(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: -)
الآثار المرفوعة في الأخبار الموضوعة   (أبو الحسنات اللكنوي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: الآثار المرفوعة في الأخبار الموضوعة

المؤلف: محمد عبد الحي بن محمد عبد الحليم الأنصاري اللكنوي الهندي، أبو الحسنات (ت 1304هـ)

المحقق: محمد السعيد بسيوني زغلول

الناشر: مكتبة الشرق الجديد - بغداد

عدد الصفحات: 147

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আসারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওদুআ   (আবুল হাসানাত লাখনভী)

বিভাগ: হাদিসের গোপন ত্রুটি ও হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী


বই: আল-আসারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওদুআ (জাল সংবাদের বর্ণনায় মারফু আসারসমূহ)

লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল হাই ইবনে মুহাম্মদ আব্দুল হালিম আনসারী লাখনভী হিন্দি, আবুল হাসানাত (মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ সাঈদ বাসইউনি যাগলুল

প্রকাশক: মাকতাবাতুশ শারক আল-জাদিদ - বাগদাদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৭

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مُقَدّمَة الْمُؤلف

الْحَمد لله الَّذِي أخرج عباده عَن شفا حُفْرَة النَّار ببعثة خَاتم أنبيائه وَسيد أصفيائه الأخيار وَهدى بِهِ الْفرق الباغية، والطوائف الطاغية من الكُفّار والفُجّار، وَفضل أمته على الْأُمَم الْمَاضِيَة، فيالهم من عزّ وافتخار ووهب لَهُم علما غزيرا وفهما كَبِيرا فاقوا بِهِ على من مضى من الصغار والكبار، وَجعل مِنْهُم أصحابا ونقادا وأبدالا وأوتاداً اشتغلوا بتفسير كتاب رَبهم وتنقيد آثَار نَبِيّهم أناء اللَّيْل وأطراف النَّهَار، ووعد على لِسَان رَسُوله بِأَن يبْعَث فِي أمته على رَأس كل مائَة سنة من يجدد لَهَا دينهَا وينقيه من تخاليط الأشرار وَجعل نظم الشَّرِيعَة الْعلية منتظما محكماً لَا يُبطلهُ جور جَائِر وَلَا كيد سَاحر، وَلَا يُفْسِدهُ كذب كَذَّاب غدار ومكار، أشهد أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن سيدنَا ومولانا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله سيد الْأَبْرَار وعَلى آله وَصَحبه الَّذين هَاجرُوا لنصرته ونصروه فِي هجرته وعَلى من حمل عَنْهُم عُلُوم الشَّرْع من التَّابِعين وَمن تَبِعَهُمْ إِلَى يَوْم الْقَرار صَلَاة دائمة لَا تَنْقَطِع مَا دَار الدوار وَسَار السيار.

وَبعد فَيَقُول الراجي عَفْو ربه الْقوي أَبُو الْحَسَنَات مُحَمَّد الْمَدْعُو بِعَبْد الْحَيّ اللكنوي ابْن مَوْلَانَا الْحَاج الْحَافِظ مُحَمَّد عبد الْحَلِيم أدخلهُ الله دَار النَّعيم: إِنِّي قد كنت فِي سَابق الزَّمَان شرعت فِي تأليف رِسَالَة فِي الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة نصْرَة للشريعة المطهرة المرفوعة قَاصِدا جمع مَا اتّفق المحدثون على وَضعهَا. وَمَا اخْتلفُوا فِيهِ مَعَ ذكر مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا، وَلم يَتَيَسَّر لي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর শেষ নবী এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ ও মনোনীত বান্দাদের সর্দারের প্রেরণের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের জাহান্নামের গর্তের কিনারা থেকে বের করে এনেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীসমূহ এবং কাফির ও পাপাচারীদের মধ্য থেকে অবাধ্য দলসমূহকে হেদায়েত দান করেছেন। তিনি এই উম্মতকে পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; সুতরাং তাদের জন্য কতই না সম্মান ও গৌরব! তিনি তাদের প্রচুর জ্ঞান এবং গভীর প্রজ্ঞা দান করেছেন, যার মাধ্যমে তারা পূর্ববর্তী ছোট-বড় সকলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। তিনি তাদের মধ্য থেকে এমন একদল সাহাবী, হাদিস বিশারদ, আবদাল ও আউতাদ সৃষ্টি করেছেন, যারা রাত-দিন তাদের রবের কিতাবের তাফসীর এবং তাদের নবীর হাদিসসমূহের যাচাই-বাছাইয়ে লিপ্ত ছিলেন। তিনি তাঁর রাসূলের মুখ দিয়ে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি তাঁর উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীতে এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য দ্বীনকে সংস্কার করবেন এবং পাপাচারীদের মিশ্রণ থেকে একে পবিত্র করবেন। তিনি মহান শরীয়তের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও মজবুত করেছেন, যা কোনো অত্যাচারীর জুলুম বা কোনো জাদুকরের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে পারবে না এবং কোনো প্রবঞ্চক ও ধূর্ত মিথ্যাবাদীর মিথ্যা একে কলুষিত করতে পারবে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সর্দার ও অভিভাবক মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং পুণ্যবানদের সর্দার। তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, যারা তাঁর সাহায্যের জন্য হিজরত করেছিলেন এবং তাঁর হিজরতে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন; আর ঐ সকল তাবেঈন এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবেন, যাঁরা তাঁদের কাছ থেকে শরীয়তের ইলম বহন করেছেন, তাদের ওপরও চিরস্থায়ী দরুদ বর্ষিত হোক যা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না, যতক্ষণ গ্রহ-নক্ষত্র আবর্তিত হবে এবং পরিব্রাজক পরিভ্রমণ করবে।

অতঃপর, তাঁর শক্তিশালী রবের ক্ষমার প্রত্যাশী আবুল হাসানাত মুহাম্মদ, যিনি আব্দুল হাই লাখনভী নামে পরিচিত, ইবনে মাওলানা আল-হাজ আল-হাফিজ মুহাম্মদ আব্দুল হালিম—আল্লাহ তাঁকে নিয়ামতের ঘরে (জান্নাতে) প্রবেশ করান—বলছেন: আমি অতীতকালে উন্নত ও পবিত্র শরীয়তের সাহায্যের উদ্দেশ্যে জাল হাদিস বিষয়ে একটি রিসালাহ রচনা করতে শুরু করেছিলাম, যেখানে মুহাদ্দিসগণ যে সকল হাদিসের জাল হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং যেগুলোর ব্যাপারে মতভেদ করেছেন তা একত্রিত করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম, পাশাপাশি সেগুলোর স্বপক্ষে ও বিপক্ষে যা কিছু আছে তাও উল্লেখ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তখন আমার জন্য তা সহজসাধ্য হয়নি...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
إِتْمَامهَا لاشتغالي بإكمال التصانيف الْأُخَر الفائقة على أقرانها وأمثالها إِلَى أَن جرت بيني وَبَين بعض أعزتي وأحبابي مكالمة لَطِيفَة ومباحثة شريفة فِي يَوْم عَاشُورَاء من السّنة الْحَاضِرَة، وَهِي السّنة الثَّالِثَة بعد ثَلَاثمِائَة وَألف من الْهِجْرَة، وَهِي أَنه قد سَأَلَني بعض النَّاس عَن صَلَاة يَوْم عَاشُورَاء وكميتها وكيفيتها، وَمَا يَتَرَتَّب عَلَيْهَا من ثَوَابهَا، فأجبت بِأَنَّهُ لم ترد فِي رِوَايَة مُعْتَبرَة صَلَاة مُعينَة كَمَا وكيفاً فِي هَذَا الْيَوْم وَغَيره من أَيَّام السّنة المتبركة، وكل مَا ذَكرُوهُ فِيهِ مَصْنُوع وموضوع لَا يحل الْعَمَل بِهِ مَعَ اعْتِقَاد ثُبُوته وَلَا الِاعْتِمَاد عَلَيْهِ مَعَ اعْتِقَاد ترَتّب أجره الْمَخْصُوص عَلَيْهِ.

فعارضني بعض الأعزة قَائِلا: قد ذكر صلوَات يَوْم عَاشُورَاء وَلَيْلَته وَغَيرهمَا من أَيَّام السّنة ولياليها جمع المشائخ الصُّوفِيَّة فِي دفاترهم الْعلية وَذكروا فِيهَا أَخْبَارًا مروية، فَكيف لَا يعْمل بهَا وَيحكم بِكَوْنِهَا مُخْتَلفَة.

فَقلت: لَا عِبْرَة بذكرهم فَإِنَّهُم لَيْسُوا مِنَ الْمُحَدِّثِينَ وَلا أَسْنَدُوا الْحَدِيثَ إِلَي أَحَدٍ مِنَ الْمُخَرِّجِينَ.

فَقَالَ لي: مَا تَقول تفكر فِيمَا فِيهِ تجول إِذا لم يعْتَبر بِنَقْل هَؤُلَاءِ الأكابر فَمن هُوَ يعْتَبر بنقله وَذكره.

فَقلت: لَا عجب، فَإِن الله تَعَالَى جعل لكل مقَام مقَالا وَخلق لكل فن رجَالًا، فكم من فَقِيه غائص فِي بحار الْعُلُوم القاسية عَاد عَن تنقيد الْأَدِلَّة الْأَصْلِيَّة، وَكم من مُحدث نقاد عَاد عَن تَفْرِيع الْفُرُوع الْفِقْهِيَّة وتأصيلها على الْقَوَاعِد الْأَصْلِيَّة، وَكم من مُفَسّر خائض فِي الْقُرْآن لَا تَمْيِيز لَهُ فِي معرفَة الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة والسقيمة، وَلَا امتياز لَهُ بَين الْمَشْهُورَة وَبَين المصنوعة، وَكم من صوفي سابح فِي بحار الْعُلُوم اللدنية عَاجز عَن دَرك مَا يتَعَلَّق بالعلوم الظَّاهِرِيَّة، وَكم من عَالم متبحر جَامع للعلوم الظَّاهِرَة لَا مذاق لَهُ فِي اللطائف الْبَاطِنَة، فَإِذن الْوَاجِب أَن ننزل النَّاس مَنَازِلهمْ ونوفيهم حظهم ونعرف مرتبتهم وقدرهم، فَلَا نعرج الْأَدْنَى إِلَى رُتْبَة الْأَعْلَى، وَلَا ننزل الْأَعْلَى إِلَى مرتبَة الْأَدْنَى وتعرف
অন্যান্য সমসাময়িক ও সমজাতীয় রচনাবলি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কিতাবসমূহ সমাপ্ত করার কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এই কিতাবটি সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়। অবশেষে বর্তমান বছর অর্থাৎ হিজরি তেরোশ তিন সালের আশুরার দিনে আমার এবং আমার কিছু প্রিয় ও স্নেহাস্পদ ব্যক্তির মধ্যে একটি মনোরম কথোপকথন ও চমৎকার আলোচনা সংঘটিত হয়। বিষয়টি হলো, কিছু লোক আমাকে আশুরার দিনের সালাত, এর রাকাত সংখ্যা, পদ্ধতি এবং এর সওয়াব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আমি উত্তরে জানাই যে, এই দিনে বা বছরের অন্য কোনো বরকতময় দিনে নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা বা পদ্ধতিসহ কোনো বিশেষ সালাতের কথা নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় আসেনি। এ বিষয়ে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তার সবই বানোয়াট ও জাল। এটি প্রমাণিত বলে বিশ্বাস করে এর ওপর আমল করা যেমন বৈধ নয়, তেমনি এর জন্য নির্দিষ্ট সওয়াব অর্জিত হবে বলে বিশ্বাস করে এর ওপর নির্ভর করাও সমীচীন নয়।

তখন আমার এক প্রিয়জন আপত্তি করে বললেন: সুফি মাশায়েখগণ তাদের উচ্চমর্যাদার সংকলনসমূহে আশুরার দিন ও রাত এবং বছরের অন্যান্য দিন ও রাতের সালাতসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোতে বর্ণিত হাদিসও উল্লেখ করেছেন; তাহলে কেন সেগুলোর ওপর আমল করা হবে না এবং সেগুলোকে বানোয়াট বলে গণ্য করা হবে?

আমি বললাম: তাদের এই বর্ণনার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, কারণ তারা মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত নন এবং তারা কোনো হাদিস বিশারদের দিকে এই হাদিসগুলোর সনদও সূত্রবদ্ধ করেননি।

তিনি আমাকে বললেন: আপনি কী বলছেন ভেবে দেখুন, যদি এই মহান ব্যক্তিদের বর্ণনারই গুরুত্ব না থাকে, তবে কার বর্ণনা ও উল্লেখ গ্রহণযোগ্য হবে?

আমি বললাম: এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ আল্লাহ তাআলা প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত কথা নির্ধারণ করেছেন এবং প্রতিটি শাস্ত্রের জন্য পারদর্শী এক এক দল ব্যক্তি সৃষ্টি করেছেন। কত ফকিহ রয়েছেন যারা গভীর ইলমের সাগরে নিমজ্জিত থাকা সত্ত্বেও মৌলিক দলিলসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে পিছিয়ে থাকেন; আবার কত পারদর্শী মুহাদ্দিস রয়েছেন যারা মূলনীতির ভিত্তিতে ফিকহি মাসআলা উদ্ভাবন ও তার শাখাপ্রশাখা নির্ধারণে অপারগ। কত মুফাসসির রয়েছেন যারা কুরআনের গভীর তত্ত্বে নিমগ্ন কিন্তু সহিহ ও দুর্বল হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করার সামর্থ্য রাখেন না এবং প্রসিদ্ধ ও বানোয়াট হাদিসের মাঝে তাদের কোনো বিচারবুদ্ধি নেই। কত সুফি রয়েছেন যারা খোদাপ্রদত্ত ইলমের সাগরে বিচরণ করছেন কিন্তু বাহ্যিক ইলম সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুধাবনে অক্ষম। আবার কত অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম রয়েছেন যারা বাহ্যিক ইলমে পারদর্শী হলেও অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক সূক্ষ্ম তত্ত্বের কোনো স্বাদ পাননি। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হলো মানুষকে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে রাখা, তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা এবং তাদের স্তর ও সামর্থ্য চিনে রাখা। তাই আমরা যেন নিম্নস্তরের কাউকে উচ্চস্তরে উন্নীত না করি এবং উচ্চস্তরের কাউকে নিম্নস্তরে নামিয়ে না দিই, এবং তুমি জানতে পারবে...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
مَا يتَعَلَّق بِكُل فن من أهل ذَلِك الْفَنّ لَا من مهرَة غير ذَلِك الْفَنّ، فَإِن صَاحب الْبَيْت أدرى بِمَا فِيهِ، والماهر فِي شَيْء أعلم من غَيره بِمَا يتَعَلَّق بِهِ، وَقد نَص المحدثون على أَن أَحَادِيث أَمْثَال هَذِه الصَّلَوَات مَوْضُوعَة وَإِن ذكرهَا جمع من الصُّوفِيَّة.

فَعَاد قَائِلا: إِن الْعجب كل الْعجب أَن أحدا من المشائخ الْعِظَام كَالْإِمَامِ الْغَزالِيّ مؤلف إحْيَاء الْعُلُوم وَغَيره من التصانيف النافعة، ومولانا عبد الْقَادِر الجيلاني قدس سره مؤلف غنية الطالبين، وفتوح الْغَيْب وَغَيرهَا من التآليف الرافعة، وَأبي طَالب الْمَكِّيّ مؤلف قوت الْقُلُوب وَغَيره من الدفاتر الموصلة إِلَى حسن الْمَطْلُوب وَغَيرهم مِمَّن تقدمهم أَو تأخرهم، وهم من الصُّوفِيَّة الْكِبَار معدودون فِي طَبَقَات الْأَوْلِيَاء حَملَة ألوية الْأَسْرَار يضع حَدِيثا على رَسُول الله مَعَ اشتهار أَن الْكَذِب على رَسُول الله لَا يحل لمُسلم فضلا عَن مثل هَذَا الْمُسلم.
প্রতিটি শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি ওই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট থেকেই গ্রহণ করা উচিত, অন্য শাস্ত্রের পণ্ডিতদের থেকে নয়। কেননা, গৃহস্বামীই ভালো জানেন তার গৃহের ভেতরে কী আছে। কোনো বিষয়ে পারদর্শী ব্যক্তি ওই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন। মুহাদ্দিসগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরণের সালাতসমূহের হাদিসগুলো জাল, যদিও একদল সূফি এগুলো বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন: এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, মহান মাশায়েখদের মধ্য থেকে কেউ—যেমন ইমাম গাজালি, যিনি ‘ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন’ ও অন্যান্য উপকারী কিতাবের রচয়িতা; মাওলানা আব্দুল কাদির জিলানি (আল্লাহ তাঁর গোপন রহস্যকে পবিত্র করুন), যিনি ‘গুনিয়াতুত তালিবীন’, ‘ফুতুহুল গায়ব’ ও অন্যান্য উচ্চমার্গীয় গ্রন্থের রচয়িতা; এবং আবু তালিব মাক্কী, যিনি ‘কুতুল কুলূব’ ও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর সহায়ক অন্যান্য পাণ্ডুলিপির রচয়িতা; এছাড়া তাঁদের পূর্বসূরি বা উত্তরসূরিগণ—যাঁরা শ্রেষ্ঠ সূফিদের অন্তর্ভুক্ত এবং আউলিয়াদের স্তরে ও রহস্যের পতাকাবাহীদের মাঝে গণ্য হন—রাসূলুল্লাহর ওপর কোনো হাদিস জাল করবেন! অথচ রাসূলুল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করা কোনো মুসলমানের জন্যই বৈধ নয় বলে প্রসিদ্ধ রয়েছে, এমতাবস্থায় এই স্তরের মুসলমানদের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া তো আরও অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
فَقلت: حاشاهم ثمَّ حاشاهم عَن أَن يضعوا حَدِيثا وَمن ينْسب الْوَضع إِلَى أَمْثَال هَؤُلَاءِ الأكابر عد شقيا وخبيثا قَدِيما كَانَ أَو حَدِيثا.

