(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: -)
الفوائد الموضوعة في الأحاديث الموضوعة   (مرعي الكرمي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: الفوائد الموضوعة في الأحاديث الموضوعة

المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033هـ)

المحقق: د. محمد بن لطفي الصباغ

الناشر: دار الوراق - الرياض

الطبعة: الثالثة، 1419 هـ - 1998م

عدد الصفحات: 142

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাল হাদিসসমূহের বিষয়ে সংকলিত ফায়দাসমূহ   (মারঈ আল-কারমি)

বিভাগ: হাদিসের ইল্লাত ও প্রশ্নাবলি


গ্রন্থ: জাল হাদিসসমূহের বিষয়ে সংকলিত ফায়দাসমূহ

লেখক: মারঈ বিন ইউসুফ বিন আবি বকর বিন আহমদ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি)

মুহাক্কিক: ড. মুহাম্মদ বিন লুতফি আস-সাব্বাগ

প্রকাশক: দারুল ওয়াররাক - রিয়াদ

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌مُقَدّمَة

قَالَ الْحَافِظ صَلَاح الدّين العلائي: الحكم على الحَدِيث بِكَوْنِهِ مَوْضُوعا من الْمُتَأَخِّرين عسر جدا، لِأَن ذَلِك لَا يَتَأَتَّى إِلَّا بعد جمع الطّرق وَكَثْرَة التفتيش، وَأَنه لَيْسَ لهَذَا الْمَتْن سوى هَذَا الطَّرِيق الْوَاحِد، ثمَّ يكون فِي رُوَاته من هُوَ مُتَّهم بِالْكَذِبِ، مَعَ مَا يَنْضَم من قَرَائِن كَثِيرَة تَقْتَضِي لِلْحَافِظِ المتبحر الحكم بذلك. وَلِهَذَا انتقد الْعلمَاء على أبي الْفرج بن الْجَوْزِيّ فِي كِتَابه " الموضوعات " وتوسعه فِي الحكم بذلك على كثير من الْأَحَادِيث
ভূমিকা

হাফিজ সালাহউদ্দীন আল-আলাই বলেন: পরবর্তী যুগের আলেমদের পক্ষে কোনো হাদিসকে জাল হিসেবে সাব্যস্ত করা অত্যন্ত দুরুহ। কারণ, এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন হাদিসের সমস্ত সূত্র সংগ্রহ ও ব্যাপক অনুসন্ধান করা হয় এবং এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে উক্ত মতনের (মূল পাঠের) কেবল এই একটি মাত্র সূত্রই রয়েছে। তদুপরি এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে হয় যে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত, যার সাথে আরও বহুবিধ আলামত যুক্ত হয়ে একজন সুগভীর পণ্ডিত হাফিজকে অনুরূপ ফয়সালা দেওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয়। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করেছেন তাঁর "আল-মাওজুআত" গ্রন্থে অনেক হাদিসকে জাল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা বা অতি-ব্যাপকতা প্রদর্শনের জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
الَّتِي لَيست بِهَذَا المثابة، وَيَجِيء بعده من لَا يَد لَهُ فِي علم الحَدِيث، فيقلده فِيمَا حكم بِهِ من الْوَضع. وَفِي هَذَا من الضَّرَر الْعَظِيم مَا لَا يخفى. وَهَذَا بِخِلَاف الْأَئِمَّة الْمُتَقَدِّمين الَّذين منحهم الله فِي علم الحَدِيث والتوسع فِي حفظه كشعبة وَالْقطَّان وَابْن مهْدي وأصحابهم مثل أَحْمد وَابْن الْمَدِينِيّ وَابْن معِين وَابْن

যেগুলো এই পর্যায়ের নয়; এবং তার পরে এমন লোক আসে হাদিস শাস্ত্রে যার কোনো পারদর্শিতা নেই, ফলে হাদিস জাল হওয়ার ব্যাপারে তিনি যে ফয়সালা দিয়েছেন, সেই ব্যক্তি তাতে তাকে অন্ধ অনুসরণ করে। আর এর মধ্যে যে মহা ক্ষতি নিহিত রয়েছে তা কারো অজানা নয়। এটি সেই পূর্ববর্তী ইমামগণের বিপরীত, যাদেরকে আল্লাহ হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শিতা এবং তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে ব্যাপকতা দান করেছেন, যেমন শু'বাহ, আল-কাত্তান, ইবনে মাহদী এবং তাঁদের সহচরগণ; যেমন আহমাদ, ইবনুল মাদিনী, ইবনে মাঈন এবং ইবনে...

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
رَاهَوَيْه ثمَّ أَصْحَابهم مثل البُخَارِيّ وَمُسلم وَأبي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ. . وَهَكَذَا إِلَى زمن الدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ. وَلم يجِئ بعدهمْ مساوٍ لَهُم وَلَا مقارب. فَمَتَى وجد فِي كَلَام أحد من الْمُتَقَدِّمين الحكم بِوَضْع شَيْء كَانَ مُتَعَمدا، وَإِن اخْتلف النَّقْل عَنْهُم عدل إِلَى التَّرْجِيح انْتهى.

রাহওয়াইহি, এরপর তাঁদের অনুসারীগণ যেমন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ। এভাবেই দারা কুতনী ও বায়হাক্বীর যুগ পর্যন্ত। তাঁদের পরে তাঁদের সমপর্যায়ের কিংবা তাঁদের কাছাকাছি কেউ আসেননি। সুতরাং যখন পূর্বসূরিদের মধ্য থেকে কারো বক্তব্যে কোনো বিষয় জাল হওয়ার হুকুম পাওয়া যায়, তখন তা ছিল উদ্দেশ্যমূলক; আর যদি তাঁদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিতে ভিন্নতা দেখা দেয়, তবে প্রাধান্য নিরূপণের (তারজীহ) দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
وَقَالَ الزَّرْكَشِيّ: وَقد حكم جمع من الْمُتَقَدِّمين على أَحَادِيث بِأَنَّهُ لَا أصل لَهَا، ثمَّ وجد الْأَمر بِخِلَاف ذَلِك، فَوق كل ذِي علم عليم. انْتهى. وَذَلِكَ كَصَلَاة التَّسْبِيح.
এবং যারকাশী বলেন: পূর্ববর্তীদের একদল কিছু হাদিস সম্পর্কে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই, অতঃপর বিষয়টি এর বিপরীতেই পাওয়া গিয়েছে। প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন। সমাপ্ত। আর এটি সালাতুত তাসবীহ-এর মতো।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وكما زعم ابْن حبَان فِي " صَحِيحه " أَنَّ قَوْلَهُ عليه السلام: " إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ، إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى " دَالٌّ عَلَى أَنَّ الأَخْبَارَ الَّتِي فِيهَا أَنَّهُ عليه السلام كَانَ يَضَعُ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِهِ مِنَ الْجُوعِ بَاطِلَةٌ. وَرُدَّ عَلَيْهِ
এবং যেমনটি ইবনে হিব্বান তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, তাঁর (আলাইহিস সালাম) এই বাণী: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কারো মতো নই; আমাকে আহার করানো হয় এবং পান করানো হয়", এটি প্রমাণ করে যে, সেই সকল বর্ণনা যাতে উল্লেখ আছে যে তিনি (আলাইহিস সালাম) ক্ষুধার কারণে পেটে পাথর বাঁধতেন, তা বাতিল। তবে তাঁর এই দাবি খণ্ডন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
ذَلِكَ. قَالَ الزَّرْكَشِيّ: جعل بَعضهم من دَلَائِل الْوَضع أَن يُخَالف صَحِيح السّنة، وَهَذِه
সেটি। যারকাশী বলেন: তাঁদের কেউ কেউ জাল হওয়ার অন্যতম আলামত হিসেবে গণ্য করেছেন যে তা সহিহ সুন্নাহর পরিপন্থী হবে, এবং এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
طَريقَة ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان، وَهِي طَريقَة ضَعِيفَة، وَلَا سِيمَا حَيْثُ أمكن الْجمع. وَقَالَ الْحَافِظ السُّيُوطِيّ: إِن الْجرْح إِنَّمَا جوز فِي الصَّدْر الأول حَيْثُ كَانَ الحَدِيث / يُؤْخَذ من صُدُور الْأَحْبَار، لَا من بطُون الْأَسْفَار، فاحتيج إِلَيْهِ ضَرُورَة، وَأما الْآن فالعمدة على الْكتب الْمُدَوَّنَة، فَمن جَاءَ بِحَدِيث غير مَوْجُود فِيهَا فَهُوَ رد عَلَيْهِ، وَإِن كَانَ من أتقى الْمُتَّقِينَ، وَإِن كَانَ فِيهَا لم يتَصَوَّر فِيهِ الرَّد وَإِن كَانَ من أفسق الْفَاسِقين. قَالَ الإِمَام أَحْمد: ثَلَاث كتب لَا أصل لَهَا الْمَغَازِي والملاحم وَالتَّفْسِير.

