(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: -)
كشف المغطا في فضل الموطا   (أبو القاسم ابن عساكر)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: كشف المغطا في فضل الموطا

المؤلف: ثقة الدين، أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله المعروف بابن عساكر (ت 571هـ)

المحقق: محب الدين أبي سعيد عمر العمروي

الناشر: دار الفكر - بيروت

سنة النشر:

عدد الصفحات: 44

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা   (আবুল কাসিম ইবনে আসাকির)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা

লেখক: সিকাতুদ দীন (ثقة الدين), আবুল কাসিম আলী বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ, ইবনে আসাকির নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫৭১ হিজরি)

মুহাক্কিক: মুহিব্বুদ্দীন আবু সাঈদ উমর আল-আমরাভি

প্রকাশক: দার আল-ফিকর - বৈরুত

প্রকাশের বছর:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ١٧)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْمُسْنِدُ الْمُعَمِّرُ صَدْرُ الدِّينِ أَبُو الْفَتْح مُحَمَّدُ بْنُ الْإِمَامِ الْحَافِظِ شَرَفِ الدِّينِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ الْمَيْدُومِيُّ فِيمَا أذن لي وَكَتَبَهُ لِي بِخَطِّهِ عَنْ شَيْخِهِ الإِمَام الْحَافِظ جمال الدّين أَبُو حَامِدٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مَحْمُودٍ الْمَحْمُودِيِّ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الصَّابُونِيِّ قَالَ أَنبأَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ مُفْتِي الْمُسْلِمِينَ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بن الْحُسَيْن الْبَغْدَادِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ يَوْمَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) শায়খ, ইমাম, দীর্ঘজীবী (معمر) হাদিস বর্ণনাকারী (مسند), সদরুদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনুল ইমাম হাফিজ (حافظ) শরফুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আবি কাসিম আল-মায়দুমি; তিনি আমাকে যে অনুমতি প্রদান করেছেন এবং তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে আমার জন্য যা লিখেছেন সে অনুযায়ী। তিনি তাঁর শায়খ ইমাম, হাফিজ (حافظ) জামালুদ্দীন আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাহমুদ আল-মাহমুদি—যিনি ইবনুল সাবুনি নামে পরিচিত—থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) শায়খ, ইমাম, মুসলিমদের মুফতি (مفتي) শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল কাদির বিন আবি আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-বাগদাদি; তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে (سماعا), ... দিবসে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ١٨)
الْخَمِيسِ الثَّامِنِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ ذِي الْحجَّة سنة أَربع وَعشْرين وسِتمِائَة بالجامع الْأَحْمَر بِالْقَاهِرَةِ حَرَسَهَا اللَّهُ تَعَالَى قَالَ أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ عَسَاكِرَ سَمَاعًا عَلَيْهِ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ الثَّامِنِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ رَجَبٍ الْفَرد سنة سِتّ وَسِتِّينَ وَخَمْسمِائة بِدَارِ الْحَدِيثِ النُّورِيَّةِ بِدِمَشْقَ الْمَحْرُوسَةِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْخَضِرُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بن عَبْدَانِ قَالَ أَنبأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْوَلِيدِ الْكِلَابِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ حَدَّثَنِي خَلَفُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْقَيْرَوَانِيُّ

৬২৪ হিজরি সনের ২৮শে জিলহজ, বৃহস্পতিবার, কায়রোর (আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন) জামে আল-আহমারে। তিনি বলেন: হাফেজ (الحافظ) আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকির ৫৬৬ হিজরি সনের ২৮শে রজব, মঙ্গলবার, সুরক্ষিত দামেস্কের দারুল হাদিস আন-নূরিয়্যাহ-তে তাঁর নিকট শ্রবণ (سماعا) করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল কাসিম আল-খাদির বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহাব বিন আল-হাসান বিন আল-ওয়ালিদ আল-কিলাবি তাঁর নিকট পাঠ (قراءة) করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: খালাফ বিন আল-কাসিম বিন সুলাইমান আল-কায়রাওয়ানি আমাকে বর্ণনা (حدثني) করেছেন।

(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ١٩)
أَبُو سعيد قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمُهَنْدِسُ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خلف بن سهل الْبَزَّار يُعْرَفُ بِابْنِ أَبِي غَالِبٍ الْعَدْلِ قَالَا ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ زَبَّانَ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ رُمْحٍ يَقُولُ

حَجَجْتُ مَعَ أَبِي وَأَنَا صَبِيٌّ لَمْ أَبْلُغِ الْحُلُمَ فَنِمْتُ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّوْضَةِ بَيْنَ الْقَبْرِ وَالْمِنْبَرِ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ خَرَجَ مِنَ الْقَبْرِ الشريف وَهُوَ متوكيء عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما فَقُمْتُ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِمْ فَرَدُّوا عَلَيَّ السَّلَامَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ أَنْتَ ذَاهِبٌ قَالَ أُقِيمُ
আবু সাঈদ বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-মুহান্দিস এবং উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ বিন সাহল আল-বাজার, যিনি ইবনে আবি গালিব আল-আদল অর্থাৎ ন্যায়নিষ্ঠ (العدل) হিসেবে পরিচিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর মুহাম্মাদ বিন জাব্বান। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন রুমহ-কে বলতে শুনেছি (سمعت):

আমি শৈশবকালে যখন তখনও প্রাপ্তবয়স্ক হইনি, তখন আমার পিতার সাথে হজ পালন করেছিলাম। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে, রওজায় কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে ঘুমিয়ে পড়লাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম যে, তিনি পবিত্র কবর শরীফ থেকে বের হয়েছেন এবং তিনি আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ওপর ভর দিয়ে আছেন। আমি দাঁড়িয়ে তাঁদের সালাম দিলাম এবং তাঁরা আমার সালামের উত্তর দিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, আমি অবস্থান করব।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٠)
لِمَالِكٍ الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ فَانْتَبَهْتُ وَأَتَيْتُ أَنَا وَأَبِي فَوَجَدْتُ النَّاسَ مُجْتَمِعِينَ عَلَى مَالِكٍ رضي الله عنه وَقد أخرج لَهُم الْمُوَطَّأ أَوَّلَ خُرُوجِ الْمُوَطَّإِ وَبِهِ إِلَى أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ عَسَاكِرَ قَالَ أَخْبَرَنَا الْفَقِيهُ أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصِّيصِيُّ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْفَتْح بن ابراهيم الزَّاهِد قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن القَاضِي جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ الْمِيمَاسِيُّ قَالَ أَنبأَنَا الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ الزِّيَادِيُّ قَالَ أَنبأَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ
মালিকের জন্য সরল পথ। অতঃপর আমি জাগ্রত হলাম এবং আমি ও আমার পিতা আসলাম। এরপর আমি মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট লোকজনকে সমবেত অবস্থায় পেলাম, আর তিনি তাদের নিকট মুওয়াত্তা পেশ করেছিলেন যখন মুওয়াত্তা প্রথম প্রকাশিত হয়। এবং উক্ত সনদে আবুল কাসিম বিন আসাকির পর্যন্ত পৌঁছেছে; তিনি বলেন, ফকিহ আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মিসসিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবুল ফাতহ বিন ইব্রাহিম আয-যাহিদ আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন কাজি জাফর বিন আলি আল-মিমাসি আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আজিজ বিন আহমাদ আয-যিয়াদি আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, কাজি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইসহাক বিন...
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢١)
الْحَسَنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَنبأَنَا عَمِّي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَنبأَنَا مُحَمَّدٌ الْمُكَنَّى بِأَبِي الْحَكَمِ بْنِ أَبِي ذُهْلٍ الْمِصْرِيِّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي السَّرِيَّ الْعَسْقَلَانِيَّ يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّوْمِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنِي بِعَمَلٍ أُحَدِّثُ بِهِ عَنْكُ فَقَالَ لِي صلى الله عليه وسلم إِنِّي قَدْ أَوْعَزْتُ إِلَى مَالِكٍ بكنز يفرق عَلَيْكُمْ ثُمَّ مَضَى وَتَبِعْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنِي بِعِلْمٍ أُحَدِّثُ بِهِ عَنْكُ فَقَالَ لِي صلى الله عليه وسلم يَا ابْن أَبي السَّرِيِّ إِنِّي قَدْ أَوْعَزْتُ إِلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ بِكَنْزٍ يفرق عَلَيْكُمْ أَلَا وَهُوَ الْمُوَطِّأُ أَلَا وَلَيْسَ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل وَلَا سُنَّتِي فِي إِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ حَدِيثٌ أَصَحَّ مِنَ الْمُوَطَّإِ فَاسْمَعْهُ تَنْتَفِعْ بِهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل {والعنهم لعنا كَبِيرا} {والعنهم لعنا كَبِيرا} فَأَنا نجد الشواذ كَاف وَثَلَاثَ سُنَنٍ مَنْزُولَةٍ قَالَ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم {وَالْعَنْهُمْ لعنا كَبِيرا وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَثِيرًا} ثُمَّ إِنِّي انْتَبَهْتُ وَبِهِ قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ وَحَدَّثَنِي بِهَذَا الْحَدِيثِ الْمُتَأَخِّرِ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عمر التنيسِي قَالَ أَنبأَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ عَمِّهِ بَإِسْنَادِهِ إِلَى مُحَمَّدِ بن أبي السّري رَحِمهم اللَّهُ
হাসান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জাবির বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে হাসান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জাবির। তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ, যার উপনাম আবু হাকাম ইবনে আবু যুহল আল-মিসরি। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আবু আস-সারী আল-আসকালানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলুন যা আমি আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করব। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি মালিককে একটি গুপ্তধনের নির্দেশনা দিয়েছি যা তোমাদের মাঝে বণ্টন করা হবে।" অতঃপর তিনি প্রস্থান করলেন এবং আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কোনো ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে বলুন যা আমি আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করব। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "হে ইবনে আবু আস-সারী! নিশ্চয়ই আমি মালিক ইবনে আনাসকে একটি গুপ্তধনের নির্দেশনা দিয়েছি যা তোমাদের মাঝে বণ্টন করা হবে; জেনে রেখো, সেটি হলো মুওয়াত্তা। জেনে রেখো, মহান আল্লাহর কিতাব এবং মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী আমার সুন্নাহর পর মুওয়াত্তার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) কোনো হাদিস নেই। সুতরাং তুমি তা শ্রবণ করো, তুমি এর দ্বারা উপকৃত হবে।" আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহর বাণী {এবং তাদের প্রতি লানত করুন মহা লানত} প্রসঙ্গে; আমরা বিরল (شواذ) কেরাআতে 'কাফ' এবং তিনটি অবতীর্ণ সুন্নাহ দেখতে পাই। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: {এবং তাদের প্রতি লানত করুন মহা লানত এবং তাদের প্রতি লানত করুন অনেক লানত}। এরপর আমি জাগ্রত হলাম। এবং এই সূত্রেই ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন যে, আমাকে এই পরবর্তী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর আত-তিন্নিসি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ইসহাক ইবনে হাসান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জাবির, তাঁর চাচার সূত্রে, তিনি তাঁর সনদসহ (إسناده) মুহাম্মদ ইবনে আবু আস-সারী পর্যন্ত; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ الْمُسْتَمْلِي قَالَ أَنبأَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَن بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الجنزروذي قَالَ أَنبأَنَا الْحَاكِمُ أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ قَالَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ قَالَ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ بَكْرُ بْنُ سَهْلِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْقُرَشِيُّ الدِّمْيَاطِيُّ بِدِمْيَاطَ (ح) قَالَ ابْن عَسَاكِر وَأَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي نَصْرٍ شُجَاعُ بْنُ أَبِي بكر اللفتواني قَالَ أَنبأَنَا أَبُو مَسْعُودٍ سُلَيْمَانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ
এবং সেই সূত্রে তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-কাসিম জাহির ইবনে তাহির আল-মুস্তামলি। তিনি বলেন, আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) আবু সা’দ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-জানজারুদি। তিনি বলেন, আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) আল-হাকিম আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-হাফিয। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ। তিনি বলেন, দামিয়াতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু মুহাম্মদ বাকর ইবনে সাহল ইবনে ইসমাইল আল-কুরাশি আদ-দামিয়াতি। (সনদান্তর - تحويل) ইবনে আসাকির বলেন, এবং আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর শুজা ইবনে আবি বকর আল-লাফতুওয়ানি। তিনি বলেন, আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) আবু মাসউদ সুলায়মান ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الْحَافِظُ وَأَبُو الْخَيْرِ مُحَمَّدُ بْنُ ررا الْإِمَامُ وَأَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الذَّكْوَانِيُّ وَأَبُو عَمْرو وَعبد الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ وَأَبُو الْحَسَنِ سَهْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْغَازِيُّ وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَوْلَةَ الْأَبْهَرِيُّ (ح) قَالَ ابْنُ عَسَاكِر وأنبأنا أَيْضًا أَبُو مُحَمَّدٍ هِبَةُ اللَّهِ بن أَحْمد الْمقري أَنبأَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ (ح) قَالَ ابْن عَسَاكِر وأنبأنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْحَدَّادُ بِأَصْبَهَانَ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَبْهَرِيُّ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرٍ الْيَزْدِيُّ إِمْلَاءً أَنبأَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ أَنبأَنَا بكر بن سهل الدمياطي أَنبأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ زَادٍ الْيَزْدِيُّ وَهُوَ التِّنِّيسِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي
হাফিজ (الحافظ) এবং আবু আল-খায়ের মুহাম্মদ বিন ররা, ইমাম (الإمام) এবং আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-জাকওয়ানি, এবং আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, এবং আবু আল-হাসান সাহল বিন আব্দুল্লাহ আল-গাজী, এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন জাওলাহ আল-আভহারী (ح - রূপান্তর)। ইবনে আসাকির বলেন: এবং আমাদের আরও সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) সুলাইমান বিন ইব্রাহিম (ح - রূপান্তর)। ইবনে আসাকির বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আল-হাদ্দাদ আসবাহানে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-আভহারী। তাঁরা সকলে বলেছেন: আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে (إملاء) বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন জাফর আল-ইয়াজদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) বকর বিন সাহল আদ-দুমইয়াতি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ জাদ আল-ইয়াজদি—যিনি আত-তিননিসি নামে পরিচিত—তিনি বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٤)
خَلَفُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ كُنَّا عِنْدَ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رحمه الله فَأَتَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ كثير وَقَالَ زَاهِر بن أَبِي كَثِيرٍ وَهُوَ الصَّوَابُ وَقَالُوا قاريء الْمَدِينَةِ فَنَاوَلَهُ رُقْعَةً فَنَظَرَ فِيهَا مَالِكٌ ثُمَّ جَعَلَهَا تَحْتَ مُصَلَّاهُ فَلَمَّا قَامَ مِنْ عِنْدِهِ ذَهَبْتُ أَقُومُ فَقَالَ اثْبُتْ يَا خَلَفُ فَنَاوَلَنِي الرُّقْعَةَ فَإِذَا فِيهَا رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ فِي مَنَامِي كَأَنَّهُ يُقَالُ لِي هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فَأَتَيْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا نَاحِيَةٌ مِنَ الْقَبْرِ قَدِ انْفَرَجَتْ وَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالس وَالنَّاس يَقولُونَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْ لَنَا فَقَالَ لَهُمْ صلى الله عليه وسلم

