(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: -)
أدب الإملاء والاستملاء القسم: علوم الحديث
الكتاب: أدب الاملاء والاستملاء
المؤلف: عبد الكريم بن محمد بن منصور التميمي السمعاني المروزي، أبو سعد (ت 562هـ)
المحقق: ماكس فايسفايلر
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1401 - 1981
عدد الصفحات: 180
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
লেখক: আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আত-তামিমি আস-সামআনি আল-মারওয়াযি, আবু সাদ (মৃ. ৫৬২ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদক: ম্যাক্স ওয়েসউইলার
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০১ - ১৯৮১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١)
الْحَمد لِلَّهِ رَبِّ الْعَالِمِينَ وَالصَّلاةُ عَلَى رَسُوله مُحَمَّد وَآله الطاهرين وَصَحبه الأكرمين قَالَ مَوْلَانَا رضي الله عنه وَعَن أسلافه أما بعد فقد سألتنى يَا أخي رعاك الله وحفظك عَن أدب الْإِمْلَاء والإستملاء وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ المملي والمستملى من التخلق بالأخلاق السّنيَّة والإقتداء بالسنن النَّبَوِيَّة وشرطت عَليّ أَن يكون مُخْتَصرا فَإِن الهمم قَاصِرَة وأعلام الحَدِيث مندرسة والرغبات فاترة فاستخرت الله سبحانه وتعالى وشرعت فِي جمعه واقتصرت على إِيرَاد مَا لَا بُد مِنْهُ وَمَا لَا يسْتَغْنى عَنهُ الْمُحدث الألمعي والطالب الذكي وَيحْتَاج إِلَيْهِ غَيرهمَا مِمَّن يُرِيد ~ مَعْرِفَةُ آدَابِ النَّفْسِ وَاسْتِعْمَالِهَا فِي الْخُلْوَةِ وَالْمَجَالِسِ ~
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الطَّلْحِيُّ بِإِسْفَرَايِنَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ الْفَضْلُ بْنُ أَبِي حَرْبٍ الْجُرْجَانِيُّ بِنَيْسَابُورَ أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ السُّلَمِيُّ أَنا أَبُو الْفَتْحِ يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ الزَّاهِدُ بِبَغْدَادَ مِنْ كِتَابِهِ ثَنَا أَبُو بكر من جَعْفَرٍ ثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَحْرَانِيُّ ثَنَا صَفْوَانُ بْنُ مُغَلِّسٍ الْحُنِّيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنِ الأَعْمَشِ قَالَ قَالَ عَبْدُ الله رضه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ أَدَّبَنِي وَأَحْسَنَ أَدَبِي ثُمَّ أَمَرَنِي بِمَكَارِمِ الأَخْلاقِ فَقَالَ خُذِ الْعَفْوَ وَأمر بِالْعرْفِ الآيَةَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ سَعْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْخُزَيْمِيُّ بِنَسَا أَنا أَبِي أَخْبَرَنَا جَدِّي لأُمِّي أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خُزَيْمَةَ الْعَطَّارُ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الصُّنْدُوقِيُّ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ النَّسَوِيُّ ثَنَا حميد بن رنجويه الإِمَامُ ثَنَا قُبَيْصَةُ بْنُ عُقْبَةَ ثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ رجل عَن عَليّ رضه فَيْء قَوْلِهِ قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وقودها النَّاس وَالْحِجَارَة قَالَ عَلِّمُوهُمْ أَدِّبُوهُمْ
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং তাঁর অত্যন্ত সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর। আমাদের মাওলানা—আল্লাহ তাঁর প্রতি ও তাঁর পূর্বসূরিদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—বলেছেন: অতঃপর, হে আমার ভাই, আল্লাহ আপনাকে রক্ষা ও হেফাযত করুন, আপনি আমার কাছে হাদিস শ্রুতিলিখান প্রদান (إملاء) ও শ্রুতিলিখান গ্রহণ (استملاء)-এর শিষ্টাচার এবং শ্রুতিলিখান প্রদানকারী (مملي) ও শ্রুতিলিখান গ্রহণকারী (مستملي)-এর জন্য উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন চরিত্র অর্জন ও নববী সুন্নাহর অনুসরণে যা যা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। এবং আপনি আমার ওপর শর্ত দিয়েছেন যেন এটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) হয়; কারণ মানুষের সংকল্প এখন ক্ষীণ, হাদিসের বিজ্ঞ ইমামগণ বিলুপ্তপ্রায় এবং মানুষের আগ্রহ স্তিমিত। তাই আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট ইস্তিখারা করে এটি সংকলন করতে শুরু করলাম। আমি এতে কেবল সেই বিষয়গুলোই উল্লেখ করেছি যা অপরিহার্য এবং যা ছাড়া একজন মেধাবী মুহাদ্দিস ও বুদ্ধিমান শিক্ষার্থীর চলে না। এছাড়া যারা নির্জনে ও জনসমক্ষে আত্মিক শিষ্টাচার ও তার প্রয়োগ জানতে চায়, তাদেরও এটি প্রয়োজন হবে।
আবু আল-মাআলি আবদুল কারিম ইবনে উবাইদুল্লাহ আত-তালহি ইসফিরাইনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আবু আল-কাসিম আল-ফজল ইবনে আবি হারব আল-জুরজানি নিশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আস-সুলামি আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا): আবু আল-ফাতহ ইউসুফ ইবনে উমর আজ-জাহিদ বাগদাদে তাঁর কিতাব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আবু বকর ইবনে জাফর আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا): উমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাহরানি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا): সাফওয়ান ইবনে মুগাল্লিস আল-হুন্নি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا): মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি বলেন যে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং তিনি আমার শিষ্টাচারকে উত্তম করেছেন। অতঃপর তিনি আমাকে মহান চরিত্রের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: ‘আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং সৎকাজের নির্দেশ দিন’ (আয়াত)।”
আবু আল-ফাতহ সাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-খুজাইমি নাসায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আমার মাতামহ আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে খুজাইমা আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আস-সুনদুকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আবু মুহাম্মদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আন-নাসায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): ইমাম হুমাইদ ইবনে রাঞ্জুয়াহ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا): কুবাইসাহ ইবনে উকবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا): সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আল্লাহর এই বাণী: “তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে আগুন থেকে রক্ষা করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর” সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: “তাদের শিক্ষা দান করো এবং তাদের শিষ্টাচার শেখাও।”
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢)
أَنا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ الْمُطَهَّرِيُّ فِي كِتَابِهِ إِلَيَّ مِنْ بَلْخٍ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عبد الرَّحْمَن الأسبيري ببخارا أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْحَافِظُ ثَنَا خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بِسَمَرَقَنْدَ ثَنَا أَبُو عِمْرَانَ نُوحُ بْنُ صَالِحِ بْنِ رُزَيْنٍ سَمِعْتُ حَازِمَ الْغَزَّالَ يَقُولُ سَمِعْتُ عِيسَى بْنَ مُوسَى يُحَدِّثُ عَن بن الْمُبَارَكِ قَالَ دَوَّخْتُ الْعُلَمَاءَ وَعَايَنْتُ الرِّجَالَ بِالشَّامَاتِ وَالْعِرَاقَيْنِ وَالْحِجَازِ فَلَمْ أَجِدِ الأَدَبَ إِلا مَعَ ثَلاثَةٍ بن عَوْنٍ غَرِيزَتُهُ الأَدَبُ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ مُتَكَلِّفُ الأَدَبِ وَوَهْبٌ الْمَكِّيُّ كَأَنَّهُ وُلِدَ مَعَ أَدَبٍ قَالَ كَتَبْتُ بِالطَّايَقَانِ فِي رَجَب منَّة سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ
أَنا أَبُو الْقَاسِمِ زاهرُ بْنُ طَاهِرٍ الشَّاهِدُ بِنَيْسَابُورَ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ سَمِعْتُ أَبَا زَكَرِيَّا الْعَنْبَرِيَّ يَقُولُ عِلْمٌ بِلا أَدَبٍ كَنَارٍ بِلا حَطَبٍ وَأَدَبٌ بِلا عِلْمٍ كَرُوحٍ بِلا جِسْمٍ
أَنْشَدَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَغْلِبٍ الآمِدِيُّ مِنْ لَفْظِهِ بِدِمَشْقَ يَوْمَ خُرُوجِهِ إِلَى عَسْقَلانَ أَنْشَدَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْبَغْدَادِيُّ بِهَا أَنْشَدَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمُنْكَدِرِيُّ أَنْشَدَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ الْمُفَسِّرُ أَنْشَدَنَا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ أَنْشَدَنَا أَبُو حَاتِمٍ سَهْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ
إِنَّ الْجَوَاهِرَ دُرَّهَا وَنَضَارَهَا
هُنَّ الْفِدَى لِجَوَاهِرِ الآدَابِ
… فَإِذَا كَثُرْتَ أَوِ ادَّخَرْتَ ذَخِيرَةً تَسْمُو بزينتها على الْأَصْحَاب
…فَعَلَيْك بالأداب الْمُزَيِّنِ أَهْلَهُ
كَيْمَا تَفُوزَ بِبَهْجَةٍ وَثَوَابِ
وَأَنَا أَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يَنْفَعَنَا وَإِيَّاكَ بِالْعِلْمِ وَيَجْعَلَ سَعْيَنَا لَهُ إِنَّهُ الْمُوَفِّقُ
আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন আলী বিন সাঈদ আল-মুতাহহারি বলখ থেকে তাঁর লিখিত পত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুখারায় আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন আব্দুর রহমান আল-আসবিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফিজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সমরকন্দে আবু বকর আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইমরান নুহ বিন সালিহ বিন রুজাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি হাজিম আল-গাজ্জালকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ঈসা বিন মুসাকে ইবনুল মুবারক থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি সিরিয়া, দুই ইরাক এবং হিজাজে আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেছি এবং বর্ণনাকারীদের (الرجال) প্রত্যক্ষ করেছি, কিন্তু আমি তিন জন ব্যতীত অন্য কারো মাঝে আদব খুঁজে পাইনি: ইবনে আউন—যার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যই ছিল আদব; আব্দুল আজিজ বিন আবু রাওয়াদ—যিনি সচেষ্ট হয়ে আদব অর্জন করেছেন; এবং ওয়াহাব আল-মাক্কি—যিনি যেন আদব নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: আমি ৫৪৬ হিজরির রজব মাসে তায়াকানে এটি লিখেছি।
নিশাপুরে সাক্ষী (الشاهد) আবু আল-কাসিম জাহির বিন তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফিজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আমি আবু জাকারিয়া আল-আনবারিকে বলতে শুনেছি: আদবহীন ইলম জ্বালানিহীন আগুনের মতো, আর ইলমহীন আদব দেহহীন আত্মার মতো।
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন তাগলিব আল-আমিদি দামেশক থেকে আসকালানে যাওয়ার দিন স্বকণ্ঠে আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, আবু আল-কাসিম আলী বিন আহমদ আল-বাগদাদি সেখানে আমাদের শুনিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মুনকাদিরি আমাদের শুনিয়েছেন, মুফাসসির (المفسر) আবু আল-কাসিম আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আমাদের শুনিয়েছেন, আবু জাকারিয়া ইয়াহিয়া বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনবারি আমাদের শুনিয়েছেন, আবু হাতিম সাহল বিন মুহাম্মদ আমাদের শুনিয়েছেন:
নিশ্চয়ই মুক্তো ও স্বর্ণের ন্যায় মূল্যবান রত্নসমূহ,
আদবের মণি-মুক্তার ওপর উৎসর্গিত।
… অতঃপর তুমি যখন অনেক সম্পদের অধিকারী হও বা কোনো সঞ্চয় জমা করো, যা তার সৌন্দর্য দ্বারা বন্ধুদের মাঝে তোমার মর্যাদা সমুন্নত করবে
…তবে তুমি সেই আদবকেই আঁকড়ে ধরো যা তার অধিকারীকে সুশোভিত করে,
যাতে তুমি অনাবিল আনন্দ ও সওয়াব লাভে ধন্য হতে পারো।
আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ও আপনাকে ইলম দ্বারা উপকৃত করেন এবং আমাদের প্রচেষ্টাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনিই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٣)
قَالَ رضه اعْلَمْ وَفَّقَكَ اللَّهُ أَنَّ عِلْمَ الْحَدِيثِ أَشْرَفُ الْعُلُومِ بَعْدَ الْعِلْمِ بِكِتَابِ اللَّهِ سبحانه وتعالى إِذِ الأَحْكَامُ مَبْنِيَّةٌ عَلَيْهِمَا وَمُسْتَنْبَطَةٌ مِنْهُمَا وَاللَّهُ سبحانه وتعالى شَرَّفَ نَبِيَّنَا صلى الله عليه وسلم حَيْثُ قَالَ وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى
أَخْبَرَنَا الرَّئِيسُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْعُقَيْلِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِبَابِ أَنْطَاكِيَةَ أَنا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَحْمَدَ الْجِلِّيُّ بِحَلَبَ أَنا أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ الأَسَدِيُّ أَنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ السُّبَيْعِيُّ أَنا أَبُو إِسْحَاقَ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الْمَخْزُومِيُّ بِبَغْدَادَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْمٍ الأَنْطَاكِيُّ ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ أَنَّ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ حَدَّثَهُ عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بن أبي رَافع رضه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَعْرِفَنَّ رَجُلا أَتَاهُ الأَمْرُ مِنْ أَمْرِي إِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْه فَيَقُول مَا ينبىء مَا هَذَا عِنْدَنَا كِتَابُ اللَّهِ لَيْسَ هَذَا فِيهِ
أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ أَحْمَدَ الشُّجَاعِيُّ وَالْقَاضِي أَبُو الْبَدْرِ هِلالُ بْنُ الْحَسَنِ السَّعِيدِيُّ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِمَا بِسَرْخَسَ قَالَا أَنا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْمُظَفَّرِيُّ أَنا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَرَابِيسِيُّ ثَنَا حَاجِبُ بْنُ أَحْمَدَ الطُّوسِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُونُسَ ثَنَا إِسْحَاقُ وَصَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَا أَنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ جابرٍ عَن الْمِقْدَام بن معد يكرب الْكِنْدِيّ رضه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يُوشِكُ الرَّجُلُ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدِّثُ بِحَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِي فَيَقُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ عز وجل فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ أَلا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, জেনে রাখুন যে, আল্লাহর কিতাব সংক্রান্ত জ্ঞানের পর হাদিস বিজ্ঞান হলো সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। কেননা শরিয়তের বিধানসমূহ এই দুইটির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং এই দুইটি থেকেই উৎসারিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।"
রাঈস আবু আল-হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-উকাইলি আন্তাকিয়ার প্রবেশদ্বারে আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আবু আল-ফাতহ আব্দুল্লাহ ইবনে ইসমাইল ইবনে আহমাদ আল-জিল্লি হালবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আবু উবাইদুল্লাহ আব্দুল রাজ্জাক ইবনে আব্দুস সালাম আল-আসাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আস-সুবাইয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আবু ইসহাক আলী ইবনে আল-হাসান আল-মাখজুমি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সাহম আল-আন্তাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-ফাজারি বর্ণনা করেছেন যে, মালিক ইবনে আনাস তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثه) সালিম আবু আন-নাদর থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি রাফি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন অবশ্যই এমন কোনো ব্যক্তিকে না পাই যার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসে—হোক তা আদেশ অথবা নিষেধ—অতঃপর সে বলে: 'আমি জানি না এটি কী, আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আমরা তাতে এটি পাচ্ছি না'।"
ইমাম আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমাদ আশ-শুজাঈ এবং কাজি আবু আল-বদর হিলাল ইবনে আল-হাসান আস-সাঈদি সারখাসে আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-মুজাফফারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল আল-কারাবিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: হাজিব ইবনে আহমাদ আত-তুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: ইসহাক এবং সাদাকা ইবনে আল-ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তাঁরা উভয়ে বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে জাবির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) মিকদাম ইবনে মা’দি কারিব আল-কিন্দি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার নিকট আমার হাদিস থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে আমরা যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং তাতে যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে গ্রহণ করব'। সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা মহান আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٤)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الشَّاهِدُ أَمَامُ جَامِعِ الأَنْبَارِ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي الرِّحْلَةِ الأُولَى إِلَى الأَنْبَارِ أَنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الصَّقْرِ الأَنْبَارِيُّ أَنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغَلِّسِ الْبَزَّازُ بِمِصْرَ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحسن بن أرشيق الْعَسْكَرِيُّ أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ السَّامِرِّيُّ بِالرَّمْلَةِ ثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ الْقُرَشِيُّ ثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنهما أَنَّهُمْ كَانُوا يَتَذَاكَرُونَ الْحَدِيثَ فَقَالَ رَجُلٌ دَعُونَا مِنْ هَذَا وَحَدِّثُونَا بِكِتَابِ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ عِمْرَانُ إِنَّكَ أَحْمَقُ أَتَجِدَ فِي كِتَابِ اللَّهِ الصَّلاةَ مُفَسَّرَةً أَتَجِدَ فِي كِتَابِ اللَّهِ الصَّوْمَ مُفَسَّرًا إِنَّ الْقُرْآنَ أَحْكَمَ ذَلِكَ وَالسُّنَّةُ تُفَسِّرُ ذَلِكَ وَأَلْفَاظُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا بُدَّ لَهَا مِنَ النَّقْلِ وَلا تُعْرَفُ صِحَّتُهَا إِلا بِالإِسْنَادِ الصَّحِيحِ وَالصَّحَةُ فِي الإِسْنَادِ لَا تُعْرَفُ إِلا بِرِوَايَةِ الثِّقَةِ عَنِ الثِّقَةِ وَالْعَدْلِ عَنِ الْعَدْلِ
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْمُظَفَّرِ الإِرْبِلِيُّ بِالْمُوصِلِ وَأَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ عَلِيٍّ الْفَارَمَذِيُّ بِطُوسٍ وَأَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ الْكَاتِبُ وَأَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْجُرْجَانِيُّ بِمَرْوَ وَأَبُو الأَسْعَدِ هِبَةُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ الْقُشَيْرِيُّ وَأَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْفُرَاوِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالُوا أَنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَحْمِيُّ بِنَيْسَابُورَ أَنا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ بْنُ الْبَيِّعِ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ يَعْقُوبَ بن شَفير المقرىء بِالْكُوفَةِ ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بن عبيد المقرىء ثَنَا عَبَّادُ بْنُ يَعْقُوبَ ثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الْعَنَزِيُّ عَنْ مَسْعَدَةَ بْنِ صَدَقَةَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنهم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَتَبْتُمُ الْحَدِيثَ فَاكْتُبُوهُ بِإِسْنَادِهِ فَإِن بك حَقًّا كُنُتْمْ شُرَكَاءَ فِي الأَجْرِ وَإِنْ يَكُ بَاطِلا كَانَ وِزْرُهُ عَلَيْهِ قَالَ الْحَاكِمُ لَمْ نَكْتُبْهُ إِلَّا عَن بن شُقَيْرٍ
আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন উমর আল-শাহিদ, যিনি আম্বার জামে মসজিদের ইমাম, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আম্বারে আমার প্রথম সফরকালীন সময়ে তাঁর নিকট পঠনের (কিরাআত) মাধ্যমে। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবিস সাকর আল-আম্বারি। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনুল মুগাল্লিস আল-বাযযার মিসরে। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবন আরশিক আল-আসকারি। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন জাফর আস-সামিররি রামলায়। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকর ইবন সাহল আল-কুরাশি। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন মনসুর। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, মা’মার থেকে, তিনি আলি ইবন যায়দ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি ইমরান ইবন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা হাদিস নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললেন, “এসব বাদ দিন এবং আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব থেকে বর্ণনা করুন।” তখন ইমরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, “তুমি তো এক নির্বোধ! তুমি কি আল্লাহর কিতাবে নামাজের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাও? তুমি কি আল্লাহর কিতাবে রোজার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাও? নিশ্চয়ই কুরআন তা সুনির্ধারিত (أحكم) করেছে এবং সুন্নাহ তার ব্যাখ্যা প্রদান করে। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর জন্য অবশ্যই বর্ণনা বা স্থানান্তর (النقل) প্রয়োজন। আর হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) জানা সম্ভব নয় সঠিক সনদ (الإسناد الصحيح) ব্যতীত। আর সনদের বিশুদ্ধতা (صحة) কেবল তখনই জানা যায় যখন একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী অপর একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী থেকে এবং একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারী অপর একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেন।”
আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম ইবনুল মুজাফফর আল-ইরবিলি মসুলে, এবং আবু বকর আবদুল ওয়াহিদ ইবনুল ফজল ইবন আলি আল-ফারামাযি তুসে, এবং আবু আলি আল-হুসাইন ইবন আলি ইবনুল হুসাইন আল-কাতিব, এবং আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-জুরজানি মার্ভে, এবং আবু আল-আসআদ হিবাতুর রহমান ইবন আবদুল ওয়াহিদ ইবন আবিল কাসিম আল-কুশাইরি, এবং আবু আল-বারাকাত আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-ফুরাওয়ি নিশাপুরে। তাঁরা সকলে বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-মাহমি নিশাপুরে। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ ইবনুল বাইয়ি’। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনুল হুসাইন ইবন ইয়াকুব ইবন শাফির আল-মুকরি কুফায়। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদ আল-মুকরি। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবন ইয়াকুব। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন আমর আল-আনাযি, মাসআদাহ ইবন সাদাকাহ থেকে, তিনি জাফর ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলি ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা যখন হাদিস লিখবে, তখন তা সনদসহ (بإسناده) লিখবে। কারণ যদি তা সত্য (حقا) হয়, তবে তোমরা এর সওয়াবে অংশীদার হবে। আর যদি তা ভিত্তিহীন (باطلا) হয়, তবে এর পাপ বর্ণনাকারীর ওপরই বর্তাবে।” আল-হাকিম বলেন: “আমি এটি ইবন শুকাউইর ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে লিখিনি।”
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ حَنْبَلُ بْنُ عَلِيٍّ الصُّوفِيُّ بِهَرَاةَ أَنا أَبُو الْفَتْحِ نَاصِرُ بْنُ الْحُسَيْنِ السِّجْزِيُّ بِهَا أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ الشُّرُوطِيُّ أَنا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ النُّوقَاتِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خيوين حَامِدِ بْنِ دِلُّوَيْهِ التِّرْمِذِيُّ ثَنَا أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ ثَنَا النَّضْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَصَمُّ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا عَن عَاصِم عَن بن سِيرِين قَالَ كَانَ أَفِي الدَّهْرِ الأَوَّلِ لَا يَسْأَلُونَ عَنِ الإِسْنَادِ فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ سَأَلُوا عَنِ الإِسْنَادِ لِكَيْ يَأْخُذُوا حَدِيثَ أَهْلِ السُّنَّةِ وَيَدَعُوا حَدِيثَ أَهْلِ الْبِدْعَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ وَجِيهُ بْنُ طَاهِرٍ الْخَطِيبُ بِقَصْرِ الرِّيحِ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبِحَيْرِيُّ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ ثَنَا الْعَبَّاس بْن مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عِيسَى الطَّالْقَانِيُّ ثَنَا بَقِيَّةُ ثَنَا عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ أَنَّهُ كَانَ عِنْدَ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ وَعِنْدَهُ الزُّهْرِيُّ قَالَ فَجَعَلَ بن أَبِي فَرْوَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ الله صعلم فَقَالَ لَهُ الزُّهْرِيُّ قَاتَلَكَ اللَّهُ يَا بن أَبِي فَرْوَةَ مَا أَجْرَأَكَ عَلَى اللَّهِ أَلا تُسْنِدُ حَدِيثَكَ تُحَدِّثُنَا بِأَحَادِيثَ لَيْسَتْ لَهُمْ خَطَمٌ وَلا أَزْمَةٌ
আবু জাফর হানবাল ইবনে আলী আস-সুফি হেরাত শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَخْبَرَنَا); সেখানে আবুল ফাতহ নাসির ইবনে আল-হুসাইন আস-সিজজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنَا); আবুল কাসিম আলী ইবনে তাহির আশ-শুরুতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنَا); আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে সুলায়মান আন-নুকাতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنَا); মুহাম্মাদ ইবনে খিউয়াইন হামিদ ইবনে দিলওয়াই তিরমিজি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকিক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); নাদর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); ইসমাইল ইবনে জাকারিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا), আসিম থেকে এবং তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: প্রারম্ভিক যুগে তারা সূত্রপরম্পরা (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তারা সূত্রপরম্পরা (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন যাতে তারা সুন্নাহর অনুসারীদের (أَهْلِ السُّنَّةِ) হাদিস গ্রহণ করতে পারেন এবং বিদআতিদের (أَهْلِ الْبِدْعَةِ) হাদিস বর্জন করতে পারেন।
আবু বকর ওয়াজিহ ইবনে তাহির আল-খতিব কাসরুর রিহ-তে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَخْبَرَنَا); আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-বিহাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنَا); আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَنَا); আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দুরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); আবু বকর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), আবু আল-আসওয়াদ থেকে; আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ঈসা আত-তালকানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا); উতবা ইবনে আবু হাকিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثَنَا) যে, তিনি ইসহাক ইবনে আবু ফারওয়ার নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং তার কাছে যুহরিও ছিলেন। তিনি বলেন, তখন ইবনে আবু ফারওয়া বলতে শুরু করলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন'; তখন যুহরি তাকে বললেন, 'আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন হে ইবনে আবু ফারওয়া! আল্লাহর ব্যাপারে তুমি কতই না দুঃসাহসী! কেন তুমি তোমার বর্ণিত হাদিসের সূত্রপরম্পরা উল্লেখ (تُسْنِدُ) করছ না? তুমি আমাদের কাছে এমন সব হাদিস বর্ণনা করছ যার কোনো লাগাম বা নিয়ন্ত্রণ নেই (অর্থাৎ সনদহীন)।'
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ الْحَافِظُ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعَدَةَ الإِسْمَاعِيلِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ السَّهْمِيُّ أَنا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمَّادٍ ثَنَا أَبُو عُمَيْرٍ ثَنَا الْوَلِيدُ عَنْ رَجُلٍ سَمِعْتُ الزُّهْرِيّ يَقُول مَا لأحاديثكم لَهَا أَزْمَةٌ وَلا خَطَمٌ يَعْنِي الإِسْنَادَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ التَّيْمِيُّ بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى الْحَافِظُ أَنا أَبُو حَازِمٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَافِظُ فِي كِتَابِهِ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ الصَّاغَانِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بِشْرٍ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ حَرْبِ بْنِ مُقَاتِلٍ يَقُولُ سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ حُمَيْدٍ يَقُولُ قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ الإِسْنَادُ زَيْنُ الْحَدِيثِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفُرَاوِيُّ بِنَيْسَابُورَ أَنا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكَنْجَرُوذِيُّ سَمِعْتُ بِشْرَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَاسِينَ بْنِ النَّضْرِ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنِ نصر المقرىء سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ مَعْدَانَ يَقُولُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ مَثَلُ الَّذِي يَطْلُبُ أَمْرَ دِينِهِ بِلا إِسْنَادٍ كَمَثَلِ الَّذِي يَرْتَقِي السَّطْحَ بِلا سُلَّمٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَامِعٍ الصَّيْرَفِيُّ إِجَازَةً بِنَيْسَابُورَ قَالَ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ الأَدِيبُ إِجَازَةً أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ أَنا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ السَّلامِ يَقُولُ سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ يَقُولُ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاهِرٍ إِذَا سَأَلَنِي عَنِ الْحَدِيثِ فَذَكَرْتُهُ بِلا إِسْنَادٍ سَأَلَنِي عَنْ إِسْنَادِهِ وَيَقُولُ رِوَايَةُ الْحَدِيثِ بِلا إِسْنَادٍ مِنْ عَمَلِ الذِّمِّي فَإِنَّ إِسْنَادَ الْحَدِيثِ كَرَامَةٌ مِنَ اللَّهِ عز وجل لأُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم قَالَ رضه كَتَبْتُهُ بِالطَّالَقَانِ فِي رَجَبَ سَنَةَ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম ইসমাইল বিন আহমাদ আস-সামারকান্দি আল-হাফিজ (الحافظ), বাগদাদে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম ইসমাইল বিন মাসআদা আল-ইসমাঈলি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম হামজা বিন ইউসুফ আস-সাহমি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-হাফিজ (الحافظ)। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাম্মাদ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু উমাইর। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আল-ওয়ালিদ, এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যুহরিকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের হাদিসগুলোর কী হলো যে, এগুলোর কোনো লাগাম বা রশি নেই?" অর্থাৎ সনদ (الإسناد)।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফাদল আত-তাইয়িমি, আসবাহানে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুসা আল-হাফিজ (الحافظ)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাজিম উমর বিন আহমাদ বিন ইব্রাহিম আল-হাফিজ (الحافظ) তাঁর কিতাবে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আল-হাফিজ (الحافظ)। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন ইমরান আস-সাগানি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আব্দুল্লাহ বিন আবি বিশর। আমি মুহাম্মাদ বিন হারব বিন মুকাতিলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাফস বিন হুমাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি বলেছেন: সনদ (الإسناد) হলো হাদিসের অলঙ্কার।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফাদল বিন আহমাদ আল-ফুরাওয়ি, নিশাপুরে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-কানজারুজি। আমি বিশর বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াসিন বিন আন-নাদরকে বলতে শুনেছি, আমি মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাকে বলতে শুনেছি, আমি আহমাদ বিন নাসর আল-মুকারিকে বলতে শুনেছি, আমি ইব্রাহিম বিন মাদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক বলেছেন: "যে ব্যক্তি সনদ (إسناد) বিহীন তার দ্বীনের বিষয় অন্বেষণ করে, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির ন্যায় যে সিঁড়ি ছাড়াই ছাদে আরোহণ করে।"
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মাদ বিন জামি আস-সায়রাফি, নিশাপুরে ইজাজাহ (إجازة) মারফত। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন খালাফ আল-আদিব ইজাজাহ (إجازة) মারফত। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ (الحافظ)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনবারি। আমি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সালামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হানজালিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন তাহির যখন আমাকে কোনো হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন আর আমি সনদ (إسناد) ছাড়া তা উল্লেখ করতাম, তখন তিনি আমাকে তার সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং বলতেন: "সনদ (إسناد) ছাড়া হাদিস বর্ণনা করা জিম্মিদের (الذمي) কাজ। কেননা হাদিসের সনদ (إسنাদ) প্রদান করা হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য একটি সম্মান (كرامة)।" তিনি (গ্রন্থকার) বলেন - আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন - আমি এটি ৪৪৬ হিজরি সনের রজব মাসে তালকানে লিখেছি।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٧)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَنْصُورٍ الرُّمَّانِيُّ بِالدَّامَغَانِ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ الشَّيْرَازِيُّ بِنَيْسَابُورَ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الضَّبِّيُّ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْقَاسِمُ بْنُ الْقَاسِمِ السَّيَّارِيُّ بِمَرْوَ ثَنَا أَبُو الْمُوَجِّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ثَنَا عَبْدَانُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْمُبَارَكِ يَقُولُ الإِسْنَادُ مِنَ الدِّينِ لَوْلا الإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ قَالَ عَبْدَانُ ذَكَرَ هَذَا عِنْدَ ذِكْرِ الزَّنَادِقَةِ وَمَا يَضَعُونَ مِنَ الأَحَادِيثِ حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْحَافِظُ إِمْلاءً بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ السِّمْسَارُ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَوْلَةَ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أُخْتِ بِشْرٍ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدٍ السُّدُوسِيُّ حَدَّثَنِي الأَصْمَعِيُّ قَالَ كَانَ رَجُلٌ يُحَدِّثُنَا وَنَحْنُ جَمَاعَةٌ فَلَمَّا فَرُغَ مِنَ الْحَدِيثِ قَالَ لَهُ أَعْرَابِيٌّ مَا أَحْسَنَ أَحَادِيثَ جِئْتَنَا بِهَا لَوْ أَنَّ لَهَا سَلاسِلَ تُقَادُ بِهَا قَالَ أَبُو الْحَسَنِ يعَنْي الإِسْنَادَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَدْرِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْقَطِيعِيُّ بِكَرْخِ بَغْدَادَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْفَضْلِ الإِمَامُ أَنا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ الْحَافِظُ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْقَطَّانُ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْجَارُودِ النَّيْسَابُورِيُّ بِمَكَّةَ عَلَى الصَّفَا ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْخَلِيلِ وَعَبَّاسٌ الدُّورِيُّ قَالَا ثَنَا قُرَّادٌ سَمِعْتُ شُعْبَةَ يَقُولُ كُلُّ حَدِيثٍ لَيْسَ فِيهِ حَدَّثَنَا وَأَخْبَرَنَا فَهُوَ خل وبقل قَالَ رضه وَنَظَمَ هَذَا الْمَعْنَى بَعْضُ شُيُوخِنَا
أَنْشَدَنَا السَّيِّدُ أَبُو الْمَنَاقِبِ مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْحُسَيْنِيُّ الْعَلَوِيُّ الْحَافِظُ لِنَفْسِهِ بِهَمَذَانَ إِمْلاءً
عَلَيْكُمْ بِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ فَإِنَّمَا
مَحَبَّتُهُمْ فَرْضٌ لِذِي الدِّينِ وَالْعَقْلِ
… رُعَاةُ حَدِيثِ الْمُصْطَفَى وَرُوَاتُهُ
لِحِفْظِهِمُ الإِسْنَادَ بِالضَّبْطِ وَالنَّقْلِ
… وَإِثْنَاءُهُمْ ذِكْرُ النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ
عَلَيْهِ سَلامُ اللَّهِ فِي الْكُتْبِ بِالْعَقْلِ
… فَكُلُّ حَدِيثٍ لَمْ يَكُنْ فِيهِ مُسْنِدٌ
إِلَى مُسْنِدٍ فَالْخَلُّ ذَاكَ وَكَالْبُقْلِ
আবু আল-কাসিম আব্দুল কারীম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবু মানসুর আর-রুম্মানি দামগানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: নিশাপুরে আবু বকর আহমদ ইবন আলী ইবন খালাফ আশ-শিরাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আদ-দব্বি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মার্ভ-এ আবু আল-আব্বাস আল-কাসিম ইবন আল-কাসিম আস-সাইয়ারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-মুওয়াজ্জিহ মুহাম্মদ ইবন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে, "সনদ (الإسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। যদি সনদ (الإسناد) না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত।" আবদান বলেন, জিন্দিক (الزنادقة) এবং তাদের জালকৃত (يضعون) হাদিসসমূহের আলোচনার সময় তিনি এটি উল্লেখ করেছিলেন। হাফিজ আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-ফদল ইসফাহানে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আলী আস-সিমসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন খাওলাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বিশরের ভাগ্নে আবু আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ইবন আল-ফদল ইবন মুহাম্মদ আস-সাদুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসমায়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করছিলেন এবং আমরা সেখানে একটি দল উপস্থিত ছিলাম। যখন তিনি হাদিস বর্ণনা শেষ করলেন, তখন এক গ্রাম্য আরব তাকে উদ্দেশ্য করে বলল, "আপনি আমাদের নিকট কতই না চমৎকার হাদিস নিয়ে এসেছেন! যদি এগুলোর কোনো শিকল থাকত যার মাধ্যমে এগুলোকে পরিচালনা করা যায়।" আবু আল-হাসান বলেন, তিনি এর মাধ্যমে সনদ (الإسناد)-কে বুঝিয়েছেন।
আবু আল-বাদর ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন মানসুর আল-কাতিয়ি বাগদাদের কারখ এলাকায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইমাম আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবন আবু আল-ফদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফিজ হামযাহ ইবন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন আদি আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন আলী ইবনুল জারুদ আন-নিশাপুরি মক্কার সাফা পাহাড়ে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন আল-খলীল এবং আব্বাস আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: কুররাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি, "যে হাদিসের মধ্যে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) এবং 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) শব্দগুলো নেই, তা ভিনেগার ও শাকসবজির মতো (মূল্যহীন)।" তিনি (গ্রন্থকার) বলেন, আমাদের কোনো কোনো শাইখ এই অর্থটি কবিতার ছন্দে গেঁথেছেন:
সাইয়্যিদ আবু আল-মানাকিব মুহাম্মদ ইবন হামযাহ ইবন ইসমাইল আল-হুসাইনি আল-আলাভি আল-হাফিজ হামাদানে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট স্বরচিত এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন:
হাদিস বিশারদদের পথ তোমরা আঁকড়ে ধরো, কেননা
তাদের ভালোবাসা দ্বীন ও জ্ঞানীদের জন্য এক আবশ্যকীয় কর্তব্য।
… তারা নবী মুস্তফা (সা.)-এর হাদিসের রক্ষক ও বর্ণনাকারী (رواة),
তারা সনদ (الإسناد)-কে সূক্ষ্ম সংরক্ষণ (ضبط) ও সঠিক হস্তান্তরের (نقل) মাধ্যমে হিফজ করেন।
… কিতাবসমূহে নবী মুহাম্মদের আলোচনা করাই তাদের কাছে শ্রেষ্ঠ প্রশংসা,
জ্ঞানীদের নিকট তাঁর ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক।
… সুতরাং যে হাদিসের সনদ পরম্পরা (مسند) নেই,
যা কোনো মুসনিদ (مسند) পর্যন্ত পৌঁছে না, তা ভিনেগার ও শাকসবজির মতো।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٨)
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ بِنْيَمَانَ الأَشْنَانِيُّ مِنْ لَفْظِهِ بِهَمَذَانَ أَنا جَدِّي حَمْدُ بْنُ نَصْرٍ الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ هَارُونُ بْنُ طَاهِرٍ الْهَمَذَانِيُّ أَنا أَبُو الْفَضْلِ صَالِحُ بْنُ أَحْمَدَ الْحَافِظُ إِجَازَةً ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْمَرْوَزِيُّ يَقُولُ سَمِعْتُ صُلْحَ بْنَ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَرَجِ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الصَّمَدِ بْنَ حَسَّانَ الْمَرْوَزِيُّ يَقُولُ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ الإِسْنَادُ سِلاحُ الْمُؤْمِنِ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُ سِلاحٌ فَبِأَيِ شَيْءٍ يُقَاتِلُ قَالَ رضه وَأَخْذُ الْحَدِيثَ عَنِ الْمَشَائِخِ يَكُونُ عَلَى أَنْوَاعٍ مِنْهَا أَنْ يُحَدِّثَكَ بِهِ الْمُحَدِّثُ وَمِنْهَا أَنْ تَقْرَأَ عَلَيْهِ وَمِنْهَا أَنْ يُقْرَأَ عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ وَمِنْهَا أَنْ تُعْرَضَ عَلَيْهِ وَتَسْتَجِيزَ مِنْهُ رِوَايَتَهُ وَمِنْهَا أَنْ يَكْتُبَ إِلَيْكَ وَيَأْذَنَ لَكَ فِي الرِّوَايَةِ فَتَنْقُلُهُ مِنْ كِتَابِهِ أَوْ مِنْ فَرْعٍ مُقَابَلٍ بِأَصْلِهِ وَأَصَحُّ هَذِهِ الأَنْوَاعِ أَنْ يُمْلَى عَلَيْكَ وَتَكْتُبَهُ مِنْ لَفْظٍ لأَنَّكَ إِذَا قَرَأْتَ عَلَيْهِ رَبُّمَا تَغْفَلُ أَوْ لَا يَسْتَمِعُ وَإِنْ قَرَأَ عَلَيْكَ فَرُبَّمَا تَشْتَغِلُ بِشَيْءٍ عَنْ سَمَاعِهِ وَإِنْ قُرِئَ عَلَيْهِ وَالْحَضْرُ سَمَاعُهُ فَكَذَلِكَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ الْحَافِظُ الأَنْمَاطِيُّ بِبَغْدَادَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَطَّابِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْقَطَّانُ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ غَالِبٍ الْبَرْقَانِيُّ الْحَافِظُ سَمِعْتُ أَبَا أَحْمَدَ الْحَافِظَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْحُسَيْنِ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شُعَيْبٍ الْغَازِي يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ يَقُولُ سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ يَقُولُ لَا أَعُدُّ الْقِرَاءَةَ شَيْئًا بَعْدَ مَا رَأَيْتُ مَالِكًا يُقْرَأُ عَلَيْهِ وَهُوَ يَنْعَسُ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى قَرِيبًا مِنْ هَذَا
سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ الأَشْعَثِيِّ الْحَافِظَ بِبَغْدَادَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ يُوسُفَ بْنَ الْحَسَنِ التَّفَكُّرِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ بُنْدَارٍ الزَّنَجَانِيَّ يَقُولُ قَرَأَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ الْحَافِظُ كِتَابَ الْمُوَطَّأَ عَلَى مَالِكٍ فَلَمَّا فَرُغَ مِنْهُ قَالَ لِمَالِكٍ مَا سَكَنَ قَلْبِي إِلَى هَذَا السَّمَاعِ قَالَ وَلِمَ قَالَ لأَنِّي خَشِيتُ أَنه سقط مِنْهُ بعيى فَقَرَأَ مَالِكٌ فَلَمَّا فَرُغَ قَالَ مَا سَكَنَ قَلْبِي إِلَيْهِ لأَنِّي أَخْشَى أَنَّهُ سَقَطَ مِنْ أُذُنِي شَيْءٌ قَالَ فَمَا تُرِيدُ قَالَ أَقْرَأَهُ أَنَا ثَانِيًا فَتَسْمَعُهُ فَقَرَأَهُ فَتَمَّ لَهُ سَمَاعٌ ثَلاثَ مَرَّاتٍ
আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ফজল বিন বিনইয়ামান আল-আশনানী হামাদানে তাঁর নিজ মুখনিঃসৃত শব্দে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা হামদ বিন নাসর; (যিনি হলেন) হাফিজ (الحافظ) আবু মুহাম্মাদ হারুন বিন তাহির আল-হামাদানী। তিনি বলেন, আমাদের অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ (الحافظ) আবু আল-ফজল সালিহ বিন আহমাদ। মুহাম্মাদ বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সুলহ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফারাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবদুস সামাদ বিন হাসসান আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সুফিয়ান সাওরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "সনদ (الإسناد) হচ্ছে মুমিনের হাতিয়ার; যখন তার নিকট কোনো হাতিয়ার থাকে না, তখন সে কী দিয়ে লড়াই করবে?" তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: মাশায়েখদের থেকে হাদিস গ্রহণ করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো—মুহাদ্দিস তোমার নিকট হাদিস বর্ণনা করবেন; আরেকটি হলো—তুমি তাঁর সামনে পাঠ করবে; আরেকটি হলো—তাঁর সামনে পাঠ করা হবে আর তুমি তা শ্রবণ করবে; আরেকটি হলো—তাঁর নিকট (পাণ্ডুলিপি) পেশ করা হবে এবং তুমি তাঁর থেকে তা বর্ণনার অনুমতি (إجازة) প্রার্থনা করবে; এবং আরেকটি হলো—তিনি তোমার নিকট লিখে পাঠাবেন এবং তোমাকে বর্ণনার অনুমতি (إجازة) প্রদান করবেন, ফলে তুমি তা তাঁর কিতাব থেকে অথবা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাইকৃত শাখা কপি থেকে নকল করবে। এই প্রকারগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) পদ্ধতি হলো—তোমার নিকট শ্রুতিলিখন (إملاء) করানো এবং তুমি তা তাঁর মুখনিঃসৃত শব্দ থেকে লিখে নেবে। কারণ, যখন তুমি তাঁর নিকট পাঠ করবে, তখন হয়তো তুমি অমনোযোগী হবে অথবা তিনি তা শ্রবণ করবেন না; আর যদি তিনি তোমার নিকট পাঠ করেন, তবে হতে পারে তুমি অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে তা শ্রবণ করা থেকে বিচ্যুত হবে; আর যদি তাঁর সামনে পাঠ করা হয় এবং তুমি উপস্থিত থেকে তা শ্রবণ (سماع) করো, তবে সেক্ষেত্রেও অনুরূপ (অমনোযোগিতার) সম্ভাবনা থাকে।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ (الحافظ) আবু আল-বারাকাত আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক আল-আনমাতি বাগদাদে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-খাত্তাব ইবরাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-কাত্তান। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ (الحافظ) আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন গালিব আল-বারকানি। আমি হাফিজ (الحافظ) আবু আহমাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন শুআইব আল-গাজীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইসহাক বিন ঈসা বিন আল-তাব্বাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি ইমাম মালিকের সামনে পাঠ করা অবস্থায় তাঁকে তন্দ্রাচ্ছন্ন হতে দেখার পর থেকে পাঠ করাকে (হাদিস গ্রহণের পদ্ধতি হিসেবে) কোনো গুরুত্ব দিই না।" ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকেও অনুরূপ বর্ণিত (روي) হয়েছে।
আমি বাগদাদে হাফিজ (الحافظ) আবু আল-কাসিম ইসমাইল বিন আহমাদ বিন আল-আশআসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু আল-কাসিম ইউসুফ বিন আল-হাসান আল-তাফাক্কুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন বুন্দার আজ-যানজানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাফিজ (الحافظ) ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আন-নিশাপুরি ইমাম মালিকের নিকট মুওয়াত্তা কিতাবটি পাঠ করেছিলেন। যখন তিনি তা শেষ করলেন, তখন তিনি মালিককে বললেন: "এই শ্রবণ (سماع) পদ্ধতিতে আমার মন প্রশান্ত হয়নি।" তিনি (মালিক) জিজ্ঞাসা করলেন: "কেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "কারণ আমি আশঙ্কা করছি যে, আমার নিজের অসতর্কতায় হয়তো কোনো কিছু বাদ পড়ে গেছে।" এরপর মালিক নিজেই পাঠ করলেন। যখন তিনি শেষ করলেন, তখন তিনি (ইয়াহইয়া) বললেন: "এতেও আমার মন প্রশান্ত হয়নি; কারণ আমি আশঙ্কা করছি যে, আমার শ্রবণ (أذني) থেকে কোনো কিছু বাদ পড়ে গেছে।" মালিক বললেন: "তবে তুমি কী চাও?" তিনি বললেন: "আমি এটি দ্বিতীয়বার পাঠ করব আর আপনি তা শ্রবণ করবেন।" অতঃপর তিনি তা পাঠ করলেন এবং এভাবে তাঁর জন্য তিনবার শ্রবণ (سماع) সম্পন্ন হলো।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٩)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الأَسَدِيُّ وَأَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مَحْمُودٍ الزَّوْزَنِيُّ وَأَبُو مَنْصُورٍ عَلِيُّ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الأَمِينُ وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بن أَحْمد المقرىء وَأَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ السَّكَنِ السَّلامِيُّ وَغَيْرُهُمْ بِبَغْدَادَ قَالُوا أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هزارمرد الصُّرَيْفِينِيُّ قَالَ الزَّوْزَنِيُّ بِصُرَيْفِينَ وقَالَ الْبَاقُونَ قَدِمَ عَلَيْنَا بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبَابَةَ الْمَتُّوثِيُّ ثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ سَمِعْتُ حُمَيْدَ الرُّؤَاسِيَّ يَقُولُ كَانَ زُهَيْرٌ إِذَا سَمِعَ الْحَدِيثَ مِنَ الْمُحَدِّثِ مَرَّتَيْنِ كَتَبَ عَلَيْهِ فَرَغْتُ
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْمُبَارَكُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَرَكَةَ بْنِ الْكِنْدِيِّ بِبَابِ الْبَصْرَةِ وَأَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ طراد بن مُحَمَّد الزيئنبي الْوَزِيرُ بِبَغْدَادَ وَأَبُو تَمَّامٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُخْتَارِ الْهَاشِمِيُّ بِمَرْوَ وَأَبُو غَانِمٍ الْمُظَفَّرُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْمُفَصَّلِيُّ بِبُرُوجِرْدَ وَغَيْرُهُمْ قَالُوا أَنا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ أَنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُخَلِّصُ الذَّهَبِيُّ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ بِنْتِ مُنَيْعٍ أَنا أَبُو خَيْثَمَةَ هُوَ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ ثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ ثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالك رضه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا ثَلاثَةٌ تَأْوِيل من الشَّيْطَان ليحزن بن آدَمَ وَمِنْهَا مَا يَهْتَمُّ بِهِ الرَّجُلُ فِي الْيَقَظَةِ فَرَآهُ فِي النَّوْمِ وَمِنْهَا جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءٍ مِنَ النُّبُوَّةِ فَقُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَنَا سَمِعْتُ ثَلاثًا مَرَّاتٍ قَالَ رضه
আমাদেরকে অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদিল জব্বার আল-আসাদি, আবু সা’দ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাহমুদ আল-যাওজানি, আবু মনসুর আলী ইবনে আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আমিন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-মুকরি, আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আস-সাকান আস-সালামি এবং অন্যান্যগণ বাগদাদে। তারা বলেছেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাজার-মারদ আস-সুরিফাইনি। আল-যাওজানি বলেছেন (যে তিনি সংবাদ দিয়েছেন) সুরিফাইনে, আর অবশিষ্টগণ বলেছেন যে তিনি বাগদাদে আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবাবাহ আল-মাততুসি। আমাদের নিকট হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا) আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ি। আমাদের নিকট হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا) ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব: আমি হুমাইদ আল-রুয়াসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, জুহাইর যখন কোনো হাদিস বিশারদের (المحدث) নিকট থেকে দুবার হাদিস শুনতেন, তখন তিনি তার ওপর লিখে রাখতেন: 'আমি সম্পন্ন করেছি'।
আমাদেরকে অবহিত করেছেন (أخبرنا) আবু মুহাম্মদ আল-মুবারক ইবনে আহমদ ইবনে বারাকাহ ইবনে আল-কিন্দি ‘বাব আল-বাসরাহ’ নামক স্থানে, আবু আল-কাসিম আলী ইবনে তিরাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-যাইনাবি—যিনি বাগদাদের উজির ছিলেন, আবু তাম্মাম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুখতার আল-হাশিমী মার্ভে, আবু গানিম আল-মুজাফফর ইবনে আল-হুসাইন আল-মুফাসসালি বুরুজিরদে এবং অন্যান্যগণ। তারা বলেছেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-যাইনাবি। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুখলিস আজ-যাহাবি। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে বিনতি মানি’। আমাদের নিকট হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا) আবু খাইসামাহ—যিনি হলেন জুহাইর ইবনে হারব। আমাদের নিকট হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا) মুআল্লা ইবনে মনসুর। আমাদের নিকট হাদীস শুনিয়েছেন (ثنا) ইয়াহইয়া ইবনে হামযাহ, থেকে (عن) যাইদ ইবনে উবাইদাহ, থেকে (عن) আবু উবাইদুল্লাহ, থেকে (عن) আউফ ইবনে মালিক (রা.), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "স্বপ্ন তিন প্রকার: একটি শয়তানের পক্ষ থেকে প্ররোচনা যা আদম সন্তানকে শোকাতুর করার জন্য; দ্বিতীয়টি হলো যা নিয়ে মানুষ জাগ্রত অবস্থায় চিন্তিত থাকে এবং ঘুমের মধ্যে তা-ই দেখে; আর তৃতীয়টি হলো নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।" আমি বললাম, "আপনি কি এটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন?" তিনি বললেন, "আমি এটি তিনবার শুনেছি।" তিনি (রা.) এ কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وَإِن عرضت وَأَذِنَ لَكَ أَوْ كَتَبَ إِلَيْكَ فَهُوَ دُونَ هَذِهِ الأَنْوَاعِ وَلِهَذَا اخْتَلَفُوا فِي صِحَّتِهِ حَتَّى أَنَّ بَعْضَهُمْ مَا كَادَ يَرَى الإِجَازَةَ
سَمِعْتُ الإِمَامَ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي الأَنْصَارِيَّ مُذَاكَرَةً بِبَغْدَادَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ وَاصِلَ بْنَ حَمْزَةَ بْنِ عَلِيٍّ الْبُخَارِيَّ الْحَافِظَ يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي الْعَبَّاسِ الْمُسْتَغْفِرِي الْحَافِظِ الْخَطِيبِ بِنَخْشَبَ فَسَأَلْتُهُ الإِجَازَةَ فَقَالَ لِي سَمِعْتُ الْخَلِيلَ بْنَ أَحْمَدَ السَّجْزِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا طَاهِرٍ الدَّبَّاسَ يَقُولُ مَعْنَى قَوْلِ الشَّيْخِ أَجَزْتُ لَكَ إِنِّي عَلَى أَنْ تَكْذِبَ عَلَيَّ ثُمَّ قَالَ الشَّيْخُ الْحَافِظُ الْمُسْتَغْفِرِي بُنَيَّ جَعَلْتُ مَسْمُوعَاتِي كُلَّهَا كِتَابًا مِنِّي إِلَيْكَ لِتَقُولَ كَتَبَ إِلَيَّ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنَّ فُلانَ بْنَ فُلانٍ حَدَّثَهُمْ قَالَ ثَنَا فُلانٌ وَكَتَبَ لِي بِخَطِّهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ سَعِيدُ بْنُ أَبِي الرَّجَاءِ الصَّيْرَفِيُّ بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ أَنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بن إِبْرَاهِيم بن المقرىء حَدَّثَنِي لاحِقُ بْنُ الْحُسَيْنِ ثَنَا عُمَرُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْكَاتِبُ ثَنَا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ ثَنَا قُرَّادٌ سَمِعْتُ شُعْبَةَ يَقُولُ لَوْ صَحَّتِ الإِجَازَةُ بَطَلَتِ الرِّحْلَةُ
سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَافِظَ بِبَغْدَادَ سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ يُوسُفَ بْنَ الْحَسَنِ التَّفَكُّرِيَّ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدٍ الْبَجْلِيُّ يَقُولُ سَمِعْتُ الْحَاكِمَ أَبَا الْفَضْلِ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ الْحَدَّادِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَحْمُودٍ الْمَرْوَزِيَّ يَقُولُ لَوْ جَادَتِ الْإِجَازَة لبطلت الرحلة قَالَ رضه وَأَمَّا إِذَا أَمْلَى عَلَيْكَ الْمُحَدِّثُ وَكَتَبْتَ أَنْتَ مِنْ لَفْظِهِ فَلا يَتَطَرَّقُ إِلَيْهِ نَوْعٌ مِنَ الْفَسَادِ لأَنَّهُ يَعْرِفُ مَا يُمْلِي وَأَنْتَ تَسْمَعُ وَتَفْهَمُ مَا تَكْتُبُ
আর যদি আপনি পেশ (عرض) করেন এবং তিনি আপনাকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন অথবা আপনার নিকট লিখে (مكاتبة) পাঠান, তবে তা এই প্রকারগুলোর তুলনায় নিম্নমানের। এই কারণেই তারা এর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে মতবিরোধ করেছেন, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনুমতিকে (إجازة) স্বীকৃতি দিতেই চাইতেন না।
আমি বাগদাদে মুজাকারা চলাকালীন ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাফিজ (حافظ) আবুল কাসিম ওয়াসিল ইবনে হামজা ইবনে আলী আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নখশাব শহরে হাফিজ (حافظ) ও খতিব আবু আব্বাস আল-মুস্তাগফিরীর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে অনুমতি (إجازة) প্রার্থনা করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: আমি খলিল ইবনে আহমদ আস-সিজজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু তাহির আদ-দাব্বাসকে বলতে শুনেছি, একজন শায়খের এই কথার অর্থ— "আমি তোমাকে অনুমতি (إجازة) দিলাম"— তা হলো, আমি এই ব্যাপারে তোমার ওপর নির্ভর করছি যে তুমি আমার নামে মিথ্যা বলবে না। অতঃপর হাফিজ (حافظ) আল-মুস্তাগফিরী বললেন: হে প্রিয় বৎস! আমি আমার সমস্ত শ্রবণকৃত (مسموعات) হাদিসগুলো আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য একটি কিতাব স্বরূপ করে দিলাম, যাতে তুমি বলতে পারো— জাফর ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট লিখে (كتب إلي) পাঠিয়েছেন যে, অমুকের পুত্র অমুক তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثهم), তিনি বলেন: অমুক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) এবং তিনি নিজ হাতে আমার জন্য তা লিখে (كتب) দিয়েছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-ফারাজ সাঈদ ইবনে আবি আল-রাজা আস-সাইরাফী আসফাহানে, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন (أنا) আবু তাহির আহমদ ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফী, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন (أنا) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني) লাহিত ইবনে আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (ثنا) উমর ইবনে আব্বাস আল-কাতিব, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (ثنا) আব্বাস আদ-দুরী, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (ثنا) কুররাদ, তিনি বলেন: আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি, "যদি অনুমতি (إجازة) সহিহ (صحة) হতো, তবে জ্ঞান অন্বেষণের সফর (رحلة) বিলুপ্ত হয়ে যেত।"
আমি বাগদাদে হাফিজ (حافظ) আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবনে আহমদ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আল-কাসিম ইউসুফ ইবনে হাসান আত-তাফাক্কুরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু মাসউদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাজালীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাকিম আবু আল-ফজল মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-হাদ্দাদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, "যদি অনুমতি (إجازة) গ্রহণযোগ্য হতো, তবে জ্ঞান অন্বেষণের সফর (رحلة) বৃথা হয়ে যেত।" তিনি (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আর যখন কোনো হাদিস বিশারদ (محدث) আপনার নিকট শ্রুতলিপি প্রদান করেন (أملى) এবং আপনি তার উচ্চারণ থেকে তা লিখে নেন, তখন সেখানে কোনো প্রকার ত্রুটির অবকাশ থাকে না। কারণ তিনি কী শ্রুতলিপি দিচ্ছেন তা তিনি জানেন, আর আপনি যা লিখছেন তা আপনি শুনছেন ও বুঝতে পারছেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١١)
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيُّ مِنْ لَفْظِهِ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيُّ أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْفَالِيُّ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خَرْبَانَ النَّهَاوَنْدِيُّ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخُوزِيُّ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُثْمَانَ النَّسْتُرِيُّ ثَنَا أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي شَيْبَةَ يَقُولُ مَنْ لَمْ يَكْتُبْ عِشْرِينَ أَلْفَ حَدِيثٍ إِمْلاءً لَمْ يَعُدْ صَاحِبَ حَدِيثٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ حَنْبَلُ بْنُ عَلِيٍّ الْبُخَارِيُّ قَرَأْتُ عَلَيْهِ بِكُشْمَيْهَنَ أَنا أَبُو الْفَتْحِ نَاصِرُ بْنُ الْحُسَيْنِ بِسِجِسْتَانَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ طَاهِرٍ الشُّرُوطِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ سُلَيْمَانَ النُّوقَاتِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقُرَشِيُّ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارَمِيُّ ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْبَغْدَادِيُّ سَمِعْتُ شُعَيْبَ بْنَ حَرْبٍ يَقُولُ كَانَ زُهَيْرٌ لَا يَأْخُذُ حَدِيثًا إِلا إِمْلاءً
أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي غَالِبٍ الطَّاهِرِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ الْخَطِيبُ وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْمَكَارِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ الْوَزِيرُ بِبَلْخٍ وَأَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْخَطِيبُ بِمَرْوَ قَالَا أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ الْفَضْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ التَّاجِرُ بِنَيْسَابُورَ قَالَا أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحِيرِيُّ بِنَيْسَابُورَ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ حَاجِبُ بْنُ أَحْمَدَ الطُّوسِيُّ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُنِيبٍ قَالَ قَالَ عَفَّانُ اخْتَلَفْتُ أَنَا وَفُلانٌ إِلَى حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ سَنَةً لَا نَكْتُبُ شَيْئًا وَسَأَلْنَاهُ الإِمْلاءَ فَلَمَّا أَعْيَاهُ دَعَا بِنَا فِي مَنْزِلِهِ فَقَالَ وَيْحَكُمْ تَشْلُونَ عَلَيَّ النَّاسَ قُلْنَا لَا نَكْتُبُ إِلا إِمْلاءً فَأَمْلَى بَعْدَ ذَلِكَ
حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ السُّرْقُسْطِيُّ مِنْ لَفْظِهِ بِمَكَّةَ وَأَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْبَلَدِيُّ بِوَاسِطٍ قَالَا أَنْشَدَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْفَةَ الْحَافِظُ لِنَفْسِهِ بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ وَاظِبْ عَلَى كُتُبِ الأَمَالِي جَاهِدًا مِمَّن أَلْسُنِ الْحُفَّاظِ وَالْفُضَلاءِ فَأَجَلُّ أَنْوَاعِ السَّمَاعِ بِأَسْرِهَا مَا يَكْتُبُ الإِنْسَانُ فِي الإِمْلاءِ
আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন নাসির বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি বাগদাদে সরাসরি তাঁর নিজ শব্দে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا): আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ আল-ফালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন ইসহাক বিন খারবান আন-নাহাওয়ান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান আল-খুজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আল-হাসান বিন উসমান আন-নাসতুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): আবু জুরআ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): আমি আবু বকর বিন আবি শায়বাহকে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি শ্রুতিলিখন (إملاء) পদ্ধতিতে বিশ হাজার হাদিস লিখেনি, তাকে হাদিস বিশারদ হিসেবে গণ্য করা হবে না।"
আবু জাফর হানবাল বিন আলী আল-বুখারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), কুশমাইহানে তাঁর নিকট আমি পাঠ করেছি: আবু আল-ফাতহ নাসির বিন আল-হুসাইন সিজিস্তানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু আল-কাসিম আলী বিন তাহির আশ-শুরুতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু উমর বিন সুলাইমান আন-নুকাতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-বাগদাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثনা): আমি শুআইব বিন হারবকে বলতে শুনেছি যে, জুহাইর শ্রুতিলিখন (إملاء) ব্যতিরেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না।