فَقَالَ: فَإِذا لم ينْسب الْوَضع إِلَى هَؤُلَاءِ فَمن هُوَ واضعها؟ .

فَقلت: قوم من جهلة الزهاد أَو قوم من أَرْبَاب الزندقة والإلحاد فَإِن الروَاة الَّذين وَقعت فِي رواياتهم المقلوبات والموضوعات والمختلفات والمكذوبات على مَا بَسطه ابْن الْجَوْزِيّ والسيوطي وَابْن الصّلاح والعراقي وَابْن حجر الْعَسْقَلَانِي وَعلي الْمَكِّيّ الْقَارِي وَغَيرهم من الْمُحدثين الْمُتَقَدِّمين والمتأخرين منقسمون على أَقسَام:
আমি বললাম: তারা কোনো হাদিস জাল করবেন—তা থেকে তারা অনেক অনেক ঊর্ধ্বে। আর যারা এই ধরনের মহান ব্যক্তিদের প্রতি হাদিস জাল করার অপবাদ আরোপ করে, তারা হতভাগ্য ও পাপিষ্ঠ হিসেবে গণ্য, চাই তারা অতীতের হোক বা বর্তমানের।

তিনি বললেন: যদি জাল করার বিষয়টি তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত না করা হয়, তবে এর জালকারী কে?

আমি বললাম: একদল মূর্খ দরবেশ অথবা একদল যিনদীক ও নাস্তিক। কেননা ইবনুল জাওযী, সুয়ূতী, ইবনুস সালাহ, ইরাকী, ইবনু হাজার আল-আসকালানী, আলী আল-মাক্কী আল-কারী এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের বিস্তারিত বর্ণনা অনুযায়ী যে সকল বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় ওলটপালট, জাল, বৈসাদৃশ্যপূর্ণ ও মিথ্যা বিষয়াদি প্রবেশ করেছে, তারা কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الْقسم الأول: قوم غلب عَلَيْهِم الزّهْد والتقشف فغفلوا عَن الْحِفْظ والتمييز أَو ضَاعَت كتبهمْ أَو احترقت ثمَّ حدثوا من حفظهم.

الثَّانِي: قوم لم يعاينوا علم النَّقْل فَكثر خطأؤهم وفحش غلطهم.

الثَّالِث: قوم ثِقَات اخْتلطت عُقُولهمْ فِي أَوَاخِر أعمارهم فَوَقع الْخَلْط والخبط فِي رواياتهم.

وَقد ألف الْحَافِظ إِبْرَاهِيم الْحلَبِي الشهير بسبط ابْن العجمي تلميذ الْعِرَاقِيّ رِسَالَة ذكر فِيهَا جمعا من الْمُخْتَلطين أَخذهَا من ميزَان الِاعْتِدَال وَغَيره سَمَّاهَا بالاغتباط بِمن رمى بالاختلاط.

وَله رِسَالَة أُخْرَى مُسَمَّاة بالتبيين لأسماء المدلسين وَأُخْرَى مُسَمَّاة بالكشف الْحَثِيثِ عَمَّنْ رَمَى بِوَضْعِ الْحَدِيثِ وَكلهَا مَعَ اختصارها مفيدة.

الرَّابِع: قوم غلبت عَلَيْهِم الْغَفْلَة حَتَّى تلقنوا بالتلقين وَرووا من حَيْثُ لَا يعلمُونَ.

الْخَامِس: قوم رووا الْكَذِب من غير أَن يعلمُوا أَنه خطأ، فَلَمَّا عرفُوا الصَّوَاب وأيقنوا بِهِ أصروا على الْخَطَأ غيرَة وأنفة أَن ينسبوا إِلَى الْغَلَط.

السَّادِس: قوم رووا عَن كَذَّابين وضعفاء، وهم يعلمُونَ فدلسوا أسمائهم بِالْكَذِبِ من أُولَئِكَ وترويجه من هَؤُلَاءِ.

السَّابِع: قوم تعمدوا وَرووا الْكَذِب عمدا لَا لأَنهم أخطأوا أَو رووا عَن كَذَّابين فَمن هَؤُلَاءِ من يكذب فِي الْإِسْنَاد بِأَن يروي عَمَّن لم يسمع مِنْهُ أَو يَجْعَل إِسْنَاد حَدِيث لآخر، وَمِنْهُم من يسرق الْأَحَادِيث الَّتِي يَرْوِيهَا غَيره وَمِنْهُم من يضع الْأَحَادِيث بِنَفسِهِ.
প্রথম শ্রেণি: এমন এক দল লোক যাদের ওপর যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) এবং কৃচ্ছ্রসাধন প্রবল ছিল, ফলে তারা হাদীস মুখস্থ রাখা ও তা যাচাই-বাছাই করার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন অথবা তাদের কিতাবসমূহ হারিয়ে গিয়েছিল কিংবা পুড়ে গিয়েছিল, অতঃপর তারা তাদের স্মৃতি থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় শ্রেণি: এমন এক দল লোক যারা বর্ণনা শাস্ত্রের জ্ঞানটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি, ফলে তাদের ভুলভ্রান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের ত্রুটিগুলো প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে।

তৃতীয় শ্রেণি: এমন এক দল বিশ্বস্ত লোক যাদের শেষ বয়সে মস্তিস্ক বিকৃতি বা স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল, ফলে তাদের বর্ণনাসমূহের মধ্যে সংমিশ্রণ ও গোলমাল সৃষ্টি হয়েছিল।

হাফেয ইবরাহীম আল-হালাবী, যিনি ‘সিবত ইবনুল আজমী’ নামে পরিচিত এবং ইরাকীর ছাত্র, তিনি একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন যেখানে তিনি স্মৃতিভ্রম হওয়া বর্ণনাকারীদের একটি দল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি ‘মীযানুল ইতিদাল’ ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন ‘আল-ইগতিবাত বি-মান রুমিয়া বিল ইখতিলাত’।

তাঁর আরেকটি পুস্তিকা রয়েছে যার নাম ‘আত-তাবয়ীন লি-আসমাউল মুদাল্লিসীন’ এবং আরেকটি পুস্তিকা যার নাম ‘আল-কাশফুল হাসীস আম্মান রুমিয়া বি-ওয়াদউল হাদীস’। এগুলোর প্রতিটিই সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত উপকারী।

চতুর্থ শ্রেণি: এমন এক দল লোক যাদের ওপর উদাসীনতা প্রবল ছিল, এমনকি তাদেরকে যা শিখিয়ে দেওয়া হতো তারা তাই গ্রহণ করে নিতেন এবং তারা এমন বিষয় বর্ণনা করতেন যা তারা নিজেরাই জানতেন না।

পঞ্চম শ্রেণি: এমন এক দল লোক যারা মিথ্যা বর্ণনা করেছেন অথচ তারা জানতেন না যে তা ভুল; কিন্তু যখন তারা সঠিক বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন, তখন আত্মমর্যাদা ও লোকলজ্জার ভয়ে তারা সেই ভুলের ওপরই অবিচল থেকেছেন যাতে তাদেরকে ভুলের দিকে সম্বন্ধ করা না হয়।

ষষ্ঠ শ্রেণি: এমন এক দল লোক যারা মিথ্যুক ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা তা জানতেন; অতঃপর তারা মিথ্যার আশ্রয়ে ঐ সকল বর্ণনাকারীদের নাম গোপন করেছেন যাতে তাদের বর্ণনাগুলো বাজারে চালিয়ে দেওয়া যায়।

সপ্তম শ্রেণি: এমন এক দল লোক যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বর্ণনা করেছেন; এটি তাদের ভুলের কারণে নয় কিংবা তারা মিথ্যুকদের থেকে বর্ণনা করেছেন বলে নয়। তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা সনদের ক্ষেত্রে মিথ্যাচার করে, যেমন—যার থেকে শোনেনি তার থেকে বর্ণনা করে অথবা এক হাদীসের সনদ অন্য হাদীসে জুড়ে দেয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ অন্যের বর্ণনা করা হাদীস চুরি করে এবং কেউ নিজে থেকে হাদীস জাল করে।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ثمَّ انقسم هَؤُلَاءِ الوضاعون بِحَسب اخْتِلَاف أغراضهم وظنونهم على أَقسَام.

الأول: قوم من الزَّنَادِقَة قصدُوا إِفْسَاد الشَّرِيعَة وإيقاع الْخَلْط والخبط فِي الْأمة كَمَا نقل عَن عبد الْكَرِيم ابْن أبي العوجاء حَيْثُ أَخذ وَأمر بِضَرْب عُنُقه. قَالَ: وَالله لقد وضعت فِيكُم أَرْبَعَة آلَاف حَدِيثا أحرم فِيهَا الْحَلَال وأحلل الْحَرَام. وَعَن جَعْفَر بن سُلَيْمَان قَالَ سَمِعت الْمهْدي يَقُول: أقرّ عِنْدِي رجل من الزَّنَادِقَة أَنه وضع أَرْبَعمِائَة حَدِيث تجول فِي أَيدي النَّاس، وَقَالَ حَمَّاد بن زيد: وضعت الزَّنَادِقَة أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث، وَهَذِه الْفرْقَة شابهت الْيَهُود وَالنَّصَارَى حَيْثُ حرفوا الْكتب الإلهية، وأسقطوا مِنْهَا مَا شاؤا وَكَتَبُوا بِأَيْدِيهِم فِيهَا مَا شاؤا، وَقَالُوا: هَذَا من عِنْد الله ليشتروا بِهِ ثمنا قَلِيلا من أتباعهم ومقلديهم. وَقد حكى الله سُبْحَانَهُ عَمَلهم هَذَا فِي الْقُرْآن فِي غير مَوضِع مَعَ تقبيح أَعْمَالهم والتشنيع على أفعالهم، وَلما من الله على هَذِه الْأمة بِأَن تكفل لحفظ كَلَامه بِنَفسِهِ حَيْثُ قَالَ: {إِنَّا نَحن نزلنَا الذّكر وَإِنَّا لَهُ لحافظون} . لم يقدر أحد من الْكفَّار والأشرار على تَغْيِير حرف أَو نقطة من كَلَامه فضلا عَن تَحْرِيف زَائِد عَلَيْهِ وَمن آثَار ذَلِك التكفل مَا وهب الله لهَذِهِ الْأمة من قُوَّة الْحِفْظ فحفظ كَلَامه بِتَمَامِهِ فِي كل عصر جمع لَا يُحْصى عَددهمْ حَتَّى النِّسَاء وَالصبيان، فَمنع ذَلِك الْكَافرين والملحدين عَن تَحْرِيف كَلَامه بِزِيَادَة أَو نُقْصَان خوفًا من أَن تكذبهم حفاظ الصّبيان، وَمن ثمَّ ترى الْكفَّار وأعداء الدَّين الإسلامي يستكتبون الْقُرْآن ويكتبونه ويطبعونه وَلَا يُغير أحد مِنْهُم شَيْئا مِنْهُ مَعَ قدرتهم عَلَيْهِ وميل طبعهم إِلَيْهِ بل يهتمون فِي تَصْحِيحه أَزِيد من الاهتمام فِي الْكتب الْأُخَر العلمية خوفًا من أَن تتعقبهم أَطْفَال الْأمة المحمدية. وَلما كَانَ وُقُوع كل مَا ارتكبته الْأُمَم الْمَاضِيَة من الْأَفْعَال الردية بِنَفسِهِ أَو بنظيره فِي هَذِه الْأمة أمرا مُقَدرا كَمَا أخبر بِهِ النَّبِي بقوله ((لتركبن سنَن من كَانَ قبلكُمْ شبْرًا بشبرٍ وذراعاً بذراعٍ)) ]] ]] ]] ] الحَدِيث. تَوَجَّهت ملاحدة هَذِه الْأمة إِلَى أَمريْن
অতঃপর এই জালকারীরা তাদের উদ্দেশ্য ও ধারণার ভিন্নতা অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে।

প্রথমত: একদল যিনদীক (ধর্মদ্রোহী), যারা শরীয়তকে কলুষিত করা এবং উম্মতের মাঝে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সংকল্প করেছিল; যেমন আব্দুল করীম ইবনে আবিল আওজা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তাকে ধরা হলো এবং তার শিরশ্ছেদ করার নির্দেশ দেওয়া হলো, তখন সে বলেছিল: আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদের মধ্যে চার হাজার হাদীস জাল করেছি যাতে আমি হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করেছি। জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মাহদীকে বলতে শুনেছি যে, এক যিনদীক লোক আমার নিকট স্বীকার করেছে যে সে চারশত হাদীস জাল করেছে যা মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে। হাম্মাদ ইবনে যাইদ বলেছেন: যিনদীকরা চার হাজার হাদীস জাল করেছে। এই দলটি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যারা আসমানী কিতাবসমূহকে বিকৃত করেছিল এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছা বাদ দিয়েছিল এবং নিজ হাতে যা ইচ্ছা তাতে লিখে দিয়েছিল; আর তারা বলেছিল: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে", যাতে তারা এর মাধ্যমে তাদের অনুসারী ও অন্ধ অনুসারীদের কাছ থেকে সামান্য মূল্য গ্রহণ করতে পারে। মহান আল্লাহ কুরআনের একাধিক স্থানে তাদের এই কাজের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও তাদের কাজের বীভৎসতা বর্ণনা করেছেন। যেহেতু আল্লাহ এই উম্মতের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি নিজেই তাঁর কালাম সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় আমিই এই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক}। ফলে কাফের ও দুরাচারদের কেউই তাঁর কালামের একটি হরফ বা একটি নুকতাও পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়নি, তাতে কোনো কিছু বাড়িয়ে বিকৃত করা তো দূরের কথা। সেই সংরক্ষণের দায়িত্বের একটি প্রভাব হলো আল্লাহ এই উম্মতকে মুখস্থ করার যে শক্তি দান করেছেন, যার ফলে প্রতি যুগে নারী ও শিশুসহ অগণিত মানুষ তাঁর কালাম পূর্ণাঙ্গভাবে মুখস্থ করেছে। ফলে এটি কাফের ও নাস্তিকদের এই ভয়ে তাঁর কালামে কোনো কিছু বাড়িয়ে বা কমিয়ে বিকৃত করা থেকে বিরত রেখেছে যে, এমনকি শিশু হাফেজরাও তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। এই কারণেই আপনি কাফের ও ইসলামি শরীয়তের শত্রুদের দেখতে পান যে, তারা কুরআন অনুলিপি করে, লেখে এবং ছাপায় অথচ তার কোনো কিছুই তারা পরিবর্তন করে না, যদিও তাদের সক্ষমতা ও সেদিকে স্বভাবজাত প্রবণতা রয়েছে। বরং তারা অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কিতাবের চেয়ে এটি নির্ভুল করার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেয় এই ভয়ে যে, মুহাম্মাদী উম্মতের শিশুরা তাদের ভুল ধরে ফেলবে। যেহেতু পূর্ববর্তী উম্মতরা যে সকল নিকৃষ্ট কাজ করেছিল, হুবহু তা অথবা তার অনুরূপ কিছু এই উম্মতের মধ্যে ঘটা অবধারিত ছিল, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন: ((তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি বিঘত-বিঘত এবং হাত-হাত মেপে অনুসরণ করবে)) হাদীস। তাই এই উম্মতের নাস্তিকরা দুটি বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَتَفَرَّقُوا شيعتين، فَمنهمْ من توجه إِلَى التحريف الْمَعْنَوِيّ فِي الْكَلَام الإلهي حِين عجزوا عَن التحريف اللَّفْظِيّ، ففسروا الْقُرْآن بآرائهم ونسبوا مَا ظنُّوا إِلَى رَبهم غافلين عَن قَوْله: ((من قَالَ فِي الْقُرْآن بِرَأْيهِ فقد كفر)) ]] ]] ]] ] . وَقد حدثت من زَمَاننَا فِي أول الْعشْرَة الْآخِرَة من عشرات الْمِائَة الثَّالِثَة بعد الْألف من الْهِجْرَة فرقة مِنْهُم أفسدت فِي الدَّين الْإِسْلَام مَعَ إِظْهَار أَنَّهَا مؤيدة لدين الْإِسْلَام اشتهرت بالنيجرية أنكر رَأسهَا ورئيسها، وَتَبعهُ من تبعه وجود الْمَلَائِكَة وَالْجِنّ والأرواح وَالْعرش والكرسي وَغَيرهَا من السَّمَوَات السَّبع وَالْأَرضين السَّبع، وأنكروا الْجنَّة وَالنَّار وجزئيات النشر والحشر وَعَذَاب الْقَبْر وَقَالُوا إِنَّهَا أَوْهَام وخيالات وَألف رئيسهم تَفْسِيرا لِلْقُرْآنِ فاهتم فِي إبْقَاء مبانيه وَأدْخل آراؤه الْفَاسِدَة فِي مَعَانِيه ففسر جَمِيع الْآيَات الْوَارِدَة فِي تِلْكَ الْأُمُور بِمَا تقشعر مِنْهُ جُلُود الَّذين يخشونه رَبهم وتتنفر عَنهُ الصُّدُور، وَقَالُوا إِن الله لَا يعذب مُشْركًا وَلَو مَاتَ على الْكفْر، وَإِن من قَالَ بثالث ثَلَاثَة لَيْسَ بمشرك، وَإِن عِيسَى

তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে একদল ঐশী বাণীর অর্থগত বিকৃতির পথ অবলম্বন করে যখন তারা এর শব্দগত বিকৃতি সাধনে ব্যর্থ হয়। তারা কুরআনকে নিজেদের মনগড়া মত অনুযায়ী ব্যাখ্যা করল এবং তাদের ধারণা প্রসূত বিষয়গুলোকে তাদের প্রতিপালকের দিকে আরোপ করল; তারা আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বিস্মৃত হয়ে গেল যে: "যে ব্যক্তি কুরআনের বিষয়ে নিজ মতামত অনুযায়ী কিছু বলল, সে কুফরী করল।" আমাদের এই সময়ে হিজরি তেরো শতকের শেষ দশকের শুরুর দিকে তাদের থেকে এমন এক দলের উদ্ভব ঘটেছে যারা ইসলামের সমর্থক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেও দ্বীন ইসলামের ক্ষতিসাধন করেছে। তারা 'নেচারিয়া' নামে পরিচিতি লাভ করে। এর মূল হোতা ও প্রধান এবং তার অনুসারীরা ফেরেশতা, জিন, রুহ, আরশ, কুরসি এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যেমন সাত আসমান ও সাত জমিনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে। তারা জান্নাত, জাহান্নাম, পুনরুত্থান ও হাশরের বিস্তারিত বিবরণ এবং কবরের আযাবকেও অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে এগুলো নিছক বিভ্রম ও কল্পনা মাত্র। তাদের নেতা কুরআনের একটি তাফসীর রচনা করেছে, যেখানে সে কুরআনের বাহ্যিক কাঠামো রক্ষার চেষ্টা করলেও এর অর্থের মধ্যে নিজের ভ্রান্ত মতামত ঢুকিয়ে দিয়েছে। সে উক্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সমস্ত আয়াতকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে যা শুনে তাদের গাত্রচর্ম শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং যা থেকে অন্তরসমূহ বিমুখ হয়ে যায়। তারা বলেছে যে, আল্লাহ কোনো মুশরিককে আযাব দেবেন না যদিও সে কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে তিনের তৃতীয় (ত্রিত্ববাদী) বলে, সে মুশরিক নয়। আর ঈসা...

