(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الذهب (ابن حجر العسقلاني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: سلسلة الذهب فيما رواه الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)
المحقق: د. عبد المعطي أمين قلعه جي
عدد الصفحات: 102
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সিলসিলাতুয যাহাব (ইবনে হাজার আল-আসকালানী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: সিলসিলাতুয যাহাব: ইমাম শাফিয়ী ইমাম মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে যা বর্ণনা করেছেন
লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হি.)
মুহাক্কিক: ড. আব্দুল মুতী আমীন কালা’জী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بسم الله الرحمن الرحيمصلى الله على من لَا نَبِي بعده وَآله وَسلم.أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة موفق الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد اللَّطِيف بن يُوسُف بن مُحَمَّد الْبَغْدَادِيّ، قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنا أسمع فِي مجَالِس آخرهَا رَابِع عشر ذِي الْقعدَة سنة سِتّ وَعشْرين، وسِتمِائَة، بِجَامِع حلب.قَالَ: أَنبأَنَا الإِمَام أَبُو زرْعَة طَاهِر بن مُحَمَّد بن طَاهِر الْمَقْدِسِي، أخبرنَا أَبُو الْحسن مكي بن مَنْصُور بن عَلان الْكَرْخِي، أخبرنَا القَاضِي أَبُو بكر بن الْحسن بن اللا لحيري المحرشي، أخبرنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن يَعْقُوب بن يُوسُف بن معقل بن سِنَان بن عبد الله الْأَصَم، أَنبأَنَا الرّبيع بن سُلَيْمَان الْمرَادِي الْمُؤَذّن الْمصْرِيّ، قَالَ: أخبرنَا الإِمَام أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن إِدْرِيس بن الْعَبَّاس بن عُثْمَان بن شَافِع بن السَّائِب بن عبيد بن عبد يزِيد بن هِشَام بن عبد الْمطلب بن عبد منَاف الشَّافِعِي رحمه الله قَالَ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আল্লামা মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে আর আমি আলেপ্পোর জামে মসজিদে এমন কিছু মজলিসে তা শ্রবণ করছিলাম যার শেষটি ছিল ৬২৬ হিজরি সনের চৌদ্দই জিলকদ তারিখে।তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু জুরআ তাহির বিন মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মাক্কি বিন মানসুর বিন আল্লান আল-কারখি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু বকর বিন আল-হাসান বিন আল-লালাহাইরি আল-মুহারশি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ বিন মা’কিল বিন সিনান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাম্ম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি বিন সুলায়মান আল-মুরাদি আল-মুয়াজ্জিন আল-মিসরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস বিন আল-আব্বাস বিন উসমান বিন শাফি বিন আস-সাইব বিন উবাইদ বিন আব্দ ইয়াজিদ বিন হিশাম বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন আব্দ মানাফ আশ-শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب سلسلة الذَّهَبلِلْحَافِظِ ابْن حجر الْعَسْقَلَانِي
কিতাব সিলসিলাতুয যাহাবহাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানীর
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
1 - أَنبأَنَا مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر أَنه كَانَ يَقُول كَانَ النِّسَاء وَالرِّجَال كَانُوا يتوضؤون فِي زمَان النَّبِي صلى الله عليه وسلم جَمِيعًا
১ - মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফি হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নারী ও পুরুষগণ সকলে একত্রে উযু করতেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
2 - وَبِه عَن ابْن عمر قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَأْمر الْمُؤَذّن إِذا كَانَت لَيْلَة بَارِدَة ذَات ريح يَقُول أَلا صلوا فِي الرّحال
