(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: -)
الإلماع إلى معرفة أصول الرواية وتقييد السماع القسم: علوم الحديث
الكتاب: الإلماع إلى معرفة أصول الرواية وتقييد السماع
المؤلف: عياض بن موسى بن عياض بن عمرون اليحصبي السبتي، أبو الفضل (ت 544هـ)
المحقق: السيد أحمد صقر
الناشر: دار التراث / المكتبة العتيقة - القاهرة / تونس
الطبعة: الأولى، 1379هـ - 1970م
عدد الصفحات: 250
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইলমা ইলা মা'রিফাতি উসুলির রিওয়ায়াহ ওয়া তাকয়িদিস সামা' বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
কিতাব: আল-ইলমা ইলা মা'রিফাতি উসুলির রিওয়ায়াহ ওয়া তাকয়িদিস সামা'
লেখক: আইয়ায ইবনে মুসা ইবনে আইয়ায ইবনে আমরুন আল-ইয়াহসুবি আস-সাবতি, আবুল ফদল (মৃ. ৫৪৪ হিজরী)
সম্পাদক (المحقق): আস-সাইয়িদ আহমাদ সাকার
প্রকাশক: দারুত তুরাস / আল-মাকতাবাতুল আতীকাহ - কায়রো / তিউনিস
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৭৯ হিজরী - ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫০
[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٣)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْفَقِيهُ الْقَاضِي أَبُو الْفَضْلِ عِيَاضُ بْنُ مُوسَى بْنِ عِيَاضٍ الْيَحْصُبِيُّ وَفَّقَهُ اللَّهُ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَى لِطَاعَتِهِ وألهم وَعلم الْإِنْسَان مالم يَكُنْ يَعْلَمُ
أَسْأَلُهُ شُكْرَ مَا مَنَّ بِهِ وَأَنْعَمَ وَعُقْبَى خَيْرٍ يَكْمُلُ بِهَا نَعْمَاهُ وَيُخْتَمُ وَصَلَوَاتُهُ عَلَى مُحَمَّدٍ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ وَبَعْدُ
أَيُّهَا الرَّاغِبُ فِي صَرْفِ الْعِنَايَةِ إِلَى تَلْخِيصِ فُصُولٍ فِي مَعْرِفَةِ الضَّبْطِ وَتَقْيِيدِ السَّمَاعِ وَالرِّوَايَةِ وَتَبْيِينِ أَنْوَاعِهَا عِنْدَ أَهْلِ التَّحْصِيلِ وَالدِّرَايَةِ وَمَا يَصِحُّ مِنْهَا وَمَا يَتَزَيَّفُ وَمَا يَتَّفِقُ فِيهِ مِنْ وُجُوهِهَا وَيَخْتَلِفُ
فَإِنِّي بِمَا عَلِمْتُهُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى هَذَا الطَّرِيقِ وَتَمَيُّزِكَ إِلَى هَذَا الْفَرِيقِ وَإِيثَارِكَ عِلْمَ الْأَثَرِ عَلَى سِوَاهُ وَتَهَمُّمِكَ بِتَقْيِيدِ أَلْفَاظِ الْحَدِيثِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। ফকিহ কাজি আবুল ফজল ইয়াজ ইবনে মুসা ইবনে ইয়াজ আল-ইয়াহসুবি (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর আনুগত্যের দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন এবং ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দিয়েছেন, আর মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।
তিনি যে কৃপা ও নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং এমন উত্তম পরিণতি কামনা করছি যার মাধ্যমে তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণতা লাভ করে ও সমাপ্ত হয়। তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর—
হে জ্ঞানান্বেষী, যে ব্যক্তি নির্ভুলতা (الضبط) অনুধাবন এবং শ্রবণ (السماع) ও বর্ণনা (الرواية) লিপিবদ্ধ করার বিভিন্ন অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ জানার প্রতি মনোনিবেশ করতে আগ্রহী; এবং অর্জনকারী ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান (الدراية) সম্পন্ন পণ্ডিতদের নিকট এগুলোর প্রকারভেদ স্পষ্ট করা এবং এগুলোর মধ্য থেকে যা সঠিক (يصح) ও যা ত্রুটিযুক্ত (يتزيف) এবং যে সকল বিষয়ে মিল ও অমিল রয়েছে তা জানার আকাঙ্ক্ষী;
নিশ্চয়ই আমি অবগত হয়েছি যে, এই পথের প্রতি তোমার গভীর আগ্রহ, এই জামাতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিশেষ গুণ, অন্য সকল বিষয়ের ওপর হাদিস শাস্ত্র (علم الأثر) কে প্রাধান্য দেওয়া এবং হাদিসের শব্দাবলি সংরক্ষণে তোমার বিশেষ মনোযোগের বিষয়ে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٤)
وَتَفَهُّمِ مَعْنَاهُ وَأَنَّكَ سُدِّدْتَ بِمَذْهَبِكَ هَذَا لِوَجْهِ الْحَقِّ وَصَوَابِهِ وَأَتَيْتَ بَيْتَ الْعِلْمِ مِنْ بَابِهِ وَسَلَكْتَ فِي ذَلِكَ مَسْلَكَ كُلِّ مَشْهُورٍ مَذْكُورٍ وَأَحْبَبْتَ مِنَ الْعِلْمِ مَا يُحِبُّهُ الذُّكُورُ فَإِنَّ عِلْمَ الْكِتَابِ وَالْأَثَرِ أَصْلُ الشَّرِيعَةِ الَّذِي إِلَيْهِ انْتِمَاؤُهَا وَأَسَاسُ عُلُومِهَا الَّذِي عَلَيْهِ يَرْتَفِعُ تَفْرِيعُ فُرُوعِهَا وَبِنَاؤُهَا
وَهُوَ عِلْمٌ عَذْبُ الْمَشْرَبِ رَفِيعُ الْمَطْلَبِ مُتَدَفِّقُ الْيَنْبُوعِ مُتَشَعِّبُ الْفُصُولِ وَالْفُرُوعِ
فَأَوَّلُ فُصُولِهِ مَعْرِفَةُ أَدَبِ الطَّلَبِ وَالْأَخْذِ وَالسَّمَاعِ
ثُمَّ مَعْرِفَةُ عِلْمِ ذَلِكَ وَوُجُوهِهِ وَعَمَّنْ يُؤْخَذُ
ثُمَّ الْإِتْقَانُ وَالتَّقْيِيدُ
ثُمَّ الْحِفْظُ وَالْوَعْيُ
ثُمَّ التَّمْيِيزُ وَالنَّقْدُ بِمَعْرِفَةِ صَحِيحِهِ وَسَقِيمِهِ وَحَسَنِهِ وَمَقْبُولِهِ وَمَتْرُوكِهِ وَمَوْضُوعِهِ وَاخْتِلَافِ رِوَايَتِهِ وَعِلَلِهِ وَمَيْزِ مُسْنَدِهِ مِنْ مُرْسَلِهِ وَمَوْقُوفِهِ مِنْ مَوْصُولِهِ
ثُمَّ مَعْرِفَةُ طَبَقَاتِ رِجَالِهِ مِنَ الثِّقَةِ وَالْحِفْظِ وَالْعَدَالَةِ وَالْجَرْحِ وَالضَّعْفِ وَالْجَهَالَةِ وَالتَّقَدُمِ وَالتَّأَخُّرِ
ثُمَّ مَيْزُ زِيَادَاتِ الْحُفَّاظِ وَغَيْرِهِمْ فِيهِ وَفَصْلُ الْمُدْرَجِ أَثْنَاءَهُ مِنْ أَقْوَالِ نَاقِلِيهِ
এবং এর অর্থ উপলব্ধি করা; আর নিশ্চয়ই আপনি আপনার এই মতাদর্শের মাধ্যমে সত্যের অভিমুখে ও সঠিক পথে পরিচালিত হয়েছেন। আপনি ইলমের ঘরে তার যথাযথ প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করেছেন এবং এই পথে প্রত্যেক প্রথিতযশা ও বরেণ্য ব্যক্তিত্বের পথ অনুসরণ করেছেন। আপনি ইলমের সেই অংশকে ভালোবেসেছেন যা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও রুচিবান ব্যক্তিরা পছন্দ করেন। কেননা কুরআন ও আছার (الأثر) হলো শরীয়তের মূল ভিত্তি যার প্রতি এর সম্বন্ধ ন্যস্ত থাকে, এবং এটিই ইলমসমূহের সেই বুনিয়াদ যার ওপর এর শাখা-প্রশাখার বিস্তার ও সৌধ নির্মিত হয়।
