(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: -)
موضح أوهام الجمع والتفريق   (الخطيب البغدادي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: موضح أوهام الجمع والتفريق

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463هـ)

المحقق: د. عبد المعطي أمين قلعجي

الناشر: دار المعرفة - بيروت

الطبعة: الأولى، 1407

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুওয়াদ্দিহু আওহামিল জামই ওয়াত তাফরিক   (খতিব আল-বাগদাদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: মুওয়াদ্দিহু আওহামিল জামই ওয়াত তাফরিক

লেখক: আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমাদ বিন মাহদী আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃ. ৪৬৩হি.)

সম্পাদক: ড. আবদুল মু’তি আমিন কাল’আজি

প্রকাশক: দারুল মা’রিফাহ্ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌موضح أَوْهَام الْجمع والتفريق

لِلْحَافِظِ الْبَغْدَادِيّ
একত্রীকরণ ও পৃথকীকরণের ভুলসমূহ স্পষ্টকারী

হাফিজ আল-বাগদাদীর রচিত
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر

قَالَ الْخَطِيب أَبُو بكر الْحَافِظ أَحْمد بن عَليّ بن ثَابت الْبَغْدَادِيّ رضي الله عنه

الْحَمد لله وَحده مُسْتَحقّ الْحَمد ووليه وصلواته على خيرته من خلقه وَصفيه نَبينَا مُحَمَّد خَاتم الرُّسُل الْمَبْعُوث بِأَفْضَل الْأَدْيَان والملل وعَلى مجيبي دَعوته ومصدقي كَلمته المتبعين لشريعته والمتمسكين بسنته وَعَلِيهِ وَعَلَيْهِم أفضل السَّلَام ومتتابع الرَّحْمَة والتحية وَالْإِكْرَام

قد أوردنا فِي هَذَا الْكتاب ذكر جمَاعَة كَثِيرَة من الروَاة انْتَهَت إِلَيْنَا تَسْمِيَة كل وَاحِد مِنْهُم وكنيته والأمور الَّتِي يعزى إِلَيْهَا كنسبته على وُجُوه مُخْتَلفَة فِي رِوَايَات مفترقة ذكر فِي بَعْضهَا حَقِيقَة اسْمه وَنسبه وَاقْتصر فِي الْبَعْض على شهرة كنيته أَو لقبه وَغير فِي مَوضِع اسْمه وَاسم أَبِيه وموه ذَلِك بِنَوْع من أَنْوَاع التمويه وَمَعْلُوم أَن بعض من انْتَهَت إِلَيْهِ تِلْكَ الرِّوَايَات فوقوع الْخَطَأ فِي جمعهَا وتفريقها غير مَأْمُون عَلَيْهِ وَلما كَانَ الْأَمر على مَا ذكرته بَعَثَنِي ذَلِك أَن بَينته وشرحته ونسأل الله التَّوْفِيق لسلوك قصد السَّبِيل فَإِنَّهُ تبارك وتعالى حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْخَوَارِزْمِيِّ عَن أبي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার রব, সহজ করে দিন।

হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসার যোগ্য এবং এর অভিভাবক। তাঁর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং মনোনীত বান্দা আমাদের নবী মুহাম্মদের ওপর, যিনি সর্বশেষ রাসূল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন ও মিল্লাত সহ প্রেরিত হয়েছেন। এবং তাঁর আহ্বানে সাড়াদানকারী, তাঁর বাণীর সত্যায়নকারী, তাঁর শরীয়তের অনুসারী এবং তাঁর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারীদের ওপর। তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাম এবং নিরন্তর রহমত, অভিবাদন ও সম্মান।

আমি এই গ্রন্থে বর্ণনাকারীদের এমন এক বিশাল দলের উল্লেখ করেছি, যাদের প্রত্যেকের নাম, ডাকনাম এবং তাদের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদি যেমন নিসবত (বংশ বা স্থান পরিচিতি) বিভিন্ন বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্নভাবে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। কোনো কোনো বর্ণনায় তার প্রকৃত নাম ও বংশ উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কোনোটিতে কেবল তার প্রসিদ্ধ ডাকনাম বা উপাধির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে তার নাম ও পিতার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এক প্রকার অস্পষ্টতা বা সংশয় তৈরি করা হয়েছে। এটি সর্বজনবিদিত যে, যাদের কাছে এই বর্ণনাগুলো পৌঁছেছে, তাদের পক্ষে এগুলোকে একত্রিত করা বা পৃথক করার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়। বিষয়টি যেহেতু আমি যা উল্লেখ করলাম তদ্রূপ, তাই এটিই আমাকে তা বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে সঠিক পথে চলার তাওফিক প্রার্থনা করছি, কারণ তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমি আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমির নিকট পাঠ করেছি, যিনি আবু...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৬)
أبي إِسْحَاق وَشريك بن عبد الله حدث عَن جُنْدُب عَن عَليّ قصَّة الْخَوَارِج والمخدج وَعَن حَبَّة أَيْضا
আবু ইসহাক এবং শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ জুনদুব থেকে, তিনি আলীর সূত্রে খাওয়ারিজদের এবং আল-মুখদাজের ঘটনা বর্ণনা করেছেন; এবং হাব্বাহ থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১১)
قَالَ أَبُو الْحسن وَذكر البُخَارِيّ فِي بَاب إِسْمَاعِيل إِسْمَاعِيل بن أبي سعيد روى عَن عِكْرِمَة عَن ابْن مَسْعُود (مُرْسل) مقاله صَفْوَان بن عِيسَى عَن بشر بن رَافع عَنهُ أدخلهُ فِي بَاب إِسْمَاعِيل بن أبي سعيد مولى الْمهرِي

قَالَ أَبُو الْحسن وَإِسْمَاعِيل بن [أبي سعيد مولى الْمهرِي مدنِي روى عَنهُ أَبُو عَلْقَمَة الْفَروِي والْحَارث بن مُحَمَّد الفِهري وَإِسْمَاعِيل بن أبي سعيد الَّذِي روى عَنهُ بشر بن رَافع أَبُو الأسباط صنعاني وَهُوَ إِسْمَاعِيل بن شروس روى عَنهُ أَيْضا الحكم بن أبان وَمعمر وروى هُوَ عَن عِكْرِمَة وَطَاوُس ووهب بن مُنَبّه ثمَّ قَالَ بعد هَذَا إِسْمَاعِيل أَبُو سعيد عَن عِكْرِمَة روى عَنهُ معمر

قَالَ أَبُو الْحسن وَقد أوهم هُوَ الأول وَهُوَ ابْن أبي سعيد أَبُو الْمِقْدَام الَّذِي ذكرنَا أَن بشر بن رَافع روى عَنهُ
আবুল হাসান বলেন, ইমাম বুখারি ইসমাঈল অধ্যায়ে ইসমাঈল ইবনে আবু সাঈদের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে (মুরসাল হিসেবে) বর্ণনা করেছেন। সাফওয়ান ইবনে ঈসা বিশর ইবনে রাফি’র সূত্রে তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁকে ইসমাঈল ইবনে আবু সাঈদ মাওলা আল-মাহরি-এর অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আবুল হাসান বলেন, ইসমাঈল ইবনে আবু সাঈদ মাওলা আল-মাহরি হলেন মদিনাবাসী। তাঁর থেকে আবু আলকামা আল-ফারওয়ি এবং আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিহরি বর্ণনা করেছেন। আর যে ইসমাঈল ইবনে আবু সাঈদ থেকে বিশর ইবনে রাফি’ বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আবু আল-আসবাত সানআনি; তিনি মূলত ইসমাঈল ইবনে শারুস। তাঁর থেকে হাকাম ইবনে আবান এবং মা’মারও বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজে ইকরিমা, তাউস এবং ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি (ইমাম বুখারি) আরও বলেছেন যে, ইসমাঈল আবু সাঈদ ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে মা’মার বর্ণনা করেছেন।

আবুল হাসান বলেন, তিনি সম্ভবত প্রথম ব্যক্তিটির ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন; আর তিনি হলেন ইবনে আবু সাঈদ আবু আল-মিকদাম, যাঁর সম্পর্কে আমরা উল্লেখ করেছি যে বিশর ইবনে রাফি’ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১২)
ثمَّ قَالَ فِي بَاب الشين مَعَ إِسْمَاعِيل إِسْمَاعِيل بن شروس أَبُو الْمِقْدَام نسبه مُحَمَّد بن ثَوْر روى عَنهُ يعلى وَرَأى عِكْرِمَة وَهَذَا صَحِيح إِلَّا أَنه جعله رجلا ثَالِثا وَهُوَ وَاحِد ثمَّ قَالَ بعده إِسْمَاعِيل بن أبي شقير الصَّنْعَانِيّ عَن عِكْرِمَة روى عَنهُ الحكم بن أبان وَهَذَا وهم مِنْهُ لِأَنَّهُ رجل وَاحِد وَقد جعله رَابِعا وَوهم وصحف فِي قَوْله ابْن أبي شقير وَإِنَّمَا هُوَ ابْن أبي سعيد وَهُوَ ابْن شروس وَالله أعلم

قَالَ الْخَطِيب رحمه الله فِي كتاب التَّارِيخ الَّذِي صنفه أَبُو عبد الله مُحَمَّد ابْن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ نَظَائِر كَثِيرَة لما ذكره أَبُو الْحسن الدَّارَقُطْنِيّ عَنهُ من جعله الِاثْنَيْنِ وَاحِدًا وَالْوَاحد اثْنَيْنِ وَأكْثر وَنحن ذاكرون مِنْهَا بِمَشِيئَة الله تَعَالَى مَا وضح قاصده وَقرب منا على تَصْدِيق دعوانا فِي ذَلِك شَاهده ومتبعوه بِمَا يشاكله من أَوْهَام الْأَئِمَّة سوى البُخَارِيّ فِي هَذَا النَّوْع وَنَذْكُر فِيهِ مَا اخْتلف الْعلمَاء فِيهِ وأيهم أقرب إِلَى الصَّوَاب فِيمَا يَدعِيهِ ثمَّ نشرع فِيمَا لَهُ رسمنا هَذَا الْكتاب ونجعله مُلَخصا على نسق وَاحِد الْحُرُوف الْمرتبَة والأبواب

وَلَعَلَّ بعض من ينظر فِيمَا سطرناه وَيقف على مَا لكتابنا هَذَا ضمناه يلْحق سيء الظَّن بِنَا وَيرى أَنا عمدنا لِلطَّعْنِ على من تقدمنا وَإِظْهَار الْعَيْب لكبراء شُيُوخنَا وعلماء سلفنا وأنى يكون ذَلِك وبهم ذكرنَا وبشعاع ضيائهم تبصرنا وباقتفائنا وَاضح رسومهم تميزنا وبسلوك سبيلهم عَن الهمج تحيزنا وَمَا مثلهم ومثلنا إِلَّا مَا ذكر أَبُو عَمْرو بن الْعَلَاء فِيمَا أَخْبَرَنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن أَحْمَد بن عمر الْمُقْرِئ أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِر عبد الْوَاحِد بن عمر بن مُحَمَّد بن أبي
অতঃপর তিনি 'শিন' বর্ণের অধ্যায়ে ইসমাইল নামের আলোচনায় বলেন— ইসমাইল ইবনে শারুস আবু আল-মিকদাম; মুহাম্মদ ইবনে সাওর তার বংশপরিচয় দিয়েছেন, তার থেকে ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ইকরিমাহকে দেখেছেন। আর এটি সঠিক, তবে তিনি তাকে একজন তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন অথচ তিনি আসলে একজনই। এরপর তিনি তার পরে ইসমাইল ইবনে আবি শুকাইর আস-সানআনি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে হাকাম ইবনে আবান বর্ণনা করেছেন। এটি তার পক্ষ থেকে একটি ভ্রম; কারণ তিনি একজন ব্যক্তিই, অথচ তিনি তাকে চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন। আর 'ইবনে আবি শুকাইর' বলাতে তিনি ভুল করেছেন এবং নামের শব্দে বিকৃতি (তাসহিফ) ঘটেছে; মূলত এটি হবে 'ইবনে আবি সাঈদ', আর তিনিই হলেন ইবনে শারুস। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

খতিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি যে ইতিহাসের কিতাব রচনা করেছেন, তাতে এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যা আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি তার ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন—যেমন দুই ব্যক্তিকে এক ব্যক্তি বানানো কিংবা একজনকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা। আমরা আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় এ থেকে সেই বিষয়গুলোই উল্লেখ করব যেগুলোর উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট এবং যা আমাদের দাবির সত্যতার প্রমাণ হিসেবে অত্যন্ত নিকটবর্তী। পাশাপাশি আমরা এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য ইমামদের (বুখারি ব্যতীত) অনুরূপ ভুলগুলোও ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরব। সেখানে আমরা সেই বিষয়গুলোও উল্লেখ করব যাতে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন এবং তাদের দাবির মধ্যে কার দাবি সত্যের অধিক নিকটবর্তী তাও স্পষ্ট করব। অতঃপর আমরা সেই বিষয়ের অবতারণা করব যার জন্য আমরা এই কিতাবটি বিন্যস্ত করেছি এবং একে বর্ণমালার ক্রমানুসারে ও অধ্যায়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আকারে সাজাব।

