(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: -)
صيانة صحيح مسلم القسم: علوم الحديث
الكتاب: صيانة صحيح مسلم من الإخلال والغلط وحمايته من الإسقاط والسقط
المؤلف: عثمان بن عبد الرحمن، أبو عمرو، تقي الدين المعروف بابن الصلاح (ت 643هـ)
المحقق: موفق عبدالله عبدالقادر
الناشر: دار الغرب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الثانية، 1408
عدد الصفحات: 282
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সিয়ানাত সহীহ মুসলিম বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম মিনাল ইখলাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসকাত ওয়াস সাকাত
লেখক: উসমান বিন আব্দুর রহমান, আবু আমর, তাকিউদ্দীন, যিনি ইবনুল সালাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী)
গবেষক: মুওয়াফফাক আব্দুল্লাহ আব্দুল কাদির
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
আল-শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
قَالَ الْحَمد لله المتفرد بِاسْتِحْقَاق الْحَمد على مَا سر وساء الَّذِي رفع بِالْعلمِ دَرَجَات من شَاءَ وَأحل حضيض الضعة من جهل وأساء وَلَا إِلَه إِلَّا الله ذُو الْكَمَال الْمُطلق والجلال الْأَعْظَم وَصلى الله أفضل مَا صلى على مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله الْهَادِي إِلَى أكمل شَرِيعَة وأقوم لُغَة وعَلى النَّبِيين وآليهم الْمُكرمين من عباده وَسلم وَخص وكرم مَا دَعَاهُ سُبْحَانَهُ دَاع فأسعف وَمن وأنعم آمين آمين آمين
سَأَلتنِي نفعك الله وإياي وَسَائِر الْأَصْحَاب بِنَافِع الْعلم وأحظانا جَمِيعًا بصائب الْفَهم أَيَّام قراءتك الْكتاب الصَّحِيح لمُسلم رضي الله عنه أَن أبين مِنْهُ وأقيد مَا يكثر فِيهِ من طالبي الحَدِيث ليعلم الْإِخْلَال والغلط وأصونهم عَمَّا بصدده فِيهِ من الْإِسْقَاط والسقط مقدما على ذَلِك بِأَن
فضل الْكتاب وفضله مُعَرفا بِحَالهِ وَشَرطه فأجبتك إِلَى ذَلِك مُخْتَصرا وعَلى هَذَا الأسلوب الَّذِي يعظم بِهِ النَّفْع وتكثر بِهِ الْبلوى مُقْتَصرا متبرئا من الْحول وَالْقُوَّة إِلَّا بِاللَّه مُتَعَوِّذًا من أَن أفوه فِيهِ بِكَلِمَة إِلَّا لله وسميته صِيَانة صَحِيح مُسلم من الْإِخْلَال والغلط وحمايته من الْإِسْقَاط والسقط وَلَيْسَ مَقْصُورا على ضبط
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তিনি (গ্রন্থকার) বললেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আনন্দদায়ক ও কষ্টদায়ক—সর্বাবস্থায় প্রশংসার নিরঙ্কুশ যোগ্য। তিনি যাকে ইচ্ছা জ্ঞানের দ্বারা সুউচ্চ মর্যদায় উন্নীত করেন এবং যে ব্যক্তি অজ্ঞতা ও পাপাচার অবলম্বন করে তাকে হীনতার অতলে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি পরম পূর্ণতা ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর সর্বোত্তম রহমত বর্ষণ করুন, যিনি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত ও সুদৃঢ় ভাষার পথপ্রদর্শক; এবং তাঁর সকল নবী ও তাঁদের সম্মানিত বংশধরদের ওপর শান্তি ও বিশেষ সম্মান বর্ষিত হোক, যতক্ষণ কোনো আহ্বানকারী মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে আর তিনি তাকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত দান করেন। আমীন, আমীন, আমীন।
আপনি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন—আল্লাহ আপনাকে, আমাকে এবং আমাদের সকল সঙ্গীদের উপকারী জ্ঞানের দ্বারা উপকৃত করুন এবং আমাদের সবাইকে সঠিক বোধশক্তি দান করুন—ইমাম মুসলিম (রা.)-এর সহিহ গ্রন্থটি আপনার পাঠ করার দিনগুলোতে; যেন আমি এর সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট ও লিপিবদ্ধ করি যা হাদিস অন্বেষণকারীদের মধ্যে অধিক মাত্রায় ঘটে থাকে, যাতে বিচ্যুতি ও ভুলগুলো চেনা যায় এবং তাঁদেরকে এর মধ্যে বিদ্যমান বাদ পড়া ও ত্রুটিগুলো থেকে রক্ষা করতে পারি। আর এর আগে আমি নিম্নোক্ত বিষয়টি পেশ করছি যে—
এই কিতাবের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য এবং এর অবস্থা ও শর্ত (شرط) সম্পর্কে বর্ণনা। আমি আপনার সেই অনুরোধে সংক্ষেপে সাড়া দিয়েছি এবং এমন এক পদ্ধতিতে এটি সীমাবদ্ধ রেখেছি যাতে উপকার বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়। আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো শক্তি বা সামর্থ্যের ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্ত হচ্ছি এবং আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি যেন তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো শব্দ মুখ থেকে উচ্চারণ না করি। আমি এই কিতাবের নাম রেখেছি ‘সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম মিনাল ইখলাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসকাত ওয়াস সাকাত’ (সহিহ মুসলিমকে বিচ্যুতি ও ভুল থেকে সুরক্ষা এবং বাদ পড়া ও ত্রুটি থেকে নিরাপত্তা)। আর এটি কেবল শব্দসমূহের নির্ভুলতার (ضبط) ওপর সীমাবদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
الْأَلْفَاظ بل هُوَ إِن شَاءَ الله تبارك وتعالى كاشف لمعاني كثير مِمَّا اغتاص على الفهوم فِي الْقَدِيم والْحَدِيث وشامل النَّفْع لصحيح البُخَارِيّ وَغَيره من كتب الحَدِيث وَالله الْعَظِيم اسْأَل تَمام ذَلِك مصونا عَمَّا لَا يَنْبَغِي ميسورا فِيهِ مَا نبتغي إِنَّه هُوَ الْجواد الْكَرِيم الْبر الرَّحِيم وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت وَإِلَيْهِ أنيب
শব্দাবলী; বরং এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা চাহেন তো প্রাচীন ও আধুনিককালের বোধগম্যতায় দুরূহ এমন বহু অর্থের উন্মোচনকারী এবং সহীহ বুখারী ও হাদিসের অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে সার্বিক কল্যাণবহ। আমি মহান আল্লাহর নিকট এর এমন পূর্ণতা প্রার্থনা করি যা অনুচিত বিষয় থেকে সুরক্ষিত এবং আমাদের অভীষ্ট বিষয়ে সহজতর হবে। নিশ্চয়ই তিনি পরম দানশীল, মহানুভব, কল্যাণময় ও পরম দয়ালু। আর আমার সাফল্য কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
فَأول ذَلِك أَن مُؤَلفه هُوَ مُسلم بن الْحجَّاج بن مُسلم أَبُو الْحُسَيْن الْقشيرِي النّسَب النَّيْسَابُورِي الدَّار والموطن عَرَبِيّ صليبة أحد رجال الحَدِيث من أهل خُرَاسَان رَحل فِيهِ رحْلَة وَاسِعَة وصنف فِيهِ تصانيف نافعة فَسمع بخراسان يحيى بن يحيى التَّمِيمِي
এর প্রথম বিষয় হলো এই যে, এর রচয়িতা হলেন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ বিন মুসলিম আবু আল-হুসাইন আল-কুশাইরী; বংশসূত্রে তিনি কুশাইরী এবং আবাসন ও জন্মভূমির দিক থেকে নিশাপুরী। তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ আরব বংশোদ্ভূত এবং খোরাসানবাসীদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম একজন বর্ণনাকারী (رجال)। তিনি হাদিস অন্বেষণে ব্যাপক দেশভ্রমণ করেছেন এবং এ বিষয়ে বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি খোরাসানে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-তামিমীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
وَإِسْحَاق بن رَاهَوَيْه وَغَيرهمَا وبالري مُحَمَّد بن مهْرَان الْجمال وَأَبا غَسَّان مُحَمَّد بن عَمْرو زنيجا وَغَيرهمَا وبالعراق أَحْمد بن حَنْبَل وعبد الله بن مسلمة القعْنبِي وَغَيرهمَا وبالحجاز
এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ ও অন্যান্যদের নিকট থেকে; এবং রাই শহরে মুহাম্মাদ বিন মেহরান আল-জাম্মাল ও আবু গাসসান মুহাম্মাদ বিন আমর জুনাইজ এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে; এবং ইরাকে আহমাদ বিন হাম্বল ও আবদুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কা'নাবি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে; আর হিজাজে...
