(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة العلو والنزول في الحديث (ابن القيسراني محمد بن طاهر المقدسي)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: مسألة العلو والنزول في الحديث
المؤلف: أبو الفضل محمد بن طاهر بن علي بن أحمد المقدسي الشيباني، المعروف بابن القيسراني (ت 507هـ)
المحقق: صلاح الدين مقبول أحمد
الناشر: مكتبة ابن تيمية - الكويت
سنة النشر:
عدد الصفحات: 92
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাসআলাতুল উলু ও আন-নুযুল ফিল হাদিস (ইবনুল কায়সারানি মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি)
বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: মাসআলাতুল উলু ও আন-নুযুল ফিল হাদিস
লেখক: আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির বিন আলি বিন আহমদ আল-মাকদিসি আশ-শাইবানি, যিনি ইবনুল কায়সারানি নামে পরিচিত (মৃ. ৫০৭ হিজরি)
সম্পাদক: সালাহ উদ্দিন মাকবুল আহমদ
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ - কুয়েত
প্রকাশের বছর:
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
مُقَدّمَة الْمُؤلفأَخْبَرَنِي بِجَمِيعِ هَذَا الْجُزْءِ الشَّيْخُ الْمُسْنِدُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ جَامِعٍ الْكِنَانِيُّ الْمَوْصِلِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ أَخْبَرَنِي الشَّيْخُ الْمُسْنِدُ بَقِيَّةُ السَّلَفِ زَيْنُ الدِّينِ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْخَيْرِ سَلامَةَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ابْن سَلامَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ابْن مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْفَتْحِ الطَّرَسُوسِيُّ إِجَازَةً فِي جُمَادَى الآخِرَ سَنَةَ إِحْدَى وَسبعين وَخمْس مائَة بِأَصْبَهَانَ فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ أَنا الْحَافِظُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ الظَّاهِرِ بِقِرَاءَةِ الإِمَامِ أَبِي
লেখকের ভূমিকাএই সম্পূর্ণ অংশের সংবাদ আমাকে প্রদান করেছেন (أخبرني) শায়খ, বর্ণনা পরম্পরা প্রদানকারী (المسند), হাফেজ (الحافظ) আবু বকর বিন আবদুর রহমান বিন মনসুর বিন জামি আল-কিনানি আল-মাওসিলি, তাঁর নিকট পাঠের (قراءة عليه) মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرني) শায়খ, বর্ণনা পরম্পরা প্রদানকারী (المসند), সালাফদের উত্তরসূরি জয়নুদ্দিন আহমদ বিন আবুল খাইর সালামাহ বিন ইবরাহিম ইবনে সালামাহ। তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا) শায়খ ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ বিন আবুল ফাতহ আত-তারসুসি ৫৭১ হিজরি সনের জমাদিউল আখের মাসে ইসফাহানে অনুমতির (إجازة) মাধ্যমে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হাফেজ (الحافظ) আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন আজ-জাহির, ইমাম আবু এর পাঠের (قراءة) মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ مَنْدَهْ عَلَيْهِ فِي رَبِيعٍ الآخر من سنة سِتّ وَخمْس مائَة فأقرب بِهِ قَالَ1 - الْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًاسَأَلْتَ أَحْسَنَ اللَّهُ لَنَا وَلَكَ التَّوْفِيقَ عَنْ عَلامَةِ الْعُلُوِّ فِي الْحَدِيثِ وَبِأَيِّ شئ يَعْرِفُ الْمُبْتَدِئُ الْعُلُوَّ مِنَ النُّزُولِ وَأَنْ أُبَيِّنَ لَكَ ذَلِكَ وَأَشْرَحَهُ عَلَى الاخْتِصَارِ مَعَ إِقَامَةِ الشَّوَاهِدِ الَّتِي تَهْتَدِي بِهَا إِلَى مَعْرِفَةِ ذَلِكَ2 - اعْلَمْ أَنَّ الْحَدِيثَ وَطَلَبَهُ مَنْدُوبٌ إِلَيْهِ مُثَابٌ صَاحِبُهُ عَلَيْهِ وَيَرْغَبُ فِيهِ أَشْرَافُ النَّاسِ وَيَزْهَدُ فِيهِ الأَغْبِيَاءُ الأَدْنَاسُ أَهْلُهُ مَنْصُورُونَ وَأَعْدَاؤُهُ مَقْهُورُونَ ذَكَرَهُمُ اللَّهُ عز وجل فِي كِتَابِهِ وَدَعَا لَهُمْ رَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم فِي خِطَابِهِ3 - قَرَأْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الأَدِيبِ بِنَيْسَابُورَ أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الله الْوَاعِظ يَقُول 2 ب سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَدِيٍّ الْحَافِظَ يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَزِيدَ الْوَاسِطِيَّ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ
যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মানদাহ-এর নিকট ৫০৬ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে পাঠ করা হয়েছে, তিনি তা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন:১ - সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।আল্লাহ আমাদের ও আপনার জন্য তাওফিককে সুন্দর করে দিন। আপনি হাদিসের মধ্যে উচ্চ সনদ (علو)-এর নিদর্শন সম্পর্কে এবং একজন নতুন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ের মাধ্যমে উচ্চ সনদ (علو) ও নিম্ন সনদ (نزول)-এর পার্থক্য জানতে পারবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। এছাড়া আমি যেন তা আপনার নিকট বর্ণনা করি এবং সংক্ষেপে প্রমাণাদি (شواهد) সহকারে ব্যাখ্যা করি, যা আপনাকে সেই জ্ঞান লাভে সঠিক পথ দেখাবে।২ - জেনে রাখুন যে, হাদিস এবং তা অন্বেষণ করা একটি পছন্দনীয় (مندوب) কাজ, যার অন্বেষণকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন। সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিরা এতে আগ্রহী হন এবং নির্বোধ ও অপবিত্র লোকেরা এর প্রতি অনীহা প্রকাশ করে। হাদিস বিশারদগণ সাহায্যপ্রাপ্ত এবং তাঁদের শত্রুরা পরাজিত। আল্লাহ عز وجল তাঁর কিতাবে তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم তাঁর ভাষণে তাঁদের জন্য দোয়া করেছেন।৩ - আমি নিশাপুরে আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আল-আদীবের নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ (الحافظ) আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ওয়ায়েজকে বলতে শুনেছি, (২-বি) আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আদি আল-হাফিজ (الحافظ)-কে বলতে শুনেছি, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতিকে বলতে শুনেছি, আমি ইয়াজিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤١)
يَقُول قلت لحماد بن يزِيد يَا أَبَا إِسْمَاعِيلَ هَلْ ذَكَرَ اللَّهُ عز وجل أَصْحَابَ الْحَدِيثِ فِي الْقُرْآنِفَقَالَ بَلَى أَلَمْ تَسْمَعْ إِلَى قَوْلِهِ عز وجللِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْفَهَذَا فِيمَنْ رَحَلَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ ثُمَّ رَجَعَ بِهِ إِلَى مَنْ وَرَاءَهُ لِيُعَلِّمَهُمْ إِيَّاهُ4 - أَخْبَرَنَا أَبوُ مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الأَصْبَهَانِيُّ بِهَا قَالَ أَنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَغْدَادِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ ثَنَا هُرَيْمُ بْنُ سُفْيَانَ
তিনি বলেন, আমি হাম্মাদ বিন ইয়াজিদকে বললাম: হে আবু ইসমাইল, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কি পবিত্র কোরআনে হাদিস বিশারদদের (أصحاب الحديث) কথা উল্লেখ করেছেন?তিনি বললেন: হ্যাঁ, আপনি কি মহান আল্লাহর এই বাণী শ্রবণ করেননি?“যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা অর্জন (تفقه) করতে পারে এবং তাদের কওমের নিকট যখন ফিরে আসবে, তখন তাদের সতর্ক করতে পারে।”এটি ঐ সকল ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যারা ইলম অন্বেষণে সফর (رحلة) করেন এবং অতঃপর তাদের পেছনে থাকাদের নিকট ফিরে গিয়ে তাদের তা শিক্ষা দান করেন।৪ - আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-আসবাহানি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন আহমাদ বিন সুলায়মান আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আহমাদ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হুরাইম বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
ثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الله بت عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلمنَضَّرَ اللَّهُ امْرَءًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَأَدَّاهُ عَنَّا كَمَا سَمِعَهُ فَرُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ5 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْمُذَكِّرُ النَّيْسَابُورِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا الرِّيَّ حَاجًّا قَالَ أَنا أَبُو اسحق حُمَيْدُ بْنُ الْمَأْمُونِ بْنِ حُمَيْدٍ الْهَمَذَانِيُّ بِهَا
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শ্রবণ করেছে, অতঃপর তা আমাদের পক্ষ থেকে পৌঁছে দিয়েছে ঠিক যেভাবে সে তা শুনেছিল; কেননা অনেক ক্ষেত্রে যাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী (أوعى) হয়ে থাকে।৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু সা'দ আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল কারীম আল-মুযাক্কির আন-নায়সাবুরী, তিনি হজ পালনকারী হিসেবে আমাদের নিকট 'রাই' শহরে আগমন করেছিলেন; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু ইসহাক হুমাইদ ইবনে আল-মামুন ইবনে হুমাইদ আল-হামাযানী সেখানে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
قَالَ أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ الْهَمَذَانِيُّ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو عَلِيٍّ الأَسَدِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْن الزُّبَيْرِ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ يَقُولُمَا مِنْ أَحَدٍ يَطْلُبُ الْحَدِيثَ غلا وَفِي وَجْهِهِ نَضْرَةٌ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نضر الله امراء مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ6 - أَخْبَرَنَا أَبوُ مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ السَّرَخْسِيُّ بِهَا قَالَ أَنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ الْخَلالُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ حَمْدَانَ الْغَزَّالَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْمُوَجِّهِ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَانَ بْنَ جَبَلَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْمُبَارَكِ يَقُولُالإِسْنَادُ عِنْدِي مِنَ الدّين لَوْلَا الْإِسْنَاد لقَالَ 3 أمَنْ شَاءَ
তিনি বললেন, আবু আল-হাসান আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-হামাদানি আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আবু আলী আল-আসাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি:হাদিস অন্বেষণকারী এমন কেউ নেই যার চেহারায় লাবণ্য নেই, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং তা (অন্যের কাছে) পৌঁছে দিয়েছে।"৬ - আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আবদ আল-মালিক আস-সারাকসি সেখানে আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবদ আল-আজিজ বিন আহমদ আল-খাল্লাল আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমি আবু বকর বিন হামদান আল-গাজ্জালকে বলতে শুনেছি, আমি আবু আল-মুওয়াজ্জিহকে বলতে শুনেছি, আমি আবদান বিন জাবালাকে বলতে শুনেছি, আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি:সনদ (الإسناد) আমার নিকট দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি সনদ (الإسناد) না থাকত, তবে যে কেউ যা ইচ্ছা তা-ই বলত।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
مَا شَاءَ فَإِذَا قِيلَ لَهُ مَنْ حَدَّثَكَ بَقَّى7 - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ الإِمَامُ بِهَرَاةَ قَالَ أَنا أَبُو الْفَضْلِ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الزَّاهِدُ إِمْلاءً أَنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ السَّاوِيُّ بِمَرْوَ قَالَ أَنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمَرْوَزِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ ثَنَا أَبُو الْفَضْلِ صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا يَعْقُوبَ الْبُوَيْطِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِدْرِيسَ
যা তিনি ইচ্ছা করেছেন (বর্ণনা করেছেন), অতঃপর যখন তাঁকে বলা হলো, "কে আপনার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন?" তখন তিনি থেমে গেলেন (بقى)7 - হেরাতের ইমাম আবু ইসমাঈল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন, আবু আল-ফজল উমর বিন ইবরাহীম বিন ইসমাঈল আজ-জাহিদ শ্রুতলিপি (إملاء) প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আস-সাউয়ী মার্ভ শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন, আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); আলী বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); আবু আল-ফজল সালিহ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন, আমি আবু ইয়াকুব আল-বুওয়াইতীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন ইদরিসকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
الشَّافِعِيَّ يَقُولُ إِذَا رَأَيْتُ صَاحِبَ حَدِيثٍ فَكَأَنِّي رَأَيْتُ رَجُلا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هُوَ بِمَنْزِلَتِهِقَالَ لَنَا الشَّافِعِيُّ جَزَاهُمُ اللَّهُ عَنَّا خَيْرًا أَنَّهُمْ حَفَظُوا لَنَا الأَصْلَ فَلَهُمْ عَلَيْنَا فَضْلٌ8 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ التِّنِّيسِيُّ بِهَا قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ وَأخْبرنَا أَبُو إِسْحَاق بْنُ سَعِيدٍ الْحَبَّالُ بِمِصْرَ ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْزُوقٍقَالا أَنا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ أَحْمَدَ الصَّفَّارُ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الله المقرى ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ قَالَقَالَ لِي الرَّشِيدُ مَا أَنْبَلُ الْمَرَاتِبِقُلْتُ مَا أَنْتَ فِيهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَقَالَ فَتَعْرِفُ أَجَلَّ مِنِّيقُلْتُ لَاقَالَ لَكِنِّي أَعْرِفُهُ رَجُلٌ فِي حَلْقِهِ يَقُولُ حَدَّثَنَا فُلانٌ عَنْ فُلانٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
ইমাম শাফিঈ বলেন, যখন আমি একজন হাদিসবিশারদকে (صاحب حديث) দেখি, তখন মনে হয় যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে একজনকে দেখলাম; তিনি তাঁদের মর্যাদাই রাখেন।শাফিঈ আমাদের বলেছেন, আল্লাহ তাঁদের আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন, কেননা তাঁরা আমাদের জন্য মূল উৎস (الأصل) সংরক্ষণ করেছেন, তাই আমাদের ওপর তাঁদের বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে।8 - আবু মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আত-তিন্নিসি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আর-রাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) এবং মিশরে আবু ইসহাক বিন সাঈদ আল-হাব্বাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মারজুক আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।তাঁরা উভয়ে বলেন, আহমদ বিন উবাইদ বিন আহমদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); হাফিজ (الحافظ) আহমদ বিন আলী আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকরি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); ইয়াহইয়া বিন আকসাম আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন:রশিদ আমাকে বললেন, সর্বাপেক্ষা মহৎ মর্যাদা কোনটি?আমি বললাম, আপনি যে অবস্থানে আছেন, হে আমিরুল মুমিনিন।তিনি বললেন, তুমি কি আমার চেয়েও অধিক মর্যাদাবান কাউকে চেনো?আমি বললাম, না।তিনি বললেন, কিন্তু আমি চিনি; তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইলমি মজলিসের (حلقة) আসরে বসে বলেন: অমুক আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), অমুক হতে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
قُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَذَا خَيْرٌ مِنْكَ وَأَنْتَ ابْنُ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَولى 3 ب عهد الْمُسلمينقَالَ نعم وَيلك خَيْرٌ مِنِّي لأَنَّ اسْمَهُ مُقْتَرِنٌ بِاسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَمُوتُ أَبَدًا وَنَحْنُ نَمُوتُ وَنَفْنَى وَالْعُلَمَاءُ بَاقُونَ مَا بَقِيَ الدَّهْرُ9 - حَدَّثَنَا أَبُو شَرِيفٍ الطُّوسِيُّ بِهَا قَالَ أَنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ النِّيلِيُّ قَالَ أَنا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاوُدَ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مَعْبَدٍ السِّنْجِيُّ ثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْهُذَلِيِّ قَالَقَالَ لِي الزُّهْرِيُّ يَا هُذَلِيُّ أَيُعْجِبُكَ الْحَدِيثَقُلْتُ نَعَمْقَالَ أَمَا إِنَّهُ يُعْجِبُ مُذَكَّرِي الرِّجَالِ وَيَكْرَهُهُ مُؤَنَّثُوهُمْ
আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনিন! এই ব্যক্তি আপনার চেয়ে উত্তম, অথচ আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই এবং মুসলিমদের খিলাফতের দায়িত্বে নিয়োজিত।"তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তোমার জন্য আক্ষেপ! তিনি অবশ্যই আমার চেয়ে উত্তম; কারণ তাঁর নাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামের সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে তিনি কখনও বিস্মৃত হবেন না। অথচ আমরা মারা যাব এবং বিলীন হয়ে যাব, কিন্তু আলেমগণ কালজয়ী হয়ে টিকে থাকবেন যতদিন মহাকাল টিকে থাকবে।"৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু শারিফ আত-তুসি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন-নিলি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু আমর বিন হামদান। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবু বকর বিন দাউদ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) সুলাইমান বিন মাবাদ আস-সিনজি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) সাঈদ বিন আমির, আবু বকর আল-হুজালি হতে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন:যুহরি আমাকে বললেন, "হে হুজালি! হাদিস কি তোমার ভালো লাগে?"আমি বললাম, "হ্যাঁ।"তিনি বললেন, "জেনে রেখো, এটি পৌরুষদীপ্ত পুরুষদেরই পছন্দ হয় এবং নারীসুলভ পুরুষেরা একে অপছন্দ করে।"
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكُوفِيُّ بِمَكَّةَ قَالَ أَنا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمُزَكي وَأخْبرنَا أَبُو الْقَاسِم بْنُ أَحْمَدَ الأَصْبَهَانِيُّ بِآمِدَ قَالَ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْدَهْ الْحَافِظُ قَالَ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ الْحُنَيْنِيَّ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ وَقَالُوا لَهُ يَا أَبَا عُمَرَ مَا تَرَى أَصْحَابُ الْحَدِيثِ كَيْفَ تَغَيَّرُوا قَدْ فَسَدُوا قَالَ هُمْ عَلَى مَا هُمْ خِيَارُ الْقَبَائِلِ11 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الأَدِيبُ قَالَ أَنا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ عبد الله مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بَالَوَيْهِ الْمُزَكِّي يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ عيس بْنَ مُوسَى يَقُولُ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْمَدِينِيَّ يَقُولَ
১০ - মক্কায় আবুল কাসিম আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-কুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম আল-মুজাক্কি (المزكي); এবং আমিদ নামক স্থানে আবুল কাসিম ইবনে আহমদ আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম, তিনি বলেন আমি মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-হুনাইনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি—তাঁকে বলা হলো, "হে আবু উমর! আপনি হাদিসের অনুসারীদের ব্যাপারে কী মনে করেন? তারা কেমন বদলে গেছে, তারা তো নষ্ট হয়ে গেছে!" তিনি বললেন, "তারা যেমনই হোক না কেন, তারাই সকল গোত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।"১১ - আবু বকর আল-আদিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাকিম আবু আবদুল্লাহ হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন আমি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে বালাওয়াইহ আল-মুজাক্কি (المزكي) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আবু বকর ঈসা ইবনে মুসাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি হাসান ইবনে আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আলী ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি—
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
لَيْسَ قَوْمٌ خَيْرًا مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ النَّاسُ فِي طَلَبِ الدُّنْيَا وَهُوَ فِي إِقَامَة الدّين124 - 2 4 أأنشدنا أَو الْفِرَاسِ قَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُوزِيُّ بِمَكَّة قَالَ أنشدنا نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّاهِدُ قَالَ أَنْشَدَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْكِرْمَانِيُّ قَالَ أَنْشَدَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الشِّيرَازِيّ لنَفسِهِ الطَّوِيلعَلَيْك بأصحاب الحَدِيث فَإِنَّهُعلى مَنْهَج الدّين مَا زَالَ مُعْلَمَا … وَمَا النُّورُ إِلا فِي الْحَدِيثِ وَأَهْلِهِإِذَا مَا دَجَى اللَّيْلُ الْبَهِيمُ وَأَظْلَمَا … وَأَعْلَى الْبَرَايَا مَنْ إِلَى السُّنَنِ اعْتَزَىوَأَغْوَى الْبَرَايَا مَنْ إِلَى الْبِدَعِ انْتَمَا … وَمَنْ تَرَكَ الآثَارَ ضَلَّلَ سَعْيَهُ … وَهَلْ يَتْرُكُ الآثَارَ مَنْ كَانَ مُسْلِمَا13 - أَنْشَدَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ يَحْيَى بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَلَوِيُّ الزَّيْدِيُّ بِالرِّيِّ قَالَ أَنْشَدَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الله الصُّورِي الْحَافِظ لنَفسِهِ الْخَفِيفقَلْ لِمَنْ عَانَدَ الْحَدِيثَ وَأَضْحَىعائبا أَهله وَمن يَدعِيهِ
হাদিস বিশারদদের চেয়ে উত্তম কোনো জাতি নেই; মানুষ দুনিয়া অন্বেষণে ব্যস্ত, আর তারা দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত।১২৪ - আবুল ফিরাদ কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আল-খুযি মক্কায় আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, নাসর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাহিদ আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আলী আল-হাসান ইবনে আব্বাস আল-কিরমানি আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, হিবাতুল্লাহ ইবনে হাসান আশ-শিরাজি নিজের রচিত তবিল ছন্দে কবিতা শুনিয়েছেন:তুমি হাদিস বিশারদদের পথ আঁকড়ে ধরো, কারণ তাদ্বীনের মানহাজের (منهج) ওপর সর্বদা সুস্পষ্ট নিদর্শনস্বরূপ ... আর নূর বা আলো তো কেবল হাদিস এবং এর অনুসারীদের মাঝেই নিহিত,যখন ঘোর অন্ধকার রজনী ঘনিয়ে আসে এবং সব অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ... আর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি যে নিজেকে সুন্নাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে,এবং সৃষ্টির সবচেয়ে পথভ্রষ্ট সে-ই যে নিজেকে বিদআতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে ... আর যে আসার (آثار) বর্জন করল সে তার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করল ... একজন মুসলিম হয়ে কেউ কি কখনো আসার (آثار) বর্জন করতে পারে?১৩ - আবু আল-হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে আল-হুসাইন আল-আলাভি আজ-যাইদি রায় শহরে আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সুরি হাফেজ (الحافظ) নিজের রচিত খফিফ ছন্দে কবিতা শুনিয়েছেন:তুমি তাকে বলো যে হাদিসের সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবংএর অনুসারীদের ও এর অনুসারী বলে দাবিকারীদের দোষারোপ করতে শুরু করেছে:
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
أَبَا لعلم تَقول هَذَا أَيْن لِيأَمْ بِجَهْلٍ فَالْجَهْلُ خَلْقُ السَّفِيه … أيعاب الَّذين هُوَ حَفَظُوا الدِّينَمِنَ التُّرَّهَاتِ وَالتَّمْوِيهِ … وَإِلَى قَوْلهم وَمَا قدرووهرَاجِعٌ كُلُّ عَالِمٍ وَفَقِيهِ14 - أَنْشَدَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ السَّلَام الارمنازي بصور لنَفسِهِ الطَّوِيلأَلا إِنَّ خَيْرَ النَّاسِ بَعْدَ مُحَمَّدٍوَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِينَ بِإِحْسَانِ … أُنَاسٌ أَرَادَ اللَّهُ إِحْيَاءَ دِينِهِبِحِفْظِ الَّذِي يَرْوِي عَنِ الأَوَّلِ الثَّانِي … أَقَامُوا حُدُودَ الشَّرْعِ شَرْعِ مُحَمَّدٍبِمَا وَضَّحُوهُ مِنْ دَلِيلٍ وَبُرْهَانِ … وَسَارُوا مَسِيرَ الشَّمْسِ فِي جَمْعِ عِلْمِهِفَأَوْطَانُهُمْ أَضْحَتْ لَهُمْ غَيْرَ أوطان … إِذا عَالم على الحَدِيث تسامعوابِهِ جَاءَ الْقاصِي مِنَ الْقَوْمِ وَالدَّانِي
আপনি কি জ্ঞানের ভিত্তিতে এ কথা বলছেন? আমার জন্য তা কোথায়?নাকি অজ্ঞতাবশত? কেননা অজ্ঞতা হলো নির্বোধের স্বভাব … তাঁদের কি দোষারোপ করা যায়, যাঁরা দ্বীনকে রক্ষা করেছেনঅসারতা ও প্রতারণা হতে … এবং তাঁদের কথা ও তাঁদের নির্ধারিত মানদণ্ডের দিকেইপ্রত্যেক আলেম (عالم) ও ফকিহ (فقيه) প্রত্যাবর্তন করেন।১৪ - আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুস সালাম আল-আরমানাজি সূর শহরে দীর্ঘ ছন্দে নিজের রচিত কবিতা আমাদের পাঠ করে শুনিয়েছেন:জেনে রেখো, মুহাম্মদ (সা.), তাঁর সাহাবি এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়ি (التابعين)-গণের পর শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো—এমন একদল লোক যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছেন … সেই বর্ণনা (يروي) সংরক্ষণের মাধ্যমে যা দ্বিতীয় বর্ণনাকারী প্রথম জন থেকে বর্ণনা (يروي) করেন … তাঁরা মুহাম্মাদ (সা.)-এর শরিয়তের সীমারেখা প্রতিষ্ঠা করেছেনতাঁদের স্পষ্ট করা প্রমাণ ও দলীল দ্বারা … এবং তাঁরা এর জ্ঞান অর্জনে সূর্যের ন্যায় পরিভ্রমণ করেছেনফলে তাঁদের স্বদেশগুলো তাঁদের নিকট পরবাসে পরিণত হয়েছে … যখনই তাঁরা কোনো হাদিস বিশারদ আলেম (عالم) সম্পর্কে শুনতে পেতেনতাঁর কাছে লোকজনের মধ্যে দূরবর্তী ও নিকটবর্তী সকলে ছুটে আসত।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
15 - سَمِعْتُ الْمُرْتَضَى أَبَا الْحَسَنِ الْمُطَهَّرَ بْنَ أَبِي عَلِيٍّ الْعَلَوِيَّ بِالرِّيِّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا سَعْدٍ السَّمَّانَ إِمَام الْمُعْتَزلَة يَقُولوَمن لَمْ يَكْتُبِ الْحَدِيثَ لَمْ يَتَغَرْغَرْ بِحَلاوَةِ الإِسْلامِ16 - قَالَ الْمَقْدِسِيُّ وَلَسْتُ أَقْصِدُ أَنْ أَسْتَقْصِيَ مَا ذُكِرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنِ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم وَعَنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ قَرْنًا بَعْدَ قَرْنٍ مَا فِي مدح هَذِه الْفرْقَة على أَن لَا تُقَامَ سُنَّةٌ وَلا تُذَلَّ بِدْعَةٌ وَلا يُؤْمَرَ بِمَعْرُوفٍ وَلا يُنْهَى عَنْ مُنْكَرٍ إِلا هُوَ دَلِيلٌ عَلَى فَضْلِهِمْ لأَنَّهُمُ الَّذِينَ رَوَوْهُ وَنَقَلُوهُ وَدَوَّنُوهُ حَتَّى بُلِّغَ إِلَى مَنْ عَمِلَ بِهِوَقَدْ صَنَّفَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَئِمَّتِنَا فِي هَذَا الْمَعْنى كتبا تَشْمَل عَلَى مَنَاقِبِهِمْ وَإِنَّمَا قَدَّمْنَا هَذِهِ النبذ فِي أَوَّلِ هَذَا السُّؤَالِ لَنَبْنِيَ عَلَيْهَا الْمَقَالَفَاسْمَعِ الآنَ مَا لَهُ قَصَدْتَ وَبَيَانُ مَا عَنْهُ سَأَلْتَ
15 - আমি রাই শহরে আল-মুরতাজা আবুল হাসান আল-মুতাহার ইবনে আবি আলী আল-আলাওয়ীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুতাজিলাদের ইমাম আবু সা'দ আস-সাম্মানকে বলতে শুনেছি:যে ব্যক্তি হাদিস লেখেনি, সে ইসলামের মিষ্টতা আস্বাদন করেনি।16 - আল-মাকদিসি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম আইম্মায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এই জামাতের প্রশংসায় যা বর্ণিত হয়েছে, তার সবিস্তার বিবরণ দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। কারণ এমন কোনো সুন্নাহ (سنة) প্রতিষ্ঠিত হয় না, কোনো বিদআত (بدعة) লাঞ্ছিত হয় না এবং কোনো সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن منكر) প্রদান করা হয় না—যা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে না; কেননা তাঁরাই এটি বর্ণনা (رواية) করেছেন, স্থানান্তর (نقل) করেছেন এবং সংকলন (تدوين) করেছেন, এমনকি যারা এর ওপর আমল করেন তাদের নিকট তা পৌঁছে দিয়েছেন।আমাদের ইমামগণের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এই মর্মে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন যা তাঁদের মর্যাদাকে শামিল করে। আমি কেবল এই জিজ্ঞাসার শুরুতে এই সংক্ষিপ্ত অংশটুকু পেশ করেছি যাতে এর ওপর ভিত্তি করে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারি।সুতরাং এখন শ্রবণ করুন আমি যা সংকল্প করেছি এবং আপনি যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন তার সুস্পষ্ট বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥١)
17 - اعْلَمْ أَنَّ طَلَبَ الْعُلُوِّ مِنَ الْحَدِيثِ مِنْ عُلُوِّ هِمَّةِ الْمُحَدِّثِ وَنُبْلِ قَدْرِهِ وَجَزَالَةِ رَأْيِهِ وَقَدْ وَرَدَ فِي طَلَبِ الْعُلُوِّ سُنَّةٌ صَحِيحَةأخبرنَا بهَا أَبُو عمر عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْعَدْلُ بِنَيْسَابُورَ قَالَ أَنا أَبُو نُعَيْمٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْحسن الاسفرائينى ثَنَا أَبُو عوانه يَعْقُوب ابْن إِسْحَاقَ الْحَافِظُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَيْوَةَ ثَنَا أَبُو سَلَمَةَ ثَنَا سُلَيْمَان ابْن الْمُغِيرَةِ ثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَكُنَّا قَدْ نُهِينَا فِي الْقُرْآنِ أَنْ نَسْأَلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم 5 أعَنْ شَيْءٍ فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يجِئ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَيَسْأَلُهُ وَنَحْنُ نَسْمَعُ وَكَانُوا أَجْرَأَ عَلَى ذَلِكَ مِنَّاقَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِفَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَقَالَ صَدَقَ
১৭ - জেনে রাখুন যে, হাদিসের ক্ষেত্রে উচ্চ সনদ (علو) অন্বেষণ করা একজন মুহাদ্দিসের সুউচ্চ হিম্মত, মর্যাদার আভিজাত্য এবং চিন্তার বলিষ্ঠতার পরিচায়ক। আর উচ্চ সনদ (علو) অন্বেষণের ব্যাপারে একটি সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে।নিশাপুরে আবু ওমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আদল (العدل) আমাদের তা অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আবু নুআইম আব্দুল মালিক ইবনে হাসান আল-ইসফরাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ (الحافظ) আবু আওয়ানা ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে হাইওয়াহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু সালামাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুলাইমান ইবনুল মুগিরাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সাবিত আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:কুরআনে আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ফলে আমাদের নিকট এটি অত্যন্ত পছন্দনীয় ছিল যে, কোনো মরুবাসী গ্রাম্য লোক আসবে এবং তাঁকে প্রশ্ন করবে আর আমরা তা শুনব। তারা এই প্রশ্নে আমাদের চেয়ে অধিক সাহসী ছিল।তিনি বলেন, এরপর জনৈক মরুবাসী গ্রাম্য লোক এল।সে বলল, হে মুহাম্মদ! আপনার দূত আমাদের নিকট এসেছিল এবং সে দাবি করেছে যে, আপনি নাকি দাবি করেন আল্লাহ আপনাকে রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন।তিনি বললেন, সে সত্য বলেছে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
