(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: -)
السنن الأبين والمورد الأمعن في المحاكمة بين الإمامين في السند المعنعن القسم: علوم الحديث
الكتاب: السَنن الأبيَن والمورد الأمعن في المحاكمة بين الإمامين في السند المعنعن
المؤلف: محمد بن عمر بن محمد، أبو عبد الله، محب الدين ابن رشيد الفهري السبتي (ت 721 هـ)
المحقق: صلاح بن سالم المصراتي
الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية - المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1417
عدد الصفحات: 185
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
লেখক: মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ, আবু আব্দুল্লাহ, মুহিব্বুদ্দীন ইবনে রুশাইদ আল-ফিহরি আস-সাবতি (মৃত্যু ৭২১ হিজরি)
সম্পাদক: সালাহ বিন সালিম আল-মিসরাতি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিইয়াহ - মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
تأليف الْفَقِيه الْجَلِيل الْمُحدث الإِمَام النَّاقِد الْخَطِيب البليغ الصَّدْر الأوحد المشاور الْكَامِل الْفَاضِل أبي عبد الله مُحَمَّد بن عمر بن مُحَمَّد ابْن رشيد الفِهري رَضِي الله ع
الْحَمد لله مُسْتَحقّ الْحَمد عورض معي هَذَا الْفَرْع وَأَنا أمسك الأَصْل الَّذِي حررته مِنْهُ فصح إِن شَاءَ الله للثقة بإتقان ممسكه فليعد بحول الله إِلَى مَالِكه الْفَقِيه الْمُحدث النَّاقِد الْكَاتِب البليغ المتفنن الْأَكْمَل أبي عبد الله ابْن الْفَقِيه الأوحد الصَّدْر الْفَذ المشاور فَخر الْعلمَاء أبي عبد الله الخزرجي رقى الله فِي معارج السَّعَادَة مَنْزِلَته وَعمر باستفادة الْعُلُوم وإفادتها أزمنته مَأْذُونا لَهُ حَسْبَمَا سَأَلَ فِي رِوَايَته وَحمله على الشُّرُوط الْمَعْرُوفَة عِنْده فِي صِحَة تحمل الْعلم بالمكاتبة وَنَقله مَعَ إِلْغَاء الْمبلغ على الْمُخْتَار عِنْد ذَوي التَّحْقِيق وَأَهله وَالله ينفع بِالنِّيَّةِ فِي ذَلِك ويسلك بِنَا أوضح المسالك
قَالَه وخطه حامدا الله تَعَالَى ومصليا على نبيه الْمُصْطَفى وَآله وَمُسلمًا مُصَنفه مُحَمَّد بن رشيد أرشده الله وَذَلِكَ فِي وسط شهر رَمَضَان الْمُعظم عَام اثْنَيْنِ وَسَبْعمائة
রচনা করেছেন মহান ফকিহ, মুহাদ্দিস (محدث), ইমাম, সমালোচক (ناقد), সুবক্তা ও প্রাঞ্জলভাষী, অনন্য ব্যক্তিত্ব, পরামর্শক, পূর্ণাঙ্গ ও গুণী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন উমর বিন মুহাম্মাদ ইবনে রুশাইদ আল-ফিহরি, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল প্রশংসার যোগ্য। এই শাখা অনুলিপিটি আমার উপস্থিতিতে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে যা আমি নিজে পরিমার্জন করেছি; সুতরাং অনুলিপিটি ধারণকারীর নিখুঁতত্বের প্রতি আস্থার কারণে ইনশাআল্লাহ এটি সঠিক (صح) হিসেবে সাব্যস্ত হলো। আল্লাহর শক্তিতে এটি যেন তাঁর মালিকের নিকট ফিরে যায়, যিনি হলেন ফকিহ, মুহাদ্দিস (محدث), সমালোচক (ناقد), লেখক, সুবক্তা, বহুমুখী বিদ্যান ও অত্যন্ত বিজ্ঞ আবু আবদুল্লাহ—যিনি অদ্বিতীয় ফকিহ, অনন্য ব্যক্তিত্ব, পরামর্শক এবং ওলামাদের গর্ব আবু আবদুল্লাহ আল-খাজরাজীর পুত্র। আল্লাহ তাঁর মর্যাদাকে সৌভাগ্যের সোপানে উন্নীত করুন এবং তাঁর সময়কালকে ইলম অর্জন ও তা বিতরণের মাধ্যমে সজীব রাখুন। তাঁর প্রার্থনা অনুযায়ী তাঁকে এটি বর্ণনা (رواية) করার এবং পত্র বিনিময়ের (مكاتبة) মাধ্যমে ইলম অর্জনের বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে তাঁর নিকট সুপরিচিত শর্তানুসারে এটি বহন করার অনুমতি (مأذون) দেওয়া হলো। এটি মধ্যস্থতাকারীর নাম বাদ দিয়ে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে গবেষক ও অভিজ্ঞদের নিকট পছন্দনীয় (مختار) মত অনুসরণ করা হয়েছে। আল্লাহ এই নিয়তের দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন এবং আমাদের সবচেয়ে স্পষ্ট পথে পরিচালিত করুন।
এটি বলেছেন এবং স্বহস্তে লিখেছেন মহান আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর মনোনীত নবী ও তাঁর পরিবারের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করে এর গ্রন্থকার মুহাম্মাদ বিন রুশাইদ, আল্লাহ তাঁকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। এটি ৭০২ হিজরি সালের মহিমান্বিত রমজান মাসের মধ্যভাগে সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم صلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَسلم تَسْلِيمًا قَالَ الإِمَام النَّاقِد المتفنن النَّافِذ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عمر بن مُحَمَّد ابْن عمر بن مُحَمَّد بن رشيد الفِهري أمده الله بمواد توفيقه وأيده تأييد من ائتم لتحقيقه وتلا {رَبنَا أتمم لنا نورنا واغفر لنا إِنَّك على كل شَيْء قدير} التَّحْرِيم 8
الْحَمد لله الَّذِي أنعم علينا بِالْفَضْلِ الْفَيَّاض الرهم العمم وهدانا للمنهج الْوَاضِح الْأُمَم واختصنا بأثارة من علم لم تكن لغيرنا من الْأُمَم وَرفع ذكرنَا بِأَن قرن باسم رَسُوله مُحَمَّد الْمُصْطَفى أسماءنا إِكْرَاما لنا وإكمالا للنعم كَمَا رفع ذكره بِأَن قرن سُبْحَانَهُ اسْمه الْأَعَز الأسمى باسمه الْأَشْرَف الْأَسْنَى فَلَا يذكر فِي عنوان الْإِيمَان وشعار الْإِسْلَام إِلَّا مَعَه إعلاما لمن سَمعه بِقَدرِهِ الْأَعْظَم وإشادة بِذكرِهِ الأفخم وَمحله الأرفع الأكرم
وَالصَّلَاة وَالسَّلَام الأفضلان الأكملان على سيد ولد آدم مُحَمَّد الْمُخْتَار الْمُجْتَبى وعَلى آدم وَمن بَينهمَا من النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ وَآل كل مَا انتظمت دُرَر الأمجاد فِي أسلاك الْإِسْنَاد ووكفت فِي الأغوار والأنجاد دُرَر الديم وَمد سَائل المداد فِي الصُّحُف المنشرة بأيدي الكتبة البررة جائل الْقَلَم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক। ইমাম (إمام), দক্ষ সমালোচক (الناقد), বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী (المتفنن) এবং প্রখর ধীসম্পন্ন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে রুশাইদ আল-ফিহরি—আল্লাহ তাঁকে তাঁর তাওফিকের উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করুন এবং তাঁকে সেই ব্যক্তির ন্যায় সমর্থন দিন যে তাঁর সত্য উদঘাটনের জন্য তাঁকে আদর্শ মেনেছে—তিনি বলেন এবং পাঠ করেন: {হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান} (আত-তাহরীম: ৮)।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ওপর প্রচুর ও অবারিত অনুগ্রহ দান করেছেন এবং আমাদেরকে সুষ্পষ্ট ও সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে ইলমের এমন এক অবশেষ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যা অন্য কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি। তিনি আমাদের সম্মানার্থে এবং নেয়ামতের পূর্ণতাদানকল্পে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ আল-মুস্তফার নামের সাথে আমাদের নামসমূহকে সংযুক্ত করে আমাদের আলোচনাকে উচ্চকিত করেছেন; যেভাবে তিনি মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর অতি সম্মানিত ও সুউচ্চ নামের সাথে তাঁর (রাসূলের) অতি মর্যাদাশীল ও উন্নত নামকে সংযুক্ত করে তাঁর আলোচনাকে সমুন্নত করেছেন। ফলে ঈমানের শিরোনাম ও ইসলামের প্রতীকে তাঁর (আল্লাহর) সাথে তাঁর (রাসূলের) নাম উল্লেখ করা ছাড়া তা ব্যক্ত হয় না—যা শ্রবণকারীর নিকট তাঁর সুমহান মর্যাদা জ্ঞাপনের জন্য এবং তাঁর গরিমা ও সর্বোচ্চ সম্মানজনক অবস্থান ঘোষণার জন্য।
সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আদমসন্তানদের নেতা মনোনীত ও নির্বাচিত মুহাম্মাদের ওপর, আর আদম ও তাঁদের উভয়ের মধ্যবর্তী সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার-পরিজনের ওপর; যতক্ষণ সনদ পরম্পরায় (الإسناد) মর্যাদাবান ব্যক্তিদের মণিমুক্তাসমূহ গেঁথে থাকবে, নিম্নভূমি ও উচ্চভূমিতে মেঘমালার বারিবিন্দু ঝরতে থাকবে এবং পুণ্যবান লেখকদের হাতে উন্মুক্ত পাণ্ডুলিপিতে কলমের সঞ্চালনে কালির প্রবাহ চলমান থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
أما بعد
فَإِنَّهُ جرت لي مُفَاوَضَة مَعَ من أَثِق بجودة نظره وأتحقق صِحَة تصَوره وَهُوَ صاحبنا الْفَقِيه المتفنن الأبرع أَبُو الْقَاسِم الْقَاسِم بن عبد الله الْأنْصَارِيّ حفظه الله وأبقاه لإفاده الْعُلُوم وَإِظْهَار مَا بطن من الفهوم فِي المحاكمة بَين الْإِمَامَيْنِ أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ أَمِير أُمَرَاء صَنْعَة الحَدِيث الموقر حَظه المجزل قسطه من فهم دقائق الْمعَانِي الْفِقْهِيَّة والحديثية وغوامضهما ومبهماتهما فِي الْمَذْهَب الْمَشْهُور الْمَأْثُور عَنهُ وَعَن غَيره من أَئِمَّة الصَّنْعَة من شَرط ثُبُوت اللِّقَاء أَو
অতঃপর,
নিশ্চয়ই আমার সাথে এমন এক ব্যক্তির আলোচনা হয়েছে যার সূক্ষ্ম দৃষ্টির গুণগত মানের ওপর আমার আস্থা রয়েছে এবং যার উপলব্ধির বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে আমি নিশ্চিত। তিনি হলেন আমাদের সঙ্গী, বহুমুখী শাস্ত্রে পণ্ডিত ও অত্যন্ত দক্ষ ফকিহ আবু আল-কাসিম আল-কাসিম বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি; আল্লাহ তাঁকে ইলম প্রদান এবং বোধশক্তির গূঢ় রহস্যসমূহ প্রকাশের নিমিত্তে দীর্ঘজীবী ও নিরাপদ রাখুন। উক্ত আলোচনাটি ছিল হাদিস শিল্পের আমিরদের আমির আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি—যিনি তাঁর এবং এই শিল্পের অন্যান্য ইমামদের নিকট হতে বর্ণিত প্রসিদ্ধ পদ্ধতিতে ফিকহি ও হাদিস শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম অর্থসমূহ এবং সেগুলোর জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়াবলি অনুধাবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানিত ও সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী—এবং অপর ইমামের মাঝে সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়ার (ثبوت اللقاء) শর্ত (شرط) সংক্রান্ত তুলনামূলক পর্যালোচনার বিষয়ে অথবা...