আর এটি এমন এক ইলম যার প্রস্রবণ সুপেয়, যার অন্বেষণ সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ, যার উৎস প্রবহমান এবং যার পরিচ্ছেদ ও শাখা-প্রশাখা সুবিস্তৃত।
এর পরিচ্ছেদসমূহের মধ্যে প্রথমটি হলো (ইলম) অন্বেষণ, গ্রহণ ও শ্রবণ (السماع) এর আদব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
অতঃপর সেই ইলম, তার পদ্ধতিসমূহ এবং কার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা হবে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
এরপর তা সুচারুভাবে আয়ত্ত করা ও লেখনীর মাধ্যমে সংরক্ষণ (التقييد) করা।
অতঃপর তা মুখস্থ করা ও হৃদয়ে গেঁথে রাখা।
এরপর সহিহ (صحيح), ত্রুটিযুক্ত (سقيم), হাসান (حسن), গ্রহণযোগ্য (مقبول), পরিত্যক্ত (متروك) ও বানোয়াট (موضوع) হাদিস চেনার মাধ্যমে পার্থক্য ও বিশ্লেষণ করা; বর্ণনার ভিন্নতা ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং মুসনাদ বর্ণনাকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) থেকে এবং মাওকুফ (موقوف) বর্ণনাকে সংযুক্ত (موصول) থেকে পৃথক করা।
অতঃপর এর বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ জানা; যেমন: নির্ভরযোগ্যতা (ثقة), হিফজ (الحفظ), ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), সমালোচনা (جرح), দুর্বলতা (ضعف), পরিচয়হীনতা (جهالة) এবং অগ্রবর্তী ও পরবর্তী হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।
অতঃপর বর্ণনায় হাফেজগণ ও অন্যদের পক্ষ থেকে বর্ণিত অতিরিক্ত অংশ (زيادات) পৃথক করা এবং বর্ণনার মাঝখানে বর্ণনাকারীদের বক্তব্যের মধ্য থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج) অংশকে আলাদা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٥)
ثُمَّ مَعْرِفَةُ غَرِيبِ مُتُونِهِ وَتَفْسِيرُ أَلْفَاظِهِ
ثُمَّ مَعْرِفَةُ نَاسِخِهِ مِنْ مَنْسُوخِهِ وَمُفَسَّرِهِ مِنْ مُجْمَلِهِ وَمُتَعَارِضِهِ وَمُشْكِلِهِ ثُمَّ التَّفَقُّهُ فِيهِ وَاسْتَخْرَاجُ الْحُكْمِ وَالْأَحْكَامِ مِنْ نُصُوصِهِ وَمَعَانِيهِ وَجَلَاءُ مُشْكِلِ أَلْفَاظِهِ عَلَى أَحْسَنِ تَأْوِيلِهَا وَوَفْقِ مُخْتَلِفِهَا عَلَى الْوُجُوهِ الْمُفَصَّلَةِ وَتَنْزِيلِهَا
ثُمَّ النَّشْرُ وَآدَابُهُ وَصِحَّةُ الْمَقْصَدِ فِي ذَلِكَ لِلدِّينِ وَاحْتِسَابُهُ
وَكُلُّ فَصْلٍ مِنْ هَذِهِ الْفُصُولِ عِلْمٌ قَائِمٌ بِنَفْسِهِ وَفَرْعٌ بَاسِقٌ عَلَى أَصْلِ عِلْمِ الْأَثَرِ وَأُسِّهِ
وَفِي كُلٍّ مِنْهَا تَصَانِيفٌ عَدِيدَةٌ وَتَآلِيفٌ جَمَّةٌ مُفِيدَةٌ
وَلَمْ يَعْتَنِ أَحَدٌ بِالْفَصْلِ الَّذِي رَغِبْتَهُ كَمَا يَجِبُ وَلَا وَقَفْتُ فِيهِ عَلَى تَصْنِيفٍ يَجِدُ فِيهِ الرَّاغِبُ مَا رَغِبَ فَأَجَبْتُكَ إِلَى بَيَانِ مَا رَغِبْتَ مِنْ فُصُولِهِ وَجَمَعْتُ فِي ذَلِكَ نُكَتًا غَرِيبَةً مِنْ مُقَدِّمَاتِ عِلْمِ الْأَثَرِ وَأُصُولِهِ
وَقَدَّمْتُ بَيْنَ يَدَيْ ذَلِكَ أَبْوَابًا مُخْتَصَرَةً فِي عِظَمِ شَأْنِ عِلْمِ الْحَدِيثِ وَشَرَفِ أَهْلِهِ وَوُجُوبِ السَّمَاعِ وَالْأَدَاءِ لَهُ وَنَقْلِهِ وَالْأَمْرِ بِالضَّبْطِ وَالْوَعْيِ وَالْإِتْقَانِ
وَخَتَمْتُهُ بِبَابٍ فِي أَحَادِيثَ غَرِيبَةٍ وَنُكَتٍ مُفِيدَةٍ عَجِيبَةٍ مِنْ آدَابِ الْمُحَدِّثِينَ وَسِيَرِهِمْ وَشَوَارِدَ مِنْ أَقَاصِيصِهِمْ وَخَبَرِهِمْ
وَاللَّهُ تَعَالَى أَسْأَلُ تَوْفِيقًا لِي وَلَكَ وَعَوْنًا يُسَدِّدُ لِمَا يُرْضِيهِ عَمَلِي وَعَمَلَكَ
অতঃপর মতনের অপরিচিত বা দুর্লভ (غريب) শব্দাবলী এবং এর শব্দসমূহের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
অতঃপর রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) হাদিসসমূহ শনাক্ত করা, অস্পষ্ট (مجمل) হাদিস থেকে ব্যাখ্যাত (مفسر) হাদিসকে আলাদা করা, পরস্পর বিরোধী (متعارض) এবং সমস্যাসংকুল (مشكل) হাদিস সম্পর্কে অবগত হওয়া; অতঃপর হাদিস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করা এবং এর নস বা মূল পাঠ ও অর্থ থেকে বিধি-বিধান (حكم/أحكام) আহরণ করা; হাদিসের জটিল শব্দগুলোর সর্বোত্তম ব্যাখ্যা (تأويل) ও স্পষ্টীকরণ এবং মতপার্থক্যপূর্ণ (مختلف) বিষয়গুলোর মাঝে বিস্তারিত পন্থায় সমন্বয় ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
এরপর হাদিস প্রচার ও তার আদবসমূহ এবং দ্বীনের স্বার্থে ও সওয়াবের আশায় নিয়তের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা।
এই অধ্যায়গুলোর প্রতিটিই স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ইলম বা জ্ঞান এবং হাদিস শাস্ত্রের (الأثر) মূল ও ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এক একটি বিশাল শাখা।
এর প্রতিটির ওপর অসংখ্য গ্রন্থ এবং বহু কল্যাণকর সংকলন রচিত হয়েছে।
কিন্তু আপনি যে অধ্যায়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, সেটির প্রতি কেউ যথাযথ মনোযোগ দেয়নি এবং আমি এমন কোনো গ্রন্থও পাইনি যেখানে একজন আগ্রহী ব্যক্তি তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতে পারে। তাই আপনার অনুরোধে আমি সেটির বিভিন্ন পরিচ্ছেদ বর্ণনা করতে সম্মত হয়েছি এবং এতে হাদিস শাস্ত্রের (الأثر) ভূমিকা ও মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত বিরল (غريب) কিছু সূক্ষ্ম বিষয় সংকলন করেছি।
এর প্রারম্ভে আমি হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্ব, হাদিসবিদদের মর্যাদা, হাদিস শ্রবণ (سماع), বর্ণনা (أداء) ও স্থানান্তরের আবশ্যকতা এবং হেফজ করার ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতা (ضبط), সজাগ থাকা ও নিপুণতা (إتقان) অবলম্বনের নির্দেশ সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত অধ্যায় সংযোজন করেছি।
আর আমি গ্রন্থটি শেষ করেছি মুহাদ্দিসগণের আদব, জীবন চরিত এবং তাঁদের ঘটনাবলী ও সংবাদ থেকে সংগৃহীত কিছু দুর্লভ (غريب) হাদিস ও চমৎকার সব কল্যাণকর বিষয় দিয়ে।
আমি মহান আল্লাহর কাছে আমার ও আপনার জন্য তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং এমন সাহায্য কামনা করছি যা আমার ও আপনার কর্মকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٦)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَابٌ فِي وُجُوبِ طَلَبِ عِلْمِ الْحَدِيثِ وَالسُّنَنِ وَإِتْقَانِ ذَلِكَ وَضَبْطِهِ وَحِفْظِهِ وَوَعْيِهِ صلى الله عليه وسلم َ -
