(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث التي سقطت من مطبوع المعجم الأوسط للطبراني   (الطبراني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث التي سقطت من مطبوع المعجم الأوسط للطبراني

استدراك وتحقيق: أ. د. سعد بن عبد الله بن عبد العزيز الحميد

أستاذ الحديث وعلومه بقسم الدراسات الإسلامية - جامعة الملك سعود بالرياض

بحث: منشور بمجلة مركز الخدمة للاستشارات البحثية واللغات، المجلد 19، العدد 56، أكتوبر 2017

(مجلة محكمة تصدر كل 3 شهور عن كلية الآداب - جامعة المنوفية - شبين الكوم)

عدد الصفحات: 28

[الترقيم موافق للمجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1442

আত-তাবারানি রচিত ‘আল-মু’জামুল আওসাত’-এর মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়া হাদিসসমূহ   (আত-তাবারানি)

বিভাগ: হাদিসের কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আত-তাবারানি রচিত ‘আল-মু’জামুল আওসাত’-এর মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়া হাদিসসমূহ

ইস্তিদরাক ও তাহকিক: প্রফেসর ড. সা'দ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-হুমাইদ

হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ - কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ

গবেষণাপত্র: ‘সার্ভিস সেন্টার ফর রিসার্চ কনসালটেন্সি অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত, ১৯তম ভলিউম, ৫৬তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৭

(কলা অনুষদ - মনুফিয়া বিশ্ববিদ্যালয় - শিবিন আল-কোম থেকে প্রতি ৩ মাস অন্তর প্রকাশিত একটি পিয়ার-রিভিউড সাময়িকী)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮

[পৃষ্ঠা নম্বর সাময়িকীর মূল সংখ্যার অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ জিলকদ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خير خلقه أجمعين؛ نبينا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد:

فقد لقيت السُّنَّة من علماء الإسلام عنايةً حيرت المخالف والموافق، تجد الحديث عنها مسطورًا في عدد من المصنفات التي يممت شطر الموضوع عرضًا أو قصدًا؛ كـ "تقييد العلم"، و"الجامع، لأخلاق الراوي وآداب السامع"؛ كلاهما للخطيب البغدادي، و"الإلماع، في أصول الرواية وتقييد السماع" للقاضي عياض، و"أدب الإملاء والاستملاء" للسمعاني، و"السنة قبل التدوين" للدكتور محمد عجاج الخطيب، و"تدوين السنة" للدكتور بن مطر الزهراني، و"السنة ومكانتها في التشريع" للدكتور مصطفى السباعي، و"دراسات في الحديث النبوي" للدكتور محمد مصطفى الأعظمي، وغيرها كثير.

فالواجب على أهل الإسلام مواصلة ما بدأه أسلافهم من العناية بالسنة وما صُنِّف فيها، ومن ذلك: ما انتهجوه من التصنيف في استدراك الأسقاط، وتصحيح الأغلاط، وتعقب الأوهام، ونحو ذلك من أنواع الاستدراك والتعقب؛ مثل "الأوهام التي في مدخل أبي عبد الله الحاكم" لعبد الغني بن سعيد الأزدي، و"تهذيب مستمر الأوهام" لابن ماكولا، و"الاستدراك" لابن نقطة، و"بيان الوهم والإيهام" لابن القطان، و"تقييد المهمل، وتمييز المشكل" للجيّاني، وغيرها.

وفي العصر الحديث أنعم الله على الناس بنعمة الطباعة التي يستنسخ بها من الكتاب الواحد الكثير من النسخ.

لكن دفع الكتاب لهذه المطابع يتطلب جهدًا يسبقه؛ من جمع نسخ الكتاب، والمفاضلة بينها، واختيار منهج اختيار ما يُختَلَفُ فيه منها … ، وغير ذلك مما عُرف بـ (التحقيق).

ويُعدّ كتاب "المعجم الأوسط" للحافظ أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني (ت 360 هـ) من أمهات الكتب، وأهميته لا تخفى على أهل العلم كافة، وعلماء الحديث خاصة، وقد طبع ثلاث طبعات؛ إحداها بتحقيق د. محمود الطحان، والثانية بتحقيق الشيخين: طارق عوض الله، وعبد المحسن الحسيني، والثالثة بتحقيق الشيخين: أيمن صالح شعبان، وسيد أحمد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির সেরা আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ ও তাবেয়ীদের ওপর, আরও বর্ষিত হোক অঢেল সালাম। অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইসলামি স্কলারদের নিকট সুন্নাহ এমন যত্ন ও গুরুত্ব লাভ করেছে যা বিরোধী ও অনুসারী উভয়কেই বিস্মিত করেছে। আপনি এর আলোচনা এমন অসংখ্য গ্রন্থে লিপিবদ্ধ পাবেন যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই বিষয়টিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে; যেমন খতীব আল-বাগদাদী রচিত "তাকয়িদুল ইলম" এবং "আল-জামে লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি"; এই উভয়টিই খতীব আল-বাগদাদীর রচনা, কাযী আইয়াযের "আল-ইলমা' ফি উসুলির রিওয়াহ ওয়া তাকয়িদিস সামা", সামআনীর "আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা", ড. মুহাম্মাদ আজ্জাজ আল-খতীবের "আস-সুন্নাহ কবলাত তাদওয়ীন", ড. বিন মাতার আল-জাহরানীর "তাদওয়ীনুস সুন্নাহ", ড. মুস্তফা আস-সিবাঈর "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী'", ড. মুহাম্মাদ মুস্তফা আল-আযামীর "দিরাসাত ফিল হাদীস আন-নাবাবী" এবং এ জাতীয় আরও অনেক গ্রন্থ।

সুতরাং মুসলিমদের জন্য আবশ্যক হলো তাদের পূর্বসূরিরা সুন্নাহ এবং এ সংক্রান্ত রচনাবলীর যে যত্ন ও সেবা শুরু করেছিলেন তা অব্যাহত রাখা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিতকরণ, ভুল সংশোধন, ভ্রম বা ভ্রান্তি অনুসরণ এবং এ জাতীয় সংশোধনী ও পর্যালোচনামূলক রচনার যে নীতি তারা অবলম্বন করেছিলেন; যেমন আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আযদি রচিত "আল-আওহাম আল্লাতি ফি মাদখালি আবি আবদিল্লাহ আল-হাকিম", ইবনে মাকুলার "তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম", ইবনে নুকতাহর "আল-ইস্তিদরাক", ইবনুল কাত্তানের "বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহম", আল-জাইয়্যানীর "তাকয়িদুল মুহমাল ওয়া তামিযুল মুশকিল" এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।

আর আধুনিক যুগে আল্লাহ তাআলা মানুষকে মুদ্রণযন্ত্রের নেয়ামত দান করেছেন, যার মাধ্যমে একটি বইয়ের অসংখ্য কপি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

কিন্তু একটি বইকে এই ছাপাখানাগুলোতে পাঠানোর পূর্বে অনেক শ্রমের প্রয়োজন হয়; যেমন বইটির বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করা, সেগুলোর মাঝে তুলনা করা এবং মতপার্থক্যপূর্ণ পাঠগুলোর মধ্য থেকে কোনোটি গ্রহণের মানদণ্ড নির্ধারণ করা … , এবং এ জাতীয় আরও অনেক কাজ যা (তাহকীক) নামে পরিচিত।

হাফেজ আবু কাসেম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানী (মৃত্যু ৩৬০ হিজরী) রচিত "আল-মু'জামুল আওসাত" গ্রন্থটি মূল উৎস গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য হয়। এর গুরুত্ব সকল আলেম সমাজের কাছে, বিশেষ করে হাদীস বিশারদদের কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এটি তিনবার মুদ্রিত হয়েছে; একটি ড. মাহমুদ আত-তাহহানের সম্পাদনায়, দ্বিতীয়টি দুই শায়খ: তারিক আওয়াদুল্লাহ ও আব্দুল মুহসিন আল-হুসাইনীর সম্পাদনায় এবং তৃতীয়টি দুই শায়খ: আয়মান সালেহ শাবান ও সাঈদ আহমদের সম্পাদনায়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২)
إسماعيل.

وأفضل هذه الطبعات هي التي بتحقيق الشيخين: طارق عوض الله، وعبد المحسن الحسيني.

وقد اعتمد محققو هذه الطبعات على نسخة مصورة سقطت منها أربع ورقات- وفي كل ورقة وجهان- لكن واحدة منها تم استدراك أحاديثها من نسخة أخرى، وأما الورقات الثلاث الأخرى فإنها من نسخة وحيدة، وترتب على ذلك سقط ما تضمنته من أحاديث بلغ عددها ستة وأربعين (46) حديثًا، منها ستة أحاديث سقطها جزئي، وهي الأحاديث التي تكون في بداية ونهاية كل ورق والسقط في بعضها شبه كامل؛ كالحديث الأول في هذا الجزء، فإنه لم يوجد منه في المطبوع سوى كلمة (حدثنا)، ويقابله الحديث رقم (46) - وهو آخر الأحاديث في هذا الجزء- فإنه لم يسقط منه سوى صيغة التحديث، وشيخ الطبراني (حدثنا عمرو بن حازم الدمشقي)، وقد وضعت إشارة بيّنت فيها بداية السقط ونهايته في كل حديث من هذه الأحاديث الستة.

وقد ترددت كثيرًا في تخريج الأحاديث، وبيان عللها، والحكم عليها؛ وغير ذلك مما يتشوف له كل طالب علم، ولم يمنعني من ذلك إلا أن أحاديث الكتاب لم تُخرّج في المطبوع منه، وقد بلغت عدّتها (9489) حديثًا، فليس من المناسب تخريج هذا العدد القليل (46) حديثًا، وأحاديث أصل الكتاب لم تخرج.

واجتهدت في توثيق النص حسب المستطاع، وقد وُفّقت- بحمد الله- في معظم الأحاديث، فمنها ما يكون من الزوائد على الكتب الستة، فيذكره الهيثمي في "مجمع البحرين"، و"مجمع الزوائد"، وقد عُنيت بذكر فروقهما عن كل حديث يذكر فيهما من هذا الجزء.

وهناك أحاديث من الزوائد ومن غيرها يخرجها الطبراني في بعض كتبه الأخرى؛ كـ"المعجم الكبير"، و"المعجم الصغير"، و"مسند الشاميين"؛ بالإسناد نفسه، وقد ساعدني هذا كثيرًا في توثيق النص، وعُنيت بإثبات فروق هذه الأحاديث.

وقد يروي أحد العلماء الحديث من طريق الطبراني؛ كأبي نعيم في "الحلية"، والخطيب في "تاريخه"، والهروي في "ذم الكلام"، والشجري في "أماليه"، والسلفي في "المشيخة البغدادية"، وابن عساكر في
ইসমাঈল।

এই সংস্করণগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো শায়খদ্বয়—তারিক আওয়াদুল্লাহ এবং আব্দুল মুহসিন আল-হুসাইনির তাহকিককৃত সংস্করণটি।

এই সংস্করণগুলোর মুহাক্কিকগণ এমন একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন যেখান থেকে চারটি পাতা—যার প্রতিটিতে দুটি করে পার্শ্ব রয়েছে—হারিয়ে গিয়েছে। তবে সেগুলোর মধ্যে একটি পাতার হাদিসসমূহ অন্য একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনটি পাতা কেবল একটি পাণ্ডুলিপিতেই বিদ্যমান ছিল, ফলে সেগুলোতে থাকা হাদিসগুলো বাদ পড়ে গিয়েছে যার সংখ্যা ছেচল্লিশটি (৪৬)। এর মধ্যে ছয়টি হাদিস আংশিক বাদ পড়েছে, যা প্রতিটি পাতার শুরুতে বা শেষে ছিল এবং সেগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় সম্পূর্ণই বাদ পড়েছে; যেমন এই খণ্ডের প্রথম হাদিসটি, যার মুদ্রিত সংস্করণে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (হাদ্দাসানা) শব্দ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। এর বিপরীতে ৪৬ নম্বর হাদিসটি—যা এই খণ্ডের শেষ হাদিস—তা থেকে কেবল বর্ণনার শব্দ এবং তাবারানির উস্তাদের নাম (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন হাযিম আদ-দিমাশকি) বাদ পড়েছে। আমি এই ছয়টি হাদিসের প্রত্যেকটিতে যেখানে বাদ পড়া অংশ শুরু এবং শেষ হয়েছে সেখানে চিহ্ন দিয়ে তা স্পষ্ট করে দিয়েছি।

আমি হাদিসগুলোর তাখরিজ করা, সেগুলোর ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনা করা এবং সেগুলোর মানের ব্যাপারে হুকুম প্রদান করার বিষয়ে দীর্ঘ সময় দ্বিধান্বিত ছিলাম; অথচ প্রত্যেক ইলম অন্বেষী এই বিষয়গুলো দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। আমাকে এই কাজ থেকে কেবল এই বিষয়টিই বিরত রেখেছে যে, মূল গ্রন্থের মুদ্রিত অংশের হাদিসগুলোর তাখরিজ করা হয়নি, যার হাদিস সংখ্যা ৯৪৮৯টি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাই মূল গ্রন্থের হাদিসগুলোর তাখরিজ যেখানে হয়নি, সেখানে এই স্বল্প সংখ্যক (৪৬টি) হাদিসের তাখরিজ করা সমীচীন নয়।

আমি সাধ্যমতো মূল পাঠের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করার (তাওসিক) চেষ্টা করেছি এবং আল্লাহর প্রশংসায় আমি অধিকাংশ হাদিসের ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। এগুলোর মধ্যে কিছু হাদিস এমন রয়েছে যা কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত (যাওয়ায়েদ), আল-হাইসামি তাঁর "মাজমাউল বাহরাইন" এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থে সেগুলো উল্লেখ করেছেন। আমি এই খণ্ডে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে উক্ত দুই কিতাবের সাথে পাঠগত পার্থক্যসমূহ উল্লেখ করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেছি।

এখানে যাওয়ায়েদ ও অন্যান্য এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা তাবারানি তাঁর অন্য কিছু কিতাবে একই সনদে বর্ণনা করেছেন; যেমন—"আল-মু'জামুল কাবীর", "আল-মু'জামুস সাগীর" এবং "মুসনাদুশ শামিয়্যিন"। এটি আমাকে মূল পাঠের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করতে অনেক সাহায্য করেছে এবং আমি এই হাদিসগুলোর পাঠগত পার্থক্যসমূহ সাব্যস্ত করার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি।

কখনো কখনো কোনো কোনো আলেম তাবারানির সূত্র ধরে হাদিস বর্ণনা করেছেন; যেমন—আবু নুআইম তাঁর "আল-হিলয়াহ" গ্রন্থে, খতিব বাগদাদি তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে, আল-হারাউয়ি তাঁর "যাম্মুল কালাম" গ্রন্থে, আশ-শাজারি তাঁর "আমালি" গ্রন্থে, আস-সালাফি তাঁর "আল-মাশিয়াখাতুল বাগদাদিয়্যাহ" গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির তাঁর...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৩)
"تاريخه"، والمزي في "تهذيب الكمال"، فعُنيت بذكر فروقهم إذا لم أجد توثيقًا للحديث فيما هو أولى منها؛ كـ "مجمع البحرين"، أو بعض كتب الطبراني الأخرى. وهذا كله فيما إذا كان الحديث بالإسناد نفسه بدءًا من شيخ الطبراني.

أما إذا اختلف شيخ الطبراني، فإني لا أُعنى بتوثيق الحديث في تلك الحال إلا إذا ضاق الأمر، ولم أجد توثيقًا للحديث من بدايته، فإني قد أحتاج لذكر من أخرجه من طريق شيخ شيخ الطبراني، خاصة إذا كان مُخَرّجًا عند الطبراني نفسه في شيء من كتبه؛ كما في الأحاديث (14)، و (28)، و (40 و 45).

وربما لا أجد من أخرج الحديث من الوجه الذي خرّجه الطبراني، فأستروح بالإشارة إلى الوجه المشهور الذي يتضح به سبب إخراج الطبراني لهذا الوجه الغريب؛ كما تراه في الحديث (27).

وقد يشير الطبراني في تعليقه على الحديث إلى رواية أخرى للحديث، ثم يسندها في "المعجم الأوسط" نفسه وبعض كتبه، فأخرّجه منها؛ كما في الحديث (4)، وربما أشار لرواية لم أجدها؛ كما تراه في الحديث (33)، وربما أشار لرواية رأيت مع تخريجها بيان شيء من الصنعة الحديثية المتعلقة بها؛ كما تراه في التعليق على الحديث (23)؛ حيث رأيت أن ما أشار إليه الطبراني هو الوجه المحفوظ للرواية، وأن ما أخرجه غير محفوظ، وأوضحت السبب- فيما ظهر لي- وأنه خطأ من شيخ الطبراني.

وربما احتجت إلى التخريج لضبط لفظٍ مشكل؛ كما تجده في التعليق على الحديث (24)، أو لمعالجة إشكال وقع في إسناد الطبراني كما تراه في التعليق على الحديث (43).

وبعد .. فهذا ما رأيت الحاجة تدعو إلى بيانه فيما يتعلق بطريقة العمل في هذا الجزء، وأسأل الله أن أكون قد وُفِّقت، وأستغفر الله من الزلل، وأسأله سبحانه الإخلاص في القول والعمل، وصلى الله وسلم على نبينا محمد.

 

كتبه: سعد بن عبد الله بن عبد العزيز الحميِّد

الرياض، بتاريخ 23/محرم/1439 هـ
তাঁর 'তারিখ', এবং মিজ্জি তাঁর 'তহজীবুল কামাল'-এ; ফলে আমি তাঁদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি যখন আমি এর চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য কিতাবসমূহে হাদিসটির সনাদগত উৎস খুঁজে পাইনি; যেমন- 'মাজমাউল বাহরাইন', অথবা তাবারানির অন্যান্য কিছু কিতাব। আর এ সবই তখন করা হয়েছে যখন হাদিসটি তাবারানির শাইখ থেকে শুরু করে একই সনদে বর্ণিত হয়েছে।

কিন্তু যদি তাবারানির শাইখ ভিন্ন হন, তবে আমি সাধারণত সেই অবস্থায় হাদিসের উৎস নির্ণয়ে মনোনিবেশ করি না, যদি না বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে এবং শুরু থেকে হাদিসটির কোনো প্রামাণ্য উৎস না পাই। সেক্ষেত্রে আমি তাবারানির শাইখের শাইখের সূত্রে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করি, বিশেষ করে যদি সেটি তাবারানির নিজেরই কোনো কিতাবে সংকলিত হয়ে থাকে; যেমনটি ১৪, ২৮, ৪০ এবং ৪৫ নম্বর হাদিসে দেখা যাবে।

কখনো কখনো তাবারানি যেভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, অন্য কাউকে সেভাবে বর্ণনা করতে পাই না। তখন আমি প্রসিদ্ধ বর্ণনাটির দিকে ইশারা করার মাধ্যমে স্বস্তি খুঁজি, যার দ্বারা তাবারানি কেন এই বিরল বর্ণনাটি সংকলন করেছেন তার কারণ স্পষ্ট হয়ে যায়; যেমনটি ২৭ নম্বর হাদিসে দেখা যাবে।

ইমাম তাবারানি কখনো কখনো হাদিসের ওপর তাঁর মন্তব্যে হাদিসটির অন্য কোনো বর্ণনার দিকে ইশারা করেন, অতঃপর তিনি নিজেই 'আল-মুজামুল আওসাত' বা তাঁর অন্য কোনো কিতাবে সেটি বর্ণনা করেন; ফলে আমি সেখান থেকে তা উদ্ধৃত করি, যেমনটি ৪ নম্বর হাদিসে রয়েছে। আবার কখনো তিনি এমন বর্ণনার প্রতি ইশারা করেন যা আমি খুঁজে পাইনি; যেমনটি ৩৩ নম্বর হাদিসে দেখা যাবে। কখনো তিনি এমন বর্ণনার দিকে ইশারা করেছেন যার উৎস নির্দেশ করার সাথে সাথে আমি সে সম্পর্কিত হাদিস শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিষয়ের বর্ণনা দেওয়া সমীচীন মনে করেছি; যেমনটি ২৩ নম্বর হাদিসের টীকায় দেখা যাবে। সেখানে আমি দেখেছি যে, তাবারানি যেদিকে ইশারা করেছেন সেটিই বর্ণনার সংরক্ষিত (মাহফুজ) রূপ, আর তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা অসংরক্ষিত (গাইরে মাহফুজ)। আমি এর কারণ স্পষ্ট করেছি—যা আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে—যে এটি তাবারানির শাইখের পক্ষ থেকে একটি ভুল ছিল।

কখনো কোনো জটিল শব্দের সঠিক রূপ নির্ধারণের জন্য আমার উৎস নির্দেশ করার প্রয়োজন হয়েছে; যেমনটি ২৪ নম্বর হাদিসের টীকায় পাওয়া যাবে। অথবা তাবারানির সনদে কোনো জটিলতা নিরসনের জন্য তা করা হয়েছে, যেমনটি ৪৩ নম্বর হাদিসের টীকায় দেখা যাবে।

পরিশেষে.. এই খণ্ডের কাজ সম্পাদনের পদ্ধতির ব্যাপারে যা কিছু স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করেছি তা এখানেই শেষ। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তাওফিক দান করেন। আমি আমার ভুলভ্রান্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর কাছে কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা কামনা করছি। আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন: সাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-হুমাইদ

রিয়াদ, তারিখ: ২৩ মহররম, ১৪৩৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌السقط الأول (‌‌1)

(1) 1116 - حدَّثنا أحمد(2)، قال: نا أبو جعفر(3)، قال: نا حاتم بن إسماعيل، قال: نا عبد الملك بن [حسن](4)، عن عبد الرحمن بن أبي سعيد، عن عمارة بن حارثة(5)، عن عمرو بن يثربي قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (لا يحل لامرئ من مال أخيه شيء إلا بطيب نفس منه). قلت: يا رسول الله، أرأيت إن لقيت غنمَ ابنِ عمّي، أجتزر منها شاة(6)؟ فقال: (إن لقيتها نعجة تحمل شفرة [وأزنادًا](7) بخبت الجَمِيش(8) فلا [تَهِجْها](9))(10).

--------------------------------------------

(1) "المعجم الأوسط" (2/ 26).

(2) من هنا ابتدأ السقط، وليس في المطبوع سوى قوله: (حدثنا). وأحمد هذا هو: ابن عقال.

(3) هو: عبد الله بن محمد النفيلي.

(4) في الأصل: (حسين)، والتصويب من "مجمع البحرين"، وهو عبد الملك بن الحسن بن أبي حكيم الجاري؛ كما في "التقريب" (4175).

(5) في الأصل يشبه أن تكون (حارث)، والمثبت موافق لما في "مجمع البحرين"، وانظر "التاريخ الكبير" (6/ 497)، و"الجرح والتعديل" (6/ 365).

(6) جَزَرَ الشيءَ يجْزُرُه ويَجْزِرُه جَزْرًا: قَطَعَهُ. والجَزْرُ: نَحْرُ الجَزَّارِ الجَزُورَ. وَجَزَرْتُ الجَزُورَ أَجْزُرُها، بالضَّمِّ، واجْتَزَرْتُهَا: إذا نَحَرْتَها. "لسان العرب" (4/ 134).

(7) ما بين المعقوفين تصحّف في الأصل إلى: (وأوتادًا)، وجاء في "مجمع البحرين" و"مجمع الزوائد" هكذا: (وزنادًا). والمثبت من كتب التخريج؛ كـ"مسند الإمام أحمد" (5/ 113 رقم 21083)، وغيره، وهو الأقرب لرسم الكلمة هاهنا في الأصل. والزَّنْدُ والزَّنْدَةُ: خَشَبَتَانِ يُسْتَقْدَحُ بِهِمَا، فالسُّفْلَى زَنْدَةٌ والأعلى زَنْدٌ؛ وقال ابْنُ سِيدَهُ: الزَّنْدُ العُودُ الأعلى الذي يُقْتَدَحُ بِهِ النارُ، والجمع أَزْنُدٌ وأَزْنَادٌ وزُنودٌ وزِنادٌ، وأَزانِدُ جَمْعُ الجَمْع. "لسان العرب" (3/ 195).

(8) الجَمِيش- بفتح أوله، وكسر ثانيه، وبالشين المعجمة، على وزن فعيل-: صحراء بين مكة والجار. "معجم ما استعجم من أسماء البلاد والمواضع" (2/ 395 - 394). و (الجار): بليدة على الساحل بقرب مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم. "الأنساب" للسمعاني (3/ 168).

قال ابن قتيبة في "غريب الحديث" (1/ 447): (سَأَلت الحِجَازِيِّين عن خبت الجميش فأخبروني أن بين مكة والحجاز صحراء تعرف بالخبت؛ والخبت الأرض الواسعة المستوية وإِنَّمَا خص الخبت؛ لسعته وبعد وقلّة من يسكنه). وقال في "النهاية في غريب الحديث" (1/ 294): (الخَبْتُ: الْأَرْضُ الْوَاسِعَةُ. والجَمِيش: الَّذي لا نبَات بِه).

(9) في الأصل: (يهجها)، والتصويب من "مجمع البحرين".

(10) الحديث أورده الهيثمي في "مجمع البحرين" (2097) بنفس الإسناد والمتن- سوى ما سبق التنبيه عليه- وأورده في "مجمع الزوائد" (4/ 171)، وقال: (رواه أحمد وابنه من زياداته أيضًا، والطبراني في "الكبير" و"الأوسط" … ورجال أحمد ثقات).