قَالَ فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَقَالَ اللَّهُقَالَ فَمَنْ خَلَقَ الأَرْضَقَالَ اللَّهُقَالَ فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَقَالَ اللَّهُقَالَ فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَخَلَقَ الأَرْضَ وَنَصَبَ فِيهَا الْجِبَالَ وَجَعَلَ فِيهَا الْمَنَافِعَ اللَّهُ أَرْسَلَكَقَالَ نَعَمْقَالَ وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا وَلَيْلَتِنَاقَالَ صَدَقَقَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ اللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَاقَالَ نَعَمْقَالَ وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهَرِ رَمَضَانَ فِي سُنَّتِنَاقَالَ صَدَقَقَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ اللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَاقَالَ نَعَمْقَالَ وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاقَالَ صَدَقَقَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ اللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَاقَالَ نَعَمْ ثُمَّ وَلَّى الرَّجُلُثُمَّ قَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أُزِيدُ عَلِيهِنَّ شَيْئًا وَلا أُنْقِصُ مِنْهُنَّ شَيْئًا ثُمَّ وَلَّىفَقَالَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلملَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন?"তিনি বললেন, "আল্লাহ।"তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তবে জমিন কে সৃষ্টি করেছেন?"তিনি বললেন, "আল্লাহ।"তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তবে এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন?"তিনি বললেন, "আল্লাহ।"তিনি বললেন, "তবে যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন ও তাতে নানাবিধ কল্যাণ নিহিত রেখেছেন—সেই সত্তার কসম! আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন?"তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"তিনি বললেন, "আপনার প্রেরিত ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, দিন ও রাতে আমাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আবশ্যক।"তিনি বললেন, "তিনি সত্য বলেছেন।"তিনি বললেন, "তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"তিনি বললেন, "আপনার প্রেরিত ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, বছরে আমাদের ওপর রমজান মাসের সাওম পালন করা আবশ্যক।"তিনি বললেন, "তিনি সত্য বলেছেন।"তিনি বললেন, "তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"তিনি বললেন, "আপনার প্রেরিত ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, আমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে তার ওপর বাইতুল্লাহর হজ করা আবশ্যক।"তিনি বললেন, "তিনি সত্য বলেছেন।"তিনি বললেন, "তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" অতঃপর লোকটি ফিরে যেতে লাগলেন।তারপর তিনি বললেন, "যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আমি এসবের ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করব না।" অতঃপর তিনি চলে গেলেন।তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন"যদি তিনি সত্য বলে থাকেন, তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবেন।"
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
صَحِيحٌ رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ عَنْ عَمْرٍو النَّاقِدِ عَنْ أَبِي النَّضْرِ هَاشِمِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ سُلَيْمَانوَقَالَ الْبُخَارِيُّ فِي كِتَابِ الْعِلْمِ وَرَوَاهُ مُوسَى وَعَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ سُلَيْمَانَوَأَبُو سَلَمَةَ الْمُكْنَى فِي إِسْنَادِنَا هُوَ مُوسَى الَّذِي ذَكَرَهُ الْبُخَارِيُّ وَهُوَ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيل التبوذكىفَهَذَا دَلِيل 5 ب عَلَى طَلَبِ الْمَرْءِ الْعُلُوَّ مِنَ الإِسْنَادِ وَالرِّحْلَةَ فِيهِ فَإِنَّ هَذَا الرَّجُلَ الْمُكْنَى عَنِ اسْمِهِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ هُوَ ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَة لما جَاءَهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِمَا فُرِضَ علَيَهْمِ لَمْ يُقْنِعْهُ ذَلِكَ حَتَّى وَصَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْمَعَ مِنْهُ
সহিহ (صحيح); এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আমর আন-নাকিদ থেকে, তিনি আবু আন-নাদর হাশিম বিন আল-কাসিম থেকে এবং তিনি সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন।এবং ইমাম বুখারি তাঁর ‘কিতাবুল ইলম’-এ উল্লেখ করেছেন যে, এটি মুসা এবং আলি বিন আব্দুল হামিদ সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন।আমাদের সনদ (إسناد)-এ উপনামে (المكنى) উল্লিখিত আবু সালামাহ হলেন সেই মুসা যাঁকে ইমাম বুখারি উল্লেখ করেছেন; আর তিনি হলেন মুসা বিন ইসমাইল আত-তাবুজাকি।এটি উচ্চতর সনদ (علو الإسنাদ) অন্বেষণ এবং এই উদ্দেশ্যে সফরের একটি প্রমাণ ৫ খ (5 b)। কেননা এই হাদিসে যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে কেবল উপনাম (المكنى) ব্যবহার করা হয়েছে তিনি হলেন দিমাম বিন সা’লাবাহ। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত দূত তাঁর নিকট আসলেন এবং তাদের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে সে সম্পর্কে সংবাদ দিলেন, তখন তিনি তাতে তুষ্ট না হয়ে যতক্ষণ না স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছে তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করলেন, ততক্ষণ তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
فَلَوْ كَانَ طَلَبُ الْعُلُوِّ غَيْرَ مُسْتَحبّ لَا نكر عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم سُؤَالَهُ عَمَّا أَخْبَرَهُ رَسُولُهُ عَنْهُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ18 - فَقَدْ أَجْمَعَ أَهْلُ النَّقْلِ عَلَى طَلَبِهِمُ الْعُلُوَّ وَمَدْحِهِ إِذْ لَوِ اقْتَصَرُوا عَلَى سَمَاعِهِ بِنُزُولٍ لَمْ يَرْحَلْ أَحَدٌ مِنْهُمْثُمَّ وَجَدْنَا الأَئِمَّةَ الْمُقْتَدَى بِهِمْ فِي هَذَا الشَّأْنِ سَافَرُوا الآفَاقَ فِي سَمَاعِهِ وَلَوِ اقْتَصَرُوا عَلَى النُّزُولِ لَوَجَدَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ بِبَلَدِهِ مَنْ يُخْبِرُهُ بِذَلِكَ الْحَدِيثِ
যদি উচ্চ সনদ (علو) অন্বেষণ করা মুস্তাহাব না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রেরিত ব্যক্তি তাঁকে যা সংবাদ দিয়েছিলেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করার কারণে আপত্তি করতেন না। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।18 - নিশ্চয়ই হাদিস বিশারদগণ উচ্চ সনদ (علو) অন্বেষণ এবং এর প্রশংসার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; কেননা তাঁরা যদি কেবল নিম্ন সনদ (نزول) সহকারে শ্রবণের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে তাঁদের কেউ দীর্ঘ ভ্রমণে বের হতেন না।অতঃপর আমরা দেখতে পাই যে, এই শাস্ত্রের অনুসরণীয় ইমামগণ হাদিস শ্রবণের উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তরে সফর করেছেন। যদি তাঁরা কেবল নিম্ন সনদ (نزول)-এর ওপরই সন্তুষ্ট থাকতেন, তবে তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ জনপদে এমন কাউকে পেয়ে যেতেন, যে তাঁকে সেই হাদিসটি বর্ণনা করত।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