(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ابْن مَرْيَم ابْن يُوسُف النجار لم يخلق بِغَيْر أَب وأباحوا شرب الْخمر وَالزِّنَا وَغير ذَلِك عِنْد الضَّرُورَة الشَّدِيدَة وَكَون النِّيَّة صَالِحَة. وأسقطوا الْعِبَادَات الشاقة بل السهلة أَيْضا وخالطوا النَّصَارَى أكلا وشرباً ومشياً وقياماً وقعوداً ولباساً ومسكناً، وحسنوا أطوارهم فِي حركاتهم ومسكناتهم وأباحوا التَّشَبُّه بهم فِي جَمِيع أطوارهم وَلَهُم غير هَذِه أَقْوَال خبيثة وأفعال ردية قد خالفوا دين الْإِسْلَام أصولاً وفروعاً وَمَعَ ذَلِك ظنُّوا أَن طريقهم هِيَ الَّتِي فطر الله الْخلق عَلَيْهَا لَا تَبْدِيل لخلق الله وَأَنَّهَا هِيَ الْإِسْلَام حَقًا وَإِن الْمُسلمين كلهم أَوَّلهمْ وَآخرهمْ من عصر الصَّحَابَة إِلَى عصرهم قد أخطأوا فِي فهم مَعَاني الْقُرْآن وَالْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة، وَلم يصلوا إِلَى فهم أسرار الشَّرِيعَة النقية ولعمري إِفْسَاد هَؤُلَاءِ الْمَلَاحِدَة وإفساد إخْوَانهمْ الأصاغر الْمَشْهُورين بِغَيْر المقلدين الَّذين سموا أنفسهم بِأَهْل الحَدِيث وشتان مَا بَينهم وَبَين أهل الحَدِيث قد شاع فِي جَمِيع بِلَاد الْهِنْد وَبَعض بِلَاد غير الْهِنْد فخربت بِهِ الْبِلَاد وَوَقع النزاع والعناد فَإلَى الله المشتكى وَإِلَيْهِ المتضرع والملتجأ. ((بَدَأَ الدَّين غَرِيبا وَسَيَعُودُ غَرِيبا فطوبى للغرباء)) ]] ]] ]] ] . وَلَقَد كَانَ حُدُوث مثل هَؤُلَاءِ المفسدين والملحدين فِي الْأَزْمِنَة السَّابِقَة فِي أزمنة السلطنة الإسلامية غير مرّة فقابلتهم أساطين الْملَّة وسلاطين الْأمة بالصوارم المنكية وأجروا عَلَيْهِم الجوازم المفنية فاندفعت فتنتهم بهلاكهم وَلما لم تبْق فِي بِلَاد الْهِنْد فِي أعصارنا سلطنة إسلامية ذَات شَوْكَة وَقُوَّة عَمت الْفِتَن وأوقعت عباد الله فِي المحن فإنّا لله وإنّا إِلَيْهِ رَاجِعُون. وَمِنْهُم من توجهّوا إِلَى الافتراء على النَّبِي الْمُصْطَفى الَّذِي مَا نطق بالهوى ((إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى)) ]] ]] ]] ] . وحرفوا فِي كَلِمَاته الشَّرِيفَة بِالزِّيَادَةِ وَالنُّقْصَان ونسبوا إِلَيْهِ مَا اخترعته خواطرهم تشكيكاً وتخليطاً وإفساداً فِي أهل الْإِيمَان. وَقد وفْق الله خدام حَدِيث نبيه وحملت ألوية شرعة بِإِبْطَال خبائثهم وَإِظْهَار مكائدهم فميزوا بَين الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة، وَبَين الْأَخْبَار الاختراعية وألفوا تَأْلِيفَات اضمحلت بهَا خزعبلاتهم وفنت بهَا مزخرفاتهم فَللَّه دِرْهَم ودر من سلك مسلكهم.

মরিয়ম তনয় (ঈসা) ইউসুফ নাজ্জারের পুত্র এবং তিনি পিতা ছাড়া সৃষ্টি হননি—এমনটি তারা দাবি করে। তারা তীব্র প্রয়োজনের সময় এবং নিয়ত ভালো থাকলে মদ পান, ব্যভিচার এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়কে বৈধ করে নিয়েছে। তারা কঠিন ইবাদত তো বটেই, বরং সহজ ইবাদতগুলোও বিলুপ্ত করে দিয়েছে। তারা খ্রিস্টানদের সাথে আহার, পানীয়, চলাফেরা, দাঁড়ানো, বসা, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বাসস্থানের ক্ষেত্রে মেলামেশা করত। তারা খ্রিস্টানদের চালচলনকে নিজেদের গতিবিধি ও অবস্থানে সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছিল এবং সকল ক্ষেত্রে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকে বৈধ করেছিল। তাদের আরও অনেক কদর্য উক্তি ও মন্দ কর্ম রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ইসলামের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা উভয় ক্ষেত্রেই দ্বীনের বিরোধিতা করেছে। তা সত্ত্বেও তারা ধারণা করত যে, তাদের পথই হলো সেটি যার ওপর আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই; আর এটিই হলো প্রকৃত ইসলাম। তারা আরও মনে করত যে, সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে শুরু করে তাদের যুগ পর্যন্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মুসলমান কুরআন ও নববী হাদিসের অর্থ উপলব্ধিতে ভুল করেছেন এবং তারা পবিত্র শরিয়তের রহস্য উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারেননি। আমার জীবনের শপথ! এই নাস্তিকদের ফিতনা এবং তাদের অনুসারী কনিষ্ঠ ভ্রাতৃবৃন্দ—যারা 'গাইরে মুকাল্লিদ' (অ-অনুসারী) হিসেবে পরিচিত এবং নিজেদের 'আহলে হাদিস' বলে দাবি করে—তাদের ফিতনা সমগ্র হিন্দুস্তান ও হিন্দুস্তানের বাইরের কিছু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এদের এবং প্রকৃত আহলে হাদিসদের মধ্যে আসমান-জমিন ব্যবধান। এর ফলে দেশ ধ্বংস হয়েছে এবং বিবাদ ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহর কাছেই সব অভিযোগ এবং তাঁর কাছেই প্রার্থনা ও আশ্রয়। "দ্বীন শুরু হয়েছিল প্রবাসীর মতো অসহায় অবস্থায় এবং অচিরেই তা আবার প্রবাসীর মতো অসহায় অবস্থায় ফিরে আসবে; সুতরাং সেই অসহায়দের জন্য সুসংবাদ।" অতীতে ইসলামি সালতানাতের যুগে এ ধরনের ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও নাস্তিকদের প্রাদুর্ভাব বহুবার হয়েছিল। তখন মিল্লাতের শ্রেষ্ঠ মনীষীরা এবং উম্মাহর সুলতানগণ শাণিত তরবারি দ্বারা তাদের মোকাবিলা করেছিলেন এবং তাদের ওপর চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকর করেছিলেন। ফলে তাদের ধ্বংসের মাধ্যমে সেই ফিতনা দূরীভূত হয়েছিল। কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ে হিন্দুস্তান ভূখণ্ডে যেহেতু প্রতাপশালী ও শক্তিশালী কোনো ইসলামি সালতানাত অবশিষ্ট নেই, তাই ফিতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং আল্লাহর বান্দাদের বিপদে ফেলেছে। আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই নির্বাচিত নবীর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপের দিকে ধাবিত হয়েছে, যিনি নিজ খেয়ালখুশিমতো কোনো কথা বলেন না; তিনি যা বলেন তা তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। তারা নববী বাণীর মধ্যে সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং ঈমানদারদের মধ্যে সংশয়, বিভ্রান্তি ও ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত চিন্তাগুলো নবীর নামে চালিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর হাদিসের খাদেম এবং শরিয়তের পতাকাবাহীদের তাদের এই অপবিত্রতা বাতিল করতে এবং তাদের ষড়যন্ত্র উন্মোচন করতে তাওফিক দিয়েছেন। ফলে তারা নববী হাদিস এবং উদ্ভাবিত ও কৃত্রিম সংবাদগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন এবং এমন সব কিতাব রচনা করেছেন যার মাধ্যমে তাদের এই অলীক কল্পনাগুলো বিলুপ্ত হয়েছে এবং তাদের অলঙ্কৃত মিথ্যাগুলো ধ্বংস হয়েছে। যারা এই সঠিক পথে চলেছেন, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্ত পুরস্কার ও কল্যাণ রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الثَّانِي: قوم كَانُوا يقصدون وضع الْأَحَادِيث نصْرَة لمذاهبهم وَهَذَا مَنْقُول عَن قوم من السالمية. وَرُوِيَ عَن عبد الله بن يزِيد المقرئي قَالَ: تَابَ رجل من أهل الْبدع عَن بدعته، فَجعل يَقُول إنظروا هَذَا الحَدِيث عَمَّن تأخذون، فَإنَّا كُنَّا إِذا ترائينا رَأيا جعلنَا لَهُ حَدِيثا. وَعَن ابْن لَهِيعَة قَالَ: سَمِعت شَيخا من الْخَوَارِج تَابَ وَرجع، فَكَانَ يَقُول: إِن هَذِه الْأَحَادِيث دين فأنظروا عَمَّن تأخذون دينكُمْ. إِنَّا كُنَّا إِذا هوينا أمرا صيرناه حَدِيثا، وَعَن حَمَّاد بن سَلمَة قَالَ: حَدثنِي شيخ من الرافضة قَالَ: كُنَّا إِذا استحسنا شَيْئا جَعَلْنَاهُ حَدِيثا. وَقَالَ أَبُو عبد الله الْحَاكِم كَانَ مُحَمَّد ابْن الْقَاسِم من رُؤَسَاء المرجئة يضع الحَدِيث على مَذْهَبهم.

الثَّالِث: قوم كَانُوا يضعون الْأَحَادِيث فِي التَّرْغِيب والترهيب ليحثوا النَّاس على الْخَيْر ويزدجروهم عَن الشَّرّ وَأكْثر الْأَحَادِيث صلوَات الْأَيَّام والليالي من وضع هَؤُلَاءِ. وَمن هَؤُلَاءِ من كَانَ يظنّ أَن هَذَا جَائِز فِي الشَّرْع لِأَنَّهُ كذب للنَّبِي لَا عَلَيْهِ، فَعَن أبي عمار الْمروزِي قيل لأبي عصمَة نوح بن أبي مَرْيَم الْمروزِي: من أَيْن لَك عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي فَضَائِل الْقُرْآن سُورَة سُورَة وَلَيْسَ عِنْد أَصْحَاب عِكْرِمَة شَيْء مِنْهُ، فَقَالَ: إِنِّي رَأَيْت النَّاس أَعرضُوا عَن الْقُرْآن وَاشْتَغلُوا بِفقه أبي حنيفَة وَمَغَازِي ابْن إِسْحَاق فَوضعت هَذَا الحَدِيث حسبَة. وَقَالَ أَبُو عبد الله النهاوندي قلت لغلام خَلِيل: هَذِه الْأَحَادِيث الَّتِي تحدث بهَا من الرقَاق فَقَالَ: وَضَعْنَاهَا لِتُرَقِّقَ بِهَا قُلُوبَ الْعَامَّةِ، وَعَن مُحَمَّد بن عِيسَى الطباع قَالَ: سَمِعت ابْن مهْدي يَقُول لِميسرَة بن عبد ربه: من أَيْن جِئْت بِهَذِهِ الْأَحَادِيث من قَرَأَ فَلهُ كَذَا. وَقَالَ: وَضَعتهَا أَرغب النَّاس فِيهَا. وَمن هَذَا الْقَبِيل أَحَادِيث النَّهْي عَن شرب دُخان التنباك فَإِنِّي رأيتُ فِي رِسَالَة لبَعض مانعيه أَخْبَار منسوبة إِلَى النَّبِي مِنْهَا ((كل دُخان حرَام)) ]] ]] ]] وَمِنْهَا: ((كل جَوف يدْخل الدُّخان فِيهِ من أوراق السمُوم يخرج من الْإِيمَان)) ]] ]] ]] . وَمِنْهَا: ((سَيَأْتِي على النَّاس زمانٌ يَأْكُل أمتِي الدُّخان قلوبها سود ووجوهها نَاقص وشفتاها أَخْضَر فَإِنَّهُ ذَرِيعَة الشَّيْطَان من زمَان نوح وَسقي من بَوْله من أكله مرّة لَا يدْخل الْجنَّة)) ]] ]] ]] وَمِنْهَا: ((دُخان كل شَيْء حرَام)) ]] ]] ]] . وَمِنْهَا ((سَيَأْتِي على النَّاس زمَان يشربون النَّار من ورق
দ্বিতীয়ত: একদল মানুষ যারা তাদের মাযহাবের সমর্থনে হাদিস জাল করার সংকল্প করত এবং এটি সালমিয়াদের একদলের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-মুকরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বিদআতিদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার বিদআত থেকে তাওবা করল এবং সে বলতে শুরু করল, তোমরা লক্ষ্য করো এই হাদিস কার কাছ থেকে গ্রহণ করছ, কারণ আমরা যখন কোনো মতামত গ্রহণ করতাম, তখন তার জন্য একটি হাদিস বানিয়ে নিতাম। ইবনে লাহিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি খারিজিদের এক বৃদ্ধকে শুনেছি যে তাওবা করে ফিরে এসেছে, সে বলত: নিশ্চয়ই এই হাদিসগুলো হচ্ছে দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ। আমরা যখন কোনো বিষয় পছন্দ করতাম, তখন সেটাকে হাদিসে পরিণত করতাম। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক রাফেযী বৃদ্ধ আমাকে বলেছেন: আমরা যখন কোনো কিছুকে ভালো মনে করতাম, তখন সেটাকে হাদিস বানিয়ে দিতাম। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম মুরজিয়াদের অন্যতম প্রধান নেতা ছিল, সে তাদের মাযহাবের পক্ষে হাদিস জাল করত।