প্রথম বিচ্যুতি (১)

(১) ১১১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ(২), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর(৩), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে ইসমাইল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক ইবনে [হাসান](৪), তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি উমারাহ ইবনে হারিসাহ(৫) থেকে, তিনি আমর ইবনে ইয়াসরিবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: (কোনো ব্যক্তির জন্য তার ভাইয়ের সম্পদের কোনো কিছু তার মনের সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়)। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন যদি আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের বকরির পালের দেখা পাই, তবে কি আমি সেখান থেকে একটি বকরি জবাই করতে পারি(৬)? তিনি বললেন: (যদি তুমি খাবাত আল-জামীশ নামক প্রান্তরে কোনো ভেড়িকে ছুরি [এবং চকমকি পাথর](৭) বহন করতে দেখো(৮), তবে তুমি তাকে উত্যক্ত করো না [ধরো না])(৯)(১০)।

--------------------------------------------

(১) "আল-মু'জামুল আওসাত" (২/ ২৬)।

(২) এখান থেকে বাদ পড়া অংশ শুরু হয়েছে, মুদ্রিত কপিতে কেবল তার কথা: (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) বিদ্যমান। আর এই আহমাদ হলেন: ইবনে উক্বল।

(৩) তিনি হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফায়লী।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (হুসাইন), আর সংশোধন করা হয়েছে "মাজমাউল বাহরাইন" থেকে; তিনি হলেন আবদুল মালিক ইবনে হাসান ইবনে আবি হাকিম আল-জারী; যেমনটি "আত-তাকরীব" (৪১৭৫)-এ রয়েছে।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি (হারিস) এর মতো মনে হয়, তবে যা এখানে স্থির করা হয়েছে তা "মাজমাউল বাহরাইন"-এর অনুরূপ; দেখুন "আত-তারিখুল কাবীর" (৬/ ৪৯৭), এবং "আল-জারহু ওয়াত-তাদীল" (৬/ ৩৬৫)।

(৬) কোনো কিছু 'জাযারা' করার অর্থ হলো তা কেটে ফেলা। আর 'জাযর' মানে কসাইয়ের উট জবাই করা। আমি উট জবাই করেছি অর্থে 'জাযারতু' এবং 'इजতাজাহুরতু' ব্যবহৃত হয়। "লিসানুল আরব" (৪/ ১৩৪)।

(৭) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল পাণ্ডুলিপিতে বিকৃত হয়ে (ওয়া আউতাদান) হয়ে গিয়েছিল, তবে "মাজমাউল বাহরাইন" এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ এভাবে এসেছে: (ওয়া যিনাদান)। যা এখানে স্থির করা হয়েছে তা তাহরীজ বা সূত্র উদ্ধৃতকারী গ্রন্থসমূহ থেকে নেওয়া; যেমন "মুসনাদে ইমাম আহমাদ" (৫/ ১১৩, হাদীস নং ২১০৮৩) এবং অন্যান্য। এটিই মূল পাণ্ডুলিপির শব্দের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। 'যান্দ' এবং 'যান্দাহ' হলো দুটি কাঠ যা দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়, নিচেরটিকে বলা হয় 'যান্দাহ' এবং উপরেরটিকে 'যান্দ'। ইবনে সীদাহ বলেন: 'যান্দ' হলো উপরের কাঠটি যা দিয়ে আগুন বের করা হয়; এর বহুবচন হলো আযনুন্দ, আযনাদ, যুনুদ এবং যিনাদ। "লিসানুল আরব" (৩/ ১৯৫)।

(৮) জামীশ—প্রথম বর্ণে ফাতহাহ, দ্বিতীয় বর্ণে কাসরাহ এবং শীন বর্ণ যোগে, 'ফায়ীল' এর ওজনে—এটি মক্কা ও জারের মধ্যবর্তী একটি মরুভূমি। "মু'জাম মা ইস্তা'জাম মিন আসমাইল বিলাদ ওয়াল মাওয়াদি" (২/ ৩৯৫-৩৯৪)। আর (জার) হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শহরের (মদীনা) নিকটবর্তী উপকূলে অবস্থিত একটি ছোট শহর। সাম'আনীর "আল-আনসাব" (৩/ ১৬৮)।

ইবনুল কুতায়বাহ "গারীবুল হাদীস" (১/ ৪৪৭)-এ বলেছেন: (আমি হিজাযবাসীদের খাবাত আল-জামীশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তারা আমাকে জানিয়েছেন যে মক্কা ও হিজাযের মাঝখানে একটি মরুভূমি রয়েছে যা খাবাত নামে পরিচিত। খাবাত হলো প্রশস্ত সমতল ভূমি; আর একে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এর বিশালতা, দূরত্ব এবং সেখানে বসবাসকারীর স্বল্পতার কারণে)। তিনি "আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস" (১/ ২৯৪)-এ বলেছেন: (আল-খাবাত: প্রশস্ত ভূমি। আল-জামীশ: যাতে কোনো উদ্ভিদ নেই)।

(৯) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (ইয়াহিজহা), আর সংশোধন করা হয়েছে "মাজমাউল বাহরাইন" থেকে।

(১০) হাদীসটি আল-হাইসামি "মাজমাউল বাহরাইন" (২০৯৭)-এ একই সনদ ও পাঠে উল্লেখ করেছেন—পূর্বে যা সতর্ক করা হয়েছে তা ব্যতীত—এবং তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৪/ ১৭১)-এ উল্লেখ করে বলেছেন: (এটি আহমাদ এবং তাঁর পুত্রও তাঁর অতিরিক্ত বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাবারানি "আল-কাবীর" ও "আল-আওসাত"-এ বর্ণনা করেছেন... আর আহমাদ-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য)।

(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৫)
لا يروى هذا الحديث عن عَمْرو بن يثربي إلا بهذا الإسناد، تفرد به عبد الملك بن [حسن](1).

 

‌‌(2) 1116/ 1 - حدَّثنا أحمد، قال: نا أبو جعفر، قال: نا مسكين بن بكير، عن شعبة، عن أبي رجاء(2)، عن الحسن قال: سئل أنس عن النشرة (‌‌3)؟ فقال: ذكروا أنها من عمل الشيطان (‌‌4).

لم يرو هذا الحديث عن شعبة إلا مسكين.

 

(3) 1116/ 2 - حدثنا أحمد، قال: نا أبو جعفر، قال: نا محمد بن سلمة، عن محمد بن إسحاق، قال: حدثني سعيد بن عبيد بن السباق، عن محمد بن أسامة بن زيد، عن أبيه أسامة بن زيد قال: لما ثقل رسول الله صلى الله عليه وسلم هبطت وهبط الناس معي إلى المدينة، فدخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أصْمَتَ(5) ولا يتكلم، فجعل يرفع يده إلى السماء ثم يضعها علي؛ أعرف أنه يدعو لي(6).

لا يروى هذا الحديث عن أسامة إلا بهذا الإسناد، تفرد به محمد بن إسحاق.

 

(4) 1116/ 3 - حدثنا أحمد، قال: نا أبو جعفر النفيلي، قال: نا عبد العزيز بن محمد، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من قرن حجًّا وعمرة كفاه لهما طوافًا واحدًا(7) لم يحلل حتى يقضي حجه، ويحلل منهما جميعًا).

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (حسين)، وانظر التعليق (4) في الصفحة السابقة.

(2) هو: محمد بن سيف البصري.

(3) قال ابن الأثير في "النهاية في غريب الحديث" (5/ 54): (بِالضَّمِّ: ضرب من الرقية والعلاج، يعالج به من كان يظن أن به مسًّا من الجن، سميت نُشْرةً لأنه يُنْشَر بها عنه ما خامره من الداء؛ أي: يُكشف ويُزال).

(4) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (4183) كما هنا سندًا ومتنًا، وذكره في "مجمع الزوائد" (5/ 102)، وقال: (رواه البزار والطبراني في "الأوسط" … ورجال البزار رجال الصحيح).

(5) قال ابن الأثير في "النهاية" (3/ 51): (يُقَالُ: صَمَتَ العليلُ وأَصْمَتَ فَهُوَ صَامِتٌ ومُصْمِت: إذَا اعتُقِلَ لسانُه).

(6) الحديث ذكره ابن ناصر الدين في "جامع الآثار" (6/ 421)، وقال: (خرجه الطبراني في "معجمه الأوسط"، وقال: لا يروى هذا الحديث عن أسامة إلا بهذا الإسناد، تفرد به محمد بن إسحاق).

(7) كذا في الأصل! ولم أجد الطبراني أخرجه من هذا الوجه في شيء من كتبه الأخرى، ولم أجد من رواه من طريقه أو نقله عنه، والحديث ليس من الزوائد، ولذا لم يذكره الهيثمي في "مجمع البحرين"، ولا "مجمع الزوائد"، والجادة في مثل هذا الموضع أن يقول: (كفاه لهما طواف واحد)؛ كما جاء في رواية سعيد بن منصور، عن عبد العزيز بن محمد الدراوردي، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (من أهل بالحج والعمرة كفاه لهما طواف واحد، ولا يحل حتى يحل منهما)؛ أخرجه الدارمي (1886/تحقيق أسد)، وابن الجارود في "المنتقى" (460)، والطحاوي في "شرح معاني الآثار" (2/ 197).

فالذي يظهر أن هذا اللفظ تصحّف في هذا الموضع من الناسخ، أو غيره، ويكون صوابه: (طواف واحد)؛ لأن (طواف) فاعل، و (واحد) صفة له، أو يكون لفظ الحديث: (طاف لهما طوافًا واحدًا)؛ كما جاء في رواية سعيد بن منصور أيضًا عن هشيم بن بشير، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر؛ عند الطحاوي في الموضع السابق، والله أعلم.

ومع ذلك فيمكن توجيه ما جاء في الأصل- على فرض ثبوته- بما ذُكر في التعليق على شبيه به في "العلل" لابن أبي حاتم (1853)، وخلاصته: أنه يحمل على أحد وجهين:

الأول: أن (طوافًا واحدًا) وإن كان حقه الرفع، إلا أنه جاء منصوبًا لظهور المعنى وعدم اللبس، فقد جاء عن العرب الاكتفاء بالقرينة المعنوية عن القرينة اللفظية، فنصبت الفاعل ورفعت المفعول؛ نحو قولهم: (خرق الثوبُ المسمارَ)، وقولهم: (كسر الزجاجُ الحجرَ).

الوجه الثاني: على توهم أنه قال: (طاف لهما)، فنصب قوله: (طوافًا واحدًا)، والتوهم معروف في كلام العرب في باب العطف وفي غيره. انظر "الإنصاف" لابن الأنباري (2/ 460)، و"البرهان" للزركشي (4/ 113 - 110)، و"الخصائص" (3/ 282 - 273) باب في أغلاظ العرب).
আমর ইবনে ইয়াসরিবি থেকে এই হাদিসটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, আবদুল মালিক ইবন [হাসান](১) এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।

 

‌‌(২) ১১১৬/ ১ - আমাদের কাছে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মিসকিন ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি শুবা থেকে, তিনি আবু রাজা থেকে(২), তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আনাস (রা.)-কে নুশরাহ (ঝাড়ফুঁক) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: তারা উল্লেখ করেছেন যে এটি শয়তানের কাজ(৪)।

শুবা থেকে এই হাদিসটি মিসকিন ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।

 

(৩) ১১১৬/ ২ - আমাদের কাছে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে সালামা বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমার কাছে সাঈদ ইবনে উবাইদ ইবনে সাব্বাক বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে উসামা ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতায় কাতর হয়ে পড়লেন, তখন আমি এবং আমার সাথে মানুষজন মদিনার দিকে নেমে এলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশ করলাম, তখন তিনি নীরব হয়ে গিয়েছিলেন(৫) এবং কথা বলছিলেন না। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর হাত আকাশের দিকে তুলছিলেন এবং তারপর তা আমার ওপর রাখছিলেন; আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি আমার জন্য দোয়া করছেন(৬)।

উসামা থেকে এই হাদিসটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।

 

(৪) ১১১৬/ ৩ - আমাদের কাছে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু জাফর আন-নুফাইলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি হজ ও উমরাহ একত্রে পালন করবে, তার উভয়ের জন্য একটি তাওয়াফই যথেষ্ট হবে(৭), সে তার হজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হবে না, এবং উভয়টি থেকে একত্রে হালাল হবে)।

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: (হুসাইন), এবং পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার ৪ নং টীকাটি দেখুন।

(২) তিনি হলেন: মুহাম্মদ ইবনে সাইফ আল-বাসরি।

(৩) ইবনুল আসির 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস' (৫/ ৫৪) গ্রন্থে বলেছেন: (পেশ যোগে: এক প্রকার রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসা, যার মাধ্যমে এমন ব্যক্তির চিকিৎসা করা হয় যার ওপর জিনের আছর হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একে 'নুশরাহ' বলা হয় কারণ এর মাধ্যমে তার ভেতর গেঁথে থাকা ব্যাধিকে উন্মোচন করা হয়; অর্থাৎ তা প্রকাশ করা হয় এবং দূর করা হয়)।

(৪) হাদিসটি হাইসামি 'মাজমাউল বাহরাইন' (৪১৮৩) গ্রন্থে এখানে যেভাবে সনদ ও মতনসহ রয়েছে সেভাবে উল্লেখ করেছেন এবং 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৫/ ১০২)-এ উল্লেখ করে বলেছেন: (এটি আল-বাযযার এবং তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন... আর বাযযারের বর্ণনাকারীগণ সহীহ-এর বর্ণনাকারী)।

(৫) ইবনুল আসির 'আন-নিহায়া' (৩/ ৫১) গ্রন্থে বলেছেন: (বলা হয়: রোগী চুপ হয়ে গেছে বা তাকে নীরব করে দেওয়া হয়েছে, তখন সে নীরব থাকে: যখন তার জিহ্বা কথা বলায় অক্ষম হয়ে যায়)।

(৬) হাদিসটি ইবনু নাসিরুদ্দিন 'জামেউল আসার' (৬/ ৪২১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: (তাবারানি তাঁর 'মুজামুল আওসাত'-এ এটি সংকলন করেছেন এবং বলেছেন: উসামা থেকে এই হাদিসটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন)।

(৭) মূলে এভাবেই (জবর যোগে) রয়েছে! তাবারানি তাঁর অন্য কোনো গ্রন্থে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমি পাইনি, এবং তাঁর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন বা তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এমন কাউকে পাইনি। হাদিসটি 'যাওয়াইদ'-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই হাইসামি এটি 'মাজমাউল বাহরাইন' বা 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ উল্লেখ করেননি। এই স্থানে প্রচলিত নিয়ম হলো: (তার জন্য উভয়ের জন্য একটি তাওয়াফ যথেষ্ট হবে - পেশ যোগে); যেমনটি সাঈদ ইবনে মানসুরের বর্ণনায় আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ার্দি থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি হজ ও উমরার ইহরাম বাঁধবে, তার জন্য উভয়ের জন্য একটি তাওয়াফ যথেষ্ট হবে, এবং সে হালাল হবে না যতক্ষণ না উভয়টি থেকে হালাল হয়); এটি দারেমি (১৮৮৬/আসাদ তাহকিক), ইবনুল জারুদ 'আল-মুনতাকা' (৪৬০) এবং তহাবি 'শরহু মাআনিল আসার' (২/ ১৯৭) গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, এই শব্দটি লিপিকার বা অন্য কারো দ্বারা এখানে ভুলভাবে লিখিত হয়েছে, আর এর সঠিক রূপ হবে: (একটি তাওয়াফ - পেশ যোগে); কারণ 'তাওয়াফ' এখানে কর্তা (ফায়েল), আর 'এক' তার বিশেষণ। অথবা হাদিসের শব্দগুলো হতে পারে: (উভয়ের জন্য একটি তাওয়াফ করেছে - জবর যোগে); যেমনটি সাঈদ ইবনে মানসুরের অন্য এক বর্ণনায় হুশাইম ইবনে বশির থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে তহাবির পূর্বোক্ত স্থানে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।

তবুও, মূলে যা আছে—তা যদি সঠিক ধরে নেওয়া হয়—তবে তাকে সেভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যেভাবে ইবনু আবি হাতিমের 'আল-ইলাল' (১৮৫৩) গ্রন্থে অনুরূপ একটি বিষয়ের ওপর করা হয়েছে, যার সারসংক্ষেপ হলো: এটি দুইভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে:

প্রথমত: যদিও (একটি তাওয়াফ) শব্দটির মারফু (পেশ) হওয়ার কথা ছিল, তবুও অর্থের স্পষ্টতা এবং কোনো অস্পষ্টতা না থাকার কারণে এটি মানসুব (জবর) হিসেবে এসেছে। কারণ আরবদের থেকে এমন উদাহরণ পাওয়া যায় যেখানে তারা শাব্দিক চিহ্নের পরিবর্তে অর্থগত প্রতীতির ওপর নির্ভর করে কর্তাকে মানসুব এবং কর্মকে মারফু করেছে; যেমন তাদের উক্তি: (কাপড়টি পেরেককে ছিঁড়ে ফেলেছে - এখানে কাপড় জবর এবং পেরেক পেশ যুক্ত), এবং (কাঁচটি পাথরকে ভেঙে ফেলেছে)।

দ্বিতীয়ত: এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে তিনি বলেছিলেন: (তাদের জন্য তাওয়াফ করেছে), ফলে তিনি (একটি তাওয়াফ) শব্দটিকে মানসুব করেছেন। আরবদের কথায় সংযোজন (আতিফ) বা অন্য ক্ষেত্রে এমন 'তাওয়াহহুম' (ধারণাগত প্রয়োগ) সুপরিচিত। দেখুন ইবনুল আনবারির 'আল-ইনসাফ' (২/ ৪৬০), যারকাশির 'আল-বুরহান' (৪/ ১১০ - ১১৩) এবং 'আল-খাসায়েস' (৩/ ২৭৩ - ২৮২, আরবদের ভুলভ্রান্তি অধ্যায়)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৬)
لم يرو هذا الحديث عن عبيد الله إلا عبد العزيز الدراوردي، وسفيان الثوري، ولم يروه عن سفيان إلا يحيى بن يمان(1).

 

‌‌(5) 111‌‌6/ 4 - حدثنا أحمد، قال: نا أبو جعفر، قال: نا داود بن عبد الرحمن العطار، عن هشام بن عروة، عن عثمان بن عروة، عن عروة، عن عائشة قالت: طيبت رسول الله صلى الله عليه وسلم لإحرامه وإحلاله بأطيب ما أجد.

(6) 1116/ 5 - حدثنا أحمد، قال: نا أبو جعفر، قال: نا بقية بن الوليد، عن مبشر بن عبيد، عن زيد بن أسلم، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن سهيلًا كان عشّارًا ظلومًا، فسخه الله شهابًا(2)).

لم يرو هذا الحديث عن زيد إلا مبشر، تفرد به بقية.

--------------------------------------------

(1) رواية سفيان أخرجها الطبراني في "المعجم الأوسط" (3437)، و"الصغير" (361)؛ عن شيخه الحسن بن علي بن سلامة الدهان الكوفي، عن إبراهيم بن يوسف الصيرفي، عن يحيى بن يمان، عن سفيان الثوري، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر قال: (قرن رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الحج والعمرة، وطاف لهما طوافًا واحدًا). ثم قال الطبراني: (لم يروه عن سفيان إلا يحيى بن يمان).

(2) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (1383) بذكر سنده فقط، ولم يذكر متنه، وإنما عطفه على الحديث الذي قبله، وهو الحديث (7116) في "المعجم الأوسط"، وذكره أيضًا في "مجمع الزوائد" (3/ 88)، وأعله بمبشر بن عبيد، وقال عنه: (متروك).
উবায়দুল্লাহ থেকে আব্দুল আজিজ আদ-দারাওয়ারদি এবং সুফিয়ান সাওরি ছাড়া আর কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি। আর সুফিয়ান থেকে ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করেননি(১)।

 

‌‌(৫) ১১১৬‌/ ৪ - আমাদের কাছে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে দাউদ বিন আব্দুর রহমান আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন উরওয়া থেকে, তিনি উসমান বিন উরওয়া থেকে, তিনি উরওয়া থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর ইহরামের জন্য এবং ইহরাম খোলার জন্য আমার কাছে থাকা সর্বোত্তম সুগন্ধি মাখিয়ে দিয়েছিলাম।

(৬) ১১১৬/ ৫ - আমাদের কাছে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বাকিয়্যাহ বিন ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন মুবাশশির বিন উবাইদ থেকে, তিনি যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই সুহাইল একজন অত্যন্ত অত্যাচারী কর-সংগ্রাহক ছিল, তাই আল্লাহ তাকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন(২))।

যায়েদ থেকে মুবাশশির ছাড়া আর কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, বাকিয়্যাহ এটি বর্ণনায় একক হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) সুফিয়ানের বর্ণনাটি তাবারানি "আল-মু'জামুল আওসাত" (৩৪৩৭) এবং "আস-সাগির" (৩৬১)-এ তাঁর উস্তাদ হাসান বিন আলি বিন সালামাহ আদ-দাহহান আল-কুফি থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন ইউসুফ আস-সাইরাফি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ ও ওমরাহকে একত্রিত করেছিলেন এবং উভয়ের জন্য একটি তাওয়াফ করেছিলেন)। এরপর তাবারানি বলেন: (ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান ছাড়া সুফিয়ান থেকে এটি আর কেউ বর্ণনা করেননি)।

(২) হাদিসটি হাইসামি "মাজমাউল বাহরাইন" (১৩৮৩) এ কেবল এর সনদ উল্লেখ করে বর্ণনা করেছেন, এর মূল পাঠ (মতন) উল্লেখ করেননি, বরং তিনি এটিকে এর আগের হাদিসের সাথে সংযুক্ত করেছেন, যা "আল-মু'জামুল আওসাত"-এর (৭১১৬) নম্বর হাদিস। তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৩/ ৮৮) এ-ও উল্লেখ করেছেন এবং মুবাশশির বিন উবাইদের কারণে একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি পরিত্যক্ত)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌(7) 1116/ 6 - حدثنا أحمد، قال: نا أبو جعفر، قال: نا محمد بن سلمة، عن محمد بن إسحاق، عن حميد الطويل، عن أنس بن مالك، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إزرة المؤمن إلى نصف الساق، وإلى الكعبين فلا بأس، وما أسفل من الكعبين فلا خير فيه)(1).

‌‌(8) 1116/ 7 - وبه(2)، عن محمد بن إسحاق، عن عيسى بن عبد الله بن مالك، عن أبي سليمان زيد بن وهب الجهني، عن أبي الدرداء، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من شهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا عبده ورسوله مخلصًا دخل الجنة)(3).

لم يرو هذا الحديث عن عيسى إلا محمد.

 

‌‌(9) 1116/ 8 - وبه، عن محمد بن إسحاق، قال: قال الزهري: حدثني حمزة بن عبد الله بن عمر، أن عائشة قالت: لما اسْتُعِزَّ(4) برسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: (مروا أبا بكر فليصلّ بالناس)، قلت: يا رسول الله، إن أبا بكر رجل ضعيف الصوت، كثير البكاء إذا قرأ القرآن. قال: (مروه فليصلّ بالناس)، فقلت لحفصة: قولي. فقالت، فقال: (إنكن صواحبات يوسف! مروه فليصلّ بالناس!). قالت: والله ما قلت ذلك إلا أني كنت أحب أن يصرف ذلك عن أبي بكر، وعرفت أن الناس إن يحبوا(5) رجلًا قام مقامه صلى الله عليه وسلم أبدًا، وأن الناس سيتشاءمون به في كل حدث، فكنت

--------------------------------------------

(1) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (4247) كما هنا سندًا ومتنًا، وذكره في "مجمع الزوائد" (5/ 122)، وقال: (رواه أحمد والطبراني في "الأوسط"، ورجال أحمد رجال الصحيح).

(2) أي: بالإسناد السابق إلى محمد بن إسحاق.

(3) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (6) كما هنا سندًا ومتنًا، وساق سنده كاملًا، وذكره أيضًا في "مجمع الزوائد" (1/ 16)، وقال: (رواه أحمد والبزار والطبراني في "الكبير" و"الأوسط"، وإسناد أحمد أصح، وفيه ابن لهيعة، وقد احتج به غير واحد). وأخرجه المزي في "تهذيب الكمال" (22/ 625) من طريق الطبراني، بمثله، ونقل كلام الطبراني على الحديث.

(4) أي: اشتد به المرض وأشرف على الموت. "النهاية في غريب الحديث" (3/ 228).

