(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: -)
المستخرج على المستدرك للحاكم = أمالي العراقي   (العراقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المستخرج على المستدرك للحاكم (أملاها العراقي في مجالس)

المؤلف: أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي (ت 806هـ)

المحقق: محمد عبد المنعم رشاد

الناشر: مكتبة السنة - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1410

عدد الصفحات: 129

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুসতাদরাক লিল হাকিম = আমালি আল-ইরাকি   (আল-ইরাকি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুসতাদরাক লিল হাকিম (যা আল-ইরাকি বিভিন্ন মজলিসে শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেছেন)

লেখক: আবু আল-ফাদল যাইনুদ্দিন আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম আল-ইরাকি (মৃত্যু: ৮০৬ হিজরি)

মুহাক্কিক: মুহাম্মদ আবদুন মুনইম রাশাদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১০

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌فضل شرف علم الحَدِيث وَأَهله

إِن علم الحَدِيث وتفهم مَعْنَاهُ هُوَ علم عذب المشرب رفيع الْمطلب متدفق الينبوع متشعب الْفُصُول وَالْفُرُوع فَهُوَ علم رفيع الْقدر عَظِيم الْفَخر شرِيف الذّكر لَا يعتني بِهِ إِلَّا كل حبر وَلَا يحرمه الا كل غمر وَلَا تفنة محاسنه على ممر الدَّهْر إِذْ بِهِ يعرف المُرَاد من كَلَام رب الْعَالمين وَيظْهر الْمَقْصُود من حبله الْمُتَّصِل المتين وَمِنْه يدْرِي شمائل من سما ذاتا ووصفا وإسما وَحسب الرَّاوِي للْحَدِيث شرفا وفضلا وجلالة ونبلا أَن يكون أول سلسلة اخرها الرَّسُول والى مقَامه الشريف بهَا الِانْتِهَاء والوصول يَقُول الامام الْخَطِيب فِي مُقَدّمَة الْكِفَايَة أما بعد فَإِن الله تبارك وتعالى أنقذ الْخلق من نائرة الْجَهْل وخلص الورى من زخارف الضَّلَالَة بِالْكتاب النَّاطِق وَالْوَحي الصَّادِق المنزلين على سيد الورى نَبينَا مُحَمَّد الْمُصْطَفى ثمَّ أوجب النجَاة من النَّار وَأبْعد
ইলমে হাদীস এবং এর ধারকদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব

নিশ্চয়ই ইলমে হাদীস এবং এর অর্থ উপলব্ধি করা এমন এক জ্ঞান যার উৎস অত্যন্ত সুমিষ্ট, যার অন্বেষণ অত্যন্ত সুউচ্চ, যার ঝরনাধারা প্রবহমান এবং যার শাখা-প্রশাখা ও অধ্যায়গুলো অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি এমন এক উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন জ্ঞান যা অত্যন্ত গৌরবের এবং যার আলোচনা অত্যন্ত সম্মানিত। কেবল বিদগ্ধ পণ্ডিতগণই এর প্রতি যত্নশীল হন এবং কেবল অজ্ঞ ব্যক্তিরাই এ থেকে বঞ্চিত হয়। মহাকালের আবর্তনে এর সৌন্দর্য কখনো ফুরিয়ে যায় না; কেননা এর মাধ্যমেই রাব্বুল আলামীনের বাণীর উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায় এবং তাঁর মজবুত ও অবিচ্ছিন্ন রশির মর্মার্থ প্রকাশিত হয়। আর এর মাধ্যমেই তাঁর গুণাবলি জানা যায়, যিনি স্বীয় সত্তা, বৈশিষ্ট্য ও নামের দিক দিয়ে সুউচ্চ। হাদীস বর্ণনাকারীর সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা ও আভিজাত্যের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি এমন এক শিকলের প্রথম যোগসূত্র যার শেষ প্রান্তে রয়েছেন রাসূলুল্লাহ এবং এর মাধ্যমেই তাঁর সম্মানিত মাকামে উপনীত হওয়া যায়। ইমাম খতীব তাঁর ‘আল-কিফায়া’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: অতঃপর, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সৃষ্টিজগতকে মূর্খতার অগ্নি থেকে রক্ষা করেছেন এবং মাখলুকাতকে ভ্রষ্টতার চাকচিক্য থেকে মুক্তি দিয়েছেন সেই সুষ্পষ্ট কিতাব এবং সত্য ওহীর মাধ্যমে, যা সৃষ্টিজগতের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মদ আল-মুস্তফার ওপর নাযিল করা হয়েছে। অতঃপর তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি অবধারিত করেছেন এবং দূরে রেখেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٦)
عَن منزل الذل والخسار لمن أطاعه فِي امْتِثَال مَا أَمر والكف عَمَّا عَنهُ نهى وزجر فَقَالَ {وَمن يطع الله وَرَسُوله ويخش الله ويتقه فَأُولَئِك هم الفائزون} وَطَاعَة الله فِي طَاعَة رَسُوله وَطَاعَة رَسُوله فِي اتِّبَاع سنته اذ هِيَ النُّور الْبَهِي والامر الجلى وَالْحجّة الْوَاضِحَة والمحجة اللائحة من تمسك بهَا اهْتَدَى وَمن عدل عَنْهَا ضل وغوى اهـ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ واله وَسلم لَا تزَال طَائِفَة من امتي ظَاهِرين على الْحق حَتَّى تقوم السَّاعَة وَهُوَ حَدِيث متواتر روى من حَدِيث سِتَّة عشر صحابيا وَقد نَص على تواتره الامام ابْن تَيْمِية فِي كِتَابه اقْتِضَاء الصِّرَاط الْمُسْتَقيم مُخَالفَة أَصْحَاب الحجيم فِي أَوَائِله أثْنَاء كَلَام وَنَصه بل قد تَوَاتر عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ وَذكر الحَدِيث وَكَذَلِكَ نَص على تواتره الكتاني فِي النّظم المتناثر والْحَدِيث رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاحْمَدْ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة وَغَيرهم وَلَقَد ثَبت عَن أهل الْعلم أَن المُرَاد بِهَذِهِ الطَّائِفَة هم أهل الحَدِيث مِنْهُم عبد الله بن الْمُبَارك قَالَ هم عِنْدِي أَصْحَاب لحَدِيث وعَلى بن الْمَدِينِيّ قَالَ هم أَصْحَاب الحَدِيث وَأحمد بن حَنْبَل قَالَ إِن لم تكن هَذِه الطَّائِفَة المنصورة أصَاب الحَدِيث فَلَا ادري من هم وَأحمد بن سِنَان الثِّقَة الْحَافِظ روى الْخَطِيب عَن ابي حَاتِم قَالَ سَمِعت احْمَد بن سِنَان وَذكر الحَدِيث فَقَالَ هم أهل الْعلم وَأَصْحَاب الْأَثر وَالْبُخَارِيّ روى الْخَطِيب عَن اسحاق بن احْمَد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن اسماعيل البُخَارِيّ وَذكر الحَدِيث فَقَالَ البُخَارِيّ يَعْنِي أَصْحَاب الحَدِيث وَقَالَ فِي

লাঞ্ছনা ও ক্ষতির আবাসস্থল থেকে মুক্তি তার জন্য, যে তাঁর আদেশ পালনে এবং যা থেকে তিনি নিষেধ ও সতর্ক করেছেন তা বর্জনে তাঁর আনুগত্য করল। অতঃপর তিনি বলেছেন: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই সফলকাম}। আল্লাহর আনুগত্য নিহিত রয়েছে তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাঝে, আর রাসূলের আনুগত্য নিহিত তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাঝে; কেননা তা হলো এক উজ্জ্বল জ্যোতি, সুস্পষ্ট বিষয়, পরিষ্কার দলিল এবং দেদীপ্যমান পথ। যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে সে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে, আর যে তা থেকে বিচ্যুত হবে সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হবে। ইতি।

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়।" এটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস, যা ষোলোজন সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর ‘ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম’ কিতাবের শুরুর দিকে আলোচনার এক পর্যায়ে এর মুতাওয়াতির হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য হলো: "বরং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন..." অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। একইভাবে কাত্তানী তাঁর ‘আন-নাযমুল মুতানাসির’ গ্রন্থে এর মুতাওয়াতির হওয়ার বিষয়ে নস প্রদান করেছেন। হাদিসটি বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

বিদ্বানগণের নিকট এটি সুপ্রমাণিত যে, এই দল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আহলে হাদিস। তাঁদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: "আমার নিকট তাঁরা হলেন আসহাবুল হাদিস।" আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: "তাঁরা হলেন আসহাবুল হাদিস।" আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "যদি এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি আসহাবুল হাদিস না হয়, তবে আমি জানি না তাঁরা কারা।" নির্ভরযোগ্য হাফেজ আহমাদ ইবনে সিনান—খতীব আবু হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে সিনানকে হাদিসটি উল্লেখ করতে শুনেছি, অতঃপর তিনি বললেন: "তাঁরা হলেন আহলে ইলম ও আসহাবুল আসার।" ইমাম বুখারী—খতীব ইসহাক ইবনে আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল বুখারী আমাদের নিকট হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "বুখারী বলেন, অর্থাৎ আসহাবুল হাদিস।" এবং তিনি ...-এ বলেছেন:

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٧)
صَحِيحه وَقد علق الحَدِيث وَجعله بَابا وهم اهل الْعلم وَلَا مُنَافَاة بَينه وَبَين مَا قبله كَمَا هُوَ ظَاهر لِأَن أهل الْعلم هم أهل الحَدِيث وَكلما كَانَ الْمَرْء أعلم بِالْحَدِيثِ كَانَ أعلم فِي الْعلم مِمَّن هُوَ دونه فِي الحَدِيث كَمَا لَا يخفى وَقَالَ فِي كِتَابه خلق أَفعَال الْعباد وَقد ذكر بِسَنَدِهِ حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ فِي قَوْله تَعَالَى وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ امة وسطا لِتَكُونُوا شُهَدَاء على النَّاس قَالَ البُخَارِيّ هم الطَّائِفَة الَّتِي قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ واله وَسلم فَذكر الحَدِيث قَالَ الشَّيْخ الالباني حفظه الله فِي الصَّحِيحَة وَقد يستغرب بعض النَّاس تَفْسِير هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة للطائفة الظَّاهِرَة والفرقة النَّاجِية بِأَنَّهُم أهل الحَدِيث وَلَا غرابة فِي ذَلِك إِذا تذكرنا مَا يَأْتِي أَولا إِن اهل الحَدِيث هم بِحكم اختاصهم فِي دراسة السّنة وَمَا يتَعَلَّق من معرفَة تراجم الروَاة وَعلل الحَدِيث وطرقه أعلم النَّاس قاطبة بِسنة نَبِيّهم صلى الله عليه وسلم وهدية وأخلاقه وغزواته وَمَا يتَّصل بِهِ ثَانِيًا إِن الْأمة قد انقسمت إِلَى فرق ومذاهب لم تكن فِي الْقرن الاول وَلكُل مَذْهَب أُصُوله وفروعه وَأَحَادِيثه الَّتِي يسْتَدلّ بهَا ويعتمد عَلَيْهَا وَإِن المتمذهب بِوَاحِد مِنْهَا يتعصب لَهُ ويتمسك بِكُل مَا فِيهِ دون أَن يلْتَفت إِلَى الْمذَاهب الاخرى وَينظر لَعَلَّه يحد فِيهَا من الاحاديث مَا لَا يجده فِي مذْهبه الَّذِي قَلّدهُ فَإِن من الثَّابِت لَدَى أهل الْعلم أَن فِي كل مَذْهَب من السّنة والاحاديث مَا لَا يُوجد فِي الْمَذْهَب الاخر فالمتمسك بِالْمذهبِ الْوَاحِد يضل وَلَا بُد عَن قسم عَظِيم من السّنة المحفوظة لَدَى الْمذَاهب الاخرى وَلَيْسَ على هَذَا أهل الحَدِيث فَإِنَّهُم يَأْخُذُونَ بِكُل حَدِيث صَحَّ إِسْنَاده فِي أَي مَذْهَب كَانَ وَمن أَي طَائِفَة كَانَ رَاوِيه مَا دَامَ أَنه مُسلم ثِقَة حَتَّى لَو كَانَ سيعيا اَوْ قدريا اَوْ خارجيا فضلا

তাঁর সহীহ গ্রন্থে তিনি হাদীসটিকে মুআল্লাক (সনদ ছাড়াই) বর্ণনা করেছেন এবং একে একটি অধ্যায় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; আর তারা হলেন ইলমের অধিকারীগণ (আহলে ইলম)। যেমনটি স্পষ্ট যে, তাদের মাঝে এবং তাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ ইলমের অধিকারীগণই হলেন আহলে হাদীস। আর এটি কারো অজানা নয় যে, কোনো ব্যক্তি হাদীস সম্পর্কে যত বেশি জ্ঞানী হবেন, তিনি ইলমের ক্ষেত্রে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী বলে গণ্য হবেন যিনি হাদীসের জ্ঞানে তাঁর চেয়ে নিম্নস্তরের। তিনি তাঁর 'খালকু আফ'ালিল ইবাদ' গ্রন্থে তাঁর নিজস্ব সনদে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে মহান আল্লাহর বাণী— 'এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো'—এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন: ইমাম বুখারী বলেন, তারা হলো সেই দল যাদের সম্পর্কে নবী (সা.) বলেছেন... এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। শেখ আলবানী (হাফিযাহুল্লাহ) 'আস-সাহীহা' গ্রন্থে বলেছেন: কিছু মানুষ এই ইমামদের পক্ষ থেকে 'বিজয়ী দল' ও 'মুক্তিপ্রাপ্ত দল'-এর ব্যাখ্যা 'আহলে হাদীস' হিসেবে করার বিষয়টিকে অদ্ভুত মনে করতে পারে। তবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যদি আমরা নিচের বিষয়গুলো স্মরণে রাখি: প্রথমত, আহলে হাদীসগণ সুন্নাহ চর্চায় তাদের বিশেষ ব্যুৎপত্তি এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী, হাদীসের ত্রুটি ও এর সূত্রসমূহ চেনার ক্ষেত্রে পারদর্শিতার কারণে তাদের নবী (সা.)-এর সুন্নাহ, তাঁর হেদায়াত, চরিত্র, যুদ্ধাভিযান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সকল মানুষের চেয়ে অধিক জ্ঞানী। দ্বিতীয়ত, উম্মাহ এমন সব দল ও মাযহাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যা প্রথম শতাব্দীতে ছিল না। প্রতিটি মাযহাবের নিজস্ব মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা এবং হাদীস রয়েছে যার মাধ্যমে তারা দলীল পেশ করে ও যার ওপর নির্ভর করে। আর তাদের মধ্যে কেউ কোনো একটি মাযহাবের অনুসারী হলে সেটির প্রতি গোঁড়ামি প্রদর্শন করে এবং অন্য মাযহাবগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই এর সবকিছুর ওপর অটল থাকে; সে এমনকি এটাও দেখে না যে, হয়তো অন্য মাযহাবগুলোতে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা সে তার অনুসরণ করা মাযহাবে পায়নি। কেননা বিজ্ঞ আলেমদের কাছে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, প্রতিটি মাযহাবে এমন কিছু সুন্নাহ ও হাদীস রয়েছে যা অন্য মাযহাবে নেই। সুতরাং কোনো একটি নির্দিষ্ট মাযহাবে আটকে থাকা ব্যক্তি সুন্নাহর এক বিশাল অংশ থেকে বঞ্চিত হতে বাধ্য যা অন্য মাযহাবগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু আহলে হাদীসদের অবস্থা এমন নয়; কারণ তারা এমন প্রতিটি হাদীস গ্রহণ করেন যার সনদ সহীহ, তা যে মাযহাবেরই হোক না কেন এবং এর বর্ণনাকারী যে দলেরই হোক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে একজন বিশ্বস্ত মুসলিম হয়—এমনকি সে শিয়া, কাদারী বা খারেজী হলেও, তদুপরি...

