(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
القول المسدد في الذب عن مسند أحمد   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: القول المسدد في الذب عن المسند للإمام أحمد

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)

الناشر: مكتبة ابن تيمية - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1401

عدد الصفحات: 45

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে আহমাদ-এর প্রতিরক্ষায় সঠিক বক্তব্য   (ইবনে হাজার আসকালানি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


কিতাব: ইমাম আহমাদ-এর মুসনাদ-এর প্রতিরক্ষায় সঠিক বক্তব্য

লেখক: আবুল ফজল আহমাদ বিন আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাজার আসকালানি (মৃত ৮৫২ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০১

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিল রাখা হয়েছে]

শামিলাত প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

الْحَمد لله الْحَكِيم فَلَا يتَوَجَّه عَلَيْهِ الانتقاض لأحكامه وَلَا الانتقاد لأقواله الْعَلِيم فَلَا يخفى عَلَيْهِ مِثْقَال الذَّر من الْوُجُود وَلَا أخف من مثقاله الْعَظِيم فَلَا يدْرك الْعَالم الْعَارِف كنه جَلَاله لَا راد لما قضى وَأحكم وَلَا معقب لما أمضى وأبرم أَحْمَده على جزيل بره وَأَسْتَعِينهُ وأستهديه وأشكره على احسانه الَّذِي مِنْهُ إلهام شكره وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ الْملك الْعلي الْأَعْلَى الْكَرِيم الأكرم وَأشْهد أَن مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله الدَّاعِي إِلَى السَّبِيل الْأَقْوَى الأقوم صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَسلم وَشرف وكرم

أما بعد فقد رَأَيْت أَن أذكر فِي هَذِه الأوراق مَا حضرني من الْكَلَام على الْأَحَادِيث الَّتِي زعم بعض أهل الحَدِيث أَنَّهَا مَوْضُوعَة وَهِي فِي الْمسند الشهير للْإِمَام الْكَبِير أبي عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل إِمَام أهل الحَدِيث فِي الْقَدِيم والْحَدِيث والمطلع على خفاياه المثير لخباياه عصبية مني لَا تخل بدين وَلَا مُرُوءَة وحمية للسّنة لَا تعد بِحَمْد الله من حمية الْجَاهِلِيَّة بل هِيَ ذب عَن هَذَا المُصَنّف الْعَظِيم الَّذِي تَلَقَّتْهُ الْأمة بِالْقبُولِ والتكريم وَجعله إمَامهمْ حجَّة يرجع إِلَيْهِ ويعول عِنْد الِاخْتِلَاف عَلَيْهِ وَقد قَرَأت فِي ذَلِك جُزْءا جمعه شَيخنَا الإِمَام الْعَلامَة حَافظ عصره زين الدَّين عبد الرَّحِيم بن الْحُسَيْن الْعِرَاقِيّ تغمده الله بِالرَّحْمَةِ والرضوان كتبته عَنهُ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রজ্ঞাময়; ফলে তাঁর কোনো বিধানের প্রতি কোনো খণ্ডন আসে না এবং তাঁর কোনো বাণীর প্রতি কোনো সমালোচনা চলে না। তিনি সর্বজ্ঞ; ফলে অস্তিত্বশীল জগতের অণু পরিমাণ কিংবা তার চেয়েও সূক্ষ্ম কোনো কিছুই তাঁর নিকট গোপন থাকে না। তিনি মহান; ফলে কোনো জ্ঞানবান আরিফ তাঁর মহত্ত্বের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে না। তিনি যা ফয়সালা ও সুদৃঢ় করেছেন তা প্রতিহত করার কেউ নেই, এবং তিনি যা জারি ও সাব্যস্ত করেছেন তার পশ্চাৎধাবনকারী কেউ নেই। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর অঢেল অনুগ্রহের জন্য, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি এবং তাঁর ইহসানের জন্য তাঁর শোকর আদায় করি—যে ইহসানের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর শোকর আদায়ের প্রেরণা লাভ করা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি অধিপতি, সুউচ্চ, সর্বোচ্চ, অত্যন্ত সম্মানিত ও পরম দয়ালু। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পথের দিকে আহ্বানকারী; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ, সালাম, সম্মান ও মর্যাদা বর্ষণ করুন।

অতঃপর, আমি সংকল্প করেছি যে, এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমি সেই সব হাদীস নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হওয়া কিছু বক্তব্য উল্লেখ করব, যেগুলোকে কোনো কোনো হাদীসবিশারদ 'মাওযু' (জাল) বলে ধারণা করেছেন, অথচ সেগুলো ইমামুল কাবীর আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল-এর প্রসিদ্ধ 'মুসনাদ'-এ বিদ্যমান; যিনি ছিলেন অতীত ও বর্তমানের সকল আহলে হাদীসের ইমাম এবং হাদীসের নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত ও এর লুকায়িত বিষয়াবলি উন্মোচনকারী। এটি আমার পক্ষ থেকে এমন এক পক্ষাবলম্বন যা দ্বীন বা শ্লীলতার পরিপন্থী নয় এবং সুন্নাহর প্রতি এমন এক অনুরাগ যা আল্লাহর প্রশংসায় জাহিলিয়াতের গোঁড়ামির অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এটি সেই মহান গ্রন্থের প্রতিরক্ষা, যাকে উম্মাহ কবুলিয়াত ও সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছে এবং তাদের ইমাম একে এমন এক দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং মতপার্থক্যের সময় যার ওপর নির্ভর করা হয়। এই বিষয়ে আমি আমাদের শায়খ, সময়ের হাফিয, ইমাম আল্লামা যয়নুদ্দীন আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী (আল্লাহ তাঁকে রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন) কর্তৃক সংকলিত একটি পুস্তিকা পাঠ করেছি এবং তাঁর নিকট থেকে তা লিখে নিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
ثمَّ قرأته عَلَيْهِ وَهُوَ مُشْتَمل على تِسْعَة أَحَادِيث هِيَ فِي التَّحْقِيق سَبْعَة وَفَاته شَيْء آخر على شَرطه كنت علقته على ذَلِك الْجُزْء فَرَأَيْت الْآن جمعه هُنَا وَقد رَأَيْت قبل أَن نَخُوض فِي حَدِيث الْأَجْوِبَة ونوجه الرَّد أَو نتعقبه أَن أذكر سِيَاق مَا أوردهُ الشَّيْخ على الْوَلَاء على نَص مَا كتبه فِي الْجُزْء وَالْمَذْكُور ثمَّ أذكر وَجه الذب عَن الْأَحَادِيث الْمَذْكُورَة على طَريقَة أهل الحَدِيث من غير تعسف وَلَا تكلّف

أَخْبرنِي شَيخنَا الْعَلامَة أَبُو الْفضل بن الْحُسَيْن بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمَنْزِلَة ظَاهر الْقَاهِرَة قلت لَهُ رضى الله عَنْك بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله وَسَلام على عباده الَّذين اصْطفى وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة تبويء قَائِلهَا من الْجنان غرفا وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده المرتضى وَرَسُوله الْمُصْطَفى صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه وَزَادَهُمْ تَعْظِيمًا وشرفا وَبعد فقد سَأَلَني بعض أَصْحَابنَا من مقلدي مَذْهَب الإِمَام أبي عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل رضى الله عَنهُ فِي سنة خمسين وَسَبْعمائة أَو بعْدهَا ييسير لَهُ أَن أفرد مَا وَقع فِي مُسْند الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل من الْأَحَادِيث الَّتِي قيل فِيهَا إِنَّهَا مَوْضُوعَة فَذكرت لَهُ أَن الَّذِي فِي الْمسند من هَذَا النَّوْع أَحَادِيث ذَوَات عدد لَيست بالكثيرة وَلم يتَّفق لي جمعهَا فَلَمَّا قَرَأت الْمسند فِي سنة سِتِّينَ وَسَبْعمائة على الشَّيْخ الْمسند عَلَاء الدَّين أبي الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد بن صَالح العرضي الأَصْل الدِّمَشْقِي قدم علينا من الْإسْكَنْدَريَّة لسَمَاع الْمسند عَلَيْهِ وَقع فِي أثْنَاء السماع كَلَام هَل فِي الْمسند أَحَادِيث ضَعِيفَة أَو كُله صَحِيح فَقلت إِن فِيهِ أَحَادِيث ضَعِيفَة كَثِيرَة وَإِن فِيهِ أَحَادِيث يسيرَة مَوْضُوعَة فبلغني بعد ذَلِك أَن بعض من ينتمي إِلَى مَذْهَب الإِمَام أَحْمد أنكر هَذَا إنكارا شَدِيدا من أَن فِيهِ شَيْئا مَوْضُوعا وَعَابَ قَائِل هَذَا وَنقل عَن الشَّيْخ تَقِيّ الدَّين ابْن تَيْمِية أَن الَّذِي وَقع فِيهِ من هَذَا هُوَ من زيادات الْقطيعِي لَا من رِوَايَة الإِمَام أَحْمد وَلَا من رِوَايَة ابْنه عبد الله عَنهُ فحرضنى قَول هَذَا الْقَائِل
তারপর আমি এটি তাঁর নিকট পাঠ করলাম, যাতে নয়টি হাদিস অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা প্রকৃতপক্ষে সাতটি। তাঁর শর্তানুযায়ী অন্য কিছু এতে বাদ পড়েছিল যা আমি সেই অংশে টীকা হিসেবে লিখেছিলাম, তাই আমি এখন সেগুলো এখানে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি হাদিসগুলোর উত্তর ও খণ্ডন আলোচনা করার পূর্বে শায়খ সেই অংশে যা লিখেছিলেন তা অবিকল বর্ণনা করা সমীচীন মনে করছি, অতঃপর কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা কৃত্রিমতা ছাড়াই আহলে হাদিসের পদ্ধতিতে উক্ত হাদিসগুলোর পক্ষ সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করব।

আমাদের শায়খ আল্লামা আবুল ফজল বিন আল-হুসাইন আমাকে কায়রোর উপকণ্ঠে তাঁর বাসভবনে আমার পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। আমি তাঁকে বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নির্বাচিত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা এর প্রদানকারীকে জান্নাতের উচ্চকক্ষে স্থান করে দেবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর মনোনীত বান্দা ও নির্বাচিত রাসুল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং তাঁদের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন। অতঃপর, আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাবের জনৈক অনুসারী সাতশ পঞ্চাশ হিজরী বা তার কিছু পরে আমার নিকট আবেদন করেছিলেন যেন আমি ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মুসনাদে বর্ণিত সেই হাদিসগুলোকে পৃথকভাবে সংকলন করি যেগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে যে সেগুলো জাল। আমি তাকে উল্লেখ করলাম যে, মুসনাদে এই ধরণের হাদিস সংখ্যায় খুবই কম, অধিক নয়। তখন সেগুলো সংগ্রহ করা আমার পক্ষে হয়ে ওঠেনি। অতঃপর যখন আমি সাতশ ষাট হিজরীতে মুসনাদ পাঠ করলাম শায়খ মুসনিদ আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-আরদি আদ-দিমাশকির নিকট—যিনি মুসনাদ শোনানোর জন্য আলেকজান্দ্রিয়া থেকে আমাদের নিকট এসেছিলেন—তখন পাঠ চলাকালীন এই আলোচনা উত্থাপিত হলো যে, মুসনাদে কি দুর্বল হাদিস আছে নাকি এর সবই সহিহ? আমি বললাম: এতে অনেক দুর্বল হাদিস আছে এবং এতে সামান্য কিছু জাল হাদিসও আছে। এরপর আমার নিকট খবর পৌঁছাল যে, ইমাম আহমদের মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ মুসনাদে জাল হাদিস থাকার বিষয়টিকে কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন এবং এই মত পোষণকারীর সমালোচনা করেছেন। আর শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, মুসনাদে এই ধরণের যা কিছু আছে তা আল-কাতিয়ি-এর সংযোজন, তা ইমাম আহমদের বর্ণনা নয় এবং তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর বর্ণনাও নয়। সেই বক্তার এই বক্তব্যই আমাকে উৎসাহিত করল।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
على أَن جمعت فِي هَذِه الأوراق مَا وَقع فِي الْمسند من رِوَايَة الإِمَام أَحْمد وَمن رِوَايَة ابْنه عبد الله مِمَّا قَالَ فِيهِ بعض أَئِمَّة هَذَا الشَّأْن إِنَّه مَوْضُوع وَبَعض هَذِه الْأَحَادِيث مِمَّا لم يُوَافق من ادّعى وَضعهَا على ذَلِك فأبينه مَعَ سلوك الْإِنْصَاف فَلَيْسَ لنا بِحَمْد الله غَرَض إِلَّا فِي إِظْهَار الْحق وَقد أوجب الله تَعَالَى على من علم علما وَإِن قل أَن يُبينهُ وَلَا يَكْتُمهُ كَمَا حَدثنَا أَبُو الْفَتْح مُحَمَّد بن أَحْمد بن أبي الرّبيع الدلاصي بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمصْر أَنا مُحَمَّد بن عبد الْحق الْقرشِي أَنا عبد الرَّحْمَن ابْن عبد الْمجِيد الصفراوي وَعبد الصَّمد بن دَاوُد الغضائري قَالَا أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد الْحَافِظ أَنا الْقَاسِم بن الْفضل أَنا مُحَمَّد بن الْفضل بن نظيف أخبرنَا أَحْمد بن الْحسن الرَّازِيّ ثَنَا بكر بن سهل الدمياطي ثَنَا مُوسَى بن مُحَمَّد ثَنَا زيد بن مسور عَن الزُّهْرِيّ عَن ابْن الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا آتى الله عَالما علما إِلَّا أَخذ عَلَيْهِ الْمِيثَاق أَن لَا يَكْتُمهُ مُوسَى بن مُحَمَّد هُوَ الْبُلْقَاوِيُّ مُتَّهم لَكِن لَهُ شَاهد بِإِسْنَاد صَالح من حَدِيث ابْن مَسْعُود روينَاهُ فِي كتاب فضل الْعَالم الْعَفِيف على الْجَاهِل الشريف لأبي نعيم الْحَافِظ

وليعلم الْمُنكر لقولي إِن فِي الْمسند أَحَادِيث يسيرَة مَوْضُوعَة أَنه أنكر عَليّ قولا وَاجِبا على من وَجْهَيْن أَحدهمَا أَنى سُئِلت عَنهُ وَالثَّانِي أَن الْعلمَاء قَالُوا لَا يجوز رِوَايَة الحَدِيث الْمَوْضُوع إِلَّا مَعَ بَيَان أَنه مَوْضُوع فلنذكر الْآن الْأَحَادِيث الَّتِي نَحن بصدد إيرادها بأسانيد الإِمَام أَحْمد ليظْهر مَوضِع الْعلَّة مقدما ذكر سندي إِلَى الإِمَام أَحْمد

أَخْبرنِي بِجَمِيعِ مُسْند الإِمَام أبي عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل مَعَ مَا فِيهِ من زيادات ابْنه عبد الله رَحمهَا الله تَعَالَى مُسْند الشَّام أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم بن سَالم الْأنْصَارِيّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بمنزله بِدِمَشْق فِي الرحلة الأولى أَنا أَبُو الْغَنَائِم الْمُسلم بن مُحَمَّد بن عَلان أَنا حَنْبَل بن عبد الله بن الْفرج الرصافي أَنا هبة الله بن مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد بن الْحصين أَنا الْحُسَيْن بن عَليّ

আমি এই পৃষ্ঠাগুলোতে ইমাম আহমাদ এবং তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর বর্ণনায় মুসনাদে যা রয়েছে তা একত্র করেছি, যেগুলোর ব্যাপারে এই শাস্ত্রের একদল ইমাম বলেছেন যে তা জাল। এই হাদিসগুলোর মধ্য থেকে কিছু হাদিসের ব্যাপারে জাল হওয়ার দাবিকারীদের সাথে সবাই একমত হননি, তাই আমি তা ইনসাফের সাথে বর্ণনা করব। আল্লাহর প্রশংসায় আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য সত্যকে প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব করেছেন যে ইলম অর্জন করেছে, তা সামান্য হলেও, যেন সে তা বর্ণনা করে এবং গোপন না করে। যেমন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি আর-রাবি আদ-দিলাসি, মিসরে আমার কিরাতের মাধ্যমে। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল হক আল-কুরাশি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল মাজিদ আস-সাফরাভি এবং আব্দুল সামাদ ইবনে দাউদ আল-গাদাইরি আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাফিজ আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-কাসিম ইবনুল ফাদল আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল ইবনে নাজ্বীফ আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনুল হাসান আর-রাজি আমাদের খবর দিয়েছেন, বকর ইবনে সাহল আদ-দামিয়াতি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুসা ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, যাইদ ইবনে মাসওয়াল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ কোনো আলেমকে জ্ঞান দান করেন না যতক্ষণ না তার থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে তিনি তা গোপন করবেন না।" মুসা ইবনে মুহাম্মাদ হলেন আল-বুলকাভি, তিনি অভিযুক্ত, তবে এর জন্য ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে একটি গ্রহণযোগ্য সনদের সাক্ষী রয়েছে, যা আমরা হাফেজ আবু নুআইমের ‘ফাদলুল আলিম আল-আফিফ আলাল জাহিল আশ-শারিফ’ কিতাবে বর্ণনা করেছি।

আমার এই বক্তব্যের ওপর যারা আপত্তি করেন যে মুসনাদে সামান্য কিছু জাল হাদিস রয়েছে, তারা যেন জেনে রাখেন যে আমার ওপর তাদের এই আপত্তি দুটি কারণে একটি ওয়াজিব বিষয়ের ওপর আপত্তি। প্রথমত: আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, কোনো জাল হাদিস বর্ণনা করা জায়েজ নয় যতক্ষণ না তা জাল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। অতএব, আমরা এখন সেই হাদিসগুলো ইমাম আহমাদের সনদসহ উল্লেখ করব যা আমরা বর্ণনা করতে যাচ্ছি, যাতে ত্রুটির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এর আগে ইমাম আহমাদ পর্যন্ত আমার সনদটি উল্লেখ করছি।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বলের সম্পূর্ণ মুসনাদ, তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর অতিরিক্ত বর্ণনাসহ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন), আমাকে শুনিয়েছেন সিরিয়ার অন্যতম মুসনাদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সালিম আল-আনসারি, দামেশকে তাঁর বাসভবনে আমার প্রথম সফরের সময় আমার পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবু আল-গানায়েম আল-মুসলিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল্লান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্বল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-ফারাজ আল-রুসাফি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে আলী...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
بن الْمَذْهَب التَّمِيمِي أَنا أَحْمد بن جَعْفَر بن حمدَان الْقطيعِي ثَنَا عبد الله بن أَحْمد حَدثنِي أبي

الحَدِيث الأول بِهَذَا الإِسْنَادِ الإِمَامُ أَحْمَدُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ ثَنَا ابْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنِي الأَوْزَاعِيُّ وَغَيْرُهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ وُلِدَ لأَخِي أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غُلامٌ فَسَمَّوْهُ الْوَلِيدَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَمَّيْتُمُوهُ بِأَسْمَاءِ فَرَاعِنَتِكُمْ لَيَكُونَنَّ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْوَلِيدُ هُوَ أَشَرُّ عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ مِنْ فِرْعَوْنَ لِقَوْمِهِ انْتَهَى هَذَا الْحَدِيثُ أَوْرَدَهُ أَبُو حَاتِمِ بْنُ حِبَّانَ الْبُسْتِيُّ فِي تَارِيخِ الضُّعَفَاءِ فِي تَرْجَمَةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ وَقَالَ هَذَا خَبَرٌ بَاطِلٌ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا وَلا رَوَاهُ عُمَرُ وَلا حَدَّثَ بِهِ سَعِيدٌ وَلا الزُّهْرِيُّ وَلا هُوَ مِنْ حَدِيثِ الْأَوْزَاعِيّ بِهَذَا الْإِسْنَاد وَإِسْمَاعِيل ابْن عَيَّاشٍ لَمَّا كَبُرَ تَغَيَّرَ حِفْظُهُ فَكَثُرَ الْخَطَأُ فِي حَدِيثِهِ وَهُوَ لَا يَعْلَمُ وَقَدْ أَوْرَدَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي مَوْضِعَيْنِ مِنْ كِتَابِهِ الْمَوْضُوعَاتِ وَقَالَ لَعَلَّ هَذَا قَدْ أُدْخِلَ عَلَى ابْنِ عَيَّاشٍ لَمَّا كَبُرَ أَوْ رَوَاهُ وَهُوَ مُخْتَلَطٌ انْتهى

الحَدِيث الثَّانِي وَبِهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا حَجَّاجٌ ثَنَا فِطْرٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَرِيكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الرَّقِيمِ الْكِنْدِيِّ قَالَ خَرَجْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ زَمَنَ الْجَمَلِ فَلَقِينَا سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ بِهَا فَقَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَدِّ الأَبْوَابِ الشَّارِعَةِ فِي الْمُسْنَدِ وَتَرْكِ بَابِ عَلِيٍّ وَهَذَا الْحَدِيثُ عِلَّتُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَرِيكٍ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْمُخْتَارِ وَلَكِنْ قِيلَ إِنَّهُ تَابَ وَقَالَ الْجُوزَجَانِيُّ إِنَّهُ كَذَّابٌ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الرَّقِيمِ جَهِلَهُ النَّسَائِيُّ أَيْضًا وَقَدْ أَوْرَدَ ابْنُ لجوزي هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا فِي الْمَوْضُوعَاتِ وَقَالَ إِنَّهُ بَاطِلٍ لَا يَصِحُّ ثُمَّ قَالَ إِنَّهُ مِنْ وَضْعِ الرَّافِضَةِ قَابَلُوا بِهِ الْحَدِيثَ الْمُتَّفَقَ عَلَى صِحَّتِهِ فِي سَدِّ الأَبْوَابِ غَيْرَ بَابِ أَبِي بَكْرٍ وَهُوَ فِي الصَّحِيحَيْنِ قُلْتُ فَإِنِ اسْتُدِلَّ عَلَى وَضْعِهِ بِمُخَالَفَةِ هَذَا الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ وَإِلا فَإِنَّ الإِمَامَ أَحْمَدَ وَثَّقَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ شَرِيكٍ وَكَذَا وَثَّقَهُ ابْنُ مَعِينٍ وَاللَّهُ أعلم
ইবনুল মাযহাব আত-তামিমি, আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।

প্রথম হাদিস: এই সনদে ইমাম আহমাদ বলেছেন, আবু আল-মুগিরা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-আওযায়ি এবং অন্যান্যরা আমার নিকট যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে সালামার ভাইয়ের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিল এবং তারা তার নাম রাখল ওয়ালিদ। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা তোমাদের ফেরাউনদের নামে তার নামকরণ করেছ। অচিরেই এই উম্মতের মধ্যে এমন এক ব্যক্তির উদ্ভব হবে যাকে ওয়ালিদ বলা হবে, সে এই উম্মতের জন্য তার কওমের প্রতি ফেরাউনের চেয়েও অধিক অনিষ্টকারী হবে।" এই হাদিসটি এখানেই শেষ। এটি আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি তার 'তারিখুজ জুয়াফা' গ্রন্থে ইসমাইল ইবনে আইয়াশের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এটি একটি বাতিল সংবাদ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বলেননি, উমর এটি বর্ণনা করেননি এবং সাঈদ বা যুহরিও এটি বর্ণনা করেননি। আর এই সনদে এটি আওযায়ির হাদিসও নয়। ইসমাইল ইবনে আইয়াশ যখন বৃদ্ধ হন তখন তার মুখস্থ শক্তিতে পরিবর্তন ঘটেছিল, ফলে তার হাদিসে ভুলের আধিক্য ঘটে যা তিনি বুঝতে পারতেন না।" ইবনুল জাওযি তার 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থের দুই স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "সম্ভবত এটি ইবনে আইয়াশের বৃদ্ধ বয়সে তার বর্ণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অথবা তিনি এটি মতিভ্রম অবস্থায় বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত।