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
السماع فِي حمل الْإِسْنَاد المعنعن على الإتصال وَنفي الإنقطاع والإرسال
وتلوه تِلْمِيذه أبي الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج النَّيْسَابُورِي خَلِيفَته فِي هَذِه الصِّنَاعَة وَالْحَامِل فِيهَا بعده لِوَاء البراعة رحمهمَا الله وجزاهما عَن نصحهما لِلْإِسْلَامِ خير الْجَزَاء وَقسم لَهما من مذخور الْأجر أوفر الْإِجْزَاء
وَمَا تولاه أَبُو الْحُسَيْن فِي مُقَدّمَة مُسْنده الصَّحِيح من رد هَذَا الْمَذْهَب وَالْمُبَالغَة فِي إِنْكَاره وتجهيل قارئه وَأَنه قَول مُحدث لم يقلهُ أحد من أهل الْعلم سلف ويستنكره من بعدهمْ خلف
فَذهب صاحبنا حفظه الله إِلَى أَن الَّذِي لَا إِشْكَال فِي انتهاض الْأَدِلَّة على قبُوله من مُسْند الحَدِيث مَا علم اتِّصَاله تنصيصا ب سَمِعت أَو حَدثنَا أَو أخبرنَا أَو قَالَ لنا أَو مَا فِي مَعْنَاهُ مِمَّا هُوَ صَرِيح فِي الإتصال وَأَنه أَعلَى رتب النَّقْل ويلتحق بِحكمِهِ وَيجْرِي مجْرَاه مُعَنْعَن من علم من مذْهبه أَنه لَا يَقُول عَن إِلَّا فِيمَا سمع
মুআনআন (معنعن) সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে শ্রবণের (سماع) ভিত্তিতে তাকে অবিচ্ছিন্নতা (إتصال) হিসেবে গ্রহণ করা এবং এর বিচ্ছিন্নতা (إنقطاع) ও ইরসাল (إرسال) নাকচ করা প্রসঙ্গে।
তাঁর অনুগামী হয়েছেন তাঁর ছাত্র আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী, যিনি এই শিল্পে তাঁর স্থলাভিষিক্ত এবং তাঁর পরে এই শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্বের ঝাণ্ডা বহনকারী। আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন এবং ইসলামের প্রতি তাঁদের নিষ্ঠার জন্য তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের জন্য সঞ্চিত সওয়াব থেকে পরিপূর্ণ অংশ বরাদ্দ করুন।
আবুল হুসাইন তাঁর সহিহ মুসনাদ গ্রন্থের ভূমিকায় এই মতবাদটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এর তীব্র বিরোধিতা ও এর প্রবক্তাকে অজ্ঞ সাব্যস্ত করে উল্লেখ করেছেন যে— এটি একটি নব-উদ্ভাবিত (محدث) কথা যা পূর্ববর্তী (سلف) কোনো আলেম বলেননি এবং পরবর্তী (خلف) উত্তরসূরিরাও একে প্রত্যাখ্যান করেন।
আমাদের সহকর্মী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মুসনাদ হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে দলীলের ভিত্তিতে যে বিষয়টি নিঃসন্দিগ্ধ তা হলো সেই বর্ণনা যার অবিচ্ছিন্নতা (إتصال) স্পষ্টভাবে 'আমি শুনেছি' (سمعت), 'তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا), 'তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا), 'তিনি আমাদের বলেছেন' (قال لنا) অথবা এই জাতীয় শব্দাবলির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা অবিচ্ছিন্নতা (إتصال) প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থহীন (صريح)। এটি বর্ণনার সর্বোচ্চ স্তর। এছাড়া ওই রাবীর মুআনআন (معنعن) বর্ণনাও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং একই ধারায় গণ্য হবে, যাঁর নীতি সম্পর্কে এটি জানা যে, তিনি সরাসরি শ্রবণ (سماع) ব্যতিরেকে 'থেকে' (عن) শব্দ ব্যবহার করেন না।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ويتلوه فِي الرُّتْبَة الْإِسْنَاد المعنعن الَّذِي لم يعلم ذَلِك فِيهِ من قَائِله وَلَيْسَ مدلسا وَأَنه لَا تسع الْمُسَامحَة فِي أَن يشْتَرط فِيهِ أقل من صِحَة سَماع الرَّاوِي الثِّقَة من الْمَرْوِيّ عَنهُ الثِّقَة فِي الْجُمْلَة مَعَ السَّلامَة من وصمة التَّدْلِيس وَأَن مُقْتَضى النّظر كَانَ التَّوَقُّف فِي هَذَا المعنعن حَتَّى تعلم صِحَة سَمَاعه فِي كل حَدِيث حَدِيث لما علم من أَئِمَّة الصِّنَاعَة نقلا من أَنهم كَانُوا يكسلون أَحْيَانًا فيرسلون وينشطون تارات فيسندون لَكِن لما تعذر ذَلِك وشق تعرفه مشقة لَا خَفَاء بهَا اقتنع بِمَا ذَكرْنَاهُ من معرفَة السماع فِي الْجُمْلَة مَعَ السَّلامَة من وصمة التَّدْلِيس معتضدا ذَلِك بِقَرِينَة شَهَادَة بَعضهم على بعض بقَوْلهمْ فلَان عَن فلَان المفهمة قصد الِاتِّصَال
وَأَن هَذَا الْمَذْهَب أظهر وأرجح من مَذْهَب من اقتنع بِصِحَّة المعاصرة فَقَط كَمَا اقتنع بِهِ مُسلم رحمه الله فِي مُقَدّمَة كِتَابه وَاخْتَارَهُ واعتقد صِحَّته وَبَالغ فِي الْإِنْكَار على من خَالفه
মর্যাদাক্রম অনুযায়ী এর পরবর্তী স্তরে রয়েছে ‘আন’ (عن) শব্দযুক্ত সনদ (الإسناد المعنعن), যার বর্ণনাকারীর থেকে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এবং তিনি মুদাল্লিস (مدلس) নন। আর এই ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শিথিলতার অবকাশ নেই যে, নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি থেকে সাধারণভাবে শ্রবণের বিশুদ্ধতা (صحة السماع) এবং তাদলিসের (التدليس) কলঙ্ক থেকে মুক্ত থাকার শর্তারোপের চেয়ে কম কিছু করা হবে। যুক্তির দাবি অনুযায়ী, এই মু'আনআন (المعنعن) বর্ণনার ক্ষেত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ (التوقف) দেওয়া উচিত ছিল যতক্ষণ না প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে শ্রবণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়া যায়। কারণ এই শাস্ত্রের ইমামদের থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা কখনো অবসাদগ্রস্ত হয়ে মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করতেন এবং কখনো উৎসাহের সাথে মুসনাদ (مسند) হিসেবে বর্ণনা করতেন। কিন্তু যখন এটি অসম্ভব হয়ে পড়ল এবং এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়াল, তখন আমরা যা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ তাদলিসের (التدليس) কলঙ্ক থেকে মুক্ত থেকে সাধারণভাবে শ্রবণ সাব্যস্ত হওয়া—তাতেই সন্তুষ্ট হয়েছি। আর এটি একে অপরের এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে সমর্থিত হয় যে, যখন তারা বলেন ‘অমুক অমুক থেকে’, যা সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) উদ্দেশ্য হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে।
আর এই মতটি ঐ ব্যক্তির মতের চেয়ে অধিক স্পষ্ট এবং অগ্রাধিকারযোগ্য, যিনি কেবল সমসাময়িকতা (المعاصرة) সাব্যস্ত হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছেন; যেমনটি ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় যথেষ্ট মনে করেছেন, এটি গ্রহণ করেছেন, এর বিশুদ্ধতায় বিশ্বাস পোষণ করেছেন এবং যারা তাঁর বিরোধিতা করেছেন তাদের কঠোরভাবে খণ্ডন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
فَوَافَقت صاحبنا حفظه الله على مَا ذهب إِلَيْهِ من أَنه أرجح المذهبين وأوضح المأخذين حَسْبَمَا ظهر بباديء النّظر وَبَقِي فِي الخاطر تردد مَا إرجاء لإنهاء النّظر إِلَى غَايَته وترجيا لانجياب غيايته ثمَّ إِنِّي لما فصلت عَنهُ بت لَيْلَتي تِلْكَ ممعنا النّظر فِي الْمَسْأَلَة لمَكَان الْمُخْتَلِفين وعلو قدرهما متتبعا كَلَام الإِمَام أبي الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج جَامعا أَطْرَاف كَلَامه ملاحظا مواقع حججه نَائِبا فِي كل ذَلِك عَن الإِمَام أبي عبد الله مستحضرا لأدلته قَائِما بحجته نَاظرا فِيهَا مَعَ حجَّة خَصمه محاكما لَهُ فِي كل ذَلِك إِلَى حكم الْإِنْصَاف منكبا عَن إعتساف طرق التعسف إِلَى أَن زَاد عِنْدِي وضوحا مَا ذهب إِلَيْهِ صاحبنا أَبُو الْقَاسِم حفظه الله وانجابت تِلْكَ الغياية ولاحت بَدَائِع واستثيرت عجائب وفلجت حجَّة أبي عبد الله على أبي الْحُسَيْن وثلجت النَّفس بهَا ووضحت محجة قَوْله وانزاح مَا اسْتدلَّ بِهِ خَصمه من الشّبَه بِحَيْثُ لَو عرض ذَلِك على الإِمَام أبي الْحُسَيْن يرحمه الله ووقف على النَّقْض الْوَارِد عَلَيْهِ من كَلَامه وَالنَّقْص المعوذ لكماله لم يَسعهُ إِلَّا الْإِقْرَار بِهِ والإذعان لَهُ
فعندما اتَّضَح القَوْل ونجح بِحَمْد الله الْفِعْل عرضت ذَلِك على صاحبنا أبي الْقَاسِم مستزيدا مَا لَعَلَّه يظْهر لَهُ فِي ذَلِك مستفيدا مَا تبرزه الأفكار عِنْد المجاراة فِي تِلْكَ المسالك وجلوت عروسه عَلَيْهِ وزففتها فضلا إِلَيْهِ فوفاها بِمَا طبع عَلَيْهِ من الْإِنْصَاف حظها من الِاسْتِحْسَان وأحلها من قبُوله مَا يَنْبَغِي لَهَا من الْمَكَان وباتت لَهُ حجَّة الفاخر بِمَا أسْند