আবু মানসুর আব্দুর রহমান বিন আবি গালিব আত-তাহিরি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا): আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-খাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا); এবং আবুল মাকারিম আব্দুল মালিক বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-ওয়াজির বালখ-এ এবং আবু তাহির মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খাতিব মার্ভ-এ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তাঁরা উভয়েই বলেন: আবু আল-আব্বাস আল-ফাদল বিন আব্দুল ওয়াহিদ আত-তাজির নাইশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তাঁরা বলেন: আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান আল-হিরি নাইশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا): আবু মুহাম্মদ হাজিব বিন আহমদ আত-তুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): আব্দুর রহমান বিন মুনীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন: আফফান বলেছেন, "আমি এবং অমুক ব্যক্তি এক বছর যাবত হাম্মাদ বিন সালামাহর নিকট যাতায়াত করেছি কিন্তু আমরা কিছুই লিখিনি; আমরা তাঁর নিকট শ্রুতিলিখনের (الإملاء) আবেদন করেছিলাম। যখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন, তখন তিনি তাঁর বাড়িতে আমাদের ডাকলেন এবং বললেন, 'ধিক তোমাদের! তোমরা কি মানুষকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছ?' আমরা বললাম, 'আমরা শ্রুতিলিখন (إملاء) ছাড়া লিখব না।' এরপর তিনি শ্রুতিলিখন (إملاء) করালেন।"
আবু আল-হাসান আলী বিন ইব্রাহিম আস-সুরকুস্তি মক্কায় তাঁর নিজ শব্দে এবং আবু নাসর আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল মালিক আল-বালাদি ওয়াসিত-এ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা বলেন: হাফেজ (الحافظ) আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সালফাহ আলেকজান্দ্রিয়ায় নিজের রচিত কবিতা আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন: "তুমি আপ্রাণ প্রচেষ্টায় হাফেজ (الحافظ) ও গুণীজনদের মুখ নিঃসৃত শ্রুতিলিখন সংকলন (الأمالي) আঁকড়ে ধরো। কারণ সমস্ত শ্রবণ (السماع) পদ্ধতির মধ্যে সেই পদ্ধতিই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, যা মানুষ শ্রুতিলিখনের (الإملاء) মাধ্যমে লিখে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
(وَقَدْ أَمْلَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْكُتُبَ إِلَى الْمُلُوكِ وَفِي الْمُصَالَحَةِ) أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفُرَاوِيُّ بِنَيْسَابُورَ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَخْتَوَيْهِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ وَيُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَا ثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابت عَن أنس رضه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا صَالَحَ قُرَيْشًا يَوْم الْحُدَيْبِيَة قَالَ لعَلي رضه اكْتُبْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَقَالَ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو لَا نَعْرِفُ الرَّحْمَنَ الرَّحِيمَ اكْتُبْ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ اكْتُبْ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ هَذَا مَا صَالَحَ عَلَيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ سُهَيْلُ بن عَمْرو لَو تعلم أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ لَصَدَّقْنَاكَ وَلَمْ نُكَذِّبْكَ اكْتُبِ اسْمَكَ وَاسْمَ أَبِيكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لعَلي رضه اكْتُبْ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَاكْتُبْ مَنْ أَتَانَا مِنْكُمْ رَدَدْنَاهُ عَلَيْكُمْ وَمَنْ أَتَاكُمْ مِنَّا تَرَكْنَاهُ عَلَيْكُمْ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تُعْطِيهِمْ هَذَا قَالَ مَنْ أَتَاهُمْ مِنَّا فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ وَمَنْ أَتَانَا مِنْهُمْ فَرَدَدْنَاهُ عَلَيْهِمْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ فَرَجًا وَمَخْرَجًا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الصَّابُونِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيُّ أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُؤَدِّبُ أَنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي أَنا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخَلادِيُّ حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سُهَيْلٍ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بِشْرِ بْنِ أَبِي جَوَالِقٍ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ صُبَيْحٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شِمْرٍ عَنْ جَابِرٍ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَدِيمٍ وَعَلِيُّ بْنُ أبي طَالب رضه عَنهُ فَلم يزل رَسُول الله صعلم يُمْلِي وَعَلِيٌّ يَكْتُبُ حَتَّى مَلأَ بَطْنَ الأَدِيمِ وَظَهْرَهُ وَأَكَارِعَهُ قَالَ رضه وَأَمْثَالُ هَذِهِ الْكُتُبِ كَثِيرَةٌ لَوْ ذَكَرْنَاهَا لَطَالَ الْكِتَابُ وَالْمَقْصُودُ أَنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُمْلِي الْكُتُبَ عَلَى كُتَّابِهِ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
(এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাজন্যবর্গের নিকট এবং সন্ধির বিষয়ে পত্রসমূহ শ্রুতলিপি করিয়েছেন) আমাদিগকে নিসাবুরে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ফজল ইবনে আহমদ আল-ফুরাওয়ী; আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর আহমদ ইবনে হুসাইন আল-বাইহাকী; আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আবদুল্লাহ হাফিজ (الحافظ); আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাখতাওয়াইহ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব এবং ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হুদবা ইবনে খালিদ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ ইবনে সালামা, সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হুদাইবিয়ার দিন কুরাইশদের সাথে সন্ধি করলেন, তখন আলীকে (রা.) বললেন: "লিখো—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।" তখন সুহাইল ইবনে আমর বলল: "আমরা রহমান ও রাহিমকে চিনি না। আপনি লিখুন—'বিসমিকা আল্লাহুম্মা' (হে আল্লাহ! আপনার নামে)।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে বললেন: "লিখো—'বিসমিকা আল্লাহুম্মা'। এটি সেই চুক্তি যার ওপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সন্ধি করেছেন।" সুহাইল ইবনে আমর বলল: "যদি আমরা জানতাম যে আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে তো আমরা আপনাকে সত্য বলে মেনে নিতাম এবং আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না। আপনি আপনার নিজের নাম এবং আপনার পিতার নাম লিখুন।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে (রা.) বললেন: "লিখো—মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। এবং আরও লিখো যে, তোমাদের পক্ষ থেকে যে ব্যক্তি আমাদের নিকট আসবে, আমরা তাকে তোমাদের কাছে ফেরত দেব; আর আমাদের মধ্য থেকে যে তোমাদের নিকট যাবে, তাকে তোমরা আমাদের নিকট ফেরত দেবে না।" সাহাবীগণ বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাদের এই সুবিধা দেবেন?" তিনি বললেন: "আমাদের মধ্য থেকে যে তাদের নিকট যাবে, আল্লাহ তাকে রহমত থেকে দূর করে দিন; আর তাদের মধ্য থেকে যে আমাদের নিকট আসবে এবং আমরা তাকে ফেরত দেব, অচিরেই আল্লাহ তার জন্য মুক্তির কোনো পথ ও উপায় করে দেবেন।"
আমাদিগকে বাগদাদে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু ফাতহ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আস-সাবুনী; আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আবদুল জাব্বার আস-সাইরাফী; আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-মুয়াদ্দিব; আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা) আহমদ ইবনে ইসহাক আল-কাজী; আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হাসান ইবনে আবদুর রহমান আল-খাল্লাদী; আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আহমদ ইবনে সুহাইল; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবরাহীম ইবনে বিশর ইবনে আবি জাওয়ালিক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসমাইল ইবনে সবিহ, আমর ইবনে শিমর থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিনী উম্মে সালামা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চামড়ার টুকরো এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে ডাকলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রুতলিপি দিতে থাকলেন এবং আলী (রা.) লিখতে থাকলেন, এমনকি তিনি চামড়ার টুকরোটির সম্মুখভাগ, পশ্চাৎভাগ এবং এর প্রান্তভাগগুলোও পূর্ণ করে ফেললেন।
তিনি (রা.) বলেন: এই জাতীয় পত্রের উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে, যা উল্লেখ করলে কিতাবটি দীর্ঘ হয়ে যাবে। মূল উদ্দেশ্য হলো এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লেখকগণের (রা.) ওপর পত্রসমূহ শ্রুতলিপি করাতেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَافِظَ بِبَغْدَادَ وَأَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ الْغَازِي بِأَصْبَهَانَ وَأَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّحَّامِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالُوا أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مسْعدَة الإسماعيلى أناأبو الْقَاسِمِ حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ الْحَافِظُ أَنا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْقَزَّازُ الدِّمَشْقِيَّانِ قَالَا ثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ ثَنَا مَعْرُوفٌ الْخَيَّاطُ وَيُخَضِّبُ بِحُمْرَةٍ قَالَ رَأَيْتُ وَاثِلَةَ بْنَ الأَسْقَعِ يُمَلِّي عَلَى النَّاسِ الأَحَادِيثَ وَهُمْ يَكْتُبُونَهَا بَيْنَ يَدَيْهِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ مِنْ لَفْظِهِ بِبَغْدَادَ أَنا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْكَرْخِيُّ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الأَدِيبُ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ خَرْبَانَ النَّهَاوَنْدِيُّ أَنا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ خَلادٍ الرَّامَهُرْمُزِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الزُّبَيْرِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بن أبان الْقرشِي ثَنَا بن عُيَيْنَة ثَنَا بن جُرَيْجٍ قَالَ أَتَيْتُ نَافِعًا فَطَرَحَ جَوْنَتَهُ فَأَمْلَى عَلَيَّ فِي أَلْوَاحِي قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَبَايَعَ الْمُتَبَايِعَانِ فَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالْخِيَارِ مِنْ بَيْعَتِهِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا أَوْ يَكُونُ بَيْعُهُمَا عَنْ خِيَارٍ فَإِذَا كَانَ عَنْ خِيَارٍ فَقَدْ وَجَبَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَدْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْقَطِيعِيُّ بِكَرْخِ بَغْدَادَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعَدَةَ الإِمَامُ أَنا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ الْحَافِظُ أَنا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ الْقَطَّانُ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَدِيثِيُّ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مَعْبَدٍ ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ سَمِعْتُ مَعْمَرًا يَقُولُ اجْتَمَعْتُ أَنَا وَشُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ وَابْنُ جُرَيْجٍ فَقَدِمَ عَلَيْنَا شَيْخٌ فَأَمْلَى عَلَيْنَا أَرْبَعَةَ آلافِ حَدِيثٍ عَنْ ظَهْرِ الْقَلْبِ فَمَا أَخْطَأَ إِلا فِي مَوْضِعَيْنِ لَمْ يَكُنِ الْخَطَأُ مِنَّا وَلا مِنْهُ إِنَّمَا كَانَ الْخَطَأُ مِنْ فَوْقٍ فَإِذَا جَنَّ اللَّيْلُ خَتَمْنَا الْكتاب فجعلناه تَحت رؤوسنا وَكَانَ الْكَاتِبُ شُعْبَةُ وَنَحْنُ نَنْظُرُ فِي الْكِتَابِ وَكَانَ الرَّجُلُ طَلْحَةُ بْنُ عَمْرٍو
বাগদাদে হাফিজ (الحافظ) আবুল কাসিম ইসমাইল বিন আহমদ বিন উমর, আসবাহানে হাফিজ (الحافظ) আল-গাজী আবু নাসর আহমদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ এবং নিশাপুরে আবুল কাসিম জাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মদ আশ-শাহহামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা বলেন: আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মাসআদাহ আল-ইসমাঈলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; হাফিজ (الحافظ) আবু কাসিম হামজা বিন ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন; হাফিজ (الحافظ) আবু আহমদ আবদুল্লাহ বিন আদি আমাদের জানিয়েছেন; আব্দুস সামাদ বিন আবদুল্লাহ এবং মুহাম্মদ বিন বিশর আল-কাজ্জাজ আদ-দিমাশকি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: হিশাম বিন আম্মার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; মারুফ আল-খাইয়াত আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন—যিনি লাল খেজাব ব্যবহার করতেন—তিনি বলেন: আমি ওয়াসিলা বিন আল-আসকা-কে মানুষের নিকট হাদিস ইমলা (أملى) করতে দেখেছি এবং তাঁরা তাঁর সামনে তা লিখে নিচ্ছিলেন।
বাগদাদে আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন নাসির বিন মুহাম্মদ আল-হাফিজ (الحافظ) নিজ মুখে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার আল-কারখি আমাদের জানিয়েছেন; আদিব আলী বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবু আবদুল্লাহ বিন খারবান আন-নাহাওয়ান্দি আমাদের জানিয়েছেন; আবু আহমদ বিন খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি আমাদের জানিয়েছেন; মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আজ-জুবাইরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; আহমদ বিন আবান আল-কুরাশি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; ইবনে উয়াইনা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; ইবনে জুরাইজ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি নাফে’-এর নিকট আসলাম, তিনি তাঁর ঝুড়িটি রাখলেন এবং আমার তখতিতে আমাকে ইমলা (أملى) করালেন। তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন উমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন দুই ক্রেতা-বিক্রেতা বেচাকেনা করে, তখন তাদের প্রত্যেকের জন্য সেই লেনদেন বাতিল করার ইখতিয়ার থাকে যতক্ষণ না তারা একে অপরের থেকে পৃথক হয়, অথবা তাদের ক্রয়-বিক্রয় যদি ইখতিয়ারের শর্তে (خيارة) হয়ে থাকে। সুতরাং যদি ইখতিয়ারের শর্তে হয়, তবে ক্রয়-বিক্রয় আবশ্যক হয়ে যায়।"
বাগদাদের কারখ অঞ্চলে আবু আল-বদর বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ইমাম আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মাসআদাহ আমাদের জানিয়েছেন; হাফিজ (الحافظ) হামজা বিন ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন; আবু আহমদ বিন আদি আল-কাত্তান আমাদের জানিয়েছেন; আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাদিসি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; সুলাইমান বিন মাবাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; আব্দুর রাজ্জাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মা’মারকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি, শু’বাহ, সাওরি এবং ইবনে জুরাইজ একত্রিত হলাম। অতঃপর আমাদের নিকট একজন শায়খ আসলেন এবং তিনি আমাদের নিকট চার হাজার হাদিস মুখস্থ (عن ظهر قلب) ইমলা (أملى) করালেন। তিনি মাত্র দুটি জায়গা ছাড়া আর কোথাও ভুল করেননি; সেই ভুলটিও আমাদের পক্ষ থেকে বা তাঁর পক্ষ থেকে ছিল না, বরং তা ছিল উর্ধ্বতন সূত্রের পক্ষ থেকে। যখন রাত ঘনিয়ে এল, আমরা কিতাবটি সম্পন্ন করলাম এবং তা আমাদের মাথার নিচে রাখলাম। শু’বাহ লেখক ছিলেন আর আমরা কিতাবটি দেখছিলাম; সেই ব্যক্তিটি ছিলেন তালহা বিন আমর।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الصَّائِغُ بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو مُسْلِمٍ عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ اللَّيْثِ اللَّيْثِيُّ الْحَافِظُ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْمَرْوَزِيَّ سَمِعْتُ أَبَا نَصْرٍ أَحْمَدَ بْنَ عَلِيٍّ الْخَيَّاطَ بِبُخَارَا سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْجُرْجَانِيَّ سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مَنْصُورٍ الْحَافِظَ بِشَيْرَازَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ السَّرِيِّ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بْنِ مَيْمُونٍ سَمِعْتُ عَبْدَانَ بْنَ مُحَمَّدٍ يَقُولُ رَأَيْتُ يَعْقُوبَ بْنَ سُفْيَانَ فِي النَّوْمِ فَقُلْتُ لَهُ مَا فَعَلَ اللَّهُ بِكَ قَالَ غَفَرَ لِي وَأَمَرَنِي أَنْ أُحَدِّثَ فِي السَّمَاءِ كَمَا كُنْتُ أُحَدِّثُ فِي الأَرْضِ فَاجْتَمَعَ عَلَيَّ الْمَلائِكَةُ وَاسْتَمْلَى عَلَيَّ جِبْرَائِيلُ عليه السلام وَكَتَبُوا بِأَقْلامٍ مِنْ ذَهَبٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْمَالِكِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُوهُ الْحُسَيْنُ بْنُ الطُّيُورِيِّ أَنا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَحْمَدَ الْفَالِي أَنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي أَنا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخُوزِيُّ حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الدَّيْنَوَرِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْدِ بن الْبَراء ثناعلي بْنُ الْمَدِينِيِّ ثَنَا يَحْيَى سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ بْنَ عَمَّارٍ يُمْلِي حَدِيثَ سَلمَة بن الْأَكْوَع الطَّوِيل بن مَرْحَبٍ عَلَى الْفَضْلِ بْنِ الرَّبِيعِ فَلَمْ يَكُنْ مَعِي شَيْءٌ أَكْتُبُ فِيهِ فَحَمِلْتُهُ عَنْ بِشْرِ بْنِ السَّرِيِّ كَتَبَهُ لِي ثُمَّ أَمْلاهُ عَلَيَّ وَعَلَى مُحَمَّدٍ ابْنِي
ইসফাহানে আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন আস-সাইগ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ (الحافظ) আবু মুসলিম উমর ইবন আলী ইবন আহমদ ইবন আল-লাইস আল-লাইসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবন আবি আবদুল্লাহ আল-মারওয়াযীকে বলতে শুনেছি, আমি বুখারায় আবু নাসর আহমদ ইবন আলী আল-খাইয়াতকে বলতে শুনেছি, আমি আবুল আব্বাস আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হাসান আল-জুরজানীকে বলতে শুনেছি, আমি শিরাজ শহরে হাফেজ (الحافظ) আবুল আব্বাস আহমদ ইবন মানসুরকে বলতে শুনেছি, আমি মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আস-সাররিকে বলতে শুনেছি, আমি মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন মাইমুনকে বলতে শুনেছি, আমি আবদান ইবন মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি—তিনি বলেন: আমি ইয়াকুব ইবন সুফিয়ানকে স্বপ্নে দেখলাম এবং তাঁকে বললাম, আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আসমানে (তেমনিভাবে) হাদিস বর্ণনা করি যেমনটি জমিনে বর্ণনা করতাম। অতঃপর ফেরেশতারা আমার কাছে সমবেত হলেন এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার থেকে শ্রুতলিপি গ্রহণ (استملى) করলেন এবং তাঁরা স্বর্ণের কলম দ্বারা তা লিখে নিলেন।
বাগদাদে আবুল ফাতহ আবদুল ওয়াহহাব ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন আল-মালিকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর পিতা আল-হুসাইন ইবন আত-তুয়ূরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান ইবন আহমদ আল-ফালী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবন ইসহাক আল-কাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবন আবদুর রহমান আল-খুযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবন আলী আদ-দিনাওয়ারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন হামদ ইবন আল-বারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন আল-মাদীনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ইকরামা ইবন আম্মারকে ফজল ইবনুর রাবী’র কাছে সালামা ইবনুল আকওয়ার দীর্ঘ হাদিসটি ও মারহাব সংক্রান্ত বর্ণনাটি শ্রুতলিপি প্রদান (يملي) করতে শুনেছি। সে সময় আমার কাছে লেখার মতো কিছু ছিল না, তাই আমি বিশর ইবন আস-সাররি থেকে তা গ্রহণ করলাম, তিনি তা আমার জন্য লিখেছিলেন; এরপর তিনি তা আমার নিকট এবং আমার পুত্র মুহাম্মদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদান (أملى) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْبَاقِلانِيُّ بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو مَنْصُورٍ شُجَاعُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَصْقَلِيُّ قَرَأَهُ عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْدَةَ الْحَافِظُ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبَّاسٍ الْغَزِّيُّ بِهَا ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادٍ الطَّهْرَانِيُّ ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنِ الْمَعْمَرِ بْنِ سُلَيْمَان قَالَ كنت مَعَ بن الْمُبَارَكِ فَيُمْلِي عَلَيَّ وَأُمْلِي عَلَيْهِ
(وَفِي أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ وَمَنْ دَفَنَهُمْ وَيَلِيَهُمْ جَمَاعَةٌ كَانُوا يَعْقِدُونَ الْمَجَالِسَ لِلإِمْلاءِ مِنْهُمْ شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ وَأَكْرِمْ بِهِ وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ)وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ وَعَاصِمُ بْنُ عَلَيٍّ التَّيْمِيُّ وَعَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ الْبَاهِلِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ وَأَبُو مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ وَجَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَانِيُّ وَغَيْرُهُمْ
