(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: -)
القواعد في توحيد العبادة   (محمد بن عبد الله باجسير)

القسم: العقيدة


الكتاب: القواعد فى توحيد العبادة وما يضاده من الشرك عند أهل السنة والجماعة جمعا ودراسة.

المؤلف: د. محمد بن عبد الله بن علي باجسير

تقديم: د. محمد بن عبد الرحمن الخميس

اعتنى به وأعده للنشر: عبد الجبار بن عبد العظيم بن محمد آل ماجد

الناشر: دار الأماجد للطباعة والنشر - الرياض

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1442

ইবাদতের তাওহীদের মূলনীতিসমূহ   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বাজাসীর)

বিভাগ: আকীদাহ


বই: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ইবাদতের তাওহীদের মূলনীতিসমূহ এবং এর পরিপন্থী শিরক সংক্রান্ত মাসায়েল: সংকলন ও গবেষণা.

লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বাজাসীর

উপস্থাপনা: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস

সম্পাদনা ও প্রকাশনার প্রস্তুতি: আব্দুল জব্বার বিন আব্দুল আজীম বিন মুহাম্মদ আল মাজেদ

প্রকাশক: দার আল-আমাজিদ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরী - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী করা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ যুল-কাদাহ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১)
- أ -

 

بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد:

فقد بعث الله الأنبياء والرسل بتبليغ التوحيد ولبيانه؛ قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]؛ ومن أجله خلق الله الخلق، وأُنزلت الكتب، وتفرق الناس لأجله بين شقي وسعيد، فأما الموحد فهو من أهل السعادة، وأما المشرك فهو من أهل الشقاء، وهو من أول ما يدخل به العبد في الإسلام؛ فغير الموحد لا يعتبر مسلمًا البتة كما قال تعالى: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ (5)} [المائدة: 5]، وكما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمد رسول الله؛ فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام، وحسابهم على الله"(1)، والتوحيد هو مفتاح دعوة الرسل، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم لرسوله معاذ بن جبل رضي الله عنه وقد بعثه إلى اليمن-: "إنك تأتي قومًا من أهل الكتاب فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري برقم (25)، ومسلم برقم (22).
- ক -

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা তাওহীদ প্রচার ও তা সুস্পষ্ট করার জন্য নবী ও রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬]। এই তাওহীদের উদ্দেশ্যেই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং এর ভিত্তিতেই মানুষ হতভাগ্য ও সৌভাগ্যবান দলে বিভক্ত হয়েছে। সুতরাং মুওয়াহহিদ (একেশ্বরবাদী) ব্যক্তি সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, আর মুশরিক ব্যক্তি হতভাগ্যদের অন্তর্ভুক্ত। এটিই প্রথম বিষয় যার মাধ্যমে একজন বান্দা ইসলামে প্রবেশ করে। তাই যে ব্যক্তি মুওয়াহহিদ নয়, তাকে মোটেও মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে না; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি ঈমানের বিষয়কে অস্বীকার করবে, তার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আল-মায়িদাহ: ৫]। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমনটি বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও ধন-সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়"(১)। তাওহীদ হলো রাসূলগণের দাওয়াতের চাবিকাঠি। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিনিধি মুয়ায বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে—যাকে তিনি ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন—বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের অন্তর্ভুক্ত একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই..."

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদিস নং (২৫); মুসলিম, হাদিস নং (২২)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ২)
- ب -

 

إلا الله وأن محمدًا رسول الله، فإن هم أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة"(1) وذكر الحديث، وهو أول واجب على العبد، وآخر ما يجب أن يخرج به العبد من الدنيا كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من كان آخر كلامه من الدنيا لا إله إلا الله دخل الجنة"(2).

وقد مكث النبي صلى الله عليه وسلم في مكة ثلاث عشرة سنة يدعو الناس إلى التوحيد، فآمن به من آمن، وكفر به من كفر، فهاجر بعد ذلك فرارًا بدينه إلى المدينة إلى أن توفاه الله، فسار الصحابة رضي الله عنهم على نهج نبيهم في الدعوة إلى التوحيد، ففتحوا الأمصار ونشروا الدعوة واستمر الحال إلى زمن التابعين وأتباعهم إلى أنْ ظهرت الفرق المخالفة للسُّنَّة كالجهمية ثم المعتزلة ثم الكلابية، وكان انحرافهم في الصفات والتوحيد، لذا بذل العلماء جهودهم في الرد على المنحرفين في توحيد الأسماء والصفات، مثل كتب الرد على الجهمية للإمام أحمد بن حنبل والدارمي والبخاري وغيرهم من أهل العلم.

ثم حصل بعد القرون الثلاثة المفضلة انحراف في توحيد العبادة على يد الرافضة -أهل قم- فنشروا شرك الوسائط في الأمة، فاهتم العلماء بالرد على المنحرفين في هذا التوحيد وخاصة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وتلامذته، ثم بعد ذلك الشيخ محمد بن عبد الوهاب وتلامذته، فألَّفوا المؤلفات العظيمة في تقرير توحيد العبادة وبيان نواقضه، وهذا بفضل الله ورحمته.

وفي هذا العصر اهتم طلبة العلم ببيان مصطلحات التوحيد وبيان

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري برقم (1331).

(2) رواه أبو داود والحاكم وقال الشيخ الألباني: صحيح.
- ব -

 

...আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। যদি তারা আপনার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন"(১) এবং হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আর এটিই বান্দার ওপর প্রথম ওয়াজিব এবং এটিই শেষ বিষয় যা নিয়ে বান্দার দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া উচিত, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দুনিয়াতে যার শেষ কথা হবে—আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"(২)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করে মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে যারা ঈমান আনার তারা ঈমান এনেছে এবং যারা কুফরি করার তারা কুফরি করেছে। এরপর তিনি দ্বীন রক্ষার্থে মদীনায় হিজরত করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁর ওফাত দান করেন। এরপর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাওহীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের নবীর পথ অনুসরণ করেন। তাঁরা বিভিন্ন শহর জয় করেন এবং দাওয়াত প্রচার করেন। এই অবস্থা তাবেঈ এবং তাঁদের অনুসারীদের সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, যে পর্যন্ত না সুন্নাহর বিরোধী ফেরকাগুলোর আবির্ভাব ঘটে, যেমন জাহমিয়াহ, এরপর মুতাজিলা, এরপর কুল্লাবিয়াহ। তাদের বিচ্যুতি ছিল সিফাত (গুণাবলি) ও তাওহীদের ক্ষেত্রে। তাই উলামায়ে কেরাম আসমা ও সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে বিচ্যুতদের খণ্ডন করতে তাঁদের প্রচেষ্টা ব্যয় করেন, যেমন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, দারেমী, বুখারী এবং অন্যান্য আলেমদের জাহমিয়াহদের খণ্ডন বিষয়ক কিতাবসমূহ।

অতঃপর শ্রেষ্ঠ তিন যুগের পর রাফেজীদের (কোমের অধিবাসী) মাধ্যমে ইবাদতের তাওহীদের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। তারা উম্মতের মাঝে মধ্যস্থতা নির্ধারণের শিরক ছড়িয়ে দেয়। ফলে উলামায়ে কেরাম এই তাওহীদের ক্ষেত্রে বিচ্যুতদের খণ্ডন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর ছাত্রগণ। এরপর শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও তাঁর ছাত্রগণ। তাঁরা ইবাদতের তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলো বর্ণনায় মহান সব কিতাব রচনা করেন। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত।

আর বর্তমান যুগে তালিবে ইলমগণ তাওহীদের পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা এবং বর্ণনার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নম্বর (১৩৩১)।

(২) আবু দাউদ ও হাকিম কর্তৃক বর্ণিত এবং শাইখ আলবানী বলেছেন: সহীহ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
- ج -

 

قواعده، فسجِّلت الرسائل العلمية العالمية (الماجستير والدكتوراه) في بيان المصطلحات(1) العلمية للتوحيد وقاعدته؛ والمصطلحات العقدية لها أهمية بالغة، إذْ تحدد معاني الألفاظ الشرعية على مذهب أهل السُّنَّة والجماعة والرد على الطوائف المخالفة فيها، قال شيخ الإسلام: (وهذه الحدود معرفتها من الدين في كل لفظ هو كتاب الله وسُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم ثم قد تكون معرفتها فرض عين وقد تكون فرض كفاية، ولهذا ذم الله تعالى من لم يعرف هذه الحدود بقوله تعالى: {الْأَعْرَابُ أَشَدُّ كُفْرًا وَنِفَاقًا وَأَجْدَرُ أَلَّا يَعْلَمُوا حُدُودَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ} [التوبة: 97]، وبالجملة فالحاجة إلى معرفة هذه الحدود ماسة لكل أمة، وفي كل لغة، فإن معرفتها من ضرورة التخاطب، الذي هو النطق الذي لا بد منه لبني آدم(2).

ومن جملة من اهتم من طلبة العلم في هذا العصر ببيان مصطلحات التوحيد وبيان قواعده: الأخ/ محمد باجسير؛ فقد بحث في رسالة الماجستير بعنوان: مصطلحات توحيد العبادة، وأما بحثه في الدكتوراه فهو في بيان قواعد توحيد العبادة، فيعتبر الدكتوراه هي امتداد للماجستير، إذْ أنَّ موضوعهما واحد، ألا وهو توحيد العبادة، وقد أجاد فيهما.

--------------------------------------------

(1) أ - كأطروحة الدكتوراه بعنوان: "الألفاظ والمصطلحات المتعلقة بتوحيد الأسماء والصفات -جمعًا ودراسة"- للدكتورة: أسماء السلمان.

ب - أطروحة الدكتوراه بعنوان: "الألفاظ والمصطلحات المتعلقة بتوحيد الربوبية -جمعًا ودراسة-".

ج - أطروحة الدكتوراه بعنوان: "الألفاظ والمصطلحات المتعلقة بالنبوات -جمعًا ودراسة-" للدكتورة: منيرة العقلا.

د - أطروحة الماجستير بعنوان: "المصطلحات الكلامية في أفعال الله -عرض ونقد-" للباحث: أحمد محمد طاهر؛ وغير ذلك من الرسائل العلمية.

(2) الرد على المنطقيين لشيخ الإسلام ابن تيمية (ص 49 - 51)، وانظر: مجموع الفتاوى لشيخ الإسلام ابن تيمية (9/ 95).
- গ -

 

এর মূলনীতিসমূহ; ফলে তাওহীদ ও এর মূলনীতিসমূহের ইলমি পরিভাষা বর্ণনায় বিশ্বব্যাপী উচ্চতর গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভসমূহ (মাস্টার্স ও পিএইচডি) নিবন্ধিত হয়েছে। আকিদাগত পরিভাষাগুলোর গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম, যেহেতু এগুলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মাযহাব অনুযায়ী শরয়ী শব্দাবলির অর্থ নির্ধারণ করে এবং এক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর খণ্ডন করে। শায়খুল ইসলাম বলেন: (আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতিটি শব্দের এই সীমা বা সংজ্ঞাগুলো জানা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। এরপর এগুলো জানা কখনো ফরজে আইন হতে পারে আবার কখনো ফরজে কিফায়া হতে পারে। একারণেই আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তিদের নিন্দা করেছেন যারা এই সীমাগুলো জানে না। তিনি ইরশাদ করেছেন: {মরুবাসীরা কুফর ও নিফাকে অত্যন্ত কঠোর এবং তারা সেই সীমাগুলো না জানারই অধিক যোগ্য যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর নাজিল করেছেন} [সূরা আত-তাওবাহ: ৯৭]। সারকথা হলো, এই সীমাগুলো জানার প্রয়োজনীয়তা প্রতিটি জাতির জন্য এবং প্রতিটি ভাষায় অপরিহার্য। কারণ এগুলো জানা ভাব বিনিময়ের জন্য জরুরি, যা মানুষের জন্য অপরিহার্য একটি বাক-প্রক্রিয়া(২)।

বর্তমান যুগে তাওহীদের পরিভাষা ও এর মূলনীতিসমূহ বর্ণনায় যারা গুরুত্বারোপ করেছেন সেই ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ভাই মুহাম্মদ বাজাসীর। তিনি তাঁর মাস্টার্স থিসিসে 'তাওহীদুল ইবাদাহর পরিভাষাসমূহ' শিরোনামে গবেষণা করেছেন। আর তাঁর পিএইচডি গবেষণাটি হলো তাওহীদুল ইবাদাহর মূলনীতিসমূহ বর্ণনার ওপর। সুতরাং তাঁর পিএইচডি গবেষণাকে মাস্টার্স গবেষণারই একটি সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেহেতু উভয়ের বিষয়বস্তু এক, আর তা হলো তাওহীদুল ইবাদাহ। আর তিনি উভয়টিতেই পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ক - যেমন পিএইচডি থিসিস যার শিরোনাম: "তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি ও পরিভাষাসমূহ -সংকলন ও পর্যালোচনা-" ডক্টর আসমা আস-সালমান-এর।

খ - পিএইচডি থিসিস যার শিরোনাম: "তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি ও পরিভাষাসমূহ -সংকলন ও পর্যালোচনা-"।

গ - পিএইচডি থিসিস যার শিরোনাম: "নবুওয়াত সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি ও পরিভাষাসমূহ -সংকলন ও পর্যালোচনা-" ডক্টর মুনীরা আল-আকলা-এর।

ঘ - মাস্টার্স থিসিস যার শিরোনাম: "আল্লাহর কার্যাবলি সংক্রান্ত ইলমুল কালামের পরিভাষাসমূহ -উপস্থাপন ও সমালোচনা-" গবেষক আহমদ মুহাম্মদ তাহের-এর; এবং এর বাইরেও আরও অনেক গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ রয়েছে।

(২) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যীন' (পৃ. ৪৯ - ৫১), এবং দেখুন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (৯/৯৫)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
- د -

 

هذا وأسأل الله التوفيق للباحث والأجر والثواب.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان.