২ - এবং একই সূত্রে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাতটি অত্যন্ত ঠান্ডা ও বাতাসময় হতো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজ্জিনকে এই নির্দেশ দিতেন যে সে যেন বলে— "শোনো, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলেই সালাত আদায় করে নাও।"
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
3 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دخل الْكَعْبَة وَمَعَهُ بِلَال وَأُسَامَة وَعُثْمَان بن طَلْحَةقَالَ ابْن عمر فَسَأَلت بِلَالًا مَا صنع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ جعل عمودا عَن يسَاره وعمودا عَن يَمِينه وَثَلَاثَة أعمدة وَرَاءه ثمَّ صلىقَالَ وَكَانَ الْبَيْت يَوْمئِذٍ على سِتَّة أعمدة
৩ - এবং উক্ত সনদে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবাগৃহে প্রবেশ করেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল, উসামা ও উসমান ইবনে তালহা।ইবনে উমর (রা.) বলেন, আমি বিলাল (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী করেছিলেন? তিনি বললেন, তিনি একটি স্তম্ভ তাঁর বাম দিকে, একটি স্তম্ভ তাঁর ডান দিকে এবং তিনটি স্তম্ভ তাঁর পেছনে রাখলেন, এরপর সালাত আদায় করলেন।তিনি বলেন, আর সে সময় কাবাগৃহটি ছয়টি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪১)
4 - وَبِه عَن ابْن عمر رضي الله عنهما أَنه كَانَ ينَام قَاعِدا ثمَّ يُصَلِّي وَلَا يتَوَضَّأ5 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه بَال بِالسوقِ ثمَّ تَوَضَّأ فَغسل وَجهه وَيَديه وَمسح بِرَأْسِهِ ثمَّ دعِي لجنازة فَدخل الْمَسْجِد ليُصَلِّي عَلَيْهَا فَمسح على خفيه ثمَّ صلى عَلَيْهَا
4 - এবং তাঁর মাধ্যমেই ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বসে থাকা অবস্থায় ঘুমাতেন, এরপর তিনি সালাত আদায় করতেন এবং নতুন করে উযু করতেন না।5 - এবং তাঁর মাধ্যমেই ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি বাজারে প্রস্রাব করলেন, এরপর উযু করলেন; তখন তিনি তাঁর মুখমন্ডল ও দুই হাত ধৌত করলেন এবং তাঁর মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তাঁকে একটি জানাযার সালাতের জন্য ডাকা হলো, তখন তিনি সেটির সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর মোজাদ্বয়ের (খুফফাইন) ওপর মাসাহ করলেন, অতঃপর জানাযার সালাত আদায় করলেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪২)
6 - وَبِه أَن عبد الله بن عمر كَانَ إِذا سُئِلَ عَن صَلَاة الْخَوْف قَالَ يتَقَدَّم الإِمَام وَطَائِفَة ثمَّ نَص الحَدِيثوَقَالَ ابْن عمر فِي الحَدِيث إِن كَانَ خوفًا هُوَ أَشد من ذَلِك فصلوا رجَالًا وركبانا
৬ - এবং এই একই সনদে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ বিন উমরকে যখন ভীতিকর অবস্থার সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: ইমাম এবং একদল লোক সামনে অগ্রসর হবে, অতঃপর হাদীসের পূর্ণ বিবরণ...এবং ইবনে উমর হাদীসের মধ্যে বলেছেন: যদি ভয় এর চেয়েও তীব্রতর হয়, তবে তোমরা পদব্রজে অথবা আরোহী অবস্থায় সালাত আদায় করো।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
7 - وَبِه عَن ابْن عمر أرَاهُ عَن النَّبِي صلي الله عَلَيْهِ وَسلم فَذكر صَلَاة الْخَوْف فَقَالَ إِن كَانَ خوفًا أَشد من ذَلِك صلوا رجلا وركبانا مستقبلي الْقبْلَة وَغير مستقبليها8 - وَبِه عَن نَافِع أَنه كَانَ يُسَافر مَعَ ابْن عمر الْبَرِيد فَلَا يقصر الصَّلَاة
৭ - এবং এই সনদেই ইবনে উমর হতে বর্ণিত, আমি মনে করি তিনি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন; তিনি ভয়ের সালাত সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন: যদি ভয় এর চেয়েও তীব্রতর হয়, তবে তোমরা হেঁটে কিংবা আরোহী অবস্থায় সালাত আদায় করো—চাই কিবলামুখী হয়ে হোক অথবা কিবলামুখী না হয়ে।৮ - এবং এই সনদেই নাফে হতে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে উমরের সাথে বারীদ (এক বারীদ পরিমাণ দূরত্ব) সফর করতেন এবং তিনি (ইবনে উমর) সালাত কসর করতেন না।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
