টি তেমনই ছিল যেমনটি তাঁর চাচা আবু তালিব বলেছিলেন: "তিনি উজ্জ্বল কান্তিময়, যাঁর উসিলায় মেঘমালা থেকে বৃষ্টি সিক্ততা লাভ করা হয়।" আর এটিই হলো সেই সংবাদের চাক্ষুষ প্রমাণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে সে পরিবর্তনের (বিপর্যের) শিকার হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি কোনো কবি সুন্দর বলে থাকে, তবে তুমিও সুন্দর বলেছ।" শব্দগুলো আবু হুবাইলের। এটি সাঈদ ইবনে খুসাইম ইবনে হিলাল আল-কুফি বর্ণনা করেছেন মুসলিম আল-মালাই থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে; তবে এটি সংরক্ষিত নয়।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০৬)
أوردهُ فِي تَرْجَمَة سعيد هَذَا.

32 - حَدِيث: أَتَى الْأَعْرَاب رَسُول الله فَقَالُوا: يَا رَسُول الله أعلينا حرج فِي كَذَا، وَكَذَا. فَقَالَ: " لاحرج، وضع الله الْحَرج، إِلَّا من أقترض من عرض امريء؟ فَذَلِك الْحَرج ". قَالُوا: يَا رَسُول الله {أنتداوى؟ قَالَ: " تداووا عباد الله} فَإِن الله عز وجل لم ينزل دَاء الا أنزل لَهُ شِفَاء ". قَالُوا: يَا رَسُول الله {مَا خير مَا أُوتى الْإِنْسَان} . قَالَ: " خلق حسن ". رَوَاهُ عمر بن شبيب الْمسلي: عَن عَمْرو بن قيس الْملَائي، عَن عَلْقَمَة بن مرْثَد، عَن زِيَاد بن علاقَة، عَن أُسَامَة بن شريك. وَعمر لَيْسَ بِشَيْء فِي الحَدِيث.

33 - حَدِيث: أَتَى أنَاس من الْأَعْرَاب رَسُول الله فَقَالُوا: إِنَّا قوم تأتى علينا أَرْبَعَة أشهر، وَخَمْسَة أشهر، لَا نصيب المَاء ومعنا النُّفَسَاء، وَالْحَائِض، وَالْجنب؟ قَالَ: " عَلَيْكُم بِالْأَرْضِ ". رَوَاهُ أَبُو الرّبيع السمان، أَشْعَث بن سعيد: عَن عَمْرو بن دِينَار، عَن سعيد بن الْمسيب، عَن أبي هُرَيْرَة. وَأَبُو الرّبيع مَتْرُوك الحَدِيث.

34 - حَدِيث: أَتَى جِبْرِيل النَّبِي فَقَالَ: أَن الله عز وَجل
তিনি এটি এই সাঈদের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।

32 - হাদীস: কিছু বেদুইন আল্লাহর রাসূলের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জন্য কি অমুক ও অমুক বিষয়ে কোনো গুনাহ আছে? তিনি বললেন: "কোনো গুনাহ নেই, আল্লাহ গুনাহ তুলে নিয়েছেন, তবে যে ব্যক্তি কোনো মানুষের সম্মান হরণ করেছে তার কথা ভিন্ন; সেটিই হলো গুনাহ।" তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, {আমরা কি চিকিৎসা গ্রহণ করব? তিনি বললেন: "হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো,} কারণ আল্লাহ মহীয়ান ও গরীয়ান এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার জন্য তিনি আরোগ্য অবতীর্ণ করেননি।" তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, {মানুষকে প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ বস্তু কোনটি?} তিনি বললেন: "উত্তম চরিত্র।" এটি বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে শাবীব আল-মুসলী: আমর ইবনে কায়স আল-মুলায়ী থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে ইলাকাহ থেকে, তিনি উসামা ইবনে শারীক থেকে। আর উমর হাদীস শাস্ত্রে নগণ্য।

33 - হাদীস: একদল বেদুইন আল্লাহর রাসূলের নিকট এসে বলল: আমরা এমন এক কওম যে আমাদের ওপর চার মাস ও পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়ে যায় অথচ আমরা পানি পাই না, এমতাবস্থায় আমাদের সাথে নেফাসগ্রস্ত নারী, ঋতুবতী নারী এবং অপবিত্র (গোসল ফরয হওয়া) ব্যক্তি থাকে? তিনি বললেন: "তোমাদের জন্য মাটি (ব্যবহার করা) আবশ্যক।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু রাবী আস-সাম্মান, আশ'আস ইবনে সাঈদ: আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। আর আবু রাবী পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী।

34 - হাদীস: জিবরাঈল নবীর নিকট এসে বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ মহীয়ান ও গরীয়ান...
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০৭)
يَأْمُرك أَن نقُول هَؤُلَاءِ الْكَلِمَات - فَإِنَّهُ يعطيك أجرهن -: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسَالَك تَعْجِيل عافيتك، وخروجاً من الدُّنْيَا إِلَى رحمتك. رَوَاهُ زُهَيْر بن مُحَمَّد: عَن هِشَام بن عُرْوَة، عَن أَبِيه، عَن عَائِشَة. وَلم يروه عَن هِشَام غير زُهَيْر.

35 - حَدِيث: أَتَى جِبْرِيل النَّبِي فَقَالَ: يَا مُحَمَّد {وضعتم أسلحتكم وَمَا وضعت الْمَلَائِكَة وَهُوَ يَوْمئِذٍ يغسل رَأسه؛ فَقَامَ رَسُول الله فلفّ رَأسه وَلم يغسلهُ، حَتَّى أَتَى بِبَاب النَّضِير، فَفتح الله لَهُم. رَوَاهُ سُلَيْمَان بن زيد أَبُو إدام: عَن عبد الله بن أبي أوفى. وَسليمَان هَذَا مَتْرُوك الحَدِيث.