إِنِّي قَدْ كَنَزْتُ تَحْتَ الْمِنْبَرِ كَنْزًا وَقَدْ أمرت مَالك أَنْ يُقَسِّمَهُ فِيكُمْ فَاذْهَبُوا إِلَى مَالِكٍ فَانْصَرَفَ النَّاسُ وَبَعْضُهُمْ يَقُولُ لِبَعْضٍ مَا تَرَوْنَ مَالِكًا فَاعِلًا فَقَالَ زَاد زَاهِر بَعضهم وَقَالُوا يُنْفِذُ لِمَا أُمِرَ وَقَالَ زَاهِرٌ أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَقَّ مَالك لَهُ وبكرى ثُمَّ خَرَجْتُ وَتَرَكْتُهُ عَلَى الْحَالِ وَقَالَ زَاهِرٌ تِلْكَ الْحَالِ وَانْتَهَتْ رِوَايَتُهُ وَزَادُ الْيَزْدِيُّ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ أَبُو ضمره عَليّ بن حَمْزَة قَالَ أَبُو الْمُعَافَى بْنُ أَبِي رَافع الْمدنِي رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَرِضَى عَنْهُ

أَلَا إِنِّ فَقْدَ الْعِلْمِ فِي فَقْدِ مَالِكٍ

فَلَا زَالَ فِينَا صَالِحَ الْحَالِ مَالِكُ

يُقِيمُ طَرِيقَ الْحَقِّ وَالْحَقُّ وَاضِحٌ

ويَهْدِي كَمَا تَهْدِي النُّجُومُ الشَّوَابِكُ … فَلَوْلَاهُ مَا قَامَت حُقُوق كَثِيرَة

ولولاه لاستدت عَلَيْنَا الْمَسَالِكُ … عَشَوْنَا إِلَيْهِ نَبْتَغِي ضوء رَأْيه

وَقد لزم الغي اللَّجُوجُ الْمُمَاحِكُ … فَجَاءَ بِرَأْيٍ مِثْلُهُ يُقْتَدَى بِهِ

كَنَظْمِ جُمَانٍ زَيَّنَتْهُ السَّبَائِكُ

‌‌وَبِهِ قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ وَجِيهُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّحَّامِيُّ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْعَدْلُ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ
খালাফ বিন আমর বলেন, আমরা মালিক বিন আনাস (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন আব্দুল্লাহ বিন কাসীর তাঁর কাছে আসলেন—যাহির বিন আবি কাসীরও বলা হয়েছে এবং এটিই সঠিক (الصواب)—যাঁকে তারা মদিনার ক্বারী বলতেন। তিনি তাকে একটি চিরকুট প্রদান করলেন। মালিক সেটি দেখলেন এবং তাঁর জায়নামাজের নিচে রেখে দিলেন। যখন তিনি মজলিস থেকে উঠে দাঁড়ালেন, আমিও উঠতে উদ্যত হলাম। তখন তিনি বললেন, হে খালাফ! থামো। অতঃপর তিনি আমাকে চিরকুটটি দিলেন। তাতে লেখা ছিল: আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখেছি যেন আমাকে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে অবস্থান করছেন। আমি মসজিদে গেলাম এবং দেখলাম কবরের এক পাশ উন্মুক্ত হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপবিষ্ট আছেন। এমতাবস্থায় মানুষ তাঁকে বলছে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কোনো নির্দেশ প্রদান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বললেন—

“আমি মিম্বরের নিচে একটি গুপ্তধন গচ্ছিত রেখেছি এবং মালিককে নির্দেশ দিয়েছি তা তোমাদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়ার জন্য। সুতরাং তোমরা মালিকের নিকট যাও।” তখন মানুষ প্রস্থান করল এবং একে অপরকে বলতে লাগল, মালিক কী করবেন বলে তোমরা মনে করো? যাহির অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তাদের কেউ কেউ বলল, তাঁকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন। যাহির আরও বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে এর নির্দেশ দিয়েছেন। এতে মালিক (রহ.) বিগলিত হলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর আমি বের হয়ে আসলাম এবং তাঁকে ঐ অবস্থায় রেখে আসলাম। যাহিরও ‘ঐ অবস্থা’র কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বর্ণনা (رواية) এখানেই শেষ হয়েছে। আর ইয়াজদী বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বলেছেন, আবু দামরাহ আলী বিন হামজাহ বলেছেন, আবু মুআফা বিন আবি রাফি আল-মাদানি (রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন—

জেনে রেখো! মালিকের তিরোধানের মাধ্যমেই মূলত ইলমের তিরোধান ঘটে,

যাতে মালিক আমাদের মাঝে সর্বদা কল্যাণময় অবস্থায় বিদ্যমান থাকেন।

তিনি সত্যের পথ প্রতিষ্ঠিত করেন যখন সত্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট,

এবং তিনি পথ দেখান যেমন উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি পথ প্রদর্শন করে … যদি তিনি না থাকতেন তবে বহু অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতো না,

আর যদি তিনি না থাকতেন তবে আমাদের জন্য সকল পথ রুদ্ধ হয়ে যেত … আমরা তাঁর নিকট আসতাম তাঁর প্রজ্ঞালব্ধ মতামতের আলো অন্বেষণ করতে,

যখন একগুঁয়ে বিবাদকারীরা পথভ্রষ্টতাকে আঁকড়ে ধরেছিল … অতঃপর তিনি এমন বিজ্ঞ মতামত নিয়ে আসলেন যা অনুসরণযোগ্য,

যেমন সুবিন্যস্ত মুক্তামালা যা স্বর্ণপিণ্ড দ্বারা সুশোভিত।

‌ইবনে আসাকির এই সূত্রে বলেছেন, আবু বকর ওয়াজীহ বিন তাহির বিন মুহাম্মাদ আশ-শাহ্হামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আহমাদ বিন আল-হাসান আল-আদল আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদ আমাদের জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَخْلَدِيُّ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بكر الإسفرايني ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مَعْنَ بْنَ عِيسَى يَقُولُ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ أَرْسَلَ إِلَيَّ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَبُو جَعْفَرٍ يُرِيدُ الْمُوَطَّأَ فَأَتَيْتُهُ بِهِ فَنَظَرَ فِيهِ وَقَالَ هَذَا الْحَقُّ وَأَرَادَ أَنْ يُكْتَبَ وَيَبْعَثُ بِهِ إِلَى الْآفَاقِ فَيَحْمِلُ النَّاسَ عَلَيْهِ وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن الْبَاقِي الْأنْصَارِيّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بن عَليّ الْجَوْهَرِي قَالَ أَنبأَنَا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بن حيوية قَالَ أَنبأَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بن الْخَلِيل قَالَ أَنبأَنَا الْحَارِث بن أبي أُسَامَة أَنبأَنَا مُحَمَّد بن سعد قَالَ أَنبأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ
আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-মাখলাদি বলেন, আবু বকর আল-ইসফরাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنبأَنَا), আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثَنَا), তিনি বলেন, আবু মুসা আল-আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنِي), তিনি বলেন, আমি মা'ন ইবনে ঈসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমিরুল মুমিনীন আবু জাফর আমার নিকট সংবাদ পাঠালেন, তিনি মুয়াত্তা চাইলেন। অতঃপর আমি তা নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম; তিনি এতে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, "ইহা সত্য।" তিনি ইচ্ছা পোষণ করলেন যেন এটি অনুলিপি করা হয় এবং বিভিন্ন জনপদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি মানুষকে এর অনুসরণে বাধ্য করতে পারেন। এবং একই সূত্রে তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল বাকী আল-আনসারী আমাদের অবহিত করেছেন (أَخْبَرَنَا), তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنْبَأَنَا), তিনি বলেন, আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে হাইওয়ায়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنبأَنَا), তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল খলিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنبأَنَا), তিনি বলেন, আল-হারিস ইবনে আবু উসামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنبأَنَا), মুহাম্মদ ইবনে সা'দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنبأَنَا), তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ رحمه الله يَقُولُ لَمَّا حَجَّ أَبُو جَعْفَرٍ الْمَنْصُورُ دَعَانِي فَدخلت عَلَيْهِ فَحَدثني وسألني فأجبته فَقَالَ إِنِّي عَزَمْتُ أَنْ آمُرَ بِكُتُبِكَ هَذِهِ الَّتِي وَضَعْتَهَا يَعْنِي الْمُوَطَّأَ فَتُنْسَخَ نُسَخًا ثُمَّ أَبْعَثُ إِلَى كُلِّ مِصْرٍ مِنْ أَمْصَارِ الْمُسْلِمِينَ مِنْهَا بِنُسْخَةٍ وَآمُرُهُمْ أَنْ يَعْمَلُوا بُمَا فِيهَا لَا يَتَعَدَّوْنَهُ إِلَى غَيْرِهِ وَيَدْعُو مَا سِوَى ذَلِكَ مِنْ هَذَا الْعِلْمِ الْمُحْدَثِ فَإِنِّي رَأَيْتُ أَصْلَ الْعِلْمِ رِوَايَةَ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَعِلْمَهُمْ قَالَ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَا تفعل هَذَا ان النَّاسَ قَدْ سَبَقَتْ إِلَيْهِمْ أَقَاوِيلَ وَسَمِعُوا أَحَادِيثَ وَرَوَوْا رِوَايَاتٍ وَأَخَذَ كُلُّ قَوْمٍ مِنْهُمْ بِمَا سَبَقَ إِلَيْهِمْ وَعَمِلُوا بِهِ وَدَانَوْا بِهِ مِنَ اخْتِلَافِ النَّاسِ وَغَيْرِهِمْ وَإِنَّ رَدَّهُمْ عَمَّا اعْتَقَدُوهُ تَشْدِيدٌ فَدَعِ النَّاسَ وَمَا هُمْ عَلَيْهِ وَمَا اخْتَار أهل كل هُمْ عَلَيْهِ وَمَا اخْتَارَ أَهْلُ كل بلد مُهِمّ لِأَنْفُسِهِمْ فَقَالَ لَعَمْرِي لَوْ طَاوَعْتَنِي عَلَى ذَلِكَ لَأَمَرْتُ بِهِ