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٨)
عَن أَن يكون حنفيا أَو مالكيا اَوْ غير ذَلِك وَقد صرح بِهَذَا الامام الشَّافِعِي رضي الله عنه حِين خَاطب الامام احْمَد بقوله أَنْتُم أعلم بِالْحَدِيثِ مني فَإِذا جَاءَكُم الحَدِيث صَحِيحا فَأَخْبرنِي بِهِ حَتَّى اذْهَبْ اليه سَوَاء كَانَ حجازيا أم كوفيا أم مصريا فَأهل الحَدِيث حشرنا الله مَعَهم لَا يتعصبون لقَوْل شخص معِين مهما علا وسما حاشا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِخِلَاف غَيرهم مِمَّن لَا ينتمي إِلَى الحَدِيث وَالْعَمَل بِهِ فَإِنَّهُم يتعصبون لاقوال ائمتهم وَقد نهوهم عَن ذَلِك كَمَا يتعصب أهل الحَدِيث لاقوال نَبِيّهم فَلَا عجب بعد هَذَا الْبَيَان أَن يكون أهل الحَدِيث هم الطَّائِفَة الظَّاهِرَة والفرقة النَّاجِية بل وَالْأمة الْوسط الشُّهَدَاء على الْخلق اهـ وَقَالَ الْخَطِيب فِي مُقَدّمَة الْكِفَايَة مُنْكرا على أهل الرَّأْي منتتصرا لأهل الحَدِيث أخبرنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن عمر بن جَعْفَر الخرقى أَنا احْمَد بن جَعْفَر بن مُحَمَّد بن سلم الختلى قَالَ حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس احْمَد بن عَليّ الْأَبَّار قَالَ رَأَيْت بالأهواز رجلا حف شَاربه وَأَظنهُ قد اشْترى كتبا وتعبأ للفتيا فَذكر أَصْحَاب الحَدِيث فَقَالَ لَيْسُوا بِشَيْء وَلَيْسَ يسوون شَيْئا فَقلت لَهُ أَنْت لَا تحسن تصلى قَالَ أَنا فَقلت نعم قلت إيش تحفظ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا افتتحت الصَّلَاة وَرفعت يَديك فَسكت فَقلت وإيش تحفظ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ
হানাফী বা মালেকী অথবা এছাড়া অন্য কিছু হওয়া থেকে। ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যখন তিনি ইমাম আহমদকে সম্বোধন করে বলেছিলেন: "আপনারা হাদীস সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানেন। সুতরাং যখন আপনাদের নিকট কোনো সহীহ হাদীস আসবে, আমাকে তা জানাবেন যাতে আমি সেটির দিকে যেতে পারি (তা অনুসরণ করতে পারি), চাই সেটি হিজাযী হোক বা কুফী হোক কিংবা মিসরী হোক।" অতএব আহলে হাদীসগণ—আল্লাহ আমাদের তাঁদের সাথে হাশর করুন—কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মতের প্রতি গোঁড়ামি করেন না, তিনি যত উচ্চমর্যাদা ও সম্মানেরই অধিকারী হোন না কেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত। অন্যদের বিপরীতে যারা হাদীসের অনুসারী নয় এবং এর ওপর আমল করে না; কেননা তারা তাদের ইমামদের মতের ব্যাপারে গোঁড়ামি করে, অথচ তাঁরা (ইমামগণ) তাদেরকে এ থেকে নিষেধ করেছেন, যেমনটি আহলে হাদীসগণ তাঁদের নবীর বাণীর প্রতি অনুরাগী থাকেন। সুতরাং এই বর্ণনার পর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, আহলে হাদীসরাই হলো বিজয়ী দল এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দল, বরং তারা হলো সেই মধ্যপন্থী উম্মত যারা সৃষ্টিজগতের ওপর সাক্ষী। [সমাপ্ত] আর খতীব (বাগদাদী) 'আল-কিফায়া' গ্রন্থের ভূমিকায় রায়পন্থীদের (যুক্তি ও রায় প্রদানকারী) প্রতিবাদে এবং হাদীসপন্থীদের সমর্থনে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে জাফর আল-খিরাকী, তিনি বলেছেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালম আল-খাতলী, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আলী আল-আব্বার, তিনি বলেন: আমি আহওয়াজে এক ব্যক্তিকে দেখলাম যার গোঁফ ছাঁটা ছিল এবং আমার মনে হয় সে কিছু কিতাব কিনেছিল এবং ফতোয়া দেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিল। সে হাদীসের অনুসারীদের কথা উল্লেখ করে বলল: "তারা কিছুই নয় এবং তারা কোনো কিছুর যোগ্য নয়।" তখন আমি তাকে বললাম: "আপনি তো ঠিকমতো সালাত আদায় করতেও জানেন না।" সে বলল: "আমি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" আমি বললাম: "আপনি যখন সালাত শুরু করেন এবং আপনার হাত তোলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কী মুখস্থ রেখেছেন?" তখন সে চুপ হয়ে গেল। আমি আবার বললাম: "এবং আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কী মুখস্থ রেখেছেন..."
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٩)
وَسلم إِذا وضعت يَديك على ركبتيك فَسكت قلت إيش تحفظ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا سجدت فَسكت قلت مَالك لَا تَتَكَلَّم ألم أقل لَك إِنَّك لَا تحسن تصلى انما قيل لَك تصلى الْغَدَاة رَكْعَتَيْنِ وَالظّهْر أَرْبعا فَالْزَمْ ذَا خير لَك من أَن تذكر أَصْحَاب الحَدِيث فلست بِشَيْء وَلَا تحسن شَيْئا ثمَّ قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى فِي أهل الحَدِيث وَأما الْمُحَقِّقُونَ فِيهِ المتخصصون بِهِ فهم الْأَئِمَّة الْعلمَاء والسادة الْفُقَهَاء أهل الْفضل والفضيلة والمرتبة الرفيعة حفظوا على الْأمة احكام الرَّسُول وأخبروا عَن أنباء التَّنْزِيل وأثبتوا ناسخه ومنسوخه وميزوا محكمَة ومتشابهه ودونوا أَقْوَال النَّبِي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وضبطوا على اخْتِلَاف الْأُمُور أَحْوَاله فِي يقظته ومنامه وتعوده وقيامه وملبسه ومركبه ومأكله ومشربه حَتَّى القلامة من ظفرة مَا كَانَ يصنع بهَا والنخامة من فِيهِ كَيفَ كَانَ يلفظها وَقَوله عِنْد كل فعل يحدثه ولدى كل موقف يشهده تَعْظِيمًا لقدرة صلى الله عليه وسلم وَمَعْرِفَة بشرف مَا ذكر عَنهُ وعزى اليه وحفظوا مَنَاقِب صحابته وماثر عشيرته وَجَاءُوا بسير الانبياء ومقامات الاولياء وَاخْتِلَاف الْفُقَهَاء وَلَوْلَا عناية اصحاب الحَدِيث يضْبط السّنَن وَجَمعهَا واستنباطها من معادنها وَالنَّظَر فِي طرقها لبطلت الشَّرِيعَة وتعطلت احكامها إِذْ كَانَت مستخرجة من الاثار المحفوظة ومستفادة من السّنَن المنقولة فَمن عرف لِلْإِسْلَامِ حَقه وَأوجب للدّين حرمته أكبر أَن يحتقر من عظم الله شَأْنه وَأَعْلَى مَكَانَهُ وَأظْهر حجَّته وَأَبَان فضيلته وَلم يرتق بطعنه الى حزب الرَّسُول وَاتِّبَاع الْوَحْي واوعية الدّين وخزنى الْعلم الَّذين ذكرهم الله تَعَالَى فِي كِتَابه فَقَالَ وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان رضي الله عنهم رَضوا عَنهُ وَكفى الْمُحدث

...এবং সালাম। যখন আপনি আপনার দুই হাত আপনার হাঁটুতে রাখলেন, তখন আপনি চুপ থাকলেন। আমি বললাম, সাজদাহ করার সময়কার ব্যাপারে আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কী মুখস্থ রেখেছেন? তখনও আপনি চুপ থাকলেন। আমি বললাম, আপনার কী হয়েছে যে আপনি কথা বলছেন না? আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি তো ভালো করে সালাতও আদায় করতে পারেন না? আপনাকে তো শুধু এটাই বলা হয়েছে যে আপনি ফজরের সালাত দুই রাকাত এবং যোহরের সালাত চার রাকাত পড়বেন; সুতরাং এটাই আঁকড়ে ধরুন, এটি আপনার জন্য হাদিসের ইমামদের সমালোচনা করার চেয়ে উত্তম। কেননা আপনি তো তুচ্ছ এবং কোনো কিছুই ভালো করে জানেন না। অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আহলে হাদিস বা হাদিস বিশারদদের সম্পর্কে বললেন: আর যারা এতে গবেষণাকারী এবং বিশেষজ্ঞ, তারা হলেন ইমাম, আলেম, ফকীহদের নেতৃবৃন্দ, মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং উচ্চ মর্যাদার স্তরে আসীন। তারা উম্মতের জন্য রাসুলের বিধানসমূহ সংরক্ষণ করেছেন, ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সংবাদসমূহ প্রদান করেছেন, নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সাব্যস্ত করেছেন এবং মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট)-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা ও কাজসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাঁর সকল হাল-হাকিকত তারা সুসংহত করেছেন; তাঁর জাগ্রত অবস্থা ও নিদ্রা, তাঁর অভ্যাস ও দণ্ডায়মান হওয়া, তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, বাহন, খাদ্য ও পানীয়—সব কিছুই। এমনকি তাঁর নখের কর্তিত অংশ নিয়ে কী করা হতো এবং তাঁর মুখ থেকে নির্গত শ্লেষ্মা তিনি কীভাবে নিক্ষেপ করতেন তাও তারা বর্ণনা করেছেন। তাঁর প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি উপস্থিতির সময়কার বাণীসমূহ তারা বর্ণনা করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদাকে সম্মান জানানোর জন্য এবং তাঁর থেকে বর্ণিত ও তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবনের নিমিত্তে। তারা তাঁর সাহাবীদের মর্যাদা এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজনের গৌরবগাথা সংরক্ষণ করেছেন। তারা নবীদের জীবনী, আউলিয়াদের মাকামাত এবং ফকীহদের মতভেদসমূহ বর্ণনা করেছেন। যদি হাদিস বিশারদগণ সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ, সংকলন, তার মূল উৎস থেকে মাসয়ালা উদ্ঘাটন এবং এর সনদসমূহ নিয়ে পর্যালোচনায় মনোযোগী না হতেন, তবে শরীয়ত বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং এর বিধানসমূহ অকেজো হয়ে পড়ত। কেননা শরীয়ত তো সংরক্ষিত আসার (বর্ণনা) থেকে উদ্ভূত এবং বর্ণিত সুন্নাহসমূহ থেকে প্রাপ্ত। অতএব যে ব্যক্তি ইসলামের হক চেনে এবং দ্বীনের সম্মান রক্ষা করাকে আবশ্যক মনে করে, সে এমন ব্যক্তিদের তুচ্ছজ্ঞান করাকে অতি গুরুতর মনে করবে যাদের শানকে আল্লাহ মহান করেছেন, যাদের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন, যাদের দলিলকে বিজয়ী করেছেন এবং যাদের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রকাশ করেছেন। আর সে যেন তার বিদ্রূপের তীর নিয়ে রাসুলের দল, ওহীর অনুসারী, দ্বীনের ধারক এবং ইলমের ভাণ্ডারীদের প্রতি চড়াও না হয়; যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: "আর যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট।" আর মুহাদ্দিসের জন্য এটাই যথেষ্ট।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٠)
شرفا أَن يكون اسْمه مَقْرُونا باسم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَذكره مُتَّصِلا بِذكرِهِ ذَلِك فضل الله يؤتيه من يَشَاء وَالله ذُو الْفضل الْعَظِيم اهـ وَقَالَ رَحمَه الله تَعَالَى فِي مُقَدّمَة كتاب شرف أَصْحَاب الحَدِيث لِأَن الحَدِيث يشْتَمل على معرفَة أصُول التَّوْحِيد وَبَيَان مَا جَاءَ من وُجُوه الْوَعْد والوعيد وصفات رب الْعَالمين تَعَالَى عَن مقالات الْمُلْحِدِينَ والإخبار عَن صفة الْجنَّة وَالنَّار وَمَا إعد صفة الْجنَّة وَالنَّار وَمَا أعد الله فيهمَا لِلْمُتقين والفجار وَمَا خلق الله فِي الْأَرْضين وَالسَّمَاوَات وصنوف الْعَجَائِب وعظيم الايات وَذكر الْمَلَائِكَة المقربين ونعت الصافين والمسبحين وَفِي الحَدِيث قصَص الْأَنْبِيَاء وأخبار الزهاد والاولياء ومواعظ البلغاء وَكَلَام الْفُقَهَاء وسير مُلُوك الْعَرَب والعجم واقاصيص الْمُتَقَدِّمين من الْأُمَم وَشرح مغازي الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وسراياه وَجعل احكامه وقضاياه وخطبه وعظاته واعلامه ومعجزاته وعدة ازواجه واولاده واصهاره واصحابه وَذكر فضائلهم وماثرهم وَشرح اخبارهم ومناقبهم ومبلغ اعمارهم وَبَيَان انسابهم وَفِيه تَفْسِير الْقرَان الْعَظِيم وَمَا فِيهِ من النبأ وَالذكر الْحَكِيم وأقاويل الصَّحَابَة فِي الاحكام المحفوظة عَنْهُم وَتَسْمِيَة من ذهب الى قَول كل وَاحِد مِنْهُم من الْأَئِمَّة الخالفين وَالْفُقَهَاء الْمُجْتَهدين وَقد جعل الله اهله اركان الشَّرِيعَة وَهدم بهم كل بِدعَة شنيعة فهم أُمَنَاء الله فِي خليقته والواسطة بَين النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأمته والمجتهدون فِي حفظ مِلَّته أنوارهم زاهرة وفضائلهم سائرة واياتهم باهرة ومذاهبهم ظَاهِرَة وحججهم قاهرة وكل فِئَة تتحيز الى هوى ترجع اليه وتستحسن رَأيا تعكف عَلَيْهِ سوى أَصْحَاب الحَدِيث فَإِن الْكتاب عدتهمْ وَالسّنة حجتهم وَالرَّسُول فئتهم وَإِلَيْهِ نسبتهم لَا يعرجون على الاهواء وَلَا يلتفتون إِلَى
এটি একটি মর্যাদা যে, তাঁর নাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে যুক্ত এবং তাঁর আলোচনা তাঁর (রাসূলের) আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন এবং আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। সমাপ্ত। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ‘শারাফু আসহাবিল হাদিস’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: কারণ হাদিস তাওহীদের মূলনীতিসমূহের জ্ঞান এবং পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি সংক্রান্ত যা কিছু এসেছে তার বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এতে জগতসমূহের রবের গুণাবলির বর্ণনা রয়েছে, যিনি নাস্তিকদের বক্তব্য থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। এতে জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ এবং মুত্তাকী ও পাপাচারীদের জন্য আল্লাহ সেখানে যা প্রস্তুত রেখেছেন তার সংবাদ রয়েছে। আর আসমানসমূহ ও জমিনসমূহে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, বিভিন্ন প্রকারের বিস্ময়কর বস্তুসমূহ এবং মহান নিদর্শনসমূহ এতে বিদ্যমান। এতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের আলোচনা এবং যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ও তসবীহ পাঠ করে তাদের গুণাগুণ বর্ণিত হয়েছে। আর হাদিসে রয়েছে নবীদের কাহিনী, দুনিয়াত্যাগী ও আল্লাহর বন্ধুদের সংবাদ, বাগ্মীদের উপদেশ, ফকীহদের কথা, আরব ও অনারব রাজাদের জীবনী এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাহিনী। আরও রয়েছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধ ও অভিযানসমূহের বিবরণ, তাঁর বিধান ও ফয়সালাসমূহ, তাঁর খুতবা ও নসিহতসমূহ, তাঁর নিদর্শন ও মুজিজাসমূহ এবং তাঁর স্ত্রীদের সংখ্যা, সন্তানসন্ততি, আত্মীয় ও সাহাবীদের বিবরণ। এতে বর্ণিত হয়েছে তাঁদের মর্যাদা ও কীর্তিসমূহ, তাঁদের সংবাদ ও গুণাবলির ব্যাখ্যা, তাঁদের আয়ুষ্কাল এবং তাঁদের বংশ পরিচয়। এতে মহান কুরআনের তাফসীর বিদ্যমান এবং এতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শরীয়তের বিধানাবলি সম্পর্কে সাহাবীদের থেকে সংরক্ষিত বক্তব্যসমূহ এবং পরবর্তী ইমাম ও মুজতাহিদ ফকীহগণের মধ্যে কে তাঁদের কার মত গ্রহণ করেছেন তাঁদের নামও এখানে রয়েছে। আল্লাহ হাদিসপন্থীদের শরীয়তের স্তম্ভ বানিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রতিটি জঘন্য বিদআতকে ধুলিসাৎ করেছেন। তাঁরা তাঁর সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর বিশ্বস্ত প্রতিনিধি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মতের মধ্যে সেতুবন্ধন। তাঁরা তাঁর দ্বীন সংরক্ষণে সচেষ্ট। তাঁদের নূরসমূহ উজ্জ্বল, তাঁদের মর্যাদা সুপ্রসিদ্ধ, তাঁদের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট, তাঁদের মাযহাবসমূহ প্রকট এবং তাঁদের দলিলসমূহ অকাট্য। প্রতিটি দলই কোনো না কোনো খেয়াল-খুশির দিকে ঝুঁকে থাকে যার দিকে তারা ফিরে যায় এবং তারা নিজেদের রায় বা মতামতকে উত্তম মনে করে তাতে নিবিষ্ট থাকে; কেবল হাদিসপন্থীরা ব্যতীত। কেননা কিতাব (কুরআন) তাদের সম্বল, সুন্নাহ তাদের দলিল, রাসূল তাদের দল এবং তাঁর দিকেই তাদের সম্বন্ধ। তারা খেয়াল-খুশির অনুগামী হয় না এবং তারা ভ্রুক্ষেপ করে না...
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١١)
الاراء يقبل مِنْهُم مَا رووا عَن الرَّسُول وهم المأمونون عَلَيْهِ الْعُدُول حفظَة الدّين وخزنته وأوعية الْعلم وَحَمَلته إِذا اخْتلف فِي حَدِيث كَا اليهم الرُّجُوع فَمَا حكمُوا بِهِ بهو المقبول المسموع مِنْهُم كل عَالم فَقِيه وامام رفيع نبيه وزاهد فِي قَبيلَة ومخصوص بفضليه وقارىء متقن وخطيب محسن وهم الْجُمْهُور الْعَظِيم وسبيلهم السَّبِيل الْمُسْتَقيم وكل مُبْتَدع باعتقادهم يتظاهر وعللا الافصاح بِغَيْر مذاهبهم لَا يتجاسر من كادهم قصمه الله وَمن عاندهم خذله الله لَا يضرهم من خذلهم وَلَا يفلح من اعتزلهم المحتاط لدينِهِ الى ارشادهم فَقير ويصر النَّاظر بالسوء اليهم حسير وَإِن الله على نَصرهم لقدير اهـ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁরা যা বর্ণনা করেছেন তা-ই গ্রহণ করা হয়; তাঁরাই হচ্ছেন এর ওপর আমানতদার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তাঁরা দ্বীনের রক্ষক ও এর ভাণ্ডার, ইলমের আধার ও এর বাহক। যখন কোনো হাদীস নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়, তখন তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়। তাঁরা যা ফয়সালা করেন, তা-ই গ্রহণযোগ্য ও শ্রুত। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন প্রত্যেক আলেম, ফকীহ, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী প্রাজ্ঞ ইমাম, গোত্রের যাহিদ, বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ব্যক্তি, দক্ষ ক্বারী এবং নিপুণ খতীব। তাঁরাই বিশাল এক জামাআত এবং তাঁদের পথই হলো সরল সঠিক পথ। প্রত্যেক বিদআতী ব্যক্তি তাঁদের বিশ্বাসের অনুসারী হওয়ার ভান করে এবং তাঁদের মাযহাব ব্যতীত অন্য কিছু প্রকাশ্যে ব্যক্ত করার সাহস দেখায় না। যে ব্যক্তি তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, আল্লাহ তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করবেন; আর যে তাঁদের সাথে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেন। যারা তাঁদের সহায়তা করা ছেড়ে দেয়, তারা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং যারা তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তারা সফলকাম হয় না। যে ব্যক্তি তার দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে চায়, সে তাঁদের নির্দেশনার মুখাপেক্ষী। আর যারা তাঁদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, তাদের দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌فصل طَالب الْعلم

