0/0
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: -)
مدخل إلى علوم الشريعة   (عبد الرحمن بن عبد العزيز العقل)

القسم: كتب عامة


الكتاب: مدخل إلى علوم الشريعة

المؤلف: د. عبد الرحمن بن عبد العزيز العقل

الناشر: مركز النخب العلمية

عدد الصفحات: 94

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو الحجة 1441

শরীয়াহ বিজ্ঞানের ভূমিকা   (আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-আকল)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


বই: শরীয়াহ বিজ্ঞানের ভূমিকা

লেখক: ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-আকল

প্রকাশক: মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিইয়্যাহ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলহজ ১৪৪১

(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، والصلاة والسلام على النبي الأكرم، وآله وصحبه ومن سار على نهجهم الأقوم.

أما بعد:

فهذه سطور مختصرة، وكلمات مقتضبة، أضعها بين يدي طالب العلم الراغب في تعلم أحكام الشريعة والمبتغي دراسة علومها، وهي مقدمات لا بدَّ منها لطالب العلم كي يكون على بصيرة ودراية بما يجب عليه قبل الشروع في الطلب، ويُسهلُ عليه نيل الأرب، وليبارك الله له في علمه، ويسدد على درب العلم خطاه، وقد جاءت هذه السطور على قسمين:

القسم الأول: آداب طالب الحق وما ينبغي أن يتحلى به أثناء الطلب من صفات وخلال جميلة، وما يجب عليه أن يحاذره مما ينافي العلم ويعارضه.

القسم الثاني: نبذة يسيرة عن علوم الشريعة، وأبرز أقسامها وثمرة دراستها، مع جملة من أهم المصطلحات في كل علم.

ولا أنسى أن أشكر كل من ساهم في إخراج هذه الرسالة، والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه، وأن ينفع به عباده.

وصلى الله على نبينا محمد.

وكتبه

د. عبد الرحمن بن عبد العزيز العقل

عضو هيئة التدريس بكلية الشريعة جامعة القصيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মহিমান্বিত নবী, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যাঁরা তাঁদের সঠিক পথ অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর।

অতঃপর:

এগুলো কিছু সংক্ষিপ্ত পঙ্ক্তি ও কথা, যা আমি সেই তালিবে ইলমের সামনে উপস্থাপন করছি যে শরীয়তের বিধানাবলি (أحكام) শিখতে আগ্রহী এবং এর ইলমসমূহ অধ্যয়ন করতে চায়। এগুলো এমন কিছু ভূমিকা যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য, যাতে সে জ্ঞান অর্জন শুরু করার আগে নিজের করণীয় সম্পর্কে সঠিক অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং যা তার জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সহজ করে দেয়। আল্লাহ যেন তার ইলমে বরকত দান করেন এবং ইলমের পথে তার পদচারণাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। এই লেখাটি দুটি অংশে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম অংশ: সত্য অন্বেষণকারীর আদব এবং ইলম অর্জনের সময় তার মাঝে যেসব সুন্দর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য থাকা বাঞ্ছনীয়, আর ইলমের সাথে সাংঘর্ষিক ও এর পরিপন্থী যেসব বিষয় থেকে তাকে সতর্ক থাকতে হবে।

দ্বিতীয় অংশ: শরীয়াহর ইলমসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা, এর প্রধান বিভাগসমূহ এবং এগুলো অধ্যয়নের সুফল, সাথে প্রতিটি শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিভাষাসমূহ (مصطلحات)।

আর আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলব না যাঁরা এই পুস্তিকাটি প্রকাশে সহযোগিতা করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপকৃত করেন।

আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর।

লিখেছেন

ড. আবদুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-আকল

সদস্য, শিক্ষক মণ্ডলী, শরীয়াহ অনুষদ, কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌القسم الأول

آداب طالب العلم
প্রথম ভাগ

ইলম অন্বেষণকারীর আদব
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
الأدب قبل الطلب:

إن الأدب والتزام شيم أهل الأخلاق الحسنة هو جمال العلم، وقليلٌ من الأدب مع شيءٍ من العلم، خيرٌ من كثرة علمٍ مع ضعف أدب.

وقد كان السابقون من الأئمة يتعلمون الأدب ويحرصون عليه كحرصهم على العلم نفسه أو أشد، وكانوا يتعلمون الأدب من أشياخهم كما يتعلمون العلم.

قال الحسن بن إسماعيل: سمعت أبي يقول: «كان يجتمع في مجلس أحمد زهاء خمسة آلاف أو يزيدون، أقل من خمس مئة يكتبون، والباقون يتعلمون منه حسن الأدب، وحسن السمت»(1).

وقال أبو بكر بن المطوعي: «اختلفتُ إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل، ثنتي عشرة سنة وهو يقرأ (المسند) على أولاده، ما كتبتُ منه حديثًا واحدًا؛ إنما كنتُ أنظر إلى هديه وأخلاقه وآدابه»(2).

وكان الأئمة يرون أن الأدب هو مفتاح العلم، وأن القليل منه خيرٌ من العلم الكثير الخالي من الأدب.

قال شريك رحمه الله: «قليلٌ من الأدب خيرٌ، مِن كثيرٍ مِن العلم»(3).

وقال مخلد بن الحسين رحمه الله: «نحنُ إلى قليلٍ مِن الأدب أحوج مِنَّا إلى كثيرٍ مِن الحديث»(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن الجوزي في مناقب الإمام أحمد ص (288).

(2) المصدر السابق، الموضع نفسه.

(3) أخرجه ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (4/ 335).

(4) أخرجه الرَّامَهُرْمُزِي في المحدث الفاصل ص (559).
জ্ঞান অন্বেষণের পূর্বে শিষ্টাচার (أدب):

নিশ্চয়ই শিষ্টাচার (أدب) এবং সচ্চরিত্রবানদের বৈশিষ্ট্য ধারণ করাই হলো ইলমের সৌন্দর্য। শিষ্টাচারের (أدب) দুর্বলতাসহ অধিক ইলমের চেয়ে সামান্য ইলমের সাথে সামান্য শিষ্টাচার (أدب) থাকা অনেক উত্তম।

পূর্ববর্তী ইমামগণ শিষ্টাচার (أدب) শিখতেন এবং এর প্রতি তেমনই যত্নবান ছিলেন যেমনটি তারা ইলমের প্রতি বা তার চেয়েও বেশি যত্নবান ছিলেন। তারা তাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে ইলম শেখার পাশাপাশি শিষ্টাচারও (أدب) শিখতেন।

হাসান ইবনে ইসমাইল বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: «ইমাম আহমাদ এর মজলিসে প্রায় পাঁচ হাজার বা তারও বেশি মানুষ সমবেত হতো। তাদের মধ্যে পাঁচশরও কম লোক লিখত, আর বাকিরা তাঁর কাছ থেকে উত্তম শিষ্টাচার (أدب) এবং উত্তম গাম্ভীর্যপূর্ণ আচরণ (حسن السمت) শিখত»(১)।

আবু বকর ইবনে আল-মুতাওয়ি বলেন: «আমি দীর্ঘ বারো বছর আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলের সান্নিধ্যে যাতায়াত করেছি যখন তিনি তাঁর সন্তানদের কাছে মুসনাদ পাঠ করে শোনাতেন। আমি তা থেকে একটি হাদিসও লিখে রাখিনি; বরং আমি কেবল তাঁর চালচলন, চরিত্র এবং শিষ্টাচার (أدب) দেখতাম»(২)।

ইমামগণ মনে করতেন যে শিষ্টাচারই (أدب) হলো ইলমের চাবিকাঠি এবং শিষ্টাচারহীন অধিক ইলমের চেয়ে সামান্য শিষ্টাচার (أدب) অনেক শ্রেয়।

শারিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «সামান্য শিষ্টাচার (أدب) অধিক ইলমের চেয়ে উত্তম»(৩)।

মাখলাদ ইবনে আল-হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «প্রচুর হাদিস জানার চেয়ে আমাদের সামান্য শিষ্টাচারের (أدب) প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি»(৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল জাওজি এটি 'মানাকিবুল ইমাম আহমাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা (২৮৮)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, একই স্থান।

(৩) ইবনে আবি হাতিম এটি 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৪/ ৩৩৫)।

(৪) আর-রামাহুরমুজি এটি 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা (৫৫৯)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وكذلك كان ابن المبارك(1)، والليث بن سعد(2) يقولان هذا الكلام لطلاب العلم.

والموفق كلما ارتقى في العلم، ارتقى في الأدب وسما في الأخلاق.

قال الحسن رحمه الله: «كان الرجل يطلب العلم؛ فلا يلبث أن يُرَى ذلك في تخشعه وهديه ولسانه وبصره ويده»(3)، وفي هذا يقول الشاعر:

الْعِلْمُ نُورٌ وَجَهْلُ الْمَرْءِ غَيْهَبُهُ … فَلَيْتَنَا نَحَوَ نُورِ الْعِلْمِ نَسْتَبِقُ

فَراقدُ العلمِ أَخْلَاقٌ تُزَيِّنُهُ … فَإِنْ جَمَعْتَهُمَا لِلْمَجْدِ تَنْطَلِقُ

فَلَيْسَ يُجْدِى عَلِيمٌ دُونَمَا خُلُقٍ … وَلَيْسَ يُجْدِى خَلُوقٌ بَاتَ يَخْتَلِقُ

وَاهًَا لِكُلِّ عَلِيمٍ بَاتَ تُجْمِلُهُ … نَفْسٌ خَلُوقٌ وَبِالأَهْوَاءِ لَا تَثِقُ

وهنالك أصنافٌ من الآداب وصورٌ من محاسن الأخلاق ينبغي لطالب العلم أن يتحلى بها: أدبه مع نفسه، وأدبه مع أستاذه، وأدبه مع زملائه، وأدبه مع عامة الناس، وسنتحدث في هذه العجالة عن هذه الأنواع من الآداب بالتفصيل:

--------------------------------------------

(1) أخرجه عنه ابن المقرئ في معجمه ص (268)، وابن عساكر في تاريخ دمشق (32/ 445).

(2) أخرجه أبو طاهر السلفي في الخامس والثلاثين من المشيخة البغدادية ص (68).

(3) أخرجه ابن المبارك في الزهد والرقائق (1/ 26) رقم (79)، والبيهقي في المدخل إلى السنن الكبرى ص (321) رقم (502)، وابن عبد البر في جامع بيان العلم (1/ 258) رقم (315)، وأبو نعيم في حلية الأولياء (7/ 62)، والخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (1/ 142) رقم (175).
অনুরূপভাবে ইবনুল মুবারক(১) এবং লাইস ইবনে সাদ(২) ইলম অন্বেষণকারীদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলতেন।

আর তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইলমের ক্ষেত্রে যতই অগ্রসর হন, আদব বা শিষ্টাচারের ক্ষেত্রেও ততই উন্নত হন এবং তার চারিত্রিক মাধুর্য বৃদ্ধি পায়।

হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «এক ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করত; ফলে অচিরেই তার বিনয়, আচরণ, কথা, দৃষ্টি ও হাতের মাধ্যমে তা প্রকাশ পেত»(৩)। এই বিষয়ে কবি বলেন:

ইলম হলো আলো আর মানুষের অজ্ঞতা হলো গাঢ় অন্ধকার... অতএব আমরা যেন ইলমের আলোর পানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই।

ইলমের উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো চরিত্র যা তাকে সুশোভিত করে... যদি তুমি এ দুটির সমন্বয় ঘটাতে পারো, তবে গৌরবের উচ্চশিখরে ধাবিত হবে।

কেননা চরিত্রহীন কোনো আলেম (বিজ্ঞ ব্যক্তি) ফলদায়ক হয় না... আর সেই চরিত্রবান ব্যক্তিরও কোনো সার্থকতা নেই যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে।

চমৎকার সেই প্রত্যেক আলেমের জন্য যাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে... এমন এক চারিত্রিক সত্তা যা কুপ্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করে না।

আর ইলম অন্বেষণকারীর জন্য কয়েক প্রকারের আদব এবং উত্তম চরিত্রের দৃষ্টান্তসমূহ দ্বারা বিভূষিত হওয়া উচিত: নিজের প্রতি আদব, তার উস্তাদের প্রতি আদব, তার সহপাঠীদের প্রতি আদব এবং সাধারণ মানুষের সাথে আদব। আমরা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে এসব আদব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব:

--------------------------------------------

(১) এটি তার সূত্রে ইবনুল মুকরি তার মুজাম-এ (পৃ. ২৬৮) এবং ইবনে আসাকির তারিখ দিমাশক-এ (৩২/৪৪৫) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আবু তাহির আস-সিলাফি আল-মাশয়াখাত আল-বাগদাদিয়্যাহ-এর পঁয়ত্রিশতম খণ্ডে (পৃ. ৬৮) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক আয-যুহদ ওয়ার রাকায়েক-এ (১/২৬) নম্বর (৭৯), বায়হাকি আল-মাদখাল ইলাস সুনান আল-কুবরা-য় (পৃ. ৩২১) নম্বর (৫০২), ইবনে আব্দুল বার জামিউ বায়ানিল ইলম-এ (১/২৫৮) নম্বর (৩১৫), আবু নুআইম হিলইয়াতুল আওলিয়া-য় (৭/৬২) এবং খতিব বাগদাদি আল-জামিউ লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি-তে (১/১৪২) নম্বর (১৭৫)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌النوع الأول: أدب طالب العلم مع نفسه:

هناك آدابٌ جمةٌ ينبغي لطالب العلم أن يتأدب بها مع نفسه التي بين جنبيه، وكثير منها متعلق بواجباته الدينية، التي هي حقوق لله تعالى، وإنما نُسِبَت إليه؛ لأنه يُطالب أن يقيمها في نفسه، ويتحلى بها في أقواله وأفعاله، وسمته وهديه، ومن أهمها:

(أولاً:‌‌ إخلاص النية لله عز وجل:

اعلم يا طالب العلم أن الإخلاص سِرٌّ بين العبد وربه لا يعلمه مَلَكٌ فيكتبه، ولا بشر فيفسده، ولا هوًى فيميله؛ فإن قصدت بطلب العلم وجه الله والأجر والثواب منه ورفع الجهل عن نفسك وعن إخوانك المسلمين؛ فاعلم أن ذلك توفيقٌ إلهيٌّ، وعطاءٌ رباني فاحمد الله على ذلك، وداوم النظر في قلبك، وجاهد نفسك في مراقبة الإخلاص.

قال الحسن البصري رحمه الله: «لَا يَزَالُ الْعَبْدُ بِخَيْر؛ ٍ إِذَا قَالَ قَالَ لله، وَإِذَا عَمِلَ يَعْمَلُ لله عز وجل»(1)؛ ولهذا ينبغي أن تكون مقاصد الطلب كما يلي:

1 - إصلاح القلب والعمل بالعلم:

من أجمل ثمرات العلم أنه يصلح القلب والباطن، وهذا الإمام ابن جماعة رحمه الله يرشدك ويهمس في أذنيك ويقول: «حُسْنُ النِّيَّةِ في طَلَبِ العِلْمِ بِأَنْ يَقْصِدَ بِهِ وَجْهَ الله تَعَالى، وَالعَمَلَ بِهِ، وَتَنْوِِيرَ قَلْبِهِ، وَتَحْلِيَةَ بَاطِنِهِ،

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن المبارك في الزهد (2/ 17)، و ابن أبي شيبة في مصنفه (7/ 196).
‌‌প্রথম প্রকার: নিজের প্রতি ইলম অন্বেষণকারীর আদব:

ইলম অন্বেষণকারীর নিজের প্রতি পালনীয় বহু আদব রয়েছে যা তার আয়ত্ত করা উচিত। এগুলোর অনেকগুলোই তার ধর্মীয় কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট—যা মূলত মহান আল্লাহর প্রাপ্য হক; আর এগুলোকে তার নিজের সাথে এ কারণে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যে, সে এগুলো নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং নিজের কথা, কাজ, গাম্ভীর্য ও আদর্শে ফুটিয়ে তুলতে আদিষ্ট। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:

(প্রথমত:‌‌ মহান আল্লাহর জন্য নিয়ত বিশুদ্ধ করা:

হে ইলম অন্বেষণকারী, জেনে রেখো যে ইখলাস হলো বান্দা ও তার রবের মাঝে এক গোপন রহস্য; যা কোনো ফেরেশতা জানেন না যে তা লিখে রাখবেন, কোনো মানুষ জানে না যে তা নষ্ট করে দেবে এবং কোনো প্রবৃত্তিও তা জানে না যে সেদিকে তাকে ধাবিত করবে। যদি তুমি ইলম অর্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাঁর নিকট থেকে সওয়াব ও প্রতিদান লাভ এবং নিজের ও তোমার মুসলিম ভাইদের থেকে অজ্ঞতা দূর করার সংকল্প করো, তবে জেনে রেখো যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক এবং রব্বানী দান। সুতরাং এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো, সর্বদা নিজের অন্তরের অবস্থার দিকে দৃষ্টি রাখো এবং ইখলাস বজায় রাখতে নিজের নফসের সাথে সংগ্রাম করো।

হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বান্দা ততক্ষণ কল্যাণের ওপর থাকে, যতক্ষণ সে যখন কথা বলে আল্লাহর জন্য বলে এবং যখন কোনো কাজ করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করে"(১); একারণেই ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়:

১ - অন্তরের সংশোধন এবং ইলম অনুযায়ী আমল করা:

ইলমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফল হলো এটি অন্তর ও অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে সংশোধন করে। ইমাম ইবনে জামাআহ (রহিমাহুল্লাহ) তোমাকে এ বিষয়ে পথনির্দেশ দিয়ে তোমার কানে কানে বলছেন: "ইলম অন্বেষণে নিয়তের সৌন্দর্য হলো এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, ইলম অনুযায়ী আমল করা, নিজের অন্তরকে আলোকিত করা এবং অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে সুশোভিত করার ইচ্ছা করা,"

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন ইবনুল মুবারক তার আয-যুহদ (২/১৭) গ্রন্থে এবং ইবনে আবী শায়বাহ তার মুসান্নাফ (৭/১৯৬) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وَالْقُرْبَ مِنْ الله تَعَالى يَوْمَ القِيَامَةِ، وَالتَّعَرُّضَ لِمَا أَعَدَّ اللهُ لأَهْلِهِ مِنْ رِضْوَانِهِ وَعَظِيمِ فَضْلِهِ»(1).

فهذه من أعظم مقاصد الطلب، والمقصود أن التقرب إلى الله بالعلم من أزكى العبادات وأحبها إلى الله.

2 - رفع الجهل عن النفس:

3 - نشر العلم ونفع الغير والإحسان إلى عباد الله:

بهدايتهم وتعليمهم الدين فهذا من أعظم أنواع الإحسان، وقد قال تعالى: {وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} [البقرة:195].

4 - الدفاع عن الشريعة من خلال بث العلم ورد شبه المبطلين:

هذه المقاصد الأربعة هي ثمرة العلم، ومن أخذها بحقها أحبه الله، وجعل له القبول والهيبة بين الناس، قال ابن عباس رضي الله عنها: «لو أَنَّ حَمَلَة العلم أخذوه بحقه وما ينبغي؛ لأحبهم الله وملائكته والصالحون، ولهابهم الناس، ولكن طلبوا به الدنيا؛ فأبغضهم الله، وهانوا على الناس»(2).

يقصد بذلك: من جَرَّدَ نيته لغير الله، وأراد بطلب العلم الدنيا، أما من قصد بالعلم مقصدًا من المقاصد الأربعة السابقة، أو أراد بذلك الحصول على منصبٍ يخدم من خلاله المسلمين أو أراد بالعلم عملًا يُغني به نفسه عن سؤال الناس، ويؤدي به النفقة الواجبة لأهله، فلا يدخل في مقام الذم، وإن فاته مقصود العلم الأعظم.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص (112).

(2) أخرجه ابن عبد البر في جامع بيان العلم (1/ 655) رقم (1136).
...এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা, আর আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি ও সুমহান অনুগ্রহের যা কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন তা লাভের চেষ্টা করা»(১)।

এগুলো হলো জ্ঞান অন্বেষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য। আর এর মূল লক্ষ্য হলো ইলমের (জ্ঞানের) মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা, যা পবিত্রতম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়।

২ - নিজের থেকে অজ্ঞতা দূর করা:

৩ - জ্ঞান প্রচার করা, অন্যের কল্যাণ সাধন এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি ইহসান করা:

তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন ও দ্বীন শিক্ষার মাধ্যমে; এটি ইহসানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকার। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা ইহসান করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন} [বাকারা: ১৯৫]।

৪ - জ্ঞান প্রচারের মাধ্যমে শরীয়ত রক্ষা করা এবং বাতিলপন্থীদের সংশয় নিরসন করা:

এই চারটি লক্ষ্য হলো ইলমের প্রকৃত ফসল। যে ব্যক্তি যথাযথভাবে এগুলো গ্রহণ করবে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন এবং মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব দান করবেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: «যদি ইলমের বাহকগণ তা যথাযথভাবে এবং যেভাবে গ্রহণ করা উচিত সেভাবে গ্রহণ করতেন, তবে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং পুণ্যবান বান্দাগণ তাদের ভালোবাসতেন এবং মানুষের অন্তরে তাদের জন্য ভীতি মিশ্রিত শ্রদ্ধা থাকত। কিন্তু তারা এর মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করেছে; ফলে আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং মানুষের কাছে তারা তুচ্ছ হয়ে পড়েছে»(২)।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি তার নিয়তকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবদ্ধ করেছে এবং জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যমে দুনিয়া লাভ করতে চেয়েছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইলমের মাধ্যমে পূর্বোক্ত চারটি উদ্দেশ্যের কোনো একটি অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করে, অথবা এর মাধ্যমে এমন কোনো পদমর্যাদা লাভ করতে চায় যার দ্বারা সে মুসলিমদের সেবা করবে, অথবা ইলমের মাধ্যমে এমন কোনো পেশা গ্রহণ করতে চায় যা তাকে মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে রক্ষা করবে এবং যার দ্বারা সে তার পরিবারের জন্য অপরিহার্য ব্যয় নির্বাহ করবে, তবে সে ব্যক্তি নিন্দার পাত্র হবে না, যদিও সে ইলমের মহান লক্ষ্যটি হারিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ১১২।

(২) ইবনুল বার এটি জামে বয়ানিল ইলম গ্রন্থে (১/৬৫৫), হাদিস নং (১১৩৬) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وعن أبي يوسف رحمه الله قال: «يا قوم أريدوا بعلمكم الله؛ فإني لم أجلس مجلسًا قط أنوي فيه أن أتواضع، إلا لم أقم حتى أعْلُوهم، ولم أجلس مجلسًا قط أنوي فيه أن أعْلُوهم، إلا لم أقم حتى أفتضح»(1).

معالجة النية:

مما اتفق عليه المخلصون أن النية لا تستقيم للعبد إلا بطول تعاهد وكثرة مجاهدة.

قال سفيان الثوري رحمه الله: «ما عالجتُ شيئًا أشد علي من نيتي؛ إنها تتَقَلَّبُ عليَّ»(2).

وليس معنى ذلك أن يعزف طالب العلم عن الطلب وينقطع عنه؛ بحجة أن نيته غير خالصة، فهذا مدخلٌ من مداخل الشيطان ليصرف العبد عن العلم الشرعي، بل الواجب على طالب العلم أن يمضي في طريق الطلب، ويتدرج في سلم العلم، ويجاهد نفسه في تصحيح النية في أول الطلب وأثناء الطلب، بل في جميع مراحل الطلب، وهذه المجاهدة تعين الطالب على الإخلاص وإرادة وجه الله عز وجل.

ومع دوام المجاهدة والاجتهاد في طلب الإخلاص يوفق العبد للنية الصالحة وحسن العمل؛ لأن العلم بطبيعته يربي على الإخلاص:

قال إسحاق بن راهويه رحمه الله: «سألتُ وكيعًا عن الرجل يطلب العلم، ومن نيته أن يذاكر به ويحدث به أو نحو ذلك، أتراه يأثم في ذلك؟ قال: لا

--------------------------------------------

(1) المجموع شرح المهذب (1/ 28)

(2) أخرجه الخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (1/ 317) رقم (692).
ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের ইলমের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করো। কেননা আমি যখনই এমন কোনো মজলিসে বসেছি যেখানে আমার নিয়ত ছিল বিনয় (تواضع) অবলম্বন করা, তখনই আমি তাদের ঊর্ধ্বে আরোহণ না করা পর্যন্ত সেখান থেকে উঠিনি। আর যখনই আমি এমন কোনো মজলিসে বসেছি যেখানে আমার নিয়ত ছিল তাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করা, তখনই আমি অপমানিত না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে উঠিনি»(1).

নিয়ত সংশোধন (معالجة النية):

মুখলিস বা একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ঐকমত্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী তদারকি এবং প্রচুর আত্মপ্রচেষ্টা (مجاهدة) ব্যতীত বান্দার নিয়ত সঠিক হয় না।

সুফিয়ান আল-সাওরি (রহ.) বলেন: «আমি আমার নিয়তের চেয়ে কঠিন অন্য কোনো কিছুর চিকিৎসা (عالجت) করিনি; এটি আমার ওপর বারবার পরিবর্তিত হয়»(2).

এর অর্থ এই নয় যে, ইলম অন্বেষণকারী তার নিয়ত খাঁটি (خالصة) নয়—এই অজুহাতে ইলম অর্জন থেকে বিমুখ হবে এবং তা ছেড়ে দেবে। এটি মূলত শয়তানের অন্যতম প্রবেশপথ, যাতে সে বান্দাকে শারঈ ইলম থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। বরং ইলম অন্বেষণকারীর জন্য কর্তব্য হলো—অন্বেষণের পথে এগিয়ে চলা, ইলমের সোপানগুলোতে ধাপে ধাপে আরোহণ করা এবং ইলম অর্জনের শুরুতে, মাঝপথে তথা সকল স্তরে নিজের নিয়ত সংশোধনে নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম (مجاهدة) চালিয়ে যাওয়া। আর এই আত্মপ্রচেষ্টা (مجاهدة) ছাত্রকে ইখলাস (إخلاص) অর্জন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় সহায়তা করে।

ইখলাস (إخلاص) অর্জনে নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং সাধনা জারি রাখলে বান্দা সৎ নিয়ত ও উত্তম আমলের তাওফিক লাভ করে। কারণ, ইলম স্বভাবগতভাবেই ইখলাস (إخلاص) বা একনিষ্ঠতার ওপর গড়ে তোলে:

ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.) বলেন: «আমি ওয়াকি ইবনুল জাররাহকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে ইলম অর্জন করে এবং তার নিয়ত হলো এর মাধ্যমে মুজাকারা (يذاكر) করা এবং হাদিস বর্ণনা (يحدث) করা অথবা এই জাতীয় কিছু; আপনি কি মনে করেন সে এতে গুনাহগার হবে? তিনি বললেন: না।

--------------------------------------------

(1) আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব (১/২৮)

(2) খতিব বাগদাদি এটি আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি (১/৩১৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৬৯২)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
يا ابن أخي، حدثنا سفيان، عن حبيب بن أبي ثابت، قال: طلبنا هذا العلم، وما لنا فيه نية، ثم جاءت النية والعمل بعد»(1).

عقوبة من طلب العلم لغير الله:

من طلب العلم رياءً وسمعةً وشهرةً، أو لينال به غرضًا من عرض الدنيا فهو متوعد بالعذاب، بل ورد أنه من أول من تسعر به النار يوم القيامة:

فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ: جَرِيءٌ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ، وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: عَالِمٌ، وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِئٌ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ، وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ: هُوَ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ، ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ»(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (2/ 267) رقم (1818).

(2) أخرجه مسلم (3/ 1513) رقم (1905).
হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা এই ইলম অন্বেষণ করেছি এমতাবস্থায় যে আমাদের এতে কোনো নিয়ত ছিল না, অতঃপর পরবর্তীতে নিয়ত ও আমল এসেছে»(১).

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সন্তুষ্টির জন্য ইলম অন্বেষণকারীর শাস্তি:

যে ব্যক্তি লোকদেখানো, লোকশোনানো ও সুখ্যাতির উদ্দেশ্যে অথবা পার্থিব কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য ইলম অন্বেষণ করে, তার জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে; বরং বর্ণিত হয়েছে যে, সে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে:

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছে। তাকে (আল্লাহর দরবারে) উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন: তুমি এগুলোর বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করেছি যতক্ষণ না আমি শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি লড়াই করেছ যাতে তোমাকে 'বীর' বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যে ইলম অর্জন করেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে নিয়ে আসা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন: তুমি এগুলোর বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আমি ইলম অর্জন করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি ইলম অর্জন করেছ যাতে তোমাকে 'আলেম' বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছ যাতে তোমাকে 'ক্বারী' বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ প্রাচুর্য দান করেছেন এবং তাকে সব ধরণের সম্পদ দান করেছেন। তাকে নিয়ে আসা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন: তুমি এগুলোর বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে বলবে: আপনি পছন্দ করেন এমন কোনো পথ আমি বাদ দিইনি যেখানে আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করিনি। তিনি বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি দান করেছ যাতে তোমাকে 'দাতা' বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে»(২).

--------------------------------------------

(১) আল-খতিব আল-বাগদাদি এটি আল-জামি লি আখলাকির রাউয়ি ওয়া আদাবিস সামি গ্রন্থে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (২/ ২৬৭), নম্বর (১৮১৮)।

(২) মুসলিম এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (৩/ ১৫১৩), নম্বর (১৯০৫)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وجاء في رواية: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أُولَئِكَ الثَّلَاثَةُ أَوَّلُ خَلْقِ اللَّهِ تُسَعَّرُ بِهِمُ النَّارُ يَوْمَ القِيَامَةِ»(1).

(ثانيًا:‌‌ العمل بالعلم:

إن غاية العلم وثمرته أن يعمل به الإنسان رجاء ثواب الله، وليفوز بجنته، ولينجو من عذابه.

وقد صنف الإمام الخطيب البغدادي رحمه الله كتابًا بعنوان «اقتضاء العلم العمل»، تحدث فيه عن لزوم العمل بالعلم كما هو واضح من عنوانه، وهو جدير بالدراسة والمراجعة والمطالعة.

وسَيُسأل الإنسان يوم القيامة عن علمه ماذا صنع به، وهل عمل به أم لا؟

فعن أبي برزة الأسلمي، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ القِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَ فَعَلَ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ، وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ»(2).

قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: «هتف العلم بالعمل، فإن أجابه، وإلا ارتحل»(3)، ومعنى: (هتف)؛ أي نادى وصاح(4).

قال أبو قلابة رحمه الله: «إذا أحدث الله لك علمًا فأحدث لله عبادةً، ولا يكن همك أن تحدث به الناس»(5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي (4/ 593) رقم (2382)، وقال: حسنٌ غريب.

(2) أخرجه الترمذي في سننه (4/ 612) رقم (2417)، وقال: (حديث حسن صحيح).

(3) اقتضاء العلم العمل ص (35، 36) رقم (40).

(4) المعجم لعبد الخالق بن أسد الحنفي ص (354)

(5) أخرجه أبو نعيم في حلية الأولياء (2/ 283)، والبيهقي في المدخل إلى السنن الكبرى ص (329) رقم (527)، والخطيب البغدادي في اقتضاء العلم العمل ص (34، 35) رقم (38).
একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «হে আবু হুরায়রা, কিয়ামতের দিন আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে এই তিন ব্যক্তি দ্বারাই সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে»(১).

(দ্বিতীয়ত:‌‌ ইলম অনুযায়ী আমল করা:

ইলমের মূল লক্ষ্য ও ফলাফল হলো মানুষ আল্লাহর সওয়াবের আশায় তা অনুযায়ী আমল করবে, যাতে সে জান্নাত লাভ করতে পারে এবং তাঁর আযাব থেকে মুক্তি পায়।

ইমাম খতিব আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ) "ইকতিদাউল ইলমিল আমল" শিরোনামে একটি কিতাব রচনা করেছেন। এর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট যে, এতে তিনি ইলম অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। কিতাবটি গভীর অধ্যয়ন, পর্যালোচনা ও পাঠ করার যোগ্য।

কিয়ামতের দিন মানুষকে তার ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে তা দ্বারা কী করেছে এবং সে অনুযায়ী আমল করেছে কি না?

আবু বারযা আল-আসলামি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার উভয় পা ততক্ষণ পর্যন্ত নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে তার বয়স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে তা কিসে ব্যয় করেছে; তার ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে তা দিয়ে কী কাজ করেছে; তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে তা কোথা থেকে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে; আর তার শরীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে তা কিসে ক্ষয় করেছে»(২).

আলি ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «ইলম আমলকে আহ্বান করে; যদি সে সাড়া দেয় (তবে ইলম থাকে), নতুবা তা প্রস্থান করে»(৩), আর 'হাতাফা' শব্দের অর্থ হলো: আহ্বান করা ও উচ্চৈঃস্বরে ডাকা(৪)।

আবু কিলাবা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহ যখন তোমাকে কোনো নতুন ইলম দান করেন, তখন তুমি আল্লাহর জন্য নতুন কোনো ইবাদত শুরু করো। আর তোমার চিন্তা যেন কেবল মানুষকে সেই ইলম শোনানো না হয়»(৫)।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (৪/৫৯৩), হাদিস নং (২৩৮২), এবং তিনি বলেছেন: হাসান (حسن) গরিব (غريب)।

(২) তিরমিজি তার সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (৪/৬১২), হাদিস নং (২৪১৭), এবং তিনি বলেছেন: (হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح))।

(৩) ইকতিদাউল ইলমিল আমল, পৃষ্ঠা (৩৫, ৩৬), নং (৪০)।

(৪) আব্দুল খালিক ইবনে আসাদ আল-হানাফি প্রণীত আল-মুজাম, পৃষ্ঠা (৩৫৪)।

(৫) আবু নুয়াইম হিলয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে (২/২৮৩), বায়হাকি আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা গ্রন্থে পৃষ্ঠা (৩২৯), নং (৫২৭) এবং খতিব বাগদাদি ইকতিদাউল ইলমিল আমল গ্রন্থে পৃষ্ঠা (৩৪, ৩৫), নং (৩৮) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وإذا عَمِلَ المسلم بعلمه فاز برضا الله تعالى، ونال جنته:

اعْمَلْ بِعِلْمِكَ تَغْنَمْ أَيُّهَا الرَّجُلُ … لَا يَنْفَعُ الْعِلْمُ إِنْ لَمْ يَحْسُنِ الْعَمَلُ

وَالْعِلْمُ زَيْنٌ وَتَقَوَى اللَّهِ زِينَتُهُ … وَالْمُتَّقُونَ لَهُمْ فِي عِلْمِهِمْ شُغُلُ

تَعَلَّمِ الْعِلْمَ وَاعْمَلْ مَا اسْتَطَعْتَ بِهِ … لَا يُلْهِيَنَّكَ عَنْهُ اللَّهْوُ وَالْجَدَلُ(1)

وقد كان السلف رحمهم الله من أكثر الناس حرصًا على العمل بالعلم، ومبادرةً لتطبيقه في واقع حياتهم.

عن أبي عبد الرحمن السلمي قال: «حدثنا من كان يقرئنا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُمْ كَانُوا يَقْتَرِئُونَ مِنْ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم عَشْرَ آيَاتٍ، وَلَا يَأْخُذُونَ فِي الْعَشْرِ الْأُخْرَى حَتَّى يَعْلَمُوا مَا فِي هَذِهِ مِنَ الْعَمَلِ وَالْعِلْمِ فَإِنَّا عُلِّمْنَا الْعَمَلَ وَالْعِلْمَ. قال: فتعلمنا العلم والعمل جميعًا، وأنه سيرث القرآن بعدنا قوم يشربونه شرب الماء لا يجاوز هذا، وأشار بيده إلى حنكه»(2).

وقد مثّل السلف نماذج رائعة في المبادرة بالامتثال وسرعة تطبيق العلم:

فالإمام أبو حنيفة رحمه الله كان لا يقول بجواز المسح على الجوربين، ثم رجع إلى الجواز قبل موته بثلاثة أيام أو بسبعة، ومسح على جوربيه في مرضه، وقال لعواده: فعلت ما كنت أنهى عنه(3).

--------------------------------------------

(1) اقتضاء العلم العمل للخطيب البغدادي ص (38).

(2) أخرجه أحمد في مسنده (38/ 466) رقم (23482)، وابن أبي شيبة في المصنف (6/ 117) رقم (29929).

(3) ينظر: تبيين الحقائق شرح كنز الدقائق للزيلعي (1/ 52)، والجوهرة النيرة على مختصر القدوري للزبيدي (1/ 28).
এবং যখন কোনো মুসলিম তার অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করে, তখন সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে এবং তাঁর জান্নাত লাভ করে:

হে মানুষ! তোমার ইলম অনুযায়ী আমল করো, তবেই তুমি লাভবান হবে … ইলম কোনো উপকারে আসে না যদি আমল সুন্দর না হয়।

ইলম হলো অলঙ্কার আর আল্লাহর তাকওয়া হলো তার ভূষণ … আর মুত্তাকিদের নিকট তাদের ইলমের মাঝেই রয়েছে কর্মব্যস্ততা।

ইলম শিক্ষা করো এবং সাধ্যানুযায়ী তা দ্বারা আমল করো … খেল-তামাশা ও বিতর্ক যেন তোমাকে তা থেকে বিমুখ না করে।(১)

সালাফ (রহিমাহুমুল্লাহ) ইলম অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে এবং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগে মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক আগ্রহী ছিলেন।

আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সকল সাহাবী আমাদের কুরআন পাঠ করাতেন তারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তারা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, তখন তারা পরবর্তী দশটি আয়াতে যেতেন না যতক্ষণ না তারা সেই দশটি আয়াতের মধ্যকার আমল ও ইলম সম্পর্কে জানতেন। তিনি বলেন: অতএব আমরা ইলম ও আমল উভয়ই একত্রে শিখেছি। আর নিশ্চয়ই আমাদের পরে এমন এক কওম কুরআনের উত্তরাধিকারী হবে যারা তা পানি পান করার মতো গলধঃকরণ করবে কিন্তু তা এখান থেকে অতিক্রম করবে না (অর্থাৎ অন্তরে প্রবেশ করবে না)," এই বলে তিনি নিজের হাত দিয়ে কণ্ঠনালীর দিকে ইশারা করলেন।(২)

আনুগত্য প্রদর্শন ও ইলমের দ্রুত প্রয়োগের ক্ষেত্রে সালাফগণ চমৎকার সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন:

ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ মনে করতেন না, অতঃপর তাঁর মৃত্যুর তিন বা সাত দিন পূর্বে তিনি তাঁর এই মত থেকে ফিরে আসেন এবং অসুস্থ অবস্থায় নিজের মোজার ওপর মাসেহ করেন। তিনি তাঁর সেবাশুশ্রূষাকারীদের বলেন: "আমি আজ তা-ই করলাম যা করতে আমি নিষেধ করতাম।"(৩)

--------------------------------------------

(১) খতিব আল-বাগদাদি রচিত ইক্তিদাউল ইলমিল আমাল, পৃষ্ঠা (৩৮)।

(২) আহমদ তাঁর মুসনাদ (৩৮/ ৪৬৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর (২৩৪৮২); এবং ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ (৬/ ১১৭) গ্রন্থে, নম্বর (২৯৯২৯)।

(৩) দেখুন: যায়লায়ি রচিত তাবয়ীনুল হাকায়িক শারহু কানযিদ দাকায়িক (১/ ৫২), এবং জুবায়দি রচিত আল-জাওহারাতুন নাইয়িরা আলা মুখতাসারি আল-কুদুরি (১/ ২৮)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهذا الإمام مالك رحمه الله: نقل عنه ابن وهب قال: «سمعتُ مالكًا سُئِلَ عن تخليل أصابع الرجلين في الوضوء، فقال: ليس ذلك على الناس، قال: فتركته حتى خَفَّ الناس، فقلت له: عندنا في ذلك سنة، فقال: وماهي؟ قلت: حدثنا الليث ابن سعد وابن لهيعة وعمرو بن الحارث، عن يزيد بن عمرو المعافري، عن أبي عبد الرحمن الحبلي، عن المستورد بن شداد القرشي قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يدلك بخنصره ما بين أصابع رجليه. فقال: إن هذا الحديث حسن، وما سمعتُ به قط إلا الساعة. ثم سمعته بعد ذلك يسأل فيأمر بتخليل الأصابع»(1).

وأما الإمام الشافعي؛ فالمثال فيه أوضح وأكبر؛ فقد اشتهر عنه المذهب القديم في العراق، والجديد في مصر، وقد رجع في مذهبه الجديد عن مذهبه القديم إلا مسائل يسيرة أوصلها بعضهم إلى سبع عشرة مسألة، وأوصلها آخرون إلى نيف وثلاثين مسألة، وذلك لوقوفه على الدليل الصحيح.

وهذا الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله، لم يكتب عن النبي صلى الله عليه وسلم حديثًا إلا بعد ما عمل به، قال الْمَرْوَذِي: قال لي أحمد: «ما كتبتُ حديثًا عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا وقد عملتُ به، حتى مَرَّ بي الحديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجم، وأعطى أبا طيبة دينارًا، فأعطيتُ الحجام دينارًا حتى احتجمت»(2).

وقد جاء الوعيد الشديد على من لم يعمل بعلمه، عن أسامة بن زيد رضي الله عنها،

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (1/ 31، 32)، ومن طريقه الخليلي في الإرشاد (1/ 400) رقم (97).

(2) أخرجه الخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (1/ 144) رقم (184).
আর এই যে ইমাম মালিক (রহ.), তাঁর সম্পর্কে ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আমি মালিককে ওযুর সময় পায়ের আঙ্গুলগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে খিলাল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি। তিনি বললেন: এটি মানুষের জন্য আবশ্যক নয়। ইবনে ওয়াহাব বলেন: তাই আমি তাঁকে একা পাওয়া পর্যন্ত মানুষ চলে যাওয়ার অপেক্ষা করলাম। এরপর আমি তাঁকে বললাম: আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি সুন্নাহ (سنة) রয়েছে। তিনি বললেন: সেটি কী? আমি বললাম: আমাদের কাছে লায়স ইবনে সাদ, ইবনে লাহিয়াহ এবং আমর ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আমর আল-মা’আফিরি থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ আল-কুরাশি থেকে, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কনিষ্ঠাঙ্গুলি দিয়ে পায়ের আঙ্গুলগুলোর মাঝে মালিশ করতে দেখেছি। তখন তিনি বললেন: এই হাদিসটি উত্তম (حسن), আর আমি এই মুহূর্তের আগে এটি কখনোই শুনিনি। এরপর আমি তাঁকে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি এবং তিনি আঙ্গুল খিলাল করার নির্দেশ দিচ্ছিলেন।»(1).

আর ইমাম শাফি'ঈর ক্ষেত্রে উদাহরণটি আরও স্পষ্ট ও ব্যাপক। তাঁর ইরাকের পুরনো মাযহাব এবং মিশরের নতুন মাযহাব সুপরিচিত। তিনি তাঁর নতুন মাযহাবে পুরনো মাযহাবের সিদ্ধান্তসমূহ থেকে ফিরে এসেছিলেন, তবে অল্প কিছু মাসআলা ব্যতীত; যা কেউ কেউ সতেরোটি পর্যন্ত এবং অন্যরা তিরিশের কিছু বেশি পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। আর এটি ছিল তাঁর বিশুদ্ধ (صحيح) দলিলের ওপর অবগত হওয়ার কারণে।

আর এই যে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.), তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদিস সেটির ওপর আমল করা ব্যতীত লিখতেন না। আল-মারওয়াযি বলেন: আহমাদ আমাকে বলেছেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোনো হাদিস লিখিনি যার ওপর আমি আমল করিনি। এমনকি যখন আমার কাছে এই হাদিসটি পৌঁছাল যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙা লাগিয়েছিলেন এবং আবু তাইবাহকে এক দিনার প্রদান করেছিলেন, তখন আমিও শিঙা লাগিয়েছিলাম এবং শিঙা দানকারীকে এক দিনার প্রদান করেছিলাম যাতে আমি হাদিসটির ওপর আমল করতে পারি।»(2).

এবং যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তার জন্য কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত,

--------------------------------------------

(1) এটি ইবনে আবি হাতিম আল-জারহ ওয়াত তাদিল (১/ ৩১, ৩২) গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে আল-খলিলি আল-ইরশাদ (১/ ৪০০) নং (৯৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(2) এটি খতিব আল-বাগদাদি আল-জামি' লি-আখলাক আল-রাবি ওয়া আদাব আস-সামি' (১/ ১৪৪) নং (১৮৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ(1) أَقْتَابُ بَطْنِهِ(2)، فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِالرَّحَى، فَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ أَهْلُ النَّارِ، فَيَقُولُونَ: يَا فُلَانُ مَا لَكَ؟ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ فَيَقُولُ: بَلَى، قَدْ كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ، وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ»(3).

قال أبو الدرداء رضي الله عنه: «إنك لن تكون عالمًا حتى تكون متعلمًا، ولن تكون متعلمًا حتى تكون بما علمت عاملًا»(4).

وقال ابن رسلان رحمه الله:

وَعَالِمٌ بِعِلْمِهِ لَمْ يَعْمَلَنْ … مُعَذَّبٌ مِنْ قَبْلِ عُبَّادِ الصَّنَمْ

(ثالثًا:‌‌ خشية الله والخوف منه:

العلم النافع هو الذي يربي النفس، ويطهرها من الصفات الرديئة، ويورث الخشية لله، والتواضع لخلقه، فيكون صاحبه مثالًا حسنًا في الناس، وقدوةً صالحةً في الأقوال والأفعال(5).

يقول الله تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر:28].

--------------------------------------------

(1) اندلق: من الاندلاق، وهو خروج الشيء من مكانه وكل شيء ندر خارجًا فقد اندلق. ينظر: غريب الحديث لأبي عبيد (2/ 31)، تهذيب اللغة للأزهري (9/ 45).

(2) الأقتاب: جمع قتب، وهي الأمعاء. ينظر: غريب الحديث لأبي عبيد (2/ 30)، وتهذيب اللغة للأزهري (9/ 69).

(3) أخرجه البخاري (4/ 121) رقم (3267)، ومسلم (4/ 2290) رقم (2989).

(4) أخرجه وكيع في كتاب الزهد ص (470) رقم (220)، والدارمي في سننه (1/ 337) رقم (301)، والبيهقي في المدخل إلى السنن الكبرى ص (315) رقم (488).

(5) موارد الظمآن لدروس الزمان (4/ 516) بتصرف.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «কিয়ামত দিবসে এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তার পেটের নাড়িভুঁড়ি(১) বের হয়ে আসবে(২); এরপর সে তা নিয়ে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা যাঁতাকল নিয়ে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামীরা তার কাছে একত্রিত হয়ে বলবে: হে অমুক! তোমার কী হলো? তুমি কি আমাদের সৎ কাজের আদেশ দিতে না এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে: অবশ্যই, আমি তোমাদের সৎ কাজের আদেশ দিতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না, আর তোমাদের অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতাম অথচ নিজে তা করতাম»(৩).

আবু আদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি তালিবে ইলম বা শিক্ষার্থী হবে, আর তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত শিক্ষার্থী হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি যা শিখেছ সে অনুযায়ী আমল করবে»(৪).

ইবনে রুসলান রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

আর যে আলেম তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না … সে মূর্তিপূজকদের পূর্বেই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে

(তৃতীয়ত:‌‌ আল্লাহর প্রতি গভীর ভীতি ও ভয়:

উপকারী ইলম হলো তা-ই যা নফসকে গড়ে তোলে এবং একে মন্দ গুণাবলী থেকে পবিত্র করে; আর তা আল্লাহর প্রতি ভীতি ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিনয় সৃষ্টি করে। ফলে ইলমের অধিকারী ব্যক্তি মানুষের মাঝে এক উত্তম আদর্শ এবং কথা ও কাজে এক নেককার নমুনা হিসেবে গণ্য হন(৫).

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে} [ফাতির: ২৮]।

--------------------------------------------

(১) ইন্দালাক: এটি 'আল-ইন্দিলাক' থেকে আগত, যার অর্থ কোনো বস্তু তার নিজ স্থান থেকে বিচ্যুত হওয়া। যা কিছু বাইরে বেরিয়ে আসে তাকেই 'ইন্দালাক' বলা হয়। দেখুন: আবু উবাইদ রচিত গারিবুল হাদিস (২/ ৩১), আজহারি রচিত তাহজিবুল লুগাহ (৯/ ৪৫)।

(২) আল-আকতাব: এটি 'কাতাব'-এর বহুবচন, যার অর্থ নাড়িভুঁড়ি। দেখুন: আবু উবাইদ রচিত গারিবুল হাদিস (২/ ৩০), আজহারি রচিত তাহজিবুল লুগাহ (৯/ ৬৯)।

(৩) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) বুখারি (৪/ ১২১) নম্বর (৩২৬৭), এবং মুসলিম (৪/ ২২৯০) নম্বর (২৯৮৯)।

(৪) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) ওয়াকি তার কিতাবুজ জুহদ পৃষ্ঠায় (৪৭০) নম্বর (২২০), দারেমি তার সুনানে (১/ ৩৩৭) নম্বর (৩০১), এবং বায়হাকি আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা গ্রন্থে পৃষ্ঠায় (৩১৫) নম্বর (৪৮৮)।

(৫) মাওয়ারিদুজ জামআন লি-দুরুসিজ জামান (৪/ ৫১৬) সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
«أي إنما يخشاه حق خشيته العلماء العارفون به؛ لأنه كلما كانت المعرفة للعظيم القدير العليم الموصوف بصفات الكمال المنعوت بالأسماء الحسنى، كلما كانت المعرفة به أتم والعلم به أكمل كانت الخشية له أعظم وأكثر»(1).

قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: «ليس العلم رواية الحديث، ولكن العلم الخشية»(2).

وقال يحيى بن أبي كثير رحمه الله: «العالم من خشي الله، وخشية الله الورع»(3).

وقال مالك رحمه الله: «إن العلم ليس بكثرة الرواية، إنما العلم نور يجعله الله في القلب»(4).

(رابعًا:‌‌ البعد عن المعاصي:

يجب على طالب العلم أن يبتعد عن معصية الله تعالى، وأن يتجنب موارد المهالك، ويحذر مسالك الموبقات، فإن المعاصي تهلك صاحبها، وترديه في وادٍ سحيق.

وما من مصيبة تحل بالعبد إلا بسبب معصية ارتكبها، قال الله تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} [الشورى:30].

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير (6/ 482).

(2) أخرجه يحيى بن سلام في تفسيره (2/ 786).

(3) أخرجه البيهقي في المدخل إلى السنن الكبرى ص (322) رقم (505) وأبو نعيم في حلية الأولياء (3/ 67).

(4) أخرجه الرَّامَهُرْمُزِي في المحدث الفاصل ص (558)، والخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (2/ 174) رقم (1526).
«অর্থাৎ, কেবল আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক প্রজ্ঞাবান আলেমগণই তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করেন; কারণ পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত এবং সুন্দরতম নামসমূহে ভূষিত মহান, পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞাত সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান যত বেশি পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত হবে, তাঁর প্রতি ভয় ততই সুমহান ও গভীর হবে»(১).

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «ইলম (জ্ঞান) কেবল প্রচুর হাদিস বর্ণনা (رواية) করার নাম নয়, বরং প্রকৃত ইলম হলো আল্লাহর প্রতি ভয়»(২).

ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন: «আলেম তিনিই যিনি আল্লাহকে ভয় করেন, আর আল্লাহর ভয়ই হলো পরহেজগারি (الورع)»(৩).

ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেন: «নিশ্চয়ই ইলম প্রচুর বর্ণনা (رواية) করার নাম নয়; বরং ইলম হলো একটি নূর (আলো), যা আল্লাহ হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত করেন»(৪).

(চতুর্থ:‌‌ পাপাচার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা:

একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো মহান আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা, ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলো পরিহার করা এবং পাপাচারের পথগুলো থেকে সতর্ক থাকা। কেননা পাপাচার তার লিপ্তকারীকে ধ্বংস করে দেয় এবং তাকে গভীর গহ্বরে নিক্ষেপ করে।

বান্দার ওপর যে বিপদই আপতিত হয়, তা তার কৃত কোনো পাপের কারণেই হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের ওপর যে বিপদ-আপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন} [আশ-শুরা: ৩০]।

--------------------------------------------

(১) তাফসির ইবনে কাসির (৬/ ৪৮২)।

(২) ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লাম এটি তাঁর তাফসির (২/ ৭৮৬) গ্রন্থে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(৩) আল-বায়হাকি তাঁর আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা (পৃ. ৩২২, নং ৫০৫) এবং আবু নুয়াইম হিলয়াতুল আউলিয়া (৩/ ৬৭) গ্রন্থে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(৪) আর-রামাহুরমুজি আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (পৃ. ৫৫৮) এবং খতিব বাগদাদি আল-জামি লি আখলাকির রাবি ওয়া আদাবিস সামি (২/ ১৭৪, নং ১৫২৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال ابن الجوزي رحمه الله: «واعلم أن المعاصي تسد أبواب الرزق، وأن من ضيع أمر الله ضيعه الله»(1).

وليس شيء أنفع لطالب العلم في حفظ علمه، وقوة فهمه واستحضاره وإدراكه من خشية الله والابتعاد عن المعاصي.

قال وكيع رحمه الله: «استعينوا على الحفظ بترك المعصية»(2).

وقال ابن حبان رحمه الله: «وإن من أجود ما يستعين المرء به على الحفظ الطبع الجيد مع الهمة، واجتناب المعاصي»(3).

وقال النووي -متحدثًا عن آداب طالب العلم-: «وينبغي أن يطهر قلبه من الأدناس ليصلح لقبول العلم وحفظه واستثماره»(4).

ومن ركن إلى المعصية، واستمرأ الذنوب نسي علمه واختلط ذهنه وعوقب بكثرة النسيان:

قال ابن مسعود رضي الله عنه: «إني لأحسب العبد ينسى العلم كان يعلمه بالخطيئة يعملها»(5).

ورحم الله الإمام الشافعي حين قال:

--------------------------------------------

(1) صيد الخاطر ص (450، 451).

(2) أخرجه ابن حبان في روضة العقلاء ص (39).

(3) المرجع السابق الموضع نفسه.

(4) المجموع شرح المهذب (1/ 35).

(5) أخرجه الدارمي في مسنده (1/ 379) رقم (388)، وأبو داود في الزهد ص (168) رقم (169)، وابن عبد البر في جامع بيان العلم (1/ 675) رقم (1195)، وزهير بن حرب في كتاب العلم ص (31) رقم (132)، والخطيب البغدادي في اقتضاء العلم العمل ص (61).
ইবনুল জাওজি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «জেনে রেখো যে, পাপাচার রিজিকের পথগুলো রুদ্ধ করে দেয় এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশকে অবহেলা করে, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন»(১).

ইলম সংরক্ষণ, বোধশক্তির প্রখরতা এবং তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আল্লাহর ভয় এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকার চেয়ে অধিক উপকারী আর কিছু নেই।

ওয়াকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «পাপাচার বর্জনের মাধ্যমে মুখস্থকরণের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করো»(২).

ইবনে হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «একজন ব্যক্তি মুখস্থকরণের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের মাধ্যমে সর্বোত্তম সাহায্য পেতে পারে, তা হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে উন্নত স্বভাব এবং পাপাচার বর্জন»(৩).

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) —ইলম অন্বেষণকারীর আদব সম্পর্কে বলতে গিয়ে— বলেছেন: «উচিত হলো অন্তরকে যাবতীয় পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করা যাতে তা ইলম গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং তার সুফল লাভের যোগ্য হয়»(৪).

আর যে ব্যক্তি পাপাচারের ওপর নির্ভর করে এবং গুনাহে অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে তার অর্জিত ইলম ভুলে যায়, তার চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে অধিক বিস্মৃতির মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়:

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «আমি মনে করি, বান্দা তার কৃত পাপের কারণেই সেই ইলম ভুলে যায় যা সে জানত»(৫).

ইমাম শাফেয়ির ওপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন যখন তিনি বলেছিলেন:

--------------------------------------------

(১) সায়দুল খাতির, পৃষ্ঠা (৪৫০, ৪৫১)।

(২) ইবনে হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন রাওজাতুল উকালা গ্রন্থে, পৃষ্ঠা (৩৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, একই স্থান।

(৪) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৫)।

(৫) দারেমি এটি তার মুসনাদ (১/ ৩৭৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৩৮৮); আবু দাউদ আজ-জুহদ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা (১৬৮), নম্বর (১৬৯); ইবনে আবদিল বার জামে বয়ানিল ইলম (১/ ৬৭৫) গ্রন্থে, নম্বর (১১৯৫); যুহাইর ইবনে হারব কিতাবুল ইলম গ্রন্থে, পৃষ্ঠা (৩১), নম্বর (১৩২); এবং খাতিব বাগদাদি ইক্তিজাউল ইলমিল আমাল গ্রন্থে, পৃষ্ঠা (৬১)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
شَكَوتُ إِلى وَكيعٍ سوءَ حِفظي … فَأَرشَدَني إِلى تَركِ المَعاصي

وَأَخبَرَني بِأَنَّ العِلمَ نورٌ … وَنورُ الله لا يُهدى لِعاصي

(خامسًا:‌‌ العبادة والذكر:

إن استدامة ذكر الله واستغفاره والثناء عليه من أجمل صور العبودية، وأسباب نقاء القلب وصحته وصفائه وطمأنينته {الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} [الرعد:28].

إن ذكر الله يعمر القلب نورًا ويملؤه سرورًا، بل إن القلب من دونه في ظلام وظلمة؛ لأن «في القلب خلة وفاقة لا يسدها شيء البته إلا ذكر الله عز وجل، فإذا صار شعار القلب بحيث يكون هو الذاكر بطريق الأصالة واللسان تبع له، فهذا هو الذكر الذي يسد الخلة ويفني الفاقة، فيكون صاحبه غنيًّا بلا مال، عزيزًا بلا عشيرة، مهيبًا بلا سلطان، فإذا كان غافلًا عن ذكر الله عز وجل فهو بضد ذلك، فقير مع كثرة جِدَتِه، ذليل مع سلطانه، حقير مع كثرة عشيرته»(1).

وطالب العلم أولى الناس بالمحافظة على ذكر الله تعالى، وأن يكون له رصيد من السنن والنوافل والصيام وقيام الليل، وقراءة القرآن الكريم.

ويقبح بطالب العلم أن يكون مقصرًا في عباداته، فعن أبي عصمة عاصم بن عصام البيهقي قال: «بِتُّ ليلةً عند أحمد بن حنبل، فجاء بالماء

--------------------------------------------

(1) الوابل الصيب ص (139 - 140).
আমি ওয়াকি’র কাছে আমার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) সম্পর্কে অভিযোগ জানালাম … তিনি আমাকে পাপাচার ত্যাগের পরামর্শ দিলেন

তিনি আমাকে জানালেন যে, ইলম (জ্ঞান) হলো নূর … আর আল্লাহর নূর কোনো পাপাচারীকে দান করা হয় না

(পঞ্চম:‌‌ ইবাদত ও জিকির:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর জিকির, ইস্তিগফার এবং তাঁর প্রশংসা সর্বদা অব্যাহত রাখা দাসত্বের (উবুদিয়্যাত) অন্যতম সুন্দর রূপ এবং অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, সুস্থতা, স্বচ্ছতা ও প্রশান্তির অন্যতম কারণ {যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়} [আর-রাদ: ২৮]।

নিশ্চয়ই আল্লাহর জিকির অন্তরকে নূর দিয়ে আবাদ করে এবং আনন্দে পরিপূর্ণ করে দেয়, বরং জিকির ছাড়া অন্তর অন্ধকার ও তমসায় আচ্ছন্ন থাকে; কারণ «অন্তরে এমন এক রিক্ততা ও অভাব রয়েছে যা মহান আল্লাহর জিকির ছাড়া কোনো কিছু দিয়েই দূর করা সম্ভব নয়। যখন জিকির অন্তরের এমন অভ্যাসে পরিণত হয় যে অন্তরই হয় মূলত জিকিরকারী আর জিহ্বা হয় তার অনুসারী, তবে এটিই সেই জিকির যা রিক্ততা দূর করে এবং অভাব মোচন করে। ফলে এর অধিকারী ব্যক্তি সম্পদ ছাড়াই ধনী হয়, আত্মীয়-স্বজন ছাড়াই সম্মানিত হয় এবং ক্ষমতা ছাড়াই প্রভাবশালী হয়। আর যখন সে আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হয়, তখন সে এর বিপরীত অবস্থার সম্মুখীন হয়; অঢেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সে দরিদ্র, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে লাঞ্ছিত এবং অনেক আত্মীয়-স্বজন থাকা সত্ত্বেও সে তুচ্ছ হিসেবে গণ্য হয়»(১)।

আর ইলম অন্বেষণকারী বা তালিবে ইলম আল্লাহর জিকিরের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ব্যাপারে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। তার উচিত সুন্নাতসমূহ, নফল ইবাদতসমূহ, সিয়াম, কিয়ামুল লাইল এবং কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে নিজের একটি নিয়মিত অংশ বা পাথেয় রাখা।

একজন তালিবে ইলমের জন্য তার ইবাদত-বন্দেগিতে অবহেলা করা অত্যন্ত অশোভন। আবু আসমাহ আসিম ইবনে আসিম আল-বায়হাকি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি একরাত আহমাদ বিন হাম্বলের নিকট কাটালাম, তখন তিনি পানি নিয়ে আসলেন...»

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব, পৃষ্ঠা (১৩৯ - ১৪০)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فوضعه، فلما أصبح نظر إلى الماء فإذا هو كما كان، فقال: سبحان الله! رجل يطلب العلم لا يكون له وِرْدٌ مِن الليل؟!»(1).

بل كان السلف رحمهم الله يستعينون على حفظ العلم بالعبادة ويتقربون إلى الله بها ليفتح لهم مغاليق العلم.

قال إبراهيم بن إسماعيل: «كان أصحابنا يستعينون على طلب الحديث بالصوم»(2).

(سادسًا:‌‌ الإقبال على الله بكثرة الدُّعاء:

إن الدعاء هو لُب التَّعبد، وخالص العِبادة؛ لما ينطوي عليه من الافتقار التام لله، والذُّل بين يديه، وهو أنفع عبوديات القلب وأكثرها تأثيرًا فيه، ولا سيما إذا حضر قلب الداعي، واستحضر معاني ما يدعو به، فإذا كانت تلك الدعوات والابتهالات مما أخبر الله عز وجل به من أدعية صفوة خلقه كانت أنجع شيءٍ للقلب؛ لما تشتمل عليه من مجامع الدعاء، وصدق التذلل، واستحضار معاني الربوبية؛ ولهذا كانوا يُصدِّرون أدعيتهم بقولهم: «ربنا».

وأكثر أدعية القرآن كذلك، تأتي مُصدَّرة بالتوسل إلى الله بربوبيته، والدَّاعي حينما يدعو الله مُتوسلًا بربوبيته يَحسن له استحضار معنى تربية الله العامة، وهي: الخلق والتدبير، ومعنى التربية الخاصة، وهي: ولايته لخيار خلقه، ولطفه بهم وإصلاحه لدينهم ودنياهم، وذلك لإقبالهم على ربهم، وضراعتهم بين يديه.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البيهقي في المدخل إلى السنن الكبرى ص (330) رقم (530)، والخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (1/ 143) رقم (178).

(2) أخرجه الخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (1/ 143) رقم (177).
তিনি তা রেখে দিলেন। যখন ভোর হলো, তিনি পানির দিকে তাকালেন এবং দেখলেন যে তা আগের মতোই আছে। তখন তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! ইলম অন্বেষণকারী কোনো ব্যক্তির কি রাতের কোনো অজিফা থাকবে না?!"(১).

বরং সালাফ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) ইবাদতের মাধ্যমে ইলম সংরক্ষণে সাহায্য নিতেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতেন যেন তিনি তাঁদের জন্য ইলমের রুদ্ধ দ্বারগুলো খুলে দেন।

ইবরাহিম ইবনে ইসমাইল বলেন: "আমাদের সাথীরা রোজা রাখার মাধ্যমে হাদিস অন্বেষণে সাহায্য নিতেন"(২).

(ষষ্ঠত:‌‌ অধিক দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর অভিমুখী হওয়া:

নিশ্চয়ই দোয়া হলো ইবাদতের মূল নির্যাস এবং বিশুদ্ধতম উপাসনা; কারণ এতে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর সামনে চরম বিনয় নিহিত থাকে। এটি অন্তরের ইবাদতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপকারী এবং সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী, বিশেষ করে যখন দোয়াকারীর অন্তর উপস্থিত থাকে এবং সে যা প্রার্থনা করছে তার মর্মার্থ অনুধাবন করে। সুতরাং, এই দোয়া ও আকুতিগুলো যদি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বর্ণিত তাঁর শ্রেষ্ঠ মাখলুকের দোয়াসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা অন্তরের জন্য সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে; কারণ এতে দোয়ার ব্যাপকতা, সত্যনিষ্ঠ বিনয় এবং রুবুবিয়্যাতের মর্মার্থ উপস্থিত থাকে। একারণেই তাঁরা তাঁদের দোয়া "রব্বানা" (হে আমাদের প্রতিপালক) বলে শুরু করতেন।

কুরআনের অধিকাংশ দোয়াও অনুরূপ, যা আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের মাধ্যমে তাঁর নিকট ওয়াসিলা গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয়। দোয়াকারী যখন আল্লাহর রুবুবিয়্যাতকে ওয়াসিলা হিসেবে গ্রহণ করে প্রার্থনা করেন, তখন তাঁর জন্য আল্লাহর সাধারণ তরবিয়ত বা লালন-পালনের অর্থটি স্মরণ করা কল্যাণকর, আর তা হলো: সৃষ্টি ও পরিচালনা। এবং বিশেষ তরবিয়তের অর্থটিও স্মরণ করা উচিত, আর তা হলো: তাঁর মনোনীত বান্দাদের জন্য তাঁর অভিভাবকত্ব, তাঁদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ এবং তাঁদের দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন। আর এটি ঘটে থাকে তাঁদের রবের প্রতি একাগ্রতা এবং তাঁর সামনে আকুতি-মিনতির কারণে।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বাইহাকি আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা গ্রন্থে (পৃ. ৩৩০, নং ৫৩০) এবং খতিব বাগদাদি আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি গ্রন্থে (১/১৪৩, নং ১৭৮)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন খতিব বাগদাদি আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি গ্রন্থে (১/১৪৩, নং ১৭৭)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ويَحْسنُ بالداعي أن يدعو بدعاء الراسخين في العلم؛ لأنه سبحانه حينما أثنى عليهم ذكر دعوتهم: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ} [آل عمران:8]، فتوسلوا إلى الله بربوبيته أن يمنحهم استقامة القلوب وثباتها على مراضي الله، وحفظها من الزيغ، والنكوص عن الهداية(1).

(سابعًا:‌‌ استحضار مِنَّة الله وفضله:

إن طالب العلم الموفق هو من يديم استحضار مشاهد مِنَنِ ربه عليه، التي لا يحصيها كتاب ولا يعدها عاد؛ لأنها قد طوقت المؤمن طوقًا يملأ الأرض والسماء، فهو الذي أفاض عليه نعمًا أعلاها نعمة الاهتداء التي يعجز اللسان عن الوفاء بقدرها، إذ أخرجه ربه بها من ظلمة الضلال إلى نور الهداية وفسيح الإيمان، «يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ، فَاسْتَهْدُونِي أَهْدِكُمْ»(2).

لذا عتب الله على من غفل عن مشاهدة مننه، فقال: {يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُلْ لَا تَمُنُّوا عَلَيَّ إِسْلَامَكُمْ بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ} [الحجرات:17].

إنها التربية القرآنية التي تُجرد القلب من الاستعلاء وتمحو عنه مسارب الإدلال، وتملؤه إجلالًا لله واعترافًا بفضله ومنته، كما فقه ذلك أولو العزم والفضل من أمثال عمر رضي الله عنه حينما طُعن وقال له عبدالله بن عباس رضي الله عنها مواسيًا: «يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، وَلَئِنْ كَانَ ذَاكَ، لَقَدْ صَحِبْتَ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ، ثُمَّ فَارَقْتَهُ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ، ثُمَّ صَحِبْتَ أَبَا بَكْرٍ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ،

--------------------------------------------

(1) ينظر: المواهب الربانية من الآيات القرآنية للسعدي ص (56 - 58).

(2) أخرجه مسلم (4/ 1994) رقم (2577) من حديث أبي ذر رضي الله عنه.
একজন দোয়াকারীর জন্য জ্ঞানে সুগভীর পাণ্ডিত্য সম্পন্নদের দোয়ার ন্যায় দোয়া করা উত্তম; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু যখন তাঁদের প্রশংসা করেছেন, তখন তাঁদের দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন: {হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যবিচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের করুণা দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা।} [আল ইমরান: ৮]। সুতরাং তাঁরা আল্লাহর রুবুবিয়াতের অসিলায় তাঁর নিকট প্রার্থনা করেছেন যেন তিনি তাঁদের অন্তরসমূহকে সুস্থিরতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর অটলতা দান করেন, আর অন্তরকে সত্যবিচ্যুতি ও হেদায়েত থেকে বিমুখ হওয়া থেকে রক্ষা করেন।(১).

(সপ্তম:‌‌ আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া হৃদয়ে জাগ্রত রাখা:

নিশ্চয়ই তাওফিকপ্রাপ্ত ইলম অন্বেষণকারী সেই ব্যক্তি, যে তার ওপর তার রবের অনুগ্রহসমূহ সর্বদা হৃদয়ে জাগ্রত রাখে, যা কোনো কিতাব গণনা করে শেষ করতে পারবে না এবং কোনো গণনাকারী তা গুনে শেষ করতে পারবে না; কেননা তা মুমিনকে এমন এক বেষ্টনীতে আবদ্ধ করেছে যা আসমান ও জমিনকে পূর্ণ করে দেয়। তিনিই (আল্লাহ) তার ওপর এমন নেয়ামতরাজি বর্ষণ করেছেন যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো হেদায়েত প্রাপ্তির নেয়ামত, যার যথার্থ মর্যাদা প্রদানে জিহ্বা অক্ষম। কারণ তার রব এর মাধ্যমেই তাকে গোমরাহির অন্ধকার থেকে হেদায়েতের আলো এবং ঈমানের প্রশস্ততার দিকে বের করে এনেছেন, "হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলেই পথভ্রষ্ট, কেবল সে ব্যতীত যাকে আমি হেদায়েত দান করেছি। সুতরাং তোমরা আমার নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের হেদায়েত দান করব।"(২).

একারণেই আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর অনুযোগ করেছেন যে তাঁর অনুগ্রহ অবলোকন করতে গাফেল থাকে। তিনি বলেছেন: {তারা ইসলাম গ্রহণ করে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমরা তোমাদের ইসলাম গ্রহণকে আমার ওপর অনুগ্রহ মনে করো না; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হেদায়েত দান করে তোমাদের ধন্য করেছেন।} [আল-হুজুরাত: ১৭]।

এটিই হলো সেই কুরআনি তারবিয়াত যা অন্তরকে উচ্চাভিলাষ থেকে মুক্ত করে এবং বড়ত্ব প্রকাশের পথকে মুছে দেয়, আর একে আল্লাহর মহিমা ও তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের স্বীকৃতিতে পূর্ণ করে দেয়। যেমনটি উপলব্ধি করেছিলেন দৃঢ়সংকল্প ও ফযিলতের অধিকারী ব্যক্তিগণ, যেমন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যখন তিনি ছুরিকাহত হলেন তখন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! যদি তাই ঘটে, তবে অবশ্যই আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাঁর উত্তম সহচর ছিলেন, অতঃপর তিনি আপনার ওপর সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় আপনি তাঁর থেকে বিদায় নিয়েছেন। এরপর আপনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাঁরও উত্তম সহচর ছিলেন,

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য (ينظر): আস-সাদির আল-মাওয়াহিবুর রব্বানিয়্যাহ মিনাল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ, পৃ. (৫৬ - ৫৮)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) মুসলিম (৪/ ১৯৯৪), নম্বর (২৫৭৭), আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ثُمَّ فَارَقْتَهُ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ، ثُمَّ صَحِبْتَهُمْ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُمْ، وَلَئِنْ فَارَقْتَهُمْ لَتُفَارِقَنَّهُمْ وَهُمْ عَنْكَ رَاضُونَ»، قال: «أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم وَرِضَاهُ، فَإِنَّمَا ذَاكَ مَنٌّ مِنَ الله تَعَالَى مَنَّ بِهِ عَلَيَّ، وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ أَبِي بَكْرٍ وَرِضَاهُ، فَإِنَّمَا ذَاكَ مَنٌّ مِنَ الله جَلَّ ذِكْرُهُ مَنَّ بِهِ عَلَيَّ، وَأَمَّا مَا تَرَى مِنْ جَزَعِي فَهُوَ مِنْ أَجْلِكَ وَأَجْلِ أَصْحَابِكَ، وَالله لَوْ أَنَّ لِي طِلَاعَ الأَرْضِ(1) ذَهَبًا لَافْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ عَذَابِ الله عز وجل، قَبْلَ أَنْ أَرَاهُ»(2).

إن استحضار العبد لمنة الله عليه يزيل من القلب غبش العُجب، ويغسله من درن الإدلال، ويطهره من الدنس ليكون وعاءً نظيفًا يتزكى بالإيمان ويرتفع بأعمال القلوب، وينتفع بأعمال الجوارح، أما إذا وُجدت هذه الأعمال مع شوائب العجب والإدلال بالعمل، فإنها تسحق قلب صاحبها سحقًا، فلا تبقي فيه خيرًا ولا تذر، قال الله تعالى في الحديث القدسي عن من أدلَّ بعمله: «قَدْ غَفَرْتُ لِفُلانٍ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ»(3).

فأوقد يا طالب العلم في ذهنك شرارة الشعور بمنة الله وتزكيته لك، {وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَى مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [النور:21].

--------------------------------------------

(1) أي: ما يَمْلؤُها حتَّى يَطْلُعَ عنها ويَسِيل. ينظر: النهاية في غريب الحديث (3/ 133).

(2) أخرجه البخاري (5/ 12) رقم (3692) من حديث المسور بن مخرمة رضي الله عنه.

(3) أخرجه مسلم (4/ 2023) رقم (2621) من حديث جندب رضي الله عنه.
«অতঃপর আপনি তাঁর থেকে এমন অবস্থায় পৃথক হয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। এরপর আপনি তাঁদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং তাঁদের সাথে উত্তম আচরণ করেছেন। আর আপনি যদি তাঁদের ছেড়ে চলেও যান, তবে আপনি তাঁদের এমন অবস্থায় ত্যাগ করবেন যে, তাঁরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন।’ তিনি বললেন: ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সান্নিধ্য এবং তাঁর সন্তুষ্টির বিষয়ে তুমি যা উল্লেখ করলে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি একটি অনুগ্রহ মাত্র। আর আবু বকর (রা.)-এর সান্নিধ্য এবং তাঁর সন্তুষ্টির বিষয়ে যা উল্লেখ করলে, তাও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি একটি বিশেষ অনুগ্রহ। আর আমার মধ্যে যে উদ্বেগ তুমি লক্ষ্য করছ, তা তোমার ও তোমার সঙ্গীদের কল্যাণের কথা ভেবে। আল্লাহর কসম! যদি আমার কাছে পৃথিবী পূর্ণ(১) স্বর্ণ থাকত, তবে মহান আল্লাহর শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পূর্বেই তা দিয়ে আমি নিজেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিতাম।’»(২).

বান্দার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করা হৃদয় থেকে আত্মমুগ্ধতার (عُجب) কুয়াশা দূর করে, একে আমলের ওপর অহমিকা প্রকাশের (إدلال) মালিন্য থেকে ধৌত করে এবং অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করে—যাতে তা ঈমানের দ্বারা পরিশুদ্ধ এবং অন্তরের আমলের মাধ্যমে উন্নত এক পরিচ্ছন্ন আধারে পরিণত হয় এবং শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল দ্বারা উপকৃত হতে পারে। পক্ষান্তরে, এই আমলগুলো যদি আত্মমুগ্ধতা (عجب) এবং আমলের বড়াই করার (إدلال) কলুষতায় লিপ্ত থাকে, তবে তা আমলকারীর হৃদয়কে এমনভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় যে, তাতে আর কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট থাকে না। মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তির ব্যাপারে হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي)-তে ইরশাদ করেছেন যে তার আমলের ওপর বড়াই করেছিল: «আমি অমুককে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নিষ্ফল করে দিয়েছি।»(৩).

হে ইলম অন্বেষী! তাই তোমার মনে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর পক্ষ থেকে তোমাকে পরিশুদ্ধ করার সেই অনুভূতির স্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত করো; {যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আন-নূর: ২১]।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: যা পৃথিবীকে এমনভাবে পূর্ণ করে দেয় যে তা উপচে পড়ে। দ্রষ্টব্য: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস (৩/১৩৩)।

(২) এটি সহিহ বুখারি (৫/১২), হাদিস নং (৩৬৯২) গ্রন্থে মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

(৩) এটি সহিহ মুসলিম (৪/২০২৩), হাদিস নং (২৬২১) গ্রন্থে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
(ثامنًا:‌‌ التحلي بخصال المروءة:

إِنَّ مما يزين طالب العلم ويُجمله التحلي بـ (المروءة): كمكارم الأخلاق، وطلاقة الوجه، وإفشاء السلام، وتحمل الناس، والأنفة من غير كبرياء، والعزة في غير جبروت، والشهامة في غير عصبية، ولا جاهلية. وعليه فتنكَّب خوارم المروءة، في طبع، أو قول، أو عمل، من حرفة مهينة، أو خلة رديئة، كالعجب، والرياء، والبطر، والخيلاء، واحتقار الآخرين، وغشيان مواطن الريب، كل ذلك مما يفسد العلم على طالبه(1).

(تاسعًا:‌‌ الوسطية وعدم الغلو:

الشريعة الإسلامية جاءت بالوسطية، بين الغلو والجفاء، وبين الإفراط والتفريط، قال الله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة:143].

وقد جاء تحذير أهل الكتاب من الغلو في الدين كما في قول الله سبحانه: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} [النساء:171].

ثم جاء تحذيرنا عن هذا المرض العُضَال الذي وقع فيه اليهود والنصارى، عن ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ، فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ»(2).

--------------------------------------------

(1) حلية طالب العلم ص (149) بتصرف.

(2) أخرجه النسائي (5/ 268) رقم (3057)، وابن ماجه (2/ 1008) رقم (3029)، وأحمد (3/ 351) رقم (1851)، وابن خزيمة (4/ 274) رقم (2867)، والحاكم في المستدرك (1/ 637) رقم (1711)، وقال: «صحيح على شرط الشيخين».
(অষ্টম:‌‌ মারুয়াত (المروءة) তথা মানবিক গুণাবলি অর্জন:

নিশ্চয়ই যা ইলম অন্বেষণকারীকে সুশোভিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তা হলো মারুয়াত (المروءة) বা উচ্চতর মানবিক গুণাবলি অর্জন করা। যেমন: সচ্চরিত্রতা, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, সালামের প্রসার ঘটানো, মানুষের কটু কথা সহ্য করা, অহংকারহীন আত্মমর্যাদা, দম্ভহীন আভিজাত্য এবং গোঁড়ামি ও জাহিলিয়াতমুক্ত সাহসিকতা। অতএব তাকে মারুয়াত (المروءة) পরিপন্থী বিষয়গুলো বর্জন করতে হবে, হোক তা স্বভাবে, কথায় কিংবা কাজে; যেমন—হীন পেশা অবলম্বন বা মন্দ স্বভাব, যেমন: আত্মমুগ্ধতা, রিয়া বা লোকদেখানো মানসিকতা, দাম্ভিকতা, অহংকার, অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং সন্দেহজনক স্থানে যাতায়াত করা; কারণ এসবের প্রতিটিই ছাত্রের ইলমকে নষ্ট করে দেয়(১)।

(নবম:‌‌ মধ্যপন্থা অবলম্বন এবং অতিরঞ্জন বর্জন:

ইসলামি শরিয়ত এসেছে মধ্যপন্থা নিয়ে—যা চরমপন্থা ও শিথিলতার মাঝামাঝি এবং অতিরঞ্জন ও অবহেলার মধ্যবর্তী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী উম্মত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন} [আল-বাকারাহ: ১৪৩]।

দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা থেকে আহলে কিতাবদের সতর্ক করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীতে এসেছে: {হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করো না এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া কিছু বলো না} [আন-নিসা: ১৭১]।

অতঃপর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা যে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, তা থেকে আমাদের সতর্ক করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীদের দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জনই ধ্বংস করে দিয়েছে»(২)।

--------------------------------------------

(১) হিলয়াতু ত্বলিবিল ইলম, পৃষ্ঠা (১৪৯), পরিমার্জিত।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি (৫/ ২৬৮) নম্বর (৩০৫৭), ইবনে মাজাহ (২/ ১০০৮) নম্বর (৩০২৯), আহমদ (৩/ ৩৫১) নম্বর (১৮৫১), ইবনে খুজাইমা (৪/ ২৭৪) নম্বর (২৮৬৭), এবং আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে (১/ ৬৩৭) নম্বর (১৭১১) এবং তিনি বলেছেন: «এটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح)»।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ذلك لأن الغلو مُهلكٌ ويؤدي بالإنسان إلى الضلال والانحراف عن جادة الحق، فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ، قَالَهَا ثَلَاثًا»(1).

فعاقبة الغلو وخيمة، ومآله قبيح، انظر إلى النصارى كيف آل بهم الغلو في نبي الله عيسى عليه السلام إلى جعله إلهًا وربًا! وكيف آل الغلو بالخوارج حتى أوقعهم في تكفير المسلمين واستحلال دمائهم، حتى كفروا كبار الصحابة ومنهم علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وما زال منهج الخوارج باقيًا في الأمة يضعف في عصر ويقوى في عصر آخر، وقد بلغ في هذا العصر أشده تكفيرًا للمسلمين واستهانةً بالدماء، وتشويهًا لصورة الإسلام في أقطاب الدنيا، فنسأل الله أن يكفي المسلمين شرورهم ويهديهم صراطه المستقيم.

فعلى المسلم أن يأخذ الأمر باعتدالٍ ورَوِيَّة، ويحذر الشذوذ والغلو، وأن يرفق بنفسه وإخوانه، وأن يتحبب إلى خلق الله ويحببهم لدين الله.

فعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذَا الدِّينَ مَتِينٌ، فَأَوْغِلُوا فِيهِ بِرِفْقٍ»(2).

وعن عائشة رضي الله عنها، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَاّ زَانَهُ، وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَاّ شَانَهُ»(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (4/ 2055) رقم (2670).

(2) أخرجه أحمد في المسند (20/ 346) رقم (13052). وهذا الحديث وإن كان فيه مقال، لكنه حسن بشواهده.

(3) أخرجه مسلم (4/ 2004) رقم (2594).
এর কারণ হলো চরমপন্থা (الغلو) ধ্বংসাত্মক এবং এটি মানুষকে গোমরাহি ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুতির দিকে ধাবিত করে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "চরমপন্থীরা ধ্বংস হয়েছে, তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন।"(১).

চরমপন্থার (الغلو) পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর শেষ পরিণতি অত্যন্ত নিকৃষ্ট। খ্রিষ্টানদের প্রতি লক্ষ্য করুন, আল্লাহর নবী ঈসা (আ.)-এর ব্যাপারে চরমপন্থা (الغلو) কীভাবে শেষ পর্যন্ত তাদের তাঁকে উপাস্য ও রবে পরিণত করার দিকে নিয়ে গেছে! আর চরমপন্থা (الغلو) খারিজিদের এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তা তাদের মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير) এবং তাদের রক্ত হালাল মনে করার দিকে ধাবিত করেছে, এমনকি তারা বড় বড় সাহাবীগণকেও কাফির সাব্যস্ত করেছে যাদের মধ্যে আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)-ও ছিলেন। খারিজিদের এই মতাদর্শ উম্মাহর মাঝে এখনও বিদ্যমান; এটি কোনো যুগে দুর্বল হয় আবার কোনো যুগে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বর্তমান যুগে এটি মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) ক্ষেত্রে এবং রক্তপাতকে তুচ্ছজ্ঞান করা ও সারা বিশ্বে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার ক্ষেত্রে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদের তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং তাদের তাঁর সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

অতএব, একজন মুসলিমের উচিত মধ্যপন্থা ও ধীরস্থিরতার সাথে পথ চলা এবং অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) ও চরমপন্থা (الغلو) থেকে সতর্ক থাকা। তার উচিত নিজের প্রতি ও নিজের ভাইদের প্রতি কোমল হওয়া এবং আল্লাহর সৃষ্টির নিকট প্রিয় হওয়া ও তাদের আল্লাহর দ্বীনের প্রতি অনুরাগী করা।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই দ্বীন অত্যন্ত মজবুত, সুতরাং তোমরা এতে নম্রতার সাথে প্রবেশ করো।"(২).

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই নম্রতা এমন এক গুণ যা যে কোনো বিষয়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, আর যেখান থেকেই এটি ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাকে তা কলঙ্কিত করে।"(৩).

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (৪/ ২০৫৫), হাদিস নং (২৬৭০)।

(২) এটি আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২০/ ৩৪৬), হাদিস নং (১৩০৫২)। আর এই হাদিসটি সম্পর্কে যদিও সমালোচনা (مقال) রয়েছে, তবে এটি তার সমর্থক বর্ণনাসমূহের (شواهد) ভিত্তিতে হাসান (حسن)।

(৩) এটি মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (৪/ ২০০৪), হাদিস নং (২৫৯৪)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
(عاشرًا:‌‌ رحابة الصدر في مسائل الخلاف:

من أروع الصفات التي تُزين العلم وتُجمل صاحبه أن يكون رحيب الصدر واسع البال في الحوار، هاديء النفس حين الاختلاف بلا غضب ولا تشنج ولا عصبية، وهنا أمور مهمة لا بد لطالب العلم أن يعيها جيدًا، ويراعيها:

1 - الخلاف سنة كونية واقعة:

الخلاف سنة كونية واقعة، وسببه اختلاف المدارك والعقول والفهوم. فالسلف من الصحابة ومن بعدهم قد اختلفوا قديمًا، ومن بعدهم الخلف أيضًا، وقد يختلف العلماء في صحة النص أو فهمه، ودلالته على المقصود، وكذلك اختلافهم في القياس، وقول الصحابي، وسد الذرائع، وغيرها من الأدلة التي تكون سببًا لنشوء الاختلاف.

2 - لا إنكار في مسائل الاجتهاد:

ينبغي لطالب العلم أن يعلم أنَّ من القواعد التي وضعها أهل العلم أنه «لا إنكار في مسائل الاجتهاد»، فلا يسوغ لطالب العلم أن ينكر على أحد في مسألة من المسائل التي مبناها الاجتهاد، وأكثر مسائل أحكام الدين من هذا النوع؛ ولهذا تجد العالم الفقيه المطلع أوسع الناس صدرًا في مسائل الخلاف لعلمه أن مبناها الاجتهاد.

3 - ألا يتصدر الفتوى ولا يتجرأ عليها:

وقد كان السلف من أورع الناس في الفتوى، وقد ضربوا لذلك أجمل النماذج، حتى صنف ابن الجوزي كتابًا أسماه (تعظيم الفتيا) ذكر فيه صورًا رائعة عن السلف في حذرهم من التصدر للفتوى.
দশম: মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে উদারতা:

জ্ঞানকে সুশোভিত এবং জ্ঞান অধিকারীকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এমন শ্রেষ্ঠ গুণাবলির মধ্যে একটি হলো আলোচনায় উদার ও প্রশস্ত মনের অধিকারী হওয়া এবং মতপার্থক্যের সময় রাগ, উত্তেজনা বা গোঁড়ামি ছাড়াই শান্ত থাকা। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা একজন ইলম অন্বেষীর জন্য ভালোভাবে অনুধাবন করা এবং তা মেনে চলা অপরিহার্য:

১ - মতপার্থক্য একটি অনিবার্য জাগতিক নিয়ম:

মতপার্থক্য একটি অনিবার্য জাগতিক নিয়ম, এবং এর কারণ হলো বোধশক্তি, মেধা ও উপলব্ধির ভিন্নতা। সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তী সালাফগণ প্রাচীনকাল থেকেই মতপার্থক্য করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী উত্তরসূরিরাও তা করেছেন। উলামায়ে কেরাম কখনও কোনো দলিলের পাঠ বা নসের (نص) বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা তার মর্মার্থ এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর তার নির্দেশক হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করেন। অনুরূপভাবে কিয়াস (قياس), সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي), সাদ্দুয যারায়ি (سد الذرائع) এবং অন্যান্য দলিলের ক্ষেত্রেও তাঁদের মতপার্থক্য হতে পারে, যা মতভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২ - ইজতিহাদী (اجتهاد) বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই:

ইলম অন্বেষীর জন্য এটি জানা উচিত যে, আহলে ইলমগণ যেসব মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন তার একটি হলো: "ইজতিহাদী (اجتهاد) বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই"। সুতরাং যেসকল বিষয়ের ভিত্তি ইজতিহাদ (اجتهاد), সেগুলোর কোনোটিতেই ইলম অন্বেষীর জন্য কারো ওপর আপত্তি তোলা সমীচীন নয়। দ্বীনি আহকামের অধিকাংশ মাসআলাই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই বিজ্ঞ ফকিহ আলেমগণ মতপার্থক্যের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদারমনা হয়ে থাকেন, কারণ তিনি জানেন যে এর ভিত্তি হলো ইজতিহাদ (اجتهاد)।

৩ - ফতোয়া (فتوى) প্রদানে অগ্রণী না হওয়া এবং এ ব্যাপারে দুঃসাহস না দেখানো:

ফতোয়া (فتوى) প্রদানের ক্ষেত্রে সালাফগণ ছিলেন সবচেয়ে বেশি পরহেযগার এবং এ ক্ষেত্রে তাঁরা সর্বোত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছেন। এমনকি ইবনুল জাওযী 'তাযীমূল ফুতইয়া' নামে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যেখানে তিনি ফতোয়া (فتوى) প্রদানে সালাফদের সতর্কতা অবলম্বনের চমৎকার সব চিত্র তুলে ধরেছেন।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي زماننا ربما تجشم الصغير الإفتاء في مسألة شائكة لو عُرِضَت على أكابر السلف لتورعوا عن الإجابة عنها.

عن أبي الحصين قال: «إن أحدهم ليفتي في المسألة لو وردت على (عُمَر) لجمع لها أهل بدر»(1).

4 - لا ينبغي لطالب العلم أن يَحملَ الناسَ على رأيه:

وقد قال أحمد في رواية المروَذِي: «لا ينبغي للفقيه أن يحمل الناس على مذهبه، ولا يُشدد عليهم»(2).

ولذلك كان منهج السلف هو: «قولي صواب يحتمل الخطأ، وقول غيري خطأ يحتمل الصواب»(3)، وهي قاعدة جميلة ترسم المنهج الصحيح في التعامل مع آراء الآخرين واجتهاداتهم. وهي قاعدة من سار عليها اتسع عقله في التعامل مع المواقف والآراء.

قال ابن عثيمين -وهو يعدد آداب طالب العلم-: «أن يكون صدره رحبًا في مواطن الخلاف الذي مصدره الاجتهاد؛ لأن مسائل الخلاف بين العلماء، إما أن تكون مما لا مجال للاجتهاد فيه ويكون الأمر فيها واضحًا فهذه لا يُعذر أحد بمخالفتها، وإما أن تكون مما للاجتهاد فيها مجال فهذه يُعذر فيها من خالفها، ولا يكون قولك حجة على من خالفك فيها؛ لأننا لو قبلنا ذلك لقلنا بالعكس قوله حجة عليك»(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن بطة في إبطال الحيل ص (62)، والبيهقي في المدخل إلى السنن الكبرى ص (434) رقم (803)، وابن عساكر في تاريخ دمشق (38/ 410، 411).

(2) الآداب الشرعية لابن مفلح (1/ 166).

(3) ينظر: الأشباه والنظائر لابن نجيم ص (330).

(4) كتاب العلم ص (23، 24).
আমাদের এই সময়ে সম্ভবত কোনো অর্বাচীন বা কনিষ্ঠ ব্যক্তি এমন কোনো জটিল বিষয়ে ফতোয়া প্রদানের ঝুঁকি গ্রহণ করে, যা যদি সালাফদের মহান মনীষীদের নিকট উপস্থাপন করা হতো, তবে তারা তার উত্তর প্রদান থেকে পরহেজগারি (تورع) অবলম্বন করতেন।

আবু আল-হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তাদের কেউ এমন বিষয়ে ফতোয়া দেয় যে, যদি তা (উমর)-এর নিকট আসত, তবে তিনি এর জন্য বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সমবেত করতেন"(1)।

4 - ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উচিত নয় যে সে মানুষকে নিজের মতের ওপর চলতে বাধ্য করবে:

ইমাম আহমদ আল-মারওয়াযীর বর্ণনা (رواية)-তে বলেছেন: "ফকিহ (فقيه)-এর জন্য উচিত নয় যে সে মানুষকে তার মাযহাবের (مذهب) ওপর চলতে বাধ্য করবে এবং তাদের ওপর কঠোরতা আরোপ করবে"(2)।

এই কারণে সালাফদের মানহাজ (منهج) ছিল: "আমার বক্তব্য সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে তবে তাতে ভুল থাকতে পারে, আর অন্যের বক্তব্য ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে তবে তা সঠিক হতে পারে"(3), এটি একটি চমৎকার মূলনীতি যা অন্যদের মতামত ও ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর সাথে আচরণের সঠিক পদ্ধতি অঙ্কন করে। এটি এমন একটি নিয়ম, যার ওপর ভিত্তি করে চললে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও মতামতের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষের বিবেক বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রশস্ত হয়।

ইবনে উসাইমিন—ইলম অন্বেষণকারীর আদবসমূহ গণনা করতে গিয়ে—বলেছেন: "ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রসূত মতপার্থক্যের ক্ষেত্রগুলোতে তার হৃদয় প্রশস্ত হতে হবে; কেননা উলামাদের মধ্যকার মতপার্থক্যের বিষয়সমূহ হয় এমন হবে যেখানে ইজতিহাদের কোনো সুযোগ নেই এবং সে বিষয়ে হুকুম অত্যন্ত স্পষ্ট—সেক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করলে কেউ ওজর বা অজুহাত পাবে না; অথবা বিষয়টি এমন হবে যেখানে ইজতিহাদের সুযোগ রয়েছে—সেক্ষেত্রে যে এর বিরোধিতা করবে সে ওজর বা অজুহাত পাবে। আর তোমার কথা তোমার বিরোধিতাকারীর ওপর দলিল (حجة) হবে না; কারণ আমরা যদি তা গ্রহণ করি তবে আমরা এর বিপরীতেও বলতে পারি যে তার কথা তোমার ওপর দলিল (حجة) হবে"(4)।

--------------------------------------------

(1) ইবনে বাত্তাহ এটি 'ইবতালুল হিয়াল' (পৃ. 62), বায়হাকী 'আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা' (পৃ. 434, নং 803) এবং ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' (38/ 410, 411) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(2) ইবনে মুফলিহ রচিত 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' (1/ 166)।

(3) দেখুন: ইবনে নুজাইম রচিত 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' (পৃ. 330)।

(4) কিতাবুল ইলম (পৃ. 23, 24)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
5 - ألا يرتب على الخلاف تكفير أو تبديع أو تضليل:

فالمجتهد في العلم لا يُكَفَّر ولا يُضَلَّل ولا يُفَسَّق، لأنه دائرٌ بين الأجر والأجرين؛ فإن أصاب له أجران، وإن أخطأ له أجر واحد.

وهذا مصداق حديث النبي صلى الله عليه وسلم: «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ»(1).

6 - إعذار الأئمة والعلماء المجتهدين:

وهذا مما يجب على الأمة تجاه علمائها الذين هم ورثة الأنبياء، ولهذا ألف شيخ الإسلام ابن تيمية كتابًا ماتعًا بعنوان (رفع الملام عن الأئمة الأعلام) بَيَّنَ فيه عذر الأئمة في مخالفتهم لبعض النصوص، وخطئهم في الاجتهاد.

ومن هذه الأعذار: أن يكون الحديث لم يبلغه، أو أن يكون الحديث لم يثبت عنده، أو أن يكون نسي الحديث، ومنها عدم معرفته بدلالة الحديث، إلى غير ذلك من الأعذار.

7 - التزام الأدب في الخلاف مع العلماء ومن له قدم في الإسلام:

وذلك يكون بعدم تجريحهم والطعن فيهم، وذكرهم بالحسن والجميل وإن خالفوا الصواب، واختار خلاف قولهم(2)، و «لحوم العلماء مسمومة، وعادة الله في هتك أستار منتقصيهم معلومة»(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (9/ 108) رقم (7352)، ومسلم (3/ 1342) رقم (1716) من حديث عمرو بن العاص رضي الله عنه.

(2) ينظر هذا الأدب باستفاضة في كتاب فقه الائتلاف لمحمود محمد الخنزدار.

(3) تبيين كذب المفتري لابن عساكر ص (29).
৫ - মতপার্থক্যের কারণে কাউকে কাফের সাব্যস্ত করা (تكفير), বিদআতি গণ্য করা (تبديع) কিংবা পথভ্রষ্ট ঘোষণা (تضليل) না করা:

জ্ঞানের ক্ষেত্রে গবেষণাকারী (مجتهد) ব্যক্তিকে কাফের, পথভ্রষ্ট কিংবা পাপাচারী (فسق) গণ্য করা যাবে না; কারণ তিনি একটি অথবা দুটি সওয়াবের মধ্যে আবর্তিত হন। যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তবে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব, আর ভুল করলে রয়েছে একটি সওয়াব।

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসেরই বাস্তব প্রতিফলন: «যখন কোনো বিচারক বিচার করার ক্ষেত্রে গবেষণা (اجتهاد) করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। আর যখন তিনি বিচার করার ক্ষেত্রে গবেষণা (اجتهاد) করেন এবং ভুল করেন, তখন তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে»(১)।

৬ - ইমামগণ এবং গবেষণাকারী (مجتهدين) আলেমদের ওজর বা অপারগতা কবুল করা:

এটি উম্মতের জন্য তাদের আলেমদের প্রতি একটি আবশ্যকীয় কর্তব্য, যারা হলেন নবীদের উত্তরসূরি। এই লক্ষ্যেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম’ (বিখ্যাত ইমামদের থেকে নিন্দা অপনোদন) শিরোনামে একটি চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেখানে তিনি ইমামদের কোনো কোনো শরয়ি দলিলের (نصوص) বিপরীতে অবস্থান এবং গবেষণাগত (اجتهاد) ভুলের ক্ষেত্রে তাদের ওজরসমূহ স্পষ্ট করেছেন।

এই ওজরগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাদিসটি সংশ্লিষ্ট আলেমের নিকট না পৌঁছানো, অথবা হাদিসটি তার নিকট প্রমাণিত বা সাব্যস্ত (ثبت) না হওয়া, অথবা তিনি হাদিসটি ভুলে যাওয়া, কিংবা হাদিসের নির্দেশিত অর্থ (دلالة) সম্পর্কে অবগত না থাকা—ইত্যাদি আরও অনেক কারণ।

৭ - আলেমদের এবং ইসলামে যাদের সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে, তাদের সাথে মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বা আদব বজায় রাখা:

আর তা অর্জিত হয় তাদের চরিত্রহনন বা সমালোচনা (تجريح) ও নিন্দামন্দ না করার মাধ্যমে। বরং তারা যদি সঠিক সিদ্ধান্তের বিপরীতেও অবস্থান করেন এবং কেউ যদি তাদের মতের বাইরে অন্য কোনো মত বেছে নেয়, তবুও তাদের সুন্দর ও উত্তমভাবে স্মরণ করতে হবে(২)। কেননা, «আলেমদের মাংস বিষাক্ত, আর যারা তাদের মানহানি করে তাদের পর্দা উন্মোচন করে দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর চিরন্তন নীতি সবারই জানা»(৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৯/১০৮), নম্বর (৭৩৫২) এবং মুসলিম (৩/১৩৪২), নম্বর (১৭১৬); আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে।

(২) এই আদব সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন মাহমুদ মুহাম্মদ আল-খানজাদার রচিত ‘ফিকহুল ইতিলাফ’ গ্রন্থে।

(৩) ইবনে আসাকিরের ‘তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি’, পৃষ্ঠা (২৯)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌النوع الثاني: أدب طالب العلم مع شيخه:

الشيخ أوالمعلم له حقٌّ كبيرٌ على تلاميذه، فله فضل كبير -بعد الله عز وجل في تعليمهم العلم والأخذ بأيديهم إلى طريق المعرفة، وسلوك سبيل النجاة، ومن هنا كان الواجب رعاية حق المعلم؛ بتقديره وتبجيله، ومراعاة حقوقه، وهذا من صميم العلم وحسن الأدب وسمو النفس.

قال على رضي الله عنه: «أنا عبدُ مَنْ علمني حرفًا واحدًا، إن شاء باع، وإن شاء استرق»(1).

قال الزُّرْنُوجِي رحمه الله: «اعلم أن طالب العلم لا ينال العلم ولا ينتفع به إلا بتعظيم العلم وأهله، وتعظيم الأستاذ وتوقيره. قيل: ما وصل من وصل إلا بالحرمة(2)، وما سقط من سقط إلا بترك الحرمة»(3).

«ومن توقير المعلم: ألا يمشى أمامه، ولا يجلس مكانه، ولا يبتدئ بالكلام عنده إلا بإذنه، ولا يكثر الكلام عنده، ولا يسأل شيئًا عند ملالته، ويراعى الوقت، ولا يدق الباب، بل يصبر حتى يخرج الأستاذ»(4).

--------------------------------------------

(1) تعليم المتعلم طريق التعلم ص (25).

(2) المراد بالحرمة: احترام الشيخ والتأدب معه.

(3) تعليم المتعلم طريق التعلم ص (25).

(4) تعليم المتعلم طريق التعلم ص (26).
দ্বিতীয় প্রকার: ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) তার শায়খের (الشيخ) প্রতি আদব:

শায়খ (الشيخ) বা শিক্ষকের তাঁর ছাত্রদের ওপর বিশাল অধিকার রয়েছে; আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র পর ছাত্রদের ইলম শিক্ষা দেওয়া, জ্ঞানের পথে তাদের হাত ধরে এগিয়ে নেওয়া এবং মুক্তির পথ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁর অনেক বড় অবদান রয়েছে। এ কারণে শিক্ষকের অধিকার রক্ষা করা ওয়াজিব (الواجب); আর তা হলো তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন ও শ্রদ্ধা করা এবং তাঁর অধিকারসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখা। এটি ইলমের মূল নির্যাস, উত্তম শিষ্টাচার এবং উন্নত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যে ব্যক্তি আমাকে একটি অক্ষর শিক্ষা দিয়েছেন, আমি তাঁর দাসে পরিণত হয়েছি; তিনি চাইলে আমাকে বিক্রি করতে পারেন, আর চাইলে দাস হিসেবে রেখে দিতে পারেন।"(১).

যুরনুজি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জেনে রেখো, ইলম অন্বেষণকারী (طالب العلم) ততক্ষণ পর্যন্ত ইলম অর্জন করতে পারে না এবং এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে না, যতক্ষণ না সে ইলম ও আহলে ইলমকে (ইলমের ধারক-বাহকদের) সম্মান করবে এবং উস্তাদকে শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদান করবে। বলা হয়ে থাকে: যারা (সাফল্যের শিখরে) পৌঁছেছেন তারা কেবল সম্মান (الحرمة) প্রদর্শনের মাধ্যমেই পৌঁছেছেন, আর যারা বিচ্যুত হয়েছেন তারা সম্মান (الحرمة) প্রদর্শন ত্যাগ করার কারণেই বিচ্যুত হয়েছেন।"(৩).

"শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর সামনে দিয়ে না হাঁটা, তাঁর জায়গায় না বসা, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর উপস্থিতিতে কথা শুরু না করা, তাঁর নিকট অধিক কথা না বলা, তিনি ক্লান্ত থাকাকালীন কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করা এবং সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা। আর দরজায় করাঘাত না করে বরং উস্তাদ বের হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করা।"(৪).

--------------------------------------------

(১) তালীমুল মুতাআল্লিম ত্বরীকুত তাআল্লুম, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) এখানে সম্মান (الحرمة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: শায়খকে (الشيخ) শ্রদ্ধা করা এবং তাঁর সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখা।

(৩) তালীমুল মুতাআল্লিম ত্বরীকুত তাআল্লুম, পৃষ্ঠা ২৫।

(৪) তালীমুল মুতাআল্লিম ত্বরীকুত তাআল্লুম, পৃষ্ঠা ২৬।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن روائع الأدب مع المعلم ما يلي:

أولًا:‌‌ الأدب في مخاطبته:

إِنَّ من التوقير الجميل، ومن الأدب الرفيع أن يراعي الطالب الأدب في خطابه لشيخه ومعلمه؛ فلا يناديه باسمه المجرد، بل عليه أن يخاطبه بخطاب التوقير والتقدير والاحترام، فيقول له: يا شيخنا، أو يا شيخي، وإذا كان لا يليق للولد أن يقول لوالده ذي الأبوة الطينية: (يا فلان) أو: (يا والدي فلان)، فكذلك لا يليق به أن يخاطب بذلك الخطاب شيخه الذي علمه ورباه وأدبه(1)، والأصل في ذلك قول الله تعالى: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} [النور:63].

ومعنى الآية الكريمة: «لا تدعوا محمدًا باسمه صلى الله عليه وسلم، كدعاء بعضكم بعضًا، ولكن وقروه وعظموه، وقولوا: يا رسول الله، ويا نبي الله، ويا أبا القاسم.

وفي الآية بيان توقير معلم الخير؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان معلم الخير، فأمر الله عز وجل بتوقيره وتعظيمه، وفيه معرفة حق الأستاذ، وفيه معرفة أهل الفضل»(2).

والنهي في قوله: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} [النور:63]، على سبيل التحريم في حق النبي صلى الله عليه وسلم، وعلى سبيل خلاف الأولى في حق غير النبي صلى الله عليه وسلم من أهل العلم وسائر المعلمين.

--------------------------------------------

(1) ينظر: حلية طالب العلم ص (162)، وموسوعة الأخلاق للخراز ص (327).

(2) بحر العلوم (2/ 527).
শিক্ষকের প্রতি সুন্দর শিষ্টাচারের কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত:‌‌ তাঁকে সম্বোধন করার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার:

নিশ্চয়ই সুন্দর সম্মান ও উচ্চস্তরের শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত হলো, ছাত্র তার শাইখ ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার সময় শিষ্টাচার বজায় রাখবে; সুতরাং তাঁকে কেবল নাম ধরে ডাকবে না, বরং সম্মান, কদর ও শ্রদ্ধামিশ্রিত শব্দে সম্বোধন করবে। যেমন তাঁকে বলবে: হে আমাদের শাইখ, অথবা হে আমার শাইখ। আর সন্তান যদি তার জন্মদাতা পিতাকে (মাটির সম্পর্কের পিতা) ‘হে অমুক’ বা ‘হে আমার আব্বা অমুক’ বলে সম্বোধন করা শোভনীয় মনে না করে, তবে একইভাবে সেই শাইখকেও এমন সম্বোধন করা অনুচিত যিনি তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন, গড়ে তুলেছেন এবং শিষ্টাচার শিখিয়েছেন(১)। এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা রাসুলের ডাককে তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না} [আন-নূর: ৬৩]।

এই সম্মানিত আয়াতের অর্থ হলো: "তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর নাম ধরে ডেকো না—যেভাবে তোমরা একে অপরকে ডেকে থাকো; বরং তাঁকে সম্মান করো ও মর্যাদাবান মনে করো এবং বলো: হে আল্লাহর রাসুল, হে আল্লাহর নবী, হে আবুল কাসিম।

এই আয়াতে কল্যাণ দানকারী শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে; কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন কল্যাণের শিক্ষক। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে শিক্ষকের প্রাপ্য অধিকার এবং মর্যাদাশালীদের কদর করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়"(২)।

আল্লাহর বাণী {তোমরা রাসুলের ডাককে তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না} [আন-নূর: ৬৩]-তে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্যান্য আলিম ও সাধারণ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা অনুত্তম (خلاف الأولى) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: হিলইয়াতু তালিবিল ইলম, পৃষ্ঠা ১৬২; মাওসুআতুল আখলাক লিল খাররাজ, পৃষ্ঠা ৩২৭।

(২) বাহরুল উলুম (২/৫২৭)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثانيًا:‌‌ الأدب في السؤال:

سؤال طالب العلم لشيخه ينبغي أن يراعي فيه ما يلي:

1 - الدعاء للشيخ في السؤال:

كأن يقول: ما تقول عفا الله عنك، أو رحمك الله، أو وفقك الله، أو أحسن الله إليك؟(1).

2 - حسن السؤال والتلطف فيه:

إِنَّ من الحكم التي اشتهرت عند الناس: أن حسن السؤال نصف العلم(2)، لا يختلفون على هذا الأمر؛ فإن السائل إذا أحسن سؤال شيخه كان ذلك مدعاة لأن يُقبل عليه، ليوضح له ما أشكل عليه؛ لما يراه من استعداده وقابليته لذلك.

وسوء السؤال مدعاة لأن ينفر الشيخ من التلميذ وإجابته لما يراه من غلظته؛ فيحرم التلميذ بذلك خيرًا كثيرًا(3).

وقد جاء ذلك مأثورًا عن بعض السلف:

قال محمد بن سيرين: «كانوا يرون حسن السؤال يزيد في عقل الرجل»(4).

قال النووي- في حديثه عن آداب الطالب مع شيخه-: «ويتلطف في سؤاله، ويحسن خطابه»(5).

--------------------------------------------

(1) الفقيه والمتفقه للخطيب البغدادي (2/ 383).

(2) قال سليمان بن يسار: (حسن السؤال نصف العلم) أخرجه ابن أبي خيثمة في التاريخ الكبير (2/ 150) رقم (2152).

(3) التيسير بشرح الجامع الصغير (1/ 424).

(4) أخرجه ابن أبي الدنيا في كتاب العقل وفضله ص (54) رقم (66).

(5) المجموع شرح المهذب (1/ 37).
দ্বিতীয়ত:‌‌ প্রশ্ন করার আদব (শিষ্টাচার):

ইলম অন্বেষণকারীর তার শিক্ষকের নিকট প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিত:

১ - প্রশ্ন করার সময় শিক্ষকের জন্য দোয়া করা:

যেমন এভাবে বলা: 'আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?', অথবা 'আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন', অথবা 'আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন', অথবা 'আল্লাহ আপনার প্রতি ইহসান করুন'?(১)।

২ - সুন্দরভাবে এবং নম্রতার সাথে প্রশ্ন করা:

মানুষের মাঝে প্রচলিত প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীগুলোর মধ্যে একটি হলো: "সুন্দরভাবে প্রশ্ন করা হলো অর্ধেক জ্ঞান", এ বিষয়ে তারা কোনো দ্বিমত পোষণ করেন না; কেননা প্রশ্নকারী যখন তার শিক্ষকের নিকট সুন্দরভাবে প্রশ্ন উপস্থাপন করেন, তখন তা শিক্ষকের মনোযোগ আকর্ষণের কারণ হয়, যাতে তিনি তার অস্পষ্ট বিষয়গুলো পরিষ্কার করে দেন; কারণ তিনি ছাত্রের মাঝে সেই প্রস্তুতি ও যোগ্যতা দেখতে পান।

আর অসুন্দরভাবে প্রশ্ন করা শিক্ষকের মনে ছাত্রের প্রতি এবং তার উত্তর দেওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি করে, কারণ তিনি তার মধ্যে রূঢ়তা দেখতে পান; ফলে ছাত্রটি এর মাধ্যমে অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়(৩)।

এ বিষয়টি পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত হয়েছে:

মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেন: «তাঁরা মনে করতেন যে, সুন্দর প্রশ্ন মানুষের বুদ্ধি বৃদ্ধি করে»(৪)।

ইমাম নববী —শিক্ষকের সাথে ছাত্রের আদব সম্পর্কে আলোচনায়— বলেন: «সে তার প্রশ্নে নম্রতা অবলম্বন করবে এবং তার সম্বোধন সুন্দর করবে»(৫)।

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদীর আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (২/ ৩৮৩)।

(২) সুলাইমান ইবনে ইয়াসার বলেন: (সুন্দর প্রশ্ন হলো অর্ধেক জ্ঞান) ইবনে আবি খাইসামা আত-তারিখুল কাবীর (২/ ১৫০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর (২১৫২)।

(৩) আত-তায়সীর বিশারহি আল-জামি আস-সাগীর (১/ ৪২৪)।

(৪) ইবনে আবিদ দুনিয়া কিতাবুল আকল ওয়া ফাদলুহু (পৃ. ৫৪) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৬৬)।

(৫) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৭)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
3 - عدم الإلحاح في السؤال:

وذلك بأن «لا يسأله عن شيء في غير موضعه إلا أن يعلم من حاله أنه لا يكرهه ولا يلح في السؤال إلحاحًا مضجرًا، ويغتنم سؤاله عند طيب نفسه وفراغه، ويتلطف في سؤاله، ويحسن خطابه»(1).

4 - اغتنام الوقت المناسب للسؤال:

وذلك بأن يتلمس أطيب الأوقات لسؤال شيخه، فلا يسأله في حالة ضجر أو مللٍ أو غضبٍ؛ لئلا يتصور خلاف الحق مع تشويش الذِّهن، وأقل الحالات أن يقع الجواب ناقصًا(2)، «وإن رآه في هَمٍّ قد عَرَضَ له، أو أمر يحول بينه وبين لبه، ويصده عن استيفاء فكره، أمسك عنه، حتى إذا زال ذلك العارض، وعاد إلى المألوف من سكون القلب، وطيب النفس، فحينئذ يسأله»(3).

وقال النووي: «ويغتنم سؤاله عند طيب نفسه وفراغه»(4).

6 - لا تستحِ من السؤال عما أشكل عليك:

قال مجاهد رحمه الله: «لا يتعلم العلم مستحيٍ ولا مستكبرٌ»(5).

والطالب الجاد «لا يستحي من السؤال عما أشكل عليه بل يستوضحه أكمل استيضاح، فمن رق وجهه رق علمه، ومن رق وجهه عند السؤال ظهر نقصه عند اجتماع الرجال»(6).

--------------------------------------------

(1) المجموع شرح المهذب (1/ 37).

(2) الفتاوى السعدية ص (102).

(3) الفقيه والمتفقه (2/ 381).

(4) المجموع شرح المهذب (1/ 37).

(5) أخرجه البخاري (1/ 38) تعليقًا.

(6) المجموع شرح المهذب (1/ 37).
৩ - প্রশ্নের ক্ষেত্রে পিড়াপীড়ি না করা:

আর তা হলো এই যে, «সে যেন তাকে (শিক্ষককে) কোনো বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক সময়ে প্রশ্ন না করে, যদি না সে তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয় যে তিনি এটি অপছন্দ করবেন না; এবং সে যেন প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে এমন বিরক্তিকর পিড়াপীড়ি না করে যা তাকে উত্যক্ত করে তোলে। বরং সে যেন তার (শিক্ষকের) প্রফুল্লতা ও অবসরের সময়টিকে প্রশ্ন করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে, অত্যন্ত নম্রভাবে প্রশ্ন করে এবং তার সম্বোধন যেন সুন্দর হয়»(১)।

৪ - প্রশ্ন করার জন্য উপযুক্ত সময় অন্বেষণ করা:

আর তা হলো এই যে, সে যেন তার শায়খের কাছে প্রশ্ন করার জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়গুলো খুঁজে বের করে। সুতরাং সে যেন তাকে বিরক্তি, অবসাদ বা রাগের অবস্থায় প্রশ্ন না করে; যাতে করে মন বিক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে সত্যের বিপরীতে কোনো ধারণা তৈরি না হয়, আর সর্বনিম্ন স্তরে হলেও উত্তরটি যেন অপূর্ণাঙ্গ না হয়(২)। «আর যদি সে তাকে (শিক্ষককে) কোনো দুশ্চিন্তায় মগ্ন দেখে যা তার ওপর আপতিত হয়েছে, অথবা এমন কোনো বিষয়ে যা তার বুদ্ধি ও চিন্তার মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাকে পূর্ণাঙ্গ চিন্তাভাবনা থেকে বিমুখ করছে, তবে সে যেন বিরত থাকে। যতক্ষণ না সেই সাময়িক অবস্থা দূর হয় এবং তিনি তার স্বাভাবিক হৃদয়ের প্রশান্তি ও মনের প্রফুল্লতায় ফিরে আসেন; তখন সে তাকে প্রশ্ন করবে»(৩)।

ইমাম নববী বলেন: «সে যেন তার (শিক্ষকের) প্রফুল্লতা ও অবসরের সময়টিকে প্রশ্ন করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে»(৪)।

৬ - তোমার নিকট যা অস্পষ্ট মনে হয় তা জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা করো না:

মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: «লজ্জাশীল ব্যক্তি এবং অহঙ্কারী ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে না»(৫)।

আর নিষ্ঠাবান ছাত্র «তার নিকট অস্পষ্ট কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে লজ্জা পায় না বরং তা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিষ্কার করে নেয়। কেননা যার চেহারা পাতলা (অতিরিক্ত লজ্জা পায়) তার জ্ঞানও পাতলা হয়। আর প্রশ্ন করার সময় যার লজ্জা কাজ করে, মানুষের মজলিসে তার অপূর্ণতা প্রকাশ পায়»(৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৭)।

(২) আল-ফাতাওয়া আস-সাদিইয়্যাহ, পৃষ্ঠা (১০২)।

(৩) আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (২/ ৩৮১)।

(৪) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৭)।

(৫) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১/ ৩৮), ঝুলন্ত বর্ণনা (تعليقا) হিসেবে।

(৬) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৭)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
كما ينبغي له إذا قال له الشيح: أفهمت؟ ألا يقول: نعم، حتى يتضح له المقصود إيضاحًا جليًا؛ لئلا يكذب ويفوته الفهم: ولا يستحي من قوله: لم أفهم؛ لأن استثباته يحصل له مصالح عاجلة وآجلة: فمن العاجلة؛ حفظه المسألة، وسلامته من الكذب بإظهاره فهم ما لم يكن فهمه(1).

ثالثًا:‌‌ احترام الشيخ:

وهذا من الأدب الذي يلزم طالب العلم أن يسلكه، فلا يماري شيخه ولا يؤذيه، ولا يتعنت معه في الحوار والسؤال؛ فقد يحرم الطالب الفائدة، بشؤم تعامله مع شيخه، وما أغضب أحدٌ أستاذه إلا حُرم علمه.

قال ابن حزم رحمه الله: «إذا حضرت مجلس علم فلا يكن حضورك إلا حضور مستزيد علمًا وأجرًا، لا حضور مستغنٍ بما عندك؛ طالبًا عثرةً تُشِيعها، أو غريبةً تُشنعها، فهذه أفعال الأرذال، الذين لا يفلحون في العلم أبدًا، فإذا حضرتها على هذه النية فقد حصلت خيرًا على كل حال، وإن لم تحضرها على هذه النية فجلوسك في منزلك أروح لبدنك وأكرم لخلقك وأسلم لدينك»(2).

إِنَّ الْمُعَلِّمَ وَالطَّبِيبَ كِلَاهُمَا … لَا يَنْصَحَانِ إِذَا هُمَا لَمْ يُكْرَمَا

فَاصْبِرْ لِدَائِكَ إِنْ أَهَنْتَ طَبِيبَهُ … وَاصْبِرْ لِجَهْلِك إِنْ جَفَوْتَ مُعَلِّمَا

--------------------------------------------

(1) المجموع شرح المهذب (1/ 37) بتصرف يسير.

(2) الأخلاق والسير في مداواة النفوس ص (92).
তদ্রূপ, যখন শায়খ তাকে জিজ্ঞাসা করেন: "তুমি কি বুঝেছ?", তখন তার উচিত 'হ্যাঁ' না বলা, যতক্ষণ না তার কাছে উদ্দেশ্যটি সুস্পষ্টভাবে পরিস্ফুটিত হয়; যাতে সে মিথ্যার আশ্রয় না নেয় এবং বুঝতে অক্ষম না হয়। আর সে যেন "বুঝিনি" বলতে লজ্জিত না হয়; কারণ তার এই দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হওয়ার (استثبات) মধ্যে আশু ও দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আশু কল্যাণগুলো হলো: মাসআলাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং যা সে বোঝেনি তা বোঝার ভান করার মাধ্যমে মিথ্যাচার থেকে নিরাপদ থাকা(১).

তৃতীয়ত:‌‌ শায়খের প্রতি সম্মান প্রদর্শন:

এটি এমন একটি আদব যা একজন ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য অনুসরণ করা আবশ্যক। সে তার শায়খের সাথে বিতর্ক করবে না, তাকে কষ্ট দিবে না এবং আলোচনা ও প্রশ্নের ক্ষেত্রে তার সাথে একগুঁয়েমি করবে না। শায়খের সাথে আচরণের অশুভ পরিণতির কারণে ছাত্র হয়তো কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। আর যে ব্যক্তিই তার উস্তাদকে রাগান্বিত করেছে, সে তার ইলম থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «যখন তুমি কোনো ইলমি মজলিসে উপস্থিত হও, তখন তোমার উপস্থিতি যেন কেবল ইলম ও সওয়াব বৃদ্ধির জন্য হয়; তোমার যা আছে তা নিয়ে তুষ্ট থেকে উপস্থিত হয়ো না; কিংবা কোনো ত্রুটি খুঁজে তা প্রচার করা অথবা কোনো বিরল (غريبة) বিষয়কে কেন্দ্র করে নিন্দা করার উদ্দেশ্যে নয়। কারণ এগুলো হলো নিচ প্রকৃতির লোকেদের কাজ, যারা ইলমের পথে কখনোই সফল হয় না। সুতরাং যখন তুমি সেই নেক নিয়তে উপস্থিত হবে, তখন তুমি সর্বাবস্থায় কল্যাণ লাভ করবে। আর যদি তুমি এই নিয়তে উপস্থিত না হও, তবে তোমার বাড়িতে বসে থাকাই তোমার শরীরের জন্য অধিক আরামদায়ক, তোমার চরিত্রের জন্য সম্মানজনক এবং তোমার দ্বীনের জন্য অধিকতর নিরাপদ»(২).

নিশ্চয় শিক্ষক এবং চিকিৎসক তারা উভয়ই … হিতাকাঙ্ক্ষা করেন না যদি তাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়া হয়

অতএব তোমার রোগের যন্ত্রণা সহ্য করো যদি তুমি চিকিৎসককে অপমান করো … আর তোমার মূর্খতার উপর ধৈর্য ধরো যদি তুমি শিক্ষকের প্রতি রূঢ় আচরণ করো

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৭), সামান্য পরিমার্জিত।

(২) আল-আখলাক ওয়াস সিয়ার ফি মুদাওয়াতিন নুফুস, পৃষ্ঠা (৯২)।
(খণ্ড: ১) মাদখালুন ইলা উলূমিশ শারীআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال الشعبي رحمه الله: «كان أبو سلمة(1) يماري ابن عباس؛ فحرم بذلك علمًا كثيرًا»(2)، وحرم الاستفادة منه، وقد اعترف أبو سلمة بذلك وتَحَسَّرَ على سلوكه وندم على ما كان منه، وقال في آخر حياته: «لو رفقتُ بابن عباس؛ لأصبتُ منه علمًا كثيرًا»(3).

«ومن آداب المتعلم: أن يتحرى رضى المعلم وإن خالف رأي نفسه، ولا يغتاب عنده، ولا يفشي له سرًا، وأن يرد غِيبته إذا سمعها، فإن عجز فارق ذلك المجلس؛ وألا يدخل عليه بغير إذن، وإذا دخل جماعة قدموا أفضلهم وأسنهم»(4).

وكان الصحابة رضي الله عنهم يعلمون تلاميذهم ويربونهم على السؤال عما ينفع وترك ما لا ينفع.

قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه يومًا: «سلوني عما شئتم، فقال ابن الكَوَّاء(5): ما السواد الذي في القمر؟ قال: فإن تلك لله، ألا سألت عما ينفعك في دينك وآخرتك، ذاك محو الليل. قال: أخبرنا عن قوله: {فَالْحَامِلَاتِ وِقْرًا}

--------------------------------------------

(1) أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف القرشي الزهري، المدني، قيل اسمه عبد الله، و قيل إسماعيل وقيل اسمه كنيته. من ثقات التابعين، روى له أصحاب الكتب الستة. توفي بالمدينة سنة (94). ينظر في ترجمته: تهذيب الكمال (33/ 370 - 376)، وتاريخ الإسلام (2/ 1198، 1199).

(2) جامع بيان العلم (1/ 521).

(3) أخرجه الدارمي في سننه (1/ 394) رقم (426)، والخطيب البغدادي في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع (1/ 209) رقم (382).

(4) المجموع شرح المهذب (1/ 36).

(5) هو عبد الله بن عمرو اليشكري، المعروف بـ (ابن الكواء)، من رؤوس الخوارج، مشهور بصحبته لعلي وبكثرة أسئلته له. وقد شهد معه صفين، وذُكِر أنه رجع عن مذهب الخوارج فيما بعد. قال ابن عساكر في تاريخ دمشق (1/ 360): (لا يعتمد على ما يرويه). ينظر ترجمته في لسان الميزان (3/ 329).
ইমাম শাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আবু সালামাহ(১) ইবনে আব্বাসের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতেন; ফলে তিনি অনেক জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত হন»(২), এবং তার থেকে উপকৃত হওয়া থেকেও বঞ্চিত হন। আবু সালামাহ পরবর্তীতে এটি স্বীকার করেন এবং নিজের আচরণের জন্য আক্ষেপ ও অনুশোচনা করেন। জীবনের শেষভাগে তিনি বলেছিলেন: «আমি যদি ইবনে আব্বাসের প্রতি নম্র হতাম, তবে তার কাছ থেকে প্রচুর জ্ঞান লাভ করতে পারতাম»(৩)।

«শিক্ষার্থীর আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: শিক্ষকের সন্তুষ্টির অন্বেষণ করা, যদিও তা তার নিজের মতের পরিপন্থী হয়। তার সামনে কারো গিবত (পরনিন্দা) না করা, তার কোনো গোপন বিষয় ফাঁস না করা এবং তার অনুপস্থিতিতে কারো নিকট তার সমালোচনা শুনলে তা প্রতিহত করা; আর যদি তাতে অক্ষম হয় তবে সেই মজলিস ত্যাগ করা। অনুমতি ছাড়া তার নিকট প্রবেশ না করা এবং কোনো দল যখন তার কাছে যাবে, তখন যেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে সামনে এগিয়ে দেয়»(৪)।

সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের ছাত্রদের শিক্ষা দিতেন এবং তাঁদেরকে সেই সব বিষয়ে প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত করতেন যা উপকারী এবং যা অনর্থক তা বর্জন করতে শেখাতেন।

আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একদিন বললেন: «তোমরা আমাকে যা ইচ্ছা প্রশ্ন করো। তখন ইবনুল কাওয়া(৫) জিজ্ঞেস করলেন: চাঁদের ভেতরের ওই কালো দাগটি কী? তিনি বললেন: আফসোস তোমার জন্য! তুমি কেন এমন বিষয়ে প্রশ্ন করলে না যা তোমার দ্বীন ও পরকালের উপকারে আসবে? ওটি হলো রাতের চিহ্ন (বিলুপ্তিকরণ)। সে বলল: আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আমাদের বলুন: {অতঃপর ভারী বোঝা বহনকারী মেঘমালা}»

--------------------------------------------

(১) আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আল-কুরাশি আজ-জুহরি, আল-মাদানি। বলা হয় তার নাম আবদুল্লাহ, আবার কারো মতে ইসমাইল, কেউ কেউ বলেন তার কুনিয়াতই (উপনাম) তার নাম। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত, কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৯৪ হিজরিতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবনী সম্পর্কে দেখুন: তাহজিবুল কামাল (৩৩/ ৩৭০ - ৩৭৬), এবং তারিখুল ইসলাম (২/ ১১৯৮, ১১৯৯)।

(২) জামিউ বায়ানিল ইলম (১/ ৫২১)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আদ-দারিমী তার সুনানে (১/ ৩৯৪), হাদিস নং (৪২৬); এবং আল-খাতিব আল-বাগদাদি আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি গ্রন্থে (১/ ২০৯), হাদিস নং (৩৮২)।

(৪) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (১/ ৩৬)।

(৫) তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর আল-ইয়াশকারি, যিনি (ইবনুল কাওয়া) নামে পরিচিত। তিনি খারিজীদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাহচর্য ও তাকে অধিক হারে প্রশ্ন করার কারণে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি আলীর সাথে সিফফিনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীতে তিনি খারিজী মতবাদ থেকে ফিরে এসেছিলেন। ইবনে আসাকির তারিখু দিমাশক গ্রন্থে (১/ ৩৬০) বলেন: (তার বর্ণিত বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যায় না [لا يعتمد عليه])। লিসানুল মিজান (৩/ ৩২৯) গ্রন্থে তার জীবনী দ্রষ্টব্য।