36 - حَدِيث: أَتَى رجل رَسُول الله فَقَالَ: السَّلَام عَلَيْك يَا رَسُول الله} فَقَالَ رَسُول الله: " وَعَلَيْك السَّلَام وَرَحْمَة الله " قَالَ: يَا رَسُول الله {اسْمَع مقالتى فوَاللَّه أَنِّي لفي قولي من الصَّالِحين، مَا لله عَليّ حق فِي زَكَاة، وَلَا مَال، ولاصدقة، وَلَا حج، وَلَا غَزْوَة، إِنِّي لفقير مِسْكين، أجوع أَحْيَانًا، وَأَشْبع أَحْيَانًا، وَإِنِّي لراض بِمَا أَعْطَانِي الله، فَقَالَ النَّبِي: " إِن أحب عباد الله إِلَى الله الْفُقَرَاء المتواضعون الَّذين إِذا أعْطوا، حمدوا، وَإِذا منعُوا صَبَرُوا، وَإِن أحب عباد الله إِلَى الله الْأَغْنِيَاء الَّذين إِذا أعْطوا، فرحوا، واذا لم يُعْطوا اغتموا لمالم يَفْعَلُوا ". فَقَالَ الرجل: صدقت يَا رَسُول الله} أَرَأَيْت إِن صليت هَذِه الْخمس الصَّلَوَات، وَصمت شهر رَمَضَان، أَدخل الْجنَّة؟
আপনাকে এই কথাগুলো বলতে নির্দেশ দিচ্ছেন - কারণ তিনি আপনাকে এগুলোর সওয়াব দান করবেন - : হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার সুস্থতার দ্রুততা এবং দুনিয়া থেকে আপনার রহমতের দিকে প্রস্থান কামনা করছি। এটি বর্ণনা করেছেন জুহাইর বিন মুহাম্মদ: হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে। আর জুহাইর ছাড়া আর কেউ হিশাম থেকে এটি বর্ণনা করেননি।

৩৫ - হাদিস: জিবরীল (আ.) নবীর নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ, আপনারা কি আপনাদের অস্ত্র নামিয়ে রেখেছেন অথচ ফেরেশতারা তা নামাননি? সেদিন তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁর মাথা ধৌত করছিলেন; তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর মাথা জড়িয়ে নিলেন এবং তা ধৌত করলেন না, যতক্ষণ না তিনি বনু নাদীরের দরজায় পৌঁছালেন, অতঃপর আল্লাহ তাদের জন্য তা বিজয় করে দিলেন। এটি বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন যায়েদ আবু ইদাম: আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা থেকে। আর এই সুলাইমান হলেন 'মাতরুকুল হাদিস' (পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী)।

৩৬ - হাদিস: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর (সা.) নিকট এসে বলল: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমার ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কথা শুনুন, আল্লাহর কসম, আমি আমার কথায় সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত; যাকাত, সম্পদ, সদকা, হজ বা যুদ্ধে আল্লাহর আমার ওপর কোনো হক (পাওনা) নেই, কারণ আমি একজন দরিদ্র মিসকিন, কখনো ক্ষুধার্ত থাকি আবার কখনো তৃপ্ত হই, আর আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন আমি তাতেই সন্তুষ্ট। তখন নবী (সা.) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হলো সেই বিনয়ী দরিদ্ররা, যারা যখন কিছু প্রাপ্ত হয় তখন প্রশংসা করে এবং যখন বঞ্চিত হয় তখন সবর (ধৈর্য ধারণ) করে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হলো সেই ধনীরা, যারা যখন (দান করার সুযোগ) পায় তখন আনন্দিত হয় এবং যখন দিতে পারে না তখন যা করতে পারেনি তার জন্য দুঃখিত হয়।" লোকটি বলল: আপনি সত্য বলেছেন হে আল্লাহর রাসূল। আমাকে বলুন, আমি যদি এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি এবং রমজান মাসে রোজা রাখি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব?
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০৮)
قَالَ رَسُول الله: " نعم، اضمن لي سِتّ خِصَال، أدْخلك الْجنَّة على راحتي فَحَيْثُ شِئْت أسكنتك فِيهَا ". قَالَ: أعرض عليّ يَا رَسُول الله {قَالَ: " خصلتان فِي عَيْنَيْك، وخصلتان فِي لسَانك، وخصلتان فِي قَلْبك فَأَما اللَّتَان فِي عَيْنَيْك فَلَا تنظر إِلَى محارم الله، وَلَكِن انْظُر إِلَى مَا أحله الله لَك، وَأما اللَّتَان فِي لسَانك فإياك وَالْكذب، وَإِيَّاك والغيبة، وَأما اللَّتَان فِي صدرك؟ فإياك والحسد، وَإِيَّاك وَالْبَغي ". رَوَاهُ عبد الله بن حَفْص الْوَكِيل السامري: عَن الرّبيع بن ثَعْلَب، عَن الْمُعْتَمِر بن سُلَيْمَان، عَن أَبِيه، عَن حميد، عَن أنس. وَهَذَا مَوْضُوع الْمَتْن والإسناد، وَذَلِكَ أَن سُلَيْمَان لَا نَحْفَظ لَهُ عَن حميد شَيْئا، وَالْوَكِيل هَذَا شيخ ابْن عدى، كَانَ يضع الحَدِيث وضعا.

37 - حَدِيث: أَتَى رجل النَّبِي فَقَالَ: ان دارى شاسع، فَهَل تنفعني التَّقْوَى؟ قَالَ: نعم} وَإِن كنت فِي جُحر فارة. رَوَاهُ دَاوُد بن عَليّ: عَن أَبِيه، عَن جده.