দ্বিতীয় হাদিস: পূর্বোক্ত সনদেই আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ফিতর আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে শারিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাকীম আল-কিন্দি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা উটের যুদ্ধের (জামাল) সময় মদিনায় গেলাম এবং সেখানে সাদ ইবনে মালিকের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদের দিকে উন্মুক্ত সকল দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন এবং কেবল আলীর দরজাটি খোলা রাখলেন।" এই হাদিসটির ত্রুটি হলো আবদুল্লাহ ইবনে শারিক; তিনি মুখতারের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবে বলা হয়ে থাকে যে তিনি তওবা করেছিলেন। আল-জুযজানি বলেছেন যে তিনি মিথ্যাবাদী। আর আবদুল্লাহ ইবনে রাকীমকেও ইমাম নাসাঈ অজ্ঞাত বলেছেন। ইবনুল জাওযি এই হাদিসটিও 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি বাতিল ও সহিহ নয়। এরপর তিনি বলেছেন: "এটি রাফেজিদের তৈরি করা জাল বর্ণনা, যার মাধ্যমে তারা আবু বকরের দরজা ব্যতীত সকল দরজা বন্ধ করার ব্যাপারে 'সহিহাইন'-এ বর্ণিত সর্বসম্মত সহিহ হাদিসটির মোকাবিলা করতে চেয়েছে।" আমি বলছি: যদি ওই সহিহ হাদিসের বিরোধিতাকেই এটি জাল হওয়ার দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় তবে তা স্বতন্ত্র বিষয়, অন্যথায় ইমাম আহমাদ আবদুল্লাহ ইবনে শারিককে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে মাঈনও তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
الحَدِيث الثَّالِث وَبِهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا وَكِيعٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَسِيدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سُدُّوا الأَبْوَابَ الَّتِي فِي الْمَسْجِدِ إِلا بَابَ عَلِيٍّ أَوْرَدَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ وَأَعَلَّهُ بِمُخَالَفَةِ الْحَدِيثِ الصَّحِيح وبهشام ابْن سَعْدٍ وَنَقَلَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ قَالَ لَيْسَ بِشَيْءٍ وَعَنْ أَحْمَدَ أَنَهُّ قَالَ لَيْسَ هُوَ بِمُحْكَمِ الْحَدِيثِ قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ هَذَا بَاطِلٌ لَا يَصِحُّ وَهُوَ من وضع الرافضة

الحَدِيث الرَّابِع وَبِهِ إِلَى أَحْمَدَ ثَنَا يَزِيدُ ثَنَا أَصْبَغُ بْنُ زَيْدٍ ثَنَا أَبُو شَرّ عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنِ احْتَكَرَ طَعَاما أَرْبَعِينَ لَيْلَة فقد بَرِيء من الله عز وجل وبريء الله مِنْهُ وَأَيّمَا عرضة أَصْبَحَ فِيهِمُ امْرُؤٌ جَائِعٌ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمْ ذِمَّةُ اللَّهِ تبارك وتعالى وَهَذَا الْحَدِيثُ رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ فِي الْكَامِلِ فِي تَرْجَمَةِ أَصْبَغَ بْنِ زَيْدٍ وَقَالَ إِنَّهُ لَيْسَ بِمَحْفُوظٍ وَرَوَاهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ مِنْ طَرِيقِ أَحْمَدَ وَقَالَ لَا يَصِحُّ ذَلِكَ قَالَ وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ أَصْبَغُ لَا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِخَبَرِهِ إِذَا انْفَرَدَ وَكَذَلِكَ أَوْرَدَ هَذَا الْحَدِيثَ فِي مَوْضُوعَاتِهِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ بَدْرٍ الْمَوْصِلِيُّ قُلْتُ وَفِي كَوْنِهِ مَوْضُوعًا نَظَرٌ فَإِنَّ أَحْمَدَ وَابْنَ مَعِينٍ وَالنَّسَائِيَّ وَثَّقُوا أَصْبَغَ وَقَدْ أَوْرَدَ الْحَاكِمَ فِي الْمُسْتَدْرَكِ عَلَى الصَّحِيحَيْنِ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ طَرِيقِ أصبغ

الحَدِيث الْخَامِس وَبِهِ إِلَى أَحْمَدَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ أَبِي ذَرَّةَ عَنْ جَعْفَرِ بن عَمْرو بن أُميَّة الضميري عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ مُعَمِّرٍ يُعَمَّرُ فِي الإِسْلامِ أَرْبَعِينَ سَنَةً إِلا صَرَفَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْوَاعًا مِنَ الْبَلاءِ الْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَالْبَرَصِ فَإِذَا بَلَغَ خَمْسِينَ سَنَةً لَيَّنَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْحِسَابَ فَإِذَا بَلَغَ السِّتين رَزَقَهُ اللَّهُ الإِنَابَةَ إِلَيْهِ بِمَا يُحِبُّ فَإِذَا بَلَغَ سَبْعِينَ أَحَبَّهُ اللَّهُ وَأَحَبَّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ فَإِذَا بَلَغَ الثَّمَانِينَ قَبِلَ اللَّهُ حَسَنَاتِهِ وَتَجَاوَزَ عَنْ سَيِّئَاتِهِ فَإِذَا بَلَغَ تِسْعِينَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تقدم من ذَنبه
তৃতীয় হাদিস: এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদের সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ওকী আমাদের নিকট হিশাম ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবনে আসীদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "মসজিদের দিকে মুখ করা সমস্ত দরজা বন্ধ করে দাও, কেবল আলীর দরজা ব্যতীত।" এটি ইবনুল জাওযী তাঁর 'মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং সহিহ হাদিসের পরিপন্থী হওয়ার কারণে ও হিশাম ইবনে সাদের কারণে একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "সে কোনো ধর্তব্য নয়।" এবং আহমদ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "সে সুদৃঢ় হাদিস বর্ণনাকারী নয়।" ইবনুল জাওযী বলেন: "এটি বাতিল, এটি বিশুদ্ধ নয় এবং এটি রাফেযীদের জাল করা হাদিস।"

চতুর্থ হাদিস: এটি আহমদের সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আসবাঘ ইবনে যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু শার আমাদের নিকট আবু যাহিরিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসীর ইবনে মুররা আল-হাদরামি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি চল্লিশ রাত পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য মজুত করে রাখল, সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা থেকে সম্পর্কহীন হলো এবং আল্লাহও তার থেকে সম্পর্কহীন হলেন। আর কোনো জনপদের মানুষের মধ্যে যদি কেউ সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকে, তবে তাদের থেকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার জিম্মাদারি বা নিরাপত্তা উঠে যায়।" এই হাদিসটি ইবনে আদি তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থে আসবাঘ ইবনে যায়েদের জীবনীতে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি সংরক্ষিত (মাহফুজ) নয়। ইবনুল জাওযী এটি আহমদের সূত্রে তাঁর 'মাওদুআত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি সহিহ নয়। তিনি বলেন যে ইবনে হিব্বান বলেছেন: "আসবাঘ এককভাবে কোনো বর্ণনা করলে তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা জায়েজ নয়।" একইভাবে আবু হাফস উমর ইবনে বদর আল-মাওসিলি এই হাদিসটি তাঁর জাল হাদিসের সংকলনে উল্লেখ করেছেন। আমি বলছি: এটি জাল হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ আহমদ, ইবনে মাঈন এবং নাসাঈ আসবাঘকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আর হাকেম তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহিহাইন' গ্রন্থে আসবাঘের সূত্রেই এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

পঞ্চম হাদিস: এটি আহমদের সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে ইয়াদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউসুফ ইবনে আবু যাঁররা আমার নিকট জাফর ইবনে আমর ইবনে উমাইয়াহ আদ-দামিরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামের অবস্থায় কোনো দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে যদি চল্লিশ বছর বয়স দান করা হয়, তবে আল্লাহ তার থেকে বিভিন্ন প্রকারের মুসিবত যেমন উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং শ্বেতী রোগ দূর করে দেন। যখন সে পঞ্চাশ বছর বয়সে পৌঁছায়, আল্লাহ তার হিসাব সহজ করে দেন। যখন সে ষাট বছর বয়সে পৌঁছায়, আল্লাহ তাকে তাঁর প্রিয় পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন। যখন সে সত্তর বছর বয়সে পৌঁছায়, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন এবং আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসে। যখন সে আশি বছর বয়সে পৌঁছায়, আল্লাহ তার নেক আমলগুলো কবুল করেন এবং তার মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেন। আর যখন সে নব্বই বছর বয়সে পৌঁছায়, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وَمَا تَأَخَّرَ وَسُمِّيَ أَسِيرَ اللَّهِ فِي أَرْضِهِ وَشَفَعَ لأَهْلِ بَيْتِهِ وَرَوَاهُ أَحَمْدُ أَيْضًا مَوْقُوفًا عَلَى أَنَسٍ

وَبِهِ إِلَى أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ ثَنَا الْفَرَجُ تنا مُحَمَّدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ إِذَا بَلَغَ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ أَرْبَعِينَ سَنَةً أَمِنَهُ اللَّهُ من أَنْوَاع من الْبُلاءِ مِنَ الْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَالْبَرَصِ وَإِذَا بَلَغَ الْخَمْسِينَ لَيَّنَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِ حِسَابَهُ وَإِذَا بَلَغَ السَّبْعِينَ أَحَبَّهُ اللَّهُ وَأَحَبَّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ فَإِذَا بَلَغَ الثَّمَانِينَ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنْهُ حَسَنَاتِهِ وَمَحَا عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ فَإِذَا بَلَغَ التِّسْعِينَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ وَسُمِّيَ أَسِيرَ اللَّهِ فِي الأَرْضِ وَشَفَعَ ِفي أَهْلِهِ وَعِلَّةُ الْحَدِيثِ الْمَرْفُوعُ يُوسُف ابْن أَبِي ذَرَّةَ وَفِي تَرْجَمِتِهِ أَوْرَدَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي تَارِيخِ الضُّعَفَاءِ وَقَالَ يَرْوِي الْمَنَاكِيرَ الَّتِي لَا أَصْلَ لَهَا مِنْ كَلامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَحِلُّ الاحْتِجَاجُ بِهِ بِحَالٍ رَوَى عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَنَسٍ ذَاكَ الْحَدِيثَ وَأَوْرَدَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ هَذَا الْحَدِيثَ مِنَ الطَّرِيقَيْنِ الْمَرْفُوعِ وَالْمَوْقُوفِ وَقَالَ هَذَا الْحَدِيثُ لَا يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَعَلَّ الْحَدِيثَ الْمَوْقُوفَ بِالْفَرَجِ بْنِ فَضَالَةَ وَحَكَى أَقْوَالَ الأَئِمَّةِ فِي تَضْعِيفِهِ قَالَ وَأَمَّا مُحَمَّدُ بْنُ عَامِرٍ فَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ يُقَلِّبُ الأَخْبَارَ وَيَرْوِي عَنِ الثِّقَاتِ مَا لَيْسَ مِنْ أَحَادِيثِهِمْ وَأَمَّا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَهُوَ الْعَرْزَمِيُّ قَالَ أَحْمَدُ تَرَكَ النَّاسُ حَدِيثَهُ قُلْتُ وَقَدْ خَلَطَ فِيهِ الْفَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ فَحَدَّثَ بِهِ هَكَذَا وَقَلَبَ إِسْنَادَهُ مَرَّةً أُخْرَى فَجَعَلَهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ مَرْفُوعًا أَيْضا رَوَاهُ أَحْمد أَيْضا

الحَدِيث السَّادِس وَبِه إِلَى أَحْمد حَدثنَا هَاشم حَدثنَا الْفرج حَدثنِي مُحَمَّد بن عبد الله الْعَرْزَمِي عَن مُحَمَّد بن عبد الله بن عَمْرو بن عُثْمَان عَن عبد الله بن عمر بن الْخطاب عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذكر مثل الحَدِيث الْمَوْقُوف على أنس هَكَذَا أوردهُ الإِمَام أَحْمد وَلم يسق لَفظه وَإِنَّمَا أوردهُ بعد حَدِيث أنس الْمَوْقُوف وَقَالَ مثله وَلم يذكر ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات حَدِيث
...এবং যা পরে হয়েছে, এবং তাকে জমিনে আল্লাহর বন্দী হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং সে তার পরিবারের সদস্যদের জন্য সুপারিশ করবে। এটি আহমাদও বর্ণনা করেছেন আনাস-এর ওপর মওকুফ হিসেবে।

আর তাঁর মাধ্যমে আহমাদ পর্যন্ত (সনদ), তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আন-নাদর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফারাজ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমির, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ হতে, তিনি জাফর ইবনে আমর হতে, তিনি আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হয়, আল্লাহ তাকে বিভিন্ন প্রকারের বিপদ-আপদ যেমন—পাগলামি, কুষ্ঠ এবং ধবল রোগ হতে নিরাপদ রাখেন। এবং যখন সে পঞ্চাশ বছরে পৌঁছে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার হিসাব সহজ করে দেন। যখন সে সত্তর বছরে পৌঁছে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন এবং আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসে। অতঃপর যখন সে আশি বছরে পৌঁছে, আল্লাহ তার নেক আমলসমূহ কবুল করেন এবং তার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন। আর যখন সে নব্বই বছরে পৌঁছে, আল্লাহ তার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন, এবং তাকে জমিনে আল্লাহর বন্দী হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং সে তার পরিবারের জন্য সুপারিশ করে। মারফু হাদিসটির ত্রুটি হলো ইউসুফ ইবনে আবি যাররাহ। ইবনে হিব্বান তার জীবনীগ্রন্থে 'দুর্বল বর্ণনাকারীদের ইতিহাস' এ তাকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, সে এমন সব প্রত্যাখ্যাত কথা বর্ণনা করে যার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মধ্যে কোনো ভিত্তি নেই। কোনো অবস্থাতেই তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়। সে জাফর ইবনে আমর হতে, তিনি আনাস হতে ঐ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনুল জাওজি 'জাল হাদিসসমূহ' গ্রন্থে এই হাদিসটি মারফু ও মওকুফ উভয় সূত্রে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সহিহ নয়। তিনি মওকুফ হাদিসটিকে আল-ফারাজ ইবনে ফাদালাহর কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এবং তাকে দুর্বল আখ্যা দেওয়ার ব্যাপারে ইমামগণের উক্তিসমূহ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আর মুহাম্মদ ইবনে আমের সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন, সে বর্ণনাগুলোকে উল্টে দেয় এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে এমন হাদিস বর্ণনা করে যা তাদের হাদিস নয়। আর মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, সে হলো আল-আরযামি। ইমাম আহমাদ বলেন, মানুষ তার হাদিস বর্জন করেছে। আমি বলছি, আল-ফারাজ ইবনে ফাদালাহ এতে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে এবং সে একে এভাবে বর্ণনা করেছে। আবার অন্য সময় সে এর সনদকে উল্টে দিয়েছে এবং একে ইবনে উমর-এর হাদিস হিসেবে মারফু করে দিয়েছে। ইমাম আহমাদ এটিও বর্ণনা করেছেন।

ষষ্ঠ হাদিস: এবং তাঁর মাধ্যমে আহমাদ পর্যন্ত (সনদ), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফারাজ, তিনি বলেছেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আরযামি, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি আনাস-এর ওপর মওকুফ হাদিসটির মতই উল্লেখ করেছেন। ইমাম আহমাদ একে এভাবেই উল্লেখ করেছেন তবে এর পূর্ণ পাঠ বর্ণনা করেননি, বরং তিনি আনাস-এর মওকুফ হাদিসের পর একে উল্লেখ করে বলেছেন "অনুরূপ"। ইবনুল জাওজি 'জাল হাদিসসমূহ' গ্রন্থে এই হাদিসটি উল্লেখ করেননি...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
ابْن عمر هَذَا وَكَانَ يَنْبَغِي أَن يذكرهُ فَإِن هَذَا مَوْضُوع قطعا وَمِمَّا يسْتَدلّ بِهِ عَليّ بِهِ عَليّ وضع الحَدِيث مُخَالفَة الْوَاقِع وَقد أَخْبرنِي من أَثِق بِهِ أَنه رأى رجلا حصل لَهُ جذام بعد السِّتين فضلا عَن الْأَرْبَعين وَمُحَمّد بن عبد الله ابْن عَمْرو بن عُثْمَان إِن كَانَ هُوَ الملقب بالديباج فَهُوَ لم يدْرك ابْن عمر وَقَالَ البُخَارِيّ لَا يكَاد يُتَابع على حَدِيثه وَإِن كَانَ غَيره فَهُوَ مَجْهُول

الحَدِيث السَّابِع وَبِهِ إِلَى الإِمَامِ أَحْمَدَ أَنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ حَسَّانٍ أَنا عُمَارَةُ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ بَيْنَمَا عَائِشَةُ فِي بَيْتِهَا سَمِعَتْ صَوْتًا فِي الْمَدِينَةِ فَقَالَتْ مَا هَذَا فَقَالُوا عِيرٌ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَدِمَتْ مِنَ الشَّامِ تَحْمِلُ مِنْ كُلِّ شَيْء قَالَ وَكَانَت سَبْعمِائة بَعِيرٍ فَارْتَجَّتِ الْمَدِينَةُ مِنَ الصَّوْتِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ قَدْ رَأَيْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ حَبْوًا فَبَلَغَ ذَلِكَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَقَالَ إِنِ اسْتَطَعْتُ لأُدْخِلَنَّهَا قَائِمًا فَجَعَلَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل بِأَقْتَابِهَا وَأَحْمَالِهَا وَهَذَا الْحَدِيثُ أَوْرَدَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ وَقَالَ قَالَ أَحْمَدُ هَذَا الْحَدِيثُ كَذِبٌ مُنْكَرٌ قَالَ وَعُمَارَةُ يَرْوِي أَحَادِيثَ مَنَاكِيرَ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ لَا يُحْتَجُّ بِهِ انْتهى

الحَدِيث الثَّامِن وَبِهِ إِلَى أَحْمَدَ ثَنَا أَبُو الْيَمَانِ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي عِقَالٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَسْقَلانُ أَحَدُ الْعَرُوسَيْنِ يُبْعَثُ مِنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةُ سَبْعُونَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ يُبْعَثُ مِنْهَا خَمْسُونَ أَلْفًا شُهَدَاءَ وُفُودًا إِلَى اللَّهِ عز وجل وَبِهَا صُفُوفُ الشُّهَدَاءِ رُؤْسهمْ مُقَطَّعَةٌ فِي أَيْدِيهِمْ تَثُجُّ أَوْدَاجَهُمْ دَمًا يَقُولُونَ {رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الميعاد} فَيَقُولُ صَدَقَ عِبَادِي اغْسِلُوهُمْ فِي نهر الفيضة فَيخْرجُونَ مِنْهُ نُقَاةً بِيضًا فَيَسْرَحُونَ فِي الْجَنَّةِ حَيْثُ شاؤا وَهَذَا الحَدِيث أوردهُ ابْن
ইবনে উমরের এই বর্ণনাটি; আর এটি উল্লেখ করা উচিত ছিল, কারণ এটি নিশ্চিতভাবেই জাল। আর হাদিস জাল হওয়ার স্বপক্ষে বাস্তবতার সাথে এর বৈপরীত্যকে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়। আমাকে এমন এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছেন যার ষাট বছর বয়সের পর কুষ্ঠরোগ হয়েছে, চল্লিশ বছরের তো কথা ছেড়েই দিলাম। আর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান যদি 'আদ-দিবাজ' উপাধিধারী ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে তিনি ইবনে উমরের সাক্ষাৎ পাননি। ইমাম বুখারি বলেছেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা হয় না। আর যদি তিনি অন্য কেউ হন, তবে তিনি অজ্ঞাত।

সপ্তম হাদিস: ইমাম আহমাদ পর্যন্ত সনদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুস সামাদ ইবনে হাসান, তিনি উমারা থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আয়েশা (রা.) নিজ ঘরে থাকাকালীন মদিনায় একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "এটি কী?" তারা বলল, এটি আবদুর রহমান ইবনে আউফ-এর একটি বাণিজ্য কাফেলা যা সিরিয়া থেকে এসেছে এবং এতে সব ধরণের পণ্য রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, সেটি ছিল সাতশত উট। সেই শব্দে মদিনা প্রকম্পিত হয়ে উঠল। আয়েশা (রা.) বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, "আমি আবদুর রহমান ইবনে আউফকে হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে দেখেছি।" এই সংবাদ যখন আবদুর রহমানের কাছে পৌঁছাল, তিনি বললেন, "আমি যদি সক্ষম হই তবে অবশ্যই তাতে দাঁড়িয়ে প্রবেশ করব।" অতঃপর তিনি সেই কাফেলাটি তার হাওদা ও মালামালসহ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে দিলেন। এই হাদিসটি ইবনুল জাওজি 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইমাম আহমাদ বলেছেন: এই হাদিসটি মিথ্যা ও মুনকার। তিনি আরও বলেছেন যে, উমারা মুনকার হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন। আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: উমারা ইবনে জাযান দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। সমাপ্ত।

অষ্টম হাদিস: ইমাম আহমাদ পর্যন্ত সনদে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি উমর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু ইকাল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আসকালান হলো দুই কনের একজন। সেখান থেকে কিয়ামতের দিন সত্তর হাজার মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে যাদের কোনো হিসাব হবে না। সেখান থেকে পঞ্চাশ হাজার শহীদকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রতিনিধি দল হিসেবে পাঠানো হবে। সেখানে শহীদদের কাতার থাকবে যাদের মস্তক ছিন্ন হয়ে তাদের নিজেদের হাতে থাকবে এবং তাদের ঘাড়ের রগ থেকে রক্ত প্রবাহিত হবে। তারা বলবে: {হে আমাদের রব, তোমার রাসুলগণের মাধ্যমে আমাদের যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা আমাদের দান করো এবং কিয়ামতের দিন আমাদের লাঞ্ছিত করো না; নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করো না।} তখন আল্লাহ বলবেন: আমার বান্দারা সত্য বলেছে। তাদের 'ফাইদাহ' নদীতে গোসল করাও। তারা সেখান থেকে পরিচ্ছন্ন ও শুভ্র হয়ে বের হবে এবং জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে বিচরণ করবে।" এই হাদিসটি ইবনে...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ وَقَالَ هَذَا حَدِيث لَا يَصِحُّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَمِيعُ طُرُقِهِ تَدُورُ عَلَى أَبِي عِقَالٍ وَاسْمُهُ هِلالُ بْنُ زَيْدِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ ابْنُ حِبَّانَ يَرْوِي عَنْ أَنَسٍ أَشْيَاءَ مَوْضُوعَةً مَا حدث بهَا أنس قطّ لَا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِهِ بِحَالٍ انْتَهَى وَفِي تَرْجَمَةِ أَبِي عِقَالٍ أَوْرَدَهُ ابْنُ عَدِيٍّ فِي الْكَامِلِ مِنْ رِوَايَةِ جَمَاعَةٍ عَنْهُ وَقَالَ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَقَالَ الذَّهَبِيُّ فِي الْمِيزَانِ بَاطِل

الحَدِيث التَّاسِع وَبِهِ إِلَى أَحْمَدَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى مِنْ أَهْلِ مَرْوَ ثَنَا أَوْسُ بْنُ عَبْدِ الله بن بُرَيْدَة أَخْبرنِي أخي سَهْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ هُوَ بُرَيْدَة من الْحصيب سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ سَتَكُونُ بَعْدِي بُعُوثً كَثِيرَةٌ فَكُونُوا فِي بَعْثِ خُرَاسَانَ ثُمَّ انْزِلُوا بِمَدِينَةِ مَرْوَ بَنَاهَا ذُو الْقَرْنَيْنِ وَدَعَا لَهَا بِالْبَرَكَةِ وَلا يَضِيرُ أَهْلُهَا سُوءٌ وَهَذَا الْحَدِيثُ أَوْرَدَهُ أَبُو حَاتِمِ ابْن حِبَّانَ فِي الضُّعَفَاءِ وَقَالَ سَهْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ يَرْوِي عَنْ أَبِيهِ مَا لَا أَصْلَ لَهُ لَا نُحِبُّ أَنْ يُشْتَغِلَ بِحَدِيثِهِ انْتَهَى وَأَخُوهُ أَوْسٌ ضَعِيفٌ جِدًّا قَالَ الْبُخَارِيُّ فِيهِ نَظَرٌ وَهَذِهِ الْعِبَارَةُ يَقُولُهَا الْبُخَارِيُّ فِي مَنْ هُوَ مَتْرُوكٌ وَقَالَ النَّسَائِيُّ لَيْسَ بِثِقَةٍ وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ مَتْرُوكٌ وَاللَّهُ أَعْلَمُ انْتَهَى كَلامُ شَيْخِنَا

 

‌‌وَهَذَا حِين الشُّرُوع فِي الْأَجْوِبَة

وَأول شَيْء يتعقب فِيهَا على شَيخنَا احتجاجه بِحَدِيث أبي هُرَيْرَة الَّذِي تقدم ذكره من رِوَايَة مُوسَى الْبُلْقَاوِيُّ واعترافه بِأَنَّهُ مُتَّهم أَي أَن الْحفاظ اتَّهَمُوهُ بِالْكَذِبِ وَإِذا كَانَ كَذَلِك فَلَا يصلح أَن يحْتَج بحَديثه وَقد خرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية هَذَا الحَدِيث من وَجه آخر عَن أبي هُرَيْرَة وَفِيه من لَا يعرف وَهُوَ من رِوَايَة مُحَمَّد بن عَبده القَاضِي وَكَانَ يَدعِي سَماع مَا لم يسمع وَهُوَ مَشْهُور وَلَو احْتج بِمَا أخرجه أَبُو دَاوُد من حَدِيث
আল-জাওযি 'আল-মাওজুআত' গ্রন্থে (এটি উল্লেখ করেছেন) এবং বলেছেন, "এই হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। এর সকল বর্ণনা সূত্র আবু ইক্বালের মাধ্যমে আবর্তিত হয়েছে, যার নাম হিলাল ইবনে যাইদ ইবনে ইয়াসার।" ইবনে হিব্বান বলেছেন, "সে আনাস (রা.)-এর সূত্রে জাল বিষয় বর্ণনা করে, যা আনাস (রা.) কখনো বলেননি। কোনো অবস্থাতেই তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।" (উদ্ধৃতি শেষ)। আবু ইক্বালের জীবনীতে ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে একদল রাবির সূত্রে তার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি সংরক্ষিত নয়। আয-যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন, "এটি বাতিল"