قَالَ الْفَقِيهُ الْقَاضِي الْمُؤلف رضى الله عَنهُ
لاخفاء عَلَى ذِي عَقْلٍ سَلِيمٍ وَدِينٍ مُسْتَقِيمٍ بِوُجُوبِ ذَلِكَ وَالْحَضِّ عَلَيْهِ لِأَنَّ أَصْلَ الشَّرِيعَةِ الَّتِي تُعُبِّدْنَا بِهَا إِنَّمَا هِيَ مُتَلَقَّاةٌ مِنْ جِهَةِ نَبِيِّنَا صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ إِمَّا فِيمَا بَلَّغَهُ مِنْ كَلَامِ رَبِّهِ وَهُوَ الْقُرْآنُ الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ وَالَّذِي تكفل الله بحفظه فَقَالَ جَلَّ وَعَزَّ {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذّكر وَإِنَّا لَهُ لحافظون}
وَبِهَذَا الْوَجْهِ ارْتَفَعَ بِحَمْدِ اللَّهِ فِيهِ اللَّبْسُ وَاطْمَأَنَّتْ لِصِحَّةِ جَمِيعِهِ كُلُّ نَفْسٍ وَنُقِلَ بِالتَّوَاتُرِ كَافَةً عَنْهُ وَلَمْ يَقَعْ بَيْنَ فِرَقِ الْمُسْلِمِينَ خِلَافٌ فِي حَرْفٍ مِنْهُ
ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ مَا أَخْبَرَ بِهِ مِنْ وَحْيِ اللَّهِ إِلَيْهِ وَأَوَامِرِهِ وَنَوَاهِيهِ وَقَدْ قَالَ تَعَالَى {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى}
- (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) - হাদিস ও সুন্নাহর জ্ঞান অন্বেষণ এবং তা নিখুঁত দক্ষতা (إتقان), নির্ভুল সংরক্ষণ (ضبط), মুখস্থকরণ (حفظ) ও অনুধাবন করার আবশ্যকতা বিষয়ক অধ্যায় - (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) -
ফকিহ, কাজি এবং গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন:
সুস্থ বিবেক এবং সঠিক দ্বীনের অধিকারীদের নিকট এর আবশ্যকতা এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদানের বিষয়টি অস্পষ্ট নয়। কেননা শরিয়তের মূল ভিত্তি—যার মাধ্যমে আমরা ইবাদত করি—তা আমাদের নবি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত। হয় তা তাঁর রবের কালাম পৌঁছানোর মাধ্যমে, যা হলো কুরআন; যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এবং আল্লাহ স্বয়ং যার সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"
এর মাধ্যমেই আল্লাহর প্রশংসায় কুরআন নিয়ে সকল অস্পষ্টতা দূর হয়েছে এবং এর প্রতিটি বিষয়ের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে প্রতিটি অন্তর প্রশান্ত হয়েছে। এটি তাঁর থেকে নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতার (تواتر) মাধ্যমে সর্বস্তরে বর্ণিত হয়েছে এবং মুসলিমদের কোনো দলের মধ্যেই এর একটি হরফ নিয়েও কোনো মতভেদ সৃষ্টি হয়নি।
অতঃপর এরপর রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহি, তাঁর আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, "তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٧)
وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنْ سُنَنِهِ وَسَائِرِ سِيَرِهِ وَجُمْلَةِ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ وَإِقْرَارِهِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهوا}
وَكُلُّ هَذَا إِنَّمَا يُوصَلُ إِلَيْهِ وَيُعْرَفُ بِالتَّطَلُّبِ وَالرِّوَايَةِ وَالْبَحْثِ وَالتَّنْقِيرِ عَنْهُ وَالتَّصْحِيحِ لَهُ
وَرَحِمَ اللَّهُ سَلَفَنَا مِنَ الْأَئِمَّةِ الْمَرْضِيِّينَ وَالْأَعْلَامِ السَّابِقِينَ وَالْقُدْوَةِ الصَّالِحِينَ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَفُقَهَائِهِمْ قَرْنًا بَعْدَ قَرْنٍ فَلَوْلَا اهْتِبَالُهُمْ بِنَقْلِهِ وَتَوَفُّرُهُمْ عَلَى سَمَاعِهِ وَحَمْلِهِ وَاحْتِسَابُهُمْ فِي إِذَاعَتِهِ وَنَشْرِهِ وَبَحْثُهُمْ عَنْ مَشْهُورِهِ وَغَرِيبِهِ وَتَنْخِيلُهُمْ لِصَحِيحِهِ مِنْ سَقِيمِهِ لَضَاعَتِ السُّنَنُ وَالْآثَارُ وَلَاخْتَلَطَ الْأَمْرُ وَالنَّهْيُ وَبَطَلَ الِاسْتِنْبَاطُ وَالِاعْتِبَارُ كَمَا اعْتَرَى منْ لَمْ يَعْتَنِ بِهَا وَأَعْرَضَ عَنْهَا بِتَزْيِينِ الشَّيْطَانِ ذَلِكَ لَهُ مِنَ الْخَوَارِجِ وَالْمُعْتَزِلَةِ وَضَعَفَةِ أَهْلِ الرَّأْيِ حَتَّى انْسَلَّ أَكْثَرُهُمْ عَنِ الدِّينِ وَأَتَتْ فَتَاوِيهِمْ وَمَذَاهِبُهُمْ مُخْتَلَّةَ الْقَوَانِينَ وَذَلِكَ لِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا السُّبُلَ وَعَدَلُوا عَنِ الطَّرِيقِ وَبَنَوْا أَمْرَهُمْ عَلَى غَيْرِ أَصْلٍ وَثِيقٍ {أَفَمَنْ أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَى تَقْوَى مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ خَيْرٌ أَمْ مَنْ أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَى شَفَا جُرُفٍ هار} الْآيَةَ
এবং এছাড়া তাঁর অন্যান্য সুন্নাহ, সামগ্রিক সীরাত এবং তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতির (إقرار) সমষ্টি। মহান আল্লাহ বলেন, "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।"
আর এ সবই কেবল অনুসন্ধান, বর্ণনা (رواية), গবেষণা, সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই এবং একে সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) মাধ্যমে অর্জন করা এবং জানা সম্ভব হয়।