(5) كذا في الأصل! والظاهر أن قوله: (ان) متصحف عن (لن). ويمكن توجيه ما في الأصل- على فرض ثبوته- بأن (إن) هنا نافية؛ بمعنى (لا)، وبناء عليه ينبغي رفع الفعل بعدها بثبوت النون، فتكون العبارة: (إن يحبون)؛ أي: (لا يحبون)؛ كما في قوله تعالى: (إن يتبعون إلا الظن)، غير أنه يمكن توجيه عدم رفع الفعل بالتوجيه الذي ذُكر في قوله صلى الله عليه وسلم: (لا تؤمنوا حتى تحابوا) "صحيح مسلم" (93)، وهو أن حذف النون هنا لغة قليلة لبعض العرب؛ يحذفون نون الرفع من الأفعال الخمسة لمجرد التخفيف، بلا جازم أو ناصب، أو نون توكيد أو نون وقاية؛ يقول ابن مالك: (وهذا ثابت في الكلان الفصيح نثره ونظمه). انظر: "شواهد التوضيح" لابن مالك (ص 228 - 230)، وانظر التعليق على المسألة (1015) من كتاب "العلل" لابن أبي حاتم.
‌‌(৭) ১১১৬/ ৬ - আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: (মুমিনের লুঙ্গি নলার অর্ধেক পর্যন্ত, আর টাখনু পর্যন্ত হলে তাতে কোনো সমস্যা নেই, এবং যা টাখনুর নিচে যাবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই)(১)।

‌‌(৮) ১১১৬/ ৭ - এবং পূর্বোক্ত সনদে(২) মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি ঈসা ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মালিক থেকে, তিনি আবু সুলায়মান যাইদ ইবন ওয়াহব আল-জুহানি থেকে, তিনি আবুদ্দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)(৩)।

ঈসা থেকে মুহাম্মাদ ছাড়া আর কেউ এই হাদিস বর্ণনা করেননি।

 

‌‌(৯) ১১১৬/ ৮ - এবং তাঁর থেকেই, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যুহরী বলেছেন: হামযাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা (রা.) বলেছেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসুস্থতা অত্যন্ত প্রবল হলো(৪), তখন তিনি বললেন: (তোমরা আবু বকরকে নির্দেশ দাও যাতে সে মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করে)। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আবু বকর ক্ষীণ কণ্ঠের অধিকারী একজন মানুষ, তিনি যখন কুরআন পাঠ করেন তখন অনেক বেশি কাঁদেন। তিনি বললেন: (তাকে নির্দেশ দাও যাতে সে মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করে)। এরপর আমি হাফসাকে বললাম: তুমি বলো। হাফসা বললে তিনি বললেন: (তোমরা তো ইউসুফের (সময়কার) নারীদের মতো! তাকে নির্দেশ দাও যেন সে মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করে!)। আয়েশা (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম, আমি এ কথা কেবল এ কারণেই বলেছিলাম যে, আমি চাচ্ছিলাম বিষয়টি যেন আবু বকরের ওপর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়; কারণ আমি জানতাম যে, মানুষ সেই ব্যক্তিকে কখনোই ভালোবাসবে না(৫) যে তাঁর (রাসূলের) স্থলাভিষিক্ত হবে এবং মানুষ প্রতিটি (নতুন) অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাকেই অপয়া মনে করবে; তাই আমি চেয়েছিলাম...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি আল-হায়সামি "মাজমাউল বাহরাইন" (৪২৪৭) গ্রন্থে এখানে বর্ণিত সনদ ও পাঠসহ উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৫/১২২) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: (এটি আহমাদ এবং তাবারানি "আল-আওসাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আর আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী)।

(২) অর্থাৎ: মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক পর্যন্ত পূর্বোক্ত সনদে।

(৩) হাদিসটি আল-হায়সামি "মাজমাউল বাহরাইন" (৬) গ্রন্থে এখানে বর্ণিত সনদ ও পাঠসহ উল্লেখ করেছেন এবং এর পূর্ণ সনদ তুলে ধরেছেন। এছাড়া তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (১/১৬) গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: (এটি আহমাদ, বাযযার এবং তাবারানি "আল-কাবীর" ও "আল-আওসাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তবে আহমাদের সনদ অধিকতর বিশুদ্ধ, যদিও তাতে ইবন লাহিআহ রয়েছেন, তবে একাধিক ইমাম তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন)। আল-মিযযি এটি "তাহযীবুল কামাল" (২২/৬২৫) গ্রন্থে তাবারানির সূত্রে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসটির ওপর তাবারানির মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।

(৪) অর্থাৎ: তাঁর রোগ বৃদ্ধি পায় এবং তিনি মৃত্যুর নিকটবর্তী হন। দেখুন: "আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস" (৩/২২৮)।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে! তবে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর কথা (ইন - যদি) শব্দটি (লান - কখনোই না) শব্দের লিপিপদ প্রমাদ। আর মূল পাণ্ডুলিপিতে যা আছে—তার শুদ্ধতা ধরে নিয়ে—সেটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব যে, এখানে (ইন) শব্দটি না-বোধক (না) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই হিসেবে এর পরের ক্রিয়াটির শেষে 'নুন' অক্ষরের উপস্থিতি সাপেক্ষে পেশ (রাফ') হওয়া উচিত ছিল, ফলে বাক্যটি হতো: (ইন ইউহিব্বুনা); অর্থাৎ (তারা ভালোবাসবে না); যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (ইন ইত্তাবিউনা ইল্লায যন - তারা ধারণা ছাড়া অন্য কিছুর অনুসরণ করে না)। তবে ক্রিয়াটি পেশযুক্ত না হওয়ার কারণ সেই নিয়মে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: (লা তু’মিনু হাত্তা তাহাব্বু) এর ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে [সহিহ মুসলিম (৯৩)]; আর তা হলো, কোনো আমিল (কারক) ছাড়াই ক্রিয়া থেকে 'নুন' বিলুপ্ত করা আরবদের কোনো কোনো গোত্রের বিরল ভাষাভঙ্গি; তারা কেবল উচ্চারণের সহজতার (তাখফীফ) জন্য 'নুন' বিলুপ্ত করে থাকে। ইবন মালিক বলেন: (এটি আরব্য গদ্য ও পদ্যের সাবলীল ভাষায় প্রমাণিত)। দেখুন: ইবন মালিকের "শাওয়াাহিদুত তাওযীহ" (পৃ. ২২৮-২৩০), এবং ইবন আবি হাতিমের "আল-ইলাল" গ্রন্থের (১০১৫) নম্বর মাসআলার টীকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৮)
أحب أن أصرف ذلك عن أبي بكر (‌‌‌‌1).

 

(10)
1116/ 9 - حدثنا أحمد بن إسحاق الخشاب الرقي، قال: نا عبد الله بن جعفر، قال: نا عبيد الله بن عمرو، عن زيد(2)، عن أبي إسحاق، عن مجاهد، عن أبي هريرة، أن جبريل أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم يسلم عليه في بيته، وفي البيت ستر منصوب فيه تماثيل، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: (ادخل)، فقال: (إنا لا ندخل بيتًا فيه تماثيل، فإن كنت لابد جاعلها في بيتك، فاجعلها وسائد أو بُسُطًا)(3).

(11) 1116/ 10 - وعن(4) أبي إسحاق، عن عاصم بن عمرو، عن عمير مولى عمر، قال: جاء نفر من العراق إلى عمر، فقال: ما جاء بكم؟ قالوا: جئناك لنسألك عن ثلاث، قال: ما هن؟ قالوا: صلاة الرجل في بيته تطوعًا ما هي؟ وما يحل للرجل من امرأته حائضًا؟ وعن الغسل من الجنابة؟ فقال عمر: أسحرة أنتم؟ قالوا: لا والله يا أمير المؤمنين ما نحن بسحرة. قال: أفكهنة أنتم؟ قالوا: لا. فقال: لقد سألتموني عن ثلاث ما سألني عنهن أحد منذ سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عنهن قبلكم، فقال: (أما صلاة الرجل في بيته تطوّعًا، فنورٌ، فنَوّرْ بيتك ما استطعت، وأما الحائض فلك ما فوق الإزار، وليس لك ما تحته، وأما الغسل من الجنابة، فتفرغ بيمينك على شمالك، ثم تدخل يدك في الإناء، فتغسل فرجك وما أصابك، ثم توضأ وضوءك للصلاة، ثم تفرغ على رأسك ثلاث مرات تدلك رأسك كل مرة)(5).

‌‌(12) 1116/ 11 - وعن(6) زيد، عن محمد بن قيس النخعي، عن أبي الحكم البجلي، قال: دخلت على أبي هريرة وهو يحتجم، فقال: يا أبا الحكم، أتحتجم؟

--------------------------------------------

(1) الحديث في "سيرة ابن هشام" (2/ 652) من طريق ابن إسحاق، به. وأخرجه البلاذري في "أنساب الأشراف" (1135/تحقيق سهيل زكار) من طريق إبراهيم بن سعد، عن محمد بن إسحاق، به.

(2) هو: ابن أبي أُنَيْسة الجزري.

(3) الحديث رواه أيضًا أبو سعيد عيسى بن سالم الشاشي في "حديثه (115) عن عبيد الله بن عمرو الرقي، عن زيد، به.

(4) أي: بالإسناد السابق عن أبي إسحاق السبيعي، به.

(5) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (491) بذكر سنده كاملًا، ومتنه كما هنا، ثم قال: (قلت: رواه ابن ماجه باختصار)، وذكره في "مجمع الزوائد" (1/ 270 - 271) أولًا من رواية الإمام أحمد، ثم من رواية الطبراني في "الأوسط"، ثم قال: (ورواه أبو يعلى من هذه الطريق، ورجال أبي يعلى ثقات، وكذلك رجال أحمد، إلا أن فيه من لم يسم، فهو مجهول).

(6) يعني: بالإسناد المذكور في الحديث (1116/ 9) إلى زيد بن أبي أنيسة.
আমি এটি আবু বকর থেকে সরিয়ে নিতে পছন্দ করি (‌‌‌১)।

 

(১০)
১১১৬/ ৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইসহাক আল-খাশশাব আল-রিক্কি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর, জায়েদ(২) থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, জিবরাঈল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর ঘরে তাঁকে সালাম দিতে আসলেন। এমতাবস্থায় ঘরে একটি পর্দা লটকানো ছিল যাতে ছবি ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: (প্রবেশ করুন), তিনি বললেন: (আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না যাতে ছবি থাকে। সুতরাং যদি আপনি ঘরে তা রাখতেই চান, তবে সেগুলোকে বালিশ অথবা বিছানায় পরিণত করুন)(৩)।

(১১) ১১১৬/ ১০ - এবং(৪) আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে আমর থেকে, তিনি ওমরের মুক্তদাস উমায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইরাক থেকে একদল লোক ওমরের নিকট আসলেন। তিনি বললেন: তোমাদের কিসে নিয়ে এসেছে? তারা বলল: আমরা আপনার নিকট তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেন: সেগুলো কী? তারা বলল: একজন ব্যক্তির তার নিজের ঘরে নফল সালাত আদায় করা কেমন? এবং ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একজন পুরুষের জন্য কী বৈধ? এবং জানাবাতের গোসল সম্পর্কে? তখন ওমর বললেন: তোমরা কি জাদুকর? তারা বলল: আল্লাহর শপথ না, হে আমিরুল মুমিনীন, আমরা জাদুকর নই। তিনি বললেন: তবে কি তোমরা গণক? তারা বলল: না। তখন তিনি বললেন: তোমরা আমাকে এমন তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ যা তোমাদের আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করার পর থেকে অন্য কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি। তিনি বলেছিলেন: (ঘরে ব্যক্তির নফল সালাত হলো নূর, সুতরাং তোমার ঘরকে সাধ্যমত নূরান্বিত করো। আর ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে তোমার জন্য লুঙ্গির ওপরের অংশ বৈধ, তবে নিচের অংশ তোমার জন্য বৈধ নয়। আর জানাবাতের গোসলের ক্ষেত্রে, তুমি তোমার ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর পানি ঢালবে, তারপর পাত্রের মধ্যে তোমার হাত প্রবেশ করাবে এবং তোমার লজ্জাস্থান ও যা লেগেছে তা ধৌত করবে, অতঃপর সালাতের অজুর ন্যায় অজু করবে, তারপর তোমার মাথায় তিনবার পানি ঢালবে এবং প্রতিবার তোমার মাথা মর্দন করবে)(৫)।

‌‌(১২) ১১১৬/ ১১ - এবং(৬) জায়েদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাইস আন-নাখায়ি থেকে, তিনি আবু আল-হাকাম আল-বাজালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রার নিকট গেলাম যখন তিনি সিঙা লাগাচ্ছিলেন, তিনি বললেন: হে আবু আল-হাকাম, তুমি কি সিঙা লাগাও?

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি ইবনে হিশামের "সিরাত" (২/ ৬৫২) গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণিত। আল-বালাজুরি এটি "আনসাব আল-আশরাফ" (১১৩৫/ সুহাইল জাক্কারের তাহকিক) গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনে সা’দ-এর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) তিনি হলেন: ইবনে আবি উনাইসাহ আল-জাজারি।

(৩) হাদিসটি আবু সাঈদ ঈসা ইবনে সালিম আশ-শাশীও তাঁর ‘হাদিস’ (১১৫) গ্রন্থে উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আল-রিক্কি থেকে, জায়েদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৪) অর্থাৎ: আবু ইসহাক আস-সাবিঈ-এর পূর্ববর্তী সনদে।

(৫) হাদিসটি আল-হাইসামি "মাজমাউল বাহরাইন" (৪৯১) গ্রন্থে এর পূর্ণ সনদসহ উল্লেখ করেছেন এবং এর মতন এখানে বর্ণিত মতনের অনুরূপ। অতঃপর তিনি বলেন: (আমি বলছি: ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন)। তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (১/ ২৭০ - ২৭১) গ্রন্থে প্রথমে ইমাম আহমদের বর্ণনা থেকে, তারপর তাবারানির "আল-আওসাত" থেকে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: (আবু ইয়া’লা এই সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু ইয়া’লার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, অনুরূপভাবে আহমদের বর্ণনাকারীগণও। তবে এতে একজন নামহীন ব্যক্তি রয়েছেন, ফলে তিনি অপরিচিত)।

(৬) অর্থাৎ: ১১১৬/ ৯ নম্বর হাদিসে উল্লিখিত সনদে জায়েদ ইবনে আবি উনাইসাহ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৯)
فقلت: ما احتجمت قط. قال أبو هريرة: أخبرنا أبو القاسم صلى الله عليه وسلم: أن جبريل أخبره: أن الحجامة من أنفع ما تداوى به الناس (‌‌1).

 

(13)
1116/ 12 - وعن زيد، عن عمرو بن مرة، عن سالم بن أبي الجعد، عن أبي أمامة الباهلي، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إذا تمضمض أحدكم حطّ(2) ما أصاب بفيه، وإذا غسل وجهه حطّ ما أصاب بوجهه، وإذا غسل يديه حطّ ما أصاب بيديه، وإذا مسح برأسه تناثرت خطاياه من أصول شعره، وإذا غسل قدميه حطّ ما أصاب برجليه)(3).

‌‌(14) 1116/ 13 - وعن زيد، عن عمرو بن مرة، عن هلال بن يساف، عن عمرو بن راشد، عن وابصة بن معبد قال: أبصر رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلًا يصلي خلف الصف وحده، فأمره أن يعيد الصلاة(4).

‌‌(15) 1116/ 14 - وعن زيد، عن المنهال بن عمرو، عن سعيد بن جبير، عن ابن عمر، أن النبي صلى الله عليه وسلم لعن من يمثل بالحيوان(5).

--------------------------------------------

(1) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (4172)، بذكر سنده كاملًا، ومتنه كما هنا، ثم قال: (قلت: رواه أبو داود وابن ماجه من غير ذكر جبريل رعليه)، وذكره في "مجمع الزاوئد" (5/ 91)، وقال: (رواه الطبراني في "الأوسط"، وفيه محمد بن قيس النخعي ذكره ابن أبي حاتم ولم يجرحه ولم يوثقه، وبقية رجاله رجال الصحيح).

(2) أي: ماء المضمضة.

(3) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (386)، بذكر سنده كاملًا، ومتنه كما هنا، وذكره أيضًا في "مجمع الزوائد" (1/ 221 - 222)، وقال: (رواه الطبراني في "الأوسط"، ورجاله رجال الصحيح).

(4) الحديث أخرجه الطبراني أيضًا في "المعجم الكبير" (22/ 140 رقم 372) من طريق شيخه أبي شعيب عبد الله بن الحسن الحراني، عن عبد الله جعفر الرقي، به.

(5) الحديث أخرجه الطبراني أيضًا في "المعجم الكبير" (13/ 83 رقم 13719)، فقال: حدثنا أحمد بن إسحاق الخشاب الرقي، وأبو شعيب الحراني؛ قالا: ثنا عبد الله بن جعفر الرقي، ثنا عبيد الله بن عمرو، عن زيد بن أبي أنيسة، عن المنهال بن عمرو، عن سعيد بن جبير، عن ابن عمر؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يتخذ الروح غرضًا. اهـ. هكذا جاء الحديث عنده في هذا الموضع؛ بالإسناد المذكور هنا نفسه، غير أنه قرن رواية الخشاب برواية أبي شعيب الحراني، فلست أدري أهو حديث آخر، أو رواه بالمعنى، أو حمل رواية الخشاب على رواية أبي شعيب، علمًا بأن أبا نعيم روى الحديث في "الحلية" (4/ 296) عن شيخه أبي علي محمد بن أحمد بن الحسن، عن أبي شعيب الحراني، عن عبد الله بن جعفر الرقي، به بذكر قصة مرور ابن عمر بالفتية الذين نصبوا دجاجة يرمونها، وقال: لأني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم أُراه- قال: يلعن من مثل بالحيوان. اهـ. وهذا يدل على الشك في اللفظ، والتعبير بالمعنى، والله أعلم.
আমি বললাম: আমি কখনো হিজামা করিনি। আবু হুরায়রা বললেন: আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন যে, জিবরাঈল তাকে সংবাদ দিয়েছেন: হিজামা হচ্ছে মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি চিকিৎসা (‌‌১)।

 

(১৩)
১১১৬/ ১২ - যায়েদ হতে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনে মুররাহ হতে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ হতে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের কেউ যখন কুলি করে, তখন তার মুখ দ্বারা যা অর্জিত হয়েছে তা ঝরে যায়, যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখমণ্ডল দ্বারা যা অর্জিত হয়েছে তা ঝরে যায়, যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন তার দুই হাত দ্বারা যা অর্জিত হয়েছে তা ঝরে যায়, যখন সে তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার চুলের গোড়া থেকে তার পাপসমূহ ঝরে পড়ে, আর যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন তার দুই পা দ্বারা যা অর্জিত হয়েছে তা ঝরে যায়)(২)।

‌‌(১৪) ১১১৬/ ১৩ - যায়েদ হতে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনে মুররাহ হতে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ হতে, তিনি আমর ইবনে রাশিদ হতে, তিনি ওয়াবিসাহ ইবনে মাবাদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কাতারের পেছনে একাকী সালাত আদায় করতে দেখলেন, তখন তিনি তাকে সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিলেন(৩)।

‌‌(১৫) ১১১৬/ ১৪ - যায়েদ হতে বর্ণিত, তিনি মিনহাল ইবনে আমর হতে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন যে প্রাণীর অঙ্গহানি করে(৪)।

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি হাইসামি 'মাজমাউল বাহরাইন' (৪১৭২) গ্রন্থে পূর্ণ সনদে উল্লেখ করেছেন এবং এর মূল পাঠ এখানে যেমন আছে তেমনই। এরপর তিনি বলেন: (আমি বলছি: এটি আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন তবে জিবরাঈলের উল্লেখ করেননি), এবং তিনি এটি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৫/৯১) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: (তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে কায়স আন-নাখয়ী রয়েছেন, যার কথা ইবনে আবি হাতিম উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাকে দোষারোপও করেননি আবার নির্ভরযোগ্যও বলেননি। অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী)।

(২) অর্থাৎ: কুলির পানি।

(৩) হাদীসটি হাইসামি 'মাজমাউল বাহরাইন' (৩৮৬) গ্রন্থে পূর্ণ সনদে উল্লেখ করেছেন এবং এর মূল পাঠ এখানে যেমন আছে তেমনই। তিনি এটি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (১/২২১ - ২২২) গ্রন্থেও উল্লেখ করে বলেছেন: (তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী)।

(৪) হাদীসটি তাবারানি তার 'আল-মুজামুল কাবীর' (২২/১৪০, নং ৩৭২) গ্রন্থেও তার শিক্ষক আবু শুআইব আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-হাররানি, তিনি আব্দুল্লাহ জাফর আর-রাক্কি হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৫) হাদীসটি তাবারানি তার 'আল-মুজামুল কাবীর' (১৩/৮৩, নং ১৩৭১৯) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইসহাক আল-খাশ্শাব আর-রাক্কি এবং আবু শুআইব আল-হাররানি বর্ণনা করেছেন; তারা বলেছেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাক্কি বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর হতে, তিনি যায়েদ ইবনে আবি আনিসাহ হতে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর হতে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেন যে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রাণবিশিষ্ট সত্তাকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে নিষেধ করেছেন। সমাপ্ত। এখানে হাদীসটি এভাবেই এসেছে; উপরে উল্লেখিত একই সনদে, তবে তিনি খাশ্শাবের বর্ণনার সাথে আবু শুআইব আল-হাররানির বর্ণনাকে যুক্ত করেছেন। ফলে আমি নিশ্চিত নই এটি অন্য কোনো হাদীস কি না, নাকি তিনি অর্থগতভাবে বর্ণনা করেছেন, অথবা খাশ্শাবের বর্ণনাকে আবু শুআইবের বর্ণনার অনুগামী করেছেন। উল্লেখ্য যে, আবু নুআইম হাদীসটি 'আল-হিলইয়াহ' (৪/২৯৬) গ্রন্থে তার শিক্ষক আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান হতে, তিনি আবু শুআইব আল-হাররানি হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাক্কি হতে সেই সূত্রে ইবনে উমরের একদল যুবকের কাছ দিয়ে যাওয়ার ঘটনা সহ বর্ণনা করেছেন যারা একটি মুরগিকে নিশানা বানিয়ে নিক্ষেপ করছিল। তিনি বলেন: কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে—আমার মনে হয়—বলতে শুনেছি: তিনি ঐ ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন যে প্রাণীর অঙ্গহানি করে। সমাপ্ত। এটি শব্দের ব্যাপারে সন্দেহ এবং অর্থগতভাবে প্রকাশের প্রমাণ দেয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌(16) 1116/ 15 - وعن زيد، عن القاسم بن عوف الشيباني، قال: سمعت ابن عمر يقول: لقد عشت برهة من دهري وإن أحدنا يؤتى(1) الإيمان قبل القرآن، وتنزل السورة على محمد صلى الله عليه وسلم، فنتعلم(2) حلالها وحرامها وما ينبغي أن يقف عنده منها كما تعلمون أنتم القرآن، ثم لقد رأيت(3) رجالًا يؤتى(4) أحدهم القرآن قبل الإيمان، فيقرأ ما بين فاتحة الكتاب إلى خاتمته ما يدري ما آمره، ولا زاجره، وما ينبغي أن يقف عنده منه، وينثره نثر الدقل(5).

‌‌(17) 1116/ 16 - وعن زيد، عن القاسم بن عوف، عن علي بن الحسين قال: حدثتنا أم سلمة زوج(6) النبي صلى الله عليه وسلم؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم بينا(7) هو في بيتها وعنده نفر من أصحابه؛ إذ دخل رجل فقال: يا رسول الله، كم صدقة كذا وكذا من التمر؟ قال: (كذا وكذا)، فقال(8) الرجل: فإن فلانًا تعدّى عليَّ، فأخذ كذا وكذا- زاد صاعًا- فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (فكيف إذا سعى عليكم من يتعدّى عليكم أشرّ(9) من هذا؟!)، فقال الرجل: فكيف بنا يا رسول الله، إذا كان رجل منا غائبًا في إبله(10) وماشيته وزرعه ونخله، فأدّى زكاة ماله، فتعدّى عليه الحق(11)؟ فكيف يصنع يا رسول الله؟! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من أدى زكاة ماله طيبة بها نفسه يريد بها وجه الله والدار الآخرة، لم(12) يغيب منها شيئًا، وأقام الصلاة، وآتى الزكاة،

--------------------------------------------

(1) كتبت في الأصل: (ياتا).

(2) في "مجمع البحرين"، و"مجمع الزوائد": (فيتعلم).

(3) في "مجمع البحرين": (ثم أجد) بدل (ثم لقد رأيت)، مع أن هذه اللفظة في "مجمع الزوائد" موافقة لما هنا، والظاهر أن السبب كونها ضمن السقط من بعض نسخ من "مجمع البحرين".

(4) كتبت في الأصل (يؤتا).

(5) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (209) بذكر سنده كاملًا، ومتنه كما هنا، عدا الفروق المتقدم ذكرها، وذكره أيضًا في "مجمع الزوائد" (1/ 165)، وقال: (رواه الطبراني في "الأوسط"، ورجاله رجال الصحيح)، وذكره السيوطي في "الدر المنثور" (3/ 295/ط. هجر) بمثل لفظه هنا، وعزاه للطبراني في "الأوسط".

(6) في "مجمع البحرين": (زوجة).

(7) في "مجمع البحرين": (بينما).

(8) في "مجمع البحرين": (قال).

(9) في "مجمع البحرين": (أشد).

(10) يشبه أن تكون في الأصل: (إبل).

(11) في "مجمع البحرين": (عامل) بدل (الحق)، وجاءت على الصواب هناك في الموضع التالي.

