(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: -)
الوجيز في ذكر المجاز والمجيز القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الوجيز في ذكر المجاز والمجيز
المؤلف: صدر الدين، أبو طاهر السِّلَفي أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم سِلَفَه الأصبهاني (ت 576هـ)
المحقق: محمد خير البقاعي
الناشر: دار الغرب الإسلامي - بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1411 - 1991
عدد الصفحات: 166
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অনুমতিপ্রাপ্ত এবং অনুমতিদাতার বর্ণনায় সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণিবিভাগ
গ্রন্থ: অনুমতিপ্রাপ্ত এবং অনুমতিদাতার বর্ণনায় সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ
লেখক: সদরুদ্দিন، আবু তাহির আস-সিলাফি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম সিলাফাহ আল-আসবাহানি (মৃত্যু ৫৭৬ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ খাইর আল-বিকাঈ
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি - বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১১ - ১৯৯১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
عونك يَا رب وتيسيرك قَالَ الإِمَام الْحَافِظ أَبُو طَاهِر أَحْمد بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم السلَفِي الْأَصْفَهَانِي ثمَّ الإسكندري رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ
أَمَّا بَعْدَ حَمْدِ اللَّهِ مُولِي النِّعَمِ وَمُقَدِّرِهَا فِي الْقِدَمِ الْمَوْصُوفِ بِالْعَطَاءِ مَنًّا مِنْهُ وَالْكَرَمِ وَصَلَوَاتُهُ عَلَى مُحَمَّدٍ النِّهَايَةِ فِي الْعِظَمِ وَخَاتَمِ الرُّسُلِ إِلَى الْخَلَائِقِ وَالْأُمَمِ وَعَلَى آلِهِ الْمَخْصُوصِينَ بِأَحْسَنِ الشِّيَمِ وَأَحْكَمِ الْحِكَمِ وَصَحْبِهِ نَاصِرِي الْإِسْلَامِ وَمُظْهِرِيهِ فِي الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ
فَإِنِّي لَمَّا فَرَغْتُ مِنْ ذِكْرِ مَنْ لَقِيتُهُ مِنَ الرُّوَاةِ وَكِبَارِ الْحُفَّاظِ وَالْوُعَاةِ وَإِثْبَاتِ مَنْ عَلَّقْتُ عَنْهُ شَيْئًا مِنَ الْحَدِيثِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ عَارِفًا بِقَوَانِينِ الرِّوَايَةِ وَالتَّحْدِيثِ وَتَسْمِيَةِ مَنِ اسْتَفَدْتُ مِنْهُ فَائِدَةً فِقْهِيَّةً أَوْ أَدَبِيَّةً أَوْ زُهْدِيَّةً أَوِ اسْتَنْشَدْتُهُ فَأَنْشَدَنِي شَيْئًا مِنْ شِعْرِهِ وَبَنَاتِ فِكْرِهِ أَوْ مِمَّا أَنْشَدَهُ مَنْ شَاهَدَهُ مِنْ أَدِيبٍ بارع أَو رِوَايَة جَامِعٍ وَدَوَّنْتُ ذَلِكَ كُلَّهُ فِي كِتَابِ تَرْجَمْتُهُ بِالْمُعْجَمِ الْمُؤَرَّخِ إِذْ بَيَّنْتُ فِيهِ دَرَجَاتِهِمْ وَعَيَّنْتُ عَلَى ضُعَفَائِهِمْ وَثِقَاتِهِمْ وَأَتَيْتُ عَلَى مَا يُحْتَاجُ إِلَيْهِ مِنْ أَقْوَالِهِمْ وَنَبَّهْتُ عَلَى رُتَبِهِمْ وَمَحَالِّهِمْ وَلَمْ أُورِدْ عَنْ أَحَدٍ مِنْهُمْ غَيْرَ حَدِيثٍ وَاحِدٍ لَا أَكْثَرَ أَوْ حِكَايَةٍ أَوْ مَقْطُوعٍ مِنَ الشِّعْرِ وَإِنْ كَانَ غَيْرُ قَائِلِهِ مِنْهُ أَشْعَرَ آثَرْتُ أَنْ أُضِيفَ إِلَيْهِ أَيْضًا مَنْ كَاتَبَنِي مِنَ الْبِلَادِ النَّائِيَةِ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে প্রতিপালক! আপনার সাহায্য ও সহজীকরণ প্রার্থনা করছি। ইমাম, হাফেজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আস-সিলাফি আল-আসফাহানি, অতঃপর আল-ইসকান্দারি (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বলেছেন:
অতঃপর, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল নিআমতের দাতা এবং অনাদিকাল থেকে এর নির্ধারণকারী; যিনি নিজের পক্ষ থেকে করুণা ও বদান্যতা স্বরূপ দান করার গুণাবলিতে গুণান্বিত। আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদের ওপর, যিনি মহত্ত্বে অনন্য এবং সমগ্র সৃষ্টি ও উম্মতের প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রসূল। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর, যারা সর্বোত্তম চরিত্র ও সুগভীর প্রজ্ঞায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যারা ইসলামের সাহায্যকারী এবং আরব ও অনারব বিশ্বে একে বিজয়ীকারী।
আমি যখন আমার সাক্ষাৎ লাভ করা বর্ণনাকারী এবং প্রথিতযশা হাফেজ ও স্মৃতিধর ব্যক্তিদের বর্ণনা সমাপ্ত করলাম, এবং যাদের কাছ থেকে আমি হাদীসের কিছু অংশ গ্রহণ করেছি তাদের নাম লিপিবদ্ধ করলাম—যদিও তারা হাদীস বর্ণনা ও সংকলনের নিয়মনীতিতে পারদর্শী ছিলেন না—এবং যাদের কাছ থেকে আমি কোনো ফিকহী, সাহিত্যিক বা বিরাগ সংক্রান্ত শিক্ষা অর্জন করেছি অথবা যাদের কাছে আমি কবিতা পাঠের অনুরোধ করেছি এবং তারা আমাকে তাদের স্বরচিত কোনো কবিতা অথবা কোনো প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক বা হাদীস বিশারদের কাছ থেকে শোনা কোনো কবিতা শুনিয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ করা শেষ করলাম; এবং আমি এই সবকিছু একটি কিতাবে সংকলন করেছি যার নাম দিয়েছি ‘আল-মু’জাম আল-মুআররাখ’। সেখানে আমি তাদের স্তরের বর্ণনা দিয়েছি, তাদের মধ্যে দুর্বল ও নির্ভরযোগ্যদের চিহ্নিত করেছি, তাদের যেসব বক্তব্যের প্রয়োজন ছিল তা উল্লেখ করেছি এবং তাদের পদমর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছি। আমি তাদের কারো কাছ থেকেই একটির বেশি হাদীস বা কোনো কাহিনী অথবা কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করিনি—যদিও সেই কবিতার রচয়িতা ছাড়া অন্য কেউ অধিকতর বড় কবি হয়ে থাকেন। (সেই সাথে) আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দূর-দূরান্তের জনপদ থেকে যারা আমার নিকট পত্র পাঠিয়েছেন তাদের নামও এতে যুক্ত করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الَّتِي لَمْ أَدْخُلْهَا وَلَمْ أَزُرْهَا قَطُّ وَلَمْ أَطْرُقْهَا أَوِ الْمَدَائِنِ الَّتِي دَخَلْتُهَا لَكِنْ بَعْدَ وَفَاةِ الْمُجِيزِ وَلَمْ يَتَّفِقْ بِهِ الِالْتِقَاءُ كَمَا جَرَى بِهِ الْقَدَرُ وَالْقَضَاءُ
فَشَرَعْتُ فِي تَعْلِيقِهِ بِعَوْنِ اللَّهِ تَعَالَى وَتَوْفِيقِهِ غَيْرَ أَنِّي خَالَفْتُ الطَّرِيقَ الَّذِي قَدْ سَلَكْتُ فِي كِتَابِ الْمُعْجَمِ فَالْمُعْجَمُ عَلَى تَرْتِيبِ حُرُوفِ التَّهَجِّي كَامِلَةً إِذْ وَجَدْتُ فِي الَّذِينَ أَخَذْتُ عَنْهُمْ شِفَاهًا كَثْرَةً وَفِي الْمُجِيزِينَ بِخِلَافِ ذَلِكَ قِلَّةً وَرَأَيْتُ حِينَئِذٍ ذِكْرَ شُيُوخِ كُلِّ بَلَدٍ عَلَى حِدَةٍ فِي تَرْجَمَةٍ مُفْرَدَةٍ أَصْوَبَ وَإِلَى اللَّائِقِ بِالتَّهْذِيبِ أَقْرَبَ لِيُحِيطَ بِهِمْ عِلْمُ مَنْ أَرَادَ مَعْرِفَتَهُمْ مِنَ الطُّلَّابِ
وَالله تَعَالَى الْمُوفق للصَّوَاب والمسؤول النَّفْعَ بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَالْوُصُولَ بِسَبَبِهِ إِلَى الرُّتَبِ الْفَاخِرَةِ
...যাতে আমি কখনো প্রবেশ করিনি, কখনো পরিভ্রমণ করিনি এবং যাতে কখনো পদার্পণ করিনি; অথবা ঐ সকল শহর যাতে আমি প্রবেশ করেছি ঠিকই, কিন্তু অনুমতিদাতার (মুজিজ) মৃত্যুর পর, আর বিধিলিপি ও তকদির অনুযায়ী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া সম্ভব হয়নি।
অতঃপর আমি মহান আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে এটি লিপিবদ্ধ করতে শুরু করলাম। তবে আমি 'আল-মু'জাম' গ্রন্থে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলাম, এখানে তার বিপরীত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। 'আল-মু'জাম' গ্রন্থটি পূর্ণ বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো ছিল; কারণ যাদের কাছ থেকে আমি সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেছি তাদের সংখ্যা ছিল অনেক, পক্ষান্তরে অনুমতিদানকারীদের (মুজিজিন) সংখ্যা ছিল এর বিপরীতে নগণ্য। এমতাবস্থায় আমি প্রতিটি শহরের শায়খদের কথা পৃথক পৃথক জীবনীতে আলাদাভাবে উল্লেখ করাকেই অধিকতর সঠিক এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসের জন্য অধিক উপযোগী বলে মনে করেছি, যাতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা তাঁদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারে।
আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথের তাওফিকদাতা এবং তাঁরই নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে এর মাধ্যমে কল্যাণ লাভের এবং এর অসিলায় সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছানোর প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
فَاعْلَمِ الْآنَ أَنَّ الْإِجَازَةَ جَائِزَةٌ عِنْدَ فُقَهَاءِ الشَّرْعِ الْمُتَصَرِّفِينَ فِي الْأَصْلِ وَالْفَرْعِ وَعُلَمَاءِ الْحَدِيثِ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ قَرْنًا فَقَرْنًا وَعَصْرًا فَعَصْرًا إِلَى زَمَانِنَا هَذَا وَيُبِيحُونَ بهَا الحَدِيث ويخالفون فِيهِ الْمُبْتَدِعَ الْخَبِيثَ الَّذِي غَرَضُهُ هَدْمُ مَا أَسَّسَهُ الشَّارِعُ وَاقْتَدَى بِهِ الصَّحَابِيُّ وَالتَّابِعُ فَصَارَ فَرْضًا وَاجِبًا وَحَتْمًا لَازِبًا
وَمَنْ رُزِقَ التَّوْفِيقَ وَلَاحَظَ التَّحْقِيقَ مِنْ جَمِيعِ الْخَلْقِ بَالَغَ فِي اتِّبَاعِ السَّلَفِ الَّذِينَ هُمُ الْقُدَى وَأَئِمَّةُ الْهُدَى إِذِ اتِّبَاعُهُمْ فِي الْوَارِدِ مِنَ السُّنَنِ مِنْ أَنْهَجِ السُّنَنِ وَأَوْقَى الْجُنَنِ وَأَقْوَى الْحُجَجِ السَّالِمَةِ مِنَ الْعِوَجِ وَمَا دَرَجُوا عَلَيْهِ هُوَ الْحَقُّ الَّذِي لَا يَسُوغُ خِلَافَهُ وَمَنْ خَالَفَهُ فَفِي خِلَافِهِ مَلَامُهُ وَمَنْ تَعَلَّقَ بِهِ فَالْحُجَّةَ الْوَاضِحَةَ سَلَكْ وَبِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى اسْتَمْسَكْ وَالْفَرْضَ الْوَاجِبَ اتَّبَعْ وَعَنْ قَبُولِ قَوْلٍ لَنَا فِي قَوْلِ مَنْ لَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى وَفِعْلِهِ امْتَنَعْ وَاللَّهُ تَعَالَى يوفقنا للإقتداء والاتباع ويوقفنا عَن الِابْتِدَاء والإتبداع فَهُوَ أرْحم مأمول وَأكْرم مسؤول
