(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: -)
الأنجم الزاهرات على حل ألفاظ الورقات (شمس الدين المارديني)
القسم: أصول الفقه
الكتاب: الأنجم الزاهرات على حل ألفاظ الورقات في أصول الفقه
المؤلف: شمس الدين محمد بن عثمان بن علي المارديني الشافعي (ت 871 هـ)
المحقق: عبد الكريم بن علي محمد بن النملة [ت 1435 هـ]
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض
الطبعة: الثالثة، 1999 م
عدد الصفحات: 255
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আনজুমুয যাহেরাত আলা হিল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত (শামস উদ্দিন আল-মারদিনি)
বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
কিতাব: আল-আনজুমুয যাহেরাত আলা হিল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত ফি উসুলিল ফিকহ
লেখক: শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আলি আল-মারদিনি আশ-শাফি (মৃত্যু ৮৭১ হি.)
গবেষক: আব্দুল কারিম বিন আলি মুহাম্মদ বিন আন-নামলাহ [মৃত্যু ১৪৩৫ হি.]
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم [رب يسر يَا كريم] الْحَمد لله الَّذِي خلق الْعَالم من غير اقتباس، وَأرْسل سيد الْأَوَّلين والآخرين رَحْمَة لجَمِيع النَّاس، فأوضح الْكتاب وَالسّنة وأباح الِاجْتِهَاد وَالْقِيَاس؛ شَفَقَة لأمة لم تَجْتَمِع على مُخَالفَة الْحق بالانعكاس، صلى الله وَسلم عَلَيْهِ آنَاء اللَّيْل وأطراف النَّهَار وَعدد الأنفاس صَلَاة وَسلَامًا دائمين لَا ارتياب فيهمَا وَلَا إلتباس. وعَلى آله وَأَصْحَابه وأزواجه المطهرين من الأرجاس، وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا.أما بعد:فقد سَأَلَني بعض الإخوان - حفظه الله تَعَالَى - أَن اشرح لَهُ " الورقات " الَّتِي للْإِمَام الْعَالم الْعَلامَة إِمَام الْحَرَمَيْنِ أبي الْمَعَالِي: عبد الله بن الشَّيْخ [أبي] مُحَمَّد ضِيَاء الدّين شرحاً متوسطاً وَاضحا بالأمثال والأدلة من غير إِشْكَال
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি [হে প্রতিপালক! সহজ করে দিন, হে মহানুভব] সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো পূর্ব-অনুকরণ ব্যতিরেকেই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন এবং সকল মানুষের জন্য রহমতস্বরূপ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের নেতাকে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি কিতাব ও সুন্নাহ (السنة) সুস্পষ্ট করেছেন এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد) ও কিয়াস (القياس) বৈধ করেছেন; যা এমন এক উম্মতের প্রতি অনুকম্পাবশত যারা সত্যের বিপরীতে ভ্রান্তিতে ঐক্যবদ্ধ হবে না। দিবা-রাত্রির সকল প্রহরে এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসের সংখ্যা অনুপাতে তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এমন চিরন্তন সালাত ও সালাম যাতে কোনো সন্দেহ বা অস্পষ্টতা নেই। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং সকল পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র তাঁর সহধর্মিণীগণের ওপর; এবং তিনি তাঁদের ওপর অগণিত শান্তি বর্ষণ করুন।অতঃপর:আমার কতিপয় দ্বীনি ভাই—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন—আমার নিকট অনুরোধ করেছেন যেন আমি বিদগ্ধ আলেম, সুপণ্ডিত, ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলী আব্দুল্লাহ বিন শায়খ [আবু] মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন রচিত "আল-ওয়ারাকাত" গ্রন্থটির একটি মধ্যম মানের ও সহজবোধ্য ব্যাখ্যা প্রদান করি, যা উদাহরণ ও দলিল (الأدلة) সমৃদ্ধ হবে এবং যাতে কোনো জটিলতা থাকবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
وألفاظ غَرِيبَة، وَلَا لُغَات عَن الأفهام بعيدَة، وَلَا إيرادات غامضة.فَإِن هَذِه الْأَشْيَاء مِمَّا تشكل على الْمُبْتَدِي ويسبق عَمَّا بِهِ يَهْتَدِي، [وَإِنَّمَا قصدت بِهِ التَّذْكِرَة للمنتهي وإيضاحاً للمبتدي] وَإِن اضطررت إِلَى إِيرَاد آتِي بِهِ وَاضحا على مَا ستراه إِن شَاءَ الله - تَعَالَى - فِي مَوْضِعه ظَاهرا. مَعَ أَن الخواطر كليلة والهموم كَثِيرَة، والاستعدادات قَليلَة.فأجبته؛ حَيَاء لِكَثْرَة سؤله رَاغِبًا من الله الْإِجَابَة لدعائه. وَسَأَلت الله الْكَرِيم الْإِفَاضَة من بَحر إحسانه؛ إِذْ لَا ملْجأ فِي الْأُمُور إِلَّا إِلَيْهِ، وَلَا إتكال فِي الْأَنْعَام إِلَّا عَلَيْهِ.وأسأل النَّاظر إِلَيْهِ أَن يعْذر فِيمَا عساه أَن يعثر عَلَيْهِ؛ لِأَن الآراء مُخْتَلفَة والأقلام لم تكن عَن كتاب مُرْتَفعَة.وسميته ب:" الأنجم الزاهرات على حل أَلْفَاظ الورقات "وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه، عَلَيْهِ توكلت وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل
এবং এতে নেই কোনো দুর্লভ (غريبة) শব্দাবলি, কিংবা বোধগম্যতার অতীত কোনো ভাষা, অথবা কোনো অস্পষ্ট উপস্থাপনা।কেননা এসব বিষয় শিক্ষানবিশের (مبتدي) জন্য জটিলতা সৃষ্টি করে এবং সঠিক পথনির্দেশনা লাভের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। [আমি এর মাধ্যমে মূলত অভিজ্ঞদের (منتهي) জন্য স্মারক এবং শিক্ষানবিশদের (مبتدي) জন্য স্পষ্টীকরণ করার সংকল্প করেছি]। আর যদি কোনো কিছু উল্লেখ করতে আমি বাধ্য হই, তবে তা আমি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করব, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা যথাস্থানে আপনি প্রত্যক্ষ করবেন। যদিও মেধা ক্লান্ত, দুশ্চিন্তা অনেক এবং প্রস্তুতি অত্যন্ত নগণ্য।অতঃপর তাঁর বারবার অনুরোধের কারণে লজ্জাবোধ করে আমি তাঁকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছি এবং আল্লাহর নিকট তাঁর দুআ কবুলের আশা পোষণ করছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহের সাগর থেকে কৃপা প্রার্থনা করেছি; কেননা সকল বিষয়ে তিনি ছাড়া কোনো আশ্রয় নেই এবং নেয়ামত লাভের ক্ষেত্রে তিনি ছাড়া কোনো ভরসা নেই।আমি পাঠকদের কাছে অনুরোধ করছি যে, তাঁরা যেন আমার সম্ভাব্য ভুলত্রুটির বিষয়ে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি রাখেন; কারণ মানুষের মতামত ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং কলম কখনোই ভুলত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়।আর আমি এর নামকরণ করেছি:"আল-আনজুমুজ জাহেরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত"আমার তৌফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তিনি আমার জন্য যথেষ্ট ও কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
[الْحَمد لَهُ] قَالَ رحمه الله تَعَالَى: (الْحَمد لله رب الْعَالمين)أَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق: إِنَّمَا صدر كِتَابَة - بعد الْبَسْمَلَة - بِالْحَمْد؛ إقتداء بِالْكتاب وَالسّنة: -فَإِنَّهُ تَعَالَى ذكر الْحَمد بعد الْبَسْمَلَة فِي الْفَاتِحَة وَغَيرهَا.وَأما السّنة: فقد حث النَّبِي -[صلى الله عليه وسلم]- على الْبَسْمَلَة وَالْحَمْد فِي الِابْتِدَاء فَقَالَ عليه السلام: (كل أَمر ذِي بَال) أَي: شَأْن مُهِمّ (لَا يبتدى فِيهِ بِبسْم الله فَهُوَ أَبتر) أَي قَلِيل الْبركَة، وَرَوَاهُ ابْن عَبَّاس.وَفِي رِوَايَة لَهُ: " فَهُوَ أَجْذم "، وَفِي رِوَايَة: " بِالْحَمْد لله فَهُوَ أقطع " رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَة.