9 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله عَلَيْهِ صلى الله وَسلم قَالَ صَلَاة الْجَمَاعَة تفضل على صَلَاة الْفَذ بِسبع وَعشْرين دَرَجَة
৯ - এবং তাঁর (একই সূত্রের) মাধ্যমে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জামায়াতের সালাত একাকী সালাতের ওপর সাতাশ গুণ বেশি শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
10 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه أذن فِي لَيْلَة ذَات برد وريح فَقَالَ أَلا صلوا فِي الرّحالثمَّ قَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمر الْمُؤَذّن إِذا كَانَت لَيْلَة بَارِدَة ذَات مطر يَقُول أَلا صلوا فِي الرّحال
১০ - এবং তাঁর মাধ্যমেই ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক অত্যন্ত শীতল ও বায়ুতাড়িত রাতে আজান দিলেন এবং বললেন, "জেনে রেখো, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলেই সালাত আদায় করো।"অতঃপর তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো শীতল ও বৃষ্টিমুখর রাত হতো, তখন মুয়াজ্জিনকে নির্দেশ দিতেন যেন সে বলে, 'জেনে রেখো, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলেই সালাত আদায় করো।'"
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
11 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن عمر بن الْخطاب رأى حلَّة سيراء عِنْد بَاب الْمَسْجِد فَقَالَ يَا رَسُول الله لَو اشْتريت هَذِه فلبستها يَوْم الْجُمُعَة وللوفود إِذا قدمُوا عَلَيْك فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا يلبس هَذِه من لَا خلاق لَهُ فِي الْآخِرَةثمَّ جَاءَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مِنْهَا حللا فَأعْطى عمر مِنْهَا حلَّة فَقَالَ عمر يَا رَسُول الله أكسوتنيها وَقد قلت فِي حلَّة عُطَارِد مَا قلت فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم أكسكها لتلبسها فكساها عمر أَخا لَهُ مُشْركًا بِمَكَّة
১১ - এবং উক্ত সনদে ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদের দরজার কাছে একটি রেশমি পোশাক দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এটি ক্রয় করতেন এবং জুমার দিনে ও আপনার কাছে আগত প্রতিনিধি দলের সামনে এটি পরিধান করতেন! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "পরকালে যার কোনো অংশ নেই, সেই কেবল এটি পরিধান করে।"এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই জাতীয় কিছু পোশাক এল। তিনি ওমরকে সেখান থেকে একটি পোশাক দিলেন। ওমর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এটি পরিধান করতে দিলেন, অথচ আপনি উতারিদের পোশাক সম্পর্কে যা বলার তা বলেছিলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি তোমাকে এটি পরিধান করার জন্য দেইনি।" অতঃপর ওমর তা মক্কায় অবস্থানরত তাঁর এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
12 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه كَانَ يغْتَسل يَوْم الْفطر قبل أَن يَغْدُو إِلَى الْمصلى
১২ - এবং এই সনদে ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের অভিমুখে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে গোসল করতেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
13 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فرض زَكَاة الْفطر على النَّاس صَاعا من تمر أَو صَاعا من شعير على كل حر وَعبد ذكر وَأُنْثَى من الْمُسلمين
১৩ - এবং তাঁরই সূত্রে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের প্রত্যেক স্বাধীন ও দাস, পুরুষ ও নারীর ওপর এক সা‘ খেজুর অথবা এক সা‘ যব সদকাতুল ফিতর ফরয করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