كتبه

أ. د. محمَّد بن عَبد الرَّحمن الخَميِّس

أستاذ العقيدة في حلية أصول الدين
- দ -

 

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট গবেষকের জন্য তাওফিক এবং সওয়াব ও প্রতিদান প্রার্থনা করছি।

আর আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেন, তাঁদের সকলের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

লিখেছেন

প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খুমাইয়িস

উসূলুদ্দীন অনুষদের আকিদাহ বিভাগের অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
- هـ -

 

‌‌مُقَدِّمَةُ المُعتَني باِلكِتَاب

إنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1]

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

وبعد: فإن علم التوحيد أشرف العلوم وأفضلها، وأرفعها مكانة وأجلها لتعلقه بذات الباري سبحانه، وتضمنه معرفة أسمائه وصفاته وأفعاله والعلم بما أنزل من كتبه وأرسل من رسله، ولتأكيد أهميته وعُلوّ شأنه، ونُبل غايته وعظيم منزلته، خلق من أجله الخلق وأجرى عليهم الرزق كما دل عليه قوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56)
- হা -

 

‌‌গ্রন্থের প্রতি যত্নশীল ব্যক্তির ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হচ্ছে (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: নিশ্চয়ই তাওহীদের ইলম হচ্ছে জ্ঞানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ এবং অবস্থানের দিক থেকে সুউচ্চ ও মহান; যেহেতু এটি মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কিতাবসমূহ ও প্রেরিত রাসূলগণ সম্পর্কে জ্ঞান। এই ইলমের গুরুত্ব ও উচ্চমর্যাদা এবং এর মহৎ লক্ষ্য ও সুমহান অবস্থানের কারণে এরই উদ্দেশ্যে সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} (৫৬)
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
- و -

 

مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ (57) إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ (58)} [الذاريات: 56 - 58].

واتفقت كلمة جميع المرسلين عليهم الصلاة والتسليم على الدعوة إليه ونصرته والجهاد في سبيله، كما في قوله سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ (25)} [الأنبياء: 25]، وقوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]، وقوله: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ (45)} [الزخرف: 45]. فأمرُ توحيده تعالى إذًا: الدلالة على أمره ونهيه، ومعرفة وعده ووعيده، وإقامة دينه وشرعه، لذا وُضعت من أجله الدواوين، ونُصِبت بشأنه الموازين، وكان الثواب والعقاب، والجزاء والحساب، وافتراق العباد، فريق في الجنة وفريق في السعير.

ولما كان "من المِحَال أن تَسْتَقِلّ العقول البشرية بمعرفة ذلك وإدراكه على التفصيل اقتضت حكمة العزيز الرحيم أن بعث الرسل به مُعَرِّفِين وإليه داعين، ولمن أجابهم مبشرين، ولمن خالفهم منذرين، وجعل مفتاح دعوتهم وزبدة رسالتهم معرفة المعبود سبحانه بأسمائه وصفاته وأفعاله؛ إذ على هذه المعرفة تنبني مطالب الرسالة جميعها، وأن الخوف والرجاء والمحبة والطاعة والعبودية تابعة لمعرفة المرجو المخوف المحبوب المطاع المعبود"(1).

ثلَاث عشرةَ سَنَةً في مكة والنَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يدعو إليه، ويغرس جذوره في أعماق النفوس، ويبني أُسُسَهُ ودعائمه في سويداء القلوب، ويثبت أَركانه في الوجدان؛ حتى اتضحت سبيله للسالكين، وبانت معالمه للراغبين، فأَظهر الله الحق وأَزهق الباطل، وأَضاءت القلوبَ أَنوارُ التوحيد الخالص، فَجلتْه من أَوضار الشرك، وصقلته من أَدران التنديد.

--------------------------------------------

(1) مقدمة الصواعق المرسلة للإمام ابن القيم رحمه الله: (1/ 5).
- ও -

 

“আমি তাদের নিকট থেকে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে (৫৭)। নিশ্চয় আল্লাহ নিজেই রিযিকদাতা, প্রবল শক্তির অধিকারী ও সুদৃঢ় (৫৮)।” [আয-যারিয়াত: ৫৬-৫৮]।

সমস্ত রাসূলগণ (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়া, একে সাহায্য করা এবং এর পথে জিহাদ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে বলেছেন: “আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার কাছে এই ওহী পাঠাইনি যে, ‘আমি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো’ (২৫)।” [আল-আম্বিয়া: ২৫]। এবং তাঁর বাণী: “অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো’।” [আন-নাহল: ৩৬]। এবং তাঁর বাণী: “আপনার পূর্বে আমি আমার যে সকল রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাঁদের জিজ্ঞেস করুন, আমি কি দয়াময় (রহমান) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নির্ধারণ করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হবে? (৪৫)।” [আয-যুখরুফ: ৪৫]। সুতরাং মহান আল্লাহর তাওহীদের বিষয়টি হলো: তাঁর আদেশ ও নিষেধের দিকনির্দেশনা প্রদান করা, তাঁর প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির জ্ঞান অর্জন করা এবং তাঁর দ্বীন ও শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যেই কর্মলিপির দপ্তরসমূহ বিন্যস্ত করা হয়েছে, বিচার দিবসের পাল্লা স্থাপন করা হয়েছে, সওয়াব ও আযাব এবং প্রতিদান ও হিসাব নির্ধারিত হয়েছে, আর এ কারণেই বান্দারা দুই দলে বিভক্ত হয়েছে—এক দল জান্নাতে এবং অন্য দল প্রজ্বলিত অগ্নিতে।

যেহেতু “মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষে এটি বিস্তারিতভাবে অবগত হওয়া ও অনুধাবন করা অসম্ভব ছিল, তাই পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর হিকমত এটিই দাবি করেছে যে, তিনি রাসূলদেরকে এর পরিচয় প্রদানকারী ও এর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে প্রেরণ করবেন; যারা অনুসারীদের সুসংবাদ দেবেন এবং বিরোধীদের সতর্ক করবেন। আর তিনি তাঁদের দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং তাঁদের রিসালতের সারবস্তু হিসেবে মহান মা’বুদ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয় তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন; কারণ এই মারেফাত বা পরিচয়ের ওপরই রিসালতের সমস্ত দাবি প্রতিষ্ঠিত। প্রকৃতপক্ষে ভয়, আশা, ভালোবাসা, আনুগত্য এবং দাসত্ব (ইবাদত) মূলত সেই সত্তার মারেফাতের অনুগামী, যাঁর কাছে আশা করা হয়, যাকে ভয় করা হয়, যাকে ভালোবাসা হয় এবং যাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করা হয়”(১)।

মক্কায় দীর্ঘ তেরোটি বছর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দিকে দাওয়াত দেন এবং মানুষের অন্তরের গভীরে এর শিকড় রোপণ করেন। হৃদয়ের অন্তঃস্থলে এর ভিত্তি ও স্তম্ভসমূহ নির্মাণ করেন এবং চেতনায় এর রুকনসমূহকে সুসংহত করেন; যাতে করে সত্যপথের যাত্রীদের জন্য এর পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায় এবং সত্য সন্ধানীদের কাছে এর নিদর্শনাবলি প্রকাশিত হয়। ফলে আল্লাহ সত্যকে বিজয়ী করেন এবং মিথ্যাকে পরাভূত করেন। আর বিশুদ্ধ তাওহীদের জ্যোতি অন্তরসমূহকে আলোকিত করে, একে শিরকের আবর্জনা থেকে পবিত্র করে এবং অংশী স্থাপনের কলুষতা থেকে মুক্ত করে স্বচ্ছ করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আস-সাওয়াউিকুল মুরসালাহ’ গ্রন্থের ভূমিকা: (১/৫)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
- ز -

 

بقيت العقيدة على صفائها ونقائها وطهرها؛ حتى إذا قضى الله أمرًا كان مفعولًا، ودخل في دين الله من لم يتشرَّب قلبه التوحيد الخالص، حدث في النَّاس الخلل، وتفرَّقت بهم السُّبل، وراجت المذاهب المنحرفة، والأفكار الهدَّامة، وأَطلَّت الفتن برأسها، وفشت البدع ببؤسها، حتى إذا زاغت الأبصار، وبلغت القلوب الحناجر، وابتلي المؤمنون وزلزلوا زلزالًا شديدًا، قيَّض الله من أَئمَّة الهدى، ومصابيح الدجى من يعيد النَّاس إلى مشكاة النبوة وقلعة الإيمان، ويكشف لهم زيوف الباطل، ويدحض شُبَه المبطلين، ويردَّهم إلى منهج السَّلف الصَّالح.

إنَّ المتبصِّر في تاريخ الأُمَّة الإسلاميَّة؛ ليرى أن عزَّتها وعلوَّها وغلبتها ودينونة الأُمم لها مرتبطة بصفاء عقيدتها، وصدق توجهها إلى الله، واتباعها لأَثر النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وسيرها على منهج السَّلف الصَّالح، واجتماعها على أَئمَّتها، وعدم منازعتهم في ذلك، وأَنَّ ذلها وضعفها وانخذالها، وتسلط الأُمم عليها مرتبط بانتشار البدع والمحدثات في الدِّين، واتخاذ الأَنداد والشركاء مع الله، وظهور الفِرَق الضالَّة، ونزع يد الطاعة، والخروج على الأَئمَّة.

إنَّ الانحرافات العقدية، والحيدة عن منهج السَّلف الصَّالح، والانخداع بزخرف قول أرباب المذاهب المنحرفة هو الذي فرق الأُمَّة، وأَضعف قوتها، وكسر شوكتها، والواقع شاهد على ذلك، ولا مخرج لها من ذلك إلَّا بالرجوع إلى ما كان عليه النَّبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وأئمَّة الهدى، فلن يصلح آخر هذه الأُمَّة إلَّا بما صلح به أَولها.

ومن هنا تأتي أهمية العناية بهذا الأمر، وتربية الناشئة عليه وتصحيح المسار إليه حتى لا تتشعب بها السُبل فتضل في متاهات الأهواء والفتن. وقد وفق الله عددًا من مشايخنا وعلمائنا ونفرًا من طلبة العلم المخلصين إلى الاهتمام بهذا الموضوع العظيم، تقريرًا واستدلالًا،
- য -

 

আকিদা তার স্বচ্ছতা, বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার ওপর অটল ছিল; যতক্ষণ না আল্লাহ এমন এক বিষয় ফয়সালা করলেন যা কার্যকর হওয়ারই ছিল। যখন এমন সব লোক আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল যাদের অন্তর খাঁটি তাওহিদকে ধারণ করেনি, তখন মানুষের মধ্যে ত্রুটি দেখা দিল, তাদের পথগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, পথভ্রষ্ট মতবাদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়ল, ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং বিদআত তার অমঙ্গল নিয়ে বিস্তার লাভ করল। এমনকি যখন চক্ষুসমূহ স্থির হয়ে গেল এবং প্রাণ ওষ্ঠাগত হলো, আর মুমিনরা পরীক্ষিত হলো ও প্রচণ্ডভাবে প্রকম্পিত হলো, তখন আল্লাহ হেদায়েতের ইমাম ও অন্ধকারের প্রদীপদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করলেন যারা মানুষকে নবুয়তের আলোকবর্তিকা ও ঈমানের দুর্গের দিকে ফিরিয়ে আনেন, তাদের সামনে বাতিলের অসারতা উন্মোচন করেন, বাতিলপন্থীদের সংশয় খণ্ডন করেন এবং তাদেরকে সালাফে সালেহীনের মানহাজের দিকে ফিরিয়ে দেন।

নিশ্চয়ই ইসলামি উম্মাহর ইতিহাসের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পাবেন যে, এই উম্মাহর মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, বিজয় এবং অন্য জাতিগুলোর তাদের বশ্যতা স্বীকার করা মূলত তাদের আকিদার বিশুদ্ধতা, আল্লাহর প্রতি তাদের একনিষ্ঠতা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ, সালাফে সালেহীনের মানহাজের ওপর পথচলা এবং তাদের ইমামগণের অধীনে ঐক্যবদ্ধ থাকা ও এ বিষয়ে তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। আর তাদের লাঞ্ছনা, দুর্বলতা, পরাজয় এবং অন্য জাতিগুলোর তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার মূলত দ্বীনের মধ্যে বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়ের প্রসার, আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও অংশীদার গ্রহণ, পথভ্রষ্ট দলসমূহের আত্মপ্রকাশ, আনুগত্য পরিহার করা এবং ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাথে সম্পৃক্ত।

নিশ্চয়ই আকিদাগত বিচ্যুতি, সালাফে সালেহীনের মানহাজ থেকে সরে যাওয়া এবং পথভ্রষ্ট মতবাদের প্রবক্তাদের অলংকারপূর্ণ কথায় বিভ্রান্ত হওয়াই উম্মাহকে বিভক্ত করেছে, তাদের শক্তিকে দুর্বল করেছে এবং তাদের প্রতাপ চূর্ণ করেছে। বাস্তব পরিস্থিতি এর সাক্ষী। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের আর কোনো পথ নেই কেবল সেই বিষয়ের দিকে ফিরে আসা ছাড়া যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং হেদায়েতের ইমামগণ ছিলেন। কেননা, এই উম্মাহর পরবর্তী অংশ কেবল সেই বিষয়ের মাধ্যমেই সংশোধিত হবে যার মাধ্যমে এর প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল।

আর এখান থেকেই এই বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার, এর ওপর নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার এবং এর দিকে গতিপথ সংশোধন করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়; যাতে তাদের পথগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে না যায় এবং তারা প্রবৃত্তি ও ফিতনার গোলকধাঁধায় পথভ্রষ্ট না হয়। আল্লাহ আমাদের একদল শায়খ ও আলেম এবং একনিষ্ঠ তালিবে ইলমদের এই মহান বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার তাওফিক দান করেছেন, তা বর্ণনা এবং দালিলিক প্রমাণের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
- ح -

 

وتأصيلًا وتقعيدًا، وتأليفًا وإبطالًا لما يُضادُّه، ويُناقِضه ويُعارضُه من شُبَهِ أَهْلِ الضَّلالِ والانحرافِ في هذا الباب.

وكان منهم صاحب الفضيلة الشيخ الدكتور محمد بن عبد الله باجسير في كتابه الماتع "القواعد في توحيد العبادة وما يضاده من الشرك عند أهل السُّنَّة والجماعة -جمعًا ودراسة-".

وفّقه الله وبارك في علمه وعمله وأهله وذريته، وهو كتاب نفيس فيه تأصيل بديع وتوجيهات رصينة لا يستغنى عنه طلاب العلم ولا يشبع منه العلماء.

كما أسأله جلّت عظمته أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، مقربًا إليه نافعًا لعباده إنه سميع مجيب وصلى الله على سيدنا ونبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.