[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য] তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: (সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)আমি বলছি এবং আল্লাহর তাওফীকই কাম্য: নিশ্চয়ই তিনি তাঁর লেখনীর সূচনা—বিসমিল্লাহর পর—হামদ দ্বারা করেছেন; কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণে: -কেননা মহান আল্লাহ সূরা ফাতিহা ও অন্যান্য স্থানে বিসমিল্লাহর পর হামদ উল্লেখ করেছেন।আর সুন্নাহর বিষয়টি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রারম্ভে বিসমিল্লাহ ও হামদ পাঠের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: (প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ) অর্থাৎ: বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (যা বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা) অর্থাৎ তা বরকতহীন; এটি ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন।তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "তা ছিন্ন", এবং অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে (শুরু না করলে) তা বিচ্ছিন্ন (أقطع)", এটি আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَالْمعْنَى وَاحِد.وَلِهَذَا جرت سنة السّلف وَالْخلف بتصدير الْحَمد فِي أَوَائِل تصانيفهموَقد اخْتلفُوا فِي اللَّام الدَّاخِلَة على الْحَمد: -فَذهب الْأَكْثَرُونَ إِلَى أَنَّهَا للاستغراق؛ لِأَن الْحَمد لَهُ - تَعَالَى - حَقِيقَة على جَمِيع أَفعاله.وَيجوز أَن تكون للْعهد وَهُوَ: حَمده تَعَالَى نَفسه حِين خلق الْخلق.أَو حمد الْمَلَائِكَة.أَو الْأَنْبِيَاء عليهم السلاموعَلى الْقَوْلَيْنِ: الْحَمد هُوَ الثَّنَاء بِاللِّسَانِ على الْمَحْمُود مُطلقًا سَوَاء كَانَ عَن نعْمَة أَو غَيرهَا.
এবং অর্থ অভিন্ন।এ কারণেই পূর্বসূরি (سلف) এবং উত্তরসূরিদের (خلف) মাঝে তাঁদের গ্রন্থসমূহের প্রারম্ভে প্রশংসা (حمد) যুক্ত করার রীতি (سنة) প্রচলিত রয়েছে।আর তাঁরা ‘আল-হামদু’ শব্দের শুরুতে যুক্ত ‘লাম’ (لام) বর্ণটি সম্পর্কে মতভেদ করেছেন: -অধিকাংশের মতে এটি সামগ্রিকতা (استغراق)-এর জন্য; কারণ প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর সকল কার্যাবলির জন্য প্রশংসা (حمد) কেবল তাঁরই প্রাপ্য।আবার এটি সুনির্দিষ্টতা (عهد)-এর জন্যও হতে পারে; আর তা হলো: সৃষ্টির সূচনালগ্নে আল্লাহ তাআলার স্বীয় সত্তার প্রশংসা (حمد) করা।অথবা ফেরেশতাদের প্রশংসা।অথবা নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) প্রশংসা।উভয় মতানুসারে: প্রশংসা (حمد) হলো মৌখিকভাবে প্রশংসিত সত্তার নিরঙ্কুশ স্তুতি (ثناء) বর্ণনা করা, তা কোনো নিয়ামতের বিনিময়ে হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
فعلى هَذَا: هُوَ أَعم من الشُّكْر؛ إِذْ الشُّكْر لَا يكون إِلَّا مُقَابلا للنعمة - فَقَط -وَالشُّكْر أَعم من وَجه آخر؛ لِأَنَّهُ ثَنَاء بِاللِّسَانِ وَالْقلب والجوارح.وَالْحَمْد بِاللِّسَانِ - فَقَط -فَكَانَ كل مِنْهُمَا عَاما من وَجه، وخاصاً من آخر: وَذَلِكَ بِحَسب المورد والمتعلق: -فمورد الْحَمد وَاحِد وَهُوَ اللِّسَان، ومتعلقه مُتَعَدد؛ لكَونه عَن نعْمَة وَغَيرهَا.ومورد الشُّكْر مُتَعَدد وَهُوَ اللِّسَان وَالْقلب والجوارح، ومتعلقة وَاحِد وَهُوَ النعم.وَإِنَّمَا أضيف الْحَمد لله دون سَائِر أَسْمَائِهِ تَعَالَى؛ لِأَنَّهُ اخْتصَّ بِهِ تَعَالَى دون
অতএব এর ভিত্তিতে: এটি শুকর অপেক্ষা অধিক ব্যাপক (أعم); যেহেতু শুকর কেবল নেয়ামতের বিনিময়েই হয়ে থাকে - শুধুমাত্র -আবার অন্য দিক থেকে শুকর অধিক ব্যাপক (أعم); কারণ এটি জবান, অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে কৃত প্রশংসা।পক্ষান্তরে হামদ কেবল জবানের মাধ্যমে করা হয় - শুধুমাত্র -সুতরাং এদের প্রত্যেকটি এক দিক থেকে ব্যাপক (عام) এবং অন্য দিক থেকে বিশেষ (خاص); আর তা হচ্ছে প্রকাশস্থল ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নিরিখে: -হামদ প্রকাশের উৎস একটি, আর তা হলো জবান; কিন্তু এর সংশ্লিষ্ট বিষয় বহুমুখী; যেহেতু এটি নেয়ামত প্রাপ্তি কিংবা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে।আর শুকর প্রকাশের উৎস বহুমুখী, যথা- জবান, অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ; কিন্তু এর সংশ্লিষ্ট বিষয় একটিই, আর তা হলো নেয়ামত।আর মহান আল্লাহর অন্যান্য নামের পরিবর্তে হামদ-কে কেবল 'আল্লাহ' নামের সাথেই সম্পৃক্ত করা হয়েছে; কারণ এটি তাঁর সাথেই বিশিষ্ট (خاص), যা অন্য কারো জন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭০)
غَيره؛ لِأَن المخلوقين تشاركه فِي غَيره كالسميع والبصير وَغَيرهمَا، وَإِن كَانَت فِي غَيره تَعَالَى مجَازًا.وَكَذَا لَو قلت: " الْكَرِيم " أَو " الرَّحِيم " فقد اثْبتْ لَهُ تَعَالَى صفة وَاحِدَة.بِخِلَاف إِذا قلت: " يَا الله " فَهُوَ جَامع لجَمِيع أَسْمَائِهِ وَصِفَاته؛ لدلالته على الربوبية.وَإِن سقط مِنْهُ حرف فَهُوَ: لله، وَإِن سقط حرفان لَهُ، وَإِن سقط ثَلَاثَة فَهُوَ هُوَ. وَهُوَ غَايَة الْمَقْصُود بِخِلَاف سَائِر الْأَسْمَاء.وَأما " الرب " فيطلق وَيُرَاد بِهِ الْمَالِك؛ لِأَن رب الشَّيْء مَالِكه كرب الدَّار وَغَيرهَا.وَيُطلق على المصلح - أَيْضا - فَيُقَال: " رب الْأَدِيم " أَي: أصلحه.وَيُطلق على المربي.وَفِي الْجُمْلَة لَا تطلق لَفْظَة " الرب " من غير إِضَافَة إِلَّا على الله - تَعَالَى -
অন্যান্য নাম; কারণ সৃষ্টিরা তাঁর অন্যান্য নামের ক্ষেত্রে তাঁর অংশীদার হয় যেমন সর্বশ্রোতা (السميع) এবং সর্বদ্রষ্টা (البصير) ও অন্যান্য, যদিও তা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে রূপক (مجازا) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।অনুরূপভাবে আপনি যদি বলেন: "আল-কারিম" (الكريم) অথবা "আর-রাহিম" (الرحيم), তবে আপনি মহান আল্লাহর জন্য কেবল একটি বৈশিষ্ট্য (صفة) সাব্যস্ত করলেন।পক্ষান্তরে আপনি যখন বলেন: "ইয়া আল্লাহ" (يا الله), তখন তা তাঁর সকল নাম ও গুণাবলির (صفاته) সমষ্টি; কারণ তা রুবুবিয়্যাহ (الربوبية) বা প্রভুত্বের প্রমাণ বহন করে।আর যদি তা থেকে একটি অক্ষর বাদ পড়ে, তবে তা হয়: 'লিল্লাহ' (لله), যদি দুটি অক্ষর বাদ পড়ে তবে হয়: 'লাহু' (له), আর যদি তিনটি অক্ষর বাদ পড়ে তবে হয়: 'হু' (هو)। আর এটিই হলো চূড়ান্ত লক্ষ্য, যা অন্যান্য নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।আর "আর-রব" (الرب) শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা মালিক বা অধিপতি (المالك) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়; কারণ কোনো কিছুর রব বলতে তার মালিককে বোঝায়, যেমন ঘরের মালিক (رب الدار) ইত্যাদি।এটি সংশোধনকারী (المصلح) অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন বলা হয়: "রব্বুল আদমি" অর্থাৎ তিনি চামড়াটি সংশোধন করেছেন।এটি প্রতিপালক (المربي) অর্থেও ব্যবহৃত হয়।সারকথা হলো, সম্বন্ধ (إضافة) করা ব্যতীত "আর-রব" (الرب) শব্দটি কেবল আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো ওপর প্রয়োগ করা হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭১)
دون غير[وَأما مُضَافا فَيجوز إِطْلَاقهَا على غَيره] كَقَوْلِه تَعَالَى - حِكَايَة عَن يُوسُف عليه السلام: {إِنَّه رَبِّي أحسن مثواي} [سُورَة يُوسُف: 23]وَكَذَلِكَ قَوْلهم: " رب النَّاقة وَالدَّار " وَغير ذَلِك.و" الْعَالمين " جمع عَالم، وَهُوَ: مَا سوى الله - تَعَالَى - من سَائِر الْمَخْلُوقَات.وَقيل: مَا فِيهِ حَيَاةوَقيل: غير ذَلِك.