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي الشَّاهِد بِبَاب الشَّام ثناأبو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْحَافِظُ مِنْ لَفْظِهِ أَنا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شُعَيْبٍ الرَّوْيَانِيُّ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مُكْرَمٍ الشَّاهِدُ أَنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحُسَيْنِ الأَنْطَاكِيُّ ثَنَا يُوسُفُ بْنُ بَحْرٍ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ جَلَسَ شُعْبَةُ بِبَغْدَادَ وَلَيْسَ فِي مَجْلِسِهِ أَحَدٌ يَكْتُبُ إِلا آدَمَ بْنَ أَبِي إِيَاسٍ وَهُوَ يَسْتَمْلِي وَيَكْتُبُ وَهُوَ قَائِمٌ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السَّعْدُونِيُّ بِأَصْبَهَانَ وَأَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَغَازِلِيُّ بِمَرْوَ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِمَا قَالَا أَنا أَبُو الْخَيْرِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ الإِمَامُ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْحَافِظُ قَالَ ذُكِرَ عَنْ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ حَفْصٍ قَالَ قُلْتُ لِلْحُسَيْنِ بْنِ حَفْصٍ حَدَّثَكُمْ سُفْيَانُ بِهَذِهِ الْكُتُبِ مِنْ كِتَابٍ فَقَالَ لَا مِنْ حِفْظِهِ كَانَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ يَكْتُبُونَ الأَبْوَابَ وَهُوَ يُسْرِدُهَا
ইসফাহানে আবুল ফাতহ ইউসুফ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-বাকিলানি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মানসুর শুজা ইবনে আলী আল-মাসকালি তাঁর নিকট পাঠকালে আমাদের জানিয়েছেন, হাফিজ (الحافظ) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সেখানে আলী ইবনে আব্বাস আল-গাজ্জি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আত-তেহরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক মুয়াম্মার ইবনে সুলায়মান থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারকের সাথে ছিলাম, তিনি আমাকে ইমলা (إملاء) দিচ্ছিলেন এবং আমিও তাঁকে ইমলা (إملاء) দিচ্ছিলাম।
(তাবে-তাবেয়ীদের মধ্যে এবং যারা তাঁদের সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এমন একদল ব্যক্তি ছিলেন যারা ইমলা (إملاء) প্রদানের জন্য মজলিস কায়েম করতেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শুবা ইবনুল হাজ্জাজ—যিনি অত্যন্ত মর্যাদাশীল—এবং ইয়াজিদ ইবনে হারুন)এবং ওকি ইবনুল জাররাহ, আসিম ইবনে আলী আত-তাইমি, আমর ইবনে মারজুক আল-বাহিলি, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি, আবু মুসলিম আল-কাজ্জি, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরয়ানি এবং অন্যান্যরা।
বাবুশ শামে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি আশ-শাহিদ আমাদের অবহিত করেছেন, হাফিজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত নিজ মুখে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে শুআইব আর-রুয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে নাসর ইবনে মুকরাম আশ-শাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন ইবনে হুসাইন আল-আনতাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে বাহর আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: শুবা বাগদাদে (হাদিসের মজলিসে) বসেছিলেন এবং তাঁর মজলিসে আদম ইবনে আবি ইয়াস ছাড়া আর কেউ লিখছিলেন না; তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইমলা গ্রহণ (يستملي) করছিলেন এবং লিখছিলেন।
ইসফাহানে আবুল ফজল উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আস-সাদূনী এবং মারভে আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাগাজিলি—তাঁদের উভয়ের নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁরা বলেছেন: ইমাম (الإمام) আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফিজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে হাফস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি হুসাইন ইবনে হাফসকে জিজ্ঞাসা করলাম, সুফিয়ান কি আপনাদের নিকট এই গ্রন্থসমূহ কোনো পাণ্ডুলিপি দেখে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: না, বরং তাঁর মুখস্থ ভাণ্ডার (حفظه) থেকে; হাদিসের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অধ্যায় অনুযায়ী লিখে নিচ্ছিল আর তিনি তা অনর্গল পাঠ করে যাচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَسْعَدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْخَطِيبُ بِنَيْسَابُورَ أَنا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الصَّفَّارُ أَنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ السُّلَمِيُّ أَنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله بن قريس ثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْعَسْكَرِيُّ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ قَالَ كُنْتُ آتِي وَكِيعًا وَكَانَ يُمْلِي مِنْ حِفْظِهِ وَكُنْتُ بَطِيءَ الْكِتَابَةِ فَيَأْخُذُ يَدِي فِي يَدِهِ وَيَقُولُ هَات يَا زمن فَيكْتب لي
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّلامِيُّ مِنْ لَفْظِهِ بِبَغْدَادَ أَنا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيُّ أَنا عَلِيُّ بن أَحْمد الْمُؤَدب أناأبو عَبْدِ اللَّهِ مِنْ خَرْبَانَ النَّهَاوَنْدِيُّ أَنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ خَلادٍ الرامَهُرْمُزِي حَدثنَا بن الْغَزَّاءِ ثَنَا مَذْكُورُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ سَمِعْتُ عَفَّانًا يَقُولُ مَا رَضِينَا مِنْ أَحَدٍ إِلا بِالإِمْلاءِ إِلا شُرَيْكًا
أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الطَّرَازِيُّ بِأَصْبَهَانَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَهْدِيٍّ السَّلامِيُّ أَنا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرَشِيُّ وَأَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الصَّيْرَفِيُّ قَالَا ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ قَالَ قَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ فِي الْمَجْلِسِ بِبَغْدَادَ وَكَانَ يُقَالُ إِنَّ فِي الْمَجْلِسِ سَبْعِينَ أَلْفًا
أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّاهِرِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْخَلالُ قَالَ ذَكَرَ أَبُو الْقَاسِمِ مَنْصُورُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُلاعِبٍ أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ عَلِيٍّ الْعَاصِمِيَّ حَدَّثَهُمْ ثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ وَجَّهَ الْمُعْتَصِمُ مَنْ يحزر مجْلِس بن عَلِيِّ بْنِ عَاصِمٍ فِي رَحْبَةِ النَّخْلِ الَّتِي فِي جَامِعِ الرُّصَافَةِ قَالَ وَكَانَ عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ يَجْلِسُ عَلَى سَطْحِ الْمَسْقَطَاتِ وَيَنْتَشِرُ النَّاسُ فِي الرَّحْبَةِ وَمَا يَلِيهَا فَيَعْظُمُ الْجَمْعُ جِدًّا حَتَّى سَمِعْتُهُ يَوْمًا يَقُولُ ثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَيُسْتَعَادُ فَأَعَادَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ مَرَّةً وَالنَّاسُ لَا يَسْمَعُونَ قَالَ فَكَانَ هَارُونُ الْمُسْتَمْلِي يَرْكَبُ نَخْلَةً مُعْوَجَّةً وَيَسْتَمْلِي عَلَيْهَا فَبَلَغَ الْمُعْتَصِمُ كَثْرَةَ الْجَمْعِ فَأَمَرَ بِحَزْرِهِمْ فَوَجَّهَ بِقَطَّاعي الْغَنَمِ فَحَزَرُوا الْمَجْلِسَ عِشْرِينَ أَلْفًا وَمِائَةَ أَلْفٍ
আবু আল-হাসান আসআদ বিন আবি সাঈদ আল-খাতিব নিশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন কুরাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন সাঈদ আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান বিন আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ-এর নিকট আসতাম, তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে শ্রুতিলিপি (إملاء) প্রদান করতেন। আমি লেখায় ধীরগতিসম্পন্ন ছিলাম, তাই তিনি আমার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিতেন এবং বলতেন: হে ধীরগতিসম্পন্ন ব্যক্তি, নিয়ে এসো (লেখার সামগ্রী); অতঃপর তিনি আমার হয়ে লিখে দিতেন।
আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন নাসির বিন মুহাম্মদ আস-সালামি বাগদাদে স্বীয় মুখে উচ্চারিত শব্দে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুববারাক বিন আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন আহমাদ আল-মুয়াদ্দিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মিন খারবান আন-নাহাওয়ান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ বিন খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল গাজওয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাজকুর বিন সুলায়মান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আফফানের নিকট শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা শ্রুতিলিপি (إملاء) ব্যতীত অন্য কোনো পদ্ধতিতে কারো নিকট থেকে হাদিস গ্রহণে সন্তুষ্ট হতাম না, কেবল শুরাইক ব্যতীত।
আবু তাহির মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তারাজি আসফাহানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন মাহদি আস-সালামি আমাদের অবহিত করেছেন, আল-কাজি আবু বকর আহমাদ বিন আল-হাসান আল-হারাশি এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন মুসা আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব বলেছেন: আমি বাগদাদের একটি মজলিসে ইয়াজিদ বিন হারুনকে বলতে শুনেছি; বলা হতো যে, সেই মজলিসে সত্তর হাজার লোক উপস্থিত ছিল।
আবু মনসুর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আত-তাহিরি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ (حافظ) আবু বকর আহমাদ বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-কাসিম মনসুর বিন জাফর বিন মুলাইব উল্লেখ করেছেন যে, ইসমাইল বিন আলী আল-আসিমি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর বিন হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতাসিম বিল্লাহ রুসাফা জামে মসজিদের অন্তর্গত রাহবাতুন নাখলে আসিম বিন আলীর মজলিসে লোকসংখ্যা অনুমান করার জন্য লোক প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেন: আসিম বিন আলী উঁচু জায়গায় বসতেন এবং মানুষ চত্বরে ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে থাকত, ফলে জনসমাগম অত্যন্ত বিশাল হয়ে যেত। এমনকি একদিন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, "লাইস বিন সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন," তখন পুনরায় বলার আবেদন করা হলে তিনি চৌদ্দবার তা পুনরায় বললেন, তবুও মানুষ শুনতে পাচ্ছিল না। বর্ণনাকারী বলেন: তখন হারুন নামক একজন শ্রুতিলিপি পুনরাবৃত্তিকারী (مستملي) একটি বাঁকা খেজুর গাছে আরোহণ করতেন এবং সেখান থেকে মজলিসের জন্য তা উচ্চস্বরে পুনরাবৃত্তি করতেন। অতঃপর মুতাসিমের নিকট এই বিশাল জনসমাগমের সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাদের সংখ্যা গণনার নির্দেশ দেন। তিনি বিশেষ গণনাকারীদের নিযুক্ত করলে তারা সেই মজলিসে এক লক্ষ বিশ হাজার লোকের উপস্থিতি অনুমান করল।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ هَوَازِنَ الْقُشَيْرِيُّ إِجَازَةً شَافَهَنِي بِهَا أَنْبَأَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَبَنْدِيُّ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبُخَارِيُّ ثَنَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي حَامِدٍ الْبَاهِلِيُّ سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ خَلَفٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا عَلِيٍّ صَالِحَ بْنَ مُحَمَّدٍ الْبَغْدَادِيَّ يَقُولُ كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ يَجْلِسُ بِبَغْدَادَ وَكُنْتُ أَسْتَمْلِي لَهُ وَيَجْتَمِعُ فِي مَجْلِسِهِ أَكْثَرُ مِنْ عِشْرِينَ أَلْفًا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ الزَّعْفَرَانِيُّ فِي كِتَابِهِ إِلَيَّ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ الثَّابِتِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا أَبُو سَعْدٍ الْمَالِنِيُّ ثَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ خَالِدٍ يَقُولُ لَمْ يَكُنْ بِالْبَصْرَةِ مَجْلِسٌ أَكْثَرُ مِنْ مَجْلِسِ عَمْرِو بْنِ مَرْزُوقٍ كَانَ فِيهِ عَشْرَةُ آلافِ رَجُلٍ قَالَ بن عَدِيٍّ وَقَدْ كُنَّا نَشْهَدُ مَجْلِسَ الْفِرْيَابِيُّ وَفِيهِ عَشْرَةُ آلافٍ أَوْ أَكْثَرُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْكَعْكِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْحَسَنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الطُّيُورِيُّ سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْعَتِيقِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ شَيْخَنَا أَبَا الْفَضْلِ الزُّهْرِيَّ يَقُولُ لَمَّا سَمِعْتُ مِنْ جَعْفَرٍ الْفِرْيَابِيِّ رحمه الله كَانَ فِي مَجْلِسِهِ مِنْ أَصْحَابِ الْمَحَابِرِ مَنْ يَكْتُبُ حُدُودَ عَشَرَةِ آلافِ إِنْسَانٍ مَا بَقِيَ مِنْهُمْ غَيْرِي سِوَى مَنْ كَانَ لَا يَكْتُبُ
أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ ظُفْرٍ الْمَغَازِلِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الطُّيُورِيُّ أَنا أَحْمَدُ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْعَتِيقِيَّ قَالَ بَلَغَنِي عَنْ شَيْخِنَا عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيَّاتِ أَنَّهُ قَالَ لَمَّا وَرَدَ أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ إِلَى بَغْدَادَ اسْتُقْبِلَ بِالطَّيَّارَاتِ وَالزَّبَازِبِ وَوَعَدَ لَهُ النَّاسُ إِلَى شَارِعِ الْمَنَارِ بِبَابِ الْكُوفَةِ لِيَسْمَعُوا مِنْهُ فَاجْتمع النس فحزر مَنْ حَضَرَ مَجْلِسَهُ لِسَمَاعِ الْحَدِيثِ فَقِيلَ نَحْوَ ثَلاثِينَ أَلْفًا وَكَانَ المستملون ثَلَاثمِائَة وَسِتَّةَ عَشَرَ
আবু আল-মুজাফফর আব্দুল মুনয়িম ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে হাওয়াজিন আল-কুশায়রি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মৌখিক অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আদ-দারবান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-বুখারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আবু নাসর আহমদ ইবনে আবি হামিদ আল-বাহিলি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا), আমি ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে খালাফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আলী সালিহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদিকে বলতে শুনেছি যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (ইমাম বুখারি) বাগদাদে বসতেন এবং আমি তাঁর শ্রুতিলেখক (مستملي) হিসেবে কাজ করতাম। তখন তাঁর মজলিসে বিশ হাজারের বেশি মানুষ সমবেত হতো।
আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে মারজুক আজ-জাফরানি আমাকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আস-সাবিতি তাঁর নিকট পাঠ করার (قراءة عليه) মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আবু সাদ আল-মালিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), আবু আহমদ ইবনে আদি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا), আমি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে খালিদকে বলতে শুনেছি যে, বসরায় আমর ইবনে মারজুকের মজলিসের চেয়ে বড় কোনো মজলিস ছিল না; সেখানে দশ হাজার মানুষ উপস্থিত থাকত। ইবনে আদি বলেন: আমরা আল-ফিরইয়াবির মজলিসে উপস্থিত হতাম এবং সেখানে দশ হাজার বা তার বেশি মানুষ উপস্থিত থাকত।
আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল কারিম আল-কাকি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবুল হাসান আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার আত-তুয়ুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আমি আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আল-আতিকিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমাদের শায়খ আবু ফজল আজ-জুহরিকে বলতে শুনেছি যে, যখন আমি জাফর আল-ফিরইয়াবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন)-এর নিকট থেকে হাদিস শুনতাম, তখন তাঁর মজলিসে দোয়াতধারী (অর্থাৎ যারা লিখে নিতেন) ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল প্রায় দশ হাজার। এখন আমি ছাড়া তাদের আর কেউ অবশিষ্ট নেই, তবে যারা লিখত না তাদের কথা ভিন্ন।
আবু হাফস উমর ইবনে জুফর আল-মাগাজিলি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবুল হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার আত-তুয়ুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আল-আতিকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার শায়খ উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আজ-জায়্যাত থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি বলেছেন: যখন আবু বকর জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি বাগদাদে আগমন করেন, তখন তাঁকে বহু নৌযানের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। মানুষ তাঁর নিকট থেকে হাদিস শোনার জন্য 'বাবু কূফা'র 'শারে মানার' নামক স্থানে সমবেত হওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। অতঃপর সেখানে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল এবং হাদিস শোনার জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রায় ত্রিশ হাজার বলে অনুমান করা হয়েছিল; আর সেখানে শ্রুতিলেখক (مستملون) ছিলেন তিনশ ষোল জন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بِبَابِ الشَّامِ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْحَافِظُ مِنْ لَفْظِهِ أَنا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ كُنَّا نَحْضُرُ مَجْلِسَ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْهُجَيْمِيِّ لِلْحَدِيثِ فَكَانَ يَجْلِسُ عَلَى سَطْحٍ لَهُ ويمتلىء شَارِع بالهجيم بِالنَّاسِ الَّذِينَ يَحْضُرُونَ لِلسَّمَاعِ وَيَبْلُغُ الْمُسْتَمْلُونَ عَنِ الْهُجَيْمِيِّ قَالَ وَكُنْتُ أَقُومُ فِي السَّحَرِ فَأَجِدُ النَّاسَ قَدْ سَبَقُونِي وَأَخَذُوا مَوَاضِعَهُمْ وَحُسِبَ الْمَوْضِعُ الَّذِي يَجْلِسُ النَّاسُ فِيهِ وَكُسِرَ فَوُجِدَ مَقْعَدُ ثَلاثِينَ أَلْفَ رجل
قَرَأت بِخَط وَالَّذِي رحمه الله عَنْ أَبِي صَالِحٍ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْمُؤَذِّنِ الْحَافِظِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ أَنَّهُ قَالَ عُدَّ فِي مَجْلِسِ السَّيِّدِ أَبِي الْحَسَنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْعَدَوِيِّ رحمه الله أَلْفَ مَحْبَرَةٍ قَالَ رضه فَرَحِمَ اللَّهُ السَّلَفَ الْمَاضِينَ كَانَ الْعِلْمُ مَطْلُوبًا فِي زَمَانِهِمْ وَالرُّغْبَابُ مُتَوَافِرَةٌ وَالْجُمُوعُ مُتَكَاثِرَةٌ فَالآنَ خُمِدَ نَارُهُ وَقَلَّ شَرَارُهُ وَكُسِدَ سُوقُهُ حَتَّى سَمِعْتُ أَبَا حَفْصٍ عُمَرَ بْنَ ظُفْرٍ الْمُغَازِلِيَّ بِبَغْدَادَ مُذَاكَرَةً يَقُولُ فَرَغْنَا مِنْ إِمْلاءِ الشَّيْخِ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ يُوسُفَ فَطَلَبْنَا مَحْبَرَةً نَكْتُبُ مِنْهَا أَسَامِي مَنْ حَضَرَ فَمَا وَجَدْنَا
(وَمِنَ الْخُلَفَاءِ مَنِ اشْتَهَى أَنْ يَعْقِدَ مَجْلِسَ الإِمْلاءِ لِنَفْسِهِ وَرَغَبَ فِي ذَلِكَ) أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْقُوبَ يُوسُفُ بْنُ أَيُّوبَ الْهَمَذَانِيُّ بِمَرْوَ وَأَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ السَّاجِيُّ بِبَغْدَادَ قَالَا ثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْهَاشِمِيُّ مِنْ لَفْظِهِ ثَنَا أَبُو حَاتِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْخُزَاعِيُّ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَنْبَرِيُّ الأَصْبَهَانِيّ سَمِعْتُ الْفَضْلَ بْنَ الْحُبَابِ يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سَلامٍ الْجُمَحِيَّ يَقُولُ قِيلَ لِلْمَنْصُورِ هَلْ بَقِيَ مِنْ لَذَّاتِ الدُّنْيَا شَيْءٌ لَمْ تَنَلْهُ قَالَ بَقِيَتْ خَصْلَةٌ أَنْ أَقْعُدَ فِي مَصْطَبَةٍ وَحَوْلِي أَصْحَابُ الْحَدِيثِ فَيَقُولُ الْمُسْتَمْلِي مَنْ ذَكَرْتَ رَحِمَكَ اللَّهُ قَالَ فَغَدَا عَلَيْهِ النُّدَمَاءُ وَأَبْنَاءُ الْوُزَرَاءِ بِالْمَحَابِرِ وَالدَّفَاتِرِ فَقَالَ لَسْتُمْ بِهِمْ إِنَّمَا هُمُ الدَّنَسَةُ ثِيَابَهُمْ الْمُتْشَقِّقَةُ أَرْجُلَهُمْ الطَّوِيلَةُ شُعُورَهُمْ بُرْدُ الآفَاقِ وَنَقَلَةُ الْحَدِيثِ
আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আমাদের ‘বাব আশ-শাম’-এ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ (الحافظ) আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত, তার নিজস্ব উচ্চারণ থেকে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-বাসরি। তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা হাদিসের জন্য আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলী আল-হুজায়মীর মজলিসে উপস্থিত হতাম। তিনি তার একটি ছাদের ওপর বসতেন এবং হুজায়ম মহল্লার রাস্তাটি শোনার জন্য উপস্থিত হওয়া মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যেত। হুজায়মীর পক্ষ থেকে উচ্চস্বরে পুনরুক্তিকারীদের (المستملون) সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি বলেন: আমি শেষ রাতে (সাহরির সময়) উঠতাম, কিন্তু দেখতাম মানুষ আমার আগেই সেখানে পৌঁছে গেছে এবং তাদের স্থান দখল করে নিয়েছে। যে স্থানে মানুষ বসত, সেই স্থানটি পরিমাপ করে হিসাব করা হয়েছিল এবং দেখা গিয়েছিল সেখানে ত্রিশ হাজার লোকের বসার জায়গা রয়েছে।
আমি আমার পিতার (আল্লাহ তাকে রহম করুন) হস্তলিপিতে হাফেজ (الحافظ) আবু সালিহ আহমাদ বিন আব্দুল মালিক আল-মুয়াযযিন থেকে পড়েছি (ইনশাআল্লাহ), তিনি বলেন: সাইয়্যেদ আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আদাবীর (রহ.) মজলিসে এক হাজার দোয়াত (কালি রাখার পাত্র) গণনা করা হয়েছিল। গ্রন্থকার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহ অতীত সালাফদের প্রতি রহম করুন; তাদের যুগে ইলম বা জ্ঞানের চাহিদা ছিল, আগ্রহ ছিল প্রচুর এবং জনসমাগম ছিল বিশাল। আর এখন সেই ইলমের আগুন নিভে গেছে, তার স্ফুলিঙ্গ কমে গেছে এবং এর বাজার মন্দা হয়ে পড়েছে। এমনকি আমি বাগদাদে আবু হাফস উমর বিন যুফার আল-মুগাযিলিকে আলোচনা প্রসঙ্গে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা শায়খ আবু আল-ফাদল বিন ইউসুফের শ্রুতিলিপি (إملاء) প্রদান থেকে অবসর নিলাম, অতঃপর যারা উপস্থিত ছিল তাদের নাম লেখার জন্য একটি দোয়াত খুঁজলাম, কিন্তু আমরা তা পেলাম না।