38 - حَدِيث: أَتَى رجل النَّبِي فَقَالَ: إِن لي وَالدّين، وأنهما يمنعاني من الْجِهَاد، فَقَالَ: برهما؟ فانك فِي جِهَاد. رَوَاهُ دَاوُد بن عَليّ بن عبد الله بن عَبَّاس: عَن أَبِيه، عَن جده.
আল্লাহর রাসূল বললেন: "হ্যাঁ, তুমি আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমাকে আমার হাতের তালুর ওপর জান্নাতে প্রবেশ করাব এবং জান্নাতের যেখানে তুমি চাইবে সেখানেই তোমাকে বসবাস করাব।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তা আমার কাছে পেশ করুন। তিনি বললেন: "দুইটি বিষয় তোমার দুই চোখের ব্যাপারে, দুইটি তোমার জিহ্বার ব্যাপারে এবং দুইটি তোমার অন্তরের ব্যাপারে। তোমার দুই চোখের ব্যাপারে যে দুইটি, তা হলো—আল্লাহর হারামকৃত জিনিসের দিকে তাকাবে না, বরং আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন তার দিকে তাকাবে। তোমার জিহ্বার ব্যাপারে যে দুইটি, তা হলো—মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকো এবং গিবত (পরনিন্দা) থেকে বিরত থাকো। আর তোমার অন্তরের ব্যাপারে যে দুইটি, তা হলো—হিংসা থেকে বিরত থাকো এবং অন্যায় সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকো।" এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে হাফস আল-ওয়াকিল আস-সামিরি: রাবি ইবনে ছালাব থেকে, তিনি মু'তামির ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে। আর এটি মূল পাঠ এবং সনদ উভয় দিক থেকেই জাল। এর কারণ হলো, সুলাইমান হুমাইদ থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আর এই ওয়াকিল ইবনে আদীর উস্তাদ ছিলেন, তিনি ব্যাপকভাবে হাদিস জাল করতেন।

৩৭ - হাদিস: এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: আমার ঘর অনেক দূরে, এমতাবস্থায় তাকওয়া কি আমাকে উপকার করবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এমনকি তুমি যদি ইঁদুরের গর্তেও থাকো।" এটি বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আলী: তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে।

৩৮ - হাদিস: এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: আমার পিতামাতা আছেন এবং তাঁরা আমাকে জিহাদে যেতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি বললেন: "তাঁদের প্রতি সদাচরণ করো, কেননা তুমি জিহাদের মধ্যেই রয়েছ।" এটি বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস: তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২০৯)
39 - حَدِيث: أَتَى رجل النَّبِي فَقَالَ: عَلمنِي شَيْئا أستنفع بِهِ؛ فَقَالَ: " اعزل الْأَذَى عَن طَرِيق الْمُسلمين ". رَوَاهُ أبان بن صمعة: عَن أبي الْوَازِع، عَن أبي بَرزَة الْأَسْلَمِيّ أَنه أَتَى. . وَأَبَان هَذَا أنكر عَلَيْهِ اخْتِلَاطه. وَأما أَحَادِيثه فمستقيمة.

40 - حَدِيث: أَتَى رجل النَّبِي يسْأَله عَن خبر السَّمَاء، وأظفاره كأظفار الطير فَقَالَ: " يَجِيء أحدكُم فيسألني عَن خبر السَّمَاء وأظفاره كأظفار الطير، لمجتمع فِيهِ الْجَنَابَة والتفث ". رَوَاهُ سُلَيْمَان بن فروخ أَبُو وَاصل: عَن أبي أَيُّوب الْأنْصَارِيّ. وَلم يُتَابع عَلَيْهِ.

41 - حَدِيث: أَتَى النَّبِي شَجَرَة فهزها حَنى تساقط من وَرقهَا مَا شَاءَ الله أَن يتساقط، ثمَّ قَالَ: " الأوجاع والمصيبات أسْرع فِي ذنُوب ابْن آدم مني فِي هَذِه الشَّجَرَة ". رَوَاهُ زِيَاد بن عبد الله النميري: عَن أنس. وَزِيَاد هَذَا ضَعِيف.

42 - حَدِيث: أَتَى رَسُول الله على قوم يتعاطون سَيْفا مسلولاً؛ فَقَالَ: لَا تَفعلُوا هَذَا، لعن الله من فعل هَذَا، أوَ لَيْسَ قد نهيتُ عَن هَذَا، إِذا أَخذ أحدكُم سَيْفا؛ فَأَرَادَ أَن يناوله أَخَاهُ؛ فليغمده، ثمَّ ليناوله إِيَّاه.
৩৯ - হাদিস: এক ব্যক্তি নবীজির নিকট এসে বললেন: আমাকে এমন কিছু শেখান যা দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারি। তিনি বললেন: "মুসলিমদের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দাও।" এটি আবান বিন সামআ বর্ণনা করেছেন: আবু ওয়াজি' থেকে, তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামী থেকে যে তিনি এসেছিলেন...। আর এই আবান, তার স্মৃতিভ্রমের কারণে তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে তার হাদিসসমূহ সঠিক।

৪০ - হাদিস: এক ব্যক্তি নবীজির নিকট আসমানি খবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আসলেন, এমতাবস্থায় যে তার নখগুলো ছিল পাখির নখের মতো। তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছে আসমানি খবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আসে অথচ তার নখগুলো পাখির নখের মতো, যাতে নাপাকি ও ময়লা আবর্জনা জমে থাকে।" এটি সুলাইমান বিন ফারুখ আবু ওয়াহসিল বর্ণনা করেছেন: আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে। এই বর্ণনায় তাকে কেউ অনুসরণ করেনি।

৪১ - হাদিস: নবীজি একটি গাছের নিকট আসলেন এবং সেটিকে নাড়া দিলেন, ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় তার কিছু পাতা ঝরে পড়ল। অতঃপর তিনি বললেন: "ব্যথা-বেদনা ও বিপদ-আপদ আদম সন্তানের গুনাহ মোচনে আমার এই গাছ থেকে পাতা ঝরানোর চেয়েও অধিক দ্রুত গতির।" এটি যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুমাইরী বর্ণনা করেছেন: আনাস থেকে। আর এই যিয়াদ দুর্বল।

৪২ - হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে গেলেন যারা একে অপরের দিকে খাপমুক্ত তলোয়ার বাড়িয়ে দিচ্ছিল; তখন তিনি বললেন: তোমরা এরূপ করো না, যে ব্যক্তি এরূপ করে আল্লাহ তাকে লানত করেন। আমি কি তোমাদের এ বিষয়ে নিষেধ করিনি? তোমাদের কেউ যখন তলোয়ার গ্রহণ করে এবং তার ভাইকে তা দিতে চায়, তবে সে যেন তা খাপবদ্ধ করে, এরপর তাকে তা প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১০)
رَوَاهُ مبارك بن فضَالة: عَن الْحسن، عَن أبي بكرَة. ومبارك ضيف. - أَتَى النَّبِي فِي عمره = لبّى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم 4423) .