এটি ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বানের পদ্ধতি, এবং এটি একটি দুর্বল পদ্ধতি, বিশেষত যেখানে সমন্বয় করা সম্ভব। হাফিজ সুয়ূতী বলেন: নিশ্চয়ই 'জরাহ' বা সমালোচনা কেবল প্রথম যুগের ক্ষেত্রেই অনুমোদিত ছিল, যখন হাদিস কিতাবসমূহের ভেতর থেকে নয় বরং আলেমদের অন্তর থেকে গ্রহণ করা হতো, ফলে তখন এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে নির্ভরতা হলো সংকলিত কিতাবসমূহের ওপর। সুতরাং কেউ যদি এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা এগুলোতে বিদ্যমান নেই, তবে তা তার ওপরই প্রত্যাখ্যান করা হবে, যদিও সে চরম মুত্তাকীও হয়। আর যদি হাদিসটি কিতাবে বিদ্যমান থাকে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা কল্পনাও করা যায় না, যদিও বর্ণনাকারী ঘোর পাপাচারী হয়। ইমাম আহমদ বলেছেন: তিনটি বিষয়ের কোনো ভিত্তি নেই; মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), মালাহিম (ভবিষ্যদ্বাণীমূলক যুদ্ধসমূহ) এবং তাফসির।

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭০)
قَالَ الْمُحَقِّقُونَ: مُرَاده أَن الْغَالِب لَيْسَ لَهَا أَسَانِيد صِحَاح مُتَّصِلَة. قَالَ السُّيُوطِيّ: الَّذِي صَحَّ من ذَلِك قَلِيل جدا، وَقد ورد عَن ابْن عَبَّاس فِي التَّفْسِير مَا لَا يُحْصى، وَقد قَالَ الشَّافِعِي: لم يثبت عَن ابْن عَبَّاس فِي التَّفْسِير إِلَّا شَبيه بِمِائَة حَدِيث. وَقَالَ أَحْمد: تَفْسِير الْكَلْبِيّ من أَوله إِلَى آخِره كذب. قيل لَهُ: فَهَل النّظر فِيهِ يحل؟ قَالَ: لَا. وَسُئِلَ وَكِيع عَن تَفْسِير مقَاتل. فَقَالَ لَا تنظر فِيهِ. فَقَالَ: مَا أصنع بِهِ؟ قَالَ: ادفنه. وَلَيْسَ يَصح فِي ذكر الْمَلَاحِم والفتن المنتظرة إِلَّا أَحَادِيث يسيرَة.
মুহাক্কিকগণ বলেছেন: তাঁর অভিপ্রায় এই যে, এগুলোর অধিকাংশেরই কোনো নিরবচ্ছিন্ন বিশুদ্ধ সনদ নেই। সুয়ূতী বলেছেন: এর মধ্য থেকে যা সহীহ তা অত্যন্ত নগণ্য, যদিও তাফসীরের বর্ণনায় ইবনে আব্বাস থেকে অগণিত বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: তাফসীরের বর্ণনায় ইবনে আব্বাস থেকে শ’খানেক হাদীসের মতো বর্ণনা ছাড়া আর কিছুই সুসাব্যস্ত নয়। ইমাম আহমাদ বলেছেন: কালবীর তাফসীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিথ্যা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে কি তা পাঠ করা বৈধ হবে? তিনি বললেন: না। ওয়াকী’কে মুকাতিলের তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: ওতে দৃষ্টি দিও না। প্রশ্নকারী বললেন: তবে আমি ওটা নিয়ে কী করব? তিনি বললেন: ওটা মাটিতে পুঁতে ফেলো। আর মহাযুদ্ধ (মালাহিম) ও প্রতীক্ষিত ফিতনাগুলোর বর্ণনায় যৎসামান্য কিছু হাদীস ব্যতীত সহীহ পর্যায়ে কিছুই নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭১)
أما الْمَغَازِي فَكتب الْوَاقِدِيّ قَالَ الشَّافِعِي: كذب. وَكتب ابْن إِسْحَاق أَكْثَرهَا عَن أهل الْكتاب.

حَيْثُ علمت هَذَا

 

1 - فَمن الموضوعات مَا قَالَ ابْنُ تَيْمِيَةَ: مِثْلُ نَقْلِ كَثِيرٍ مِنَ الْعَامَّةِ أَنَّ الْغَمَامَ كَانَ يُظِلُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَائِمًا. قَالَ: وَهَذَا لَا يُوجَدُ فِي شَيْءٍ مِنْ كُتُبِ / الْمُسْلِمِينَ، بَلْ هُوَ كَذِبٌ عِنْدهم. إِنَّمَا نُقِلَ أَنَّ الْغَمَامَةَ أَظَلَّتْهُ لَمَّا كَانَ صَغِيرًا وَقَدِمَ مَعَ عَمِّهِ إِلَى الشَّامِ تَاجِرًا وَرَأَى بحيرا الراهب.
মাগাজি বা যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত কিতাবগুলোর মধ্যে ওয়াকিদির লিখিত কিতাবসমূহ সম্পর্কে শাফিঈ বলেছেন: মিথ্যা। আর ইবনে ইসহাক এর অধিকাংশ বর্ণনা আহলে কিতাবদের থেকে গ্রহণ করেছেন।

যখন আপনি এটি জানলেন

 

১ - বানোয়াট বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: যেমন সাধারণ মানুষের অনেকের বর্ণনা করা যে, মেঘমালা সর্বদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছায়া দিত। তিনি বলেছেন: এটি মুসলিমদের কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না, বরং এটি তাদের নিকট মিথ্যা। কেবল এটিই বর্ণিত হয়েছে যে, মেঘমালা তাঁকে ছায়া দিয়েছিল যখন তিনি ছোট ছিলেন এবং চাচার সাথে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়া গিয়েছিলেন এবং বুহাইরা পাদ্রি তাঁকে দেখেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭২)
2 - وَمِنْهَا: مَا يَنْقُلهُ بَعضهم أمه عليه السلام كَانَ إِذَا وَطِئَ أَثَّرَ قَدَمُهُ فِي الْحَجَرِ، وَإِذَا وَطِئَ فِي الرَّمْلِ لَمْ يَكُنْ يُؤْثِّرُ. قَالَ: وَهَذَا لَمْ يَنْقُلْهُ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِأَحْوَالِهِ. بَلْ هُوَ كَذِبٌ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم.

