(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: -)
العلل لابن المديني   (علي بن المديني)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: العلل

المؤلف: علي بن عبد الله بن جعفر السعدي بالولاء المديني، البصري، أبو الحسن (ت 234 هـ)

المحقق: محمد مصطفى الأعظمي [ت 1439 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الثانية، 1980

عدد الصفحات: 101

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুল মাদিনীর আল-ইলাল   (আলী বিন আল-মাদিনী)

বিভাগ: হাদীসের ত্রুটি ও প্রশ্নসমূহ (আল-ইলাল ওয়াস সুয়ালাতুল হাদীসিয়া)


গ্রন্থ: আল-ইলাল

লেখক: আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর আস-সাদী আল-ওয়ালা আল-মাদিনী, আল-বসরী, আবুল হাসান (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি)

মুহাক্কিক: মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আযমী [মৃত্যু ১৪৩৯ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৮০

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌كتاب الْعِلَل
ইল্লত (ত্রুটি) বিষয়ক গ্রন্থ
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

قَالَ أخبرنَا الشَّيْخَانِ الإِمَام الْحَافِظ أَبُو طَاهِر أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد السلَفِي الْأَصْبَهَانِيّ وَأَبُو مُحَمَّد عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بن يحيى فِي كِتَابَيْهِمَا إِلَيّ قَالَا أَنا أَبُو الْحسن عَليّ بن مشرف بن مُسلم الْأنمَاطِي من أصل سَمَاعه قَالَ الْحَافِظ أَو طَاهِر وَأخْبرنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن الْحُسَيْن بن عمر الْفراء الْموصِلِي بِمصْر قَالَا أَنا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم ابْن سعيد بن عبد الله الْحَافِظ بِمصْر أَنا أَبُو مُحَمَّد عبد الرَّحْمَن بن عمر ابْن مُحَمَّد بن سعيد الْمَعْرُوف بِابْن النّحاس الْمعدل قِرَاءَة عَلَيْهِ بِمصْر فِي الْمحرم سنة سبع وأربعمئة أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد دعْلج بن أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن السجْزِي قدم علينا سنة سبع وَثَلَاثِينَ وثلاثمئة أَنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن الْبَراء فِي ربيع الأول سنة ثَمَان وَثَمَانِينَ وَمِائَتَيْنِ حَدثنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن عبد الله بن جَعْفَر بن نجيع السَّعْدِيّ الْمَدِينِيّ قِرَاءَة عَلَيْهِ قَالَ

1 - نَظَرْتُ فَإِذَا الْإِسْنَادُ يَدُورُ عَلَى سِتَّةٍ

فَلِأَهْلِ الْمَدِينَةِ

1 - ابْنُ شِهَابٍ وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ عبد اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ وَيُكَنَّى أَبَا بَكْرٍ مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ

وَلِأَهْلِ مَكَّةَ

2 - عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ مَوْلَى جُمَحٍ وَيُكَنَّى أَبَا مُحَمَّدٍ مَاتَ سَنَةَ سِتٍّ وَعِشْرِينَ وَمِائَة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ; ইমাম হাফিজ আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সিলাফি আল-আসফাহানি এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া, তাদের উভয়ের পক্ষ থেকে আমার প্রতি লিখিত পত্রে। তারা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুশাররাফ বিন মুসলিম আল-আনমাতি, তার শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপি হতে। হাফিজ আবু তাহির বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিশরে অবস্থানকালে আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন বিন উমর আল-ফাররা আল-মাওসিলি। তারা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিশরের হাফিজ আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন সাইদ বিন আবদুল্লাহ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন সাইদ, যিনি ইবনুন নাহহাস আল-মুআদ্দাল নামে পরিচিত, চারশত সাত হিজরি সনের মহররম মাসে মিশরে তার সামনে পাঠ করার মাধ্যমে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ দিলাজ বিন আহমদ বিন আবদুর রহমান আস-সিজজি, যিনি তিনশত সাইত্রিশ হিজরি সনে আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-বারা, দুইশত আটাশি হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন নাজি' আস-সাদি আল-মাদিনি, তার সামনে পাঠ করার সময় তিনি বলেন:

১ - আমি পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, বর্ণনাসূত্রসমূহ ছয়জন ব্যক্তির ওপর আবর্তিত হয়।

মদিনাবাসীদের মধ্য হতে রয়েছেন:

১ - ইবনু শিহাব, আর তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন আবদুল্লাহ বিন শিহাব, যার উপনাম হলো আবু বকর; তিনি একশত চব্বিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

মক্কাবাসীদের মধ্য হতে রয়েছেন:

২ - আমর বিন দিনার, জুমাহ গোত্রের মুক্তদাস, যার উপনাম হলো আবু মুহাম্মদ; তিনি একশত ছাব্বিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَلِأَهْلِ الْبَصْرَةِ

3 - قَتَادَةُ بْنُ دِعَامَةَ السَّدُوسِيُّ وَكُنْيَتُهُ أَبُو الْخَطَّابِ مَاتَ سنة سبع عشرَة وَمِائَةٍ

4 - وَيَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ وَيُكَنَّى أَبَا نَصْرٍ مَاتَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثِينَ وَمِائَةٍ بِالْيَمَامَةِ

وَلِأَهْلِ الْكُوفَةِ

5 - أَبُو إِسْحَاقَ وَاسْمُهُ عَمْرُو بن عبد الله بن عبيد وَمَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ

6 - وَسُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ مَوْلَى بَنِي كَاهِلٍ مِنْ بَنِي أَسَدٍ وَيُكَنَّى أَبَا مَحْمَدٍ مَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةٍ كَانَ جَمِيلًا

2 - ثُمَّ صَار علم هَؤُلَاءِ السِّت إِلَى أَصْحَابِ الْأَصْنَافِ مِمَّنْ صَنَّفَ

فَلِأَهْلِ الْمَدِينَةِ

1 - مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الْأَصْبَحِيُّ عِدَادُهُ فِي بَنِي تَيْمِ اللَّهِ وَمَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ وَسَمِعَ مِنِ ابْنِ شِهَابٍ

2 - وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ يَسَارٍ مَوْلَى بَنِي مَخْرَمَةَ وَيُكَنَّى أَبَا بَكْرٍ مَاتَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِينَ وَسَمِعَ مِنِ ابْنِ شِهَابٍ وَالْأَعْمَشَ

وَمِنْ أَهْلِ مَكَّةَ

3 - عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيز بن جيرج مَوْلًى لِقُرَيْشٍ وَيُكَنَّى أَبَا الْوَلِيدِ مَاتَ سَنَةَ إِحْدَى وَخَمْسِينَ وَمِائَةٍ
বসরার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন:

৩ - কাতাদাহ ইবনে দি'আমাহ আস-সাদূসী, তাঁর উপনাম আবু আল-খাত্তাব, তিনি একশত সতেরো হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ - ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর, তাঁকে আবু নাসর বলে ডাকা হতো, তিনি একশত বত্রিশ হিজরি সনে ইয়ামামায় মৃত্যুবরণ করেন।

কূফার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন:

৫ - আবু ইসহাক, তাঁর নাম আমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ, তিনি একশত ঊনত্রিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৬ - সুলায়মান ইবনে মিহরান, বনু আসাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বনু কাহিল-এর আযাদকৃত দাস, তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ, তিনি একশত আটচল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি অত্যন্ত সুন্দর ছিলেন।

২ - অত:পর এই ছয় ব্যক্তির ইলম সেই সকল সংকলকদের নিকট পৌঁছায় যারা বিভিন্ন অধ্যায় ও শ্রেণিবিন্যাসে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

মদিনার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - মালিক ইবনে আনাস ইবনে আবি আমির আল-আসবাহী, তিনি বনু তায়মুল্লাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য ছিলেন, তিনি একশত ঊনআশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবনে শিহাব থেকে শ্রবণ করেছেন।

২ - মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার, বনু মাখরামা গোত্রের আযাদকৃত দাস, তাঁর উপনাম আবু বকর, তিনি একশত বায়ান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবনে শিহাব ও আল-আ’মাশ থেকে শ্রবণ করেছেন।

মক্কার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন:

৩ - আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে জুরাইজ, কুরাইশদের আযাদকৃত দাস, তাঁর উপনাম আবু আল-ওয়ালীদ, তিনি একশত একান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
4 - وَسُفْيَانَ بْنُ عُيَيْنَةَ بْنِ مَيْمُونَ مَوْلَى مُحَمَّدِ بْنِ مُزَاحِمٍ أَخُو الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ الْهِلَالِيِّ وَيُكَنَّى أَبَا مَحْمَدٍ مَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ

سُفْيَانُ لَقِيَ ابْنَ شِهَابٍ وَعَمْرَو بْنَ دِينَارٍ وَأَبَا إِسْحَاقَ وَالْأَعْمَشَ

وَمِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةَ

5 - سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ مَوْلَى بَنِي عَدِيِّ بْنِ يَشْكُرَ وَهُوَ سَعِيدُ بْنُ مِهْرَانَ وَيُكَنَّى أَبَا النَّضْرِ مَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ أَوْ تسع وَخمسين وَمِائَة

6 - وَحَمَّاد بْنُ سَلَمَةَ قَالَ أَحْسَبُهُ مَوْلًى لبني سُلَيْمَان وَيُكَنَّى أَبَا سَلَمَةَ مَاتَ سَنَةَ ثَمَان وَسِتِّينَ وَمِائَة

7 - وَأَبُو عَوَانَةَ وَاسْمُهُ الْوَضَّاحُ مَوْلَى يَزِيدَ بْنِ عَطَاءٍ الْوَاسِطِيِّ مَاتَ سَنَةَ خمس وَسبعين وَمِائَة

8 - وَشعْبَة بْنُ الْحَجَّاجِ أَبُو بِسْطَامٍ مَوْلَى الأشافر مَاتَ سنة سِتِّينَ وَمِائَة
৪ - এবং সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা ইবনে মায়মুন, যিনি মুহাম্মদ ইবনে মুজাহিমের আযাদ করা গোলাম এবং আদ-দাহহাক ইবনে মুজাহিম আল-হিলালির ভাই। তার উপনাম ছিল আবু মুহাম্মদ। তিনি একশত আটানব্বই হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

সুফিয়ান ইবনে শিহাব, আমর ইবনে দিনার, আবু ইসহাক এবং আল-আ'মাশের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

এবং বসরার অধিবাসীদের মধ্য থেকে:

৫ - সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ, বনু আদি ইবনে ইয়াশকুরের আযাদ করা গোলাম, তিনি হলেন সাঈদ ইবনে মিহরান। তার উপনাম ছিল আবু নাদর। তিনি একশত আটান্ন অথবা একশত ঊনষাট হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৬ - এবং হাম্মাদ ইবনে সালামাহ; তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি তাকে বনু সুলাইমানের আযাদ করা গোলাম মনে করি। তার উপনাম ছিল আবু সালামাহ। তিনি একশত আটষট্টি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৭ - এবং আবু আওয়ানা, তার নাম আল-ওয়াদদাহ, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আতা আল-ওয়াসিতির আযাদ করা গোলাম। তিনি একশত পঁচাত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৮ - এবং শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ আবু বিস্তাম, তিনি আল-আশাফিরের আযাদ করা গোলাম। তিনি একশত ষাট হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
9 - وَمعمر بْنُ رَاشِدٍ وَيُكَنَّى أَبَا عُرْوَةَ مولى الْحدانِي وَمَاتَ بِالْيَمَنِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ وَمِائَةٍ

سَمِعَ مِنِ ابْنِ شِهَابٍ وَعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ وَقَتَادَةَ وَمِنْ يَحْيى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ وَمِنْ أَبِي إِسْحَاقَ

وَمِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ

10 - سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّوْرِيُّ وَيُكَنَّى أَبَا عَبْدِ اللَّه وَمَاتَ سَنَةَ إِحْدَى وَسِتِّينَ وَمِائَة

وَمِنْ أَهْلِ الشَّامِ

11 - عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيُّ وَيُكَنَّى أَبَا عَمْرٍو مَاتَ سَنَةَ إِحْدَى وَخَمْسِينَ وَمِائَةٍ

وَمِنْ أَهْلِ وَاسِطٍ

12 - هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ مَوْلَى بَنِي سُلَيْمٍ وَيُكَنَّى أَبَا مُعَاوِيَةَ مَاتَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَمَانِينَ وَمِائَةٍ

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَرَوِيُّ ثَنَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرِ الْقَاسِم بن دِينَار
9 - মা’মার ইবন রাশিদ, তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু উরওয়াহ, তিনি আল-হুদ্দানি গোত্রের আযাদকৃত দাস এবং তিনি হিজরি একশ চুয়ান্ন সালে ইয়ামেনে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ইবন শিহাব, আমর ইবন দীনার, কাতাদাহ, ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসীর এবং আবু ইসহাক থেকে শ্রবণ করেছেন।

এবং কুফাবাসীদের মধ্য থেকেঃ

10 - সুফইয়ান ইবন সাঈদ আস-সাওরী, তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু আব্দুল্লাহ এবং তিনি হিজরি একশ একষট্টি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং শামবাসীদের মধ্য থেকেঃ

11 - আব্দুর রহমান ইবন আমর আল-আওযা’ঈ, তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু আমর, তিনি হিজরি একশ একান্ন সালে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং ওয়াসিতবাসীদের মধ্য থেকেঃ