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
سعيد بن مَنْصُور وَأَبا مُصعب الزُّهْرِيّ وَغَيرهمَا وبمصر عَمْرو بن سَواد وحرملة بن يحيى وَغَيرهمَا فِي خلق كثير وَالله أعلم
روى عَنهُ من الأكابر أَبُو حَاتِم الرَّازِيّ ومُوسَى بن هَارُون وَأحمد بن سَلمَة
সাঈদ বিন মনসুর, আবু মুসআব আল-জুহরি এবং অন্যদের নিকট থেকে; এবং মিসরে আমর বিন সাওয়াদ, হারমালাহ বিন ইয়াহইয়া এবং আরও বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
জ্যেষ্ঠ (الأكابر) পর্যায়ের মনীষীদের মধ্যে আবু হাতিম আর-রাজি, মুসা বিন হারুন এবং আহমদ বিন সালামাহ তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
وَأَبُو بكر ابْن خُزَيْمَة وَمُحَمّد بن عبد الْوَهَّاب الْفراء ومكي بن عَبْدَانِ وَأَبُو حَامِد بن الشَّرْقِي وَالْحُسَيْن بن مُحَمَّد بن زِيَاد القباني وَإِبْرَاهِيم بن أبي طَالب وَأَبُو عَمْرو الْمُسْتَمْلِي وَصَالح بن مُحَمَّد الْحَافِظ الملقب جزرة وَأَبُو عوَانَة الإِسْفِرَايِينِيّ
এবং আবু বকর ইবন খুজাইমাহ, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফাররা, মাক্কি বিন আবদান, আবু হামিদ বিন আল-শারকি, আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন জিয়াদ আল-কাব্বানি, ইবরাহিম বিন আবি তালিব, আবু আমর আল-মুস্তামলি (المستملي), সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-হাফেজ (الحافظ) — যিনি ‘জাযারাহ’ উপনামে পরিচিত — এবং আবু আওয়ানাহ আল-ইসফারায়িনি।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
وَأَبُو الْعَبَّاس السراج وَنصر بن أَحْمد الْحَافِظ الملقب نصرك وَسَعِيد بن عَمْرو البردعي الْحَافِظ فِي آخَرين
وصنف غير هَذَا الْكتاب كتبا مِنْهَا كتاب الْمسند الْكَبِير على الرِّجَال وَكتاب الْجَامِع الْكَبِير على الْأَبْوَاب وَكتاب الْعِلَل وَكتاب ذكر أَوْهَام الْمُحدثين وَكتاب التَّمْيِيز وَكتاب من لَيْسَ لَهُ إِلَّا راو وَاحِد وَكتاب طَبَقَات التَّابِعين وَكتاب المخضرمين وَغير ذَلِك
এবং আবু আল-আব্বাস আল-সাররাজ, নাসর ইবনে আহমদ আল-হাফিজ (الحافظ) যাঁকে নাসরাক উপাধি দেওয়া হয়েছে এবং সাঈদ ইবনে আমর আল-বারদায়ি আল-হাফিজ (الحافظ) সহ আরও অনেকে।
তিনি এই কিতাব ছাড়াও আরও অনেক কিতাব রচনা করেছেন, তন্মধ্যে রয়েছে: বর্ণনাকারীদের ধারাক্রমে রচিত আল-মুসনাদ আল-কাবির, অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত আল-জামি আল-কাবির, কিতাবুল ইলাল, কিতাব যিকর আওহাম আল-মুহাদ্দিসিন, কিতাবুত তাময়িজ, কিতাব মান লায়সা লাহু ইল্লা রাউ ওয়াহিদ, কিতাব তাবাকাতুত তাবিঈন, কিতাবুল মুখাদরামিন এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
وَقد كَانَ لَهُ رَحْمَة الله وإيانا فِي علم الحَدِيث ضرباء لَا يفضلهم وَآخَرُونَ يفضلونه فرفعه الله تبارك وتعالى بكتابه الصَّحِيح هَذَا إِلَى منَاط النُّجُوم وَصَارَ إِمَامًا حجَّة يبْدَأ ذكره ويعاد فِي علم الحَدِيث وَغَيره من الْعُلُوم وَذَلِكَ فضل الله يؤتيه من يَشَاء
أخبرنَا الشَّيْخ الْمسند أَبُو الْقَاسِم مَنْصُور بن عبد الْمُنعم بن عبد الله بن الإِمَام أبي عبد الله مُحَمَّد بن الْفضل الفراوي النَّيْسَابُورِي
তাঁর প্রতি এবং আমাদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক; হাদিস শাস্ত্রে তাঁর এমন কিছু সমসাময়িক ব্যক্তি ছিলেন যাদের ওপর তিনি শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতেন না এবং অন্যরা তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁকে তাঁর এই সহীহ গ্রন্থের মাধ্যমে নক্ষত্ররাজির উচ্চতায় উন্নীত করেছেন এবং তিনি এমন একজন ইমাম ও দলিল (حجة) হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন, হাদিস শাস্ত্র ও অন্যান্য শাস্ত্রে যাঁর আলোচনা বারবার ফিরে আসে। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সনদধারী (المسند) শায়খ আবুল কাসিম মনসুর বিন আব্দুল মুনিম বিন আব্দুল্লাহ বিন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফদল আল-ফারাওয়ি আন-নাইসাবুরি।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦١)
الصاعدي قَالَ أخبرنَا أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الْفَارِسِي اُخْبُرْنَا الإِمَام أَبُو بكر أَحْمد بن الْحُسَيْن الْبَيْهَقِيّ قَالَ أخبرنَا أَبُو عبد الله الْحَافِظ حَدثنَا أَبُو الْفضل مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم قَالَ سَمِعت أَحْمد بن سَلمَة يَقُول رَأَيْت أَبَا زرْعَة وَأَبا حَاتِم يقدمان مُسلم بن الْحجَّاج فِي معرفَة الصَّحِيح على مَشَايِخ عصرهما هَكَذَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ والخطيب الحافظان وَوَجَدته فِي رِوَايَة أُخْرَى عَن الْحَاكِم أبي عبد الله
আস-সাইদি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ফারিসি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হাফেজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম; তিনি বলেন, আমি আহমদ বিন সালামাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "আমি আবু জুরআ এবং আবু হাতিমকে দেখেছি যে, তারা সহিহ (الصحيح) হাদিস শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজকে তাদের সমসাময়িক শায়খদের ওপর প্রাধান্য দিতেন।" এভাবেই দুই হাফেজ (الحافظ) আল-বায়হাকি এবং আল-খাতিব এটি বর্ণনা করেছেন এবং আমি এটি হাকেম আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) পেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
أَيْضا على مَشَايِخ عصرهما فِي معرفَة الحَدِيث
وروينا عَن الْحَاكِم أبي عبد الله الْحَافِظ قَالَ قَرَأت بِخَط أبي عَمْرو الْمُسْتَمْلِي أمْلى علينا إِسْحَاق بن مَنْصُور سنة إِحْدَى وَخمسين وَمِائَتَيْنِ وَمُسلم بن الْحجَّاج ينتخب عَلَيْهِ وَأَنا أستملي فَنظر إِسْحَاق بن مَنْصُور إِلَى مُسلم فَقَالَ لن نعدم الْخَيْر مَا أبقاك الله للْمُسلمين وَالله أعلم
مَاتَ مُسلم رحمه الله سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وَمِائَتَيْنِ بنيسابور وَهَذَا مَشْهُور لَكِن تَارِيخ مولده وَمِقْدَار عمره كثيرا مَا تطلب الطلاب علمه فَلَا يجدونه وَقد وَجَدْنَاهُ وَللَّه الْحَمد فَذكر الْحَاكِم أَبُو عبد الله ابْن البيع الْحَافِظ فِي كتاب المزكين لرواة الْأَخْبَار أَنه سمع أَبَا عبد الله ابْن الأخرم الْحَافِظ يَقُول توفى مُسلم بن الْحجَّاج رحمه الله عَشِيَّة يَوْم الْأَحَد وَدفن يَوْم الِاثْنَيْنِ لخمس بَقينَ من رَجَب سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وَمِائَتَيْنِ وَهُوَ ابْن خمس وَخمسين سنة وَهَذَا يتَضَمَّن أَن مولده كَانَ فِي سنة سِتّ وَمِائَتَيْنِ وَالله أعلم
وَكَانَ لمَوْته سَبَب غَرِيب نَشأ عَن غمرة فكرية علمية فَقَرَأت بنيسابور حرسها
তদ্রূপ তাদের সমসাময়িক শায়খদের নিকট হাদিস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনেও (তারা বিশেষ অবদান রেখেছেন)।
আমরা হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ (الحافظ) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আমর আল-মুস্তামলির হস্তলিপিতে পড়েছি যে, ২৫১ হিজরি সালে ইসহাক ইবনে মানসুর আমাদের নিকট হাদিস পাঠ করাতেন এবং মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ তা থেকে নির্বাচন করতেন, আর আমি তা লিখে নিতাম। তখন ইসহাক ইবনে মানসুর মুসলিমের দিকে তাকিয়ে বললেন: "যতদিন আল্লাহ আপনাকে মুসলিমদের জন্য জীবিত রাখবেন, আমরা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হব না।" আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) ২৬১ হিজরি সালে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন। এটি একটি প্রসিদ্ধ বিষয়। তবে তাঁর জন্মতারিখ ও বয়সের সময়কাল সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই জানতে চায় কিন্তু তা খুঁজে পায় না। সকল প্রশংসা আল্লাহর, আমরা তা খুঁজে পেয়েছি। হাকেম আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বায়্যি' আল-হাফিজ (الحافظ) সংবাদ বর্ণনাকারীদের (رواة) নির্ভরযোগ্যতা প্রদানকারীদের বিষয়ক গ্রন্থ ‘কিতাবুল মুযাক্কীন’-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আখরাম আল-হাফিজকে (الحافظ) বলতে শুনেছেন: মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ (রহিমাহুল্লাহ) ২৬১ হিজরি সালের রজব মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে রবিবার দিবাগত সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন এবং সোমবার তাঁকে দাফন করা হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঞ্চান্ন বছর। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর জন্ম ২০৬ হিজরি সালে হয়েছিল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তাঁর মৃত্যুর একটি অদ্ভুত (غريب) কারণ ছিল, যা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার মগ্নতা থেকে তৈরি হয়েছিল। আমি নিশাপুরে—আল্লাহ একে হেফাজত করুন—পড়েছি...