সম্ভবত আমাদের লিখিত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিদানকারী এবং আমাদের এই কিতাবে সন্নিবেশিত বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত হওয়া কেউ কেউ আমাদের ব্যাপারে কুধারণা পোষণ করতে পারেন। তারা মনে করতে পারেন যে, আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের সমালোচনা করার এবং আমাদের মহান উস্তাদ ও সালাফদের ভুল-ত্রুটি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছি। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব? অথচ তাদের মাধ্যমেই আমরা স্মরণীয় হয়েছি, তাদের আলোকের বিচ্ছুরণেই আমরা সত্যকে দেখেছি, তাদের সুস্পষ্ট পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমেই আমরা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছি এবং তাদের পথ অনুসরণের মাধ্যমেই আমরা সাধারণ অজ্ঞ জনতা থেকে আলাদা হতে পেরেছি। তাদের এবং আমাদের দৃষ্টান্ত কেবল তা-ই যা আবু আমর ইবনুল আলা উল্লেখ করেছেন; যেমনটি আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-মুকারি, আমাদের জানিয়েছেন আবু তাহির আবদুল ওয়াহিদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১৩)
هَاشم حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن الْعَبَّاس اليزيدي حَدَّثَنَا الرياشي عَن الْأَصْمَعِي قَالَ قَالَ أَبُو عَمْرو مَا نَحن فِيمَن مضى إِلَّا كبقل فِي أصُول نخل طوال

وَلما جعل الله تَعَالَى فِي الْخلق أعلامًا وَنصب لكل قوم إِمَامًا لزم المهتدين بمبين أنوارهم والقائمين بِالْحَقِّ فِي اقتفاء آثَارهم مِمَّن رزق الْبَحْث والفهم وإنعام النّظر فِي الْعلم بَيَان مَا أهملوا وتسديد مَا أغفلوا إِذْ لم يَكُونُوا معصومين من الزلل وَلَا آمِنين من مقارفة الْخَطَأ والخطل وَذَلِكَ حق الْعَالم على المتعلم وواجب على التَّالِي للمتقدم وَعَسَى أَن يضح الْعذر لنا عِنْد من وقف على كتَابنَا المُصَنّف فِي تَارِيخ مَدِينَة السَّلَام وأخبار محدثيها وَذكر قطانها الْعلمَاء من غير أَهلهَا ووارديها فَإنَّا قد أوردنا فِيهِ من مَنَاقِب البُخَارِيّ وفضائله مَا يَنْفِي عَنَّا الظنة فِي بَابه والتهمة فِي إصلاحنا بعض سقطات كِتَابه إِن شَاءَ الله تَعَالَى

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد بن عَليّ الْبَزَّاز أَخْبَرَنَا أَبُو سعيد الْحسن بن عبد الله السيرافي أَخْبَرَنَا أَبُو بكر بن السراج أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يزِيد النَّحْوِيّ أَخْبَرَنَا الْمَازِني عَن الْعُتْبِي عَن أَبِيه قَالَ قَالَ الْأَحْنَف بن قيس الْكَامِل من عدت سقطاته
হাসেম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-ইয়াযদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর-রিয়াশি আল-আসমায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আমর বলেছেন: পূর্ববর্তীদের তুলনায় আমরা দীর্ঘ খেজুর গাছের গোড়ায় গজানো শাকসবজির মতো।

যখন আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির মাঝে নিদর্শনসমূহ নির্ধারণ করেছেন এবং প্রতিটি জাতির জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করেছেন, তখন তাদের সুস্পষ্ট নূর দ্বারা হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে যেন তারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। আর যাদেরকে গবেষণা, প্রজ্ঞা এবং ইলমের গভীর পর্যালোচনার তৌফিক দেওয়া হয়েছে, তাদের দায়িত্ব হলো পূর্ববর্তীদের পরিত্যক্ত বিষয়গুলো বর্ণনা করা এবং তাদের অসাবধানতাবশত ভুলগুলো সংশোধন করা। কারণ তারা স্খলন থেকে নিষ্পাপ ছিলেন না এবং ভুল-ভ্রান্তিতে নিপতিত হওয়া থেকে নিরাপদ ছিলেন না। এটিই শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের হক এবং উত্তরসূরির পক্ষ থেকে পূর্বসূরির প্রতি পালনীয় কর্তব্য। আশা করা যায়, যারা আমাদের রচিত ‘তারিখে মাদিনাতুস সালাম’ (শান্তির নগরীর ইতিহাস) এবং এর মুহাদ্দিসদের সংবাদ ও এর বাসিন্দা ও আগন্তুক আলিমদের বর্ণনার ওপর লিখিত কিতাবটি পাঠ করবেন, তারা আমাদের ওজর বা কৈফিয়ত বুঝতে পারবেন। কেননা আমরা এতে ইমাম বুখারীর এমন কিছু মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছি যা তার ব্যাপারে আমাদের প্রতি পোষণকৃত সংশয় দূর করবে এবং তার কিতাবের কিছু ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতি আনীত অভিযোগ নাকচ করবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী আল-বায্যায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সিরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনুস সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ আন-নাহবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মাযিনি আল-উতবি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহনাফ ইবনে কাইস বলেছেন: পূর্ণাঙ্গ মানুষ তো তিনিই যার ভুলগুলো গণনা করা যায়।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১৪)
أَخْبرنِي أَبُو عبد الله الْحُسَيْن بن مُحَمَّد بن الْحسن الْمُؤَدب قِرَاءَة عَلَيْهِ عَن أبي سعد عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الاستراباذي قَالَ حَدثنِي مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل بن هَارُون أَبُو بكر الشَّاشِي بسمرقند حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن الأرزناني قَالَ حكى لنا عَن الْمُزنِيّ يَعْنِي أَبَا إِبْرَاهِيم إِسْمَاعِيل بن يحيى أَنه قَالَ لَو عورض كتاب سبعين مرّة لوجد فِيهِ خطأ أَبى الله أَن يكون كتاب صَحِيحا غير كِتَابه

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن مُحَمَّد بن الْحسن الْحَرْبِيّ حَدَّثَنَا عمر بن أَحْمَد بن هَارُون الْمُقْرِئ حَدَّثَنَا أَبُو بكر بن الْقَنْطَرِي الْوراق قَالَ سَمِعت عبد الله بن أَحْمَد بن حَنْبَل قَالَ عارضت بِكِتَاب لأبي ثَلَاث عشرَة مرّة فَلَمَّا كَانَ فِي الرَّابِعَة خرج فِيهِ خطأ فَوَضعه من يَده ثمَّ قَالَ قد أنْكرت أَن يَصح غير كتاب الله عز وجل

أَخْبَرَنَا أَبُو بكر أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْخَوَارِزْمِيّ الْمَعْرُوف بالبرقاني قَالَ قَالَ مُحَمَّد بن الْعَبَّاس العصمي حَدَّثَنَا يَعْقُوب بن إِسْحَاق بن مَحْمُود الْحَافِظ قَالَ قَالَ أَبُو عَليّ صَالح بن مُحَمَّد قَالَ لي أَبُو زرْعَة يَا أَبَا عَليّ نظرت فِي كتاب مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل هَذَا أَسمَاء الرِّجَال فَإِذا فِيهِ خطأ كثير فَقلت لَهُ بليته إِنَّه رجل كل من كَانَ يقدم عَلَيْهِ من الْعرَاق من
আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-মুআদ্দিব তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাকে অবহিত করেছেন আবু সাদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আল-আস্তরাবাদি থেকে, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে হারুন আবু বকর আল-শাশী সমরকন্দে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আরজনানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-মুযানী অর্থাৎ আবু ইবরাহিম ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যদি কোনো গ্রন্থ সত্তর বারও যাচাই করা হয়, তবুও তাতে ভুল পাওয়া যাবে। আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব নির্ভুল হওয়াকে অস্বীকার করেছেন।"

আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-হারবি আমাদের অবহিত করেছেন, উমর ইবনে আহমদ ইবনে হারুন আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনুল কানতারি আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি আমার পিতার একটি গ্রন্থ তেরো বার যাচাই করেছি। এরপর যখন চতুর্দশ বার হলো, তখন তাতে একটি ভুল ধরা পড়ল; ফলে তিনি সেটি তাঁর হাত থেকে রেখে দিলেন এবং বললেন: আমি অস্বীকার করছি যে মহান আল্লাহর কিতাব ব্যতীত অন্য কিছু নির্ভুল হতে পারে।"

আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে গালিব আল-খাওয়ারিজমি, যিনি আল-বারকানি নামে পরিচিত, আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আল-আসমি বলেছেন, ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে মাহমুদ আল-হাফিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আলী সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ বলেছেন: আবু জুরআ আমাকে বললেন, "হে আবু আলী, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের এই আসমাউর রিজাল গ্রন্থটি দেখেছি, তাতে অনেক ভুল রয়েছে।" তখন আমি তাকে বললাম: "তার পরীক্ষা হলো এই যে, তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার নিকট ইরাক থেকে যারা আগমন করত..."
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১৫)
أهل بُخَارى نظر فِي كتبهمْ فَإِذا رأى اسْما لَا يعرفهُ وَلَيْسَ عِنْده كتبه وهم لَا يضبطون وَتَكون كتبهمْ غير منقوطة فيضعه فِي كِتَابه خطأ وَإِلَّا فَمَا رَأَيْت خراسانيًا أفهم مِنْهُ لَوْلَا عي فِي لِسَانه وَفِي ذَلِك الْكتاب أسام لَا تعرف وَلم يبين من روى عَنْهُم وَعَمن رووا وَأي شَيْء رووا فيتحير الْإِنْسَان فِيهِ

قَالَ وسألني خَالِد بن أَحْمَد أَبُو الْهَيْثَم أَن أنظر لَهُ شَيْئا فِي هَذَا الْكتاب فأصحح لَهُ فَنَظَرت فغيرت أَشْيَاء أَخطَأ فِيهِ وصحف وَرَأَيْت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل بِبَغْدَاد يقْرَأ عَلَيْهِم هَذَا الْكتاب فَقَالَ وإِبْرَاهِيم بن شُعَيْب روى عَنهُ ابْن وهب فَقلت لَهُ إِنَّمَا هُوَ إِبْرَاهِيم بن شعيث ثمَّ قلت لَهُ أَنْت تنظر فِي كتب النَّاس فَإِذا مر بك اسْم لَا تعرفه أَخَذته وَالْخَطَأ فِيهِ من غَيْرك لأَنهم كَانُوا لَا يضبطون

قَالَ الْخَطِيب وَقد جمع عبد الرَّحْمَن بن أبي حَاتِم الرَّازِيّ الأوهام الَّتِي أَخذهَا أَبُو زرْعَة على البُخَارِيّ فِي كتاب مُفْرد وَنظرت فِيهِ فَوجدت كثيرا مِنْهَا لَا تلْزمهُ وَقد حكى عَنهُ فِي ذَلِك الْكتاب أَشْيَاء هِيَ مدونة فِي تَارِيخه على الصَّوَاب بِخِلَاف الْحِكَايَة عَنهُ

وَمن الْعجب أَن ابْن أبي خَاتم أغار على كتاب البُخَارِيّ وَنَقله إِلَى كِتَابه فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَعمد إِلَى مَا تضمن من الْأَسْمَاء فَسَأَلَ عَنْهَا أَبَاهُ وَأَبا زرْعَة وَدون عَنْهُمَا الْجَواب فِي ذَلِك ثمَّ جمع الأوهام الْمَأْخُوذَة على البُخَارِيّ وَذكرهَا من غير أَن يقدم مَا يُقيم بِهِ الْعذر لنَفسِهِ عِنْد الْعلمَاء فِي أَن قَصده بتدوين تِلْكَ الأوهام بَيَان الصَّوَاب لمن وَقعت إِلَيْهِ دون الانتقاص وَالْعَيْب لمن حفظت عَلَيْهِ وَنحن لَا نظن أَنه قصد غير ذَلِك فَإِنَّهُ كَانَ بِمحل من الدَّين وَأحد الرفعاء من أَئِمَّة الْمُسلمين رَحْمَة الله عَلَيْهِ وَعَلَيْهِم أَجْمَعِينَ

حدثت عَن أبي أَحْمَد مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بن إِسْحَاق الْحَافِظ النَّيْسَابُورِي قَالَ كنت بِالريِّ فرأيتهم يَوْمًا يقرءُون على أبي مُحَمَّد بن أبي
বুখারার অধিবাসীরা তাদের কিতাবসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিত; ফলে যখন তিনি এমন কোনো নাম দেখতেন যা তাঁর পরিচিত নয় এবং তাঁর সংগ্রহে নেই, তখন তিনি তা লিখে নিতেন। অথচ তারা (লিখনীতে) নির্ভুল ছিল না এবং তাদের কিতাবসমূহ নুকতাহীন (বিন্দুহীন) ছিল; ফলে তিনি ভুলবশত তা নিজের কিতাবে লিপিবদ্ধ করতেন। অন্যথায়, তাঁর জিহবায় কিছুটা জড়তা না থাকলে আমি তাঁর চেয়ে অধিক সমঝদার কোনো খুরাসানি ব্যক্তি দেখিনি। আর সেই কিতাবে এমন কিছু নাম রয়েছে যা পরিচিত নয় এবং তিনি স্পষ্ট করেননি যে কারা তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তারা কার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং কী বিষয় বর্ণনা করেছেন; ফলে মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, খালিদ বিন আহমাদ আবু আল-হাইসাম আমাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি তাঁর জন্য এই কিতাবটি পর্যালোচনা করি এবং সংশোধন করে দিই। আমি তা দেখে তাতে এমন কিছু বিষয় পরিবর্তন করলাম যেখানে তিনি ভুল করেছিলেন এবং শব্দ বিকৃতি ঘটিয়েছিলেন। আমি মুহাম্মাদ বিন ইসমাইলকে বাগদাদে লোকদের সামনে এই কিতাবটি পড়তে দেখেছি। তিনি বলছিলেন, "ইবরাহিম বিন শুআইব, তাঁর থেকে ইবনুল ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন।" তখন আমি তাঁকে বললাম, "তিনি মূলত ইবরাহিম বিন শুআইস।" অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, "আপনি মানুষের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করেন, আর যখন আপনার সামনে এমন কোনো নাম আসে যা আপনি চেনেন না, তখন আপনি তা গ্রহণ করেন। অথচ এর ভুলটি মূলত অন্যদের পক্ষ থেকে এসেছে, কারণ তারা নির্ভুল ছিল না।"