43 - حَدِيث: أَتَى عَليّ رَسُول الله وَأَنا أسبح بأَرْبعَة آلَاف نواة، قَالَت، فَقَالَ النَّبِي: " لقد قلت كلمة هِيَ أَكثر من تسبيحك هَذَا " قَالَت: قلت: أَي كلمة يَا رَسُول الله! قَالَ: " سُبْحَانَ الله عدد مَا خلق ". رَوَاهُ هَاشم بن الْبَرِيد: عَن كنَانَة، عَن صَفِيَّة هَكَذَا. قَالَ مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن شهريار: عَن مُحَمَّد بن صدران، عَن سلم بن قُتَيْبَة، عَن هَاشم بن الْبَرِيد. وَقد تقدم فِي ذكر هَاشم، هُوَ بهاشم بن سعيد أشبه.

44 - حَدِيث: أَتَى فتيَان من بني ربيعَة بن الْحَارِث إِلَى رَسُول الله فَقَالُوا: استعملنا على هَذِه الصَّدقَات، نُؤَدِّي كَمَا يُؤَدِّي النَّاس، وَنصِيب مَا يصيبون، قَالَ: " ان الصَّدَقَة أوساخ النَّاس، وَإِنَّهَا لَا تحل لمُحَمد، ولآل مُحَمَّد، وَلَكِن مَا ظَنك إِذا أخذت بِحَلقَة بَاب الْجنَّة، هَل أوثرن عَلَيْكُم أحدا ". رَوَاهُ حميد بن قيس الْأَعْرَج: عَن مُجَاهِد، عَن أبن عَبَّاس قَالَ: أَتَى … وَحميد هَذَا لَهُ أَحَادِيث صَالِحَة، وَقد روى عَنهُ مَالك بن أنس، وناهيك بِهِ.
এটি মুবারক ইবনে ফাদালা হাসান থেকে, তিনি আবু বাকরা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মুবারক দুর্বল। - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উমরায় এসেছিলেন = আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তালবিয়া পাঠ করেছিলেন (৪৪২৩)।

৪৩ - হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট আসলেন যখন আমি চার হাজার খেজুরের আঁটি দিয়ে তাসবিহ পাঠ করছিলাম। তিনি (সাফিয়্যাহ রা.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি এমন একটি বাক্য বলেছি যা তোমার এই তাসবিহ পাঠের চেয়েও অধিক।" তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সেটি কোন বাক্য? তিনি বললেন: "আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমপরিমাণ।" এটি হাশিম ইবনুল বারীদ কিনানা থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে শাহরিয়ার বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে সাদরান থেকে, তিনি সালাম ইবনে কুতাইবা থেকে, তিনি হাশিম ইবনুল বারীদ থেকে। হাশিমের আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, সে হাশিম ইবনে সাঈদের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

৪৪ - হাদীস: বনু রাবীআ ইবনুল হারিস গোত্রের কয়েকজন যুবক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আমাদের এই সদকা আদায়কারী হিসেবে নিযুক্ত করুন, আমরা তা আদায় করব যেভাবে অন্য লোক আদায় করে এবং আমরাও তা (পারিশ্রমিক) পাব যা তারা পায়। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই সদকা হলো মানুষের মলা-আবর্জনা, আর এটি মুহাম্মাদের জন্য এবং মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য হালাল নয়। তবে তোমার কী ধারণা, যখন আমি জান্নাতের দরজার কড়া ধারণ করব, তখন কি তোমাদের ওপর কাউকে অগ্রাধিকার দেব?" এটি হুমাইদ ইবনে কাইস আল-আ’রাজ মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আসলেন … আর এই হুমাইদের বেশ কিছু গ্রহণযোগ্য হাদীস রয়েছে এবং তাঁর থেকে মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন, আর (উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে) তাঁর জন্য এটিই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১২)
‌‌بَاب أَتَى من هَذَا الْحَرْف

45 - حَدِيث: آتى رجل فِي قَبره، فَقيل: انا جالدوك ثَلَاث جلدات، قَالَ: وَلم؟ قَالُوا: لِأَنَّك صليت صَلَاة بِغَيْر طهُور، ومررت بمظلوم؛ فَلم تنصره. رَوَاهُ يحمي بن هَاشم السمسار: عَن الْأَعْمَش، عَن أبي وَائِل، عَن عبد الله. ويحيي هَذَا كَانَ بِبَغْدَاد، يضع الحَدِيث.

46 - حَدِيث: أُتِي النَّبِي بِتَمْر رَيَّان. رَوَاهُ عبد الله بن مُحَمَّد الْبَغَوِيّ فِي أَحَادِيث السّنة: عَن عبيد الله بن عمر القواريري، عَن خَالِد بن الْحَارِث، عَن شُعْبَة، عَن قَتَادَة، عَن سعيد بن الْمسيب، عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ، وَأَخْطَأ على القواريري، وصحف عَلَيْهِ. رَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي: عَن مُحَمَّد بن أبي بكر الْمقدمِي، عَن خَالِد. وَرَوَاهُ الْحسن بن عَليّ: عَن القواريري، عَن خَالِد، عَن ابْن أبي عرُوبَة.