অন্য কারো জন্য নয়[আর যখন তা সম্বন্ধযুক্ত (مضافا) অবস্থায় থাকে, তখন অন্য কারো ক্ষেত্রেও তার প্রয়োগ বৈধ] যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী—ইউসুফ আলাইহিস সালামের উদ্ধৃতি দিয়ে: {নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতিপালক, তিনি আমার আবাসনকে সম্মানজনক করেছেন} [সূরা ইউসুফ: ২৩]অনুরূপভাবে তাদের উক্তি: "উট্নীর মালিক" ও "গৃহের মালিক" এবং এ জাতীয় অন্যান্য কথা।আর "আলামিন" (العالمين) হলো "আলাম" (عالم)-এর বহুবচন (جمع); আর তা হলো মহান আল্লাহ ব্যতীত সমগ্র সৃষ্টিজগত (مخلوقات)।কারো মতে: যাতে জীবন বিদ্যমান।আবার কারো মতে: তা ছাড়া অন্য কিছু।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭২)
[الصَّلَاة على النَّبِي وَآله وَصَحبه] قَالَ: (وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ) .أَقُول: لما أثنى على الله - تَعَالَى - سَأَلَهُ الصَّلَاة على رَسُوله [صلى الله عليه وسلم] ، لِأَن الصَّلَاة من الله: الرَّحْمَة.وَمن الْمَلَائِكَة: الاسْتِغْفَار.وَمن الْآدَمِيّين: التضرع وَالدُّعَاء.وَإِنَّمَا أعقب الصَّلَاة بعد الْحَمد؛ لِكَثْرَة اقتران اسْمه عليه السلام مَعَ اسْمه تَعَالَى وَلِهَذَا جرت السّنة من السّلف وَالْخلف بِاتِّبَاع الصَّلَاة بعد الْحَمد فِي تصانيفهم - رَحِمهم الله تَعَالَى -وَإِنَّمَا سمي مُحَمَّدًا؛ لِكَثْرَة خصاله الحميدة.
[নবী, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর সালাত পেশ করা] তিনি বলেন: (এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল সাথীদের ওপর সালাত বর্ষণ করুন)।আমি বলি: যখন তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তখন তিনি তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর সালাত (صلاة) বর্ষণের প্রার্থনা জানালেন; কেননা আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো: রহমত (رحمة)।আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে: ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار)।আর মানুষের পক্ষ থেকে: অনুনয় ও প্রার্থনা (دعاء)।আর প্রশংসার পর সালাত নিয়ে আসার কারণ হলো মহান আল্লাহর নামের সাথে তাঁর (আলাইহিস সালাম) নামের নিবিড় সংশ্লিষ্টতা। আর এ কারণেই সালাফ (سلف) এবং খালাফ (خلف) - আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন - তাঁদের গ্রন্থাবলিতে প্রশংসার পর সালাত নিয়ে আসার সুন্নাহ (سنة) বা রীতি অনুসরণ করেছেন।আর তাঁর নাম 'মুহাম্মদ' রাখা হয়েছে তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলির প্রাচুর্যের কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
وَنَبِيًّا؛ لنبوته، وَهُوَ الِارْتفَاع على سَائِر الْخلق.أَو الإنبائه وَهُوَ الْإِخْبَار للنَّاس عَن الله تَعَالَى.وَأما " الْآل " فأصله أهل لتصغيره على أهيل؛ لِأَن التصغير يرد الْأَشْيَاء إِلَى أَصْلهَا؛ لِأَن الْهَاء قلبت همزَة؛ لقرب مخرجهما، ثمَّ قلبت الْهمزَة ألفا؛ لانفتاح مَا قبلهَا فَصَارَ " آل "وَفِيه دَلِيل على جَوَاز إِضَافَة " الْآل " إِلَى مُضْمر.وَبِه قَالَ جُمْهُور الْعلمَاء وَأنْكرهُ الْكسَائي والنحاس.
এবং নবী; তাঁর নবুয়তের কারণে, আর তা হলো সকল সৃষ্টির ওপর উচ্চ মর্যাদা লাভ করা।অথবা তাঁর সংবাদ প্রদানের কারণে, আর তা হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছানো।আর "আল" শব্দের মূল হলো "আহল", কারণ এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হলো "উহায়ল"; কেননা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপান্তর কোনো বিষয়কে তার মূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এখানে "হা" অক্ষরটি "হামযা" তে রূপান্তরিত হয়েছে তাদের উচ্চারণস্থলের নৈকট্যের কারণে, অতঃপর "হামযা" টি "আলিফ" এ রূপান্তরিত হয়েছে তার পূর্ববর্ণে ফাতহা থাকার কারণে, ফলে তা "আল" শব্দে পরিণত হয়েছে।এর মধ্যে "আল" শব্দটিকে সর্বনামের দিকে সম্বন্ধ করার বৈধতার দলিল রয়েছে।অধিকাংশ (جمهور) আলেম এই মত পোষণ করেছেন এবং আল-কিসায়ি ও আন-নাহহাস এটি অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
والزبيدي وَقَالُوا: لَا يجوز إِضَافَته إِلَّا إِلَى مظهر فَلَا يُقَال إِلَّا " آل مُحَمَّد "وَاخْتلفُوا فِي " الْآل " على ثَلَاثَة أَقْوَال: -فَذهب الشَّافِعِي وَأَصْحَابه إِلَى أَنهم بَنو هَاشم وَبَنُو الْمطلب.وَقَالَ الْأَزْهَرِي وَغَيره من الْمُحَقِّقين: هم جَمِيع الْأمة.
এবং জুবাইদী ও অন্যান্য বিদ্বানগণ বলেছেন: কোনো প্রকাশ্য বিশেষ্য (مظهر) ব্যতীত একে সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ নয়; ফলে কেবল "আলে মুহাম্মদ" বলাই বিধেয়।পরিজন (آل) শব্দটির সংজ্ঞায় তাঁরা তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: -ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারীগণ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, তাঁরা হলেন বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব।আল-আজহারী এবং অন্যান্য গবেষকগণ (المحققين) বলেছেন: তাঁরা হলেন সমগ্র উম্মত।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ النَّوَوِيّ فِي " شرح مُسلم ".وَقيل: أهل بَيته وعترته.و" الصَّحَابَة " جمع صَاحب وَهُوَ: كل مُسلم رأى النَّبِي -[صلى الله عليه وسلم]- وَلَو سَاعَة
আর এটিই ইমাম নববী তাঁর "শারহ মুসলিম"-এ গ্রহণ করেছেন।আর বলা হয়েছে: তারা হলেন তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর বংশধর।এবং "সাহাবী" (الصحابة) হলো "সাহিব" (صاحب)-এর বহুবচন, আর তিনি হলেন: প্রত্যেক ওই মুসলিম যিনি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে দেখেছেন, যদিও তা মুহূর্তকালের জন্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
وَبِه قَالَ جُمْهُور الْعلمَاء.وَقيل: من طَالَتْ صحبته.وَهُوَ الرَّاجِح عِنْد الْأُصُولِيِّينَ وَالله أعلم[تَقْدِيم الْكتاب] قَالَ: (وَبعد. فَهَذِهِ وَرَقَات تشْتَمل على أصُول الْفِقْه) .أَقُول: لما فرغ أَولا من الثَّنَاء على الله، وَالصَّلَاة على رَسُوله، وَآله وَصَحبه أَشَارَ إِلَى مَا هُوَ بصدده فَقَالَ: " وَبعد " أَي: أَقُول - بعد الْحَمد وَالصَّلَاة - مَا تشْتَمل عَلَيْهِ هَذِه الورقات.