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইবনে আবি হাতিম ইমাম বুখারির কিতাব থেকে অনেক তথ্য গ্রহণ করেছেন এবং তা তাঁর 'আল-জারহ ওয়া আত-তাদিল' গ্রন্থে স্থানান্তরিত করেছেন। তিনি সেখানে বিদ্যমান নামগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং সেগুলো সম্পর্কে তাঁর পিতা ও আবু জুরআকে জিজ্ঞাসা করেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের উত্তরসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তিনি বুখারির ওপর আরোপিত ভুলগুলো একত্রিত করেন এবং কোনো ওজর পেশ করা ছাড়াই তা উল্লেখ করেন—যার মাধ্যমে তিনি আলেমদের নিকট নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারতেন যে, এই ভুলগুলো সংকলনের পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কেবল সত্য স্পষ্ট করা, কোনোভাবেই লেখককে খাটো করা বা দোষারোপ করা নয়। আমরা মনে করি না যে তাঁর উদ্দেশ্য এর বাইরে অন্য কিছু ছিল; কারণ দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান ছিল সুউচ্চ এবং তিনি মুসলিমদের অন্যতম মহান ইমাম ছিলেন। তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইসহাক আল-হাফিজ আন-নাইসাবুরি থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাই শহরে ছিলাম, একদিন আমি দেখলাম তারা আবু মুহাম্মাদ বিন আবি-এর নিকট পাঠ করছে...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَاتِم كتاب الْجرْح وَالتَّعْدِيل فَلَمَّا فرغوا قلت لِابْنِ عبدويه الْوراق مَا هَذِه الضحكة أَرَاكُم تقرءون كتاب التَّارِيخ لمُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ على شيخكم على الْوَجْه وَقد نسبتموه إِلَى أبي زرْعَة وَأبي حَاتِم فَقَالَ يَا أَبَا أَحْمَد أعلم أَن أَبَا زرْعَة وَأَبا حَاتِم لما حمل إِلَيْهِمَا هَذَا الْكتاب قَالَا هَذَا علم حسن لَا يسْتَغْنى عَنهُ وَلَا يحسن بِنَا أَن نذكرهُ عَن غَيرنَا فأقعدا أَبَا مُحَمَّد عبد الرَّحْمَن حَتَّى سَأَلَهُمَا عَن رجل بعد رجل وَزَادا فِيهِ ونقصا وَنسبه عبد الرَّحْمَن إِلَيْهِمَا

أَخْبرنِي أَبُو الْقَاسِم الْأَزْهَرِي قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن حميد اللَّخْمِيّ يَقُول سَمِعت القَاضِي أَبَا الْحسن مُحَمَّد بن صَالح الْهَاشِمِي يَقُول سَمِعت أَبَا الْعَبَّاس ابْن سعيد يَقُول لَو أَن رجلا كتب ثَلَاثِينَ ألف حَدِيث لما اسْتغنى عَن كتاب تَارِيخ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ
হাতেমের আল-জারহ ওয়াত তাদীল গ্রন্থ। যখন তারা শেষ করল, আমি ইবনে আবদুওয়াইহ আল-ওয়াররাককে বললাম, "এই হাস্যকর বিষয়টি কী? আমি দেখছি যে আপনারা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর 'আত-তারিখ' গ্রন্থটি আপনাদের শায়খের নিকট যথাযথভাবে পাঠ করছেন, অথচ আপনারা একে আবু যুরআহ এবং আবু হাতেমের নামে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।" তিনি বললেন, "হে আবু আহমদ, জেনে রাখুন যে, আবু যুরআহ এবং আবু হাতেমের নিকট যখন এই গ্রন্থটি আনা হলো, তখন তাঁরা বললেন: 'এটি একটি চমৎকার জ্ঞান যা থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়, তবে আমাদের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে আমরা এটি অন্য কারও পক্ষ থেকে বর্ণনা করব।' তাই তাঁরা আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমানকে বসালেন এবং তিনি তাঁদেরকে একজন একজন করে বর্ণনাকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। তাঁরা এতে কিছু পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করলেন এবং আবদুর রহমান এটি তাঁদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করলেন।"

আবু আল-কাসিম আল-আজহারী আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আল-লাখমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি কাজী আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-হাশিমীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু আল-আব্বাস ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: "যদি কোনো ব্যক্তি ত্রিশ হাজার হাদিসও লিখে রাখে, তবুও সে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর 'আত-তারিখ' গ্রন্থটির প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত হতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১৭)
1 -‌‌ أَوْهَام البُخَارِيّ

[فِي التَّارِيخ الْكَبِير]

‌‌الْوَهم الأول

فَمن أَوْهَام البُخَارِيّ فِي الْجمع والتفريق أَنه قَالَ فِي تَارِيخه الْكَبِير الَّذِي يرويهِ عَنهُ أَبُو أَحْمد مُحَمَّد بن سُلَيْمَان بن فَارس الدَّلال النَّيْسَابُورِي فِي بَاب المُحَمَّدين وَهُوَ الْبَاب الَّذِي افْتتح بِهِ الْكتاب مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم الْهَاشِمِي سمع إِدْرِيس بن يزِيد الأودي (مُرْسل) سمع مِنْهُ حَرَمِيّ بن عمار وَذكر بعده خَمْسَة أَسمَاء ثمَّ قَالَ مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن معبد بن عَبَّاس الْهَاشِمِي الْقرشِي عداده فِي أهل الْمَدِينَة سمع مِنْهُ ابْن أبي أويس وَأَخُوهُ يروي عَن حرَام وَلم يثبت حَدِيث حرَام هـ

وَقد وهم رحمه الله فِي تفريقه بَين هَذَا وَبَين الَّذِي ذكر أَنه سمع من إِدْرِيس الأودي لِأَنَّهُ رجل وَاجِد يروي عَن أَبِيه إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن معبد بن عَبَّاس وَعَن حرَام بن عُثْمَان وَعبد الله بن عبد الرَّحْمَن بن كَعْب بن مَالك وَإِدْرِيس الأودي روى عَنهُ أَبُو بكر وَإِسْمَاعِيل ابْنا أبي أويس وَقدم الْكُوفَة فَكتب عَنهُ
১ -‌‌ আল-বুখারীর বিভ্রমসমূহ

[আত-তারিখ আল-কাবীর গ্রন্থে]

‌‌প্রথম বিভ্রম

ব্যক্তিদের নাম একত্রিত করা ও পৃথক করার ক্ষেত্রে আল-বুখারীর অন্যতম বিভ্রম হলো এই যে, তিনি তাঁর আত-তারিখ আল-কাবীর গ্রন্থে—যা তাঁর থেকে আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিস আদ-দাল্লাল আন-নাইসাবুরি বর্ণনা করেছেন—'মুহাম্মদ' নামধারী ব্যক্তিদের অধ্যায়ে (আর এটিই সেই অধ্যায় যার মাধ্যমে তিনি কিতাবটি শুরু করেছেন) বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হাশিমী; তিনি ইদ্রিস বিন ইয়াযিদ আল-আউদী থেকে শুনেছেন (মুরসাল), তাঁর থেকে হারামি বিন আম্মার শুনেছেন। এর পরে তিনি আরও পাঁচটি নাম উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মাবাদ বিন আব্বাস আল-হাশিমী আল-কুরাশী; তিনি মদিনাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত; তাঁর থেকে ইবনে আবি উয়াইস এবং তাঁর ভাই শুনেছেন; তিনি হারাম থেকে বর্ণনা করেন, অথচ হারামের হাদিস প্রমাণিত নয়। সমাপ্ত।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একে এবং ইদ্রিস আল-আউদী থেকে শ্রবণকারী হিসেবে যাকে ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছেন—এই দুজনের মাঝে পার্থক্য করতে গিয়ে বিভ্রমে পতিত হয়েছেন। কারণ তারা মূলত একই ব্যক্তি। তিনি তাঁর পিতা ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মাবাদ বিন আব্বাস, হারাম বিন উসমান, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন কাব বিন মালিক এবং ইদ্রিস আল-আউদী থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে আবু বকর ও ইসমাইল—আবি উয়াইসের দুই পুত্র বর্ণনা করেছেন। তিনি কুফায় এসেছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদিস লিখে নেওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১৮)
بعض أَهلهَا وروى عَنهُ مِنْهُم مُعَاوِيَة بن هِشَام الْقصار ذكر ذَلِك أَبُو الْعَبَّاس أَحْمَد بن مُحَمَّد بن سعيد بن عقدَة الْكُوفِي الْحَافِظ وَكَانَ أعرف النَّاس بأخبار الْكُوفَة وَمن قدمهَا من الْعلمَاء وَحدث بهَا من الغرباء
সেই জনপদের কিছু অধিবাসী এবং তাদের মধ্য থেকে মুআবিয়াহ ইবনে হিশাম আল-কাসসার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি উল্লেখ করেছেন হাফিজ আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে উকদাহ আল-কুফি। তিনি কুফার ইতিহাস এবং সেখানে আগমনকারী আলেম ও হাদীস বর্ণনা করা বহিরাগতদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ১৯)
فَأَما حَدِيثه الَّذِي ذكر البُخَارِيّ أَنه يرويهِ عَن حرَام فَأَخْبَرَنَاهُ الْقَاضِي أَبُو الْفَرَجِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الشَّافِعِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو بكر أَحْمَد بن مُحَمَّد بن الأَبْزُونُ الأَنْبَارِيُّ أَخْبَرَنَا بُهْلُولُ بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن عبد الله بْنِ مَعْبَدِ بْنِ الْعَبَّاسِ عَنْ حَرَامِ بْنِ عُثْمَانَ الأَنْصَارِيِّ ثُمَّ الحرامي وَعَن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيِّ عَن ابْني جَابر بن عبد الله عبد الرَّحْمَن وَمُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِمَا جَابِرِ بْنِ عبد الله صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ مَجُوسًا وَإِنَّ مَجُوسَ أُمَّتِي الْقَدَرِيَّة فَإِن مرضوا فَلَا تعودهم وَإِنْ مَاتُوا فَلا تَشْهَدُوهُمْ وَإِنْ خَطَبُوا فَلا تُزَوِّجُوهُمْ

وَأَمَّا حَدِيثُهُ عَنْ إِدْرِيسَ الأَوْدِيِّ فَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِر عبد الْغفار بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمُؤَدِّبُ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله الشَّافِعِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السُّلَمِيُّ

(ح) وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو بَكْرٍ الْبَرْقَانِيُّ وَاللَّفْظُ لَهُ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْحَافِظُ حَدَّثَنَا ابْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ قَالا حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ
ইমাম বুখারি যে হাদিসটির কথা উল্লেখ করেছেন যে তিনি হারাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজি আবুল ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান আশ-শাফিঈ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-আবজুন আল-আনবারি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বুহলুল ইবনে ইসহাক। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাবাদ ইবনে আল-আব্বাস, তিনি হারাম ইবনে উসমান আল-আনসারি (অতঃপর আল-হারামি) থেকে, এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে কাব ইবনে মালিক আল-আনসারি থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর দুই পুত্র আব্দুর রহমান ও মুহাম্মদ থেকে, তাঁরা তাঁদের পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই প্রতিটি উম্মতের জন্য মাজুসি (অগ্নিউপাসক) রয়েছে, আর আমার উম্মতের মাজুসি হলো কাদারিয়া (তাকদির অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়। সুতরাং তারা অসুস্থ হলে তোমরা তাদের দেখতে যেও না, তারা মারা গেলে তাদের জানাজায় উপস্থিত হয়ো না এবং তারা বিবাহের প্রস্তাব দিলে তাদের নিকট বিবাহ দিও না।"

আর ইদ্রিস আল-আওদি থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিসের ব্যাপারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-মুয়াদ্দিব। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সুলামি।

(হা) এবং এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-বারকানি—আর হাদিসের শব্দগুলো তাঁর—তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে উমর আল-হাফিজ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে মাখলাদ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মনসুর আল-রামানি। তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হারামি ইবনে উমারা ইবনে আবি হাফসা, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২০)
الْهَاشِمِيِّ عَنْ إِدْرِيسَ الأَوْدِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا صَلَّى فِي الْحِجْرِ قَامَ عُمَرُ عَلَى رَأْسِهِ بِالسَّيْفِ

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الدَّقَّاقُ قَالَ قَرَأْنَا عَلَى الْحُسَيْنِ بْنِ هَارُونَ الضَّبِّيِّ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمد بن عبد الله بْنِ زِيَادٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهَاشِمِيُّ الْمَعْبَدِيُّ عَنْ إِدْرِيسَ بْنِ يَزِيدَ فَذَكَرَ حَدِيثَهُ