وَبِالسَّنَدِ إِلَى أَبِي الْقَاسِمِ عَلِيِّ بْنِ عَسَاكِرَ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّد بن اسماعيل بن الْحسن النَّيْسَابُورِي قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ الْخَسْرُوجَرْدِيُّ قَالَ ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَنْبَرِيُّ
উমর বলেন, আমি মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, যখন আবু জাফর আল-মনসুর হজ পালন করলেন, তিনি আমাকে ডাকলেন। এরপর আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমার সাথে কথা বললেন এবং আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাঁর উত্তর দিলাম। এরপর তিনি বললেন, "আমি সংকল্প করেছি যে আপনার সংকলিত এই কিতাবসমূহ—অর্থাৎ মুয়াত্তা—সম্পর্কে আদেশ জারি করব যেন এর একাধিক অনুলিপি তৈরি করা হয়। অতঃপর আমি মুসলিমদের প্রতিটি জনপদে এর একটি করে অনুলিপি পাঠাব এবং তাদেরকে নির্দেশ দেব যেন তারা এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করে এবং এটি ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত না হয়। আর তারা যেন এই নবোদ্ভূত জ্ঞান (العلم المحدث) ব্যতিরেকে অন্য সব বর্জন করে। কেননা আমি মদিনাবাসীদের বর্ণনা (رواية) ও তাঁদের জ্ঞানকেই ইলমের মূল ভিত্তি হিসেবে মনে করি।" ইমাম মালিক বলেন, তখন আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি এমনটি করবেন না। কারণ মানুষের কাছে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মতামত পৌঁছেছে, তারা হাদিস শুনেছে এবং বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) গ্রহণ করেছে। প্রতিটি জনপদ তাদের কাছে আগে যা পৌঁছেছে তা-ই গ্রহণ করেছে এবং মানুষের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সে অনুযায়ী আমল করেছে ও সেটিকে দ্বীন হিসেবে মেনে নিয়েছে। এখন তারা যা বিশ্বাস করে নিয়েছে তা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হবে। সুতরাং আপনি মানুষকে তাদের অবস্থার ওপর এবং প্রতিটি জনপদের অধিবাসীরা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করে নিয়েছে তার ওপর ছেড়ে দিন।" তখন তিনি বললেন, "আমার জীবনের শপথ! আপনি যদি এই বিষয়ে আমার অনুগামী হতেন, তবে অবশ্যই আমি এর আদেশ জারি করতাম।"

এবং আবু আল-কাসিম আলী ইবনে আসাকিরের প্রতি অবিচ্ছিন্ন সূত্রের (بالسند) মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু আল-মা'আলি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আল-হাসান আল-নায়সাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বাইহাকি আল-খাসরুজারিদি আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, হাফিজ (الحافظ) আবু আবদুল্লাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-আনবারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
ثَنَا مُحَمَّد بن ابراهيم الفندي قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عمرَان بن مِقْلَاص وَأَبُو طَاهِر أَحْمد بن عَمْرو قَالَا ثَنَا خَالِدُ بْنُ نِزَارٍ الْأَيلِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ رحمه الله يَقُولُ دَعَانِي أَبُو جَعْفَرٍ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَ لِي يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَكْتُبَ إِلَى الْآفَاقِ فَأَحْمِلُهُمْ عَلَى كِتَابِ الْمُوَطَّإِ حَتَّى لَا يَبْقَى أَحَدٌ يُخَالِفُكَ فِيهِ قَالَ مَالِكٌ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَفَرَّقُوا فِي الْبُلْدَانِ وَاتَّبَعَهُمُ النَّاسُ فَرَأَى كُلُّ فَرِيقٍ أَنْ قَدِ اتَّبَعَ مَتْبَعًا

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو النَّجْمِ بَدْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشيمي قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بكر الْخَطِيب
মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ফান্দি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, আব্দুল আজিজ বিন ইমরান বিন মিকলাস এবং আবু তাহির আহমদ বিন আমর আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তারা উভয়ে বলেন, খালিদ বিন নিযার আল-আইলি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন, আমি মালিক বিন আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমিরুল মু'মিনিন আবু জাফর আমাকে ডেকে বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি সাম্রাজ্যের সকল প্রান্তে লিখে পাঠাতে চাই যেন আমি মানুষকে মুয়াত্তা গ্রন্থ অনুসরণে বাধ্য করতে পারি, যাতে আপনার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার মতো কেউ অবশিষ্ট না থাকে।" মালিক (রহ.) বলেন, আমি বললাম, "হে আমিরুল মু'মিনিন! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। ফলে প্রতিটি দলই মনে করে যে তারা একটি অনুসৃত পথ অনুসরণ করছে।"

এবং একই সূত্রে তিনি বলেন, আবু আন-নাজম বদর বিন আব্দুল্লাহ আশ-শিমি আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবুল হাসান বিন সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আবু বকর আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قَالَ أَنبأَنَا ابْن الْفضل قَالَ أَنبأَنَا دعْلج قَالَ أَنبأَنَا احْمَد بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ قَالَ سَأَلْتُ مُجَاهِدَ بْنَ مُوسَى عَنْ سَعِيدِ بْنِ دَاوُدَ الزَّنْبَرِيِّ قَالَ سَأَلْتُ عَنْهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ نَافِعٍ الصَّائِغَ فَقُلْتُ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ أَنَّ الْمَهْدِيَّ أَمَرَ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ حِينَ أَخْرَجَ الْمُوطَّأَ يَصِيرُ فِي صُنْدُوقٍ حَتَّى إِذَا كَانَ أَيَّامَ الْمَوْسِمِ حَمَلَ النَّاسَ عَلَيْهِ فَإِن كَانَ فِيهِ فَأَصْلِحْهُ فَقَرَأَهُ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْفُسٍ أَنَا فِيهِمْ
তিনি বলেন, ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أَنبأَنَا)। তিনি বলেন, দুলজ আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أَنبأَنَا)। তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আলী আল-আব্বার আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أَنبأَنَا)। তিনি বলেন, আমি মুজাহিদ ইবনে মুসাকে সাঈদ ইবনে দাউদ আল-জানবারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে নাফি আস-সায়িগকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম, হে আবু মুহাম্মদ! খলিফা আল-মাহদী যখন মুয়াত্তা প্রকাশ করলেন, তখন তিনি মালিক ইবনে আনাসকে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন যে, এটি যেন একটি সিন্দুকে সংরক্ষিত থাকে, যাতে হজের মৌসুম এলে তিনি (খলিফা) মানুষকে এর বিধান পালনে বাধ্য করতে পারেন। সুতরাং যদি এতে (সংশোধনযোগ্য) কিছু থাকে তবে তা সংশোধন করে নিন। এরপর তিনি (মালিক) এটি চারজন ব্যক্তির সামনে পাঠ করলেন, আমি তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলাম।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
فَقَالَ كَذَبَ سَعِيدٌ أَنَا وَاللَّهِ أُجَالِسُ مَالِكًا مُنْذُ ثَلَاثِينَ سَنَةً أَوْ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ وَرُبَّمَا هَجَّرْتُ مَا رَأَيْتُهُ قَرَأَهُ عَلَى إِنْسَانٍ قَطُّ إِنَّمَا أَنْكَرَ ابْنُ نَافِعٍ قَوْلَهُ إِنَّهُ سَمعه من لَفظه فَإِنَّمَا حَمْلُهُ الْمُوَّطَّإِ إِلَى الْعِرَاقِ فَلَمْ يَتَعَرَّضْ لَهُ

وَبِهِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بن الْحسن بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْفَارِسِيُّ قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَافِظُ قَالَ أَنْبَانَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ أَنبأَنَا مُكْرَمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُكْرَمٍ الْقَاضِي قَالَ ثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَبْدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُقَيْلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُصْعَبٍ الزُّهْرِيَّ يَقُولُ قَالَ هَارُونُ لِمَالِكٍ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أُرِيدُ أَنْ أَسْمَعَ مِنْكَ الْمُوَطَّأَ قَالَ فَقَالَ مَالِكٌ نَعَمْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ فَقَالَ لِمَالِكٍ مَتَى قَالَ مَالِكٌ غَدًا قَالَ مجْلِس هَارُونُ يَنْتَظِرُهُ وَجَلَسَ مَالِكٌ فِي بَيْتِهِ يَنْتَظِرُهُ قَالَ فَلَمَّا أَبْطَأَ عَلَيْهِ أَرْسَلَ إِلَيْهِ هَارُونُ فَدَعَاهُ قَالَ فَقَالَ لَهُ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مَا زِلْتُ أَنْتَظِرُكَ مُنْذُ الْيَوْمَ فَقَالَ مَالِكٌ وَأَنَا أَيْضًا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَمْ أَزَلْ أَنْتَظِرُكَ مُنْذُ الْيَوْمَ إِنَّ الْعِلْمَ يُؤْتَى وَلَا يَأْتِي وَإِنَّ ابْنَ عَمِّكَ هُوَ الَّذِي جَاءَ بِالْعِلْمِ صلى الله عليه وسلم فَإِنْ رَفَعْتُمُوهُ ارْتَفَعَ وَإِنْ وَضَعْتُمُوهُ اتَّضَعْ
তিনি বললেন, “সাঈদ মিথ্যা বলেছেন (كذب); আল্লাহর শপথ, আমি তিরিশ কিংবা পঁয়ত্রিশ বছর ধরে সকাল-সন্ধ্যায় মালিকের মজলিসে বসেছি, এমনকি কখনো কখনো দ্বিপ্রহরেও গিয়েছি, কিন্তু আমি তাঁকে কখনো কোনো ব্যক্তির কাছে তা পাঠ করতে দেখিনি। মূলত ইবনে নাফি তাঁর এই কথাটিই অস্বীকার (أنكر) করেছেন যে, তিনি তা তাঁর মুখনিঃসৃত শব্দ থেকে শুনেছেন (سمعه من لفظه); তিনি কেবল মুয়াত্তাকে ইরাকে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর (মালিকের) কাছে তা পেশ করেননি।”