12 - হুশাইম ইবন বাশীর, তিনি বনী সুলাইম গোত্রের আযাদকৃত দাস, তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) আবু মুআবিয়াহ, তিনি হিজরি একশ তিরাশি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবরাহীম আল-হারাভী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুশাইম ইবন বাশীর আল-কাসিম ইবন দীনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪০)
مولى خُزَيْمَة بن خازم أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ الْمُحَدِّثِينَ يُكَنَّى أَبَا مُعَاوِيَةَ

3 - ثُمَّ انْتَهَى عِلْمُ هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةِ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ وَعِلْمُ الِاثْنَيْ عَشَرٍ إِلَى سِتَّةٍ إِلَى

1 - يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ وَيُكَنَّى أَبَا سَعِيدٍ وَهُوَ مَوْلًى لِبَنِي تَيْمٍ وَمَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ فِي صَفَرٍ

2 - وَيَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا بن أبي زَائِدَة ويكنى أَبَا سَعِيدٍ مَوْلًى لِهَمَدَانَ مَاتَ سنة اثْنَتَيْنِ وثَمَانِيَة وَمِائَةٍ

3 - وَوَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ بْنِ مُلَيْحِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ فَرَسٍ وَيُكَنَّى أَبَا سُفْيَانَ مَاتَ سَنَةَ تسع وَتِسْعين وَمِائَة

4 - إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَهُوَ حَنْظَلِيٌّ وَيُكَنَّى أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمَات سنة إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَمِائَة بِهِيتَ

5 - وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْأَسَدِيِّ وَيُكَنَّى أَبَا سَعِيدٍ مَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَةٍ

6 - وَيَحْيَى بْنِ آدَمَ وَيُكَنَّى أَبَا زَكَرِيَّا وَهُوَ مَوْلَى خَالِدِ بْنِ عَبْدِ الله ابْن أُسَيْدٍ بِالظَّنِّ مِنِّي مَاتَ سَنَةَ ثَلَاث ومِائَتَيْنِ

4 - قَالَ وَكَانَ يُقَالُ قُضَاةُ الْأُمَّةِ أَرْبَعَةٌ

عَمْرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ

5 - قَالَ أَيْضًا

قُضَاةُ هَذِهِ الْأُمَّةُ أَرْبَعَةٌ عَمْرُ وَعَلِيٌّ وَزَيْدٌ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ رَحِمهم الله
খুযাইমা ইবনে খাযিমের মাওলা, মুহাদ্দিসগণের আমিরুল মুমিনীন, তাঁর উপনাম আবু মুয়াবিয়া।

৩ - অতঃপর বসরার অধিবাসী এই তিনজন এবং বারোজনের ইলম এসে পৌঁছেছে ছয়জনের নিকট:

১ - ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান; তাঁর উপনাম আবু সাঈদ, তিনি বনু তায়ম গোত্রের মাওলা ছিলেন এবং ১৯৮ হিজরী সনের সফর মাসে ইন্তেকাল করেন।

২ - ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যাইদা; তাঁর উপনাম আবু সাঈদ, তিনি হামদান গোত্রের মাওলা ছিলেন এবং ১৮২ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন।

৩ - ওয়াকি ইবনুল জাররাহ ইবনে মুলিহ ইবনে আদি ইবনে ফারাস; তাঁর উপনাম আবু সুফিয়ান, তিনি ১৯৯ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন।

৪ - আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক; তিনি হানযালী এবং তাঁর উপনাম আবু আব্দুর রহমান, তিনি ১৮১ হিজরী সনে হীত নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।

৫ - আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আল-আসাদী; তাঁর উপনাম আবু সাঈদ, তিনি ১৯৮ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন।

৬ - ইয়াহইয়া ইবনে আদম; তাঁর উপনাম আবু যাকারিয়া, আমার ধারণা মতে তিনি খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উসাইদের মাওলা ছিলেন, তিনি ২০৩ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন।

৪ - তিনি বলেন, বলা হতো যে এই উম্মতের বিচারক হলেন চারজন:

উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং আবু মুসা আল-আশআরী।

৫ - তিনি আরও বলেন:

এই উম্মতের বিচারক হলেন চারজন: উমর, আলী, যায়েদ এবং আবু মুসা আল-আশআরী, আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪১)
6 - قَالُوا كَانَ الْقُضَاءُ فِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سِتَّةٍ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبِي مُوسَى وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ

7 - قَالَ مُطَرِّفٌ عَنِ الشَّعْبِيِّ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ يَسَعُهُمْ عَبْدُ اللَّهِ وَعَلِيٌّ وَأَبُو مُوسَى

8 - وَعَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ كَانَ الْعِلْمُ فِي سِتَّةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِصْفُهُمْ لِأَهْلِ الْكُوفَةِ أَحَدُهُمْ أَبُو مُوسَى يَقُولُ أَحَدُ النِّصْفِ ثُمَّ سَمَّاهُمْ عُمَرُ وَعَلِيٌّ وَعَبْدُ اللَّهِ وَأَبُو مُوسَى وَأُبَيُّ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ

9 - قَالَ كَانَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُدَانِي بَعْضُهُمْ عَلَى بعض يَرْقُونَ بِالْمَسْأَلَةِ فَيُصِيبُهَا الرَّجُلُ مِنْهُمْ ثُمَّ يَرْقُونَ بِالْمَسْأَلَةِ فَيُصِيبُهَا الْآخَرَ

وَكَانَ النَّاسُ يَأْخُذُونَ عَنْ سِتَّةٍ عمروعلي وَعَبْدِ اللَّهِ وَأُبَيٍّ وَأَبِي مُوسَى وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ فَقُلْتُ لِلشَّعْبِيِّ وَكَانَ عِنْدَ أَبِي مُوسَى قَالَ كَانَ فَقِيهًا

10 - وَعَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ أُخِذَ الْعِلْمُ عَنْ سِتَّةٍ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأُبَيِّ وَكَانَ هؤء يَسْتَفْتِي بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ وَعَلِيٍّ وَأَبِي مُوسَى قَالَ فَقُلْتُ لِلشَّعْبِيِّ فَكَانَ عِنْدَ أَبِي مُوسَى قَالَ كَانَ عَالِمًا قَالَ قُلْتُ فَأَيْنَ مُعَاذٌ قَالَ مَاتَ قَبْلَ ذَلِكَ
6 - তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে বিচারকার্য বা ফয়সালা ছয়জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল: উমর, আলী, আবদুল্লাহ, যায়েদ ইবনে সাবিত, আবু মুসা এবং উবাই ইবনে কাব।

7 - মুতাররিফ শাবি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মদিনাবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন: আবদুল্লাহ, আলী এবং আবু মুসার ইলমই তাদের জন্য পর্যাপ্ত।

8 - মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে ইলম ছয়জনের মাঝে নিহিত ছিল, যাদের অর্ধেক ছিল কুফাবাসীদের জন্য। তাদের অর্ধেকের একজন হলেন আবু মুসা। এরপর তিনি তাদের নাম উল্লেখ করেন: উমর, আলী, আবদুল্লাহ, আবু মুসা, উবাই এবং যায়েদ ইবনে সাবিত।

9 - তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ একে অপরের নিকটবর্তী হতেন এবং কোনো মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন তাদের মধ্য থেকে একজন সঠিক সমাধানে পৌঁছাতেন, আবার অন্য মাসআলায় অন্যজন সঠিক সমাধানে পৌঁছাতেন। আর মানুষ ছয়জনের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করত: উমর, আলী, আবদুল্লাহ, উবাই, আবু মুসা এবং যায়েদ ইবনে সাবিত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি শাবিকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু মুসার ইলমি অবস্থান কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি ফকিহ (আইনবিদ) ছিলেন।

10 - শাবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইলম ছয়জনের থেকে গ্রহণ করা হতো—উমর, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং উবাই; তারা একে অপরের নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করতেন। আর (বাকি দুজন হলেন) আলী এবং আবু মুসা। রাবী বলেন, আমি শাবিকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু মুসার ইলমি মান কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি আলেম ছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তবে মুয়াজ (ইবনে জাবাল) কোথায়? তিনি বললেন, তিনি এর আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪২)
11 - قَالَ قَالَ مَسْرُوقٌ شَامَمْتُ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُ عِلْمَهُمُ انْتَهَى إِلَى سِتَّةِ نَفَرٍ مِنْهُمْ عُمَرُ وَعَلِيٌّ وَعَبْدُ اللَّهِ وَأَبُو الدَّرْدَاءِ وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ ثُمَّ شَامَمْتُ هَؤُلَاءِ السِّتَّةِ فَوَجَدْتُ عِلْمَهُمُ انْتَهَى إِلَى رَجُلَيْنِ مِنْهُمْ إِلَى عَلِيٍ وَعَبْدِ اللَّهِ

12 - وَعَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ شَامَمْتُ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانُوا كَالْإِخَاذِ مِنْهُمْ مَا يَرْوِي الرَّجُلَ وَمِنْهُمْ مَا يَرْوِي الرَّجُلَيْنِ وَمِنْهُمْ مَا يروي الثَّلَاث وَمِنْهُمْ مَا يَرْوِي النَّاسَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ مِمَّنْ يَرْوِي النَّاسَ

13 - قَالَ قَالَ مَسْرُوقٌ مَا شَبَّهْتُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا كَالْإِخَاذَةِ يَجْتَمِعُ فِيهَا الْمَاءُ الْإِخَاذَةُ تَكْفِي الرَّاكِبَ وَالْإِخَاذَةُ تَكْفِي الرَّاكِبَيْنِ وَالْإِخَاذَةُ تَكْفِي أَكثر من ذَلِك أَحْسبهُ شُعْبَةَ الشَّاكُّ وَلَيْسَ بِالشَّاكِّ فِي نَفْسِهِ وَالْإِخَاذَةُ تَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَقَدْ سَأَلْتُ عُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيًّا فَلَمَّا لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ كَفَانِي

14 - لَمْ يَكُنْ فِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من لَهُ صُحْبَة يَذْهَبُونَ مَذْهَبَهُ وَيُفْتُونَ بِفَتْوَاهُ وَيَسْلُكُونَ طَرِيقَتَهُ إِلَّا ثَلَاثَةٌ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ

15 - فَأَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ الَّذِينَ يفتون بفتواه ويقرؤون بِقِرَاءَتِهِ عَلْقَمَةُ بْنُ قَيْسٍ وَالْأَسْوَدُ بْنُ يَزِيدَ وَمَسْرُوقٌ وَعُبَيْدَةَ السَّلَمَانِيُّ وَالْحَارِثُ بْنُ قَيْسٍ وَعَمْرُو بْنُ شُرَحْبِيلَ

16 - قَالَ ابْنُ سِيرِينَ كَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ خَمْسَةٌ كَانَ
১১ - মাসরুক বলেন, আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জ্ঞান যাচাই করে দেখেছি এবং পেয়েছি যে, তাঁদের জ্ঞান ছয়জন ব্যক্তির মাঝে এসে সমাপ্ত হয়েছে: ওমর, আলী, আবদুল্লাহ, আবু দাউদা, উবাই ইবনে কাব এবং জায়েদ ইবনে সাবিত। অতঃপর আমি এই ছয়জনের জ্ঞান যাচাই করে দেখেছি এবং পেয়েছি যে, তাঁদের জ্ঞান দুই ব্যক্তির মাঝে এসে সমাপ্ত হয়েছে: আলী এবং আবদুল্লাহ।

১২ - মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জ্ঞান পরখ করেছি। তাঁরা ছিলেন জলাধারের মতো; তাঁদের মধ্যে কেউ একজনকে তৃপ্ত করতে পারতেন, কেউ দুইজনকে, কেউ তিনজনকে এবং কেউ সমস্ত মানুষকে তৃপ্ত করতে পারতেন। আর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা সমস্ত মানুষকে তৃপ্ত করতে পারতেন।

১৩ - মাসরুক বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের তুলনা করি কেবল সেই জলাধারের সাথে যেখানে পানি জমা হয়। কোনো জলাধার একজন আরোহীর জন্য যথেষ্ট হয়, কোনোটি দুইজন আরোহীর জন্য এবং কোনোটি তার চেয়েও বেশির জন্য যথেষ্ট হয়— বর্ণনাকারী শু'বা এখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন (তবে মূল তথ্যে সন্দেহ নেই)— আবার কোনো জলাধার একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হয়। আমি ওমর, উসমান ও আলীকে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু যখন আমি আবদুল্লাহর সাক্ষাৎ পেলাম, তখন তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট হলেন।

১৪ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যাঁদের একদল অনুসারী ছিল যাঁরা তাঁদের মাযহাব গ্রহণ করত, তাঁদের ফতোয়া অনুযায়ী ফতোয়া দিত এবং তাঁদের পথ অনুসরণ করত, কেবল তিনজন ব্যতীত: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, জায়েদ ইবনে সাবিত এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।

১৫ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের সেই সকল সঙ্গী যাঁরা তাঁর ফতোয়া অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর কিরাত অনুযায়ী পাঠ করতেন তাঁরা হলেন: আলকামা ইবনে কায়েস, আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ, মাসরুক, উবাইদাহ আস-সালমানি, হারিস ইবনে কায়েস এবং আমর ইবনে শুরাহবিল।

১৬ - ইবনে সিরিন বলেন, আবদুল্লাহর সঙ্গী ছিলেন পাঁচজন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
مِنْهُمْ مَنْ يَبْدَأُ بِعُبَيْدَةَ وَيُثَنِّي بِالْحَارِثِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَبْدَأُ بِالْحَارِثِ وَيُثَنِّي بِعُبَيْدَةَ وَيُثَلِّثُ بِمَسْرُوقٍ وَعَلْقَمَةَ وَشُرَيْح وَكلهمْ كَانَ فيهم عيب كَانَ الْحَارِث أَعور وَعبيدَة أَعور ومسروق أحدب وَكَانَ عَلْقَمَةُ يَقُولُونَ مُقْعَدًا وَكَانَ شُرَيْحٌ كَوْسَجًا