يَقُول الشَّاعِر:

رَأَيْت الْعلم صَاحبه شرِيف … وَإِن وَلدته اباء لئام

وَلَيْسَ يزَال يرفعهُ إِلَى أَن … يعظم قدره الْقَوْم الْكِرَام

ويتبعونه فِي كل أَمر … كرَاع الضَّأْن تتبعه السوام

وَيحمل قَوْله فِي كل أفق … وَمن يَك عَالما فَهُوَ الامام

فلولا الْعلم مَا سعدت نفوس … وَلَا عرف الْحَلَال وَلَا الْحَرَام

فبالعلم النجَاة من المخازي … وبالجهل المذلة والرغام

هُوَ الْهَادِي الدَّلِيل إِلَى الْمَعَالِي … ومصباح يضيء بِهِ الظلام

كَذَاك عَن الرَّسُول اتى عَلَيْهِ … من الله التَّحِيَّة وَالسَّلَام

وَقَالَ بعض السّلف فِي قَوْله تَعَالَى يَوْم نَدْعُو كل أنَاس بإمامهم هَذَا أكبر شرف لأَصْحَاب الحَدِيث لِأَن امامهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَيَكْفِي فِي بَيَان فضل أهل الحَدِيث أَنهم اكثر النَّاس حظا من فضل الصَّلَاة على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُم يخلدُونَ ذكره فِي كِتَابهمْ ويجددون الصَّلَاة وَالتَّسْلِيم عَلَيْهِ فِي مُعظم الْأَوْقَات فِي مجَالِس مذكراتهم ودروسهم فهم إِن شَاءَ الله تَعَالَى الْفرْقَة النَّاجِية جعلنَا الله مِنْهُم وحشرنا فِي زمرتهم فَكفى خَادِم الحَدِيث فضلا دُخُوله فِي دَعوته صلى الله عليه وسلم حَيْثُ قَالَ نضر الله امرا سمع مَقَالَتي فحفظها ووعاها وأدها وَهُوَ حَدِيث متواتر روى بالفاظ مُخْتَلفَة مُتَقَارِبَة وَقد نَص على تواتره غير وَاحِد من الْعلمَاء وَهُوَ مخرج عِنْدِي فِي تحقيقي لرسائل ابْن عَتيق يسر الله طبعها وانتشارها
জ্ঞান অন্বেষণকারীর মর্যাদা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ

কবি বলেন:

আমি দেখেছি জ্ঞান তার অধিকারীকে মর্যাদাশীল করে … যদিও সে হীন বংশে জন্মগ্রহণ করে।

এটি তাকে ক্রমাগত উচ্চাসনে আরোহণ করায়, যতক্ষণ না … সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ তার মর্যাদাকে মহান হিসেবে গণ্য করে।

এবং তারা প্রতিটি বিষয়ে তাকে অনুসরণ করে … যেমন মেষপালককে তার গবাদিপশু অনুসরণ করে।

দিগন্তজুড়ে তার কথা বয়ে নেয়া হয় … আর যে ব্যক্তি আলেম, সে-ই প্রকৃত ইমাম (নেতা)।

যদি জ্ঞান না থাকত তবে আত্মাসমূহ সৌভাগ্যবান হতো না … এবং হালাল কিংবা হারামকেও চেনা যেত না।

জ্ঞানের মাধ্যমেই লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি মেলে … আর মূর্খতার মাধ্যমেই আসে অপমান ও অবমাননা।

এটিই উচ্চ মর্যাদার দিকে পথপ্রদর্শক ও দিশারি … এবং এমন এক প্রদীপ যা দিয়ে অন্ধকার আলোকোজ্জ্বল হয়।

এভাবেই রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাঁর প্রতি … আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিবাদন ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সালাফদের কেউ কেউ মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেন— "যেদিন আমরা প্রত্যেক জনসমষ্টিকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব" (সুরা বনী ইসরাঈল: ৭১)— এটি হাদিস বিশারদদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান, কারণ তাদের ইমাম স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আহলে হাদিসদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের সওয়াবের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশের অধিকারী। কারণ তারা তাদের কিতাবসমূহে তাঁর স্মরণকে অক্ষয় করে রাখে এবং তাদের আলোচনা সভা ও পাঠদানের অধিকাংশ সময়ে তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠকে নবায়ন করে। অতএব তারা ইনশাআল্লাহ 'নাজাতপ্রাপ্ত দল' (মুক্তিপ্রাপ্ত দল)। আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদের তাদের দলভুক্ত হিসেবে পুনরুত্থিত করুন। হাদিসের খেদমতকারীর জন্য এই ফজিলতটুকুই যথেষ্ট যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছে যেখানে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, তা মুখস্থ রেখেছে, হৃদয়ে ধারণ করেছে এবং তা পৌঁছে দিয়েছে।" এটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস যা কাছাকাছি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। একাধিক আলেম এর মুতাওয়াতির হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। ইবনে আতীক-এর পত্রাবলির ওপর আমার করা গবেষণায় এটি সংকলিত হয়েছে, আল্লাহ এর মুদ্রণ ও প্রচার সহজ করে দিন।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
قَالَ القارى خص مبلغ الحَدِيث كَمَا سَمعه بِهَذَا الدُّعَاء لِأَنَّهُ سعى فِي نضارة الْعلم وتجديد السّنة فجازاه بِالدُّعَاءِ بِمَا يُنَاسب حَاله وَهَذَا يدل على شرف الحَدِيث وفضله ودرجة طلابه حَيْثُ خصهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِدُعَاء لم يُشْرك فِيهِ أحد من الامة وَلَو لم يكن فِي طلب الحَدِيث وَحفظه وتبليغه فَائِدَة سوى أَن يَسْتَفِيد بركَة هَذِه الدعْوَة الْمُبَارَكَة لكفى ذَلِك فَائِدَة وَغنما وَجل فِي الدَّاريْنِ حظا وقسما انْتهى قَالَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة لَيْسَ من أهل الحَدِيث أحد إِلَّا وَفِي وَجهه نَضرة لهَذَا الحَدِيث وَقَالَ القَاضِي ابو بكر بن الْعَرَبِيّ وَقَالَ عُلَمَاء الحَدِيث مَا من رجل يطْلب الحَدِيث الا كَانَ على وجهة نَضرة لقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم نضر الله امْرَءًا سمع مَقَالَتي فرعاها فأداها كَمَا سَمعهَا الحَدِيث قَالَ وَهَذَا دُعَاء مِنْهُ عليه السلام لحملة علمه وَلَا بُد بِفضل الله تَعَالَى من نيل بركته انْتهى والى هَذِه النضرة أَشَارَ أَبُو الْعَبَّاس العزفي بقوله

أهل الحَدِيث عِصَابَة الْحق … فازوا بدعوة سيد الْخلق

فوجوههم زهر منضرة … لألاؤها كتألق السبرق

يَا لَيْتَني مَعَهم فيدركني … مَا ادركوه بهَا من السَّبق

 

وَكَانَ الامام الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى يَقُول لَوْلَا اهل المحابر لخطبت الزَّنَادِقَة على المنابر

وَقَالَ ايضا أهل الحَدِيث فِي كل زمَان كالصحابة فِي زمانهم
কারী বলেন, হাদিস যেভাবে শুনেছেন সেভাবে পৌঁছে প্রদানকারীকে তিনি এই দোয়ার জন্য খাস করেছেন; কারণ তিনি ইলমের সজীবতা এবং সুন্নাহর পুনর্জীবনে সচেষ্ট হয়েছেন। তাই তিনি তাকে এমন দোয়া দ্বারা পুরস্কৃত করেছেন যা তার অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটি হাদিসের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর অন্বেষণকারীদের সুউচ্চ স্তরের প্রমাণ দেয়, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এমন একটি দোয়ার মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন যাতে উম্মতের অন্য কাউকেও শরিক করা হয়নি। হাদিস অন্বেষণ করা, তা মুখস্থ করা এবং তা প্রচার করার মাঝে যদি এই বরকতময় দোয়ার কল্যাণ লাভ করা ছাড়া আর কোনো ফায়দা না-ও থাকত, তবে সেটিই ফায়দা ও গনিমত হিসেবে যথেষ্ট হতো এবং উভয় জাহানে মহা অংশ ও পাওনা হিসেবে গণ্য হতো। (সমাপ্ত)। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেন, হাদিসের অনুসারীদের (আহলুল হাদিস) মধ্যে এমন কেউ নেই যার চেহারায় এই হাদিসের কারণে সজীবতা ও উজ্জ্বলতা নেই। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি বলেন এবং হাদিস বিশারদগণ বলেন, হাদিস অন্বেষণকারী এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার চেহারায় সজীবতা বিরাজ করে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা হৃদয়ে ধারণ করল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিল।" তিনি বলেন, এটি তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর ইলম বহনকারীদের জন্য দোয়া, আর আল্লাহর অনুগ্রহে এর বরকত অর্জিত হওয়া সুনিশ্চিত। (সমাপ্ত)। আর এই সজীবতার প্রতিই আবু আব্বাস আল-আজফী তাঁর বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন:

আহলুল হাদিস হলো হকের জামাত … তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার দোয়া লাভে সফল হয়েছে।

ফলে তাদের চেহারাগুলো প্রস্ফুটিত ও সজীব … যার দ্যুতি উজ্জ্বল নক্ষত্রের চমকের মতো।

হায়! আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তবে তারাও যে অগ্রগামিতা অর্জন করেছে আমিও তা লাভ করতে পারতাম।

 

ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, যদি দোয়াতধারীরা (হাদিস লেখক ও সংকলকগণ) না থাকতেন, তবে জিন্দিকরা মিম্বরগুলোতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিত।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক যুগের আহলুল হাদিসগণ তাদের যুগে সাহাবায়ে কেরামের সমতুল্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٤)
وَقَالَ أَيْضا إِذا رَأَيْت صَاحب حَدِيث فَكَأَنِّي رَأَيْت احدا من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ احْمَد بن سُرَيج يَقُول أهل الحَدِيث أعظم دَرَجَة من الْفُقَهَاء لاعتنائهم بضبط الاصول وَكَانَ ابو بكر بن عَيَّاش يَقُول أهل الحَدِيث فِي كل زمَان كَأَهل الْإِسْلَام مَعَ الاهل الاديان وَكَانَ الاعمش يَقُول عَلَيْكُم بملازمة السّنة وعلموها للاطفال فَإِنَّهُم يحفظون على النَّاس دينهم إِذا جَاءَ وقتهم وَكَانَ وَكِيع يَقُول عَلَيْكُم بِاتِّبَاع الائمة الْمُجْتَهدين والمحدثين فَإِنَّهُم يَكْتُبُونَ مَا لَهُم وَمَا عَلَيْهِم بِخِلَاف أهل الْأَهْوَاء والرأى فَإِنَّهُم لَا يكتون قطّ مَا عَلَيْهِم وَكَانَ الشّعبِيّ وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي يُزْجَرَانِ كل من رأياه يتدين بِالرَّأْيِ وينشدان

دين النَّبِي مُحَمَّد أَخْبَار … نعم المطية للفتى الاثار

لَا ترغبن عَن الحَدِيث وَأَهله … فالرأى ليل والْحَدِيث نَهَار

وَكَانَ مُجَاهِد يَقُول لاصحابه لَا تكْتبُوا عَنى كل مَا افتت بِهِ وانما يكْتب الحَدِيث وَلَعَلَّ كل شَيْء افتيتكم بِهِ الْيَوْم أرجع عَنهُ غَدا وَكَانَ ابو عَاصِم يَقُول اذا تبحر الرجل فِي الحَدِيث كَانَ النَّاس عِنْده كالبقر وَقَالَ الزُّهْرِيّ لَا يطْلب الحَدِيث من الرِّجَال الا ذكرانها وَلَا يزهد فِيهِ الا اناثها وَفِي غير هَذِه الرِّوَايَة الحَدِيث ذكر يُحِبهُ ذُكُور الرِّجَال وَقَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ مَا شَيْء اخوف عِنْدِي من الحَدِيث وَلَا شَيْء أفضل مِنْهُ لمن اراد بِهِ مَا عِنْد الله
তিনি আরও বলেছেন, যখন আমি হাদীসের কোনো অনুসারীকে দেখি, তখন মনে হয় যেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে কাউকে দেখছি। আহমদ ইবনে সুরায়জ বলতেন, হাদীসপন্থীরা ফকীহদের তুলনায় অধিক উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, কারণ তারা মূলনীতিসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণে মনোযোগী। আবু বকর ইবনে আইয়াশ বলতেন, প্রত্যেক যুগে হাদীসপন্থীরা হলো অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মুসলমানদের মতো। আমাশ বলতেন, তোমরা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো এবং শিশুদের তা শিক্ষা দাও, কারণ যখন তাদের সময় আসবে, তারা মানুষের জন্য তাদের দ্বীনকে রক্ষা করবে। ওয়াকী' বলতেন, তোমরা মুজতাহিদ ইমাম ও মুহাদ্দিসদের অনুসরণ করো, কারণ তারা তাদের পক্ষে এবং বিপক্ষে যায় এমন সব কিছুই লিপিবদ্ধ করেন। এর বিপরীতে প্রবৃত্তি ও নিজস্ব রায়ের অনুসারীরা তাদের বিপক্ষে যায় এমন কোনো বিষয় কখনোই লিখে রাখে না। শা’বী এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এমন কাউকে দেখলে ধমক দিতেন যে নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে দ্বীন পালন করে এবং তারা আবৃত্তি করতেন:

নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীন হলো আসার বা বর্ণনা … কোনো যুবকের জন্য আসারই হলো সর্বোত্তম বাহন।

তুমি হাদীস ও হাদীসওয়ালাদের থেকে বিমুখ হয়ো না … কারণ নিজস্ব রায় হলো রাত আর হাদীস হলো দিন।