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
الله وَسَائِر بِلَاد الْإِسْلَام وَأَهله فِيمَا انتخبته من تاريخها على الشَّيْخ الزكي أبي الْفَتْح مَنْصُور بن عبد الْمُنعم حفيد الفراوي وعَلى الشيخة أم الْمُؤَيد زَيْنَب ابْنة أبي الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن الْحسن الْجِرْجَانِيّ رَحمهَا الله وإيانا عَن الإِمَام أبي عبد الله الفراوي وَأبي الْقَاسِم زَاهِر بن طَاهِر الْمُسْتَمْلِي عَن أَبَوي عُثْمَان إِسْمَاعِيل بن عبد الرَّحْمَن الصَّابُونِي وَسَعِيد بن مُحَمَّد الْبُحَيْرِي وَالْإِمَام أبي بكر الْبَيْهَقِيّ قَالُوا اُخْبُرْنَا الْحَاكِم أَبُو عبد الله الْحَافِظ قَالَ سَمِعت أَبَا عبد الله مُحَمَّد بن
আল্লাহ এবং ইসলামের অবশিষ্ট ভূখণ্ড ও তার অধিবাসীদের (কল্যাণার্থে); তার ইতিহাস থেকে আমি যা চয়ন করেছি, তা পাঠ করেছি পবিত্র শায়খ আবুল ফাতহ মানসুর ইবনে আব্দুল মুনইম—যিনি আল-ফারাউয়ীর পৌত্র—এবং শায়খা উম্মুল মুআইয়াদ যাইনাব বিনতে আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনুল হাসান আল-জুরজানী (আল্লাহ তাঁর এবং আমাদের প্রতি রহম করুন)-এর নিকট। তাঁরা ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাউয়ী এবং আবু আল-কাসিম যাহির ইবনে তাহির আল-মুস্তামলী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা দুই আবু উসমান: ইসমাঈল ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাবুনী ও সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বুহাইরী এবং ইমাম আবু বকর আল-বাইহাকী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন: হাফেজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে... কে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
يَعْقُوب سَمِعت أَحْمد بن سَلمَة يَقُول عقد لأبي الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج مجْلِس للمذاكرة فَذكر لَهُ حَدِيث لم يعرفهُ فَانْصَرف إِلَى منزله وأوقد السراج وَقَالَ لمن فِي الدَّار لَا يدخلن أحد مِنْكُم هَذَا الْبَيْت فَقيل لَهُ أهديت لنا سلة فِيهَا تمر فَقَالَ قدموها إِلَيّ فقدموها فَكَانَ يطْلب الحَدِيث وَيَأْخُذ تَمْرَة تَمْرَة يمضغها فَأصْبح وَقد فنى التَّمْر وَوجد الحَدِيث قَالَ الْحَاكِم زادني الثِّقَة من أَصْحَابنَا أَنه مِنْهَا مرض وَمَات قلت قد زرت قَبره بنيسابور وَسَمعنَا عِنْده خَاتِمَة كِتَابه الصَّحِيح وَغير ذَلِك رضي الله عنه وعنا ونفعنا بكتابه وبسائر الْعلم آمين آمين
ইয়াকুব বলেন, আমি আহমদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি: আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের জন্য একটি পর্যালোচনা (مذاكرة) মজলিসের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তাঁর নিকট এমন একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো যা তিনি চিনতে পারছিলেন না। ফলে তিনি তাঁর গৃহে ফিরে গেলেন এবং প্রদীপ প্রজ্বলিত করলেন। তিনি ঘরের লোকদের বললেন, "তোমাদের কেউ যেন এই ঘরে প্রবেশ না করে।" তাঁকে বলা হলো, "আমাদের এক ঝুড়ি খেজুর উপহার দেওয়া হয়েছে।" তিনি বললেন, "সেটি আমার নিকট নিয়ে এসো।" তারা তা তাঁর কাছে নিয়ে এল। তিনি হাদিসটি অনুসন্ধান করতে লাগলেন এবং একটি একটি করে খেজুর নিয়ে চিবুচ্ছিলেন। সকাল হতে না হতেই খেজুর শেষ হয়ে গেল এবং তিনি হাদিসটিও খুঁজে পেলেন। আল-হাকিম বলেন, আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে এক নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, এর মাধ্যমেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, আমি নিশাপুরে তাঁর কবর যিয়ারত করেছি। আমরা তাঁর নিকট তাঁর রচিত সহীহ কিতাবটির সমাপ্তি অংশ এবং অন্যান্য কিতাব শ্রবণ করেছি। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং আমাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর কিতাব ও অন্যান্য ইলম দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আমিন, আমিন।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
بَيَان حَال هَذَا الْكتاب وفضله وَشَرطه ولنفصل فِي ذَلِك فصولا
এই গ্রন্থের অবস্থা, এর শ্রেষ্ঠত্ব ও এর মানদণ্ড (شرط) সংক্রান্ত বর্ণনা এবং এ বিষয়ে আমরা কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
الْفَصْل الأول هَذَا الْكتاب ثَانِي كتاب صنف فِي صَحِيح الحَدِيث ووسم بِهِ وَوضع لَهُ خَاصَّة سبق البُخَارِيّ إِلَى ذَلِك وَصلى مُسلم ثمَّ لم يلحقهما لَاحق وكتاباهما أصح مَا صنفه المصنفون وَالْبُخَارِيّ وَكتابه أَعلَى حَالا فِي الصَّحِيح وانتقاده أخر جمه وَكَانَ مُسلم مَعَ حذقه ومشاركته لَهُ فِي كثير من شُيُوخه أحد المستفيدين مِنْهُ والمقرين لَهُ بالأستاذية روينَا عَن مُسلم رضي الله عنه قَالَ صنفت هَذَا الْمسند الصَّحِيح من ثَلَاثمِائَة ألف حَدِيث مسموعة وبلغنا عَن مكي بن عَبْدَانِ وَهُوَ أحد حفاظ نيسابور قَالَ سَمِعت مُسلم بن الْحجَّاج يَقُول لَو أَن أهل الحَدِيث يَكْتُبُونَ مِائَتي سنة الحَدِيث فمدارهم على هَذَا الْمسند يَعْنِي مُسْنده الصَّحِيح
قَالَ وَسمعت مُسلما يَقُول عرضت كتابي هَذَا الْمسند على أبي زرْعَة الرَّازِيّ فَكل مَا أَشَارَ أَن لَهُ عِلّة تركته وكل مَا قَالَ إِنَّه صَحِيح وَلَيْسَ لَهُ عِلّة أخرجته وَورد
প্রথম পরিচ্ছেদ এই কিতাবটি সহিহ (صحيح) হাদিসের ওপর রচিত এবং বিশেষভাবে এই নামে সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে দ্বিতীয়। ইমাম বুখারি এ ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং ইমাম মুসলিম তাঁকে অনুসরণ করেছেন, অতঃপর পরবর্তী কেউ তাঁদের সমকক্ষ হতে পারেননি। তাঁদের কিতাবদ্বয় সংকলকদের সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح)। ইমাম বুখারি এবং তাঁর কিতাব সহিহ (صحيح) এর মানদণ্ডে এবং হাদিস চয়নের সূক্ষ্মতায় অধিক উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। ইমাম মুসলিম স্বীয় প্রজ্ঞা এবং অনেক শিক্ষকের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারির সাথে অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর থেকে উপকৃতদের এবং তাঁর শিক্ষকতা স্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমাদের নিকট ইমাম মুসলিম (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি এই সহিহ (صحيح) মুসনাদ তিন লক্ষ শ্রবণকৃত হাদিস থেকে সংকলন করেছি।" নিশাপুরের অন্যতম হাফেজ (حفاظ) মক্কী বিন আবদান থেকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন: "আমি মুসলিম বিন হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি যে, যদি হাদিসের পণ্ডিতগণ দুইশ বছর ধরে হাদিস লিখেন, তবে তাঁদের মূল আবর্তন হবে এই মুসনাদকে কেন্দ্র করে," অর্থাৎ তাঁর সহিহ (صحيح) মুসনাদ।
তিনি বলেন, "আমি মুসলিমকে বলতে শুনেছি: আমি আমার এই মুসনাদ কিতাবটি আবু জুরআ আল-রাজিকে দেখিয়েছি; সুতরাং তিনি যেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সুপ্ত ত্রুটি (علة) থাকার ইঙ্গিত করেছেন সেগুলো আমি বর্জন করেছি, আর যেগুলোর ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে সেগুলো সহিহ (صحيح) এবং তাতে কোনো সুপ্ত ত্রুটি (علة) নেই, সেগুলো আমি চয়ন করেছি।" এবং বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
عَن مُسلم أَنه قَالَ مَا وضعت شَيْئا فِي هَذَا الْمسند إِلَّا بِحجَّة وَمَا أسقطت مِنْهُ شَيْئا إِلَّا بِحجَّة
أَخْبرنِي الشَّيْخ الْمسند أَبُو الْحسن الْمُؤَيد بن مُحَمَّد بن عَليّ بن المقرىء بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بشاذياخ نيسابور عَن أبي مَنْصُور عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الشَّيْبَانِيّ قَالَ أخبرنَا الْحَافِظ أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ بن ثَابت قَالَ حَدثنِي أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن أَحْمد بن عَليّ السوذرجاني بأصبهان قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن مَنْدَه قَالَ سَمِعت أَبَا عَليّ الْحُسَيْن بن عَليّ النَّيْسَابُورِي يَقُول مَا تَحت أَدِيم السَّمَاء أصح من كتاب
