(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: -)
التمييز لمسلم (مسلم)
القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: التمييز
المؤلف: مسلم بن الحجاج أبو الحسن القشيري النيسابوري (ت 261 هـ)
المحقق: د. محمد مصطفى الأعظمي [ت 1439 هـ]
الناشر: مكتبة الكوثر - المربع - السعودية
الطبعة: الثالثة، 1410
عدد الصفحات: 220
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম মুসলিমের আত-তাময়িজ (মুসলিম)
বিভাগ: হাদিসের ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী
গ্রন্থ: আত-তাময়িজ
লেখক: মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আবুল হাসান আল-কুশাইরি আন-নিশাপুরি (মৃ. ২৬১ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা আল-আজমি [মৃ. ১৪৩৯ হিজরি]
প্রকাশক: মাকতাবাতুল কাওসার - আল-মুরাব্বা - সৌদি আরব
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২০
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قرىء على أَبى حَاتِم مكي بن عَبْدَانِ قَالَ سَمِعت مُسلم بن الْحجَّاج القشيرى يَقُول بِاللَّه نستعين وبحوله نجيب ونرغب اليه فى التَّوْفِيق للرشد وَالصَّوَاب وَلَا قُوَّة الا بِاللَّهأما بعد فَإنَّك يَرْحَمك الله ذكرت أَن قبلك قوما يُنكرُونَ قَول الْقَائِل من أهل الْعلم اذا قَالَ هَذَا حَدِيث خطأ وَهَذَا حَدِيث صَحِيح وَفُلَان يخطىء فِي رِوَايَته حَدِيث كَذَا وَالصَّوَاب مَا روى فلَان بِخِلَافِهِ وَذكرت أَنهم استعظموا ذَلِك من قَول من قَالَه ونسبوه الى اغتياب الصَّالِحين من السّلف الماضين وَحَتَّى قَالُوا ان من ادّعى تَمْيِيز خطأ روايتهم من صوابها متحرص بِمَا لَا علم لَهُ بِهِ ومدع علم غيب لَا يُوصل اليهوَاعْلَم وفقنا الله واياك أَن لَوْلَا كَثْرَة جهلة الْعَوام مستنكرى الْحق ورايه بالجهالة لما بَان فضل عَالم على جَاهِل وَلَا تبين علم من جهل وَلَكِن الْجَاهِل يُنكر الْعلم لتركيب الْجَهْل فِيهِ وضد الْعلم هُوَ الْجَهْل فَكل ضد ناف لضده دَافع لَهُ لَا محَالة فَلَا يهولنك استنكار الْجُهَّال وَكَثْرَة الرعاع لما خص بِهِ قوم وحرموه فَإِن اعْتِدَاد الْعلم دائر الى معدنه وَالْجهل وَاقِف على أَهله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আবু হাতিম মক্কী ইবনে আবদান-এর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরীকে বলতে শুনেছি—আমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই শক্তির সাহায্যে আমরা উত্তর প্রদান করি এবং সঠিক পথ ও সত্যের ওপর অবিচল থাকার তৌফিক তাঁরই নিকট কামনা করি; আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।অতঃপর, আল্লাহ আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনার নিকট এমন একদল লোক রয়েছে যারা ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞ আলেমদের এই জাতীয় বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে যখন তাঁরা বলেন—'এই হাদিসটি ভুল এবং এই হাদিসটি সহিহ' অথবা 'অমুক ব্যক্তি অমুক হাদিস বর্ণনায় ভুল করেছেন এবং সঠিক হলো তার বিপরীতে অমুক ব্যক্তি যা বর্ণনা করেছেন।' আপনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তারা এই বক্তব্য প্রদানকারীদের কথাকে অত্যন্ত আপত্তিকর মনে করেছে এবং একে অতীতের নেককার পূর্বসূরীগণের (সালাফ) গীবত বা পরনিন্দা হিসেবে গণ্য করেছে। এমনকি তারা বলেছে যে, যারা বর্ণনার ভুল ও সঠিকের মধ্যে পার্থক্য করার দাবি করে, তারা মূলত না জেনে অনুমাননির্ভর কথা বলছে এবং এমন এক অতীন্দ্রিয় জ্ঞানের (ইলমে গায়েব) দাবি করছে যা অর্জন করা অসম্ভব।জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তৌফিক দান করুন—যদি সত্যকে অস্বীকারকারী এবং অজ্ঞতাবশত সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারী মূর্খ সাধারণ মানুষের আধিক্য না থাকত, তবে অজ্ঞের ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হতো না এবং মূর্খতা থেকে ইলমের পার্থক্যও সুস্পষ্ট হতো না। কিন্তু মূর্খ ব্যক্তি মূলত তার অন্তরে অজ্ঞতা বদ্ধমূল থাকার কারণেই ইলমকে অস্বীকার করে। আর ইলমের বিপরীত হলো অজ্ঞতা; সুতরাং প্রতিটি বিপরীত সত্তা অনিবার্যভাবেই তার বিপরীতকে অস্বীকার ও প্রতিহত করে। অতএব, একদল লোককে আল্লাহ যে বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন এবং অন্যদের যা থেকে বঞ্চিত করেছেন, সে বিষয়ে মূর্খদের অস্বীকৃতি এবং সাধারণ ইতর শ্রেণির মানুষের আধিক্য যেন আপনাকে বিচলিত না করে। কেননা ইলমের গুরুত্ব ও মর্যাদা তার উৎসের কাছেই আবর্তিত হয়, আর অজ্ঞতা তার ধারকদের ওপরই থমকে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
وَسَأَلت أَن أذكر لَك فِي كتابي رِوَايَة أَحَادِيث مِمَّا وهم قوم فِي رِوَايَتهَا فَصَارَت تِلْكَ الاحاديث عِنْد أهل الْعلم فِي عداد الْغَلَط وَالْخَطَأ بِبَيَان شاف أبينها لَك حَتَّى يَتَّضِح لَك ولغيرك مِمَّن سَبيله طلب الصَّوَاب سَبِيلك غلط من غلط وصواب من أصَاب مِنْهُم فِيهَا وسأذكر لَك ان شَاءَ الله من ذَلِك مَا يرشدك الله وتهجم على أَكثر مِمَّا أذكرهُ لَك فِي كتابي وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقفَمنهمْ الْحَافِظ المتقن الْحِفْظ المتوقي لما يلْزم توقيه فِيهِ وَمِنْهُم المتساهل المشيب حفظه بتوهم يتوهمه أَو تلقين يلقنه من غَيره فيخلطه بحفظه ثمَّ لَا يميزه عَن أَدَائِهِ الى غَيره وَمِنْهُم من همه حفظ متون الاحاديث دون أسانيدها فيتهاون بِحِفْظ الاثر يتخرصها من بعد فيحيلها بالتوهم على قوم غير الَّذين أُدي اليه عَنْهُم وكل مَا قُلْنَا من هَذَا فِي رُوَاة الحَدِيث ونقال الاخبار فَهُوَ مَوْجُود مستفيضوَمِمَّا ذكرت لَك من مَنَازِلهمْ فِي الْحِفْظ ومراتبهم فِيهِ فَلَيْسَ من ناقل خبر وحامل أثر من السّلف الماضين الى زَمَاننَا وان كَانَ من أحفظ النَّاس وأشدهم توقيا واتقانا لما يحفظ وينقل الا الْغَلَط والسهو مُمكن فِي حفظه وَنَقله فَكيف بِمن وصفت لَك مِمَّن طَريقَة الْغَفْلَة والسهولة فِي ذَلِك ثمَّ أول مَا أذكر لَك بعد مَا وصفت مِمَّا يجب عَلَيْك مَعْرفَته قبل ذكري لَك مَا سَأَلت من الاحاديث السمة الَّتِي تعرف بهَا خطأ المخطىء فِي الحَدِيث وصواب غَيره اذا أصَاب فِيهِفَاعْلَم أرشدك الله ان الَّذِي يَدُور بِهِ معرفَة الْخَطَأ فِي رِوَايَة ناقل الحَدِيث اذا هم اخْتلفُوا فِيهِ من جِهَتَيْنِ أَحدهمَا أَن ينْقل النَّاقِل حَدِيثا بِإِسْنَاد فينسب رجلا مَشْهُورا بِنسَب فِي اسناد خَبره خلاف نسبته الَّتِي هِيَ نسبته أَو يُسَمِّيه باسم سوى اسْمه فَيكون خطأ ذَلِك غير خَفِي على أهل الْعلم حِين يرد عَلَيْهِم
আপনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন যে আমি যেন আমার গ্রন্থে এমন কিছু হাদিসের বর্ণনার কথা উল্লেখ করি যেগুলোর বর্ণনায় একদল লোক বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে, ফলে সেই হাদিসগুলো ইলমে হাদিসের পণ্ডিতগণের নিকট ভুল এবং ত্রুটির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমি একটি সন্তোষজনক বর্ণনার মাধ্যমে আপনার সামনে সেগুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরব, যাতে আপনার কাছে এবং আপনার মতো যারা সত্য অনুসন্ধানের পথে রয়েছেন তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাদের মধ্যে কার বর্ণনা ভুল আর কার বর্ণনা সঠিক। আমি আপনার জন্য এই বিষয়ে ইনশাআল্লাহ এমন কিছু উল্লেখ করব যার মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে সঠিক দিশা দেবেন এবং আমি আমার গ্রন্থে যা উল্লেখ করছি আপনি তার চেয়েও অধিক বিষয়ের জ্ঞান লাভ করবেন। আর আল্লাহর তৌফিক বা অনুগ্রহেই সকল সাফল্য লাভ হয়।হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ অত্যন্ত সুদক্ষ হাফেজ, হিফজের ক্ষেত্রে অতি যত্নশীল এবং যে সকল বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক সে ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ শিথিলতা প্রদর্শনকারী, যাদের মুখস্থ করা বিষয়গুলো নিছক কল্পনাপ্রসূত ধারণা কিংবা অপরের শিখিয়ে দেওয়া কথার সংমিশ্রণে কলুষিত হয়ে গেছে; ফলে তারা নিজ স্মৃতির সাথে অন্যের কথা মিশিয়ে ফেলেন এবং অন্যের কাছে বর্ণনা করার সময় তা আর আলাদা করতে পারেন না। আবার কেউ কেউ এমন রয়েছেন যাদের মূল লক্ষ্য হলো হাদিসের মতন বা মূল পাঠ মুখস্থ করা, সনদের (বর্ণনাসূত্র) প্রতি তাদের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই; ফলে তারা হাদিসের বর্ণনাসূত্র সংরক্ষণে অবহেলা করেন এবং পরবর্তীতে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তা বর্ণনা করেন। এতে করে তারা বিভ্রান্তিবশত হাদিসটিকে এমন একদল লোকের দিকে সম্পৃক্ত করে দেন যাদের কাছ থেকে প্রকৃতপক্ষে তা বর্ণিত হয়নি। হাদিস বর্ণনাকারী এবং সংবাদ বাহকদের ব্যাপারে আমি যা কিছু বললাম, তা একটি বিদ্যমান এবং সুপ্রমাণিত বাস্তবতা।বর্ণনাকারীদের স্মৃতিশক্তির মান ও স্তর সম্পর্কে আমি যা কিছু উল্লেখ করেছি তার প্রেক্ষাপটে বলা যায়, পূর্ববর্তী সালাফ থেকে শুরু করে আমাদের সময় পর্যন্ত এমন কোনো সংবাদ বর্ণনাকারী বা হাদিস বাহক নেই—তিনি মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক সতর্ক ও নিখুঁত হওয়া সত্ত্বেও—যার স্মৃতিশক্তি বা বর্ণনায় ভুল ও বিচ্যুতি ঘটা অসম্ভব। সুতরাং যাদের সম্পর্কে আমি আপনার কাছে বর্ণনা করেছি যে তাদের কর্মপন্থা হলো অসতর্কতা ও শিথিলতা, তাদের অবস্থা কী হতে পারে! অতঃপর আপনার জিজ্ঞাসিত হাদিসগুলো উল্লেখ করার পূর্বে যা জানা আপনার জন্য আবশ্যক তা হলো—সেই বৈশিষ্ট্য বা আলামত যার মাধ্যমে হাদিসের ক্ষেত্রে ভুলকারীর ভুল এবং সঠিক বর্ণনাকারীর সঠিকতা নিরূপণ করা যায়।আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, জেনে রাখুন যে, হাদিস বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় ভুল নির্ণয়ের বিষয়টি মূলত দুটি দিকের ওপর আবর্তিত হয় যখন তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। তার একটি হলো, বর্ণনাকারী একটি হাদিসকে এমন একটি সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেন যেখানে তিনি কোনো প্রসিদ্ধ ব্যক্তিকে এমন এক বংশ পরিচয়ে উল্লেখ করেন যা তার প্রকৃত পরিচয় নয়, অথবা তাকে তার আসল নাম ছাড়া অন্য কোনো নামে অভিহিত করেন। যখন বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের সামনে এই বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়, তখন এই ভুলটি তাঁদের কাছে মোটেও অস্পষ্ট থাকে না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
كنعمان بن رَاشد حَيْثُ حدث عَن الزُّهْرِيّ فَقَالَ عَن أبي الطُّفَيْل عَمْرو بن وَاثِلَة وَمَعْلُوم عِنْد عوام أهل الْعلم أَن اسْم أبي الطُّفَيْل عَامر لَا عَمْرو وكما حدث مَالك بن أنس عَن الزُّهْرِيّ فَقَالَ عَن عباد وَهُوَ من ولد الْمُغيرَة ابْن شُعْبَة وانما هُوَ عباد بن زِيَاد بن أبي سُفْيَان مَعْرُوف النّسَب عِنْد أهل النّسَب وَلَيْسَ من الْمُغيرَة بسبيلوكرواية معمر حِين قَالَ عَن عمر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن مطعم وانما هُوَ عمر ابْن مُحَمَّد بن جُبَير بن مطعم خطأ لَا شكّ عِنْد نساب قُرَيْش وَغَيرهم مِمَّن عرف أنسابهم وَلم يكن لجبير أَخ يعرف بِعَمْرو وكنحو مَا وصفت مِنْهُ هَذِه الْجِهَة من خطأ الاسانيد فموجود فِي متون الاحاديث مِمَّا يعرف خطأه السَّامع الْفَهم حِين يرد على سَمعهوَكَذَلِكَ نَحْو رِوَايَة بَعضهم حَيْثُ صحف فَقَالَ نهى النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن التحير أَرَادَ النجش وكما روى آخر فَقَالَ ان أبْغض النَّاس الى الله عز وجل ثَلَاثَة ملحد فِي الحرفة وَكَذَا وَكَذَا أَرَادَ ملحدا فِي الْحرموكرواية الآخر اذ قَالَ نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن تتَّخذ الرّوح عرضا أَرَادَ الرّوح غَرضا
যেমন নুমান ইবনে রাশিদ, যখন তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন ‘আবু তুফাইল আমর ইবনে ওয়াসিলা থেকে বর্ণিত’। অথচ ইলম অন্বেষণকারী সাধারণ ব্যক্তিবর্গের নিকট এটি সুপরিচিত যে, আবু তুফাইলের নাম হলো আমির, আমর নয়। অনুরূপভাবে ইমাম মালিক ইবনে আনাস যুহরী থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে আব্বাদ নামক জনৈক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাকে মুগীরা ইবনে শু’বার বংশধর হিসেবে গণ্য করেছেন; অথচ তিনি হলেন আব্বাদ ইবনে যিয়াদ ইবনে আবি সুফিয়ান। বংশলতিকা বিশেষজ্ঞদের নিকট তার নসব বা বংশপরিচয় সুপরিচিত এবং মুগীরা ইবনে শু’বার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।আবার মা’মারের বর্ণনার মতো, যখন তিনি ‘উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে মুতিম’ বলেছেন; অথচ তিনি হলেন ‘উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতিম’। কুরাইশ বংশবিদ এবং অন্যান্য যারা তাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে অবগত, তাদের নিকট এটি নিঃসন্দেহে একটি ভুল; কারণ জুবাইরের ‘আমর’ নামে পরিচিত কোনো ভাই ছিল না। সনদের ভুলের ব্যাপারে আমি যে দিকগুলো বর্ণনা করলাম, তদ্রূপ হাদিসের মূল পাঠেও (মতন) এমন ভুল বিদ্যমান রয়েছে যা একজন প্রজ্ঞাবান শ্রোতা শোনামাত্রই তার ভুল শনাক্ত করতে পারেন।অনুরূপভাবে কোনো কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনার মতো, যেখানে তিনি শব্দ পরিবর্তন করে (তাসহিফ) বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘তাহাইয়ুর’ (কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া) থেকে নিষেধ করেছেন," অথচ তিনি ‘নাজাশ’ (প্রতারণামূলক উচ্চমূল্য হাঁকানো) বুঝাতে চেয়েছিলেন। আবার অন্য একজন বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত ব্যক্তি হলো তিনজন: পেশার (হিরফাহ) ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটানো ব্যক্তি..." ইত্যাদি, অথচ তিনি পবিত্র হারামের (হারাম) মধ্যে ধর্মদ্রোহী বা বিচ্যুতি ঘটানো ব্যক্তি বুঝাতে চেয়েছিলেন।এবং অন্য একজনের বর্ণনার মতো, যখন তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাণবিশিষ্ট কোনো কিছুকে প্রদর্শনী (আরাদ) হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন," অথচ তিনি লক্ষ্যবস্তু (গারাদ) হিসেবে গ্রহণ করা বুঝাতে চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
فَهَذِهِ الْجِهَة الَّتِي وَصفنَا من خطأ الاسناد وَمتْن الحَدِيث هِيَ أظهر الْجِهَتَيْنِ خطأ وعارفوه فِي النَّاس أَكثروالجهة الاخرى أَن يروي نفر من حفاظ النَّاس حَدثنَا عَن مثل الزُّهْرِيّ أَو غَيره من الائمة بِإِسْنَاد وَاحِد وَمتْن وَاحِد مجتمعون على رِوَايَته فِي الاسناد والمتن لَا يَخْتَلِفُونَ فِيهِ فِي معنى فيرويه آخر سواهُم عَمَّن حدث عَنهُ النَّفر الَّذين وصفناهم بِعَيْنِه فيخالفهم فِي الاسناد أَو يقلب الْمَتْن فَيَجْعَلهُ بِخِلَاف مَا حكى من وَصفنَا من الْحفاظ فَيعلم حِينَئِذٍ أَن الصَّحِيح من الرِّوَايَتَيْنِ مَا حدث الْجَمَاعَة من الْحفاظ دون الْوَاحِد الْمُنْفَرد وان كَانَ حَافِظًا على هَذَا الْمَذْهَب رَأينَا أهل الْعلم بِالْحَدِيثِ يحكمون فِي الحَدِيث مثل شُعْبَة وسُفْيَان بن عيينه وَيحيى بن سعيد وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَغَيرهم من أَئِمَّة أهل الْعلم وَسَنذكر من مذاهبهم وأقوالهم فِي حفظ الْحفاظ وَخطأ الْمُحدثين فِي الرِّوَايَات مَا يسْتَدلّ بِهِ على تَحْقِيق مَا فسرت لَك ان شَاءَ اللهغير أَن أول مَا نبدأ بِذكرِهِ فِي هَذَا الْمَعْنى الْخَبَر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي تحريضه النَّاس على حفظ حَدِيثه وتبليغ من سَمعه الى غَيره كَمَا سَمعه ودعائه بِالْخَيرِ لمن فعل ذَلِك1 - حَدثنَا مُحَمَّد بن أَبى عمر ثَنَا سُفْيَان عَن عبد الْملك بن عُمَيْر عَن عبد الرَّحْمَن عَن أَبِيه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نضر الله عبدا