আল্লাহ আমাদের পূর্বসূরি সন্তোষভাজন ইমামগণ, অগ্রগামী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং হাদিস বিশারদ ও ফকিহদের মধ্য থেকে যারা নেককার আদর্শ ছিলেন, তাদের ওপর রহম করুন, যারা যুগের পর যুগ অতিক্রান্ত হয়েছেন। যদি হাদিস বর্ণনায় তাদের একাগ্রতা, হাদিস শ্রবণ (سماع) ও ধারণের (حمل) প্রতি গভীর মনোনিবেশ, এর প্রচার ও প্রসারে সওয়াবের আশা এবং মাশহুর (مشهور) ও গারিব (غريب) হাদিস নিয়ে তাদের গবেষণা এবং অসুস্থ (سقيم) থেকে সহিহ (صحيح) হাদিসকে পৃথক করার ক্ষেত্রে তাদের সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই না থাকত, তবে সুন্নাহ ও আছার (آثار) বিলুপ্ত হয়ে যেত, আদেশ ও নিষেধ ওতপ্রোতভাবে মিশে যেত এবং ইস্তিনবাত (استنباط) তথা বিধান উদ্ভাবন ও দলীল হিসেবে গ্রহণ (اعتبار) বাতিল হয়ে যেত; যেমনটি ঘটেছে তাদের ক্ষেত্রে যারা সুন্নাহর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং শয়তানের প্ররোচনায় সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছে—যেমন খারেজি, মুতাজিলা এবং দুর্বল (ضعفاء) আহলে রায়—এমনকি তাদের অধিকাংশ দ্বীন থেকেই বিচ্যুত হয়ে গেছে। তাদের ফতোয়া ও মাযহাবসমূহ অসামঞ্জস্যপূর্ণ মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়েছে; আর তা এই কারণে যে, তারা বিভিন্ন ভ্রান্ত পথ অনুসরণ করেছে, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তাদের বিষয়াবলি কোনো সুদৃঢ় ভিত্তির (أصل) ওপর গড়ে তোলেনি। "যে ব্যক্তি তার ইমারতের ভিত্তি আল্লাহর তাকওয়া ও সন্তুষ্টির ওপর স্থাপন করে সে কি উত্তম, নাকি ঐ ব্যক্তি যে তার ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের ভাঙনউন্মুখ কিনারায়?"—আয়াত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٨)
وَقَدْ قَالَ تَعَالَى {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ ليتفقهوا فِي الدّين} الْآيَةَ
فَهَذَا أَصْلٌ فِي وُجُوبِ طَلَبِ الْعِلْمِ وَالرِّحْلَةِ فِي طَلَبِ السُّنَنِ
وَقَالَ عليه السلام فِيمَا أَخْبَرَنَا بِهِ الْقَاضِي الْحَافِظُ أَبُو عَليّ الْحُسَيْن ابْن مُحَمَّدٍ رحمه الله قِرَاءَةً مِنِّي عَلَيْهِ قَالَ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ أَحْمَدَ الْأَصْبَهَانِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ
আর মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {তবে তাদের প্রতিটি দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞা (تفقه) অর্জন করতে পারে...}—আয়াতাংশ।
সুতরাং এটি ইলম অন্বেষণ এবং সুন্নাহর সন্ধানে জ্ঞানান্বেষণে সফরের (الرحلة) আবশ্যকতা সম্পর্কে একটি মূল ভিত্তি (أصل)।
এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা এরশাদ করেছেন, সে বিষয়ে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক (قاضي), হাফিজ (الحافظ) আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ)—আমি তাঁর নিকট পাঠ করার (قراءة) মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আবুল ফজল আহমদ ইবনে আহমদ আল-আসবাহানী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٩)
الْحَافِظُ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنَا بُنَانُ بْنُ أَحْمَدَ الْقَطَّانُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا سَيْفُ بْنُ عُمَرَ عَنْ أبان بن إِسْحَق الْأَسَدِيِّ عَنِ الصَّبَّاحِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمُ الثَّقَلَيْنِ كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّتِي فَلَا تُفْسِدُوهُ وَإِنَّهُ لَا تَعْمَى أَبْصَارُكُمْ وَلَنْ تَزِلَّ أَقْدَامُكُمْ وَلَنْ تَقْصُرَ أَيْدِيكُمْ مَا أَخَذْتُمْ بِهِمَا
حَدَّثَنَا الْقَاضِي الْفَقِيهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى وَالشَّيْخُ الصَّالِحُ
হাফেজ (الحافظ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বানান ইবনে আহমদ আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আবান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শুআইব ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাইফ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবান ইবনে ইসহাক আল-আসাদি থেকে, তিনি আস-সাব্বাহ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু সাইদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল! আমি তোমাদের মাঝে দুটি অতি মূল্যবান বস্তু (الثقلين) রেখে যাচ্ছি—আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ। সুতরাং তোমরা এগুলোকে নষ্ট করো না। নিশ্চয়ই যতক্ষণ তোমরা এ দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ তোমাদের দৃষ্টি অন্ধ হবে না, তোমাদের পদযুগল বিচ্যুত হবে না এবং তোমাদের হাতগুলো অক্ষম হবে না।"
আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন বিচারক (قاضي) ফকিহ (فقيه) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা এবং পুণ্যবান (صالح) শায়খ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٠)
أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ طَرِيفٍ قَالَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدُونٍ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظِ حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الشَّيْبَانِيُّ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرْزَةَ أَخْبَرَنَا ضِرَارُ بْنُ صُرَدٍ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَسَدِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْمَعُونَ وَيُسْمَعُ مِنْكُمْ وَيُسْمَعُ مِمَّنْ يَسْمَعُ مِنْكُمْ
حَدَّثَنَا الْقَاضِي الشَّهِيدُ أَبُو عَلِيٍّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قُلْتُ لَهُ حَدَّثَكُمْ
আবু আলী আল-হাসান ইবনে তরীফ; তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাদুন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী, হাফিজ (الحافظ) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে। আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাইবানি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে হাযিম ইবনে আবি গারযাহ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দ্বিরার ইবনে সুরাদ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আইয়াশ, আল-আমাশ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসাদি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা (আমার থেকে হাদিস) শুনছ, তোমাদের থেকে শোনা হবে এবং যারা তোমাদের থেকে শুনবে তাদের থেকেও (হাদিস) শোনা হবে।"
শহীদ (الشهيد) বিচারক (القاضي) আবু আলী আমার নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; আমি তাঁকে বললাম: তিনি কি আপনাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন?