এবং জমহুর (جمهور) আলেমগণ এই মতই ব্যক্ত করেছেন।এবং বলা হয়েছে: যার সাহচর্য (صحبته) দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়েছে।আর এটিই উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট অগ্রগণ্য (الراجح) মত, এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ[গ্রন্থের উপস্থাপনা] তিনি বললেন: (অতঃপর: এই কয়েকটি পৃষ্ঠা উসুল আল-ফিকহ সম্বলিত)।আমি বলছি: যখন তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর রাসূল, তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ পাঠ সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি যা বর্ণনা করতে যাচ্ছেন সেদিকে ইঙ্গিত করে বললেন: "অতঃপর" অর্থাৎ: আমি হামদ ও সালাত পাঠের পর বলছি—এই পৃষ্ঠাগুলো যা কিছু বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
وَهِي جمع قلَّة؛ لِأَنَّهَا جمع ورقةوَإِنَّمَا حصر الْأُصُول فِي وَرَقَات قَليلَة؛ تسهيلاً للمبتدي بِهِ، وَتَذْكِرَة للمنتهي عَنهُ.[بَيَان أَن أصُول الْفِقْه يتكون من جزأين] قَالَ: (وَهُوَ لفظ مؤلف من جزأين مفردين، أَحدهمَا الْأُصُول، وَالْآخر: الْفِقْه) :أَقُول: شرع يبين اسْم هَذَا الْعلم، فَقَالَ: " هُوَ لفظ مؤلف " أَي مركب.وَقيل: الْمركب غير الْمُؤلف؛ لِأَن الْمُضَاف، مؤلف ك " عبد الله " و " غُلَام زيد " وَمَا أشبههما.والمركب ك " بعلبك " و " خَمْسَة عشر " وَمَا أشبههما.وَقَوله: " من جزأين مفردين " يُشِير إِلَى أَن التَّأْلِيف قد يكون من جزأين مفردين كاسم هَذَا الْعلم؛ لِأَن " الْأُصُول " مُفْرد، و " الْفِقْه " كَذَلِك.فقد يكون من جملتين كَقَوْلِك: " إِن قَامَ زيد قُمْت " فَإِن مَعَ الْفِعْل وَالْفَاعِل جملَة و " قُمْت " جملَة أُخْرَى.لَكِن معرفَة الْمُؤلف متوقفة على معرفَة أَجْزَائِهِ، ثمَّ على معرفَة فَائِدَة النِّسْبَة بَين الْمُضَاف والمضاف إِلَيْهِ فشرع فِي تعريفهما.
এটি স্বল্পতাবাচক বহুবচন (جمع قلة); কারণ এটি 'ওয়ারাকাহ' (ورقة) শব্দের বহুবচন।আর উসুলকে (মৌলিক নীতিসমূহ) সামান্য কিছু পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে; যেন তা নতুন শিক্ষার্থীর জন্য সহজসাধ্য হয় এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য স্মারক হয়।[উসুলুল ফিকহ দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার বর্ণনা] তিনি বলেন: (এটি দুটি একক (مفرد) অংশের সমন্বয়ে গঠিত একটি শব্দ, যার একটি হলো 'আল-উসুল' (মূলনীতিসমূহ) এবং অন্যটি হলো 'আল-ফিকহ'):আমি বলছি: তিনি এই শাস্ত্রের নামকরণের বর্ণনা শুরু করেছেন, অতঃপর বলেছেন: "এটি একটি শব্দ যা রচিত (مؤلف)" অর্থাৎ যৌগিক (مركب)।বলা হয়ে থাকে: যৌগিক (مركب) এবং রচিত (مؤلف) এক নয়; কেননা সম্বন্ধযুক্ত পদ (مضاف) যেমন "আবদুল্লাহ" ও "গুলামু যাইদ" এবং এজাতীয় শব্দগুলো হলো 'রচিত' (مؤلف)।আর যৌগিক (مركب) হলো যেমন "বালবাক্কা" এবং "খামসাতা আশারা" (পনেরো) ও এজাতীয় শব্দ।তাঁর উক্তি: "দুটি একক (مفرد) অংশ থেকে" - এটি ইঙ্গিত করে যে, কখনো কখনো রচনা দুটি একক (مفرد) অংশ দ্বারা হতে পারে, যেমন এই শাস্ত্রের নাম; কারণ "আল-উসুল" একটি একক (مفرد) শব্দ এবং "আল-ফিকহ"-ও তদ্রূপ।আবার কখনো তা দুটি বাক্য (جملة) দ্বারা হতে পারে, যেমন আপনার উক্তি: "যদি যাইদ দাঁড়ায়, তবে আমিও দাঁড়াবো"; এখানে ক্রিয়া ও কর্তা মিলে একটি বাক্য (جملة) এবং "আমি দাঁড়ালাম" আরেকটি বাক্য (جملة)।কিন্তু কোনো রচিত (مؤلف) বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা তার অংশসমূহ সম্পর্কে জানার ওপর নির্ভরশীল, অতঃপর সম্বন্ধযুক্ত পদ (مضاف) ও যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে (مضاف إليه)-এর মধ্যকার সম্পর্কের উপকারিতা জানার ওপর নির্ভরশীল। তাই তিনি এই দুটির পরিচয় প্রদান শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
[تَعْرِيف الأَصْل] قَالَ: (الأَصْل: مَا يَنْبَنِي عَلَيْهِ غَيره) .أَقُول: إِنَّه رحمه الله يُشِير إِلَى أَن لكل طَالب علم أَن يتَصَوَّر ذَلِك الْعلم أَولا عِنْد اشْتِغَاله بِهِ فَحِينَئِذٍ يحْتَاج إِلَى معرفَة حَده؛ لِأَن الْحَد يُفِيد التَّصَوُّر.فشرع يبين حد " الْأُصُول " و " الْفِقْه وَإِنَّمَا جمع الْأُصُول؛ ليعم الْكتاب وَالسّنة وَالْقِيَاس وَغَيرهَا. وَالْأَصْل فِي اللُّغَة: مَا يبْنى عَلَيْهِ غَيره.وَهَذَا أحسن مَا قيل فِي حَده.
[আসলের সংজ্ঞা (تعريف الأصل)] তিনি বললেন: (আসল (الأصل) হলো: যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে থাকে)।আমি বলি: তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করছেন যে, প্রতিটি জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য কোনো বিদ্যায় ব্যাপৃত হওয়ার সময় সর্বপ্রথম সেই বিদ্যা সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা (تصور) লাভ করা প্রয়োজন। আর তখন তিনি তার সংজ্ঞায়ন (حد) জানার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন; কেননা সংজ্ঞা (حد) সম্যক ধারণা (تصور) লাভে সহায়তা করে।অতঃপর তিনি 'উসুল (الأصول)' ও 'ফিকহ'-এর সংজ্ঞায়ন (حد) বর্ণনা করতে শুরু করলেন। মূলত 'উসুল' শব্দটিকে বহুবচন করা হয়েছে যেন তা কিতাব, সুন্নাহ, কিয়াস (القياس) ও অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর আভিধানিক পরিভাষায় আসল (الأصل) হলো: যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে।আর এটিই এর সংজ্ঞায়নের (حد) ক্ষেত্রে যা কিছু বলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَفِي اصْطِلَاح أهل هَذَا الْفَنّ هُوَ الدَّلِيل.وَإِنَّمَا كَانَ الدَّلِيل أصلا؛ لانبناء الْأَحْكَام عَلَيْهِ، واستنباطها مِنْهُ.لَكِن سكت الشَّيْخ رحمه الله عَن بَيَان فَائِدَة النِّسْبَة بَين الْمُضَاف والمضاف
আর এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষায় (اصطلاح) তা হলো দলিল (الدليل)।আর দলিলকে মূলত মূল (أصل) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; কারণ এর ওপরই বিধানসমূহ (الأحكام) ভিত্তি করে এবং তা থেকেই সেগুলোর আহরণ (استنباط) সম্পন্ন হয়।কিন্তু শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) মুদাফ (المضاف) এবং মুদাফ-এর (المضاف) মধ্যকার সম্বন্ধের উপকারিতা বর্ণনার বিষয়টি আলোচনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮০)
إِلَيْهِ، لِأَنَّهُ لما شَرط معرفَة الجزأين: شَرط معرفَة النِّسْبَة بَينهمَا.أَقُول: لما كَانَ الأَصْل اسْم معنى، وَالْمعْنَى يفْتَقر إِضَافَته إِلَى آخر ليُفِيد اختصاصاً أَو غَيره فأضافة إِلَى الْفِقْه.[تَعْرِيف الْفَرْع] قَالَ: (وَالْفرع: مَا يبْنى على غَيره) .أَقُول: لما ذكر أَولا الأَصْل: ذكره بعده الْفَرْع اسْتِطْرَادًا؛ لِأَنَّهُ مَا يُقَابل الأَصْل إِلَّا الْفَرْع.وَلِهَذَا يُقَال للْمَذْهَب فرع الْأُصُول؛ لِأَنَّهُ مَبْنِيّ عَلَيْهِ، ومرتب على قَوَاعِده.[تَعْرِيف الْفِقْه] قَالَ: (وَالْفِقْه: معرفَة الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الَّتِي طريقها الِاجْتِهَاد) .أَقُول: لما فرغ من تَعْرِيف الْأُصُول أَخذ فِي تَعْرِيف الْجُزْء الثَّانِي وَهُوَ: الْفِقْه؛ لِأَن الْفِقْه فِي اللُّغَة: الْفَهم
এর দিকে (ইঙ্গিত করা হয়েছে), কারণ যখন তিনি এর উভয় অংশের জ্ঞানকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, তখন তিনি তাদের মধ্যকার সম্পর্কের জ্ঞানকেও শর্ত করেছেন।আমি বলছি: যেহেতু ভিত্তি (أصل) হলো একটি ভাববাচক বিশেষ্য (اسم معنى), আর কোনো ভাব বা অর্থকে বিশেষত্ব প্রদানের জন্য বা অন্য কোনো কারণে অন্য কোনো শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার মুখাপেক্ষী হতে হয়, তাই তিনি একে ফিকহ-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।[শাখার (فرع) সংজ্ঞা] তিনি বলেছেন: (আর শাখা (فرع) হলো: যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে)।আমি বলছি: যেহেতু তিনি প্রথমে ভিত্তি (أصل) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই এর পরে শাখা (فرع) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; কারণ ভিত্তির (أصل) বিপরীতে কেবল শাখাই (فرع) হতে পারে।আর এই কারণেই মাযহাবকে উসুলের শাখা বলা হয়; কারণ এটি উসুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এর মূলনীতিসমূহের (قواعد) ওপর বিন্যস্ত।[ফিকহ-এর (فقه) সংজ্ঞা] তিনি বলেছেন: (আর ফিকহ হলো: এমন শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার অর্জনের পথ হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد))।আমি বলছি: যখন তিনি ভিত্তি (أصل) এর সংজ্ঞা প্রদান শেষ করলেন, তখন তিনি দ্বিতীয় অংশের সংজ্ঞায় মনোনিবেশ করলেন, আর তা হলো: ফিকহ (فقه); কারণ আভিধানিকভাবে ফিকহ হলো: অনুধাবন (الفهم)।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮১)
وَفِي الِاصْطِلَاح مَخْصُوص بِمَعْرِِفَة الْأَحْكَام … . إِلَى آخِره.وَإِنَّمَا قيد الْأَحْكَام بالشرعية؛ لتخرج الْأَحْكَام الْعَقْلِيَّة كَقَوْلِنَا: " الْحَرَكَة
আর পরিভাষায় (اصطلاح) এটি বিধানাবলি (أحكام) জানার সাথে নির্দিষ্ট …। শেষ পর্যন্ত।আর মূলত বিধানাবলিকে (أحكام) শরয়ী (شرعية) বিশেষণে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে; যাতে বুদ্ধিবৃত্তিক (عقلية) বিধানসমূহ বাদ পড়ে যায়, যেমন আমাদের উক্তি: "গতি
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮২)
والسكون لَا يَجْتَمِعَانِ فِي حَال وَاحِد وَلَا يرتفعان " لِأَن الشَّيْء الْوَاحِد إِمَّا أَن يكون سَاكِنا أَو متحركاً.وَكَذَا " الْبيَاض والسواد " و " النَّفْي الْإِثْبَات ".وَكَذَا قَوْلنَا: " الْكل أعظم من الْجُزْء ".فَإِن هَذِه الْأَشْيَاء تعرف بِالْعقلِ.بِخِلَاف الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة فَهِيَ لَا تعرف إِلَّا بِالنَّقْلِ كالتبييت شَرط فِي صَوْم رَمَضَان، وَأَن لَا زَكَاة فِي حلي مُبَاح، وَلَا فِي الْإِبِل إِذا لم تكن سَائِمَة.