সনদ ও মতনের ভুলের যে দিকটি আমরা বর্ণনা করেছি, তা ভুলের দুই প্রকারের মধ্যে অধিকতর সুস্পষ্ট এবং ইলমে হাদিসে পারদর্শী ব্যক্তিবর্গের নিকট এটি সুপরিচিত।আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো—একদল হাফেজ (স্মৃতিধর বর্ণনাকারী) ইমাম যুহরী বা অন্য কোনো ইমামের সূত্রে একই সনদ ও একই মতনে হাদিস বর্ণনা করেন এবং তারা সকলে সনদ ও মতনের বর্ণনায় ঐকমত্য পোষণ করেন এবং অর্থের ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা করেন না। এমতাবস্থায় তাদের ব্যতীত অন্য একজন বর্ণনাকারী সেই একই উস্তাদ থেকে হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে তাদের বিরোধিতা করেন; হয় তিনি সনদে ভিন্নতা করেন অথবা মতনকে উল্টে দেন, ফলে তিনি আমাদের বর্ণিত সেই হাফেজদের বর্ণনার বিপরীতে হাদিসটি বর্ণনা করেন। এমতাবস্থায় এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, উভয় বর্ণনার মধ্যে সেই বর্ণনাটিই সঠিক যা একদল হাফেজ সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, সেই একক ব্যক্তির বর্ণনা নয়—যদিও তিনি নিজেও একজন হাফেজ হয়ে থাকেন। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই আমরা হাদিস বিশারদ ইমামগণকে হাদিসের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান করতে দেখেছি, যেমন—শু'বাহ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, আব্দুর রহমান বিন মাহদী এবং ইলমে হাদিসের অন্যান্য ইমামগণ। হাফেজদের মুখস্থ শক্তি এবং বর্ণনাকারীদের ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে তাদের অনুসৃত নীতি ও বক্তব্য থেকে আমরা অচিরেই এমন কিছু উল্লেখ করব, যা ইনশাআল্লাহ আপনার নিকট আমার করা ব্যাখ্যার সত্যতা ও যথার্থতা প্রমাণ করবে।তবে এই প্রসঙ্গে আমরা সর্বপ্রথম যা দিয়ে আলোচনা শুরু করব, তা হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই হাদিস, যেখানে তিনি মানুষকে তাঁর হাদিস সংরক্ষণ করতে এবং তা শ্রবণকারীর পক্ষ থেকে অন্যের নিকট অবিকলভাবে পৌঁছে দিতে উৎসাহিত করেছেন। আর যারা এটি করবে, তাদের জন্য তিনি বরকতের দোয়া করেছেন।১ - মুহাম্মাদ ইবনে আবি ওমর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইরের সূত্রে, তিনি আব্দুর রহমানের সূত্রে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও সতেজ রাখুন (যে আমার কথা শুনে তা মুখস্থ রাখল...)
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
سمع مَقَالَتي فوعاها وحفظها وَبَلغهَا فَرب حَامِل فقه غير فَقِيه وَرب حَامِل فقه الى من هُوَ أفقه مِنْهُ وَسَاقه2 - حَدثنِي زُهَيْر بن حَرْب أَنا الْوَلِيد بن مُسلم ثَنَا الاوزاعي حَدثنِي حسان بن عَطِيَّة حَدَّثَنى أَبُو كَبْشَة أَن عبد الله بن عَمْرو حَدثهُ أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول بلغُوا عني وَلَو آيَة وَحَدثُوا عَن بني اسرائيل وَلَا حرج3 - حَدثنَا هداب بن خَالِد ثَنَا همام عَن زيد بن أسلم عَن عَطاء عَن أبي سعيد أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ حدثوا عني وَلَا حرج وَحَدثُوا عَن بني اسرائيل وَلَا حرج- بَاب مَا جَاءَ فِي [التوقي فِي حمل الحَدِيث وأدائه والتحفظ من الزِّيَادَة فِيهِ وَالنُّقْصَان]-4 - حَدثنَا ابْن نمير ثَنَا أَبُو خَالِد الاحمر عَن أبي مَالك عَن سعد بن عُبَيْدَة عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ بني الاسلام على خَمْسَة على أَن يوحد الله واقام الصَّلَاة وايتاء الزَّكَاة وَصِيَام رَمَضَان وَالْحج فَقَالَ رجل الْحَج وَصِيَام رَمَضَان فَقَالَ لَا صِيَام رَمَضَان وَالْحج هَكَذَا سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم5 - حَدثنَا مُحَمَّد بن رَافع ثَنَا عبد الرَّزَّاق أَنا معمر عَن عُثْمَان بن يزدويه عَن جَعْفَر بن روذي سَمِعت عبيد بن عُمَيْر وَهُوَ يقص يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مثل الْمُنَافِق كَمثل الشَّاة الرابضة بَين الْغَنَمَيْنِ
যে ব্যক্তি আমার কথা শুনল, তা অনুধাবন করল, সংরক্ষণ করল এবং তা পৌঁছে দিল। কারণ অনেক ফিকহ (জ্ঞান) বহনকারী নিজে ফকীহ (প্রাজ্ঞ) নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও অধিক প্রাজ্ঞ। আর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন—২ - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর বিন হারব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযা’য়ী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাসসান বিন আতিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কাবশাহ যে, আবদুল্লাহ বিন আমর তাকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।"৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদ্দাব বিন খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই, এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, তাতেও কোনো দোষ নেই।"- পরিচ্ছেদ: হাদীস গ্রহণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং তাতে হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে।-৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু নুমাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খালিদ আল-আহমার, আবু মালিক থেকে, তিনি সা’দ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি ইবনু উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর—আল্লাহকে একক উপাস্য হিসেবে স্বীকার করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং হজ করা।" তখন এক ব্যক্তি বলল: "হজ এবং রমজানের সিয়াম?" তিনি বললেন: "না, বরং রমজানের সিয়াম ও হজ; আমি এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি।"৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন রাফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, উসমান বিন ইয়াযদুওয়াইহ থেকে, তিনি জাফর বিন রূযী থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি উবাইদ বিন উমাইরকে ওয়ায করার সময় বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুনাফিকের উদাহরণ হলো সেই মেষের মতো, যা দুই পালের মাঝখানে থমকে বসে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
فَقَالَ ابْن عمر وَيْلكُمْ لَا تكذبوا على رَسُول الله انما قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مثل الْمُنَافِق كَمثل الشَّاة العائرة بَين الْغَنَمَيْنِ6 - حَدثنَا الْحلْوانِي ثَنَا مُحَمَّد بن بشر ثَنَا خَالِد بن سعيد قيل لمُحَمد من ذكرت يَا أَبَا عبد الله قَالَ الثِّقَة الصدوق الْمَأْمُون خَالِد بن سعيد أَخُو اسحاق ابْن سعيد عَن أَبِيه قَالَ مَا رَأَيْت أحدا كَانَ أَشد اتقاء للْحَدِيث من ابْن عمر7 - حَدثنَا يحيى بن حبيب قَالَ ثَنَا بشر بن الْمفضل ثَنَا ابْن عون عَن مُسلم أبي عبد الله عَن ابراهيم بن يزِيد عَن أَبِيه عَن عَمْرو بن مَيْمُون قَالَ مَا أخطأني خَمِيس الا آتِي فِيهِ عبد الله بن مَسْعُود وَمَا سمعته لشَيْء قطّ يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَانَ عَشِيَّة فَقَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ نكس فَرفع بَصَره أَو قَالَ رَأسه واني لانظر اليه فَذكر الحَدِيث8 - حَدثنَا يحيى بن يحيى ثَنَا سليم بن أَخْضَر عَن ابْن عون عَن مُحَمَّد أَن أنس بن مَالك كَانَ اذا حدث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم حَدِيثا كَانَ يَقُول أَو كَمَا قَالَ9 - حَدثنَا اسحاق بن ابراهيم أنبأ الْفضل بن مُوسَى ثَنَا الْحُسَيْن بن وَاقد عَن الرديني بن ابي مجلز عَن أَبِيه عَن قيس بن عباد قَالَ سَمِعت عمر يَقُول من سمع حَدِيثا فَرد كَمَا سمع فقد سلم
অতঃপর ইবনে উমর বললেন, "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! আল্লাহর রাসূলের প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এটুকুই বলেছেন: মুনাফিকের উদাহরণ হলো দুই পালের মাঝে দিশেহারা মেষের মতো।"৬ - আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কার কথা উল্লেখ করেছেন?" তিনি বললেন, "নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত খালিদ ইবনে সাঈদ, যিনি ইসহাক ইবনে সাঈদের ভাই, তিনি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।" তিনি (পিতা) বলেন, "আমি ইবনে উমরের চেয়ে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বনকারী আর কাউকে দেখিনি।"৭ - ইয়াহইয়া ইবনে হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বিশর ইবনুল মুফাদদাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আউন মুসলিম আবু আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "এমন কোনো বৃহস্পতিবার অতিবাহিত হয়নি যেদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট উপস্থিত হইনি। আমি তাকে কখনোই কোনো বিষয়ে 'আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি' বলতে শুনিনি। অবশেষে একদিন বিকেলে তিনি বললেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি...', এরপর তিনি মাথা নিচু করলেন। অতঃপর তিনি তার দৃষ্টি—বা তিনি বললেন তার মাথা—উত্তোলন করলেন। আমি তখন তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন।"৮ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইম ইবনে আখদার ইবনে আউন থেকে, তিনি মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনে মালিক যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি বলতেন, "অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন।"৯ - ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফাদল ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ রুদাইনি ইবনে আবি মিজলায থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে, তিনি কায়েস ইবনে আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "আমি উমরকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি কোনো হাদিস শুনল এবং তা ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করল যেমনটি সে শুনেছে, তবে সে নিরাপদ রইল।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
(10) حَدثنَا عبد الله بن عبد الرَّحْمَن الدَّارمِيّ ثَنَا مَرْوَان الدِّمَشْقِي عَن اللَّيْث بن سعد حَدثنِي بكير بن الاشج قَالَ قَالَ لنا بسر بن سعيد اتَّقوا الله وتحفظوا من الحَدِيث فوَاللَّه لقد رَأَيْتنَا نجالس أَبَا هُرَيْرَة فَيحدث عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن كَعْب وَحَدِيث كَعْب عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم11 - حَدثنَا اسحاق بن ابراهيم وَابْن رَافع وَعبد بن حميد قَالُوا ثَنَا عبد الرَّزَّاق ثَنَا معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن عبيد الله بن عبد الله عَن ابْن عَبَّاس قَالَ فَلَمَّا ارْتقى عمر الْمِنْبَر أَخذ الْمُؤَذّن فِي أَذَانه فَلَمَّا فرغ من أَذَانه قَامَ عمر فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهله ثمَّ قَالَ أما بعد فَانِي اريد أَن أَقُول مقَالَة قد قدر أَن أقولها لَا أَدْرِي لَعَلَّهَا بَين يَدي أَجلي فَمن وعاها وعقلها وَعلمهَا وحفظها فليتحدث بهَا حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ وَمن خشِي أَن لَا يعيها فَإِنِّي لَا أحل لَاحَدَّ أَن يكذب عَليّ12 - حَدثنَا ابو بكر بن نَافِع ثَنَا عمر بن عَليّ عَن هِشَام عَن أَبِيه عَن عبد الله ابْن عَمْرو قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول ثمَّ لقِيت عبد الله ابْن عَمْرو على رَأس الْحول فَسَأَلته فَرد عَليّ الحَدِيث كَمَا حدث قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول ان الله جلّ وَعز لَا ينتزع الْعلم13 - حَدثنَا اسحاق أخبرنَا مَرْوَان يَعْنِي ابْن مُعَاوِيَة ثَنَا الاعمش عَن عمَارَة ابْن عُمَيْر قَالَ ان كَانَ أَبُو معمر عبد الله بن سَخْبَرَة ليلحق أَبَا بَرزَة أَن يسمع مِنْهُ14 - حَدثنَا عَمْرو النَّاقِد ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن اسماعيل بن أُمِّيّه قَالَ كُنَّا نرد نَافِعًا عَن اللّحن فيأبى الا الَّذِي سمع
(১০) আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লায়স ইবনে সা'দ থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে আল-আশাজ্জ থেকে বর্ণনা করেন। বুকাইর বলেন, বুসর ইবনে সাঈদ আমাদের বলেছেন: তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করো। আল্লাহর কসম! আমরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর মজলিসে বসতাম, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং কাব (আল-আহবার)-এর বক্তব্য বর্ণনা করতেন। (কিন্তু আমরা দেখেছি) কেউ কেউ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসকে কাবের কথা এবং কাবের কথাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস হিসেবে বর্ণনা করছে।১১ - ইসহাক ইবনে ইবরাহিম, ইবনে রাফি এবং আবদ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: যখন উমর (রা.) মিম্বরে আরোহণ করলেন, তখন মুয়াজ্জিন আজান দিতে শুরু করলেন। আজান শেষ হলে উমর (রা.) দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন: "অতঃপর, আমি এমন একটি কথা বলতে চাই যা বলার জন্য আমার ওপর নির্ধারিত হয়েছে। আমি জানি না, হয়তো এটি আমার মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ের কোনো কথা। সুতরাং যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করল, উপলব্ধি করল, জানল এবং মুখস্থ করল, সে যেন তা বর্ণনা করে যেখানে তার যাতায়াত আছে। আর যে ব্যক্তি তা ধারণ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে, তার জন্য আমি আমার নামে মিথ্যা বলা বৈধ করছি না।"১২ - আবু বকর ইবনে নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি... (বর্ণনাকারী বলেন) অতঃপর এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর আমি পুনরায় আবদুল্লাহ ইবনে আমরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে হাদিসটি ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করলেন যেভাবে পূর্বে করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত জ্ঞানকে (বান্দাদের অন্তর থেকে) ছিনিয়ে নেবেন না..."১৩ - ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান অর্থাৎ ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারা ইবনে উমাইর থেকে। তিনি বলেন, আবু মা'মার আবদুল্লাহ ইবনে সাখবারাহ আবু বারজাহ (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন তাঁর থেকে (হাদিস) শোনার জন্য।১৪ - আমর আন-নাকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে উমাইয়া থেকে। তিনি বলেন, আমরা নাফি'কে (বর্ণনার সময়) ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করার জন্য অনুরোধ করতাম, কিন্তু তিনি যা শুনেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ বলতে অস্বীকৃতি জানাতেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