মুজাহিদ তাঁর সাথীদের বলতেন, আমি যা ফতোয়া দেই তার সবকিছু তোমরা লিখো না; কেবল হাদীসই লিখতে হয়। সম্ভবত আজ আমি তোমাদের যে বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছি, আগামীকাল আমি তা থেকে ফিরে আসব। আবু আসিম বলতেন, যখন কোনো ব্যক্তি হাদীসশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করে, তখন তার কাছে সাধারণ মানুষ গবাদি পশুর মতো মনে হয়। যুহরী বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে যারা পৌরুষদীপ্ত তারাই কেবল হাদীস অন্বেষণ করে এবং যারা নারীসুলভ তারাই এর প্রতি অনাগ্রহ দেখায়। অন্য এক বর্ণনায় আছে: হাদীস হলো পৌরুষদীপ্ত বিষয়, যা পুরুষদের মধ্যে পৌরুষদীপ্ত ব্যক্তিরাই পছন্দ করে। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আমার কাছে হাদীসের চেয়ে অধিক ভয়ের কোনো বিষয় নেই, আবার যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, তার জন্য এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَجَاء عَن الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَغَيرهم مثل ذَلِك فَكَانَ الامام ابو حنيفَة يَقُول اياكم وَالْقَوْل فِي دين الله تَعَالَى بِالرَّأْيِ عَلَيْكُم بِاتِّبَاع السّنة فَمن خرج عَنْهَا ضل وَدخل عَلَيْهِ مرّة رجل من أهل الْكُوفَة والْحَدِيث يقْرَأ عِنْده فَقَالَ الرجل دَعونَا من هَذِه الاحاديث فزجره أَبُو حنيفَة أَشد الزّجر وَقَالَ لَهُ لَوْلَا السّنة مَا فهم اُحْدُ منا الْقرَان وَقيل لَهُ مرّة قد ترك النَّاس الْعَمَل بِالْحَدِيثِ واقبلوا على سَمَاعه فَقَالَ نفس سماعهم للْحَدِيث عمل بِهِ وكا ن يَقُول لم تزل النَّاس فِي صَلَاح مَا دَامَ فيهم من يطْلب الحَدِيث فَإِذا طلبُوا الْعلم بِلَا حَدِيث فسدوا وَجَاء فِي حَاشِيَة ابْن عابدين فِي رِسَالَة رسم الْمُفْتِي وَفِي ايقاظ الهمم للفلاني وَنقل ابْن عابدين عَن شرح الْهِدَايَة لِابْنِ الشّحْنَة الْكَبِير شيخ ابْن الْهمام مَا نَصه إِذا صَحَّ الحَدِيث وَكَانَ على خلاف الْمَذْهَب عمل بِالْحَدِيثِ وَيكون ذَلِك مذْهبه وَلَا يخرج مقلده عَن كَونه حنفيا بِالْعَمَلِ بِهِ فقد سح عَن ابي حنيفَة انه قَالَ إِذا صَحَّ الحَدِيث فَهُوَ مذهبي وَقد حكى ذَلِك الامام ابْن عبد الْبر عَن ابي حنيفَة وَغَيره من الْأَئِمَّة وَأما الامام مَالك رحمه الله فَقَالَ إِنَّمَا أَنا بشر اخطىء وَأُصِيب فانظروا فِي رأيى فَكل مَا وَافق الْكتاب وَالسّنة فَخُذُوهُ وكل مَا لم يُوَافق الْكتاب وَالسّنة فاتركوه وَقد اشْتهر عِنْد الْمُتَأَخِّرين قَول الامام مَالك لَيْسَ أحد بعد النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَّا وَيُؤْخَذ من قَوْله وَيتْرك الا النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقد صحّح هَذَا
অনুরূপ বক্তব্য চার ইমাম ও অন্যান্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা বলতেন, “আল্লাহ তাআলার দ্বীনের বিষয়ে নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে কথা বলা থেকে তোমরা বিরত থাকো। তোমাদের ওপর সুন্নাহর অনুসরণ আবশ্যক। যে ব্যক্তি সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হলো, সে পথভ্রষ্ট হলো।” জনৈক কুফাবাসী ব্যক্তি একবার তাঁর নিকট প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে, তাঁর নিকট হাদিস পাঠ করা হচ্ছিল। লোকটি বলল, “আমাদের এসব হাদিস থেকে অব্যাহতি দিন।” এতে আবু হানিফা তাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে ধমক দিলেন এবং বললেন, “যদি সুন্নাহ না থাকত, তবে আমাদের কেউ কুরআন অনুধাবন করতে পারত না।” তাঁকে একবার বলা হলো, “মানুষ হাদিস অনুযায়ী আমল করা ছেড়ে দিয়েছে এবং কেবল তা শ্রবণে মনোনিবেশ করেছে।” তিনি বললেন, “তাদের হাদিস শ্রবণ করাই হলো এর ওপর আমল করা।” তিনি বলতেন, “মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের ওপর থাকবে, যতক্ষণ তাদের মধ্যে হাদিস অন্বেষণকারী বিদ্যমান থাকবে। আর যখন তারা হাদিস ব্যতিরেকে ইলম অন্বেষণ করবে, তখন তারা কলুষিত হবে।” ইবনে আবিদীনের হাশিয়াতে ‘রসমুল মুফতি’ নামক রিসালায় এবং ফুলানীর ‘ইক্বাজুল হিমাম’ গ্রন্থে এসেছে; ইবনে আবিদীন ইবনুল হুমামের উস্তাদ ইবনে শুহনা আল-কাবীরের ‘শরহুল হিদায়া’ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তার পাঠ হলো: “যখন হাদিস সহিহ প্রমাণিত হবে এবং তা মাজহাবের পরিপন্থী হবে, তখন হাদিস অনুযায়ী আমল করা হবে এবং সেটিই হবে তাঁর মাজহাব। এর ওপর আমল করার কারণে তাঁর মুকাল্লিদ হানাফি হওয়া থেকে বিচ্যুত হবে না।” আবু হানিফা থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, “যখন হাদিস সহিহ হবে, সেটিই আমার মাজহাব।” ইমাম ইবনে আব্দুল বার আবু হানিফা ও অন্যান্য ইমামদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন, “নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ, ভুল করি এবং সঠিকও বলি। সুতরাং তোমরা আমার মতামতের প্রতি লক্ষ্য করো; কিতাব ও সুন্নাহর অনুকূলে যা কিছু পাও তা গ্রহণ করো, আর যা কিতাব ও সুন্নাহর অনুকূলে নয় তা বর্জন করো।” আর পরবর্তীদের নিকট ইমাম মালিকের এই উক্তিটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণও করা যায় এবং বর্জনও করা যায়—একমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া।” আর এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٦)
القَوْل عَنهُ ابْن عبد الْهَادِي فِي ارشاد السالك وَرَوَاهُ ابْن عبد الْبر فِي الْجَامِع وَابْن حزم فِي اصول الاحكام من قَول الحكم بن عتيبة وَمُجاهد وَأوردهُ السُّبْكِيّ فِي الفتاوي من قَول ابْن عَبَّاس مُتَعَجِّبا من حسنه ثمَّ قَالَ وَأخذ هَذِه الْكَلِمَة من ابْن عَبَّاس مُجَاهِد واخذها مِنْهُمَا مَالك واشتهرت عَنهُ اهـ ثمَّ اخذها عَنْهُم الامام احْمَد بعد ذَلِك وَأما الامام الشَّافِعِي رحمه الله فالنقول عَنهُ فِي ذَلِك اكثر وَأطيب وَأَتْبَاعه اكثر عملا بهَا وأسعد فَمِنْهَا مَا روى الْحَاكِم والبيعقي عَنهُ أَنه كَانَ يَقُول إِذا سح الحَدِيث فَهُوَ مذهبي قَالَ ابو حزم أَي صَحَّ عِنْده اَوْ عِنْد غَيره من الْأَئِمَّة وَفِي رِوَايَة اخرى إِذا رَأَيْتُمْ كَلَامي يُخَالف كَلَام رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فاعملوا بِكَلَام رَسُول الله صلى الله عليه وسلم واضربوا بكلامي الْحَائِط وروى عَنهُ أَنه قَالَ إِذا رَأَيْتُمُونِي اقول قولا وَقد صَحَّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم خِلَافه فاعلموا أَن عَقْلِي قد ذهبوروى الْبَيْهَقِيّ عَن الامام احْمَد أَنه كَانَ إِذا سُئِلَ عَن مَسْأَلَة يَقُول أَو لأحد كَلَام مر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يتبرأ كثيرا من رأى الرِّجَال وَيَقُول لَا ترى احدا ينظر فِي كتب الرَّأْي غَالِبا إِلَّا وَفِي قلبه دخل وَكَانَ وَلَده عبد الله يَقُول سَأَلت الامام احْمَد عَن الرجل يكون فِي بلد لَا يجد فِيهَا الا صَاحب حَدِيث لَا يعرف صَحِيحه من سقيمه وَصَاحب رأى فَمن يسْأَل مِنْهُمَا عَن دينه فَقَالَ يسْأَل صَاحب الحَدِيث وَلَا يسْأَل صَاحب الرأى وَنقل ابْن الْقيم عَنهُ قَوْله لَا تقلدني وَلَا تقلد مَالِكًا وَلَا الشَّافِعِي وَلَا الاوزاعي وَلَا الثَّوْريّ وَخذ من حَيْثُ اخذوا اهـ

ইবনে আব্দুল হাদি 'ইরশাদুস সালিক' গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্দুল বার 'আল-জামি' গ্রন্থে এবং ইবনে হাজম 'উসুলুল আহকাম' গ্রন্থে হাকাম ইবনে উতাইবা ও মুজাহিদের উক্তি হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আর সুবকী তাঁর 'ফাতাওয়া' গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের উক্তি হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন এর সৌন্দর্যে বিস্মিত হয়ে। অতঃপর তিনি বলেছেন: এই কথাটি ইবনে আব্বাস থেকে মুজাহিদ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের উভয়ের থেকে মালিক গ্রহণ করেছেন আর এটি তাঁর থেকেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। সমাপ্ত। এরপর ইমাম আহমাদ তাঁদের থেকে এটি গ্রহণ করেছেন। আর ইমাম শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে এই সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো আরও বেশি ও উত্তম; আর তাঁর অনুসারীরা এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগামী ও সৌভাগ্যবান। তার মধ্যে একটি হলো যা হাকেম এবং বায়হাকী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: যখন হাদীস সহীহ হবে, সেটিই আমার মাযহাব। আবু হাযম বলেছেন: অর্থাৎ তা তাঁর কাছে অথবা অন্য কোনো ইমামের কাছে সহীহ প্রমাণিত হওয়া। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: যখন তোমরা আমার কথাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার পরিপন্থী দেখবে, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার ওপর আমল করো এবং আমার কথাকে দেয়ালে ছুড়ে মারো। এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: যখন তোমরা আমাকে কোনো কথা বলতে দেখবে অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার বিপরীত (হাদীস) সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে, তখন জেনে রেখো যে আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। বায়হাকী ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে যখন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার সামনে আর কারো কি কোনো কথা থাকতে পারে? তিনি মানুষের ব্যক্তিগত মতামতের (রায়) ব্যাপারে অধিক অনীহা প্রকাশ করতেন এবং বলতেন: তুমি সাধারণত এমন কাউকে দেখবে না যে রায়ের কিতাবসমূহ অধিক পাঠ করে অথচ তার অন্তরে কোনো ব্যাধি নেই। তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ বলতেন: আমি ইমাম আহমাদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে এমন এক শহরে থাকে যেখানে সে কেবল এমন একজন হাদীসওয়ালা ব্যক্তিকে পায় যিনি সহীহ ও যয়ীফ হাদীসের পার্থক্য জানেন না, আর পায় একজন রায়ওয়ালা (ব্যক্তিগত মতামতের অনুসারী) ব্যক্তিকে। সে তার দ্বীন সম্পর্কে তাদের মধ্যে কাকে জিজ্ঞাসা করবে? তিনি বললেন: সে হাদীসওয়ালা ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করবে এবং রায়ওয়ালা ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করবে না। ইবনুল কায়্যিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তোমরা আমার তাকলীদ করো না, মালিক, শাফিয়ী, আওযায়ী কিংবা সাওরিরও তাকলীদ করো না; বরং তাঁরা যেখান থেকে (দলীল) গ্রহণ করেছেন তোমরাও সেখান থেকেই গ্রহণ করো। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٧)
فطوبى لمن جد فِيهِ وَحصل مِنْهُ على تنويه يملك من الْعُلُوم النواصي وَيقرب من اطرافها الْبعيد القاصي وَمن لم يرضع من دره وَلم يخض فِي بحره وَلم يقتطف من زهره ثمَّ تعرض الْكَلَام فِي الْمسَائِل والاحكام فقد جَار فِيمَا حكم وَقَالَ على الله تَعَالَى مَا لم يعلم كَيفَ وَهُوَ كَلَام رَسُول الله صلى الله صلى الله عليه وسلم وَالرَّسُول اشرف الْخلق كلهم اجمعين وَقد اوتى جَوَامِع الْكَلم وسواطع الحكم من عِنْد رب الْعَالمين فَكَلَامه اشرف الْكَلم وأفضلها واجمع الحكم واكملها
সুতরাং সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে এতে সাধনা করেছে এবং এর মাধ্যমে এমন সুখ্যাতি অর্জন করেছে যা তাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের শীর্ষবিন্দুগুলো আয়ত্ত করতে সাহায্য করে এবং এর দূরবর্তী প্রান্তসমূহকে নিকটবর্তী করে দেয়। আর যে ব্যক্তি এর সুধা পান করেনি, এর সমুদ্রে অবগাহন করেনি এবং এর পুষ্প আহরণ করেনি, অতঃপর মাসআলা ও আহকাম বিষয়ে কথা বলতে উদ্যত হয়েছে, সে তার বিচারে অবিচার করেছে এবং আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে এমন কথা বলেছে যা সে জানে না। তা কেন হবে না? অথচ এটি আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বাণী; আর রাসূল হলেন সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁকে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী ও প্রোজ্জ্বল প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে। সুতরাং তাঁর বাণী সকল বাণীর মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর প্রজ্ঞা সকল প্রজ্ঞার মধ্যে সর্বাধিক তথ্যসমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌أثر لطيف رَوَاهُ القَاضِي عِيَاض (ص 29) من الالماع بِسَنَد فِيهِ أَبُو عصمَة نوح ابْن نصر وَكَذَلِكَ المقرى (1622) من نفح الطّيب والقسطلاني فِي مُقَدّمَة فِي توضيح مُقَدّمَة الْقُسْطَلَانِيّ (ص 87) وَرَوَاهُ السُّيُوطِيّ فِي تدريب الرَّاوِي (2156 و 157 و 158) بِسَنَد اخر ظَاهِرَة الصِّحَّة وَالله اعْلَم ثنتاهم اي الطَّرِيقَيْنِ قَالَا سمعنَا أباذر عمار بن مُحَمَّد بن مخلد التَّمِيمِي يَقُول سَمِعت أَبَا المظفر مُحَمَّد بن احْمَد بن حَامِد البُخَارِيّ يَقُول لما عزل أَبُو الْعَبَّاس الْوَلِيد بن ابراهيم بن زيد الْهَمدَانِي عَن قَضَاء الرىء ورد بخاري لتجديد مَوَدَّة كَانَت بَيِّنَة وَبَين ابي الْفضل البلعمي فَنزل فِي جوارنا فَحَمَلَنِي معلمى ابو ابراهيم اسحاق بن ابراهيم الْخُتلِي اليه وَقَالَ لَهُ اسألك أَن تحدث هَذَا الصَّبِي بِمَا سَمِعت من مشايخك فَقَالَ مَا لي سَماع قَالَ فَكيف وَأَنت فَقِيه فَمَا هَذَا
একটি সূক্ষ্ম বর্ণনা যা কাজী আইয়াজ বর্ণনা করেছেন (পৃষ্ঠা ২৯) আল-ইলমা গ্রন্থ থেকে, এমন এক সনদে যাতে আবু ইসমা নুহ ইবনে নাসর রয়েছেন। একইভাবে মুকরি (১৬/২২) নাফহুত তীব গ্রন্থে এবং কাসতালানি তার তাওদিহ মুকাদ্দিমা আল-কাসতালানি (পৃষ্ঠা ৮৭) এর ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। আর সুয়ূতী তাদরীবুর রাবী (২/১৫৬, ১৫৭ ও ১৫৮) গ্রন্থে অন্য একটি সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যার বাহ্যিক দিকটি সহীহ বলে প্রতীয়মান হয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তারা উভয়ই—অর্থাৎ দুটি সূত্রই—বলেছেন: আমরা আবু জর আম্মার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আত-তামিমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল মোজাফফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামিদ আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যখন আবুল আব্বাস আল-ওয়ালিদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে যায়েদ আল-হামদানিকে রাই শহরের বিচারকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, তখন তিনি আবুল ফজল আল-বাল'আমির সাথে বিদ্যমান প্রগাঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নবায়নের জন্য বুখারায় আসলেন। তিনি আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে অবস্থান করলেন। তখন আমার শিক্ষক আবু ইব্রাহিম ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-খুতলি আমাকে তার কাছে নিয়ে গেলেন এবং তাকে বললেন, আমি আপনার কাছে অনুরোধ করছি যে, আপনি আপনার শায়খদের থেকে যা শুনেছেন তা যেন এই বালককে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, আমার কোনো শ্রবণকৃত রেওয়ায়েত নেই। তিনি (শিক্ষক) বললেন, এটি কীভাবে সম্ভব যখন আপনি একজন ফকিহ? এটি কেমন কথা?
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ١٩)
قَالَ لِأَنِّي لما بلغت مبلغ الرِّجَال تاقت نَفسِي الى معرفَة الحَدِيث وَمَعْرِفَة الرِّجَال ودارية الاخبار وسماعها فقصدت مُحَمَّد بن اسماعيل البُخَارِيّ ببخارى صَاحب التَّارِيخ والمنظور اليه فِي معرفَة الحَدِيث واعلمته مرادى وَسَأَلته الاقبال على فِي ذَلِك فَقَالَ لي يَا بني لَا تدخل فِي أَمر الا بعد معرفَة حُدُوده وَالْوُقُوف على مقاديره فَقلت لَهُ عرفني رَحِمك الله حُدُود مَا قصدتك لَهُ ومقادير مَا سَأَلتك عَنهُ فَقَالَ لي اعْلَم أَن الرجل لَا يصير مُحدثا كَامِلا فِي حَدِيثه إِلَّا بعد أَن يكْتب أَرْبعا من ارْبَعْ كأربع مثل ارْبَعْ فِي ارْبَعْ عِنْد ارْبَعْ بِأَرْبَع على أَربع عَن أَربع لأَرْبَع وكل هَذِه الرباعيات مر أَربع فَإِذا تمت لَهُ كلهَا هان عَلَيْهِ ارْبَعْ وابتلى بِأَرْبَع فَإِذا صَبر على ذَلِك اكرمه الله فِي الدُّنْيَا بِأَرْبَع وأثابه فِي الاخرة بِأَرْبَع قلت لَهُ فسر لي رَحِمك الله مَا ذكرت من احوال هَذِه الرباعيات من قلب صَاف بشرح كَاف وَبَيَان شاف طلبا لِلْأجرِ الوافى فَقَالَ نعم أما الْأَرْبَعَة الَّتِي تحْتَاج الى كتبتها هِيَ