আমি আমাদের মুহতারাম সাথী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) যে মতটি গ্রহণ করেছেন তার সাথে একমত পোষণ করেছি যে, প্রথম দৃষ্টিতে যা প্রতীয়মান হয় সে অনুযায়ী এটিই দু’টি মতের (المذهبين) মধ্যে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح) এবং উৎসগত দিক থেকে অধিকতর স্পষ্ট। তবে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে এর অস্পষ্টতা দূর করার আশায় অন্তরে কিছুটা দ্বিধা অবশিষ্ট ছিল। অতঃপর যখন আমি তাঁর থেকে বিদায় নিলাম, তখন সেই রাতটি আমি এই মাসআলাটি নিয়ে গভীর চিন্তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করলাম। কারণ এতে ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তিবদ্বয় ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আমি ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের বক্তব্য অনুসরণ করছিলাম, তাঁর আলোচনার সকল দিক একত্রিত করছিলাম এবং তাঁর যুক্তিসমূহের স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি ইমাম আবু আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছিলাম, তাঁর দলিলসমূহ উপস্থিত করছিলাম এবং তাঁর যুক্তি (حجة) তুলে ধরছিলাম। এমতাবস্থায় আমি তাঁর প্রতিপক্ষের যুক্তির সাথে তাঁর দলিলগুলোর তুলনা করছিলাম এবং এই সবকিছুর মধ্যে ইনসাফের (إنصاف) ভিত্তিতে বিচার করছিলাম, যাতে একপেশে বা পক্ষপাতমূলক কোনো পথে পদস্খলন না ঘটে। শেষ পর্যন্ত আমাদের মুহতারাম সাথী আবু আল-কাসিম (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) যে মতটি গ্রহণ করেছেন, তার যথার্থতা আমার নিকট আরও বৃদ্ধি পেল এবং সেই অস্পষ্টতা দূর হয়ে গেল। অনেক নিগূঢ় ও বিস্ময়কর তত্ত্ব উন্মোচিত হলো এবং আবুল হুসাইনের ওপর আবু আব্দুল্লাহর যুক্তি (حجة) জয়যুক্ত হলো। এতে মন প্রশান্ত হলো এবং তাঁর বক্তব্যের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠল। তাঁর প্রতিপক্ষ যেসব সংশয় (شبهة) দ্বারা দলিল পেশ করেছিলেন তা এমনভাবে অপসারিত হলো যে, যদি বিষয়টি ইমাম আবুল হুসাইনের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিকট পেশ করা হতো এবং তিনি যদি তাঁর নিজের বক্তব্যের ওপর আপতিত খণ্ডন (نقض) এবং তাঁর পূর্ণতার পথে থাকা ত্রুটিসমূহ অবগত হতেন, তবে তা স্বীকার করে নেওয়া এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় থাকত না।
অতঃপর যখন বিষয়টি সুস্পষ্ট হলো এবং আল্লাহর প্রশংসায় কাজটি সফল হলো, তখন আমি তা আমাদের মুহতারাম সাথী আবু আল-কাসিমের নিকট পেশ করলাম, যাতে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আরও কোনো কিছু উন্মোচিত হতে পারে এবং এই পথে আলোচনার মাধ্যমে যে সকল সূক্ষ্ম চিন্তা বের হয়ে আসে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়। আমি বিষয়টিকে তাঁর সামনে চমৎকারভাবে তুলে ধরলাম। তিনি তাঁর স্বভাবজাত ইনসাফের (إنصاف) কারণে বিষয়টির যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং একে এমনভাবে কবুল করলেন যা এর মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ। আর এর সপক্ষে যা বর্ণিত (مسند) হয়েছে, তার ভিত্তিতে এটি তাঁর নিকট একটি শক্তিশালী যুক্তিতে পরিণত হলো।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الأول للْآخر فَشَكَرت الله تَعَالَى على مَا منح وأنعم بِهِ وَفتح
وسألني حفظه الله أَن أقيد ذَلِك بِالْكتاب خيفة الدُّرُوس والدثور على مر العصور والدهور ورغبة فِي جزيل الْأجر وَجَمِيل الذّكر وَأَشَارَ إِلَيّ أَنَّهَا ذخيرة نفيسة يجب أَن تقتنى وَثَمَرَة طيبَة دانية القطاف يحِق أَن تجتبى
فاستخرت الله تَعَالَى ولبيت سُؤَاله مستعينا بِاللَّه تَعَالَى مسترشدا قَاصِدا صوب الصَّوَاب عائجا عَن مَنْهَج التعصب ووسمته بِكِتَاب
السّنَن الأبين والمورد الأمعن فِي المحاكمة بَين الْإِمَامَيْنِ فِي السَّنَد المعنعن
وَالله تَعَالَى ينفع بِالنِّيَّةِ فِي مبدإ هَذَا الْعَمَل ومختتمه فَإِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ
كَمَا قَرَأت على أبي الْمُجَاهِد غَازِي بن أبي الْفضل بن عبد الْوَهَّاب الحلاوي قَالَ أَنا الشَّيْخ المعمر أَبُو حَفْص عمر بن مُحَمَّد بن المعمر سَمَاعا عَلَيْهِ قَالَ أَنا أَبُو الْقَاسِم هبة الله بن مُحَمَّد بن عبد الْوَاحِد بن الْحصين الشَّيْبَانِيّ قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنا أسمع قَالَ أَنا أَبُو طَالب مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن غيلَان قَالَ أَنا أَبُو بكر مُحَمَّد بن عبد الله بن إِبْرَاهِيم الشَّافِعِي نَا عبد الله بن روح الْمَدَائِنِي وَمُحَمّد بن ربح الْبَزَّاز قَالَا نَا يزِيد ابْن هَارُون نَا يحيى بن سعيد الْأنْصَارِيّ عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم
শুরু ও শেষ পর্যন্ত আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি আল্লাহ তাআলা যা কিছু দান করেছেন, অনুগ্রহ করেছেন এবং উন্মোচন করেছেন তার জন্য।
তিনি (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) আমাকে অনুরোধ করেছেন যাতে আমি এই বিষয়গুলো কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করি, পাছে কালপরিক্রমায় তা বিলুপ্ত ও বিস্মৃত হয়ে যায়। পাশাপাশি বিপুল সওয়াব ও উত্তম স্মৃতির আকাঙ্ক্ষায় তিনি আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এটি একটি মূল্যবান সম্পদ যা সংগ্রহ করা উচিত এবং একটি সুস্বাদু ফল যা আহরণ করা সমীচীন।
অতঃপর আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা (استخارة) করলাম এবং আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা ও হেদায়াত কামনা করে তাঁর অনুরোধে সাড়া দিলাম। আমি সঠিক পথের দিশা পাওয়ার সংকল্প করলাম এবং গোঁড়ামির পথ পরিহার করলাম। আর আমি এই কিতাবটির নামকরণ করলাম:
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন (السند المعنعن)
আল্লাহ তাআলা এই কাজের শুরু এবং শেষে নিয়তের বদৌলতে কল্যাণ দান করবেন, কেননা ‘নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’।
যেমনটি আমি আবু মুজাহিদ গাজী বিন আবিল ফজল বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-হালাওয়ীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেছেন: দীর্ঘজীবী শায়খ (الشيخ المعمر) আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুয়াম্মার তাঁর নিকট শ্রবণের (سماعا) মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেছেন: আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন আশ-শায়বানী তাঁর নিকট পাঠ (قراءة) এবং আমার শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেছেন: আবু তালিব মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন গাইলান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), তিনি বলেছেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম আশ-শাফিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আব্দুল্লাহ বিন রুহ আল-মাদায়িনী এবং মুহাম্মদ বিন রিবহ আল-বাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা (نا) করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা (نا) করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা (نا) করেছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম হতে বর্ণিত (عن)।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
التَّيْمِيّ قلت يَعْنِي سَمَاعا أَنه سمع عَلْقَمَة بن وَقاص يَقُول سَمِعت عمر بن الْخطاب على الْمِنْبَر يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول
إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لامرئ مَا نوى فَمن كَانَت هجرته إِلَى الله وَرَسُوله فَهجرَته إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله وَمن كَانَت هجرته إِلَى دنيا يُصِيبهَا أَو إمرأة يَتَزَوَّجهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ
قَالَ الإِمَام أَبُو عبد الله الشَّافِعِي يدْخل فِي حَدِيث الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ ثلث الْعلم
وَرُوِيَ عَنهُ أَيْضا يدْخل هَذَا الحَدِيث فِي سبعين بَابا من الْفِقْه
আত-তৈমি; আমি বললাম—অর্থাৎ সরাসরি শ্রবণের (سماعاً) মাধ্যমে যে, তিনি আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সুবিধা অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ বলেছেন: ‘নিয়ত অনুযায়ী আমল কবুল হওয়া’ সংক্রান্ত এই হাদিসটি ইলমের (জ্ঞানের) এক-তৃতীয়াংশ ধারণ করে।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, এই হাদিসটি ফিকহ শাস্ত্রের সত্তরটি অধ্যায়ে অনুপ্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وَقَالَ عبد الرَّحْمَن بن مهْدي يَنْبَغِي أَن يدْخل فِي كل بَاب
وَرُوِيَ عَنهُ أَيْضا يَنْبَغِي أَن يَجْعَل رَأس كل بَاب
وَقَالَ عبد الرَّحْمَن أَيْضا من أَرَادَ أَن يصنف كتابا فليبدأ بِحَدِيث الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ كَذَا فِي نقل البُخَارِيّ عَنهُ وَفِي سَماع بنْدَار مِنْهُ لَو صنفت الْأَبْوَاب لجعلت حَدِيث عمر بن الْخطاب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْأَعْمَال بِالنِّيَّةِ فِي أول كل بَاب فاقتدى الإِمَام أَبُو عبد الله البُخَارِيّ بِمَا نقل عَن عبد الرَّحْمَن فِي افتتاحه بِهِ جَامعه الصَّحِيح ثمَّ تلاه فِي ذَلِك أَبُو عَليّ سعيد بن عُثْمَان بن السكن الْبَزَّاز الْحَافِظ فِي كتاب الصَّحَابَة لَهُ وَبِهِمَا اقتديت
وَمن الْعلمَاء من جعل هَذَا الحَدِيث خمس أصُول الْإِسْلَام قَالَه الإِمَام أَبُو دَاوُد السجْزِي
وَرُوِيَ عَنهُ أَيْضا ربعهَا
আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (রহ.) বলেন, এটি (এই হাদিসটি) প্রতিটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, একে প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে রাখা উচিত।
আব্দুর রহমান আরও বলেন, "যে ব্যক্তি কোনো কিতাব সংকলন করতে চায়, সে যেন 'নিয়ত অনুযায়ী আমল নির্ধারিত হয়' হাদিসটি দিয়ে শুরু করে।" ইমাম বুখারি তাঁর থেকে এভাবেই উদ্ধৃতি (نقل) দিয়েছেন। আর বুন্দারের সরাসরি শ্রবণ (سماع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "আমি যদি অধ্যায়ভিত্তিক কিতাব সংকলন করতাম, তবে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর হাদিস—'নিয়ত অনুযায়ী আমল'—প্রত্যেক অধ্যায়ের শুরুতে রাখতাম।" ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বুখারি তাঁর জামে সহীহ গ্রন্থটি এটি দিয়ে শুরু করার মাধ্যমে আব্দুর রহমান থেকে যা বর্ণিত (نقل) হয়েছে তার অনুসরণ করেছেন। এরপর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন হাফেজ (الحافظ) আবু আলী সাঈদ ইবনে উসমান ইবনে আস-সাকান আল-বাজ্জাজ তাঁর কিতাবুস সাহাবা গ্রন্থে, আর আমিও তাঁদেরই অনুসরণ করেছি।
উলামায়ে কেরামের মধ্যে এমনও আছেন যারা এই হাদিসটিকে ইসলামের পাঁচটি মূলনীতির (أصول) অন্যতম হিসেবে গণ্য করেছেন; ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি একথাই বলেছেন।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, এটি (ইসলামের মূলনীতির) এক-চতুর্থাংশ।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
وَمِنْهُم من قَالَ إِنَّه ثلثهَا قَالَه الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل
وَذَلِكَ مَبْنِيّ على اخْتلَافهمْ فِي عدَّة الْأَحَادِيث الَّتِي هِيَ أُمَّهَات الْفِقْه وَعمد الدّين فَمنهمْ من عدهَا ثَلَاثَة وَمِنْهُم من عدهَا أَرْبَعَة وَمِنْهُم من عدهَا خَمْسَة
وَهَذَا السَّنَد الَّذِي أوردنا بِهِ هَذَا الحَدِيث أَعلَى مَا يرْوى بِهِ مَسَافَة فِي الدُّنْيَا شرقا وغربا مَعَ مَا فِيهِ من علو الصّفة من اتِّصَال السماع وثقة الرِّجَال وَهُوَ صَحِيح مُتَّفق عَلَيْهِ من حَدِيث أبي سعيد يحيى بن سعيد بن قيس الْأنْصَارِيّ وَعَلِيهِ مَدَاره وَعنهُ تعدّدت رُوَاته عَن أبي عبد الله مُحَمَّد بِهِ إِبْرَاهِيم بن الْحَارِث التَّيْمِيّ تيم قُرَيْش وَلم يروه عَنهُ غَيره عَن أبي يحيى عَلْقَمَة بن وَقاص اللَّيْثِيّ وَلم يروه عَنهُ سواهُ عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ أبي حَفْص عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وَلم يروه عَنهُ غَيره عَن سيد الْمُرْسلين وَخَاتم النَّبِيين وَلم يرو عَنهُ صلى الله عليه وسلم من وَجه يَصح إِلَّا من رِوَايَته
তাদের মধ্যে এমন আলেমও রয়েছেন যিনি বলেছেন যে, এটি ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ; ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলও একথাই বলেছেন।
এটি মূলত ফিকহ শাস্ত্রের মূল ভিত্তি এবং দ্বীনের স্তম্ভস্বরূপ হাদিসসমূহের সংখ্যার ব্যাপারে আলেমদের মতভেদের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে; তাঁদের কেউ এই হাদিসগুলোকে তিনটি, কেউ চারটি এবং কেউ পাঁচটি হিসেবে গণ্য করেছেন।
আর এই সনদ (السند) যার মাধ্যমে আমরা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছি, তা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এই পৃথিবীতে বর্ণিত সুউচ্চ (أعلى) পর্যায়ের সনদ। এর পাশাপাশি এতে গুণগত উচ্চমানও বিদ্যমান, যা শ্রবণের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال السماع) এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة الرجال) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এটি আবু সাঈদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে কায়স আল-আনসারী থেকে বর্ণিত একটি সহিহ (صحيح) এবং সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিস। এই হাদিসের কেন্দ্রবিন্দু (مداره) তাঁর ওপরই ন্যস্ত এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বহুগুণ হয়েছে। তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-হারিস আত-তাইমি (কুরাইশের তাইম গোত্রীয়) থেকে, আর তাঁর থেকে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি; তিনি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়ছি থেকে, আর তাঁর থেকে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি; তিনি বর্ণনা করেছেন আমিরুল মুমিনিন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, আর তাঁর থেকে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি; তিনি বর্ণনা করেছেন রাসুলকুলের সরদার ও শেষ নবী থেকে; আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট থেকে তাঁর এই বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোনো সহিহ (يصح) সূত্রে এটি বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
اتّفق الإمامان على إِخْرَاجه من حَدِيث أبي مُحَمَّد سُفْيَان بن عُيَيْنَة الْهِلَالِي
وَأَخْرَجَاهُ أَيْضا من حَدِيث غَيره عَن يحيى بن سعيد متفقين على بعض رُوَاته ومنفردا أَحدهمَا عَن الآخر بِبَعْض وَهُوَ على علوه اجْتمع فِيهِ ثَلَاثَة من التَّابِعين يروي بَعضهم عَن بعض وَلَوْلَا ذَلِك لطويت المراحل وتدانت الْمنَازل وهم يحيى بن سعيد الْأنْصَارِيّ فَمن فَوْقه كلهم سمع الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم فالأنصاري سمع أنس بن مَالك والسائب بن يزِيد
والتيمي سمع عبد الله بن عمر
দুই ইমাম আবু মুহাম্মাদ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আল-হিলালির হাদিস থেকে এটি উদ্ধৃত করার বিষয়ে ঐকমত্য (اتفاق) পোষণ করেছেন।
তারা এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে অন্যদের হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন; যেখানে তারা কিছু বর্ণনাকারীর (رواة) ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন। এটি সনদগত উচ্চতা (علو) থাকা সত্ত্বেও এতে তিনজন তাবিঈর (تابعين) সমাবেশ ঘটেছে যারা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন। যদি তা না হতো, তবে সফরের পথসমূহ সংকুচিত হতো এবং গন্তব্যসমূহ নিকটবর্তী হতো। তারা হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি এবং তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীগণ, যারা সকলেই সাহাবিদের (صحابة) থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। সুতরাং আনসারি আনাস ইবনে মালিক এবং সায়িব ইবনে ইয়াজিদ থেকে শ্রবণ করেছেন।
এবং আত-তাইয়িমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
وَجَابِر بن عبد الله وَأنس بن مَالك
এবং জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনে মালিক
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
والليثي سمع عمر بن الْخطاب وَمُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان
এবং আল-লাইসি উমর ইবনুল খাত্তাব ও মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (سمع)।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
وَعَائِشَة رضي الله عنهم
وَهَذَا حِين أشرع مستعينا بِاللَّه تَعَالَى فِي نقل المذهبين وتمهيد حجج الْفَرِيقَيْنِ وترجيح مَا ظَهرت حجَّته من أحد المأخذين وأحصر ذَلِك فِي مُقَدّمَة وبابين
الْمُقدمَة
فِي بَيَان مَا الْمُتَّصِل الَّذِي لاإ شكال فِي اتِّصَاله ليقام الْبناء عَلَيْهِ
وَالْبَاب الأول
فِي ذكر الْمذَاهب المنقولة عَن الْعلمَاء فِي الْإِسْنَاد المعنعن وَبَيَان حججها وَالْمُخْتَار من ذَلِك
وَالْبَاب الثَّانِي
فِي الْأَدِلَّة الَّتِي أَتَى بهَا مُسلم رحمه الله فِي مُقَدّمَة كِتَابه وَمَا يتَعَلَّق بذلك من الْكَلَام مَعَه واالتنبيه على الْأَحَادِيث الَّتِي أبدينا النَّقْض عَلَيْهِ بهَا
এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)
আর এটিই সেই মুহূর্ত যখন আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে উভয় মাযহাব বর্ণনা করতে, উভয় পক্ষের দলীলসমূহ প্রস্তুত করতে এবং উভয় উৎসের মধ্যে যার দলীল অধিকতর স্পষ্ট হয়েছে তাকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করছি। আমি বিষয়টিকে একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ করেছি।
ভূমিকা
এমন নিরবচ্ছিন্ন (المتصل) বর্ণনা প্রসঙ্গে যার সংযুক্ততা (اتصال) নিয়ে কোনো সংশয় নেই, যাতে এর ওপর মূল ভিত্তি স্থাপন করা যায়।
প্রথম অধ্যায়
আলেমদের নিকট থেকে বর্ণিত আন-আনযুক্ত সনদ (الإسناد المعنعن) সংক্রান্ত মাযহাবসমূহের উল্লেখ, সেগুলোর দলীলসমূহ বর্ণনা এবং এ সংক্রান্ত মনোনীত মতটি পেশ করার বিষয়ে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবের ভূমিকায় যে সকল দলীল পেশ করেছেন এবং তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনা ও সেই সকল হাদিস সম্পর্কে সতর্কীকরণ যেগুলোর মাধ্যমে আমরা তাঁর অবস্থানের খণ্ডন প্রকাশ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤١)