‌‌الْوَهم الثَّانِي

قَالَ البُخَارِيّ فِي بَاب الْألف من آبَاء المُحَمَّدين مُحَمَّد بن إِسْحَاق هُوَ ابْن أبي يَعْقُوب الْكرْمَانِي مَاتَ سنة أَربع وَأَرْبَعين [وَمِائَتَيْنِ]

وَقَالَ فِي آخر بَاب الْيَاء مِنْهُم مُحَمَّد بن أبي يَعْقُوب أَبُو عبد الله الْكرْمَانِي سمع حسان بن إِبْرَاهِيم

وَالوهم فِي هَذَا أظهر من أَن يذكر مَا يسند إِلَيْهِ أَو يحْتَاج إِلَى أَمر يستشهد بِهِ عَلَيْهِ
আল-হাশিমী ইদ্রিস আল-আওদি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন হিজরে সালাত আদায় করতেন, তখন উমর তাঁর মাথার কাছে তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আদ-দাক্কাক আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা আল-হুসাইন ইবনে হারুন আদ-দব্বীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবুল আব্বাস ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হারামী ইবনে উমারা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হাশিমী আল-মাবাদি আমার নিকট ইদ্রিস ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তাঁর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় বিভ্রান্তি

বুখারি 'মুহাম্মদ' নামধারী ব্যক্তিদের পিতাদের নামের তালিকায় 'আলিফ' পরিচ্ছেদে বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, তিনি হলেন ইবনে আবি ইয়াকুব আল-কিরমানি, তিনি দুইশত চুয়াল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং তিনি তাদের নামের তালিকার 'ইয়া' পরিচ্ছেদের শেষে বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি ইয়াকুব আবু আব্দুল্লাহ আল-কিরমানি, তিনি হাসসান ইবনে ইব্রাহিম থেকে শ্রবণ করেছেন।

এই বিষয়ে বিভ্রান্তিটি এতটাই স্পষ্ট যে এর স্বপক্ষে কোনো দলিল পেশ করার বা কোনো সাক্ষী উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الْوَهم الثَّالِث

قَالَ البُخَارِيّ [مُحَمَّد بن سعيد] حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ أَظُنُّهُ مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ عَنْ عبد الله بن هَارُون سمع عبد الله بْنَ عَمْرٍو الْجُمْعَةُ عَلَى مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ وَقَالَ قُبْيَصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ كَانَ طَاوُسٌ يَدْعُو

وَقَالَ أَبُو دَاوُد أَرَى مُحَمَّدًا هُوَ الطَّائِفِيُّ
তৃতীয় বিভ্রান্তি

বুখারী [মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ প্রসঙ্গে] বলেছেন, আমর ইবনে আব্বাস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে মাহদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন—আমি মনে করি তিনি তায়েফের অধিবাসী—তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হারুন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি আজান শুনতে পায়, তার ওপর জুমা ওয়াজিব।" কুবাইসাহ বলেছেন, সুফিয়ান মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: তাউস দোয়া করতেন।

আবু দাউদ বলেছেন: আমি মনে করি মুহাম্মদ হলেন সেই তায়েফী।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২২)
قُلْتُ وَمُحَمَّدٌ الَّذِي رَوَى عَنْهُ سُفْيَانُ هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ الْمُؤَذِّنُ الطَّائِفِيُّ يُكْنَى أَبَا سَعِيدٍ وَلَمْ يَزِدِ الْبُخَارِيُّ فِي تَرْجَمَتِهِ عَلَى تَسْمِيَتِهِ وَتَسْمِيَهِ أَبِيهِ وَقَدْ رَوَى قُبَيْصَةُ بْنُ عُقْبَةَ عَنْ سُفْيَانَ الْحَدِيثَ الأَوَّلَ مَرْفُوعًا وَزَادَ فِي إِسْنَادِهِ رَجُلا لَمْ يَذْكُرْهُ الْبُخَارِيُّ

وَرَوَاهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَل عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ مَهْدِيٍّ كَمَا رَوَاهُ عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ وَوَقَفَهُ

أَمَّا حَدِيثُ قبيصَة فَأَخْبَرنَاهُ أَبُو نعيم أَحْمد بن عبد الله بن أَحْمَد بن إِسْحَاق الْحَافِظ بِأَصْبَهَانَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنُ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ (ح)

وَأَخْبَرَنَاهُ الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْقَاسِم بن جَعْفَر بن عبد الْوَاحِد الْهَاشِمِيُّ بِالْبَصْرَةِ حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللُّؤْلُؤِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ (ح)

وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو بكر أَحْمَد بن مُحَمَّد بْنِ غَالِبٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ نَبِيهٍ زَادَ ابْنُ غَالِبٍ ابْنَ الْحَجَّاجِ ثُمَّ اتَّفَقُوا عَن عبد الله بن هَارُون عَن عبد الله بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ قَالَ ابْنُ أَبِي دَاوُدَ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ هُوَ الطَّائِفِيُّ ثِقَةٌ وَهَذِهِ سُنَّةٌ تَفَرَّدَ بِهَا أَهْلُ الطَّائِفِ

وَأَمَّا حَدِيثُ ابْنِ حَنْبَلٍ عَنْ عبد الرَّحْمَن فَأَخْبَرنَاهُ أَبُو عبد الله مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ الدَّقَّاقُ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بن سلمَان النجاد حَدثنَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أبي حَدثنَا عبد الرَّحْمَن عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سعيد قَالَ عبد الرَّحْمَن أَظُنُّهُ رَجُلا مِنْ أَهْلِ
আমি বলছি, সুফিয়ান যার থেকে এই দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, সেই মুহাম্মদ হলেন ইবন সাঈদ আল-মুয়াজ্জিন আত-তায়েফি, যার উপনাম আবু সাঈদ। ইমাম বুখারি তার জীবনীতে তার নাম এবং তার পিতার নাম ছাড়া অন্য কিছু বৃদ্ধি করেননি। কুবাইসাহ ইবন উকবাহ সুফিয়ান থেকে প্রথম হাদিসটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে এমন একজন ব্যক্তিকে বৃদ্ধি করেছেন যাকে বুখারি উল্লেখ করেননি।

আর আহমদ ইবন হাম্বল এটি আব্দুর রহমান ইবন মাহদি থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমর ইবন আব্বাস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কুবাইসাহর হাদিসটি সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসফাহানের হাফেজ আবু নুআইম আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন ইসহাক; তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুলাইমান ইবন আহমদ ইবন আইয়ুব আত-তাবারানি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাফস ইবন উমর আর-রাক্কি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট কুবাইসাহ বর্ণনা করেছেন (হ)।

এবং বসরার কাজি আবু উমর আল-কাসিম ইবন জাফর ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু আলি মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আমর আল-লুলুয়ি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ফারিস বর্ণনা করেছেন (হ)।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন গালিব; তিনি বলেন, আমার নিকট আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবন আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট কুবাইসাহ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন সাঈদ থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবন নাবিহ থেকে (ইবন গালিব 'ইবনুল হাজ্জাজ' শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন), অতঃপর তারা সকলে একমত হয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবন হারুন থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "জুমা তার ওপর আবশ্যক যে আজান শুনতে পায়।" ইবন আবু দাউদ বলেন, মুহাম্মদ ইবন সাঈদ হলেন তায়েফি, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং এটি এমন এক সুন্নাহ যা তায়েফবাসীরা এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

আর আব্দুর রহমান থেকে ইবন হাম্বলের হাদিসটি সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবু তাহির আদ-দাক্কাক; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন সালমান আন-নাজ্জাদ; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন সাঈদ থেকে; আব্দুর রহমান বলেন, আমি মনে করি তিনি অধিবাসীদের একজন...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২৩)
الطَّائِف عَن عبد الله بن هَارُون عَن عبد الله بْنِ عَمْرٍو قَالَ الْجُمُعَةُ عَلَى من سمع النداء

قَالَ عبد الله بن أَحْمد عبد الرَّحْمَن وَقَفَهُ وَقَالَ قَبِيصَةُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

وروى أَبُو نعيم الْفضل بن دُكَيْن عَن سُفْيَان الحَدِيث الثَّانِي الَّذِي ذكره البُخَارِيّ فِي دُعَاء طَاوس فَذكر أَبُو نعيم أَن الثَّوْريّ شكّ فِي اسْم شَيْخه كَذَلِك أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن الْفضل الْقطَّان أَخْبَرَنَا عبد الله بن جَعْفَر بن درسْتوَيْه النَّحْوِيّ حَدَّثَنَا يَعْقُوب بن سُفْيَان قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نعيم قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ أَو سعيد بن مُحَمَّد قَالَ أَبُو نعيم كَذَا قَالَ قَالَ كَانَ من دُعَاء طَاوس اللَّهُمَّ امنعني المَال وَالْولد وارزقني الْإِيمَان وَالْعَمَل

وأَخْبَرَنَاهُ أَبُو نعيم الْحَافِظ حَدَّثَنَا سُلَيْمَان بن أَحْمَد الطَّبَرَانِيّ حَدثنَا عَليّ ابْن عبد الْعَزِيز حَدَّثَنَا أَبُو نعيم حَدَّثَنَا سُفْيَان عَن مُحَمَّد بن سعيد أَو سعيد بن مُحَمَّد قَالَ كَانَ من دُعَاء طَاوس اللَّهُمَّ أمتعني بِالْمَالِ وَالْولد وارزقني الْإِيمَان وَالْعَمَل وَأرى اللَّفْظ الأول الْمَحْفُوظ وَالله أعلم

قَالَ البُخَارِيّ إِثْر مَا ذَكرْنَاهُ عَنهُ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ أَبُو سعيد عَن عبد الْعَزِيز ابْن عبد الْملك بْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَبَا مَحْذُورَةَ أَنْ يُرَجِّعَ فِي الأَذَانِ يَقُولُ الصَّلاةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ مَرَّتَيْنِ

وَقد وهم رحمه الله فِي فَصله بَين هَذَا وَبَين الأول لِأَنَّهُ رجل وَاحِد مَعَ أَنه قد قَالَ فِي أثر حَدِيث ابْن محيريز حَدَّثَنِيهِ مُحَمَّد بن أبي
আত-তায়েফ, আবদুল্লাহ ইবনে হারুন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুমার সালাত তার ওপর ওয়াজিব যে আযান শুনতে পায়।

আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: আবদুর রহমান একে মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর কাবিদাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু নুয়াইম আল-ফজল ইবনে দুকাইন, সুফিয়ান থেকে দ্বিতীয় হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যা বুখারি তাউসের দোয়ার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। আবু নুয়াইম উল্লেখ করেছেন যে, সাওরি তার শায়খের নামের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন। এভাবেই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-ফজল আল-কাত্তান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দারাস্তাওয়াইহ আন-নাহবী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ অথবা সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে। আবু নুয়াইম বলেন: তিনি এভাবেই বলেছেন। তিনি বলেন: তাউসের অন্যতম দোয়া ছিল: হে আল্লাহ, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান থেকে বিরত রাখুন এবং আমাকে ঈমান ও নেক আমল দান করুন।

হাফেজ আবু নুয়াইম আমাদের তা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদুল আজিজ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ অথবা সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি বলেন: তাউসের অন্যতম দোয়া ছিল: হে আল্লাহ, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তানের দ্বারা উপকৃত করুন এবং আমাকে ঈমান ও নেক আমল দান করুন। আর আমি প্রথম শব্দটিকে সংরক্ষিত মনে করি এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

ইমাম বুখারি আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পরপরই বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আবু সাঈদ, আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে আবু মাহজুরা থেকে, তিনি ইবনে মুহাইরিজ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু মাহজুরাকে আযানে তারজি করার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি বলবেন ‘সালাত ঘুম হতে উত্তম’ দুইবার।

তিনি (বুখারি) রহমতুল্লাহি আলাইহি এটি এবং পূর্বেরটির মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন, কারণ এটি মূলত একই ব্যক্তি। যদিও তিনি ইবনে মুহাইরিজের হাদিসের বর্ণনার পরে বলেছেন: আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবু...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২৪)
بكر حَدَّثَنَا مُعْتَمر عَن مُحَمَّد وَهُوَ الطَّائِفِي سمع عَطاء سمع مِنْهُ يحيى بن سليم وسُفْيَان فِي الدُّعَاء

وفصله بَين الترجمتين مَعَ هَذَا القَوْل سَهْو كَبِير وإغفال شَدِيد

وَذكر البُخَارِيّ بعد هَذَا خَمْسَة أَسمَاء ثمَّ قَالَ مُحَمَّد بن سعيد أَو ابْن أبي سعيد عَن وهب بن مُنَبّه قَوْله روى عَنهُ إِبْرَاهِيم أَبُو إِسْحَاق