(খলিফাদের মধ্য হতে এমন কেউ ছিলেন যিনি নিজে শ্রুতিলিপি (إملاء) প্রদানের মজলিস আয়োজন করতে চাইতেন এবং এই বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন) আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন আইয়ুব আল-হামাযানী মার্ভ শহরে এবং আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আস-সাজি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-হাশিমী, তার নিজস্ব শব্দে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-খুজায়ী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনবারী আল-আসফাহানী। আমি ফাদল বিন আল-হুবাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন সালাম আল-জুমাহিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: (খলিফা) মনসুরকে জিজ্ঞেস করা হলো, "দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের মধ্যে কি এমন কিছু বাকি আছে যা আপনি পাননি?" তিনি বললেন, "একটি বৈশিষ্ট্য বাকি আছে; তা হলো আমি একটি উঁচু মঞ্চে বসব এবং আমার চারপাশে হাদিসের অনুসারীরা (أصحاب الحديث) থাকবে, অতঃপর উচ্চস্বরে পুনরুক্তিকারী (المستملي) বলবে— 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কার কথা উল্লেখ করেছেন?'" বর্ণনাকারী বলেন: পরদিন সকালে সভাসদগণ এবং মন্ত্রীদের সন্তানরা দোয়াত ও খাতা নিয়ে তার কাছে উপস্থিত হলো। তখন তিনি বললেন, "তোমরা তারা নও। তারা তো সেইসব লোক যাদের কাপড় ময়লাযুক্ত, যাদের পা ফাটা, যাদের চুল লম্বা—যারা দেশ-বিদেশের দিগন্ত ভ্রমণকারী এবং হাদিসের বর্ণনাকারী (نقلة الحديث)।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي النَّصْرِيُّ بِبَابِ الشَّامِ فِي مَنْزِلِهِ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْحَافِظُ مِنْ لَفْظِهِ أَنْبَأَنَا أَبُو سَعْدٍ الْمَالِينِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بن مَنْصُور زاج يَقُولُ سَمِعْتُ النَّضْرَ بْنَ شُمَيْلٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ الْمَأْمُونَ يَقُولُ مَا اشْتَهِي مِنْ لَذَّاتِ الدُّنْيَا إِلا أَنْ يَجْتَمِعَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ عَنْدي وَيَجِيءُ الْمُسْتَمْلِي فَيَقُولُ مَنْ ذَكَرْتَ أَصْلَحَكَ اللَّهُ
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّلامِيُّ مِنْ لَفْظِهِ وَأَبُو مَنْصُورٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ جَمِيعًا بِبَغْدَادَ قَالَا أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيُّ أَنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْفَالِيُّ أَنا أَحْمَدُ بن إِسْحَاق النهاوندي أَنا أَنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ خَلادٍ الْقَاضِي حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ خَرْزَاذَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُونُسَ النَّصْرِيُّ ثَنَا أَبُو غَسَّانَ نَصْرُ بْنُ مَنْصُورٍ الطَّفَاوِيُّ ثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ دَخَلَ الْمَأْمُونُ مِصْرَ فَقَامَ إِلَيْهِ فَرَجٌ النُّوبِيُّ أَبُو حَرْمَلَةَ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَاكَ أَمْرَ عَدُوِّكَ وَأَدَانَ لَكَ الْعِرَاقَيْنِ وَالْحَرَمَيْنِ وَالشَّأْمَاتِ وَالْجَزِيرَةِ وَالثُّغُورِ وَالْعَوَاصِمِ وَأَنْتَ الْعَالِمُ بِاللَّهِ وَابْنُ عَمّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَيْلَكَ يَا فَرَجُ أَوْ قَالَ وَيْحَكَ قَدْ بَقِيَتْ لِي خُلَّةٌ قَالَ وَمَا هِيَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ جُلُوسٌ فِي عَسْكَرٍ وَمُسْتَمْلٍ يَجِيءُ قَالَ إِبْرَاهِيمُ الْعَسْكَرُ الْجَنَاحُ يَقُولُ مَنْ ذَكَرْتَ رَضِيَ الله عَنْك فَأَقُول حَدثنَا عَفَّان الْحَمَّادَانِ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ دِينَارٍ وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدِ بْنِ دِرْهَمَ قَالَا ثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ عَن أنس بن مَالك رضه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ عَالَ ابْنَيْنِ أَوْ ثَلاثًا أَوْ أُخْتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا حَتَّى يَمُتْنَ أَوْ يَمُوتَ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ وَأَوْمَأَ حَمَّادٌ بِإِصْبُعِهِ الْوُسْطَى قَالَ رضه فِي هَذَا الْخَيْر غَلَطٌ فَاحِشٌ وَيُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ الْمَأْمُونُ رَوَاهُ عَنْ رَجُلٍ عَنِ الحماد بن وَذَلِكَ أَنَّ مَوْلِدَ الْمَأْمُونِ كَانَ فِي سَنَةِ سَبْعِينَ وَمِائَةٍ وَمَاتَ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ فِي سَنَةِ سَبْعٍ وَسِتِّينَ وَمِائَةٍ قَبْلَ مَوْلِدِهِ بِثَلاثِ سِنِينَ وَأَمَّا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ فَمَاتَ فِي سَنَةِ سَبْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ
আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আন-নাসরি আমাদের শাম দেশের ফটকে তাঁর নিজ বাসভবনে অবহিত করেছেন (أخبرنا); তিনি বলেন, আহমদ বিন আলি বিন সাবিত আল-খতিব আল-হাফিজ (الحافظ) আমাদের তাঁর নিজ মুখনিসৃত শব্দে বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন, আবু সাদ আল-মালিনি আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا); তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-হাফিজ (الحافظ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আমাদের অবহিত করেছেন (أنا); আমি আহমদ বিন মানসুর জাজ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নাদর বিন শুমাইলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আমিরুল মুমিনিন আল-মামুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "পার্থিব জগতের স্বাদ-আহ্লাদ থেকে আমি আর কিছুই আকাঙ্ক্ষা করি না, কেবল এটি ছাড়া যে, আমার নিকট হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) সমবেত হবেন এবং মুস্তামলি (المستملي) এসে বলবে: 'আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আপনি কার কথা উল্লেখ করেছেন?'"
আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন নাসির বিন মুহাম্মদ আস-সালামি তাঁর নিজ কণ্ঠে এবং আবু মনসুর আহমদ বিন আলি বিন আহমদ আল-মাকদিসি—আমি তাঁদের উভয়ের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে—বাগদাদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফি আমাদের অবহিত করেছেন (أنا); তিনি বলেন, আলি বিন আহমদ বিন আলি আল-ফালি আমাদের অবহিত করেছেন (أنا); তিনি বলেন, আহমদ বিন ইসহাক আল-নাহাওয়ান্দি আমাদের অবহিত করেছেন (أنا); তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ বিন খাল্লাদ আল-কাদি আমাদের অবহিত করেছেন (أنا); তিনি বলেন, আহমদ বিন মাহমুদ বিন খারজাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني); তিনি বলেন, ইব্রাহিম বিন ইউনুস আন-নাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন, আবু গাসসান নাসর বিন মানসুর আত-তাফাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন, আবু আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ বর্ণনা করেছেন যে, আল-মামুন মিশরে প্রবেশ করলে ফরাজ আন-নুবি আবু হারমালাহ তাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আপনার শত্রুর বিষয়ে আপনার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং আপনার জন্য ইরাকাইন, হারামাইন, শামত, জাজিরা, সীমান্ত অঞ্চল ও রাজধানীসমূহকে বশীভূত করে দিয়েছেন। আপনি আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানী এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই।" তিনি বললেন: "তোমার জন্য পরিতাপ হে ফরাজ!" অথবা বললেন: "আফসোস তোমার জন্য! আমার একটি আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রয়ে গেছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, সেটি কী?" তিনি বললেন: "সৈন্যদলের (বা সভার এক পার্শ্বে) উপবেশন করা এবং সেখানে মুস্তামলি (المستملي) আসবে।" ইব্রাহিম বলেন: এখানে সৈন্যদল বলতে সভার 'পার্শ্বভাগ' বোঝানো হয়েছে। সে (মুস্তামলি) বলবে: "আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন, আপনি কার কথা উল্লেখ করেছেন?" তখন আমি বলব: আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি দুই হাম্মাদ অর্থাৎ হাম্মাদ বিন সালামাহ বিন দিনার এবং হাম্মাদ বিন জাইদ বিন দিরহাম থেকে; তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট সাবিত আল-বুনানি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি দুই বা তিন কন্যাকে অথবা দুই বা তিন বোনকে লালন-পালন করবে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত অথবা নিজের মৃত্যু পর্যন্ত, আমি এবং সে জান্নাতে এই দুটির ন্যায় থাকব।" আর হাম্মাদ তাঁর মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন। তিনি (লেখক) বলেন: এই বর্ণনায় (الخبر) জঘন্য ভুল (غلط فاحش) রয়েছে। আর এটি প্রতীয়মান হয় যে, আল-মামুন এটি কোনো এক ব্যক্তির মাধ্যমে দুই হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه)। কারণ আল-মামুনের জন্ম হয়েছিল ১৭০ হিজরি সনে, আর হাম্মাদ বিন সালামাহ মৃত্যুবরণ করেছেন ১৬৭ হিজরি সনে—তাঁর জন্মের তিন বছর পূর্বে। আর হাম্মাদ বিন জাইদ মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭৭ হিজরি সনে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شِمْرٍ الْقَاضِي قَرَأْتُ عَلَيْهِ بِمَرَسْتَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ الشَّيْرَازِيُّ الْحَافِظُ أَنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْكَاتِبُ بِذَبَّسْنَ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الرِّقِّيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْقَاضِي ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ المقرىء ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ قَالَ قَالَ لِيَ الرَّشِيدُ مَا أَنْبَلُ الْمَرَاتِبِ قُلْتُ مَا أَنْتَ فِيهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ فَتَعْرِفُ أَجَلَّ مِنِّي قُلْتُ لَا قَالَ لَكِنِّي أَعْرِفُهُ رَجُلٌ يَقُولُ فِي حَلَقَةٍ يَقُولُ حَدَّثَنَا فُلانٌ عَنْ فُلانٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَلِيُّ عَهْدِ الْمُسْلِمِينَ قَالَ نَعَمْ وَيْلَكَ هَذَا خَيْرٌ مِنِّي لأَنَّ اسْمَهُ مُقْتَرِنٌ بِاسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَمُوتُ أَبَدًا نَحْنُ نَمُوتُ وَنَفْنَى وَالْعُلَمَاءُ بَاقُونَ مَا بَقِيَ الدَّهْرُ
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي النَّصْرِيُّ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى الشَّيْرَازِيُّ الْوَاعِظُ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْقَاسِمِ الْكَوْكَبِيُّ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْكُدَيْمِيُّ ثَنَا عُمَرُ
আবু নাসর আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিমর আল-কাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আমি মারাসতে তাঁর নিকট এটি পাঠ করেছি। তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়ারিথ আল-শিরাজি আল-হাফিজ (الحافظ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا)। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-কাতিব যাব্বাসনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا)। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-রিক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا)। তিনি বলেন: আহমদ ইবনে উবাইদ ইবনে আহমদ ইবনে উবাইদ আস-সাফফার আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا)। তিনি বলেন: আহমদ ইবনে আলী আল-কাজী আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا)। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثনা)। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুকরি (المقرئ) আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثনা)। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا)। তিনি বলেন: হারুন আল-রশিদ আমাকে বললেন, "সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান কোনটি?" আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি যে অবস্থানে আছেন সেটিই।" তিনি বললেন, "আপনি কি আমার চেয়েও মহান কাউকে চেনেন?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "কিন্তু আমি তাকে চিনি। তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি কোনো এক ইলমি মজলিসে (حلقة) বলেন: 'অমুক আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) অমুক হতে (عن), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন...।'" (ইয়াহইয়া বলেন:) আমি বললাম, "তিনি কি মুসলিমদের যুবরাজ (খলিফার উত্তরাধিকারী) অপেক্ষাও মহান?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তোমার জন্য আফসোস! এটি আমার চেয়েও উত্তম; কারণ তার নাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আমরা মারা যাব এবং বিলীন হয়ে যাব, কিন্তু যুগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলেমগণ অবশিষ্ট থাকবেন।"
আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি আন-নাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আল-হাফিজ (الحافظ) আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا)। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা আল-শিরাজি আল-ওয়ায়েজ (الواعظ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)। তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইমরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا)। তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে আল-কাসিম আল-কাওকাবি আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا)। তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আল-কুদাইমি আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا)। তিনি বলেন: উমর...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بْنُ حَبِيبٍ الْعَدَوِيُّ الْقَاضِي قَالَ قَالَ لي أَمِير المومنين الْمَأْمُونُ مَا طَلَبَتْ مِنِّي نَفْسِي شَيْئًا إِلا وَقَدْ نَالَتْهُ مَا خَلا هَذَا الْحَدِيثَ فَإِنِّي كُنْتُ أُحِبُّ أَنْ أَقْعُدَ عَلَى كُرْسِيٍّ وَيُقَالُ لِي مَنْ حَدَّثَكَ فَأَقُولُ حَدَّثَنِي فُلانٌ قَالَ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَلِمَ لَا تُحَدِّثُ قَالَ لَا يَصْلُحُ الْمُلْكُ وَالْخِلافَةُ مَعَ الحَدِيث للنَّاس قَالَ رضه كَانَ الْمَأْمُونُ أَعْظَمَ خُلَفَاءِ بَنِي الْعَبَّاسِ عِنَايَةً بِالْحَدِيثِ كَثِيرَ الْمُذَاكَرَةِ بِهِ شَدِيدَ الشَّهْوَةِ لِرَوَايَتِهِ مَعَ أَنَّهُ قَدْ حَدَّثَ أَحَادِيثَ كَثِيرَةً لِمَنْ كَانَ يَأْنَسُ بِهِ مِنْ خَاصَّتِهِ وَكَانَ يُحِبُّ إِمْلاءَ الْحَدِيثِ فِي مَجْلِسٍ عَامٍّ يَحَضَرُ سَمَاعَهُ كُلُّ أَحَدٍ فَكَانَ يُدَافِعُ نَفْسَهُ بِذَلِكَ حَتَّى عَزَمَ عَلَى فِعْلِهِ فِيمَا حَدَّثَنَا أَبُو الأَسْعَدِ هِبَةُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ هَوَازِنَ الْقُشَيْرِيُّ إِمْلاءً بِنَيْسَابُورَ فِي الْكَرَّةِ الثَّالِثَةِ أَنا الْقَاضِي أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الطَّبَسِيُّ الْحَافِظُ وَأَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَحْمِيَّ قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا وَأَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَبِي عَلِيٍّ الْفَارَمَذِيُّ بِطُوسٍ وَأَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْجُرْجَانِيُّ وَأَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ الْكَاتِبُ بِمَرْوَ وَأَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْفَرَوِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالُوا أَنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَحْمِيُّ وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَامِعٍ الصَّيْرَفِيُّ خَيَّاطُ الصُّوفِ بنيسابور أناأبو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ الشَّيْرَازِيُّ قَالُوا أَنا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ الْقَنْطَرِيُّ بِبَغْدَادَ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ فَهْمٍ ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ الْقَاضِي قَالَ قَالَ لِيَ الْمَأْمُونُ يَوْمًا يَا يَحْيَى إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُحَدِّثَ فَقُلْتُ وَمَنْ أَوْلَى بِهَذَا مِنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَ ضَعُوا لِي مَنْبَرًا بِالْحَلَبَةِ فَصَعَدَ وَحَدَّثَ فَأَوَّلُ حَدِيثٍ حَدَّثَنَاهُ عَنْ هُشَيْمٍ عَنْ أَبِي الْجَهْمِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَن أبي هُرَيْرَة رضه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ امْرُؤُ الْقَيْسِ صَاحِبُ لِوَاءِ الشُّعَرَاءِ إِلَى النَّارِ ثُمَّ حَدَّثَ بِنَحْوٍ مِنْ ثَلاثِينَ حَدِيثًا ثُمَّ نَزَلَ فَقَالَ يَا يَحْيَى كَيْفَ رَأَيْتَ مَجْلِسَنَا قُلْتُ أَجَلُّ مَجْلِسٍ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ تَفَقَّهَ الْخَاصَّةُ وَالْعَامَّةُ فَقَالَ يَا يَحْيَى وَحَيَاتِكَ مَا رَأَيْتُ لَكُمْ حَلاوَةً إِنَّمَا الْمَجْلِسُ لأَصْحَابِ الْخِلْقَانِ وَالْمَحَابِرِ يَعْنِي أَصْحَابَ الْحَدِيثِ
...ইবন হাবিব আল-আদাবী আল-কাজী বলেন: আমিরুল মুমিনীন আল-মামুন আমাকে বলেছিলেন, "আমার নফস আমার কাছে এমন কিছু কামনা করেনি যা সে পায়নি; শুধু এই হাদিস বর্ণনার বিষয়টি ব্যতীত। কেননা আমি পছন্দ করতাম যে, আমি একটি আসনে বসব এবং আমাকে জিজ্ঞেস করা হবে— 'আপনাকে কে বর্ণনা শুনিয়েছেন?' আর আমি বলব— 'আমাকে অমুক বর্ণনা শুনিয়েছেন'।" তিনি বলেন, আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনীন, তবে আপনি কেন হাদিস বর্ণনা করেন না?" তিনি বললেন: "সাধারণ মানুষের নিকট হাদিস বর্ণনার সাথে রাজত্ব ও খিলাফত সংগত হয় না।" তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন, বনু আব্বাসের খলিফাদের মধ্যে আল-মামুনই ছিলেন হাদিসের প্রতি সর্বাধিক যত্নবান, তিনি অধিক পরিমাণে হাদিস নিয়ে পর্যালোচনা (مذاكرة) করতেন এবং হাদিস বর্ণনার (رواية) প্রতি তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ ও বিশেষ ব্যক্তিদের নিকট অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি সাধারণ মজলিসে হাদিস শ্রুতিলিখনের (إملاء) মজলিস পরিচালনা করতে পছন্দ করতেন, যেখানে প্রত্যেকের শ্রবণ (سماع) করার সুযোগ থাকত। তিনি নিজের এই আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতেন, অবশেষে তিনি তা করার সংকল্প করলেন। যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আসআদ হিবাতুর রহমান ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আব্দুল কারীম ইবন হাওয়াজিন আল-কুশায়রী নিশাপুরে তাঁর তৃতীয় সফরে শ্রুতিলিখনের (إملاء) মাধ্যমে; তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) কাজী আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবি জাফর আত-তাবাসি সংরক্ষণকারী (حافظ) এবং আবু আমর উসমান ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদুল্লাহ আল-মাহমি—তাঁদের নিকট পাঠের (قراءة) মাধ্যমে; এবং আমি আবু বকর আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আবি আলী আল-ফারামাদি তুস-এ, আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হাসান আল-জুরজানি, আবু আলী আল-হুসাইন ইবন আলী ইবন আল-হুসাইন আল-কাতিব মার্ভ-এ এবং আবু আল-বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-ফাদল আল-ফারওয়ী নিশাপুরে—তাঁরা সবাই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আমর উসমান ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদুল্লাহ আল-মাহমি; এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু সা'দ মুহাম্মদ ইবন জামি' আস-সাইরাফি নিশাপুরে, তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর আহমদ ইবন আলী ইবন খালাফ আশ-শিরাজি, তাঁরা সবাই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ সংরক্ষণকারী (حافظ), তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন তামীম আল-কান্তারি বাগদাদে, তিনি বলেন— আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হুসাইন ইবন ফাহম, তিনি বলেন— আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াহইয়া ইবন আকসাম আল-কাজী, তিনি বলেন: একদিন আল-মামুন আমাকে বললেন, "হে ইয়াহইয়া, আমি হাদিস বর্ণনা করতে চাই।" আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনীন, এ কাজের জন্য আপনার চেয়ে অধিক উপযুক্ত আর কে আছে?" অতঃপর তিনি বললেন, "আমার জন্য ঘোড়দৌড়ের ময়দানে একটি মিম্বর স্থাপন করো।" এরপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং হাদিস বর্ণনা করলেন। তিনি প্রথম যে হাদিসটি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) তা হুশাইম-এর সূত্রে আবু আল-জাহম থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইমরুল কায়েস হলো কবিদের পতাকাবাহী যে জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে।" এরপর তিনি প্রায় ত্রিশটি হাদিস বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে বললেন, "হে ইয়াহইয়া, আমাদের মজলিস কেমন দেখলে?" আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনীন, এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মজলিস, যেখানে বিশিষ্ট ও সাধারণ সবাই গভীর জ্ঞান অর্জন (تفقه) করেছে।" তিনি বললেন, "হে ইয়াহইয়া, তোমার জীবনের কসম! আমি তোমাদের মাঝে কোনো মাধুর্য দেখিনি। প্রকৃত মজলিস তো জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত এবং দোয়াত বহনকারীদের মজলিস।" অর্থাৎ হাদিস বিশারদদের (أصحاب الحديث) মজলিস।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ بْنِ أَحْمَدَ الأَنْمَاطِيُّ الْحَافِظُ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْحَطَّابِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ طَاهِرٍ الْقَطَّانُ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْخَوَارِزْمِيُّ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَمْرَوَيْهِ الإِسْفَرَايِنِيُّ بِهَا إِمْلاءً سَمِعْتُ خَيْثَمَةَ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ الْقُرَشِيَّ بِأَطْرَابُلْسَ يَقُولُ سَمِعْتُ بن أَبِي الْخَنَاجِرِ يَقُولُ كُنَّا فِي مَجْلِسٍ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ بِبَغْدَادَ وَالنَّاسُ قَدِ اجْتَمَعُوا فِيهِ فَمَرَّ الْمُتَوَكِّلُ مَعَ جَيْشِهِ فَنَظَرَ إِلَى مَجْلِسِ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهِ قَالَ هَذَا الْمُلْكُ قَالَ رضه هَكَذَا رَوَاهُ خَيْثَمَةُ وَفِيهِ وَهْمٌ فَاحِشٌ وَذَلِكَ أَنَّ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ مَاتَ فِي سَنَةِ سِتٍّ وَمِائَتَيْنِ وَلَعَّلَ مَنْ مَرَّ بِيَزِيدَ بْنِ هَارُونَ هُوَ الْمَأْمُونُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَقُرْبٌ مِنْ هَذِهِ الْحِكَايَةِ مَا أَخْبَرَنَاهُ أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْوَزْوَانِيُّ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْحَافِظُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ ثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ يَزِيدَ الْهَمَذَانِيُّ بِمَكَّةَ ثَنَا عُبَيْدُ بْنُ الْقَاسِمِ الرِّقِّيُّ ثَنَا أَشْعَثُ بْنُ شُعْبَةَ المصِّيصِي قَالَ الْغَبْرَةَ قَدِ ارْتَفَعَتْ وَالْمَقَالَ قَدْ تَقَطَّعَ وَانْجَفَلَ النَّاسُ فَقَالَتْ مَا هَذَا قَالُوا عَالِمٌ مِنْ خُرَاسَانَ يُقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ فَقَالَتْ هَذَا وَاللَّهِ الْمُلْكُ لَا مُلْكُ هَارُونَ الَّذِي لَا يَحْمَدُهُ النَّاسُ إِلا بِالسُّوطِ وَالْخَشَبِ
