(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: -)
فضل الأخبار وشرح مذاهب أهل الآثار = شروط الأئمة   (ابن منده محمد بن إسحاق)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: رسالة في فضل الأخبار وشرح مذاهب أهل الآثار وحقيقة السنن

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن مَنْدَه العبدي (ت 395هـ)

المحقق: عبد الرحمن عبد الجبار الفريوائي

الناشر: دار المسلم - الرياض

الطبعة: الأولى، 1414

عدد الصفحات: 96

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বর্ণনার শ্রেষ্ঠত্ব (الأخبار) এবং আসার বিশারদগণের (أهل الآثار) মতাদর্শের ব্যাখ্যা = ইমামগণের শর্তাবলি (شروط)   (ইবনে মানদাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: বর্ণনার (الأخبار) শ্রেষ্ঠত্ব, আসার বিশারদগণের (أهل الآثار) মতাদর্শের ব্যাখ্যা এবং সুন্নাহর হাকিকত বিষয়ক রিসালাহ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মানদাহ আল-আবদি (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুর রহমান আব্দুল জব্বার আল-ফারিওয়াই

প্রকাশক: দার আল-মুসলিম - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه أكتفي

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين حق حَمده وَلَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَحده وصلواته على مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا

رِسَالَة أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن مُحَمَّد بن يحيى بن مَنْدَه بن الْوَلِيد فِي بَيَان فضل الْأَخْبَار وَشرح مَذَاهِب أهل الْآثَار وَحَقِيقَة السّنَن وَتَصْحِيح الرِّوَايَات

قَالَ ابو عبد الله فباسم الله نبتديء وَبِه نستعين وإياه نسْأَل التَّوْفِيق والرشاد والعون وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم {الْحَمد لله الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَات وَمَا فِي الأَرْض وَله الْحَمد فِي الْآخِرَة وَهُوَ الْحَكِيم الْخَبِير} سُورَة سبأ الْآيَة 1 {الْحَمد لله الَّذِي أنزل على عَبده الْكتاب وَلم يَجْعَل لَهُ عوجا قيمًا لينذر بَأْسا شَدِيدا من لَدنه ويبشر الْمُؤمنِينَ الَّذين يعْملُونَ الصَّالِحَات أَن لَهُم أجرا حسنا ماكثين فِيهِ أبدا} سُورَة الْكَهْف الْآيَات 1 3

وَالْحَمْد لله أفضل الْحَمد وَغَايَة الشُّكْر ومنتهاه حمدا ينفعنا بِهِ ويتمم بِهِ علينا نعماه

أَحْمَده كَمَا يَنْبَغِي لكريم وَجهه وعظيم سُلْطَانه وَأَسْتَعِينهُ وأستهديه بهداه الَّذِي أنعم بِهِ على أنبيائه وَأهل طَاعَته

وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله إِقْرَارا بربوبيته وَتَصْدِيقًا بوعده ووعيده وإيمانا بملائكته وَرُسُله
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁর ওপরই আমি নির্ভর করছি।

 

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যেভাবে তাঁর প্রশংসা করা বাঞ্ছনীয়। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক। এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথীদের ওপর অবারিত রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।

খবর বা বর্ণনার (الأخبار) শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা, আসারের অনুসারীদের (أهل الآثار) মতাদর্শের ব্যাখ্যা, সুন্নাহর (السنن) প্রকৃত রূপ এবং বর্ণনাগুলোর (الروايات) বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) প্রসঙ্গে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ ইবনুল ওয়ালিদের পুস্তিকা।

আবু আবদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর নামেই আমরা শুরু করছি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওফিক (توفيق), সঠিক পথনির্দেশ ও সাহায্য কামনা করছি। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। {সকল প্রশংসা আল্লাহরই, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা তাঁরই এবং পরকালেও সকল প্রশংসা তাঁরই; তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ} (সুরা সাবা: আয়াত ১)। {সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর দাসের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত যাতে তিনি নিজের পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তির সতর্কতা দান করেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দেন যারা সৎকাজ করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে} (সুরা কাহফ: আয়াত ১-৩)।

আল্লাহর জন্য সর্বোত্তম প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতার চূড়ান্ত ও শেষ সীমা। এমন প্রশংসা যার মাধ্যমে তিনি আমাদের উপকৃত করবেন এবং আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করবেন।

আমি তাঁর প্রশংসা করছি যেভাবে তাঁর মহান সত্তা ও সুমহান রাজত্বের জন্য সমীচীন। আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর সেই হেদায়েতের মাধ্যমে পথনির্দেশনা কামনা করছি যা তিনি তাঁর নবীগণ ও অনুগত বান্দাদের ওপর অনুগ্রহস্বরূপ দান করেছেন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—তাঁর রুবুবিয়াতের (ربوبية) স্বীকৃতিস্বরূপ, তাঁর পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারিকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাঁর ফেরেশতাকুল ও রাসুলগণের প্রতি ঈমান এনে।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وأسأله أَن يُصَلِّي على مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله الْمُصْطَفى لوحيه الْمُنْتَخب لرسالته الْمفضل على خلقه المقرون اسْمه باسمه الْمَرْفُوع ذكره فِي خلقه بَعثه إِلَى جَمِيع خلقه سفيرا ومبلغا ومبينا {وداعيا إِلَى الله بِإِذْنِهِ وسراجا منيرا} ] سُورَة الْأَحْزَاب الْآيَة 46 [أكمل صَلَاة وَأَشْرَفهَا وأعلاها وجزاه عَنَّا أفضل مَا جازى نَبيا عَن أمته فبه استنقذنا الله من الضَّلَالَة وهدانا من الْعَمى وأخرجنا من الظُّلُمَات إِلَى النُّور كَمَا قَالَ تبارك وتعالى فَكَانَ بِنَا رءوفا رحِيما كَمَا وَصفه الله تَعَالَى

{لقد جَاءَكُم رَسُول من أَنفسكُم عَزِيز عَلَيْهِ مَا عنتم حَرِيص عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رؤوف رَحِيم} ] سُورَة التَّوْبَة الْآيَة 128 [

جعله علما لدينِهِ بِمَا افْترض من طَاعَته وَحرم من مَعْصِيَته وَأَبَان من فضيلته بِمَا قرر من الْإِيمَان برسالته مَعَ الْأَيْمَان بِهِ فَقَالَ عز وجل {فآمنوا بِاللَّه وَرَسُوله} الْأَعْرَاف الْآيَة 158 [وَقَالَ {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذين آمنُوا بِاللَّه وَرَسُوله} ] سُورَة الحجرات [

أنزل عَلَيْهِ الْكتاب الَّذِي {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من}
আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর রহমত বর্ষণ করেন, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল; যাঁকে তিনি তাঁর ওহীর জন্য মনোনীত করেছেন, তাঁর রিসালতের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। যাঁর নামকে তিনি নিজের নামের সাথে যুক্ত করেছেন এবং সৃষ্টির মাঝে যাঁর আলোচনাকে সুউচ্চ (المرفوع) করেছেন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সমগ্র সৃষ্টির নিকট একনিষ্ঠ প্রতিনিধি, প্রচারক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন— {এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৬]। (আমি তাঁর ওপর) অত্যন্ত পরিপূর্ণ, মহিমান্বিত ও সর্বোচ্চ রহমত কামনা করি। আর তিনি আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যা একজন নবীকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে তিনি প্রদান করে থাকেন। কেননা, তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ আমাদের পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন, অন্ধত্ব থেকে হিদায়াত দান করেছেন এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বরকতপূর্ণ ও সুউচ্চ সত্তা বলেছেন। তিনি আমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান ও পরম করুণাময় ছিলেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর গুণ বর্ণনা করে বলেছেন:

{তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, যা তোমাদেরকে কষ্টে ফেলে তা তাঁর জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক; তিনি তোমাদের মঙ্গলাকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতি দয়াবান ও পরম করুণাময়} [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১২৮]।

আল্লাহ তাঁকে তাঁর দ্বীনের জন্য এক আলোকবর্তিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; তাঁর আনুগত্যকে ফরজ করার মাধ্যমে, তাঁর অবাধ্যতাকে হারাম করার মাধ্যমে এবং তাঁর ওপর ঈমান আনার পাশাপাশি তাঁর রিসালতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো} [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৫৮]। তিনি আরও বলেছেন: {মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে} [সূরা আল-হুজুরাত]।

তিনি তাঁর ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, {যার সামনে থেকে কিংবা (কোনো দিক) থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না}
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
{خَلفه تَنْزِيل من حَكِيم حميد} ] سُورَة فصلت الْآيَة 42 [قَالَ الله عز وجل {نزل بِهِ الرّوح الْأمين على قَلْبك لتَكون من الْمُنْذرين بِلِسَان عَرَبِيّ مُبين} ] سُورَة الشُّعَرَاء الْآيَة 193 [

دَعَا فِيهِ إِلَى الْإِيمَان بِهِ دون غَيره وَأحكم فِيهِ فَرَائِضه وَفصل بالحكمة شرائعه الَّتِي تعبد بهَا خلقه وَأمرهمْ بالفرائض حتما وزجرهم عَن مَحَارمه عزما وأعلمهم مَا لَهُم فِي طَاعَته من الثَّوَاب لِيَرْغَبُوا وَمَا عَلَيْهِم فِي مَعْصِيَته من الْعقَاب ليرهبوا ثمَّ رغب فِي التَّقَرُّب إِلَيْهِ بالنوافل فضلا مِنْهُ وتعطفا

قَالَ الله جلّ أُسَمِّهِ {مَا فرطنا فِي الْكتاب من شَيْء} ] سُورَة الْأَنْعَام الْآيَة 38 [

وَقَالَ {ونزلنا عَلَيْك الْكتاب تبيانا لكل شَيْء وَهدى وَرَحْمَة وبشرى للْمُسلمين} ] سُورَة النَّحْل الْآيَة 89 [

فَجعل الْمُبين عَنهُ نبيه وَصفيه وأمينه على وحيه وَخيرته من خلقه فَقَالَ تبَارك أُسَمِّهِ {وأنزلنا إِلَيْك الذّكر لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم ولعلهم يتفكرون} ] سُورَة النَّحْل الْآيَة 44 [

وَقَالَ {وَمَا أنزلنَا عَلَيْك الْكتاب إِلَّا لتبين لَهُم الَّذِي اخْتلفُوا فِيهِ وَهدى وَرَحْمَة لقوم يُؤمنُونَ} ] سُورَة النَّحْل الْآيَة 64 [