1 - أَخْبَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وشرائعه

2 - وَالصَّحَابَة ومقاديرهم

3 - وَالتَّابِعِينَ واحوالهم

4 - وَسَائِر الْعلمَاء وتواريخهم
তিনি বললেন, “যেহেতু আমি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলাম তখন আমার মন হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান, বর্ণনাকারীদের পরিচিতি এবং সংবাদসমূহের অনুধাবন ও তা শ্রবণের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল। অতঃপর আমি বুখারায় ‘আত-তারীখ’ গ্রন্থের রচয়িতা এবং হাদীস শাস্ত্রে প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর নিকট গমন করলাম। আমি তাঁকে আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত করলাম এবং এ বিষয়ে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘হে বৎস! কোনো বিষয়ে তার সীমানা না জেনে এবং তার পরিমাপ সম্পর্কে অবগত না হয়ে তাতে প্রবেশ করো না।’ আমি তাঁকে বললাম, ‘আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আমি যে উদ্দেশ্যে আপনার নিকট এসেছি তার সীমানা এবং যা জিজ্ঞাসা করেছি তার পরিমাপ সম্পর্কে আমাকে অবগত করুন।’ তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘জেনে রেখো, একজন ব্যক্তি তার হাদীস বর্ণনায় ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুহাদ্দিস হতে পারে না, যতক্ষণ না সে চার প্রকারের বিষয় থেকে চারটি জিনিস চারটির মতো করে চারটির মাধ্যমে চারটির মধ্যে চারটির নিকট চারটির সাহায্যে চারটির ভিত্তিতে চারজনের নিকট থেকে চারটির জন্য লিখে নেয়। আর এই সকল চতুষ্টয়ই অত্যন্ত তিক্ত। যখন তার এই সব কিছু পূর্ণ হবে, তখন তার নিকট চারটি বিষয় সহজ হয়ে যাবে এবং সে চারটি বিষয় দ্বারা পরীক্ষিত হবে। অতঃপর সে যদি তাতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে চারটি জিনিস দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং আখিরাতে তাকে চারটি পুরস্কার প্রদান করবেন।’ আমি তাঁকে বললাম, ‘আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আপনি এই চতুষ্টয়গুলোর যে অবস্থার কথা উল্লেখ করলেন, পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ও তৃপ্তিদায়ক বর্ণনার মাধ্যমে তা আমার কাছে বিশ্লেষণ করুন।’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমাকে যে চারটি বিষয় লিখতে হবে তা হলো—’

1 - আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ এবং তাঁর শরীয়তের বিধানাবলী

2 - সাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের মর্যাদার স্তরসমূহ

3 - তাবিঈগণ এবং তাঁদের অবস্থা

4 - অন্যান্য সকল উলামায়ে কিরাম এবং তাঁদের ইতিহাস (জীবনচরিত)
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
(مَعَ أَربع) مَعَ أَسمَاء رِجَالهمْ وَكُنَاهُمْ وأمكنتهم وأزمنتهم (كأربع) كالتحميد مَعَ الْخطب وَالدُّعَاء مَعَ الترسل والبسملة مَعَ السُّورَة وَالتَّكْبِير مَعَ الصَّلَوَات (مثل أَربع) مثل المسندات والمرسلات والموقوفات والمقطوعات (فِي ارْبَعْ) فِي صغره وَفِي إِدْرَاكه وَفِي شبابه وَفِي كهولته (عِنْد ارْبَعْ) عِنْد فَرَاغه وَعند شغله وَعند فقرة وَعند غناهُ بِأَرْبَع بالجبال والبحار والبلدان والبراري (على ارْبَعْ) على الاحجار والاصداف والجلود والاكتاف الى الْوَقْت الَّذِي يُمكنهُ نقلهَا الى الاوراق عَن ارْبَعْ عَمَّن هُوَ فَوْقه وَعَمن هُوَ مثله وَعَمن هُوَ دونه وَعَن كتاب ابيه يتَيَقَّن أَنه بِخَط أَبِيه دون غَيره (لأَرْبَع)
(চারটির সাথে) তাদের ব্যক্তিবর্গের নাম, উপনাম, স্থান এবং সময়ের সাথে (চারটির মতো) যেমন খুতবার সাথে আল্লাহর প্রশংসা, চিঠিপত্রের সাথে দুয়া, সূরার সাথে বিসমিল্লাহ এবং সালাতসমূহের সাথে তাকবীর (চার প্রকারের ন্যায়) যেমন মুসনাদ, মুরসাল, মাওকুফ এবং মাকতু বর্ণনাগুলো (চারটি অবস্থায়) শৈশবে, বোধশক্তি হওয়ার বয়সে, যৌবনে এবং প্রৌঢ়ত্বে (চারটি সময়ে) অবসরের সময়, ব্যস্ততার সময়, অভাবের সময় এবং সচ্ছলতার সময়; চারটির মাধ্যমে: পাহাড়ে, সমুদ্রে, জনপদে এবং মরুপ্রান্তরে (চারটির ওপর) পাথরের ওপর, ঝিনুকের ওপর, চামড়ার ওপর এবং কাঁধের হাড়ের ওপর, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেগুলো কাগজে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়; চার উৎস থেকে: এমন ব্যক্তির থেকে যিনি তার ঊর্ধ্বে, এমন ব্যক্তির থেকে যিনি তার সমপর্যায়ের, এমন ব্যক্তির থেকে যিনি তার নিচের পর্যায়ের এবং তার পিতার কিতাব থেকে, যে বিষয়ে সে নিশ্চিত যে এটি অন্য কারো নয় বরং তার পিতারই হস্তাক্ষর (চারটির জন্য)
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢١)
لوجه الله تَعَالَى طَالبا لمرضاته وَالْعَمَل بِمَا وَافق كتاب الله تَعَالَى مِنْهَا ونشرها بَين طالبيها ومحبيها والتأليف فِي احباء ذكره بعده ثمَّ لَا تتمّ لَهُ هَذِه الاشياء الا بِأَرْبَع من كسب العَبْد معرفَة الْكِتَابَة واللغة وَالصرْف والنحو مَعَ ارْبَعْ عَن من عَطاء الله تَعَالَى الصِّحَّة وَالْقُدْرَة والحرص وَالْحِفْظ فإاذا تمت لَهُ هَذِه الاشياء هان عَلَيْهِ ارْبَعْ الْأَهْل وَالْولد وَالْمَال والوطن وابتلى بِأَرْبَع شماتة الاعداء وملامة الاصدقاء وَطعن الجهلاء وحسد الْعلمَاء فإاذا صَبر على هَذِه المحن اكرمه الله تَعَالَى فِي الدُّنْيَا بِأَرْبَع بعز القناعة وبهيبة الْيَقِين وبلذة الْعلم وبحياة الْأَبَد وأثابه فِي الاخرة بِأَرْبَع بالشافعة لمن أَرَادَ من اخوته وبظل الْعَرْش يَوْم لَا ظلّ الا ظله وبسقى من أَرَادَ من حَوْض مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وبجوار النَّبِيين فِي اعلى عليين فِي الْجنَّة فقد اعلمتك يَا بني بمجملات جَمِيع مَا اكنت سمعته من مشايخي مُتَفَرقًا فِي هَذَا الْبَاب فَأقبل الان على قصدتني لَهُ أَو دع

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণে এবং তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, এবং সেগুলোর মধ্য থেকে যা মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তদনুযায়ী আমল করার জন্য, এবং জ্ঞানান্বেষী ও জ্ঞানপিপাসুদের মাঝে তা প্রচার করার জন্য এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির পুনরুজ্জীবনে গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে। অতঃপর, বান্দার নিজস্ব উপার্জিত চারটি বিষয় ব্যতীত এই কাজগুলো পূর্ণতা পায় না: লিখনশৈলী, ভাষা, শব্দতত্ত্ব (সরফ) এবং ব্যাকরণ (নাহু) সংক্রান্ত জ্ঞান। এর সাথে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত আরও চারটি বিষয় আবশ্যক: সুস্বাস্থ্য, সক্ষমতা, প্রগাঢ় আগ্রহ এবং মুখস্থ রাখার শক্তি। যখন এই বিষয়গুলো তার জন্য পূর্ণতা পায়, তখন তার কাছে চারটি বিষয় তুচ্ছ হয়ে যায়: পরিবার, সন্তান, সম্পদ এবং স্বদেশ। এরপর সে চারটি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়: শত্রুদের উপহাস, বন্ধুদের ভর্ৎসনা, মূর্খদের কটূক্তি এবং আলেমদের হিংসা। যদি সে এই পরীক্ষাগুলোতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে মহান আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে চারটি নিআমত দ্বারা সম্মানিত করবেন: অল্পে তুষ্টির মর্যাদা, দৃঢ় বিশ্বাসের গাম্ভীর্য, ইলমের মিষ্টতা এবং চিরস্থায়ী জীবন। আর পরকালে তাকে চারটি পুরস্কার দান করবেন: তার ভাইদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তার জন্য সুপারিশ করার সুযোগ, আরশের ছায়া—যেদিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, যাকে ইচ্ছা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাউজ থেকে পান করানোর অধিকার এবং জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম 'ইল্লিয়্যিন'-এ নবীগণের সান্নিধ্য। হে বৎস! এই বিষয়ে আমি আমার শায়খদের নিকট থেকে যা কিছু বিক্ষিপ্তভাবে শুনেছিলাম, তার সারসংক্ষেপ তোমাকে অবগত করলাম। সুতরাং এখন তুমি যে উদ্দেশ্যে আমার নিকট এসেছ তাতে মনোনিবেশ করো অথবা তা বর্জন করো।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌تَرْجَمَة الْحَافِظ اللوبدي كَاتب المخطوطة

احْمَد بن خَلِيل بن احْمَد بن ابراهيم بن ابي بكر الشهَاب الدِّمَشْقِي الصَّالِحِي الشَّافِعِي سبط الْجمال يُوسُف بن مُحَمَّد بن احْمَد الحجيني اُحْدُ المسندين الاتى فِي مَحَله وَيعرف بِابْن اللبودي وَابْن عرعر وَلكنه بالاولى اشهر ولد فِي سَابِع عشر شعْبَان سنة اربر وَثَلَاثِينَ وَثَمَانمِائَة قاسيون من دمشق وَنَشَأ بهَا فحفظ الْقرَان وكتبا واشتغل فِي فنون وَمن شُيُوخه فِي الْفِقْه الْبَدْر بن قَاض شُهْبَة والزين عبد الرَّحْمَن بن النشاوى وَفِي الْعَرَبيَّة الشهَاب زيد وَطلب الحَدِيث وَتخرج بالخيضري فِيمَا قيل وَسمع على الشهَاب احْمَد بن حسن بن عبد الْهَادِي خَاتِمَة أَصْحَاب الصّلاح بن ابي عمر بِالسَّمَاعِ ومجير الدّين بن الذَّهَبِيّ واخرين اولهم مؤدبه شعْبَان بن مُحَمَّد بن جميل الصَّالِحِي الْحَنْبَلِيّ سمع عَلَيْهِ بِقِرَاءَة الخيضري مُعظم السِّيرَة لِابْنِ هِشَام وتميز وتعافى نظم الشّعْر فبرع وتكسب بِالشَّهَادَةِ بِبَاب الْبَرِيد ولمنا دخلت دمشق بِقِرَاءَتِي على جمع من شيوخها وَكنت استفهمه عَمَّن بهَا من المسندين إِذْ ذَاك فَلَا يكَاد يفصح واوقفني على مُصَنف لَهُ جمع فِيهِ الاواخر ظريف فِي بَابه وعَلى تَارِيخه استفتحه من سنة مولده استمد فِيهِ من تَارِيخ التقى ابْن قَاضِي شُهْبَة وَغَيره وَأَظنهُ خرج الاربعين والمعجم وَكَذَا خرج الاربعين لشيخه الْبَدْر ابْن قَاضِي شُهْبَة بل ارسل الى يذكر أَنه جمع قُضَاة دمشق ثمَّ رَأَيْت نظمه فِي ذَلِك أرسل بِهِ للعز بن فَهد وَبِالْجُمْلَةِ فَمَا رَأَيْت بِدِمَشْق طَالبا لهَذَا الشَّأْن غَيره وَقد كتبت من نظمه ونثره وَأكْثر الاستمداد منى على يَد صاحبنا الْبُرْهَان القادري وَمن ذَلِك الْخِصَال المستودبة للظلال وَبعد أَن فارقته حج ولقى صاحبنا ابْن فَهد وَسمع مِنْهُ وَمن غَيره بعض الشَّيْء ظنا بل قَرَأَ على التقى ابْن فَهد وَكتب لَهُ وَأَنا بِمَكَّة بابلاغي سَلَامه وتعريفي بِكَثْرَة اشواقه واستمراره على نشر ألوية
পাণ্ডুলিপি লেখক হাফিজ আল-লুবাদির জীবনী

আহমদ বিন খলিল বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আবি বকর আশ-শিহাব আদ-দিমাশকি আস-সালিহি আশ-শাফিয়ি। তিনি আল-জামাল ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হুজাইনির দৌহিত্র, যিনি অন্যতম মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী) ছিলেন এবং যাঁর বর্ণনা যথাস্থানে আসবে। তিনি ইবনুল লুবাদি এবং ইবনু আরআর নামে পরিচিত ছিলেন, তবে প্রথম নামেই তিনি অধিক প্রসিদ্ধ। তিনি ৮৩৪ হিজরি সালের ১৭ই শাবান দামেস্কের কাসিউনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন ও বিভিন্ন কিতাব হিফজ করেন এবং বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় নিমগ্ন হন। ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন আল-বদর ইবনু কাদি শুহবাহ এবং আজ-জাইন আব্দুর রহমান বিন আন-নাশাভি। আরবি ব্যাকরণে তাঁর উস্তাদ ছিলেন আশ-শিহাব জাইদ। তিনি হাদিস অন্বেষণ করেন এবং বলা হয়ে থাকে যে তিনি আল-খাইদারির নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি আশ-শিহাব আহমদ বিন হাসান বিন আব্দুল হাদি-র নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে হাদিস গ্রহণ করেন, যিনি সলাহ বিন আবি উমরের প্রত্যক্ষ শ্রবণকারী ছাত্রদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন। এছাড়াও তিনি মুজিরুদ্দিন ইবনে আজ-জাহাবি ও অন্যদের নিকট থেকেও হাদিস শুনেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি ছিলেন তাঁর শিক্ষক শাবান বিন মুহাম্মদ বিন জামিল আস-সালিহি আল-হাম্বলি, যাঁর কাছে তিনি আল-খাইদারির পাঠের মাধ্যমে ইবনু হিশামের 'সিরাত'-এর অধিকাংশ শুনেছেন। তিনি বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং কবিতা রচনায় পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি বাবুস সারিতে সাক্ষ্যদানের পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যখন আমি দামেস্কে প্রবেশ করে সেখানকার একদল শায়খের নিকট পাঠ করি, তখন আমি তাঁর কাছে সে সময়ের মুসনিদদের (হাদিস বর্ণনাকারীদের) সম্পর্কে জানতে চাইতাম, কিন্তু তিনি প্রায়শই তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতেন না। তিনি আমাকে তাঁর একটি সংকলন দেখান যাতে তিনি 'আওয়াখির' (হাদিসের শেষাংশসমূহ) একত্রিত করেছিলেন, যা এই বিষয়ে বেশ চমৎকার। তিনি তাঁর একটি ইতিহাস গ্রন্থও আমাকে দেখান যা তিনি নিজের জন্মসাল থেকে শুরু করেছিলেন এবং এতে তিনি আত-তাকি ইবনু কাদি শুহবাহ ও অন্যদের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে সাহায্য নিয়েছিলেন। আমার ধারণা তিনি 'আল-আরবাইন' এবং 'আল-মু'জাম' সংকলন করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর উস্তাদ আল-বদর ইবনু কাদি শুহবাহর জন্য 'আল-আরবাইন' সংকলন করেছিলেন। এমনকি তিনি আমার কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে তিনি দামেস্কের বিচারকদের জীবনী সংকলন করেছেন। পরবর্তীতে আমি এ বিষয়ে তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থও দেখেছি যা তিনি আল-ইয বিন ফাহদের নিকট পাঠিয়েছিলেন। সারকথা হলো, আমি দামেস্কে এই বিষয়ের (হাদিস ও ইতিহাস) গবেষক হিসেবে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি। আমি তাঁর পদ্য ও গদ্য থেকে অনেক কিছু লিখে নিয়েছি। তিনি আমাদের বন্ধু আল-বুরহান আল-কাদরির মাধ্যমে আমার থেকে অধিকাংশ তথ্য গ্রহণ করতেন। এর মধ্যে রয়েছে 'আল-খিসালুল মুস্তাউজিবাতি লিজ-জিলাল' (আরশের ছায়া লাভের উপযোগী গুণাবলি)। আমার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি হজ পালন করেন এবং আমাদের বন্ধু ইবনু ফাহদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সম্ভবত তাঁর ও অন্যদের নিকট থেকে কিছু হাদিস শ্রবণ করেন। বরং তিনি আত-তাকি ইবনু ফাহদের নিকট পাঠ করেছেন এবং তিনি তাঁর জন্য প্রত্যয়নপত্র লিখে দিয়েছেন। আমি যখন মক্কায় অবস্থান করছিলাম, তখন তিনি আমাকে সালাম পাঠিয়েছিলেন এবং আমার প্রতি তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও জ্ঞানের ঝাণ্ডা উড্ডীন রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الدُّعَاء وَالثنَاء وَأَنه لَوْلَا مَا يرَاهُ من استصغار نَفسه لكتب الى فَإِنَّهُ من أكبر المحبين ثمَّ أَنه كتب الى بعد ذَلِك طَائِفَة مُشْتَمِلَة على نظم ونثر وأدب كَبِير وتكررت مكاتباته الى وَفِي بَعْضهَا السُّؤَال عَن مُؤَلَّفِي فِي الرَّحْمَة وَنعم هُوَ ذكاء وفضلا وتواضعا وتوددا ولطافة