(12) في "مجمع البحرين": (ولم).
(১৬) ১১১৬/ ১৫ - জায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি কাসিম ইবনে আওফ আশ-শাইবানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি: আমি আমার জীবনের দীর্ঘ একটি সময় অতিবাহিত করেছি যখন আমাদের কাউকে কুরআনের পূর্বে ঈমান প্রদান করা হতো। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর সূরা অবতীর্ণ হতো, তখন আমরা এর হালাল, হারাম এবং এতে কোথায় থামা উচিত (এর সীমারেখা) তা শিখতাম, যেভাবে তোমরা এখন কুরআন শিখছো। অতঃপর আমি এমন কিছু লোক দেখেছি যাদের কাউকে ঈমানের পূর্বে কুরআন প্রদান করা হয়, ফলে সে কিতাবের (কুরআনের) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলে কিন্তু সে জানে না এর আদেশ কী, এর নিষেধ কী এবং এর কোথায় থামা উচিত। সে একে নিম্নমানের খেজুর ছিটিয়ে দেওয়ার মতো ছড়িয়ে দেয়।

(১৭) ১১১৬/ ১৬ - জায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি কাসিম ইবনে আওফ থেকে, তিনি আলী ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ্ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা তাঁর ঘরে ছিলেন এবং তাঁর কাছে তাঁর সাহাবীদের একটি দল উপস্থিত ছিল; এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের জাকাত কত? তিনি বললেন: (এত এবং এত)। তখন লোকটি বলল: অমুক ব্যক্তি আমার ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে এবং সে এত এত নিয়েছে—সে এক সা’ অতিরিক্ত নিয়েছে—তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (তখন কী অবস্থা হবে যখন তোমাদের ওপর এমন লোক নিয়োজিত হবে যে এর চেয়েও খারাপভাবে সীমালঙ্ঘন করবে?!)। তখন লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের তখন কী হবে, যদি আমাদের কোনো ব্যক্তি তার উট, গবাদি পশু, শস্য এবং খেজুর বাগানে ব্যস্ত থাকে এবং সে তার মালের জাকাত আদায় করে, এমতাবস্থায় তার পাওনার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা হয়? হে আল্লাহর রাসূল, সে তখন কী করবে?! তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে তার মালের জাকাত প্রদান করবে, যার মাধ্যমে সে আল্লাহর চেহারা এবং পরকাল প্রত্যাশা করবে, তা থেকে কিছুই গোপন করবে না, সালাত কায়েম করবে এবং জাকাত প্রদান করবে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ইউতা' এর স্থলে 'ইয়াতা' লেখা হয়েছে।

(২) 'মাজমাউল বাহরাইন' এবং 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ রয়েছে: 'ফায়াতাআল্লামু'।

(৩) 'মাজমাউল বাহরাইন'-এ 'সুম্মা আজাদু' (অতঃপর আমি পাই) রয়েছে 'সুম্মা লাকাদ রাইতু' (অতঃপর আমি দেখেছি) এর পরিবর্তে; যদিও এই শব্দটি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ এখানকার পাঠের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্পষ্টত এটি 'মাজমাউল বাহরাইন'-এর কিছু পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়ার কারণে হয়েছে।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ইউতা' এর স্থলে 'ইউতা' (ভিন্ন বানানে) লেখা হয়েছে।

(৫) হাদিসটি হাইসামি 'মাজমাউল বাহরাইন' (২০৯) গ্রন্থে পূর্ণ সনদসহ উল্লেখ করেছেন এবং এর মূল পাঠ এখানে বর্ণিত পাঠের অনুরূপ, কেবল উল্লিখিত পার্থক্যগুলো ছাড়া। তিনি এটি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (১/১৬৫) গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: (এটি তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী)। সুয়ূতি 'আদ-দুররুল মানসুর' (৩/২৯৫) গ্রন্থে এর অনুরূপ শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাবারানির 'আল-আওসাত'-এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

(৬) 'মাজমাউল বাহরাইন'-এ 'যাওজাতুন' (স্ত্রী) রয়েছে।

(৭) 'মাজমাউল বাহরাইন'-এ 'বাইনামা' রয়েছে।

(৮) 'মাজমাউল বাহরাইন'-এ 'কালা' (তিনি বললেন) রয়েছে।

(৯) 'মাজমাউল বাহরাইন'-এ 'আশাদ্দু' (আরও কঠোর) রয়েছে।

(১০) সম্ভবত মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি 'ইবল' (উট) ছিল।

(১১) 'মাজমাউল বাহরাইন'-এ 'আল-হাক্কু' এর স্থলে 'আমিলুন' (সংগ্রাহক) রয়েছে, এবং সেখানে পরবর্তী স্থানে এটি সঠিকভাবে এসেছে।

(১২) 'মাজমাউল বাহরাইন'-এ 'লাম' এর স্থলে 'ওয়া লাম' (এবং না) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১১)
فتعدَّى عليه الحق، فأخذ سلاحه فقاتل فقتل- فهو شهيد) (‌‌1).

 

(18)
1117 - وعن زيد، عن عدي بن ثابت، عن أبي حازم، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من تطهر في بيته، ثم مشى إلى بيت من بيوت الله؛ ليؤدي فريضة الله، فخطوتاه(2) إحداهما(3) تحط خطيئة، والأخرى ترفع درجة)(4).

--------------------------------------------

(1) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (1370) بذكر سنده كاملًا، ومتنه كما هنا، عدا الفروق المتقدم ذكرها، وذكره أيضًا في "مجمع الزوائد" (3/ 82) من رواية الإمام أحمد مختصرًا، ثم من رواية الطبراني، وقال: (رواه الطبراني في "الكبير" و"الأوسط"، ورجال الجميع رجال الصحيح).

(2) إلى هنا انتهى السقط الأول، وها هنا ينتهي الوجه الأول من الورقة (62). وقد أكملت الحديث مع كون تكملته موجودة في المطبوع من "المعجم الأوسط".

(3) رسمت هذه الكلمة في الأصل هكذا: (إحديهما)، والأصل: (إحداهما)؛ لأن كل اسم مقصور حكمه إذا اتصل به الضمير أن يكتب بالألف، نحو: (بشراها، وذكراها، وإحداها، وإحداهما)، وبعض العلماء والكتبة يستثنون من ذلك (إحدى) فيكتبونها بالياء: (إحديها، وإحديهما)، ويوجد هذا في كثير من المخطوطات، وعدّه الحريري في "درة الغواص" (ص 130) من أوهام الخواص. وانظر: "المطالع النصرية" (ص 147 - 148)، و"كتاب العلل" لابن أبي حاتم (81).

(4) ذكر الطبراني بعد هذا الحديث عدة أحاديث بالإسناد نفسه، وجعلها محققو "المعجم الأوسط" تابعة للحديث، ولم يفردوها بأرقام، وهي:

وسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لقد هممت أن آمر بالصلاة فتقام). وذكر الحديث.

(ونهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يستام الرجل على سوم أخيه).

(ونهى عن التناجش).

(ونهى أن تسأل المرأة طلاق أختها).

(ونهى أن يمنع الماء مخافة الكلأ).

(ونهى أن يبيع حاضر لباد).

وقال: (من منح منيحة غدت بصدقة صبوحها وغبوقها).
অন্যায়ভাবে তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হলো, অতঃপর সে তার অস্ত্র গ্রহণ করল এবং যুদ্ধ করল ও নিহত হলো—সে একজন শহীদ) (‌‌১)।

 

(১৮)
১১১৭ - এবং যায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি আদী ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু হাযেম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটির দিকে হেঁটে গেল আল্লাহর কোনো একটি ফরজ বিধান আদায় করার জন্য, তার পদক্ষেপ দুটির একটি একটি করে পাপ মোচন করবে এবং অন্যটি একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করবে)।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি হায়সামি 'মাজমাউল বাহরাইন' (১৩৭০) গ্রন্থে পূর্ণাঙ্গ সনদসহ উল্লেখ করেছেন, এবং এর পাঠ এখানে যেমন আছে তেমনই, তবে পূর্বে উল্লেখিত পার্থক্যগুলো ব্যতীত। তিনি এটি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৩/৮২) গ্রন্থেও ইমাম আহমদের বর্ণনা থেকে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তাবারানির বর্ণনা থেকে এবং বলেছেন: (তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সকল বর্ণনাকারী সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী)।

(২) এখানে প্রথম বিচ্যুতিটি শেষ হয়েছে, এবং এখানেই ৬২ নম্বর পৃষ্ঠার প্রথম পৃষ্ঠ শেষ হয়েছে। আমি হাদিসটি পূর্ণ করেছি যদিও এর অবশিষ্টাংশ 'আল-মু'জামুল আওসাত'-এর মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান রয়েছে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এই শব্দটি এভাবে লেখা হয়েছে: (إحديهما), কিন্তু মূল শব্দ হলো: (إحداهما); কারণ প্রতিটি ইসমে মাকসুর-এর নিয়ম হলো যখন এর সাথে সর্বনাম যুক্ত হয় তখন তা আলিফ দিয়ে লিখতে হয়, যেমন: (بشراها, وذكরাহা, وإحداها, وإحداهما)। কিছু আলেম ও লেখক (إحدى) শব্দটিকে এর ব্যতিক্রম গণ্য করেন এবং তা ইয়া দিয়ে লেখেন: (إحديها, وإحديهما), এবং এটি অনেক পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়। হারিরি 'দুররাতুল গাওয়াস' (পৃ. ১৩০) গ্রন্থে একে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুল হিসেবে গণ্য করেছেন। দেখুন: 'আল-মাতালিউন নাসরিয়্যাহ' (পৃ. ১৪৭-১৪৮), এবং ইবনে আবি হাতিমের 'কিতাবুল ইলাল' (৮১)।

(৪) তাবারানি এই হাদিসের পর একই সনদে আরও বেশ কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, যা 'আল-মু'জামুল আওসাত'-এর গবেষকগণ এই হাদিসের অনুবর্তী হিসেবে গণ্য করেছেন এবং সেগুলোকে আলাদা নম্বর দেননি। সেগুলো হলো:

এবং আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (আমি সংকল্প করেছি যে নামাজের নির্দেশ দেব এবং তা কায়েম করা হবে)। এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

(এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের কেনাবেচার ওপর দাম না চড়ায়)।

(এবং তিনি দালালি বা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো থেকে নিষেধ করেছেন)।

(এবং তিনি নিষেধ করেছেন কোনো নারী যেন তার বোনের তালাক প্রার্থনা না করে)।

(এবং তিনি নিষেধ করেছেন যেন চারণভূমির ঘাস কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাড়তি পানি আটকে রাখা না হয়)।

(এবং তিনি নিষেধ করেছেন কোনো শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর মাল (দালালি করে) বিক্রি না করে)।

এবং তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি কোনো দুগ্ধবতী পশু দান করল, তার সকাল এবং বিকালের দুধ তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌السقط الثاني (‌‌1)

(19)
3700 - حدثنا عمر بن حفص السدوسي، قال: نا أبو بلال الأشعري، قال: نا يحيى بن العلاء الرازي، عن عبد الأعلى بن عبد الله بن أبي فروة، عن قطن بن وهب، عن عبد الله بن عمر قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على مصعب بن عمير حين رجع من أحد، فوقف عليه وعلى أصحابه فقال: (أشهد أنكم أحياء عند الله، فزوروهم، وسلموا عليهم، فوالذي نفس محمد(2) بيده لا يسلم(3) عليهم أحد إلا ردوا إلى يوم القيامة)(4).

لا يروى هذا الحديث(5) عن ابن عمر إلا بهذا الإسناد، تفرد به أبو بلال الأشعري(6).

 

‌‌(20) 3700/ 1 - حدثنا عمر بن حفص السدوسي، قال: نا عاصم بن علي، قال: نا أبو الأشهب العطاردي(7)، عن أبي الحكم، عن أبي برزة؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول(8): (إن مما أخشى(9) عليكم

--------------------------------------------

(1) "المعجم الأوسط" (4/ 99 - 97).

(2) في "معجم البحرين": (نفسي) بدل: (نفس محمد).

(3) إلى هنا انتهى الحديث في المطبوع من "المعجم الأوسط"، وما بعده ساقط وسقطت معه الأحاديث التالية.

(4) الحديث أخرجه الطبراني في "المعجم الكبير" أيضا (20/ 364 رقم 850) بنفس الإسناد هنا، غير أنه وقع فيه: «عبد الله بن عمير» بدل «عبد الله بن عمر»، ووقع أيضا: «فردوهم وصلوا عليهم» بدل: «فزوروهم وسلموا عليهم»، وفيه أيضا: «لا يسلم عليهم إلا ردوا عليه»، وذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (2771)، وذكره في "مجمع الزوائد" (6/ 123) بمثل لفظه هنا، إلا أنه وقع فيه: «فوقف على أصحابه»، و: «إلا ردوا عليه»، وقال: «رواه الطبراني في "الأوسط"، وفيه عبد الأعلى بن عبد الله بن أبي فروة، وهو متروك»، وذكره أيضا في (3/ 60)، ومتنه فيه موافق لمتن الحديث هنا، إلا قوله: «فوالذي نفسي بيده»، و «إلا ردوا عليه»، وقال: «رواه الطبراني في "الكبير"، وفيه أبو بلال الأشعري؛ ضعفه الدارقطني».

ومن طريق الطبراني أخرجه أبو نعيم في "حلية الأولياء" (1/ 108)، ووقع فيه: «عبيد بن عمير» بدل «عبد الله بن عمر»، ومتنه كمتن الحديث في "مجمع الزوائد" في الموضع الذي عزا الحديث فيه لـ "المعجم الكبير"، وهذا يدل على أنه رواه من طريق "المعجم الكبير".

(5) قوله: «هذا الحديث» ليس في "مجمع البحرين".

(6) قوله: «الأشعري» ليس في "مجمع البحرين".

(7) في "المعجم الصغير"، و"مجمع البحرين": «أبو الأشهب جعفر بن حيان العطاردي».

(8) في المرجعين السابقين: «عن أبي برزة الأسلمي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم».

(9) في المرجعين السابقين: «أخاف» بدل أخشي.
‌দ্বিতীয় বিচ্যুতি (‌১)

(১৯)
৩৭০০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন হাফস আস-সাদুসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বিলাল আল-আশআরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আল-আলা আর-রাজি, তিনি আব্দুল আলা বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ফারওয়া থেকে, তিনি কাতান বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদ থেকে ফেরার সময় মুসআব বিন উমায়েরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তিনি তাঁর এবং তাঁর সাথীদের নিকট দাঁড়ালেন এবং বললেন: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তোমরা আল্লাহর নিকট জীবিত, সুতরাং তোমরা তাদের যিয়ারত করো এবং তাদের সালাম প্রদান করো। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, কিয়ামত দিবস পর্যন্ত কেউ তাদের সালাম প্রদান করলে তারা অবশ্যই তার উত্তর দেবে।)

এই হাদিসটি ইবনে উমর থেকে কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, আবু বিলাল আল-আশআরি এটি বর্ণনায় একক।

 

‌‌(২০) ৩৭০০/ ১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন হাফস আস-সাদুসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম বিন আলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আশহাব আল-আতারদি, আবু আল-হাকাম থেকে, তিনি আবু বারজাহ থেকে বর্ণনা করেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন: (আমি তোমাদের ব্যাপারে যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি...

--------------------------------------------

(১) "আল-মুজামুল আওসাত" (৪/ ৯৯ - ৯৭)।

(২) "মুজামুল বাহরাইন"-এ: (মুহাম্মাদের প্রাণের) পরিবর্তে (আমার প্রাণ) রয়েছে।

(৩) "আল-মুজামুল আওসাত"-এর মুদ্রিত কপিতে হাদিসটি এই পর্যন্তই শেষ হয়েছে, আর এর পরবর্তী অংশটি এবং পরবর্তী হাদিসগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

(৪) হাদিসটি তাবারানি "আল-মুজামুল কাবির"-এও (২০/ ৩৬৪ নম্বর ৮৫০) এখানে উল্লেখিত একই সনদে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে: "আব্দুল্লাহ বিন উমর"-এর পরিবর্তে "আব্দুল্লাহ বিন উমায়ের" শব্দ বর্ণিত হয়েছে, এবং সেখানে "তোমরা তাদের যিয়ারত করো এবং সালাম দাও"-এর পরিবর্তে "তোমরা তাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের জন্য সালাত (দোয়া) পেশ করো" শব্দগুলো এসেছে। সেখানে আরও রয়েছে: "কেউ তাদের সালাম দিলে তারা তার উত্তর প্রদান করে"। হাইসামি এটি "মাজমাউল বাহরাইন" (২৭৭১) এবং "মাজমাউয যাওয়ায়েদ"-এ (৬/ ১২৩) এখানে উল্লেখিত শব্দের অনুরূপ শব্দে উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে এসেছে: "তিনি তাঁর সাথীদের নিকট দাঁড়ালেন" এবং "তারা তার উত্তর প্রদান করে"। তিনি বলেন: "এটি তাবারানি 'আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন, আর এতে আব্দুল আলা বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ফারওয়া রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)।" তিনি এটি আরও উল্লেখ করেছেন (৩/ ৬০) এবং সেখানে হাদিসের মূল পাঠ এখানকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে "যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ" এবং "তারা তার উত্তর প্রদান করে" বাক্যগুলো ব্যতীত। তিনি বলেছেন: "তাবারানি এটি 'কাবির'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবু বিলাল আল-আশআরি রয়েছেন; দারা কুতনি তাঁকে দুর্বল বলেছেন।"

তাবারানির সূত্র ধরে আবু নুআইম এটি "হিলইয়াতুল আউলিয়া"-তে (১/ ১০৮) বর্ণনা করেছেন, সেখানে "আব্দুল্লাহ বিন উমর"-এর পরিবর্তে "উবায়েদ বিন উমায়ের" শব্দ এসেছে, এবং এর মূল পাঠ "মাজমাউয যাওয়ায়েদ"-এর সেই পাঠের অনুরূপ যেখানে হাদিসটি "আল-মুজামুল কাবির"-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে তিনি এটি "আল-মুজামুল কাবির"-এর সূত্রেই বর্ণনা করেছেন।

(৫) তাঁর উক্তি: "এই হাদিসটি" "মাজমাউল বাহরাইন"-এ নেই।

(৬) তাঁর উক্তি: "আল-আশআরি" "মাজমাউল বাহরাইন"-এ নেই।

(৭) "আল-মুজামুস সাগির" এবং "মাজমাউল বাহরাইন"-এ: "আবু আল-আশহাব জাফর বিন হাইয়ান আল-আতারদি" রয়েছে।

(৮) পূর্বোক্ত দুটি উৎসে রয়েছে: "আবু বারজাহ আল-আসলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন।"

(৯) পূর্বোক্ত দুটি উৎসে: 'আখশা' এর পরিবর্তে 'আখাফু' রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
شهوات الغي في بطونكم وفروجكم، ومضلات الهوي»(1).

لا يروى هذا الحديث(2) عن أبي برزة إلا بهذا الإسناد، تفرد به أبو الأشهب.

 

‌‌(21) 2/ 3700 - حدثنا عمر بن عبد العزيز بن مقلاص المصري، قال: نا سعيد بن عفير، قال: نا عبد الله بن وهب، عن يونس بن يزيد، عن إبراهيم بن أبي عبلة، عن عدي بن عدي الكندي، قال: سمعت العرس بن عميرة(3) - وكان من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن المرء ليعمل بعمل أهل النار البرهة من دهره، ثم تعرض له الجادّة من جوادّ الجنة، فيعمل بها حتى يموت عليها؛ وذلك لما كُتب له، وإن الرجل ليعمل بعمل أهل الجنة البرهة من دهره، ثم تعرض له الجادّة من جوادّ النار، فيعمل بها حتى يموت عليها؛ وذلك لما كُتب له»(4).

لم يرو هذا الحديث عن إبراهيم بن أبي عبلة إلا يونس بن يزيد، ولا عن يونس إلا ابن وهب، تفرد به سعيد بن عفير، ولا يروى عن العرس بن عميرة إلا بهذا الإسناد.

 

‌‌(22) 3/ 3700 - حدثنا عمر بن عبد الرحمن السلمي البصري، قال: نا حَوْثرة بن أَشْرس الِمنْقَري، قال: نا جعفر بن كيسان أبو معروف، عن عمرة بنت أرطاة العدويَّة، عن عائشة؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تفنى أمتي إلا بالطعن والطاعون»، قلنا: يا رسول الله، هذا الطعن

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطبراني في "المعجم الصغير" (511) بهذا الإسناد والمتن، سوى الاختلاف الذي سبق التنبيه عليه، وقد ساقه الهيثمي في "مجمع البحرين" (274) بسياق "المعجم الصغير"، وذكره في "مجمع الزوائد" (1/ 188) وقال: «رواه أحمد والبزار والطبراني في الثلاثة، ورجاله رجال الصحيح؛ لأن أبا الحكم البناني الراوي عن أبي برزة بينه الطبراني فقال: عن أبي الحكم؛ هو علي بن الحكم. وقد روى له البخاري وأصحاب السنن».

(2) قوله: «هذا الحديث» ليس في "الصغير"، ولا في "مجمع البحرين".

(3) زاد في "المعجم الصغير": «الكندي»، واقتصر في "مسند الشاميين" على: «العرس» فقط ولم ينسبه.

(4) الحديث أخرجه الطبراني أيضًا في "المعجم الكبير" (17/ 137 رقم 340)، و"المعجم الصغير" (512)، و"مسند الشاميين" (29)؛ بالإسناد والمتن نفسه، وقال في "الصغير": «لم يروه عن إبراهيم إلا يونس، ولا عن يونس إلا ابن وهب، تفرد به سعيد بن عفير، ولا يروى عن العرس إلا بهذا الإسناد»، وذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (3230)، وقال: «لا يروى عن العرس إلا بهذا الإسناد»، وذكره في "مجمع الزوائد" (7/ 212)، وقال: «رواه البزار، والطبراني في "الصغير"، و"الكبير"، ورجالهم ثقات».
তোমাদের পেট ও লজ্জাস্থানের ভ্রষ্ট লালসা এবং প্রবৃত্তির বিভ্রান্তিগুলো।(১)

এই হাদীসটি আবু বারযাহ থেকে এই সনদ (সূত্র) ব্যতীত বর্ণিত হয়নি, আবু আল-আশহাব এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌(২১) ২/ ৩৭০০ - উমর ইবনে আব্দুল আজীজ ইবনে মিকলাস আল-মিসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে উফাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলাহ থেকে, তিনি আদি ইবনে আদি আল-কিন্দি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল-উরাস ইবনে উমাইরাহকে(৩)—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি তার জীবনের একটা দীর্ঘ সময় জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে, অতঃপর তার সামনে জান্নাতের কোনো একটি পথ প্রকাশ পায়, তখন সে সেই অনুযায়ী আমল করে যতক্ষণ না সে ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে; আর এটা তার জন্য যা লিপিবদ্ধ রয়েছে (তকদির) সেই অনুযায়ী হয়। আবার কোনো ব্যক্তি তার জীবনের একটা দীর্ঘ সময় জান্নাতীদের আমল করতে থাকে, অতঃপর তার সামনে জাহান্নামের কোনো একটি পথ প্রকাশ পায়, তখন সে সেই অনুযায়ী আমল করে যতক্ষণ না সে ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে; আর এটা তার জন্য যা লিপিবদ্ধ রয়েছে সেই অনুযায়ী হয়»(৪)।

ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলাহ থেকে এই হাদীসটি ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি এবং ইউনুস থেকে ইবনে ওয়াহাব ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। সাঈদ ইবনে উফাইর এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আল-উরাস ইবনে উমাইরাহ থেকে এই সনদ ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়নি।

 

‌‌(২২) ৩/ ৩৭০০ - উমর ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুলামি আল-বাসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাওসারা ইবনে আশরাস আল-মিনকারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে কাইসান আবু মা'রূফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমরাহ বিনতে আরতাহ আল-আদাবিয়্যাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মত ধ্বংস হবে না কেবল 'ত্বান' (বর্শার আঘাত) এবং 'ত্বাউন' (মহামারি) ব্যতীত», আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই 'ত্বান' (তো বুঝলাম)

--------------------------------------------

(১) তাবারানি এটি 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' (৫১১) গ্রন্থে এই সনদ ও মূল পাঠসহ বর্ণনা করেছেন, তবে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এমন কিছু পার্থক্য তাতে রয়েছে। আল-হাইসামি এটি 'মাজমাউল বাহরাইন' (২৭৪) গ্রন্থে 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এর বিন্যাসে উল্লেখ করেছেন এবং 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (১/১৮৮) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: «এটি আহমাদ, বাযযার এবং তাবারানি তাঁর তিন (মু'জাম) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। কারণ আবু বারযাহ থেকে বর্ণনাকারী আবু আল-হাকাম আল-বুনানিকে তাবারানি স্পষ্ট করেছেন এবং বলেছেন: আবু আল-হাকাম থেকে; তিনি হলেন আলী ইবনে আল-হাকাম। ইমাম বুখারী ও সুনান গ্রন্থকারগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন»।

(২) তাঁর উক্তি: «এই হাদীসটি» কথাটি 'আস-সাগীর' কিংবা 'মাজমাউল বাহরাইন' গ্রন্থে নেই।

(৩) 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' গ্রন্থে «আল-কিন্দি» শব্দটুকু বর্ধিত আছে। আর 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' গ্রন্থে কেবল «আল-উরাস» নামেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং কোনো বংশপরম্পরা উল্লেখ করা হয়নি।

(৪) হাদীসটি তাবারানি 'আল-মু'জাম আল-কাবীর' (১৭/১৩৭, নং ৩৪০), 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' (৫১২) এবং 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' (২৯) গ্রন্থে একই সনদ ও মূল পাঠসহ বর্ণনা করেছেন। তিনি 'আস-সাগীর' গ্রন্থে বলেছেন: «ইব্রাহিম থেকে এটি ইউনুস ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি এবং ইউনুস থেকে ইবনে ওয়াহাব ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। সাঈদ ইবনে উফাইর এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আল-উরাস থেকে এই সনদ ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়নি»। হাইসামি এটি 'মাজমাউল বাহরাইন' (৩২৩০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «আল-উরাস থেকে এই সনদ ব্যতীত এটি বর্ণিত হয়নি»। তিনি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৭/২১২) গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করে বলেছেন: «বাযযার এবং তাবারানি 'আস-সাগীর' ও 'আল-কাবীর' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য»।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
قد عرفناه، فما الطاعون؟ قال: «غدة كغدة الإبل، المقيم فيها كالشهيد، والفار منها كالفار من الزحف»(1).

لم(2) يرو هذا الحديث عن عمرة بنت أرطاة- وهي بصرية- إلا جعفر بن كيسان، وهو بصري.

 

‌‌(23) 4/ 3700 - حدثنا عمر بن عبد الرحمن السلمي(3)، قال: نا إبراهيم بن الحجاج السامي(4)، قال: نا سلام أبو المنذر، عن عاصم بن بهدلة، عن أبي وائل، قال: قال عبد الله بن مسعود(5): كنت في غنم لآل أبي معيط، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم ومعه أبو بكر، فقال لي: «يا غلام، هل عندك لبن؟»، قلت(6): نعم، ولكني مؤتمن. قال: «فهل عندك شاة لم يَنْزُ عليها الفحل؟»، قلت: نعم. فأتيته بشاة شطور(7) - قال سلام: والشطور: التي ليس لها ضرع- فمسح النبي صلى الله عليه وسلم مكان الضرع- وما لها ضرع- فإذا ضرع حافل مملوء لبنًا، قال: فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم بصخرة منقورة، فاحتلب، ثم سقى أبا بكر وسقاني، ثم شرب، ثم قال للضرع: «اقلص»، فقلص، فرجع كما كان، فأنا رأيت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: يا رسول الله، علّمني، فمسح على رأسي، وقال: «بارك الله فيك، فإنك(8) غلام معلم»، فأسلمت، فأتيت النبي صلى الله

--------------------------------------------

(1) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (1203)، واختصر عبارة الطبراني كعادته هكذا: «لم يروه عن عمرة بنت أرطاة- وهي بصرية- إلا جعفر، وهو بصري» وذكره في "مجمع الزوائد" (3/ 51) وقال: «رواه أحمد وأبو يعلى والطبراني في "الأوسط"».