15 - حَدثنَا الْحلْوانِي ثَنَا سُلَيْمَان بن حَرْب وعارم قَالَا ثَنَا حَمَّاد بن زيد عَن أَشْعَث عَن ابراهيم بن ميسرَة عَن مُجَاهِد قَالَ صلى بِنَا مسلمة بن مخلد صَلَاة الصُّبْح فَقَرَأَ بالبقرة فَمَا أسقط مِنْهَا ألفا وَلَا واوا وَأَنا يَوْمئِذٍ غُلَام يافع16 - قلت لمُحَمد بن مهْرَان الرَّازِيّ أحدثكُم حَاتِم بن اسماعيل ثَنَا أُسَامَة ابْن زيد عَن أبي بكر بن حَفْص بن عمر بن سعد قَالَ قلت لسالم بن عبد الله فِي أَي الشق كَانَ ابْن عمر يشْعر بدنته قَالَ فِي الشق الايمن فَأتيت نَافِعًا فَقلت فِي أَي الشق كَانَ ابْن عمر يشْعر بدنته قَالَ فِي الشق الايسر فَقلت ان سالما أَخْبرنِي أَنه كَانَ يشْعر فِي الشق الايمن فَقَالَ نَافِع وَهل سَالم انما أَتَى ببدنتين مقرونتين صغيرتين فَفرق أَن يدْخل بَينهمَا فأشعر هَذِه فِي الايمن وَهَذِه فِي الايسر فَرَجَعت الى سَالم فَأَخْبَرته بقول نَافِع فَقَالَ صدق نَافِع عَلَيْكُم بِنَافِع فَإِنَّهُ أحفظ لحَدِيث عبد الله فَأقر بِهِ مُحَمَّد بن مهْرَان (17) حَدثنَا مُحَمَّد بن أبي عمر ثَنَا سُفْيَان عَن ابْن شبْرمَة قَالَ قَالَ الشّعبِيّ مَا جالست أحدا مذ عشْرين سنة حدث بِحَدِيث الا وَأَنا أعلم بِهِ مِنْهُ وَلَقَد نسيت من الْعلم مَا لَو قد حفظه أحد من النَّاس كَانَ بِهِ عَالما18 - حَدثنَا ابْن أبي عمر ثَنَا سُفْيَان عَن ابْن شبْرمَة قَالَ قَالَ الشّعبِيّ لشباك أرد عَلَيْك مَا قلت لَاحَدَّ قطّ رد عَليّ19 - حَدثنَا عبد بن حميد ثَنَا عبد الرَّزَّاق أَنا معمر قَالَ قَالَ قَتَادَة لسَعِيد احفظ عَليّ الْمُصحف قَالَ فافتح سُورَة الْبَقَرَة فقرأها حَتَّى خَتمهَا ثمَّ قَالَ هَل أسقطت شَيْئا قَالَ سعيد لَا فَقَالَ أَنا لصحيفة جَابر أحفظ من سُورَة الْبَقَرَة وَمَا قرىء عَليّ الا مرّة20 - حَدثنَا حجاج بن الشَّاعِر ثَنَا عَفَّان بن مُسلم ثَنَا بشر بن الْمفضل ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن اسحاق عَن الزُّهْرِيّ قَالَ مَا استعدت حَدِيثا قطّ وَلَا
১৫ - আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুলাইমান ইবন হারব ও আরিম বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবন যায়িদ বর্ণনা করেছেন আশ'আস থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবন মায়সারা থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মাসলামাহ ইবন মুখাল্লাদ আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং তাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন। তিনি এর একটি 'আলিফ' কিংবা একটি 'ওয়াও'-ও বাদ দেননি; অথচ আমি তখন একজন কিশোর ছিলাম।১৬ - আমি মুহাম্মদ ইবন মিহরান আর-রাজিকে বললাম: হাতিম ইবন ইসমাঈল কি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন? (তিনি বলেন) আমাদের নিকট উসামা ইবন যায়িদ বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন হাফস ইবন উমর ইবন সা'দ থেকে, তিনি বলেন: আমি সালিম ইবন আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবন উমর তাঁর কুরবানির পশুর (বাদানাহ) কোন পাশে চিহ্ন (ইশআর) দিতেন? তিনি বললেন: ডান পাশে। এরপর আমি নাফি'-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলাম, ইবন উমর তাঁর কুরবানির পশুর কোন পাশে চিহ্ন দিতেন? তিনি বললেন: বাম পাশে। আমি বললাম: সালিম আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি ডান পাশে চিহ্ন দিতেন। তখন নাফি' বললেন: সালিম কি কেবল দুটি ছোট উট নিয়ে এসেছিলেন যা জোড়া লাগানো ছিল? তিনি সে দুটির মাঝখানে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন, তাই একটির ডান পাশে এবং অন্যটির বাম পাশে চিহ্ন দিয়েছিলেন। এরপর আমি সালিমের কাছে ফিরে গিয়ে নাফি'-এর কথা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন: নাফি' সত্য বলেছেন। তোমরা নাফি'-এর অনুসরণ করো, কেননা তিনি আব্দুল্লাহর (ইবন উমর) হাদিস অধিক মুখস্থ রাখেন। মুহাম্মদ ইবন মিহরান এটি স্বীকার করলেন। (১৭) মুহাম্মদ ইবন আবু উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন ইবন শুবরুমা থেকে, তিনি বলেন, শাবি বলেছেন: গত বিশ বছরে আমি এমন কারো সাথে বসিনি যে কোনো হাদিস বর্ণনা করেছে অথচ আমি তার চেয়ে সে বিষয়ে অধিক অবগত ছিলাম না। আর আমি জ্ঞান থেকে এমন পরিমাণ ভুলে গিয়েছি যা অন্য কোনো মানুষ যদি মুখস্থ রাখত তবে সে বড় আলিম হয়ে যেত।১৮ - ইবন আবু উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন ইবন শুবরুমা থেকে, তিনি বলেন: শাবি শিবাক-কে বললেন, তুমি যা বলেছ আমি কি তা তোমাকে ফিরিয়ে দেব (পুনরায় শোনাব)? অথচ ইতিপূর্বে কেউই কখনো আমার কথা আমাকে পুনরায় শুনিয়ে দেয়নি।১৯ - আবদ ইবন হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের মা'মার সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কাতাদা সাঈদকে বললেন, আমার জন্য মাসহাফটি (কুরআন) ধরো। তিনি বললেন, সূরা আল-বাকারা শুরু করো। তিনি তা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। এরপর বললেন, আমি কি কিছু বাদ দিয়েছি? সাঈদ বললেন, না। তখন কাতাদা বললেন: আমি জাবিরের সহীফাটি সূরা বাকারার চেয়েও বেশি মুখস্থ রাখি, অথচ তা আমার সামনে মাত্র একবার পাঠ করা হয়েছিল।২০ - হাজ্জাজ ইবন আশ-শা'য়ির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আফফান ইবন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বিশর ইবনুল মুফায্যাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন: আমি কখনো কোনো হাদিস পুনরায় শুনিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করিনি এবং কখনো...
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
شَككت فِي حَدِيث قطّ الا حَدِيثا وَاحِدًا فَسَأَلت صَاحِبي فاذا هُوَ كَمَا حفظت21 - حَدثنَا مُحَمَّد بن عباد ثَنَا سُفْيَان عَن عَمْرو قَالَ مَا رَأَيْت أحدا أبْصر بِالْحَدِيثِ من الزُّهْرِيّ22 - حَدثنَا عبد الْوَارِث بن عبد الصَّمد حَدثنِي أبي حَدثنَا شُعْبَة قَالَ حَدثنِي رجلَانِ صادقان من لباب الحَدِيث عمرَان بن حدير وَسليمَان التَّيْمِيّ23 - حَدثنَا الْحلْوانِي ثَنَا شَبابَة ثَنَا شُعْبَة قَالَ شكّ ابْن عون أصدق عِنْدِي من حَدِيث آخر عنْدكُمْ صَدُوق صَدُوق24 - حَدثنَا الْوَلِيد بن شُجَاع قَالَ سَمِعت عَليّ بن مسْهر يذكر عَن سُفْيَان قَالَ حفاظ النَّاس أَرْبَعَة يحيى بن سعيد الانصاري واسماعيل بن أبي خَالِد وَعبد الْملك بن أبي سُلَيْمَان وَعَاصِم الاحول25 - حَدثنَا مَحْمُود بن غيلَان ثَنَا وَكِيع قَالَ سَمِعت شُعْبَة يَقُول سُفْيَان الثَّوْريّ أحفظ مني وَمَا حَدثنِي عَن شيخ الا واذا سَأَلت الشَّيْخ حَدثنِي على مَا قَالَ سُفْيَان26 - حَدثنَا الْوَلِيد بن شُجَاع قَالَ ذهبت مَعَ سُفْيَان الى هِشَام بن عُرْوَة فَجعل سُفْيَان يسْأَل هشاما وَهِشَام يحدثه حَتَّى اذا فرغ قَالَ لَهُ سُفْيَان أعيدها عَلَيْك فَأَعَادَهَا عَلَيْهِ ثمَّ قَامَ سُفْيَان وَأذن لاصحاب الحَدِيث فَدخلت مَعَهم فَجعل اذا حدث أَرَادوا الاملاء فَقَالَ لَهُم هِشَام احْفَظُوا كَمَا حفظ صَاحبكُم قَالُوا لَا نقدر أَن نَحْفَظ كَمَا حفظ27 - حَدثنَا الْحلْوانِي ثَنَا سُلَيْمَان بن حَرْب ثَنَا حَمَّاد بن زيد قَالَ ابْن عون يسألني كَيفَ قَالَ أَيُّوب كَذَا فَأخْبرهُ فَإِن كَانَ خَالفه ترك ابْن عون ذَاك الحَدِيث فَأَقُول لَهُ لم تتركه فَيَقُول ان أَيُّوب كَانَ أعلمنَا بِالْحَدِيثِ
আমি কখনো কোনো হাদিসে সন্দেহ পোষণ করিনি, কেবল একটি হাদিস ব্যতীত। অতঃপর আমি আমার সাথীকে জিজ্ঞেস করলাম, দেখা গেল সেটি ঠিক তেমনই ছিল যেমনটি আমি মুখস্থ করেছিলাম।21 - মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি বলেন: আমি যুহরী অপেক্ষা হাদিস সম্পর্কে অধিক দূরদর্শী আর কাউকে দেখিনি।22 - আবদুল ওয়ারিস ইবনে আবদুল সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাদিস বিশারদদের মধ্য হতে দুইজন সত্যবাদী ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন— ইমরান ইবনে হুদাইর এবং সুলাইমান আত-তাইমী।23 - আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাবাবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আউনের সন্দেহ পোষণ করা আমার কাছে আপনাদের নিকট অত্যন্ত সত্যবাদী বলে বিবেচিত অন্য ব্যক্তির বর্ণিত হাদিসের চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য।24 - আল-ওয়ালিদ ইবনে শুজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে মুশহিরকে সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাফেজ (স্মৃতিধর) হলেন চারজন— ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, আবদুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান এবং আসিম আল-আহওয়াল।25 - মাহমুদ ইবনে গায়লান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি যে, সুফিয়ান আস-সাওরী আমার চেয়েও অধিক স্মৃতিধর। তিনি কোনো শায়খ থেকে আমার নিকট যা-ই বর্ণনা করেছেন, পরবর্তীতে আমি যখন সেই শায়খকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি সুফিয়ান যেভাবে বলেছিলেন ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেছেন।26 - আল-ওয়ালিদ ইবনে শুজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানের সাথে হিশাম ইবনে উরওয়ার নিকট গেলাম। সুফিয়ান হিশামকে প্রশ্ন করতে লাগলেন এবং হিশাম তার নিকট হাদিস বর্ণনা করতে থাকলেন। যখন তিনি শেষ করলেন, সুফিয়ান তাকে বললেন, "আমি কি আপনার নিকট এগুলো পুনরায় আবৃত্তি করে শোনাব?" অতঃপর তিনি সেগুলো তাকে শুনিয়ে দিলেন। এরপর সুফিয়ান উঠে গেলেন এবং অন্যান্য হাদিস অন্বেষণকারীদের আসার অনুমতি দেওয়া হলো। আমি তাদের সাথে প্রবেশ করলাম। হিশাম যখন হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন, তারা তা লিখে নিতে চাইলেন। তখন হিশাম তাদের বললেন, "তোমাদের এই সাথী যেভাবে মুখস্থ করেছে, তোমরাও সেভাবে মুখস্থ করো।" তারা বলল, "তিনি যেভাবে মুখস্থ করেছেন, সেভাবে মুখস্থ করার সামর্থ্য আমাদের নেই।"27 - আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আউন আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, "আইয়ুব এই বিষয়ে কী বলেছেন?" আমি তাকে তা বলতাম। যদি তা আইয়ুবের বর্ণনার বিপরীত হতো, তবে ইবনে আউন সেই হাদিসটি ত্যাগ করতেন। আমি তাকে বলতাম, "আপনি কেন এটি ছেড়ে দিচ্ছেন?" তিনি বলতেন, "নিশ্চয়ই আইয়ুব আমাদের মধ্যে হাদিস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
28 - حَدثنَا حجاج بن الشَّاعِر سَمِعت أَبَا أُسَامَة يَقُول اخْتلف الاعمش وَطَلْحَة فِي حَدِيث فَقَالَ للاعمش أَرَأَيْت لَو أَنَّك سمعته سبعا وسمعته مرّة أَيّنَا كَانَ أحفظ قَالَ أَنْت29 - قَالَ ابْن عُيَيْنَة مَا رَأَيْت قطّ أثبت من عبد الْكَرِيم قَالَ عبد الرَّحْمَن قَتَادَة أحفظ من خمسين مثله قَالَ دخلت على أبي مُوسَى وَهُوَ يحتجم لَيْلًا وَسَاقه وَهَارُون الاعور كَانَ صَدُوقًا حَافِظًا وَذكر حفظ شُعْبَة وَزُهَيْر بن مُعَاوِيَة30 - حَدثنَا الْحلْوانِي قَالَ سَمِعت يزِيد بن هَارُون يَقُول أدْركْت الْبَصْرَة واذا اخْتلفُوا فِي حَدِيث نطقوا بِكِتَاب عبد الْوَارِث31 - قَالَ قَتَادَة لَا تقل فلَان أحفظ النَّاس وَالله أعلم وَلَكِن قل هُوَ أثبت وَأعلم وأحفظ وَذكر عَن الزُّهْرِيّ32 - حَدثنَا عَمْرو بن عَليّ ثَنَا عَفَّان قَالَ كُنَّا عِنْد اسماعيل بن علية جُلُوسًا قَالَ فَحدث رجل عَن رجل فَقلت ان هَذَا لَيْسَ بثبت فَقَالَ الرجل اغْتَبْته قَالَ اسماعيل مَا اغتابه وَلكنه حكم أَنه لَيْسَ بثبت33 - حَدثنَا حجاج بن الشَّاعِر قَالَ ثَنَا شبابه قَالَ شُعْبَة قد لقِيت شهرا فَلم أَعْتَد بِهِ34 - حَدثنَا حجاج ثَنَا سُلَيْمَان بن حَرْب ثَنَا حَمَّاد بن زيد قَالَ قَالَ أَيُّوب ان لي جارا ثمَّ ذكر من فَضله وَلَو شهد على تمرتين مَا رَأَيْت شَهَادَته جَائِزَة35 - حَدثنِي مُحَمَّد بن الْمثنى قَالَ قَالَ لي عبد الرَّحْمَن بن مهْدي يَا أَبَا مُوسَى أهل الْكُوفَة يحدثُونَ عَن كل أحد قلت يَا أَبَا سعيد هم يَقُولُونَ انك تحدث عَن كل أحد قَالَ عَمَّن أحدث فَذكرت لَهُ مُحَمَّد بن رَاشد المكحولي
২৮ - হাজ্জাজ ইবনুল শায়ির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আবু উসামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাশ এবং তালহা একটি হাদিস নিয়ে মতবিরোধ করলেন। তখন তালহা আমাশকে বললেন, "বলুন তো, আপনি যদি সেটি সাতবার শুনে থাকেন আর আমি একবার শুনি, তবে আমাদের মধ্যে কে বেশি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (হাফেজ) হিসেবে গণ্য হবে?" তিনি বললেন, "আপনি।"২৯ - ইবনে উইয়াইনাহ বলেছেন: "আমি আব্দুল করিমের চেয়ে অধিক সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য কাউকে দেখিনি।" আব্দুর রহমান বলেছেন: "কাতাদাহ তার মতো পঞ্চাশজনের চেয়েও বড় হাফেজ।" তিনি আরও বলেন: "আমি আবু মুসার নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি রাতে সিঙা লাগাচ্ছিলেন।" হারুন আল-আওয়ার সত্যবাদী ও হাফেজ ছিলেন। তিনি শু'বাহ ও যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়ার মুখস্থশক্তির কথা উল্লেখ করেছেন।৩০ - আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াজিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি: "আমি বসরাবাসীদের পেয়েছি; তারা যখন কোনো হাদিস নিয়ে মতবিরোধ করত, তখন তারা আব্দুল ওয়ারিসের পাণ্ডুলিপির সিদ্ধান্ত মেনে নিত।"৩১ - কাতাদাহ বলেছেন: "তোমরা বলো না যে অমুক ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাফেজ, বরং আল্লাহই ভালো জানেন; তবে বলো যে, সে অধিক সুদৃঢ়, অধিক জ্ঞানী এবং অধিক মুখস্থশক্তিসম্পন্ন।" তিনি যুহরি সম্পর্কেও উল্লেখ করেছেন।৩২ - আমর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের বলেছেন: আমরা ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহর মজলিসে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি জনৈক ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করল, আমি বললাম: "নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য নয়।" তখন ওই ব্যক্তিটি বলল: "আপনি তার গীবত করলেন।" ইসমাইল বললেন: "সে তার গীবত করেনি, বরং সে ফয়সালা দিয়েছে যে ওই ব্যক্তিটি নির্ভরযোগ্য নয়।"৩৩ - হাজ্জাজ ইবনুল শায়ির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাবাবাহ আমাদের বলেছেন, শু'বাহ বলেছেন: "আমি শাহর-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, কিন্তু আমি তাকে (হাদিসের ক্ষেত্রে) নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করিনি।"৩৪ - হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের বলেছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বলেছেন, আইয়ুব বলেছেন: "আমার একজন প্রতিবেশী আছে—অতঃপর তিনি তার ফযিলতের কথা উল্লেখ করলেন—কিন্তু সে যদি দুটি খেজুরের ব্যাপারেও সাক্ষ্য দেয়, তবে আমি তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য মনে করব না।"৩৫ - মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি আমাকে বললেন: "হে আবু মুসা! কুফাবাসীরা সবার কাছ থেকেই হাদিস বর্ণনা করে।" আমি বললাম: "হে আবু সাঈদ! তারা তো বলে যে আপনিও সবার কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেন।" তিনি বললেন: "আমি কার থেকে বর্ণনা করি?" তখন আমি তার কাছে মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ আল-মাকহুলির নাম উল্লেখ করলাম।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