এবং একই সূত্রে তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবুল মাআলি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ফারিসি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন হাফিজ (الحافظ)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ হাফিজ (الحافظ)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) মুকরাম ইবনে আহমদ ইবনে মুকরাম আল-কাদি। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবুল ফজল আব্বাস ইবনে ঈসা ইবনে আব্দ ইবনে মুসলিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিল ইবনে আবি তালিব। তিনি বলেন, আমি আবু মুসআব আল-জুহরিকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: হারুন মালিককে বললেন, “হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি আপনার নিকট থেকে মুয়াত্তার শ্রবণ (سمع) করতে চাই।” বর্ণনাকারী বলেন, তখন মালিক বললেন, “হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনীন।” হারুন মালিককে বললেন, “কখন?” মালিক বললেন, “আগামীকাল।” বর্ণনাকারী বলেন, হারুন তাঁর মজলিসে অপেক্ষা করতে লাগলেন এবং মালিকও তাঁর ঘরে তাঁর প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। যখন হারুনের পৌঁছাতে বিলম্ব হলো, তখন হারুন তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে তাঁকে ডেকে আনলেন। তিনি (হারুন) তাঁকে বললেন, “হে আবু আব্দুল্লাহ, আজ সারাদিন আমি আপনার অপেক্ষায় ছিলাম।” তখন মালিক বললেন, “হে আমিরুল মুমিনীন, আমিও আজ সারাদিন আপনার অপেক্ষায় ছিলাম। নিশ্চয়ই ইলমের (জ্ঞানের) কাছে আসতে হয়, ইলম কারো কাছে যায় না। আর আপনার চাচাতো ভাই-ই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ইলম নিয়ে এসেছিলেন; সুতরাং আপনারা যদি একে মর্যাদা (رفع) দেন তবে তা সমুন্নত হবে, আর যদি আপনারা একে তুচ্ছ (وضع) করেন তবে তা হীন হবে।”
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَالِكِي قَالَ أَنبأَنَا أَبِي أَبُو الْعَبَّاسِ الْفَقِيهُ قَالَ أَنبأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ ثَنَا أَبُو يَعْلَى عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الْقَرِيبِ الْحَرَّانِي الْمقري قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مَرْوَانَ الْمَالِكِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ النَّهَاوَنْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي عَتِيقُ بْنُ يَعْقُوبَ الزُّبَيْرِيُّ قَالَ قَدِمَ هَارُونُ الرَّشِيدُ الْمَدِينَةَ وَكَانَ قَدْ بَلَغَهُ أَنَّ مَالِكَ بْنَ أنَسٍ رحمه الله عِنْدَهُ الْمُوَطَّأُ يَقْرَأُهُ عَلَى النَّاسِ فَوَجَّهَ إِلَيْهِ الْبَرْمَكِيَّ فَقَالَ أَقْرِئْهُ السَّلَامَ وَقل لَهُ يحمل لي الْكِتَابَ فَيَقْرَأُهُ عَلَيَّ فَأَتَاهُ الْبَرْمَكِّيُّ فَقَالَ لَهُ مَالك أقره السَّلَامَ وَقُلْ لَهُ إِنَّ الْعِلْمَ يُزَارُ وَلَا يَزُورُ وَإِنَّ الْعِلْمَ يُؤْتَى وَلَا يَأْتِي فَأَتَاهُ الْبَرْمَكِيُّ فَأَخْبَرَهُ وَكَانَ عِنْدَهُ أَبُو يُوسُفَ الْقَاضِي فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ يَبْلُغَ أَهْلَ الْعِرَاقِ أَنَّكَ وَجَّهْتَ إِلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فِي أَمْرٍ فَخَالَفَكَ اعْزِمْ عَلَيْهِ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ دَخَلَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ فَسَلَّمَ وَجَلَسَ فَقَالَ يَا ابْن أَبِي عَامِرٍ أَبْعَثُ إِلَيْكَ فَتُخَالِفُنِي فَقَالَ مَالِكٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَخْبرنِي الزُّهْرِيّ وَذكره عَن خارحة بْنِ زَيْدِ بْنِ
এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন মনসুর আল-মালিকি। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) আমার পিতা আবু আল-আব্বাস আল-ফকিহ (الفقيه)। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) আবদুল ওয়াহহাব বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ (الحافظ)। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) আবু ইয়ালা আবদুল আজিজ বিন আবদুল কারিব আল-হাররানি আল-মুকরি (المقري)। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا) আবু বকর আহমদ বিন মারওয়ান আল-মালিকি। তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني) ইব্রাহিম বিন নাসর আল-নাহাওয়ান্দি। তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني) আতিক বিন ইয়াকুব আজ-জুবাইরি। তিনি বলেন: হারুন আল-রশিদ মদিনায় আসলেন। তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছিল যে, মালিক বিন আনাস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট মুয়াত্তা গ্রন্থটি রয়েছে, যা তিনি মানুষের নিকট পাঠ করে শোনান। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট বারমাকিকে প্রেরণ করলেন এবং বললেন: তাঁকে সালাম জানাও এবং বলো যে, তিনি যেন গ্রন্থটি আমার নিকট নিয়ে আসেন এবং তা আমাকে পড়ে শোনান। বারমাকি তাঁর নিকট আসলেন। তখন ইমাম মালিক তাঁকে বললেন: তাঁকে সালাম জানাও এবং বলো যে, 'জ্ঞান নিজেই দর্শনীয় (জ্ঞানের কাছে যেতে হয়), জ্ঞান কারো নিকট যায় না; আর জ্ঞানের নিকট উপস্থিত হতে হয়, জ্ঞান কারো নিকট উপস্থিত হয় না।' অতঃপর বারমাকি তাঁর নিকট ফিরে আসলেন এবং তাঁকে সংবাদ দিলেন। তখন তাঁর নিকট কাজি আবু ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! ইরাকবাসীদের নিকট কি এই সংবাদ পৌঁছাবে যে, আপনি মালিক বিন আনাসকে কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন আর তিনি আপনার বিরুদ্ধাচরণ করেছেন? আপনি তাঁর ওপর কঠোর হোন। এমতাবস্থায় মালিক বিন আনাস প্রবেশ করলেন, সালাম দিলেন এবং বসলেন। তখন তিনি (খলিফা) বললেন: হে ইবনে আবি আমির! আমি আপনার নিকট লোক পাঠালাম অথচ আপনি আমার অবাধ্য হলেন? ইমাম মালিক বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! যুহরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) এবং তিনি তা খারিজা বিন জায়েদ বিন... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣١)
ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه قَالَ كُنْتُ أَكْتُبُ الْوَحْيَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلَتْ {لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ من الْمُؤمنِينَ} قَالَ وَابْن مَكْتُوم عِنْد النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رجل ضَرِير يرقد أَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل فِي فَضْلِ الْجِهَادِ مَا قَدْ عَلِمْتَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا أَدْرِي وَقَلَمَيْ رَطْبٌ مَا جَفَّ حَتَّى وَقَعَ فَخِذُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخْذِي ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جَلَسَ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا زَيْدُ اكْتُبْ {غير أولي الضَّرَر} وَيَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ حَرْفٌ وَاحِدٌ بُعِثَ فِيهِ جِبْرِيلُ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ مَسِيرَةِ خَمْسِينَ أَلْفَ عَامٍ أَلَا يَنْبَغِي لِي أَنْ أُعِزَّهُ وَأُجِلَّهُ وَإِنِّ اللَّهَ تبارك وتعالى رَفَعَكَ وَجَعَلَكَ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ بِعِلْمِكَ فَلَا تَكُنْ أَنْتَ أَوَّلَ مَنْ يضع عَن الْعِلْمِ فَيَضَعُ اللَّهُ عِزَّكَ قَالَ فَقَامَ الرَّشِيدُ فَمَشَى مَعَ مَالِكٍ إِلَى مَنْزلِهِ يَسْمَعُ مِنْهُ الْمُوَطَّأَ واجلسه مَعَه الْمِنَصَّةِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَقْرَأَهُ عَلَى مَالِكٍ قَالَ تَقْرَأَهُ عَلَيَّ قَالَ مَالِكٌ مَا قَرَأْتُهُ عَلَى أَحَدٍ مُنْذُ زَمَانٍ قَالَ فَتُخْرِجُ النَّاسَ عَنِّي حَتَّى أَقْرَأَهُ أَنَا عَلَيْكَ فَقَالَ مَالِكٌ إِنَّ الْعِلْمَ إِذَا مُنِعَ مِنَ الْعَامَّةِ لِأَجْلِ الْخَاصَّةِ لَمْ يَنْفَعِ اللَّهُ بِهِ الْخَاصَّةَ فَأُمِرَ لَهُ مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ لِيَقْرَأَهُ عَلَيْهِ فَلَمَّا بَدَأَ بِالْقِرَاءَةِ لِيَقْرَأَهُ قَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ لِهَارُونَ الرَّشِيدِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَدْرَكْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا وَإِنَّهُمْ لَيُحِبُّونَ التَّوَاضُعَ لِلْعِلْمِ فَنَزَلَ هَارُونَ عَنِ الْمِنَصَّةِ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيهِ وَبِهِ قَالَ

أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْفَارِسِيُّ قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَافِظُ قَالَ أَنْبَانَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ أبنأبنا أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْمُنَادِي قَالَ أَنْبَانَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ حَبِيبٍ الْعَبْدِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي رحمه الله يَقُولُ كُنَّا نَأْتِي
সাবিত তাঁর পিতা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সামনে ওহী লিখতাম। তখন অবতীর্ণ হলো— "মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয়।" তিনি বলেন, তখন ইবনে উম্মে মাকতুম নবী (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি, আপনি তো জানেনই যে জিহাদের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন। নবী (সা.) বললেন: "আমি জানি না।" তখনো আমার কলম সিক্ত ছিল এবং তা শুকানোর পূর্বেই নবী (সা.)-এর উরু আমার উরুর ওপর পড়ল। এরপর নবী (সা.)-এর ওপর ওহী নাযিলের বিশেষ অবস্থা (মূর্ছা যাওয়ার মতো অবস্থা) তৈরি হলো। অতঃপর তিনি স্বাভাবিক হয়ে বসলেন এবং বললেন: হে জায়েদ! লেখো— "অক্ষম ব্যক্তিরা ব্যতীত।" (ইমাম মালিক খলিফাকে উদ্দেশ্য করে বললেন) হে আমিরুল মুমিনীন! এটি এমন একটি অক্ষর যার জন্য জিবরাঈল ও ফেরেশতাগণ পঞ্চাশ হাজার বছরের পথ পাড়ি দিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। আমার কি উচিত নয় একে সম্মানিত ও মহান করা? আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আপনাকে আপনার ইলমের মাধ্যমেই উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই আসনে আসীন করেছেন; সুতরাং আপনিই প্রথম ব্যক্তি হবেন না যে ইলমের মর্যাদাহানি করে, কারণ তবে আল্লাহ আপনার সম্মানকেও হরণ করবেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর হারুন আল-রশিদ উঠে দাঁড়ালেন এবং ইমাম মালিকের সাথে তাঁর বাসভবনে হেঁটে গেলেন যাতে তাঁর নিকট থেকে মুওয়াত্তা শুনতে পারেন। তিনি তাঁকে (মালিককে) উঁচু মঞ্চে নিজের সাথে বসালেন। যখন তিনি ইমাম মালিকের নিকট তা পাঠ করতে চাইলেন, তখন জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি আমার নিকট তা পাঠ করবেন? মালিক বললেন: আমি দীর্ঘ সময় ধরে কারো নিকট নিজে পাঠ করি না। খলিফা বললেন: তবে আপনি অন্যদের বের করে দিন যাতে আমি আপনার নিকট পাঠ করতে পারি। ইমাম মালিক বললেন: যদি বিশেষ ব্যক্তিবর্গের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ইলম প্রচার রুদ্ধ করা হয়, তবে আল্লাহ সেই বিশেষ ব্যক্তিবর্গকেও ইলম দ্বারা উপকৃত করেন না। তখন মা'ন ইবনে ঈসা আল-কাযযাযকে খলিফার সামনে পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। যখন তিনি পাঠ শুরু করার উপক্রম করলেন, তখন মালিক ইবনে আনাস হারুন আল-রশিদকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমি আমাদের শহরের আলেমদের দেখেছি যে, তাঁরা ইলমের সামনে বিনয় প্রদর্শন করতে পছন্দ করতেন। তখন হারুন মঞ্চ থেকে নিচে নেমে তাঁর সামনে বসে পড়লেন। এবং এই সূত্রের মাধ্যমে তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হুসাইন হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাইয়্যেব মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-মুনাদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে হাবিব আল-আবদি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে (রাহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি যে, আমরা আসতাম...