فَزعم أَبُو الْعَبَّاس أَحْمَد بن مُحَمَّد بن سعيد الْحَافِظ أَن صَاحب وهب بن مُنَبّه هَذَا هُوَ مُحَمَّد بن سعيد الطَّائِفِي شيخ الوثري وَإِن إِبْرَاهِيم الَّذِي روى عَنهُ هُوَ إِبْرَاهِيم بن إِسْحَاق أَبُو إِسْحَاق الصَّنْعَانِيّ وَفِي قَول أبي الْعَبَّاس نظر لِأَن أَبَا زرْعَة الرَّازِيّ ذكر هَذِه التَّرْجَمَة فِيمَا أَخذه على البُخَارِيّ وَقَالَ إِنَّمَا هُوَ مُحَمَّد بن أبي سعيد وَاسْتشْهدَ على ذَلِك بِأَن قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نعيم حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم أَبُو إِسْحَاق الصَّنْعَانِيّ عَن مُحَمَّد بن أبي سعيد وَوَافَقَ أَبَا زرْعَة على ذَلِك أَبُو حَاتِم مُحَمَّد بن إِدْرِيس وَلم يَقُولَا أَنه مُحَمَّد بن سعيد الطَّائِفِي فَالله أعلم

وَقد روى مُحَمَّد بن الْحُسَيْن البرجلاني عَن أبي نعيم حَدِيث مُحَمَّد بن أبي سعيد هَذَا أَخْبَرَنَاهُ أَبُو الْحسن مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بن أَحْمَد بن رزقويه الْبَزَّاز أَخْبَرَنَا أَبُو بكر أَحْمَد بن سلمَان النجاد حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي الدُّنْيَا حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن حَدَّثَنَا أَبُو نعيم حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بن أبي إِسْحَاق الصَّنْعَانِيّ قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن أبي سعيد عَن وهب بن مُنَبّه قَالَ من قَرَأَ فِي لَيْلَة الْجُمُعَة بِسُورَة الْبَقَرَة وَسورَة آل عمرَان كَانَ لَهُ نورٌ مَا بَين عجيبًا وعريبًا فَقلت لمُحَمَّد مَا عجيبًا وعريبًا قَالَ عجيبًا أَسْفَل الْأَرْضين وعريبا الْعَرْش هـ
বকর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুতামির আমাদের নিকট মুহাম্মদ—যিনি তায়েফী—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা থেকে শুনেছেন; তাঁর থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম এবং সুফিয়ান দোয়ার ক্ষেত্রে শুনেছেন।

এই বক্তব্যের সাথে দুটি জীবনীগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা একটি বড় ভুল এবং চরম অসতর্কতা।

বুখারি এরপর পাঁচটি নাম উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ অথবা ইবনে আবি সাঈদ, ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে তাঁর বক্তব্য বর্ণনা করেছেন; তাঁর থেকে ইব্রাহিম আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ দাবি করেছেন যে, ওহাব ইবনে মুনাব্বিহর এই সঙ্গী হলেন মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আত-তায়েফী, যিনি ওয়াসারীর উস্তাদ; আর যে ইব্রাহিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আবু ইসহাক আস-সানআনী। আবুল আব্বাসের এই বক্তব্যের ব্যাপারে সংশয় আছে, কারণ আবু জুরআ আর-রাজি ইমাম বুখারির ওপর যে সকল আপত্তি করেছিলেন তার মধ্যে এই জীবনীটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি মূলত মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদ। তিনি এর সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আবু ইসহাক আস-সানআনী আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিসও এই ব্যাপারে আবু জুরআর সাথে একমত হয়েছেন এবং তাঁরা কেউই তাঁকে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আত-তায়েফী বলেননি। আল্লাহই ভালো জানেন।

মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-বুরজুলানী আবু নুয়াইম থেকে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদের এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট এটি সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রিজকুয়াইহ আল-বাযযার; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে সালমান আন-নাজ্জাদ; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিদ দুনিয়া; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আবু ইসহাক আস-সানআনী, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদকে ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা আল-বাকারাহ এবং সূরা আল-ইমরান পাঠ করবে, তার জন্য 'আজীব' এবং 'আরীব'-এর মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত নূর হবে। আমি মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম: 'আজীব' এবং 'আরীব' কী? তিনি বললেন: 'আজীব' হলো জমিনসমূহের সর্বনিম্ন স্তর আর 'আরীব' হলো আরশ। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الْوَهم الرَّابِع

قَالَ البُخَارِيّ مُحَمَّد بن السَّائِب أَبُو النَّضر الْكَلْبِيّ تَركه يحيى بن سعيد وَابْن مهْدي وَقَالَ البُخَارِيّ حَدَّثَنَا عَليّ حَدَّثَنَا يحيى بن سعيد عَن سُفْيَان قَالَ قَالَ لي الْكَلْبِيّ قَالَ لي أَبُو صَالح كل شَيْء حدثتك فَهُوَ كذب وروى مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي النَّضر وَهُوَ الْكَلْبِيّ

وَهَذَا القَوْل صَحِيح وَأما رِوَايَة ابْن إِسْحَاق عَن الْكَلْبِيّ الَّتِي كناه فِيهَا وَلم يسمه فأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَد بن عمر الْمُقْرِئ أَخْبَرَنَا مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ الْمُثَنَّى حَدَّثَهُمْ قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي شُعَيْبٍ أَبُو مُسْلِمٍ الْحَرَّانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ بَاذَانَ مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ ابْنَةِ أَبِي طَالِبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ فِي هَذِه الْآيَة {يَا أَيهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حضر أحدكُم الْمَوْت} قَالَ بَرِئَ النَّاسُ مِنْهَا غَيْرِي وَغَيْرُ عَدِيِّ بْنِ بَدَا وَكَانَا يَخْتَلِفَانِ إِلَى الشَّامِ قَبْلَ الإِسْلامِ فَأَتِيَا الشَّامَ فِي تِجَارَتِهِمَا وَقَدِمَ عَلَيْهِمَا مَوْلَى لِبَنِي سَهْمٍ يُقَالُ لَهُ بَرِيرُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ بِتِجَارَةٍ وَمَعَهُ جَامٌ مِنْ فِضَّةٍ يُرِيدُ بِهَا الْمَلِكَ وَهُوَ عُظْمٌ تِجَارَتِهِ فَمَرَضَ فَأَوْصَى إِلَيْهِمَا وَأَمَرَهُمَا أَنْ يبلغَا مَا تَرَكَ أَهْله قَالَ تَمِيمٌ فَلَمَّا مَاتَ أَخَذْنَا ذَلِكَ الْجَامَ فَبِعْنَاهُ بِأَلْفِ دِرْهَمٍ ثُمَّ اقْتَسَمْنَاهُ أَنَا وَعَدِيُّ بْنُ بَدَا فَلَمَّا قَدِمْنَا إِلَى أَهْلِهِ دَفَعْنَا إِلَيْهِمْ مَا كَانَ مَعَهُ وَفَقَدُوا الْجَامَ فَسَأَلُوا عَنْهُ فَقُلْنَا مَا تَرَكَ غَيْرَ هَذَا وَمَا دَفَعَ إِلَيْنَا غَيْرَهُ

قَالَ تَمِيمٌ فَلَمَّا أَسْلَمْتُ بَعْدَ قُدُومِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَأَثَّمْتُ مِنْ ذَلِكَ فَأَتَيْتُ أَهْلَهُ فَأَخْبَرْتُهُمُ الْخَبَر وَأديت إِلَيْهِم خَمْسمِائَة دِرْهَمٍ وَأَخْبَرْتُهُمْ أَنَّ عِنْدَ صَاحِبَيَّ مِثْلَهَا فَوَثَبُوا إِلَيْهِ فَأَتَوْا بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُمُ الْبَيِّنَةَ فَلَمْ يَجِدُوا فَأَمَرَهُمْ أَنْ
চতুর্থ ভ্রান্তি

ইমাম বুখারী বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে সায়িব আবু আন-নাদর আল-কালবিকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং ইবনে মাহদী বর্জন করেছেন। বুখারী বলেন, আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: কালবি আমাকে বলেছেন, আবু সালেহ আমাকে বলেছেন, "আমি তোমার কাছে যা কিছু বর্ণনা করেছি তা সবই মিথ্যা।" আর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আবু আন-নাদর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হলেন সেই আল-কালবি।

এই উক্তিটি সঠিক। আর ইবনে ইসহাক আল-কালবি থেকে যে বর্ণনাটি করেছেন যাতে তিনি তার উপনাম (কুনিয়াত) ব্যবহার করেছেন কিন্তু নাম উল্লেখ করেননি, সে সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমাদ ইবনে ওমর আল-মুকরি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ী যে, মুয়ায ইবনুল মুসান্না তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আবু শুআইব আবু মুসলিম আল-হাররানী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবু আন-নাদর থেকে, তিনি আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানির আযাদকৃত গোলাম বাযান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি তামীম আদ-দারী থেকে বর্ণনা করেন এই আয়াতের প্রসঙ্গে: {হে মুমিনগণ! তোমাদের কারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন অসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে...}। তিনি (তামীম) বলেন: আমি এবং আদী ইবনে বাদা ছাড়া অন্য সকল মানুষ এই ঘটনা থেকে মুক্ত ছিল। তারা দুজন ইসলামের পূর্বে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন। একদা তারা তাদের ব্যবসায়িক কাফেলা নিয়ে সিরিয়ায় আসলেন। সেখানে বনু সাহম গোত্রের বারীর ইবনে আবু মারইয়াম নামক এক আযাদকৃত গোলাম ব্যবসার পণ্য নিয়ে তাদের নিকট আসলেন। তার সাথে একটি রূপার পানপাত্র ছিল যা তিনি বাদশাহর নিকট পেশ করতে চেয়েছিলেন এবং সেটিই ছিল তার ব্যবসার প্রধান মূলধন। তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাদের দুজনকে অসিয়ত করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন তারা তার রেখে যাওয়া সম্পদসমূহ তার পরিবারের নিকট পৌঁছে দেয়। তামীম বলেন: যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন, তখন আমরা সেই পানপাত্রটি গ্রহণ করলাম এবং এক হাজার দিরহামে বিক্রি করে দিলাম। এরপর আমি এবং আদী ইবনে বাদা সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলাম। যখন আমরা তার পরিবারের নিকট ফিরে আসলাম, তখন তার কাছে থাকা অন্যান্য সম্পদসমূহ তাদের বুঝিয়ে দিলাম। তারা পানপাত্রটি না পেয়ে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। আমরা বললাম: তিনি এগুলো ছাড়া আর কিছু রেখে যাননি এবং আমাদের কাছেও অন্য কিছু হস্তান্তর করেননি।

তামীম বলেন: যখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের পর ইসলাম গ্রহণ করলাম, তখন আমি এই কাজের কারণে নিজেকে অপরাধী মনে করলাম। ফলে আমি তার পরিবারের নিকট গিয়ে প্রকৃত ঘটনা খুলে বললাম এবং তাদেরকে পাঁচশ দিরহাম ফিরিয়ে দিলাম। আমি তাদের আরও জানালাম যে, আমার সাথীর নিকটও অনুরূপ সমপরিমাণ অর্থ রয়েছে। তখন তারা দ্রুত তার (আদী) নিকট ছুটে গেল এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসল। তিনি তাদের নিকট প্রমাণ চাইলেন, কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারল না। তখন তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যে—
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২৬)
يَسْتَحْلِفُوهُ بِمَا يعظم بِهِ عَلَى أَهْلِ دِينِهِ فَحَلَفَ فَأَنْزَلَ الله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا شَهَادَة بَيْنكُم} إِلَى قَوْلِهِ {أَوْ يَخَافُوا أَنْ ترد أَيْمَان بعد أَيْمَانهم} فَقَامَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَرَجُلٌ آخر مَعَه فَحَلفا فنزعت الْخَمْسمِائَةِ مِنْ عَدِيِّ بْنِ بدَا

ذكر البُخَارِيّ بعد الْكَلَام الَّذِي قدمنَا حكايته عَنهُ مُحَمَّد بن السَّائِب الْبكْرِيّ ثمَّ قَالَ مُحَمَّد بن السَّائِب بن بشر سمع عَمْرو بن عبد الله بن الْحَضْرَمِيّ سمع مِنْهُ مُحَمَّد بن إِسْحَاق فَوَهم فِي التَّفْرِيق بَين هَذَا وَبَين الأول الَّذِي بدأنا بِذكرِهِ لِأَنَّهُ رجل وَاحِد وَهُوَ مُحَمَّد بن السَّائِب بن بشر أَبُو النَّضر الْكَلْبِيّ من أهل الْكُوفَة كَذَلِك اُخْبُرْنَا أَو خازم مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الْفراء حَدَّثَنَا الْحُسَيْن بن عَليّ بن أبي أُسَامَة الْحلَبِي حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرو مُوسَى بن الْقَاسِم الأشيب حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي الدُّنْيَا حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن سعد قَالَ مُحَمَّد بن السَّائِب بن بشر الْكَلْبِيّ من بني عبد ود ويكنى أَبَا النَّضر أَخْبرنِي هِشَام بن مُحَمَّد قَالَ توفّي سنة سِتّ وَأَرْبَعين وَمِائَة

وأَخْبَرَنَا أَبُو سعيد الْحسن بن مُحَمَّد بن عبد الله بن حسنويه الْكَاتِب بأصبهان أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن جَعْفَر بن حَيَّان حَدَّثَنَا عمر بن أَحْمَد بن إِسْحَاق الْأَهْوَازِي حَدَّثَنَا خَليفَة بن خياط قَالَ مُحَمَّد بن السَّائِب بن بشر بن عَمْرو بن الْحَارِث بن عبد الْعُزَّى من كلب يكنى أَبَا النَّضر مَاتَ سنة سِتّ وَأَرْبَعين وَمِائَة
তারা তাকে এমন বিষয়ের শপথ করতে বলেছিল যা তার ধর্মাবলম্বীদের কাছে মর্যাদাপূর্ণ, ফলে সে শপথ করল। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার বিধান...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {অথবা তারা ভয় করবে যে, তাদের শপথের পর পুনরায় শপথ গ্রহণ করা হবে}। এরপর আমর ইবনুল আস এবং তার সাথে অন্য একজন ব্যক্তি দাঁড়ালেন এবং তারা শপথ করলেন, ফলে আদি বিন বাদা থেকে পাঁচশ মুদ্রা ফেরত নেওয়া হলো।