وَمِمَّا كتب عَنهُ الْعِزّ بن فَهد قَوْله:

قلت لوجه الحبيب يَوْمًا … وَالْقلب قد مل مِنْهُ صجه

قد كنتب تروى عَن ابْن بشر … وَالْيَوْم تروي عَن ابْن عقده

مَاتَ فِي يَوْم الْجُمُعَة قبل الْعَصْر سادس الْمحرم سنة سِتّ وَتِسْعين وَصلى عَلَيْهِ بالجامع الاموي ثي بالجامع المظفري ثمَّ دفن بتربة الْمُوفق ابْن قدامَة عِنْد أَبِيه رحمه الله وإيانا اهـ من الضَّوْء اللامع قلت ذكر صَاحب ايضاح الْمكنون (1101) أَن لَهُ منظمة إِعْلَام الْأَعْلَام بِمن ولى قَضَاء الشَّام قَامَ بشرحها شمس الدّين مُحَمَّد بن عَليّ الْمَعْرُوف بِابْن طولون الدِّمَشْقِي فِي مُجَلد
দোয়া ও প্রশংসা; আর তিনি যদি নিজেকে তুচ্ছ মনে না করতেন তবে অবশ্যই আমার নিকট পত্র লিখতেন, কেননা তিনি অন্যতম প্রধান অনুরাগী। অতঃপর তিনি এরপর আমার নিকট গদ্য, পদ্য ও উচ্চ শিষ্টাচার সংবলিত একগুচ্ছ লেখা পাঠিয়েছিলেন। আমার নিকট তার পত্রালাপ বারবার হয়েছে এবং সেগুলোর কোনোটিতে রহমত বিষয়ক আমার গ্রন্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ছিল। হ্যাঁ, তিনি মেধা, শ্রেষ্ঠত্ব, বিনয়, হৃদ্যতা ও মাধুর্যের অধিকারী ছিলেন।

আল-ইয ইবনে ফাহদ তার সম্পর্কে যা লিখেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

একদিন প্রিয়তমার চেহারার উদ্দেশ্যে বললাম … আর অন্তর তার হট্টগোলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।

তুমি ইবনে বিশর থেকে বর্ণনা করতে … আর আজ ইবনে উকদাহ থেকে বর্ণনা করছ।

তিনি ছিয়ানব্বই সালের ছয়ই মুহাররাম জুমুআর দিন আসরের পূর্বে ইন্তেকাল করেন। উমাইয়া জামে মসজিদে এবং এরপর মুজাফফরী জামে মসজিদে তার জানাজা পড়ানো হয়। অতঃপর তাকে মুওয়াফফাক ইবনে কুদামার কবরস্থানে তার পিতার নিকট দাফন করা হয়, আল্লাহ তার প্রতি এবং আমাদের প্রতি রহম করুন। 'আদ-দাও আল-লামি' থেকে সমাপ্ত।

আমি বলছি: 'ঈযাহুল মাকনুন' (১১০১) গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তার 'ইলামুল আলাম বি-মান ওয়ালি কাদা আশ-শাম' শীর্ষক একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, যা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আলী—যিনি ইবনে তুলুন আদ-দিমাশকি নামে পরিচিত—এক খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌تَرْجَمَة الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ

اسمه ومولده ونشأته عبد الرَّحِيم بن الْحُسَيْن بن عبد الرَّحْمَن بن ابي بكر بن ابراهيم الزين أَبُو الْفضل الْكرْدِي الرازناني الاصل الْمصْرِيّ الشَّافِعِي وَالِد الولى احْمَد وَجُوَيْرِية وَزَيْنَب وَيعرف بالعراقي انتاسبا لعراق الْعَرَب وَهُوَ القكر الاعم والا فَهُوَ كردِي الاصل تحول وَالِده لمصر وَهُوَ صَغِير مَعَ بعض اقربائه فاختص بالشيخ الشريف تَقِيّ الدّين مُحَمَّد بن جَعْفَر بن الشَّيْخ عبد الرَّحِيم بن احْمَد بن حجون القناوي
হাফিজ আল-ইরাকির জীবনী

তাঁর নাম, জন্ম ও লালন-পালন: আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইব্রাহিম, যাইন আবুল ফজল, মূলগতভাবে কুর্দি রাজিনানি, পরবর্তীতে মিসরি ও শাফিঈ। তিনি ওলি আহমদ, জুওয়াইরিয়াহ ও যায়নাব-এর পিতা। আরব ইরাকের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে তিনি ‘আল-ইরাকি’ নামে পরিচিত এবং এটিই বহুল প্রচলিত মত, অন্যথায় তিনি মূলত কুর্দি বংশোদ্ভূত। তাঁর পিতা অল্প বয়সে তাঁর কিছু আত্মীয়ের সাথে মিশরে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি শরিফ তাকিউদ্দিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন শায়খ আবদুর রহিম বিন আহমদ বিন হাজুন আল-কিনায়ি-এর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
الشَّافِعِي شيخ خانقاه رسْلَان بمنشيى المهراني على شاطىء النّيل ولازم أَبوهُ خدمَة الشَّيْخ تَقِيّ وَتزَوج بِأم الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ وَهِي قرينَة صَالِحَة عابدة صابرة قانعة مجتهدة فِي انواع القربات فَولدت لَهُ صَاحب التَّرْجَمَة وَسَماهُ بإسم جد الشَّيْخ تَقِيّ الْأَعْلَى توفّي وَالِده وعمره ثَلَاث سِنِين فَنَشَأَ يَتِيما وَكَانَ كثير التَّرَدُّد على صديق وَالِده الشَّيْخ تقى فيحنو ويعطف عَلَيْهِ ويكرمه واتجهت همته لحفظ الْقرَان فحفظه وَهُوَ ابْن ثَمَان سِنِين واشتغل بِعلم الْقرَاءَات والعربية فَأخذ ذَلِك عَن جمَاعَة مِنْهُم الشَّيْخ نَاصِر الدّين مَحْمُود بن شَمْعُون وانهمك انهما مَا بَينا فِي الْقرَاءَات فَنَهَاهُ عَن ذَلِك القَاضِي عز الدّين ابْن جمَاعَة قَائِلا لَهُ أَنه علم كثير التَّعَب قَلِيل الجدوى وَأَشَارَ اليه بالاشتغال بِعلم الحَدِيث لما رأى من قُوَّة ذكائه وتوقد ذهنه رحلاته قَامَ برحلة الى دمشق وَسمع عَن علمائها مِنْهُم تقى الدّين السُّبْكِيّ وَمُحَمّد ابْن اسماعيل الْحَمَوِيّ وارتحل الى حلب وحماة وَسمع من جمَاعَة من علمائهما والى طرابلس وبعلبك وغزة وَبَيت الْمُقَدّس وَمَكَّة وَالْمَدينَة شرفهما الله وَسمع عَن عدد كَبِير من عُلَمَاء هَذِه الْبلدَانِ الَّتِي جال فِيهَا وَمن وَقت أَن ارتحل الى الشَّام فِي سنة ارقع وَخمسين وَسَبْعمائة مكث مُدَّة لَا تَخْلُو لَهُ سنة فِي الْغَالِب من الرحلة فِي الْحَج أَو طلب الحَدِيث وَفِي مُدَّة اقامته فِي وكنه لم يكن لَهُ هم سوى السماع والتصنيف والافادة فتوغل فِي ذَلِك حَتَّى أَن غَالب اوقاته اَوْ جَمِيعهَا لَا يصرفهَا فِي غير

শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী, নীল নদের তীরে মুনশিয়াতুল মাহরানিতে অবস্থিত খানকাহ রুসলানের শায়খ। তাঁর পিতা শায়খ তাকীর খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন এবং আল-হাফিয আল-ইরাকির মাতাকে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন একজন নেককার, ইবাদতগুজার, ধৈর্যশীল, অল্পে তুষ্ট এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিভিন্ন ইবাদতে অত্যন্ত পরিশ্রমী নারী। তাঁর গর্ভেই এই জীবনীর মূল ব্যক্তিত্ব জন্মগ্রহণ করেন এবং শায়খ তাকীর ঊর্ধ্বতন পিতামহের নামানুসারে তাঁর নামকরণ করা হয়। তাঁর পিতার মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র তিন বছর, ফলে তিনি এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন। তিনি তাঁর পিতার বন্ধু শায়খ তাকীর নিকট অধিক যাতায়াত করতেন; শায়খ তাঁর প্রতি অত্যন্ত স্নেহ ও মমতা প্রদর্শন করতেন এবং তাঁকে সম্মান করতেন। তিনি কুরআন হিফয করার দিকে মনোনিবেশ করেন এবং মাত্র আট বছর বয়সে তা হিফয সম্পন্ন করেন। তিনি ক্বিরাআত ও আরবি ভাষা চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং শায়খ নাসিরুদ্দীন মাহমুদ ইবনে শামউনসহ একদল উলামার নিকট থেকে তা গ্রহণ করেন। ক্বিরাআত শাস্ত্রের প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ দেখে কাযী ইজ্জুদ্দীন ইবনে জামাআহ তাঁকে তা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, এটি অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য কিন্তু এর উপযোগিতা কম। তিনি তাঁর প্রখর মেধা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি প্রত্যক্ষ করে তাঁকে হাদীস শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর সফরসমূহ: তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং তাকীউদ্দীন আস-সুবকী ও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-হামাউয়ীসহ সেখানকার উলামাদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি আলেপ্পো ও হামাহ সফর করে সেখানকার একদল আলিমের নিকট এবং ত্রিপোলি, বালবাক, গাজা, বাইতুল মাকদিস ও মক্কা-মদীনায় (আল্লাহ এই দুই শহরকে সম্মানিত করুন) ভ্রমণ করে সেখানকার বহুসংখ্যক আলিমের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। সাতশ চুয়ান্ন হিজরীতে সিরিয়া সফরের পর থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে হজ্জ অথবা হাদীস অন্বেষণে সফর ব্যতীত তাঁর প্রায় কোনো বছরই অতিবাহিত হতো না। স্বদেশে অবস্থানের সময় হাদীস শ্রবণ, গ্রন্থ রচনা এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে উপকার পৌঁছানো ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো ব্যস্ততা ছিল না। তিনি এতে এতই মগ্ন ছিলেন যে, তাঁর অধিকাংশ সময়, বরং পুরো সময়ই এই কাজেই ব্যয় হতো।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الِاشْتِغَال فِي الْعُلُوم وَكَانَ لَهُ ذكاء مفرط وَسُرْعَة حافظة من الالمام اربعمائة سطر فِي يَوْم وَاحِد شُيُوخه أحضرهُ أَبوهُ الى الشَّيْخ الشريف تقى الدّين مُحَمَّد بن جَعْفَر بن مُحَمَّد بن الشَّيْخ عبد الرَّحِيم بن احْمَد بن حجون القناوي الشَّافِعِي شيخ خانقاه رسْلَان بمنشية المهراني على شاطىء النّيل بِمصْر وَسمع فِي سنة سبع وَثَلَاثِينَ من الامير سنجر الجاولي وَالْقَاضِي تقى الدّين الاخنائي الْمَالِكِي وَسمع من ابْن شَاهد الْجَيْش وَابْن عبد الْهَادِي وَحفظ الْقرَان وَهُوَ ابْن ثَمَان والتنبيه وَأكْثر الْحَاوِي وَكَانَ رام حفظه جَمِيعه فِي شهر فمل بعد اثْنَي عشر يَوْمًا وعد ذَلِك فِي كرامات الْبُرْهَان الرَّشِيدِيّ فَإِنَّهُ لما استشاره فِيهِ قَالَ إِنَّه غير مُمكن فَقَالَ لَا بُد لي مِنْهُ فَقَالَ افْعَل مَا بدالك وَلَكِنَّك لَا تتمه وَكَذَا حفظ الالمام لِابْنِ دَقِيق الْعِيد وَمن شُيُوخه أَيْضا الْحَافِظ عماد الدّين ابْن كثير صَاحب التَّفْسِير وَحمد بن مُوسَى الشقراوي وَعبد الله بن مُحَمَّد بن المهندس وَابْن قيم الضيائية عبد الله بن مُحَمَّد بن ابراهيم الْمَقْدِسِي وَأَبُو بكر بن عبد الْعَزِيز بن احْمَد بن رَمَضَان وَمُحَمّد بن مُحَمَّد بن عبد الْغَنِيّ الْحَرَّانِي ثلامذته انْفَرد الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ فِي عصره بالاملاء فقصده لأجل ذَلِك وَلغيره النَّاس

জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ: তাঁর ছিল প্রখর মেধা এবং অত্যন্ত দ্রুত মুখস্থ করার শক্তি, যার ফলে তিনি একদিনে ‘আল-ইলমাম’ গ্রন্থের চারশত লাইন আয়ত্ত করতে পারতেন।

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ: তাঁর পিতা তাঁকে মিশরের নীল নদ উপকূলে মানশিয়াতুল মাহারানিতে অবস্থিত রাস্লান খানকাহর শায়খ, আশ-শাইখ আশ-শরিফ তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন আশ-শাইখ আবদুর রহিম ইবন আহমাদ ইবন হাজুন আল-কিনায়ি আশ-শাফিঈর নিকট নিয়ে যান। তিনি সাতশত সাইত্রিশ হিজরি সনে আমির সানজার আল-জাওলি এবং কাজি তাকিউদ্দীন আল-আখনায়ি আল-মালিকির নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। এছাড়াও তিনি ইবন শাহিদ আল-জাইশ এবং ইবন আবদিল হাদি’র নিকট থেকেও শ্রবণ করেছেন। তিনি মাত্র আট বছর বয়সে কুরআন মাজিদ হিফজ সম্পন্ন করেন এবং ‘আত-তানবিহ’ ও ‘আল-হাউয়ি’ গ্রন্থের অধিকাংশ মুখস্থ করেন। তিনি এক মাসে পুরো গ্রন্থটি মুখস্থ করার সংকল্প করেছিলেন, তবে বারো দিন পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ঘটনাটিকে বুরহান আর-রাশিদির একটি কারামত হিসেবে গণ্য করা হয়; কারণ যখন তিনি তাঁর সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে এটি সম্ভব নয়। তিনি (ছাত্র) বলেছিলেন, "আমাকে এটি করতেই হবে।" তখন তিনি (বুরহান আর-রাশিদি) বলেছিলেন, "তোমার যা ইচ্ছা করো, তবে তুমি এটি পূর্ণ করতে পারবে না।" একইভাবে তিনি ইবন দাক্বিক আল-ইদ রচিত ‘আল-ইলমাম’ মুখস্থ করেছিলেন। তাঁর শিক্ষকদের তালিকায় আরও রয়েছেন ‘তাফসির’ প্রণেতা হাফেজ ইমাদউদ্দীন ইবন কাসির, হামদ ইবন মুসা আশ-শাকরাউয়ি, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-মুহান্দিস, ইবন কাইয়্যিম আদ-দিয়াউইয়্যাহ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম আল-মাকদিসি, আবু বকর ইবন আবদিল আজিজ ইবন আহমাদ ইবন রামাদান এবং মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদিল গনি আল-হাররানি।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ: হাফেজ ইরাকি তাঁর সমসাময়িক যুগে হাদিস শ্রুতলিপি (ইমলা) প্রদানের ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন, যার ফলে মানুষ এই উদ্দেশ্যে এবং অন্যান্য ইলমি প্রয়োজনে তাঁর নিকট সমবেত হতো।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
من أقطار الْعَالم الاسلامي للسماع عَلَيْهِ والاخذ عَنهُ فَأخذ عَنهُ الجم الْغَفِير وَالْعدَد الْكثير حَتَّى أَن بعض شُيُوخه كَانَ يَأْخُذ عَنهُ فَمنهمْ وَلَده قَاضِي الْقُضَاة أَبُو زرْعَة ولى الدّين الْعِرَاقِيّ وَمِنْهُم الْحَافِظ الامام احْمَد بن عَليّ بن حجر الْعَسْقَلَانِي لَازمه عشر سِنِين وَمِنْهُم الْحَافِظ نور الدّين ابو بكر الهيثمي لَازمه اكثر حَيَاته صِفَاته وثناء الْعلمَاء عَلَيْهِ قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي إنباء الْغمر (2275) الشَّيْخ زين الدّين الْعِرَاقِيّ حَافظ الْعَصْر وَنقل السخاوي عَن الْحَافِظ ابْن حجر فِي الضَّوْء اللامع (4175) وَقَالَ فِي صدر اسئلة لَهُ سَأَلت سيجنا وقدوتنا ومعلمنا ومفيجنا ومخرجنا شيخ الاسلام اوحد الاعلام حَسَنَة الايام حَافظ الْوَقْت وَقَالَ التقى الفاسي فِي ذيل التَّقْيِيد كَانَ حَافِظًا متقنا عَارِفًا بفنون الحَدِيث وَالْفِقْه والعربية وَغير ذَلِك طثير الْفَضَائِل والمحاسن متواضعا ظريفا وَذكره ابْن الْجَزرِي فِي طَبَقَات الْقُرَّاء فَقَالَ حَافظ الديار المصرية ومدثها وشيخها وَنقل الْحَافِظ ابْن عبد الْهَادِي عَن الْحَافِظ ابْن نَاصِر الدّين قَالَ حَافظ الْوَقْت وَقَالَ القَاضِي عز الدّين بن جمَاعَة كل من يَدعِي الحَدِيث فِي الديار المصرية سواهُ فَهُوَ مُدع

ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁর নিকট হাদিস শ্রবণ করতে এবং ইলম অর্জন করতে শিক্ষার্থীগণ আসতেন। ফলে এক বিশাল ও অগুনতি জনসমষ্টি তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন; এমনকি তাঁর কোনো কোনো শিক্ষকও তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করতেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পুত্র কাযীউল কুযাত আবু যুরআ ওয়ালীউদ্দীন আল-ইরাকী এবং হাফেয ইমাম আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী, যিনি দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন হাফেয নূরুদ্দীন আবু বকর আল-হাইসামী, যিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় তাঁর সাহচর্যে কাটিয়েছেন।

তাঁর গুণাবলি ও তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা: হাফেয ইবনে হাজার 'ইনবাউল গুমর' (২/২৭৫) গ্রন্থে বলেছেন: "শায়খ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকী হলেন এ যুগের হাফেয।" আস-সাখাভী 'আয-যাউউল লামে' (৪/১৭৫) গ্রন্থে হাফেয ইবনে হাজার থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, ইবনে হাজার তাঁর করা একগুচ্ছ প্রশ্নের শুরুতে বলেন: "আমি জিজ্ঞাসা করেছি আমাদের শায়খ, আমাদের আদর্শ, আমাদের শিক্ষক, আমাদের কল্যাণকামী, আমাদের পথপ্রদর্শক, শায়খুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অনন্য, সমকালের সৌন্দর্য এবং সময়ের হাফেযকে।" তকী আল-ফাসী 'যাইলুত তাকয়ীদ' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ হাফেয, হাদিস শাস্ত্র, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শী; তিনি বহু মর্যাদা ও সদগুণের অধিকারী, বিনয়ী ও মার্জিত স্বভাবের ছিলেন।" ইবনুল জাযারী 'তাবাকাতুল কুররা' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করে বলেন: "তিনি ছিলেন মিশর ভূখণ্ডের হাফেয, মুহাদ্দিস এবং শায়খ।" হাফেয ইবনে আব্দুল হাদী হাফেয ইবনে নাসিরুদ্দীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে 'সময়ের হাফেয' বলেছেন। এবং কাযী ইযযুদ্দীন বিন জামাআহ বলেছেন: "মিশর ভূখণ্ডে তিনি ব্যতীত হাদিসের পাণ্ডিত্যের দাবিদার প্রত্যেকেই কেবল ভুয়া দাবিদার।"

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قَالَ تِلْمِيذه الْحَافِظ ابْن حجر كَانَ منور الشيبة جميل الصُّورَة كثير الْوَقار نزر الْكَلَام طارحا للتكلف ضيق الْعَيْش شَدِيد التوقى فِي الطَّهَارَة لَا يعْتَمد الا على نَفسه اَوْ على الهيثمي وَكَانَ رَفِيقه وصهره لطيف المزاج سليم الصَّدْر كثير الْحيَاء قل أَن يواجه احدا بِمَا يكرههُ وَلَو أَذَاهُ متواضها منجمعا حسن النادرة والفكاهة قَالَ وَقد لازمته مُدَّة فَلم أره ترك قيام اللَّيْل بل صَار لَهُ كالمألوف وَإِذا صلى الصُّبْح اسْتمرّ غَالِبا فِي مَجْلِسه مُسْتَقْبل الْقبْلَة تاليا ذَا كرا الى أَن تطلع الشَّمْس ويتطوع بصياح ثَلَاثَة أَيَّام من كل شهر وَسِتَّة شَوَّال كثير التِّلَاوَة إِذا ركب وَقَالَ ابْن فَهد الْمَكِّيّ وَكَانَ رحمه الله صَالحا دينا ورعا عفيفا صينا متواضعا حسن النادرة والفاكهة وَكَانَ الامام جمال الدّين الاسنوي وَهُوَ من شُيُوخه يستحسن كَلَامه ويصغي اليه وَيَقُول ان ذهنه صَحِيح لَا يقبل الْخَطَأ وَكَانَ يثنى على فهمه ويمدحه بذلك وَكَانَ يحث النَّاس على الِاشْتِغَال عَلَيْهِ وعَلى كِتَابَة مؤلقاته وينقل عَنهُ فِي مصنافته وَقَالَ التقى الفاسي فِي ذيل التَّقْيِيد كَانَ حَافِظًا متقنا عَارِفًا بفنون الحَدِيث وَالْفِقْه والعربيى وَغير ذَلِك كثير الْفَضَائِل والمحاسن متواضعا ظريفا ومسموعاته وشيوخه فِي غَايَة الْكَثْرَة وَأخذ عَنهُ عُلَمَاء الديار المصرية وَغَيرهم وأثنوا عَلَيْهِ خيرا

তাঁর ছাত্র হাফিজ ইবনে হাজার বলেন, তিনি ছিলেন শুভ্র দাড়িবিশিষ্ট উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, অত্যন্ত গম্ভীর, স্বল্পভাষী এবং লৌকিকতামুক্ত। তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং পবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তিনি নিজে ছাড়া অথবা তাঁর সঙ্গী ও জামাতা আল-হাইসামি ছাড়া আর কারও ওপর নির্ভর করতেন না। তিনি ছিলেন কোমল মেজাজ ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী এবং অত্যন্ত লাজুক। সাধারণত তিনি কাউকে এমন কোনো কথার সম্মুখীন করতেন না যা সে অপছন্দ করে, এমনকি সে তাঁকে কষ্ট দিলেও। তিনি বিনয়ী, সংযত এবং সুন্দর কৌতুক ও রসবোধ সম্পন্ন ছিলেন। তিনি (ইবনে হাজার) আরও বলেন, আমি দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম, তাঁকে কখনও তাহাজ্জুদের নামায বর্জন করতে দেখিনি; বরং এটি তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। ফজর নামায পড়ার পর তিনি সাধারণত কিবলামুখী হয়ে নিজের জায়গায় বসে থাকতেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত তিলাওয়াত ও যিকিরে মশগুল থাকতেন। তিনি প্রতি মাসে তিন দিন এবং শাওয়ালের ছয় দিন নফল রোজা রাখতেন। সওয়ারিতে থাকা অবস্থায়ও তিনি প্রচুর তিলাওয়াত করতেন। ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি বলেন, তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ছিলেন নেককার, ধর্মপ্রাণ, পরহেজগার, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, মর্যাদাসম্পন্ন, বিনয়ী এবং সুন্দর কৌতুক ও রসবোধ সম্পন্ন। তাঁর অন্যতম উস্তাদ ইমাম জামালুদ্দিন আল-ইসনাভি তাঁর বক্তব্য পছন্দ করতেন এবং অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। তিনি বলতেন যে, তাঁর মেধা অত্যন্ত প্রখর এবং ভুল গ্রহণ করে না। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও বোধশক্তির প্রশংসা করতেন। তিনি মানুষকে তাঁর নিকট জ্ঞান অর্জন করতে ও তাঁর রচনাবলি লিপিবদ্ধ করতে উৎসাহিত করতেন এবং নিজের কিতাবেও তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করতেন। তাকি আল-ফাসি ‘যাইলুত তায়কিদ’ গ্রন্থে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ হাফিজ, হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি বহু গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, বিনয়ী ও মার্জিত ছিলেন। তাঁর শ্রুত হাদিস ও উস্তাদদের সংখ্যা ছিল অগণিত। মিসর ও অন্যান্য অঞ্চলের উলামায়ে কিরাম তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَفَاته مَاتَ الشَّيْخ رَحمَه الله تَعَالَى عقب خُرُوجه من الْحمام فِي ثامن شعْبَان وَله احدى وَثَمَانُونَ سنة وَربع سنة نَظِير عمر شيخ الاسلام سراج الدّين سنة سِتّ وَثَمَانمِائَة بِالْقَاهِرَةِ ورثاه جمَاعَة من تلامذته مِنْهُم الْحَافِظ ابْن حجر فِي قصيدة أَطَالَ فِيهَا النَّفس مِنْهَا

مصاب لم ينفس للخناق … أصاد الدمع جَار للمافى

فيا اهل الشَّام ومصر فابكوا … على عبد الرَّحِيم بن الْعِرَاقِيّ

على الحبر الَّذِي شهِدت قروم … لَهُ بالانفراد على اتِّفَاق

وَمن فتحت لَهُ قدما عُلُوم … غَدَتْ عَن غَيره ذَات انغلاق

مصنفاته

1 - إِخْبَار الاحياء بأخبار الاحياء وَهُوَ تَخْرِيجه الْكَبِير لاحياء عُلُوم الدّين الْغَزالِيّ ذكره ابْن فَهد فِي لحظ الالحاظ وَقَالَ إِنَّه فِي أَربع مجلدات

2 - الْمُغنِي عَن حمل الاسفار فِي الاسفار فِي تَخْرِيج مَا فِي الاحياء من الاخبار اخْتَصَرَهُ من اصل كِتَابه الاخبار وَهُوَ مطبوع مَعَ احياء عُلُوم الدّين

3 - الْكَشْف الْمُبين عَن تَخْرِيج احياء عُلُوم الدّين وَهُوَ سط بَين كِتَابيه اخبار الاحياء وَالْمُغني عَن حمل الاسفار

4 - إِكْمَال شرح التِّرْمِذِيّ لِابْنِ سيد النَّاس الْيَعْمرِي

5 - الدُّرَر السّنيَّة فِي نظم السِّيرَة الزكية وَهن الفية فِي السِّيرَة النَّبَوِيَّة طبع فِي الْقَاهِرَة ثمَّ طبع مَعَ شرح الْحَافِظ الْمَنَاوِيّ لَهَا فِي الرياض
তাঁর মৃত্যু: শায়খ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কায়রোতে ৮০৬ হিজরিতে আটই শাবান গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল একাশি বছর তিন মাস (এক বছরের এক-চতুর্থাংশ), যা শায়খুল ইসলাম সিরাজুদ্দীনের বয়সের অনুরূপ। তাঁর একদল ছাত্র তাঁর স্মরণে শোকগাঁথা (মারসিয়া) রচনা করেছেন, যাদের মধ্যে হাফেজ ইবনে হাজারও রয়েছেন। তিনি একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

এমন এক বিপদ যা শ্বাসরোধ করে দেয় ... চোখের অশ্রু প্রবাহিত হয়ে গণ্ডদেশ ভিজিয়ে দেয়।

হে শাম ও মিশরের অধিবাসীগণ, তোমরা রোদন করো ... আব্দুল রহীম ইবনুল ইরাকির বিয়োগব্যথায়।

সেই মহান পণ্ডিতের স্মরণে, যাঁর একক শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে ... শীর্ষস্থানীয় আলিমগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

যাঁর জন্য জ্ঞানের এমন সব সুগভীর দুয়ার উন্মোচিত হয়েছিল ... যা অন্যদের কাছে রুদ্ধ ছিল।

তাঁর রচনাবলি:

১ - ইখবারুল আহইয়া বি আখবারিল আহইয়া; এটি গাজালীর 'এহইয়াউ উলুমিদ্দীন'-এর একটি বৃহৎ তাখরীজ (হাদিস যাচাইকরণ)। ইবনে ফাহাদ 'লাহজুল আলহাজ' গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি চার খণ্ডে সমাপ্ত।

২ - আল-মুগনি আন হামলিল আসফার ফিল আসফার ফি তাখরিজি মা ফিল ইহয়া মিনাল আখবার; তিনি তাঁর মূল গ্রন্থ 'ইখবার' থেকে এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এটি 'এহইয়াউ উলুমিদ্দীন'-এর সাথে মুদ্রিত।

৩ - আল-কাশফুল মুবিন আন তাখরিজি এহইয়াউ উলুমিদ্দীন; এটি তাঁর 'ইখবারুল আহইয়া' এবং 'আল-মুগনি আন হামলিল আসফার' গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যবর্তী একটি সংকলন।

৪ - ইবনে সাইয়্যেদুন নাস আল-ইয়া'মুরির তিরমিজি শরাহের (ব্যাখ্যাগ্রন্থের) পরিশিষ্ট।

৫ - আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফি নাজমিস সিরাতিয যাকিয়্যাহ; এটি সীরাতুন্নবী সম্পর্কিত একটি আলফিয়্যাহ (হাজার পংক্তির কবিতা)। এটি কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে হাফেজ মানাভীর ব্যাখ্যাসহ রিয়াদে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
6 - طرح التثريب فِي شرح التَّقْرِيب واكمله وَلَده الْحَافِظ ابو زرْعَة وَهُوَ مطبوع فِي اربعة مجلدات كبار

7 - التقيد والايضاح لما اطلق وأغلق فِي كتاب ابو الصّلاح

8 - ألفية الحَدِيث وَشَرحهَا فتح المغيث

9 - النكت على مُقَدّمَة ابْن الصّلاح

10 - الاحاديث المخرجة فِي الصَّحِيحَيْنِ

11 - اربعون تساعية

12 - اربعون عشارية

13 - اربعون بلدانية

14 - الاستعاذه بِالْوَاحِدِ من اقامة جمعتين فِي مَكَان وَاحِد

15 - الفية غَرِيب الْقرَان

16 - الذيل من الْكتب النافعة وَغَيرهَا من الْكتب الْكَثِيرَة النافعة
৬ - তারহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব; এটি পূর্ণ করেছেন তাঁর পুত্র হাফেজ আবু জুরআ এবং এটি চারটি বৃহৎ খণ্ডে মুদ্রিত।

৭ - আত-তাকয়িদ ওয়াল ইজাহ লিমা উতলিকা ওয়া উগলিকা ফি কিতাবি আবিস সালাহ।

৮ - আলফিয়াতুল হাদিস এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল মুগিস।

৯ - আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ।

১০ - সহিহাইন-এ (বুখারি ও মুসলিম) সংকলিত হাদিসসমূহ।

১১ - নয় জন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট চল্লিশ হাদিস।

১২ - দশ জন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট চল্লিশ হাদিস।

১৩ - বিভিন্ন শহরের বর্ণনাকারীদের থেকে সংগৃহীত চল্লিশ হাদিস।

১৪ - একই স্থানে দুইটি জুমার জামাত কায়েম করা হতে এক আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা।

১৫ - আলফিয়াতু গারিবিল কুরআন (কুরআনের জটিল শব্দাবলি বিষয়ক সহস্র পদাবলী)।

১৬ - আয-জাইল সহ আরও অন্যান্য বহুসংখ্যক উপকারী গ্রন্থাবলি।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌الأمالي

قَالَ صَاحب كشف الظنون (1161) هُوَ جمع الاملاء وَهُوَ أَن يقْعد عَالم وَحَوله تلامذته بالمحابر والقراكيس فيتكلم الْعَالم بِمَا فتح الله سبحانه وتعالى عَلَيْهِ من الْعلم ويكتبه التلامذة فَيصير كتابا ويسمونه الاملاء والامالى وَكَذَلِكَ كَانَ السّلف من الْفُقَهَاء والمحدثين وَأهل الْعَرَبيَّة وَغَيرهَا فِي علومهم فاندرست لذهاب الْعلم وَالْعُلَمَاء والى الله الْمصير وعلماء الشَّافِعِيَّة يسمون مثله التَّعْلِيق اهـ وَقَالَ السخاوى فِي فتح المغيث (2295) يُقَال أمليت الْكتاب املاء وأمللت املالا وَجَاء الْقرَان بهما جَمِيعًا قَالَ تَعَالَى فليملل وليه فَهَذَا من أمل وَقَالَ تَعَالَى فَهِيَ تملى عَلَيْهِ فَهَذَا من املى فَيجوز أَن يكون اللفتان بِمَعْنى وَاحِد وَيجوز أَن يكون أصل أمليت أمليت فاسثقل الْجمع بَين حرفين فِي لفظ وَاحِد فأبدلوا احداهما يَاء وَكَأَنَّهُ من قَوْلهم أمْلى الله لَهُ أَي أَطَالَ عمره فَمَعْنَى أمليت الْكتاب على فلَان أطلت قراني عَلَيْهِ قَالَه النّحاس فِي صناعَة الْكتاب وَهِي طَريقَة مسلوكة فِي الْقَدِيم والْحَدِيث لَا يقوم بهَا الا أهل الْمعرفَة وَقَالَ السُّيُوطِيّ فِي الزهر (2313) جمع املاء على غير قِيَاس وَطَرِيقَة الاملاء أَعلَى وظائف حافاظ الحَدِيث وَقَالَ الكتاني فِي الرسَالَة المستطرفة (ص 159) وَمِنْهَا كتب تعرف بكتب الامالي جمع املاء وَهُوَ من وظائف الْعلمَاء قَدِيما خُصُوصا الْحفاظ من أهل الحَدِيث فِي يَوْم من أَيَّام الاسبوع يَوْم
আল-আমালি