47 - حَدِيث: أَتَى رَسُول الله بِجَارِيَة من الْأَنْصَار قد رضها يَهُودِيّ بَين حجرين، وانتزع حليا لَهَا؛ فرضخ رَأسه. رَوَاهُ مُحَمَّد بن إِسْحَاق: عَن شُعْبَة، عَن هِشَام بن زيد بن أنس، عَن جده. هَذَا لَا يرْوى مُحَمَّد عَن شُعْبَة إِلَّا من هَذَا الْوَجْه.
'আতা' শব্দ দিয়ে শুরু হওয়া পরিচ্ছেদ

৪৫ - হাদিস: এক ব্যক্তির কবরে তার কাছে (ফিরিশতা) আসা হলো এবং বলা হলো: আমরা তোমাকে তিনটি চাবুক মারব। সে বলল: কেন? তারা বলল: কারণ তুমি পবিত্রতা অর্জন না করেই সালাত আদায় করেছিলে এবং তুমি একজন মজলুমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলে কিন্তু তাকে সাহায্য করোনি। এটি ইয়াহইয়া ইবনে হাশিম আস-সিমসার বর্ণনা করেছেন: আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে। এই ইয়াহইয়া বাগদাদে থাকতেন এবং তিনি হাদিস জাল করতেন।

৪৬ - হাদিস: নবীর কাছে 'রাইয়ান' নামক খেজুর আনা হলো। এটি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি 'আহাদিসুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর আল-কাওয়ারিরি থেকে, তিনি খালিদ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে। তবে তিনি কাওয়ারিরির বর্ণনায় ভুল করেছেন এবং শব্দ বিকৃতি ঘটিয়েছেন। এটি আবু ইয়া'লা আল-মাওসিলি বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মুকাদ্দামি থেকে, তিনি খালিদ থেকে। আর হাসান ইবনে আলি বর্ণনা করেছেন: কাওয়ারিরি থেকে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি ইবনে আবি আরুবাহ থেকে।

৪৭ - হাদিস: রাসুলুল্লাহর কাছে আনসারদের একটি বালিকাকে আনা হলো যাকে এক ইহুদি দুটি পাথরের মাঝে পিষ্ট করেছিল এবং তার অলঙ্কার ছিনিয়ে নিয়েছিল; এরপর তার (ইহুদিটির) মাথা চূর্ণ করা হলো। এটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন: শু'বাহ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে যাইদ ইবনে আনাস থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে। মুহাম্মদ (ইবনে ইসহাক) শু'বাহ থেকে এই সূত্র ব্যতীত এটি বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১৩)
رَوَاهُ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش: عَن أَبِيه، عَن شيخ من أهل الْمَدِينَة - قَالَ: هُوَ يحيى بن سعيد الْأنْصَارِيّ - عَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن شُعْبَة. وَهَذَا من رِوَايَة الْكِبَار عَن الصغار.

48 - حَدِيث: أَتَى النَّبِي بِخِيَار حَدِيث فقبّله، وَوَضعه على عَيْنَيْهِ. رَوَاهُ إِسْمَاعِيل بن يعب بن عبيد الله التَّيْمِيّ: عَن عبد الْعَزِيز بن أبي رواد، عَن مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر، عَن جَابر. وَهَذَا بَاطِل بِهَذَا الْإِسْنَاد، لم يروه عَن ابْن أبي رواد، غير إِسْمَاعِيل.

49 - حَدِيث: أَتَى النَّبِي بِرَجُل ترْعد فرائصه فَقَالَ: " لَا بَأْس عَلَيْك، إِنَّمَا أَنا ابْن أمة نَأْكُل القديد ". رَوَاهُ مُحَمَّد بن الْوَلِيد بن أبان الْبَغْدَادِيّ: عَن جَعْفَر بن عون، عَن إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد، عَن قيس، عَن أبي مَسْعُود الْأنْصَارِيّ. وَهَذَا الحَدِيث سَرقه ابْن أبان، عَن إِسْمَاعِيل بن الْحَارِث. وَسَرَقَهُ مِنْهُ أَيْضا عبيد الْهَيْثَم الْحلَبِي. وَرَوَاهُ زُهَيْر، وَابْن عُيَيْنَة، وَيحيى الْقطَّان. عَن ابْن أبي خَالِد مُرْسلا.

50 - حَدِيث: أَتَى النَّبِي بِرَجُل سَكرَان؛ فَقَالَ: " ممَّ شربت؟ " قَالَ: شربت تَمرا، وزبيبا، قَالَ: فَضَربهُ، ثمَّ قَالَ: " لَا تخلطوهما، كل وَاحِد يكفى وَحده ".
এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আইয়াশ: তাঁর পিতা থেকে, তিনি মদীনার জনৈক শাইখ থেকে—তিনি বলেন: তিনি হলেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারী—তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে। আর এটি বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের থেকে বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।

৪৮ - হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একটি পছন্দনীয় হাদিস (সংবাদ) আসা মাত্র তিনি সেটি চুম্বন করলেন এবং তাঁর চোখের উপর রাখলেন। এটি বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইয়াব বিন উবায়দুল্লাহ আত-তায়মী: আব্দুল আজীজ বিন আবু রাওয়াদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে। আর এই সনদটি বাতিল, ইসমাইল ছাড়া আর কেউ এটি ইবনে আবু রাওয়াদ থেকে বর্ণনা করেননি।

৪৯ - হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো যার শরীরের পেশী কাঁপছিল, তখন তিনি বললেন: "তোমার কোনো ভয় নেই, আমি তো কেবল এমন এক নারীর সন্তান যে শুঁটকি গোশত খেতেন।" এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালীদ বিন আবান আল-বাগদাদী: জাফর বিন আওন থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আবু খালিদ থেকে, তিনি কাইস থেকে, তিনি আবু মাসউদ আল-আনসারী থেকে। আর এই হাদিসটি ইবনে আবান, ইসমাইল বিন আল-হারিস থেকে চুরি করেছেন। ওবায়েদ আল-হাইসাম আল-হালাবীও এটি তাঁর থেকে চুরি করেছেন। আর জুহাইর, ইবনে উইয়াইনাহ এবং ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এটি ইবনে আবু খালিদ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

৫০ - হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একজন মাতাল ব্যক্তিকে আনা হলো; তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি কী পান করেছ?" সে বলল: আমি খেজুর এবং কিসমিস (মিশ্রিত পানীয়) পান করেছি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি তাকে প্রহার করলেন, তারপর বললেন: "তোমরা এই দুটিকে একত্রে মিশ্রিত করো না, এদের প্রতিটি আলাদাভাবে পান করাই যথেষ্ট।"
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১৪)
رَوَاهُ النجرانى: عَن ابْن عمر. والنجرانى مَجْهُول.