وَقَالَ {الر كتاب أَنزَلْنَاهُ إِلَيْك لتخرج النَّاس من الظُّلُمَات إِلَى النُّور بِإِذن رَبهم إِلَى صِرَاط الْعَزِيز الحميد} ] سُورَة إِبْرَاهِيم الْآيَة 1 [

وَقَالَ {وَإنَّك لتهدي إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم} ] سُورَة الشورى الْآيَة 52 [صِرَاط الله

فَبلغ صلى الله عليه وسلم الْمُحكم وَفسّر الْمُجْمل وأوضح المشتبه وحذر عَن
"...পিছন থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪২] মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত রূহ, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} [সূরা আশ-শুআরা, আয়াত ১৯৩]

তিনি এতে তাকে ছাড়া অন্য কারো প্রতি ঈমান না আনতে আহ্বান করেছেন, এতে তাঁর ফরজ বিধানসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন এবং প্রজ্ঞার সাথে তাঁর শরিয়তসমূহকে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সৃষ্টির ইবাদত নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাদের ওপর ফরজসমূহ পালন করা অনিবার্য করেছেন এবং তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে দৃঢ়ভাবে বারণ করেছেন। তিনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর আনুগত্যে তাদের জন্য কী সওয়াব রয়েছে যেন তারা আগ্রহী হয়, আর তাঁর অবাধ্যতায় তাদের জন্য কী আজাব রয়েছে যেন তারা ভীত হয়। অতঃপর তিনি স্বীয় অনুগ্রহ ও মমতাবশত নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জনে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেছেন, {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি।} [সূরা আল-আনআম, আয়াত ৩৮]

তিনি আরও বলেছেন, {আমি আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, পথনির্দেশ, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।} [সূরা আন-নাহল, আয়াত ৮৯]

অতঃপর তিনি তাঁর নবীকে, তাঁর মনোনীত ও ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তাকে সেই কিতাবের ব্যাখ্যাকারী বানিয়েছেন। বরকতময় তাঁর নাম, তিনি বলেছেন, {আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা নাজিল করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন এবং যেন তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} [সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪]

তিনি আরও বলেছেন, {আমি আপনার ওপর কিতাব কেবল এ জন্যই নাজিল করেছি যেন আপনি তাদের জন্য ওই বিষয়টি পরিষ্কার করে বর্ণনা করতে পারেন যেটিতে তারা মতভেদ করেছে, আর এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।} [সূরা আন-নাহল, আয়াত ৬৪]

তিনি আরও বলেছেন, {আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি যেন আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, সেই পরাক্রমশালী ও সর্বপ্রশংসিতের পথের দিকে বের করে আনতে পারেন।} [সূরা ইবরাহিম, আয়াত ১]

তিনি আরও বলেছেন, {নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথনির্দেশ করেন।} [সূরা আশ-শুরা, আয়াত ৫২] আল্লাহর পথ।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুনিশ্চিত (محكم) বিধানসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন, সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করেছেন, অস্পষ্ট (مشتبه) বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন এবং সতর্ক করেছেন...
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الْمُتَشَابه فَأمر الله بالبلاغ عَنهُ فَقَالَ {يَا أَيهَا الرَّسُول بلغ مَا أنزل إِلَيْك من رَبك وَإِن لم تفعل فَمَا بلغت رسَالَته وَالله يَعْصِمك من النَّاس} ] سُورَة الْمَائِدَة الْآيَة 67 [فَدَعَاهُ إِلَى عبَادَة ربه جلّ وَعز وتوحيده وتبليغ مَا أرسل بِهِ من محكمه

قَالَ الله جلّ وَعز {لتبين لَهُم الَّذِي اخْتلفُوا فِيهِ} ] سُورَة النَّحْل الْآيَة 64 [

وَقَالَ جلّ وَعز {لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم} ] سُورَة النَّحْل الْآيَة 44 [

يَعْنِي من مبهمه وَبَيَان مجمله

وَقَالَ {لتبين} أَي الَّذِي اخْتلفُوا فِيهِ

وافترض الله على الْعباد طَاعَته فقرنها إِلَى طَاعَته فَقَالَ {أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول} ] سُورَة مُحَمَّد الْآيَة 33 [

وَقَالَ {من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله} ] سُورَة النِّسَاء الْآيَة 80 [

وَقَالَ {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى} ] سُورَة النَّجْم الْآيَتَانِ 3 4 [

وَقَالَ {قل مَا يكون لي أَن أبدله من تِلْقَاء نَفسِي إِن أتبع إِلَّا مَا يُوحى إِلَيّ} ] سُورَة يُونُس الْآيَة 15 [

وأمرنا جلّ وَعز بِقبُول مَا جَاءَ بِهِ نَبينَا صلى الله عليه وسلم فَقَالَ

//

{يَا أَيهَا النَّاس قد جَاءَكُم الرَّسُول بِالْحَقِّ من ربكُم فآمنوا خيرا لكم} ] سُورَة النِّسَاء الْآيَة 170 [
অস্পষ্ট বা রূপক (المتشابه) বিষয়সমূহ; অতঃপর আল্লাহ তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বললেন: {হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে তো আপনি তাঁর রিসালাত (বার্তা) পৌঁছে দিলেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন} [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৬৭]। সুতরাং তিনি তাঁকে তাঁর মহান রবের ইবাদত ও তাঁর একত্ববাদের (তাওহিদ) দিকে এবং তাঁর প্রেরিত সুস্পষ্ট বা অকাট্য (محكم) বিষয়সমূহ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহ্বান করেছেন।

আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {যাতে আপনি তাদের নিকট তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যাতে তারা মতভেদ করছিল} [সূরা আন-নাহল, আয়াত ৬৪]

এবং তিনি আরও বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে} [সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪]

অর্থাৎ এর অস্পষ্ট বা অনির্দিষ্ট (مبهم) বিষয়সমূহ থেকে এবং এর সংক্ষিপ্ত বা সংক্ষেপিত (مجمل) বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান।

আর তিনি বলেছেন {যাতে আপনি স্পষ্ট করেন}, অর্থাৎ তারা যাতে মতভেদ করছিল।

আর আল্লাহ বান্দাদের ওপর তাঁর (রাসূলের) আনুগত্য ফরজ করেছেন এবং একে নিজের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করে বলেছেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো} [সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ৩৩]

তিনি আরও বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [সূরা আন-নিসা, আয়াত ৮০]

এবং তিনি বলেছেন: {তিনি প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়} [সূরা আন-নাজম, আয়াত ৩-৪]

তিনি আরও বলেছেন: {বলুন, আমার নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। আমার প্রতি যা ওহি পাঠানো হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি} [সূরা ইউনুস, আয়াত ১৫]

এবং মহান আল্লাহ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:

//

{হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্যসহ রাসূল এসেছেন, সুতরাং তোমরা ঈমান আনো, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে} [সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৭০]
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَقَالَ {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} ] سُورَة الْحَشْر الْآيَة 7 [

فَأوجب على الْعباد اتِّبَاع وحيه وَسنَن رَسُوله صلى الله عليه وسلم فقرنها إِلَى كِتَابه فَقَالَ جلّ وَعز

//

{وَابعث فيهم رَسُولا مِنْهُم يَتْلُو عَلَيْهِم آياتك وَيُعلمهُم الْكتاب وَالْحكمَة ويزكيهم إِنَّك أَنْت الْعَزِيز الْحَكِيم} ] الْبَقَرَة 129 [

وَقَالَ جلّ وَعز {لقد من الله على الْمُؤمنِينَ إِذْ بعث فيهم رَسُولا من أنفسهم يَتْلُو عَلَيْهِم آيَاته ويزكيهم وَيُعلمهُم الْكتاب وَالْحكمَة وَإِن كَانُوا من قبل لفي ضلال مُبين} ] آل عمرَان 164 [

وَقَالَ جلّ وتقدس {كَمَا أرسلنَا فِيكُم رَسُولا مِنْكُم يَتْلُو عَلَيْكُم آيَاتنَا ويزكيكم ويعلمكم الْكتاب وَالْحكمَة ويعلمكم مَا لم تَكُونُوا تعلمُونَ} ] الْبَقَرَة 151 [وَقَالَ {واذْكُرُوا نعْمَة الله عَلَيْكُم وَمَا أنزل عَلَيْكُم من الْكتاب وَالْحكمَة يعظكم بِهِ} ] الْبَقَرَة 231 [

وَقَالَ {وَأنزل الله عَلَيْك الْكتاب وَالْحكمَة وعلمك مَا لم تكن تعلم وَكَانَ فضل الله عَلَيْك عَظِيما} ] النِّسَاء 113 [

وَقَالَ تَعَالَى {واذكرن مَا يُتْلَى فِي بيوتكن من آيَات الله وَالْحكمَة} ] الْأَحْزَاب 34 [

فَكَانَ صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه وأزواجه وَسلم للمحكم مبلغا وللتأويل مُبينًا وللمجمل مُفَسرًا فَلم يبْق من دين الله شَيْء يخرج عَن جملَة كِتَابه وَلَا سنة نبيه صلى الله عليه وسلم

//

وَأمرهمْ بعد ذَلِك بِالرُّجُوعِ فِيمَا اخْتلفُوا فِيهِ إِلَى كتاب الله وَسنة نبيه صلى الله عليه وسلم فَقَالَ
এবং তিনি বলেছেন: {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭]

অতঃপর তিনি বান্দাদের ওপর তাঁর ওহী এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করাকে আবশ্যিক করেছেন এবং সেগুলোকে তাঁর কিতাবের সাথে সংযুক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন:

//

{হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।} [আল-বাকারা ১২৯]

এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।} [আল ইমরান ১৬৪]

এবং মহান ও পবিত্র সত্তা বলেছেন: {যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদের পবিত্র করেন এবং তোমাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না।} [আল-বাকারা ১৫১]

এবং তিনি বলেছেন: {আর তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত এবং তোমাদের প্রতি যে কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন তা স্মরণ করো, যা দিয়ে তিনি তোমাদের উপদেশ দেন।} [আল-বাকারা ২৩১]

এবং তিনি বলেছেন: {আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না; আর আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।} [আন-নিসা ১১৩]

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ এবং হিকমত পঠিত হয় তা তোমরা স্মরণ রেখো।} [আল-আহযাব ৩৪]