فَقَالَ لي احفظ عني النَّاس ثَلَاثَة رجل حَافظ متقن فَهَذَا لَا يخْتَلف فِيهِ وَآخر يهم وَالْغَالِب على حَدِيثه الصِّحَّة فَهُوَ لَا يتْرك وَلَو ترك حَدِيث مثل هَذَا لذهب حَدِيث النَّاس وَآخر الْغَالِب على حَدِيثه الْوَهم فَهَذَا يتْرك حَدِيثهسَمِعت أَبَا الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج يَقُول وَقد ذكرنَا من مَذَاهِب أهل الْعلم وأقاويلهم فِي دَرَجَات الْحفاظ من وعاة الْعلم ونقال الاخبار وَالسّنَن والْآثَار مَا يسْتَدلّ بِهِ ذُو اللب على تفَاوت أَحْوَالهم ومنازلهم فِي الْحِفْظ وبأسبابه فَيعلم أَن مِنْهُم المتوقي المتقن لما حصل من علم وَمَا أدّى مِنْهُ الى غَيره وان مِنْهُم من هُوَ دونه فِي رداءة الْحِفْظ والتساهل فِيهِ وان مِنْهُم المتوهم فِيهِ غير المتقن فَهَذَا كَمَا يجب حَامِلا حِين يحمل أَو حاكيا حِين يَحْكِيوَقد اشْترط النَّبِي صلى الله عليه وسلم على سامع حَدِيثه ومبلغه حِين دَعَا لَهُ أَن يعيه ويحفظ ثمَّ يُؤَدِّيه كَمَا سَمعه فالمؤدي لذَلِك بالتوهم غير الْمُتَيَقن مؤد على خلاف مَا شَرط النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَغير دَاخل فِي جزيل مَا يُرْجَى من اجابة دَعوته عَلَيْهِ وَالله أعلمفان كَانَ الْمُؤَدِّي جَاءَ بِخَبَر عَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم بالتوهم قد أَزَال معنى الْخَبَر بتوهمه عَن الْجِهَة الَّتِي قَالَه بِنُقْصَان فِيهِ أَو زِيَادَة حَتَّى يصير قَائِلا على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كمن لَا يعلم لم يُؤمن عَلَيْهِ الدُّخُول فِيمَا صَحَّ بِهِ الْخَبَر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار لَان عَلَيْهِ أَن يعلم أَن عمد التَّوَهُّم فِي نقل خبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم محرم فاذا علم ذَلِك ثمَّ لم يتحاش من فعله فقد دخل فِي بَاب تعمد الْكَذِب فان كَانَ لم يعلم تَحْرِيم ذَلِك فَهُوَ جَاهِل لما يجب عَلَيْهِ وَالْوَاجِب عَلَيْهِ تعلم تَحْرِيمه والانزجار عَن فعله
তিনি আমাকে বললেন: আমার নিকট থেকে জেনে নাও যে, মানুষ (বর্ণনাকারীগণ) তিন প্রকারের। একজন হলেন অত্যন্ত সুদক্ষ হাফেজ, যাঁর ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। দ্বিতীয়জন হলেন এমন ব্যক্তি যিনি ভুল করেন, তবে তাঁর বর্ণিত হাদিসের অধিকাংশ সঠিক; তাঁর হাদিস বর্জন করা হয় না, কারণ যদি এই পর্যায়ের লোকের হাদিস বর্জন করা হতো, তবে মানুষের নিকট রক্ষিত হাদিসই হারিয়ে যেত। আর তৃতীয়জন হলেন এমন ব্যক্তি যার হাদিসের বর্ণনায় বিভ্রান্তি বা ভ্রমই প্রবল; তাঁর হাদিস বর্জন করা হবে।আমি আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি—আমরা ইলম ধারণকারী এবং সংবাদ, সুন্নাহ ও আসার বর্ণনাকারী হাফেজদের স্তরসমূহ সম্পর্কে জ্ঞানীদের মাযহাব ও মতামত উল্লেখ করেছি, যা থেকে বিবেকবান ব্যক্তি তাদের হিফযের অবস্থা ও মর্যাদার পার্থক্য এবং এর কারণসমূহ অনুমান করতে পারেন। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যিনি অর্জিত জ্ঞান এবং তা অন্যের নিকট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও সুদক্ষ। আবার তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যারা দুর্বল মুখস্থশক্তি এবং এ বিষয়ে শিথিলতার কারণে নিম্ন পর্যায়ের। আর তাদের মধ্যে এমনও রয়েছেন যারা হিফযের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির শিকার এবং সুদক্ষ নন; সুতরাং জ্ঞান অর্জন বা বর্ণনার সময় তাঁর অবস্থা অনুযায়ীই বিচার করা হবে।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাদিস শ্রবণকারী ও প্রচারকারীর জন্য দোয়া করার সময় এই শর্তারোপ করেছেন যে, সে যেন তা অনুধাবন করে ও মুখস্থ রাখে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা আদায় করে। সুতরাং যে ব্যক্তি সংশয়যুক্ত ও বিভ্রান্তি নিয়ে বর্ণনা করে, সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শর্তের বিপরীতে কাজ করল এবং তাঁর দোয়া কবুল হওয়ার যে বিপুল আশা রয়েছে, সে তার অন্তর্ভুক্ত হতে পারল না। আর আল্লাহই ভালো জানেন।যদি বর্ণনাকারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিভ্রান্তিবশত এমন কোনো সংবাদ নিয়ে আসেন যার ফলে তিনি সংবাদের অর্থকে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে ফেলেন—তা কোনো অংশ কমিয়ে হোক বা বাড়িয়ে—এমনকি তিনি না জেনেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে কথা বলেন, তবে তাঁর এই বিশুদ্ধ হাদিসের আওতায় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল নির্ধারিত করে নেয়।" কারণ তাঁর জানা উচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হারাম। অতএব, যখন তিনি এটি জানবেন এবং এরপরও তা থেকে নিবৃত্ত হবেন না, তখন তিনি ইচ্ছাকৃত মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর যদি তিনি এর হারাম হওয়া সম্পর্কে অবগত না থাকেন, তবে তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অজ্ঞ; এমতাবস্থায় তাঁর কর্তব্য হলো এর হারাম হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এ থেকে বিরত থাকা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮০)
وَسَنذكر الْآن ان شَاءَ الله الاحاديث المنقولة الموسومة عِنْد أهل الْعلم بالاغاليط فِيهَا فِي اسانيدها ومتونها حَدِيثا حَدِيثا ونخبر فِيهَا بالعلل الَّتِي من أجلهَا صَارَت أَخْبَار أغاليط بشرح وُجُوهنَا بِهِ وأشباهها لمن أَرَادَ مَعْرفَتهَا ان وفْق الله لجمعها وَبِاللَّهِ توفيقنا واليه مرجعنا سَمِعت مُسلما يَقُولذكر الاخبار الَّتِي نقلت على الْغَلَط فِي متونها 36 - حَدثنَا مُحَمَّد بن بشار ثَنَا يحيى بن سعيد وَمُحَمّد بن جَعْفَر قَالَا ثَنَا شُعْبَة عَن سَلمَة بن كهيل قَالَ سَمِعت حجرا أَبَا العنبس يَقُول حَدثنِي عَلْقَمَة ابْن وَائِل عَن وَائِل عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وثنا اسحاق أَنا أَبُو عَامر ثَنَا شُعْبَة عَن سَلمَة سَمِعت حجرا أَبَا العنبس يحدث عَن وَائِل بن حجر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الحَدِيث كلهم عَن شُعْبَة عَن سَلمَة عَن حجر عَن عَلْقَمَة عَن وَائِل الا اسحاق عَن أبي عَامر فَإِنَّهُ لم يذكر عَلْقَمَة وَذكر الْبَاقُونَ كلهم عَلْقَمَةسَمِعت مُسلما قَالَ أَخطَأ شُعْبَة فِي هَذِه الرِّوَايَة حِين قَالَ وأخفى صَوته وَسَنذكر ان شَاءَ الله رِوَايَة من حَدِيث شُعْبَة فِيهَا فَأَصَابَهُ37 - حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَزُهَيْر بن حَرْب واسحاق بن ابراهيم فَقَالُوا ثَنَا وَكِيع ثَنَا سُفْيَان عَن سَلمَة بن كهيل عَن حجر بن عَنْبَس عَن وَائِل قَالَ سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَرَأَ وَلَا الضَّالّين قَالَ آمين يمد بهَا صَوته
আমরা এখন, আল্লাহ চাহেন তো, জ্ঞানীদের নিকট যে সকল বর্ণিত হাদিস সেগুলোর সনদ ও মতনে ভুল হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলো একটি একটি করে উল্লেখ করব এবং সেগুলোর সেই সব সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে অবহিত করব যার কারণে সেগুলো ভুল সংবাদ হিসেবে গণ্য হয়েছে। যারা এ সম্পর্কে জ্ঞান লাভে ইচ্ছুক তাদের জন্য আমরা এর স্বরূপ ও সদৃশ বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করব, যদি আল্লাহ তা একত্রিত করার তাওফিক দান করেন। আমাদের যাবতীয় সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর নিকটই আমাদের প্রত্যাবর্তন। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি:সেই সব সংবাদের বর্ণনা যেগুলোর মতন বা মূল পাঠে ভুল রয়েছে ৩৬ - মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন শু'বাহ সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি হুজর আবু আল-আনবাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আলক্বামাহ ইবনে ওয়াাইল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়াাইল থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং ইসহাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু আমির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি সালামাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি হুজর আবু আল-আনবাসকে ওয়াাইল ইবনে হুজর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনেছি। তাঁদের সকলেই শু'বাহ থেকে, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি হুজর থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে এবং তিনি ওয়াাইল থেকে বর্ণনা করেছেন; কেবল আবু আমির থেকে ইসহাকের বর্ণনা ব্যতীত, কেননা তিনি আলক্বামাহর নাম উল্লেখ করেননি, অথচ অন্য সবাই আলক্বামাহর নাম উল্লেখ করেছেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: শু'বাহ এই বর্ণনায় ভুল করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন "এবং তিনি তাঁর আওয়াজ নিচু করলেন।" আমরা আল্লাহ চাহেন তো শু'বাহর হাদিসের এমন বর্ণনা উল্লেখ করব যেখানে তিনি সঠিকটি ব্যক্ত করেছেন।৩৭ - আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, যুহাইর ইবনে হারব এবং ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন ওকি’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হুজর ইবনে আনবাস থেকে, তিনি ওয়াাইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘ওয়া লাদ-দ্বল্লীন’ পড়তে শুনেছি, এরপর তিনি দীর্ঘ স্বরে ‘আমিন’ বললেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
38 - حَدثنَا أَبُو كريب ثَنَا أسود بن عَامر ثَنَا شريك عَن سماك عَن عَلْقَمَة عَن أَبِيه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يجْهر بآمين سَمِعت مُسلما يَقُول قد تَوَاتَرَتْ الرِّوَايَات كلهَا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم جهر بآمين وَقد روى عَن وَائِل مَا يدل على ذَلِك39 - حَدثنَا يحيى بن يحيى قَالَ قَرَأت على مَالك بن أنس عَن ابْن شهَاب عَن سعيد وَأبي سَلمَة أَنَّهُمَا أخبراه عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ اذا أَمن الامام فَأمنُوا فَإِنَّهُ من وَافق تأمينه تَأْمِين الْمَلَائِكَة غفر لَهُ سَمِعت مُسلما يَقُولذكر الاحاديث الَّتِي نقلت على الْغَلَط فِي متونها 40 - حَدثنَا أَحْمد بن يُونُس ثَنَا زُهَيْر ثَنَا أَبُو اسحاق قَالَ سَأَلت الاسود ابْن يزِيد عَمَّا حدثت عَائِشَة عَن صَلَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَت كَانَ ينَام أول اللَّيْل وَيحيى آخِره وان كَانَت لَهُ حَاجَة الى أَهله قضى حَاجته وَلم يمس مَاء حَتَّى ينَام سَمِعت مُسلما يَقُول فَهَذِهِ الرِّوَايَة عَن أبي اسحاق خاطئة وَذَلِكَ أَن النَّخعِيّ وَعبد الرَّحْمَن بن الاسود جَاءَا بِخِلَاف مَا روى أَبُو اسحاق
৩৮ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শারীক সিমাক থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উচ্চস্বরে 'আমীন' বলতে শুনেছি। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: সকল বর্ণনা ধারাবাহিকভাবে (তাওয়াতুর) এটিই প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে 'আমীন' বলতেন এবং ওয়াইল (ইবনে হুজর) থেকেও এমন বর্ণনা এসেছে যা এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়।৩৯ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি মালিক ইবনে আনাসের নিকট পাঠ করেছি, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ও আবু সালামা থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা উভয়ে আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন ইমাম 'আমীন' বলেন, তখন তোমরাও 'আমীন' বলো। কেননা যার 'আমীন' বলা ফেরেশতাদের 'আমীন' বলার সাথে মিলে যাবে, তার (পূর্ববর্তী গুনাহ) ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি...সেই সকল হাদীসের আলোচনা যেগুলোর মূল পাঠে (মতন) ভুল সংঘটিত হয়েছে ৪০ - আহমদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদকে আয়েশা (রা.) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেন: তিনি (নবীজি) রাতের প্রথম ভাগে ঘুমাতেন এবং শেষ ভাগে জাগ্রত থাকতেন। আর যদি তাঁর পরিবারের (স্ত্রীর) প্রতি প্রয়োজন হতো, তবে তিনি সেই প্রয়োজন পূরণ করতেন এবং ঘুমানোর আগে পানি স্পর্শ করতেন না। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: আবু ইসহাকের এই বর্ণনাটি ত্রুটিপূর্ণ; কারণ (ইব্রাহিম) নাখয়ী এবং আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ আবু ইসহাকের বর্ণনার বিপরীতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
41 - حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة ثَنَا ابْن علية ووكيع وغندر عَن شُعْبَة عَن الحكم عَن ابراهيم عَن الاسود عَن عَائِشَة قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اذا كَانَ جنبا فَأَرَادَ أَن يَأْكُل أَو ينَام تَوَضَّأ وضوءه42 - حَدثنَا ابْن نمير ثَنَا أبي ثَنَا حجاج عَن عبد الرَّحْمَن بن الاسود عَن أَبِيه عَن عَائِشَة قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يجنب ثمَّ يتَوَضَّأ وضوءه للصَّلَاة ثمَّ ينَام حَتَّى يصبح43 - حَدثنَا يحيى بن يحيى وَابْن رمح وقتيبة عَن اللَّيْث عَن ابْن شهَاب عَن أبي سَلمَة عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ اذا أَرَادَ أَن ينَام وَهُوَ جنب تَوَضَّأ وضوءه للصَّلَاة قبل أَن ينَامسَمِعت مُسلما يَقُولوَمن الاخبار المنقولة على الْوَهم فِي الْمَتْن دون الاسناد 44 - حَدثنَا الْحسن الْحلْوانِي ثَنَا يَعْقُوب بن ابراهيم ثَنَا أبي عَن صَالح عَن ابْن شهَاب أَن أَبَا بكر بن سُلَيْمَان بن أبي حثْمَة اخبره أَنه بلغه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم صلى رَكْعَتَيْنِ ثمَّ سلم فَقَالَ ذُو الشمالين بن عبد عَمْرو يَا رَسُول الله أقصرت الصَّلَاة أم نسيت فَقَالَ رَسُول الله لم تقصر الصَّلَاة وَلم أنس قَالَ ذُو الشمالين قد كَانَ ذَلِك يَا رَسُول اللهفَأقبل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على النَّاس فَقَالَ أصدق ذُو الْيَدَيْنِ قَالُوا نعم فَقَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأَتمَّ مَا بَقِي من الصَّلَاة وَلم يسْجد السَّجْدَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تسجدان اذا شكّ الرجل فِي صلَاته حَتَّى لقاه النَّاس
৪১ - আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে উলাইয়্যাহ, ওয়াকি' এবং গুন্দার থেকে, তারা শু'বাহ থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, আর তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় থাকতেন এবং আহার করতে বা ঘুমাতে চাইতেন, তখন তিনি নামাজের ওজুর ন্যায় ওজু করে নিতেন।৪২ - ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাজ্জাজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আসওয়াদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপবিত্র হতেন, অতঃপর নামাজের ওজুর ন্যায় ওজু করতেন এবং সকাল পর্যন্ত ঘুমাতেন।৪৩ - ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, ইবনে রুমহ এবং কুতাইবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, আর তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন অপবিত্র অবস্থায় ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তখন ঘুমানোর আগে নামাজের ওজুর ন্যায় ওজু করে নিতেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি:সনদ ব্যতীত কেবল মূল পাঠ্যের (মতন) মধ্যে ভ্রম বা ভ্রান্তি সহকারে বর্ণিত হাদীসসমূহ ৪৪ - হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সালেহ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে যে, আবু বকর বিন সুলাইমান বিন আবি হাছমাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফেরালেন। তখন যুল-শিমালীন বিন আবদ আমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নামাজ কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে নাকি আপনি ভুলে গেছেন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: নামাজ সংক্ষিপ্ত করা হয়নি এবং আমি ভুলেও যাইনি। যুল-শিমালীন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! প্রকৃতপক্ষে এমনটিই ঘটেছে।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের দিকে ফিরে বললেন: যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলেছে? তারা বললেন: হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দণ্ডায়মান হলেন এবং নামাজের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করলেন। তবে তিনি সেই দুটি সিজদা (সাহু সিজদা) করেননি যা মানুষ নামাজে সন্দেহ করলে করে থাকে, যতক্ষণ না মানুষ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