নবম হাদিস: আর এই একই সূত্রে ইমাম আহমাদ পর্যন্ত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মার্ভ-নিবাসী হাসান ইবনে ইয়াহইয়া হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আওস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ভাই সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা বুরাইদাহ ইবনুল হাসিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে— "আমার পরে অনেক যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হবে, তোমরা খোরাসানের অভিযানে থেকো। তারপর তোমরা মার্ভ শহরে অবস্থান গ্রহণ করো। এটি যুল-কারনাইন নির্মাণ করেছেন এবং এর বরকতের জন্য দোয়া করেছেন। আর এর অধিবাসীদের কোনো অনিষ্ট ক্ষতি করবে না।" এই হাদিসটি আবু হাতিম ইবনে হিব্বান 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ মুনকারুল হাদিস। সে তার পিতার সূত্রে এমন বিষয় বর্ণনা করে যার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা চাই না কেউ তার হাদিস নিয়ে ব্যস্ত থাকুক।" (উদ্ধৃতি শেষ)। আর তার ভাই আওস অত্যন্ত দুর্বল। ইমাম বুখারি তার সম্পর্কে বলেছেন "তার ব্যাপারে আপত্তি আছে"। আর ইমাম বুখারি এই পরিভাষাটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যে পরিত্যক্ত। আন-নাসায়ি বলেছেন, "সে নির্ভরযোগ্য নয়।" আদ-দারা কুতনি বলেছেন, "সে পরিত্যক্ত।" আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। এখানে আমাদের শাইখের কথা শেষ হলো।

 

‌‌আর এখান থেকেই উত্তরগুলো দেওয়া শুরু হলো

আর এতে আমাদের শাইখের ওপর প্রথম যে আপত্তি তোলা হয়, তা হলো আবু হুরায়রা (রা.)-এর সেই হাদিসটি দলিল হিসেবে পেশ করা যা মুসা আল-বালকাওয়ি-এর বর্ণনায় আগে উল্লেখ করা হয়েছে; এবং তার এই স্বীকারোক্তি যে সে অভিযুক্ত, অর্থাৎ হাফিজগণ তাকে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন তার হাদিসকে দলিল হিসেবে পেশ করা সমীচীন নয়। আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে অন্য একটি দিক থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যাতে এমন একজন আছে যাকে চেনা যায় না। আর এটি মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ আল-কাদীর বর্ণনা থেকে এসেছে, যে এমন বিষয় শোনার দাবি করত যা সে শোনেনি এবং এ বিষয়ে সে সুপরিচিত। আর যদি তিনি আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটিকে দলিল হিসেবে পেশ করতেন—
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
أبي هُرَيْرَة أَيْضا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من سُئِلَ علما فكتمه ألْجمهُ الله بلجام من نَار لَكَانَ أولى والْحَدِيث وَإِن لم يكن فِي نِهَايَة الصِّحَّة لكنه صَالح للحجة وَهُوَ على كل حَال أولى من حَدِيث الْبُلْقَاوِيُّ ثمَّ نشرع الْآن فِي الْجَواب عَن الْأَحَادِيث التِّسْعَة الَّتِي أوردهَا وَاقْتصر عَلَيْهَا ونجيب عَنْهَا أَولا من طَرِيق الْإِجْمَال بِأَن الْأَحَادِيث الَّتِي ذكرهَا لَيْسَ فِيهَا شَيْء من أَحَادِيث الْأَحْكَام فِي الْحَلَال وَالْحرَام والتساهل فِي إبرادها مَعَ ترك الْبَيَان بِحَالِهَا شَائِع وَقد ثَبت عَن الإِمَام أَحْمد وَغَيره من الْأَئِمَّة أَنهم قَالُوا إِذا روينَا فِي الْحَلَال وَالْحرَام شددنا وَإِذا روينَا فِي الْفَضَائِل وَنَحْوهَا تساهلنا
আবু হুরায়রা থেকেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।” এটিই ছিল অধিকতর সমীচীন। আর হাদিসটি যদিও বিশুদ্ধতার চূড়ান্ত পর্যায়ে নেই, তবুও এটি দলিল হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য এবং এটি যেকোনো অবস্থায় বুলকাউয়ি-র হাদিসের চেয়ে উত্তম। অতঃপর এখন আমরা সেই নয়টি হাদিসের জবাব প্রদান শুরু করব যা তিনি উল্লেখ করেছেন এবং কেবল যেগুলোর ওপর তিনি সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আমরা প্রথমে সেগুলোর সামগ্রিক উত্তর দেব এই মর্মে যে, তিনি যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে হালাল ও হারাম সংক্রান্ত বিধিবিধানের কোনো হাদিস নেই। আর সেগুলোর অবস্থা বর্ণনা না করে কেবল উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন একটি প্রচলিত রীতি। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামদের থেকে এটি প্রমাণিত যে তাঁরা বলেছেন: “যখন আমরা হালাল ও হারাম বিষয়ে বর্ণনা করি তখন কঠোরতা অবলম্বন করি, আর যখন আমরা ফযিলত ও এই জাতীয় বিষয়ে বর্ণনা করি তখন শিথিলতা প্রদর্শন করি।”
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
وَهَكَذَا حَال هَذِه الْأَحَادِيث

فَالْأول مِنْهَا يدْخل فِي أدب التَّسْمِيَة وَفِيه أَخْبَار عَن بعض الْأُمُور الْآتِيَة وَلِهَذَا أوردهُ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة وَالثَّانِي كالثالث فِي الْفَضَائِل وَالرَّابِع فِي الْحَث على الْكَرم وَالْبر والصلة ورعاية الْجَار وَالْخَامِس كالسادس فِي فضل طول الْعُمر فِي الْإِسْلَام وَالسَّابِع يحْتَمل التَّأْوِيل وَهُوَ أَمر نسبي وَالثَّامِن كالتاسع فِي فَضَائِل بعض الْبلدَانِ وفيهَا الْحَث على الرِّبَاط وَالْجهَاد

وَأما من حَيْثُ التَّفْصِيل

 

‌‌فَالْحَدِيث الأول مِنْهَا حَدِيث سعيد ابْن الْمسيب فِي شَأْن التَّسْمِيَة بالوليد فَيَقُول علته قَول ابْن حبَان إِنَّه بَاطِل دَعْوَى لَا برهَان عَلَيْهَا وأتى بِدَلِيل يشْهد لَهَا وَقَوله إِن رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ لم يقلهُ وَلَا عمر وَلَا سعيد وَلَا الزُّهْرِيّ شَهَادَة نفي صدرت عَن غير استقراء تَامّ على مَا سنبنيه فَهِيَ مَرْدُودَة وَكَلَامه فِي إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش غير مَقْبُول كُله فَإِن رِوَايَة إِسْمَاعِيل عَن الشاميين عِنْد الْجُمْهُور قَوِيَّة وَهَذَا مِنْهَا وَإِنَّمَا ضَعَّفُوهُ فِي رِوَايَته عَن غير أهل الشَّام نَص على ذَلِك يحيى بن معِين وَأحمد بن حَنْبَل وَعلي بن الْمَدِينِيّ وَعَمْرو بن عَليّ الفلاس وَعبد الرَّحْمَن بن إِبْرَاهِيم دُحَيْم وَالْبُخَارِيّ وَيَعْقُوب بن سُفْيَان وَيَعْقُوب بن شيبَة وَأَبُو إِسْحَاق الْجوزجَاني وَالنَّسَائِيّ والدولابي وَأَبُو أَحْمد بن عدي وَآخَرُونَ وَقد وَثَّقَهُ بَعضهم مُطلقًا وَالْعجب أَن ابْن حبَان مُوَافق للْجَمَاعَة على أَن حَدِيثه عَن الشاميين مُسْتَقِيم وَهَذِه عِبَارَته فِيهِ كَانَ إِسْمَاعِيل من الْحفاظ المتقنين فِي حَدِيثهمْ فَلَمَّا كبر تغير حفظه فَمَا حفظه فِي صباه وحداثته أَتَى بِهِ على وَجهه وَمَا حفظه على الْكبر من حَدِيث الغرباء خلط فِيهِ وَأدْخل الْإِسْنَاد فِي الْإِسْنَاد وألزق الْمَتْن بِالْمَتْنِ انْتهى فَهَذَا كَمَا ترَاهُ قيد كَلَامه بِحَدِيث الغرباء وَلَيْسَ حَدِيثه
এই হাদিসগুলোর অবস্থা এমনই।

এগুলোর মধ্যে প্রথমটি নামকরণের শিষ্টাচার বিষয়ক এবং এতে ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কিছু বিষয়ের সংবাদ রয়েছে। এই কারণেই তিনি একে ‘দালায়েলুন নবুওয়াত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হাদিসটি ফজিলত বা গুণাবলি বিষয়ক। চতুর্থটি দানশীলতা, নেক কাজ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রতিবেশীর হকের প্রতি যত্নশীল হওয়ার উৎসাহ প্রদান বিষয়ক। পঞ্চম ও ষষ্ঠ হাদিসটি ইসলামে দীর্ঘায়ু লাভের ফজিলত বিষয়ক। সপ্তমটি ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে এবং এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। অষ্টম ও নবম হাদিসটি কিছু ভূখণ্ডের ফজিলত বিষয়ক এবং এতে রিবাত (সীমান্ত পাহারা) ও জিহাদের উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।

আর বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে:

 

‌‌প্রথম হাদিসটি হলো ‘ওয়ালিদ’ নাম রাখার বিষয়ে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের হাদিস। তিনি এর ত্রুটি হিসেবে ইবনে হিব্বানের এই বক্তব্যটি উল্লেখ করেছেন যে, এটি ‘বাতিল’; এটি এমন একটি দাবি যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বরং তিনি এমন প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন যা এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। তার (ইবনে হিব্বান) এই উক্তি যে, ‘এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেননি এবং উমর, সাঈদ কিংবা যুহরিও এটি বলেননি’—এটি একটি নেতিবাচক সাক্ষ্য যা পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ছাড়াই প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি আমরা অচিরেই প্রতিষ্ঠিত করব; সুতরাং এটি প্রত্যাখ্যাত। ইসমাইল ইবনে আইয়াশ সম্পর্কে তার পুরো বক্তব্যটিও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ জমহুর উলামায়ে কেরামের নিকট শামবাসীদের থেকে ইসমাইলের বর্ণনা শক্তিশালী এবং এই হাদিসটি সেই পর্যায়েরই অন্তর্ভুক্ত। তারা কেবল শাম অঞ্চল ব্যতীত অন্য অঞ্চলের লোকদের থেকে তার বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহিয়া ইবনে মাঈন, আহমদ ইবনে হাম্বল, আলী ইবনুল মাদিনি, আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস, আবদুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম দুহাইম, বুখারি, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ, আবু ইসহাক আল-জুজজানি, নাসাঈ, দাওলাবি, আবু আহমদ ইবনে আদি এবং আরও অনেকে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ তাকে নিঃশর্তভাবে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইবনে হিব্বান নিজেও জমহুর উলামাদের সাথে একমত যে, শামবাসীদের থেকে ইসমাইলের হাদিস সঠিক ও সুসংগত। তার সম্পর্কে ইবনে হিব্বানের ভাষ্যটি হলো: “ইসমাইল তাদের হাদিস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি বৃদ্ধ হলেন, তখন তার স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফলে যৌবন ও শুরুর বয়সে তিনি যা মুখস্থ করেছিলেন তা তিনি যথাযথভাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে বহিরাগতদের থেকে তিনি যা মুখস্থ করেছিলেন, তাতে তিনি সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, এক সনদকে অন্য সনদে প্রবেশ করিয়েছেন এবং এক মতনকে অন্য মতনের সাথে জুড়ে দিয়েছেন।” (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সুতরাং আপনি যেমন দেখছেন, তিনি তার বক্তব্যকে বহিরাগতদের হাদিসের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন, আর তার এই হাদিসটি...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الْمُتَقَدّم من حَدِيثه عَن الغرباء وَإِنَّمَا هُوَ من رِوَايَته عَن شَامي وَهُوَ الْأَوْزَاعِيّ وَأما إِشَارَته إِلَى أَنه تغير حفظه وَاخْتَلَطَ فقد استوعبت كَلَام الْمُتَقَدِّمين فِيهِ فِي كتابي تَهْذِيب التَّهْذِيب وَلم أجد عَن أحد مِنْهُم أَنه نسبه إِلَى الِاخْتِلَاط وَإِنَّمَا نسبوه إِلَى سوء الْحِفْظ فِي حَدِيثه عَن غير الشاميين كَأَنَّهُ كَانَ إِذا رَحل إِلَى الْحجاز أَو الْعرَاق اتكل على حفظه فيخطئ فِي أَحَادِيثهم قَالَ يَعْقُوب بن سُفْيَان تكلم نَاس فِي إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش وَإِسْمَاعِيل ثِقَة عدل أعلم النَّاس بِحَدِيث الشَّام وَأكْثر مَا قَالُوا يغرب عَن ثِقَات الْمَدَنِيين والمكيين انْتهى وَمَعَ كَون إِسْمَاعِيل بِهَذَا الْوَصْف وَحَدِيثه الْمُتَقَدّم عَن شَامي فَلم ينْفَرد بِهِ كَمَا قَالَ ابْن حبَان وَابْن الْجَوْزِيّ وَإِنَّمَا انْفَرد بِذكر عمر فِيهِ خَاصَّة على أَن الروَاة عَنهُ لم يتفقوا على ذَلِك فقد رَوَاهُ الْحَارِث بن أبي أُسَامَة فِي مُسْنده وَأَبُو نعيم فِي دَلَائِل النُّبُوَّة من طَرِيقه قَالَ حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن أبي إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش عَن عبد الرَّحْمَن بن عَمْرو عَن الزُّهْرِيّ عَن سعيد بن الْمسيب قَالَ ولد لأخي أم سَلمَة فَذكر الحَدِيث وَلَيْسَ فِيهِ عمر نعم رَوَاهُ سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن ابْن بنت شُرَحْبِيل عَن إِسْمَاعِيل ابْن عَيَّاش فَذكر فِيهِ عمر حَدثنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن أَحْمد بن عَليّ الْهَاشِمِي وَلَفظه أَنا أَبُو الحزم ابْن أبي الْفَتْح الْحَنْبَلِيّ قَالَ قرىء على مؤنسه بنت أبي بكر بن أَيُّوب وَنحن نسْمع عَن عفيفة بنت أَحْمد أَنا عبد الْوَاحِد ابْن مُحَمَّد ثَنَا أَيُّوب سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش حَدثنِي عبد الرَّحْمَن بن عَمْرو الْأَوْزَاعِيّ عَن ابْن شهَاب الزُّهْرِيّ عَن سعيد ابْن الْمُسَيِّبِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذكر مثل حَدِيث أبي الْمُغيرَة سَوَاء وَزَاد فِيهِ بعد قَوْله بأسماء فراعنتكم غيروا اسْمه فَسَموهُ عبد الله فَإِنَّهُ سَيكون والبقية سَوَاء وَأما من تَابع إِسْمَاعِيل عَن الْأَوْزَاعِيّ فقد رَوَاهُ عَن الْأَوْزَاعِيّ أَيْضا الْوَلِيد بن مُسلم الدِّمَشْقِي وَبشر ابْن بكر التنيسِي والهقل بن زِيَاد كَاتب الْأَوْزَاعِيّ وَمُحَمّد بن كثير لكِنهمْ أَرْسلُوهُ فَلم يذكرُوا فِيهِ عمر كَمَا وَقع عِنْد الْحَارِث وَأما رِوَايَة الْوَلِيد فأخرجها يَعْقُوب بن سُفْيَان فِي تَارِيخه قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن خَالِد بن الْعَبَّاس
তার বর্ণিত "গুরবা" (অপরিচিত) সংক্রান্ত হাদিসটি মূলত একজন শামী (সিরীয়) বর্ণনাকারী অর্থাৎ আওযাঈর সূত্রে বর্ণিত। আর তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ও স্মৃতিবিভ্রাটের (ইখতিলাত) যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমি আমার ‘তহযীবুত তহযীব’ গ্রন্থে পূর্বসূরিদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। তাদের মধ্য থেকে কাউকে আমি পাইনি যিনি তাকে স্মৃতিবিভ্রাটের (ইখতিলাত) সাথে সম্পর্কিত করেছেন। বরং তারা তাকে অ-শামীদের (সিরীয় ব্যতীত অন্যদের) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী বলেছেন। মনে হয় তিনি যখন হিজায বা ইরাক সফরে যেতেন, তখন তিনি নিজের মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করতেন, ফলে তাদের হাদিস বর্ণনায় ভুল করে ফেলতেন। ইয়াকুব ইবনে সুফইয়ান বলেছেন: "ইসমাইল ইবনে আইয়াশ সম্পর্কে কিছু লোক বিরূপ মন্তব্য করেছেন; অথচ ইসমাইল নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ও ন্যায়পরায়ণ (আদল), এবং সিরীয় হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। তার সম্পর্কে তারা সর্বোচ্চ যা বলেছেন তা হলো, তিনি মদীনা ও মক্কার নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে ‘গরীব’ (অপরিচিত) হাদিস বর্ণনা করেন।" (সমাপ্ত)। ইসমাইলের এই গুণাবলি থাকা সত্ত্বেও এবং তার পূর্বোক্ত হাদিসটি একজন শামী (সিরীয়) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি এটি বর্ণনায় একক নন—যেমনটি ইবনে হিব্বান ও ইবনুল জাওযী বলেছেন। বরং তিনি বিশেষ করে এতে উমরের নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে একক হয়ে গেছেন, যদিও তার ছাত্ররা এ বিষয়ে একমত হতে পারেননি। আল-হারিস ইবনে আবি উসামা তার মুসনাদে এবং আবু নুআইম ‘দালাইলুন নুবুওয়্যাহ’ গ্রন্থে তার সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে ইসমাইল ইবনে আবি ইসমাইল ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আমর থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামার ভাইয়ের একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো—অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং এতে উমরের নাম নেই। হ্যাঁ, সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বিনতে শুরাহবিল ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে উমরের নাম উল্লেখ করেছেন। আমাদের কাছে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-হাশেমী বর্ণনা করেছেন—তার শব্দে: আমাকে আবুল হাযম ইবনে আবুল ফাতহ আল-হানবালী জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুনিসাহ বিনতে আবু বকর ইবনে আইয়ুবের কাছে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা শুনছিলাম, তিনি আফিফাহ বিনতে আহমদ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, আমাদের কাছে আইয়ুব সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আব্দুর রহমান ইবনে আমর আল-আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব থেকে, তিনি উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি হুবহু আবু আল-মুগীরার হাদিসের মতো বর্ণনা করেন এবং এতে "তোমাদের ফেরাউনদের নামে" কথাটির পরে এই অংশটুকু বৃদ্ধি করেন যে: "তার নাম পরিবর্তন করো এবং তার নাম রাখো আব্দুল্লাহ, কেননা অচিরেই হবে..." এবং অবশিষ্টাংশ একই রকম। আর যারা ইসমাইলের সমর্থনে আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আদ-দিমাশকী, বিশর ইবনে বকর আত-তান্নীসী, আওযাঈর লেখক হিকল ইবনে যিয়াদ এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসীরও আওযাঈ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; কিন্তু তারা এটি ‘মুরসাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে উমরের কথা উল্লেখ করেননি, যেমনটি হারিসের বর্ণনায় ঘটেছে। আর ওয়ালিদের বর্ণনাটি ইয়াকুব ইবনে সুফইয়ান তার ইতিহাসে সংকলন করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
السكْسكِي حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم ثَنَا أَبُو عَمْرو الْأَوْزَاعِيّ فَذكره وَزَاد فِي آخِره قَالَ الْأَوْزَاعِيّ فَكَانُوا يرَوْنَ أَنه الْوَلِيد بن عبد الْملك ثمَّ رَأينَا أَنه الْوَلِيد بن يزِيد لفتنة النَّاس بِهِ حَتَّى خَرجُوا عَلَيْهِ فَقَتَلُوهُ فانفتحت الْفِتْنَة على الْأمة وَكثر فيهم الْهَرج انْتهى وَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُؤَمَّلِ بْنِ الْحَسَنِ ثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ حَدَّثَنَا نعيم ابْن حَمَّادٍ ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ وُلِدَ لأَخِي أُمِّ سَلَمَةَ غُلامٌ فَسَمَّوْهُ الْوَلِيدَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَمَّيْتُمُوهُ بِأَسَامِي فَرَاعِنَتِكُمْ لَيَكُونَنَّ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْوَلِيدُ هُوَ شَرٌّ عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ مِنْ فِرْعَوْنَ عَلَى قَوْمِهِ قَالَ الزُّهْرِيُّ إِنِ اسْتُخْلِفَ الْوَلِيدُ بْنُ يَزِيدَ فَهُوَ هُوَ وَإِلا فَهُوَ الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ الْحَاكِمُ صَحِيحٌ وَأَمَّا رِوَايَةُ بِشْرِ بْنِ بكر فأخرجها الْبَيْهَقِيُّ فِي دَلائِلِ النُّبُوَّةِ عَنِ الْحَاكِمِ عَنِ الأَصَمِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُثْمَانَ التَّنُوخِيِّ عَنْ بِشْرِ بْنِ بَكْرٍ حَدَّثَنِي الأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيّ حَدثنِي سعيد ابْن الْمُسَيِّبِ الْحَدِيثَ وَفِيهِ غَيَّرُوا اسْمَهُ فَسَموهُ عبد الله فَإِنَّهُ سَيكون فِي هَذِهِ الأُمَّةِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْوَلِيد لَهو شَرّ لأمتي مِنْ فِرْعَوْنَ لِقَوْمِهِ وَزَادَ فِيهِ أَيْضًا إِنَّهُ أَخٌ لأُمِّ سَلَمَةَ مِنْ أُمِّهَا وَأَمَّا رِوَايَةُ مُحَمَّدِ بْنِ كَثِيرٍ وَالْهِقْلِ بْنِ زِيَادٍ فَأَشَارَ إِلَيْهِمَا الذَّهَبِيُّ فِي تَرْجَمَةِ الْوَلِيدِ بْنِ يَزِيدَ فِي تَارِيخِ الإِسْلامِ ثُمَّ وَجَدْتُهُمَا فِي تَرْجَمَةِ الْوَلِيدِ فِي تَارِيخِ ابْنِ عَسَاكِرَ أَخْرَجَهُمَا مِنْ طَرِيقِ الزُّهْرِيِّ فِي الزُّهْرِيَّاتِ ثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى ثَنَا الْهِقْلُ بْنِ زِيَادٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ ابْن الْمسيب قَالَ ولد لأخي أم سَلَمَةَ غُلامٌ فَسَمَّوْهُ الْوَلِيدَ الْحَدِيثَ قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ وُلِدَ لآلِ أُمِّ سَلَمَةَ وَلَدٌ فَسَمَّوْهُ الْوَلِيدَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تُسَمُّونَ الْوَلِيدَ بِأَسْمَاءِ فَرَاعِنَتِكُمْ فَسَمُّوهُ عَبْدَ اللَّهِ وَتَابَعَ الأَوْزَاعِيَّ عَلَى رِوَايَةٍ لَهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الزبيدِيّ وَيحْتَمل أَنه الَّذِي اتهمه إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ لأَنَّهُ شَامِيٌّ أَيْضًا وَمَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ الْبَصْرِيُّ وَأما
আস-সাকসাকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আমর আল-আওজায়ি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি এটি উল্লেখ করেন এবং এর শেষে যোগ করেন: আল-আওজায়ি বলেছেন, তারা মনে করতেন যে তিনি হলেন আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক। তারপর আমরা দেখলাম যে তিনি হলেন আল-ওয়ালিদ বিন ইয়াজিদ, তার মাধ্যমে মানুষের ফিতনায় পতিত হওয়ার কারণে, এমনকি তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাকে হত্যা করে। ফলে উম্মাহর ওপর ফিতনার দরজা খুলে যায় এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সমাপ্ত। আর আল-হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল মুআম্মাল ইবনুল হাসান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ফাদল বিন মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাইয়িব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, নুআইম ইবন হাম্মাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের কাছে আল-আওজায়ি থেকে, তিনি আজ-জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: উম্মে সালামাহর ভাইয়ের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল এবং তারা তার নাম রাখল আল-ওয়ালিদ। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের ফেরাউনদের নামে তার নাম রেখেছ! অচিরেই এই উম্মতের মধ্যে আল-ওয়ালিদ নামে এক ব্যক্তি হবে, যে এই উম্মতের জন্য তার কওমের প্রতি ফেরাউনের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হবে।" আজ-জুহরি বলেন, যদি আল-ওয়ালিদ বিন ইয়াজিদ খিলাফতে আসীন হয় তবে সে-ই হবে সেই ব্যক্তি, অন্যথায় সে হবে আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক। আল-হাকিম বলেছেন, এটি সহিহ। আর বিশর বিন বকরের বর্ণনাটি ইমাম বাইহাকি দালাইলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে আল-হাকিম থেকে, তিনি আসম থেকে, তিনি সাঈদ বিন উসমান আত-তানুখি থেকে, তিনি বিশর বিন বকর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল-আওজায়ি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আজ-জুহরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আমার কাছে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর এতে রয়েছে: "তোমরা তার নাম পরিবর্তন করো এবং তার নাম রাখো আব্দুল্লাহ। কেননা অচিরেই এই উম্মতের মধ্যে আল-ওয়ালিদ নামে এক ব্যক্তি হবে, যে আমার উম্মতের জন্য তার কওমের প্রতি ফেরাউনের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হবে।" আর এতে আরও বর্ধিত হয়েছে যে, সে ছিল উম্মে সালামাহর মায়ের পক্ষের ভাই। আর মুহাম্মাদ বিন কাসীর এবং হিকল বিন জিয়াদের বর্ণনা দুটির দিকে ইমাম যাহাবি তারিখুল ইসলাম গ্রন্থে আল-ওয়ালিদ বিন ইয়াজিদের জীবনীতে ইঙ্গিত করেছেন। এরপর আমি সে দুটিকে ইবনে আসাকিরের তারিখে আল-ওয়ালিদের জীবনীতে পেয়েছি। তিনি সে দুটি বর্ণনা আজ-জুহরির সূত্রে 'জুহরিয়্যাত' গ্রন্থে সংকলন করেছেন: হাকাম বিন মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হিকল বিন জিয়াদ আমাদের কাছে আল-আওজায়ি থেকে, তিনি আজ-জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামাহর ভাইয়ের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল এবং তারা তার নাম রাখল আল-ওয়ালিদ... হাদিসটি। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন কাসীর আমাদের কাছে আল-আওজায়ি থেকে, তিনি আজ-জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: উম্মে সালামাহর পরিবারে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করল এবং তারা তার নাম রাখল আল-ওয়ালিদ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা আল-ওয়ালিদ তথা তোমাদের ফেরাউনদের নামে নাম রাখছ, বরং তার নাম আব্দুল্লাহ রাখো।" আর আজ-জুহরি থেকে আল-আওজায়ির বর্ণনার সমর্থনে মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়ালিদ আজ-জুবায়দি অনুসরণ করেছেন। আর সম্ভাবনা আছে যে, ইনিই সেই ব্যক্তি যাকে ইসমাইল বিন আইয়াশ অভিযুক্ত করেছেন, কারণ তিনিও একজন শামি। আর মা’মার বিন রাশিদ আল-বাসরিও (অনুসরণ করেছেন)। আর...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
رِوَايَةُ الزُّبَيْدِيِّ فَظَفِرْتُ بِهَا فِي بَعْضِ الأَجْزَاءِ وَلَمْ يَحْضُرْنِي الآنَ اسْمَ مُخَرِّجِهَا وَأَمَّا رِوَايَةُ مَعْمَرٍ فَرَوَيْنَاهَا فِي الْجُزْءِ الثَّانِي مِنْ أمالى عبد الرَّزَّاق قَالَ أَن مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ فَذَكَرَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ عُمَرَ قَالَ الْبَيْهَقِيُّ بَعْدَ تَخْرِيجِهِ هَذَا الْحَدِيثُ مُرْسَلٌ حَسَنٌ قُلْتُ هُوَ شَرْطٌ عَلَى الصَّحِيحِ لَوْ صَرَّحَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ بِسَمَاعِهِ لَهُ مِنْ أُمُّ سَلَمَةَ أَدْرَكَهَا وَسَمِعَ مِنْهَا وَوَقَعَ لَنَا الْحَدِيثُ مِنْ رِوَايَتِهَا مِنْ وَجْهٍ آخَرَ رَوَاهُ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّهَا قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي غُلامٌ مِنْ آلِ الْمُغِيرَةِ اسْمُهُ الْوَلِيد فَقَالَ مَنْ هَذَا قُلْتُ الْوَلِيدُ قَالَ قَدِ اتَّخْذُتُمُ الْوَلِيدَ حَنَّانًا غَيِّرُوا اسْمَهُ فَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ فِرْعَوْنُ يُقَالُ لَهُ الْوَلِيدُ وَهَذَا إِسْنَادٌ حَسَنٌ أَخْرَجَهُ إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ فِي غَرِيبِ الْحَدِيثِ لَهُ وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ الْجُمَحِيُّ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ فَذَكَرَهُ مُعْضِلا وَرَوَى الطَّبَرَانِيُّ فِي الْمُعْجَمِ الْكَبِيرِ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عِمْرَانَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَيُّوبَ الْمَخْزُومِيِّ قِصَّةَ مَوْتِ الْوَلِيدِ ابْن الْوَلِيدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ وَهِيَ تَقُولُ … ابْكِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ … ... … أَبَا الْوَلِيد بن الْمُغِيرَةِ … ...