এখন জেনে রাখুন যে, মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় পারদর্শী শরীয়তের ফকীহগণ এবং প্রাচীন ও আধুনিককালের হাদীস বিশারদগণের নিকট যুগ যুগ ধরে এবং শতাব্দী থেকে শতাব্দী পর্যন্ত আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত 'ইজাযত' (অনুমোদন) বৈধ। তারা এর মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করাকে বৈধ করেন এবং এ বিষয়ে তারা সেই নিকৃষ্ট বিদআতিদের বিরোধিতা করেন, যার উদ্দেশ্য হলো শরীয়ত প্রণেতা যা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ যা অনুসরণ করেছেন তা ধ্বংস করা; যা একটি আবশ্যকীয় কর্তব্য ও অনিবার্য বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে।
সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে যাকে তাওফীক দান করা হয়েছে এবং যে সত্য অনুসন্ধানের প্রতি লক্ষ্য রেখেছে, সে সেই সালাফদের (পূর্বসূরীদের) অনুসরণে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করে, যারা হলেন পথপ্রদর্শক ও হিদায়াতের ইমাম। কেননা বর্ণিত সুন্নাহসমূহের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করাই হলো সুন্নাহর সবচেয়ে স্পষ্ট পথ, সবচেয়ে সুরক্ষিত ঢাল এবং বক্রতামুক্ত শক্তিশালী দলিল। তাঁরা যে পথের ওপর চলেছেন সেটিই হলো সত্য, যার বিরোধিতা করা বৈধ নয়; আর যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, তার এই বিরোধিতার মধ্যেই তার নিন্দা নিহিত। যে ব্যক্তি এর সাথে যুক্ত থাকবে, সে স্পষ্ট দলিলের পথে চলল এবং সুদৃঢ় রশি ধারণ করল, আর আবশ্যকীয় কর্তব্যের অনুসরণ করল। এবং যিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না, তাঁর কথা ও কাজের বিপরীতে আমাদের মতো কারো কথা গ্রহণ করা থেকে সে বিরত থাকল। আল্লাহ তাআলা আমাদের ইক্তিদা ও ইত্তিবা করার তাওফীক দান করুন এবং বিদআত ও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা থেকে বিরত রাখুন; কারণ তিনি আশাকারীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দয়ালু এবং যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
فَإِذَا ثَبَتَ هَذَا وَتَقَرَّرَ وَصَحَّ بِالْبُرْهَانِ وَتَحَرَّرَ فَكُلُّ مُحَقِّقٍ يَتَحَقَّقُ وَيَتَيَقَّنُ أَنَّ الْإِسْنَادَ رُكْنُ الشَّرْعِ وَأَسَاسُهُ فَيَتَسَمَّتُ بِكُلِّ طَرِيقٍ إِلَى مَا يَدُوم بِهِ درسه لَا اندراسه
وَفِي الْإِجَازَةِ كَمَا لَا يَخْفَى عَلَى ذِي بَصِيرَةٍ وَبَصَرٍ دَوَامُ مَا قَدْ رُوِيَ وَصَحَّ مِنْ أَثَرٍ وَبَقَاوَةُ بَهَائِهِ وَصَفَائِهِ وَبَهْجَتِهِ وَضِيَائِهِ
وَيَجِبُ التَّعْوِيلُ عَلَيْهَا وَالسُّكُونُ أَبَدًا إِلَيْهَا مِنْ غَيْرِ شَكٍّ فِي صِحَّتِهَا وَرَيْبٍ فِي فُسْحَتِهَا إِذْ أَعْلَى الدَّرَجَاتِ فِي ذَلِكَ السَّمَاعُ ثُمَّ الْمُنَاوَلَةُ ثُمَّ الْإِجَازَةُ
وَلَا يُتَصَوَّرُ أَنْ يَبْقَى كُلُّ مُصَنَّفٍ قَدْ صُنِّفَ كَبِيرٍ وَمُؤَلَّفٍ كَذَلِكَ صَغِيرٍ عَلَى وَجْهِ السَّمَاعِ الْمُتَّصِلِ عَلَى قَدِيمِ الدَّهْرِ الْمُنْفَصِلِ وَلَا يَنْقَطِعُ مِنْهُ شَيْءٌ بِمَوْتِ الرُّوَاةِ وَفَقْدِ الْحُفَّاظِ الْوُعَاةِ فَيُحْتَاجُ عِنْدَ وُجُودِ ذَلِكَ إِلَى اسْتِعْمَالِ سَبَبٍ فِيهِ بَقَاءُ التَّأْلِيفِ وَيَقْضِي بِدَوَامِهِ وَلَا يُؤَدِّي بَعْدُ إِلَى انْعِدَامِهِ
فَالْوُصُولُ إِذًا إِلَى رِوَايَتِهِ بِالْإِجَازَةِ فِيهِ نَفْعٌ عَظِيمٌ وَرَفْدٌ جَسِيمٌ إِذِ الْمَقْصُودُ بِهِ إِحْكَامُ السُّنَنِ الْمَرْوِيَّةِ فِي الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ وَإِحْيَاءُ الْآثَارِ عَلَى
যখন এই বিষয়টি প্রমাণিত, সুপ্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিশুদ্ধ ও সুনিশ্চিত হয়েছে, তখন প্রত্যেক তত্ত্বানুসন্ধানী ব্যক্তিই উপলব্ধি করেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইসনাদ হলো শরীয়তের মূল স্তম্ভ ও তার ভিত্তি। সুতরাং তিনি এমন প্রতিটি পথ অনুসরণে ব্রতী হন যার মাধ্যমে এর চর্চা অব্যাহত থাকে এবং তা বিলুপ্ত হয় না।
আর ইজাযাহ বা অনুমতির মাঝে—যা কোনো অন্তর্দৃষ্টি ও চাক্ষুষ দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে গোপন নয়—রয়েছে বর্ণিত ও বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহের স্থায়িত্ব এবং এর জৌলুস, স্বচ্ছতা, মাধুর্য ও দ্যুতির সুরক্ষা।
এর ওপর নির্ভর করা এবং সর্বদা এর প্রতি আশ্বস্ত থাকা আবশ্যক, এর বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো সন্দেহ এবং এর প্রশস্ততা নিয়ে কোনো সংশয় ব্যতিরেকে। কেননা এক্ষেত্রে উচ্চতর স্তরসমূহ হলো শ্রবণ, এরপর হস্তান্তর এবং তারপর অনুমতি।
আর এটা কল্পনা করা যায় না যে, সংকলিত হওয়া প্রতিটি বড় ও ছোট গ্রন্থ সুদীর্ঘ কাল পরিক্রমায় নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণের ভিত্তিতে টিকে থাকবে এবং বর্ণনাকারীদের মৃত্যু ও প্রাজ্ঞ স্মৃতিধরদের তিরোধানের কারণে তার কোনো অংশই বিচ্ছিন্ন হবে না। সুতরাং এমতাবস্থায় এমন একটি উপায় অবলম্বনের প্রয়োজন পড়ে যার মাধ্যমে রচনার অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে এবং যা তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে এবং পরবর্তীতে তাকে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যায় না।
অতএব, ইজাযাহ বা অনুমতির মাধ্যমে এর বর্ণনায় পৌঁছানোর মধ্যে রয়েছে মহান কল্যাণ ও বিশাল সহযোগিতা; যেহেতু এর উদ্দেশ্য হলো শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কে বর্ণিত সুন্নাহসমূহকে সুদৃঢ় করা এবং আসারসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করা...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
أَتَمِّ الْإِيثَارِ سَوَاءٌ كَانَ بِالسَّمَاعِ أَوِ الْقِرَاءَةِ أَوِ الْمُنَاوَلَةِ وَالْإِجَازَةِ
لَكِنَّ الشَّرْطَ فِيهِ الْمُبَالَغَةُ فِي الضَّبْطِ وَالْإِتْقَانِ وَالتَّوَقِّي مِنَ الزِّيَادَةِ وَالنُّقْصَانِ وَأَنْ لَا يُعَوِّلَ فِيمَا يُرْوَى عَنِ الشَّيْخِ بِالْإِجَازَةِ إِلَّا عَلَى مَا يُنْقَلُ مِنْ خَطِّ مَنْ يُوثَقُ بِنَقْلِهِ وَيُعَوَّلُ عَلَى قَوْلِهِ ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ الْجُنُوحِ إِلَى التَّسْهِيلِ الَّذِي هُوَ سَوَاءُ السَّبِيلِ وَالْمَيْلِ إِلَى التَّرْخِيصِ لَا الْمَنْعِ وَالتَّغْلِيظِ الْمُؤَدِّيَيْنِ إِلَى عَدَمِ التَّخْلِيصِ أَخْذًا بِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ} وَ {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ}
وَبِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بُعِثْتُ بِالْحَنِيفِيَّةِ الصَّحِيحَةِ السَّهْلَةِ
পরিপূর্ণ অগ্রাধিকার, চাই তা শ্রবণের মাধ্যমে হোক কিংবা পাঠের মাধ্যমে, অথবা মুনাওয়ালাহ ও ইজাজতের মাধ্যমে।
তবে এতে শর্ত হলো মুখস্থকরণ ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বৃদ্ধি ও হ্রাস থেকে বেঁচে থাকা। আর ইজাজতের মাধ্যমে শাইখ থেকে যা বর্ণিত হয়, সে ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তির হস্তলিপি ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর নির্ভর না করা, যার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য এবং যার কথার ওপর আস্থা রাখা যায়। অতঃপর সহজীকরণের দিকে ঝুঁকে পড়া, যা হলো সঠিক পথ; এবং ছাড়ের দিকে ধাবিত হওয়া, কঠোরতা ও প্রতিরোধের দিকে নয় যা জটিলতার সৃষ্টি করে। মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে: "তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি; এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের আদর্শ।" এবং "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কোনো কষ্ট চান না।"
এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে: "আমি সঠিক ও সহজ একনিষ্ঠ আদর্শ সহ প্রেরিত হয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَقَوْلِهِ لَا تُشَدِّدُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ فَيُشَدَّدُ عَلَيْكُمْ فَبَنُو إِسْرَائِيلَ شَدَّدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ فَشَدَّدَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَقَوْلِهِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى رُخَصُهُ كَمَا يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى عَزَائِمُهُ وَالْأَمْرُ إِذَا ضَاقَ اتَّسَعَ
وَمُلَاحَظَةُ مَا يُؤَدِّي إِلَى مَنْفَعَةٍ وَفَائِدَةٍ إِلَى طُلَّابِ الشَّرْعِ عَائِدَةٍ أَوْلَى مِنْ إِهْمَالِهَا وَالْمَنْعِ مِنْهَا وَإِبْطَالِهَا فَإِنِ احْتَجَّ مُحْتَجٌّ بِأَنَّ رِوَايَةَ الْمَسْمُوعِ أَحْوَطُ وَعَنِ الْغَلَطِ أَبْعَدُ مِنْ رِوَايَةِ الْمُجَازِ الَّذِي لَمْ يُقْرَأْ عَلَى شَيْخٍ وَلَمْ يُضْبَطْ فَفِي الَّذِي تَقَدَّمَ جَوَابُهُ وَزَوَالُ مَا قَالَهُ وَذَهَابُهُ وَيُقَالُ لَهُ أَيْضًا لَيْسَ أَحَدٌ مَعْصُومًا مِنَ الْغَلَطِ وَمَا يَتِمُّ عَلَيْهِ وَقْتَ الْكِتَابَةِ مِنَ السَّقْطِ فَإِذَا لَمْ يَكُنِ السَّامِعُ مِنَ الشَّيْخِ عَارِفًا وَلِمَا يَأْخُذُ عَنهُ ضابطا دخل عَلَيْهِ السَّهْو وَذهب
এবং তাঁর বাণী: তোমরা নিজেদের ওপর কঠোরতা করো না, অন্যথায় তোমাদের ওপর কঠোরতা করা হবে। কেননা বনী ইসরাঈলরা নিজেদের ওপর কঠোরতা করেছিল, ফলে আল্লাহ তাদের ওপর কঠোরতা করেছিলেন। এবং তাঁর বাণী: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর দেয়া সহজ সুযোগগুলো গ্রহণ করাকে তদ্রূপ পছন্দ করেন যেরূপ তিনি তাঁর নির্ধারিত বিধানসমূহ পালন করাকে পছন্দ করেন। আর বিষয় যখন সংকীর্ণ হয়, তখন তা প্রশস্ত হয়।