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া আজওয়াজিহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সুস্পষ্ট (محكم) বিষয়ের প্রচারকারী, ব্যাখ্যার (تأويل) স্পষ্টকারী এবং সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যাকারী। সুতরাং আল্লাহর দ্বীনের এমন কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই যা তাঁর সামগ্রিক কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর বহির্ভূত।

//

অতঃপর তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেসব বিষয়ে মতবিরোধ করবে তাতে যেন তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
{وَمَا اختلفتم فِيهِ من شَيْء فَحكمه إِلَى الله} ] الشورى 10 [

//

وَقَالَ {وَمَا كَانَ لمُؤْمِن وَلَا مُؤمنَة إِذا قضى الله وَرَسُوله أمرا أَن يكون لَهُم الْخيرَة من أَمرهم} ] الْأَحْزَاب 36 [

وَقَالَ {إِذا دعوا إِلَى الله وَرَسُوله ليحكم بَينهم أَن يَقُولُوا سمعنَا وأطعنا وَأُولَئِكَ هم المفلحون} ] النُّور 51 [

وَقَالَ {فَلَا وَرَبك لَا يُؤمنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوك فِيمَا شجر بَينهم ثمَّ لَا يَجدوا فِي أنفسهم حرجا مِمَّا قضيت ويسلموا تَسْلِيمًا} النِّسَاء 65

وَقَالَ {فليحذر الَّذين يخالفون عَن أمره أَن تصيبهم فتْنَة أَو يصيبهم عَذَاب أَلِيم} ] النُّور 63 [

وَعلم الله عز وجل أَنه سَيكون فِي هَذِه الْأمة بعد نَبِيّهم صلى الله عليه وسلم اخْتِلَاف وتنازع فَأَمرهمْ بِالرُّجُوعِ عِنْد ذَلِك إِلَى أهل الذّكر وأولي الْأَمر وهم الْعلمَاء الَّذين ذكرهم الله عز وجل فَقَالَ {لعلمه الَّذين يستنبطونه مِنْهُم} ] النِّسَاء 83 [

وَقَالَ جلّ وَعز {فاسألوا أهل الذّكر إِن كُنْتُم لَا تعلمُونَ} ] الْأَنْبِيَاء 59 [

وَقَالَ {أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم} ] النِّسَاء 59 [يُرِيد عُلَمَاء الْمُسلمين وفقهاءهم
{তোমরা যে কোনো বিষয়ে মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট} ] আশ-শুরা ১০ [

//

এবং তিনি বলেছেন {আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো পছন্দের অবকাশ থাকে না} ] আল-আহযাব ৩৬ [

এবং তিনি বলেছেন {যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে আহ্বান করা হয় যেন তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন, তখন তাদের কথা কেবল এই হয় যে, 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম' আর তারাই সফলকাম} ] আন-নূর ৫১ [

এবং তিনি বলেছেন {না, তোমার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতপর তুমি যা ফয়সালা করো সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} আন-নিসা ৬৫

এবং তিনি বলেছেন {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} ] আন-নূর ৬৩ [

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা জানতেন যে, তাঁদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর এই উম্মতের মধ্যে মতভেদ ও বিবাদ সৃষ্টি হবে। তাই তিনি তাদেরকে এমন পরিস্থিতিতে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) ও উলুল আমরের (أولي الأمر) দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাঁরা হলেন সেই আলিমগণ (علماء) যাঁদের কথা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা উল্লেখ করে বলেছেন {যাতে তাদের মধ্যকার গবেষকগণ (يستنبطونه) তা অনুধাবন করতে পারে} ] আন-নিসা ৮৩ [

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা বলেছেন {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো} ] আল-আম্বিয়া ৫৯ [

এবং তিনি বলেছেন {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (أولي الأمر) আনুগত্য করো} ] আন-নিসা ৫৯ [ এর দ্বারা তিনি মুসলিমদের আলিমগণ (علماء) ও তাঁদের ফকীহগণকে (فقهاء) বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَقَالَ {قل هَل يَسْتَوِي الَّذين يعلمُونَ وَالَّذين لَا يعلمُونَ إِنَّمَا يتَذَكَّر أولُوا الْأَلْبَاب} ] الزمر 9 [

فَأَما مَا نَص بِهِ الْكتاب فَهُوَ الْمُحكم الَّذِي لَا تنَازع فِيهِ وَلَا خلاف وَأما الْمُجْمل فِي الْكتاب ذكره فَمثل قَوْله

{وَأقِيمُوا الصَّلَاة وَآتوا الزَّكَاة} ] الْبَقَرَة 43 [

وَقَوله {كتب عَلَيْكُم الصّيام كَمَا كتب على الَّذين من قبلكُمْ} ] الْبَقَرَة 183 [

وَقَوله {فَمن شهد مِنْكُم الشَّهْر فليصمه} ] 185 [

وَقَوله {وَأَتمُّوا الْحَج وَالْعمْرَة لله} ] الْبَقَرَة 196 [

فقد بَين صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا دعائم الدّين وَعَلَيْهَا بني الْإِسْلَام فَقَالَ عليه الصلاة والسلام بني الْإِسْلَام على خمس شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله

//‌‌ وإقام الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة وَصَوْم رَمَضَان وَحج الْبَيْت

ثمَّ بَين صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ عدد الصَّلَوَات وَوُجُوب أَحْوَال الزَّكَاة وَالصِّيَام وَالْحج وَكَذَلِكَ سَائِر المفترضات المجملة لأَصْحَابه المختارين لرَسُوله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ صلوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي

//
এবং তিনি বলেছেন, {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বোধশক্তি সম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে।} [আজ-জুমার ৯]

কিতাবে যা দ্ব্যর্থহীন প্রমাণের (نص) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, তা হলো সুষ্পষ্ট (المحكم), যাতে কোনো বিতর্ক বা মতভেদ নেই। আর কিতাবে যে বিষয়গুলোর অস্পষ্ট (المجمل) বিবরণ এসেছে, তার উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী:

{তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো।} [আল-বাকারা ৪৩]

এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর।} [আল-বাকারা ১৮৩]

এবং তাঁর বাণী: {কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে।} [১৮৫]

এবং তাঁর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও ওমরাহ পূর্ণ করো।} [আল-বাকারা ১৯৬]

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন যে, এগুলো দ্বীনের স্তম্ভ এবং এর ওপরই ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই

//‌‌ এবং সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং বাইতুল্লাহর হজ সম্পাদন করা।

অতঃপর আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—তিনি সালাতের সংখ্যা, জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রসমূহের আবশ্যকতা, সিয়াম ও হজ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মনোনীত সাহাবীদের নিকট বর্ণিত অনুরূপ অন্যান্য অস্পষ্ট (المجملة) ফরজ বিধানসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।"

//
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فنقلوا ذَلِك عَنهُ قولا وَعَملا من حِين قِيَامه وَالدُّخُول فِيهَا وَالْإِحْرَام بهَا وَالنِّيَّة فِي أَدَائِهَا وقيامها وركوعها وسجودها إِلَى مُنْتَهى الْخُرُوج مِنْهَا

وَكَذَلِكَ فسر جملَة الزَّكَاة وَمَا الَّذِي يجب فِيهَا وَمِقْدَار مَا يجب فِيهَا وَوقت وُجُوبهَا وَمن يَسْتَحِقهَا

وَكَذَلِكَ أَحْوَال الصَّوْم وأعمال الْحَج وَالْعمْرَة وَالطّواف وأوقاتها وَكَذَلِكَ سَائِر المفترضات المجملات والمبهمات فَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا أَنا لكم مثل الْوَالِد أعلمكُم مَا جهلتم صلى الله عليه وسلم

فَلَمَّا أكمل الله عز وجل دينه وأعز أمره وَفتح لنَبيه صلى الله عليه وسلم مَا وعده وأعلمه وَفَاته أنزل عَلَيْهِ {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} ] الْمَائِدَة 3 [علم صلى الله عليه وسلم أَنه مَقْبُوض فَسَأَلَ صلى الله عليه وسلم أَصْحَابه عِنْد ذَلِك فَقَالَ هَل بلغت فَقَالُوا نعم فَقَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ فَيبلغ الشَّاهِد مِنْكُم الْغَائِب

//

অতঃপর তাঁরা তাঁর (রাসূলুল্লাহর) নিকট হতে কথা ও কাজের মাধ্যমে তা বর্ণনা করেছেন—সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া এবং এতে প্রবেশ করা থেকে শুরু করে, ইহরাম (إحرام) বাঁধা, এটি আদায়ের নিয়ত করা, এর কিয়াম (قيام), রুকু (ركوع) ও সিজদা (سجود) এবং সালাত সমাপ্ত করা পর্যন্ত।

একইভাবে তিনি জাকাতের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিধি-বিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন; কিসের ওপর জাকাত ফরজ (فرض) হয়, এর ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পরিমাণ কতটুকু, এটি প্রদানের সময় এবং কারা এর হকদার—সে বিষয়গুলোও তিনি সুস্পষ্ট করেছেন।

তদ্রূপ তিনি সিয়াম বা রোজার বিধিবিধান, হজ ও ওমরার কার্যাবলি, তাওয়াফ ও এগুলোর সময়সমূহ এবং অন্যান্য সকল সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও অস্পষ্ট (مبهم) ফরজ (مفترضات) বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য একজন পিতার ন্যায়; তোমাদের যা অজানা তা আমি তোমাদের শিখিয়ে দিচ্ছি।” (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

অতঃপর আল্লাহ যখন তাঁর দ্বীনকে পূর্ণতা দান করলেন, তাঁর বিধানকে শক্তিশালী করলেন এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট কৃত অঙ্গীকারসমূহ পূরণ করলেন এবং নবীকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করলেন, তখন তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবগত হলেন যে তাঁর রূহ কবজ করা হবে। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন: “আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?” তাঁরা বললেন: “হ্যাঁ।” তখন তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ, তারা যেন অনুপস্থিতদের নিকট তা পৌঁছে দেয়।”

(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَقَالَ عليه الصلاة والسلام تركتكم على الْبَيْضَاء لَيْلهَا كنهارها لَا يزِيغ عَنْهَا بعدِي إِلَّا هَالك وسيرى من يعِيش مِنْكُم بعدِي اخْتِلَافا كثيرا فَعَلَيْكُم بِمَا عَرَفْتُمْ من سنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين وَعَلَيْكُم بِالطَّاعَةِ وَإِن عبدا حَبَشِيًّا عضوا عَلَيْهِ بالنواجذ