(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٢)
مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ فَنَجْلِسُ فِي دِهْلِيزٍ لَهُ وَعَلَيْهِ مِصْرَاعَانِ فَتَجِيءُ بَنُو هَاشِمٍ فَتَجْلِسُ وَتَجِيءُ قُرَيْشٌ فَتَجْلِسُ عَلَى مَنَازِلِهَا ثُمَّ نَجِيءُ نَحْنُ فَنَجْلِسُ وَتَخْرُجُ جَارِيَةٌ لَهُ بالمراوح فَيَأْخُذ النَّاس فيتروحون فَتَقول الشَّيْخ بِالْبَابِ فتفتحه فَيَخْرُجُ فَيَنْظُرُ إِلَى قُرَيْشٍ كَأَنَّمَا على رؤوسهم الطَّيْرُ إِذَا نَظَرُوا إِلَيْهِ إِجْلَالًا قَالَ وَفِي ذَلِكَ يَقُولُ الشَّاعِرُ

يَأْبَى الْجَوَابَ فَمَا يُرَاجَعُ هَيْبَةً … وَالسَّائِلُونَ نَوَاكِسُ الْأَذْقَانِ …

أَدَبُ الْوَقَارِ وَعِزُّ سُلْطَانِ الْتَقَى … فَهُوَ الْأَمِيرُ وَلَيْسَ ذَا سُلْطَانِ

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ الْخَضِرِ السُّلَمِيُّ بِدِمَشْق قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو حَازِمٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ العبدوي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ بْنَ حَمْدَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبَلَةَ يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ قَالَ كَانَ مَالِكٌ رحمه الله إِذَا عُرِضَ عَلَيْهِ الْمُوَطَّأُ تَهَيَّأَ وَلَبِسَ ثِيَابَهُ وَتَاجَهُ أوساجه وَعِمَامَتَهُ ثُمَّ أَطْرَقَ فَلَا يَتَنَحْنَحُ وَلَا يَبْزُقُ وَلَا يَعْبَثُ بِشَيْءٍ فِي لَحْيَتِهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ إِعْظَامًا لِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ (صلع)
মালিক ইবনে আনাস; আমরা তাঁর একটি বারান্দায় বসতাম যেটির দুটি কপাট ছিল। অতঃপর বনু হাশিম আসতেন এবং বসতেন, কুরাইশরা আসতেন এবং নিজ নিজ আসনে বসতেন, এরপর আমরা এসে বসতাম। তাঁর একজন দাসী পাখা নিয়ে আসতেন, লোকেরা সেগুলো নিয়ে নিজেদের বাতাস করতেন। দাসীটি বলত, "শায়খ দরজায় উপস্থিত," অতঃপর তিনি দরজা খুলতেন। তিনি বের হয়ে কুরাইশদের দিকে তাকাতেন; তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের আতিশয্যে তাঁকে দেখে তারা এমনভাবে স্থির হয়ে যেতেন যেন তাঁদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। বর্ণনাকারী বলেন, এই প্রসঙ্গেই কবি বলেছেন:

গাম্ভীর্যের কারণে তিনি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাই তাঁকে পুনরায় প্রশ্ন করা হয় না … আর প্রশ্নকারীরা অবনত মস্তকে অবস্থান করে …

গাম্ভীর্যের শিষ্টাচার এবং আল্লাহভীতির প্রভাব … তিনিই প্রকৃত নেতা, যদিও তাঁর পার্থিব রাজত্ব নেই

এবং তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল কারীম ইবনে হামজাহ ইবনে আল-খিজর আস-সুলামি দামেস্কে আমাদের সংবাদ (أخبرنا) দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খাতিব আমাদের অবহিত (أنبأنا) করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাজিম উমর ইবনে আহমদ আল-আবদুয়ী আমাদের অবহিত (أنبأنا) করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাবাল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি বলেন: মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট যখন মুওয়াত্তাহ পেশ (عرض) করা হতো, তখন তিনি প্রস্তুতি নিতেন এবং তাঁর পোশাক, টুপি ও পাগড়ি পরিধান করতেন। এরপর তিনি মাথা নিচু করে থাকতেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি গলা পরিষ্কার করতেন না, থুতু ফেলতেন না এবং নিজের দাড়িতে হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতেন না।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَبِهِ قَالَ أَنْبَأَنِي أَبُو الْقَاسِمِ النَّسِيبُ وَجَمَاعَةٌ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ قَالَ أَنبأَنَا عُثْمَانُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ اللَّبَّانِ أَنبأَنَا مُحَمَّد بن نصر الْمروزِي أَنبأَنَا أَبُو بكر الْأَعْين أَنبأَنَا أَبُو سَلَمَةَ يَعْنِي الْخُزَاعِيَّ قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ رحمه الله إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ يُحَدِّثُ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ وَلَبِسَ أَحْسَنَ ثِيَابِهِ وَلَبِسَ قُلُنْسُوَّتَهُ وَمَشَّطَ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ أَو قربه حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا عَالِيًا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفَرَاوِيُّ وَأَبُو الْمُظَفَّرِ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ هَوَازِنَ الْقُشَيْرِيُّ وَأَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّحَّامِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالُوا أَنْبَانَا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ أبي عمر وَمُحَمّد بن مُحَمَّد النجيرمي قَالَ ثَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ وَقَالَ الشحامي أَنبأَنَا أَبُو عَمْرو بْنُ حَمْدَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبَلَةَ الْهَرَوِيَّ قَالَ قَالَ أَبِي رحمه الله قَالَ
এবং একই সনদে তিনি বলেন, আমাকে আবুল কাসিম আন-নাসিব এবং একদল রাবি সংবাদ দিয়েছেন (أنبأني) আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারী থেকে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-খাযযায; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) উসমান ইবনে জাফর ইবনুল লাব্বান; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنবأنا) আবু বকর আল-আ'ইয়ান; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنবأنا) আবু সালামাহ অর্থাৎ আল-খুযাঈ; তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ) যখন হাদিস বর্ণনা করার জন্য বের হওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন নামাজের ন্যায় অজু করতেন, তাঁর সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন, টুপি পরিধান করতেন এবং তাঁর দাড়ি আঁচড়াতেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, (আমি এটি করি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে।

এবং একই সনদে তিনি বলেন, আমাদের উচ্চতর সনদে (عاليًا) অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনে আহমদ আল-ফারাওয়ী, আবু আল-মুজাফফর আব্দুল মুনইম ইবনে আব্দুল কারীম ইবনে হাওয়াযিন আল-কুশায়রী এবং নিশাপুরে আবুল কাসিম যাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাহহামী; তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু উসমান সাঈদ ইবনে আবি আমর এবং মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আন-নুজাইরিমী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামদান। আশ-শাহহামী বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু আমর ইবনে হামদান; তিনি বলেন, আমি আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাবালা আল-হারাভীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন...
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٤)
يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ رحمه الله إِذا عرض لَهُ الْمُوَطَّأُ تَهَيَّأُ وَلَبِسَ عِمَامَتَهُ ثُمَّ أَطْرَقَ وَلَا يَتَنَحْنَحْ وَلَا يَعْبَثُ بِشَيْءٍ مِنْ لِحْيَتِهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ إِعْظَامًا لِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الله الكبريتي الْوزان بأصبهان قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَاطِرْقَانِيُّ إِمْلَاءً قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَدَّلُ قَالَ أَنْبَانَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ قَالَ قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَدِيٍّ قَالَ قَالَ أَبُو طَالِبٍ الْهَرَوِيُّ قَالَ قَالَ أَبُو خَلِيل عتبَة بن حَمَّاد عَرَضْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رحمه الله الْمُوَطَّأَ فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ فَقَالَ مَالِكٌ عِلْمٌ جَمَعَةُ شَيْخٌ فِي سِتِّينَ سَنَةً أَخَذْتُمُوهُ فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ لَا وَاللَّهِ لَا يَنْفَعُكُمُ اللَّهُ بِهِ أبَدًا

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْأَعَزِّ قَرَاتَكِينُ بْنُ الْأَسْعَدِ بْنِ الْمَذْكُورِ الْأَزْجِيُّ
ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর হতে বর্ণিত, মালিক বিন আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট যখনই মুওয়াত্ত্বা পেশ (عرض) করা হতো, তখন তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং তাঁর পাগড়ি পরিধান করতেন। অতঃপর তিনি মাথা নিচু করে থাকতেন এবং পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গলা পরিষ্কার করতেন না কিংবা দাড়ি নিয়ে কোনো প্রকার নাড়াচাড়া করতেন না; আর এ সবকিছুই তিনি করতেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন স্বরূপ।

এবং একই সনদে তিনি বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবু নাসর মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কিবরিতি আল-ওয়াযযান ইস্পাহানে, তিনি বলেন, আবু বকর আহমাদ বিন আল-ফজল বিন মুহাম্মদ আল-বাতিরকানি আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে (إِمْلَاءً) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুয়াদ্দাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আমর মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু নুআইম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু তালিব আল-হারাউই বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু খলিল উতবাহ বিন হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন: আমি মালিক বিন আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট চার দিনে মুওয়াত্ত্বা পেশ (عرضتُ) করেছি, তখন মালিক বললেন, "যে ইলম একজন শাইখ ষাট বছর ধরে সংকলন করেছেন, তোমরা তা চার দিনে গ্রহণ করলে? আল্লাহর শপথ, আল্লাহ এর দ্বারা তোমাদের কখনোই উপকৃত করবেন না।"

এবং একই সনদে তিনি বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবুল আ'আয্য ক্বরাতাকিন বিন আস'য়াদ বিন আল-মযকুর আল-আযজি।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٥)
بِبَغْدَادَ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِي قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيز بن مردك البرديجي أَنبأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أبي حَاتِم الرَّازِيّ أَنبأَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الْمِصْرِيُّ قَالَ قَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله مَا فِي الْأَرْضِ كِتَابٌ مِنَ الْعِلْمِ أَكْثَرُ صَوَابًا مِنْ مُوَطَّإِ مَالِكٍ رحمه الله