51 - حَدِيث: أَتَى النَّبِي بقصعة من ثريد، فَقَالَ: " كلوا من جوانبها وَلَا تَأْكُلُوا من وَسطهَا؛ فَإِن الْبركَة تنزل فِي وَسطهَا ". رَوَاهُ إِبْرَاهِيم بن بكر، أَبُو إِسْحَاق الْكُوفِي الْأَعْوَر: عَن شُعْبَة، عَن عَمْرو بن دِينَار، عَن جَابر. وَإِبْرَاهِيم كَانَ بِبَغْدَاد، يسرق الحَدِيث، وَلم يحدث بِهِ بِهَذَا الْإِسْنَاد، غير إِبْرَاهِيم، وَهُوَ مُنكر.

52 - حَدِيث: أُتِي النَّبِي بنبيذ - أوسئل النَّبِي - وَهُوَ فِي الطّواف: أحلال هُوَ أم حرَام؟ قَالَ: حَلَال، يَعْنِي النَّبِيذ. رَوَاهُ يحيى بن يمَان: عَن الثَّوْريّ، عَن مَنْصُور، عَن خَالِد بن سعد، عَن أبي مَسْعُود: سُئِلَ النَّبِي. وَهَذَا الحَدِيث الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ ابْن نمير، وأخطا فِيهِ ابْن يمَان، حَيْثُ قَالَ: " عَن مَنْصُور، عَن خَالِد بن سعد، عَن أبي مَسْعُود " إِنَّمَا هُوَ عَن الْكَلْبِيّ كَمَا رَوَاهُ ابْن نمير، وَقد ذَكرْنَاهُ فِي مَوضِع آخر.

53 - حَدِيث: أَتَى النَّبِي بيهودين، فرجمهما. رَوَاهُ مُحَمَّد بن عبيد الله الْعَرْزَمِي: عَن عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده.
নাজরানি এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে উমর থেকে। আর নাজরানি অজ্ঞাত।

৫১ - হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক পেয়ালা সারীদ আনা হলো, তখন তিনি বললেন: "তোমরা এর চারপাশ থেকে খাও এবং এর মাঝখান থেকে খেয়ো না; কেননা বরকত এর মাঝখানে অবতীর্ণ হয়।" এটি ইবরাহিম বিন বকর, আবু ইসহাক আল-কুফি আল-আওয়ার বর্ণনা করেছেন শু'বা থেকে, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি জাবির থেকে। ইবরাহিম বাগদাদে অবস্থান করতেন এবং তিনি হাদিস চুরি করতেন। ইবরাহিম ব্যতীত অন্য কেউ এই সনদে এটি বর্ণনা করেননি এবং এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস।

৫২ - হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নাবিদ আনা হলো—অথবা তওয়াফরত অবস্থায় তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো—এটি কি হালাল নাকি হারাম? তিনি বললেন: "হালাল", অর্থাৎ নাবিদ। এটি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান বর্ণনা করেছেন সাওরি থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি খালিদ বিন সাদ থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। ইবনে নুমাইর এই হাদিসটির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন এবং ইবনে ইয়ামান এখানে ভুল করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "মানসুর থেকে, তিনি খালিদ বিন সাদ থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে"। প্রকৃতপক্ষে এটি কালবি থেকে বর্ণিত যেমনটি ইবনে নুমাইর বর্ণনা করেছেন এবং আমরা এটি অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি।

৫৩ - হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দুইজন ইহুদিকে আনা হলো এবং তিনি তাদের রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করলেন। এটি মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-আরযামি বর্ণনা করেছেন আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১৫)
والعرزمي مَتْرُوك الحَدِيث.

54 - حَدِيث. أَتَى عمر بِرَجُل سبّ رَسُول الله، فَقتله ثمَّ قَالَ: من سبّ الله، أَو أحدا من الْأَنْبِيَاء {فَاقْتُلُوهُ. رَوَاهُ عصمَة بن مُحَمَّد بن فضَالة بن الْأنْصَارِيّ: عَن مُوسَى بن عقبَة، عَن نَافِع، عَن ابْن عمر: أَتَى عمر. وَهَذَا مُنكر، غير مَحْفُوظ.

55 - حَدِيث: أَتَاكُم أهل الْيمن هم أرق أَفْئِدَة، الايمان يمَان، والفقة يمَان، وَالْحكمَة يَمَانِية. رَوَاهُ أَبُو هِلَال مُحَمَّد بن سليم الرَّاسِبِي: عَن مُحَمَّد بن سِيرِين، عَن أبي هُرَيْرَة. وَأَبُو هِلَال لَيْسَ بِالْقَوِيّ.

56 - حَدِيث: أَتَانَا رَسُول الله فِي منزلنا؟ فحلبنا لَهُ داجنا؛ فشببناه بِمَاء المركن، فَلَمَّا شرب قَالَ: " وأعرابي عَن يَمِينه، وَأَبُو بكر عَن يسَاره فناول الْأَعرَابِي؟ فَشرب " فَقَالَ عمر: يَا رَسُول الله} أَبُو بكر؟ فَقَالَ: " إنّ الَّذِي على الْيَمين أَحَق، ثمَّ إِن الَّذِي على الْيَمين أَحَق. رَوَاهُ بَحر بن كنيز السقاء: عَن الزُّهْرِيّ، عَن أنس. .
আল-আরজামি হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

৫৪ - হাদিস: উমর (রা.)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে গালি দিয়েছিল। তিনি তাকে হত্যা করলেন এবং এরপর বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহকে অথবা নবীদের কাউকে গালি দেয়, তাকে তোমরা হত্যা করো।" এটি বর্ণনা করেছেন ইসমাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ফাযালাহ বিন আল-আনসারী: মুসা বিন উকবা থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে: উমরের নিকট আনা হলো...। আর এটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য), সংরক্ষিত নয়।