3 - وَمِنْهَا: - كَمَا قَالَ ابْنُ تَيْمِيَةَ - صَلاةُ الرَّغَائِبِ، وَهِيَ بِدْعَةٌ بِاتِّفَاقِ أَئِمَّةِ الدِّينِ، وَالْحَدِيثُ الْمَرْوِيُّ فِيهَا كَذِبٌ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِالْحَدِيثِ.
২ - এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: যা কেউ কেউ বর্ণনা করেন যে, তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যখন পাথরের ওপর পা রাখতেন তখন তাঁর পায়ের ছাপ তাতে পড়ে যেত, আর যখন তিনি বালুর ওপর হাঁটতেন তখন কোনো ছাপ পড়ত না। তিনি বলেন: তাঁর জীবনী ও অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন আলেমদের কেউ এটি বর্ণনা করেননি। বরং এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি একটি মিথ্যাচার।

৩ - এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: - যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন - সালাতুর রাগায়েব; আর এটি দ্বীনের ইমামগণের ঐকমত্যে একটি বিদআত, এবং এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসটি হাদিস বিশারদদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি মিথ্যা।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
4 - قَالَ: وَكَذَلِكَ الصَّلَاة الَّتِي تذكر فِي أول لَيْلَة من رَجَب.
৪ - তিনি বলেছেন: অনুরূপভাবে সেই সালাত, যা রজব মাসের প্রথম রাতে (আদায়ের কথা) উল্লেখ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
5 - وَفِي أول لَيْلَة الْمِعْرَاج.

6 - وألفية نصف شعْبَان.

7 - وَكَذَلِكَ الصَّلَاة الَّتِي تذكر فِي يَوْم الْأَحَد والاثنين وَغَيرهمَا من أَيَّام الْأُسْبُوع، لَا نزاع بَين أهل الْمعرفَة بِالْحَدِيثِ أَنَّهَا أَحَادِيث
৫ - এবং মিরাজের প্রথম রাতে।

৬ - এবং মধ্য-শাবানের আলফিয়্যাহ সালাত।

৭ - এবং একইভাবে সেই সালাত যা রবিবার, সোমবার এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিনে আদায় করার কথা উল্লেখ করা হয়; হাদীস বিশারদদের মাঝে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এগুলো এমন হাদীস
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
مَوْضُوعَة، وَأَن هَذِه الصَّلَاة لم يستحبها أحد من أَئِمَّة الدّين.

8 - وَالْأَحَادِيث الَّتِي تذكر فِي إحْيَاء لَيْلَة الْجُمُعَة وليلتي الْعِيدَيْنِ كذب. وَفِي حَدِيث: " لَا تَخْتَصُّوا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِقِيَامٍ وَلا نَهَارَهَا بِصِيَامٍ ".

9 - وَمن الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة الحَدِيث الطَّوِيل الَّذِي فِيهِ: " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ لَمْ يَمْرَضْ ذَلِكَ الْعَامَ ".

10 - وَنَحْوَ ذَلِكَ مِنَ الْخِضَابِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَالْمُصَافَحَةِ فِيهِ. كُلُّ ذَلِكَ كَذِبٌ مُخْتَلَفٌ فِيهِ بِاتِّفَاقِ مَنْ يَعْرِفُ عِلْمَ الْحَدِيثِ. وَإِنْ كَانَ قَالَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ: إِنَّهُ صَحِيحٌ وَإِسْنَادُهُ
জাল (মাওজু), এবং এই সালাত দ্বীনের ইমামগণের মধ্যে কেউ মুস্তাহাব গণ্য করেননি।

৮ - জুমার রাত এবং দুই ঈদের রাত ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত রাখা সম্পর্কে যে হাদিসগুলো উল্লেখ করা হয়, সেগুলো মিথ্যা। আর একটি হাদিসে এসেছে: "তোমরা জুমার রাতকে কিয়ামের (সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া) জন্য এবং জুমার দিনকে সিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করো না।"

৯ - জাল হাদিসসমূহের মধ্যে একটি হলো সেই দীর্ঘ হাদিসটি যাতে রয়েছে: "যে ব্যক্তি আশুরার দিন গোসল করবে, সে সেই বছর অসুস্থ হবে না।"

১০ - তদ্রূপ আশুরার দিন খিজাব লাগানো এবং মুসাফাহা করা। ইলমে হাদিস সম্পর্কে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের ঐকমত্য অনুযায়ী এগুলোর সবই বানোয়াট ও মিথ্যা। যদিও হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ এর ব্যাপারে বলেছেন যে, এটি সহিহ এবং এর সনদ...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
شَرْطُ الصَّحِيحِ فَهُوَ مِنَ الْغَلَطِ الَّذِي لَا ريب فِيهِ. قَالَ ابْنُ تَيْمِيَةَ. قَالَ: وَلم يسْتَحبّ أحد من الْأَئِمَّة الِاغْتِسَال يَوْم عَاشُورَاء، والكحل فِيهِ، والخضاب، وأمثال ذَلِك. وَسبب الْوَضع أَن الرافضة يظهرون المأتم والنياحة والجزع وتعذيب النُّفُوس وظلم الْبَهَائِم يَوْم عَاشُورَاء لكَون الْحُسَيْن قتل فِيهِ، فجَاء قوم من المتسننة رووا أَحَادِيث مَوْضُوعَة يعارضون بِهِ شعار أُولَئِكَ الْقَوْم، فقابلوا بَاطِلا بباطل وردوا بِدعَة ببدعة.

11 - وَمِنْهَا: أَحَادِيث فضل صَوْم رَجَب وَالصَّلَاة فِيهِ. قَالَ ابْن تَيْمِية: كلهَا كذب بِاتِّفَاق أهل الْعلم.

12 - وَمِنْهَا: أَحَادِيث اسْتِحْبَاب السّفر إِلَى زِيَارَة الْمشَاهد والقبور وَالصَّلَاة عِنْدهَا وَالدُّعَاء وَالنّذر لَهَا وتقبيلها.