14 - وَبِه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فرض زَكَاة الْفطر على على النَّاس صَاعا من تمر أَو صَاعا من شعير15 - وَبِه أَن عبد الله بن عمر كَانَ يبْعَث بِزَكَاة الْفطر إِلَى الَّذِي تجمع عِنْده قبل الْفطر بيومين أَو ثَلَاثَة
১৪ - এবং তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের উপর এক সা' খেজুর অথবা এক সা' যব সদকাতুল ফিতর হিসেবে ফরয করেছেন।১৫ - এবং তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঈদুল ফিতরের দুই বা তিন দিন আগে তাঁর নিকট সদকাতুল ফিতর পাঠাতেন যার নিকট তা সংগ্রহ করা হতো।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫০)
16 - وَبِه عَن ابْن عمر قَالَ لَا تجب فِي مَال زَكَاة حَتَّى يحول عَلَيْهِ الْحول17 - وَبِه عَن نَافِع أَن عبد الله بن عمر كَانَ لَا يخرج فِي زَكَاة الْفطر إِلَّا التَّمْر إِلَّا مرّة وَاحِدَة فَإِنَّهُ أخرج شَعِيرًا
১৬ - এবং একই সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাতে যাকাত ওয়াজিব হয় না।১৭ - এবং একই সূত্রে নাফে’ থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ বিন উমর যাকাতুল ফিতর হিসেবে খেজুর ব্যতীত অন্য কিছু প্রদান করতেন না, কেবল একবার ছাড়া, সেবার তিনি যব প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫১)
18 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه كَانَ يحلي بَنَاته وجواريه الذَّهَب ثمَّ لَا يخرج مِنْهُ الزَّكَاة19 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه طلق امْرَأَته وَهِي حَائِض فِي زمَان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ عمر فَسَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن ذَلِك فَقَالَ مره فَلْيُرَاجِعهَا ثمَّ ليمسكها حَتَّى تطهر ثمَّ تحيض ثمَّ تطهر فَإِن شَاءَ أمْسكهَا وَإِن شَاءَ طَلقهَا قبل أَن يمس فَتلك الْعدة الَّتِي أَمر الله تَعَالَى أَن يُطلق لَهَا النِّسَاء
১৮ - এবং উক্ত সনদে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর কন্যাদের ও দাসীদের স্বর্ণালঙ্কার পরিধান করাতেন, অতঃপর তার যাকাত প্রদান করতেন না।১৯ - এবং উক্ত সনদে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। উমর বলেন, অতঃপর আমি এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তাকে নির্দেশ দাও যেন সে তাকে ফিরিয়ে নেয়; অতঃপর সে যেন তাকে নিজের কাছে রাখে যতক্ষণ না সে পবিত্র হয়, পুনরায় ঋতুবতী হয় এবং পুনরায় পবিত্র হয়। এরপর সে চাইলে তাকে নিজের কাছে রেখে দেবে অথবা চাইলে স্পর্শ করার পূর্বেই তাকে তালাক দেবে। আর এটিই হলো সেই ইদ্দত, যা অনুযায়ী নারীদের তালাক দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫২)
20 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن رجلا سَأَلَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا يلبس الْمحرم من الثِّيَاب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لايلبس الْمحرم الْقَمِيص وَلَا العمائم وَلَا السراويلات وَلَا البرانس وَلَا الْخفاف إِلَّا أحد لَا يجد نَعْلَيْنِ فليلبس الْخُفَّيْنِ وليقطعهما أَسْفَل من الْكَعْبَيْنِ
২০ - এবং তাঁর সূত্রে ইবনে উমর হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন যে ইহরাম গ্রহণকারী ব্যক্তি কী কাপড় পরিধান করবে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইহরাম গ্রহণকারী ব্যক্তি কামিজ, পাগড়ি, পায়জামা, মস্তকাবরণী বিশিষ্ট জোব্বা এবং চামড়ার মোজা পরিধান করবে না; তবে যদি কেউ জুতো না পায়, সে যেন চামড়ার মোজা পরিধান করে এবং তা যেন টাখনুর নিচ থেকে কেটে নেয়।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
21 - وَبِه عَن ابْن عمر كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يحتجم وَهُوَ صَائِم ثمَّ ترك ذَلِك
২১ - এবং একই সনদে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোজা রাখা অবস্থায় শিঙা লাগাতেন (হিজামা করতেন), পরবর্তীতে তিনি তা ত্যাগ করেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