وَلَوْ شَرَعْنَا فِي ذِكْرِ مَنْ مَدَحَ الْعُلُوَّ وَنَعَتَ مَنْ رَحَلَ فِيهِ وَأَقَاوِيلِهِمْ فِي ذَلِكَ تَجَاوَزْنَا حَدَّا الاخْتِصَارِ إِلا أَنَّ الْمُمَيِّزَ يَسْتَدِلُّ بِرِوَايَاتِهِمْ عَلَى سَفَرِهِمْ19 - وَقَدْ ذَمَّ قَوْمٌ النُّزُولَ وَأَطْنَبُوا فِي ذَمِّهِ كَمَا أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ الْمُطَهَّرُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَيِّعُ بِأَصْبَهَانَ قَالَ أَنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَصْبَهَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ الأَصْبَهَانِيَّ يَقُولسَمِعت الْحسن ابْن حَبِيبٍ بِدِمَشْقَ يَقُولُحَدَّثَنَا عَلانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ قَالَسَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُالْحَدِيثُ بِنُزُولٍ كَالْقَرْحَةِ فِي الْوَجْهِ20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعَدَةَ الْجُرْجَانِيُّ بِهَا قَالَ أَنا حَمْزَةُ بْنُ
আমরা যদি উচ্চ সনদ (علو) এর প্রশংসাকারী, এর অন্বেষণে যারা সফর করেছেন তাদের বৈশিষ্ট্য এবং এ বিষয়ে তাদের উক্তিগুলো উল্লেখ করতে শুরু করি, তবে তা সংক্ষিপ্তকরণের সীমা অতিক্রম করে যাবে; তবে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি তাদের বর্ণনাসমূহের মাধ্যমেই তাদের সফরের বিষয়ের প্রমাণ পেয়ে থাকেন।১৯ - একদল লোক নিম্ন সনদ (نزول) এর নিন্দা করেছেন এবং এর নিন্দায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আল-মুতাহহার ইবনে আহমাদ আল-বায়্যি ইসফাহানে, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানি, তিনি বলেন, আমি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলি আল-আসবাহানিকে বলতে শুনেছি—আমি দামেশকে হাসান ইবনে হাবিবকে বলতে শুনেছি—আল্লান ইবনুল মুগিরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি—নিম্ন সনদ (نزول) বিশিষ্ট হাদিস হলো চেহারার ক্ষতের ন্যায়।২০ - আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মাসআদাহ আল-জোরজানি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন হামজাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
يُوسُفَ السَّهْمِيُّ قَالَ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ قَالَ أَنا بَكْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَاتِبُ بِمَرْوَ قَالَ سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِسْحَاقَ يَقُول سَمِعت عَليّ ابْن الْمَدِينِيَّ يَقُولُالنُّزُولُ شُؤْمٌ
ইউসুফ আস-সাহমি বলেন, আবদুল্লাহ বিন আদি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, মার্ভের বকর বিন মুহাম্মদ আল-কাতিব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইসমাইল বিন ইসহাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আলি ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি:
বর্ণনাসূত্রের দীর্ঘতা (النزول) একটি অশুভ লক্ষণ।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
مَسْأَلَةُ الْعُلُوِّ وَالنُّزُولِ فِي الْحَدِيثِ21 - فَإِذَا كَانَ الأَمْرُ عَلَى مَا ذَكرْنَاهُ من مدحهم 6 أالْعُلُوَّ وَذَمِّهِمُ النُّزُولَ فَاعْلَمْ أَنَّ الْعُلُوَّ فِي الْحَدِيثِ عَلَى دَرَجَاتٍ خَمْسٍ22 - الدَّرَجَةُ الأُولَىحَدِيثٌ صَحَّ سَنَدُهُ وَقَلَّ عَدَدُهُوَهَذَا الْحَدُّ الَّذِي وضعناه يعسر على الْمُبْتَدِي وَيَسْهُلُ عَلَى الْمُمَيِّزِ بَيْنَ الصَّحِيحِ وَالسَّقِيمِ فَرُبَّ إِسْنَادَيْنِ اسْتَوَيَا فِي الْعَدَدِ أَحَدُهُمَا ثَابِتٌ وَالآخَرُ وَاهٍ لَا أَصْلَ لَهُ
হাদিসের ক্ষেত্রে উচ্চতা (العلو) এবং নিম্নতা (النزول) সংক্রান্ত মাসআলা২১ - সুতরাং বিষয়টি যদি তেমনই হয় যা আমরা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ উচ্চতা (العلو)-এর প্রশংসা এবং নিম্নতা (النزول)-এর নিন্দা—তবে জেনে রাখুন যে, হাদিসের উচ্চতা (العلو) পাঁচটি স্তরে বিভক্ত।২২ - প্রথম স্তরএমন হাদিস যার সনদ (سند) সহিহ (صح) এবং যার বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম।আমরা যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছি তা প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর (مبتدئ) জন্য কঠিন, কিন্তু যিনি বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম (مميز) তার জন্য তা সহজ। কারণ অনেক সময় এমন দুটি ইসনাদ (إسناد) বর্ণনাকারীর সংখ্যার দিক থেকে সমান হওয়া সত্ত্বেও তাদের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) এবং অন্যটি অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ) হয় যার কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
23 - مِثَالُهُ مَا أَخْبَرَنَاهُ أَبُو الْقَاسِمِ قَاسم بن أَحْمد بْنُ أَحْمَدَ بِثَغْرِ آمِدَ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَشِيشٍ الْعَدْلُ ثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَدَوِيُّ شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ ثَنَا نَافِعُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو هُرْمُزَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلمعَلَيْكُمْ بِرَكْعَتَيِ الْفَجْرِ فَإِنَّ فِيهِمَا الرَّغَائِبَ24 - فَهَذَا إِسْنَادٌ إِذَا تَأَمَّلَهُ مَنْ لَيْسَ الْحَدِيثُ مِنْ صَنَاعَتِهِ اعْتَقَدَ عُلُوَّهُ وَقَدَّمَهُ عَلَى سَائِرِ حَدِيثِهِ وَافْتَخَرَ بِقِلَّةِ عَدَدِ رُوَاتِهِ إِلا أَنَّ إِسْنَادَهُ لَا تَقُومُ بِهِ الْحُجَّةُ لأَنَّ نَافِعًا هَذَا غَيْرُ ثِقَةٍ
23 - এর উদাহরণ হলো তা, যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম কাসিম ইবনে আহমদ ইবনে আহমদ আমিদ সীমান্তে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাশিশ আল-আদল; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-আদাউয়ী, শায়বান ইবনে ফাররুখ থেকে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নাফে ইবনে আবদুল্লাহ আবু হুরমুজ, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:তোমরা ফজরের দুই রাকাতের প্রতি যত্নবান হও, কেননা তাতে রয়েছে অনেক আকাঙ্ক্ষিত নেয়ামত।24 - এটি এমন একটি সনদ (إسناد) যে, হাদিস যাদের বিশেষায়িত শাস্ত্র নয় তারা যখন এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, তখন তারা এর উচ্চমর্যাদা (علو) বিশ্বাস করবে এবং তাদের নিকট থাকা অন্যান্য হাদিসের ওপর একে অগ্রাধিকার দিবে এবং এর বর্ণনাকারীদের সংখ্যার স্বল্পতা নিয়ে গর্ব করবে। তবে মূলত এই সনদ (إسناد) দ্বারা দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হবে না; কারণ এই নাফে নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الإِسْمَاعِيلِيُّ قَالَ أَنا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ ثَنَا عبد الله ابْن عدي قَالَ سَمِعت أَبَا الْعلي الْمَوْصِلِيَّ يَقُولُ سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ عَنْ نَافِعٍ أَبِي هُرْمُزَ قَالَ لَيْسَ بِشَيْءٍ وَقَالَ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَسَأَلْتُ يَحْيَى عَنْهُ فَقَالَ لَيْسَ بِثِقَةٍوَقَالَ عَبَّاسٌ ثَنَا يَحْيَى قَالَ أَبُو هُرْمُزَ الَّذِي يرْوى عَنهُ أَنَسٍ ضَعِيفُ الْحَدِيثِوَقَالَ النَّسَائِيُّ لَيْسَ بِثِقَةٍوَالْعَدَوِيُّ هَذَا أَيْضًا كَذَّاب26 - فَإِذا ورد عَلَيْك 6 ب أَحَادِيثُ هَذَا مَعَ أَمْثَالِهِمِثْلُ كَثِيرِ بْنِ سُلَيْمٍ وَيَغْنُمَ بْنِ سَالِمِ بْنِ قُنْبُرٍ وَفَرَجٍ
25 - আবু আল-কাসিম আল-ইসমাঈলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হামযাহ বিন ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল আলা আল-মাওসিলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে নাফি আবু হুরমুজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "তিনি উল্লেখযোগ্য নন (ليس بشيء)"। এবং ইবনে আবি মারইয়াম বলেন:আমি ইয়াহইয়াকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন (ليس بثقة)"।আব্বাস বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু হুরমুজ—যিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন—হাদিসে দুর্বল (ضعيف الحديث)।আন-নাসায়ী বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন (ليس بثقة)"।আর এই আল-আদাউয়িও একজন চরম মিথ্যুক (كذاب)।26 - অতঃপর যখন আপনার নিকট তার হাদিসসমূহ এবং তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের হাদিসসমূহ আসবে—যেমন: কাসির বিন সুলাইম, ইয়াগনাম বিন সালিম বিন কুনবুর এবং ফারাজ।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
ومُوسَى ابْن عَبْدِ اللَّهِ الطَّوِيلِ وَأَبِي الدُّنْيَا عُثْمَانَ بْنِ الْخَطَّابِ وَخِرَاشِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَلا تَفْرَحْ بِهَا وَلا تَعْرُجْ عَلَيْهَاوَهَؤُلاءِ قَوْمٌ مَعْرُوفُونَ عِنْدَ أَهْلِ النَّقْلِ بِطُيُورِ السن وَرِوَايَاتِهِمْ شِبْهُ الرِّيحِ يَدْعُونَ أَعْمَارًا طَوِيلَةً وَيَرْوُونَ أَحَادِيثَ دَخِيلَةً لَمْ يحْتَج حَدِيثهمْ مُحْتَجٌّ وَلَمْ يُنْقَلْ فِي كُتُبِ الأَئِمَّةِ عَنْهُمْ شَيْئًا وَإِنَّمَا تُنْقَلُ أَحَادِيثِهِمْ لِلْمَعْرِفَةِ وَالاسْتِدْلالِ عَلَى كَذِبِهِمْ وَضَعْفِهِمْأَعَاذَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكَ مِنَ الْكَذِبِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم27 - فَهَذَا الْحَدُّ الْوَاهِي الَّذِي أَشَرْتُ إِلَيْهِ قَبْلُ وَقَدْ يَقَعُ لأَمْثَالِنَا بِهَذَا الْعَدَدِ أَحَادِيثُ مَشْهُورَةُ الأَسَانِيدِ مُتَّصِلَةٌ مِثَالُهُمَا أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَزَّازُ بِبَغْدَادَ قَالَ أَنا أَبُو
মুসা ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাবিল, আবু আদ-দুনিয়া উসমান ইবনে আল-খাত্তাব এবং খিরাশ ইবনে আব্দুল্লাহ; এদের নিয়ে তুমি আনন্দিত হয়ো না এবং এদের ওপর নির্ভর করো না।আর তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা হাদিস বিশারদদের (أهل النقل) নিকট দীর্ঘায়ুর দাবিদার হিসেবে পরিচিত এবং তাদের বর্ণনাগুলো (روايات) বায়ুর মতো ভিত্তিহীন। তারা দীর্ঘ জীবনের দাবি করে এবং প্রক্ষিপ্ত (أحاديث دخيلة) হাদিস বর্ণনা করে। কোনো দলিল প্রদানকারীই তাদের হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করেননি এবং ইমামগণের কিতাবসমূহে তাদের থেকে কোনো কিছুই বর্ণিত হয়নি। তাদের হাদিসগুলো কেবল তাদের মিথ্যাচার (كذب) এবং দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে জানার এবং তা প্রমাণ করার জন্যই উদ্ধৃত করা হয়।আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যাচার করা থেকে রক্ষা করুন।২৭ - এটি হলো সেই অত্যন্ত দুর্বল (واهي) পর্যায় যার দিকে আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। আমাদের মতো লোকেদের নিকট এই সংখ্যক বর্ণনাকারী বিশিষ্ট এমন অনেক হাদিস পাওয়া যায় যা প্রসিদ্ধ সনদ (مشهورة الأسانيد) বিশিষ্ট এবং নিরবচ্ছিন্ন (متصلة); এর উদাহরণ হলো:যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-বাজ্জাজ বাগদাদে, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু...
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦١)
الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ثَنَا طَالُوتُ بْنُ عَبَّادٍ قَالَ حَدَّثَنِي فَضَّالُ بْنُ جُبَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ يَقُولُقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلماكْفُلُوا إِلَيَّ بِسِتٍّ أَكْفُلُ لَكُمْ بِالْجَنَّةِإِذْ حَدَّثَ أَحَدُكُمْ فَلا يَكْذِبْوَإِذَا ائْتُمِنَ فَلا يَخُنْوَإِذَا وَعَدَ فَلَا يخلفغضوا أبصاركموكفلوا أَيْدِيَكُمْوَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ
আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বলেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী আমাদের অবহিত করেছেন (أنا), তালুত বিন আব্বাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন, ফাযযাল বিন জুবাইর আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন, আমি আবু উমামাহ আল-বাহিলি-কে বলতে শুনেছি (سمعت):রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনতোমরা আমার কাছে ছয়টি বিষয়ের জিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবযখন তোমাদের কেউ কথা বলে, তখন সে যেন মিথ্যা না বলেযখন তাকে বিশ্বাস করা হয়, তখন সে যেন খিয়ানত না করেযখন সে ওয়াদা করে, তখন সে যেন তা ভঙ্গ না করেতোমরা তোমাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখোতোমাদের হাতকে সংযত রাখোএবং তোমাদের লজ্জাস্থানসমূহ হেফাজত করো
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
فَإِسْنَادُ هَذَا الْحَدِيثِ فِي الْعِدَّةِ إِلَى الصَّحَابِيِّ كَالإِسْنَادِ الْمُتَقَدِّمِ وَطَرِيقُهُ أَشْهَرُ وَرُوَاتُهُ أَوْثَقُأَمَّا فَضَّالُ بْنُ جُبَيْرٍ فَإِنَّ أَبَا أَحْمَدَ الْعَسَّالَ الْحَافِظَ الأَصْبَهَانِيَّ ذَكَرَهُ فَقَالَفَضَّالُ بْنُ جُبَيْرٍ بَصْرِيٌّ سَمِعَ 7 أمِنْ أَبِي أُمَامَةَ يُكْنَى أَبَا الْمُهَنَّدِوَأَوْرَدَ لَهُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي كِتَابِهِ عَنْ مُطَيَّنٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْكُوفِيِّوَأَمَّا طَالُوتُ بْنُ عَبَّادٍ الْصَيْرَفِيُّ أَبُو عُثْمَانَ الْجَحْدَرِيُّ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ فِي كِتَابه طالوت بن عباد عَنهُ أَبِي سُئِلَ عَنْهُ فَقَالَ صَدُوقٌوَمَنْ بَعْدَهُمَا إِلَى شَيْخِنَا عُدُولٌ ثِقَاتٌ
এই হাদিসের সংখ্যাগত সনদ (إسناد) সাহাবি (صحাবি) পর্যন্ত পূর্ববর্তী সনদের (إسناد) মতোই, তবে এর সূত্রটি (طريق) অধিক প্রসিদ্ধ এবং এর বর্ণনাকারীবৃন্দ (رواة) অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق)।আর ফদদাল ইবনে জুবায়ের সম্পর্কে হাফেজ (حافظ) আবু আহমদ আল-আসসাল আল-আসবাহানি উল্লেখ করে বলেছেন:ফদদাল ইবনে জুবায়ের বসরার অধিবাসী, তিনি আবু উমামাহ থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তার উপনাম (كنية) হলো আবু আল-মুহান্নাদ।তিনি তার গ্রন্থে মুতাইয়িন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কুফির সূত্রে তার জন্য এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।আর তালুত ইবনে আব্বাদ আল-সাইরাফি আবু উসমান আল-জাহদারি সম্পর্কে আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আল-রাজি তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তালুত ইবনে আব্বাদ সম্পর্কে আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: সত্যবাদী (صدوق)।এবং তাদের দুজনের পরবর্তী হতে আমাদের শায়খ পর্যন্ত সকলেই ন্যায়নিষ্ঠ (عدول) ও নির্ভরযোগ্য (ثقات)।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
28 - فَهَذَا أَحَدُ الدَّرَجَةِ الأُولَى مِنَ الْعُلُوِّ وَالتَّمْيِيزِ فِيمَا بَيْنَ الصَّحِيحِ وَالسَّقِيمِوَقَدْ يَقَعُ إِلَيْنَا بِعُلُوِّ دَرَجَةٍ عَلَى مَا تَقَدَّمَ إِلا أَنَّهُ أَضْعَفُ مِنَ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ وَأَوْهَى مِنْ ذَلِكَمَا أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد عَبْدِ اللَّهِ الْخَطِيبُ الصَّرِيفِينِيُّ بِبَغْدَادَ إِمْلاءً مِنْ حِفْظِهِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الكتاني الْمُقْرِئُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَدَوِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي خِرَاشُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُالصَّوْمُ جُنَّةٌوَهَذَا أَعْلَى مِنَ الْمُتَقَدِّمِ بِدَرَجَةٍ إِلا أَنَّهُ شِبْهُ الرِّيحِ لأَنَّ ابْنَ خِرَاشٍ هَذَا مَجْهُولٌ وَالْعَدَوِيَّ كَذَّابٌ وَالْحَمْلُ فِيهِ عَلَيْهَوَقَوْلُهُ الصَّوْمُ جُنَّةٌ صَحِيحٌ مِنْ طَرِيقِ أَبِي هُرَيْرَةَ فَرَكَّبَ لَهُ الْعَدَوِيُّ إِسْنَادًا وَجَعَلَهُ عَنْ أَنَسٍ بِعُلُوٍّ