তৃতীয়ত: একদল মানুষ যারা উৎসাহ প্রদান (তারগিব) এবং ভীতি প্রদর্শনের (তারহিব) ক্ষেত্রে হাদিস জাল করত যাতে তারা মানুষকে কল্যাণের দিকে উৎসাহিত করতে পারে এবং মন্দ থেকে বিরত রাখতে পারে; দিন ও রাতের নামাজের ফজিলত বিষয়ক অধিকাংশ হাদিস এদেরই জাল করা। তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা ধারণা করত যে এটি শরিয়তে বৈধ, কারণ এটি নবীর স্বপক্ষে মিথ্যা বলা, তাঁর বিরুদ্ধে নয়। আবু আম্মার আল-মারওয়াযী থেকে বর্ণিত, আবু ইসমাহ নূহ ইবনে আবি মারইয়াম আল-মারওয়াযীকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে কুরআনের প্রতিটি সূরার ফজিলত সম্পর্কে যে বর্ণনা দেন তা কোথায় পেলেন, অথচ ইকরিমার সাথীদের কাছে এর কিছুই নেই? তিনি বললেন: আমি দেখলাম মানুষ কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে এবং আবু হানিফার ফিকহ ও ইবনে ইসহাকের মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাই আমি সাওয়াবের আশায় এই হাদিস জাল করেছি। আবু আবদুল্লাহ আন-নাহাওয়ান্দী বলেন, আমি গুলাম খলিলকে বললাম: এই হাদিসগুলো যা আপনি অন্তর বিগলিত করার বিষয়ে বর্ণনা করছেন (তা কী)? সে বলল: আমরা এগুলো সাধারণ মানুষের অন্তর বিগলিত করার জন্য জাল করেছি। মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত-তাব্বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে মাহদীকে মায়সারা ইবনে আবদে রাব্বিহকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তার জন্য এই পরিমাণ প্রতিদান আছে— এই হাদিসগুলো আপনি কোথায় পেলেন? সে বলল: মানুষকে এতে আগ্রহী করার জন্য আমি এগুলো জাল করেছি। তামাকের ধোঁয়া পানের নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলোও এই পর্যায়ের; আমি এটি নিষিদ্ধকারী কিছু ব্যক্তির পুস্তিকায় নবীর প্রতি সম্পৃক্ত কিছু বর্ণনা দেখেছি, যার মধ্যে রয়েছে: "সব ধরনের ধোঁয়াই হারাম।" আরও রয়েছে: "বিষাক্ত লতাপাতা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া যার উদরে প্রবেশ করবে, সে ঈমান থেকে বের হয়ে যাবে।" আরও রয়েছে: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন আমার উম্মত ধোঁয়া ভক্ষণ করবে, তাদের অন্তর হবে কালো, চেহারা হবে শ্রীহীন এবং ঠোঁট হবে সবুজ; এটি নূহের সময়কার শয়তানের মাধ্যম এবং তার প্রস্রাব থেকে এটি সিঞ্চিত, যে ব্যক্তি একবার এটি ভক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" আরও রয়েছে: "সবকিছুর ধোঁয়া হারাম।" আরও রয়েছে: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তারা পাতা থেকে আগুন পান করবে...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الشّجر يحصل فيهم سِتّ خِصَال قُلُوبهم سَوْدَاء ألسنتهم خضر وفمهم رسوق ورغبتهم نَاقص وبصرهم قَلِيل يُعَذبُونَ فِي الْقَبْر أبدا)) ]] ]] ]] ] وَمِنْهَا ((من شرب الدُّخان وَلَا يَتُوب عِنْد الْمَوْت فَلَيْسَ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْم الْقِيَامَة)) ]] ]] ]] ] وَمِنْهَا ((تظهر شَجَرَة فِي بِلَاد الْهِنْد يشرب النَّاس دخانها يذهب الدَّين والعقول فِي الدُّنْيَا)) ]] ]] ]] ] . وَمِنْهَا: من شرب الدُّخان القاحك وَلَو كَانَ مرّة دخل النَّار فِي بَطْنه وَنَفس قلبه بالنَّار. وَهَذِه الْأَخْبَار يشْهد من لَهُ أدنى ممارسة بالمحاورات الْعَرَبيَّة فضلا عَمَّن لَهُ مهارة بالأحاديث النَّبَوِيَّة بِأَنَّهَا مَوْضُوعَة مختلقة وَضعهَا. المشددون من مانعي شرب الدُّخان وتبوأوا مَقَاعِدهمْ من النيرَان وَقد فصلت هَذِه الْمَسْأَلَة فِي ذكر أَقْوَال المانعين والمبيحين فِي رسالتي ترويح الْجنان بتشرير حكم شرب الدُّخان فلتطالع.

وَمن هَذَا الْقَبِيل أَحَادِيث الْقَضَاء الْعمريّ.

وَقد ذكرتها مَعَ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا فِي رسالتي ردع الأخوان عَن محدثات آخر جُمُعَة رَمَضَان فلتطالع.

وَمن هَذَا الْقَبِيل أَكثر أَحَادِيث فَضَائِل صِيَام أَيَّام رَجَب وَأَيَّام الْمحرم وَغير ذَلِك على مَا بَسطه الْحَافِظ ابْن حجر الْعَسْقَلَانِي فِي تَبْيِين الْعجب فِي فضل رَجَب وَغَيره فِي غَيره.

الرَّابِع: قوم استجازوا وضع الْأَسَانِيد لكل كَلَام حسن زعما مِنْهُم أَن الْحسن كُله أَمر شَرْعِي لَا بَأْس بنسبته إِلَى رَسُول الله وَلم يفهموا أَن قَول الرَّسُول حسن صَادِق وَعكس الْكُلية لَا يصدق فَلَا يَصح كَون كل حسن قَول الرَّسُول فنسبته إِلَيْهِ كذب.

الْخَامِس: قوم حملهمْ على الْوَضع غَرَض من أغراض الدُّنْيَا، كالتقرب إِلَى السُّلْطَان وَغَيره كَمَا حُكيَ عَن غياث بن إِبْرَاهِيم فَإِنَّهُ حِين دخل على الْمهْدي أحد خلفاء بني الْعَبَّاس وَكَانَ يحب الْحمام فَقيل لَهُ: حدث أَمِير الْمُؤمنِينَ، فَقَالَ: حَدثنَا عَن فلَان عَن فلَان إِلَى النَّبِي أَنه قَالَ: ((لَا سبق إِلَّا فِي نصل أَو خف أَو حافر أَو جنَاح)) ]] ]] ]] ] فَزَاد
গাছ (তামাক) সেবনকারীদের মধ্যে ছয়টি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়: তাদের অন্তর কালো, তাদের জিহ্বা সবুজ, তাদের মুখ দুর্গন্ধময়, তাদের ইচ্ছা ত্রুটিপূর্ণ, তাদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ এবং তারা কবরে চিরকাল আজাব ভোগ করবে। আরও রয়েছে: "যে ব্যক্তি ধুমপান করল এবং মৃত্যুর সময় তাওবা করল না, কিয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ পাবে না।" আরও রয়েছে: "ভারত ভূখণ্ডে একটি বৃক্ষ প্রকাশ পাবে যার ধোঁয়া মানুষ পান করবে; এটি দুনিয়াতে দ্বীন এবং জ্ঞানকে ধ্বংস করে দেবে।" আরও রয়েছে: "যে ব্যক্তি কড়া ধুমপান করল—তা একবারের জন্য হলেও—সে তার পেটে আগুন প্রবেশ করাল এবং তার হৃদস্পন্দন আগুনের শিখায় পরিণত করল।" আরবি ভাষার বাক্যরীতির সাথে যার সামান্যতম পরিচয় আছে, সে-ই সাক্ষ্য দেবে যে এই বর্ণনাগুলো বানোয়াট ও মনগড়া মিথ্যা; রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীস সম্পর্কে পারদর্শী ব্যক্তিদের কথা তো বলাই বাহুল্য। ধুমপান নিষেধকারীদের মধ্যে যারা অতি কঠোরতা অবলম্বনকারী তারা এগুলো জাল করেছে এবং নিজেদের জন্য জাহান্নামে আবাসন ঠিক করে নিয়েছে। ধুমপান হারাম ও বৈধ ঘোষণাকারীদের বক্তব্যসমূহ আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি আমার রিসালা 'তারবীহুল জিনান বি-তাশরীরে হুকমি শুরবিদ দুখান'-এ। সেটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো 'কাজায়ে উমরী' সংক্রান্ত হাদীসগুলো।

এগুলোর সপক্ষে ও বিপক্ষে যা কিছু আছে তা আমি বর্ণনা করেছি আমার রিসালা 'রাদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাতু আখিরি জুমুআতি রমাদান'-এ। সেটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

রজব ও মহররম মাসের রোজা রাখার ফজিলত বিষয়ক অধিকাংশ হাদীস এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি তার 'তাবয়ীনুল আজাব ফী ফাদলি রজব' গ্রন্থে এবং অন্যান্য পণ্ডিতগণ অন্যান্য গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থ: একদল লোক যারা প্রতিটি সুন্দর কথার জন্য সনদ বা সূত্র জাল করাকে বৈধ মনে করত। তাদের ধারণা ছিল যে, প্রতিটি সুন্দর কথাই একটি শরয়ী বিষয় এবং তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে নিসবত করা বা সম্পর্কিত করাতে কোনো দোষ নেই। তারা এটা বোঝেনি যে, রাসুলের বাণী সুন্দর ও সত্য হওয়া আবশ্যক হলেও এর বিপরীত মূলনীতিটি (অর্থাৎ প্রতিটি সুন্দর কথাই রাসুলের বাণী হওয়া) সত্য নয়। সুতরাং প্রতিটি সুন্দর কথাই রাসুলের বাণী হওয়া সহীহ নয় এবং তা তাঁর দিকে নিসবত করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।

পঞ্চম: একদল লোক যাদেরকে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য হাদীস জাল করতে প্ররোচিত করেছে, যেমন সুলতান বা অন্যদের নৈকট্য লাভ করা। যেমন গিয়াস ইবনে ইবরাহিম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন আব্বাসীয় খলিফাদের অন্যতম আল-মাহদীর দরবারে প্রবেশ করলেন—যিনি কবুতর (পালন) পছন্দ করতেন—তখন তাকে বলা হলো: আমিরুল মুমিনীনকে হাদীস শোনান। তখন তিনি বললেন: আমাদের নিকট অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "তীর নিক্ষেপ, উটের খুর অথবা ঘোড়ার খুর (দৌড় প্রতিযোগিতা) ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় কোনো পুরস্কার বা বাজি নেই, অথবা ডানার (পাখির) ক্ষেত্রে।" এরপর তিনি এতে আরও বৃদ্ধি করলেন...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
كلمة أَو جنَاح من عِنْد نَفسه ليطيب قلب الْمهْدي، فتفطن لَهُ الْمهْدي وَقَالَ: أشهد أَنه كَذَّاب على رَسُول الله وَقَالَ: أَنا حَملته على ذَلِك، فَأمر بِذبح الْحمام ورفض مَا كَانَ فِيهِ.

السَّادِس: قوم حملهمْ على الْوَضع التعصب المذهبي والتجمد التقليدي كَمَا وضع مَأْمُون الْهَرَوِيّ حَدِيث ((من رفع يَدَيْهِ فِي الرُّكُوع فَلَا صَلَاة لَهُ)) ]] ]] ]] ] ، وَوضع حَدِيث: ((من قَرَأَ خلف الإِمَام فَلَا صَلَاة لَهُ)) ]] ]] ]] ] ، وَوضع أَيْضا حَدِيثا فِي ذمّ الشَّافِعِي وحديثاً فِي منقبة أبي حنفية.

وَقد ذكرت قدرا من حَاله مَعَ ذكر بعض مصنوعاته فِي تَعْلِيق رسالتي إِمَام الْكَلَام، فِيمَا يتَعَلَّق بِالْقِرَاءَةِ خلف الإِمَام الْمُسَمّى بغيث الْغَمَام فليطالع.

السَّابِع: قوم حملهمْ على الْوَضع حبهم الَّذِي أعماهم وأصمهم كَمَا وضعُوا أَحَادِيث فِي مَنَاقِب أهل الْبَيْت ومثالب الْخُلَفَاء الرَّاشِدين وَمُعَاوِيَة وَغَيرهم وَوَضَعُوا أَحَادِيث فِي مَنَاقِب أبي حنفية.

وَمن هَذَا الْقَبِيل الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة فِي مَنَاقِب الْبلدَانِ وذمها، وَالْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة فِي فضل اللِّسَان الفارسية وذمها كَحَدِيث لِسَان أهل الْجنَّة الْعَرَبيَّة والفارسية الدرية، وسنبسط كَلَام فِي هَذِه الْأَخْبَار
...শব্দটি অথবা 'ডানা' শব্দটি নিজের পক্ষ থেকে যোগ করেছিলেন যাতে মাহদীর মন সন্তুষ্ট হয়। অতঃপর মাহদী বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং বললেন: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে সে রাসূলুল্লাহ-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারী।' তিনি আরও বললেন: 'আমিই তাকে এর ওপর প্ররোচিত করেছি।' এরপর তিনি কবুতরটি জবেহ করার আদেশ দিলেন এবং তিনি যা কিছুতে লিপ্ত ছিলেন তা বর্জন করলেন।

ষষ্ঠ: একদল লোক, যাদেরকে জালকরণে প্ররোচিত করেছে মাযহাবী গোঁড়ামি এবং অন্ধ অনুকরণপ্রিয়তা; যেমন মামুন আল-হারাবী এই হাদীসটি জাল করেছেন: "যে ব্যক্তি রুকূতে হাত তুলল তার কোনো সালাত নেই", এবং তিনি এই হাদীসটি জাল করেছেন: "যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ করল তার কোনো সালাত নেই"। এছাড়াও তিনি শাফিঈ-এর নিন্দায় একটি হাদীস এবং আবু হানীফার প্রশংসায় একটি হাদীস জাল করেছেন।

আমি তাঁর অবস্থা এবং তাঁর কিছু বানোয়াট বর্ণনা সম্পর্কে আমার রিসালাহ 'ইমামুল কালাম'-এর টীকা—যা ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ সংক্রান্ত এবং যার নাম 'গাইসুল গামাম'—তাতে উল্লেখ করেছি, সুতরাং তা দেখে নেওয়া উচিত।

সপ্তম: একদল লোক, যাদেরকে জালকরণে প্ররোচিত করেছে তাদের সেই ভালোবাসা যা তাদেরকে অন্ধ ও বধির করে দিয়েছে। যেমন তারা আহলে বায়তের প্রশংসায় এবং খুলাফায়ে রাশিদীন, মুয়াবিয়া ও অন্যদের নিন্দায় হাদীস জাল করেছে, এবং তারা আবু হানীফার প্রশংসায় হাদীস জাল করেছে।

এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো বিভিন্ন শহরের প্রশংসা ও নিন্দা বিষয়ক জাল হাদীসসমূহ এবং ফারসি ভাষার মর্যাদা ও নিন্দা বিষয়ক জাল হাদীসসমূহ; যেমন: "জান্নাতবাসীদের ভাষা হলো আরবি এবং দরী ফারসি" হাদীসটি। আমরা এই সংবাদগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فِي تحفة الثِّقَات فِي تفاضل اللُّغَات. وفقني الله لختمها كَمَا وفقني لبدئها.

الثَّامِن: قوم حملهمْ على الْوَضع قصد الإغراب والإعجاب وَهُوَ كثير فِي الْقصاص والوعاظ الَّذين لَا نصيب لَهُم من الْعلم وَلَا حَظّ لَهُم من الْفَهم.

وَهُنَاكَ أَقسَام أخر بِحَسب الْأَغْرَاض المتنوعة والمقاصد المتشتتة.

فَقَالَ: بَين لي كَيفَ يضع الزهاد الْأَحَادِيث مَعَ زهدهم وورعهم فَإِنِّي لفي عجب من ذَلِك.

فَقلت: لَا عجب فَإِن كثيرا من الزهاد كَانُوا جاهلين غير مميزين بَين مَا يحل لَهُم وَمَا يحرم عَلَيْهِم، فَكَانُوا يظنون أَن وضع الْأَحَادِيث ترغيباً وترهيباً لَا بَأْس بِهِ بل هُوَ وَاجِب لِلْأجرِ أَلا ترى إِلَى عباد زَمَاننَا مِمَّن لم يمارس الْعُلُوم وَلم يوفق لخدمة أَرْبَاب الْفَهم كَيفَ إنهمكوا فِي ارْتِكَاب البدعات ظنا مِنْهُم أَن ارتكابها من الْحَسَنَات، وَكثير مِنْهُم قد علمهمْ شيوخهم الصَّلَوَات بتراكيب مَخْصُوصَة لَا لِأَنَّهَا ثبتَتْ بالأخبار المروية، بل بِنَاء على أَن التطوعات لَا يضمر فِيهَا إختيار الكمية الْمعينَة والكيفية المشخصة، فعلموهم ليعملوا بهَا لَا يتكاسلوا عَنْهَا، فَظن المريدين أَنَّهَا كلهَا من الحضرة النَّبَوِيَّة فأسندوها إِلَى الحضرة الْعلية.

فَقَالَ: فَكيف قبل تِلْكَ الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة جمع من الْمَشَايِخ الجامعين بَين عُلُوم الْحَقِيقَة والشريعة وأدرجوها فِي تصانيفهم السلوكية.

فَقلت: لحسن ظنهم بِكُل مُسلم وتخليهم أَنه لَا يكذب على النَّبِي مُسلم.

فَعَاد قَائِلا: قد ذكر بعض الصُّوفِيَّة فِي دفاترهم أَسَانِيد لتِلْك الْأَحَادِيث فَكيف لَا يعْتَبر بهَا. فَقلت من ذكرهَا بِغَيْر إِسْنَاد لَا يعْتَمد عَلَيْهِ
'তুহফাতুস সিকাত ফি তাফাদুলিল লুগাত' গ্রন্থে। আল্লাহ যেভাবে আমাকে এটি শুরু করার তাওফিক দিয়েছেন, সেভাবেই সমাপ্ত করারও তাওফিক দিন।

অষ্টম: একদল লোক, যাদেরকে অদ্ভুত ও চমকপ্রদ কিছু পেশ করার উদ্দেশ্য হাদীস জাল করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এটি সেই সব গল্পকথক ও ওয়ায়েজদের (বক্তাদের) মধ্যে অধিক দেখা যায়, যাদের ইলম বা জ্ঞানের কোনো অংশ নেই এবং বুঝ বা প্রজ্ঞার কোনো ভাগ নেই।

এছাড়া বিবিধ উদ্দেশ্য ও ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যের বিচারে আরও কিছু প্রকার রয়েছে।

তিনি বললেন: আমার কাছে স্পষ্ট করুন যে, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও পরহেযগারি থাকা সত্ত্বেও যাহিদগণ (তপস্বীরা) কীভাবে হাদীস জাল করেন? আমি এ বিষয়ে বিস্ময়ের মধ্যে আছি।

আমি বললাম: এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কেননা অনেক যাহিদ (তপস্বী) ছিলেন মূর্খ, যারা তাদের জন্য কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম তা পার্থক্য করতে পারতেন না। তারা মনে করতেন যে, মানুষকে নেক আমলের প্রতি আগ্রহী করতে এবং গুনাহ থেকে সতর্ক করতে হাদীস জাল করায় কোনো দোষ নেই; বরং সওয়াবের আশায় এটি করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। আপনি কি আমাদের সময়ের সেই সব ইবাদতগুজারদের দেখেন না, যারা ইলম চর্চা করেনি এবং প্রাজ্ঞজনদের সান্নিধ্য লাভের তাওফিক পায়নি, তারা কীভাবে বিদআতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে এই ধারণায় যে, এসব করা নেক কাজ? তাদের অনেকের শায়খ বা পীরগণ তাদের বিশেষ পদ্ধতির সালাত (নামাজ) শিক্ষা দিয়েছেন; কিন্তু তা এই কারণে নয় যে সেগুলো বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, বরং এই যুক্তিতে যে নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বা পদ্ধতি চয়ন করায় কোনো বাধা নেই। তারা এসব শিক্ষা দিয়েছেন যেন মুরিদরা আমল করে এবং অলসতা না করে। ফলে মুরিদরা মনে করেছে যে এগুলি সবই নববী দরবার থেকে এসেছে এবং তারা সেগুলিকে উচ্চ দরবারে (আল্লাহর দিকে) সম্বন্ধযুক্ত করেছে।

তিনি বললেন: তাহলে হাকীকত ও শরীয়ত উভয় ইলমের সমন্বয়কারী মাশায়েখগণের একদল কীভাবে সেই সব জাল হাদীস গ্রহণ করলেন এবং সেগুলোকে তাদের আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক সংশোধনের (সুলূকের) কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত করলেন?