৫৫ - হাদিস: তোমাদের নিকট ইয়েমেনবাসীরা এসেছে, তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী; ঈমান হলো ইয়েমেনি, ফিকহ হলো ইয়েমেনি এবং হিকমত হলো ইয়েমেনি। এটি বর্ণনা করেছেন আবু হিলাল মুহাম্মাদ বিন সুলাইম আর-রাসিবি: মুহাম্মাদ বিন সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। আর আবু হিলাল শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন।

৫৬ - হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের বাড়িতে আসলেন। আমরা তার জন্য একটি গৃহপালিত প্রাণীর দুধ দোহন করলাম এবং তাতে পাত্রের পানি মিশিয়ে তা পানযোগ্য করলাম। তিনি যখন পান করলেন—এমতাবস্থায় যে তার ডান দিকে একজন গ্রাম্য আরব এবং বাম দিকে আবু বকর ছিলেন—তিনি গ্রাম্য আরব ব্যক্তিটিকে সেটি প্রদান করলেন এবং সে পান করল। তখন উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আবু বকর (আছেন)? তিনি বললেন: "ডান দিকের ব্যক্তিই বেশি হকদার, এরপর ডান দিকের ব্যক্তিই বেশি হকদার।" এটি বর্ণনা করেছেন বাহর বিন কানিজ আস-সাক্কা: যুহরি থেকে, তিনি আনাস থেকে।
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১৬)
والمتن صَحِيح، وبحر مَتْرُوك الحَدِيث.

57 - حَدِيث: أَتَانِي جَابر، وَأَنا فِي الكتّاب، فَقَالَ: اكشف لي عَن بَطْنك؛ فَكشفت لَهُ عَن بَطْني؛ فألصق بَطْنه ببطني، ثمَّ قَالَ: أَمرنِي رَسُول الله أقرئك مِنْهُ السَّلَام. رَوَاهُ مفضل بن صَالح الْكُوفِي: عَن أبان بن تغلب، عَن مُحَمَّد بن عَليّ، قَالَ: قَالَ لي الْحسن: أَتَانِي جَابر. وَلَا أعلم رَوَاهُ عَن أبان غَيره، وَهُوَ أَبُو جميلَة النخاس.

58 - حَدِيث: أَتَانِي جِبْرِيل آنِفا فَقَالَ: يَا مُحَمَّد! كل البرني ومُر أمتك بِأَكْلِهِ؛ فإنّ فِيهِ سبع خِصَال: يهضم الطَّعَام، وينشط الانسان، ويخبل الشَّيْطَان، وَيقرب من الرَّحْمَن، وَيزِيد فِي مَاء الظّهْر وَيذْهب بِالنِّسْيَانِ، ويطيب النَّفس: وَخير تموركم البرني. رَوَاهُ جَعْفَر بن أَحْمد الغافقي الْمصْرِيّ: عَن أبي صَالح كَاتب اللَّيْث، عَن وَكِيع، عَن الْأَعْمَش، عَن مُجَاهِد، عَن ابْن عمر قَالَ: قدم وَفد الْبَحْرين، فأهدوا للنَّبِي جلة من تمر برني فَقَالَ. والآفة من جَعْفَر هَذَا شيخ ابْن عدي.

59 - حَدِيث: أَتَانِي جِبْرِيل آنِفا، فَقلت لَهُ: حَدثنِي بفضائل
মূলপাঠটি সহীহ, এবং বাহর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত।

৫৭ - হাদিস: জাবির আমার কাছে আসলেন যখন আমি মক্তবে ছিলাম। তিনি বললেন: তোমার পেট আমার জন্য উন্মুক্ত করো; আমি আমার পেট তাঁর জন্য উন্মুক্ত করলাম। এরপর তিনি তাঁর পেট আমার পেটের সাথে মেলালেন এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আমি যেন তাঁর পক্ষ থেকে তোমাকে সালাম পৌঁছাই। এটি মুফাযযাল ইবনে সালিহ আল-কুফি বর্ণনা করেছেন: আবান ইবনে তাগলিব থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলী থেকে, তিনি বলেন: হাসান আমাকে বলেছেন: জাবির আমার কাছে এসেছিলেন। আবান থেকে তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই, আর তিনি হলেন আবু জামীলা আন-নাখখাস।

৫৮ - হাদিস: জিবরীল এইমাত্র আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি বারনি খেজুর খান এবং আপনার উম্মতকে তা খাওয়ার নির্দেশ দিন; কেননা এতে সাতটি গুণ রয়েছে: এটি খাদ্য হজম করে, মানুষকে কর্মোদ্যমী করে, শয়তানকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে, পরম করুণাময় আল্লাহর নিকটবর্তী করে, পৃষ্ঠদেশের পানি বৃদ্ধি করে, বিস্মৃতি দূর করে এবং মনকে প্রফুল্ল করে; আর তোমাদের খেজুরগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো বারনি। এটি জাফর ইবনে আহমাদ আল-গাফেকি আল-মিসরি বর্ণনা করেছেন: লাইসের লেখক আবু সালিহ থেকে, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাহরাইনের এক প্রতিনিধি দল আসল, তারা নবীকে এক ঝুড়ি বারনি খেজুর উপহার দিল, তখন তিনি বললেন (উপরোক্ত কথাটি)। আর এই বর্ণনার ত্রুটি হলো এই জাফর, যিনি ইবনে আদির উস্তাদ।

৫৯ - হাদিস: জিবরীল এইমাত্র আমার কাছে আসলেন, আমি তাঁকে বললাম: আমাকে ফজিলতসমূহ বর্ণনা করুন...
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১৭)
عمر فِي السَّمَاء، قَالَ: لَو حدثتك بفضائل عمر فِي السَّمَاء مثل مَا لبث نوح فِي قومه ألف سنة إلاّ خمسين عَاما مَا نفدت فَضَائِل عمر، وانَّ عمر حَسَنَة من حَسَنَات أبي بكر! . رَوَاهُ الْوَلِيد بن الْفضل الْعَنزي: عَن إِسْمَاعِيل بن عبيد بن نَافِع الْعجلِيّ، عَن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان، عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ، عَن عَلْقَمَة بن قيس، عَن عمار بن يَاسر. وَهَذَا يرويهِ الْوَلِيد هَذَا، وَمَا أَظن لَهُ غَيره.