(2) قال الهيثمي في "مجمع البحرين" قبل هذا الموضع: «قلت: لعائشة حديث في الطاعون في الصحيح غير هذا».

وهذا الحديث الذي أشار إليه الهيثمي هو: ما أخرجه البخاري في "صحيحه" (5734) من طريق يحيى بن يعمر، عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها أخبرتنا: أنها سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الطاعون؟ فأخبرها نبي الله صلى الله عليه وسلم: «أنه كان عذابًا يبعثه الله على من يشاء، فجعله الله رحمة للمؤمنين، فليس من عبد يقع الطاعون، فيمكث في بلده صابرًا، يعلم أنه لن يصيبه إلا ما كتب الله له، إلا كان له مثل أجر الشهيد».

(3) زاد في "المعجم الصغير": «أبو حفص البصري».

(4) تصحف في المرجع السابق إلى: «الشامي».

(5) في المرجع السابق: «عن أبي وائل، عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال».

(6) في المرجع السابق: «فقال: ياغلام عندك لبن فقلت».

(7) في الأصل: «سطور» بالسين، ثم كتبها الناسخ بعد ذلك في تفسير سلام على الصواب فقال: «قال سلام: والشطور»، وجاءت على الصواب في "المعجم الصغير".

(8) لم تتضح في الأصل، ويشبه أن تكون: «فانت»، والمثبت من "المعجم الصغير"، ومصادر
আমরা তা জেনেছি, তবে প্লেগ কী? তিনি বললেন: «উটের কুঁজের মতো এক প্রকার গ্রন্থি। এতে যে অবস্থান করে সে শহীদের মতো, আর যে তা থেকে পালিয়ে যায় সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারীর মতো»(১)।

আমরাহ বিনতে আরতাহ—যিনি একজন বসরী—তাঁর থেকে জাফর বিন কায়সান ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, আর তিনিও একজন বসরী(২)।

 

‌‌(২৩) ৪/ ৩৭০০ - উমর ইবনে আবদুর রহমান আস-সুলামী(৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সামী(৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালাম আবু আল-মুনজির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম বিন বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(৫) বলেছেন: আমি আবু মুআইত পরিবারের মেষ চরাচ্ছিলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং তাঁর সাথে আবু বকরও ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: «হে যুবক, তোমার কাছে কি দুধ আছে?», আমি বললাম(৬): হ্যাঁ, কিন্তু আমি আমানতদার। তিনি বললেন: «তোমার কাছে কি এমন কোনো বকরি আছে যার নিকট কোনো পাঠা (পুরুষ ছাগল) আসেনি?», আমি বললাম: হ্যাঁ। তারপর আমি তাঁর কাছে একটি শাতুর(৭) বকরি নিয়ে আসলাম—সালাম বলেন: শাতুর হলো যার কোনো ওলান নেই—অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওলানের স্থানে হাত বুলালেন—অথচ সেটির কোনো ওলান ছিল না—হঠাৎ দেখা গেল তা ওলানে পরিপূর্ণ হয়ে দুধে ভরে গেছে। তিনি বলেন: তারপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে একটি গর্তযুক্ত পাথর নিয়ে এলাম, তিনি দুধ দোহন করলেন, তারপর আবু বকরকে পান করালেন এবং আমাকেও পান করালেন, তারপর তিনি নিজে পান করলেন। অতঃপর তিনি ওলানকে বললেন: «সংকুচিত হয়ে যাও», ফলে তা সংকুচিত হয়ে গেল এবং আগের মতো হয়ে গেল। আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে এটি চাক্ষুষ দেখলাম। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে জ্ঞান দান করুন। তিনি আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বললেন: «আল্লাহ তোমার ওপর বরকত দান করুন, নিশ্চয়ই তুমি(৮) একজন শিক্ষিত বালক।» অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি...) এর কাছে আসলাম।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি আল-হাইসামি ‘মাজমাউল বাহরাইন’ (১২০৩)-এ উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাবারানির ইবারতকে তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করেছেন: «এটি আমরাহ বিনতে আরতাহ—যিনি একজন বসরী—তাঁর থেকে জাফর ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি, আর তিনিও একজন বসরী» এবং তিনি এটি ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’ (৩/ ৫১)-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «এটি আহমাদ, আবু ইয়ালা এবং তাবারানি ‘আল-আওসাত’-এ বর্ণনা করেছেন।»

(২) আল-হাইসামি ‘মাজমাউল বাহরাইন’-এ এই স্থানের পূর্বে বলেছেন: «আমি বলছি: আয়েশা (রা.)-এর পক্ষ থেকে সহিহ গ্রন্থে প্লেগ সম্পর্কে এটি ছাড়াও অন্য হাদিস রয়েছে।»

আর এই হাদিসটি যার দিকে আল-হাইসামি ইঙ্গিত করেছেন তা হলো: যা বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ (৫৭৩৪) গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আমাদের জানিয়েছেন: তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্লেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন? তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে জানালেন: «এটি ছিল একটি আযাব, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার ওপর এটি প্রেরণ করতেন। অতঃপর আল্লাহ একে মুমিনদের জন্য রহমত স্বরূপ করেছেন। অতএব কোনো বান্দা যদি প্লেগ আক্রান্ত হয়, অতঃপর সে নিজ জনপদে ধৈর্য সহকারে অবস্থান করে এবং এই বিশ্বাস রাখে যে আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া আর কিছু তাকে স্পর্শ করবে না, তবে তার জন্য শহীদের অনুরূপ সওয়াব থাকবে।»

(৩) ‘আল-মুজামুস সাগির’-এ অতিরিক্ত এসেছে: «আবু হাফস আল-বসরী»।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্রে এটি ভুলবশত «আশ-শামী» হয়ে গেছে।

(৫) পূর্বোক্ত সূত্রে আছে: «আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন»।

(৬) পূর্বোক্ত সূত্রে আছে: «তিনি বললেন: হে যুবক তোমার কাছে কি দুধ আছে? তখন আমি বললাম»।

(৭) মূল লিপিতে ‘সীন’ দিয়ে «সাতুর» লেখা হয়েছে, কিন্তু লিপিকার পরবর্তীতে সালামের ব্যাখ্যার সময় তা সঠিকভাবে লিখেছেন এবং বলেছেন: «সালাম বলেন: আর শাতুর...», এবং ‘আল-মুজামুস সাগির’-এ এটি সঠিকভাবে এসেছে।

(৮) মূল লিপিতে এটি স্পষ্ট নয়, সম্ভবত এটি ছিল: «ফা আন্তা» (তাহলে তুমি), আর যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা ‘আল-মুজামুস সাগির’ এবং অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
عليه وسلم، فبينما نحن عنده على حراء؛ إذ نزلت عليه سورة المرسلات، فأخذتها وإنها لرطبة من فيه- أو إن فاه لرطب بها- فما أدري بأي الآيتين حتى ختمت: (وإذا قيل لهم اركعوا لا يركعون) [المرسلات: 48]، أو: (فبأي حديث بعده يؤمنون) [الأعراف: 185، المرسلات: 50]، فأخذت من فِي رسول الله صلى الله عليه وسلم سبعين سورة، وأخذت بقية القرآن من أصحابه. فبينما نحن على حراء، فما فَجِئنَا إلا قول النبي صلى الله عليه وسلم: «منعها منكم الذي منعكم منها»، فقلت: يا رسول الله وما ذاك؟ قال: «حيَّة خرجت من ناحية الجبل»(1).

لم يرو هذا الحديث عن عاصم، عن أبي وائل إلا سلام أبو المنذر، تفرد به إبراهيم بن الحجاج، ورواه الناس عن عاصم، عن زرّ، عن عبد الله.

 

( .. ) 5/ 3700 - حدثنا عمر بن محمد بن الحارث الكلابي الواسطي، قال: نا حفص بن عمرو الربالي، قال: نا إسماعيل بن إبراهيم الكرابيسي، قال: نا ابن عون، عن محمد بن سيرين، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من سئل عن علم فكتمه، جاء ملجمً(2) يوم القيامة بلجام من نار».

--------------------------------------------

التخريج.

(1) الحديث أخرجه الطبراني أيضا في "المعجم الصغير" (513) بالسند والمتن نفسه- عدا الفروق المتقدم ذكرها- وقال: «لم يروه عن سلام إلا إبراهيم».

وشيخ الطبراني عمر بن عبد الرحمن السلمي، أبو حفص البصري لم أجد من ذكر فيه جرحًا أو تعديلًا، فهو مجهول الحال، وقد أخطأ في إسناد هذا الحديث؛ بجعله من رواية عاصم، عن أبي وائل، عن ابن مسعود، والصواب أنه من رواية عاصم، عن زرِّ بن حبيش، عن ابن مسعود.

فقد أخرجه أبو يعلى في مسنده (5096) عن إبراهيم بن الحجاج السامي، وأخرجه أبو علي الصواف في "فوائده" (20) عن عبد الله بن الإمام أحمد؛ كلاهما (أبو يعلى، وعبد الله بن أحمد) عن إبراهيم بن الحجاج السامي، عن سلام أبي المنذر، عن عاصم، عن زر، عن ابن مسعود، به.

(2) كذا في الأصل! وقد أخرجه ابن سمعون في أماليه (58) من طريق أبي الحسين أحمد بن محمد بن أحمد بن سلم المخرمي، عن حفص بن عمرو الربالي، به، ووقع عنده: «جاء يوم القيامة ملجمًا»، وأخرجه أبو طاهر المخلص في "المخلصيات" (238) من طريق يحيي بن محمد بن صاعد، عن الربالي، به ولفظه: «جيء به يوم القيامة ملجمًا»، وأخرجه ابن المقرئ في "معجمه" (228) من طريق أبي العباس محمد بن يعقوب الخطيب الأهوازي، عن الربالي، به باللفظ المشهور: «ألجم يوم القيامة بلجام»، وهذا اللفظ هو الذي رواه أيضًا ابن ماجه (266) من طريق محمد بن عبد الله بن حفص، عن الكرابيسي، به. قال ابن المقرئ: «قال الربالي: وسئل معاذ بن معاذ عن هذا الحديث فلم يعرفه، وقال: مرة [من] روى هذا؟ قيل: إسماعيل بن إبراهيم، قال: الثقة». وقد ذكر ابن سمعون عقب روايته للحديث قول الربالي هكذا: «سئل عن هذا الحديث معاذ بن معاذ القاضي؟ فلم يعرفه من حديث ابن عون، فقال: من حدّث به؟ فقالوا: إسماعيل الكرابيسي، فقال: ثقة».

ويمكن أن يوجه قوله هنا: «جاء ملجمً» على أن «ملجمً» رسمت على لغة ربيعة في الوقف على
সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক; এমতাবস্থায় যে আমরা হেরা পাহাড়ে তাঁর নিকট ছিলাম, তখন তাঁর ওপর সূরা আল-মুরসালাত নাযিল হলো। আমি তা গ্রহণ করলাম যখন এটি তাঁর পবিত্র মুখ থেকে সিক্ত ছিল - অথবা তাঁর মুখমণ্ডল এর দ্বারা সিক্ত ছিল - আমি জানি না কোন আয়াত দুটির মাধ্যমে তিনি শেষ করেছেন: (আর যখন তাদেরকে বলা হয়, রুকু করো, তারা রুকু করে না) [আল-মুরসালাত: ৪৮], অথবা: (অতঃপর এর পরে তারা আর কোন কথায় ঈমান আনবে?) [আল-আরাফ: ১৮৫, আল-মুরসালাত: ৫০]। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকে সত্তরটি সূরা শিখেছি এবং কুরআনের অবশিষ্ট অংশ তাঁর সাহাবীদের থেকে গ্রহণ করেছি। আমরা যখন হেরা পাহাড়ে ছিলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই কথাটি ছাড়া আর কিছু আমাদের চমকে দেয়নি: "যিনি তোমাদের এটি থেকে বিরত রেখেছেন, তিনি একেও তোমাদের থেকে বিরত রেখেছেন।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কী? তিনি বললেন: "একটি সাপ যা পাহাড়ের এক পাশ থেকে বেরিয়ে এসেছিল"(১).

আসেম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে—এই সূত্রে সালাম আবু আল-মুনযির ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদীসটি বর্ণনা করেননি। ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে সাধারণ বর্ণনাকারীগণ আসেম থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

( .. ) ৫/ ৩৭০০ - উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস আল-কিলাবি আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস ইবনে উমর আল-রাবালি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-কারাবিসি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আউন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন সে আগুনের লাগাম পরিহিত অবস্থায় আসবে"(২)।

--------------------------------------------

উৎস নির্দেশিকা।

(১) হাদীসটি তাবারানিও তাঁর "আল-মুজাম আস-সাগীর" (৫১৩) গ্রন্থে একই সনদ ও মূলপাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন—পূর্বে উল্লিখিত পার্থক্যসমূহ ব্যতীত—এবং তিনি বলেছেন: «সালাম থেকে ইব্রাহিম ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি»।

তাবারানির শিক্ষক উমর ইবনে আবদুর রহমান আস-সুলামি আবু হাফস আল-বাসরি সম্পর্কে আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর প্রশংসা বা সমালোচনা করেছেন, ফলে তিনি অজ্ঞাত পরিচয়ের। তিনি এই হাদীসের সনদে ভুল করেছেন; একে আসেম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমে। সঠিক হলো—এটি আসেম থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত।

আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদ (৫০৯৬) গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সামি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু আলী আস-সাওয়াফ তাঁর "ফাওয়াইদ" (২০) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনুল ইমাম আহমাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই (আবু ইয়ালা এবং আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ) ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সামি থেকে, তিনি সালাম আবু আল-মুনযির থেকে, তিনি আসেম থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে! ইবনে সামউন তাঁর "আমালি" (৫৮) গ্রন্থে আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে সালাম আল-মাখরামি সূত্রে হাফস ইবনে উমর আল-রাবালি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, সেখানে এসেছে: «কিয়ামতের দিন সে লাগাম পরা অবস্থায় আসবে»। আবু তাহির আল-মুখলিস তাঁর "আল-মুখলিসিয়্যাত" (২৩৮) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ সূত্রে আল-রাবালি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দ হচ্ছে: «কিয়ামতের দিন তাকে লাগাম পরিহিত অবস্থায় আনা হবে»। ইবনে আল-মুকারি তাঁর "মুজাম" (২২৮) গ্রন্থে আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-খাতিব আল-আহওয়াজি সূত্রে আল-রাবালি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন—প্রসিদ্ধ শব্দে: «কিয়ামতের দিন লাগাম পরানো হবে»। এই শব্দটি ইবনে মাজাহ-ও (২৬৬) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাফস সূত্রে আল-কারাবিসি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-মুকারি বলেন: «আল-রাবালি বলেছেন: মুআয ইবনে মুআযকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা চিনতে পারেননি এবং একবার বললেন: [কে] এটি বর্ণনা করেছে? বলা হলো: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম। তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি»। ইবনে সামউন হাদীসটি বর্ণনার পর আল-রাবালির উক্তিটি এভাবে উল্লেখ করেছেন: «কাযী মুআয ইবনে মুআযকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইবনে আউনের বর্ণনা হিসেবে এটি চিনতে পারেননি। তিনি বললেন: কে এটি বর্ণনা করেছে? তারা বলল: ইসমাইল আল-কারাবিসি। তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি»।

এখানে তাঁর কথা "জায়া মুলজামান" (লাগাম পরা অবস্থায় আসবে)-কে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, "মুলজামান" শব্দটি ওয়াকফ বা থামা সংক্রান্ত রাবিআ গোত্রের ভাষা অনুযায়ী লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
لم يرو هذا الحديث عن ابن عون إلا إسماعيل بن إبراهيم الكرابيسي.

 

‌‌(24) 6/ 3700 - حدثنا عمر بن محمد بن عمرويه المخرمي(1)، قال: نا أحمد بن بديل القاضي، قال: نا يحيى بن عيسى الرملي، عن الأعمش، عن زيد بن وهب، قال: سمعت عثمان بن عفان يقول: سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: «تقتل عمارًا الفئة الباغية»(2).

لم يرو هذا الحديث عن الأعمش إلا يحيى بن عيسي.

 

‌‌(25) 7/ 3700 - حدثنا عمر بن إبراهيم أبو الأذان(3)، قال: نا محمد بن علي بن خلف العطار، قال: نا سهل بن عامر البجلي، قال: نا أبو بكر بن عياش، عن مغيرة، عن إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «عليكم بالباءة، فمن لم يجد فعليه بالصوم؛ فإنه له وجاء»(4).

لم يروه هذا الحديث عن مغيرة إلا أبو بكر بن عياش، ولا عن أبي بكر إلا سهل بن عامر، تفرد به محمد بن علي بن خلف.

 

‌‌(26) 8/ 3700 - حدثنا عمر بن إبراهيم، قال: نا عبد الملك بن هوذة بن خليفة، قال: حدثني عمرو بن خليفة، عن أبي عامر الخزاز، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد الخدري؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى في نعليه فخلعهما، فلما قضى الصلاة قال: «إن جبريل أخبرني أن فيهما

--------------------------------------------

المنون المنصوب؛ إذ يقفون عليه بالسكون؛ كما يقف سائر العرب على المجرور والمرفوع. وانظر تفصيلًا في هذه اللغة وشواهدها في التعليق على "كتاب العلل" لابن أبي حاتم (34).

(1) لم أجد من ضبط نسبة عمر بن محمد هذا ضبطًا موثّقًا، والمعروف أن هذه النسبة: «المخرمي» تضبط على وجهين:

الأول: «الْمَخْرَمِي» بفتح الميم، وسكون الخاء المنقوطة، وفتح الراء المهملة المخففة، وفي آخرها ميم، وهذه النسبة إلى المسور بن مَخْرَمَة.

الثاني: «الْمُخَرِّمي» بضم الميم، وفتح الخاء المعجمة، وتشديد الراء المكسورة، وهذه النسبة إلى الْمُخَرّم، وهي محلة ببغداد مشهورة، وإنما قيل لها: المخرم؛ لأن بعض ولد يزيد بن المخرم نزلها فسميت به؛ قاله ابن الكلبي. انظر: "الأنساب" للسمعاني (12/ 130 - 131).

(2) الحديث أخرجه الطبراني أيضا في "المعجم الصغير" (516) بنفس الإسناد والمتن. ومن طريق الطبراني أخرجه الخطيب البغدادي في "تاريخ بغداد" (13/ 62).

(3) زاد في "المعجم الصغير": «البغدادي الحافظ».

(4) الحديث أخرجه الطبراني أيضا في "المعجم الكبير" (10/ 83 رقم 10027)، و"المعجم الصغير" (517) بنفس الإسناد والمتن، غير أنه في "الكبير" قرن مع شيخه «عمر بن إبراهيم» شيخه الآخر «محمد بن أحمد بن أبي خيثمة». ومن طريق الطبراني في "الكبير" أخرجه الشجري في "الأمالي الخميسية" (1280)، ومن طريقه في "الصغير" أخرجه أبو طاهر السلفي في "المشيخة البغدادية" (1001/ الشاملة)، وتصحف فيه «أبو الأذان» إلى: «بن زاذان»، و «مغيرة» إلى: «عمير».
ইবনে আউন থেকে এই হাদীসটি ইসমাঈল বিন ইব্রাহীম আল-কারাবিসি ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।

 

‌‌(২৪) ৬/ ৩৭০০ - উমর বিন মুহাম্মদ বিন আমরুয়াহ আল-মাখরামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন বাদীল আল-কাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন ঈসা আর-রামলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আ'মাশ থেকে, তিনি যায়েদ বিন ওয়াহব থেকে, তিনি বলেন: আমি উসমান বিন আফফানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «বিদ্রোহী গোষ্ঠী আম্মারকে হত্যা করবে»।

আ'মাশ থেকে এই হাদীসটি ইয়াহইয়া বিন ঈসা ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।

 

‌‌(২৫) ৭/ ৩৭০০ - উমর বিন ইব্রাহীম আবু আল-আযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আলী বিন খালাফ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাহল বিন আমের আল-বাজালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুগীরা থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে, আর যে সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোজা রাখে; কারণ এটি তার জন্য যৌন উত্তেজনা দমনকারী (ঢাল স্বরূপ)»।

মুগীরা থেকে এই হাদীসটি আবু বকর বিন আইয়াশ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি, এবং আবু বকর থেকে সাহল বিন আমের ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি। মুহাম্মদ বিন আলী বিন খালাফ এই হাদীসটি বর্ণনায় একক।

 

‌‌(২৬) ৮/ ৩৭০০ - উমর বিন ইব্রাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন হাওজাহ বিন খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন খলিফা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আমের আল-খাযযায থেকে, তিনি আবু নাযরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করলেন এবং সেগুলো খুলে ফেললেন। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এ দুটিতে (ময়লা রয়েছে)...

--------------------------------------------

মানুন বা নূন যুক্ত শব্দটিকে নসবে রাখা হয়েছে; কারণ আরবরা এর ওপর সুকুন দিয়ে ওয়াকফ (থামা) করে; যেমন তারা অন্যান্য মাজরুর এবং মারফু শব্দের ক্ষেত্রে ওয়াকফ করে। এই পরিভাষা এবং এর নিদর্শনাবলীর বিস্তারিত বিবরণের জন্য ইবনে আবী হাতিম কৃত "কিতাবুল ইলাল" (৩৪) এর টীকা দেখুন।

(১) আমি এই উমর বিন মুহাম্মদের নিসবতের (বংশীয় উপাধি) কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রামাণ্য উচ্চারণ বিন্যাস পাইনি। তবে এটি সুপরিচিত যে, এই নিসবত: «আল-মাখরামী» দুইভাবে উচ্চারণ করা হয়:

প্রথমত: «আল-মাখরামী» মীম-এর ওপর ফাতহা (যবর), খা-এর ওপর সুকুন এবং র-এর ওপর ফাতহা দিয়ে। এটি আল-মিসওয়ার বিন মাখরামার সাথে সম্পর্কিত নিসবত।

দ্বিতীয়ত: «আল-মুখাররিমী» মীম-এর ওপর যম্মাহ (পেশ), খা-এর ওপর ফাতহা এবং র-এর নিচে তশদীদসহ কাসরা (যের) দিয়ে। এটি বাগদাদের একটি সুপরিচিত এলাকা আল-মুখাররিম-এর সাথে সম্পর্কিত। একে মুখাররিম বলা হয় কারণ ইয়াজিদ বিন মুখাররিমের কিছু বংশধর সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন, তাই তাদের নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে; এ কথা ইবনুল কালবী বলেছেন। দেখুন: আস-সামআনী কৃত "আল-আনসাব" (১২/ ১৩০ - ১৩১)।

(২) তাবারানী হাদীসটি "আল-মু'জাম আস-সাগীর" (৫১৬) গ্রন্থেও একই সনদ ও মতনে বর্ণনা করেছেন। আর তাবারানীর সূত্রেই খতীব বাগদাদী এটি "তারীখে বাগদাদ" (১৩/ ৬২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) "আল-মু'জাম আস-সাগীর"-এ অতিরিক্ত শব্দ রয়েছে: «আল-বাগদাদী আল-হাফিয»।

(৪) তাবারানী হাদীসটি "আল-মু'জাম আল-কাবীর" (১০/ ৮৩ নং ১০০২৭) এবং "আল-মু'জাম আস-সাগীর" (৫১৭) গ্রন্থেও একই সনদ ও মতনে বর্ণনা করেছেন। তবে "আল-কাবীর"-এ তিনি তাঁর উস্তাদ «উমর বিন ইব্রাহীম»-এর সাথে তাঁর অন্য উস্তাদ «মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবী খাইসামাহ»-কেও যুক্ত করেছেন। তাবারানীর সূত্রে "আল-কাবীর"-এ আশ-শাজারী "আল-আমালী আল-খামিসিয়্যাহ" (১২৮০) গ্রন্থে এবং "আল-সাগীর"-এর সূত্রে আবু তাহের আস-সিলাফী "আল-মাশইয়াখাতুল বাগদাদিয়্যাহ" (১০০১/ শামেলা সংস্করণ) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। সেখানে অসাবধানতাবশত «আবু আল-আযান»-এর স্থলে «বিন যাদান» এবং «মুগীরা»-এর স্থলে «উমাইর» মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أذى»(1).

لم يرو هذا الحديث عن أبي عامر الخزاز إلا عمرو بن خليفة، تفرد به عبد الملك.

 

‌‌‌‌(27) 9/ 3700 - حدثنا عمر بن إبراهيم، قال: نا إسماعيل بن مسعود الجحدري، قال: نا عبيد الله بن عبد الله بن عون، عن أبيه، عن نافع، عن ابن عمر؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اللهم بارك لنا في مكَّتنا ومدينتنا، وفي يمننا، وفي شامنا» (‌‌2).

(28)
10/ 3700 - حدثنا عمر بن إسماعيل بن أبي غيلان الثقفي البغدادي، قال: نا داود بن عمرو الضبي، قال: نا عباد بن العوام، عن سفيان بن حسين، قال: نا يونس بن عبيد، عن عطاء بن أبي رباح، عن جابر قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الثُّنْيا، إلا أن يعلم ما هي»(3).

لم يرو هذا الحديث عن يونس إلا سفيان بن حسين، تفرد به عباد بن العوام.

 

(29) 11/ 3700 - حدثنا عمر بن عبد الله بن [الحسن](4) بن حفص الَهْمداني الأصبهاني، قال: نا سلمة بن شبيب، قال: نا إبراهيم بن الحكم بن أبان، قال: حدثني أبي، عن عكرمة، قال: مرض أنس بن مالك، فجاءه رجل يعوده، فقال: يا أبا حمزة، لولا بُعْدُ منزلك لكنت آتيك كل يوم، فأُسَلِّم عليك.