فاجتهدوا ونصحوا وبلغوا عَن تَوَاتر وآحاد فِي حَيَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَبعد وَفَاته كَمَا أَمرهم الله عز وجل وَفرض على الْعباد] ق 2 ب [طَاعَة رَسُوله وَأمرهمْ بِأخذ مَا آتَاهُم بِهِ

//‌‌ والانتهاء عَمَّا نَهَاهُم عَنهُ

فَكَانَ فَرْضه على من عاين رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمن بعده إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَاحِدًا فِي أَن على كل طَاعَته فِي الإبلاغ عَنهُ وَلم يكن أحد غَابَ عَن رُؤْيَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي حَيَاته وَبعد وَفَاته يعلم أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَّا بالْخبر عَنهُ بِنَقْل الصَّحَابَة المختارة للإبلاغ عَن نبيه صلى الله عليه وسلم إِلَى من بعدهمْ من التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان قرنا فقرنا مَا دَامَت الدُّنْيَا ودامت الْأمة جعلنَا الله مِنْهُم برحمته

فَلَمَّا قبض الله جلّ وَعلا نبيه صلى الله عليه وسلم من بَين أَصْحَابه المنتخبة رضى الله عَنْهُم أَجْمَعِينَ جمعهم على خَيرهمْ وأفضلهم فِي أنفسهم فَقَامَ بِأَمْر الله جلّ وَعز وَأخذ منهاج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ وَلَو مَنَعُونِي عقَالًا كَانُوا يؤدونه إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم عَلَيْهَا
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (পরিষ্কার)। আমার পরে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই তা থেকে বিচ্যুত হবে। তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নত এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত ও সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর অনুসরণ করা। আর তোমরা আনুগত্য বজায় রাখবে, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়। তোমরা একে (সুন্নতকে) মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে।"

সুতরাং তারা (সাহাবীগণ) প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, একনিষ্ঠতার সাথে দ্বীনের নসিহত করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় ও তাঁর ইন্তেকালের পর মুতাওয়াতির (تواتر) ও আহাদ (آحاد) বর্ণনার মাধ্যমে (দ্বীন) পৌঁছে দিয়েছেন; যেমনটি আল্লাহ عز وجل তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি বান্দাদের ওপর ] ২য় পৃষ্ঠা, বি [ তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ফরজ করেছেন এবং যা কিছু তিনি (রাসূল) তাদের কাছে নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন

//‌‌ এবং তিনি যা থেকে তাদের নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে (নির্দেশ দিয়েছেন)।

যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সরাসরি দেখেছেন এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরে আসবে, সবার জন্য আল্লাহর এই বিধানটি অভিন্ন যে, তাঁর পক্ষ থেকে (দ্বীন) পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকে তাঁর আনুগত্য করতে বাধ্য থাকবে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় যারা তাঁর দর্শন পাননি এবং তাঁর ইন্তেকালের পর যারা এসেছেন, তাদের কারোরই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ সম্পর্কে জানার কোনো উপায় ছিল না, কেবল তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত খবরের (خبر) মাধ্যমে। আর এই খবর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনীত সাহাবীগণ তাদের পরবর্তী নিষ্ঠাবান অনুসারী তাবেয়ীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এভাবে যুগ যুগ ধরে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে তা চলতে থাকবে, যতদিন এই পৃথিবী ও এই উম্মত অবশিষ্ট থাকবে। আল্লাহ তাঁর রহমতে আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

অতঃপর আল্লাহ جل وعلا যখন তাঁর মনোনীত সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) মধ্য থেকে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওফাত দান করলেন, তখন তিনি তাঁদেরকে তাঁদের মধ্য হতে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ব্যক্তির ওপর ঐক্যবদ্ধ করলেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনে দণ্ডায়মান হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মানহাজ (পদ্ধতি) অনুসরণ করলেন। তিনি বলেছিলেন, "তারা যদি আমাকে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রদান করত, তবে আমি তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।"
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
فَإِن الزَّكَاة واجبه كَالصَّلَاةِ فقاتل بِمن أقبل من أهل الْإِسْلَام من أدبر مِنْهُم وارتد حَتَّى راجعوا دينهم وأطاعوا أَمر الله وأدوا مَا افْترض الله عَلَيْهِم وأمضى حكم الله عز وجل وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم فِيمَن أَبى ذَلِك فرضى الله عَنهُ وَعَن جَمِيع الصَّحَابَة

‌‌جمع الْقُرْآن

 

فَكَانَ بعد ذَلِك أول مَا أَهَمَّهُمْ جمع الْقُرْآن مَخَافَة ذهَاب حَملته وَاخْتِلَاف من بعدهمْ فِيهِ وَشرح الله صدر الْجَمَاعَة لذَلِك لأَنهم هم الَّذين شهدُوا التَّنْزِيل وَعرفُوا التَّأْوِيل وَعَلمُوا التَّرْتِيب وَقَالَ عَليّ بن أبي طَالب رحم الله أَبَا بكر هُوَ أول من جمع الْقُرْآن بَين اللَّوْحَيْنِ فرحمة الله عَلَيْهِم وصلواته ورضوانه أَجْمَعِينَ
কেননা সালাতের ন্যায় জাকাতও আবশ্যক (واجب)। সুতরাং যারা ইসলাম গ্রহণ করার পর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে তিনি (আবু বকর রা.) ইসলামের অনুসারীদের নিয়ে যুদ্ধ করেন, যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনে ফিরে আসে, আল্লাহর আদেশ মান্য করে এবং আল্লাহ যা তাদের ওপর ফরজ (واجب) করেছেন তা আদায় করে। যারা অবাধ্য হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে তিনি মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুম কার্যকর করেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং সকল সাহাবীর প্রতি সন্তুষ্ট হন।

‌‌কুরআন সংকলন

 

এরপর তাদের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কুরআন সংকলন করা, এই আশঙ্কায় যে কুরআন বহনকারীরা (হাফেজগণ) নিঃশেষ হয়ে যেতে পারেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ দেখা দিতে পারে। আল্লাহ এই জামাতের (الجماعة) অন্তরকে এর জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন, কারণ তারাই ওহী অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছিলেন, এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানতেন এবং এর বিন্যাস সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেন, "আল্লাহ আবু বকরের ওপর রহম করুন, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দুই মলাটের মাঝে কুরআন সংকলন করেছেন।" তাঁদের সকলের প্রতি আল্লাহর রহমত, সালাত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
ثمَّ أَخذ التابعون بِإِحْسَان عَنْهُم فَقَامُوا بتلاوته وَعمِلُوا بمحكمه وآمنوا بمتشابهه وَقَالُوا كل من عِنْد الله فَلم يَخْتَلِفُوا فِي آيَة مِنْهُ بل يكفرون من كفر بِآيَة مِنْهُ ويرون من قَرَأَ خلاف مَا أَجمعُوا عَلَيْهِ خَارِجا من الْأمة وَالْإِجْمَاع جعلنَا الله مِمَّن تَبِعَهُمْ بِإِحْسَان فهم الَّذين بلغُوا عَن الصَّحَابَة مَا جَاءُوا بِهِ عَن الله وَرَسُوله عليه السلام من الْكتاب وَالسّنة ونقلوا فَرَائِضه وحدوده وأوامره ونواهيه وناسخه ومنسوخه وهم الَّذين وَصفهم الله عز وجل فِي كِتَابه فَقَالَ تبَارك أُسَمِّهِ {كُنْتُم خير أمة أخرجت للنَّاس تأمرون بِالْمَعْرُوفِ وتنهون عَن الْمُنكر وتؤمنون بِاللَّه} ] آل عمرَان 110 [

وَقَالَ جلّ وَعز {وَالَّذين جاؤوا من بعدهمْ يَقُولُونَ رَبنَا اغْفِر لنا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذين سبقُونَا بِالْإِيمَان وَلَا تجْعَل فِي قُلُوبنَا غلا للَّذين آمنُوا رَبنَا إِنَّك رؤوف رَحِيم} ] الْحَشْر 10 [

وَقَالَ {وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان رضي الله عنهم} ] التَّوْبَة 10 [فهم الَّذين وَصفهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقَالَ خير النَّاس قَرْني ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ
অতঃপর তাবেয়ীগণ নিষ্ঠার সাথে তাঁদের (সাহাবীদের) নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ করলেন। তাঁরা এটি তিলাওয়াত করলেন, এর সুস্পষ্ট (محكم) বিধানগুলো অনুযায়ী আমল করলেন এবং এর অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলোর প্রতি ঈমান আনলেন। তাঁরা বললেন, 'সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে'। তাঁরা এর কোনো আয়াত নিয়ে মতভেদ করেননি, বরং তাঁরা ঐ ব্যক্তিকে কাফির গণ্য করেন যে এর কোনো একটি আয়াতকে অস্বীকার করে। আর যারা তাঁদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (الإجماع) বিপরীতে পাঠ করে, তাঁরা তাকে উম্মাহ ও ইজমার (الإجماع) বহির্ভূত মনে করেন। আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। তাঁরাই সাহাবায়ে কেরামের নিকট থেকে প্রাপ্ত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষ থেকে আনীত কিতাব ও সুন্নাহ (السنة) পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরাই এর ফরজ বিধানসমূহ, দণ্ডবিধি, আদেশ, নিষেধ এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন। তাঁরাই সেই লোক যাদের বর্ণনা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে দিয়েছেন; বরকতময় তাঁর নাম, তিনি বলেছেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দাও এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করো} [আল ইমরান: ১১০]

এবং মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ বলেছেন: {আর যারা তাঁদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়} [আল হাশর: ১০]

তিনি আরও বলেছেন: {আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন} [আত তাওবাহ: ১০০]। তাঁরাই সেই লোক যাদের বৈশিষ্ট্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাঁদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাঁদের পরবর্তী।"
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فهم التابعون لَهُم بِإِحْسَان فرحمة الله عَلَيْهِم ورضوانه فَلَقَد حفظوا

//‌‌ وبلغوا ونصحوا كَمَا أمروا جعلهم الله أَئِمَّة يهدي بأَمْره بصبرهم على اكْتِسَاب مَا ندبهم إِلَيْهِ واجتهادهم فِي تَعْلِيم حكمته طلب الْقرْبَة إِلَيْهِ وأرشدهم إِلَى السبل الدَّالَّة على الْعلم بِمَا أَمر بِهِ والانتهاء عَنهُ عَمَّا عِنْده زجر ثمَّ فضل بَعضهم على بعض فِيمَا علمهمْ من الْعلم ليَكُون التَّفَاوُت فِي الرتب] [وَالِاخْتِلَاف باعثا لَهُم على الْخَوْض فِي التَّعْلِيم وسببا إِلَى التَّوسعَة فِي طلب الْعلم وَرَحْمَة بِهَذَا الْخلق فَقَالَ جلّ وَعز {ورفعنا بَعضهم فَوق بعض دَرَجَات} ] الزخرف 32 [