17 - قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ كَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ الَّذِينَ لَا يَعْدِلَهُمْ خَمْسَةً فَمِنْهُمْ مَنْ كَانَ يَبْدَأُ بِالْحَارِثِ الْهَمَدَانِيِّ وَيُثَنِّي بِعُبَيْدَةَ وَمِنْهُمْ مَنْ كَانَ يَبْدَأُ بِعُبَيْدَةَ وَالْحَارِثِ وَعَلْقَمَةَ وَمَسْرُوقٍ وَشُرَيْحٍ وَكُلُّهُمْ يَجْعَلُ شُرَيْحًا آخِرَهُمْ هَكَذَا رَوَاهُ ابْنُ سِيرِينَ وجعلهم خَمْسَةً وَأَدْخَلَ فِيهِمْ شُرَيْحًا وَالْحَارِثَ الْأَعْوَرَ

18 - وَخَالَفَهُ إِبْرَاهِيمُ النَّخْعِيُّ وَكَانَ إِبْرَاهِيمُ عِنْدِي مِنْ أَعْلَمِ النَّاسِ بِأَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبْطَنِهِمْ بِهِ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ الَّذين يقرؤون وَيُفْتُونَ سِتَّةً عَلْقَمَةُ وَالْأَسْوَدُ وَمَسْرُوقٌ وَعبيدَة وَعَمْرو بن شرجبيل وَالْحَارِثُ الْأَعْوَرُ

مَا أَرَى ابْنَ سِيرِينَ إِلَّا زَادَ الْحَارِثَ بْنَ قَيْسٍ لِأَنَّ الْحَارِثَ الْأَعْوَرَ كَانَ فِي غَيْرِ طَرِيقِ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ كَانَتْ رِوَايَتُهُ وَمَذْهَبُهُ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَمَا أَعْلَمُهُ رَوَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ إِلَّا حَدِيثَيْنِ يَخْتَلِفُ عَنْهُ فِي أَحَدِهِمَا

19 - وَأَصْحَابُ هَؤُلَاءِ السِّتَّةِ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ مِمَّنْ يَقُولُ بِقَوْلِهِمْ وَيُفْتِي بِفَتْوَاهُمْ إِبْرَاهِيمُ النَّخْعِيُّ

20 - وَإِبْرَاهِيمُ لَقِيَ مِنْ هَؤُلَاءِ الْأَسْوَدَ وعلقمة ومسروقا وَعبيدَة
তাদের মধ্যে কেউ উবাইদাহকে দিয়ে শুরু করেন এবং দ্বিতীয় স্থানে আল-হারিসকে রাখেন; আবার তাদের মধ্যে কেউ আল-হারিসকে দিয়ে শুরু করেন এবং দ্বিতীয় স্থানে উবাইদাহকে রাখেন, আর তৃতীয় স্থানে মাসরুক, আলকামা এবং শুরাইহকে রাখেন। তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই কোনো না কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল; আল-হারিস ছিলেন একচোখা, উবাইদাহ ছিলেন একচোখা, মাসরুক ছিলেন কুঁজো, আর আলকামা সম্পর্কে বলা হতো তিনি ছিলেন পঙ্গু, এবং শুরাইহ ছিলেন বিরল দাড়িবিশিষ্ট।

১৭ - মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) এমন পাঁচজন সাথী ছিলেন যাদের সমকক্ষ অন্য কেউ ছিল না। তাদের মধ্যে কেউ আল-হারিস আল-হামদানিকে দিয়ে শুরু করতেন এবং দ্বিতীয় স্থানে উবাইদাহকে রাখতেন; আবার কেউ উবাইদাহ, আল-হারিস, আলকামা, মাসরুক ও শুরাইহকে দিয়ে শুরু করতেন এবং তাদের প্রত্যেকেই শুরাইহকে সবার শেষে রাখতেন। ইবনে সিরিন এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাদের সংখ্যা পাঁচজন নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের মধ্যে শুরাইহ ও আল-হারিস আল-আওয়ারকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

১৮ - ইবরাহিম আন-নাখায়ি তার বিরোধিতা করেছেন। আমার মতে ইবরাহিম ছিলেন আব্দুল্লাহর সাথীদের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহর যে সাথীরা কিরাত পড়তেন এবং ফতোয়া প্রদান করতেন তারা সংখ্যায় ছিলেন ছয়জন: আলকামা, আল-আসওয়াদ, মাসরুক, উবাইদাহ, আমর ইবনে শারজাবিল এবং আল-হারিস আল-আওয়ার।

আমি মনে করি ইবনে সিরিন মূলত আল-হারিস ইবনে কায়সকে অতিরিক্ত যুক্ত করেছেন, কারণ আল-হারিস আল-আওয়ার আব্দুল্লাহর সাথীদের ধারার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না; বরং তার বর্ণনা ও মাযহাব ছিল আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি নিবেদিত। আমি জানামতে তিনি আব্দুল্লাহ থেকে মাত্র দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার একটির বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে।

১৯ - আব্দুল্লাহর সেই ছয়জন সাথীর অনুসারীদের মধ্যে যারা তাদের মতানুসারে কথা বলতেন এবং তাদের ফতোয়া অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবরাহিম আন-নাখায়ি।

২০ - আর ইবরাহিম এদের মধ্যে আল-আসওয়াদ, আলকামা, মাসরুক এবং উবাইদাহর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَلَمْ يَسْمَعْ مِنَ الْحَارِثِ بْنِ قَيْسٍ وَلَا عُمَرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ وَرَوَى عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْهُ

21 - وَعَامِرٌ سَمِعَ مِنْهُمْ كُلِّهِمْ إِلَّا الْحَارِثَ بْنَ قَيْسٍ وَقُتِلَ الْحَارِثُ مَعَ عَلَيٍّ رضي الله عنه

22 - وَكَانَ أَعْلَمَ النَّاسِ بِهَؤُلَاءِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ مِمَّنْ يُفْتِي بِفَتْوَاهُمْ وَيَذْهَبُ مَذْهَبَهُمُ الْأَعْمَشُ وَأَبُو إِسْحَاقَ وَالْأَعْمَشُ أَعْلَمُ النَّاسِ مِمَّنْ مَضَى مِنْ هَؤُلَاءِ غَيْرَ رَجُلٍ وَلَمْ يَلْقَ الْأَعْمَشُ مِنْ هَؤُلَاءِ أحدا لَقِيَ أَبُو إِسْحَاقَ مِنْهُمُ الْأَسْوَدَ بن يزِيد ومسروقا وَعُبَيْدَةَ السَّلَمَانِيَّ وَعَمْرَو بْنَ شُرَحْبِيلَ وَلَمْ يَلْقَ عَلْقَمَةَ وَلَا الْحَارِثَ بْنَ قَيْسٍ

23 - وَمِنْ بَعْدِ هَؤُلَاءِ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ كَانَ يَذْهَبُ مَذْهَبَهُمْ وَيُفْتِي بِفَتْوَاهُمْ

24 - وَمِنْ بَعْدِ سُفْيَانَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ كَانَ يَذْهَبُ مَذْهَبَ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ

25 - وَأَصْحَابُ ابْنِ عَبَّاسٍ الَّذِينَ يَذْهَبُونَ مَذْهَبَهُ وَيَسْلُكُونَ طَرِيقَهُ عَطَاءٌ وَطَاوُسٌ وَمُجَاهِدٌ وَجَابِرُ بْنُ زَيْدٍ وَعِكْرِمَةَ وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ فَأَعْلَمُ هَؤُلَاءِ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَأَثْبَتُهُمْ فِيهِ

26 - وَكَانَ أَعْلَمُ النَّاسِ بهؤلاء عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَكَانَ يُحِبُّ ابْنَ عَبَّاسٍ وَيُحِبُّ أَصْحَابَهُ ثُمَّ كَانَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَة يُحِبَّانِ أَصْحَاب ابْن عَبَّاس وَيُحِبَّانِ طَرِيقَهُ فَسَمِعَ ابْنُ جُرَيْجٍ مِنْ طَاوُسٍ وَمُجَاهِدٍ وَلَمْ يَلْقَ مِنْهُم جَار بْنَ زَيْدٍ وَلَا عِكْرِمَةَ وَلَا سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ

27 - وَأَصْحَابُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ الَّذِينَ كَانُوا يَأْخُذُونَ عَنْهُ وَيُفْتُونَ بِفَتْوَاهُ مِنْهُمْ مَنْ لَقِيَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يَلْقَهُ اثْنَا عَشَرَ رَجُلًا سَعِيدُ بْنُ
এবং তিনি হারিস বিন কাইস ও আমর বিন শুরাহবীল থেকে শোনেননি, তবে তিনি হাম্মাম বিন হারিসের মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

২১ - এবং আমির হারিস বিন কাইস ব্যতীত তাদের সবার থেকে শুনেছেন। হারিস আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাথে শহীদ হয়েছিলেন।

২২ - এবং কুফাবাসীদের মধ্যে যারা এই ব্যক্তিদের ফতোয়া অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন এবং তাদের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন, তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন আমাশ ও আবু ইসহাক। আর আমাশ পূর্ববর্তীদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ব্যতীত এই ব্যক্তিদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু আমাশ তাদের মধ্য থেকে কারো সাক্ষাৎ পাননি। আবু ইসহাক তাদের মধ্য থেকে আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ, মাসরুক, উবায়দাহ আস-সালামানি এবং আমর বিন শুরাহবীলের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তবে তিনি আলক্বামাহ ও হারিস বিন কাইসের সাক্ষাৎ পাননি।

২৩ - এবং তাদের পরে ছিলেন সুফিয়ান আস-সাওরী; তিনি তাদের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন এবং তাদের ফতোয়া অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন।

২৪ - সুফিয়ানের পরে ছিলেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান; তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী ও আব্দুল্লাহর সঙ্গীদের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন।

২৫ - ইবনে আব্বাসের ওই সকল সঙ্গী যারা তাঁর মতাদর্শ অনুসরণ করতেন এবং তাঁর পথ অবলম্বন করতেন, তারা হলেন: আতা, তাউস, মুজাহিদ, জাবির বিন যায়েদ, ইকরিমাহ এবং সাঈদ বিন জুবাইর। এদের মধ্যে সাঈদ বিন জুবাইর ছিলেন সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং এ বিষয়ে সবচেয়ে সুদৃঢ়।

২৬ - এবং এই ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমর বিন দীনার ছিলেন সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। তিনি ইবনে আব্বাসকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর সঙ্গীদেরও ভালোবাসতেন। এরপর ইবনে জুরাইজ ও সুফিয়ান বিন উয়াইনা ইবনে আব্বাসের সঙ্গীদের ভালোবাসতেন এবং তাঁর পথ পছন্দ করতেন। ইবনে জুরাইজ তাউস ও মুজাহিদ থেকে শুনেছেন, তবে তিনি তাদের মধ্য থেকে জাবির বিন যায়েদ, ইকরিমাহ এবং সাঈদ বিন জুবাইরের সাক্ষাৎ পাননি।

২৭ - আর যায়েদ বিন সাবিতের ওই সকল সঙ্গী যারা তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করতেন এবং তাঁর ফতোয়া অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন—তাদের মধ্যে কেউ তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছেন আবার কেউ পাননি—এমন ব্যক্তি ছিলেন বারোজন। সাঈদ বিন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْمُسَيِّبِ وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَقَبِيصَةُ بْنُ ذُؤَيْبٍ وَخَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ وَأَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَالْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَسَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو سَلَمَةَ ابْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَطَلْحَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ وَنَافِعُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ

فَأَمَّا مَنْ لقِيه مِنْهُم وَثَبت عندنَا لقاؤه سعيد بن الْمسيب وَعُرْوَة ابْن الزُّبَيْرِ وَقَبِيصَةُ بْنُ ذُؤَيْبٍ وَخَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ وَأَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ

وَلَمْ يَثْبُتْ عِنْدَنَا مِنَ الْبَاقِينَ سَمَاعٌ مِنْ زَيْدٍ فِيمَا أُلْقِيَ إِلَيْنَا إِلَّا أَنَّهُمْ كَانُوا يَذْهَبُونَ مَذْهَبَهُ فِي الْفِقْهِ وَالْعِلْمِ

28 - وَلَمْ يَكُنْ بِالْمَدِينَةِ بَعْدَ هَؤُلَاءِ أَعْلَمَ بِهِمْ مِنِ ابْنِ شِهَابٍ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَأبي الزِّنَادِ وَبُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَشَّجِ ثُمَّ لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَعْلَمَ بِهَؤُلَاءِ بِمَذْهَبِهِمْ مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ثُمَّ مِنْ بَعْدِ مَالِكٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ كَانَ يَذْهَبُ مَذْهَبَهُمْ وَيَقْتَدِي بِطَرِيقَتِهِمْ أوردهُ ابْن أبي حَاتِم الرَّازِيّ

29 - قَالَ عَلِيٌّ لَمْ يَكُنْ مِنْ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدٌ لَهُ أَصْحَابٌ يُفْتُونَ بِقَوْلِهِ فِي الْفِقْهِ إِلَّا ثَلَاثَةٌ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَابْنُ عَبَّاسٍ كَانَ لِكُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ أَصْحَابٌ يَقُومُونَ بقوله ويفتون النَّاس أوردهُ الذَّهَبِيّ