22 - وَبِه أخبرنَا الرّبيع قَالَ أخبرنَا الشَّافِعِي وَمن تقيأ وَهُوَ صَائِم وَجب عَلَيْهِ الْقَضَاء وَمن ذرعه الْقَيْء فَلَا قَضَاء عَلَيْهِوَبِهَذَا أخبرنَا مَالك عَن نَافِع عَن ابْن عمر23 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن تَلْبِيَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لبيْك اللَّهُمَّ لبيْك لبيْك لَا شريك لَك لبيْك إِن الْحَمد وَالنعْمَة لَك وَالْملك لَا شريك لَكقَالَ نَافِع وَكَانَ عبد الله بن عمر يزِيد فِيهَا لبيْك لبيْك وَسَعْديك وَالْخَيْر كُله بيديك لبيْك وَالرغْبَاء إِلَيْك وَالْعَمَل
22 - এবং এর মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন রাবী, তিনি বলেন, আমাদের অবহিত করেছেন শাফিঈ: যে ব্যক্তি রোজা রাখা অবস্থায় স্বেচ্ছায় বমি করে, তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব। আর যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে যায়, তার ওপর কোনো কাজা নেই।এবং এর মাধ্যমেই আমাদের অবহিত করেছেন মালিক, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।23 - এবং এর মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তালবিয়া ছিল: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নিয়ামত এবং রাজত্ব আপনারই; আপনার কোনো শরিক নেই।নাফে বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এতে আরও বৃদ্ধি করতেন: আমি হাজির, আমি হাজির এবং আপনার আনুগত্যে সদা প্রস্তুত। সমস্ত কল্যাণ আপনার দুই হাতে। আমি হাজির, এবং সকল আকাঙ্ক্ষা ও আমল আপনারই প্রতি নিবেদিত।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
24 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه خرج إِلَى مَكَّة زمن الْفِتْنَة مُعْتَمِرًا فَقَالَ لَهُ إِن صُدِدْنَا عَن الْبَيْت صنعنَا كَمَا صنعنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَام الْحُدَيْبِيَةقَالَ الشَّافِعِي يَعْنِي أَحللنَا كَمَا أَحللنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَام الْحُدَيْبِيَة
২৪ - এবং একই সূত্রে ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি ফিতনার সময় উমরাহ আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে বের হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, যদি আমাদের বায়তুল্লাহ পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়, তবে আমরা তা-ই করব যা হুদায়বিয়ার বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে করেছিলাম।শাফিঈ বলেন, অর্থাৎ আমরা ইহরাম ত্যাগ করব যেভাবে হুদায়বিয়ার বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইহরাম ত্যাগ করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
25 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه كَانَ يغْتَسل لدُخُول مَكَّة26 - وَبِه عَن ابْن عمر عَن عمر أَنه قَالَ لَا يصدرن أحد من الْحَاج حَتَّى يكون آخر عَهده بِالْبَيْتِ فَإِن آخر النّسك الطّواف بِالْبَيْتِ
25 - এবং একই সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি মক্কায় প্রবেশের উদ্দেশ্যে গোসল করতেন।26 - এবং একই সূত্রে ইবনে উমর উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (উমর) বলেছেন: হাজীদের কেউ যেন অবশ্যই প্রস্থান না করে যতক্ষণ না তার সর্বশেষ কাজ হয় বায়তুল্লাহর সাথে। কেননা হজের সর্বশেষ আমল হলো বায়তুল্লাহর তওয়াফ।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
27 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُتَبَايعَانِ كل وَاحِد مِنْهُمَا على صَاحبه بِالْخِيَارِ مَا لم يَتَفَرَّقَا إِلَّا بِبيع الْخِيَار28 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه اشْترى رَاحِلَة بأَرْبعَة أَبْعِرَة مَضْمُونَة عَلَيْهَا يوفيها صَاحبهَا بالربذة