গতি (حركة) ও স্থিতি (سكون) একই অবস্থায় একত্রিত হতে পারে না এবং উভয়টি একযোগে তিরোহিতও হতে পারে না; কারণ কোনো একটি বস্তু হয় স্থির অথবা গতিশীল হবে।একইভাবে "শুভ্রতা ও কৃষ্ণতা" এবং "নেতিবাচকতা (نفي) ও ইতিবাচকতা (إثبات)"।তেমনি আমাদের এই কথা: "সমগ্র তার অংশ অপেক্ষা বৃহত্তর"।কেননা এই বিষয়গুলো বুদ্ধিবৃত্তির (عقل) মাধ্যমে জানা যায়।পক্ষান্তরে শরয়ী বিধানসমূহ (أحكام شرعية) কেবল বর্ণনার (نقل) মাধ্যমেই জানা যায়। যেমন—রমজানের রোজার ক্ষেত্রে রাতে নিয়ত করা (تبييت) একটি শর্ত (شرط), এবং বৈধ (مباح) অলংকারের ওপর কোনো জাকাত নেই, আর সেই উটের ওপরও কোনো জাকাত নেই যা বিচরণশীল (سائمة) নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
فَهَذِهِ الْأَشْيَاء لَا تعرف إِلَّا بِالشَّرْعِ، لَا بِالْعقلِ.وَلِهَذَا لم يقل للعارف بِالْأَحْكَامِ الْعَقْلِيَّة: فَقِيه.وَقَوله: " الَّتِي طريقها الِاجْتِهَاد " أَرَادَ إِخْرَاج الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة القطعية الَّذِي يُشَارك فِي مَعْرفَتهَا الْعَام وَالْخَاص كَقَوْلِنَا: " الصَّلَوَات الْخمس وَاجِبَة " وَكَذَا: " الْحَج " و " إِن الزِّنَا محرم " وَكَذَا " السّرقَة ".فَلَا تتَوَقَّف معرفَة هَذِه على الِاجْتِهَاد، وَلَا يُقَال للعارف بهَا فَقِيه.وَإِنَّمَا الْفَقِيه هُوَ الْعَارِف بمسائل النّظر وَالِاجْتِهَاد الَّتِي لَيْسَ للعوام مِنْهَا سوى التَّقْلِيد.
সুতরাং এই বিষয়গুলো কেবল শরয়ি বিধানের (الشرع) মাধ্যমেই জানা সম্ভব, বিবেকের (العقل) মাধ্যমে নয়।আর এ কারণেই যৌক্তিক বিধানাবলি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ফকিহ বলা হয় না।আর তাঁর উক্তি: "যার পথ হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد)", এর মাধ্যমে তিনি সেই সুনিশ্চিত (القطعية) শরয়ি বিধানসমূহকে বহির্ভূত করতে চেয়েছেন যেগুলোর জ্ঞানে সাধারণ (العام) ও বিশিষ্ট (الخاص) সকলে অংশীদার; যেমন আমাদের বক্তব্য: "পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ওয়াজিব", এবং অনুরূপভাবে: "হজ", "ব্যভিচার হারাম" ও "চুরি"।সুতরাং এই বিষয়গুলো জানা ইজতিহাদের (الاجتهاد) ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এগুলো সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিকে ফকিহ বলা হয় না।বরং ফকিহ হলেন তিনিই যিনি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও ইজতিহাদ (الاجتهاد) সাপেক্ষ মাসআলাসমূহ সম্পর্কে বিজ্ঞ, যে বিষয়গুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য তাকলিদ (التقليد) ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
فَإِن قيل: الْألف وَاللَّام الدَّاخِلَة على الْأَحْكَام لم يتَقَدَّم لَهَا ذكر لتَكون للْعهد وَلَا يجوز أَن تكون للاستغراق إِذْ مَا من أحد إِلَّا وَلَا بُد أَن يشذ عَنهُ شَيْء من الْأَحْكَام، فَحِينَئِذٍ يتَعَذَّر وجود فَقِيه وَاحِد.وَلَا يجوز أَن يحمل على الْحَقِيقَة؛ لِأَنَّهُ لَو حمل عَلَيْهَا لقيل لكل من عرف حكما وَاحِدًا: فَقِيه. وَلَيْسَ كَذَلِك على تعريفهم.وَالْجَوَاب: أَن الْأَحْكَام السَّبْعَة الْآتِي ذكرهَا وَإِن لم تذكر فَهِيَ معهودة عِنْد الْإِطْلَاق فَيصْرف إِطْلَاقهم الْأَحْكَام إِلَيْهَا وَالله أعلم.