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١١)
أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ وَأَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ خَيْرُونَ قَالَا أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ السِّنْجِيِّ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ أَخْبَرَنَا أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ سَوْرَةَ الْحَافِظُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنِ ابْنِ ثَوْبَان هُوَ عبد الرحمن ابْن ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ حَسَّانِ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ عِيسَى وَالشَّيْخُ أَبُو عَلِيِّ بْنُ طَرِيفٍ عَنِ ابْنِ سَعْدُونَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْمُطَّوِّعِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحَاكِمِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بن عبد الله بن عبد الحكم أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي مَسْلَمَةُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ حِزَامِ بْنِ حَكِيمٍ
আবু আল-হুসাইন ইবনে আবদ আল-জাব্বার এবং আবু আল-ফাদল আহমদ ইবনে খাইরুন তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহিদ, তিনি আবু আলী আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আস-সিনজি থেকে (عن), তিনি আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব থেকে (عن), তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে সাওরা আল-হাফেজ (الحافظ), আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, ইবনে সাওবান থেকে (عن) — আর তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান — হাসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে (عن), আবু কাবশা আস-সালুলি থেকে (عن), আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে (عن), তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়। আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কাজী আবু আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা এবং শায়খ আবু আলী ইবনে তারিফ, তারা ইবনে সাদুন থেকে (عن), আবু বকর আল-মুত্তাওয়ি’য়ি থেকে (عن), আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম (الحاكم) থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদ আল-হাকাম, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) ইবনে ওয়াহাব, আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني) মাসলামাহ ইবনে আলী, যায়েদ ইবনে ওয়াকিদ থেকে (عن), হিজাম ইবনে হাকিম থেকে (عن)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٢)
قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُول سَمِعت رَسُول رسولالله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ
حَدِّثُوا عَنِّي كَمَا سَمِعْتُمْ وَلَا حَرَجَ أَلَا مَنِ افْتَرَى عَلَيَّ كَذِبًا مُتَعَمِّدًا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْغَسَّانِيُّ الْحَافِظُ مِنْ كِتَابِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ حَاتِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّرَابُلُسِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الْملك ابْن الْحَسَنِ الصَّقَلِّيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْنَيْسَابُورِيُّ الْحَافِظُ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ أَخْبَرَنَا أَبُو عُتْبَةَ أَحْمَدُ بْنُ الْفَرَجِ أَخْبَرَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
তোমরা আমার থেকে বর্ণনা করো ঠিক যেভাবে তোমরা শুনেছ এবং এতে কোনো সংকীর্ণতা নেই। সাবধান! যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।
শায়খ আবু আলী আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মদ আল-গাসসানী আল-হাফিজ (الحافظ) তাঁর কিতাব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন, আবুল কাসিম হাতিম ইবন মুহাম্মদ আত-তরাবুলুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনুল হাসান আস-সাক্বাল্লি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি আল-হাফিজ (الحافظ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। আবু উতবাহ আহমাদ ইবনুল ফারাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। বাকিয়য়াহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وَحَدَّثَنَا الْقَاضِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قِرَاءَةً مِنِّي عَلَيْهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ قَاسِمٍ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَبَّاس أخبرنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ أَخْبَرَنَا بَقِيَّة بن الْوَلَد وَاللَّفْظُ لِحَدِيثِ ابْنِ أَبِي السَّرِيَّ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ عُمَرَ بْنِ سُلَيْمَان بن عَاصِم ابْن عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَضَّرَ اللَّهُ امْرَءًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ عَنَّا كَمَا سَمِعَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ
وَمِنْ غَيْرِ هَذَا الطَّرِيقِ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ
وَمِنْ رِوَايَتِنَا عَنِ التِّرْمِذِيِّ فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى لَهُ مِنْ سَامِعٍ
এবং কাজী মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমার পাঠের ভিত্তিতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসেম আবদুর রহমান বিন কাসেম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ বিন আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসেম আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর বিন আহমদ বিন আমর বিন আস-সারহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি আস-সারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—এবং শব্দসমূহ ইবনে আবি আস-সারী বর্ণিত হাদিসের—শু'বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওমর বিন সুলায়মান বিন আসেম বিন ওমর বিন আল-খাত্তাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবান বিন উসমান বিন আফফান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জায়েদ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনলো, অতঃপর তা সংরক্ষণ করলো যাতে সে তা আমাদের পক্ষ থেকে হুবহু সেভাবেই পৌঁছে দিতে পারে যেভাবে সে তা শুনেছে। কেননা অনেক জ্ঞানের বাহক নিজেই হয়তো ফকিহ (فقيه) নন।"
এবং এই সূত্র (طريق) ব্যতীত অন্য সূত্রে বর্ণিত: "এবং অনেক জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়, যে তার চেয়েও অধিক ফকিহ (أفقه)।"
এবং তিরমিজি থেকে প্রাপ্ত আমাদের বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "কেননা অনেক সময় যাকে সংবাদ পৌঁছানো হয়, সে শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٤)
حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَتَّابٍ الْفَقِيهُ أَخْبَرَنَا حَاتِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ خَلَفٍ الْفَقِيهُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَرْوَزِيُّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيل أخبرنَا مُحَمَّد أَخْبَرَنَا بِشْرٌ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ
ذَكَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ خُطْبَتَهُ يَوْمَ النَّحْرِ وَفِي آخِرِهِ
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবন আত্তাব আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হাতেম ইবন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আলী ইবন খালাফ আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-মারওয়াযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফারাবরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) বিশর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা) ইবন আওন, ইবন সিরিন থেকে (عن), তিনি আবদুর রহমান ইবন আবি বকরা থেকে (عن), তিনি তাঁর পিতা থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন—
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং কুরবানির দিনের তাঁর খুতবার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার শেষাংশে ছিল—
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٥)
لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَسَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ هُوَ أَوْعَى لَهُ مِنْهُ
وَحَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَحْرٍ سُفْيَانُ بْنُ الْعَاصِي الْأَسَدِيُّ سَمَاعًا وَالْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ الْخُشَنِيُّ قِرَاءَةً قَالَ الْأَسَدِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو اللَّيْثِ نَصْرُ بْنُ الْحَسَنِ السَّمَرْقَنْدِيُّ وَقَالَ الْخُشَنِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ
উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়; কেননা উপস্থিত ব্যক্তি হয়তো এমন একজনের নিকট তা পৌঁছে দেবে যে তার চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী।
আমাদের নিকট শায়খ আবু বাহর সুফিয়ান ইবনুল আসী আল-আসাদী শ্রবণের (سماعا) মাধ্যমে এবং ফকিহ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি জাফর আল-খুশানী পাঠের (قراءة) মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করেছেন; আসাদী বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (حدثنا) করেছেন আবুল লাইস নাসর ইবনুল হাসান আস-সামারকান্দি এবং খুশানী বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান (أخبرنا) করেছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الطبرى قَالَا أخبرنَا عبد الغافر الْفَارِسِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَمْرَوَيْهِ بْنِ الْجُلُودِيِّ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُفْيَانَ أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ مُثَنَّى وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَخْبَرَنَا غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ وَقَالَ الْآخَرَانِ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ وَذَكَرَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثَ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ بِكَمَالِهِ وَمَا أَمَرَهُمْ بِهِ وَنَهَاهُمْ عَنْهُ وَقَالَ فِي آخِرِهِ احْفَظُوهُ وَأَخْبِرُوا بِهِ مَنْ وَرَاءَكُمْ