13 - وأخبار فَضَائِل زِيَارَة عسقلان.
সহিহ হওয়ার শর্ত, তবে এটি নিঃসন্দেহে একটি ভুল। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন। তিনি বলেন: ইমামগণের মধ্যে কেউই আশুরার দিনে গোসল করা, সুরমা লাগানো, খেজাব লাগানো এবং এই জাতীয় কাজগুলোকে মুস্তাহাব গণ্য করেননি। আর হাদিস জাল করার কারণ হলো, রাফেজিরা আশুরার দিনে মাতম, বিলাপ, হা-হুতাশ করা, নিজেদের শরীরকে কষ্ট দেওয়া এবং গবাদি পশুর প্রতি জুলুম করা প্রদর্শন করে, যেহেতু এই দিনে হুসাইন (রা.) শাহাদাতবরণ করেছিলেন। ফলে সুন্নাহর অনুসারী দাবিদার একদল লোক এমন কিছু জাল হাদিস বর্ণনা করেন যার মাধ্যমে তারা ঐ সম্প্রদায়ের রীতিনীতির বিরোধিতা করতে পারেন। এভাবে তারা বাতিলের মোকাবিলা বাতিল দ্বারা করেছেন এবং বিদআতের প্রত্যুত্তর বিদআত দ্বারা দিয়েছেন।

১১ - আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে: রজব মাসের রোজা এবং তাতে সালাত আদায়ের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: আলেমগণের ঐকমত্যে এই সবই মিথ্যা।

১২ - আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে: মাজার ও কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা এবং সেখানে সালাত আদায়, দোয়া, মানত ও সেগুলো চুম্বন করা মুস্তাহাব হওয়া সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

১৩ - এবং আসকালান জিয়ারতের ফজিলত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
كل ذَلِك بَاطِل وَلَا أصل فِيهِ.

14 - قَالَ ابْن تَيْمِية: رَأَيْت كتابا صنفه بعض أَئِمَّة الرافضة مُحَمَّد بن نعْمَان الملقب بالشيخ الْمُفِيد سَمَّاهُ " الْحَج إِلَى زِيَارَة الْمشَاهد " ذكر فِيهِ من الْآثَار عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأهل بَيته فِي زِيَارَة هَذِه الْمشَاهد وَالْحج إِلَيْهَا مَا لم يذكر مثله فِي الْحَج إِلَى بَيت الله الْحَرَام، وعامته كذب. قَالَ: حَتَّى إِنِّي رَأَيْت فِيهِ من الْكَذِب والبهتان أَكثر مِمَّا رَأَيْته فِي كثير من كتب الْيَهُود وَالنَّصَارَى. وَقَالَ: بل كل حَدِيث / يرْوى فِي زِيَارَة قبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم فضعيف أَو مَوْضُوع. وَلذَلِك كره الإِمَام مَالك وَغَيره من أَئِمَّة الْمَدِينَة أَن يَقُول الْقَائِل: زرت قبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم.

15 - وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ: حَدِيثُ " رَحِمَ اللَّهُ مَنْ زَارَنِي وَزَمِامُ نَاقَتِهِ بِيَدِهِ " لَا أَصْلَ لَهُ.
এসবই বাতিল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।

14 - ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: আমি রাফেজিদের জনৈক ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নুমান, যিনি শায়খ আল-মুফিদ নামে পরিচিত, তাঁর রচিত একটি কিতাব দেখেছি; তিনি এর নাম দিয়েছেন "আল-হাজ্জু ইলা যিয়ারাতিল মাশাহিদ" (সমাধিস্থল যিয়ারতের উদ্দেশ্যে হজ)। তিনি এতে এই সমস্ত সমাধিস্থল যিয়ারত এবং সেখানে হজের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আহলে বাইত থেকে এমন সব বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যার সমতুল্য কিছু আল্লাহর পবিত্র ঘর (কা’বা) হজের ব্যাপারেও উল্লেখ করা হয়নি; আর এর অধিকাংশই মিথ্যা। তিনি বলেন: এমনকি আমি এতে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনেক কিতাবে যা দেখেছি, তার চেয়েও বেশি মিথ্যা ও অপবাদ দেখতে পেয়েছি। তিনি আরও বলেন: বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের যিয়ারত সম্পর্কে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই দুর্বল অথবা জাল। আর এ কারণেই ইমাম মালিক এবং মদিনার অন্যান্য ইমামগণ অপছন্দ করতেন যে কেউ বলুক: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করেছি।"

15 - ইবনে হাজার বলেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর দয়া করুন যে আমাকে যিয়ারত করল এমতাবস্থায় যে তার উটনীর লাগাম তার হাতে ছিল" - এই হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
16 - وَقَالَ النَّوَوِيُّ: حَدِيثُ: " مَنْ زَارَنِي وَزَارَ أَبِي إِبْرَاهِيمَ فِي عَامٍ وَاحِدٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ " بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ.

17 - وَمِنْهَا حَدِيث: " مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي ". قَالَ الذَّهَبِيُّ: طُرُقُهُ كُلُّهَا لَيِّنَةٌ يُقَوِّي بَعْضُهَا بَعْضًا.

18 - وَمِنْهَا: أَحَادِيث فَضَائِل السُّور المروية عَن ابْن عَبَّاس وَأبي بن كَعْب، كَالَّذي ذكره الْبَغَوِيّ والواحدي وَنَحْوهمَا. كلهَا
১৬ - ইমাম নববী বলেছেন: "যে ব্যক্তি একই বছরে আমাকে এবং আমার পিতা ইবরাহীমকে জিয়ারত করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করল"—এই হাদিসটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই।

১৭ - এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই হাদিস: "যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করল, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে গেল।" যাহাবী বলেছেন: এর সকল সূত্রই দুর্বল, তবে তা একে অপরকে শক্তিশালী করে।

১৮ - এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: ইবনে আব্বাস ও উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত বিভিন্ন সূরার ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসসমূহ, যেমনটি বাগাভী, ওয়াহিদী এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উল্লেখ করেছেন। এগুলোর সবই...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
كذب بِاتِّفَاق أهل الْمعرفَة بِالْحَدِيثِ. قَالَ الْعِرَاقِيّ:

(وكل من أودعهُ كِتَابه … كالواحدي مُخطئ صَوَابه)

 

19 - وَحَدِيث: " مَنْ قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَلَمْ يُدْعَ بِالشَّيْخِ فَقَدْ ظُلِمَ " لَا أَصْلَ لَهُ.