২৭ - এবং উক্ত সনদে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়েরই একে অপরের ওপর (চুক্তি বাতিলের) ইখতিয়ার বা অধিকার থাকে যতক্ষণ না তারা পরস্পর পৃথক হয়, তবে শর্তাধীন বিক্রয়ের (বাইউল খিয়ার) বিষয়টি ভিন্ন।"২৮ - এবং উক্ত সনদে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি চারটি উটের বিনিময়ে একটি সওয়ারী উট ক্রয় করেছিলেন যা পরবর্তীতে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল; উটগুলোর মালিক সেগুলো রাবাযা নামক স্থানে বুঝিয়ে দেবেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
29 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من اقتنى كَلْبا إِلَّا كلب مَاشِيَة أَو ضاريا نقص من عمله كل يَوْم قيراطان30 - وَبِه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَمر بقتل الْكلاب
২৯ - এবং উক্ত সনদে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি গবাদি পশু রক্ষাকারী কুকুর অথবা শিকারি কুকুর ব্যতীত অন্য কোনো কুকুর লালন-পালন করে, তার আমল থেকে প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব হ্রাস পায়।৩০ - এবং উক্ত সনদে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
31 - وَبِه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من بَاعَ نخلا قد أبرت فثمرها للْبَائِع إِلَّا أَن يشْتَرط الْمُبْتَاع
৩১ - এবং উক্ত সনদে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি পরাগায়ন করা হয়েছে এমন কোনো খেজুর গাছ বিক্রি করল, তবে তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য হবে; তবে যদি ক্রেতা তা নিজের জন্য শর্ত করে নেয় (তবে তা ক্রেতা পাবে)।”
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৬০)
32 - وَبِه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن بيع الثِّمَار حَتَّى يَبْدُو صَلَاحهَا نهى البَائِع وَالْمُشْتَرِي33 - وَبِه عَن عبد الله بن عمر عَن زيد بن ثَابت أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أرخص لصَاحب الْعرية أَن يَبِيعهَا بِخرْصِهَا
32 - এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফলের পরিপক্কতা প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন; তিনি বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন।33 - এবং তাঁর মাধ্যমেই আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরিয়্যাহ দাতার জন্য তা অনুমিত পরিমাপের ভিত্তিতে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৬১)
34 - وَبِه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن بيع الْمُزَابَنَة بيع التَّمْر بِالتَّمْرِ كَيْلا وَبيع الْكَرم بالزبيب كَيْلا35 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه قَالَ لكل مُطلقَة مُتْعَة إِلَّا الَّتِي فرض لَهَا صدَاق وَلم يدْخل بهَا فحسبها نصف الْمهْر
34 - এবং এর মাধ্যমে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুযাবানাহ্ বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন; যা হলো পরিমাপের ভিত্তিতে (শুষ্ক) খেজুরের বিনিময়ে (তাজা) খেজুর বিক্রয় করা এবং পরিমাপের ভিত্তিতে কিসমিসের বিনিময়ে আঙুর বিক্রয় করা।35 - এবং এর মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য ‘মুতআ’ (উপহার) রয়েছে; তবে সেই নারী ব্যতীত যার মোহর নির্ধারিত হয়েছে কিন্তু তার সাথে বাসর যাপন করা হয়নি, এমতাবস্থায় তার জন্য নির্ধারিত মোহরের অর্ধেকই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৬২)
36 - وَبِه عَن ابْن عمر أَنه كَانَ يَقُول لكل مُطلقَة مُتْعَة إِلَّا الَّتِي تطلق وَقد فرض لَهَا الصَدَاق وَلم تمس فحسبها نصف مَا فرض لَهَا
৩৬ - এবং একই সনদে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য ‘মুতআ’ (উপহার) রয়েছে; তবে সেই নারী ব্যতীত যাকে মোহরানা নির্ধারণ করার পর এবং সহবাস করার পূর্বে তালাক দেওয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মোহরানার অর্ধেকই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