كَذَا فِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ
وَقَالَ غَيْرُهُ مِنْ وَرَائِكُمْ
তাবারীদ্বয় বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আব্দুল গাফির আল-ফারিসী, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আহমাদ বিন আমরওয়াইহ বিন আল-জুলুদী, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইব্রাহিম বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুসলিম বিন হাজ্জাজ, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা) আবু বকর বিন আবি শাইবাহ, মুহাম্মদ বিন মুসান্না এবং মুহাম্মদ বিন বাশশার। তাঁদের শব্দবিন্যাস কাছাকাছি। আবু বকর বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) গুন্দার, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। অপর দুইজন বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ বিন জাফর, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আবু জামরাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আব্দুল কায়িস প্রতিনিধি দলের হাদিসটি এর পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) তাদের যা আদেশ করেছেন ও যা নিষেধ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। হাদিসের শেষে তিনি বলেছেন: "এটি সংরক্ষণ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের সংবাদ দাও।"
ইবনে আবি শাইবাহর বর্ণনায় (رواية) এভাবেই এসেছে।
অন্যান্য বর্ণনাকারী 'তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে' (মিন ওয়ারইকুম) শব্দে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٧)
- صلى الله عليه وسلم َ - بَابٌ فِي شَرَفِ عِلْمِ الْحَدِيثِ وَشَرَفِ أَهْلِهِ صلى الله عليه وسلم َ -
تَقَدَّمَ فِي أَوَّلِ الْبَابِ قَبْلَهُ مِنْ كَلَامِنَا فِيهِ وَمَكَانُهُ مِنَ الشَّرْعِ وَمَكَانُ أَهْلِهِ غُنْيَةٌ
حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَلِيٍّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْأَصْبَهَانِيُّ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى الطَّلْحِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو حُصَيْنٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ حَبِيبٍ الْقَاضِي أَخْبَرَنَا أَبُو الطَّاهِرِ أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ
سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْ خُلَفَائِي قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمنْ هُمْ خُلَفَاؤُكَ قَالَ الَّذِينَ يَأْتُونَ مِنْ بَعْدِي يَرْوُونَ أَحَادِيثِي وَيُعَلِّمُونَهَا النَّاسَ
- সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা এবং এর বাহকগণের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পরিচ্ছেদ - সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
এর পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের প্রারম্ভে এ বিষয়ে আমাদের যে আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে এবং শরিয়তে এর গুরুত্ব ও এর অনুসারীদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তা-ই যথেষ্ট।
কাজী আবু আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবুল ফজল আল-আসফাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), হাফিজ (الحافظ) আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আত-তালহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে হাবিব আল-কাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু তাহের আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি হিশাম ইবনে সাদ থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহ! আমার উত্তরসূরিদের ওপর রহম করুন।" আমরা আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উত্তরসূরি কারা?" তিনি বললেন, "তারা হলো ঐ সকল লোক যারা আমার পরে আসবে, যারা আমার হাদিসসমূহ বর্ণনা করবে (يروون) এবং তা মানুষের নিকট শিক্ষা দেবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وَأَخْبَرَنَا قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ أخبرنَا إِسْحَاق ابْن إِبْرَاهِيمَ الْحُنَيْنِيُّ أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ هَذَا الدِّينَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَنِ الْغُرَبَاءُ قَالَ الَّذِينَ
এবং তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-ফজল, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু নুয়াইম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আরুবাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আলি ইবনে মাইমুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা) ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হুনাইনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা) কাসির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন—
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই এই দ্বীন অপরিচিত (غريب) অবস্থায় শুরু হয়েছে এবং অচিরেই তা আবার অপরিচিত (غريب) অবস্থায় ফিরে আসবে যেমনটি তা শুরু হয়েছিল। সুতরাং অপরিচিতদের (غرباء) জন্য সুসংবাদ।" জিজ্ঞেস করা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল! অপরিচিত (غرباء) লোক কারা?" তিনি বললেন, "যারা..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
يُحْيُونَ سُنَّتِي مِنْ بَعْدِي وَيُعَلِّمُونَهَا النَّاسَ
أَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ يُونُسُ بْنُ مُغِيثٍ الْفَقِيهُ قَرَأْتُ عَلَيْهِ حَدَّثَكُمْ أَبُو الْقَاسِمِ حَاتِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّرَابُلُسِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُهَنِيُّ
وَأَخْبَرَنَا الْحَاكِمُ بِقُرْطُبَةَ أَبُو الْقَاسِمِ أَحْمَدُ بْنُ بَقِيٍّ مِمَّا قَرَأْتُ عَلَيْهِ وَهُوَ حَاضِرٌ يَسْمَعُ وَقَالَ حَدَّثَنَا بِهِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا
তারা আমার পরে আমার সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং তা মানুষকে শিক্ষা দেবে।
আবু আল-হাসান ইউনুস বিন মুগিস আল-ফকিহ (الفقيه) আমাকে সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرني); আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি, আবু আল-কাসিম হাতিম বিন মুহাম্মদ আত-তরাবুলসি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثكم), তিনি বলেন: আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ আল-জুহানি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا)।
এবং কর্ডোভার বিচারপতি আবু আল-কাসিম আহমদ বিন বাকি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا) যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি যখন তিনি উপস্থিত থেকে শুনছিলেন; তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন উমর আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَكِّيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بن مُحَمَّد الخندقى أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ السَّائِحُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيز
আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-মাক্কি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন মাখলাদ আল-আত্তার, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু মুহাম্মদ জাফর ইবন মুহাম্মদ আল-খানদাকি, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম আস-সাইহ, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবদুল মাজিদ ইবন আবদুল আজিজ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ابْن أَبِي رَوَّادٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ
ইবনে আবি রওয়াদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْ أَمْرِ دِينِهَا بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي زُمْرَةِ الْعُلَمَاءِ وَالْفُقَهَاءِ
وَأَخْبَرَنَا الْفَقِيهُ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ جَعْفَرٍ إِمْلَاءً أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْإِصْبَغِ بْنُ سَهْلٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الطَّرَابُلُسِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীন সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির মধ্য থেকে চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন আলেম ও ফকীহ (الفقهاء) দের দলভুক্ত করে পুনরুত্থিত করবেন।"
এবং ফকীহ (الفقيه) আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে জাফর আমাদের শ্রুতলিপি (إملاء) প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), কাযী (القاضي) আবু আল-ইসবাহ ইবনে সাহল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু আল-কাসিম আত-তরাবুলুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু আল-হাসান আহমাদ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
إِبْرَاهِيمَ بْنِ فِرَاسٍ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ رَحْمُونَ بْنِ هَارُونَ السِّنْجَارِيُّ أَخْبَرَنَا أَنَسُ بْنُ سَلْمٍ أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَالك أخبرنَا إِسْحَاق بن نجيج عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي فِي السُّنَّةِ أَرْبَعِينَ حَدِيثًا كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا مِنَ النَّارِ
أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَصْبَهَانِيُّ الْحَافِظُ مِنْ كِتَابِهِ
ইব্রাহিম বিন ফিরাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আব্দুল্লাহ ইব্রাহিম বিন রাহমুন বিন হারুন আস-সিনজারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আনাস বিন সালম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মাখলাদ বিন মালিক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইসহাক বিন নাজিহ, আতা সূত্রে (عن), ইবনে আব্বাস সূত্রে (عن), তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য সুন্নাহ (السنة) সংক্রান্ত চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, আমি তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে সুপারিশকারী (شفيع) হব।”
হাফেজ (الحافظ) আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আসবাহানি তাঁর কিতাব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحُسَيْنِ الطُّيُورِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ ابْن أَحْمَدَ الْفَالِيُّ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خَرْبَانَ
আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا) শায়খ আবু আল-হুসাইন আত-তুয়ূরী, তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ আল-ফালী, আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا) কাযী আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে খারবান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
النَّهَاوَنْدِيُّ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلَّادٍ الرَّامَهُرْمُزِيُّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَهْلٍ الرَّازِيُّ أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعُتْبِيُّ أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَصَّافُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ
لَا يَطْلُبُ الْحَدِيثَ مِنَ الرِّجَالِ إِلَّا ذُكْرَانُهَا وَلَا يَزْهَدُ فِيهِ إِلَّا إِنَاثُهَا
وَفِي غَيْرِ هَذِهِ الرِّوَايَةِ الْحَدِيثُ ذَكَرٌ يُحِبُّهُ ذُكُورُ الرِّجَالِ
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى فِيمَا قرىء عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ وَالشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ التَّاهَرْتِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ ابْنُ سَعْدُونَ الْقَرَوِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو بكر الغازى أَبُو بَكْرٍ الْغَازِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَاكِمُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ الْآدَمِيَّ بِمَكَّةَ يَقُولُ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ هَارُونَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ وَسُئِلَ عَنْ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ يُرِيدُ قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم لَا يَزَالُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ
নাহাওয়ান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিচারক আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আল-রামাহুরমুজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সাহল আল-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিশর ইবনে আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উতবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খাসসাফ জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
পুরুষদের মধ্যে কেবল পৌরুষদীপ্ত ব্যক্তিরাই হাদিস অন্বেষণ করে এবং কেবল নারীসুলভ লোকেরাই এর প্রতি অনীহা প্রকাশ করে।
এবং এই বর্ণনা (رواية) ব্যতীত অন্য সূত্রে রয়েছে: "হাদিস হলো পুরুষোচিত বিষয় যা পুরুষদের মধ্যে কেবল পৌরুষদীপ্ত ব্যক্তিরাই ভালোবাসে।"
বিচারক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পঠিত পাণ্ডুলিপি থেকে যখন আমি শ্রবণ করছিলাম এবং শায়খ আবু আলী আল-তাহারতি আমার পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাদুন আল-কায়রাওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-গাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মক্কায় মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-আদমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুসা ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে এই হাদিসের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি উদ্দেশ্য করেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورين) থাকবে, যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَفِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيِّ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ حَتَّى يَأْتِيَهُمْ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ وَنَحْوُهُ عِنْدَ مِسْلِمٍ مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ فِي حَدِيثِ الْمُغِيرَةِ
وَمنْ رِوَايَةِ مُعَاوِيَةَ لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي قَائِمَةٌ بِأَمْرِ اللَّهِ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ أَوْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ عَلَى الْحَقِّ
এবং বুখারির বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "আমার উম্মতের একটি দল বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ তাদের কাছে আসে, এমতাবস্থায় যে তারা বিজয়ী থাকবে।" এবং মুসলিম-এ ইবনে আবি শায়বাহর বর্ণনা (رواية) থেকে মুগিরার হাদিসে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
এবং মুয়াবিয়ার বর্ণনা (رواية) থেকে বর্ণিত: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে; যারা তাদের সহযোগিতা বর্জন করে কিংবা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এমতাবস্থায় যে তারা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فَقَالَ أَحْمَدُ إِنْ لَمْ تَكُنْ هَذِهِ الطَّائِفَةُ أَصْحَابَ الْحَدِيثِ فَلَا أَدْرِي مَنْ هُمْ
وَقَدْ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيُّ هُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْحَافِظُ مُكَاتَبَةً أَخْبَرَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ الْفَالِيُّ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ النَّهَاوَنْدِيُّ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي ابْنُ خَلَّادٍ أَخْبَرَنَا عَبْدَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي صَالِحٍ حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ بْنُ هِشَامٍ أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ أَبِي مُسْلِمٍ قَالَ
كَانَ الْأَعْمَشُ يَقُولُ لَا أَعْلَمُ لِلَّهِ قَوْمًا أَفْضَلَ مِنْ قَوْمٍ يَطْلُبُونَ هَذَا الْحَدِيثَ وَيُحْيُونَ هَذِهِ السُّنَةَ وَكَمْ أَنْتُمْ فِي النَّاسِ وَاللَّهِ لَأَنْتُمْ أَقَلُ مِنَ الذَّهَبِ
قَالَ ابْنُ خَلَّادٍ وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ غَنَّامٍ الْكُوفِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَكِيمٍ الْأَوْدِيُّ قَالَ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ
ইমাম আহমাদ বলেন, "যদি এই দলটি হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) না হন, তবে আমি জানি না তারা কারা।"
আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী বলেন, "তারা হলেন ইলমের অধিকারী (أهل العلم)।"
আবু তাহির আল-হাফিজ আমাদের চিঠিপত্র বিনিময়ের মাধ্যমে (مكاتبة) সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): মুবারক ইবন আবদিল জাব্বার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবুল হাসান আল-ফালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), কাজী আবু আব্দুল্লাহ আন-নাহাওয়ান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), কাজী ইবন খাল্লাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবদান ইবন আহমাদ ইবন আবি সালিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু হাতিম আর-রাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), উবাইদ ইবন হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আতা ইবন আবি মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন:
আমাশ বলতেন, "আমি আল্লাহর কাছে এমন কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে জানি না যারা এই হাদিস অন্বেষণকারী এবং যারা এই সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। মানুষের মাঝে তোমাদের সংখ্যা কতই না কম! আল্লাহর কসম, তোমরা তো স্বর্ণের চেয়েও অধিক দুর্লভ।"
ইবন খাল্লাদ বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন গান্নাম আল-কুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আলী ইবন হাকিম আল-আউদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন, আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
سَمِعت سُفْيَان الثَّوْريّ يَقُول ماشى أَخْوَفَ عِنْدِي مِنَ الْحَدِيثِ وَلَا شَيْءَ أَفْضَلُ مِنْهُ لِمَنْ أَرَادَ بِهِ مَا عِنْدَ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَلْبُونٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْوَلِيدِ هُوَ ابْنُ الْفَرَضِيِّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ جَهْضَمٍ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَرْوَانَ الْخُزَاعِيُّ أَخْبَرَنَا صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ
سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ مَا النَّاسُ إِلَّا مَنْ قَالَ حَدَّثَنَا وَأَخْبَرَنَا وَلَقَدِ الْتَفَتَ الْمُعْتَصِمُ إِلَى أَبِي فَقَالَ لَهُ كَلِّمِ ابْنُ أَبى دؤاب فَأَعْرَضَ عَنْهُ أَبِي بِوَجْهِهِ قَالَ كَيْفَ أُكَلِّمُ مَنْ لَمْ أَرَهُ عَلَى بَابِ عَالِمٍ قَطُّ
حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَلِيٍّ الصَّدَفِيُّ الْحَافِظُ قَالَ أَخْبَرْتُ بِبَغْدَادَ عَنْ رَجُلٍ
আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, "আমার নিকট হাদিসের চেয়ে অধিক ভীতিজনক আর কিছু নেই, আর যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট যা রয়েছে (সওয়াব) তা কামনা করে, তার জন্য এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।"
আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন গালবুন তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন (قال): আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) বিচারক আবু আল-ওয়ালিদ—যিনি ইবনুল ফারাযী, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান বিন জাহদাম, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু বকর আহমাদ বিন আলী, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) আহমাদ বিন মারওয়ান আল-খুজায়ি, আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا) সালিহ বিন আহমাদ, তিনি বলেন (قال):
আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, "প্রকৃত মানুষ তো তারাই যারা বলে—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) এবং আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا)।" একদা (খলিফা) মুতাসিম আমার পিতার দিকে মনোনিবেশ করে তাঁকে বললেন, "আপনি ইবনে আবি দুয়াদ-এর সাথে কথা বলুন।" তখন আমার পিতা তাঁর থেকে চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, "আমি সেই ব্যক্তির সাথে কীভাবে কথা বলব, যাকে আমি কখনও কোনো বিদ্ধানের দরজায় দেখিনি?"
আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) বিচারক আবু আলী আস-সাদাফী আল-হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন (قال): বাগদাদে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ غَيْرُ حَدِيثٍ وَاحِدٍ فَكَانَ قَلَّمَا يُوجَدُ وَحْدَهُ إِلَّا وَعِنْدَهُ مِنْ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ الْحَدِيثِ وَيَرْوِيهِ عَنْهُ
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَعَافِرِيُّ قِرَاءَةً مِنْهُ عَلَيَّ بِلَفْظِهِ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الْأَكْفَانِيُّ أخبرنَا عبد الْعَزِيز ابْن مُحَمَّدٍ الْكَتَّانِيُّ الدِّمَشْقِيُّ الْحَافِظُ أَخْبَرَنَا أَبُو عِصْمَةَ نُوحُ بْنُ نَصْرٍ
তাঁর নিকট একটি মাত্র হাদিস ব্যতীত অন্য কিছুই ছিল না। ফলে তাঁকে খুব কমই একাকী পাওয়া যেত; সর্বদা কেউ না কেউ তাঁর কাছে সেই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তাঁর নিকট থেকে তা বর্ণনা (يرويه) করতেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাআফিরি—আমার পাঠের মাধ্যমে তাঁর নিকট থেকে (قراءة) এবং তাঁর নিজ উচ্চারণে (لفظه)—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-আকফানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হাফেজ (الحافظ) আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাত্তানি আদ-দিমাশকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু ইসমা নুহ ইবনে নাসর।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الْفَرْغَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْمُظَفَّرِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جِبْرِيلَ بْنِ مَتٍّ الْخَزْرَجِيُّ وَأَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عِيسَى الْبُخَارِيَّ يَقُولَانِ سَمِعْنَا أَبَا ذَرٍّ عَمَّارَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ التَّمِيمِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا المظفر مُحَمَّد ابْن أَحْمَدَ بْنِ حَامِدِ بْنِ الْفُضَيْلِ الْبُخَارِيَّ يَقُولُ
لَمَّا عُزِلَ أَبُو الْعَبَّاسِ الْوَلِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ زيد الهمدانى عَن قَضَاء الرى وَرَدَ بُخَارَي لِتَجْدِيدِ مَوَدَّةٍ كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَبِي الْفَضْلِ الْبَلْعَمِيِّ فَنَزَلَ فِي جِوَارِنَا فَحَمَلَنِي مُعَلِّمِي أَبُو إِبْرَاهِيم إِسْحَق
আল-ফারগানি বলেন, আমি আবুল মুজাফফর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জিবরীল বিন মাত আল-খাজরাজি এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি, তাঁরা বলেন: আমরা আবু যার আম্মার বিন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আত-তামিমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল মুজাফফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বিন হামিদ বিন আল-ফুজাইল আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি...
যখন আবুল আব্বাস আল-ওয়ালিদ বিন ইবরাহিম বিন যায়েদ আল-হামদানি রাই শহরের বিচারকের পদ থেকে অপসারিত হলেন, তখন তিনি তাঁর এবং আবুল ফজল আল-বাল'আমির মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে বুখারায় আসলেন। তিনি আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে অবস্থান গ্রহণ করলেন। অতঃপর আমার শিক্ষক আবু ইবরাহিম ইসহাক আমাকে সাথে নিয়ে গেলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলমাউ ইলা মারিফাতি উসূলির রিওয়ায়াতি ওয়া তাকয়ীদিস সামায়ি
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ابْن إِبْرَاهِيم الختلى إِلَيْهِ وَقَالَ لَهُ أَسْأَلُكَ أَنْ تُحَدِّثَ هَذَا الصَّبِيَّ بِمَا سَمِعْتَ مِنْ مَشَايِخِكَ
قَالَ مَالِي سَمَاعٌ
قَالَ فَكَيْفَ وَأَنْتَ فَقِيهٌ فَمَا هَذَا
قَالَ لِأَنِّي لَمَّا بَلَغْتُ مَبْلَغَ الرِّجَالِ تَاقَتْ نَفْسِي إِلَى مَعْرِفَةِ الْحَدِيثِ وَمَعْرِفَةِ الرِّجَالِ وَدِرَايَةِ الْأَخْبَارِ وَسَمَاعِهَا فَقَصَدْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيَّ بِبُخَارَى صَاحِبَ التَّارِيخِ وَالْمَنْظُورَ إِلَيْهِ فِي مَعْرِفَةِ الْحَدِيثِ وَأَعْلَمْتُهُ مُرَادِي وَسَأَلْتُهُ الْإِقْبَالَ عَلَيَّ فِي ذَلِكَ فَقَالَ لِي يَا بُنَيَّ لَا تَدْخُلْ فِي أَمْرٍ إِلَّا بَعْدَ مَعْرِفَةِ حُدُودِهِ وَالْوُقُوفِ عَلَى مَقَادِيرِهِ
فَقُلْتُ لَهُ عَرِّفْنِي رَحِمَكَ اللَّهُ حُدُودَ مَا قَصَدْتُكَ لَهُ وَمَقَادِيرَ مَا سَأَلْتُكَ عَنْهُ
فَقَالَ لِي اعْلَمْ أَنَّ الرَّجُلَ لَا يَصِيرُ مُحَدِّثًا كَامِلًا فِي حَدِيثِهِ إِلَّا بَعْدَ أَنْ يَكْتُبَ أَرْبَعًا مَعَ أَرْبَعٍ كَأَرْبَعٍ مِثْلِ أَرْبَعٍ فِي أَرْبَعٍ عِنْدَ أَرْبَعٍ بِأَرْبَعٍ عَلَى أَرْبَعٍ عَنْ أَرْبَعٍ لِأَرْبَعٍ
وَكُلُّ هَذِهِ الرُّبَاعِيَّاتُ لَا تَتِمُّ لَهُ إِلَّا بِأَرْبَعٍ مَعَ أَرْبَعٍ
فَإِذَا تَمَّتْ لَهُ كُلُّهَا هَانَ عَلَيْهِ أَرْبَعٌ وَابْتُلِيَ بِأَرْبَعٍ
فَإِذَا صَبَرَ عَلَى ذَلِكَ أَكْرَمَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا بِأَرْبَعٍ وَأَثَابَهُ فِي الْآخِرَةِ بِأَرْبَعٍ
ইবনে ইব্রাহিম আল-খুতলি তাঁর নিকট গমন করলেন এবং তাঁকে বললেন, 'আমি আপনার নিকট আরজি পেশ করছি যে, আপনি আপনার শায়খদের থেকে যা শুনেছেন তা এই বালকটির নিকট বর্ণনা (تحدث) করুন।'
তিনি বললেন, 'আমার নিকট কোনো শ্রবণকৃত (سماع) হাদিস নেই।'
তিনি বললেন, 'তা কীভাবে সম্ভব অথচ আপনি একজন ফকিহ? তবে এটি কী?'
তিনি বললেন, 'কেননা আমি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলাম, তখন আমার অন্তর হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ, বর্ণনাকারী (الرجال) পরিচিতি এবং বর্ণনাগুলোর (الأخبار) মর্মার্থ অনুধাবন ও তা শ্রবণের (سماع) প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল। ফলে আমি বুখারায় ইতিহাস (তারিখ) গ্রন্থের প্রণেতা এবং হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারির নিকট গমন করলাম। আমি তাঁকে আমার অভিপ্রায় অবগত করলাম এবং এ বিষয়ে আমার প্রতি মনোনিবেশ করতে অনুরোধ জানালাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, "হে বৎস, কোনো বিষয়ের সীমানা ও পরিধি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের পূর্বে তাতে প্রবেশ করো না।"'
আমি তাঁকে বললাম, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আমি যে উদ্দেশ্যে আপনার নিকট এসেছি তার সীমানা এবং যে বিষয়ে আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছি তার পরিধি সম্পর্কে আমাকে অবগত করুন।'
তখন তিনি আমাকে বললেন, 'জেনে রেখো, কোনো ব্যক্তি তার হাদিস বর্ণনায় ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুহাদ্দিস (محدث) হতে পারে না, যতক্ষণ না সে চারের সাথে চারকে, চারের ন্যায়, চারের মত করে, চারের মধ্যে, চারের নিকট, চারের দ্বারা, চারের ভিত্তিতে, চারের মাধ্যমে এবং চারের উদ্দেশ্যে চারকে লিপিবদ্ধ করে।'
আর এই চতুষ্পদ বিষয়গুলোর কোনোটিই চারের সাথে চার ব্যতীত তার জন্য পূর্ণতা লাভ করে না।
যখন তার জন্য এই সমস্ত কিছু পূর্ণ হবে, তখন চারটি বিষয় তার নিকট সহজ হয়ে যাবে এবং সে চারটি বিষয় দ্বারা পরীক্ষিত হবে।
অতঃপর সে যদি তাতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে চারটি মর্যাদা দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং আখিরাতে চারটি প্রতিদান দ্বারা পুরস্কৃত করবেন।