আমি বললাম: প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি তাদের সুধারণার (হুসনে যন) কারণে এবং এই কল্পনার বশবর্তী হয়ে যে, কোনো মুসলমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করতে পারে না।

তিনি পুনরায় বললেন: কিছু সুফী তো তাদের কিতাবসমূহে এই সব হাদীসের সনদ (সূত্রপরম্পরা) উল্লেখ করেছেন, তাহলে সেগুলো কেন গ্রহণযোগ্য হবে না? আমি বললাম: যারা এগুলো সনদ ছাড়া বর্ণনা করেছেন, তাদের ওপর নির্ভর করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بِنَاء على أَن بَينه وَبَين النَّبِي مفاوز تَنْقَطِع فِيهَا أَعْنَاق المطايا. وَمن ذكرهَا بأسانيدها يبْحَث عَن حَال رواتها.

فَعَاد قَائِلا: كثيرا من الْمَشَايِخ الذَّاكِرِينَ لَهَا قد كَانُوا مِمَّن يتشرف بِرُؤْيَة النَّبِي مناما ويقظة وَكَانُوا أَصْحَاب كرامات يُلْهمُون إلهاماً فلعلهم صححوا تِلْكَ الرِّوَايَات بمشافهة النَّبِي أَو بِرُؤْيَتِهِ مناما. وَمن رَآهُ فِي الْمَنَام فقد رَآهُ حَقًا أَو ألهموا بذلك إلهاما.

فَقلت: احْتِمَال هَذِه الْأُمُور لَا يَكْفِي وَمُجَرَّد ذكرهم تِلْكَ الرِّوَايَات لَا يدل عَلَيْهِ نعم لَو صرح أحد مِنْهُم بذلك لقبلنا قَوْله اعْتِمَادًا على صدقه ووثاقته وعلو مرتبته.

فَقَالَ: هلا يكون علو مرتبتهم وجلالة قدرهم مقتضيا لِأَن يقبل مَا ذَكرُوهُ وَإِن كَانَ بِغَيْر سَنَد، فَإِن حسن الظَّن بهم يحكم بِأَنَّهُم لم يذكرُوا ذَلِك إِلَّا بعد ثُبُوته بِسَنَد مُسْتَند.

فَقلت: هَذَا إِنَّمَا يكون إِذا عرف أَنهم من مهرَة الحَدِيث ونقاده وَذكرهمْ تِلْكَ الرِّوَايَات مَحْمُول على حسن الظَّن بِكُل مُسلم والاعتماد على قَوْله. هَذَا تَفْصِيل المكالمة الَّتِي وَقعت بيني وَبَين بعض أعزتي.

فَعِنْدَ ذَلِك أردْت أَن أكمل رسالتي فِي الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة وأقتصر فِيهَا على الْأَحَادِيث الْمَذْكُورَة فِي صلوَات أَيَّام السّنة ولياليها وَغير ذَلِك مِمَّا يحْتَاج إِلَيْهَا وَأبين اختلافها ووضعها لِئَلَّا يغتر بهَا الجاهلون وليتيقظ الْعَالمُونَ.

وَلَكِن اشتغالي بتعليق تَعْلِيق رسالتي أَمَام الْكَلَام فِي الْقِرَاءَة خلف الإِمَام الْمُسَمّى بغيث الْغَمَام قد عاقني عَن ذَلِك. وَلما فض بالاختتام ختامه وتيسر اتمامه تَوَجَّهت إِلَى إبراز الْمكنون. وَإِذا أَرَادَ الله شَيْئا قَالَ لَهُ كن فَيكون وَسميت هَذِه الرسَالَة بإسم يخبر عَن كَيْفيَّة الْمُسَمّى وَهُوَ:
এই ভিত্তির উপর যে, তার এবং নবীর মাঝে এমন দুর্গম মরুপথ রয়েছে যেখানে সওয়ারি পশুদের ঘাড় ভেঙে পড়ে। আর যারা এগুলো সনদসহ উল্লেখ করেছেন, তাদের বর্ণনাকারীদের অবস্থা নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে।

অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন: এগুলো বর্ণনাকারী অনেক মাশায়েখ এমন ছিলেন যারা স্বপ্নে এবং জাগ্রত অবস্থায় নবীকে দেখার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন এবং তারা ছিলেন কারামতসম্পন্ন ব্যক্তি, যাদের ইলহাম প্রদান করা হতো। সম্ভবত তারা নবীর সাথে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে অথবা তাকে স্বপ্নে দেখার মাধ্যমে সেই বর্ণনাগুলোকে সঠিক বলে সাব্যস্ত করেছেন। আর যে ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখেছে সে তাকে সত্যই দেখেছে, অথবা তারা ইলহামের মাধ্যমে এটি লাভ করেছেন।

আমি বললাম: এই বিষয়গুলোর সম্ভাবনা যথেষ্ট নয় এবং কেবল তাদের এই বর্ণনাগুলো উল্লেখ করা এর প্রমাণ বহন করে না। হ্যাঁ, যদি তাদের কেউ এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতেন, তবে আমরা তার সততা, নির্ভরযোগ্যতা এবং উচ্চ মর্যদার ওপর ভিত্তি করে তার কথা গ্রহণ করতাম।

তিনি বললেন: তাদের উচ্চ মর্যাদা ও মহান মর্তবা কি এই দাবি রাখে না যে, তারা যা উল্লেখ করেছেন তা গ্রহণ করা হবে, যদিও তা সনদবিহীন হয়? কেননা তাদের প্রতি সুধারণা এটাই নির্দেশ করে যে, তারা কোনো নির্ভরযোগ্য সনদে প্রমাণিত হওয়া ছাড়া তা উল্লেখ করেননি।

আমি বললাম: এটি কেবল তখনই হতে পারে যখন জানা যাবে যে তারা হাদিস শাস্ত্রে দক্ষ এবং পারদর্শী সমালোচক। আর তাদের এই বর্ণনাগুলো উল্লেখ করাকে প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি সুধারণা এবং তার কথার ওপর নির্ভরতার ওপর ভিত্তি করে দেখা হয়। এটিই হলো আমার এবং আমার জনৈক প্রিয়জনের মাঝে সংঘটিত কথোপকথনের বিস্তারিত বিবরণ।

এমতাবস্থায় আমি জাল হাদিস বিষয়ক আমার রিসালাটি সম্পন্ন করার ইচ্ছা পোষণ করলাম এবং এতে বছরের বিভিন্ন দিন ও রাতের সালাতসমূহ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলাম। আমি এগুলোর মতভেদ ও জাল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেব যাতে মূর্খরা এতে প্রতারিত না হয় এবং বিজ্ঞ আলেমগণ সতর্ক হতে পারেন।

কিন্তু ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ সংক্রান্ত আমার রিসালা 'গায়সুল গামাম'-এর ওপর টীকা লিখার ব্যস্ততা আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছিল। যখন সেই কাজটির সমাপ্তি ঘটল এবং তা সম্পন্ন করা সহজ হলো, তখন আমি এই লুক্কায়িত বিষয়গুলো প্রকাশ করার দিকে মনোনিবেশ করলাম। আর আল্লাহ যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। আমি এই রিসালাটির এমন এক নাম রেখেছি যা এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করে, আর তা হলো:
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الْآثَار المرفوعة فِي الْأَخْبَار الْمَوْضُوعَة راجيا من الله تَعَالَى أَن يَجْعَلهَا وَسَائِر تصانيفي خَالِصَة لوجهه الْكَرِيم بِلُطْفِهِ الْقَدِيم.

ولنقدم مُقَدّمَة تشْتَمل على ذكر أَحَادِيث التَّرْهِيب من الْكَذِب على النَّبِي وَذكر بعض الْقَصَص الْمَوْضُوعَة والحكايات المكذوبة مِمَّا ولع الوعاظ بذكرها فِي مجَالِس وعظهم واعتقد الْعَوام صدقهَا عِنْد سماعهَا عَن قصاصاتهم. وَذكر حكم نقل الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة ورواياتها وَالْعَمَل بهَا ثمَّ نذْكر الْأَحَادِيث الْمَقْصُود ذكرهَا مَعَ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا فِي إيقاظتي، ثمَّ نختم الرسَالَة بخاتمة مُشْتَمِلَة على ذكر كثير من الصَّلَوَات المسطورة فِي كتب المشائخ الثِّقَات مَعَ مَا قيل فِيهَا وَمَا قيل لَهَا.

ثمَّ نذْكر تذنيباً لذكر بعض الْأَحَادِيث الشبيهة بالموضوعة مَعَ إِنَّهَا لَيست بموضوعة بل حَسَنَة أَو صَحِيحَة.
বানোয়াট সংবাদসমূহের মধ্যে মারফু আসারসমূহ; আল্লাহ তাআলার নিকট এই প্রার্থনা করছি যে তিনি এই কিতাব এবং আমার অন্যান্য সকল রচনাকে তাঁর প্রাচীন অনুগ্রহে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য কবুল করেন।

আমরা একটি ভূমিকা পেশ করছি যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদিসসমূহের উল্লেখ থাকবে এবং এমন কিছু বানোয়াট কাহিনী ও মিথ্যা কিচ্ছা-কাহিনীর আলোচনা থাকবে যা ওয়ায়েজগণ তাদের আলোচনার মজলিসে বলতে পছন্দ করেন এবং সাধারণ মানুষ তাদের গল্পকারদের থেকে শোনার পর তা সত্য বলে বিশ্বাস করে নেয়। এছাড়া জাল হাদিস বর্ণনা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার বিধান সম্পর্কেও আলোচনা করা হবে। এরপর আমরা মূল লক্ষ্যভুক্ত হাদিসসমূহ বর্ণনা করব সেগুলোর সপক্ষে ও বিপক্ষে যা কিছু বলা হয়েছে তা সহকারে আমার এই সতর্কবাণীতে। অতঃপর আমরা এই রিসালাহটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত করব যাতে নির্ভরযোগ্য মাশায়েখদের কিতাবসমূহে লিখিত অনেক সালাতের উল্লেখ থাকবে এবং সেগুলোর সপক্ষে ও বিপক্ষে যা বলা হয়েছে তাও বর্ণিত হবে।

অতঃপর আমরা একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করব এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করার জন্য যা দেখতে বানোয়াট মনে হলেও আসলে বানোয়াট নয়, বরং হাসান বা সহিহ।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌حُرْمَة رِوَايَة الحَدِيث الْمَوْضُوع

الْمُقدمَة فِي المطالب المعظمة.

اعْلَم أَنه قد صرح الْفُقَهَاء والمحدثون بأجمعهم فِي كتبهمْ بِأَنَّهُ تحرم رِوَايَة الْمَوْضُوع وَذكره وَنَقله وَالْعَمَل بِمَا فاده مَعَ اعْتِقَاد ثُبُوته إِلَّا مَعَ التَّنْبِيه على أَنه مَوْضُوع وَيحرم التساهل فِيهِ سَوَاء كَانَ فِي الْأَحْكَام والقصص أَو التَّرْغِيب والترهيب أَو غير ذَلِكَ، وَيحرم التَّقْلِيد فِي ذكره وَنَقله إِلَّا مَقْرُونا بِبَيَان وَضعه بِخِلَاف الحَدِيث الضَّعِيف فَإِنَّهُ إِن كَانَ فِي غير الْأَحْكَام يتساهل فِيهِ وَيقبل بِشُرُوط عديدة قد بسطتها فِي تعليقي على رسالتي تحفة الطّلبَة فِي مسح الرَّقَبَة الْمُسَمّى بتحفة الكملة، وَفِي رسالتي الْأَجْوِبَة الفاضلة للأسئلة الْعشْرَة الْكَامِلَة، وصرحوا أَيْضا بِأَن الْكَذِب على النَّبِي من أكبر الْكَبَائِر. بَالغ بعض الشَّافِعِيَّة فَحكم بِكُفْرِهِ، وَذَلِكَ لوُرُود الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة بِأَلْفَاظ مُخْتَلفَة الدَّالَّة على مَا ذَكرْنَاهُ وأشهرها لفظ ((من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] وَله طرق كَثِيرَة حَتَّى قيل أَنه من الْأَحَادِيث المتواترة.

وَقد أوضحت هَذَا الْبَحْث بِمَا لَا مزِيد عَلَيْهِ فِي ظفر الْأَمَانِي فِي الْمُخْتَصر الْمَنْسُوب إِلَى الْجِرْجَانِيّ فِي بحث الْمُتَوَاتر. وفقنا الله لختمه كَمَا وفقنا لبدئه وَلِأَن فسح الله فِي عمري وساعدني قدري لأكمله بعد الْفَرَاغ من تأليف هَذِه الرسَالَة إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

قَالَ على الْقَارِي الْمَكِّيّ فِي كتاب الموضوعات ثُمَّ مِمَّا تَوَاتر عَنهُ عليه الصلاة والسلام معنى وَكَاد أَن يتواتر مبْنى مَا أَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ وَالْحَاكِم
জাল হাদিস বর্ণনার অবৈধতা

সুমহান উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কিত ভূমিকা।

জেনে রাখুন যে, ফকীহ এবং মুহাদ্দিসগণ সকলে সর্বসম্মতভাবে তাঁদের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জাল (মাওজু) হাদিস বর্ণনা করা, তা উল্লেখ করা, নকল করা এবং এর বিষয়বস্তু সত্য মনে করে তার ওপর আমল করা হারাম; তবে এর জাল হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করার বিষয়টি ভিন্ন। চাই তা বিধিবিধান ও কিচ্ছা-কাহিনীতে হোক অথবা উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনে কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে হোক—এ ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন হারাম। আর এর জাল হওয়ার বর্ণনা ব্যতিরেকে তা উল্লেখ ও নকল করার ক্ষেত্রে কারো অনুসরণ (তাকলিদ) করাও হারাম। পক্ষান্তরে জয়িফ (দুর্বল) হাদিসের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা যদি তা বিধিবিধান ব্যতীত অন্য বিষয়ে হয়, তবে সে ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করা হয় এবং তা এমন কিছু শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ করা হয় যা আমি আমার ‘তুহফাতুত ত্বলাবাহ ফি মাসহির রাকাবাহ’ নামক রিসালার টীকাগ্রন্থ ‘তুহফাতুল কামালাহ’ এবং ‘আল-আজউয়িবাতুল ফাদিলাহ লিল আসইলাতিল আশরাতিল কামিলাহ’ নামক রিসালায় সবিস্তারে বর্ণনা করেছি। তাঁরা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ করা কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুতর। কোনো কোনো শাফিঈ আলিম এ ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করে একে কুফরি বলে রায় দিয়েছেন। এর কারণ হলো আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের সপক্ষে বিভিন্ন শব্দে এমন সব সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা আমাদের দাবির প্রমাণ দেয়; যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ বাণী হলো: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।” এর অসংখ্য সূত্র রয়েছে, এমনকি বলা হয়েছে যে এটি মুতাওয়াতির হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আমি এই অনুসন্ধানটি জুরজানির প্রতি নিসবতকৃত সংক্ষিপ্ত কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘জুফরুল আমানি’-এর মুতাওয়াতির সংক্রান্ত আলোচনায় অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করেছি। আল্লাহ যেভাবে আমাদের এটি শুরু করার তাওফিক দিয়েছেন, তদ্রূপ তা সমাপ্ত করারও তাওফিক দান করুন। যদি আল্লাহ আমার আয়ু দীর্ঘ করেন এবং ভাগ্য সহায় হয়, তবে এই রিসালাটি রচনার পর ইনশাআল্লাহ আমি তা পূর্ণ করব।

আলী আল-কারী আল-মাক্কী তাঁর ‘কিতাবুল মাওজুআত’-এ বলেন: অতঃপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির এবং শাব্দিক দিক থেকেও মুতাওয়াতিরের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তা হলো শাইখাইন এবং হাকিম যা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا وَلِلتِّرْمِذِيِّ وَالنِّسَائِيِّ وَابْنِ مَاجَه وَالدَّارقطني عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ: ((مَنْ تَعَمَّدَ عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] . وَلَهُمْ أَيْضًا عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنهُ قَالَ، قَالَ النَّبِي: ((لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَلِجِ النَّارَ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْشَيْخَيْنِ وَالتِّرْمِذِيِّ عَنِ الْمُغِيرِةِ بْنِ شُعْبَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِي يَقُولُ: ((إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ، مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْبُخَارِيُّ وَأَبِي دَاوُدَ وَالنِّسَائِيِّ وَابْنِ مَاجَه وَالدَّارقطني، عَن عبد الله ابْن الزُّبَيْرِ رضي الله عنهما قَالَ، قُلْتُ لِلْزُبَيْرِ إِنِّي لَا أَسْمَعُكَ تحدث عَن رَسُول الله كَمَا يُحَدِّثُ فُلانٌ وَفُلانٌ. قَالَ: أَمَا إِنِّي لَمْ أُفَارِقْهُ مُنْذُ أَسْلَمْتُ، وَلَكِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّار)) ]] ]] ]] ] وَزَاد الدَّارقطني، وَاللَّهِ مَا قَالَ مُتَعَمِّدًا وَأَنْتُمْ تَقولُونَ ((مُتَعَمدا)) ]] ]] ]] ] .