ইমাম বুখারি আমরা ইতোপূর্বে তাঁর যে বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি তার পর মুহাম্মাদ বিন সাইব আল-বাকরি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তারপর তিনি বলেছেন, মুহাম্মাদ বিন সাইব বিন বিশর, তিনি আমর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদরামি থেকে শুনেছেন, এবং তাঁর থেকে মুহাম্মাদ বিন ইসহাক শুনেছেন। সুতরাং তিনি একে এবং আমরা প্রথমে যার কথা উল্লেখ করেছি তাদের মাঝে পার্থক্য করতে গিয়ে ভুল করেছেন, কারণ তিনি মূলত একজনই ব্যক্তি; তিনি হলেন কুফাবাসী মুহাম্মাদ বিন সাইব বিন বিশর আবু আন-নাদর আল-কালবি। অনুরুপভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খাযিম মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-ফাররা, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবু উসামাহ আল-হালাবি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আমর মুসা বিন আল-কাসিম আল-আশইব, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবিদ দুনইয়া, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন সাদ। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন সাইব বিন বিশর আল-কালবি বনু আবদে ওদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর উপনাম আবু আন-নাদর। হিশাম বিন মুহাম্মাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একশ ছেচল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসনুওয়াইহ আল-কাতিব ইসফাহানে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন হাইয়ান, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমাদ বিন ইসহাক আল-আহওয়াজি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন খলিফা বিন খাইয়াত। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন সাইব বিন বিশর বিন আমর বিন আল-হারিস বিন আব্দুল উজ্জা কালব গোত্রের, তাঁর উপনাম আবু আন-নাদর, তিনি একশ ছেচল্লিশ হিজরি সনে মারা যান।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الْوَهم الْخَامِس

قَالَ البُخَارِيّ فِي آخر بَاب الشين من آبَاء المُحَمَّدين مُحَمَّد بن أبي شملة عَن منكدر بن مُحَمَّد سمع مِنْهُ يَعْقُوب بن مُحَمَّد ثمَّ قَالَ فِي بَاب الْعين مِنْهُم مُحَمَّد بن عمر الْوَاقِدِيّ (مديني) قَاضِي بَغْدَاد عَن معمر وَمَالك مَتْرُوك الحَدِيث مَاتَ سنة سبع وَمِائَتَيْنِ أَو بعْدهَا بِقَلِيل

وَمُحَمّد بن أبي شملة هُوَ مُحَمَّد بن عمر أَبُو عبد الله الْوَاقِدِيّ لَيْسَ بِغَيْرِهِ وَكَانَ لَهُ أَخ يُسمى شَمله فكنى يَعْقُوب وَالِد الْوَاقِدِيّ بِهِ وَنسبه إِلَيْهِ فِي الرِّوَايَة عَنهُ تدليسًا لَهُ

أخبرنَا

أَخْبَرَنَا بِحَدِيثِهِ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ لُؤْلُؤٍ الْوَرَّاقُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّطَوِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بن عُثْمَان عَن عبيد الله بْنِ سَعِيدِ بْنِ يَرْبُوعٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ يَعْقُوبُ وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي شَمْلَةَ عَنِ الْمُنْكَدِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدر عَن أَبِيه عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ سَعِيدِ بْنِ يَرْبُوعٍ عَنْ جَبَلَةَ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ الْعَجُّ وَالثَّجُّ

هَكَذَا قَرَأْتُهُ عَلَى الْجَوْهَرِيِّ مِنْ أَصْلِ كِتَابِ ابْنِ لُؤْلُؤٍ

وَأَخْبَرَنِيهِ أَبُو الْفَرَجِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الطَّنَاجِيرِيُّ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ
পঞ্চম বিভ্রান্তি

বুখারী মুহাম্মদগণের পিতাদের মধ্য থেকে 'শীন' (ش) বর্ণের পরিচ্ছেদের শেষে বলেছেন, মুহাম্মদ বিন আবু শামলা, তিনি মুনকাদির বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ তার থেকে শুনেছেন। অতঃপর তিনি তাদের মধ্য থেকে 'আইন' (ع) বর্ণের পরিচ্ছেদে বলেছেন, মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি (মাদানি), বাগদাদের বিচারক, তিনি মা’মার ও মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি হাদিসে পরিত্যক্ত (মাতরুকুল হাদিস), তিনি দুইশত সাত হিজরি সনে অথবা তার কিছুকাল পরে মৃত্যুবরণ করেছেন।

আর মুহাম্মদ বিন আবু শামলা হলেন মুহাম্মদ বিন উমর আবু আব্দুল্লাহ আল-ওয়াকিদি, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নন। তার শামলা নামে এক ভাই ছিল, ফলে ইয়াকুব আল-ওয়াকিদিকে তার নামে উপনাম (কুনিয়াত) প্রদান করেছেন এবং তার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তার পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে (তাদলিস স্বরূপ) তাকে তার দিকে সম্বন্ধ করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন

আমাদেরকে তার হাদিস সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন লুলু আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-শাতাওয়ী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুসলিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাহহাক বিন উসমান, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন ইয়ারবু থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেন। ইয়াকুব বলেন, আর মুহাম্মদ বিন আবু শামলা আমার নিকট তা বর্ণনা করেছেন মুনকাদির বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন সাঈদ বিন ইয়ারবু থেকে, তিনি জাবালা বিন আল-হুয়াইরিস থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, "সজোরে তালবিয়াহ পাঠ করা এবং কুরবানির রক্ত প্রবাহিত করা।"

ইবনুল লুলু-এর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আল-জাওহারির নিকট এভাবেই আমি এটি পাঠ করেছি।

আর আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফরাজ আল-হুসাইন বিন আলী আল-তানাজিরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমদ...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২৮)
الْوَاعِظُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الْحَضْرَمِيّ قَالَ حَدثنِي عبيد الله بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي شَمْلَةَ عَنِ الْمُنْكَدِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ أَبِيهِ عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ سَعِيدٍ عَنْ جَبَلَةَ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ الْعَجُّ وَالثَّجُّ

رَوَاهُ شُعَيْب بن بكار عَن مُحَمَّد بن أبي شملة فَقَالَ فِيهِ عَن جُبَير بن الْحُوَيْرِث مَكَان جبلة بن الْحُوَيْرِث كَذَلِكَ أَخْبَرَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ
আল-ওয়ায়েজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবি শামলাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুনকাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি জাবালাহ ইবনে আল-হাওয়াইরিস থেকে এবং তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "কোন আমলটি সর্বোত্তম?" তিনি বললেন, "উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং (কুরবানির পশুর) রক্ত প্রবাহিত করা।"

শুআইব ইবনে বাক্কার এটি মুহাম্মাদ ইবনে আবি শামলাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এতে জাবালাহ ইবনে আল-হাওয়াইরিসের স্থলে জুবাইর ইবনে আল-হাওয়াইরিস উল্লেখ করেছেন। এভাবেই আল-হুসাইন ইবনে আবুল হাসান আমাকে অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْوَرَّاقُ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بن عُثْمَان حَدثنَا عبد الله بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ بَكَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي شَمْلَةَ الْمَدَنِيُّ حَدَّثَنَا الْمُنْكَدِرُ بْنُ مُحَمَّد عَن أَبِيه عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ سَعِيدِ بْنِ يَرْبُوعٍ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ الْعَجُّ وَالثَّجُّ

وَقد روى يَعْقُوب بن مُحَمَّد عَن الْوَاقِدِيّ حَدِيثا آخر سَمَّاهُ فِيهِ مُحَمَّد بن أبي شملة أخبرناه أَبُو عمر عبد الْوَاحِد بن مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ مَهْدِيٍّ الْبَزَّازُ فِي سَنَةِ سبع واربعمائة حَدثنَا القَاضِي أَبُو عبد الله الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ إِمْلاءً فِي سنة تسع وَعشْرين وثلاثمائة ثُمَّ أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ الْحَرْبِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِيُّ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمَّادٍ قَالا حَدثنَا عبد الله بْنُ شَبِيبٍ حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي شَمْلَةَ حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ عَمِّهِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ خَالِدٍ بِنْتَ خَالِدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ تَقُولُ لَمَّا كَانَ قُبَيْلُ مَبْعَثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَا خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ ذَاتَ لَيْلَةٍ نَائِمٌ فَقَالَ رَأَيْت كَأَنَّهُ غشية مَكَّة ظلمَة حَتَّى لَا يُبْصِرَ امْرُؤٌ كَفَّهُ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ خَرَجَ نُورٌ ثُمَّ علا فِي السَّمَاءَ فَأَضَاءَ فِي الْبَيْتِ ثُمَّ أَضَاءَتْ مَكَّةُ كُلُّهَا ثُمَّ إِلَى نَجْدِ يَثْرِبَ وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ ثُمَّ إِلَى نَجْدٍ ثُمَّ إِلَى يَثْرِبَ فَأَضَاءَهَا حَتَّى إِنِّي لأَنْظُرُ إِلَى الْبُسْرِ فِي النَّخْلِ فَاسْتَيْقَظْتُ فَقَصَصْتُهَا عَلَى أَخِي عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ وَكَانَ جَزِلَ الرَّأْيِ فَقَالَ يَا أَخِي إِنَّ هَذَا الأَمْرَ يَكُونُ فِي بني عبد الْمطلب أَلا تَرَى أَنَّهُ خَرَجَ مِنْ حَفِيرَةِ أَبِيهِمْ قَالَ خَالِدٌ فَإِنَّهُ لَمَّا هَدَانِي اللَّهُ لِلإِسْلامِ قَالَتْ أم خَالِد فَأول من أَسْلَمَ أَبِي وَذَلِكَ أَنَّهُ ذَكَرَ رُؤْيَاهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا خَالِدُ أَنَا وَاللَّهِ ذَلِكَ النُّورُ وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ فَقَصَّ عَلَيْهِ مَا بَعَثَهُ اللَّهُ بِهِ فَأَسْلَمَ خَالِدٌ وَأَسْلَمَ عَمْرٌو بَعْدَهُ
আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব ইবনে বক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি শামলা আল-মাদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুনকাদির ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সাইদ ইবনে ইয়ারবু থেকে, তিনি জুবাইর ইবনুল হুয়াইরিস থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং কুরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করা।"

ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াকিদি থেকে অন্য একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যাতে তিনি তাকে মুহাম্মদ ইবনে আবি শামলা বলে নামকরণ করেছেন। আমাদের তা জানিয়েছেন আবু উমর আবদুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাহদি আল-বাযযায চারশত সাত হিজরি সালে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি তিনশত উনত্রিশ হিজরি সালে শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে। অতঃপর আমাদের জানিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ফাতহ আল-হারবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল এবং ইবরাহিম ইবনে হাম্মাদ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে শাবিব, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি শামলা, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে উকবা তাঁর চাচা মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি বলেন: আমি উম্মু খালিদ বিনতে খালিদ ইবনে সাইদ ইবনুল আস-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির কিছুকাল আগে, এক রাতে খালিদ ইবনে সাইদ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় একটি স্বপ্ন দেখেন। তিনি বললেন: আমি দেখলাম যেন মক্কা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে, এমনকি কোনো ব্যক্তি তার নিজের হাতের তালুও দেখতে পাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় হঠাৎ একটি নূর বের হলো এবং আকাশে উপরে উঠে গেল। ফলে তা কাবাঘরকে আলোকিত করল, এরপর পুরো মক্কা আলোকিত হলো, এরপর তা নজদ ও ইয়াসরিবের দিকে গেল। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: "অতঃপর নজদের দিকে এবং এরপর ইয়াসরিবের দিকে, এবং তা এত বেশি আলোকিত হলো যে আমি খেজুর গাছের কাঁচা খেজুর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিলাম।" এরপর আমি জাগ্রত হলাম এবং আমার ভাই আমর ইবনে সাইদের কাছে তা বর্ণনা করলাম, সে ছিল প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন। সে বলল: হে আমার ভাই! নিশ্চয়ই এই বিষয়টি বনু আবদুল মুত্তালিবের মধ্যে ঘটবে; তুমি কি দেখছ না যে এটি তাদের পিতার খননকৃত স্থান থেকে বের হয়েছে? খালিদ বলেন: যখন আল্লাহ আমাকে ইসলামের দিকে হেদায়েত দান করলেন— উম্মু খালিদ বলেন: সর্বপ্রথম যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি হলেন আমার পিতা। আর তা এ কারণে যে, তিনি তাঁর স্বপ্নের কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ব্যক্ত করেছিলেন। তখন তিনি বললেন: হে খালিদ! আল্লাহর কসম, আমিই সেই নূর এবং আমি আল্লাহর রাসূল। এরপর তিনি তাঁর নিকট আল্লাহ যা দিয়ে তাঁকে পাঠিয়েছেন তা ব্যক্ত করলেন। তখন খালিদ ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁর পরে আমর ইসলাম গ্রহণ করলেন।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيُّ قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمَّادٍ سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ الأَصْبَهَانِيَّ وَهُوَ الَّذِي انْتَقَى هَذَا الْحَدِيثَ عَلَى ابْنِ شَبِيبٍ فَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي شَمْلَةَ هَذَا هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَاقِدِيُّ

وَمن حَدِيث شملة بن عمر أخي الْوَاقِدِيّ مَا أَخْبَرَنَا أَبُو سعيد الْحسن بن مُحَمَّد بن عبد الله الأَصْبَهَانِيُّ بِهَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَعْبَدٍ السِّمْسَارُ حَدَّثَنَا عبد الله بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ وَاقِدٍ أَخْبَرَنِي أَخِي شَمْلَةُ بْنُ عُمَرَ بْنِ وَاقِدٍ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ شَيْبَةَ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ الأَشْجَعِيُّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدَرُ الْوَجْهِ مِنَ النَّبِيذِ تَتَنَاثَرُ مِنْهُ الْحَسَنَاتُ

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْفَقِيهُ مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الإِسْمَاعِيلِيُّ أَخْبرنِي المنيعي يَعْنِي عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الْعَزِيز حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الْملك الدَّقِيقِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ عَنْ أَخِيهِ شَمْلَةَ بْنِ عُمَرَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ شَيْبَةَ الأَشْجَعِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدَرُ الْوَجْهِ مِنَ النَّبِيذِ تَسَاقَطُ مِنْهُ الْحَسَنَاتُ كَذَا قَالَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ شَيْبَةَ وَعُمَرُ بْنُ شَيْبَةَ هُوَ الصَّوَابُ

‌‌الْوَهم السَّادِس

قَالَ البُخَارِيّ مُحَمَّد بن طَلْحَة بن عبد الله أَن أَبَاهُ طَلْحَة خَاصم إِلَى عمر بن عبد الْعَزِيز قَوْله سمع مِنْهُ ابْن جريج ثمَّ قَالَ فِي أَثَره مُحَمَّد بن طَلْحَة بن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر الْقرشِي
আবু হাসান আদ-দারাকুতনী বলেছেন, ইব্রাহিম ইবনে হাম্মাদ বলেছেন, আমি ইব্রাহিম আল-আসবাহানীকে বলতে শুনেছি—যিনি ইবনে শাবীবের নিকট হতে এই হাদিসটি নির্বাচন করেছেন—তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবি শামলাহ্ হলেন মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদী।

ওয়াকিদীর ভাই শামলাহ্ ইবনে উমরের হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানী সেখানে, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে মাবাদ আস-সিমসার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নুমান, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে দাউদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে ওয়াকিদ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার ভাই শামলাহ্ ইবনে উমর ইবনে ওয়াকিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে শাইবাহ্ ইবনে আবি কাসির আল-আশজায়ী, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নাবিজ পানের কারণে মুখমণ্ডল বিবর্ণ বা অবশ হয়ে গেলে তা থেকে নেকিসমূহ ঝরে পড়ে।"

আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে গালিব আল-ফকিহ্ তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-ইসমাঈলী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-মানীঈ অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক আদ-দাকিকী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উমর তাঁর ভাই শামলাহ্ ইবনে উমর থেকে, তিনি কাসির ইবনে শাইবাহ্ আল-আশজায়ী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নাবিজ পানের কারণে মুখমণ্ডল বিবর্ণ বা অবশ হয়ে গেলে তা থেকে নেকিসমূহ ঝরে পড়ে।" তিনি এভাবেই 'কাসির ইবনে শাইবাহ্' থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে 'উমর ইবনে শাইবাহ্' নামটুকুই সঠিক।

‌ষষ্ঠ বিভ্রান্তি

বুখারী বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ, তাঁর পিতা তালহা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট কোনো বিষয়ে বিবাদ নিয়ে গিয়েছিলেন। ইবনে জুরাইজ তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। এরপর তিনি এর অনুসরণে বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে তালহা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর আল-কুরাশি।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৩১)
قَالَ الْخَطِيب وَهَذَا وَالَّذِي قبله وَاحِد وَقد وهم البُخَارِيّ إِذْ جعله اثْنَيْنِ

أَخْبَرَنَا بِحَدِيثِهِ أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ الصَّيْرَفِيُّ بِنَيْسَابُورَ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بن يَعْقُوب الْأُمَم حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّنْعَانِيُّ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عبد الله بن عبد الرَّحْمَن عَنْ أَبِيهِ طَلْحَةَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السُّلَمِيِّ أَنَّ جَاهِمَةَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَدْتُ أَنْ أَغْزُوَ وَقَدْ جِئْتُكَ أَسْتَشِيرُكَ فَقَالَ هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَالْزَمْهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ عِنْدَ رِجْلِهَا ثُمَّ الثَّانِيَةَ ثُمَّ الثَّالِثَةَ فِي مَقَاعِدَ شَتًّى فَكَمِثْلِ هَذَا الْقَوْلِ

وَهَكَذَا رَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ الشَّيْبَانِيُّ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَاهُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ مُحَمَّدٍ النِّعَالِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن عَنْ أَبِيهِ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ أَنَّ جَاهِمَةَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرَدْتُ أَن أغزو فَجئْت أَسْتَشِيرُكَ قَالَ فَهَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ قَالَ نَعَمْ قَالَ الْزَمْهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ قَدَمِهَا فَقَالَ فِي الثَّانِيَةِ أَوِ الثَّالِثَةِ مِثْلَ ذَلِكَ

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الدَّقَّاقُ قَالَ قَرَأْنَا عَلَى الْحُسَيْنِ بْنِ
আল-খতিব বলেন, এটি এবং এর পূর্ববর্তীটি এক, আর ইমাম বুখারি ভুল করেছেন যখন তিনি একে দুইজন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন।

আবু সাঈদ মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন ফাদল বিন শাযান আস-সাইরাফি নিসাবুরে আমাদের তার হাদিস জানিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-উমাম আমাদের বলেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস-সানআনি আমাদের বলেছেন, হাজ্জাজ আমাদের বলেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাকে জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন তালহা বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান তার পিতা তালহা থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন জাহিমাহ আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেন যে, জাহিমাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি এবং আপনার নিকট পরামর্শ নিতে এসেছি। তিনি বললেন, তোমার কি মা আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে তাকে আঁকড়ে ধরো (তার সাথে থাকো), কেননা জান্নাত তার পায়ের কাছে। অতঃপর দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার বিভিন্ন মজলিসে তিনি অনুরূপ কথা বললেন।

আর এভাবেই আবু আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আশ-শাইবানি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন তালহা বিন মুহাম্মাদ আন-নিআলি আমাদের এটি জানিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম আশ-শাফিঈ আমাদের বলেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইউনুস বিন মুসা আমাদের বলেছেন, আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আমাদের বলেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের বলেছেন, মুহাম্মাদ বিন তালহা বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান তার পিতা থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন জাহিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, জাহিমাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি, তাই আপনার নিকট পরামর্শ নিতে এসেছি। তিনি বললেন, তোমার কি মা আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে তার সাথে থাকো, কেননা জান্নাত তার পায়ের নিচে। অতঃপর দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও তিনি অনুরূপ বললেন।

আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আদ-দাক্কাক আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আমরা আল-হুসাইন বিন এর নিকট পাঠ করেছি...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৩২)
هَارُونَ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله بْنِ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغلس حَدثنَا عبد الرَّحِيم بْنُ سُلَيْمَانَ وَيُونُسُ بْنُ بَكِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّد بن طَلْحَة بن عبد الرَّحْمَن بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السُّلَمِيِّ قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ هَذَا الحَدِيث

وَهَكَذَا رَوَاهُ عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الضَّبِّيُّ عَنْ يُونُسَ بْنِ بَكِيرٍ

وَرَوَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ عَنْ عَبْدَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ طَلْحَةَ بْنِ مُعَاوِيَةَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ قَالَ جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا

وَرَوَاهُ يُوسُفُ بْنُ بُهْلُولٍ وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ عَنْ عَبْدَةَ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَن ابْن طَلْحَة بن عبد الله عَنْ مُعَاوِيَةَ كَذَلِكَ وَرَوَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيَبْةَ عَنْ عبد الرَّحِيم بْنِ سُلَيْمَانَ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم

وَكَذَلِكَ رَوَاهُ فَرْوَةُ بن أبي المغراء عَن عبد الرَّحِيم

وَرَوَاهُ عبد الله بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو حَكِيمَةٍ الْكُوفِيُّ عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَة بن عبد الرَّحْمَن عَنْ أَبِيهِ عَنْ مُعَاوِيَةَ السُّلَمِيِّ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم

وَخَالَفَهُ هِشَامُ بْنُ يُونُسَ فَرَوَاهُ عَنِ الْمُحَارِبِيِّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مُعَاوِيَةَ السُّلَمِيِّ
হারুন বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুবাহরাহ ইবনুল মুগাল্লিস, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাহিম ইবনে সুলায়মান ও ইউনুস ইবনে বুকাইর, তারা মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে জাহিমাহ আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম, অতঃপর তিনি এই হাদীসটি উল্লেখ করেন।

আর এভাবেই উকবা ইবনে মুকরাম আদ-দাব্বি এটি ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবনুল আলা এটি আবদাহ ইবনে সুলায়মান থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনে তালহা ইবনে মুআবিয়া থেকে—যিনি বনু সুলাইম গোত্রের একজন ব্যক্তি—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এটি নিয়ে এসেছি।

আর ইউসুফ ইবনে বুহলুল এবং হান্নাদ ইবনুল সাররি এটি আবদাহ থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনে তালহা ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মুআবিয়া থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ এটি আবদুর রাহিম ইবনে সুলায়মান থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে তালহা থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে জাহিমাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছি।

আর একইভাবে ফারওয়া ইবনে আবিল মাগরা এটি আবদুর রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আবু হাকিমাহ আল-কুফি এটি আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুআবিয়া আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছি।

তবে হিশাম ইবনে ইউনুস তার বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি আল-মুহারিবি থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুআবিয়া আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَقَوْلُ أَبِي حَكِيمَةَ أَصَحُّ لِمُخَالَفَةِ هِشَام بْنِ يُونُسَ الْجَمَاعَةَ

وَرَوَى عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْنٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بن عبد الله السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ مِثْلَ رِوَايَةِ ابْنِ جُرَيْجٍ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا وَلَمْ يُتَابِعِ الْقَاسِمَ بْنَ مَعْنٍ أَحَدٌ عَلَى قَوْلِهِ السُّلَمِيِّ وَاللَّهُ أَعْلَمُ

وَقد روى عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر الْمليكِي عَن مُحَمَّد بن طَلْحَة بن عبد الله حَدِيثا أَخْبَرَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بن عمر الْمُقْرِئ حَدثنَا عبد الله بْنُ يَحْيَى الطَّلْحِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عبد الله الْحَضْرَمِيُّ حَدَّثَنَا ضِرَارُ بْنُ صُرَدَ حَدثنَا محد بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ أَبِي بَكْرٍ

[ح] وَأَخْبَرَنِيهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الطَّنَاجِيرِيُّ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَاعِظُ حَدَّثَنَا عبد الله بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بن هَانِئ حَدثنَا آدم ابْن أبي إِيَاس حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ [ح] وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ غَيْلانَ الْبَزَّازُ مَرَّاتٍ لَا أُحْصِيهَا كَثْرَةً أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله الشَّافِعِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الأَحْمَرُ حَدَّثَنَا الْمُسَيَّبُ بْنُ شريك أَخْبرنِي عبد الرَّحْمَن بْنُ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوُدُّ وَالْعَدَاوَةُ يُتَوَارَثَانِ

وَفِي حَدِيثِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ يُتَوَارَثُ خَالَفَهُمْ مُوسَى بْنُ دَاوُدَ الضَّبِّيُّ وَأَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ عَنِ الْمُلَيْكِيِّ فَقَالا مَا أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ عبد الْغفار بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمُؤَدِّبُ أخبرنَا مُحَمَّد بن عبد الله بْنِ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ نُعَيْمٍ الْمَرْوَزِيُّ حَدَّثَنَا مُوسَى بن دَاوُد حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بن طَلْحَة عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ
আবু হাকিমার বক্তব্যই অধিক সঠিক, কারণ হিশাম বিন ইউনুস জামাতের (অন্যান্য বর্ণনাকারীদের) বিরোধিতা করেছেন।

আর কাসিম বিন মা'ন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন তালহা বিন আব্দুল্লাহ আস-সুলামী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে আমরা ইতিপূর্বে ইবনে জুরাইজের যে বর্ণনা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আস-সুলামী বলার ক্ষেত্রে কাসিম বিন মা'নকে কেউ অনুসরণ করেনি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আব্দুর রহমান বিন আবু বকর আল-মুলাইকি মুহাম্মদ বিন তালহা বিন আব্দুল্লাহ থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আহমদ বিন ওমর আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আত-তালহি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন দিরার বিন সুরাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আবু ফুদাইক, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবু বকর থেকে।