যদি প্রশ্ন করা হয়: ‘বিধিবিধান’ (الأحكام) শব্দের শুরুতে যুক্ত ‘আলিফ-লাম’ ইতিপূর্বে আলোচিত হয়নি যাতে তাকে ‘পরিচিতিবাচক’ (للعهد) হিসেবে গণ্য করা যায়; আবার একে ‘ব্যাপকতা’ (للاستغراق) অর্থে গ্রহণ করাও বৈধ নয়, কারণ এমন কেউ নেই যার অগোচরে কিছু না কিছু ‘বিধিবিধান’ (الأحكام) থেকে যাওয়া অনিবার্য নয়। এমতাবস্থায় একজন ‘ফকিহ’ (فقيه) খুঁজে পাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়বে।আর একে ‘শাব্দিক অর্থের’ (الحقيقة) ওপর প্রয়োগ করাও বৈধ নয়; কারণ যদি এর ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে যে ব্যক্তি মাত্র একটি বিধান জানে তাকেও ‘ফকিহ’ (فقيه) বলা হবে। অথচ তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী বিষয়টি তেমন নয়।এর উত্তর হলো: পরবর্তীতে যে সাতটি ‘বিধিবিধানের’ (الأحكام) কথা উল্লেখ করা হবে, তা ইতিপূর্বে বর্ণিত না হলেও সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা সুপরিচিত। সুতরাং তাদের ‘বিধিবিধান’ (الأحكام) শব্দটির সাধারণ প্রয়োগ সেগুলোর দিকেই নির্দেশ করে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
[أَنْوَاع الْأَحْكَام] قَالَ: (الْأَحْكَام سَبْعَة: " الْوَاجِب " و " الْمَنْدُوب " و " الْمُبَاح " و " الْمَحْظُور " و " الْمَكْرُوه " و " الصَّحِيح " و " الْبَاطِل ") .أَقُول: إِنَّه أَخذ فِي عدد الْأَحْكَام الْمُتَعَلّقَة بِأَفْعَال الْمُكَلّفين وَهِي سَبْعَة على مَا اخْتَار - هَا هُنَا؛ لِأَن خطابة تَعَالَى الْمُتَعَلّق بِأَفْعَال الْمُكَلّفين فِي الْمُعَامَلَات وَغَيرهَا.فَإِن تعلق بهَا إِمَّا أَن يكون صَحِيحا أَو بَاطِلا؛ لِأَن الْمُعَامَلَات إِن كَانَت على الْوَجْه الشَّرْعِيّ تعلق الحكم بِصِحَّتِهَا وَإِلَّا ببطلانها.وَإِن تعلق الْخطاب بغَيْرهَا من أَفعَال الْمُكَلّفين فَلَا يَخْلُو: أَن يَقْتَضِي الطّلب،
[বিধানের প্রকারভেদ] তিনি বলেন: (বিধানসমূহ সাতটি: "আবশ্যিক (الواجب)", "পছন্দনীয় (المندوب)", "বৈধ (المباح)", "নিষিদ্ধ (المحظور)", "অপছন্দনীয় (المكروه)", "সঠিক (الصحيح)" এবং "বাতিল (الباطل)")।আমি বলছি: তিনি শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের (মুকাল্লাফ) কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানের সংখ্যা বর্ণনা করেছেন, যা তার পছন্দ অনুযায়ী এখানে সাতটি; কারণ লেনদেন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যাবলীর সাথে মহান আল্লাহর সম্বোধন সংশ্লিষ্ট।যদি তা এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা হয় সঠিক (الصحيح) হবে অথবা বাতিল (الباطل) হবে; কারণ লেনদেনসমূহ যদি শরয়ী পদ্ধতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, তবে বিধানটি তার সঠিক (الصحيح) হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, অন্যথায় তা বাতিল (الباطل) হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে।আর যদি সম্বোধনটি শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্তদের অন্যান্য কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা কোনো কিছু তলব বা দাবি করার ঊর্ধ্বে নয়,
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
أَو التّرْك.فَالْأول: إِن كَانَ لَازِما فَهُوَ الْوَاجِب كأمره تَعَالَى بِالصَّلَاةِ، وَالزَّكَاة وَالْحج وَغير ذَلِك.وَإِن لم يكن الطّلب لَازِما فَهُوَ الْمَنْدُوب كَسَائِر السّنَن.وَالثَّانِي وَهُوَ التّرْك؛ لِأَن الْخطاب إِذا اقْتضى التّرْك فَإِن كَانَ جَازِمًا فَهُوَ الْحَظْر أَي: الْحَرَام كَقَوْلِه تَعَالَى {لَا تقربُوا الزِّنَا} [سُورَة الْإِسْرَاء: 32] {لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالكُم بَيْنكُم بِالْبَاطِلِ} [سُورَة الْبَقَرَة: 188] {وَلَا تقتلُوا النَّفس الَّتِي حرم الله إِلَّا بِالْحَقِّ} [سُورَة الْإِسْرَاء: 33] وَمَا أشبه ذَلِك.فَهَذَا خطاب يَقْتَضِي التّرْك جزما.وَإِن لم يقتض التّرْك جزما [فمكروه كَقَوْلِه عليه السلام: (لَا صَلَاة لِجَار الْمَسْجِد إِلَّا فِي الْمَسْجِد) ، وَكَذَا الِاسْتِنْجَاء بِالْيَمِينِ، وَالْكَلَام] على الْغَائِط وَالسَّلَام على الْآكِل، وَالْمُصَلي، وَالْقَاضِي حَاجته، وَمَا أشبه ذَلِك.وَإِن أذن فِي فعله من غير حث، أَو خير بَين فعله وَتَركه فَهُوَ مُبَاح كَقَوْلِه تَعَالَى {وَإِذا حللتم فاصطادوا} [سُورَة الْمَائِدَة: 2] فَهُوَ [للتَّخْيِير] ؛ إِذْ لَا يجب الصَّيْد عِنْد الْإِحْلَال من الْإِحْرَام، وَلَا يسن فَحمل على الْإِبَاحَة.وَكَذَا قَوْله تَعَالَى: {فَإِذا قضيت الصَّلَاة فَانْتَشرُوا فِي الأَرْض} [سُورَة الْجُمُعَة: 10] وَمَا أشبههما.
অথবা বর্জন।সুতরাং প্রথমটি: যদি তা অপরিহার্য (لازم) হয়, তবে তা ওয়াজিব (واجب); যেমন মহান আল্লাহর নির্দেশ—সালাত, জাকাত, হজ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।আর যদি তলব বা চাহিদাটি অপরিহার্য (لازم) না হয়, তবে তা মানদুব (مندوب); যেমন অন্যান্য সুন্নাহসমূহ।আর দ্বিতীয়টি হলো বর্জন; কেননা সম্বোধন (خطاب) যখন বর্জন দাবি করে, আর তা যদি চূড়ান্ত (جازم) হয়, তবে তা নিষিদ্ধকরণ (حظر) অর্থাৎ হারাম (حرام); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না" [সূরা আল-ইসরা: ৩২], "তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৮], "এবং আল্লাহ যে জীবনকে হারাম করেছেন তা যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করো না" [সূরা আল-ইসরা: ৩৩] এবং এ জাতীয় আয়াতসমূহ।সুতরাং এটি এমন এক সম্বোধন (خطاب) যা চূড়ান্তভাবে বর্জন দাবি করে।আর যদি বর্জনের দাবিটি চূড়ান্ত (جازم) না হয়, [তবে তা মাকরূহ (مكروه); যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (মসজিদের প্রতিবেশীর সালাত মসজিদ ব্যতীত হয় না), তদ্রূপ ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করা এবং মলত্যাগকালীন কথা বলা], আহাররত ব্যক্তি, নামাজি ও শৌচকার্য সম্পাদনকারীকে সালাম দেওয়া এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।আর যদি কোনো কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয় কোনো প্রকার তাগিদ ছাড়াই, অথবা কাজ করা ও বর্জন করার মধ্যে এখতিয়ার প্রদান করা হয়, তবে তা মুবাহ (مباح); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হও তখন শিকার করো" [সূরা আল-মায়িদাহ: ২], এটি স্বাধীন পছন্দের (تخيير) জন্য; কেননা ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার সময় শিকার করা ওয়াজিব (واجب) নয় এবং সুন্নাতও নয়, ফলে একে বৈধতা (إباحة) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো" [সূরা আল-জুমুআহ: ১০] এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَمِنْهُم من جعل الْأَحْكَام خَمْسَة؛ لِأَن الصَّحِيح فِي حكم الْمُبَاح، وَالْبَاطِل فِي حكم الْمَحْظُور وَالله أعلم.
এবং তাদের মধ্যে এমনও রয়েছেন যারা বিধানসমূহকে পাঁচটি নির্ধারণ করেছেন; কেননা সহিহ (صحيح) হচ্ছে বৈধ (مباح) এর বিধানভুক্ত এবং বাতিল (باطل) হচ্ছে নিষিদ্ধ (محظور) এর বিধানভুক্ত। আর আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
[تَعْرِيف الْوَاجِب] قَالَ: (الْوَاجِب مَا يُثَاب على فعله ويعاقب على تَركه) .أَقُول: لما فرغ من تَقْسِيم الْأَحْكَام شرع فِي تَعْرِيف الْأَفْعَال الْمُتَعَلّقَة بهَا فرسمه أَولا؛ لِأَنَّهُ أصل بِالنِّسْبَةِ إِلَى بَاقِي الْأَحْكَام.فَأصل الْوَاجِب فِي اللُّغَة: السُّقُوط؛ لِأَن السَّاقِط يلْزم مَكَانَهُ، فَسُمي اللازام الَّذِي لَا خلاص مِنْهُ وَاجِبا.ويرسم الْوَاجِب فِي اصْطِلَاح أهل هَذَا الْفَنّ [ب] " مَا يُثَاب فَاعله،
[ওয়াজিবের (الواجب) সংজ্ঞা] তিনি বলেছেন: (ওয়াজিব (الواجب) হলো তা-ই, যার সম্পাদনে সওয়াব প্রদান করা হয় এবং বর্জনে শাস্তি প্রদান করা হয়)।আমি বলছি: যখন তিনি বিধানসমূহের (الأحكام) বিভাজন সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াগুলোর সংজ্ঞায়নে প্রবৃত্ত হলেন। অতঃপর তিনি প্রথমেই একে (ওয়াজিবকে) সংজ্ঞায়িত করলেন; কারণ অবশিষ্ট বিধানগুলোর (الأحكام) তুলনায় এটি মূল (أصل) স্বরূপ।আভিধানিক অর্থে ওয়াজিবের (الواجب) মূল উৎস হলো: পতিত হওয়া (السقوط); কারণ যা পতিত হয় তা নিজ স্থানে স্থবির হয়ে থাকে। তাই এমন অপরিহার্য (اللازم) বিষয় যা থেকে নিষ্কৃতি নেই, তাকে ওয়াজিব (الواجب) বলা হয়।আর এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষায় ওয়াজিবের (الواجب) সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে যে, "যার সম্পাদনকারী সওয়াব লাভ করে,
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
ليخرج " الْحَرَام " و " الْمَكْرُوه " و " الْمُبَاح " فَإِن هَؤُلَاءِ لَا يُثَاب فاعلهم.قَوْله: " ويعاقب تَاركه " ليخرج " الْمَنْدُوب "؛ فَإِنَّهُ يُثَاب على فعله، لَكِن لَا يُعَاقب على تَركه.فانطبق الرَّسْم على الْوَاجِب كالصلوات الْخمس، وَصَوْم رَمَضَان وَالْحج [وَغَيرهَا لتحَقّق] الوصفين فِيهِ وهما: " الثَّوَاب على الْفِعْل " و " الْعقَاب على التّرْك " وَالله أعلم.[تَعْرِيف الْمَنْدُوب] قَالَ: (وَالْمَنْدُوب: مَا يُثَاب على فعله وَلَا يُعَاقب على تَركه) .أَقُول: لما فرغ من رسم الْوَاجِب: شرع فِي رسم الْمَنْدُوب؛ ليميزه عَن أقسامه. فَقَالَ: " الْمَنْدُوب: مَا يُثَاب على فعله " كالسنن مثلا؛ فَإِنَّهُ يُثَاب على فعلهَا.وَخرج بِهَذَا الْقَيْد " الْمَحْظُور " و " الْمَكْرُوه و " الْمُبَاح " فَإِنَّهُ لَا يُثَاب على فعلهم.