45 - قَالَ ابْن شهَاب وَأَخْبرنِي ابْن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة وَأَبُو سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَأَبُو بكر بن عبد الرَّحْمَن وَعبيد الله بن عبد الله سَمِعت مُسلما يَقُول وَخبر ابْن شهَاب هَذَا فِي قصَّة ذِي الْيَدَيْنِ وهم غير مَحْفُوظ لتظاهر الاخبار الصِّحَاح عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا (46 -) حَدثنَا عَمْرو النَّاقِد ثَنَا سُفْيَان ثَنَا أَيُّوب سَمِعت أبن سِيرِين يَقُول سَمِعت أَبَا هُرَيْرَة وَسَاقه فِي هَذَا47 - حَدثنَا أَبُو كريب ثَنَا أَبُو أُسَامَة ثَنَا عبيد الله عَن نَافِع عَن ابْن عمر48 - حَدثنَا ابو بكر بن ابي شيبَة ثَنَا اسماعيل بن ابراهيم عَن خَالِد الْحذاء عَن أبي قلَابَة عَن أبي الْمُهلب عَن عمرَان كل هَؤُلَاءِ ذكرُوا فِي حَدِيثهمْ أَن رَسُول الله وَسلم حِين سَهَا فِي صلَاته يَوْم ذِي الْيَدَيْنِ سجد سَجْدَتَيْنِ بعد أَن أتم الصَّلَاة سَمِعت مُسلما يَقُول فقد صَحَّ بِهَذِهِ الرِّوَايَات الْمَشْهُورَة المستفيضة فِي سُجُود رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم ذِي الْيَدَيْنِ أَن الزُّهْرِيّ واهم فِي رِوَايَته اذ نفى ذَلِك فِي خَبره من فعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلمسَمِعت مُسلما يَقُولالْخَبَر الْمَنْقُول على الْوَهم فِي مَتنه (49) حَدثنِي الْحسن الْحلْوانِي وَعبد الله بن عبد الرَّحْمَن الدَّارمِيّ قَالَا ثَنَا عبيد الله بن عبد الْمجِيد ثَنَا كثير بن زيد حَدثنِي يزِيد بن أبي زِيَاد عَن كريب عَن ابْن عَبَّاس قَالَ بت عِنْد خَالَتِي مَيْمُونَة فاضطجع رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ
৪৫ - ইবনে শিহাব বলেন, ইবনুল মুসায়্যিব আবু হুরায়রা থেকে এবং আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ, আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ও উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: যুল-ইয়াদাইনের ঘটনার ক্ষেত্রে ইবনে শিহাবের এই সংবাদটি একটি বিভ্রান্তি যা সংরক্ষিত নয়; কারণ এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিসসমূহ এর বিপরীতে শক্তিশালী। (৪৬ -) আমর আন-নাকিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ইবনে সীরীনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি—অতঃপর তিনি এই বিষয়ে হাদিসটি বর্ণনা করেন।৪৭ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।৪৮ - আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবুল মুহাল্লাব থেকে, তিনি ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা সকলেই তাদের হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, যুল-ইয়াদাইনের দিন যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নামাজে ভুল করেছিলেন, তখন তিনি নামাজ পূর্ণ করার পর দুটি সিজদা করেছিলেন। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: যুল-ইয়াদাইনের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিজদা করার বিষয়ে এই প্রসিদ্ধ ও বহুল বর্ণিত বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, যুহরী তাঁর বর্ণনায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন; যেহেতু তিনি তাঁর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই আমলটিকে অস্বীকার করেছেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছিসেই সংবাদ যা তার মূল পাঠে (মতন) বিভ্রান্তিসহ বর্ণিত হয়েছে (৪৯) হাসান আল-হুলওয়ানি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল মাজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসীর ইবনে যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ আমার নিকট কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার খালা মায়মুনার নিকট রাত যাপন করেছিলাম, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শায়িত হলেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
وَسلم فِي طول الوسادة واضطجعت فِي عرضهَا فَقَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَتَوَضَّأ وَنحن نيام ثمَّ قَامَ فصلى فَقُمْت عَن يَمِينه فجعلني عَن يسَاره فَلَمَّا صلى قلت يَا رَسُول الله وَسَاقهسَمِعت مُسلما يَقُول وَهَذَا خبر غلط غير مَحْفُوظ لتتابع الاخبار الصِّحَاح بِرِوَايَة الثِّقَات على خلاف ذَلِك أَن ابْن عَبَّاس انما قَامَ عَن يسَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فحوله حَتَّى أَقَامَهُ عَن يَمِينه وَكَذَلِكَ سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي سَائِر الاخبار عَن ابْن عَبَّاس أَن الْوَاحِد مَعَ الامام يقوم عَن يَمِين الامام لَا عَن يسَارهسَمِعت مُسلما يَقُول وَسَنذكر ان شَاءَ الله رِوَايَة أَصْحَاب كريب عَن كريب عَن ابْن عَبَّاس ثمَّ نذْكر بعد ذَلِك رِوَايَة سَائِر أَصْحَاب ابْن عَبَّاس عَن ابْن عَبَّاس بموافقتهم كريبا50 - حَدثنَا ابْن أبي عمر ثَنَا سُفْيَان عَن عَمْرو بن دِينَار عَن كريب عَن ابْن عَبَّاس أَنه بَات لَيْلَة عِنْد مَيْمُونَة فَقَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من اللَّيْل فَتَوَضَّأ قَالَ ابْن عَبَّاس فَقُمْت فصنعت مثل مَا صنع النَّبِي صلى الله عليه وسلم ثمَّ جِئْت فَقُمْت عَن يسَاره فجعلني عَن يَمِينه ومخرمة بن سُلَيْمَان عَن كريب وَسَلَمَة بن كهيل عَن أبي رشدين وَسَلَمَة عَن كريب وَسَالم بن أبي الْجَعْد عَن كريب وهشيم عَن أبي بشر عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس
...রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বালিশের দৈর্ঘ্যের দিকে শুইলেন এবং আমি সেটির প্রস্থের দিকে শুইলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠলেন এবং আমরা যখন ঘুমন্ত ছিলাম তখন তিনি অযু করলেন। তারপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমি তাঁর ডান পাশে দাঁড়ালাম, কিন্তু তিনি আমাকে তাঁর বাম পাশে সরিয়ে দিলেন। সালাত শেষে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল... (এভাবে তিনি পূর্ণ বর্ণনাটি পেশ করলেন)।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: এই বর্ণনাটি ভুল এবং সংরক্ষিত নয়; কেননা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে আসা ধারাবাহিক সহীহ বর্ণনাগুলো এর পরিপন্থী যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আসলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাম পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তিনি তাঁকে ঘুরিয়ে নিজের ডান পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন। ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ বিষয়ক অন্যান্য সকল সংবাদেও এমনই এসেছে যে, ইমামের সাথে একজন মুক্তাদী থাকলে সে ইমামের ডানে দাঁড়াবে, বামে নয়।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: ইনশাআল্লাহ আমরা কুরায়বের নিকট থেকে তাঁর ছাত্রদের বর্ণনা এবং কুরায়ব থেকে ইবনে আব্বাসের বর্ণনা উল্লেখ করব। অতঃপর আমরা ইবনে আব্বাসের অন্যান্য সকল ছাত্রদের বর্ণনা উল্লেখ করব যারা কুরায়বের বর্ণনার সাথে একমত হয়েছেন।৫০ - ইবন আবু উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুফইয়ান আমাদের নিকট আমর ইবন দীনারের সূত্রে কুরায়ব থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক রাতে মাইমুনাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে রাত কাটিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের বেলা উঠে অযু করলেন। ইবনে আব্বাস বললেন: আমিও উঠলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমনটি করেছিলেন তেমনি করলাম। এরপর আমি এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম, আর তিনি আমাকে (ধরে) তাঁর ডান পাশে করে দিলেন। অনুরূপভাবে মাখরামাহ ইবন সুলাইমান কুরায়ব থেকে, সালামাহ ইবন কুহাইল আবু রুশদীন থেকে, সালামাহ কুরায়ব থেকে, সালিম ইবন আবিল জা'দ কুরায়ব থেকে এবং হুশাইম আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
وَأَيوب عَن عبد الله عَن أَبِيه وَالْحكم عَن سعيد بن جُبَير وَابْن جريج عَن عَطاء وَقيس بن سعد عَن عَطاء وَأبي نَضرة عَن ابْن عَبَّاس وَالشعْبِيّ عَن ابْن عَبَّاس وطاووس عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاسسَمِعت أَبَا الْحُسَيْن يَقُول فقد صَحَّ بِمَا ذكرنَا من الاخبار الصِّحَاح عَن كريب وَسَائِر اصحاب ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَقَامَهُ عَن يسَاره وهم وَخطأ غير ذِي شكّ51 - وكالذي صَحَّ عَن ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَقَامَهُ عَن يَمِينه رِوَايَة جَابر بن عبد الله عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قصَّة أبي حزرة عَن عبَادَة بن الصَّامِت بن عبَادَة أَتَيْنَا جَابِرا فَقَالَ قَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فصلى ثمَّ جِئْت فَقُمْت عَن يسَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأخذ بيَدي فأدارني حَتَّى أقامني عَن يَمِينه ثمَّ جَاءَ جَبَّار بن صَخْر فَقَامَ عَن يسَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأخذ بِأَيْدِينَا جَمِيعًا فدفعنا حَتَّى أقامنا خَلفه وَكَذَلِكَ روى مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر عَن جَابر
আইয়ুব হতে, তিনি আবদুল্লাহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে; হাকাম হতে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে; ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি আতা হতে; কায়েস ইবনে সাদ হতে, তিনি আতা হতে; আবু নাদরা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে; শাবি হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে; এবং তাউস হতে, তিনি ইকরিমা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত।আমি আবুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি: আমরা কুরাইব এবং ইবনে আব্বাসের অন্যান্য সঙ্গীদের সূত্রে যে সকল সহিহ হাদীস উল্লেখ করেছি, তার প্রেক্ষিতে এটি প্রমাণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর বাম পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন—এমন বর্ণনা নিঃসন্দেহে একটি বিভ্রম ও ভুল।৫১ - আর ইবনে আব্বাস হতে যা সহিহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন, তার অনুরূপ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে জাবির ইবনে আবদুল্লাহর বর্ণিত হাদীস; যা আবু হাযরা, উবাদাহ ইবনে সামিত ইবনে উবাদাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: আমরা জাবিরের নিকট আসলাম, তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি এসে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। এরপর জাব্বার ইবনে সাখর এসে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাম পাশে দাঁড়ালেন। তখন তিনি আমাদের উভয়ের হাত ধরলেন এবং আমাদের সরিয়ে দিলেন যতক্ষণ না আমাদের তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন। মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদিরও জাবির হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
سَمِعت مُسلما يَقُولوَمن الاخبار الَّتِي يهم فِيهَا بعض نَاقِلِيهَا (52) حَدثنَا يحيى بن يحيى وَأَبُو كريب وَمُحَمّد بن حَاتِم قَالُوا ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَة عَن هِشَام عَن أَبِيه عَن زَيْنَب عَن أم سَلمَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أمرهَا أَن توافي مَعَه صَلَاة الصُّبْح يَوْم النَّحْر بِمَكَّة سَمِعت مُسلما يَقُول وَهَذَا الْخَبَر وهم من أبي مُعَاوِيَة لَا من غَيره وَذَلِكَ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم صلى الصُّبْح فِي حجَّته يَوْم النَّحْر بِالْمُزْدَلِفَةِ وَتلك سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَكيف يَأْمر أم سَلمَة أَن توافي مَعَه صَلَاة الصُّبْح يَوْم النَّحْر بِمَكَّة وَهُوَ حِينَئِذٍ يُصَلِّي بِالْمُزْدَلِفَةِسَمِعت مُسلما يَقُول هَذَا خبر محَال وَلَكِن الصَّحِيح من روى هَذَا الْخَبَر عَن أبي مُعَاوِيَة وَهُوَ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمر أَن توافي صَلَاة الصُّبْح يَوْم النَّحْر بِمَكَّة وَكَانَ يَوْمهَا فَأحب أَن توافي وانما أفسد أَبُو مُعَاوِيَة معنى الحَدِيث حِين قَالَ توافي مَعَهسَمِعت مُسلما يَقُول وَسَنذكر ان شَاءَ الله رِوَايَة أَصْحَاب هِشَام عَن هِشَام هَذَا الحَدِيث ليتبين من صَوَاب مصيبهم فِيهِ وَخطأ مخطئهم53 - حَدثنَا ابْن أبي عمر ثَنَا سُفْيَان ثَنَا هِشَام عَن أَبِيه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَمر أم سَلمَة أَن تصلي الصُّبْح يَوْم النَّحْر بِمَكَّة وَكَانَ يَوْمهَا فَأحب أَن توافقه وروى هَذَا الحَدِيث عَبدة عَن هِشَام
আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছিএবং সেই সব বর্ণনা যেখানে কিছু বর্ণনাকারী ভ্রমের শিকার হয়েছেন (৫২) ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আবু কুরাইব এবং মুহাম্মদ ইবনে হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু মুআবিয়াহ আমাদের নিকট হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যায়নাব থেকে এবং তিনি উম্মে সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে কুরবানির দিন মক্কায় তাঁর সাথে ফজরের নামাজে উপস্থিত হতে আদেশ করেছিলেন। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: এই বর্ণনাটি আবু মুআবিয়াহর একটি ভ্রম (ওয়াহম), অন্য কারও নয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিদায় হজের কুরবানির দিনে মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করেছিলেন এবং এটিই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত। এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে উম্মে সালামাকে কুরবানির দিন মক্কায় তাঁর সাথে ফজরের নামাজে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেবেন, যেখানে তিনি তখন স্বয়ং মুজদালিফায় নামাজ আদায় করছিলেন?আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: এটি একটি অসম্ভব বর্ণনা। তবে আবু মুআবিয়াহর সূত্রে যারা এই সংবাদটি বর্ণনা করেছেন তাদের সঠিক পাঠটি হলো এই যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে (উম্মে সালামাকে) কুরবানির দিন মক্কায় ফজরের নামাজে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর সেদিনটি ছিল তাঁর (উম্মে সালামার) পালার দিন, তাই তিনি চেয়েছিলেন যে তিনি যেন সেখানে উপস্থিত হন। আবু মুআবিয়াহ হাদীসটির অর্থ মূলত তখনই বিকৃত করেছেন যখন তিনি বলেছেন 'তাঁর সাথে (নবীর সাথে) উপস্থিত হতে'।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: ইনশাআল্লাহ আমরা এই হাদীস সম্পর্কে হিশামের অন্যান্য ছাত্রদের বর্ণনা উল্লেখ করব, যাতে এ বিষয়ে যারা সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন তাদের যাথার্থ্য এবং যারা ভুল করেছেন তাদের ত্রুটি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।৫৩ - ইবনে আবি উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মে সালামাকে কুরবানির দিন মক্কায় ফজরের নামাজ পড়ার আদেশ দিয়েছিলেন; সেদিন তাঁর পালার দিন ছিল, তাই তিনি চেয়েছিলেন তিনি যেন সময়ের সাথে সঙ্গতি বজায় রাখেন। আবদাহও হিশাম থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