الْمُقدمَة اعْلَم أَن الْبَين اتِّصَاله من الحَدِيث مَا قَالَ فِيهِ ناقلوه سَمِعت فلَانا أَو حَدثنَا أَو أنبانا أَو نبأنا أَو أخبرنَا أَو خبرنَا أَو قَرَأَ علينا أَو قَرَأنَا أَو سمعنَا عَلَيْهِ أَو قَالَ لنا أَو حكى لنا أَو ذكر لنا أَو شافهنا أَو عرض علينا أَو عرضنَا عَلَيْهِ أَو ناولنا أَو كتب لنا إِذا كتب لَهُ ذَلِك الشَّيْء بِعَيْنِه وَكَانَ يعرف خطّ الْكَاتِب إِلَيْهِ وَفِي اعْتِمَاده على إِخْبَار الْموصل الثِّقَة بِأَنَّهُ خطه وَكتابه وإلغاء الْوَاسِطَة نظر الْأَصَح إلغاؤها والأخلص اعْتِبَارهَا وتبيين الْحَالة كَمَا وَقعت أَو مَا أشبه ذَلِك من الْعبارَات المثبته للاتصال النافية للانفصال
ভূমিকা জেনে রাখুন যে, হাদিসের মধ্যে যার নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) সুস্পষ্ট, তা হলো সেই বর্ণনা যাতে এর বর্ণনাকারীরা বলেন: ‘আমি অমুকের নিকট থেকে শুনেছি (سمعت)’, অথবা ‘তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبانا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের অবহিত করেছেন (نبأنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের খবর প্রদান করেছেন (خبرنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের নিকট পাঠ করেছেন (قرأ علينا)’, অথবা ‘আমরা পাঠ করেছি (قرأنا)’, অথবা ‘আমরা তাঁর নিকট শ্রবণ করেছি (سمعنا عليه)’, অথবা ‘তিনি আমাদের বলেছেন (قال لنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حكى لنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের নিকট উল্লেখ করেছেন (ذكر لنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন (شافهنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের নিকট পেশ করেছেন (عرض علينا)’, অথবা ‘আমরা তাঁর নিকট পেশ করেছি (عرضنا عليه)’, অথবা ‘তিনি আমাদের প্রদান করেছেন (ناولنا)’, অথবা ‘তিনি আমাদের নিকট লিখেছেন (كتب لنا)’; যখন সেই বিষয়টিই তাকে সুনির্দিষ্টভাবে লিখে দেওয়া হয় এবং তিনি প্রেরকের হস্তলিপি চিনতে পারেন। আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) সংবাদদাতার খবরের ওপর ভিত্তি করে—যে এটি তার হস্তলিপি ও পত্র—মধ্যস্থতাকারীকে (واسطة) বিলোপ করার ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; এক্ষেত্রে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো তাকে বিলোপ করা, তবে অধিকতর নিরাপদ হলো তাকে বহাল রাখা এবং অবস্থাটি ঠিক যেভাবে ঘটেছে সেভাবেই বর্ণনা করা। অথবা এ জাতীয় অন্যান্য শব্দ যা নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) সাব্যস্ত করে এবং বিচ্ছিন্নতা (انفصال) নাকচ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
فَهَذِهِ كلهَا لَا إِشْكَال فِي اتصالها لُغَة وَعرفا إِذا كَانَ الطَّرِيق كُله بِهَذِهِ الصّفة وَإِن خَالف بَعضهم فِي بَعْضهَا
وَهَذَا الَّذِي قُلْنَاهُ قبل أَن يشيع اخْتِصَاص بعض هَذِه الْأَلْفَاظ بِالْإِجَازَةِ الْمعينَة أَو الْمُطلقَة على مَا هُوَ الْمَعْلُوم من تفاصيل مَذَاهِب الْمُحدثين فِي ذَلِك وَمن تَخْصِيص بعض هَذِه الْأَلْفَاظ بِبَعْض الصُّور تمييزا لأنواع التَّحَمُّل وتحرزا من الرَّاوِي تظهر بِهِ نزاهته على مَا هُوَ مُفَسّر فِي موَاضعه
وَيَتْلُو ذَلِك مَا شاع فِي اسْتِعْمَال المسندين وذاع فِي عرف الْمُحدثين عِنْد طلب الِاخْتِصَار من إبراز عَن فِي معرض الِاتِّصَال وَهُوَ الَّذِي قصدناه
এই সমস্ত শব্দাবলির ভাষাগত এবং প্রথাগত নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই, যদি সনদের সম্পূর্ণ ধারাটি এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়; যদিও তাদের কেউ কেউ এগুলোর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
আর আমরা যা বলেছি তা এই শব্দগুলোর কোনো কোনোটি নির্দিষ্ট কিংবা সাধারণ অনুমতি (إجازة) প্রদানের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট হওয়ার প্রচলন ঘটার পূর্বের কথা। এটি মুহাদ্দিসগণের (محدثين) বিভিন্ন মতাদর্শের বিস্তারিত বিবরণ থেকে সুপরিচিত এবং হাদিস গ্রহণের (تحمل) বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এবং বর্ণনাকারীর (راوي) পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বনের উদ্দেশ্যে কোনো কোনো শব্দকে বিশেষ বিশেষ অবস্থায় নির্দিষ্ট করার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে তার স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততা প্রকাশ পায়, যেমনটি সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এর পরবর্তী বিষয়টি হলো মুসনিদগণের (مسندين) ব্যবহারে যা বহুল প্রচলিত এবং সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে মুহাদ্দিসগণের (محدثين) পরিভাষায় যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; অর্থাৎ নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) প্রেক্ষাপটে 'আন' (عن) শব্দের ব্যবহার প্রকাশ করা। আর এটিই আমাদের উদ্দিষ্ট বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
-
الْبَاب الأول-
اعْلَم أَن الْإِسْنَاد المعنعن وَهُوَ مَا يُقَال فِيهِ فلَان عَن فلَان مثل قَوْلنَا مَالك عَن ابْن شهَاب عَن أنس بن مَالك عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمَنْقُول فِيهِ عَن الْمُتَقَدِّمين أَرْبَعَة مَذَاهِب وَحدث للمتأخرين فِيهِ مصطلح خَامِس
فَالْمَذْهَب الأول
مَذْهَب أهل التَّشْدِيد وَهُوَ أَن لَا يعد مُتَّصِلا من الحَدِيث إِلَّا مَا نَص فِيهِ على السماع أَو حصل الْعلم بِهِ من طَرِيق آخر وَأَن مَا قيل فِيهِ
-
প্রথম পরিচ্ছেদ-
জেনে রাখুন যে, মুআনআন সনদ (الإسناد المعنعن) হলো তা-ই, যাতে 'অমুক থেকে (عن) অমুক' বলা হয়। যেমন আমাদের কথা: মালিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। এ বিষয়ে পূর্বসূরি (متقدمين) পণ্ডিতগণের নিকট চারটি অভিমত বর্ণিত হয়েছে এবং উত্তরসূরিদের (متأخرين) নিকট এ বিষয়ে পঞ্চম একটি পরিভাষার উদ্ভব হয়েছে।
প্রথম অভিমত:
কঠোরতা অবলম্বনকারী (أهل التشديد) পণ্ডিতগণের অভিমত; আর তা হলো এই যে, কোনো হাদিসকে ততক্ষণ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে গণ্য করা হবে না, যতক্ষণ না তাতে সরাসরি শ্রবণের (سماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে অথবা অন্য কোনো উপায়ে সে সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়। আর যে ক্ষেত্রে বলা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
فلَان عَن فلَان فَهُوَ من قبيل الْمُرْسل أَو الْمُنْقَطع حَتَّى يتَبَيَّن اتِّصَاله بِغَيْرِهِ
حَكَاهُ الإِمَام أَبُو عَمْرو النصري الشهرزوري شهر بِابْن الصّلاح أحد الْأَئِمَّة الْمُتَأَخِّرين المعتمدين وَلم يسم قَائِله وَلَفظ مَا حَكَاهُ
فلَان عَن فلَان عده بعض النَّاس من قبيل الْمُرْسل والمنقطع حَتَّى يتَبَيَّن اتِّصَاله بِغَيْرِهِ
وَهَذَا الْمَذْهَب وَإِن قل الْقَائِل بِهِ بِحَيْثُ لَا يُسمى وَلَا يعلم فَهُوَ الأَصْل الَّذِي كَانَ يَقْتَضِيهِ الِاحْتِيَاط وحجته أَن عَن لَا تَقْتَضِي اتِّصَالًا لَا لُغَة وَلَا عرفا وَإِن توهم متوهم فِيهَا اتِّصَالًا لُغَة فَإِنَّمَا ذَلِك بِمحل الْمُجَاوزَة الْمَأْخُوذ عَنهُ
"অমুক হতে অমুক" বর্ণনা করা হলে তা মুরসাল (المرسل) অথবা বিচ্ছিন্ন (المنقطع) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে, যতক্ষণ না অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে এর অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) স্পষ্ট হয়।
এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আমর আন-নাসরি আশ-শাহরাজুরি, যিনি ইবনে সালাহ নামে প্রসিদ্ধ এবং পরবর্তী যুগের (المتأخرين) নির্ভরযোগ্য (المعتمدين) ইমামগণের অন্যতম। তিনি এর প্রবক্তার নাম উল্লেখ করেননি এবং তার বর্ণিত ভাষ্যটি হলো—
"অমুক হতে অমুক"—একে কিছু লোক মুরসাল (المرسل) এবং বিচ্ছিন্ন (المنقطع) পর্যায়ের গণ্য করেছেন, যতক্ষণ না অন্য সূত্রের মাধ্যমে এর অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) স্পষ্ট হয়।
এই মতটি যদিও এর প্রবক্তার স্বল্পতার কারণে নামহীন ও অজ্ঞাত রয়ে গেছে, তবুও এটিই সেই মূলনীতি যা সতর্কতা (الاحتياط) অবলম্বনের দাবি রাখে। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো, 'আন' (عن) শব্দটি ভাষাগত (لغة) বা পারিভাষিক (عرفا) কোনোভাবেই অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) নির্দেশ করে না। আর যদি কেউ এতে ভাষাগতভাবে অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) থাকার ধারণা পোষণ করেন, তবে তা কেবল যার নিকট হতে হাদিস গ্রহণ করা হয়েছে তাকে অতিক্রম করার স্থান নির্দেশ করার অর্থেই প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
تَقول أَخذ هَذَا عَن فلَان فالأخذ حصل مُتَّصِلا بِالْمحل الْمَأْخُوذ عَنهُ وَلَيْسَ فِيهَا دَلِيل على اتِّصَال الرَّاوِي بالمروي عَنهُ وَمَا علم مِنْهُم أَنهم يأْتونَ بعن فِي مَوضِع الْإِرْسَال والانقطاع يخرم ادِّعَاء الْعرف