ইমাম মুসলিম হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, "আমি এই মুসনাদ গ্রন্থে কোনো কিছুই দলিল (حجة) ব্যতীত অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং তা থেকে কোনো কিছুই দলিল (حجة) ব্যতীত বর্জন করিনি।"
নিশাপুরের শাযিয়াখ নামক স্থানে আমার পাঠের মাধ্যমে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সনদ বর্ণনাকারী (المسند) শায়খ আবুল হাসান আল-মুআইয়্যাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-মুকরি। তিনি আবু মনসুর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-শাইবানী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ (الحافظ) আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত। তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আলী আল-সুদারজানি, আসফাহানে। তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মানদাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আলী আল-হুসাইন বিন আলী আল-নিশাপুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আকাশের নিচে এই কিতাব অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) আর কোনো কিতাব নেই।"
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
مُسلم بن الْحجَّاج فِي علم الحَدِيث
ورويناه من وَجه آخر عَن ابْن مَنْدَه الْحَافِظ هَذَا وَقَالَ فِيهِ سَمِعت أَبَا عَليّ الْحُسَيْن بن عَليّ النَّيْسَابُورِي وَمَا رَأَيْت أحفظ مِنْهُ هَذَا مَعَ كَثْرَة من لقِيه ابْن مَنْدَه من الْحفاظ وَقَول أبي عَليّ هَذَا إِن أَرَادَ بِهِ أَن كتاب مُسلم أصح من غَيره على معنى أَنه غير ممزوج بِغَيْر الصَّحِيح فَإِنَّهُ جرد الصَّحِيح وسرده على التوالي بأصوله وشواهده على خلاف كتاب البُخَارِيّ فَإِنَّهُ أودع تراجم أَبْوَاب كِتَابه كثيرا من موقوفات الصَّحَابَة ومقطوعات التَّابِعين وَغير ذَلِك مِمَّا لَيْسَ من جنس الصَّحِيح فَذَلِك مَقْبُول من أبي عَليّ وَإِن أَرَادَ تَرْجِيح كتاب مُسلم على كتاب البُخَارِيّ فِي نفس الصَّحِيح وَفِي إتقانه والاضطلاع بِشُرُوطِهِ وَالْقَضَاء بِهِ فَلَيْسَ ذَلِك كَذَلِك كَمَا قدمْنَاهُ وَكَيف يسلم لمُسلم ذَلِك وَهُوَ يرى على مَا ذكره من بعد فِي خطْبَة كِتَابه أَن الحَدِيث المعنعن وَهُوَ الَّذِي يُقَال فِي إِسْنَاده فلَان عَن فلَان ينسلك فِي سلك الْمَوْصُول الصَّحِيح بِمُجَرَّد كَونهمَا فِي عصر وَاحِد مَعَ إِمْكَان تلاقيهما وَإِن لم يثبت تلاقيهما وَسَمَاع أَحدهمَا من الآخر وَهَذَا مِنْهُ توسع يقْعد بِهِ عَن التَّرْجِيح فِي ذَلِك وَإِن لم يلْزم مِنْهُ عمله بِهِ فِيمَا أودعهُ فِي صَحِيحه هَذَا وَفِيمَا يُورِدهُ فِيهِ من الطّرق المتعددة للْحَدِيث الْوَاحِد مَا يُؤمن من وَهن ذَلِك وَالله أعلم
نعم يتَرَجَّح كتاب مُسلم بِكَوْنِهِ أسهل متناولا من حَيْثُ إِنَّه جعل لكل حَدِيث موضعا وَاحِدًا يَلِيق بِهِ يُورِدهُ فِيهِ بِجَمِيعِ مَا يُرِيد ذكره فِيهِ من أسانيده المتعددة وَأَلْفَاظه الْمُخْتَلفَة فيسهل على النَّاظر النّظر فِي وجوهه واستثمارها بِخِلَاف البُخَارِيّ فَإِنَّهُ يُورد تِلْكَ الْوُجُوه الْمُخْتَلفَة فِي أَبْوَاب شَتَّى مُتَفَرِّقَة بِحَيْثُ يصعب على النَّاظر جمع شملها واستدراك الْفَائِدَة من اختلافها وَالله أعلم
হাদিস শাস্ত্রে মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ
আমরা এটি হাফেজ (الحافظ) ইবনে মান্দাহর মাধ্যমে অন্য একটি সূত্রে বর্ণনা করেছি। তিনি এতে বলেছেন: আমি আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-নায়সাবুরিকে বলতে শুনেছি—ইবনে মান্দাহ যতজন হাফেজ (الحفاظ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের সংখ্যাধিক্য সত্ত্বেও তিনি (আবু আলী) বলেছেন, "আমি তাঁর (মুসলিম) চেয়ে বড় কোনো হাফেজ (الحفاظ) দেখিনি।" আবু আলীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে যদি তিনি এটি বুঝাতে চান যে, মুসলিমের কিতাব অন্যান্য কিতাবের চেয়ে বিশুদ্ধতর (أصح), এই অর্থে যে এটি সহিহ (الصحيح) ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত নয়—কেননা তিনি কেবল সহিহ (الصحيح) হাদিসগুলোকেই বেছে নিয়েছেন এবং সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে মূল পাঠ ও সমর্থক বর্ণনাসমূহের (شواهده) সাথে সাজিয়েছেন। এটি সহিহ বুখারির বিপরীত, কারণ তিনি (বুখারি) তাঁর কিতাবের অধ্যায়গুলোর শিরোনামে সাহাবীদের অনেক স্থগিত (موقوفات) বর্ণনা এবং তাবেয়ীদের বিচ্ছিন্ন (مقطوعات) উক্তি ও অন্যান্য এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা সহিহ (الصحيح) পর্যায়ের নয়। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আবু আলীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য (مقبول)। আর যদি তিনি সহিহ (الصحيح) হাদিসের প্রকৃত মানদণ্ডে, এর নির্ভুলতায়, এর শর্তাবলি পালনে এবং এর ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মুসলিমের কিতাবকে সহিহ বুখারির ওপর প্রাধান্য দিতে চান, তবে বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি আমরা আগে বর্ণনা করেছি। আর মুসলিমের জন্য এটি কীভাবে মেনে নেওয়া যায়, অথচ তিনি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় পরবর্তীতে যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী মনে করেন যে, মুয়ানআন (المعنعن) হাদিস—অর্থাৎ যার সনদে (إسناده) 'অমুক হতে অমুক' বলা হয়েছে—তাও নিরবচ্ছিন্ন (الموصول) সহিহ (الصحيح) এর অন্তর্ভুক্ত হবে যদি বর্ণনাকারীদ্বয় কেবল সমসাময়িক হন এবং তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকে, যদিও তাদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ এবং একে অপরের থেকে শ্রবণ প্রমাণিত না হয়। এটি তাঁর পক্ষ থেকে এক প্রকার শিথিলতা, যা এই ক্ষেত্রে তাঁকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাতে অন্তরায় সৃষ্টি করে। যদিও এর মানে এই নয় যে, তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে যা সংকলন করেছেন তাতে এটি প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়েছে; বরং একটি হাদিসের একাধিক সূত্র (الطرق) উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি এর দুর্বলতা (وهن) থেকে মুক্ত থাকার নিরাপত্তা দিয়েছেন। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
হ্যাঁ, মুসলিমের কিতাবটি ব্যবহারের সহজসাধ্যতার কারণে অগ্রাধিকার পায়, কারণ তিনি প্রতিটি হাদিসের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি সেই হাদিস সংশ্লিষ্ট সকল সনদ (أسانيده) এবং বিভিন্ন শব্দবিন্যাস একত্রে উল্লেখ করেছেন। ফলে পাঠকের জন্য হাদিসের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা এবং তা থেকে জ্ঞান আহরণ করা সহজ হয়। বুখারি এর বিপরীত, কারণ তিনি এই বিভিন্ন দিকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিচ্ছিন্ন অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, ফলে পাঠকের জন্য সেগুলো একত্রিত করা এবং তাদের বৈচিত্র্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
قَرَأت على الشيخة الصَّالِحَة أم الْمُؤَيد ابْنة عبد الرَّحْمَن بن الْحسن النيسابورية بهَا عَن الإِمَام أبي عبد الله مُحَمَّد بن الْفضل الصاعدي وَغَيره عَن الإِمَام أبي بكر أَحْمد بن الْحُسَيْن الْبَيْهَقِيّ الْحَافِظ وَغَيره قَالُوا أخبرنَا الْحَاكِم أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن الْحَافِظ قَالَ سَمِعت عمر بن احْمَد الزَّاهِد قَالَ سَمِعت الثِّقَة
আমি পুণ্যবতী (الصَّالِحَة) শায়খা উম্মুল মুআইয়াদ বিনতে আবদুর রহমান বিন আল-হাসান আন-নাইসাবুরিয়ার নিকট পাঠ করেছি; তিনি সেখানে ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আস-সাঈদী ও অন্যদের নিকট থেকে, তাঁরা ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী হাফিজ (الحافظ) ও অন্যদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: হাফিজ (الحافظ)-এর পুত্র আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আমি ওমর বিন আহমদ আজ-জাহিদকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেন: আমি নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧١)