শরিয়তের শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ ও উপকার বয়ে আনে এমন বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা একে অবহেলা করা, এর থেকে বাধা প্রদান করা এবং একে বাতিল করার চেয়ে অধিক শ্রেয়। যদি কোনো প্রতিবাদকারী এই যুক্তি পেশ করে যে, শ্রুত (সরাসরি শোনা) বর্ণনা অধিকতর সতর্কতামূলক এবং ভুল থেকে অধিক দূরে ঐ অনুমোদিত (ইজাযতপ্রাপ্ত) বর্ণনার তুলনায় যা শাইখের সামনে পাঠ করা হয়নি এবং যা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি, তবে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যেই এর উত্তর এবং তার দাবির অসারতা ও অপনোদন নিহিত রয়েছে। তাকে আরও বলা হবে যে, ভুলভ্রান্তি এবং লেখার সময় ঘটে যাওয়া বিচ্যুতি থেকে কেউই নিরাপদ নয়। সুতরাং শাইখের নিকট থেকে শ্রবণকারী যদি বিজ্ঞ না হয় এবং যা গ্রহণ করছে সে বিষয়ে পারদর্শী না হয়, তবে তার বর্ণনায় ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
عَلَيْهِ الغفو بِخِلَافِ الْمُجَازِ لَهُ الْمُتَيَقِّظِ الْحَافِظ الْعَارِفِ بِمَا يُؤَدِّيهِ وَيُورِدُهُ وَيَرْوِيهِ
وَقَدْ بَيَّنَّا أَنَّ الْأَصْلَ فِي ذَلِكَ مِعْرِفَةُ الرَّاوِي وَضَبْطُهُ وَإِتْقَانُهُ عَلَى أَيِّ وَجْهٍ كَانَ سَمَاعًا أَوْ مُنَاوَلَةً أَوْ إِجَازَةً إِذْ جَمِيعُ ذَلِكَ جَائِزٌ
وَإِذَا تَأَمَّلَ الْحَاذِقُ مِنَ الطَّلَبَةِ مَا رَوَاهُ الْحَافِظُ وَمَنْ دُونَهُ فِي الْمَعْرِفَةِ وَرَأَى مَا بَيْنَهُمَا مِنَ الْخُلْفِ فِي رِوَايَةِ كِتَابٍ وَاحِدٍ لَتَخَلَّفَ الْمُتَخَلِّفُ مِنْهُمَا تَحَقَّقَ مَا قُلْنَاهُ وَرَجَعَ عَمَّا أَبْدَاهُ وَلَمْ يَذْكُرْهُ أبدا وَلَا حدث بِهِ أحد
وَمِنْ مَنَافِعِ الْإِجَازَةِ أَيْضًا أَنْ لَيْسَ كُلُّ طَالِبٍ وَبَاغٍ لِلْعِلْمِ فِيهِ رَاغِب يَقْدِرُ عَلَى سَفَرٍ وَرِحْلَةٍ وَبِالْخَصُوصِ إِذَا كَانَ مَرْفُوعًا إِلَى عِلَّةٍ أَوْ قِلَّةٍ أَوْ يَكُونُ الشَّيْخُ الَّذِي يَرْحَلُ إِلَيْهِ بَعِيدًا وَفِي الْوُصُولِ إِلَيْهِ يَلْقَى تَعَبًا شَدِيدًا فَالْكِتَابَةُ حِينَئِذٍ أَرْفَقُ وَفِي حَقِّهِ أَوْفَقُ وَيُعَدُّ ذَلِكَ مِنْ أَنْهَجِ السُّنَنِ وَأَبْهَجِ السُّنَنِ فَيَكْتُبُ مَنْ بِأَقْصَى الْمَغْرِبِ إِلَى مَنْ بِأَقْصَى الْمَشْرِقِ فَيَأْذَنُ لَهُ فِي رِوَايَةِ مَا يَصِحُّ لَدَيْهِ مِنْ حَدِيثِهِ عَنْهُ وَيَكُونُ ذَلِكَ الْمَرْوِيُّ حُجَّةً كَمَا فَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم
فَقَدْ صَحَّ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى كِسْرَى وَقَيْصَرَ وَغَيْرِهِمَا مَعَ رُسُلِهِ فَمَنْ أَقْبَلَ عَلَيْهِمْ وَقَبِلَ مِنْهُمْ فَهُوَ حُجَّةٌ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَقْبَلْ وَلَمْ يَعْمَلْ فَحُجَّةٌ عَلَيْهِ
তার ওপর ক্ষমা প্রদর্শন করা হয়, এর বিপরীতে যাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যিনি সজাগ, স্মৃতিধর এবং যা তিনি প্রদান করছেন, উপস্থাপন করছেন ও বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
আমরা ইতিপূর্বেই স্পষ্ট করেছি যে, এর মূল ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর পরিচিতি, তার নির্ভরযোগ্যতা এবং দৃঢ়তা; তা যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন—চাই তা শ্রবণ, অর্পণ কিংবা অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে হোক। কেননা এগুলোর সবই বৈধ।
কোনো দক্ষ শিক্ষার্থী যদি হাফিজ এবং তার চেয়ে নিম্নস্তরের জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তির বর্ণিত বিষয়ের প্রতি গভীর দৃষ্টি দেয় এবং একই কিতাবের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে তা প্রত্যক্ষ করে, তবে সেই পিছিয়ে পড়া ব্যক্তির বিচ্যুতি স্পষ্ট হয়ে যায় এবং আমাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এমতাবস্থায় সে তার প্রকাশিত অভিমত থেকে ফিরে আসে এবং কখনোই তা আর উল্লেখ করে না বা কারো কাছে বর্ণনা করে না।
অনুমতি প্রদানের অন্যতম উপকারিতা হলো এই যে, প্রত্যেক জ্ঞানপিপাসু ও জ্ঞান অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীর পক্ষে সফর ও দেশভ্রমণ করা সম্ভব হয় না; বিশেষ করে যদি সে কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা আর্থিক সংকটে ভোগে, অথবা যে শায়খের কাছে সে সফর করতে চায় তিনি যদি দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করেন এবং তার কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়। এমতাবস্থায় চিঠিপত্র আদান-প্রদান অনেক বেশি সহজ এবং তার জন্য অধিকতর উপযোগী। একে সুন্নাহর অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও চমৎকার একটি পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে সুদূর পশ্চিমের কেউ সুদূর প্রাচ্যের কারো কাছে চিঠি লেখে, আর তিনি তার কাছ থেকে তার সহিহ হাদিসসমূহ বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেন। আর সেই বর্ণিত হাদিসটি দলিল হিসেবে গণ্য হয়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।
তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সহিহভাবে প্রমাণিত যে, তিনি তাঁর দূতদের মাধ্যমে কিসরা, কায়সার ও অন্যান্যদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। সুতরাং যারা তাদের প্রতি মনোযোগী হয়েছে এবং তাদের কথা গ্রহণ করেছে, তা তাদের জন্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর যারা তা গ্রহণ করেনি এবং তদানুযায়ী আমল করেনি, তা তাদের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَمِمَّا يُحْتَجُّ بِهِ أَيْضًا فِي هَذَا الْبَابِ وَأَنَّ الْأَخْذَ بِهِ عَيْنُ الصَّوَابِ إِيفَادُهُ صلى الله عليه وسلم عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَحْشٍ إِلَى نَاحِيَةِ نَخْلَةَ فِي سَرِيَّةٍ وَدَفَعَ إِلَيْهِ كِتَابًا مَخْتُومًا وَأَمَرَهُ أَلَّا يَفُكَّهُ حَتَّى يَسِيرَ يَوْمَيْنِ ثُمَّ يَفُكَّهُ وَيُنَفِّذَ مَا فِيهِ مِنَ الْأَمْرِ فَامْتَثَلَ عَبْدُ اللَّهِ ذَلِكَ
وَهُوَ فِي الْعَمَلِ بِالْإِجَازَةِ نَصٌّ صَحِيحٌ وَنُصْحٌ مِنْهُ صلى الله عليه وسلم صَرِيحٌ
وَلِأَبِي الْعَبَّاسِ الْوَلِيدِ بْنِ بَكْرِ بْنِ مَخْلَدٍ الْغَمْرِيِّ مِنْ أَهْلِ الْمَغْرِبِ وَتُوُفِّيَ بِالْمَشْرِقِ وَكَانَ مِنَ الْجَوَّالِينَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ عَالِمًا فَقِيهًا نَحْوِيًّا ثِقَةً كِتَابٌ تَرْجَمَهُ بِالْوَجَازَةِ فِي صِحَّةِ الْقَوْلِ بِالْإِجَازَةِ وَهُوَ عِنْدَنَا مَسْمُوعٌ نَازِلًا وَمُسْتَجَازٌ عَالِيًا اسْتَوْفَى فِيهِ مَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ فِي هَذَا الْمَعْنَى بِأَوْضَحِ عِبَارَةٍ
এই পরিচ্ছেদে যা দ্বারা দলিল পেশ করা হয় এবং যা গ্রহণ করাই সঠিকতার মূল উৎস, তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আব্দুল্লাহ বিন জাহশকে একটি ছোট সেনাদলের সাথে নাখলা অভিমুখে প্রেরণ করা। তিনি তাকে একটি মোহরকৃত পত্র প্রদান করেছিলেন এবং তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, দুই দিন পথ না চলা পর্যন্ত তিনি যেন তা না খোলেন; অতঃপর তিনি যেন তা খোলেন এবং তাতে বর্ণিত নির্দেশাবলি বাস্তবায়ন করেন। আব্দুল্লাহ তা পালন করেছিলেন।
আর এটি ইজাজতের (অনুমতি) ভিত্তিতে আমল করার ক্ষেত্রে একটি বিশুদ্ধ দলিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট সদুপদেশ।
মাগরিবের অধিবাসী এবং মাশরিকে ইন্তেকালকারী আবুল আব্বাস আল-ওয়ালিদ বিন বকর বিন মাখলাদ আল-গামরি—যিনি জ্ঞান অন্বেষণে পরিভ্রমণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং একজন আলেম, ফকিহ, নাহুবিদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন—তার একটি গ্রন্থ রয়েছে যার শিরোনাম ‘আল-ওয়াজাজাহ ফি সিহ্হাতিল কাওলি বিল ইজাজাহ’। গ্রন্থটি আমাদের কাছে নিম্ন সনদসূত্রে শ্রুত এবং উচ্চ সনদসূত্রে অনুমোদিত। তিনি এতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এই বিষয়ের প্রয়োজনীয় সকল দিক পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وَأَحْسَنِهَا وَأَجْوَدِ إِشَارَةٍ وَأَبْيَنِهَا لَكِنِّي لَمْ أَسْلُكْ طَرِيقَهُ وَتَحْقِيقَهُ بَلْ طَرِيقَةً أُخْرَى اسْتَوْفَيْتُ فِيهَا الْمَعْنَى بِلَفْظٍ هُوَ بِطَلَبَةِ هَذَا الْوَقْتِ أَلْيَقُ وَإِلَى أَفْهَامِهِمْ أَقْرَبُ وَطَلَبُ التَّسْهِيلِ وَتَرْكُ التَّطْوِيلِ فِي مِثْلِ هَذَا أَمْلَحُ وَأَصْوَبُ
وَقَدِ اخْتَلَقَ الْقَائِلُونَ بِصِحَّة الْإِجَازَة أَسمَاء يلجؤون إِلَيْهَا عَنْ أَتَمِّ مَعْرِفَةٍ بِالتَّعْوِيلِ عَلَيْهَا عِنْدَ الرِّوَايَةِ وَكَيْفِيَّةِ اللَّفْظِ الَّذِي يَرْتَضِيهِ أَرْبَابُ الدِّرَايَةِ وَأَجْوَدُ ذَلِكَ عِنْدِي وَأَحْسَنُهُ وَلَدَى التَّأَمِّلِ أَثْبَتُهُ وَأَبْيَنُهُ أَنْ يَقُولَ الْمُحَدِّثُ فِي الرِّوَايَةِ عَمَّنْ شَاهَدَهُ وَشَافَهَهُ أَنْبَأَنِي وَفِيمَنْ كَاتَبَهُ وَلَمْ يُشَاهِدْهُ كَتَبَ إِلَيَّ وَفِيمَا سَمِعَهُ أَخْبَرَنَا وَحَدَّثَنَا وَسَمِعْتُ لِيُعْلِمَ بَذِلَكِ مَسْمُوعَهُ مِنْ مُجَازِهِ وَتَحْقِيقَهُ مِنْ مُجَازِهِ وَأَنْ يَقُولَ فِيمَا سَمِعَهُ مِنْ لَفْظِ شَيْخِهِ وَحْدَهُ حَدَّثَنِي وَفِي الَّذِي سَمعه مِنْهُ كَذَلِكَ لَفْظًا مَعَ غَيْرِهِ حَدَّثَنَا وَفِيمَا سَمِعَهُ عَلَيْهِ وَحْدَهُ بِقِرَاءَتِهِ أَخْبَرَنِي وَفِي الَّذِي سَمِعَهُ وَمَعَهُ وَاحِدٌ فَصَاعِدًا أَخْبَرَنَا سَوَاءٌ قَرَأَ هُوَ أَوْ غَيْرُهُ لِيَتَبَيَّنَ عَلَى مَا قَرَّرْنَاهُ مِنَ الْجَوَازِ الْمَسْمُوعُ مِنَ الْمُسْتَجَازِ