কাশফুয যুনুন (১১৬১) এর লেখক বলেছেন, এটি ‘ইমলা’ শব্দের বহুবচন। এর পদ্ধতি হলো এই যে, একজন আলেম বসবেন এবং তাঁর চারপাশে তাঁর ছাত্ররা কালির দোয়াত ও কাগজ নিয়ে অবস্থান করবে; অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই আলেমের জন্য ইলমের যে দ্বার উন্মুক্ত করে দেবেন তিনি তা বলবেন এবং ছাত্ররা তা লিখে নেবে। ফলে তা একটি কিতাবে পরিণত হবে এবং তারা সেটিকে ‘ইমলা’ ও ‘আমালি’ নামে অভিহিত করেন। ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং আরবী ভাষাবিদসহ অন্যান্য পূর্বসূরিগণ (সালাফ) তাঁদের ইলমের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিই অনুসরণ করতেন। অতঃপর ইলম ও উলামাদের তিরোধানের কারণে এই পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আল্লাহর কাছেই সকলকে ফিরে যেতে হবে। শাফিয়ী মাযহাবের উলামাগণ অনুরূপ বিষয়কে ‘তালিক’ বলে অভিহিত করেন। সমাপ্ত। সাখাবী ‘ফাতহুল মুগীস’ (২/২৯৫) গ্রন্থে বলেছেন, বলা হয় ‘আমলাইতুল কিতাবা ইমলাআন’ এবং ‘আমলালতু ইমলালান’। কুরআনে উভয় শব্দই এসেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: “অতঃপর তার অভিভাবক যেন তা লিখিয়ে দেয়”। এটি ‘আমাল্লা’ থেকে এসেছে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: “অতঃপর সেগুলো তার কাছে পাঠ করে শোনানো হয়”। এটি ‘আমলা’ থেকে এসেছে। সুতরাং হতে পারে যে এই উভয় শব্দ একই অর্থ প্রকাশ করে। আবার এমনও হতে পারে যে, ‘আমলাইতু’ শব্দের মূল ছিল ‘আমলালতু’, অতঃপর এক শব্দে একই বর্ণের পুনরাবৃত্তিকে শ্রুতিকটু বা কষ্টকর মনে করে তারা একটি বর্ণকে ‘ইয়া’ দ্বারা পরিবর্তন করেছে। আর এটি যেন তাদের প্রবাদ ‘আমলাল্লাহু লাহু’ থেকে নেওয়া, যার অর্থ—আল্লাহ তার হায়াত দীর্ঘ করেছেন। সুতরাং ‘আমি অমুকের কাছে কিতাব ইমলা করেছি’ এর অর্থ হলো আমি তার সামনে আমার পাঠ দীর্ঘ করেছি। এটি নাহহাস ‘সিনাআতুল কিতাব’ গ্রন্থে বলেছেন। এটি প্রাচীন ও আধুনিক যুগে অনুসৃত একটি পদ্ধতি, যা কেবল গভীর জ্ঞানের অধিকারী (আহলুল মা’রিফাহ) ব্যক্তিরাই সম্পাদন করতে পারেন। সুয়ূতী ‘আয-যাহর’ (২/৩১৩) গ্রন্থে বলেছেন, এটি নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘ইমলা’ শব্দের বহুবচন। আর ইমলা পদ্ধতি হলো হাদীসের হাফেজগণের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। কাত্তানী ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ’ (পৃষ্ঠা ১৫৯) গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে এমন কিছু কিতাব রয়েছে যা ‘আমালি’ এর কিতাব নামে পরিচিত, যা ‘ইমলা’ শব্দের বহুবচন। এটি প্রাচীনকালে আলেমদের বিশেষ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল, বিশেষ করে হাদীস শাস্ত্রের হাফেজগণের জন্য সপ্তাহের কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে...
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
الثُّلَاثَاء أَو يَوْم الْجُمُعَة وَهُوَ الْمُسْتَحبّ كَمَا يسْتَحبّ أَن يكون فِي الْمَسْجِد لِشَرَفِهِمَا وطريقهم فِيهِ أَن يكْتب المستملى فِي أول الْقَائِمَة هَذَا مجْلِس املاه شَيخنَا فلَان بِجَامِع كَذَا فِي يَوْم كَذَا وَيذكر التَّارِيخ ثمَّ يُورد المملى بأسانيده أَحَادِيث واثار ثمَّ يُفَسر غريبها ويورد من الْفَوَائِد الْمُتَعَلّقَة بهَا بِإِسْنَاد أَو بِدُونِهِ مَا يختاره ويتيسر لَهُ وَقد كَانَ هَذَا فِي الصَّدْر الاول غَالِبا كثيرا ثمَّ مَاتَت الْحفاظ وَقل الاملاء وَقد شرع الْحَافِظ السُّيُوطِيّ فِي الاملاء بِمصْر سنة اثْنَتَيْنِ وَسبعين وَثَمَانمِائَة وجدده بعد انْقِطَاعه عشْرين سنة من سنة مَاتَ الْحَافِظ ابْن حجر على مَا قَالَه فِي المزهر قلت قَالَ السُّيُوطِيّ فِي تدريب الرواوي (2139) جرت عادتنا بتخريج الاملاء وتحريره فِي كراسة ثمَّ نملى حفظا وَإِذا نجز قابله المملى مَعنا على الاصل الَّذِي حررناه وَذَلِكَ غَايَة الاتقان وَقد كَانَ الاملاء درس بعد ابْن الصّلاح الى اواخر ايام الْحَافِظ ابي الْفضل الْعِرَاقِيّ فافتتحه سنة سِتّ وَتِسْعين وَسَبْعمائة فأملى اربعمائة مجْلِس وَبضْعَة عشر مَجْلِسا الى سنة مَوته سنة سِتّ وَثَمَانمِائَة ثمَّ املى وَلَده الى أَن مَاتَ سنة ثِنْتَيْنِ وَخمسين أَكثر من ألف مجْلِس وكسرا ثمَّ أمْلى شيخ الاسلام ابْن حجر الى أَن مَاتَ سنة ثِنْتَيْنِ وَخمسين أَكثر من ألف مجْلِس ثمَّ درس تسع عشرَة سنة فافتتحه أول سنة ثِنْتَيْنِ وَسبعين فأمليت ثَمَانِينَ مَجْلِسا ثمَّ خمسين اخرى اهـ قَالَ قَالَ الكتاني وَكتبه كَثِيرَة مِنْهَا ثمَّ عد من أمْلى من الْحفاظ ثمَّ قَالَ وَلأبي الْفضل زين الدّين والحفاظ عبد الرَّحِيم بن الْحُسَيْن الْعِرَاقِيّ الاثري الامام الْكَبِير حَافظ الْعَصْر وَصَاحب المصنفات البديعة فِي الحَدِيث المتوفي سنة سِتّ وَثَمَانمِائَة وَهِي تنوف عَن اربعمائة مجْلِس

মঙ্গলবার অথবা শুক্রবার, আর এটিই মুস্তাহাব (পছন্দনীয়), যেমনটি মসজিদে হওয়াও মুস্তাহাব; এই উভয় দিন ও স্থানের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। আর এতে তাদের পদ্ধতি হলো মুস্তামলি (শ্রুতিলিখক) তালিকার শুরুতে লিখবে: "এটি একটি মজলিস যা আমাদের শাইখ অমুক অমুক জামে মসজিদে অমুক দিনে ইমলা (শ্রুতিলিপি) করিয়েছেন" এবং তিনি তারিখ উল্লেখ করবেন। অতঃপর মুমলি (যিনি শ্রুতিলিপি প্রদান করছেন) তার সনদসমূহের মাধ্যমে হাদিস ও আছার (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) পেশ করবেন। তারপর তিনি সেগুলোর দুর্বোধ্য শব্দাবলি ব্যাখ্যা করবেন এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব ফায়দা (উপকারিতা) তিনি পছন্দ করেন বা তার জন্য সহজ হয়, তা সনদসহ বা সনদ ছাড়াই উল্লেখ করবেন। প্রথম যুগে এটি ব্যাপকভাবে ও প্রচুর পরিমাণে প্রচলিত ছিল। অতঃপর হাফেযগণ (হাদিস বিশারদ) মৃত্যুবরণ করলেন এবং ইমলা বা শ্রুতিলিপি প্রদানের ধারা কমে গেল। হাফেয সুয়ূতী মিশরে ৮৭২ হিজরি সালে ইমলা শুরু করেন। হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) এর ইন্তেকালের পর বিশ বছর পর্যন্ত এটি বিচ্ছিন্ন থাকার পর তিনি তা পুনরায় চালু করেন, যেমনটি তিনি ‘আল-মিযহার’ গ্রন্থে বলেছেন। আমি বলছি, সুয়ূতী ‘তাদরীবুর রাবী’ (২/১৩৯) গ্রন্থে বলেছেন: "আমাদের রীতি হলো আমরা ইমলার হাদিসগুলো চয়ন করে একটি খাতায় লিখে প্রস্তুত করি, অতঃপর আমরা মুখস্থ ইমলা করাই। এবং যখন ইমলা শেষ হয়, তখন মুমলি আমাদের সাথে আমাদের প্রস্তুতকৃত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে নেন, আর এটিই হলো নিখুঁতকরণের চূড়ান্ত পর্যায়।" ইবনে সালাহ এর পর থেকে হাফেয আবুল ফযল আল-ইরাকীর শেষ জীবন পর্যন্ত ইমলার ধারা লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তিনি ৭৯৬ হিজরি সালে এটি পুনরায় শুরু করেন এবং ৮০৬ হিজরিতে তার মৃত্যুর বছর পর্যন্ত তিনি চারশত দশটিরও বেশি মজলিসে ইমলা করান। অতঃপর তার পুত্র ৮৫২ হিজরিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মজলিসে ইমলা করান। এরপর শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার ৮৫২ হিজরিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মজলিসে ইমলা করান। এরপর তা উনিশ বছর পর্যন্ত স্থগিত থাকে এবং আমি (সুয়ূতী) ৮৭২ হিজরি সালের শুরুতে তা পুনরায় চালু করি। অতঃপর আমি আশিটি মজলিস এবং পরবর্তীতে আরও পঞ্চাশটি মজলিসে ইমলা করিয়েছি— সমাপ্ত। কাত্তানী বলেছেন, তার কিতাবসমূহ অনেক, যার মধ্যে... এরপর তিনি ওইসব হাফেযদের গণনা করেছেন যারা ইমলা করিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: আবু ফযল যায়নুদ্দীন হাফেয আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী আল-আসারী—যিনি যুগের মহান ইমাম ও হাফেয এবং হাদিস শাস্ত্রে চমৎকার সব কিতাবের রচয়িতা, যিনি ৮০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন—তার মজলিস সংখ্যা চারশতেরও বেশি।

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম - আমালীল ইরাকী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
قَالَ تِلْمِيذه ابْن حجر شرع فِي املاء الحَدِيث من سنة سِتّ وَتِسْعين فأحيا الله بهَا السّنة بعد أَن كَانَت دَائِرَة فأملى اكثر من ارعمائة مجْلِس غالبها من حفظَة متقنه معذبه محررة كَثِيرَة الْفَوَائِد الحديثية اهـ وَقَالَ ابْن فَهد فِي لحظ الالحاظ (ص 233) فِي الْكَلَام على الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ رَحمَه الله تَعَالَى وَشرع فِي الاملاء من سنة خمس وَتِسْعين الى أَن مَاتَ فأملى أَولا أَشْيَاء مفرقة ثمَّ على الاربعين للنواوي ثمَّ على امالي الرَّافِعِيّ ثمَّ شرع يملى من تَخْرِيج الْمُسْتَدْرك فَكتب مِنْهُ الى اثناء كتاب الصَّلَاة قَرِيبا من مُجَلد ثَلَاثمِائَة مجْلِس ومجلس وَاحِد وَذَلِكَ من أول السَّادِس عشر بعد الْمِائَة الى اخر السَّادِس عشر بعد الاربعمائة لَكِن الثَّامِن بعد الاربعمائة املاه فِيمَا يتَعَلَّق بغلاء السّعر وتغيير السِّكَّة وَغير ذَلِك مِمَّا كَانَ حدث وَذَلِكَ فِي شهر ربيع اخر سنة خمس وَثَمَانمِائَة وَالثَّالِث عشر بعد املاه فِيمَا يتَعَلَّق بطول الْعُمر وختمه بقصيدة تزيد على عشْرين بَينا مِنْهَا قَوْله

بلغته فِي ذَا الْيَوْم سنّ الْهَرم … تهدم الْعُمر كسيل العرم

 

وَالرَّابِع عشر وَالْخَامِس عشر املاهما من الاحاديث العشاريات السِّتين الَّتِي خرجها لَهُ الْحَافِظ أَبُو الْفضل بن حجر من مسموعاته صلَة للأربعين الَّتِي خرجها هُوَ لنَفسِهِ وَالسَّادِس عشر فِيمَا يتَعَلَّق بالاستسقاء خَتمه بقصيدة أَولهَا

اقول لمن يشكو توقف نيلنا … سل الله يمدده بِفضل وتأييد
তাঁর ছাত্র ইবনে হাজার বলেন: তিনি সাতশ ছিয়ানব্বই হিজরি সাল থেকে হাদিস ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) শুরু করেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করেন যখন তা বিলুপ্তপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। তিনি চারশ’র অধিক মজলিস ইমলা করিয়েছেন, যার অধিকাংশ ছিল তাঁর সুদৃঢ় মুখস্থ শক্তি থেকে, যা সুশৃঙ্খল, পরিমার্জিত ও সম্পাদিত এবং হাদিসশাস্ত্রীয় অসংখ্য উপকারে সমৃদ্ধ। (সমাপ্ত)। ইবনে ফাহদ 'লাহযুল আলহায' গ্রন্থে (পৃ. ২৩৩) হাফেজ ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আলোচনায় বলেন: তিনি সাতশ পঁচানব্বই হিজরি সাল থেকে ইমলা শুরু করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখেন। তিনি প্রথমে বিক্ষিপ্ত কিছু বিষয় ইমলা করেন, এরপর ইমাম নববীর 'আরবাঈন'-এর ওপর, এরপর রাফেয়ির 'আমালি'-র ওপর। তারপর তিনি 'তাখরিজুল মুস্তাদরাক' থেকে ইমলা শুরু করেন এবং তা থেকে কিতাবুস সালাত (নামাজ অধ্যায়)-এর মাঝমাঝি পর্যন্ত প্রায় এক খণ্ড পরিমাণ অর্থাৎ তিনশ এক মজলিস পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করেন। আর এটি ছিল ১১৬ তম মজলিস থেকে ৪১৬ তম মজলিসের শেষ পর্যন্ত। তবে ৪০৮ তম মজলিসটি তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রার পরিবর্তন এবং তৎকালীন অন্যান্য নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলি সম্পর্কে ইমলা করেছিলেন। আর এটি ছিল ৮০৫ হিজরি সালের রবিউস সানি মাসে। আর ৪১৩ তম মজলিসটি তিনি দীর্ঘ জীবন লাভ সম্পর্কে ইমলা করেন এবং একটি কবিতার মাধ্যমে তা শেষ করেন যা বিশ পঙক্তিরও বেশি ছিল। তার মধ্য থেকে একটি পঙক্তি হলো:

আজ আমি বার্ধক্যের বয়সে পৌঁছে গিয়েছি … জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বানের পানির স্রোতের মতো।

 

আর ৪১৪ ও ৪১৫ তম মজলিস দুটিতে তিনি সেই ষাটটি 'উশারিয়াত' (দশ রাবি বিশিষ্ট) হাদিস থেকে ইমলা করেন, যা হাফেজ আবুল ফজল ইবনে হাজার তাঁর শ্রুত হাদিস থেকে তাঁর (ইরাকির) জন্য চয়ন করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর (ইরাকির) নিজের জন্য চয়নকৃত 'আরবাঈন'-এর সংযুক্তি স্বরূপ। আর ৪১৬ তম মজলিসটি ছিল বৃষ্টি কামনার সালাত (ইসতিসকা) সম্পর্কে, যা তিনি একটি কবিতার মাধ্যমে শেষ করেন যার শুরুটি হলো:

আমি তাকে বলি যে আমাদের প্রাপ্তি বন্ধ হওয়ার অভিযোগ করে … আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো, তিনি নিজ অনুগ্রহ ও সহায়তায় তা বাড়িয়ে দেবেন।