فَقَالَ إِنْ كِدْتُمْ تَتَّخِذُونَ الْوَلِيدَ حَنَّانًا فَهَذَا شَاهِدٌ آخَرُ لأَصْلِ الْقِصَّةِ وَبِدُونِ هَذَا يُعْلَمُ بُطْلانُ شَهَادَةِ ابْنِ حِبَّانَ بِأَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَهُ وَلا سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ حَدَّثَ بِهِ وَلا الزُّهْرِيُّ وَلا الأَوْزَاعِيُّ وَفِي تَصْرِيحِ بِشْرِ بْنِ بَكْرٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ بِأَنَّ الزُّهْرِيَّ حَدَّثَهُ بِهِ مَا يَدْفَعُ تَعْلِيلَ مَنْ تَعَلَّلَهُ بِتَدْلِيسِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ تَدْلِيسَ التَّسْوِيَةِ وَغَايَةُ مَا ظَهَرَ فِي طَرِيقِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ مِنَ الْعِلَّةِ أَنْ ذَكَرَ عُمَرَ فِيهِ لَمْ يُتَابَعْ عَلَيْهِ وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ مِنْ رِوَايَةِ أُمِّ سَلَمَةَ لإِطْبَاقِ مَعْمَرٍ وَالزُّبَيْدِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَبِشْرِ بْنِ بَكْرٍ وَالْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَلَى عَدَمِ ذِكْرِ عُمَرَ فِيهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَأَمَّا رِوَايَةُ نُعَيْمِ بْنِ حَمَّادٍ لَهُ عَنِ الْوَلِيد يذكر أبي هُرَيْرَة فِيهِ فَشَاذَةَ وَمِنْ شَوَاهِدِهِ مَا رَوَى الطَّبَرَانِيُّ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي قُبَيْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذكر
জুবাইদীর বর্ণনাটি আমি কিছু খণ্ডের মধ্যে পেয়েছি, তবে এই মুহূর্তে এর সংকলকের নাম আমার স্মরণে আসছে না। আর মা'মারের বর্ণনাটি আমরা আব্দুর রাজ্জাকের 'আমালি'-র দ্বিতীয় খণ্ডে বর্ণনা করেছি; তিনি বলেছেন যে, মা'মার যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন—অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন, তবে ওমরের কথা উল্লেখ করেননি। বায়হাকী এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন, "এই হাদীসটি মুরসাল হাসান।" আমি বলি, এটি সহীহ্ হওয়ার শর্তে উন্নীত হতো যদি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব উম্মু সালামাহ থেকে তার সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতেন; কারণ তিনি তাঁর সময়কাল পেয়েছেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। আর আমরা উম্মু সালামাহর বর্ণনা থেকে অন্য একটি সূত্রে হাদীসটি পেয়েছি; যা ইবনে ইসহাক মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আতা থেকে, তিনি যয়নব বিনতে উম্মু সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর মা (উম্মু সালামাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আমার কাছে মুগীরা পরিবারের জনৈক বালক ছিল যার নাম ছিল ওয়ালিদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এ কে?" আমি বললাম, "ওয়ালিদ।" তিনি বললেন, "তোমরা ওয়ালিদকে পরম স্নেহভাজন হিসেবে গ্রহণ করেছ; তার নাম পরিবর্তন করে দাও, কেননা অচিরেই এই উম্মতের মধ্যে একজন ফেরাউন আসবে যাকে ওয়ালিদ বলা হবে।" আর এটি একটি হাসান সনদ। ইব্রাহীম আল-হারবী তাঁর 'গারীবুল হাদীস' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে সালাম আল-জুমাহী এটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে মু'দাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাবারানী 'আল-মু'জামুল কাবীর'-এ আব্দুল আজিজ ইবনে ইমরান এর সূত্রে ইসমাঈল ইবনে আইয়ুব আল-মাখজুমী থেকে ওয়ালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-মুগীরার মৃত্যুর ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাহর কাছে প্রবেশ করলেন যখন তিনি বলছিলেন … ওয়ালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদের জন্য কাঁদো … ... … আবা ওয়ালিদ বিন আল-মুগীরা … ...

অতঃপর তিনি বললেন, "তোমরা তো প্রায় ওয়ালিদকে পরম স্নেহভাজন হিসেবে গ্রহণ করে ফেলেছ।" এটি মূল ঘটনার স্বপক্ষে আরেকটি সাক্ষী। এটি ছাড়াই ইবনে হিব্বানের দাবির অসারতা প্রমাণিত হয় যে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেননি, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এটি বর্ণনা করেননি এবং যুহরী বা আওযাঈ-ও এটি বর্ণনা করেননি। বিশর ইবনে বকর আওযাঈ থেকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে যুহরী তাঁকে এটি বর্ণনা করেছেন; এর মাধ্যমে যারা ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের 'তাদলীসে তাসবিয়াহ'-এর অজুহাতে একে ত্রুটিযুক্ত বলতে চেয়েছেন, তাঁদের সেই যুক্তি খন্ডিত হয়। ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশের সূত্রে যে ত্রুটিটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো এতে ওমরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যাপারে কেউ তাঁকে অনুসরণ করেনি। আর এটি স্পষ্ট যে বর্ণনাটি উম্মু সালামাহর; কারণ মা'মার ও জুবাইদী যুহরী থেকে এবং বিশর ইবনে বকর ও ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আওযাঈ থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এতে ওমরের নাম উল্লেখ না করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আর নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ কর্তৃক ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাটি যাতে তিনি আবু হুরায়রাকে উল্লেখ করেছেন, তা শায (বিচ্ছিন্ন)। এর স্বপক্ষে তাবারানী ইবনে লাহীআহ-র সূত্রে, তিনি আবু কুবাইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে, তিনি মুয়ায ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন, অতঃপর তিনি উল্লেখ করলেন-
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَدِيثًا فِيهِ قَالَ الْوَلِيدُ اسْمُ فِرْعَوْنَ هَادِمُ شَرَائِعِ الإْسلامِ يَبُوءُ بِدَمِهِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ

 

‌‌الحَدِيث الثَّانِي وَالثَّالِث

حَدِيث سدوا الْأَبْوَاب إِلَّا بَاب عَليّ ذكره من رِوَايَة سعد وَمن رِوَايَة ابْن عمر قَول ابْن الْجَوْزِيّ إِنَّه بَاطِل وَإنَّهُ مَوْضُوع دَعْوَى لم يسْتَدلّ عَلَيْهَا إِلَّا بمخالفة الحَدِيث الَّذِي فِي الصَّحِيحَيْنِ وَهَذَا إقدام على رد الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة بِمُجَرَّد التَّوَهُّم وَلَا يَنْبَغِي الْإِقْدَام على الحكم بِالْوَضْعِ إِلَّا عِنْد عدم إِمْكَان الْجمع وَلَا يلْزم من تعذر الْجمع فِي الْحَال أَن لَا يُمكن بعد ذَلِك إِذْ فَوق كل ذِي علم عليم وَطَرِيق الْوَرع فِي مثل هَذَا أَن لَا يحكم على الحَدِيث بِالْبُطْلَانِ بل يتَوَقَّف فِيهِ إِلَى أَن يظْهر لغيره مَا لم يظهره لَهُ وَهَذَا الحَدِيث من هَذَا الْبَاب هُوَ حَدِيث مَشْهُور لَهُ طرق مُتعَدِّدَة كل طَرِيق مِنْهَا على انفرادها لَا تقصر عَن رُتْبَة الْحسن ومجموعها مِمَّا يقطع بِصِحَّتِهِ على طَريقَة كثير من أهل الحَدِيث وَأما كَونه مُعَارضا لما فِي الصَّحِيحَيْنِ فَغير مُسلم لَيْسَ بَينهمَا مُعَارضَة وَقد ذكر الْبَزَّار فِي مُسْنده أَن حَدِيث سدوا كل بَاب فِي الْمَسْجِد إِلَّا بَاب عَليّ جَاءَ من رِوَايَة أهل الْكُوفَة وَأهل الْمَدِينَة يروون إِلَّا بَاب أَبى بكر قَالَ فَإِن ثبتَتْ رِوَايَات أهل الْكُوفَة فَالْمُرَاد بهَا هَذَا الْمَعْنى فَذكر حَدِيث أبي سعيد الَّذِي سأذكره بعد قَالَ عَليّ إِن رِوَايَات أهل الْكُوفَة جَاءَت من وُجُوه بأسانيد حسان انْتهى

وَهَا أَنا أذكر بَقِيَّة طرقه ثمَّ أبين كَيْفيَّة الْجمع بَينه وَبَين الَّذِي فِي الصَّحِيحَيْنِ فَمن طرقه مَا رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده أَيْضا فِي مُسْند زيد ابْن أَرقم قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا عَوْنٌ عَنْ مَيْمُونٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ كَانَ لِنَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْوَابٌ شَارِعَةٌ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ فَقَالَ يَوْمًا سُدُّوا هَذِهِ الأَبْوَابَ إِلا بَابَ عَلِيٍّ قَالَ فَتَكَلَّمَ فِي ذَلِكَ أُنَاسٌ قَالَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم
একটি হাদিসে আছে, আল-ওয়ালিদ বলেছেন: ফেরাউন হলো ইসলামের শরীয়ত ধ্বংসকারী, তার পরিবারের এক ব্যক্তিই তার রক্তপাত ঘটাবে।

 

‌‌দ্বিতীয় ও তৃতীয় হাদিস

“আলী-র দরজা ব্যতীত সকল দরজা বন্ধ করে দাও” শীর্ষক হাদিস; এটি সা’দ ও ইবনে উমরের বর্ণনা থেকে উল্লিখিত হয়েছে। ইবনুল জাওযীর এই দাবি যে এটি বাতিল ও জাল (মাওযূ), তা এমন এক দাবি যার সপক্ষে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদিসের বিপরীত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ পেশ করা হয়নি। আর কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সহীহ হাদিস প্রত্যাখ্যান করা একটি দুঃসাহস। যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব না হয়, ততক্ষণ জাল হওয়ার হুকুম দেওয়া অনুচিত। বর্তমানে সমন্বয় করতে না পারার অর্থ এই নয় যে পরে তা সম্ভব হবে না, কারণ প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপরেই একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন। এই জাতীয় বিষয়ে তাকওয়ার পথ হলো হাদিসটিকে বাতিল না বলা, বরং এ বিষয়ে থামা যতক্ষণ না অন্যের নিকট তা স্পষ্ট হয় যা তার নিকট স্পষ্ট হয়নি। এই হাদিসটি এই পর্যায়েরই; এটি একটি প্রসিদ্ধ হাদিস যার একাধিক সূত্র রয়েছে, যার প্রতিটি সূত্র পৃথকভাবে ‘হাসান’ (উত্তম) স্তরের নিচে নয় এবং এগুলোর সমষ্টি অনেক হাদিস বিশারদের নিকট এমন যা এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে। আর এটি সহীহাইন-এর হাদিসের বিরোধী হওয়ার বিষয়টি স্বীকৃত নয়, কারণ তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আল-বজ্জার তাঁর মুসনাদে উল্লেখ করেছেন যে, “মসজিদের প্রতিটি দরজা বন্ধ করে দাও কেবল আলীর দরজা ব্যতীত” হাদিসটি কুফাবাসীদের বর্ণনায় এসেছে, আর মদিনাবাসীরা বর্ণনা করেন “আবু বকরের দরজা ব্যতীত”। তিনি বলেছেন: যদি কুফাবাসীদের বর্ণনাগুলো প্রমাণিত হয়, তবে এর দ্বারা এই অর্থই উদ্দেশ্য। এরপর তিনি আবু সাঈদের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যা আমি পরে উল্লেখ করব। তিনি বলেছেন: কুফাবাসীদের বর্ণনাগুলো হাসান (উত্তম) সনদে বিভিন্ন সূত্রে এসেছে। সমাপ্ত।

এখন আমি এর বাকি সূত্রগুলো উল্লেখ করছি এবং এরপর সহীহাইন-এর বর্ণনার সাথে এর সমন্বয়ের পদ্ধতি বর্ণনা করব। এর সূত্রগুলোর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এবং যায়দ ইবনে আরকামের মুসনাদেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আউন আমাদের নিকট মায়মুন থেকে, তিনি যায়দ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সংখ্যক সাহাবীর ঘরের দরজা মসজিদের দিকে খোলা ছিল। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এই দরজাগুলো বন্ধ করে দাও, কেবল আলীর দরজা ব্যতীত।” বর্ণনাকারী বলেন, এতে কিছু লোক কানাকানি শুরু করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أُمِرْتُ بِسَدِّ هَذِهِ الأَبْوَابِ غَيْرَ بَابِ عَلِيٍّ فَقَالَ فِيهِ قَائِلُكُمْ وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا سَدَدْتُ شَيْئًا وَلا فَتَحْتُهُ وَلَكِنْ أُمِرْتُ بِشَيْءٍ فَاتَّبَعْتُهُ وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ فِي السُّنَنِ الْكُبْرَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ بُنْدَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ وَهُوَ غُنْدَرٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَرَوَاهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ الْقَطِيعِيِّ عَنْ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَلٍ عَنْ أَبِيهِ وَقَالَ صَحِيحُ الإِسْنَادِ وَأَخْرَجَهُ الْحَافِظُ ضِيَاءُ الدِّينِ الْمَقْدِسِيُّ فِي الأَحَادِيثِ الْمُخْتَارَةِ مِمَّا لَيْسَ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ طَرِيقِ الْمُسْنَدِ أَيْضًا وَأَوْرَدَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ مِنْ طَرِيقِ النَّسَائِيِّ وَأَعَلَّهُ بِمَيْمُونٍ فَأَخْطَأَ فِي ذَلِكَ خطأ ظَاهِرًا وَمَيْمُونٌ وَثَّقَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ وَتَكَلَّمَ بَعْضُهُمْ فِي حِفْظِهِ وَقَدْ صَحَّحَ لَهُ التِّرْمِذِيُّ حَدِيثًا غَيْرَ هَذَا تَفَرَّدَ بِهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَلَمْ يَذْكُرْ شَيْخُنَا هَذِهِ الطَّرِيقَةَ وَهِيَ عَلَى شَرْطِهِ وَكَأَنَّهُ أَغْفَلَهَا لأَنَّ ابْنَ الْجَوْزِيِّ لَمْ يُورِدْهَا مِنْ طَرِيقِ الْمُسْنَدِ وَمِنْ طُرُقِهِ أَيْضًا مَا رَوَاهُ النَّسَائِيُّ فِي السُّنَنِ الْكُبْرَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ مِسْكِينِ بن بكير وَأَخْرَجَهُ الْكَلابَاذِيُّ فِي مَعَانِي الأَخْبَارِ من وَجه آخر عَن مِسْكين وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُخْتَارِ كلاها عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي بَلْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَسُدَّتْ إِلا بَابَ عَلِيٍّ وَرَوَى الإِمَامُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ أَيْضًا مِنْ طَرِيقِ أَبِي عَوَانَةَ الْوَضَّاحِ عَنْ أَبِي بَلْجٍ يَحْيَى عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي أَثْنَاءِ حَدِيث وسد أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ غَيْرَ بَابَ عَلِيٍّ فَكَانَ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ وَهُوَ جُنُبٌ وَهُوَ طَرِيقُهُ لَيْسَ لَهُ طَرِيقٌ غَيْرُهُ وَأَخْرَجَهُ الْكَلابَاذِيُّ فِي مَعَانِي الأَخْبَارِ عَنْ حَاتِمِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَأَخْرَجَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ مِنْ طَرِيق أبي نعيم فِي الحلبة قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ ثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ كِلاهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ ثَنَا أَبُو عَوَانَةَ بِهِ وَأعله بِأبي بلج وبيحيى ابْن عَبْدِ الْحَمِيدِ فَلَمْ يُصِبْ لأَنَّ يَحْيَى لَمْ يَنْفَرِدْ بِهِ وَأَخْرَجَ َالنَّسَائِيُّ حَدِيثَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ مِنْ طَرِيقٍ أُخْرَى بِمَعْنَاهُ وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الأَوْسَطِ فِي

অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন, তারপর বললেন: আম্মা বাদ (অতঃপর), নিশ্চয়ই আমাকে আলীর দরজা ব্যতীত এই সব দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কিছু বলেছিল; অথচ আল্লাহর কসম, আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছু বন্ধ করিনি এবং তা খুলিনি, বরং আমাকে একটি বিষয়ে আদেশ করা হয়েছে এবং আমি তারই অনুসরণ করেছি। নাসায়ী তার ‘সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে বাশার বুন্দার থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর—যিনি গুন্দার নামে পরিচিত—তার থেকে এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর হাকেম তার ‘মুসতাদরাক’ গ্রন্থে আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর আল-কাতিয়ী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদ সহীহ। এবং হাফেজ জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি তার ‘আল-আহাদিস আল-মুখতারা’ গ্রন্থে—যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নেই—মুসনাদ-এর সূত্র থেকেও এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর ইবনুল জাওযি তার ‘আল-মাউদুআত’ গ্রন্থে নাসায়ীর সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন এবং মায়মুনের কারণে এতে ত্রুটি দেখিয়েছেন, তবে তিনি এতে সুস্পষ্ট ভুল করেছেন। কারণ একাধিক বিদ্বান মায়মুনকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন, যদিও কেউ কেউ তার মুখস্থ শক্তির সমালোচনা করেছেন। আর তিরমিযী তার একটি হাদীসকে সহীহ বলেছেন যা এটি নয়, যা তিনি যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের শায়খ এই সূত্রটি উল্লেখ করেননি অথচ এটি তার শর্তানুযায়ী (সহীহ) ছিল; সম্ভবত তিনি এটি এড়িয়ে গেছেন কারণ ইবনুল জাওযি মুসনাদ-এর সূত্র থেকে এটি উল্লেখ করেননি। এর অন্যান্য সূত্রের মধ্যে রয়েছে নাসায়ী কর্তৃক ‘সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং তিনি মিসকিন ইবনে বুকায়র থেকে যা বর্ণনা করেছেন। আর কালাবাদি তার ‘মাআনি আল-আখবার’ গ্রন্থে মিসকিন থেকে ভিন্ন আরেকটি সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর তিরমিযী এটি মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আল-মুখতার থেকে—তাঁরা উভয়েই শুবা থেকে, তিনি আবু বালজ থেকে, তিনি আমর ইবনে মায়মুন থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দরজাগুলো (বন্ধ করার) নির্দেশ দিলেন, ফলে আলীর দরজা ছাড়া সব বন্ধ করে দেওয়া হলো। ইমাম আহমদ এবং নাসায়ীও আবু আওয়ানা আল-ওয়াদদাহ-এর সূত্রে আবু বালজ ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আমর ইবনে মায়মুন থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস একটি দীর্ঘ হাদীসের মাঝে বলেছেন—এবং আলীর দরজা বাদে মসজিদের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো; ফলে তিনি অপবিত্র (গোসল ফরজ) অবস্থায়ও মসজিদে প্রবেশ করতেন, কারণ সেটিই ছিল তার পথ এবং তা ছাড়া তার আর কোনো পথ ছিল না। আর কালাবাদি তার ‘মাআনি আল-আখবার’ গ্রন্থে হাতেম ইবনে আকীল থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইল থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর ইবনুল জাওযি তার ‘আল-মাউদুআত’ গ্রন্থে আবু নুআইম-এর সূত্রে ‘আল-হিলইয়া’ থেকে উদ্ধৃত করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু শুআইব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়েই ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামীদ থেকে, তিনি আবু আওয়ানা থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি (ইবনুল জাওযি) এতে আবু বালজ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামীদ-এর কারণে ত্রুটি দেখিয়েছেন, তবে তিনি সঠিক ছিলেন না; কারণ ইয়াহইয়া এটি এককভাবে বর্ণনা করেননি। আর নাসায়ী সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের হাদীসটি একই অর্থে অন্য সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন এবং তাবারানি এটি ‘আল-আউসাত’ গ্রন্থে...