وَإِنِ اخْتَارَ أَحَدٌ فِي الْمُجَازِ لَهُ وَالتَّحْدِيثِ بِهِ غَيْرَ مَا اخْتَرْتُهُ وَعَيَّنْتُ عَلَيْهِ وَذَهَبَ إِلَى ضِدِّ مَا ذَهَبْتُ أَنَا إِلَيْهِ فَقَدْ فُسِحَ لَهُ لَكِنْ يَكُونُ بِلَفْظٍ مُشْعِرٍ بِالْإِجَازَةِ وَعِبَارَةٍ مُعَبِّرَةٍ عَنْهَا غَيْرِ مُغَيِّرَةٍ لِلْمَرْسُومِ فِيهَا قَدِيمًا مِنْ طَائِفَةٍ اسْتَحَقُّوا بِالْحِفْظِ وَالْمَعْرِفَةِ تَقْدِيمًا وَقَضِيَّةٍ عَرِيَّةٍ عَنِ التَّدْلِيسِ خَلِيَّةٍ مِنَ التَّلْبِيسِ وَلَفْظٍ غَيْرَ مُشَبَّهٍ لِلَفْظِ السَّمَاعِ مُؤْذِنٍ بِالِابْتِدَاعِ لَا الِاتِّبَاعِ كَمَا الصَّوَابُ يَقْتَضِيهِ وَمَنْ يَرَاهُ مِنَ الْحُفَّاظِ يَرْتَضِيهِ
এবং এটি সবচেয়ে উত্তম, নির্দেশনায় চমৎকার ও অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কিন্তু আমি তাঁর পথ ও তাহকীক অনুসরণ করিনি; বরং ভিন্ন এক পথ অবলম্বন করেছি যাতে আমি পূর্ণ অর্থ ব্যক্ত করেছি এমন শব্দের মাধ্যমে যা বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অধিকতর উপযুক্ত এবং তাদের বোধগম্যতার নিকটতর। এরূপ ক্ষেত্রে সহজীকরণ ও দীর্ঘসূত্রতা বর্জন করাই অধিকতর সুন্দর ও সঠিক।
ইজাযতের বৈধতা প্রবক্তাগণ কিছু পরিভাষা উদ্ভাবন করেছেন যা বর্ণনার সময় এবং বিশেষজ্ঞগণের নিকট গ্রহণযোগ্য শব্দচয়ন নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা পূর্ণ জ্ঞানের সাথে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। আমার নিকট এই বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম, সুন্দর এবং চিন্তা-ভাবনার নিরিখে সর্বাধিক সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পদ্ধতি হলো: মুহাদ্দিস যখন এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করবেন যাকে তিনি সচক্ষে দেখেছেন ও যার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, তখন বলবেন ‘তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন’। আর যার সাথে পত্রালাপ হয়েছে কিন্তু সাক্ষাৎ ঘটেনি, তার ক্ষেত্রে বলবেন ‘তিনি আমার নিকট লিখেছেন’। যা তিনি সরাসরি শুনেছেন, সে ক্ষেত্রে বলবেন ‘তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন’, ‘তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ এবং ‘আমি শুনেছি’; যাতে এর মাধ্যমে তার শ্রবণকৃত বর্ণনা এবং ইজাযতপ্রাপ্ত বর্ণনার মধ্যকার পার্থক্য ও হাকীকত স্পষ্ট হয়। আর যা তিনি কেবল একাকী উস্তাদের মুখে শুনেছেন, সেখানে বলবেন ‘তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন’। একইভাবে যা তিনি অন্যের উপস্থিতিতে উস্তাদের মুখে শুনেছেন, সেখানে বলবেন ‘তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’। যা তিনি নিজে উস্তাদের নিকট একাকী পাঠ করে শুনেছেন, সেখানে বলবেন ‘তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন’। আর যা তিনি এমন অবস্থায় শুনেছেন যখন তাঁর সাথে আরও একজন বা ততোধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল, তখন বলবেন ‘তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন’; চাই তিনি নিজে পাঠ করুন বা অন্য কেউ, যাতে আমাদের নির্ধারিত বৈধতার নীতি অনুযায়ী শ্রবণকৃত বর্ণনা এবং ইজাযতপ্রাপ্ত বর্ণনার মাঝে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়।
ইজাযতকৃত বিষয় এবং তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যদি কেউ আমার পছন্দ ও নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে অন্য কিছু গ্রহণ করে এবং আমার মতামতের বিপরীতে অবস্থান নেয়, তবে তার জন্য সেই অবকাশ রয়েছে। কিন্তু তা হতে হবে ইজাযত নির্দেশক এমন শব্দের মাধ্যমে এবং এমন এক অভিব্যক্তিতে যা মূল অর্থকে প্রকাশ করে এবং যা সেই প্রাচীন জামাআতের অনুসৃত নিয়মের পরিবর্তন ঘটায় না—যাঁরা নিজেদের হিফয ও জ্ঞানের কারণে অগ্রগণ্য হওয়ার যোগ্য ছিলেন। এছাড়া বিষয়টি হতে হবে প্রতারণা থেকে মুক্ত এবং বিভ্রান্তি থেকে পবিত্র। এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে যা সরাসরি শ্রবণের শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, কারণ তা অনুসরণের পরিবর্তে নব-উদ্ভাবনেরই ইঙ্গিত দেয়; যেমনটি সঠিক পদ্ধতি দাবি করে এবং হাফিযগণের মধ্য থেকে যারা এটি দেখবেন তারা তা পছন্দ করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وَالَّذِي اخْتَرْتُهُ أَنَا مِنْ قَوْلِ الرَّاوِي بِالْإِجَازَةِ كَتَبَ إِلَيَّ فُلَانٌ هُوَ اخْتِيَارُ الْبُخَارِيِّ فِي صَحِيحِهِ يَقُولُ كَتَبَ إِلَيَّ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ بُنْدَارٌ وَكَذَلِكَ يَقُولُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ فِي تَوَالِيفِهِ وَغَيْرُهُمَا مِمَّنْ كَانَ قَبْلَهُمَا أَوْ بَعْدَهُمَا مِنَ الْحُفَّاظِ الثِّقَاتِ وَرُوَاةِ الحَدِيث الْأَثْبَات
وَكَانَ أَبُو عَمْرو الْأَوْزَاعِيُّ إِمَامُ الشَّامِ يَقُولُ كَتَبَ إِلَيَّ قَتَادَةُ
ইজাজতের (অনুমতি প্রদানের) মাধ্যমে বর্ণনাকারীর বক্তব্য হিসেবে আমি যা পছন্দ করেছি তা হলো ‘অমুক আমার নিকট লিখেছেন’, আর এটি ইমাম বুখারীরও পছন্দ যা তিনি তাঁর সহীহ্ গ্রন্থে ব্যবহার করেছেন; তিনি বলেন, ‘মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বুন্দার আমার নিকট লিখেছেন’। অনুরূপভাবে ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি তাঁর সংকলনসমূহে এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য নির্ভরযোগ্য হাফেজ ও সুদৃঢ় হাদিস বর্ণনাকারীগণও এরূপ বলেছেন।
শামের ইমাম আবু আমর আল-আওজায়ি বলতেন, ‘কাতাদাহ আমার নিকট লিখেছেন’।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَسَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ الْبَرَدَانِيَّ الْحَافِظَ بِبَغْدَادَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ وَاصِلَ بْنَ حَمْزَةَ الْبُخَارِيَّ يَقُولُ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ لَفْظِهِ وَحِفْظِهِ يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْعَبَّاسِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُعْتَزِّ الْمُسْتَغْفِرِيِّ الْخَطِيبِ بِنَسَفٍ فَسَأَلْتُهُ الْإِجَازَةَ فَقَالَ لِي سَمِعْتُ الْخَلِيلَ بْنَ أَحْمَدَ السِّجِسْتَانِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا طَاهِرٍ الدَّبَّاسَ يَقُولُ
আমি বাগদাদের হাফেজ আবু আলী আল-বারদানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম ওয়াসিল বিন হামজাহ আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি—তিনি আমাদের নিকট উপস্থিত হয়ে স্বীয় শব্দচয়ন ও স্মৃতি থেকে বর্ণনা করছিলেন—তিনি বলেন, আমি নাসাফের খতিব শায়খ আবুল আব্বাস জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-মু‘তায আল-মুস্তাগফিরীর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁর কাছে ইজাজত প্রার্থনা করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, আমি খলীল বিন আহমদ আস-সিজিস্তানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু তাহের আদ-দাব্বাসকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬২)
مَعْنَى قَوْلِ الشَّيْخِ أَجَزْتُ لَكَ أَيْ أَجَزْتُ لَكَ أَنْ تَكْذِبَ عَلِيَّ ثُمَّ قَالَ لِي جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَلَكِنْ جَعَلْتُ سَمَاعَاتِي كُلَّهَا كُتُبًا مِنِّي إِلَيْكَ لِتَقُولَ كَتَبَ إِلَيَّ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ حَدَّثَنَا قَالَ حَدَّثَنَا فُلَانٌ
وَفِي الْمُتَقَدِّمِينَ مَنْ كَانَ يَتَوَقَّفُ فِي الْإِجَازَةِ وَكَذَلِكَ فِي الْمُتَأَخِّرِينَ وَمِنْ جُمْلَتِهِمْ أَبُو نَصْرٍ السِّجْزِيُّ ثُمَّ قَالَ أَخِيرًا بِصِحَّتِهَا وَهُوَ أَبُو نَصْرٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ حَاتِمِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلَوِيَّةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ الْحَافِظُ الْوَائِلِيُّ مِنْ بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ
أَخْبَرَنَا بِنِسْبَتِهِ هَذِهِ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدٍ المقرىء السحاذي بِقَزْوِينَ أَنْبَا أَبُو مَعْشَرٍ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ مُحَمَّد الطَّبَرِيّ المقرىء بِمَكَّةَ أَنْبَا أَبُو نَصْرٍ عُبَيْدُ اللَّهِ فَذَكَرَهُ عَلَى الْوَجْهِ
শাইখের উক্তি "আমি আপনাকে অনুমতি (ইজাজত) দিলাম" এর অর্থ হলো— আমি আপনাকে আমার নামে মিথ্যা বলার অনুমতি দিলাম। অতঃপর জাফর বিন মুহাম্মদ আমাকে বললেন, তবে আমি আমার শ্রবণকৃত সকল বর্ণনাকে আপনার প্রতি আমার লিখিত গ্রন্থ হিসেবে সাব্যস্ত করেছি, যাতে আপনি বলতে পারেন যে— জাফর বিন মুহাম্মদ আমার নিকট লিখেছেন যে অমুকের পুত্র অমুক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে আমাদের নিকট অমুক হাদিস বর্ণনা করেছেন।
পূর্ববর্তীদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা ইজাজতের বিষয়ে বিরত থাকতেন বা সংশয় প্রকাশ করতেন, তেমনিভাবে পরবর্তীদের মধ্যেও অনেকে ছিলেন। তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন আবু নাসর আস-সিজজি; তবে পরিশেষে তিনি এর বিশুদ্ধতার কথা বলেন। তিনি হলেন আবু নাসর উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন হাতিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলাউইয়াহ বিন সাহল বিন ঈসা বিন তালহা আল-হাফিজ আল-ওয়াইলি, যিনি বকর বিন ওয়ায়িল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
কাজউইনে মুকরি আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ আস-সুহাজি আমাদের নিকট তার এই বংশপরিচয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। মক্কার মুকরি আবু মা'শার আব্দুল কারিম বিন আব্দুস সামাদ বিন মুহাম্মদ আত-তাবারী আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু নাসর উবাইদুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন। অতঃপর তিনি যথাযথভাবে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