30 - وَكَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ الَّذِينَ يقرئون بقرَاءَته ويفتونهم
(সাঈদ ইবনুল) মুসায়্যিব, উরওয়াহ ইবনুত জুবায়র, ক্বাবিসাহ ইবনু জুআইব, খারিজাহ ইবনু যায়দ, সুলায়মান ইবনু ইয়াসার, আবান ইবনু উসমান, উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ, ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ, সালিম ইবনু আবদুল্লাহ, আবু বকর ইবনু আবদুর রহমান, আবু সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান, তালহাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আওফ এবং নাফি ইবনু জুবায়র ইবনু মুতয়িম।

তাদের মধ্যে যারা তাঁর (যায়েদ ইবনু সাবিত) সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং আমাদের নিকট যাদের সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়েছে তারা হলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়াহ ইবনুত জুবায়র, ক্বাবিসাহ ইবনু জুআইব, খারিজাহ ইবনু যায়দ, আবান ইবনু উসমান এবং সুলায়মান ইবনু ইয়াসার।

আমাদের কাছে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী অবশিষ্টদের থেকে যায়দ (ইবনু সাবিত) হতে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি প্রমাণিত নয়; তবে তারা ফিকহ ও ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব অনুসরণ করতেন।

২৮ - এদের পরে মদিনায় ইবনু শিহাব, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ, আবুয যিনাদ এবং বুকাইর ইবনু আবদুল্লাহ আল-আশাজ্জ এর চেয়ে বেশি পারদর্শী আর কেউ ছিলেন না। অতপর এদের মাযহাব সম্পর্কে ইমাম মালিক ইবনু আনাসের চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ ছিলেন না। এরপর মালিকের পরে আবদুর রহমান ইবনু মাহদি তাদের মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং তাদের আদর্শ অনুকরণ করতেন। ইবনু আবি হাতিম আর-রাজি এটি উল্লেখ করেছেন।

২৯ - আলী (ইবনুল মাদিনি) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে মাত্র তিন ব্যক্তি ব্যতীত এমন কেউ ছিলেন না যাদের একদল অনুসারী ছিল যারা ফিকহের ক্ষেত্রে তাদের মতানুসারে ফতোয়া দিতেন; তাঁরা হলেন: আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, যায়দ ইবনু সাবিত এবং ইবনু আব্বাস। তাঁদের প্রত্যেকেরই এমন একদল অনুসারী ছিল যারা তাঁদের কথা অনুযায়ী অটল থাকতেন এবং মানুষকে ফতোয়া দিতেন। ইমাম যাহাবি এটি উল্লেখ করেছেন।

৩০ - আর আবদুল্লাহর অনুসারীগণ তারাই ছিলেন যারা তাঁর কিরাআত অনুযায়ী পাঠ করতেন এবং তাঁদের ফতোয়া প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
بِقَوْلِهِ وَيَذْهَبُونَ مَذْهَبَهُ عَلْقَمَةُ بْنُ قَيْسٍ وَالْأَسْوَدُ بْنُ يَزِيدَ وَمَسْرُوقٌ ابْن الْأَجْدَعِ وَعُبَيْدَةُ السَّلَمَانِيُّ وَعَمْرُو بْنُ شُرَحْبِيلَ وَالْحَارِثُ بْنُ قَيْسٍ سِتَّةُ هَؤُلَاءِ عَدَّهُمْ إِبْرَاهِيمُ النَّخْعِيُّ

31 - قَالَ وَكَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ الَّذِينَ يقرئون النَّاس بقرائته وَيُفْتُونَهُمْ سِتَّةً عَلْقَمَةُ وَالْأَسْوَدُ وَمَسْرُوقٌ يَعُدُّ هَؤُلَاءِ السِّتَّةَ وَكَانَ أَعْلَمُ أَهْلِ الْكُوفَةِ بِأَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ وَطَرِيقَتِهِمْ وَمَذْهَبِهِمْ إِبْرَاهِيمَ وَالشَّعْبِيَّ إِلَّا أَنَّ الشَّعْبِيَّ كَانَ يَذْهَبُ مَذْهَبَ مَسْرُوقٍ يَأْخُذُ عَنْ عَلِيٍّ وَأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَغَيْرِهِمْ وَكَانَ إِبْرَاهِيمُ يَذْهَبُ مَذْهَبَ أَصْحَابِهِ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ هَؤُلَاءِ

32 - كَانَ أَبُو إِسْحَاقَ وَسُلَيْمَانَ الْأَعْمَشَ أَعْلَمَ أَهْلِ الْكُوفَةِ بِمَذْهَبِ عَبْدِ اللَّهِ وَطَرِيقه وَالْحكم بعد هذَيْن وَكَانَ سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ أَعْلَمَ النَّاسِ بِهَذَيْنِ وَبِحَدِيثِهِمْ وَبِطَرِيقِهِمْ وَكَانَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ يُحِبُّ سَفْيَانَ وَيُحِبُّ هَذَا الطَّرِيقَ وَلَا يُقَدِّمُ عَلَيْهِ أحد

33 - وَكَانَ أَصْحَابُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ الَّذِينَ يَذْهَبُونَ مَذْهَبَهُ فِي الْفِقْهِ وَيَقُولُونَ بِقَوْلِهِ هَؤُلَاءِ الِاثْنَيْ عَشَرَ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ لَقِيَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يَلْقَهُ كَانَ مِمَّنْ لَقِيَهُ مِنْ هَؤُلَاءِ الِاثْنَيْ عَشَرَ قَبِيصَةُ بْنُ ذُؤَيْبٍ وَخَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ وَكَانَ مِمَّنْ يَقُول بِقَوْلِهِ مِمَّنْ لَا يَثْبُتُ لِقَاؤُهُ مِثْلُ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ وَقَبِيصَةُ بْنُ ذُؤَيْب وَكَانَ أعلم أهل المدية ب هَؤُلَاءِ الِاثْنَيْ عَشَرَ وَمَذْهَبِهِمْ وَطَرِيقِهِمُ ابْنُ شهَاب وَيحيى ابْن سعيد وَأَبُو الزِّنَادِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ حَزْمٍ

34 - ثُمَّ كَانَ بَعْدَ هَؤُلَاءِ يَذْهَبُ هَذَا الْمَذْهَبِ وَيَقُومُ بِهَذَا الْأَمر
তাঁর কথা অনুযায়ী এবং তাঁর মাযহাব অনুসরণ করতেন আলক্বামাহ ইবনে ক্বায়স, আল-আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ, মাসরূক ইবনুল আজদা', উবায়দাহ আস-সালামানী, আমর ইবনে শুরাহবীল এবং আল-হারিস ইবনে ক্বায়স; ইবরাহীম আন-নাখয়ী এই ছয়জনকে গণনা করেছেন।

31 - তিনি বলেন, আবদুল্লাহর সেই সাথীরা যারা মানুষের নিকট তাঁর কিরাআত অনুযায়ী কুরআন পাঠ করতেন এবং তাঁদের ফতোয়া দিতেন, তাঁরা ছিলেন ছয়জন: আলক্বামাহ, আল-আসওয়াদ এবং মাসরূক... তিনি এই ছয়জনকে গণনা করতেন। আর কূফাবাসীদের মধ্যে আবদুল্লাহর সাথীগণ এবং তাঁদের কর্মপন্থা ও মাযহাব সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন ইবরাহীম ও আশ-শা'বী। তবে আশ-শা'বী মাসরূকের মাযহাব অনুসরণ করতেন, তিনি আলী এবং মদীনার অধিবাসী ও অন্যদের নিকট থেকে গ্রহণ করতেন। আর ইবরাহীম তাঁর সাথীদের অর্থাৎ আবদুল্লাহর এই সাথীদের মাযহাব অনুসরণ করতেন।

32 - আবু ইসহাক এবং সুলাইমান আল-আ'মাশ আবদুল্লাহর মাযহাব ও তাঁর কর্মপন্থা এবং তাঁদের পরবর্তী বিধান সম্পর্কে কূফাবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। সুফিয়ান ইবনে সাঈদ এই দুই ব্যক্তি, তাঁদের বর্ণিত হাদীস এবং তাঁদের কর্মপন্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান সুফিয়ানকে ভালোবাসতেন এবং এই পথকে পছন্দ করতেন, আর এর ওপর তিনি কাউকে প্রাধান্য দিতেন না।

33 - যায়েদ ইবনে সাবিতের সেই সব সাথী যারা ফিকহশাস্ত্রে তাঁর মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং তাঁর কথা অনুযায়ী রায় দিতেন, তাঁরা ছিলেন এই বারোজন। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং এমনও ছিলেন যিনি তাঁর সাক্ষাৎ পাননি। এই বারোজনের মধ্যে যারা তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন তাঁরা হলেন— ক্বাবিসাহ ইবনে যুআইব, খারিজাহ ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত, আবান ইবনে উসমান এবং সুলাইমান ইবনে ইয়াসার। আর যাঁদের সাক্ষাৎ লাভ প্রমাণিত নয় অথচ তাঁদের মতো তাঁর কথা অনুযায়ী মত দিতেন, তাঁরা হলেন— সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর, আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান এবং ক্বাবিসাহ ইবনে যুআইব। আর মদীনার অধিবাসীদের মধ্যে এই বারোজন এবং তাঁদের মাযহাব ও কর্মপন্থা সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন ইবনে শিহাব, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবুয যিনাদ এবং আবু বকর ইবনে হাযম।

34 - অতঃপর তাঁদের পরে যারা এই মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং এই বিষয়ের দায়িত্ব পালন করতেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَكُثَيِّرُ بْنُ فَرْقَدٍ وَالْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ يُحِبُّ ذَا الطَّرِيقَ وَيَذْهَبُ ذَا الْمَذْهَب وَلَا يقدم عَلَيْهِ أحد

35 - وَكَانَ أَصْحَابُ ابْنِ عَبَّاسٍ سِتَّةً قَالَ وَسَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ أُرَاهُ قَالَ أَصْحَابُ ابْنِ عَبَّاسٍ سِتَّةٌ بَعْدَ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَقُولُونَ بِقَوْلِهِ وَيُفْتُونَ بِهِ وَيَذْهَبُونَ مَذْهَبَهُ هَؤُلَاءِ السِّتَّةُ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَجَابِرُ بْنُ زَيْدٍ وَطَاوُسٌ وَمُجَاهِدٌ وَعَطَاءٌ وَعِكْرِمَةُ وَكَانَ أَعْلَمُ النَّاسِ بِهَؤُلَاءِ وَبِطَرِيقِهِمْ وَبِهَذَا الْمَذْهَبِ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَكَانَ قَدْ لَقِيَهُمْ جَمِيعًا

36 - وَكَانَ ابْنُ أَبِي نجيح يذهب هذاالمذهب ويفتي بذا الْفُتْيَا إِلَّا أَنَّهُ لَقِيَ بَعْضَ هَؤُلَاءِ وَلَمْ يَلْقَ بَعْضَهُمْ وَكَانَ أَعْلَمَ النَّاسِ بِهَؤُلَاءِ وَبِطَرِيقِهِمْ وَمَذْهَبِهِمْ ابْنُ جُرَيْجٍ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ

‌‌مَنْ رَوَى عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابت

37 - قَالَ وَسَمِعْتُ يَحْيَى يَقُولُ مَنْ رَوَى عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالب وَسعد بن أبي الْوَقَّاصِ وَابْنُ عُمَرَ وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ

38 - وَمَنْ رَوَى عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ مِمَّنْ لَقِيَهُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِنَ التَّابِعِينَ

أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حَنِيفٍ وَمَحْمُودُ بن لبيد وَقبيصَة بن
মালিক ইবনে আনাস, কাসীর ইবনে ফারকাদ, মুগীরা ইবনে আবদুর রহমান আল-মাখজুমী, আবদুল আজীজ ইবনে আবি সালামাহ আল-মাজিশুন এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এই পথটিকে পছন্দ করতেন, এই মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং এর ওপর অন্য কাউকে প্রধান্য দিতেন না।

৩৫ - ইবনে আব্বাসের বিশিষ্ট সঙ্গী ছিলেন ছয়জন। তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন—ইবনে আব্বাসের সঙ্গী ছয়জন, ঐসব ব্যক্তিবর্গের পরে যারা তাঁর কথা অনুযায়ী কথা বলেন, তাঁর কথার ভিত্তিতে ফতোয়া দেন এবং তাঁর মাযহাব অনুসরণ করেন। এই ছয়জন হলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের, জাবির ইবনে যায়েদ, তাউস, মুজাহিদ, আতা এবং ইকরিমাহ। আমর ইবনে দীনার ছিলেন এই ব্যক্তিবর্গ, তাঁদের কর্মপন্থা এবং এই মাযহাব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, এবং তিনি তাঁদের সকলের সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন।

৩৬ - ইবনে আবি নাজহ এই মাযহাব অনুসরণ করতেন এবং এই অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন; তবে তিনি তাঁদের কয়েকজনের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং কয়েকজনের সাথে করেননি। ইবনে জুরাইজ এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ ছিলেন এই ব্যক্তিবর্গ, তাঁদের কর্মপন্থা এবং তাঁদের মাযহাব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।

‌‌যারা যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন

৩৭ - তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে যারা যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন তারা হলেন:

আলী ইবনে আবি তালিব, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, ইবনে উমর, আবু সাঈদ আল-খুদরী, ইবনে আব্বাস এবং আনাস ইবনে মালিক।

৩৮ - এবং মদীনার অধিবাসী তাবেয়ীদের মধ্যে যারা যায়েদ ইবনে সাবিতের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তারা হলেন:

আবু উমামাহ ইবনে সাহল ইবনে হানিফ, মাহমুদ ইবনে লাবীদ এবং কাবিদাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
ذُؤَيْبٍ وَخَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَنُفَيْعٌ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ يَرْبُوعٍ وَحَفْصُ بْنُ عَاصِمٍ وَأَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ وَعُتْبَةُ بْنُ وَأَبُو صَالِحٍ مَوْلَى السَّفَّاحِ وَعَطَاءُ بْنُ يسَار وَسليمَان ابْن يسَار وَكثير مَوْلَى الصَّلْتِ وَنِسْطَاسٌ مَوْلَى كَثِيرِ بن الصَّلْت وخَالِد مَوْلَى عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ وَمَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ وَالسَّائِبُ بْنُ جُنْدَبِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ أَبُو مُرَّةَ مَوْلَى عُقَيْلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَوُهَيْبٌ مَوْلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ

39 - وَمِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ

مَسْرُوقُ بْنُ الْأَجْدَعِ وَالْأَسْوَدُ بْنُ يَزِيدَ وَثَابِتُ بْنُ عُتْبَةَ

وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِمَّنْ رَوَى عَنْهُ مِمَّنْ أَدْرَكَهُ وَلَا يَثْبُتُ لَهُ لقاؤه وَلَا يَثْبُتُ لَهُ السَّمَاعُ مِنْهُ

40 - سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ لَمْ يَسْمَعْ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ مِنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَرَوَى عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ شَهِدْتُ جِنَازَهَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ

41 - وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ رَوَى عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَرَوَى عَمَّنْ رَوَى عَنْهُ

وَقَدْ رَوَى هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا حُمَيْدٍ يُحَدِّثُ بِحَدِيثِ الصَّدَقَةِ فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ سَمِعُ أُذُنَيْهِ وَبَصَرُ عَيْنَيْهِ وَسَلُوا زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَقَدْ سَمِعَهُ مَعِي أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي الْمسند فَهَذَا يدل أَن عُرْوَة سمع
জুআইব, খারিজাহ ইবনে যাইদ ইবনে সাবিত, নুফাই (উম্মে সালামাহর আযাদকৃত দাস), আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনে ইয়ারবু, হাফস ইবনে আসিম, আবান ইবনে উসমান, উতবাহ ইবনে... এবং আবু সালিহ (আস-সাফফাহর আযাদকৃত দাস), আতা ইবনে ইয়াসার, সুলাইমান ইবনে ইয়াসার, কাসীর (আস-সালতের আযাদকৃত দাস), নিসতাস (কাসীর ইবনুল সালতের আযাদকৃত দাস), খালিদ (উবাইদ ইবনুল সাব্বাকের আযাদকৃত দাস), মারওয়ান ইবনুল হাকাম, আস-সাইব ইবনে জুনদুব ইবনে কাসীর ইবনে আফলাহ, আবু মুররাহ (আকীল ইবনে আবি তালিবের আযাদকৃত দাস), উহাইব (যাইড ইবনে সাবিতের আযাদকৃত দাস), আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিয়াহ এবং মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাওবান।

39 - এবং কুফাবাসীদের মধ্য থেকে

মাসরুক ইবনুল আজদা, আল-আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ এবং সাবিত ইবনে উতবাহ

এবং মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, অথচ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ সাব্যস্ত নয় এবং তাঁর থেকে শ্রবণও সাব্যস্ত নয়

40 - সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন, মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব যাইদ ইবনে সাবিত থেকে সরাসরি শোনেননি। তবে আলী ইবনে যাইদ-এর সূত্রে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি যাইদ ইবনে সাবিতের জানাজায় উপস্থিত ছিলাম।

41 - এবং উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর। তিনি যাইদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুমাইদকে সদকার হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন। অতঃপর আবু হুমাইদ বললেন: তাঁর দুই কান শুনেছে এবং তাঁর দুই চোখ দেখেছে; তোমরা যাইদ ইবনে সাবিতকে জিজ্ঞাসা করো, কেননা তিনি আমার সাথে তা শুনেছেন। ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে উরওয়াহ শুনেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
هَذَا مِنْ أَبِي حُمَيْدٍ وَزَيْدٌ حَيٌّ

42 - وَرَوَى عَنْهُ أَبُو سَلَمَةَ وَرَوَى عَنْ نُفَيْعٍ مَوْلَى أَبِي سَلَمَةَ عَنْهُ

43 - وَرَوَى عَنْهُ الْقَاسِمُ وَلَمْ يَثْبُتْ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا

44 - وَرَوى عَنْهُ سَالِمٌ وَلَمْ يَثْبُتْ عِنْدَنَا أَنَّهُ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا

45 - بُسْرُ بْنُ سَعِيدٍ فَقُلْتُ لِيَحْيَى بُسْرُ بْنُ سَعِيد فَقَالَ مَا تُنْكِرُ

فَقُلْتُ إِنَّهُ رَوَى عَنْ مَوْلَى السَّفَّاحِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَقَالَ قَدْ رَوَى شَقِيقٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ وَعَنْ رجل عَن عبد الله

‌‌قيس بن أبي حَازِم

46 - قَالَ عَلِيٌّ قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ سَمِعَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيٍّ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَزُبَيْرٍ وَطَلْحَةَ بْنِ عبيد الله وَأبي رهم وَجَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبُجَلِيِّ وَأبي مَسْعُود البدري
এটি আবু হুমাইদ থেকে এবং তখন যায়েদ জীবিত ছিলেন।

৪২ - তার থেকে আবু সালামাহ বর্ণনা করেছেন এবং আবু সালামাহর মুক্তদাস নুফাই' তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

৪৩ - তার থেকে কাসিম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তার থেকে কিছু শুনেছেন বলে প্রমাণিত নয়।

৪৪ - তার থেকে সালিম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমাদের নিকট তিনি তার থেকে কিছু শুনেছেন বলে প্রমাণিত নয়।

৪৫ - বুসর ইবনে সাঈদ। আমি ইয়াহইয়াকে বললাম, বুসর ইবনে সাঈদ? তিনি বললেন, আপনি কী অস্বীকার করছেন?

আমি বললাম, তিনি সাফ্ফাহ-র মুক্তদাসের সূত্রে যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, শাকীক আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌কায়েস ইবনে আবি হাযিম

৪৬ - আলী বলেন, কায়েস ইবনে আবি হাযিম আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, যুবায়ের, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ, আবু রুহম, জারীর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালী এবং আবু মাসউদ আল-বাদরী থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَخَبَّابِ بْنِ الْأَرَتِّ وَالْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ وَمِرْدَاسِ بْنِ مَالِكٍ الْأَسْلَمِيِّ وَالْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ الْفِهْرِيِّ وَدُكَيْنِ بْنِ سَعْدٍ الْمُزَنِيِّ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَأَبِي سُفْيَانَ بْنِ حَرْبٍ وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ وَحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَسَعِيدِ بن ز يَد وَأَبِي جُحَيْفَةَ

قِيلَ لِعَلِيٍّ هَؤُلَاءِ كُلُّهُمْ سَمِعَ مِنْهُمْ قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ سَمَاعًا قَالَ نَعَمْ سَمِعَ مِنْهُمْ سَمَاعًا وَلَوْلَا ذَلِكَ لَمْ نَعُدُّ لَهُ سَمَاعًا قِيلَ لَهُ شَهِدَ الْجَمَلَ قَالَ لَا كَانَ عُثْمَانِيًّا

وَرَوَى أَيْضًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَنْ قَيْسِ بْنِ فَهد وَرَوَى عَنْ بِلَالٍ وَلَمْ يَلْقَهُ وَعَن الصنابح بن الأعسر الأحسمي وَرَوَى عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَلَا أَدْرِي سَمِعَ مِنْهُ أَمْ لَا وَعَن قيس بن فَهد سَمَاعا قَالَ وَرَأَيْت أَسْمَاءَ ابْنَةَ أَبِي بَكْرٍ

47 - وَأَبُوهُ أَبُو حَازِمٍ وَاسْمُ أَبِي حَازِمٍ عَوْف بن عبد الْحَارِثِ وَرَوى عَنْ عَمَّارٍ وَاخْتَلَفُوا عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ فِيهِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَابِسٍ قَالَ عَمَّارٌ ادْفِنُونِي فِي ثِيَابِي

وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِسْمَاعِيلُ عَنْ قَيْسٍ قَالَ عَمَّارٌ ادْفِنُونِي فِي ثِيَابِي

48 - قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ سَمِعَ مِنْ سَعْدِ بْنِ مَسْعُودٍ عَم الْمُخْتَار وَكَانَ فِي أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَسْمَعْ قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ مِنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَلَا سلمَان
খাব্বাব ইবনুল আরত, মুগীরা ইবনে শুবা, মিরদাস ইবনে মালিক আল-আসলামী, মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ আল-ফিহরী, দুকাইন ইবনে সাদ আল-মুযানী, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, আমর ইবনুল আস, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সাঈদ ইবনে যায়েদ এবং আবু জুহাইফা।

আলীকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কাইস ইবনে আবি হাযিম কি এঁদের সবার নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তিনি তাঁদের থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন; আর যদি তা না হতো, তবে আমরা তাঁর শ্রবণকে (প্রামাণিক হিসেবে) গণ্য করতাম না।" তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি কি উটের যুদ্ধে (জামাল) উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, "না, তিনি উসমানী ছিলেন।"

তিনি আবু হুরায়রা এবং কাইস ইবনে ফাহদ থেকেও বর্ণনা করেছেন। তিনি বিলাল থেকেও বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। এছাড়া সুনাবেহ ইবনে আল-আ’সার আল-আহসামি থেকেও বর্ণনা করেছেন। তিনি উকবা ইবনে আমির থেকেও বর্ণনা করেছেন, তবে আমি জানি না তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শুনেছেন কি না। কাইস ইবনে ফাহদ থেকে তিনি সরাসরি শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেন, "আমি আবু বকরের কন্যা আসমাকেও দেখেছি।"

৪৭ - তাঁর পিতা হলেন আবু হাযিম, এবং আবু হাযিমের নাম আউফ ইবনে আবদিল হারিস। তিনি আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ব্যাপারে ইয়াযিদ ইবনে আবি খালিদ থেকে বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আম্মার বলেছিলেন: "আমাকে আমার পরিধেয় বস্ত্রেই দাফন করো।"

আবার কেউ কেউ বলেছেন—ইসমাঈল কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আম্মার বলেছিলেন: "আমাকে আমার পরিধেয় বস্ত্রেই দাফন করো।"

৪৮ - কাইস ইবনে আবি হাযিম মুখতারের চাচা সাদ ইবনে মাসউদ থেকে শ্রবণ করেছেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে কাইস ইবনে আবি হাযিম আবু দারদা এবং সালমান থেকে শ্রবণ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌الْحسن الْبَصْرِيّ

49 - قَالَ عَلِيٌّ سَمِعَ الْحَسَنُ مِنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانٍ وَهُوَ غُلَامٌ يَخْطُبُ وَمِنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ وَمِنْ أَبِي بَكْرَةَ

50 - وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ شَيْئًا وَلَيْسَ بِصَحِيحٍ لَمْ يَصِحُّ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عِمْرَانَ سَمَاعٌ من وَجه صَحِيح ثَابت

قُلْتُ سَمِعَ الْحَسَنُ مِنْ جَابِرٍ قَالَ لَا

قُلْتُ سَمِعَ الْحَسَنُ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ لَا

كَانَ بِالْمَدِينَةِ أَيَّامَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَلَى الْبَصْرَةِ اسْتَعْمَلَهُ عَلَيْهَا عَليٌّ وَخَرَجَ إِلَى صِفِّينَ وَقَالَ فِي حَدِيثِ الْحَسَنِ خَطَبَنَا ابْن عَبَّاس بِالْبَصْرَةِ الحَدِيث أخرجه أَبُو دَاوُد إِنَّمَا هُوَ كَقَوْلِ ثَابِتٍ قَدِمَ عَلَيْنَا عِمْرَانُ بْنُ الْحَصِينِ وَمِثْلُ قَوْلِ مُجَاهِدٍ خَرَجَ عَلَيْنَا عَلِيٌّ وَكَقَوْلِ الْحَسَن إِنَّ سُرَاقَةَ بْنَ مَالِكِ بْنِ جُعْشَمٍ حَدَّثَهُمْ وَكَقَوْلِهِ غَزَا بِنَا مُجَاشِعُ بْنُ مَسْعُودٍ

الْحَسَنُ لَمْ يَسْمَعْ مِنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَمَا رَآهُ قَطُّ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِالْبَصْرَةِ

وَمِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ وَمِنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ وَمِنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَمِنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ
আল-হাসান আল-বাসরি

৪৯ - আলী বলেছেন, হাসান (আল-বাসরি) উসমান বিন আফফানকে খুতবা প্রদানরত অবস্থায় শুনেছেন যখন তিনি কিশোর ছিলেন। এছাড়া তিনি উসমান বিন আবিল আস এবং আবু বাকরাহ থেকেও শুনেছেন।

৫০ - তিনি ইমরান বিন হুসাইন থেকে কিছুই শোনেননি। হাসানের পক্ষ থেকে ইমরানের নিকট থেকে কোনো কিছু শোনার বিষয়টি বিশুদ্ধ ও সাব্যস্ত কোনো সূত্রেই প্রমাণিত নয়।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হাসান কি জাবির থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, না।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হাসান কি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, না।