وَإِذا أشكل الْأَمر وَجب أَن يحكم بِالْإِرْسَال لِأَنَّهُ أدون الْحَالَات فَكَأَنَّهُ أَخذ بِأَقَلّ مَا يَصح حمل اللَّفْظ عَلَيْهِ
وَكَانَ يَنْبَغِي لصَاحب هَذَا الْمَذْهَب أَن لَا يَقُول بِالْإِرْسَال بل بالتوقف حَتَّى يتَبَيَّن لمَكَان الِاحْتِمَال
لَعَلَّ ذَلِك مُرَاده وَهُوَ الَّذِي نَقله مُسلم عَن أهل هَذَا الْمَذْهَب أَنهم يقفون الْخَبَر وَلَا يكون عِنْدهم مَوضِع حجَّة لِإِمْكَان الْإِرْسَال فِيهِ وَإِن هَذَا الْقَصْد ليلوح من قَول هَذَا الْقَائِل حَتَّى يتَبَيَّن اتِّصَاله بِغَيْرِهِ وَلَكِن صدر الْكَلَام يأباه لقَوْله عده بعض النَّاس من قبيل الْمُرْسل والمنقطع
আপনি বলেন যে, অমুক ব্যক্তি এটি অমুকের নিকট হতে গ্রহণ করেছেন; সুতরাং এই গ্রহণের বিষয়টি যার নিকট হতে গ্রহণ করা হয়েছে তার সাথে সংযুক্তভাবেই ঘটেছে, কিন্তু এতে বর্ণনাকারীর (راوي) সাথে যার থেকে বর্ণিত হয়েছে তার সরাসরি সূত্রবদ্ধতার (اتصال) কোনো প্রমাণ নেই। আর তাদের সম্পর্কে যা জানা যায় যে, তারা বিচ্ছিন্নতা (إرسال) এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার (انقطاع) স্থানেও 'হতে' (عن) শব্দটি ব্যবহার করেন, তা প্রচলিত রীতির দাবিকে নাকচ করে দেয়।
যদি বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, তবে সেটিকে বিচ্ছিন্ন (إرسال) হিসেবেই হুকুম দেওয়া আবশ্যক; কারণ এটিই হলো সম্ভাব্য সর্বনিম্ন অবস্থা। যেন শব্দটিকে তার সম্ভাব্য সর্বনিম্ন অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হলো।
এই মতাদর্শের প্রবক্তার জন্য উচিত ছিল সেটিকে সরাসরি বিচ্ছিন্ন (إرسাল) না বলে বরং বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা (توقف), যেহেতু সেখানে সংযোগের সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভবত এটিই তার উদ্দেশ্য, আর এটিই ইমাম মুসলিম এই মতের অনুসারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা সংবাদটিকে (خبر) স্থগিত রাখেন এবং বিচ্ছিন্নতার (إرسال) সম্ভাবনা থাকায় সেটি তাদের নিকট দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না। এই বক্তার উক্তি—"যতক্ষণ না অন্য কিছুর মাধ্যমে এর সূত্রবদ্ধতা (اتصال) স্পষ্ট হয়"—থেকে এই উদ্দেশ্যটিই ফুটে ওঠে; কিন্তু তার বক্তব্যের প্রথমাংশ এর পরিপন্থী, কারণ তিনি বলেছেন যে কিছু লোক একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং বিচ্ছিন্ন (منقطع) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
وَكَأن فِي ربط الْعَجز بالصدر تنافرا مَا إِلَّا أَن هَذَا الْمَذْهَب رفضه جُمْهُور الْمُحدثين بل جَمِيعهم وَهُوَ الَّذِي لَا إِشْكَال فِي أَن أحدا من أَئِمَّة السّلف مِمَّن يسْتَعْمل الْأَخْبَار كَمَا قَالَ مُسلم رحمه الله ويتفقد صِحَة الْأَسَانِيد وسقمها مثل أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ وَابْن عون وَمَالك وَشعْبَة بن الْحجَّاج وَمن سمى مَعَهم لَا يَشْتَرِطه وَلَا يبْحَث عَنهُ وَلَو اشْترط
এবং শেষাংশের সাথে প্রারম্ভের যোগসূত্র স্থাপনে যেন কিছুটা বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়; তবে এই মতবাদটি সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) মুহাদ্দিসগণ (المحدثين), বরং তাঁদের সকলেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর এতে কোনো সংশয় নেই যে, পূর্বসূরি (السلف) ইমামগণের মধ্যে যাঁরা বর্ণনা (الأخبار) ব্যবহার করেন—যেমনটি ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—এবং সনদসমূহের (الأسانيد) বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (سقم) যাচাই-বাছাই করেন; যেমন—আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি, ইবন আউন, মালিক, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এবং তাঁদের সাথে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা কেউই এটি শর্ত হিসেবোরোপ করেন না এবং এটি অনুসন্ধানও করেন না; আর যদি এটি শর্ত হিসেবে গণ্য হতো...
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
ذَلِك لضاق الْأَمر جدا وَلم يتَحَصَّل من السّنة إِلَّا النزر الْيَسِير فَكَأَن الله تَعَالَى أتاح الْإِجْمَاع عصمَة لذَلِك وتوسعة علينا وَالْحَمْد لله
فَهَذَا الْمَذْهَب الْمَجْهُول قَائِله لَا يعرج عَلَيْهِ وَلَا يلْتَفت اللَّيْث إِلَيْهِ وَقد تولى الإِمَام أَبُو عَمْرو النصري رد هَذَا الْمَذْهَب الَّذِي حَكَاهُ وَقَالَ ان الصَّحِيح وَالَّذِي عَلَيْهِ الْعَمَل أَنه من قبيل الْإِسْنَاد الْمُتَّصِل
قَالَ وَإِلَى هَذَا ذهب الجماهير من أَئِمَّة الحَدِيث وَغَيرهم وأودعه
অন্যথায় বিষয়টি অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে যেত এবং সুন্নাহর অতি সামান্য অংশ ছাড়া কিছুই অর্জিত হতো না। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যেন বিষয়টির সুরক্ষাকবচ হিসেবে ঐক্যমত্য (إجماع)-কে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য বিষয়টিকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
সুতরাং এই মতবাদ—যার প্রবক্তা অজ্ঞাত (مجهول)—তার ওপর নির্ভর করা যাবে না এবং আল-লাইসও তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। ইমাম আবু আমর আন-নাসরি তাঁর বর্ণিত এই মতবাদটি খণ্ডনের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বলেছেন যে, বিশুদ্ধ (صحيح) এবং যার ওপর আমল বিদ্যমান তা হলো, এটি সংযুক্ত (متصل) সনদ (إسناد)-এর অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন: হাদিসের অধিকাংশ (جماهير) ইমাম ও অন্যান্যগণ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তা লিপিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
المشترطون للصحيح فِي تصانيفهم فِيهِ وقبلوه
وَقد نقل أَيْضا هَذَا الْمَذْهَب مُبْهما لقائله أَبُو مُحَمَّد بن خَلاد فِي كتاب الْفَاصِل لَهُ
أَنا أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عبد الْخَالِق بن طرخان السخوي سَمَاعا عَلَيْهِ بثغر الْإسْكَنْدَريَّة قَالَ أَنا القَاضِي أَبُو طَالب أَحْمد بن عبد الله بن الْحُسَيْن بن عبد الْمجِيد الْكِنْدِيّ شهر بِابْن حَدِيد سَمَاعا عَلَيْهِ قَالَ أَنا الإِمَام أَبُو طَاهِر السلَفِي سَمَاعا عَلَيْهِ قَالَ أَنا أَبُو الْحُسَيْن الْمُبَارك بن عبد الْجَبَّار الصَّيْرَفِي بِبَغْدَاد قِرَاءَة قيل لَهُ أخْبركُم أَبُو الْحسن عَليّ بن أَحْمد بن عَليّ الفالي بِقِرَاءَتِك عَلَيْك فَأقر بِهِ قَالَ أَنا القَاضِي أَبُو عبد الله أَحْمد بن إِسْحَاق بن خربَان النهاوندي قَالَ أَنا القَاضِي أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن عبد الرَّحْمَن بن خَلاد الرامَهُرْمُزِي قَالَ قَالَ بعض الْمُتَأَخِّرين من الْفُقَهَاء كل من روى من أَخْبَار النَّبِي صلى الله عليه وسلم خَبرا فَلم يقل فِيهِ سمعته وَلَا حَدثنَا وَلَا أَنبأَنَا وَلَا
যারা তাদের রচনাবলীতে সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন।
আবু মুহাম্মদ ইবনে খাল্লাদ তার ‘আল-ফাসিল’ গ্রন্থে এই অভিমতটি এর প্রবক্তার নাম উল্লেখ না করে অস্পষ্টভাবে (مبهما) বর্ণনা করেছেন।
আলেকজান্দ্রিয়া সীমান্তে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক বিন তারখান আস-সাখাভী—তার নিকট সরাসরি শ্রবণপূর্বক (سماعا)—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)। তিনি বলেন, কাজী আবু তালিব আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল মাজিদ আল-কিন্দি (যিনি ইবনু হাদিদ নামে পরিচিত)—তার নিকট সরাসরি শ্রবণপূর্বক (سماعا)—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)। তিনি বলেন, ইমাম আবু তাহের আস-সিলাফি—তার নিকট সরাসরি শ্রবণপূর্বক (سماعا)—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)। তিনি বলেন, আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফি বাগদাদে পাঠপূর্বক (قراءة) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا); তাকে বলা হয়েছিল: আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন আলী আল-ফালি কি আপনার পাঠ করার মাধ্যমে আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? তিনি তা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, কাজী আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন ইসহাক বিন খারবান আন-নাহাওয়ান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا)। তিনি বলেন, কাজী আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি বলেছেন, ফকিহগণের মধ্য থেকে পরবর্তী যুগের (المتأخرين) কেউ কেউ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহের মধ্য থেকে যে কেউ কোনো খবর (হাদিস) বর্ণনা করে এবং তাতে ‘আমি শুনেছি’ (سمعته), ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ (حدثنا), কিংবা ‘আমাদের সংবাদ দিয়েছেন’ (أنبأنا) না বলে এবং...
