(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح نخبة الفكر للقاري القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح نخبة الفكر في مصطلحات أهل الأثر
المؤلف: علي بن (سلطان) محمد، أبو الحسن نور الدين الملا الهروي القاري (ت 1014هـ)
المحقق: قدم له: الشيخ عبد الفتح أبو غدة، حققه وعلق عليه: محمد نزار تميم وهيثم نزار تميم
الناشر: دار الأرقم - لبنان / بيروت
الطبعة: بدون، بدون
عدد الصفحات: 816
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ক্বারীর শারহ নুখবাতুল ফিকার বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: শারহ নুখবাতুল ফিকার ফী মুসতলাহাতিল আহলিল আসার
গ্রন্থকার: আলী বিন (সুলতান) মুহাম্মদ، আবু হাসান নূরুদ্দীন মোল্লা আল-হারাবী আল-ক্বারী (মৃ. ১০১৪ হি.)
গবেষক: ভূমিকা দিয়েছেন: শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ، সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মদ নিযার তামীম এবং হাইসাম নিযার তামীম
প্রকাশক: দারুল আরকাম - লেবানন / বৈরুত
সংস্করণ: উল্লেখ নেই، উল্লেখ নেই
পৃষ্ঠা সংখ্যা: 816
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হি.
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين
الْحَمد لله الَّذِي صحّح كَلَامه الْقَدِيم، الَّذِي هُوَ أحسن الحَدِيث فرعا وأصلا، وَضعف أجر قارئه فِي كل حرف مِنْهُ عشر حَسَنَات، وَزَاد لبَعْضهِم عدلا وفضلا، وَجعل تالي كَلَامه كَلَام رَسُوله، كإطاعته إطاعة نوعا وفصلا، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على من تَوَاتَرَتْ سوابق دلالات معجزاته، واشتهرت لواحق خوارق عاداته، بأسانيد مَرْفُوعَة مُتَّصِلَة بعنوان كراماته، وموصولة بتبيان آيَات كمالاته، أَعنِي سيد الْأَنْبِيَاء، وَسَنَد الأصفياء، مُحَمَّد الْمُصْطَفى، وَأحمد المرتضى، ومحمود الْمُجْتَبى، وعَلى آله وَأَصْحَابه الَّذين أدركوا أسراره، وشاهدوا آثاره، وأخبروا أخباره، وَاتبعُوا أنواره.
أما بعد فَيَقُول الأفقر إِلَى كرم الله الْغَنِيّ الْبَارِي، عَليّ بن سُلْطَان مُحَمَّد الْهَرَوِيّ الْقَارِي: إِن بغض أَصْحَابِي وَمن هُوَ من جملَة أحبابي طلب من أَن يقْرَأ عَليّ " شرح نخبة الْفِكر فِي مصطلحات أهل الْأَثر " لمولانا
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর অনাদি কালামকে বিশুদ্ধ (صحيح) করেছেন, যা শাখা ও মূল উভয় বিচারে সর্বোত্তম কথা (হাদিস); এবং তিনি এর পাঠকের প্রতিদানকে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি নেকি হিসেবে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন এবং কারো কারো জন্য ন্যায়বিচার ও অনুগ্রহস্বরূপ আরও অধিক দান করেছেন। তিনি তাঁর বাণীর তেলাওয়াতকারীকে তাঁর রাসূলের বাণীর অনুসারী সদৃশ করেছেন, যেমন রাসূলের আনুগত্য প্রকার ও অংশ হিসেবে তাঁরই আনুগত্য করার সমান। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর মুজিজার প্রমাণাদি অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر) হয়েছে এবং যাঁর অলৌকিক ঘটনাবলি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তাঁর কারামাতের শিরোনামে মারফু (مرفوع) ও মুত্তাসিল (متصل) সনদ (أسانيد) সমূহের মাধ্যমে এবং যা তাঁর পূর্ণতার নিদর্শনাবলির বর্ণনার সাথে যুক্ত। অর্থাৎ নবীদের সরদার এবং অলি-আউলিয়াদের অবলম্বন মুহাম্মদ মুস্তফা, আহমদ মুরতাজা এবং মাহমুদ মুজতবা; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের প্রতি, যারা তাঁর রহস্যসমূহ উপলব্ধি করেছেন, তাঁর নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁর সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নূরসমূহের অনুসরণ করেছেন।
অতঃপর, অভাবমুক্ত স্রষ্টা আল্লাহর অনুগ্রহের কাঙাল আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-হারাওয়ী আল-কারী বলছেন: আমার কতিপয় বন্ধু এবং প্রিয়জনদের মধ্য থেকে কেউ একজন আমার নিকট আমাদের মাওলার কিতাব "শরহে নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহাতি আহলিল আসার" পাঠ করার আবেদন করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
وَسَيِّدنَا، وَشَيخ مَشَايِخنَا وسندنا، عُمْدَة الْعلمَاء الْأَعْلَام، وزبدة الْفُضَلَاء الْكِرَام، ومقتدى الْأَنَام، وَشَيخ الْإِسْلَام [2 - أ] ، [وخاتمة] الْحفاظ والمحدثين، ونادرة الْمُحَقِّقين والمدققين، الْعَلامَة [الْعَالم الْعَامِل] الرباني، الشَّيْخ شهَاب الدّين أَحْمد بن حجر الْعَسْقَلَانِي، روح روحه، وَفتح لنا فتوحه.
[فسنح] بالخاطر الفاتر أَن أجمع مَا يظْهر لي فِي كَلَامه، وَمَا أظهره بعض الْفُضَلَاء فِي الدفاتر، ليَكُون تبصرة لأولي الْأَلْبَاب، وَتَذْكِرَة للأصحاب والأحباب، فَإِن آن الْوُرُود فِي الْمَقْصُود، فَأَقُول بعون الله الْملك المعبود: قَالَ الشَّيْخ:
(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم) عملا بِالْقُرْآنِ الْمجِيد، واقتداءً / بالفرقان الحميد، وتأسيا بِالْحَدِيثِ الْمَشْهُور عِنْد [أَئِمَّة] الْأَثر: " كل أَمر ذِي بالٍ [لَا] يبْدَأ فِيهِ بِبسْم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم فَهُوَ أَبتر] "، وإيماء بالاستعانة بِهِ تَعَالَى إِلَى التبري عَن
আমাদের নেতা, আমাদের শায়খদের শায়খ এবং আমাদের সনদ (سند), প্রখ্যাত আলেমদের প্রধান স্তম্ভ, বরেণ্য গুণীজনদের শ্রেষ্ঠ নির্যাস, বিশ্ববাসীর অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, শায়খুল ইসলাম [২-ক], হাফেজ (الحفاظ) ও হাদিস বিশারদদের (المحدثين) ধারায় সর্বশেষ পূর্ণতা দানকারী, অনন্য মুহাক্কিক (المحققين) ও সূক্ষ্মদর্শী (المدققين), মহান আল্লাহওয়ালা প্রাজ্ঞ আলেম আল্লামা শায়খ শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল-আসকালানি; আল্লাহ তাঁর রূহকে শান্তিতে রাখুন এবং তাঁর জ্ঞানালোক আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিন।
অতঃপর আমার এই দুর্বল মস্তিষ্কে উদিত হলো যে, আমি তাঁর বক্তব্যের ওপর আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে এবং অন্যান্য গুণীজন তাঁদের পাণ্ডুলিপিতে যা প্রকাশ করেছেন তা সংকলন করব; যেন তা জ্ঞানীদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি এবং বন্ধু ও প্রিয়জনদের জন্য স্মারক হয়। যেহেতু মূল বিষয়ে প্রবেশের সময় হয়েছে, তাই আমি ইবাদতের যোগ্য অধিপতি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে বলছি: শায়খ বলেছেন:
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)—পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন ও মহান ফুরকানের অনুসরণে, আর আছার (الأثر) শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট প্রসিদ্ধ (المشهور) এই হাদিসের ওপর আমল করার মাধ্যমে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (অর্থাৎ বরকতহীন)।" এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা এবং (নিজ ক্ষমতা থেকে) বিমুখ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
الْحول وَالْقُوَّة، [وَإِشَارَة] إِلَى مرتبَة جمع الْجمع بَين الْجمع الصّرْف والتفرقة، لِئَلَّا يُؤَدِّي إِلَى / 2 - أ / الْغَفْلَة والزندقة، وإشعاراً إِلَى الرَّد على الْمُعْتَزلَة والمُرجئة، وَإِرَادَة للخلاص عَن ضيق رِبقة السمعة والرياء إِلَى فضاء الْإِخْلَاص الَّذِي هُوَ أجل مقَام أهل الِاخْتِصَاص، وَلَا شكّ أَن هَذِه الْمعَانِي المنطوية فِي هَذِه المباني مُحْتَاج إِلَيْهَا فِي أول كل من الْمَتْن وَالشَّرْح فِي الْحَال الأول وَالثَّانِي، وَكَأن المُصَنّف جمع بَينهمَا لفظا وَاكْتفى بِأَحَدِهِمَا كِتَابَة، أَو نزّل الْمَتْن وَالشَّرْح منزلةَ كتاب وَاحِد، وَأما مَا فِي بعض النّسخ من قَوْله:
(قَالَ الشَّيْخ) : إِلَخ، فَالظَّاهِر أَنه من كَلَام بعض التلامذة النقاد، إعلاماً بِأَنَّهُ تصنيف الْأُسْتَاذ ليَصِح الْإِسْنَاد، وَيصْلح للاعتماد والاستناد، لكنه يُوهم أَن الشَّيْخ لم يَأْتِ بالبسملة مُطلقًا، وَهَذَا لَا يظنّ بِهِ حَقًا، فَكَانَ الْوَاجِب أَن يَأْتُوا بالبسملة مُتَّصِلَة بالحمدلة على مَا فِي نُسْخَة، لِئَلَّا يُؤَدِّي إِلَى تَغْيِير التصنيف، وتحريف التَّأْلِيف، وَيحْتَمل أَن أَلْفَاظ الْمَدْح فَقَط مُلْحقَة.
وَقدم الشَّيْخ الْبَسْمَلَة تَعْظِيمًا لَهُ تَعَالَى كَمَا فعله شيخ مَشَايِخنَا الجزريّ فِي مقدمته حَيْثُ قَالَ [2 - ب] بعد الْبَسْمَلَة.
ক্ষমতা ও শক্তি, এবং [ইঙ্গিত] হচ্ছে বিশুদ্ধ ঐক্য ও পার্থক্যের মধ্যবর্তী 'জামেউল জাম' (جمع الجمع) স্তরের প্রতি, যাতে এটি / ২-ক / বিস্মৃতি ও ধর্মদ্রোহিতার (زندقة) দিকে ধাবিত না করে। এটি মুতাযিলা (معتزلة) এবং মুরজিয়াদের (مرجئة) মতবাদের খণ্ডনের প্রতি একটি সংকেত, এবং সুখ্যাতি অর্জন ও লোকদেখানোর সংকীর্ণ বেষ্টনী থেকে ইখলাসের প্রশস্ত ময়দানে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, যা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুমহান মর্যাদা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই কাঠামোর মধ্যে নিহিত এই অর্থগুলো মূল পাঠ (متن) এবং ব্যাখ্যা (شرح) উভয়ের শুরুতে প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় অবস্থায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সম্ভবত গ্রন্থকার (مصنف) শব্দগতভাবে উভয়কে একত্রিত করেছেন এবং লিখিতভাবে একটির ওপর সন্তুষ্ট থেকেছেন, অথবা তিনি মূল পাঠ (متن) ও ব্যাখ্যাকে (شرح) একটি কিতাবের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে তাঁর যে কথা রয়েছে:
(শায়খ বলেছেন): ইত্যাদি, তা বাহ্যত কোনো কোনো সমালোচক (نقاد) শিষ্যের বক্তব্য বলে মনে হয়, যা এটি উস্তাদের রচনা (تصنيف) বলে জানানোর জন্য, যাতে সনদ (إسناد) সঠিক হয় এবং তা নির্ভর ও প্রমাণের যোগ্য হয়। কিন্তু এতে এমন এক সংশয় তৈরি হয় যে, শায়খ বোধহয় একেবারেই বিসমিল্লাহ পাঠ করেননি; অথচ তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণা করা সমীচীন নয়। তাই আবশ্যক ছিল যে, তাঁরা বিসমিল্লাহকে আলহামদুলিল্লাহর সাথে মিলিয়ে আনবেন, যেমনটি একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে; যাতে তা রচনার (تصنيف) পরিবর্তন এবং সংকলনের (تأليف) বিকৃতি না ঘটায়। আর এটিও সম্ভব যে, কেবল প্রশংসামূলক শব্দগুলোই পরবর্তীতে সংযোজন করা হয়েছে।
শায়খ আল্লাহ তাআলার সম্মানার্থে বিসমিল্লাহকে অগ্রবর্তী করেছেন, যেমনটি আমাদের শায়খদের শায়খ আল-জাজারী তাঁর মুকাদ্দিমায় করেছেন, যেখানে তিনি [২-খ] বিসমিল্লাহর পর বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২০)
(يَقُول راجي عَفْو رب سامِع
… مُحَمَّد بن الجزريّ الشَّافِعِي)
(الْحَمد لله وَصلى الله
… على نبيه ومصطفاه)
ثمَّ المُرَاد من (الشَّيْخ) : هُوَ الْكَامِل فِي فنه وَلَو شَابًّا، وَأما مَا اخْتَارَهُ بَعضهم من أَنه من خمسين إِلَى ثَمَانِينَ، وَهُوَ السن الَّذِي يسْتَحبّ أَن يكون إسماع الحَدِيث فِيهِ بِلَا خلاف، فخلاف الصَّحِيح كَمَا سَيَأْتِي فِي مَحَله، فَإِن عمر بن عبد الْعَزِيز لم يبلغ أَرْبَعِينَ، وَحدث الإِمَام مَالك حِين بلغ عمره عشْرين.
فَالْحَاصِل: أَنه يُرَاد بِهِ شيخ الْإِسْلَام، وَهُوَ أَن يكون مرجعاً للْأَحْكَام، وَيدل عَلَيْهِ حَدِيث: (الشَّيْخ فِي قومه كالنبي فِي أُمته) // (أسْندهُ الديلمي) //، فالشيخ هُوَ الْكَبِير سِناً، أَو رُتْبَة. وَمَا أحسن قَول الْعَبَّاس لما سُئِلَ أَنْت أكبر أَو النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] ؟ فَقَالَ: (إِنَّه أكبر، وَأَنا أَسن) .
(শুনানিদানকারী রবের ক্ষমা প্রত্যাশী
… মুহাম্মদ ইবনুল জাজারী আশ-শাফিঈ বলছেন)
(সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক
… তাঁর নবী ও মনোনীত বান্দার ওপর)
অতঃপর ‘শায়খ’ বলতে উদ্দেশ্য হলো: যিনি স্বীয় শাস্ত্রে পূর্ণতা লাভ করেছেন, যদিও তিনি যুবক হয়ে থাকেন। আর কেউ কেউ যে মতটি গ্রহণ করেছেন যে, এর বয়সসীমা পঞ্চাশ থেকে আশি বছর পর্যন্ত—এবং এটি এমন এক বয়স যাতে কোনো প্রকার মতভেদ ছাড়াই হাদিস শোনানো মুস্তাহাব—তা সঠিক (صحيح) মতের পরিপন্থী, যেমনটি সামনে তার যথাস্থানে আলোচিত হবে। কেননা উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ. চল্লিশ বছর বয়সেও পৌঁছাননি এবং ইমাম মালিক রহ. বিশ বছর বয়সেই হাদিস বর্ণনা করেছেন।
সারকথা: এর দ্বারা ‘শায়খুল ইসলাম’ উদ্দেশ্য, অর্থাৎ যিনি বিধানাবলির (আহকাম) ক্ষেত্রে মূল উৎস বা রেফারেন্স হবেন। এই হাদিসটি এর প্রমাণ দেয়: “কওমের মাঝে শায়খ হলেন উম্মতের মাঝে নবীর ন্যায়।” // (আদ-দাইলামি এটি সনদযুক্ত করেছেন (أسنده)) //। সুতরাং শায়খ হলেন তিনি, যিনি বয়সে বড় অথবা মর্যাদায় বড়। আব্বাস রা.-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “আপনি বড় না নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]?” তখন তাঁর উক্তিটি কতই না চমৎকার ছিল! তিনি বলেছিলেন: “তিনিই বড় (أكبر), আর আমি কেবল বয়সে অগ্রজ (أسن)।”
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২১)
(الإِمَام) أَي المقتدى بِهِ، وَهُوَ إِمَام أَئِمَّة الْأَنَام كالسيوطي، وَابْن الْهمام، والسخاوي، والقسطلاني، وملا قَاسم الْحَنَفِيّ، وَغَيرهم من الْعلمَاء الْأَعْلَام.
(الْعَالم) أَي الْعَالم الْكَامِل، وَالْمَشْهُور فِي هَذَا الْعلم، فَإِن لَهُ تصانيف كَثِيرَة، وتآليف شهيرة، وأجلها (فتح الْبَارِي فِي شرح البُخَارِيّ) الَّذِي هُوَ فِي هَذَا الْفَنّ غَايَة، بل فِي سَائِر الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة نِهَايَة.
(الْحَافِظ) : هُوَ من أحَاط علمه بمئة ألف حَدِيث، ثمَّ بعده الْحجَّة: وَهُوَ من أحَاط / 2 - ب / علمه بِثَلَاث مئة ألف حَدِيث، ثمَّ الْحَاكِم: وَهُوَ الَّذِي أحَاط علمه بِجَمِيعِ الْأَحَادِيث المروية متْنا وإسناداً، وجرحاً وتعديلاً وتاريخاً، كَذَا قَالَه جمَاعَة من الْمُحَقِّقين. وَقَالَ الْعَلامَة الْجَزرِي:
(ইমাম (الإِمَام)) অর্থাৎ যাঁকে অনুসরণ করা হয়। তিনি জগদ্বাসীর ইমামগণের ইমাম, যেমন সুয়ূতী, ইবনুল হুমাম, সাখাবী, কাসতাল্লানী, মোল্লা কাসিম হানাফী এবং অন্যান্য বরেণ্য আলেমদের ন্যায়।
(আলিম (الْعَالم)) অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ আলেম এবং এই বিদ্যায় সুপ্রসিদ্ধ; কারণ তাঁর বহু গ্রন্থ ও প্রসিদ্ধ রচনা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ফাতহুল বারী ফি শারহিল বুখারী, যা এই শাস্ত্রে চূড়ান্ত উৎকর্ষ, বরং সমস্ত শরয়ী বিদ্যায় তা চূড়ান্ত সীমা।
(হাফিজ (الْحَافِظ)): তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যাঁর জ্ঞান এক লক্ষ হাদিসকে আয়ত্ত করেছে। এরপর হলেন হুজ্জাহ (الْحُجَّة): তিনি ওই ব্যক্তি যাঁর জ্ঞান তিন লক্ষ হাদিসকে আয়ত্ত করেছে। এরপর হলেন হাকিম (الْحَاكِم): তিনি হলেন ওই ব্যক্তি যাঁর জ্ঞান মতন (متناً) ও সনদ (إسناداً), জরাহ (جرحاً) ও তাদিল (تعديلاً) এবং ইতিহাসের নিরিখে বর্ণিত সমস্ত হাদিসকে পরিবেষ্টন করে আছে। একদল গবেষক (المحققين) এভাবেই বলেছেন। আল্লামা জাযারী বলেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২২)
الرَّاوِي: ناقل الحَدِيث بِالْإِسْنَادِ. والمحدث من تحمل الحَدِيث رِوَايَة، واعتنى بِهِ دِراية. والحافظ: من روى مَا يصل / إِلَيْهِ ووعى مَا يحْتَاج لَدَيْهِ.
وَقَالَ الْعِرَاقِيّ: الْمُحدث فِي عرف الْمُحدثين: من يكون لَهُ كتب، وَقَرَأَ، وَسمع، ووعى، ورحل إِلَى الْمَدَائِن والقرى، وَحصل أصولاً من متون [3 - أ] الْأَحَادِيث، وفروعاً من كتب المسانيد، والعلل، والتواريخ الَّتِي تقرب من ألف تصنيف انْتهى. وَكَأَنَّهُ تَعْرِيف المنتهي! .
وَقَالَ ميرك شاه رَحمَه الله تَعَالَى: المُرَاد بِهِ حَافظ الحَدِيث لَا الْقُرْآن قلت: وَلَا بدع أَن يكون حَافِظًا للْكتاب وَالسّنة، وإنساناً كَامِلا من بَين الْأمة. وَكَانَ يَقُول شيخ مَشَايِخنَا الْعَارِف الرباني مَوْلَانَا إِسْمَاعِيل الشرواني لبَعض تلاميذه: أَنا وَأَنت إِنْسَان كَامِل، فَإنَّك تحفظ الْقُرْآن ومبناه، وَأَنا أعرف تَفْسِيره وَمَعْنَاهُ.
(وحيد دهره وأوانه) الْإِضَافَة بِمَعْنى فِي، وَالْمعْنَى: نادرة زَمَانه، ومنفردُ أَوَانه.
(وفريد عصره وزمانه) أَي لَا نَظِير لَهُ فِي شَأْنه، عطف تَفْسِير، أَو الأول: لخُصُوص مصره، وَالثَّانِي: لعُمُوم عصره.
বর্ণনাকারী (راوي): সনদের (إسناد) মাধ্যমে হাদিস বর্ণনাকারী। এবং মুহাদ্দিস (محدث) হলেন তিনি, যিনি বর্ণনাসূত্রে (رواية) হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং উপলব্ধিগতভাবে (دراية) এর প্রতি যত্নবান হয়েছেন। আর হাফিজ (حافظ) হলেন তিনি, যিনি তাঁর নিকট পৌঁছানো হাদিস বর্ণনা করেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি আয়ত্ত করেন।
আল্লামা ইরাকি বলেন: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় মুহাদ্দিস (محدث) হলেন তিনি, যাঁর কিতাবাদি রয়েছে, যিনি পাঠ করেছেন, শুনেছেন, সংরক্ষণ করেছেন এবং বিভিন্ন শহর ও জনপদে সফর করেছেন; আর তিনি হাদিসের মূল পাঠসমূহ (متون) থেকে মূলনীতিসমূহ এবং মুসনাদ, দোষত্রুটি (علل) ও ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে শাখা-প্রশাখা অর্জন করেছেন, যা প্রায় এক হাজার সংকলনের কাছাকাছি। কথা সমাপ্ত। এটি যেন একজন উচ্চস্তরের বিশেষজ্ঞের সংজ্ঞা!
মীরক শাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: এর দ্বারা হাদিসের হাফিজ (حافظ) উদ্দেশ্য, কুরআনের হাফিজ নয়। আমি বলি: তিনি কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ উভয় শাস্ত্রের হাফিজ এবং উম্মতের মাঝে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হবেন—এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ আরেফ রব্বানি মাওলানা ইসমাইল আশ-শারওয়ানি তাঁর জনৈক ছাত্রকে বলতেন: আমি এবং তুমি মিলে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ; কেননা তুমি কুরআনের শব্দ ও অবয়ব মুখস্থ রেখেছ, আর আমি এর তাফসির ও মর্মার্থ অবগত আছি।
(তাঁর যুগ ও সময়ের অনন্য ব্যক্তি): এখানে সম্বন্ধটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো: তিনি তাঁর সময়ের বিরল এবং স্বীয় যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব।
(তাঁর কাল ও যামানার অপ্রতিম): অর্থাৎ তাঁর মর্যাদায় তাঁর কোনো নজির নেই। এটি পূর্ববর্তী কথার ব্যাখ্যামূলক অনুগামী শব্দ (عطف تفسير); অথবা প্রথম অংশটি তাঁর নির্দিষ্ট অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বুঝাতে এবং দ্বিতীয় অংশটি তাঁর গোটা যুগের ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
(شهَاب الْملَّة وَالدّين) أَي نجمهما الَّذِي يستضيئان بنوره، وينكشفان بِحُضُورِهِ، وأهلهما يستنيران بِهِ حِين حَيَاته، ويستفيدان بكتبه بعد مماته، وَالظَّاهِر أَن المُرَاد بالملة: هُوَ طَرِيق التَّوْحِيد الإيماني، وَيُشِير إِلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {اتبع مِلَّة إِبْرَاهِيم حَنِيفا} وَسمي مِلَّة من حَيْثُ إِنَّه يُملى على الْأمة. وبالدين: أَحْكَام الْإِسْلَام، ويومئ إِلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {إِن الدّين عِنْد الله الْإِسْلَام} وَسمي بِهِ من حَيْثُ إِنَّه يتدين بِهِ، وينقاد إِلَيْهِ، ويجازى عَلَيْهِ.
(أَبُو الْفضل) كنيته، وَهُوَ يحْتَمل أَن يكون لَهُ ولد مُسَمّى بِالْفَضْلِ، أَو المُرَاد بِهِ أَنه صَاحب الْفضل وَالزِّيَادَة من الْأَمْوَال الدُّنْيَوِيَّة، أَو ذُو الْفَضِيلَة من الْعُلُوم الأخروية، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {وَلَا يَأْتَلِ أولو الْفضل مِنْكُم وَالسعَة} وَالْمرَاد بِهِ الصّديق الْأَكْبَر رضي الله عنه. وَهَذَا الَّذِي اخترناه أولى مِمَّا ذكره صَاحب الجلالين من الْعَطف التفسيري، فَإِن التأسيس مهما أمكن [فَهُوَ] أولى من التَّأْكِيد.
(أَحْمد بن عَليّ العَسقلاني) بِفَتْح الْعين، وَسُكُون السِّين الْمُهْمَلَتَيْنِ، وَفتح الْقَاف نِسْبَة إِلَى بلد بساحل الشَّام.
(الشهير) أَي الْمَشْهُور (بِابْن حجر) قَالَ السَّيِّد أصيل الدّين: هُوَ لقب الشَّيْخ [3 - ب] ، وَإِن كَانَ بِصِيغَة الكنية، وَذَلِكَ شَائِع / 3 - أ /، وَوجه تلقيبه بذلك كَثْرَة
(শিহাব আল-মিল্লাতি ওয়াদ-দীন) অর্থাৎ এই উভয়ের (মিল্লাত ও দীন) নক্ষত্র, যাঁর নূরে তারা আলোকিত হয় এবং যাঁর উপস্থিতিতে তারা উদ্ভাসিত হয়। তাঁর জীবদ্দশায় এই উভয় ক্ষেত্রের ব্যক্তিবর্গ তাঁর মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হতেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর রচিত কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। স্পষ্টত এখানে 'মিল্লাত' দ্বারা তাওহীদী ঈমানের পথকে বোঝানো হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণী: {একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের মিল্লাতের অনুসরণ করো}—এ দিকেই ইঙ্গিত করে। একে 'মিল্লাত' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি উম্মতের প্রতি নির্দেশিত হয়। আর 'দীন' বলতে ইসলামের বিধানসমূহকে বোঝানো হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দীন হলো ইসলাম}—এ দিকেই ইঙ্গিত করে। একে 'দীন' বলা হয়েছে কারণ মানুষ এর আনুগত্য করে, এর অনুসারী হয় এবং এর ভিত্তিতেই তাকে প্রতিদান দেওয়া হয়।
(আবুল ফজল) এটি তাঁর উপনাম। হতে পারে তাঁর 'ফজল' নামক কোনো পুত্রসন্তান ছিল, অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য এই যে, তিনি পার্থিব ধন-সম্পদের প্রাচুর্য অথবা পরকালীন জ্ঞান ও ফযীলতের অধিকারী ছিলেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ফযীলত ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন কসম না খায়...}। এখানে ফযীলতওয়ালা বলতে সিদ্দীকে আকবর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বোঝানো হয়েছে। আমরা এখানে যে ব্যাখ্যাটি পছন্দ করেছি তা জালালাইন রচয়িতার বর্ণিত ব্যাখ্যামূলক সংযোগের চেয়ে উত্তম। কেননা যতক্ষণ নতুন অর্থ প্রদান সম্ভব হয়, ততক্ষণ তা পুনরুক্তি বা তাকিদের চেয়ে শ্রেয়।
(আহমদ বিন আলী আল-আসকালানী) 'আইন' বর্ণে ফাতহা এবং উভয় 'সীন' বর্ণে সুকূন ও 'ক্বাফ' বর্ণে ফাতহা সহকারে; এটি শামের উপকূলীয় একটি শহরের সাথে সম্পৃক্ত নিসবত।
(আশ-শাহীর) অর্থাৎ সুপ্রসিদ্ধ (ইবনে হাজার নামে)। সাইয়্যেদ আসীলুদ্দীন বলেন: এটি শাইখের উপাধি [৩ - খ], যদিও এটি উপনামের আদলে গঠিত; আর এরূপ ব্যবহার অত্যন্ত প্রচলিত / ৩ - ক /। তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করার কারণ হলো আধিক্য...
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
مَاله وضياعه، وَالْمرَاد بِالْحجرِ: الذَّهَب وَالْفِضَّة. انْتهى. وَيحْتَمل أَنه كَانَت لَهُ جَوَاهِر كَثِيرَة فَسُمي بِهِ، وَقيل: لُقب بذلك لجودة ذهنه، وصلابة رَأْيه بِحَيْثُ يردُ اعْتِرَاض كل معترض، وَلَا يتَصَرَّف فِيهِ أحد من أقرانه، وَلذَا قَالَ بعض الظرفاء فِي حَقه: رَجح بِنَا ابْن حجر يقْرَأ طرداً وعكساً كَقَوْلِه تَعَالَى {كل فِي فلك} . وَقيل: سُمي بِهِ لكَونه اسْم أَبِيه الْخَامِس، لِأَنَّهُ كَانَ حَامِل الْحجر، (أثابه) أَي الله تَعَالَى - وَكَانَ الأولى ذكره كَمَا فِي نُسْخَة، وَإِن كَانَ فِي الذِّهْن مَذْكُورا - (الْجنَّة) أَي جازاه أَعلَى درجاتها، وَأَعْلَى مقاماتها (بفضله وَكَرمه) أَي زِيَادَة على عدله بِمُقَابلَة عمله وَعلمه.
(الْحَمد لله) جوز فِي لَام التَّعْرِيف أَن تكون للْجِنْس، أَو الِاسْتِغْرَاق، أَو الْعَهْد. وَقد سَأَلَ الشَّيْخ أَبُو / الْعَبَّاس المرسي ابْن النّحاس النَّحْوِيّ عَن الْألف وَاللَّام فِي الْحَمد لله، أجنسية هِيَ، أم عهدية؟ فَقَالَ: يَا سَيِّدي قَالُوا: إِنَّهَا جنسية، فَقَالَ لَهُ: الَّذِي أَقُول: إِنَّهَا عهدية، وَذَلِكَ أَن الله تَعَالَى لما علم عجز خلقه عَن كنه حَمده وَحقه، حمد نَفسه بِنَفسِهِ فِي أزله نِيَابَة عَن خلقه قبل أَن يحمدوه، فَقَالَ
তাঁর সম্পদ ও তার বিনাশ; আর ‘হাজার’ (পাথর) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: স্বর্ণ ও রৌপ্য। সমাপ্ত। আর সম্ভাবনা রয়েছে যে, তাঁর প্রচুর মণি-মুক্তা ছিল বিধায় তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছিল। আবার বলা হয়েছে: মেধার প্রখরতা এবং মতামতের দৃঢ়তার কারণে তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল, যাতে তিনি প্রত্যেক আপত্তিকারীর আপত্তি খণ্ডন করতে পারতেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের কেউ তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারত না। একারণেই কোনো কোনো রসিক ব্যক্তি তাঁর প্রশংসায় বলেছেন: ‘ইবনু হাজার আমাদের পাল্লাকে ভারী করেছেন’, যা সোজাসুজি এবং উল্টো উভয় দিক থেকেই সমানভাবে পড়া যায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সবকিছুই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণশীল}। আরও বলা হয়েছে যে: তাঁর পঞ্চম পূর্বপুরুষের নাম ‘হাজার’ হওয়ায় তাঁকে এই নামে ডাকা হয়, কারণ তিনি পাথর বহনকারী ছিলেন। (আল্লাহ তাঁকে প্রতিদান দিন) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা—যদিও কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকাই অধিকতর সমীচীন ছিল, তবুও তা মনে মনে স্মর্তব্য—(জান্নাত) অর্থাৎ আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর ও সুউচ্চ মর্যাদা দান করেন (তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায়), যা তাঁর ইনসাফের অতিরিক্ত হিসেবে তাঁর কর্ম ও জ্ঞানের প্রতিদানস্বরূপ।
(সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) এখানে নির্দিষ্টকারী ‘লাম’ (لام التعريف)-এর ক্ষেত্রে তা জাতিবাচক (جنس), ব্যাপকতা (استغراق) অথবা পরিচিতিবাচক (عهد) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেখ আবু আব্বাস আল-মুরসি ব্যাকরণবিদ ইবনুন্নাহহাসকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’র আলিফ ও লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এটি কি জাতিবাচক (جنسية) নাকি পরিচিতিবাচক (عهدية)? তিনি উত্তর দিলেন: হে আমার সাইয়্যিদ! আলেমগণ বলেছেন যে এটি জাতিবাচক (جنسية)। তখন তিনি তাঁকে বললেন: আমি যা বলি তা হলো, এটি পরিচিতিবাচক (عهدية)। আর এর কারণ হলো, মহান আল্লাহ যখন তাঁর প্রশংসা ও হকের প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটনে সৃষ্টির অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন সৃষ্টির পক্ষ থেকে প্রশংসা করার পূর্বেই অনাদিকাল থেকে তিনি নিজেই নিজের প্রশংসা করেছেন; অতঃপর তিনি বললেন—
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
(ابْن النّحاس) : أشهدك أَنَّهَا للْعهد. انْتهى.
وَكَأَنَّهُ أَرَادَ أَن الْعبْرَة بذلك الْحَمد، لَا أَنه منحصر فِيهِ. وَيُشِير إِلَى الْعَهْد أَيْضا قَوْله [صلى الله عليه وسلم] : (وَلَا أحصي ثَنَاء عَلَيْك أَنْت كَمَا أثنيت على نَفسك) لَكِن قَول الشَّيْخ: نِيَابَة عَن خلقه لما علم عجزهم، غير مُحْتَاج إِلَيْهِ لِأَن عِنْد الصُّوفِيَّة لَا يعول عَلَيْهِ إِذْ الْحَمد ثَابت لَهُ أزلا وأبداً، فَكَأَن الشَّيْخ تنزل عَن مقاماته وحالاته من آثَار المحو، إِلَى مقَام ابْن النّحاس الْمُقَيد بالنحو، لما ورد: " كلم النَّاس على قدر عُقُولهمْ وَقَالَ تَعَالَى: {قد علم كل أنَاس مشربهم} .
وَالْأَظْهَر عِنْدِي أَن اللَّام للاستغراق الْحَقِيقِيّ دون العُرفي، كَمَا قيل بِهِ، فَالْمَعْنى: أَن كل حمد صدر من كل حَامِد، فَهُوَ لله تَعَالَى حَقِيقَة، [4 - أ] وَإِن كَانَ بعض أَفْرَاده لغيره تَعَالَى صُورَة، بل الْمصدر بِالْمَعْنَى الْأَعَمّ من الفاعلية والمفعولية، فَيُفِيد أَن الله تَعَالَى هُوَ الحامد وَهُوَ الْمَحْمُود، سوى الله - وَالله - مَا فِي الْوُجُود. وَمِنْه قَول شيخ مَشَايِخنَا: اسْتغْفر الله مِمَّا سوى الله، وَمِنْه قَول الْعَارِف ابْن الفارض:
(ইবনে আন-নাহহাস): আমি আপনাকে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটি নির্দিষ্টতার জন্য। সমাপ্ত।
যেন তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, মূল ধর্তব্য বিষয় হলো সেই নির্দিষ্ট প্রশংসা, তবে তা কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর এই বাণীটিও নির্দিষ্টতার দিকে ইঙ্গিত করে: "আমি আপনার প্রশংসার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারি না, আপনি ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।" তবে শায়খের উক্তি— "সৃষ্টিজগত যখন তাদের অক্ষমতা উপলব্ধি করেছে তখন তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্বমূলকভাবে (এই প্রশংসা করা)," এর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ সুফিদের নিকট এর ওপর নির্ভর করা হয় না, যেহেতু প্রশংসা তাঁর জন্য অনাদিকাল ও অনন্তকাল ধরে চিরস্থায়ী। যেন শায়খ তাঁর আত্মবিলীনতার প্রভাবজাত উচ্চতর স্তর ও অবস্থা থেকে ইবনে আন-নাহহাসের ব্যাকরণ-সীমাবদ্ধ স্তরে অবতরণ করেছেন; যেহেতু বর্ণিত হয়েছে: "মানুষের সাথে তাদের বুদ্ধিবৃত্তি অনুযায়ী কথা বলো" এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ পানের স্থান জেনে নিয়েছে}।
আমার নিকট অধিকতর স্পষ্ট মত হলো এই যে, 'লাম' অক্ষরটি প্রকৃত সামগ্রিকতা বুঝানোর জন্য, প্রচলিত সামগ্রিকতা বুঝানোর জন্য নয়—যেমনটি অন্য মতে বলা হয়েছে। সুতরাং অর্থ হলো: প্রত্যেক প্রশংসাকারী থেকে যে প্রশংসাই প্রকাশিত হয়, তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলার জন্যই, [৪ - ক] যদিও বাহ্যিকভাবে এর কিছু অংশ অন্য কারও জন্য পরিলক্ষিত হয়। বরং এখানে ক্রিয়ামূলটি কর্তা ও কর্মের অধিকতর ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা এই অর্থ প্রদান করে যে, আল্লাহ তাআলাই প্রশংসাকারী এবং তিনিই প্রশংসিত। আল্লাহর শপথ! অস্তিত্বে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই নেই। আর এ থেকেই আমাদের শায়খদের শায়খের এই উক্তিটি এসেছে: "আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।" এবং এ থেকেই তত্ত্বজ্ঞানী ইবনে আল-ফারিজের উক্তিটি এসেছে:
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
(وَلَو خطرت لي فِي سواك إِرَادَة
… على خاطري سَهوا حكمت بردتي)
وَمِنْه حَدِيث (أصدق كلمة قَالَهَا الشَّاعِر كلمة لبيد: " أَلا كل شَيْء مَا خلا الله بَاطِل ".
وَإِلَيْهِ الْإِيمَاء بقوله تَعَالَى {كُل شيءٍ هالِك إِلَّا وَجههُ} . نعم أظهر مظَاهر محمدة الْحق هُوَ الْمَحْمُود، الْمُسَمّى بِمُحَمد المنعوت بِأَحْمَد الْخلق، أَو الْمَعْنى / 3 - ب /: جنس الْحَمد مُسْتَحقّ لَهُ تَعَالَى سَوَاء حُمد أَو لم يُحمد، وَيُشِير إِلَيْهِ: يَا الله الْمَحْمُود فِي كل فِعَاله، وَقَالَ تَعَالَى {وَهُوَ الْوَلِيّ الحميد} . وَأما مَا قيل: إِذا كَانَ اللَّام للْجِنْس، فإفادته قَاصِرَة إِذْ لَا يلْزم من إِثْبَات الْجِنْس لأحد إحاطة أَفْرَاد لَهُ، فمدفوع هُنَا بِأَن لَام لله للاختصاص، فَلَا يخرج فَرد من هَذَا الْمقَام الْخَاص، فَيرجع مَعْنَاهُ إِلَى الِاسْتِغْرَاق.
وَقَول صَاحب المدارك: وَاللَّام فِيهِ للاستغراق عندنَا خلافًا للمعتزلة، يُرِيد بِهِ أَن الْمُعْتَزلَة لَا يجوزونه بِنَاء على مَسْأَلَة خلق الْأَفْعَال، وَلَيْسَ مَعْنَاهُ أَن كَونهَا للْجِنْس هُوَ مَذْهَب الْمُعْتَزلَة فَقَط كَمَا تُوهم، فَإِن الْبَيْضَاوِيّ وَغَيره من الْمُحَقِّقين جوزوا الْجِنْس، بل رجحوه، وقدموه على الِاسْتِغْرَاق لِأَنَّهُ الأَصْل فِي التَّعْرِيف.
(যদি আপনার ব্যতীত অন্য কারও প্রতি আমার মনে কোনো ইচ্ছা উদিত হয়
… ভুলবশতও যদি তা আমার হৃদয়ে আসে, তবে আমি নিজের ওপর ধর্মত্যাগের ফতোয়া দিব)
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই হাদিস: (কবি যে কথাটি সবচেয়ে সত্য বলেছেন, তা হলো লাবীদের এই কথা— "জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া আর যা কিছু আছে সবই অসার")।
মহান আল্লাহর বাণী— {তাঁর সত্তা ব্যতীত প্রতিটি বস্তু বিনাশশীল}—এর মাধ্যমেই এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। হ্যাঁ, সত্যের (আল্লাহর) প্রশংসার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশস্থল হলেন সেই প্রশংসিত (মাহমুদ), যাঁর নাম রাখা হয়েছে মুহাম্মাদ এবং যিনি সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে প্রশংসিত (আহমদ) হিসেবে বিশেষায়িত। অথবা এর অর্থ হলো / ৩ - খ /: প্রশংসার মূল সত্তা মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত, চাই তাঁর প্রশংসা করা হোক বা না হোক। এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে এই বাক্যে: "হে আল্লাহ! আপনি আপনার প্রতিটি কর্মে প্রশংসিত"। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনিই হলেন অভিভাবক, প্রশংসিত}। আর যা বলা হয়েছে— যদি এখানে ‘লাম’ অক্ষরটি জাতিবাচক হয়, তবে এর অর্থগত ব্যাপকতা সীমিত হয়ে যায়; কারণ কারও জন্য কোনো জাতির সাব্যস্তকরণ তার সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য করে না। এই আপত্তির উত্তর এখানে এই যে, ‘লিল্লাহ’ শব্দে ‘লাম’ অক্ষরটি বিশিষ্টতা বুঝানোর জন্য এসেছে। ফলে কোনো প্রশংসাই এই বিশেষ মর্যাদা থেকে বিচ্যুত হবে না। সুতরাং এর অর্থ পরিব্যাপ্তির দিকেই ফিরে যাবে।
মাদারিক গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য— "আমাদের নিকট এখানে ‘লাম’ পরিব্যাপ্তি বুঝানোর জন্য এসেছে, যা মুতাজিলাদের মতের পরিপন্থী"। এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, মুতাজিলারা ‘কর্ম সৃষ্টি’ সংক্রান্ত মাসআলার ওপর ভিত্তি করে এটিকে বৈধ মনে করে না। এর অর্থ এই নয় যে, ‘লাম’-কে জাতিবাচক ধরা কেবল মুতাজিলাদেরই মাযহাব, যেমনটি ভ্রান্ত ধারণা হতে পারে। কারণ বাইযাভী এবং অন্যান্য গবেষকগণ জাতিবাচক হওয়াকে বৈধ বলেছেন, বরং তারা একে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং পরিব্যাপ্তির ওপর অগ্রগণ্য করেছেন; কেননা নির্দিষ্টকরণের ক্ষেত্রে এটিই হলো মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
ثمَّ الْمَشْهُور أَن جملَة الحمدلة مبناها إخبارية، وَمَعْنَاهَا إنشائية. وَسُئِلَ ابْن الهُمَام عَنْهَا فَأجَاب: بِأَنَّهَا إنشائية فَقيل: بل خبرية، قَالَ فَحِينَئِذٍ: لَيْسَ لنا حامدون. فَقيل: فَإِذا لَيْسَ لله حَقِيقَة الْحَمد ثَابِتَة. انْتهى وَمعنى كَلَام ابْن الهُمَام أَنه حِينَئِذٍ لَا نَكُون حامدين مَعَ أَنه يُقَال لقائلها: حامداً، وَلَو كَانَت خبرية معنى لم يُسَمُ إِلَّا مخبرا، لِأَن من الْمَعْلُوم أَنه لَا يُشتق للمخبر عَن شَيْء اسمُ [4 - ب] فَاعل من ذَلِك الشَّيْء، إِذْ لَا يُقَال لمن قَالَ: الضَّرْب مؤلمُ ضَارب، لَكِن يُمكن دَفعه بِأَنَّهُ جَازَ أَن يَعدٌ الشَّرْع الْمخبر / بِثُبُوت الْحَمد لله تَعَالَى حامداً.
ثمَّ الشَّيْخ رَحمَه الله تَعَالَى أَتَى بالحمدلة بعد الْبَسْمَلَة تخلقاً بالأخلاق الربانية، وتعلقاً بالكلمات السبحانية، وجمعاً بَين الْأَخْبَار النَّبَوِيَّة والْآثَار المصطفوية حَيْثُ قَالَ: " كُل أَمر ذِي بالٍ لم يُبدأ فِيهِ بِالْحَمْد لله [فَهُوَ أَبتر] " وَفِي رِوَايَة: [ (بِحَمْد لله) وَفِي رِوَايَة: (بِالْحَمْد] فَهُوَ أقطع) وَفِي رِوَايَة: (أَجْذم) . أَي مَقْطُوع الْبركَة. ثمَّ الِابْتِدَاء وَإِن كَانَ يحصل بِكُل من الْبَسْمَلَة والحمدلة لما فِي رِوَايَة: (لَا يُبدأ فِيهِ بِذكر الله) إِلَّا أَن الْجمع بَينهمَا أفضل، وثوابهما أكمل. ثمَّ الِابْتِدَاء عرفي
এরপর প্রসিদ্ধ (مشهور) অভিমত এই যে, আল-হামদুলিল্লাহ বাক্যটির বাহ্যিক রূপ বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ হলো অভিব্যক্তিজ্ঞাপক। ইবনুল হুমামকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন যে, এটি অভিব্যক্তিজ্ঞাপক; তখন বলা হলো যে, বরং এটি বর্ণনামূলক। তিনি বললেন: এমতাবস্থায় আমাদের কেউ প্রশংসাকারী হিসেবে সাব্যস্ত হব না। পুনরায় বলা হলো: তাহলে তো আল্লাহর জন্য প্রশংসার হাকিকত বা বাস্তবতা প্রমাণিত হবে না। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। ইবনুল হুমামের বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, সেই অবস্থায় আমরা প্রশংসাকারী হতে পারব না, যদিও এই বাক্য পাঠকারীকে ‘প্রশংসাকারী’ বলা হয়। যদি এটি অর্থগতভাবে কেবল বর্ণনামূলক হতো, তবে পাঠকারীকে সংবাদ প্রদানকারী ছাড়া আর কিছু বলা হতো না। কারণ এটি সুবিদিত যে, কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রদানকারীর জন্য সেই মূল ধাতু থেকে [৪ - খ] কর্তৃবাচক বিশেষ্য গঠিত হয় না। যেমন—যে ব্যক্তি বলে: ‘আঘাত করা বেদনাদায়ক’, তাকে ‘আঘাতকারী’ বলা হয় না। তবে এর খণ্ডন এভাবে সম্ভব যে, শরিয়ত আল্লাহর প্রশংসার সংবাদ প্রদানকারীকে / প্রশংসাকারী হিসেবে গণ্য করার অনুমতি দিয়েছে।
অতঃপর শায়খ (রহ.) ঐশী গুণাবলীতে গুণান্বিত হওয়া, পবিত্র বাক্যসমূহের সাথে সংশ্লিষ্টতা বজায় রাখা এবং নববী সংবাদ ও মুস্তফা (সা.)-এর আছারসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে বিসমিল্লাহর পর আল-হামদুলিল্লাহ নিয়ে এসেছেন। যেমনটি তিনি বলেছেন: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বরকতহীন (أبتر)।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "[আল্লাহর প্রশংসার দ্বারা]" এবং অন্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "[আল-হামদু দ্বারা] তবে তা বিচ্ছিন্ন (أقطع)"। আরও একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "কর্তিত (أجذم)"। অর্থাৎ বরকতবিচ্ছিন্ন। এরপর যদিও বিসমিল্লাহ এবং আল-হামদুলিল্লাহ—উভয়টির মাধ্যমেই প্রারম্ভ সূচিত হয়—যেহেতু একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "যা আল্লাহর জিকির দ্বারা শুরু করা হয় না"—তথাপি এই দুটির সমন্বয় করা উত্তম এবং এতে প্রতিদান অধিক পূর্ণাঙ্গ হয়। অতঃপর এই প্রারম্ভ হলো প্রথাগত (عرفي)।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
يَمْتَد إِلَى الشُّرُوع فِي الْمَقْصُود، وَالْأول حَقِيقِيّ، وَالثَّانِي إضافي، وَالْأول أولى بالحقيقي، فَإِن الثَّانِي بِمَنْزِلَة الشُّكْر على توفيق الذّكر الإلهي الْمُقْتَضِي لتصحيح النِّيَّة، والباعث على مُلَاحظَة الْمِنَّة، ومطالبة المعونة، والتبري من الْحول وَالْقُوَّة.
(الَّذِي لم يزل عَالما قَدِيرًا) كَانَ الأولى مبْنى وَمعنى أَن يَقُول: عليماً قَدِيرًا ليدل على كَثْرَة الْعلم، وسعة الْقُدْرَة. وَأما مَا قيل: لَو قَالَ: وَلَا يزَال ليصرح بِأَن علمه تَعَالَى وَقدرته أبدي كَمَا أنّ كلا مِنْهَا أزلي لَكَانَ أحسن، فيجاب عَنهُ: بِأَن مَا ثَبت قدمه اسْتَحَالَ عَدمه / 4 - أ /، وَهُوَ أحد الْأَجْوِبَة عَن قَوْله تَعَالَى: {إِنَّه كَانَ عليما قَدِيرًا} . {حَيا قيوماً} فيعول: من الْقيام أَي الْقَائِم بِذَاتِهِ الْمُقِيم لغيره قيل: لما ذكر فِي الْمَتْن أَنه تَعَالَى متصف بِالْعلمِ وَالْقُدْرَة أزلاً نبه فِي الشَّرْح على أَنه لَا يزَال كَذَلِك سرمداً بقوله: حَيا قيوماً، لِأَن مَعْنَاهُ دَائِم الْبَقَاء.
ونوقش بِأَنَّهُ إِنَّمَا يدل على أنّ ذَاته أبدية، ودَفعُهُ ظَاهر لِأَن الصِّفَات الذاتية لَا تنفك عَن الذَّات الإلهية.
{سميعا بَصيرًا} قيل: اللَّائِق أَن يزِيد مرِيدا متكلماً، لتَكون الصِّفَات الذاتية بِتَمَامِهَا مَذْكُورَة.
وَأجِيب: بِأَن الْقُدْرَة تَسْتَلْزِم الْإِرَادَة، والتكلم. وَأغْرب محشٍّ جميل،
এটি মূল উদ্দেশ্যের সূচনা পর্যন্ত বিস্তৃত; প্রথমটি প্রকৃত (حقيقي), আর দ্বিতীয়টি আপেক্ষিক (إضافي)। প্রথমটিই প্রকৃত (حقيقي) হওয়ার অধিক যোগ্য। কেননা দ্বিতীয়টি মহান আল্লাহর জিকির তৌফিক লাভের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ, যা নিয়তকে শুদ্ধ করার দাবি রাখে এবং অনুগ্রহের প্রতি লক্ষ রাখা, সাহায্য প্রার্থনা করা এবং নিজের ক্ষমতা ও শক্তি থেকে দায়মুক্ত হওয়ার প্রেরণা জোগায়।
(যিনি সর্বদা সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান ছিলেন) শব্দবিন্যাস ও অর্থের বিচারে এটি বলাই শ্রেয় ছিল যে: 'মহাজ্ঞানী, মহাপরাক্রমশালী', যাতে জ্ঞানের আধিক্য এবং কুদরতের ব্যাপকতা প্রকাশ পায়। আর যা বলা হয়েছে: যদি তিনি বলতেন 'এবং সর্বদা থাকবেন' যাতে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হতো যে মহান আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতা অনন্ত (أبدي) যেমনটি এগুলোর প্রতিটি অনাদি (أزلي), তবে তা অধিকতর উত্তম হতো। এর উত্তরে বলা হয়: যার অনাদি (أزلي) হওয়া প্রমাণিত, তার বিলুপ্তি অসম্ভব / ৪ - অ /। আর এটি মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান ছিলেন}-এর অন্যতম উত্তর। {চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক (قيوما)} এটি 'কিয়াম' ধাতু থেকে 'ফায়উওল' ওজনে নিষ্পন্ন; অর্থাৎ যিনি নিজ সত্তায় বিদ্যমান এবং অন্যকে অস্তিত্ব দানকারী। বলা হয়েছে: যখন মূলপাঠ (متن)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে মহান আল্লাহ অনাদি (أزلي) কাল থেকে জ্ঞান ও ক্ষমতার গুণাবলীতে গুণান্বিত, তখন ব্যাখ্যা (شرح)-গ্রন্থে 'চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক' বলার মাধ্যমে তিনি যে অনন্তকাল (سرمدا) এমন থাকবেন সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন; কারণ এর অর্থ হলো চিরস্থায়ী সত্তা।
এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে যে, এটি কেবল তাঁর সত্তার অবিনশ্বরতার ওপর প্রমাণ পেশ করে। এর উত্তরও সুস্পষ্ট, কারণ সত্তাগত গুণাবলী (الصفات الذاتية) মহান আল্লাহর সত্তা থেকে পৃথক হওয়া অসম্ভব।
{সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} বলা হয়েছে: সমীচীন হতো যদি তিনি 'ইচ্ছাকারী' ও 'বাকশক্তি সম্পন্ন' গুণ দুটিও বৃদ্ধি করতেন, যাতে সত্তাগত গুণাবলী (الصفات الذاتية) পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লিখিত হতো।
এর উত্তরে বলা হয়েছে: ক্ষমতা বা কুদরত গুণটি ইচ্ছা ও কথা বলাকে আবশ্যক করে তোলে। আর জনৈক টীকাভাষকার (محش) একটি চমৎকার কিন্তু বিস্ময়কর কথা বলেছেন,
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
فَقَالَ: إِنَّمَا لم يقل متكلماً لِأَن التَّكَلُّم مُشكل، وَقَالَ الشَّارِح وجيه: قيل: اللَّائِق ذكر جَمِيع الصِّفَات الذاتية [5 - أ] وَسكت على الْجَواب بِالْكُلِّيَّةِ، وَلَعَلَّ الشَّيْخ اكْتفى بالوصفين السَّابِقين فِي الْمَتْن إشعاراً بِأَن الْعلم لشُمُوله الجزئيات والكليات يتَضَمَّن المسموعات، والمبصَرات، وَأَن الْقُدْرَة تَسْتَلْزِم بَقِيَّة الصِّفَات.
(وَأشْهد) أُورِد عَلَيْهِ أَنه عطف الفعلية الإنشائية [على الاسمية الإخبارية، ودُفعَ بِأَن الحمدلة - كَمَا تقدم - فِي الْمَعْنى إنشائية] ، وَبِأَن أَصله: حمدت الله، أَو أَحْمَده حمداً، فَكَانَ فِي الْمَعْنى فعلية. وَهَذَا إِنَّمَا هُوَ بِنَاء على الْكَلَام فِي الاعتبارات الرسمية، وَإِلَّا فَلَا منع من عطف الاسمية على الخبرية، وَعَكسه كَمَا ورد فِي كَلَام أهل الْعَرَبيَّة.
ثمَّ معنى أشهد: [أُقِرّ عَن صميم قلب، وَأخْبر عَن علم يَقِين] فَلَا يشكل قَوْله تَعَالَى: {وَالله يشْهد إِن الْمُنَافِقين لَكَاذِبُونَ} بعد قَوْله عز وجل: {إِذا جَاءَك المُنَافِقُونَ قَالُوا نشْهد إِنَّك لرَسُول الله} وَلذَا قدم دفع الْوَهم بقوله عز وجل: {وَالله يعلم إِنَّك لرَسُوله} .
(أنْ) مُخَفّفَة من الثَّقِيلَة أَي أَنه (لَا إِلَه إِلَّا الله) الْمَشْهُور: أَن خبر لَا مَحْذُوف، وَهُوَ: مَوْجُود. وَقَالَ صَاحب الْكَشَّاف: يجوز أَن يكون لَا إِلَه إِلَّا الله جملَة تَامَّة. من غير تَقْدِير حذف الْخَبَر، يَعْنِي لَا إِلَه: مُبْتَدأ، وَإِلَّا الله: خَبره، قيل:
তিনি বললেন: তিনি 'মুতাকাল্লিম' (কথা বলা) শব্দটি ব্যবহার করেননি কারণ কথা বলার বিষয়টি জটিল। ভাষ্যকার ওয়াজিহ বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, সকল সত্তাগত গুণাবলি উল্লেখ করাই সঙ্গত ছিল [৫-ক], তবে তিনি উত্তরের ব্যাপারে পুরোপুরি নীরব থেকেছেন। সম্ভবত শায়খ মূল পাঠ (متن)-এ উল্লিখিত পূর্ববর্তী দুটি গুণের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন এই ইঙ্গিত দিতে যে, জ্ঞান (ইলম) যেহেতু আংশিক ও সামগ্রিক উভয় বিষয়কে পরিব্যাপ্ত করে, তাই তা শ্রুত ও দৃশ্যমান বিষয়গুলোকেও শামিল করে; আর ক্ষমতা (কুদরত) অন্যান্য সকল গুণাবলিকে অপরিহার্য করে তোলে।
(আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি) - এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, এটি একটি ক্রিয়াধর্মী বাক্য (ইনশায়িইয়াহ)-কে বর্ণনামূলক বিশেষ্যধর্মী বাক্যের (খাবারিইয়াহ ইসমীইয়াহ) ওপর সংযুক্ত করেছে। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, 'হামদ' পাঠ - যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে - অর্থগতভাবে ইনশায়িইয়াহ (অনুজ্ঞামূলক)। আবার এমনটিও বলা হয়েছে যে, এর মূল রূপ হলো: 'আমি আল্লাহর প্রশংসা করেছি', অথবা 'আমি আল্লাহর বিশেষ প্রশংসা করছি', ফলে এটি অর্থগতভাবে ক্রিয়াধর্মী বাক্যই ছিল। এই আলোচনা মূলত পারিভাষিক ও রূপগত বিবেচনার ভিত্তিতে করা হয়েছে; অন্যথায় আরবি ভাষাবিদদের বক্তব্য অনুযায়ী, নামবাচক বাক্যকে বর্ণনাধর্মী বাক্যের ওপর সংযুক্ত করতে কোনো বাধা নেই, এবং এর বিপরীতটিও বৈধ।
অতঃপর 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি' (আশহাদু) এর অর্থ হলো: [আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে স্বীকার করছি এবং নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে সংবাদ দিচ্ছি]। সুতরাং মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা থাকে না: {আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী} - যা মহান আল্লাহর এই বাণীর পরে এসেছে: {যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে, তখন তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল}। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এই সংশয় নিরসনে পূর্বেই বলেছেন: {আর আল্লাহ জানেন যে নিশ্চয়ই আপনি তাঁর রাসূল}।
(আন) শব্দটি এখানে ভারী বর্ণ (সাকিলাহ) থেকে হালকা করা (মুখাফফাফাহ) হয়েছে, যার অর্থ 'নিশ্চয়ই তিনি'। (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) - এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ মত হলো, 'লা' (না-বাচক অব্যয়) এর সংবাদ (খবর) এখানে উহ্য রয়েছে, আর তা হলো: 'বিদ্যমান'। আল-কাশশাফ গ্রন্থের রচয়িতা বলেছেন: খবর উহ্য ধরা ছাড়াই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য হওয়া বৈধ। অর্থাৎ, 'লা ইলাহা' হলো উদ্দেশ্য (মুবতাদা) এবং 'ইল্লাল্লাহ' হলো বিধেয় (খবর)। বলা হয়েছে যে:
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
يلْزم / أَن يكون الْمُبْتَدَأ نكرَة، وَالْخَبَر معرفَة، قَالَ: لَيْسَ الْأَمر كَمَا قيل، لِأَن أصل الْكَلَام فِي التَّقْدِير: الله إِلَه، قُدم الْخَبَر دفعا لإنكار المنكِرِ، فَصَارَ: إلهُ الله، ثمَّ أُريد نفيُ الْآلهَة، وإثباته قطعا. فَدخل فِي صدر الْكَلَام من الْجُمْلَة حرف " لَا " وَفِي وَسطهَا " إِلَّا " ليحصل غرضهم، فَصَارَ لَا إِلَه إِلَّا الله. انْتهى.
وَالْمَشْهُور: أَن رفع الْجَلالَة على الْبَدَلِيَّة من الضَّمِير الْمُسْتَتر فِي الْخَبَر الْمُقدر، وجُوِّز نصبها على الِاسْتِثْنَاء من الضَّمِير الْمَذْكُور. قيل: هَذِه / 4 - ب / الْكَلِمَة كلمة تَوْحِيد إِجْمَاعًا، وَلَا يَسْتَقِيم ذَلِك مَا لم يكن صدر الْكَلَام نفيا لكل معبود بِحَق.
وَالله: اسْم للمعبود بِالْحَقِّ، وَمثله يكون تناقضاً فِي القَوْل، وَهُوَ محَال فِي كلمة التَّوْحِيد المجمَع على صِحَّتهَا. وَأجِيب بِأَن الْمَنْفِيّ فِي صدر الْكَلَام مَفْهُوم كلي كالإله، والمأخوذ من مَدْلُول الْجَلالَة فَرد خَاص من مَفْهُوم الْإِلَه بِمَعْنى أَن لَفْظَة " الله " علم للمعبود بِالْحَقِّ الْمَوْجُود الْخَالِق للْعَالم، لَا أَنه اسْم لذَلِك الْمَفْهُوم الْكُلِّي كالإله. وَقَالَ السُّيُوطِيّ فِي الإتقان: وَقد [5 - ب] توجب الصِّنَاعَة النحوية التَّقْدِير، وَإِن كَانَ الْمَعْنى غير مُتَوَقف عَلَيْهِ، فَقَالُوا فِي: لَا إِلَه إِلَّا الله: إِن الْخَبَر مَحْذُوف، أَي مَوْجُود. وَقد أنكرهُ الإِمَام الرَّازِيّ وَقَالَ: هَذَا كَلَام لَا يحْتَاج إِلَى تَقْدِير، وَتَقْدِير النُّحَاة فَاسد، لِأَن نفي الْحَقِيقَة مُطلقَة أتمُّ من نَفيهَا مُقَيّدَة [بِقَيْد مَخْصُوص] ، فَإِنَّهَا إِذا انْتَفَت مُطلقَة كَانَ ذَلِك دَلِيلا على سلب الْمَاهِيّة مَعَ الْقَيْد،
এটি আবশ্যক যে মুবতাদা অনির্দিষ্ট (নাকিরা) হওয়া এবং খবর নির্দিষ্ট (মা'রিফা) হওয়া। তিনি বলেন: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি বলা হয়েছে, কারণ অনুমিতরূপে (তাকদীর) বাক্যের মূল কাঠামো হলো: আল্লাহ ইলাহ (উপাস্য)। অস্বীকারকারীর অস্বীকার দূর করার জন্য খবরকে আগে আনা হয়েছে, ফলে তা হয়েছে: 'ইলাহুল্লাহ'। এরপর উপাস্যদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং সুনিশ্চিতভাবে তা সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্য গ্রহণ করা হয়। ফলে এই উদ্দেশ্যে বাক্যের শুরুতে 'লা' এবং মাঝখানে 'ইল্লা' যুক্ত করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' রূপে দাঁড়ায়। সমাপ্ত।
আর প্রসিদ্ধ মত হলো: 'আল্লাহ' শব্দটির রফ হওয়া (পেশযুক্ত হওয়া) খবরের মধ্যে উহ্য থাকা সর্বনাম থেকে 'বদল' হওয়ার ভিত্তিতে। আর উল্লিখিত সর্বনাম থেকে ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) হিসেবে একে নসব (যবর) দেওয়াও বৈধ রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে: এই ৪-খ বাক্যটি সর্বসম্মতভাবে (ইজমা) তাওহীদের বাণী, আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ বাক্যের শুরুটি প্রতিটি সত্য উপাস্যের (মাবুদ বিহাক্ক) অস্তিত্বকে অস্বীকার না করে।
এবং 'আল্লাহ' হলো সত্য মাবুদের নাম; আর এর সদৃশ কিছু বলা স্ববিরোধী হবে, যা তাওহীদের কালিমার ক্ষেত্রে অসম্ভব, যার সঠিক (صحيح) হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে। এর জবাবে বলা হয়েছে যে, বাক্যের শুরুতে যা অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো 'ইলাহ'-এর মতো একটি সাধারণ সামগ্রিক ধারণা, আর 'আল্লাহ' শব্দটির অর্থ থেকে যা গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো 'ইলাহ' ধারণার একটি বিশেষ ও সুনির্দিষ্ট সত্তা। এর অর্থ হলো, 'আল্লাহ' শব্দটি হলো বিদ্যমান সত্য মাবুদ এবং মহাবিশ্বের স্রষ্টার জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম, এটি 'ইলাহ'-এর মতো কোনো সাধারণ ধারণার নাম নয়। সুয়ূতী আল-ইতকান গ্রন্থে বলেছেন: ৫-খ ব্যাকরণিক কাঠামোর প্রয়োজনে কখনও কখনও কোনো শব্দ উহ্য (তাকদীর) ধরা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যদিও অর্থের স্পষ্টতার জন্য তা অপরিহার্য নয়। তাই ব্যাকরণবিদগণ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর ক্ষেত্রে বলেছেন: এখানে খবরটি বিলুপ্ত, অর্থাৎ তা হলো 'মওজুদ' (বিদ্যমান)। ইমাম রাযী এটি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: এই বক্তব্যের জন্য কোনো শব্দ উহ্য ধরার প্রয়োজন নেই, আর ব্যাকরণবিদদের উহ্য ধরার বিষয়টি ত্রুটিপূর্ণ। কারণ কোনো সত্তাকে নিঃশর্তভাবে অস্বীকার করা তা শর্তযুক্তভাবে অস্বীকার করার চেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ। কেননা যখন কোনো সত্তাকে নিঃশর্তভাবে অস্বীকার করা হয়, তখন তা সেই সত্তাকে কোনো বিশেষ শর্তসহ নাকচ করার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
وَإِذا انْتَفَت مُقَيّدَة بِقَيْد مَخْصُوص لم يلْزم نَفيهَا مَعَ قيد آخر. ورد بِأَن تقديرهم " مَوْجُود " يسْتَلْزم نفي كل إِلَه غير الله قطعا، فَإِن الْعَدَم لَا كَلَام فِيهِ، فَهُوَ فِي الْحَقِيقَة نفي للْحَقِيقَة مُطلقَة لَا مُقَيّدَة، ثمَّ لَا بُد من تَقْدِير خبر لِاسْتِحَالَة مُبْتَدأ بِلَا خبر ظَاهر أَو مُقَدّر، وَإِنَّمَا يقدر النَّحْوِيّ ليعطي الْقَوَاعِد حَقّهَا، وَإِن كَانَ الْمَعْنى مفهوماً. انْتهى. وَفِيه بحثان:
الأول: أَن كَلَام الإِمَام تَحْقِيق وتدقيق فِي المرام ورده مصادرة، بل مُكَابَرَة بِلَا نظام.
وَالثَّانِي: أَن كَلَامه لَا يدل على نفي الْقَوَاعِد النحوية بِالْكُلِّيَّةِ، بل ذهب إِلَى مَسْلَك " الْكَشَّاف " فِي عدم الْحَاجة إِلَى تَقْدِير كلمة تكون مَرْفُوعَة بالخبرية، وعَلى تَقْدِير التَّقْدِير يَنْبَغِي أَن يقدر " لنا " لِئَلَّا يَرِد شَيْء من عدم التَّحْقِيق علينا مُرَاعَاة للجانبين، ومحافظة للمذهبين.
وَكَأن الْجُمْهُور نظرُوا إِلَى أَن الْمَعْدُوم لظُهُور حُدُوثه لَا يصلح للألوهية، فَلَا يحْتَاج إِلَى نَفْيه، أَو نَفْيه يُفَهم بالبرهان الأولى، أَو أَرَادوا بموجود أَعم من أَن يكون مَوْجُودا فِي الْحَال والاستقبال، وَالله أعلم بالمآل.
(وحدَه) حَال على مَذْهَب الْكُوفِيّين، وَتَقْدِيره متوحداً ومنفرداً على مَذْهَب الْبَصْرِيّ وَهُوَ حَال مُؤَكدَة، (لَا شريك لَهُ) المُرَاد بِالْأولَى: وحدته فِي الذَّات، وبالثانية: وحدته فِي الصِّفَات. (وأُكبِّره) أَي أُعَظمُه وأعتقد أَنه أكبر من أنْ يُحاط بكُنه كبريائه، (تَكْبِيرا) أَي تَكْبِيرا كثيرا.
(وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عبدُه ورسُوله) كَذَا فِي نُسْخَة مصححة. وَالظَّاهِر أَنَّهَا
এবং যখন কোনো বিষয় একটি নির্দিষ্ট শর্তের (قيد) দ্বারা নেতিবাচক হয়, তখন অন্য কোনো শর্তের সাথে তার নেতিবাচক হওয়া আবশ্যক হয় না। এর জবাবে বলা হয়েছে যে, তাদের "বিদ্যমান" (موجود) শব্দটিকে উহ্য ধরা নিশ্চিতভাবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল উপাস্যের (إله) অস্তিত্বহীনতাকে দাবি করে; কেননা যা অবিদ্যমান তা নিয়ে কোনো আলোচনা চলে না। সুতরাং এটি প্রকৃতপক্ষে পরম সত্তারই (حقيقة مطلقة) অস্বীকৃতি, কোনো শর্তযুক্ত বিষয়ের নয়। অতঃপর একটি বিধেয় (خبر) উহ্য ধরা আবশ্যক; কারণ প্রকাশ্য বা উহ্য বিধেয় ব্যতীত উদ্দেশ্য (مبتدأ) হওয়া অসম্ভব। ব্যাকরণবিদগণ মূলত ব্যাকরণিক নিয়মসমূহের দাবি পূরণার্থেই তা উহ্য ধরেন, যদিও অর্থটি সুস্পষ্ট থাকে। সমাপ্ত। এতে দুটি আলোচনা রয়েছে:
প্রথমত: ইমামের বক্তব্যটি উদ্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে এক গভীর বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম গবেষণা; তাই একে প্রত্যাখ্যান করা মূল বিষয়েরই অপলাপ, বরং এটি একটি অসংলগ্ন হঠকারিতা।
দ্বিতীয়ত: তাঁর বক্তব্য ব্যাকরণিক নিয়মসমূহকে সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করা বোঝায় না, বরং তিনি "আল-কাশশাফ"-এর রচয়িতার পথ অনুসরণ করেছেন যে, বিধেয় (خبر) হওয়ার কারণে পেশযুক্ত (مرفوع) কোনো শব্দ উহ্য ধরার প্রয়োজন নেই। আর যদি উহ্য ধরতেই হয়, তবে "আমাদের জন্য" (لنا) উহ্য ধরা উচিত, যাতে উভয় পক্ষ রক্ষা পায় এবং উভয় মাযহাব সংরক্ষিত থাকে এবং আমাদের গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি প্রকাশ না পায়।
এবং ধারণা করা হয় যে, অধিকাংশ বিদ্বান (جمهور) মনে করেন, যা নশ্বর তা তার উৎপত্তির স্পষ্টতার কারণেই উপাস্য হওয়ার যোগ্য নয়, তাই তাকে অস্বীকার করার আলাদা প্রয়োজন নেই; অথবা তার নেতিবাচকতা অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমেই বোধগম্য হয়। অথবা তারা "বিদ্যমান" (موجود) বলতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় সময়ে বিদ্যমান থাকার ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করেছেন। আর পরিণাম সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।
(এককভাবে) শব্দটি কুফাবাসীদের ব্যাকরণিক রীতি অনুযায়ী অবস্থা বর্ণনাকারী শব্দ (حال); আর বসরার ব্যাকরণবিদদের মতে এর উহ্য রূপ হলো 'একক ও নিঃসঙ্গ অবস্থায়' এবং এটি একটি সুদৃঢ়কারী অবস্থা (حال مؤكدة)। (তাঁর কোনো শরিক নেই) এর দ্বারা প্রথমটি দ্বারা তাঁর সত্তাগত একত্ব এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা তাঁর গুণাবলির একত্ব উদ্দেশ্য। (এবং আমি তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করি) অর্থাৎ আমি তাঁর মহিমা বর্ণনা করি এবং এই বিশ্বাস রাখি যে, তাঁর মহত্বের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা অসম্ভব। (বড়ত্ব ঘোষণা) অর্থাৎ অধিক পরিমাণে বড়ত্ব ঘোষণা করা।
(এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল) একটি সংশোধিত পাণ্ডুলিপিতে (نسخة مصححة) এভাবেই রয়েছে। এবং বাহ্যত এটিই
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
مُلحَقَة من النَّاسِخ لعدم إتْيَان الشَّيْخ بِمَا يُنَاسب الْمقَام من السجع كَمَا هُوَ دأب أَرْبَاب الْكَلَام / 5 - أ /، وَلَا يلائم أَن يكون مَا بعده من الْمَتْن متمماً لَهُ لوُجُود وَاوِ الْفَصْل / لَكِن يُشكل بِأَن الْخطْبَة لَا تتمّ بِدُونِ تِلْكَ الزِّيَادَة، اللَّهُمَّ إِلَّا أَن يُتكَلَّف [6 - أ] بِأَن يُقَال: قَوْله: وَصلى الله
… الخ قَامَ مقَامهَا.
ثمَّ قيل: أورد المُصَنّف الشَّهَادَة فِي الْخطْبَة عملا بقوله صلى الله عليه وسلم: " كل خُطبة لَيْسَ فِيهَا تشهّد فَهِيَ كَالْيَدِ الجذماء " // (رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ فِي جَامعه) //، ونوقش بِأَنَّهُ كَانَ عَلَيْهِ أَن يوردها فِي خطْبَة الْمَتْن أَيْضا، ودُفع بِأَنَّهُ لم يُوردها فِي الْمَتْن إِشَارَة إِلَى أَن الحَدِيث ضَعِيف، فَلم يجب الْعَمَل بِهِ وأوردها فِي خطْبَة الشَّرْح إِيمَاء إِلَى أَن الحَدِيث الْوَارِد فِي فَضَائِل الْأَعْمَال يُستحسن الْعَمَل بِهِ، وَإِن كَانَ ضَعِيفا.
وَالْأَظْهَر أَن يُقَال: صرَّح بِلَفْظ الشَّهَادَتَيْنِ فِي الشَّرْح عملا بِظَاهِر الحَدِيث، وأتى فِي الْمَتْن بمعناهما كَمَا قيل بِهِ فِي تَأْوِيل الحَدِيث على مَا نقل من التُّوَّرِبِشْتيّ وَغَيره مُرَاعَاة للإيجاز والإطناب بِحَسب مَا يَلِيق بِكُل بابٍ من الْكتاب، وَيُمكن أَن يُقَال: إِنَّمَا ترك الشَّهَادَتَيْنِ فِي الْمَتْن بِنَاء على أَن المُرَاد بالخُطبة
অনুলিপিকার কর্তৃক এটি সংযোজিত হয়েছে কারণ শাইখ প্রসঙ্গের উপযোগী অনুপ্রাস ব্যবহার করেননি, যেমনটি বাগ্মী ব্যক্তিবর্গের রীতি হয়ে থাকে / ৫ - অ /, এবং পরবর্তী অংশটি মূল পাঠের (المتن) পরিপূরক হওয়া সঙ্গত নয় যেহেতু সেখানে বিয়োজক 'ওয়াও' বিদ্যমান। তবে এটি সমস্যাযুক্ত হয় এই কারণে যে, এই অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত ভূমিকা পূর্ণতা পায় না। অবশ্য কষ্টকল্পনার মাধ্যমে বলা যেতে পারে [৬ - অ] যে, তাঁর উক্তি: 'আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন...'
… ইত্যাদি সেই স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
অতঃপর বলা হয়েছে: লেখক তাঁর ভূমিকায় শাহাদাহ উল্লেখ করেছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: "প্রত্যেক ভাষণ যাতে তাশাহহুদ নেই, তা কুষ্ঠরোগাক্রান্ত (কর্তিত) হাতের মতো।" // (এটি আবু দাউদ এবং তিরমিজি তাঁর জামে গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন) //, এবং এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যে, তাঁর উচিত ছিল মূল পাঠের (المتن) ভূমিকাতেও তা উল্লেখ করা। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, তিনি মূল পাঠে (المتن) তা উল্লেখ করেননি এটি নির্দেশ করতে যে, হাদিসটি দুর্বল (ضعيف), ফলে এর ওপর আমল করা আবশ্যক নয়। আর তিনি এটি ব্যাখ্যার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন এই ইশারায় যে, পুণ্যময় আমলের ফাজায়েল (فضائل الأعمال) সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণিত হাদিসের ওপর আমল করা উত্তম গণ্য করা হয়, যদিও তা দুর্বল (ضعيف) হয়।
অধিকতর স্পষ্ট মত হলো: হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ওপর আমল করে তিনি ব্যাখ্যায় শাহাদাতাইন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং মূল পাঠে (المتن) তার অর্থ নিয়ে এসেছেন, যেমনটি আল-তূরাবিশতি ও অন্যদের থেকে বর্ণিত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে। এটি সংক্ষেপণ এবং বিস্তারিত আলোচনার ভারসাম্য রক্ষার খাতিরে করা হয়েছে যা কিতাবের প্রতিটি অধ্যায়ের সাথে মানানসই। এবং এটিও বলা সম্ভব যে: তিনি মূল পাঠে (المتن) শাহাদাতাইন বর্জন করেছেন এই ভিত্তিতে যে, ভূমিকা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো...
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
الْخطْبَة على الْمِنْبَر المتعارفة فِي زَمَنه صلى الله عليه وسلم، وأتى بهما فِي الشَّرْح عملا بالاستحباب فِي خطْبَة الْكتاب، لِأَن الْعبْرَة بِعُمُوم الْأَلْفَاظ لَا بِخُصُوص الْأَسْبَاب، وَالله أعلم بِالصَّوَابِ.
(وَصلى الله على سّيدنا) الْجُمْلَة خبرية لفظا، ودعائية معنى. وَالصَّلَاة من الله تَعَالَى: إدرار الرَّحْمَة وَإِظْهَار المَرْحَمة. وتعديتة بعلى لحُصُول الاستعلاء، وتوهم بَعضهم أَن على مُطلقًا للضَّرَر، وَاللَّام للنفع، وَلَيْسَ كَذَلِك، بل هُوَ مُخْتَصّ بِفعل تَارَة يتَعَدَّى بِاللَّامِ، وَمرَّة بعلى كدعا لَهُ، ودعا عَلَيْهِ، وَشهد لَهُ، وَشهد عَلَيْهِ، وَحكم لَهُ، وَحكم عَلَيْهِ، لَا يُقَال: صلى بِمَعْنى دَعَا، فَإِنَّهُ لَا يلْزم توَافق المترادفين فِي التَّعْدِيَة، أَلا ترى أَنه لَا يُقَال: صلى لَهُ مَعَ أَن الصَّلَاة إِنَّمَا وَردت بِمَعْنى الدُّعَاء بِخَير، فَزَالَ الْإِشْكَال من أَصله.
(مُحَمَّد) هُوَ فِي أَصله اسمُ مفعول من حُمِّد بِالتَّشْدِيدِ مُبَالغَة حَمِد بِالتَّخْفِيفِ، سمي بِهِ رجاءَ أَن يكون يحمده الْأَولونَ وَالْآخرُونَ {وَكَانَ أَمر الله قدرا مَقْدُورًا} . وَلذَا قيل: الْأَسْمَاء تتنزل من السَّمَاء، فنُقل من الوصفية [6 - ب] إِلَى العلمية.
(الَّذِي أرْسلهُ) أَي جعله رَسُولا بَعْدَمَا صيّره نَبيا.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে প্রচলিত মিম্বারের উপর খুতবা প্রদান; এবং তিনি কিতাবের খুতবায় মুস্তাহাব (استحباب) আমলের উদ্দেশ্যে শারহ-এ এই দুটি বিষয় নিয়ে এসেছেন। কারণ, বিধানের মূল ভিত্তি হলো শব্দের ব্যাপকতা, কোনো বিশেষ কারণ নয়। আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।
(এবং আমাদের নেতার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) এই বাক্যটি শাব্দিকভাবে বর্ণনামূলক (خبرية) হলেও অর্থগতভাবে দুআসূচক (دعائية)। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হওয়ার অর্থ হলো রহমত বর্ষণ করা এবং করুণা প্রকাশ করা। এখানে 'আলা' (على) অব্যয়টি প্রাধান্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে, 'আলা' (على) সর্বদা ক্ষতিকর অর্থে এবং 'লাম' (لام) সর্বদা কল্যাণকর অর্থে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। বরং এটি কিছু নির্দিষ্ট ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত, যা কখনো 'লাম' দিয়ে আবার কখনো 'আলা' দিয়ে ব্যবহৃত হয়; যেমন- কারো পক্ষে দুআ করা এবং কারো বিরুদ্ধে বদদুআ করা, কারো পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া এবং কারো বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া, কারো পক্ষে ফয়সালা দেওয়া এবং কারো বিরুদ্ধে ফয়সালা দেওয়া। এমনটি বলা যাবে না যে: সালাত শব্দটি দুআ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (তাই এর অব্যয়ের ব্যবহার এক হতে হবে); কারণ দুটি সমার্থক শব্দের ক্ষেত্রে অব্যয়ের ব্যবহারে মিল থাকা আবশ্যক নয়। আপনি কি দেখেন না যে, ‘সাল্লা লাহু’ (صلى لَهُ) বলা হয় না, অথচ সালাত শব্দটি কল্যাণের দুআ অর্থেই এসেছে? ফলে মূল সংশয়টি নিরসন হলো।
(মুহাম্মদ) এটি মূলত 'হাম্মাদা' (حُمِّد) ক্রিয়ামূল থেকে ইসমে মাফউল (اسم مفعول), যা 'হামিদা' (حَمِد) এর অতিশয়তা (مبالغة) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই আশা নিয়ে তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছে যে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ তাঁর প্রশংসা করবে। {আর আল্লাহর নির্দেশ অবধারিত ও সুনির্দিষ্ট}। এ কারণেই বলা হয়: নামসমূহ আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়। ফলে এটি গুণবাচক (وصفية) অবস্থা থেকে নামবাচক (علمية) অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে।
(যাকে তিনি প্রেরণ করেছেন) অর্থাৎ, তাঁকে নবি (نبي) করার পর রাসুল (رسول) হিসেবে মনোনীত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
(للنَّاس) أَي لأجل نفعهم، فَالْمُرَاد بِالنَّاسِ الْمُؤْمِنُونَ، فَإِنَّهُم المنتفعون كَمَا قيل فِي قَوْله تَعَالَى: {هدى لِلْمُتقين} أَو عَام لقِيَام الْحجَّة عَلَيْهِم كَمَا قيل فِي قَوْله تَعَالَى: {هدى للنَّاس} والجِنّ تَابع لَهُم، أَو يُطلق النَّاس عَلَيْهِم، وَيحْتَمل أَن تكون اللَّام بِمَعْنى إِلَى، كَمَا تدل / 5 - ب / عَلَيْهِ نُسْخَة، وَقيل: بُعث إِلَى الْخلق جَمِيعًا حَتَّى الْجِنّ، والحيوانات، والجمادات.
(كافّةً) هِيَ من الشَّرْح قيل: إرْسَالًا كَافَّة بِمَعْنى عَامَّة لَهُم، فَهِيَ مفعول مُطلق. أَو جَامعا لَهُم فِي الإبلاغ، فَهِيَ حَال من الضَّمِير الْمَنْصُوب فِي أرْسلهُ، وَالتَّاء للْمُبَالَغَة، وَالْأَظْهَر: أَنَّهَا فِي هَذَا الْمقَام حَال من النَّاس، وَإِنَّمَا قَالَ الْبَيْضَاوِيّ فِي قَوْله تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا كَافَّة للنَّاس} لَا يجوز جعلهَا حَالا من النَّاس على الْمُخْتَار، لِأَن تقدم حَال الْمَجْرُور عَلَيْهِ كتقدم الْمَجْرُور على الْجَار. قَالَ أَبُو حَيَّان: هَذَا مَذْهَب الْجُمْهُور. وَذهب أَبُو عَليّ، وَابْن كَيْسَان، وَابْن برهَان، وَابْن مَالك إِلَى جَوَازه، وَهُوَ الصَّحِيح.
(بشيراً) أَي مبشراً للْمُؤْمِنين بِالْجنَّةِ، (وَنَذِيرا) / أَي منذراً ومخوفاً للْكَافِرِينَ بالنَّار. وَحذف مفعولاهما لوضوحهما وليذهب الْوَهم كل مَذْهَب، وإيماء إِلَى أَنه لَا يُمكن بيانهما.
(মানুষের জন্য) অর্থাৎ তাদের উপকারের নিমিত্তে; এখানে ‘মানুষ’ বলতে মুমিনদের বোঝানো হয়েছে, কেননা তারাই প্রকৃত উপকৃত হন, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত}-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। অথবা এটি ব্যাপক (عام) যাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {মানুষের জন্য হিদায়াত}-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। আর জিন সম্প্রদায় তাদের অনুগামী, অথবা ‘মানুষ’ শব্দটি তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়। আবার এটিও সম্ভব যে, এখানে ‘লাম’ বর্ণটি ‘ইলা’ (দিকে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আরও বলা হয়েছে: তাঁকে জিন, প্রাণী ও জড়পদার্থসহ সকল সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
(সমগ্রভাবে) এটি ব্যাখ্যার অংশ। বলা হয়েছে: ‘ইরসালান কাফফাতান’ অর্থ তাদের জন্য ব্যাপক (عامة) হওয়া, এমতাবস্থায় এটি মাফউলে মুতলাক (مفعول مطلق)। অথবা রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের একত্রিতকারী হওয়া, এমতাবস্থায় এটি ‘আরসালাহু’ ক্রিয়াভুক্ত মানসুব (منصوب) সর্বনাম থেকে হাল (حال) হিসেবে গণ্য; আর এখানে ‘তা’ বর্ণটি আধিক্য বা মুবালাগা (مبالغة)-এর জন্য। সর্বাধিক স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো, এই স্থানে এটি ‘নাস’ (মানুষ) শব্দ থেকে হাল (حال)। আল্লামা বায়যাভি আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্যই প্রেরণ করেছি}-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, পছন্দনীয় (المختار) মতানুসারে একে ‘নাস’ থেকে হাল (حال) করা বৈধ নয়। কারণ মাজরুর (مجرور)-এর হাল তার আগে আসা ঠিক তেমনি, যেমন মাজরুরকে হারফে জার (جار)-এর আগে নিয়ে আসা। আবু হাইয়ান বলেছেন: এটি জমহুর (جمهور) ওলামার মাযহাব। তবে আবু আলি, ইবনে কায়সান, ইবনে বুরহান এবং ইবনে মালিক এটি বৈধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং এটিই সঠিক (صحيح)।
(সুসংবাদদাতা হিসেবে) অর্থাৎ মুমিনদের জান্নাতের সুসংবাদ প্রদানকারী, (এবং সতর্ককারী হিসেবে) অর্থাৎ কাফিরদের জাহান্নামের অগ্নি সম্পর্কে সতর্ককারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী। বিষয় দুটির কর্ম (مفعول) উহ্য রাখা হয়েছে তাদের স্পষ্টতার কারণে এবং যেন কল্পনা সম্ভাব্য সকল দিকে ধাবিত হতে পারে, আর এটি একটি ইঙ্গিত যে, তাদের পূর্ণ বিবরণ দেওয়া সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
(وعَلى آل مُحَمَّد) أَي أَقَاربه وَأَتْبَاعه، فَالْأول - من جِهَة النّسب -: مَا رُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَنه قَالَ: " هم أولادُ عليّ، وجعفَر، وَعقيل، وَالْعَبَّاس ". وَمن جِهَة الدّين: مَا رُوِيَ عَنهُ صلى الله عليه وسلم: " آلُ محمدٍ كلُّ تَقِيّ " // (رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ) // فِي الْأَوْسَط عَن أنس. وَيُمكن حمل الحَدِيث على الْعُمُوم، وَيحْتَمل أَن يكون الثَّانِي تقييداً للْأولِ فَتَأمل، فَإِنَّهُ الْمَعْقُول بِقَرِينَة قَوْله:
(وَصَحبه) لِأَن الأَصْل فِي الْعَطف التغاير، وَإِن احْتمل التَّخْصِيص بعد التَّعْمِيم بِنَاء على الثَّانِي. وَفِي ذكرهمَا إِيمَاء إِلَى ردّ الْخَوَارِج وَالرَّوَافِض، وَهُوَ اسْم جمع. وَقيل: جمع وَسَيَأْتِي مَعْنَاهُ المصطلح.
(وسَلَّم) بِفَتْح اللَّام عطف على صلى، وَجمع بَينهمَا لقَوْله تَعَالَى: {صلوا عَلَيْهِ وسلموا تَسْلِيمًا} وَالْمرَاد بإيراد:
(تَسْلِيمًا) إِظْهَار [7 - أ] زِيَادَة التَّعْظِيم، وإفادة التكثير. كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ بقوله:
(كثيرا) وَقد ورد: " أَكْثِرُوا الصلاةَ عليّ، فإنّ صَلَاتكُمْ عليَّ مغفرةٌ لذنوبكم " وَفِي حَدِيث قدسي: " مَنْ صلّى عَلَيْك صليتُ عَلَيْهِ، ومَنْ سلّم عَلَيْك
(এবং মুহাম্মাদের বংশধরগণের ওপর) অর্থাৎ তাঁর আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীগণ। সুতরাং প্রথমটি—বংশীয় দৃষ্টিকোণ থেকে—: ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত (مروي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তাঁরা হলেন আলী, জাফর, আকিল এবং আব্বাসের সন্তানগণ।" আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত (مروي) হয়েছে: "মুহাম্মাদের বংশধর হলো প্রত্যেক মুত্তাকি বা পরহেজগার ব্যক্তি।" // (তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন (رواه الطبراني)) // আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে আল-আওসাত গ্রন্থে। হাদিসটিকে ব্যাপকতা (عموم)-এর ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব, আর এটিও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে দ্বিতীয়টি প্রথমটির জন্য সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) স্বরূপ, অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন। কেননা তাঁর এই বাণীর প্রেক্ষাপটে এটিই যুক্তিসঙ্গত:
(এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর) কারণ ব্যাকরণগত সংযোগ বা আতফ (عطف)-এর মূলনীতি হলো ভিন্নতা (تغاير) প্রকাশ করা, যদিও দ্বিতীয়টির ভিত্তিতে ব্যাপকতার (تعميم) পর বিশেষায়নের (تخصيص) সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাঁদের (বংশধর ও সাহাবী) উভয়কে উল্লেখ করার মধ্যে খারেজি ও রাফেজিদের মতবাদ খণ্ডনের ইঙ্গিত রয়েছে। আর এটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (اسم جمع)। কারো মতে এটি বহুবচন (جمع), আর সামনে এর পারিভাষিক (مصطلح) অর্থ আলোচিত হবে।
(এবং সালাম পাঠালেন) 'লাম' অক্ষরে ফাতহাহ যোগে, যা 'সাল্লা' শব্দের ওপর সংযোজিত (عطف) হয়েছে। এই দুটির একত্রীকরণ করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "তোমরা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।" আর এখানে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো:
(সালাম) [৭ - ক] অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শন এবং আধিক্য বুঝানো। যেমনটি তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
(অধিক পরিমাণে) এবং বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কেননা আমার ওপর তোমাদের দরুদ পাঠ তোমাদের গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমা স্বরূপ।" এবং একটি হাদিসে কুদসিতে (حديث قدسي) এসেছে: "যে ব্যক্তি তোমার ওপর দরুদ পাঠ করবে, আমি তার ওপর রহমত বর্ষণ করব; আর যে তোমার ওপর সালাম পাঠাবে...
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
سلَّمتُ عَلَيْهِ ". ثمَّ هَذَا الَّذِي فعله من ذكر الصَّلَاة على رَسُوله صلى الله عليه وسلم بعد الحمدِ لَهُ تَعَالَى هُوَ عَادَة الْعلمَاء على مَا قَالَه النَّوَوِيّ. وَعَن مُجَاهِد فِي قَوْله تَعَالَى: {ورفعنا لَك ذكرك} قَالَ: " لَا أُذكُر إِلَّا ذُكِرتَ معي ".
(أما بعد) أَي بعد مَا ذُكر، وَلما كَانَت أمّا متضمنةً لِمَعْنى الشَّرْط كَمَا هُوَ مُقَرر، أَتَى بِالْفَاءِ الجزائية فِي قَوْله:
(فإنّ) وَقيل: لدفع توهم الْإِضَافَة، وَقَوله:
(التصانيف) جمع تصنيف مَأْخُوذ من الصِنف، لِأَن الْمُؤلف يجمع بَين أَنْوَاع الْكَلَام ويجعلها صنفا صنفا لتَمام النظام.
(فِي اصْطِلَاح أهل الحَدِيث) أَي فِي عرفهم، وَهُوَ: توافقهم على اسْتِعْمَال أَلْفَاظ مَخْصُوصَة يتداولونها على وَجه التعارف فِيمَا بَينهم كَمَا اصْطَلحُوا عَلَيْهَا. (قد كَثُرت) أَي / 6 - أ / التصانيف، (للأئمة) حَال من ضمير كثرت، (فِي الْقَدِيم والْحَدِيث) أَي فِي قديم الزَّمَان، وجديده فِيمَا بَين الْمُتَقَدِّمين والمتأخرين، فَمِمَّنْ صنف، وَفِي نُسْخَة:
"আমি তাঁর ওপর সালাম পেশ করলাম।" এরপর আল্লাহ তাআলার প্রশংসার পর তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করার যে রীতি তিনি অবলম্বন করেছেন, তা ইমাম নববীর বর্ণনা অনুযায়ী আলেমদের একটি চিরাচরিত অভ্যাস। মুজাহিদ (রহ.) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি} সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমাকে স্মরণ করা হলে আমার সাথে আপনাকেও স্মরণ করা হয়।"
(অতঃপর/আম্মা বাদ) অর্থাৎ পূর্বে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তারপর। যেহেতু ‘আম্মা’ শব্দটি শর্তের (الشرط) অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে—যেমনটি ব্যাকরণশাস্ত্রে নির্ধারিত—তাই তিনি তাঁর পরবর্তী উক্তিতে জাযা বা প্রতিদানমূলক ‘ফা’ (الفاء الجزائية) নিয়ে এসেছেন:
(নিশ্চয়ই/ফা-ইন্না)। বলা হয়েছে যে: এটি সম্বন্ধের বিভ্রম দূর করার জন্য। আর তাঁর উক্তি:
(রচনাবলি/আত-তাসানিফ) এটি ‘তাসনিফ’ (تصنيف) শব্দের বহুবচন, যা ‘সিনফ’ (الصنف) থেকে গৃহীত। কারণ গ্রন্থকার বিভিন্ন প্রকারের আলোচনাকে একত্রিত করেন এবং বিষয়বস্তুর পূর্ণ শৃঙ্খলার জন্য সেগুলোকে পৃথক পৃথক শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেন।
(হাদিস বিশারদদের পরিভাষায়/ফি ইসতিলাহ আহলিল হাদিস) অর্থাৎ তাঁদের প্রথা অনুযায়ী। আর তা হলো: বিশেষ কিছু শব্দের ব্যবহারের ওপর তাঁদের ঐকমত্য পোষণ করা, যা তাঁরা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি হিসেবে বিনিময় করে থাকেন যেভাবে তাঁরা এটি পরিভাষা (اصطلحوا) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। (প্রচুর হয়েছে) অর্থাৎ সেই সকল রচনাবলি। (ইমামগণের) এটি ‘কাসুরাত’-এর সর্বনাম থেকে অবস্থা নির্দেশক হিসেবে এসেছে। (অতীত ও বর্তমানে) অর্থাৎ প্রাচীন ও নতুন উভয় যুগে, যা পূর্বসূরি (المتقدمين) ও উত্তরসূরিদের (المتأخرين) মধ্যকার সময়কে বোঝায়। অতঃপর যাঁরা গ্রন্থনা করেছেন, আর অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
(بَدْء التصنيف فِي عُلُوم الحَدِيث) (فَمن أوّل مَن صَنّف فِي ذَلِك) ، أَي فِي اصْطِلَاح أهل الحَدِيث، (القَاضِي أَبُو مُحَمَّد) أَي الْحسن بن عبد الرَّحْمَن بن خَلَاّد، (الرَّامَهُرْمُزي) بِفَتْح الْمِيم الأولى، وَضم الْهَاء، وَسُكُون الرَّاء، وَضم الْمِيم الثَّانِيَة، بعْدهَا زَاي مُعْجمَة بلد بِخُوْزِسْتَان. وَفِي الْكَلَام إِشْعَار بِوُجُود تعدد التصنيف فِي قرن القَاضِي، وَعدم تحقق الأولية وَبَيَانه: أنَّ " من " للتَّبْعِيض، و " أول " اسْم التَّفْضِيل بِمَعْنى الْجَمَاعَة، فَإِن أفعل التَّفْضِيل الْمُسْتَعْمل بِالْإِضَافَة يجوز فِيهِ الْإِفْرَاد والمطابقة لمن هُوَ لَهُ، فَالْمَعْنى: من أَوَائِل المصنفين فِي ذَلِك القَاضِي. كأنّ جمَاعَة فِي عصر وَاحِد صنفوا وَلم يسبقهم أحد فِي التصنيف، وَالْمُصَنّف لم يعلم أوَّلهم بِالْحَقِيقَةِ، فأورد هَذِه الْعبارَة، وَإِلَّا فحقه أَن يَقُول: فَأول مَن صنف، بَيَانا لأوّل الْمُتَقَدِّمين، فَإِن أَمر إضافي.
(كتابَه) بِالنّصب لفعل مُقَدّر كَأَنَّهُ قيل: أَي شَيْء صنف؟ فَقَالَ: صنف كِتَابه، أَو أَعنِي بِمَا صنف كِتَابه. وَلَا يَصح نصبّ ب: صَنَّفَ الْمَذْكُور لِأَن " مَن " فِي " مَن صنف " قوم [7 - ب] من جُمْلَتهمْ القَاضِي كَمَا سبق وتوضيحه: أَن فَاعل صنف الْمَذْكُور ضمير مَن، وَلم / يصنف هَذَا الْكتاب إِلَّا وَاحِد مِنْهُم لَا جَمِيعهم، ثمَّ أبدل عَن كِتَابه بقوله:
(المحدِّث) بتَشْديد الدَّال الْمَكْسُورَة، أَي الرَّاوِي، والواعي مجَازًا، (الفَاصِل) بالصَّاد، أَي الْفَارِق بَينهمَا، أَو بَين طرق الحَدِيث وَإِسْنَاده، (لكنه) أَي القَاضِي، أَو كِتَابه، (لم يستوعب) أَي الْفُنُون بأجمعها، من جَمِيع [المُرَاد
(হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) গ্রন্থ রচনার সূচনা) (অতঃপর যিনি সর্বপ্রথম এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন), অর্থাৎ হাদিস বিশারদদের পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী, (তিনি হলেন বিচারক আবু মুহাম্মদ) অর্থাৎ হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ, (আর-রামাহুরমুজি)। প্রথম ‘মিম’ বর্ণে ফাতহা (فتح), ‘হা’ বর্ণে পেশ, ‘রা’ বর্ণে সুকুন (سكون) এবং দ্বিতীয় ‘মিম’ বর্ণে পেশ যোগে, এরপর বিন্দুযুক্ত ‘যা’ (জাই); এটি খুজিস্তানের একটি শহর। আর এই বক্তব্যের মাঝে ইঙ্গিত রয়েছে যে, বিচারকের (কাজী) যুগে গ্রন্থ রচনার বহুত্ব বিদ্যমান ছিল এবং প্রথম হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত নয়। এর ব্যাখ্যা হলো: ‘মিন’ (من) শব্দটি এখানে আংশিকতা (تبعيض) বুঝানোর জন্য এসেছে এবং ‘আউয়াল’ (أول) শব্দটি আধিক্যবোধক বিশেষ্য (اسم التفضيل) যা একটি সমষ্টির অর্থ প্রদান করে। কেননা সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) আধিক্যবোধক বিশেষ্য (أفعل التفضيل) ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা একবচন রাখা অথবা যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার অনুরূপ হওয়া—উভয়ই বৈধ। সুতরাং অর্থ হলো: তিনি এই বিষয়ে প্রথম দিকের গ্রন্থকারদের অন্তর্ভুক্ত। যেন একদল লোক একই যুগে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাদের পূর্বে আর কেউ ছিল না; আর গ্রন্থকার (ইবনে হাজার) তাদের মধ্যে প্রকৃত প্রথম ব্যক্তিকে নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি, তাই তিনি এই অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন। অন্যথায় তার বলা উচিত ছিল: ‘অতঃপর যিনি সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন’, যাতে পূর্ববর্তীদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্ট করা যেত, কারণ বিষয়টি আপেক্ষিক।
(তার কিতাব) শব্দটি নসব (نصب) অবস্থায় রয়েছে একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে, যেন বলা হয়েছে: তিনি কোন জিনিসটি রচনা করেছেন? উত্তরে বলা হলো: তিনি তার কিতাব রচনা করেছেন, অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আমি তার কিতাবকে বুঝাচ্ছি। উল্লিখিত ‘রচনা করেছেন’ (صنف) ক্রিয়াটি দ্বারা একে মানসুব (منصوب) করা সঠিক হবে না, কারণ ‘যিনি রচনা করেছেন’ (من صنف) বাক্যে ‘যিনি’ (من) দ্বারা একদল লোককে [৭ - খ] বোঝানো হয়েছে যাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন কাজী (বিচারক), যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো: ‘রচনা করেছেন’ ক্রিয়াটির কর্তা হলো ‘মান’-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম, অথচ এই কিতাবটি তাদের সকলে মিলে নয় বরং কেবল তাদের একজন রচনা করেছেন। অতঃপর তিনি ‘তার কিতাব’ শব্দটির পরিবর্তে বলেছেন:
(আল-মুহাদ্দিস) ‘দাল’ বর্ণে তাশদীদ ও কাসরা (যের) যোগে, অর্থাৎ বর্ণনাকারী (الراوي), এবং রূপক অর্থে অত্যন্ত সচেতন বা সংরক্ষণকারী। (আল-ফাসিল) ‘সদ’ বর্ণ যোগে, অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে পার্থক্যকারী, অথবা হাদিসের বিভিন্ন পথ ও সনদের (إسناد) মধ্যকার পার্থক্যকারী। (তবে তিনি) অর্থাৎ বিচারক অথবা তার কিতাব, (বেষ্টন করতে পারেননি) অর্থাৎ বিষয়সমূহকে (فنون) সামগ্রিকভাবে বেষ্টন করতে পারেননি, যেখান থেকে [উদ্দেশ্য...
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
وَجَمِيع] الْموَاد.
(وَالْحَاكِم) - عطف على القَاضِي - (أَبُو عبد الله النَيْسابُوريّ) بِفَتْح النُّون، وَالسِّين الْمُهْملَة، نِسْبَة إِلَى بلد مَشْهُور بخُرَاسَان، (لكنه) أَي الْحَاكِم، وَإِن استوعب، (لم يهذُب) أَي بالتنقيح والتصحيح، (وَلم يرتِّب) ، أَي لم يَجْعَل الْأَشْيَاء فِي مراتبها على وَفق مآربها كَمَا يَنْبَغِي عِنْد الفصيح والنصيح.
(وتلاه) أَي تبع الحاكَم فِي ترتيبه وَفِي عدم تهذيبه، أَو جَاءَ بعده، (أَبُو نُعَيم) بِضَم النُّون، وَفتح الْعين، (الْأَصْفَهَانِي) بِكَسْر همزَة وبفتح، وبفاء مَفْتُوحَة فِي لُغَة أهل الشرق، وبموحدة فِي الغرب.
(فَعمل) أَي أَبُو نعيم (على كِتَابه) أَي مُعْتَرضًا على كتاب الْحَاكِم، أَو على منوال كِتَابه، وَأما مَا قيل: وَلَك أَن تَقول: أَي قَرَأَ كِتَابه، لَكِن يأباه قَوْله: على كِتَابه، فَإِن الْأَنْسَب حِينَئِذٍ أَن / 6 - ب / يَقُول: " عَلَيْهِ " مَكَان " على كِتَابه "، فَكَلَام غير موجه فَإِن قَوْله: على كِتَابه مُتَعَلق ب: عمل لَا ب: تلاه، مَعَ أَنه لَا تسْتَعْمل التِّلَاوَة بِمَعْنى الْقِرَاءَة فِي غير الْقُرْآن، ثمَّ قَوْله:
(مُسْتَخْرِجاً) بِكَسْر الرَّاء حَال من فَاعل عمل الْمنزل منزلَة اللَّازِم. يُقَال: كتب فلَان مستخرجا على الصَّحِيحَيْنِ [أَي جاعلاً الزِّيَادَة عَلَيْهِمَا] ، أَي مستدركاً عَلَيْهِمَا. وَالْفرق بَين الاستخراج والاستدراك أَن الزَّوَائِد فِي المستخرَج بِالْفَتْح - من
এবং সকল উপাদান।
(আল-হাকিম) - এটি আল-কাজীর ওপর সংযোজন (عطف) - (আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি) যা ‘নুন’ বর্ণে ফাতহাহ এবং ‘সিন’ বর্ণে কোনো নুকতা বা চিহ্নহীন অবস্থায় উচ্চারিত হয়, যা খুরাসানের একটি বিখ্যাত শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। (তবে তিনি) অর্থাৎ আল-হাকিম, যদিও তিনি অনেক হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কিন্তু (পরিমার্জন করেননি) অর্থাৎ যাচাই-বাছাই ও শুদ্ধকরণ (تصحيح) করেননি, (এবং বিন্যস্ত করেননি), অর্থাৎ বিষয়গুলোকে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী এবং উদ্দেশ্য অনুসারে সুবিন্যস্ত করেননি, যেমনটি একজন বাগ্মী ও বিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট বাঞ্ছনীয়।
(এবং তাঁর অনুবর্তী হয়েছেন) অর্থাৎ বিন্যাস ও পরিমার্জন না করার ক্ষেত্রে আল-হাকিমকে অনুসরণ করেছেন, অথবা তাঁর পরে এসেছেন, (আবু নুআইম) যা ‘নুন’ বর্ণে যম্মাহ এবং ‘আইন’ বর্ণে ফাতহাহ যোগে উচ্চারিত হয়, (আল-আসফাহানি) যা আলিফ বর্ণে কাসরাহ অথবা ফাতহাহ দিয়ে এবং প্রাচ্যবাসীদের ভাষায় ‘ফা’ বর্ণের ফাতহাহ দিয়ে, আর পশ্চিমাদের ভাষায় ‘বা’ বর্ণ দিয়ে উচ্চারিত হয়।
(অতঃপর তিনি কাজ করেছেন) অর্থাৎ আবু নুআইম (তাঁর গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে) অর্থাৎ আল-হাকিমের কিতাবের ওপর আপত্তি উত্থাপনকারী হিসেবে অথবা তাঁর গ্রন্থের আদলে। আর যা বলা হয়েছে: আপনি বলতে পারেন যে এর অর্থ তিনি তাঁর কিতাব পাঠ করেছেন, কিন্তু তাঁর উক্তি "তাঁর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে" এই অর্থ গ্রহণে বাধা দেয়। কারণ সে ক্ষেত্রে "তাঁর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে" উক্তিটির পরিবর্তে "তার ওপর" বলা বেশি উপযুক্ত হতো। সুতরাং এটি একটি অগ্রহণযোগ্য কথা; কারণ "তাঁর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে" উক্তিটি "কাজ করেছেন" ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق), "অনুবর্তী হয়েছেন" এর সাথে নয়। তাছাড়া কুরআন ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে "তিলাওয়াত" শব্দটি পাঠ করার অর্থে ব্যবহৃত হয় না। অতঃপর তাঁর উক্তি:
(মুস্তাখরিজ হিসেবে) যা ‘রা’ বর্ণের কাসরাহ যোগে, এটি ‘কাজ করা’ ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা (حال) নির্দেশক। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি সহিহাইন এর ওপর একটি মুস্তাখরিজ (مستخرج) লিখেছেন [অর্থাৎ উভয়ের ওপর অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করেছেন], অর্থাৎ উভয়ের ওপর একটি মুস্তাদরাক (مستدرك) লিখেছেন। ইস্তিখরাজ (استخراج) এবং ইস্তিদরাক (استدراك) এর মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, মুস্তাখরাজ (مستخرج) এর অতিরিক্ত হাদিসগুলো-
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
الْمُسْتَخْرج - بِالْكَسْرِ - بِخِلَاف الْمُسْتَدْرك فالتعبير هُنَا بالمستخرج أولى من الْمُسْتَدْرك وَقيل: الظَّاهِر أَن مَعْنَاهُ: زَاد أَبُو نُعَيم على كتاب الْحَاكِم أَشْيَاء، واستدرك عَلَيْهِ مَا فَاتَهُ وَحِينَئِذٍ يكون قَوْله: مستخرجاً على بِنَاء الْمَفْعُول مفعول عَمِل. وَقَوله: على كِتَابه مُتَعَلق بقوله: مستخرجاً وَتَفْسِير محشٍ الاستخراج بالاختصار غير ملائم للمقام مَعَ مُعَارضَة بنقله. يُقَال: كتب فلَان مستخرجاً [8 - أ] على الصَّحِيحَيْنِ أَي مُعْتَرضًا.
(وَأبقى) أَي وَمَعَ ذَلِك ترك (أَشْيَاء) أَي كَثِيرَة (للمتعقِّب) أَي للَّذي جَاءَ بعد زَمَانه، أَو للمعترض، وَلَو فِي أَوَانه.
(ثمَّ جَاءَ) أَي بمهلة (بعدهمْ) أَي بعد القَاضِي، وَالْحَاكِم، وَأبي نُعَيم الْمُتَقَدِّمين، (الْخَطِيب) فَهُوَ أول الْمُتَأَخِّرين، أَو آخر الْمُتَقَدِّمين، وَهُوَ صَاحب المنهل، (أَبُو بكر الْبَغْدَادِيّ) يجوز إهمال الدالين، وإعجامهما،، وإعجام الأول، وإهمال الثَّانِي، وَعَكسه، وَهُوَ الْأَفْصَح الْمَرْوِيّ عَن الشاطِبي. (فصنف فِي قوانين الرِّوَايَة) أَي أُصُولهَا وقواعدها الْكُلية الْمُشْتَملَة على الْمسَائِل الْجُزْئِيَّة.
(كتابا) أَي كَافِيا وافياً (سمّاه الْكِفَايَة) فِي قوانين الرِّوَايَة كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ، (وَفِي آدابها) أَي وصنف فِي آدَاب تحمُّل الرِّوَايَة وآدابها، (كتابا) أَي حافلاً كَامِلا، (سمّاه الْجَامِع لِآدَابِ الشَّيْخ) أَي فِي الْأَدَاء (وَالسَّامِع) أَي فِي التَّحَمُّل، وأخّره لمراعاة التجمع، أَو قدم الشَّيْخ لتعظيمه وَلَا منع من الْجمع، (وقلّ فنٌّ من فنون الحَدِيث)
'আল-মুস্তাখরাজ' (المستخرج) — 'রা' বর্ণে কাসরা বা যের যোগে — 'আল-মুস্তাদরাক' (المستدرك) এর বিপরীত; এখানে 'মুস্তাখরাজ' শব্দটির ব্যবহার 'মুস্তাদরাক' অপেক্ষা অধিকতর সংগত। বলা হয়ে থাকে: বাহ্যত এর অর্থ হলো, আবু নুআইম আল-হাকিমের কিতাবের ওপর কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন এবং তাঁর যা যা ছুটে গিয়েছিল তা পরিমার্জন করেছেন; এমতাবস্থায় 'মুস্তাখরাজান' (مستخرجاً) শব্দটি কর্মবাচ্য হিসেবে 'আমিলা' ক্রিয়ার কর্ম হবে। আর 'আলা কিতাবিহি' অংশটি 'মুস্তাখরাজান' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। জনৈক টীকাকারের 'ইস্তিখরাজ' (الاستخراج) শব্দটির ব্যাখ্যা 'সংক্ষেপণ' (الاختصار) হিসেবে করা এই প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তাঁর উদ্ধৃত বর্ণনারও বিরোধী। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি 'সহীহাইন' এর ওপর একটি 'মুস্তাখরাজ' (مستخرجاً) লিখেছেন অর্থাৎ তিনি সেটির ওপর পর্যালোচনা করেছেন বা ভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান করেছেন।
(এবং তিনি অবশিষ্ট রেখেছেন) অর্থাৎ এতদসত্ত্বেও তিনি (অনেক বিষয়) ছেড়ে দিয়েছেন (পরবর্তী পর্যালোচনাকারীর জন্য (للمتعقِّب)), অর্থাৎ যিনি তাঁর সময়ের পরে এসেছেন, অথবা আপত্তি জ্ঞাপনকারীর জন্য, যদিও তিনি তাঁর সমসাময়িক হোন না কেন।
(অতঃপর আগমন করলেন) অর্থাৎ কিছুকাল বিরতির পর (তাদের পরে), অর্থাৎ পূর্বোল্লিখিত কাজী, হাকিম এবং আবু নুআইম-এর পরে, (আল-খাতিব); তিনি হলেন পরবর্তী যুগের (المتأخرين) পণ্ডিতদের মধ্যে প্রথম অথবা পূর্ববর্তী যুগের (المتقدمين) পণ্ডিতদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। তিনি 'আল-মানহাল' এর রচয়িতা, (আবু বকর আল-বাগদাদী)। 'বাগদাদী' শব্দের দাল দুটিতে নুকতা ছাড়া বা নুকতা দিয়ে পাঠ করা বৈধ, আবার প্রথমটিতে নুকতা দিয়ে দ্বিতীয়টিতে নুকতা ছাড়া পাঠ করাও সম্ভব এবং এর বিপরীতটিও; আর শাতibi থেকে বর্ণিত শেষোক্ত পদ্ধতিটিই অধিকতর বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল। (অতঃপর তিনি বর্ণনার নীতিমালা (قوانين الرِّوَايَة) বিষয়ে সংকলন করলেন), অর্থাৎ এর মূলনীতি (أصولها) এবং সামগ্রিক বিধিবিধান (قواعدها الكلية) যা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(একটি গ্রন্থ) যা পর্যাপ্ত ও পরিপূর্ণ, (তিনি এর নামকরণ করেছেন 'আল-কিফায়াহ') যা বর্ণনার নীতিমালা সংক্রান্ত, যেমনটি তিনি ইঙ্গিত করেছেন। (এবং এর শিষ্টাচার বিষয়েও), অর্থাৎ তিনি হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনার আদব বা শিষ্টাচার (آدابها) বিষয়েও সংকলন করেছেন, (একটি গ্রন্থ) যা তথ্যসমৃদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ, (তিনি এর নামকরণ করেছেন 'আল-জামি লি আদাবিশ শায়খ') অর্থাৎ হাদিস প্রদানের (الأداء) ক্ষেত্রে (ওয়াস সামি') অর্থাৎ হাদিস গ্রহণের (التَّحَمُّل) ক্ষেত্রে; ছন্দ রক্ষার খাতিরে তিনি একে পরে এনেছেন, অথবা শায়খকে সম্মান জানানোর জন্য আগে উল্লেখ করেছেন, তবে উভয়ের মাঝে সমন্বয় সাধনে কোনো বাধা নেই। (এবং হাদিসের শাখাগুলোর (فن) মধ্যে এমন কোনো শাখা নেই বললেই চলে...)
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
وَهِي خمس وَسِتُّونَ فَنًّا تَقْرِيبًا على مَا ذكره النَّوَوِيّ / فِي " التَّقْرِيب "، (إِلَّا وَقد صنف) اسْتثِْنَاء من أَعم الْأَحْوَال. والقلة بِمَعْنى النُّدْرَة، أَو النَّفْي والعدم. أَي لَا يُوجد فن من فنون الحَدِيث بِوَصْف من الْأَوْصَاف إِلَّا حَال كَونه متصفاً بِهَذِهِ الصّفة، أَي بأنْ صنف (فِيهِ) أَي فِي ذَلِك الْفَنّ، (كتابا مُفردا) كالمستدَركات، والمستخرَجات والمؤتِلف. (فَكَانَ) أَي الْخَطِيب، (كَمَا قَالَ) أَي فِي حَقه (الْحَافِظ أَبُو بكر بن نُقْطَة) : - بِضَم النُّون، وَسُكُون الْقَاف، بعْدهَا طاء مُهْملَة، وهاء تَأْنِيث - اسْم / 7 - أ / جَارِيَة ربَّت جدته أم أَبِيه عُرِف بهَا.
(كلُّ مَن أنصف) من الْإِنْصَاف، وَهُوَ الْعدْل، (عَلِمَ أنّ الْمُحدثين) أَي من الْأُصُولِيِّينَ، (بعد الْخَطِيب) أَي بعد تصانيفه، (عِيَالُ) عِيَالُ الرجل بِكَسْر الْعين: مَن يَعُولُه ذَلِك الرجل أَي يقوته، وَينْفق عَلَيْهِ. وَالْمعْنَى عِيَال لَهُ، مُعْتَمِدُون (على كتبه)
ইমাম নববী তাঁর "আত-তাকরিব" গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তা অনুযায়ী এটি (হাদিসের শাখাগুলো) প্রায় পঁয়ষট্টিটি শাস্ত্র (فن)। (তবে তাতে গ্রন্থ রচিত হয়েছে) বাক্যটি একটি সাধারণ অবস্থা থেকে ব্যতিক্রম (استثناء) হিসেবে এসেছে। আর 'স্বল্পতা' বলতে এখানে বিরলতা (ندرة), অথবা অস্বীকৃতি ও অনুপস্থিতি বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, হাদিসের এমন কোনো শাস্ত্র (فن) পাওয়া যাবে না যার কোনো না কোনো বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়নি, বরং সেটি এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যে, (তাতে) অর্থাৎ সেই বিশেষ শাস্ত্রে, (একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ) রচিত হয়েছে; যেমন: মুস্তাদরাক, মুস্তাখরাজ এবং মুতালিফ। (তিনি ছিলেন) অর্থাৎ খতিব বাগদাদি, (যেমনটি বলেছেন) অর্থাৎ তাঁর ব্যাপারে (হাফিজ (حافظ) আবু বকর ইবন নুকতাহ): — 'নুন' বর্ণে পেশ (ضمة), 'ক্বাফ' বর্ণে সুকুন (سكون), এরপর 'ত্বা' মুহমালাহ (طاء مهملة) এবং গোল 'হা' (هاء تأنيث) সহযোগে — এটি একজন দাসীর নাম যিনি তাঁর দাদিকে লালন-পালন করেছিলেন এবং তিনি তাঁর নামেই পরিচিত হয়েছেন।
(যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে) ইনসাফ শব্দ থেকে আগত, যার অর্থ ন্যায়বিচার (عدل), (সে জানবে যে মুহাদ্দিসগণ) অর্থাৎ উসুলবিদগণ (الأصوليون), (খতিবের পরে) অর্থাৎ তাঁর গ্রন্থরাজির পরবর্তী যুগে, (নির্ভরশীল (عيال))। 'আইয়াল' (عيال) বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার ভরণপোষণ ও জীবিকার দায়িত্ব অন্যজন বহন করে। এর অর্থ হলো তারা তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী এবং (তাঁর গ্রন্থরাজির ওপর) নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
يَأْخُذُونَ مِنْهَا نَصِيبا وَهَذَا نَظِير قَول الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى: الْخلق كلهم عِيالُ أبي حنيفَة فِي الْفِقْه.
وَبَيَانه: مَا حُكيَ أَن الشَّافِعِي سمع رجلا يَقع فِي أبي حنيفَة، فَدَعَاهُ وَقَالَ: يَا هَذَا أتقع فِي رجل سَلَّم لَهُ جَمِيع النَّاس ثَلَاثَة أَربَاع الْفِقْه، وَهُوَ لَا يُسَلَّم لَهُم الرّبع قَالَ: وَكَيف ذَلِك قَالَ: الْفِقْه [8 - ب] سُؤال وَجَوَاب، وَهُوَ الَّذِي تفرد بِوَضْع الأسئلة فسُلِّمَ لَهُ نصف الْعلم، ثمَّ أجَاب عَن الْكل، وخصومه لَا يَقُولُونَ إِنَّه أَخطَأ فِي الْكل، فَإِذا جعل مَا وافقوا فِيهِ مُقَابلا لما خالفوا فِيهِ سُلِّم لَهُ ثَلَاثَة أَربَاع الْعلم، وَبَقِي الرّبع مُشْتَركا بَين النَّاس. وَبِهَذَا نتبين الْفرق بَين المعلِّمين والعِيَالِين، وَلِهَذَا قيّد بقوله: بعد الْخَطِيب، ثمَّ أَشَارَ بقوله: على كتبه، لَا كَلَامه، أَن الفَضل للْمُتَقَدِّمين وَأَنه مَا زَاد عَلَيْهِ أحد من الْمُتَأَخِّرين.
(ثمَّ جَاءَ) أَي بعدهمْ، (بعضُ مَنْ تأخَّر عَن الْخَطِيب) أَي من الْمُحدثين، (فَأخذ من هَذَا الْعلم) أَي علم أصُول الحَدِيث، أَو من هَذَا الْعلم الْمَذْكُور فِي كتب الْخَطِيب، (بِنَصِيب) أَي حَظّ عَظِيم بفهم قويم، وَالْبَاء زَائِدَة، (فَجمع القَاضِي عِيَاض) أَي من بعض من تَأَخّر وَأخذ الْحَظ الأوفر، (كتابا لطيفاً) أَي موجزاً ظريفاً (سَمَّاهُ الإلماع) بكسرة الْهمزَة من لمع الْبَرْق وأضاء كاللمع، وَكَأن فِيهِ إشارات كاللمَعَات إِلَى المرادات.
তারা তা থেকে একটি অংশ গ্রহণ করেন এবং এটি ইমাম শাফেয়ী (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর বাণীর সদৃশ: "ফিকহশাস্ত্রে সকল সৃষ্টি আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।"
এর ব্যাখ্যা হলো: বর্ণিত আছে যে, ইমাম শাফেয়ী এক ব্যক্তিকে ইমাম আবু হানিফার সমালোচনা করতে শুনলেন, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন: "হে লোক! তুমি কি এমন এক ব্যক্তির সমালোচনা করছো যার জন্য সমস্ত মানুষ ফিকহশাস্ত্রের তিন-চতুর্থাংশ মেনে নিয়েছে, অথচ তিনি তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশও ছেড়ে দেননি?" সে জিজ্ঞাসা করলো: "তা কীভাবে?" তিনি বললেন: "ফিকহ হলো [৮ - খ] প্রশ্ন এবং উত্তর। তিনিই প্রশ্নগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ছিলেন, ফলে জ্ঞানের অর্ধেক তাঁর অনুকূলে স্বীকৃত হলো। এরপর তিনি সবগুলোর উত্তর দিয়েছেন, এবং তাঁর বিরোধীরাও বলে না যে তিনি সবগুলোতে ভুল করেছেন। সুতরাং তারা যে বিষয়গুলোতে তাঁর সাথে একমত হয়েছে সেগুলোকে যদি দ্বিমতকৃত বিষয়গুলোর বিপরীতে রাখা হয়, তবে জ্ঞানের তিন-চতুর্থাংশ তাঁর অনুকূলে সাব্যস্ত হয়, আর বাকি এক-চতুর্থাংশ মানুষের মধ্যে অংশীদারিত্বমূলক হিসেবে থেকে যায়।" এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষক এবং মুখাপেক্ষীদের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করতে পারি। এই কারণেই তিনি 'খতিবের পরে' কথাটি দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর 'বইসমূহ' বলে ইঙ্গিত করেছেন, তাঁর 'বক্তব্য' বলে নয়। এর অর্থ হলো শ্রেষ্ঠত্ব পূর্বসূরিদের (المتقدمون) জন্য এবং উত্তরসূরিদের (المتأخرون) কেউ তাঁর চেয়ে বেশি কিছু সংযোজন করতে পারেনি।
(অতঃপর আগমন করলেন) অর্থাৎ তাঁদের পরে, (খতিবের পরবর্তী কিছু লোক) অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণের (المحدثون) মধ্য থেকে, (যারা এই ইলম থেকে গ্রহণ করলেন) অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) থেকে, অথবা খতিবের কিতাবসমূহে বর্ণিত এই ইলম থেকে, (অংশ বিশেষ) অর্থাৎ সঠিক বোধশক্তির মাধ্যমে এক বিশাল অংশ। এখানে 'বা' অক্ষরটি অতিরিক্ত। (অতঃপর কাজি আয়াজ সংকলন করলেন) অর্থাৎ খতিবের পরবর্তী সেই ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা বিশাল অংশ লাভ করেছেন, (একটি চমৎকার কিতাব) অর্থাৎ একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত গ্রন্থ, (যার নামকরণ করেছেন আল-ইলমা) 'হামযা' বর্ণে কাসরা যোগে, যা বিদ্যুৎ চমকানো এবং আলোর বিচ্ছুরণের অর্থ থেকে আগত। যেন এতে উদ্দিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ইঙ্গিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
(وَأَبُو حَفْص المَيَّانِجي) بِفَتْح الْمِيم قبل التَّحْتِيَّة، وَكسر النُّون، وَالْجِيم بَلْدَة من أذربيجان على مسيرَة يَوْمَيْنِ من مَرَاغَة، وَهُوَ معرّب مَيَانَه. أَي جمع (جزأَ) أَي رِسَالَة مختصرة، سَمَّاهُ أَي ذَلِك الْجُزْء، (مَالا يسع) أَي الشَّيْء الَّذِي لَا يُطيق (المحدثُ جَهله) وَفِي نُسْخَة بِنصب الْمُحدث، وَرفع
(এবং আবু হাফস আল-মায়্যানাজি); ‘মিম’ বর্ণে ফাতহা এবং ‘ইয়া’ বর্ণের পূর্বে, এবং ‘নুন’ ও ‘জিম’ বর্ণে কাসরা সহকারে; এটি আজারবাইজানের একটি শহর যা মারাগা থেকে দুই দিনের পথ দূরত্বে অবস্থিত। এটি মূলত ‘মায়ানাহ’ শব্দের আরবিকৃত রূপ। অর্থাৎ তিনি একটি ক্ষুদ্র সংকলন (جزء) তথা সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা সংকলন করেছেন। তিনি সেই ক্ষুদ্র সংকলন (جزء)-এর নাম দিয়েছেন: (যা সমীচীন নয়) অর্থাৎ এমন বিষয় যা (হাদিস বিশারদ (المحدث)-এর পক্ষে অজ্ঞ থাকা) অসাধ্য। একটি পাণ্ডুলিপিতে ‘আল-মুহাদ্দিস’ শব্দটি নসব (نصب) এবং পরবর্তী শব্দটি রফা (رفع) অবস্থায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
جَهله أَي مَا لَا يَنْبَغِي للمحدث جَهله.
(وأمثال ذَلِك) أَي هَذَا وأمثال ذَلِك على أَن الْعَطف على سَبِيل الْمَعْنى أَي التصانيف الْكَثِيرَة مَا ذكر وأمثال ذَلِك. وَقيل: التَّقْدِير، وأمثال ذَلِك كَثِيرَة على أَنه مُبْتَدأ خَبره مَحْذُوف وَهُوَ الْأَظْهر. قيل: وَيجوز أَن يكون عطفا بِحَذْف الْمَعْطُوف كَقَوْلِه تَعَالَى {وَالَّذين تَبَوَّؤُا الدَّارَ وَالْإِيمَان} وأخلصوه وَمِنْه قَوْلهم: عَلَفَهُ تِبناً، وَمَاء بَارِدًا، أَي وجَمع أَمْثَال ذَلِك، أَو صنف / 7 - ب / ذَلِك وأمثال ذَلِك.
(من التصانيف الَّتِي اشتُهرت وبُسطت) بِصِيغَة الْمَجْهُول أَي جعلت التصانيف المجملة فِي الْمَتْن، المفصلة / فِي الْجُمْلَة فِي الشَّرْح مبسوطة تَارَة، (ليتوفر) أَي ليتكثر (علمهَا) بِسَبَب كَثْرَة ألفاظها، فَإِن الْغَالِب دلَالَة زِيَادَة المباني على إِفَادَة الْمعَانِي، وَلِأَن الْبسط غَالِبا يكون بالإيضاح وَحِينَئِذٍ يتَعَلَّق بِهِ علم كل [9 - أ] أحد، فيكثر بِخِلَاف الإيجاز، والإجمال، وَالْإِشَارَة، والإيماء، فَإِن كل أحد لَا يُدْرِكهُ، فيقلّ الْعلم بِهِ.
(واختصرت) أَي مَعَ هَذَا أَيْضا تَارَة (ليتيسر فهمها) الظَّاهِر أَن يَقُول: حفظهَا، لَكِن لما كَانَ الِاخْتِصَار سَببا لتيسير الْحِفْظ، وَهُوَ يسْتَلْزم تيسير الْفَهم غَالِبا - لِأَن التَّطْوِيل يشتِّت الْفِكر، ويُصَعِّب فهمَ المُرَاد. وَالْمَقْصُود الْحَقِيقِيّ هُوَ
তার অজ্ঞতা, অর্থাৎ এমন বিষয় যা একজন হাদিস বিশারদের (محدث) অজানা থাকা অনুচিত।
(এবং তদ্রূপ অন্যান্য) অর্থাৎ এটি এবং এর অনুরূপ বিষয়সমূহ। এখানে সংযুক্তিটি অর্থের নিরিখে হয়েছে, অর্থাৎ উল্লিখিত বিষয়সমূহ এবং এ জাতীয় অনেক গ্রন্থ। এবং বলা হয়েছে: উহ্য বাক্যটি হলো—'এবং তদ্রূপ বিষয়সমূহ অনেক', যেখানে এটি উদ্দেশ্য এবং এর বিধেয় উহ্য রয়েছে; আর এটিই অধিকতর স্পষ্ট মত। বলা হয়েছে: এটি উহ্য পদের সাথে সংযুক্ত হওয়াও বৈধ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা এ ঘর ও ঈমানে আবাস গ্রহণ করেছে}—অর্থাৎ এবং ঈমানকে বিশুদ্ধ করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে বলা হয়: 'সে তাকে ভূষি এবং ঠান্ডা পানি খাইয়েছে', অর্থাৎ সে তদ্রূপ বিষয়সমূহ একত্রিত করেছে, অথবা এ জাতীয় বিষয় ও এর অনুরূপ বিষয়গুলো রচনা করেছে।
(সেইসব গ্রন্থসমূহ থেকে যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে) কর্মবাচ্যের শব্দরূপে। অর্থাৎ মূল পাঠে (متن) যা সংক্ষেপে আনা হয়েছে, ব্যাখ্যাগ্রন্থে (شرح) তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সবিস্তারে (مبسوطة) বর্ণনা করা হয়েছে, (যাতে প্রচুর হয়) অর্থাৎ যাতে এর জ্ঞান বৃদ্ধি পায় এর শব্দের আধিক্যের কারণে। কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দের কাঠামোর আধিক্য অর্থের প্রসারেরই প্রমাণ দেয়। আর যেহেতু বিস্তারিত আলোচনা সাধারণত বিষয়টিকে স্পষ্ট করে, ফলে তখন প্রত্যেকের পক্ষেই তা জানা সম্ভব হয় এবং জ্ঞান বৃদ্ধি পায়; যা সংক্ষিপ্তকরণ (إيجاز), সারসংক্ষেপ (إجمال), ইঙ্গিত (إشارة) বা ইশারার (إيماء) বিপরীত। কারণ এগুলো সবাই অনুধাবন করতে পারে না, ফলে এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানও সীমিত থাকে।
(এবং সংক্ষেপ করা হয়েছে) অর্থাৎ এর পাশাপাশি কখনও কখনও সংক্ষেপ করা হয়েছে (যাতে এর উপলব্ধি সহজ হয়)। আপাতদৃষ্টিতে লেখকের 'যাতে মুখস্থ করা সহজ হয়' বলা উচিত ছিল; কিন্তু যেহেতু সংক্ষেপকরণ মুখস্থ করা সহজ হওয়ার কারণ এবং তা সাধারণত উপলব্ধিকে সহজতর করাকেও আবশ্যক করে তোলে—কারণ দীর্ঘ আলোচনা চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে দেয় এবং উদ্দিষ্ট বিষয় অনুধাবন করা কঠিন করে তোলে। আর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো—
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
الْفَهم - وُضِع مَوْضِع الْحِفْظ.
قَالَ مُلاّ قَاسم الْحَنَفِيّ تلميذ المُصَنّف: أوردت عَن المُصَنّف أَن الِاخْتِصَار لتيسير الْحِفْظ لَا لتيسير الْفَهم، فَأفَاد أَن المُرَاد فهم متين لَا يَزُول سَرِيعا، فَإِنَّهَا إِذا اختُصِرت سَهُل حفظهَا، وَحِينَئِذٍ يسهل فهمها بِسَبَب حفظهَا، وَلَا كَذَلِك المبسوطة، فَإِنَّهُ إِذا وصل إِلَى الآخر قد يفضل على الأول. وَقَوله:
(إِلَى أَن جَاءَ) [مُتَعَلق بمقدر، أَي وَاسْتمرّ الْأَمر على مَا ذكر من الْكَثْرَة، والبسط، والاختصار إِلَى أَن جَاءَ] أَي ظهر (الْحَافِظ) أَي للسّنة، (الْفَقِيه) أَي للشريعة، (تقيّ الدّين) أَي المتقي فِي دينه، (أَبُو عَمْرو عُثْمَان بن الصَّلَاح) أَي صَلَاح الدّين، وَهُوَ لقب لِأَبِيهِ، (عبد الرَّحْمَن الشَهْرَزُورِيّ) بِفَتْح الْمُعْجَمَة، وَسُكُون الْهَاء، وَفتح الرَّاء، وَضم الزَّاي، - مَدِينَة بِبِلَاد المَرَاغَة بَين الْموصل وهَمَذَان بناها زُور بن الضحَّاك - (نزيل دِمَشْق) بِكَسْر الدَّال، وَفتح الْمِيم، وتكسر على مَا فِي الْقَامُوس، مَدِينَة عَظِيمَة بِالشَّام شهيرة بِالشَّام، أَي نَازل مَسْكَنه فِيهِ.
(فَجمع) أَي ابْن الصّلاح (لمّا وُلَي) بِضَم الْوَاو وَتَشْديد اللَّام الْمَكْسُورَة، أَي حِين أُعطي (تدريس الحَدِيث) أَي علم الحَدِيث: أُصُوله، وفروعه (بِالْمَدْرَسَةِ)
উপলব্ধি (الفهم) - যা মুখস্থকরণের (الحفظ) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
গ্রন্থকারের (المصنف) ছাত্র মোল্লা কাসিম আল-হানাফি বলেন: আমি গ্রন্থকারের (المصنف) পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছি যে, সংক্ষিপ্তকরণ করা হয়েছে মুখস্থকরণ (الحفظ) সহজ করার জন্য, উপলব্ধি (الفهم) সহজ করার জন্য নয়। তিনি ব্যক্ত করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুদৃঢ় উপলব্ধি যা দ্রুত বিলীন হয় না; কেননা যখন বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত হয় তখন তা মুখস্থ করা সহজ হয়, আর তখন মুখস্থ থাকার কারণে তা উপলব্ধি করা সহজ হয়। কিন্তু বিস্তারিত (المبسوطة) গ্রন্থাবলি এমন নয়; কারণ পাঠক যখন শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় তখন শেষের বিষয়গুলো শুরুর বিষয়গুলোর ওপর প্রাধান্য লাভ করতে পারে। এবং তাঁর উক্তি:
(যতক্ষণ না আসলেন) [এটি একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ আধিক্য, বিস্তার ও সংক্ষিপ্তকরণের বিষয়টি বর্ণিত ধারায় চলতে থাকে যতক্ষণ না আসলেন] অর্থাৎ আত্মপ্রকাশ করলেন (হাফিজ [الحافظ]) অর্থাৎ সুন্নাহর হাফিজ, (ফকিহ [الفقيه]) অর্থাৎ শরিয়তের ফকিহ, (তাকিউদ্দীন) অর্থাৎ স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে পরহেজগার, (আবু আমর উসমান ইবনে আস-সালাহ) অর্থাৎ সালাহুদ্দীন, যা তাঁর পিতার উপাধি, (আবদুর রহমান আশ-শাহরাযুরি) - 'শিন' বর্ণে ফাতহা, 'হা' বর্ণে সুকুন, 'রা' বর্ণে ফাতহা এবং 'যা' বর্ণে যম্মাহ সহকারে - এটি মারাগা অঞ্চলের একটি শহর যা মোসুল ও হামাদানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং যাহহাকের পুত্র যুর এটি নির্মাণ করেন - (দামেস্কের অধিবাসী) 'দাল' বর্ণে কাসরা ও 'মিম' বর্ণে ফাতহা যোগে, আল-কামুস অভিধান অনুযায়ী এটি কাসরা দিয়েও পড়া হয়, এটি সিরিয়ার একটি সুবিশাল ও সুপ্রসিদ্ধ শহর, অর্থাৎ যিনি সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন।
(অতঃপর তিনি সংকলন করলেন) অর্থাৎ ইবনে আস-সালাহ (যখন তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হলো) 'ওয়াও' বর্ণে যম্মাহ এবং 'লাম' বর্ণে তাসদীদ ও কাসরা যোগে, অর্থাৎ যখন তাকে (হাদিস অধ্যাপনার) অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع) শিক্ষাদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হলো (মাদরাসায়)
(খণ্ড: ১)
শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল কারী
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
أَي الَّتِي فِي دمشق، وَالْبَاء بِمَعْنى فِي، (الأشْرَفِية) أَي الَّتِي درَّس فِيهَا النَّوَوِيّ، (كِتَابه) مفعول جمع (الْمَشْهُور) أَي بمقدمة ابْن الصّلاح (فهذَّب) أَي نَقَّح (فنونه) أَي أَصْنَاف أصُول علم الحَدِيث، (وأملاه) بِالْألف وَفِي نُسْخَة صَحِيحَة: فأملاه أَي كِتَابه، (شَيْئا) حَال من الْمَنْصُوب، (بعد شَيْء) صفة، أَي وَاقعا بعده. وَالْمعْنَى: قَرَّرَهُ وحرره كَمَا مست الْحَاجة إِلَيْهِ، وحملت الداعية عَلَيْهِ، وَالْمرَاد بالبعدية البعدية الْعُرْفِيَّة، فَإِن الفتور يُؤَدِّي إِلَى الْقُصُور، والتعطيل يُنسي التَّحْصِيل، فَانْدفع قَول الْمحشِي: كل إملاء شَيْء بعد / 8 - أ / شَيْء، وَامْتنع كَلَام شَارِح على أَي تَرْتِيب [9 - ب] وَقع، وَيُؤَيّد مَا ذكرنَا قَوْله:
(فَلهَذَا) أَي لأجل أَنه لم يخيّل الْفُنُون فِي خاطره، وَلم يرتبها إِجْمَالا فِي ذهنه كَمَا هُوَ شَأْن المصنفين، ودأب المؤلفين، (لم يحصل ترتيبه) أَي تَرْتِيب ابْن
অর্থাৎ যা দামেস্কে অবস্থিত, এবং 'বা' বর্ণটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (আল-আশরাফিয়্যাহ) অর্থাৎ সেই মাদ্রাসা যেখানে ইমাম নববী পাঠদান করেছেন। (তাঁর কিতাব) এটি কর্মপদ যা একত্রিত করা হয়েছে। (প্রসিদ্ধ (مشهور)) অর্থাৎ ইবনুল সালাহ-এর মুকাদ্দিমাহ হিসেবে। (অতঃপর তিনি পরিমার্জিত করেছেন) অর্থাৎ সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন। (এর শাখা-প্রশাখাসমূহ (فنون)) অর্থাৎ হাদিস বিজ্ঞানের মূলনীতি (أصول علم الحديث)-এর বিভিন্ন প্রকারসমূহ (أصناف)। (এবং তিনি তা শ্রুতিলিখন (إملاء) করিয়েছেন) 'আলিফ' বর্ণযোগে; আর একটি সঠিক (صحيحة) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'ফাউমলাহু' (অতঃপর তিনি তা শ্রুতিলিখন করিয়েছেন), অর্থাৎ তাঁর কিতাবটি। (কিছু অংশ) এটি নাসবপ্রাপ্ত শব্দ থেকে অবস্থা হিসেবে এসেছে। (একটির পর অন্যটি) এটি গুণবাচক শব্দ, অর্থাৎ যা একের পর এক সংঘটিত হয়। এর অর্থ হলো: তিনি এটি নির্ধারণ ও লিপিবদ্ধ করেছেন যেমনটি এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল এবং প্রেরণা তাঁকে এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর 'পরবর্তিতা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রথাগত পরবর্তিতা (بعدية عرفية), কেননা কর্মস্পৃহার শিথিলতা অপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায় এবং অলসতা জ্ঞানার্জনকে ভুলিয়ে দেয়। ফলে টীকাকারের এই কথাটি খণ্ডিত হয় যে: 'প্রত্যেক শ্রুতিলিখন (إملاء)-ই তো একটির পর অন্যটি / ৮ - ক / হিসেবে ঘটে'। আর যেকোনো বিন্যাসে [৯ - খ] তা সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্যও অচল হয়ে পড়ে। আমরা যা উল্লেখ করেছি তাকে তাঁর এই উক্তিটি সমর্থন করে:
(এই কারণেই) অর্থাৎ যেহেতু তিনি শাখা-প্রশাখাসমূহ (فنون) তাঁর হৃদয়ে কল্পনা করেননি এবং তাঁর মস্তিষ্কে সামগ্রিকভাবে সেগুলোকে বিন্যস্ত করেননি, যেমনটি গ্রন্থকারদের রীতি ও লেখকদের স্বভাব হয়ে থাকে, (তার বিন্যাস যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি) অর্থাৎ ইবনে [আল-সালাহ]-এর বিন্যাস...