যাতে "হারাম (الحرام)", "মাকরূহ (المكروه)" এবং "মুবাহ (المباح)" বাদ পড়ে যায়; কারণ এগুলোর সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন না।তাঁর উক্তি: "এবং এর পরিত্যাগকারী দণ্ডপ্রাপ্ত হয়", এর মাধ্যমে "মানদুব (المندوب)"-কে বাদ দেওয়া হয়েছে; কেননা এর আমলকারী সওয়াব পায়, কিন্তু তা পরিত্যাগকারী দণ্ডপ্রাপ্ত হয় না।ফলে সংজ্ঞাটি ওয়াজিব (الواجب)-এর ওপর প্রযোজ্য হয়েছে, যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমজানের সিয়াম এবং হজ [ইত্যাদি; কারণ এতে উভয় বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে] আর তা হলো: "আমল করলে সওয়াব প্রাপ্তি" এবং "পরিত্যাগ করলে দণ্ড প্রাপ্তি"। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।[মানদুব (المندوب)-এর সংজ্ঞা] তিনি বলেন: (আর মানদুব (المندوب) হলো তা-ই, যা সম্পাদনে সওয়াব পাওয়া যায় এবং তা পরিত্যাগে দণ্ড দেওয়া হয় না)।আমি বলছি: যখন তিনি ওয়াজিব (الواجب)-এর সংজ্ঞা প্রদান শেষ করলেন, তখন মানদুব (المندوب)-এর সংজ্ঞা দিতে শুরু করলেন; যাতে একে এর অন্যান্য প্রকার থেকে পৃথক করা যায়। তিনি বললেন: "মানদুব (المندوب) হলো তা-ই, যা সম্পাদনে সওয়াব পাওয়া যায়", যেমন উদাহরণস্বরূপ সুন্নাতসমূহ; কেননা তা পালনে সওয়াব পাওয়া যায়।এই শর্তের মাধ্যমে "নিষিদ্ধ (المحظور)", "মাকরূহ (المكروه)" এবং "মুবাহ (المباح)" বাদ পড়ে গেছে; কারণ এগুলোর সম্পাদনে সওয়াব পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৯০)
و [ب] قَوْله: " وَلَا يُعَاقب على تَركه " خرج الْوَاجِب.وانطبق الرَّسْم على الْمَنْدُوب لتحَقّق الوصفين وهما: " الثَّوَاب على الْفِعْل، و " عدم الْعقَاب على التّرْك ".وَيُسمى الْمَنْدُوب أَيْضا " نَافِلَة " و " سنة " وَالله أعلم.[تَعْرِيف الْمُبَاح] قَالَ: (والمباح: مَا لَا يُثَاب على فعله وَلَا يُعَاقب على تَركه)أَقُول: لما فرغ من رسم الْوَاجِب وَالْمَنْدُوب شرع فِي رسم الْمُبَاح فَقَالَ: مَا لَا يُثَاب على فعله وَلَا يُعَاقب على تَركه " وَفِيه دَلِيل على أَن صل الْمُبَاح الاتساع وَمِنْه يُقَال: " بحبوحة الْجنَّة " وَهُوَ: مَا اتَّسع مِنْهَا.وَقد وسع على الْمُكَلف فِيهِ؛ إِذْ لَا يُعَاقب على فعله وَتَركه، وَلَا يُثَاب عَلَيْهِمَا
এবং [খ] তাঁর উক্তি: "এবং এর বর্জনের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না" দ্বারা ওয়াজিব (واجب) বাদ পড়ে গেছে।এবং সংজ্ঞাটি পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়েছে, যেহেতু সেখানে দুটি বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আর তা হলো: "পালনের জন্য সওয়াব" এবং "বর্জনের জন্য শাস্তির অনুপস্থিতি"।পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়কে নফল (نافلة) এবং সুন্নাত (سنة) হিসেবেও নামকরণ করা হয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।[অনুমোদিত (مباح) এর সংজ্ঞা] তিনি বলেন: (আর অনুমোদিত (مباح) হলো তা, যা পালনের জন্য সওয়াব দেওয়া হয় না এবং বর্জনের জন্য শাস্তি দেওয়া হয় না।)আমি বলছি: যখন তিনি ওয়াজিব (واجب) এবং পছন্দনীয় (مندوب) এর সংজ্ঞা প্রদান সম্পন্ন করলেন, তখন অনুমোদিত (مباح) এর সংজ্ঞা প্রদান শুরু করলেন। তিনি বললেন: "যা পালনের জন্য সওয়াব দেওয়া হয় না এবং বর্জনের জন্য শাস্তি দেওয়া হয় না।" এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে, অনুমোদিত (مباح) এর মূল ভিত্তি হলো প্রশস্ততা; এবং এ থেকেই "বাহবুহাতুল জান্নাহ" বলা হয়, যার অর্থ হলো জান্নাতের প্রশস্ততম স্থান।আর এখানে শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির (مكلف) জন্য প্রশস্ততা রাখা হয়েছে; যেহেতু এর পালন বা বর্জনের জন্য কোনো শাস্তি নেই এবং এগুলোর কোনোটিতেই সওয়াব নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৯১)
فَخرج " الْوَاجِب " و " الْمَنْدُوب " بقوله " لَا يُثَاب على فعله "؛ لِأَنَّهُ يُثَاب على فعلهمَا.وَكَذَا " الْحَرَام " و " الْمَكْرُوه " فَإِنَّهُ لَا يُثَاب على فعلهمَا.وَخرج بقوله: " وَلَا يُعَاقب على تَركه " الْوَاجِب؛ فَإِنَّهُ يُعَاقب على تَركه.وانطبق الرَّسْم على الْمُبَاح؛ لتحَقّق الوصفين وهما: " عدم الثَّوَاب " و " [عدم] الْعقَاب فِيهِ " وَالله أعلم.[تَعْرِيف الْمَحْظُور] قَالَ: (والمحظور مَا يُثَاب على تَركه، ويعاقب على فعله) .أَقُول: لما فرغ من رسم الْأَحْكَام الثَّلَاثَة: شرع فِي الرَّابِع وَهُوَ " الْحَرَام "؛ لِأَن أصل الْحَظْر: الْمَنْع، وَلِهَذَا يُقَال لكل مَا يمْنَع الْمَاشِيَة من الْخُرُوج: " حَظِيرَة "وَالْحرَام مَمْنُوع مِنْهُ شرعا كَالزِّنَا، وَشرب الْخمر، وَمَا أشبههما.