من أَصْحَابنَا يَقُول رَأَيْت فِيمَا يرى النَّائِم كَأَن أَبَا عَليّ الزغوري يمشي فِي شَارِع الْحيرَة ويبكي وَبِيَدِهِ جُزْء من كتاب مُسلم فَقلت لَهُ مَا فعل الله بك فَقَالَ نجوت بِهَذَا وَأَشَارَ إِلَى ذَلِك الْجُزْء
أَبُو عَليّ هَذَا هُوَ مُحَمَّد بن عبد الْعَزِيز الزغوري بِفَتْح الزَّاي وَضم الْغَيْن الْمُعْجَمَة وَبعدهَا وَاو سَاكِنة ثمَّ رَاء مُهْملَة وَكَانَت لَهُ عناية بِصَحِيح مُسلم والتخريج عَلَيْهِ وشارع الْحيرَة هُوَ بنيسابور نفعنا الله الْكَرِيم بالدأب كَمَا نَفعه آمين وَالله أعلم
আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে একজন বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আবু আলী আল-যাগুরি হাইরাহ্ নামক মহল্লায় হাঁটছেন এবং কাঁদছেন, আর তাঁর হাতে সহিহ মুসলিমের একটি খণ্ড (جزء) ছিল। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন, আমি এর মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছি এবং তিনি সেই খণ্ডটির (جزء) দিকে ইশারা করলেন।
এই আবু আলী হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-যাগুরি। 'যাগুরি' শব্দটি 'যা' বর্ণে ফাতহা, বিন্দুযুক্ত 'গাইন' বর্ণে দম্মা, এরপর সাকিন 'ওয়াও' এবং শেষে বিন্দুহীন 'রা' বর্ণ যোগে গঠিত। সহিহ মুসলিম এবং এর ওপর হাদিসের উৎস নির্ণয় (التخريج) করার বিষয়ে তাঁর বিশেষ যত্ন ও একাগ্রতা ছিল। হাইরাহ্ মহল্লাটি নিশাপুরে অবস্থিত। মহান আল্লাহ যেমন তাঁকে তাঁর নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপকৃত করেছেন, আমাদেরও সেভাবে উপকৃত করুন, আমিন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
الْفَصْل الثَّانِي شَرط مُسلم فِي صَحِيحه أَن يكون الحَدِيث مُتَّصِل الْإِسْنَاد بِنَقْل الثِّقَة عَن الثِّقَة من أَوله إِلَى منتهاه سالما من الشذوذ وَمن الْعلَّة وَهَذَا هُوَ حد الحَدِيث الصَّحِيح فِي نفس الْأَمر فَكل حَدِيث اجْتمعت فِيهِ هَذِه الْأَوْصَاف فَلَا خلاف بَين أهل الحَدِيث فِي صِحَّته وَمَا اخْتلفُوا فِي صِحَّته من الْأَحَادِيث فقد يكون سَبَب اخْتلَافهمْ انْتِفَاء وصف من هَذِه الْأَوْصَاف بَينهم خلاف فِي اشْتِرَاطه كَمَا إِذا كَانَ بعض رُوَاة الحَدِيث مَسْتُورا أَو كَمَا إِذا كَانَ الحَدِيث مُرْسلا وَقد يكون سَبَب اخْتلَافهمْ فِي صِحَّته اخْتلَافهمْ فِي أَنه هَل اجْتمعت فِيهِ هَذِه الْأَوْصَاف أَو انْتَفَى بَعْضهَا وَهَذَا هُوَ الْأَغْلَب فِي ذَلِك وَذَلِكَ كَمَا إِذا كَانَ الحَدِيث فِي رُوَاته من اخْتلف
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে যে শর্তারোপ করেছেন তা হলো, হাদিসটি যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সনদ (متصل الإسناد) বিশিষ্ট হয় এবং তা যেন ব্যত্যয় (شذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত থাকে। আর এটিই হলো প্রকৃতপক্ষে সহিহ (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞা। সুতরাং যে হাদিসে এই বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকে, তার বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে হাদিস বিশারদদের মাঝে কোনো মতপার্থক্য নেই। আর যেসব হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন, তাঁদের সেই মতভেদের কারণ হতে পারে এমন কোনো বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতি যা শর্ত হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; যেমন হাদিসের কোনো বর্ণনাকারী যদি অপ্রকাশিত (مستور) হন অথবা হাদিসটি যদি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হয়। আবার অনেক সময় তাঁদের এই মতভেদের কারণ এটিও হতে পারে যে, সেই হাদিসটিতে এই বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ণ হয়েছে কি না, নাকি এর কোনোটি অনুপস্থিত—সে বিষয়ে তাঁরা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটিই হয়ে থাকে; আর তা হলো যখন হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকেন যাঁকে নিয়ে ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
فِي ثقته وَكَونه من شَرط الصَّحِيح فَإِذا كَانَ الحَدِيث قد تداولته الثِّقَات غير أَن فِي رِجَاله أَبَا الزبير الْمَكِّيّ مثلا أَو سُهَيْل بن أبي صَالح أَو الْعَلَاء بن عبد الرَّحْمَن أَو حَمَّاد بن سَلمَة
قَالُوا فِيهِ هَذَا حَدِيث صَحِيح على شَرط مُسلم وَلَيْسَ بِصَحِيح على شَرط البُخَارِيّ لكَون هَؤُلَاءِ عِنْد مُسلم مِمَّن اجْتمعت فيهم الْأَوْصَاف الْمُعْتَبرَة وَلم يثبت عِنْد البُخَارِيّ ذَلِك فيهم وَكَذَا حَال البُخَارِيّ فِيمَا خرجه من حَدِيث عِكْرِمَة مولى ابْن عَبَّاس
তাঁর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং সহিহ-এর শর্তের (شرط الصحيح) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে। সুতরাং যদি হাদিসটি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের দ্বারা আবর্তিত হয়, কিন্তু তার বর্ণনাকারীদের মাঝে উদাহরণস্বরূপ আবুয যুবাইর আল-মাক্কি অথবা সুহাইল ইবনে আবি সালিহ অথবা আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান অথবা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থাকেন—
তবে তাঁরা এই হাদিস সম্পর্কে বলেন: এটি মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح), কিন্তু বুখারি-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) নয়। কেননা, ইমাম মুসলিমের নিকট এই বর্ণনাকারীরা এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য গুণাবলি (الأوصاف المعتبرة) বিদ্যমান ছিল, কিন্তু ইমাম বুখারির নিকট তাঁদের ব্যাপারে তা প্রমাণিত হয়নি। অনুরূপভাবে ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমার হাদিস থেকে যা বর্ণনা করেছেন, সেটির অবস্থাও একই।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٤)
وَإِسْحَاق بن مُحَمَّد الْفَروِي وَعَمْرو بن مَرْزُوق وَغَيرهم مِمَّن احْتج بهم البُخَارِيّ وَلم يحْتَج بهم مُسلم
قَرَأت بِخَط الْحَاكِم أبي عبد الله الْحَافِظ فِي كِتَابه الْمدْخل إِلَى معرفَة الْمُسْتَدْرك أَن عدد من أخرجهم البُخَارِيّ فِي الْجَامِع الصَّحِيح وَلم يخرجهم مُسلم أَرْبَعمِائَة وَأَرْبَعَة وَثَلَاثُونَ شَيخا وَعدد من احْتج بهم مُسلم فِي الْمسند الصَّحِيح وَلم يحْتَج بهم البُخَارِيّ فِي الْجَامِع الصَّحِيح سِتّمائَة وَخَمْسَة وَعِشْرُونَ شَيخا وَقد روينَا عَن مُسلم فِي بَاب صفة صَلَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من صَحِيحه أَنه قَالَ لَيْسَ كل شَيْء عِنْدِي صَحِيح وَضعته هَاهُنَا يَعْنِي فِي كِتَابه الصَّحِيح وَإِنَّمَا وضعت هَاهُنَا مَا أَجمعُوا عَلَيْهِ
وَهَذَا مُشكل جدا فَإِنَّهُ قد وضع فِيهِ أَحَادِيث قد اخْتلفُوا فِي صِحَّتهَا لكَونهَا من حَدِيث من ذَكرْنَاهُ وَمن لم تذكره مِمَّن اخْتلفُوا فِي صِحَة حَدِيثه وَلم يجمعوا عَلَيْهِ
এবং ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারভি ও আমর ইবনে মারজুক এবং অন্যান্যরা হলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মাধ্যমে বুখারি দলিল গ্রহণ (احتج) করেছেন কিন্তু মুসলিম দলিল গ্রহণ (احتজ) করেননি।
আমি হাফেজ (حافظ) আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের স্বহস্তে লিখিত তাঁর আল-মাদখাল ইলা মা'রিফাতিল মুস্তাদরাক কিতাবে পড়েছি যে, যাদের থেকে বুখারি জামে সহিহ-এ বর্ণনা সংকলন (أخرج) করেছেন কিন্তু মুসলিম সংকলন (أخرج) করেননি, তাঁদের সংখ্যা চারশ চৌত্রিশজন শিক্ষক (شيخ)। আর মুসলিম তাঁর মুসনাদ সহিহ-এ যাদের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (احتج) করেছেন কিন্তু বুখারি জামে সহিহ-এ দলিল গ্রহণ (احتج) করেননি, তাঁদের সংখ্যা ছয়শ পঁচিশজন শিক্ষক (شيخ)। এবং আমরা মুসলিম থেকে তাঁর সহিহ গ্রন্থের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতি অধ্যায়ে বর্ণনা (روينا) করেছি যে তিনি বলেছেন: "আমার নিকট যে সমস্ত হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) তার সবই আমি এখানে—অর্থাৎ তাঁর সহিহ কিতাবে—স্থান দেইনি, বরং আমি কেবল তা-ই এখানে স্থান দিয়েছি যার ওপর তাঁরা ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন।"