20 - وَمِنْهَا: الْأَحَادِيث الَّتِي يذكر فِيهَا حَيَاة الْخضر عليه السلام. قَالَ ابْن الْقيم: وَمِنْهَا - أَي الموضوعات - الْأَحَادِيث الَّتِي يذكر فِيهَا الْخضر وحياته، كلهَا كذب. وَقَالَ ابْن عَطِيَّة: روى
এটি হাদীস শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি মিথ্যা। ইরাকী বলেছেন:

(এবং যে কেউ এটি তার কিতাবে স্থান দিয়েছেন … যেমন ওয়াহিদী, তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন)

 

১৯ - এবং এই হাদীসটি: "যে ব্যক্তি সূরা আল-বাকারা এবং সূরা আলে-ইমরান পাঠ করল অথচ তাকে 'শাইখ' বলে ডাকা হলো না, সে জুলুমের শিকার হলো" - এর কোনো ভিত্তি নেই।

২০ - এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে: সেই হাদীসসমূহ যাতে খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর জীবিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: এবং এগুলোর মধ্যে - অর্থাৎ জাল হাদীসসমূহের মধ্যে - এমন সব হাদীস রয়েছে যাতে খিজির এবং তাঁর জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যার সবগুলোই মিথ্যা। এবং ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন: বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮০)
النقاش أَخْبَارًا كَثِيرَة تدل على بَقَائِهِ لَا يقوم بِشَيْء مِنْهَا حجَّة. وَقَالَ الْجلَال السُّيُوطِيّ: وَأما الْخضر فأئمة الحَدِيث لَا يثبتون لَهُ وجودا، وَمَا يرْوى فِي حَقه من الْأَحَادِيث رَوَاهُ فِي ديوَان الموضوعات معدودا.

21 - وَحَدِيث: " رَحِمَ اللَّهُ أَخِي الْخَضِرَ لَوْ كَانَ حَيًّا لَزَارَنِي ". قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: لَا يَثْبُتُ.

22 - وَمِنْهَا: قصَّة عوج بن عنق.

23 - وقصة جنَّة شَدَّاد إرم ذَات الْعِمَاد.
আন-নাক্কাশ এমন অনেক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা তাঁর বেঁচে থাকার প্রতি ইঙ্গিত করে, তবে সেগুলোর কোনোটিই দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী বলেছেন: আর খিজিরের ব্যাপারে কথা হলো, হাদিস বিশারদগণ তাঁর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করেন না; এবং তাঁর সম্পর্কে যে সকল বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে, তা জাল হাদিসের সংকলনে গণ্য করা হয়েছে।

২১ - এবং এই হাদিস: "আল্লাহ আমার ভাই খিজিরের প্রতি দয়া করুন, তিনি যদি জীবিত থাকতেন তবে অবশ্যই আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন।" ইবনে হাজার বলেছেন: এটি প্রমাণিত নয়।

২২ - এগুলোর মধ্যে রয়েছে: উজ বিন উনুকের কাহিনী।

২৩ - এবং সুউচ্চ স্তম্ভবিশিষ্ট ইরামের অন্তর্ভুক্ত শাদ্দাদের জান্নাতের কাহিনী।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮১)
كل ذَلِك كذب بَاطِل لَا أصل لَهُ.

24 - وَكَذَلِكَ غَالب قصَص الْأَنْبِيَاء، سِيمَا قصَّة يُوسُف ومناجاة مُوسَى.

25 - ومسائل عبد الله بن سَلام.

26 - وَمَا يذكر من هَذِه الْحِرْز والهياكل وفضائلها. كل ذَلِك كذب بِاتِّفَاق أهل الْمعرفَة.

27 - وَمِنْهَا: الْآثَار الَّتِي يذكر فِيهَا أَن رَأس الْحُسَيْن حمل إِلَى الشَّام وَوضع بَين يَدي يزِيد. وَإِنَّمَا حمل رَأسه الشريف إِلَى قُدَّام عبيد الله بن زِيَاد بِالْكُوفَةِ.
এসবই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, যার কোনো মূল ভিত্তি নেই।

২৪ - অনুরূপভাবে নবীদের অধিকাংশ কাহিনী, বিশেষ করে ইউসুফের কাহিনী এবং মূসার মহান রবের সাথে কথোপকথনের কাহিনী।

২৫ - এবং আবদুল্লাহ বিন সালামের প্রশ্নাবলি।

২৬ - এবং এই সকল কবচ ও মন্ত্র এবং এগুলোর ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়। অভিজ্ঞ আলেমগণের ঐকমত্যে এগুলোর সবই মিথ্যা।

২৭ - এবং এগুলোর মধ্যে ওই সকল বর্ণনাও রয়েছে যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুসাইনের মস্তক শাম দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং ইয়াজিদের সামনে রাখা হয়েছিল। অথচ প্রকৃত ঘটনা হলো, তাঁর সম্মানিত মস্তক কুফায় উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮২)
هَذَا هُوَ الَّذِي رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي " صَحِيحه " وَغَيره من الْأَئِمَّة. قَالَ ابْن تَيْمِية: وَأما حمله إِلَى الشَّام إِلَى يزِيد فقد رُوِيَ من وُجُوه مُنْقَطِعَة لم يثبت شَيْء مِنْهَا. بل فِي الرِّوَايَات مَا يدل على أَنَّهَا من الْكَذِب المختلق، فَإِنَّهُ يذكر فِيهَا أَن يزِيد جعل ينكت بالقضيب على ثناياه، وَأَن بعض الصَّحَابَة الَّذين حَضَرُوا كأنس بن مَالك وَأبي بَرزَة أنكر ذَلِك عَلَيْهِ. وَهَذَا تلبيس، فَإِن الَّذِي فعل ذَلِك إِنَّمَا هُوَ عبيد الله بن زِيَاد. قَالَ: وَمِمَّا يُوضح هَذَا أَن أنسا وَأَبا بَرزَة لم يَكُونَا حِينَئِذٍ بِالشَّام، بل بالعراق، وَإِنَّمَا الكذابون جهال، بِمَا يسْتَدلّ على كذبهمْ. قَالَ: وَأما حمل الرَّأْس إِلَى مصر فَبَاطِل بِاتِّفَاق النَّاس. وَقد اتّفق الْعلمَاء كلهم على أَن / مشْهد الْقَاهِرَة لَيْسَ فِيهِ رَأس الْحُسَيْن وَلَا شَيْء مِنْهُ، وَإِنَّمَا افتعل هَذَا المشهد فِي أَوَاخِر دولة الفاطميين لاستجلاب
এটিই সেই বর্ণনা যা ইমাম বুখারী তাঁর "সহীহ"-এ এবং অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: আর এটি সিরিয়ায় ইয়াজিদের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যার কোনোটিই প্রমাণিত নয়। বরং বর্ণনাগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি বানোয়াট মিথ্যা। কারণ তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইয়াজিদ লাঠি দিয়ে তাঁর সামনের দাঁতে খোঁচাতে শুরু করেন এবং উপস্থিত সাহাবীগণ যেমন আনাস বিন মালিক ও আবু বারযাহ তার প্রতিবাদ করেছিলেন। আর এটি একটি বিভ্রান্তি বা সত্যের অপলাপ; কারণ যে ব্যক্তি এটি করেছিলেন তিনি মূলত উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ। তিনি আরও বলেন: যে বিষয়টি এটিকে স্পষ্ট করে তা হলো আনাস ও আবু বারযাহ তখন সিরিয়ায় ছিলেন না, বরং ইরাকে ছিলেন। মূলত মিথ্যাবাদীরা অজ্ঞ, যার মাধ্যমে তাদের মিথ্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন: আর শির মোবারক মিশরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মানুষের ঐকমত্যে ভিত্তিহীন। সমস্ত আলেম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, কায়রোর মাশহাদে (মাজারে) হুসাইনের মাথা নেই এবং তার কোনো অংশও নেই। বরং ফাতেমী সাম্রাজ্যের শেষ দিকে এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল মানুষের সহানুভূতি আকর্ষণের জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮৩)
قُلُوب الْعَامَّة، بناه طلائع بن رزيك الرافضي. قَالَ: الزبير بن بكار: إِن الرَّأْس حمل إِلَى الْمَدِينَة المنورة وَدفن هُنَاكَ. وَقَالَ الْحَافِظ أَبُو الْخطاب بن دحْيَة لما ذكر مَا ذكره الزبير بن بكار: إِن الرَّأْس حمل إِلَى الْمَدِينَة فَلم يَصح سواهُ، وَالزُّبَيْر أعلم أهل النّسَب، وَأفضل الْعلمَاء بِهَذَا السَّبَب.