الَّذِي ذَكَرْتُهُ وَقَدْ رَوَى لِي عَنْهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْحَسَنِ الْعَلَوِيُّ بِأَصْبَهَانَ وَعَبْدُ الْبَاقِي بْنُ عَبْدِ اللَّطِيفِ الْهَاشِمِيُّ بِمَكَّةَ وَأَبُو مُحَمَّدِ بْنُ السَّرَّاجِ بِبَغْدَادَ وَحَكَى لِيَ الشَّرِيفُ أَبُو شَاكِرٍ الْعُثْمَانِيُّ بِمَكَّةَ عَنْهُ حِكَايَاتٍ عَلَّقْتُهَا مِنْ حِفْظِهِ لَا مِنْ كِتَابٍ وَقَدْ قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ السَّرَّاجِ عَنْهُ كَثِيرًا بِالْإِجَازَةِ وَقَدْ كَانَ أَجَازَ لَهُ مُشَافَهَةً بَعْدَ أَنْ سَمِعَ عَلَيْهِ فَوَائِدَ وَحِينَ
যাঁকে আমি উল্লেখ করেছি। তাঁর সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আসফাহানে ইসমাঈল ইবনুল হাসান আল-আলাভি, মক্কায় আব্দুল বাকি ইবনে আব্দুল লতিফ আল-হাশেমি এবং বাগদাদে আবু মুহাম্মদ ইবনুল সাররাজ। মক্কায় শরীফ আবু শাকির আল-উসমানি আমার নিকট তাঁর থেকে কিছু কাহিনী বর্ণনা করেছেন যা আমি তাঁর স্মৃতি থেকে লিপিবদ্ধ করেছি, কোনো কিতাব থেকে নয়। আমি শায়খ আবু মুহাম্মদ ইবনুল সাররাজের নিকট তাঁর সূত্রে ইজাজতসহ অনেক পাঠ করেছি। তিনি তাঁর নিকট থেকে ফাওয়ায়েদ (উপকারী বিষয়াবলি) শোনার পর তাঁকে মৌখিকভাবে ইজাজত প্রদান করেছিলেন এবং যখন...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
وَصَلْتُ إِلَى دِمَشْقَ وَقَفْتُ عَلَى أَحَادِيثَ كَتَبَهَا إِلَى أَبِي الْقَاسِمِ الْحِنَّائِيِّ وَالِدِ شَيْخِنَا أَبِي طَاهِرٍ وَأَخِيهِ وَأَذِنَ لَهُمَا فِي رِوَايَتِهَا عَنْهُ وَقَالَ الْإِجَازَةُ عِنْدِي غَيْرُ مَرْضِيَّةٍ وَقَدْ جَعَلْتُ هَذِهِ كِتَابًا مِنِّي إِلَيْكُمَا فَارْوِيَا عَنِّي هَذَا أَوْ مَعْنَاهُ وَالْفَصْلُ عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي ذُكِرَ عِنْدِي قَرَأْتُهُ عَلَى أَبِي طَاهِرٍ عَنْ وَالِدِهِ أَبِي الْقَاسِمِ عَنْ كِتَابِهِ إِلَيْهِ فَعَجِبْتُ غَايَةَ الْعَجَبِ مِنْ إِجَازَتِهِ لِشَيْخِنَا أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ السَّرَّاجِ وَإِجَابَتِهِ إِلَيْهَا وَامْتِنَاعِهِ مِنْ ذَلِكَ فِي حَقِّ ابْنَيِ الْحِنَّائِيِّ مَعَ جَلَالَتِهِمَا إِلَى أَنْ أَخْرَجَ إِلَيَّ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ الْأَكْفَانِيُّ بِدِمَشْقَ أَيْضًا كِتَابًا بِخَطِّ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ ثَعْلَبَةَ السَّعْدِيِّ الْأَنْدَلُسِيِّ وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ثِقَةً وَفِي أَوَّلِهِ أَجَازَ لِيَ الشَّيْخُ الْحَافِظُ أَبُو نَصْرٍ الْوَائِلِيُّ حَدَّثَنَا بِهِ عَنْهُ أَبُو الْفَضْلِ الْحَكَّاكُ
আমি দামেস্কে পৌঁছলাম এবং এমন কিছু হাদিস সম্পর্কে অবগত হলাম যা তিনি আমাদের শাইখ আবু তাহির এবং তাঁর ভাইয়ের পিতা আবু আল-কাসিম আল-হিন্নায়ীর নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের দুজনকে তাঁর নিকট থেকে তা বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "ইজাযাহ আমার নিকট সন্তোষজনক বিষয় নয়। বরং আমি তোমাদের দুইজনের নিকট আমার পক্ষ থেকে এই লেখাটি পাঠিয়েছি; সুতরাং তোমরা আমার পক্ষ থেকে এটি অথবা এর মর্মার্থ বর্ণনা করো।" বিষয়টি আমার নিকট উল্লিখিত পদ্ধতি অনুযায়ীই ছিল। আমি এটি আবু তাহিরের নিকট পাঠ করেছি, তিনি তাঁর পিতা আবু আল-কাসিমের মাধ্যমে এবং আবু আল-কাসিম লেখকের পত্রের মাধ্যমে তা বর্ণনা করেছেন। এতে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম যে, তিনি আমাদের শাইখ আবু মুহাম্মদ ইবনে আল-সাররাজকে ইজাযাহ প্রদান করলেন এবং তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন, অথচ আল-হিন্নায়ীর দুই পুত্রের উচ্চমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ক্ষেত্রে তিনি তা প্রদান থেকে বিরত রইলেন। অবশেষে দামেস্কে আবু মুহাম্মদ ইবনে আল-আকফানি আমার সামনে আব্দুল আজিজ বিন সা'লাবা আস-সা'দী আল-আন্দালুসির হস্তলিপিতে লেখা একটি কিতাব বের করে দেখালেন; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য আলেম ছিলেন। সেই কিতাবের শুরুতেই লেখা ছিল: "শাইখ হাফেজ আবু নসর আল-ওয়াইলি আমাকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন।" আবু আল-ফজল আল-হাক্কাক তাঁর পক্ষ থেকে এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
وَوَقَفْتُ أَيْضًا عَلَى جُزْءٍ رَوَاهُ أَبُو الْفَرَجِ سَهْلُ بْنُ بِشْرٍ الإسفرائيني بِدِمَشْقَ عَنْهُ بِالْإِجَازَةِ وَأَبُو الْفَرَجِ كَذَلِكَ ثِقَةٌ فَصَحَّتْ عِنْدِي إِجَازَةُ ابْنِ السَّرَّاجِ وَزَادَتْ دَرَجَتُهُ وَبَانَتْ لَدَيَّ ثِقَتُهُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى
وَإِنَّ أَبَا نَصْرٍ أَدَّى اجْتِهَادُهُ فِي الْقَدِيمِ إِلَى تَرْكِهَا وَالِامْتِنَاعِ عَنْهَا وَفِي آخِرِ عُمْرِهِ إِلَى الْأَخْذِ بِهَا وَالْإِجَابَةِ عَنْهَا إِقْتَدَاءً بِأَكْثِرِ مَنْ قَبْلَهُ مِنَ الْحُفَّاظِ الْمُتْقِنِينَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ وَقَدْ سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ مُحَمَّدَ بْنَ مَرْزُوقٍ الزَّعْفَرَانِيَّ بِبَغْدَادَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْفَضْلِ جَعْفَرَ بْنَ يَحْيَى الْقُمَيْمِيَّ يَقُولُ كَانَ أَبُو نَصْرٍ السِّجْزِيُّ الْحَافِظُ يَقُولُ الْمُنَاوَلَةُ بِمَنْزِلَةِ السَّمَاعِ وَجَعْفَرٌ هَذَا ثِقَةٌ حَافِظٌ وَيُعْرَفُ بِمَكَّةَ بِابْنِ الْحَكَّاكِ قَدِمَ أَصْبَهَانَ وَكَتَبَ عَنْهُ أَقْرَانِي وَلَمْ أَرَهُ أَنَا وَاللَّهُ تَعَالَى المسؤول فِي التَّوْفِيقِ وَسُلُوكِ سَبِيلِ التَّحْقِيقِ
وَقَدِ اخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ الَّذِينَ قَالُوا بِصِحَّةِ الْإِجَازَةِ مَتَى تَصِحُّ وَفِي حَقِّ مَنْ تُتَصَوَّرُ
فَقَاسَ مِنْهُمْ قَوْمٌ ذَلِكَ عَلَى السَّمَاعِ وَخَالَفَهُمْ آخَرُونَ وَأَكْثَرُهُمْ عَلَى أَنَّ الْعَرَبِيَّ يَصِحُّ سَمَاعُهُ إِذَا بَلَغَ أَرْبَعَ سِنِينَ وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ مَحْمُودِ بْنِ
আমি আরও একটি জুজ (পুস্তিকা) সম্পর্কে অবগত হয়েছি যা আবুল ফারাজ সাহল ইবন বিশর আল-ইসফারায়িনি দামেস্কে তাঁর নিকট থেকে ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবুল ফারাজও একইভাবে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। ফলে ইবনুস সাররাজের ইজাজত আমার নিকট সহিহ বলে সাব্যস্ত হয়েছে, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাঁর নির্ভরযোগ্যতা আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
নিশ্চয়ই আবু নাসরের ইজতিহাদ পূর্বে তাঁকে এটি বর্জন ও এটি থেকে বিরত থাকার দিকে পরিচালিত করেছিল, কিন্তু জীবনের শেষ ভাগে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী অধিকাংশ দক্ষ হাফেজগণের অনুসরণে এটি গ্রহণ করার এবং এর অনুকূলে অভিমত ব্যক্ত করার দিকে ফিরে আসেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমি বাগদাদে আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবন মারজুক আল-জাফরানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আবুল ফজল জাফর ইবন ইয়াহইয়া আল-কুমাইমিকে বলতে শুনেছি যে, হাফেজ আবু নাসর আস-সিজজি বলতেন: ‘মুনাতলা’ (হস্তান্তর) শ্রবণের (সামাউ) সমপর্যায়ভুক্ত। এই জাফর একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ এবং মক্কায় তিনি ইবনুল হাক্কাক নামে পরিচিত। তিনি ইসফাহানে এসেছিলেন এবং আমার সমসাময়িকগণ তাঁর নিকট থেকে হাদিস লিখে নিয়েছেন, তবে আমি তাঁকে দেখিনি। আর আল্লাহ তাআলার নিকটই তাওফিক এবং সত্য অনুসন্ধানের পথে চলার প্রার্থনা করি।
আর যে সকল আলেম ইজাজত সঠিক হওয়ার কথা বলেছেন, তাঁরা এটি কখন সহিহ হবে এবং কার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
তাঁদের মধ্যে একদল একে শ্রবণের (সামাউ) ওপর কিয়াস করেছেন, আবার অন্যরা তাঁদের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের অধিকাংশের মতে, একজন আরবের শ্রবণ তখনই সহিহ হবে যখন সে চার বছর বয়সে পৌঁছাবে এবং তাঁরা মাহমুদ ইবন... এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
الرَّبِيعِ وَأَنَّهُ عَقِلَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَجَّةً مَجَّهَا فِي فِيهِ مِنْ بِئْرٍ فِي دَارِهِمْ وَأَنَّ الْعَجَمِيَّ إِذَا بَلَغَ سِتَّ سِنِينَ
وَقَدْ سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ هِبَةَ اللَّهِ بْنَ أَحْمَدَ الْأَكْفَانِيَّ الْمُعَدِّلَ بِدِمَشْقَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْكَتَّانِيَّ الْحَافِظَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا نَصْرٍ عَبْدَ الْوَهَّابِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْمُرِّيَّ
يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا سُلَيْمَانَ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَبْرٍ الرِّبْعِيَّ الْحَافِظَ يَقُولُ
রবী' (থেকে বর্ণিত), এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটি কুলকুচি স্মরণ রেখেছেন যা তিনি তাঁদের বাড়ির একটি কূপ থেকে নিয়ে তাঁর মুখে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন; আর নিশ্চয়ই অনারব শিশু যখন ছয় বছর বয়সে উপনীত হয়—
আমি দামেস্কের ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ আল-আকফানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাফিজ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু নাসর আবদুল ওয়াহহাব বিন আবদুল্লাহ বিন উমর আল-মুররিকে—
বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাফিজ আবু সুলাইমান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জাবর আল-রিবঈকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ حَبِيبٍ يَقُولُ سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ كُنْتُ عِنْدَ الشَّافِعِيِّ وَقَدْ أَتَاهُ رَجُلٌ يَطْلُبُ مِنْهُ الْإِجَازَةَ لِابْنِهِ فَقَالَ كَمْ لِابْنِكَ فَقَالَ سِتُّ سِنِينَ فَقَالَ لَا تَجُوزُ الْإِجَازَةُ لِمِثْلِهِ حَتَّى يَتِمَّ لَهُ سَبْعُ سِنِينَ قَالَ ابْنُ زَبْرٍ وَهُوَ مَذْهَبِيٌّ فِي الْإِجَازَةِ وَالَّذِي أَذْهَبُ أَنَا إِلَيْهِ وَعَلَيْهِ أَدْرَكْتُ الْحُفَّاظَ مِنْ مَشَايِخِي سَفَرًا وَحَضَرًا اتِّبَاعًا لِمَذْهَبِ شُيُوخِهِمْ فِي ذَلِكَ أَنَّ الْإِجَازَةَ تَصِحُّ لِمَنْ يُجَازُ لَهُ صَغِيرا كَانَ أَوْ كَبِيرًا فَهِيَ فَائِدَةٌ إِلَيْهِ عَائِدَةٌ كَالْحُبُسِ عَلَيْهِ وَالْهِبَةِ لَهُ فَلَا يُحْكَمُ بِفَسَادِ ذَلِكَ وَيُقَالُ إِنَّمَا يَصِحُّ الْحُبُسُ وَالْهِبَةُ لِمَنْ عَمْرُهُ سَبْعُ سِنِينَ
وَالْغَرَضُ الْأَقْصَى مِنَ الْإِجَازَةِ الرِّوَايَةُ وَالصَّغِيرُ لَا تُتَصَوَّرُ فِي حَقِّهِ بِخِلَافِ الْكَبِيرِ فَالْكَبِيرُ يَسْمَعُ فِي بَلَدٍ وَيَرْوِي فِي آخَرَ عُقَيْبَ السَّمَاعِ
وَالصَّغِيرُ إِنَّمَا يُؤْخَذُ لَهُ مِنَ شُيُوخِ الْوَقْتِ حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَبْلَغَ الرُّوَاةِ رَوَى مَا يَصِحُّ لَدَيْهِ مِنْ حَدِيثِهِمْ كَمَا يُحَبَّسُ عَلَيْهِ فِي صِغَرِهِ مِنْ دَارٍ وَعَقَارٍ وَلَا يُتَصَوَّرُ لَهُ التَّصَرُّفُ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ فَإِذَا بَلَغَ الْحُلُمَ وَهُوَ رَشِيدٌ سُلِّمَ الْمُحَبَّسُ إِلَيْهِ فَيَتَصَرَّفُ فِيهِ مِنْ غَيْرِ اعْتِرَاضٍ فِي اخْتِيَارِهِ وَإِيثَارِهِ وَلِأَبِي بَكْرٍ الْخَطِيبِ الْحَافِظِ الْبَغْدَادِيِّ فِي هَذَا جُزْءٌ لَطِيفٌ سَمِعْنَاهُ عَلَى أَبِي مُحَمَّدٍ
আমি হাসান ইবনে হাবীবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাবী ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি যে, আমি শাফিঈর নিকট ছিলাম এবং এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার নিকট আগমন করে তার পুত্রের জন্য ইজাযত (হাদীস বর্ণনার অনুমতি) প্রার্থনা করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার পুত্রের বয়স কত? সে উত্তর দিল, ছয় বছর। তিনি বললেন, সাত বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার মতো কারো জন্য ইজাযত বৈধ নয়। ইবনে জাবর বলেন, ইজাযতের ক্ষেত্রে এটিই আমার মাযহাব এবং আমি এই মতটিই পোষণ করি। আমি আমার শায়খদের মধ্য থেকে হাফেজগণকে সফরে ও আবস্থানে তাদের উস্তাদগণের মাযহাব অনুসরণ করে এই নীতির ওপরই পেয়েছি যে, যাকে ইজাযত দেওয়া হচ্ছে সে ছোট হোক বা বড়, তার জন্য ইজাযত সহীহ হবে। কেননা এটি তার নিকট প্রত্যাবর্তনকারী একটি উপকার, যেমনটি তার অনুকূলে কোনো সম্পদ ওয়াকফ করা বা তাকে দান করার মতো। সুতরাং একে বাতিল বা ফাসাদ বলে গণ্য করা হবে না। আর বলা হয় যে, ওয়াকফ ও দান কেবল তারই জন্য সহীহ হয় যার বয়স সাত বছর।
ইজাযতের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রেওয়াত বা বর্ণনা করা, যা শিশুর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে কল্পনা করা যায় না, যা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিন্ন। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এক শহরে শুনে শ্রবণের অব্যবহিত পরেই অন্য শহরে তা বর্ণনা করতে পারে।
আর শিশুর জন্য সমসাময়িক শায়খদের নিকট থেকে ইজাযত গ্রহণ করা হয় যাতে সে যখন বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছাবে, তখন তাদের বর্ণিত হাদীসের মধ্য থেকে যা তার নিকট সহীহ বলে সাব্যস্ত হবে তা সে বর্ণনা করতে পারবে; যেমন তার শৈশবে তার অনুকূলে ঘরবাড়ি ও স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয় এবং সেই সময় তাতে তার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা ব্যবহারের ক্ষমতা কল্পনা করা যায় না। অতঃপর যখন সে বয়ঃপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমান হয়, তখন ওয়াকফকৃত সম্পদ তাকে সোপর্দ করা হয় এবং সে তখন তার ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। আর এই বিষয়ে হাফেজ আবু বকর আল-খাতীব আল-বাগদাদীর একটি চমৎকার পুস্তিকা রয়েছে যা আমরা আবু মুহাম্মদের নিকট শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
السَّمَرْقَنْدِيِّ بِبَغْدَادَ وَعَلَى أَبِي بَكْرٍ الشِّبْلِيِّ بِدِيَارِ مِصْرَ يَذْكُرُ فِيهِ إِجَازَةَ الْمَعْدُومِ وَيُورِدُ فِيهِ مِنْ أَقْوَالِ الْفُقَهَاءِ الشَّافِعِيَّةِ وَالْحَنَفِيَّةِ وَالْحَنَابِلَةِ مَا يَدُلُّ عَلَى صِحَّتِهَا فَكَيْفَ لِلْمَوْلُودِ الْمَوْجُودِ وَهُوَ الصَّحِيحُ الَّذِي يَقْتَضِيهِ الْقِيَاسُ وَعَلَيْهِ دَرَجَ النَّاسُ وَأَئِمَّةُ الْحَدِيثِ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ وَرَأَوْهُ صَحِيحًا وَأَنَّهُ التَّحْقِيقُ وَاللَّهُ تَعَالَى وَلِيُّ التَّوْفِيقِ
فَأَبْدَأُ الْآنَ بِشُيُوخِ بَغْدَادَ مَدِينَةِ السَّلَامِ جَعَلَهَا تَعَالَى أَبَدًا دَارًا لِلْإِسْلَامِ ثُمَّ بَعْدَهُمْ بِغَيْرِهِمْ وَأُورِدُ عَنْ كُلِّ مَنْ ظَفِرْتُ بِرِوَايَتِهِ وَوَقَعَ إِلَيَّ حَدِيثُهُ حَدِيثًا وَاحِدًا طَلَبًا لِلِاخْتِصَارِ وَاحْتِرَازًا مِنَ الْإِكْثَارِ إِلَّا عَمَّنْ فِي الزِّيَادَةِ عَلَى مَا ذَكَرَهُ زِيَادَةٌ فَائِدَةٌ إِلَى الْعَارِفِينَ عَائِدَةٌ لِعُلُوِّ الْإِسْنَادِ الْوَاقِعِ مِنَ الْحُفَّاظِ الْأَمْجَادِ أَحْسَنَ مَوْقِعٍ وَيَتَذَاكَرُونَ بِهِ فِي كُلِّ مَجْمَعٍ وَمَوْضِعٍ
বাগদাদে সমরকন্দি এবং মিশরে আবু বকর শিবলীর নিকট; এতে তিনি বিদ্যমান নেই এমন ব্যক্তির ইজাজত (অনুমতি) প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এতে শাফেয়ী, হানাফী ও হাম্বলী ফকিহগণের এমন সব বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যা এর সঠিকতাকে প্রমাণ করে। সুতরাং যে জন্ম নিয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যমান আছে তার ক্ষেত্রে এটি কেন শুদ্ধ হবে না? আর এটিই সঠিক যা কিয়াস দাবি করে এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালের মানুষ ও হাদিস বিশারদগণ এর উপর ভিত্তি করে চলেছেন এবং একে সঠিক মনে করেছেন। আর এটিই হচ্ছে প্রকৃত তাহকীক (গবেষণা), আর আল্লাহ তাআলাই তাওফিক দানকারী।
এখন আমি শান্তির নগরী বাগদাদের শায়খদের দিয়ে শুরু করছি—আল্লাহ তাআলা একে চিরকাল ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখুন—অতঃপর তাদের পরবর্তী অন্যদের কথা উল্লেখ করব। যাদের বর্ণনা লাভে আমি সক্ষম হয়েছি এবং যাদের হাদিস আমার নিকট পৌঁছেছে, সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এবং আধিক্য বর্জন করার জন্য তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে মাত্র একটি করে হাদিস উল্লেখ করছি। তবে যাদের ক্ষেত্রে বর্ণনার আধিক্যের মাঝে অতিরিক্ত এমন কোনো উপকার নিহিত রয়েছে যা বিজ্ঞজনদের কাছে সমাদৃত, তাদের বিষয়টি স্বতন্ত্র। কারণ মহান হাফিজদের থেকে প্রাপ্ত ইসনাদের উচ্চ মর্যাদা (উলুউল ইসনাদ) অত্যন্ত চমৎকার অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিটি মজলিস ও স্থানে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
1 - فَأَوَّلُهُمْ الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ التَّمِيمِيُّ
شَيْخُ الْحَنَابِلَةِ بِهَا وَرَئِيسُهُمْ قَدِمَ أَصْبَهَانَ رَسُولًا مِنْ قِبَلِ الْخَلِيفَةِ إِلَى السُّلْطَانِ وَأَنَا إِذْ ذَاكَ صَغِيرٌ وَشَاهَدْتُهُ يَوْمَ دُخُولِهِ إِلَى الْبَلَدِ وَوُصُولِهِ
وَكَانَ يَوْمًا مَشْهُودًا كَالْعِيدِ بَلْ أَبْلَغُ فِي الْمَزِيدِ وَأُنْزِلَ بِبَابِ الْقَصْرِ مَحَلَّتِنَا فِي دَارِ السُّلْطَانِ كَانَ مِنَ الدَّيَالِمِ وَانْتَقَلَ إِلَى سُلْطَانِ الْوَقْتِ بَعْدَ انْقِرَاضِ دَوْلَتِهِمْ دَارٌ عَالِيَةٌ وَبِقُرْبِهَا نَهْرٌ جَارٍ قَدْ صَارَ بِرَسْمِ الرُّسُلِ وَحَضَرْتُ فِي الْجَامِعِ الْجُورْجِيرِيِّ الَّذِي بِالْقُرْبِ مِنْ بَابِ الْقَصْرِ مَحَلَّتَنَا مَجْلِسُهُ بِنَفْسِي لَا بِمَحْضَرٍ مِنَ الْكِبَارِ بَلْ مُتَفَرِّجًا كَعَادَةِ الصِّغَارِ ثُمَّ بَعْدَ سِنِينَ لَمَّا تَرَعْرَعْتُ وَتَصَدَّيْتُ لِلسَّمَاعِ وَكَتْبِ الْحَدِيثِ عَلَى رَغْبَةٍ تَامَّةٍ وَعَزِيمَةٍ مُسْتَدَامَةٍ قَالَ لِيَ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مَعْمَرٍ الْعَبْدِيُّ وَكَانَ مِنَ الثِّقَاتِ الْأَثْبَاتِ
১ - তাদের প্রথম জন হলেন ইমাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামিমী।
সেখানকার হাম্বলিদের শাইখ ও তাদের প্রধান। তিনি খলিফার পক্ষ থেকে সুলতানের নিকট দূত হিসেবে ইসফাহানে আগমন করেছিলেন। তখন আমি ছোট ছিলাম এবং শহরে তাঁর প্রবেশের ও পৌঁছানোর দিনটি আমি সচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি।
দিনটি ছিল ঈদের মতো এক স্মরণীয় দিন, বরং তার চেয়েও মহিমান্বিত। তাঁকে আমাদের মহল্লার রাজপ্রাসাদের ফটকের নিকট সুলতানের বাসভবনে রাখা হয়েছিল। এটি আগে দাইলামিদের অধিকারে ছিল এবং তাদের শাসনের পতনের পর তৎকালীন সুলতানের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছিল। এটি ছিল একটি সুউচ্চ ভবন যার পাশ দিয়ে একটি নদী প্রবাহিত ছিল এবং এটি দূতদের আবাসস্থল হিসেবে নির্ধারিত ছিল। আমি জুরজিরি মসজিদে তাঁর মজলিসে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলাম, যা আমাদের মহল্লার রাজপ্রাসাদের ফটকের কাছে অবস্থিত ছিল। তবে আমি বড়দের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার মতো নয়, বরং ছোটদের স্বভাবজাত কৌতূহল নিয়ে স্রেফ দর্শক হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম। অতঃপর কয়েক বছর পর, যখন আমি বড় হলাম এবং পূর্ণ আগ্রহ ও অবিচল সংকল্পের সাথে হাদিস শ্রবণ ও তা লিপিবদ্ধ করার কাজে মনোনিবেশ করলাম, তখন ইমাম আবু হাসান আহমাদ বিন মামার আল-আবদি আমাকে বললেন—আর তিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭০)