আর বিষয়টি অত্যন্ত জটিল (مشكل); কারণ তিনি এতে এমন কিছু হাদিস স্থান দিয়েছেন যেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। কারণ সেগুলো এমন সব বর্ণনাকারীর হাদিস যাদের কথা আমরা উল্লেখ করেছি এবং যাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি, অথচ যাদের বর্ণিত হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন এবং ঐকমত্য (يجمعوا) পোষণ করেননি।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٥)
وَقد أجبْت عَلَيْهِمَا بجوابين أَحدهمَا مَا ذكرته فِي كتاب معرفَة عُلُوم الحَدِيث وَهُوَ أَنه أَرَادَ بِهَذَا الْكَلَام وَالله أعلم أَنه لم يضع فِي كِتَابه إِلَّا الْأَحَادِيث الَّتِي وجد عِنْده فِيهَا شَرَائِط الْمجمع عَلَيْهِ وَإِن لم يظْهر اجتماعها فِي بَعْضهَا عِنْد بَعضهم
وَالثَّانِي أَنه أَرَادَ أَنه مَا وضع فِيهِ مَا اخْتلفت الثِّقَات فِيهِ فِي نفس الحَدِيث متْنا أَو إِسْنَادًا وَلم يرد مَا كَانَ اخْتلَافهمْ إِنَّمَا هُوَ فِي تَوْثِيق بعض رُوَاته وَهَذَا هُوَ الظَّاهِر من كَلَامه فَإِنَّهُ ذكر ذَلِك لما سُئِلَ عَن حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَإِذا قَرَأَ فأنصتوا هَل هُوَ صَحِيح فَقَالَ هُوَ عِنْدِي صَحِيح فَقيل لَهُ لم لم تضعه هَاهُنَا فَأجَاب بالْكلَام الْمَذْكُور وَمَعَ هَذَا قد اشْتَمَل كِتَابه على أَحَادِيث اخْتلفُوا فِي إسنادها أَو متنها عَن هَذَا الشَّرْط لصحتها عِنْده وَفِي ذَلِك ذُهُول مِنْهُ رحمنا الله وإياه عَن هَذَا الشَّرْط أَو سَبَب آخر وَقد استدركت عَلَيْهِ وعللت وَالله أعلم
আমি এই দুইটির দু’টি উত্তর দিয়েছি; যার একটি আমি আমার মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। আর তা হলো, তিনি এই কথা দ্বারা—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে কেবল সেই হাদিসগুলোই স্থান দিয়েছেন যেগুলোতে তাঁর নিকট সর্বসম্মত (المجمع عليه) শর্তাবলি বিদ্যমান ছিল, যদিও সেগুলোর কোনো কোনোটিতে সেই শর্তাবলির সমাবেশ অন্যদের নিকট স্পষ্ট ছিল না।
দ্বিতীয়ত, তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে এমন হাদিস আনেননি যার মতন (متنا) বা সনদ (إسنادا) নিয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) মতভেদ করেছেন। তিনি এমনটি বুঝাতে চাননি যেখানে মতভেদ কেবল বর্ণনাকারীদের (رواة) নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর তাঁর বক্তব্য থেকে এটিই প্রতীয়মান (الظاهر); কারণ তিনি এটি তখন উল্লেখ করেছিলেন যখন তাঁকে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত ‘যখন তিনি (ইমাম) কিরাত পড়েন তখন তোমরা নীরব থাকো’ হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এটি কি সহিহ (صحيح)? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘এটি আমার নিকট সহিহ (صحيح)’। তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘তবে আপনি কেন তা এখানে উল্লেখ করেননি?’ উত্তরে তিনি উল্লিখিত কথাটি বলেছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁর গ্রন্থে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোর সনদ (إسنادا) বা মতন (متنا) নিয়ে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিকট সেগুলোর বিশুদ্ধতার (صحة) কারণে তিনি তা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে সম্ভবত তাঁর উক্ত শর্তের ব্যাপারে কোনো বিচ্যুতি ঘটেছে—আল্লাহ আমাদের ও তাঁর প্রতি রহম করুন—অথবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। আমি তাঁর এ জাতীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত (استدركت) করেছি এবং সেগুলোর ত্রুটিসমূহ বর্ণনা (عللت) করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٦)
الْفَصْل الثَّالِث وَقع فِي هَذَا الْكتاب وَفِي كتاب البُخَارِيّ مَا صورته صُورَة الإنقطاع وَلَيْسَ ملتحقا بالإنقطاع فِي إِخْرَاج مَا وَقع فِيهِ ذَلِك من حيّز الصَّحِيح إِلَى حيّز الضَّعِيف وَيُسمى تَعْلِيقا سَمَّاهُ بِهِ الإِمَام أَبُو الْحسن الدَّارَقُطْنِيّ ويذكره الْحميدِي فِي الْجمع بَين الصَّحِيحَيْنِ وَغَيره من المغاربة وَكَأَنَّهُم سموهُ تَعْلِيقا أخذا من تَعْلِيق الْعتْق وَالطَّلَاق وَتَعْلِيق الْجِدَار لما يشْتَرك فِيهِ الْجَمِيع من قطع الإتصال فَإِن مَا فِيهِ من حذف رجل أَو رجلَيْنِ أَو أَكثر من أَوَائِل الْإِسْنَاد قَاطع للإتصال لَا محَالة وَهُوَ فِي كتاب البُخَارِيّ كثير وَفِي كتاب مُسلم قَلِيل وَإِذا كَانَ التَّعْلِيق بِلَفْظ فِيهِ جزم مِنْهُمَا وَحكم بِأَن من وَقع بَينهمَا وَبَينه الإنقطاع قد قَالَ ذَلِك أَو رَوَاهُ واتصل الْإِسْنَاد
তৃতীয় পরিচ্ছেদ এই গ্রন্থে এবং সহীহ বুখারী গ্রন্থে এমন কিছু বর্ণনা এসেছে যা দেখতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) এর মতো মনে হয়; তবে তা বর্ণিত হাদিসগুলোকে সহীহ (صحيح) এর পর্যায় থেকে দুর্বল (ضعيف) এর পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করার মতো বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) নয়। একে মুআল্লাক (تعليق) বলা হয়; ইমাম আবুল হাসান দারাকুতনী একে এই নামে অভিহিত করেছেন। আল-হুমাইদী তাঁর 'আল-জাম বাইনাস সহীহাইন' গ্রন্থে এবং মরক্কো অঞ্চলের অন্যান্য উলামাগণও এটি উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত তাঁরা একে মুআল্লাক (تعليق) নামকরণ করেছেন দাস মুক্তি ও তালাককে কোনো শর্তের সাথে ঝুলিয়ে রাখা অথবা দেয়ালের ঝুলন্ত বস্তু থেকে রূপক অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে; কারণ এগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই মূল ভিত্তির সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন (قطع الاتصال) হওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা সনদের (إسناد) শুরু থেকে একজন, দুইজন বা তার অধিক বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হলে তা নিশ্চিতভাবেই ধারাবাহিক সংযোগের বিচ্ছেদ (قطع الاتصال) ঘটায়। সহীহ বুখারী গ্রন্থে এ ধরনের বর্ণনার আধিক্য রয়েছে এবং সহীহ মুসলিম গ্রন্থে এর সংখ্যা খুবই নগণ্য। আর যদি এই মুআল্লাক (تعليق) বর্ণনাটি তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তাবোধক (جزم) শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত হয় এবং তাঁরা এই সিদ্ধান্ত দেন যে, যাঁর ও তাঁদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ঘটেছে তিনি এটি নিশ্চিতভাবে বলেছেন বা বর্ণনা করেছেন, তবে সেই সনদ (إسناد) টি সংযুক্ত বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
مِنْهُ على الشَّرْط مثل أَن يَقُولَا روى الزُّهْرِيّ ويسوقا إِسْنَاده مُتَّصِلا ثِقَة عَن ثِقَة فحال الْكِتَابَيْنِ يُوجب أَن ذَلِك من الصَّحِيح عِنْدهمَا وَكَذَلِكَ مَا روياه عَن من ذكرَاهُ بِمَا لم يحصل بِهِ التَّعْرِيف بِهِ وأورداه أصلا محتجين بِهِ وَذَلِكَ مثل حَدثنِي بعض أَصْحَابنَا وَنَحْو ذَلِك وَذكر الْحَافِظ أَبُو عَليّ الغساني الأندلسي أَن مُسلما وَقع الإنقطاع فِيمَا رَوَاهُ فِي كِتَابه فِي أَرْبَعَة عشر موضعا
أَولهَا فِي التَّيَمُّم قَوْله فِي حَدِيث أبي الجهم وروى اللَّيْث بن سعد
এতে সেই শর্তানুসারে (على الشرط) যেমন তাঁদের উভয়ের উক্তি: 'জুহরি বর্ণনা করেছেন' এবং তাঁরা এর সনদকে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে অপর নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে বর্ণনা করেন; এমতাবস্থায় কিতাব দুটির মানদণ্ড দাবি করে যে, তা তাঁদের নিকট সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য। একইভাবে তাঁরা এমন বর্ণনাকারীদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন যাদের সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায় না, অথচ তাঁরা তা মূল পাঠ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর দ্বারা দলিল (احتجاج) গ্রহণ করেছেন; যেমন তাঁদের উক্তি: 'আমাদের জনৈক সাথী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং এই জাতীয় বক্তব্য। হাফেজ আবু আলী আল-গাসসানি আল-আন্দালুসি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবে যা বর্ণনা করেছেন তাতে চৌদ্দটি স্থানে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ঘটেছে।