28 - وَمِنْهَا مَا يزعمونه من أَنَّ السَّمَاءَ أَمْطَرَتْ دَمًا يَوْمَ قَتْلِ الْحُسَيْنِ، وَأَنَّهُ مَا رُفِعَ حَجَرٌ فِي الدُّنْيَا إِلا وُجِدَ تَحْتَهُ دَمٌ عَبِيطٌ. قَالَ ابْنُ تَيْمِيَةَ: كُلُّ ذَلِكَ كَذِبٌ. قَالَ: وَأما دَعْوَى أَن السَّمَاء ظَهرت فِيهَا الْحمرَة يَوْم قَتله: فَمَا زَالَت هَذِه الْحمرَة تظهر، وَلها سَبَب طبيعي من جِهَة الشَّمْس فَهِيَ بِمَنْزِلَة الشَّفق.
সাধারণ মানুষের অন্তরে, এটি নির্মাণ করেছিলেন রাফেজি তালাই ইবন রুজাইক। জুবাইর ইবন বাক্কার বলেন: নিশ্চয়ই মাথাটি মদিনা মুনাওয়ারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই সমাহিত করা হয়েছিল। হাফেজ আবুল খাত্তাব ইবন দিহইয়াহ যখন জুবাইর ইবন বাক্কারের উল্লেখ করা বিষয়টি আলোচনা করেন, তখন তিনি বলেন: নিশ্চয়ই মাথাটি মদিনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এছাড়া আর কিছুই বিশুদ্ধ নয়। আর জুবাইর বংশলতিকাবিদদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

২৮ - এগুলোর মধ্যে একটি হলো তাদের দাবি যে, হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের দিনে আকাশ থেকে রক্ত বর্ষিত হয়েছিল এবং দুনিয়ার কোনো পাথরই এমন ছিল না যা তোলার পর তার নিচে তাজা রক্ত পাওয়া যায়নি। ইবন তাইমিয়া বলেন: এর পুরোটাই মিথ্যা। তিনি বলেন: আর তাঁর শাহাদাতের দিনে আকাশে লাল আভা প্রকাশ পাওয়ার যে দাবি করা হয়, তার বাস্তবতা হলো: এই লাল আভা সর্বদা প্রকাশ পেয়ে থাকে এবং সূর্যের কারণে এর একটি প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে, যা গোধূলির লালিমার মতো।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮৪)
29 - وَمن الموضوعات مَا يذكر من سَبْيِ يَزِيدَ لأَهْلِ الْبَيْتِ، وَإِرْكَابِهِمْ عَلَى الإِبِلِ عَرَايَا حَتَّى نَبَتَ لَهَا سَنَامَانِ، وَهِيَ الْبَخَاتِيُّ. قَالَ ابْنُ تَيْمِيَةَ: وَهَذَا مِنْ أَقْبَحِ الْكَذِبِ، فَإِنَّ كُلَّ عَاقِلٍ يَعْلَمُ أَنَّ الإِبِلَ الْبَخَاتِيَّ كَانَتْ مَخْلُوقَةً مَوْجُودَةً قَبْلَ أَنْ يَبْعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا وَقَبْلَ وُجُودِ أَهْلِ بَيْتِهِ، كَوُجُودِ غَيْرِهَا مِنَ الإِبِلِ وَالْخَيْلِ وَالْبِغَالِ.

30 - وَهَذَا نَظِيرُ كَذِبِهِمْ بِأَنَّ عَلِيًّا فِي خَيْبَرَ نَصَبَ يَدَهُ لِيَمُرَّ عَلَيْهَا الْجَيْشُ، فَوَطِئَتْهُ الْبَغْلَةُ، فَقَالَ لَهَا قَطَعَ اللَّهُ نَسْلَكِ. فَانْقَطَعَ نَسْلُهَا بِدُعَائِهِ. قَالَ: وَلم يعلم فِي الْإِسْلَام أَن أهل الْبَيْت سبي مِنْهُم أحد، مَعَ الْعلم بِأَنَّهُم من أهل الْبَيْت، وَلم يعلم أَن الْمُسلمين كَانُوا يدْخلُونَ نسَاء أهل الْحَرْب مجردات فضلا عَن أهل الْبَيْت.

31 - وَمِنْهَا: دَعْوَى أَنَّ يَزِيدَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْحُسَيْنِ وَأَنَّهُ سُرَّ بِذَلِكَ. قَالَ ابْنُ تَيْمِيَةَ: لَمْ يَكُنْ يَزِيدُ أَمَرَ بِقَتْلِهِ وَلا ظَهَرَ مِنْهُ سُرُورٌ بذلك وَلَا رضى بِهِ، بَلْ قَالَ كَلامًا فِيهِ ذَمٌّ لِقَاتِلِيهِ حَيْثُ قَالَ: لَقَدْ كُنْتُ أَرْضَى مِنْ طَاعَةِ أَهْلِ الْعِرَاقِ بِدُونِ قَتْلِ الْحُسَيْنِ. وَقَالَ لَعَنَ الله ابْن
29 - জাল ও বানোয়াট বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো যা ইয়াজিদ কর্তৃক আহলে বাইতকে বন্দী করা এবং তাঁদেরকে উটের পিঠে বিবস্ত্র অবস্থায় আরোহণ করানো সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়, এমনকি (বলা হয় যে) এর ফলে উটগুলোর দুটি কুঁজ গজিয়েছিল, আর এগুলোই হলো বাখতি (দ্বি-কুঁজবিশিষ্ট) উট। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: এটি জঘন্যতম মিথ্যাচার। কারণ প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই জানেন যে, বাখতি উট আল্লাহ মুহাম্মাদকে প্রেরণ করার আগে এবং তাঁর আহলে বাইতের অস্তিত্বের আগে থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল ও বিদ্যমান ছিল, যেমনটি অন্যান্য উট, ঘোড়া ও খচ্চরের অস্তিত্ব ছিল।

30 - এটি তাদের সেই মিথ্যারই অনুরূপ যে, আলী খায়বারে তাঁর হাত বিছিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তার ওপর দিয়ে সেনাবাহিনী পার হতে পারে, অতঃপর একটি খচ্চর তাঁকে পদদলিত করে চলে যায়, তখন তিনি সেটিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: আল্লাহ তোমার বংশধারা বিচ্ছিন্ন করে দিন। ফলে তাঁর দোয়ার কারণে সেটির বংশধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি (ইবনে তাইমিয়য়াহ) বলেন: ইসলামে এমনটি জানা নেই যে আহলে বাইতের কাউকে বন্দী করা হয়েছে, বিশেষ করে যখন জানা ছিল যে তাঁরা আহলে বাইতের সদস্য। আর এটিও জানা নেই যে মুসলিমরা যুদ্ধরত কাফেরদের নারীদেরকেই বিবস্ত্র অবস্থায় আনতেন, আহলে বাইতের কথা তো বলাই বাহুল্য।