كتبه الفقير إلى عفو ربه ورحمته

 

عَبدُ الجَبَّار بن عَبدُ العظيم بن محَمَّد آلَ مَاجِد

غَفرَ الله لَه وَلوَالدَيْه ولجميع المُسلمِينَ

Email: a.j.majid@hotmail.com
- হা -

 

এবং মূলনীতি নির্ধারণ ও কাঠামো গঠন, এবং রচনা ও সেই সমস্ত সংশয় বাতিল করার মাধ্যমে যা এর বিপরীত, পরিপন্থী ও বিরোধী, যা এই ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুতদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়।

তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ ডক্টর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বাজাসীর তাঁর চমৎকার গ্রন্থ "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ইবাদতের তাওহীদের মূলনীতি এবং এর পরিপন্থী শিরকসমূহ - একটি সংকলন ও গবেষণা"-এর মাধ্যমে।

আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং তাঁর জ্ঞান, আমল, পরিবার ও বংশধরের মধ্যে বরকত দান করুন। এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ যাতে রয়েছে চমৎকার মূলনীতি নির্ধারণ এবং সুদৃঢ় দিকনির্দেশনা, যা থেকে জ্ঞানান্বেষীদের কোনো গত্যন্তর নেই এবং যা থেকে উলামায়ে কেরাম তৃপ্ত হতে পারেন না।

সেই সাথে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলকে একান্তভাবে তাঁর সম্মানিত সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর নৈকট্য লাভকারী এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দুয়া কবুলকারী। আর আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমা ও করুণার ভিখারি

 

আব্দুল জাব্বার বিন আব্দুল আযীম বিন মুহাম্মাদ আল মাজেদ

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

ইমেইল: a.j.majid@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: -)
القواعد في توحيد العبادة   (محمد بن عبد الله باجسير)

القسم: العقيدة


الكتاب: القواعد فى توحيد العبادة وما يضاده من الشرك عند أهل السنة والجماعة جمعا ودراسة.

المؤلف: د. محمد بن عبد الله بن علي باجسير

تقديم: د. محمد بن عبد الرحمن الخميس

اعتنى به وأعده للنشر: عبد الجبار بن عبد العظيم بن محمد آل ماجد

الناشر: دار الأماجد للطباعة والنشر - الرياض

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1442

ইবাদতের তাওহীদের মূলনীতিসমূহ   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বাজাসীর)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ইবাদতের তাওহীদের মূলনীতিসমূহ এবং এর বিপরীত শিরক সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের সংকলন ও গবেষণা।

লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বাজাসীর

উপস্থাপনা: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস

তত্ত্বাবধান ও প্রকাশনার জন্য প্রস্তুতকরণ: আব্দুল জাব্বার বিন আব্দুল আজিম বিন মুহাম্মদ আল-মাজিদ

প্রকাশক: দারুল আমাজিদ লিত-তিবাআহ ওয়ান নাশর - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৮ হিজরী - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বর বিশিষ্ট)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ যিলকদ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المُقَدِّمَة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله:

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)}. [الأحزاب؛ 70، 71].

أما بعد:

فَمِمَّا لا يَخْفَى على كلّ مسلمٍ بَصِيرٍ في دِينِهِ أن اللهَ تعالى أرسلَ جميعَ رسلِه بالدعوةِ إلى التوحيدِ وإفرادِه بالعبادةِ دونَ غيرِه؛ والغايةُ من خلق الخلقِ هو إفراد الله بالعبادة وهو مقصودِ الرسالاتِ؛ لأنَّ ابتلاء العباد بإرسالِ الرسلِ إنما وقع في معاني الألوهيةِ، أما معانِي الربوبيةِ فقد كانت مستقرةً عندَ المشركين في الجملةِ، والله عز وجل لا يقبلُ من عبادِه صَرْفًا ولا عَدْلًا بدونِ التوحيدِ الذي هو إفرادِه سبحانه وتعالى بالعبادةِ، والناظرُ في كلامِ اللهِ يَجِدُ الله قد أكثرَ من ذكر توحيد العبادةِ؛ لأنَّه المقصودُ من دعوةِ
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট অধিকার দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১)} [আন-নিসা: ১]।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১)}। [আল-আহযাব; ৭০, ৭১]।

অতঃপর:

দীনের ব্যাপারে সচেতন প্রত্যেক মুসলিমের কাছে এটি স্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ তাঁর সকল রাসূলকে তাওহীদের দাওয়াত এবং অন্য কাউকে বাদ দিয়ে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে একত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বানের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছেন। আর সৃষ্টিজগত সৃষ্টির মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর ইবাদতে একত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং এটাই রিসালাতসমূহের মূল উদ্দেশ্য। কারণ রাসূল প্রেরণের মাধ্যমে বান্দাদের যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তা মূলত উলুহিয়্যাতের (ইবাদতের) অর্থসমূহ ঘিরেই ছিল। আর রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) অর্থসমূহ মুশরিকদের মাঝে সাধারণভাবে স্বীকৃতই ছিল। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে তাওহীদ ব্যতীত কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না, আর সেই তাওহীদ হলো একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা। আল্লাহর কালামের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পাবেন যে, আল্লাহ তাআলা তাওহীদুল ইবাদতের আলোচনা অধিক পরিমাণে করেছেন; কারণ এটাই হলো দাওয়াতের মূল লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المشركين، فَقَدْ ذكره اللهُ تعالى في غالبِ سورِ القرآنِ وبيَّنَ أدِلَّتَه بطرق عديدة، وحاجَّ المشركين في تركِ عبادتِه وحدَه واتخاذِ الأندادِ والأصنامِ من دونه، وهكذا كان شأن رسولِنا صلى الله عليه وسلم وصحابتِه الكرامِ رضي الله عنهم في دعوتِهم إلى اللهِ عز وجل، ظَهرَ ذلك في حِرْصِه صلى الله عليه وسلم وسدِّه لأبوابِ الشركِ بكلِّ الطرقِ والوسائِل، وكذا صحابته من بعده فقويَتِ الأُمّةُ في عَقِيدَتِها، وصارَت صلتُها عظيمةً بربِّها عز وجل، وَرَسَخَتْ عَقِيدَةُ التوحيدِ في القلوبِ، وسارَتِ الأمّةُ على هذا التوحيدِ رَدْحًا من الزمن ثم بدأ الشركُ في هذا الباب وغيره يَدُبُّ إليهم من جديدٍ، ويَسْرِي فِي كثيرٍ منهم سَرَيَان الرُّوحِ في البدنِ، وإلى اليوم تعاني الأمة من الانحرافِ العظيم، والضلالِ الواضحِ في أصلِ دعوةِ الأنبياءِ والمرسلين، فانتشرَ بَيْنَهم الشِّرْكُ بكل أشْكَالِهِ وصوَرِهِ، وتَعَلَّقَ كثير من الأمّةِ بغيرِ اللهِ تعالى، وصرفوا صنوفًا من العباداتِ والتَّقَرُّباتِ إلى البشرِ دونَ اللهِ تعالى، فأُصِيبَتِ الأُمّةُ بسببِ ذلك بالضعفِ والذلةِ، وَتَكَالُبِ الأَعْداءِ عليها، وأخذوا منها كُلَّ مأخَذٍ.

ولذا كان الاهتمامُ بهذا النوعِ العظيمِ من التوحيد(1) في كلام أهل العلم في مُقَدِّمَةِ المَهَام؛ تقريرًا واستدلالًا، وتأصيلًا وتقعيدًا، وإبطالًا لما يُضادُه، ويُناقِضُه ويُعارضُه من شُبَهِ أَهْلِ الضَّلالِ والانحرافِ في هذا الباب.

ولقد قُمْتُ بتوفيقٍ مِنَ اللهِ عز وجل في مرحلةِ الماجستير بجمع المصطلحات والألفاظِ المُتَعَلِّقَةِ بتوحيدِ الألوهيةِ وَمِنْ ثَمَّ دِرَاسَتُها وذِكْرُ أقْوَالِ العلماءِ في بيانِها، فَظَهَرَ لي من خلاله أهمِّيَةُ التَرْكِيزِ على القواعدِ والضوابطِ التي تَضبِطُ هذا البابَ وَتُبِيِّنُ الأُسُسَ التي يُبْنَى عليها فَقَاعِدَةُ الشيءِ هي أصلُهُ وأَسَاسُهُ.

--------------------------------------------

(1) لا يعني هذا إهمال بقية أنواع التوحيد؛ فإنها هي أصله وأساسه، ولا يستقيم عمود توحيد العبادة بدون توحيد الربوبية أو الأسماء والصفات، كما سيأتي مفصلًا تقرير ذلك في قاعدة مستقلة. [انظر: (ص 440، 660)، من هذه الرسالة].
মুশরিকদের সম্পর্কে, আল্লাহ তাআলা এটি কুরআনের অধিকাংশ সূরাতে উল্লেখ করেছেন এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে এর প্রমাণাদি বর্ণনা করেছেন। তিনি এককভাবে তাঁর ইবাদত ত্যাগ করা এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যদের সমকক্ষ ও প্রতিমা হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে মুশরিকদের সাথে বিতর্ক করেছেন। আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবাগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে দাওয়াতের বিষয়টি এমনই ছিল। এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐকান্তিক আগ্রহ এবং সকল পথ ও উপায়ে শিরকের দরজাগুলো বন্ধ করার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে তাঁর পরবর্তী সাহাবাগণও তা অনুসরণ করেছেন, ফলে উম্মত তাদের আকিদাতে শক্তিশালী হয়েছিল এবং তাদের প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লার সাথে তাদের সম্পর্ক সুমহান হয়ে উঠেছিল। হৃদয়ে তাওহীদের আকিদা সুদৃঢ় হয়েছিল এবং উম্মত দীর্ঘকাল এই তাওহীদের ওপর পরিচালিত হয়েছিল। অতঃপর এই বিষয় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে শিরক পুনরায় তাদের মাঝে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং তাদের অনেকের মধ্যে দেহের ভেতরে আত্মার সঞ্চালনের মতো প্রবাহিত হতে থাকে। আজ অবধি এই উম্মত নবী ও রাসূলগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তির ক্ষেত্রে এক বিশাল বিচ্যুতি ও স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ভুগছে। ফলে তাদের মাঝে শিরক তার সকল রূপ ও আকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং উম্মতের অনেকে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা আল্লাহ তাআলাকে বাদ দিয়ে মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকার ইবাদত ও নৈকট্য লাভের উপায়গুলো উৎসর্গ করেছে। এর ফলে উম্মত দুর্বলতা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, শত্রুরা তাদের ওপর চড়াও হয়েছে এবং তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে।

আর এ কারণেই আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) বক্তব্যের মধ্যে তাওহীদের এই মহান প্রকারের(১) প্রতি গুরুত্ব প্রদান ছিল প্রধান কাজসমূহের অগ্রভাগে; যার মধ্যে রয়েছে এর সাব্যস্তকরণ ও দলীল প্রদান, মূলনীতি নির্ধারণ ও নিয়মাবলী প্রণয়ন এবং এর পরিপন্থী, বিরোধী ও বিচ্যুৎ ও পথভ্রষ্টদের সংশয়সমূহ বাতিলের প্রয়াস।

আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার তাওফিকে মাস্টার্স পর্যায়ে তাওহীদে উলুহিয়্যাহ সংক্রান্ত পরিভাষা ও শব্দাবলী সংগ্রহ করেছি এবং তারপর সেগুলো নিয়ে গবেষণা করেছি ও ওলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যাসমূহ উল্লেখ করেছি। এর মাধ্যমে আমার নিকট সেই সকল নীতিমালা ও নিয়মাবলীর ওপর গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে যা এই বিষয়টিকে সুশৃঙ্খল করে এবং যে ভিত্তির ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত তা বর্ণনা করে; কারণ কোনো বিষয়ের নীতিমালা হলো তার মূল ও ভিত্তি।

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ এই নয় যে তাওহীদের বাকি প্রকারগুলোকে অবহেলা করা হয়েছে; বরং সেগুলোই এর মূল ও ভিত্তি। তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ অথবা আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী) ব্যতীত ইবাদতের তাওহীদের স্তম্ভ সোজা হতে পারে না, যেমনটি সামনে একটি স্বতন্ত্র নীতিমালায় বিস্তারিতভাবে সাব্যস্ত করা হবে। [দেখুন: এই গবেষণাপত্রের ৪৪০ ও ৬৬০ পৃষ্ঠা]।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
يقول الإمام ابن تيمية: "فإنَّ هذهِ القَوَاعِدَ المُتَعَلِّقَةَ بِتَقْرِيرِ التَّوْحِيدِ وَحَسْمِ مادةِ الشِّرْكِ، والغُلُوِّ، كُلَّما تَنَوَّعَ بيانُها، وَوَضَحَتْ عِباراتُها، كان ذلك نورًا على نورٍ، واللهُ المستعانُ"(1).

ويقول الشيخ عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ: "وَكَذَلِكَ القَوَاعِدُ؛ فإنَّ كُلَّ مسألةٍ يَنْبَنِي عليها مَسائلُ، يُسَمِّيها العُلَماءُ قاعِدةً، وَقَدْ صَنَّفَ العُلَماءُ كُتُبًا كِبارًا، وسَمُّوها بالقَواعِد؛ فَمِنْها ما هُوَ في أُصُولِ الفِقْهِ؛ كالقَوَاعِدِ لابنِ عَبْدِ السَّلامِ الشافعيّ، وابنِ اللَّحامِ الحَنْبَلِي، ومِنْها ما هو في الفِقْهِ، كالقَواعِدِ لابنِ رَجَبٍ، وهو كِتابٌ ضَخْمٌ كَبِيرُ الحَجْمِ.

وهذهِ القَواعِدُ التي وَضَعَها شَيْخُنا رحمه الله، أَحَقُ بهذا الاسمِ من غَيْرِها، لما يَنْبَنِي عليْها مِنْ أُصُولِ الدِّينِ، فإنَّ مَعْرَفَةَ تَوْحِيدِ الرُّبُوبِيةِ مِنْ تَوْحِيدِ الإلهيةِ، لا يَسَعُ أحدًا جَهْلُهُ. فَمَنْ أَنْكَر هَذهِ القَواعِدَ التي وَضَعَها شَيْخُ الإسلامِ محمد بن عبد الوهاب قَدَّسَ اللهُ روحَه، فَقَدْ كَفَرَ بما تَضمَّنَتْهُ مِنْ أَدْلَّةِ أُصُول الدِّينِ، التي تَضَمَّنَتْها آياتُ القرآنِ المُحْكَماتِ، وَصَحِيح الأحاديثِ؛ وذلك هو الدينُ القيمُ، كما قال تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (30)} [الروم: 30] … وبهذا البيانِ، يَعْلَمُ المُنْصفُ أنَّهُ لا يُنْكِرُ تِلْكَ القَواعِدَ إلا مَنْ أَقْعَدَهُ جَهْلُه، وَعَمِيَتْ بَصِيرَتُه، وَضَلَّ فَهْمُهُ، وَتَغَيَّرَتْ فِطْرَتُهُ، وَضَاعَ عَقْلُهُ؛ نَعُوذُ باللهِ مِنَ الخُذْلانِ، وَنَسْأَلُهُ مَعْرفَةَ الحَقِّ وَقَبُولَهُ، وَمَحَبَّتَهُ والعَمَلُ بِهِ، والثَّباتَ عَلَيْهِ، والاستقامةَ في الدنيا والآخرةِ؛ ولا حول ولا قوة إلا باللهِ العليِّ العظيمِ، وهو حسبنا ونعم الوكيل"(2).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (1/ 313).