এর প্রথমটি তায়াম্মুম অধ্যায়ে, আবু জাহামের হাদিস সম্পর্কে তাঁর উক্তি: 'লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন'।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٨)
ثمَّ قَوْله فِي كتاب الصَّلَاة فِي بَاب الصَّلَاة على النَّبِي صلى الله عليه وسلم حَدثنَا صَاحب لنا عَن إِسْمَاعِيل بن زَكَرِيَّاء عَن الْأَعْمَش وَهَذَا فِي رِوَايَة أبي الْعَلَاء بن ماهان وسلمت رِوَايَة أبي أَحْمد الجلودي من هَذَا وَقَالَ فِيهِ عَن مُسلم حَدثنَا مُحَمَّد بن بكار قَالَ حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن زَكَرِيَّاء
ثمَّ فِي بَاب السُّكُوت بَين التَّكْبِير وَالْقِرَاءَة قَوْله وَحدثت عَن يحيى بن حسان وَيُونُس الْمُؤَدب
ثمَّ قَوْله فِي كتاب الْجَنَائِز فِي حَدِيث عَائِشَة رضي الله عنها فِي خُرُوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى البقيع لَيْلًا وحَدثني من سمع حجاجا الْأَعْوَر وَاللَّفْظ لَهُ قَالَ حَدثنَا حجاج ابْن مُحَمَّد حَدثنَا ابْن جريج
وَقَوله فِي بَاب الْحَوَائِج فِي حَدِيث عَائِشَة رضي الله عنها حَدثنِي غير وَاحِد من أَصْحَابنَا قَالُوا حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس
অতঃপর কিতাবুস সালাত-এর নবী (সা.)-এর ওপর সালাত পাঠ অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্য: "আমাদের এক সাথী (صاحب لنا) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইসমাইল বিন জাকারিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে।" এটি আবু আল-আলা বিন মাহানের বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে; তবে আবু আহমাদ আল-জালুদির বর্ণনা (رواية) এটি থেকে মুক্ত ছিল। তিনি এতে মুসলিম থেকে বলেছেন: মুহাম্মদ বিন বাক্কার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, ইসমাইল বিন জাকারিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।
অতঃপর তকবির ও কিরাতের মধ্যবর্তী নীরবতা অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্য: "ইয়াহইয়া বিন হাসান ও ইউনুস আল-মুয়াদ্দিব থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে (حدثت)।"
অতঃপর কিতাবুল জানাইজ-এ আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.)-এর রাতে বাকী গমনের আলোচনায় তাঁর বক্তব্য: "আমার কাছে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন (حدثني) যিনি হাজ্জাজ আল-আওয়ার থেকে শুনেছেন—এবং শব্দপ্রয়োগ তাঁরই—তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে জুরাইজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।"
এবং প্রয়োজন পূরণ অধ্যায়ে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে তাঁর বক্তব্য: "আমাদের একাধিক (غير واحد) সাথী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তাঁরা বলেন: ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।"
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٧٩)
وَقَوله فِي هَذَا الْبَاب وروى اللَّيْث بن سعد قَالَ حَدثنِي جَعْفَر بن ربيعَة وَذكر حَدِيث كَعْب بن مَالك فِي تقاضي ابْن أبي حَدْرَد
وَقَوله فِي بَاب احتكار الطَّعَام فِي حَدِيث معمر بن عبد الله الْعَدوي حَدثنِي بعض أَصْحَابنَا عَن عَمْرو بن عون وَالله أعلم
وَقَوله فِي صفة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَحدثت عَن أبي أُسَامَة وَمِمَّنْ روى ذَلِك عَنهُ إِبْرَاهِيم بن سعيد الْجَوْهَرِي قَالَ حَدثنَا أَبُو أُسَامَة
وَذكر أَبُو عَليّ أَنه رَوَاهُ أَبُو أَحْمد الجلودي عَن مُحَمَّد بن الْمسيب الأرغياني عَن إِبْرَاهِيم بن سعيد
এবং এই পরিচ্ছেদে তাঁর বক্তব্য হলো: লাইস বিন সাদ বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন, জাফর বিন রাবিয়াহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), এবং তিনি ইবনে আবি হাদরাদের নিকট পাওনা পরিশোধের দাবির বিষয়ে কাব বিন মালিকের হাদিস উল্লেখ করেছেন।
এবং খাদ্য মজুতকরণ পরিচ্ছেদে মামার বিন আব্দুল্লাহ আল-আদাবীর হাদিস সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য: "আমাদের কোনো কোনো সাথী আমর বিন আউন থেকে আমার কাছে হাদিস বর্ণনা (حدثني) করেছেন", আর আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে তাঁর বক্তব্য: "আমার কাছে আবু উসামাহ থেকে বর্ণিত (حدثت) হয়েছে"; আর যাঁদের মাধ্যমে এটি বর্ণিত (روى) হয়েছে তাঁদের মধ্যে ইব্রাহিম বিন সাঈদ আল-জাওহারী অন্যতম, তিনি বলেন: "আবু উসামাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا)।"
এবং আবু আলী উল্লেখ করেছেন যে, আবু আহমদ আল-জালুদি এটি মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব আল-আরগিয়ানি থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন সাঈদ থেকে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٨٠)
قلت ورويناه من غير طَرِيق أبي أَحْمد عَن مُحَمَّد بن الْمسيب وَرَوَاهُ غير ابْن الْمسيب عَن إِبْرَاهِيم الْجَوْهَرِي وسنورد ذَلِك فِي مَوْضِعه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَفِي آخر الْفَضَائِل فِي حَدِيث ابْن عمر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْتكُم ليلتكم هَذِه فَإِن على رَأس مائَة سنة مِنْهَا لَا يبْقى مِمَّن هُوَ على ظهر الأَرْض أحد
رِوَايَة مُسلم إِيَّاه مَوْصُولا عَن معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن سَالم عَن أَبِيه ثمَّ قَالَ حَدثنِي عبد الله بن عبد الرَّحْمَن الدَّارمِيّ أخبرنَا أَبُو الْيَمَان أخبرنَا شُعَيْب وَرَوَاهُ اللَّيْث عَن عبد الرَّحْمَن بن خَالِد بن مُسَافر كِلَاهُمَا عَن الزُّهْرِيّ بِإِسْنَاد معمر كَمثل حَدِيثه
وَقَالَ مُسلم فِي آخر كتاب الْقدر فِي حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ لتركبن سنَن من كَانَ قبلكُمْ حَدثنِي عدَّة من أَصْحَابنَا عَن سعيد بن أبي مَرْيَم وَهَذَا قد وَصله إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن سُفْيَان عَن مُحَمَّد بن يحيى بن أبي مَرْيَم
قلت وَإِنَّمَا أوردهُ مُسلم على وَجه الْمُتَابَعَة والاستشهاد
وَقَوله فِيمَا سبق فِي الاستشهاد والمتابعة فِي حَدِيث الْبَراء بن عَازِب فِي
আমি বলছি, আমরা এটি আবু আহমাদ ব্যতীত অন্য কোনো সূত্র (طريق) থেকে মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি। আর ইবনুল মুসাইয়্যিব ছাড়াও অন্য বর্ণনাকারী এটি ইবরাহিম আল-জাওহারি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা যথাস্থানে আমরা তা উল্লেখ করব।
ফাযায়িল অধ্যায়ের শেষে ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে রয়েছে: "তোমরা কি তোমাদের এই রাতটি দেখছ? আজ থেকে একশ বছর পর এই পৃথিবীতে বর্তমানে যারা আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।"
ইমাম মুসলিমের বর্ণনাটি মুত্তাসিল (موصولا) হিসেবে মা'মার, তিনি যুহরি, তিনি সালিম, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। এরপর তিনি (মুসলিম) বলেন, আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আদ-দারিমি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, আবুল ইয়ামান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। লাইস এটি আবদুর রহমান বিন খালিদ বিন মুসাফির থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে যুহরি থেকে মা'মারের সনদে (إسناد) তাঁর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুসলিম কিতাবুল কদরের শেষে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।" আমাদের একদল সাথী সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আর এটিকে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি মারইয়াম থেকে মুত্তাসিল করেছেন (وصله)।
আমি বলছি, ইমাম মুসলিম এটি কেবল মুতাবাআত (المتابعة) এবং ইশতিশহাদ (الاستشهاد) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আর ইতিপূর্বে বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর হাদিসে ইশতিশহাদ (الاستشهاد) এবং মুতাবাআত (المتابعة) সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য...