وللبخاري وَالدَّارقطني، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ، قَالَ رَسُول الله: ((مَنْ يَقُلْ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

তাঁদের (বুখারী ও মুসলিম) উভয়ের এবং তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও দারা কুতনীর এক বর্ণনায় আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে অনেক হাদিস বর্ণনা করা থেকে আমাকে যে বিষয়টি বিরত রাখে তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" তাঁদের আরও একটি বর্ণনা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার ওপর মিথ্যা বলবে না, কারণ যে আমার ওপর মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে।"

শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং তিরমিযীর বর্ণনায় মুগীরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা বলা অন্য কারো ওপর মিথ্যা বলার মতো নয়। যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও দারা কুতনীর বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যুবায়েরকে বললাম, আমি আপনাকে অমুক অমুক ব্যক্তির মতো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনি না। তিনি বললেন: জেনে রেখো, আমি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি, কিন্তু আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এবং দারা কুতনী আরও বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর কসম, তিনি 'ইচ্ছাকৃতভাবে' শব্দটি বলেননি, অথচ তোমরা 'ইচ্ছাকৃতভাবে' বলছো।

বুখারী ও দারা কুতনীর বর্ণনায় সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন কিছু বলে যা আমি বলিনি, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وللبخاري وَالتِّرْمِذِيّ وَالدَّارقطني وَالْحَاكِمُ فِي الْمَدْخَلِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ، قَالَ عليه الصلاة والسلام: ((حَدِّثُوا عَنِّي وَلا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَالتِّرْمِذِيِّ، وَصَحَّحَهُ وَابْنِ مَاجَهْ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ، قَالَ عليه الصلاة والسلام: ((مَنْ كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَالدَّارِمِيِّ وَابْنِ مَاجَهْ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ، قَالَ عليه الصلاة والسلام: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلدَّارِمِيِّ وَابْنِ مَاجَهْ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُهُ عليه الصلاة والسلام يَقُول على هَذَا الْمِنْبَرِ: ((إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الْحَدِيثِ عَنِّي فَلا يُقِلُّ إِلا حَقًّا وَصِدْقًا وَمَنْ قَالَ عليَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ مَاجَهْ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ مَرْفُوعًا قَالَ: ((لَا تَكْتُبُوا عَنِّي شَيْئًا سِوَى الْقُرْآنِ مَنْ كَتَبَ شَيْئًا غَيْرَ الْقُرْآنِ فَلْيَمْحُهُ وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلا حَرَجَ، وَحَدِّثُوا عَنِّي وَلا تَكْذِبُوا عليَّ، فَمَنْ كَذَبَ عليَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَبِي يَعْلَى وَالْعُقَيْلِيِّ وَالطَّبَرَانِيِّ فِي الأَوْسَطِ، عَنْ أبي بكر الصّديق
বুখারি, তিরমিজি, দারাকুতনি এবং হাকিম ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো এবং আমার নামে মিথ্যা বলো না; কারণ যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল গ্রহণ করে।)) ]] ]] ]] ] .

আহমাদ এবং তিরমিজি—যিনি এটিকে সহিহ বলেছেন—এবং ইবনে মাজাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল গ্রহণ করে।)) ]] ]] ]] ] .

আহমাদ, দারিমি এবং ইবনে মাজাহ জাবির (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল গ্রহণ করে।)) ]] ]] ]] ] .

দারিমি এবং ইবনে মাজাহ আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: ((তোমরা আমার পক্ষ থেকে অধিক হাদিস বর্ণনা করা থেকে সতর্ক থাকো। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কিছু বর্ণনা করে সে যেন কেবল সত্য ও সঠিক কথাই বলে। আর যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল গ্রহণ করে।)) ]] ]] ]] ] .

ইবনে মাজাহ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ((তোমরা কুরআন ব্যতীত আমার পক্ষ থেকে অন্য কিছু লিখো না। যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। আর তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। তবে তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো এবং আমার নামে মিথ্যা বলো না; কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল গ্রহণ করে।)) ]] ]] ]] ] .

আবু ইয়ালা, উকাইলি এবং তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا أَوْ رَدَّ شَيْئًا أَمَرْتُ بِهِ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا فِي جَهَنَّمَ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَأَبِي يَعْلَى، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَهُوَ فِي النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَالْبَزَّارِ وَأبي يعلى وَالدَّارقطني وَالْحَاكِمِ فِي الْمَدْخَلِ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَا يَمْنَعُنِي أَنْ أحدث عَن رَسُول الله أَنْ لَا أَكُونَ أَوْعَى أَصْحَابِهِ عَنْهُ وَلَكِنِّي أَشْهَدُ إِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ: ((مَنْ قَالَ عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا فِي النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَبِي يَعْلَى وَالطَّبَرَانِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدٍ اللَّهِ مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] .

وللبزار وَأبي يعلى وَالدَّارقطني وَالْحَاكِمِ فِي ((الْمَدْخَلِ)) ]] ]] ]] ] عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نوفيل رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام قَالَ: ((إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَهَنَّادِ بْنِ السَّرِيِّ فِي الزُّهْدِ وَالْبَزَّارِ وَالطَّبَرَانِيِّ وَالْحَاكِمِ فِي ((الْمَدْخَلِ)) ]] ]] ]] ] عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما مَرْفُوعًا ((إِنَّ الَّذِي يَكْذِبُ عَلَيَّ يُبْنَى لَهُ بَيْتٌ فِي النَّار)) ]] ]] ]] ] .
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, মারফু সূত্রে বর্ণিত: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে অথবা আমি যা নির্দেশ দিয়েছি তা প্রত্যাখ্যান করে, সে যেন জাহান্নামে তার জন্য একটি ঘর নির্ধারণ করে নেয়)) ]] ]] ]] ] .

আহমদ ও আবু ইয়া’লা ওমর (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ((যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে জাহান্নামে যাবে)) ]] ]] ]] ] .

আহমদ, বাযযার, আবু ইয়া’লা, দারাকুতনী এবং আল-হাকিম ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করা থেকে আমাকে যা বাধা দেয় তা এমন নয় যে আমি তাঁর সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদীস সংরক্ষণকারী নই, বরং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা কথা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার জন্য একটি ঘর নির্ধারণ করে নেয়)) ]] ]] ]] ] .

আবু ইয়া’লা ও তাবারানি তালহা বিন উবাইদুল্লাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়)) ]] ]] ]] ] .

বাযযার, আবু ইয়া’লা, দারাকুতনী এবং আল-হাকিম ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে সাঈদ বিন যাইদ বিন আমর বিন নুফাইল (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যাচার করা অন্য কারো ওপর মিথ্যাচারের মতো নয়; যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়)) ]] ]] ]] ] .

আহমদ, হান্নাদ বিন সারী ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে, বাযযার, তাবারানি এবং আল-হাকিম ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ((নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়)) ]] ]] ]] ] .
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلأَحْمَدَ وَالْحَارِثِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ فِي ((مُسْنَدِهِ)) ]] ]] ]] ] وَالطَّبَرَانِيِّ عَنْ مُعَاوِيَةَ ابْن أبي سُفْيَانَ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: ((من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وْالْبَزَّارِ وَأَبِي يَعْلَى وَالطَّبَرَانِيِّ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَرْفُطَةَ مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا وَفِي رِوَايَةٍ مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَالْحَارِثِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ وَالْبَزَّارِ وَالطَّبَرَانِيِّ وَالْحَاكِمِ فِي ((الْمَدْخَلِ)) ]] ]] ]] ] عَنِ يَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّ أَبَا مُوسَى الْغَافَقِيَّ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ رضي الله عنه يُحَدِّثُ عَلَى الْمِنْبَرِ عَنْ رَسُول الله أَحَادِيثَ فَقَالَ أَبُو مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ إِنَّ صَاحِبَكُمْ هَذَا لَحَافِظٌ أَوْ هَالِكٌ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام كَانَ آخِرَ مَا عَهِدَهُ إِلَيْنَا أَنْ قَالَ: ((عَلَيْكُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ وَسَتَرْجِعُونَ إِلَى قَوْمٍ يُحِبُّونَ الْحَدِيثَ عَنِّي فَمَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ حَفِظَ شَيْئًا فَلْيُحَدِّثْ بِهِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَأَبِي يَعْلَى وَالطَّبَرَانِيِّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَحْمَدَ وَالْبَزَّارِ وَالطَّبَرَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرقم مَرْفُوعا: ((من كذب عل مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] .
আহমাদ, হারিস ইবনে আবি উসামা তাঁর মুসনাদে এবং তাবারানি মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামের আগুনে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" .

আহমাদ, বাযযার, আবু ইয়ালা এবং তাবারানি খালিদ ইবনে আরফাতা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল—এবং অন্য এক বর্ণনায়: যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলল যা আমি বলিনি—সে যেন জাহান্নামের আগুনে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" .

আহমাদ, হারিস ইবনে আবি উসামা, বাযযার, তাবারানি এবং হাকিম 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে মাইমুন আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা আল-গাফিকি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনলেন। তখন আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "তোমাদের এই সাথী কি (হাদিস) সংরক্ষণকারী নাকি ধ্বংসপ্রাপ্ত? নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট সর্বশেষ যে নির্দেশটি প্রদান করেছিলেন তা হলো: তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো। অচিরেই তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদিস শুনতে পছন্দ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু বলল যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামের আগুনে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি যা (সঠিকভাবে) মুখস্থ রেখেছে, সে যেন তা বর্ণনা করে।" .

আহমাদ, আবু ইয়ালা এবং তাবারানি উকবা ইবনে আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামের আগুনে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" .

আহমাদ, বাযযার এবং তাবারানি যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামের আগুনে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" .
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَلأَحْمَدَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ الأَنْصَارِيِّ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَضْجَعًا مِنَ النَّارِ أَوْ بَيْتًا فِي جَهَنَّمَ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْبَزَّارِ وَالْعُقَيْلِيِّ فِي الضُّعَفَاءِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْطَبَرَانِيِّ فِي الأَوْسَطِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن عَمْرو رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ إِنَّ رَجُلا لَبِسَ حُلَّةً مِثْلَ حُلَّةِ النَّبِي ثُمَّ أَتَى أَهْلَ بَيْتٍ مِنَ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: إِنَّهُ عليه الصلاة والسلام أَمَرَنِي أَيَّ أَهْلِ بَيْتٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ شِئْتُ اسْتَطْلَعْتُ فَأَعَدُّوا لَهُ بَيْتًا وَأَرْسَلُوا رَسُولا إِلَى رَسُول الله فَأَخْبِرُوهُ فَقَالَ لأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا: انْطَلِقَا إِلَيْهِ فَإِنْ وَجَدْتُمَاهُ فَاقْتِلاهُ ثُمَّ حَرِّقَاهُ بِالنَّارِ وَإِنْ وَجَدْتُمَاهُ قَدْ كُفِيتُمَاهُ وَلا أَرَاكُمَا إِلا وَقَدْ كُفِيتُمَاهُ فَحَرِّقَاهُ بِالنَّارِ)) ]] ]] ]] ] فَأَتَيَاهُ فَوَجَدَاهُ قَدْ خَرَجَ مِنَ اللَّيْلِ يَبُولُ فَلَدَغَتْهُ حَيَّةٌ أَفْعَى فَمَاتَ فَحَرَّقَاهُ بالنَّار، ثمَّ رجعا إِلَيْهِ فَأَخْبَرَاهُ، فَقَالَ عليه الصلاة والسلام: ((من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ عَدِيٍّ فِي الْكَامِلِ عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: كَانَ حَيٌّ مِنْ بَنِي لَيْثٍ عَلَى مَيْلَيْنِ مِنَ الْمَدِينَةِ وَكَانَ رَجُلٌ قَدْ خَطَبَ مِنْهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمْ يُزَوِّجُوهُ فَأَتَاهُمْ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ فَقَالَ إِن رَسُول الله كَسَانِي هَذِهِ الْحُلَّةَ وَأَمَرَنِي أَنْ أَحْكُمَ فِي أَمْوَالِكُمْ وَدِمَائِكُمْ، ثُمَّ انْطَلَقَ فَنَزَلَ عَلَى تِلْكَ الْمَرْأَةِ الَّتِي كَانَ خَطَبَهَا فَأَرْسَلَ الْقَوْمَ رَسُولا إِلَى رَسُول الله فَقَالَ: ((كَذَبَ عَدُوُّ اللَّهِ)) ]] ]] ]] ] ثُمَّ أَرْسَلَ رَجُلا فَقَالَ: ((إِنْ وَجَدْتَهُ حَيًّا فَاضْرِبْ عُنُقَهُ وَإِنْ وَجَدْتَهُ مَيِّتًا فَاحْرِقْهُ، فَوَجَدَهُ قَدْ لَدَغَتْهُ أَفْعَى فَمَاتَ، فَحَرَّقَهُ بِالنَّارِ فَذَلِكَ قَوْله: ((من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] .
ইমাম আহমাদ কায়স ইবনে সাদ ইবনে উবাদাহ আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের শয্যায় অথবা জাহান্নামের কোনো ঘরে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

আল-বাযযার এবং আদ-দুয়াফা গ্রন্থে আল-উকায়লী ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

আত-তাবারানী 'আল-আওসাত' গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাদরের মতো একটি চাদর পরিধান করে মদিনার একটি পরিবারের কাছে এসে বলল: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আদেশ করেছেন যে, মদিনার যে কোনো পরিবারের ব্যাপারে আমি খবর নিতে চাইলে যেন তা করি। তখন তারা তার জন্য একটি ঘর প্রস্তুত করল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একজন সংবাদবাহক পাঠিয়ে বিষয়টি জানালো। তিনি আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা)-কে বললেন: "তোমরা দুজন তার কাছে যাও; যদি তাকে পাও তবে তাকে হত্যা করো এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে দাও। আর যদি তাকে এমন অবস্থায় পাও যে তোমাদের আগেই তার কাজ সারা হয়ে গেছে (অর্থাৎ সে মারা গেছে), আর আমি মনে করি সে ইতিপূর্বেই মারা গেছে, তবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে দাও।" অতঃপর তাঁরা তার কাছে আসলেন এবং দেখতে পেলেন যে, সে রাতে প্রস্রাব করতে বেরিয়েছিল এবং তাকে একটি বিষধর সাপ দংশন করেছে ফলে সে মারা গেছে। তখন তাঁরা তাকে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে বুরাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনা থেকে দুই মাইল দূরে বনু লাইস গোত্রের একটি জনবসতি ছিল। জাহেলিয়াত যুগে এক ব্যক্তি তাদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু তারা তাকে বিয়ে করায়নি। এরপর সে চাদর পরিহিত অবস্থায় তাদের কাছে আসলো এবং বলল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এই চাদরটি পরিয়েছেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও প্রাণের ব্যাপারে ফয়সালা করার আদেশ দিয়েছেন। এরপর সে গিয়ে সেই মহিলার বাড়িতে উঠল যার কাছে সে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন গোত্রের লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একজন সংবাদবাহক পাঠালো। তিনি বললেন: "আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে।" অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে পাঠালেন এবং বললেন: "যদি তাকে জীবিত পাও তবে তার গর্দান উড়িয়ে দাও, আর যদি তাকে মৃত পাও তবে তাকে পুড়িয়ে দাও।" সে গিয়ে দেখল যে তাকে এক বিষধর সাপ দংশন করেছে এবং সে মারা গেছে। তখন সে তাকে আগুনে পুড়িয়ে দিল। আর এটাই হলো তাঁর সেই বাণীর প্রেক্ষাপট: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَلِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ بْنِ الْحَنَفِيَّةَ رضي الله عنه قَالَ: انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي إِلَى صِهْرٍ لَنَا مَنْ أَسْلَمَ من أَصْحَاب النَّبِي فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: ((أَرِحْنَا بِهَا يَا بِلالُ)) ]] ]] ]] ] يَعْنِي الصَّلاةَ قُلْتُ: أَسَمِعْتَ ذَا من رَسُول الله، فَغَضِبَ وَأَقْبَلَ يُحَدِّثَهُمْ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام بَعَثَ رَجُلا إِلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ، فَلَمَّا أَتَاهُمْ قَالَ: أَمَرَنِي عليه الصلاة والسلام أَنْ أَحْكُمَ فِي نِسَائِكُمْ بِمَا شِئْتُ، فَقَالُوا سَمْعًا وَطَاعَةً لأمر رَسُول الله وَبَعَثُوا رُسُلا إِلَيْهِ عليه الصلاة والسلام، فَقَالَ: إِنَّ فُلانًا جَاءَنَا فَقَالَ إِن رَسُول الله أَمَرَنِي أَنْ أَحْكُمَ فِي نِسَائِكُمْ فَإِنْ كَانَ مِنْ أَمْرِكَ فَسَمْعًا وَطَاعَةً وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ فَأَحْبَبْنَا أَنْ نُعْلِمُكَ فَغِضَبَ عليه الصلاة والسلام، وَبَعَثَ رَجُلا مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ: اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ أَوِ احْرِقْهُ بِالنَّارِ فَانْتَهَى إِلَيْهِ وَقَدْ مَاتَ وَقُبِرَ فَأَمَرَ بِهِ فَنُبِشَ ثُمَّ أَحْرَقَهُ بِالنَّارِ، ثُمَّ قَالَ، قَالَ رَسُول الله: ((من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] فَقَالَ: ((أَتَرَى إِنِّي كَذِبْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ بَعْدَ هَذَا

وَلِلطَّبَرَانِيِّ فِي الأَوْسَطِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَالْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا رَفَعَاهُ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: ((مَنْ كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْطَبَرَانِيِّ فِي ((الأَوْسَطِ)) ]] ]] ]] ] عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] .
তাবারানিতে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার সাথে আমাদের এক বৈবাহিক আত্মীয়ের কাছে গেলাম যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ((হে বিলাল! সালাতের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও)) অর্থাৎ সালাত। আমি বললাম: আপনি কি এটি রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে শুনেছেন? এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং তাদের কাছে বর্ণনা করতে শুরু করলেন যে, তিনি (নবী) আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এক ব্যক্তিকে আরবদের একটি গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সে যখন তাদের কাছে পৌঁছাল, তখন বলল: নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদের নারীদের ব্যাপারে যা ইচ্ছা ফয়সালা করি। তারা বলল: আমরা রাসূলুল্লাহর নির্দেশের প্রতি শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম। অতঃপর তারা তাঁর (নবী) আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কাছে দূত পাঠাল এবং বলল: অমুক ব্যক্তি আমাদের কাছে এসে বলেছে যে, রাসূলুল্লাহ তাকে আমাদের নারীদের ব্যাপারে ফয়সালা করার আদেশ দিয়েছেন। যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে আমরা শুনলাম ও মানলাম। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে আমরা আপনাকে বিষয়টি জানানোই পছন্দ করলাম। এতে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম রাগান্বিত হলেন এবং আনসারদের মধ্য থেকে একজনকে পাঠিয়ে বললেন: যাও, তাকে হত্যা করো অথবা আগুনে পুড়িয়ে দাও। আনসারি সাহাবী সেখানে পৌঁছে দেখলেন যে সে মারা গেছে এবং তাকে কবর দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি নির্দেশ দিলেন, ফলে তাকে কবর থেকে তোলা হলো এবং তিনি তাকে আগুনে পুড়িয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়))। এরপর তিনি বললেন: ((তুমি কি মনে করো যে এরপরও আমি রাসূলুল্লাহর ওপর মিথ্যা বলব?))

তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ জায়েদ ইবনে আরকাম এবং বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়))।

তাবারানিতে আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়))।

তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়))।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَلِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ الْجُهَنِيِّ بِهَذَا اللَّفْظِ، وَكَذَا لِلطَّبَرَانِيِّ فِي الصَّغِيرِ عَنْ نُبَيْطِ بْنِ شَرِيطٍ. وَكَذَا لِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ. وَكَذَا لَهُ عَنْ عَمْرو بن عبسة. وَكَذَا عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ. وَكَذَا لَهُ وَللِدَّارِمِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، وَكَذَا لَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ غَزْوَانَ وَكَذَا لَهُ وَابْنُ عَدِيٍّ عَنِ الْعُرْسِ بْنِ عُمَيْرَةَ، وَكَذَا لَهُ وَللِدَّارِمِيِّ عَنْ يَعْلَى بْنِ مُرَّةَ، وَكَذَا لَهُ وَلِلْبَزَّارِ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ عَنْ أَبِيهِ وَاسْمُهُ طَارِقُ بْنُ أَيْشَمٍ، وَلَهُ وَلأَبِي نُعَيْمٍ وَالإِسْمَاعِيلِيِّ مِنْ ((مُعْجَمِهِ)) ]] ]] ]] ] عَنْ سلمَان بْنِ خَالِدٍ الْخُزَاعِيِّ مَرْفُوعًا بِلَفْظِ: ((من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ بَيْتا فِي النَّار)) ]] ]] ]] ] .
এবং আত-তাবারানির বর্ণনায় আমর ইবন মুররাহ আল-জুহানি থেকে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে, এবং অনুরূপভাবে আত-তাবারানির ‘আস-সাগীর’-এ নুবাইত ইবন শারীত থেকে। অনুরূপভাবে আত-তাবারানির বর্ণনায় আম্মার ইবন ইয়াসির থেকে। অনুরূপভাবে তাঁর বর্ণনায় আমর ইবন আবাসা থেকে। অনুরূপভাবে আমর ইবন হুরাইস থেকে। অনুরূপভাবে তাঁর এবং আদ-দারিমির বর্ণনায় ইবন আব্বাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে, এবং অনুরূপভাবে তাঁর বর্ণনায় উকবাহ ইবন গাজওয়ান থেকে। অনুরূপভাবে তাঁর ও ইবন আদির বর্ণনায় আল-উর্স ইবন উমাইরাহ থেকে, এবং অনুরূপভাবে তাঁর ও আদ-দারিমির বর্ণনায় ইয়ালা ইবন মুররাহ থেকে। অনুরূপভাবে তাঁর ও আল-বাযযারের বর্ণনায় আবু মালিক আল-আশজায়ি থেকে তাঁর পিতা—যার নাম তারিক ইবন আইশাম—তার সূত্রে বর্ণিত। এবং তাঁর নিকট এবং আবু নুআইম ও আল-ইসমাঈলির ‘মুজাম’ গ্রন্থ থেকে সালমান ইবন খালিদ আল-খুজায়ি থেকে মারফু হিসেবে এই শব্দে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে একটি ঘর বানিয়ে নেয়।”
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَلِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ إِنَّ بَنِي صُهَيْبٍ قَالُوا لِصُهَيْبٍ: يَا أَبَانَا أَبنَاء أَصْحَاب النَّبِي يُحَدِّثُونَ عَنْ آبَائِهِمْ، فَقَالَ: سَمِعْتُ النَّبِي يَقُولُ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْطَبَرَانِيِّ بِهَذَا اللَّفْظِ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ وَلَهُ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ بِلَفْظِ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار بَيْنَ عَيْنَيْ جَهَنَّمَ)) ]] ]] ]] ] وَلَهُ عَنْ أَبِي قِرْصَافَةَ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام قَالَ: ((حَدِّثُوا عَنِّي بِمَا تَسْمَعُونَ وَلا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَكْذِبَ عَلَيَّ فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ أَوْ قَالَ عَلَيَّ غَيْرَ مَا قُلْتُ يُبْنَى لَهُ بَيْتٌ فِي جَهَنَّمَ يُوقَعُ فِيهِ)) ]] ]] ]] ] . وَلَهُ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ مَرْفُوعًا: ((لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ لَيْسَ كَذِبٌ عَلَيَّ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ)) ]] ]] ]] ] . وَلَهُ عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ الثَّقَفِيِّ مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَى نَبِيِّهِ أَوْ عَلَى عَيْنَيْهِ أَوْ عَلَى وَالِدَيْهِ لَمْ يَرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ)) ]] ]] ]] ] . وَلَهُ فِي الأَوْسَطِ عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ: ((لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ إِنَّ الَّذِي يَكْذِبُ عَلَيَّ لَجَرِيءٌ)) ]] ]] ]] ] .
তাবারানিতে আমর ইবনে দীনার (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত যে, সুহাইব-এর বংশধরগণ সুহাইবকে বললেন: হে আমাদের পিতা, নবীজীর সাহাবীগণের সন্তানগণ তাঁদের পিতাদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। তখন তিনি বললেন: আমি নবীজীকে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়))।

এবং তাবারানিতে সায়িব ইবনে ইয়াযিদ থেকে এই শব্দেই বর্ণিত হয়েছে। এবং আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে বর্ণিত শব্দ নিম্নরূপ: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামের দুই চোখের মাঝখানে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়))। এবং আবু কিরসাফাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: ((তোমরা আমার থেকে যা শোনো তা বর্ণনা করো এবং কোনো ব্যক্তির জন্য আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা বৈধ নয়। অতএব যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা বলবে কিংবা আমি যা বলিনি তা আমার নামে বলবে, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে যাতে তাকে নিক্ষেপ করা হবে))। এবং রাফি ইবনে খাদিজ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: ((তোমরা আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না, কারণ আমার ওপর মিথ্যা বলা অন্য কারো ওপর মিথ্যা বলার মতো নয়))। এবং আওস ইবনে আওস আস-সাকাফি থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: ((যে ব্যক্তি তার নবীর নামে মিথ্যা বলবে, অথবা তার দুই চোখের নামে মিথ্যা বলবে, কিংবা তার পিতা-মাতার নামে মিথ্যা বলবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না))। এবং তাবারানি তার ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন: ((তোমরা আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে সে অত্যন্ত ধৃষ্ট))।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولَهُ فِي الأَوْسَطِ عَنْ أَبِي خَلْدَةَ قَالَ: سَمِعْتُ مَيْمُونَ الْكُرْدِيَّ وَهُوَ عِنْدَ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ رضي الله عنه فَقَالَ لَهُ مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ: مَا لِلشَّيْخِ لَا يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ فَإِنَّ أَبَاك قد أدْرك النَّبِي وَسَمِعَ مِنْهُ فَقَالَ: كَانَ أَبِي لَا يحدثنا عَنهُ مَخَافَةَ أَنْ يَزِيدَ أَوْ يَنْقُصَ فِي الْكَلامِ وَقَالَ سَمِعْتُهُ عليه الصلاة والسلام يَقُولُ: ((مَنْ كَذَبَ عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّارِ)) ]] ]] ]] ] . وَلَهُ عَنْ سَعْدِ بْنِ الْمِدْحَاسِ عَنْهُ عليه الصلاة والسلام ((مَنْ عَلِمَ شَيْئًا فَلا يَكْتُمُهُ وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتَا فِي جَهَنَّمَ)) ]] ]] ]] ] .

وَلأَبِي مُحَمَّدٍ الرَّامَهُرْمُزِيِّ فِي كتاب ((الْمُحدث الْفَاصِل)) ]] ]] ]] ] عَنْ مَالِكِ بْنِ عَتَاهِيَةَ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام عَهِدَ إِلَيْنَا فِي حُجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ: عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ وَسَتَرْجِعُونَ إِلَى أَقْوَامٍ يُحَدِّثُونَ عَنِّي فَمَنْ عَقَلَ شَيْئًا فَلْيُحَدِّثْ بِهِ وَمَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا فِي جَهَنَّم.

وللطبراني والرامهرمزي عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: مَرَّ علينا رَسُول الله يَوْمًا وَنَحْنُ نَتَحَدَّثُ فَقَالَ: مَا تُحَدِّثُونَ.؟ فَقَالُوا: سَمِعْنَا مِنْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: ((تَحَدَّثُوا وَلْيَتَبَوَّأْ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مَقْعَدَهُ مِنْ جَهَنَّمَ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ سَعْدٍ وَالطَّبَرَانِيِّ عَنِ الْمُقَنَّعِ التَّمِيمِيِّ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ بِصَدقَة إبلنا، فَأمر بهَا فقبضة، فَقُلْتُ إِنَّ فِيهَا نَاقَتَيْنِ هَدِيَّةٌ لَكَ فَأَمَرَ بِعَزْلِ الْهَدِيَّةِ مِنَ الصَّدَقَةِ فَمَكَثْتُ أَيَّامًا وَخَاضَ النَّاسُ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام بَاعِثُ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ إِلَى رَقِيقِ مُضَرٍ يُصَدِّقُهُمْ فَقُلْتُ وَاللَّهِ مَا عِنْد أهلنا من مَال
এবং আল-আওসাতে তাঁর (তাবারানির) বর্ণিত আছে, আবু খালদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মায়মুন আল-কুর্দিকে মালেক বিন দিনার (রা.)-এর নিকট থাকাকালীন বলতে শুনেছি যে, মালেক বিন দিনার তাঁকে বললেন: "শায়েখের কী হলো যে তিনি তাঁর পিতা থেকে হাদীস বর্ণনা করেন না? অথচ আপনার পিতা নবী (সা.)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং তাঁর থেকে শুনেছিলেন।" তিনি বললেন: "আমার পিতা কথা বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার ভয়ে আমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন না এবং তিনি বলতেন, আমি তাঁকে (সা.) বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।'" এবং তাঁর (তাবারানির) বর্ণনায় সাদ বিন আল-মিদহাস থেকে নবী (সা.) হতে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি কোনো কিছু জানে সে যেন তা গোপন না করে, আর যে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামে একটি ঘর বানিয়ে নেয়।"

এবং আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি তাঁর 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' গ্রন্থে মালেক বিন আতাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বিদায় হজ্জের সময় আমাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। অচিরেই তোমরা এমন সব কওমের কাছে ফিরে যাবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি যা হৃদয়ঙ্গম করবে তা যেন বর্ণনা করে, আর যে আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে একটি ঘর বানিয়ে নেয়।"

এবং তাবারানি ও রামাহুরমুজি রাফে বিন খাদীজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমরা আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন: "তোমরা কী বিষয়ে আলোচনা করছ?" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার থেকে যা শুনেছি (তা নিয়ে আলোচনা করছি)।" তিনি বললেন: "তোমরা আলোচনা করো; তবে যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

এবং ইবনে সাদ ও তাবারানির বর্ণনায় মুকান্না আত-তামিমি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমাদের উটের যাকাত নিয়ে নবী (সা.)-এর কাছে এলাম। তিনি তা গ্রহণের নির্দেশ দিলেন এবং তা কবজ করা হলো। তখন আমি বললাম, এর মধ্যে দুটি উট আপনার জন্য উপহার। ফলে তিনি যাকাত থেকে উপহার আলাদা করার নির্দেশ দিলেন। আমি কয়েক দিন অবস্থান করলাম এবং মানুষ এই আলোচনা করছিল যে, নবী (সা.) খালেদ বিন ওয়ালীদকে মুদার গোত্রের দাসদের কাছে তাদের যাকাত সংগ্রহের জন্য পাঠাবেন। তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমাদের পরিবারে কোনো সম্পদ নেই...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
فَأَتَيْتُهُ عليه الصلاة والسلام، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّ النَّاسَ خَاضُوا فِي كَذَا، فَرفع النَّبِي حَتَّى نَظَرْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ فَقَالَ ((اللَّهُمَّ لَا أُحِلُّ لَهُمْ أَنْ يَكْذِبُوا عَلَيَّ)) ]] ]] ]] ] . قَالَ الْمُقَنَّعُ: فَلَمْ أُحَدِّثْ بِحَدِيثٍ عَنْهُ عليه الصلاة والسلام إِلا حَدِيثٍ نَطَقَ بِهِ كِتَابٌ أَو جَرَتْ بِهِ سُنَّةٌ يَكْذِبُ عَلَيْهِ فِي حَيَاتِهِ فَكَيْفَ بعد مماته؟

وللدار قطني، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: كُنَّا عِنْد رَسُول الله فجَاء رجل فَقَالَ: يَا رَسُول الله إِن النَّاس يحدثُونَ عَنْك كَذَا وَكَذَا مَا قلته. ((مَا أَقُولُ إِلا مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَيْحَكُمْ لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ لَيْسَ كَذِبٌ عَلَيَّ كَكَذِبٌ عَلَى غَيْرِي)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْبَزَّارِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما مَرْفُوعًا مَنْ أَفْرَى الْفِرْيِ مَنْ أَرَى عَيْنَيْهِ مَا لَمْ تَرَ وَمَنْ أَفْرَى الْفَرْيِ مَنْ قَالَ عَليّ مَا لَمْ أَقُلْ.

وَلِلْعُقَيْلِيِّ فِي كِتَابِ الضُّعَفَاءِ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ الأَنْمَارِيِّ رضي الله عنه بِلَفْظِ: من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ. وَلِلْعَقِيلِيِّ عَنْ غَزْوَانَ رضي الله عنه بِهَذَا اللَّفْظِ، وَلَهُ وَلِلطَّبَرَانِيِّ فِي الإِفْرَادِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ: مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ جَهَنَّمَ.

وَلابْنِ عَسَاكِرٍ فِي تَارِيخِهِ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: ((إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ مَا لَمْ أَقُلْ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ عَدِيٍّ وَالْحَاكِمِ فِي الْمَدْخَلِ مِنْ طَرِيقٍ آخَرَ، عَنْ وَاثِلَة بن الْأَسْقَع
অতঃপর আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট আসলাম এবং তাঁকে বললাম: মানুষ এই এই বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) [হাত] উঠালেন এমনকি আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমি তাদের জন্য আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করাকে বৈধ করি না।" মুকান্না বলেন: আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করি না যা কিতাব (কুরআন) ব্যক্ত করেনি অথবা যা সুন্নাহ অনুযায়ী প্রচলিত নয়। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা হয়েছে, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর কেমন হবে?

দারা কুতনীতে রাফি বিন খাদীজ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর নিকট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ আপনার পক্ষ থেকে এই এই বর্ণনা করছে যা আপনি বলেননি। [তখন তিনি বললেন:] "আকাশ থেকে যা নাযিল হয় আমি তা ছাড়া কিছু বলি না। তোমাদের জন্য আক্ষেপ! তোমরা আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না। কারণ আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়।"

বাযযারে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের চোখকে এমন কিছু দেখায় যা সে দেখেনি এবং সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো সেই ব্যক্তি যে আমার সম্পর্কে এমন কিছু বলে যা আমি বলিনি।"

উকাইলীর 'কিতাবুদ দুয়াফা'-তে আবু কাবশাহ আল-আনমারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই শব্দে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" উকাইলীতে গাযওয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও এই শব্দে বর্ণিত। উকাইলী এবং তাবারানীর 'আল-ইফরাদ'-এ আবু রাফি থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।"

ইবনে আসাকিরের 'তারিখ'-এ ওয়াসিলা বিন আসকা' (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই অন্যতম কবিরা গুনাহ হলো কোনো ব্যক্তির এমন কিছু বলা যা আমি বলিনি।"

ইবনে আদি এবং হাকিমের 'আল-মাদখাল'-এ অন্য সূত্রে ওয়াসিলা বিন আসকা' থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
مَرْفُوعًا: ((إِنَّ مِنْ أَفْرَى الْفَرْيِ مَنْ قَوَّلَنِي مَا لَمْ أَقُلْهُ أَوْ أَرَى عَيْنَيْهِ فِي الْمَنَامِ مَا لَمْ تَرَ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْخَطِيبِ فِي تَارِيخِهِ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَلَفْظِهِ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْطَبَرَانِيِّ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ بِلَفْظِ: ((مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْحَاكِمِ فِي الْمَدْخَلِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا.