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ السُّلَمِيُّ الْمَوَازِينِيُّ قِرَاءَة عَلَيْهِ بِدِمَشْق قَالَ أَنْبَانَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامَةَ بْنِ جَعْفَرٍ الْقُضَاعِيُّ فِي كِتَابِهِ إِلَيْنَا مِنْ مِصْرَ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ شَاكر الْقطَّان
বাগদাদে, তিনি বলেছেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ আল-জওহারী। তিনি বলেছেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু আল-হাসান আলী ইবন আব্দুল আযীয ইবন মারদাক আল-বারদীজী। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবন আবি হাতিম আল-রাযী। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা আল-মিসরী। তিনি বলেছেন, শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "পৃথিবীতে ইলম বা জ্ঞানের এমন কোনো কিতাব নেই যা মালিকের মুয়াত্তা অপেক্ষা অধিক শুদ্ধ (أكثر صوابًا)।"

এবং একই সনদে তিনি বলেছেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আলী ইবন আল-হাসান ইবন আল-হুসাইন আল-সুলামী আল-মাওয়াযিনী, দামেস্কে তাঁর নিকট পাঠ করার (قراءة عليه) মাধ্যমে। তিনি বলেছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন সালামাহ ইবন জাফর আল-কুদায়ী মিশর থেকে আমাদের নিকট প্রেরিত তাঁর কিতাবে আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)। তিনি বলেছেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন শাকির আল-কাত্তানের নিকট পাঠ করেছি (قرأت على)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٦)
قَالَ أَنبأَنَا الْحسن بن رَشِيق أَنبأَنَا سَعِيدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زَكَرِيَّا الْقُضَاعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ عبد الْأَعْلَى يَقُولُ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ يَا أَبَا مُوسَى مَا عَلَى الأَرْض بعد كتاب الله تَعَالَى أَصَحُّ مِنْ كِتَابِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَإِذَا ذُكِرَ الْأَثَرُ فَمَالِكٌ النَّجْمُ وَإِذَا جَاءَكَ الْحَدِيثُ مِنْ نَاحيَة الكوفين فَلَمْ تَجِدْ لَهُ أَصْلًا عِنْدَ الْمَدَنِيِّينَ فَاضْرِبْ بِهِ عُرْضَ الْحَائِطِ وَلَا تَلْتَفِتْ إِلَيْهِ

وَبِهِ قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ وَقَرَأْتُ عَلَى الْمَوَازِينِيِّ عَن الْقُضَاعِي قَالَ قَرَأت عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْقَطَّانِ أَنبأَنَا عَتِيقُ بْنُ مُوسَى بْنِ هَارُونَ الْمَالِكِي أَنبأَنَا مُحَمَّد بن الرّبيع الجيزي أَنبأَنَا يحيى بن عُثْمَان السَّهْمِي
তিনি বলেন, আল-হাসান বিন রাশিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ বিন আহমদ বিন জাকারিয়া আল-কুজায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুস বিন আবদিল আলা-কে বলতে শুনেছি, মুহাম্মদ বিন ইদরিস বলেছেন: হে আবু মুসা, আল্লাহ তাআলার কিতাবের পর জমিনের বুকে মালিক বিন আনাসের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) আর কোনো কিতাব নেই। আর যখন কোনো বর্ণনা (الأثر) আলোচিত হয়, তখন ইমাম মালিক হলেন নক্ষত্রস্বরূপ। আর যখন কুফাবাসীদের পক্ষ থেকে তোমার কাছে কোনো হাদিস আসে এবং মদিনাবাসীদের কাছে তুমি এর কোনো ভিত্তি (أصلا) খুঁজে না পাও, তবে তা দেয়ালে ছুড়ে মারো এবং সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করো না।

এবং এর মাধ্যমেই ইবনে আসাকির বলেন, আমি আল-মাওয়াজিনির নিকট পাঠ করেছি আল-কুজায়ি থেকে, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কাত্তানের নিকট পাঠ করেছি, আতিক বিন মুসা বিন হারুন আল-মালিকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-রবি আল-জিজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন উসমান আল-সাহমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٧)
أَنبأَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّعْدِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ الشَّافِعِيَّ رحمه الله يَقُولُ مَا كِتَابٌ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل أَنْفَعُ مِنْ مُوَطَّإِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهُ قَالَ ثَنَا أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الزَّاهِد قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ الْمِيمَاسِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَسَّانٍ الْعَسْقَلَانِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالْخَوَّاصِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ الْجَابِرِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ عَبْدِ الْأَعْلَى يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ مَا وُضِعَ عَلَى الْأَرْضِ كِتَابٌ هُوَ أَقْرَبُ إِلَى الصَّوَابِ مِنْ كِتَابِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ

وَبِهِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّد بْنُ الْفَضْلِ التَّيْمِيُّ بِأَصْبَهَانَ إِمْلَاءً قَالَ أَنبأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الكندلاني قَالَ أَنبأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ (ح) وَأَنْبَانَا أَبُو عَلِيٍّ الْحداد أَنبأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ أَحْمَدَ الْجَوْزِجَانِيُّ (ح) وَأَنْبَأَنَا أَبُو سعيد مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ
হারুন ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) যে, তিনি শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছেন, "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাবের পরে মালিক ইবনে আনাসের মুওয়াত্তার চেয়ে অধিক উপকারী আর কোনো কিতাব নেই।"

এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফকিহ আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহিম আজ-জাহিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (ثنا), তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আলী আল-মিমাসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাসসান আল-আসকালানি, যিনি আল-খাওওয়াস নামে পরিচিত, তিনি আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني), তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জাবিরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে রাবি ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইউনুস ইবনে আব্দুল আলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈকে বলতে শুনেছি: "পৃথিবীর বুকে মালিক ইবনে আনাসের কিতাবের চেয়ে নির্ভুলতার (الصواب) অধিক নিকটবর্তী অন্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি।"

এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-ফজল আত-তাইমি আসফাহানে শ্রুতিলিখনের (إملاء) মাধ্যমে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-কান্দালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) (ইসনাদ পরিবর্তন (ح)), এবং আবু আলী আল-হাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী আহমাদ আল-জাওযিজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) (ইসনাদ পরিবর্তন (ح)), এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٨)
الْمُطَرِّزُ وَأَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي الرَّجَاءِ قَالُوا أَنْبَأَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْحُسَيْنِ وَأَحْمَدُ بْنُ مَحْمُودٍ قَالَا أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ زَبَّانَ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ رحمه الله يَقُولُ مَا بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل أَكْثَرُ صَوَابًا مِنْ مُوَطَّإِ مَالِكٍ

وَبِهِ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ املاء أَنبأَنَا الكندلاني أَنبأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَن أَنبأَنَا أَبُو بكر الْمقري قَالَ سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ عَبْدِ الْأَحَدِ يَقُولُ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ عَبْدِ الْأَعْلَى يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ رحمه الله يَقُولُ مَا نَظَرْتُ فِي مُوَطَّإِ مَالِكٍ إِلَّا ازْدَدْتُ مِنْهُ فَهْمًا وَعِلْمًا وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْح نصر بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو الْبَرَكَاتِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن عَليّ الْمقري قَالَ أَنبأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَان قَالَ أَنبأَنَا الْحسن بن الْحُسَيْن بن حمدَان قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ الْفَضْلُ بن الفضيل الْكِنْدِيّ
আল-মুতাররিয, আবু আল-ফাদল জাফর ইবন আবদ আল-ওয়াহিদ এবং সাঈদ ইবন আবি আল-রাজা বলেন, মনসুর ইবন আল-হুসাইন এবং আহমাদ ইবন মাহমুদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তাঁরা বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-রহমান ইবন সাহল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবন যাব্বান ইবন হাবিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল-রাবি ইবন সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: মহান আল্লাহর কিতাবের পর মালিকের মুওয়াত্তা-এর চেয়ে অধিক সঠিক আর কোনো কিতাব নেই।

এবং একই সূত্রে তিনি বলেন, ইসমাঈল ইবন মুহাম্মদ আল-তায়মি শ্রুতিলিপির (إملاء) মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-কান্দালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন আবদ আল-রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), আবু বকর আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আমি ইউসুফ ইবন আবদ আল-আহাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইউনুস ইবন আবদ আল-আলা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি যখনই মালিকের মুওয়াত্তা পাঠ করেছি, তখনই আমার মাঝে ইলম ও সমঝ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং একই সূত্রে তিনি বলেন, আবুল ফাতহ নাসর ইবন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবুল বারাকাত আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আলী আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), উবাইদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), আল-হাসান ইবন আল-হুসাইন ইবন হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আবুল আব্বাস আল-ফাদল ইবন আল-ফুদাইল আল-কিন্দি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٣٩)
قَالَ أَنبأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَامِعٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ قَالَ سَمِعْتُ هَارُونَ بْنَ سَعِيدٍ الْأَيلِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ رضي الله عنه يَقُولُ مَا كِتَابٌ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى أَنْفَعُ مِنْ كِتَابِ مَالِكٍ رحمه الله وَرَضِيَ عَنْهُ

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْخَضِرُ بْنُ الْحُسَيْنِ بن عَبْدَانِ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْحسن عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي الحرور قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُوسَى بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ السِّمْسَارِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو يَحْيَى الْبَلْخِيُّ يَعْنِي زَكَرِيَّا بْنَ أَحْمَدَ أَنْبَأَنَا الْبُوشَنْجِيُّ يَعْنِي مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِنَا قَالَ قَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله مَا أَعْلَمُ كِتَابًا بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ أَوْلَى من كتاب الْمُوَطَّإِ

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الْمَوَازِينِيُّ قَالَ أَنْبَانَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامَةَ الْقُضَاعِيُّ فِي كِتَابِهِ إِلَيْنَا قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمد الْقطَّان أَنبأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفِ بْنِ سَهْلٍ الْبَزَّازُ قَالَ أَنبأَنَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْقَاضِي قَالَ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ عَبْدِ
তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন জামে ইয়াহইয়া বিন উসমান বিন সালিহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আমি হারুন বিন সাইদ আল-আইলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, আমি শাফিয়ী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, "আল্লাহ তাআলার কিতাবের পর ইমাম মালিক-এর কিতাবের চেয়ে অধিক উপকারী আর কোনো কিতাব নেই (রাহিমাহুল্লাহ ও রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)।"

এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেন, আবুল কাসিম আল-খাদির বিন আল-হুসাইন বিন আবদান আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন বিন আবিল হারুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী বিন মুসা বিন আল-হুসাইন বিন আস-সিমসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আবু ইয়াহইয়া আল-বালখি অর্থাৎ জাকারিয়া বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), আল-বুশানজি অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আমার জনৈক সাথী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন, শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "আল্লাহর কিতাবের পর মুওয়াত্ত্বা-এর চেয়ে অধিক যোগ্য বা উত্তম আর কোনো কিতাব সম্পর্কে আমি অবগত নই।"

এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী বিন আল-হাসান আল-মাওয়াজিনি আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-কুদ্বাঈ আমাদের নিকট লিখিত তাঁর কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আমি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ক্বাত্তান-এর নিকট পাঠ করেছি যে, উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন সাহল আল-বাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-ক্বাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন, আমি ইউনুস বিন আবদ...
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٤٠)
الْأَعْلَى يَقُولُ قَالَ لِي الشَّافِعِيُّ رحمه الله وَذُكِرَ الْمُوَطَّأُ وَمَا فِيهِ مِنَ الْحَدِيثِ فَقَالَ مَا عَلِمْنَا أَنَّ أَحَدًا مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ أَلَّفَ كِتَابًا أَحْسَنَ مِنْ مُوَطَّإِ مَالِكٍ وَمَا ذُكِرَ فِيهِ مِنَ الْأَخْبَارِ عَنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْعُلَمَاءِ الْمَشْهُورِينَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ مَرْغُوبًا عَنْهُ فِي الرِّوَايَةِ كَمَا ذَكَرَ غَيْرُهُ فِي كُتُبِهِ وَمَا عَلِمْتُ ذُكِرَ حَدِيثًا فِيهِ ذُكِرَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مَا فِي حَدِيثِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَيُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي وَلَقَدْ أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ مَالِكًا ذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ وَأَنَّهُ قَالَ وَدَّ أَنَّهُ لَمْ يُخَرِّجْهُ فِي الْمُوَطَّإِ

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَسَّانٍ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ قَالَ حَدثنِي أبي الْقَاسِمِ نَصْرُ بْنُ الْفَتْحِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ قَالَ أَبُو الزِّنْبَاعِ سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ عِيسَى اللَّخْمِيَّ يَقُولُ قَالَ لنا عمر بْنُ أَبِي سَلَمَةَ مَا قَرَأْتُ كتاب الْجَامِع مَعَ مُوَطَّإِ مَالِكٍ قَطُّ إِلَّا أَتَانِي فِي مَنَامِي فَقَالَ لِي هَذَا كَلَامُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَقًّا

وَبِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ هَوَازِنَ الْقشيرِي بنيسابور قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَيْهَقِيُّ قَالَ أَنْبَانَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظ أَنبأَنَا دعْلج بن أَحْمد بن أَحْمد السجْزِي بِبَغْدَاد
আল-আলা বলেন, ইমাম শাফিঈ (রহ.) আমাকে বলেছেন—সে সময় মুয়াত্ত্বা এবং এতে সংকলিত হাদিসগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল—তিনি বললেন: “আমাদের জানামতে পূর্ববর্তী (المتقدمين) আলেমদের মধ্যে কেউ ইমাম মালিকের মুয়াত্ত্বা অপেক্ষা উত্তম কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি। এতে মদিনাবাসী ও অন্যান্য প্রখ্যাত আলেমদের থেকে যেসব সংবাদ (الأخبار) বর্ণিত হয়েছে, তাতে তিনি এমন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করেননি যাদের বর্ণনা (الرواية) বর্জনীয় (مرغوب عنه), অথচ অন্যরা তাদের গ্রন্থে তেমন ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি জানি না যে, সেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ব্যাপারে কোনো হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে কি না, কেবল আলা ইবন আবদুর রহমানের হাদিসটি ছাড়া: ‘অবশ্যই কিছু লোককে আমার হাউজ থেকে হটিয়ে দেওয়া হবে...’। জনৈক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—যিনি স্বয়ং মালিককে এই হাদিসটি উল্লেখ করতে শুনেছেন—যে তিনি (মালিক) তামান্না করতেন যদি তিনি এটি মুয়াত্ত্বায় সংকলন (تخريج) না করতেন।”

এবং উক্ত সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবুল ফাতহ নাসর ইবন ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন হাসসান, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবন রাশিদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম নাসর ইবন আল-ফাতহ আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আবু যিনবা' বলেছেন, আমি আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবন আবদুল মুমিনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবন ঈসা আল-লাখমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: উমর ইবন আবি সালামাহ আমাদের বলেছেন, “আমি যখনই মুয়াত্ত্বা মালিকের সাথে জামি গ্রন্থটি পাঠ করেছি, তখনই স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট এসেছেন এবং আমাকে বলেছেন: এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্য বাণী।”

এবং উক্ত সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুযাফফর আবদুল মুনঈম ইবন আবদুল কারিম ইবন হাওয়াযিন আল-কুশায়রি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবন আলী আল-বাইহাকি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু আবদুল্লাহ হাফিয (الحافظ), আমাদের অবহিত করেছেন বাগদাদে দি'লাজ ইবন আহমাদ ইবন আহমাদ আস-সিজযি।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٤١)
أَنبأَنَا أَحْمد بن عَليّ الْآبَار أَنبأَنَا أَبُو عَمَّارٍ قَالَ سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبلٍ رحمه الله عَنْ كِتَابِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فَقَالَ مَا أحسن لِمَنْ تَدَيَّنَ بِهِ

وَبِالْإِسْنَادِ إِلَى ابْنِ عَسَاكِرَ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعَدَةَ قَالَ أَنْبَانَا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ السَّهْمِي الْجِرْجَانِيّ (ح) قَالَ أَن عَسَاكِرَ وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَيْهَقِيّ بنيسابور قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَيْهَقِيُّ قَالَ أَنبأَنَا أ [وَسعد الْمَالِينِي قَالَ أَنبأَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ قَالَ أَنبأَنَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَر الْقزْوِينِي
আহমাদ বিন আলী আল-আবার আমাদের অবহিত করেছেন (أَنبأَنَا), আবু আম্মার আমাদের অবহিত করেছেন (أَنبأَنَا); তিনি বলেন, আমি আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-কে মালিক বিন আনাসের কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে দ্বীন পালন করে, তার জন্য এটি কতই না চমৎকার!"

এবং ইবনে আসাকির পর্যন্ত সনদ (الإسناد) সহ তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَخْبَرَنَا) আবুল কাসিম ইসমাঈল বিন আহমাদ আস-সামারকান্দি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أَنبأَنَا) আবুল কাসিম ইসমাঈল বিন মাসআদাহ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أَنْبَانَا) হামযাহ বিন ইউসুফ আস-সাহমি আল-জিরজানি (সনদ রূপান্তর - ح)। ইবনে আসাকির বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَخْبَرَنَا) আবু মুহাম্মদ আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-বায়হাকী নিশাপুরে, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أَنْبَانَا) আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-বায়হাকী, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أَنبأَنَا) আবু সা'দ আল-মালিনি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أَنبأَنَا) আবু আহমাদ বিন আদি আল-হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أَنبأَنَا) আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাযভীনি।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٤٢)
قَالَ أَنبأَنَا صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي رحمه الله يَقُولُ سَمِعْتُ الْمُوطَّأَ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه لِأَنِّي رَأَيْتُهُ ثَبْتًا وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ جَمَاعَةٍ قَبْلَهُ

وَبِهِ قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ الْخَضِرِ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبِ الْحَافِظِ قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَليّ بن حَمْدَوَيْه بْنِ أَبْرَكَ الْهَمَدَانِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بهَا قَالَ أَنْبَانَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى الشِّيرَازِيُّ قَالَ أَنْشَدَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ فَارِسٍ الْقَزْوِينِيُّ الْأَدِيبُ بِالرَّيِّ لِنَفْسِهِ

إِذَا شِئْتَ أَنْ تَعْرِفَ الْوَاضِحَاتِ

مِنَ الْعِلْمِ فَاقْرَأْ كِتَابَ الموطا … تَجِد حِين تحويه فروض الْإِلَهِ

وَسُنَّةَ أَحْمَدَ خَطًّا وَنَقْطَا … وَدَعْ مَا تَكَلَّفَهُ الْجَاهِلُونَ

بِلَفْظٍ معمى وَمعنى مغطا … ودونك علما يُفِيد الْفَوَائِد

لَفْظًا وَمَعْنًى وَشَرْحًا وبَسْطَا

وَبِهِ قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ أَنْشَدَنِي الشَّيْخُ أَبُو بكر يحيى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّلَمَاسِيُّ الْوَاعِظُ قَدِمَ عَلَيْنَا دِمَشْقَ قَالَ أَنْشَدَنِي وَالِدِي الشَّيْخُ أَو طَاهِر قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُمَيْدِيُّ الْأَنْدَلُسِيُّ قَالَ يَحْيَى
(তিনি) বললেন, সালেহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে (রহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট মুওয়াত্তা শুনেছি, কারণ আমি তাঁকে সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য (ثبت) হিসেবে দেখেছি, অথচ আমি তাঁর পূর্বে এটি একদল (বর্ণনাকারীর) নিকট থেকে শ্রবণ করেছিলাম।

এবং এর মাধ্যমেই ইবনে আসাকির বলেছেন: আমি আবু মুহাম্মদ আব্দুল করিম ইবনে হামজা ইবনে খদির আস-সুলামীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি হাফিজ (حافظ) আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে হামদুওয়াইহ ইবনে আবরাক আল-হামাদানি আমার নিকট তাঁর কাছে পাঠ করার সময় সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আশ-শিরাজি, তিনি বলেন: রায় শহরে সাহিত্যিক আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস আল-কাযউইনি নিজের রচিত কবিতা আমাদের পাঠ করে শুনিয়েছেন:

যদি তুমি সুস্পষ্ট বিষয়গুলো জানতে চাও,

জ্ঞানের মধ্য হতে, তবে মুওয়াত্তা কিতাবটি পাঠ করো … যখন তুমি তা আয়ত্ত করবে, তখন আল্লাহর ফরজসমূহ খুঁজে পাবে

এবং আহমদের সুন্নাত অক্ষরে অক্ষরে … আর অজ্ঞরা যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছে তা বর্জন করো,

অস্পষ্ট শব্দ ও আবৃত অর্থের মাধ্যমে … তোমার সামনে রয়েছে এমন জ্ঞান যা অনেক উপকার প্রদান করে,

শব্দ ও অর্থে এবং ব্যাখ্যা ও বিস্তৃতিতে।

এবং এর মাধ্যমেই ইবনে আসাকির বলেছেন: শায়খ আবু বকর ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সালামাসি আল-ওয়ায়েজ আমাদের কাছে দামেস্কে এসে আমাকে কবিতাটি পাঠ করে শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আমার পিতা শায়খ আবু তাহের আমাকে এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি আল-আন্দালুসি আমাকে এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন; ইয়াহইয়া বলেন—
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٤٣)
وَلِي مِنْهُ إِجَازَةٌ لِنَفْسِهِ

إِذَا قِيلَ مَنْ نَجْمُ الْحَدِيثِ وَأَهْلُهُ

أَشَارَ ذَوُو الْأَلْبَابِ يَعْنُونَ مَالِكَا … إِلَيْهِ تَنَاهَى عِلْمُ دِينِ مُحَمَّدٍ

فَوَطَّأَ فِيهِ لِلرُّواةِ الْمَسَالِكَا … وَنَظَّمَ بِالتَّصْنِيفِ أَشْتَاتَ نَشْرِهِ

وَأَوْضَحَ مَا قَدْ كَانَ لَوْلَاهُ حَالِكَا … وَوَقْتَ دُرُوسِ الْعِلْمِ شَرْقًا وَمَغْرِبًا

تَقَدَّمَ فِي تِلْكَ الْمَسَالِكِ سَالِكَا … وَقَدْ جَاءَ فِي الْآفَاقِ مِنْ ذَاكَ شَاهِدٌ

عَلَى أَنَّهُ فِي الْعِلْمِ خُصَّ بِذَلِكَا … فَمَنْ كَانَ ذَا طَعْنٍ عَلَى عِلْمِ مَالِكٍ

ولَمْ يَقْتَبِسْ مِنْ نُورِهِ كَانَ هَالِكَا … وَقَالَ أَبُو عُثْمَان الأورجواني رحمه الله

لَقَدْ بَانَ لِلنَّاسِ الْهُدَى غَيْرَ أنَّهُمْ

غَدَوْا بِجِلَابِيبِ الْهَوى قَدْ تَجَلْبَبُوا … فَلَوْ أُحْدِثَتْ فِي بَلْدَةِ الصِّينِ بِدْعَةٌ