তিনি মদিনায় অবস্থান করছিলেন সেই সময়ে যখন ইবনে আব্বাস বসরার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। আলী তাঁকে সেখানে নিযুক্ত করেছিলেন এবং নিজে সিফফিনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। হাসানের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘ইবনে আব্বাস বসরায় আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন...’ এই হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। মূলত এটি সাবিতের এই উক্তির মতো—‘ইমরান বিন হুসাইন আমাদের নিকট এসেছেন’, মুজাহিদের এই উক্তির মতো—‘আলী আমাদের সামনে বের হয়েছেন’, হাসানের এই উক্তির মতো—‘সুরাকা বিন মালিক বিন জুশাম তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ এবং তাঁর এই উক্তির মতো—‘মুজাশী বিন মাসউদ আমাদের নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন’।

হাসান ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি শোনেননি এবং তাঁকে কখনো দেখেনওনি, যদিও ইবনে আব্বাস তখন বসরায় অবস্থান করছিলেন।

এবং তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল, মাকিল বিন ইয়াসার, আনাস বিন মালিক এবং সামুরা বিন জুনদাব থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫২)
51 - قَالَ وَقَالَ حَبِيبُ بْنُ الشَّهِيدِ أَمَرَنِي ابْنُ سِيرِينَ أَنْ أَسْأَلَ الْحَسَنَ مِمَنْ سَمِعَ حَدِيثَهُ فِي الْعَقِيقَةِ قَالَ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ سَمِعْتُهُ مِنْ سَمُرَةَ قَالَ قَالَ سَمُرَةَ كُلُّ مَوْلُودٍ رَهْنٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنهُ يَوْم سابعه أخرجه البُخَارِيّ فِي الْحَقِيقَة

52 - وَعَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كُلُّ مَوْلُودٍ رَهْنٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ رَأسه وَيُسمى أخرجه أَبُو دَاوُد

53 - وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كُلُّ غُلَامٍ رَهْنٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُدْمَى هَكَذَا قَالَ هَمَّامٌ يُدْمَى وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ وَيُسَمَّى قَالَ هَمَّامٌ لِقَتَادَةَ كَيْفَ يُدْمَى قَالَ تُذْبَحُ الْعَقِيقَةُ ثُمَّ تُسْتَقْبَلُ أَوْدَاجُهَا بِصُوفَةٍ أَوْ بِقُطْنَةٍ ثُمَّ تُوضَعُ على يافوخ الصَّبِي أخرجه أَبُو دَاوُد

54 - قَالَ سُئِلَ يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ عَنِ الصَّبِيِّ يُلَطَّخُ رَأْسُهُ بِدَمِ عقيقته قَالَ كَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ هُوَ رِجْسٌ كَانَ أهل الْجَاهِلِيَّة يَفْعَلُونَهُ أخرجه ابْن أبي شيبَة

وَعَنِ الْحَسَنِ وَمُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ أَنَّهُمَا كَرِهَا أَنْ يُلَطَّخَ رَأْسُ الصَّبِي بِدَم عقيقته
৫১ - তিনি বলেন, হাবিব ইবনে শহিদ বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে সিরিন আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি হাসানকে (আল-বাসরি) জিজ্ঞাসা করি যে তিনি আকিকা সম্পর্কিত হাদিসটি কার থেকে শুনেছেন। হাবিব বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি এটি সামুরাহ থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, সামুরাহ বলেছেন, প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ; তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবেহ করতে হয়। ইমাম বুখারি এটি আকিকা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

৫২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ; তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবেহ করতে হয়, তার মাথা মুণ্ডন করতে হয় এবং তার নামকরণ করতে হয়। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।

৫৩ - সামুরাহ ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ; তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবেহ করতে হয় এবং রক্ত মাখানো হয়। হাম্মাম এভাবেই 'রক্ত মাখানো' (ইউদমা) শব্দটি বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ 'নাম রাখা হয়' (ইউসাম্মা) শব্দটি বর্ণনা করেছেন। হাম্মাম কাতাদাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, কীভাবে রক্ত মাখানো হয়? তিনি বললেন, আকিকার পশু জবেহ করা হয়, এরপর পশম বা তুলা দিয়ে তার কণ্ঠনালীর রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং তা শিশুর মাথার তালুর ওপর রাখা হয়। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।

৫৪ - ইউনুস ইবনে উবাইদকে সেই শিশু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার মাথায় আকিকার রক্ত লেপন করা হয়। তিনি বলেন, হাসান (বাসরি) বলতেন, এটি অপবিত্রতা, জাহেলি যুগের লোকেরা এটি করত। ইবনে আবি শাইবাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

হাসান (বাসরি) এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা উভয়েই শিশুর মাথায় আকিকার রক্ত লেপন করাকে অপছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
55 - وَعَنْ هَيَّاجِ بْنِ عِمْرَانَ الْبُرْجَمِيِّ قَالَ أَبَقَ غُلَامٌ لِأَبِي فَنَذَرَ إِنْ قَدَرَ عَلَيْهِ لَيَقْطَعَنَّ يَدَهُ أَوْ يَقْطَعَ مِنْهُ طَائِفًا قَالَ فَأَتَى سَمُرَةَ بْنَ جُنْدَبٍ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ مَا خَطَبَنَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةً إِلَّا نَهَانَا عَنِ الْمُثْلَةِ وَأَمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ وَأَتَى عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ فَسَأَلَهُ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ سَمُرَة أخرجه الإِمَام أَحْمد عَنْ هَيَّاجٍ عَنْ عِمْرَانَ وَسَمُرَةَ بِنَحْوِهِ

56 - وَلَمْ يَرْوِ عَنِ الْحَسَنِ شَيْئًا يَقُولُ قَرَأْتُ فِي كِتَابِ سَمُرَةَ إِلَّا حَدِيثًا وَاحِدًا رَوَاهُ ابْنُ عَوْنٍ مَتَى يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَأْكُلَ الْمَيْتَةَ وَلَا أَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ وَلَوْ رَوَاهُ أَحَدٌ عَنِ الْحسن عَن سَمُرَة

وَرَوَاهُ ابْن عَوْنٍ قَرَأْتُ فِي كِتَابِ سَمُرَةَ وَهَذِهِ الْأَحَادِيثُ فِي كِتَابِ سَمُرَةَ وَلَكِنْ أَحَادِيثُهُ الَّتِي رَوَاهَا عَنْ سَمُرَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ

57 - وَقَدْ رَوَى سَمُرَةَ أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثِينَ حَدِيثا مَرْفُوعا وَغَيْرَهَا وَالْحَسَنُ قَدْ سَمِعَ مِنْ سَمُرَةَ لِأَنَّهُ كَانَ فِي عَهْدِ عُثْمَانَ ابْنِ أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَأَشْهُرٍ وَمَاتَ سَمُرَةَ فِي عَهْدِ زِيَادٍ

58 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبٍ الْمُقَابِرِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمٍ عَنْ عبد الله بن مُحَرر عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عق عَن نَفسه بعد مَا بَعثه الله نَبيا أخرجه الْبَزَّار

59 - قَالَ وَرَأَيْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ يُبَايِعُ عَلِيًا فِي حُشٍ وَخَالَفَهُ مُوسَى
৫৫ - হাইয়াজ ইবনে ইমরান আল-বুরাজমি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতার এক গোলাম পালিয়ে গিয়েছিল, তাই তিনি মানত করলেন যে, যদি তিনি তাকে ধরতে পারেন তবে অবশ্যই তার হাত কেটে দেবেন অথবা তার শরীরের কোনো অংশ কেটে ফেলবেন। তিনি বলেন, এরপর তিনি সামুরা ইবনে জুনদুবের কাছে আসলেন এবং তার নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি (সামুরা) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে এমন কোনো ভাষণ দেননি যাতে তিনি আমাদের অঙ্গহানি (মুসলাহ) করতে নিষেধ করেননি এবং সদকা করার নির্দেশ দেননি। এরপর তিনি ইমরান ইবনে হুসাইনের কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনিও সামুরা যা বলেছিলেন অনুরূপ বললেন। ইমাম আহমদ হাইয়াজ থেকে ইমরান ও সামুরার সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৫৬ - তিনি হাসান থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেননি যেখানে তিনি বলেন, "আমি সামুরার কিতাবে পড়েছি", কেবল ইবন আওন বর্ণিত একটি হাদিস ব্যতীত: "কখন একজন ব্যক্তির জন্য মৃত জীব ভক্ষণ করা বৈধ হয়?" হাসান থেকে সামুরার সূত্রে আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। আর যদি হাসান থেকে সামুরার সূত্রে অন্য কেউ এটি বর্ণনা করে থাকতেন... এবং ইবন আওন এটি বর্ণনা করেছেন যে, "আমি সামুরার কিতাবে পড়েছি"। আর এই হাদিসগুলো সামুরার কিতাবে রয়েছে, তবে তিনি সামুরা থেকে যে হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন তা এই হাদিসটি ব্যতীত অন্যগুলো।

৫৭ - সামুরা ত্রিশটিরও বেশি মারফু' ও অন্যান্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর হাসান অবশ্যই সামুরা থেকে শ্রবণ করেছেন, কারণ উসমানের যুগে তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর কয়েক মাস, আর সামুরা যিয়াদের যুগে ইন্তেকাল করেন।

৫৮ - ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-মুকাবিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে হাশিম আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাররার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবি হিসেবে প্রেরিত হওয়ার পর নিজের আকিকা নিজেই করেছিলেন। আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন।

৫৯ - তিনি বলেন, আমি ইবনুল যুবাইরকে একটি বাগানে আলীর নিকট বায়আত গ্রহণ করতে দেখেছি, তবে মুসা তার বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
ابْن دَاوُدَ قَالَ رَأَيْتُ طَلْحَهَ يُبَايِعُ عَلِيًا فِي حُشٍ فَسَأَلَهُ خَالِدُ ابْن الْقَاسِمِ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ لَيْسَ مِنْ صَحِيحِ حَدِيثِ هُشَيْمٍ وَالْحسن لم ير عَلِيًا إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَآهُ بِالْمَدِينَةِ وَهُوَ غُلَام أخرجه بن أبي حَاتِم

60 - الْحَسَنُ رَأَى أُمَّ سَلَمَةَ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهَا وَكَانَ صَغِيرًا وَكَانَتْ أُمُّ الْحَسَنِ تَخْدِمُ أُمَّ سَلَمَةَ وَقَدْ رَوَتْ عَنْهَا

الْحَسَنُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ وَكَانَ بِالْبَصْرَةِ زَمَنَ عُمَرَ

61 - حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَن بْنِ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَسْأَلِ الْإِمَارَةَ وَرَوَى أَشْعَثُ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ كُنَّا مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ بكابل أوردهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده

62 - سُئِلَ عَنْ حَدِيثِ سُرَاقَةَ فِي طَلَبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ

رَوَى مَعْمَرُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَالك عَن سراقَة الحَدِيث أخرجه الإِمَام أَحْمد الطَّوِيلَ أَنَّ سُرَاقَةَ خَرَجَ يَطْلُبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَجَعَلَ فِيهِ مِائَةَ بَدَنَةٍ

وَرَوَى الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ أَنَّ سُرَاقَةَ حَدَّثَهُمْ فِي رِوَايَةِ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ وَهُوَ إِسْنَادٌ يَنْبُو عَنْهُ الْقَلْبُ أَنَّ يَكُونَ الْحَسَنُ سَمِعَ مِنْ سُرَاقَةَ إِلَّا أَن يكون معنى حَدثهمْ حدث النَّاس فَهَذَا أشبه
ইবনে দাউদ বলেন, আমি তালহাকে একটি বাগানে আলীর নিকট বায়আত গ্রহণ করতে দেখেছি। অতঃপর খালিদ ইবনুল কাসিম তাঁকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটি হুশাইমের সহীহ হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর হাসান (বসরী) আলীকে দেখেননি, তবে মদীনায় থাকাকালে শিশু অবস্থায় তাঁকে দেখে থাকতে পারেন। এটি ইবনে আবী হাতিম বর্ণনা করেছেন।

৬০ - হাসান উম্মে সালামাকে দেখেছিলেন কিন্তু তাঁর থেকে (হাদীস) শ্রবণ করেননি, তখন তিনি ছোট ছিলেন। হাসানের মাতা উম্মে সালামার খেদমত করতেন এবং তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাসান আবু মূসা আল-আশআরী থেকে শ্রবণ করেননি, অথচ তিনি (আবু মূসা) উমরের যুগে বসরার (গভর্নর) ছিলেন।

৬১ - আবদুর রহমান বিন সামুরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা নেতৃত্ব প্রার্থনা করো না।" আশআস হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমরা কাবুলে আবদুর রহমান বিন সামুরার সাথে ছিলাম।" ইমাম আহমদ এটি তাঁর মুসনাদে উল্লেখ করেছেন।

৬২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তালাশ করার ব্যাপারে সুরাকার হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:

মা'মার জুহরী থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন মালিক থেকে, তিনি সুরাকা থেকে সেই দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, সুরাকা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তালাশ করতে বের হয়েছিলেন এবং তাতে (পুরস্কারস্বরূপ) একশটি উট নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন।