وَيحيى عَن هِشَام فَالرِّوَايَة الصَّحِيحَة من هَذَا الْخَبَر مَا رَوَاهُ الثَّوْريّ عَن هِشَام وَقد روى وَكِيع أَيْضا فَوَهم فِيهِ كنحو مَا وهم فِيهِ أَبُو مُعَاوِيَة (54 -) حَدثنَا أَبُو بكر ثَنَا وَكِيع عَن هِشَام عَن أَبِيه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمر أم سَلمَة أَن توافيه الصُّبْح بمنىسَمِعت مُسلما يَقُول وسبيل وَكِيع كسبيل أَبى مُعَاوِيَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم صلى الصُّبْح يَوْم النَّحْر بِالْمُزْدَلِفَةِ دون غَيرهَا من الاماكن لَا محَالةسَمِعت مُسلما يَقُولوَمن فَاحش الْوَهم لِابْنِ لَهِيعَة (55) حَدثنَا زُهَيْر بن حَرْب ثَنَا اسحاق بن عِيسَى ثَنَا ابْن لَهِيعَة قَالَ كتب الي مُوسَى بن عقبَة يَقُول حَدثنِي بسر بن سعيد عَن زيد بن ثَابت أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم احْتجم فِي الْمَسْجِد قلت لِابْنِ لَهِيعَة مَسْجِد فِي بَيته قَالَ مَسْجِد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم سَمِعت مُسلما يَقُول وَهَذِه رِوَايَة فَاسِدَة من كل جِهَة فَاحش خطؤها فِي الْمَتْن والاسناد جَمِيعًا وَابْن لَهِيعَة الْمُصحف فِي مَتنه الْمُغَفَّل فِي اسناده وانما الحَدِيث أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم احتجر فِي الْمَسْجِد بخوصة أَو حَصِير يُصَلِّي فِيهَا وَسَنذكر صِحَة الرِّوَايَة فِي ذَلِك ان شَاءَ الله56 - حَدثنِي مُحَمَّد بن حَاتِم ثَنَا بهز بن أَسد ثَنَا وهيب حَدثنِي مُوسَى بن عقبَة قَالَ سَمِعت أَبَا النَّضر يحدث عَن بسر بن سعيد عَن زيد بن ثَابت أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم اتخذ حجرَة فِي الْمَسْجِد من حَصِير فصلى رَسُول الله صلى
এবং হিশাম থেকে ইয়াহইয়ার বর্ণনা; এই সংবাদের সঠিক বর্ণনা হলো যা আস-সাওরি হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ওকী'ও এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এতে ভুল করেছেন ঠিক যেমন আবু মুয়াবিয়া ভুল করেছিলেন (৫৪ -) আবু বকর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওকী' আমাদের কাছে হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উম্মে সালামাহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তিনি মিনায় সুবহে সাদিকের সময় তাঁর সাথে মিলিত হন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি, ওকী'-র বিষয়টি আবু মুয়াবিয়ার মতোই; অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিশ্চিতভাবে কোরবানির দিন সুবহে সাদিকের সালাত মুজদালিফায় আদায় করেছেন, অন্য কোনো স্থানে নয়।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছিইবনে লাহিয়ার পক্ষ থেকে এক মারাত্মক ভুল (৫৫) জুহাইর বিন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন ঈসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা বিন উকবা আমার কাছে লিখে পাঠিয়েছেন যে, বুসর বিন সাঈদ যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে হিজামা (রক্তমোক্ষণ) করিয়েছিলেন। আমি ইবনে লাহিয়াকে বললাম, ‘তাঁর ঘরের মসজিদে?’ তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে’। আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: এটি সর্বদিক থেকেই একটি অকেজো বর্ণনা, যার মূলপাঠ (মাতন) এবং সনদ উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ভুল রয়েছে। ইবনে লাহিয়া এর পাঠে শব্দ বিকৃতি ঘটিয়েছেন এবং সনদে অসতর্কতা প্রদর্শন করেছেন। মূলত হাদিসটি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর পাতা বা মাদুর দিয়ে মসজিদে একটি কামরা (ইতাজারা) তৈরি করেছিলেন যাতে তিনি সেখানে সালাত আদায় করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আমরা শীঘ্রই এ বিষয়ে সঠিক বর্ণনাটি উল্লেখ করব।৫৬ - মুহাম্মাদ বিন হাতিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, বাহজ বিন আসাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উহাইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন উকবা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নাদরকে বুসর বিন সাঈদ থেকে এবং তিনি যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে মাদুর দিয়ে একটি কামরা তৈরি করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
الله عَلَيْهِ وَسلم فِيهَا ليَالِي حَتَّى اجْتمع اليه أنَاس ثمَّ فقدوا صَوته لَيْلَة وظنوا أَنه قد نَام فَجعل بَعضهم يَتَنَحْنَح بِأَن يخرج اليهم وَسَاقه57 - حَدثنَا مُحَمَّد بن الْمثنى ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر ثَنَا عبد الله بن سعيد ثَنَا سَالم ابو النَّضر مولى عمر بن عبيد الله عَن بسر بن سعيد عَن زيد بن ثَابت قَالَ احتجر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بخصفة أَو حَصِير فَخرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلمسَمِعت مُسلما يَقُول الرِّوَايَة الصَّحِيحَة فِي هَذَا الحَدِيث مَا ذكرنَا عَن وهيب وَذكرنَا عَن عبد الله بن سعيد عَن أبي النَّضر وَابْن لَهِيعَة انما وَقع فِي الْخَطَأ من هَذِه الرِّوَايَة أَنه أَخذ الحَدِيث من كتاب مُوسَى بن عقبَة اليه فِيمَا ذكر وَهِي الآفة الَّتِي نخشى على من أَخذ الحَدِيث من الْكتب من غير سَماع من الْمُحدث أَو عرض عَلَيْهِ فَإِذا كَانَ أحد هذَيْن السماع أَو الْعرض فخليق أَن لَا يَأْتِي صَاحبه التَّصْحِيف الْقَبِيح وَمَا أشبه ذَلِك من الْخَطَأ الْفَاحِش ان شَاءَ الله وَأما الْخَطَأ فِي اسناد رِوَايَة ابْن لَهِيعَة فَقَوله كتب الي مُوسَى بن عقبَة يَقُول حَدثنِي بسر بن سعيد ومُوسَى انما سمع هَذَا الحَدِيث من أبي النَّضر يرويهِ عَن بسر بن سعيدسَمِعت مُسلما يَقُولوَمن الاخبار المنقولة على الْوَهم فِي الاسناد والمتن جَمِيعًا 58 - حَدثنَا أَبُو بكر ثَنَا أَبُو خَالِد عَن أَيمن عَن أبي الزبير عَن جَابر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه كَانَ يَقُول بِسم الله وَبِاللَّهِ والتحيات لله
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে কয়েক রাত অতিবাহিত করলেন, ফলে কিছু মানুষ তাঁর কাছে সমবেত হলেন। অতঃপর এক রাতে তাঁরা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন না এবং ধারণা করলেন যে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। তখন তাঁদের কেউ কেউ গলা খাঁকারি দিতে লাগলেন যাতে তিনি তাঁদের কাছে বেরিয়ে আসেন এবং তিনি তাঁর বর্ণনা অব্যাহত রাখেন।৫৭ - মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনু উবায়দুল্লাহর মুক্তদাস সালিম আবু আন-নাজর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বুসর ইবনু সাঈদ থেকে, তিনি যায়িদ ইবনু সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর পাতার পাটি বা চাটাই দিয়ে একটি কক্ষ তৈরি করেছিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে আসলেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: এই হাদিসের ক্ষেত্রে সঠিক বর্ণনা হলো সেটি যা আমরা উহাইব থেকে বর্ণনা করেছি এবং যা আমরা আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ থেকে আবু আন-নাজরের সূত্রে বর্ণনা করেছি। আর ইবনু লাহিয়াহ এই বর্ণনায় যে ভুলের শিকার হয়েছেন তা হলো, তিনি যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী তিনি হাদিসটি মুসা ইবনু উকবার কিতাব থেকে গ্রহণ করেছিলেন। আর এটিই সেই বিপদ যার আশঙ্কা আমরা তাদের ক্ষেত্রে করি যারা কোনো মুহাদ্দিসের থেকে সরাসরি শ্রবণ (সামা) বা তাঁর কাছে উপস্থাপন (আরদ) করা ব্যতীত কেবল কিতাব থেকে হাদিস গ্রহণ করে। যদি এই দুটির (শ্রবণ বা উপস্থাপন) কোনো একটি বিদ্যমান থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ তার বর্ণনাকারীর মাঝে কদর্য শব্দ-বিকৃতি বা এই জাতীয় কোনো জঘন্য ভুল পরিলক্ষিত না হওয়াই সমীচীন। আর ইবনু লাহিয়াহর বর্ণনার সনদে যে ভুলটি রয়েছে তা হলো তাঁর এই বক্তব্য: "মুসা ইবনু উকবা আমার কাছে লিখেছেন যে, বুসর ইবনু সাঈদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।" অথচ মুসা এই হাদিসটি কেবল আবু আন-নাজর থেকেই শুনেছেন, যিনি এটি বুসর ইবনু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছিএবং সেই সব সংবাদের অন্তর্ভুক্ত যা সনদ (সূত্র) এবং মতন (মূল পাঠ) উভয় ক্ষেত্রেই ভ্রমাত্মকভাবে বর্ণিত হয়েছে ৫৮ - আবু বকর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খালিদ আমাদের কাছে আইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: "আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর সাহায্যে, আর সকল অভিবাদন আল্লাহর জন্য।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
قَالَ أَبُو الْحُسَيْن هَذِه الرِّوَايَة من التَّشَهُّد وَالتَّشَهُّد غير ثَابت الاسناد والمتن جَمِيعًا وَالثَّابِت مَا رَوَاهُ اللَّيْث وَعبد الرَّحْمَن بن حميد فتابع فِيهِ فِي بعضه فِيمَا59 - حَدثنَا قُتَيْبَة ثَنَا اللَّيْث وثنا أَبُو بكر ثَنَا يحيى بن آدم ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن حميد حَدثنِي أَبُو الزبير عَن طَاوُوس عَن ابْن عَبَّاس قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنَا التَّشَهُّد كَمَا يعلمنَا السُّورَة من الْقُرْآنسَمِعت مُسلما يَقُول فقد اتّفق اللَّيْث وَعبد الرَّحْمَن بن حميد الرُّؤَاسِي عَن أبي الزبير عَن طَاوُوس وروى اللَّيْث فَقَالَ عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس وكل وَاحِد من هذَيْن عِنْد أهل الحَدِيث أثبت فِي الرِّوَايَة من أَيمن وَلم يذكر اللَّيْث فِي رِوَايَته حِين وصف التَّشَهُّد بِسم الله وَبِاللَّهِ فَلَمَّا بَان الْوَهم فِي حفظ أَيمن لاسناد الحَدِيث بِخِلَاف اللَّيْث وَعبد الرَّحْمَن اياه دخل الْوَهم أَيْضا فِي زِيَادَته فِي الْمَتْن فَلَا يثبت مَا زَاد فِيهِ وَقد رُوِيَ التَّشَهُّد عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أوجه عدَّة صِحَاح فَلم يذكر فِي شَيْء مِنْهُ بِمَا روى أَيمن فِي رِوَايَته قَوْله بِسم الله وَبِاللَّهِ وَلَا مَا زَاد فِي آخِره من قَوْله أسأَل الله الْجنَّة وَأَعُوذ بِاللَّه من النَّار وَالزِّيَادَة فِي الاخبار لَا يلْزم الا عَن الْحفاظ الَّذين لم يعثر عَلَيْهِم الْوَهم فِي حفظهمسَمِعت مُسلما يَقُولوَمن الاخبار الَّتِي رويت على الْغَلَط والتصحيف (60) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة ثَنَا قبيصَة ثَنَا سُفْيَان عَن زيد بن أسلم
আবু আল-হুসাইন (ইমাম মুসলিম) বলেছেন: তাশাহহুদ সংক্রান্ত এই বর্ণনা এবং স্বয়ং তাশাহহুদটির সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ) উভয় দিক থেকেই তা সাব্যস্ত বা বিশুদ্ধ নয়। আর যা সাব্যস্ত বা প্রমাণিত তা হলো লাইস ও আবদুর রহমান ইবনে হুমায়দ যা বর্ণনা করেছেন, যাতে তারা উভয়ে কোনো কোনো অংশে একমত হয়েছেন...৫৯ - কুতায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; এবং আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-জুবায়ের আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: লাইস এবং আবদুর রহমান ইবনে হুমায়দ আল-রুয়াসি আবু আল-জুবায়ের থেকে এবং তিনি তাউস থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন। আবার লাইস সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীস বিশারদদের নিকট এই বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকেই আয়মানের তুলনায় বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক নির্ভরযোগ্য বা সুদৃঢ়। লাইস তাঁর বর্ণনায় তাশাহহুদ উল্লেখ করার সময় 'বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি' শব্দগুলো উল্লেখ করেননি। যেহেতু লাইস ও আবদুর রহমানের বর্ণনার বিপরীতে হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে আয়মানের হিফয বা মুখস্থ শক্তিতে ভুল প্রকাশিত হয়েছে, তাই তাঁর বর্ণিত মূল পাঠের (মতন) অতিরিক্ত অংশের ক্ষেত্রেও ভুল অনুপ্রবেশ করেছে। সুতরাং তিনি যা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন তা প্রমাণিত নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু সহীহ সূত্রে তাশাহহুদ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিতেই আয়মান তাঁর বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ 'বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি' এবং শেষে যা অতিরিক্ত যোগ করেছেন অর্থাৎ 'আমি আল্লাহর নিকট জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাচ্ছি'—এর কোনোটিই বর্ণিত হয়নি। বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য কেবল সেই সব হাফিয বা সংরক্ষণকারীদের নিকট থেকেই গ্রহণীয়, যাদের হিফয বা মুখস্থ শক্তিতে কোনো ভুলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি:ভুল এবং শব্দ বিকৃতির (তাসহিফ) ভিত্তিতে বর্ণিত হাদীসসমূহের পরিচ্ছেদ (৬০) আবু বকর ইবনে আবু শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুবাইসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
عَن عِيَاض عَن أبي سعيد قَالَ كُنَّا نورثه على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَعْنِي الْجد سَمِعت ابا الْحُسَيْن يَقُول هَذَا خبر صحف فِيهِ قبيصَة وانما كَانَ الحَدِيث بِهَذَا الاسناد عَن عِيَاض قَالَ كُنَّا نوديه على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَعْنِي فِي الطَّعَام وَغَيره فِي زَكَاة الْفطر فَلم يقر قِرَاءَته فَقلب قَوْله الى أَن قَالَ يورثه ثمَّ قلب لَهُ معنى فَقَالَ يَعْنِي الْجدسَمِعت مُسلما يَقُولوَمن الحَدِيث الَّذِي فِي مَتنه وهم (61) حَدثنَا ابْن نمير ثَنَا أبي ثَنَا حجاج عَن نَافِع عَن ابْن عمر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أعتق نَصِيبا لَهُ فِي عبد ضمن لاصحابه فِي مَاله ان كَانَ مُوسِرًا وان لم يكن لَهُ مَال بذل العَبْد وروى هَذَا الْخَبَر غير وَاحِد هَذِه الرِّوَايَة عَن نَافِع فِي استسعاء العَبْد فاعتق وَالدَّلِيل على خطئه اتِّفَاق الْحفاظ من أَصْحَاب نَافِع على ذكرهم فِي الحَدِيث الْمَعْنى الَّذِي هُوَ ضد السّعَايَة وَخلاف الْحفاظ المتقنين لحفظهم يبين ضعف الحَدِيث من غَيره وَسَنذكر ان شَاءَ الله مَا روى الْحفاظ من اصحاب نَافِع بِخِلَاف من قدمنَا رِوَايَته فِي هَذَا الْخَبَر62 - حَدثنَا يحيى بن يحيى قَالَ قَرَأت على مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من اعْتِقْ شركا لَهُ فِي عبد فَكَانَ لَهُ مَال يبلغ ثمن العَبْد قوم عَلَيْهِ قيمَة الْعدْل فَأعْطى شركاه حصصهم وَعتق عَلَيْهِ العَبْد والا فقد عتق مِنْهُ مَا أعتق وروى عبيد الله عَن نَافِع بِهَذَا