60 - حَدِيث: أَتَانِي جِبْرِيل بِسَرِقَة حَرِير فِيهَا صُورَة عَائِشَة، فَقَالَ. هَذِه زَوجتك فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة. رَوَاهُ مُصعب بن سعيد المصِّيصِي أَبُو خَيْثَمَة. عَن عِيسَى بن يُونُس، عَن عبيد الله الْعمريّ، عَن ابْن أبي مليكَة، عَن عَائِشَة. وَهَذَا حَدِيث صحف فِيهِ مُصعب هَذَا بعض أسامي إِسْنَاده، وَلَيْسَ هَذَا من حَدِيث عبيد الله. وَرَوَاهُ غَيره عَن عِيسَى، عَن عبد الله بن عَمْرو بن عَلْقَمَة، عَن ابْن أبي حُسَيْن الْمَكِّيّ، عَن ابْن أبي مليكَة، عَن عَائِشَة. وَمصْعَب هَذَا ضَعِيف.

61 - حَدِيث: أَتَانِي جِبْرِيل بِمثل الْمرْآة، فَقلت: مَا هَذِه؟ فَقَالَ: الْجُمُعَة أَرْسلنِي الله بهَا لتتخذها عيدا، أَنْت وَأمتك من
আসমানে উমরের মর্যাদা (সম্পর্কে বর্ণিত), তিনি বললেন: আমি যদি তোমাদের কাছে আসমানে উমরের ফজিলতসমূহ সম্পর্কে নূহ তাঁর কওমের মধ্যে যতকাল অবস্থান করেছিলেন—অর্থাৎ পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর—ততকাল ধরে বর্ণনা করতাম, তবুও উমরের ফজিলতসমূহ শেষ হতো না। আর নিশ্চয়ই উমর হলেন আবু বকরের নেকিসমূহের মধ্যে একটি নেকি! এটি বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনুল ফজল আল-আনাজি: ইসমাইল ইবনে উবাইদ ইবনে নাফি আল-ইজলি থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান থেকে, তিনি ইবরাহিম আন-নাখায়ি থেকে, তিনি আলক্বামা ইবনে কায়িস থেকে, তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসির থেকে। এটি এই ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, আর আমার মনে হয় না যে এটি ছাড়া তার আর কোনো বর্ণনা আছে।

60 - হাদিস: জিবরীল আমার কাছে একটি রেশমি কাপড়ের টুকরো নিয়ে আসলেন যাতে আয়েশার ছবি ছিল, এরপর তিনি বললেন: ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী। এটি বর্ণনা করেছেন মুসআব ইবনে সাঈদ আল-মিসসিসি আবু খাইসামা; তিনি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ আল-উমারি থেকে, তিনি ইবনে আবু মুলাইকা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে। এটি এমন একটি হাদিস যাতে এই মুসআব এর সনদের কিছু নামের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন, আর এটি উবাইদুল্লাহর বর্ণিত হাদিস নয়। এটি তিনি ছাড়া অন্যেরা ঈসা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আলক্বামা থেকে, তিনি ইবনে আবু হুসাইন আল-মাক্কি থেকে, তিনি ইবনে আবু মুলাইকা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই মুসআব দুর্বল।

61 - হাদিস: জিবরীল আমার কাছে একটি আয়নার মতো বস্তু নিয়ে আসলেন, আমি বললাম: এটি কী? তিনি বললেন: এটি হলো জুমুআহ, আল্লাহ আমাকে এটি দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে আপনি এবং আপনার উম্মত এটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১) যাখীরাতুল হুফফায (পৃষ্ঠা: ২১৮)
بعْدك. رَوَاهُ صَالح بن حَيَّان: عَن أبن بُرَيْدَة، عَن أنس. وَصَالح لَيْسَ بِشَيْء.

62 - حَدِيث: أَتَانِي جِبْرِيل بهريسة من الْجنَّة، فَأَكَلتهَا، وَأعْطيت قُوَّة أَرْبَعِينَ رجلا فِي الْجِمَاع. رَوَاهُ سَلام بن سُلَيْمَان: عَن نهشل، عَن الضَّحَّاك، عَن ابْن عَبَّاس. وَسَلام عَامَّة مَا يرويهِ لَا يُتَابع عَلَيْهِ.

63 - حَدِيث: أَتَانِي جِبْرِيل، فَأمرنِي أَن أَقْْضِي بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِد، وَقَالَ: " يَوْم الْأَرْبَعَاء يَوْم نحس مُسْتَمر ". رَوَاهُ إِبْرَاهِيم بن أبي حيّة: عَن جَعْفَر بن مُحَمَّد، عَن أَبِيه، عَن جَابر، عَن النَّبِي. وَهَذَا الأَصْل فِيهِ مُرْسل، وَالزِّيَادَة فِيهِ ينْفَرد بهَا إِبْرَاهِيم، وَهُوَ لَا شَيْء.
আপনার পরে। সালেহ ইবনে হাইয়ান এটি বর্ণনা করেছেন: ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে। আর সালেহ নির্ভরযোগ্য কেউ নন।

৬২ - হাদীস: জিবরাঈল জান্নাত থেকে আমার নিকট হারিসাহ নিয়ে এসেছিলেন, অতঃপর আমি তা খেয়েছিলাম এবং আমাকে সহবাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ জন পুরুষের শক্তি দান করা হয়েছিল। এটি সালাম ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন: নাহশাল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। আর সালাম সাধারণত যা বর্ণনা করেন তা সমর্থিত হয় না।

৬৩ - হাদীস: জিবরাঈল আমার নিকট এসেছিলেন, অতঃপর আমাকে একজন সাক্ষীর সাথে শপথের মাধ্যমে ফয়সালা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "বুধবার হলো একটি নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন"। এটি ইবরাহীম ইবনে আবি হাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন: জা'ফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। এর মূল অংশটি মুরসাল এবং বর্ধিত অংশটি বর্ণনায় ইবরাহীম একক হয়ে গেছেন, অথচ তিনি নির্ভরযোগ্য কেউ নন।