وَقَالَ جلّ وَعز {وَفَوق كل ذِي علم عليم} ] يُوسُف 76 [

‌‌طوائف الْأمة لخدمة عُلُوم الْقُرْآن

 

1 - فقصدت طَائِفَة تَعْلِيم الْقُرْآن وَحفظه وَمَعْرِفَة اخْتِلَاف الْقرَاءَات فِيهِ ومعانيه ومشكله ومتشابهه وغريبه ومصادره
নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীগণ (التابعون), তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক; নিশ্চয়ই তাঁরা সংরক্ষণ করেছেন

//‌‌ এবং পৌঁছে দিয়েছেন ও নসিহত করেছেন যেভাবে তাঁরা আদিষ্ট হয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁদেরকে এমন ইমাম হিসেবে মনোনীত করেছেন যারা তাঁর আদেশে হিদায়েত দান করেন; কারণ তাঁরা সেই সব বিষয় অর্জনে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন যার প্রতি তিনি তাঁদের উৎসাহিত করেছিলেন এবং তাঁর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় তাঁর হিকমত (প্রজ্ঞা) শিক্ষাদানে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি তাঁদেরকে সেই সব পথের দিশা দিয়েছেন যা তাঁর নির্দেশিত বিষয়াবলি জানা এবং যা থেকে তিনি বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন তা থেকে দূরে থাকার প্রমাণস্বরূপ। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে প্রদত্ত ইলমের ক্ষেত্রে একজনের ওপর অন্যজনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন যাতে মর্যাদার স্তরসমূহের ব্যবধান] [এবং এই মতভেদ তাঁদেরকে শিক্ষা বিস্তারে নিবিষ্ট হতে এবং ইলম অন্বেষণে প্রশস্ততা লাভে অনুপ্রাণিত করে এবং মাখলুকের প্রতি রহমতস্বরূপ হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তাদের একজনের ওপর অন্যজনকে মর্যাদায় উন্নত করেছি} ] যুখরুফ ৩২ [

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপর রয়েছেন মহাজ্ঞানী} ] ইউসুফ ৭৬ [

‌‌কুরআনের উলূমসমূহের খিদমতে উম্মতের বিভিন্ন শ্রেণি

 

1 - অতঃপর একদল কুরআন শিক্ষা দেওয়া, তা মুখস্থ রাখা, কেরাআতসমূহের বিভিন্নতা জানা এবং এর অর্থ, অস্পষ্ট (مشكل), রূপক (متشابه), বিরল শব্দাবলি (غريب) ও এর উৎসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সংকল্প করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
2 - وقصدت طَائِفَة تَعْلِيم فَرَائِضه وَأَحْكَامه وحظره وإباحته وأوامره وزواجره وناسخه ومنسوخه وَمَا يستدلون بِهِ من ذَلِك على السّنَن والْآثَار

3 - وَطَائِفَة قصدت حفظ جمله وإدامة تِلَاوَته درسا وَقِرَاءَة من غير أَن يعرفوا مِنْهُ معنى فِي الْإِعْرَاب وَلَا وَجها فِي قِرَاءَة وَلَا عدد آى وَلَا معنى وَلَا مُشكلا وكل يثيبه فِيمَا علم وَعمل مجَازًا وَالله جواد كريم

‌‌طَبَقَات الْمُحدثين

 

وَكَذَلِكَ أفهام حَملَة الْعلم من السّنَن والْآثَار مُتَفَرِّقَة وإراداتهم مُتَفَاوِتَة وهممهم إِلَى التباين مصروفة وطبقاتهم فِيمَا حملوه غير مُتَسَاوِيَة

1 - فطائفة مِنْهُم قصدت حفظ الْأَسَانِيد من الرِّوَايَات عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه الَّذين ندب الله جلّ وَعز إِلَى الأقتداء بهم فاشتغلت بتصحيح نقل الناقلين عَنْهُم وَمَعْرِفَة الْمسند من الْمُتَّصِل والمرسل من الْمُنْقَطع وَالثَّابِت من الْمَعْلُول وَالْعدْل من الْمَجْرُوح والمصيب من المخطيء وَالزَّائِد من النَّاقِص فَهَؤُلَاءِ حفاظ الْعلم وَالدّين النافون عَنهُ تَحْرِيف غال وتدليس مُدَلّس وانتحال مُبْطل وَتَأْويل جَاحد ومكيدة ملحد فهم الَّذين وَصفهم الرَّسُول صلى الله عليه وسلم ودعا لَهُم وَأمرهمْ بالإبلاغ عَنهُ فَهَذِهِ الطَّائِفَة هم الَّذين استحقوا أَن يقبل مَا جوزوه وَأَن يرد مَا جرحوه

وَإِلَى قَوْلهم يرجع عِنْد ادِّعَاء من حرف وتدليس مُدَلّس ومكيدة ملحد وَكَذَلِكَ إِلَى قَوْلهم يرجع أهل الْقُرْآن فِي معرفَة أَسَانِيد الْقرَاءَات وَالتَّفْسِير لمعرفتهم بِمن حضر التَّنْزِيل من الصَّحَابَة وَمن لحقهم من التَّابِعين وَقَرَأَ عَلَيْهِم وَأخذ عَنْهُم ولعلمهم بِصِحَّة الْإِسْنَاد الثَّابِت من السقيم والراوي الْعدْل من الْمَجْرُوح والمتصل من الْمُرْسل
2 - আর এক দল এর আবশ্যিক বিধানসমূহ, আহকাম, নিষিদ্ধ ও বৈধ বিষয়সমূহ, আদেশ ও নিষেধ, নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ) শিক্ষা দেওয়ার এবং এ থেকে তারা সুন্নাহ (سنن) ও আসার (آثار) এর পক্ষে যা কিছু দলিল হিসেবে গ্রহণ করে তা শিক্ষা দেওয়ার সংকল্প করেছে।

3 - এবং অন্য এক দল এর শব্দাবলি মুখস্থ করা এবং ব্যাকরণগত অর্থ, তিলাওয়াতের পদ্ধতি, আয়াতের সংখ্যা, ভাবার্থ বা কোনো অস্পষ্ট বিষয় (مشكل) সম্পর্কে অবগত না হয়েই কেবল অধ্যয়ন ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিরন্তর পাঠ অব্যাহত রাখার সংকল্প করেছে। আল্লাহ তাদের প্রত্যেককে তাদের ইলম ও আমল অনুযায়ী বিনিময় দান করবেন। আল্লাহ অতিশয় দাতা ও দয়ালু।

‌‌মুহাদ্দিসগণের স্তরবিন্যাস (طبقات)

 

অনুরূপভাবে, সুন্নাহ (سنن) ও আসার (آثار) বহনকারী জ্ঞানীদের বোধশক্তিও বিভিন্ন প্রকার, তাঁদের সংকল্পসমূহ ভিন্ন ভিন্ন, তাঁদের লক্ষ্যসমূহ বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং তাঁরা যা বহন করছেন তাতে তাঁদের স্তরসমূহ (طبقات) সমান নয়।

1 - তাঁদের মধ্যে এক দল আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ—যাঁদের অনুসরণ করার জন্য মহান আল্লাহ উৎসাহিত করেছেন—তাঁদের থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াতসমূহের সনদ (أسانيد) সংরক্ষণের সংকল্প করেছেন। ফলে তাঁরা বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিশুদ্ধতা যাচাই করা এবং মুসনাদ (مسند) থেকে মুত্তাসিল (متصل), মুরসাল (مرسل) থেকে মুনকাতি (منقطع), সাবিত (ثابت) থেকে ত্রুটিযুক্ত (معلول), ন্যায়পরায়ণ (عدل) থেকে প্রত্যাখ্যাত (مجروح), সঠিক বর্ণনাকারী থেকে ভুলকারী এবং বর্ণনায় অতিরিক্ত ও বিয়োজনকারী শনাক্তকরণে ব্যাপৃত হয়েছেন। তাঁরাই হলেন ইলম ও দ্বীনের সংরক্ষক, যাঁরা দ্বীন থেকে অতিরঞ্জনকারীর বিকৃতি, মুদাল্লিসের (مدلس) তাদলীস (تدليس), বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার, অস্বীকারকারীদের অপব্যাখ্যা এবং ধর্মদ্রোহীদের ষড়যন্ত্র দূর করেন। এরাই সেই দল যাঁদের গুণগান আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, তাঁদের জন্য দোয়া করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এই দলটিই তাঁদের অনুমোদিত বিষয় গ্রহণ করার এবং তাঁদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত (مجروح) বিষয় বর্জন করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত।

বিকৃতকারীর দাবি, মুদাল্লিসের (مدلس) তাদলীস (تدليس) এবং ধর্মদ্রোহীদের ষড়যন্ত্রের সময় তাঁদের বক্তব্যের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয়। অনুরূপভাবে, কিরাআত ও তাফসিরের সনদ (أسانيد) জানার ক্ষেত্রে কুরআন বিশেষজ্ঞগণও তাঁদের বক্তব্যের দিকেই ফিরে যান। কারণ, তাঁরা জানেন কোন্ কোন্ সাহাবী ওহি নাজিলের সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তী কোন্ তাবিঈন তাঁদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, তাঁদের নিকট পাঠ করেছেন এবং তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। এছাড়া তাঁরা ইসনাদ (إسناد) এর ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ বা সাবিত (ثابت) ও দুর্বল (سقيم), ন্যায়পরায়ণ (عدল) রাবী ও প্রত্যাখ্যাত (مجروح) রাবী এবং মুত্তাসিল (متصل) ও মুরসাল (مرسل) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
2 - وَطَائِفَة اشتغلت بِحِفْظ اخْتِلَاف أقاويل الْفُقَهَاء فِي الْحَرَام والحلال واقتصروا على مَا ذكرت أَئِمَّة الْأَمْصَار من الْمُتُون عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَعَن الصَّحَابَة فِي كتبهمْ وَقصرُوا عَمَّا سبقت إِلَيْهِ أهل الْمعرفَة بالروايات وثابت الْإِسْنَاد وأحوال أهل النَّقْل من الْجرْح وَالتَّعْدِيل فهم غير مستغنين عَن أهل الْمعرفَة بالآثار عِنْد ذكر خبر عَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم أَو الصَّحَابَة أَو التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان فِيهِ حكم ليعرفوا صِحَة ذَلِك من سقمه وَصَوَابه من خطئه