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
أخبرنَا وَلَا لَفْظَة توجب صِحَة الرِّوَايَة إِمَّا بِسَمَاع أَو غَيره مِمَّا يقوم مقَامه فَغير وَاجِب أَن يحكم بِخَبَرِهِ
وَإِذا قَالَ نَا أَو أَنا فلَان عَن فلَان وَلم يقل نَا فلَان أَن فلَانا حَدثهُ وَلَا مَا يقوم مقَام هَذَا من الْأَلْفَاظ احْتمل أَن يكون بَين فلَان الَّذِي حَدثهُ وَبَين فلَان الثَّانِي رجل آخر لم يسمه لِأَنَّهُ لَيْسَ بمنكر أَن يَقُول قَائِل حَدثنَا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِكَذَا وَكَذَا ووفلان حَدثنَا عَن مَالك وَالشَّافِعِيّ وَسَوَاء قيل ذَلِك مِمَّن علم أَن الْمُخَاطب لم يره أَو مِمَّن لم يعلم ذَلِك مِنْهُ لَان معنى قَوْله عَن إِنَّمَا هُوَ أَن رد الحَدِيث إِلَيْهِ وَهَذَا سَائِغ فِي اللُّغَة مُسْتَعْمل بَين النَّاس قَالَ وَهَذَا هُوَ الْعلَّة فِي المراسل قَالَ وَقد نظم هَذَا بعض الْمُتَأَخِّرين شعرًا فَقَالَ
يتَأَدَّى الي عَنْك مليح
من حَدِيث وبارع من بَيَان
… فَلهَذَا اشتهت حَدِيثك أذناي
وَلَيْسَ الْإِخْبَار مثل العيان
… بَين قَول الْفَقِيه حَدثنَا سفي
ان فرق وَبَين عَن سُفْيَان
انْتهى كَلَام ابْن خَلاد
وَقد رددنا هَذَا الْمَذْهَب بِمَا فِيهِ الْكِفَايَة واذ بَان أَنه قَول لبَعض الْفُقَهَاء
"আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرنا) কিংবা এমন কোনো শব্দ যা বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة الرواية) নিশ্চিত করে—চাই তা সরাসরি শ্রবণ (سماع) বা এর স্থলাভিষিক্ত অন্য কোনো উপায়ে হোক—তা ছাড়া কেবল বর্ণনার ভিত্তিতে তার সংবাদের (خبر) ওপর হুকুম লাগানো আবশ্যক নয়।
আর যখন সে বলে: "না" (نا) অথবা "আনা" (أنا) অমুক ব্যক্তি অমুক থেকে (عن), অথচ সে "অমুক ব্যক্তি তাকে হাদিস শুনিয়েছেন" (حدثه) বলেনি এবং এর স্থলাভিষিক্ত কোনো শব্দও ব্যবহার করেনি, তখন সম্ভাবনা থাকে যে, যে ব্যক্তি তাকে হাদিস শুনিয়েছেন এবং ওই দ্বিতীয় ব্যক্তির মাঝে এমন কোনো ব্যক্তি রয়ে গেছেন যার নাম সে উল্লেখ করেনি। কারণ কোনো বক্তার জন্য এটি আপত্তিকর নয় যে সে বলবে: "অমুক আমাদের কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (عن) এভাবে এভাবে হাদিস বর্ণনা করেছেন", কিংবা "অমুক আমাদের কাছে মালেক ও শাফেয়ী থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন"। চাই তা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বলা হোক যার ব্যাপারে জানা আছে যে সে সম্বোধিত ব্যক্তির সাক্ষাৎ পায়নি, অথবা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক যার ব্যাপারে তা জানা নেই। কারণ "থেকে" (عن) বলার অর্থ হলো হাদিসটিকে সেই ব্যক্তির দিকে সম্পৃক্ত করা, আর এটি আভিধানিক দিক থেকে বৈধ এবং মানুষের মাঝে প্রচলিত। তিনি বলেন: এটিই হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে ত্রুটির (علة) কারণ। তিনি আরও বলেন: পরবর্তী যুগের (متأخرين) কোনো কোনো আলিম এটিকে কাব্য আকারে এভাবে ব্যক্ত করেছেন:
আপনার পক্ষ থেকে আমার নিকট চমৎকার হাদিস এবং সাবলীল বর্ণনা পৌঁছেছে।
এজন্যই আমার কর্ণদ্বয় আপনার হাদিস শুনতে লালায়িত হয়েছে, তবে সংবাদ দেওয়া তো আর সরাসরি দেখার মতো নয়। ফকিহ (فقيه) এর উক্তি "সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন" (حدثنا سفيان)
এবং "সুফিয়ান থেকে" (عن سفيان) এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ইবনে খাল্লাদের বক্তব্য এখানেই শেষ।
আমরা পর্যাপ্ত আলোচনার মাধ্যমে এই মতবাদকে (مذهب) খণ্ডন করেছি, যেহেতু এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এটি কেবল কয়েকজন ফকিহ (فقهاء)-এর অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
الْمُتَأَخِّرين فَهُوَ مَسْبُوق بِإِجْمَاع عُلَمَاء الشَّأْن وَالله الْمُوفق
وَقد بَين ذَلِك أَبُو عمر بن عبد الْبر بِمَا حَكَاهُ من الْإِجْمَاع بعد أَن ذكر بِإِسْنَاد عَن وَكِيع قَالَ قَالَ شُعْبَة فلَان عَن فلَان لَيْسَ بِحَدِيث قَالَ وَكِيع وَقَالَ سُفْيَان هُوَ حَدِيث قَالَ أَبُو عمر ثمَّ إِن شُعْبَة انْصَرف عَن هَذَا إِلَى قَول سُفْيَان
قلت وَمَا نَقله مُسلم رحمه الله عَن الْعلمَاء الَّذين سمى وَمن جُمْلَتهمْ شُعْبَة من أَنهم لَا يتفقدون ذَلِك يدلك أَيْضا على رُجُوع شُعْبَة كَمَا ذكر أَبُو عمر
فقد بَان أَنه لَا يعلم لمتقدم فِيهِ خلاف إِذا جمع رُوَاته الْعَدَالَة واللقاء والبراءة من التَّدْلِيس وَأَن شُعْبَة رَجَعَ عَن قَوْله
পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সর্বসম্মত মত (إجماع) দ্বারা অগ্রাহ্য। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার সেই সর্বসম্মত মত (الإجماع) বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন, যা তিনি ওয়াকি’র বরাতে একটি বর্ণনাসূত্রের (إسناد) মাধ্যমে উল্লেখ করার পর বর্ণনা করেছেন। ওয়াকি’ বলেন, শু’বা বলেছেন: 'অমুক হতে অমুক' সূত্রে বর্ণিত বর্ণনা হাদিস নয়। ওয়াকি’ বলেন, সুফিয়ান বলেছেন: এটি হাদিস। আবু ওমর বলেন, এরপর শু’বা তাঁর এই অবস্থান থেকে সরে এসে সুফিয়ানের মত গ্রহণ করেন।
আমি বলছি, ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) শু’বাসহ যে সকল আলেমদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে তাঁরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতেন না, তা শু’বার মত পরিবর্তনের প্রতিই নির্দেশ করে, যেমনটি আবু ওমর উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, যদি বর্ণনাকারীদের মধ্যে ন্যায়নিষ্ঠতা (العدالة), সরাসরি সাক্ষাৎ (اللقاء) এবং তাদলিস (التدليس) থেকে মুক্ত হওয়ার গুণাবলি একত্রিত হয়, তবে এ বিষয়ে পূর্ববর্তী আলেমদের (المتقدمين) মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে জানা যায় না; এবং শু’বাও তাঁর পূর্বের অভিমত থেকে ফিরে এসেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٥١)
وَقَالَ الْحَافِظ أَبُو عَمْرو الْمقري وَمَا كَانَ من الْأَحَادِيث المعنعنة الَّتِي يَقُول فِيهَا ناقلوها عَن عَن فَهِيَ أَيْضا مُسندَة متصله بِإِجْمَاع أهل النَّقْل إِذا عرف أَن النَّاقِل أدْرك الْمَنْقُول عَنهُ إدراكا بَينا وَلم يكن مِمَّن عرف بالتدليس وان لم يذكر سَمَاعا
إِلَّا أَن قَوْله إدراكا بَينا فِيهِ إِجْمَال وسنستوفي الْكَلَام عَلَيْهِ فِي ذكر الْمَذْهَب الثَّالِث بحول الله
الْمَذْهَب الثَّانِي
وَهُوَ أَيْضا من مَذَاهِب أهل التَّشْدِيد إِلَّا أَنه أخف من الأول وَهُوَ مَا حَكَاهُ الإِمَام أَبُو عَمْرو النصري ابْن الصّلاح قَالَ وَذكر أَبُو المظفر السَّمْعَانِيّ فِي المعنعنة أَنه يشْتَرط طول الصُّحْبَة بَينهم
قلت وَهَذَا بِلَا ريب يتَضَمَّن السماع غَالِبا لجملة مَا عِنْد الْمُحدث أَو أَكْثَره وَلَا بُد مَعَ هَذَا أَن يكون سالما من وصمة التَّدْلِيس
হাফিজ আবু আমর আল-মুকরি বলেছেন, মুআনআন (المعنعنة) হাদিসসমূহ—যাতে বর্ণনাকারীরা 'হতে' (আন) শব্দ ব্যবহার করেন—সেগুলোও হাদিস বিশারদদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী সুসংবদ্ধ (مسندة) ও নিরবচ্ছিন্ন (متصلة) বলে গণ্য হবে; যদি এটি জানা যায় যে বর্ণনাকারী যাঁর থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর সাক্ষাৎ স্পষ্টভাবে লাভ করেছেন এবং তিনি তাদলীস (تدليس) এর জন্য পরিচিত নন, যদিও তিনি সরাসরি শ্রবণের (سماع) কথা উল্লেখ না করেন।
তবে তাঁর "স্পষ্টভাবে সাক্ষাৎ লাভ করা" কথাটির মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে, যা আমরা আল্লাহর তাওফিকে তৃতীয় মতবাদ আলোচনার সময় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব।
দ্বিতীয় মতবাদ
এটিও কঠোরপন্থী বিশেষজ্ঞদের মতবাদসমূহের একটি, তবে এটি প্রথমটির চেয়ে কিছুটা শিথিল। ইমাম আবু আমর আন-নাসরি ইবনুস সালাহ এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি মুআনআন (المعنعنة) হাদিসের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেছেন যে, বর্ণনাকারীদের মাঝে দীর্ঘ সাহচর্য থাকতে হবে।