مَرْضِيَّ الطَّرَائِقِ وَالصِّفَاتِ قَدِ اسْتَجْزَتُهُ لَكَ فِي جُمْلَةِ مَنْ كَتَبْتُ اسْمَهُ مِنْ صِبْيَانِنَا فِي الِاسْتِجَازَةِ فَتَفَضَّلَ وَكَتَبَ خَطَّهُ بِالْإِجَازَةِ فَطَالَبْتُهُ بِهَا مَرَّةً بَعْدَ أُخْرَى وَثَانِيَةً عقب أولى وَلم يتسهل لَهُ إِخْرَاجُهَا وَرَحَلْتُ أَنَا إِلَى بَغْدَاد سنة ثَلَاث وَتِسْعين وَأَرْبع مئة لِلِقَاءِ مُسْنَدِي شُيُوخِهَا وَالْكِتَابَةِ عَنْهُمْ وَلَمْ يَتَّفِقْ لِي الرُّجُوعُ إِلَى الْبَلَدِ وَأَجْرَيْتُ ذِكْرَ هَذَا الْمَجْلِسِ يَوْمًا بِبَغْدَادَ وَكَانَ أَبُو الْبَرَكَاتِ بْنُ السَّقْطِيُّ الْحَافِظُ حَاضِرًا فَقَالَ أَنا كنت القارىء عَلَيْهِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ عَلَى مِنْبَرِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ لِكَثْرَةِ الْخَلْقِ وَالْخَبَرُ
فَقَدْ كَانَ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ وَرِوَايَتُهُ فِيهِ عَنْ أَبِي عُمَرَ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ الدُّورِيِّ
তার স্বভাব ও গুণাবলী ছিল প্রশংসনীয়। আমি আমাদের সেই শিশুদের নামের তালিকায় তোমার জন্যও তাঁর নিকট থেকে ইজাজত প্রার্থনা করেছিলাম যাদের নাম আমি ইজাজত চাওয়ার সময় লিখেছিলাম। অতঃপর তিনি অনুগ্রহ প্রদর্শন করলেন এবং ইজাজতনামায় নিজ হস্তাক্ষরে লিখে দিলেন। আমি বারবার তাঁর কাছে সেটি চেয়েছিলাম, একের পর এক; কিন্তু তাঁর পক্ষে তা বের করে দেওয়া সহজসাধ্য হয়ে ওঠেনি। আমি চারশত তিরানব্বই হিজরি সনে বাগদাদের বিশিষ্ট মুসনিদ শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য এবং তাঁদের নিকট থেকে হাদিস লিখে নেওয়ার জন্য সেখানে সফর করি। এরপর আমার পক্ষে আর স্বদেশে ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। একদিন বাগদাদে আমি এই মজলিসের কথা উল্লেখ করলাম। তখন হাফেজ আবুল বারাকাত ইবনে আস-সাকতি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, "বিপুল লোক সমাগমের কারণে জুমার নামাজের পর জামে আস-সগিরের মিম্বরের ওপর আমিই তাঁর নিকট পাঠকারী ছিলাম।" আর সংবাদটি হলো—
নিশ্চয়ই এটি মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে কারামার হাদিস এবং এতে তাঁর বর্ণনা আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মাহদী আল-ফারিসী থেকে, যিনি মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ আদ-দুরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭১)
عَنْهُ هَذَا مَا قَالَهُ ابْنُ السَّقْطِيِّ
وَقَدْ كَانَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى مِنَ الْأَمْجَادِ عَالِيَ الْإِسْنَادِ مُرْفِقًا فِي وَعْظِهِ دَاعِيًا إِلَى الرَّشَادِ رَوَى عَنْ أَبِي عُمَرَ بْنِ مَهْدِيٍّ وَأَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ الْمُتَيَّمِ وَهِلَالٍ الْحَفَّارِ وَأَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ بِشْرَانَ وَهِبَةِ اللَّهِ بْنِ سَلَامَةَ الْمُفَسِّرِ وَآخَرِينَ مِنْ نُظَرَائِهِمْ وَقَدْ قَالَ فِيهِ عَلَى مَا بَلَغَنِي أَبُو غَالِبٍ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ عِنْدَ قُدُومِهِ أَصْبَهَانَ قَصِيدَةً أَوَّلُهَا
(بِمَقْدَمِ الشَّيْخِ رِزْقِ اللَّهِ قَدْ رُزِقَتْ
… أهل اصبهان أَسَانِيد عَجِيبَاتِ)
وَرَوَى بِالْإِجَازَةِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ
তাঁর সম্পর্কে ইবনুস সাকতি যা বলেছেন তা হলো এটি
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ছিলেন উচ্চ মর্যাদাবানদের অন্তর্ভুক্ত এবং উচ্চ সনদের অধিকারী; তিনি তাঁর উপদেশে ছিলেন হিতাকাঙ্ক্ষী এবং সঠিক পথের দিকে আহ্বানকারী। তিনি আবু ওমর ইবনে মাহদি, আবু হুসাইন ইবনে আল-মুতাইয়াম, হিলাল আল-হাফফার, আবু হুসাইন ইবনে বিশরান, হিবাতুল্লাহ ইবনে সালামাহ মুফাসসির এবং তাঁদের সমপর্যায়ের আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু গালিব হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হারুন—আমার নিকট যা পৌঁছেছে সেই অনুযায়ী—তিনি যখন আস্পাহানে আগমন করেন তখন তাঁর সম্পর্কে একটি কাসিদা পাঠ করেছিলেন, যার প্রথম চরণ হলো:
(শায়খ রিজকুল্লাহর আগমনে আস্পাহানবাসী ধন্য হয়েছে
… বিস্ময়কর সব সনদসমূহ দ্বারা)
তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭২)
أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ التَّمِيمِيُّ لَمَّا قَدِمَ عَلَيْنَا أَصْبَهَانَ أَنْبَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَمَّادٍ الْوَاعِظُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْمُتَيَّمِ ثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ إِمْلَاءً ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي مَذْعُورٍ ثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ
আবু মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন তিনি আমাদের নিকট আসফাহানে আগমন করেছিলেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্মাদ আল-ওয়াইয, যিনি ইবনুল মুতায়্যাম নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবন ইসমাঈল আল-মাহামিলী আমাদের নিকট শ্রুতলিপির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন আবি মাযকুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবন যুরাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন আওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফি হতে, তিনি ইবন উমর হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلَاةِ اللَّيْلِ فَقَالَ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيتَ الصُّبْحَ فَوَاحِدَةٌ فَإِنَّهَا تُوتِرُ لَكَ صَلَاتَكَ
وَأَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ أَيْضًا أَنْبَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيُّ ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الدُّورِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ ثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَمْ تُوصِ وَأَنَا أَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ لَتَصَدَّقَتْ فَهَلْ لَهَا أَجْرٌ إِنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের সালাত সম্পর্কে বলেছেন: "দুই দুই রাকাত করে। অতঃপর যখন তুমি ভোর হওয়ার আশঙ্কা করবে, তখন এক রাকাত পড়বে, যা তোমার সালাতকে বিতর করে দেবে।"
এবং আমাদের আরও সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাহদী আল-ফারিসি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আদ-দুরি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে কারামাহ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু উসামা, তিনি হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কোনো অসিয়ত করে যাননি। আমার মনে হয় তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে অবশ্যই দান-সদকা করতেন। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে দান করি, তবে কি তিনি এর সওয়াব পাবেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
2 - وَثَانِيهِمْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ طَلْحَةَ النِّعَالِيُّ
أَجَازَ لِي جَمِيعَ مَا يَرْوِيهِ سَنَةَ إِحْدَى وَتِسْعِينَ وَقَبْلَهَا أَيْضًا وَقَدْ شَارَكَ الشَّيْخَ أَبَا مُحَمَّدٍ رِزْقَ اللَّهِ فِي عُلُوِّ السَّنَدِ وَرِوَايَتُهُ حَدِيثُ الْقَاضِي أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْمَحَامِلِيِّ عَنْ أَبِي عُمَرَ بْنِ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيِّ وَرَوَى عَنْ أَبِي سَعْدٍ الْمَالِينِيِّ وَعَنْ آخَرِينَ أَعْلَى مِنْ أَبِي سَعْدٍ وَقَدْ سَمِعَ عَلَيْهِ وَالِدِي رحمه الله
وَقَالَ لِي صَاحِبُنَا أَبُو الْخَيْرِ هَزَارِسْبُ بْنُ عَوَضِ بْنِ الْحَسَنِ
২ - এবং তাঁদের দ্বিতীয়জন হলেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন তালহা আল-নিআলী।
তিনি একানব্বই হিজরি সনে এবং তার আগেও তিনি যা কিছু বর্ণনা করেন তার সবকিছুর ইজাজত আমাকে প্রদান করেছেন। উচ্চতর সনদের ক্ষেত্রে তিনি শায়খ আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহর সমপর্যায়ভুক্ত ছিলেন। তাঁর বর্ণনা হলো কাজী আবু আবদুল্লাহ আল-মাহামিলির হাদিস, যা আবু উমর বিন মাহদী আল-ফারিসি থেকে বর্ণিত। তিনি আবু সা'দ আল-মালিনী এবং আবু সা'দের চেয়েও উচ্চতর স্তরের অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন।
আমাদের সঙ্গী আবু আল-খায়ের হাজারাসব বিন আওয়াদ বিন আল-হাসান আমাকে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
الْهَرَوِيُّ بِبَغْدَادَ تُوُفِّيَ ابْنُ طَلْحَةَ النِّعَالِيُّ فِي صَفَرٍ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَتِسْعين وَأَرْبع مئة وَهِيَ السَّنَةُ الَّتِي دَخَلْتُ أَنَا فِيهَا إِلَى بَغْدَادَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ وَوَصَلْتُ إِلَيْهَا أَنَا فِي شَوَّالٍ وَبَيْنَ وُصُولِي وَوَفَاتِهِ سَبْعَةُ أَشْهُرٍ وَالسَّمَاعُ رِزْقٌ
كَتَبَ إِلَيَّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ طَلْحَةَ النِّعَالِيُّ مِنْ بَغْدَاد سنة إِحْدَى وَتِسْعين وَأَرْبع مئة وَقبلهَا فِيمَا أَظُنُّ أَنْبَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيُّ ثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ إِمْلَاءً ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السَّهْمِيُّ ثَنَا مَالِكٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ
আল-হারাওয়ী বাগদাদে। ইবনে তালহা আন-নিআলী চারশ তিরানব্বই হিজরি সনের সফর মাসে ইন্তেকাল করেন এবং এটি সেই বছর যাতে আমি রমজান মাসে বাগদাদে প্রবেশ করি এবং শাওয়াল মাসে সেখানে পৌঁছাই। আমার আগমন এবং তাঁর ইন্তেকালের মধ্যে সাত মাসের ব্যবধান ছিল, আর শ্রবণ হলো এক রিযক।
আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন তালহা আন-নিআলী চারশ একানব্বই হিজরি সনে এবং আমার ধারণা মতে এর পূর্বেও বাগদাদ থেকে আমার নিকট লিখে পাঠান যে: আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মাহদী আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাযী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলী আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ইসমাইল আস-সাহমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু ইদরিস আল-খাওলানী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওযু করে সে যেন নাক ঝাড়ে এবং যে ব্যক্তি ঢিলা ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় সংখ্যায় তা করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
3 - وَثَالِثُهُمْ الشَّرِيفُ الْكَامِلُ أَبُو الْفَوَارِسِ طِرَادُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ
نَقِيبُ نُقَبَاءِ الْهَاشِمِيِّينَ وَهُوَ يُدَانِي الْمَذْكُورِينَ فِي الْعُلُوِّ وَقَدْ حَدَّثَ عَنْ جَمَاعَةٍ لَمْ يُحَدِّثْ عَنْهُمْ أَحَدٌ بَعْدَهُ وَمِنْهُمْ هِلَالٌ الْحَفَّارُ وَأَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَسْنُونَ النَّرْسِيُّ وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْهَاشِمِيُّ وَآخَرُونَ
وَخَطُّهُ عِنْدِي فِي جُزْءِ الِاسْتِجَازَةِ الَّذِي أَنْفَذْتُهُ أَنَا سَنَةَ إِحْدَى وَتِسْعِينَ إِلَى بَغْدَادَ فَأَخَذْتُ فِيهِ خُطَوطَ مَشَايِخَ مُسْنِدِينَ وَالسُّؤَالُ أَنْ يُجِيزُوا لِلْمَذْكُورِينَ مَا سَمِعُوهُ وَمَا أُجِيزَ لَهُمْ وَالَّذِي كَتَبَهُ قَدْ أَجَزْتُ لَهُمْ مَا سَأَلُوا فِيهِ وَكَتَبَ طِرَادُ بْنُ مُحَمَّدٍ
وَقَالَ لِي صَاحِبُنَا أَبُو الْخَيْرِ هَزَارِسْبُ بْنُ عَوَضٍ الْهَرَوِيُّ بِبَغْدَادَ سَمِعْتُ أَبَا الْفَوَارِسِ طِرَادَ بْنَ مُحَمَّدٍ الْهَاشِمِيَّ يَقُولُ وُلِدْتُ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَثَلَاث مئة فِي شَوَّالٍ قَالَ هَزَارِسْبُ وَتُوُفِّيَ سنة إِحْدَى وَتِسْعين وَأَرْبع مئة آخِرَ يَوْمٍ مِنْ شَوَّالِ وَدُفِنَ أَوَّلَ يَوْمٍ مِنْ ذِي الْقِعْدَةِ وَكَانَ
৩ - এবং তাঁদের মাঝে তৃতীয়জন হলেন শরীফ আল-কামিল আবুল ফাওয়ারিস তিরাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আজ-জাইনাবি।
তিনি ছিলেন হাশেমি বংশীয়দের প্রধানদের প্রধান। বর্ণনাসূত্রের উচ্চতার (সনদ) ক্ষেত্রে তিনি পূর্বে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সমপর্যায়ভুক্ত। তিনি এমন এক দল বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁদের থেকে তাঁর পরে আর কেউ বর্ণনা করেনি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হিলাল আল-হাফফার, আবু নাসর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসনুন আন-নারসি, আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আল-হাশেমি এবং আরও অনেকে।
তাঁর হস্তাক্ষর আমার কাছে সেই ইজাজতনামা (অনুমতি প্রার্থনা) সংক্রান্ত পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত আছে যা আমি একানব্বই সালে বাগদাদে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে আমি মুসনিদ মাশায়েখদের দস্তখত সংগ্রহ করেছিলাম। আর আবেদনটি ছিল এই যে, তাঁরা যেন উল্লিখিত ব্যক্তিদের জন্য তাঁদের শ্রুত বিষয়াদি এবং তাঁদেরকে যেগুলোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেগুলোর অনুমতি প্রদান করেন। তিনি যা লিখেছিলেন তা হলো: "তাঁরা যা প্রার্থনা করেছেন আমি সেগুলোর অনুমতি প্রদান করলাম" এবং তিরাদ ইবনে মুহাম্মাদ (নিজের নাম) লিখেছেন।
আমাদের সাথী আবুল খায়ের হাজারাসব ইবনে আওয়াজ আল-হারাউই বাগদাদে আমাকে বলেছেন: "আমি আবুল ফাওয়ারিস তিরাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাশেমিকে বলতে শুনেছি যে, আমি ৩৯৮ হিজরির শাওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছি।" হাজারাসব বলেন, তিনি ৪৯১ হিজরির শাওয়াল মাসের শেষ দিনে মৃত্যুবরণ করেন এবং জিলকদ মাসের প্রথম দিনে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি ছিলেন—
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
هَزَارِسْبُ رحمه الله ثِقَةٌ فِيمَا يَقُولُه
وَهُوَ أَبُو الْفَوَارِسِ طِرَادُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْإِمَامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ الْهَاشِمِيُّ الْمَعْرُوفُ بِالزَّيْنَبِيِّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ هُوَ الزَّيْنَبِيُّ أُمُّهُ زَيْنَبُ بِنْتُ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ
وَلَهُ إِخْوَةٌ ثَلَاثَةٌ رَوَوْا كُلُّهُمُ الْحَدِيثَ أَدْرَكْتُ أَنَا مِنْهُمُ اثْنَيْنِ أَبَا طَالِبٍ الْحُسَيْنَ إِمَامَ أَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ وَالْمُدَرِّسَ بِبَغْدَادَ فِي مَدْرَسَتِهِمْ بِبَابِ الطَّاقِ
وَلَمْ أَرَ بِبَغْدَادَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَجَلَّ رُتْبَةً مِنْهُ وَلَمْ يَكُنْ يَتَقَدَّمُ عَلَيْهِ أَحَدٌ فِي مَجْلِسِ الْخَلِيفَةِ يَوْمَ النَّظَرِ قِيلَ الْعُلَمَاءُ وَالرُّؤَسَاءُ كُلُّهُمْ عِنْدَ
হাযারাসব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তিনি যা বলেন সে বিষয়ে বিশ্বস্ত।
আর তিনি হলেন আবুল ফাওয়ারিস তিরাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলায়মান বিন মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-ইমাম বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমী, যিনি আয-যায়নাবী নামে পরিচিত। আর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম হলেন আয-যায়নাবী; তাঁর মা হলেন যায়নাব বিনতে সুলায়মান বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস।
তাঁর তিন ভাই ছিলেন, তাঁরা সবাই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁদের মধ্য থেকে দুজনকে পেয়েছি: আবু তালিব আল-হুসাইন, যিনি ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের ইমাম এবং বাগদাদের বাবুত তক-এ অবস্থিত তাঁদের মাদরাসায় শিক্ষক ছিলেন।
বাগদাদে আমি ইলমের অধিকারীদের মধ্যে তাঁর চেয়ে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কাউকে দেখিনি। খলিফার মজলিসে বাহাস-আলোচনার দিনে তাঁর অগ্রে কেউ থাকতে পারত না। বলা হয় যে, আলেম এবং নেতৃবৃন্দ সকলেই তাঁর নিকট...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
دُخُولِهِمْ دَارَ الْخِلَافَةِ يَتَأَخَّرُونَ عَنْهُ وَقْتَ النَّظَرِ فِي أَيَّامِ الْجَمْعِ فِي الْمَكَانِ الْمَعْرُوفِ بِبَابِ الْفِرْدَوْسِ وَالْمُسْتَظْهِرُ بِاللَّهِ وَأَبْنَاؤُهُ حَاضِرُونَ يُشَاهِدُونَ الْحَاضِرِينَ وَالْفُقَهَاءَ وَالْمُنَاظِرِينَ مِنْ وَرَاءِ شُبَّاكٍ وَلَا يُشَاهِدُونَ
وَكَانَ جَلِيلَ الْقَدْرِ وَالْخَطَرِ مُتَوَاضِعًا إِلَى غَايَةٍ مَعَ جَلَالَتِهِ وَتَقَدُّمِهِ وَرِئَاسَتِهِ رَوَى لَنَا عَنْ أَبِي طَالِبِ بْنِ غَيْلَانَ وَأَبِي الْقَاسِمِ التَّنُوخِيِّ وَالْأَمِيرِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ الْمُقْتَدِرِ وَغَيْرِهِمْ
وَرَوَى صَحِيحَ الْبُخَارِيِّ عَنْ كَرِيمَةَ الْمَرْوَزِيَّةِ الْمُجَاوِرَةِ بِمَكَّةَ عَنِ
দারুল খিলাফতে তাদের প্রবেশের সময়, জুমার দিনগুলোতে আলোচনার জন্য তারা ‘বাবুল ফিরদাউস’ নামে পরিচিত স্থানে অবস্থান করতেন। আল-মুস্তাজহির বিল্লাহ এবং তাঁর পুত্রগণ সেখানে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁরা একটি জানালার আড়াল থেকে উপস্থিত জনতা, ফকীহগণ এবং বিতার্কিকদের দেখতেন, কিন্তু তাঁরা নিজেরা দৃষ্টিগোচর হতেন না।
তিনি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী ছিলেন, তাঁর গাম্ভীর্য, শ্রেষ্ঠত্ব এবং নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি চরম বিনয়ী ছিলেন। তিনি আমাদের কাছে আবু তালিব বিন গাইলান, আবুল কাসিম আত-তানুখি, আমির আবু মুহাম্মদ বিন আল-মুক্তাদির এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি মক্কায় বসবাসকারী কারিমা আল-মারওয়াজিয়া থেকে সহিহ আল-বুখারি বর্ণনা করেছেন, যিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজীয়ু ফী যিকরিল মাজাযি ওয়াল মুজীয
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
الْكُشْمِيهَنِيِّ عَنِ الْفَرَبْرِيِّ عَنِ الْبُخَارِيِّ
وَأَبَا يَعْلَى حَمْزَةَ وَكَانَ أَكْبَرَ سِنًّا مِنْ أَبِي طَالِبٍ وَسَأَلْتُهُ عَنْ مَوْلِدِهِ فَقَالَ وُلِدْتُ سَنَةَ سبع وَأَرْبع مئة
وَقَرَأْتُ عَلَيْهِ عَنِ الْقَاضِي أَبِي الْعَلَاء الوَاسِطِيّ المقرىء وَأَبِي مُحَمَّدٍ الْخَلَّالِ الْحَافِظِ وَقَالَ قَدْ سَمِعْتُ عَلَى الْقَاضِي أَبِي الْحُسَيْنِ التَّوْزِيِّ وَعَلَى أَبِي الْحَسَنِ بْنِ قُبَيْسٍ الْمَالِكِيِّ وَآخَرِينَ وَكَانَ الْوَزِيرُ ابْنُ أَبِي الرَّيَّانِ عَوَّلَ على
কুশমিহানী, ফারাবরী থেকে, তিনি বুখারী থেকে।
এবং আবু ইয়ালা হামজাহ; তিনি আবু তালিব অপেক্ষা বয়সে বড় ছিলেন। আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি চারশত সাত সালে জন্মগ্রহণ করেছি।
আমি তাঁর নিকট ক্বাজী আবুল আলা আল-ওয়াসিতী আল-মুকরি এবং আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল আল-হাফিয-এর সূত্রে পাঠ করেছি। তিনি বলেন, আমি ক্বাজী আবু হুসাইন আত-তাওজী এবং আবু হাসান বিন কুবাইস আল-মালিকী ও অন্যদের নিকট শ্রবণ করেছি। উজির ইবনে আবি রাইয়ান তাঁর ওপর নির্ভর করতেন...