31 - এর মধ্যে আরও রয়েছে: এই দাবি যে, ইয়াজিদ হুসাইনকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি এতে আনন্দিত হয়েছিলেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: ইয়াজিদ তাঁকে হত্যার নির্দেশ দেননি এবং এ ঘটনায় তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনন্দ বা সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়নি। বরং তিনি তাঁর হত্যাকারীদের নিন্দা জ্ঞাপন করে কথা বলেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: আমি হুসাইনকে হত্যা করা ছাড়াই ইরাকবাসীর আনুগত্যে সন্তুষ্ট থাকতাম। এবং তিনি বলেছিলেন: আল্লাহ ইবনে... (যিয়াদের ওপর লানত বর্ষণ করুন)।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮৫)
مُرْجَانَةَ - يَعْنِي عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ زِيَادٍ - وَاللَّهِ لَوْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحُسَيْنِ رَحِمٌ لَمَا قَتَلَهُ. يُرِيدُ بِذَلِكَ الطَّعْنَ فِي نَسَبِهِ، فَإِنَّهُ كَانَ يَدَّعِي أَنَّ أَبَاهُ زِيَادًا أَخُو مُعَاوِيَةَ. وَرُوِيَ أَنه لما قدم على يزِيد ثقل الْحُسَيْن وَأَهله ظهر فِي دَاره الْبكاء وَذكر حَدِيث الصُّرَاخ لذَلِك، وَأَنه أكْرم أَهله، وَأمر لَهُم بمنزل حسن، وَخير ابْنه عليا بَين أَن يُقيم عِنْده أَو يذهب للمدينة، فَاخْتَارَ الْمَدِينَة وَلم يسجنه. وَالْمَكَان الَّذِي يُقَال لَهُ " سجن
মুরজানাহর [সন্তান]—অর্থাৎ উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ—আল্লাহর কসম, যদি তার ও হুসাইনের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকত, তবে সে তাকে হত্যা করত না। এর মাধ্যমে তিনি তার বংশপরিচয়ের ওপর কটাক্ষ করতে চেয়েছেন, কারণ সে দাবি করত যে তার পিতা যিয়াদ ছিল মুয়াবিয়ার ভাই। বর্ণিত হয়েছে যে, যখন হুসাইন ও তাঁর পরিবার-পরিজন ইয়াজিদের নিকট পৌঁছাল, তখন তার প্রাসাদে কান্নার রোল পড়ে গেল এবং এ সংক্রান্ত আহাজারির বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। সে তাঁর পরিবারবর্গকে সম্মান প্রদর্শন করেছিল এবং তাদের জন্য একটি উত্তম আবাসের নির্দেশ দিয়েছিল। সে তাঁর পুত্র আলীকে নিজের কাছে অবস্থান করা অথবা মদিনায় চলে যাওয়ার ব্যাপারে এখতিয়ার দিয়েছিল; তিনি মদিনাই পছন্দ করলেন এবং সে তাঁকে বন্দি করেনি। আর যে স্থানটিকে বলা হয় "কারাগার...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮৬)
الْحُسَيْن " بِجَامِع دمشق بَاطِل لَا أصل لَهُ. لَكِن مَعَ هَذَا فيزيد لم يقم حد الله على من قتل الْحُسَيْن وَلَا انتصر لَهُ، بل قَتله أعوانه لإِقَامَة ملكه.

32 - وَمِنْهَا: دَعْوَى أَن الْحجَّاج قتل الْأَشْرَاف وَأَرَادَ قطع دابرهم. قَالَ ابْن تَيْمِية: وَهَذَا من الْجَهْل بأحوال النَّاس فَإِن الْحجَّاج كَانَ أَمِيرا سفاكا / للدماء لَكِن لم يقتل من الشرفاء من بني هَاشم أحدا قطّ. بل سُلْطَانه عبد الْملك بن مَرْوَان نَهَاهُ عَن التَّعَرُّض لبني هَاشم وهم الْأَشْرَاف. بل الْحجَّاج لما تزوج بنت عبد الله بن جَعْفَر لم
দামেস্কের জামে মসজিদে ‘হুসাইন’ [সংক্রান্ত দাবি] বাতিল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে এর সাথে সাথে ইয়াজিদ হুসাইনের হত্যাকারীর ওপর আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধি কার্যকর করেনি এবং তাঁর জন্য কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেনি; বরং তার সহযোগীরা তার রাজত্ব সুসংহত করার জন্য তাঁকে হত্যা করেছিল।

৩২ - আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই দাবি যে, হাজ্জাজ অভিজাত ব্যক্তিদের হত্যা করেছিল এবং তাদের বংশধারা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: এটি মানুষের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রসূত কথা। কারণ হাজ্জাজ রক্তপিপাসু একজন আমির ছিল ঠিকই, কিন্তু সে বনী হাশেম গোত্রের উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তিদের কাউকেই কখনো হত্যা করেনি। বরং তার সুলতান আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান তাকে বনী হাশেমের—যারা প্রকৃত অর্থেই উচ্চমর্যাদাশীল—তাদের কোনো ক্ষতি করতে নিষেধ করেছিলেন। এমনকি হাজ্জাজ যখন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের কন্যাকে বিবাহ করল, তখন সে...
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮৭)
يُمكنهُ بَنو أُميَّة من ذَلِك وَفرقُوا بَينه وَبَينهَا، وَقَالُوا: الْحجَّاج لَيْسَ بكفوء الهاشمية.

33 - وَمِنْهَا: مَا اشْتهر عَن الشَّافِعِي وَأحمد أَنَّهُمَا اجْتمعَا على شَيبَان الرَّاعِي وسألاه. قَالَ ابْن تَيْمِية: وَذَلِكَ بَاطِل بِاتِّفَاق أهل الْمعرفَة، وإنهما لم يدركا شَيبَان.

34 - قَالَ: وَكَذَلِكَ مَا ذكر أَن الشَّافِعِي اجْتمع بِأبي يُوسُف عِنْد الرشيد، لِأَنَّهُ لم يجْتَمع بالرشيد إِلَّا بعد موت أبي يُوسُف.