(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تَرْجَمَةِ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ مِنْ طَرِيقِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَدِّ الأَبْوَابِ إِلا بَابَ عَلِيٍّ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ سَدَدْتَ أَبْوَابَنَا كُلَّها إِلا بَابَ عَلِيٍّ فَقَالَ مَا أَنَا سَدَدْتُ أَبْوَابَكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ سَدَّهَا لَمْ يَرْوِهِ عَنِ الْحَكَمِ إِلا مُعَاوِيَةُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ شُرَيْحٍ قُلْتُ وَهُوَ حَفِيدُ الْقَاضِي شُرَيْحٍ الْكِنْدِيِّ قَالَ الْبُخَارِيُّ فِي تَارِيخِهِ سَمِعَ الْحَكَمَ بْنَ عُتَيْبَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ جَرْحًا وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ وَقَالَ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَائِلَةَ الأَصْبَهَانِيُّ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَمْرٍو الْبَجَلِيُّ ثَنَا نَاصِحٌ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَدِّ الأَبْوَابِ كُلِّهَا غَيْرَ بَابَ عَلِيٍّ فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْرَ مَا أَدْخُلُ وَحْدِي وَأَخْرُجُ قَالَ مَا أُمْرِتُ بِشَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ فَسَدَّهَا كُلَّهَا غير بَاب عَليّ وَرُبمَا مر وَهُوَ جُنُبٌ وَرَوَى النَّسَائِيُّ أَيْضًا حَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ بِسَنَدٍ آخَرَ صَحِيحٍ أَوْرَدَهُ مِنْ طَرِيقِ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ عَنِ الْعَلاءِ بْنِ عِرَارٍ قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَخْبِرْنِي عَنْ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ فَقَالَ أَمَّا عَلِيٌّ فَلا تَسْأَلْ عَنْهُ أَحَدًا وَانْظُرْ إِلَى مَنْزِلِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ سَدَّ أَبْوَابَنَا فِي الْمَسْجِدِ وَأَقَرَّ بَابَهُ وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ إِلا الْعَلاءَ وَهُوَ ثِقَةٌ وَثَّقَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَغَيْرُهُ وَعِرَارٌ أَبُوهُ بِمُهْمَلاتٍ وَأَخْرَجَهُ الْكَلابَاذِيُّ فِي مَعَانِي الأَخْبَارِ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلمَة الأفطمس أَحَدِ الضُّعَفَاءِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ نَحْوَهُ وَفِيهِ هَذَا بَيْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَشَارَ إِلَى بَيْتِ عَلِيٍّ إِلَى جَنْبِهِ الْحَدِيثَ

فَهَذِهِ الطُّرُقُ الْمُتَظَاهِرَةُ مِنْ رِوَايَاتِ الثِّقَاتِ تَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْحَدِيثَ صَحِيحٌ دَلالَةً قَوِيَّةً وَهَذِهِ غَايَةُ نَظَرِ الْمُحَدِّثِ وَأَمَّا كَوْنُ الْمَتْنِ مُعَارِضًا لِلْمَتْنِ الثَّابِتِ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ فَلَيْسَ كَذَلِكَ وَلا مُعَارَضَةَ بَيْنَهُمَا بَلْ حَدِيثُ سَدِّ الأَبْوَابِ غَيْرُ حَدِيثِ سَدِّ الْخَوْخِ لأَنَّ بَيْتَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَانَ دَاخِلَ الْمَسْجِدِ مُجَاوِرًا لِبُيُوتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْقَاضِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَالِكِيُّ فِي كِتَابِ أَحْكَامِ الْقُرْآنِ لَهُ حَدثنَا إِبْرَاهِيم ابْن حَمْزَةَ ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَمْزَةَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ الْمُطَّلِبِ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ
আলী ইবনে সাঈদের জীবনীতে হাকাম ইবনে উতাইবার সূত্রে মুসাব ইবনে সা'দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর দরজা ব্যতীত সমস্ত দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন। তখন তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আলীর দরজা বাদে আমাদের সকল দরজা বন্ধ করে দিলেন? তিনি বললেন: আমি তোমাদের দরজাগুলো বন্ধ করিনি, বরং আল্লাহ সেগুলো বন্ধ করেছেন। হাকাম থেকে এটি মুআবিয়া ইবনে মাইসারা ইবনে শুরাইহ ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি। আমি (লেখক) বলছি: তিনি হলেন কাদি শুরাইহ আল-কিন্দির নাতি। ইমাম বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি হাকাম ইবনে উতাইবা থেকে শুনেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা উল্লেখ করেননি। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাবারানি তাঁর 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বলেছেন, ইবরাহীম ইবনে নায়লা আল-আসবাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আমর আল-বাজালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাসিহ সিমাক ইবনে হারব থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর দরজা ছাড়া সমস্ত দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন। তখন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! অন্তত এতোটুকু জায়গা রাখুন যা দিয়ে আমি একা যাতায়াত করতে পারি। তিনি বললেন: আমাকে এই বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আলীর দরজা ছাড়া বাকি সব বন্ধ করে দিলেন। এমনকি কখনো কখনো তিনি (আলী) অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায়ও সেখান দিয়ে যাতায়াত করতেন। ইমাম নাসাঈও অন্য একটি সহীহ সনদে ইবনে উমরের হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি আবু ইসহাক আস-সাবিঈর সূত্রে আলা ইবনে ইরার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে বললাম, আমাকে আলী ও উসমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: আলীর ব্যাপারে কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর মর্যাদা ও অবস্থানের দিকে তাকাও। নিশ্চয়ই তিনি মসজিদে আমাদের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং আলীর দরজাটি বহাল রেখেছিলেন। এর বর্ণনাকারীগণ 'সহীহ' গ্রন্থের বর্ণনাকারী, কেবল আলা ব্যতীত; তবে তিনিও নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আর ইরার—তাঁর পিতা—এর বানান নুকতাহীন বর্ণ দ্বারা। কালাবাদি 'মাআনী আল-আখবার' গ্রন্থে দুর্বল বর্ণনাকারীদের একজন আবদুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-আফতামাসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে বর্ণিত হয়েছে: "এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘর", আর তিনি তাঁর পার্শ্ববর্তী আলীর ঘরের দিকে ইশারা করলেন... (হাদীসটি)।

নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণিত এই বহুবিধ সূত্রগুলো শক্তিশালীভাবে প্রমাণ করে যে হাদীসটি সহীহ। আর মুহাদ্দিসের গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য এটিই। আর এর মূল পাঠ (মতন) বুখারী ও মুসলিমে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত হাদীসের বিরোধী হওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়, এবং এই দুইটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। বরং 'দরজা বন্ধ করা' সংক্রান্ত হাদীসটি 'ছোট জানালা' (খাওখাহ) বন্ধ করা সংক্রান্ত হাদীস থেকে ভিন্ন। কারণ আলী ইবনে আবি তালিবের ঘর মসজিদের অভ্যন্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরগুলোর পাশেই ছিল। কাদি ইসমাইল ইবনে ইসহাক মালিকি তাঁর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: ইব্রাহিম ইবনে হামযা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে হামযা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে যাইদ থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে—যিনি হলেন ইবনে আবদুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ابْن حَنْطَبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ أَذِنَ لأَحَدٍ أَنْ يَمُرَّ فِي الْمَسْجِدِ وَلا يَجْلِسُ فِيهِ وَهُوَ جُنُبٌ إِلا عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ لأَنَّ بَيْتَهُ كَانَ فِي الْمَسْجِدِ وَهَذَا مُرْسَلٌ قَوِيٌّ يَشْهَدُ لَهُ مَا أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَلِيٍّ لَا يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يَطْرُقَ هَذَا الْمَسْجِدَ جُنُبًا غَيْرِي وَغَيْرَكَ أَخْرَجَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُنْذِرِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ عَن سَالم ابْن أَبِي حَفْصَةَ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْهُ قَالَ وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ قُلْتُ لِضِرَارِ بْنِ صُرَدَ مَا مَعْنَاهُ قَالَ لَا يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يَسْتَطْرِقَهُ جُنُبًا غَيْرِي وَغَيْرَكَ فَهَذَا مَا يَتَعَلَّقُ بِسَدِّ الأَبْوَابِ

وَأَمَّا سَدُّ الْخَوْخِ فَالْمُرَادُ بِهِ طَاقَاتٌ كَانَتْ فِي الْمَسْجِدِ يَسْتَقْرِبُونَ الدُّخُولَ مِنْهَا فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِ مَوْتِهِ بِسَدِّهَا إِلا خَوْخَةَ أَبِي بَكْرٍ وَفِي ذَلِكَ إِشَارَةٌ إِلَى اسْتِخْلافِ أَبِي بَكْرٍ لأَنَّهُ يَحْتَاجُ إِلَى الْمَسْجِدَ كَثِيرًا دُونَ غَيْرِهِ

وَظَهَرَ بِهَذَا الْجَمْعِ أَنْ لَا تَعَارُضَ فَكَيْفَ يُدَّعَى الْوَضْعُ عَلَى الأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ بِمُجَرَّدِ هَذَا التَّوَهُّمِ وَلَوْ فُتِحَ هَذَا الْبَابُ لِرَدِّ الأَحَادِيثِ لادُّعِيَ فِي كَثِيرٍ مِنَ الأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ الْبُطْلانُ وَلَكِنْ يَأْبَى اللَّهُ ذَلِكَ وَالْمُؤْمِنُونَ

ثُمَّ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ مَعَانِي الأَخْبَارِ لأَبِي بَكْرٍ الْكَلابَاذِيِّ قَالَ لَا تَعَارُضَ بَيْنَ قِصَّةِ عَلِيٍّ وَقِصَّةِ أَبِي بَكْرٍ لأَنَّ بَابَ أَبِي بَكْرٍ كَانَ مِنْ جُمْلَةِ أَبْوَابٍ تَطْلَعُ إِلَى الْمَسْجِدِ خَوْخَاتٍ وَأَبْوَابُ الْبُيُوتِ خَارِجَةٌ من الْمَسْجِد فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِسَدِّ كُلِّ الْخَوْخِ فَلَمْ يَبْقَ مَطْلَعٌ مِنْهَا إِلَى الْمَسْجِدِ وَتُرِكَتْ خَوْخَةُ أَبِي بَكْرٍ فَقَطْ وَأَمَّا بَابُ عَلِيٍّ فَلأَنَّهُ دَاخِلُ الْمَسْجِدِ يَخْرُجُ مِنْهُ وَيَدْخُلُ فِيهِ كَمَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ الَّذِي سَأَلَهُ حِينَ أَشَارَ إِلَى بَيْتِ عَلِيٍّ هَذَا بَيْتُ عَلِيٍّ إِلَى جَنْبِهِ بَيْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ بَيْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ انْتَهَى وَبِنَحْوِهِ جَمَعَ بَيْنَهُمَا الطَّحَاوِيُّ فِي مُشْكِلِ الآثَارِ وَهُوَ فِي أَوَائِلِ الثُّلُثِ الثَّالِثِ مِنْهُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ فَهَذَا مَا يَتَعَلَّقُ بِسَدِّ الأَبْوَابِ

تَنْبِيهٌ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الرُّقَيْمِ فِي حَدِيثِ سَعْدٍ هُوَ بِضَمِّ الرَّاءِ وَقِيلَ فِيهِ ابْنُ أَبِي الرُّقَيْمِ تَفَرَّدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَرِيكٍ بِالرِّوَايَةِ عَنْهُ وَعمر بن أسيد فِي
ইবনে হানতাব থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় কাউকে মসজিদে অতিক্রম করতে বা বসতে অনুমতি দিতেন না আলী ইবনে আবি তালিব ব্যতীত, কারণ তাঁর ঘর মসজিদের ভেতরেই ছিল। এটি একটি শক্তিশালী মুরসাল বর্ণনা, যার সমর্থনে তিরমিযী আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে বলেছিলেন: "আমি এবং আপনি ব্যতীত আর কারো জন্য অপবিত্র অবস্থায় এই মসজিদে প্রবেশ করা বৈধ নয়।" এটি আলী ইবনে মুনযির মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবি হাফসাহ থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনে মুনযির বলেন, আমি যিরার ইবনে সুরাদকে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "আমি এবং আপনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য অপবিত্র অবস্থায় এটিকে যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ নয়।" এটি ছিল দরজাগুলো বন্ধ করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আলোচনা।

আর 'খাওখা' (ছোট দরজা) বন্ধ করার বিষয়টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মসজিদে থাকা এমন কিছু ছিদ্রপথ বা জানালা যা দিয়ে যাতায়াত সহজ হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুরোগের সময় আবু বকরের 'খাওখা' ব্যতীত বাকি সব বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে আবু বকরের খিলাফতের প্রতি ইঙ্গিত ছিল, কারণ অন্যদের তুলনায় তাঁর মসজিদে আসার প্রয়োজন বেশি ছিল।

এই সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, এতে কোনো বৈপরীত্য নেই। সুতরাং কেবল এমন অমূলক ধারণার বশবর্তী হয়ে সহীহ হাদীসগুলোর ওপর জাল হওয়ার অপবাদ কীভাবে দেওয়া যেতে পারে? হাদীস প্রত্যাখ্যানের জন্য যদি এই পথ উন্মুক্ত করা হয়, তবে অনেক সহীহ হাদীসকেই বাতিল বলে দাবি করা হবে। কিন্তু আল্লাহ এবং মুমিনগণ তা হতে দিবেন না।

এরপর আমি আবু বকর আল-কালাবাযীর 'মাআনি আল-আখবার' গ্রন্থে পেয়েছি, তিনি বলেছেন: আলীর ঘটনা এবং আবু বকরের ঘটনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ আবু বকরের দরজা ছিল মসজিদের দিকে খোলা ছোট দরজাগুলোর (খাওখা) অন্তর্ভুক্ত, আর ঘরগুলোর মূল দরজাগুলো ছিল মসজিদের বাইরে। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ছোট দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিলে মসজিদের দিকে আসার আর কোনো পথ অবশিষ্ট রইল না কেবল আবু বকরেরটি ছাড়া। আর আলীর দরজার বিষয়টি ছিল এই যে, তাঁর ঘরটি মসজিদের ভেতরেই ছিল যেখান থেকে তিনি বের হতেন ও প্রবেশ করতেন, যেমনটি ইবনে উমর বলেছিলেন যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তিনি আলীর ঘরের দিকে ইশারা করে বলেছিলেন: "এটি আলীর ঘর, যার পাশেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘর।" আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘর মসজিদের ভেতরেই ছিল। সমাপ্ত। ইমাম তাহাবীও 'মুশকিলুল আসার'-এ একইভাবে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করেছেন, যা গ্রন্থটির তৃতীয় তৃতীয়াংশের শুরুতে রয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এটি ছিল দরজাগুলো বন্ধ করা সংক্রান্ত আলোচনা।

সতর্কীকরণ: সা'দের হাদীসে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে রুকায়েম (র-এ পেশসহ)। কারো মতে তিনি ইবনে আবি রুকায়েম। তাঁর থেকে বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে শারীক একক হয়ে পড়েছেন। আর উমর ইবনে আসীদ...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ بِفَتْحِ الأَلِفِ وَكَسْرِ السِّينِ وَهُوَ ثِقَةٌ مِنْ رجال الصَّحِيحَيْنِ وَقيل فِيهِ عَمْرٍو بِفَتْحِ الْعَيْنِ وَهِشَامُ بْنُ سَعْدٍ مِنْ رِجَالِ مُسْلِمٍ صَدُوقٌ تَكَلَّمُوا فِي حِفْظِهِ وَحَدِيثُهُ يَقْوَى بِالشَّوَاهِدِ وَقَدِ اخْتَصَرَ الشَّيْخُ مَتْنَ الْحَدِيثِ وَسِيَاقَهُ فِي مُسْنَدِ أَحْمَدَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا نَقُولُ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْرُ النَّاسِ ثُمَّ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ وَلَقَدْ أُعْطَى ابْنُ أَبِي طَالِبٍ ثَلاثَ خِصَالٍ لأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ حُمُرِ النَّعَمِ زَوَّجَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنَتَهُ وَوَلَدَتْ لَهُ وَسَدَّ الأَبْوَابَ إِلا بَابَهُ فِي الْمَسْجِدِ وَأَعْطَاهُ الرَّايَة يَوْم خَيْبَر انْتهى

 

‌‌الحَدِيث الرَّابِع

حَدِيث ابْن عمر فِي التَّرْهِيب من الاحتكار وأذيه الْجَار

قَوْله أوردهُ عمر بن بدر الْموصِلِي قلت لَا اعْتِدَاد بذلك فَإِنَّهُ لم يكن من النقاد وَإِنَّمَا أخرجه من كتاب ابْن الْجَوْزِيّ فلخصه وَلم يزدْ من قبله شَيْئا

قَوْله أخرجه الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك قلت عَلَيْهِ فِيهِ دَرك فَإِنَّهُ أخرجه من رِوَايَة عَمْرو بن الْحصين وَهُوَ مَتْرُوك عَن أصبغ وَإسْنَاد أَحْمد خير مِنْهُ فَإِنَّهُ من رِوَايَة يزِيد بن هَارُون الثِّقَة عَن أصبغ وَكَذَا أخرجه أَبُو يعلي فِي مُسْنده عَن أبي خَيْثَمَة عَن يزِيد بن هَارُون وَوهم بن عدي فَزعم أَن يزِيد تفرد بالرواية عَنهُ وَلَيْسَ كَذَلِك فقد روى عَنهُ نَحْو من عشرَة وَلم أر لأحد من الْمُتَقَدِّمين فِيهِ كلَاما إِلَّا لمُحَمد بن سعد وَأما الْجُمْهُور فوثقوه مِنْهُم غير من ذكره شَيخنَا أَبُو دَاوُد وَالدَّارَقُطْنِيّ وَغَيرهمَا

ثمَّ أَن للمتن شَوَاهِد تدل على صِحَّته مِنْهَا فِي التَّرْهِيب من الاحتكار حَدِيث أبي هُرَيْرَة قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من احتكر حكرة يُرِيد أَن يغلي بهَا على الْمُسلمين فَهُوَ خاطىء وَقد بَرِئت مِنْهُ ذمَّة الله
ইবনে উমরের হাদীস; (এখানে নামটি) আলিফ-এ ফাতহাহ এবং সিন-এ কাসরাহ যোগে (অর্থাৎ আসিম), তিনি সহীহাইন-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ও নির্ভরযোগ্য। কারো মতে এখানে 'আমর' (আইন-এ ফাতহাহ যোগে)। আর হিশাম ইবনে সাদ ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং সত্যবাদী; তাঁর মুখস্থ শক্তির ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে, তবে সমর্থক বর্ণনার (শাওয়াহিদ) মাধ্যমে তাঁর হাদীস শক্তিশালী হয়। শাইখ হাদীসের মূল পাঠ সংক্ষেপ করেছেন। মুসনাদে আহমদে ইবনে উমরের সূত্রে এর প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বলতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এরপর আবু বকর, এরপর উমর। আর ইবনে আবু তালিবকে এমন তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যার একটি পাওয়াও আমার নিকট লাল উটের চেয়ে অধিক প্রিয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে নিজের কন্যার বিবাহ দিয়েছেন এবং তিনি তাঁর জন্য সন্তান জন্ম দিয়েছেন; মসজিদে প্রবেশের সকল দরজা বন্ধ করে দিলেও তাঁর দরজাটি খোলা রেখেছিলেন; আর খায়বারের দিন তাঁকে ঝাণ্ডা প্রদান করেছিলেন।" সমাপ্ত।

 

‌‌চতুর্থ হাদীস

মজুদদারি এবং প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া সম্পর্কে সতর্কীকরণে ইবনে উমরের হাদীস।

তাঁর উক্তি: "উমর ইবনে বদর আল-মাওসিলী এটি উল্লেখ করেছেন।" আমি বলি: এর কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ তিনি হাদীস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি কেবল ইবনুল জাওযীর কিতাব থেকে এটি গ্রহণ করে সংক্ষেপ করেছেন এবং নিজের পক্ষ থেকে কিছুই যোগ করেননি।

তাঁর উক্তি: "হাকিম এটি মুস্তাদরাক গ্রন্থে সংকলন করেছেন।" আমি বলি: তাঁর ওপর এই বিষয়ে আপত্তি রয়েছে, কারণ তিনি এটি আমর ইবনে আল-حصিন-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক), তিনি আসবাগের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে আহমদের সনদ এর চেয়ে উত্তম, কারণ তা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনে হারুনের সূত্রে আসবাগ থেকে বর্ণিত। একইভাবে আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে আবু খাইসামার সূত্রে ইয়াযীদ ইবনে হারুন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদী এখানে ভুল করেছেন, তিনি দাবি করেছেন যে ইয়াযীদ একাকী এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং প্রায় দশজন তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি পূর্বসূরিদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে সাদ ছাড়া আর কাউকে তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করতে দেখিনি। আর জমহুর ওলামায়ে কেরাম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যাদের মধ্যে আমাদের শাইখ ছাড়াও আবু দাউদ, দারা কুতনী ও অন্যান্যরা রয়েছেন।

অতঃপর এই মূল পাঠের কিছু সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে যা এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে। এর মধ্যে মজুদদারি সম্পর্কে সতর্কীকরণে আবু হুরায়রার হাদীস রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ করে রাখে, সে পাপিষ্ঠ এবং আল্লাহর জিম্মাদারী তার থেকে মুক্ত হয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
تبَارك وَتَعَالَى رَوَاهُ الْحَاكِم وَمِنْهَا حَدِيث معقل بن يسَار قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من دخل فِي شَيْء من أسعار الْمُسلمين ليغلي عَلَيْهِم كَانَ حَقًا على الله أَن يقذفه فِي جَهَنَّم رَأسه أَسْفَله وَرَوَاهُ أَحْمد أَيْضا وَالْحَاكِم وَالطَّبَرَانِيّ وَمِنْهَا حَدِيث عمر مَرْفُوعا من احتكر على الْمُسلمين طعامهم ضربه الله بالجذام والإفلاس وَعنهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الجالب مَرْزُوق والمحتكر مَلْعُون رَوَاهُ ماجة أَيْضا وَالْحَاكِم وَمِنْهَا حَدِيث معمر بن عبد الله عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يحتكر إِلَّا خاطىء رَوَاهُ مُسلم هَذَا مَا يتَعَلَّق بالاحتكار

وَأما مَا يتَعَلَّق بوعيد من بَات بجوارهم جَائِع فَلهُ شَوَاهِد أَيْضا مِنْهَا مَا روى الطَّبَرَانِيّ وَالْبَزَّار بِإِسْنَاد حسن من حَدِيث أنس قَالَ قَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا آمن بِي من بَات شبعانا وجاره جَائِع إِلَى جنبه وَهُوَ يعلم وروى الْحَاكِم من حَدِيث عَائِشَة مَرْفُوعا لَيْسَ الْمُؤمن الَّذِي يبيت شبعان وجاره جَائِع إِلَى جنبه وروى البُخَارِيّ فِي تَارِيخه وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو يعلي من حَدِيث ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ الْمُؤمن الَّذِي يشْبع وجاره جَائِع بجنبه

فَإِن قيل إِنَّمَا حكم عَلَيْهِ بِالْوَضْعِ لما فِي ظَاهر الْمَتْن من الْوَعيد الْمُوجب للبراءة مِمَّن فعل ذَلِك وَهُوَ لَا يكفر بِفعل ذَلِك فَالْجَوَاب إِن هَذَا من الْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي معرض الزّجر والتنفير ظَاهرهَا غير مُرَاد وَقد وَردت عدَّة أَحَادِيث فِي الصِّحَاح تشْتَمل على الْبَرَاءَة وعَلى نفي الْإِيمَان وعَلى غير ذَلِك من الْوَعيد الشَّديد فِي حق من ارْتكب أمورا لَيْسَ فِيهَا مَا يخرج عَن الْإِسْلَام كَحَدِيث أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ فِي الصَّحِيح فِي الْبَرَاءَة
বরকতময় ও সুউচ্চ। এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে মাকিল বিন ইয়াসার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি অন্যতম, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসলমানদের কোনো পণ্যের মূল্যে হস্তক্ষেপ করে তা বাড়িয়ে দেয়, আল্লাহর ওপর এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, তিনি তাকে জাহান্নামে অধঃমুখী করে নিক্ষেপ করবেন।" এটি আহমদ, হাকেম এবং তাবারানিও বর্ণনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে: "যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য মজুত করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ ও দেউলিয়াত্ব দ্বারা আঘাত করেন।" তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পণ্য সরবরাহকারী রিযিকপ্রাপ্ত এবং মজুতদার অভিশপ্ত।" এটি ইবনে মাজাহ এবং হাকেমও বর্ণনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে মুয়াম্মার ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আসা হাদীসটিও রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "পাপিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুতদারি করে না।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এগুলো মজুতদারি সম্পর্কিত আলোচনা।