3 - وَطَائِفَة ثَالِثَة أكثرت الْجمع وَالْكِتَابَة غير متفقهين فِي متن وَلَا عارفين بعلة إِسْنَاد فَإِنَّهُم فِي الْجمع والاستكثار والتدوين فهم داخلون إِن شَاءَ الله فِي قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رحم الله امْرَءًا سمع مَقَالَتي حَتَّى يبلغهَا من هُوَ أفقه مِنْهُ

//
2 - এবং একদল ফকিহ হারাম ও হালাল বিষয়ে ফকিহগণের মতভেদ মুখস্থ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত যেসব মূল পাঠ (متن) উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছেন। বর্ণনাসমূহ ও সুদৃঢ় সনদ (ثابت الإسناد) সম্পর্কে এবং বর্ণনাকারীদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞজনরা যে স্তরে পৌঁছেছেন, তা অর্জনে তাঁরা সক্ষম হননি। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম অথবা তাঁদের যথাযথভাবে অনুসরণকারী তাবেয়িগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত কোনো বিধান সম্বলিত বর্ণনা (الآثار) উল্লেখ করার সময় তাঁরা হাদিস বিশারদগণের মুখাপেক্ষী হতে বাধ্য হন, যাতে করে তাঁরা সেই বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة) ও অশুদ্ধতা (سقم) এবং নির্ভুলতা ও ভুল সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।

3 - তৃতীয় আর একদল আছেন যারা কেবল প্রচুর হাদিস সংগ্রহ ও তা সংকলনে লিপ্ত হয়েছেন, কিন্তু তাঁরা না বোঝেন হাদিসের মূল পাঠ (متن), আর না জানেন সনদের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة إسناد) সম্পর্কে। তবে হাদিস সংগ্রহ, আধিক্য ও সংকলনের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সিক্ত ও সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনল এবং তা এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দিল যে তার চেয়েও অধিক বিজ্ঞ (أفقه)।"

(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
وكل وَالْحَمْد لله على خير كثير فسبحان من جعل الِاخْتِلَاف من الْعلمَاء تسهيلا على خلقه وَرَحْمَة لِعِبَادِهِ وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين
আর প্রতিটি বিষয়ের জন্য এবং অশেষ কল্যাণের জন্য সকল প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য। সুতরাং সেই সত্তা অত্যন্ত পবিত্র, যিনি আলেমগণের (علماء) মধ্যকার মতভেদকে (اختلاف) তাঁর সৃষ্টির জন্য সহজসাধ্য এবং তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌طَبَقَات الناقلين للآثار بعد الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ

 

ثمَّ اخْتلفت أَحْوَال الناقلين للآثار بعد الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ الْأَوَّلين على ثَلَاث طَبَقَات كل طبقَة على ثَلَاث منَازِل فِي الإتقان والرتب

1 - فطبقه مِنْهَا مَقْبُولَة] ق 3 ب [بِاتِّفَاق وهم على رتب ومنازل فَلَيْسَ الْحَافِظ المتقن الْمُؤَدِّي كَمَا سمع كالمؤدي على الْمَعْنى الواهم فِي بعض مَا يُؤَدِّي وَيحدث وَلَا الْمُؤَدِّي الثِّقَة من كِتَابه مِمَّن لَا معرفَة لَهُ بِمَا يُؤَدِّي كالحافظ المتقن

2 - وطبقة مِنْهَا قبلهَا قوم وَتركهَا آخَرُونَ لاخْتِلَاف أَحْوَالهم فِي النَّقْل وَالرِّوَايَة

3 - وطبقة أُخْرَى متروكة وهم على مَرَاتِب فِي الضعْف فَلَيْسَ الواهم المخطيء الَّذِي دخل الْوَهم وَالْخَطَأ عَلَيْهِ من سوء حفظه أَو عِلّة لحقته فَترك حَدِيثه لِكَثْرَة اضطرابه فِيهَا كالمتهم وَلَا الْمُتَّهم مِنْهُم كالمصرح بِالْكَذِبِ والوضع وَسَنذكر أَحْوَالهم وطبقاتهم فِي شرح لكتابنا هَذَا ونبين أَمرهم بَيَانا وَاضحا إِن شَاءَ الله

‌‌الطَّبَقَة الأولى من الْمُحدثين

 

فالطبقة الأولى من الثَّلَاث هم أَئِمَّة الدّين وحفاظه الَّذين تقدم ذكرهم وصفتهم وإليهم انْتهى علم الْأَسَانِيد وبهم تلْزم الْحجَّة على من خالفهم وَيقبل انفرادهم إِذْ كَانُوا المقدمين فِي عصرهم لمعرفتهم بِمَا جَاءَ عَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم ثمَّ عَن الصَّحَابَة بعده وَعَن التَّابِعين وَمن بعدهمْ بِإِحْسَان رضى الله عَنْهُم

//
সাহাবী ও তাবেঈদের পরবর্তী যুগের আসার বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ

 

অতঃপর সাহাবী এবং প্রাথমিক যুগের তাবেঈদের পরবর্তী আসার বর্ণনাকারীদের অবস্থা তিন স্তরে (طبقات) বিভক্ত হয়েছে; প্রতিটি স্তর আবার তাদের মুখস্থের নির্ভুলতা (الإتقان) এবং মর্যাদার (الرتب) ভিত্তিতে তিনটি পর্যায়ে (منازل) বিন্যস্ত।

1 - এর মধ্যে একটি স্তর সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য (مقبولة); তারা বিভিন্ন মর্যাদা ও পর্যায়ে বিভক্ত। কেননা, যে হাফেজ (الحافظ) ও নির্ভুল (المتقن) বর্ণনাকারী যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেন, তিনি সেই বর্ণনাকারীর মতো নন যিনি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (المؤدي على المعنى) করেন এবং তার বর্ণিত বা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তির (الواهم) শিকার হন। আবার যিনি কেবল নিজের কিতাব দেখে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (الثقة) কিন্তু যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে যার প্রাজ্ঞতা নেই, তিনি সেই হাফেজ (الحافظ) ও নির্ভুল (المتقن) বর্ণনাকারীর সমপর্যায়ের নন।

2 - আর দ্বিতীয় একটি স্তর এমন যাদের একদল গ্রহণ করেছেন এবং অন্যদল বর্জন করেছেন; বর্ণনা ও রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে।

3 - অন্য আরেকটি স্তর হলো বর্জিত (متروكة); তারা তাদের দুর্বলতার (الضعف) ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পর্যায়ের। সুতরাং সেই বিভ্রান্ত (الواهم) ও ভুলকারী (المخطيء) ব্যক্তি—যার মন্দ হেফজ (سوء حفظه) বা কোনো বিশেষ ত্রুটির (علة) কারণে তার মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল প্রবেশ করেছে এবং তার হাদিসে অধিক অস্থিরতা বা ইজতিরাবের (اضطراب) কারণে তা বর্জন করা হয়েছে—তিনি অভিযুক্ত (المتهم) ব্যক্তির মতো নন। আবার তাদের মধ্যে যিনি অভিযুক্ত (المتهم), তিনি সেই ব্যক্তির মতো নন যিনি স্পষ্টত মিথ্যা (الكذب) এবং জালকরণের (الوضع) সাথে জড়িত। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের এই কিতাবের ব্যাখ্যায় তাদের অবস্থা ও স্তরসমূহ উল্লেখ করব এবং তাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব।

‌‌মুহাদ্দিসগণের প্রথম স্তর

 

উক্ত তিন স্তরের মধ্যে প্রথম স্তরটি হলো দ্বীনের সেই সকল ইমাম (أئمة) এবং হাফেজ (حفاظ) যাদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদ (الأسانيد) সংক্রান্ত জ্ঞান তাদের নিকট এসেই সমাপ্ত হয়েছে এবং বিরোধীদের বিপক্ষে তাদের মাধ্যমেই দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের একক বর্ণনাও (انفراد) গ্রহণযোগ্য, যেহেতু তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিষয়াবলি, অতঃপর সাহাবী, তাবেঈন এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীদের বর্ণিত বিষয়াবলি সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে নিজ নিজ যুগে অগ্রগামী ছিলেন। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌مدَار علم الْأَسَانِيد من عصر الزُّهْرِيّ وطبقته إِلَى عصر ابْن الْمَدِينِيّ

 

قَالَ عَليّ بن الْمَدِينِيّ نظرت فَإِذا علم الْأَسَانِيد يَدُور على سِتَّة نفر

1 - فبالمدينة مُحَمَّد بن مُسلم بن عبيد الله بن شهَاب الزُّهْرِيّ ويكنى أَبَا بكر توفّي سنة أَربع وَعشْرين وَمِائَة رَحْمَة الله عَلَيْهِ وَهُوَ بِالْمَدِينَةِ
যুহরি ও তাঁর সমসাময়িক স্তর (طبقته) থেকে ইবনে আল-মাদিনির যুগ পর্যন্ত সনদ (الأسانيد) সংক্রান্ত জ্ঞানের আবর্তন কেন্দ্র

 

আলী ইবনে আল-মাদিনি বলেছেন, আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে সনদ (الأسانيد) সংক্রান্ত জ্ঞান ছয়জন ব্যক্তির ওপর আবর্তিত হয়:

1 - মদিনায় মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে শিহাব আল-যুহরি, যাঁর উপনাম (يكنى) ছিল আবু বকর। তিনি ১২৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তিনি মদিনায় অবস্থান করছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
2 - وَلأَهل مَكَّة عَمْرو بن دِينَار مولى بني جمح ويكنى أَبَا مُحَمَّد توفّي سنة سِتّ وَعشْرين وَمِائَة

3 - وَيحيى بن أبي كثير مولى طى ويكنى أَبَا نصر توفّي سنة تسع وَعشْرين وَمِائَة

4 - وَلأَهل الْبَصْرَة قَتَادَة بن دعامة السدُوسِي ويكنى أَبَا الْخطاب توفّي سنة سِتّ وَعشْرين وَمِائَة

5 - وَلأَهل الْكُوفَة أَبُو إِسْحَاق عَمْرو بن عبد الله السبيعِي توفّي سنة سبع وَعشْرين وَمِائَة