ইয়াদ থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তাকে উত্তরাধিকার প্রদান করতাম—অর্থাৎ দাদাকে। আমি আবুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি: এটি একটি হাদিস যাতে ক্বাবিসাহ শব্দগত ভুল (তাশহিফ) করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই সনদে ইয়াদ থেকে বর্ণিত হাদিসটি ছিল: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তা আদায় করতাম"—অর্থাৎ খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে সদকাতুল ফিতর বাবদ। তিনি (ক্বাবিসাহ) তার পাঠটি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেননি, তাই তিনি শব্দটিকে পরিবর্তন করে 'ইউওয়াররিসুহু' (উত্তরাধিকার দান করা) করে ফেলেছেন এবং এরপর এর অর্থও পরিবর্তন করে বলেছেন: অর্থাৎ দাদা।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছিসেই সকল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর মূল পাঠে (মতন) বিভ্রম রয়েছে (৬১) ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে’র সূত্রে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো ক্রীতদাসের মধ্যে তার নিজস্ব অংশ মুক্ত করে দিল, সে যদি সচ্ছল হয় তবে তার নিজের সম্পদ থেকে তার অংশীদারদের (ক্ষতিপূরণ) প্রদানের নিশ্চয়তা দেবে। আর যদি তার সম্পদ না থাকে তবে ক্রীতদাসটিকে তার মুক্তির জন্য পরিশ্রম করতে হবে। নাফে’র সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী ক্রীতদাসের পরিশ্রমের (ইসতিসআ) মাধ্যমে মুক্তির বিষয়ে এই বর্ণনাটি প্রদান করেছেন। তবে এই বর্ণনাটি ভুল হওয়ার প্রমাণ হলো নাফে’র নির্ভরযোগ্য ছাত্র তথা হাফেজগণের ঐক্যমত, যারা হাদিসটিতে এমন অর্থ উল্লেখ করেছেন যা এই পরিশ্রম করানোর (সা'আয়াহ) সম্পূর্ণ বিপরীত। হাফেজ ও সুনিপুণ বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা অন্যান্য বর্ণনার তুলনায় হাদিসটির দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দেয়। ইনশাআল্লাহ, আমরা নাফে’র সেই সকল হাফেজ ছাত্রদের বর্ণনা উল্লেখ করব যা আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত বর্ণনার বিপরীত।৬২ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিকের নিকট পাঠ করেছি নাফে’র সূত্রে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো ক্রীতদাসের মধ্যে তার অংশ মুক্ত করে দিল এবং তার কাছে ক্রীতদাসের পূর্ণ মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে ক্রীতদাসটির একটি ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে। অতঃপর সে তার অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ দিয়ে দেবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মুক্ত হয়ে যাবে। অন্যথায় যতটুকু সে মুক্ত করেছে ততটুকুই মুক্ত হবে। উবাইদুল্লাহও নাফে’র সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯১)
وَأَيوب وَيحيى بن سعيد وَجَرِير بن حَازِم وَاللَّيْث وَابْن جريج وَمعمر عَن الزُّهْرِيّ عَن سَالم عَن ابْن عمر وسُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن عَمْرو عَن سَالم وحبِيب بن أبي ثَابت عَن ابْن عمر وَعبد الْعَزِيز عَن أهل مَكَّة عَن ابْن عمر قد ذكرنَا جملَة من رُوَاة هَذَا الْخَبَر عَن ابْن عمر وَلَيْسَ فِي حَدِيث وَاحِد مِنْهُم ذكر السّعَايَة الا الَّذِي قدمنَا حَدِيثهمْ من قبل وَفِيمَا ذكر مَالك وَعبيد الله وَأَيوب وَجَرِير بن حَازِم فِي حَدِيثهمْ فَإِن لم يكن لَهُ مَال عتق مِنْهُ بَيَان أَن السّعَايَة سَاقِطَة عَن العَبْد وَلَيْسَ حجاج وَأَشْعَث والدالاني عَن الصَّائِغ بشىء يعْتَبر بهم من الرِّوَايَة من أحد هَؤُلَاءِ اذا خالفوه فَكيف بهم جَمِيعًا وَقد أطبقوا على الْخلاف لَهُم فَأَما ابْن أبي ذِئْب فَلم يذكر ابْن أبي فديك السّعَايَة عَنهُ فِي خَبره وَهُوَ سَماع الْحِجَازِيِّينَ فَلَعَلَّ ابْن أبي بكير حِين ذكر عَنهُ السّعَايَة كَانَ قد لقن اللَّفْظ لَان سَمَاعه عَن ابْن أبي ذِئْب بالعراق فِيمَا نرى وَفِي حَدِيث الْعِرَاقِيّين عَنهُ كثيرسَمِعت مُسلما يَقُولوَمن الحَدِيث الَّذِي نقل على الْوَهم فِي مَتنه وَلم يحفظ 63 - حَدثنَا ابْن نمير ثَنَا أبي ثَنَا سعيد بن عبيد ثَنَا بشير بن يسَار
আইয়ুব, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, জারির ইবনে হাযিম, লায়স, ইবনে জুরায়জ এবং মা'মার—সকলে যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমর থেকে, তিনি সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাবিব ইবনে আবি সাবিত ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। আব্দুল আজিজ মক্কাবাসীদের থেকে, তাঁরা ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমরা ইবনে উমর থেকে বর্ণিত এই সংবাদটির একদল বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছি। তাঁদের কারও হাদিসেই 'সা’আয়াহ' (দাসের পরিশ্রমের মাধ্যমে অবশিষ্ট মুক্তিপণ পরিশোধ)-এর উল্লেখ নেই, কেবল তাঁদের ব্যতীত যাঁদের হাদিস আমরা ইতিপূর্বে উপস্থাপন করেছি। মালিক, উবায়দুল্লাহ, আইয়ুব এবং জারির ইবনে হাযিম তাঁদের বর্ণিত হাদিসে যা উল্লেখ করেছেন যে—"যদি তার কোনো সম্পদ না থাকে, তবে তার যতটুকু মুক্ত হয়েছে ততটুকুই মুক্ত হবে"—তাতে এই সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, দাসের ওপর থেকে 'সা’আয়াহ'-এর বিধান রহিত। হাজ্জাজ, আশ’আস এবং দালানি—সায়েগ থেকে যা বর্ণনা করেছেন—তা বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য বিষয় নয় যা এই হাফিজ বর্ণনাকারীদের বিপরীতে বিবেচ্য হতে পারে যখন তাঁরা তার বিরোধিতা করেন। তাহলে তাঁদের সকলের বিরোধিতার ক্ষেত্রে তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? অথচ তাঁরা সকলে তাঁদের বিরোধিতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইবনে আবি যি’ব-এর বিষয়ে বলা যায়, ইবনে আবি ফুদাইক তাঁর বর্ণিত সংবাদে 'সা’আয়াহ'-এর উল্লেখ করেননি, যা হিজাযবাসীদের শ্রবণ। সম্ভবত ইবনে আবি বুকাইর যখন তাঁর থেকে 'সা’আয়াহ'-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তাঁকে এই শব্দটির তালকিন করা হয়েছিল (শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল), কারণ আমাদের দৃষ্টিতে ইবনে আবি যি’ব থেকে তাঁর শ্রবণ ছিল ইরাকে। আর তাঁর বর্ণনায় ইরাকবাসীদের হাদিসে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি:এবং ওই হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার মূল পাঠে (মতনে) বিভ্রমের ভিত্তিতে বর্ণনা করা হয়েছে এবং যা সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি ৬৩ - আমাদের নিকট ইবনে নুমাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে উবায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাশির ইবনে ইয়াসার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯২)
الانصاري عَن سهل بن ابي حثْمَة أَنه أخبرهُ أَن نَفرا مِنْهُم انْطَلقُوا الى خَيْبَر فَتَفَرَّقُوا فِيهَا فوجدوا أحدهم قَتِيلا فَقَالُوا للَّذين وجدوه عِنْدهم قتلتم صاحبنا قَالُوا مَا قتلنَا وَلَا علمنَا فَانْطَلقُوا الى نَبِي الله صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُول الله أَتَيْنَا خَيْبَر فتفرقنا فِيهَا فَوَجَدنَا أَحَدنَا قَتِيلا فَقُلْنَا للَّذين وَجَدْنَاهُ عِنْدهم قتلتم صاحبنا قَالُوا مَا قتلنَا وَلَا علمنَا قَالَ تجيئون بِالْبَيِّنَةِ على الَّذين تدعون عَلَيْهِم قَالُوا مَا لنا بَينه قَالَ فَيحلفُونَ لكم قَالُوا لَا نقبل أَيْمَان يهود فكره رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يطلّ دَمه فوداه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مائَة من ابل الصَّدَقَة وروى سعيد بن عبيد ثمَّ من رِوَايَة أبي نعيم قَالَ أَبُو الْحُسَيْن هَذَا خبر لم يحفظه سعيد بن عبيد على صِحَّته ودخله الْوَهم حَتَّى أغفل مَوضِع حكم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على جِهَته وَذَلِكَ أَن فِي الْخَبَر حكم النَّبِي صلى الله عليه وسلم بالقسامة أَن يحلف المدعون خمسين يَمِينا ويستحقون قَاتلهم فَأَبَوا أَن يحلفوا فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم تبرئكم يهود بِخَمْسِينَ يَمِينا فَلم يقبلُوا أَيْمَانهم فَعِنْدَ ذَلِك أعْطى النَّبِي صلى الله عليه وسلم عقله وَسَنذكر هَذَا الْخَبَر بِخِلَاف مَا روى سعيد64 - حَدثنَا قُتَيْبَة ثَنَا اللَّيْث عَن يحيى عَن بشير بن يسَار وَحَمَّاد بن زيد عَن يحيى وَبشر بن الْمفضل عَن يحيى وَعبد الْوَهَّاب عَن يحيى
আনসারী হতে বর্ণিত, সাহল ইবনে আবি হাসমাহ তাকে অবহিত করেছেন যে, তাদের একদল লোক খায়বারে গিয়েছিল। তারা সেখানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাদের একজনকে নিহত অবস্থায় উদ্ধার করে। তারা যাদের কাছে তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছিল, তাদের বলল, "তোমরা আমাদের সঙ্গীকে হত্যা করেছ।" তারা বলল, "আমরা তাকে হত্যা করিনি এবং এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।" এরপর তারা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খায়বারে গিয়েছিলাম এবং সেখানে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। অতঃপর আমাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেলাম। আমরা যাদের কাছে তাকে পেয়েছিলাম, তাদের বললাম যে তোমরা আমাদের সঙ্গীকে হত্যা করেছ। তারা বলল যে তারা তাকে হত্যা করেনি এবং এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।" তিনি বললেন, "যাদের বিরুদ্ধে তোমরা অভিযোগ করছ, তাদের বিরুদ্ধে কি তোমরা প্রমাণ পেশ করতে পারবে?" তারা বলল, "আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।" তিনি বললেন, "তাহলে তারা তোমাদের সামনে শপথ করবে।" তারা বলল, "আমরা ইয়াহুদীদের শপথ গ্রহণ করব না।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রক্ত বৃথা যেতে দিতে অপছন্দ করলেন, তাই তিনি সদকার উট হতে একশটি উট দিয়ে তার রক্তপণ আদায় করে দিলেন। সাঈদ ইবনে উবায়দ এটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আবু নুয়াইমের বর্ণনায় এসেছে—আবুল হুসাইন বলেন: এই সংবাদটি সাঈদ ইবনে উবায়দ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেননি এবং এতে বিভ্রান্তি ঢুকে পড়েছে, এমনকি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিধানের বিষয়টি তার যথাযথ প্রেক্ষিতে উল্লেখ করতে ভুল করেছেন। আর তা হলো, এই বিবরণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাসামাহ-এর বিধান দিয়েছিলেন যে, অভিযোগকারীরা পঞ্চাশটি শপথ করবে এবং তারা তাদের দাবিকৃত পাওনা লাভের অধিকারী হবে। কিন্তু তারা শপথ করতে অস্বীকার করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে ইয়াহুদীরা পঞ্চাশটি শপথের মাধ্যমে দায়মুক্ত হবে।" কিন্তু তারা তাদের শপথ গ্রহণ করতে চাইল না। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তার রক্তপণ প্রদান করলেন। আমরা এই সংবাদটি সাঈদের বর্ণনার বিপরীতে (সঠিক রূপে) উল্লেখ করব।৬৪ - কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া হতে, তিনি বশির ইবনে ইয়াসার হতে; এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদ ইয়াহইয়া হতে, এবং বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল ইয়াহইয়া হতে, এবং আবদুল ওয়াহহাব ইয়াহইয়া হতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯৩)
وسُفْيَان بن عيينه عَن يحيى وَسليمَان بن بِلَال عَن يحيى وهشيم عَن يحيى وَعَن ابْن اسحاق حَدَّثَنى بشير بن يسَار وَابْن شهَاب أَخْبرنِي أَبُو سَلمَة وَسليمَان بن يسَار عَن رجل من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من الانصار أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ ان الْقسَامَة على مَا كَانَت عَلَيْهِ فِي الْجَاهِلِيَّة وروى هَذَا يُونُس عَن ابْن شهَاب(65) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة ثَنَا أَبُو خَالِد الْأَحْمَر عَن حجاج عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده أَن حويصة ومحيصة أَبنَاء مَسْعُود وَعبد الله وَعبد الرَّحْمَن أَبنَاء فلَان خَرجُوا وَسَاقه66 - حَدثنَا مُحَمَّد بن رَافع ثَنَا عبد الرَّزَّاق أَنا ابْن جريج أَخْبرنِي الْفضل عَن الْحسن أَنه أخبرهُ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بَدَأَ بيهود فَأَبَوا أَن يحلفوا فَرد الْقسَامَة على الانصار فَأَبَوا أَن يحلفوا فَجعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْعقل على يهود قَالَ أَبُو الْحُسَيْن فقد ذكرنَا جملَة من أَخْبَار أهل الْقسَامَة فِي الدَّم عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكلهَا مَذْكُور فِيهَا سُؤال النَّبِي صلى الله عليه وسلم اياهم قسَامَة خمسين يَمِينا وَلَيْسَ فِي شَيْء من أخبارهم أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم سَأَلَهُمْ البينه الا مَا ذكر سعيد بن عبيد فِي خَبره وَترك سعيد الْقسَامَة فِي الْخَبَر فَلم يذكرهُ
সুফিয়ান বিন উয়ায়না ইয়াহইয়া থেকে, সুলাইমান বিন বিলাল ইয়াহইয়া থেকে, এবং হুশাইম ইয়াহইয়া থেকে; আর ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বশীর বিন ইয়াসার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু সালামা এবং সুলাইমান বিন ইয়াসার আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনসারী সাহাবীদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কাসামাহ (হত্যার বিচারে শপথ গ্রহণ) জাহেলী যুগে যেভাবে প্রচলিত ছিল সেভাবেই বহাল থাকবে।" ইউনুস এটি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন।(৬৫) আবু বকর বিন আবু শাইবা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খালিদ আল-আহমার হাজ্জাজ থেকে, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মাসউদের দুই পুত্র হুওয়াইসা ও মুহাইসা এবং অমুকের পুত্র আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান বের হলেন... অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করেন।৬৬ - মুহাম্মদ বিন রাফে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ফজল আমাকে হাসান থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাকে অবহিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন, কিন্তু তারা কসম খেতে অস্বীকার করে। অতঃপর তিনি কাসামাহর (শপথের) বিষয়টি আনসারদের দিকে ফিরিয়ে দেন, কিন্তু তারাও কসম খেতে অস্বীকার করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের ওপর রক্তপণ (দিয়ত) ধার্য করেন। আবুল হুসাইন (ইমাম মুসলিম) বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রক্তের মামলার ক্ষেত্রে কাসামাহ সংক্রান্ত একগুচ্ছ বর্ণনা উল্লেখ করেছি। এর প্রত্যেকটিতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের কাছে পঞ্চাশটি শপথ চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসকল বর্ণনার কোনোটিতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে প্রমাণ (বাইয়্যিনাহ) চেয়েছেন বলে উল্লেখ নেই, কেবল সাঈদ বিন উবাইদ তাঁর বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত; তবে সাঈদ তাঁর বর্ণনায় কাসামাহর বিষয়টি বাদ দিয়েছেন এবং তা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯৪)