28 - এটি সহিহ (صحيح) এবং অশুদ্ধ (سقيم) বর্ণনার মধ্যবর্তী পার্থক্য নিরূপণ এবং উচ্চমানের (علو) ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত।আর এটি আমাদের নিকট পূর্বে উল্লেখিত স্তরের তুলনায় উচ্চ মানসম্পন্ন (علو درجة) সনদে পৌঁছেছে, তবে আমরা যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এটি তার চেয়েও দুর্বল (أضعف) এবং তার চেয়েও অধিক অসার (أوهى)।আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-খতিব আস-সারিফিনি বাগদাদে তাঁর স্মৃতি থেকে শ্রুতিলিখনের (إملاء) মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাফস উমর ইবনে ইব্রাহিম আল-কাত্তানি আল-মুকরি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আলি আল-আদাউয়ি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني), তিনি বলেন: খিরাশ ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন (حدثني) এবং তিনি বলেছেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:রোজা হলো ঢাল।এটি পূর্ববর্তী বর্ণনার তুলনায় এক স্তর উচ্চ মানসম্পন্ন (أعلى), কিন্তু এটি বাতাসের ন্যায় অসার; কারণ এই ইবনে খিরাশ হলেন অপরিচিত (مجهول) এবং আদাউয়ি হলেন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), আর এই বর্ণনার সমস্ত দায়ভার তাঁর ওপরই বর্তায়।তাঁর এই কথা "রোজা হলো ঢাল"—এটি আবু হুরাইরার সূত্র (طريق) থেকে সহিহ (صحيح), কিন্তু আদাউয়ি এর জন্য একটি সনদ (إسناد) তৈরি করেছেন এবং উচ্চ মান (علو) প্রদর্শনের জন্য একে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
29 - أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو بَكْرٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَطِيبُ بِالرِّيِّ قَالَ أَنا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بن مُحَمَّد أَحْمَدَ الْجُمَحِيُّ بِمَكَّةَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ قَالَ نَا الأَعْمَشُعَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ اللَّهُ عز وجلالصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يدع شَهْوَته وَأكله وشربه 7 ب مِنْ أَجْلِيوَالصَّوْمُ جُنَّةٌ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ إِفْطَارِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِهِ رَبَّهُوَلَخَلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
২৯ - রাই নগরে আবু বকর ইসমাইল বিন আলী আল-খতিব আমাদের এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); তিনি বলেন, আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا); মক্কায় আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ আহমদ আল-জুমাহি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); আবু নুআইম আল-ফজল বিন দাকাইন আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন, আল-আ’মাশ আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।আবু সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন:"রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান প্রদান করব; সে কেবল আমার জন্যই নিজের কামনা-বাসনা, আহার ও পানীয় বর্জন করে।আর রোজা হলো একটি ঢাল। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং অপর আনন্দটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়।নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।"
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي التَّوْحِيدِ عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ الْفَضْلِ كَذَلِكَ30 - الدَّرَجَةُ الثَّانِيَةُالْعُلُوُّ إِلَى الأَئِمَّةِوَهَذِهِ الدَّرَجَةُ تَنْقَسِمُ إِلَى قِسْمَيْنِ
ইমাম বুখারি এটি তাওহিদ অধ্যায়ে আবু নুআইম আল-ফাদল থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন।৩০ - দ্বিতীয় স্তর (درجة)ইমামগণের নিকট উচ্চতা (علو)আর এই স্তরটি (درجة) দুই ভাগে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
31 - الأَوَّلُ الْعُلُوُّ إِلَى الأَئِمَّةِ وَعُلُوُّ الأَئِمَّةِ إِلَى الصَّحَابِيِّ فَنَجِدُ أَوَّلا حَدًّا يَعْرِفُ بِهِ الْمُبْتَدِي الأَئِمَّةَ فَنَقُولُ قَوْمٌ حَدَّثُونَا عَنِ التَّابِعِينَ ثمَّ يَقع حَدِيثهمْ إِلَى أَمْثَالهَا عَنْ أَرْبَعَةِ رِجَالٍ مِثْلَ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذِئْبٍ وَشُعْبَةَ وَالثَّوْرِيِّ وَالْحَمَّادَيْنِ وَمِنْ طَبَقَتِهِمْ عَلَى الْقَاعِدَةِ الَّتِي قَدَّمْنَاهَا فِي الثِّقَةِ وَإِمْكَانِ سَمَاعِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ صَاحِبِهِ
31 - প্রথমত, ইমামগণ পর্যন্ত উচ্চ সনদ (العلو) এবং ইমামগণ থেকে সাহাবী (الصحابي) পর্যন্ত উচ্চ সনদ (العلو)। সুতরাং আমরা প্রথমে একটি মানদণ্ড পাই যার মাধ্যমে শিক্ষানবিশ ছাত্র ইমামগণকে চিনতে পারবে। আমরা বলি, তারা এমন এক দল যারা আমাদের নিকট তাবিঈগণ (التابعين) থেকে বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তাদের হাদিসগুলো তাদের সমপর্যায়ের চারজন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: মালিক বিন আনাস, মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি জিব, শু'বাহ, সাওরী, দুই হাম্মাদ এবং তাদের স্তরভুক্ত (طبقة) ব্যক্তিবর্গ; এটি সেই নিয়মের ভিত্তিতে যা আমরা ইতিপূর্বে নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) এবং একজনের পক্ষে তার সাথীর নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) সম্ভব হওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল উলুউয়ী ওয়ান নুযূলী ফিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
32 - وَفِي هَذِهِ الطَّبَقَةِ قَوْمٌ تَأَخَّرَتْ وَفَاتُهُمْ عَمَّنْ ذَكَرْنَا فِعْلا حَدِيثَهُمْ وَمِنْهُمْ مَنْ تَقَدَّمَتْ وَفَاتُهُمْ فَلا يَقَعُ حَدِيثُهُمْ إِلا نَازِلا وَسَيَجِيءُ الْكَلامُ عَلَى تَفْصِيلِ طَبَقَاتِهِمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عز وجل33 - فَمِثَالُ الْقِسْمِ الأَوَّلِ إِسْنَادٌ يَقَعُ لأَمْثَالِنَا إِلَى شُعْبَةَ أَوْ غَيْرِهِ مِمَّنْ قدمنَا ذكره بعلو ثمَّ يَعْلُو لِشُعْبَةَ إِلَى الصَّحَابِيِّ الرَّاوِي لِلْحَدِيثِوَمِثَالُهُمَا أَخْبَرَنَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْهَرَوِيُّ بِهَا قَالَ أَنا أَبُو مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بني أَبِي شُرَيْحٍ الأَنْصَارِيُّ ثَنَا أَبُو الْقسم الْبَغَوِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ ثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا قَالَ استأذنا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ هَذَا فَقُلْتُ أَنَا فَقَالَ أَنَا أَنَا كَأَنَّهُ كرهه
32 - এবং এই স্তরে (طبقة) এমন একদল লোক রয়েছেন যাদের মৃত্যু আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের তুলনায় দেরিতে হয়েছে, ফলে প্রকৃতপক্ষে তাদের হাদিসগুলো উচ্চমানের হয়েছে। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছেন যাদের মৃত্যু আগেই হয়ে গিয়েছে, ফলে তাদের হাদিসগুলো নিম্নস্তরের (نازلا) সনদ ব্যতীত পাওয়া যায় না। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ চাইলেন তাদের স্তরসমূহের (طبقات) বিস্তারিত আলোচনা শীঘ্রই আসবে।33 - প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো এমন একটি সনদ (إسناد) যা আমাদের মতো ব্যক্তিদের জন্য শু'বাহ বা অন্য কোনো রাবির মাধ্যমে উচ্চতর (علو) সনদে পৌঁছেছে যাদের কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। অতঃপর শু'বাহ থেকে হাদিস বর্ণনাকারী (الرَّاوِي) সাহাবী পর্যন্ত সনদটি উচ্চতর (يعلو) হয়েছে।এবং এর উদাহরণ হলো:যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হারাউই, তিনি সেখানে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান ইবনে আবু শুরাইহ আল-আনসারী, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-জাদ, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জাবির (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলাম, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "কে এটি?" আমি বললাম, "আমি।" তখন তিনি বললেন, "আমি, আমি!" যেন তিনি বিষয়টি অপছন্দ করলেন।