6 - وَسليمَان بن مهْرَان الْأَعْمَش مولى بني كَاهِل من بني أَسد يكنى أَبَا مُحَمَّد توفّي سنة ثَمَان وَأَرْبَعين وَمِائَة رَحْمَة الله عَلَيْهِم اجميعين
2 - এবং মক্কাবাসীদের (মুহাদ্দিসগণের) মধ্যে রয়েছেন আমর ইবনে দিনার, যিনি বনু জুমাহর মুক্তদাস (مولى) এবং তাঁর উপনাম (يكنى) আবু মুহাম্মাদ; তিনি একশত ছাব্বিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

3 - এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর, যিনি তায়ি গোত্রের মুক্তদাস (مولى) এবং তাঁর উপনাম (يكنى) আবু নাসর; তিনি একশত ঊনত্রিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

4 - এবং বসরার অধিবাসীদের জন্য কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ আস-সাদুসি, তাঁর উপনাম (يكنى) আবুল খাত্তাব; তিনি একশত ছাব্বিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

5 - এবং কুফাবাসীদের জন্য আবু ইসহাক আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাবিঈ; তিনি একশত সাতাশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

6 - এবং সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আ'মাশ, যিনি বনু আসাদ গোত্রের বনু কাহিল শাখার মুক্তদাস (مولى), তাঁর উপনাম (يكنى) আবু মুহাম্মাদ; তিনি একশত আটচল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌ثمَّ صَار علم هَؤُلَاءِ السِّتَّة إِلَى أثنى عشر رجلا وهم أَصْحَاب الْأَصْنَاف مِمَّن صنف الْعلم مِنْهُم من أهل الْمَدِينَة

 

1 - مَالك بن أنس بن أبي عَامر الأصبحي وعداده فِي تيم يكنى أَبَا عبد الله توفّي سنة سبع وَسبعين وَمِائَة

2 - وَمُحَمّد بن إِسْحَاق بن يسَار مولى بني مخرمَة يكنى أَبَا بكر توفّي سنة إِحْدَى وَخمسين وَمِائَة وهما من أَصْحَاب الزُّهْرِيّ
অতঃপর এই ছয়জনের ইলম বারোজন ব্যক্তির নিকট পর্যবসিত হয়, যাঁরা ছিলেন বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ প্রণেতা (أصحاب الأصناف) এবং ইলম সংকলনকারী; তাঁদের মধ্যে মদীনার অধিবাসীগণ হলেন:

 

১ - মালিক বিন আনাস বিন আবি আমির আল-আসবাহি, তায়িম গোত্রে তাঁর গণনা করা হতো, তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ, তিনি ১৭৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

২ - এবং মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার, বনু মাখরামার মুক্তদাস, তাঁর উপনাম আবু বকর, তিনি ১৫১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁরা উভয়েই যুহরীর সাথীদের (أصحاب) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
3 - وَمن أهل مَكَّة عبد الْملك بن عبد الْعَزِيز بن جريح مولى لقريش يكنى أَبَا الْوَلِيد لَقِي ابْن شهَاب وَعَمْرو بن دِينَار وَقد رأى الْأَعْمَش وَلم يرو عَنهُ مَاتَ سنة إِحْدَى وَخمسين وَمِائَة

4 - وسُفْيَان بن عيينه بن مَيْمُون مولى مُحَمَّد بن مُزَاحم أَخُو الضَّحَّاك ابْن مُزَاحم يكنى أَبَا مُحَمَّد مَاتَ سنة ثَمَان وَتِسْعين وَمِائَة لَقِي ابْن شهَاب وَعَمْرو بن دِينَار وَأَبا إِسْحَاق وَالْأَعْمَش

5 - وَمن أهل الْبَصْرَة سعيد بن أبي عرُوبَة مولى بني عدي بن يشْكر وَهُوَ سعيد بن مهْرَان يكنى أَبَا النَّضر مَاتَ سنة ثَمَان أَو تسع وَخمسين وَمِائَة

6 - وَحَمَّاد بن سَلمَة] قَالَ [أَحْسبهُ مولى لبني سليم يكنى أَبَا سَلمَة مَاتَ سنة سبعين وَمِائَة
3 - মক্কার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজ হলেন কুরাইশদের আযাদকৃত গোলাম (مولى), তাঁর উপনাম (يكنى) হলো আবু আল-ওয়ালিদ। তিনি ইবনে শিহাব এবং আমর ইবনে দীনারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন (لقي); তিনি আল-আমাশকে দেখেছিলেন কিন্তু তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা করেননি (يرو)। তিনি একশত একান্ন হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন (مات)।

4 - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা ইবনে মাইমুন হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুজাহিমের আযাদকৃত গোলাম (مولى) এবং দাহহাক ইবনে মুজাহিমের ভাই; তাঁর উপনাম (يكنى) আবু মুহাম্মদ। তিনি একশত আটানব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন (مات)। তিনি ইবনে শিহাব, আমর ইবনে দীনার, আবু ইসহাক এবং আল-আমাশের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন (لقي)।

5 - বসরার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ হলেন বনু আদি ইবনে ইয়াশকুর গোত্রের আযাদকৃত গোলাম (مولى)। তিনি মূলত সাঈদ ইবনে মিহরান, তাঁর উপনাম (يكنى) আবু আন-নজর। তিনি একশত আটান্ন অথবা ঊনষাট হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন (مات)।

6 - হাম্মাদ ইবনে সালামাহ; [বর্ণনাকারী] বলেন, আমার ধারণা তিনি বনু সুলাইম গোত্রের আযাদকৃত গোলাম (مولى), তাঁর উপনাম (يكنى) আবু সালামাহ। তিনি একশত সত্তর হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন (مات)।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
7 - وَأَبُو عوَانَة] ق 4 أ [الوضاح مولى يزِيد بن عَطاء مَاتَ سنة خمس وَسبعين وَمِائَة

8 - وَشعْبَة بن الْحجَّاج أَبُو بسطَام مولى الأشاقر مَاتَ سنة سِتِّينَ وَمِائَة

9 - وَمعمر بن رَاشد يكنى أَبَا عُرْوَة مولى لبني حدان مَاتَ بِالْيمن سنة أَربع وَخمسين وَمِائَة سمع ابْن شهَاب الزُّهْرِيّ وَعَمْرو بن دِينَار وَقَتَادَة وَيحيى بن أبي كثير وَأَبا إِسْحَاق
7 - এবং আবু আওয়ানাহ [ক ৪ আ] আল-ওয়াদ্দাহ, ইয়াজিদ ইবনে আতার মুক্তদাস (مولى), তিনি একশত পঁচাত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

8 - এবং শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ আবু বিসতাম, আশাকির গোত্রের মুক্তদাস (مولى), তিনি একশত ষাট হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

9 - এবং মা'মার ইবনে রাশিদ, যার উপনাম (يكنى) ছিল আবু উরওয়াহ, তিনি বনু হাদ্দান গোত্রের মুক্তদাস (مولى), তিনি ইয়েমেনে একশত চুয়ান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, আমর ইবনে দিনার, কাতাদাহ, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির এবং আবু ইসহাকের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন (سمع)।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
10 - وَمن أهل الْكُوفَة سُفْيَان بن سعيد بن مَسْرُوق الثَّوْريّ يكنى أَبَا عبد الله مَاتَ سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وَمِائَة

11 - وَمن أهل الشَّام عبد الرَّحْمَن بن عَمْرو الْأَوْزَاعِيّ ويكنى أَبَا عَمْرو مَاتَ سنة إِحْدَى وَخمسين وَمِائَة

12 - وَمن أهل وَاسِط هشيم بن بشير بن الْقَاسِم بن دِينَار مولى بني سليم يكنى أَبَا مُعَاوِيَة مَاتَ سنة ثَلَاث وَثَمَانِينَ وَمِائَة

‌‌ثمَّ انْتهى علم هَؤُلَاءِ الاثنى عشر إِلَى سِتَّة رحمهم الله
10 - কুফাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে মাসরুক আল-সাওরি, তাঁর উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ; তিনি একশত একষট্টি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

11 - সিরিয়াবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আমর আল-আওজাই, তাঁর উপনাম ছিল আবু আমর; তিনি একশত একান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

12 - ওয়াসিতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন হুশাইম ইবনে বাশির ইবনে আল-কাসিম ইবনে দিনার, যিনি বনু সুলাইম গোত্রের আযাদকৃত দাস (مولى), তাঁর উপনাম ছিল আবু মুয়াবিয়া; তিনি একশত তিরাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌অতঃপর এই বারো জনের ইলম (জ্ঞান) ছয় ব্যক্তিতে গিয়ে উপনীত হয়েছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
1 - إِلَى يحيى بن سعيد الْقطَّان ويكنى أَبَا سعيد مولى بني تَمِيم مَاتَ سنة ثَمَان وَتِسْعين وَمِائَة

2 - وَيحيى بن زَكَرِيَّا بن أبي زَائِدَة ويكنى أَبَا سعيد مولى بني هَمدَان مَاتَ سنة اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ وَمِائَة

3 - ووكيع بن الْجراح] بن مليح [بن عدي بن فرس الرُّؤَاسِي ويكنى أَبَا سُفْيَان مَاتَ سنة تسع وَتِسْعين وَمِائَة

‌‌ثمَّ انْتهى علم هَؤُلَاءِ إِلَى ثَلَاثَة

 

4

- 1 إِلَى عبد الله بن الْمُبَارك وَهُوَ حنظلي مولى بني حَنْظَلَة يكنى أَبَا عبد الرَّحْمَن مَاتَ سنة إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَمِائَة بهيت
1 - ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান পর্যন্ত, যাঁর উপনাম (كنية) আবু সাঈদ, তিনি বনী তামীমের মওলা (مولى) ছিলেন এবং একশত আটানব্বই হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

2 - এবং ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যাইদাহ, যাঁর উপনাম (كنية) আবু সাঈদ, তিনি বনী হামদানের মওলা (مولى) ছিলেন এবং একশত বিরাশি হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

3 - এবং ওয়াকি ইবনে আল-জাররাহ [ইবনে মালিহ ইবনে আদি ইবনে ফারাস] আল-রুআসি, যাঁর উপনাম (كنية) আবু সুফিয়ান, তিনি একশত নিরানব্বই হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

‌‌অতঃপর এই ব্যক্তিদের জ্ঞান (علم) তিনজনের নিকট গিয়ে পর্যবসিত হয়েছে

 

4

- 1 আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক পর্যন্ত, তিনি হানজালি, বনী হানজালার মওলা (مولى), তাঁর উপনাম (كنية) আবু আবদুর রহমান, তিনি একশত একাশি হিজরিতে হীত নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
5