قال عكرمة: وكان أنس مستلقيًا على فراشه، على وجهه منديل- أو قال: خِرْقة- فلما سمع أنس قول الرجل ألقى المنديل- أو قال: الخرقة- عن

--------------------------------------------

(1) الحديث مشهور من رواية حماد بن سلمة، عن أبي نعامة السعدي، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد؛ أخرجه الإمام أحمد (3/ 20 و 92 رقم 11153 و 11877)، وأبو داود (650)، وغيرهما.

وأما رواية أبي عامر الخزاز عن أبي نضرة فلم أجد من أخرجها، غير أن الدارقطني ذكرها في "العلل" (2316).

(2) الحديث أخرجه الطبراني في "المعجم الكبير" (12/ 384 رقم 13422) من طريق الحسن بن علي المعمري، عن إسماعيل بن مسعود، به بلفظ: «اللهم بارك لنا في شامنا، اللهم بارك في يمننا» فقالها مرارًا فلما كان في الثالثة أو الرابعة، قالوا: يا رسول الله، وفي عراقنا قال: «إن بها الزلازل والفتن، وبها يطلع قرن الشيطان».

(3) الحديث أخرجه الطبراني أيضًا في "المعجم الصغير" (518) بنفس الإسناد والمتن.

(4) في الأصل: «الحسين»، والتصويب من "المعجم الصغير". وانظر: "إرشاد القاصي والداني". (713).
কষ্ট»(১)।

আবু আমির আল-খাযযায থেকে আমর ইবনে খলিফা ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, আব্দুল মালিক এতে একক হয়েছেন।

 

‌‌‌‌(২৭) ৯/ ৩৭০০ - ওমর ইবনে ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইসমাইল ইবনে মাসউদ আল-জহদারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আউন তাঁর পিতা থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মক্কায় ও আমাদের মদিনায়, আমাদের ইয়েমেনে এবং আমাদের শামে বরকত দান করুন» (২)।

(২৮) ১০/ ৩৭০০ - ওমর ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি গাইলান আস-সাকাফি আল-বাগদাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে আমর আদ-দব্বি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের কাছে সুফিয়ান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে উবাইদ আমাদের কাছে আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'সুনিয়া' (চুক্তিতে অস্পষ্ট ব্যতিক্রম রাখা) হতে নিষেধ করেছেন, যদি না তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা থাকে»(৩)।

ইউনুস থেকে সুফিয়ান ইবনে হুসাইন ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, আব্বাদ ইবনুল আওয়াম এতে একক হয়েছেন।

 

(২৯) ১১/ ৩৭০০ - ওমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল [হাসান](৪) ইবনে হাফস আল-হামদানি আল-আসবাহানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালামাহ ইবনে শাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনুল হাকাম ইবনে আবান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক অসুস্থ হয়ে পড়লে এক ব্যক্তি তাঁকে দেখতে আসলেন এবং বললেন: হে আবু হামজা, যদি আপনার ঘরটি দূরে না হতো, তবে আমি প্রতিদিন আসতাম এবং আপনাকে সালাম দিতাম।

ইকরিমা বলেন: আনাস তাঁর বিছানায় শুয়ে ছিলেন, তাঁর চেহারার উপর একটি রুমাল ছিল—অথবা তিনি বলেছেন: এক টুকরো কাপড়—যখন আনাস লোকটির কথা শুনলেন, তখন তিনি তাঁর চেহারা থেকে রুমালটি—অথবা তিনি বলেছেন: কাপড়টি—সরিয়ে দিলেন...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর বর্ণনায় প্রসিদ্ধ, তিনি আবু নুয়ামা আস-সাদি থেকে, তিনি আবু নাদাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন; ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (৩/২০ এবং ৯২, নম্বর ১১১৫৩ ও ১১৮৭৭), আবু দাউদ (৬৫০), এবং অন্যান্যগণ।

আর আবু নাদাহ থেকে আবু আমির আল-খাযযাযের বর্ণনার ক্ষেত্রে, আমি এটি অন্য কাউকে বর্ণনা করতে দেখিনি, তবে আদ-দারাকুতনি এটি "আল-ইলাল" (২৩১৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(২) তাবারানি হাদিসটি "আল-মুজামুল কাবীর" (১২/৩৮৪, নম্বর ১৩৪২২) গ্রন্থে হাসান ইবনে আলী আল-মামারি-এর সূত্রে, ইসমাইল ইবনে মাসউদ থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দিন, হে আল্লাহ! আমাদের ইয়েমেনে বরকত দিন»। তিনি এটি কয়েকবার বললেন। যখন তৃতীয় বা চতুর্থবার হলো, তখন তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আর আমাদের ইরাকে? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই সেখানে ভূমিকম্প এবং ফিতনা রয়েছে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে»।

(৩) তাবারানি এটি "আল-মুজামুস সাগীর" (৫১৮) গ্রন্থেও একই সনদ ও পাঠে বর্ণনা করেছেন।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আল-হুসাইন», এবং সংশোধন করা হয়েছে "আল-মুজামুস সাগীর" থেকে। দেখুন: "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি" (৭১৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وجهه، ثم استوى قاعدًا، فقال: أما إني(1) سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من عاد مريضًا خاض في الرحمة حتى يبلغه، فإذا قعد عنده غمرته الرحمة»، قال أنس: فلما قال النبي صلى الله عليه وسلم ما قال، قلت: يا رسول الله، هذا العائدُ المريضَ، فما للمريض؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا مرض العبد ثلاثة أيام خرج من ذنوبه كيوم ولدته أمه»(2).

لم يرو هذا الحديث عن عكرمة إلا الحكم بن أبان، تفرد به ابنه إبراهيم.

--------------------------------------------

(1) من قوله: «قال مرض أنس» إلى هنا لم يُذْكَر في "المعجم الصغير"، وفيه بدلًا منه: «عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال».

(2) الحديث أخرجه الطبراني أيضًا في "المعجم الصغير" (519) بنفس الإسناد و المتن، عدا ما سبق التنبيه عليه.
তাঁর চেহারা, এরপর তিনি উঠে বসে স্থির হলেন এবং বললেন: জেনে রাখো, আমি(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায়, সে রহমতের মধ্যে অবগাহন করে যতক্ষণ না সে তার কাছে পৌঁছায়, আর যখন সে তার কাছে বসে, তখন রহমত তাকে পরিবেষ্টন করে নেয়», আনাস বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলার তা যখন বললেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে আসা ব্যক্তির জন্য, তবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কী রয়েছে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যখন কোনো বান্দা তিন দিন অসুস্থ থাকে, তখন সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে নিষ্ক্রান্ত হয় যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন»(২)।

ইকরিমাহ থেকে এই হাদিসটি হাকাম ইবনে আবান ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি, তাঁর পুত্র ইব্রাহিম এটি বর্ণনায় একক ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: «আনাস অসুস্থ হলেন» থেকে এই পর্যন্ত "আল-মু'জাম আস-সাগীর"-এ বর্ণিত হয়নি, বরং সেখানে এর পরিবর্তে রয়েছে: «আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন»।

(২) হাদিসটি তাবারানি "আল-মু'জাম আস-সাগীর" (৫১৯) গ্রন্থে একই সনদ ও মূল পাঠসহ বর্ণনা করেছেন, তবে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌من اسمه عثمان

‌‌‌‌(30) 12/ 3700 - حدثنا عثمان بن عمر الضَّبِّي، قال: نا محمد بن أبي بكر المقدَّمي، قال: نا معاوية بن عبد الكريم الضّالّ، عن الحسن، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الصلوات الخمس، والجمعة إلى الجمعة؛ كفارات لما بينهن ما اجتَنَب الكبائر»(1).

لم يرو هذا الحديث عن معاوية إلا المقدمي.

 

(31) 3701 - حدثنا عثمان بن عمر الضّبِّي، قال: نا أبو عمر الضرير، قال: نا عدي بن الفضل، عن سعيد الجريري(2)، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد الخدري، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله خلق جنة عدن(3) وبناها(4) بيده؛ لبنة من ذهب، ولبنة من فضة، وجعل ملاطها

--------------------------------------------

(1) الحديث مشهور عن الحسن البصري من غير طريق معاوية بن عبد الكريم الضال؛ أخرجه الطيالسي (2592) عن حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن الحسن، عن أبي هريرة، به.

وأخرجه الإمام أحمد (2/ 414 رقم) من طريق عفان، قال: ثنا حماد بن سلمة، قال: أنا علي بن زيد وصالح المعلم وحميد ويونس عن الحسن عن أبي هريرة، به.

ولم أجد من أخرجه من طريق معاوية الضال، سوى ما جاء في "العلل" للدارقطني (2001): «وسئل عن حديث الحسن، عن أبي هريرة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة كفارة لما بينهن»؟

فقال: اختلف فيه على الحسن البصري: فرواه حماد بن سلمة، عن ثابت، وقتادة، وعلي بن زيد، وحميد، وصالح المعلم، ويونس بن عبيد، عن الحسن، عن أبي هريرة.

وكذلك قال عبد الوارث، عن يونس.

وكذلك قال المبارك بن فضالة، عن يونس، وكذلك أبو هلال الراسبي، والحسن بن دينار، عن الحسن، عن أبي هريرة.

ورواه عثمان بن خرزاذ، عن مدرك بن عيسى الراسبي- إمام مسجد أبي راسب- عن أبي هلال، وقال: عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، ولا يصح عن أبي هلال، عن ابن سيرين.

ورواه هشام بن حسان، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، فرفعه عبد الأعلى بن الأعلى، عن هشام، ووقفه عبد الوهاب الثقفي عنه. ورواه أبو الأشهب، وأشهل بن أسلم، وحزم بن أبي حزم، [ومعاوية] بن عبد الكريم الضال عن الحسن، مرسل؛ لم يذكروا بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم أحدًا.

وقيل: عن معاوية الضال، عن الحسن، عن أبي هريرة، ولا يصح.

والحسن لم يثبت سماعه، عن أبي هريرة» اهـ.

(2) قوله: «الجريري» ليس في "مجمع البحرين"، وأضافه المحقق من مخطوط "المعجم الأوسط".

(3) إلى هنا انتهى السقط في هذا الموضع من "المعجم الأوسط" المطبوع الذي كانت بدايته في الحديث [3700].

(4) قوله: «وبناها» ليس في "مجمع البحرين"، وأضافه المحقق من مخطوط "المعجم الأوسط".
‌‌যাদের নাম উসমান

‌‌‌‌(৩০) ১২/ ৩৭০০ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর আদ-দাব্বী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মুক্বাদ্দামী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে আব্দুল কারীম আদ-দাল, হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ; এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, যতক্ষণ না কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়»(১)।

মুক্বাদ্দামী ব্যতিরেকে মুয়াবিয়া থেকে এই হাদিসটি আর কেউ বর্ণনা করেননি।

 

(৩১) ৩৭০১ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর আদ-দাব্বী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু উমর আদ-দারীর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আদী ইবনে আল-ফাদল, সাঈদ আল-জুরয়রী থেকে(২), তিনি আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আদন জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং তা নিজ হাত দ্বারা নির্মাণ করেছেন(৩)(৪); যার একটি ইট সোনার এবং একটি ইট রূপার, এবং এর সিমেন্ট বানিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি মুয়াবিয়া ইবনে আব্দুল কারীম আদ-দাল-এর সূত্র ছাড়াও হাসান বসরী থেকে প্রসিদ্ধ; এটি আত-তয়ালিসি (২৫৯২) হাম্মাদ ইবনে সালামা থেকে, তিনি আলী ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম আহমাদ (২/ ৪১৪ নম্বর) আফফানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামা, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে যায়িদ, সালিহ আল-মুয়াল্লিম, হুমাইদ এবং ইউনুস; হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।

আর আমি মুয়াবিয়া আদ-দালের সূত্রে এটি বর্ণনাকারী কাউকে পাইনি, কেবল দারা কুতনীর "আল-ইলাল" (২০০১) গ্রন্থে যা এসেছে তা ছাড়া: «এবং তাঁকে হাসান থেকে, আবু হুরায়রার হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ তাদের মধ্যবর্তী সময়ের কাফফারা"?

তখন তিনি বলেন: এটি হাসান বসরীর সূত্রে মতভেদপূর্ণ: হাম্মাদ ইবনে সালামা এটি সাবিত, কাতাদাহ, আলী ইবনে যায়িদ, হুমাইদ, সালিহ আল-মুয়াল্লিম এবং ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে; হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আব্দুল ওয়ারিসও ইউনুস থেকে অনুরূপ বলেছেন।

এবং মুবারক ইবনে ফাদলাহ ইউনুস থেকে অনুরূপ বলেছেন, এবং আবু হিলাল আর-রাসিবী ও হাসান ইবনে দিনার, হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং উসমান ইবনে খারযায এটি মুদরিক ইবনে ঈসা আর-রাসিবী—আবু রাসিব মসজিদের ইমাম—থেকে, তিনি আবু হিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে; তবে আবু হিলালের সূত্রে ইবনে সিরীন থেকে এটি সহীহ নয়।

এবং হিশাম ইবনে হাসসান এটি ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আব্দুল আ’লা ইবনুল আ’লা হিশাম থেকে একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী তার সূত্রে একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবং আবু আল-আশহাব, আশহাল ইবনে আসলাম, হাযম ইবনে আবু হাযম, এবং [মুয়াবিয়া] ইবনে আব্দুল কারীম আদ-দাল এটি হাসান থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তারা হাসান এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে কাউকে উল্লেখ করেননি।

এবং বলা হয়েছে: মুয়াবিয়া আদ-দাল থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে; তবে এটি সহীহ নয়।

আর হাসানের আবু হুরায়রা থেকে শ্রবণ করা প্রমাণিত নয়» সমাপ্ত।

(২) তাঁর উক্তি: «আল-জুরয়রী» শব্দটি "মাজমাউল বাহরাইন"-এ নেই, মুহাক্কিক এটি "আল-মুজামুল আওসাত"-এর পাণ্ডুলিপি থেকে যুক্ত করেছেন।

(৩) এখানে এসে "আল-মুজামুল আওসাত"-এর মুদ্রিত সংস্করণের সেই বিলুপ্ত অংশটি শেষ হয়েছে যার শুরু হয়েছিল হাদিস নম্বর [৩৭০০] থেকে।

(৪) তাঁর উক্তি: «এবং তা নির্মাণ করেছেন» কথাটি "মাজমাউল বাহরাইন"-এ নেই, মুহাক্কিক এটি "আল-মুজামুল আওসাত"-এর পাণ্ডুলিপি থেকে যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২০)
المسك، وترابها الزعفران، وحصباءها(1) اللؤلؤ، ثم قال لها: تكلمي، فقالت: قد أفلح المؤمنون، فقالت الملائكة: طوبى لك منزل الملوك»(2).

لم يرو هذا الحديث عن الجريري، إلا عدي بن الفضل.

--------------------------------------------

(1) قوله: «وحصباءها» تصحف في "مجمع البحرين" إلى: «وحصاها».

(2) هذا الحديث سقطت بدايته من المطبوع تبعًا للسقط السابق، واعتمد المحققون على "مجمع البحرين" في استدراك السقط، فقد ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (4860)، بنفس الإسناد والمتن، عدا الفروق التي سبقت الإشارة إليها. وذكر في "مجمع الزوائد" (10/ 397) لفظ رواية البزار، ثم قال: «رواه البزار مرفوعًا وموقوفًا، والطبراني في "الأوسط"، إلا أنه قال: عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله خلق جنة عدن بيده، لبنة من ذهب، ولبنة من فضة»، والباقي بنحوه، ورجال الموقوف رجال الصحيح، وأبو سعيد لا يقول هذا إلا بتوقيف».
কস্তুরী, আর তার মাটি জাফরান, এবং তার নুড়ি পাথর(১) হলো মুক্তা। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: কথা বলো। সে বলল: অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে। তখন ফেরেশতারা বলল: রাজাদের এই আবাসস্থলের জন্য শুভকামনা(২)।

আল-জারীরী থেকে আদী ইবনুল ফাদল ব্যতীত আর কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি।

--------------------------------------------

(১) তাঁর বক্তব্য: «তার নুড়ি পাথর» শব্দটি "মাজমাউল বাহরাইন" গ্রন্থে ভুলবশত «তার কঙ্করাদি» হিসেবে পরিবর্তিত হয়েছে।

(২) পূর্ববর্তী বিলুপ্তির ধারাবাহিকতায় এই হাদিসটির প্রথমাংশও মুদ্রিত কপি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গবেষকগণ এই বিলুপ্ত অংশটি উদ্ধারের জন্য "মাজমাউল বাহরাইন"-এর ওপর নির্ভর করেছেন। আল-হাইসামি "মাজমাউল বাহরাইন"-এ (৪৮৬০) একই সনদ ও মতন সহ এটি উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র পূর্বে উল্লিখিত পার্থক্যসমূহ ছাড়া। তিনি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (১০/৩৯৭) গ্রন্থে আল-বায্যারের বর্ণনার শব্দাবলী উল্লেখ করেছেন, এরপর বলেছেন: «আল-বায্যার এটি মারফু ও মাওকুফ উভয়ভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং আল-তাবারানি "আল-আওসাত"-এ এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আদন জান্নাতকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন; যার একটি ইট সোনার এবং একটি ইট রুপার», এবং বাকি অংশও অনুরূপ। আর মাওকুফ বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আর আবু সাঈদ (রা.) ওহি ব্যতীত নিজের থেকে এমন কথা বলেন না»।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌السقط الثالث (1)

‌‌(32) 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: أنا موسي بن يعقوب الزمعي، أن أبا الحويرث أخبره، أن نعيم بن عبد الله المجمر أخبره، أن أنس بن مالك أخبره، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ثلاث من كن فيه فقد ذاق طعم الإيمان(2): من كان لا شيء أحب إليه من الله ورسوله، ومن كان لأن يحرق بالنار أحبَّ إليه من أن يرتدّ عن دينه، ومن كان يحب لله ويبغض لله»(3).

لم يرو هذا الحديث عن نعيم المجمر إلا أبو الحويرث، واسمه عبد الرحمن بن معاوية، ومحمد بن عمرو بن حلحلة(4)، ولم يروه عن أبي الحويرث إلا موسي بن يعقوب، ولا عن موسى بن يعقوب إلا ابن أبي مريم. وأما حديث محمد بن عمرو بن حلحلة فرواه عبد الله بن جعفر المديني.

 

‌‌(33) 1/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: أنا موسي بن يعقوب الزمعي، قال: حدثني عباد بن أبي صالح السمّان مولى جويرية بنت الأحمس الغطفاني، أنه سمع أباه يقول: سمعت أبا هريرة يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مسلم

--------------------------------------------

(1) "المعجم الأوسط" (5/ 144).

(2) من هنا بداية السقط في المطبوع من "المعجم الأوسط"، وقد اجتهد المحققون في استدراكه من "المعجم الصغير"، وأحسنوا، غير أن كلام الطبراني في "الأوسط" اختلف عن كلامه في "الصغير"، وأما متن الحديث فهو موافق له.

(3) الحديث أخرجه الطبراني في "المعجم الكبير" (1/ 251 رقم 724) عن عمرو بن أبي الطاهر، وقرن معه يحيى بن أيوب العلاف؛ كلاهما عن سعيد بن أبي مريم، به بنحوه، وأخرجه في "المعجم الصغير" (728) عن عمرو بن أبي الطاهر، به مثله سندًا ومتنًا، ثم قال: «لم يرو نعيم عن أنس حديثًا غير هذا، وإنما سمي المجمر؛ لأنه كان يجمر قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو من موالي عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ولم يروه عن أبي الحويرث إلا موسي، تفرد به ابن أبي مريم».

وذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (108)، ثم نقل كلام الطبراني كما في "المعجم الصغير"، ثم قال: «قلت: هو في الصحيح، سوى قوله: "ويبغض لله"»، وذكره في "مجمع الزوائد" (1/ 56)، وقال: «رواه الطبراني في "الكبير" و"الصغير"، وهو في الصحيح، خلا قوله: "ويبغض لله"، وفي إسناده أبو الحويرث، ضعفه مالك وابن معين، ووثقه ابن حبان».

(4) لم أجد رواية محمد بن عمرو بن حلحلة لهذا الحديث.
তৃতীয় বিচ্যুতি (বাদ পড়া অংশ) (১)

‌‌(৩২) ৪৯০৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন আবি আল-তাহির বিন আল-সারহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি মারইয়াম, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুসা বিন ইয়াকুব আল-জামঈ, তাকে আবু আল-হুয়াইরিস সংবাদ দিয়েছেন, তাকে নুআইম বিন আবদুল্লাহ আল-মুজমির সংবাদ দিয়েছেন, তাকে আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করবে: যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অপেক্ষা অন্য কোনো কিছু অধিক প্রিয় হবে না, যার কাছে আগুনে পুড়ে যাওয়া পুনরায় কুফরিতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অধিক প্রিয় হবে এবং যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসে ও আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করে»(৩)।

নুআইম আল-মুজমির থেকে আবু আল-হুয়াইরিস ব্যতীত আর কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, এবং তার নাম হলো আব্দুর রহমান বিন মুয়াবিয়া, এবং মুহাম্মদ বিন আমর বিন হালহালা(৪)। আর আবু আল-হুয়াইরিস থেকে মুসা বিন ইয়াকুব ব্যতীত এবং মুসা বিন ইয়াকুব থেকে ইবনে আবি মারইয়াম ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। আর মুহাম্মদ বিন আমর বিন হালহালার হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-মাদিনী।

 

‌‌(৩৩) ১/ ৪৯০৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন আবি আল-তাহির বিন আল-সারহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি মারইয়াম, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুসা বিন ইয়াকুব আল-জামঈ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ বিন আবি সালিহ আস-সাম্মান, যিনি জুয়াইরিয়া বিনতে আল-আহমাস আল-গাতাফানি-এর আযাদকৃত দাস, তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন: আমি আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এমন কোনো মুসলিম নেই...

--------------------------------------------

(১) "আল-মু'জাম আল-আওসাত" (৫/ ১৪৪)।

(২) এখান থেকে মুদ্রিত "আল-মু'জাম আল-আওসাত"-এর বাদ পড়া অংশের শুরু। গবেষকগণ "আল-মু'জাম আস-সাগীর" থেকে এটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন এবং তারা ভালো কাজ করেছেন, তবে "আল-আওসাত"-এ তাবারানির বক্তব্য "আস-সাগীর"-এর বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন, তবে হাদিসের মূল পাঠ (মতন) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(৩) হাদিসটি তাবারানি "আল-মু'জাম আল-কাবীর" (১/ ২৫১, নং ৭২৪)-এ আমর বিন আবি আল-তাহির থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তার সাথে ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-আল্লাফকে যুক্ত করেছেন; তারা উভয়ই সাঈদ বিন আবি মারইয়াম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি "আল-মু'জাম আস-সাগীর" (৭২৮)-এ আমর বিন আবি আল-তাহির থেকে একইভাবে সনদ ও মতনসহ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: «নুআইম আনাস থেকে এই একটি হাদিস ছাড়া আর কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। তাকে মুজমির বলা হতো কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরকে সুগন্ধিযুক্ত করতেন। তিনি ওমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর আযাদকৃত দাস ছিলেন। আবু আল-হুয়াইরিস থেকে মুসা ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি, ইবনে আবি মারইয়াম এটি বর্ণনায় একক ছিলেন।»

আল-হাইসামি এটি "মাজমা আল-বাহরাইন" (১০৮)-এ উল্লেখ করেছেন এবং তাবারানির কথাটি "আল-মু'জাম আস-সাগীর"-এর অনুরূপ নকল করেছেন। এরপর তিনি বলেন: «আমি বলছি: এটি সহিহ গ্রন্থে বিদ্যমান, শুধুমাত্র তার এই কথাটি ব্যতীত: "এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে"»। তিনি এটি "মাজমা আজ-জাওয়াইদ" (১/ ৫৬)-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «তাবারানি এটি "আল-কাবীর" ও "আস-সাগীর"-এ বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহিহ গ্রন্থে আছে, শুধু "এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে" অংশটুকু ছাড়া। এর সনদে আবু আল-হুয়াইরিস রয়েছেন, যাকে ইমাম মালিক ও ইবনে মাঈন দুর্বল বলেছেন, তবে ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।»

(৪) এই হাদিসটি সম্পর্কে মুহাম্মদ বিন আমর বিন হালহালার বর্ণনা আমি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২২)
يتوضأ للصلاة، فيمضمض، إلا خرج مع قطر الماء كل سيئة تكلم بها لسانه، ولا يستنشق إلا خرج مع قطر الماء كل سيئة وجد ريحها بأنفه، ولا يغسل وجهه إلا تناثر من عينيه مع قطر الماء كل سيئة نظر إليها بهما، [ولا يغسل شيئًا من يديه(1) إلا خرج مع قطر الماء كل سيئة بطش بهما](2)، ولا يغسل شيئًا من رجليه إلا خرج مع قطر الماء كل سيئة مشي بهما إليها، فإذا خرج إلى المسجد كتب له بكل خطوة خطاها حسنة، ومحي [بها](3) عنه سيئة، حتى يأتي مقامه»(4).

لم يرو هذا الحديث عن عباد بن أبي صالح إلا موسي بن يعقوب، تفرد به ابن أبي مريم.

 

‌‌‌‌(34) 2/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: أنا موسي بن يعقوب، قال: حدثني أبو حازم، قال: أخبرني القاسم بن محمد، أن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أخبرته أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يشبع شبعتين في يوم حتى مات(5).

لم يرو هذا الحديث عن أبي حازم إلا موسي بن يعقوب.

 

(35) 3/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: أنا موسي بن يعقوب، قال: حدثني فائد مولى عبيد الله بن علي بن أبي رافع، أن إبراهيم بن عبد الرحمن بن أبي ربيعة أخبره، أن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أخبرته: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لو رحم الله أحدًا من قوم نوح(6) لرحم أم الصبي»، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كان نوح(7) صلى الله عليه وسلم مكث في قومه ألف سنة إلا خمسين عامًا يدعوهم، حتى كان آخر زمانه،

--------------------------------------------

(1) قوله: «يديه» تصحّف في "مجمع البحرين" إلى: «بدنه».