ফলাফলস্বরূপ "ওয়াজিব (الواجب)" এবং "মানদুব (المندوب)" তাঁর এই উক্তি "যার সম্পাদনে সওয়াব প্রদান করা হয় না" এর দ্বারা বাদ পড়ে গেছে; কারণ এই দুটির সম্পাদনে সওয়াব প্রদান করা হয়।অনুরূপভাবে "হারাম (الحرام)" এবং "মাকরুহ (المكروه)"; কেননা এগুলোর সম্পাদনে সওয়াব প্রদান করা হয় না।আর তাঁর উক্তি "এবং যা বর্জনে শাস্তি দেওয়া হয় না" এর দ্বারা "ওয়াজিব (الواجب)" বাদ পড়ে গেছে; কারণ তা বর্জনে শাস্তি প্রদান করা হয়।আর এই সংজ্ঞাটি "মুবাহ (المباح)" এর ওপর প্রযোজ্য হয়েছে; কারণ এতে দুটি বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান, আর তা হলো: "সওয়াব না থাকা" এবং "এতে শাস্তি না থাকা", আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।[নিষিদ্ধ বা মাহজুর (المحظور) এর সংজ্ঞা] তিনি বলেন: (এবং নিষিদ্ধ বা মাহজুর (المحظور) হলো তা যার বর্জনে সওয়াব প্রদান করা হয় এবং যা সম্পাদনে শাস্তি প্রদান করা হয়)।আমি বলি: যখন তিনি তিনটি বিধানের সংজ্ঞা প্রদান শেষ করেছেন, তখন চতুর্থটি শুরু করেছেন আর তা হলো "হারাম (الحرام)"; কারণ 'হাজর' (নিষিদ্ধকরণ) এর মূল অর্থ হলো: 'প্রতিবন্ধকতা বা বাধা দেওয়া', এজন্যই যা গবাদিপশুকে বাইরে বের হতে বাধা দেয় তাকে "হাজিরাহ (حظيرة)" বলা হয়।আর "হারাম (الحرام)" হলো শরয়িভাবে নিষিদ্ধ বিষয়, যেমন ব্যভিচার, মদ্যপান এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৯২)
وَقَوله: " مَا يُثَاب على تَركه " ليخرج " الْوَاجِب "؛ فَإِنَّهُ لَا يُثَاب على تَركه، بل يُعَاقب كَمَا سبقوَخرج " الْمُبَاح " أَيْضا، إِذْ لَا يُثَاب على تَركه.وَكَذَا " الْمَنْدُوب "؛ فَإِنَّهُ لَا يُثَاب على تَركه - أَيْضا -وَقَوله: " ويعاقب على فعله " يخرج " الْوَاجِب "؛ فَإِنَّهُ لَا يُعَاقب على فعله، بل يُثَاب على فعله.وَكَذَا " الْمَنْدُوب "؛ فَإِنَّهُ لَا يُعَاقب على فعله، بل يُثَاب على فعله.وَكَذَا " الْمُبَاح "؛ فَإِنَّهُ لَا يُعَاقب على فعلهوَكَذَا " الْمَكْرُوه "؛ فَإِنَّهُ لَا يُعَاقب على فعله.وَقد انطبق الرَّسْم على الْمَحْظُور؛ لتحَقّق الصفتين وهما: " وجود الثَّوَاب على تَركه " و " وجود الْعقَاب على فعله "وَهَذَا إِذا تَركه؛ لامتثال الْأَمر والتقرب إِلَى الله - تَعَالَى - فَإِنَّهُ يُثَاب على تَركه.أما إِذا تَركه لعدم وُصُوله إِلَيْهِ، أَو من غير نِيَّة لامتثال الْأَمر فَلَيْسَ لَهُ ثَوَاب على تَرِكَة. وَالله أعلم.
এবং তাঁর উক্তি: "যা বর্জন করার কারণে সওয়াব প্রদান করা হয়" - এটি 'ওয়াজিব (الواجب)'-কে সংজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য; কারণ এটি বর্জনের জন্য সওয়াব দেওয়া হয় না, বরং পূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, এর জন্য শাস্তি দেওয়া হয়।এবং 'মুবাহ (المباح)'-ও এর বাইরে চলে যায়, যেহেতু এটি বর্জন করার জন্য কোনো সওয়াব নেই।অনুরূপভাবে 'মানদুব (المندوب)'; কারণ এটি বর্জনের জন্যও সওয়াব দেওয়া হয় না।এবং তাঁর উক্তি: "এবং যা করার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়" - এটি 'ওয়াজিব (الواجب)'-কে বাদ দেয়; কারণ এটি করার কারণে শাস্তি দেওয়া হয় না, বরং এটি করার জন্য সওয়াব প্রদান করা হয়।একইভাবে 'মানদুব (المندوب)'; কারণ এটি করার জন্য শাস্তি দেওয়া হয় না, বরং সওয়াব দেওয়া হয়।একইভাবে 'মুবাহ (المباح)'; কারণ এটি করার জন্য কোনো শাস্তি নেই।অনুরূপভাবে 'মাকরুহ (المكروه)'; কারণ এটি করার জন্য শাস্তি প্রদান করা হয় না।আর এই সংজ্ঞাটি 'নিষিদ্ধ (المحظور)'-এর ওপর পূর্ণভাবে প্রয়োগ হয়; কারণ এতে উভয় গুণের সমাহার ঘটেছে, যথা: "বর্জন করার কারণে সওয়াব লাভ" এবং "করার কারণে শাস্তি প্রাপ্তি"।আর এটি তখনই হবে যখন সে আদেশ পালনার্থে এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তা বর্জন করবে; তবেই সে তা বর্জনের জন্য সওয়াব পাবে।পক্ষান্তরে, যদি সে তা করতে সক্ষম না হওয়ার কারণে বর্জন করে, অথবা আদেশ পালনের নিয়ত ব্যতীত বর্জন করে, তবে তা বর্জনের জন্য তার কোনো সওয়াব নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনজুমুয যাহীরাত আলা হাল্লি আলফাযিল ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
[تَعْرِيف الْمَكْرُوه] قَالَ: (وَالْمَكْرُوه مَا يُثَاب على تَركه، وَلَا يُعَاقب على فعله) .أَقُول: لما فرغ من رسم الْأَحْكَام الْأَرْبَعَة شرع فِي رسم الْخَامِس وَهُوَ: الْمَكْرُوه.وَهُوَ مُشْتَقّ من الْكَرَاهَة؛ لِأَنَّهُ كلما نهى عَنهُ الشَّرْع تَنْزِيها فَهُوَ مَكْرُوه.وَقد سبق لَهُ أَمْثِلَة فِي تَقْسِيم الْأَحْكَام.ثمَّ رسمه ب " مَا يُثَاب على تَركه ".وَكَذَا إِذا كَانَ التّرْك بِقصد التَّقَرُّب إِلَى الله - تَعَالَى - كَمَا سبق - أَيْضا - فِي رسم الْحَرَام.وَقَوله: " مَا يُثَاب على تَركه " يخرج " الْوَاجِب "؛ فَإِنَّهُ لَا يُثَاب على تَركه، بل يُعَاقب.وَكَذَا يخرج " الْمَنْدُوب " و " الْمُبَاح "؛ فَإِنَّهُ لَا يُثَاب على تَركهمَا.وَأخرج الْحَرَام بقوله: " وَلَا يُعَاقب على فعله "؛ فَإِن الْحَرَام يُعَاقب على فعلهوانطبق الرَّسْم على الْمَكْرُوه لتحَقّق الصفتين وهما: " الثَّوَاب على ترك فعله " و " عدم الْعقَاب على فعله " وَالله أعلم.
[মাকরুহ বা অপছন্দনীয় (المكروه)-এর সংজ্ঞা] তিনি বলেছেন: (মাকরুহ বা অপছন্দনীয় (المكروه) হলো তা-ই, যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু তা সম্পাদন করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় না)।আমি বলছি: যখন তিনি চারটি বিধানের (الأحكام) সংজ্ঞা প্রদান শেষ করেছেন, তখন পঞ্চম বিধানটি সংজ্ঞায়িত করতে শুরু করেছেন, আর তা হলো: মাকরুহ বা অপছন্দনীয় (المكروه)।এটি 'কারাহাত' (الكراهة) শব্দ থেকে উদ্ভূত; কেননা শরিয়ত যা কিছু 'তানজিহি' বা নিরুৎসাহিতকরণ (تنزيها) হিসেবে নিষেধ করেছে, তা-ই মাকরুহ বা অপছন্দনীয় (مكروه)।বিধানসমূহের (الأحكام) বিভাজনে ইতিপূর্বেই এর উদাহরণ অতিক্রান্ত হয়েছে।অতঃপর তিনি একে "যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায়" বাক্যাংশ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করেছেন।অনুরূপভাবে, যদি এই বর্জন মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে হয়—যেমনটি হারাম বা নিষিদ্ধ (الحرام)-এর সংজ্ঞায় ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে।তাঁর উক্তি: "যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায়", এর মাধ্যমে ওয়াজিব বা আবশ্যক (الواجب) সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়; কারণ তা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় না, বরং শাস্তির যোগ্য হতে হয়।অনুরূপভাবে মানদুব বা উৎসাহিত (المندوب) এবং মুবাহ বা বৈধ (المباح)-ও সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়; কারণ এ দুটি বর্জন করলে কোনো সওয়াব নেই।আর তিনি তাঁর উক্তি: "এবং তা সম্পাদন করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় না"-এর মাধ্যমে হারাম বা নিষিদ্ধ (الحرام)-কে বর্জন করেছেন; কারণ হারাম (الحرام) কাজ সম্পাদন করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়।মাকরুহ বা অপছন্দনীয় (المكروه)-এর ওপর এই সংজ্ঞাটি যথাযথভাবে প্রযোজ্য হয় দুটি বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতির কারণে, আর তা হলো: "তা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া" এবং "তা সম্পাদন করলে শাস্তি না হওয়া"। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।