আর যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকা অবস্থায় রাত যাপন করে তার প্রতি হুমকির বিষয়েও অনেক সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যা তাবারানি এবং বাযযার হাসান সনদে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান আনেনি যে তৃপ্ত হয়ে রাত কাটালো অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত এবং সে তা জানে।" হাকেম আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "সে মুমিন নয় যে তৃপ্ত হয়ে রাত কাটায় অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।" বুখারী তাঁর 'তারীখ'-এ এবং তাবারানি ও আবু ইয়ালা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে মুমিন নয় যে নিজে পেট পুরে খায় অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।"

যদি বলা হয় যে, এই হাদীসটির বাহ্যিক পাঠে এমন কঠিন হুমকি রয়েছে যা সেই কাজ সম্পাদনকারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের দাবি রাখে, অথচ কেউ এমন কাজ করলেই কাফের হয়ে যায় না—তাই একে জাল বলে হুকুম দেওয়া হয়েছে। এর উত্তরে বলা হবে যে, এটি মূলত কঠোর ধমক ও বিতৃষ্ণা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বর্ণিত হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার বাহ্যিক অর্থ এখানে উদ্দেশ্য নয়। সহীহ গ্রন্থগুলোতেও এমন অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে এমন সব কাজের জন্য সম্পর্কচ্ছেদ এবং ঈমান নাকচ করার ঘোষণা এবং আরও অনেক কঠোর হুমকি এসেছে যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। যেমন সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত সম্পর্কচ্ছেদের বিষয়ে আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
مِمَّن حلق وسلق وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة لَا يَزْنِي الزَّانِي حِين يَزْنِي وَهُوَ مُؤمن إِلَى غير ذَلِك مهما حصل من الْجَواب عَنْهَا كَانَ هُوَ الْجَواب عَن هَذَا الْخَبَر وَلَا يجوز الْإِقْدَام على الحكم بِالْوَضْعِ قبل التَّأَمُّل والتدبر وَالله الْمُوفق

تَنْبِيه أَبُو بشر هُوَ جَعْفَر بن أبي وحشية من رجال الشَّيْخَيْنِ وَأَبُو الزَّاهِرِيَّة اسْمه حدير بِضَم الْحَاء الْمُهْملَة بن كريب من رجال مُسلم وَرِوَايَة أبي بشر عَنهُ من بَاب رِوَايَة الأقران لِأَن كلا مِنْهُمَا من صغَار التَّابِعين وَكثير بن مرّة تَابِعِيّ ثِقَة بِاتِّفَاق من رجال الْأَرْبَعَة فَفِي الْإِسْنَاد ثَلَاثَة من التَّابِعين وَالله أعلم

 

‌‌الحَدِيث الْخَامِس وَالسَّادِس

حَدِيث مَا من معمر يعمر فِي الْإِسْلَام من رِوَايَة أنس وَمن رِوَايَة ابْن عمر قَوْله وللد خَلَطَ فِيهِ الْفَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ قلت لَا يلْزم من تَخْلِيط الْفرج فِي إِسْنَاده أَن يكون الْمَتْن مَوْضُوعا فَإِن لَهُ طرقا عَن أنس وَغَيره يتَعَذَّر الحكم مَعَ مجموعها على الْمَتْن بِأَنَّهُ مَوْضُوع فقد روينَا من طَرِيق أبي طوالة عبد الله بن عبد الرَّحْمَن بن معمر الْأنْصَارِيّ وَزيد بن أسلم الْمدنِي وَعبد الْوَاحِد بن رَاشد وَعبيد الله بن أنس والصباح بن عَاصِم كلهم عَن أنس ورويناه أَيْضا من حَدِيث عُثْمَان بن عَفَّان وَعبد الله بن أبي بكر الصّديق وَأبي هُرَيْرَة وَغَيرهم عَن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقد استوعبت طرقه فِي الْجُزْء الَّذِي سميته معرفَة الْخِصَال المكفرة للذنوب الْمُقدمَة والمؤخرة وَمن أقوى طرقه مَا أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي الزّهْد لَهُ عَن الْحَاكِم عَن الْأَصَم عَن بكر ابْن سهل عَن عبد الله بن مُحَمَّد بن رمح عَن عبد الله بن وهب عَن حَفْص ابْن ميسرَة عَن زيد بن أسلم عَن أنس فَذكر هَذَا الحَدِيث وَرُوَاته من ابْن وهب فَصَاعِدا من رجال الصَّحِيح وَالْبَيْهَقِيّ وَالْحَاكِم الْأَصَم لَا يسْأَل عَنْهُم وَابْن رمح ثِقَة وَبكر بن سهل قواه جمَاعَة وَضَعفه النَّسَائِيّ وَقَالَ مُسلم
যারা মুসিবতের সময় চুল মুণ্ডন করে বা উচ্চস্বরে বিলাপ করে তাদের সম্পর্কে এবং আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস—ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না—এবং এই ধরণের অন্যান্য বর্ণনা সম্পর্কে যে উত্তরই দেওয়া হোক না কেন, এই খবরের (হাদিসের) ক্ষেত্রেও সেই একই উত্তর প্রযোজ্য হবে। গভীর চিন্তা ও গবেষণা ছাড়া কোনো বর্ণনাকে জাল বলে রায় দেওয়া বৈধ নয়। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।

সতর্কবার্তা: আবু বিশর হলেন জাফর ইবনে আবি ওয়াহশিয়া, তিনি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু জাহিরিয়ার নাম হলো হুদাইর (হা অক্ষরে পেশসহ) ইবনে কুরাইব, তিনি ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু বিশর কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসটি সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের পারস্পরিক বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, কারণ তাঁরা উভয়েই কনিষ্ঠ তাবেয়ী। কাসীর ইবনে মুররা সর্বসম্মতিক্রমে একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী এবং তিনি চার সুনান গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এই সনদে তিনজন তাবেয়ী রয়েছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌পঞ্চম ও ষষ্ঠ হাদিস

আনাস এবং ইবনে উমর বর্ণিত হাদিস: "ইসলামে যাকে দীর্ঘায়ু দান করা হয়..."। ইবনুল জাওজি বলেছেন, ফারাজ ইবনে ফাদালা এতে গোলমাল করেছেন। আমি বলব, ফারাজের সনদে গোলমাল থাকার কারণে মূল পাঠটি জাল হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ আনাস এবং অন্যদের থেকে এর আরও অনেক সূত্র রয়েছে, যা একত্রে বিচার করলে এই হাদিসের মূল পাঠকে জাল বলে রায় দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা আবু তুওয়ালা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মা'মার আল-আনসারী, জায়েদ ইবনে আসলাম আল-মাদানী, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে রাশিদ, উবাইদুল্লাহ ইবনে আনাস এবং সাবাহ ইবনে আসিম—তাঁদের সবার সূত্রে আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছি। আমরা এটি উসমান ইবনে আফফান, আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক, আবু হুরায়রা এবং অন্যদের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি। আমি এর সকল সূত্র আমার রচিত 'মা'রিফাতুল খিসাল আল-মুকাফফিরাতু লিজ-জুনুব আল-মুকাদ্দামাতু ওয়াল মুআখখারা' নামক কিতাবে বিস্তারিতভাবে সংকলন করেছি। এর শক্তিশালী সূত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যা বায়হাকি তাঁর 'আয-যুহদ' গ্রন্থে হাকাম থেকে, তিনি আসসাম থেকে, তিনি বাকর ইবনে সাহল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুমহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি হাফস ইবনে মায়সারা থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে ওয়াহাব থেকে শুরু করে উপরের দিকের সকল বর্ণনাকারী সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। বায়হাকি, হাকাম এবং আসসাম সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের প্রয়োজন নেই। ইবনে রুমহ নির্ভরযোগ্য এবং বাকর ইবনে সাহলকে একদল আলেম শক্তিশালী বলেছেন, যদিও নাসায়ী তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আর মুসলিম বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
بن قَاسم ضعفه بَعضهم من أجل حَدِيثه عَن سعيد بن كثير عَن يحيى بن أَيُّوب عَن مجمع بن كَعْب عَن مسلمة بن مخلد رَفعه قَالَ اعروا النِّسَاء يلزمن الحجال يَعْنِي أَنه غلط فِيهِ قلت وَمَعَ هَذَا فَلم ينْفَرد بِهِ بكر بن سهل فقد روينَاهُ فِي الْمجْلس التَّاسِع وَالسبْعين من أمالي الْحَافِظ أبي الْقَاسِم بن عَسَاكِر أخرجه من طَرِيق الْفَوَائِد لأبي بكر بن المقرىء قَالَ حَدثنَا أَبُو عرُوبَة والحراني عَن مخلد بن مَالك الْحَرَّانِي عَن الصَّنْعَانِيّ وَهُوَ حَفْص ابْن ميسرَة فَذكره وَهَكَذَا روينَاهُ فِي فَوَائِد إِسْمَاعِيل بن الْفضل (بن 1) الأخشيد حَدثنَا أَبُو طَاهِر بن عبد الرَّحِيم حَدثنَا أَبُو بكر بن المقرىء بِهِ ومخلد بن مَالك شيخ أبي عرُوبَة من أَعلَى شيخ لأبي عرُوبَة وَقد وَثَّقَهُ أَبُو زرْعَة الرَّازِيّ وَلَا أعلم لأحد فِيهِ جرحا وَبَاقِي الْإِسْنَاد أثبات فَلَو لم يكن لهَذَا الحَدِيث سوى هَذِه الطَّرِيق لَكَانَ كَافِيا فِي الرَّد على من حكم بِوَضْعِهِ فضلا عَن أَن يكون لَهُ أَسَانِيد أُخْرَى

مِنْهَا مَا أخرجه أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن منيع فِي مُسْنده عَن عباد بن عباد المهلبي عَن عبد الْوَاحِد بن رَاشد عَن أنس نَحوه وَعبد الْوَاحِد لم أر فِيهِ جرحا وَعباد من الثِّقَات وثقة أَحْمد بن حَنْبَل وَيحيى بن معِين وَالْعجلِي وَآخَرُونَ وَذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات وخبط ابْن الْجَوْزِيّ فِي الْكَلَام على هَذَا الحَدِيث فَنقل عَن ابْن حبَان أَنه قَالَ فِي عباد بن عباد هَذَا إِنَّه غلب عَلَيْهِ التقشف فَكَانَ يحدث بالتوهم فَيَأْتِي الْمُنكر فَاسْتحقَّ التّرْك وَهَذَا الكلاك إِنَّمَا قَالَه ابْن حبَان فِي عباد بن عباد الْفَارِسِي الْخَواص يكنى أَبَا عتبَة وَلَا يُقَال إِن ابْن الْجَوْزِيّ لَو لم يطلع على أَنه الخوص مَا نقل كَلَام ابْن حبَان فِيهِ لِأَن فِي سِيَاقه هُوَ الحَدِيث من طَرِيق أَحْمد بن منيع حَدثنَا عباد بن عباد المهلبي وَهَكَذَا هُوَ فِي مُسْند أَحْمد بن منيع فَانْتفى أَن يكون الْفَارِسِي إِذْ المهلبي ثِقَة من رجال الصَّحِيح بِخِلَاف الْفَارِسِي

قَوْله إِنَّه مَوْضُوع قطعا ثمَّ اسْتدلَّ على ذَلِك بِأَمْر ظَنِّي عَجِيب وَكَيف يَتَأَتَّى الْقطع بالحكم على أَمر مستندة ظَنِّي وَهُوَ إِخْبَار رجل يوثق بِهِ أَنه رأى
ইবনে কাসিম—তাদের কেউ কেউ তাকে দুর্বল বলেছেন সাঈদ বিন কাসির থেকে তার বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা তিনি ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি মাজমা বিন কাব থেকে, তিনি মাসলামাহ বিন মخلদ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "তোমরা নারীদের পোশাকহীন (অনাড়ম্বর) রাখো, তবেই তারা পর্দার অন্তরালে অবস্থান করবে।" অর্থাৎ তিনি (ইবনে কাসিম) এতে ভুল করেছেন। আমি বলব: তা সত্ত্বেও, বকর বিন সাহল এই হাদিস বর্ণনায় একক নন। আমরা এটি হাফেজ আবুল কাসিম বিন আসাকিরের ‘আমালি’র ৭৯তম মজলিসে বর্ণনা করেছি; তিনি এটি আবু বকর বিন আল-মুকরির ‘ফাওয়ায়েদ’ হয়ে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আল-মুকরি) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আরুবাহ আল-হাররানি, মাখলাদ বিন মালিক আল-হাররানি থেকে, তিনি আল-সানআনি থেকে—যিনি হলেন হাফস ইবনে মাইসারাহ—অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আমরা এটি ইসমাইল বিন আল-ফদল বিন আল-আখশিদ এর ‘ফাওয়ায়েদ’-এ বর্ণনা করেছি: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু তাহির বিন আবদুর রহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আল-মুকরি তদ্রূপ। আর আবু আরুবাহ-এর উস্তাদ মাখলাদ বিন মালিক হলেন আবু আরুবাহ-এর উচ্চপর্যায়ের উস্তাদ। আবু জুরআহ আল-রাজি তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। তার ব্যাপারে কারো কোনো সমালোচনার কথা আমার জানা নেই। সনদের বাকি বর্ণনাকারীরাও নির্ভরযোগ্য। যদি এই হাদিসের জন্য এই একটি পথ ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবুও তা এই হাদিসকে জাল বলার প্রবক্তাদের খণ্ডনের জন্য যথেষ্ট হতো; অথচ এর আরও অন্যান্য সনদ রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো যা আবু জাফর আহমদ বিন মানি' তার মুসনাদে আব্বাদ বিন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবি থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহিদ বিন রাশিদ থেকে, তিনি আনাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুল ওয়াহিদের ব্যাপারে আমি কোনো সমালোচনা দেখিনি। আর আব্বাদ নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত; আহমদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাইন, আল-ইজলি ও অন্যান্যরা তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাকে ‘আল-সিকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আল-জাওজি এই হাদিসের আলোচনায় বিভ্রান্ত হয়েছেন; তিনি ইবনে হিব্বান থেকে নকল করেছেন যে, তিনি এই আব্বাদ বিন আব্বাদ সম্পর্কে বলেছেন: তার ওপর দুনিয়াবিমুখতা প্রবল ছিল, ফলে তিনি ধারণাপ্রসূত হাদিস বর্ণনা করতেন এবং মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা নিয়ে আসতেন, তাই তিনি পরিত্যাজ্য হওয়ার যোগ্য। অথচ এই কথাটি ইবনে হিব্বান কেবল আব্বাদ বিন আব্বাদ আল-ফারিসি আল-খাওওয়াস সম্পর্কে বলেছেন, যার উপনাম আবু উতবাহ। এ কথা বলা যাবে না যে, ইবনে আল-জাওজি যদি জানতে না পারতেন যে তিনি আল-খাওওয়াস, তবে তিনি তার ব্যাপারে ইবনে হিব্বানের বক্তব্য উদ্ধৃত করতেন না। কারণ তার বর্ণনার প্রেক্ষাপটেই হাদিসটি আহমদ বিন মানি'-এর সূত্রে রয়েছে: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্বাদ বিন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবি। আর আহমদ বিন মানি'-এর মুসনাদে এভাবেই আছে। সুতরাং তিনি আল-ফারিসি হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়, যেহেতু আল-মুহাল্লাবি সহিহ গ্রন্থের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, পক্ষান্তরে আল-ফারিসি সেরূপ নন।

তার বক্তব্য যে, এটি নিশ্চিতভাবে জাল, অতঃপর তিনি এর স্বপক্ষে একটি অদ্ভুত ধারণাপ্রসূত বিষয়ের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। অথচ এমন একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের রায় দেওয়া সম্ভব যার ভিত্তিই হলো ধারণাপ্রসূত? অথচ এটি এমন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সংবাদ যিনি দেখেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
من حصل لَهُ ذَلِك بعد السِّتين أَفلا يجوز أَن يكون ذَلِك حصل لَهُ قبل الْأَرْبَعين وَهُوَ لَا يشْعر ثمَّ دب فِيهِ قَلِيلا إِلَى أَن ظهر فِيهِ بعد السِّتين وَمَعَ هَذَا الِاحْتِمَال كَيفَ يَتَأَتَّى الْقطع بِالْوَضْعِ على أَن للْحَدِيث عِنْدِي مخرجا لَا يرد عَلَيْهِ شَيْء من هَذَا على تَقْدِير الصِّحَّة وَذَلِكَ أَنه وَإِن كَانَ لَفظه عَاما فَهُوَ مَخْصُوص بِبَعْض النَّاس دون بعض لِأَن عُمُومه يتَنَاوَل النَّاس كلهم وَهُوَ مَخْصُوص قطعا بِالْمُسْلِمين لِأَن الْكفَّار لَا يحميهم الله وَلَا يتَجَاوَز عَن سيئاتهم وَلَا يغْفر ذنوبهم وَلَا يشفعهم وَإِذا تعين أَن لَفظه الْعَام مَحْمُول على أَمر خَاص فَيجوز أَن يكون ذَلِك خَاصّا أَيْضا بِبَعْض الْمُسلمين دون بعض فيخص مثلا بِغَيْر الْفَاسِق وَيحمل على أهل الْخَيْر وَالصَّلَاح فَلَا مَانع لمن كَانَ بِهَذِهِ الصّفة أَن يمن الله تَعَالَى عَلَيْهِ بِمَا ذكر فِي الْخَبَر وَمن ادّعى خلاف ذَلِك فَعَلَيهِ الْبَيَان وَالله الْمُسْتَعَان ثمَّ وجدت فِي تَفْسِير ابْن مرْدَوَيْه بِإِسْنَاد صَحِيح إِلَى ابْن عَبَّاس مَا يدل على التَّأْوِيل الَّذِي ذكرته وَقد ذكرته فِي أَوَاخِر الْجُزْء الَّذِي جمعته فِي الْخِصَال المكفرة

 

‌‌الحَدِيث السَّابِع

حَدِيث أنس عَن عَائِشَة فِي قصَّة عبد الرَّحْمَن بن عَوْف لم ينْفَرد بِهِ عمَارَة الرَّاوِي الْمَذْكُور فقد رَوَاهُ الْبَزَّار من طَرِيق أغلب بن تَمِيم عَن ثَابت الْبنانِيّ بِلَفْظ أول من يدْخل الْجنَّة من أَغْنِيَاء أمتِي عبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ لن يدخلهَا إِلَّا حبوا قلت وأغلب شَبيه بعمارة بن زَاذَان فِي الضعْف لَكِن لم أر من اتهمه بِالْكَذِبِ وَقد رَوَاهُ عبد بن حميد فِي مُسْنده أتم سياقا من رِوَايَة أَحْمد قَالَ عَبْدُ ابْن حُمَيْدٍ فِي مُسْنَدِهِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ ثَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ لَمَّا هَاجَرَ آخَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَقَالَ لَهُ إِنَّ لِي حَائِطَيْنِ فَاخْتَرْ أَيَّهُمَا شِئْتَ فَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي مَالِكَ مَا لِهَذَا أَسْلَمْتُ دُلَّنِي عَلَى السُّوقِ قَالَ فَدَلَّهُ فَكَانَ يَشْتَرِي فِي السُّمْنَةَ وَالأَقِطَةَ وَالإِهَابِ فَجَمَعَ فَتَزَوَّجَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ بَارك
যাঁর ক্ষেত্রে ষাট বছরের পর এটি অর্জিত হয়েছে, তাঁর ক্ষেত্রে কি চল্লিশের পূর্বেই তা অর্জিত হওয়া সম্ভব নয় এমতাবস্থায় যে তিনি তা অনুভব করেননি? অতঃপর তা তাঁর মধ্যে ধীরে ধীরে সঞ্চারিত হতে থাকে যতক্ষণ না ষাটের পর তা তাঁর মধ্যে প্রকাশ পায়। আর এই সম্ভাবনার উপস্থিতিতে কীভাবে এটি জাল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়? উপরন্তু, আমার মতে হাদিসটির এমন একটি ব্যাখ্যা রয়েছে যা সহিহ হওয়ার ভিত্তিতে এর ওপর উত্থাপিত কোনো আপত্তির সম্মুখীন হবে না। আর তা হলো, যদিও এর শব্দগত রূপ ব্যাপক, তবুও তা একদল মানুষের জন্য নির্দিষ্ট, অন্যদের জন্য নয়। কারণ এর ব্যাপকতা সব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে, অথচ এটি নিশ্চিতভাবেই মুসলিমদের সাথে নির্দিষ্ট। কেননা আল্লাহ কাফেরদের হেফাজত করেন না, তাদের মন্দ কাজসমূহ ক্ষমা করেন না, তাদের গুনাহ মাফ করেন না এবং তাদের জন্য সুপারিশও গ্রহণ করেন না। যখন এটি সুনির্ধারিত হলো যে এর ব্যাপক শব্দটি একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হবে, তখন এটি কিছু মুসলিমের জন্য নির্দিষ্ট হওয়াও সম্ভব, অন্যদের জন্য নয়। যেমন—ফাসেক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের জন্য এটি নির্দিষ্ট হতে পারে এবং একে কল্যাণ ও নেককার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। সুতরাং এই গুণের অধিকারী ব্যক্তির ওপর আল্লাহ তাআলা এই খবরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার অনুগ্রহ করবেন—এতে কোনো বাধা নেই। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত দাবি করবে, তাকেই তা প্রমাণ করতে হবে। আর আল্লাহই সাহায্যকারী। অতঃপর আমি ইবনে মারদুওয়াইহ-এর তাফসিরে ইবনে আব্বাস থেকে সহিহ সনদে এমন বর্ণনা পেয়েছি যা আমার উল্লিখিত ব্যাখ্যার স্বপক্ষে প্রমাণ বহন করে। আমি আমার সংকলিত ‘আল-খিসালুল মুকাফফিরাহ’ নামক রিসালার শেষভাগে এটি উল্লেখ করেছি।

 

‌সপ্তম হাদিস

আব্দুর রহমান ইবনে আউফের ঘটনা সম্পর্কে আয়েশা থেকে বর্ণিত আনাসের হাদিসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে উল্লিখিত বর্ণনাকারী উমারা একক নন। বরং বাজ্জার এটি আগলাব ইবনে তামীমের সূত্রে সাবিত আল-বুনানি থেকে বর্ণনা করেছেন। যার শব্দগুলো হলো: ‘আমার উম্মতের ধনীদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, সে জান্নাতে হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করবে।’ আমি বলি, আগলাব দুর্বলতার ক্ষেত্রে উমারা ইবনে জাযানের সমতুল্য, তবে আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি তাঁকে মিথ্যাচারের দোষে অভিযুক্ত করেছেন। আর আব্দ ইবনে হুমাইদ তাঁর মুসনাদে এটি ইমাম আহমদের বর্ণনার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারায় বর্ণনা করেছেন। আব্দ ইবনে হুমাইদ তাঁর মুসনাদে বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উমারা ইবনে জাযান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ যখন হিজরত করলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এবং উসমান ইবনে আফফানের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। তখন উসমান তাঁকে বললেন, ‘আমার দু’টি বাগান রয়েছে, আপনি আপনার পছন্দমতো যে কোনো একটি বেছে নিন।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ আপনার সম্পদে বরকত দান করুন, আমি এর জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি; বরং আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন।’ বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তাঁকে পথ দেখিয়ে দিলেন। তিনি সেখানে ঘি, পনির ও চামড়া কেনাবেচা করতে লাগলেন। এরপর তিনি কিছু অর্থ সঞ্চয় করে বিবাহ করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলে তিনি তাঁকে বরকতের দোয়া দিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
اللَّهُ لَكَ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ قَالَ فَكَثُرَ مَالُهُ حَتَّى قَدِمَتْ لَهُ سَبْعمِائة رَاحِلَةٍ تَحْمِلُ الْبُرَّ وَتَحْمِلُ الدَّقِيقَ وَالطَّعَامَ فَلَمَّا دَخَلَتِ الْمَدِينَةَ سُمِعَ لأَهْلِ الْمَدِينَةِ رَجَّةٌ فَقَالَتْ عَائِشَةُ مَا هَذِهِ الرَّجَّةُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ مِنَ النَّكَارَةِ أَيْضًا إِخَاءُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ لِعُثْمَانَ وَالَّذِي فِي الصَّحِيحَيْنِ أَنَّهُ سَعْدُ بْنُ الرَّبِيعِ وَهُوَ الصَّوَابُ وَالَّذِي أَرَاهُ عَدْمَ َالتَّوَسُّعِ فِي الْكَلامِ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يكفينا شَهَادَة الإِمَام أَحْمد بِأَنَّهُ كذب وَأولى مجاملة أَن نقُول هُوَ من الْأَحَادِيث الَّتِي أَمر الإِمَامِ أَحْمَدَ أَنْ يُضْرَبَ عَلَيْهَا فَإِمَّا أَنْ يَكُونَ الضَّرْبُ تُرِكَ سَهْوًا وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ بَعْضُ مَنْ كَتَبَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ كَتَبَ الْحَدِيثَ وَأَخَلَّ بِالضَّرْبِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ

ثُمَّ رَأَيْتُ بَعْدَ ذَلِكَ لِلْحَدِيثِ شَاهِدًا قَوِيَّ الإِسْنَادِ وَهُوَ فِي مُسْنَدِ الشَّامِيِّينَ لِلطَّبَرَانِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خَلِيٍّ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا الْجَرَّاحُ بْنُ مَلِيحٍ عَنْ أَرْطَاةَ بْنِ الْمُنْذِرِ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ عَمَّتِهِ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ قَالَتْ كَانَ يَوْمٌ مِنْ أَيَّامِهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَامَ فِي بَيْتِهَا فَطَالَتْ نَوْمَتُهُ فَهِبْتُ أَنْ أُوقِظَهُ فَأَهْبَبْتُهُ فَهَبَّ مِنْ نَوْمِهِ مُحْمَرَّةً عَيْنَاهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي هِبْتُكَ أَنْ أُوقِظَكَ فَقَالَ إِنِّي أَعْجَبَنِي أَنِّي رَأَيْتُ أَحَدَهُمْ يَعْنِي صَعَالِيكَ الْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَنَّهُ لَيَمُرُّ أَحَدُهُمْ بِحجَّة الْجَنَّةِ فَيَرْمِي إِلَيْهِمْ بِسَيْفِهِ وَيَقُولُ دُونَكُمْ لَمْ أُعْطَ مَا أُحَاسَبُ عَلَيْهِ ثُمَّ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَرَأَيْتُ أَبْطَأَ النَّاس دُخُولا النِّسَاء ذَوُو الأَمْوَالِ وَمَا قَامَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ حَتَّى اسْتَبْطَأْتُ لَهُ الْقِيَامَ وَلَهُ شَاهِدٌ آخَرُ مِنْ رِوَايَةِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْن عَوْف عَن أَبِيه عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْبَزَّارُ فِي مُسْنَدِهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَبُّوَيْهِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ثَنَا خَالِدُ بْنُ يزِيد ابْن أَبِي مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن ابْن عَوْفٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ إِنَّكَ مِنَ الأَغْنِيَاءِ لَا تَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلا زَحْفًا فَأَقْرِضِ اللَّهَ تَعَالَى يُطْلِقُ قَدَمَيْكَ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَا الَّذِي أُقْرِضُ وَخَرَجَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَبَعَثَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مُرْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ فَلْيُضِفِ الضَّيْفَ وَلْيُطْعِمِ الْمِسْكِينَ وَلْيُعْطِ السَّائِلَ فَإِنَّ ذَلِكَ يُجْزِيهِ عَنْ كَثِيرٍ مِمَّا هُوَ فِيهِ وَفِي هَذَا السَّنَدِ ضَعْفٌ
আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন; ওয়ালিমা করো, যদিও তা একটি ছাগল দিয়ে হয়। তিনি বলেন, অতঃপর তাঁর সম্পদ এতো বৃদ্ধি পেল যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট সাতশ মালবাহী উট নিয়ে আসা হলো যা গম, আটা ও খাদ্য বহন করছিল। যখন সেগুলো মদীনায় প্রবেশ করল, তখন মদিনাবাসীরা একটি শোরগোল শুনতে পেল। আয়েশা (রা.) বললেন: এই শোরগোল কিসের? অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন। এতে একটি আপত্তিকর বিষয় (নাকারাহ) হলো আব্দুর রহমানের সাথে উসমানের ভ্রাতৃত্বের উল্লেখ। অথচ সহীহাইনে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো— তিনি ছিলেন সা'দ ইবনুর রবী' এবং এটিই সঠিক। আর আমার অভিমত হলো এটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করাই শ্রেয়, কারণ ইমাম আহমাদের সাক্ষ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট যে এটি একটি মিথ্যা বর্ণনা। শিষ্টাচারের খাতিরে আমাদের বলা উচিত যে, এটি সেইসব হাদীসের অন্তর্ভুক্ত যা ইমাম আহমাদ কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হয়তো ভুলবশত তা কাটা হয়নি অথবা যারা আব্দুল্লাহর নিকট থেকে এটি লিখেছিলেন তাদের কেউ হাদীসটি লিখেছিলেন কিন্তু তা কাটতে অবহেলা করেছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

অতঃপর আমি পরবর্তীতে এই হাদীসের একটি শক্তিশালী সনদবিশিষ্ট সমর্থক বর্ণনা দেখতে পেয়েছি, যা তাবারানীর 'মুসনাদুশ শামিয়্যীন'-এ রয়েছে। আবূ যুরআহ আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ বিন খাল্লী আল-হিমসী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-জাররাহ বিন মালীহ বর্ণনা করেছেন আরতাহ বিন মুনযির থেকে, তিনি জা’ফর বিন সাবিত আল-আনসারী থেকে, তিনি আব্দুল হামীদ বিন আব্দুর রহমান বিন যায়দ বিন আল-খাত্তাব থেকে, তিনি তাঁর ফুফু হাফসাহ বিনতে উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমার নির্ধারিত দিনগুলোর একদিন তিনি আমার ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। তাঁর ঘুম দীর্ঘ হলো, আমি তাঁকে জাগাতে ভয় পাচ্ছিলাম। অতঃপর আমি তাঁকে জাগালাম। তিনি যখন ঘুম থেকে উঠলেন তাঁর চোখ দুটি ছিল লাল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে জাগাতে ভয় পাচ্ছিলাম। তিনি বললেন: আমি একটি চমৎকার দৃশ্য দেখছিলাম যে, তাদের কেউ (অর্থাৎ আল্লাহর পথের নিঃস্ব মুজাহিদগণ) জান্নাতের দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাদের তলোয়ার ছুড়ে মারছিলেন আর বলছিলেন— তোমরা ধরো, আমাকে এমন কিছু দেওয়া হয়নি যার হিসাব আমাকে দিতে হবে। অতঃপর তিনি জান্নাতে প্রবেশ করলেন। আর আমি দেখলাম জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নারীরা এবং সম্পদশালীরা সবচেয়ে ধীরগতির। আর আব্দুর রহমান বিন আউফ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন, এমনকি তাঁর দাঁড়িয়ে থাকাটা আমার কাছে অনেক দীর্ঘ মনে হলো। এর আরেকটি সমর্থক বর্ণনা ইব্রাহীম বিন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ তাঁর পিতা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন শাব্বুইয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুলায়মান বিন আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ বিন ইয়াযীদ ইবনে আবী মালিক তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা বিন আবী রাবাহ থেকে, তিনি ইব্রাহীম বিন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে আব্দুর রহমান! নিশ্চয়ই তুমি সম্পদশালীদের অন্তর্ভুক্ত, তুমি হামাগুড়ি দেওয়া ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সুতরাং আল্লাহ তাআলাকে ঋণ দাও, তিনি তোমার পা দুটিকে মুক্ত করে দেবেন। আব্দুর রহমান বললেন: আমি কী ঋণ দেব? অতঃপর আব্দুর রহমান বেরিয়ে গেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন: আব্দুর রহমানকে নির্দেশ দাও যেন সে মেহমানদারি করে, মিসকীনদের খাবার খাওয়ায় এবং যাঞ্চাকারীকে দান করে; কারণ এটি তাকে তার বর্তমান অবস্থার অনেক কিছুর পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। আর এই সনদে দুর্বলতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَأخرج الْبَزَّار أَيْضا وَالطَّبَرَانِيّ من حَدِيث عبد الله بن أبي أوفى فِي حَدِيث طَوِيل فِيهِ مَنَاقِب الصَّحَابَة وَفِيه أَنه أقبل على عبد الرَّحْمَن بن عَوْف فَقَالَ لقد بطأ بك عَنَّا من بَين أصحربى حَتَّى خشيت أَن تكون هَلَكت وعرقت عرقا شَدِيدا فَقلت مَا بطأ بك فَقلت يَا رَسُول الله من كَثْرَة مَالِي مَا زلت مَوْقُوفا محاسبا أسأَل عَن مَالِي من أَيْن اكتسبته وَفِيمَا أنفقته فَبكى عبد الرَّحْمَن وَقَالَ يَا رَسُول الله هَذِه مائَة رَاحِلَة جَاءَتْنِي اللَّيْلَة من تِجَارَة مصر فَإِنِّي أشهدك أَنَّهَا على فُقَرَاء الْمَدِينَة وأيتامهم لَعَلَّ الله يُخَفف عني ذَلِك الْيَوْم وَفِي سَنَده عمار بن سيف وَهُوَ ضَعِيف قَالَ الْمُنْذِرِيّ فِي ترغيبه ود من حَدِيث جمَاعَة من الصَّحَابَة عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَن عبد الرَّحْمَن يدْخل الْجنَّة حبوا لِكَثْرَة مَاله وَلَا يسلم أَجودهَا من مقَال وَلَا يبلغ شَيْء مِنْهَا بِانْفِرَادِهِ دَرَجَة الْحسن وَقَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ فِي مُسْنده أَيْضا حَدثنَا الْهُذيْل ابْن مَيْمُونٍ الْكُوفِيُّ الْجُعْفِيُّ كَانَ يَجْلِسُ فِي مجْلِس الْمَدِينَة يَعْنِي أبي جَعْفَرٍ عَنْ مُطَّرِحِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ فِيهَا خَشْفَةً بَيْنَ يَدِي فَقُلْتُ مَا هَذِهِ قَالَ بِلالٌ فَمَضَيْتُ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ وَذَرَارِيِّ الْمُسْلِمِينَ وَلَمْ أَرَ فِيهَا أَحَدًا أَقَلَّ مِنَ الأَغْنِيَاءِ وَالنِّسَاءِ قِيلَ لِي أَمَّا الأَغْنِيَاءُ فهم هَا هُنَا بِالْبَابِ يُحَاسَبُونَ وَيُمَحَّصُونَ وَأَمَّا النِّسَاءُ فَأَلْهَاهُنَّ الأَحْمَرَانِ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ قَالَ ثُمَّ خَرَجْنَا فَلَمَّا كُنْتُ عِنْدَ الْبَابِ أُتِيتُ بِكِفَّةٍ فَوُضِعْتُ فِيهَا وَوُضِعَتْ أُمَّتِي فِي كِفَّةٍ فَرَجَحَتْ بِهَا فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ فَاسْتَبْطَأْتُ عبد الرَّحْمَن ابْن عَوْفٍ ثُمَّ جَاءَ بَعْدِ الْيَأْسِ فَقُلْتُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا خَلَصْتَ إِلَيْكَ حَتَّى ظنت أَنِّي لَا أَنْظُرُ إِلَيْكَ قُلْتُ وَمَا ذَاكَ قَالَ مِنْ كَثْرَةِ مَالِي احْتبست فَأُمَحَّصُ وَقَالَ السَّرَّاجُ فِي تَارِيخِهِ حَدثنَا قُتَيْبَة عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَمْرو ابْن أَبِي عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَأَى أَنَّهُ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَلَمْ ير فِيهَا أحدا إِلَى فُقَرَاء الْمُؤْمِنِينَ وَلَمْ يَجِدْ فِيهَا أَحَدًا مِنَ الأَغْنِيَاءِ إِلا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَقَالَ رَأَيْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ دَخَلَهَا حِينَ دَخَلَهَا حَبْوًا فَأَرْسَلْتُ أُمَّ سَلَمَةَ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَن
আল-বাজার এবং তাবারানিও আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত বর্ণনা করেছেন। তাতে উল্লেখ আছে যে, তিনি আবদুর রহমান বিন আউফের দিকে এগিয়ে এসে বললেন, "আমার সাহাবীদের মধ্যে তুমি আমাদের কাছে আসতে অনেক দেরি করে ফেলেছ, এমনকি আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তুমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছ এবং তুমি প্রচণ্ড ঘামছিলে। আমি বললাম, তোমার দেরি হলো কেন? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রচুর সম্পদের কারণে আমাকে অনবরত দাঁড়িয়ে হিসাব দিতে হচ্ছিল; আমাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছি এবং কোথায় ব্যয় করেছি।" তখন আবদুর রহমান কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! এই একশটি উট আজ রাতে মিশরের বাণিজ্য থেকে আমার কাছে এসেছে, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে এগুলো মদিনার দরিদ্র ও এতিমদের জন্য; সম্ভবত এর মাধ্যমে আল্লাহ সেই দিনের হিসাব আমার জন্য সহজ করে দেবেন।" এর সনদে আম্মার বিন সাইফ রয়েছেন, যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। আল-মুনজিরি তাঁর 'তারগিব' গ্রন্থে একদল সাহাবীর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান অধিক সম্পদের কারণে হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন; তবে এই বর্ণনার কোনো সূত্রই সমালোচনা মুক্ত নয় এবং এককভাবে কোনোটিই 'হাসান' বা উত্তম পর্যায়ে পৌঁছে না। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে হুযাইল ইবনে মাইমুন আল-কুফি আল-জুফি থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি মদিনার মজলিসে অর্থাৎ আবু জাফরের মজলিসে বসতেন—তিনি মুত্তারিহ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন যাহর থেকে, তিনি আলী বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে এবং তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে আমার সামনে পায়ের শব্দ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটি কী? বলা হলো, বিলাল। অতঃপর আমি সামনে অগ্রসর হলাম এবং দেখলাম জান্নাতবাসীদের অধিকাংশ হলেন দরিদ্র মুহাজির এবং মুসলমানদের সন্তানাদি। সেখানে আমি ধনীদের এবং নারীদের চেয়ে কম আর কাউকে দেখিনি। আমাকে বলা হলো, ধনীদের এখানে দরজায় আটকে রেখে হিসাব ও যাচাই করা হচ্ছে। আর নারীদের ব্যাপারে বলা হলো যে, দুটি লাল বস্তু অর্থাৎ স্বর্ণ ও রেশম তাদের গাফেল করে রেখেছিল।" তিনি বলেন, "অতঃপর আমরা বের হলাম। যখন আমি দরজার কাছে পৌঁছালাম, তখন একটি পাল্লা আনা হলো। আমাকে এক পাল্লায় রাখা হলো এবং আমার উম্মতকে অন্য পাল্লায় রাখা হলো, আর আমার পাল্লাটি ভারী হলো।" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন যাতে বর্ণিত হয়েছে: "আমি আবদুর রহমান বিন আউফের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অনেকক্ষণ পর তিনি নিরাশাজনক অবস্থায় উপস্থিত হলেন। আমি বললাম, আবদুর রহমান! তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি আপনার কাছে পৌঁছাতে পারছিলাম না যতক্ষণ না আমার মনে হলো যে আমি হয়তো আপনার দেখাই পাব না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন এমন হলো? তিনি বললেন, আমার অধিক সম্পদের কারণে আমাকে আটকে রেখে যাচাই করা হচ্ছিল।" আস-সাররাজ তাঁর 'তারিখ'-এ কুতাইবাহ ও আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন... তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বপ্নে দেখলেন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেখানে তিনি দরিদ্র মুমিনদের ছাড়া কাউকে দেখলেন না। তিনি সেখানে আবদুর রহমান বিন আউফ ব্যতীত কোনো ধনী ব্যক্তিকে পাননি। তিনি আরও বললেন, "আমি আবদুর রহমানকে দেখলাম যে সে যখন জান্নাতে প্রবেশ করল, তখন হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করল।" এরপর আমি উম্মে সালামাহকে আবদুর রহমানের কাছে পাঠালাম।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
تُبَشِّرُهُ فَقَالَ إِنَّ لِي عِيرًا أَنْتَظِرُهَا فَهِيَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى بِأَحْمَالِهَا وَرَقِيقِهَا وَإِنِّي لأَرْجُو أَن أدخلها غير حبو

 

‌‌الحَدِيث الثَّامِن

حَدِيث أنس فِي فضل عسقلان هُوَ فِي فَضَائِل الْأَعْمَال والتحريض على الرِّبَاط فِي سَبِيل الله وَلَيْسَ فِيهِ مَا يحيله الشَّرْع وَلَا الْعقل فَالْحكم عَلَيْهِ بِالْبُطْلَانِ بِمُجَرَّد كَونه من رِوَايَة أبي عقال لَا يتَّجه وَطَرِيقَة الإِمَام أَحْمد مَعْرُوفَة فِي التسامح فِي رِوَايَة أَحَادِيث الْفَضَائِل دون أَحَادِيث الْأَحْكَام كَمَا تقدم فِي أول الْكَلَام وَقد وجد لَهُ شَاهد من حَدِيث ابْن عمر إِسْنَاده أصلح من طَرِيق أبي عقال وَقد أوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ أَيْضا وَلَيْسَ فِيهِ سوى بشير بن مَيْمُون وَهُوَ ضَعِيف وَله شَاهد آخر من حَدِيثِ عَبْدِ الله بن بخينه أَوْرَدَهُ أَبُو يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارٍ عَنْ عَطَّافِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ أَخِيهِ الْمِسْوَرِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُحَيْنَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَى أَهْلِ تِلْكَ الْمَقْبُرَةِ فَسَأَلُوا بَعْضَ أَزْوَاجِهِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ هِيَ مَقْبُرَةُ عَسْقَلانَ الْحَدِيثَ وَأَوْرَدَهُ ابْنُ مَرْدُوَيْهِ فِي تَفْسِيرِهِ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ سَمَّى الزَّوْجَةَ عَائِشَةَ وَلَهُ شَاهِدٌ آخَرُ أَوْرَدَهُ الدَّوْلابِيُّ فِي الْكُنَى قَالَ أَبُو بِشْرٍ الدَّوْلابِيُّ فِي الْكُنَى ثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الْخَلالُ ثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْهُذَيْلُ بْنُ مِسْعَرٍ الأَنْصَارِيُّ ثَنَا أَبُو سِنَانٍ سَعْدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ سَعِيدِ ابْن جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبْعَثُ بِالْمَقْبُرَةِ فِي عَسْقَلانَ سَبْعُونَ أَلْفَ شَهِيدٍ وَيُشَفَّعُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ بِعَدَدِ رَبِيعَةَ وَمُضَرَ قَالَ أَبُو بِشْرٍ هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ جِدًّا وَلَهُ شَاهِدٌ مُرْسل قَالَ سعيد ابْن مَنْصُورٍ فِي السُّنَنِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَحِمَ الله أهل الْمقْبرَة ثَلَاث
তাকে সুসংবাদ দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন, আমার একটি বাণিজ্য কাফেলা রয়েছে যার জন্য আমি অপেক্ষা করছি; সেটি তার মালপত্র ও দাসদাসীসহ মহান আল্লাহর পথে উৎসর্গিত। আর আমি আশা করি যে, আমি তা (জান্নাতে) কোনো কষ্ট ছাড়াই প্রবেশ করাবো।

 

অষ্টম হাদীস

আসকালানের ফযীলত সম্পর্কে আনাস (রা.)-এর হাদীসটি আমলের ফযীলত এবং আল্লাহর পথে পাহারাদারি (রিবাত) করার উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে বর্ণিত। এতে এমন কিছু নেই যা শরীয়ত বা যুক্তি অসম্ভব বলে গণ্য করে। সুতরাং শুধুমাত্র আবু আক্কালের বর্ণনা হওয়ার কারণে একে বাতিল বলে রায় দেওয়া সঠিক নয়। আর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম আহমদের শিথিলতা অবলম্বনের পদ্ধতি সুবিদিত, যা আহকামের (বিধান সংক্রান্ত) হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যেমনটি আলোচনার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইবনে উমর (রা.)-এর হাদীস থেকে এর একটি সাক্ষ্য (শাহিদ) পাওয়া গেছে যার সনদ আবু আক্কালের সূত্রের চেয়ে অধিকতর ভালো। ইবনুল জাওযীও এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে বশীর ইবনে মাইমুন ছাড়া অন্য কেউ নেই, আর সে দুর্বল। আর আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না (রা.)-এর হাদীস থেকে এর আরেকটি সাক্ষ্য রয়েছে যা আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার থেকে, তিনি আত্তাফ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি তার ভাই মিসওয়ার থেকে, তিনি আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ এই গোরস্তানবাসীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর তারা তাঁর জনৈক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: এটি হলো আসকালানের গোরস্তান। (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)। ইবনে মারদুওয়াই তাঁর তাফসীর গ্রন্থে এই সূত্রেই এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে স্ত্রীর নাম আয়েশা (রা.) বলে উল্লেখ করেছেন। এর আরও একটি সাক্ষ্য রয়েছে যা আদ-দুলাবী তাঁর 'আল-কুনা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আবু বিশর আদ-দুলাবী 'আল-কুনা' গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনুল ওয়ালীদ আল-খাল্লাল, তিনি আদম ইবনে আবি ইয়াস থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ হুযাইল ইবনে মিসআর আল-আনসারী থেকে, তিনি আবু সিনান সা'দ ইবনে সিনান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আসকালানের গোরস্তান থেকে সত্তর হাজার শহীদকে পুনরুত্থিত করা হবে, যাদের প্রত্যেকে রাবীআ ও মুদার গোত্রের লোকসংখ্যার সমপরিমাণ মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। আবু বিশর বলেন: এটি অত্যন্ত মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদীস। তবে এর একটি মুরসাল সাক্ষ্য রয়েছে। সাঈদ ইবনে মানসূর তাঁর 'আস-সুনান' গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ আতা আল-খুরাসানী থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট পৌঁছেছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনবার বলেছেন: আল্লাহ এই গোরস্তানবাসীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
مَرَّاتٍ فَسُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ تِلْكَ مَقْبُرَةٌ تَكُونُ بِعَسْقَلانَ وَكَانَ عَطَاءٌ يُرَابِطُ بِهَا كُلَّ عَامٍ أَرْبَعِينَ يَوْمًا حَتَّى مَاتَ

 

‌‌الحَدِيث التَّاسِع

حَدِيث بُرَيْدَة فِي فضل مرو وَهُوَ حَدِيث حسن فَإِن أَوْسًا سهلا وَأَن كَانَا قد تكلما فيهمَا فَلم ينفردا بِهِ فقد ذكر الْحَافِظ أَبُو نعيم فِي الْفَصْل الثَّامِن وَالْعِشْرين من دَلَائِل النُّبُوَّة أَن حسام بن مصك رَوَاهُ أَيْضا عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه وحسام وَإِن كَانَ فِيهِ أَيْضا مقَال فقد قَالَ ابْن عدي أَنه مَعَ ضعفه حسن الحَدِيث وَلم ينْفَرد بِهِ كَمَا ترى فَالْحَدِيث حسن بِهَذَا الِاعْتِبَار

 

‌‌جَوَاب الْكَلَام عَن الْأَحَادِيث الَّتِي حكم عَلَيْهَا ابْن الْجَوْزِيّ بِالْوَضْعِ وَلم يذكرهُ الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ

وَلما انْتهى الْكَلَام إِلَى هَذِه الْغَايَة وَتبين لي أَن غَالب هَذِه الْأَحَادِيث مَعَ قلتهَا لَا يتَّجه الحكم عَلَيْهَا بِالْوَضْعِ فَكيف الْقطع بذلك عثرت فِي كتاب الموضوعات لأبي الْفرج ابْن الْجَوْزِيّ على مَا حكم عَلَيْهِ بِالْوَضْعِ أَيْضا مِمَّا رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد أَيْضا فِي مُسْنده وَهُوَ على شَرط شَيخنَا وَكَأَنَّهُ سَهَا عَنهُ فَمن ذَلِك طرق لبَعض الْأَحَادِيث الَّتِي قدمتها بينتها فِيهَا وَهِي على شَرط شَيخنَا فِي الْعد كَمَا يلوح للنَّاظِر فِي كَلَامه

 

‌‌الحَدِيث الأول

مِمَّا لَمْ يَذْكُرْهُ حَدِيثُ حُذَيْفَةَ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ وَغَيْرِ ذَلِكَ قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ ثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةٍ فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ قَعَدَ عَلَى شَفَتِهِ فَجَعَلَ يُرَدِّدُ النَّظَرَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ يُضْغَطُ الْمُؤْمِنُ فِيهِ ضَغْطَةً تَزُولُ فِيهَا حَمَائِلُهُ وَيَمْلأُ عَلَى الْكَافِرِ نَارًا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَلا أُنَبِّئُكُمْ بِشَرِّ عِبَادِ اللَّهِ الْفَظُّ الْمُسْتَكْبِرُ أَلا أُخْبِرُكُمْ
কয়েকবার। তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "তা আসকালানে অবস্থিত একটি কবরস্থান।" আর আতা প্রতি বছর সেখানে চল্লিশ দিন সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকতেন, মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এভাবেই অতিবাহিত করেন।