(2) ما بين المعقوفين سقط من الأصل بسبب انتقال النظر، فاستدركته من "مجمع البحرين"، و"مجمع الزوائد"، و"كنز العمال".

(3) ما بين المعقوفين سقط من الأصل، وتم استدراكه من المراجع السابقة.

(4) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" بمثله سندًا ومتتًا، عدا الفروق التي تقدم ذكرها، وقال:

«قلت: هو في الصحيح باختصار»، وذكره في "مجمع الزوائد" (1/ 226) وقال: «رواه الطبراني في "الأوسط"، وهو في الصحيح باختصار، ورجاله موثقون». وذكره صاحب "كنز العمال" (20313) وعزاه للطبراني في "الأوسط"، ومتنه موافق لمتن الحديث هنا.

(5) أخرجه أبو نعيم في "الحلية" (3/ 256) من طريق الطبراني، به.

(6) في "مجمع البحرين" و"مجمع الزوائد": «رحم الله من قوم نوح أحدًا».

(7) في الأصل: «كان نوح كان»، وكأن الناسخ ضرب على «كان» الثانية
নামাযের জন্য ওযু করে, অতঃপর সে কুলি করে, ফলে পানির ফোঁটার সাথে তার জিহ্বা দ্বারা বলা প্রতিটি গুনাহ বের হয়ে যায়। আর সে নাক পরিষ্কার করে না, তবে পানির ফোঁটার সাথে তার নাক দিয়ে ঘ্রাণ নেওয়া প্রতিটি গুনাহ বের হয়ে যায়। আর সে তার মুখমণ্ডল ধোয় না, তবে পানির ফোঁটার সাথে তার দুই চোখ দিয়ে দেখা প্রতিটি গুনাহ ঝরে যায়। [আর সে তার হাতদ্বয়ের(১) কোনো অংশ ধোয় না, তবে পানির ফোঁটার সাথে তার হাতদ্বয় দ্বারা করা প্রতিটি গুনাহ বের হয়ে যায়](২)। আর সে তার পা দুটির কোনো অংশ ধোয় না, তবে পানির ফোঁটার সাথে তার পা দুটি দিয়ে সেদিকে হেঁটে যাওয়া প্রতিটি গুনাহ বের হয়ে যায়। অতঃপর সে যখন মসজিদের দিকে বের হয়, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে তার জন্য একটি নেকি লেখা হয় এবং তার থেকে একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়, যতক্ষণ না সে তার স্থানে পৌঁছায়।(৪)

আব্বাদ বিন আবি সালিহ থেকে এই হাদিসটি কেবল মুসা বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি মারইয়াম এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌‌‌(৩৪) ২/ ৪৯০৫ - আমর বিন আবি তাহির বিন আস-সারহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা বিন ইয়াকুব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাযিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসিম বিন মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত একদিনে দুইবার পেট ভরে আহার করেননি।(৫)

আবু হাযিম থেকে এই হাদিসটি কেবল মুসা বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন।

 

(৩৫) ৩/ ৪৯০৫ - আমর বিন আবি তাহির বিন আস-সারহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা বিন ইয়াকুব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ বিন আলি বিন আবি রাফে-এর মুক্ত দাস ফাইদ আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ইবরাহিম বিন আবদুর রহমান বিন আবি রাবিয়া তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ যদি নূহ-এর কাওমের(৬) কাউকে দয়া করতেন, তবে তিনি সেই শিশুর মা’কে দয়া করতেন», রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «নূহ(৭) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাওমের মাঝে পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর অবস্থান করে তাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন, এমনকি তাঁর শেষ সময় পর্যন্ত...»

--------------------------------------------

(১) তাঁর কথা: «হাতদ্বয়» এটি "মাজমাউল বাহরাইন" গ্রন্থে «শরীর» হিসেবে বিকৃত হয়েছে।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু দৃষ্টি বিভ্রমের কারণে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল, আমি এটি "মাজমাউল বাহরাইন", "মাজমাউয যাওয়াইদ" এবং "কানযুল উম্মাল" থেকে সংগ্রহ করেছি।

(৩) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা পূর্ববর্তী তথ্যসূত্রগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

(৪) হাদিসটি হাইসামি "মাজমাউল বাহরাইন"-এ সনদ ও মতনসহ অনুরূপভাবে উল্লেখ করেছেন, তবে পূর্বে উল্লিখিত পার্থক্যসমূহ ব্যতীত। তিনি বলেন:

«আমি বলছি: এটি সহিহ গ্রন্থে সংক্ষেপে রয়েছে», এবং তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (১/ ২২৬) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: «তাবারানি এটি "আল-আওসাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এটি সহিহ গ্রন্থে সংক্ষেপে রয়েছে এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।» এবং "কানযুল উম্মাল"-এর লেখক এটি (২০৩১৩) উল্লেখ করেছেন এবং তাবারানির "আল-আওসাত"-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, আর এর মূল পাঠ এখানে বর্ণিত হাদিসের পাঠের সাথে সংগতিপূর্ণ।

(৫) আবু নুয়াইম এটি "আল-হিলয়াহ" (৩/ ২৫৬) গ্রন্থে তাবারানির সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন।

(৬) "মাজমাউল বাহরাইন" এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ আছে: «আল্লাহ নূহ-এর কাওমের কাউকে দয়া করলে...»।

(৭) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: «নূহ ছিলেন ছিলেন», মনে হয় যেন অনুলিপিকারক দ্বিতীয় «ছিলেন» শব্দটি কেটে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وغرس شجرة فعظمت وذهبت كل مذهب، ثم قطعها، ثم جعل(1) يعملها سفينة، ويمرون عليه فيسألونه؟ فيقول: أعملها سفينة. فيسخرون منه ويقولون: تعمل سفينة في البر، وكيف تجري؟! قال: سوف تعلمون. فلما فرغ منها وفار التنور وكثر الماء في السكك، خشيت أم الصبي عليه، وكانت تحبه حبًا شديدًا، فخرجت إلى الجبل حتى بلغت ثلثه(2)، فلما بلغها الماء خرجت حتى بلغت(3) ثلثي الجبل، فلما بلغها الماء خرجت به حتى استوت(4) على الجبل، فلما بلغ الماء رقبتها(5)، رفعته بيديها حتى ذهب بهما الماء، فلو رحم الله منهم أحدًا رحم أم(6) الصبي»(7).

لا يروى هذا الحديث عن عائشة إلا بهذا الإسناد، تفرد به موسي بن يعقوب.

 

‌‌(36) 4/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: أنا موسي بن يعقوب، قال: حدثتني عمتي قريبة بنت وهب بن عبد الله بن زمعة، أن أباها قالت له أم سلمة: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما من امرئ يحيي أرضًا، فيشرب(8) منها كبد حري، أو يصيب منه(9) عافية، إلا كتب الله له به أجرًا»(10).

لا يروى هذا الحديث عن أم سلمة إلا بهذا الإسناد، تفرد به موسي بن يعقوب.

 

‌‌(37) 5/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد

--------------------------------------------

(1) في "مجمع البحرين" و"مجمع الزوائد": «وجعل».

(2) قوله: «ثلثه» يشبه في الأصل أن يكون: «قلته».

(3) قوله: «ثلثه، فلما بلغها الماء خرجت حتى بلغت» سقط من "مجمع البحرين" بسبب انتقال النظر.

(4) في "مجمع البحرين" و"مجمع الزوائد": «خرجت به حتى استوت به».

(5) في "مجمع الزوائد": «بلغ الماء فيها».

(6) قوله: «أم» سقط من "مجمع البحرين".

(7) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (3591)، كما هنا سندًا ومتنًا، عدا الفروق المتقدم ذكرها، وذكره في "مجمع الزوائد" (8/ 200)، وقال: «رواه الطبراني في "الأوسط"، وفيه موسي بن يعقوب الزمعي وثقه ابن معين وغيره وضعفه ابن المديني، وبقية رجاله ثقات».

(8) في "مجمع الزوائد": «فتشرب».

(9) في "مجمع البحرين" و"مجمع الزوائد": «أو تصيب منها».

(10) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (2177)، كما هنا سندًا ومتنًا، عدا الفرق المتقدم ذكره، وذكره في "مجمع الزوائد" (4/ 157) وقال: «رواه الطبراني في "الأوسط"، وفيه موسي بن يعقوب الزمعي وثقه ابن معين وابن حبان، وضعفه ابن المديني، وتفرد عن قريبة شيخته».
এবং তিনি একটি গাছ রোপণ করলেন, ফলে তা বড় হলো এবং চারদিকে বিস্তৃত হলো। এরপর তিনি তা কাটলেন এবং সেটি দিয়ে(১) একটি নৌকা তৈরি করতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে জিজ্ঞাসা করত? তিনি বলতেন: আমি একটি নৌকা তৈরি করছি। তারা তাঁকে নিয়ে উপহাস করত এবং বলত: আপনি স্থলে নৌকা তৈরি করছেন, আর তা চলবে কীভাবে?! তিনি বলতেন: শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। যখন তিনি তা থেকে অবসর হলেন এবং চুলা উপচে পড়ল ও অলিগলিতে পানি বেড়ে গেল, এক শিশুর মা তার সন্তানের ব্যাপারে ভীত হলো। সে তাকে অত্যন্ত ভালোবাসত। তাই সে পাহাড়ের দিকে বেরিয়ে পড়ল এবং তার এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছাল(২)। যখন পানি তাকে স্পর্শ করল, সে আরও উপরে উঠল এবং পাহাড়ের দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত(৩) পৌঁছাল। পানি যখন তাকে স্পর্শ করল, সে তাকে নিয়ে পাহাড়ের উপরে উঠল(৪)। যখন পানি তার ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে গেল(৫), সে তাকে দুই হাত দিয়ে উপরে তুলে ধরল, এমনকি পানি তাদের উভয়কে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। যদি আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে কারো প্রতি দয়া করতেন, তবে সেই শিশুর মায়ের(৬) প্রতি দয়া করতেন»(৭).

আয়েশা (রা.) থেকে এই হাদিসটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, মূসা ইবনে ইয়াকুব এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌(৩৬) ৪/ ৪৯০৫ - আমর ইবনে আবু তাহের ইবনে সারহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে ইয়াকুব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার ফুফু কুতাইবা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জামআ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে কোনো ব্যক্তি কোনো মৃত জমিনকে আবাদ করবে, অতঃপর সেখান থেকে কোনো প্রাণীকুল পান করবে(৮) অথবা তা থেকে কোনো কল্যাণ লাভ করবে(৯), আল্লাহ অবশ্যই তার বিনিময়ে তাকে সওয়াব দান করবেন»(১০).

উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে এই হাদিসটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, মূসা ইবনে ইয়াকুব এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌(৩৭) ৫/ ৪৯০৫ - আমর ইবনে আবু তাহের ইবনে সারহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ

--------------------------------------------

(১) "মাজমাউল বাহরাইন" এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ রয়েছে: «এবং তিনি তৈরি করতে লাগলেন»।

(২) তাঁর কথা: «তার এক-তৃতীয়াংশ» মূল পাণ্ডুলিপিতে সম্ভবত: «পাহাড়ের চূড়া» ছিল।

(৩) তাঁর কথা: «তার এক-তৃতীয়াংশ, অতঃপর যখন পানি তাকে স্পর্শ করল, সে বেরিয়ে পড়ল এমনকি পৌঁছাল» অংশটুকু অসাবধানতাবশত দৃষ্টির বিচ্যুতির কারণে "মাজমাউল বাহরাইন" থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) "মাজমাউল বাহরাইন" এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ রয়েছে: «সে তাকে নিয়ে বের হলো এমনকি সে তাকে নিয়ে উপরে উঠল»।

(৫) "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ রয়েছে: «পানি তাতে পৌঁছে গেল»।

(৬) «মা» শব্দটি "মাজমাউল বাহরাইন" থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) হাদিসটি আল-হায়সামি "মাজমাউল বাহরাইন" (৩৫৯১)-এ সনদ ও মতনসহ এখানে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই উল্লেখ করেছেন, তবে উল্লেখিত পার্থক্যগুলো ব্যতিরেকে। তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৮/ ২০০)-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «তাবারানি এটি "আল-আওসাত"-এ বর্ণনা করেছেন। এতে মূসা ইবনে ইয়াকুব আয-যাময়ি রয়েছেন, যাকে ইবনে মাঈন ও অন্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে মাদিনি দুর্বল বলেছেন। বর্ণনাকারীদের বাকি সবাই নির্ভরযোগ্য»।

(৮) "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ রয়েছে: «অতঃপর সে পান করবে»।

(৯) "মাজমাউল বাহরাইন" এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ রয়েছে: «অথবা তা থেকে কোনো কল্যাণ অর্জিত হবে»।

(১০) হাদিসটি আল-হায়সামি "মাজমাউল বাহরাইন" (২১৭৭)-এ সনদ ও মতনসহ এখানে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই উল্লেখ করেছেন, তবে উল্লেখিত পার্থক্য ব্যতিরেকে। তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৪/ ১৫৭)-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «তাবারানি এটি "আল-আওসাত"-এ বর্ণনা করেছেন। এতে মূসা ইবনে ইয়াকুব আয-যাময়ি রয়েছেন, যাকে ইবনে মাঈন ও ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে মাদিনি দুর্বল বলেছেন। তিনি তাঁর শাইখ কুতাইবা থেকে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন»।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
بن أبي مريم، قال: نا عبد الله بن عمر، قال: حدثني حاجب مولى زيد بن ثابت، قال: دخل عليّ زيد بن ثابت وأنا بالأسواف وقد اصطدت نُهَسًا- فأخذ بأذني، ثم لطم قفاي، وقال: أتصيد نُهَسًا وقد حرّم رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين لابتيها؟!(1).

لم يرو هذا الحديث عن حاجب مولى زيد إلا عبد الله بن عمر، تفرد به ابن أبي مريم.

 

‌‌(38) 6/‌‌ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: أنا عبد الله بن عمر، عن جهم بن أبي الجهم، عن المسور بن مخرمة، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه»(2).

لم يرو هذا الحديث عن المسور بن مخرمة إلا جهم بن أبي(3) الجهم، تفرد به عبد الله بن عمر.

 

‌‌(39) 7/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: أنا المغيرة بن عبد الرحمن، قال: حدثني أبو الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إنه ليأتي الرجل العظيم السمين يوم القيامة، لا يزن جناح بعوضة»، قال: وقرأ: (فلا نقيم لهم يوم القيامة وزنًا) [الكهف: 105](4).

لم يرو هذا الحديث عن أبي الزناد إلا المغيرة بن عبد الرحمن، تفرد به ابن أبي مريم.

 

(40) 8/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا سعيد بن أبي مريم، قال: نا عبد الله بن المنيب بن عبد الله بن أبي أمامة بن ثعلبة، قال: حدثني أبي، عن عبد الله بن عطية بن عبد الله بن أنيس، أنه قال:

--------------------------------------------

(1) الحديث ذكره السمهودي في "وفاء الوفاء، بأخبار دار المصطفى" (1/ 88) فقال: «وروى الطبراني عن حاجب مولي زيد بن ثابت قال: دخل علي زيد بن ثابت وأنا بالأسواف قد اصطدت نهسًا، فأخذ بأذني من قفاي وقال: تصيد هاهنا وقد حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين لابتيها؟ والنُّهَسُ- كالصُرَد-: طائر يشبهه وليس بالصرد، وقيل: إنه اليمام». اهـ.

(2) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (3661) كما هنا سندًا ومتنًا، وذكره في "مجمع الزوائد" (9/ 66)، وقال: «رواه أحمد، والبزار، والطبراني في "الأوسط"، ورجال البزار رجال الصحيح غير الجهم بن أبي الجهم، وهو ثقة».

(3) كأنه ضُرب على قوله: «أبي».

(4) الحديث أخرجه الطبراني في "المعجم الأوسط" أيضًا (192) من طريق شيخه أحمد بن حماد بن زغبة، عن سعيد بن أبي مريم، به بنحوه، وقال: «لم يرو هذا الحديث … » بمثل عبارته هنا.
ইবনে আবি মারইয়াম বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, তিনি বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে সাবিতের আযাদকৃত গোলাম হাজিব, তিনি বলেছেন: যায়েদ ইবনে সাবিত আমার নিকট আল-আসওয়াফ নামক স্থানে প্রবেশ করলেন—এমতাবস্থায় যে আমি একটি নুহাস (পাখি) শিকার করেছিলাম—অতঃপর তিনি আমার কান ধরলেন, তারপর আমার ঘাড়ে চপেটাঘাত করলেন এবং বললেন: তুমি কি নুহাস শিকার করছ অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম ঘোষণা করেছেন?!(১).

যায়েদের আযাদকৃত গোলাম হাজিব থেকে এই হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি, ইবনে আবি মারইয়াম এতে একক হয়েছেন।

 

‌‌(৩৮) ৬/‌‌ ৪৯০৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আবু তাহির ইবনুস সারাহ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম, তিনি বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, জাহম ইবনে আবিল জাহম থেকে, তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্যকে উমরের জিহ্বায় ও তার অন্তরে স্থাপন করেছেন»(২).

মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ থেকে এই হাদীসটি জাহম ইবনে আবি(৩) আল-জাহম ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এতে একক হয়েছেন।

 

‌‌(৩৯) ৭/ ৪৯০৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আবু তাহির ইবনুস সারাহ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম, তিনি বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুগিরা ইবনে আব্দুর রহমান, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «কিয়ামতের দিন অবশ্যই একজন বিশাল দেহী স্থূলকায় মানুষ আসবে, কিন্তু আল্লাহর নিকট তার ওজন মশার ডানার সমানও হবে না», তিনি বললেন: এবং তিনি পাঠ করলেন: (অতঃপর আমি কিয়ামতের দিন তাদের জন্য কোনো ওজনের ব্যবস্থা রাখব না) [কাহাফ: ১০৫](৪).

আবুয যিনাদ থেকে এই হাদীসটি মুগিরা ইবনে আব্দুর রহমান ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি, ইবনে আবি মারইয়াম এতে একক হয়েছেন।

 

(৪০) ৮/ ৪৯০৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আবু তাহির ইবনুস সারাহ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুনীব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি উমামাহ ইবনে সা'লাবাহ, তিনি বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আতিয়্যাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনিস থেকে, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি আস-সামহুদী "ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা" গ্রন্থে (১/ ৮৮) উল্লেখ করে বলেছেন: «তাবারানি যায়েদ ইবনে সাবিতের আযাদকৃত গোলাম হাজিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়েদ ইবনে সাবিত আমার নিকট আল-আসওয়াফ নামক স্থানে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে আমি একটি নুহাস শিকার করেছিলাম, অতঃপর তিনি আমার ঘাড়ের দিক থেকে কান ধরলেন এবং বললেন: তুমি এখানে শিকার করছ অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম ঘোষণা করেছেন? আর নুহাস—সুরদ পাখির মতো—একটি পাখি যা তার সদৃশ কিন্তু সুরদ নয়; আবার বলা হয়েছে এটি এক প্রকার কবুতর»। সমাপ্ত।

(২) হাদীসটি আল-হাইসামী "মাজমাউল বাহরাইন" (৩৬৬১) গ্রন্থে এখানকার মতো সনদ ও মতনসহ উল্লেখ করেছেন, এবং তিনি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৯/ ৬৬) গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «এটি আহমাদ, বাযযার এবং তাবারানি "আল-আওসাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বাযযারের বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, শুধু জাহম ইবনে আবিল জাহম ছাড়া, আর তিনি নির্ভরযোগ্য»।

(৩) মনে হচ্ছে তাঁর «আবি» শব্দটির ওপর কলম টানা হয়েছে (কাটা হয়েছে)।

(৪) হাদীসটি তাবারানি "আল-মু'জাম আল-আওসাত" (১৯২) গ্রন্থেও তাঁর উস্তাদ আহমাদ ইবনে হাম্মাদ ইবনে যাগবাহ-এর সূত্রে সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: «এই হাদীসটি বর্ণনা করেননি …» ঠিক এখানকার ইবারতের মতোই।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
أخبرنا أبو أمامة بن ثعلبة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من تولى غير مواليه فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفًا ولا عدلًا، ومن حلف عند منبري هذا بيمين كاذبة يستحل بها مال امرئ مسلم بغير حق، فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يُقبل منه صرف ولا عدل»(1).

لا يروى هذا الحديث بهذا الإسناد عن أبي أمامة بن ثعلبة إلا من هذا الوجه، تفرد به عبد الله بن المنيب.

 

‌‌(41) 9/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا يحيى بن بكير، قال: حدثني الليث، عن جعفر بن ربيعة، عن عكرمة، عن ابن عباس؛ أن رسول الله صلى الله عليه و سلم احتجم وهو صائم، فغشي عليه(2).

لم يرو هذا الحديث عن جعفر بن ربيعة إلا الليث.

 

‌‌(42) 10/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا أحمد بن سعيد الفهري(3)، قال: نا سليمان بن عبد الملك الهديري(4)، قال: حدثني

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه الطبراني أيضا في "المعجم الكبير" (1/ 273 رقم 795) من طريق عمرو بن أبي الطاهر، به وزاد: «ومن أحدث في مدينتي هذه حدثًا، أو آوى محدثًا، فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفًا ولا عدلًا».

(2) الحديث أخرجه الطبراني أيضا في "المعجم الكبير" (11/ 363 رقم 12024) عن عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، به بلفظ: «أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجم وهو صائم»، ولم يذكر قوله: «فغشي عليه». وأخرجه الحسن بن رشيق في "جزئه" (38) من طريق أحمد بن محمد بن عبد العزيز، عن يحيى بن بكير، به مثل لفظ الطبراني في "الكبير".

(3) هو: أحمد بن سعيد بن عمرو بن الحارث بن العلاء بن يزيد بن أنيس بن عبد الله بن عمرو، أبو الحارث الفهري المصري، وجده العلاء بن يزيد له صحبة، رأى النبي صلى الله عليه وسلم، وقدم مصر بعد أن فتحت، وعقبه بها، سمع أحمد بن سعيد من عبد الجبار بن سعيد بن سليمان المساحقي، وأبا ثابت محمد بن عبيد الله المديني، وحديثه في أهل الحجاز. روى عنه أبو الحسن أحمد بن عمر بن يوسف، وأبو عبد الرحمن محمد بن عبد الله البيروتي، وهو ثقة كما قال مسلمة بن القاسم انظر "الأسامي والكني" لأبي أحمد الحاكم (3/ 423)، و"فتح الباب في الكنى والألقاب لابن منده (ص 252)، و"معرفة الصحابة" لأبي نعيم (4/ 2201)، و"المتفق والمفترق" للخطيب (3/ 1852)، و"الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة" لابن قطلوبغا (1/ 345)، و"الإصابة" لابن حجر (5/ 65).

(4) هو: سليمان بن عبد الملك بن هارون الهديري، لم أجد من ترجم له، وكذا قال الشيخ الألباني في "سلسلة الأحاديث الضعيفة" (8/ 23 رقم 3526)، ولكن له ذكر في ترجمة عمِّه محرّر أو محرز- بن هارون الآتي ذكرها في التعليق التالي.
আবু উমামা ইবনে সা'লাবা আমাদের জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত (অভিশাপ) বর্ষিত হোক। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। আর যে ব্যক্তি আমার এই মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে মিথ্যা শপথ করবে কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত বর্ষিত হোক। তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করা হবে না»(১).

আবু উমামা ইবনে সা'লাবা থেকে এই সানাদে হাদীসটি কেবল এই সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুনীব এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌(৪১) ৯/ ৪৯০৫ - আমর ইবনে আবু তাহের ইবনুল সারাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: লাইস ইবনে সাদ জাফর ইবনে রাবিআ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রাখা অবস্থায় শিঙা (হিজামা) লাগিয়েছিলেন, ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন(২).

