(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: -)
التطريف في التصحيف (الجلال السيوطي)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: التطريف في التصحيف
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
المحقق: د. علي حسين البواب
الناشر: دار الفائز - عمان - الأردن
الطبعة: الأولى، 1409
عدد الصفحات: 81
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তাতরিফ ফিত-তাসহিফ (জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী)
বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: আত-তাতরিফ ফিত-তাসহিফ
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দিন আল-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)
তাহকিককারী: ড. আলী হুসাইন আল-বাওয়াব
প্রকাশক: দার আল-ফাইজ - আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৯
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
- مسانيد الرِّجَال-مُسْند أنس رضي الله عنه 1 - حَدِيث الاسْتِسْقَاءمَا رَأينَا الشَّمْس سبتاقَالَ الْقُرْطُبِيّ رَوَاهُ الدَّاودِيّ سِتا وَفَسرهُ بِسِتَّة ايام وَهُوَ تَصْحِيف2 - حَدِيثآيَة الايمان حب الانصار
- পুরুষ বর্ণনাকারীদের মুসনাদসমূহ-আনাস (রা.)-এর মুসনাদ ১ - বৃষ্টি প্রার্থনার হাদিসআমরা এক সপ্তাহ পর্যন্ত সূর্য দেখতে পাইনিআল-কুরতুবী বলেন, আদ-দাউদী এটি 'সিত্তা' (ছয়) শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন 'ছয় দিন' হিসেবে, যা মূলত একটি লিপিকর প্রমাদ (تصحيف)২ - হাদিসঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি ভালোবাসা
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي شرح البُخَارِيّ آيَة بِهَمْزَة ممدودة وياء مثناة تحتية وتاء تَأْنِيث والايمان مجرور بالاضافة هَذَا هُوَ الْمُعْتَمد فِي ضبط هَذِه الْكَلِمَة فِي جَمِيع الرِّوَايَات فِي الصَّحِيحَيْنِ وَالسّنَن والمستخرجات وَالْمَسَانِيد والاية الْعَلامَة قَالَ وَوَقع لأبي الْبَقَاء فِي الاعراب انه قَالَ هِيَ بِكَسْر الْهمزَة وَنون مُشَدّدَة وَالْهَاء فِيهَا ضمير الشَّأْن والايمان بِالرَّفْع مُبْتَدأ وَحب خَبره وهما خبر ان قَالَ وَهَذَا تصحيفه مِنْهُ3 - حَدِيثاخْرُجُوا حق الضعيفين الْيَتِيم وَالْمَرْأَةكَذَا اورده صَاحب مُسْند الفردوس من حَدِيث أنس قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي زهر الفردوس وَهَذَا تَصْحِيف وانما هُوَ احرج بِضَم الْهمزَة وَفتح الْحَاء الْمُهْملَة وَتَشْديد الرَّاء بعْدهَا جِيم من الْحَرج وَلَيْسَ هُوَ الاخراج بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَة
হাফিজ ইবনে হাজার বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (ফাতহুল বারী) বলেছেন, 'আয়া' (آية) শব্দটি একটি দীর্ঘায়িত হামযা, নিচে দুই নুকতাযুক্ত 'ইয়া' এবং একটি স্ত্রীলিঙ্গবোধক 'তা' সহযোগে গঠিত। আর 'ইমান' শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত) হওয়ার কারণে মাজরুর (مجرور) অবস্থায় রয়েছে। সহিহাইন, সুনান, মুস্তাখরাজাত এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের সকল বর্ণনায় (رواية) এই শব্দটির নির্ভুল সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে এটিই নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত। এখানে 'আয়া' অর্থ হলো নিদর্শন। তিনি আরও বলেন, আবু আল-বাকা তাঁর ই'রাব (ব্যাকরণ বিশ্লেষণ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শব্দটি হামযার নিচে কাসরা (জের) এবং তাশদীদযুক্ত 'নুন' সহযোগে (ইন্না), যেখানে 'হা' শব্দটি হলো বিষয়বোধক সর্বনাম (ضمير الشأن)। আর 'ইমান' শব্দটি রাফা (مرفوع) অবস্থায় মুবতাদা (مبتدأ) এবং 'হুব্বু' শব্দটি তার খবর (خبر); আর এই উভয়টি মিলে 'ইন্না'-এর খবর (خبر)। তিনি (ইবনে হাজার) বলেন, এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি বর্ণবিকৃতি (تصحيف)।3 - হাদিসতোমরা দুই দুর্বলের হক আদায় করো (বের করো): এতিম এবং নারী।মুসনাদ আল-ফিরদাউস এর লেখক আনাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস হিসেবে এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার 'যাহরুল ফিরদাউস' গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি বর্ণবিকৃতি (تصحيف)। মূলত এটি হলো 'উহরিজু' (أُحَرِّجُ); যা হামযাতে পেশ, নুকতাহীন 'হা'-তে জবর এবং তাশদীদযুক্ত 'রা'-এর পরে 'জীম' সহযোগে গঠিত, যা 'হারাজ' (পাপ বা সংকীর্ণতা) শব্দ থেকে উদ্ভূত। এটি নুকতাযুক্ত 'খা' সহযোগে 'ইখরাজ' (বের করা) নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
4 - حَدِيث روى العسكري فِي الامثالان النَّبِي صلى الله عليه وسلم مر بِقوم يرفعون حجرا فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا حجر كُنَّا نُسَمِّيه الْحجر الأشدوَقَالَ هَكَذَا رَوَاهُ فَقَالَ يرفعون بِالْفَاءِ وَالصَّوَاب يربعون بِالْبَاء5 - حَدِيثكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي سفر فصَام بعض وَأفْطر بعض فتحزم المفطرون وَعمِلُواقَالَ القَاضِي عِيَاض كَذَا لأكْثر الروَاة تحزم بِالْحَاء الْمُهْملَة وبالزاي وَعند السجْزِي تخْدم بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَة وبالدال قَالُوا وَهُوَ الصَّوَاب أَي خدموهم وَقَامُوا بمؤن الصوام قَالُوا وتحزم تَصْحِيف قَالَ القَاضِي وَقد يَصح عِنْدِي مَعْنَاهُ على وُجُوهاحدها ظَاهِرَة من شدَّة الحزام للْخدمَة وَالْعَمَل وَلَيْسَ فِي هَذَا مَا يُنكرالثَّانِي اسْتِعَارَة للْجدّ فِي الْخدمَة والتشمير كَمَا فِي الحَدِيثكَانَ اذا دخل رَمَضَان شدّ المئزر
4 - হাদিস: আল-আসকারি আল-আমসাল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা একটি পাথর উত্তোলন করছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "এটি কী?" তারা বলল, "এটি একটি পাথর যাকে আমরা 'সবচেয়ে শক্তিশালী পাথর' বলে অভিহিত করি।"তিনি (বর্ণনাকারী) বলেছেন: তিনি এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং 'ফা' (ف) বর্ণযোগে 'ইয়ারফাউন' (يرفعون) শব্দ ব্যবহার করেছেন, অথচ সঠিক (الصواب) হলো 'বা' (ب) বর্ণযোগে 'ইয়ারবাউন' (يربعون)।5 - হাদিসরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন। তখন কিছু লোক রোজা রেখেছিলেন এবং কিছু লোক রোজা রাখেননি। অতঃপর যারা রোজা রাখেননি তারা কোমর বেঁধে কাজ শুরু করলেন এবং পরিশ্রম করলেন।কাজি আইয়াজ বলেন: অধিকাংশ বর্ণনাকারী (الرواة) শব্দটিকে নুকতাহীন 'হা' এবং 'যা' যোগে 'তাহাযযামা' (تحزم) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে আল-সিজযির বর্ণনায় এটি নুকতাহীন 'খা' এবং 'দাল' যোগে 'তাখাদ্দামা' (تخدم) হিসেবে এসেছে। বিজ্ঞজনেরা বলেছেন: এটিই সঠিক (الصواب); অর্থাৎ তারা তাদের সেবা করেছিলেন এবং রোজাদারদের যাবতীয় প্রয়োজন আঞ্জাম দিয়েছিলেন। তারা আরও বলেছেন যে, 'তাহাযযামা' শব্দটি একটি লিপিপ্ৰমাদ (تصحيف)। কাজি আইয়াজ বলেন: আমার মতে এর অর্থ কয়েকটি দিক থেকে সঠিক হতে পারে:প্রথমত: এর প্রকাশ্য অর্থ হলো খিদমত ও কাজের জন্য কোমর শক্ত করে বেল্ট বা কাপড় বাঁধা, আর এতে আপত্তিকর কিছু নেই।দ্বিতীয়ত: এটি খিদমত এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একাগ্রতা ও তৎপরতার একটি রূপক ব্যবহার, যেমনটি হাদিসে এসেছে:"যখন রমজান শুরু হতো, তখন তিনি তাঁর লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন)।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الثَّالِث ان يكون من الحزم وَهُوَ الاخذ بِالْقُوَّةِ6 - حَدِيث قَالَ الْحَاكِم فِي الكنى حَدثنَا ابو ذَر مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن يُوسُف القَاضِي بنيسابور حَدثنَا ابو بكر احْمَد بن اسحاق حَدثنَا مُحَمَّد بن الْمنْهَال الضَّرِير أخبرنَا يزِيد بن رزيغ// حَدثنَا سعيد وَهِشَام عَن قَتَادَة عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلميخرج من النَّار من قَالَ لَا اله الا الله وَكَانَ فِي قلبه من الْخَيْر مَا يزن برة وَيخرج من النَّار من قَالَ لَا اله الا الله وَكَانَ فِي قلبه مَا يزن شعيرَة وَيخرج من النَّار من قَالَ لَا اله الا الله وَكَانَ فِي قلبه من الْخَيْر مَا يزن ذرةقَالَ يزِيد فَلَقِيت شُعْبَة فَحَدَّثته بِالْحَدِيثِ قَالَ شبعة حَدثنَا بِهِ قَتَادَة عَن أنس الا ان شُعْبَة جعل مَوضِع الذّرة ذرة قَالَ يزِيد صحف فِيهَا ابو بسطَام
তৃতীয়টি হলো এটি দৃঢ়সংকল্পের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আর তা হলো সামর্থ্যের সাথে গ্রহণ করা।৬ - হাদিস: আল-হাকিম তার 'আল-কুনা' গ্রন্থে বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, যিনি নিশাপুরের বিচারক ছিলেন; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন ইসহাক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল আদ-দারির; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযিদ বিন রুরাই।// আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ও হিশাম, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং যার অন্তরে একটি গমের দানা পরিমাণ কল্যাণ থাকবে। জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং যার অন্তরে একটি যবের দানা পরিমাণ কল্যাণ থাকবে। আর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং যার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ কল্যাণ থাকবে।ইয়াযিদ বলেন, অতঃপর আমি শু'বাহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে হাদিসটি শোনালাম। শু'বাহ বললেন, আমাদের নিকট কাতাদাহ এটি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে শু'বাহ 'অণু' শব্দের স্থলে 'ভুট্টা' শব্দ ব্যবহার করেছেন। ইয়াযিদ বলেন, আবু বিসতাম এতে বর্ণনার ভুল (تصحيف) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
7 - حَدِيثفَإِذا هُوَ فِي الْحَائِط وَعَلِيهِ خميصة حويتيةقَالَ النَّوَوِيّ اخْتلف رُوَاة مُسلم فِي ضَبطهفالاشهر انه بحاء مُهْملَة مَضْمُومَة ثمَّ وَاو مَفْتُوحَة ثمَّ يَاء مثناة تَحت سَاكِنة ثمَّ مثناة فَوق مَكْسُورَة ثمَّ مثناة تَحت مُشَدّدَةوَفِي بَعْضهَا جونية باسكان الْوَاو وَبعدهَا نون مَكْسُورَة ثمَّ مثناة تَحت مُشَدّدَةوَفِي بَعْضهَا حريثية بحاء مُهْملَة مَضْمُومَة وَرَاء مَفْتُوحَة ثمَّ مثناة تَحت سَاكِنة ثمَّ مُثَلّثَة مَكْسُورَةوَفِي بَعْضهَا حونبية بِضَم لاحاء الْمُهْملَة وَسُكُون الْوَاو ثمَّ نون مَفْتُوحَة ثمَّ بَاء مُوَحدَةوَفِي بَعْضهَا خويثية بِضَم الْخَاء الْمُعْجَمَة وَفتح الْوَاو واسكان الْمُثَنَّاة تَحت بعْدهَا مُثَلّثَةوَفِي بَعْضهَا جوينية بجيم مَضْمُومَة ثمَّ وَاو ثمَّ مثناة تَحت ثمَّ نون مَكْسُورَة ثمَّ مثناة تَحت مُشَدّدَةوَفِي بَعْضهَا جونية بِفَتْح الْجِيم واسكان الْوَاو وَبعدهَا نون
7 - হাদিসঅতঃপর তিনি বাগানের ভেতর ছিলেন এবং তাঁর পরিধানে একটি 'হুয়াইতিয়্যাহ' নামক চাদর ছিল।ইমাম নববী বলেছেন: মুসলিম-এর বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে এর নির্ভুল উচ্চারণের (ضبط) ব্যাপারে ভিন্নতা রয়েছে।সর্বাধিক প্রসিদ্ধ (أشهر) মত হলো, এটি নুকতাহীন 'হা' (حاء مهملة) পেশযুক্ত, এরপর যবরযুক্ত 'ওয়াও', এরপর নিচের দুই নুকতাযুক্ত সাকিন 'ইয়া', এরপর ওপরের দুই নুকতাযুক্ত যেরবিশিষ্ট 'তা' এবং শেষে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' সহযোগে।কোনো কোনো বর্ণনায় এটি 'জুনিয়্যাহ' হিসেবে এসেছে; যাতে 'ওয়াও' সাকিনযুক্ত, এরপর যেরবিশিষ্ট 'নুন' এবং শেষে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া'।আবার কিছু বর্ণনায় এটি 'হুরাইসিয়্যাহ' এসেছে; যা নুকতাহীন 'হা' (حاء مهملة) পেশযুক্ত, যবরযুক্ত 'রা', সাকিনযুক্ত 'ইয়া' এবং যেরবিশিষ্ট তিন নুকতাওয়ালা 'সা' (مثلثة)।কিছু বর্ণনায় এটি 'হুনাবিয়্যাহ' এসেছে; যা নুকতাহীন 'হা' পেশযুক্ত, সাকিনযুক্ত 'ওয়াও', যবরযুক্ত 'নুন' এবং এক নুকতাযুক্ত 'বা' (باء موحدة) সহযোগে।কিছু বর্ণনায় এটি 'খুয়াইসিয়্যাহ' এসেছে; যা নুকতাযুক্ত 'খা' (خاء معجمة) পেশযুক্ত, যবরযুক্ত 'ওয়াও', নিচের দুই নুকতাযুক্ত সাকিন 'ইয়া' এবং এরপর তিন নুকতাওয়ালা 'সা' (مثلثة) সহযোগে।কিছু বর্ণনায় এটি 'জুওয়াইনিইয়্যাহ' এসেছে; যা 'জীম' পেশযুক্ত, এরপর 'ওয়াও', এরপর নিচের দুই নুকতাযুক্ত 'ইয়া', এরপর যেরবিশিষ্ট 'নুন' এবং শেষে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' সহযোগে।আবার কিছু বর্ণনায় এটি 'জাওনিয়্যাহ' এসেছে; যা 'জীম' যবরযুক্ত, সাকিনযুক্ত 'ওয়াও' এবং এরপর 'নুন' সহযোগে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَقَالَ القَاضِي فِي الْمَشَارِق وَهَذِه الرِّوَايَات كلهَا تصاحيف الا روايتي جونية بفتج الْجِيم وحريثية بالراء والمثلثةمُسْند الْبَراء بن عَازِب رضي الله عنهما 8 - حَدِيثصَحِبت النَّبِي صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَة عشر سفراقَالَ الْحَافِظ زين الدّين الْعِرَاقِيّ فِي شرح التِّرْمِذِيّ كَذَا فِي الاصول الصَّحِيحَة وَوَقع فِي بعض النّسخ ثَمَانِيَة عش شهرا وَهُوَ تَصْحِيف9 - حَدِيثانْطلق يَوْم حنين جفَاء من النَّاس إِلَى هَذَا الْحَيّ من هوزانقَالَ فِي النِّهَايَة هَكَذَا فِي كتاب الْهَرَوِيّ وَفَسرهُ بسرعان النَّاس واوائلهم شبههم بجفاء السَّيْل قَالَ وَالَّذِي قرأناه فِي كتاب البُخَارِيّ وَمُسلمأخفاء من النَّاس جمع خَفِيف قَالَ وَفِي كتاب التِّرْمِذِيّسرعَان النَّاس
কাজি আল-মাশারিক গ্রন্থে বলেছেন যে, এই বর্ণনাগুলো সবই লেখনী বিভ্রাট (تصاحيف), কেবল জিম-এর জবরসহ 'জুনিইয়াহ' এবং রা ও তিন নুকতা বিশিষ্ট বর্ণ (المثلثة) সহ 'হুরাইথিয়া' বর্ণনা দুটি ব্যতীত।বারা ইবনে আজিব (রা.)-এর মুসনাদ ৮ - হাদিসআমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আঠারোটি সফরে সঙ্গী ছিলাম।হাফিজ জয়নুদ্দিন আল-ইরাকি শারহে তিরমিজিতে বলেছেন, "বিশুদ্ধ মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে (الأصول الصحيحة) এমনই রয়েছে। তবে কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'আঠারো মাস' এসেছে, যা একটি লেখনী বিভ্রাট (تصحيف)।"৯ - হাদিসহুনাইনের দিন সাধারণ মানুষের একটি দল হাওয়াজিন গোত্রের এই জনপদের দিকে রওনা হলো।'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে, আল-হারাবীর কিতাবে এমনই রয়েছে এবং তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন মানুষের অগ্রভাগ বা ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন দল দ্বারা; তিনি তাদেরকে প্রবাহমান বন্যার ফেনার (جفاء السيل) সাথে তুলনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, আমরা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম গ্রন্থে যা পাঠ করেছি তা হলো:মানুষের মধ্যে যারা ক্ষিপ্র ও হালকা (أخفاء من الناس), যা 'খাফিফ' শব্দের বহুবচন। তিনি বলেন, আর তিরমিজি গ্রন্থে রয়েছে:দ্রুতগামী মানুষ (سرعان الناس)
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
مُسْند ثَوْبَان رضي الله عنه 10 - حَدِيثمن فَارق روحه جسده وَهُوَ بَرِيء من ثَلَاثَة دخل الْجنَّة الْكبر وَالدّين والغلولقَالَ الْعِرَاقِيّ الْمَشْهُور فِي الرِّوَايَة الْكبر بِالْمُوَحَّدَةِ وَالرَّاء وَذكر ابْن الْجَوْزِيّ فِي جَامع المسانيد عَن الدَّارَقُطْنِيّ انه الْكَنْز بالنُّون وَالزَّاي وَكَذَا ذكره ابْن مرْدَوَيْه فِي تَفْسِير {وَالَّذين يكنزون الذَّهَب وَالْفِضَّة} انْتهى وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الايمان فِي كتابي عَن أبي عبد الله الْحَافِظ الْكَنْز مُقَيّد بالزاي وَالصَّحِيح فِي حَدِيث ابي عوَانَة بالراء قَالَ ابو عِيسَى قَالَ ابو عوَانَة فِي حَدِيثه الْكبر وَقَالَ سعيد بن أبي عرُوبَة بن قَتَادَة الْكَنْز بالزايمُسْند جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما 11 - حَدِيثوَأَنه صلى الله عليه وسلم أُتِي بِقدر فِيهَا خضرات من بقول الحَدِيثقَالَ القَاضِي عِيَاض لَعَلَّ قَوْلهم قدر تَصْحِيف من الروَاة وَذَلِكَ ان فِي كتاب ابي دَاوُد انه صلى الله عليه وسلم اتي ببدر والبدر هُنَا الطَّبَق شبه بذلك لاتدارته لاستدارته الْبَدْر كَذَا ذكره البُخَارِيّ عَن احْمَد بن صَالح عَن ابْن وهب فِي هَذَا الحَدِيث وَقَالَ اتي ببدر قَالَ ابْن وهب يَعْنِي طبقًا وَذكر ان ابْن عفير رَوَاهُ بِقدر قَالَ القَاضِي الصَّوَاب ببدر أَي بطبق انْتهى
মুসনাদ থওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ১০ - হাদিসযার আত্মা তার দেহ ত্যাগ করার সময় সে তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে: অহংকার, ঋণ এবং আত্মসাৎ (الغلول)।আল-ইরাকি বলেন, বর্ণনায় প্রসিদ্ধ হলো 'আল-কিবর' (অহংকার)। ইবনুল জাওযি 'জামি আল-মাসানিদ'-এ দারাকুতনি থেকে উল্লেখ করেছেন যে এটি হলো 'আল-কানয' (ধনভাণ্ডার)। একইভাবে ইবনে মারদাউয়ি {যারা সোনা ও রুপা পুঞ্জীভূত করে} আয়াতের তাফসিরে এটি উল্লেখ করেছেন। আল-বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজের সূত্রে বলেছেন যে, আমার কিতাবে 'আল-কানয' শব্দটি 'যায়' (ز) বর্ণ দ্বারা নির্দিষ্ট; তবে আবু আওয়ানার হাদিসে 'রা' (ر) বর্ণযুক্ত শব্দটিই সঠিক (الصحيح)। আবু ঈসা বলেন, আবু আওয়ানা তাঁর হাদিসে 'আল-কিবর' বলেছেন এবং সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ কাতাদা থেকে 'আল-কানয' (যায় বর্ণ যোগে) বর্ণনা করেছেন।মুসনাদ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ১১ - হাদিসএবং তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি পাতিল আনা হলো যাতে কিছু সবুজ শাকসবজি ছিল... (হাদিস)।কাজি আইয়াজ বলেন, সম্ভবত তাদের 'কদর' (পাতিল) বলাটি বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে লিপিপ্রমাদ (تصحيف)। এর কারণ হলো, সুনান আবু দাউদ-এ বর্ণিত হয়েছে যে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি 'বদর' দেওয়া হয়েছিল। এখানে 'বদর' অর্থ হলো বড় থালা; এর গোলাকৃতির কারণে একে পূর্ণিমার চাঁদের (বদর) সাথে তুলনা করা হয়েছে। ইমাম বুখারি আহমদ ইবনে সালিহ ও ইবনে ওয়াহাবের সূত্রে এই হাদিসে এরূপই উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে 'বদর' আনা হয়েছিল। ইবনে ওয়াহাব বলেন, অর্থাৎ একটি বড় থালা। উল্লেখ্য যে, ইবনে আফির এটি 'কদর' (পাতিল) শব্দে বর্ণনা করেছেন। কাজি বলেন, সঠিক (الصواب) হলো 'বদর' অর্থাৎ থালা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَقَالَ النَّوَوِيّ قَالَ الْعلمَاء هَذَا هُوَ الصَّوَاب وَقَالَ الْقُرْطُبِيّ قَالُوا ان بِقدر تَصْحِيف وَصَوَابه ببدر12 - حَدِيثهَدَايَا الامراء سحتوَوَقع بِخَط الْحَافِظ السلَفِي فِي نُسْخَة أبي ايوب التَّمِيمِيهَدَايَا الامراء تسْتَحب وَكتب الْحَافِظ ابْن حجر فِي الْحَاشِيَة هَذَا تَصْحِيف شنيع وَالصَّوَاب سحت بسين مَضْمُومَة ثمَّ حاء مُهْملَة سَاكِنة ثمَّ تَاء مثناة13 - حَدِيثتصدقن فَإِنَّكُنَّ اكثر حطب جَهَنَّم فَقَامَتْ امْرَأَة من سطة النِّسَاءقَالَ القَاضِي عِيَاض كَذَا وَقع هَذَا الْحَرْف عِنْد عَامَّة شُيُوخنَا وَعند بَعضهم من وَاسِطَة النِّسَاء وهما بِمَعْنى الْخِيَار وَلَكِن حذاق شُيُوخنَا زَعَمُوا ان هَذَا الْحَرْف مصحف وان صَوَابهمن سفلَة النِّسَاء كَمَا فِي رِوَايَة النَّسَائِيّ
ইমাম নববী বলেন, উলামায়ে কেরাম বলেছেন এটিই সঠিক। এবং ইমাম কুরতুবী বলেন, তাঁরা বলেছেন যে 'বি-কদর' (بقدر) শব্দটি বর্ণবিকৃতি (تصحيف) এবং এর সঠিক রূপ হলো 'বি-বদর' (ببدر)।১২ - হাদিসশাসকদের উপহার হলো অবৈধ সম্পদ (سحت)।হাফিজ সালাফি-এর হস্তাক্ষরে আবু আইয়ুব আল-তামিমির পাণ্ডুলিপিতে "শাসকদের উপহার মুস্তাহাব (تستحب)" হিসেবে লিখিত রয়েছে।হাফিজ ইবনে হাজার হাশিয়ায় (পার্শ্বটীকা) লিখেছেন যে, এটি একটি জঘন্য বর্ণবিকৃতি (تصحيف)। এর সঠিক শব্দ হলো 'সুহত' (سحت); যা পেশযুক্ত 'সিন', অতঃপর সুকুনযুক্ত নুক্তাবিহীন 'হা' এবং তারপর দুই নুক্তাওয়ালা 'তা' যোগে গঠিত।১৩ - হাদিসতোমরা সদকা করো, কেননা তোমরাই জাহান্নামের অধিকাংশ জ্বালানি। তখন নারীদের মধ্য থেকে একজন শ্রেষ্ঠ (سطة) নারী উঠে দাঁড়ালেন।কাজী আয়াজ বলেন, আমাদের অধিকাংশ শায়খদের নিকট এই শব্দটি এভাবেই এসেছে। আবার কারো কারো নিকট এটি "নারীদের মধ্যম স্তরের" (واسطة النساء) হিসেবে এসেছে; এই উভয় শব্দই শ্রেষ্ঠ (الخيار) অর্থে ব্যবহৃত। কিন্তু আমাদের প্রাজ্ঞ শায়খগণ দাবি করেছেন যে, এই শব্দটিতে বর্ণবিকৃতি (مصحف) ঘটেছে এবং এর সঠিক রূপ হলো "সাধারণ স্তরের নারীদের মধ্য থেকে" (سفلة النساء), যেমনটি নাসায়ির বর্ণনায় (رواية) এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَابْن ابي شيبَة وَيُؤَيِّدهُ قَوْله فِي رِوَايَةلَيست من علية النِّسَاء وَقَوله بعدهسفعاء الْخَدين14 - حَدِيث فِي كتاب مَعَاني مُشكل الْقُرْآن لبَعض تلامذة الْمبرد قيل ليونس ان عيسي بن عمر قَالَ فِي هَذَا الحَدِيثاتَّقوا الله على اولادكم قحمة الْعشَاء وَقَالَ ابو عَمْرو فَحْمَة الْعشَاء بِالْفَاءِ فَقَالَ عِيسَى صحف ابو عَمْرو وَقَالَ يُونُس لَيْسَ هُوَ صحف هِيَ بِالْفَاءِ كَقَوْل ابي عَمْرو15 - حَدِيثفَيخْرجُونَ مِنْهَا قد امتحشوا كَأَنَّهُمْ عيدَان السماسمقَالَ فِي النِّهَايَة هَكَذَا يرْوى فِي كتاب مُسلم على اخْتِلَاف طرقه ونسخه فَإِن صحت الرِّوَايَة بهَا فَمَعْنَاه وَالله أعلم ان السماسم جمع سمسم وعيدانه ترَاهَا اذا قلعت وَتركت ليؤخذ حبها دقاقا سُودًا كانها محترقة فَشبه بهَا هَؤُلَاءِ الَّذين يخرجُون من النَّار وَقد امتحشوا وطالما طلبت معنى هَذِه الْكَلِمَة وَسَأَلت عَنْهَا فَلم أر شافيا وَلَا أجبْت فِيهَا بمقنع وَمَا أشبه ان تكون اللَّفْظَة محرفة وَرُبمَا كَانَتكَأَنَّهُمْ عيدَان السماسم وَهُوَ خشب أسود كالابنوس
এবং ইবন আবি শায়বাহ। বর্ণনায় (رواية) তার বক্তব্য একে সমর্থন করে যে,তিনি উচ্চবংশীয় বা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, এবং এর পরে তার বক্তব্য:দুই গাল ছিল রক্তিম-কৃষ্ণবর্ণের।১৪ - মুবাররাদ-এর জনৈক ছাত্রের রচিত 'মাআনি মুশকিল আল-কুরআন' কিতাবের একটি হাদিস। ইউনুসকে বলা হয়েছিল যে, ঈসা ইবন উমর এই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন:"তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে এশার সময়ের বিপদ থেকে আল্লাহকে ভয় করো।" আর আবু আমর 'ফা' বর্ণ যোগে 'ফাহমাতুল ইশা' (এশার অন্ধকার) বলেছেন। তখন ঈসা বললেন, আবু আমর ভুল পাঠ (صحف) করেছেন। কিন্তু ইউনুস বললেন, এটি ভুল পাঠ (صحف) নয়; বরং এটি আবু আমরের বক্তব্যের মতো 'ফা' বর্ণ যোগেই হবে।১৫ - হাদিস:"অতঃপর তারা জাহান্নাম থেকে বের হবে দগ্ধ অবস্থায়, যেন তারা তিলের শুষ্ক কাঠি।"'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: মুসলিম-এর কিতাবে এর বিভিন্ন সূত্র (طرق) ও পাণ্ডুলিপি (نسخة) ভেদে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যদি বর্ণনাটি (رواية) বিশুদ্ধ (صحت) হয়, তবে এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—'সামাসিম' হলো 'সিমসিম' (তিল)-এর বহুবচন। এর কাঠিগুলো যখন উপড়ে ফেলে রাখা হয় যাতে এর বীজ সংগ্রহ করা যায়, তখন সেগুলো সরু ও কালো দেখায় যেন সেগুলো পুড়ে গেছে। তাই জাহান্নাম থেকে দগ্ধ অবস্থায় যারা বের হবে, তাদের এদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। দীর্ঘকাল আমি এই শব্দটির অর্থ খুঁজেছি এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু কোনো সন্তোষজনক বা পর্যাপ্ত উত্তর পাইনি। সম্ভবত শব্দটি বিকৃত (محرفة) হয়ে গেছে, আর সম্ভবত এটি 'সামাসিম'-এর কাঠি ছিল, যা আবলুস কাঠের মতো কালো কাঠ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
16 - حَدِيث قتل كَعْب بن الاشرف قَوْلهقَالَ ترهنوني اولادكم قَالَ يسب ابْن أَحَدنَا فَيُقَال رهن فِي وسقين من تمرقَالَ النَّوَوِيّ هَكَذَا هُوَ فِي الرِّوَايَات الْمَعْرُوفَة فِي مُسلم وَغَيره يسب بِضَم الْيَاء وَفتح السِّين الْمُهْملَة من السب وَحكي القَاضِي عَن رِوَايَة بَعضهم يشب بِفَتْح الْيَاء وَكسر الشين الْمُعْجَمَة من الشَّبَاب وَالصَّوَاب الاول17 - حَدِيث العنبر قَوْلهكَقدْر الثورقَالَ النَّوَوِيّ روينَاهُ بِوَجْهَيْنِاحدهما بقاف مَفْتُوحَة ثمَّ دَال سَاكِنة أَي مثل الثورالثَّانِي بفاء مَكْسُورَة ثمَّ دَال مَفْتُوحَة جمع فدرة وَهِي الْقطعَة والاول اصح وَادّعى القَاضِي انه تَصْحِيف وان الثَّانِي هُوَ الصَّوَاب وَلَيْسَ كَمَا قَالَ انْتهى18 - حَدِيثأَيْن أَنْت من العذارى ولعابهاقَالَ الْقُرْطُبِيّ هُوَ بِكَسْر اللَّام لَا غير مصدر لاعب من الملاعبةوَرَوَاهُ ابو ذَر من طَرِيق الْمُسْتَمْلِي بِضَم اللَّام يَعْنِي بِهِ رِيقهَا عِنْد التَّقْبِيل وَفِيه بعد وَالصَّوَاب الاول
১৬ - কাব ইবনে আশরাফ হত্যার হাদিস: তাঁর উক্তি -তিনি বললেন, "তোমরা তোমাদের সন্তানদের আমার নিকট বন্ধক রাখো।" তিনি বললেন, "আমাদের কারো সন্তানকে গালি দেওয়া হবে (يسب) এবং বলা হবে যে, তাকে দুই ওয়াসাক খেজুরের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে।"ইমাম নববী বলেন, মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলোতে (الروايات المعروفة) এভাবেই রয়েছে। 'ইউসাব্বু' (يسب) শব্দটি 'ইয়া' বর্ণে পেশ এবং 'সীন' বর্ণে জবর দিয়ে 'সাব' (গালি দেওয়া) থেকে উদ্গত। কাজী (আয়াজ) কারো কারো বর্ণনা (رواية) থেকে 'ইয়াশিব্বু' (يشب) শব্দটি উল্লেখ করেছেন, যা 'ইয়া' বর্ণে জবর এবং 'শীন' বর্ণে যের দিয়ে 'শাবাব' (যৌবন) থেকে উদ্গত। তবে প্রথমটিই সঠিক (الصواب)।১৭ - আম্বর (তিমি মাছ) সংক্রান্ত হাদিস: তাঁর উক্তি -"ষাঁড়ের আকৃতির ন্যায়।"ইমাম নববী বলেন, আমরা এটি দুটি পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছি (رويناه بوجهين)।একটি হলো 'ক্বাফ' বর্ণে জবর এবং 'দাল' বর্ণে সাকিন যোগে, অর্থাৎ ষাঁড়ের দেহের ন্যায়।দ্বিতীয়টি হলো 'ফা' বর্ণে যের এবং 'দাল' বর্ণে জবর যোগে, যা 'ফিদরাহ' (টুকরো) শব্দের বহুবচন। প্রথমটি অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। কাজী (আয়াজ) দাবি করেছেন যে এটি অনুলিপি প্রমাদ (تصحيف) এবং দ্বিতীয়টিই সঠিক (الصواب), তবে বিষয়টি তিনি যেমন বলেছেন তেমন নয়। সমাপ্ত।১৮ - হাদিস -"কুমারী মেয়েদের এবং তাদের ক্রীড়া-কৌতুক থেকে তুমি কোথায়?"ইমাম কুরতুবী বলেন, এটি কেবল 'লাম' বর্ণে যের যোগে হবে, যা ক্রীড়া-কৌতুক (الملاعبة) থেকে উদ্গত ক্রিয়ামূল (مصدر)।আবু যর এটি মুস্তামলীর সূত্রে 'লাম' বর্ণে পেশ যোগে বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা তিনি চুম্বনের সময় মুখনিসৃত লালা বুঝিয়েছেন। তবে এই ব্যাখ্যাটি দূরবর্তী (فيه بعد) এবং প্রথমটিই সঠিক (الصواب)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
19 - حَدِيث عَن جَابر قَالَأَتَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم بواكيقَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه هَكَذَا الرِّوَايَة وَكَذَا هُوَ فِي نسختنا بِكِتَاب دَاوُد وتصحف على الْخطابِيّ فَقَالَرَأَيْت النَّبِي صلى الله عليه وسلم يوالي ثمَّ فسره فَقَالَ قَوْله يوالي مَعْنَاهُ التحامل على يَدَيْهِ اذا رَفعهَا ومدهما فِي الدُّعَاء قَالَ وَرَوَاهُ شَيخنَا فِي الْمُسْتَدْرك فَقَالَأَتَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم هوزان20 - حَدِيث فَنَزَعَا فِي الْحَوْض حَتَّى أفقهاهقَالَ فِي النِّهَايَة جَاءَ فِي رِوَايَة حَتَّى أنهقاه وَهُوَ غلط وَالصَّوَاب بِالْفَاءِ من الفهق وَهُوَ الامتلاء21 - حَدِيثحَتَّى رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَتَهَلَّل كَأَنَّهُ مذهبَةقَالَ النَّوَوِيّ ضَبطه الْجُمْهُور بذال مُعْجمَة وَفتح الْهَاء وَبعدهَا مُوَحدَة وَضَبطه الْحميدِي وَغَيره بدال مُهْملَة وَضم الْهَاء وَبعدهَا نون وَقَالَ القَاضِي عِيَاض فِي الْمَشَارِق وَغَيره من الائمة هَذَا تَصْحِيف وَالصَّوَاب بِالذَّالِ الْمُعْجَمَة وَالْبَاء الْمُوَحدَة وَهُوَ الْمَعْرُوف فِي الرِّوَايَات
১৯ - জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট 'বওয়াকি' আসলো। বায়হাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে বলেন, বর্ণনাটি (رواية) এভাবেই রয়েছে। আমাদের কাছে থাকা আবু দাউদ এর কিতাবের পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ রয়েছে। তবে খাত্তাবির নিকট এটি ভুল পাঠ (تصحيف) হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি তিনি 'ইউওয়ালি' করছেন। অতঃপর তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, 'ইউওয়ালি' শব্দের অর্থ হলো দোয়ার সময় হাত উত্তোলন ও প্রসারিত করার পর হাতের ওপর ভর দেওয়া। তিনি বলেন, আমাদের শায়খ এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা (رواه) করেছেন এভাবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট 'হাওয়াজান' গোত্র আসলো। ২০ - হাদিস: তারা হাউজ থেকে পানি উত্তোলন করল যতক্ষণ না তারা তা পূর্ণ করল। আন-নিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে, একটি বর্ণনায় (رواية) 'আনহাকাহু' এসেছে, যা ভুল (غلط)। সঠিক হলো 'ফা' বর্ণের মাধ্যমে 'আল-ফাহক' শব্দ থেকে, যার অর্থ পূর্ণ হওয়া। ২১ - হাদিস: এমনকি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল যেন তা স্বর্ণখচিত বস্তু। ইমাম নববী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম (الجمهور) একে নুক্তাযুক্ত 'যাল', 'হা' বর্ণের ফাতহা (জবর) এবং এরপর 'বা' বর্ণের মাধ্যমে পাঠ করেছেন। তবে হুমাইদি ও অন্যরা একে নুক্তাবিহীন 'দাল', 'হা' বর্ণের দাম্মাহ (পেশ) এবং এরপর 'নুন' বর্ণের মাধ্যমে পাঠ করেছেন। আল-মাশারিক গ্রন্থে কাজী ইয়াজ এবং অন্যান্য ইমামগণ বলেন, এটি একটি লিপিপদ বিচ্যুতি (تصحيف)। সঠিক হলো নুক্তাযুক্ত 'যাল' এবং 'বা' বর্ণের মাধ্যমে, যা বর্ণনাগুলোর (روايات) ক্ষেত্রে সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
مُسْند جُنْدُب بن سُفْيَان رضي الله عنه 22 - حَدِيثكَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَفِي غَار فنكبت اصبعهقَالَ النَّوَوِيّ هَذَا هُوَ فِي الاصول فِي غَار قَالَ القَاضِي عِيَاض قَالَ القَاضِي ابو الْوَلِيد الْمَكِّيّ لَعَلَّه كَانَ غازيا فتصحف كَمَا قَالَ فِي الرِّوَايَة الاخرى فِي بعض الْمشَاهد وكما جَاءَ فِي رِوَايَة البُخَارِيّبَيْنَمَا كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يمشي اذا اصابه حجر قَالَ القَاضِي قد يُرَاد بِالْغَارِ هُنَا الْجَيْش وَالْجمع لَا الْغَار الَّذِي هُوَ الْكَهْف فيوافق رِوَايَة بعض الْمشَاهد وَمِنْه قَول عَليّ رضي الله عنهمَا ظَنك بامرئ جمع بَين هذَيْن الغارين أَي العسكرين والجمعين
জুনদুব ইবনে সুফিয়ান (রা.)-এর মুসনাদ ২২ - হাদিসরাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি গুহায় (غار) অবস্থান করছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর আঙুল আঘাতপ্রাপ্ত হলো।ইমাম নববী বলেন, মূল পাণ্ডুলিপিসমূহে (الأصول) এটি ‘গুহায়’ (غار) হিসেবেই উদ্ধৃত হয়েছে। কাজী ইয়াদ বলেন, কাজী আবু আল-ওয়ালিদ আল-মাক্কী বলেছেন যে, সম্ভবত শব্দটি ‘যোদ্ধা অবস্থায়’ (غازيا) ছিল, যা পরবর্তীতে শব্দগত বিকৃতির (تصحف) শিকার হয়েছে; যেমনটি অন্য বর্ণনায় (رواية) ‘কোনো এক রণক্ষেত্রে’ উল্লেখ করা হয়েছে এবং সহিহ বুখারীর বর্ণনায় (رواية) যেভাবে এসেছে:একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাঁটছিলেন, এমন সময় একটি পাথর তাঁকে আঘাত করল। কাজী (ইয়াদ) বলেন, এখানে ‘গাওর’ (غار) শব্দ দ্বারা সৈন্যবাহিনী বা জনসমষ্টি উদ্দেশ্য হতে পারে, পর্বতগুহা (كهف) নয়। এর ফলে এটি রণক্ষেত্র সংক্রান্ত বর্ণনার (رواية) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। হযরত আলী (রা.)-এর উক্তিটিও এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত:তোমার সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী ধারণা, যে এই দুটি ‘গাওর’ (الغارين) অর্থাৎ দুটি সৈন্যদল ও জনসমষ্টির মধ্যে সমঝোতা ঘটিয়েছে?
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
مُسْند خريم بن فاتك رضي الله عنه 23 - حَدِيثإِنِّي لأحب الْجمال حَتَّى اني لَأحبهُ فِي شِرَاك نَعْلي وجلاز سَوْطِيهُوَ بالزاي السّير الَّذِي يشد فِي طرف السَّوْط قَالَ الْخطابِيّ رَوَاهُ يحيى بن معِين جلان بالنُّون وَهُوَ غلط نقفه صَاحب النِّهَايَةمُسْند رَافع بن خديج رضي الله عنه 24 - حَدِيثمَا أنهر الدَّمقَالَ القَاضِي ذكر الْخُشَنِي فِي شَرحه هَذَا الحَدِيث بالزاي وَالنّهر الدّفع قَالَ القَاضِي وَهَذَا غَرِيب وَالْمَشْهُور بالراء الْمُهْملَة وَكَذَا ذكره ابراهيم الْحَرْبِيّ وَالْعُلَمَاء كَافَّة بالراء الْمُهْملَة انْتهى
খুরাইম ইবনে ফাতিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ 23 - হাদিসনিশ্চয়ই আমি সৌন্দর্য পছন্দ করি, এমনকি আমি তা আমার জুতার ফিতা এবং চাবুকের হাতলের চামড়ার বন্ধনীতেও পছন্দ করি।এটি 'যাই' (ز) বর্ণ যোগে, যা চাবুকের মাথায় বাঁধা ফিতাকে বোঝায়। খাত্তাবি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এটি 'নুন' যোগে 'জিল্যান' বর্ণনা করেছেন, যা একটি ভুল (غلط); এটি নিহায়া গ্রন্থের লেখকও উল্লেখ করেছেন।রাফে ইবনে খাদিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ 24 - হাদিসযা রক্ত প্রবাহিত করেকাজী (আয়াজ) বলেন: খুশানি তার ব্যাখ্যায় এই হাদিসটি 'যাই' (ز) বর্ণ যোগে উল্লেখ করেছেন এবং এখানে 'নাহঝ' অর্থ হলো ধাক্কা দেওয়া। কাজী বলেন: এটি একটি অপরিচিত (غريب) মত এবং প্রসিদ্ধ (مشهور) বর্ণনাটি হলো 'রা' (ر) বর্ণ যোগে। অনুরূপভাবে ইব্রাহিম হারবি এবং সকল আলেমই 'রা' বর্ণ যোগে এটি উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
مُسْند رويفع بن ثَابت رضي الله عنه 25 - حَدِيثمن عقد لحيته أَو تقلد وترا أَو استنجى برجيع دَابَّة أَو عظم فَإِن مُحَمَّدًا مِنْهُ بَرِيءقَالَ ثَابت بن قَاسم السَّرقسْطِي فِي كتاب الدَّلَائِل غَرِيب الحَدِيث هَكَذَا فِي الحَدِيث من عقد لحيته وَصَوَابه وَالله اعْلَم من عقد لحاء من قَوْلك لحيت الشّجر ولحوته اذا قشرته وَكَانُوا فِي الْجَاهِلِيَّة يعقدون لحاء الْحرم فيقلدونه أَعْنَاقهم فيأمنون بذلك وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {لَا تحلوا شَعَائِر الله وَلَا الشَّهْر الْحَرَام وَلَا الْهَدْي وَلَا القلائد} فَلَمَّا أظهر الله تَعَالَى الاسلام نهى عَن ذَلِك من فعلهم وروى اسباط عَن السّديّ فِي هَذِه الاية أماشعائر الله فَحرم الله واما الْهَدْي والقلائد فَإِن الْعَرَب كَانُوا يقلدون من لحاء الشّجر شجر مَكَّة فيقيم الرجل بِمَكَّة حَتَّى اذا انْقَضتْ الاشهر الْحَرَام وَأَرَادَ ان يرجع إِلَى اهله قلد نَفسه وناقته من لحاء الشّجر فَيَأْمَن حَتَّى يَأْتِي اهلهقَالَ ابْن دَقِيق الْعِيد فِي الامام وَمَا أشبه مَا قَالَه بِالصَّوَابِ لَكِن لم نره فِي رِوَايَة مِمَّا وقفت عَلَيْهِ
মুসনাদ রুওয়াইফি ইবন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) 25 - হাদিসযে ব্যক্তি তার দাড়িতে গিঁট দেয়, অথবা (গলায়) ধনুকের ছিলা পরিধান করে, অথবা পশুর বিষ্ঠা বা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করে, তবে মুহাম্মদ (সা.) তার থেকে বিমুক্ত।সাবিত ইবন কাসিম আস-সারাকুস্তি তার 'দালায়িল গারিব আল-হাদিস' গ্রন্থে বলেন: হাদিসে এভাবেই "যে ব্যক্তি তার দাড়িতে গিঁট দেয়" শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তবে এর সঠিক পাঠ—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো "যে ব্যক্তি গাছের বাকল বেঁধে রাখে"; যা আপনার উক্তি "আমি গাছের ছাল ছাড়িয়েছি" এবং "আমি তার ছাল তুলেছি" থেকে উদ্ভূত। জাহেলি যুগে তারা হারাম শরিফের গাছের বাকল বাঁধত এবং তা গলায় পরিধান করত, যার মাধ্যমে তারা নিরাপত্তা লাভ করত। এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ, পবিত্র মাস, কুরবানির পশু এবং গলায় মালা পরিহিত পশুগচ্ছের অবমাননা করো না}। অতঃপর আল্লাহ যখন ইসলামকে প্রকাশ করলেন, তখন তাদের এই প্রথা থেকে নিষেধ করলেন। আসবাত সুদ্দি থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হলো আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। আর কুরবানির পশু ও গলায় মালা পরিহিত পশুগচ্ছ সম্পর্কে তিনি বলেন যে, আরবরা মক্কার গাছের বাকল গলায় পরিধান করত। কোনো ব্যক্তি মক্কায় অবস্থান করত, তারপর যখন পবিত্র মাসসমূহ শেষ হতো এবং সে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করত, তখন সে নিজের ও তার উটের গলায় গাছের বাকল পেঁচিয়ে নিত। এতে সে তার পরিবারের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত নিরাপদে থাকত।ইবন দাকীক আল-ঈদ 'আল-ইমাম' গ্রন্থে বলেন: তিনি যা বলেছেন তা সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু আমি যতদূর অবগত হয়েছি কোনো বর্ণনায় (رواية) এটি দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
مُسْند سعد بن أبي وَقاص رضي الله عنه 26 - حَدِيثالْمُتْعَة فعلناها وَهَذَا يَعْنِي مُعَاوِيَة يَوْمئِذٍ كَافِر بالعرشقَالَ الْمَازرِيّ أَي وَهُوَ مُقيم بعرش مَكَّة وَهِي بيوتها قَالَ القَاضِي عِيَاض وَهُوَ بِضَم الْعين وَالرَّاء جمع عَرِيش مثل قليب وقلب قَالَ وَقَالَ بَعضهم كَافِر بالعرش بِفَتْح الْعين وَسُكُون الرَّاء وتأوله عرش الله تَعَالَى قَالَ وَهُوَ تَصْحِيف27 - حَدِيث روى العسكري فِي الامثال عَن عَامر بن سعدان النَّبِي صلى الله عليه وسلم مر على نَاس يتجاذبون مهراسا فَقَالَ يحسنون الشدَّة فِي رفع الْحِجَارَةقَالَ العسكري هَذَا وهم لِأَنَّهُ رَوَاهُ يتجاذبون مهراسا قَالَ جذا الْحجر اذا رَفعه
মুসনাদ সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) 26 - হাদিসআমরা মুত'আ (হজ্বে তামাত্তু) পালন করেছি, আর তখন সে—অর্থাৎ মুয়াবিয়া—মক্কার কুঁড়েঘরে কাফির (كافر) হিসেবে অবস্থান করছিল।আল-মাযিরি বলেন: অর্থাৎ তিনি তখন মক্কার ‘আরশ’-এ অবস্থান করছিলেন, আর তা হলো সেখানকার ঘরসমূহ। কাযি আইয়ায বলেন: এটি আইন ও র অক্ষরের পেশ যোগে ‘উরুশ’, যা ‘আরিশ’-এর বহুবচন; যেমন ‘কালিব’ ও ‘কুলুব’। তিনি আরও বলেন: কেউ কেউ একে ‘আরশ’ (আইনের যবর ও র-এর সাকিন সহযোগে) পড়েছেন এবং এর অর্থ মহান আল্লাহর আরশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন: এটি একটি শব্দগত বিকৃতি বা ভুল লিখন (تصحيف)।27 - হাদিস: আসকারি তার আল-আমসাল গ্রন্থে আমির ইবন সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন যে,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা একটি ভারি পাথর (মিহরাস) টানাটানি করছিল। তখন তিনি বললেন: তারা পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে শক্তি প্রদর্শনে বেশ পারদর্শী।আসকারি বলেন: এটি একটি ভ্রম (وهم); কারণ তিনি বর্ণনা করেছেন যে তারা ‘মিহরাস’ টানাটানি করছিল। তিনি বলেন: যখন কেউ পাথর উত্তোলন করে, তখন তাকে ‘জাযা আল-হাজার’ বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
مُسْند سهل بن سعد رضي الله عنه 28 - حَدِيثكَانَ الرجل اذا اراد الصَّوْم ربط فِي رجلَيْهِ الْخَيط الاسود وَالْخَيْط الابيض فَلَا يزَال يَأْكُل وَيشْرب حَتَّى يتَبَيَّن لَهُ رئيهاقَالَ الْقُرْطُبِيّ بِكَسْر الرَّاء وهمزة سَاكِنة وياء مثناة تحتية مَرْفُوعَة وهوالمنظر وَمِنْه {أحسن أثاثا ورئيا} قَالَ وصحف بعض النَّاس فَقَالَ رئيهما بِفَتْح الرَّاء وَكسر الْهمزَة وَلَا وَجه لَهُ لَان الرئي التَّابِع من الْجِنّ29 - حَدِيث اخْرُج ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن سهل بن سعد قَالَخرج علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَنحن نفترئ فَقَالَ الْحَمد لله كتاب الله وَاحِد وَفِيكُمْ الاحمر والاسود اقرؤه قبل ان يقرأه اقوام يقومونه كَمَا تقوم السنتهم يتعجل أجره وَلَا يتأجلهقَالَ ابْن حبَان كَذَا وَقع السماع وانما هُوَ السهْم30 - حَدِيثنهى ان تتَّخذ الرّوح غَرضاهُوَ بِفَتْح الرَّاء وبالغين الْمُعْجَمَة وَفِي تَارِيخ ابْن عَسَاكِر من طَرِيق
সাহল বিন সা'দ (রা.)-এর মুসনাদ ২৮ - হাদিসকোনো ব্যক্তি যখন রোজা রাখার ইচ্ছা করত, তখন সে তার দুই পায়ে একটি কালো সুতা ও একটি সাদা সুতা বেঁধে নিত। সে ততক্ষণ পর্যন্ত পানাহার চালিয়ে যেত যতক্ষণ না সেগুলোর দৃশ্যমান রূপ তার কাছে স্পষ্ট হতো।কুরতুবী বলেন, শব্দটি 'রা' বর্ণে কাসরা (জের), হামযাহ সাকিন এবং শেষে পেশযুক্ত 'ইয়া' বর্ণ সহযোগে; যার অর্থ হলো দৃশ্যমান রূপ। এরই অন্তর্ভুক্ত আল্লাহর বাণী: {আসবাবপত্র ও দৃশ্যমান সৌন্দর্যে শ্রেষ্ঠ}। তিনি আরও বলেন, কিছু লোক শব্দটিতে ভুল পাঠ (صحف) করেছে এবং 'রা' বর্ণে ফাতহা (জবর) ও হামযাহ-তে কাসরা (জের) দিয়ে পাঠ করেছে; কিন্তু এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই, কারণ উক্ত উচ্চারণের শব্দটি জিনদের অনুসারীকে বোঝায়।২৯ - হাদিস: ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে সাহল বিন সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমরা তিলাওয়াত করছিলাম। তিনি বললেন, "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর কিতাব এক। তোমাদের মধ্যে লাল ও কালো (সব ধরনের মানুষ) বিদ্যমান। তোমরা এটি তিলাওয়াত করো এমন এক সম্প্রদায় আসার আগে যারা একে সোজা করবে যেমনভাবে তীরের ফলা সোজা করা হয়; তারা এর প্রতিদান ইহকালেই পেতে চাইবে এবং পরকালের জন্য বিলম্বিত করবে না।"ইবনে হিব্বান বলেন, শ্রবণের ক্ষেত্রে শব্দটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, তবে এটি মূলত তীরের ফলা সোজা করার সদৃশ বিষয়।৩০ - হাদিসপ্রাণ আছে এমন কিছুকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।এটি 'রা' বর্ণে ফাতহা (জবর) এবং 'গাইন' বর্ণ সহযোগে উচ্চারিত। ইবনে আসাকিরের ইতিহাসে একটি সূত্রের (طريق) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
مُسلم بن الْحجَّاج حَدثنَا حسن الْحلْوانِي قَالَ سَمِعت شَبابَة يَقُول كَانَ عبد القدوس فيحدثنا فَيَقُولنهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ان تتَّخذ الرّوح عرضا فَقيل لَهُ أَي شَيْء هَذَا قَالَ يَعْنِي حَائِط ليدْخل عَلَيْهِ الرّوح قَالَ الْخَطِيب وَصَحَّ عبد القدوس وَفسّر تصحيفه31 - حَدِيثمن سَعَادَة الْمَرْء خفَّة لحيتهقَالَ الْخَطِيب قَرَأت فِي كتاب أبي الْحسن بن الْفُرَات بِخَطِّهِ ان مُحَمَّد بن الْعَبَّاس الضَّبِّيّ قَالَ حَدثنَا يَعْقُوب بن اسحاق بن مَحْمُود الْفَقِيه قَالَ قَالَ ابو عَليّ صَالح بن مُحَمَّد قَالَ بعض النَّاس انما هَذَا تَصْحِيف انما هُوَمن سَعَادَة الْمَرْء خفَّة لحييْهِ بِذكر الله تَعَالَىمُسْند سهل بن عَمْرو رضي الله عنه 32 - حَدِيثانكم قادمون على أصحابكم فأصلحوا رحالكُمْ حَتَّى تَكُونُوا شامة فِي النَّاسقَالَ فِي النِّهَايَة ويروىانكم تأتدمون الخ أَي ان لكم من الْغنى مَا يصلحكم كالادام الَّذِي يصلح الْخبز قَالَ وَالظَّاهِر انه تَصْحِيف وَالْمَعْرُوفانكم قادمون
মুসলিম বিন হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আল-হালওয়ানি বলেছেন: আমি শাবাবাকে বলতে শুনেছি, আব্দুল কুদ্দুস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করার সময় বলতেন:আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রূহকে (বাতাস) আড়াল (আরদ) হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: এটি কী? তিনি বললেন: এর অর্থ হলো এমন একটি দেয়াল যার মধ্য দিয়ে বাতাস (রূহ) প্রবেশ করে। আল-খাতিব বলেন: আব্দুল কুদ্দুস এখানে শব্দ বিকৃতি (تصحيف) করেছেন এবং তিনি তার শব্দ বিকৃতির (تصحيف) ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।৩১ - হাদিসমানুষের সৌভাগ্যের অন্যতম লক্ষণ হলো তার দাড়ির লঘুত্ব।আল-খাতিব বলেন: আমি আবুল হাসান বিন আল-ফুরাতের কিতাবে তার নিজ হস্তাক্ষরে পড়েছি যে, মুহাম্মদ বিন আব্বাস আদ-দাব্বি বলেছেন: ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন মাহমুদ আল-ফকিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আলী সালেহ বিন মুহাম্মদ বলেছেন: কিছু লোক বলেছেন এটি মূলত শব্দ বিকৃতি (تصحيف), এটি মূলত হবে:মানুষের সৌভাগ্যের অন্যতম লক্ষণ হলো আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে তার দুই চোয়ালের লঘুত্ব।সাহল বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ ৩২ - হাদিসনিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের ভাইদের নিকট উপস্থিত হতে যাচ্ছ, সুতরাং তোমরা তোমাদের আসবাবপত্র ঠিক করে নাও যাতে তোমরা মানুষের মাঝে তিলকের মতো (উজ্জ্বল) প্রতিভাত হও।‘আন-নিহায়াহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে এবং বর্ণিত আছে:নিশ্চয়ই তোমরা ব্যঞ্জন গ্রহণ করছ (তাতাদামুন)... ইত্যাদি, অর্থাৎ তোমাদের কাছে এমন প্রাচুর্য রয়েছে যা তোমাদের অবস্থাকে সংশোধন করে, যেমন ব্যঞ্জন (ইদাম) রুটিকে সুস্বাদু করে। তিনি বলেন: এটি দৃশ্যত শব্দ বিকৃতি (تصحيف), আর সুপরিচিত (المعروف) পাঠ হলো:নিশ্চয়ই তোমরা উপস্থিত হতে যাচ্ছ...
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
مُسْند طَلْحَة بن عبيد الله رضي الله عنه 33 - حَدِيثافلح وَأَبِيهِ ان صدققَالَ الْقُرْطُبِيّ الرِّوَايَة الصَّحِيحَة الَّتِي لَا يعرف غَيرهَا هَكَذَا بِصِيغَة الْقسم بالاب وَقَالَ بَعضهم انما هِيَ وَالله وصحفت بِأَن قصرت اللامان فالتبست ب أَبِيه وَهَذَا لَا يلْتَفت اليه لِأَنَّهُ تَقْدِير يحرم الثِّقَة بِرِوَايَة الثِّقَات الاثباتمُسْند عبد الله بن بسر رضي الله عنه 34 - حَدِيثنزل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على أبي فقرنا اليه طَعَاما ووطبة قَالَ النَّوَوِيّ هَكَذَا رِوَايَة الاكثرين وطبة بِالْوَاو واسكان الطَّاء وَبعدهَا بَاء مُوَحدَةوَفَسرهُ النَّضر بن شُمَيْل بالحيس وَرَوَاهُ بَعضهم رطبَة برَاء مَضْمُومَة وَفتح الطَّاء قَالَ الْحميدِي وَهُوَ تَصْحِيف من الرَّاوِي وانما هُوَ بالوواو وَنقل القَاضِي عِيَاض عَن رِوَايَة بَعضهم وطئة بِفَتْح الْوَاو وَكسر الطَّاء بعْدهَا
মুসনাদ তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) 33 - হাদিস“সে সফল হলো, তার পিতার কসম! যদি সে সত্য বলে থাকে।”কুরতুবী (র.) বলেছেন: সহিহ (صحيحة) বর্ণনা, যা ব্যতীত অন্য কোনো পাঠান্তর জানা যায় না, তা এভাবেই পিতার নামে শপথের শব্দে বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: মূলত শব্দ ছিল ‘আল্লাহর কসম’ (ওয়াল্লাহি), যা লিপিপ্রমাদ বা ভুল (صحفت) হওয়ার কারণে দুটি ‘লাম’ সংকুচিত হয়ে ‘পিতার কসম’ (ওয়া আবিহি) শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে গেছে। তবে এই মতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না; কারণ এমন অনুমান নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (اثبات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ওপর আস্থা রাখাকে অসম্ভব করে দেয়।মুসনাদ আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) 34 - হাদিসরাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পিতার নিকট মেহমান হিসেবে অবতরণ করলেন, তখন আমরা তাঁর সামনে খাবার এবং ‘ওতবাহ’ (চামড়ার পাত্র বা বিশেষ খাবার) পেশ করলাম। ইমাম নববী (র.) বলেন: অধিকাংশের বর্ণনা এভাবেই ‘ওতবাহ’ (وطبة) শব্দে এসেছে, যা ‘ওয়াও’ বর্ণ এবং ‘ত্ব’ অক্ষরের সুকুনসহ (যজম) এরপর এক নুকতাওয়ালা ‘বা’ দিয়ে গঠিত।নযর ইবনে শুমাইল একে ‘হাইস’ (এক প্রকার খাবার) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কেউ কেউ একে ‘রুতবাহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা পেশযুক্ত ‘রা’ এবং যবরযুক্ত ‘ত্ব’ সহযোগে গঠিত। হুমাইদী (র.) বলেন: এটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে শব্দগত বিকৃতি (تصحيف), মূলত এটি ‘ওয়াও’ দিয়েই হবে। আর কাযী আইয়ায (র.) কোনো কোনো বর্ণনাকারীর সূত্রে এটি ‘ওয়াতিয়াহ’ হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন, যা যবরযুক্ত ‘ওয়াও’ এবং যেরযুক্ত ‘ত্ব’ দিয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
همزَة وَادّعى انه الصَّوَاب وَهَكَذَا ادَّعَاهُ اخرون والوطئة بِالْهَمْزَةِ عِنْد أهل اللُّغَة طَعَام يتَّخذ من التَّمْر كالحيسمُسْند بعد الله بن سرجس رضي الله عنه 35 - حَدِيثاللَّهُمَّ اني اعوذ بك من وعثاء السّفر وكآبة المنقلب والحور بعد الْكَوْنكَذَا رَوَاهُ عَاصِم الاحول بعد الْكَوْن بالنُّون قَالَ ابراهيم الْحَرْبِيّ يُقَال ان عَاصِمًا وهم فِي وَصَوَابه الكور بالراء وَقَالَ التِّرْمِذِيّ يرْوى بالنُّون وبالراء وَكِلَاهُمَا لَهُ وَجه وَقَالَ ابو عبيد سُئِلَ عَاصِم عَن مَعْنَاهُ فَقَالَ ألم تسمع قَوْلهم حَار بَعْدَمَا كَانَ أَي انه كَانَ على حَالَة جميلَة فَرجع عَنْهَا وَقَالَ غَيره مَعْنَاهُ بالراء وَالنُّون جَمِيعًا الرُّجُوع من الاسْتقَامَة أَو الزِّيَادَة إِلَى النَّقْص وَرِوَايَة الرَّاء مَأْخُوذَة من تكوير الْعِمَامَة وَهُوَ لفها وَجَمعهَا وَرِوَايَة النُّون مَأْخُوذَة من كَانَ يكون كونا اذا وجد وَاسْتقر
হামজা দিয়ে (উচ্চারণ করা) এবং দাবি করা হয়েছে যে এটিই সঠিক; অন্যান্যরাও এমনটি দাবি করেছেন। ভাষাবিদদের মতে, 'আল-ওয়াতিয়াহ' (হামজা সহকারে) হলো খেজুর দিয়ে তৈরি এক প্রকার খাবার যা 'হাইস' এর মতো।আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.)-এর মুসনাদ ৩৫ - হাদিসহে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সফরের ক্লান্তি, ফিরে আসার সময়ের বিষণ্ণতা এবং (কল্যাণের) প্রাচুর্যের পরে ঘাটতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।আসিম আল-আহওয়াল এটিকে এভাবেই 'নুন' বর্ণসহ 'আল-কাউন' শব্দে বর্ণনা (رواية) করেছেন। ইব্রাহিম আল-হারবি বলেন, বলা হয়ে থাকে যে আসিম এতে ভ্রম (وهم) করেছেন এবং এর সঠিক রূপটি হলো 'রা' বর্ণসহ 'আল-কাউর'। ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি 'নুন' এবং 'রা' উভয় বর্ণেই বর্ণিত (يروى) হয়েছে এবং উভয়েরই যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আবু উবাইদ বলেন, আসিমকে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আপনি কি তাদের এই কথা শোনেননি: 'সে যেমন ছিল তারপর পরিবর্তিত হয়েছে', অর্থাৎ সে একটি সুন্দর অবস্থায় ছিল এবং সেখান থেকে বিচ্যুত হয়েছে। অন্যরা বলেছেন যে 'রা' এবং 'নুন' উভয় বর্ণসহ এর অর্থ হলো সুস্থিরতা বা বৃদ্ধি থেকে বিচ্যুতি বা ঘাটতির দিকে ফিরে আসা। 'রা' বর্ণযুক্ত বর্ণনা (رواية) পাগড়ি পেঁচানো (তাকউয়ির) থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ হলো তা পেঁচানো ও একত্রিত করা। আর 'নুন' বর্ণযুক্ত বর্ণনা (رواية) 'কানা-ইয়াকুনু-কাউনান' থেকে নেওয়া হয়েছে, যা কোনো কিছুর অস্তিত্ব লাভ করা ও স্থিতিশীল হওয়াকে বোঝায়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
مُسْند عبد الله بن عَبَّاس رضي الله عنهما 36 - حَدِيثان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لامْرَأَة من الانصار يُقَال لَهَا ام سِنَان مَا مَنعك ان تكون حججْت مَعنا قَالَت ناضخان كَانَا لاب فلَان زَوجهَا حج هُوَ وَابْنه على أَحدهمَا وَكَانَ الاخر يسْقِي عَلَيْهِ غلامناقَالَ القَاضِي عِيَاض كَذَا فِي رِوَايَة ابْن ماهان وَسقط عَلَيْهِ فِي رِوَايَة الْفَارِسِي وَغَيره قَالَ وَأرى هَذَا كُله تغييرا وان صَوَابه نسقي عَلَيْهِ نخلا لنا فتصحف مِنْهُ غلامنا وَكَذَا جَاءَ فِي البُخَارِيّ على الصَّوَاب وَيدل على صِحَّته قَوْله فِي رِوَايَة الاخر ينضخ عَلَيْهِ وَهُوَ بِمَعْنى يسْقِي عَلَيْهِ انْتهى قَالَ النَّوَوِيّ وَالْمُخْتَار ان الرِّوَايَة صَحِيحَة وَتَكون الزِّيَادَة الَّتِي ذكرهَا القَاضِي محذوفة مقدرَة وَهَذَا كثير فِي الْكَلَام37 - حَدِيثان ابا اسرائيل نذر ان يَصُوم وَلَا يقْعد وَلَا يستظل وَلَا يتَكَلَّم فَأتي بِهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ اقعد واستظل وَتكلم وَكفرقَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن كَذَا وجدته وَكفر وَعِنْدِي ان ذَلِك تَصْحِيف انما هُوَ وصم كَمَا هُوَ فِي سَائِر الرِّوَايَات38 - حَدِيثاللَّهُمَّ ذَا الْحَبل الشَّديدقَالَ فِي النِّهَايَة كَذَا رَوَاهُ المحدثون بِالْبَاء الْمُوَحدَة وَقَالَ الازهري الصَّوَاب الْحِيَل بِالْيَاءِ وَهُوَ الْقُوَّة
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুসনাদ 36 - হাদিসনবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারি এক মহিলাকে, যার নাম ছিল উম্মে সিনান, বললেন: "আমাদের সাথে হজ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?" তিনি বললেন: "আমাদের দুটি পানি বহনকারী উট ছিল; অমুকের পিতা (তার স্বামী) ও তার পুত্র একটির ওপর চড়ে হজ করেছেন, আর অন্যটি দিয়ে আমাদের গোলাম পানি সেচ করছিল।"কাজি আয়াজ (রহ.) বলেন: ইবনে মাহানের বর্ণনায় (رواية) এভাবেই এসেছে। তবে আল-ফারিসি এবং অন্যদের বর্ণনায় এটি বাদ পড়েছে। তিনি আরও বলেন: আমি মনে করি এটি একটি পরিবর্তন (تغيير); এর সঠিক (صواب) পাঠ হবে 'আমরা আমাদের খেজুর গাছে পানি সেচ দিতাম', যা ভুলক্রমে পরিবর্তিত (تصحف) হয়ে 'আমাদের গোলাম' হয়ে গিয়েছে। সহিহ বুখারিতে এটি সঠিকভাবেই বর্ণিত হয়েছে। এর নির্ভুলতার প্রমাণ হলো অন্য বর্ণনায় 'সেটি দিয়ে পানি ছিটাচ্ছিল' কথাটি রয়েছে, যা 'সেটি দিয়ে পানি সেচ দেওয়া'র অর্থ প্রকাশ করে। (সমাপ্ত) ইমাম নববি (রহ.) বলেন: নির্ভরযোগ্য (مختار) মত হলো, বর্ণনাটি (رواية) সহিহ (صحيحة)। কাজি আয়াজ যে কথাটি উল্লেখ করেছেন তা এখানে উহ্য ও অনুমিত হিসেবে ধরা হবে; আর কথোপকথনে এমন প্রয়োগ অনেক রয়েছে।37 - হাদিসআবু ইসরাইল মানত করেছিলেন যে, তিনি রোজা রাখবেন, বসবেন না, ছায়ায় যাবেন না এবং কথা বলবেন না। তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আনা হলে তিনি বললেন: "বসুন, ছায়ায় যান, কথা বলুন এবং কাফফারা (كفر) আদায় করুন।"ইমাম বায়হাকি সুনানে উল্লেখ করেছেন: আমি এভাবেই 'কাফফারা আদায় করুন' (وكفر) পেয়েছি। তবে আমার মতে এটি একটি লেখনি প্রমাদ (تصحيف); মূলত এটি হবে 'এবং রোজা পূর্ণ করুন' (وصم), যেমনটি অন্যান্য বর্ণনায় (روايات) রয়েছে।38 - হাদিসহে আল্লাহ! সুদৃঢ় রজ্জুর অধিপতি।আন-নিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: মুহাদ্দিসগণ একে 'বা' বর্ণ যোগে 'হাবল' (রজ্জু) হিসেবে বর্ণনা (رواه) করেছেন। আল-আযহারি বলেন: সঠিক (صواب) হলো 'ইয়া' বর্ণ যোগে 'হিয়াল', যার অর্থ হলো শক্তি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
39 - حَدِيث طَاوسقلت لِابْنِ عَبَّاس فِي الاقعاء على الْقَدَمَيْنِ فَقَالَ هِيَ السّنة فَقُلْنَا انا لنراه جفَاء بِالرجلِقَالَ الْقُرْطُبِيّ كَذَا صحت روايتنا فِيهِ بِفَتْح الرَّاء وَضم الْجِيم وَقَيده ابو عمر بن عبد الْبر بِكَسْر الرَّاء وَسُكُون الْجِيم وَكَانَ يَقُول من قَالَ بِالرجلِ فقد صحف وَلَا معنى لَهُقَالَ القَاضِي عِيَاض والاوجه عِنْدِي رِوَايَة الْجَمَاعَة وَيدل عَلَيْهِ اضافة الْجفَاء اليه فِي جلسته الْمَكْرُوهَة عِنْد الْعلمَاء وَأما الرجل فَلَا وَجه لَهُ انْتهى40 - حَدِيث خطْبَة الْعِيد قَوْلهثمَّ أقبل يشقهم حَتَّى جَاءَ النِّسَاء وَمَعَهُ بِلَال فَقَالَ {يَا أَيهَا النَّبِي إِذا جَاءَك الْمُؤْمِنَات يبايعنك} الاية ثمَّ قَالَ انتن على ذَلِك فَقَالَت امْرَأَة نعم يَا نَبِي الله لَا يدْرِي حِينَئِذٍ من هِيَ
39 - তাউস বর্ণিত হাদিসআমি ইবনে আব্বাসকে দুই পায়ের ওপর বসার বিশেষ পদ্ধতি (اقعاء) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এটিই সুন্নাহ (سنة)"। আমরা বললাম, "আমরা একে মানুষের প্রতি রূঢ়তা (جفاء) মনে করি।"ইমাম কুরতুবী বলেন, আমাদের নিকট বর্ণিত বর্ণনাটি (رواية) এভাবেই সঠিক (صحت) সাব্যস্ত হয়েছে—'রা' বর্ণে ফাতহাহ এবং 'জীম' বর্ণে পেশ সহযোগে (অর্থাৎ 'জুফা')। তবে আবু উমর ইবনে আব্দুল বার এটিকে 'রা' বর্ণে কাসরাহ এবং 'জীম' বর্ণে সুকুন সহযোগে (অর্থাৎ 'রিজ্ল') নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি বলতেন, "যে ব্যক্তি 'বির্-রিজ্ল' (পা সম্পর্কিত) বলেছে, সে মূলত পাঠবিকৃতি (صحف) করেছে এবং এর কোনো অর্থ নেই।"কাজী আইয়াদ বলেন, আমার নিকট জামাতের বর্ণনাটিই (رواية) অধিক গ্রহণযোগ্য। আলেমদের নিকট অপছন্দনীয় (مكروه) বসার পদ্ধতির ক্ষেত্রে 'রূঢ়তা' শব্দটির সম্পৃক্ততা এরই প্রমাণ বহন করে। আর 'পা' (রিজ্ল) শব্দের এখানে কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। সমাপ্ত।40 - ঈদের খুতবা বিষয়ক হাদিস, তাঁর উক্তি:অতঃপর তিনি লোকদের কাতার চিরে এগিয়ে এলেন এবং নারীদের নিকট পৌঁছালেন; তাঁর সাথে বিলাল (রা.) ছিলেন। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {হে নবী! যখন আপনার নিকট মুমিন নারীরা আনুগত্যের শপথ করতে আসে...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি বললেন, "তোমরা কি এই অঙ্গীকারের ওপর অটল আছো?" তখন একজন নারী বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী!" সেই সময় জানা যায়নি তিনি কে ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
قَالَ القَاضِي عِيَاض والقرطبي قَوْله حِينَئِذٍ تَصْحِيف وانما هُوَلَا يدْرِي حسن من هِيَ وَكَذَا ذكره البُخَارِيّ يَعْنِي بِهِ الْحسن بن مُسلم رَاوِي الحَدِيث عَن طَاوسمُسْند عبد الله بن عمر رضي الله عنهما 41 - حَدِيثذكر رجل لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم انه يخدع فِي الْبيُوع فَقَالَ من بَايَعت فَقل لَا خلابة فَكَانَ اذا بَايع قَالَ لَا خلابةقَالَ القَاضِي عِيَاض هُوَ بياء مثناة تَحت بدل اللَّام وَكَانَ الرجل الثغ فَكُن يَقُولهَا هَكَذَا وَلَا يُمكنهُ ان يَقُول لَا خلابة قَالَ وَرَوَاهُ بَعضهم لَا خِيَانَة بالنُّون قَالَ وَهُوَ تَصْحِيف42 - حَدِيثوَنهى عَن النقير وَهِي النَّخْلَة تنسح نسحاقَالَ النَّوَوِيّ هَكَذَا فِي مُعظم الرِّوَايَات بسين وحاء مهملتين أَي تقشر وَوَقع لبَعض الروَاة بِالْجِيم قَالَ القَاضِي وَغَيره وَهُوَ تَصْحِيف وَادّعى بعض الْمُتَأَخِّرين انه وَقع فِي مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ بِالْجِيم وَلَيْسَ كَمَا قَالَ
কাজি আয়ায এবং কুরতুবি বলেছেন, সে সময়ের তার উক্তিটি হলো লিপিপ্রমাদ (تصحيف), মূলত তা হলো"হাসান জানেন না তিনি কে"। ইমাম বুখারিও একইভাবে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাদিসের বর্ণনাকারী (راوي) হাসান ইবনে মুসলিম, যিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন।মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ৪১ - হাদিসএক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তাকে প্রতারণা করা হয়। তিনি বললেন, "তুমি যার সাথেই লেনদেন করো না কেন তাকে বলো যে, কোনো ধোঁকাবাজি নেই"। অতঃপর তিনি যখনই লেনদেন করতেন, বলতেন "কোনো ধোঁকাবাজি নেই (لا خلابة)"।কাজি আয়ায বলেন, এটি 'লাম' বর্ণের পরিবর্তে নিচে দুই নুকতাহওয়ালা 'ইয়া' যোগে উচ্চারিত হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তোতলা ছিলেন বলে তিনি এভাবেই বলতেন এবং তার পক্ষে 'লা খিলাবাহ' বলা সম্ভব ছিল না। তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো বর্ণনাকারী এটি 'নুন' যোগে 'লা খিয়ানাহ' বর্ণনা করেছেন, তবে তা একটি লিপিপ্রমাদ (تصحيف)।৪২ - হাদিসতিনি 'নাকীর' (খোদাই করা কাঠের পাত্র) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন; যা হলো খেজুর গাছ যা কুঁদে তৈরি করা হয়।ইমাম নববী বলেন, অধিকাংশ বর্ণনায় (روايات) এটি নুকতাহীন 'সিন' এবং 'হা' যোগে এসেছে যার অর্থ হলো ছিলে ফেলা। কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (رواة) ক্ষেত্রে এটি 'জিম' যোগে বর্ণিত হয়েছে। কাজি আয়ায ও অন্যান্যরা বলেছেন যে এটি একটি লিপিপ্রমাদ (تصحيف)। পরবর্তী যুগের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি মুসলিম ও তিরমিযি গ্রন্থে 'জিম' যোগে এসেছে, অথচ বিষয়টি তাদের দাবির মতো নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
43 - حَدِيثاذكر الله فِي الغافلين مثل الشَّجَرَة الخضراء فِي وسط الشّجر قد تحات من الضريبقَالَ يحيى بن سليم يَعْنِي بالضريب الْبرد الشَّديد قَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الايمان وَالصَّوَاب هُوَ الضريب وَكَانَ ذَلِك فِي كتاب الصفار مُصحفا وَقَالَ عبد الغافر الْفَارِسِي فِي مجمع الغرائب قَوْله من الضريب يَعْنِي من الجليد وَهُوَ الَّذِي يَقع فِي شدَّة الْبرد وَأَوَان سُقُوط ورق الشّجر قَالَ وَرُوِيَ الضريد وَهُوَ وهم وَكَذَلِكَ الصريف وَهُوَ غلطمُسْند عبد الله بن عَمْرو رضي الله عنهما 44 - حَدِيثوَقت الْمغرب مَا لم يسْقط فَور الشَّفقهُوَ بالفا فِي رِوَايَة أبي دَاوُد أَي بَقِيَّة حمرَة الشَّفق وَفِي رِوَايَة مُسلم وَالنَّسَائِيّ ثَوْر الشَّفق بالثاء الْمُثَلَّثَة وَهُوَ ثوران حمرته وانتشارها ومعناهما وَاحِد قَالَ الشَّيْخ ولي الدّين الْعِرَاقِيّ فِي شرح سنَن أبي دَاوُد وصحفه بَعضهم فَقَالَ نور الشَّفق بالنُّون وَلَو صحت الرِّوَايَة لَكَانَ لَهُ وَجه
৪৩ - হাদিসগাফেলদের মধ্যে আল্লাহকে স্মরণকারী ব্যক্তি হচ্ছে শুষ্ক বৃক্ষরাজির মাঝে একটি সবুজ সজীব বৃক্ষের ন্যায়, যার পাতাগুলো প্রচণ্ড শীতের কারণে ঝরে গেছে।ইয়াহইয়া বিন সুলাইম বলেছেন, ‘আদ-দারিবি’ (الضريب) বলতে তীব্র শীত বোঝায়। বাইহাকি শুয়াবুল ইমান গ্রন্থে বলেছেন, সঠিক শব্দ হলো ‘আদ-দারিবি’ (الضريب), তবে আস-সাফফারের কিতাবে এটি বিকৃত (مصحف) অবস্থায় ছিল। আব্দুল গাফির আল-ফারিসি মাজমাউল গরাইব গ্রন্থে বলেছেন, ‘আদ-দারিবি’ (الضريب) বলতে বরফ বোঝায়, যা তীব্র শীতের সময় এবং গাছের পাতা ঝরার মৌসুমে পতিত হয়। তিনি আরও বলেছেন, এটি ‘আদ-দারিদি’ (الضريد) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে যা একটি ভ্রম (وهم), অনুরূপভাবে এটি ‘আস-সারিফি’ (الصريف) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে যা একটি ভুল (غلط)।আবদুল্লাহ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুসনাদ ৪৪ - হাদিসমাগরিবের সময় ততক্ষণ থাকে যতক্ষণ না লালিমার প্রখরতা দূরীভূত হয়।আবু দাউদ-এর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এটি ‘ফা’ বর্ণ দিয়ে (‘ফাউর’), যার অর্থ গোধূলির লালিমার অবশিষ্টাংশ। আর মুসলিম ও নাসায়ীর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এটি ‘সা’ বর্ণ দিয়ে (‘সাওর’), যার অর্থ লালিমার প্রাবল্য ও ছড়িয়ে পড়া; মূলত উভয় শব্দের অর্থ একই। শায়খ ওয়ালিউদ্দীন আল-ইরাকি শারহু সুনানি আবি দাউদ গ্রন্থে বলেছেন, কেউ কেউ এটি পাঠবিকৃতি (صحف) ঘটিয়ে ‘নুন’ বর্ণ দিয়ে ‘নূরুশ শাফাক’ বলেছেন; যদি এই বর্ণনাটি (رواية) সঠিক বা বিশুদ্ধ (صح) হতো, তবে এর একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
مُسْند عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه 45 - حَدِيثكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَتَخَوَّلنَا بِالْمَوْعِظَةِ مَخَافَة السَّآمَة عليناقَالَ البُخَارِيّ فِي تَارِيخه حَدثنَا عَليّ بن عبد الله هُوَ ابْن الْمَدِينِيّ ثَنَا سُفْيَان قَالَ لما قدم الاعمش فَحدث بِهَذَا الحَدِيثكَانَ رَسُول الله صلى الله عيه وَسلم يَتَخَوَّلنَا بِالْمَوْعِظَةِ قَالَ لَهُ أَبُو عَمْرو بن الْعَلَاء انما هُوَ يتخوننا فَقَالَ الاعمش وَالله لتسكتن أَو لاعرفنك انك لَا تحسن من الْعَرَبيَّة شَيْئاوَقَالَ ابو احْمَد العسكري فِي كتاب التَّصْحِيف حَدثنِي ابي حَدثنَا عسل بن ذكْوَان حَدثنَا الْعَبَّاس بن مَيْمُون حَدثنَا الاصمعي حَدثنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة قَالَ حضرت الاعمش عِنْد أبي عَمْرو بن الْعَلَاء قَالَ الْعَبَّاس فَذَكرته لِابْنِ الشَّاذكُونِي فَقَالَ غلط الاصمعي انا حدثته عَن سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن أبي جُزْء قَالَ شهِدت ابا عَمْرو عِنْد الاعمش فَحدث عَن عبد الله بن مَسْعُود انه قَالَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَتَخَوَّلنَا بِالْمَوْعِظَةِ فَقَالَ ابو عَمْرو وانما هُوَ يتخوننا فَقَالَ الاعمش وَمَا يدْريك فَقَالَ وَالله ان شِئْت لأعلمنك ان الله تَعَالَى لم يعلمك من هَذَا كَبِير شَيْء فَسَأَلَ عَنهُ فَقيل ابو عَمْرو بن الْعَلَاء فَسكت ثمَّ قَالَ الاصمعي قد ظلمه ابو عَمْرو فَقَالَ يَتَخَوَّلنَا ويتخوننا جَمِيعًا فَمن قَالَ يَتَخَوَّلنَا يَقُول يستصلحنا يُقَال رجل خائل قَالَ وَمن قَالَ يتخوننا
মুসনাদ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ৪৫ - হাদিসরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিরক্তি আসার আশঙ্কায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর উপদেশের মাধ্যমে আমাদের তদারকি করতেন।বুখারি তার তারিখ গ্রন্থে বলেছেন, আমাদের নিকট আলি বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন—যিনি ইবনুল মাদিনী হিসেবে পরিচিত—তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন: যখন আমাশ আসলেন এবং এই হাদিসটি বর্ণনা করলেন যে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশের মাধ্যমে আমাদের তদারকি (يتخولنا) করতেন; তখন আবু আমর বিন আল-আলা তাকে বললেন, এটি মূলত ‘ইয়াতাখাওওয়ানুনা’ (يتخوننا)। আমাশ বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি হয় চুপ থাকবেন, না হয় আমি আপনাকে জানিয়ে দেব যে আপনি আরবি ভাষার কিছুই জানেন না।আবু আহমদ আল-আসকারি কিতাবুত তাসহিফ গ্রন্থে বলেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আসাল বিন জাকওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস বিন মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনা বলেছেন: আমি আমাশের নিকট আবু আমর বিন আল-আলার উপস্থিতিতে ছিলাম। আব্বাস বলেন, আমি বিষয়টি ইবনুল শাজাকুনির নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আসমায়ি ভুল (غلط) করেছেন। আমি এটি তার নিকট সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে, তিনি আবু জুজু থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি আমাশের নিকট আবু আমরের উপস্থিতিতে ছিলাম, তখন তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করছিলেন যে তিনি বলেছেন:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশের মাধ্যমে আমাদের তদারকি (يتخولنا) করতেন। তখন আবু আমর বললেন, এটি মূলত ‘ইয়াতাখাওওয়ানুনা’ (يتخوننا)। আমাশ বললেন, আপনি এ বিষয়ে কী জানেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি চাইলে আমি আপনাকে শিখিয়ে দেব যে মহান আল্লাহ আপনাকে এই শাস্ত্রের বিশেষ কিছুই শিক্ষা দেননি। এরপর তিনি (আমাশ) তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন বলা হলো তিনি আবু আমর বিন আল-আলা। তখন তিনি চুপ হয়ে গেলেন। এরপর আসমায়ি বলেন, আবু আমর তার প্রতি অবিচার করেছেন; অথচ ‘ইয়াতাখাওওয়ালুনা’ (يتخولنا) এবং ‘ইয়াতাখাওওয়ানুনা’ (يتخوننا) উভয়ই সঠিক। যারা ‘ইয়াতাখাওওয়ালুনা’ বলেন, তারা এর দ্বারা আমাদের সংশোধন বা দেখাশোনা করা উদ্দেশ্য নেন, যেমন বলা হয় ‘রাজুলুন খাইল’ (তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি)। তিনি আরও বলেন, আর যারা ‘ইয়াতাখাওওয়ানুনা’ বলেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٤١)
قَالَ يتعهدنا وَسمعت ابا بكر بن دُرَيْد يَقُول التخول والتخون وَاحِد وَقَالَ ابو الطّيب النَّحْوِيّ فِي كتاب// مَرَاتِب النَّحْوِيين انا مُحَمَّد بن يحيى حَدثنَا الْمبرد حَدثنِي الْعَبَّاس بن مَيْمُون حَدثنَا الاصمعي عَن سُفْيَان الثَّوْريّ قَالَ كُنَّا عِنْد// الاعمش وَعِنْده ابو عَمْرو بن الْعَلَاء فَحدث عَن أبي وَائِل عَن عبد الله قَالَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَتَخَوَّلنَا بِالْمَوْعِظَةِ ثمَّ قَالَ الاعمش يتعاهدنا فَقَالَ لَهُ ابو عَمْرو اذا كَانَ يتعاهدنا ف يتخوننا فَأَما يَتَخَوَّلنَا ف يستصلحنا قَالَ ابو الطّيب والامر على مَا قَالَ ابو عَمْرو46 - حَدِيثالرِّبَا سَبْعُونَ بَاباقَالَ الْعِرَاقِيّ الْمَعْرُوف انه بِالْمُوَحَّدَةِ وَكَذَا اخرجه ابْن مَاجَه فِي ابواب التِّجَارَات وتصحف على الْغَزالِيّ فِي// الاحياء بِالْمُثَنَّاةِ فَأوردهُ فِي كتاب// ذمّ الرِّيَاء قَالَ وَفِي رِوَايَة الْبَزَّارالرِّيَاء بضع وَسَبْعُونَ بَابا وَالشّرط مثل ذَلِك وَهَذِه الزِّيَادَة قد يسْتَدلّ بهَا على انه الرِّيَاء بِالْمُثَنَّاةِ لاقترانه مَعَ الشّرك انْتهى47 - حَدِيثان كَلِمَاته بلغت ناعوس الْبَحْرفِي النِّهَايَة قَالَ ابو مُوسَى كَذَا وَقع فِي صَحِيح مُسلم وَفِي سَائِرالرِّوَايَات
তিনি বললেন, 'يتعهدنا' (তিনি আমাদের তদারকি করতেন)। আর আমি আবু বকর ইবনে দুরাইদকে বলতে শুনেছি যে, 'التخول' (তখওয়ুল) এবং 'التخون' (তখওয়ুন) অভিন্ন। আবু তৈয়ব আন-নাহবী তাঁর কিতাব// মারাতাবুন নাহভিয়্যিন-এ বলেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-মুবররাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার কাছে আব্বাস বিন মায়মুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আল-আসমাঈ বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি বলেন— আমরা// আল-আ'মাশের নিকট ছিলাম এবং তাঁর কাছে আবু আমর ইবনুল আলাও উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণনা (حدث) করলেন, তিনি বলেন:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নসিহত প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখতেন (يتخولنا) [যাতে আমরা বিরক্ত না হই]। অতঃপর আল-আ'মাশ বললেন, 'يتعاهدنا' (তিনি আমাদের খোঁজখবর নিতেন)। তখন আবু আমর তাকে বললেন, "যদি শব্দটা 'يتعاهدنا' হয় তবে তা 'يتخوننا' (আমাদের তদারকি করা) এর অর্থে হবে। আর 'يتخولنا' এর অর্থ হলো 'يستصلحنا' (আমাদের সংশোধন বা কল্যাণের চেষ্টা করা)।" আবু তৈয়ব বলেন, বিষয়টি তেমনই যেমন আবু আমর বলেছেন।৪৬ - হাদিসসুদের (الربا) সত্তরটি দরজা বা শাখা রয়েছে।আল-ইরাকি বলেন, এটি 'এক নুকতা বিশিষ্ট বর্ণ' (بالموحدة) [অর্থাৎ 'বা' (ب)] যোগে 'রিবা' (الربا) হিসেবেই প্রসিদ্ধ। ইবনে মাজাহ তাঁর কিতাবের তিজারাত অধ্যায়গুলোতে এভাবেই বের (أخرجه) করেছেন। তবে ইমাম গাজালির নিকট এটি ভুলবশত পরিবর্তিত (تصحف) হয়ে// এহিয়াউ উলুমিদ্দীন গ্রন্থে 'দুই নুকতা বিশিষ্ট বর্ণ' (بالمثناة) [অর্থাৎ 'ইয়া' (ي)] যোগে এসেছে। ফলে তিনি একে// 'যাম্মুর রিয়া' (লোকদেখানো ইবাদতের নিন্দা) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আল-বাজজারের এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে:"লোকদেখানো ইবাদত (الرياء) সত্তরটিরও বেশি শাখা বিশিষ্ট এবং শিরকও (الشرك) তদ্রূপ।" এই অতিরিক্ত অংশটি দ্বারা এটি 'রিয়া' (الرياء) হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করা হতে পারে, যেহেতু এটি শিরকের সাথে যুক্ত হয়ে এসেছে। সমাপ্ত।৪৭ - হাদিসনিশ্চয়ই তাঁর বাণীসমূহ সমুদ্রের অতল গহ্বর (ناعوس البحر) পর্যন্ত পৌঁছেছে।আন-নিহায়া গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু মুসা বলেছেন: সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্যবর্ণনাগুলোতে (الروايات) বিষয়টি এভাবেই এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
// قَامُوس الْبَحْر وَهُوَ وسط ولجته وَلَعَلَّه لم يجود كتبته فصحفه بَعضهم وَلَيْسَت هَذِه اللَّفْظَة اصلا فِي مُسْند اسحاق الَّذِي روى// عَنهُ مُسلم هَذَا الحَدِيث غير انه قرنة بِأبي مُوسَى وَرِوَايَته فلعلها فِيهَا قَالَ وانما اورد نَحْو هَذِه الالفاظ لَان الانسان اذا طلبه لم يجده فِي شَيْء من الْكتب فيتحير فَإِذا نظر فِي كتَابنَا عرف أَصله وَمَعْنَاهُمُسْند عُثْمَان بن عَفَّان رضي الله عنه48 - حَدِيثالْمحرم لَا ينْكح وَلَا ينْكح عِنْدهاخرجه ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه وَقَالَ هَذِه الزِّيَادَة تَصْحِيف وَلَعَلَّه اراد غَيرهمُسْند عقبَة بن عَامر رضي الله عنه 49 - حَدِيثوَمن تتبع المسمعة يسمع الله بِهِهُوَ بِالسِّين الْمُهْملَة من السمعة اراد الْمرَائِي وَرُوِيَ بِالْمُعْجَمَةِ قَالَ العسكري هُوَ المزاح
'কামুসুল বাহর' (قَامُوس الْبَحْر) আর তা হলো সমুদ্রের মধ্যভাগ ও এর গভীরতা; সম্ভবত লেখক এটি সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করেননি, ফলে কেউ কেউ একে ভুলভাবে পাঠ বা বিকৃত (صحف) করেছে। আর এই শব্দটি মূলত ইসহাকের মুসনাদ গ্রন্থে নেই যেখান থেকে ইমাম মুসলিম এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি একে আবু মুসার বর্ণনার সাথে সংযুক্ত করেছেন, সম্ভবত সেখানে এটি রয়েছে। তিনি বলেন, আমি এ জাতীয় শব্দাবলি কেবল এই কারণেই উল্লেখ করেছি যে, মানুষ যখন এগুলো অনুসন্ধান করে তখন কোনো কিতাবে তা খুঁজে পায় না এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন সে আমাদের এই কিতাবটি দেখবে, তখন সে এর মূল উৎস ও অর্থ জানতে পারবে। উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর মুসনাদ48 - হাদিস ইহরামকারী ব্যক্তি নিজে বিবাহ করবে না এবং অন্যকেও বিবাহ দেবে না। ইবনে আসাকির এটি তাঁর তারিখ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন, এই অতিরিক্ত (زيادة) অংশটি একটি ভুল পাঠজনিত বিকৃতি (تصحيف); সম্ভবত তিনি অন্য কোনো শব্দ বুঝাতে চেয়েছিলেন। উকবাহ ইবনে আমির (রা.)-এর মুসনাদ 49 - হাদিস আর যে ব্যক্তি মানুষের কাছে প্রচারের উদ্দেশ্যে অন্যের দোষ অন্বেষণ করে (المسمعة), আল্লাহ তার দোষ মানুষের কাছে প্রকাশ করে দেন। এটি নুকতাহীন 'সিন' (السين المهملة) সহযোগে 'সুমআহ' (سمعة) শব্দ থেকে এসেছে, যার দ্বারা লোকদেখানো (مرائي) ব্যক্তি উদ্দেশ্য। এটি নুকতাযুক্ত বর্ণ (المعجمة) দিয়েও বর্ণিত হয়েছে; আসকারি বলেন, তা হলো পরিহাস (مزاح)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
مُسْند عَليّ رضي الله عنه 50 - حَدِيثايتُوا الْمَسَاجِد حسرا ومقنعين فَإِن ذَلِك سِيمَا الْمُسلمينايتُوا من الاتيان وحسرا مكشوفي الرؤوس بِغَيْر قناع ومقنعين مغطي الرؤوس بالقناع وَأوردهُ فِي النِّهَايَة بِلَفْظ ابْنُوا الْمَسَاجِد حسرا وَأسْقط قَوْله مقنعين وَقَالَ أَي مكشوفة الْجدر لَا شرف لَهَا وَالظَّاهِر أَنه تَصْحِيف51 - حَدِيث روى العسكري فِي// التَّصْحِيف وَابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه من طَرِيق ابي محلم قَالَ حَدثنِي من سمع شُعْبَة يَقُول حَدثنَا مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر قَالَ// أهدي سعيد بن الْعَاصِ هَدَايَا لأهل الْمَدِينَة وَقَالَ لرَسُوله لَا تعذرني الا عِنْد عَليّ بن أبي طَالب وَقل لَهُ مَا فضلت عَلَيْك احدا فِي الْهَدِيَّة الا أَمِير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان فَقَالَ عَليّ لما قَالَ لَهُ الرَّسُول ذَلِكلشد مَا نفست على أُميَّة وضايقنى وَالله لَئِن وليتها لأنفضنها نفض القصاب التُّرَاب الوذمة قَالَ فَقَالَ لَهُ الاصمعي الثراب فَقَالَ شُعْبَة مَا سمعته الا التُّرَاب بِالتَّاءِ فتحاكما إِلَى أَي عَمْرو فَحكم كَمَا قَالَ شُعْبَة قَالَ ابو محلم الصَّوَاب مَا قَالَ شُعْبَة وَقَالَ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মুসনাদ ৫০ - হাদিসতোমরা মসজিদে আসো অনাবৃত মস্তকে এবং মস্তক আবৃত অবস্থায়; কারণ নিশ্চয়ই এটি মুসলিমদের নিদর্শন।‘আইতু’ শব্দটি ‘আল-ইতিয়ান’ (আসা) থেকে উদ্ভূত। ‘হুসরান’ অর্থ পাগড়ি বা টুপি ছাড়া অনাবৃত মস্তক, আর ‘মুকান্নাঈন’ অর্থ চাদর বা শিরস্ত্রাণ দ্বারা আবৃত মস্তক। আন-নিহায়া গ্রন্থে এটি ‘মসজিদসমূহ নির্মাণ করো অনাবৃতভাবে’ শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে ‘মুকান্নাঈন’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে— এর অর্থ হলো উঁচু কারুকার্যহীন দেয়াল বিশিষ্ট। তবে বাহ্যত এটি একটি শব্দবিভ্রম (تصحیف)।৫১ - হাদিস। আসকারি বর্ণনা করেছেন—// আত-তাসহিফ গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির তাঁর তারিখে আবু মুহাল্লিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি শু’বাহকে বলতে শুনেছেন যে, আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:// সাঈদ বিন আল-আস মদিনাবাসীদের জন্য কিছু উপহার পাঠালেন এবং তাঁর দূতকে বললেন: আলী বিন আবি তালিব ব্যতীত আর কারো কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো অজুহাত পেশ করো না। তাঁকে বলো, আমীরুল মুমিনীন উসমান ব্যতীত উপহারের ক্ষেত্রে আমি কাউকে আপনার ওপর প্রাধান্য দেইনি। সাঈদের প্রেরিত দূত যখন আলীকে এ কথা বললেন, তখন আলী বললেন:উমাইয়া বংশের প্রতি আমার বিরাগ কতই না তীব্র এবং সে আমার প্রতি সংকীর্ণতা প্রদর্শন করেছে। আল্লাহর কসম! যদি আমি এ বিষয়ের (ক্ষমতার) দায়িত্বভার পাই, তবে আমি একে এমনভাবে ঝেড়ে ফেলব যেভাবে কসাই মাটিমাখা পশুর ঝিল্লি বা নাড়িভুঁড়ি ঝেড়ে ফেলে। বর্ণনাকারী বলেন, আসমাঈ তাঁকে বললেন: শব্দটি হবে ‘আছ-ছারাব’। কিন্তু শু’বাহ বললেন: আমি এটি ‘তা’ (ت) অক্ষর যোগে ‘আত-তুরাব’ ছাড়া অন্য কিছু শুনিনি। এরপর তাঁরা উভয়ে আবু আমরের কাছে ফয়সালার জন্য গেলেন এবং তিনি শু’বাহর অনুকূলে ফয়সালা দিলেন। আবু মুহাল্লিম বলেন: সঠিক সেটিই যা শু’বাহ বলেছেন। এবং তিনি বললেন—
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
الثَّوْريّ صحف الاصمعي واصاب شُعْبَة وَالتُّرَاب الكروش والوذمة ذَوَات زَوَائِد وَزعم ابْن دُرَيْد ان اهل الحَدِيث قلبوه وانما الوذام التربة52 - حَدِيث حَاطِبكنت عريرا فيهمفِي النِّهَايَة أَي مُلْصقًا قَالَ بعض الْمُتَأَخِّرين هَكَذَا الرِّوَايَة وَالصَّوَاب من جِهَة الْعَرَبيَّة كنت غريا أَي مُلْصقًا يُقَال غري فلَان بالشَّيْء اذا لزمَه وَمِنْه الغراء الَّذِي يلصق بِهِ قَالَ وَذكره الْهَرَوِيّ فِي الْعين الْمُهْملَة وَقَالَ كنت عريرا أَي غَرِيبا وَهَذَا تَصْحِيف مِنْهُ قَالَ ابْن الاثير اما الْهَرَوِيّ فَلم يصحف وَلَا شرح الا الصَّحِيح فَإِن الْأَزْهَرِي والجوهري والخطابي والزمخشري ذكرُوا هَذِه اللَّفْظَة بِالْعينِ المههملة فِي تصانيفهم وشرحوها بالغريب وَكَفاك بِوَاحِد مِنْهُم حجَّة للهروي فِيمَا روى وَشرح53 - روى الْخَطِيب فِي تَارِيخه من طَرِيق عبد الْوَهَّاب بن الضَّحَّاك عَن اسماعيل بن عَبَّاس قَالَ سَمِعت جرير بن عُثْمَان قَالَ هَذَا الَّذِي يرويهِ النَّاس عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ سولم قَالَ لعَليأَنْت مني بمنزل هَارُون من مُوسَى حق وَلَكِن أَخطَأ السَّامع قلت فَمَا هُوَ فَقَالَ انما هُوَأَنْت مني بِمَنْزِلَة قَارون من مُوسَى قلت عَمَّن ترويه قَالَ سَمِعت الْوَلِيد بن عبد الْملك يَقُوله وَهُوَ على
আসমাঈ (আল-থাওরি সম্পর্কে) ভুল পাঠ করেছেন (صحف), আর শু'বাহ সঠিক বলেছেন। 'আত-তুরাব আল-কুরুশ' (পাকস্থলীর মাটি) এবং 'আল-ওয়াযামা' হলো অতিরিক্ত অংশ সংবলিত মাংস। ইবনে দুরাইদ দাবি করেছেন যে, হাদিস বিশারদগণ একে উল্টে ফেলেছেন এবং তা মূলত 'আল-উযাম আত-তুরবাহ' হবে।52 - হাতিবের হাদিসআমি তাদের মধ্যে একজন আগন্তুক (عريرا) ছিলামনিহায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে এর অর্থ হলো 'সংযুক্ত'। পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলিম বলেছেন যে, বর্ণনাটি (رواية) এভাবেই এসেছে, তবে আরবী ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী সঠিক হলো 'كنت غريا' অর্থাৎ 'আমি সংযুক্ত ছিলাম'। বলা হয়, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো জিনিসের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে থাকে তখন বলা হয় 'গারিয়া' (غري), আর 'আল-গিরা' (আঠা) শব্দটি এখান থেকেই এসেছে যা দিয়ে কোনো কিছু আটকানো হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল-হারাউয়ী একে 'আইন' (ع) বর্ণ দিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন 'আমি একজন আগন্তুক (عريرا) ছিলাম' যার অর্থ 'আমি একজন বিদেশী (غريب) ছিলাম', আর এটি তাঁর একটি লেখনী প্রমাদ (تصحيف)। ইবনুল আসির বলেন, আল-হারাউয়ী কোনো ভুল করেননি এবং তিনি কেবল বিশুদ্ধ (صحيح) বিষয়টিই ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ আল-আযহারী, আল-জাওহারী, আল-খাত্তাবী এবং আয-যামাখশারী তাঁদের গ্রন্থসমূহে এই শব্দটি 'আইন' (ع) বর্ণ দিয়েই উল্লেখ করেছেন এবং এর অর্থ করেছেন 'আগন্তুক' (غريب)। আল-হারাউয়ী যা বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছেন, তার সপক্ষে তাঁদের যেকোনো একজনের মতই দলিল হিসেবে যথেষ্ট।53 - খতিব তাঁর তারিখ গ্রন্থে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আদ-দাহহাক-এর সূত্রে ইসমাইল ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জারীর ইবনে উসমানকে বলতে শুনেছি, মানুষ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আলীর শানে যে বিষয়টি বর্ণনা (رواية) করে যে তিনি বলেছেন:“তুমি আমার কাছে হারুনের মর্যাদায়, যেমন তিনি মুসার কাছে ছিলেন” - এটি সত্য, তবে শ্রবণকারী ভুল করেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তবে বিষয়টি কী? তিনি বললেন, তা মূলত:“তুমি আমার কাছে কারুনের মর্যাদায়, যেমন তিনি মুসার কাছে ছিলেন।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কার থেকে এটি বর্ণনা করছেন? তিনি বললেন, আমি ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিককে মিম্বরে বসে এটি বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাতরীফ ফিত তাসহীফ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
الْمِنْبَر قَالَ الْخَطِيب عبد الْوَهَّاب بن الضَّحَّاك كَانَ مَعْرُوفا بِالْكَذِبِ فَلَا يَصح الِاحْتِجَاج بقولهمُسْند عدي بن حَاتِم رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ 54 - حَدِيثمَا يفرك من أَن يُقَال لَا اله الا اللهقَالَ الْحسن بن عبد الله العسكري هُوَ بِالْفَاءِ وَالْيَاء مَضْمُومَة وَمن لَا يضبطه يرويهِ بِفَتْح الْيَاء من يفرك وَهُوَ خطأ قَالَ ابو عبيد ان بعض الْمُحدثين رَوَاهُ بِفَتْح الْيَاء وَضم الْفَاء وَهَذَا تَصْحِيف وقلب للمعنى وَالصَّوَاب بِضَم الْيَاء يُقَال أفررت الرجل اذا فعلت بِهِ مَا يفر مِنْهُمُسْند عمرَان بن حُصَيْن رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا 55 - حَدِيثمن صلى قَائِما فَهُوَ أفضل وَمن صلى قَاعِدا فَلهُ نصف اجْرِ الْقَائِم وَمن صلى نَائِما فَلهُ نصف أجر الْقَاعِدقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر نَائِما بالنُّون من النّوم وصحف بَعضهم هَذِه
মিম্বর। আল-খাতিব বলেন, আবদুল ওয়াহাব ইবনে আদ-দাহহাক মিথ্যাচারের (بالكذب) জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তাই তার বক্তব্য দ্বারা দলিল পেশ (الاحتجاج) করা সঠিক (يصح) নয়।আদি বিন হাতিম (রা.)-এর মুসনাদ ৫৪ - হাদিস“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা থেকে যা তাকে অপছন্দনীয় করে তোলে।”আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসকারি বলেন, এটি 'ফা' বর্ণ এবং 'ইয়া' বর্ণে পেশ (مضمومة) সহ হবে। যারা এটি যথাযথভাবে আয়ত্ত (يضبطه) করতে পারেনি, তারা 'ইয়া' বর্ণে জবর (بفتح الياء) সহ 'ইয়াফরাকু' (يفرك) হিসেবে বর্ণনা করে, যা একটি ভুল (خطأ)। আবু উবাইদ বলেন যে, কোনো কোনো হাদিস বিশারদ (المحدثين) এটি 'ইয়া' বর্ণে জবর এবং 'ফা' বর্ণে পেশ দিয়ে বর্ণনা করেছেন; এটি একটি শব্দবিকৃতি (تصحيف) এবং অর্থের বিপরীত অবস্থা। সঠিক (الصواب) হলো 'ইয়া' বর্ণে পেশ দিয়ে পড়া; বলা হয় ‘আফরারতু আর-রাজুলা’ (أفررت الرجل) যখন তুমি তার সাথে এমন আচরণ করো যা থেকে সে পলায়ন (يفر) করে।ইমরান বিন হুসাইন (রা.)-এর মুসনাদ ৫৫ - হাদিস“যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তা উত্তম, আর যে বসে সালাত আদায় করে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে, আর যে ব্যক্তি শুয়ে (نائما) সালাত আদায় করে সে বসে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে।”হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার বলেন, ‘না-ইমান’ (نائما) শব্দটি ‘নুন’ বর্ণ যোগে যা ‘নাউম’ (النوم) বা শয়ন থেকে উদ্ভূত। কেউ কেউ শব্দবিকৃতির (صحف) মাধ্যমে এটিকে অন্যভাবে পড়েছেন।