- 2 وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي الْأَسدي يكنى أَبَا سعيد مَاتَ سنة ثَمَان وَتِسْعين وَمِائَة

6

- 3 وَيحيى بن آدم ويكنى أَبَا زَكَرِيَّا مولى خَالِد بن عبد الله مَاتَ سنة ثَلَاث وَمِائَتَيْنِ

أخبرنَا بذلك مُحَمَّد بن الْحُسَيْن أَبُو طَاهِر قَالَ حَدثنَا أَبُو قلَابَة عبد الْملك بن مُحَمَّد الرقاشِي وَأخْبرنَا سلم بن الْفضل قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عُثْمَان الْعَبْسِي جَمِيعًا عَن عَليّ بن الْمَدِينِيّ بِهَذَا فَهَذَا مَا ذكر عَليّ بن الْمَدِينِيّ من معرفَة من دَار عَلَيْهِ علم الاسانيد من وَقت الزُّهْرِيّ وطبقته إِلَى عصره وَكَانَ أحد الْأَئِمَّة الَّذِي يرجع إِلَى قَوْله فِي علم الحَدِيث وَكَانَ أَبُو عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل رَحْمَة الله عَلَيْهِ أَعلَى دينا وعلما مِنْهُ
5

- ২ আব্দুর রহমান বিন মাহদি আল-আসাদি, তাঁর উপনাম আবু সাঈদ; তিনি ১৯৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

6

- ৩ ইয়াহইয়া বিন আদম, তাঁর উপনাম আবু যাকারিয়া, তিনি খালিদ বিন আব্দুল্লাহর মুক্তদাস ছিলেন; তিনি ২০৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আবু তাহির আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু কিলাবা আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আর-রাকাশি বর্ণনা করেছেন। এবং সালম বিন আল-ফাদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-আবসি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই আলি বিন আল-মাদিনি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম যুহরি এবং তাঁর সমসাময়িক স্তর (طبقة) থেকে শুরু করে আলি বিন আল-মাদিনির সময় পর্যন্ত যাঁদের ওপর সনদশাস্ত্রের (علم الأسانيد) জ্ঞান আবর্তিত হয়েছে, তাঁদের পরিচিতি সম্পর্কে এটিই তাঁর বর্ণনা। তিনি ছিলেন এমন একজন ইমাম (الأئمة), হাদিস শাস্ত্রে যাঁর বক্তব্যের প্রতি প্রত্যাবর্তন করা হতো। আর আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) দ্বীনদারি ও ইলমের দিক থেকে তাঁর চেয়েও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٤١)
وَكَانَ أَبُو زَكَرِيَّا يحيى بن معِين وَأَبُو بكر بن شيبَة وطبقتهم لَا يُنكرُونَ فضل مَعْرفَته بِهَذَا الشَّأْن وَكَذَلِكَ من تقدمهم مثل سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَيحيى بن سعيد الْقطَّان وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي

وَكَذَلِكَ من بعدهمْ مِمَّن صَحبه مثل مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ وَأبي حَاتِم الرَّازِيّ وَأبي زرْعَة الرَّازِيّ وأقرانهم مِمَّن لحقوه وَأخذُوا هَذَا الْعلم عَنهُ رَحْمَة الله عَلَيْهِم
আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু বকর ইবনে শাইবাহ এবং তাঁদের সমসাময়িক স্তরের (طبقة) ব্যক্তিবর্গ এই বিষয়ের (হাদিস শাস্ত্রের) ওপর তাঁর জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করতেন না। একইভাবে তাঁদের পূর্বসূরিগণ যেমন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীও (অনুরূপ মত পোষণ করতেন)।

তেমনিভাবে তাঁদের পরবর্তীগণ যাঁরা তাঁর সাহচর্য লাভ করেছিলেন, যেমন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারি, আবু হাতিম রাজি, আবু জুরআহ রাজি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের (أقران) ব্যক্তিবর্গ যাঁরা তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে এই ইলম (জ্ঞান) অর্জন করেছিলেন—আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
وَأَنا ذَاكر إِن شَاءَ الله مَعَ هَذِه الطَّبَقَة الَّتِي ذكرهَا عَليّ بن الْمَدِينِيّ وَنسب هَذَا الْعلم إِلَيْهِم جمَاعَة من الْأَئِمَّة كَانُوا فِي أزمنتهم مِمَّن قبل انفرادهم وَجعلُوا حجَّة على من خالفهم وَإِن كَانُوا دون من ذكرهم عَليّ بن الْمَدِينِيّ فِي الرِّوَايَة واللقي فهم فِي عصرهم أَئِمَّة وَقبل انفرادهم وَاحْتج بهم الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة الَّذين أخرجُوا الصَّحِيح وميزوا الثَّابِت من الْمَعْلُول وَالْخَطَأ من الصَّوَاب

1 - أَبُو عبد الله] ق 4 ب [مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ

2 - وَأَبُو الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج الْقشيرِي وبعدهما

3 - أَبُو دَاوُد سُلَيْمَان بن الْأَشْعَث بن إِسْحَاق السجسْتانِي

4 - وَأَبُو عبد الرَّحْمَن أَحْمد بن شُعَيْب النَّسَائِيّ

وَمن بعدهمْ مِمَّن أخذُوا طريقتهم وقصدوا قصدهم وَإِن كَانُوا دونهم فِي الْفَهم
ইনশাআল্লাহ আমি আলী ইবনুল মাদিনী কর্তৃক উল্লিখিত এই স্তরের (الطبقة) সাথে এমন একদল ইমামের কথা উল্লেখ করব যাদের দিকে একদল ইমাম এই জ্ঞানকে (হাদিস শাস্ত্র) সম্পর্কিত করেছেন। তাঁরা নিজ নিজ সময়ে এমন স্তরের ছিলেন যে, তাঁদের একক বর্ণনা (انفرادهم) গ্রহণ করা হতো এবং তাঁদের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে তাঁদেরকে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য করা হতো। যদিও বর্ণনার (الرواية) আধিক্য ও শাইখদের সাথে সাক্ষাতের (اللقي) ক্ষেত্রে তাঁরা আলী ইবনুল মাদিনী কর্তৃক উল্লিখিত ব্যক্তিদের তুলনায় নিচের স্তরের ছিলেন, তবুও তাঁরা নিজ যুগে ইমাম ছিলেন এবং তাঁদের একক বর্ণনা (انفرادهم) কবুল করা হতো। সেই চারজন ইমামও তাঁদেরকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتج) করেছেন যারা সহিহ হাদিস সংকলন করেছেন এবং সুসাব্যস্ত (الثابت) বর্ণনাকে ত্রুটিপূর্ণ (المعلول) বর্ণনা থেকে ও ভুলকে সঠিক থেকে পৃথক করেছেন।

1 - আবু আবদুল্লাহ [কাফ ৪ খ] মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি

2 - এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরি এবং তাঁদের পরবর্তীকালে

3 - আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানি

4 - এবং আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি

এবং তাঁদের পরবর্তী ওই সকল ব্যক্তি যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যদিও তাঁরা বোধশক্তির ক্ষেত্রে তাঁদের সমপর্যায়ের ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
1 - عبد الله بن عبد الرَّحْمَن السَّمرقَنْدِي

2 - وَأَبُو عِيسَى مُحَمَّد بن عِيسَى بن سُورَة التِّرْمِذِيّ

3 - وَمُحَمّد بن إِسْحَاق بن حزيمة النَّيْسَابُورِي

4 - وَأحمد بن عَمْرو بن أبي عَاصِم النَّبِيل رَحْمَة الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ
1 - আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সামারকান্দি

2 - এবং আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সুরাহ আত-তিরমিজি

3 - এবং মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমা আন-নাইসাবুরি

4 - এবং আহমদ বিন আমর বিন আবু আসিম আন-নাবিল, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
‌‌ذكر الطَّبَقَة الأولى بعد التَّابِعين الْأَوَّلين الَّذين أخرجُوا عَنْهُم حَدِيثهمْ بعدهمْ وَاحْتَجُّوا بهَا

 

1 - من أهل الْمَدِينَة مُحَمَّد بن مُسلم بن شهَاب الزُّهْرِيّ وَيحيى وَعبد ربه وَسعد بَنو سعيد بن قيس الْأنْصَارِيّ وَسعد بن إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف وَعبد الرَّحْمَن بن الْقَاسِم بن مُحَمَّد بن أبي بكر وَهِشَام بن عُرْوَة بن الزبير بن الْعَوام وَإِسْحَاق بن
প্রথম পর্যায়ের তাবিঈনগণের (التابعين) পরবর্তী প্রথম স্তরের (الطبقة) বর্ণনা, যারা তাদের পরবর্তী সময়ে তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা (أخرجوا) করেছেন এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণ (واحتجوا) করেছেন

 

1 - মদিনাবাসীদের মধ্য হতে রয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আল-জুহরি; ইয়াহইয়া, আবদুর রাব্বিহি ও সাদ—যারা সাঈদ বিন কাইস আল-আনসারীর পুত্র; সাদ বিন ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান বিন আউফ, আবদুর রহমান বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর, হিশাম বিন উরওয়াহ বিন আল-জুবায়ের বিন আল-আওয়াম এবং ইসহাক বিন
(খণ্ড: ১) ফাদলুল আখবার ওয়া শারহু মাযাহিবি আহলিল আসার - শুরূতুল আইম্মাহ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
عبد الله بن أبي طَلْحَة الْأنْصَارِيّ وَأَبُو بكر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حزم وَعبد الله وَمُحَمّد أبنا أبي بكر بن مُحَمَّد وَعبد الله بن عبد الرَّحْمَن بن معمر أَبُو طوالة وَمُحَمّد بن إِبْرَاهِيم بن الْحَارِث التَّيْمِيّ وَأَبُو حَازِم سَلمَة بن دِينَار

وَأَبُو الزِّنَاد عبد الله بن ذكْوَان وَزيد بن أسلم مولى عمر
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা আল-আনসারী, আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম, আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মদ—আবু বকর ইবনে মুহাম্মদের দুই পুত্র, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুয়াম্মার আবু তুওয়ালাহ, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আল-হারিস আত-তাইমি এবং আবু হাযিম সালামাহ ইবনে দীনার।

আবুয যিনাদ আব্দুল্লাহ ইবনে যাকওয়ান এবং যায়িদ ইবনে আসলাম, উমরের মুক্ত দাস (مولى)।