লাইস ইবনে সাদ ছাড়া আর কেউ জাফর ইবনে রাবিআ থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেননি।

 

‌‌(৪২) ১০/ ৪৯০৫ - আমর ইবনে আবু তাহের ইবনুল সারাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে সাঈদ আল-ফিহরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক আল-হুদাইরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি তাবারানিও তার "আল-মু'জামুল কাবির" গ্রন্থে (১/২৭৩, হাদীস নং ৭৯৫) আমর ইবনে আবু তাহেরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে: «আর যে ব্যক্তি আমার এই শহরে (মদিনায়) কোনো নতুন উপদ্রব (বিদ'আত) সৃষ্টি করবে অথবা কোনো বিদ'আতিকে আশ্রয় দিবে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত বর্ষিত হোক। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।»

(২) হাদীসটি তাবারানি তার "আল-মু'জামুল কাবির" গ্রন্থেও (১১/৩৬৩, হাদীস নং ১২০২৪) আমর ইবনে আবু তাহের ইবনুল সারাহ-এর সূত্রে নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রাখা অবস্থায় শিঙা লাগিয়েছিলেন», সেখানে তিনি «ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন» অংশটুকু উল্লেখ করেননি। হাসান ইবনে রশিক তার "জুয" (৩৮) গ্রন্থে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ-এর সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর থেকে তাবারানির "আল-কাবির" গ্রন্থের শব্দের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(৩) তিনি হলেন: আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে হারেস ইবনে আলা ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আনিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আবু হারেস আল-ফিহরি আল-মিসরি। তার দাদা আলা ইবনে ইয়াযিদ একজন সাহাবী ছিলেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন। তিনি বিজয়ের পর মিশরে আসেন এবং সেখানে তার বংশধররা বসবাস করেন। আহমাদ ইবনে সাঈদ আব্দুল জাব্বার ইবনে সাঈদ ইবনে সুলাইমান আল-মাসাহিকি এবং আবু সাবিত মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মাদিনি থেকে হাদীস শুনেছেন। তার হাদীস হেজাজের অধিবাসীদের সূত্রে বর্ণিত। তার থেকে বর্ণনা করেছেন আবু হাসান আহমাদ ইবনে উমর ইবনে ইউসুফ এবং আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাইরুতি। তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) যেমনটি মাসলামা ইবনে কাসিম বলেছেন। দেখুন: আবু আহমাদ আল-হাকিম রচিত "আল-আসামী ওয়াল কুনা" (৩/৪২৩), ইবনে মান্দাহ রচিত "ফাতহুল বাব ফিল কুনা ওয়াল আলকাব" (পৃ. ২৫২), আবু নুআইম রচিত "মা'রিফাতুস সাহাবা" (৪/২২০১), খাতিব বাগদাদী রচিত "আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক" (৩/১৮৫২), ইবনে কুতলুবুগা রচিত "আস-সিকাতু মিম্মান লাম ইয়াকা' ফিল কুতুবিস সিত্তাহ" (১/৩৪৫), এবং ইবনে হাজার রচিত "আল-ইসাবাহ" (৫/৬৫)।

(৪) তিনি হলেন: সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে হারুন আল-হুদাইরি। তার জীবনী আলোচনা করেছেন এমন কাউকে আমি খুঁজে পাইনি। শাইখ আলবানিও তার "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দইফাহ" গ্রন্থে (৮/২৩, হাদীস নং ৩৫২৬) অনুরূপ কথা বলেছেন। তবে তার চাচা মুহররার (অথবা মুহরিয) ইবনে হারুনের জীবনীতে তার উল্লেখ পাওয়া যায়, যার আলোচনা পরবর্তী টীকায় আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
عمي عمر بن هارون(1)، قال: حدثني عمرو بن فيروز مولى كريمة بنت

--------------------------------------------

(1) كذا وقع عند الطبراني: «عمر بن هارون»، ويؤكده مجيئه كذلك في الموضع الآتي من "مجمع البحرين"، وبه أعلّ الهيثمي هذا الحديث، فقال- كما سيأتي-: «وفيه عمر بن هارون، وهو ضعيف». وعمر هذا متروك، وكان حافظًا؛ كما في "التقريب" (4979) وهو: ابن هارون بن يزيد بن جابر الثقفي، مولاهم، أبو حفص البلخي، وليس هو من بني الهدير، ولا من عمومة سليمان بن عبد الملك، وصوابه محرر- أو محرز- بن هارون، ولكن تصحّف «محرر» إلى «عمر» بسبب تقارب الرسم، وشهرة «عمر بن هارون»، وغرابة «محرر بن هارون»، ويدلّ على هذا: قول ابن عدي في "الكامل" (10/ 61): «حَدثنا مُحمد بن أحمد بن هلال، حدثنا محمد بن محمد أبو بكر النسائي، حدثنا سليمان بن عبد الملك الهديري، عن عَمِّه محرز بن هارون»، وجاءت كذلك رواية سليمان بن عبد الملك عن عمه محرز في "المشيخة البغدادية" لأبي طاهر السلفي (48)، وفي "الغرائب الملتقطة" لابن حجر (1466)، ولم أجد ما يخالفه، وهذا يؤكد أن ما جاء هنا عند الطبراني وهم.

وقد اختلف في اسمه أيضًا: هل هو «محرر» - برائين- أو «محرز» - براء، ثم زاي. وهذا يقع كثيرًا لهذين الاسمين؛ لأنهما مما يلحقه التصحيف كما يتضح من مراجعة الكتب التي يرد فيها هذا الاسم أو ذاك، وقد قال الهيثمي في "مجمع الزوائد" (6/ 419) تعليقًا على حديث آخر يرويه هذا الراوي: «رواه الطبراني في الأوسط وفيه محرز بن هارون- ويقال: محرر- وقد ضعفه الجمهور وحسن الترمذي حديثه، وبقية رجاله رجال الصحيح». وقال ابن الصلاح في "صيانة صحيح مسلم" (117) في راوٍ آخر: «ذكر مسلم رحمه الله وإيانا فيمن ذكره من الضعفاء عبد الله بن محرر، فغلط فيه كثير من رواة الكتاب، فقالوا فيه: «ابن محرز»؛ بالزاي المنقوطة، وإسكان الحاء المهملة، وإنما هو «محرر»؛ بميم، ثم جاء مهملة مفتوحة، ثم راءين مهملتين أولاهما مفتوحة مشددة؛ كذلك ذكره البخاري وغيره من أهل الضبط، والله أعلم».

وأكثر الأئمة قالوا: «محرز بن هارون»؛ براء، ثم زاي، فقد قال ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل" (8/ 345): «محرز بن هارون الهديري: وهو ابن هارون بن عبد الله بن محرز بن الهدير الشامي القرشي المديني، روى عن الأعرج، روى عنه ذؤيب بن عمرو السهمي، وابن أبي فديك، وأبو مصعب أحمد بن إبراهيم المديني، وعبد الله بن عمر بن ميمون، سمعت أبي يقول ذلك». ونقل عن أبيه أيضًا أنه قال: «يروى ثلاثة أحاديث مناكير، ليس هو بالقوي». وقال النسائي في "الضعفاء والمتروكين" (583): «محرز بن هارون: مدني منكر الحديث»، وقال الدارقطني في "المؤتلف والمختلف" (4/ 2058 - 2057): «محرز بن هارون التيمي، يقال له: الهديري، يروي عن الأعرج. حدثنا عثمان بن أحمد، حدثنا حنبل بن إسحاق، حدثنا أبو عبد الله، حدثنا أبو سعيد، حدثنا محرز بن هارون التيمي، حدثنا عبد الرحمن الأعرج. قال أبو عبد الله: محرز منكر الحديث وما أدري أي شيء حديثه، روى عنه أبو مصعب الزهري، وغيره. وقيل: محرر». وقوله: «وقيل: محرر» يغلب على الظن أنه من كلام الدارقطني وليس من كلام الإمام أحمد، ويدل عليه أن الدارقطني ذكر هذا الراوي في موضع آخر (4/ 2062) فقال: «محرر بن هارون بن عبد الله التيمي القرشي المديني، يروي عن الأعرج، روى عنه أحمد بن أبي بكر، منكر الحديث، قال ذلك كله البخاري، فيما أخبرنا علي، عن ابن فارس، عنه. وغير البخاري يقول: هو محرز». وكلام البخاري هذا تجده في "التاريخ الكبير" (8/ 22). وتابع البخاريَّ المزيُّ في "تهذيب الكمال" (27/ 272)، وابن حجر في "تهذيب التهذيب" (10/ 55)؛ فترجماه في «محرر»، بل صرح بذلك ابن حجر فقال في "تقريب التهذيب" (6499): «محرر? بِراءين؛ وزن «محمد» على الصحيح، وقيل: «محرز» - ابن هارون بن عبد الله التيمي».

فتلخص مما تقدم: أن البخاري يرى أن اسم هذا الراوي «محرر» براءين، وأن أكثر الأئمة يقولون:
আমার চাচা ওমর বিন হারুন(১), তিনি বলেন: কারিমা বিনতের আযাদকৃত গোলাম আমর বিন ফিরোজ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

(১) তাবারানির নিকট এভাবেই ‘ওমর বিন হারুন’ উল্লেখ হয়েছে। এটি "মাজমাউল বাহরাইন"-এর পরবর্তী অংশে একইভাবে আসায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। আর হাইসামি এভাবেই এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, তিনি বলেছেন—যেমনটি সামনে আসবে—: «এতে ওমর বিন হারুন রয়েছেন, আর তিনি যয়িফ (দুর্বল)»। এই ওমর হচ্ছেন মাতরুক (পরিত্যক্ত), যদিও তিনি হাফেজ ছিলেন; যেমনটি "তাকরিব" (৪৯৭৯)-এ রয়েছে। তিনি হলেন হারুন বিন ইয়াজিদ বিন জাবির আল-সাকাফি, তাদের আযাদকৃত গোলাম, আবু حفص আল-বালখি। তিনি বনু হুদাইর গোত্রের নন এবং সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের চাচাদের অন্তর্ভুক্তও নন। সঠিক হলো মুহররার—অথবা মুহরিজ—বিন হারুন। কিন্তু লেখার সাদৃশ্য এবং ‘ওমর বিন হারুন’-এর প্রসিদ্ধি ও ‘মুহররার বিন হারুন’-এর অপরিচিত হওয়ার কারণে ‘মুহররার’ শব্দটি ‘ওমর’ হিসেবে বিকৃত (তাসহিফ) হয়ে গেছে। ইবনে আদির "আল-কামিল" (১০/৬১)-এর বক্তব্য এর প্রমাণ দেয়: «আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হিলাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আবু বকর আন-নাসায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক আল-হুদাইরি বর্ণনা করেছেন, তার চাচা মুহরিজ বিন হারুন থেকে»। একইভাবে আবু তাহির আল-সিলাফির "আল-মাশিয়াখাতুল বাগদাদিয়্যাহ" (৪৮) এবং ইবনে হাজারের "আল-গারায়েব আল-মুলতাকাতাহ" (১৪৬৬)-তে সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের তার চাচা মুহরিজ থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত এসেছে। আমি এর বিপরীত কিছু পাইনি, যা নিশ্চিত করে যে তাবারানির এখানে যা এসেছে তা একটি ভ্রম।

তার নামের ক্ষেত্রেও মতভেদ রয়েছে: তিনি কি ‘মুহররার’—দুইটি ‘রা’ দিয়ে—নাকি ‘মুহরিজ’—‘রা’ এর পর ‘যা’। এই নাম দুটির ক্ষেত্রে প্রায়ই এমনটি ঘটে; কারণ এগুলো এমন যা বর্ণবিকৃতির শিকার হয়, যেমনটি এই নামগুলো যেসব কিতাবে এসেছে তা পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়। হাইসামি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৬/৪১৯)-এ এই রাবি থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: «তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে মুহরিজ বিন হারুন রয়েছেন—বলা হয়: মুহররার—আর জমহুর তাকে দুর্বল বলেছেন, তবে তিরমিযী তার হাদিসকে হাসান বলেছেন। তার বাকি রাবিগণ সহিহ-এর রাবি»। ইবনে আস-সালাহ "সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম" (১১৭)-এ অন্য একজন রাবির ক্ষেত্রে বলেছেন: «মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি যয়িফদের আলোচনায় আব্দুল্লাহ বিন মুহররার-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তখন কিতাবের অনেক বর্ণনাকারী এতে ভুল করেছেন এবং তারা তাকে ‘ইবনে মুহরিজ’—নুক্তাযুক্ত ‘যা’ এবং নুক্তাহীন ‘হা’ এর সাকিন যোগে—বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি হচ্ছেন ‘মুহররার’; মিম, এরপর জবরযুক্ত নুক্তাহীন ‘হা’, এরপর দুটি নুক্তাহীন ‘রা’, যার প্রথমটি জবরযুক্ত ও তাশদীদযুক্ত। ইমাম বুখারী এবং অন্যান্য মুখস্তবিদগণ এভাবেই উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন»।

অধিকাংশ ইমাম বলেছেন: ‘মুহরিজ বিন হারুন’; ‘রা’ এর পর ‘যা’ দিয়ে। ইবনে আবি হাতিম "আল-জারহ ওয়াত তাদিল" (৮/৩৪৫)-এ বলেছেন: «মুহরিজ বিন হারুন আল-হুদাইরি: তিনি হলেন হারুন বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহরিজ বিন আল-হুদাইর আল-শামি আল-কুরাশি আল-মাদিনি। তিনি আরায থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন যুয়াইব বিন আমর আস-সাহমি, ইবনে আবি ফুদাইক, আবু মুসআব আহমদ বিন ইবরাহিম আল-মাদিনি এবং আব্দুল্লাহ বিন ওমর বিন মাইমুন। আমি আমার পিতাকে তা বলতে শুনেছি»। তিনি তার পিতা থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «তিনি তিনটি মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি শক্তিশালী নন»। নাসায়ী "আদ-দুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন" (৫৮৩)-এ বলেছেন: «মুহরিজ বিন হারুন: মদিনার অধিবাসী, মুনকারুল হাদিস»। দারাকুতনি "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ" (৪/২০৫৭-২০৫৮)-এ বলেছেন: «মুহরিজ বিন হারুন আত-তাইমি, তাকে আল-হুদাইরি বলা হয়, তিনি আরায থেকে বর্ণনা করেন। ওসমান বিন আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হানবাল বিন ইসহাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহরিজ বিন হারুন আত-তাইমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান আল-আরায আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: মুহরিজ মুনকারুল হাদিস এবং আমি জানি না তার হাদিস কী জিনিস। তার থেকে আবু মুসআব আজ-যুহরি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: মুহররার»। তার কথা: «কেউ কেউ বলেছেন: মুহররার»—এটি দারাকুতনির নিজের কথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, ইমাম আহমদের কথা নয়। এর প্রমাণ হলো দারাকুতনি এই রাবিকে অন্য স্থানে (৪/২০৬২) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «মুহররার বিন হারুন বিন আব্দুল্লাহ আত-তাইমি আল-কুরাশি আল-মাদিনি, তিনি আরায থেকে বর্ণনা করেন, তার থেকে আহমদ বিন আবি বকর বর্ণনা করেছেন। তিনি মুনকারুল হাদিস। আলী বিন ইবনে ফারিসের মাধ্যমে আমাদের কাছে খবর পৌঁছানো পর্যন্ত ইমাম বুখারী এই সব কথা বলেছেন। আর বুখারী ছাড়া অন্যগণ বলেন: তিনি মুহরিজ»। বুখারীর এই কথাটি "আত-তারিখুল কাবির" (৮/২২)-এ পাওয়া যায়। ইমাম আল-মিযযি "তাহযিবুল কামাল" (২৭/২৭২) এবং ইবনে হাজার "তাহযিবুত তাহযিব" (১০/৫৫)-এ বুখারীর অনুসরণ করেছেন; ফলে তারা তাকে ‘মুহররার’ নামে জীবনীভুক্ত করেছেন। বরং ইবনে হাজার "তাকরিবুত তাহযিব" (৬৪৯৯)-এ স্পষ্টভাবে বলেছেন: «মুহররার—দুইটি ‘রা’ দিয়ে; বিশুদ্ধ মতে ‘মুহাম্মদ’-এর ওজনে, কেউ কেউ বলেছেন: ‘মুহরিজ’—ইবনে হারুন বিন আব্দুল্লাহ আত-তাইমি»।

উপরের আলোচনা থেকে সারসংক্ষেপ এই দাঁড়াল: বুখারী মনে করেন এই রাবির নাম ‘মুহররার’—দুইটি ‘রা’ দিয়ে—এবং অধিকাংশ ইমাম বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
المقداد بن عمرو(1)، عن أبي هريرة، قال: سمعت عمر بن الخطاب، حدثنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما سمعته منه، وكنت أكثرهم لزومًا لرسول الله صلى الله عليه وسلم، قال عمر: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما تلف مال في بر ولا بحر، إلا بحبس الزكاة»(2).

لا يروى هذا الحديث عن عمر إلا بهذا الإسناد.

 

‌‌(43) 11/ 4905 - حدثنا عمرو بن أبي الطاهر بن السرح، قال: نا عبد المنعم بن بشير الأنصاري، قال: نا عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، [عن أبيه](3)، عن عطاء بن يسار، عن أبي هريرة، قال: قال أبو سعيد الخدري: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو كان الله باعثًا رسولًا بعدي(4)؛ لبعث عمر بن الخطاب»(5).

لم يرو هذا الحديث عن زيد بن أسلم إلا ابنه عبد الرحمن، تفرد به عبد المنعم بن بشير، ولا يروى عن أبي سعيد إلا بهذا الإسناد.

 

‌‌(44) 12/ 4905 - حدثنا عمرو بن حازم بن عمرو الدمشقي أبو الجهم، قال: نا سليمان بن عبد الرحمن ابن بنت شرحبيل، قال: نا هاشم بن أبي

--------------------------------------------

«محرز» براء، ثم زاي. وهو متروك؛ كما في "التقريب" (6499)، بناء على قول الإمام أحمد، والبخاري، والنسائي، وغيرهم: «منكر الحديث»، والله أعلم.

(1) كذا جاء في الأصل، وكذا في "مجمع البحرين"، ولم أجد راويًا بهذا الاسم، ويغلب على الظن أنه متصحف عن «عمارة بن فيروز»؛ فإنه هو الذي يروي عنه محرر بن هارون؛ كما في "تهذيب الكمال" (27/ 273)، وهو يروي عن أبي هريرة، وابن عمر رضي الله عنهما؛ كما في "اللآلئ المصنوعة" (1/ 309)، و"الضعفاء الكبير" للعقيلي (4/ 386)، وقال عنه العقيلي: «عمارة بن فيروز، مديني، عن ابن عمر، لا يتابع على حديثه»، وقال الذهبي في "ميزان الاعتدال" (3/ 178): «لا يعرف من هو»، وقال في "المغني في الضعفاء" (2/ 461): «لا يعرف»، وقال في "ديوان الضعفاء" (3008): «مجهول»، وقال الشيخ عبد الرحمن المعلمي في تعليقه على "الفوائد المجموعة" (ص 355): «فأما عمارة بن فيروز فمجهول واهٍ ليس بشيء».

(2) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (1344) كما هنا سندًا ومتنًا، وذكره في "مجمع الزوائد" (3/ 63)، وقال: «رواه الطبراني في "الأوسط"، وفيه عمر بن هارون، وهو ضعيف».

وذكره المنذري في "الترغيب والترهيب" (1/ 308)، وقال: «رواه الطبراني في "الأوسط"، وهو حديث غريب».

(3) ما بين المعقوفين سقط من الأصل، فاستدركته من الموضع الآتي من "مجمع البحرين"، ويدل على وجوده كلام الطبراني على الحديث.

(4) في "مجمع البحرين": «رسولًا من بعدي».

(5) الحديث ذكره الهيثمي في "مجمع البحرين" (3666) كما هنا سندًا ومتنًا، عدا الفروق التي تقدم ذكرها، وذكره في "مجمع الزوائد" (9/ 68)، وقال: «رواه الطبراني في الأوسط، وفيه عبد المنعم بن بشير وهو ضعيف».
মিকদাদ ইবনে আমর(১), আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি আমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি, আর আমি তাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সর্বাধিক লেগে থাকতাম। উমর বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «স্থলভাগে বা জলভাগে কোনো সম্পদ নষ্ট হয় না, কেবল যাকাত আটকে রাখার কারণেই তা হয়»(২)।

উমর থেকে এই হাদিসটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌(৪৩) ১১/ ৪৯০৫ - আমাদের কাছে আমর ইবনে আবি আল-তাহির ইবনে আস-সারহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল মুনইম ইবনে বশীর আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম [তাঁর পিতা থেকে](৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরী বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যদি আল্লাহ আমার পরে কোনো রাসূল প্রেরণ করতেন, তবে তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবকেই প্রেরণ করতেন»(৫)।

যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে এই হাদিসটি তাঁর পুত্র আব্দুর রহমান ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি, আব্দুল মুনইম ইবনে বশীর এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং আবু সাঈদ থেকে এটি কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌(৪৪) ১২/ ৪৯০৫ - আমাদের কাছে আমর ইবনে হাযিম ইবনে আমর আদ-দিমাশকী আবুল জাহম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বিনতে শুরাহবীল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাশিম ইবনে আবি...

--------------------------------------------

«মুহাররিয» রা বর্ণের পর যা বর্ণসহ। তিনি পরিত্যক্ত; যেমনটি 'আত-তাকরীব' (৬৪৯৯) গ্রন্থে রয়েছে, ইমাম আহমাদ, বুখারী, নাসাঈ এবং অন্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে: «মুনকারুল হাদিস» (তার বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য), আল্লাহই ভালো জানেন।

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এসেছে এবং 'মাজমাউল বাহরাইন' গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে। আমি এই নামে কোনো বর্ণনাকারী খুঁজে পাইনি এবং প্রবল ধারণা এই যে, এটি «উমারা ইবনে ফিরুজ» নাম থেকে বিকৃত হয়ে গেছে; কারণ তাঁর থেকেই মুহাররির ইবনে হারুন বর্ণনা করেন; যেমনটি 'তাহযীবুল কামাল' (২৭/ ২৭৩) গ্রন্থে রয়েছে। তিনি আবু হুরায়রা এবং ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; যেমনটি 'আল-লাআলি আল-মাসনুআ' (১/ ৩০৯) এবং উকাইলী রচিত 'আদ-দুয়াফা আল-কাবীর' (৪/ ৩৮৬) গ্রন্থে রয়েছে। উকাইলী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «উমারা ইবনে ফিরুজ, মদিনাবাসী, ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর হাদিসের কোনো অনুসরণকারী পাওয়া যায় না।» যাহাবী 'মিযানুল ইতিদাল' (৩/ ১৭৮) গ্রন্থে বলেছেন: «তিনি কে তা জানা যায় না।» 'আল-মুগনী ফীদ দুয়াফা' (২/ ৪৬১) গ্রন্থে বলেছেন: «পরিচিত নন।» 'দিওয়ানুদ্ দুয়াফা' (৩০০৮) গ্রন্থে বলেছেন: «মাজহুল (অজ্ঞাত)।» এবং শেখ আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী 'আল-ফাওয়ায়িদ আল-মাজমুআ' (পৃ. ৩৫৫) এর টীকায় বলেছেন: «আর উমারা ইবনে ফিরুজ হচ্ছেন মাজহুল এবং দুর্বল, তিনি ধর্তব্য নন।»

(২) হাদিসটি হাইসামি 'মাজমাউল বাহরাইন' (১৩৪৪) গ্রন্থে এখানকার মতো সনদ ও পাঠসহ উল্লেখ করেছেন এবং 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৩/ ৬৩) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: «তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে উমর ইবনে হারুন রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল।»

মুনযিরি 'আত-তারগীব ওয়াত তারহীব' (১/ ৩০৮) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি গরীব হাদিস।»

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাঠ থেকে পড়ে গেছে, তাই আমি 'মাজমাউল বাহরাইন' এর পরবর্তী অংশ থেকে এটি সংযোজন করেছি। হাদিসের ওপর তাবারানির মন্তব্য এর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়।

(৪) 'মাজমাউল বাহরাইন' গ্রন্থে রয়েছে: «আমার পর থেকে কোনো রাসূল।»

(৫) হাদিসটি হাইসামি 'মাজমাউল বাহরাইন' (৩৬৬৬) গ্রন্থে এখানকার মতো সনদ ও পাঠসহ উল্লেখ করেছেন, কেবল পূর্বে উল্লিখিত পার্থক্যসমূহ ব্যতীত। তিনি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৯/ ৬৮) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আব্দুল মুনইম ইবনে বশীর রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল্লাতি সাকাতাত মিন মাতবুয়িল মুজামিল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
هريرة، عن زيد بن أسلم، عن أنس بن مالك قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتمّ الركوع والسجود، ويخف القيام والقعود»(1).

 

‌‌(45) 13/ 4905 - حدثنا عمرو بن حازم الدمشقي(2)، قال: نا سليمان بن عبد الرحمن، قال: نا عيسي بن يونس، عن سليمان التيمي، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يمنعن أحدكم هيبة الناس أن يقول في(3) الحق إذا رآه أو سمعه»(4)

لم يرو هذا الحديث عن سليمان التيمي إلا عيسي بن يونس.

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه الطبراني أيضًا في "الأوسط" (6632) عن شيخه محمد بن إبراهيم أبي عامر النحوي، عن سليمان بن عبد الرحمن ابن بنت شرحبيل، به مثله، وزاد في آخره قوله: «في الصلاة»، وقال: «لم يرو هذا الحديث عن زيد بن أسلم إلا هاشم بن أبي هريرة، تفرد به سليمان بن عبد الرحمن».

(2) إلى هنا انتهى السقط الذي كانت بدايته في الحديث [4905]، وقد استدرك محققو "المعجم الأوسط" شيخ الطبراني من "المعجم الصغير".

(3) قوله: «في» ليس في "المعجم الصغير".

(4) أخرج الطبراني هذا الحديث أيضا في "المعجم الصغير" (729)، ومن طريقه أخرجه الهروي في "ذم الكلام" (303)، وابن عساكر في "تاريخ دمشق" (45/ 470 - 471).
...হুরায়রাহ, যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু এবং সাজদাহ পূর্ণ করতেন, আর কিয়াম (দাঁড়িয়ে থাকা) এবং কুউদ (বসে থাকা) সংক্ষিপ্ত করতেন।(১).

 

‌‌(৪৫) ১৩/ ৪৯০৫ - আমর ইবনে হাযিম আদ-দিমাশকি(২) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মানুষের ভয় যেন তোমাদের কাউকেও সত্য কথা বলা থেকে বিরত না রাখে যখন সে তা দেখে বা শোনে»(৪)

সুলাইমান আত-তাইমি থেকে ঈসা ইবনে ইউনুস ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি তাবারানি তাঁর 'আল-আওসাত' (৬৬৩২) গ্রন্থেও তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আবু আমির আন-নাহবি থেকে, তিনি শুরাহবিলের দৌহিত্র সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এর শেষে তাঁর উক্তি: «নামাজে» কথাটি বৃদ্ধি করেছেন এবং বলেছেন: «যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে হাশিম ইবনে আবু হুরায়রাহ ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।»

(২) এখান পর্যন্ত সেই বাদ পড়া অংশ শেষ হয়েছে যার শুরু হয়েছিল হাদিস [৪৯০৫]-এ। 'আল-মু'জাম আল-আওসাত'-এর গবেষকগণ 'আল-মু'জাম আস-সাগির' থেকে তাবারানির উস্তাদের নাম উদ্ধার করেছেন।

(৩) তাঁর উক্তি: «বিষয়ে (في)» শব্দটি 'আল-মু'জাম আস-সাগির'-এ নেই।

(৪) তাবারানি এই হাদিসটি 'আল-মু'জাম আস-সাগির' (৭২৯) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্র ধরে হারাবি 'যাম্মুল কালাম' (৩০৩) গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির 'তারিখে দিমাশক' (৪৫/ ৪৭০ - ৪৭১) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।