(2) الدرر السنية في الأجوبة النجدية (11/ 365 - 368).
ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "নিশ্চয়ই তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং শিরক ও অতিরঞ্জনের উৎস নির্মূল করার সাথে সংশ্লিষ্ট এই নীতিমালাগুলো যত বেশি বৈচিত্র্যময় পদ্ধতিতে বর্ণনা করা হবে এবং এর শব্দাবলি যত স্পষ্ট হবে, তা নূরের ওপর নূর (আলোর ওপর আলো) হিসেবে গণ্য হবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়"(১).

শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান আল-শাইখ বলেন: "অনুরূপভাবে মূলনীতিসমূহ; প্রতিটি বিষয় যার ওপর অন্যান্য বিষয়সমূহ গড়ে ওঠে, ওলামায়ে কেরাম তাকে 'কায়েদা' (মূলনীতি) বলে অভিহিত করেন। ওলামায়ে কেরাম অনেক বড় বড় কিতাব রচনা করেছেন এবং সেগুলোর নাম দিয়েছেন 'কাওয়ায়িদ' (মূলনীতিমালা)। তার মধ্যে কিছু উসূলে ফিকহের অন্তর্ভুক্ত; যেমন ইবনে আব্দুস সালাম শাফেয়ী এবং ইবনে লাহহাম হাম্বলী-এর 'আল-কাওয়ায়িদ'। আবার কিছু ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত; যেমন ইবনে রজব-এর 'আল-কাওয়ায়িদ', যা একটি বিশাল ও বড় আকারের কিতাব।

আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক প্রণীত এই নিয়মাবলি অন্যদের তুলনায় এই নামের অধিক হকদার; কারণ দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো এর ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা উলুহিয়্যাহর তাওহীদ থেকে রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এমন এক বিষয়, যা না জানার ব্যাপারে কারো কোনো ওজর নেই। সুতরাং শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) কর্তৃক প্রণীত এই নিয়মাবলি যে ব্যক্তি অস্বীকার করল, সে দ্বীনের মৌলিক প্রমাণাদির অন্তর্ভুক্ত ঐ বিষয়গুলোকেই অস্বীকার করল যা এই নিয়মাবলি ধারণ করে আছে। আর এই প্রমাণাদি কুরআনের সুষ্পষ্ট আয়াত এবং সহীহ হাদিসসমূহে বিদ্যমান। আর এটাই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখ। আল্লাহর সেই প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতিতে তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সরল সঠিক দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (৩০)} [আর-রূম: ৩০] … এই বর্ণনার মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি জানতে পারবেন যে, এই নিয়মাবলি কেবল সেই ব্যক্তিই অস্বীকার করে যাকে তার অজ্ঞতা পঙ্গু করে দিয়েছে, যার অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে, যার বোধশক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে, যার প্রকৃতি বিকৃত হয়েছে এবং যার বিবেক লোপ পেয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় চাই, এবং তাঁর কাছে সত্যকে জানা ও তা গ্রহণ করা, তাকে ভালোবাসা ও সে অনুযায়ী আমল করা, তার ওপর অটল থাকা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সুদৃঢ় থাকার তাওফীক প্রার্থনা করি। মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক"(২).

--------------------------------------------

(১) মাজমূউল ফাতাওয়া (১/ ৩১৩)।

(২) আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ফিল আজউইবাতিন নাজদিয়্যাহ (১১/ ৩৬৫ - ৩৬৮)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ويقولُ الشيخُ سُلَيْمانُ بنُ عبدِ الرحمنِ الحمدان في مقدمة شرحه لكتاب التوحيد: "فإنَّ "كِتابَ التَّوْحِيدِ" الذي ألَّفَهُ الإمامُ المجددُ شيخُ الإسلامِ محمدِ بنِ عبدِ الوهابِ رحمه الله ورضي عنه-، كتاب بديعُ الوضعِ، عظيمُ النَّفْعِ، لَمْ أَرَ مَنْ سَبَقَهُ إلى مِثالِه، أوْ نَسَجَ في تألِيفِه على مِنْوالِه، فَكُلُّ بابٍ مِنْهُ قاعِدةٌ مِنَ القَواعِد يَنْبَنِي عليها كثير من الفوائدِ"(1).

 

‌‌أهمية الموضوع:

لَقَدْ ذَكَرَ أَهْلُ العِلْمِ جَمْعًا لا يَكَادُ يُحْصَى كَثْرةً مِن هذهِ القَواعِدِ والضَوَابِطِ من خِلالِ جُهُودِهم في هذا البابِ، فاسْتِخْرَاجُ هَذِهِ القَواعِدِ والضَوَابِطِ مِنْ كُتُبِ أَهْلِ العِلْمِ، وإظْهارُها في مُؤَلَّفٍ لَهُ أَهَمِّيَة بالغةٌ في مُعالَجَةِ هذا البابِ بطَريقَةٍ مُفِيدَة قد لا تكونُ طُرِقَتْ مِنْ قَبْلُ حَسْبَ عِلْمِي.

إِضَافَة إلى جُمْلَةِ أَسْبابٍ أُخْرى شَجَّعَتْني على الكِتابةِ في هذا الموضوعِ منها ما يلي:

1 - تَعَلُّقُ البحثِ بتَوْحيدِ العِبادَةِ الذي هُوَ مِحْوَرُ دَعْوَةِ الرُّسُلِ عليهم السلام، وأنَّه لا نَجَاةَ لهذهِ الأُمّةِ بدونِ تَحْقِيقِهِ والعَمَلِ بِه، فإنَّ تَوْحِيدَ الرُّبوبِيةِ لا يَكْفِي في الدُّخُولِ في الإسلام فضلًا عن النجاةِ من النارِ.

2 - جَمْعُ هذهِ القَواعِدِ فِيهِ حَصرٌ لِبعضِ جُهُودِ أَهْلِ العِلْمِ في هذا البابِ، وإظهار للأصولِ الجامعةِ والمعاني الكُلّيَةِ والأُسُسِ التي تَضبِطُ مَسائِلَ هذا البابِ.

3 - أنَّ جَمْعَ هذهِ القَواعِدِ ودراسَتَها دراسةً عِلْمِيةً فِيهِ تَيْسِيرٌ لِحِفْظِ كَثِيرٍ مِنْ مَسائِلِ هذا البابِ وضبْطِها وتَصَوُّرِها بأسهلِ عبارةٍ وأقربِ طريقٍ.

--------------------------------------------

(1) الدر النضيد على أبواب التوحيد (ص 5).
শায়খ সুলাইমান ইবন আবদুর রহমান আল-হামদান তাঁর কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "ইমাম মুজাদ্দিদ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কর্তৃক রচিত 'কিতাবুত তাওহীদ' এক অপূর্ব বিন্যাস ও অনন্য উপকারী গ্রন্থ। আমি তাঁর আগে কাউকে এমন নমুনা উপস্থাপন করতে দেখিনি, অথবা তাঁর মতো পদ্ধতিতে এটি রচনা করতে দেখিনি। এর প্রতিটি অধ্যায় একেকটি মূলনীতি, যার ওপর ভিত্তি করে বহুবিধ শিক্ষা ও উপকারিতা অর্জিত হয়।"(১).

 

‌‌বিষয়ের গুরুত্ব:

আলেমগণ এই বিষয়ে তাঁদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে অগণিত ও অসংখ্য মূলনীতি ও বিধিবিধান উল্লেখ করেছেন। তাই আলেমদের কিতাবসমূহ থেকে এই মূলনীতি ও বিধিবিধানগুলো আহরণ করা এবং তা একটি গ্রন্থে প্রকাশ করা এই বিষয়টি একটি ফলপ্রসূ উপায়ে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে এভাবে করা হয়নি।

এছাড়াও আরও কিছু কারণ আমাকে এই বিষয়ে লিখতে উৎসাহিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - এই গবেষণাটি তাওহীদুল ইবাদাহর (ইবাদতের একত্ববাদ) সাথে সংশ্লিষ্ট, যা রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আর এটি অর্জন ও এর ওপর আমল করা ব্যতীত এই উম্মতের কোনো নাজাত নেই। কেননা ইসলামে প্রবেশের ক্ষেত্রে কেবল তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ যথেষ্ট নয়, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া তো দূরের কথা।

২ - এই মূলনীতিগুলো সংকলনের মাধ্যমে এই বিষয়ে আলেমদের কিছু প্রচেষ্টাকে সুসংবদ্ধ করা হয়েছে এবং সেই মৌলিক নীতিমালা, সামগ্রিক অর্থ ও ভিত্তিগুলোকে প্রকাশ করা হয়েছে যা এই বিষয়ের মাসআলাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩ - এই মূলনীতিগুলো সংগ্রহ এবং তা তাত্ত্বিকভাবে অধ্যয়ন করার ফলে এই বিষয়ের অনেক মাসআলা মুখস্থ করা, আয়ত্ত করা এবং সহজতম ভাষায় ও সংক্ষিপ্ততম উপায়ে তা অনুধাবন করা সহজতর হয়।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুররুন নাদীদ আলা আবওয়াবিত তাওহীদ (পৃ. ৫)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
4 - أنَّ دِرَاسَةَ هذهِ القَواعِدِ وَمَعْرِفَةَ مآخِذِ العلماءِ في الاستْدِلالِ لها يُعْطِي الباحثَ القَارِئَ مَلَكَةً في فَهْمِ كَلَامِ العُلَمَاءِ في هذا البابِ.

5 - أنَّ جَمْعَ القواعِدِ في توحيدِ العبادةِ واستخلاصَها من كلامِ العُلماءِ يُعْتَبرُ طَرِيقَةً جَديدةً في طَرْحِ قَضايا تَوْحِيدِ العبادةِ، مِمَّا سَيَكُونُ لَهُ بالغُ الأثرِ في خِدْمَةِ هذا الجانبِ العظيمِ، فإنَّ تَنَوُّعَ العِباراتِ والأَسالِيبِ يَزِيدُ في الفَهْمِ والتَّصُورِ كما مر في كلام شيخ الإسلام ابن تيمية السابق.

6 - الانحرافُ العظيمُ الذي وقع بينَ الأُمّةِ؛ حَيْثُ انتشرَ الشِّرْكُ بِجَمِيعِ أَشْكَالِهِ وصُوَرِهِ وخَفِيَ على كَثِيرٍ مِمَّنْ ينتسب إلى العِلْمِ فضلًا عن العامَةِ، وصارَ التوحيدُ غَرِيبًا بَيْنَهُم والشّرْكُ هو الدِّينُ الذي لا يَعْرِفُونَ غَيْرَه، فالتَّرْكِيزُ على هذا الجانبِ وإبرازُهُ بِكِلِّ الوسائِلِ والطرقِ فيه فائدةٌ كبيرةٌ ونفغ عظيمٌ في مُحارَبَةِ الفَسادِ في هذا الباب العظيمِ.

7 - لا تَخْفَى أَهَمَّيةُ القَواعِدِ والضوابِطِ في أبوابِ العِلْمِ إذْ بِهَا تُحْصَرُ أبوابُ العِلْمِ وتُضْبَطُ مسائِلُهُ، ولِخُطُورَةِ هذا البابِ -بابِ توحيدِ العبادةِ- كان مِنَ المُهِمِّ جدًا الاهتمامُ بقَوَاعِدِه وضوَابِطِه، وحَصْرُها وإبرازُها حتى يَعْرِفَ المُسْلِمُ ما يَدْخُلُ وما يَخْرُجُ من هذا البابِ فَيَسْلَمُ في دِينِه وعَقِيدَتِه.

8 - سَبَقَ وأنْ سُجّلَتْ رِسالة عِلْميّة بعنوانِ القَواعِدِ الكُلِّيَةِ في الأسماءِ والصفاتِ للشيخ إبراهيم البُرَيْكان، جَمَعَ فيها عَدَدًا من القواعدِ في بابِ الأسماءِ والصفاتِ، ولم أَجِدْ في قَوَاعِدِ توحيدِ الإلهيةِ دِراسَةً علميةً -حَسْبَ عِلْمِي- فَلَعَلَّ الكِتابَةَ فيه يَكُونُ فيها شيءٌ من الجدة والإفادة.

9 - شَجَّعَنِي على الكِتابَةِ في هذا الموضوعِ جَمْع من المشايخِ المُتَخَصصِينَ في قسم العقيدة.
4 - এই নিয়মাবলি অধ্যয়ন করা এবং এগুলোর সপক্ষে আলেমদের দলিল গ্রহণের পদ্ধতিগুলো জানা গবেষক ও পাঠককে এই বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য বোঝার বিশেষ সক্ষমতা দান করে।

5 - ইবাদতের তাওহীদ সংক্রান্ত নিয়মাবলি সংকলন করা এবং আলেমদের বক্তব্য থেকে তা নিংড়ে বের করা তাওহীদুল ইবাদাহর বিষয়গুলো উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হবে, যার এই মহান বিষয়ের সেবায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। কেননা, শব্দচয়ন ও পদ্ধতির বৈচিত্র্য বিষয়টির বোধগম্যতা ও উপলব্ধিকে বৃদ্ধি করে, যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পূর্বোল্লিখিত বক্তব্যে গত হয়েছে।

6 - উম্মতের মাঝে যে ভয়াবহ বিচ্যুতি ঘটেছে; যেখানে শিরক তার যাবতীয় রূপ ও প্রকারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি ইলমের দিকে যারা নিজেদের সম্পৃক্ত করেন তাদের অনেকের কাছেও তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে। ফলে তাদের মাঝে তাওহীদ অপরিচিত হয়ে পড়েছে এবং শিরকই এমন এক দ্বীনে পরিণত হয়েছে যা ছাড়া তারা অন্য কিছু চেনে না। সুতরাং এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা এবং সকল উপায় ও পদ্ধতিতে একে ফুটিয়ে তোলার মধ্যে এই মহান অধ্যায়ের বিচ্যুতি মোকাবিলায় বড় ধরণের ফায়দা ও মহান উপকারিতা রয়েছে।

7 - ইলমের শাখাগুলোতে নিয়মাবলি ও মূলনীতিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম; কেননা এর মাধ্যমেই ইলমের পরিধি নির্ধারিত হয় এবং এর মাসআলাগুলো সুসংবদ্ধ থাকে। আর যেহেতু এই অধ্যায়টি—অর্থাৎ তাওহীদুল ইবাদাহর অধ্যায়টি—অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এর নিয়মাবলি ও মূলনীতিগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া এবং সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে একজন মুসলিম জানতে পারে কোন বিষয়টি এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত এবং কোনটি বহির্ভূত; ফলে সে তার দ্বীন ও আকিদার ক্ষেত্রে নিরাপদ থাকতে পারে।

8 - ইতিপূর্বে শায়খ ইব্রাহীম আল-বুরাইকানের 'আল-কাওয়ায়েদুল কুল্লিয়্যাহ ফিল আসমা ওয়াস সিফাত' শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র নিবন্ধিত হয়েছে, যেখানে তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত অধ্যায়ে বেশ কিছু নিয়মাবলি সংকলন করেছেন। কিন্তু আমার জানামতে, তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহর নিয়মাবলি নিয়ে কোনো উচ্চতর গবেষণা হয়নি। তাই সম্ভবত এই বিষয়ে রচনাটি নতুনত্ব ও উপযোগিতার স্বাক্ষর বহন করবে।

9 - আকিদাহ বিভাগের বিশেষজ্ঞ একদল শায়খ আমাকে এই বিষয়ে লেখার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الدراسات السابقة:

لَمْ أَقِفُ حتى الساعة على مُؤَلَّفٍ أو رِسَالَةٍ عِلْمِيةٍ تُعالِجُ مَوْضوعَ القَواعِدِ في توحيدِ العبادةِ، من حيثُ الجمعُ والشُّمُول، ولكِنْ هناك بعضُ مَنْ أَلَّفَ مُؤَلَّفاتٍ مُخْتَصَرةً في هذا البابِ ومن ذلك:

1 - القواعِدُ الأربعُ لشيخِ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، حيثُ ذَكَرَ فِيهِ أَرْبَعَ قَواعِدَ تَتَعَلَّقُ بالتوحيدِ والشِّرْكِ وحالِ المشركين، وهي قواعدُ مفيدةٌ في الدعوةِ إلى توحيدِ العبادةِ.

2 - الأصول الثلاثة: كذلك للشيخ المجدد الإمام محمد بن عبد الوهاب.

3 - هناك بعضُ الكُتُبِ في القَواعِدِ ولكنَّها عامة وغيرُ متخصصةٍ في باب توحيدِ العبادةِ؛ كَكِتابِ الشيخِ السَّعْدي (طريقُ الوُصولِ إلى العِلْمِ المأَمول بِمَعْرِفَةِ القَواعِدِ والضَوَابِطِ والأُصُولِ)، وهي عِبارَةٌ عن اختياراتٍ من كُتُبِ شَيْخِ الإسْلامِ ابنِ تيميةَ وتلميذِه ابنِ القيمِ، وفيها بعضُ القواعدِ المتعلقةِ بتوحيدِ العبادةِ.
পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:

আমি এখন পর্যন্ত ইবাদতের তাওহীদ (তাওহীদুল ইবাদাহ)-এর মূলনীতিসমূহ নিয়ে এমন কোনো গ্রন্থ বা বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র খুঁজে পাইনি যা বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছে। তবে এই বিষয়ে কিছু সংক্ষিপ্ত রচনার অস্তিত্ব রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আল-কাওয়ায়িদুল আরবা’ (চারটি মূলনীতি), যেখানে তিনি তাওহীদ, শিরক এবং মুশরিকদের অবস্থা সম্পর্কিত চারটি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন। ইবাদতের তাওহীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই মূলনীতিগুলো অত্যন্ত উপকারী।

২ - আল-উসুলুস সালাসা (তিনটি মূলভিত্তি): এটিও শাইখ মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের রচনা।

৩ - মূলনীতির ওপর আরও কিছু বই রয়েছে, তবে সেগুলো সাধারণ এবং বিশেষভাবে ইবাদতের তাওহীদ বিষয়ক নয়; যেমন শাইখ আস-সা’দীর কিতাব ‘তারিকুল উসুল ইলাল ইলমিল মামুল বি-মারিফাতিল কাওয়াইদি ওয়াদ-দাওয়াবিতি ওয়াল-উসুল’। এটি মূলত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ থেকে সংকলিত কিছু উদ্ধৃতি এবং এতে ইবাদতের তাওহীদ সংক্রান্ত কিছু মূলনীতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌خطة البحث

تَشْتَمِلُ الخُطّةُ على مقدمةٍ وتمهيدٍ وبابينِ وخاتمةٍ:

 

المقدمة:

وفيها الكلامُ على أهميةِ الموضوعِ وأسبابِ اختيارِه وخُطّةِ البحثِ والمنهجِ المُتَّبَعِ في كِتابَةِ هذه القواعدِ:

 

التمهيد:

وفيه شرحُ مُفْرَداتِ العُنْوانِ، وفيه أربعةُ مباحثَ:

المبحثُ الأولُ: القاعدةُ لغةً واصطلاحًا:

وفيهْ ثلاثةُ مطالب:

المطلبُ الأولُ: القاعدةُ لغةً.

المطلب الثاني: القاعدةُ اصطلاحًا.

المطلبُ الثالثُ: بيانُ العِلاقةِ بَيْنَ القَاعِد والضّابِطِ والأَصْلِ.

المبحثُ الثاني: أهميةُ القواعدِ وأثرُها في العلوم.

المبحثُ الثالثُ: التَّقْعِيدُ ومناهِجُ العلماءِ فيه.

المبحثُ الرابعُ: توحيدُ العبادةِ ومنزلتُهُ الشرعيةِ:

وتحتَه أربعةُ مطالب:

المطلب الأول: معناه وحقيقتُه.

المطلب الثاني: أهميتُه ومنزِلَتُه من الدينِ.
গবেষণার রূপরেখা

গবেষণা পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত:

 

ভূমিকা:

এতে বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার পরিকল্পনা এবং এই নীতিমালাগুলো রচনার ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে:

 

উপক্রমণিকা:

এতে শিরোনামের শব্দসমষ্টির ব্যাখ্যা রয়েছে এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কায়েদা (নীতিমালা):

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে কায়েদা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে কায়েদা।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: কায়েদা (নীতিমালা), দাবিত (সুনির্দিষ্ট নিয়ম) এবং আসল (মূলনীতি)-এর মধ্যকার সম্পর্কের বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নীতিমালাসমূহের গুরুত্ব এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগুলোর প্রভাব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নীতিমালা প্রণয়ন এবং এই ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাওহিদুল ইবাদাত এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর মর্যাদা:

এর অধীনে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: এর অর্থ ও প্রকৃত স্বরূপ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: দ্বীনের মধ্যে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
المطلبُ الثالثُ: أدلتُه.

المطلبُ الرابعُ: أسماؤُه وإطلاقاتُه.

 

الباب الأول القواعد المتعلقة بتوحيد العبادة

وفيه ستةُ فصولٍ:

الفصلُ الأول: القواعد العامة في توحيد العبادة:

وفيه ثمانية مباحث:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: دينُ الأَنْبِياءِ واحدٌ وهو الإسلامُ.

المبحث الثاني: قاعدةٌ: الشَّرْعُ مَبْناهُ على تَكْمِيلِ أَدْيانِ الخَلْقِ بِنَبْذِ الوَثَنِيات، وعلى تَكْمِيلِ عُقُولِهِم بِنَبْذِ الخُرافات.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: الدينُ قَدْ كَمُلَ بَيانُه في أُصُولِه وفُرُوعِه باطِنِهِ وظاهِرِهِ عِلْمِهِ وعَمَلِهِ.

المبحثُ الرابع: قاعدةٌ: العبادةُ هي الغايةُ التي خَلَقَ اللهُ لها الخَلْقَ من جِهَةِ أَمْرِهِ ومَحَبَّتِهِ ورِضاهُ.

المبحث الخامس: قاعدةٌ: ليسَ فى الشريعةِ بقعةٌ تُقْصدُ للعبادَةِ لِذَاتِها إلا المساجدَ ومشاعرَ الحجِ.

المبحثُ السادسُ: قاعدةٌ: النِّزَاعُ بينَ الرُّسُلِ وأقْوامِهِم إنَّما كان في إفْرادِ اللهِ بالعبادةِ وتركِ عبادةِ ما سواه.

المبحثُ السابع: قاعدةٌ: البركةُ للهِ وصفًا وملكًا وفعلًا، وكُلُّ بَرَكَةٍ في الكونِ فَمِنْ آثارِ بَرَكَتِهِ سبحانه.

المبحثُ الثامن: قاعدةٌ: التَّوَجُهُ إلى شئٍ أو إلى جهةٍ بِقَصْدِ القُرْبَةِ وحُصولِ الثوابِ عبادةٌ.
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: এর দলীলসমূহ।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: এর নামসমূহ ও প্রয়োগসমূহ।

 

প্রথম অধ্যায়: ইবাদাতের তাওহীদ সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহ

এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবাদাতের তাওহীদ সংক্রান্ত সাধারণ মূলনীতিসমূহ:

এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: নবীদের দীন এক এবং তা হলো ইসলাম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: শরীয়তের ভিত্তি হলো মূর্তিপূজা বর্জনের মাধ্যমে সৃষ্টির ধর্মসমূহকে পূর্ণতা প্রদান এবং কুসংস্কার বর্জনের মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে পূর্ণতা প্রদান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: দীন তার মূল ও শাখা, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক এবং জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: ইবাদাত হলো সেই লক্ষ্য যার জন্য আল্লাহ তাঁর নির্দেশ, ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির নিরিখে সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: শরীয়তে মসজিদসমূহ ও হজ্জের পবিত্র স্থানসমূহ ব্যতীত ইবাদাতের উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: রাসূলগণ ও তাঁদের কওমের মধ্যে বিরোধ কেবল একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদাত বর্জন করার বিষয়েই ছিল।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: গুণ, মালিকানা ও কর্মের দিক থেকে বরকত কেবল আল্লাহরই; আর মহাবিশ্বের প্রতিটি বরকত মহান আল্লাহর বরকতেরই নিদর্শন।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: মূলনীতি: নৈকট্য লাভ ও সওয়াব প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো বস্তু বা দিকের প্রতি মনোনিবেশ করা ইবাদাত।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثاني: القواعد المتعلقة بحقيقة العبادة وضابطها:

وفيه ثلاثةُ مباحث:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: العبادةُ لا تُسَمَّى عِبادَةً في حُكْمِ الشَّرْعِ إلَّا معَ التوحيدِ.

المبحثُ الثاني: قاعدةٌ: مَنَاطُ العِبادَةِ غَايَةُ الحُبِّ مَعْ غَايَةِ الذُلِّ ولا تَنْفَعُ عِبادَةٌ بواحدٍ دونَ الآخرِ.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: صلاحُ الأعمالِ بصلاحِ النِّياتِ وَكُلُّ عَمَلٍ تابعٌ لِنِيَّةِ عامِلِهِ وقَصْدِهِ.

 

الفصلُ الثالث: القواعدُ المتعلقةُ بأنواعِ التوحيدِ الأخرى:

وفيهِ أربعةُ مباحث:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: أنواعُ التوحيدِ وأضْدَادُها متلازِمَة لا ينْفَكّ أحدها عن الآخرِ.

المبحث الثاني: قاعدةٌ: توحيدُ الرُّبوبيةِ لا يَصيرُ الإنسانُ به مُسْلِمًا حتى يأتي بأنواعِ التوحيدِ الأخرى.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: توحيدُ الرُّبُوبِيةِ أَقَرَّتْ به الخلائقُ مُؤْمِنُها وكافِرُها ولم يَنْكِرْه إلا الشُّذاذِ من البشر.

المبحثُ الرابع: قاعدةٌ: الرُّبُوبيةُ والألوهيةُ مَفْهُومان مُتَغايِرانِ فإذا اقْتَرَنا افْتَرَقا وإذا افْتَرَقا اقْتَرَنا.

 

الفصلُ الرابع: القواعدُ المتعلقةُ بأصلِ التوحيدِ:

وفيه خمسةُ مباحث:

المبحث الأول: قاعدةٌ: أصلُ الإيمانِ وقاعدتُه التي عليها مدارُ أعمالِ العبادِ هو تحقيقُ مَعْنى الشَّهادَتَيْنِ قولًا وعملًا وعقيدة.
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবাদতের হাকিকত ও এর মানদণ্ড সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: তাওহিদ ব্যতীত শরয়ি বিধানে কোনো কাজকে ইবাদত বলা যায় না।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: ইবাদতের ভিত্তি হলো চরম বিনয়ের সাথে চরম ভালোবাসা; এবং একটি ছাড়া অপরটি দ্বারা ইবাদত কোনো উপকারে আসে না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: নিয়তের বিশুদ্ধতার মাধ্যমেই আমল বিশুদ্ধ হয় এবং প্রত্যেক আমল তার আমলকারীর নিয়ত ও সংকল্পের অনুসারী।

 

তৃতীয় অধ্যায়: তাওহিদের অন্যান্য প্রকার সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: তাওহিদের প্রকারসমূহ এবং তাদের বিপরীত বিষয়সমূহ একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত, একটি থেকে অন্যটি পৃথক হয় না।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: তাওহিদে রুবুবিয়্যাহর দ্বারা কোনো মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তাওহিদের অন্যান্য প্রকারগুলো নিয়ে আসে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: তাওহিদে রুবুবিয়্যাহর বিষয়টি মুমিন-কাফির নির্বিশেষে সকল সৃষ্টি স্বীকার করেছে এবং মানুষের মধ্য থেকে কিছু অস্বাভাবিক ব্যক্তিবর্গ ছাড়া আর কেউ একে অস্বীকার করেনি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিইয়্যাহ দুটি ভিন্ন অর্থবোধক পরিভাষা; যখন তারা একত্রে উল্লিখিত হয় তখন তারা ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, আর যখন তারা পৃথকভাবে উল্লিখিত হয় তখন তারা পরস্পরকে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

চতুর্থ অধ্যায়: তাওহিদের মূল ভিত্তি সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:

এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: ইমানের মূল ও ভিত্তি—যার ওপর বান্দার আমলসমূহ আবর্তিত হয়—তা হলো কথা, কাজ ও আকিদার মাধ্যমে শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী)-এর মর্মার্থ বাস্তবায়ন করা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحثُ الثاني: قاعدةٌ: شَهادَةُ أنْ لا إلهَ إلَّا الله مُشْتَمِلَةٌ على النَّفْيِ والإِثْباتِ.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: الكفرُ بالطاغوتِ رُكْنُ التَوْحِيدِ.

المبحثُ الرابعُ: قاعدةٌ: محبةُ اللهِ هي أصلُ الدينِ والمَحَبةُ فيهِ أو لَهُ تَبَعٌ لَمَحَبَّتِهِ، والمَحَبَةُ مَعَهُ تُضادُهُ وتُناقِضُهُ.

المبحثُ الخامس: قاعدةٌ: الحَنِيفِيَّةُ مِنْ مُوجِباتِ الفِطْرَةِ وَمُقْتَضَياتِها.

 

الفصل الخامس: القواعد المتعلقة بتحقيق توحيد العبادة وأدلته:

وفيه مبحثان:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: تَحْقِيقُ التَّوْحِيدِ يَتَضمَّنُ تَحْقِيقَ أَصْلِهِ وَكَمالِهِ الواجبِ وكَمَالِهِ المُسْتَحَبِّ وبَحَسْبِها يَتَفاضَلُ المؤمنون.

المبحثُ الثاني: قاعدةٌ: توحيدُ الرُّبُوبية هو أصلُ توحيدِ الإلهيةِ وَدَلِيلُهُ الأكبرُ.

الفصل السادس: القواعد المتعلقة بردّ البدع:

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: العباداتُ توقيفيةٌ.

المبحثُ الثاني: قاعدةٌ: اعتبارُ ما صدَرَ عن النّبِي صلى الله عليه وسلم عبادةً مَوْقُوفٌ على قَصْدِهِ التَعَبُّدُ.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: الوَسائِلُ لَها أَحْكامُ المَقَاصدِ.

 

الباب الثاني القواعد المتعلقة بما يضاد توحيد العبادة

وفيه أربعة فصول:

الفصل الأول: القواعد المتعلقة بتعريف الشرك وحقيقته:

وفيه سبعةُ مباحث:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্যটি অস্বীকৃতি এবং স্বীকৃতির অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: তাগুতকে অস্বীকার করা তাওহীদের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাই হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি; আর আল্লাহর জন্য বা তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসা তাঁর প্রতি ভালোবাসারই অনুগামী; পক্ষান্তরে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ভালোবাসা এর পরিপন্থী ও বিপরীত।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: একনিষ্ঠতা (হানিফিয়্যাত) হলো ফিতরাত বা স্বভাবজাত ধর্মের অনিবার্য দাবি ও প্রয়োজনীয়তার অন্তর্ভুক্ত।

 

পঞ্চম অধ্যায়: ইবাদতের তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং এর দলীলসমূহ সম্পর্কিত মূলনীতিমালা:

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি এর মূল ভিত্তি, এর ওয়াজিব (আবশ্যক) পূর্ণতা এবং মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) পূর্ণতা বাস্তবায়নের অন্তর্ভুক্ত; আর এগুলোর স্তরের ভিত্তিতেই মুমিনদের মাঝে মর্যাদার তারতম্য ঘটে থাকে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ হলো উলুহিয়্যাতের তাওহীদের মূল এবং এর প্রধান দলীল।

ষষ্ঠ অধ্যায়: বিদআত খণ্ডন সংক্রান্ত মূলনীতিমালা:

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: ইবাদতসমূহ হচ্ছে তাওকিফিয়্যাহ (শরীয়তের অকাট্য ভাষ্যের ওপর নির্ভরশীল)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হওয়া তাঁর ইবাদতের সংকল্পের ওপর নির্ভরশীল।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: একটি মূলনীতি: মাধ্যমসমূহ উদ্দেশ্যের বিধান লাভ করে।

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইবাদতের তাওহীদের পরিপন্থী বিষয়সমূহ সম্পর্কিত মূলনীতিমালা

এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: শিরকের সংজ্ঞা এবং এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কিত মূলনীতিমালা:

এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحثُ الأول: قاعدة: التَّشْبِيهُ هو أَصْلُ عِبادَةِ الأوْثانِ عندَ أَكْثَرِ المشركين.

المبحثُ الثاني: قاعدةٌ: الشِّرْكُ هُوَ التَّسْوِيَةُ بَيْنَ اللهِ وغَيْرِهِ في شيءٍ مِنْ خَصَائِصِهِ وَحَقِّهِ.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: الخوفُ الشِّرْكِي: أنْ يخَافَ العَبْدُ مِنْ غيرِ اللهِ أنْ يُصِيبَهُ مَكْروهٌ بِمَشِيئَتِهِ وَقُدْرَتِهِ وإنْ لَمْ يُباشِرْه.

المبحثُ الرابع: قاعدةٌ: السؤالُ والطلبُ من غيرِ اللهِ فيما لا يَقْدِرُ عليه إلّا الله شركٌ.

المبحثُ الخامس: قاعدةً: الاعتقادُ في الأسبابِ بِذَاتِها شِرْكٌ في الرُّبُوبيةِ والأُلوهِيةِ.

المبحثُ السادس: قاعدةٌ: الشفاعةُ مُلكٌ للهِ تعالى وطَلَبُها ورَجَاؤُها من غيرِ اللهِ أو بغيرِ إذنِهِ شِرْكٌ.

المبحثُ السابع: قاعدةٌ: كُلُّ ما وَرَدَ في القرآنِ من الأمرِ بالدعاءِ، والنهيِ عن دعاءِ غيرِ اللهِ، يَتَناوَلُ دُعاءَ المَسْأَلَةِ، وَدُعاءَ العبادةِ.

 

الفصل الثاني: القواعد المتعلقة بقبح الشرك وأنواعه:

وفيه ثلاثةُ مباحث:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: الشِّرْكُ هَضْم لِعَظَمَةِ الرُّبُوبيةِ وَتَنقُّصٌ لِحَقِ الإلهيةِ وسوءُ ظَن بِرَبِّ العالمين.

المبحثُ الثاني: قاعدة: قُبْحُ الشِّرْكِ مُسْتَقِرُ في العقولِ والفطرِ، والسّمعُ نَبَّه العُقَولَ وأَرْشَدَها إلى مَعْرِفَةِ ما أُوْدِعْ فيها مِنْ قُبْحِ ذلك.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: الشِّرْكُ الأصغرُ هُوَ كُلُّ وَسِيلَةٍ وَذَرِيعَةٍ يُتَطَرَّقُ مِنْها إلى الشِّرْكِ الأكبرِ من الإراداتِ والأقوالِ والأفعالِ التي لم تَبْلُغْ رُتْبَةَ العبادةِ.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: অধিকাংশ অংশীবাদীদের নিকট মূর্তিপূজার মূল উৎস হলো সাদৃশ্য প্রদান করা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: আল্লাহর কোনো বৈশিষ্ট্য বা হকের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে অন্য কাউকে সমান করা হলো শিরক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: শিরকি ভয় হলো: বান্দা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে এ কারণে ভয় পাওয়া যে, সে তার ইচ্ছা ও ক্ষমতা বলে তার কোনো অনিষ্ট বা ক্ষতি করবে, যদিও সে সরাসরি তাতে লিপ্ত না হয়।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: যা করার ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই, এমন বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট প্রার্থনা করা বা সাহায্য চাওয়া শিরক।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: মাধ্যম বা উপকরণসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর বলে বিশ্বাস করা রুবুবিয়াহ ও উলুহিয়াহর ক্ষেত্রে শিরক।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: সুপারিশ আল্লাহর মালিকানাধীন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট তা প্রার্থনা করা বা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা আশা করা শিরক।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: কুরআনে দুআ করার যে সব নির্দেশ এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকার ব্যাপারে যে সব নিষেধ এসেছে, তা প্রার্থনা জ্ঞাপক দুআ এবং ইবাদত মূলক দুআ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

 

দ্বিতীয় অধ্যায়: শিরকের কদর্যতা ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কিত মূলনীতিসমূহ:

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: শিরক হলো রুবুবিয়াহর শ্রেষ্ঠত্বের হানি ঘটানো, উলুহিয়াহর হকের অবমাননা করা এবং রাব্বুল আলামীনের প্রতি কুধারণা পোষণ করা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: শিরকের কদর্যতা বুদ্ধি ও সহজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) মধ্যে সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত। আর ওহির বর্ণনা বুদ্ধিকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং এর মধ্যে নিহিত কদর্যতা অনুধাবনে পথপ্রদর্শন করেছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: ছোট শিরক হলো এমন সব মাধ্যম ও পথ যা বড় শিরকের দিকে ধাবিত করে; তা ইচ্ছা, কথা বা কাজের মাধ্যমে হতে পারে যা ইবাদতের স্তরে পৌঁছায়নি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الفصل الثالث: القواعد المتعلقة بوسائل الشرك وأسبابه:

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: من المقاصدِ الشَّرعيةِ سَدُّ الذّرائع المفضيةِ إلى الشِّرْكِ.

المبحثُ الثاني: قاعدةٌ: الحقائِقُ لا تَتَغَيَّرُ بِتَغَيُّرِ المُسَمَّياتِ.

المبحثُ الثالث: قاعدةٌ: تَعْظِيمُ شَعائِرِ اللهِ هُوَ تَعْظِيمٌ للهِ وعبادةٌ لَهُ، فَهُوَ تابعٌ لِتَعْظِيمِ اللهِ وإِجْلالِهِ.

 

الفصل الرابع: القواعد المتعلقة بإبطال الشرك وحقيقة المشركين:

وفيه أربعة مباحث:

المبحثُ الأول: قاعدةٌ: المشركونَ ما قَصَدُوا من مَعْبُوداتِهم إلّا القُرْبَةَ والشفاعةَ ويقولون: نريدُ من اللهِ لا مِنْهم لَكِنْ بِشَفاعَتِهم والتَّقَرُّبِ إلى اللهِ بِهِم.

المبحث الثاني: قاعدةٌ: الأصنامُ الجماديةُ لم تُعْبدْ لِذَاتِها وَإنَّما وُضِعَتْ في الأصلِ لما كان غائبًا من معبوداتِ المشركين.

المبحث الثالث: قاعدةٌ: المشركون الأولون يُشْرِكُونَ في الرَّخَاءِ ويُخْلِصُونَ في الشّدّةِ ومُشْرِكُو زَمانِنا شِرْكُهُم في الرَّخاءِ والشّدَّةِ.

المبحثُ الرابع: قاعدةٌ: دينُ الحُنَفاءِ ليسَ فيهِ واسطة بينَ اللهِ وخَلْقِهِ في الرُّبُوبيةِ والألوهيةِ والرُّسُلُ وسائِطُ في التبليغِ والدَّلَالَةِ.

 

الخاتمة:

وفيها أَهَمُّ نَتائِج البحثِ وفوائِده، وفهرسُ المراجعِ والمصادرِ، وفهرسُ الموضوعاتِ.
তৃতীয় অধ্যায়: শিরকের মাধ্যম ও কারণসমূহ সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: শিরকের দিকে ধাবিতকারী পথসমূহ রুদ্ধ করা শরীয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: নামকরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবতা পরিবর্তিত হয় না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: আল্লাহর নিদর্শনাবলির সম্মান প্রদর্শন করা মূলত আল্লাহরই সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর ইবাদত; সুতরাং এটি আল্লাহকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনেরই অনুগামী।

 

চতুর্থ অধ্যায়: শিরক বাতিল করা এবং মুশরিকদের প্রকৃত পরিচয় সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ:

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: মুশরিকরা তাদের উপাস্যদের মাধ্যমে কেবল নৈকট্য লাভ ও সুপারিশেরই উদ্দেশ্য করত এবং তারা বলত: আমরা আল্লাহর কাছেই চাই, তাদের কাছে নয়, তবে তাদের সুপারিশের মাধ্যমে এবং তাদের উসিলায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: প্রাণহীন মূর্তিগুলোর স্বয়ং সত্তাগত ইবাদত করা হতো না, বরং এগুলো মূলত মুশরিকদের অনুপস্থিত উপাস্যদের স্মরণে স্থাপন করা হয়েছিল।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: পূর্ববর্তী মুশরিকরা সচ্ছলতার সময় শিরক করত এবং বিপদের সময় একনিষ্ঠ হতো, কিন্তু আমাদের বর্তমান যুগের মুশরিকরা সচ্ছলতা ও বিপদ উভয় অবস্থায়ই শিরক করে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মূলনীতি: হানীফদের (একত্ববাদীদের) দ্বীনে রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই; আর রাসূলগণ কেবল আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়া এবং পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী।

 

উপসংহার:

এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও উপকারিতা, তথ্যসূত্র ও উৎসের তালিকা এবং বিষয়সূচি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المنهج المتبع في هذا البحث

أولًا: ما يَتَعَلَّقُ بِدِرَاسَةِ القَواعدِ والضوابِطِ؛ وهي على النحو التالي:

1 - ذِكْرُ صُورَةِ القاعدةِ.

2 - بيانُ معنى القاعدةِ إجمالًا.

3 - شرحُ وبيانُ ألفاظِ القاعدةِ إنْ احْتاجَ الأمرُ إلى بيانٍ.

4 - ذِكْرُ أَدِلَّةِ القاعدةِ.

5 - ذِكْرُ أَقْوالِ العُلَماءِ في اعْتِمادِ القاعدةِ.

6 - بيانُ فائدةِ القاعدةِ وأثرِها الإيجابي.

ثانيًا: الاعتمادُ في القاعدةِ على أقوالِ العلماءِ وتَعْبِيراتِهم، وَقَدْ تَتَنَوَّعُ تَعْبِيراتِهِم في صِياغَةِ القواعدِ، فالمنهجُ المُتَّبَعُ هو -بعدَ البَحْثِ والتَّأَمُّلِ- انتقاءُ الصياغةِ من كلامِ أهلِ العلمِ التي تَمَيّزَتْ بِالشُّمُولِ والدِّقَّةِ في لَفْظِها ومَعْناها.

ولزيادَةِ التَّوْضيحِ أقولُ: بأنَّ ما ذَكَرْتُهُ من القواعدِ لا يَخْرُجُ عن ثَلاثَةِ أُمُورٍ:

أ - ما نَصَّ أَهْلُ العِلْمِ على أنَّه قاعِدةٌ، أوْ أصْلٌ من أُصُولِ الدينِ، فإنّي ألْتَزِمُ بِهِ، وَقَدْ تَتَنَوَّعُ تَعْبِيراتُهُم وأَلْفاظُهُم عِنْدَ ذِكْرِ القاعِدةِ بِعِبارَاتٍ مختلفةٍ، فَيُؤْخَذُ التَّعْبِيرُ الأقصرُ والأشملُ والأدقُ، وقد تَحْتاجُ العبارةُ لِشَيْءٍ من الإضافةِ أو التقديمِ والتأخيرِ.

ب - التَّعْبِيرُ من بَعْضِ أهلِ العِلْمِ بالأمرِ الكُلِّي الذي تَرْجِعُ إليهِ
এই গবেষণায় অনুসৃত পদ্ধতি

প্রথমত: নিয়মাবলি ও নীতিমালা অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি; যা নিম্নরূপ:

১ - নিয়মের স্বরূপ উল্লেখ করা।

২ - সংক্ষেপে নিয়মের অর্থ বর্ণনা করা।

৩ - প্রয়োজনবোধে নিয়মের শব্দাবলির ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা।

৪ - নিয়মের দলিলসমূহ উল্লেখ করা।

৫ - নিয়মটি গ্রহণের ক্ষেত্রে আলেমগণের উক্তি বর্ণনা করা।

৬ - নিয়মের উপকারিতা ও এর ইতিবাচক প্রভাব বর্ণনা করা।

দ্বিতীয়ত: নিয়মের ক্ষেত্রে আলেমগণের উক্তি ও তাঁদের অভিব্যক্তির ওপর নির্ভর করা। নিয়মাবলি প্রণয়নে তাঁদের অভিব্যক্তিতে বৈচিত্র্য থাকতে পারে। এক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি হলো—গবেষণা ও গভীরভাবে চিন্তা করার পর—আলেমগণের বক্তব্য থেকে এমন শব্দশৈলী নির্বাচন করা যা শব্দ ও অর্থের দিক থেকে ব্যাপকতা ও নির্ভুলতায় অনন্য।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য আমি বলছি: আমি যেসব নিয়ম উল্লেখ করেছি তা তিনটি বিষয়ের বাইরে নয়:

ক - আলেমগণ যা নিয়ম হিসেবে অথবা দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; আমি তা অনুসরণ করেছি। নিয়মটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিব্যক্তি ও শব্দাবলিতে ভিন্নতা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততম, ব্যাপক ও সর্বাধিক নির্ভুল অভিব্যক্তিটি গ্রহণ করা হয়েছে। কখনও কখনও বাক্যটিতে কিছু সংযোজন অথবা শব্দ বিন্যাসের পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

খ - কোনো কোনো আলেমের এমন কোনো সামগ্রিক বিষয়ের অভিব্যক্তি, যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়...
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
مُفْرادتُه وجزئياتُه، فَيَبْتَدِئُ الحكمَ بلفظةِ (كُلٍّ)؛ فيقول: كُلُّ كذا وكذا ثُمَّ يَذْكُرُ حُكْمًا من الأحكام، أو يقول: فَكُلُّ شَيْءٍ كان كذا … ثم يعقبه بِذِكْرِ الحُكْمِ، ومن المَعْلُومِ أن التَّعْبِيرَ بالأمرِ الكُلِّي يُفْهَمُ منه أنّ ثَمَّةَ فُروعًا وجزئياتٍ لهذا الحُكْمِ؛ ولا شَكَّ أنَّ هذا داخلٌ في التَّقْعِيدِ؛ إذِ الكُلِّياتُ تَرْجِعُ إليها أفرادُها، كما أنَّ القاعدةَ: أمرٌ كُلِّيٍّ مُنْطَبِقٌ على جُزْئياتِ مَوْضُوعِه(1).

ج - أنْ يَرِدَ في ضِمْنِ كَلام العالم ما يفهم منه التقعيد، أو التأصيل لأمر؛ بحيث يبني شيئًا على شيء، فيستنتج شيئًا بناء على أمر من الأمور؛ كأن يقول: وهذا الأمر مبني على كذا وكذا، أو يكون سببًا وأثرًا لشيء وقد يحتاج إلى تحرير اللفظ لكي تكون صياغته على هيئة القاعدة.

ثالثًا: الالتزام بما ذكره العلماء في تعريف القواعد حيث نصوا على عدة أمور تتضمنها القاعدة؛ منها:-

أ - الإيجاز في العبارة إيجازًا غير مخل.

ب - أن تكون أصلًا يبنى عليه غيره أو تتضمن حكمًا كليًّا يطرد في أفرادها.

ج - أن تتضمن بعض الجزئيات أو المسائل أو التفريعات.

د- أن يكون حدها جامعًا مانعًا.

رابعًا: من العلماء من فرق بين القاعدة والضابط بأن القاعدة أعم من الضابط ومنهم من لم يفرق، وعلى هذا الأخير سيجري العمل في هذه الرسالة بإذن الله تعالى، وقد مشى على ذلك بعض الباحثين(2).

--------------------------------------------

(1) انظر: محاضرة: (قواعد القواعد) لمعالي الشيخ صالح آل الشيخ، (شريط كاسيت).

(2) انظر: العلاقة بين القاعدة والضابط والأصل (ص 32)، و"قواعد التفسير"، للشيخ خالد السبت (1/ 32).
এর এককসমূহ এবং বিশেষ বিষয়াবলি, সুতরাং তিনি 'প্রত্যেক' শব্দটি দিয়ে বিধান আরম্ভ করেন; তিনি বলেন: 'প্রত্যেক এমন এমন বিষয়' এরপর তিনি বিধানসমূহের মধ্য হতে একটি বিধান উল্লেখ করেন, অথবা বলেন: 'যা কিছু এমন ছিল তার প্রতিটি...' এরপর তিনি এর অনুসরণে বিধানটি উল্লেখ করেন। এটি সুবিদিত যে, কোনো সার্বজনীন বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশভঙ্গি থেকে এটি বুঝা যায় যে, এই বিধানের কিছু শাখা ও বিশেষ দিক রয়েছে; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি নীতি নির্ধারণের অন্তর্ভুক্ত; কারণ সার্বজনীন বিষয়সমূহের দিকেই এর অন্তর্গত একক বিষয়গুলো প্রত্যাবর্তন করে, যেমনটি নীতিমালার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: নীতিমালা হলো এমন একটি সার্বজনীন বিষয় যা তার আলোচ্য বিষয়ের সকল বিশেষ বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়(১)।

গ - আলেমের বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু আসা যা থেকে কোনো বিষয়ের নীতি নির্ধারণ বা মূলনীতি সাব্যস্ত হওয়া বুঝা যায়; যাতে তিনি একটি বিষয়ের ওপর অন্যটি নির্মাণ করেন, ফলে কোনো একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে অন্য একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন; যেমন তাঁর কথা: "এই বিষয়টি অমুক অমুক বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত", অথবা কোনো কিছুর কারণ ও প্রভাব হওয়া। কখনো শব্দের পরিমার্জনের প্রয়োজন হতে পারে যাতে এর গঠনশৈলী নীতিমালার রূপ পায়।

তৃতীয়ত: আলেমগণ নীতিমালার সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করেছেন তা মেনে চলা, যেখানে তাঁরা নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন; তার মধ্যে রয়েছে:-

ক - বাক্যে এমন সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখা যা অর্থকে ক্ষুণ্ণ করে না।

খ - এটি এমন একটি মূল ভিত্তি হওয়া যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে অথবা এটি এমন এক সার্বজনীন বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করবে যা এর সকল একক বিষয়ের ওপর ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য হয়।

গ - কিছু বিশেষ বিষয়, মাসয়ালা বা শাখাগত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা।

ঘ - এর সংজ্ঞা হতে হবে পূর্ণাঙ্গ ও অন্যকে বর্জনকারী।

চতুর্থত: আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ 'নীতিমালা' (কায়েদা) এবং 'নিয়ম' (দাবিত)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই মর্মে যে, নীতিমালা নিয়মের চেয়ে অধিক ব্যাপক, আবার কেউ কেউ পার্থক্য করেননি। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই গবেষণাপত্রে শেষোক্ত মতটিই অনুসরণ করা হবে এবং কতিপয় গবেষক এই পথেই চলেছেন(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আলোচনা সভা: (কাওয়াইদুল কাওয়াইদ), মহামান্য শাইখ সালিহ আল-শাইখ, (অডিও ক্যাসেট)।

(২) দেখুন: আল-আলাকাতু বাইনাল কায়েদা ওয়াদ দাবিত ওয়াল আসল (পৃ. ৩২), এবং শাইখ খালিদ আস-সাবত রচিত "কাওয়াইদুত তাফসির" (১/ ৩২)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
خامسًا: عزوت الآيات إلى مواضعها، بذكر اسم السورة ورقم الآية، مع كتابتها بالرسم العثماني، وجعلت العزو في المتن رغبةً في تخفيف الحاشية.

سادسًا: قمت بتخريج الأحاديث وَعزوها إلى كتب الحديث، مكتفيًا بصحيحي البخاريّ ومسلم في حالة وجود الحديث فيهما، أو في أحدهما، وإلَّا خرّجتُه من كتب الحديث الأخرى، وذلك بذكر اسم الكتاب، والجزء والصفحة، ورقم الحديث إن وجد، مع ذكر حكم أهل العلم عليه.

سابعًا: ترجمت للأعلام غير المشهورين الذين ورد ذكرُهم في البحث بتراجم مختصرة.

ثامنًا: شرحت الألفاظ والمفردات الغريبة التي وردت في البحث، من كتب غريب الحديث والمعاجم اللغوية ونحوها.

تاسعًا: ختمت البحث بخلاصةٍ أذكر فيها أهم المسائل والفوائد التي تضمنها البحث.

عاشرًا: التزمت بعلامات الترقيم وضبطت ما يحتاج إلى ضبط.

حادي عشر: ذيلت البحث بفهارس علمية تُقرِّبُ مسائله وفوائده، وتُسهِّلُ الاستفادة منه.

 

‌‌مشاكل البحث وصعوباته:

لقد واجهتني بعض الصعوبات أثناء إعداد هذه الرسالة، أذكر منها ما يلي:

أولًا: سعة المادة العلمية المبثوثة في كتب أهل العلم وكثرتها وتداخلها.

ثانيًا: تفرق مادة البحث في كتب أهل العلم، وقد تكون -في غالب الأحوال- في غير مظانها، مما أدى إلى مزيد من الوقت والجهد.
পঞ্চম: আমি আয়াতগুলোকে সেগুলোর স্ব-স্ব স্থানে উদ্ধৃত করেছি, সুরার নাম এবং আয়াতের নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে, এবং সেগুলো উসমানি লিপিতে লিখেছি। পাদটীকা সংক্ষিপ্ত করার লক্ষে আমি এই উদ্ধৃতিগুলো মূল পাঠ্যের মধ্যেই সন্নিবেশিত করেছি।

ষষ্ঠ: আমি হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করেছি এবং হাদিসের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বা কোনো একটিতে হাদিসটি বিদ্যমান থাকলে কেবল তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; অন্যথায় হাদিসের অন্যান্য কিতাব থেকে তা তাখরিজ করেছি। এক্ষেত্রে কিতাবের নাম, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর এবং হাদিস নম্বর (যদি থাকে) উল্লেখ করার পাশাপাশি সেটির ওপর বিজ্ঞ আলেমদের হুকুম বা মন্তব্য উল্লেখ করেছি।

সপ্তম: গবেষণায় উল্লেখিত স্বল্পপরিচিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি।

অষ্টম: গবেষণায় আসা অপরিচিত শব্দ ও পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা 'গরীবুল হাদিস' ও ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহ এবং এই জাতীয় উৎস থেকে প্রদান করেছি।

নবম: গবেষণার শেষে একটি সারসংক্ষেপ যুক্ত করেছি, যেখানে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি।

দশম: আমি যথাযথ বিরামচিহ্ন ব্যবহারে যত্নবান হয়েছি এবং যেখানে স্বরচিহ্ন দেওয়া প্রয়োজন, সেখানে তা প্রদান করেছি।

একাদশ: গবেষণার শেষে কিছু ইলমি নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করেছি, যা এর মাসআলা ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলোকে সহজে খুঁজে পেতে এবং এর থেকে উপকৃত হতে সহায়তা করবে।

 

‌‌গবেষণার সমস্যা ও অন্তরায়সমূহ:

এই অভিসন্দর্ভটি প্রস্তুত করার সময় আমি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

প্রথমত: আলেমদের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে থাকা ইলমি তথ্যের ব্যাপকতা, প্রাচুর্য এবং সেগুলোর পরস্পর সংশ্লিষ্টতা।

দ্বিতীয়ত: আলেমদের কিতাবসমূহে গবেষণার বিষয়বস্তুগুলো বিক্ষিপ্তভাবে থাকা; অধিকাংশ ক্ষেত্রে তথ্যগুলো এমন স্থানে ছিল যেখানে সাধারণত তা থাকার কথা নয়। এর ফলে অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ثالثًا: ما تميزت به طبيعة البحث من كونه يتعلق بالتقعيد والتأصيل، ولا تخفى صعوبة هذا الباب وخطورته.

رابعًا: طبيعة الخطة الموضوعة للبحث التي اشتملت على الدقة في التقسيم والترتيب، وذلك يتطلب بناء المادة العلمية على تلك الهيئة المرسومة في دراسة كل قاعدة.

 

‌‌شكر وتقدير:

وفي الختام أشكر الله تعالى شكرًا كثيرًا، وأحمده حمدًا مزيدًا لا ينقطع، وهو للحمد أهل أن وفقني على إكمال هذا البحث وإخراجه بهذه الصورة، أسأل الله تعالى أن يجعله خالصًا لوجهه سبحانه، وأن يبارك فيه وينفع به من كتبه وجمعه وقرأه وسمعه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

ثم أتقدم بوافر الشكر والتقدير إلى أستاذي وشيخي الجليل فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور إبراهيم بن عامر الرحيلي الذي شرُفت بإشرافه، وسعدت بمرافقته وصحبته ومتابعته لي في هذه المرحلة.

ولقد أفادني -رفع الله قدره- بتوجيهاته القيمة النافعة، وآرائه النيرة المسددة، وتعليقاته الدقيقة، ولقد بذل لي من وقته الكثير -رُغْمَ كَثْرَةِ مشاغله وأعماله العلمية والدعوية- مما ذلل أمامي عقباتٍ كثيرةً في البحث، ولولا فضل الله تعالى أولًا ثم متابعته المتواصلة لي، وحرصه الدائم، واستشعاره بأهمية البحث ودقته، ما كنت أظن أن يصل هذا البحث إلى نهايته، فقد كنت كثيرًا ما أقف حائرًا وعاجزًا عن معالجة بعض مباحث الرسالة، فما أن ألتقي به -حفظه الله- وأعرض عليه ما استعصى على إلا وكان لي -بعد الله تعالى- خير عون، وأزال ما عندي من اللبس، وأوضح ما خفي علي من المسائل، فأسأل الله تعالى أن يثيبه وافر الثواب، وأن يجزيه أحسن الجزاء، وأن يطيل عمره في طاعته، وأن يبارك له في وقته وأهله وماله.
তৃতীয়ত: গবেষণার প্রকৃতিটি নিয়ম নির্ধারণ (তাকয়িদ) এবং মূলনীতি প্রতিষ্ঠা (তাসিল) সংক্রান্ত হওয়ায় এটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; আর এই অধ্যায়ের কঠিনতা ও গুরুত্ব কারোরই অজানা নয়।

চতুর্থত: গবেষণার জন্য নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনার প্রকৃতি, যা সুক্ষ্ম বিন্যাস ও ক্রমধারাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি প্রতিটি নীতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুকে সেই নির্দিষ্ট কাঠামোতে সাজানোর দাবি রাখে।

 

‌‌কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি:

সবশেষে আমি মহান আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি এবং তাঁর অবিরাম ও উত্তরোত্তর প্রশংসা করছি; তিনি প্রশংসার যোগ্য যে তিনি আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার এবং এই রূপে প্রকাশ করার তাওফিক দান করেছেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, এতে বরকত দান করেন এবং এর মাধ্যমে তাকে উপকৃত করেন যে এটি লিখেছে, সংকলন করেছে, পাঠ করেছে এবং শুনেছে। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

অতঃপর আমি আমার শিক্ষক ও সম্মানিত শাইখ, ফজিলতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর ইবরাহিম বিন আমির আর-রুহাইলি-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য হয়েছি এবং এই পর্যায়ে যাঁর সাহচর্য ও দিকনির্দেশনা পেয়ে আমি আনন্দিত।

তিনি—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—আমাকে তাঁর মূল্যবান ও উপকারী নির্দেশনা, আলোকিত ও সঠিক অভিমত এবং সূক্ষ্ম মন্তব্যের মাধ্যমে উপকৃত করেছেন। তিনি তাঁর প্রচুর ব্যস্ততা এবং ইলমি ও দাওয়াতি কাজের ভিড়ের মাঝেও আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন, যা গবেষণার পথে আমার সামনে আসা অনেক বাধা দূর করে দিয়েছে। প্রথমত মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং অতঃপর তাঁর নিরন্তর তদারকি, সদা সতর্কতা এবং গবেষণার গুরুত্ব ও সূক্ষ্মতা অনুধাবন না থাকলে, আমি ভাবতেও পারতাম না যে এই গবেষণাটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে। কেননা আমি প্রায়ই থিসিসের কিছু বিষয় সমাধানের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত ও অপারগ হয়ে যেতাম; যখনই তাঁর—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—সাথে দেখা করতাম এবং আমার কাছে যা কঠিন মনে হতো তা পেশ করতাম, তখনই তিনি—মহান আল্লাহর পরে—আমার জন্য সর্বোত্তম সাহায্যকারী হতেন। তিনি আমার সংশয় দূর করতেন এবং যেসব বিষয় আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করে দিতেন। সুতরাং আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে অঢেল সওয়াব দান করেন, তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দেন, তাঁর আনুগত্যের মধ্যে তাঁর হায়াত দীর্ঘ করেন এবং তাঁর সময়, পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وأعقب ذلك بالشكر والتقدير والعرفان لكلِّ من أصحاب الفضيلة عضوي المناقشة؛ فضيلة شيخنا وأستاذنا محمد بن عبد الرحمن الخميس الأستاذ الدكتور بقسم أصول الدين بجامعةِ الإمامِ محمدِ بن سعودٍ الإسلامية، وصاحبِ المؤلفات النافعة والتآليف البديعة، بل هو من أبرز المشتغلين بتنقيح تراث الأمة في عصرنا الحاضر، وفضيلةِ شيخِنا وأستاذِنا المبدعِ الكبير محمد بن خليفة بن علي التميمي الأستاذِ الدكتورِ بقسمِ العقيدةِ بالجامعةِ الإسلاميةِ والمشرفِ العامِ على مشروع جامعةِ المدينةِ العالميةِ، بل هو صاحبُ إبداعِها وواضعُ لبناتِها الأولى، في عصرٍ أصبحت فيه تقنيةُ المعلوماتِ هي القوةُ المهيمنةُ على كثيرٍ من جوانب الحياة، الأمر الذي اختصر المسافات، وبارك في الزمان، وقرَّب المكان، بحيث أصبحَ العالمُ كالقريةِ الواحدةِ.

وهو حفظه الله ممن حظيت بإشرافه في مَرْحَلَةِ الماجستير فكان له بالغ الأثر في نفسي، فجزاه الله عني خير الجزاء، وبارك فيه وفي جهوده.

وليس لي من شيء أقدمه لمشايخي وأساتذتي غيرُ الدعاء لهم: فأسأل الله العلي العظيم بأسمائه الحسنى وصفاته العلا أن يجزيهم خير الجزاء وأن يحفظهم في دينهم ودنياهم وأموالهم وذرياتهم.

ولا يفوتني أن أتقدم بالشكر إلى الجامعة الإسلامية على ما تبذله من عطاء متدفق، وجهد كبير، وغرس للعقيدة الصحية في نفوس أبنائها، ولقد حظيتُ بالدراسة فيها كغيري من طلبة العلم، واستفدت منها غاية الاستفادة، فأسأله سبحانه أن يجزي القائمين عليها خير الجزاء، وأن يتقبل منهم هذا السعي في خدمة العلم وأهله، وأن يزيدهم توفيقًا وسدادًا، وأن يعينهم على أداء واجبهم على الوجه الذي يرضاه إنه سميع مجيب.
এর পরপরই আমি উভয় সম্মানিত আলোচক সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি; আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ ও উস্তাদ মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান আল-খুমাইস, যিনি ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন বিভাগের অধ্যাপক এবং অনেক উপকারী ও চমৎকার গ্রন্থের রচয়িতা, বরং তিনি বর্তমান যুগে উম্মাহর ঐতিহ্য পরিমার্জনে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। এবং আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ ও মহান সৃজনশীল উস্তাদ মুহাম্মাদ ইবন খলিফা ইবন আলী আত-তামিমী, যিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকীদা বিভাগের অধ্যাপক এবং মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রকল্পের মহাপরিচালক, বরং তিনি এর উদ্ভাবক এবং প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপনকারী; এমন এক যুগে যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি জীবনের অনেক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারকারী শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যা দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিয়েছে, সময়ে বরকত দিয়েছে এবং স্থানকে নিকটবর্তী করেছে, যার ফলে পৃথিবী আজ একটি একক গ্রামের মতো হয়ে গেছে।

আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন, মাস্টার্স পর্যায়ে আমি তাঁর তত্ত্বাবধান লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছি, যা আমার মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে ও তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দিন।

আমার শাইখ ও উস্তাদদের জন্য দুআ করা ছাড়া আমার পক্ষ থেকে দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই। অতএব, আমি মহান সুউচ্চ আল্লাহর কাছে তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁদের দ্বীন, দুনিয়া, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে হেফাযত করেন।

সেইসাথে আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলছি না, তাদের অবিরাম দান, মহান প্রচেষ্টা এবং তাদের সন্তানদের অন্তরে বিশুদ্ধ আকীদা রোপণের জন্য। অন্য অনেক ইলম অন্বেষীর মতো আমিও সেখানে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছি এবং তা থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি। তাই আমি মহান পবিত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং ইলম ও ইলমওয়ালাদের খিদমতে তাঁদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করেন। আল্লাহ তাঁদের তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশ বৃদ্ধি করুন এবং যে পদ্ধতিতে তিনি সন্তুষ্ট হন, সেভাবেই তাঁদের দায়িত্ব পালনে সাহায্য করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
كما أسأله سبحانه أن يَمُنّ علينا بتحقيق توحيده، وبالفقه في دينه، وأن يعلمنا ما ينفعنا، وأن ينفعنا بما علمنا، وأن يصلح سرائرنا ونياتنا، وأنْ يجعل ما قدمنا حجة لنا لا حجة علينا إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
সেইসাথে আমি মহান পবিত্র সত্তার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তাঁর তাওহীদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন; তিনি যেন আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেন যা আমাদের উপকারে আসবে এবং যা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন; তিনি যেন আমাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ও নিয়তসমূহ সংশোধন করে দেন এবং আমরা যা পেশ করেছি তা যেন আমাদের সপক্ষে দলিল করেন, বিপক্ষে নয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌التمهيد

وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: القاعدة لغة واصطلاحًا.

المبحث الثاني: أهمية القواعد وأثرها في العلوم.

المبحث الثالث: التقعيد ومنهج العلماء فيه.

المبحث الرابع: توحيد العبادة ومنزلته الشرعية.
প্রারম্ভিকা

এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞায় মূলনীতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব এবং জ্ঞানশাখাসমূহে এর প্রভাব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি নির্ধারণ এবং এ ক্ষেত্রে আলেমগণের কর্মপদ্ধতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইবাদতের তাওহীদ এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর মর্যাদা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়ায়িদু ফি তাওহীদিল ইবাদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الأول القاعدة لغة واصطلاحًا

وفيه ثلاثة مطالب:

 

‌‌المطلب الأول: القاعدة لغة.

المطلب الثاني: القاعدة اصطلاحًا.

المطلب الثالث: بيان العلاقة بين القاعدة والضابط والأصل.

 

* المطلب الأول * القاعدة لغة

القاعدة مشتقة من الأصل اللغوي الثلاثي (قعد)، يقال: (قَعَدَ يَقْعُدُ قُعُودًا فهو قَاعِدٌ)، و (القَعْدَة) بالفتح: المرة، وبالكسر: هيئة نحو: قعد قعدة خفيفة، والفاعل قاعد، والجمع (قعود)، والمرأة (قاعدة)، والجمع (قواعد وقاعدات)، ويتعدى بالهمزة فيقال: أقعدته، والمَقْعَد: موضع القعود، و (قعد قعودًا): جلس من قيام، وقعد للأمر: اهتم به وتهيأ له، وقعد بفلان أجلسه، وقعد عن الأمج: تأخر عنه أو تركه، وفي التنزيل العزيز: {وَقَعَدَ الَّذِينَ كَذَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [التوبة: 90]، وقعدت المرأة عن الحيض: أسنت وانقطع حيضها، والمقعدة: السافلة من الشخص، وأُقْعِدَ بالبناء للمفعول أصابه داء في جسده فلا يستطيع الحركة ولا المشي، فهو مُقْعَد، وقواعد البيت: أساسه، الواحدة قاعدة(1).

--------------------------------------------

(1) انظر: المصباح المنير (2/ 510)، والمعجم الوسيط (2/ 748).
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কায়েদাহ (নীতি)

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে কায়েদাহ.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে কায়েদাহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কায়েদাহ (নীতি), দ্ববিত (নিয়ম) ও আসলের (মূল) মধ্যকার সম্পর্কের বর্ণনা।

 

* প্রথম অনুচ্ছেদ * আভিধানিক অর্থে কায়েদাহ

কায়েদাহ শব্দটি মূলত তিন বর্ণবিশিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক মূল (ক্বাফ-আইন-দাল) থেকে উদ্ভূত। বলা হয়: (সে বসেছে, সে বসছে, বসা; অতএব সে উপবেশনকারী)। আর 'ক্বদাহ' (জবর যোগে) বলতে একবার বসাকে বোঝায়। আর 'ক্বিদাহ' (যের যোগে) বলতে বসার ধরন বা প্রকৃতিকে বোঝায়, যেমন: সে হালকাভাবে বসল। এর কর্তৃবাচক বিশেষ্য হলো উপবেশনকারী, যার বহুবচন হলো উপবেশনকারীগণ। আর স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে উপবেশনকারিণী, যার বহুবচন হলো কাওয়াইদ এবং কায়েদাত। এটি হামযা যোগে সকর্মক হয়, তখন বলা হয়: আমি তাকে বসিয়েছি। আর 'মাক্বআদ' হলো বসার স্থান। 'ক্বাদা' (বসা) অর্থ হলো দাঁড়ানো থেকে বসা। কোনো কাজের জন্য বসা অর্থ হলো সেই কাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং তার জন্য প্রস্তুত হওয়া। কাউকে নিয়ে বসা মানে তাকে বসানো। কোনো কাজ থেকে বসে যাওয়া অর্থ হলো তা থেকে পিছিয়ে থাকা বা তা ছেড়ে দেওয়া। পবিত্র কুরআনে এসেছে: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মিথ্যা বলেছিল তারা বসে থাকল (পিছিয়ে থাকল)} [আত-তওবা: ৯০]। নারীর ঋতুস্রাব থেকে বসে যাওয়া অর্থ হলো সে বৃদ্ধা হওয়া এবং তার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। 'মাক্বআদাহ' হলো ব্যক্তির পশ্চাৎদেশ। আর 'উকু'ইদা' (কর্মবাচ্য হিসেবে) অর্থ হলো ব্যক্তির শরীরে এমন রোগ হওয়া যার ফলে সে নড়াচড়া বা হাঁটাচলা করতে পারে না, এমতাবস্থায় তাকে 'মুক্বআদ' (পঙ্গু) বলা হয়। ঘরের 'ক্বাওয়ায়িদ' হলো তার ভিত্তি বা খুঁটিসমূহ, এর একবচন হলো কায়েদাহ(১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনীর (২/ ৫১০), এবং আল-মু'জামুল ওয়াসীত (২/ ৭৪৮)।