আমি (গ্রন্থকার) বলি, এটি নিঃসন্দেহে মুহাদ্দিসের নিকট থাকা বর্ণনাসমূহ বা তার বেশির ভাগের ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণের (سماع) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। এর পাশাপাশি বর্ণনাকারীকে অবশ্যই তাদলীস (تدليس)-এর অপবাদ থেকে মুক্ত হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
وَحجَّة هَذَا الْمَذْهَب هِيَ الأولى بِعَينهَا وَلكنه خفف فِي اشْتِرَاك السماع تنصيصا فِي كل حَدِيث حَدِيث لتعذر ذَلِك ولوجود الْقَرَائِن المفهمة للإتصال من إِيرَاد الْإِسْنَاد وَإِرَادَة الرّفْع بَعضهم عَن بعض عِنْد قَوْلهم فلَان عَن فلَان مَعَ طول الصُّحْبَة
الْمَذْهَب الثَّالِث
وَهُوَ رَأْي كثير من الْمُحدثين مِنْهُم الإِمَام أَبُو عبد الله البُخَارِيّ وَشَيْخه أَبُو الْحسن عَليّ بن الْمَدِينِيّ وَغَيرهمَا
نقل ذَلِك عَنْهُم القَاضِي أَبُو الْفضل عِيَاض وَغَيره
وَهُوَ مَذْهَب متوسط فِي اشْتِرَاط ثُبُوت السماع أَو اللِّقَاء فِي الْجُمْلَة لَا فِي حَدِيث حَدِيث
وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح من مَذَاهِب الْمُحدثين وَهُوَ الَّذِي يعضده النّظر فَلَا يحمل مِنْهُ على الإتصال إِلَّا مَا كَانَ بَين متعاصرين يعلم أَنَّهُمَا قد التقيا من دهرهما مرّة فَصَاعِدا وَمَا لم يعرف ذَلِك فَلَا تقوم الْحجَّة مِنْهُ إِلَّا بِمَا شهد لَهُ لفظ السماع أَو التحديث أَو مَا أشبههما من الْأَلْفَاظ الصَّرِيحَة إِذا أخبر بهَا الْعدْل عَن الْعدْل
وَحجَّة هَذَا الْمَذْهَب أَيْضا مَا تقدم من إِجْمَاع جَمَاهِير النقلَة على
এই মতাদর্শের (مذهب) দলিলটি পূর্ববর্তী মতের অনুরূপই, তবে প্রতিটি পৃথক হাদিসের ক্ষেত্রে শ্রবণ (سماع) সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে এখানে শিথিলতা অবলম্বন করা হয়েছে। কারণ এটি দুঃসাধ্য এবং এখানে অবিচ্ছিন্নতা (اتصال) নির্দেশকারী এমন কিছু লক্ষণ (قرائن) বিদ্যমান রয়েছে যা সূত্রের (إسناد) বর্ণনাভঙ্গি এবং দীর্ঘ সাহচর্যের ফলে 'অমুক অমুক হতে' বলার মাধ্যমে একে অপরের থেকে হাদিসকে রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত করার (رفع) উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে।
তৃতীয় মতাদর্শ (مذهب)
এটি অধিকাংশ হাদিস বিশারদের (محدثين) অভিমত, যাদের মধ্যে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বুখারি এবং তাঁর উস্তাদ আবু আল-হাসান আলী ইবনুল মাদিনি সহ আরও অনেকে রয়েছেন।
কাজী আবু আল-ফজল আইয়াজ ও অন্যান্যরা তাদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এটি একটি মধ্যপন্থী মতাদর্শ (مذهب), যাতে সাধারণভাবে শ্রবণ (سماع) বা সাক্ষাৎ (لقاء) প্রমাণিত হওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে, প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে নয়।
হাদিস বিশারদগণের মতাদর্শসমূহের মধ্যে এটিই সঠিক (صحيح) এবং যৌক্তিক বিচার-বিশ্লেষণ একেই সমর্থন করে। সুতরাং, কোনো বর্ণনাকে অবিচ্ছিন্ন (اتصال) হিসেবে গণ্য করা হবে না যতক্ষণ না সেটি এমন দুই সমসাময়িক ব্যক্তির মধ্যে ঘটে যাদের সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তারা জীবনে অন্তত একবার বা তার বেশি সাক্ষাৎ (لقاء) করেছেন। আর যেখানে বিষয়টি এমন জানা যাবে না, সেখানে কোনো বর্ণনা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না শ্রবণ (سماع), বর্ণনা করা (تحديث) বা এই জাতীয় কোনো সুস্পষ্ট শব্দ দ্বারা তা সমর্থিত হয়, যখন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) রাবি অপর একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) রাবি থেকে বর্ণনা করেন।
এই মতাদর্শের (مذهب) স্বপক্ষেও বর্ণনাকারীদের (نقلة) অধিকাংশের সেই ঐক্যমত (إجماع) দলিল হিসেবে গণ্য যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
قبُول الْإِسْنَاد المعنعن وإيداعه فِي كتبهمْ الَّتِي اشترطوا فِيهَا إِيرَاد الصَّحِيح مَعَ مَا تقرر من مذاهبهم أَن الْمُرْسل لَا تقوم بِهِ حجَّة وَأَنَّهُمْ لَا يودعون فِيهَا إِلَّا مَا اعتقدوا أَنه مُسْند
قَالَ أَبُو عَمْرو ابْن عبد الْبر الْحَافِظ الإِمَام وجدت أَئِمَّة الحَدِيث أَجمعُوا على قبُول المعنعن لَا خلاف بَينهم فِي ذَلِك إِذا جمع شُرُوطًا ثَلَاثَة
عدالتهم
ولقاء بَعضهم لبَعض مجالسة ومشاهدة
وبراءتهم من التَّدْلِيس
সনদ (إسناد)-এর 'মুয়ানআন' (معنعن) বর্ণনা গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে তাদের এমন সব কিতাবে স্থান দেওয়া যাতে তারা কেবল সহিহ (صحيح) বর্ণনা সংকলনের শর্ত করেছেন; অথচ তাদের নীতিমালায় এটি স্থিরকৃত যে, মুরসাল (مرسل) বর্ণনা দ্বারা প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং তারা এই কিতাবগুলোতে কেবল সেগুলোই সংকলন করেন যেগুলোকে তারা মুসনাদ (مسند) বা অবিচ্ছিন্ন বলে বিশ্বাস করেন।
ইমাম ও হাফিজ আবু আমর ইবন আবদিল বার বলেছেন: আমি দেখেছি যে হাদিসের ইমামগণ 'মুয়ানআন' (معنعن) বর্ণনা কবুল করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। যখন এতে তিনটি শর্ত পাওয়া যায়, তখন এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকে না:
তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)।
তাদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ (لقاء) হওয়া—একই মজলিসে বসা ও সচক্ষে দেখার মাধ্যমে।
এবং তাদের তাদলিস (تدليس) থেকে মুক্ত থাকা।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
قَالَ أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح الإِمَام النَّاقِد والإعتماد فِي الحكم بالإتصال على مَذْهَب الْجُمْهُور إِنَّمَا هُوَ على اللِّقَاء والإدراك قلت وَلَقَد كَانَ يَنْبَغِي من حَيْثُ الإحتياط أَن يشْتَرط تحقق السماع فِي الْجُمْلَة لَا مُطلق اللِّقَاء فكم من تَابع لَقِي صاحبا وَلم يسمع مِنْهُ وَكَذَلِكَ من بعدهمْ
وَيَنْبَغِي أَن يحمل قَول البُخَارِيّ وَابْن الْمَدِينِيّ على أَنَّهُمَا يُريدَان باللقاء السماع
وَهَذَا الْحَرْف لم نجد عَلَيْهِ تنصيصا يعْتَمد وَإِنَّمَا وجدت ظواهر مُحْتَملَة
ইমাম সমালোচক (الإمام الناقد) আবু আমর ইবনুল সালাহ বলেছেন, জুমহুর (الجمهور)-এর মতানুসারে সনদের অবিচ্ছিন্নতা (الإتصال) হওয়ার বিধান (الحكم) প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ভরতা হলো সাক্ষাৎ (اللقاء) এবং সমকালীনতা (الإدراك)-এর ওপর। আমি বলি, সতর্কতার খাতিরে এটি বাঞ্ছনীয় ছিল যে, কেবল সাধারণ সাক্ষাৎ (اللقاء) নয় বরং সামগ্রিকভাবে শ্রবণ (السماع) সাব্যস্ত হওয়ার শর্তারোপ করা। কারণ অনেক তাবেয়ি (تَابِع) রয়েছেন যারা কোনো সাহাবির (صاحبا) সাক্ষাৎ পেয়েছেন অথচ তাঁর থেকে শ্রবণ (السماع) করেননি, আর তাঁদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
ইমাম বুখারি এবং ইবনে আল-মাদিনি-র বক্তব্যকে এমনভাবে গ্রহণ করা উচিত যে, তাঁরা সাক্ষাৎ (اللقاء) দ্বারা শ্রবণ (السماع)-কেই বুঝিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গের (الحرف) ওপর আমরা নির্ভরযোগ্য কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (تنصيصا) খুঁজে পাইনি, বরং কেবল কিছু সম্ভাব্য বাহ্যিক আলামত পাওয়া গেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুনানুল আবইয়ান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
أَن يحصل الإكتفاء عِنْدهم باللقاء الْمُحَقق وَإِن لم يذكر سَماع وَأَن لَا يحصل الإكتفاء إِلَّا بِالسَّمَاعِ وَأَنه الْأَلْيَق بتحريهما وَالْأَقْرَب إِلَى صوب الصَّوَاب فَيكون مرادهما باللقاء وَالسَّمَاع معنى وَاحِدًا
তাদের নিকট সুনিশ্চিত সাক্ষাত (اللقاء المحقق) পাওয়াই যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হওয়া, যদিও সেখানে শ্রবণের (سماع) কথা উল্লেখ না থাকে; এবং শ্রবণ (سماع) ব্যতিরেকে বিষয়টিকে যথেষ্ট মনে না করা—এটিই তাদের উভয়ের সতর্ক অনুসন্ধানের (تحري) জন্য অধিক মানানসই এবং সঠিকতার অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং সাক্ষাত (لقاء) এবং শ্রবণ (سماع) দ্বারা তাদের উভয়ের উদ্দেশ্য একই অর্থ হিসেবে পরিগণিত হবে।