 

‌‌নবম হাদিস

মার্ভ-এর ফজিলত সম্পর্কে বুরাইদাহর হাদিস; এটি একটি হাসান হাদিস। যদিও আউস ও সাহল সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে, তবে তারা এই বর্ণনায় একক নন। হাফেজ আবু নুআইম 'দালাইলুন নুবুওয়াহ'-এর আটাশতম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, হুসাম ইবন মিসাক এটি আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। হুসাম সম্পর্কে কিছু আপত্তি থাকলেও ইবন আদি বলেছেন যে, তার দুর্বলতা সত্ত্বেও তার হাদিস হাসান পর্যায়ের। আর আপনি যেমনটি দেখছেন, তিনি এই বর্ণনায় একাকী নন। সুতরাং এই দিক বিবেচনায় হাদিসটি হাসান।

 

‌‌ইবনুল জাওযি যে হাদিসগুলোকে বানোয়াট হওয়ার হুকুম দিয়েছেন অথচ হাফেজ ইরাকি সেগুলো উল্লেখ করেননি, সে সম্পর্কে আলোচনার উত্তর

যখন আলোচনা এই পর্যায়ে পৌঁছাল এবং আমার নিকট স্পষ্ট হলো যে, এ হাদিসগুলো সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর ওপর বানোয়াট হওয়ার হুকুম দেওয়া যায় না, তবে এ ব্যাপারে কীভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব? আমি আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযির 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে এমন কিছু হাদিস পেলাম যেগুলোকে তিনি বানোয়াট হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, অথচ সেগুলো ইমাম আহমাদ তার 'মুসনাদ'-এ বর্ণনা করেছেন। এগুলো আমাদের শাইখের (ইরাকি) শর্তানুযায়ী ছিল, মনে হয় তিনি এ বিষয়ে ভ্রান্তিবশত ছেড়ে গিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে আমি পূর্বে উল্লেখ করা কিছু হাদিসের সনদ রয়েছে যা আমি স্পষ্ট করেছি; এগুলো গণনার ক্ষেত্রে আমাদের শাইখের শর্ত মোতাবেকই রয়েছে, যা তার আলোচনার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে স্পষ্ট হয়ে যায়।

 

‌‌প্রথম হাদিস

তিনি যা উল্লেখ করেননি তার মধ্যে রয়েছে কবরের আজাব ও অন্যান্য বিষয়ে হুজাইফার বর্ণিত হাদিস। ইমাম আহমাদ বলেন: মূসা ইবন দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন জাবির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবন মুররাহ আমাদের নিকট আবু আল-বাখতারি থেকে, তিনি হুজাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি জানাজায় ছিলাম। যখন আমরা কবরের নিকট পৌঁছালাম, তিনি কবরের কিনারায় বসলেন এবং সেটির দিকে বারবার তাকাতে লাগলেন। এরপর তিনি বললেন: "মুমিন ব্যক্তিকে কবরে এমনভাবে চাপ দেওয়া হয় যাতে তার হাড়ের জোড়াগুলো স্থানচ্যুত হয়ে যায়, আর কাফেরের জন্য কবরে আগুন ভর্তি করে দেওয়া হয়।" এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি কি তোমাদের আল্লাহর নিকৃষ্ট বান্দাদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তারা হলো কর্কশ স্বভাবের অহংকারী। আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব না..."
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بِخَيْرِ عِبَادِ اللَّهِ الضَّعِيفُ الْمُسْتَضْعَفُ ذُو الطِّمْرَيْنِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّ قَسَمَهُ قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ هَذَا حَدِيثٌ لَا يَصِحُّ مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ قَالَ يَحْيَى لَيْسَ بِشَيْءٍ وَقَالَ أَحْمَدُ لَا يُحَدِّثُ عَنْهُ إِلا مَنْ هُوَ شَرٌّ مِنْهُ

قُلْتُ وَأَبُو الْبَخْتَرِيِّ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ فَيْرُوزَ لَمْ يُدْرِكْ حُذَيْفَةَ وَلَكِنْ مُجَرَّدُ هَذَا لَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْمَتْنَ مَوْضُوعٌ فَإِنَّ لَهُ شَوَاهِدَ أَمَّا الْقِصَّةَ الأُولَى فَشَاهِدُهَا فِي أَحَادِيثَ كَثِيرَةٍ لَا يَتَّسِعُ الْحَالُ لاسْتِيعَابِهَا وَأَمَّا الْقِصَّةُ الثَّانِيَةُ فَشَاهِدُهَا فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ حَدِيثِ حَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ أَلا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ كُلُّ عقل جَوَّاظٌ مُسْتَكْبِرٌ وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَّاظُ قَالَ وَالْجَوَّاظُ الْغَلِيظُ الْفَظُّ وَفِي الْمُسْتَدْرَكِ لِلْحَاكِمِ وَالأَوْسَطِ لِلطَّبَرَانِيِّ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلِ النَّارِ قُلْتُ بَلَى قَالَ أَمَّا أَهْلُ النَّارِ فَكُلُّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ وَأَمَّا أَهْلُ الْجَنَّةِ فَالضُّعَفَاءُ الْمَغْلُوبُونَ

 

‌‌الحَدِيث الثَّانِي

مِمَّا لَمْ يَذْكُرْهُ حَدِيثُ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنا قَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ الْبَاهِلِيُّ عَنْ عَاصِمِ بْنِ مَخْلَدٍ عَن أبي الأشعت الصَّنْعَانِيِّ عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ قَرَضَ بَيْتَ شِعْرٍ بَعْدَ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاةٌ تِلْكَ اللَّيْلَةِ أَوْرَدَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ بِإِسْنَادِ الْمُسْنَدِ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ وَعَاصِمٌ فِي عِدَادِ الْمَجْهُولِينَ قَالَ الْعُقَيْلِيُّ لَا يُعْرَفُ إِلا بِعَاصِمٍ وَلا يُتَابَعُ عَلَيْهِ وَقَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ مُضْطَرِبُ الْحَدِيثِ وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ كَانَ كَثِيرَ الْخَطَاءِ فَاحِشَ الْوَهْمِ فَلَمَّا كَثُرَ ذَلِكَ فِي رِوَايَتِهِ سَقَطَ الاحْتِجَاجُ بِهِ انْتهى
আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই দুর্বল ও বঞ্চিত ব্যক্তি, যে দুইখানা জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত; সে যদি আল্লাহর নামে কসম করে তবে আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করেন। ইবনুল জাওযী বলেন, এটি একটি সহীহ নয় এমন হাদিস। মুহাম্মাদ ইবনে জাবির সম্পর্কে ইয়াহইয়া বলেন, সে উল্লেখযোগ্য কেউ নয়। ইমাম আহমদ বলেন, তার চেয়েও অধম ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তার থেকে বর্ণনা করে না।

আমি বলি, আবুল বাখতারীর নাম সাঈদ ইবনে ফাইরুজ, তিনি হুযায়ফার সাক্ষাৎ পাননি। কিন্তু শুধুমাত্র এটিই প্রমাণ করে না যে মূল পাঠটি (মতন) জাল বা বানোয়াট, কারণ এর স্বপক্ষে অন্য হাদিস (শাহিদ) রয়েছে। প্রথম ঘটনাটির স্বপক্ষে অনেক হাদিস রয়েছে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। আর দ্বিতীয় ঘটনার স্বপক্ষে বুখারী ও মুসলিম শরীফে হারিসাহ ইবনে ওয়াহবের বর্ণনা রয়েছে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "আমি কি তোমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্কে খবর দেব না? তারা হলো প্রত্যেক রূঢ় স্বভাবের অহংকারী।" আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে: "কোনো রূঢ় স্বভাবের ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" তিনি বলেন, 'জাওওয়ায' অর্থ রূঢ় ও অভদ্র। হাকিমের মুস্তাদরাক এবং তাবারানির আওসাত-এ হাসান সনদে সুরাকাহ ইবনে মালিক ইবনে জুশুম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কি তোমাদের জান্নাতী ও জাহান্নামীদের সম্পর্কে খবর দেব না?" আমি বললাম, অবশ্যই। তিনি বললেন, "জাহান্নামীরা হলো প্রত্যেক রূঢ় স্বভাবের অহংকারী। আর জান্নাতীরা হলো ওইসব দুর্বল মানুষ যারা মানুষের কাছে অবদমিত।"

 

‌‌দ্বিতীয় হাদিস

যা তিনি উল্লেখ করেননি, তা হলো শাদ্দাদ ইবনে আউসের হাদিস। ইমাম আহমদ বলেন, ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন কাযাআহ ইবনে সুওয়াইদ আল-বাহিলী, আসিম ইবনে মাখলাদ থেকে, তিনি আবুল আশআস আস-সানআনী থেকে, তিনি শাদ্দাদ ইবনে আউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি এশার সালাতের পর এক পঙ্ক্তি কবিতাও আবৃত্তি করবে, সেই রাতে তার সালাত কবুল করা হবে না।" ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওযুয়াত' (বানোয়াট হাদিস সমগ্র) গ্রন্থে মুসনাদের সনদে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি বানোয়াট হাদিস। আসিম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আল-উকাইলী বলেন, আসিম ব্যতীত অন্য কারও মাধ্যমে সে পরিচিত নয় এবং এর কোনো সমর্থনকারী বর্ণনা নেই। কাযাআহ ইবনে সুওয়াইদ সম্পর্কে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, সে হাদিস বর্ণনায় অসংলগ্ন। ইবনে হিব্বান বলেন, সে অনেক ভুল করত এবং অত্যন্ত বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হতো। যখন তার বর্ণনায় ভুলের আধিক্য ঘটল, তখন তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা অচল হয়ে পড়ল। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قُلْتُ لَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنْ هَذَا مَا يَقْضِي عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ بِالْوَضْعِ إِلا أَنْ يَكُونَ اسْتُنْكِرَ عَدَمُ الْقَبُولِ مِنْ أَجْلِ فِعْلِ الْمُبَاحِ لأَنَّ قَرْضَ الشِّعْرِ مُبَاحٌ فَكَيْفَ يُعَاقَبُ فَاعِلُهُ بِأَنْ لَا تُقْبَلَ لَهُ صَلاةٌ فَلَوْ عُلِّلَ بِهَذَا لَكَانَ أَلْيَقَ بِهِ مِنْ تَعْلِيلِهِ بِعَاصِمٍ وَقَزَعَةَ لأَنَّ عَاصِمًا مَا هُوَ مِنَ الْمَجْهُولِينَ كَمَا قَالَ بَلْ ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ وَأَمَّا كَوْنُهُ تَفَرَّدَ بِرِوَايَةِ هَذَا عَنْ أَبِي الأشعت فَلَيْسَ كَذَلِكَ فَقَدْ تَابَعَهُ عَلَيْهِ عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ حَبِيبٍ عَنْ أبي لأشعت رَوَيْنَاهُ فِي الْجَعْدِيَّاتِ عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ الْبَغَوِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ ثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ وَلَكِنَّ عَبْدَ الْقُدُّوسِ ضَعِيفٌ جَدًّا كَذَّبَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ فَكَانَ الْعُقَيْلِيُّ لَمْ يَعْتَدَّ بِمُتَابَعَتِهِ وَأَمَّا قَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ فَهُوَ بَاهِلِيٌّ بَصْرِيٌّ يُكَنَّى أَبَا مُحَمَّدٍ رَوَى أَيْضًا عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ التَّابِعِينَ وَحَدَّثَ عَنْهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الأَئِمَّةِ وَاخْتُلِفَ فِيهِ كَلامِ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ فَقَالَ عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ عَنْهُ ضَعِيفٌ وَقَالَ عُثْمَانُ الدَّارِمِيُّ عَنْهُ ثِقَةٌ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ مَحَلُّهُ الصِّدْقُ وَلَيْسَ بِالْمَتِينِ يُكْتَبُ حَدِيثُهُ وَلا يُحْتَجُّ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ لَهُ أَحَادِيثُ مُسْتَقِيمَةٌ وَأَرْجُو أَنَّهُ لَا بَأْس بِهِ وَقَالَ الْبَزَّار لَمْ يَكُنْ بِالْقَوِيِّ وَقَدْ حَدَّثَ عَنْهُ أَهْلُ الْعِلْمِ وَقَالَ الْعِجْلِيُّ لَا بَأْسَ بِهِ وَفِيهِ ضَعِيفٌ فَالْحَاصِلُ مِنْ كَلامِ هَؤُلاءِ الأَئِّمَةِ فِيهِ أَنَّ حَدِيثَهُ فِي مَرْتَبَةِ الْحَسَنِ وَاللَّهِ أَعَلْمُ

وَقَدْ وَجَدْتُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ طَرِيقِ أُخْرَى عَن أبي الأشعت وَذَكَرَهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ فِي الْعِلَلِ فَقَالَ سَأَلْتُ أَبِي عَنْ حَدِيثٍ رَوَاهُ مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي الأشعت الصَّنْعَانِيّ عَن عبد الله ابْن عَمْرٍو يَرْفَعُهُ قَالَ مَنْ قَرَضَ بَيْتَ شِعْرٍ بَعْدَ الْعِشَاءِ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاةٌ حَتَّى يَصْبِحَ فَقَالَ هَذَا خطأ النَّاسِ يَرْوُونَ هَذَا الْحَدِيثَ لَا يَرْفَعُونَهُ يَقُولُونَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَقَطْ يَعْنِي مَوْقُوفًا فَقُلْتُ لَهُ الْغَلَطُ مِمَّنْ قَالَ من مُوسَى
আমি বলি, এর কোনো কিছুই এই হাদিসটিকে জাল হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়, যদি না বৈধ কাজের জন্য আমল কবুল না হওয়ার বিষয়টি আপত্তিকর মনে করা হয়। কারণ কবিতা রচনা করা একটি বৈধ কাজ, সুতরাং তা সম্পাদনকারীকে কেন এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে তার সালাত কবুল হবে না? যদি এই যুক্তিতে হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হতো, তবে তা আসিম এবং কাজাআহ-এর কারণে ত্রুটিযুক্ত বলার চেয়ে অধিকতর সংগত হতো। কারণ আসিম অপরিচিত বা অজ্ঞাত রাবিদের অন্তর্ভুক্ত নন যেমনটি তিনি বলেছেন, বরং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। আর আবু আশআছ থেকে তার এই বর্ণনায় একাকী হওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং এ ক্ষেত্রে আব্দুল কুদ্দুস ইবনে হাবিব আবু আশআছ থেকে তার অনুসরণ করেছেন। আমরা এটি আল-জাদিইয়্যাত-এ আবুল কাসিম আল-বাগাভি থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আলী ইবনুল জাদ আমাকে হাদিসটি শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল কুদ্দুস আমাদের হাদিসটি শুনিয়েছেন। তবে আব্দুল কুদ্দুস অত্যন্ত দুর্বল; ইবনুল মুবারক তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। তাই সম্ভবত উকায়লি তার এই অনুসরণকে গণ্য করেননি। আর কাজাআহ ইবনে সুওয়াইদ সম্পর্কে কথা হলো, তিনি একজন বাহিলি বসরী রাবি, তার উপনাম আবু মুহাম্মদ। তিনি একদল তাবিঈ থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং একদল ইমাম তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের তার সম্পর্কে বক্তব্যে মতভেদ রয়েছে; আব্বাস আদ-দুরি তার সূত্রে বর্ণনা করেন যে তিনি দুর্বল, আবার উসমান আদ-দারিমি তার সূত্রে বর্ণনা করেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য। আবু হাতিম বলেছেন: তার অবস্থান হলো সত্যবাদিতা, তবে তিনি শক্তিশালী নন; তার হাদিস লিখে রাখা হবে কিন্তু তা দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না। ইবনে আদি বলেন: তার কিছু সঠিক হাদিস রয়েছে এবং আমি আশা করি তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আল-বাযযার বলেন: তিনি শক্তিশালী ছিলেন না, তবে জ্ঞানীরা তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-ইজলি বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তবে তার মাঝে কিছুটা দুর্বলতা আছে। সুতরাং এই ইমামদের বক্তব্য থেকে সারকথা হলো এই যে, তার হাদিস হাসান স্তরের। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আমি এই হাদিসটি আবু আশআছ থেকে অন্য একটি সূত্রে পেয়েছি এবং ইবনে আবি হাতিম তার আল-ইলাল গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে মুসা ইবনে আইয়ুব বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, যা তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবু আশআছ আস-সানআনী থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি এশার পর কোনো কবিতার পঙক্তি রচনা করবে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না।" তখন তিনি বললেন: "এটি একটি ভুল; বর্ণনাকারীরা এই হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন না, বরং তারা কেবল আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বলেন, অর্থাৎ এটি মাওকুফ।" আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: "ভুলটি কার পক্ষ থেকে হয়েছে?" তিনি বললেন: "মুসা থেকে।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাববি আন মুসনাদি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الحَدِيث الثَّالِث

قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ ثَنَا أَفْلَحُ بْنُ سَعِيدٍ نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَافِعٍ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ طَالَتْ بِكَ مُدَّةٌ أَوْشَكَ أَنْ تَرَى قَوْمًا يَغْدُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ عز وجل وَيَرُوحُونَ فِي لَعْنَتِهِ فِي أَيْدِيهِمْ مِثْلُ أَذْنَابِ الْبَقَرِ ذَكَرَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ بِإِسْنَادِ الْمسند أَيْضا وَنقل عَن أبي حِبَّانَ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ هَذَا الْخَبَرَ بَاطِلٌ وَأَفْلَحُ كَانَ يَرْوِي عَنِ الثِّقَاتِ الْمَوْضُوعَاتِ انْتَهَى وَهَذَا الْحَدِيثُ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْ مَشَايِخِهِ عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْعَقَدِيِّ بِهَذَا وَأَخْرَجَهُ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ كَمَا سَيَأْتِي وَلَمْ أَقِفْ فِي كِتَابِ الْمَوْضُوعَاتِ لابْنِ الْجَوْزِيِّ عَلَى شَيْءٍ حُكِمَ عَلَيْهِ بِالْوَضْعِ وَهُوَ فِي أَحَدِ الصَّحِيحَيْنِ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ وَإِنَّهَا لَغَفْلَةٌ شَدِيدَةٌ مِنْهُ وأفلح الْمَذْكُور يعرف بالقبائي مَدَنِيٌّ مِنْ أَهْلِ قُبَاءَ ثِقَةٌ مَشْهُورٌ وَثَّقَهُ ابْنُ مَعِينٍ وَابْنُ سَعْدٍ وَقَالَ ابْنُ مَعِينٍ أَيْضًا وَالنَّسَائِيُّ لَا بَأْسَ بِهِ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ شَيْخٌ صَالِحُ الْحَدِيثِ وَأَخْرَجَ لَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَطَبَقَتُهُ وَلَمْ أَرَ لِلْمُتَقَدِّمِينَ فِيهِ كَلامًا إِلا أَنَّ الْعُقَيْلِيَّ قَالَ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ ابْنُ مَهْدِيٍّ قُلْتُ وَلَيْسَ هَذَا بِجَرْحٍ وَقَدْ غَفَلَ ابْنُ حِبَّانَ فَذكره فِي الطَّبَقَة الرَّابِعَةِ مِنَ الثِّقَاتِ وَقَدْ أَخْطَأَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي تَقْلِيدِهِ لابْنِ حبَان فِي هَذَا الْوَضع خطأ شَدِيدًا وَغَلِطَ ابْنُ حِبَّانَ فِي أَفْلَحَ فَضَعَّفَهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَعَقَّبَهُ بِأَنْ قَالَ هَذَا بِهَذَا اللَّفْظِ بَاطِلٌ وَالْمَحْفُوظُ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِلَفْظِ اثْنَانِ مِنْ أُمَّتِي لَمْ أَرَهُمَا رِجَالٌ بِأَيْدِيهِمْ سِيَاطٌ مِثْلُ أَذْنَابِ الْبَقَرِ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ وَتَعَقَّبَ الذَّهَبِيُّ فِي الْمِيزَانِ كَلامَ ابْنِ حِبَّانَ هَذَا فَقَالَ حَدِيثُ أَفْلَحَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ وَرِوَايَةُ سُهَيْلٍ شَاهِدَةٌ لَهُ وَابْنُ حِبَّانَ رُبَّمَا جَرَحَ الثِّقَةَ حَتَّى كَأَنَّهُ لَا يَدْرِي مَا يَخْرُجُ مِنْ رَأْسِهِ انْتَهَى قُلْتُ وَقَدْ صَحَّحَهُ مِنْ طَرِيقِ أَفْلَحَ أَيْضًا الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ مِنْ طَرِيقٍ وَصَحَّحَهُ مِنْ طَرِيقِ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ ثَنَا جَرِيرٌ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي الله قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مميلات مائلات رُؤْسهنَّ
তৃতীয় হাদিস

ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট আবু আমির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আফলাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে রাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি তোমার হায়াত দীর্ঘ হয়, তবে অচিরেই তুমি এমন এক কওমকে দেখতে পাবে যারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে সকাল অতিবাহিত করবে এবং তাঁর অভিশাপ নিয়ে সন্ধ্যা অতিবাহিত করবে, যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক।" ইবনুল জাওযি এটি তাঁর 'আল-মাওজুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে মুসনাদের সনদেও উল্লেখ করেছেন। তিনি ইবনে হিব্বান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই সংবাদটি বাতিল, আর আফলাহ নির্ভরযোগ্য রাবিদের সূত্রে জাল হাদিস বর্ণনা করতেন।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। অথচ এই হাদিসটি ইমাম মুসলিম তাঁর একদল উস্তাদের সূত্রে আবু আমির আল-আকাদি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি অন্য একটি সূত্রেও বর্ণনা করেছেন যা সামনে আসবে। ইবনুল জাওযির 'আল-মাওজুআত' গ্রন্থে এই একটি হাদিস ছাড়া অন্য কোনো হাদিস আমি পাইনি যা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর কোনো একটিতে থাকা সত্ত্বেও তিনি সেটিকে জাল বলে হুকুম দিয়েছেন। আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে এক চরম অসতর্কতা। উল্লিখিত আফলাহ 'আল-কুবায়ি' নামে পরিচিত, তিনি কুবাবাসী একজন মদিনাবাসী রাবি, তিনি একজন সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবি। ইবনে মাঈন ও ইবনে সাদ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে মাঈন পুনরায় এবং আন-নাসাঈ বলেছেন: "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।" আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি একজন নেককার শায়খ, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য।" ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও তাঁর সমসাময়িকরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি পূর্বসূরিদের মধ্যে তাঁর ব্যাপারে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য দেখিনি, কেবল আল-উকায়লি বলেছেন যে, ইবনে মাহদি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেননি। আমি বলছি, এটি কোনো জারহ (সমালোচনা) নয়। ইবনে হিব্বান অসতর্ক হয়ে তাকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য রাবিদের তালিকা) গ্রন্থের চতুর্থ স্তরে উল্লেখ করেছেন। ইবনুল জাওযি এই হাদিসটিকে জাল বলার ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে মারাত্মক ভুল করেছেন। ইবনে হিব্বান আফলাহর ব্যাপারে ভুল করেছেন এবং এই হাদিসের কারণে তাঁকে দুর্বল বলেছেন। এরপর তিনি মন্তব্য করেছেন যে: "এই শব্দে এই হাদিসটি বাতিল। আর সুহাইল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত সংরক্ষিত পাঠ হলো: 'আমার উম্মতের দুই প্রকার লোক যাদের আমি দেখিনি; একদল পুরুষ যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক এবং একদল নারী যারা কাপড় পরা সত্ত্বেও উলঙ্গ থাকবে'।" আল-জাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে ইবনে হিব্বানের এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেছেন: "আফলাহর বর্ণিত হাদিসটি সহিহ ও গরিব। সুহাইলের বর্ণনাটি এর সমর্থক (শাহিদ)। আর ইবনে হিব্বান মাঝে মাঝে নির্ভরযোগ্য রাবিদের এমনভাবে সমালোচনা করেন যে মনে হয় তিনি নিজেই জানেন না তাঁর মস্তিষ্ক থেকে কী নির্গত হচ্ছে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলছি, হাকেমও তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে একটি সূত্রের মাধ্যমে আফলাহর এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। এবং তিনি সুহাইল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসটিকেও সহিহ বলেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জারির বর্ণনা করেছেন সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জাহান্নামবাসীদের মধ্যে দুই প্রকার লোক রয়েছে যাদের আমি দেখিনি; একদল কওম যাদের কাছে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে। আর একদল নারী যারা কাপড় পরা সত্ত্বেও উলঙ্গ থাকবে, তারা অন্যদের আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে, তাদের মস্তক হবে উটের হেলানো কুঁজের মতো।"