হাসান ইবনে আবিল হাসান বর্ণনা করেছেন যে, "সুরাকা তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন"—এটি আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআনের বর্ণনায় এসেছে। এটি এমন একটি সনদ যা অন্তর প্রত্যাখ্যান করে (অর্থাৎ এটি অবিশ্বাস্য মনে হয়) যে হাসান সরাসরি সুরাকা থেকে শ্রবণ করেছেন; তবে যদি 'তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এর অর্থ হয় 'তিনি মানুষের নিকট বর্ণনা করেছেন', তবে এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
63 - وَسُئِلَ عَنْ حَدِيثِ الْأَسْوَدِ وَهُوَ ابْنُ سَرِيعٍ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً فَأَكْثرُوا الْقَتْل أخرجه الإِمَام أَحْمد فَقَالَ إِسْنَادُهُ مُنْقَطِعٌ رِوَايَةُ الْحَسَنِ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ وَالْحَسَنُ عِنْدَنَا لَمْ يَسْمَعْ مِنَ الْأَسْوَدِ لِأَنَّ الْأَسْوَدَ خَرَجَ مِنَ الْبَصْرَةِ أَيَّامَ عَلِيٍّ وَكَانَ الْحَسَنُ بِالْمَدِينَةِ فَقُلْتُ لَهُ الْمُبَارَكُ يَعْنِي ابْنَ فَضَالَةَ يَقُولُ فِي حَدِيثِ الْحَسَنِ عَنِ الْأَسْوَدِ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنِّي حَمَدْتُ رَبِّي بِمَحَامِدَ أَخْبَرَنِي الْأسود أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي الْمسند فَلم يعْتَمد على الْمُبَارك فِي ذَلِكَ

وَلَمْ يَسْمَعْ مِنَ الضَّحَّاكِ بْنِ سُفْيَانَ شَيْئًا

64 - وَسُئِلَ عَنْ حَدِيثِ الضَّحَّاكِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا طَعَامك فِي الْمسند

قَالَ حَدِيثُ بَصْرِيٍّ إِسْنَادُهُ مُنْقَطِعٌ لِأَنَّ الْحَسَنَ لَمْ يَسْمَعْ مِنَ الضَّحَّاكِ فَكَانَ الضَّحَّاكُ يَكُونُ بِالْبَوَادِي وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ

65 - سَمِعَ مِنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو شَيْئًا وَمِنْ عَمْرِو بْنِ تَغْلُبٍ وَسَمِعَ مِنِ ابْنِ عُمَرَ وَمن سعد مولى
63 - তাঁকে আসওয়াদ—যিনি ইবনে সারী’—তাঁর বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি সেনাদল প্রেরণ করেছিলেন এবং তারা অধিক হারে হত্যা করেছিল; যা ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: এর সনদ বিচ্ছিন্ন। এটি আসওয়াদ ইবনে সারী’ থেকে হাসানের বর্ণনা, আর আমাদের মতে হাসান আসওয়াদ থেকে কিছু শোনেননি। কারণ আসওয়াদ আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামলে বসরা ত্যাগ করেছিলেন আর হাসান তখন মদিনায় অবস্থান করছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: মুবারক অর্থাৎ ইবনে ফাদালা হাসানের সূত্রে আসওয়াদের হাদিসে বলেন, "আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট আসলাম এবং বললাম: আমি আমার রবের প্রশংসা করেছি এমন কিছু স্তুতিবাক্য দ্বারা যা আসওয়াদ আমাকে জানিয়েছেন।" এটি ইমাম আহমাদ মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইমাম) এক্ষেত্রে মুবারকের ওপর নির্ভর করেননি।

এবং তিনি দাহহাক ইবনে সুফিয়ান থেকে কিছুই শোনেননি।

64 - তাঁকে দাহহাকের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমার খাবার কী?" (যা মুসনাদে রয়েছে)।

তিনি বললেন: এটি বসরার অধিবাসীদের বর্ণিত একটি হাদিস, এর সনদ বিচ্ছিন্ন। কারণ হাসান দাহহাক থেকে শোনেননি। দাহহাক মরুপ্রান্তরে বসবাস করতেন আর হাসান তাঁর থেকে কিছু শোনেননি।

65 - তিনি জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে শুনেছেন, কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে কিছুই শোনেননি। আর তিনি আমর ইবনে তাগলিব থেকে শুনেছেন এবং ইবনে উমর ও সা’দ মাওলা থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
66 - سُئِلَ عَن حَدِيث الْحسن عَن عَائِذ بن عَمْرو فَقَالَ لَيْسَ بِشَيْء وَحَرَّكَ رَأْسَهُ مَا أَرَاهُ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا

وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ شَيْئًا

وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ شَيْئًا

67 - وَرَوَى الْحَسَنُ عَنْ أُسَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أفطر الحاجم والمحجوم أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي الْمسند

وَرَوَاهُ يُونُسَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده

وَرَوَاهُ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

وَرَوَاهُ عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مُسْند ابْن حَنْبَل

وَرَوَاهُ مطهر عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৬৬ - হাসান কর্তৃক আইয বিন আমর থেকে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এটি উল্লেখযোগ্য কিছু নয় এবং তিনি তার মাথা নাড়লেন। আমি মনে করি না যে তিনি (হাসান) তার থেকে কিছু শুনেছেন।

তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামী থেকেও কিছু শোনেননি।

তিনি উসামা বিন যায়িদ থেকেও কিছু শোনেননি।

৬৭ - হাসান উসামা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "শিঙা দানকারী এবং যার শিঙা লাগানো হয়েছে উভয়ের রোজা ভেঙে গেছে।" ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

ইউনুস এটি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

কাতাদাহ এটি হাসান থেকে, তিনি সাওবান থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আতা ইবনুল সায়িব এটি হাসান থেকে, তিনি মা’কিল বিন ইয়াসার থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যা ইবনে হাম্বলের মুসনাদ গ্রন্থে রয়েছে।

মুতাহহার এটি হাসান থেকে, তিনি আলী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
أَخْبَرَنَا عَلِيٌّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَخْبَرَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ

68 - وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ شَيْئًا

وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ شَيْئًا

وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيِّ شَيْئًا

وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ شَيْئًا

وَلَا مِنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ شَيْئًا

69 - مِنَ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ صَحِيحٌ وَالْأَحْنَفُ لَيْسَ لَهُ صُحْبَهٌ وَمِنْ قَيْسِ بْنِ عَبَّادٍ وَمُطَرِّفٍ وَسَعْدُ بْنُ هِشَامٍ وَحَطَّانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرقاشِي وَصَعْصَعَةَ بْنِ مُعَاوِيَةَ

70 - وَعَنِ الْحَسَنِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ قَالَ لَمْ يَدْخُلْ بَيْنَهُمَا أَحَدٌ يَعْنِي بَيْنَ الْحَسَنِ وَسَلَمَةَ

وَعَنْ يُونُسَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ المحبق فِي مُسْند أَحْمد وَلَمْ يَدْخُلْ بَيْنَهُمَا أَحَدٌ

قَالَ سُفْيَانُ بَيْنَ الْحَسَنِ وَسَلَمَةَ إِنْسَانٌ أَن النَّبِي صلى الله
আলী আমাদের নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুতামির তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হাসান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেছেন: “সিঙা দানকারী ও সিঙা গ্রহণকারী উভয়ের রোজা ভেঙে গেছে।”

৬৮ - আর তিনি উকবা ইবনে আমের থেকে কিছুই শোনেননি।

এবং তিনি আবু ছালাবা আল-খুশানি থেকে কিছুই শোনেননি।

এবং তিনি আবু হুরায়রা আদ-দাওসি থেকে কিছুই শোনেননি।

এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে কিছুই শোনেননি।

এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকেও কিছুই শোনেননি।

৬৯ - আল-আহনাফ ইবনে কায়স থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি সঠিক, তবে আহনাফের সাহাবিত্ব নেই। আর কায়স ইবনে আব্বাদ, মুতাররিফ, সাদ ইবনে হিশাম, হাত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাকাশি এবং সা’সা’আ ইবনে মুয়াবিয়া থেকেও (বর্ণিত হয়েছে)।

৭০ - এবং হাসান থেকে, তিনি সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: তাঁদের দুইজনের মধ্যে কেউ নেই, অর্থাৎ হাসান ও সালামাহর মাঝে।

এবং ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক থেকে মুসনাদে আহমাদে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের দুইজনের মাঝে কেউ প্রবেশ করেননি।

সুফিয়ান বলেছেন: হাসান ও সালামাহর মাঝে একজন ব্যক্তি রয়েছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى فِي رَجُلٍ وطىء جَارِيَة امْرَأَته قَالَ إِن استكرههافهي حرَّة وليسدتها مِثْلُهَا وَإِنْ طَاوَعَتْهُ فَهِيَ لَهُ وليسدتها مِثْلُهَا

قَالَ سُفْيَانُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ لِعَمْرٍو سُمِّيَ لَكُمُ الرَّجُلُ قَالَ لَا قَالَ هُوَ قَبِيصَةُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالَ سُفْيَانُ وَإِنَّمَا عَرَفَهُ أَبُو بَكْرٍ لِأَنَّهُ مِنْ قَوْمِهِ مِنْ هُذَيْلٍ

71 - عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ قَالَ قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رجل وطىء جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ إِنِ اسْتَكْرَهَهَا فَهِيَ حرَّة ولسيدتها مثلهَا رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده

72 - وَسُئِلَ عَنْ حَدِيثِ عِمْرَانَ أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ بِالصَّدَقَةِ فَقَالَ حَدِيثٌ بَصْرِيٌّ رَوَاهُ الْحَسَنُ عَنْ هَيَّاجِ بْنِ عِمْرَانَ وَهُوَ رَجُلٌ مَجْهُولٌ عَنْ هَيَّاجٍ الْبَرْجَمِيِّ

73 - عَنْ عِمْرَانَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَسَأَلَ بِهِ حَدِيثٌ أَوَّلُهُ كُوفِيٌّ وَآخِرُهُ بَصْرِيٌّ

رَوَاهُ الْأَعْمَشُ عَنْ خَيْثَمَةَ بْنِ أَبِي خَيْثَمَةَ رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده

وَرَوَاهُ مَنْصُورٌ عَنْ خَيْثَمَةَ هَذَا أَصْلُهُ بَصْرِيٌّ وَإِنَّمَا يَرْوِي عَنْهُ أَهْلُ الْكُوفَةِ وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ وَهُوَ حَدِيث مُنكر وَإِنَّمَا أُوتِيَ مِنْ طَرِيقِ خَيْثَمَةَ عَنِ الْحَسَنِ
(তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) তিনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে ফয়সালা দিয়েছেন যে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করেছিল। তিনি বললেন: যদি সে তাকে বাধ্য করে থাকে, তবে সে স্বাধীন এবং তার মালিককে (স্ত্রীকে) তার অনুরূপ একটি দাসী দিতে হবে। আর যদি সে (দাসী) তার অনুগত থাকে (রাজি থাকে), তবে সে তার (ব্যক্তির) হয়ে যাবে এবং তার মালিককে তার অনুরূপ একটি দাসী দিতে হবে।

সুফিয়ান বলেন, অতঃপর আবু বকর আল-হুজালি আমরকে বললেন, ‘আপনাদের কাছে কি লোকটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘না’। তিনি বললেন, ‘তিনি হলেন কাবিছাহ বিন হুরাইছ’। সুফিয়ান বলেন, আবু বকর তাকে চিনতে পেরেছিলেন কারণ সে ছিল তাঁরই কওম হুজাইলের লোক।

৭১ - কাবিছাহ বিন হুরাইছ থেকে বর্ণিত, তিনি সালামাহ বিন আল-মুহাব্বিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে ফয়সালা দিয়েছেন যে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করেছিল; যদি সে তাকে বাধ্য করে থাকে তবে সে স্বাধীন এবং তার মালিককে তার অনুরূপ একটি দাসী দিতে হবে। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।

৭২ - ইমরান থেকে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সদকা করার নির্দেশ দিতেন। তিনি বললেন: এটি একটি বসরী হাদিস, যা হাসান হাইয়াজ বিন ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন; আর তিনি হাইয়াজ আল-বারজামি থেকে বর্ণনাকারী একজন মাজহুল (অপরিচিত) ব্যক্তি।

৭৩ - ইমরান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে, সে যেন এর মাধ্যমে (আল্লাহর নিকট) প্রার্থনা করে’। এই হাদিসটির প্রথমাংশ কূফী এবং শেষাংশ বসরী।

আল-আ'মাশ এটি খাইছামাহ বিন আবি খাইছামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর মানসুর এটি খাইছামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যার মূল সূত্র বসরী, তবে কূফাবাসীরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেন। এর সনদ দুর্বল এবং এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস; এটি খাইছামাহর সূত্রে হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
74 - قَالَ عَلِيٌّ حَدِيثُ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رجل وطىء جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ فَقَالَ حَدِيثٌ بَصْرِيٌّ

رَوَاهُ الْحَسَنُ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ

فَرَوَاهُ قَتَادَةَ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ

وَرَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ وَلَيْسَ بَين الْحسن وَسَلَمَة أحد أخرجهَا الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده

فَقُلْتُ لِسُفْيَانَ إِنَّ قَتَادَةَ يَقُولُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَلَمَةَ

فَقَالَ لِي سُفْيَانُ قَالَ لِي عَمْرٌو بَيْنَهُمَا رَجُلٌ مِنْ قَوْمِ أَسْلَمَ أَوْ إِنْسَان فَقَالَ الْهُذلِيّ يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ بَيْنَهُمَا قَبِيصَةُ بْنُ حُرَيْثٍ ثُمّ قَالَ سُفْيَانُ إِنَّمَا عَرَفَ هَذَا الْهُذَلِيُّ أَنَّهُ مِنْ قَوْمِ أَسْلَمَ

وَرَوَاهُ شُعْبَةُ وَمَعْمَرُ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَلَمَةَ

وَرَوَاهُ بَكْرُ بْنُ بَكَّارٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ سَلمَة ابْن المحبق وَهَذَا عِنْدِي بَاطِلٌ