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الشَّاهِدُ بِبَغْدَادَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْحَافِظُ مِنْ لَفْظِهِ أَخْبَرَنِي أَبُو الْقَاسِمِ الأَزْهَرِيُّ أَنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى الدَّقَّاقُ أَنا أَبُو الْفَرَجِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الأَصْبَهَانِيُّ حَدَّثَنِي عَمِّي حَدَّثَنِي بن أَبِي سَعْدٍ حَدَّثَنِي حُسَيْنُ بْنُ أَبِي قَدَّاسٍ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ دَاوُدَ يَقُولُ دَخَلَ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ فَرَأَى أَصْحَابَ الْحَدِيثِ خَلَفَ رَجُلٍ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ مُلازِمِينَ لَهُ فَالْتَفَتَ إِلَى من مَعَه فَقَالَ أَن يَطَأَ هَؤُلاءِ عَقِبِي كَانَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الْخِلافَةِ
বাগদাদ নিবাসী হাফেজ (الحافظ) আবু আল-বারাকাত আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক বিন আহমদ আল-আনমাতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-খাত্তাব ইবরাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন তাহির আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলী বিন আমরওয়াইহ আল-ইসফারাযিনি সেখানে শ্রুতিলিখনের (إملاء) মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا): আমি ত্রিপোলিতে খাইসামাহ বিন সুলায়মান বিন হায়দারা আল-কুরাশিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবিল খানাজিরকে বলতে শুনেছি যে, আমরা বাগদাদে ইয়াজিদ বিন হারুনের মজলিসে ছিলাম এবং সেখানে মানুষজন সমবেত হয়েছিল। তখন আল-মুতাওয়াক্কিল তার সেনাবাহিনীসহ সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ইয়াজিদ বিন হারুনের মজলিসের দিকে তাকালেন এবং তা দেখে বললেন: "এটাই প্রকৃত রাজত্ব।" তিনি (গ্রন্থকার) রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: খাইসামাহ এভাবেই বর্ণনা করেছেন, তবে এতে মারাত্মক বিভ্রম (وهم فاحش) রয়েছে। কারণ ইয়াজিদ বিন হারুন ২০৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন। সম্ভবত যিনি ইয়াজিদ বিন হারুনের মজলিস অতিক্রম করেছিলেন তিনি ছিলেন আল-মামুন। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এই গল্পের কাছাকাছি একটি বর্ণনা আমাদের কাছে হাফেজ (الحافظ) আবু সাদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ ইসফাহানে আমার কিরাআতের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ওয়াজওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ বিন মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মক্কায় আবু আলী আল-হুসাইন বিন ইয়াজিদ আল-হামদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: উবাইদ বিন আল-কাসিম আর-রিক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আশআস বিন শুবা আল-মাসিসসি বর্ণনা করেছেন যে, (একবার) ধুলোবালি উড়ছিল এবং কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর মানুষ দলে দলে ছুটছিল। তখন তিনি (তৎকালীন মহীয়সী নারী) জিজ্ঞেস করলেন, "এটা কী?" তারা বলল, "খুরাসানের একজন আলেম, তাকে আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক বলা হয়।" তখন তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! এটাই প্রকৃত রাজত্ব, হারুনের রাজত্ব নয়; যাকে মানুষ চাবুক ও লাঠির ভয় ছাড়া প্রশংসা করে না।"
বাগদাদের সাক্ষ্যদানকারী (الشاهد) আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ (الحافظ) আহমদ বিন আলী বিন সাবিত স্বীয় মুখনিসৃত শব্দের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا): আবু আল-কাসিম আল-আজহারি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফারাজ আলী বিন আল-হুসাইন আল-ইসফাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: ইবনে আবি সাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: হুসাইন বিন আবি কাদ্দাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি মুসা বিন দাউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন সুলায়মান বিন আলী মসজিদে হারামে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, হাদিস অন্বেষণকারীরা (أصحاب الحديث) একজন হাদিস বিশারদ (محدث) এর পেছনে রয়েছেন এবং তার সঙ্গ ছাড়ছেন না। তখন তিনি তার সঙ্গীদের দিকে ফিরে বললেন: "এই লোকগুলো আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে—এটি আমার কাছে খিলাফতের চেয়েও অধিক প্রিয়।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
(وَمِنَ الْمُتَأَخِّرِينَ جَمَاعَةٌ حَدَّثُوا وَعَقَدُوا الْمَجَالِسَ مِنْهُمْ بِبَغْدَادَ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ رِزْقَوَيْهِ الْبَزَّازُ وَأَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ وَأَخُوهُ أَبُو الْقَاسِمِ)وَأَبُو الْفَتْحِ بْنُ أَبِي الْفَوَارِسِ الْحَافِظُ وَأَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بن عبد اللَّهِ الْحُرْفِيُّ وَبِنَيْسَابُورَ أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمَشٍ الزِّيَادِيُّ وَالْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ السُّلَمِيُّ وَالْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحِيرِيُّ وَأَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّرَّاجُ وَأَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّد الإسقرايني وَبِأَصْبَهَانَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْدَةَ الْحَافِظُ وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجُرْجَانِيُّ وَأَبُو نُعَيْم أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ وَبِالْبَصْرَةِ عِيسَى بْنُ غَسَّانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَبِيبٍ الْمَتُّوثِيُّ وَبِهَمَذَانَ أَبُو طَاهِرِ بْنُ سَلَمَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَزَّازُ وَبِمَرْوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرِيُّ وَأَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الْقَفَّالُ وَأَبُو مُحَمَّدٍ الشيرنخشري وَأَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ شُعَيْبٍ السَّنْجِيُّ وَجَدُّ وَالِدِي أَبُو مَنْصُورٍ الْقَاضِي السَّمْعَانِيُّ وَجَدِّي وَوَالِدِي رحمهم الله وَجَمَاعَةٌ سِوَاهُمْ كَثِيرَةٌ وَكَانَ كَافَّةُ مَنْ أَدْرَكْنَاهُ مِنْ شُيُوخِنَا كُنَّا نَقْرَأُ عَلَيْهِمْ قِرَاءَةً وَبَعْضُهُمْ كَانَ يَجْعَلُ فِي كُلِّ أُسْبُوعٍ يَوْمًا لِلإِمْلاءِ خَاصَّةً وَبَقِيَّةُ الأَيَّامِ لِلْقِرَاءَةِ فَمِنْ شُيُوخِنَا الَّذِينَ حَضَرْنَا مَجَالِسَهُمْ لِكُتْبَةِ الإِمْلاءِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ السَّرْخَسِيُّ الإِمَامُ وَأَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْفَرْغُولِيُّ وَأَبُو نَصْرٍ طَاهِرُ بْنُ مَهْدِيٍّ الطَّبَرِيُّ بِمَرْوَ وَأَبُو مُحَمَّدٍ الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزِّيَادِيُّ بِسَرْخَسَ وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفُرَاوِيُّ
(পরবর্তী যুগের (المتأخرين) একদল আলেম হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং মজলিস কায়েম করেছেন। তাঁদের মধ্যে বাগদাদে ছিলেন আবু আল-হাসান ইবনে রিজকওয়াইহ আল-বাজ্জাজ, আবু আল-হুসাইন ইবনে বিশরান এবং তাঁর ভাই আবু আল-কাসিম।)এবং হাফিজ (الحافظ) আবু আল-ফাতহ ইবনে আবি আল-ফাওয়ারিস, আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হুরফি। নিশাপুরে ছিলেন আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমাশ আল-জিয়াদি, হাফিজ (الحافظ) আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আস-সুলামি, কাজি আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-হিরি, আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাররাজ এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ইসফারাঈনি। ইসফাহানে ছিলেন হাফিজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-জুরজানি এবং হাফিজ (الحافظ) আবু নুআয়ম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ। বসরায় ছিলেন ঈসা ইবনে গাসসান এবং মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাবিব আল-মাতুসি। হামাদানে ছিলেন আবু তাহির ইবনে সালামাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাজ্জাজ। মার্ভে ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাদরি, আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-কাফফাল, আবু মুহাম্মদ আশ-শিরনাখশারী, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে শুআইব আস-সানজি, আমার পিতার দাদা আবু মানসুর আল-কাজি আস-সামআনি, আমার দাদা এবং আমার পিতা—আল্লাহ তাঁদের উপর রহম করুন—এবং এ ছাড়া আরও বহু আলেম। আমরা আমাদের যেসব উস্তাদকে পেয়েছি, তাঁদের সকলের নিকট আমরা পাঠ করার (القراءة) মাধ্যমে হাদিস গ্রহণ করতাম। তাঁদের কেউ কেউ প্রতি সপ্তাহে একদিন বিশেষভাবে শ্রুতিলিপি প্রদানের (الإملاء) জন্য নির্ধারণ করতেন এবং বাকি দিনগুলো পাঠ করার (القراءة) জন্য রাখতেন। আমাদের উস্তাদদের মধ্যে যাঁদের শ্রুতিলিপি (الإملاء) লিখে নেওয়ার জন্য আমরা মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলাম, তাঁরা হলেন— ইমাম আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সারখাসি, আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-ফারগুলি, মার্ভে আবু নাসর তাহির ইবনে মাহদি আত-তাবারী, সারখাসে আবু মুহাম্মদ আল-ফজল ইবনে মুহাম্মদ আল-জিয়াদি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আল-ফজল ইবনে আহমদ আল-ফুরাওয়ি।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَأَبُو بَكْرٍ وَجِيهُ بْنُ طَاهِرٍ الشَّحَّامِيُّ وَأَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْخُوَارِيُّ إِمَامُ الْجَامِعِ بِنَيْسَابُورَ وَبَعْدَهُمْ أَسْعَدُ بْنُ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْقُشَيْرِيِّ الْخَطِيبُ وَأَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفُرَاوِيُّ وَأَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ زَاهِرِ بْنِ طَاهِرٍ الشَّحَّامِيُّ وَأَبُو عُثْمَانَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْغَضَائِرِيُّ وَأَبُو الْفُتُوحِ عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ الشَّافِعِيِّ السَّيَّارِيُّ فَهَؤُلاءِ بِنَيْسَابُورَ وَأَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخَلِيلِيُّ الْحَافِظُ بِنَوْقَانَ وَأَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْحَافِظُ وَأَبُو مَنْصُورٍ مَحْمُودُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ مَاشَاذَةَ الْمُفَسِّرُ وَأَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي سَعْدٍ الْبَغْدَادِيُّ وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّد بن أَي نَصْرٍ اللَّفْتَوَانِيُّ وَأَبُو مَسْعُودٍ عَبْدُ الْجَلِيلِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ كُوتَاهَ الْجَوْبَارِيُّ الْحَافِظُ وَأَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الشَّيْرَازِيُّ بِأَصْبَهَانَ وَحَضَرْتُ إِمْلاءَ شَيْخِنَا أَبِي سَعْدٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي سَعْدٍ الْبَغْدَادِيِّ الْحَافِظِ بِالْحَرَمَيْنِ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَاسْتَمْلَيْتُ عَلَيْهِ وَأَبُو الْفَوَارِسِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ الطَّبَرِيُّ سِبْطُ الإِمَامِ أَبِي الْمَحَاسِنِ الرَّوْيَانِيُّ بِآمِلِ طَبَرِسْتَانَ وَأَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الْكَرَجِيُّ الإِمَامُ بِبَلَدِ الْكَرَجِ وَأَبُو مُحَمَّدٍ جابرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَابِرٍ الأَنْصَارِيُّ الْمَالِكِيُّ الْحَافِظُ بِالْبَصْرَةِ وَأَبُو شُجَاعٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبِسْطَامِيُّ الإِمَامُ بِهَرَاةَ وَأَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النُّسَيْهِيُّ الإِمَامُ بِمَرْوِ الرُّوذِ وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَاجُّ الْخَلْمِيُّ بِبَلْخٍ وَكَانَ شَيْخُنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَرْقَنْدِيِّ بِبَغْدَادَ وَأَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ الشَّحَّامِيُّ بِنَيْسَابُورَ يُمْلِيَانِ غَيْرَ أَنَّهُمَا تَرَكَا الإِمْلاءَ وَمَا اتَّفَقَ أَنِّي كَتَبْتُ عَنْهُمَا شَيْئًا فِي الإِمْلاءِ إِلا مُذَاكَرَةً وَأَنَا أُقَدِّمُ مَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ الْمُمَلِّي أَوْلا ثُمَّ الْمُسْتَمْلِي ثُمَّ الْكَاتِبُ بِفَضْلِ اللَّهِ وَمَنِّهِ
এবং আবু বকর ওয়াজিহ বিন তাহির আশ-শাহহামি এবং আবু মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-খুওয়ারি, যিনি নিশাপুরের জামে মসজিদের ইমাম (إمام) ছিলেন। তাঁদের পরে আসআদ বিন আবি সাঈদ বিন আল-কুশাইরি আল-খতিব, আবু বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-ফুরায়ি, আবু মানসুর আব্দুল খালিক বিন জহির বিন তাহির আশ-শাহহামি, আবু উসমান ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান আল-গাদাইরি এবং আবু ফুতুহ আব্দুল রাজ্জাক বিন আশ-শাফিয়ি আস-সাইয়ারি; এঁরা নিশাপুরে ছিলেন। আর নওকানে ছিলেন আবু সাদ মুহাম্মাদ বিন আবিল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খলিলি আল-হাফিজ (الحافظ)। আবু কাসিম ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফাদল আল-হাফিজ (الحافظ), আবু মানসুর মাহমুদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল মুনয়িম বিন মাশাজা আল-মুফাসসির (المفسر), আবু সাদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি সাদ আল-বাগদাদি, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর আল-লাফতাওয়ানি, আবু মাসউদ আব্দুল জলিল বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন কুতাহ আল-জাওবারি আল-হাফিজ (الحافظ) এবং আবু গালিব মুহাম্মাদ বিন আমরু আশ-শিরাজি ইসফাহানে ছিলেন। আমি মক্কা ও মদিনার হারামাইনে আমাদের শায়খ আবু সাদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি সাদ আল-বাগদাদি আল-হাফিজ (الحافظ)-এর হাদিস প্রদান বা শ্রুতিলিখনের আসরে (إملاء) উপস্থিত হয়েছি এবং তাঁর কাছে হাদিস শ্রবণ ও লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেছি (استمليت)। আমিল তাবারিস্তানে ছিলেন আবুল ফাওয়ারিস হিবাতুল্লাহ বিন সাদ আত-তাবারি, যিনি ইমাম (إمام) আবু মাহাসিন আর-রুইয়ানির দৌহিত্র। কারাজ শহরে ছিলেন আবু হাসান মুহাম্মাদ বিন আবি তালিব আল-কারাজি আল-ইমাম (الإمام), এবং বসরায় ছিলেন আবু মুহাম্মাদ জাবির বিন মুহাম্মাদ বিন জাবির আল-আনসারি আল-মালিকি আল-হাফিজ (الحافظ)। হেরাতে ছিলেন আবু শুজা উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বিস্তামি আল-ইমাম (الإمام), এবং মার্ভুর রুজে ছিলেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আন-নুসাইহি আল-ইমাম (الإمام)। বলখ শহরে ছিলেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাজ্জ আল-খলমি। আমাদের শায়খ আবু কাসিম ইসমাইল বিন আহমাদ আস-সামারকান্দি বাগদাদে এবং আবু কাসিম জহির বিন তাহির আশ-শাহহামি নিশাপুরে হাদিস শ্রুতিলিখনের আসর পরিচালনা করতেন (يمليان), তবে তাঁরা সেই পদ্ধতিটি (إملاء) ত্যাগ করেছিলেন; ফলে আলোচনার (مذاكرة) প্রেক্ষাপট ব্যতিরেকে হাদিস শ্রুতিলিখনের আসরে (إملاء) তাঁদের থেকে আমার কিছু লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। আমি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও কৃপায় প্রথমে সেই বিষয়গুলো উপস্থাপন করছি যা হাদিস প্রদানকারীর (المملي), অতঃপর হাদিস শ্রবণকারীর (المستملي) এবং পরিশেষে লেখকের (الكاتب) প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
(فَصْلٌ فِي أَدَبِ الْمُمَلِّي يَنْبَغِي لِلْمُحَدِّثِ أَنْ يُصْلِحَ هَيْئَتَهُ وَيَأْخُذَ لِرِوَايَةِ الْحَدِيثِ أَهُبَّتِهِ) أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي الشَّاهِدُ بِبَابِ الشَّامِ فِي دَارِهِ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَلامَةَ الْقُضَاعِيُّ فِي كِتَابِهِ إِلَيَّ مِنَ الْفُسْطَاطِ أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُوسَى السِّمْسَارُ بِدِمَشْقَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي دُجَانَةَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَوْرَانِيُّ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَطِيَّةَ الْعُوفِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ وَيُحِبُّ أَنْ تُرَى نِعْمَتُهُ عَلَى عَبْدِهِ وَيَبْغَضُ الْبُؤْسَ وَالتَّبَاؤُسَ
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَغْلَبٍ الآمِدِيُّ مِنْ لَفْظِهِ بِشَأْمٍ وَقْتَ خُرُوجِهِ إِلَى عَسْقَلانَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَيَانٍ الرَّزَّازُ بِبَغْدَادَ ثَنَا أَبُو الْقَاسِمُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحُرْفِيُّ ثَنَا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ دَاوُدَ الْقَزَّازُ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ ثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ ثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَة رضه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ صَالِحَ الأَخْلاقِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَليّ سهل بن مُحَمَّد المقرىء وَأَبُو تَمِيمٍ عَبْدُ الْمُغِيثِ بْنُ أَبِي نِزَارٍ الْعَبْدِيُّ وَأَبُو الْغَنَائِمِ مَسْعُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ النَّقَّاشُ وَأَبُو شُكْرٍ حَمْدُ بْنُ أَبِي الْفَتْحِ الْحُرَّانِيُّ بِأَصْبَهَانَ قَالُوا أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخَيَّاطُ ثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرٍ الْجُرْجَانِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ ثَنَا دَاهِرُ بْنُ نُوحٍ ثَنَا عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ خَالِدٍ ثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ عز وجل بَعَثَنِي بِتَمَامِ مَحَاسِنِ الأَخْلاقِ وَكَمَالِ مَحَاسِنِ الأَفْعَالِ
(পরিচ্ছেদ: হাদিস শ্রুতলিপি প্রদানকারীর (مملي) শিষ্টাচার। হাদিস বিশারদের (محدث) উচিত তার বাহ্যিক বেশভূষা সংশোধন করা এবং হাদিস বর্ণনার (رواية) জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আব্দুল বাকী আশ-শাহিদ, বাবুশ শামে তাঁর নিজ বাসগৃহে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন সালামাহ আল-কুদায়ী, ফুসতাত থেকে আমার নিকট প্রেরিত তাঁর লিখিতপত্রের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আলী ইবন মুসা আস-সিমসার, দামেস্কে। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি দুজানাহ। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ ইবন ইব্রাহিম আল-হাওরানি। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উসমান ইবন আবি শায়বাহ। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইমরান ইবন মুহাম্মদ ইবন আবি লায়লা, তিনি তাঁর পিতা হতে (عن), তিনি আতিয়্যাহ আল-আউফি হতে (عن), তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) হতে (عن) বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। তিনি তাঁর বান্দার ওপর তাঁর নেয়ামতের প্রভাব দেখতে পছন্দ করেন এবং তিনি দুঃখ-দুর্দশা ও কৃচ্ছ্রতা প্রদর্শনকে অপছন্দ করেন।”
আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন তাগলিব আল-আমিদি, শাম দেশে আসকালানের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রস্থানের সময় সরাসরি তাঁর মুখনিঃসৃত শব্দে (لفظا)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-قাসিম আলী ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন বায়ান আর-রাজ্জাজ, বাগদাদে। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান ইবন উবাইদুল্লাহ আল-হুরফি। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাবিব ইবন আল-হাসান ইবন দাউদ আল-কাজ্জাজ। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল্লাহ ইবন আল-হাসান ইবন আহমদ ইবন আবি শুআইব আল-হাররানি। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সাঈদ ইবন মানসুর। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ, তিনি মুহাম্মদ ইবন আজলান হতে (عن), তিনি আল-কাক্কা ইবন হাকিম হতে (عن), তিনি আবু সলিহ হতে (عن), তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে (عن) বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি কেবল উত্তম চারিত্রিক গুণাবলির পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।”