[সনদ পরিবর্তন] এবং আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন বিন আলী আত-তানাজিরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ওমর বিন আহমদ আল-ওয়াইয, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন হানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আদম বিন আবু ইয়াস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর বিন আবু মুলাইকাহ। [সনদ পরিবর্তন] এবং আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন গাইলান আল-বাযযার অগণিত বার, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন মুসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন ইসহাক আল-আহমার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসাইয়িব বিন শারিক, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আবু বাকরাহ মুহাম্মদ বিন তালহা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বন্ধুত্ব এবং শত্রুতা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়।"

আর ইবনে আবু ফুদাইকের হাদিসে (উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি) একবচনে এসেছে। মুসা বিন দাউদ আদ-দাব্বি এবং আবু আমির আল-আকাদি আল-মুলাইকি থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করেছেন। তারা উভয়েই বর্ণনা করেছেন যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-মুয়াদ্দিব, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ বিন নুআইম আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা বিন দাউদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, তিনি মুহাম্মদ বিন তালহা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবু বকর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, নিশ্চয়ই আবু বকর আস-সিদ্দিক...
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَالَ لِرَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ كَانَ يَصْحَبُهُ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ أَيْ عُفَيْرُ كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي الْوُدِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوُدُّ يُتَوَارَثُ وَالْعَدَاوَةُ كَذَلِكَ

وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحسن بشرى بن عبد الله الرُّومِيُّ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ الْخُتُّلِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَبَّارُ حَدَّثَنَا أَبُو ذَرٍّ الْحَذَّاءُ وَاسْمُهُ السَّقْرُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنِي أَبُو عَامر الْعَقدي حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بن طَلْحَة بن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَجُلا مِنَ الْعَرَبِ كَانَ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ كَانَ يَصْحَبُ أَبَا بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ أَبُو بكر أَيْ عُفَيْرُ كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي الْوُدِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ الْوُدَّ يُتَوَارَثُ وَإِنَّ الْبُغْضَ يُتَوَارَثُ

وَهَكَذَا رَوَاهُ معن بن عِيسَى عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَخْبَرَنَا عَليّ بن أبي عَليّ الْمعدل قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن عبد الله الدوري وَمُحَمّد بن عبد الرَّحْمَن الذَّهَبِيّ قَالَا حَدَّثَنَا أَحْمَد بن سُلَيْمَان الطوسي حَدَّثَنَا الزبير بن بكار حَدثنِي أخي عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر قَالَ حَدثنِي عَيَّاش بن أبي بكر بن عبد الله بن عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر الصّديق قَالَ سَابق عمر بن عبد الْعَزِيز بِالْخَيْلِ بِالْمَدِينَةِ وَكَانَ فِيهَا فرس لمُحَمد بن طَلْحَة بن عبد الله وَفرس لإِنْسَان جعدي فتسايروا حَيْثُ جَاءَت الْخَيل فَإِذا فرس الْجَعْدِي مُتَقَدم فَجعل الْجَعْدِي يرتجز بأبعد صوتيه

غَايَة مجد نصبت يَا من لَهَا

نَحن حَوَيْنَاهَا وَكُنَّا أَهلهَا … لَو ترسل الطير لجئنا قبلهَا

قَالَ فَلم ينشب أَن لحقه فرس مُحَمَّد بن طَلْحَة وجاوزه فجَاء سَابِقًا فَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز للجعدي سَبَقَك وَالله ابْن السباق إِلَى الْخيرَات
তিনি এক আরব ব্যক্তিকে বললেন, যিনি তাঁর সাহচর্যে থাকতেন এবং তাঁকে উফাইর বলা হতো: হে উফাইর! ভালোবাসা সম্পর্কে তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কী বলতে শুনেছ? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ভালোবাসা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয় এবং শত্রুতাও তদ্রূপ।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান বুশরা বিন আবদুল্লাহ আর-রুমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন সালম আল-খুততালি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আলী আল-আব্বার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যার আল-হাদ্দা—যাঁর নাম সাকর বিন হুসাইন—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমির আল-আকদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আবু বকর, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন তালহা বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক তাঁর পিতা থেকে যে, আরবদের মধ্যে উফাইর নামে এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি আবু বকর (রা.)-এর সাহচর্যে থাকতেন। আবু বকর (রা.) তাঁকে বললেন, হে উফাইর! ভালোবাসা সম্পর্কে তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কী বলতে শুনেছ? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই ভালোবাসা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয় এবং নিশ্চয়ই ঘৃণা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়।

এবং এভাবেই মা'ন বিন ঈসা এটি আবদুর রহমান বিন আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আবু আলী আল-মুয়াদ্দাল, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আবদুল্লাহ আদ-দাওরি এবং মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আজ-জাহাবি, তাঁরা উভয়ে বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সুলাইমান আত-তুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুবাইর বিন বাক্কার, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার ভাই আবদুর রহমান বিন আবু বকর, তিনি বলেন—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়াশ বিন আবু বকর বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক, তিনি বলেন: উমর বিন আবদুল আজিজ মদিনায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। তাতে মুহাম্মদ বিন তালহা বিন আবদুল্লাহর একটি ঘোড়া ছিল এবং জা’দি বংশীয় এক ব্যক্তির একটি ঘোড়া ছিল। ঘোড়াগুলো যখন ছুটতে শুরু করল, দেখা গেল জা’দির ঘোড়াটি এগিয়ে আছে। তখন জা’দি উচ্চস্বরে রাজাজ ছন্দে কবিতা আবৃত্তি করতে শুরু করল—

মর্যাদার এক চরম শিখর যা স্থাপন করা হয়েছে, হে সে ব্যক্তি যে এর প্রত্যাশী!

আমরাই এটি অর্জন করেছি এবং আমরাই এর যোগ্য ... এমনকি যদি পাখিও পাঠানো হতো, তবে আমরা তার আগেই পৌঁছে যেতাম।

তিনি বলেন: এর কিছুক্ষণ পরেই মুহাম্মদ বিন তালহার ঘোড়াটি তাকে ধরে ফেলল এবং তাকে ছাড়িয়ে গিয়ে বিজয়ী হলো। তখন উমর বিন আবদুল আজিজ জা’দি ব্যক্তিকে বললেন: আল্লাহর কসম! কল্যাণের পথে অগ্রগামীর পুত্র তোমাকে ছাড়িয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الْوَهم السَّابِع

قَالَ البُخَارِيّ مُحَمَّد بن عبد الله التَّمِيمِي عَن عَليّ بن زيد عَن أَوْس قلت لأبي هُرَيْرَة مَا أرى أحدا من أَصْحَاب النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَكثر حَدِيثا مِنْك فَقَالَ حدث النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ضم رداءك فضممته إِلَى صَدْرِي فَمَا نسيت حَدِيثا سمعته من النَّبِي صلى الله عليه وسلم بعد مجلسي ذَاك

قَالَ البُخَارِيّ حَدَّثَنِيهِ يحيى بن مُوسَى عَن شَبابَة سمع مُحَمَّدا

وَذكر بعده مُحَمَّد بن عبد الله بن كثير بن الصَّلْت الْكِنْدِيّ

ثمَّ قَالَ مُحَمَّد بن عبد الله الْعمي عَن ثَابت عَن أنس والعمي هَذَا هُوَ صَاحب عَليّ بن زيد الَّذِي روى شَبابَة عَنهُ وَقد وهم البُخَارِيّ فِي تفريقه بَينهمَا بظنه أَن صَاحب ثَابت غير صَاحب عَليّ بن زيد

أَخْبَرَنَا عَليّ بن أبي عَليّ الْبَصْرِيّ قَالَ قَرَأنَا على الْحُسَيْنِ بْنِ هَارُونَ عَنْ أَبِي الْعَبَّاس أَحْمَد بن مُحَمَّد بن سعيد قَالَ مُحَمَّد بن عبد الله الْعمي التَّمِيمِي الْبَصْرِيّ سمع ثَابتا وَعلي بن زيد روى عَنهُ أَبُو النَّضر وَغَيره

فَمن حَدِيثه عَن ثَابت مَا أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الصَّيْرَفِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ الدُّورِيَّ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضر حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الله الْعَمِيُّ عَنْ ثَابِتٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ أَتَعْجَزُونَ
সপ্তম ভ্রান্তি

ইমাম বুখারী বলেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তামিমী, আলী বিন যায়েদ থেকে, তিনি আওস থেকে বর্ণনা করেন: আমি আবু হুরায়রাকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে আপনার চেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী আমি আর কাউকে দেখি না। তখন তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন: "তোমার চাদরটি গুটিয়ে নাও।" তখন আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। এরপর থেকে সেই মজলিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শোনা কোনো হাদীস আমি আর কখনো ভুলে যাইনি।

ইমাম বুখারী বলেন, ইয়াহইয়া বিন মূসা শাবাবা থেকে আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ থেকে শুনেছেন।

এরপর তিনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন কাসীর বিন আল-সালত আল-কিন্দিকে উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি বললেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উম্মি, সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই আল-উম্মি হলেন আলী বিন যায়েদের সেই সাথী যার থেকে শাবাবা বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তাদের দুজনকে পৃথক করার ক্ষেত্রে ভ্রমে পতিত হয়েছেন; তিনি ধারণা করেছেন যে, সাবিতের সাথী এবং আলী বিন যায়েদের সাথী ভিন্ন ব্যক্তি।

আলী বিন আবি আলী আল-বাসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা আল-হুসাইন বিন হারুনের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উম্মি আত-তামিমী আল-বাসরী সাবিত এবং আলী বিন যায়েদ থেকে শ্রবণ করেছেন; তার থেকে আবু আন-নজর ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

সাবিত থেকে তার বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে একটি হলো: আবু সাঈদ মুহাম্মাদ বিন মূসা আস-সাইরাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস (অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দুরী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উম্মি আমাদের নিকট সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস বিন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই বলতেন, "তোমরা কি অক্ষম..."
(খণ্ড: ১) মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أَنْ تَكُونُوا مِثْلَ أَبِي ضَمْضَمٍ قَالُوا وَمَا أَبُو ضَمْضَمٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَإِنَّ أَبَا ضَمْضَمٍ رَجُلٌ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَنَا إِذَا أَصْبَحَ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَتَصَدَّقُ الْيَوْمَ بِعِرْضِي عَلَى مَنْ ظَلَمَنِي

رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَن ثَابت عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ عَجْلانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

وَقَوْلُ حَمَّادٍ أَصَحُّ وَاللَّهُ أَعْلَمُ

أَخْبَرَنَاهُ الْبَرْقَانِيُّ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْحَافِظُ حَدثنَا مُحَمَّد بِمَ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ حَدَّثَنَا حَمَّاد عَن ثَابت عَن عبد الرَّحْمَن بْنِ عَجْلانَ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَيَعْجَزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكُونَ مِثْلَ أَبِي ضَمْضَمٍ قَالُوا مَنْ أَبُو ضَمْضَمٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ رَجُلٌ كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي قَدْ وَهَبْتُ عِرْضِي لِمَنْ شَتَمَنِي فَكَانَ لَا يَشْتُمُهُ أَحَدٌ إِلا وَهَبَ عِرْضَهُ لِمَنْ شَتمه

رَوَاهُ عبد الله بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سِنَانٍ السَّعْدِيُّ عَنْ هَانِئِ بْنِ يَحْيَى السُّلَمِيِّ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ وَالْحَسَنِ بْنِ عَجْلانَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ

وَلا يَثْبُتُ ذَلِكَ عَنْ حَمَّادٍ بَلِ الثَّابِتُ عَنْهُ مَا ذَكَرْنَاهُ

وَمن حَدِيث مُحَمَّد بن عبد الله الْعمي عَن عَليّ بن زيد مَا أخبرناه أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْحَرْبِيُّ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شَبِيبٍ قَالَ قَرَأَ
তোমরা যেন আবু দামদামের মতো হতে পার। তাঁরা বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আবু দামদাম কে?" তিনি বললেন, "আবু দামদাম ছিলেন তোমাদের পূর্ববর্তীদের একজন লোক। তিনি যখন সকাল করতেন, তখন বলতেন, 'হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার প্রতি জুলুম করেছে, তার জন্য আজ আমি আমার সম্মান সদকা করলাম।'"

এটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আজলান থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাম্মাদের বক্তব্যটিই অধিকতর সঠিক এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

আল-বারকানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে উমর আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, রাওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ সাবিত থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ কি আবু দামদামের মতো হতে অক্ষম?" তাঁরা বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আবু দামদাম কে?" তিনি বললেন, "তিনি তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের মধ্যে একজন মানুষ ছিলেন। যখন তিনি নিজ বাড়ি থেকে বের হতেন, তখন বলতেন, 'হে আল্লাহ! যে আমাকে গালি দিয়েছে, আমি তার জন্য আমার সম্মান দান করলাম।' ফলে কেউ তাকে গালি দিলে তিনি তার জন্য নিজের সম্মান বিলিয়ে দিতেন।"

এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সিনান আস-সাদি, হানি ইবনে ইয়াহইয়া আস-সুলামি থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ও হাসান ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।

এটি হাম্মাদ থেকে প্রমাণিত নয়, বরং তাঁর পক্ষ থেকে যা সাব্যস্ত তা আমরা উল্লেখ করেছি।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আম্মি কর্তৃক আলী ইবনে যাইদ থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যা আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-হারবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে সালমান আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে আলী ইবনে শাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, তিনি পাঠ করেছেন: