(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: -)
منهج الصحابة في دعوة المشركين من غير أهل الكتاب   (عبد العزيز بن محمد بن سعود الكبير)

القسم: كتب عامة


الكتاب: منهج الصحابة في دعوة المشركين من غير أهل الكتاب

المؤلف: د عبد العزيز بن محمد بن سعود الكبير

الناشر: دار الرسالة العالمية، بيروت

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 469

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1442

আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য মুশরিকদের দাওয়াতে সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ   (আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সাউদ আল-কাবীর)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য মুশরিকদের দাওয়াতে সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ

লেখক: ড. আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সাউদ আল-কাবীর

প্রকাশক: দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ যুল-কাদাহ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১)
منهج الصحابة رضي الله عنهم

في دعوة المشركين من غير أهل الكتاب

 

الدكتور:

عبدالعزيز بن محمد بن سعود الكبير
সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্মপদ্ধতি

আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য মুশরিকদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে

 

ডক্টর:

আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ বিন সাউদ আল-কাবীর
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}(1).

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}(2).

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}(3).

وصلى الله وسلم على نبي الأمة وخاتم الأنبياء والمرسلين محمد بن عبدالله، الذي أُرسل رحمة للعالمين، بشيراً ونذيراً، وداعياً إلى الله وسراجاً منيراً، وهو الذي أورث مسؤولية الدعوة إلى أمته بالتأسي به، قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 102.

(2) سورة النساء، الآية: 1.

(3) سورة الأحزاب، الآيتان: 70 - 71.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না}(১)।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন}(২)।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করেছে}(৩)।

আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মতের নবী এবং নবী ও রাসূলদের মোহর (সর্বশেষ নবী) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর, যাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর নির্দেশে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেই সত্তা, যিনি তাঁর অনুসরণ করার মাধ্যমে দাওয়াতের দায়িত্ব তাঁর উম্মতের জন্য রেখে গিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে...}

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।

(৩) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০ - ৭১।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৬)
اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا}(1). وجعل الله سبحانه الدعوة من أحسن الأقوال، وربط بها خيرية الأمة، قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ}(2)، وقال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ}(3). وكما ورد في حديث درة بنت أبي لهب رضي الله عنها قالت: قام رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر، فقال: يا رسول الله، أي الناس خير؟ فقال صلى الله عليه وسلم: (خير الناس أقرؤهم وأتقاهم وآمرهم بالمعروف، وأنهاهم عن المنكر، وأوصلهم للرحم ((4).

وقد اختار الله سبحانه وتعالى قوماً هم أفضل هذه الأمة بعد نبيها صلى الله عليه وسلم ليكونوا صحابته، وشرّفهم بالصحبة، وأثنى عليهم في مواقع كثيرة، قال تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ}(5).

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية: 21.

(2) سورة فصلت، الآية: 33.

(3) سورة آل عمران، الآية: 110.

(4) المسند، الإمام أحمد، مسند النساء، رقم 27980، 8/ 863. حديث ضعيف (الألباني، ضعيف الجامع الصغير، رقم 2897، ص 426). وقد ذكر هذا الحديث مع ضعفه للاستئناس به في هذا المجال.

(5) سورة التوبة، الآية: 100.
আল্লাহর মাঝে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।(১)। এবং মহান আল্লাহ দাওয়াতকে সর্বোত্তম কথা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং এর সাথে উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্বকে যুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নেক আমল করে এবং বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত}(২), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে, অসৎ কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে}(৩)। যেমনটি দুররাহ বিনতে আবি লাহাব (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুরআন পাঠকারী, সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু, সবচেয়ে বেশি সৎ কাজের আদেশদাতা, সবচেয়ে বেশি অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারী এবং সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী) (৪).

আর মহান আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়কে বেছে নিয়েছেন যারা এই উম্মতের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, যাতে তারা তাঁর সাহাবী হতে পারেন। তিনি তাঁদেরকে সাহচর্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং অনেক স্থানে তাঁদের প্রশংসা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য এমন জান্নাত প্রস্তুত রেখেছেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য}(৫).

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১।

(২) সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৩।

(৩) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০।

(৪) আল-মুসনাদ, ইমাম আহমাদ, মুসনাদুন্ নিসা, নম্বর ২৭৯৮০, ৮/ ৮৬৩। হাদিসটি দুর্বল (আলবানী, যয়ীফ আল-জামি আস-সাগীর, নম্বর ২৮৯৭, পৃষ্ঠা ৪২৬)। এই হাদিসটি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও এই ক্ষেত্রে আলোচনার সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৫) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৭)
ومن هذا المنطلق قام صحابة رسول الله رضي الله عنهم باتباع سنته، والحرص على الدعوة في حياته، وبعد مماته صلى الله عليه وسلم؛ ومما ورد عن الرسول صلى الله عليه وسلم في فضل صحابته، وأنهم خير الناس، حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (خير أمتي القرن الذين بعثت فيهم، ثم الذين يلونهم … (الحديث(1)، وقد أوصى صلى الله عليه وسلم باتباع أصحابه رضي الله عنهم، واتباع سنتهم، كما ورد في حديث العرباض بن سارية قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: (فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ ((2). ولِما لهؤلاء القوم من فضل وتفضيل على من بعدهم، وأمره صلى الله عليه وسلم باتباعهم، فإنه دليل على أن منهجهم هو المنهج الصحيح بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيؤخذ منهم، ويستفاد من طريقتهم، وخصوصاً في مجال الدعوة؛ لأنهم أول من قام بالدعوة بعد الرسول صلى الله عليه وسلم ونشرها بين الناس؛ وذلك ما دعا إلى البحث في منهجهم، وطريقة دعوتهم، وتعاملهم مع من يدعون، فمن هذا يمكن الاستفادة من منهجهم الصحيح، وخبراتهم وتجاربهم الناجحة، خصوصاً في هذا الزمان الذي كثرت فيه الفتن والبدع والانحرافات، والتي شملت كل مجال، ومنها مجال الدعوة إلى الله.

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب فضل الصحابة ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم، رقم 6473، ص 1110.

(2) سنن أبي داود، أول كتاب السنة، باب لزوم السنة، رقم 4607، ص 651. حديث صحيح (الألباني، سلسلة الأحاديث الصحيحة، المجلد السادس، القسم الأول، رقم 2735، ص 526).
এই প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও ইন্তেকালের পর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াতের কাজে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। সাহাবীদের মর্যাদা এবং তাঁরাই যে শ্রেষ্ঠ মানুষ—এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম তারা যাদের মাঝে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী ... (হাদিস(১), আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) অনুসরণ এবং তাঁদের সুন্নাহ অনুসরণের অসিয়ত করেছেন, যেমনটি ইরবাদ বিন সারিয়া বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে এসেছে: (তোমরা আমার সুন্নাহ এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে) ((২)। যেহেতু এই মহান ব্যক্তিদের পরবর্তী প্রজন্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা রয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন, তাই এটি একথার প্রমাণ যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তাঁদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতিই হলো সঠিক মানহাজ। সুতরাং তাঁদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং তাঁদের কর্মপন্থা থেকে উপকৃত হতে হবে, বিশেষ করে দাওয়াতের ক্ষেত্রে; কারণ তাঁরাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সর্বপ্রথম দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করেছেন। আর এটিই তাঁদের মানহাজ, দাওয়াতী পদ্ধতি এবং যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের সাথে তাঁদের আচরণ সম্পর্কে গবেষণার তাগিদ দেয়। এর মাধ্যমেই তাঁদের সঠিক মানহাজ এবং সফল অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন ফিতনা, বিদআত ও বিচ্যুতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা দাওয়াত ইলাল্লাহর ক্ষেত্রসহ প্রতিটি বিষয়কে গ্রাস করেছে।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, সাহাবীদের শ্রেষ্ঠত্ব ও তৎপরবর্তী প্রজন্মের শ্রেষ্ঠত্ব পরিচ্ছেদ, নম্বর ৬৪৭৩, পৃষ্ঠা ১১১০।

(২) সুনানে আবু দাউদ, সুন্নাহর সূচনা কিতাব, সুন্নাহ আঁকড়ে থাকার পরিচ্ছেদ, নম্বর ৪৬০৭, পৃষ্ঠা ৬৫১। সহীহ হাদিস (আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১ম ভাগ, নম্বর ২৭৩৫, পৃষ্ঠা ৫২৬)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৮)
ومنهج الصحابة رضي الله عنهم في دعوة المشركين من غير أهل الكتاب يُعد مرجعاً يستفاد منه لتأصيل المنهج الدعوي الصحيح، وذلك بمعرفة الطرق والأساليب والوسائل التي عملوا بها في دعوتهم، وتوضيح ذلك، والاستفادة منه على أرض الواقع، وخصوصاً إذا علمنا أنه يوجد نسبة عالية من سكان العالم ممن هم على أديان مختلفة من غير أهل الكتاب، وهذا مما يؤكد أهمية دراسة هذا الموضوع وتبيان الأحكام المستفادة منه، والبحث في المصادر والمراجع المتعددة؛ لإيضاح منهج الصحابة رضي الله عنهم في دعوة المشركين من غير أهل الكتاب، والإحاطة بالموضوع من جميع جوانبه. ومما يدعونا أيضاً للبحث في هذا الموضوع إيماننا أن الإسلام جاء للبشرية أجمع، وبعث الله به أنبياءه من قبل، قال تعالى: {مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ}(1)، وقال تعالى: {وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَابَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (132) أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ}(2)، وقال تعالى: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ}(3).

وختم الله الأنبياء بإرسال نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بالإسلام ودين الحق ليظهره على الدين كله، قال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 67.

(2) سورة البقرة، الآيتان: 132 - 133.

(3) سورة المائدة، الآية: 111.
আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য মুশরিকদের দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কর্মপন্থাকে একটি মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয় যা সঠিক দাওয়াতী কর্মপন্থা সুদৃঢ়করণের ক্ষেত্রে সহায়ক। এটি তাদের দাওয়াতী কাজে অনুসৃত পথ, পদ্ধতি ও মাধ্যমসমূহ জানার মাধ্যমে, তা স্পষ্ট করার মাধ্যমে এবং বাস্তব ক্ষেত্রে তা থেকে উপকৃত হওয়ার মাধ্যমে সম্ভব। বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে, বিশ্বের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ আহলে কিতাব বহির্ভূত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, যা এই বিষয়টি অধ্যয়নের গুরুত্ব, এ থেকে প্রাপ্ত বিধানসমূহ স্পষ্ট করা এবং বিভিন্ন উৎস ও গ্রন্থাবলীতে অনুসন্ধানের আবশ্যকতাকে জোরালো করে; যাতে আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য মুশরিকদের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের কর্মপন্থা স্পষ্ট করা যায় এবং বিষয়টিকে সব দিক থেকে পরিবেষ্টন করা যায়। এই বিষয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করার পেছনে আমাদের এই বিশ্বাসও কাজ করে যে, ইসলাম সমগ্র মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ ইতিপূর্বে তাঁর নবীগণকে এই দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "ইব্রাহিম ইহুদি ছিলেন না এবং নাসারাও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।"(১) মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর ইব্রাহিম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের এর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, হে আমার সন্তানরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১৩২) ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল তখন কি তোমরা সাক্ষী ছিলে? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল, আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলেছিল, আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহ—যিনি একমাত্র ইলাহ—তাঁরই ইবাদত করব এবং আমরা তাঁরই অনুগত।"(২) মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যখন আমি হাওয়ারীদের প্রতি ওহী প্রেরণ করলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তখন তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা মুসলিম।"(৩)

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইসলাম ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণের মাধ্যমে নবীগণের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর..."

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৬৭।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৩২ - ১৩৩।

(৩) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১১১।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৯)
كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ}(1)، فسعى صلى الله عليه وسلم في نشر هذا الدين، وقيض الله له صحابته؛ ليكونوا الدعاة والمبلغين لرسالته صلى الله عليه وسلم، فهم الذين ساروا على نهجه حتى بلغت الدعوة ما بلغت على أيديهم رضي الله عنهم، في حياته صلى الله عليه وسلم وبعد مماته، ولم تكن هذه الدعوة تخص فرداً دون آخر، أو ديناً دون دين، أو عرقاً دون عرق، فقد كانت دعوة شاملةً عالميةً، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ}(2). فكان الصحابة رضي الله عنهم يدعون أقوامهم من المشركين الوثنيين، فغالبية الصحابة كانوا قبل إسلامهم مشركين من أهل الأوثان، إلا من كان كتابياً أو وُلد في الإسلام، ومن هذا كان لدعوتهم هذه الفئة دور كبير، وتأثير عميق؛ مما جعل الأفواج تدخل في الإسلام بسبب الدعوة إلى الله بالطريقة الصحيحة، ولم يقفوا بالدعوة عند التعريف بالإسلام فقط، بل تعدوا ذلك إلى التأثير على المدعوين بالأخلاق، وحسن المعاملة، ولين الجانب، ومن ذلك ما ورد في قصة إسلام أسيد بن الحضير، وسعد بن معاذ، ودعوة أبي ذر لحويطب بن عبدالعزى، ودعوة أم سليم لأبي طلحة، إضافةً إلى ما قاموا به رضي الله عنهم بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم من جهود في الدعوة، وحتى آخر من توفي من الصحابة، وهو أبو الطفيل عامر بن واثلة الليثي رضي الله عنه والذي توفي سنة مائة للهجرة.

إن الوقوف على منهج الصحابة رضي الله عنهم في دعوتهم للمشركين خلال تلك المدة هو من احتياجات الدعوة الملحة لوضع القواعد الصحيحة للدعوة، وخصوصاً

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية: 33.

(2) سورة الأنبياء، الآية: 107.
...সবকিছুর ওপর (বিজয়ী করতে), যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।}(1), অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দ্বীন প্রচারে সচেষ্ট হন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য তাঁর সাহাবীদের মনোনীত করেন; যাতে তাঁরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের দাঈ ও প্রচারক হতে পারেন। তাঁরাই তাঁর আদর্শের পথে চলেছিলেন, যার ফলে তাঁদের হাত ধরেই দাওয়াত তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরে। এই দাওয়াত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য অন্যজনের পরিবর্তে, বা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য অন্য ধর্মের পরিবর্তে, অথবা কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্য অন্য জাতির পরিবর্তে ছিল না; বরং এটি ছিল এক ব্যাপক ও বিশ্বজনীন দাওয়াত। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি}(2)। সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের মূর্তিপূজক মুশরিক সম্প্রদায়কে দাওয়াত দিতেন। অধিকাংশ সাহাবী ইসলাম গ্রহণের আগে মূর্তিপূজক মুশরিক ছিলেন, কেবল যারা আহলে কিতাব ছিলেন বা যারা ইসলামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তারা ব্যতীত। এই কারণে এই শ্রেণির মানুষের কাছে তাঁদের দাওয়াতের একটি বিশাল ভূমিকা ও গভীর প্রভাব ছিল; যা সঠিক পদ্ধতিতে আল্লাহর দিকে ডাকার ফলে দলে দলে মানুষকে ইসলামে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছিল। তাঁরা দাওয়াতকে কেবল ইসলামের পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং আখলাক, উত্তম ব্যবহার ও নম্রতার মাধ্যমে আমন্ত্রিতদের প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও অনেক দূর অগ্রসর হয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে উসাইদ ইবনুল হুদাইর ও সাদ ইবনে মুআযের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী, হুয়াইতিব ইবনে আব্দুল উযযার প্রতি আবু যর-এর দাওয়াত, এবং আবু তালহার প্রতি উম্মে সুলাইমের দাওয়াত। এর পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর থেকে সর্বশেষ ইন্তেকালকারী সাহাবী—যিনি হলেন আবু তুফাইল আমির ইবনে ওয়াসিলা আল-লাইসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং ১০০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন—পর্যন্ত তাঁদের দাওয়াতের নিরলস প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য।

নিশ্চয়ই সেই সময়ে মুশরিকদের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্মপদ্ধতি বা মানহাজ পর্যালোচনা করা দাওয়াতের সঠিক মূলনীতি নির্ধারণের জন্য এক জরুরি প্রয়োজন, বিশেষ করে

--------------------------------------------

(1) সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৩।

(2) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১০)
في هذا العصر، الذي كثر فيه الاختلاف والابتداع، كما أن كثرة الشعوب المشركة التي ليست على دين أهل الكتاب توجب البحث في هذا المجال، وعمل دراسة علمية وافية.

وكان هذا البحث جزءاً من رسالة دكتوراه بعنوان: منهج الصحابة رضي الله عنهم في دعوة المشركين من غير أهل الكتاب إلى الإسلام(1). وقد رأيت أن أعيد صياغته بطريقة كتاب ليسهل على كل قارئ الاستفادة منه، فقد حذفت منه التعريفات المطولة، وبعض الفقرات التي لا تلزم القارئ وتشتت أفكاره.

--------------------------------------------

(1) رسالة دكتوراه مقدمة للمعهد العالي للدعوة والاحتساب بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، عام: 1434 - 1435 هـ.
এই যুগে, যাতে মতভেদ এবং নব উদ্ভাবন বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং যেহেতু আহলে কিতাব বহির্ভূত মুশরিক জাতিসমূহের আধিক্য এই ক্ষেত্রে গবেষণা এবং একটি পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন পরিচালনা করাকে আবশ্যক করে তুলেছে।

আর এই গবেষণাটি ছিল "আহলে কিতাব ব্যতীত মুশরিকদের ইসলামের প্রতি দাওয়াত প্রদানে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কর্মপন্থা" শীর্ষক একটি ডক্টরেট থিসিসের অংশ(১)। আমি এটিকে একটি বইয়ের শৈলীতে পুনরায় বিন্যস্ত করা সমীচীন মনে করেছি যাতে প্রত্যেক পাঠকের জন্য এর থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়; তাই আমি এখান থেকে দীর্ঘ সংজ্ঞাসমূহ এবং এমন কিছু অনুচ্ছেদ বাদ দিয়েছি যা পাঠকের জন্য অপরিহার্য নয় এবং যা তার চিন্তাধারাকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর দাওয়াহ ও ইহতিসাব ইনস্টিটিউটে উপস্থাপিত ডক্টরেট থিসিস, বছর: ১৪৩৪ - ১৪৩৫ হিজরী।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل التمهيدي

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الصحابة رضي الله عنهم ومكانتهم.

المبحث الثاني: مفهوم المشركين وأصنافهم وسماتهم.
প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের মর্যাদা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুশরিকদের ধারণা, তাদের প্রকারভেদ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تمهيد:

إن أهمية الصحابة رضي الله عنهم لدى كل مسلم توجب التطرق لهم، وذكرهم، ومن الأهمية بمكان معرفة معنى الصحبة، ومن يندرج تحت هذه التسمية، خصوصاً أنه اختُلف في ذلك، وكذلك ما يترتب على الصحبة من فضل تبنى عليه مكانتهم لدى المسلمين، وبها تكون محبتهم التي هي من محبة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وفي المقابل نجد من الأهمية أيضاً معرفة مفهوم المشركين وسماتهم وأقسامهم، والأصناف التي تندرج تحت هذا المصطلح.

ومن أجل ذلك وضع هذا الفصل ليبين من هم الصحابة ومكانتهم وفضلهم، والمشركون ومفهومهم وسماتهم وأصنافهم.

وهو ينقسم إلى مبحثين:

المبحث الأول: الصحابة رضي الله عنهم ومكانتهم.

المبحث الثاني: مفهوم المشركين وصفاتهم وسماتهم.
ভূমিকা:

প্রত্যেক মুসলিমের নিকট সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) গুরুত্ব তাঁদের বিষয়ে আলোচনা ও স্মৃতিচারণকে অপরিহার্য করে তোলে। সাহচর্য (সোহবত)-এর অর্থ এবং এই সংজ্ঞার অধীনে কারা অন্তর্ভুক্ত হন তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেহেতু এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। অনুরূপভাবে, সাহচর্যের ফলে অর্জিত সেই সকল মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানা প্রয়োজন যার ওপর ভিত্তি করে মুসলিমদের নিকট তাঁদের সুউচ্চ স্থান বিনির্মিত হয়েছে। আর এর মাধ্যমেই তাঁদের প্রতি সেই ভালোবাসা সৃষ্টি হয় যা মূলত আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহ তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন) প্রতি ভালোবাসারই অংশ।

অপরদিকে, মুশরিকদের ধারণা, তাদের বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ এবং এই পরিভাষার অধীনে কোন কোন শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত হয় তা জানাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণেই এই অধ্যায়টি সাহাবীগণ কারা, তাঁদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং মুশরিকদের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করার জন্য বিন্যস্ত করা হয়েছে।

এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) এবং তাঁদের মর্যাদা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের ধারণা, গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الأول:

الصحابة رضي الله عنهم ومكانتهم

‌‌أولاً: معنى الصحابة في اللغة:

""صحب": الصاد والحاء والباء أصل واحد يدل على مقارنة شيء ومقاربته"(1). "وصحب: صَحبَهُ يَصْحَبُه صُحْبة بالضم، وصحابة بالفتح، وصاحبه: عاشره، والصاحب: المعاشر، وكل ما لازم شيئاً فقد استصحبه"(2)، وعند ابن قتيبة: "صحبت الرجل من الصحبة، وأصحبت له، أي: انقدت له وتابعت"(3)، وقال الجوهري: "الصحابة بالفتح: الأصحاب، وهي في الأصل مصدر، وجمع الأصحاب أصاحيب، وأصحبته الشيء: جعلته له صاحباً، وكل شيء لاءَمَ شيئاً فقد استصحبه، واصطحب القوم: صحب بعضهم بعضاً"(4)، "والصُّحبَة والصَّحْبُ اسمان للجمع، وهو خلاف لمذهب سيبويه حسب قول الأخفش، وصاحب القوم: أحدهم"(5)، "وأصحب فلان:

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة، ابن فارس، كتاب الصاد، باب الصاد والحاء وما يثلثهما، 3/ 335.

(2) لسان العرب، ابن منظور، مادة: صحب، 1/ 519.

(3) أدب الكاتب، ابن قتيبة، باب الأفعال، ص 360.

(4) الصحاح، الجوهري، حرف الصاد، ص 633.

(5) المحكم والمحيط الأعظم، ابن سيده، 3/ 166.
প্রথম পরিচ্ছেদ:

সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের মর্যাদা

‌‌প্রথমত: ভাষাগতভাবে সাহাবী শব্দের অর্থ:

"স-হ-ব": সোয়াদ, হা এবং বা—এটি একটি মূল ধাতু যা কোনো কিছুর সাথে থাকা এবং তার নৈকট্য লাভ করাকে নির্দেশ করে(১)। "সাহাবা: সে তার সঙ্গী হয়েছে, সে তার সঙ্গ দিচ্ছে, পেশ যোগে 'সুহবাহ' এবং যবর যোগে 'সাহাবাহ'। 'সাহাবাহু' অর্থ: সে তার সাথে জীবনযাপন করেছে বা মেলামেশা করেছে। 'আস-সাহিব' হলো: সঙ্গী বা সহচর। আর যা কিছু কোনো বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে লেগে থাকে, তাকে 'ইস্তাসহাবা' বলা হয়"(২)। ইবনে কুতায়বাহর মতে: "আমি লোকটির সঙ্গী হলাম এটি সাহচর্য (সুহবাহ) থেকে এসেছে। আর 'আস-হাবতু লাহু' অর্থ: আমি তার অনুগত হলাম এবং তাকে অনুসরণ করলাম"(৩)। জাওহারী বলেন: "যবর যোগে 'সাহাবাহ' অর্থ হলো সাথীবর্গ (আসহাব), এটি মূলত একটি ক্রিয়ামূল (মাসদার)। 'আসহাব' এর বহুবচন হলো 'আসাহিব'। 'আস-হাবতুহুশ শাইয়া' অর্থ হলো: আমি ওটিকে তার জন্য সঙ্গী বানিয়ে দিয়েছি। আর যা কিছু কোনো কিছুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাকে 'ইস্তাসহাবা' বলা হয়। আর 'ইসতাহাবাল ক্বাওম' অর্থ: লোকেরা একে অপরের সঙ্গী হয়েছে"(৪)। "'সুহবাহ' এবং 'সাহব' হলো সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জামআ), যা আখফাশের বর্ণনা অনুযায়ী সিবওয়াইহ-এর মতের পরিপন্থী। আর 'সাহিবুল ক্বাওম' অর্থ: তাদের একজন"(৫)। "আর 'আস-হাবা ফুলান' (অমুক ব্যক্তি অনুগত হয়েছে):

--------------------------------------------

(১) মু'জাম মাক্বায়িসুল লুগাহ, ইবনে ফারিস, কিতাবুস সোয়াদ, বাবুস সোয়াদ ওয়াল হা এবং তাদের তৃতীয় বর্ণ, ৩/ ৩৩৫।

(২) লিসানুল আরব, ইবনে মানজুর, মূলশব্দ: সাহাবা, ১/ ৫১৯।

(৩) আদাবুল কাতিব, ইবনে কুতায়বাহ, ক্রিয়াপদ পরিচ্ছেদ, পৃ. ৩৬০।

(৪) আস-সিহাহ, জাওহারী, সোয়াদ বর্ণ, পৃ. ৬৩৩।

(৫) আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আ'জম, ইবনে সীদাহ, ৩/ ১৬৬।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
إذا بلغ ابنه، ومعناه: كان فرداً فصار ذا صاحب، وأصحبتُه فهو مُصحَبٌ، أي: فعلت به ما جعلته صاحباً لي غير نافر عني"(1)، "والصاحب: الملازم إنساناً كان أو حيواناً أو مكاناً أو زماناً، ولا فرق بين أن تكون مصاحبته بالبدن وهو الأصل والأكثر، أو بالعناية والهمة، ولا يقال في العرف إلا لمن كثرت ملازمته، والمصاحبة والاصطحاب أبلغ من الاجتماع لأجل أن المصاحبة تقتضي طول لبثه، فكل اصطحاب اجتماع وليس كل اجتماع اصطحاباً"(2)، ويرى الكفوي أن "كلمة الصاحب تعم القليل والكثير، وهي لمن كثرت ملازمته وطالت صحبته"(3).

ويقول الفراهيدي: "إن الصاحب يكون في حالٍ نعتاً لكنه عمَّ في الكلام فجرى مجرى الاسم كقولك صاحب مال، أي: ذو مال، وصاحب زيد، أي: أخو زيد"(4).

ومن جميع هذه التعريفات نجد أن كلمة "صحابة" في اللغة لا تتعدى أن تكون اسم جمع لمن طالت عشرتهم وملازمتهم وهم متفقون متلائمون.

وجذر "صحب" في اللغة لها معانٍ عدة تختلف عن المعنى المقصود هنا والذي ذكرناه سابقاً، وسوف نذكرها هنا للاستفادة والتفريق بين المعاني، فمنها "قولك صاحب مال، أي: ذو مال -ذكرناه سابقاً-، وهو يدل على الملكية لشيء، كما تعني كلمة

--------------------------------------------

(1) أساس البلاغة، الزمخشري، حرف السين، ص 466.

(2) المفردات في غريب القرآن، الراغب الأصفهاني، كتاب الصاد، ص 275.

(3) الكليات، الكفوي، فصل الصاد، 3/ 112.

(4) العين، الفراهيدي، حرف الحاء، باب الثلاثي الصحيح، باب الحاء والصاد والباء، 3/ 124.
"যখন তার পুত্র বয়ঃপ্রাপ্ত হয়, এর অর্থ হলো: সে একাকী ছিল এবং পরবর্তীতে সঙ্গীর অধিকারী হলো। আর 'আমি তাকে সাথী করে নিয়েছি', তাই সে হলো 'সাথীভুক্ত'; অর্থাৎ: আমি তার সাথে এমন আচরণ করেছি যা তাকে আমার প্রতি বিমুখ না করে বরং আমার সাথী করে নিয়েছে"(১), "আর সঙ্গী হলো: সেই যে সর্বদা সাথে থাকে, সে মানুষ হোক বা প্রাণী অথবা কোনো স্থান বা কাল। সাহচর্য শারীরিকভাবে হওয়া—যা মূল ভিত্তি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—অথবা যত্ন ও মনোযোগের মাধ্যমে হওয়া, এ দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। লোকরীতি বা প্রচলিত ব্যবহারে এই শব্দটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই বলা হয় যাদের সাহচর্য অত্যন্ত দীর্ঘ। সঙ্গচর্য এবং সাথিত্ব শব্দ দুটি একত্রিত হওয়া অপেক্ষা অধিক গভীর ও অর্থবহ, কারণ সঙ্গচর্য দীর্ঘকাল অবস্থান করাকে দাবি করে; সুতরাং প্রত্যেক সাথিত্বই একত্র হওয়া, কিন্তু প্রত্যেক একত্র হওয়াই সাথিত্ব নয়"(২), কাফাউয়ি মনে করেন যে "সঙ্গী শব্দটি অল্প এবং অধিক উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, এবং এটি তার জন্য যার সাহচর্য অধিক এবং দীর্ঘস্থায়ী"(৩)।

ফারাহিদি বলেন: "সঙ্গী শব্দটি কোনো কোনো অবস্থায় বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু কথাবার্তায় এটি এত ব্যাপক যে বিশেষ্যের মর্যাদা লাভ করেছে, যেমন আপনার উক্তি 'সম্পদের মালিক', অর্থাৎ: সম্পদের অধিকারী, এবং 'যায়িদের সাথী', অর্থাৎ: যায়িদের ভাই বা সহযোগী"(৪)।

এই সমস্ত সংজ্ঞা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, আভিধানিক অর্থে 'সাহাবা' শব্দটি এমন ব্যক্তিদের একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য ছাড়া আর কিছুই নয় যাদের পারস্পরিক মেলামেশা এবং সাহচর্য দীর্ঘ হয়েছে এবং তারা একে অপরের সাথে একমত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ভাষায় 'স-হা-বা' মূল ধাতুর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে যা এখানে আমাদের উদ্দিষ্ট এবং পূর্বে উল্লিখিত অর্থের চেয়ে ভিন্ন। আমরা উপকারের জন্য এবং অর্থগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার সুবিধার্থে সেগুলো এখানে উল্লেখ করব। তার মধ্যে একটি হলো "আপনার উক্তি 'সম্পদের মালিক', অর্থাৎ: সম্পদের অধিকারী —যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি— এবং এটি কোনো কিছুর ওপর মালিকানা নির্দেশ করে, যেমন এই শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়..."

--------------------------------------------

(১) আসাসুল বালাগাহ, যামাখশারী, সীন বর্ণ, পৃষ্ঠা ৪৬৬।

(২) আল-মুফরাদাত ফী গারিবিল কুরআন, রাগিব আল-ইসফাহানী, সোয়াদ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ২৭৫।

(৩) আল-কুল্লিয়াত, কাফাউয়ি, সোয়াদ পরিচ্ছেদ, ৩/ ১১২।

(৪) আল-আইন, ফারাহিদি, হা বর্ণ, সহীহ সুলাসী অনুচ্ছেদ, হা, সোয়াদ ও বা অনুচ্ছেদ, ৩/ ১২৪।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
صاحب من يملك التصرف والتدبير في أمر معين كصاحب الشرطة وصاحب الخراج والجيش وصاحب السوق للمحتسب"(1)، بالإضافة إلى أصحاب الفيل وأصحاب الأخدود الذين ورد ذكرهم في القرآن الكريم، والصاحبة هي الزوجة كما ورد في قوله تعالى: {أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ}(2)، وقوله تعالى: {يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيهِ (11) وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ}(3)، ويقول الشيخ السعدي: "إن الصاحبة في الآيات هي الزوجة"(4).

"ويصحب: تأتي بمعنى يجير ويمنع، فيقول القرطبي في قوله تعالى: {وَلَا هُمْ مِنَّا يُصْحَبُونَ}(5)، أي: يجارون، وتقول العرب: أنا لك جار وصاحب من فلان، أي: مجير منه"(6). "وجلد أصحب، أي: عليه شعر أو وبر، وأصحب الماء: علاه الطحلب، ويتصحب منا، أي: يستحي منا"(7).

 

‌‌ثانياً: مفهوم الصحابة رضي الله عنهم في الاصطلاح:

إن مفهوم الصحابة وتحديد من هو الصحابي من غيره من المسلمين وما الصفات التي يجب أن تتوافر فيه ليطلق عليه اسم صحابي من الاصطلاحات المختلف عليها عند أهل الاختصاص، فمنهم من توسع في إطلاق لفظ الصحابي وجعله مصطلحاً

--------------------------------------------

(1) الكليات، الكفوي، فصل الصاد، 3/ 112، (بتصرف).

(2) سورة الأنعام، الآية: 101.

(3) سورة المعارج، الآيتان 11 - 12.

(4) تيسير الكريم الرحمن، السعدي، ص 1046.

(5) سورة الأنبياء، الآية: 43.

(6) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي، الجزء الثاني، المجلد السادس، تفسير سورة الأنبياء، ص 147.

(7) لسان العرب، ابن منظور، مادة: صحب، 1/ 520.
"সাহিব (অধিপতি) হলেন সেই ব্যক্তি, যার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কর্তৃত্ব রয়েছে, যেমন পুলিশ প্রধান, ভূমি রাজস্ব ও সেনাবাহিনীর প্রধান এবং বাজার পরিদর্শক বা মুহতাসিবের জন্য বাজার প্রধান"(১)। এর পাশাপাশি হাতিবাহিনী (আসহাবুল ফীল) এবং গর্তের অধিবাসী (আসহাবুল উখদুদ), যাদের উল্লেখ পবিত্র কুরআনে এসেছে। আর 'সাহিবাহ' (সঙ্গিনী) অর্থ হলো স্ত্রী, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "তাঁর সন্তান হবে কীভাবে, যখন তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই?"(২) এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অপরাধী সেদিন তার সন্তানদের বিনিময়ে মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে আজাব থেকে বাঁচাতে চাইবে, (১১) এবং তার স্ত্রী ও তার ভাইয়ের বিনিময়েও"(৩)। শায়খ সাদী বলেন: "আয়াতগুলোতে সাহিবাহ বলতে স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে"(৪)।

"আর 'ইউসাহাবু' শব্দটি আশ্রয় দেওয়া ও রক্ষা করা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ইমাম কুরতুবী মহান আল্লাহর বাণী—'এবং তারা আমার পক্ষ থেকে রক্ষা পাবে না'(৫)—প্রসঙ্গে বলেন, অর্থাৎ তাদের আশ্রয় দেওয়া হবে না। আর আরবরা বলে থাকে: 'আমি অমুকের হাত থেকে তোমার জন্য প্রতিবেশী ও সাহিব (রক্ষাকারী)', অর্থাৎ আমি তার থেকে আশ্রয়দাতা"(৬)। "'জিলদুন আসহাব' অর্থ হলো এমন চামড়া যার ওপর পশম বা লোম রয়েছে। পানির ক্ষেত্রে 'আসহাবাল মাউ' বলা হয় যখন তার ওপর শ্যাওলা জমে। আর 'ইয়াতাস-হাবু মিন্না' অর্থ হলো সে আমাদের থেকে লজ্জা পায়"(৭)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে সাহাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ধারণা:

সাহাবীদের ধারণা এবং সাধারণ মুসলিমদের থেকে পৃথক করে কে সাহাবী তা নির্ধারণ করা, এবং কোনো ব্যক্তির মাঝে কী কী গুণাবলি থাকলে তাকে সাহাবী বলা যাবে—এসব বিষয় বিশেষজ্ঞ আলেমদের নিকট মতভেদপূর্ণ পরিভাষাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ 'সাহাবী' শব্দের প্রয়োগকে ব্যাপক করেছেন এবং একে একটি পারিভাষিক রূপ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-কুল্লিয়াত, আল-কাফাউয়ি, সদ অধ্যায়, ৩/১১২ (পরিমার্জিত)।

(২) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১০১।

(৩) সূরা আল-মাআরিজ, আয়াত: ১১-১২।

(৪) তায়সীরুল কারীম আল-রাহমান, সাদী, পৃ. ১০৪৬।

(৫) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৪৩।

(৬) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, কুরতুবী, দ্বিতীয় অংশ, ষষ্ঠ খণ্ড, সূরা আল-আম্বিয়ার তাফসীর, পৃ. ১৪৭।

(৭) লিসানুল আরব, ইবনুল মানযুর, শব্দমূল: সাহাব, ১/৫২০।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
واسعاً بدون قيد أو شرط، أو كانت شروطه مرنة جداً كالمحدثين من أهل العلم، ومنهم من قيد لفظ الصحابي بشروط محددة وفي نطاق ضيق وتشدد في ذلك، وهم الأصوليون من أهل الفقه، وفي هذا المبحث سوف نتكلم عن آراء الفريقين ومن تبنى كل رأي من علماء الإسلام وأئمته.

لعل أكثر المحدثين يتبنون رأي الإمام البخاري في الصحيح "أن من صحب النبي صلى الله عليه وسلم أو رآه من المسلمين فهو من أصحابه"(1). وهذا القول أخذه الإمام البخاري حسب قول الحافظ ابن حجر العسقلاني في "فتح الباري" من كلام شيخه علي بن المديني حيث كتب ابن حجر قائلاً: "قرأت في "المستخرج" لأبي القاسم بن منده بسنده إلى أحمد بن سيار الحافظ المروزي قال: سمعت أحمد بن عتيك يقول: قال علي بن المديني: من صحب النبي صلى الله عليه وسلم أو رآه ولو ساعة من نهار فهو من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ((2). ومن هذين التعريفين يتبين توسع الإمام البخاري وشيخه ابن المديني في إطلاق لفظ الصحابي، بحيث لم يجعلا للصحبة مدة محددة، إنما يكفي فيها الصحبة أو الرؤية، فيدخل في هذا كل من أسلم في عهد النبي صلى الله عليه وسلم ورآه. إلا أن هذا التعريف أوجد إشكالاً لدى الأصوليين، وذلك فيمن ارتد عن الإسلام سواء رجع أو لم يرجع عن ردته، ومن رأى الرسول صلى الله عليه وسلم وهو طفل لم يبلغ ولم يميز، ومن رأى الرسول صلى الله عليه وسلم بعد وفاته وقبل دفنه، وفي تعريف الإمام البخاري

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، كتاب فضائل الصحابة، ص 613.

(2) فتح الباري، ابن حجر، كتاب فضائل أصحاب النبي، 7/ 4229.
ব্যাপকভাবে কোনো শর্ত বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই, অথবা যার শর্তগুলো ছিল অত্যন্ত নমনীয়—যেমন ইলমে হাদীসের পণ্ডিতগণ। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাহাবী শব্দটিকে নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে এবং সংকীর্ণ পরিসরে সীমাবদ্ধ করেছেন এবং এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন—তারা হলেন ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিবিদগণ (উসূলবিদ)। এই পরিচ্ছেদে আমরা উভয় দলের মতামত এবং ইসলামের আলেম ও ইমামগণের মধ্য থেকে কে কোন মত গ্রহণ করেছেন সে সম্পর্কে আলোচনা করব।

সম্ভবত অধিকাংশ মুহাদ্দিস (হাদীস বিশারদ) সহীহ বুখারীতে ইমাম বুখারীর মতটিকেই গ্রহণ করেন যে, "মুসলিমদের মধ্য থেকে যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনিই তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত"(১)। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী "ফাতহুল বারী"তে যা বলেছেন সেই অনুসারে ইমাম বুখারী এই বক্তব্যটি তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীর কথা থেকে গ্রহণ করেছেন। ইবনে হাজার লিখেছেন: "আমি আবুল কাসিম বিন মান্দাহর 'আল-মুস্তাখরাজ' গ্রন্থে তাঁর সনদে আহমদ বিন সাইয়্যার আল-হাফিজ আল-মারওয়াজীর সূত্রে পড়েছি, তিনি বলেছেন: আমি আহমদ বিন আতীককে বলতে শুনেছি যে, আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছে অথবা তাঁকে দেখেছে—যদিও তা দিনের এক মুহূর্তের জন্য হয়—তবে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ((২)। এই দুটি সংজ্ঞা থেকে সাহাবী শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারী এবং তাঁর উস্তাদ ইবনুল মাদীনীর উদারতা বা প্রশস্ততা স্পষ্ট হয়। তাঁরা সাহচর্যের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি, বরং সাহচর্য বা কেবল দর্শনই এর জন্য যথেষ্ট। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তাঁকে দেখেছেন তারা সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত হন। তবে এই সংজ্ঞাটি উসূলবিদদের কাছে কিছু জটিলতার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত (মুরতাদ) হয়েছিল—চাই তারা পুনরায় ইসলামে ফিরে আসুক বা না আসুক—এবং যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শিশু অবস্থায় দেখেছে যখন সে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি বা ভালো-মন্দ পার্থক্য করার জ্ঞান অর্জন করেনি, আর যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইন্তেকালের পর কিন্তু দাফনের আগে দেখেছে। আর ইমাম বুখারীর সংজ্ঞায়

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, সাহাবীদের মর্যাদাবিষয়ক অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৬১৩।

(২) ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদাবিষয়ক অধ্যায়, ৭/ ৪২২৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
يقول ابن حجر: "يعني أن اسم صحبة النبي صلى الله عليه وسلم مستحق لمن صحبه أقل ما يطلق عليه اسم صحبة لغة، وإن كان العرف يخص ذلك بعض الملازمة ويطلق أيضاً على من رآه رؤية ولو على بعد"(1). والرؤية هنا أوسع من الصحبة في اللغة، فمن رأى الرسول صلى الله عليه وسلم في الحج أو العمرة أو في الغزو أو من رآه في مكة أو المدينة أو في الحل والسفر وهو مسلم فقد شمله اسم "صحابي".

ويرى الإمام أحمد "أن كل من صحب الرسول صلى الله عليه وسلم سنة أو شهراً أو يوماً أو ساعة أو رآه، فهو من أصحابه، له من الصحبة على قدر ما صحبه، وكانت سابقته معه وسمع منه ونظر إليه"(2). وأضاف شيخ الإسلام ابن تيمية كلمة "مؤمناً" بعد كلمة "رآه"(3). وهنا جعل المدة والسمع والنظر إلى الرسول صلى الله عليه وسلم هي من يحدد قدر الصحبة منهم مكثر ومنهم مقل وجميعهم صحابة. وقد استند كلام الإمام أحمد والبخاري وشيخ الإسلام في تعريفهم هذا على حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (يأتي على الناس زمان، يغزو فئام(4) من الناس فيقال لهم: فيكم من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم، فيفتح لهم، ثم يغزو فئام من الناس، فيقال لهم: هل فيكم من رأى من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون نعم، فيفتح لهم، ثم يغزو فئام من الناس فيقال لهم: هل فيكم من رأى من صحب من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون نعم، فيفتح

--------------------------------------------

(1) فتح الباري، ابن حجر، كتاب فضائل أصحاب النبي، كتاب فضائل أصحاب النبي، 7/ 4228.

(2) الكفاية، الخطيب البغدادي، ص 50.

(3) انظر: مجموع الفتاوى، ابن تيمية، فصل الاعتقاد، 4/ 464.

(4) الفئام: الجماعة من الناس، (انظر: العين، الفراهيدي، باب الثلاثي المعتل من الفاء، 8/ 405).
ইবনে হাজার বলেন: "এর অর্থ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যের নাম সেই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যিনি ভাষার বিচারে ন্যূনতম যতটুকু সাহচর্যের নাম দেওয়া যায় ততটুকু সাহচর্য লাভ করেছেন, যদিও প্রচলিত প্রথা অনুসারে একে দীর্ঘ সাহচর্যের সাথে বিশেষিত করা হয়, এবং এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় যিনি তাঁকে দূর থেকে হলেও একবার দেখেছেন"(১)। আর এখানে দর্শন বিষয়টি আভিধানিক সাহচর্যের চেয়ে অধিক ব্যাপক। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হজ, ওমরাহ বা যুদ্ধে দেখেছে, অথবা মক্কা বা মদিনায় দেখেছে, কিংবা আবাসে বা সফরে থাকা অবস্থায় মুসলিম হিসেবে দেখেছে, সে 'সাহাবী' নামের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইমাম আহমাদ মনে করেন যে, "যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে এক বছর, এক মাস, এক দিন বা এক মুহূর্ত ছিলেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনিই তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সাহচর্যের মর্যাদা হবে তাঁর সাহচর্যে থাকার পরিমাণ অনুযায়ী এবং তাঁর সাথে তাঁর অগ্রযাত্রার ইতিহাস, তাঁর থেকে শ্রবণ এবং তাঁর দিকে দৃষ্টিপাতের মর্যাদা অনুযায়ী"(২)। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া "তাঁকে দেখেছেন" শব্দের পরে "মুমিন অবস্থায়" শব্দটি যোগ করেছেন(৩)। আর এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সময় অতিবাহিত করা, তাঁর কথা শোনা এবং তাঁর দিকে তাকানোকেই সাহচর্যের মর্যাদা নির্ধারণকারী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ অধিক সাহচর্য লাভকারী আবার কেউ অল্প, তবে তাঁরা সকলেই সাহাবী। ইমাম আহমাদ, বুখারী এবং শাইখুল ইসলাম তাঁদের এই সংজ্ঞায় আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের উপর নির্ভর করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: (মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন একদল(৪) লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে? তারা বলবে: হ্যাঁ। তখন তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর আরেক দল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে ছিল এমন কাউকে দেখেছে? তারা বলবে: হ্যাঁ। তখন তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর আরেক দল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীর সাহচর্যে ছিল এমন কাউকে দেখেছে? তারা বলবে: হ্যাঁ। তখন তাদের বিজয় দান

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার, কিতাব ফাদায়িল আসহাবিন নবী, ৭/ ৪২২৮।

(২) আল-কিফায়া, খতিব বাগদাদী, পৃষ্ঠা ৫০।

(৩) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া, ফাসলুল ইতিকাদ, ৪/ ৪৬৪।

(৪) আল-ফিআম: মানুষের দল, (দেখুন: আল-আইন, আল-ফারাহিদি, বাবে আস-সুলাসি আল-মুতাল মিনাল ফা, ৮/ ৪০৫)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২০)
لهم، ثم يغزو فئام من الناس فيقال: هل فيكم من رأى أصحاب أصحاب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نحن، فيفتح لهم ((1)، يقول شيخ الإسلام: "وحديث سعيد هذا يدل على شيئين: على أن صاحب النبي صلى الله عليه وسلم هو من رآه مؤمناً به وإن قلت صحبته … "(2).

أما الحافظ ابن حزم الأندلسي فقد أورد تعريفاً للصحابة مفصلاً أكثر من التعاريف السابقة، فيقول: "أما الصحابة رضي الله عنه فهم كل من جالس النبي صلى الله عليه وسلم ولو ساعة وسمع منه ولو كلمة فما فوقها، أو شاهد منه (أمراً يعيه، ولم يكن من المنافقين الذين اتصل نفاقهم واشتهر حتى ماتوا على ذلك، ولا مثل من نفاه (باستحقاقه كهيت المخنث ومن جرى مجراه، فمن كان كما وصفنا أولاً فهو صاحب"(3). ففصَّل رحمه الله في تعريف الصحابي وكأنه يضع ضوابط لمعرفة الصحابي، فأول ضابط هو المجالسة ولو ساعة، وهذا الضابط ذكره الإمام أحمد في تعريفه، وهو توسيع لدائرة الصحبة، كما أنه جعل من ذلك السماع من الرسول صلى الله عليه وسلم ولو كلمة وما فوقها، فبهذا يكون رد السلام من الرسول صلى الله عليه وسلم يُدْخِلُ في دائرة الصحبة.

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب فضل الصحابة ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم، رقم 6467، ص 1110.

(2) مجموع الفتاوى، ابن تيمية، 20/ 298.

(3) الإحكام في أصول الأحكام، ابن حزم الأندلسي، 5/ 89.
তাদের জন্য, অতঃপর একদল লোক যুদ্ধ করবে তখন বলা হবে: তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাহাবীদের সাহাবীদের দেখেছেন? তারা বলবে: আমরা [দেখেছি], তখন তাদের জন্য বিজয় দান করা হবে ((১), শাইখুল ইসলাম বলেন: "সাঈদের এই হাদীসটি দুটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে: একটি হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানদার অবস্থায় তাঁকে দেখেছেন যদিও তাঁর সাহচর্য সংক্ষিপ্ত হয় … "(২).

পক্ষান্তরে হাফেয ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী সাহাবীদের এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যা পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোর চেয়েও অধিক বিস্তারিত। তিনি বলেন: "সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হলেন এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসেছেন যদিও তা এক মুহূর্তের জন্য হয় এবং তাঁর থেকে একটি শব্দ বা তার অধিক শুনেছেন, অথবা তাঁর থেকে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন যা তিনি হৃদয়ঙ্গম করেছেন; আর তিনি ঐসব মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের নিফাক নিরবচ্ছিন্ন ছিল এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এমনকি তারা সেই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছে। আর ঐসব ব্যক্তিদের মতোও নন যাদেরকে তিনি (নবীজী) যথার্থ কারণে নির্বাসিত করেছিলেন, যেমন হীত নামক হিজড়া এবং তার মতো যারা রয়েছে। সুতরাং যিনি আমাদের বর্ণিত প্রথমোক্ত গুণের অধিকারী হবেন, তিনিই সাহাবী"(৩)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সাহাবীর সংজ্ঞায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যেন তিনি সাহাবী চেনার কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। প্রথম মানদণ্ড হলো মজলিসে বসা যদিও তা এক মুহূর্তের জন্য হয়, আর এই মানদণ্ডটি ইমাম আহমাদও তাঁর সংজ্ঞায় উল্লেখ করেছেন, যা সাহচর্যের পরিধিকে প্রশস্ত করে। তেমনিভাবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে একটি শব্দ বা তার অধিক শ্রবণকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালামের উত্তর প্রদানও সাহচর্যের গণ্ডিতে প্রবেশ করাবে।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম, সাহাবীদের ফযীলত অধ্যায়, সাহাবীদের ফযীলত ও তাদের পরবর্তী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ফযীলত পরিচ্ছেদ, নম্বর ৬৪৬৭, পৃষ্ঠা ১১১০।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২০/ ২৯৮।

(৩) আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম, ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী, ৫/ ৮৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২১)
كما أن المشاهدة لأمر يعيه المشاهد حتى لو كانت عن بعد تدخل في الصحبة بشرط أن يعيه، أي يكون مميزاً وليس طفلاً صغيراً لم يصل لمرحلة التمييز أو فاقداً للعقل عند رؤية الرسول صلى الله عليه وسلم سواء بمؤثر كالخمر وبدون مؤثر كالجنون، والضابط الأهم هو ألا يكون منافقاً مشتهر النفاق حتى مات، فهذا يخرجه من دائرة الإسلام؛ لأن المنافقين إخوان الكفار، قال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نَافَقُوا يَقُولُونَ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ}(1)، وقال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا}(2)، وقال تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا}(3).

وقد أورد الخطيب البغدادي قول ابن عمر أن أهل العلم يقولون: "كل من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أدرك الحلم وأسلم وعقل أمر الدين ورضيه فهو عندنا ممن صحب النبي صلى الله عليه وسلم ولو ساعة من نهار، ولكن أصحابه على طبقاتهم وتقدمهم في الإسلام"(4).

وفي هذا القول تأييد للأقوال السابقة من حيث الرؤية والتمييز، إلا أنه جعل الحلم شرطاً في الصحبة، وهذا مختلف فيه بين أهل العلم، فيقول العراقي في "التقييد والإيضاح": "والصحيح أن البلوغ ليس شرطاً في حدِّ الصحابي، وإلا لخرج بذلك من أجمع العلماء على عدِّهم في الصحابة، كعبدالله بن الزبير، والحسن والحسين رضي الله عنهم "(5).

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية: 11.

(2) سورة النساء، الآية: 140.

(3) سورة التوبة، الآية: 68.

(4) الكفاية، الخطيب البغدادي، ص 49.

(5) التقييد والإيضاح، زين الدين العراقي، ص 295.
তেমনিভাবে কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করা যা দর্শক অনুধাবন করতে পারে, এমনকি তা দূর থেকেও হয়, তা সাহচর্যের অন্তর্ভুক্ত হবে এই শর্তে যে, সে তা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ তাকে সমঝদার হতে হবে, এমন ছোট শিশু হওয়া চলবে না যে এখনো সমঝদার হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেনি অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সময় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য ছিল না, চাই তা কোনো প্রভাবকের কারণে হোক যেমন মদ, অথবা প্রভাবক ছাড়াই যেমন উন্মাদনা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হলো এই যে, সে যেন এমন মুনাফিক না হয় যার নিফাক বা কপটতা মৃত্যু পর্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিল; কারণ মুনাফিকরা কাফিরদের ভাই। মহান আল্লাহ বলেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা মুনাফিকি করে? তারা তাদের আহলে কিতাব কাফির ভাইদের বলে..."(১), মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদের সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন"(২), এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফিরদের জন্য জাহান্নামের আগুনের ওয়াদা করেছেন, যেখানে তারা চিরকাল থাকবে"(৩)。

আল-খতিব আল-বাগদাদী ইবনে উমরের একটি উক্তি উল্লেখ করেছেন যে, আহলে ইলমগণ বলেন: "যে ব্যক্তিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এমতাবস্থায় যে সে সাবালকত্ব লাভ করেছে, ইসলাম গ্রহণ করেছে, দ্বীনের বিষয়াবলি বুঝেছে এবং তাতে সন্তুষ্ট থেকেছে, সে আমাদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা দিনের সামান্য সময়ের জন্য হয়। তবে তাঁর সাহাবীদের মর্যাদা ও ইসলামে অগ্রবর্তিতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তর রয়েছে"(৪)。

এই উক্তিতে দর্শন এবং সমঝদার হওয়ার বিষয়ে পূর্ববর্তী মতগুলোর সমর্থন পাওয়া যায়, তবে তিনি সাবালকত্ব লাভ করাকে সাহাবী হওয়ার শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর এ বিষয়টি আহলে ইলমদের মধ্যে মতভেদপূর্ণ। আল-ইরাকী ‘আত-তাকয়িদ ওয়াল-ঈদ্বহ’ গ্রন্থে বলেন: "সঠিক মত হলো, সাহাবীর সংজ্ঞায় সাবালক হওয়া শর্ত নয়। অন্যথায় এর ফলে তারা সাহাবীদের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবেন যাদের সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যেমন: আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর, আল-হাসান এবং আল-হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)"(৫)。

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১১।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪০।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬৮।

(৪) আল-কিফায়া, আল-খতিব আল-বাগদাদী, পৃষ্ঠা: ৪৯।

(৫) আত-তাকয়িদ ওয়াল-ঈদ্বহ, জয়নুদ্দীন আল-ইরাকী, পৃষ্ঠা: ২৯৫।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২২)
ولعل تعريف الإمام ابن حجر العسقلاني هو أوفى التعاريف وأشملها، وأقرب لوصف الصحابي، وتعريفه هذا الذي أورده في كتابه "الإصابة" حيث يقول: "إن الصحابي من لقي النبي صلى الله عليه وسلم مؤمناً به، ومات على الإسلام، فيدخل فيمن لقيه من طالت مجالسته أو قصرت، ومن روى عنه أو لم يرو، ومن غزا معه أو لم يغز، ومن رآه رؤية ولو لم يجالسه، ومن لم يره لعارض كالعمى"(1).

ثم شرح ابن حجر هذا التعريف، ومن يدخل في الصحبة ومن يخرج منها، وسوف نذكر بعض النقاط المهمة التي ذكرها في شرحه، فمنها الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم، وهو يعني خروج من لقيه كافراً ولو أسلم بعد ذلك ولم يلق الرسول صلى الله عليه وسلم، كما أن كلمة "مؤمناً به" تعني كل مكلف سواء من الإنس أو الجن الذين آمنوا به، أما قوله: "مات على الإسلام" فيخرج من الصحبة من ارتد ومات على الكفر كعبيد الله بن جحش(2).

ونلحظ هنا أن ابن حجر لم يبين هل يُشترط في اعتبار الصحبة أن من رأى الرسول صلى الله عليه وسلم لا بد أن يكون بالغاً أو مميزاً؟ أو يدخل في ذلك حتى الأطفال الرضع، وبهذا قد يشمل تعريفه أكثر أطفال المسلمين؛ لأنه في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم كان من ولد له ولد أَتى به إلى الرسول صلى الله عليه وسلم ليحنكه، وهذا من مواضع الخلاف لدى المعرفين لمعنى الصحبة.

--------------------------------------------

(1) الإصابة، ابن حجر، 1/ 7.

(2) انظر: المرجع السابق، 1/ 7.
সম্ভবতঃ ইমাম ইবনে হাজার আল-আসকালানির সংজ্ঞাটিই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক এবং সাহাবীর বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর নিকটবর্তী। তিনি তাঁর 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে এই সংজ্ঞাটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: "সাহাবী হলেন তিনি, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুমিন অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবেন তাঁর সাথে সাক্ষাৎকারী এমন ব্যক্তি যার সাহচর্য দীর্ঘ ছিল বা সংক্ষিপ্ত, যিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন বা করেননি, যিনি তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন বা করেননি, এবং যিনি তাঁকে দেখেছেন যদিও তাঁর সাথে বসেননি, এবং যিনি কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে (যেমন অন্ধত্ব) তাঁকে দেখতে পাননি"(১).

এরপর ইবনে হাজার এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং কারা সাহচর্যের অন্তর্ভুক্ত হবেন আর কারা এর বাইরে থাকবেন তা স্পষ্ট করেছেন। আমরা তাঁর ব্যাখ্যায় উল্লিখিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করব। তার মধ্যে একটি হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনা; এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া যে কাফির অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছে, যদিও সে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছে কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পুনরায় সাক্ষাৎ পায়নি। একইভাবে "তাঁর প্রতি মুমিন" কথাটির দ্বারা সকল মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি), চাই সে মানব হোক বা জিন—যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তারা উদ্দেশ্য। আর তাঁর কথা "ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করা"র মাধ্যমে সাহচর্য থেকে ওই ব্যক্তি বাদ পড়বে যে মুরতাদ হয়েছে এবং কুফরির ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, যেমন উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশ(২).

আমরা এখানে লক্ষ্য করি যে, ইবনে হাজার এটি স্পষ্ট করেননি যে সাহাবী হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক বা সমঝদার হতে হবে? নাকি দুগ্ধপোষ্য শিশুরাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে? এর ফলে তাঁর সংজ্ঞায় অধিকাংশ মুসলিম শিশু অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে; কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কারো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসা হতো যাতে তিনি তাকে তাহনিক (খেজুর চিবিয়ে মুখে দেওয়া) করে দেন। এটি সাহাবীর অর্থ নির্ধারণকারী সংজ্ঞাকারীদের নিকট মতভেদের অন্যতম একটি বিষয়।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসাবাহ, ইবনে হাজার, ১/ ৭।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, ১/ ৭।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومما سبق يتضح لنا أن هناك صفات متفقاً عليها وصفات أخرى مختلفاً فيها فيمن يطلق عليه اسم الصحبة، ومن الصفات المتفق عليها ما يأتي:

1. الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم، ويخرج من آمن بغيره من الأنبياء دونه صلى الله عليه وسلم كأهل الكتاب.

2. رؤيته حقيقة أو ملاقاته، ويشمل ذلك من كان أعمى كابن أم مكتوم، ويخرج منه من رآه في المنام.

3. عدم الردة، يخرج بهذا من ارتدَّ كعبيد الله بن جحش وربيعة بن أمية بن خلف وغيرهم.

4. الموت على الإسلام.

أما الصفات التي اختلف عليها الفقهاء والمحدثون فهي ما يأتي:

1. التمييز والبلوغ.

2. الإسلام بعد الردة، وذلك بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم كالأشعث بن قيس.

3. الغزو مع الرسول صلى الله عليه وسلم.

4. الرواية عن الرسول صلى الله عليه وسلم.

5. السماع من الرسول صلى الله عليه وسلم.

6. رؤية الرسول صلى الله عليه وسلم بعد مماته كأبي ذؤيب الهذلي.

7. مجالسة الرسول صلى الله عليه وسلم.
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, যাঁদের ওপর ‘সাহাবী’ উপাধি প্রয়োগ করা হয়, তাঁদের কিছু বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে এবং কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। ঐকমত্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো নিম্নরূপ:

১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনা; এর মাধ্যমে ওই সকল ব্যক্তি বাদ পড়বেন যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাদ দিয়ে অন্য নবীদের প্রতি ঈমান এনেছেন, যেমন আহলে কিতাব।

২. তাঁকে বাস্তবে দেখা বা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা; এর অন্তর্ভুক্ত ওই ব্যক্তিও যিনি অন্ধ ছিলেন যেমন ইবনে উম্মে মাকতুম। এর থেকে ওই ব্যক্তি বাদ পড়বেন যিনি তাঁকে কেবল স্বপ্নে দেখেছেন।

৩. মুরতাদ না হওয়া; এর মাধ্যমে তাঁরা বাদ পড়বেন যাঁরা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলেন যেমন উবায়দুল্লাহ বিন জাহাশ ও রবীআহ বিন উমাইয়া বিন খালাফ এবং অন্যান্যরা।

৪. ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করা।

আর যেসব বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে, তা হলো নিম্নরূপ:

১. বুঝ-জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া এবং বালেগ হওয়া।

২. মুরতাদ হওয়ার পর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করা, আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পরে হলে; যেমন আশ’আস বিন কায়েস।

৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা।

৪. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করা।

৫. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে সরাসরি কোনো কথা শ্রবণ করা।

৬. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁকে দেখা, যেমন আবু যুয়াইব আল-হুযালী।

৭. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসা বা তাঁর সাহচর্য লাভ করা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌ثالثاً: مكانة الصحابة رضي الله عنهم وفضلهم:

إن تقرير هذه المسألة في غاية الأهمية، لاسيما في هذا الوقت الذي انحرف فيه منهج الدعوة عن مساره لدى بعض الطوائف والأفراد والجماعات، وضعفت مكانة الصحابة ومنزلتهم في نفوس بعض الدعاة حتى انتقصهم أو كاد، ومما لا يشك فيه أي مؤمن عاقل محب لله ولرسوله وصافي العقيدة أن للصحابة فضلاً على من سواهم من البشر، وفضلهم هذا مستمد من صحبتهم لرسول الله صلى الله عليه وسلم ومحبته لهم ومحبتهم له، وسوف يتبين فضل هذه الفئة من الناس في هذا المطلب، وذلك اعتماداً على ما ورد في القرآن الكريم وما ثبت في السنة النبوية وأقوال السلف الصالح، وقد رتب الحاكم النيسابوري الصحابة إلى اثنتي عشرة مرتبة جعلها كالآتي(1):

1. الطبقة الأولى: قوم أسلموا بمكة قبل الجهر بالدعوة عند دار الندوة، ومنهم أبو بكر الصديق وعمر بن الخطاب وعثمان بن عفان وعلي بن أبي طالب رضي الله عنهم وغيرهم.

2. الطبقة الثانية: أصحاب دار الندوة، وذلك بعد إسلام عمر بن الخطاب رضي الله عنه حمل الرسول صلى الله عليه وسلم إلى دار الندوة فبايعه جماعة من أهل مكة.

3. الطبقة الثالثة: الصحابة المهاجرة للحبشة.

4. الطبقة الرابعة: أصحاب بيعة العقبة الأولى.

5. الطبقة الخامسة: أصحاب بيعة العقبة الثانية وأكثرهم من الأنصار.