وتواطؤ هَذِه الاخبار الَّتِي ذَكرنَاهَا بِخِلَاف رِوَايَة سعيد يقْضِي على سعيد بالغلط وَالوهم فِي خبر الْقسَامَة وَغير مُشكل على من عقل التَّمْيِيز من الْحفاظ من نقلة الاخبار وَمن لَيْسَ كمثلهم أَن يحيى بن سعيد أحفظ من سعيد بن عبيد وَأَرْفَع مِنْهُ شَأْنًا فِي طَرِيق الْعلم وأسبابه فَلَو لم يكن الا خلاف يحيى اياه حِين اجْتمعَا فِي الرِّوَايَة عَن بشير بن يسَار لَكَانَ الامر وَاضحا فِي أَن اولاهما بِالْحِفْظِ يحيى بن سعيد ودافع لما خَالفه غير أَن الروَاة قد اخْتلفُوا فِي موضِعين من هَذَا الْخَبَر سوى الْموضع الَّذِي خَالف فِيهِ سعيد وَهُوَ أَن بَعضهم ذكر فِي رِوَايَته أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بَدَأَ المدعين بالقسامة وَتلك رِوَايَة بشير بن يسَار وَمن وَافقه عَلَيْهِ وَهِي أصح الرِّوَايَتَيْنِ وَقَالَ آلاخرون بل بَدَأَ بالمدعي عَلَيْهِم لسؤال ذَلِك والموضع آلاخر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وداه من عِنْده وَهُوَ مَا قَالَ بشير فِي خَبره وَمن تَابعه وَقَالَ فريق آخَرُونَ بل أغرم النَّبِي صلى الله عليه وسلم يهود الدِّيَة وَحَدِيث بشير يَعْنِي ابْن يسَار فِي الْقسَامَة أقوى الاحاديث فِيهَا وأصحهاسَمِعت مُسلما يَقُولذكر خبر واه يَدْفَعهُ الاخبار الصِّحَاح 67 - حَدثنَا مُسلم ثَنَا عبد الله بن مسلمة أَنا سَلمَة بن وردان عَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم رأى رجلا من أَصْحَابه فَقَالَ يَا فلَان هَل تزوجت قَالَ لَا وَسَاقهقَالَ مُسلم هَذَا الْخَبَر الَّذِي ذَكرْنَاهُ عَن سَلمَة عَن أنس أَنه خبر يُخَالف الْخَبَر الثَّابِت الْمَشْهُور
আমরা যে সকল সংবাদ উল্লেখ করেছি, সাঈদের বর্ণনার বিপরীতে সেগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া কাসামাহ সংক্রান্ত বর্ণনায় সাঈদের ভুল ও বিভ্রান্তিকেই সাব্যস্ত করে। হাদীস বিশারদ ও সংরক্ষকদের মধ্যে যাদের বিচারবুদ্ধি প্রখর এবং যারা তাদের সমপর্যায়ের নন, তাদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনার বিশুদ্ধতা ও ইলমের প্রসারে সাঈদ ইবনে উবাইদ অপেক্ষা অধিক প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এবং মর্যাদাবান। বাশীর ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা যখন একত্রিত হয়েছেন, তখন যদি কেবল ইয়াহইয়া তাঁর (সাঈদের) বিরুদ্ধাচরণ করতেন, তবুও হিফয বা মুখস্থের বিচারে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের অগ্রগণ্যতা এবং তাঁর বিপরীত বর্ণনার অসারতা স্পষ্ট হয়ে যেত। তবে বর্ণনাকারীরা সাঈদের বিরোধপূর্ণ অংশটি ছাড়াও এই হাদীসের আরও দুটি স্থানে মতভেদ করেছেন। এর একটি হলো, কেউ কেউ তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিযোগকারীদের মাধ্যমে কাসামাহ বা শপথ গ্রহণ শুরু করেছিলেন; এটি বাশীর ইবনে ইয়াসার ও তাঁর অনুসারীদের বর্ণনা এবং এটিই অধিক বিশুদ্ধ। অন্যরা বলেছেন যে, বরং তিনি অভিযুক্তদের মাধ্যমে শপথ শুরু করেছিলেন তাদের প্রার্থনার প্রেক্ষিতে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে দিয়ত বা রক্তপণ পরিশোধ করেছিলেন; এটি বাশীর ও তাঁর অনুসারীদের বক্তব্য। অন্য একদল বলেছে যে, বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইয়াহুদীদের ওপর দিয়ত ধার্য করেছিলেন। কাসামাহ প্রসঙ্গে বাশীর ইবনে ইয়াসারের হাদীসটিই এই বিষয়ের সকল হাদীসের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছিএকটি দুর্বল বর্ণনার উল্লেখ যা সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত ৬৭ - আমাদের নিকট মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামা ইবনে ওয়ারদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস (রা.) থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জনৈক সাহাবীকে দেখে বললেন, হে অমুক! তুমি কি বিয়ে করেছ? তিনি বললেন, না—এবং তিনি হাদীসের পরবর্তী অংশ বর্ণনা করলেন।মুসলিম বলেন, সালামা কর্তৃক আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে সংবাদটি আমরা উল্লেখ করেছি, তা একটি সুসাব্যস্ত ও প্রসিদ্ধ বর্ণনার পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯৫)
فَنقل عوام أهل الْعَدَالَة ذَلِك عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ الشَّائِع من قَوْله قل هُوَ الله أحد تعدل ثلث الْقُرْآن فَقَالَ ابْن وردان فِي رِوَايَته انها ربع الْقُرْآن ثمَّ ذكر فِي خَبره من الْقُرْآن خمس سور يَقُول فِي كل وَاحِد مِنْهَا ربع الْقُرْآن وَهُوَ مستنكر غير مَفْهُوم صِحَة مَعْنَاهُ وَلَو أَن هَذَا الْكتاب قصدنا فِيهِ الاخبار عَن سنَن الاخيار بِمَا يَصح وَبِمَا يَسْتَقِيم لما استجزنا ذكر هَذَا الْخَبَر عَن سَلمَة بِلَفْظِهِ بِاللِّسَانِ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فضلا عَن رِوَايَته وَكَذَلِكَ مَا أخرجه من الاخبار الْمُنكرَة ولكننا سوغنا رِوَايَته لعزمنا على اخبارنا فِيهِ من الْعلَّة الَّتِي وَصفنَا وَسَنذكر ان شَاءَ الله مَا صَحَّ من الاخبار عَن رَسُول الله وَسورَة {قل هُوَ الله أحد} أَنَّهَا تعدل ثلث الْقُرْآن68 - وَرَوَاهُ مَالك بن أنس عَن عبد الرَّحْمَن بن عبد الله بن أبي صعصعة عَن أَبِيه عَن أبي سعيد عَن قَتَادَة بن النُّعْمَان عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا تعدل ثلث الْقُرْآن69 - وَرَوَاهُ يحيى بن سعيد عَن شُعْبَة عَن قَتَادَة عَن سَالم عَن معدان عَن أبي الدَّرْدَاء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِهَذَا وَجَرِير بن حَازِم عَن قَتَادَة عَن انس وَالزهْرِيّ عَن حميد عَن أمه أم كُلْثُوم عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وسُويد بن سعيد ثَنَا فضل بن عِيَاض عَن مَنْصُور عَن هِلَال عَن ربيع بن خَيْثَم عَن عَمْرو بن مَيْمُون عَن ابْن ابي ليلى عَن امْرَأَة من الانصار عَن أبي أَيُّوب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِهَذَا وَعَن مُحَمَّد بن جَعْفَر عَن شُعْبَة عَن أبي ميسر عَن عمرَان بن مَيْمُون عَن أبي مَسْعُود عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
সাধারণ বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে এটিই প্রসিদ্ধ যে, "বলুন: তিনি আল্লাহ এক" (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য। তবে ইবনে ওয়ারদান তাঁর বর্ণনায় বলেছেন যে, এটি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ। অতঃপর তিনি তাঁর বর্ণনায় কুরআনের পাঁচটি সূরার কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটির ক্ষেত্রে বলেছেন যে সেটি কুরআনের এক-চতুর্থাংশ; অথচ এটি একটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বক্তব্য যার অর্থের বিশুদ্ধতা বোধগম্য নয়। আমরা যদি এই গ্রন্থে কেবল নেককারগণের সুন্নাহ সম্পর্কে বিশুদ্ধ ও সঠিক বর্ণনাগুলো সংকলনের সংকল্প করতাম, তবে সালামাহর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আরোপিত এই বর্ণনাটি মুখে উচ্চারণ করাও আমাদের জন্য বৈধ হতো না, তা বর্ণনা করা তো দূরের কথা; ঠিক একইভাবে অন্যান্য মুনকার বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে আমরা এটি বর্ণনা করার অবকাশ দিয়েছি এই কারণে যে, আমরা এই গ্রন্থে সেই ইল্লত বা ত্রুটিগুলো বর্ণনা করতে চেয়েছি যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই সহীহ বর্ণনাগুলো উল্লেখ করব যেখানে সূরা ‘বলুন: তিনি আল্লাহ এক’ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য হওয়ার কথা এসেছে।৬৮ - এটি মালিক বিন আনাস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আবি সা’সা’আহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ বিন নু’মান থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।৬৯ - এটি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন শু’বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি মা’দান থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। জারীর বিন হাযিম বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে; যুহরী বর্ণনা করেছেন হুমায়দ থেকে, তিনি তাঁর মা উম্মে কুলসুম থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। সুওয়াইদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ফজল বিন আইয়াজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসুর থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি রাবী’ বিন খুয়ায়সাম থেকে, তিনি আমর বিন মায়মুন থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি জনৈক আনসারী মহিলা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মদ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন শু’বাহ থেকে, তিনি আবু মায়সারাহ থেকে, তিনি ইমরান বিন মায়মুন থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯৬)
وزَكَرِيا بن اسحاق عَن عَمْرو بن مَيْمُون عَن بعض أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَعَمْرو بن عُثْمَان أَخْبرنِي مُوسَى بن طَلْحَة قَالَ سَمِعت أَبَا أَيُّوبسَمِعت مُسلما يَقُولذكر رِوَايَة أُخْرَى نقلهَا الْكُوفِيُّونَ على الْغَلَط 70 - عَن عَطاء وَأبي الزبير عَن جَابر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمر بِبيع الْمُدبر فِي دين الَّذِي دبره71 - وهشيم عَن عبد الْملك عَن أبي جَعْفَر مُحَمَّد بن عَليّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ انما بَاعَ خدمَة الْمُدبر72 - مُحَمَّد بن فُضَيْل عَن عبد الْملك عَن عَطاء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمر بِبيع خدمَة الْمُدبر اذا احْتَاجَ73 - حَدثنَا مُسلم ثَنَا أَبُو غَسَّان ثَنَا معَاذ بن هِشَام حَدثنِي أبي عَن مطر عَن عَطاء بن أبي رَبَاح وَأبي الزبير وَعَمْرو أَن جَابِرا حَدثهمْ أَن رجلا من الانصار أعتق مَمْلُوكه ان حدث بِهِ فَمَاتَ فَدَعَاهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَبَاعَهُ من نعيم بن عبد الله أخي بني عديسَمِعت مُسلما يَقُول قد ذكرنَا رِوَايَة أهل الْكُوفَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي بيع الْمُدبر وَقد ساعد بَعضهم بَعْضًا فِي أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بَاعه فِي دين كَانَ على سَيّده وَذكر عبد الْملك فِي رِوَايَته أَن الَّذِي بَاعه النَّبِي صلى الله عليه وسلم بَاعه بعد موت السَّيِّد
যাকারিয়া ইবনে ইসহাক, আমর ইবনে মাইমুন থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং আমর ইবনে উসমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মূসা ইবনে তালহা বলেছেন: আমি আবু আইয়ুবকে বলতে শুনেছিআমি মুসলিমকে বলতে শুনেছিকুফাবাসীদের ভুলভাবে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনার উল্লেখ ৭০ - আতা ও আবু যুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) মুদাব্বার দাসের (মালিকের মৃত্যুর পর যে দাস মুক্তি পাওয়ার কথা) মালিকের ঋণ পরিশোধের জন্য তাকে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছিলেন।৭১ - হুশাইম, আব্দুল মালিক থেকে এবং তিনি আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: তিনি কেবল মুদাব্বারের সেবাপ্রদানের অধিকার বিক্রি করেছিলেন।৭২ - মুহাম্মাদ ইবনে ফুযাইল, আব্দুল মালিক থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রয়োজনে তিনি মুদাব্বারের সেবাপ্রদানের অধিকার বিক্রির নির্দেশ দিয়েছিলেন।৭৩ - মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুয়ায ইবনে হিশাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা মাতার থেকে, তিনি আতা ইবনে আবু রাবাহ, আবু যুবায়ের ও আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাবির তাঁদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আনসারদের জনৈক ব্যক্তি তার দাসের ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে সে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হবে। অতঃপর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে ডাকলেন এবং তাকে বনু আদীর ভ্রাতা নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট বিক্রি করে দিলেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: আমরা মুদাব্বার বিক্রির বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে কুফাবাসীদের বর্ণনা উল্লেখ করেছি। তাঁদের কেউ কেউ একমত হয়েছেন যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে তার মালিকের ঋণ পরিশোধের জন্য বিক্রি করেছিলেন। আর আব্দুল মালিক তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যাকে বিক্রি করেছিলেন, তাকে মালিকের মৃত্যুর পরেই বিক্রি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাময়ীয় লি-মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯৭)
وَمَا ذكرنَا من زيادتهم فِي الْخَبَر غير البيع فخطأ لم يحفظ وَسَنذكر ان شَاءَ الله رِوَايَة من حفظ هَذَا الْخَبَر وَأَدَّاهُ على جِهَته وَصِحَّته74 - قَالَ اللَّيْث عَن أبي الزبير عَن جَابر أَنه قَالَ أعتق رجل من بني عذرة عبدا لَهُ عَن دبر فَبلغ ذَلِك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلَك مَال غَيره قَالَ لَا قَالَ من يَشْتَرِيهِ مني فَاشْتَرَاهُ نعيم بن عبد الله بثمانمائة دِرْهَم وَأَيوب عَن أبي الزبير عَن جَابر وَمعمر عَن أَيُّوب وسُفْيَان عَن أبي الزبير وَحَمَّاد عَن عَمْرو بن دِينَار عَن جَابر أَن رجلا من الانصار وسُفْيَان عَن عَمْرو وَأَيوب عَن عَمْرو وَابْن جريج عَن عَمْرو وَعبد الْمجِيد بن سُهَيْل عَن عَطاء عَن جَابر وَأَبُو عَمْرو بن الْعلَا عَن عَطاء عَن جَابر وَابْن الْمُنْكَدر عَن جَابرسَمِعت مُسلما يَقُول قد ذكرنَا عَن جَابر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي بيع الْمُدبر من وجوهه ونتبين سَبيله ان شَاءَ الله وهمهم وتمييزهم اذ اتَّضَح بِمَا
এবং এই বর্ণনায় 'বিক্রয়' ব্যতীত অতিরিক্ত যা কিছু আমরা উল্লেখ করেছি তা ভুল এবং সংরক্ষিত নয়। আমরা ইনশাআল্লাহ সেই বর্ণনাকারীর বর্ণনা উল্লেখ করব যিনি এই সংবাদটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করেছেন এবং এর যথাযথ রূপ ও শুদ্ধতা বজায় রেখে তা প্রদান করেছেন।৭৪ - লাইস আবু যুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: বনু উযরা গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক দাসকে মুদাব্বার হিসেবে (অর্থাৎ নিজের মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার শর্তে) মুক্তি দিলেন। এই সংবাদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার কি সে ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ আছে?" সে বলল: "না।" তিনি বললেন: "আমার কাছ থেকে একে কে ক্রয় করবে?" অতঃপর নুআইম ইবনে আবদুল্লাহ আটশ দিরহামের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করলেন। এবং আইয়ুব আবু যুবায়ের থেকে জাবিরের সূত্রে; এবং মা'মার আইয়ুব থেকে; এবং সুফিয়ান আবু যুবায়ের থেকে; এবং হাম্মাদ আমর ইবনে দীনার থেকে জাবিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে জনৈক আনসারি ব্যক্তি...; এবং সুফিয়ান আমর থেকে; এবং আইয়ুব আমর থেকে; এবং ইবনে জুরায়েজ আমর থেকে; এবং আবদুল মাজীদ ইবনে সুহাইল আতা থেকে জাবিরের সূত্রে; এবং আবু আমর ইবনুল আলা আতা থেকে জাবিরের সূত্রে; এবং ইবনুল মুনকাদির জাবিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: আমরা মুদাব্বার দাসের বিক্রয় সম্পর্কে জাবিরের সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা এর প্রকৃত পথ এবং বর্ণনাকারীদের বিভ্রম ও তাদের পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট করব, যখন তা যথাযথভাবে পরিস্ফুট হবে।