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٨١)
الصَّلَاة الْوُسْطَى بعد أَن رَوَاهُ مَوْصُولا وَرَوَاهُ الْأَشْجَعِيّ عَن سُفْيَان الثَّوْريّ إِلَى آخِره
وَقَوله أَيْضا فِي الرَّجْم فِي الْمُتَابَعَة لما رَوَاهُ مَوْصُولا من حَدِيث أبي هُرَيْرَة فِي الَّذِي اعْترف على نَفسه بِالزِّنَا وَرَوَاهُ اللَّيْث أَيْضا عَن عبد الرَّحْمَن بن خَالِد بن مُسَافر عَن ابْن شهَاب بِهَذَا الْإِسْنَاد
وَقَوله فِي كتاب الأمارة فِي الْمُتَابَعَة لما رَوَاهُ مُتَّصِلا من حَدِيث عَوْف بن مَالك خِيَار أئمتكم الَّذين تحبونهم وَرَوَاهُ مُعَاوِيَة بن صَالح عَن ربيعَة بن يزِيد
وَذكر أَبُو عَليّ فِيمَا عندنَا من كِتَابه فِي الرَّابِع عشر حَدِيث ابْن عمر أَرَأَيْتكُم ليلتكم هَذِه الْمَذْكُور فِي الْفَضَائِل وَقد ذكره مرّة فَيسْقط هَذَا من الْعدَد
والْحَدِيث الثَّانِي لكَون الجلودي رَوَاهُ عَن مُسلم مَوْصُولا وَرِوَايَته هِيَ الْمُعْتَمدَة الْمَشْهُورَة فَهِيَ إِذن اثْنَا عشر لَا أَرْبَعَة عشر وَأخذ هَذَا عَن أبي عَليّ أَبُو عبد الله الْمَازرِيّ صَاحب الْمعلم وَأطلق أَن فِي الْكتاب أَحَادِيث مَقْطُوعَة فِي أَرْبَعَة عشر موضعا
وَهَذَا يُوهم خللا فِي ذَلِك وَلَيْسَ ذَلِك كَذَلِك وَلَا شَيْء من هَذَا وَالْحَمْد لله
আস-সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী নামাজ) সম্পর্কে, এটি সংযুক্তভাবে (موصولا) বর্ণনা করার পর আশজায়ি সুফিয়ান সাওরি থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
এবং রজমের অধ্যায়ে আবু হুরায়রা বর্ণিত সেই হাদিসটির সমর্থনে (متابعة) তাঁর উক্তি—যিনি নিজের ব্যভিচারের কথা স্বীকার করেছিলেন—যেটি তিনি সংযুক্তভাবে (موصولا) বর্ণনা করেছেন; এবং লাইসও এটি আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে মুসাফির থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে এই একই সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণনা করেছেন।
এবং কিতাবুল ইমারাহ (নেতৃত্বের অধ্যায়)-এ আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত হাদিস—'তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইমাম তারাই যাদের তোমরা ভালোবাসো'—যেটি তিনি অবিচ্ছিন্নভাবে (متصلا) বর্ণনা করেছেন, তার সমর্থনে (متابعة) তাঁর বক্তব্য। এবং এটি মুয়াবিয়া ইবনে সালেহ রাবিয়াহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবু আলী আমাদের নিকট সংরক্ষিত তাঁর কিতাবের চৌদ্দতম স্থানে ইবনে উমরের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন—'তোমরা কি তোমাদের এই রাতটি দেখছো?'—যা ফাজায়েল অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। যেহেতু তিনি এটি ইতিমধ্যে একবার উল্লেখ করেছেন, তাই এটি গণনা থেকে বাদ যাবে।
আর দ্বিতীয় হাদিসটির ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো যে, জালুদি ইমাম মুসলিম থেকে এটি সংযুক্তভাবে (موصولا) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনাটিই নির্ভরযোগ্য ও সুপরিচিত। সুতরাং এটি চৌদ্দটির পরিবর্তে বারোটি হবে। 'আল-মু'লিম' গ্রন্থের লেখক আবু আবদুল্লাহ আল-মাজেরি এটি আবু আলীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তিনি সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কিতাবটিতে চৌদ্দটি স্থানে বিচ্ছিন্ন (مقطوعة) হাদিস রয়েছে।
এটি সেখানে কোনো ত্রুটির বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয় এবং এর মধ্যে তেমন কিছুই নেই, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ٨٢)
فَخرج لَا سِيمَا مَا كَانَ مِنْهَا مَذْكُورا على وَجه الْمُتَابَعَة فَفِي نفس الْكتاب وَصلهَا فَاكْتفى بِكَوْن ذَلِك مَعْرُوفا عِنْد أهل الحَدِيث
كَمَا أَنه روى عَن جمَاعَة من الضُّعَفَاء اعْتِمَادًا على كَون مَا رَوَاهُ عَنْهُم مَعْرُوفا من رِوَايَة الثِّقَات على مَا سنرويه عَنهُ فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَهَكَذَا الْأَمر فِي تعليقات البُخَارِيّ بِأَلْفَاظ مثبتة جازمة على الصّفة الَّتِي ذَكرنَاهَا كَمثل مَا قَالَ فِيهِ قَالَ فلَان أَو روى فلَان أَو ذكر فلَان أَو نَحْو ذَلِك وَلم يصب أَبُو مُحَمَّد ابْن حزم الظَّاهِرِيّ حَيْثُ جعل مثل ذَلِك انْقِطَاعًا قادحا فِي الصِّحَّة مستروحا إِلَى ذَلِك فِي تَقْرِير مذْهبه الْفَاسِد فِي إِبَاحَة الملاهي وزعمه أَنه لم يَصح فِي تَحْرِيمهَا حَدِيث مجيبا بِهِ عَن حَدِيث أبي عَامر أَو أبي مَالك الْأَشْعَرِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَيَكُونن فِي أمتِي أَقوام يسْتَحلُّونَ الْحَرِير وَالْخمر وَالْمَعَازِف إِلَى آخر الحَدِيث فَزعم أَنه وَإِن أخرجه البُخَارِيّ فَهُوَ غير صَحِيح
এর মাধ্যমেই বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে, বিশেষ করে সে সকল বর্ণনা যা সমর্থনকারী (متابعة) হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে; ইমাম বুখারী এই কিতাবেই সেগুলোর সংযোগ (وصل) ঘটিয়েছেন এবং হাদিস বিশারদগণের নিকট তা সুপরিচিত হওয়ার বিষয়টিকেই তিনি যথেষ্ট মনে করেছেন।
যেমনটি তিনি একদল দুর্বল (ضعفاء) রাবির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এই নির্ভরতায় যে, তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের বর্ণনার মাধ্যমে সুপরিচিত, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ তাআলা তাঁর থেকে বর্ণনা করব।
অনুরূপভাবে ইমাম বুখারীর সেই মুআল্লাক (تعليقات) বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য যা সুদৃঢ় ও চূড়ান্ত (جازمة) শব্দের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমরা ইতঃপূর্বে বর্ণনা করেছি। উদাহরণস্বরূপ তাঁর উক্তি: 'অমুক বলেছেন' অথবা 'অমুক বর্ণনা করেছেন' অথবা 'অমুক উল্লেখ করেছেন' ইত্যাদি। আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম আল-জাহিরি এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি যখন তিনি এই ধরনের বর্ণনাকে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) হিসেবে গণ্য করেছেন যা বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য ক্ষতিকর। তিনি বাদ্যযন্ত্র বৈধ হওয়ার বিষয়ে তাঁর ভ্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠায় একে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, বাদ্যযন্ত্র হারাম হওয়ার বিষয়ে কোনো সহিহ (صحيহ) হাদিস নেই। এর মাধ্যমে তিনি আবু আমির অথবা আবু মালিক আল-আশআরি থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসটির উত্তর দিয়েছেন যে: 'অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোক আসবে যারা রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে...' হাদিসের শেষ পর্যন্ত। তিনি দাবি করেছেন যে, ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করলেও তা সহিহ (صحيহ) নয়।