--------------------------------------------

(1) انظر: معرفة علوم الحديث، النيسابوري، ص 29 - 31.
তৃতীয়ত: সাহাবায়ে কিরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব:

এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন কিছু দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মাঝে দাওয়াতের মানহাজ (পদ্ধতি) তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এমনকি কিছু দাঈর অন্তরে সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা ও অবস্থান এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, তারা তাঁদের সমালোচনা করছে বা করার উপক্রম হয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবাসা পোষণকারী এবং স্বচ্ছ আকিদার অধিকারী কোনো সুস্থ বিবেকের মুমিনের নিকট এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, অন্য সকল মানুষের ওপর সাহাবায়ে কিরামের শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য। তাঁদের এই শ্রেষ্ঠত্ব মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য লাভ এবং তাঁদের প্রতি রাসূলের ও রাসূলের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার কারণে অর্জিত হয়েছে। এই পরিচ্ছেদে কুরআনুল কারীম, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের বক্তব্যের আলোকে এই মহান মানবগোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করা হবে। আল-হাকিম আন-নিশাপুরী সাহাবীগণকে বারোটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন, যা নিম্নরূপ(১):

১. প্রথম স্তর: যারা মক্কায় দাওয়াত প্রকাশ্য হওয়ার পূর্বে দারুন নাদওয়ার নিকট ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; তাঁদের মধ্যে আবু বকর আস-সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ও অন্যান্যগণ অন্তর্ভুক্ত।

২. দ্বিতীয় স্তর: দারুন নাদওয়ার সাহাবীগণ; উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দারুন নাদওয়ায় নিয়ে যাওয়া হলে মক্কাবাসীদের একটি দল তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেন।

৩. তৃতীয় স্তর: হাবশায় হিজরতকারী সাহাবীগণ।

৪. চতুর্থ স্তর: প্রথম বায়আতে আকাবার সাহাবীগণ।

৫. পঞ্চম স্তর: দ্বিতীয় বায়আতে আকাবার সাহাবীগণ, যাঁদের অধিকাংশ ছিলেন আনসার।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস, নিশাপুরী, পৃষ্ঠা ২৯ - ৩১।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
6. الطبقة السادسة: أول المهاجرين الذين وصلوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بقباء قبل أن يدخل المدينة ويبني المسجد.

7. الطبقة السابعة: أهل بدر الذين قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيهم: (لعل الله قد اطلع على أهل بدر فقال: اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم ((1).

8. الطبقة الثامنة: المهاجرة الذين هاجروا بين بدر والحديبية.

9. الطبقة التاسعة: أهل بيعة الرضوان الذين أنزل الله تعالى فيهم: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ}(2)، وكانت بالحديبية.

10. الطبقة العاشرة: المهاجرة بين الحديبية والفتح، ومنهم خالد بن الوليد وعمرو بن العاص وأبو هريرة رضي الله عنهم.

11. الطبقة الحادية عشرة: هم الذين أسلموا يوم الفتح (فتح مكة).

12. الطبقة الثانية عشرة: صبيان وأطفال رأوا الرسول صلى الله عليه وسلم يوم الفتح وفي حجة الوداع وغيرها وعدادهم في الصحابة.

وقد قال أبو منصور البغدادي: "أصحابنا مجمعون على أن أفضلهم الخلفاء الأربعة على ترتيبهم في الخلافة، ثم تمام العشرة، ثم أهل بدر، ثم أهل أحد، ثم بيعة الرضوان. وأجمع أهل السنة على أن أفضلهم على الإطلاق أبو بكر، ثم عمر، وقدم جمهورهم عثمان على علي رضي الله عنهم، قال الخطابي: وقدم أهل السنة

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، كتاب المغازي، باب فضل من شهد بدراً، رقم 3983، ص 672.

(2) سورة الفتح، الآية: 18.
৬. ষষ্ঠ স্তর: সেই সকল প্রথম হিজরতকারীগণ যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছেছিলেন যখন তিনি কুবায় ছিলেন, মদীনায় প্রবেশ করার এবং মসজিদ নির্মাণ করার পূর্বে।

৭. সপ্তম স্তর: বদর যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীগণ যাদের সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সম্ভবত আল্লাহ তাআলা বদরবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি) ((১).

৮. অষ্টম স্তর: সেই সকল হিজরতকারীগণ যারা বদর ও হুদায়বিয়ার মধ্যবর্তী সময়ে হিজরত করেছেন।

৯. নবম স্তর: বাইয়াতে রিদওয়ানের অংশগ্রহণকারীগণ যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করছিল}(২), আর এটি হুদায়বিয়ায় সংঘটিত হয়েছিল।

১০. দশম স্তর: হুদায়বিয়া ও মক্কা বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়ের হিজরতকারীগণ, যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, আমর ইবনুল আস এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

১১. একাদশ স্তর: তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা বিজয়ের দিন (মক্কা বিজয়) ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

১২. দ্বাদশ স্তর: সেই সকল কিশোর ও শিশু যারা বিজয়ের দিন, বিদায় হজ্জে এবং অন্যান্য সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন এবং সাহাবীগণের মধ্যে তাদের গণনা করা হয়।

আবু মনসুর আল-বাগদাদী বলেছেন: "আমাদের সাথীগণ (আলিমগণ) একমত হয়েছেন যে, তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন চার খলিফা তাঁদের খিলাফতের ক্রম অনুসারে, এরপর অবশিষ্ট দশজন, এরপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, এরপর ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, এরপর বাইয়াতে রিদওয়ান। আর আহলে সুন্নাত একমত হয়েছেন যে, সাধারণভাবে তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবু বকর, এরপর ওমর; আর তাঁদের অধিকাংশ উসমানকে আলীর অগ্রবর্তী করেছেন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। আল-খাত্তাবী বলেছেন: আহলে সুন্নাতগণ অগ্রবর্তী করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বদরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মর্যাদার অধ্যায়, নং ৩৯৮৩, পৃ. ৬৭২।

(২) সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ১৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
من أهل الكوفة علياً على عثمان، وبه قال ابن خزيمة، والصحيح قول الجمهور تقديم عثمان؛ لهذا اختارته الصحابة للخلافة، وقدموه، وهم أعلم وأعرف بالمراتب"(1). وفي قول البغدادي هذا اختلاف عن الترتيب الأول؛ فقد رتب الحاكم النيسابوري الصحابة حسب الأسبقية في الإسلام، ورتب البغدادي الصحابة حسب الفضل بينهم فيما يراه.

وقد ورد فضل الصحابة في القرآن الكريم والسنة النبوية في عدة مواضع ومناسبات سنذكر بعضاً منها:

 

‌‌أ) ما ورد في فضل الصحابة رضي الله عنهم من القرآن الكريم:

ليس هناك أدل ولا أوضح من بيان فضل الصحابة في القرآن الكريم، فقد وردت آيات عدة تبين فضلهم ومكانتهم، وسوف نذكر هنا بعضاً منها مع إيضاح ما ذكره المفسرون حول كل آية.

1 - الآية الأولى: قوله تعالى: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ}(2).

يقول الإمام الرازي في تفسير هذه الآية: "إنه تعالى ذكرهم هنا لبيان تعظيم شأنهم وعلو درجتهم، وأن الإعادة إعادة ذكرهم في الآية السابقة تدل على مزيد من الاهتمام بحالهم، وذلك يدل على الشرف والتعظيم"(3).

--------------------------------------------

(1) تهذيب الأسماء واللغات، النووي، 1/ 15.

(2) سورة الأنفال، الآية: 74.

(3) التفسير الكبير، فخر الدين الرازي، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، ص 169.
কুফাবাসীদের মধ্য থেকে আলী-কে উসমান-এর ওপর (মর্যাদা দিয়েছেন), আর ইবন খুজাইমাহও এই মত পোষণ করেছেন। তবে সঠিক হলো জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত, যা হলো উসমান-কে অগ্রগণ্য করা; একারণেই সাহাবীগণ তাঁকে খিলাফতের জন্য মনোনীত করেছিলেন এবং তাঁকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, আর তাঁরা মর্যাদার স্তর সম্পর্কে অধিক অবগত ও জ্ঞানী ছিলেন"(১)। আল-বাগদাদীর এই উক্তিতে প্রথম বিন্যাস থেকে ভিন্নতা রয়েছে; কেননা হাকিম আল-নিসাবুরী সাহাবীগণকে ইসলাম গ্রহণের অগ্রগামিতার ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন, আর আল-বাগদাদী সাহাবীগণকে তাঁর দৃষ্টিতে তাঁদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন।

সাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্ব পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বিভিন্ন স্থানে এবং বহু উপলক্ষে বর্ণিত হয়েছে, আমরা তার কিছু উল্লেখ করছি:

 

‌‌ক) পবিত্র কুরআনে সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:

পবিত্র কুরআনে সাহাবীগণের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনার চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট ও অকাট্য দলিল আর কিছু নেই। তাঁদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা এখানে সেই আয়াতগুলোর কিছু অংশ এবং প্রতিটি আয়াতের প্রেক্ষিতে মুফাসসিরগণ যা উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করব।

১ - প্রথম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তাঁরাই হলো প্রকৃত মুমিন। তাঁদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক।}(২)।

ইমাম রাজী এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: "মহান আল্লাহ এখানে তাঁদের শানের মর্যাদা এবং তাঁদের সুউচ্চ স্তরের বর্ণনার জন্য তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন। আর পূর্ববর্তী আয়াতে তাঁদের পুনোল্লেখ করা তাঁদের অবস্থার প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্বারোপের প্রমাণ বহন করে, যা তাঁদের সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক।"(৩)।

--------------------------------------------

(১) তহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত, আন-নববী, ১/ ১৫।

(২) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৭৪।

(৩) আত-তাফসীরুল কাবীর, ফখরুদ্দীন আল-রাজী, ৮ম খণ্ড, ১৫তম অংশ, পৃ. ১৬৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال الشيخ السعدي: "إن هذه الآيات في بيان مدحهم وثوابهم رضي الله عنهم ((1)، وفي قوله تعالى: {أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا} يقول الإمام الشوكاني: "أي الكاملون في الإيمان"(2)، ويذكر الشيخ أبو بكر الجزائري: "أن هذين صنفا المهاجرين والأنصار، وهما أكمل المؤمنين وأعلاهم درجة"(3).

2 - الآية الثانية: قوله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ (20) يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُقِيمٌ (21) خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ}(4).

يقول ابن عاشور في هذه الآية: "إن (الذين هاجروا) هم المؤمنون من أهل مكة وما حولها الذين هاجروا منها إلى المدينة لما آذنهم النبي صلى الله عليه وسلم بالهجرة إليها بعد أن أسلموا وذلك قبل فتح مكة"(5). وهذا بيان لفضل الصحابة بما أعد الله لهم من مكافآت وردت في الآية، ومنها قوله: {أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ} "إشارة إلى رفعة قدرهم، رضا من الله، وتفضيلاً بالتشريف، كما أن قوله تعالى: {وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} معطوفة على {أَعْظَمُ دَرَجَةً} مبالغة في عظم

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، السعدي، ص 373.

(2) فتح القدير، الشوكاني، 2/ 211.

(3) أيسر التفاسير، أبو بكر الجزائري، 2/ 333.

(4) سورة التوبة، الآيات: 20 - 22.

(5) التحرير والتنوير، ابن عاشور، المجلد الخامس، الجزء العاشر، ص 148.
শেখ সাদী বলেন: "নিশ্চয়ই এই আয়াতগুলো তাদের প্রশংসা ও প্রতিদান বর্ণনায় (নাজিল হয়েছে), আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন ((১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারাই প্রকৃত মুমিন} সম্পর্কে ইমাম শাওকানী বলেন: "অর্থাৎ ঈমানে যারা পরিপূর্ণ"(২), এবং শেখ আবু বকর আল-জাযাইরি উল্লেখ করেন: "নিশ্চয়ই এই দুই দল হলো মুহাজির ও আনসার, এবং তারা মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদায় সর্বোচ্চ"(৩)।

২ - দ্বিতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর কাছে মর্যাদায় অতি মহান; আর তারাই সফলকাম (২০) তাদের প্রতিপালক তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে দয়া, সন্তুষ্টি ও এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন যেখানে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী নেয়ামত (২১) সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার}(৪)।

ইবনে আশুর এই আয়াত সম্পর্কে বলেন: "নিশ্চয়ই (যারা হিজরত করেছেন) তারা হলেন মক্কা ও তার আশেপাশের মুমিনগণ, যারা ইসলাম গ্রহণের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে হিজরতের অনুমতি দিলে সেখান থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, আর তা ছিল মক্কা বিজয়ের আগে"(৫)। এটি সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা যা আল্লাহ তাদের জন্য প্রতিদান হিসেবে এই আয়াতে প্রস্তুত রেখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর বাণী: {আল্লাহর কাছে মর্যাদায় অতি মহান} যা "তাদের উচ্চ মর্যাদার ইঙ্গিত বহন করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি এবং সম্মান প্রদানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারাই সফলকাম} বাক্যটি {মর্যাদায় অতি মহান} এর সাথে যুক্ত হয়েছে মাহাত্ম্যের আধিক্য বোঝাতে।

--------------------------------------------

(১) তায়সীরুল কারীমুর রহমান, আস-সাদী, পৃষ্ঠা ৩৭৩।

(২) ফাতহুল কাদীর, আশ-শাওকানী, ২/ ২১১।

(৩) আয়সারুত তাফাসীর, আবু বকর আল-জাযাইরি, ২/ ৩৩৩।

(৪) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২০ - ২২।

(৫) আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর, ইবনে আশুর, ৫ম খণ্ড, ১০ম অংশ, পৃষ্ঠা ১৪৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
فوزهم، حتى إن فوز غيرهم بالنسبة إلى فوزهم يعد كالمعدوم"(1). وعند القرطبي "أن {أَعْظَمُ دَرَجَةً} أي: لهم المزية والمرتبة العلية"(2).

3 - الآية الثالثة: قوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ}(3).

يقول الشيخ أبو بكر الجزائري: "هم الذين سبقوا غيرهم إلى الإيمان والهجرة والنصرة والجهاد، والذين اتبعوهم في ذلك وأحسنوا أعمالهم موافقة لما شرع الله وبيَّنه رسوله محمد صلى الله عليه وسلم ((4).

ولا خلاف بين أهل العلم في أن الآية تتحدث عن الصحابة، إلا أن الخلاف في من هم هؤلاء الصحابة، فقد قال ابن عباس: "إنهم هم الذين صلوا إلى القبلتين وشهدوا بدراً، وعن الشعبي: هم الذين بايعوا بيعة الرضوان"(5)، وقال أبو موسى الأشعري وسعيد بن المسيب ومحمد بن سيرين والحسن وقتادة: "هم الذين صلوا إلى القبلتين مع الرسول صلى الله عليه وسلم ((6).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق.

(2) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي، الجزء الثاني، المجلد الرابع، ص 321.

(3) سورة التوبة، الآية: 100.

(4) أيسر التفاسير، أبو بكر الجزائري، ص 420.

(5) التفسير الكبير، الرازي، المجلد الثامن، الجزء السادس عشر، ص 134.

(6) تفسير القرآن العظيم، ابن كثير، 7/ 270.
তাদের বিজয় এমন যে, অন্যদের বিজয় তাদের বিজয়ের তুলনায় প্রায় অস্তিত্বহীন গণ্য করা হয়"(১)। আর আল-কুরতুবীর মতে "{মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ} অর্থাৎ: তাদের জন্য রয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব এবং উচ্চ মাকাম"(২)।

৩ - তৃতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য}(৩)।

শাইখ আবু বকর আল-জাযায়িরি বলেন: "তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা অন্যদের পূর্বে ঈমান, হিজরত, সাহায্য এবং জিহাদের দিকে অগ্রগামী হয়েছেন; এবং যারা এ ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করেছেন এবং তাদের আমলসমূহকে আল্লাহ যা বিধান করেছেন এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বর্ণনা করেছেন তার সাথে সংগতিপূর্ণ রেখে সুন্দরভাবে সম্পাদন করেছেন ((৪)।

আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে আয়াতটি সাহাবীগণ সম্পর্কে আলোচনা করছে, তবে এই সাহাবীগণ কারা সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনে আব্বাস বলেছেন: "তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা দুই কিবলার দিকে সালাত আদায় করেছেন এবং বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন", আর আশ-শা'বী থেকে বর্ণিত: "তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা বাইয়াতে রিদওয়ান প্রদান করেছেন"(৫), এবং আবু মুসা আল-আশআরি, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, হাসান এবং কাতাদাহ বলেছেন: "তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দুই কিবলার দিকে সালাত আদায় করেছেন"(৬)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস।

(২) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, দ্বিতীয় অংশ, চতুর্থ খণ্ড, পৃ. ৩২১।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০।

(৪) আইসারুত তাফাসির, আবু বকর আল-জাযায়িরি, পৃ. ৪২০।

(৫) আত-তাফসিরুল কাবির, আর-রাযী, অষ্টম খণ্ড, ষোড়শ অংশ, পৃ. ১৩৪।

(৬) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ইবনে কাসির, ৭/ ২৭০।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وذكر الله تعالى رضاه عنهم في قوله: {رضي الله عنهم} "ولما وصفهم بهذا الوصف أثبت لهم ما يوجب التعظيم"(1)، "ورضاهم عنه بما أعد لهم من جنات النعيم والنعيم المقيم"(2). وقال ابن خويز منداد: "تضمنت هذه الآية تفضيل السابقين إلى كل منقبة من مناقب الشريعة في علم أو دين أو شجاعة أو غير ذلك"(3)، فرضا الله سبحانه وتعالى عن هؤلاء فيه بيان لفضلهم وتميزهم عن غيرهم.

 

4 - الآية الرابعة: قوله تعالى: {قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى}(4).

قال ابن عباس وسفيان: "هم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم اصطفاهم الله لنبيه رضي الله عنهم ((5)، "فلما أمر الله تعالى في هذه الآية رسوله أن يقول: {وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى} فقد عين له هذه الجملة ليقولها يسأل من الله أن يكرم عباده الذين اصطفى بالثناء عليهم في الملأ الأعلى وحسن الذكر؛ إذ قصارى ما يستطيعه الحاضر من جزاء الغائب على حسن صنيعه أن يبتهل إلى الله أن ينفعه بالكرامة"(6). "وحقيقة الاصطفاء: افتعال من التصفية، فيكون قد صفاهم من الأكدار، ولا ينقض هذا بما إذا اختلفوا؛ لأن الحق لم يعدهم بألا يختلفوا، وهذا لا يخرجهم من

--------------------------------------------

(1) التفسير الكبير، الرازي، المجلد الثامن، الجزء السادس عشر، ص 135.

(2) تفسير القرآن العظيم، ابن كثير، 7/ 270.

(3) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي، الجزء الثاني، المجلد الرابع، ص 413.

(4) سورة النمل، الآية: 59.

(5) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي، الجزء الثالث، المجلد السابع، ص 147.

(6) التحرير والتنوير، ابن عاشور، المجلد الثامن، الجزء العشرون، ص 8.
আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন} "যখন তিনি তাঁদেরকে এই গুণাবলি দ্বারা ভূষিত করেছেন, তখন তিনি তাঁদের জন্য এমন বিষয় সাব্যস্ত করেছেন যা তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে আবশ্যক করে তোলে"(১), "এবং তিনি তাঁদের জন্য যে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত ও চিরস্থায়ী নেয়ামত প্রস্তুত করেছেন, তার মাধ্যমে তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট"(২)। ইবনে খুওয়াইজ মিনদাদ বলেন: "এই আয়াতে শরীয়তের প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে অগ্রগামীদের শ্রেষ্ঠত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, চাই তা ইলম, দ্বীন, বীরত্ব বা অন্য কোনো বিষয়েই হোক না কেন"(৩), সুতরাং এই ব্যক্তিদের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং অন্যদের থেকে তাঁদের স্বতন্ত্র মর্যাদার একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা।

 

৪ - চতুর্থ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন}(৪)।

ইবনে আব্বাস ও সুফিয়ান বলেন: "তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর জন্য মনোনীত করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন ((৫), "যখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিলেন এই কথা বলতে: {এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন}, তখন তিনি তাঁর জন্য এই বাক্যটি নির্ধারণ করে দিলেন যেন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যে, তিনি যেন তাঁর মনোনীত বান্দাদেরকে ঊর্ধ্বজগত তথা ফেরেশতাদের সভায় তাঁদের প্রশংসা এবং উত্তম আলোচনার মাধ্যমে সম্মানিত করেন; কারণ অনুপস্থিত ব্যক্তির ভালো কাজের প্রতিদান হিসেবে উপস্থিত ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ যা করা সম্ভব তা হলো আল্লাহর কাছে রোনাজারি করা যেন তিনি তাকে সম্মানের মাধ্যমে উপকৃত করেন"(৬)। "মনোনয়নের (ইস্তফা) হাকীকত হলো: পরিচ্ছন্নকরণ থেকে উদ্ভূত, ফলে তিনি তাঁদেরকে সকল প্রকার পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করেছেন। আর এটি তাঁদের মাঝে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তাকে নাকচ করে না; কারণ সত্য হলো, তিনি তাঁদের কাছে এই প্রতিশ্রুতি দেননি যে তাঁরা মতপার্থক্য করবেন না, আর এটি তাঁদেরকে বের করে দেয় না...

--------------------------------------------

(১) আত-তাফসীর আল-কাবীর, আর-রাযী, অষ্টম খণ্ড, ষোড়শ অংশ, পৃষ্ঠা ১৩৫।

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাসীর, ৭/২৭০।

(৩) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, দ্বিতীয় অংশ, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৩।

(৪) সূরা আন-নামল, আয়াত: ৫৯।

(৫) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, তৃতীয় অংশ, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৭।

(৬) আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর, ইবনে আশুর, অষ্টম খণ্ড, বিংশ অংশ, পৃষ্ঠা ৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
حقيقة الاصطفاء"(1). ويقول شيخ الإسلام: "إنه لا ريب أنهم أفضل المصطفين من هذه الأمة"(2)، وهذا أمر لا غرابة فيه بأن يصطفي الله عز وجل أفضل الأصحاب لأفضل الأنبياء وخاتمهم، يقول ابن جرير الطبري في الذين اصطفاهم: "هم الذين اجتباهم لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم فجعلهم أصحابه ووزراءه"(3).

5 - الآية الخامسة: قوله تعالى: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا}(4).

تعددت الروايات في سبب نزول هذه الآية وفيمن نزلت، إلا أنها اتفقت على أن المقصود بها هو أحد الصحابة أو جميعهم، فلم تخرج من دائرة الصحابة وفضلهم، ففي البخاري عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: "نرى هذه الآية نزلت في أنس بن النضر"(5)، وفي رواية: "وفي أشباهه"(6). وعند مسلم: "وفي أصحابه"(7). وفي حديث عائشة رضي الله عنها قالت في قوله تعالى: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ} الآية: منهم طلحة بن عبيد الله، ثبت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أصيبت يده، فقال النبي صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين، ابن القيم، 5/ 568.

(2) منهاج السنة النبوية، ابن تيمية، 1/ 366.

(3) جامع البيان، الطبري، 8/ 702.

(4) سورة الأحزاب، الآية: 23.

(5) صحيح البخاري، كتاب التفسير، باب {فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا}، رقم 4783، ص 840.

(6) المرجع السابق، كتاب الجهاد والسير، باب قول الله عز وجل: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا}، رقم 2805، ص 464.

(7) صحيح مسلم، كتاب الإمارة، باب ثبوت الجنة للشهيد، رقم 4918، ص 851.
"মনোনয়নের প্রকৃত রহস্য"(১)। শাইখুল ইসলাম বলেন: "নিঃসন্দেহে তাঁরাই এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মনোনীত ব্যক্তিবর্গ"(২), আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং তাঁর সর্বশেষ নবীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবীদের মনোনীত করবেন। ইবনে জারীর তাবারী যাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে তাদের সম্পর্কে বলেন: "তাঁরা হলেন তাঁরাই যাদেরকে তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাঁদেরকে তাঁর সাহাবী ও উজির বানিয়েছেন"(৩)।

৫ - পঞ্চম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। আর তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি}(৪)।

এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ এবং কাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে তা নিয়ে অনেক বর্ণনা রয়েছে, তবে সেগুলো এই বিষয়ে একমত যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাহাবীদের কোনো একজন অথবা তাঁদের সকলে। সুতরাং এটি সাহাবীগণের মর্যাদা ও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের পরিমণ্ডল থেকে বের হয়নি। সহীহ বুখারীতে আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা মনে করি এই আয়াতটি আনাস ইবনে নাযর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে"(৫), এবং অন্য বর্ণনায় এসেছে: "এবং তাঁর মতো ব্যক্তিদের সম্পর্কে"(৬)। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে: "এবং তাঁর সাথীদের সম্পর্কে"(৭)। আর আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে} আয়াতটি সম্পর্কে বলেন: তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান করেছিলেন এমনকি তাঁর হাত আহত হয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ইবনুল কাইয়্যিম, ৫/ ৫৬৮।

(২) মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববীয়াহ, ইবনে তাইমিয়াহ, ১/ ৩৬৬।

(৩) জামিউল বায়ান, তাবারী, ৮/ ৭০২।

(৪) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২৩।

(৫) সহীহ বুখারী, তাফসীর অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: {তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার শপথ পূরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে এবং তারা কোনো পরিবর্তন করেনি}, নম্বর: ৪৭৮৩, পৃষ্ঠা: ৮৪০।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস, জিহাদ ও সফর অধ্যায়, মহান আল্লাহর বাণী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে...}, নম্বর: ২৮০৫, পৃষ্ঠা: ৪৬৪।

(৭) সহীহ মুসলিম, ইমারাহ (নেতৃত্ব) অধ্যায়, শহীদের জন্য জান্নাত সাব্যস্ত হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর: ৪৯১৮, পৃষ্ঠা: ৮৫১।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
(أوجب طلحة الجنة ((1).

وفي الترمذي عن موسى وعيسى ابني طلحة عن أبيهما طلحة أن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا لأعرابي جاهل: سله عمن قضى نحبه من هو؟ وكانوا لا يجترئون هم على مسألته يوقرونه ويهابونه، فسأله الأعرابي فأعرض عنه، ثم سأله فأعرض عنه، ثم سأله فأعرض عنه، ثم إني اطلعت من باب المسجد وعلي ثياب خضر فلمَّا رآني رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أين السائل عمن قضى نحبه؟ (قال الأعرابي: أنا يا رسول الله، قال: (هذا ممن قضى نحبه ((2). ويقول القرطبي: "إن منهم حمزة وسعد بن معاذ وأنس بن النضر رضي الله عنهم وغيرهم"(3).

وفي "المستدرك" للحاكم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين انصرف من أُحد مر على مصعب بن عمير وهو مقتول على طريقه فوقف عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ودعا له ثم قرأ هذه الآية: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا} ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أشهد أن هؤلاء شهداء عند الله يوم القيامة فأتوهم وزوروهم، والذي نفسي بيده لا يسلم عليهم أحد إلى يوم القيامة إلا ردوا عليه ((4).

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي، 7/ 344.

(2) جامع الترمذي، أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، باب تعيينه صلى الله عليه وسلم طلحة ممن قضى نحبه، رقم 3742، ص 850. حديث صحيح (الألباني، سلسلة الأحاديث الصحيحة، المجلد الأول، القسم الأول، رقم 125، ص 245).

(3) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي، 7/ 344.

(4) المستدرك على الصحيحين، الحاكم النيسابوري، كتاب قراءات النبي صلى الله عليه وسلم، رقم 3027، 2/ 365. حديث ضعيف، (الألباني، سلسلة الأحاديث الضعيفة، المجلد الحادي عشر، القسم الأول، رقم 5221، ص 365).
(তালহা জান্নাত অবধারিত করে নিয়েছে ((১)।

তিরমিযীতে তালহার দুই পুত্র মুসা ও ঈসা থেকে, তাঁরা তাঁদের পিতা তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ একজন অজ্ঞ মরুবাসীকে বললেন: আপনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন যে, যার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়েছে সে কে? সাহাবীগণ তাঁর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের কারণে নিজেরা তাঁকে প্রশ্ন করার সাহস পেতেন না। অতঃপর মরুবাসী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু তিনি তাঁর থেকে বিমুখ হলেন। এরপর তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বিমুখ হলেন। এরপর তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বিমুখ হলেন। অতঃপর আমি (তালহা) মসজিদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করলাম, তখন আমার পরনে ছিল সবুজ কাপড়। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: (সেই ব্যক্তি কোথায়, যে যার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করছিল? (মরুবাসী বললেন: আমি, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: (এই ব্যক্তি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত, যারা তাদের প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছে ((২)। কুরতুবী বলেন: "নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে হামযা, সাদ ইবনে মুআয ও আনাস ইবনে নাযর রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং আরও অনেকে রয়েছেন"(৩)।

হাকেমের "আল-মুস্তাদরাক"-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওহুদ থেকে ফিরে আসছিলেন, তখন তিনি মুসআব ইবনে উমায়েরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি তাঁর পথিমধ্যে শহীদ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশে দাঁড়ালেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। অতঃপর এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছে এবং কেউ কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনেনি}। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কিয়ামতের দিন এরা আল্লাহর নিকট শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং তোমরা তাদের কাছে এসো এবং তাদের জিয়ারত করো। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, কিয়ামত পর্যন্ত কেউ যদি তাদের সালাম দেয়, তবে তারা অবশ্যই তার উত্তর দেবে ((৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, ৭/৩৪৪।

(২) জামে আত-তিরমিযী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা অধ্যায়, তালহা সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছেন তা নির্দিষ্টকরণ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর ৩৭৪২, পৃষ্ঠা ৮৫০। হাদিসটি সহিহ (আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা, প্রথম খণ্ড, প্রথম অংশ, নম্বর ১২৫, পৃষ্ঠা ২৪৫)।

(৩) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, ৭/৩৪৪।

(৪) আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাঈন, আল-হাকেম আন-নিশাপুরী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাত অধ্যায়, নম্বর ৩০২৭, ২/৩৬৫। হাদিসটি যঈফ, (আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-যঈফা, একাদশ খণ্ড, প্রথম অংশ, নম্বর ৫২২১, পৃষ্ঠা ৩৬৫)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
وفيما سبق دليل على أن هذه الآية تعني بالذين {صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ} "أنهم الصحابة؛ منهم من بذل جهده على الوفاء بعهده حتى قتل، ومنهم من ينتظر الشهادة، وما بدلوا عهدهم ونذرهم"(1). وفي هذه الآية إشارة إلى وفائهم بعهدهم الذي عاهدوا الله أنهم لا يفارقون نبيه إلا بالموت، وفي الآية التي تليها قال تعالى: {لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ}(2)، "أي بصدق ما وعدهم في الدنيا والآخرة كما صدقوا مواعيدهم"(3). ويقول الإمام الشوكاني: "إن معنى الآية: أن من المؤمنين رجالاً أدركوا أمنيتهم وقضوا حاجتهم ووفوا بنذرهم، فقاتلوا حتى قتلوا، وذلك يوم، أحد كحمزة ومصعب بن عمير وأنس بن النضر، {وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ} قضاء نحبه حتى يحضر أجله، كعثمان بن عفان وطلحة والزبير وأمثالهم، فإنهم مستمرون على ما عاهدوا الله عليه من الثبات مع رسول الله صلى الله عليه وسلم والقتال لعدوه، ومنتظرون لقضاء حاجتهم وحصول أمنيتهم بالقتل وإدراك فضل الشهادة، وجملة {وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا} معطوفة على صدقوا، أي: ما غيروا عهدهم الذي عاهدوا الله ورسوله عليه"(4). وفي هذه الآية ثناء على الصحابة وأنهم صدقوا العهد وثبتوا على ذلك حتى لقي الله منهم من لقي وبقي من بقي بعد ذلك إلى أن لقي الله فيما بعد حتى جازاهم الله بصدقهم.

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن، القرطبي، 7/ 344.

(2) سورة الأحزاب، الآية: 24.

(3) التفسير الكبير، فخر الدين الرازي، المجلد الثالث عشر، الجزء الخامس والعشرون، ص 176.

(4) فتح القدير، الشوكاني، 3/ 421 - 422.
وفيما سبق دليل على أن هذه الآية تعني بالذين {صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ} "أنهم الصحابة؛ منهم من بذل جهده على الوفاء بعهده حتى قتل، ومنهم من ينتظر الشهادة، وما بدلوا عهدهم ونذرهم"(1). وفي هذه الآية إشارة إلى وفائهم بعهدهم الذي عاهدوا الله أنهم لا يفارقون نبيه إلا بالموت، وفي الآية التي تليها قال تعالى: {لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ}(2)، "أي بصدق ما وعدهم في الدنيا والآخرة كما صدقوا مواعيدهم"(3). ويقول الإمام الشوكاني: "إن معنى الآية: أن من المؤمنين رجالاً أدركوا أمنيتهم وقضوا حاجتهم ووفوا بنذرهم، فقاتلوا حتى قتلوا، وذلك يوم، أحد كحمزة ومصعب بن عمير وأنس بن النضر، {وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ} قضاء نحبه حتى يحضر أجله، كعثمان بن عفان وطلحة والزبير وأمثالهم، فإنهم مستمرون على ما عاهدوا الله عليه من الثبات مع رسول الله صلى الله عليه وسلم والقتال لعدوه، ومنتظرون لقضاء حاجتهم وحصول أمنيتهم بالقتل وإدراك فضل الشهادة، وجملة {وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا} معطوفة على صدقوا، أي: ما غيروا عهدهم الذي عاهدوا الله ورسوله عليه"(4). وفي هذه الآية ثناء على الصحابة وأنهم صدقوا العهد وثبتوا على ذلك حتى لقي الله منهم من لقي وبقي من بقي بعد ذلك إلى أن لقي الله فيما بعد حتى جازاهم الله بصدقهم.

--------------------------------------------

(1) আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, ৭/৩৪৪।

(2) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২৪।

(3) আত-তাফসীর আল-কাবীর, ফখরুদ্দীন আর-রাযী, ১৩শ খণ্ড, ২৫শ অংশ, পৃ. ১৭৬।

(4) ফাতহুল কাদীর, আশ-শাওকানী, ৩/ ৪২১ - ৪২২।
(খণ্ড: ১) মানহাজুস সাহাবাহ ফি দাওয়াতিল মুশরিকিনা মিন গয়রি আহলিল কিতাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
6 - الآية السادسة: قوله تعالى: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا (18) وَمَغَانِمَ كَثِيرَةً يَأْخُذُونَهَا وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا}(1).

في هذه الآيات يبين الله سبحانه وتعالى ثلاث مسائل تميز بها الصحابة من أهل بيعة الرضوان.

أولى هذه المسائل هو رضا الله سبحانه وتعالى عنهم والذي أخبر عنه بقوله: {رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ}، "فيخبر تعالى بفضله ورحمته برضاه عن المؤمنين إذ يبايعون الرسول صلى الله عليه وسلم تلك المبايعة التي بيضت وجوههم"(2). {إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ} "يعني بيعة أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحديبية حين بايعوه على مناجزة قريش الحرب وعلى ألا يفروا ولا يولوهم الدبر"(3).

المسألة الثانية: تزكية الله سبحانه وتعالى لهم، وذلك بقوله: {فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ}، "ففي ذلك تزكية من الله للمؤمنين بعلمه سبحانه لما في قلوبهم من الصدق والوفاء والسمع والطاعة والصبر والوقار"(4).

ومن التزكية أيضاً تسميتهم المؤمنين في قوله: {عَنِ الْمُؤْمِنِينَ}، وهذا دليل على أن جميع من كانوا يوم بيعة الرضوان هم مؤمنون صادقون أوفياء صابرون. ولن يطلق عليهم المولى عز وجل هذه الصفة إلا أنهم بعلمه كذلك.

--------------------------------------------

(1) سورة الفتح، الآيتان: 18 - 19.

(2) تيسير الكريم الرحمن، السعدي، ص 936.

(3) جامع البيان، الطبري، 10/ 233.

(4) تفسير القرآن العظيم، ابن كثير، 13/ 105.
৬ - ষষ্ঠ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল। অতঃপর তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি অবগত হলেন, ফলে তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয়ে ভূষিত করলেন। (১৮) আর বিপুল পরিমাণ গনিমত যা তারা লাভ করবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।}(১)।

এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তিনটি বিষয় বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন।

এই বিষয়গুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো তাদের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টি, যার সংবাদ তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে দিয়েছেন: {আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন}, "অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতের মাধ্যমে মুমিনদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির সংবাদ দিচ্ছেন যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে সেই বায়আত গ্রহণ করছিল যা তাদের মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করে দিয়েছিল"(২)। {যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল} "অর্থাৎ হুদায়বিয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের বায়আত, যখন তারা কুরাইশদের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করার এবং পলায়ন না করা ও পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করার ওপর তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন"(৩)।

দ্বিতীয় বিষয়: তাদের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পবিত্রতা ঘোষণা (তাযকিয়া), আর তা হলো তাঁর বাণী: {অতঃপর তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি অবগত হলেন}, "এতে মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্রতা ঘোষণা রয়েছে, যেহেতু তিনি তাদের অন্তরে বিদ্যমান সত্যবাদিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, শ্রবণ ও আনুগত্য, ধৈর্য এবং গাম্ভীর্য সম্পর্কে অবগত"(৪)।

এই পবিত্রতা ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো তাঁর বাণীতে তাদেরকে মুমিন হিসেবে নামকরণ করা: {মুমিনদের প্রতি}, আর এটি একটি প্রমাণ যে, বায়আতে রিদওয়ানের দিন যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সকলেই সত্যবাদী, প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও ধৈর্যশীল মুমিন ছিলেন। মহান প্রতিপালক তাদের ওপর এই গুণটি আরোপ করতেন না যদি না তারা তাঁর জ্ঞানে তেমনই হতেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ১৮ - ১৯।

(২) তায়সীরুল কারীমিল রাহমান, আস-সাদী, পৃ. ৯৩৬।

(৩) জামিউল বায়ান, আত-তাবারী, ১০/ ২৩৩।

(৪) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাসীর, ১৩/ ১০৫।