35 - قَالَ ابْن حجر: وَكَذَا الرحلة المنسوبة للشَّافِعِيّ إِلَى الرشيد وَأَن مُحَمَّد بن الْحسن حرضه على قَتله، كُله كذب مَوْضُوع.
বনু উমাইয়্যাহ তাকে সে সুযোগ দেয়নি এবং তার ও সেই মহিলার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছিল। তারা বলেছিল: হাজ্জাজ হাশেমী মহিলার সমকক্ষ নয়।

৩৩ - এর মধ্যে রয়েছে: ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ সম্পর্কে যা প্রসিদ্ধ যে, তাঁরা উভয়ে শায়বান আর-রাঈর নিকট সমবেত হয়েছিলেন এবং তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। ইবনে তাইমিয়া বলেন: বিশেষজ্ঞগণের সর্বসম্মতিক্রমে এটি বাতিল, কেননা তাঁরা শায়বানের সাক্ষাৎ পাননি।

৩৪ - তিনি বলেন: অনুরূপভাবে ইমাম শাফেয়ী হারুনুর রশীদের নিকট আবু ইউসুফের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে যা বর্ণিত আছে তাও ভিত্তিহীন, কারণ তিনি হারুনুর রশীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন আবু ইউসুফের মৃত্যুর পর।

৩৫ - ইবনে হাজার বলেন: ইমাম শাফেয়ীর হারুনুর রশীদের নিকট যে সফরের কথা বলা হয় এবং মুহাম্মদ ইবনে হাসান তাঁকে হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন বলে যা উল্লেখ আছে, তার পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮৮)
36 - وَمِنْهَا: مَا اشْتَهَرَ مِنْ لُبْسِ الْخِرْقَةِ الْمَشْهُورَةِ لِلصُّوفِيَّةِ بِالإِسْنَادِ إِلَى الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ وَأَنَّهُ لَبِسَهَا مِنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ. قَالَ ابْنُ دَحِيَّةَ: بَاطِلٌ. وَكَذَا قَالَ ابْنُ الصَّلاحِ.
৩৬ - আর তন্মধ্যে রয়েছে: সুফিদের মাঝে প্রসিদ্ধ খিরকা পরিধানের সেই বিষয়টি যা হাসান বসরীর প্রতি এই সূত্রে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যে, তিনি তা আলী ইবনে আবি তালিবের নিকট থেকে পরিধান করেছেন। ইবনে দাহিয়্যাহ বলেছেন: এটি বাতিল। ইবনে সালাহও অনুরূপ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৮৯)
37 - وَمَا اشْتُهِرَ عَلَى الأَلْسِنَةِ مِنْ أَنَّ بِلالا رضي الله عنه كَانَ يُبَدِّلُ الشِّينَ سِينًا فِي الأَذَانِ لَمْ يَرِدْ فِي شَيْءٍ مِنَ الْكُتُبِ.

وَمن الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة:

 

38 - حَدِيث الْبِطِّيخ وفضائله.

39 - والباقلا.

40 - والعدس.

41 - والأرز.
37 - মানুষের মুখে যা প্রসিদ্ধ যে, বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আযানের মধ্যে 'শীন' বর্ণকে 'সীন' বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করতেন, তা কোনো কিতাবেই বর্ণিত হয়নি।

এবং জাল হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো:

 

38 - তরমুজ এবং এর ফজিলত সংক্রান্ত হাদীস।

39 - এবং শিম সংক্রান্ত।

40 - এবং মসুর ডাল সংক্রান্ত।

41 - এবং চাল সংক্রান্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৯০)
لَيْسَ فِيهَا شَيْء ثَابت.

42 - كَحَدِيث: " لَوْ كَانَ الأُرْزُ رَجُلا لَكَانَ حَلِيمًا ". قَالَ ابْنُ الْقَيِّمِ: إِنَّهُ بَاطِلٌ وَلا يَصِحُّ.

43 - وَحَدِيث: " الْبَاذِنْجَانُ لِمَا أُكِلَ لَهُ " /. بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ بِاتِّفَاقِ الْعُلَمَاءِ.

44 - وَحَدِيث " أَكْلِ الطِّينِ " وَتَحْرِيمِهِ لَا يَصِحُّ.

45 - وَحَدِيث: " لَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِي الْخُصْيَانِ خَيْرًا لأَخْرَجَ مِنْ أَصْلابِهِمْ ذُرِّيَّةً تُوَحِّدُ اللَّهَ، وَلَكِنَّهُ عَلِمَ أَنَّهُ لَا خَيْرَ فِيهِمْ فَأَجَبَّهُمْ ". لَا يَصِحُّ.

46 - وَكَذَلِكَ كل مَا ورد فيهم من مدح أَو قدح. نعم نَقَلَ الْبَيْهَقِيُّ عَنِ الشَّافِعِيِّ أَنَّهُ قَالَ:
এগুলোর মধ্যে কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়।

42 - যেমন এই হাদীসটি: "যদি চাল কোনো মানুষ হতো, তবে সে অবশ্যই সহনশীল হতো।" ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এটি বাতিল এবং সহীহ নয়।

43 - এবং হাদীস: "বেগুন যে উদ্দেশ্যে খাওয়া হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই কার্যকর।" আলেমদের ঐকমত্যে এটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই।

44 - এবং "মাটি খাওয়া" ও এর নিষিদ্ধতা বিষয়ক হাদীস সহীহ নয়।

45 - এবং হাদীস: "যদি আল্লাহ নপুংসকদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন, তবে তাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে এমন বংশধর বের করতেন যারা আল্লাহর তাওহীদ ঘোষণা করত; কিন্তু তিনি জানতেন যে তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, তাই তিনি তাদের নির্বংশ করেছেন।" এটি সহীহ নয়।

46 - অনুরূপভাবে তাদের প্রশংসায় বা নিন্দায় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে (তাও সহীহ নয়)। হ্যাঁ, বায়হাকী ইমাম শাফিয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাউযুআতু ফিল আহাদিসিল মাউযুআহ (পৃষ্ঠা: ৯১)
" أَرْبَعَةٌ لَا يَعْبَأُ اللَّهُ بِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: زُهْدُ خَصِيٍّ، وَتَقْوَى جُنْدِيٍّ، وَأَمَانَةُ امْرَأَةٍ، وَعِبَادَةُ صَبِيٍّ ". وَلَعَلَّهُ مَحْمُولٌ عَلَى الْغَالِبِ.

47 - وَحَدِيث: " إِحْيَاءِ أَبَوَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى آمنا بِهِ ". أخرجه بَعْضُهُمْ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ.

48 - وَحَدِيث: " إِنَّ الْوَرْدَ خُلِقَ مِنْ عَرَقِهِ عليه السلام أَوْ عَرَقِ الْبُرَاقِ ". قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ: مَوْضُوعٌ.

49 - وَحَدِيث: " أَدَّبَنِي رَبِّي فَأحْسن تأديبي ".
"চার শ্রেণির লোকের প্রতি কিয়ামতের দিন আল্লাহ ভ্রুক্ষেপ করবেন না: নপুংসকের দুনিয়াবিমুখতা, সৈনিকের তাকওয়া, নারীর আমানতদারি এবং বালকের ইবাদত।" সম্ভবত এটি অধিকাংশের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে।

47 - এবং হাদিস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতামাতাকে জীবিত করা হয়েছে যাতে তাঁরা তাঁর প্রতি ঈমান আনতে পারেন।" কেউ কেউ একে দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।

48 - এবং হাদিস: "নিশ্চয়ই গোলাপ ফুল তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘাম অথবা বুরাকের ঘাম থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" ইবনে আসাকির বলেছেন: এটি বানোয়াট।

49 - এবং হাদিস: "আমার রব আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন, অতঃপর তিনি আমার শিষ্টাচারকে অতি উত্তম করেছেন।"