وَلِلْحَاكِمِ فِي الْمَدْخَلِ عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلْ مِنْهُ صَرْفٌ وَلا عَدْلٌ)) ]] ]] ]] ] . وَلَهُ أَيْضًا فِي الْمَدْخَلِ عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] . وَلِلْحَاكِمِ فِي الْمَدْخَلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنهُ وَلَفظه: ((مَنْ حَدَّثَ عَنِّي كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلبَزَّارِ وَابْنِ عَدِيٍّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ مَرْفُوعًا، ((ثَلاثَةٌ لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ رَجُلٌ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَرَجُلٌ كَذَبَ عَلَى نَبِيِّهِ وَرَجُلٌ كَذَبَ على عَيْنَيْهِ)) ]] ]] ]] ] .
মারফু হিসেবে বর্ণিত: ((নিশ্চয়ই চরম মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত হলো—কেউ আমার প্রতি এমন কথা আরোপ করা যা আমি বলিনি, অথবা স্বপ্নে তার চোখকে এমন কিছু দেখানো যা সে দেখেনি))।

এবং খতিব তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে নুমান ইবনে বশির থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দাবলি হলো: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়))।

এবং তাবারানি উসামা ইবনে যায়িদ (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ((যে ব্যক্তি আমার প্রতি এমন কিছু বলে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়))।

এবং হাকেম তাঁর ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তার ওপর মহান আল্লাহর ক্রোধ অত্যন্ত কঠোর হয়।

এবং হাকেম তাঁর ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে বাহয ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করা হবে না))। এবং তাঁর (হাকেম) ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকেও বর্ণিত আছে: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়))। এবং হাকেম তাঁর ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দাবলি হলো: ((যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা বর্ণনা করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়))।

এবং বাযযার ও ইবনে আদি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ((তিন ব্যক্তি জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না: যে ব্যক্তি নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, যে ব্যক্তি তার নবীর ওপর মিথ্যা আরোপ করে এবং যে ব্যক্তি তার চোখের ওপর মিথ্যা আরোপ করে (অর্থাৎ মিথ্যা স্বপ্নের দাবি করে)))।
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَلأَحْمَدَ وَهَنَّادِ وَالْحَاكِمِ فِي مُسْتَدْرَكِهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ بِلَفْظِ: ((مَنْ تَقَوَّلَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] وَفِي لَفْظٍ: ((بَيْتًا فِي جَهَنَّمَ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ صَاعَدٍ فِي جَمْعَهِ لِطُرِقِ هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ وَلَفْظُهُ: ((مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلِلْخَطِيبِ فِي التَّارِيخِ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ رضي الله عنه بِلَفْظِ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ عَدِيٍّ، عَنْ صُهَيْبٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ وَلَفْظُهُ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ كُلِّفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَقْعُدَ بَيْنَ شَعِيرَتَيْنِ)) ]] ]] ]] ] فَذَلِكَ الَّذِي يَعْنِي مِنَ الْحَدِيثِ وَكَذَا الدَّارَقُطْنِيُّ فِي الإِفْرَادِ.

وَالْخَطِيبِ فِي التَّارِيخ، عَن سلمَان الْفَارِسِيِّ رضي الله عنه، وَكَذَا لابْنِ الْجَوْزِيِّ، وَالْحَافِظِ يُوسُفَ بْنِ خَلِيلٍ فِي جَمْعِهِ لِطُرُقِ هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ، وَكَذَا لابْنِ صَاعِدٍ وَغَيْرِهِ عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أُسَيْدٍ رضي الله عنه، وَلابْنِ عَدِيٍّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: ((مَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ وَعَلَى مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ قَانِعٍ فِي ((مُعْجَمِهِ)) ]] ]] ]] ] عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنه: ((مَنْ تَقَوَّلَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] وَذَلِكَ أَنَّهُ بَعَثَ رَجُلا فِي حَاجَةٍ. فَكَذَبَ عَلَيْهِ، فَدَعَا عَلَيْهِ فَوُجِدَ مَيِّتًا قَدِ انْشَقَّ بَطْنه وَلم تقبله الأَرْض.

وللدار قطني وَابْنِ الْجَوْزِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ. وَلابْنِ الْجَوْزِيِّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ الله تَعَالَى عَنْهُمَا أَنه قَالَ يَوْمًا
ইমাম আহমাদ, হান্নাদ এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক'-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো: "যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" অন্য এক শব্দবিন্যাসে রয়েছে: "জাহান্নামে একটি ঘর।"

এবং ইবনে সাঈদ এই হাদিসের সূত্রসমূহ সংকলনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো: "যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

এবং খতিব তাঁর 'তারিখ'-এ আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

এবং ইবনে আদি সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, তাকে কিয়ামতের দিন দুটি যবের দানার মাঝখানে বসতে বাধ্য করা হবে।" হাদিসের উদ্দেশ্য এটাই। অনুরূপভাবে দারা কুতনী তাঁর 'আল-ইফরাদ'-এ বর্ণনা করেছেন।

এবং খতিব তাঁর 'তারিখ'-এ সালমান আল-ফারিসি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনুল জাওজি এবং হাফেজ ইউসুফ ইবনে খলিল এই হাদিসের সূত্রসমূহ সংকলনে আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনে সাঈদ ও অন্যান্যগণ হুজাইফা ইবনে আসিদ (রা.) থেকে এবং ইবনে আদি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল অথবা কোনো বিদআতিকে আশ্রয় দিল, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। আর অনুরূপ অভিশাপ তার ওপরও, যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল।"

এবং ইবনে কানি তাঁর 'মুজাম'-এ উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি এ কারণে যে, তিনি জনৈক ব্যক্তিকে কোনো প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সে তাঁর নামে মিথ্যা বলেছিল। অতঃপর তিনি তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করেন এবং তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়; তার পেট ফেটে গিয়েছিল এবং জমিন তাকে গ্রহণ করেনি।

এবং দারা কুতনী ও ইবনুল জাওজি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এবং ইবনুল জাওজি অন্য এক সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একদিন বলেছিলেন—
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
لأَصْحَابِهِ: أَتَدْرُونَ مَا تَأْوِيلُ هَذَا الْحَدِيثِ ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] رَجُل عَشِقَ امْرَأَةً فَأَتَى أَهْلَهَا مَسَاءً، فَقَالَ: إِنِّي رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ بَعَثَنِي إِلَيْكُمْ أَنْ أَتَضَيَّفُ فِي أَيِّ بِيُوتِكُمْ شِئْتُ وَكَانَ يَنْتَظِرُ بَيُوتَةً مَسَاءً، فَأَتَى رَجُلٌ مِنْهُمُ النَّبِي فَقَالَ: إِنَّ فُلانًا أَتَانَا يَزْعُمُ أَنَّكَ أَمَرْتَهُ أَنْ يَبِيتَ فِي أَيِّ بِيُوتِنَا شَاءَ. فَقَالَ: كَذَبَ، يَا فُلانُ انْطَلِقْ مَعَهُ، فَإِنْ أَمْكَنَكَ اللَّهُ مِنْهُ فَاضْرِبْ عُنُقَهُ، وَأَحْرِقَهُ بِالنَّارِ وَلا أَرَاكَ إِلا قَدْ كُفِيتَهُ، فَجَاءَتِ السَّمَاءِ فَصَبَّتْ، فَخَرَجَ لِيَتَوَضَّأَ فَلَسَعَتْهُ أَفْعَى فَمَاتَ فَلَمَّا بلغ ذَلِك النَّبِي قَالَ: ((هُوَ فِي النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ قَانِعٍ فِي مُعْجَمِ الصَّحَابَةِ، وَابْنِ الْجَوْزِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ بِلَفْظِ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] . وَكَذَا لَهُمَا عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَسَدٍ رضي الله عنه، وَكَذَا لِلْحَاكِمِ عَنْ عَفَّانَ بْنِ حَبِيبٍ رضي الله عنه، وللجوزقاني وَابْنِ الْجَوْزِيِّ عَنْ رَجُلٍ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنه وَلَفْظُهُ: ((مَنْ تَقَوَّلَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْنَ عَيْنَيْ جَهَنَّمَ مَقْعَدًا)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ صَاعِدٍ وَغَيْرِهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا بِلَفْظِ: ((مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّار)) ]] ]] ]] ] .

وللدار قطني وَابْنِ الْجَوْزِيِّ عَنْ أُمِّ أَيْمَنَ رضي الله عنها وَلَفْظهمَا: ((من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ الْجَوْزِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ وَلَفْظُهُ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ رَسُول الله فَإِنَّمَا يَدْمِثُ مَجْلِسَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] . وَلابْن الْجَوْزِيّ
তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে: তোমরা কি জানো এই হাদীসের ব্যাখ্যা কী? ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়)) ]] ]] ]] ] জনৈক ব্যক্তি এক মহিলাকে ভালোবাসত, তাই সে সন্ধ্যায় মহিলার পরিবারের কাছে এসে বলল: আমি আল্লাহর রাসূলের প্রেরিত দূত। তিনি আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন যাতে আমি তোমাদের যে কোনো বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করতে পারি। সে সন্ধ্যায় রাত্রি যাপনের অপেক্ষায় ছিল। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি নবীর কাছে এসে বলল: অমুক ব্যক্তি আমাদের কাছে এসে দাবি করছে যে, আপনি তাকে আমাদের পছন্দমতো যে কোনো ঘরে রাত কাটানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন: সে মিথ্যা বলেছে। হে অমুক, তুমি তার সাথে যাও। যদি আল্লাহ তোমাকে তার ওপর সামর্থ্য দেন, তবে তার গর্দান উড়িয়ে দিও এবং তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিও; আর আমি মনে করি আল্লাহই তোমার জন্য তাকে যথেষ্ট করবেন। এরপর আকাশ থেকে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো। সে অযু করতে বের হলে এক বিষধর সাপ তাকে দংশন করল এবং সে মারা গেল। যখন এই সংবাদ নবীর কাছে পৌঁছাল, তিনি বললেন: ((সে জাহান্নামে)) ]] ]] ]] ] ।

ইবনে কানি‘র 'মুজামুস সাহাবা'-তে এবং ইবনুল জাওযীর বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে এই শব্দে বর্ণিত আছে: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়)) ]] ]] ]] ] । অনুরূপভাবে তাঁদের উভয়ের বর্ণনায় ইয়াজিদ ইবনে আসাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। একইভাবে হাকেমের বর্ণনায় আফফান ইবনে হাবীব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, এবং জাওযাকানি ও ইবনুল জাওযীর বর্ণনায় জনৈক সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, যার শব্দ হলো: ((যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামের ঠিক মাঝখানে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়)) ]] ]] ]] ] ।

ইবনে সায়েদ ও অন্যান্যদের বর্ণনায় আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে এই শব্দে বর্ণিত আছে: ((যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়)) ]] ]] ]] ] ।

দারা কুতনী ও ইবনুল জাওযীর বর্ণনায় উম্মে আয়মান (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত আছে এবং তাঁদের উভয়ের শব্দ হলো: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়)) ]] ]] ]] ] ।

ইবনুল জাওযীর বর্ণনায় আলী (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে এবং শব্দ হলো: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলের ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে মূলত জাহান্নামে তার বসার স্থান প্রশস্ত করে নেয়)) ]] ]] ]] ] । এবং ইবনুল জাওযীর...
(খণ্ড: ১) আল-আসারুল মারফূআতু ফিল আখবারিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ! لَوِ اتَّخَذْنَا لَكَ عَرِيشًا تُكَلِّمُ النَّاسَ مِنْ فَوْقِهِ وَيَسْمَعُونَ، فَقَالَ: ((لَا أَزَالُ هَكَذَا يُصِيبُنِي غبارهم ويطأون عَقِبِي حَتَّى يُرِيحَنِي اللَّهُ مِنْهُمْ، فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَمَقْعَدَهُ النَّارُ)) ]] ]] ]] ] .

وَلابْنِ عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ رضي الله عنه: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار)) ]] ]] ]] ] . وَكَذَا لابْنِ خَلِيلٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتً رضي الله عنه، وَكَذَا لَهُ عَنْ كَعْبِ بْنِ قُطْبَةَ، وَكَذَا لَهُ عَنْ وَالِدِ أَبِي الْعَشْرَاءِ. وَكَذَا لَهُ وَلأَبِي نُعَيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُغْبٍ وَلأَبِي نُعَيْمٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ حَابِسٍ رضي الله عنه بِلَفْظِ: ((مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] .

قَالَ الْحَافِظُ السُّيُوطِيُّ: رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَكْثَرُ مِنْ مِائَةٍ مِنِ الصَّحَابَةِ وَجَمَعَ طُرُقَهُ إِلَيْهِمْ جَمْعٌ مِنْ أَهْلِ النَّجَابَةِ. وَقَدْ نَقَلَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بن أَحْمد بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ الإِسْفَرِايِينِيِّ أَنَّهُ لَيْسَ فِي الدُّنْيَا حَدِيثٌ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ الْعَشَرَةُ الْمَشْهُودُ لَهُمْ بِالْجَنَّةِ غَيْرَ حَدِيثِ: ((مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ … .)) ]] ]] ]] ] . قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ مَا وَقَعَتْ لِي رِوَايَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْف رضي الله عنه إِلَّا الآنِ. انْتَهَى.

وَمِنْ لَطِيفِ مَا يُذْكَرُ مِنْ ذَلِكَ مَا رَوَاهُ الْعَلامَة أَبُو الْقَاسِم أَبُو عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْغَوْرَانِيُّ صَاحِبُ التَّصَانِيفِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمُؤَدَّبُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الحسام السمر قندي قَالَ: سَمِعْتُ الْخَضِرَ وَإِلْيَاسَ يَقُولانِ سمعنَا رَسُول الله يَقُولُ: ((مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)) ]] ]] ]] ] قَالَ الذَّهَبِيُّ: هَذَا الْحَدِيثُ أملاه أَبُو عَمْرو بن الصّلاح، وَقَالَ: هَذَا وَقَعَ لَنَا فِي نُسْخَةِ الْخِضْرِ وَإِلْيَاسَ. قَالَ الذَّهَبِيُّ: هَذِهِ نُسْخَةٌ مَا أَدْرِي مَنْ وَضَعَهَا انْتَهَى كَلامُ عَلِيٍّ الْقَارِيِّ بِتَمَامِهِ.
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি আপনার জন্য একটি উঁচু মাচা তৈরি করে দিতাম যেখান থেকে আপনি মানুষের সাথে কথা বলতেন এবং তারা তা শুনতে পেত? তিনি বললেন: "আল্লাহ যতক্ষণ না আমাকে তাদের থেকে বিশ্রাম দেন, ততক্ষণ আমি এভাবেই থাকব—তাদের ধুলাবালি আমাকে স্পর্শ করবে এবং তারা আমার পায়ের গোড়ালি মাড়াবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।"

ইবনে আদি শু'বাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" অনুরূপ বর্ণনা ইবনে খলীল যায়েদ বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে করেছেন, এবং তিনিও কা'ব বিন কুতবাহ থেকে এবং তিনিও আবু আল-আশরা-এর পিতা থেকে করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি এবং আবু নুআঈম আব্দুল্লাহ বিন জুগব থেকে এবং আবু নুআঈম জাবির বিন হাবিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

হাফেজ সুয়ূতী (রহ.) বলেন: একশোরও বেশি সাহাবী এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং একদল শ্রেষ্ঠ আলেম তাঁদের পর্যন্ত এই হাদীসের সূত্রগুলো সংকলন করেছেন। ইবনুল জাওযী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ইসফারায়ীনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, পৃথিবীতে এমন কোনো হাদীস নেই যা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী (আশারায়ে মুবাশশারা) সকলে মিলে বর্ণনা করেছেন, কেবল এই হাদীসটি ব্যতীত: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে … ।" ইবনুল জাওযী বলেন: আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনাটি কেবল এখনই আমার হস্তগত হলো। (সমাপ্ত)।

এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে একটি চমৎকার বিষয় হলো সেই বর্ণনা যা আল্লামা আবুল কাসেম আবু আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-গওরানী (বহু গ্রন্থের প্রণেতা) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-মুআদ্দিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাম আল-সামারকান্দি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি খিজির ও ইলিয়াসকে বলতে শুনেছি, তাঁরা বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" ইমাম যাহাবী বলেন: আবু আমর ইবনুস সালাহ এই হাদীসটি পাঠ করে লিখিয়েছেন এবং বলেছেন: এটি আমাদের নিকট খিজির ও ইলিয়াসের পাণ্ডুলিপিতে এসেছে। ইমাম যাহাবী বলেন: এটি এমন এক পাণ্ডুলিপি যা কে তৈরি করেছে তা আমি জানি না। মোল্লা আলী আল-কারীর বক্তব্য এখানেই পূর্ণাঙ্গরূপে সমাপ্ত হলো।