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আলী সাহল ইবন মুহাম্মদ আল-মুকরি, আবু তামিম আব্দুল মুগিস ইবন আবি নিজার আল-আবদি, আবু আল-গানাইম মাসউদ ইবন ইসমাইল আন-নাক্কাশ এবং আবু শুকর হামদ ইবন আবি আল-ফাতহ আল-হাররানি, ইসফাহানে। তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন আল-খাইয়্যাত। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ইবন জাফর আল-জুরজানি। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াকুব ইবন আবি ইয়াকুব। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) দাহির ইবন নূহ। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উমর ইবন ইব্রাহিম ইবন খালিদ। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইউসুফ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-মুনকাদির, তিনি তাঁর পিতা হতে (عن), তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) হতে (عن) বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে চরিত্রের মাধুর্য ও কর্মের উৎকর্ষকে পূর্ণতা দান করার জন্য পাঠিয়েছেন।”
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَكُونَ الْمُمَلِّي فِي حَالِ الإِمْلاءِ عَلَى أَكْمَلِ هَيْئَةٍ وَأَفْضَلِ زِينَةٍ وَيَتَعَاهَدُ نَفْسَهُ قَبْلَ ذَلِكَ بِإِصْلاحِ أُمُورِهِ الَّتِي تُجَمِّلُهُ عِنْدَ الْحَاضِرِينَ مِنَ الْمُوَافِقِينَ وَالْمُخَالِفِينَ
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْخَلِيلِ الْحَافِظُ بِنَوْقَانَ أَنا أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ هَارُونَ الْوَرَّاقُ وَأَنَا أَبُو شُجَاعٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الإِمَامُ بِعَسْقَلانَ وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ الْفُوشَنْجِيُّ بِنَيْسَابُورَ وَأَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السِّنْجِيُّ بِمَرْوَ قَالُوا أَنا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّقَّانِيُّ قَالَا أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَافِظُ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ أَبِي بِخَطِّهِ ثَنَا أَسْوَدٌ مِنْ سَالِمٍ سَمِعْتُ أَبَا عبد الرَّحْمَن الزَّاهِد خَالِدَ بْنَ مَنْصُورٍ يَذْكُرُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَوْبَانِ يُنْسَجَانِ فِي بَنِي النَّجَّارِ وَكَانَ يَخْتَلِفُ إِلَيْهِمَا يَقُولُ عَجِّلُوا بِهِمَا عَلَيْنَا نَتَجَمَّلُ بِهِمَا فِي النَّاسِ
أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ عَلِيُّ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الأَمِينُ بِبَغْدَادَ فِي آخَرِينَ قَالُوا أَنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هزارمرد الصُّرَيْفِينِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبَابَةَ الْمَتُّوثِيُّ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ أَنا الزِّنْجِيُّ يعَنْي مُسْلِمَ بْنَ خَالِدٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ أَنَّ عُمَرَ بن الْخطاب رضه كَانَ يَقُولُ إِنَّهُ لَيُعْجِبُنِي أَنْ القارىء النَّظِيفَ
আর মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হলো যে, শ্রুতলিপি প্রদানকারী (المملي) ব্যক্তি শ্রুতলিপি প্রদানের (الإملاء) সময় পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও সর্বোত্তম পোশাকে সজ্জিত থাকবেন। এর পূর্বে তিনি নিজের অবস্থার উন্নতির মাধ্যমে নিজেকে পরিপাটি করার প্রতি যত্নবান হবেন, যা তাকে উপস্থিত অনুসারী ও বিরোধী—উভয় পক্ষের নিকট সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবে।
নওকানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খলিল হাফিজ (الحافظ); তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আবদুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে হারুন আল-ওয়াররাক; এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসকালানের ইমাম আবু শুজা উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, নিশাপুরের আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাশার আল-ফুশাঞ্জি এবং মার্ভের আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সিনজি; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফজল আল-আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাক্কানি; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস আত-তামিমি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর হাফিজ (الحافظ); তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুসা আল-আনসারী; তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার কিতাবে তাঁর নিজ হাতের লেখায় পেয়েছি যে—আমাদের বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ ইবনে সালিম; তিনি বলেন: আমি দুনিয়াবিমুখ (الزاهد) আবু আবদুর রহমান খালিদ ইবনে মনসুরকে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাসানের বরাতে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বনু নাজ্জারে দু’টি পোশাক তৈরি করা হতো এবং তিনি সেগুলোর জন্য তাদের নিকট যাতায়াত করতেন ও বলতেন: ‘এগুলো আমাদের নিকট দ্রুত পৌঁছে দাও, যাতে মানুষের মাঝে আমি এগুলোর মাধ্যমে সৌন্দর্যমন্ডিত হতে পারি’।
বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আলী ইবনে আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ বিশ্বস্ত (الأمين) ও অন্যান্যরা; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাজারমারদ আস-সুরিফিনি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবাবাহ আল-মাততুসি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-বাগাউয়ি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-জাদ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আজ-জিঞ্জি—অর্থাৎ মুসলিম ইবনে খালিদ; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির যে, উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) বলতেন: ‘নিশ্চয় পরিচ্ছন্ন পাঠক (القارىء) আমার নিকট অত্যন্ত চমৎকার লাগে’।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَسْعَدُ بْنُ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْقُشَيْرِيِّ بِنَيْسَابُورَ أَنا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الصَّفَّارُ أَنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ السُّلَمِيُّ أَنا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ جَبَلَةَ قَالَ وَحَدَّثَ أَبِي عَنْ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ إِذَا عُرِضَ عَلَيْهِ الْمُوَطَّأ لبس ثِيَابه وَيَأْخُذ سَاجَهُ وَعِمَامَتَهُ ثُمَّ أَطْرَقَ وَلا يَتَنَخَّمُ وَلا يَعْبَثُ بِشَيْءٍ مِنْ لِحْيَتِهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ إِعْظَامًا لِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَصْبَهَانِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْفَتْحِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْحَدَّادُ بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو أَحْمَدَ الْهَيْثَمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَرَّاطُ أَنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو سَعْدٍ يَحْيَى بْنُ مَنْصُورٍ الْهَرَوِيُّ بِمَكَّةَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ ثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَجْلِسَ لِلْحَدِيثِ اغْتَسَلَ وَتَبَخَّرَ وَتَطَيَّبَ فَإِنْ رَفَعَ أَحَدٌ صَوْتَهُ فِي مَجْلِسِهِ زبره وقَالَ قَالَ اللَّهُ عز وجل يَا أَيهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوق صَوت النَّبِي فَمَنْ رَفَعَ صَوْتَهُ عِنْدَ حَدِيثِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَأَنَّمَا رَفَعَ صَوْتَهُ فَوْقَ صَوْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وليبتدىء بِالسُّوَاكِ
فَقَدْ أَخْبَرَنَا أَبُو الْكَرَمِ نَصْرُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ الأَزْدِيُّ بِوَاسِطٍ أَنا أَبُو تَمَّامٍ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْوَاسِطِيُّ الْقَاضِي أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيِّ ثَنَا أَبِي ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ ثَنَا مُسْلِمٌ ثَنَا بَحْرُ بْنُ كُنَيْزٍ السَّقَّاءُ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَاجٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عَلِيِّ بن أبي طَالب رضه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَفْوَاهَكُمْ طُرُقٌ لِلْقُرْآنِ فَطَهُورُهَا بِالسُّوَاكِ
আবু আল-হাসান আসআদ ইবনে আবি সাঈদ ইবনুল কুশায়রী নিশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আস-সুলামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর ইবনে হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে জাবালাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং আমার পিতা ইয়াহইয়া ইবনে বুকায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস-এর নিকট যখন মুওয়াত্তা পেশ করা হতো, তখন তিনি তাঁর (মর্যাদাপূর্ণ) পোশাক পরিধান করতেন এবং তাঁর চাদর ও পাগড়ি গ্রহণ করতেন; অতঃপর তিনি অবনত মস্তকে নিস্তব্ধ থাকতেন এবং পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কফ ত্যাগ করতেন না কিংবা তাঁর দাড়ির কোনো কিছু নিয়ে নাড়াচাড়া করতেন না; আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনস্বরূপ।
আবু সাঈদ আব্দুল লতিফ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আসবাহানী বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ফাতহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-হাদ্দাদ আসবাহানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আহমদ আল-হাইসাম ইবনে মুহাম্মদ আল-খাররাত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফিজ (الحافظ) সুলায়মান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সা'দ ইয়াহইয়া ইবনে মানসুর আল-হারাভী মক্কায় আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির আল-হিযামী আমাদের বর্ণনা করেছেন, মা'ন ইবনে ঈসা আল-কাযযায আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস যখন হাদিসের মজলিসে বসার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি গোসল করতেন, ধূপের সুগন্ধি নিতেন এবং সুগন্ধি মাখতেন। যদি তাঁর মজলিসে কেউ উচ্চস্বরে কথা বলত, তবে তিনি তাকে ধমক দিতেন এবং বলতেন, মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের উপরে তুলো না।" সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের নিকট উচ্চস্বরে কথা বলে, সে যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বরের উপরে নিজের কণ্ঠস্বর উচ্চ করল। আর পাঠ শুরু করা উচিত মিসওয়াক দিয়ে।
আবু আল-কারাম নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আযদি ওয়াসিতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাম্মাম আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-ওয়াসিতি আল-কাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ফদল উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আজ-জুহরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আল-বাগান্দি আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুসলিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, বাহর ইবনে কুনাইয আস-সাক্কা আমাদের বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে সায সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মুখগহ্বর কুরআনের পথ, সুতরাং তোমরা মিসওয়াক দিয়ে তা পবিত্র করো।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَلْيَقُصْ أَظَافِيرَهُ إِذَا طَالَتْ
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْفَضْلِ السُّلَيْمَانِيُّ قَرَأْتُ عَلَيْهِ بِالأَجْفَرَ أناأبو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ الأستر آباذي أَنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْهَمَذَانِيُّ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّيْنَوَرِيُّ الْحَافِظُ أَخْبَرَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَخْتَوَيْهِ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ الْحِرَّانِيُّ ثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ ثَنَا قُرَيْشُ بْنُ حَيَّانَ الْعِجْلِيُّ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ فَرُّوخٍ أَبُو الْوَاصِلِ قَالَ أَتَيْتُ أَبَا أَيُّوبَ فَصَافَحْتُهُ فَرَأَى فِي أَظْفَارِي طُولا فَقَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ خَبَرِ السَّمَاءِ فَقَالَ يَسْأَلُنِي أَحَدُكُمْ عَنْ خَبَرِ السَّمَاءِ وَيَدَعُ أَظْفَارَهُ كَأَظْفَارِ الطَّيْرِ يَجْمَعُ فِيهَا الْجَنَابَةَ وَالنَّفَثَ وَلْيَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ سَعْدُ الْخَيْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ الأَنْصَارِيُّ مِنْ أَهْلِ الأَنْدَلُسِ فِي دَارِهِ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمْدِ بْنِ الْحَسَنِ الدُّونِيُّ أَنا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الدَّيْنَوَرِيُّ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ أَنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّسَائِيُّ بِمِصْرَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ثَنَا الْمَعْمَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنِ صُهَيْبٍ يُحَدِّثُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرقم رضه قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ فَلَيْسَ مِنَّا
এবং নখ লম্বা হলে তা কাটা উচিত।
আবু সাদ আহমদ বিন আবিল ফজল আস-সুলায়মানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আমি আল-আজফারে তাঁর নিকট পাঠ করেছি; তিনি বলেন: আবু তাহির আহমদ বিন আবির রবি আল-আস্তার আবাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আলী বিন উমর আল-হামাদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: হাফেজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দ্বীনওয়ারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন বাখতাওয়াইহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني); সুলায়মান বিন সাইফ আল-হাররানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); কুরাইশ বিন হাইয়ান আল-ইজলি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); আবু আল-ওয়াসিল সুলায়মান বিন ফাররুখ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: আমি আবু আইয়ুবের নিকট আসলাম এবং তাঁর সাথে মুসাফাহা করলাম, তখন তিনি আমার নখ লম্বা দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে আসমানের খবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছে আসমানের খবর জানতে চায়, অথচ সে তার নখগুলোকে পাখির নখের মতো লম্বা রাখে, যাতে অপবিত্রতা (جنابة) ও ময়লা জমে থাকে।" এবং সে যেন তার গোঁফ ছেঁটে ফেলে।
আন্দালুস নিবাসী আবু আল-হাসান সাদ আল-খাইর বিন মুহাম্মদ বিন সাহল আল-আনসারি বাগদাদে তাঁর নিজগৃহে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন হামদ বিন আল-হাসান আদ-দুনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: আবু নাসর আহমদ বিন আল-হুসাইন আদ-দ্বীনওয়ারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন: হাফেজ (الحافظ) আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); মিশরে আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); মুহাম্মদ বিন আবদুল আলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); মুতামির বিন সুলায়মান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: আমি ইউসুফ বিন সুহাইবকে হাবিব বিন ইয়াসার থেকে এবং তিনি যায়িদ বিন আরকাম (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তার গোঁফ ছাঁটে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুল ইমলা ওয়াল ইস্তিমলা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَلْيُسْكِنْ شَعَثَ رَأْسِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَاعِظُ قَرَأْتُ عَلَيْهِ بِالسَّوَارِقِيَّةِ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الأَصْبَهَانِيُّ أَنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِسْحَاقَ أَنا أَبُو بَكْرٍ السُّنِّيُّ بِالدَّيْنُورِ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الأَدَمِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي مَذْعُورٍ ثَنَا يَحْيَى بْنُ الْمُتَوَكِّلِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ عَن نَافِع عَن بْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلا ثَائِرَ شَعْرِ الْوَجْهِ وَالرَّأْسِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا عَلَى هَذَا فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ فَجَاءَ وَقَدْ أَخَذَ مِنْ شَعْرِ لِحْيَتِهِ وَرَأْسِهِ قَلما رَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلَيْسَ هَذَا أَحْسَنُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ الأَنْمَاطِيُّ الْحَافِظُ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبُسْرِيِّ وَجَمَاعَةٌ قَالُوا أَنا عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيُّ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ ثَنَا زَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّائِغُ أَبُو الْحُسَيْنِ ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّوْرِيُّ ثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ وائلِ بن حجر رضه قَالَ رَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلِي شَعْرٌ طَوِيلٌ فَقَالَ ذُبَابٌ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَعْنِينِي فَذَهَبْتُ فَأَخَذْتُ مِنْ شَعْرِي وَرَجَعْتُ فَقَالَ إِنِّي لَمْ أَعْنِكَ وَهَذَا أَحْسَنُ وَلْيَلْبِسْ مِنَ الثِّيَابِ الْبِيضَ
أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو شُجَاعٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَسْطَامِيُّ بِعَسْقَلانَ وَأَبُو مُحَمَّدٍ شَيْخُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي الْحُسَيْنِ الْكَرَابِيسِيُّ بِبَلْخٍ قَالَا أَنا أَبُو الْقَاسِمِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الزِّيَادِيِّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخُزَاعِيُّ أَنا أَبُو سَعِيدٍ الْهَيْثَمُ بْنُ كُلَيْبٍ الشَّاشِيُّ ثَنَا أَو عِيسَى التِّرْمِذِيّ الْحَافِظ ثَنَا قيبة أَنا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَن بن عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُمْ بِالْبَيَاضِ مِنَ الثِّيَابِ لَيَلْبِسْهَا أَحْيَاؤُكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ
এবং সে যেন তার মাথার অবিন্যস্ত চুল বিন্যস্ত করে।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ায়েজ, আমি সাওয়ারিকিয়্যায় তাঁর নিকট এটি পাঠ করেছি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আসবাহানী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আলী বিন উমর বিন ইসহাক; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর আস-সুন্নী দাইনুরে; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আদামী; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ বিন আমর বিন আবি মাজকুর; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াহইয়া বিন আল-মুতাওয়াক্কিল; তিনি আব্দুল আজিজ বিন আবি রাওয়াদ থেকে, তিনি নাফে থেকে, আর তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এলোমেলো চুল ও দাড়ি অবস্থায় দেখলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এর কী হলো!" এরপর লোকটি চলে গেল এবং তার দাড়ি ও মাথার চুল ছেঁটে ফিরে এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে দেখলেন, তখন বললেন: "এটি কি অধিক উত্তম নয়?"
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-বারাকাত আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক আল-আনমাতি হাফিজ (الحافظ) বাগদাদে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-কাসিম আলী বিন আহমদ বিন আল-বুসরী ও একটি দল; তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহদী আল-ফারিসী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) জাইদ বিন ইসমাইল আস-সাইগ আবু আল-হুসাইন; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুয়াবিয়া বিন হিশাম; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরী; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসিম বিন কুলাইব; তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়ায়েল বিন হুজর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লম্বা চুল অবস্থায় দেখলেন এবং বললেন: "অকল্যাণ (বা মাছি)।" আমি মনে করলাম তিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করেছেন। তাই আমি চলে গেলাম এবং আমার চুল ছেঁটে ফেললাম, তারপর ফিরে এলাম। তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাকে উদ্দেশ্য করিনি, তবে এটিই অধিক উত্তম।" এবং সে যেন সাদা পোশাক পরিধান করে।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইমাম আবু শুজা উমর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাস্তামী আসকালানে এবং আবু মুহাম্মদ শেখ বিন আলী বিন আবি আল-হুসাইন আল-কারাবিসী বাল্খে; তাঁরা উভয়ে বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرনা) আবু আল-কাসিম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-জিয়াদী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-কাসিম আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-খুজায়ী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু সাঈদ আল-হাইসাম বিন কুলাইব আল-শাশি; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু ঈসা আত-তিরমিজি হাফিজ (الحافظ); তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কুতাইবা; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) বিশর বিন আল-মুফাদদ্বাল; তিনি আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন খুসাইম থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সাদা রঙের পোশাক পরিধান করো, তোমাদের জীবিতরা যেন তা পরিধান করে এবং তোমাদের মৃতদের তাতে কাফন দাও; কারণ এটি তোমাদের সর্বোত্তম পোশাকের অন্তর্ভুক্ত।"