رَوَاهُ يُونُسُ وَأَشْعَثُ عَنْ سَلَمَةَ عَنِ الْحَسَنِ لَيْسَ بَيْنَهُمَا أَحَدٌ

وَرَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ نَوْفَلِ بْنِ مُسَاحِقٍ سَمِعَ الْحَسَنُ مُرْسَلٌ وَإِنَّمَا أَسْنَدَهُ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحسن عَن قبيصَة
৭৪ - আলী বলেন, সালামাহ ইবনে আল-মুহাব্বিক বর্ণিত হাদীস—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন যে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সহবাস করেছিল। তিনি (আলী) বলেন, এটি একটি বসরী হাদীস।

হাসান এটি কাবিসাহ ইবনে হুরাইস থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে আল-মুহাব্বিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

কাতাদাহ এবং আমর ইবনে দীনার এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে উয়াইনা এটি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে এবং তিনি সালামাহ ইবনে আল-মুহাব্বিক থেকে বর্ণনা করেছেন। হাসান ও সালামাহ-এর মাঝে আর কেউ নেই। ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন।

আমি সুফিয়ানকে বললাম যে, কাতাদাহ হাসান থেকে, তিনি কাবিসাহ ইবনে হুরাইস থেকে এবং তিনি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

সুফিয়ান আমাকে বললেন, আমর আমাকে বলেছেন যে তাঁদের দুজনের মাঝে আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি বা কোনো একজন মানুষ রয়েছেন। আল-হুযালী অর্থাৎ আবু বকর বললেন যে, তাঁদের দুজনের মাঝে কাবিসাহ ইবনে হুরাইস রয়েছেন। অতঃপর সুফিয়ান বললেন, এই হুযালী কেবল এটাই জানতেন যে তিনি আসলাম গোত্রের লোক।

শু'বা এবং মা'মার এটি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি কাবিসাহ ইবনে হুরাইস থেকে এবং তিনি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

বকর ইবনে বাক্কার এটি শু'বা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি সালামাহ ইবনে আল-মুহাব্বিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আমার নিকট এটি বাতিল।

ইউনুস এবং আশ'আস এটি হাসান থেকে এবং তিনি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তাঁদের দুজনের মাঝে কেউ নেই।

আব্দুল মালিক ইবনে নাওফাল ইবনে মুসাহিক এটি বর্ণনা করেছেন; হাসান এটি শুনেছেন—এটি মুরসাল। মূলত মা'মার ইবনে রাশিদই কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি কাবিসাহ থেকে—এই সূত্রে কাবিসাহ ইবনে হুরাইসের নাম উল্লেখ করে এটি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৬০)
رَوَاهُ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ الْحَسَنِ فَجَعَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ سَلَمَةَ رَجُلًا لَمْ يَدْرِ مَنْ هُوَ

75 - وَسُئِلَ عَنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي زَكَاةِ الْفِطْرِ فَقَالَ حَدِيثٌ بَصْرِيٌّ وَإِسْنَادُهُ مُرْسَلٌ رَوَاهُ الْحَسَنُ وَ‌‌مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَرَوَاهُ عَنِ الْحَسَنِ حُمَيْدٌ الطَّوِيل أخرجه أَبُو دَاوُد وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ ثَابِتُ بن يزِيد عَنْ عَاصِمٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ ابْن عَبَّاس

مُحَمَّد بن سِيرِين

76 - قَالَ شُعْبَةُ أَحَادِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّمَا سَمِعَهَا مُحَمَّدُ عَنْ عِكْرِمَةَ لَقِيَهُ أَيَّامَ الْمُخْتَارِ

قِيلَ لَهُ خَالِدٌ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَن أنس أَن البني صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَهُ فَأَنْكَرَهُ وَقَالَ هَذَا ربح

قَالَ قَالَ شُعْبَةُ أَحَادِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ إِنَّمَا سَمِعَهَا مِنْ عِكْرِمَةَ لَقِيَهُ أَيَّامَ الْمُخْتَارِ وَلَمْ يَسْمَعِ ابْنُ سِيرِينَ مِنِ ابْنِ عَبَّاس شَيْئا

‌‌إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ

77 - قَالَ عَلِيٌّ إِبْرَاهِيمُ النَّخْعِيُّ لَمْ يَلْقَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قِيلَ لَهُ فَعَائِشَةُ قَالَ هَذَا لَمْ يروه غير سعيد
আমর ইবনে দীনার এটি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি নিজের এবং সালামার মধ্যে একজন ব্যক্তিকে মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন যার পরিচয় জানা নেই।

৭৫ - এবং তাঁকে (ইমামকে) সদকাতুল ফিতর সম্পর্কে ইবনে আব্বাসের সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি একটি বসরাবাসীদের হাদিস এবং এর সনদ মুরসাল। এটি হাসান এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরীন ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাসান থেকে এটি হুমাইদ আত-তবিল বর্ণনা করেছেন, যা আবু দাউদ সংকলন করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে সাবেত ইবনে ইয়াজিদ, আসেমের সূত্রে, তিনি মুহাম্মদের সূত্রে এবং তিনি ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে সিরীন

৭৬ - শু’বাহ বলেন: ইবনে আব্বাসের সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে সিরীনের বর্ণিত হাদিসগুলো মূলত তিনি (মুহাম্মদ) ইকরিমা থেকে শুনেছেন, যার সাথে মুখতারের শাসনামলে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।

তাঁকে বলা হলো: ইউনুসের সূত্রে খালিদ বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে সিরীন আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিঙা (হিজামা) লাগিয়েছেন এবং শিঙা দানকারীকে তার পারিশ্রমিক দিয়েছেন। তিনি এটি অস্বীকার করলেন এবং বললেন, এটি রিহ (ভুল বা বিভ্রান্তি)।

তিনি বলেন: শু’বাহ বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সিরীনের হাদিসগুলো তিনি মূলত ইকরিমা থেকেই শুনেছেন, যার সাথে মুখতারের সময়কালে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল, আর ইবনে সিরীন ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি কিছুই শোনেননি।

ইবরাহিম আন-নাখয়ী

৭৭ - আলী বলেন: ইবরাহিম আন-নাখয়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করেননি। তাঁকে বলা হলো: তবে কি আয়েশা (রা.)-এর সাথেও নয়? তিনি বললেন: এটি সাঈদ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৬১)
ابْن أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَهُوَ ضَعِيفٌ

وَقَدْ رَأَى أَبَا جُحَيْفَةَ وَزَيْدَ بْنَ أَرْقَمٍ وَابْنَ أَبِي أَوْفَى وَلَمْ يسمع مِنْهُم

‌‌همام بن الْحَارِث

78 - قَالَ عَلِيٌّ هَمَّامُ بْنُ الْحَارِثِ لَقِيَ أَبَا مَسْعُودٍ وَأُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ

وَعَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ صَلَّى بِنَا عُمَرُ وَهَذَا عِنْدِي وَهْمٌ

قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَان الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامٍ أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه صَلَّى بِمَكَّةَ

وَلَيْسَ حَدِيثُ يَحْيَى بن آدم عِنْدِي بِشَيْء

وَلَقِيَ عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ

وَرَوَاهُ عَن ابي الدَّرْدَاء وَلَا يُنكر لقاؤه عِنْدَنَا وَقَدْ لَقِيَهُ وَلَمْ يَقُلْ سَمِعْتُ

‌‌مَسْرُوقَ

79 - وَمَا أُقَدِّمُ عَلَى مَسْرُوق أحدا بِشَيْء مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ

وَصَلَّى خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ وَلَقِيَ عَمَرَ وعليا وَلم يرو عَنْهُم شَيْئا
ইবনে আবি আরুবাহ আবু মাশার থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল।

এবং তিনি আবু জুহাইফাহ, যাইদ বিন আরকাম এবং ইবনে আবি আওফাকে দেখেছিলেন, কিন্তু তাঁদের থেকে শ্রবণ করেননি।

‌‌হাম্মাম বিন আল-হারিস

৭৮ - আলি বলেছেন: হাম্মাম বিন আল-হারিস আবু মাসউদ, উসামা বিন যাইদ এবং আবদুল্লাহ বিন মাসউদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

এবং হাম্মাম বিন আল-হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন, আর এটি আমার নিকট একটি ভ্রম।

আবদুর রহমান সুফিয়ান আল-আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মক্কায় সালাত আদায় করেছেন।

এবং ইয়াহইয়া বিন আদমের হাদিস আমার কাছে কোনো ধর্তব্য বিষয় নয়।

এবং তিনি আদি বিন হাতিমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

এবং তিনি এটি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর আমাদের নিকট তাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ অস্বীকার করা যায় না; তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন কিন্তু "আমি শুনেছি" বলেননি।

‌‌মাসরুক

৭৯ - এবং আমি আবদুল্লাহর সাথীদের মধ্যে কোনো বিষয়েই মাসরুকের ওপর কাউকে প্রাধান্য দেই না।

এবং তিনি আবু বকরের পেছনে সালাত আদায় করেছেন এবং উমর ও আলির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, কিন্তু তাঁদের থেকে কিছু বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بن الْمُغيرَة

هَذَا مَا انْتَهَى إِلَيْنَا مِنْ لِقَائِه أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَطْلَبَ لِلْعِلْمِ فِي أُفُقٍ مِنَ الْآفَاقِ مِنْ مَسْرُوق

‌‌زِيَاد بن علاقَة

80 - قَالَ عَلِيٌّ لَقِيَ زِيَادَ بْنَ عِلَاقَةٍ عِمَارَةَ بْنَ أَوْسٍ وَمِرْدَاسَ ابْن عُرْوَةَ وَعَرْفَجَةَ بْنَ شُرَيْحٍ وَقَدِ اخْتَلَفُوا فِي نَسَبِ عَرْفَجَةَ فَقَالَ يَزِيدُ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ عَرْفَجَةَ بْنِ ضَرِيخٍ

وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُخْتَارِ شُرَيْحٌ

وَرَوَاهُ شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ عرْفجَة خفى كَلِمَةً

وَالْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ وَأُسَامَةَ بن شريك
যায়দ ইবনে সাবিত এবং আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুগীরাহ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের সাথে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়ে যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে তা এই।

শাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কোনো দিগন্তেই মাসরূকের চেয়ে ইলম অন্বেষণে অধিক আগ্রহী কাউকে দেখিনি।

‌‌যিয়াদ ইবনে আলাকাহ

৮০ - আলী বলেন, যিয়াদ ইবনে আলাকাহ উমারা ইবনে আওস, মিরদাস ইবনে উরওয়াহ এবং আরফাহ ইবনে শুরাইহ এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। আর তারা আরফাহর বংশপরিচয় নিয়ে মতভেদ করেছেন; ইয়াযীদ ইবনে যিয়াদ ইবনে আবি আল-জা'দ আরফাহ ইবনে যারীহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুখতার 'শুরাইহ' বলেছেন।

শু'বাহ এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আরফাহ হতে শুনেছি—একটি শব্দ অস্পষ্ট ছিল।

এবং আল-মুগীরাহ ইবনে শু'বাহ ও উসামা ইবনে শারীক।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালু লি ইবনিল মাদীনী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌الْقَاسِم بن عبد الرَّحْمَن

81 - قَالَ عَلِيٌّ لَمْ يَلْقَ الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ

قيل لَهُ فلقي ابْن عُمَرَ قَالَ كَانَ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ بِحَدِيثَيْنِ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنِ ابْنِ عُمَرَ شَيْئًا كَانَ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ

مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ وَحَدِيثٌ آخَرُ

‌‌سَالِمُ بن أبي الْجَعْد

82 - سَالم بن أبي الْجَعْد قَدْ لَقِيَ عِدَّةً مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقِيَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو وَابْن عمر والنعمان ابْن بَشِيرٍ وَرَأَى أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَسَلَمَة بن نعيم ونبيط بْنَ شَرِيطٍ

83 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَرَاءِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْآخِرِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَمَانِينَ وَمِائَتَيْنِ أَنا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ أَحَادِيثُ هِشَامٍ عَنِ الْحَسَنِ عَامَّتُهَا تَدُورُ عَلَى حَوْشَبٍ وَأَمَّا أَحَادِيثُهُ عَنْ مُحَمَّدٍ فَصِحَاحٌ
আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান

৮১ - আলী বলেন, আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে জাবির ইবনে সামুরা ব্যতীত আর কারও সাক্ষাৎ পাননি।

তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি কি ইবনে উমরের সাক্ষাৎ পাননি? তিনি বললেন, তিনি ইবনে উমর থেকে দু’টি হাদীস বর্ণনা করতেন, অথচ তিনি ইবনে উমর থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি। তিনি ইবনে উমর রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করতেন:

"পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানই হলো কিবলা" এবং আরও একটি হাদীস।

সালিম ইবনে আবিল জাদ

৮২ - সালিম ইবনে আবিল জাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশ কয়েকজন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, ইবনে উমর ও নুমান ইবনে বশীরের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং আনাস ইবনে মালিক, সালামাহ ইবনে নুয়াইম ও নুবাইত ইবনে শারীতকে দেখেছেন।

৮৩ - আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল বারা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুইশত আটাশি হিজরী সনের রবিউস সানী মাসে, (তিনি বলেন) আলী ইবনুল মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: হাসান (বসরি) থেকে হিশামের বর্ণিত হাদীসগুলোর অধিকাংশ হাউশাব-এর ওপর আবর্তিত; তবে মুহাম্মদ (ইবনে সিরীন) থেকে তাঁর বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ।