(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر المختصر في بيان عقيدة أهل السنة والأثر القسم: العقيدة
الكتاب: مختصر المختصر في بيان عقيدة أهل السنة والأثر
المؤلف: الدكتور عبد الهادي بن عوض العمري
الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 67
[كتاب إلكتروني]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1442
আহলে সুন্নাত ওয়াল আসারের আকিদা বর্ণনায় মুখতাসার আল-মুখতাসার বিভাগ: আকিদা
বই: আহলে সুন্নাত ওয়াল আসারের আকিদা বর্ণনায় মুখতাসার আল-মুখতাসার
লেখক: ডক্টর আব্দুল হাদি বিন আওয়াদ আল-উমরি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭
[ই-বুক]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ জিলকদ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১)
مختصر المختصر في بيان عقيدة أهل السنة والأثر
تأليف الدكتور
عبد الهادي بن عوض العمري
عضو الجمعية العلمية السعودية لعلوم العقيدة والأديان والفرق
والمذاهب بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية
الطبعة الأولى 1441 هـ - 2019 م
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আসার-এর আকিদা বর্ণনায় সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসারুল মুখতাসার)
রচনায় ডক্টর
আবদুল হাদি বিন আওয়াদ আল-উমারি
সদস্য, সৌদি বিজ্ঞান সমিতি (আকিদা, ধর্ম ও উপদল বিষয়ক)
এবং মাযহাব বিষয়ক, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রথম সংস্করণ ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدِّمة"الحمدُ للهِ الذي جعل في كلِّ زمانٍ ثُلَّةً من أهلِ العلمِ يدعون من ضلَّ إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، يُحيون بكتابِ الله الموتى، ويُبَصِّرون بنورِ الله أهل العمى، فكم من قتيلٍ لإبليسَ قد أحيوه! وكم من تائهٍ ضالٍّ هدوه! فما أحسن أثرهم على النَّاس وأقبح أثر النَّاس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، الذين عقدوا ألوية البدعة، وأطلقوا عنان الفتنة، فهم مختلفون في الكتاب، مخالفون للكتاب، متفقون على مفارقة الكتاب، يقولون على الله وفي الله وفي كتاب الله بغير علم، يتكلَّمون بالمتشابه من الكلام، ويخدعون جهَّال الناس بما يلبسون عليه فنعوذ بالله من فتن المضلِّين"
(1).
والصَّلاة والسَّلام على إمام المتقين، وقائد الغرِّ المحجَّلين نبيِّنا محمَّدٍ وعلى آله وصحبه أجمعين.
أمَّا بعد:
فلقد دأب نبيُّنا محمَّدٌ صلى الله عليه وسلم على تقرير العقيدة منذ أن نُبِّئ بـ {اقرأ} وأُرسل بالمدثِّر، ولكن بعد انتقاله إلى الرفيق الأعلى وبعد مُضيِّ عصر الخلافة
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি যুগে একদল আলেম রেখেছেন যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন, এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের চক্ষু দান করেন। ইবলিসের কত কত নিহতকে তাঁরা জীবিত করেছেন! কত বিভ্রান্ত পথভ্রষ্টকে তাঁরা পথ দেখিয়েছেন! মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাব কতই না উত্তম, আর তাঁদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না কদর্য! তাঁরা আল্লাহর কিতাব থেকে অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন—যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিতাব নিয়ে মতভেদকারী, কিতাবের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং কিতাব বর্জন করার বিষয়ে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে, আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে প্রতারিত করে। সুতরাং পথভ্রষ্টকারীদের ফিতনা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি"
(১)।
আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুত্তাকীদের ইমাম এবং হাশরের ময়দানে শুভ্র ললাট ও উজ্জ্বল অঙ্গবিশিষ্টদের নেতা আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'ইকরা'র মাধ্যমে নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং 'আল-মুদ্দাসসির' এর মাধ্যমে রাসূল হিসেবে প্রেরিত হওয়ার পর থেকেই আকীদা সুপ্রতিষ্ঠিত করার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর রফীকুল আলা-র (সর্বোচ্চ বন্ধুর) কাছে চলে যাওয়ার পর এবং খিলাফতের যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৬)
الراشدة ظهرت الفرق المخالفة لما كان عليه صلى الله عليه وسلم وأصحابه حتى التبس على كثيرٍ من النَّاس ما كان عليه هدي نبيِّها، وسلفها الصالح؛ بفعل أئمَّةٍ ضُلَّال، وسفهاء جُهَّال؛ فأصبح لزامًا على كلِّ من أراد النجاة لنفسه والسلامة لدينه أن يعلم ما يجلو به عن نفسه ذلك اللَّبس؛ ليتبيَّن له الحقُّ ويعمل على هدى ونور.
ومن هنا بدأت فكرة هذه الورقات المختصرة لبيان عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة ومنهجهم المستقيم، وتمييزها عمَّا لبَّسه المخالفون، وانتهجه المبطلون.
وبعد أن كتبتُ مباحثها، وراجعتُ مادَّتها وقع الاختيار على تسمية تلك الورقات بـ (مختصر المختصر في بيان عقيدة أهل السُّنَّة والأثر)، وجاءت في مقدِّمة، وفصلين، وخاتمة، ثم ثبت المصادر والمراجع، وفهرس الموضوعات.
المقدِّمة: توطئة بين يدي البحث.
الفصل الأول: التعريف بأهل السُّنَّة والجماعة.
وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: تعريف أهل السُّنَّة لغةً واصطلاحًا.
المبحث الثاني: تعريف السُّنَّة لغةً واصطلاحًا.
المبحث الثالث: تعريف الجماعة لغةً واصطلاحًا.
المبحث الرابع: نشأة مصطلح أهل السُّنَّة والجماعة.
المبحث الخامس: أدلة التسمية بأهل السُّنَّة والجماعة.
(খোলাফায়ে) রাশেদীনের যুগের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তার বিরোধী নানা দল-উপদলের আবির্ভাব ঘটে। এমনকি বিভ্রান্ত ইমামদের কর্মতৎপরতা এবং নির্বোধ মূর্খদের কারণে অনেক মানুষের কাছে তাদের নবীর হেদায়েত এবং সালাফে সালেহীন (পুণ্যবান পূর্বসূরি) যে পথের ওপর ছিলেন, তা অস্পষ্ট হয়ে যায়। ফলে যে ব্যক্তি নিজের মুক্তি এবং দ্বীনের নিরাপত্তা চায়, তার জন্য সেই বিষয়গুলো জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা দ্বারা সে নিজের সংশয় দূর করতে পারে; যাতে তার কাছে সত্য স্পষ্ট হয় এবং সে হেদায়েত ও নূরের ওপর আমল করতে পারে।
এখান থেকেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা ও তাদের সঠিক পথ বর্ণনা করার এবং বিরোধীদের সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও বাতিলপন্থীদের অনুসৃত পথ থেকে একে আলাদা করার উদ্দেশ্যে এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রচনার চিন্তা শুরু হয়।
এর বিষয়বস্তুসমূহ রচনা এবং উপাদানসমূহ পর্যালোচনার পর এই পুস্তিকাটির নাম 'আহলে সুন্নাত ওয়াল আসারের আকিদা বর্ণনায় সংক্ষিপ্তসার' রাখা সাব্যস্ত হয়। এটি একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের সমন্বয়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এরপর উৎস ও তথ্যসূত্র এবং সূচিপত্র যুক্ত করা হয়েছে।
ভূমিকা: গবেষণার প্রারম্ভিক উপস্থাপনা।
প্রথম অধ্যায়: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পরিচয়।
এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আহলে সুন্নাতের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সুন্নাতের সংজ্ঞা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে জামাআতের সংজ্ঞা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিভাষার উদ্ভব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত নামকরণের দলিলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الثاني: سمات أهل السُّنَّة والجماعة والجماعة.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: الأسماء التي عُرف بها أهل السُّنَّة تمييزًا عن غيرهم.
المبحث الثاني: خصائص أهل السُّنَّة والجماعة.
المبحث الثالث: مصادر التلقِّي عند أهل السُّنَّة والجماعة.
الخاتمة: وفيها تلخيصٌ لأهمِّ نتائج البحث.
وأسال الله تعالى أن ينفع بهذا البحث كاتبه وقارئه، وأن يجعله خالصًا لوجهه الكريم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সেসকল নাম যার মাধ্যমে আহলে সুন্নাত অন্যদের থেকে আলাদাভাবে পরিচিত।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট জ্ঞান আহরণের উৎসসমূহ।
উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহের সারসংক্ষেপ রয়েছে।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গবেষণার মাধ্যমে এর লেখক ও পাঠককে উপকৃত করেন এবং একে শুধুমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الأول: التعريف بأهل السنة والجماعةوفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: تعريف أهل السَّنَّة لغة واصطلاحا.
المبحث الثاني: تعريف السَّنَّة لغة واصطلاحا.
المبحث الثالث: تعريف الجماعة لغة واصطلاحا.
المبحث الرابع: نشأة مصطلح أهل السَّنَّة والجماعة.
المبحث الخامس: أدلة التسمية بأهل السَّنَّة والجماعة.
প্রথম অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আহলুস সুন্নাহর পরিচয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহর পরিচয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে জামাআতের পরিচয়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত পরিভাষার উদ্ভব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত নামকরণের দলীলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول:التعريف بأهل السُّنَّةأهل الشيء هم أخصُّ الناس به، ويأتي في المعنويات وفي المحسوسات يقال في اللُّغة: أهل الرجل: أخصُّ الناس به، وأهلُ البيت: سكَّانه، وأهل الأمر: ولاته، وأهل المذهب: مَن يدين به
(1).
وإذا أُطلق مصطلح أهل السُّنَّة فالمراد به أحد معنيين:
المعنى الأول: معنى عامٌّ فيدخل فيه كل ما سوى الرافضة
(2)، من الطوائف المنتسبة للإسلام.
فيقال المنتسبون للإسلام قسمان: أهل السُّنَّة والشيعة، كما بيَّن ذلك شيخ الإسلام رحمه الله: "هو المعنى المشهور عند العامَّة، فإنهم لايعرفون ضد السنِّي إلا الرافضي، فإذا قال أحدهم: أنا سنِّيٌّ فإنما معناه عندهم: لست رافضيًّا"
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:আহলুস সুন্নাহর পরিচয়কোনো বিষয়ের ‘আহল’ বলতে সেই বিষয়ের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বোঝায়। এটি ভাবার্থগত এবং বস্তুগত—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। ভাষাগতভাবে বলা হয়: কোনো ব্যক্তির ‘আহল’ হলো তার সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ; ‘আহলুল বাইত’ হলো ঘরের বাসিন্দা; ‘আহলুল আমর’ হলো শাসকবর্গ এবং ‘আহলুল মাযহাব’ হলো যারা সেই মাযহাবটি অনুসরণ করে বা তার প্রতি অনুগত থাকে
(১)।
যখন ‘আহলুস সুন্নাহ’ পরিভাষাটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা দুটি অর্থের কোনো একটি উদ্দেশ্য হয়:
প্রথম অর্থ: সাধারণ অর্থ। এর অন্তর্ভুক্ত হয় রাফেযি
(২) ব্যতীত ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দল ও উপদল।
এমতাবস্থায় বলা হয়, ইসলামের অনুসারীগণ দুই ভাগে বিভক্ত: আহলুস সুন্নাহ এবং শিয়া। যেমনটি শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন: "এটিই সাধারণ মানুষের নিকট প্রসিদ্ধ অর্থ। কারণ তারা সুন্নির বিপরীত হিসেবে একমাত্র রাফেযিকেই চেনে। সুতরাং যখন তাদের কেউ বলে: ‘আমি সুন্নি’, তখন তাদের নিকট এর অর্থ হয়: ‘আমি রাফেযি নই’"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد ورد عن بعض السلف هذا المعنى، فقد سُئل سفيان الثوري رحمه الله يا أبا عبد الله ما موافقة السُّنَّة؟ فقال: "القرآنُ كلام الله غير مخلوق منه بدأ وإليه يعود من قال غير هذا فهو كافر، والإيمان قولٌ وعملٌ ونيَّة يزيد وينقص، يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية، ولا يجوز القول إلا بالعمل، ولا يجوز القول والعمل إلا بالنيَّة، ولا يجوز القول والعمل والنيَّة إلا بموافقة السُّنَّة.
فقال شعيبٌ فقلتُ له: يا أبا عبد الله وما موافقة السُّنَّة؟: قال تقدمة الشيخين أبي بكر وعمر رضي الله عنهما "
(1).
المعنى الثاني: معنى خاصٌّ، وهو ما يقابل المبتدعة وأهل الأهواء، وهو الأكثر استعمالًا وعليه كتب الجرح والتعديل
(2).
قال أبو حاتم الرازي رحمه الله عما ما وُصِف به الإمام مالك رحمه الله من أنه جمع بين السُّنَّة والحديث، فأجاب رحمه الله: "سمعت أحمد بن سنان الواسطي يقول: سمعت عبد الرحمن بن مهدي يقول: سفيان الثوري إمامٌ في الحديث، وليس بإمام في السُّنَّة، والأوزاعي إمامٌ في السُّنَّة وليس بإمامٍ في الحديث، ومالك إمامٌ فيهما جميعًا"
(3).
--------------------------------------------
পূর্বসূরি সালাফদের কারো কারো থেকে এই অর্থটি বর্ণিত হয়েছে। সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: হে আবু আব্দুল্লাহ, সুন্নাহর সাথে মিল থাকা বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম, যা মাখলুক বা সৃষ্টি নয়। তা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। যে ব্যক্তি এর অন্যথা বলবে সে কাফির। আর ঈমান হলো কথা, কর্ম ও নিয়তের সমষ্টি; যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়। আনুগত্যের মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে তা হ্রাস পায়। কর্ম ব্যতীত কথা গ্রহণযোগ্য নয়, নিয়ত ব্যতীত কথা ও কর্ম গ্রহণযোগ্য নয়; আর সুন্নাহর সাথে মিল থাকা ব্যতীত কথা, কর্ম ও নিয়ত কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।"
শুআইব বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, সুন্নাহর সাথে মিল থাকা বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন: "দুই শায়খ আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে অগ্রগণ্য করা।"
(১).
দ্বিতীয় অর্থ: বিশেষ অর্থ; যা বিদআতি ও প্রবৃত্তি পূজারীদের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়। এটিই অধিক ব্যবহৃত অর্থ এবং এর ওপর ভিত্তি করেই জারহ ও তাদীল-এর গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে
(২).
ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বর্ণিত একটি বিষয়—যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি সুন্নাহ ও হাদিস উভয়কে একত্রিত করেছেন—তা নিয়ে আবু হাতিম আর-রাযী (রহিমাহুল্লাহ) উত্তর দিয়েছেন: "আমি আহমাদ ইবনে সিনান আল-ওয়াসিতীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি: সুফিয়ান আস-সাওরী হাদিসের ইমাম কিন্তু সুন্নাহর ইমাম নন; আর আওযাঈ সুন্নাহর ইমাম কিন্তু হাদিসের ইমাম নন; অন্যদিকে মালিক উভয় বিষয়েরই ইমাম।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثاني:تعريف السُّنَّة لغةً واصطلاحًاالسُّنَّة في اللغة: مشتقَّةٌ من سنَّ الشيء: إذا أرسله، قال ابن فارس: «السين والنون أصلٌ واحدٌ مطرد، وهو جريان الشيء واطرادُهُ في سهولة، والأصل قولهم سَنَنْتُ الماءَ على وجهي أسُنُّهُ سَنًّا: إذا أرسلتُه إرسالًا»
(1)، وهي الطريقة والسيرة
(2).
قال الأزهري: السُّنَّة: الطريقة المحمودة المستقيمة، ولذلك قيل فلان من أهل السُّنَّة معناه: من أهل الطريقة المستقيمة المحمودة
(3).
أما في اصطلاح المحدثين فهي: ما أُثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خَلْقيَّة أو خُلُقيَّة أو سيرة، سواءً كان قبل البعثة أو بعدها
(4).
وفي اصطلاح الأُصوليين تُطلق السُّنَّة "على ما جاء منقولًا عن النَّبي
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:অভিধান ও পরিভাষার আলোকে সুন্নাহর সংজ্ঞাভাষাগতভাবে সুন্নাহ: এটি 'সান্না' (সন-নুন) ধাতু থেকে উদ্ভূত: যার অর্থ কোনো কিছু প্রবাহিত করা। ইবনে ফারিস বলেছেন: «সিন এবং নুন একটি একক ও অবিচ্ছিন্ন মূল ধাতু, যার অর্থ কোনো জিনিসের সাবলীল গতি ও ধারাবাহিকতা। এর মূল ভিত্তি হলো আরবদের উক্তি: 'আমি আমার চেহারার ওপর পানি প্রবাহিত করেছি', যখন কেউ তা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত করে»
(১)। আর সুন্নাহ বলতে পথ ও জীবনপদ্ধতিকেও বোঝায়
(২)।
আল-আযহারী বলেছেন: সুন্নাহ হলো প্রশংসনীয় ও সরল পথ। এই কারণেই বলা হয়, অমুক ব্যক্তি 'আহলে সুন্নাহ'র অন্তর্ভুক্ত; যার অর্থ হলো: সে প্রশংসনীয় ও সরল পথের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত
(৩)।
পক্ষান্তরে মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি, দৈহিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অথবা তাঁর সীরাত (জীবনী), চাই তা নবুওয়াত লাভের পূর্বের হোক বা পরের হোক
(৪)।
আর উসুলবিদদের (উসুলুল ফিকহ বিশারদ) পরিভাষায় সুন্নাহ বলতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত এমন সব বিষয়কে বোঝায় যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- صلى الله عليه وسلم على الخصوص مما لم ينص عليه في الكتاب العزيز بل إنما نص عليه من جهته عليه الصلاة والسلام، كان بيانًا لما في الكتاب أولًا، وتطلق على ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير"
(1).
وتطلق السُّنَّة في مقابلة البدعة، قال الشاطبي رحمه الله: "ويُطلق - أي لقب السُّنَّة- في مقابلة البدعة فيقال: فلانٌ على سُنَّة إذا عمل على وفق ما عليه النبي صلى الله عليه وسلم كان ذلك مما نص عليه في الكتاب أولًا ويقال: فلان على بدعة: إذا عمل على خلاف ذلك"
(2).
وقال ابن رجب رحمه الله: "السُّنَّة: هي الطريق المسلوك فيشمل ذلك التمسك بما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وخلفاؤه الراشدون من الاعتقادات والأعمال والأقوال، وهذه هي السُّنَّة الكاملة، ولهذا كان السلف قديمًا لايطلقون السُّنَّة إلا على ما يشمل ذلك كله، وروي ذلك عن الحسن، والأوزاعي، والفضيل بن عياض"
(3).
--------------------------------------------
- বিশেষভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে যা এসেছে এবং যা মহাগ্রন্থে (কুরআনে) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি, বরং কেবল তাঁর (সা.) পক্ষ থেকেই বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত মহাগ্রন্থে যা আছে তারই ব্যাখ্যা। আর সুন্নাহ শব্দটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি অর্থে ব্যবহৃত হয়
(১)।
বিদআতের বিপরীতেও সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইমাম শাতবী (রহ.) বলেন: "সুন্নাহ শব্দটি—অর্থাৎ সুন্নাহ পরিভাষাটি—বিদআতের বিপরীতে প্রয়োগ করা হয়। সুতরাং বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সুন্নাতের ওপর আছেন, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছিলেন তার অনুকূলে আমল করেন, চাই তা প্রথমত মহাগ্রন্থে বর্ণিত থাকুক। আর বলা হয়: অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর আছেন, যখন তিনি এর পরিপন্থী আমল করেন"
(২)।
ইবনে রজব (রহ.) বলেন: "সুন্নাহ হলো অনুসৃত পথ। সুতরাং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের আকীদা, আমল ও বাণীর ওপর দৃঢ়ভাবে টিকে থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটিই হলো পূর্ণাঙ্গ সুন্নাহ। এ কারণেই প্রাচীনকালের সালফে সালেহীনগণ এই সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন বিষয় ছাড়া অন্য কিছুর ওপর সুন্নাহ শব্দটির প্রয়োগ করতেন না। হাসান, আওযায়ী এবং ফুযাইল ইবন ইয়ায থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثالث:تعريف الجماعة لغةً واصطلاحًاالجماعة في اللغة، من (جمع)، قال في الصَّحاح: "الجمعُ: مصدرٌ مؤكّد جَمَعتُ الشيء، وقد يكون اسمًا لجماعة الناس، والجمع على جموع
… "
(1).
وفي لسان العرب: "الجمعُ: اسمٌ لجماعةِ الناس، والجَمْعُ مصدرٌ مؤكّد جمعت الشيء والجمع: المجتمعون، وجمعه: جموع، والجماعة والجميع والمجْمع، كالجمع"
(2).
وفي الاصطلاح: هي لزوم الحق ولو كنت وحدك
(3)، قال الإمام البربهاري رحمه الله في تعريفه للجماعة:
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞায় আল-জামাআহআভিধানিক অর্থে আল-জামাআহ শব্দটি 'জামা' (একত্রিত করা) থেকে উদ্ভূত। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আল-জাম: এটি 'আমি কোনো কিছু একত্রিত করেছি' ক্রিয়ার একটি তাকীদি মাসদার (মূলশব্দ), এটি মানুষের একটি দলের নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে, আর জাম-এর বহুবচন হলো জুমু
… "
(১)।
'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আল-জাম: একদল মানুষের নাম। আল-জাম হলো 'আমি কোনো কিছু একত্রিত করেছি' ক্রিয়ার তাকীদি মাসদার। আর আল-জাম বলতে যারা একত্রিত হয়েছে তাদেরও বোঝায়। এর বহুবচন হলো জুমু। আল-জামাআহ, আল-জামি এবং আল-মাজমা শব্দগুলো 'আল-জাম' শব্দের অনুরূপ অর্থ বহন করে"
(২)।
পারিভাষিক সংজ্ঞায়: এটি হলো সত্যের ওপর অবিচল থাকা, যদিও আপনি একা হন
(৩)। ইমাম বারবাহারি (রাহিমাহুল্লাহ) আল-জামাআহ-এর সংজ্ঞায় বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
"والجماعة ما اجتمع عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في خلافة أبي بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم "
(1).
وقال أيضًا: "والأساس الذي بيَّنا عليه الجماعة هم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم رحمهم الله أجمعين وهم أهل السُّنَّة والجماعة"
(2).
وقال العلامة عبد الرحمن بن إسماعيل المعروف - بأبي شامه- "وحيث جاء الأمر بلزوم الجماعة فالمراد به لزوم الحق وأتباعة، وإن كان المستمسك بالحق قليلًا، والمخالف كثيرًا؛ لأن الحق هو الذي كانت عليه جماعة الجماعة الأولى من النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم، ولانظر إلى كثرة أهل الباطل بعدهم"
(3).
وقال القاضي ابن أبي العز الحنفي: "والجماعة جماعة المسلمين وهم الصحابة رضي الله عنهم والتابعون لهم بإحسان إلى يوم الدين"
(4).
ونلحظ أن هناك علاقةً وطيدةً بين مصطلح السُّنَّة ومصطلح الجماعة.
قال ابن عباس رضي الله عنهما في قول الله تعالى: " {يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ
--------------------------------------------
"আর আল-জামা‘আত হলো তা-ই, যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ আবু বকর, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমের খিলাফতকালে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।"
(১).
তিনি আরও বলেন: "সেই ভিত্তি যার ওপর আমরা জামা‘আতের বর্ণনা দিয়েছি, তারা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আর তারাই হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত।"
(২).
আল্লামা আব্দুর রহমান ইবন ইসমাঈল—যিনি আবু শামাহ নামে পরিচিত—বলেন: "যেখানেই জামা‘আত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ এসেছে, সেখানে এর উদ্দেশ্য হলো সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং তার অনুসরণ করা; যদিও সত্যের ওপর অবিচল থাকা লোক সংখ্যায় অল্প হয় এবং বিরোধীরা সংখ্যায় অনেক হয়। কারণ সত্য হলো তা-ই যার ওপর প্রথম জামা‘আত ছিল অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম, আর তাদের পরবর্তী বাতিলপন্থীদের আধিক্যের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হবে না।"
(৩).
কাজী ইবন আবিল ইয আল-হানাফী বলেন: "আর জামা‘আত হলো মুসলিমদের জামা‘আত এবং তারা হলেন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন।"
(৪).
আমরা লক্ষ্য করি যে, 'সুন্নাহ' এবং 'জামা‘আত' পরিভাষা দুটির মধ্যে এক সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা মহান আল্লাহর বাণী— "{সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে...}" প্রসঙ্গে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وُجُوهٌ}
(1) "فأمَّا الذين ابيضَّت وجوههم فأهل السُّنَّة والجماعة"
(2).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "والبدعة مقرونة بالفرقة، كما أن السُّنَّة مقرونة بالجماعة، فيقال أهل السُّنَّة والجماعة؛ كما يقال أهل البدعة والفرقة"
(3).
--------------------------------------------
মুখমণ্ডলসমূহ}
(1) "বস্তুত যাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত"
(2)।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বিদআত হলো বিভক্তির সাথে অবিচ্ছেদ্য, যেমন সুন্নাহ হলো জামাআতের সাথে অবিচ্ছেদ্য। তাই বলা হয় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত; যেমন বলা হয় আহলুল বিদআত ওয়াল ফুরক্বাহ (বিদআত ও বিভক্তির অনুসারী)"
(3)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الرابع:نشأة مصطلح أهل السُّنَّة والجماعةيرجع تاريخ إطلاق هذا اللفظ إلى صدر الإسلام عصر النبوة والقرون المفضَّلة، قال ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى: {يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ}
(1): "فأما الذين ابيضت وجوههم فأهل السُّنَّة والجماعة وأولوا العلم، وأما الذين اسودَّت وجوههم فأهل البدع والضلالة"
(2).
وقال الشيخ الدكتور محمد الخميس- حفظه الله-: "ومصطلح أهل السُّنَّة والجماعة مصطلحٌ قديم، ويُقصد به: المتمسِّكون بسُنَّة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم وتابعيهم، المتمسكون بما كان عليه جماعة المسلمين في الصدر الأول، وقد استنبط هذا المصطلح من الأحاديث التي تحض على اتباع السُّنَّة والتمسك بها والأمر بلزوم الجماعة وترك التفرُّق والاختلاف، فمن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: «افترقت اليهود والنصارى على إحدى وسبعين أو ثنتين وسبعين فرقة كلها في النار، وستفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار، إلا واحدة وهي الجماعة»
(3)، فهذا أصل التسمية، وقد استعمل هذا المصطلح
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ:আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত পরিভাষার উৎপত্তিএই পরিভাষাটি ব্যবহারের ইতিহাস ইসলামের প্রারম্ভিক কাল তথা নবুয়তের যুগ এবং শ্রেষ্ঠ শতাব্দীসমূহ পর্যন্ত বিস্তৃত। মহান আল্লাহর বাণী: {যেদিন কতগুলো মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কতগুলো মুখ কালো হবে}
(১) প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে তারা হলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এবং প্রাজ্ঞ আলেমগণ। আর যাদের মুখ কালো হবে তারা হলেন বিদআত ও গোমরাহীর অনুসারীগণ"
(২)।
শায়খ ড. মুহাম্মদ আল-খুমাইস (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন: "আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত পরিভাষাটি একটি প্রাচীন পরিভাষা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণের সুন্নাহর ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং যারা ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমানদের জামায়াত বা দলের আকিদা ও আমলের ওপর অটল ছিলেন। এই পরিভাষাটি এমন সব হাদিস থেকে চয়ন করা হয়েছে যা সুন্নাহ অনুসরণ ও তা আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহিত করে এবং জামায়াতবদ্ধ থাকার ও দলাদলি ও মতভেদ পরিহার করার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীটি অন্যতম: «ইয়াহুদী ও নাসারারা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, যাদের সকলেই জাহান্নামী। আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যাদের সকলেই জাহান্নামী, কেবল একটি দল ব্যতীত; আর সেটি হলো জামায়াত»
(৩)। এটিই হলো এই নামকরণের মূল উৎস। আর এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عند السلف حيث كانوا يدوّنون ما ينقلونه من عقائد أهل السُّنَّة كالإمام أحمد وابنه عبد الله وابن أبي عاصم والخلال وغيرهم، وسُمي أهل السُّنَّة بذلك؛ لأنهم الآخذون بسُنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم العاملون بها و بمقتضاها المتبعون لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عليكم بسُنَّتي»
(1)، وأما تسميتهم؛ فلأنهم اجتمعوا على الحق وأخذوا به"
(2).
ولقد أُطلق هذا اللَّقب على كثيرٍ من أئمة السلف وسأذكر بعضًا منهم على سبيل المثال لا الحصر.
قال أيوب السختياني: "إني أخبر بموت الرَّجل من أهل السُّنَّة وكأني أفقد بعض أعضائي".
وقال أيضًا: "إن من سعادة الحدث والأعجمي أن يوفقهما الله لعالم من أهل السُّنَّة"
(3).
وقال ابن جرير الطبري رحمه الله: "وأما الصواب من القول في رؤية المؤمنين
--------------------------------------------
সালাফদের নিকট, যখন তারা ইমাম আহমাদ, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ, ইবনে আবি আসিম, আল-খল্লাল এবং অন্যদের মতো আহলুস সুন্নাহর আকিদা থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করতেন; আর আহলুস সুন্নাহকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে গ্রহণকারী, সে অনুযায়ী আমলকারী ও তার দাবি বাস্তবায়নকারী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর অনুসারী: «তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো»
(১)। আর তাদের নামকরণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে; কারণ তারা হকের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং তা গ্রহণ করেছে"
(২)।
সালাফদের অনেক ইমামের ওপর এই উপাধি প্রয়োগ করা হয়েছে এবং আমি উদাহরণস্বরূপ তাদের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করব, যা কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ নয়।
আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বলেন: "যখন আমি আহলুস সুন্নাহর কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ পাই, তখন মনে হয় যেন আমি আমার শরীরের কোনো অঙ্গ হারালাম।"
তিনি আরও বলেন: "কোনো যুবক এবং অনারব ব্যক্তির সৌভাগ্যের বিষয় হলো আল্লাহ যেন তাদের আহলুস সুন্নাহর কোনো আলেমের নিকট পৌঁছার তাওফিক দান করেন"
(৩)।
ইবনে জারীর আত-তাবারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "আর মুমিনদের [আল্লাহকে] দেখার বিষয়ে সঠিক বক্তব্য হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২০)
ربهم عز وجل يوم القيامة وهو ديننا الذي ندين الله به، وأدركنا عليه أهل السُّنَّة والجماعة فهو أن أهل الجنة يرونه على ما صحَّت به الأخبار عن رسول صلى الله عليه وسلم "
(1).
وذكر هذا أيضًا أبو جعفر أحمد بن محمد الطحاوي بقوله: "هذا ذكر بيان اعتقاد أهل السُّنَّة والجماعة"
(2).
--------------------------------------------
কিয়ামতের দিন তাদের মহান ও মহিমান্বিত রবকে দেখা। আর এটিই আমাদের সেই দ্বীন যা দ্বারা আমরা আল্লাহর আনুগত্য করি এবং যার ওপর আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে পেয়েছি। তা হলো জান্নাতবাসীগণ তাঁকে দেখতে পাবেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদিসসমূহে এসেছে"
(১).
আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মদ আত-তহাবীও এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার বর্ণনার উল্লেখ"
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الخامس:أدلة التسمية بأهل السُّنَّة والجماعةأما تسمية أهل السُّنَّة والجماعة بهذا الاسم فهي ثابتةٌ بالنصوص الشرعية.
أولًا: من القرآن
قال تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا}
(1).
قال الشيخ السعدي رحمه الله: هذه الآية فيها الحثُّ على التمسُّك بحبل الله الذي أوصله إليهم، وجعله السبب بينهم وبينه وهو دينه وكتابه، والاجتماع على ذلك وعدم التفرُّق، وأن يستديموا ذلك إلى الممات
(2).
وقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ}
(3).
قال الشيخ السعدي رحمه الله: "دلَّت الآية الكريمة أن الدين يأمر بالاجتماع والائتلاف وينهى عن التفرُّق والاختلاف في أهل الدين وفي سائر مسائله الأصوليَّة والفروعيَّة"
(4).
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ:আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত নামকরণের প্রমাণাদিআহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে এই নামে নামকরণ করার বিষয়টি শরয়ী দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত।
প্রথমত: কুরআন থেকে
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না}
(১)।
শায়খ আল-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই আয়াতে আল্লাহর সেই রজ্জুকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে যা তিনি তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা তাঁর ও তাদের মাঝে একটি মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; আর তা হলো তাঁর দ্বীন ও তাঁর কিতাব। এবং এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও বিচ্ছিন্ন না হওয়া এবং মৃত্যু পর্যন্ত এর ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
(২)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয়টি কেবল আল্লাহর ওপর ন্যস্ত, এরপর তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন}
(৩)।
শায়খ আল-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই সম্মানিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, দ্বীন ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও সংহতি বজায় রাখার আদেশ দেয় এবং দ্বীনের অনুসারীদের মাঝে ও দ্বীনের যাবতীয় মৌলিক ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিচ্ছিন্নতা ও মতভেদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করে"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا}
(1).
وجه دلالة الآية أن الله تعالى جمع بين مشاقة الرسول صلى الله عليه وسلم وبين مخالفة سبيل المؤمنين في الوعيد، فلو كان اتباع غير سبيل المؤمنين مباحًا لما جمع بينه وبين المحظور ومتابعة غير سبيلهم تقع بمخالفة أقوالهم أو أفعالهم
(2).
وقال تعالى: {وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ}
(3).
قال الشيخ السعدي رحمه الله في بيان الاستدلال بالآية: "وهم المؤمنون بالله وملائكته ورسله، المستسلمون لربهم، المنيبون إليه، واتِّباع سبيلهم أن يسلك مسلكهم في الإنابة إلى الله عز وجل"
(4).
ثانيًا: من السُّنَّة
عن معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن أهل الكتاب افترقوا في دينهم على اثنتين وسبعين ملة وإن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين ملة -يعني الأهواء- كلها في النار إلا واحدة وهي: الجماعة
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব, আর তা কতই না মন্দ আবাস}
(১).
এই আয়াতের দলীল হিসেবে পেশ করার দিকটি হলো, আল্লাহ তাআলা শাস্তির হুমকির ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ এবং মুমিনদের পথের বিরোধিতা—এই দুই বিষয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করা যদি বৈধ হতো, তবে তিনি একে নিষিদ্ধ বিষয়ের (রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ) সাথে যুক্ত করতেন না। আর তাদের পথ বহির্ভূত চলা মূলত তাদের কথা বা কাজের বিরোধিতার মাধ্যমেই ঘটে থাকে
(২).
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং তুমি তার পথ অনুসরণ করো, যে আমার অভিমুখী হয়েছে}
(৩).
শায়খ আস-সাদী রাহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে দলীল প্রদানের ব্যাখ্যায় বলেন: "তারা হলেন সেই সব মুমিন যারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে, তাদের রবের প্রতি আত্মসমর্পণকারী এবং তাঁর অভিমুখী। আর তাদের পথ অনুসরণ করার অর্থ হলো মহান আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের পথ অবলম্বন করা"
(৪).
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে
মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আহলে কিতাবরা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর অচিরেই এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে—অর্থাৎ প্রবৃত্তি পূজারি দল—যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে একটি ছাড়া, আর সেটি হলো: আল-জামাআহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وإنه سيخرج في أمتي أقوامٌ تجارى بهم تلك الأهواء كما يتجارى الكَلَبُ
(1) بصاحبه، لايبقى منه عرق ولا مفصل إلادخله"
(2).
وفي هذا تشبَّيه من النبي صلى الله عليه وسلم لحال الزائغين من أهل البدع في استيلاء تلك الأهواء عليهم، وذهابها في كلِّ وادٍ مُرْدي، وفي سريان تلك الضلالة منهم إلى الغير يدعونهم إليها، ثم تنفرهم من العلم، وامتناعهم من قبوله حتى يهلكوا جهلًا -بحال صاحب الكَلَب، وسريان تلك العلَّة في عروقه ومفاصله، وحصول شبه الجنون منه ثم تعديه إلى الغير- بعقره إياه، وتنفره من الماء، وامتناعه عنه حتى يهلك عطشًا
(3).
وقال صلى الله عليه وسلم لحذيفة بن اليمان رضي الله عنه: «تلزمُ جمَاعةَ المسلمين وإمامَهم»
(4).
--------------------------------------------
“নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের মাঝে এই কুপ্রবৃত্তিগুলো এমনভাবে সঞ্চারিত হবে যেমন জলাতঙ্ক
(১) তার আক্রান্ত রোগীর শরীরে সঞ্চারিত হয়। তার শরীরের কোনো শিরা বা কোনো জোড়া বাকি থাকে না যেখানে তা প্রবেশ করে না”
(২)।
এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বিদআতি পথভ্রষ্টদের অবস্থার একটি উপমা প্রদান করা হয়েছে যে, কীভাবে সেই কুপ্রবৃত্তিগুলো তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং তাদের প্রতিটি ধ্বংসাত্মক পথে ধাবিত করে। এছাড়া তাদের সেই গোমরাহি অন্যদের মাঝেও সঞ্চারিত হয় এবং তারা অন্যদেরকে এর দিকে আহ্বান করে; অতঃপর তা তাদের ইলম থেকে বিমুখ করে দেয় এবং তা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে তারা অজ্ঞতার কারণেই ধ্বংস হয়ে যায়—যা মূলত জলাতঙ্ক রোগীর অবস্থার মতো, যার শিরা-উপশিরা ও জোড়ায় জোড়ায় সেই ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে এবং তার মাঝে এক প্রকার উন্মাদনার সৃষ্টি হয়, যা পরে কামড়ানোর মাধ্যমে অন্যের মাঝেও সংক্রমিত হয়। সে পানির প্রতি আতঙ্ক বোধ করে এবং তা পান করা থেকে বিরত থাকে, যতক্ষণ না সে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে
(৩)।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন: “তুমি মুসলিমদের জামাআত এবং তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে”
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقوله: «تلزم جماعة المسلمين»، أُخذ منه لفظ: أهل السُّنَّة والجماعة، وذلك لكون الحق في جماعة المسلمين في الأغلب
(1).
وفي الصحيحين عن أنس رضي الله عنه في قصة الثلاثة الذين جاءوا بيوت النبي صلى الله عليه وسلم فقال أحدهم: أُصلي اليل أبدًا، وقال الآخر: أصوم الدهر ولا أفطر، وقال الآخر: أنا اعتزل النساء فلا أتزوج، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لهم: «أما والله إني لأخشاكم لله وأتقاكم له، لكنِّي أصوم وأفطر وأُصلِّي وأرقد وأتزوج النساء فمنْ رغب عن سنَّتي فليس منِّي»
(2).
وهذا دليلٌ على أنَّ المشروع هو الاقتصاد في الطاعات؛ لأن إتعاب النفس فيها والتشديد عليها يفضي إلى ترك الجميع، والدين يسر، ولن يشاد الدين أحدٌ إلا غلبه، والشريعة المطهَّرة مبنيَّةٌ على التيسير وعدم التنفير، وقوله: «فمن رغب عن سنَّتي فليس منِّي» المراد بالسُّنَّة: الطريقة، والرغبةُ: الإعراض، وأراد صلى الله عليه وسلم أن التارك لهديه القويم المائل إلى الرهبانية خارج عن الاتباع إلى الابتداع
(3).
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: "মুসলিম জামাআতকে আঁকড়ে ধরো", তা থেকে 'আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত' শব্দটি গৃহীত হয়েছে। এটি এজন্য যে, সত্য সাধারণত মুসলিমদের জামাআতের মধ্যেই থাকে
(১).
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে সেই তিন ব্যক্তির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরসমূহে এসেছিলেন। তাদের একজন বললেন: আমি চিরকাল রাতভর সালাত আদায় করব। অপরজন বললেন: আমি আজীবন রোজা রাখব এবং কখনো রোজা ভাঙব না। অন্যজন বললেন: আমি নারীসঙ্গ ত্যাগ করব এবং কখনো বিয়ে করব না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন: «জেনে রেখো, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। তাসত্ত্বেও আমি রোজা রাখি আবার ইফতারও করি, সালাত আদায় করি এবং ঘুমানোও করি, আর আমি নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়»
(২).
এটি এই প্রসঙ্গের দলিল যে, ইবাদত-বন্দেগিতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শরীয়তসম্মত; কারণ ইবাদতে নিজেকে অতিমাত্রায় ক্লান্ত করা এবং নিজের ওপর কঠোরতা আরোপ করা পরিশেষে সবকিছু বর্জন করার দিকে নিয়ে যায়। আর দ্বীন সহজ। যে কেউ দ্বীন নিয়ে কড়াকড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে। পবিত্র শরীয়ত সহজীকরণ এবং মানুষের মনে অনীহা সৃষ্টি না করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর তাঁর বাণী: «যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়» — এখানে সুন্নাহ বলতে পদ্ধতি বা পথ বোঝানো হয়েছে, আর বিমুখতা বলতে উদ্দেশ্য হলো মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর সঠিক পথ ত্যাগকারী এবং বৈরাগ্যবাদের দিকে ঝুঁকে পড়া ব্যক্তি অনুসরণ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهناك أصول من التزم بها كان من أهل السُّنَّة والجماعة، قيل لسهل ابن عبد الله التستري متى يعلم الرجل أنه على السُّنَّة والجماعة؟ قال: إذا عرف من نفسه عشر خصال: لا يترك الجماعة، لا يسب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، لا يخرج على هذه الأمه بالسيف، ولا يكذِّب بالقدر، لا يشك في الإيمان، لا يماري في الدين، لا يترك الصلاة على من يتوب من أهل القبلة بالذنب، لا يترك المسح على الخفين، لا يترك الجمعة خلف كل والٍ جَار أوعدل
(1).
وقال الإمام أحمد رحمه الله: "أصول السُّنَّة عندنا: التمسُّك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم
… "
(2)، ثم ذكر جملة من عقائد السلف.
ويقول ابن حزم رحمه الله: "وأهل السُّنَّة الذين نذكرهم أهل الحق، ومن عداهم فأهل البدعة، فإنهم الصحابة رضي الله عنهم، ومن سلك نهجهم من خيار التابعين، ثم أصحاب الحديث ومن اتبعهم من الفقهاء جيلًا فجيلًا إلى يومنا هذا، ومن اقتدى بهم من العوام في شرق الأرض وغربها رحمهم الله"
(3).
وقال الأصبهاني بعد كلامه عن أهل الأهواء: "وأما أهل الحق فجعلوا
--------------------------------------------
এমন কিছু মূলনীতি রয়েছে, যা কেউ মেনে চললে সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হবে। সহল ইবনে আবদুল্লাহ আত-তুস্তারিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তি কখন জানতে পারবে যে সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ওপর রয়েছে? তিনি বললেন: “যখন সে নিজের মধ্যে দশটি বৈশিষ্ট্য দেখতে পাবে: সে জামাআত ত্যাগ করে না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের গালি দেয় না, এই উম্মতের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করে না, তাকদিরকে অস্বীকার করে না, ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে না, দ্বীন নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করে না, কিবলা অনুসারীদের মধ্যে যারা গুনাহ থেকে তওবা করে তাদের (জানাজার) সালাত ত্যাগ করে না, মোজার ওপর মাসেহ করা ত্যাগ করে না এবং প্রত্যেক অত্যাচারী কিংবা ন্যায়পরায়ণ শাসকের পেছনে জুমার সালাত আদায় করা ত্যাগ করে না”
(১)।
ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যার ওপর ছিলেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
… ”
(২), অতঃপর তিনি সালাফদের আকিদাহসমূহের একটি সমষ্টি উল্লেখ করেন।
ইবনে হাজম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “আমরা যে আহলে সুন্নাতের কথা উল্লেখ করি তারা হলো সত্যপন্থী, আর তারা ব্যতীত অন্য সকলে বিদআতি। তারা হলেন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীগণের মধ্যে যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, অতঃপর আসহাবুল হাদীস এবং ফকীহগণের মধ্যে যারা যুগে যুগে আজ পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন”
(৩)।
আসবাহানী প্রবৃত্তি পূজারীদের সম্পর্কে আলোচনার পর বলেন: “আর সত্যপন্থীদের কথা বলতে গেলে, তারা সাব্যস্ত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الكتاب والسُّنَّة إمامهم، وطلبهم الدين من قبَلهما، وما وقع لهم من معقولهم وخواطرهم عرضوه على الكتاب والسُّنَّة فإن وجدوه موافقًا لهما قبلوه، وشكروا الله حيث أراهم ذلك ووفقهم إليه، وإن وجدوه مخالفًا لهما تركوا ما وقع لهم، وأقبلوا على الكتاب والسُّنَّة، ورجعوا بالتهمة على أنفسهم"
(1).
وقال السجزي رحمه الله: "فأهل السُّنَّة: هم الثابتون على اعتقاد ما نقله إليهم السلف الصالح رحمهم الله عن الرسول صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم رضي الله عنهم أئمة، وقد أُمرنا باقتفاء آثارهم واتباع سُنَّتهم، وهذا أظهر من أن يحتاج فيه إلى إقامة برهان، والأخذ بالسُّنَّة واعتقادها مما لامرية في وجوبه"
(2).
وللإمام البربهاري رحمه الله عبارة وَصَف بها أهل السُّنَّة فقال: "اعلم أن الإسلام هو السُّنَّة، والسُّنَّة هي الإسلام ولا يقوم أحدهما إلا بالآخر، فمن السُّنَّة لزوم الجماعة، ومن رغب غير الجماعة وفارقها فقد خلع ربقة
(3) الإسلام من عنقة وكان ضالًا مضلًا"
(4).
--------------------------------------------
কুরআন এবং সুন্নাহ তাদের ইমাম, এবং তারা এই দুটির মাধ্যমেই দ্বীন অন্বেষণ করে। তাদের বিবেক ও চিন্তায় যা কিছু উদয় হয় তা তারা কুরআন এবং সুন্নাহর সামনে পেশ করে; যদি তারা সেগুলোকে এই দুটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পায়, তবে তারা তা গ্রহণ করে এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে যে তিনি তাদের তা দেখিয়েছেন এবং এর তাওফিক দিয়েছেন। আর যদি তারা সেগুলোকে এই দুটির বিরোধী পায়, তবে তারা নিজেদের উদ্ভাবিত চিন্তা বর্জন করে এবং কুরআন ও সুন্নাহর দিকে অগ্রসর হয়, আর নিজেদের বিচারবুদ্ধিকে অভিযুক্ত করে।
(১).
ইমাম আস-সিজজি রহিমাহুল্লাহ বলেন: "আহলুস সুন্নাহ হলো তারা, যারা সলফে সালেহীন রহিমাহুমুল্লাহ কর্তৃক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সেই বিশ্বাসের ওপর অবিচল থাকে; কারণ তাঁরা হলেন অনুসরণীয় ইমাম, আর আমাদের তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ এবং তাঁদের সুন্নাহর ইত্তিবা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি এতোটাই স্পষ্ট যে এর জন্য কোনো প্রমাণ পেশ করার প্রয়োজন নেই। সুন্নাহকে গ্রহণ করা এবং তাতে বিশ্বাস রাখা এমন বিষয় যার আবশ্যকতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।"
(২).
ইমাম আল-বারবাহারি রহিমাহুল্লাহ আহলুস সুন্নাহর বর্ণনায় একটি উক্তি প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: "জেনে রেখো, ইসলামই হলো সুন্নাহ এবং সুন্নাহই হলো ইসলাম। একটি ছাড়া অন্যটি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। জামাতবদ্ধ থাকা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি জামাতের পথ থেকে বিমুখ হলো এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের বন্ধন
(৩) ছিন্ন করল এবং সে নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যদের পথভ্রষ্টকারী হিসেবে গণ্য হলো।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي تحديده لضابط صاحب السُّنَّة قال: "أصل اثنين وسبعين هوى: أربعة أهواء، فمن هذه الأربعة الأهواء تشعبت الاثنان وسبعون هوى: القدرية، والمرجئة، والشيعة، والخوارج، فمن قدَّم أبا بكر وعمر وعثمان وعليًّا على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يتكلَّم في الباقين إلا بخير ودعا لهم فقد خرج من التشيُّع أوله وآخره، ومن قال: الإيمان قولٌ وعملٌ يزيد وينقص فقد خرج من الإرجاء أوله وآخره، ومن قال: الصلاةُ خلف كلِّ برٍّ وفاجر، والجهاد مع كلِّ خليفة، ولم ير الخروج على السلطان بالسيف، ودعا لهم بالصلاح، فقدخرج من قول الخوارج أوله وآخره، ومن قال: المقادير كلُّها من الله سبحانه وتعالى خيرها وشرها، يضل من يشاء ويهدي من يشاء، فقد خرج من قول القدرية أوله وآخره وهو صاحب سُنَّة"
(1).
ووصفهم شيخ الإسلام رحمه الله بأنهم وسط في سائر أبواب السُّنَّة؛ "لأنهم متمسِّكون بكتاب الله وسُنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم وما اتفق عليه السابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان إلى يوم الدين"
(2).
وقال أيضًا: «فمن قال بالكتاب و السُّنَّة والإجماع كان من أهل السُّنَّة والجماعة"
(3).
--------------------------------------------
সুন্নাহর অনুসারীর মানদণ্ড নির্ধারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন: "বাহাত্তরটি কুপ্রবৃত্তির মূল হলো চারটি প্রবৃত্তি। এই চারটি প্রবৃত্তি থেকেই বাহাত্তরটি কুপ্রবৃত্তি শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে: কাদারিয়া, মুরজিয়া, শিয়া এবং খাওয়ারিজ। সুতরাং যে ব্যক্তি আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য সাহাবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে এবং অবশিষ্ট সাহাবীদের সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু বলে না এবং তাদের জন্য দোয়া করে, সে শিয়া মতবাদের আদি ও অন্ত থেকে বেরিয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি বলে: ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি ও আমলের নাম, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়, সে ইরজা (মুরজিয়া মতবাদ) থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি বলে: প্রত্যেক নেককার ও পাপাচারী শাসকের পেছনে সালাত আদায় করা এবং প্রত্যেক খলিফার সাথে জিহাদ করা বৈধ, এবং শাসকের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করাকে বৈধ মনে করে না বরং তাদের সংশোধনের জন্য দোয়া করে, সে খাওয়ারিজদের মতবাদ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি বলে: সকল তাকদির আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে, তার ভালো ও মন্দ উভয়ই; তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন, সে কাদারিয়া মতবাদ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে গেল এবং সে-ই হলো সুন্নাহর অনুসারী"
(১).
শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ তাদের সুন্নাহর সকল বিষয়ে মধ্যপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন; "কারণ তারা আল্লাহর কিতাব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে প্রথম অগ্রবর্তী দল এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন, তাদের ঐকমত্যের বিষয়ের ওপর দৃঢ় থাকেন"
(২).
তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমার কথা বলে, সে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فمن سلم من البدع وتمسَّك بهدي النبي صلى الله عليه وسلم كان من أهل السُّنَّة والجماعة.
قال الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله: «فأهل السُّنَّة المحضة السالمون من البدع الذين تمسكوا بما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه في الأصول كلها، أصول التوحيد والرسالة والقدر ومسائل الإيمان وغيرها، وغيرهم من خوارج ومعتزلة وجهمية وقدرية ورافضة ومرجئة ومن تفرَّع عنهم كلهم من أهل البدع الاعتقادية"
(1).
ووصفهم الشيخ بكر أبو زيد رحمه الله فقال: "أهل السُّنَّة والجماعة الذين درجوا على منهاج النبوة، ولم ينفصلوا عنها ولا لحظة واحدة لا باسم ولا برسم، فليس لهم شخص ينتمون إليه سوى منهاج النبوة (الكتاب والسُّنَّة) إذ الأصل لا يحتاج إلى سمة خاصة تميّزه، إنما الذي يحتاج إلى اسمٍ معيَّن هو الخارج من هذا الأصل من تلكم الجماعات التي انشقت من الأصل"
(2).
--------------------------------------------
অতএব যে ব্যক্তি বিদআত থেকে মুক্ত থাকল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে আঁকড়ে ধরল, সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হলো।
শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “খাঁটি আহলুস সুন্নাহ হলেন বিদআত থেকে মুক্ত সেই সকল ব্যক্তি, যারা সমস্ত মূলনীতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন; যেমন তাওহীদ, রিসালাত, তাকদীর ও ঈমানের মাসআলাসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়। আর তারা ব্যতীত বাকিরা—যেমন খারেজী, মুতাযিলা, জাহমিয়্যা, কাদারিয়া, রাফেযী ও মুরজিয়া এবং তাদের থেকে উদ্ভূত সকল দল—তারা সকলেই আকিদাগত বিদআতিদের অন্তর্ভুক্ত”
(১)।
শায়খ বকর আবু যাইদ রহিমাহুল্লাহ তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: “আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত তারাই যারা নবুওয়তের মানহাজের ওপর পরিচালিত হয়েছেন এবং তা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও নাম বা বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন হননি। নবুওয়তের মানহাজ (কিতাব ও সুন্নাহ) ব্যতীত তাদের এমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নেই যার দিকে তারা নিজেদের সম্বন্ধিত করবেন; কারণ মূল আদর্শের নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়ের জন্য কোনো বিশেষ চিহ্নের প্রয়োজন হয় না, বরং নির্দিষ্ট নামের প্রয়োজন হয় তাদেরই যারা সেই মূল থেকে বের হয়ে গেছে অর্থাৎ সেই সব দল যারা মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে”
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني: سمات أهل السنة والجماعةوفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: الأسماء التي عرف بما أهل السنة تمييزا عن غيرهم.
المبحث الثاني: خصائص أهل السَّنَّة والجماعة.
المبحث الثالث: مصادر التلقي عند أهل السَّنَّة والجماعة.
দ্বিতীয় অধ্যায়: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বৈশিষ্ট্যসমূহএতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: অন্যদের থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত যে সকল নামে পরিচিত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নিকট জ্ঞান ও দ্বীন গ্রহণের উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الأول:الأسماء التي عُرف بها أهل السُّنَّة تمييزًا عن غيرهمكان الصحابة رضي الله عنهم يتسمّون بما سمَّاهم الله سبحانه وتعالى ممتثلين قول الله تعالى: {وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ}
(1)، بل كان السلف يحذرون من التسمِّي بغير الإسلام والسُّنَّة، قال ميمون بن مهران: "إياكم وكل اسم يسمَّى بغير الإسلام"
(2)، ولكن لما ظهرت البدع وتعددت فرق الضلال وأخذ كل صاحب بدعه يدعو إلى بدعته مع انتسابهم في الظاهر إلى الإسلام أصبح لزامًا على أهل الحق المتمسِّكين بهدي النبي صلى الله عليه وسلم أن يُعرفوا بأسماء تميزهم عن أهل الأهواء والبدع، ومن تأمل أسماء أهل السُّنَّة وجدها تدلُّ على الإسلام، ولا ينتسبون لشخصيات كحال أهل البدع، كالجهمية نسبةً إلى الجهم، والزيدية نسبةً إلى زيد بن على بن الحسين،
… وغيرهم.
فأسماء أهل السُّنَّة مستنبطة من الإسلام وسأذكر بعضًا من أسمائهم.
1 - الفرقة الناجيةأُخذ هذا اللقب من قول النبي صلى الله عليه وسلم لما سأله الصحابة رضي الله عنهم قالوا: يا رسول الله مَنْ الفرقة الناجية؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أمتي ستفترق على اثنتين
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:অন্যদের থেকে আলাদা করার লক্ষ্যে আহলুস সুন্নাহ যেসব নামে পরিচিত হয়েছেনসাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মহান আল্লাহ তাদেরকে যে নামে নামাঙ্কিত করেছেন সেই নামেই নিজেদের পরিচয় দিতেন। তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসারী ছিলেন: {আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি প্রথম মুসলিম হই}
(১)। বরং সালাফে সালেহীন ইসলাম ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো নামে পরিচিত হওয়া থেকে সতর্ক করতেন। মাইমুন বিন মিহরান বলেন: "তোমরা ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল নাম থেকে বেঁচে থাকো"
(২)। কিন্তু যখন বিদআতের প্রকাশ ঘটল এবং গোমরাহ দলসমূহের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং প্রত্যেক বিদআতি ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ততা বজায় রেখে নিজ নিজ বিদআতের দিকে ডাকতে শুরু করল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়াতের ওপর অটল থাকা সত্যপন্থীদের জন্য এমন কিছু নামে পরিচিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল যা তাদেরকে প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের থেকে আলাদা করে চেনা যায়। আর যে ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহর নামগুলো নিয়ে চিন্তা করবে সে দেখতে পাবে যে তা ইসলামেরই পরিচয় বহন করে। তারা বিদআতিদের ন্যায় কোনো ব্যক্তির দিকে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন না; যেমন জাহমিয়া সম্প্রদায় (জাহম-এর দিকে সম্পৃক্ত), যাইদিয়া সম্প্রদায় (যাইদ বিন আলী বিন আল-হুসাইনের দিকে সম্পৃক্ত) এবং অন্যান্যরা।
আহলুস সুন্নাহর নামসমূহ ইসলাম থেকেই গৃহীত এবং আমি তাদের কিছু নাম এখানে উল্লেখ করব।
১- নাজাতপ্রাপ্ত দলএই উপাধিটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে। যখন সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁরা বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! নাজাতপ্রাপ্ত দল কারা? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মত বাহাত্তর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة وهي الجماعة"
(1).
ويقول شيخ الإسلام في جوابه لسؤال عن حديث افتراق الأمه: "الحمد لله الحديث مشهور في السنن والمسانيد كسنن أبي داود، والترمذي والنسائي وغيرهم، وفي رواية قالوا: يا رسول الله مَنْ الفرقة الناجية؟ قال: «مَنْ كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي»، وفي رواية قال: «هي الجماعة يد الله على الجماعة»
(2).
وعلى كل فإن التسمية سواء أُخذت من منطوق الحديث أو مفهومه فهي تسمية شرعية.
ولقد عقد البغدادي بابًا في كتابه عَنْونَ له بـ (بيان أوصاف الفرقة الناجية، وتحقيق النجاة لها، وبيان محاسنها)
(3).
ويقول الشيخ حافظ حكمي رحمه الله: "وقد أخبر الصادق المصدوق أن الفرقة الناجية هم من كان على مثل ما كان عليه هو وأصحابه وإنما تصلح هذه الصفة لحملتها وحُفَّاظها المنقادين لها المتمسِّكين بها، أعني بذلك أئمة الحديث وجهابذة السُّنَّة"
(4).
--------------------------------------------
... এবং সত্তরটি দল, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত, আর সেটি হলো আল-জামা'আত"
(১).
শাইখুল ইসলাম উম্মতের বিভক্তি বিষয়ক হাদীস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হাদীসটি সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ, যেমন সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং অন্যান্য। এক বর্ণনায় এসেছে, তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তিপ্রাপ্ত দল কোনটি? তিনি বললেন: «যারা সেই পথের ওপর থাকবে যে পথের ওপর আমি এবং আমার সাহাবীগণ রয়েছি»। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: «সেটি হলো আল-জামা'আত, আর জামাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে»
(২).
যা-ই হোক, এই নামকরণ হাদীসের স্পষ্ট শব্দ থেকে নেওয়া হোক বা এর মর্মার্থ থেকে, এটি একটি শরয়ী নামকরণ।
বাগদাদী তাঁর কিতাবে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন (মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা, তাদের মুক্তির সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের গুণাবলীর বর্ণনা)
(৩).
শাইখ হাফিয হাকামী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সত্যবাদী এবং যাঁর সত্যবাদিতা স্বীকৃত (রাসূলুল্লাহ ﷺ) সংবাদ দিয়েছেন যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দল তারাই যারা তাঁর এবং তাঁর সাহাবীদের আদর্শের ওপর থাকবে। আর এই বৈশিষ্ট্য কেবল তারাই ধারণ করতে সক্ষম যারা এর ধারক-বাহক, এর সংরক্ষক, এর অনুগত এবং একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তি; আমি এর দ্বারা হাদীসের ইমামগণ এবং সুন্নাহর প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের বোঝাচ্ছি"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
2 - الطائفة المنصورةوهذا دلَّ عليه قول النبي صلى الله عليه وسلم: «لاتزال طائفةٌ من أمَّتي منصورين لا يضرُّهم من خذلهم حتى تقوم الساعة»
(1).
وقال صلى الله عليه وسلم: «لاتزال طائفةٌ من أمَّتي ظاهرين حتى يأتيهم أمر الله وهم ظاهرون»
(2).
3 - أهل الحديث والأثرسُمُّوا بذلك لاشتغالهم بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وآثار صحابته رضي الله عنهم، قال الإمام أحمد:
دين النَّبي محمَّدٍ أخبارُ
… نعم المطيَّة للفتى آثارُ
لا ترغبنَّ عن الحديثِ وآلِهِ
… فالرأيُ ليلٌ والحديثُ نهارُ
(3) وقال السَّفَّاريني رحمه الله:
اعلم هديتَ أنَّه جاء الخبرْ
… عن النَّبي المقتفى خير البشرْ
--------------------------------------------
২ - সাহায্যপ্রাপ্ত দলনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী এর প্রমাণ বহন করে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে, যারা তাদের অপদস্থ করতে চাইবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত।"
(১)।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে আর তারা তখনও বিজয়ী অবস্থায় থাকবে।"
(২)।
৩ - আহলুল হাদীস ও আহলুল আছাররাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আছার বা বর্ণনাসমূহ নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত থাকার কারণে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে। ইমাম আহমাদ বলেন:
নবী মুহাম্মাদের দ্বীন হলো হাদীসসমূহ... যুবকের জন্য কতই না উত্তম বাহন হলো আছার (সাহাবীদের বর্ণনা)।
তুমি হাদীস এবং এর অনুসারীদের থেকে বিমুখ হয়ো না... কেননা রায় বা নিজস্ব মতামত হলো অন্ধকার রাত্রি আর হাদীস হলো আলোকিত দিন।
(৩) আস-সাফফারিনী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
জেনে রেখো—আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দান করুন—নিশ্চয়ই হাদীস বা বর্ণনা পৌঁছেছে... অনুসরণীয় নবী থেকে, যিনি মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল মুখতাসার ফি বায়ানি আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بأنَّ ذي الأمة سوف تفترقْ
… بضعًا وسبعين اعتقادًا والمحقْ
ما كان في نهجِ النَّبي المصطفَى
… وصحبه من غير زيغٍ وجفَا
وليس هذا النصُّ جزمًا يعتبرْ
… في فرقةٍ إلا على أهلِ الأثرْ
(1)وقال أيضًا: "
… الذين يأخذون عقيدتهم عن كتاب الله عز وجل أو سنة نبيه صلى الله عليه وسلم أو ما ثبت وصحَّ عن السلف الصالح من الصحابة رضي الله عنهم والتابعين"
(2).
وهم في ذلك يجمعون بين رواية الحديث، واعتقاده والعمل به، قال ابن تيمية رحمه الله:"ونحن لا نعني بأهل الحديث: المقتصرين على سماعه أو كتابته أو روايته بل نعني بهم: كل من كان أحقَّ بحفظه، ومعرفته، وفهمه: ظاهرًا، وباطنًا، واتباعه: باطنًا وظاهرًا، وكذلك أهل القرآن، وأدنى خصلة في هؤلاء: محبَّة القرآن والحديث والبحث عنهما، وعن معانيهما، والعمل بما علموه من موجبهما
… "
(3).
وقال أيضًا: "فهم أعلم الناس بأقواله صلى الله عليه وسلم وأحواله، وأعظمهم تمييزًا
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই এই উম্মত বিভক্ত হবে
… সত্তরটিরও বেশি আকিদায় (উপদলে) এবং সত্যপন্থী সে-ই
যে নবী মুস্তফা
… এবং তাঁর সাহাবীদের পথে অটল ছিল, কোনো বিচ্যুতি বা কঠোরতা ছাড়াই
আর এই বর্ণনাটি নিশ্চিতভাবে বিবেচিত হয় না
… কোনো দলের ক্ষেত্রে কেবল আহলে আছর (হাদিসের অনুসারী) ব্যতীত
(১)তিনি আরও বলেছেন: "
… যারা তাদের আকিদা গ্রহণ করে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে অথবা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ থেকে অথবা সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাবিঈদের মধ্য থেকে সালাফে সালেহীনদের নিকট হতে যা সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা থেকে"
(২)।
তারা এর মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা, তার প্রতি বিশ্বাস পোষণ এবং তার ওপর আমল করার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর আমরা 'আহলে হাদিস' বলতে কেবল তাদেরই বোঝাই না যারা এটি শ্রবণ, লিখন বা বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ; বরং আমরা তাদের বোঝাই: যারা এটি মুখস্থ করা, জানা এবং অনুধাবনের ক্ষেত্রে অধিক হকদার: প্রকাশ্যে ও গোপনে, এবং এর অনুসরণের ক্ষেত্রে: গোপনে ও প্রকাশ্যে। একইভাবে কুরআনের ধারক-বাহকগণও। তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন বৈশিষ্ট্য হলো: কুরআন ও হাদিসকে ভালোবাসা এবং এই দুটি ও এগুলোর অর্থ নিয়ে গবেষণা করা এবং এই দুটি থেকে যা জানা গেছে তার দাবি অনুযায়ী আমল করা
… "
(৩)।
তিনি আরও বলেন: "তারা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী ও অবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত এবং (সত্য-মিথ্যা) পার্থক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য
--------------------------------------------