رَأَيْتَ إِلَيْهَا السُّفْنَ فِي الْبَحْرِ تُرْكَبُ … فَمَنْ رَامَ أَنْ يَنْجُو بِمُهْجَةِ نَفسه

فَلَا يعد مَا يحوي من الْعلم يثرب

أأتترك دَارًا كَانَ بَيْنَ بُيُوتِهَا

يَرُوحُ وَيَغْدُو جِبْرَئِيلُ الْمُقَرَّبُ … وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ فِيهَا وَبَعْدَهُ

بِسُنَّتِهِ أَصْحَابُهُ قَدْ تَأَدَّبُوا … وَفَرَّقَ سُبْلَ الْعِلْمِ فِي تابعيهم

فَكل امريء مِنْهُمْ لَهُ فِيهِ مَذْهَبُ … فَخَلَّصَهُ بِالسَّبْكِ لِلنَّاسِ مَالِكٌ

وَمِنْهُ صَحِيحٌ فِي الْمِجَسِّ وَأَجْرَبُ … فَأَبْرَى بِتَصْحِيحِ الرِّوَايَةِ دَاءَهُ

وَتَصْحِيحُهَا فِيهِ دَوَاءٌ مجرب … وَلم يَأْتِ هَذَا الْعِلْمُ إِلَّا مِنَ أَهْلِهِ

وَفِي قِلَّةِ التَّمْيِيزِ بِالْعِلْمِ مَعْطَبُ … فَبَادِرْ مُوَطَّا مَالِكٍ قَبْلَ فَوْتِهِ

فَمَا بَعْدَهُ إِنْ فَاتَ لِلْعِلْمِ مَطْلَبُ … وَدَعْ لِلْمُوَطَّا كُلَّ عِلْمٍ تُرِيدُهُ

فَإِنَّ الْمُوَطَّا الشَّمْسُ وَالْعِلْمُ كَوْكَبُ
এবং তাঁর নিকট থেকে আমার জন্য একটি অনুমতি (إجازة) রয়েছে।

যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, হাদিসের তারকা এবং এর যোগ্য ব্যক্তিত্ব কে?

তখন বুদ্ধিমানগণ ইমাম মালিকের দিকেই ইঙ্গিত করেন … মুহাম্মাদী দ্বীনের জ্ঞান তাঁর নিকটেই সমাপ্ত হয়েছে

এবং তিনি সেখানে বর্ণনাকারীদের (رواة) জন্য পথসমূহকে সুগম করে দিয়েছেন … তিনি রচনার মাধ্যমে এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সুশৃঙ্খল করেছেন

এবং সেই বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছেন যা তিনি না থাকলে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকত … প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ইলমের পাঠদানের সময়ে

তিনি সেই পথগুলোতে একজন দক্ষ পথিকের ন্যায় অগ্রসর হয়েছেন … দিগন্তজুড়ে এর সপক্ষে সাক্ষী বিদ্যমান

যে, ইলমের ক্ষেত্রে তাঁকে এই বিশেষত্ব দান করা হয়েছে … সুতরাং যে ব্যক্তি ইমাম মালিকের ইলমের প্রতি অপবাদ (طعن) আরোপ করে

এবং তাঁর নূর থেকে হিদায়াত গ্রহণ করে না, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত … আবু উসমান আল-উরজুওয়ানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন

মানুষের জন্য হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু তারা

প্রবৃত্তির চাদরে নিজেদের আবৃত করে নিয়েছে … যদি চীন দেশেও কোনো বিদআত (بدعة) সৃষ্টি হয়

তবে দেখবে যে সেদিকে যাওয়ার জন্য সমুদ্রে জাহাজ আরোহণ করা হচ্ছে … সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ বাঁচাতে চায়

সে যেন ইয়াসরিবে (মদিনা) সংগৃহীত ইলমকে অতিক্রম না করে

তুমি কি এমন এক গৃহ ত্যাগ করবে যার ঘরগুলোর মাঝে

নৈকট্যপ্রাপ্ত জিবরাঈল সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করতেন? … সেখানে আল্লাহর রাসুল ছিলেন এবং তাঁর পরে

তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁর সাহাবীগণ শিষ্টাচার অর্জন করেছেন … তিনি তাঁদের তাবেঈদের (تابعين) মাঝে ইলমের পথসমূহকে বিস্তৃত করেছেন

ফলে তাঁদের প্রত্যেকেরই ইলমের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মাজহাব (مذهب) রয়েছে … অতঃপর ইমাম মালিক সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের জন্য একে বিশুদ্ধ করেছেন

যার মধ্যে পরখ করলে সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিযুক্ত (أجرب) উভয়ই বিদ্যমান … তিনি বর্ণনার (رواية) বিশুদ্ধকরণের (تصحيح) মাধ্যমে এর ত্রুটি দূর করেছেন

আর এর বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) এতে একটি পরীক্ষিত মহৌষধ … এই ইলম কেবল এর যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট থেকেই প্রাপ্ত হয়েছে

আর ইলমের ক্ষেত্রে পার্থক্য করার যোগ্যতার অভাবই ধ্বংসের কারণ … সুতরাং মুয়াত্তা মালিকের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আগেই তা লাভে সচেষ্ট হও

কেননা তা হারিয়ে গেলে ইলমের আর কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য অবশিষ্ট থাকবে না … মুয়াত্তার খাতিরে তোমার অভীষ্ট অন্য সকল ইলম ত্যাগ করো

কেননা মুয়াত্তা হলো সূর্য আর অন্যান্য ইলম হলো নক্ষত্র সদৃশ।
(খণ্ড: ১) কাশফুল মুগাত্তা ফী ফাদলিল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٤٤)
هُوَ الْحَقُّ عِنْدَ اللَّهِ بَعْدَ كِتَابِهِ

وَفِيهِ لِسَانُ الصِّدْقِ بِالْحَقِّ مُعْرِبُ … لَقَدْ أَعْرَبَتْ آثَارُهُ بِبَيَانِهَا

فَإِن لَهَا فِي الْعَالِمِينَ مُكَذِّبُ … وَمِمَّا بِهِ أَهْلُ الْحِجَازِ تَفَاخَرُوا

بِأَنَّ الْمُوطَّا بِالْعِرَاقِ مُحَبَّبُ … وَكُلُّ كِتَابٍ بِالْعِرَاقِ مُؤَلَّفٌ

تَرَاهُ بِآثَارِ الْمُوَطَّا يَعْصِبُ … وَمَنْ لَمْ تَكُنْ كُتْبُ الْمُوَطَّا بِبَيْتِهِ

فَذَاكَ مِنَ التَّوْفِيقِ بَيْتٌ مُخَرَّبُ … وَلَوْ بِالْمُوَطَّا يَعْمَلُ النَّاسُ كُلُّهُمْ

لَأَمْسَوْا وَمَا مِنْهُمْ عَلَى الْأَرْضِ مُذْنِبُ

جَزَى اللَّهُ عَنَّا فِي مُوَطَّاهُ مَالِكًا

بِأَفْضَلِ مَا يُجْزَى اللَّبِيبُ الْمُهَذَّبُ … فَقَدْ أَحْسَنَ التَّحْصِيلَ فِي كُلِّ مَا رَوَى

كَذَلِكَ مَنْ يَخْشَى الْإِلَهَ وَيَرْهَبُ … لَقَدْ رَفَعَ الرَّحْمَنُ فِي الْعِلْمِ قَدْرَهُ

غُلَامًا وَكَهْلًا ثُمَّ إِذْ هُوَ أَشْيَبُ … أَتَعْجَبُ مِنْهُ إِذْ عَلَا فِي حَيَاتِهِ

تَعَالِيهِ مِنْ بَعْدِ الْمَنِيَّةِ أَعْجَبُ … لَقَدْ فَاقَ أَهْلَ الْعِلْمِ شَرْقًا وَمَغْرِبًا

فَأَضْحَتْ بِهِ الْأَمْثَالُ فِي النَّاسِ تُضْرَبُ … وَمَا فَاقَهُمْ إِلَّا بِتَقْوَى وَخِشْيَةٍ

وَإِذْ كَانَ يَرْضَى فِي الْإِلَهِ ويَغْضَبُ … فَلَا زَالَ يَسْقِي قَبره كل عَارض

بمنبثق ظلت غزاليه تُسْكَبُ … وَيَسْقِي قُبُورًا حَوْلَهُ دُونَ سَقْيِهِ

فَيُصْبِحُ فِيمَا بَيْنَهَا وَهُوَ مُعْشِبُ … وَمَا بيَ بُخْلٌ أَنْ سَقَاهَا كَسَقْيِهِ

وَلَكِنَّ حَقَّ الْعِلْمِ أَوْلَى وواجب

‌‌وَالْحَمْد لله وَحده وَصلى الله على مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم كثيرا وحسبنا الله وَنعم الْوَكِيل تمّ الْكتاب بِحَمْد الله
আল্লাহর কিতাবের পর এটিই আল্লাহর কাছে সত্য

এবং এতে সত্যের জবান স্পষ্টভাবে সত্য প্রকাশ করছে … এর বর্ণনা (آثار) তার প্রাঞ্জলতার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছে

যদিও জগতে এর জন্য মিথ্যা প্রতিপন্নকারী রয়েছে … হেজাজবাসীরা যে বিষয়ে গর্ব করেন তার মধ্যে অন্যতম হলো—

ইরাকেও মুয়াত্তা অত্যন্ত প্রিয় … ইরাকে সংকলিত প্রতিটি কিতাবকেই

আপনি মুয়াত্তার বর্ণনাগুলোর (آثار) সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে দেখবেন … যার ঘরে মুয়াত্তার পাণ্ডুলিপি নেই,

তাওফিকের বিচারে সেই ঘরটি একটি ধ্বংসস্তূপ … যদি সকল মানুষ মুয়াত্তার ওপর আমল করত,

তবে জমিনে তাদের মাঝে কোনো গুনাহগার অবশিষ্ট থাকত না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে ইমাম মালিককে তার মুয়াত্তার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন,

যা একজন বুদ্ধিমান ও মার্জিত ব্যক্তিকে দেওয়া হয় … তিনি যা কিছু বর্ণনা (روى) করেছেন তার সংগ্রহে সর্বোত্তম নিপুণতা দেখিয়েছেন;

তেমনিভাবে যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর প্রতি সজাগ থাকে … রহমান (আল্লাহ) ইলমের ময়দানে তার মর্যাদাকে উন্নত করেছেন—

শৈশবে, পূর্ণ বয়সে এবং যখন তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন তখনও … আপনি কি তার জীবনে তার উচ্চমর্যাদা দেখে বিস্মিত হন?

মৃত্যুর পর তার উচ্চমর্যাদা আরও বেশি বিস্ময়কর … তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের সকল বিদগ্ধ আলিমকে ছাড়িয়ে গেছেন,

ফলে মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে প্রবাদ রচিত হতে শুরু করেছে … তিনি তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন একমাত্র তাকওয়া (تقوى) ও আল্লাহভীতির কারণে,

আর যেহেতু তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সন্তুষ্ট হতেন এবং আল্লাহর জন্যই রাগান্বিত হতেন … মেঘমালা যেন অবিরাম বারিধারায় তার কবরে পানি সিঞ্চন করতে থাকে

অঝোর ধারায় যার প্রবাহ বয়ে যায় … আর তার চারপাশের কবরগুলোকেও যেন সিক্ত করা হয়,

যাতে সেগুলোর মাঝে তার কবরটি সবুজ তৃণলতায় ছেয়ে যায় … সেগুলোকে তার মতো সিক্ত করার ক্ষেত্রে আমার কোনো কৃপণতা নেই,

তবে ইলমের হক বা অধিকারই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য এবং অপরিহার্য।

‌‌সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর মুহাম্মাদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহর প্রশংসার সাথে কিতাবটি সমাপ্ত হলো।