37 - وَبِه عَن نَافِع عَن ابْنة عبد الله بن عمر وَأمّهَا تَحت زيد بن الْخطاب كَانَت تَحت ابْن لعبد الله بن عمر فَمَاتَ وَلم يدْخل بهَا وَلم يسم لَهَا صَدَاقا فابتغت لَهَا صَدَاقا فَقَالَ ابْن عمر لَيْسَ لَهَا صدَاق فَلَو كَانَ لَهَا صدَاق لم يمنعكموه وَلم يظلمها فَأَبت أَن تقبل ذَلِك فَجعلُوا بَينهم زيد بن ثَابت فَقضى أَن لَا صدَاق لَهَا وَلها الْمِيرَاث
৩৭ - এবং একই সনদে নাফি‘ থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের কন্যার সূত্রে—যার মাতা জায়েদ ইবনুল খাত্তাবের বিবাহাধীনে ছিলেন—যে তিনি (কন্যা) আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এক পুত্রের বিবাহাধীনে ছিলেন। অতঃপর তিনি (স্বামী) মারা গেলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তাঁর সাথে বাসর করেননি এবং তাঁর জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ করেননি। তখন তিনি (স্ত্রী) মোহর দাবি করলেন। এতে ইবনে উমর বললেন, “তাঁর জন্য কোনো মোহর নেই। যদি তাঁর কোনো মোহর প্রাপ্য থাকত, তবে আমি তা তোমাদের নিকট থেকে আটকে রাখতাম না এবং তিনি তাঁর প্রতি জুলুমও করতেন না।” কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তাঁরা জায়েদ ইবনে সাবিতকে তাঁদের মাঝে ফয়সালাকারী নিযুক্ত করলেন। তিনি ফয়সালা প্রদান করলেন যে, তাঁর জন্য কোনো মোহর নেই, তবে তিনি মীরাস (উত্তরাধিকার) পাবেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
38 - وَبِه عَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رجم يهوديين زَنَيَاحَدثنَا مَالك عَن نَافِع عَن عبد الله بن عمر أَنه قَالَ جَاءَت الْيَهُود إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَذكرُوا لَهُ أَن رجلا مِنْهُم وَامْرَأَة زَنَيَا فَقَالَ لَهُم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاة فِي شَأْن الرَّجْم فَقَالُوا نفضحهم ويجلدون فَقَالَ عبد الله بن سَلام كَذبْتُمْ إِن فِيهَا الرَّجْم فَأتوا بِالتَّوْرَاةِ فنشروها فَوضع أحدهم يَده على آيَة الرَّجْم ثمَّ قَرَأَ مَا قبلهَا وَمَا بعْدهَا فَقَالَ لَهُ عبد الله بن سَلام ارْفَعْ يدك فَرفع يَده فَإِذا فِيهَا آيَة الرَّجْم فَقَالُوا صدق يَا مُحَمَّد فِيهَا آيَة الرَّجْم فَأمر بهما رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَافَقَالَ عبد الله بن عمر فَرَأَيْت الرجل يحني على الْمَرْأَة يَقِيهَا الْحِجَارَة
৩৮ - আর সেই সূত্রেই ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুইজন ইহুদিকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন যারা ব্যভিচার করেছিল।আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন নাফি‘ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ইহুদিরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসল এবং তাঁর কাছে উল্লেখ করল যে, তাদের মধ্যে এক পুরুষ ও এক নারী ব্যভিচার করেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন, “তোমরা তাওরাতে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) সম্পর্কে কী পাও?” তারা বলল, “আমরা তাদের অপদস্থ করি এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হয়।” তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বললেন, “তোমরা মিথ্যা বলেছ, নিশ্চয়ই তাতে রজমের বিধান রয়েছে।” অতঃপর তারা তাওরাত নিয়ে আসল এবং তা খুলল। তখন তাদের একজন রজমের আয়াতের ওপর তার হাত রাখল এবং তার আগের ও পরের অংশ পাঠ করল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাকে বললেন, “তোমার হাত তোলো।” সে তার হাত তুলল এবং দেখা গেল যে সেখানে রজমের আয়াত রয়েছে। তারা বলল, “হে মুহাম্মদ! তিনি সত্য বলেছেন, এতে রজমের আয়াত রয়েছে।” অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের উভয়কে রজম করা হলো।আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, “আমি সেই লোকটিকে দেখলাম যে সে নারীটির ওপর ঝুঁকে পড়ছিল তাকে পাথর থেকে রক্ষা করার জন্য।”